Friday, May 4, 2012

মন্ত্রী হলে মাথা পাগল পাগল লাগে! by স্বদেশ রায়

ক্ষমতার চেয়ারটি বড়ই সর্বনেশে। এখানে বিপ্লবীকে করে তোলে মৌলবাদী, গণতন্ত্রীকে করে তোলে স্বৈরাচারী। এটা আসলে যেন এক হীরক রাজার দেশ। এখানে ঢুকলে অধিকাংশই কেবল অদ্ভুত আচরণ করে। স্বাভাবিক থাকে খুব কমই। আর ওই কমসংখ্যক যারা স্বাভাবিক থাকে, যাদের মাথা পাগল পাগল লাগে না।

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ একবুক যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেঃ সন্তু

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে অপারেশন উত্তরণ নামে সেনা শাসন, বেসামরিকতন্ত্রদের দৌরাত্ম্য, বহিরাগতদের ভূমি বেদখলের নগ্ন থাবাসহ সেসব সমস্যা বিরাজমান রয়েছে তাতে এ অঞ্চলের কেউই নিরাপদ নয়।

পাতালে চোখ পড়েছে দুবাই সরকারের

আকাশ ছোঁয়া ‘বুর্জ আল খালিফ’ তৈরি করে মেঘের ওপর বাড়ি করার স্বপ্ন পূরণ করেছে দুবাই। সমুদ্রের ওপরে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে সমুদ্রের উপরিভাগও জয় করেছে তারা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই শহরের এবার সখ হয়েছে সমুদ্রে তলদেশ দখল।

হুইস্কি বেঁচে স্কুল!

অবশেষে হুইস্কি বেঁচে স্কুল তৈরি করা হচ্ছে। অবিশ্বাস্য কোনো ঘটনা নয় একদম সত্যি। বিরল একটি হুইস্কির বোতল নিলামে তুলে সেই অর্থ দিয়ে তৈরি করা হবে শিশুদের স্কুল।

চলতি পথে-লালমাই পাহাড়ে একদিন by গাজীউল হক

বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে,
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা
দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু।

গরল-ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি সফর সামনে রেখে by মিজানুর রহমান খান

সরলবাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বহু প্রতীক্ষিত ‘নতুন অধ্যায়’কে টেকসই করা বড় চ্যালেঞ্জ। সদ্যপ্রসূত সূচনাপর্ব ভারত-বিরোধিতার রুগ্ণ রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তে হারিয়ে যেতে কিংবা ধূসর হতে দেওয়ার ঝুঁকি এড়াতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহনের ফিরতি ঢাকা সফর দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

অভিমত ভিন্নমত

ভাবের ভাবনায় জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশ গত ২১ ডিসেম্বর ২০০৯ প্রথম আলোয় এমাজউদ্দীন আহমদের ‘সংবিধান সংশোধন, না ’৭২-এর সংবিধানে প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক লেখাটি পড়ে কিছু কথা বলার এই প্রয়াস। এক. স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানকে তিনি ত্রুটিপূর্ণ ও অবিন্যস্ত অনুকরণ বলে সমালোচনা করেছেন।

শিক্ষা-মনার গ্যারেজ ও সাধারণ শিক্ষা by মোহীত উল আলম

একদিন মোহাম্মদপুরের বছিলা রোডের পাশে একটি গ্যারেজে কিছুক্ষণের জন্য বসেছিলাম। আমার গাড়ির মেরামতের কাজ চলছিল। দোকানের মালিকের নাম মনা (মনোয়ার), ৩০-৩২ বছরের যুবক। তার সঙ্গের হেলপাররা ২০ থেকে নিচের দিকে। যে ছেলেটি আমাকে চা এনে খাওয়াল তার বয়স দশও হবে না।

সিদ্ধান্ত যেন কাগজে-কলমে আটকে না থাকে-সরকারি শেয়ার বাজারে ছাড়া

খবরটা ইতিবাচক। সরকারি মালিকানা রয়েছে, এমন ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে ছাড়ার জন্য ছয় মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও শেয়ার ছাড়া এবং তালিকাভুক্ত নেই, সেগুলোর নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার ছাড়তে হবে।

কলঙ্কিত উত্তরাধিকার পরিত্যাগের সময় এসেছে-বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটল, তার জন্য কাউকে লজ্জিত, অনুতপ্ত বা দোষ স্বীকার করতে দেখা যায়নি। কিন্তু দেশবাসী ও ছাত্রসমাজ লজ্জায়, ঘৃণায় নতমুখ হয়ে আছে। পদ নিয়ে কাড়াকাড়িতে বর্বরতা ঘটানোর অধিকার কারও নেই।

চারদিক-জ্যোতি বসুর বাড়িতে একদিন by স্বপন কুমার দাস

চলে গেলেন জ্যোতি বসু। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে অবসান ঘটল একটি বর্ণাঢ্য জীবনের। এই তো গত শুক্রবার ঘুরে এলাম বারদী থেকে। বারদী—জ্যোতি বসুর স্মৃতিধন্য। ঢাকা থেকে বারদীর দূরত্ব সাকল্যে ৩৫ কিলোমিটার হবে। কিন্তু এ পথটুকু পাড়ি দিতে একাধিক বাহন পাল্টাতে হয়।

সুশাসন-দুদকের স্বাধীনতা বনাম সংবিধানের সুরক্ষা by এ এম এম শওকত আলী

দুদকের জন্ম হয়েছিল স্বাধীনভাবে দুর্নীতি দমনের জন্য। উদ্দেশ্য ছিল মহত্ এবং সিদ্ধান্তও ছিল যুগোপযোগী। জন্মলগ্ন থেকেই দুদককে খোঁড়া হাঁস বলে মিডিয়ায় আখ্যায়িত করা হয়। কী কারণে করা হয় তার কিছু বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনও মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ-হাইতির শিক্ষা by ফিদেল কাস্ত্রো

১২ জানুয়ারি কিউবায় তখন সন্ধ্যা ছয়টা। আর হাইতিতে ততক্ষণে রাত নেমে এসেছে। টেলিভিশনে প্রচার হলো এক প্রবল ভূমিকম্পের সংবাদ। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার সেই ভূমিকম্প প্রচণ্ড আঘাত হেনেছে হাইতির রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সে। এই ভূকম্পনের উত্পত্তি রাজধানী থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে।

গদ্যকার্টুন-সংবর্ধনা কথাটার মানে কেন অতিবৃদ্ধি by আনিসুল হক

সংবর্ধনা কথাটা এসেছে বর্ধন থেকে। বর্ধন মানে বৃদ্ধি। সংবর্ধনা মানে অতিবৃদ্ধি, বাড়ানো। এটা অভিধানে লেখা আছে। এ ছাড়া সংবর্ধনার আরেকটা মানে আছে। তা হলো, সম্মানের সঙ্গে অভ্যর্থনা। সংবর্ধনা কথাটা শুরু হয়েছে সং দিয়ে। যদিও সম্+বর্ধনা থেকে সংবর্ধনা, তবু কথাটার সামনের সং শব্দটা মনে হয় বেশ তাত্পর্যপূর্ণ।

সহজিয়া কড়চা-সন্দেশ, ধনেখালি শাড়ি ও ডিমভরা ইলিশ by সৈয়দ আবুল মকসুদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যত ঔত্সুক্য দেখিয়েছে, ভারতের সংবাদপত্র ততটা করেনি। যদিও ভারত সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে।

অবিলম্বে বহিষ্কার করা উচিত-সরকারি দলের নেতা!

তিনি একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বাড়ির কাছে অন্য একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে, তিনি সেই পদটিতে নিয়োগ চান। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচারের পর তিনি আবেদন করেছেন, কিন্তু ওই পদের জন্য আবেদনকারী আছেন আরও নয়জন।

প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর বাড়তি দাবি-শতভাগ সফল বনাম দেশ বিক্রি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন তাঁর ভারত সফরকে শতভাগ সফল বলে দাবি করলেন, তার পরদিনই বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দেশ বিক্রির অভিযোগ আনলেন। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ফলাফল নিয়ে দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল নিজেদের যে অবস্থান প্রকাশ করল, তা খুবই হতাশাজনক।

দেখার ভেতরে বাইরেঃ ‘ভ্যান-ট্যান আইন' by মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান

এই ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে আমি যশোরে ছিলাম। যশোরের চৌরাস্তার মধুর রেস্তোরাঁর আড্ডা, সেই আমার ছাত্রজীবন থেকেই। এখনও আমাদের ব্যাচের বেশ কয়েকজন বন্ধু নিয়মিত বসে। ফলে যশোর গেলেই—বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা-আড়াইটা পর্যন্ত ওখানে উপস্থিত থাকতে না পারলে—সেদিনটা যেন বিষণ্ন হয়ে যায়।

বাঙালিয়ানা by ফাহমিদ উর রহমান

কলকাতার মীর্জা গালিব স্ট্রিটে বসে সেখানকার বিখ্যাত দৈনিক আনন্দবাজারের পাতা উল্টাচ্ছিলাম। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তখন দিল্লিতে। তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতের সূত্রে আনন্দবাজার সেদিন শিরোনাম করেছে ‘বাঙালিয়ানা বেশ জমে উঠেছে।’

প্রতিপক্ষঃ ছাত্র রাজনীতির গতিপ্রকৃতি by এবনে গোলাম সামাদ

ছাত্রদের রাজনীতি করা উচিত কি উচিত নয় সেটা একটা ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু ছাত্ররা এদেশে রাজনীতি করে আসছে সেই ইংরেজ আমল থেকেই। আমাদের দেশের রাজনীতির ইতিহাসকে বুঝতে হলে অনুশীলন করতে হয় ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসকে।

যানজট নিরসনে পুলিশি অভিযান ব্যর্থঃ বিকল্প রাস্তার বিকল্প নেই

দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার যানজটে নাকাল নগরবাসী। মানুষ ও যানবাহন যতই বাড়ছে, ততই প্রকট আকার ধারণ করছে যানজট। দফায় দফায় পরিকল্পনা পাল্টিয়েও সমস্যার সুরাহা করতে পারছে না সরকার। এমনকি ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান চলাকালেও ভয়াবহ যানজটের মাত্রা কমছে না।

দিনবদল নয়, নামবদলের সরকারঃ প্রতিহিংসার পরিচয়

অবশেষে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেলে হজরত শাহজালাল (রা.) বিমানবন্দর করা হয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা ঘোষণা করা হলে দেশজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সরকারের অন্ধ সমর্থক ছাড়া আর কেউই এমন সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে পারেননি।

তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সাহিত্য সম্মেলন এবং রবীন্দ্র-বিতর্ক by সৈয়দ সামিউস সালেহ

১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ও ১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রাদেশিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাবিবুল্লাহ বাহার ছিলেন সাহিত্য সম্মেলনের উদ্যোক্তা ও সম্মেলন কমিটির সভাপতি। দু’জন সম্পাদক, একজন অধ্যাপক অজিত গুহ।

গুরু-শিষ্য সমাচারঃ প্রতিপক্ষের প্রতি প্রতিহিংসা by মাহবুব তালুকদার

গুরুদেব যোগাসনে বসিয়া ধ্যানে নিমগ্ন ছিলেন। তাহার মুখমণ্ডলের চতুর্দিক হইতে এক অলৌকিক বিভা চতুষ্পার্শ্বে ছড়াইয়া পড়িতেছিল। এই স্বর্গীয় দৃশ্য দেখিয়া শিষ্য অভিভূত হইয়া রহিল। তাহার ধারণা হইল, বিশ্ব-সংসারের কত রহস্যই না গুরুদেবের অধিগত।

সাহসের সমাচারঃ শুধু প্রশ্নটা থাকবে by আল মাহমুদ

শারীরিক অক্ষমতা আমাকে একটু একটু করে দখলে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জীবনানন্দ দাশ স্থবিরতা কামনা করেছিলেন। আমি অবশ্য কোনোরূপ স্থবিরতার কথা বিবেচনা করি না। স্থবির হবে কেন? বেঁচে আছি যখন, তখন তো সর্বত্রই পদচারণা করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য by মাহফুজ উল্লাহ

নয় দশক আগে ভূমিলক্ষ্মী প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ মন্তব্য করেছিলেন, ‘তখন দুর্ভিক্ষের দিনে চাষী আপন জমিজমা ফেলিয়া অনায়াসে চালিত হইত, প্রজা পত্তন করা কঠিন হইত। এখন চাষী প্রাণপণে জমি আঁকড়াইয়া থাকে, কেননা জমির দাম বিস্তর বাড়িয়া গিয়াছে। অথচ চাষী বলিতেছে, জমিতে তাহার অভাব মিটে না।

রাজধানীতে পানি সঙ্কট ভয়াবহ হবে গ্রীষ্মেঃ ওয়াসা বলছে হবে না!

