Monday, February 28, 2011

কিউবায় অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ

কিউবার অর্থমন্ত্রী মারিনো মুরিলো যাতে অর্থনৈতিক সংস্কারে মনোনিবেশ করতে পারেন, সেজন্য তাঁকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে প্রথম উপমন্ত্রী আদেল ইজকুয়েরডোকে। আসন্ন কমিউনিস্ট পার্টি সম্মেলনে ওই সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন করা হতে পারে বলে সরকারি সূত্রে গত শুক্রবার জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিবৃতিতে সরকারি একজন কর্মকর্তা জানান, মারিনো মন্ত্রিপরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কংগ্রেসের ইকনোমিক পলিসি কমিশনের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবেন। তিনি কিউবার অর্থনৈতিক মডেলের উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে তত্ত্বাবধানকারীর ভূমিকা পালন করবেন। এ ছাড়া তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতের তত্ত্বাবধান করবেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বৈঠকে অর্থনীতির সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়ার পর মারিনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারও তাঁর স্ত্রী রসালিন আগামীকাল সোমবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য কিউবা সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্কের উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করবেন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে কার্টারের এক মুখপাত্র এ কথা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন, কিউবার নতুন অর্থনৈতিক নীতি ও আসন্ন কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলন সম্পর্কে জানার জন্য তিনি এ সফরে যাচ্ছেন। তিনি সেখানে প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোসহ সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

ভারত-ইংল্যান্ডের স্বস্তি ও অস্বস্তি

ভারতের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন। ইংল্যান্ডের একটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের হাহাকার মেটানোর অভিযান। এই দুই লক্ষ্য নিয়েই আগামীকালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি দুই দল। এই ম্যাচের আগে দুটি দলেরই রয়েছে কিছু স্বস্তি আর অস্বস্তির জায়গা।
ভারতের সবচেয়ে বড় অস্বস্তি আপাতত শচীন টেন্ডুলকার। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো ব্যাটিং করতে করতেও রানআউট হয়েছেন বীরেন্দর শেবাগের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে। এরপর অনুশীলনে বাঁ হাঁটুতে পেয়েছিলেন চোট। স্ক্যান করে দেখা গেছে সমস্যা আপাতত নেই। টেন্ডুলকারের রান না পাওয়া আর হালকা চোটের সঙ্গে ভারতের দুশ্চিন্তা শ্রীশান্তের বোলিং। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৫ ওভার বোলিং করে ৫৩ রান দিয়ে কোনো উইকেটের মুখ দেখেননি এই পেসার।
এই দুই দুশ্চিন্তা বাদ দিলে ভারত-শিবিরে স্বস্তিই বেশি। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮৭ রানের জয় দিয়ে বিশ্বকাপের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে তেরঙা বাহকদের। শ্রীশান্ত ভালো না করলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো বোলিং করেছেন জহির খান আর মুনাফ প্যাটেল। শ্রীশান্তের জায়গায় পীযূষ চাওলাকে নিয়ে নিলেই লেঠা চুকে যায়। ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের স্পিন ভালো খেলতে না পারার বিষয়টি মাথায় রাখলে ভারত হয়তো এটাই করবে।
শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, ইংল্যান্ডের দুশ্চিন্তা তো বোলিং নিয়েও। হল্যান্ডের বিপক্ষে দলের মূল পেসার জেমস অ্যান্ডারসন সুবিধা করতে পারেননি একেবারেই। ১০ ওভার বল করে ৭২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।
মন্থর উইকেটে দলের একমাত্র স্পিন ভরসা গ্রায়েম সোয়ানও যে খুব ভালো করেছেন, এটা বলা যাবে না। ১০ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। হল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টাও তেমন দুর্দান্ত নয়। স্কোরশিটে ৬ উইকেটের জয় লেখা থাকলেও তা ছিল খুব কষ্টসাধ্যই। তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস বলেছেন, ‘আমরা সাধারণত ভালো দলের বিপক্ষে ভালো খেলি।’
ইংল্যান্ডের অবশ্য একটা স্বস্তির জায়গা আছে। আইপিএল ব্যাটসম্যান রবি বোপারা রান পেয়েছেন প্রথম ম্যাচে। ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২০ বলে অপরাজিত ৩০ রান করে কলিংউডের সঙ্গে দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। তবে সত্য হলো, বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দুই স্পিনার খেলানোর পরিকল্পনায় বোপারার ওপরই হয়তো কোপটা বসাবে ইংল্যান্ড। দলে ঢুকতে পারেন বাঁহাতি স্পিনার মাইকেল ইয়ার্ডি।

