Wednesday, July 22, 2026

ইরানকে পরাস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল, সংকটের সমাধান কী? by সৈয়দ হোসেন মুসাভিয়ান

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকটি ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিল। কিন্তু পারস্পরিক আস্থা তৈরির পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের আগেই সামরিক সংঘাত কূটনীতিকে আবারও পেছনে ঠেলে দেয়।

গত দুই সপ্তাহে দুই দেশের এই প্রত্যক্ষ সংঘাত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। তদুপরি, এই সামরিক লড়াই এখন দুই দেশের সীমানা ছাড়িয়ে রূপ নিচ্ছে এক আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কায়।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই কৌশলী অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে তারা এখন আর দ্রুত সামরিক বিজয়ের পথে হাঁটছে না। বরং তারা বেছে নিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ’। এর উদ্দেশ্য হলো কূটনৈতিক চাপে রেখে ও ধীরে ধীরে আক্রমণের মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা, রসদ সরবরাহ, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব এবং অভ্যন্তরীণ সংহতি দুর্বল করে ফেলা।

এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যাতে ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া যায়। মার্কিন নীতি এখন পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। সেখানে তারা চাপ বজায় রাখা, সমুদ্রপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজস্ব বাহিনীকে সুরক্ষার ওপর নজর দিচ্ছে। সেই সঙ্গে তারা ইসরায়েলকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিচ্ছে।

পরিবর্তিত কৌশল

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের খার্গ দ্বীপ ‘দখলে নেওয়া’র যে হুমকি দিয়েছেন এবং মার্কিন-ইসরায়েলি পরিকল্পনাকারীদের দ্বারা কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সীমান্ত হামলায় মদদ দেওয়ার যে খবর বেরিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে। তাদের ভাবনায় স্পষ্টতই রয়েছে সাধারণ সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা এবং পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া।

জবাবে ইরানও একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সর্বাত্মক প্রতিরক্ষার কৌশল নিয়েছে। মার্কিন বাহিনীকে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এ ছাড়া আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে মার্কিনদের ওপর কৌশলগত চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইরান। যেমন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেবে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে। সোমবার তো তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সরাসরি নৌ অবরোধের ঘোষণাই দিয়ে বসেছে।

উত্তেজনা বাড়ার পর ইরান দাবি করেছে যে তারা কুয়েত, ওমান, সিরিয়া, জর্ডান, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি গত সপ্তাহে সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় একটি মার্কিন কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে তারা।

ইরানি কৌশলের মূল দিকটি হলো যুদ্ধের ব্যয় ও ক্ষতি পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া। তারা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি ও সুবিধা দেওয়া দেশগুলো এই যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি থেকে রেহাই পাবে না। সেনা সূত্রের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে ‘যুদ্ধ নতুন নতুন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়বে’।

কূটনীতির প্রয়োজনীয়তা

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ইসরায়েল-ইরানের যুদ্ধ আজ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। সংঘাতটি এক স্থবির ও দীর্ঘায়িত ক্ষয়ের যুদ্ধে আটকে গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো লাভ নেই, টেকসই সমাধান কেবল কূটনীতিতেই সম্ভব।

ভ্যান্সের সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ছিল এটিই যে ইসরায়েল সরকারের কিছু অংশ মার্কিন-ইরান কূটনৈতিক আলোচনা নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। তারা সামরিক অভিযানকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দীর্ঘায়িত করতে চায় এবং সেই লক্ষ্যে জনমতকে আলোচনার বিপক্ষে নেওয়ার জন্য একটি বড় তহবিলও খাটাচ্ছে।

ভ্যান্স জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন নীতিনির্ধারকদের উচিত বিদেশি চাপ বাদ দিয়ে নিজেদের দেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া। তাঁর মতে, টেকসই শান্তির জন্য দুটি বিষয় জরুরি—হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা।