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঙ্কটে নাজেহাল রাজধানীবাসীর সামনে অপেক্ষা করছে আরেক বিপদ। আসন্ন গ্রীষ্মে পানি সঙ্কটের আশঙ্কা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়ে গেছে। বিদ্যুত্ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং বাড়ার ফলে পানি সঙ্কট না বেড়ে পারে না।

বহুমুখী তাণ্ডবের শিকার নদীঃ শুকিয়ে যাচ্ছে আরও এক ডজন

হাজার নদীর দেশে এখন পানির আকাল। একে একে শুকিয়ে যাচ্ছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রমত্তা নদীগুলো। অর্ধশতাধিক নদীই আজ মৃত। কোনো কোনোটির চিহ্নমাত্র নেই। দেখে আন্দাজ করা মুশকিল একসময় এখানে বয়ে যেত কলস্বরা নদী।

চলতি পথে-তীব্র বেদনা অক্ষত থাকে অন্তরে by দীপংকর চন্দ

বাটাজোর বাজার থেকে হাঁটাপথে একটু এগোলেই শীর্ণ একটি খালের দেখা মেলে। আড়ম্বরহীন একটি সেতু সেই খালের ওপর। ছোট্ট সেই সেতুটি পার হলাম আমরা। বরিশাল সদর অভিমুখী পথের বাঁ পাশে বাটাজোর অশ্বিনীকুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

বিচারের বাণী-বাংলাদেশের আদি সংবিধানের বৈশিষ্ট্য by মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী

কথারম্ভ ১ জানুয়ারি ‘বাংলাদেশের আদি সংবিধানের ক্ষমতা’ শিরোনামে এই পাতায় আমার লেখা ছাপা হয়েছে। লেখাটিতে বাংলাদেশের আদি সংবিধানের ক্ষমতার সূত্রাবলি আলোচনাক্রমে নির্দিষ্ট করা হয়েছিল এবং সেগুলোর ভিত্তিতে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা গিয়েছিল যে বাংলাদেশের আদি সংবিধানের ক্ষমতা একক এবং সে চিন্ময় অজর অমর অক্ষয় অব্যয়।

গুয়ানতানামো কারাগার-আট বছরে কী বদলাল by ফ্রিদা বেরিগান

গুয়ানতানামোর ক্যাম্প এক্স-রেতে প্রথম ২০ জন আটক বন্দীকে নিয়ে যাওয়া হয় আট বছর আগে, ২০০২ সালের ১১ জানুয়ারি। এরপর সাত বছর পূর্ণ হওয়ার কয়েক দিন পর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় পূর্ণ দিবসে এক বছরের মধ্যে কারাগারটি বন্ধ করে দেওয়ার একটি নির্দেশ জারি করেন।

ভূমিকম্প-হাইতি থেকে ঢাকা: বিপর্যয়ের ঘণ্টা বাজছে by ফারুক ওয়াসিফ

মাছের মায়ের নাকি পুত্রশোক নেই। মাছ প্রসব করে হাজারে হাজারে ডিম, তার মধ্যে কোনটি মরল আর কোনটি ফুটল তার হিসাব কে রাখে? এই পৃথিবীর সন্তানসংখ্যা ৬০০ কোটি, তার মধ্যে দুই-তিন লাখ মানবসন্তান যদি এক লহমায় মরেও যায়, মা পৃথিবী কি তাতে কাঁদে? আসলে পৃথিবীর মা-বাপ নেই,

শ্রদ্ধাঞ্জলি-জ্যোতি বসু: বাংলাদেশের সুহূদ by সোহরাব হাসান

জ্যোতি বসু এমন একজন নেতা, যাঁর পরিচয় ও কৃতিত্ব দল বা দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। রাজনৈতিক মত ও পথের পার্থক্য সত্ত্বেও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, মোমারজি দেশাই, রাজীব গান্ধী, নরসিমা রাও তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন।

মেহনতি মানুষকে প্রেরণা জোগাবে তাঁর জীবনদর্শন-জ্যোতি বসু

ভারতের প্রখ্যাত বামপন্থী নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর মৃত্যুতে আমরা শোকাভিভূত। তাঁর মৃত্যু ভারত তো বটেই, সারা বিশ্বের মেহনতি মানুষের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে দেশে দেশে যখন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটছিল,

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে না-সেবিকা-সংকট

সেবিকা-সংকটে রয়েছে চিকিৎসাব্যবস্থা। বলা যায়, ছিল, আছে এবং তা কাটার কোনো লক্ষণ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আদর্শ অনুযায়ী, একজন চিকিৎসকের সহযোগী হিসেবে তিনজন সেবিকা থাকার কথা। এটা থাকলেই বলা যায়, চিকিৎসার অপরিহার্য অঙ্গ সেবাদানের সামর্থ্য অর্জিত হয়েছে।

চারদিক-মজার মাছ কামিলা by আবদুল কুদ্দুস

পর্যটন রাজধানীখ্যাত বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজার ভ্রমণে এসে হাজার হাজার মানুষ সামুদ্রিক মাছের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মাংস এড়িয়ে সামুদ্রিক মাছ রূপচাঁদা, কোরাল, চিংড়ি খেতে চায়। শত শত হোটেল-রেস্তোরাঁয় এসব মাছ খাওয়ার চলে প্রতিযোগিতা। অর্ডার করলে এনে দেয় রূপচাঁদা, কোরালসহ নানা সামুদ্রিক মাছ।

আঞ্চলিক সহযোগিতা-বাংলাদেশ-ভারতের নতুন সমীকরণ by কুলদীপ নায়ার

কাকতালীয় হলেও শুভ লক্ষণ যে দিল্লিতে এখন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ রকম পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফর করেন। এসব আলোচনার কেন্দ্রে ছিল উপমহাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি। কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশ যখন তাদের সম্পর্ককে আরও নিবিড় করছে, তখন ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের বেলায় সৃষ্টি হয়েছে আরও দূরত্ব।

শিক্ষার পরিবেশ-বিদ্যালয়গুলোকে বদলে দাও by মোহাম্মদ জাকিউল ইসলাম

প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়—যেমন, সিলেবাস, সময়মতো বই বিতরণ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকার মান নিয়ে লেখা হয়। কিন্তু ‘শিক্ষার পরিবেশ’ নিয়ে আমাদের আলোচনা খুবই সীমিত। পরিবেশ বলতে আমি শুধু ফিজিক্যাল বা ভৌত পরিবেশের কথা বলছি, আরও সহজভাবে স্কুল বিল্ডিং ডিজাইনের কথা বলতে চাচ্ছি।

প্রবাসী শ্রমিক-দুবাইয়ে নির্মাণশ্রমিকদের দুঃসময় by নিমাই সরকার

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার নির্মাণকর্মী ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ছুটে এসেছিলেন দুবাইতে। শুধু নির্মাণকর্মী কেন, শ্রমিক ও প্রকৌশলীসহ নানা পেশার মানুষ জীবিকার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইকে বেছে নেন।

বিশেষ সাক্ষাত্কার-আশাভঙ্গ ঘটেনি তবে আত্মতুষ্টিরও সুযোগ নেই by আলী রীয়াজ

ড. আলী রীয়াজের জন্ম ১৯৫৮ সালে ঢাকায়। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের চেয়ারম্যান। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি করেছেন। সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন বিবিসিতে। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র: রাজনৈতিক ইসলাম, দক্ষিণ এশীয় রাজনীতি ও গণমাধ্যমের রাজনৈতিক অর্থনীতি।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধক সামুদ্রিক শৈবাল by মাহবুব আলম

‘সামুদ্রিক শৈবাল’ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ জলজ সম্পদ হিসেবে নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে মানুষের ভক্ষণযোগ্য ও শিল্পের কাচাঁমাল ছাড়াও রপ্তানি পণ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে এ জলজ উদ্ভিদ। এটি উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং ঔষুধি ও শিল্পের কাঁচামালে সমৃদ্ধ প্রজাতি।

জনভোগান্তিমূলক কর্মসূচি আর নয়-সংবর্ধনার বিকল্প পদ্ধতি বের করুন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর শেষে দেশে ফেরার দিনে সরকারি দল যে এমন ব্যাপক মিছিল-সমাবেশের আয়োজন করবে—এ তথ্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর জানা ছিল কি না, সে বিষয়ে আমরা সন্দিহান। সরকারি দলের নেতাদের উচিত ছিল এমন পন্থায় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানোর ব্যবস্থা করা, যাতে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে।

তাঁদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে হবে-সাংসদদের আচরণবিধি

সাংসদদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে যে বেসরকারি বিলটি উত্থাপিত হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিলের শিরোনাম হলো ‘সংসদ সদস্য আচরণ আইন-২০১০’। বিলটির উত্থাপক সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, সাংসদেরা যাতে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি অবিচল থেকে তাঁদের কার্যক্রম ও আচরণ অনুযায়ী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটাতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এটি উত্থাপন করা হয়েছে।

ঘুষখোর ধরতে যৌথ অভিযান চলতি মাসেই

সিরাজুল ইসলাম: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঘুষ গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধরতে র‌্যাব-পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একযোগে কাজ করবে। চলতি মাস থেকে অভিযান শুরু করা হবে। অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদককে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে রাজউক। গতকাল বুধবার পৃথক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দুদক কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় কমিশনের মহাপরিচালক কামরুল ইসলাম মোল্লা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এমএইচ সালাউদ্দিন, পরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার মো. তাহীদুল ইসলাম, র‌্যাবের কয়েকজন অধিনায়ক এবং ডিএমপির ডেপুটি কমিশনার এবং দুদকের আঞ্চলিক ও প্রধান কার্যালয়ের পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার প্রথমে দুদক কর্মকর্তারা ঘুষ আদান-প্রদান ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। পাশাপশি গতানুগতিক পদ্ধতিতে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে ঘুষ প্রতিরোধে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধাগুলো উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতা চাওয়া হয়। র‌্যাব কর্মকর্তা এবং পুলিশ কর্মকর্তারা সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। সভার আলোচনা অনুযায়ী থানা, কাস্টমস অফিস, ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিস, বিমানবন্দর, সচিবালয়, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সব দপ্তর ও সিটি করপোরেশনসহ স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠান এ অভিযানের আওতায় থাকবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘুষ গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেও এ ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া পেশাদার ঘুষখোরদের ধরতে কিভাবে ফাঁদ তৈরি করা হবে- এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় দুদক কর্মকর্তারা বলেন, কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনার পর ঘুষ গ্রহণকারীরা পারিবারিক এবং সামজিক সম্মান রক্ষার্থে ঘুষ নেয়া বন্ধ করে দেবে। তবে এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, যদি র‌্যাব ও পুলিশ এ কাজে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সহযোগিতা না করে তা হলে উদ্যোগ সফল না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একই সঙ্গে ঘুষ চাওয়ার পর যে ব্যক্তি দুদককে জানাবে বা তথ্য দেবে, তার কাজের নিশ্চয়তার (যে কাজের জন্য ঘুষ চাওয়া হয়েছে) পাশাপাশি যেন ওই ব্যক্তিকে কোন প্রকার আইনি জটিলতা বা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ফাঁদ পাতা সংক্রান্ত নীতিমালায় রাখার সিদ্ধান্ত হয় আলোচনায়। চলতি মাসের মধ্যেই এ অভিযান শুরু করার বিষয়েও একমত হন র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তারা। ওদিকে রাজউক কার্যালয়ে দুদকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে রাজউক কর্তৃপক্ষ। এ বৈঠকে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নূরুল হুদাসহ ১৫-২০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। দুদক মহাপরিচালক খন্দকার আমিনুর রহমানসহ ৭ সদস্যের একটি টিম বিকাল ৩টায় রাজউক কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ টিমের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছে পরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার তাহীদুল ইসলাম, উপপরিচালক প্রণব ভট্টাচার্য, নূরুল হক, সাহিদুর রহমান এবং মাহবুবুবর রহমান। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক টিম রাজউকের কাছে যে ধরনের সহযোগিতা চাইবে তা দেয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ-মার্কিন অংশীদারি সংলাপের রূপরেখা চূড়ান্ত হচ্ছে

কূটনৈতিক রিপোর্টার: বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অংশীদারি সংলাপের রূপরেখা চূড়ান্ত হচ্ছে। এর আওতায় বিভিন্ন ইস্যুতে এখন থেকে প্রতি বছর দু’দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে নিয়মিতভাবে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ঢাকা সফরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আকরামুল  কাদের গতকাল পররাষ্ট্র দপ্তরে মানবজমিন-এর সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান। বলেন, ঢাকা-ওয়াশিংটনের মধ্যে নিয়মিত আলোচনার জন্য প্রস্তাবিত ‘অংশীদারি সংলাপে’র রূপরেখা নিয়ে কাজ চলছে। হিলারি ক্লিনটনের সফরেই এর ঘোষণা আসবে। তবে শুধু ঘোষণা নাকি চুক্তি তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালকের কক্ষে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত বলেন, হিলারি ক্লিনটনের ঢাকা সফরের আলোচ্যসূচি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন পরিবর্ধন সংযোজন সংশোধন হচ্ছে। ৫ই মে তিনি আসার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে তার আলোচনার এজেন্ডা চূড়ান্ত হবে বলে জানান তিনি। এদিকে হিলারি ক্লিনটনের ঢাকা সফর নিয়ে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডাব্লিউ মজিনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি চলে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা। সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে মজিনা সাংবাদিকদের জানান, হিলারি ক্লিনটনের ঢাকা সফরের সব দিক নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ঢাকার প্রস্তুতিতে তিনি সন্তুষ্ট। তবে আলোচ্যসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। মজিনার বৈঠকের আগে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের মানবজমিনসহ অন্য গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, হিলারির সফরের একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক ঢাকা আসবেন। অন্য একটি সূত্র জানায়, ব্লেক আসার পর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ দমন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা, নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়াতে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারি সংলাপের রূপরেখা চূড়ান্ত হবে। চীন, ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের সহযোগিতার কাঠামো রয়েছে। আজ দিনের শুরুতে হিলারি ক্লিনটন বেইজিংয়ে এমন একটি ফোরামের বৈঠকে অংশ নেবেন। দু’দিনব্যাপী এ বৈঠকের জন্যই হিলারির এবার সফর বলে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জানিয়েছেন। বেইজিং থেকে সরাসরি ঢাকায় আসবেন তিনি।
টিকফা চুক্তিতে আরও সময় নিতে চায় বাংলাদেশ: শর্ত শিথিল না করা এবং প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় হিলারির সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা রূপরেখা চুক্তি-টিকফা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এ চুক্তিতে আরও কিছুদিন সময় নিতে চায় বাংলাদেশ।