লিভারপুলের ত্রাতা কিউট

প্রাগে প্রথম লেগে গোলশূন্যভাবে ড্র করে ফিরে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন লিভারপুল কোচ কেনি ডালগ্লিস। চিন্তার ঘুণপোকা তাঁকে কুরে কুরে খেতে শুরু করেছিল অ্যানফিল্ডে নিজেদের উঠোনেও। শেষ পর্যন্ত তাঁকে এবং দলকে চিন্তামুক্ত করেছেন ডির্ক কিউট। ইউরোপা লিগের ম্যাচে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্পার্তা প্রাগকে। ৮৬ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে দারুণ একটা হেডে লিভারপুলকে শেষ ষোলোতে উঠিয়ে দেন এই ডাচ স্ট্রাইকার। শেষ ষোলোয় লিভারপুল খেলবে পর্তুগালের স্পোর্টিং ব্রাগার সঙ্গে।
নিজেদের মাঠে পরশু জয় পেয়েছে আরেক ইংলিশ দল ম্যান সিটিও। গ্রিক ক্লাব আরিসকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে কার্লোস তেভেজরাও। মস্কোয় পাওকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেও প্রি-কোয়ার্টারে উঠেছে সিএসকে মস্কো। দুই লেগ মিলিয়ে জিতল ২-১-এ।
দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম অ্যানফিল্ডে কোনো ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টে জয় পেলেন লিভারপুল কোচ ডালগ্লিস। স্বস্তির এই জয়ের পর বললেন, ‘এটা খুবই কঠিন একটা ম্যাচ ছিল। আমরা প্রথম খেলাতেই বুঝেছিলাম যে তারা বেশ শক্তিশালী দল, বিশেষ করে শারীরিকভাবে খুব শক্তিশালী প্রাগের খেলোয়াড়েরা।

ম্যাচ জেতাবে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে!

