Wednesday, November 19, 2025
মামদানিকে ভর্ৎসনা ট্রাম্পপুত্র এরিকের
হ্যানিটিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একসময় যে নিউইয়র্ক ছিল ‘বিশ্বের সেরা শহর’, রাজনৈতিক কারণে এখন আর সেই জায়গায় নেই। মামদানিকে আক্রমণ করে এরিক ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রী এই মেয়রের অগ্রাধিকারগুলো শহরের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষায়- ‘নিউইয়র্কে একজন সমাজতান্ত্রিক কমিউনিস্ট এসেছে, যে মুদি দোকান জাতীয়করণ করতে চায়, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে চায়, ইহুদিদের ঘৃণা করে, ভারতীয়দের ঘৃণা করে।’ এরিক ট্রাম্প ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের নির্বাহী সহ-সভাপতি। তিনি বলেন নবনির্বাচিত মেয়রের উচিত ছিল ‘নিরাপদ রাস্তা, পরিষ্কার রাস্তা, যুক্তিসঙ্গত কর’। এসব মৌলিক বিষয়ে মনোযোগ দেয়া। তার মতে, সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিউইয়র্ক সফল হতে পারে। তিনি মামদানিকে আরও যুক্ত করেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রভাবশালী প্রগতিশীল নেতা আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের সঙ্গে।
এরিক ট্রাম্প আবারও অভিযোগ তোলেন, ওকাসিও-কর্তেজ নিউইয়র্কে অ্যামাজনের সম্ভাব্য সদরদপ্তর স্থাপনে বাধা দিয়ে ‘দশ হাজার উচ্চ বেতনের চাকরি’ শহর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়- ‘ওরা হাজার হাজার চাকরি আনতে যাচ্ছিল। আর সে তাদের পশুর মতো তাড়িয়ে দিয়েছে!’ এর আগে টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’র এক অনুষ্ঠানে এরিক ট্রাম্প বলেন, ‘পাগল’ মামদানি নেতৃত্ব দিলে শহরটির জন্য তা ভয়াবহ হবে। রক্ষণশীলদের প্রতি তার সতর্কবার্তা- ‘এ ধরনের ধারণা ছড়াতে দেয়া যাবে না। এটা একটি মহান আমেরিকান শহরকে ধ্বংস করে দেবে।’ তার দাবি, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে একজন প্রকৃত কমিউনিস্ট নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে ১লা জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে কয়েকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছেন মামদানি। অ্যানড্রু কুমো ও কার্টিস স্লিওয়াকে হারিয়ে তিনি নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বামঘেঁষা মেয়র হচ্ছেন। একইসঙ্গে শহরের প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং প্রথম আফ্রিকায় জন্ম নেয়া ব্যক্তি হিসেবে মেয়র পদে বসতে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি ১০০ বছরেরও বেশি সময় পরে নিউইয়র্কের সবচেয়ে কমবয়সী মেয়র হবেন। নির্বাচনী রাতে মামদানি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তীব্র বার্তা দেন। বলেন, ডনাল্ড ট্রাম্প, জানি আপনি দেখছেন- আপনার জন্য আমার চারটি শব্দ: টার্ন আপ দ্য ভলিউম। অর্থাৎ চিৎকার করতে থাকুন। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পে বিরক্ত একটি দেশ কীভাবে তাকে অতিক্রম করতে পারে- তা দেখানোর ক্ষমতা আছে এই শহরের, যে শহর একসময় তাকে উত্থান দিয়েছিল।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রায়ের দিন কলকাতায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের মিটিং
ওদিকে সোমবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আপডেট পাওয়ার জন্য খবরের চ্যানেল এবং নিউজ পোর্টালগুলোতে আঁঠার মতো লেগে ছিলেন। সন্ধ্যায় তিনি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিকেল নাগাদ আদালতের রায় নিউজ চ্যানেল এবং অনলাইন নিউজ প্লাটফরমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থানকে নিয়ন্ত্রণে নিতে ঢাকায় শেখ হাসিনা প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে আদালত তাকে অভিযুক্ত করে। ওবায়দুল কাদের আদালতের রায়কে ‘একটি ক্যাঙ্গারু কোর্টের বিচারের নামে প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি আদালতের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দাবি করেন আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে মিথ্যা অভিযোগে এই মামলা করা হয়েছে। তিনি রায়কে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এতে আমরা বিস্মিত নই। সোমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা এই বিচার ও রায়কে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে দেখেন বলে বলা হয় রিপোর্টে।
তাতে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের কাছ থেকে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন শেখ হাসিনা। এ জন্য তার বিরুদ্ধে এই প্রতিশোধ। কেন্দ্রীয় কমিটির ওই নেতা আরও বলেন, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে এবং তার পক্ষে আমরা যেসব আইনজীবীকে প্রস্তাব করেছিলাম তাদের কাউকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি না দেয়ার মাধ্যমে বিচার হয়েছে। তার আত্মরক্ষার অধিকার সমুন্নত রাখা হয়নি। এই নেতা আদালত গঠনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, শিগগিরই যমুনামুখী মার্চ করার জন্য আমরা আমাদের নেতার সঙ্গে আলোচনা করবো এবং তার অনুমতি চাইবো। দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে এটা হবে অত্যন্ত কঠোর এক আন্দোলন।
জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া
ওদিকে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর (ওএইচসিএইচআর) সব পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেছে। গত জুলাইয়ে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন দ্রুত দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভে পরিণত হয়, যা জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী সহিংসভাবে দমন করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের পর দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন এক তদন্তে পাওয়া গেছে যে, গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে প্রায় ১৪০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক শিশু ছিল। বিচারের রায়কে ‘ভুক্তভোগীদের জন্য একটি মুহূর্ত’ আখ্যায়িত করে বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ।
ওএইচসিএইচআর এ রায়কে ‘গত বছরের বিক্ষোভ দমনকালে সংঘটিত গুরুতর লঙ্ঘনের ভুক্তভোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে ওএইচসিএইচআর আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের কার্যকর প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণের সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থে বাংলাদেশি প্রশাসন ক্রমবর্ধমান সহিংস পদ্ধতিতে বিক্ষোভ দমনে পদ্ধতিগতভাবে চেষ্টা করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফোলকার তুর্ক বলেন, ‘আমরা যে সাক্ষ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করেছি, তা রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে গুরুতর রূপগুলোর মধ্যে পড়ে এবং যা আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।’
অ্যামনেস্টি যা বলেছে
