Tuesday, May 26, 2015
মাইক্রোবাসে আদিবাসী তরুণী ধর্ষণ- জড়িত যুবকদের চিহ্নিত করার দাবি পুলিশের
গত বৃহস্পতিবার রাতে ভাটারা থানা এলাকায় যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকানের কর্মী ওই গারো তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে গণধর্ষণ করে কয়েকজন যুবক। পরে তাঁকে উত্তরা এলাকায় মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ওই তরুণী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় ওই তরুণীকে নিয়ে তাঁর পরিবার মামলা করতে বিভিন্ন থানায় যায়। কিন্তু এক থানার পুলিশ মামলা না নিয়ে আরেক থানায় যেতে বলে তাঁদের হয়রানি করে। পরে শুক্রবার ভাটারা থানার পুলিশ মামলা নেয়।
পুলিশ যমুনা ফিউচার পার্কের বিভিন্ন স্থান ও ফিউচার পার্কসংলগ্ন বিভিন্ন ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। পুলিশ এসব ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। বিষয়টি তদারকির জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
তবে কমিটির প্রধান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ওই তরুণীর বড় বোন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার পর আমার বোন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। জানি না পুলিশ কী করছে। তবে আসামিরা ধরা না পড়া পর্যন্ত আমাদের মনে কোনো শান্তি নাই।’ তিনি বলেন, ‘টার্গেট করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এখন আদিবাসী বলেই কি এমনটা করা হলো, নাকি অন্য কোনো কারণ, তা বুঝতে পারছি না।’
নিন্দা-প্রতিবাদ: গারো তরুণীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ও জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ যৌন-সন্ত্রাস বন্ধের দাবিতে গতকালও বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণবিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। এতে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, যৌন-সন্ত্রাসের কবল থেকে প্রথম শ্রেণিতে পড়া শিশু থেকে তরুণী, বৃদ্ধ নারী—কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। এ দেশের মানুষের নাগরিক মর্যাদা নেই।
বিকেল চারটার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র। সমাবেশে বক্তারা গারো তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ ছাড়া গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সালাহ উদ্দিনের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন আদালত
নয়াদিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব শম্ভু সিং গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।
এদিকে, শিলংয়ের নেগ্রিমস হাসপাতালের পরিচালক এ জে এহেনগার প্রথম আলোকে জানান, সালাহ উদ্দিন আহমদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও জটিল রোগের কারণে তাঁকে চিকিৎসকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁকে হাসপাতাল থেকে আদালতে পাঠানোর ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
সালাহ উদ্দিন আহমেদকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এ জে এহেনগার বলেন, চিকিৎসকের উপস্থিতিতে তাঁকে জেরা করার অনুমতি দিতে পুলিশ সুপারের কার্যালয় অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় এখনো তাঁকে জেরা করার পক্ষে চিকিৎসকেরা মত দেননি।
সালাহ উদ্দিনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে শম্ভু সিং বলেন, ‘আদালত ওঁর বিরুদ্ধে পাসপোর্ট (এনট্রি ইনটু ইন্ডিয়া) আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিতে পারেন। এটা হলো অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ-সংক্রান্ত মামলা। অথবা আদালত ওঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশও দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সালাহ উদ্দিনের বিচার বাংলাদেশের আদালতে হবে।’
সালাহ উদ্দিনের ভাগ্যে কী আছে, তা অনুমান করা সম্ভব নয় জানিয়ে শম্ভু সিং বলেন, ‘দুই-এক দিনের মধ্যেই মনে হচ্ছে আদালতের মত জানা যাবে। আদালতই চূড়ান্ত। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা।’
প্রসঙ্গত, বিনা পাসপোর্টে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে শিলংয়ের পুলিশ সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট-৪৬’-এ মামলা দায়ের করেছে।
শম্ভু সিং বলেন, ‘উনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এক রাজনৈতিক নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র হিসেবে ভারত অভিযোগ এনেছে। তবে তাঁরও নিশ্চয় কিছু বলার আছে। আদালতই সেই কথা শোনার একমাত্র স্থান। কিন্তু উনি কিছুতেই হাসপাতাল ছেড়ে যেতেই চাইছেন না। বারবার অসুস্থতার কথা বলছেন। সে জন্যই সোমবার একটা মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সেই বোর্ড আজ মঙ্গলবার খতিয়ে দেখবে তিনি কতটা অসুস্থ। তাঁকে হাসপাতাল থেকে আদালতে নেওয়া যাবে কি না। কিংবা গেলেও কবে। মেডিকেল বোর্ড ছাড়পত্রের অনুকূল প্রতিবেদন দিলে মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো যেতে পারে।’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে উদ্ভ্রান্ত অবস্থায় ঘুরতে দেখে শিলংয়ের গলফ-লিংক এলাকার লোকজন গত ১১ মে ভোরে পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে পাস্তুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর নেওয়া হয় সেখানকার সিভিল হাসপাতালে। এরপর শিলং সদর পুলিশ থানা হয়ে নেওয়া হয় মানসিক হাসপাতাল মিমহানসে। এক দিন পর মিমহানস থেকে আবার তাঁকে পাঠানো হয় সিভিল হাসপাতালে। আট দিন পর সিভিল হাসপাতাল থেকে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে স্থানান্তরিত করা হয় নেগ্রিমসে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চীনে স্বপ্নপূরণের চেষ্টা কখনো থেমে থাকেনি
গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তৃতায় চীনা উপপ্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে তাঁর তিন দিনের সফরের গতকাল ছিল দ্বিতীয় দিন।
লিউ ইয়ানডুং বক্তব্যের শুরুতে বলেন, ‘এটিই আমার প্রথম বাংলাদেশ সফর। কিন্তু বাংলাদেশ আমার কাছে পুরোপুরি অচিন দেশ নয়। বাংলার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম। সুবিখ্যাত শিক্ষাঙ্গন হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য গুণী ও প্রতিভাবান মানুষ তৈরি করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সত্যেন্দ্র নাথ বসু, বুদ্ধদেব বসু প্রমুখ।’ তিনি বলেন, চীন-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিকাশের ক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রগামীর ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৫৬ ও ১৯৬৫ সালে চীনের তৎকালীন জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির উপসভাপতি সুং শিং লিং এবং প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই পৃথকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছিলেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থকে তাঁদের সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়।
চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনা সরকার এখন থেকে প্রতিবছর ১০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেবে। এ ছাড়া এ বছর ১০০ জন তরুণ-তরুণীকে চীনের কনফুশিয়াস সদর দপ্তরে অনুেষ্ঠয় শান্তি ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা গবেষণা কেন্দ্রে কম্পিউটারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। তিনি বলেন, চীনে অনেক উত্থান-পতন হলেও স্বপ্নপূরণের চেষ্টা কখনো থেমে থাকেনি। ১৯৭৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চীনের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ ২৮ দশমিক ৩ গুণ বেড়েছে। আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে ২০৩ গুণ। মাথাপিছু জিডিপি ১৯ দশমিক ৮ গুণ বেড়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে ৬০ কোটি মানুষের। জনগণের জীবনমানেরও অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এরপরও চীন বিশ্বের বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ। মোট জিডিপির দিক থেকে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে অবস্থান এখনো ৮০তমের পরে। জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী চীনে এখনো ১০ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে। ১৩০ কোটি মানুষকে নিয়ে আধুনিকায়ন এগিয়ে নেওয়া এবং জাতীয় পুনরুত্থানে ‘চীনা স্বপ্ন’ পূরণের লক্ষ্যে কয়েক প্রজন্ম ধরে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
লিউ ইয়ানডুং বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ছয় শতাংশে রয়েছে। ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ প্রস্তাবকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণের প্রস্তাবটি খুব ভালো। তিনি জানান, সহযোগিতা ও পারস্পরিক কল্যাণমূলক নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে মানবজাতির জন্য এক অভিন্ন স্বার্থভোগী গোষ্ঠী তৈরি করতে ইচ্ছুক চীন। বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশ অন্যের সহযোগিতা ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে না, তাই সবাই এক ধরনের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে চীন-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রজন্মের পর প্রজন্মে সঞ্চারিত করা উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বক্তৃতাকালে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্তরিক স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। হাজার বছরের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে উভয় দেশের। এ প্রসঙ্গে তিনি ঐতিহাসিক সিল্ক রোডের মাধ্যমে ২০০০ বছর আগে থেকেই উভয় ভূখণ্ডের মধ্যকার বাণিজ্যিক লেনদেনের কথা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) নাসরীন আহমাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমান।