সমাধানের মূল পথ

প্রথমত, একটি নতুন আঞ্চলিক সামুদ্রিক চুক্তিতে এটি স্বীকার করে নিতে হবে যে হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত বা নিজস্ব জলসীমায় অবস্থিত। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে এই দুই দেশকেই। একই সঙ্গে আরব উপসাগরীয় দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বৃহত্তর চুক্তি থাকবে, যা সব জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করবে।

নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচলে সহায়তা দেওয়ার জন্য ইরান ও ওমান যুক্তিসংগত সার্ভিস ফি বা সেবা মাশুল পেতে পারে, তবে এই সেবা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা যাবে না। এই চুক্তিকে দীর্ঘস্থায়ী, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং সামাজিকভাবে বাধ্যতামূলক করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, পারমাণবিক অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তি বা এনপিটির ভিত্তিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের উচিত একটি স্থায়ী দ্বিপক্ষীয় পারমাণবিক চুক্তি করা। এই চুক্তির অধীনে ইরান চিরতরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ ত্যাগ করবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা তা সার্বক্ষণিক তদারকি করবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে পারমাণবিক–সংক্রান্ত সব নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে তুলে নেবে এবং শান্তির কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরানের অধিকারকে স্বীকৃতি দেবে।

২০১৫ সালের ‘জেসিপিওএ’ পরমাণু চুক্তির মতো ভঙ্গুর না করে, এই নতুন চুক্তিটিকে মার্কিন কংগ্রেস এবং ইরানের পার্লামেন্ট—উভয় স্থান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পাস বা অনুমোদন করাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কোনো পক্ষই সামরিক শক্তি দিয়ে অপর পক্ষকে নতি স্বীকার করাতে পারবে না। আসল পছন্দটি হলো: হয় চিরস্থায়ী যুদ্ধ, না হয় টেকসই কূটনীতি।

কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আবার গতিশীল করতে এবং হরমুজ প্রণালি ও পরমাণু ইস্যুতে চুক্তি চূড়ান্ত করতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের উচিত সরাসরি আলোচনা শুরু করা। যেকোনো সমঝোতার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বৈধ ভিত্তি হলো দুই দেশের জনগণের স্বাধীন মতামত। জনমত জরিপে দেখা গেছে, সাধারণ আমেরিকানরা এই যুদ্ধের তীব্র বিরোধী এবং এটি এখন ভিয়েতনাম যুদ্ধের চেয়েও বেশি অপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ইরানিরা চায়—‘স্থায়ী সংঘাত ছাড়া নিরাপত্তা, বিপ্লব ছাড়া সংস্কার, বিচ্ছিন্নতা ছাড়া সার্বভৌমত্ব এবং আত্মসমর্পণ ছাড়া কূটনীতি’।

* সৈয়দ হোসেন মুসাভিয়ান, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির গবেষক। মিডলইস্ট আই থেকে অনূদিত।

যুক্তরাষ্ট্রের  একটি এফ–১৬ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে টহল দিচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ–১৬ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে টহল দিচ্ছে। ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের ৭০ শতাংশ মুসলিম: সমীক্ষার তথ্য

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জেরে যেসব ভোটার ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের ৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি বাঙালি। এ কারণে ধরে নেওয়া যেতে পারে, বাদ পড়া ভোটারের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম। সম্প্রতি এক সমীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ কথা জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠিত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সবর ইনস্টিটিউট।

এসআইআরে বাদ যাওয়া ও পশ্চিমবঙ্গের ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ২৭ লাখের বেশি ভোটারের মধ্যে ৭০ দশমিক ১৭ শতাংশ মুসলিম এবং মোট ৫১ শতাংশ নারী। তাঁদের অধিকাংশকেই তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা ‘যৌক্তিক অসংগতি’র কারণে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই যৌক্তিক অসংগতির বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে চালু করা হয়েছিল, যার জেরে এত মানুষ ভোট দিতে পারেননি।

