Friday, December 17, 2010

তিউনিসিয়ায় কারাগার থেকে ৩৫ কয়েদির পলায়ন

তিউনিসিয়ার একটি কারাগার থেকে ৩৫ জন কয়েদি পালিয়েছে। গত বুধবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টিএপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী শহর গেবসের একটি কারাগারের কয়েদিরা পাহারারত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পিটিয়ে আহত করে। পরে তারা কারাগারের দেয়াল ভেঙে পালিয়ে যায়।
সম্প্রতি দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন শহরের কারাগার থেকে অনেক কয়েদি পালিয়ে গেছে। গত ১৫ জানুয়ারি ক্যাসেরিন গভর্নোরেট প্রদেশের রাজধানী ক্যাসেরিনের একটি কারাগার থেকে এক হাজার কয়েদি পালিয়ে যায়।

মুক্তিযুদ্ধ- বিজয় দিবসঃ অর্জন ও সম্ভাবনা by রেজা নূর

বিজয় দিবস নিয়ে বিগত চলিস্নশ বছরে লেখালেখি বিস্তর হয়েছে। দেশের বিদগ্ধজন অন্তর উজাড় করে হূদয়ের রক্ত নিঙড়ে লিখেছেন আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন- বিজয় সম্পর্কে। এই লেখাটির অন্দরে যাবার আগে ছোট একটা গল্প বলে নিতে চাই। সত্যি এবং প্রাসঙ্গিক। প্রতি বছর বিশেষ এই দিনে স্কুলে দিনের বেলা খেলাধুলার প্রতিযোগিতা আর রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো।

নিবন্ধ- একটি ট্রেন জার্নির ছবি ও মাইকেলের জীবন দর্শন by অজয় দাশগুপ্ত

বাংলাদেশকে নিয়ে আমাদের দুর্ভাবনা বা মন্দ চিন্তার অন্ত নেই। অন্তহীন দারিদ্র্য, কষ্ট, দুঃখ, জীবন- যন্ত্রণা, রাজনীতির ঘোর পঁ্যাচ_ এই যেন নিয়তি। ঈদের পূর্বে সিডনির এক সান্ধ্য দৈনিক পিপঁড়ের মত ঘিরে ধরা মানুষ বেষ্টিত এক ট্রেনের ছবি ছেপেছিল। বাংলাদেশের উৎসব পূর্ব যে কোন সময়ের পরিচিত দৃশ্য।

আলোচনা- ডক্টর ইউনূসকে নিয়ে বিতর্ক by হাসনাত আবদুল হাই

বিতর্কিত হওয়া মানেই মন্দ মানুষ হয়ে যাওয়া না অথবা ভাবমূর্তির বিনষ্টি না। বিতর্কিত হওয়া মানে কেউ এমন কিছু করছে বা বলছে যা সবাই মেনে নিতে পারছে না, যার ব্যাপারে সকল শ্রেণীর মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন নেই। এই অর্থে নতুন কিছু করতে গেলে তা যদি সকলের কাছে বিশ্বাসযোগ্য না হয় অথবা গ্রহণযোগ্য বলে মনে না করে সবাই তাহলে বিতর্কিত হবার সম্ভাবনা থাকে।

আলোচনা- উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনা by মো. ফারুক শাহ

র্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। একটি দেশের সামাজিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক বিকাশ এবং আধুনিকায়নে উচ্চশিক্ষার বিকল্প নেই বললেই চলে। বলা হয়ে থাকে, যেকোন জাতির উন্নয়নের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হল উচ্চশিক্ষা। এই হাতিয়ার ব্যবহারের উপর নির্ভর করে যোগ্য নেতৃত্ব, দক্ষ প্রশাসন এবং শক্তিশালী বিচার ব্যবস্থা।

ভারত-চীন ১৬০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য চুক্তি

চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাওয়ের ভারত সফরের প্রথম দিনেই ভারত ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক হাজার ৬০০ কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিদ্যুত্, টেলিযোগাযোগ ও ইস্পাত খাতে এ চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়।
এদিকে ভারত সফররত চীনের প্রধানমন্ত্রী জিয়াবাও নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের একযোগে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। জিয়াবাও আজ বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন।
এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের সবচেয়ে বড় অংশীদার চীন। চলতি অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন হয়েছে প্রায় ছয় হাজার কোটি ডলার। চীন ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভারত সফরের সময়ে স্বাক্ষরিত এক হাজার কোটি ডলারের চুক্তিকে ছাড়িয়ে গেছে।