আজ যাবেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে: চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ ইয়ানডুং আজ মঙ্গলবার বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুশিয়াস ইনস্টিটিউটের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। কনফুশিয়াস ইনস্টিটিউটের এক দশক পূর্তি উপলক্ষে তাঁর সম্মানে বিশ্ববিদ্যালয়টি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অবশেষে জামিন পেলেন সাংবাদিক মিজান
মিজানের পক্ষে শুনানিকালে প্রবীণ আইনজীবী রফিক-উল হক আদালতকে বলেন, হয়রানিমূলক এই মামলায় সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন ঘটেছে। কারণ, সংবিধান সাংবাদিকদের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে।
আদালতে ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে সহায়তা করেন বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক ও মনজুর কাদের।
গত ১৭ মার্চ বাউফলে এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় মিজানের। এ ঘটনার মীমাংসা হয়ে গেলেও রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর সরকারি কাজে বাধাদান ও হামলার অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানায় নিয়ে রাতভর তাঁকে নির্যাতন করা হয়। তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়েই পরে পাঠানো হয় কারাগারে। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার দায়ের করা পুরোনো একটি চাঁদাবাজির মামলায়ও মিজানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২২ মার্চ মিজানকে পটুয়াখালীর দ্বিতীয় বিচারিক হাকিম এ এস এম তারিক শামসের আদালতে হাজির করা হয়। কিন্তু শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবেদন করা হয়। কিন্তু ওই আদালতে জামিনের কোনো শুনানি হয়নি। ১৫ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির তারিখ ছিল। কিন্তু সেদিনও পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বিমল চন্দ্র সিকদার মিজানের জামিন দেননি।
২৩ মার্চ মিজানুরের বাবা আবদুস সালাম হাইকোর্টে একটি রিট করেন। এই আবেদনে মিজানুরকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়। ২৪ মার্চ মিজানুরকে পুলিশি হেফাজতে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। নির্যাতনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, আদালত তাও জানতে চান।
মিজানের বাবা আবদুস সালামের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের অনিয়ম তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় মিজানকে নির্যাতন করে মামলা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও তাঁকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করা হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খোঁজ নেই ৩১ যুবকের
![]() |
| হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়ে নিখোঁজ হওয়া কয়েকজন |
পুত্রশোকে পাথর চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের নিখোঁজ জসিমের বাবা আবদুল হাই জানান, তার ছেলেকে জিম্মি করে স্থানীয় টেকেরঘাট গ্রামের দালাল বাচ্চু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। ইতিমধ্যেই তারা ৫ লাখ টাকা নিয়েছে। তিনি সর্বস্ব বিক্রি করে এ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও সন্তানের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না তিনি।
আরেক নিখোঁজ যুবক আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা ইউনিয়নের পশ্চিমভাগের তিনকোশা মহল্লার মৃত নিহার মনির চৌধুরীর ছেলে নোমান চৌধুরী। ৬ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। বাবার মৃত্যুর পর তিনি স্থানীয় বাজারে ব্যবসা করে পরিবার চালাতেন। সম্প্রতি দালালদের মাধ্যমে কম খরচে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব পেয়ে রাজি হয়ে যান। পাড়ি জমান নৌপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে। কিন্তু প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হলেও তার ভাগ্যে কী ঘটেছে তা তার পরিবার জানে না। একদিনও তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ হয়নি। এ কথা জানিয়েছেন তার ছোট ভাই উমান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমভাগের গোপী চন্দ্র চন্দ ও নোমান ভাই মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ৫৩ দিন আগে রওনা হন। দালালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যাচ্ছে না।’
আরেক নিখোঁজ বানিয়াচং উপজেলা সদরের শরীফ উদ্দিন রোডের রশিদ আহমদের ছেলে সাইফুল ইসলাম জুসেদ (২৭)। শোকে পাথর তার বাবা রশিদ আহমদ জানান, মানব পাচারকারী দলের খপ্পরে পড়ে জুসেদ। তাদের কথায় প্রলুব্ধ হয়ে কাউকে না জানিয়ে ১ এপ্রিল বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়। ৭ মে জুসেদের বাবাকে জানানো হয় তার ছেলে মালয়েশিয়ার বর্ডারে আছে। ০০৬৬৮০৫৩৯১৪৮৯৩ ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করলে জুসেদকে পাবেন। সে অনুযায়ী তিনি ওই নাম্বারে ফোন করে ছেলের সঙ্গে কথা বলেন। তখন জুসেদ জানায়, তারা থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বর্ডারে অমানবিক কষ্টে জাহাজে আছে। শিবপাশা ইউপির রহমত আলীর ছেলে মেম্বার আবদুল আজিজ ও আলী আকবরের ছেলে মকবুল আলীর মাধ্যমে উদ্ধারের জন্য আকুতি জানান তিনি। আজিজ ও মকবুলের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও ছেলেকে উদ্ধারের কোনো কূলকিনারা না পেয়ে তারা এখন পীর ফকিরের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
চুনারুঘাটের দালাল হিরাই ও বাচ্চু মিয়ার মা রহিমা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কিভাবে তারা বিদেশ গেছে সে ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না। তাদের সঙ্গে তার কখনোই দেখা হয় না।
বানিয়াচংয়ের ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী যুগান্তরকে জানান, তার এলাকা ও আজমিরীগঞ্জে শিবপাশার ইউপি মেম্বার আবদুল আজিজ দালাল চক্রের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। এসব দালাল চক্রের সদস্যদের বিচার দাবি করেন তিনি। গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা তাজুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ যুবকদের দেশে ফিরিয়ে আনা, তাদের টাকা উদ্ধার ও দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি উদ্যোগ নেবেন।
চুনারুঘাট থানার ওসি অমূল্য কুমার চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘আজ (রোববার) উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেছেন, তার ইউনিয়নে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে তাদের কি অবস্থা তিনি জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, সভায় আমি বলেছি নির্দিষ্ট করে যদি কেউ অভিযোগ দেয় তবে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, ১৫ মার্চ মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের তেলিকান্দি গ্রামের ৭ যুবককে ঢাকা নিয়ে যায় একই উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের পাখুল্যা গ্রামের মানব পাচারকারী দালাল সাদেক বয়াতী ও এহছাক মল্লিক। এরপর থেকেই ওই ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বর্তমানে তাদের পরিবারে চলছে কান্নার রোল।
নিখোঁজরা হলেন- তেলিগ্রামের বান্দু মাতুব্বরের ছেলে হান্নান মাতুব্বর (২৮), সোহরাব মাতুব্বরের ছেলে জহিরুল মাতুব্বর (২০), আবেদ আলীর ছেলে রাসেল মোল্যা (২১), মতি শেখের ছেলে হানিফ শেখ (১৮), জাহাঙ্গীর খাঁর ছেলে ওবায়দুর খাঁ (১৬), তৌয়ব আলী খাঁয়ের ছেলে অহিদুল খাঁ (১৮), কাজল খাঁর ছেলে বিনাদ খাঁ (২৪)।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফরউল্লাহ্ বলেন, ‘নিখোঁজদের পরিবারের অভিযোগ পেলে তাদের ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমি রাষ্ট্রের প্রধান সেবক আমিই সবচেয়ে বিশ্বস্ত -নরেন্দ্র মোদি
সরকারে এক বছর উদযাপনের জন্য বিজেপির পরিকল্পনামাফিক ২০০টি সভার প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয়েছে সোমবার। এদিন ছিল সরকারের ৩৬৫তম দিন। ৩৬৫ দিন যা শোনা যায়, এদিন তার থেকে আলাদা কিছু হবে বলে মনে করেছিলেন শ্রোতারা। কিন্তু, সেই আশায় জল ঢেলে সারা বছরের প্রকল্পগুলোর খতিয়ান তুলে ধরলেন মোদি। ইউপিএ’র দুর্নীতি, কয়লা কেলেংকারির অভিযোগ আর জনধন যোজনা এসবই ছিল তার এদিনের বক্তব্যের মূল উপজীব্য। কংগ্রেস সরকারকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে বারবার কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি, মোদি সরকারের আমলে উন্নয়নের খতিয়ান পেশ করেন। অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রের প্রধান সেবক ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত নাগরিক।’ জনগণের উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘এক বছর আগে আপনারা ৩০ বছরের খরা কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমাদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ করে সরকারে পাঠিয়েছিলেন। আজ তার এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। আমাদের সরকার গরিবের সরকার। এ সরকার গরিবের জন্যই কাজ করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা থামব না, মচকাব না।