এই ২৭ লাখ মানুষ ছাড়াও আরও প্রায় ৬৪ লাখ ভোটারের নাম ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত তালিকা থেকে বাদ গেছে। এর মধ্যে স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত, মৃত বা দ্বৈত (ডুপ্লিকেট) ভোটার বলে তাঁদের নাম কাটা হয়েছে। বর্তমানে এই ৬৪ লাখ ভোটারের তথ্যও নতুন করে বিশ্লেষণের কাজ চলছে।

গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সবর ইনস্টিটিউট একটি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার বা ‘ওপেন ডেটাবেজ’ প্রকাশের কাজ করছে। সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি এই ডেটাবেজে ধর্ম ও লিঙ্গ অনুযায়ী সব তথ্য সাজানো থাকবে। এর ফলে সাধারণ নাগরিক ও গবেষকেরা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিল হওয়ার ফলে নির্দিষ্ট কোন সম্প্রদায় কীভাবে সমস্যায় পড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত মুসলিম সমাজের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বলা হয়েছে, এই তদন্ত জরুরি। কারণ, ২৭ লাখের বেশি মানুষকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে’।

যেমন কোনো দম্পতির ছয়জন বা এর বেশি সন্তান থাকলে তাঁদের নাম সাধারণভাবে বাদ পড়েছে। আবার মা–বাবার নামের বানানে সামান্য অমিল থাকলে বা মা–বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হওয়ার মতো অদ্ভুত কারণ দেখিয়েও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে সবর ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে।

পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় একেবারে গোড়াতেই প্রায় ৬১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মোট প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে গেছে। এর ফলে গত নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটারের সংখ্যা ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে যায়। গত বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৪ লাখ।

নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, মূলত মৃত, স্থানান্তরিত বা যাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাঁদের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৃত চিত্র ছিল অন্য রকম। বহু প্রকৃত ও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল গঠন করে কাজ শুরু হয়।

নির্বাচন শুরুর আগে এবং হেরে যাওয়ার পরে তৃণমূল কংগ্রেস জোর দিয়ে বলেছে, ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দিয়ে, বিশেষত মুসলিম সমাজের মানুষের নাম বাদ দিয়ে তাদের হারানো হয়েছে।

অবশ্য বিজেপির তরফে বলা হয়, তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের মতো করে ভোটার তালিকা বানিয়ে এবং তাতে অসংখ্য ভুয়া ভোটারের নাম ঢুকিয়ে গত নির্বাচনে জিতেছিল। এবার তারা সেটা করতে না পারায় হেরে গেছে।

নির্বাচনপ্রক্রিয়া চলাকালে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। এরপর বাতিল হওয়া ভোটারদের প্রায় ৩৪ লাখ আবেদন সেখানে জমা পড়ে। কিন্তু এই ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। এত বিশালসংখ্যক মানুষের আবেদন বিবেচনা করতে ঠিক কত দিন সময় লাগতে পারে, সে সম্পর্কে কারও কাছেই কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, সংখ্যালঘু–অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই বেছে বেছে ভোটারদের নাম বেশি কাটা হয়েছে। উপযুক্ত তথ্য–প্রমাণের অভাবে এ নিয়ে জোরালো বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু সবর ইনস্টিটিউটের এ প্রতিবেদন প্রমাণ করছে, নির্দিষ্টভাবে মুসলিমপ্রধান অঞ্চল থেকেই ভোটারদের নাম অন্তত এ নির্বাচনে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

কারণ হচ্ছে, মুসলিম ভোটারদের বড় অংশই তৃণমূল কংগ্রেসকে এত দিন ভোট দিয়েছে এসেছে। তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে, এই ভোট না পাওয়ার কারণেই হেরেছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল। এই ভোটাররা কবে ভোটার তালিকায় ফিরবেন এবং ভোট দিতে পারবেন, সে বিষয় এখনো অনিশ্চিত।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় দলের এগিয়ে থাকার খবর শোনার পর ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির সমর্থকেরা উল্লাস শুরু করেন। ৪ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় দলের এগিয়ে থাকার খবর শোনার পর ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির সমর্থকেরা উল্লাস শুরু করেন। ৪ মে ২০২৬ ছবি: এএফপি