১০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে আইএমএফ

বাংলাদেশের লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এই চাপ মোকাবিলায় সহায়তা হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ-সুবিধা দেবে।
বাংলাদেশ সফররত আইএমএফের একটি মিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান। আইএমএফ মিশনপ্রধান ডেভিড কোয়েন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, অর্থসচিব মোহাম্মদ তারেক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এলেইন গোল্ডস্টেইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে আইএমএফ বিকেলে আরেক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, বাংলাদেশকে যে ১০০ কোটি ডলার দেওয়া হবে, তা যথেষ্ট সহজ শর্তে দেওয়া হবে। তবে এই ঋণসুবিধা পাওয়ার জন্য কতগুলো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে।
এই সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফ পুঁজিবাজারে দেশের ব্যাংক খাতের ঝুঁকিপূর্ণ সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অর্থমন্ত্রী: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সম্প্রসারিত ঋণসুবিধার (ইসিএফ) আওতায় আগামী তিন বছরের জন্য এ ঋণ দেবে আইএমএফ। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় আইএমএফের পরিচালনা পর্ষদ সভায় বিষয়টি অনুমোদন পাবে বলে তিনি আশাবাদী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, গত তিন বছর বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক থাকলেও চলতি অর্থবছরে তা কিছুটা অবনতির দিকে।
তিন কারণে লেনদেনের ভারসাম্যের এই নেতিবাচক পরিস্থিতি বলে অর্থমন্ত্রী মনে করেন। এগুলো হচ্ছে, রপ্তানি-আয়ের তুলনায় আমদানি-ব্যয় বেড়ে যাওয়া, প্রবাসী-আয় (রেমিট্যান্স) কমে যাওয়া এবং বিদেশে বাংলাদেশি বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়া।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সাধারণত যেসব দেশে লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি রয়েছে, আইএমএফ সেসব দেশকে ঋণ দিয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে লেনদেনের সার্বিক ভারসাম্যে ৪২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে সার্বিক ভারসাম্যে ১৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দেয়।
আবুল মাল আবদুল মুহিত আরও বলেন, ‘১০০ কোটি ডলারের কর্মসূচিটি আমরাই ঠিক করেছি। এতে কোনো শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।’
অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আইএমএফের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তারা অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে কি না। যেমন—গত অর্থবছরে লেনদেনের ভারসাম্য যখন ভালো ছিল, আইএমএফের কর্মসূচি থেকে তখন বাংলাদেশও বেরিয়ে এসেছিল।
যদি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে আগামী বছরের শুরুতে সিএনজির দাম বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ফার্নেস তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সিএনজির দামও আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভর্তুকি দিয়ে আর কুলোতে পারছি না।’ তবে যা কিছু হবে পরিকল্পনামাফিকই হবে বলে জানান তিনি।
মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন সংশোধন আয়করের ওপর নতুন আইন হওয়ার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, মূসক আইনের সংশোধনের বিষয়টি চূড়ান্ত। আর নতুন আয়কর আইন হবে ২০১১ সালের মধ্যে।
আইএমএফের ব্রিফিং: বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের পক্ষ থেকে তাদের মিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এতে বাংলাদেশ সফররত আইএমএফ মিশনপ্রধান ডেভিড কোয়েন মূল বক্তব্য দেন।
এ সময় ব্যাংক খাতকে পুঁজিবাজারে অস্থিরতার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে এই আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সঙ্গে মিলে পদক্ষেপ নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডেভিড কোয়েন বলেন, আইএমএফ বাংলাদেশের আর্থিক খাতের আরও সংস্কার দেখতে চায়। আর এই সংস্কারের ক্ষেত্রে আর্থিক খাতের কর্মকাণ্ডে নজরদারি ও তদারকি বাড়ানো খুব জরুরি। বিশেষত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নতুনভাবে নির্ধারিত পর্যাপ্ত মূলধন অনুপাত রক্ষা করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সম্প্রতি পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্টতা বেড়ে যাওয়ায় তা এই খাতের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়ে উদ্বেগের কারণ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ডেভিড কোয়েন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে এই ঝুঁকি কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, যা ব্যাংকগুলোকে যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। ঝুঁকির মাত্রা কমাতে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেয়ারবাজারে অতিরিক্ত সংশ্লিষ্টতার কারণে ঝুঁকি বেড়ে গিয়ে দেশে কোনো ব্যাংকে লালবাতি জ্বলতে পারে কি না জানতে চাইলে ডেভিড কোয়েন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
আইএমএফ মিশনপ্রধান আর্থিক খাত সংস্কারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি রাজস্ব খাতে অধিকতর সংস্কার ও আরও বাণিজ্য উদারীকরণের তাগিদ দেন।
সম্প্রসারিত ঋণ-সুবিধার (ইসিএফ) আওতায় ডেভিড আরও জানান, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইএমএফের কাছে চিঠি লিখতে হবে, যা কিনা ইচ্ছাপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট) হিসেবে পরিচিত। এর সঙ্গে তিন বছরের করণীয় সম্পর্কে মেমোরেন্ডাম দিতে হবে, যেখানে সরকার যেসব সংস্কারমূলক কর্মসূচি নেবে, তার উল্লেখ থাকবে।
মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। এ প্রসঙ্গে ডেভিড কোয়েন বলেন, ‘মুদ্রানীতিকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণমূলক করতে হবে।’
তাহলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আইএমএফ সুদের হার বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছে কি না—জানতে চাইলে ডেভিড কোয়েন বলেন, ‘আইএমএফ সব সময়ই সুদের হার নির্ধারণে নমনীয়তার পক্ষে। বিশ্ব আর্থিক সংকট কেটে যাওয়ার পর থেকেই আমরা ঋণের সুদের হারের সর্বোচ্চ সীমা তুলে নেওয়ার কথা বলছি।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইএমএফ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর বিশেষত জ্বালানি খাতের সংস্থাগুলোর লোকসান কমানোর জন্য তাগিদ দিয়েছে। এ জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে। আর তা করতে গেলে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন। তবে যারা নাজুক জনগোষ্ঠী, জ্বালানির দাম সমন্বয় হলে তাদের জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা যেন থাকে, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হোক- মহান বিজয় দিবস

আজ মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার জন্য শুরু হয়েছিল যে প্রাণপণ যুদ্ধ, তার অবসান ঘটে ১৬ ডিসেম্বর: আমাদের চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে। কিন্তু এ বিজয় এসেছিল এক সাগর রক্তের বিনিময়ে। তাই বিজয়ের আনন্দের বিপরীতে আছে স্বজন হারানোর বিষাদ। বিজয় দিবসের প্রভাতে শহীদদের উদ্দেশে আমরা বলি: আমরা তোমাদের ভুলব না। যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সহযোগিতা জুগিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের, তাঁদের সবাইকে জানাই বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের আবির্ভাব ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা। সেই সময়ের বিশ্বপরিস্থিতিতে নতুন কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের আবির্ভাব খুব সহজ ছিল না। কিন্তু সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিচল প্রত্যয়, অশেষ ত্যাগ স্বীকার, মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সুযোগ্য ভূমিকা এবং ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সার্বিক সহযোগিতায় সেই অসম্ভবকে সম্ভব করা গিয়েছিল। বাংলাদেশের নিপীতিড় মুক্তিকামী জনগণের লড়াই সে সময় বিশ্বব্যাপী বিপুল আবেগ সঞ্চার করেছিল। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এ-দেশীয় সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস প্রভৃতি ঘাতক বাহিনীর গণহত্যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে নিন্দিত হয়েছিল।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার স্বাধিকার দাবি থেকে একাত্তরের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রের গর্জন স্বাধীনতার দাবিকে অনিবার্য করে তুলেছিল। সোনার বাংলার স্বপ্নে বাংলার ছাত্রসমাজ ও শ্রমিক, কৃষক, নারী, মধ্যবিত্ত ও বুদ্ধিজীবীসমাজ এমনই উদ্দীপ্ত হয়েছিল যে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নকে নস্যাৎ করা কারও পক্ষেই সম্ভব ছিল না। এবং সেই স্বপ্ন ছিল একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের।
প্রত্যেক বিজয় দিবসে আমাদের সুযোগ আসে সেই গৌরবময় ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা স্মরণ করার, দেশের মঙ্গলের জন্য নিবেদিতপ্রাণে কাজ করার অঙ্গীকার নবায়নের।
স্বাধীনতা অর্জনের পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের নানা ভুলের কারণে বারবার সামরিক অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়ের কারণে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়েছে। আবার জনগণের গণতান্ত্রিক চেতনা, উৎপাদনমুখিতা ও দৃঢ় প্রত্যয়ের ঘাটতি ঘটেনি। দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার ঘটেছে, উৎপাদন-ভিত্তি কিছুটা জোরালো হয়েছে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। অবশ্য রাজনীতি ও প্রশাসনের সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। দুর্নীতি কমেছে, তাও বলা যায় না।
একাত্তরের গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য দেশব্যাপী প্রবল জনমত গড়ে উঠেছে, কিন্তু সরকার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করলেও তা প্রত্যাশিত গতি লাভ করেনি। এটা খুব দুঃখের বিষয় যে ৩৯ বছরেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যায়নি। শতাব্দীর ভয়াবহতম গণহত্যা যারা চালিয়েছে, তাদের বিচার অবশ্যই করতে হবে। এবং সে কাজে আর বিলম্ব করার কোনো সুযোগ নেই। এমনিতেই অনেক বিলম্ব হয়ে গেছে।