কেউ বলছে পেস আক্রমণ, কেউ বা স্পিন। কারও মতে, দলটার ব্যালান্স অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়। পাকিস্তান কেন এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিপজ্জনক দল, এমন নানা ব্যাখ্যা। কিন্তু দলটির সাম্প্রতিক জয়গুলো ঘাঁটলেই চোখে পড়বে সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটিং পাওয়ার প্লের পাকিস্তান!
ছয়ে উমর আকমল, সাতে শহীদ আফ্রিদি, আটে আবদুল রাজ্জাক—খানিকটা ঝুঁকি নিয়ে বলে ফেলা যায় ওয়ানডে ইতিহাসেরই সবচেয়ে ভয়ংকর লোয়ার মিডল অর্ডার! শেষ এখানেই নয়, ব্যাটের হাতটা মন্দ নয় উমর গুল, ওয়াহাব রিয়াজ, আবদুর রেহমানদেরও। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে চালু হওয়ার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ দলই পাওয়ার প্লের শুরুতেই একটা-দুটো উইকেট খুইয়ে পথ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু এমন গভীরতার জন্যই একটি-দুটি উইকেট হারানো পাকিস্তানকে খুব বেশি ঝামেলায় ফেলে না। প্রায় সব দলই যেখানে ব্যাটিং পাওয়ার প্লের সঙ্গে মানিয়ে নিতে খাবি খাচ্ছে, পাকিস্তান ব্যবধান গড়ে তুলছে এখানেই! প্রথম ম্যাচের কথাই ভাবুন না, পাকিস্তান তিন শ ছাড়াল তো ওই পাওয়ার প্লের ৫ ওভারে ৬০ রান হওয়াতেই! নিকট অতীতে পাকিস্তানের এই পাওয়ার প্লে ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ডও।
কুমার সাঙ্গাকারা সবই জানেন। প্রেমাদাসায় আজ ম্যাচের নিয়ন্তা হতে পারে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে, এটাও মানছেন। তবে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক যেমন আপাদমস্তক ‘স্মার্ট’ ক্রিকেটার, তাঁর জবাবটাও হলো তেমনই, ‘আমরা জানি, পাকিস্তান ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে বিপজ্জনক, পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে খেলার মজাটাই এখানে। বিপদের হাত ধরেই তো আসে শঙ্কা। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে ওদের ব্যাটিং যেমন খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তেমনি এই সময় আমরা ভালো বোলিং করলেও ম্যাচ আমাদের দিকে হেলে পড়বে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ, আর আমরা চালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি।’
এই চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে সাঙ্গাকারার মূল হাতিয়ার হতে পারেন লাসিথ মালিঙ্গা। গতি, অ্যাকশন আর রিভার্স সুইং মিলিয়ে শেষের ওভারগুলোতে বিশ্বের অন্যতম সেরা মালিঙ্গা। কিন্তু হালকা চোটের কারণে তাঁকে প্রথম ম্যাচে খেলায়নি শ্রীলঙ্কা। তবে কাল অনুশীলনে পুরো রানআপেই বোলিং করেছেন, কে জানে চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে হয়তো আজই নিজের মূল অস্ত্রকে মাঠে নামিয়ে দেবেন সাঙ্গাকারা।
সাঙ্গাকারাকে চ্যালেঞ্জে জেতাতে পারেন আরেকজনও। ক্যারিয়ার-জুড়েই যিনি ছিলেন সব অধিনায়কের সবচেয়ে বড় ভরসা—মুত্তিয়া মুরালিধরন। কিন্তু বয়স আর প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ বিবেচনায় কিছুটা নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স মিলিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্টে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি স্পিন জাদুকর। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে যে দলের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন (৯৫টি), সেই দলের কোচ ওয়াকার ইউনুস যেমন মুরালি-শঙ্কা স্রেফ উড়িয়ে দিলেন, ‘মুরালিকে আমরা সব সময়ই ভালো খেলেছি, ওকে নিয়ে আলাদা করে ভাবার কিছু নেই। তা ছাড়া ওর বয়স তো এখন ২৮ নয়। ওর জন্য কিন্তু কাজটা সহজ হবে না!’
কথাগুলো মুরালির কানে গেছে কি না, কে জানে। ক্যারিয়ারে প্রায় সব পাওয়ার পর যদি খানিকটা আয়েশি ভাব চলেও আসে, এই মন্তব্য মুরালিকে তাতিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
মুরালির বোলিং, ব্যাটিং পাওয়ার প্লে এমন লড়াইয়ের ভেতর অনেক লড়াইয়ের মঞ্চ তাই প্রস্তুত।