ওদিকে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাদের অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের সময় যেসব ভয়াবহ লঙ্ঘন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তাদের জন্য যারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী, তাদের অবশ্যই স্বাধীন ও সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এই বিচার ও রায় কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। ভুক্তভোগীদের প্রয়োজন ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা, অথচ মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকার লঙ্ঘনকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এটি চূড়ান্ত নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অপমানজনক শাস্তি, এবং কোনো বিচার প্রক্রিয়ায় এর স্থান নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে ১৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন। বেঁচে থাকা ব্যাক্তি ও নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডসম্পন্ন বিচার প্রক্রিয়া। কিন্তু এর পরিবর্তে এই বিচার হয়েছে এমন একটি আদালতে, যাকে দীর্ঘদিন ধরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্বাধীনতার অভাব ও অন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার জন্য সমালোচনা করে আসছে। তাছাড়া, অনুপস্থিতিতে এই নজিরবিহীন দ্রুত বিচার ও রায় এতো বড় ও জটিল মামলায় যথাযথ সুষ্ঠু বিচারের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। শেখ হাসিনাকে আদালতনিযুক্ত আইনজীবী দিয়ে প্রতিনিধিত্ব করানো হলেও আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির সময় ছিল স্পষ্টতই অপ্রতুল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এমন অভিযোগ যে, পরস্পরবিরোধী প্রমাণ নিয়ে আসামীপক্ষকে জেরা করতে দেয়া হয়নি, যা বিচারকে আরও অনিয়মের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বাংলাদেশে এমন একটি বিচারব্যবস্থা প্রয়োজন যা একেবারে নিখুঁতভাবে ন্যায়সঙ্গত, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, পক্ষপাতহীন এবং কোনোভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীর জন্য মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করে না।’
টেলিগ্রাফের সম্পাদকীয়: নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে ঝুঁকি
ওদিকে এই বিচার নিয়ে ভারতের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। এর শিরোনাম- ‘গ্রে জাস্টিস: এডিটরিয়াল অন বাংলাদেশ ট্রাইব্যুনালস ডেথ সেন্টেন্স এগেইনস্ট ফরমার পিএম শেখ হাসিনা’। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় দেশটির একসময়কার শাসনব্যবস্থার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়ার ধরন, পূর্বনির্ধারিত বলেই মনে হওয়া রায় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিক্রিয়া- এসবই দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের ইতিমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশকে আরও জটিল করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
শেখ হাসিনাকে গত বছর তার সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত শত শত ছাত্র ও অন্যান্য বিরোধীদের হত্যার জন্য দায়ী করে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে বিচার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতেই নির্বাসনে আছেন। শেখ হাসিনার কখনোই শক্তিশালী আইনি প্রতিনিধি দল ছিল না এবং ট্রাইব্যুনালের রায়ও ছিল প্রায় অনুমেয়। মামলার গুণগত প্রমাণ যা-ই হোক না কেন, গোটা বিচারপ্রক্রিয়াটি একটি পূর্বনির্ধারিত ফলাফলসহ প্রদর্শনীমূলক বিচারের মতো দেখিয়েছে। পাশাপাশি রায় ঘোষণার পর সরকারের প্রতিক্রিয়াও হতাশাজনক। দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাশিতভাবেই ভারত থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছে। কিন্তু তারা অনুরোধের পাশাপাশি হুমকিও জুড়ে দিয়েছে: শেখ হাসিনাকে তৎক্ষণাৎ প্রত্যর্পণ না করলে ঢাকার পক্ষ থেকে তা ‘অবন্ধুসুলভ’ আচরণ হিসেবে দেখা হবে বলে সতর্ক করেছে।
ভারতের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সংযত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারত বাংলাদেশের ‘মঙ্গলকামী’ এবং আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবুও ঢাকার কর্মকর্তারা নিশ্চয়ই জানেন- ভারত যদি সত্যিই শেখ হাসিনাকে ফেরত দেয়, তবে প্রকাশ্য বিবৃতি বা কঠোর ভাষার বদলে নীরব, আড়ালের কূটনীতি-ই তাদের সবচেয়ে কার্যকর সম্ভবত একমাত্র পথ। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কোনো একজন ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলা ভুল। ভারত ও বাংলাদেশকে অবশ্যই পরস্পরের সঙ্গে কাজ করার পথ খুঁজে বের করতে হবে- এমনকি শেখ হাসিনার বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও। তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে এই ভিন্নমতকে সামলে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার ওপর।
সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী যা বললেন
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তাদের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিরুদ্ধে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় ছিল ‘মঞ্চায়িত নাটক’। একে তারা ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ বলে আখ্যায়িত করেছে। আওয়ামী লীগ নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী হলেন হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী। তিনি এনডিটিভির কাছে অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত নেত্রীর বিরুদ্ধে দেয়া রায়টি ‘আগেই লিখে রাখা ছিল’ এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগ দেয়া হয়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের প্রতি এখনো বাংলাদেশে জনসমর্থন রয়েছে। মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘এটা ছিল এক সাজানো নাটক। তারা জানে এই রায় বাস্তবায়নযোগ্য নয়। তাই কিছু একটা দেখানোর জন্যই এ রায় দেয়া হয়েছে। রায় আগে থেকেই লেখা ছিল। গত এক মাস আদালতের চেয়ারম্যানও উপস্থিত ছিলেন না।’
তিনি আদালতের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনালের আইন পরিবর্তনের কোনও বৈধ ক্ষমতা রাখে না। অথচ তারা এই আইন বদলে আমাদের সবাইকে এই ক্যাঙ্গারু কোর্টে বিচার করছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, হাসিনার বিচার চলাকালে সরকার কোনো মানদণ্ডের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। এমনকি তার পক্ষে আইনজীবী বেছে নেয়ার সুযোগও দেয়া হয়নি।
চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আমাদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারিনি। আমাদের ‘ফেরারি’ ঘোষণা করা হয়েছিল। ঢাকার অনেক সিনিয়র আইনজীবী শেখ হাসিনার পক্ষে লড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সবাইকে নিষেধ করা হয়। তাদের আদালত পর্যন্ত যেতে দেয়া হয়নি।’ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাবেক এই মন্ত্রী দাবি করেন তার দল ‘এখনো জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন অর্জন করে আছে।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সাল থেকে আওয়ামী লীগ এটা দেখে আসছে। তখনও আমাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, আমরা ছাই থেকে উঠে দাঁড়িয়েছি। এবারও তাই করব।’ তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সত্যিই জনসমর্থনে আত্মবিশ্বাসী হয়, তাহলে কেন তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ করতে দিচ্ছে না?’