একেই কি বলে আমলাতন্ত্র by শান্তনু কায়সার

সংবাদপত্রের খবরে প্রকাশ, ৯ ডিসেম্বর বরগুনার একটি উপজেলায় একাদশ শ্রেণীর চূড়ান্ত পরীক্ষা বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীরা রোকেয়া দিবসের শোভাযাত্রায় অংশ নিতে বাধ্য হয়। এর আগে হরতালের জন্য এই পরীক্ষা ৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরীক্ষার জন্য উত্তরপত্র বিতরণের পর কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘ইউএনও স্যারের’ নির্দেশ, পরীক্ষা রেখে রোকেয়া দিবসের শোভাযাত্রায় যেতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেছেন, পরীক্ষার বিষয়টি তিনি ইউএনওকে জানিয়েছিলেন আর ইউএনও বলেছেন, তাঁরা পরীক্ষা বন্ধ রেখে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন বলে তাঁর জানা নেই। তিনি অবশ্য এড়িয়ে গেছেন, পরীক্ষার কথা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান তাঁকে জানিয়েছিলেন কি না। জানানোটাই স্বাভাবিক, তবে মনে হয়, যৌক্তিকতার চেয়ে সরকারি কর্মসূচি ‘সফল’ করাটাই ছিল তাঁর কাছে মুখ্য বিবেচ্য। যে রোকেয়া নারীশিক্ষা তথা শিক্ষার জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁর দোহাই দিয়ে শিক্ষালাভের একটি পর্যায়ে যদি নির্ধারিত পরীক্ষা দিতে দেওয়া না হয়, তাহলে রোকেয়ার নামে তাঁর বা তাঁর স্মৃতিকেই অসম্মান করা হয়।
কিন্তু আমলাতন্ত্র কি সে কথা শোনে, না বুঝতে চায়? রাজনীতি পরীক্ষা হতে দেয়নি এক দিন, আরেক দিন আমলাতন্ত্র পূর্বাপর কোনো কিছুই বুঝতে চায়নি। উভয়ই আমলাতন্ত্র এবং উভয়ের কাজ ক্ষমতা প্রদর্শন। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে যে পরীক্ষা হচ্ছিল, তা অন্যত্র নিশ্চয়ই হয়ে গেছে। তাহলে এই কেন্দ্রে যারা পরীক্ষা দিতে পারেনি, তাদের কী হবে? সে কথা বোঝার দায় তো রাজনীতি বা আমলাতন্ত্রের নয়। তারা তো আহ্বান করে অথবা নির্দেশ দিয়েই খালাস।
যে দৈনিকে এ খবরটি প্রকাশিত হয়েছে, সেই দৈনিকেরই অন্য একটি খবর পড়ে বিব্রত বোধ করেছি। বেগম রোকেয়ার নামাঙ্কিত একটি পদক পেয়েছেন একজন নারী। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অবদান থাকলে তিনি তা পেতেই পারেন। কিন্তু দৈনিকটির খবর থেকেই যে জানতে পারছি, তিনি একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই কেনার জন্য অনুদান দিয়েছেন এবং ঢাকার একটি নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনৈক ছাত্রীর শিক্ষার খরচ বহন করছেন—এর জন্যই কি তাঁর এই পদক পাওয়া? অস্বস্তি ছাড়া আর কী হতে পারে? অস্বস্তি বেড়ে যায় আরও এই কারণে যে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট একজন কবি এবং সেখানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আরেকজন কবি। আমাদের একজন প্রধান কবি যে বলেছেন, পরাজিত হতে জানেন না কবিরা—তা অন্তত এ ক্ষেত্রে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
সৃজনশীলতাকে বর্জন করে কাজ পণ্ড করাকে আমলাতন্ত্র বলে কি না জানি না, তবে এ ধরনের উদাহরণ দেখে কখনো কখনো মনে এ বিষয়ে সংশয় জাগে। বেশ কয়েক বছর আগে জাতীয় পর্যায়ে ঢাকার বাইরে নজরুলজয়ন্তী উদ্যাপনের শুরুতে কবির স্মৃতিচিহ্নিত একটি শহরে তখনকার প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু তার দু-এক দিন পরের সেমিনারে ঘটে মজার কাণ্ড। ক্রেতা-দর্শক নেই, অথচ সেমিনারের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। এর মূল দায়িত্বে যিনি ছিলেন, দেশের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক, প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন স্থানীয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে সামনের আসনগুলো পূর্ণ করার ব্যবস্থা করে। কিন্তু শিশু-কিশোরেরা কি আর তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সেমিনার বুঝতে অথবা হজম করতে পারে? ফলে শিক্ষকদের ইশারা-ইঙ্গিতে বা ধমকে কিছুক্ষণ চুপ থাকলেও নিজেদের স্বভাবমতোই বেশিক্ষণ নীরব থাকতে পারে না। আসলে সবকিছু যে নির্দেশ বা রুটিন ওয়ার্কের অভ্যাস দিয়ে করা যায় না, সেটা হয়তো সবার পক্ষে সব সময় বোঝা সম্ভব হয় না।
সম্প্রতি নরসিংদীতে যে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা ঘটে, সেখানেও দেখছি মূল আসামি ক্ষমতার প্রতাপ। লাইনম্যান যে ফাঁকি দিয়ে যথাযথভাবে তাঁর দায়িত্ব পালন না করে নিজের দোকান চালাতেন, সেটাকে তিনি অবহেলার সঙ্গে দেখতেন এ কারণে যে, স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার এমন সম্পর্ক রয়েছে বলে দৈনিকের খবরে প্রকাশ যে, তিনি কাউকে তোয়াক্কা করতেন না এবং ভাবতেন, তাঁর যেকোনো সমস্যায় তিনি তাঁদের সমর্থন পাবেন। এ প্রবণতা অবশ্য শুধু এই ব্যক্তিরই নয়, আমাদের সংস্কৃতিতেই তা রয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে তা প্রকাশিত হয় বটে, অন্য সময় ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় আমরা তাকে সহ্য করি। এমনকি প্রশ্রয় দিই।
যেদিন দুর্ঘটনা ঘটে, তার পরের দিন বিবিসির প্রভাতি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের যে সাক্ষাৎকার শুনি, তাতে তিনি মূল গুরুত্ব দেন এই বিষয়ের ওপর যে, দুর্ঘটনাকবলিত স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে তাঁদের যে স্বয়ংক্রিয় সিগনালিং ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটা সম্ভব নয়, তবে তাঁরা তদন্ত করে দেখবেন। কিন্তু সত্য হচ্ছে, ঘটনা ঘটেছে সেটাই যে মূল গুরুত্ব পাওয়া উচিত, তাকে এড়িয়ে যাওয়ার নাম আমলাতন্ত্র।
এসব ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, মৃত্তিকার ওপর দাঁড়িয়ে সমস্যাকে বুদ্ধি ও হূদয় দিয়ে বোঝা এবং তার সমাধানে আন্তরিক ও সৎ প্রয়াসের নাম সৃজনশীলতা আর তার ধারেকাছে না গিয়ে পদ-পদবির ক্ষমতা প্রদর্শন এবং উচ্ছিষ্টভোগীদের লোভের জন্য প্ররোচিত করার নাম আমলাতন্ত্র। এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে আমলারাও দেশের কর্মে যুক্ত হতে পারেন। সেটাই দেশের এবং তাঁদেরও মুক্তির একমাত্র পথ।
শান্তনু কায়সার: লেখক ও অধ্যাপক।