পন্টিংদের হাতে আগেই একটা ট্রফি

দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার টানা চতুর্থ আর অধিনায়ক হিসেবে রিকি পন্টিংয়ের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, পরের প্রশ্ন। সেটি পূরণ হোক আর না হোক, বিশ্বকাপ-যাত্রার দ্বিতীয় ম্যাচেই একটা ট্রফি পেয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া!
ব্যস্ত সূচির কারণে এবার চ্যাপেল-হ্যাডলি সিরিজ হচ্ছে না। তাই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড দুই পক্ষ মিলে নাগপুরের বিশ্বকাপ ম্যাচটিকেই ঘোষণা করে ‘চ্যাপেল-হ্যাডলি’ ম্যাচ।
কাল নাগপুরের ম্যাচটি ছিল আবেগ ও শোকেরও। ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে দুই দলের ক্রিকেটাররাই মাঠে নামেন কালো ব্যাজ পরে। চ্যাপেল-হ্যাডলি সিরিজের স্বাদ, স্বজন হারানোর শোক—কোনোটাই ভেট্টোরির দলের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারেনি।
বলে-ব্যাটে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া জিতল ৭ উইকেটে। প্রথমবারের মতো তাসমান অঞ্চলের বাইরে থেকে জিতল চ্যাপেল-হ্যাডলি ট্রফি। বিশ্বকাপে টানা জয়ের হিসাবটাকে টেনে তুলল ২৫-এ।
জিম্বাবুয়ের সঙ্গে প্রথম ম্যাচেই লি-টেইট-জনসন ত্রয়ী বুঝিয়েছেন, কেন পেস বোলিংয়ের ওপর অস্ট্রেলিয়ার এত আস্থা। কাল বুঝিয়ে দিলেন আরও বেশি করে। টস জিতে পন্টিংয়ের বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে নিউজিল্যান্ডকে শেষ করলেন ২০৬ রানে। উইকেট শিকারে যথারীতি নেতৃত্ব দিলেন বাঁহাতি পেসার মিচেল জনসন। কালও নিলেন ৪ উইকেট, টেইট ৩ উইকেট, লি-ওয়াটসন ১টি করে।
জিম্বাবুয়ে ম্যাচে জনসনকে হারিয়ে ম্যাচ-সেরা হয়েছিলেন ওয়াটসন। কাল সেই ওয়াটসনকে হারিয়েই ম্যাচ-সেরা জনসন। ১ উইকেট পেয়েছেন, সঙ্গে আরেকটি হাফ সেঞ্চুরি।
ব্রেট লির করা ইনিংসের প্রথম ওভারে রান পেলেন না। পরের ১২ বলেও মার্টিন গাপটিল রানবিহীন, ১৮ বলে ০। ধারাভাষ্য কক্ষে তখন সুনীল গাভাস্কার আর ম্যাথু হেইডেন প্রসঙ্গ।
১৯৭৫-এ প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পুরো ৬০ ওভার ব্যাটিং করে গাভাস্কার ১৭৪ বল খেলে অপরাজিত থেকে যান ৩৬ রানে! গাপটিল গাভাস্কারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসলেন না তো? ২০০৭ চ্যাপেল-হ্যাডলি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৮১ রান করেন হেইডেন। অথচ প্রথম ১৮ বলে করেছিলেন শূন্য। হেইডেনের মতো গাপটিলও কি স্মরণীয় ইনিংসের প্রস্তুতিই নিচ্ছেন?
গাভাস্কার-হেইডেন কাউকেই অনুসরণ করা হয়নি গাপটিলের। ২৫ বলে ১০ রান করে আউট। গাপটিল যেন পুরো দলেরই প্রতীক!
ও পাশে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম শুরু করেন ঝোড়ো গতিতে। তবে সেই দৌড় থামিয়ে দিয়েছেন টেইট। গাপটিল রানের খাতা খোলার আগেই ম্যাককালাম (১২ বলে ১৬) আউট। গাপটিলকে ফেরান ওয়াটসন। পরে জনসন-তোপে ৭৩ রানেই ৬ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। নাথান ম্যাককালাম আর অধিনায়ক ভেট্টোরির কল্যাণে নিউজিল্যান্ড ২০০ পেরোয়। নাথান করেন বিশ্বকাপে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি (৫২), ভেট্টোরি ৪৪।
লক্ষ্য ২০৭। অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটা কোনো বিষয়! ৩৪ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে সেটি তারা বুঝিয়েছেও। ওয়াটসন-হাডিন উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলেন ১৩৩ রান। দুজনেই করেছেন হাফ সেঞ্চুরি। হাডিনের (৫৫) এটা বিশ্বকাপে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি, ওয়াটসনের (৬২) তৃতীয়। পন্টিং ফিরে যান ১২ রানে। বাকি কাজটুকু হেলেদুলেই শেষ করেছেন মাইকেল ক্লার্ক (২৪*) আর ক্যামেরন হোয়াইট (২২*)।