‘যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই নেই,’ ম্যানিলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওকে ঘিরে তোপ

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা আসিয়ান (ASEAN)-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অবস্থান করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তার এই সফরের প্রতিবাদে এবং ইরান যুদ্ধে তার ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে সম্মেলনস্থলের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন অসংখ্য আন্দোলনকারী। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, যুদ্ধাপরাধীদের স্বাগতম নয়, ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করো! রুবিওকে নিষিদ্ধ করো! ইত্যাদি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

মানবাধিকার কর্মী ক্রিস্টিনা পালাবে বিক্ষোভের বিষয়ে বলেন, বিশেষ করে ডনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের প্রধান যুদ্ধাপরাধীতে পরিণত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন সরকার ফিলিস্তিন, ইরান, ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে বোমা মেরে হত্যা করার জন্য পরিচিত, যেখানে তাদের স্থায়ী উপস্থিতি রয়েছে এবং সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করে যাচ্ছে। আরেক বিক্ষোভকারী মং পালাতিনো ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সরকারকে রুবির সাথে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তার এই সফরের ফলে ফিলিপাইনে আরও বেশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপিত হবে এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ আরও বেশি লুটপাটের শিকার হবে। তাই মার্কিন সরকারের সাথে হাত মেলানোর জন্য তারা মার্কোস সরকারের তীব্র নিন্দা জানাতে এখানে উপস্থিত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের বার্ষিক এই সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ছাড়াও চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য অংশীদার দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা নিয়েই সম্মেলনজুড়ে প্রধান আলোচনা চলছে। এ প্রেক্ষাপটেই ফিলিপাইনের সাধারণ নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে ম্যানিলার রাজপথে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

‘যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই নেই,’ ম্যানিলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওকে ঘিরে তোপ

ট্রাম্পকে সমর্থন বার্নহ্যামের, ইরানে হামলা চালাতে খুলে দিলেন বৃটিশ ঘাঁটি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলা’ পরিচালনার জন্য বৃটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বার্নহ্যাম দেশটির সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নীতি বহাল রাখলেন।

বৃটেন এমন সময়ে এই পদক্ষেপ নিলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার পর গত শুক্রবার কিয়ার স্টারমার জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন।

ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি এবং ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান পরিচালনার অনুমতি বহাল থাকবে।

সূত্রগুলোর দাবি, এসব ঘাঁটি থেকে পরিচালিত মার্কিন অভিযানগুলোর লক্ষ্য হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলা করা এবং হরমুজ প্রণালিতে হামলার জন্য ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা।

গত সোমবার (২০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করা হয় এবং তিনি সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ‘তথাকথিত প্রতিরক্ষামূলক হামলার’ ক্ষেত্রে বৃটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে বার্নহ্যাম আগের সরকারের নীতিই অনুসরণ করবেন। ফলে চলমান মার্কিন অভিযানের কিছু অংশে বৃটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। এনিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা রাতভর ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ব্লুমবার্গের রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় কিয়ার স্টারমার একদিকে বামপন্থী রাজনৈতিক মহলের চাপের মুখে পড়েছিলেন, যারা বৃটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিল। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃটেনের আরও সক্রিয় সামরিক সহযোগিতা চেয়েছিলেন।

Politics

এছাড়া ট্রাম্প ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেয়ায় বৃটিশ কর্মকর্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের হামলার সঙ্গে যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যামের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে পারে বৃটেনের বামঘেঁষা গ্রিন পার্টি এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটস। দল দুটির অভিযোগ, মার্কিন অভিযানে বৃটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিলে বৃটেন সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধে পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বার্নহ্যামের প্রতি ডনাল্ড ট্রাম্পের তুলনামূলক ইতিবাচক মনোভাবের পেছনেও এই সিদ্ধান্ত ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সোমবার বার্নহ্যাম টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। এনিয়ে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচনায় বার্নহ্যাম হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃটেনের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওই ফোনালাপকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন।