শশী থারুর বললেন ‘উদ্বেগজনক’
ওদিকে ভারতের সিনিয়র কংগ্রেস নেতা শশী থারুর সোমবার বলেন, বাংলাদেশের অপসারিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ঘটনা ‘খুবই উদ্বেগজনক’। গত বছর আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারত পালিয়ে যান। সোমবার বাংলাদেশে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাকে তার অনুপস্থিতিতে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। এনডিটিভি বলেছে, শশী ঠারুর এ নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে হোক বা বিদেশে, আমি ব্যক্তিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডে বিশ্বাস করি না। তাই এই রায় আমাকে বিশেষভাবে হতাশ করেছে। কাউকে অনুপস্থিতিতে বিচার করা- যেখানে তিনি নিজেকে রক্ষা করার বা ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ পান না, তারপর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া...অন্য দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করা আমার জন্য সমুচিত নয়। কিন্তু এটুকু বলতে পারি- এটা কোনোভাবেই ইতিবাচক ঘটনা বলে মনে করি না। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দ্য উইকে শেখ হাসিনার নিবন্ধ, অস্বীকারের রাজনীতি ও অসত্য চর্চার নমুনা by শাহাদাৎ স্বাধীন
শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদেরও কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতীয় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন।
এসব বক্তব্যে যেসব অসঙ্গতি ও অপতথ্য থাকে তা যেমন আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীর জন্য হতাশাজনক, বাংলাদেশের জনগণের প্রতিও অবমাননাকর।
বাংলাদেশের অনেক গণমাধ্যম এসব বক্তব্যের হুবহু অনুবাদ প্রকাশ করে দায়িত্ব শেষ করছে। অথচ শেখ হাসিনার দাবি করা বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা এবং সঠিক তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা তাদের দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল।
গত ১৫-১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় শেখ হাসিনার নীতি ছিল, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই কথা বারবার বলা। এটি করতে গিয়ে তিনি সত্য থেকে বিচ্যুত হতেন। লেখক হুমায়ুন আজাদও বলেছিলেন, ‘সত্য একবার বলতে হয়, সত্য বারবার বললে মিথ্যার মতো শোনায়। মিথ্যা বারবার বলতে হয়, মিথ্যা বারবার বললে সত্য বলে মনে হয়।’ দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা সেই তাঁর আগের নীতি এখনো অবলম্বন করছেন।
দেশে একটি রক্তস্নাত গণ-অভ্যুত্থানের মাত্র ১৫ মাস হতে চলেছে, অথচ সেই গণ-অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক শক্তি, ছাত্রদের শক্তি, নাগরিক সমাজ ও কলমসৈনিকেরা নানা দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছেন। যে সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল, তাদের অনেকের প্রত্যাশা ফিকে হয়ে গেছে। কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বর ও ন্যায্য দাবির প্রতি যেমন কর্ণপাত করা হয়নি, তেমনি উপেক্ষিত হয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়।
গণ-অভ্যুত্থানের নারী কণ্ঠ যেমন অদৃশ্য হয়ে গেছে, তেমনি গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে একটি বিশেষ মতাদর্শকেই বিশেষ আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ফলে ৩ আগস্টের শহীদ মিনার কিংবা ৫ আগস্টের সকালের যে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধে ছিল জাতি, তা আজ নানা দলে-উপদলে বিভক্ত। গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বা স্পিরিট বিনির্মাণের পক্ষে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও চিন্তাচেতনার বিকাশে জাতি হিসেবে আমাদের কাজ এখনো খুবই অল্প।
এ দুর্বলতার সুযোগে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা নানা মিথ্যার ফুলঝুরি নিয়ে আবার হাজির হচ্ছেন। দ্য ইনডিপেনডেন্ট, এএফপি, রয়টার্স–এর সঙ্গে সাক্ষাৎকার শেষ করে তিনি এবার দ্য উইক–এ একটি নিবন্ধ লিখেছেন। সম্প্রতি দিল্লি থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকাটিতে ‘অতীতেও আমি অনির্বাচিত রাজনীতিবিদদের মোকাবিলা করেছি’ শিরোনামে শেখ হাসিনার নিবন্ধটি প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর এই লেখা যেন ‘বাঘ আর বোকা কৃষকের গল্পের’ পুনরাবৃত্তি। তিনি ভাবছেন, দেশের মানুষ বোকা কৃষক।
শেখ হাসিনার নিবন্ধটিতে অপতথ্যের অনেক উপাদান আছে। কারণ, তিনি অনেক অসত্য তথ্যকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যেন তা সত্য মনে হয়; আর সত্যকে এমনভাবে গোপন করেছেন যেন তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না।
শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানকে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ বলে বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের মানুষের ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের সংগ্রাম, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ জনের প্রাণহানি (জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন অনুযায়ী) এবং ২০ হাজার মানুষের আহত হওয়াকে অসম্মান ও অমর্যাদা করেছেন।
১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তিরা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ‘মুসলিম ভাইকে আলাদা করার গভীর ষড়যন্ত্র’ হিসেবে তুলে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদানকে ছোট করতে চায়; শেখ হাসিনা যেন ভিন্নভাবে তাদের একটি রূপ ধারণ করেছেন। নিবন্ধে শেখ হাসিনা তাঁর শাসনামলকে ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে বলে উপস্থাপন করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে জবাবদিহিহীন এলিটদের ‘অনির্বাচিত’ সরকার হিসেবে বর্ননা করেছেন।
কিন্তু কেমন ছিল শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের স্বর্ণযুগ? তিনি অসংখ্য গুম, খুন ও হেফাজতে মৃত্যু ঘটিয়েছেন; বিরোধী দল ও মতকে নির্যাতন, দমন–পীড়নের ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। আয়নাঘরের মতো নিকৃষ্ট বন্দিশালা বানিয়েছেন।