সরকার মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারছে না

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, সরকার মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এটা সরকারের ব্যর্থতা। যদি গুমের রহস্য উদঘাটন না হয় তাহলে সরকারের ব্যর্থতা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু একটা প্রশ্ন? এক ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় ১৬ কোটি মানুষকে কেন জিম্মি রাখবেন। তাদেরকে কেন বন্দি রাখবেন, কাজ থেকে বিরত রাখবেন, ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল বন্ধ রাখবেন, পরীক্ষা বন্ধ রাখবেন? এটা কোন ধরনের রাজনীতি? তিনি বলেন, কেন ইলিয়াস আলীর জন্য পাঁচটা মানুষকে হত্যা করা হলো? আমরা এ রাজনীতি চাই না। মানুষ মারা যাচ্ছে। তাদের জীবনের কি কোন মূল্য নেই? একজন মানুষের জন্য বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে জিম্মি করবেন এ রাজনীতি মানুষ আর সহ্য করবে না। মঙ্গলবার বিকালে গাজীপুরের শ্রীপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় শ্রমিক পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা  বলেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গত ২১ বছরে এ দুটি দল ফাউল খেলেছে। জাতীয় শ্রমিক পার্টির সভাপতি আনোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) কাজী মাহমুদ হাসান, প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম হাবিব দুলাল, ঢাকা মহানগর জাতীয় পার্টির (উ.) সভাপতি এম এ ফয়সাল চিশতী, কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি আলহাজ আবদুস সাত্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আবদুস ছালাম, কেন্দ্রীয় জাতীয় যুব সংহতির যুগ্ম সম্পাদক আবুল খায়ের ছোটন, কেন্দ্রীয় শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ্‌-আলম, জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান, শ্রীপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ আফতাব উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

চৌমুহনীতে সেপটিক ট্যাংকে ৩ শ্রমিকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার নোয়াখালী থেকে: সেপটিক ট্যাংক থেকে ৩ শ্রমিকের লাশ উদ্ধারকে ঘিরে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় ডাক্তারসহ আহত-১০। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গণিপুরের বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুপুরে চৌমুহনী শহরের ক্লাসিক হাসপাতাল, শাইনিং হাসপাতাল, ইউনিক ল্যাব, বাসন্তী মেডিকেল হল, কম্পিউটার ল্যাব, ডা. আলাউদ্দিনের চেম্বার ভাঙচুর করা কালে ডাক্তার সফিকুর রহমানসহ ১০জন আহত হয়। নোয়াখালীর চৌমুহনী পৌর এলাকার গণিপুর গ্রামের আবু তাহেরের বাড়ির বাস ভবনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে গতকাল দুপুরে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের লাশ উদ্ধার করে। নিহত শ্রমিকরা হচ্ছে গণিপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন (৩৫), জসিম উদ্দিন (৩২) ও মো. নিজাম (৩০)। এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আলম ও অগ্নিনির্বাপক অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে চৌমুহনী পৌরসভার গণিপুর গ্রামের প্রবাসী আবু তাহের মিয়ার নির্মাণাধীন নতুন বাড়ির একটি সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারের জন্য এই তিন শ্রমিক সেপটিক ট্যাংক এর ভেতরে ঢুকে। তাদের ফিরে আসতে বিলম্ব হওয়ায় অপেক্ষমাণ বাড়ির লোকজন তাদের ডাকাডাকি করে। কিন্তু কোন সাড়া শব্দ না পাওয়ায় বাড়ির লোকজন ও এলাকাবাসী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় খবর দেয়। পুলিশ ও চৌমুহনী ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের লাশ সেপটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে উদ্ধার করে। পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য শ্রমিকদের লাশ নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। উদ্ধারকারী ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের জানান সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেশি হওয়ায় শ্বাস রোধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে।

মেট্রোরেল প্রকল্পে বিনিয়োগ জাপানের বিবেচনায়-পদ্মা সেতুতে এককভাবে নয়

প্রস্তাবিত মেট্রোরেল প্রকল্পে বিনিয়োগ প্রস্তাব সক্রিয়ভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে জাপান। তবে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে মতপার্থক্য নিরসনের আগে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নে অনীহা প্রকাশ করেছে তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকায় বাংলাদেশ-জাপান আনুষ্ঠানিক বৈঠকে দেশটির প্রতিনিধিদল এ কথা জানায়।

বড়পুকুরিয়ায় দেয়াল ধসে নিহত ১, আহত ২২

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: বড়পুকুরিয়া বাজার সংলগ্ন ফেন্সি বাণিজ্যালয়ের দেয়াল ধসে একজন মহিলার মৃত্যু ও ২২ জন আহত হয়েছে। ১লা মে রাত ৮টায় ফেন্সি বাণিজ্যালয়ের দেয়াল ধসে  বৈদনাথপুর গ্রামের মকছেদ আলী মাস্টারের স্ত্রী মোসাম্মৎ রেজিয়া খাতুন (৪০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় দেয়াল চাপা পড়ে আহত হন প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১১ জনকে ফুলবাড়ী থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পার্বতীপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এলাকার মানুষ হাতে জুতা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান ও দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. জামাল উদ্দিনের কুশপুত্তলিকা দাহ করে বিক্ষোভকারীরা। এ সময় বক্তব্যে জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, বিগত ৪/৫ বছর থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। ১/২ মাস পর পর বিভিন্ন গ্রামের ও বাজারের বাড়িঘরের দেয়াল এবং ভূমি ধসের ফলে প্রাণনাশের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ ও পেট্রোবাংলা এলাকার মানুষের ক্ষতিপূরণের ন্যায্য পাওনা না দিয়ে টালবাহানা করার কারণে এলাকায় একের পর এক বাড়ি ধসে যাচ্ছে এবং প্রাণনাশের ঘটনা ঘটছে।

বার্থ এসফেকসিয়া-গোল্ডেন মিনিটেই ঝরে যায় ২৯ হাজার নবজাতক by তৌফিক মারুফ

উপযুক্ত পরিচর্যা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার অভাবে স্বাভাবিক-ভাবে নিঃশ্বাস নিতে না পেরে বা বার্থ এসফেকসিয়ার শিকার হয়ে জন্মের পর প্রথম মিনিটেই বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৯ হাজার নবজাতকের অকালমৃত্যু ঘটে। বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রসবের সময় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মী বা পরিচর্যাকারীদের পর্যাপ্ত দক্ষতা ও প্রয়োজনমতো কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস

ডমেইন শিল্পে নতুন বিন্যাস

ইন্টারনেট বিশ্ব আবারও নতুন বিপ্লবের ইঙ্গিত দিয়েছে। আর এ বিপ্লবের মাধ্যম হচ্ছে ডমেইন নেম। ইন্টারনেট বিশ্বকে আরও সুসংগঠিত করতেই এ অভিনব পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এ পরিবর্তনে ডমেইন বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইন্ড নেম অ্যান্ড নাম্বারস (আইক্যান) আবেদন গ্রহণ করা শুরু করেছে। ফলে অনলাইন সংস্কৃতিতে নিউ জেনিরিক টপ-লেভেল ডমেইন্সের (জিটিডিএস) যুগ শুরু হচ্ছে।
ডমেইন নাম বিপণনে নতুন বিন্যাস আনতেই এ মহাপরিকল্পনা নিয়েছে আইক্যান। এ ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে ডমেইন নামের মাধ্যমেই সহজেই প্রত্যাশিত সাইট খুঁজে পাওয়া যাবে।
এ ছাড়াও নতুন ডমেইন বিন্যাস পদ্ধতি কার্যকর হলে ইন্টারনেট সংস্কৃতির অপচর্চাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব হবে। আর ভবিষ্যতের ইন্টারনেট বিশ্বও অনেক সুসজ্জিত হবে। তবে এ পদ্ধতি আপাতত সীমিত। কবে নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে এ আবেদন গ্রহণ করা হবে তা এখনও নিশ্চিত করেনি আইক্যান।
এ প্রসঙ্গে আইক্যানের প্রধান অপারেটিং কর্মকর্তা (সিওও) আকরাম আতাল্লাহ জানান, টপ লেভেল ডমেইন (টিডিএল) নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় থাকছে টিডিএল অ্যাপলিকেশন সিস্টেম সফটওয়্যার। ফলে যেকোনো প্রয়োজনে ইউজার এবং ফাইল নেম দিয়ে সাইটের অপচর্চাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।