তিনি লিখেন, আমরা নর্থ সি তেল, বাণিজ্য, সামরিক জোট, হরমুজ প্রণালির মাইন অপসারণ এবং আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। ফোনালাপটি ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং খুব ভালো হয়েছে।

ট্রাম্পকে সমর্থন বার্নহ্যামের, ইরানে হামলা চালাতে খুলে দিলেন বৃটিশ ঘাঁটি

সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশের দাবি: মহাকাশযান থেকে বেরিয়ে এসেছিল এলিয়েন, করেছে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগও

প্রকাশ ২৩ নভেম্বর ২০২৫ঃ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের হলোম্যান বিমানঘাঁটিতে একবার এলিয়েনের (ভিনগ্রহবাসী) মুখোমুখি হয়েছিলেন বিমানবাহিনী ও মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর কর্মকর্তারা। ১৯৬৪ সালে ঘটেছিল এই ঘটনা।

এ বিষয়ে অবগত ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ (১৯৮৯-১৯৯৩ সাল)। নতুন মুক্তি পাওয়া একটি প্রামাণ্যচিত্রে এমন অবিশ্বাস্য দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট।

তবে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ দাবির পক্ষে প্রামাণ্যচিত্রে প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেখানো হয়নি।

‘দ্য এজ অব ডিসক্লোজার’ নামের এ প্রামাণ্যচিত্রে জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী এরিক ডেভিসের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ২০০৩ সালে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বুশ তাঁকে ওই ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন।

এরিক ডেভিস ২০০৭ সালে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠিত অ্যাডভান্সড অ্যারোস্পেস থ্রেট আইডেন্টিফিকেশন প্রোগ্রামের (এএটিআইপি) বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন প্রয়াত সিনেটর হ্যারি রিড।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুশ এরিককে বলেছেন, তিনটি মহাকাশযান ওই ঘাঁটির কাছে আসে এবং একটি অবতরণ করে। সেটি থেকে এক এলিয়েন বেরিয়ে এসে বিমানবাহিনী ও সিআইএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে। বুশ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে নাকি জানানো হয়, তা জানার ‘প্রয়োজন নেই’।

জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে নৌবাহিনীর পাইলট ও সিআইএর পরিচালক ছিলেন। প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁকে এ ঘটনা জানানো হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত শুক্রবার অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পাওয়া ওই প্রামাণ্যচিত্রে পদার্থবিদ ও সাবেক এএটিআইপি সদস্য হ্যাল পাথহফের সাক্ষাৎকারও রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ভিনগ্রহের বিভিন্ন সত্তার নমুনাও উদ্ধার করা হয়েছে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজিস্ট ও ক্যানসার গবেষক গ্যারি নোলান বলেছেন, যেসব সামরিক সদস্য ওই মহাকাশযানের কাছাকাছি গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন, তাঁদের কয়েকজন ভীষণভাবে দগ্ধ বা আহত হয়েছিলেন।

প্রামাণ্যচিত্রটির পরিচালক ড্যান ফারাহ আশা করছেন, এ চলচ্চিত্র আকাশে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু তথা ইউএফও সংক্রান্ত তথ্য-উদ্‌ঘাটনের আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নেবে এবং কোনো এক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রকাশ্যে ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব স্বীকার করতে সাহস জোগাবে।

নিউইয়র্ক পোস্টকে ড্যান ফারাহ বলেন, ‘আমার মনে হয়, এ চলচ্চিত্র আমাদের এক ভিন্ন জায়গায় নিয়ে এসেছে। এমন এক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, যেখানে কোনো প্রেসিডেন্ট সহজভাবে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে পুরো মানবজাতিকে বলতে পারবেন—আমরা মহাবিশ্বে একা নই।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-23%2F2kjcyylj%2FWhatsApp-Image-2025-11-23-at-3.30.20-PM.jpeg?rect=0%2C0%2C1536%2C1024&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
এআইয়ের সহায়তায় তৈরি। প্রতীকী ছবি