মুরালিকে মোকাবিলায় প্রস্তুত পাকিস্তান: মিসবাহ

বিশ্বকাপের সূচনাটা দুর্দান্তভাবে করেছে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা দুই দলই। পাকিস্তান কেনিয়াকে হারিয়েছে ২০৫ রানে আর শ্রীলঙ্কা কানাডাকে হারিয়েছে ২১০ রানের বিশাল ব্যবধানে। এবার মুখোমুখি লড়াইয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে ’৯২ ও ’৯৬-এর শিরোপাজয়ীরা।
এবারের বিশ্বকাপের পরপরই ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন মুত্তিয়া মুরালিধরন। নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত শেষ বিশ্বকাপটাকে স্মরণীয় করে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই নিশ্চয়ই থাকবে তাঁর। আর উপমহাদেশের স্পিনারবান্ধব কন্ডিশনে মুরালি সত্যিই হয়ে উঠতে পারেন ব্যাটসম্যানদের যম। সব মিলিয়ে কলম্বোয় আজকের বিগ ম্যাচে নিশ্চিতভাবেই সবার নজর থাকবে স্পিন কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরনের দিকে। তবে পাকিস্তানের সহঅধিনায়ক মিসবাহ-উল হক আশা করছেন, মুরালিকে খুব ভালোভাবেই সামলাতে পারবেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। তিনি বলেছেন, ‘এটা দুই দলের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমাদের মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হবে। কোনো সন্দেহ নেই যে, মুরালি বিশ্বমানের একজন বোলার। আমরা কিন্তু তাঁকে আগেও খুব ভালোমতোই মোকাবিলা করেছি। ইউনুস খান স্পিন খুব ভালো খেলেন। অন্যান্য তরুণ ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। ফলে আমি নিশ্চিত, আমরা তাঁদের ভালোমতোই সামলাতে পারব।’
শ্রীলঙ্কা অনেক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে, তার ওপর এবার বিশ্বকাপটা হচ্ছে তাদের নিজেদের দেশেই। সব মিলিয়ে লঙ্কানদেরই কিছুটা এগিয়ে রেখেছেন অনেকে। কিন্তু পুরো শক্তি দিয়ে খেলতে পারলে পাকিস্তান জয় ছিনিয়ে আনতে পারবে বলেই বিশ্বাস মিসবাহর। বলেছেন, ‘কয়েক বছর ধরেই শ্রীলঙ্কা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে। নিজেদের মাটিতে তারা খুবই শক্ত প্রতিপক্ষ। কাজেই আমাদের খুবই ভালোমতো পরিকল্পনা করে মাঠে নামতে হবে। সম্মিলিতভাবে ভালো খেলতে পারলেই আমরা তাদের হারাতে পারব।’

জেগে ছিল ঢাকা

আয়ারল্যান্ডের তখনো দুই উইকেট বাকি, উল্লাসটা শুরু হয় তখনই। ঢাকার রাস্তায় নেমে পড়ে অসংখ্য ক্রিকেটপাগল মানুষ। শফিউলের বলে আয়ারল্যান্ডের শেষ ব্যাটসম্যান র্যাঙ্কিনের পতন ঘটতে না ঘটতেই ঢাকা পরিণত হয় উত্সবের নগরে। বিজয় এসেছে, প্রতিশোধের বিজয়, স্বস্তির বিজয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার বিজয়। সারা রাত ধরে ঢাকায় চলেছে এই বিজয় উত্সব। বিজয়ের উন্মাদনায় সারা রাত জেগে ছিল ঢাকা।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রাতভর চলেছে বিজয়ের উত্সব। সে উত্সবে যোগ দেয় সর্বস্তরের মানুষ। লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় ঢাকার মহাসড়ক থেকে অলিগলি। যে যেভাবে পেরেছে উত্সব করেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা কণ্ঠ ফাটিয়ে ঢাকার আকাশে-বাতাসে বিজয়ের ধ্বনি তুলেছে। ভুভুজেলার কর্ণবিদারী শব্দ সে বিজয়ের আনন্দে যোগ করে নতুন উন্মাদনা। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর নাচগানে রাতটি হয়ে ওঠে শুধুই ঢাকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন হল, পুরান ঢাকা, নীলক্ষেত, শাহবাগ, মিরপুর, উত্তরা, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতভর চলেছে উল্লাস মিছিল। প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও সাইকেলে করে মানুষ নেমে আসে রাজপথে। আর যাদের বাহন ছিল না, তারা পায়ে হেঁটেই যোগ দেয় আনন্দ উত্সবে। সবার মুখেই ছিল ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ স্লোগান।
আয়ারল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে জিতে দেশবাসীর এই উল্লাস আসলেই একটু অদ্ভুত। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান কিংবা ভারত হলেও না হয় একটা কথা ছিল। আসলে কালকের জয়টা ছিল নিশ্চিত পরাজয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর এক বিজয়গাথা। দর্শকের আনন্দটাও তাই অনেকটাই নতুন জীবন পাওয়ার আনন্দের মতোই। সেই সঙ্গে গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ ও ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরাজয়ের মধুর প্রতিশোধ তো ছিলই।
এই প্রতিশোধের আনন্দেই শেষ রাত পর্যন্ত চলেছে দর্শক-সমর্থকদের আনন্দ। নগরের প্রতিটি মোড় থেকে ভেসে এসেছে বিজয়ের প্রতিধ্বনি। ভোরে শ্রান্ত দেহে মানুষ ফিরেছে, কিন্তু তখনো তাদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের স্মিত হাসি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল জিতেছে, আর কী লাগে !