আপনারা নিরন্তর কাজ করে যান। ভারতের রাজনীতিতে গান্ধী, লোহিয়া, দীনদয়াল- এ তিন মহাপুরুষের প্রভাব রয়েছে। তিন মহাপুরুষের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা আজ দেশকে সুশাসন দিচ্ছি।’
মোদি বলেন, আর এক বছর ইউপিএ সরকার থাকলে দেশের অবস্থা অনেক খারাপ হতো। কংগ্রেসকে রিমোট কন্ট্রোলের সরকার বলে কটাক্ষ করেন তিনি। পৃথিবীর ১৩০টিরও বেশি দেশে সরাসরি মোদির সভা সম্প্রচারিত হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লতিফ সিদ্দিকীর জামিন
হযরত মুহম্মদ (স.) সম্পর্কে তিনি বলেন, আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ চিন্তা করল এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কীভাবে চলবে। তারা তো ছিল ডাকাত। তখন একটা ব্যবস্থা করল যে, তার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে এবং এর মধ্য দিয়ে একটা আয়ের ব্যবস্থা হবে। লতিফ সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কেও কটূক্তি করেন। তার এ বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় ঢাকার আদালতে বিভিন্ন ব্যক্তি এ মামলাগুলো দায়ের করেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়। ওই বছরের ২৩শে নভেম্বর রোববার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ভারত থেকে দেশে ফেরেন লতিফ সিদ্দিকী। ২৬ শে নভেম্বর ধানমণ্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করার পর লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানো হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পূর্ণ সহায়তা দেবে চীন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আমার স্বামী বাংলাদেশে নিরাপদ নন’
সালাহউদ্দিন আহমেদ বর্তমানে নেইগ্রিমস হামপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মেঘালয়ের পুলিশ সদস্যরা তাকে ২৪ ঘণ্টা প্রহরা দিয়ে রাখছে। বিদেশী নাগরিক আইন লঙ্ঘনের মামলায় ২৯শে মে আদালত পুলিশকে রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে হাসিনা আহমেদ আরও বলেন, আমার স্বামী অনেক অসুস্থ। তার হার্টে তিনটি রিং রয়েছে। আর তার বাম কিডনি ঠিক মতো কাজ করছে না। আমি বলছিনা যে এখানে তার ভালো চিকিৎসা হচ্ছে না। কিন্তু সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল তার রোগের ইতিহাস জানে। তারা প্রায় ২০ বছর ধরে তার চিকিৎসা করে আসছে। আর এখন যদি আমি তাকে বাংলাদেশে নিয়ে যাই, তাহলে আমি জানি না কি ঘটবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিশুনিগ্রহ- যে মায়েরা সাহসে বড় by ফারুক ওয়াসিফ
![]() |
| যখন প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হয়, তখন সমাজ দাঁড়িয়ে পড়ে এভাবেই |
শত শত অভিভাবক আর ছাত্রী প্রথমে সকালে স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে মানববন্ধন করলেন। এদিনই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অভিভাবককদের জানানোর কথা। কিন্তু তার কোনো হদিস না পেয়ে তাঁরা ঢুকে পড়লেন স্কুলের মাঠে। এরপর ঘটনার নিয়মে ঘটনা ঘটতে থাকল। শত শত নারী, যাঁদের অধিকাংশই মা, প্রথমে মিথ্যাচারের অভিযোগে রেক্টরের কক্ষের দরজার কাচ ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়লেন। কিন্তু তিনি সেখানে ছিলেন না। এরপর তাঁরা ঘিরে ধরলেন অধ্যক্ষকে। স্কুলটির প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রীরা হাতে হাত বেঁধে ব্যূহ রচনা করে তাঁকে আটকালেন। কোনোভাবে পার পেয়ে তিনি আশ্রয় নিলেন একটি কক্ষে। বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিল বাইরে, বিচার ছাড়া তাঁরা কাউকে ছাড়বেন না।
চারদিকে ভবনের মাঝখানে মাঠ। তার একদিকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাপসিবল গেট। প্রশ্ন উঠবে, মেয়েদের স্কুলের মধ্যে অন্য একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা থাকবে কেন? স্কুলের ভেতরই ক্যানটিন, সেটা চালান পুরুষ কর্মীরা। মেয়েদের বাথরুমের ছিটকিনি ঠিক নেই, পুরুষ পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অবাধ যাতায়াত সেখানে। ছাত্রী ও মায়েদের অভিযোগের পাহাড়ের চূড়ায় ছিল একটি কথা। ফারুক আহমেদ নামের এক অভিভাবক জানান, ‘আমরা যখন কোনো অভিযোগ নিয়ে যাই, তখন বলে মেয়েরাই খারাপ।’ পাশে দাঁড়ানো বৃদ্ধ ফজলুর রহমান বলে উঠলেন, ‘এটা কোনো শিক্ষক বলতে পারেন তাঁর ছাত্রীদের সম্পর্কে? যদি খারাপই হয়, তাহলে আপনারা ভালো করবেন। সব জায়গায় ওদের দালাল, কথা বলতে গেলে থানার লোক দিয়ে ভয় দেখায়।’ মানুষটার নাতনি এখানে পড়ে। শনিবারের বিক্ষোভের মানুষ ছিলেন তিনিও।
অভিভাবক ও ছাত্রীদের অভিযোগ অনেক, কর্তৃপক্ষের অস্বীকৃতিও অনেক। তবে গোপাল দাস নামের এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মুখ চেপে পাশের নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে এখন আর সন্দেহ নেই। স্কুলের প্রশাসনের বিরুদ্ধে যখন অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ, তখন তাদের দিয়ে কীভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব? এসব ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তৃতীয় কোনো আস্থাভাজন ব্যক্তিকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। ঠিক যেমনটা করা হয়েছিল ১৯৯৭ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের সময়। শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরীকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয় এবং তাঁর কাছে গোপনে গিয়ে সাক্ষ্য দিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়। এই ঘটনাতে সেটাই করা উচিত।
অবরুদ্ধ হওয়ার আগেই কথা হলো অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘গোপাল দাস তো এখন ভারতে। সে এখন ছুটিতে আছে।’ জিজ্ঞাসা করলাম, অভিযোগ ওঠার পরে কেন তাকে ছুটি নিয়ে পালাতে দেওয়া হলো? তাকে তো এখন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যাবে না। তিনি বললেন, ‘আগেই সে ছুটি নিয়েছে।’ তিনিই জানান, ‘ছুটি নিয়েছে ১১ মে।’ ঘটনার তারিখ ৫ মে, এটা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে শোরগোল ওঠে ৭ তারিখে। তার মানে তিনি ছুটি দিয়েছেন সজ্ঞানে। শুধু এই একটা কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযুক্তকে রক্ষার চেষ্টার অভিযোগ উঠতে পারে।
দুপুর ১২টার দিকে স্কুলের সামনে সাদা পোশাক পরা একদল মেয়ে জটলা করে কথা বলছিল। তারা জানাল, মেয়েরা যাতে আন্দোলন না করে সে জন্য ক্লাসে ক্লাসে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কাউকে আন্দোলনে দেখা গেলে তাকে ‘বড় মিস’ স্কুল থেকে বের করে দেবেন। তৃতীয় শ্রেণির দুটি ছাত্রীর মুখে এমন অভিযোগ শুনে মনটা বিষিয়ে উঠল। শিশুদের কেন এভাবে হুমকি দেওয়া হবে? অভিভাবকদের মুখে মুখে ঘুরছে রেক্টর জিন্নাতুন্নেসার একটি উক্তি। তিনি নাকি বলেছিলেন ‘মধু থাকলে মৌমাছি আসবেই!!!’ তাহলে ছয় বছরের শিশুরা যাঁর চোখে ‘মধু’, তাঁর সঙ্গে আগ্রাসী পুরুষ মনের আর কী পার্থক্য থাকল? এ কারণেই অভিভাবকেরা দাবি তুলেছেন, অধ্যক্ষ ও রেক্টরকে অব্যাহতি দিতে হবে। অভিযুক্ত গোপাল দাসকে গ্রেপ্তার করে বিচারে সোপর্দ করতে হবে। স্কুলের প্রাঙ্গণে কোনো পুরুষ কর্মচারী রাখা যাবে না।
এ ঘটনায় উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে, আদালত তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছেন। অধ্যক্ষ মহোদয়কে মনে করিয়ে দিলাম, ২০০৯ সালে উচ্চ আদালত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ বিধিমালা প্রণয়ন এবং নিপীড়নবিরোধী অভিযোগ সেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তো, আপনার প্রতিষ্ঠানে কি এ ধরনের কোনো কমিটি আছে? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, কমিটি তো আছে।’ সেই কমিটিতে কারা কারা আছেন? তিনি ‘আছে আছে’ বলে উপস্থিত শিক্ষকদের মুখের দিকে তাকালেন। সম্ভবত, এমন কথা তাঁরাও প্রথম শুনছেন। নাম বলতে পারলেন না কেউই। অধ্যক্ষ হিসেবে নিজের তৈরি করা কমিটির কারও নামই যখন বলতে পারছেন না, তার মানে এ ধরনের কোনো কমিটি নেই বা থাকলেও তার কোনো কাজ নেই। তাঁর জবাব: ‘কমিটির কাজ নেই, কারণ এখানে কোনো দিন কোনো অঘটন ঘটেনি।’ বাহ! হতবাক ও নির্বাক হয়ে বেরিয়ে এলাম।
বাইরে তখন তুমুল হট্টগোল। হ্যান্ডমাইক ফেলে এখন মাইকে কথা বলছেন নারীরা। স্কুলের মাঠে, বারান্দায় চার থেকে পাঁচ শ অভিভাবক। বেলা দুইটার পর এলেন স্কুলের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ম. তামিম। তিনি একপর্যায়ে অভিভাবকদের কথা মেনে নিলেন এবং দায়ীদের শাস্তির অঙ্গীকার, অভিভাবক বা ছাত্রীদের হয়রানি না করার আশ্বাস এবং বিচারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন। উত্তপ্ত রোদের মধ্যে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের শান্ত করায় এ ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। তবে নিপীড়কদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। অনেক সময় আন্দোলনের মুখে ‘বহিষ্কার’ ‘অব্যাহতি’ ইত্যাদি করা হলেও, আইনের বিচারটি আর হয় না। সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