বাংলাদেশি মানবাধিকার গবেষকদের মাধ্যমে নথিভুক্ত তথ্য ও সুইডেনভিত্তিক নেত্র নিউজের বিশ্লেষণ অনুসারে, ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ২ হাজার ৫৯৭ জনকে বিচারবহির্ভূত ও হেফাজতে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করেছে। (নেত্র নিউজ, ১৩ নভেম্বর ২০২৩)।
মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের প্রতিবেদনকে উদ্ধৃতি করে প্রচারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে ২ হাজার ৬৯৯টি বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ৬৭৭টি জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটেছে। (দৈনিক বণিক বার্তা, ১২ আগস্ট ২০২৪)
শেখ হাসিনার শাসনামলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের নামে সাংবাদিক, অ্যাকটিভিস্ট ও নাগরিক সমাজের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, যা বর্ণনাতীত। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের পাঁচ বছর সময়ে এই আইনের অধীন সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, অধিকারকর্মীসহ ৪ হাজার ৫২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৫৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। (দৈনিক প্রথম আলো, ৩০ এপ্রিল ২০২৪)। এই আইনে লেখক মুশতাক আহমেদ তাঁর ফেসবুক পোস্টের কারণে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, কারাগারের হেফাজতে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
শেখ হাসিনা যে বর্তমান সরকারকে অনির্বাচিত সরকার বলছেন, তা টেকনিক্যালি সঠিক, তবে এই সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মতামতের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারীদের মতানৈক্যের ভিত্তিতে এবং সংস্কার ও একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের জন্য তা গঠন করা হয়েছে। আর এটি গণ-অভ্যুত্থানের সরকার। গণ-অভ্যুত্থান বা বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা আসা সরকারকে নির্বাচিত বা অনির্বাচিত বলাই তো অপ্রাসঙ্গিক।
শেখ হাসিনা তাঁর কলামে স্বীকার করেছেন, ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল অংশগ্রহণ না করায় তা অংশগ্রহণমূলক ছিল না। তিনি এ দায় ২০১৪ সালের বিরোধী দলের সহিংসতার ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। অথচ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো সংকটে পড়ে তাঁর সরকার একতরফাভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করায়।
বিরোধী দলকে দমন–পীড়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে হাসিনা সরকার। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে তাঁর অধীন নির্বাচনের মাধ্যমে ডামি প্রার্থী দিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন। ২০১৮ সালে তাঁকে বিশ্বাস করে বিরোধী দল ভোটে গেলে তাঁর সরকার রাতেই ভোটের ব্যালট বাক্স ভরে রাখে।
বিরোধী দল দমনে তিনি কঠোর ছিলেন তা বোঝা যায় এক পরিসংখ্যান থেকে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭১টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার আসামির সংখ্যা ৪০ লাখের ওপরে। (দৈনিক প্রথম আলো, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩)।
‘আমার পিতা সব করেছেন, আমি সব করেছি’—এই আত্মমুগ্ধতার চক্র থেকে শেখ হাসিনা এখনো বের হতে পারেননি। তার নিবন্ধের পুরোটা জুড়ে এর প্রতিফলন আছে। তিনি নিজেকে এখানে আবার ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যেখানে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশ ছিল, যা ফাঁস হওয়া ফোনালাপে স্পষ্ট হয়েছে এবং সাবেক আইজিপিও রাজসাক্ষী হিসেবে স্বীকার করেছেন।
১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি, যার মধ্যে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ছিল শিশু, এমন নৃশংসতাকে তুচ্ছজ্ঞান করে নিজেকে ‘ভিকটিম’ বা ভুক্তভোগী হিসেবে প্রচার করা একধরনের ভিক্টিমহুড পলিটিকস। শেখ হাসিনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ঘুরিয়ে দিতে চান, অথচ তাঁকে কৃতকর্মের জন্য আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
নিবন্ধে শেখ হাসিনার ভাষায়, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মের বিক্ষোভের পর থেকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হারিয়ে যাওয়া প্রত্যেক বাংলাদেশির জীবনের জন্য তিনি শোকাহত। পরক্ষণেই তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে যেখানে তাঁর সরকার প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তাঁর রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা অস্ত্র হাতে মাঠে ছিলেন, নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালিয়েছেন, তার দায় ‘নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যের ভুল সিদ্ধান্তের ওপর চাপিয়েছেন’।
অথচ শেখ হাসিনা তাঁর প্রত্যক্ষ নির্দেশে চলা এ হত্যাকাণ্ড চলাকালে দেশের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানানো বা নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শোকপ্রকাশের বদলে মেট্রোরেলের কাচ ভাঙা দেখতে গিয়ে কেঁদেছেন।
শেখ হাসিনা নিবন্ধজুড়ে তাঁর সরকারের উন্নয়ন বাহাস করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর সরকার প্রত্যেক বাংলাদেশিকে উন্নত গণপরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কিন্তু এগুলোর পেছনে যে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, তা এড়িয়ে গেছেন তিনি।
ঢাকা শহরের গণপরিবহনের পরিস্থিতি তো আমরা জানিই। প্রশ্নপত্র ফাঁস, জিপিএ–৫ ও পাসের হার বাড়িয়ে দেওয়া, নিয়োগ বাণিজ্যসহ শিক্ষাখাতে যে অরাজকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল, তা–ও কখনো ভুলবার নয়। সরকারের সমালোচনার কারণে আবরার ফাহাদকে চরম নির্যাতন করে হত্যাই করা হলো। আরও বহু নিপীড়নের ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো পরিবেশবিরোধী প্রকল্প তিনি বাতিল করেননি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে উঠেছে।