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারে মার্কিন সরকারের প্রতি মামদানির আহ্বান

নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, সিটি প্রশাসনের নিজস্বভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা নেই। তাই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মামদানি।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মামদানি বলেন, ‘বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী।’

তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গাজা উপত্যকায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

মামদানি বলেন, ‘আমরা আমেরিকানরা যে বোমার অর্থায়ন করি, সেই বোমাতেই মানুষ নিহত হচ্ছে। তাই এই ঘটনার দায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রও মুক্ত নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যার চোখ, হৃদয় ও বিবেক আছে, তিনি গাজায় সংঘটিত ধ্বংসযজ্ঞ উপলব্ধি করবেন এবং বুঝবেন, নেতানিয়াহুর বিচার আদালতেই হওয়া উচিত।’

মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নিজস্বভাবে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা নেই।

তবে তিনি বলেন, ‘ফেডারেল সরকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে। তাই আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন আইসিসিতে যোগ দিয়ে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। একইভাবে পলাতক কোনো যুদ্ধাপরাধীকেও এখানে স্বাগত জানানো হবে না।’

তিনি আরো বলেন, নিউইয়র্ক সিটি এককভাবে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে না পারলেও, এর প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।

মামদানির ভাষায়, ‘আমরা হয়তো একা এই গণহত্যা বন্ধ করতে পারব না। কিন্তু আমাদের নীরবতা আরেকটি অস্ত্রে পরিণত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই। সব মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি উপায় বিবেচনা করা উচিত।’

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

সূত্র: আনাদোলু

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারে মার্কিন সরকারের প্রতি মামদানির আহ্বান
নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

‘এমন জন্ম, এমন মৃত্যু যেন কারও না হয়’ by মানসুরা হোসাইন

প্রকাশ ২৩ নভেম্বর ২০২৫ঃ নির্জন কবরস্থানের এক কোণে ছোট্ট একটি কবর। মাটি এখনো নরম, ভেজা। কবরে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে কালো ফিতা দিয়ে আটকানো সাদা কাগজে লেখা—‘বেবী অফ আঁখিমনি-রন্টি (কন্যাসন্তান)’। দাফনের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৫।

নারায়ণগঞ্জে ভুঁইগড়ের মামুদপুর কবরস্থানে নামহীন শিশুর এই কবরের পাশে দাঁড়ালে বোঝার উপায় নেই যে মৃত্যুর আগে বা পরে এই কন্যাসন্তান তার মা–বাবা বা কোনো স্বজনকেই কাছে পায়নি। তার চিকিৎসা ও দাফনের ব্যবস্থা করেছে ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন।

কাগজে মায়ের নাম আছে, বাস্তবে মা নেই

৫ নভেম্বর ২০২৫ রাত ৩টার দিকে কে বা কারা নবজাতকটিকে শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক সমস্যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড মোড়ের বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। এ সময় শিশুটির ওজন ছিল এক কেজির মতো। ভর্তির কাগজে মায়ের নাম লেখা ছিল—আঁখিমনি-রন্টি। ভর্তির পর থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে আর খুঁজে পায়নি। যোগাযোগের যে নম্বর দেওয়া ছিল, সেই নম্বরে কেউ ফোন ধরেননি।

মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চিকিৎসক অধ্যাপক মজিবুর রহমান। তিনি মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক, পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে চিফ কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কন্যাসন্তানটিকে ভর্তির সময় মায়ের নাম আঁখিমনি-রন্টি বলে উল্লেখ করা ছিল। তাই তার কবরের ওপরে—বেবী অফ আঁখিমনি-রন্টি (কন্যা সন্তান) লিখে রাখা হয়েছে।