জাবি ভিসি’র পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনশনে শিক্ষকরাও

জাকারিয়া পলাশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে: ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের পদত্যাগের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনে যোগ দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরাও। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে ভিসি’র পদত্যাগ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের এমপি কবরী সারোয়ার নিজেও। অপরদিকে নানা অভিযোগ সত্ত্বেও পদত্যাগ না করে ভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন ভিসি। অভিযোগ রয়েছে তিনি নিজ গ্রুপের শিক্ষকদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন। ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনকারীরা আমরণ অনশন শুরু করেছেন গত মঙ্গলবার থেকে। ভিসির বাসার সামনে পৃথক দু’টি মঞ্চে মঙ্গলবার সকালে আমরণ অনশন শুরু করেন ৪ সংস্কৃতিকর্মী। গতকাল তাদের সঙ্গে যুক্ত হন ২ শিক্ষক। অনশনকারীরা হলেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোমা মুমতাজ, বাংলা বিভাগের শিক্ষক শামীমা সুলতানা, রাসেল রানা (বাংলা বিভাগ ৩৮তম ব্যাচ), জোবায়ের হোসেন (সরকার ও রাজনীতি ৪০), সাদিয়া জাফরিন (ফার্মেসি ৩৯) ও আতিয়া ফেরদৌস চৈতী (অর্থনীতি ৩৮)। এদিকে আন্দোলন ঠেকাতে মাঠে থাকা ভিসিলীগ ক্যাডারদের চাঙ্গা রাখতে চলছে নগদ টাকা বিতরণের মহড়া। আন্দোলনকারীদের দমন করতে গ্রেপ্তার, হামলা, ক্লাস-পরীক্ষায় দেখে নেয়ার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন সুশীল সমাজ। ভিসির আস্থাভাজন শিক্ষকরাও পরিত্যাগ করছেন তার সঙ্গ। ফলে দিন দিন একা হয়ে পড়ছেন শরীফ এনামুল কবির। পদত্যাগের প্রশ্নে এখন দায় চাপাচ্ছেন প্রেসিডেন্টের কাঁধে। গত ১লা এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, কয়েকজন শিক্ষকের দাবির মুখে নয়, শিক্ষার্থীরা চাইলে পদত্যাগ করবো। শিক্ষার্থীদের অনশনের মুখে গতকাল বললেন, মহামান্য আচার্য চাইলে পদত্যাগ করবো। তার এমন বক্তব্যের জবাবে সংস্কৃতিকর্মী কামাল উদ্দিন রিমন বলেন, এরপর হয়তো ভিসি বলবেন, কোন মানুষ নয়, আল্লাহ চাইলে আমি পদত্যাগ করবো। ওদিকে আমরণ অনশনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষক সাবেক প্রো-ভিসি ও মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য অধ্যাপক তাজুল ইসলাম, নিউ এইজ-এর সম্পাদক নুরুল কবির, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সভাপতি হালিমা হোসেন, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, অভিনেত্রী তারানা হালিম, বন্যা মির্জা, কণ্ঠশিল্পী কৃষ্ণকলি, লেখক সাইদিয়া গুলরুখ, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, মোশরেফা মিশু, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, বারিস্টার সারা হোসেন, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সাপ্তাহিক একতা সম্পাদক কে এম রাশেদা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ সাবেক শিক্ষক ও কলাম লেখক রেহনুমা আহমেদসহ বিভিন্ন সাহিত্যিক, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। মোবাইল ফোনে সংহতি জানান অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, শম্পা রেজা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সেওতি সবুর, বাংলার পাঠশালার আহমেদ জাবেদ রনি ও উদীচী’র সংগীতা ইসলাম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোট গতকাল নিজেদের ক্যাম্পাসে একটি মৌন মিছিল করে জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে। গতকাল বিকালে ভিসির বাসার সামনে এসে আন্দোলনকারী এবং ভিসিপন্থি উভয় শিক্ষকদের সঙ্গে কখা বলেন কবরী সারোয়ার। একপর্যায়ে তিনি ভিসিপন্থিদের উদ্দেশ্যে ভিসিকে পদত্যাগ করার অনুরোধ করার দাবি জানান। এসময় ভিসিপন্থি শিক্ষক অধ্যাপক আমীর হোসেন কবরী সারোয়ারকে বলেন, বিএনপি তো প্রধানমন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে বলে। বিএনপি’র কথায় যদি প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করেন তবে তাদের কথায় ভিসি পদত্যাগ করবেন কেন? এ প্রশ্ন শুনে কবরী সারোয়ার বলেন, আপনারা (ভিসিপন্থিরা) আওয়ামী লীগ করেন না। আওয়ামী লীগ করলে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এত বড় কথা বলতে পারতেন না। আমি আজই এ বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ করবো। এ সময় ভিসিপন্থি শিক্ষকরা চুপ হয়ে যান। এরপর ক্যম্পাস ত্যাগ করেন কবরী সারোয়ার। এর আগে সকাল আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাসির উদ্দিন অনশনরত সংস্কৃতি-কর্মীদের দেখতে আসেন। তিনি সেখানে উপস্থিত কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা শারমিন বলেন, না খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকলেও ভিসি বাইরে না এসে পদ আঁকড়ে বাসার ভেতর  বসে আছেন। অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বলেন, সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ কয়েকদিন আগেই নেয়া উচিত ছিল। এখন আর সময় নেই। এখন শিক্ষার্থীরা তাকে গুণ্ডা, সন্ত্রাসী বলছে। এটা খুবই লজ্জাজনক। তার পদত্যাগ করা উচিত। তিনি এখনও বসে থেকে ভিসি পদটির অসম্মান করছেন। এ পদকে করছেন কলঙ্কিত। নিউ এইজ সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরণ অনশনকে স্বাগত জানাই। এটা একটি যৌক্তিক আন্দোলন। সূত্র জানায়, ভিসিবিরোধী আন্দোলন দমানোর জন্য এতদিন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সুকল্যাণ কুণ্ডুর মাধ্যমে কর্মী প্রতি এক থেকে দুই হাজার টাকা বিতরণ করা হতো। গত সোমবার থেকে এ টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সিনিয়র কর্মীদের ২ হাজার, অন্যদের এক হাজার থেকে ৫শ’ করে নগদ টাকা দেয়া হচ্ছে। এ টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মনোমালিন্য দেখা দিয়েছে। কোন কোন ছাত্রলীগ কর্মী টাকার ভাগ যথাযথ না পাওয়ায় মিছিল-সমাবেশ থেকে বিরত রয়েছেন। আন্দোলন বেগবান করতে ক্যাম্পাসে এসে ভিসির সঙ্গে মিটিং করছেন বহিরাগত সরকার আজগর আলী। তার নির্দেশে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার ট্রান্সপোর্ট চত্বরে তিন শিক্ষার্থীকে হুমকি দেয়া হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সঙ্কটে পড়বে বলে শাসিয়েছেন ভিসিপন্থি শিক্ষকরা। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এরা ছাত্রলীগের কোন সাংগঠনিক নির্দেশনা মোতাবেক কোন কাজ করেন না। এদিকে ক্যাম্পাসে ভিসির আস্থাভাজন শিক্ষকরা গত রোববার থেকে ভিসির নানা অপকর্মের সমালোচনা করে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক পৃথ্বিলা নাজনীন, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাজেদ আশরাফ করিম, অধ্যাপক হানিফ আলী, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক কেএম মহিউদ্দীন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম দুর্জয় বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রগতিশীল শিক্ষক। আমাদের মধ্যে কিছু নীতিবিবর্জিত অনুপ্রবেশকারী যোগ দিয়েছেন। এ কারণে আমাদের আদর্শ নষ্ট হয়েছে। এর ফল পুরো ক্যাম্পাস এমনকি গোটা দেশকে বহন করতে হচ্ছে। দলীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ। আমরা এসবের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই কারণে ভিসিপন্থি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুলাহেল কাফী, আইআইটির সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল করিম পাটোয়ারীসহ ইতিহাস বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক ভিসির গ্রুপ পরিত্যাগ করছেন বলে জানা গেছে। একজন সহকারী প্রক্টর পদত্যাগপত্র প্রস্তুত করে রেখেছেন বলে ক্যাম্পাসে গুজব রয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য গত মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে আসেন সংসদ সদস্য ও সিনেট সদস্য তারানা হালিম। তিনি উভয় পক্ষের শিক্ষকদের সঙ্গে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি সমাধানের জন্য ১৫ দিনের সময় চান। কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দেন, আলোচনার জন্য ৪ মাস সময় দিয়েছিলাম। ভিসি এতদিন টালবাহানা শুরু করেছেন। এখন আর আলোচনার কোন সুযোগ নেই। ভিসির পতনই সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। তারানা হালিম বলেন, আমি সরকারের পক্ষ থেকে নয় সিনেট সদস্য হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে ক্যাম্পাসে এসেছি। আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেবো। গতকাল বেলা ১২টার দিকে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এসময় ‘পদত্যাগ’ ‘পদত্যাগ’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। দুপুর ১টার দিকে সংজ্ঞা হারান অনশনকারী শিক্ষার্থী রাসেল রানা। তাকে এম্বুলেন্সযোগে সাভারে গণস্বাস্থ্যনগর হাসপাতালে পাঠানো হয়। জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের কর্মী রাসেল বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার অনশন শুরুর আগে শপথ বাক্য পাঠ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক ঘটে যাওয়া অন্যায় অপকর্ম-অনিয়ম-দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের মদতদাতা ভিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে। অন্যান্য দিনের মতো গতকালও ভিসিপন্থি ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত শেখ শরীফ উদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান লিটনে নেতৃত্বে ভিসি ভবনের সামনে মহড়া দিতে দেখা গেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। গতকাল সন্ধ্যায় আন্দলনরত শিক্ষকরা এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন ভিসি তার গ্রুপের শিক্ষকদের নাম জালিয়াতি করেছেন। তারা জানান, ৩০শে এপ্রিল ভিসিপন্থি শিক্ষকদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পায়। এতে প্রেসিডেন্টের কাছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ওই তালিকায় শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর জন্য একই শিক্ষকের একাধিক স্বাক্ষর দেয়া হয়, বিদেশে অবস্থানকারী শিক্ষকদের অন্য কোন সময়ের স্বাক্ষর এই সময়ে চালিয়ে দেয়া হয়। স্বাক্ষর দেননি এমন শিক্ষকের নামও তালিকাবদ্ধ করা হয়। দর্শন বিভাগের সৈয়দ নিজার আলম, বাংলা বিভাগের খালেদ হোসাইন, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের কেএম মহিউদ্দীন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের আবদুল মান্নান চৌধুরী কোন স্বাক্ষর না দিলেও তাদের স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। এভাবে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষকের নামের স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে। গণিত বিভাগের মো. ওসমান গণি বিদেশে অবস্থান করলেও তার স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। অর্থনীতি বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শেখ মনজুরুল হক, দর্শন বিভাগের সৈয়দ নিজার আলমের স্বাক্ষর দু’বার করে দেখিয়ে সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। শেষোক্ত দু’জনের দু’বার উল্লিখিত নামের স্বাক্ষর ভিন্ন রকম দেখা গেছে। এ ঘটনাকে শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতারণা ও জোচ্চুরি বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক মানস চৌধুরী।

কাশেম আউট মাহমুদুল হাসান ইন

হাসান শাফিঈ: ঋণ ও বিল খেলাপের অভিযোগে টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মহাজোটের অন্তর্ভুক্ত জাতীয় পার্টির আবুল কাশেমের সদস্য পদ বাতিল হচ্ছে। আবুল কাশেমের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে এক সপ্তাহের মধ্যে এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানকে বিজয়ী ঘোষণা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। এর প্রেক্ষিতে আগামী রোববার কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্পিকারকে জানানো হবে। মানবজমিন-এর সঙ্গে আলাপকালে গতকাল একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, আদালতের রায়ের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার দেশের বাইরে আছেন। তিনি আসবেন শুক্রবার। আগামী রোববারের কমিশন বৈঠকেই আদালতের রায় অনুযায়ী আবুল কাশেমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আবুল কাশেম লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে ১ লাখ ৪৭ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ৭২ হাজার ৮০৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। তবে নির্বাচনে দ্বিতীয় হয়েও রণে ক্ষান্ত দেননি মাহমুদুল হাসান। তিনি বিজয়ী প্রার্থী আবুল কাশেমের প্রার্থিতা অবৈধ ছিল দাবি করে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যান মাহমুদুল হাসান। তিনি তার আবেদনে আবুল কাশেম মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ‘বিল ও ঋণখেলাপি’ ছিলেন দাবি করেন। মাহমুদুল হাসানের আবেদনে বলা হয়, গত ৪ঠা ডিসেম্বর (২০০৮) জেলা রিটার্নিং অফিসার আবুল কাশেমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিল। তবে সোনালী ব্যাংকে তার ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ টাকা ঋণ রয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, ময়মনসিংহ টেলিফোন এক্সচেঞ্জে আবুল কাশেমের নামে ৩২ হাজার ১১০ টাকা ফোন বিল বকেয়া রয়েছে। ইলেকশন পিটিশন নম্বর ০৮/২০০৯ এর প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১৫ই ডিসেম্বর হাইকোর্ট সংসদ সদস্য আবুল কাশেমের প্রার্থিতা বাতিল করে জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হাসানকে বিজয়ী ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন। এই আদেশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার জন্যও এতে নির্দেশনা দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে আপিলে যান সংসদ সদস্য আবুল কাশেম। সিভিল আপিল নম্বর ২৭/২০১১ খারিজ করে আবার গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখে। এরপর গত ২৯শে এপ্রিল আপিল বিভাগের এই রায়ের কপি নির্বাচন কমিশনে আসে। এ কপি পাওয়ার পর কমিশন সচিবালয়ের আইন শাখা কমিশন সভায় উপস্থাপনের জন্য এরই মধ্যে একটি কার্যপত্র তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, যেহেতু আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছে সেহেতু নির্বাচনী এলাকা ১৩৪ টাঙ্গাইল-৫ এ গত জাতীয় নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানকে বিজয়ী ঘোষণা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে আদেশ প্রাপ্তির পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে রায় বাস্তবায়নে যে নির্দেশনা রয়েছে এ বিষয়েও কার্যপত্রে কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী রোববারের কমিশন সভায়ই আবুল কাশেমের বিষয়ে আদালতের রায় অনুযায়ী সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উল্লেখ্য, ঋণ খেলাপি ও বিল খেলাপি হওয়ার পরেও গত নির্বাচনে টাঙ্গাইলের রিটার্নিং অফিসার (ডিসি) আবুল কাশেমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। এ বিষয়ে ডিসি’র কাছে জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হলেও তখন ডিসি তার কোন উত্তর দেননি। পরে আবুল কাশেমের ঋণ ও বিল খেলাপের বিষয়ে তদন্তে সত্যতা পায় কমিশন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(১) এর (ঠ)-এ বলা হয়েছে, কৃষিকাজের জন্য গৃহীত ক্ষুদ্রঋণ ব্যতীত, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখের পনের দিন পূর্বে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ বা তার কোন কিস্তি পরিশোধে খেলাপি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হবে না। এ ধরনের ঘটনায় অভিযুক্ত হলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য হইবার বা থাকিবার অযোগ্য হইবেন।

সাক্ষাৎকারে এফবিসিসিআই সভাপতি-হরতালের ক্ষতির হিসাব কষা হচ্ছে

হরতালে অর্থনীতির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়, এর হিসাব কষছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। শিল্পোৎপাদন, পরিবহন, বেচাকেনা বন্ধ থাকার ক্ষতির পাশাপাশি আতঙ্ক, ভাঙচুর ও নেতিবাচক ভাবমূর্তির আর্থিক মূল্য কত- এর একটি ধারণাপত্র তৈরি করে

পাবলিক পরীক্ষার মধ্যে হরতাল কেন অবৈধ নয়- হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার: পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে হরতাল করাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে হরতাল না করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ রুল জারি করে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী  ড.  মো. ইউনুস আলী আকন্দের দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ রুল জারি করে। তিনি নিজেই শুনানি করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, বিএনপি মহাসচিব, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতকে সহায়তা করার জন্য ‘এমিকাস কিউরি’ হিসেবে সিনিয়র আইনজীবী মাহমুদুল ইসলাম, এম আমীর-উল ইসলাম, মওদুদ আহমদ, ড. এম জহির, মঈনুল হোসেন, মাহবুবে আলম, আখতার ইমাম, এ এফ হাসান আরিফ, ফিদা এম কামাল, রফিকুল ইসলাম মিয়া, জয়নুল আবেদীন, আবদুল মতিন খসরু, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনসহ ১৫ আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সিলেটে মামলায় পর্যুদস্ত বিএনপি পালিয়ে বেড়াচ্ছে ১২ হাজার কর্মী

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে: মাঠে সোনালি ফসল জ্বলজ্বল করছে। কাটার মানুষ নেই। ধান পেকে বৃষ্টিতে পচতে শুরু করেছে। এরপরও কিছুই করার যো নেই। মহিলারা যা পারছেন সংগ্রহ করছেন। তবে বেশির ভাগ ধানই চোখের  সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ দৃশ্য সিলেটের বিশ্বনাথের। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে প্রায় ৮ গ্রাম পুরুষশূন্য। সবাই এলাকাছাড়া। মাঠে সোনালি ফসল পড়ে থাকলেও তারা বাড়ি ফিরতে পারছে না। কাটার মানুষ নেই। শুধু বিশ্বনাথই নয় সিলেটের বিএনপি এখন মামলায় পুরোপুরি পর্যুদস্ত। নেতারা কে কোথায় আছেন, কে কোথায় থাকছেন তার কোন ঠিকানা নেই। নেতারা একজন জানেন না আরেক জনের খবর। হাতের মোবাইল ফোন বন্ধ। ভিন্ন নম্বরে তারা যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরপরও কেউ কারও মোবাইল ফোন রিসিভ করছেন না। নেতারা জানিয়েছেন, এখন ধরা পড়লেই থানায় নিয়ে অকথ্য নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পরে আধমরা অবস্থায় জামিন অযোগ্য মামলায় আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। একাধিক মামলায় তালিকাভুক্ত আসামি হিসেবে হাত-পায়ে লাগানো হচ্ছে ‘ডাণ্ডাবেড়ি’। ১৮ই এপ্রিল ঢাকা থেকে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পরপরই সিলেট হয়ে ওঠে বিস্ফোরণোন্মুখ। সিলেটের বিএনপির নেতাকর্মী এবং এম ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ রাস্তায় রাস্তায় এবং গ্রামে গ্রামে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। জ্বালাও-পোড়াও করে তারা। তাদের একটাই দাবি, ‘ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দিন।’ কিন্তু ইলিয়াস আলী ফিরে না আসায় তাদের ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকলে। বাসা, বাড়ি, রাস্তাঘাট সবখানেই চলে ব্যাপক ধরপাকড়। শুরু হয় মামলা এই অবস্থায় ২৩শে এপ্রিল বিশ্বনাথে পুলিশ ও জনতার মুখোমুখি সংঘর্ষে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ৩ কর্মী নিহত হন। আহত হয় পুলিশসহ শতাধিক। এর আগের দিন সিলেটের রশিদপুর এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ পর্যন্ত সিলেটের বিভিন্ন থানায় প্রায় ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির কর্মীরা। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার জনকে। এর মধ্যে ৫০০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তারা। জেলা ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রায় ২০০ জনকে আটক করেছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের। যাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাদের ওই সব মামলার মধ্যে কয়েকটিতে আসামি করে আদালতে চালান দেয়া হচ্ছে। এর ফলে এই মুহূর্তে জামিন নিতে গিয়ে ঝামেলায় পড়ছেন বিএনপির নেতারা। একাধিক মামলায় আসামি করায় একাধিকবার তাদের জামিন নিতে হচ্ছে। ২৩শে এপ্রিলের ঘটনার পর সিলেটের বিশ্বনাথে হত্যা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, অ্যাসল্ট, অস্ত্র ছিনতাইসহ একাধিক ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। এই তিনটি মামলাই প্রায় ৮ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত আসামিদের মধ্যে ৫৮ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে কেবল তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অযথা কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। তিনি জানান, বিশ্বনাথ থানায় হত্যা মামলায় ১২০ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে, সিলেটে এম ইলিয়াস আলীর ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত বিএনপি নেতাদের ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিলেট নগরী এবং বিশ্বনাথ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২৪শে এপ্রিল সিলেট নগরীর মধুবন মার্কেটের ভেতর থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ রাজনৈতিক নেতা ও সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোজাহিদ আলী, বিশ্বনাথ থানা বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন চেয়ারম্যান, মাস্টার রইস উদ্দিন, বিএনপির সিনিয়র নেতা আবুল কালাম কছির, আবুল কালাম ধলা মিয়া চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার করেছে। ২৩শে এপ্রিল বিশ্বনাথ বিস্ফোরণের হোতা আখ্যায়িত করে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে এবং তাদের হত্যাসহ ৩ থেকে ৪টি মামলায় আসামি করা হয় এবং গতকালও সিলেটের আদালতে জালাল উদ্দিন চেয়ারম্যান, ধলা মিয়া চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজনকে হাতে পায়ে ‘ডাণ্ডাবেড়ি’ বেঁধে আদালতে আনা হয়। সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদ গতকাল জানিয়েছেন, বিএনপির কর্মীদের দমন করতে মাঠে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের নামিয়েছে। আর পুলিশ দিয়ে বিএনপি’র কর্মীদের ধরপাকড় চালাচ্ছে। তিনি জানান, এটা কোন গণতান্ত্রিক আচরণ নয়। তিনি পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। সিলেটের বিশ্বনাথের জানাইয়া, রামধানা, কামালপুর, শেখের গাঁও, শেখ কামালপুর, শিমুলতলা, বন্ধুয়া, অলঙ্কারীসহ ৮ গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। ২৩শে এপ্রিল ঘটনার পর পর বিশ্বনাথ সদর থেকে যে যে অবস্থায় ছিলেন তারা সে অবস্থায় পালিয়ে যান। এ কারণে মাঠে পাকা ধান রয়েছে কিন্তু কাটার মানুষ নেই। জানাইয়া, রামধানা গ্রামের মহিলারা জানান, গ্রামে গ্রামে পাকা ধান পড়ে আছে। আমরা কিছুটা সংগ্রহের চেষ্টা করছি। কিন্তু অবিরাম বৃষ্টির কারণে ধান এখন মাঠে পচতে শুরু করেছে। তারা বলেন, বাড়ির পুরুষ মানুষ এমনিতেই পলাতক। আপাতত সাহায্যের জন্য আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে পুরুষ কাউকে এনেও রাখা যাচ্ছে না। কারণ পুলিশি অভিযান এখনও অব্যাহত আছে। রাতে পুলিশ বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে। বহু বাড়ির লজিং মাস্টার ও কাজের মানুষ এখন জেলে। সিলেটের পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেনও গতকাল জানিয়েছেন, আসামি ধরতে এখনও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে, বিশ্বনাথ সদরে এখনও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। রাতে র‌্যাব সদস্যরা সেখানে টহল দিচ্ছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে জনমানবশূন্য বিশ্বনাথের রামধানা বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, এই বুঝি পুলিশ এলো। রাতে অভিযান চালাবে র‌্যাব ও পুলিশ। ধরে নিয়ে বেধড়ক পেটাবে। কম করে হলেও ৩-৪টি মামলায় জেলে ঢুকিয়ে দেবে। এমন খবর আর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে বিশ্বনাথ উপজেলার ইলিয়াস আলীর নিজ গ্রাম রামধানাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষের। অনেকেই গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন শ’ শ’ মানুষ খবরাখবর জানতে ভিড় করতো তার বাড়িতে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের আসা-যাওয়া ছিল লক্ষ্যণীয়। কিন্তু গত ২৩শে এপ্রিল বিশ্বনাথে বিএনপি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষের পর থেকে মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। রামধানা, কামালপুর, শেখেরগাঁও, টেককামালপুর, শিমুলতলা, টুকেরকান্দি, রাজনগর, পোদনাপুর, অলঙ্কারী, বন্দুয়া,  নোয়াগাঁওসহ আশপাশের ১০-১২টি গ্রামে নেমে এসেছে ভুতুড়ে পরিবেশ। গভীর রাত পর্যন্ত প্রাণচাঞ্চল্যের এ গ্রামগুলোতে নেমে এসেছে নীরবতা। স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। এ অবস্থায় পুরুষবিহীন পরিবারগুলো পড়েছে বিপাকে। ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না থাকায় তাদের পরিবারগুলোকে খেয়ে না খেয়ে এখন দিন কাটাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বৈশাখ মাস হওয়ায় জমিতে পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে। অথচ গ্রেপ্তার আতঙ্কে কৃষকরা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কাজের লোক গ্রেপ্তারের ভয়ে এ গ্রামগুলোতে আসতে চাইছে না। বিশ্বনাথে ২৩শে এপ্রিলের সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোতে বিএনপি-জামায়াতের দেড় শতাধিক নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হলেও অজ্ঞাত রাখা হয় প্রায়  ১৩ হাজার। মামলা দায়েরের পর পুলিশ বিভিন্ন নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে বেশ ক’জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে লজিং মাস্টার, কাজের লোক, নতুন জামাইসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা আত্মীয়-স্বজনরাও। এ খবর আস্তে আস্তে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এসব গ্রামে এখন আত্মীয়-স্বজনরা বেড়াতে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ এলেও সূর্য ডোবার আগেই মান-সম্মানের ভয়ে চলে যান। পুলিশের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। অনেকেই বলেছেন, সেই দিনের সংঘর্ষে সবাই কি জড়িত? কোন স্বাধীন দেশে পুলিশের এমন আচরণ মেনে নেয়া যায় না। ঘটনা ঘটিয়েছে শতাধিক মানুষ। আর আসামি করা হয়েছে ১৩ হাজার। যারা জড়িত তাদের নামে মামলা হোক এবং গ্রেপ্তার করা হোক তাতে এলাকার মানুষের সমস্যা নেই। সাধারণ মানুষকে হয়রানি থেকে যেন রেহাই দেয়া হয়। বর্তমানে সন্ধ্যা হলেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে শিশুদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে হয় নারীদের। এত কিছুর পরও ইলিয়াস আলীকে যে কোন মূল্যে ফিরে পেতে চান রামধানাসহ উপজেলার মানুষ। তারা ইলিয়াস আলী যে কোন সময় ফিরে আসবেন- এই আশায় বুক বেঁধে পথ চেয়ে আছেন।গত ১৭ই এপ্রিল রাতে ঢাকার বনানী থেকে এম. ইলিয়াস আলী ড্রাইভার আনসারসহ নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার জন্মস্থান বিশ্বনাথসহ দেশের মানুষ আন্দোলনে নামে। গত ২২শে এপ্রিল  আওয়ামী লীগ ঘোষণা দেয় ২৩ তারিখ বিএনপি উপজেলা সদরে আসতে পারবে না। কিন্তু বিএনপি’র লোকজন উপজেলায় এলে পুলিশ-আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র সংঘর্ষ হয়। এতে দুই ছাত্রদল-যুবদলনেতাসহ তিন জন নিহত হন।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী-অন্য দেশের কাছে জবাবদিহিতা নয়

গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিষয়ে কোনো রাষ্ট্রের কাছে সরকার জবাবদিহিতা করবে না। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিষয়ে সরকারের জবাবদিহিতা দেশের জনগণের কাছে, সংসদের কাছে; ভিন্ন কোনো দেশের কাছে নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ মন্তব্য করেন।

জাল বুনবে মাকড়সা রোবট!

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মিডিয়া ল্যাবের গবেষকেরা এমন এক ধরনের রোবট মাকড়সা তৈরি করেছেন, যা জাল বুননে সক্ষম। গবেষকদের বরাতে এক খবরে এমএসএনবিসি জানিয়েছে, প্রাকৃতিক মাকড়সার মতোই জাল বুনতে পারে এই রোবট মাকড়সা। এ ধরনের রোবটের এটি প্রথম প্রজন্ম। মাকড়সা রোবটটি পরীক্ষা করতে গবেষকেরা রোবটটিতে আগে থেকেই জাল বোনার প্রোগ্রাম চালু করে রাখেন। তাঁরা রোবটটিকে জাল বোনার হুকযুক্ত একটি বাক্সে চালু করে দেখেছেন এটি প্রোগ্রাম মেনে নিখুঁতভাবে জাল বুনতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে গবেষকেরা রোবটটিকে স্বয়ংক্রিয় করে তোলার জন্য কাজ করছেন। রোবটটি স্বয়ংক্রিয় করতে সফল হলে এটি নিজে থেকেই নকশা ও জাল বুনতে সক্ষম হবে। গবেষকেরা আশা করছেন, মাকড়সা রোবট নির্মাণকাজ বা পণ্য উত্পাদনের কাজেও ব্যবহার করা যাবে।

সড়ক দুর্ঘটনা অ্যাম্বুলেন্স যখন ঘাতক

ঢাকা শহরের যানজটের কথা সর্বজনবিদিত। যাত্রাপথে শত ব্যস্ততার মধ্যেও জটের মাশুল গুনতে হয় এ শহরের মানুষদের। অফিস, আদালতের কাজের মতো নিত্যপ্রয়োজনে হোক কি হাসপাতালের গাড়ি, ফায়ার ব্রিগেডের যানই হোক_ রাস্তায় সবাইকে লালবাতির মুখোমুখি হতেই হয়। তবে জরুরি প্রয়োজনে যে আমাদের ট্রাফিক পুলিশ নির্বিকার ভূমিকা পালন করে তা নয়। জরুরি যানবাহনের প্রতি শুধু ট্রাফিক পুলিশ কেন, সাধারণ মানুষও সংবেদনশীল। তারপরও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য চোখে পড়ে। রোগী থাকুক বা না থাকুক অ্যাম্বুলেন্সগুলো নিয়ম ভেঙে সাইরেন বাজিয়ে উল্টোপথে ছুটে আসছে এমন দৃশ্য প্রতিদিনই দেখা যায়। চলতি পথে এমন দৃশ্যকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই নিয়ম। কিন্তু যদি রাস্তায় নিরাপত্তার কথা ভাবা হয় তবে এই বেপরোয়া চলাচলের কারণে জীবন রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত যানটিই হয়ে উঠতে পারে হন্তারক। অবশ্য শুধু অ্যাম্বুলেন্স নয়, অনেক যানই সুযোগ পেলে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায়। উল্টোপথে বেপরোয়া যাত্রা করে। রাজধানীর মোটরসাইকেলগুলো এ ক্ষেত্রে আরও বেপরোয়া। সিগন্যাল পড়লেই ফুটপাতে উঠে পড়ে। পথচারীদের ব্যাঘাত ঘটে, ছোটখাটো দুর্ঘটনাও বেশ হয় এর ফলে। অন্য যানবাহন দুর্ঘটনার কারণ হলে সেটি দুঃখজনক; কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনা ঘটালে তা দুঃখজনক তো বটেই, পরিহাসেরও বটে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীরা অ্যাম্বুলেন্সের সহায়তা নেন, কিন্তু চলতি পথে বেপরোয়া গতির কারণে খোদ অ্যাম্বুলেন্সই যদি আরও মানুষকে আহত-নিহত করে তবে হতাশার যথেষ্ট কারণ তৈরি হয়। সোমবার এমনই এক ঘাতক অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় অটোরিকশা উল্টে মারা গেলেন দুই ভাই। তাদের একজন বিদেশফেরত। বিমানবন্দর থেকে বাড়ি পেঁৗছাবার আগেই তারা মৃত্যুমুখে পতিত হন। এ মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সমাধি হলো অনেক স্বপ্নের। এ মৃত্যুর ঘটনা বলছে, জরুরি প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে চলা অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে রাস্তার নিয়মের মধ্যে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। রোগী পরিবহন করলে তাদের পথ ছেড়ে দিতে হবে, জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে ছাড় দিতে হবে। কিন্তু তাই বলে বেপরোয়া গতিতে নিয়ম ভেঙে কোনো যানই যেন সাধারণের প্রাণহানির কারণ হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

কাতসুয়া ওকাদা ঢাকায় কাল বিকেলে আসছেন হিলারি, রাতে প্রণব

জাপানের উপপ্রধানমন্ত্রী কাতসুয়া ওকাদার ঢাকায় আসার মধ্য দিয়ে অতিগুরুত্বপূর্ণ তিন বিদেশির (ভিআইপি) বাংলাদেশ সফর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ওকাদা গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

জবরদস্তিমূলক কর্মসূচি পরিহার করুন আর হরতাল চাই না

দলীয় নেতা ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এই সপ্তাহে পর পর দুই দিন হরতাল পালনের পর বিএনপি যে আবারও হরতাল ডাকেনি, তাতে জনসাধারণ আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে আরও কঠোর কর্মসূচির হুমকি অব্যাহত আছে। তাই অস্বস্তি ও আশঙ্কা কাটছে না।
অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে মোট পাঁচ দিনের হরতালের ফল: দেশবাসীর অবনর্ণনীয় দুর্ভোগ, নিত্যপণের মূল্য আরেক দফা বৃদ্ধি, চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ভোগান্তি, ক্ষতি ও হতাশা, জাতীয় অর্থনীতির বিপুল ক্ষয়ক্ষতি, বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার-আত্মগোপন। এই সবকিছু ছাপিয়ে আরও যে অপূরণীয় ক্ষতিটি হয়েছে, তা হলো পাঁচজন মানুষের প্রাণহানি, পাঁচটি পরিবারের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি। নিহত দরিদ্র সাধারণ মানুষ। কিন্তু এত কিছুর বিনিময়ে বিএনপির অর্জন কী? দুঃখের বিষয়, ইলিয়াস আলীকে এখনো পাওয়া যায়নি। আর রাজনৈতিক রণকৌশলের বিবেচনায় বিএনপির এই আন্দোলনের লক্ষ্য যদি হয় সরকারকে দুর্বল করা, তবে তা-ও কতটুকু অর্জিত হয়েছে, বলা কঠিন। বরং সরকারকে আরও কঠিন দমন-পীড়নের দিকে এগোতে দেখা যাচ্ছে।বিরোধী দল ও সরকার কোনো সমস্যার সমাধানই আলোচনার মাধ্যমে করতে চায় না—আমাদের রাজনীতির এই স্থায়ী সমস্যাটিই অস্থিরতার কারণ। এর মধ্যেও জনসাধারণ যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী জীবন-জীবিকা চালিয়ে নিচ্ছে। এতে যেন আরও বাধাবিঘ্ন, দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি না হয়, সরকার ও বিরোধী দলের উচিত সেই দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখা। বিএনপির কোনো কোনো নেতা স্বীকার করেছেন যে হরতালে জনগণের কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু তবু তাঁদের হরতাল ডাকতেই হচ্ছে। কারণ সরকার তাঁদের দাবি-দাওয়া, প্রতিবাদ ইত্যাদি আমলে নিচ্ছে না। সবচেয়ে ভালো হতো যদি বিরোধী দল সংসদে যোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য জোরালোভাবে তুলে ধরত, সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করত। একই সঙ্গে সংসদের বাইরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেও বাধা নেই। তবে সেই আন্দোলন যেন জনভোগান্তিমূলক, অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর না হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটায়। উচ্চ আদালতও এইচএসসি পরীক্ষার সময় হরতাল আহ্বান নিয়ে কারণ দর্শাতে বলেছেন। সামনে কঠোরতর কর্মসূচির ক্ষেত্রে বিএনপির নেতাদের একটি বিষয় লক্ষ করতে হবে। সেটি হলো, তাঁদের কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলনের ব্যাপারে আপামর জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া ও মনোভাব কী? সরকারের নানারূপ ব্যর্থতায় জনগণ হতাশ বোধ করলেও বিরোধী দলের জ্বালাও-পোড়াও ধরনের ‘কঠোর কর্মসূচি’র প্রতিও তাদের সায় নেই । ‘কঠোর কর্মসূচি’ মানে যে হরতাল, তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। হরতাল জবরদস্তিমূলক, ত্রাসসঞ্চারী, জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। সাংবিধানিক অর্থে নয়, নৈতিক বিবেচনায় হরতাল পরিহার করা উচিত। আমরা আর হরতাল চাই না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টেন্ডার দখলের রক্তাক্ত লড়াই

আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে টেন্ডার দখলের রক্তাক্ত লড়াই চলিয়া আসিতেছে দীর্ঘদিন যাবত্। এই লড়াইয়ে অনেকেই হতাহত হইয়াছে।  অকালে ঝরিয়া পড়িয়াছে বুয়েটের মেধাবী ছাত্রী সনির মতো সম্ভাবনাময় ও নিরপরাধ বহু তাজা প্রাণ। সর্বোপরি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হইয়াছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষা কার্যক্রম। টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবাজির মতো অশুভ তত্পরতার সহিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা না থাকিলেও বরাবরই তাহাদেরকেই ইহার কুফল ভোগ করিতে হইয়াছে। সেই সাথে কালিমালিপ্ত হইয়াছে ছাত্র সমাজের ভাবমূর্তি। গত শনিবার গভীর রাত্রে ও রবিবার সকালে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজে সংঘটিত ঘটনাটিও ইহার ব্যতিক্রম নহে। সোমবারের ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইহার বিশদ বিবরণ তুলিয়া ধরা হইয়াছে। জানা যায়, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে ৩ জন ছাত্র গুলিবিদ্ধ হইয়াছে। আহত হইয়াছে আরও অন্তত ২৫ জন। লুটপাট চালানো হইয়াছে কলেজের ৪টি হলের ২০টি কক্ষে। শিক্ষার্থীদের সনদপত্র ও মূল্যবান কাগজপত্রে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও উঠিয়াছে। সংঘর্ষে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হইয়াছে। ব্যবহূত হইয়াছে আগ্নেয়াস্ত্র। রীতিমতো যুদ্ধই বটে! কিন্তু কিসের জন্য এই আত্মঘাতী যুদ্ধ? এই যুদ্ধের আপাত লক্ষ্য আধিপত্য বিস্তার হইলেও মূল লক্ষ্য যে লক্ষ লক্ষ টাকার টেন্ডার দখল তাহাও সবিস্তারে তুলিয়া ধরা হইয়াছে সংবাদপত্রে। স্বাধীনতার আগে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত বাধিয়াছে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেও কিছু কিছু মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ঘটনা ঘটিয়াছে। কিন্তু এখন যাহা ঘটিতেছে তাহার মূলে রহিয়াছে নিরেট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থসিদ্ধি ও আধিপত্য বিস্তার। ইহার সহিত কোনো প্রকার নীতি-আদর্শের বিন্দুমাত্র সম্পর্কও খুঁজিয়া পাওয়া দুষ্কর। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, আমাদের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাস খুবই গৌরবোজ্জ্বল। মহান ভাষা আন্দোলন হইতে মুক্তিযুদ্ধ অবধি স্বাধীনতা সংগ্রামের এই দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাপথে সংগ্রামী ছাত্র সমাজের অবদান বিস্মৃত হইবার নহে। তাই কিছুদিন আগেও ছাত্র রাজনীতির নামে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির ক্রমবর্ধমান দাপট দেখিয়া অনেকে উদ্বিগ্ন হইতেন। ইহা লইয়া বিস্তর আলোচনা-সমালোচনাও হইত। কিন্তু এখন এই ব্যাপারে কেহই উচ্চবাচ্য করেন না। কারণ বিষয়টি গা সহা হইয়া গিয়াছে। ছাত্র রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হইয়া দাঁড়াইয়াছে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি। আর এই ক্ষেত্রে ক্ষমতার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আশীর্বাদের বিষয়টিও কাহারও অবিদিত নহে। সর্বোপরি, ছাত্রদের টেন্ডার দখলের এই মরিয়া মনোভাবের পিছনে চরম দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও আর্থ-সামাজিক অনিশ্চয়তার ভূমিকাও অস্বীকার করিবার উপায় নাই। গণতান্ত্রিক রাজনীতির সুফল অনেক। ইহার কিছু কিছু সীমাবদ্ধতাও যে আছে তাহাও অনস্বীকার্যই বলা চলে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকাই মুখ্য। জনগণকে লইয়াই তাহাদের কারবার। জনসমর্থনই তাহাদের ক্ষমতার মূল ভিত্তি। এই জনসমর্থন ধরিয়া রাখিবার জন্য অনেক ক্ষেত্রে কর্মী-সমর্থকদের বহু অন্যায় আবদারও তাহাদের মানিয়া লইতে হয়। দিতে হয় নানা সুযোগ-সুবিধা। দলীয় নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সুযোগ-সুবিধা বন্টনের এই রেওয়াজ কমবেশি সকল গণতান্ত্রিক দেশেই লক্ষ্য করা যায়। তবে তাহারও একটি সীমারেখা আছে। সেই সীমা লঙ্ঘিত হইলেই বিপর্যয় দেখা দেয়। উন্নত দেশগুলি এই ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। কিন্তু উপর্যুপরি অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও আমাদের টনক নড়ে নাই। ঐতিহ্যগতভাবে আমাদের দেশে ছাত্র সংগঠনগুলি রাজনৈতিক দলগুলির গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী শক্তি হিসাবে বিবেচিত হইয়া আসিতেছে। আর এই সুযোগ বা দুর্বলতাকে কাজে লাগাইয়া বর্তমানে ছাত্র রাজনীতির নামে যাহা চলিতেছে তাহার লাগাম টানিয়া ধরা না গেলে ইহার পরিণাম যে কাহারো জন্য শুভ হইবে না তাহা সহজে অনুমেয়।

হিলারির চীন-বাংলাদেশ-ভারত সফর-কৌশলগত সম্পর্ক ও মৈত্রী জোরদারের চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র by মেহেদী হাসান

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের চলমান বেইজিং-ঢাকা-কলকাতা-দিল্লি সফরকে এ অঞ্চলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক ও মৈত্রী জোরদারের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা। সুদূরপ্রসারী এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে এ অঞ্চলের সঙ্গে আরো বেশি ঘনিষ্ঠতা চায় ওয়াশিংটন।

হরতাল বন্ধের আইন চান ব্যবসায়ীরা

অনির্বাচিত সরকারের সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনো পুরনো হয়নি। এরই মধ্যে আবারও তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অবস্থানে অনড় থাকলেও ভীত ব্যবসায়ীরা। গণমাধ্যমের কাছে এই ভীতির কথা সরাসরি স্বীকারও করছেন তাঁরা।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ রহস্য-প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও নেই কোনো অগ্রগতি

নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর উদ্ধার তৎপরতায় কোনো অগ্রগতি নেই র‌্যাব-পুলিশের। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা গত বুধবার সন্ধ্যায় সন্তানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাটি অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্ম-শ্রমিক-মালিকের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামে কর্মজীবী মানুষের শ্রমের অধিকার পূর্ণমাত্রায় স্বীকৃত। শ্রমিক-মালিক প্রত্যেকেই স্বীয় মেধা, দক্ষতা, শক্তি, বুদ্ধি-বিবেক অনুসারে চেষ্টা ও পরিশ্রম দ্বারা কাজ সম্পাদন করেন। ইসলামে শ্রমজীবী, কর্মমুখী মেহনতি মানুষের যেমন মর্যাদা ও সম্মানবোধ রয়েছে—তেমনই তাদের নিজ নিজ কর্তব্য এবং ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে সুচারুভাবে কাজ সম্পন্ন করার দায়িত্ব রয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত-প্রণব মুখার্জির প্রতিশ্রুতি by মাহবুবুর রহমান

ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি আগামীকাল ৫ মে বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তিনি আগেও বেশ কয়েকবার এসেছেন, কখনো প্রতিরক্ষামন্ত্রী, কখনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কখনো বা অর্থমন্ত্রী হিসেবে। ২০০৭ সালে আইলার কঠিন ছোবলে যখন বাংলাদেশের গোটা উপকূলীয় অঞ্চল তছনছ হয়ে গিয়েছিল, প্রাকৃতিক সেই মহাদুর্যোগে লাখো লাখো

দাহকালের কথা-ভানুমতী by মাহমুদুজ্জামান বাবু

খুব শৈশবের দিনগুলো কেটেছে মহকুমা শহর গাইবান্ধায়। শীতের শুরুতে যখন নতুন ফসল উঠতে শুরু করত, তখন তাঁবু ফেলত সার্কাসের দল। বুড়ো হাতি, রুগ্ণ ঘোড়া, গাধা, শরীরী কসরত দেখানোয় পটু কিশোর-কিশোরী আর কতিপয় বামন পুরুষ। সন্ধ্যা নামলেই বাদ্যবাজনা শুরু হতো মাইকে।

এশীয় আঞ্চলিক সভা পথ দেখাক, জীবন বাঁচাক-প্রসূতি ও নবজাতকের জীবন রক্ষা

বিশ্বের মোট মাতৃমৃত্যুর চার ভাগের এক ভাগই ঘটে প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণে। গর্ভকালীন জটিলতা ও প্রসবকালীন ঝুঁকি লাখ লাখ মা ও শিশুর জীবনের ইতি টেনে চলেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় শুরু হয়েছে প্রসূতিসেবা ও নবজাতকের জন্মবিষয়ক এশীয় আঞ্চলিক সভা।

পেশাজীবীদের স্বাধীন ও স্বতন্ত্র ভূমিকা চাই-রাজনীতিতে সুস্থ ধারা ফিরুক

গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রধান ও প্রথম শর্ত সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ন্যূনতম কর্মসম্পর্ক গড়ে তোলা, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। গত দুই দশকে আমাদের গণতান্ত্রিক শাসনের অভিজ্ঞতায় যার প্রবল অনুপস্থিতি লক্ষ করা যায়। পুরোনো বৃত্ত থেকে কোনো পক্ষের বেরিয়ে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

চারদিক-রেমা ফুলের কারবার by আকমল হোসেন

উঁচু-নিচু পাহাড়ি টিলা। কোথাও টিলার ওপর ঘরবাড়ি। কোথাও টিলার ঢালু বেয়ে ঘর। নানা জাতের গাছপালা। এসবের মধ্যে বনজ জাতের গাছ বেশি। তবে মাঝেমধ্যে ফলের গাছও আছে। এর মধ্যে কাঁঠালের গাছই বেশি চোখে পড়ে। কাঁঠালগাছে মুছি ধরেছে।

সম্পাদকের কলাম-ইলিয়াস আলী কবে ফিরবেন! by ইমদাদুল হক মিলন

একটি পরিবারের পিতা কিংবা স্বামী কিংবা প্রধান পুরুষমানুষটি নিখোঁজ হলে সেই পরিবারটির অবস্থা কী রকম দাঁড়ায়?
ইলিয়াস আলীর পরিবারের কথা ভাবলে কতগুলো দৃশ্য আমার চোখে ভেসে ওঠে। আমি কল্পনা করতে পারি পরিবারটির এখনকার চেহারা কী রকম।

বিএনপি বেকায়দায় মাঠে নামতে মরিয়া by মোশাররফ বাবলু

সরকার মামলা দিয়ে ধরপাকড় শুরু করায় বেকায়দায় পড়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। একদিকে আন্দোলনের মাঠ ধরে রাখা, অন্যদিকে যাঁদের নামে মামলা হয়েছে, তাঁদের জামিনে বের করে আনাই এখন দলটির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চরাচর-'চিতাবাঘ মিতা আমার' by ইশতিয়াক হাসান

শিকার করতে গিয়েছিলাম পাহাড়ে। কাছেই মিয়ানমারের সীমানা। হঠাৎই বনের মধ্যে দেখি দুটি বাঘ। হলদে শরীরে কালো কালো ফোঁটা। দেখতে ভারি সুন্দর। ভাবলাম তেড়ে আসবে। কিন্তু না, উল্টো আমাদের দেখে পালিয়ে গেল।' এভাবেই বান্দরবানের মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় চিতাবাঘ দেখার ঘটনা বর্ণনা করেছিল এক মারমা মাঝি।

জামিন পেয়ে ফের এসিড নিক্ষেপ

এই জঘন্য অপরাধীদের ঠেকানোর উপায় কী? কয়লা হাজার ধুলেও ময়লা যায় না- বহুল প্রচলিত একটি প্রবচন। প্রবচনটি যে অক্ষরে অক্ষরে সত্য, আবারও তা প্রমাণ করল নোয়াখালীর সুধারামের কিছু সন্ত্রাসী। ২০১০ সালের জুনে ফারজানা নামের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে এসিডে ঝলসে দিয়েছিল সন্ত্রাসীরা।

তবে দেশে দাসপ্রথাও বৈধ করে দিন by সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

দেশের জাহাজভাঙা শিল্পকে আপনি কিভাবে দেখেন? আমি মনে করি, বাংলাদেশে যেগুলোকে আমরা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড বলি, সেগুলো মোটেও শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড নয়। এটি তো আসলে প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত। যথাযথ শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড হয়ে ওঠার জন্য যেসব শর্ত পূরণ করা দরকার, সেসবের খুব কমই আমাদের এখানে পূরণ করা হয়।

জাহাজ ভাঙার ইতিবৃত্ত by ইকবাল হোসাইন চৌধুরী

সেদিন ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৯। আচমকা মৃত্যু এসে হানা দেয় সীতাকুণ্ডের মাদাম বিবির হাটে। প্রচন্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রহিম স্টীল নামের জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ড। ঘটনাস্থলেই মারা যান চার শ্রমিক। পরিসংখ্যান বলছে ফি বছরেই দেশের ৮০টি শিপইয়ার্ডে ঘটে এমন ছোট-বড় মৃত্যুর ঘটনা। প্রশ্নবিদ্ধ জাহাজ ভাঙাশিল্পের ভেতর-বাইরের কথা নিয়ে এবারের মূল রচনা।

সত্যিকারের সবজান্তা-বিবিধ

 ২০০৮ সালপর্যন্ত নিউ ইয়র্কের আরএইচ ম্যাকি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিপার্টমেন্টালস্টোর। ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ীদক্ষিণ কোরিয়াড বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিপার্টমেন্টালস্টোরটি অবস্থিত।  বিখ্যাত জরিপ প্রতিষ্ঠান গালাপের জরিপ অনুযায়ী জাপানি শিশুরা স্কুলে যেতে সবচেয়ে অপছন্দ করে। স্কুলে যেতে সবচেয়েপছন্দ করে সুইডেন এবংভারতের শিশুরা।

ভালোবাসার অণু গল্প

আবারও আসছে ভালোবাসার দিন। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস। এই দিনকে সামনে রেখে বরাবরের মতোই ছুটিরদিনও হয়ে উঠতে চায় আপনার বর্ণিল ভালোবাসার কথায় ভরপুর। তাই আপনার এতদিনকার জমানো ভালোবাসার গল্পটাই লিখতে বসে যান আজই।

প্রকৃতির সন্তান

কবি রণজিত্ দাশগুপ্ত লিখেছিলেন, বৃক্ষে হাত রেখে কবি টের প্রায় প্রাণ, আর ব্যবসায়ী দেখে কেবলই কাঠ। যখন হাকালুকি হাওরে হাজার হাজার পাখির কলকাকলিতে কেউ দেখে প্রকৃতির অপরূপ লীলা, তখন একদল শিকারি দেখে একগুচ্ছ স্বাদু মাংসের ওড়াউড়ি। অথচ পাখি হলো প্রকৃতির শিশু।

আদালতের রুল

এবার হরতালের বিকল্প নিয়ে ভাবুন হরতালে হরতালে জর্জরিত দেশ। হরতালের নামে রাজনৈতিক পদক্ষেপের কার্যকারিতা শূন্যের কোঠায়। স্বাভাবিকভাবেই হরতালের প্রতি নৈতিক সমর্থন নেই কারো। সাধারণ মানুষের বিরক্তি চরমে। সীমাহীন দুর্ভোগের নাম এখন হরতাল। পথেঘাটে আতঙ্ক। হরতালের বলি হচ্ছে নিরীহ মানুষের জীবন।

অদল-বদল

 একটি ৩২০ গিগাবাইটের এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক দেব। বদলে স্যামসাংয়ের একটি ফ্ল্যাট মনিটর চাই। তন্ময়, বুয়েট, ঢাকা। ফোন: ০১৬৮৩৪৩৮২৬৫  একটি ২ গিগাবাইট অথবা ৪ গিগাবাইট পেনড্রাইভ ও একটি ডুয়েল হেডসেট ব্লুটুথ হেডফোন চাই, বদলে একটি অরিজিনাল কোডাক ম্যানুয়াল ক্যামেরা দেব। সুমন, খুলনা।

গেমস-লড়াই করে এগিয়ে যাওয়া by সুমন পাটওয়ারী

প্রচণ্ড রাগে বুকের ভেতরটা দুমড়ে দুমড়ে উঠছে। কী করব, বুঝতে পারছি না। সব কষ্টের ফলাফলই মনের মতো হয় না। অনেক সময় দেখা যায়, অনেক কষ্টের শেষে রয়েছে একরাশ হতাশা আর না পাওয়ার বেদনা। এই বেদনা থেকে মাঝে মাঝে কিছু চলচ্চিত্র দেখার সময় নায়কের চেয়ে ছবির ভিলেনের প্রতি বেশি ভালোবাসা জেগে ওঠে।

প্রোগ্রাম তৈরির জন্য কেমন ডেটাবেইস? by নাসির খান

ডেস্কটপ কম্পিউটার, ওয়েব বা মোবাইল ফোনের উপযোগী অ্যাপলিকেশন বা প্রোগ্রাম তৈরির ক্ষেত্রে ডেটাবেইস গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অ্যাপলিকেশন নির্মাতা অথবা ডেটাবেইস প্রশাসকেরা (অ্যাডমিন) রিলেশনাল ডেটাবেইস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (আরডিবিএমএস) বিষয়টির সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই পরিচিত।

আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৭৪)-'দ্য নেকেড ট্রুথ' by আলী যাকেরআলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৭৪)-'দ্য নেকেড ট্রুথ' by আলী যাকের

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠানগুলো ধারণ করা হতো বালীগঞ্জ সার্কুলার রোডের একটি দোতলা বাড়িতে। প্রথম দিন রিপোর্ট করার সঙ্গে সঙ্গেই কবিরভাই আমাকে আমার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন। খবর পাঠ করবেন তিনি স্বয়ং। আমার দায়িত্ব হবে সংবাদ ভাষ্য তৈরি করে পাঠ করা।

শেকড়ের ডাক-'কত কী যে সয়ে যেতে হয়!' by ফরহাদ মাহমুদ

বিদ্যুৎ নেই। খুপরি ঘরে গ্রীষ্মের তাপদাহে সেদ্ধ হই। কিছু করার নেই, তাই সয়ে যেতে হবে। ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ। কী করব? নাক চেপে খেয়ে ফেলি। সেই পানিও সময়মতো পাওয়া যায় না। তাই গোসল ছাড়াই অফিসে চলেছি। কাউকে কিছু বলার নেই। নীরবে সহ্য করতে হয়। সহ্য করি।

আপনি কি জানেন-রোদচশমা বা সানগ্লাস

প্রাচীনকালে সূর্য পর্যবেক্ষণ ও কড়া রোদে কোনো জিনিস দেখার সুবিধার্থে রঙিন কাচ চোখে লাগানোর প্রচলন ছিল। তবে আজকের দিনের রোদচশমা ও সানগ্লাসের প্রচলক হিসেবে ইতিহাসবিদেরা প্রাচীন চীনের সুং রাজবংশের কথা উল্লেখ করেছেন।

বাজারে নতুন

রক্ত ও কাদা ১৯৭১ লেখক: তাদামাসা হুকিউরা অনুবাদ: কাজুহিরো ওয়াতানাবে প্রকাশক: প্রথমা প্রকাশন
দাম: ৩০০ টাকা এ বই একজন জাপানি রেডক্রস-কর্মীর। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এমন কতগুলো ঘটনা ও পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন, যেগুলো তাঁর মনে গভীর দাগ কেটেছে।

একদিকে মসজিদ, অন্যদিকে সেনাছাউনি-পাকিস্তান by হাসান ফেরদৌস

প্রথম কিস্তি পাকিস্তানের রাজনীতিতে সে দেশের সেনা গোয়েন্দা দপ্তরের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের অনুরোধ করে একটি চিঠি লেখার অভিযোগে হুসেইন হাক্কানি বড় ধরনের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। একই অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর চাকরিটিও খুইয়েছেন।

যা নিয়ে আছি-দেশে বিদেশে ও ন হন্যতে

ফাতেমা-তুজ-জোহরা, সর্বজননন্দিত নজরুলসংগীতশিল্পী। লেখালেখিও করেন। প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা পাঁচ।
সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক। দৃষ্টিভঙ্গিটা জানাতে চাই
বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে কৈশোর বয়সেই।

আকরাম খানের সা ক্ষা ৎ কা র-মাকে বাংলাদেশে আনার জন্য পাইলট হতে চেয়েছিলাম

প্রশ্ন: বাংলায় ‘দেশ’-এর অর্থ জন্মভূমি। আপনার কাছে এই জন্মভূমি যদি বলি তো তার মানে কী? উত্তর: আমার জন্ম ইংল্যান্ডে, বাবা-মা বাঙালি। কিন্তু আমি যখন বাংলাদেশে যাই, নিজেকে আমার বিদেশিই মনে হয়। তাই আমার কাছে প্রকৃত দেশ বলে কিছু নেই, বিশ্বের মানচিত্রের কোথাও আঙুল রেখে আমি নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না, এই খানে এটা আমার দেশ।

হালুমের বক্তৃতা

সিসিমপুর একটা মজার জায়গা। ছয় বছরের মেয়ে টুকটুকি স্কুলে যায়, পড়তে ভালোবাসে। তিন বছরের ইকরি প্রশ্ন করতে ভালোবাসে। ছয় বছরের শিকু, নেশা তার আবিষ্কার। প্রকৃতিপ্রেমী হালুমের প্রিয় মাছ-সবজি। এ ছাড়া রয়েছে দোকানদার গুণী ময়রা,

আমরা চলব আমাদের মতো by তুষার কর

আমরা চলব আমাদের মতো
দুর্গম পথ, কঠিন সে ব্রত।
সোনার হরিণ হাতছানি দেবে
বলবে কী চাও, কী যে তুমি নেবে?

বাস্তবতা by বিলু কবীর

চেষ্টা করি
দেশটা গড়ি
শুরু এবং শেষটা করি
সহজও না কঠিনও না কোনো কাজই,

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর by রোমেন রায়হান

বাংলা ভাষাভাষির মানুষ
ওড়াই যখন স্বপ্ন ফানুস
গানের ভেলায় ভেসে
কথায়, সুরে হূদয় হারায়

সংঘাতের রাজনীতি, হিলারি ও প্রণবের সফর by গাজীউল হাসান খান

আগামী নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুকে কেন্দ্র করে বর্তমান ক্ষমতাসীন মহাজোট ও বিরোধী জোটের দ্বন্দ্ব এখন প্রায় চূড়ান্ত সংগ্রামের পর্যায়ে উপনীতি হয়েছে। এত দিন দেশের শান্তিপ্রিয় এবং কর্মজীবী মানুষ যা আশঙ্কা করেছিল বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার মাধ্যমে তা আরও বদ্ধমূল হলো।

পবিত্র কোরআনের আলো-অপরাধ করে যারা তওবা করবে তাদের ক্ষমা করার আশ্বাস

১৬. ওয়াল্লাযা-নি ইয়া'তিইয়া-নিহা মিনকুম ফাআ-যূহুমা-; ফাইন তা-বা ওয়া আসলাহা ফাআ'রিদ্বূ আ'নহুমা; ইন্নাল্লা-হা কা-না তাওয়্যা-বার্ রাহীমা। ১৭. ইন্নামাত্ তাওবাতু আ'লাল্লা-হি লিল্লাযীনা ইয়া'মালূনাছ্ ছূআ বিজাহা-লাতি ছুম্মা ইয়াতূবূনা মিন ক্বারীবিন ফাউলা-ইকা ইয়াতূবুল্লা-হু আ'লাইহিম; ওয়া কা-নাল্লা-হু আ'লীমান হাকীমা।

আরেক মানবতাবিরোধী অপরাধ

২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কময় একটি অধ্যায়। নির্বাচনে বিজয় লাভের পরপরই বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতা-কর্মীরা সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থক, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে বর্বরতম হামলা চালিয়েছিল,

আবার রক্তাক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আধিপত্য বিস্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার রক্তাক্ত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হলের মধ্যেই এ সংঘাত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্ররা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে।

স্বাতীনক্ষত্রের দিন by মেহেদি হাসান

শব্দে শব্দে ঝরে প্রেম; প্রবাহের গান
শব্দ হয়ে বেজে ওঠে হূদয় অন্দরে।
পালক ছড়িয়ে রেখে সন্ধ্যার পাখিরা
পৃথক আকাশে ওড়ে।

ক বি তা-দৃশ্যপট-৬ by কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়

কাছেপিঠে যাকেই কিছু বলতে যাই,
কখন যে বেদম হাসি পেতে থাকে—
কাকে কী বলছি! এতো এসব কাজের আরো বড় কর্ত্তা,
কত কষ্টে যে এ-মুহূর্তে হয়ে আছে শ্রোতা!!

শিল্পাঙ্গনের দুই দশক-পুরান ঢাকার স্মৃতি by বসন্ত রায়চৌধুরী

দুই দশক আগে ঢাকায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বেসরকারি গ্যালারি বা শিল্পকলা প্রদর্শনের জন্য কক্ষের কথা ভেবেছেন দু-একজন। শিল্প সংগ্রাহকের মধ্যে অন্যতম সংগঠক, লেখক, সাংবাদিক ফয়েজ আহ্মদ। তাঁর হাতে গড়া গ্যালারি শিল্পাঙ্গন ঢাকার চিত্রকলা অঙ্গনকে এনে দিয়েছিল নতুন মাত্রা।

চারুশিল্পবাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ছক্কা আর্টিস্ট গ্রুপের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী-পোড়া মাঠের স্নান by মোবাশ্বির আলম মজুমদার

মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। সেই মানুষই প্রকৃতির হন্তা। পৃথিবীব্যাপী প্রাকৃতিক বিপর্যস্ত বিপর্যয় যাপিত জীবনে নিয়ত আঘাত হানছে। ‘পরিবেশের প্রতিবেশ’ শীর্ষক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর চিত্রকর্ম, স্থাপনাশিল্প, ভাস্কর্য, ভিডিও আর্ট আমাদের জানিয়ে দেয় পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ এবং এ থেকে উত্তরণের উপায়।

গীতাঞ্জলির ভূমিকা by ডব্লিউ বি ইয়েটস

অনুবাদ : তানিম হুমায়ুন আইরিস কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস রবীন্দ্রনাথের সং অফরিংসের ভূমিকা লিখেছিলেন অতি যত্ন নিয়ে, আগ্রহ সহকারে। গীতাঞ্জলির ইংরেজিতে ভাষান্তরিত পুস্তক ১৯১২ সালে রচিত হয়ে লন্ডনে প্রকাশ পায় ১৯১৩ সালে। ওই বছরই ইউরোপে এর আরও তিনটি সংস্করণ প্রকাশ পায়।

কারা আওয়ামী লীগের শত্রু কারা বন্ধু by সুভাষ সিংহ রায়

ঐশ্বর্যের খ্যাতি এবং দারিদ্র্যের ইতিহাস_আওয়ামী লীগের কর্মীদের এই দুই প্রাচীন ইতিহাস। গত কয়েক বছরে কিন্তু এ ছবি কিছুটা বদলেছে। দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব। সরকার গঠনের পরে নানা সময় কর্মীদের সম্পর্কে সংবাদপত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত সংবাদ।

পল্লী বিদ্যুতের মূল্যহার নির্ধারণে গণশুনানি by ড. এম শামসুল আলম

পল্লী বিদ্যুতের মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাব এখন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বিবেচনাধীন। ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য গণশুনানিতে এ প্রস্তাব যাচাই-বাছাই হবে। গত ১৬ এপ্রিল সারা দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা তৃণমূল পর্যায়ে সমীক্ষা চালাতে বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহকের আঙ্গিনায় গিয়েছিলাম।

স্মরণ-শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক by মো. জাহাঙ্গীর হোসেন

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে একটি শিশু জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ এবং মা সাইদুন্নেসা খাতুন। তিনি মা-বাবার একমাত্র ছেলে। সেই শিশুই একদিন বড় হলেন। এতটা বড় হলেন যে ভালোবেসে সবাই তাঁকে ডাকলেন শেরে বাংলা।

কুড়িয়ে পাওয়া সংলাপ-দেয়ালে দেয়ালে আমার লিখন যত লিখিবার by রণজিৎ বিশ্বাস

কখনো কোনো দেয়ালে পাওয়া বাক্য পড়ে কি আপনার মনে হয়েছে, দেশের সর্বত্র তা ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন?
: হয়েছে। একবার কাঁটাবন এলাকায় একটি বাক্য পেয়েছিলাম তেমন স্পিরিট-এর, তেমন মর্মতেজ-এর। 'মধ্যরাতে জেগে ওঠে স্বজনের হাড়/বলে_রাজাকার তুই বাংলা ছাড়।'

সুমন্ত সেন-একটি যুদ্ধ, কিন্তু অনেক যুদ্ধ

সর্বদাই পশ্চিম বাংলায় চরম ডান এবং চরম বামপন্থীরা বামফন্ট্রের বিরোধী। এই বিরোধীদের সবাই ৩৪ বছরের দুঃশাসনের কথা বলছেন, একটি পরিবর্তন চাচ্ছেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ বিরোধী দল কখনো শাসকদলের প্রশংসাগীত গাইবে না। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, বিরোধীদের বিরোধিতার ধরন বা পরিস্থিতি।

ইতি-নেতি-সংবিধান সংশোধন এবং খালেদা জিয়ার 'না' by মাসুদা ভাট্টি

সংবিধান সংশোধন বিষয়ে একটি টেলিভিশন টকশো উপস্থাপনার সুযোগ হয়েছে আমার। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং নতুন প্রজন্মের ব্যারিস্টার রাকিব হাসান। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বর্তমান সংসদের একজন সম্মানিত সদস্য, সংসদ ও বিচার বিভাগীয় সংসদীয় কমিটির প্রধান এবং বর্তমানে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটির কো-চেয়ারম্যান।

নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ভারত বন্ধুর কাঁটাতারের বেড়া by মোস্তফা কামাল

সময়ের প্রতিধ্বনি-ট্রানজিট আলোচনাটা বেশ জমে উঠেছিল। আর এতে ঘি ঢালছিলেন বিএনপির কয়েকজন নেতা এবং কয়েকজন কলামিস্ট। তাঁরা যেন একটা ইস্যু পেয়ে গিয়েছিলেন। আমাদের দেশে ভারত-বিরোধিতার কোনো ইস্যু পেলেই হলো। সেটা নিয়ে শুরু হয়ে যায় বিতর্ক-পাল্টা বিতর্ক।

খোকন জামিন পেয়েছেন, রিজভী কারাগারে

গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে করা মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন আগাম জামিন পেয়েছেন। দলের আরেক যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না

৩৮৪ স্বাধীনতার চার দশক উপলক্ষে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ধারাবাহিক এই আয়োজন। সাইদুর রহমান, বীর প্রতীক দুঃসাহসী মুক্তিযোদ্ধা টাঙ্গাইল জেলা সদর থেকে দক্ষিণে নাগরপুর উপজেলা। এর পরই মানিকগঞ্জ জেলার সীমানা শুরু। মুক্তিযুদ্ধকালে নাগরপুরে ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শক্ত এক প্রতিরক্ষা অবস্থান।

নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ ২৮ মে-ট্রাইব্যুনাল-২ থেকেও শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেলেন আলীম

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপির নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। একই কারণে এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-ও তাঁকে জামিন দিয়েছিলেন।

বুয়েটে সংকট অব্যাহত-শিক্ষকদের একটি দাবি মেনে নিল সিন্ডিকেট

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষক সমিতির উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার কামাল আহম্মেদের ভূতাপেক্ষ নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে।

আমিই আকরাম খাঁন by আলীম আজিজ

আকরাম খাঁন বাঙালি মা-বাবার সন্তান। মায়ের হাত ধরে সাত বছর বয়সে লোকনৃত্য শুরু করেছিলেন, পরে মা তাকে নিয়ে যান বিখ্যাত কত্থক নাচের গুরু শ্রী প্রতাপ পাওয়ারের কাছে। আজ আকরাম খাঁনের জয়জয়কার শুধু ইংল্যান্ডেই নয়, সারা বিশ্বে, কোরিওগ্রাফার হিসেবে তিনি এখন খ্যাতির তুঙ্গে। একের পর এক জুটছে কীর্তির স্বীকৃতি।

গুম, দমন-পীড়ন বিদেশিদের কাছে তুলে ধরবে বিএনপি

বিরোধী দলের ওপর সরকারের ‘দমন-নিপীড়ন’-এর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনসহ অন্যান্য বিদেশি অতিথির সামনে তুলে ধরতে চায় বিএনপি। এর মধ্যে বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’, খুন-গুম, ধরপাকড়, কেন্দ্রীয় নেতারা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হওয়া এবং আদালতে যেতে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো আলোচনায় আনবে দলটি।

ঢাকায় জাপানি উপপ্রধানমন্ত্রী-বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বিরোধ মেটালে পদ্মায় সহায়তা

পদ্মা সেতুর জন্য বাংলাদেশকে অর্থায়নের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছে জাপান। তবে তার আগে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশকে মতপার্থক্য দূর করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায় জাপান।

হিলারি ক্লিনটন আসছেন কাল-আলোচনায় সুশাসন-রাজনীতি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ঢাকা সফরে দ্বিপক্ষীয় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি সুশাসনসহ দেশের চলমান পরিস্থিতি আলোচনায় আসবে। এ ছাড়া মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন তিনি।
ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে এই তথ্য জানিয়েছে।