শেখ হাসিনা তাঁর এমপি–মন্ত্রী–নেতা ও ঘনিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে একের পর এক ব্যাংক লুটপাটের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তাঁদের অর্থপাচারের ঘটনা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় পর্যন্ত তোলপাড় তুলেছে।
শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, তিনি একটি ধর্মনিরপেক্ষ সমাজব্যবস্থা গড়েছেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ আইনের অধীন সমানভাবে আচরণ পাবে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তাঁর সরকারের সময়ে ২০১২ সালে রামুতে বৌদ্ধমন্দিরের হামলা ও ভাঙচুরের বিচার তিনি সম্পন্ন করেননি। শুধু রামু নয়, নাসিরনগর, কুমিল্লা, রংপুরসহ অনেক জায়গায় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
২০২১ সালে তাঁর সরকারের সময়ে ১৯টি জেলার দুর্গামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ সহিংসতার ৫৩টি ঘটনা ঘটে। (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১)। তাঁর সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের এসব ঘটনায় ৫৪টি মামলা হয়, কিন্তু ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুসারে ৪২টির কার্যক্রম শুরু হয়নি। (দৈনিক প্রথম আলো, ১৮ অক্টোবর ২০২৩)।
এসব সাম্প্রদায়িক হামলায় তাঁদের দলের অনেকের সম্পৃক্ত থাকারও অভিযোগ আছে। ফলে তিনি নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ঠিকাদার হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যা আসলে অসংগতিপূর্ণ।
নিবন্ধের শেষে শেখ হাসিনা প্রার্থনা করেছেন, ‘দেশ আবারও সত্যিকারের গণতন্ত্রে ফিরে আসুক।’ হ্যাঁ, দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য এত সংগ্রাম, ত্যাগ, তিতিক্ষা। ১৬ বছর ধরে দেশকে অগণতান্ত্রিক পথে নেওয়ার যাবতীয় কার্যক্রমই তিনি করেছেন। পরিহাসের বিষয় হলো, সেই তিনিই আবার ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ হিসেবে ভূষিত হতেন নিজ দলে।
প্রশ্ন হলো, শেখ হাসিনার কাছে ‘সত্যিকারের গণতন্ত্র’ কোনটি? তাঁর ১৬ বছরের শাসনামলে যে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা ও ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেটিকেই কি তিনি সত্যিকারের গণতন্ত্র বলছেন? তাহলে তিনি নিশ্চয়ই আবারও ভুল করছেন।
* শাহাদাৎ স্বাধীন, গণমাধ্যমকর্মী ও গবেষক
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| শেখ হাসিনা। কার্টুন: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট কোকেইন আসক্ত’, ভাই-বোনের দ্বন্দ্ব
প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এসব দাবি ভিত্তিহীন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। কমিউনিকেশনস আন্ডারসেক্রেটারি ক্লেয়ার ক্যাস্ত্রো বলেন, সিনেটর আইমি মারকোসের মন্তব্যগুলো ভিত্তিহীন এবং হয়তো সিনেটে তার মিত্রদের জড়িত করে চলমান দুর্নীতি কেলেঙ্কারির তদন্ত থেকে মনোযোগ সরানোর হতাশাজনিত চেষ্টা। তিনি বলেন, সিনেটর আইমি, আমি আশা করি আপনি দেশপ্রেম দেখাবেন এবং যে তদন্ত প্রেসিডেন্ট নিজেই করছেন তাতে সহযোগিতা করবেন এবং সব দুর্নীতিবাজের নিন্দা করবেন। তাদের পক্ষ নেবেন না, তাদের আড়াল করবেন না। প্রেসিডেন্ট মারকোসকে দুর্নীতি বন্ধ করতে কাজ করতে দিন।
মারকোস গঠিত একটি স্বাধীন অনুসন্ধান কমিশন, একটি সিনেট কমিটি এবং সরকারি সংস্থাগুলো তদন্ত করছে যে প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ও সিনেটররা বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্মাণ কোম্পানিগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ ঘুষ নিয়েছেন কি না। এসব প্রকল্প ছিল নিম্নমানের, অসম্পূর্ণ বা আদৌ নির্মিত হয়নি- যা বন্যা ও টাইফুনপ্রবণ দেশে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
সোমবার রাতে ম্যানিলার একটি পার্কে ধর্মীয় গোষ্ঠীর বড় সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় আইমি মারকোস দাবি করেন, তার ভাইয়ের মাদকাসক্তি তাদের বাবার (বর্তমান প্রেসিডেন্টের নামেরই জনক) ক্ষমতার সময় থেকেই শুরু, এবং এখনো চলছে। তিনি বলেন, এটি প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যে ও শাসনক্ষমতায় প্রভাব ফেলছে।
ভাই-বোন দু’জনই সাবেক একনায়ক ফার্দিনান্দ মারকোস সিনিয়রের সন্তান। তাকে ১৯৮৬ সালে গণঅভ্যুত্থানে উৎখাত করা হয়। আইমি আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমান প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ও সন্তানরাও মাদক ব্যবহার করেন। ২০২২ সালে ভাই প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাদের মধ্যে প্রায় আর কোনো কথা হয় না। প্রেসিডেন্টের স্ত্রী লিজা মারকোস ও সন্তানরা, যাদের একজন সংসদেরও সদস্য এই বিষয়ে কিছু বলেননি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মঙ্গলের উদ্দেশে বেজোসের ব্লু অরিজিনের সফল রকেট উৎক্ষেপণ
এতে বলা হয়, বৈরী আবহাওয়ার ফলে উৎক্ষেপণ কার্যক্রম বিলম্ব হয়। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলের স্বচ্ছ আকাশে সাতটি বিই-৪ ইঞ্জিন জ্বলে উঠতেই রকেটটি প্রচণ্ড শব্দ ও ধোঁয়ার বিস্ফোরণে আকাশে উঠে যায়। প্রায় ১০ মিনিট পর প্রথম ধাপের বিশালতম বুস্টারটি ‘জ্যাকলিন’ নামের বার্জে নিখুঁতভাবে অবতরণ করে। যা ব্লু অরিজিনের পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এদিন নাসার যমজ স্যাটেলাইট এসক্যাপক পিএডিই-কেও কক্ষপথে পাঠানো হয়, যা ব্লু অরিজিনের মাধ্যমে নাসার প্রথম বৈজ্ঞানিক পেলোড পরিবহন। রকেটের উপরের ধাপ উৎক্ষেপণের প্রায় ২০ মিনিট পরই স্যাটেলাইট মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ব্লু অরিজিনের প্রধান নির্বাহী ডেভ লিম্প বলেন, আজ আমরা মিশন পূর্ণ করেছি এবং এতে সাফল্য অর্জন করেছি। দলকে নিয়ে আমি গর্বিত। এমন সাফল্যে প্রতিদ্বন্দ্বী ইলন মাস্কও অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সের বার্তায় তিনি লেখেন, অভিনন্দন জেফ বেজোস এবং ব্লু অরিজিন দল!