মজিবুর রহমান আরও বলেন, রাজধানীর বাইরে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে না। তাই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ভবিষ্যতে আইনি ঝামেলা এড়াতে নবজাতক উদ্ধার এবং মারা গেলে থানা ও প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। সকালে এই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুমতি নিতে নিতে লাশ দাফন করতে বিকেল হয়ে গেছে। জন্ম, মৃত্যু—সব জায়গাতেই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে নবজাতকটিকে।

বৃদ্ধাশ্রমে নিঃসঙ্গ মৃত্যু

এই নবজাতকের মৃত্যুর কয়েক দিন পর ১৪ নভেম্বর ২০২৫ রাজধানীর মেরুল বাড্ডার রাশমনা আপনঘর বৃদ্ধাশ্রমে থাকা ৯৫ বছর বয়সী মো. আবদুল আজিজ চৌধুরী মারা যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর আগে তিনি বারবার স্বজনদের মুখ দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেউ আসেননি। এমনকি মৃত্যুর পর খবর দেওয়ার পরও তাঁর লাশ নিতে আসেননি কেউ। বৃদ্ধাশ্রমের প্রশাসন আইনি ঝামেলা সামলে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁর দাফনের ব্যবস্থা করেছে।

রাশমনা আপনঘর বৃদ্ধাশ্রম ও ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন জন্ম ও মৃত্যু যেন কারও না হয়।

বেসরকারি উদ্যোগ ‘ভালো কাজের হোটেল’-এর পাশাপাশি রাশমনা আপনঘর বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা মো. আরিফুর রহমান ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, গত মাসের ৮ তারিখ থেকে আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তখন থেকেই তাঁর পরিবারের সদস্যদের বেশ কয়েকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তাঁরা কেউ দেখতে আসেননি। এমনকি মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পরও লাশ নেওয়া তো দূরের কথা তাঁর পরিবারের কেউ দেখতে আসেননি।

আরিফুর রহমান বলেন, ‘নিজের পরিবার অস্বীকার করলেও রাশমনা আপনঘরের পরিবার তাঁকে অস্বীকার করেনি। আমরা তাঁকে আজিমপুর কবরস্থানের দাফন করেছি।’

‘কবি কাকা’—অপরিচয়েই কাটল শেষ জীবন

আরিফুর রহমান বলেন, তিন বছর ধরে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা আবদুল আজিজের পরিচয় ছিল ‘কবি কাকা’। বৃদ্ধাশ্রমের সবাই তাঁকে এই সম্বোধনেই ডাকতেন। তিনি কবিতা লিখতেন। আচরণ ও কথাবার্তায় সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষের ছাপ স্পষ্ট থাকলেও নিজের পরিচয় জানাতে চাইতেন না।

আবদুল আজিজের এক ভাই, এক বোন আর এক ভাগনের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেছিল বৃদ্ধাশ্রম কর্মৃপক্ষ। এবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়ার কথা বলেছিলেন। সে সময় এবং মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের যে সদস্যদের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে ফোন কেটে দেন তাঁরা। আবদুল আজিজের ভাগনে ‘রং নম্বর’ জানিয়ে ফোন কেটে দেন জানিয়েছেন আপনঘর বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যুসনদে আবদুল আজিজের বয়স লেখা ৯৫ বছর। তবে বৃদ্ধাশ্রমে কর্মরতারা বলছেন, বয়স এর চেয়ে কম হবে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র, মৃত্যুসনদ ও আজিমপুর কবরস্থানের দাফন-সংক্রান্ত নথিতে রাশমনা আপনঘর বৃদ্ধাশ্রমের নাম লেখা হয়েছে।

বৃদ্ধাশ্রমে ভর্তির সময় দেওয়া তথ্যে লেখা ছিল—আবদুল আজিজের স্থায়ী ঠিকানা দিনাজপুর। অস্থায়ী ঠিকানা রংপুরের বদরগঞ্জ। বাবার নাম আমিনুল হক চৌধুরী ও মায়ের নাম ফরিদা আমিন চৌধুরী।

বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আবদুল আজিজের পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোন নম্বর নিয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কথা বলা হয়। ভাই পরিচয় স্বীকার করলেও ওই ব্যক্তি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে ফোন কেটে দেন।

আর নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোন পরিচয় দেওয়া একজন নারী বলেন, তাঁরা সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। নিজের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়া বা ভাইয়ের লাশ আনা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাঁদের মা-বাবাও মারা গেছেন।

এই নারী আরও বলেন, তাঁর ভাই আবদুল আজিজ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। লেখালেখি করতেন। পৈতৃক ভিটা সম্পত্তি ভাগ–বাঁটোয়ারা হয়নি। তবে ধানি জমি ভাগের টাকা তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন।

বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আবদুল আজিজ খুব সম্ভবত সিনেমাও বানিয়েছিলেন। বৃদ্ধাশ্রমে আসা অধিকাংশ মানুষের মনে চাপা কষ্ট থাকে। অভিমান বা যেকোনো কারণে তাঁরা নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চান না।

আবদুল আজিজের শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পচন ধরেছিল। দুটি হাসপাতালে টানাটানি করতে হয়েছে। মারা যাওয়ার পরও তাঁর লাশটা পরিবারের কেউ নিতে আসেননি। এমন মৃত্যু কোনোভাবেই কারও কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন আরিফুর রহমান।

নবজাতক ও একটি চিরকুট

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরেক নবজাতক কন্যাসন্তানকে রেখে তার পরিবার উধাও হয়ে যায় বলে ৭ নভেম্বর প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। হাসপাতালের পঞ্চম তলায় শিশু ওয়ার্ডের বেডে তাকে রেখে যান স্বজনেরা। হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্ট্রারে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়—ইনছুয়ারা, শাহিনুর, আলাদিপুর, ফুলবাড়ী।

পঞ্চাশোর্ধ্ব এক দম্পতি নানা-নানি পরিচয় দিয়ে নবজাতকটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। পরে তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শিশুটির পাশে একটি বাজারের ব্যাগ রেখে যাওয়া হয়েছিল। কিছু ওষুধ ছাড়াও জন্মের তারিখ লেখা ছিল ওই ব্যাগের ভেতর মায়ের ফেলে যাওয়া চিরকুটে। লেখা ছিল—‘আমি মুসলিম। আমি একজন হতভাগী। পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম। দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন। বাচ্চার জন্মতারিখ ৪ নভেম্বর ২০২৫ (মঙ্গলবার)। এগুলো সব বাচ্চার ওষুধ...।’

প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বর্তমানে শিশুটি দিনাজপুরের অরবিন্দু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মজিবুর রহমান বলেন, সামাজিক বা পারিবারিক কোনো কারণে এই নবজাতকদের তাদের পরিবার ফেলে রেখে যায়। তারা বেঁচে থাকতেই মা, বাবা বা অন্য কোনো অভিভাবক পাওয়া যায় না। আর মারা গেলে তো আরও পাওয়া যায় না। তাই কন্যাসন্তানটির পরিচয় জানার আর কোনো উপায় নেই।

মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন রাস্তায় ফেলে যাওয়া নবজাতকদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ হওয়ার পরে আদালতের মাধ্যমে অভিভাবক খুঁজে পেতে সহায়তা করে। হাসপাতালটিতে এই ধরনের বেওয়ারিশ নবজাতকদের জন্য আলাদা একটি বিভাগ আছে। ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধারের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট নবজাতক মারা গেছে। হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আরও সাত নবজাতক। অনেককে নতুন পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মজিবুর রহমান।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-22%2F1vd2r9st%2F2.jpeg?w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রয়াত মো. আবদুল আজিজ চৌধুরীর (ডানে) সঙ্গে আপনঘর বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা মো. আরিফুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত