Showing posts with label ক্রিকেট. Show all posts
Showing posts with label ক্রিকেট. Show all posts

Wednesday, February 11, 2026

আইসিসিতে নিরপেক্ষতার সংকট by সাদ শাফকাত

আপনি যদি ১৯৪৭ সাল থেকে টানা ঘুমিয়ে না থাকেন, তাহলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানের অস্বীকৃতি আপনাকে অবাক করবে না। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটকে বহুদিন ধরেই এক ধরনের ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা হয়। একসময় এই ‘যুদ্ধ’ মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল। ব্যাট আর বলের লড়াইয়েই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতো। সেটা ছিল তখন। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ম্যাচের ভেন্যু নির্বাচন, সফরসূচি- সবই রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে। এটাই এখনকার বাস্তবতা।

যুক্তি দিয়ে বলা যায়, এই খেলাটা শুরু করেছিল ভারতই, আর পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েছে পাল্টা জবাব দিতে- চোখের বদলে চোখ। ২০০৮ সালে করাচিতে এশিয়া কাপ হওয়ার পর থেকে ভারতের ক্রিকেটাররা পাকিস্তানে আর খেলেনি। অথচ এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তান ভারতের মাঠে অন্তত ১৯ বার খেলেছে। সবশেষ ২০২৩ সালের নভেম্বরে ওয়ানডে বিশ্বকাপে। শুরুতে ভারতের অস্বীকৃতিকে নিরাপত্তার যুক্তিতে ব্যাখ্যা করা যেত। ২০০৯ সালের লাহোরে সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানকেও তো বছরের পর বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘ঘরের মাঠ’ বানিয়ে খেলতে হয়েছিল।

কিন্তু পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর এবং অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের মতো শীর্ষ দলগুলো যখন আবার পাকিস্তানে এসে খেলতে শুরু করল, তখন ভারতের ক্রিকেট বোর্ডকে নতুন অজুহাত খুঁজতে হলো। তারা সামনে আনল ‘সরকারি অনুমতির’ কথা। অর্থাৎ সিদ্ধান্তের ভার তুলে দিল কট্টরপন্থী বিজেপি সরকারের হাতে। তখনই মুখোশ খুলে গেল।

এই ভারতীয় অনড় অবস্থানের ফলেই গত বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজন কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়। আট দলের টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো যখন লাহোর, করাচি ও রাওয়ালপিন্ডিতে নির্বিঘ্নে চলছিল, তখন ভারতকে তার পাঁচটি ম্যাচই খেলতে দেয়া হয় দুবাইয়ে। এর মধ্যে ছিল ২৩ ফেব্রুয়ারির পাকিস্তানের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ গ্রুপ ম্যাচ এবং ৯ মার্চের ফাইনালও। এই চরম বৈষম্যের ব্যাখ্যা একটাই- ক্রিকেটে ভারতের অপ্রতিরোধ্য প্রভাব।

একশ কোটির বেশি দর্শকের বাজার নিয়ে ভারত রাজস্ব, স্পনসরশিপ, লবিং এবং শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)- সবকিছুর ওপরই কর্তৃত্ব কায়েম করেছে। পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে মনে হচ্ছিল, আমাদের হাতে আর কোনো তাস নেই।
তবে সাম্প্রতিক দুটি নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনা এই হিসাব বদলে দিয়েছে। প্রথমটি হলো বাংলাদেশে ভারতসমর্থিত শেখ হাসিনা ওয়াজেদের ক্ষমতাচ্যুতি, যা দিল্লির হস্তক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশে তীব্র ক্ষোভ উসকে দিয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ব্যর্থ দুঃসাহসিকতা, যা পাকিস্তানি নীতিনির্ধারকদের ভারতের প্রতি অবস্থানে নতুন আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এই দুই ভূকম্পনের ঢেউ এসে মিলেছে ক্রিকেট দুনিয়ায়।

প্রথমে বাংলাদেশ আইসিসির কাছে অনুরোধ জানায়- তাদের আসন্ন বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যেন ভারতের বাইরে, শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়া হয়। পাকিস্তান আগেই এমন ছাড় আদায় করেছিল। বাহ্যিকভাবে এই অনুরোধের কারণ ছিল আইপিএল থেকে এক বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের রহস্যজনক বহিষ্কার। কিন্তু আসলে এর পেছনে রয়েছে ক্রমাবনত রাজনৈতিক সম্পর্ক। বাংলাদেশের এই অবস্থানে সাহস পেয়ে পাকিস্তানও কঠোর অবস্থান নেয় এবং জানায়- বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ১লা ফেব্রুয়ারি সরকার নেবে। সেই সিদ্ধান্ত টুইটারে জানানো হয়: পাকিস্তান বিশ্বকাপ খেলবে, কিন্তু ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ বয়কট করবে। নকআউট পর্বে ভারতকে পেলে কী হবে- সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

খাঁটি ক্রিকেটের বিচারে গ্রুপ ম্যাচ ছেড়ে দেয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলেই মনে হতে পারে। দুটি মূল্যবান পয়েন্ট হাতছাড়া করা মানে পরের পর্বে ওঠা ঝুঁকির মুখে ফেলা। কিন্তু এখানে একটি বার্তা দেয়া জরুরি ছিল এবং পিসিবি সেটা কৌশলে দিয়েছে। আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের রেকর্ড ভয়াবহ; এই ম্যাচে হারার সম্ভাবনাই ছিল বেশি। অন্যদিকে গ্রুপের বাকি তিন প্রতিপক্ষ সহযোগী স্তরের দল- যারা অঘটন ঘটাতে পারে ঠিকই, তবে অতিক্রম অযোগ্য নয়।

সবচেয়ে বড় কথা, ভারতীয় দর্শকদের তাদের প্রিয় বিনোদন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেটা হলো পাকিস্তানকে হারানোর দৃশ্য। এই ম্যাচগুলো ভারতের টিভি বাজারে সোনার খনি। ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সম্মিলিত (টিভি ও ডিজিটাল) দর্শকসংখ্যা ছিল ৪০ কোটির বেশি। গত বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেই সংখ্যা ছাড়িয়েছিল ৮০ কোটি। ১৫ই ফেব্রুয়ারির বাতিল হওয়া ম্যাচটিও নিশ্চয়ই একই রেকর্ড গড়ত। নকআউটে যদি দুই দল মুখোমুখি হয়, তাহলে সব দর্শকসংখ্যার রেকর্ড ভেঙে যাবে- এ নিয়ে সন্দেহ নেই।

এই বেছে নেয়া বয়কট পাকিস্তানে শান্ত আলোচনার জন্ম দিলেও ভারতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সেটাই প্রমাণ করে, এটা কতটা কার্যকর হয়েছে। ভারতীয় কট্টরপন্থীরা ক্ষুব্ধ, সাধারণ দর্শক হতাশ। একই সঙ্গে কিছু যুক্তিবাদী ভারতীয় কণ্ঠও শোনা যাচ্ছে। শশী থারুর আইসিসির ছাতার নিচে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে আলোচনায় বসে ‘এই অর্থহীনতা বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন। প্রখ্যাত ক্রিকেট সাংবাদিক শারদা উগ্রা সরাসরি দায় চাপিয়েছেন ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর- তাদের ক্ষুদ্র অহং ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার কথা বলেছেন।

এই পুরো বিশৃঙ্খলায়, ক্রিকেটের বাইরেও সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো বাংলাদেশ। তাদের সঙ্গে অন্যায় হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। পাকিস্তানের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে তারা শ্রীলঙ্কায় খেলতে পারত। কিন্তু আইসিসি তাদের হুমকি দেয়- না মানলে দল বদলে দেয়া হবে। শেষ পর্যন্ত সেই হুমকিই কার্যকর করা হয়।
এতে আইসিসির জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে। বৈশ্বিক ক্রিকেটের কল্যাণের দায়িত্ব যাদের, সেই সংস্থাই যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে সমস্যা আরও গভীর। এখন আইসিসি ভারতের মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে। সব ক্রিকেট জাতির উচিত একত্রিত হয়ে নীতিগত অবস্থান নেয়া এবং আইসিসিকে জবাবদিহির আওতায় আনা। কিছু না করার মূল্য অত্যন্ত চড়া।

(লেখক আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজির অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক প্রকাশনায় ক্রিকেট নিয়ে লিখেছেন। তার এ লেখাটি অনলাইন দ্য ডন থেকে অনুবাদ)

mzamin

Thursday, January 29, 2026

‘রাজনীতি নির্মূল হওয়া উচিত, কারণ এটি মানবতার জন্য ক্ষতিকর’ -সাকলায়েন মুশতাক

খেলাধুলায় রাজনীতি মেশানো ঠিক নয়—পুরোনো কথাটিই নতুন করে বললেন সাকলায়েন মুশতাক। বাংলাদেশের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে যখন ক্রিকেট বিশ্ব তোলপাড়, সেই সময়ে প্রসঙ্গটা তুললেন পাকিস্তানের সাবেক অফ স্পিনার। তবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে নয়, ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়েই রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করলেন বাংলাদেশের সাবেক স্পিন বোলিং কোচ।

সাকলায়েনের মতে, রাজনীতি শুধু ক্রিকেটের জন্যই নয়, মানবতার জন্যও ক্ষতিকর। তিনি বলেছেন ক্রিকেটের কাজ দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়া, বিভাজন তৈরি করা নয়।

ভারত ও পাকিস্তান সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে ২০১২–১৩ মৌসুমে। সে সময় ভারত সফরে গিয়েছিল পাকিস্তান। তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল দুই দল। টি-টুয়েন্টি সিরিজটি ১–১ সমতায় শেষ হলেও ওয়ানডে সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছিল পাকিস্তান। এর পর থেকে মহাদেশীয় ও বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ছাড়া আর ক্রিকেট মাঠে দেখা হয়নি দুই দলের।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাকলায়েন বলেন, ‘আমি মনে করি রাজনীতি নির্মূল হওয়া উচিত, কারণ এটি মানবতার জন্য ক্ষতিকর। রাজনীতি আমাদের শত্রু। এটি শুধু ক্রিকেট নয়, পুরো মানবসমাজকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ক্রিকেটের উদ্দেশ্য দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য তৈরি করা, দূরত্ব বাড়ানো নয়।’

সাকলায়েনের মতে, রাজনীতি কিংবা সংঘাত নয়, ক্রিকেট শুধু বিনোদনের মাধ্যমই হওয়া উচিত। বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না থাকা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি সাকলায়েন, ‘ক্রিকেট মানে বিনোদন। এটি কোনো যুদ্ধ বা যুদ্ধক্ষেত্র নয়। বাংলাদেশের ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। আমি তো আগেই স্পষ্ট করে বলেছি আমি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।’

 সাকলায়েন মুশতাক
সাকলায়েন মুশতাক। ছবি: শামসুল হক

Tuesday, January 27, 2026

৮ ঘণ্টার বৈঠকে হঠাৎ কীভাবে এলেন সাকিব by মাহমুদুল হাসান

গত শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালকদের সভা হয়েছে প্রায় আট ঘণ্টা। দীর্ঘ এ আলোচনার এক ফাঁকে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে আবার খেলানোর কথা তোলেন প্রভাবশালী এক পরিচালক, তাঁকে সমর্থন দেন আরও দুজন। হঠাৎ তাঁদের ওই আলোচনা তুলতে দেখে বিস্মিত হন বৈঠকে উপস্থিত কেউ কেউ।

সাধারণত বোর্ড পরিচালকদের সভায় কী কী আলোচনা হবে, তা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেদিন সবাইকে সাকিবের বিষয়টি জানানো হয়নি। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন দাবি করেন, পরিচালকদের ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সাকিব এখন থেকে জাতীয় দলে খেলার জন্য বিবেচিত হবেন।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলা, পরিচালক ইশতিয়াক সাদেকের পদত্যাগের আলোচনার ভিড়ে হঠাৎ তাঁর এমন ঘোষণায় বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে সবার মধ্যে। সংবাদ সম্মেলনেই জানানো হয়, সাকিবের ‘ফর্ম-ফিটনেস’ ঠিকঠাক থাকলে, নির্বাচকেরা চাইলে দলে নিতে পারবেন তাঁকে। সঙ্গে বলা হয় আরও একটি শর্তের কথাও, ‘যে ভেন্যুতে খেলা হবে, সেখানে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা থাকতে হবে।’