এসক্যাপক পিএডিই-এর দুটি স্যাটেলাইট- ব্লু এবং গোল্ড আগামী ২২ মাসের যাত্রা শেষে ২০২৭ সালে মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করবে। এরপর ১১ মাস ধরে তারা সৌর বাতাস ও ওই গ্রহের দুর্বল চৌম্বক ক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়া এবং মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল ক্ষয় হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করবে।
স্যাটেলাইট দুটি ক্যালিফোর্নিয়ার রকেট ল্যাব নির্মাণ করেছে এবং বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া। রকেটে আরও ছিল উপগ্রহ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভায়াস্যাটের একটি সেকেন্ডারি পেলোড। যা পৃথিবীর উপরে কক্ষপথে টেলেমেট্রি ডেটা রিলে প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং সেটিকেও সফল ঘোষণা করা হয়েছে।
ব্লু অরিজিন বহু বছর ধরে নিউ গ্লেনকে তাদের ভবিষ্যতের কর্মযান হিসেবে গড়ে তুলছে। জন গ্লেনের নামে নামকরণ করা এই ভারী রকেটটি স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯-এর দ্বিগুণ থ্রাস্ট উৎপাদন করতে সক্ষম এবং ফ্যালকনের ভারী যান সমপরিমাণ শক্তি দেওয়ার পাশাপাশি বেশি কার্গো বহনের সুবিধা রাখে।
নাসা এসক্যাপক পিএডিই মিশনের জন্য প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে এবং নিউ গ্লেন উৎক্ষেপণের জন্য ব্লু অরিজিনকে ১৮ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে। ব্লু অরিজিন এর আগে প্রধানত তাদের নিউ শেফার্ড সাবঅরবিটাল রকেট দিয়ে মহাকাশ পর্যটন পরিচালনা করত। এখন তারা কক্ষপথে পে-লোড পরিবহন, নাসার আর্টেমিস মিশনের জন্য চন্দ্র অবতরণযান এবং বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের মতো বৃহত্তর প্রকল্পে জোর দিচ্ছে।
তবে স্পেসএক্সের তুলনায় ব্লু অরিজিনের এখনো অনেক দূর যেতে হবে। গত দুই বছরে স্পেসএক্স প্রায় ২৮০টি ফ্যালকন রকেট মিশন সম্পন্ন করেছে এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের স্টারশিপ রকেট নিয়ে আরও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মৃত ভেবে ৮ ঘণ্টা হিমঘরে ফেলে রাখা মেয়েটির আঙুল নড়ছিল
অচেতন রাঘাদকে মৃত ভেবে মর্গে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে হিমঘরে তার দেহ প্রায় আট ঘণ্টা পড়ে ছিল।
সম্প্রতি আল-জাজিরাকে নিজের সেই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে গাজার ছোট্ট মেয়েটি।
রাঘাদ আল–আসার বলে, ‘অন্যদের মতো আমরাও আমাদের বাড়িতে বসে ছিলাম। হঠাৎ গুলি, যুদ্ধবিমান, ড্রোন সব আমাদের ওপর আছড়ে পড়ে।’
রাঘাদের বেঁচে যাওয়াকে অলৌকিক বললেও কম বলা হয়। সেদিন আরেক ফিলিস্তিনি বাবা নিজের ছেলেকে খুঁজতে মর্গে এসেছিলেন। তিনি মর্গের হিমঘরে থাকা মৃতদেহগুলো একে একে দেখতে শুরু করেন। হঠাৎ দেখেন, ঠান্ডা স্ল্যাবের ওপর পড়ে থাকা এক বালিকার আঙুল একটু একটু নড়ছে।
রাঘাদ বলে, ‘আমি দুই সপ্তাহ কোমায় ছিলাম। কোমা থেকে জেগে ওঠার পর, আমার পরিবার আমাকে বলে, আমাকে মর্গের রেফ্রিজারেটরে রাখা হয়েছিল।’
গত বছরের ৮ জুনের ওই হামলায় রাঘাদের দুই বোন মারা যায়। গুরুতর আহত বড় বোনের শারীরিক অবস্থা এখন তার চেয়েও খারাপ।
রাঘাদ বলে, ‘আমার পরিবারের বাকিরা সবাই আহত হয়েছেন। দুই বোন মারা গেছে। বড় বোনের অবস্থা আমার থেকেও খারাপ। সে এখন এক চোখে দেখতে পায় না, শরীর অনেকটা পুড়ে গেছে, গভীর ক্ষত রয়েছে ও পেটের পীড়াতেও আক্রান্ত।’
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেখানে ইসরায়েলের হামলায় এমন অনেক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘ গাজায় জাতিহত্যা হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ৬৪ হাজার শিশু নিহত বা পঙ্গু হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ১৮৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি।
‘রাঘাদ পুরোপুরি পাল্টে গেছে’
রাঘাদের বাবা মোহাম্মদ বলেন, যেদিন তাঁর বাড়িতে হামলা হয়, সেদিন তিনি কাজে ছিলেন। পরে এক স্বজন তাঁকে ফোন করে কী ঘটছে, জানায়। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে খবর এল, আমার বাড়িতে হামলা হয়েছে। আমি কাজে ছিলাম। কী ঘটেছে, জানতে আমি সোজা হাসপাতালে ছুটে যাই।’
মেয়ে রাঘাদকে হাসপাতালে খুঁজে না পেয়ে তিনি বাড়িতে যান জানিয়ে মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচে রাঘাদ পড়ে আছে কি না, দেখতে বাড়িতে যাই। সেখানেও তার চিহ্ন খুঁজে পাইনি।’
একপর্যায়ে হাসপাতালের হিমঘর থেকে উদ্ধার হয় মেয়েটি। মেয়েকে ফিরে পেয়েছেন বাবা ঠিকই। কিন্তু লক্ষ্য করেন, হামলার পর থেকে তার ছোট্ট মেয়েটি পুরোপুরি বদলে গেছে। কেন তাঁর এমনটা মনে হয়েছে সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মোহাম্মদ বলেন, ‘ওই ঘটনার পর তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা বদলে গেছে। সে অন্য মানুষ হয়ে গেছে। এখন এমনও ঘটে, হয়তো আমরা রাস্তায় হাঁটছি, সে হঠাৎ রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে।’
রাঘাদ আল–জাজিরাকে বলেছে, সে এখনো দুঃস্বপ্ন দেখে এবং হামলার দিনের ঘটনা মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
ভীত কণ্ঠে শিশুটি বলে, ‘আমি সেদিনের কথা মনে করতে চাই না, আমি যুদ্ধের শব্দ শুনতে চাই না এবং ওই দিনের কথা মনে করিয়ে দেয় এমন সবকিছু আমি এড়িয়ে যেতে চাই। আমি যুদ্ধবিমান ওড়া ও বোমার আওয়াজ পেলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।’
রাঘাদের পরিবারের আশা, তাকে ও তার আহত বোনকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হবে।
দুই বছরের যুদ্ধে গাজার স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি বর্বরতা, হামলায় শত শত চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। সেখানে স্বাস্থ্য অবকাঠামো বলে আর কিছু নেই।