যে প্রশ্নটি করা দরকার: অভিযোগ আসামাত্রই যদি বিচার হতো তাহলে প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থাহীনতা আসত না। কিন্তু ক্ষমতায় থাকলে কাণ্ডজ্ঞান সম্ভবত লোপ পায়। তাই একটি অন্যায় ঢাকতে আরও আরও অন্যায় চলতে থাকে।
এরই মধ্যে ঢুকে পড়লেন একদল তরুণ। তাঁরা আন্দোলনের মধ্যে বহিরাগত খুঁজছেন! সেই চিরাচরিত কৌশল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উপাচার্য যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বলেছিলেন, ‘বহিরাগত গার্মেন্টসের মেয়েরা আন্দোলন করছে।’ যেন গার্মেন্টসের মেয়েমাত্রই খারাপ, ‘তাদের কথায় কান দেওয়ার দরকার নেই।’ এভাবে নিজের ছাত্রীদের বিরুদ্ধে তিনি যে বাচনিক সন্ত্রাস চালিয়েছিলেন, মোহাম্মদপুরের এমপিএসেও সেটাই দেখা গেল।
শিক্ষকদের কেউ কেউ বলতে চাইলেন, ‘ছোট একটি ঘটনাকে অনেক বড় করা হচ্ছে।’ আমাদের পুলিশ–প্রধান নববর্ষে যৌন নির্যাতনকারী ছেলেদের কাজকে ‘দুষ্টামি’ বলে হালকা করতে চেয়েছিলেন। যাঁরা নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে অন্যায় আচরণকে ছোট ঘটনা বলে মনে করেন, তাঁদের টনক নড়াতে বড় আকারের একটা প্রতিবাদের দরকার ছিল। সাম্প্রতিক সময়ের অনেক যৌন নিপীড়নের ঘটনায় যা ঘটেনি, মোহাম্মদপুরে সেটাই ঘটল। ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসে প্রতিরোধের দায়িত্ব নিজ হাতে নিলেন। এই মায়েদের, এই মেয়েদের অভিবাদন।
পরিবার ও সন্তানের জন্য মানুষ কী না করে। সেই সন্তানটি যখন এমন অনিরাপদ দশায় পড়ে, তখন পরিবার রুখে দাঁড়াবেই। যখন প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হয়, তখন সমাজ দাঁড়িয়ে পড়ে। এবং তারা বারেবারেই দেখতে পায়, আসলেই জনগণের জনগণ ছাড়া আর কেউ নেই।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইচ্ছে হলেই মুছে ফেলা যাবে স্মৃতি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেপালে এবার বন্যা, ভূমিধস
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সবাই নির্বাচনের অপেক্ষায়
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসমতকে পেটালেন, ঝর্ণা বেগমকে ভুলে গেলেন! by আলী ইমাম মজুমদার
![]() |
| আহত পুলিশকে উদ্ধার করেন ঝর্ণা বেগম, ইসমতকে গলা চেপে ধরেন পুলিশ সদস্য |
এ রকম সাদামাটাই যদি ঘটনাটি হতো, তাহলে তেমন কথা ছিল না। সময়ে সময়ে ছত্রভঙ্গ করতে মিছিলে বাধা দিতে হয় পুলিশকে। তবে ছাত্রছাত্রীদের ওপর তারা যেভাবে হামলাটি চালিয়েছিল, তা বিস্ময়কর ও অভাবিত। লাঠিপেটা করেছে, হেলমেট দিয়ে করেছে আঘাত, মেয়েদের চুলের মুঠি ধরে মারধর করেছে। মাটিতে পড়ে যাওয়া ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতিসহ আরও কয়েকজন ছাত্রের পিঠে পড়েছে পদাঘাত। হামলায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইসমত জাহান নামের একজন ছাত্রীকে চুলের মুঠি ধরে বের করে এনে করেছে লাঠিপেটা। ঘটনাটি বিস্ময়ের এ জন্য যে মিছিলটি ছিল মূলত শান্তিপূর্ণ আর কলেবরে খুবই ছোট। তারা যদি রাস্তা অবরোধ করেও রাখে, সেটা ভেঙে দিতে এ মাত্রায় শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন ছিল, এমনটা মনে করার কোনো সংগত কারণ নেই। ঘেরাও-অবরোধ হিংস্র হয়ে উঠলে আর সরকারি স্থাপনা, জনজীবন, বিশেষ করে কর্তব্যরত পুলিশ বিপন্ন হলে গুলিও চালানো যায়। মিছিলকারীদের বেআইনি জনতা বলে চিহ্নিত করলেও তাদের সংখ্যা ও আচরণ বিবেচনায় শক্তি প্রয়োগে গ্রহণযোগ্য মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। গণমাধ্যমে প্রচারিত ছবিগুলোতে পুলিশকে যে রূপে দেখা গেল, তা অভাবিতও বটে।
ঝর্ণা বেগম ব্যাপক ঝুঁকির মুখে তাঁর নাগরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সেটার মূল্যায়ন বৈষয়িকভাবে করা যায় না। তবে নৈতিক দিকটি শিক্ষণীয় সবার কাছে। পুলিশ সদস্যরা এ দেশেরই সন্তান। তাঁরা বিপন্ন হলে এরূপ সহায়তা করাই সংগত ছাত্র ইউনিয়ন নামক সংগঠনটি হালে তেমন জোরদার নয়। তাদের কর্মসূচিও এখন তাই সীমিত থাকে আকৃতি ও প্রকৃতিতে। তাদের নেতা-কর্মীদের আচরণ অনেকটা পরিশীলিত। তারপরও যে উদ্দেশ্যে আলোচ্য ঘেরাও কর্মসূচি দিয়ে মিছিল নিয়ে তারা অগ্রসর হচ্ছিল, তা খুবই যুক্তিসংগত বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়। পয়লা বৈশাখের বিকেলে নববর্ষ অনুষ্ঠানে নারী লাঞ্ছনাকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা বিরাজ করছে সব বিবেকবান মানুষের মধ্যে। সবাই আশা করেন পুলিশ তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনবে। কিন্তু এক মাস চলে গেলেও কোনো সাফল্য দেখা যাচ্ছে না তদন্তে। এতে নাগরিক সমাজ উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা। প্রতিবাদও সংগত। এ অপরাধীদের শনাক্ত ও শাস্তি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হবে, এমনটা জোর দিয়ে বলা যায়। আর উল্টোটা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে করবে আরও জোরদার। দ্বিগুণ উৎসাহে সময়-সুযোগে এরূপ ঘটবে। এ কথা সত্যি যে সব অপরাধ তাৎক্ষণিক বা অতি দ্রুত উদ্ঘাটিত হয় না। সেসব ক্ষেত্রে ক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের প্রতি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা সংবেদনশীল থাকবেন, এটাই প্রত্যাশিত।
শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে কোনো দপ্তর ঘেরাও করা কোনো অভিনব বা সব ক্ষেত্রেই আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ঘটনা নয়। আর এখানে মিছিলকারীদের সংখ্যা ও তাদের আচরণঘটিত বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিলে মোটেই নয়। এরূপ কত ঘটনায় ডিসি, এসপিদের অফিস ঘেরাও হয়। আর তার সুন্দর পরিণতিও ঘটে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মিন্টো রোডে ক্ষুব্ধ ছেলেমেয়েদের প্রতি পুলিশের এতটা অসহিষ্ণু হওয়ার কারণটি দুর্বোধ্য। বলা হচ্ছে, তারা মিনিট বিশেক রাস্তা আটকে রেখে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিল। এরূপ বিঘ্ন সৃষ্টি অসংগত, এটা কেউ অস্বীকার করবে না। তবে কত আনন্দ মিছিল কিংবা ‘সরকারি প্রয়োজনে’ ঢাকার কোনো না কোনো রাস্তা প্রায়ই আটকে থাকে দীর্ঘ সময়। অবর্ণনীয় দুর্দশার শিকার হয় যাত্রীরা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ক্ষেত্রে এত দ্রুত পুলিশি তৎপরতার নৈতিক দিকটি খুঁজে পাওয়া যায় না।
ঘটনার পরপর একজন নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। তবে ডিএমপি সদর দপ্তরে সেদিনকার নিরাপত্তার দায়িত্বে কোন কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিলেন, কার সিদ্ধান্তে এমনটি ঘটল, তা তলিয়ে দেখা দরকার। পুলিশের পক্ষ থেকে কেউ কেউ বলছেন মিছিলকারীদের ওপর হামলা করা হয়নি, সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বক্তব্যটি কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো। টেলিভিশন আর সংবাদপত্রের কল্যাণে সে ‘সরিয়ে দেওয়ার’ চিত্রের সঙ্গে দেশবাসী পরিচিত হয়েছে পুরোপুরি। ঘটনাটি পুলিশের ভাবমূর্তিকে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। এটা উপেক্ষা করার নয়। দায়ী ব্যক্তিদের দায় ভোগ করা সংগত। ঠিক তেমনি পয়লা বৈশাখের বেদনাদায়ক ঘটনাও সঠিক তদন্তে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানো আবশ্যক। উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক, সে ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য পুলিশের তিনজন সদস্যকে তাঁদের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি চিহ্নিত করেছে। কারও বিরুদ্ধেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই জানা যায়।
পুলিশের ক্ষমতার উৎস আইন। আইন পুলিশকে জনজীবনে শান্তিশৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব দিয়েছে। এ দায়িত্ব পালনে শুধু আমাদের দেশ নয়, পৃথিবীর সর্বত্রই আবশ্যক হয় জনগণের সহযোগিতা। জনগণের একটি বড় অংশের সহযোগিতা ছাড়া তাদের সফল হওয়ার কথা নয়। সে সহযোগিতা নৈতিক এবং ক্ষেত্রবিশেষে বৈষয়িকও হতে পারে। কিছুদিন আগেও পেট্রলবোমা নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র জনমত গড়ে ওঠে। কিছু ক্ষেত্রে জনগণই পুলিশকে সহায়তা করে তাদের আইনের আওতায় আনতে।
আর ২০১৩ সালে পুলিশের সামনে ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। সে সময়ে হঠাৎ শুরু হওয়া হিংসাত্মক আক্রমণের মুখে পুলিশ ক্ষেত্রবিশেষে অনেকটা অপ্রস্তুতই ছিল। তখন ঢাকা মহানগরেও এসব হামলাকারীর ঝটিকা আক্রমণে পুলিশের বেশ কিছু সদস্য আহত হন। তাঁদের অনেক গাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া বা ভেঙে ফেলা হয়। দেশের উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে এ ধরনের হামলা ছিল অনেক বেশি আগ্রাসী। কোথাও পিটিয়েও পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে। তখন জনগণের বিশাল অংশ নৈতিকভাবে পুলিশের ওপর হামলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। পত্রপত্রিকায় নিবন্ধ লিখে, টিভি টক শোতে, তাঁদের অনেকে সে অবস্থান জানান দেন। এটা সবাই বলতে থাকেন, পুলিশ এ ধরনের হামলায় নিজেদের রক্ষা করতে সফল না হলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা বিধান করবে কীভাবে? পরামর্শ আসে পুলিশকে ঘুরে দাঁড়ানোর। সেটা তারা অনেকটা করতেও পেরেছে। এ-জাতীয় হামলায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে সাধারণ মানুষ, এমন নজিরও রয়েছে। একটি ঘটনা তো পুলিশ মহলসহ সারা দেশেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। সেটা ঘটে ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল রাজশাহী মহানগরে। হরতাল চলাকালে রাজশাহীর শালবাগান এলাকায় বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অতর্কিত হামলার মুখোমুখি হয়। এসআই জাহাঙ্গীর গুরুতর আহত হয়ে রাজপথে পড়ে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে টহলদানকারী অবশিষ্ট সদস্যরা হয়তো বা টিকে উঠতে না পেরে পালিয়ে যান তাঁকে ফেলে। নিকটবর্তী কোনো টহল দলও এগিয়ে এল না। এগিয়ে এলেন বিউটি পারলারকর্মী ঝর্ণা বেগম। তিনি দ্রুত সে মুমূর্ষু এসআইকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। প্রাণে বেঁচে সুস্থ হন সেই এসআই। পুলিশ সদর দপ্তর ঝর্ণা বেগমকে আন্তরিক সংবর্ধনা দেয়। উদ্যোগ নেওয়া হয় তাঁর জন্য একটি স্থায়ী চাকরির।
ঝর্ণা বেগম ব্যাপক ঝুঁকির মুখে তাঁর নাগরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সেটার মূল্যায়ন বৈষয়িকভাবে করা যায় না। তবে নৈতিক দিকটি শিক্ষণীয় সবার কাছে। পুলিশ সদস্যরা এ দেশেরই সন্তান। তাঁরা বিপন্ন হলে এরূপ সহায়তা করাই সংগত। তেমনি এ দেশের জনগণেরও প্রত্যাশা থাকে, তাঁরা সদাচারী ও ন্যায়নিষ্ঠ হবেন। অনেকেই তেমন আছেনও বটে। বিপন্নের সহায়তায় দ্রুত হাত বাড়ান। তবে ব্যতিক্রমও কম নয়। আর সেটাই তো দেখা গেল নববর্ষের অপ্রীতিকর ঘটনা তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অসামর্থ্য এবং প্রতিবাদকারী সামান্যসংখ্যক ছাত্রছাত্রীর ওপর হামলার ধরন থেকে। ঝর্ণা বেগম নামটি কিন্তু প্রতীকী হয়ে আছে। ইসমত জাহানদের অপ্রয়োজনীয় লাঠিপেটা আর চুল ধরে টানাহেঁচড়ার সময় সে প্রতীকী চিত্র মনে রাখাই তো স্বাভাবিক ছিল। অন্তত তা প্রত্যাশিত ছিল এ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তার কাছে।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সবকিছুই আজ দ্বিখণ্ডিত এই মূল্যবোধ দিয়ে গণতন্ত্র হবে না -আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ by মনির হায়দার
সাংবাদিক হাসান ফেরদৌসের সঞ্চালনায় শেষদিনের আয়োজনে আরও বক্তৃতা করেন পশ্চিম বঙ্গের বিশ্ব ভারতীর পরিচালক রামকুমার মুখোপাধ্যায়। আগের দিন শনিবারের মতো এদিনও আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বক্তব্য চলার সময় বার বার চিরকুট দিয়ে তাকে দ্রুত বক্তব্য শেষ করতে বলা হয়। এমনকি একপর্যায়ে কয়েক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে হইচই করে বক্তব্য থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়। এরপর তিনি দ্রুত কথা শেষ করেন।
বরাবরই সব রকম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থাকা এই বিশিষ্টজন তাঁর বক্তৃতায় বলেন, স্বধীনতার পর গত সাড়ে চার দশকে যেভাবে দেশ এগিয়ে যাবে বলে আমরা আশা করেছিলাম, বস্তুুত সেভাবে দেশ আগায়নি। তিনি বলেন, যে ব্যর্থতার জন্য দেশ এগুতে পারছে না, সেটা হলো রাজনৈতিক ব্যর্থতা। আর পরের সমস্যাটা হলো সংবিধান। যে সংবিধানের শিকার হয়ে রাজনীতি বিপাকে পড়েছে। এর থেকে রাজনীতি বের হতে পারছে না।
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতারা কখনই খারাপ ছিলেন না। কিন্তু তারা খারাপ হয়ে পড়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোকে সংবিধানের একটি ধারা পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত করে দিয়েছে। এটা করতে গিয়ে পুরোপুরিই সংঘাতের দিকে চলে গেছে দেশের রাজনীতি। এর থেকে মুক্তির পথ আমি আজ বলতে পারছি না। গত শনিবার মেলার দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় তা বোঝাতে চেয়েছি।
এ পর্যায়ে আয়োজকদের কেউ কেউ যখন তাঁর বক্তব্য থামিয়ে দেয়ার জন্য বার বার চিরকুট দিচ্ছিলেন, তখন আক্ষেপের সুরে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, আপনারাই বলুন কারা দেশ চালাবে? সেই ধরনের মানুষ কি গড়ে উঠছে? সবগুলো সরকারি ইউনিভার্সিটির যা অবস্থা! সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যাড ইনভেস্ট হচ্ছে এই ইউনিভার্সিটিগুলো। টাকা দিচ্ছে, কিন্তু ইউনিভার্সিটিগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্য মেধা বের করে আনতে পারছে না। সরকার নিজের কারণেই এটা করতে পারছে না। কারণ, রাজনীতি এখন সবকিছুর মধ্যেই ঢুকে পড়েছে। আজকে সবকিছু দ্বিখণ্ডিত। এ অবস্থাই গণতন্ত্রের বড় শত্রু।
আলোকিত মানুষ গড়ার এই কারিগর আরও বলেন, মূল্যবোধের যে মান আমাদের; এই মূল্যবোধ দিয়ে কখনও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। সুশিক্ষা দিয়ে সামাজিক মূল্যবোধকে গড়ে তুলতে হবে। রোধ করতে হবে সামাজিক অবক্ষয়। তাহলেই আবার গণতন্ত্র জেগে উঠবে।
বাংলাদেশের জনগণকে অসহায় অভিহিত করে তিনি বলেন, জনগণ বর্তমানের দুই স্বৈরাচারকে হাতবদল করে নির্বাচিত করছে। একবার এ দলকে তো পরের বার অন্য দলকে। হতাশা থেকেই মানুষ এমনটি করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এক স্বৈরাচারের আচরণে হতাশ হয়ে মানুষ আবার আগের স্বৈরাচারকেই ভোট দিচ্ছে। আর এভাবেই হাতবদল করে স্বৈরতন্ত্র আমাদের গণতন্ত্রের মধ্যে ঢুকে পড়েছে, যা এখন স্থায়ী হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে একটু সংশোধন করলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
উগ্রবাদ শুধু ধর্মীয় হয় না উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, বাঙালিত্বও এক ধরণের উগ্রবাদ। রবীন্দ্রনাথও এক ধরণের উগ্রবাদ। মোল্লা শুধু ধর্মীয় মোল্লা হয় না। বাঙালি মোল্লা হয়। এমনকি রবীন্দ্রনাথ মোল্লাও হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২২শে মে শুক্রবার সন্ধ্যায় মঙ্গল শোভাযাত্রা ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় নিউ ইয়র্ক-এর বার্ষিক বাংলা উৎসব ও বইমেলা এবং গত রোববার তা শেষ হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুন্দরবন দিয়ে তেল ট্যাংকার নয়- সিদ্ধান্তটি আত্মঘাতী
![]() |
| তেলবাহী ট্যাঙ্কার ডুবি, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকিতে |
সুন্দরবন যেহেতু ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ, তাই এই বন সব সময়ই তাদের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই বনের মধ্য দিয়ে নৌ–চলাচল ও এর পাশেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ অনন্য এই বনের গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। সরকার যদি এই বন রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে না পারে, তবে তা বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা হারাতে পারে। আগামী জুনে ইউনেসকোর এক সম্মেলনের আগে এ ধরনের একটি পদক্ষেপ সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।
সরকার যদি বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা থেকে সুন্দরবনকে ‘বিপন্ন’ অবস্থায় নামিয়ে আনতে না চায়, তবে এ ধরনের আত্মঘাতী পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এই অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে আমরা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তেলবাহী কার্গোডুবির পর বন বিভাগের চেষ্টায় সুন্দরবন থেকে এক লাখ লিটার তেল অপসারণ করা হয়। বাকি আড়াই লাখ লিটার তেল থেকে যায়, যা বনের প্রতিবেশে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি করতে পারে বলে জাতিসংঘ, বন বিভাগ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সমীক্ষায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও ঐতিহ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়ে বলেছিল, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল করায় এবং রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে বনের বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। এই ক্ষতি বন্ধে সরকার পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে সুন্দরবন ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান হারাবে। এ ক্ষেত্রে ইউনেসকো থেকে সুন্দরবন রক্ষায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, আবার তেল ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দেওয়া অন্যায়। সুন্দরবনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বনটি ধ্বংস হলে শত চেষ্টা করেও তা ফিরে পাওয়া যাবে না। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এই বনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কিছু দুর্বৃত্তের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এরা নিজেদের স্বার্থে সুন্দরবনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সরকারের নৈতিক দায় থেকে সুন্দরবন রক্ষায় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
নতুন করে তেলবাহী কার্গো চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয় গত ৬ এপ্রিল। তবে এবারও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমতি নেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এই বনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কিছু দুর্বৃত্তের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে-সুলতানা কামাল, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় ,কমিটির আহ্বায়ক
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান প্রথম আলোকে বলেন, নদী দিয়ে নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের। তারা পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন ও সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে আছেন। তাঁরা দেশে ফিরলে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল: ৫ মে ৬৭০ মেট্রিক টন এমওপি সার নিয়ে ‘জাবালে নূর’ কার্গো জাহাজ সুন্দরবনের মরাভোলায় আটকে ডুবে যায়। এ সময় সরেজমিনে সেখানে গিয়ে তেলবাহী কার্গো চলাচল করতে দেখা যায়। শ্যালা নদীতে গিয়েও একাধিক তেলবাহী কার্গো চলাচল করতে দেখা গেছে। এগুলো চলাচলের সময় কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএর কোনো তদারকিও চোখে পড়েনি। অথচ সরকার গত ১ মার্চ শুধু দিনের বেলা সরকারি সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধানে সীমিত পরিমাণে নৌযান চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল।
শরণখোলা এলাকার নৌকার মাঝি রাসেল মুন্সীসহ কয়েকজন জেলে জানান, গত ২৪ এপ্রিল শ্যালা নদী দিয়ে আসা তেলবাহী একটি জাহাজ শরণখোলার ভোলা নদীর মুখ ঘুরতে গিয়ে অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। এ সময় এখানে নোঙর করে থাকা আরও চারটি কার্গোর ওপর তেলবাহী কার্গোটি প্রায় উঠে পড়েছিল।
বেশ কয়েকজন জেলে জানান, প্রতিদিনই ৮ থেকে ১০টি তেলবাহী কার্গো শ্যালা নদী দিয়ে চলাচল করছে। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, গত মাস থেকে প্রতিদিনই ওই পথ দিয়ে তেলবাহী কার্গো চলছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষকে কিছু জানানো হয়নি।
আবার তেলবাহী কার্গো চলাচলের অনুমতিপত্রে বলা হয়, ‘বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও পুলিশ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সাপেক্ষে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনা থেকে গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ খুলনার দৌলতপুর ডিপোতে জ্বালানি তেল সরবরাহব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখার জন্য সুন্দরবন চ্যানেল তথা চট্টগ্রাম-বরিশাল-হুলারহাট-বগি সন্ন্যাসী-জয়মনীরঘোল-মংলা ও দৌলতপুর রুট দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন করার অনুমতি নির্দেশক্রমে দেওয়া হলো।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রশিক্ষণের ২০ কোটি টাকা কর্মকর্তাদের পকেটে by শিশির মোড়ল
সরকারি নিরীক্ষায় দেখা গেছে, গত অর্থবছরে প্রশিক্ষণ খাত থেকে ২০ কোটির বেশি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানেও দেখা গেছে, প্রশিক্ষণ না দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের টাকা লোপাট করছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। অন্তত তিন বছর ধরে একই পন্থায় দুর্নীতি করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিংহভাগ কাজ ৩২টি কার্যকর পরিকল্পনা বা অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে দাতাদের অর্থসহায়তা আছে। মহাহিসাব নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ফরেন এইডেড প্রোজেক্ট অডিট ডাইরেক্টরেট (ফাপাদ) ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১০টি ওপির হিসাব নিরীক্ষা করেছে। তাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পড়েছে। নিরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, সবগুলো ওপি নিরীক্ষা করলে প্রশিক্ষণে শতকোটি টাকার অনিয়ম পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ হচ্ছে না। দুর্নীতি রপ্ত করতেই প্রশিক্ষণ হচ্ছে।’
টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি স্বাস্থ্যসচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। ১১ মে মন্ত্রণালয়ে নিজ কক্ষে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়ে অবগত আছি। অনিয়ম দূর করার চেষ্টা করছি।’
অনিয়মের ধরন: ফাপাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন কর্মকর্তা একই দিনে দুই জেলায় উপস্থিত থেকে কর্মশালা পরিচালনা করেছেন। এভাবে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা শতাধিক কর্মশালা থেকে সম্মানী নিয়েছেন। স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর নিজস্ব অফিস আছে জেলা পর্যায়ে। সেখানে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা না পাঠিয়ে জেলা সিভিল সার্জন অফিসে নগদ টাকা পাঠানো হয়েছে, যা বড় ধরনের অনিয়ম। তিন দিনের অন্তত ৪০টি কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, প্রশিক্ষণার্থীদের আমন্ত্রণপত্র কিছুই খুঁজে পায়নি নিরীক্ষক দল।
এই অনিয়মের সময় আব্দুল ওয়াহিদ আকন্দ ও নাসির উদ্দিন লাইন ডিরেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন। এঁরা কেউই অনিয়মের কথা অস্বীকার করেননি। তবে একে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়েছেন। আব্দুল ওয়াহিদ আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি লাইন ডিরেক্টর থাকাকালে অনিয়ম হয়নি। আমি কিছু দিন ছিলাম না, তখন হয়ে থাকতে পারে।’ আবার তিন মাস লাইন ডিরেক্টরের পদে থাকা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণের কোনো বিল চূড়ান্তভাবে পরিশোধ করিনি। অনিয়ম কিছু হয়ে থাকলে আমার আগে যিনি ছিলেন তাঁর (আকন্দ) সময়ে হয়েছে।’
দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি দেখিয়ে টাকা পকেটে ঢুকিয়েছেন কর্মকর্তারা। ইন-সার্ভিস (পেশায় থাকাকালীন) প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাস্তবে ২ হাজার ৬৫৬ জন প্রশিক্ষণ পান। অথচ কাগজে-কলমে ৩ হাজার ৯২১ জন দেখানো হয়েছে। ১ হাজার ২৬৫ জনকে প্রশিক্ষণ না দিয়েই তাঁদের নামে খরচ দেখানো হয়েছে।
কাগজপত্রে দেখা গেছে, রাজধানীর পান্থপথের একটি প্রতিষ্ঠানে ৩৬০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে ইংরেজি, আরবি ও কম্পিউটারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে তিন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন একই ব্যক্তি। নিরীক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, ওই প্রতিষ্ঠানটির আকার এতই ছোট যে সেখানে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। আর এক ব্যক্তি কী করে তিনটি বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
এই সময় লাইন ডিরেক্টর ছিলেন সুভাস কুমার সাহা। যোগাযোগ করা হলে অবসরে যাওয়া এই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি চাকরিতে থাকার সময় এসব অভিযোগ শুনিনি।’
সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয়েছে অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ (এনসিডি) কর্মসূচিতে। দরপত্র ছাড়াই কোটি টাকার বেশি মূল্যের প্রশিক্ষণ সামগ্রী কেনা হয়েছে। সবগুলো ভাউচার ১৪ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ৬২ হাজার ৪২৮ জনকে, কিন্তু খরচ দেখানো হয়েছে ৬৮ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর। একই প্রশিক্ষণের বিপরীতে একাধিকবার খরচ দেখানো হয়েছে। সব জেলাতেই হোটেল ভাড়া ১৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ, ওই অর্থবছরে তিনজন লাইন ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেছেন। এঁদের দুজনকে ওএসডি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় অন্যজনকে প্রথমে ওএসডি করে এবং পরে দাতাদের অর্থসহায়তা নেই এমন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক করেছে।
বিদেশে প্রশিক্ষণের নামে: বিদেশে প্রশিক্ষণের নামেও অনিয়ম হয়েছে। ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থেকে মালয়েশিয়ায় প্রশিক্ষণে পাঠানো হয় সরকারি কর্মকর্তাদের। মালয়েশিয়ার হাসপাতালে প্রশিক্ষণের টাকা পাঠানো হয়নি। টাকা দেওয়া হয়েছে একটি দালাল প্রতিষ্ঠানকে।
অন্যদিকে একাধিক প্রশিক্ষণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন কর্মকর্তারা গেছেন, যাঁদের সঙ্গে স্বাস্থ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। নিরীক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, এ প্রশিক্ষণ গ্রহণের উপযুক্ত না হলেও এঁদের সম্মানী, বিমান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এঁদের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানে টিউশন ফিও দেওয়া হয়েছে।
দিনে ৪,৭২৮ জনকে প্রশিক্ষণ: গত অর্থবছর শেষে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল স্বাস্থ্য খাত কর্মসূচির মধ্যবর্তী মূল্যায়ন করেছে। মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ লাখ ২৫ হাজার ৮১৮ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। অর্থাৎ দিনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৪ হাজার ৭২৮ জন। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন বাদ দিলে দৈনিক ৮ হাজারের বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মূল্যায়নের সঙ্গে জড়িত একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বাস্তবে কিছু কর্মকর্তা প্রশিক্ষণকে অবৈধ অর্থ উপার্জনের পন্থা হিসেবে ব্যবহার করছেন।
টিআইবির ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যে বাস্তবে সম্ভব নয়, এটা দাতাদেরও বুঝতে হবে। দাতারা কী করে বাজেট অনুমোদন করে? দুর্নীতির দায় তাদেরও নিতে হবে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধান: ফাপাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধূমপান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে চিকিৎসকদের জন্য ১৪৫টি কর্মশালার আয়োজন করে অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ (এনসিডি) কর্তৃপক্ষ। এতে ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৩১ হাজার ৬১৮ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ না দিয়েই ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। যাচাইয়ের জন্য নিরীক্ষকদের সদস্যরা নোয়াখালী সফর করেন। তাঁরা জানতে পারেন, নোয়াখালীতে কোনো প্রশিক্ষণ হয়নি।
সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট জেলার প্রশিক্ষণ-সম্পর্কিত কাগজপত্র প্রথম আলো সংগ্রহ করেছে। তাতে দেখা যায়, লালমনিরহাটের বড় বাড়ির হাড়াটি কমিউনিটি সেন্টারে ২৪ থেকে ২৬ মে তিন দিনের কর্মশালা হয়। কর্মশালার জন্য শহরের আর এন ইসলাম মার্কেটের মিয়াজী বই ঘর থেকে খাতা, পেনসিল, কলম, প্যাড, ফাইল; আহমেদ অ্যান্ড সন্স থেকে ব্যাগ; হাবিব প্রিন্টার্স থেকে ব্যানার, কেরামত ফটোকপিয়ার থেকে ফটোকপি, হাবিব ডেকোরেটরস থেকে সাউন্ড সিস্টেম, আউয়াল মিষ্টি ঘর থেকে শিঙাড়া, সন্দেশ, লাড্ডু; শাওন কম্পিউটারস থেকে প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল এবং তাপস সিডি থেকে সিডি কেনা হয়েছে। আর এন ইসলাম মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, এসব দোকানের অস্তিত্বই নেই। হাড়াটি কমিউনিটি সেন্টার নামে কমিউনিটি সেন্টারও নেই।
লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, ওই সময় তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে লালমনিরহাটে কোনো প্রশিক্ষণ হয়নি।
কাগজপত্রে দেখা যায়, একই তারিখে প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছিল ঠাকুরগাঁওয়ে। শহরের গোড়িয়া সড়কে মানবকল্যাণ সংস্থা নামের একটি এনজিওর মিলনায়তন ব্যবহারের বিল জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই নামে কোনো প্রতিষ্ঠান ঠাকুরগাঁও শহরে নেই।
শহরের সমবায় মার্কেটের সেলিম স্টেশনারিকে খাতা, কলম, ফাইলের দাম, আরমান লেদার শপকে ব্যাগের দাম, মাসুম ব্যানারকে ব্যানারের দাম, মামুন ফটোস্ট্যাটকে ফটোকপির, নবরূপা সাউন্ড সিস্টেম থেকে শব্দযন্ত্র ভাড়া, মোহনা কনফেকশনারিকে নাশতা, প্রান্তিক এন্টারপ্রাইজ থেকে প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল বাঁধাই এবং প্রিয়া কম্পিউটার্সকে সিডি রাইট করার দাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠাকুরগাঁও শহরে এসব দোকান খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, এই সময় ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো প্রশিক্ষণই হয়নি।
প্রশিক্ষণার্থীর তালিকায় সবাই চিকিৎসক। অথচ কোনো চিকিৎসককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁদের কেউ কেউ ২০ বা ১২ বছর আগে এই দুই জেলায় কাজ করতেন বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে।
২০১২ সাল থেকে প্রথম আলো স্বাস্থ্য খাতে প্রশিক্ষণে অনিয়ম অনুসন্ধান করছে। ওই বছরের ১১ জুন বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তিন দিনের পুষ্টি প্রশিক্ষণ শুরু হয়। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, তিন দিনের কর্মশালা শেষ হয় দুই ঘণ্টায়। ঢাকা থেকে যাওয়া কর্মকর্তা ব্যাগ, খাতা, কলম ও প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল নিয়ে যাননি। এমনকি প্রশিক্ষণার্থীদের সম্মানীও দিয়ে আসেননি। এ নিয়ে প্রথম আলোতে ২ অক্টোবর ২০১২ প্রতিবেদন ছাপা হয়।
২০১১-১২ অর্থবছরে কয়েকটি ওপির হিসাব নিরীক্ষা করেছিল ফাপাদ। সেই নিরীক্ষায় দেখা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ একাধিক পরিচালক ও কর্মসূচি ব্যবস্থাপক প্রশিক্ষণের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়েও ২০১৩ সালের ৮, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপা হয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রশিক্ষণ নিয়ে এই দুর্নীতি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বছরের পর বছর এটা হচ্ছে বেশ কিছু সংখ্যক কর্মকর্তার যোগসাজশে। যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাঁদের শাস্তি না দিলে এই দুর্নীতি বন্ধ হবে না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মেয়রদের সামনে তিন চ্যালেঞ্জ by আব্দুল কাইয়ুম
এখন বিতর্ক হতে পারে যে বিএনপির আর কী উপায় ছিল। তাদের এজেন্টদের গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে। অথবা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রের কাছেধারে যেতে দেয়নি ইত্যাদি। আবার আওয়ামী লীগ বলবে, বিএনপির এজেন্টরা নিজেরাই ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে যায়নি, তাদের বের করে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে কীভাবে? এই বিতর্কের শেষ নেই। কিন্তু যা বোঝার, মানুষ তা যে যার মতো করে বুঝে নিয়েছে।
মানুষের এই নিস্পৃহতা দূর করাই হবে তিন মেয়রের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নাগরিকদের আস্থা অর্জন করতে হলে মেয়রদের এমন কিছু করতে হবে, যা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। মানুষ যদি দেখে যে মেয়ররা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচিত না হলেও জনজীবনের দুর্ভোগ কমাতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন, তাদের নিত্যদিনের ঝামেলা কমাতে কাজ করছেন, তাহলে ধীরে ধীরে একটা অবস্থা তৈরি হলেও হতে পারে।
এ রকম অবস্থা বিএনপির আমলেও হয়েছিল। সাদেক হোসেন খোকা ২০০২ সালে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ মেয়র পদে প্রার্থী দেয়নি। কারণ, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি এমন তাণ্ডব শুরু করে, নেতাদের ধরপাকড়, মারধর করে এমন বিভীষিকার রাজত্ব কায়েম করে যে মাথা তুলে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন ছিল। কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে মেয়র হয়েও ২০১১ সাল পর্যন্ত সাদেক হোসেন খোকা টিকে ছিলেন। নানা কারসাজি হয়তো ছিল, কিন্তু তিনি মেয়র হিসেবে টিকে ছিলেন। কিছু কাজও হয়েছিল তাঁর আমলে।
তবে এ দেশে কোনো ভালো কাজও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। এবং সমালোচনাগুলোর পেছনে যথেষ্ট যুক্তিও থাকে। সাদেক হোসেন খোকার মেয়রগিরিও ভালো-মন্দ মিশিয়ে পার হয়ে গেছে। তিনি যে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে একটি নিষ্প্রাণ নির্বাচনে মেয়র হয়েছিলেন, সেটা সময়ের সঙ্গে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়। তাঁর একটা কৌশল ছিল। তিনি কাজ করার সময় আওয়ামী লীগসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও সঙ্গে নিয়ে চলার চেষ্টা করেছেন।
এখন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়ররা আর কাকে সঙ্গে নেবেন? বিএনপি তো মাঠে নেই। মারপিট-ভয়ভীতি-মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে তাদের রাজনীতির মাঠ থেকে তাড়ানো হয়েছে। বিএনপি আপাতত শীতনিদ্রায়। সংগঠন গুছিয়ে, শক্তি সঞ্চয় করে মাঠে নামবে। এখন নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে হলে মেয়রদের সত্যিকার অর্থে কাজ করে দেখাতে হবে যে তাঁরা জনগণের সঙ্গে আছেন।
কাজটা খুব সহজ নয়। মেয়রদের প্রথম কাজ হবে একটা চেক লিস্ট তৈরি করা। মানুষের সমস্যাগুলোর তালিকা তৈরি করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সেগুলো সাজাতে হবে। অফিসে চোখের সামনে সেই তালিকা টাঙানো থাকবে। তালিকার একটি কপি বাসায় টাঙিয়ে রাখলে আরও ভালো। ভোরবেলা চায়ের টেবিলে বসলেই সেই সমস্যার তালিকা চোখের সামনে ভেসে উঠবে, অফিসে গেলেও সেটা তিনি দেখবেন। বাসায় ফিরে আবার দেখবেন। প্রতিদিন কতটা কাজ তিনি করতে পারলেন, তাঁর লোকজন দিয়ে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কতটা অগ্রসর হতে পারলেন, সেটা দিন শেষে তিনি হিসাব করবেন।
যেমন, ঢাকায় যে সমস্যাটা সকাল থেকে মানুষের জান শেষ করে দেয়, সেটা হলো যানজট। আপনি যেখানেই যান, দু-তিন ঘণ্টা রাস্তা খেয়ে ফেলবে। কীভাবে এ সমস্যা দূর করা যায়? সরকারের সাহায্য দরকার। আর দরকার ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরের দুই মেয়রের সমন্বিতভাবে কাজ করা। মানুষের আয় বেড়েছে, গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। কী করা যায়? সকালে গুলিস্তান থেকে গুলশান-বনানী পর্যন্ত অবর্ণনীয় যানজট। এটা চলতে থাকে রাত পর্যন্ত। কারণ, উত্তর-দক্ষিণে চলাচলের জন্য এখন কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ ছাড়া উপায় নেই। কাকরাইল-মগবাজার-তেজগাঁওয়ের রাস্তাটিতে বছরের পর বছর ধরে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলছে। মগবাজার-মৌচাক রাস্তারও একই দশা। ফলে গুলিস্তান-গুলশান পথে যাতায়াতের জন্য সব গাড়ি ফার্মগেটের রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আর তো কোনো উপায় নেই। এই রাস্তায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের কত লাখ ঘণ্টা যে যানজটে আটকা পড়ে নষ্ট হয়, তার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই।
এই সমস্যার একটা সুরাহা হওয়া দরকার। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর, দুই কূলেরই সমস্যা। এখন দুই মেয়র সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ করতে পারেন যে ওই দুটি ফ্লাইওভার যেন খুব দ্রুত শেষ করার ব্যবস্থা হয়। কেন বছরের পর বছর ফ্লাইওভারের কাজ চলবে? যে কাজ এক বছরে হতে পারে, সেটা চার-পাঁচ বছরেও শেষ হওয়া তো দূরের কথা, অর্ধেকও কেন হয় না? এর রহস্য কী? কাজ চলছে ঢিমে তালে। দেখার কি কেউ নেই? সরকারের কেউ কি বলতে পারেন না, কেন কাজ হচ্ছে না? কেন মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো হচ্ছে?
যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের কাজটিও ঝুলে থাকত, যদি সরকার তাড়া না দিত। কিন্তু সেখানেও গ্যাঞ্জাম। ওপর দিয়ে গাড়ি চলে যাচ্ছে সাঁই–সাঁই করে, আর নিচের রাস্তায় দুনিয়ার জঞ্জাল। রাস্তা ভাঙাচোরা, ইট-পাথরের ব্লক। যেখানে-সেখানে বাস-ট্রাক ফেলে রাখা হয়েছে। নিচের রাস্তা দিয়ে বাস-গাড়ি চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অথচ আরও অনেক আগেই ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা জঞ্জালমুক্ত করে দেওয়ার কথা। সেটা যে হচ্ছে না, তার কোনো জবাবদিহি নেই।
মেয়ররা হয়তো বলবেন, এসব ফ্লাইওভার তো তাঁদের নিয়ন্ত্রণে নেই। মেয়রের কাজ না। হয়তো তাঁরা বলবেন, ‘নগর সরকার’ না হলে কীভাবে কী করব? ঠিক। নগর সরকার হলে তো ভালোই। কিন্তু সেটা না হলে যে নগরবাসীকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তার দায় তো তাঁরা এড়াতে পারবেন না। তাই দুই মেয়র মিলে সরকারকে বোঝান, যেন দ্রুত ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করা হয়।
মেয়ররা তো পরিষ্কার ঢাকার জন্য ঝাড়ু হাতে রাজপথে নেমেছেন। ভালো কাজ। এ রকম একদিন সকাল থেকে দু-এক ঘণ্টা তেজগাঁও-মগবাজার-মৌচাক রাস্তাজুড়ে অবস্থান করেন না দুই মেয়র, তাঁদের সমর্থকদের নিয়ে। ডাক দেন ভুক্তভোগী নাগরিকদের। কোনো হই–হাঙ্গামা নয়, কোনো ভাঙচুর নয়। শান্তিপূর্ণ অবস্থান। ন্যায্য দাবি। ছয় মাসের মধ্যে ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করতে হবে।
তারপর ক্ষণ গণনা শুরু করুন। নগর ভবনে একটা বড় ইলেকট্রনিক ঘড়ি লাগিয়ে দেন। সেখানে প্রতিদিন স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে, ফ্লাইওভার শেষ করতে আর মাত্র ১৮২ দিন বাকি, পরদিন দেখা যাবে, আর মাত্র ১৮১ দিন বাকি! নগরবাসী দেখুক, কাজ কত দূর হচ্ছে।
ইতিমধ্যে মেয়ররা সরকারকে অনুরোধ করতে পারেন, যেন সরকারি অফিসগুলো সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত করা হয়। তাহলে যানজট কিছুটা কমানো যাবে। শুক্র-শনি ছুটি যথারীতি থাকবে। আগে তো সকালে অফিস হতো।
সরকার উঠেপড়ে লাগায় বিদ্যুৎ সমস্যা প্রায় মিটিয়ে ফেলা গেছে। এ রকম জানপ্রাণ চেষ্টা করলে যানজটও কমিয়ে আনা যাবে। তাহলে কত লোকের যে কত সময় বেঁচে যাবে, তা বুঝিয়ে বলা লাগে না। এটা যেন হয়, সে জন্য ঢাকার দুই মেয়র একযোগে কাজ করুন। যদি তাঁরা সফল হন, তাহলে মেয়রদের প্রতি মানুষের নিস্পৃহ ভাব অনেকটাই কেটে যাবে। নির্জীব নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়রও যে খুব তেজি মেয়র হতে পারেন, তা তাঁরা প্রমাণ করতে পারবেন।
এর সঙ্গে আরও দুটি চ্যালেঞ্জ তাঁদের মোকাবিলা করতেই হবে। একটি হলো টেন্ডারবাজি-দলবাজি বন্ধ, অপরটি হলো জলাবদ্ধতার অবসান। এ দুটি বিষয়ে আগামী দিনে লিখব।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail. com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশি ফলই কিনছেন সবাই by মোছাব্বের হোসেন
![]() |
| রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ভরে উঠেছে মৌসুমি ফলে। ছবিটি কারওয়ানবাজার এলাকা থেকে তোলা। ছবি: আবদুস সালাম |
রাজধানীর হাতিরপুলের ফল বিক্রেতা মো. আলী গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, মৌসুমি ফলের এই সময়টাতে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুসহ নানা পদের ফল আসতে শুরু করে। মানুষের আগ্রহও থাকে এই দেশি ফলের দিকে। আপেল, মালটা, বেদানা, আঙুরের মতো ফলগুলোর চাহিদা বেশ কমে যায়। অপর ফলবিক্রেতা মো. সোহাগ বলেন, ‘সারা বছর মানুষ অপেক্ষা করে দেশি ফলের লাইগ্যা। এগুলো বাজারে আইলে অন্য ফলের বিক্রি কিছুটা কইমা যায়।’
![]() |
| রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ভরে উঠেছে মৌসুমি ফলে। ছবিটি কারওয়ানবাজার এলাকা থেকে তোলা। ছবি: আবদুস সালাম |
ফলের এ মৌসুমে ভিন্ন জীবিকার অনেকে ফল বিক্রি করে বেশ আয় করে থাকেন। এমন একজন আবদুল হান্নান। সোনারগাঁও হোটেলের সামনে তিনি আগে পোশাক বিক্রি করতেন। গত কয়েক বছর ধরে মৌসুমি ফলের সময়ে ওই ব্যবসা ছেড়ে আম-লিচু বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ‘ফলে নগদ লাভ বেশি আর বিক্রিও ভাল তাই এই সময়ে প্রতি বছর আমি এই ব্যবসা করি। আমার মতো অনেকেই এই ব্যবসা করে।
অনেক ফল বিক্রেতা এ সময় অন্য ফল বিক্রি বাদ দিয়ে কেবল মৌসুমি ফল বিক্রি করেন। কারওয়ান বাজারের জাকির হোসেন এমন সময়ে আপেল, পেঁপে, কমলা, আঙুর বিক্রি করেন। কিন্তু গত এক মাস থেকে তিনি আর ওই ফল বিক্রি না করে লিচু আর আম বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ‘এই সময় মানুষ দেশি ফল কেনে বেশি, ওগো চাহিদার কথা মাথায় রাইখ্যা ব্যবসাও বদলাই ফেলি। আবার মৌসুমি ফল যাইবো আবার ওই ফল বেচমু।’
![]() |
| রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ভরে উঠেছে মৌসুমি ফলে। ছবিটি কারওয়ানবাজার এলাকা থেকে তোলা। ছবি: আবদুস সালাম |
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা অঞ্চলের হিমসাগর আম পাওয়া যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। আমের আকার ও মান অনুসারে কেজি প্রতি এই আম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১২০ টাকায়। রাজশাহীর ল্যাংড়া আম পাওয়া যাচ্ছে কম। ১০০ লিচু মিলছে ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়। জলডুবি আনারস এক হালি মিলছে ৪০-৬০ টাকায়। ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকার মোড়ে মোড়ে এই আনারস কেটে কেটে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। জামরুল ১০০-১২০ টাকা, জাম ১৫০-২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার ভেদে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়।
![]() |
| রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ভরে উঠেছে মৌসুমি ফলে। ছবিটি কারওয়ানবাজার এলাকা থেকে তোলা। ছবি: আবদুস সালাম |
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
May
(1015)
-
▼
May 26
(39)
- মাইক্রোবাসে আদিবাসী তরুণী ধর্ষণ- জড়িত যুবকদের চিহ...
- সালাহ উদ্দিনের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন আদালত
- চীনে স্বপ্নপূরণের চেষ্টা কখনো থেমে থাকেনি
- অবশেষে জামিন পেলেন সাংবাদিক মিজান
- খোঁজ নেই ৩১ যুবকের
- আমি রাষ্ট্রের প্রধান সেবক আমিই সবচেয়ে বিশ্বস্ত -নর...
- লতিফ সিদ্দিকীর জামিন
- পূর্ণ সহায়তা দেবে চীন
- ‘আমার স্বামী বাংলাদেশে নিরাপদ নন’
- শিশুনিগ্রহ- যে মায়েরা সাহসে বড় by ফারুক ওয়াসিফ
- ইচ্ছে হলেই মুছে ফেলা যাবে স্মৃতি
- নেপালে এবার বন্যা, ভূমিধস
- সবাই নির্বাচনের অপেক্ষায়
- ইসমতকে পেটালেন, ঝর্ণা বেগমকে ভুলে গেলেন! by আলী ইম...
- সবকিছুই আজ দ্বিখণ্ডিত এই মূল্যবোধ দিয়ে গণতন্ত্র হব...
- সুন্দরবন দিয়ে তেল ট্যাংকার নয়- সিদ্ধান্তটি আত্মঘাতী
- প্রশিক্ষণের ২০ কোটি টাকা কর্মকর্তাদের পকেটে by শিশ...
- মেয়রদের সামনে তিন চ্যালেঞ্জ by আব্দুল কাইয়ুম
- দেশি ফলই কিনছেন সবাই by মোছাব্বের হোসেন
- রাজধানীতে ‘আইএস’ সন্দেহে গ্রেপ্তার ২
- ‘জয়বাংলা’ নজরুলের কবিতা থেকেই নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু ...
- আদালতে খালেদা
- মালয়েশিয়ায় ৩০ গণকবর
- ঝড়ে প্রাণ গেল ২ শিশুসহ নয়জনের
- সরকারের উদাসীনতায় নারী নির্যাতন বাড়ছে
- পুলিশের একই কথা, আসামি ধরার চেষ্টা চলছে
- আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নিষিদ্ধ
- এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাতলুব সহসভাপতি শফিউল
- ভুয়া কাগজে ছাত্রলীগ নেতাকে কাজ দেয়ায় প্রকৌশলীকে লা...
- ‘সুসংহত’ সম্পর্ক চায় চীন
- যাত্রীদের জিম্মি করে পরিবহন ধর্মঘট- ব্যবস্থা নিতে ...
- আয়ারল্যান্ডে বৈধতার পথে সমকামিতা, বিয়ের জোর প্রস্তুতি
- রংপুরে জনজীবন অতিষ্ঠ, বিদ্যুৎ অফিস ভাংচুর by জাভেদ...
- লোডশেডিং বিড়ম্বনা by এস এ সোহেল
- ছিটমহলবাসীর ইচ্ছায় নাগরিকত্ব
- ছাত্রলীগের সহিংসতা ও লুটপাট- দায় বহন করতে হবে সরকা...
- রাজধানীতে তরুণীকে গণধর্ষণ- নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগজ...
- ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলমার্টের ৮ মাসের কা...
- কটিয়াদীতে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষিত, ধর্ষক গ্রেপ...
-
▼
May 26
(39)
-
▼
May
(1015)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





