সাকিবের জাতীয় দলে খেলা নিয়ে জটিলতা এখানেই। বাংলাদেশের মাঠে খেলার ‘সক্ষমতা’  তাঁর তো প্রায় দেড় বছর নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময়টায় সাকিব ছিলেন দেশের বাইরে। এরপর আর দেশে ফিরতে পারেননি নৌকা প্রতীকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়া সাকিব। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আরও অনেকের মতো সাকিবের নামেও হত্যা মামলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে শেয়ার কেলেঙ্কারির অভিযোগ আছে, আছে দুদকের মামলাও। এমনকি জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। দেশে এলে এসব মামলায় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাকিব। তাই জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি ‘প্রবাসী’।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। ওই বছরের অক্টোবরে দেশের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কথা ছিল তাঁর। সেই ম্যাচ খেলার জন্য দেশের পথে থাকলেও পরে নিরাপত্তাশঙ্কায় তাঁকে থমকে যেতে হয় মাঝপথেই। এরপর আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাকিবের দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক পোস্ট নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

সেসবের পরিপ্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্পষ্ট করেই জানিয়েছিলেন, সাকিবকে দেশে ফিরতে না দিয়ে তিনি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। এটাও বলেছিলেন, সাকিবকে আর বাংলাদেশের পতাকা বহন করতে দেওয়া যাবে না। সাকিব যাতে আর বাংলাদেশের হয়ে খেলতে না পারেন, সেই স্পষ্ট নির্দেশনাও তিনি বোর্ডকে দিয়েছেন বলে জানান।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার পদত্যাগের পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক আসিফ নজরুল। এখন কি সাকিবের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান বদলেছে? সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির পক্ষ থেকে এ প্রশ্নের কোনো সরাসরি উত্তর দেওয়া হয়নি। বিসিবির পক্ষ থেকে শুধু জানানো হয়, দেশের হয়ে আবার খেলার জন্য সাকিবের বাধাগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সভাপতি আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে বিসিবির একটি সূত্রের দাবি, এ আলোচনা শুরু হয়েছে আরও ১০-১২ দিন আগে। নিরাপত্তা–সংকটে ভারতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলতে চাওয়ার সিদ্ধান্তের সময় সরকারের সঙ্গে সাকিবকে খেলানোর বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় বিসিবির পক্ষ থেকে। সাকিবের ব্যাপারে সরকারের কয়েক মাস আগের অবস্থান এখন বদলে গেছে বলে মনে করে বিসিবি সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পরিচালকের দাবি, সরকারের কাছ থেকে সবুজ সংকত পেয়েই বিসিবি সাকিবকে খেলানোর বিষয়টি সামনে এনেছে।
সাকিবও কয়েকটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দেশের মাটিতে খেলেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যেতে চান। তাঁর সেই চাওয়া এখন বিসিবিও পূরণ করতে চায়। নতুন করে বিসিবর এ অবস্থানের বিষয়ে মন্তব্য জানতে সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়টি আড়াল করতেই সাকিবকে হঠাৎ খেলানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর বিদায় নেবে, এই সময়ের মধ্যে সাকিবের মামলাগুলো কীভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তরও নেই বিসিবির কারও কাছে।

সাকিব কি তাঁর মামলাগুলো প্রত্যাহার না হলে দেশে এসে খেলতে রাজি হবেন? গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি নেবেন? যদি এসব বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা তিনি না পান, তাহলে তাঁকে দলে বিবেচনার ক্ষেত্রে যে শর্তগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেসবের সঙ্গে তার আগের বাস্তবতার কোনো পার্থক্য নেই।

এসব ব্যাপারে বিসিবির কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁদের দাবি, সাকিবকে খেলানোর বিষয়ে সরকারের বর্তমান দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এখন ইতিবাচক। তাঁর আইনি জটিলতাগুলো সমাধানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাকিব এলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হবে, ঝিমিয়ে পড়া ক্রিকেটের জন্য তা জরুরি। তাতে বিশ্বকাপ না খেলতে পারার যে আক্ষেপ, সেটাও কিছুটা আড়ালে যাবে হয়তো। তবে এর সঙ্গে ক্রিকেটীয় ব্যাপারও আছে—সাকিব সাদা বলের ক্রিকেটে আরও কিছুদিন ভালোভাবেই খেলতে পারবেন বলে মনে করে বোর্ড।

বর্তমানে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে বেড়ানো সাকিবের ফর্ম ও ফিটনেস নিয়েও তাদের তেমন সংশয় নেই। সর্বশেষ আইএল টি-টুয়েন্টি পর্যন্ত সব কটি টুর্নামেন্টই সাকিব খেলেছেন বিসিবির কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে।

সাকিব যদি শেষ পর্যন্ত দেশে আসেন এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলেন, সে ক্ষেত্রে ওয়ানডেকে তিনি যেন গুরুত্ব দেন, বোর্ডের চাওয়া থাকবে সেটি। এ বছর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের, পরের বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ।

কিন্তু এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সরাসরি খেলা নিয়েও ঝুঁকি আছে। ওই বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে বাংলাদেশকে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে থাকতে হবে। সাকিব এ ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন বলে মনে করে বোর্ড। তবে এর আগে অনেক যদি-কিন্তু পাড়ি দিতে হবে সাকিব ও বিসিবিকে।

সাকিব আল হাসান
সাকিব আল হাসান। প্রথম আলো

Friday, January 23, 2026

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে না বাংলাদেশ

নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আইসিসিও যেহেতু বাংলাদেশের ভেন্যু বদলানোর অনুরোধ রাখেনি, এর অর্থ এবারের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের।

আজ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেন আসিফ নজরুল। আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু স্থানান্তরের অনুরোধ না রেখে সুবিচার করেনি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তারা সুবিচার করবে বলে আশা করছেন তিনি। ক্রিকেটারদের সঙ্গে কী আলাপ হয়েছে, তা অবশ্য খুলে বলেননি তিনি।

আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে, সেই নিরাপত্তা ঝুঁকি পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটে নাই। আমাদের যেই নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয় নাই। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনা থেকে হয়েছে। যেখানে আমাদের দেশের একজন সেরা খেলোয়াড়কে, উগ্রবাদীদের কাছে মাথা নত করে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাকে ভারত থেকে বের করে দিয়েছে—সোজা কথা, বের করে দিতে বলেছে।’

ক্রীড়া উপদেষ্টার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করে যাবো। আমরা এখনও হাল ছেড়ে দিচ্ছি না। আমরা আবার আজকে যোগাযোগ করব আরো কিছু জিনিস নিয়ে এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপ খেলতে পারে। আমাদের একটাই চাহিদা, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এই মুহূর্তে আমরা ভারতে যেতে চাই না, আমরা শ্রীলঙ্কার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে চাই। আমরা এখনও তৈরি, আমাদের দল তৈরি আছে।’

গতকাল আইসিসির সভায় বিসিবি সভাপতিকে ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য এক দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজ চূড়ান্তভাবে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানালেন ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবি সভাপতি।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-01-22%2F51q1cdiu%2FWhatsApp-Image-2026-01-22-at-5.08.15-PM.jpeg?rect=1%2C0%2C1280%2C853&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
কথা বলছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। প্রথম আলো

Friday, January 16, 2026

ক্রিকেট নিয়ে ‘নাটক’ ভারতের নৈতিক কর্তৃত্বকেই দুর্বল করে

দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয়ঃ যে দেশ ক্রিকেটকে শুধু খেলা নয়, বরং কূটনৈতিক ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবেও দেখে- সেই ভারতই আশ্চর্যজনকভাবে খেলাধুলা ও রাজনীতির সীমারেখা আলাদা রাখতে প্রায়ই ব্যর্থ হয়। কলকাতা নাইট রাইডার্সের আইপিএল দলে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে না নেয়া নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কটি স্বাভাবিকভাবে একটি সাধারণ ক্রীড়া সিদ্ধান্ত হিসেবেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা পরিণত হয়েছে দেশপ্রেম, পরিচয় ও জাতীয় আনুগত্য নিয়ে উচ্চকণ্ঠ গণভোটে।

এই বিচ্যুতি যতটা সামান্য মনে হয়, আসলে তার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত জরুরি পার্থক্য। জাতীয় দল একটি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে। ফ্র্যাঞ্চাইজি দল প্রতিনিধিত্ব করে একটি শহর, একটি ব্র্যান্ড এবং একটি ব্যবসায়িক মডেলকে।

যখন কোনো দেশ যুদ্ধ, সন্ত্রাস বা কূটনৈতিক ভাঙনের পর অন্য দেশের জাতীয় দলের বিপক্ষে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তা রাষ্ট্রীয় আচরণ সম্পর্কে একটি প্রতীকী বার্তা দেয়। কিন্তু যখন একটি বেসরকারি মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজনৈতিক চাপের মুখে কোনো বিদেশি খেলোয়াড়কে বাদ দেয়, তখন বিষয়টি অনেক বেশি অস্পষ্ট ও সমস্যার হয়ে ওঠে। এতে একজন ব্যক্তিগত পেশাদার খেলোয়াড়কে গোটা একটি দেশের রাজনীতির প্রতীক বানিয়ে ফেলা হয়।

এটি বাংলাদেশের বিষয়ে বাস্তব উদ্বেগ অস্বীকার করার বিষয় নয়। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, বৈরী রাজনৈতিক ভাষ্য, এবং ঢাকার সাম্প্রতিক কৌশলগত সংকেত নিয়ে ভারতের উদ্বেগ বাস্তব ও যুক্তিসংগত। এসব গুরুতর বিষয় দৃঢ় কূটনৈতিক আলোচনার দাবি রাখে। কিন্তু যাদের হাতে কোনো নীতিনির্ধারণের ক্ষমতা নেই, যারা কোনো উসকানি বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশ নন- এমন ক্রীড়াবিদদের নিশানা করে সেই উদ্বেগের সমাধান হয় না। বরং উল্টো, এতে ভারতের অবস্থান দুর্বল হয়; দেশটিকে নীতিনিষ্ঠ নয়, বরং আবেগতাড়িত ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াশীল বলে মনে হয়।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট শুরু থেকেই সহাবস্থানের এক পরীক্ষাগার। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের খেলোয়াড়রা একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করে ব্যবহার করেন, একে অপরের সাফল্য উদযাপন করেন এবং এমন দর্শকদের সামনে খেলেন যারা জাতীয়তার চেয়ে দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেন। এতে কখনোই ভারতের জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়নি; বরং এটি ভারতকে একটি আত্মবিশ্বাসী, উন্মুক্ত ক্রীড়াসংস্কৃতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রাজনৈতিক প্রদর্শনীর জন্য সেই পরিসরকে দুর্বল করা কৌশলগত আত্মঘাতের শামিল। এই ফ্র্যাঞ্চাইজি সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রতিক্রিয়া আরেকটি অস্বস্তিকর প্রবণতাও উন্মোচন করেছে- পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির জন্য খেলাধুলাকে কত সহজে অস্ত্র বানানো হচ্ছে। যখন ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, আর খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন করা হয় পারফরম্যান্স নয়, পাসপোর্ট দেখে- তখন নাগরিক গর্ব ও সাংস্কৃতিক অনিরাপত্তার মাঝের সীমারেখা ঝাঁপসা হয়ে যায়।

এটি জাতীয় শক্তির লক্ষণ নয়। এটি স্নায়ুবিক দুর্বলতার লক্ষণ।
একইভাবে, বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াও- সম্প্রচার সীমিত করা বা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার হুমকি, সংযম নয়, বরং উত্তেজনা বাড়ানোর রাজনীতিকেই প্রতিফলিত করে। প্রতিবেশীরা প্রতীকী প্রতিশোধে লাভবান হয় না। তারা লাভবান হয় সংযম, যোগাযোগ এবং এই বোধ থেকে যে, প্রতিটি উসকানি জোরালো হওয়ার যোগ্য নয়।
এর একটি গভীরতর ক্ষতিও আছে। যখন প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা ক্রিকেট মাঠে গড়ায়, তখন খেলাধুলা তার অনন্য ভূমিকা, একটি নিরপেক্ষ মিলনস্থল হারাতে থাকে। তখন ক্রিকেটও হয়ে ওঠে অভিযোগের আরেকটি মঞ্চ, রাজনৈতিক পয়েন্ট স্কোরিংয়ের আরেকটি ক্ষেত্র। এই ক্ষতি আমরা বহন করতে পারি না।
ভারতের প্রকৃত শক্তি বরাবরই ছিল তার বৈপরীত্য ধারণ করার ক্ষমতা কঠোর কিন্তু ভঙ্গুর নয়, আত্মবিশ্বাসী কিন্তু রূঢ় নয়, নীতিনিষ্ঠ কিন্তু দণ্ডনির্ভর নয়। যদি আমরা আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে সত্যিই সম্মান পেতে চাই, তবে আমাদের প্রমাণ করতে হবে- কখন সীমারেখা টানতে হয়, আর কখন তা না করাই শ্রেয়।
একজন ক্রীড়াবিদকে রাজনৈতিক প্রতিনিধিতে পরিণত করা রাষ্ট্রনায়কোচিত আচরণ নয়।
এটি নিছক নাটক।
দীর্ঘমেয়াদে, এই নাটক ভারতের নৈতিক কর্তৃত্বকেই দুর্বল করে।

https://mzamin.com/uploads/news/main/198499_1620745538_1606617524_5fc309b4f2a13_mustafizur-rahman.jpg

Sunday, November 2, 2025

সাকিব আল হাসান: বাংলাদেশের ক্রিকেটনায়ক যেভাবে নিজের ক্যারিয়ার কবর দিলেন by মুবাশার হাসান

দ্য ডিপ্লোম্যাটের নিবন্ধঃ একসময় সাকিব আল হাসান ছিলেন বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পরিচিত নাম। তিনি ছিলেন একজন নায়ক, যিনি লাখো মানুষের, বিশেষত তরুণদের, আশা-ভরসা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। কেনই বা হবেন না?

সাকিব ছিলেন ক্রিকেটার, তাও আবার জাতীয় দলের অধিনায়ক। দারিদ্র্য, রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে জর্জরিত একটি দেশে সাকিব বাংলাদেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে এনেছিলেন। এজন্যই তিনি ছিলেন মানুষের প্রিয়। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পর সাকিবই হয়তো সবচেয়ে পরিচিত বাংলাদেশি ছিলেন। কিন্তু ১৫ বছরেরও বেশি সময় দেশ শাসন করা স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর, অনেক বাংলাদেশির কাছেই সাকিব আর নায়ক নন।

ক্রিকেটার অবস্থায়ই সাকিব তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগ দেন ২০২৩ সালে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। সেই নির্বাচনকে দেশ-বিদেশে একপক্ষীয় ও কারচুপিপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। এখন হাজারো আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর মতো সাকিবও নির্বাসিত জীবনে আছেন। বাংলাদেশের এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, সাকিব আর কখনো জাতীয় দলের জার্সি পরতে পারবেন না। বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেট খেলার উপরও তার নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, এই সিদ্ধান্তের প্রতি জনগণের মধ্যেও সমর্থন আছে।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাকিব, তার মা শিরিন আখতার এবং আরও ১৩ জনের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার কারসাজির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ তদন্ত করছে। সাকিবের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে। এই অভিযোগগুলোর কিছু শেখ হাসিনার আমলেই উঠেছিল, তবে তখন তদন্ত হয়নি। সাংবাদিকরা আরও খুঁজে পেয়েছেন, সাকিবের পিতা ছাত্রনেতা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সব মিলিয়ে সাকিব ও তার পরিবার এখন গভীর বিপদে।

সাকিবের উত্থান ও পতনের গল্প এক অদ্ভুত মিশ্রণ- ক্রিকেট, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার এক রঙিন কেলেইডোস্কোপ। ১৯৮৭ সালে মাগুরার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম সাকিবের। ২০০৪ সালে বিভাগীয় লিগে খেলা শুরু করেন এবং দ্রুত নিজের সুনাম গড়ে তোলেন। ২০০৬ সালে জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে তার। প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ৪৪৭টি ম্যাচ খেলেছেন। করেছেন ১৪,৭৩০ রান। নিয়েছেন ৭১২টি উইকেট। ইএসপিএন ক্রিকইনফো তাকে বর্ণনা করেছে, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সহজভাবে সেরা ক্রিকেটার।’ ক্রিকেট মাঠের সাফল্য তাকে এনে দেয় খ্যাতি ও অর্থ। দেশি-বিদেশি বহু বিজ্ঞাপনে তিনি মুখপাত্র হন। ২০১৩ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত তিনি ইউনিসেফের জাতীয় শুভেচ্ছা দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে বিতর্ক কখনোই সাকিব থেকে দূরে ছিল না। তিনি একাধিকবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আইসিসির শাস্তির মুখে পড়েন। একবার গ্রাউন্ডসম্যানকে হুমকি দেয়ার জন্য, আবার একবার টেলিভিশনে অশোভন অঙ্গভঙ্গির কারণে তাকে শাস্তি পেতে হয়। ‘অশোভন আচরণ’-এর অভিযোগে বিসিবি তাকে ৮ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে। ২০১৯ সালে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট এক বুকির সঙ্গে গোপন যোগাযোগের জন্য তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে, যার এক বছর স্থগিত রাখা হয়। এই সময়েই সাকিব তার ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে থাকেন, যার মধ্যে স্বর্ণ ব্যবসাও ছিল। কিন্তু যখন সাকিব আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন দলটির সরকার ভোট কারচুপি, দুর্নীতি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, গোপন কারাগার পরিচালনা এবং হাজার হাজার বিরোধী কর্মীকে বন্দি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচিত।

দেশের মানুষও জানতো ক্ষমতায় টিকে থাকতে শেখ হাসিনা কী ভয়ঙ্কর কৌশল নিয়েছেন। তবুও সাকিব সেই দলে যোগ দেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সাকিব এক পক্ষ বেছে নেন। সেটা এমন এক পক্ষ, যেটি বহু বাংলাদেশির কাছে দমন, নির্যাতন ও হত্যার প্রতীক। জাতিসংঘ পর্যন্ত বলেছে, শেখ হাসিনার সরকার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণবিক্ষোভে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করে থাকতে পারে। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সাকিব নিজের সামাজিক মাধ্যমে শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ছবি প্রকাশ করতেন। এমনকি ক্ষমতাচ্যুতির পরও তিনি সেই অভ্যাস ছাড়েননি- যা এখন তার জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

বর্তমানে সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। সম্প্রতি তিনি শেখ হাসিনার জন্মদিনে সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন- ‘শুভ জন্মদিন, আপা।’
এই পোস্টের কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, সাকিব আর কখনো বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারবেন না। একজন সত্যিকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের এক স্বৈরশাসকের সঙ্গে রাজনৈতিক আঁতাতে জড়ানোই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের উজ্জ্বলতম ক্রিকেট নক্ষত্রের ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছে। শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানানোয় সাকিব প্রকাশ করেছেন এক ধরনের নির্মম সংবেদনশীলতার অভাব। কারণ অসংখ্য বাংলাদেশির কাছে হাসিনা মানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও নিপীড়ন, যা তাদের জীবন ও পরিবার ধ্বংস করেছে। নিজের রাজনৈতিক অন্ধ আনুগত্য ও বাস্তবতা অনুধাবনে ব্যর্থতার কারণেই সাকিব নিজ হাতে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের কবর রচনা করেছেন।

(লেখক সিডনিভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভূরাজনীতি বিশ্লেষক ও গবেষক। তার এ লেখাটি অনলাইন দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে অনুবাদ)

mzamin

Saturday, May 10, 2025

ভারতের গণমাধ্যম কার্টুন নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে: বললেন আফ্রিদি

ভারত–পাকিস্তান চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ভারতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের গণমাধ্যম বিশ্বাসযোগ্য সংবাদকক্ষ না হয়ে কার্টুন নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন আফ্রিদি। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়কের মন্তব্যটি এসেছে এমন সময়ে, যখন একই দিনে ভারত ও পাকিস্তানের টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আইপিএল ও পিএসএল বন্ধ হয়ে গেছে।

গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারী হামলার ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত ৬ মে দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এক দিন পর পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে। এর মধ্যে রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে ড্রোনের আঘাতে একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ দিনই রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামে পিএসএলে পেশোয়ার–করাচি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল।

স্টেডিয়াম এলাকায় ড্রোন হামলার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ম্যাচ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। আজ সকালে জানানো হয়, এবারের আসরে পিএসএলের আর কোনো ম্যাচে পাকিস্তানে হবে না। বাকি আট ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে। যদিও রাতে আরেক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে পিএসএল স্থগিতের খবরই দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই গতকাল রাতে ধর্মশালায় আইপিএলের পাঞ্জাব কিংস–দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচ নিরাপত্তার কারণে মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা করেছে বলে জানায় ভারত।

আজ বিকেলে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই জানায়, আইপিএলের চলমান আসর এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বিদেশি খেলোয়াড়দের যত দ্রুত সম্ভব নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোরও উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের বোর্ড।

দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলা বন্ধের পর (পিএসএল আনুষ্ঠানিক স্থগিতের আগে) আফ্রিদি এক্স পোস্টে বিষয়টি তুলে ধরে লিখেছেন, ‘খেলাধুলা সীমান্ত, ধর্ম আর রাজনীতির ঊর্ধ্বে। আজ তা আঘাতের মুখে—পিএসএল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দুবাইয়ে, আইপিএল স্থগিত আর রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামের বাইরে ভারতীয় ড্রোন হামলা। একসময় ক্রিকেট আমাদের একত্র করেছিল। আজ তা সংঘাতের আঘাতে রক্তাক্ত।’

দুই দেশের যুদ্ধাবস্থার মধ্যে ভারতীয় গণমাধ্যম সাংবাদিকতা থেকে দূরে সরে গেছে বলে অভিযোগ পাকিস্তানের হয়ে পাঁচ শর বেশি ম্যাচ খেলা আফ্রিদি, ‘ভারতীয় গণমাধ্যম সত্যনিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার মতো সাংবাদিকতার মূল্যবোধ রক্ষার বদলে পরিণত হয়েছে একটি ব্যঙ্গচিত্রে, বিশ্বাসযোগ্য বার্তাকক্ষের বদলে কার্টুন নেটওয়ার্কে।’

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়ে আবার মাঠে খেলা ফিরুক, এই প্রত্যাশা জানিয়ে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘স্টাম্পগুলো আবার দাঁড়াক। শুধু খেলার জন্য নয়, শান্তির জন্য।’

বর্তমানে ভারতে শহীদ আফ্রিদির এক্স ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ রয়েছে। গত সপ্তাহে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারেরসামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ভারতে ব্লক করে রাখা হয়েছে, এরমধ্যে বাবর আজম, শাহিন আফ্রিদি, মোহাম্মদ রিজওয়ানদের পাশাপাশি শহীদ আফ্রিদিও আছেন। ভারত থেকে তাঁদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করলে ‘এই অ্যাকাউন্ট বর্তমানে ভারতে প্রবেশযোগ্য নয়। এটি একটি আইনি অনুরোধ মেনে কনটেন্টটি সীমিত করার কারণে হয়েছে।’

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। শহীদ আফ্রিদির ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে

Monday, May 5, 2025

ওয়াসিম আকরামের কোকেন আসক্তি ও প্রথম স্ত্রী’র হারিয়ে যাওয়ার গল্প

ক্রীড়াঙ্গনে তারকাখ্যাতি অনেক বড় জিনিস। খেলোয়াড়রা বিশ্ব জুড়ে সমাদৃত হন নানা ধরনের মানুষের কাছে। এমনকি তাদের জীবনধারাও প্রভাব ফেলে ভক্তদের ওপর। তবে আলোকসজ্জার এই দুনিয়ার বাইরেও তাদের অনেকের একটি অন্ধকার জগৎ থাকে, যার ব্যাপারে অবগত থাকে না বাইরের কেউই। পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামকে বলা হয় ‘সুলতান অব সুই’। ১৯৯২তে বিশ্বকাপ জেতা এই পেসার ওয়ানডে আর টেস্ট মিলিয়ে নিয়েছেন ৯০০টিরও বেশি উইকেট। ২০২২-এ সাংবাদিক গিডিওন হেইগের সঙ্গে যৌথভাবে নিজের আত্মজীবনী ‘সুলতান: আ মেমোয়ার’ প্রকাশ করেন আকরাম। বইয়ের ‘ব্যাটলিং মাই ডিমনস’ অংশে নিজের সেই অন্ধকার জীবনের কথা তুলে ধরেন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফাস্ট বোলার।

খেলোয়াড়ি জীবনের পর ভয়াবহ মাদকদ্রব্য কোকেনের নেশায় জড়িয়ে যান ওয়াসিম আকরাম। এসবের শুরুটা হয়েছিল ইংল্যান্ডের এক পার্টিতে। সেবারই প্রথম, তবে অল্প অল্প করে আসক্তি বাড়তে থাকে।  এক সময় ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় যে তার স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার জন্যও এটির দরকার পড়তো বলে মনে করতেন তিনি। আকরাম যখন পুরোপুরিভাবে কোকেনের ওপর নির্ভরশীল, তখন হুমা মুফতি (প্রয়াত স্ত্রী) ম্যানচেস্টার ও লাহোরে প্রায়শই একা থাকতেন। হুমার ক্রিকেট নিয়ে বা মাঠের বাইরের খ্যাতি নিয়ে কখনোই আগ্রহ ছিল না। আকরামের সন্দেহ হতো, স্বামীর ওপর ক্রিকেটের প্রভাব দেখেই হয়তো তাদের দুই সন্তান তাহমুর ও আকবরকে সবসময় খেলা থেকে দূরে রাখতেন হুমা।

একপর্যায়ে আকরামকে ধরে ফেলেন হুমা, স্বামীর ওয়ালেটে থাকা কোকেনের একটি প্যাকেট খুঁজে পান তিনি। সে সময় হুমা বলেন, ‘আমি জানি তুমি মাদক নিচ্ছো, তোমার সাহায্যের দরকার।’ খোদ আকরামও রাজি ছিলেন, কেননা কোকেনের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে ততদিনে দুই গ্রামে পৌঁছে গিয়েছিল। তখন একটি পুনর্বাসন প্রোগ্রামে ভর্তি হতে রাজি হন আকরাম। তবে লাহোরের সেই রিহ্যাবটি খুব একটা জাতের ছিল না। ডাক্তারাও খুব সুবিধার ছিল না। প্রতি সপ্তাহে চার্জ করা হতো প্রায় ২ লাখ রুপি। সেখানে এক মাস থাকাকালীন স্ত্রী-সন্তানদের একবারের জন্যও দেখতে পাননি আকরাম। একপর্যায়ে তারা দেখা করতে এলে রাগের সুরেই সেখান থেকে বের হওয়ার কথা জানান তিনি। তবে ডাক্তার নিজের খেলাটা খেলেন, হুমাকে বলেন, ‘আমি তো আগেই বলেছিলাম যে, সে এমনই করবে।’ এর আরও সাত সপ্তাহ পর যখন হুমা বুঝতে পারলেন যে, আকরামই ঠিক ছিলেন- তখন বের করে নিয়ে আসেন তার স্বামীকে। একপর্যায়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষ থেকে আকর্ষণীয় এক চাকরির প্রস্তাব পান আকরাম। তবে তখনো কোকেনের মোহ থেকে সম্পূর্ণভাবে বের হতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে বিবাহবিচ্ছেদের কথাও ভাবেন। শেষমেশ ২০০৯-এ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে গিয়ে হুমার নজরদারির বাইরে গিয়ে ফের কোকেন নেয়া শুরু করেন আকরাম। অন্যদিকে তাকে ভালো করে তুলতে গিয়ে একপর্যায়ে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন হুমা। সংক্রামক এন্ডোকার্ডাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন তিনি। এর কয়েক বছর পর দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন ওয়াসিম আকরাম। অস্ট্রেলিয়ার শানিয়ারা থম্পসনের সেই ঘরে একটি কন্যাসন্তানও আছে।

mzamin

Wednesday, April 30, 2025

‘বাবা-মায়ের জন্য এতদূর আসতে পেরেছি’

প্রথম ম্যাচে হাত খুললেও ইনিংসটা বড় হয়নি বৈভব সূর্যবংশীর। কাঁদতে কাঁদতে ছেড়েছেন মাঠ। পরের ম্যাচেও জ্বলে উঠতে পারেননি। তবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) তৃতীয় ম্যাচে রেকর্ড বুক তোলপাড় করে ফিরলেন এই ১৪ বছর বয়সী বিস্ময়বালক। সোমবার গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে ৩৮ বলে ১১ ছক্কায় খেলেছেন ১০১ রানের ইনিংস। ৩৫ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে চোখ কপালে তুলেছেন গোটা ক্রিকেট বিশ্বের। ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে যেসব ত্যাগ করেছেন তার বাবা-মা, রেকর্ড গড়া ম্যাচের পর সেই গল্পই শোনালেন বৈভব।

লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান বৈভব, খেলেন ২০ বলে ৩৪ রানের ইনিংস। সেদিন আউট হয়ে যাওয়ায় পর চোখে পানি নিয়ে ছাড়েন মাঠ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুটা আলোচনাও হয়। গুজরাটের বিপক্ষে বৈভব দেখালেন কেনো সেদিন তার চোখে পানি ছিল। যোগ্যতা যখন আকাঙ্ক্ষা পর্যন্ত ডানা না মেলতে পারে, তবে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হওয়াটা স্বাভাবিক। বৈভব হয়তো জানতেন তিনি কী করতে পারেন। এবার তো করেই দেখালেন। ৩৫ বলে বৈভবের হাঁকানো সেঞ্চুরিটি আইপিএলে দ্বিতীয় ও ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম। ইন্ডিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটির তো বটেই, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসেই সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরির মালিক এখন এই বাঁহাতি ব্যাটার। সোমবার আইপিএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করার দিন তার বয়স ছিল ১৪ বছর ৩২ দিন। ধারাভাষ্যকাররা তো তার নামই রেখে দিয়েছেন ‘বস বেবি’। স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনেও ভেসে ওঠে সে নাম। সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকার তিনে আছে বাংলাদেশের পারভেজ হোসেন ইমন (১৮ বছর ১৭৯ দিন)। আইপিএলে সবচেয়ে কম বয়সে এবং সবচেয়ে কম ১৭ বলে ফিফটির রেকর্ডও এখন বৈভবের খাতায়। দু’টি রেকর্ডের আগের মালিক ছিলেন যথাক্রমে রিয়ান পরাগ (১৭ বছর ১৭৫ দিন) ও যশস্বী জয়সওয়াল (১৯ বল)। এক ইনিংসে ১১টি ছক্কা হাঁকানোর কীর্তি মুরালি বিজয় ছাড়া নেই আর কোনো ভারতীয়র। এদিন আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে নির্ধারিত ওভারে গুজরাট পুঁজি গড়ে ২০৯ রানের। জবাবে ২ উইকেটে ২৬ বল হাতে রেখে জিতে যায় রাজস্থান রয়্যালস। ব্যাট হাতে বৈভব যতটা না বিধ্বংসী, মাইক্রোফোনের সামনে ততটাই নম্র। ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানাতেও গিয়েও খুব একটা উচ্ছ্বাস নেই। বললেন, ‘খুব ভালো লাগছে, আইপিএলে তৃতীয় ইনিংসেই আমার প্রথম সেঞ্চুরি। খুব ভালো লাগছে। এতদিন ধরে, গত তিন-চার মাস ধরে আইপিএলের জন্য যে অনুশীলন করে আসছি, সেটিরই ফল মাঠে দেখা যাচ্ছে। আইপিএলে সেঞ্চুরি করা স্বপ্নের মতোই।’ বৈভবকে নিয়ে আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে তার বাবার নাম। ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন বাবা সঞ্জীব। সে প্রসঙ্গে ছেলে বৈভব বললেন, ‘আমি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি বাবা-মায়ের জন্য। ভোরে আমার অনুশীলন করতে হবে, সে জন্য মা রাত দুটোয় ঘুম থেকে উঠে যেতেন। ঘুমাতেন স্রেফ ঘণ্টা তিনেক। উঠে আমাদের জন্য খাবার বানাতেন। বাবা আমার জন্য কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেটা বড় ভাই সামলাতেন। সংসার অনেক কষ্টে চলছিল। তবে বাবা আমার পেছনে লেগেই ছিল।’

mzamin

Sunday, April 27, 2025

কাশ্মীর হামলা নিয়ে মুখ খুললেন শহীদ আফ্রিদি

কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা এবং তৎপরবর্তী ভারতের আচরণ নিয়ে মুখ খুলেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। এ ঘটনায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত উত্থাপিত অপরিপক্ব ও অপ্রমাণিত অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

শনিবার (২৬ এপ্রিল) জিওটিভি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের অবৈধভাবে অধিকৃত কাশ্মীরের পহেলগামে হামলায় মানুষের প্রাণহানির জন্য আফ্রিদি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সে সঙ্গে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী হামলারও নিন্দা করেন সাবেক এ তারকা খেলোয়াড়।

পর্যটক নিহতদের ঘটনায় সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আফ্রিদির কণ্ঠে ছিল ভারতের প্রতি তীব্র ক্ষোভ। কোনো প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে দোষারোপ করায় নয়াদিল্লির সমালোচনা করে এই কাজটিকে দুর্ভাগ্যজনক এবং অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেন তিনি।

তিনি বলেন, ভারত এই ঘটনার জন্য খুব তাড়াতাড়ি পাকিস্তানকে দায়ী করে ফেলেছে। ফলে অধিকৃত অঞ্চলে প্রাণহানির ঘটনা ভিন্ন মোড় নিয়েছে।

আফ্রিদি দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীকে কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন। বলেন, আমাদের সমস্যাগুলোর একমাত্র সমাধান হলো সংলাপ; সংঘাতে কোনো লাভ নেই।

রাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে খেলাধুলাকে আলাদা রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন সাবেক অধিনায়ক। ক্রিকেটকে ভূরাজনৈতিক বিরোধে টেনে না নিতে উভয় দেশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রাজীব শুক্লা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— ভারতের সরকার যেমন বলবে, তারা তাই মেনে চলবে এবং এই ঘটনার পরে পাকিস্তানের সঙ্গে আর কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে না ভারত।

২০১২-১৩ মৌসুমে পাকিস্তানের ভারতে সফরের পর আর কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয়নি দুই দেশের মধ্যে। সর্বশেষ ভারত পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল ২০০৮ সালে। শুধু আইসিসি ইভেন্টে দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হয়। যেমন ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তান এসেছিল ভারতে খেলতে। তবে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য ভারত পাকিস্তান সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং সেই ম্যাচসহ ফাইনাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় দুবাইয়ে।

স্পোর্টস টককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজীব শুক্লা বলেন, ‘আমরা এই হামলার শিকার নিরীহ জনগণদের পাশে আছি এবং এটিকে তীব্রভাবে নিন্দা জানাই। সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেটাই করব। আমরা ইতোমধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলি না এবং আগামীতেও খেলব না। তবে আইসিসি ইভেন্টে খেলতে হয় কারণ সেটি আইসিসির আওতাধীন।’ 

শহীদ আফ্রিদি। ছবি : সংগৃহীত
শহীদ আফ্রিদি। ছবি : সংগৃহীত

Thursday, April 17, 2025

‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়’ মন্তব্য করে ফের আলোচনায় সাকিব

বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। মাঠে কিংবা বাইরে তাকে নিয়ে আলোচনা লেগেই থাকে। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বড় এক অংশ জুড়ে তিনি  নিজ যোগ্যতায় ছিলেন বিশ্বের শীর্ষ অলরাউন্ডারদের একজন। আবার তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শৃঙ্খলা ভঙ্গ, ফিক্সিং ইস্যু। ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধও হয়েছেন তিনি। মাঠের বাইরে সবশেষ তিনি যোগ দেন রাজনীতিতে। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার সচল থাকা অবস্থায়ই বনে যান সংসদ সদস্য। আর এই ঘটনাই তার জীবনে এসেছে অভিশাপ হয়ে। তার দল আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের সরকার পতন হয়েছে আন্দোলনে। এরপর সাকিব আর দেশে ফিরতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে হয়েছে হত্যা মামলা। এরপর শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতেও তার নাম যুক্ত হয়েছে। গত আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সবশেষ তিনি দেশের হয়ে খেলেছেন কানপুর টেস্টে। দেশ থেকেই টেস্টে বিদায় নেয়ার কথা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পুরণ হয়নি তার। দুবাই এসেও দেশের জন্য বিমানে উঠতে পারেননি। জনরোষ তার বিপক্ষে, কারণ জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি বৈষ্যম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ নেননি। একের পর এক লাশ পড়লেও ছিলেন নির্বিকার। এখনো তিনি অনুতপ্ত নন। তিনি বলেছেন, তার রাজনীতিতে আসা ভুল ছিল না। এখনো নির্বাচন করলে জিতবেন। শুধু তাই নয়, স্পষ্ট করেই বলেছেন ক্ষমতা চীরস্থায়ী নয়। দেশের একটি ইংরেজি দৈনিককে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, তারা চিরকাল থাকবে না। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তাই, সিস্টেমটা ঠিক করতে হলে সবাইকে একসাথে আসতে হবে। আমি রাজনীতিতে এসেছিলাম শুধুমাত্র মাগুরার মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে। অন্য কোনো লাভের জন্য নয়। উদ্দেশ্য ছিল একদম পরিষ্কার। গত ১৮ বছর নাকি শেষের ৬ মাস, কোনটা দেখে আমাকে বিচার করবেন, তা আপনাদের ইচ্ছা।’

সাকিব আল হাসানের দাবি ১৮ বছর তিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন। সেটিই বিবেচনায় নেয়া উচিত ছিল জনগণের। কারণ তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন ৬ মাস মাত্র। সাকিব বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগটা আমার প্রাপ্য এবং বেশির ভাগ মানুষই চায় আমি দেশের হয়ে খেলে অবসর নিই এবং আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যাই। আমার বিশ্বাস, আরও এক-দুই বছর খেলতে পারব। হ্যাঁ, আমি সংসদ সদস্য ছিলাম, কিন্তু এখন তো আর নেই এবং কোনও দলের কোনও রাজনৈতিক পদেও নেই।  আমি এখনও বাংলাদেশের হয়ে খেলে ভালো ভাবে ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই। যদি সুযোগ থাকে আমি এক সিরিজ, দুই সিরিজ নাকি আরও এক বছর খেলব, সেই পরিকল্পনা করতে চাই।’

রাজনীতিতে এসে ভুল করেছেন এমনটাও মানতে নারাজ সাকিব। শুধু তাই নয় এখনো নির্বাচন করলে নিজ আসনে জিতবেন বলেও বিশ্বাস তার। সাকিব বলেছেন, ‘রাজনীতিতে আসা ভুল কিনা, এটা নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তারা বেশিরভাগই মাগুরার ভোটার নন। মাগুরার মানুষের ভাবনা আলাদা। তারা বিশ্বাস করে আমি কিছু করতে পারব। সুতরাং, কে কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না।’  সাকিব জানিয়েছেন, শুধুমাত্র জনপ্রিয়তার জন্য নয়, মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছাই তাকে টেনে এনেছিল রাজনীতির মঞ্চে। কিন্তু সময়, পরিস্থিতি এবং সুযোগের অভাবে সেটা আর সম্ভব হয়নি। তবে সাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, মাগুরার মানুষ তাকে এখনও বিশ্বাস করে, আর সেই বিশ্বাসই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

mzamin

Wednesday, February 19, 2025

২৯ বছর পর পাকিস্তানে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট: আজ শুরু ‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফির’ মহারণ by সৌরভ কুমার দাস

নানা বিতর্ক, অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে অবশেষে আজ পর্দা উঠছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির। এবারের আসর আয়োজন করছে পাকিস্তান। তবে এককভাবে নয়, সহ-আয়োজক হিসেবে থাকছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মূলত ভারত-পাকিস্তান যেতে না চাওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের ম্যাচ আমিরাতে আয়োজন করতে হচ্ছে। ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথম কোনো আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করছে পাকিস্তান। আজ আসরের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে গ্রুপ ‘এ’র দুই দল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানের রাজধানী করাচিতে ম্যাচটি শুরু হবে বিকাল ৩টায়।

সর্বশেষ ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে মাঠে গড়ায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবার মাঠে ফিরছে ‘মিনি বিশ্বকাপ’ খ্যাত এই টুর্নামেন্ট। সেবার ফাইনালে ভারতকে ধসিয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতে পাকিস্তান। এবার ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে তারা। প্রথম ম্যাচে মোহাম্মদ রিজওয়ানের দলের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচের আগে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে কিউইরা। কয়েকদিন আগে ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানকে তাদের মাঠে দুবার হারিয়ে শিরোপা জিতেছে মিচেল স্যান্টনারের দল। পাকিস্তানের সর্বশেষ আইসিসি ইভেন্ট হয় ১৯৯৬ সালে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সেবার যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করে দেশটি। ২৯ বছর পর কোনো আইসিসি ইভেন্ট ফিরছে পাকিস্তানে। ২০০৯ সালে পাকিস্তান সফররত শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়। এরপর প্রায় অর্ধযুগ দেশটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিষিদ্ধ ছিল। ২০১৫ সালের পর থেকে আস্তে আস্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরতে শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি।

তবে এবারো এককভাবে আয়োজন করতে পারছে না তারা। রাজনৈতিক বৈরিতায় প্রায় দেড় যুগ পাকিস্তান সফর করে না ভারত। এর আগে ২০২৩ সালেও ভারত না যাওয়ায় শ্রীলঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে হাইব্রিড মডেলে এশিয়া কাপ আয়োজন করতে হয় পাকিস্তানকে। এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও হচ্ছে একইভাবে, ভারত তাদের ম্যাচ খেলবে দুবাইয়ে। যদিও তারা ফাইনালে ওঠে তাহলে ফাইনালও হবে সেখানেই।

এবার নিরাপত্তা নিয়ে খুবই কঠোর অবস্থানে পাকিস্তান। লাহোরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন ৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য। কয়েকদিন আগে ঘরের মাঠে পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৫২ রান তাড়া করে জিতলেও কিউই বোলারদের বিপক্ষে পাকিস্তানি ব্যাটাররা মোটেও স্বস্তিতে ছিলেন না। প্রথম ম্যাচে ৩৩০ রান তাড়ায় তারা হারে ৭৮ রানে আর ফাইনালে আগে ব্যাটিং করে মাত্র ২৪২ রান তুলে। পাকিস্তানের জন্য শক্তির জায়গা হচ্ছে পেস বোলিং বিভাগ। নতুন বলে কিউই ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারেন তারা। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভরসার নাম শাহীন শাহ আফ্রিদি। দুর্দান্ত গতি আর দারুণ অ্যাঙ্গেলে বোলিং করা শাহীন শুরুতেই উইকেট তুলে পাকিস্তানকে এগিয়ে দিতে পারেন ম্যাচে। নাসিম শাহ ও হারিস রউফরাও আছে দারুণ ছন্দে। তবে সেক্ষেত্রে তাদের সামনে বড় বাধা কেন উইলিয়ামসন। ৩ নম্বরে নামা এই ব্যাটার যে কোনো বিপদে দলের হাল ধরতে ওস্তাদ। আইসিসি ইভেন্টে উইলিয়ামসনের চেয়ে ভরসাযোগ্য ব্যাটার কমই আছে। গেল ত্রিদেশীয় সিরিজেও ৩ ম্যাচে ২৫২ রান করেছেন তিনি। ওপেনার ডেভন কনওয়েও আছেন দারুণ ছন্দে। শেষ ৩ ম্যাচে সবমিলিয়ে ৮৮১ রান করেছে নিউজিল্যান্ড, হারিয়েছে ১৫ উইকেট। যেকোনো কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেয়ার জন্য বাড়তি সুবিধা পাবে তারা। লোয়ার মিডল অর্ডারে টম ল্যাথাম ও গ্লেন  ফিলিপসও সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে আছেন। মিচেল স্যান্টনারের অধিনায়কত্বে বোলিং আক্রমণও দারুণ ব্যালেন্সড দলটির। ফার্গুসন চোটে ছিটকে গেলেও তারা পেয়ে গেছে কাইল জেমিসনকে। অধিনায়ক স্যান্টনার নিজেই স্পিন দিয়ে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন যেকোনো ম্যাচে।

পাকিস্তানের জন্য চিন্তার কারণ বাবর আজমের ফর্ম। দীর্ঘদিন ধরেই রান খরায় ভুগছেন তিনি। তবে ওপেনার ফখর জামান ও অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান আছেন দারুণ ছন্দে। লোয়ার মিডল অর্ডারে সালমান আঘাও অবদান রাখছেন ব্যাট হাতে। বিপিএলে দারুণ পারফর্ম করা দুই অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ ও খুশদিল শাহও আছেন পাকিস্তান স্কোয়াডে। দু’জনেই যেকোনো দলের জন্য সম্পদ হতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত জয় পেতে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ব্যাটারদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে।

mzamin


Saturday, November 30, 2024

রিকশায় চড়লেন, চালালেন আইরিশ নারী ক্রিকেটাররা

দুপুরের সূর্য তখন মাথার উপরে, মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বেলা ২টার দিকে ডজনখানেক রিকশা জড়ো করা হয়। কেন এত রিকশার আয়োজন, জানতে অবশ্য খুব বেশি দেরি হয়নি। একটু পর সেগুলোতে উঠে বসেন বাংলাদেশ সফরে থাকা আয়ারল্যান্ড নারী ক্রিকেটাররা। অনভ্যস্ত হওয়ায় এই বাহনে চড়তে শুরুতে কেউ কেউ ইতস্তত বোধ করছিলেন। তবে পরে সবাই খুব মজা পেয়েছেন রিকশায় চেপে। আইরিশ ক্রিকেটারদের মধ্যে কেউ কেউ সতীর্থকে পেছনে বসিয়ে নিজেই রিকশা চালান।  

ঢাকা শহরের ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম রিকশা। ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এটি। এই বাহন ঢাকার অলিগলিতে যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি বিদেশিদের কাছে কৌতূহলের বিষয়। একদিন আগেই বিসিবি জানিয়েছিল, রিকশায় চড়বেন আইরিশ ক্রিকেটাররা। সে কারণে হয়তো আগের রাতেই এই বাহন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়েছিলেন গ্যাবি লুইস, লরা ডেলানি, আভা ক্যানিংরা। এছাড়া হোটেল আর স্টেডিয়ামে যাওয়া-আসার পথে হয়তো এই বাহনটি চোখে পড়েছে তাদের।  এবার সেটাতে চড়ে নতুন অভিজ্ঞতা হলো তাদের।  বিসিবি তাদের জন্য আয়োজন করে একটি বিশেষ রিকশা সফর, যা তাঁদের ঢাকা সফরকে এনে দিল এক ভিন্নমাত্রা।
বিসিবির মূল ফটক থেকে শুরু হয়ে স্টেডিয়ামের ২ নম্বর গেট থেকে ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত রিকশা ট্যুরের পরিকল্পনা করা হয়। পরে অবশ্য রিকশাগুলো মেয়েদের নিয়ে স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর শুক্রবারের ফাঁকা রাস্তায় ঘুরে বেড়ান তারা। এসময় রিকশাচালকের সঙ্গে অনেককে ছবিও তুলতে দেখা যায়।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই বাহনে বসার পর আইরিশ ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। লুইস ও হান্টারকে দেখা যায় সেলফি তুলতে আর ভিডিও ধারণ করতে। অনেকে আবার রিকশার ভিন্নধর্মী সজ্জা নিয়ে কৌতূহলী হয়ে সেটি নেড়েচেড়ে দেখছিলেন। একজন সতীর্থকে বসিয়ে প্যাডেল চালিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান তারা। কয়েকজন ক্রিকেটার গণমাধ্যমকর্মীদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছাও জানান।
আইরিশ ক্রিকেটারদের এই অভিজ্ঞতা একদিকে যেমন ছিল বিনোদনমূলক, অন্যদিকে এটি তাদের স্মৃতিতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার এক বিশেষ উপলক্ষ। বাংলাদেশ সফরে এসে রিকশায় চড়ে সেই ঐতিহ্যের অংশ হওয়ার অনুভূতি গ্যাবি লুইস, অ্যামি হান্টাররা অনেক দিন ধরে মনে রাখবেন।
বিদেশি ক্রিকেটারদের বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে অবশ্য এমন আয়োজন বিসিবির নতুন নয়। এর আগে ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রতিটি দলের অধিনায়ককে রিকশায় করে মাঠে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেই স্মরণীয় মুহূর্তে রিকশায় চড়েছিলেন সাকিব আল হাসান, মাহেন্দ্র সিং ধোনি, শহীদ আফ্রিদি, রিকি পন্টিং, এউইন মরগান, কুমার সাঙ্গাকারা, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসসহ বিশ্ব ক্রিকেটের তারকারা। এরপর ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও লাসিথ মালিঙ্গাকে রিকশায় চড়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা নিয়ে ফটোসেশনে অংশ নিতে দেখা যায়।

mzamin

Sunday, November 17, 2024

বাংলাদেশ গেমস আগামী বছর

বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য অলিম্পিক খ্যাত ‘বাংলাদেশ গেমস’র দশম আসর অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছর। গতকাল বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনে (বিওএ) নবনির্বাচিত সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা শেষে এ তথ্য জানান সহসভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন। এছাড়া ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হবে যুব গেমসের তৃতীয় আসর। দেশজুড়ে ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে এই দু’টি আসরের আয়োজক বিওএ। গত পাঁচটি বাংলাদেশ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ আনসার। বিওএ সভা শেষে সহ-সভাপতি ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান শেখ বশির আহমেদ মামুন বলেন,  ‘আগামী বছর বাংলাদেশ গেমস আয়োজন করবে। সামনেই আমাদের একটি নির্বাহী কমিটির সভা হবে। সেই সভায় গেমস সংক্রান্ত আরো বিস্তারিত আলোচনা হবে।’ ১৯৭৮ সালে শুরু হওয়া বাংলাদেশ গেমস ২০০২ সালের পর দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। ২০১৩ সাল থেকে পুনরায় আবার এই গেমস শুরু হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে যুবাদের জন্য আলাদা গেমসও আয়োজন করছে বিওএ। দুই বছর অন্তর অন্তর যুব ও বাংলাদেশ গেমস আয়োজন করে আসছে। সেই অনুযায়ী ২০২৫ সালে বাংলাদেশ গেমস ও ২০২৬ যুব গেমস আয়োজনের আলোচনা হয়েছে আজকের সভায়। বিওএ নতুন সভাপতির প্রথম সভায় অলিম্পিক ভিলেজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বশির আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সভাপতি খেলাধুলার প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। বাংলাদেশের খেলাধুলার মানউন্নয়নের জন্য অলিম্পিক ভিলেজ প্রয়োজন। বিওএ এই সংক্রান্ত একটি কমিটি করবে। ভিলেজের জন্য সরকারের সহায়তা চাইব না পেলে নিজেদের অর্থায়নে ভিলেজ করব।’ অলিম্পিক ভিলেজ ছাড়াও বিওএ নতুন সভাপতি ফেডারেশন ও অনুশীলনের অবকাঠামোর বিষয়ে জোর দিয়েছেন। এই বিষয়ে বিওএ সহ-সভাপতি বলেন, ‘আমাদের সভাপতি স্টেডিয়াম এলাকায় খেলাধুলা করেছেন। উনার সম্পূর্ণ ধারণা রয়েছে। খেলোয়াড়দের সুন্দর পরিবেশ ও অনুশীলনের জায়গা দেয়া প্রয়োজন। ফেডারেশনগুলোর সমস্যা নিয়ে অলিম্পিক, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও মন্ত্রণালয় বৈঠক করবে খেলার মান উন্নয়নের জন্য।’ ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের অন্য ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়াঙ্গনেও রদবদল হয়েছে। অনেক ফেডারেশনের কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন আবার অনেককে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সরিয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনও সংকটে। এই প্রসঙ্গে বিওএ সহ-সভাপতি বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন আইওসি চার্টার অনুযায়ী চলবে। ফেডারেশনের পদে না থাকলেও অলিম্পিকে নির্বাচিত কমিটির কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবে।’ সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নয়টি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। সামনে অন্য ফেডারেশনগুলোতেও অ্যাডহক কমিটি গঠন হবে। বিওএ ফেডারেশনের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিওএ নির্বাহী কমিটির মেয়াদ। ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির প্রতিনিধি দিয়ে বিওএ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সহ-সভাপতি বলেন, ‘এটা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। আমরা তিন চার মাস পর এজিএম আয়োজন করব। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা ও সমস্যা হলে আইওসি’র নির্দেশনা গ্রহণ করব।’
mzamin

Friday, November 8, 2024

হতশ্রী পারফরম্যান্স নিয়ে নান্নুর ‘ময়নাতদন্ত’ by ইশতিয়াক পারভেজ

একের পর এক উইকেট নিচ্ছেন আল্লাহ্‌ মোহাম্মাদ গাজানফার।  শুরুতেই তানজিদ হাসানকে আউট করে লাফিয়ে উঠলেন আকাশপানে। এরপর মুশফিকুর রহীমকে ঘোল খাইয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো উদযাপন করলেন। তাসকিন আহমেদকে বোল্ড করে দৌড়ে ছুটলেন দিগবিদিক। একেকটি উইকেট নিচ্ছেন আর একেক ভাবে উদযাপন করছেন। হয়তো তার ভাবানাতেই ছিল না টাইগার ক্রিকেটাররা তার কাছে এভাবে আত্মসমর্পণ করবেন। তাই উদযাপনের স্টাইলটাও যেন ঠিক করতে পারছিলেন না কিভাবে কী করবেন। চোটের কারণে মুজিব উর রহমান না থাকলেও ‘নতুন মুজিব’ পেয়ে গেছে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬.৩  ওভারে ২৬ রান খরচ করে ৬ উইকেট নেন ১৮ বছর বয়সী স্পিনার। আফগান তরুণ স্পিনার যখন বিশ্বকে তার  আগুনঝরা আগমন বার্তা দিয়েছেন তখন টাইগারদের অভিজ্ঞ আর তরুণদের করুণ ব্যাটিং দিচ্ছে হতাশার বার্তা। টাইগারদের এমন হতশ্রী ব্যাটিংয়ের কারণ কী! সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর ময়নাতদন্ত বলছে- ‘অপ্রত্যাশিত’।   দৈনিক মানবজমিনকে তিনি বলেন, ‘এমন পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করাই যায় না। এটি ভয়ঙ্কর রকম হতাশার। এমন ব্যাটিং করবে তা চিন্তা করা যায় না। ব্যাটিং কৌশল, মানসিকতা, মনোযোগ সবকিছুতেই ঘাটতি মনে হচ্ছে। সবেচেয়ে বড় সমস্যা যেটা চোখে পড়ছে বাংলাদেশ দল যেন স্পিন খেলতে ভুলে গেছে!’ ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে  হোয়াইটওয়াশ। এর পর দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও একই ফল। দুটি সিরিজেই হারের অন্যতম কারণ নিদারুণ ব্যাটিং ব্যর্থতা। ওপেনার, টপ অর্ডার যেন ব্যাট চালাতেই ভুলে গেছে। ধারণা করা হচ্ছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে শারজাতে নিজেদের সবচেয়ে সফল ফরম্যাট ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়াবে দল। কিন্তু তা আর হলো কই, উল্টো সিরিজের প্রথম ম্যাচেই লজ্জার হার। দলীয় সংগ্রহ ১২০ রানে ২ উইকেট থেকে ১৪৩-এ গুটিয়ে যায় টাইগাররা। হারে ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে। ২৩ রানে শেষ ৮ উইকটের পতন। এমন ব্যাটিং নিয়ে মিনহাজুল আবেদিন বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে বেশির ভাগ ক্রিকেটার ফর্মে নেই। এটা সহজ কথা, কতদিন দেখা গেলো টপ অর্ডার ব্যর্থ এবার দেখলাম মিডল অর্ডারেও বাজে অবস্থা। ধারাবাহিকতা নেই বললেই চলে। দায়িত্ব নিয়ে কেউ ব্যাট করছে না, বল সিলেকশন যা করছে তা বেশ বাজে। কোন বলে কিভাবে খেলতে হবে তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছে। উপরের বল কিভাবে মারতে হবে পিছনের বল কিভাবে খেলা উচিত, বা সামনের বল কিভাবে খেলবে কোনটাই ঠিক নেই। ফুটওয়ার্ক টলমলে। তার মানে টেকনিকে সমস্যা। আরেকটা বিষয় চোখে পড়ার মতো- মানসিকভাবেও তারা স্থির নয়। আগের ম্যাচের ভুলগুলো পরের ম্যাচে শুধরাচ্ছে না। তার মানে মনোযোগের অভাব। এর মানে মানসিকভাবেও তারা স্ট্যাবল  নেই। আরেকটা বিষয় বেশ ভয়ঙ্কর আমরা মনে হয় স্পিন খেলা ভুলে গেছি। এটাতে মনোযোগ দিতে হবে যতদ্রুত সম্ভব।’ বলাবলি হচ্ছে, প্রধান কোচ হাথুরুসিংহের চলে যাওয়া, নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস, ক্রিকেটারদের মধ্যে নানা রমকম অভ্যন্তরীণ সমস্যা দলের ওপর প্রভাব ফেলছে, দল হিসেবে গ্যাপ তৈরি করছে। তবে সাবেক প্রধান নির্বাচক নান্নু বলেন, ‘মনে হয় না দলের অভ্যন্তরে গ্যাপ আছে। ক্রিকেটীয় সমস্যাটাই বেশি। বোলিংটা ভালো হচ্ছে। কিন্তু দেখেন ব্যাটিংয়েই ধারাবাহিকতা নেই। হারের কারণটা ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতা।’ তাহলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এত টাকা খরচ করে ব্যাটিং কোচ আনছে তারা কি কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। নাকি ক্রিকেটাররাই তাদের কাছ থেকে নিতে পারছেন না? নান্নু বলেন, ‘এটা আমরা ভুলে যাই কোনো কোচই ক্রিকেটারকে পরিপূর্ণ ভাবে দিতে পারবে না। এখানে ক্রিকেটারকে শেখার ক্ষেত্রে মনোযোগী হতে হবে। নিজের আগ্রহ না থাকলে কেউ গুলিয়ে খাইয়ে দিতে পারবে না। কারণ, শেখার পর সেটি প্রয়োগ করার দায়িত্ব ক্রিকেটারের। আমার কাছে মনে হচ্ছে ক্রিকেটাররা দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করছে না।’

তাহলে কিভাবে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব? দীর্ঘদিন প্রধান নির্বাচক ছিলেন, সাবেক অধিনায়ক ও দেশের ব্যাটারদের মধ্যে সফল একজন। তাহলে মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর কী পরামর্শ থাকবে দলের জন্য? নান্নু বলেন, ‘ব্যাটারদের মনোযোগী হতে হবে, দায়িত্ব নিয়ে খেলার ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। সবচয়ে বড় কথা শুধু ব্যাটার নয়, তিন বিভাগে (ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং) সব কিছু নিয়ে কাজ করতে হবে। যেন দল হিসেবে মাঠে পাফরম্যান্স করতে পারে। এর কোন বিকল্প নেই।’ 

mzamin

Thursday, November 7, 2024

অনিশ্চিত দেশের হয়ে খেলাও: ‘সাকিবের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ’ by ইশতিয়াক পারভেজ

ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। বিষয়টি দৈনিক মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা। এর আগে ২রা অক্টোবর সাকিব ও তার স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশিরের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছিল। পুঁজিবাজারে কারসাজি ও আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে এই ক্রিকেটার ও তার স্ত্রীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। জানা গেছে এরপর তদন্ত শেষে সম্প্রতি সরকারের নির্দেশে তার সকল ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। এমনটা হওয়ার কারণে সাকিব আর বাংলাদেশের হয়ে আর খেলবেন না বলেই জানা গেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, সাকিব আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ছাড়াও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলবেন না। এরই মধ্যে সাকিব  টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা করেছেন। যে কারণে তার শুধু ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলার কথা। কিন্তু এখন জানা গেছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার কারণে তিনি অভিমানে খেলবেন না সেখানেও। যদিও এটি নিয়ে সাকিব প্রকাশ্যে কোনো কিছু জানাননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এমনটাই দাবি করেছে। শুধু তাই নয়, এতদিন নিরাপত্তার কারণে তার দেশে ফেরা ছিল অনিশ্চিত এবার এই ঘটনায় ষ্পষ্ট হলো তার ফিরে আসার পথ প্রায় বন্ধই হয়ে গেলো। তিনি চট্টগ্রাম কিংসের হয়ে খেলতে পারবেন না বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগেও (বিপিএল)। খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার শঙ্কা, সাকিববিরোধীদের দ্বারা নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সবশেষ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ হওয়ার কারণে তার বাংলাদেশে ফেরাটাই হয়ে গেছে অনিশ্চিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘এটি নিশ্চিত যে সাকিব আল হাসানের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে।’ তবে সিদ্ধান্তটি কবে এসেছে তা তিনি জানাতে রাজি হননি।

সাকিব আল হাসান ছিলেন ছাত্র আন্দোলনের মুখে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সংসদ সদস্য। দলটির হয়ে তিনি ছিলেন রাজনীতিতে সক্রিয়। যখন ছাত্র আন্দোলনে নিহতের ঘটনা বাড়ছিল তখন তিনি ছিলেন দেশের বাইরে। এমনকি এই ঘটনাতে তিনি ছাত্রদের পক্ষে কোনো মন্তব্যও করেননি। উল্টো পরিবার নিয়ে আনন্দ ভ্রমণের ছবি পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।  তার আন্দোলন চলাকালে তার নীরবতাকে পতিত সরকারের
প্রতি তার সমর্থনই মনে করেছেন দেশের জনগন। ধারণা করা হচ্ছিল তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার পাঁচ আগষ্টের পরই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু ক্রিকেটার সাকিবের প্রতি সম্মান দেখায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের বাইরে থেকেই তাকে জাতীয় দলে খেলতে সুযোগ দেয়া হয়। তিনি পাকিস্তান ও ভারতে টেস্ট সিরিজ খেলেন দলের হয়ে। সবশেষ ভারতের কানপুরে তিনি ঘোষণা দেন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসরের। তবে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলতে চান ঢাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। শুরুতে তার দেশে আসার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত ছিল। তবে সিরিজের আগে ১৬ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে  দুবাই এসেও দেশের বিমান ধরতে পারেননি। তাকে সরকারের উপর মহল থেকে দেশে না ফিরতে নির্দেশ দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, তার দেশে আসা ঠেকাতে সাকিব বিরোধীরা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সামনে শুরু করে সামাবেশ। অন্যদিকে ম্যাচের আগের দিন সাকিবের ভক্তরা অবস্থান নেয় স্টেডিয়ামের সামনে। এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে সংঘর্ষে মিরপুর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সাকিবভক্তদের ওপর কে বা কারা হামলাও চালায়। পরে পুলিশ ও সেনা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে  সিরিজে সাকিবকে দলে রাখেনি বিসিবি। বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ জানিয়েছিলেন এই সিরিজে না খেললেও তার খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। তবে পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা।  বেশ কয়েকটি সূত্র থেকে জানা গেছে সাকিবকে জাতীয় দলে রাখা হলেই তাকে দেশে ফেরানোর জন্য তার ভক্তরা দাবি তুলবে। সেটি হলে ফের দেশে তৈরি হবে অশান্তি। শুধু তাই নয়, বিপিএলে তাকে খেলার সুযোগ করে দিলেও তার নিরপত্তা দেয়া হবে বিসিবি’র অন্যতম মাধা ব্যথার কারণ। তখন ৭ দলের দেশি বিদেশি ক্রিকেটারদের নিরাত্তার মাঝে একা সাকিবকে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টিও কঠিন হয়ে পড়বে। যে কারণে তার দেশে এসে কিংবা দেশের হয়ে খেলা হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। আর জানা গেছে ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়াতে এত সব জটিলতা নিয়ে তিনি নিজেও আর দেশে হয়ে খেলতে চান না! 

mzamin

Monday, October 21, 2024

সাকিব ইস্যুতে রণক্ষেত্র মিরপুর by ইশতিয়াক পারভেজ

লস অ্যানজেলেস থেকে দুবাই চলে এলেন সাকিব আল হাসান। দেশের মাটিতে টেস্ট ক্যারিয়ারের  ইতি টানার স্বপ্ন পূরণ হওয়া যেন সময়ের ব্যাপার। কিন্তু হলো না, দেশ থেকে বার্তা দেয়া হলো তাকে নিরাপত্তা দেয়া যাবে না। দেশে এলে তার দায়িত্ব নেবে না সরকার। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারের জন্য এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। গেল বুধ ও বৃহস্পতিবার ক্ষণে ক্ষণে হলো নাটক। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা সংকটের কারণে তিনি নিজেই দেশে না আসার সিদ্ধান্ত নিলেন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সামনে বৃহস্পতিবার অবস্থান নিয়েছিলেন সাকিব-বিরোধীরা। তারা সেখানে বিক্ষোভ করেন। জানিয়ে দেন সাকিব দেশে ফিরলে প্রতিহত করা হবে। এরপরই সাকিবের ভক্তরা ঘোষণা দিলেন লং মার্চের। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে এসে তারা অবস্থান নিলেন। কিন্তু সেখানে বিপত্তি, তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আক্রমণ করেন কে বা কারা। তাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই। তারা পালন করলেন রহস্যময় নীরব ভূমিকা। তাতেই গতকাল মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। সারা দিন মাঠের  ভেতরে অনুশীলন করে গেল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল। প্রথম টেস্টে সাকিবের খেলা হচ্ছে না কিন্তু এই ঘটনাতে না থেকেই যেন থাকলেন সাকিব! এমনকি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সংবাদ সম্মেলনে যতটা না ম্যাচ নিয়ে আলোচনা তার চেয়ে বেশি সাকিব নিয়ে প্রশ্ন। অধিনায়ক নিজেও জানালেন সাকিবের এই ভাবে বাদ পড়া দুঃখজনক। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই পরিকল্পনা ছিল আমাদের। বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সাকিব। শুধু বাংলাদেশ বলবো না। খুবই দুর্ভাগ্যজনক যেকোনো কারণেই হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, প্রত্যেকটা খেলোয়াড় মনে করে এটা পেন্ডিং থেকেই গেল।’

সাকিবের শেষ ইচ্ছা ছিল তিনি দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। অনেক নাটকীয়তার পর তাকে রেখে স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের বিমানও ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানায় দেশের ক্রিকেট সমর্থকগোষ্ঠীর একটি অংশ। ওই পরিস্থিতিতে সবুজ সংকেত না পেয়ে দুবাই থেকে ফিরে যান বাংলাদেশের বাঁহাতি অলরাউন্ডার। তাকে বাদ দিতে বাধ্য হন নির্বাচকরা। পরদিন সাকিবকে ফেরানোর দাবিতে মিরপুরে স্টেডিয়ামের সামনে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকগোষ্ঠী।

গতকাল দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে লং মার্চ করার কথা সাকিব ভক্তরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। দুপুর ২টার দিকে স্টেডিয়ামের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন তারা। সংখ্যায় তারা খুব বেশি ছিলেন না। শ’খানেক লোক মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। তারা দীর্ঘক্ষণ ধরে মিছিল করতে থাকেন ও দুই নম্বর গেটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও পুলিশ তাদের যেতে দেয়নি। দুই নম্বর গেট থেকে প্রশিকার মোড় পর্যন্ত ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিলেন আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা। তাদের দাবি, সাকিব দেশের হয়ে অনেক সম্মান বয়ে এনেছেন। তাকে তাই দেশের মাঠ থেকে বিদায় নেয়ার সুযোগ দেয়া হোক।
এরপর প্রধান ফটকের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্টেডিয়ামে থাকা সেনাবাহিনী এবং পুলিশ স্টেডিয়ামে অবস্থান করেছিলেন। ফলে শ’খানেক সাকিব ভক্তের জন্য স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। এ সময় হুট করেই অবস্থান কর্মসূচি চলার একপর্যায়ে বাঁশ ও লাঠি নিয়ে কয়েকজন লোক এসে তাদের ওপর হামলা চালায়, তারা লাঠিপেটা করেন। এতে করে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় সাকিব ভক্তদের। দু’পক্ষের মারামারির একপর্যায়ে সানি মিয়া নামের এক সাকিব-ভক্ত সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সানির দাবি, তিনি সাকিবের জন্য এসেছিলেন। বলেন, ‘আমি কেবল চেয়েছি সাকিব শেষ ম্যাচটি খেলুক। কিন্তু সাকিববিরোধীরা আমাকে ধাওয়া দেয়। আমি দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করি। তখন আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে। আমি কোনো অন্যায় করিনি। বাংলাদেশকে যে ক্রিকেটার সম্মান এনে দিয়েছে, তার সম্মানজনক বিদায় দেখতে চাওয়া তো অপরাধ নয়।’

এই সাকিব বিরোধিতা হতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ক্ষতির কারণ। সারা বিশ্বে এই ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে হতে পারে ভুল ধারণা। দক্ষিণ আফ্রিকা দল নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে বাতিল করতে পারে সিরিজ। এমনকি অন্য দলগুলোও বাংলাদেশ সফর বাতিল করতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে নারী বিশ্বকাপ দুবাইয়ে আয়োজন করতে হয়েছে বিসিবিকে। এমন চলতে থাকলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওপর পড়তে পারে বড় ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব।

mzamin

Sunday, October 20, 2024

কোচদের হাসি কেন বিদায় বেলায় বিষাদে রূপ নেয়! by ইশতিয়াক পারভেজ

প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ফিল সিমন্স প্রবেশ করলেন, মুখে চওড়া হাসি। সবাইকে জানালেন অভিনন্দনও। চোখে-মুখে বাংলাদেশ দল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। ৫ মাসের চুক্তি তার সঙ্গে, সফল হলে হয়তো মেয়াদ বাড়তে পারে। প্রশ্নটা এখানেই কতটা সফল হবেন তিনি! নাকি বাংলাদেশ ক্রিকেটে আগের ১৬ কোচের মতোই হবে তার পরিণতি। যে চওড়া হাসি নিয়ে এসেছেন বিদায় বেলা তা রূপ নেবে বিষাদে! তবে টাইগার ক্রিকেটে কোচদের পরিণতি সিমন্সের ভালোভাবেই জানা। তাই নিজের শুরুর আগেই জানিয়ে দিলেন বাইরে নজর দিতে চান না। তার সব মনোযোগ থাকবে ক্রিকেট ঘিরেই। কিন্তু এমন কথা তো বলেছিলেন রাসেল ডমিঙ্গো, চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, স্টিভ রোডসও। কিন্তু কারো বিদায় সুখকর হয়নি। সবশেষ হাথুরুর পরিণতি তো আরো ভয়ঙ্কর! দুই দফা বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন আর দুইবারই বিদায় নিয়েছেন অপমানিত হয়ে। এবার তো লঙ্কান কোচ আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে। শুধু কি তাই! কতটা ক্ষোভ আর অভিমান বিদায় নেয়া কোচদের মধ্যে জমা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতে যুক্তরাষ্ট্র। ২৫ বছর আগে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশও। কিন্তু এর পর বাংলাদেশের অর্জনটা খুব ভালো হয়নি। টাইগারদের সাবেক আর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কোচ স্টুয়ার্ট ল বলেই ফেললেন, দুই যুগেও  নাকি টাইগাররা এগোয়নি। কেন শেষটা শুরুর মতো হয় না কোচদের সঙ্গে! এ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নয়া পরিচালক ও দেশের অভিজ্ঞ কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম বলেন, ‘আমি তো বিসিবির ভেতরে খুব বেশি ছিলাম না। তাই আসল কারণগুলো হয়তো সেইভাবে বলতে পারবো না। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে ভালো কোচ বলতে আমরা বুঝি যারা জয় এনে দেবে। রেজাল্ট আসবে, আর সেটি না হলেই দূরত্ব বাড়ে।’

১৯৯০-এ জাতীয় দলের প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন মুদাসসর নজর। মাঝে কেটে গেছে ৩৪ বছর। এর মধ্যে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে আরো ১৫ জন দায়িত্ব নেন। যেখানে হাথুরুসিংহে দুই দফায় ছিলেন দায়িত্বে। শেষ পর্যন্ত কেউ এখনো কোচ হিসেবে হাসিমুখে বিদায় নিতে পারেননি। আর বিসিবি’রও শেষ হয়নি ভালো কোচ খোঁজা। আসলে কেমন কোচ চায় বিসিবি! তার চেয়ে বড় প্রশ্ন ভালো কোচের ব্যাখ্যাটাই বা কী! শুধু তাই নয়, কোচ এসেছেন কোচ গেছেন কিন্তু টাইগার ক্রিকেটের কোনো উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে স্টুয়ার্ট ল বলছেন, গত ২৫ বছরে কোনো উন্নতি হয়নি। তিনি বলেছেন, ‘হয়তো এখন বসে ভাবার সময় যে, আমরা যেভাবে করছি, তা কাজে লাগছে না। আমরা এগোইনি, হয়তো ভিন্ন কিছু করা দরকার। এসব আলোচনা বর্তমান বোর্ড করে না, কিন্তু তাদের খেলাটির সবদিকেই চোখ রাখতে হবে।’ অন্যদিকে ভালো কোচ কেমন হবে আর কেন কোনো কোচই সফলতা পাচ্ছেন না তা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে নাজমুল আবেদিন ফাহিম বলেন, ‘ভালো বলতে আমরা বুঝি যে রেজাল্ট দেবে। আমার মনে হয় তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে প্রতিযোগিতা দেখে আসেন সেটি আমরা দেশে দিতে পারিনি। আমাদের ক্রিকেটে কোন প্রতিযোগিতা নেই, সেটির অভাবটা বেশ বড় হয় কোচদের কাছে যে কারণে তাদের কাছেও একটি শূন্যতা তৈরি হয়। যে কারণে এখনো আমরা পিছিয়ে।’
শুধু কি তাই! কোচদের বিষাদের বিদায় কি সফলতা না পাওয়ার ক্ষেত্রেই তৈরি হয়! এ নিয়ে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের বাংলাদেশের প্রতিনিধি আতিফ আজম বলেন, ‘দেখেন যে কোচ আসে সবার কাছেই আমাদের বড় প্রত্যাশা থাকে। যতো দিন যায়  প্রত্যাশা ততো বড় হতে থাকে। যখন সেটি হয় না তখনই তৈরি হয় জটিলতা। আরেকটি বিষয় হলো কোচরা সফল হয় না কারণ তাদের কাজের সুযোগটাও এক সময় কমে আসে। আপনি যদি স্টিভ রোডসের কথা বলেন, সে কিন্তু একটা পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিল। তাকে সেটি করতে না দিয়ে বের করে দেয়া হয়। এখানে আমাদের তো ভুল আছেই।’
কোচদের নিয়ে বাংলাদেশে যা হচ্ছে তার কারণে এখন বিদেশি ভালো কোচ পাওয়াও কষ্টের। বড় মানের কোচরা তো আসতেই চান না। ফিল সিমন্স হয়তো সব জেনেই এসেছেন যে কারণে প্রথম দিনই বলে দিলেন বাইরে নয়, ক্রিকেটেই তার মনোযোগ। তিনি বলেন, ‘বাইরে কী হচ্ছে তা নিয়ে মাথা না ঘামানো এবং ক্রিকেটে মনোযোগ রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমি সেটাই নিয়ন্ত্রণ করতে চাই, যা আমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তা হলো প্রস্তুতি। সোমবার শুরু হতে যাওয়া ম্যাচেই আমাদের সব মনোযোগ।’

mzamin

Saturday, October 19, 2024

‘কেউ অনুতপ্ত হলে তাকে একটা সুযোগ দেওয়া উচিত’, সাকিব ইস্যুতে সালাউদ্দিন

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু রাজনৈতিক ইস্যুতে সাকিবের প্রতি ক্ষুব্ধ জনতা। এ কারণে নিরাপত্তা ইস্যুতে আগামী ২১শে অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া টেস্টে খেলা হচ্ছে না তার। সরকার ও বিসিবির পরামর্শে আপাতত দেশেই ফেরা হচ্ছে না সাকিবের। এই বিষয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ ঝেড়েছেন দেশের জনপ্রিয় কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

সাকিবের ‘মেন্টর’ হিসেবেও দেশের ক্রিকেটে সালাউদ্দিনের পরিচিতি আছে। তবে শুধু সাকিব নয়, ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তামিম ইকবাল ও মাশরাফি বিন মুর্তজার নামও নিয়েছেন তিনি। এদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের নিয়ে ক্ষোভ, হতাশা, কষ্ট ও অভিমান প্রকাশের সঙ্গে পালটা প্রশ্নও ছোড়েন এই কোচ।

তার লেখায় সাকিবের পাশাপাশি আছে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তামিম ইকবালের নামও। ঘরোয়া ক্রিকেটের সফল এই কোচের লেখায় মিশে আছে দেশের মানুষের প্রতি । কিছু প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

স্ট্যাটাসে সালাউদ্দিন লেখেন, ‘দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি কখনই এত রাগ বা কষ্ট লাগে নাই, আজ কেন যেন লাগছে, আমরা মানুষ কি কখনও নিজেরা ভুল করি না? কেউ অনুতপ্ত হলে তাকে একটা সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু আমরা কেমন যেন হয়ে যাচ্ছি মানুষ হিসেবে, দয়ামায়া জিনিসটা আমাদের মধ্যে থেকে উঠে গেছে।’

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় সরব না থাকায় মূলত ক্ষোভের মুখে পড়েন সাকিব। তবে কয়েকদিন আগে এ বিষয়ে লম্বা স্ট্যাটাসে পুরো বিষয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। রাজনীতিতে জড়ানোর কারণও ব্যাখা করেন টাইগারদের সাবেক অধিনায়ক। এদিকে আগামী বিপিএলে সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে মাশরাফির খেলা নিয়ে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। এ প্রসঙ্গে দেশের ক্রিকেটের প্রতি, সমাজের প্রতি সাকিব-মাশরাফিদের অবদানের কথা তুলে ধরেন সালাউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘একটা মানুষ দেশের জন্য ১৭টা বছর কিছু না কিছু করেছে, আজ ক্রিকেটবিশ্ব আমাদের একটু সন্মান করে কাদের জন্য? তারা ক্রিকেট মাঠে নামতে পারবে না, এই কান্না তো সবাই দেখবে না। রাজনীতি করেছে বলে এরা খুনি ??? এদের সাথে মিশেছেন? এরা কত মানুষের ভাত-কাপড়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে, জানেন আপনি? এরা কত অসহায় মানুষের চিকিৎসা করিয়েছে, সেটা কি জানেন?’

মানুষের মূলত ক্ষোভ আন্দোলনের সময় সাকিব-মাশরাফি স্ট্যাটাস না দেওয়াতে। তবে সালাউদ্দিন মাঠের ক্রিকেটে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘তারা স্ট্যাটাস না দেওয়ার কারণে আজ শত্রু। যখন মাশরাফি ৫টা অপারেশন করে দেশের জন্য লড়াই করেছে, তা কি দেখেছেন? সাকিব যে আঙুলে চিড় নিয়ে বোলিং করে গেছে, তামিম এক হাতে ব্যাটিং করে গেছে, কাদের জন্য? দেশকে সবাই কম-বেশি ভালোবাসে। এদের ভালোবাসাটা হয়তো দেখা যায়ও না। এদেরকে কাছ থেকে দেখেছি। এরা মানুষের উপকার ছাড়া কারও ক্ষতি করেনি, এরা খুনি না।’

মাঠ থেকে দেশের ক্রিকেটের নায়কদের বিদায় দেখতে না পারায় আক্ষেপও করেন সালাউদ্দিন, ‘খুব কষ্ট পাচ্ছি মাঠ থেকে এদের বিদায় দেখতে পাব না। মানুষকে মাফ করুন। আল্লাহ আমাদের অনেক অপরাধ মাফ করে দেবেন। আমরা সবাই কম-বেশি অপরাধী। সম্মান কাউকে দিলে আপনিও সন্মানিত হবেন।’

mzamin

Friday, October 18, 2024

নিরাপত্তা সংকট সাকিব ঢাকায় আসলেন না by ইশতিয়াক পারভেজ

অবশেষে শঙ্কাই সত্যি হলো। বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে দেশে ফিরলেন না সাকিব আল হাসান। অথচ তাকে রেখেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করা হয়। তখন মনে হয়েছিল, সাকিবের দেশে আসতে আর বাধা নেই। কিন্তু বুধবার রাত ১১টায় একটি সূত্রে জানা যায় সরকারের পক্ষ থেকে তাকে দেশে ফিরতে বারণ করা হয়েছে। লস অ্যানজেলেস থেকে দুবাই এসেই তিনি এই বার্তা পান। তাকে জানানো হয় তিনি এলে তাকে নিরাপত্তা দেয়া হবে না। গতকাল সকালে তিনি কয়েকটি গণমাধ্যমে তা স্বীকারও করে নেন যে তার হয়তো দেশে আসা হচ্ছে না। দুপুরে সরকারি একটি সূত্র থেকে জানা যায় শঙ্কা কেটে গেছে। দেশে ফিরবেন সাকিব। তবে সন্ধ্যার আগেই জানা যায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাকে দেশে না ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, দেশে সাকিবের নিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট শঙ্কা। এরপর ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে সাকিব বলেন, ‘কোথায় (দুবাই) যাবো জানি না। তবে দেশে ফিরছি না।’ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে চলছে নানা-আলোচনা সমালোচনা। পতিত সরকারের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। গণআন্দোলনের সময় যখন গুলিতে নিহত হচ্ছিলেন ছাত্র-জনতা- তখন তিনি ছিলেন নীরব। এ কারণেই ক্ষুব্ধ দেশের মানুষ। গতকালও তার দেশে  আসার বিরোধিতা করে ছাত্র-জনতা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সামনে স্লোগান দেন- ‘আমার ভাই কবরে সাকিব কেন বাহিরে।’ বলার অপেক্ষা রাখে না আন্দোলনকারীদের অবস্থানের কারণেই শেষ পর্যন্ত সরকার সাকিবকে দেশে আসতে বারণ করে দেন।

গতকাল দুপুর থেকে মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার অনুশীলনকে কেন্দ্র করে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু সেখানে হাজির হয় অন্দোলনকারীরা। অবস্থান নেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে। তাদের দাবি সাকিবকে বাদ দেয়া হোক জাতীয় দল থেকে, তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে দেশে ফিরলে যেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিসিবি বলছে- তারা মাঠের বাইরে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। সরকার বলছে- সাকিব দেশে এলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। একজন ক্রিকেটার হিসেবে নিরাপত্তা দেয়া হবে। সাকিব বলছেন- নিরাপত্তার ইস্যুতে তিনি দেশে ফিরবেন না। আর ছাত্র-জনতা তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন। সব মিলিয়ে সাকিবকে নিয়ে গতকাল সারাদিন চলে জমজমাট নাটক। বলাবলি হচ্ছিল দেশে তার বিরুদ্ধে মানুষের যে ক্ষোভ তাতে মাঠে খেলার সময় এমনকি বাইরে চলাচলের সময় সাকিব হতে পারেন আক্রমণের শিকার। এমনকি শুরুতে সরকারকে গোয়েন্দারাও যে রিপোর্ট দিয়েছিল তাতে উল্লেখ ছিল সাকিব দেশে এলে তাকে ঘিরে করা হতে পারে ষড়যন্ত্র। সুবিধাবাদী পক্ষ হামলা করে তার দায় চাপাতে পারে সরকারের ওপর।

সরকার পতনের পর সাকিবের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। সেই সময় সাকিব দেশে না ফিরলেও খেলেন পাকিস্তান ও ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ। সবশেষ কানপুরে সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে তিনি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। তবে তিনি সেখানে ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি দেশের মাটিতে খেলে অবসরে যেতে চান। ২১শে অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে মিরপুরে। সেখানেই তিনি অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তবে দেশে ফিরতে তিনি বিসিবি’র কাছে নিরাপত্তা চান। শুরুতেই বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ জানিয়ে দেন তাকে নিরাপত্তা দেয়া হবে না। এরপর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও জানান, সাকিবকে ক্রিকেটার হিসেবে নিরাপত্তা সরকার দিলেও জনরোষ তিনি ঠেকাতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, সাকিব যে দেশে ফিরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না- সেটিরও নিশ্চয়তা দেয়নি সরকার। তবে সাকিব আল হাসানের গুরু নাজমুল আবেদিন ফাহিম হাল ছাড়েননি। বিসিবি’র নয়া পরিচালক তিনি, তাই প্রিয় শিষ্য ও দেশের অন্যতম ক্রিকেটারের জন্য শুরু করেন দৌড়ঝাঁপ। শেষ পর্যন্ত দুবাইয়ে নারী বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে গিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা সাকিব দেশে ফিরলে কোনো সমস্যা হবে না বলেই ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, ‘একজন ক্রিকেটার (দেশে এসে) খেলবেন এবং তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। দেশে আসার ক্ষেত্রে আমি কোনো বাধা দেখি না। তবে যে দেয়াল লিখন হয়েছে, এটা আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি। এটা ইমোশনের ব্যাপার, গণতান্ত্রিক দেশে তাদের যেকোনো ধরনের মুভমেন্ট (আন্দোলন ও দাবি) করার অধিকার আছে।’ তবে প্রশ্ন ছিল সাকিব দেশে ফিরলেও তার ফিরে যাওয়া নিয়ে। মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হবেন কিনা তা নিয়ে ছিল আলোচনা। যদি তাকে আটক করা না হয় তাহলে সেটিও অন্যপক্ষ আদালতে রেফারেন্স হিসেবে নিতে পারে বলেই অনুমান করা হয়।
অন্যদিকে সাকিব নিজের ফেসবুকে ক্ষমা চেয়ে বিদায় বেলা দেশের জনগণকে পাশে থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু তাতে আন্দোলনকারীদের মন ভেজাতে পারেননি। যদিও বিসিবি এক প্রকার নিশ্চিত ছিল সাকিব দেশে ফিরবেন। যেকারণে তাকে রাখা হয় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) প্লেয়ার্স ড্রাফটের তালিকায়। সেখান থেকে ১৪ই অক্টোবর নিলাম অনুষ্ঠানের আগেই সাকিবকে সরাসরি দলে ভেড়ায় বিপিএলের ১১তম আসরের নয়া দল চট্টগ্রাম কিংস। এরপর বুধবার তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রেখে দল ঘোষণা করে বিসিবি। গতকাল রাতেই সাকিবের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার আর ফেরা হচ্ছে না। কেউ বলছেন দুবাই থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে চলে যাবেন। আর সাকিব বলেছেন, যেখানেই যাই না কেন দেশে ফিরছি না। তিনি বুঝতে পেরেছেন দেশে তার জন্য রয়েছে প্রচণ্ড নিরাপত্তার হুমকি!

mzamin