যদিও গত মাসে হামাস ও ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতিতে উপনীত হয়েছে; কিন্তু গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত আছে। ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়া পর ইসরায়েলের হামলায় সেখানে অন্তত ২৬০ জন নিহত হয়েছেন।
‘আমি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চাই। এটাই আমার স্বপ্ন। বিদেশে অন্যরা যেভাবে জীবন কাটায়, সেভাবে জীবন কাটানোর অধিকার প্রতিটি শিশুর আছে; তাদের মতো খেলাধুলা করার, তাদের মতো ভালো থাকার অধিকার সবার আছে’, বলেছে রাঘাদ।
| আল–জাজিরার সঙ্গে কথা বলছে রাঘাদ আল–আসার। ছবি: আল–জাজিরার ভিডিও থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বিপদ এখন ইসরায়েলের ভেতরেই by পিটার রজারস
এমন মুহূর্ত সাধারণত বিস্ফোরণ বা বিদ্রোহের মতো দামামা বাজিয়ে আসে না। আসে নীরবে।
ইসরায়েল এখন এমনই এক মুহূর্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। দেশটির সামরিক প্রধান প্রসিকিউটর ইয়িফাত তোমের-ইরুশালমির গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি নাকি এক ফিলিস্তিনি বন্দীকে নির্যাতনের ভিডিও ফাঁস করেছিলেন। ব্যাপারটা ইসরায়েলের জন্য শুধু আইনি কেলেঙ্কারির বিষয় নয়। সেই ভিডিওর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে এমন এক আয়না, যেখানে একটি জাতি নিজের মুখোমুখি দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
তোমের-ইরুশালমি কোনো বহিরাগত বা শত্রু ছিলেন না। এই নারী ছিলেন ইসরায়েলের সবচেয়ে সুরক্ষিত কেন্দ্রের অংশ। ছিলেন সেই আইন ও সামরিক কাঠামোর অংশ, যা বহুদিন ধরে নিজেকে জাতীয় অস্তিত্বের রক্ষক বলে মনে করেছে। তবু সেই কেন্দ্রের ভেতর থেকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন মানবিক অবস্থান। বেছে নিয়েছিলেন সহানুভূতি।
নিষ্ঠুরতার মুখোশ উন্মোচনের সিদ্ধান্ত ইরুশালমির জন্য কোনো বিদ্রোহ ছিল না। ছিল নৈতিক সাহসের প্রকাশ। আর সেই সাহসের জন্যই তাঁকে শাস্তি পেতে হয়েছে। তাঁর পরিণতি আমাদের সামনে উন্মোচন করেছে এক গভীর সত্য। দেখিয়েছে, সরকার যখন নিয়ন্ত্রণে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন সততাকেও তারা ভয় পেতে শুরু করে বিদ্রোহের মতো।
ইসরায়েল, যে দেশ একসময় বাইরের হুমকিতে আতঙ্কিত ছিল, সে দেশ এখন কাঁপছে নিজের অন্তর্নিহিত সত্যের সামনে। যখন সত্যকেই শত্রু মনে করা হয়, তখন জাতির শক্তি ভেতর থেকে ফাঁপা হয়ে যেতে শুরু করে।
দশকের পর দশক ধরে ‘নিরাপত্তা’ ছিল ইসরায়েলের অস্তিত্বের মূল শব্দ। ওই রাষ্ট্রের শুরুর সময়ে এই শব্দের মানে ছিল টিকে থাকা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পরিণত হয়েছে এক পবিত্র ধারণায়। যার নামে প্রায় সবকিছুকেই বৈধতা দেওয়া যায়। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা সেখানে হয়ে উঠেছে এক নিষিদ্ধ কাজ (এমনকি রাষ্ট্রের ভেতর থেকেও)।
এই পবিত্রতার ট্র্যাজেডি হলো, এটি এমন এক দেয়াল তৈরি করে, যা শুধু সীমান্তের চারপাশ নয়, জাতির বিবেককেও চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। নিজেদের রক্ষার জন্য যে দেয়াল তোলা হয়, একসময় সেই দেয়াল ভেতরেই দম বন্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
অযাচিত ক্ষমতা একসময় ভুলে যায়, কাদের রক্ষার জন্য সে সৃষ্টি হয়েছিল। যে সহিংসতাকে একসময় ‘আত্মরক্ষা’ বলে মেনে নেওয়া হয়েছিল, তা পরিণত হয় অভ্যাসে। ন্যায় রক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো তখন নিজেদের অস্তিত্ব টেকাতেই হিমশিম খায়।
নৈতিক পুনর্জাগরণের শেষ আশ্রয় যেসব সত্যবাদী, তাঁদেরও চুপ করিয়ে দেওয়া হয়। এ জন্য নয় যে তাঁরা নিরাপত্তার জন্য হুমকি; বরং তাঁরা হুমকি ভ্রান্ত ধারণার জন্য।
তোমের-ইরুশালমির ঘটনা তেমনই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। যে দেশ নিজেদের ওই অঞ্চলের ‘একমাত্র গণতন্ত্রপন্থী’ বলে দাবি করে, ওই দেশেই সহানুভূতি এখন অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ করা হয়ে উঠেছে নির্যাতন করার চেয়ে বেশি বিপজ্জনক।
অধিকৃত এলাকার (পশ্চিম তীর) জনগণকে নিয়ন্ত্রণের জন্য একসময় যে অস্ত্রগুলো তৈরি হয়েছিল, এখন তা ব্যবহার হচ্ছে ভেতরের দিকে। যা আগে ছিল রাজনৈতিক, এখন তা হয়ে উঠেছে মানসিক, সাংস্কৃতিক—এমনকি স্বভাবগত।
যখন সত্য বলা বিশ্বাসঘাতকতা হয়ে যায়, তখন সেই ব্যবস্থা আর শৃঙ্খলা রক্ষা করছে না; বরং নিজস্ব বিকাশের ক্ষমতাকেই শ্বাস রোধ করে ফেলছে।
তোমের-ইরুশালমির গ্রেপ্তারের বার্তাটি যেন পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতিটি করিডরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। যেখানে নীরবতাই আনুগত্য আর সততাই বিশ্বাসঘাতকতা। সহানুভূতির জায়গা দখল নিয়েছে ভয় আর ঐক্যের জায়গা নিয়েছে সন্দেহ। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো হারাচ্ছে বৈধতা, মানুষ হারাচ্ছে আস্থা।
এ ক্ষত কেবল রাজনৈতিক নয়, মানবিকও। যেখানে নাগরিকেরা ধীরে ধীরে চোখ ফিরিয়ে নিতে শেখেন; কর্মকর্তারা নিজেকে বোঝান যে তাঁরা কেবল ‘আদেশ মানছেন’; সৈন্যরা বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে নিষ্ঠুরতাই প্রয়োজন। তখন রক্ষক আর দমনকারীর সীমারেখা মুছে যায়। থেকে যায় এক প্রকার নৈতিকতার নিদ্রা।
ইসরায়েলের নেতারা এখনো গণতন্ত্রের কথা বলেন, বিশৃঙ্খলার মধ্যেও টিকে থাকার দাবি করেন। কিন্তু সেই কথাগুলো এখন ফাঁপা শোনায়। গণতন্ত্রের স্তম্ভগুলো—বিচারব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যম এবং তদারক সংস্থাগুলো নীরবে ক্ষয়ে যাচ্ছে। আদালত এখন দুর্বলদের নয়, রক্ষা করছেন শক্তিধরদের। সংবাদমাধ্যম দ্বিধায় ভুগছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো, যারা একসময় দেশের বিবেক ছিল, তাদের করে ফেলা হয়েছে কোণঠাসা।
শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বিপদ তার সীমান্তের বাইরে নয়; বরং ভেতরে। সহানুভূতি, আস্থা আর বিবেকের অবক্ষয়ই তাদের সবচেয়ে বড় বিপদ। কোনো জাতি যুদ্ধ, একঘরে হয়ে পড়া, কিংবা বিশৃঙ্খলার মধ্যেও টিকে থাকতে পারে। কিন্তু নৈতিক বোধের মৃত্যু ঘটলে কোনো সমাজই টিকে থাকতে পারে না।
যখন সত্য বলা অপরাধে পরিণত হয়, তখন পতন বিস্ফোরণের শব্দের মতো আসে না। আসে নিঃশব্দে, নীরবতার মাধ্যমে, ভয়ের মধ্য দিয়ে। তখন ম্লান হওয়া শুরু করে সেসব, যা একসময় তারা বিশ্বাস করত।
তোমের-ইরুশালমির গল্প কোনো সাধারণ কেলেঙ্কারি নয়। এটি এক সতর্কবার্তা। এটি দেখায়, যখন একটি জাতি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে নিজের ছায়াকেই বেশি ভয় পায়, তখন কী ঘটে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্ষমতার সবচেয়ে বড় শত্রু বিদ্রোহ নয়—জাগরণ।
কারণ, যে শাসনব্যবস্থা মানবতাকে ভুলে যায়, তার পরিণতি একটাই। একসময় সে নিজের অস্ত্রের লক্ষ্য বানায় নিজেকেই। তখন আর শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, মসনদ হারিয়ে ফেলে নিজের আত্মাকেও।
* পিটার রজারস, কলামিস্ট। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিবিষয়ক লেখক
- মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১৩৬ পুরুষের ধর্ষণকারীকে যেভাবে ফেরত চায় ইন্দোনেশিয়া
স্যান্ডিফোর্ড ২০১২ সালে ১.৬ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের কোকেন পাচারের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন। এ বছরের মার্চে প্রত্যার্পণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া হঠাৎ বলে বসে- না, আমরা শুধু তাকে যেতে দেব না। আমরা বন্দি বিনিময় চাই। স্যান্ডিফোর্ড বলেন, আমি তো সব জিনিসপত্র সহবন্দিদের দিয়ে দিয়েছিলাম। কোন ফ্লাইটে যাব তাও বলে দিয়েছিল। তারপর শেষ মুহূর্তে তারা বলে, আমরা বন্দি বিনিময় চাই। বৃটিশ কূটনীতিকরা হতবাক হয়ে যান। বৃটেন সঙ্গে সঙ্গে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। স্যান্ডিফোর্ড বলেন, সিনাগা কখনোই মুক্তি পাবে না। বৃটিশরা ক্ষুব্ধ হবে যদি তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তার বাবা-মা দীর্ঘদিন ধরেই সিনাগাকে ইন্দোনেশিয়ায় ফিরিয়ে নেয়ার জন্য লবিং করছেন, যাতে তিনি ‘সাজা সম্পূর্ণ’ করতে পারেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিরাপত্তা পরিষদে গাজা শান্তি পরিকল্পনা অনুমোদন
এই ভোট ছিল ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে দুই বছরের যুদ্ধের পর গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশ আন্তর্জাতিক বাহিনীতে সেনা পাঠাতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে তারা জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন তাদের অংশগ্রহণের জন্য অত্যাবশ্যক। যুদ্ধবিরতি ১০ অক্টোবর কার্যকর হয়। কিন্তু হামাস ও ইসরাইলের পারস্পরিক অভিযোগ, তারা শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্য দিয়ে চুক্তিকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।
চুক্তির প্রথম ধাপ অনুযায়ী, হামাসকে জীবিত ও মৃত সব জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। বিনিময়ে ইসরাইলের হাতে থাকা প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়া হবে। জীবিত জিম্মিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেরত এলেও বাকি মৃত জিম্মিদের দেহাবশেষ পুরোপুরি হস্তান্তর করা যায়নি। হামাস ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই জানিয়েছে যে গাজার ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপের কারণে দেহাবশেষ উদ্ধার কঠিন হয়ে পড়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এটিকে চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে দাবি করেছেন।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় সহিংসতা ঘটেছে। এর মধ্যে ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, ইসরাইল প্রতিশ্রুত সব মানবিক সাহায্য গাজায় পৌঁছে দিচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০ দফার যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে অনুমোদন করে। এতে ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি অন্তর্বর্তী বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর প্রধান থাকবেন ট্রাম্প নিজে। এটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা প্রদান এবং গাজাকে সামরিকভাবে নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপক ক্ষমতা দেয়। বোর্ড ও বাহিনীর অনুমোদনের মেয়াদ ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1447)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
November
(209)
-
▼
Nov 19
(9)
- মামদানিকে ভর্ৎসনা ট্রাম্পপুত্র এরিকের
- রায়ের দিন কলকাতায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা...
- দ্য উইকে শেখ হাসিনার নিবন্ধ, অস্বীকারের রাজনীতি ও ...
- ‘ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট কোকেইন আসক্ত’, ভাই-বোনের দ...
- মঙ্গলের উদ্দেশে বেজোসের ব্লু অরিজিনের সফল রকেট উৎক...
- মৃত ভেবে ৮ ঘণ্টা হিমঘরে ফেলে রাখা মেয়েটির আঙুল নড়ছিল
- ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বিপদ এখন ইসরায়েলের ভেতরেই by প...
- ১৩৬ পুরুষের ধর্ষণকারীকে যেভাবে ফেরত চায় ইন্দোনেশিয়া
- নিরাপত্তা পরিষদে গাজা শান্তি পরিকল্পনা অনুমোদন
-
▼
Nov 19
(9)
-
▼
November
(209)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