পাকিস্তান-আফগানবিষয়ক মার্কিন ভারপ্রাপ্ত দূত ফ্রাঙ্ক রুগিয়েরো

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানবিষয়ক নতুন মার্কিন বিশেষ দূত হিসেবে ফ্রাঙ্ক রুগিয়েরোর নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রুগিয়েরো ভারপ্রাপ্ত দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ওই অঞ্চলে প্রয়াত দূত রিচার্ড হলব্রুকের করা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন। গত সোমবার হলব্রুক মারা যান।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি জানান, মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা করবেন রুগিয়েরো। সেখানে ওবামা প্রশাসনের আফগান কৌশল সম্পর্কে তাঁকে জানানো হবে। ক্রাউলি জানান, রুগিয়েরো পাকিস্তান-আফগানিস্তানে হলব্রুকের গড়া কাঠামো অনুযায়ী কাজকেও এগিয়ে নেবেন।

হাউস অব লর্ডসে টিউশন ফি বাড়ানোর বিল অনুমোদন

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য টিউশন ফি বাড়ানো-সংক্রান্ত বিল অনুমোদন করেছে। গত মঙ্গলবার রাতে এ বিল অনুমোদিত হয়। এর আগে গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে বিলটি অনুমোদন পায়।
এই বিল অনুমোদনের ফলে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীদের এখন থেকে টিউশন ফি বাবদ বছরে সর্বোচ্চ নয় হাজার পাউন্ড গুনতে হবে, যা বর্তমান টিউশন ফির চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি।
টিউশন ফি বাড়ানো নিয়ে সম্প্রতি লন্ডনে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভের কবলে পড়েছিলেন প্রিন্স চার্লস ও তাঁর স্ত্রী ক্যামিলা পার্কার। ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার টিউশন ফি বাড়ালেও সরকারেরই কেউ কেউ এর ঘোরবিরোধী।

অচলাবস্থা কাটাতে সাহায্য চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট

নির্বাচন নিয়ে চলমান অচলাবস্থা কাটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন হাইতির প্রেসিডেন্ট রেনে প্রেভাল। গত মঙ্গলবার হাইতির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
ভূমিকম্প বিধ্বস্ত হাইতিতে গত ২৮ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। কিন্তু ভোট গ্রহণের পরপরই ১৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২ জন অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। অধিকাংশ প্রার্থী জালিয়াতির অভিযোগ তোলার পর তাঁদের কয়েক হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১০ ডিসেম্বর সে দেশের নির্বাচন কমিশন ভোট পুনর্গণনার ঘোষণা দেয়।
মঙ্গলবারের বিবৃতিতে রেনে প্রেভাল ওয়াশিংটন-ভিত্তিক অরগানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) প্রতি বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে ভোট পুনর্গণনায় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রথম দফার ভোট গ্রহণে যে ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সহায়তার জন্য ওএএসের কাছে দুজন বিশেষজ্ঞ পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
গতকাল বুধবার রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে ওই দুজন বিশেষজ্ঞের পৌঁছানোর কথা। একজন ভোট পুনর্গণনার কাজে সাহায্য করবেন; অন্যজন নির্বাচনসংক্রান্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা দেবেন।
ভোট গণনায় কারচুপি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি তুলেছেন তৃতীয় স্থানে থাকা মিশেল মার্টেলি। তিনি রেনে প্রেভালের সমর্থিত প্রার্থী মারলান্দে ম্যানিগাতের চেয়ে সাত হাজার ভোট কম পাওয়ায় দ্বিতীয় পর্বের ভোটাভুটিতে অংশ নিতে পারবেন না।

অস্ট্রেলিয়ায় নৌদুর্ঘটনায় ২৭ শরণার্থীর মৃত্যু

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে গতকাল বুধবার নৌদুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদল শরণার্থী বহনকারী কাঠের নৌকা ঢেউয়ের তোড়ে পাথরে ধাক্কা খেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রচণ্ড আঘাতে নৌকাটি টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ৪২ জন শরণার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। গতকাল শুল্ক কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
অস্ট্রেলিয়ার কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন এক বিবৃতিতে জানায়, প্রাথমিকভাবে ২৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়। ৪২ জন শরণার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ইরান ও ইরাক থেকে এসব শরণার্থীর আগমন ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু নারী ও শিশু রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজ শরণার্থীদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারের অভিযান সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। তারপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বৃহস্পতিবার ভোরে নতুন করে অভিযান শুরু হবে। তাঁরা বলেন, চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল পরিস্থিতিতে এ অভিযান চলছে। ঘটনাস্থলে টহল দিচ্ছে দুটি জাহাজ।

মিয়ানমারের জেনারেলরা নির্বোধ ও জড়বুদ্ধিসম্পন্ন: লি কুয়ান

সিঙ্গাপুরের স্থপতি লি কুয়ান ইউ মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জেনারেলদের ‘নির্বোধ’ ও ‘জড়বুদ্ধিসম্পন্ন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। জান্তা দেশটির বিশাল সম্পদের ‘অব্যবস্থাপনা’ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
২০০৭ সালে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন লি কুয়ান। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত মিয়ানমারের দূত তাঁকে বলেছেন, তাঁদের প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। মিয়ানমারের ওপর যতই আন্তর্জাতিক অবরোধ আরোপ করা হোক না কেন, তাতে কোনো সমস্যা হবে না। লি কুয়ান বলেন, তিনি এক দশক আগে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। এ সময় তিনি ক্ষমতাসীন জেনারেলদের ‘নির্বোধ’ ও ‘জড়বুদ্ধিসম্পন্ন’ বলে উল্লেখ করেন। মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে কথা বলা বা সম্পর্ক রাখাকে ‘মৃত মানুষের সঙ্গে কথা বলার’ সমার্থক বলে উল্লেখ করেন লি কুয়ান।
উইকিলিকসের নথিতে বলা হয়, লি কুয়ান বিশ্বাস করেন, তরুণ জেনারেলরা এগিয়ে এলে এই পরিস্থিতি থেকে মিয়ানমার বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে। এ জন্য দেশটির গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলোর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি করতে হবে। মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির ব্যাপারে জান্তা সরকারের নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। সু চির সঙ্গে সম্ভব না হলেও এমন একটি চুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।
লি কুয়ান আরও বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামের অন্তর্ভুক্তি মেনে নিতে চায়নি সংগঠনটির পুরোনো সদস্যদেশগুলো। আসিয়ানকে আরও শক্তিশালী করতে মিয়ানমারে দূত নিয়োগ করার পরামর্শ দেন তিনি। এ জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইউধোইয়োনোর নাম প্রস্তাব করেন তিনি। লি বলেন, সুসিলো একজন সাবেক জেনারেল। মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান জেনারেল থান শোয়ে সুসিলো বামবাংয়ের কথা শুনতে পারেন।
৮৭ বছর বয়সী লি কুয়ান সিঙ্গাপুরের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। সিঙ্গাপুরের রাজনীতিতে তাঁর দারুণ প্রভাব রয়েছে।

পুতিনের কথিত প্রেমিকাকে নিয়ে ‘ভোগ’ সাময়িকীর প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

রাশিয়া থেকে প্রকাশিত ভোগ সাময়িকীর প্রচ্ছদে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের কথিত প্রেমিকা ও রুশ জিমন্যাস্ট এলিনা কাবায়েভার ছবি প্রকাশ করায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে এলিনার সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক থাকার বিষয়ে নানা জল্পনা চলে আসছে। ভোগ ম্যাগাজিনের এ প্রচ্ছদ পুতিনকে নতুন করে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভোগ বলেছে, এলিনাকে নিয়ে তাদের নতুন সম্পাদক ভিক্টোরিয়া ডাভিডোভা প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। সংখ্যাটি আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বাজারে পাওয়া যাবে।
প্রচ্ছদে ২৭ বছর বয়সী এলিনা কাবায়েভা সোনার প্রলেপ লাগানো ২১ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি পোশাক পরে পোজ দিয়েছেন।
২০০৮ সালে রাশিয়ার প্রভাবশালী একটি দৈনিকে এলিনার সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক থাকার খবর প্রকাশ করার পর হইচই পড়ে যায়। পুতিন ক্ষোভ প্রকাশ করে তাৎক্ষণিকভাবে এলিনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেন। ওই পত্রিকার মালিক ছিলেন রাশিয়ার অন্যতম ধনকুবের আলেকজান্দার লেবেদেভ। পুতিন ও এলিনার খবরটি প্রকাশ পাওয়ার কিছু দিন পরই লেবেদেভের পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। লেবেদেভ ব্যবসায়িক সফলতা না পাওয়ার কারণে পত্রিকা বন্ধ করেছেন বলে ঘোষণা দিলেও ধারণা করা হয়, পুতিনের রোষানলের শিকার হয়েই তিনি পত্রিকা বন্ধ করেন।

হামলাকারীকে জঙ্গি বানিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী?

সুইডেনের আত্মঘাতী হামলাকারী তৈমুর আবদুল ওয়াহাব আল আবদালির স্ত্রী মোনা থওনিই তাঁকে উগ্রপন্থী বানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মোনার নানি মারিয়া নেদেলকোভিচি এ অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে সুইডেনের গোয়েন্দা সংস্থা সায়েপো সে দেশে উগ্রপন্থীদের তৎপরতা নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করেছে। গতকাল বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার কথা ছিল।
দক্ষিণ রোমানিয়ায় বসবাসরত মারিয়া নেদেলকোভিচি বলেছেন, তাঁর নাতি মোনা থওনি তৈমুরের জীবনাচরণ পাল্টে দিয়েছিলেন। তিনি জানান, পশ্চিমা ধারায় শিক্ষিত তৈমুর ধর্ম নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতেন না। তিনি বিয়ার খেতেন। জিনসের প্যান্ট পরতেন। তিনি সুইডেনের একটি রেডিওতে রক এন রোল ডিজে (ডিস্ক জকি) হিসেবে কাজও করেছেন।
২০০১ সালের টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনার পর মোনার মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ওই সময় মোনা কট্টর ইসলামপন্থী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে তিনি স্বামীকেও সেই পথে নিয়ে যান।
নেদেলকোভিচি বলেন, তিনি এবং তাঁর পরিবার মোনাকে অনেকবার সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁদের কথা শোনেননি।
ব্রিটেন ও সুইডেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তৈমুর আবদুল ওয়াহাবের ইরাকি বংশোদ্ভূত পরিবার সুইডেনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। সেখানে মোনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মোনার বাবা আবদুলও একজন ইরাকি।
নেদেলকোভিচি জানান, বাবার চাকরির সুবাদে মোনা বহু দেশে গেছেন। উত্তর আফ্রিকায় বাবার সঙ্গে তিনি প্রায় ১০ বছর ছিলেন। ৯/১১ হামলার ঘটনার পর তিনি পুরোপুরি পর্দানশিন হয়ে যান।
১৯৯৬ সালে বিয়ের পর তৈমুর ও মোনা লুটনে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের দুটি মেয়ে ও একটি ছেলে হয়।
নেদেলকোভিচি বলেন, মোনা এতটাই কট্টরপন্থী হয়ে উঠেছিলেন যে ওসামা বিন লাদেনের নামানুসারে তিনি তাঁর ছেলের নাম নাম রেখেছেন ‘ওসামা’। তাঁর অভিযোগ, মোনাই তৈমুরকে ওই হামলা চালানোর জন্য প্ররোচনা দিয়েছিলেন।
এদিকে, সুইডেনের গোয়েন্দারা বলেছেন, হামলা চালানোর আগে তৈমুর যে অডিও টেপ সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন, তাতে তাঁর ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি আলাদা একটি কণ্ঠের কাশির শব্দ শোনা গেছে। এতে বোঝা যায়, তৈমুর একা নন, এ হামলায় তাঁকে আরও কেউ সহযোগিতা করেছিল। সুইডেনের গোয়েন্দা সংস্থা সায়েপো বলেছে, তারা সুইডেনের জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তাতে সুইডেনে বসবাসকারী প্রায় ২০০ উগ্রপন্থীর নাম রয়েছে। প্রতিবেদনটি গতকালই প্রকাশ করার কথা।

নেপালে যুদ্ধাপরাধীদের কোনো বিচার হয়নি

নেপাল সরকার মাওবাদীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর লড়াইয়ের সময় হাজার হাজার মানুষকে হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে ২০০৬ সালের শান্তিচুক্তি মোতাবেক যুদ্ধের সময় ওই সব হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করার অঙ্গীকার পূরণের জন্য নেপাল সরকারের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়।
২০০৬ সালে যুদ্ধ অবসান হওয়ার আগে ১০ বছরে নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদী বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে ১৬ হাজারেরও বেশি লোকের প্রাণহানি হয়। হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
এইচআরডব্লিউ জানায়, যুদ্ধের সময় ওই সব নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার কোনো আদালতে এখনো হয়নি। এতে দেশটিতে দায়মুক্তির অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, নেপাল সরকারের উদাসীনতায় দায়ী ব্যক্তিরা ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছে। ফলে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা যাচ্ছে না।
পিয়ারসন বলেন, অতীতের অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা না গেলে, বর্তমান সময়ের অপরাধীদের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছবে। তারা মনে করবে, অপরাধ করেও অব্যাহতি পাওয়া সম্ভব।

ইরানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩৯ জনের প্রাণহানি

ইরানের সিস্তান বেলুচিস্তান প্রদেশের চাবাহার শহরের একটি মসজিদের কাছে গতকাল বুধবার ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৩৯ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছে। শিয়া মুসলমানদের একটি শোভাযাত্রার প্রস্তুতির সময় এ হামলা চালানো হয়। সুন্নি মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠী জুন্দুল্লাহ এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
মাহমুদ মোজাফর নামের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইলনা জানায়, শহরের ইমাম হুসেইন মসজিদের বাইরে ফরমানদারি স্কয়ারের কাছে ওই বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় মুসল্লিরা একটি শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য জমায়েত হচ্ছিলেন।
বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, শহরের হিমাগারে ৩৯টি মৃতদেহ আনা হয়েছে। এদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এর আগে চাবাহার শহরের জেলা প্রশাসক আলী বাতেনি বলেন, ‘দুজন সন্ত্রাসী ওই হামলা চালিয়েছে। এদের মধ্যে একজন হামলাকারী তার শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয়।’ তিনি বলেন, হামলার হোতাকে আটক করা হয়েছে। এ দিন ইমাম হুসেইন মসজিদকে ঘিরে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মুসল্লি জমায়েত হন।
সুন্নি মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠী জুন্দুল্লাহ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। এর আগেও ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে জুন্দুল্লাহ।
ইরানের অন্যান্য প্রদেশের মতো সিস্তান বেলুচিস্তান প্রদেশেও উল্লেখযোগ্য লোক সুন্নি মুসলিম বসবাস করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী জুন্দুল্লাহ শহরটিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। গত জুলাইয়ে সিস্তান বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী জাহেদানের গ্র্যান্ড মসজিদে রেভলুশনারি গার্ডের সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো বোমা হামলায় ২৮ ব্যক্তি নিহত হয়। পরে জুন্দুল্লাহ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র জুন্দুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংগঠনটিকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ করেছিল। এ সময় ইরান সংগঠনটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে অনেক সদস্যকে গ্রেপ্তারসহ এর নেতা আবদুল মালেক রিগির ফাঁসি কার্যকর করে। এর এক মাস আগে রিগির ভাই আবদুল হামিদ রিগিকেও ফাঁসি দেওয়া হয়। আবদুল মালেক রিগিকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সেনাদের জন্য ২৫টিরও বেশি ওয়েবসাইট নিষিদ্ধ

প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসসহ ২৫টিরও বেশি সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও ব্লগের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবেন না মার্কিন বিমানবাহিনীর সেনারা। মার্কিন কূটনীতির গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের তথ্য প্রকাশ করার কারণে এসব ওয়েবসাইট ও ব্লগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
দ্য টাইমসের ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়া বিমানবাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য টাইমস, ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান, জার্মান সাময়িকী ডার স্পিগেল, স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল পাইস, ফ্রান্সের সংবাদপত্র লা মঁদসহ ২৫টিরও বেশি ওয়েবসাইটে ক্লিক করলে মনিটরে চলে আসে ‘অ্যাকসেস ডিনাইড: ইন্টারনেট ইউজেস ইজ লগড অ্যান্ড মনিটরড (প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যাত: ইন্টারনেট ব্যবহার সীমিত ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে)’। এরপরও এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করা হলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
বিমানবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা স্বীকার করেন, এই উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। দাপ্তরিক ক্ষেত্রে এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে না পারলেও সেনারা বাড়িতে বসে এসব সাইটে প্রবেশ করছেন। যদিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিমানবাহিনীর স্পেস কমান্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ব্রেন্ডা ক্যাম্পবেল বলেন, ‘কোনো ওয়েবসাইটে উইকিলিকসের নথি প্রকাশ করা হলে সেটি বিবেচনা করা হয়। নেতিবাচক মনে হলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা এই পদ্ধতিতেই কাজ করছি।’
তবে সামরিক, নৌ ও মেরিন সেনাদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই তিন বাহিনীর মুখপাত্র জানান, তাঁরা কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বন্ধ করবেন না। ওবামা প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা বিভাগ এ ব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করেছে। সেই অনুযায়ী কাজ চলছে। এতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে কিছু কিছু বিষয় দেখার কথা বলা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র কর্নেল ডেভিড লাপান জানান, সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে প্রতিরক্ষা বিভাগের কোনো নির্দেশনা নেই।
বিমানবাহিনী মঙ্গলবার প্রথমে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দ্য টাইমসের ওয়েবসাইটসহ পাঁচটি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। পরে অন্য ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করা হয়।
দ্য টাইমসের মুখপাত্র ড্যানিয়েলে রোডস হা বলেন, এটা দুঃখজনক ঘটনা। বিমানবাহিনী তার সেনাদের তথ্য পাওয়ার অধিকার হরণ করেছে।

পাকিস্তানে সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ?

চমকে ওঠার মতো খবরই দিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সভাপতি ইজাজ বাট। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নাকি আগামী বছরের কোনো একসময়ে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে পাকিস্তানে দল পাঠাতে রাজি হয়েছে! যদিও বিসিবি কর্মকর্তারা পিসিবি সভাপতির এমন বক্তব্য শুনে আকাশ থেকে পড়েছেন।
সংবাদ সংস্থা আইএএনএস ইজাজ বাটকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ঢাকায় অনুষ্ঠিত এসিসির সাম্প্রতিক সভার সময় নাকি পিসিবি-বিসিবির শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ পাকিস্তান সফর করতে রাজি হয়েছে। আমরা আশা করি, অচিরেই সিরিজটি এখানে (পাকিস্তান) হবে’—বলেছেন বাট। যদি সত্যি সত্যি আগামী বছর বাংলাদেশ দল পাকিস্তান সফর করে, সে দেশের ক্রিকেটের জন্য তা হবে বড় সংবাদ। কারণ ২০০৯ সালের মার্চে লাহোরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক দলই পাকিস্তান সফর করেনি। অদূর ভবিষ্যতেও কারও সেখানে যাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে না।
ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই বাট জানালেন, পাকিস্তান ক্রিকেটের এই বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে যাওয়ার দলটির নাম বাংলাদেশ! কিন্তু বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস পিসিবিকে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা অস্বীকারই করলেন, ‘আমার জানামতে এসিসির সভার সময় এমন কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি। বিসিবির কোনো শীর্ষ কর্তা পাকিস্তানকে এই আশ্বাস দিয়েছেন, আমার জানা নেই।’ আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর পরিকল্পনা অনুযায়ীও ২০১১ সালে বাংলাদেশ দলের কোনো পাকিস্তান সফর নেই। বরং ২০১১ সালের ডিসেম্বরে দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডের সিরিজ খেলতে পাকিস্তানেরই আসার কথা বাংলাদেশে।
এসিসির সভায় বিসিবির শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শুধু বোর্ড সভাপতি ও এসিসি চেয়ারম্যান আ হ ম মোস্তফা কামাল। তাহলে কি তিনিই অমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাটকে? বোর্ড সভাপতি দেশের বাইরে থাকায় জানা যায়নি এ প্রশ্নের উত্তর।
ওদিকে কাল বিসিবির টেকনিক্যাল কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী বছরের মে মাসে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে হোম সিরিজে শুধু দুটি টেস্টই খেলবে বাংলাদেশ দল। নিউজিল্যান্ড এই সিরিজে দুই টেস্টের সঙ্গে ৫টি ওয়ানডেও খেলতে চেয়েছিল।

ম্যারাডোনাকে চেয়েছিল ব্ল্যাকবার্ন

অ্যাস্টন ভিলার কোচ হচ্ছেন—এমন গুঞ্জন বাতাসে উড়ে মিলিয়ে গিয়েছিল হাওয়ায়। ডিয়েগো ম্যারাডোনার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে কোচ হিসেবে অভিষেকের নতুন খবর ছড়াল। ক্লাবের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ইংলিশ দৈনিক মিরর জানিয়েছে, ক্লাবের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ম্যারাডোনাকে নিয়ে আসতে আগ্রহী ক্লাবটির নতুন ভারতীয় মালিক। ম্যারাডোনার সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা নিশ্চিত করেছেন মালিক সংস্থা ভিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান অনুরাধা দেশাই। তবে ওই সময় ফলপ্রসূ কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গত মাসে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী সংস্থা রাও পরিবারের ভিএইচ গ্রুপ ব্ল্যাকবার্নের মালিকানা কিনে নেয়। ক্লাবটির চেহারা পাল্টে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন নতুন মালিক। প্রিমিয়ার লিগে ক্লাবটির পারফরম্যান্স অবশ্য মৌসুমের শুরু থেকেই ছিল উত্থান-পতনে ভরা। ১৭ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ১৩ নম্বরে তাদের অবস্থান। ওয়েবসাইট।
এরই মধ্যে সদ্যই কোচের পদ থেকে ছাঁটাই হয়েছেন স্যাম অ্যালার্ডিস। এরপরই কোচ হিসেবে ম্যারাডোনা আসছেন বলে গুঞ্জন শুরু। ক্লাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, কোচ হিসেবে ম্যারাডোনা আসতে রাজি না হলেও যেকোনোভাবে এই আলোচিত ফুটবল ব্যক্তিত্বকে দলে রাখতে চায় মালিকপক্ষ, ‘ম্যারাডোনাকেই যোগ্য মনে করছে ভিএইচ গ্রুপ। তাঁকে ম্যানেজারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। চাইলে তিনি মহাব্যবস্থাপক এমনকি টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করতে পারেন।’
কদিন আগে ইংল্যান্ড সফর করে যাওয়া ম্যারাডোনা এর আগেও ইংলিশ ফুটবলে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে তাঁর আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল শীর্ষ ক্লাবগুলো। এ খবরের ব্যাপারে আর্জেন্টিনার সাবেক কোচ ম্যারাডোনার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পরশু এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশাই তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা ক্লাব কেনার পরই ম্যারাডোনাকে কোচ হিসেবে ভেবেছিলাম। ওই সময় খুবই প্রাথমিক আলাপও হয়েছিল। কিন্তু এখন বর্তমান কোচই (স্টিভ কিন) এই মৌসুমের বাকিটা সময় দায়িত্ব পালন করবেন। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য নতুন কোচ নিয়োগের প্রশ্নই ওঠে না।’

রোনালদো-জিদানের অন্য যুদ্ধ

রোনালদো খেলেননি। গ্যালারি থেকে সাবেক সতীর্থ ও বন্ধু জিনেদিন জিদানকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন। রোনালদোর উৎসাহদান বৃথা গেছে। জিদান দলকে জেতাতে পারেননি। জেতেনি অলিম্পিয়াকস অল স্টার একাদশও। জিদান-রোনালদো একাদশ আর অলিম্পিয়াকস অল স্টার দলের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জিতেছে আসলে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই।
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অংশ হিসেবে প্রতিবছরই আয়োজন করা হয় এমন একটি ম্যাচের। ইউএনডিপির শুভেচ্ছাদূত জিদান-রোনালদো একাদশের সঙ্গে অন্য যেকোনো একটা দলের এই প্রদর্শনী ম্যাচ থেকে যা আয় হয়, তার সবটাই চলে যায় ইউএনডিপির দারিদ্র্য বিমোচন তহবিলে। পরশু অলিম্পিয়াকসের মাঠ কারাইসকাকিসে হয়ে গেল এ বছরের ম্যাচটি।
টিকিট, স্পনসর এবং টিভি স্বত্ব থেকে এবারের ম্যাচ থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ডলার। এবারের ম্যাচ থেকে আসা টাকাটা ব্যয় করা হবে হাইতির ভূমিকম্প আর পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে।
বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্যের তুলনায় এই ১০ লাখ ডলার কিছুই নয়। তবে ধীরে ধীরে মানুষ দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে এবং একদিন দারিদ্র্যকে জয়ও করা যাবে বলে আশা ফরাসি কিংবদন্তি জিদানের, ‘আমার আশা ম্যাচটি মানুষের মধ্যে এই বোধটা তৈরি করবে, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবাইকে একত্র হতে হবে।’
বিশ্বকাপজয়ী আরেক সাবেক তারকা ব্রাজিলের রোনালদো নিজেকে এমন একটি মহৎ কাজে জড়াতে পেরে গর্বিত। আফসোস তাঁর একটাই, মাঠে নেমে খেলা হলো না। ‘আমি যদিও মাঠে নামতে পারিনি, কিন্তু অলিম্পিয়াকসকে ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই সব খেলোয়াড় এবং সমর্থককে, যারা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এখানে এসেছে’—বলেছেন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক।
এ রকম প্রীতি ম্যাচে ড্রটাই সবচেয়ে ভালো ফল হয়তো। তবে দুই দলই কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবলই খেলেছে। জিদান ৬ মিনিটে একটা গোল করেই ফেলেছিলেন প্রায়। কিন্তু বয়সের কারণেই কিনা গোলরক্ষককে একা পেয়েও ১২ গজ দূর থেকে গোল করতে পারেননি ১৯৯৮ বিশ্বকাপের নায়ক।
তবে ৩ মিনিট পরই জিদান-রোনালদো একাদশকে এগিয়ে দিয়েছিলেন পর্তুগালের রিকার্ডো সা পিন্টো। ১০ মিনিট পর এই পিন্টোই ব্যবধানটাও দ্বিগুণ করেন। তখন মনে হচ্ছিল জিদান-রোনালদো মাঠের লড়াইটাও জিততে যাচ্ছেন। কিন্তু ২৭ মিনিটে মিত্রোগলোর গোল স্কোরলাইন ২-১ করে। ৫০ মিনিটে এই মিত্রোগলোর গোলেই ফেরে সমতা।
এভাবে এগিয়ে গিয়েও জিততে না পারার হতাশা কিন্তু একদমই নেই জিদানের কণ্ঠে। ৭০ মিনিটে যখন মাঠ থেকে নেমে যান, গ্যালারিভর্তি দর্শক উঠে দাঁড়িয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। এর প্রতিদান তিনি দিয়েছেন ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে, ‘আমি এখানে আসা সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

মাজেম্বের গোলিয়াথ-বধ

পুঁচকে ডেভিডের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছিল দৈত্য গোলিয়াথকে। কিন্তু রূপকথা তো আর হররোজ বাস্তবের মাটিতে নেমে আসে না। স্বপ্নও সত্যি হয় সামান্যই। কিন্তু তার পরও তো হয়। যেমন হলো টাউট পুইসান্ট মাজেম্বের বেলায়। আকাঙ্ক্ষা আর বাস্তবতার ব্যবধান মুছে ফেলে কঙ্গোর ক্লাবটি ক্লাব বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটাল পরশু। আবুধাবিতে ‘ডেভিড’ মাজেম্বে ২-০ গোলে ‘গোলিয়াথ’ ইন্টারন্যাসিওনালকে বধ করে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে উঠে গেছে টুর্নামেন্টের ফাইনালে।
ডেভিড-গোলিয়াথের কিংবদন্তি ভালোই জানা আছে মাজেম্বের ক্লাবের চেয়ারম্যান মইস কাতুম্বি চাপওয়ের। পরশু ঐতিহাসিক জয়ের পর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কীভাবে এই গল্প দিয়ে তিনি অনুপ্রাণিত করেছেন তাঁর দলের খেলোয়াড়দের, ‘(খেলার বিরতিতে) আমি ওদের সঙ্গে কথা বলেছি। বলেছি, “দেখো, এটা ব্রাজিল নয়, যেমনটা ওরা বলছে। তোমরাই বরং ওদের চেয়ে ভালো। তোমরা ওদের বধ করতে পারো, যেমনটা বাইবেলে ডেভিড হত্যা করেছিল গোলিয়াথকে”।’ ক্লাব প্রধানের এই বাণী নিশ্চয়ই দারুণ উজ্জীবিত করেছিল পুরো দলকে। গোলশূন্য প্রথমার্ধটা তাই দ্বিতীয়ার্ধে হয়ে গেল ২-০। ফুটবল মানচিত্রে কঙ্গো তেমন কোনো শক্তি নয়। বিশ্বকাপ তো খেলতে পারেইনি, আফ্রিকান নেশনস কাপও জিতেছে মাত্র একবার, সেটিও ১৯৭২ সালে। সেই দেশেরই ক্লাব মাজেম্বে। টানা দ্বিতীয়বার আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগে জিতে টানা দ্বিতীয়বার খেলতে এসেছে ক্লাব বিশ্বকাপে। স্বপ্নের ফাইনালে উঠেছে এবারই।
ক্লাব চেয়ারম্যান কাতুম্বি জানালেন, এই পরিবর্তন তাঁদের শ্রমে-ঘামে ভেজা ফসল, ‘এই দলটা আমি অনেক দিন ধরে তৈরি করেছি। ওরা ১৬ বছর বয়স থেকে খেলছে। আমরা এখন সেটারই ফসল পাচ্ছি।’ রয়টার্স।
ফাইনালে ইন্টার মিলান: ক্লাব বিশ্বকাপ কাল আর কোনো অঘটন দেখেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার সিয়ংনামকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে ফেবারিট ইন্টার মিলান। ফাইনালে আগামী পরশু ইতালিয়ান ক্লাবটির প্রতিপক্ষ কঙ্গোর মাজেম্বে।
ম্যাচের শুরুটাই ফেবারিটের মতো করেছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। তিন মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন সার্বিয়ান মিডফিল্ডার স্টানকোভিচ। ৩২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্জেন্টাইন উইংব্যাক হাভিয়ের জানেত্তি। সিয়ংনাম গোল শোধ দেবে কি, উল্টো ৭৫ মিনিটে খেয়ে বসে আরেকটি গোল। এবারের গোলদাতা আরেক আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার ডিয়েগো মিলিতো।

রেকর্ড জয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

বঙ্গোপসাগরে ট্রলার চালান ফিরোজ হোসেন। এক দিন কাজে না গেলে বেতন কেটে নেওয়ার ভয় আছে তাঁর। তাই আগে থেকেই মালিককে জানিয়ে রেখেছিলেন, বুধবার কাজে যাবেন না, এ দিন বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবল দেখবেন। উখিয়ার মধ্যবয়সী ভদ্রলোক তা দেখতেই এলেন কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়ামে। ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের গোল-উৎসব দেখার পর বাড়ি ফিরলেন প্রাণভরা তৃপ্তি নিয়ে। অম্রার হ্যাটট্রিকে বাংলাদেশ ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিল ভুটানকে। টানা দুই জয়ে সেমিফাইনালও নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের।
এই ভুটানকেই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ৭-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কালও প্রত্যাশিত বড় জয়ই এনে দিলেন সাবিনা, সুইনু প্রুরা।
পুরুষ-মহিলা দুই বিভাগ মিলিয়েই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ফুটবল দলের সবচেয়ে বড় জয় এটি। এর আগে সবচেয়ে বড় জয়টি ছিল ছেলেদের—১৯৮৫ সালে সাফ ফুটবলে। ঢাকায় সেবার বাংলাদেশ পুরুষ দল ৮-০ গোলে হারিয়েছিল মালদ্বীপকে।
প্রথম ম্যাচে গোল পাননি বলেই কি না, দ্বিতীয় ম্যাচে একটু বেশিই সপ্রতিভ দেখা গেল স্ট্রাইকার অম্রাকে। ১৩ মিনিটে গোল-উৎসবের শুরুটাও করলেন তিনি। ১৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল, হ্যাটট্রিক এল ৩০ মিনিটে। সাবিনা খাতুন, সুইনু প্রু ও ফারহানার গোল দুটি করে।
ডিফেন্ডার হয়েও ফারহানা গত এসএ গেমসে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি গোল করেছিলেন। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে রক্ষণদুর্গ থেকে কালও বার কয়েক উঠে গেলেন আক্রমণে, তাতে সফল দিনাজপুরের তরুণী। একসময় মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের মধ্যে গোল করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। যে কারণে প্রথমার্ধে ৬ গোল করার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে পেয়েছে ‘মাত্র’ তিন গোল। কারণটা অবশ্যই গোল করায় অত্যুৎসাহ! যে যেভাবে পেরেছে, গোলে শট করেছে। দুর্বল গোলরক্ষক দর্জি চদেনের হাত ফসকে কোনোটা গোল হয়েছে, কোনোটা গেছে মাঠের বাইরে। উদ্ভ্রান্তের মতো দেখাচ্ছিল ভুটানের গোলরক্ষককে। বাংলাদেশের মেয়েদের গোলের পর গোল করতে দেখে দর্শকেরা পেয়েছে মহা আনন্দ। কখনো হাতে তালি দিয়ে, কখনো মেক্সিকান ওয়েভ তুলে ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ বলে তারা উৎসাহ দিয়েছে খেলোয়াড়দের।
কোচ গোলাম রব্বানির প্রতিক্রিয়ায় বড় জয় আর সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দ মিলেমিশে একাকার, ‘আমার প্রথম লক্ষ্য ছিল জয়, জয় পেয়েছি। সেমিফাইনালও যে নিশ্চিত হয়েছে এটাই আমার স্বস্তি।’ দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টিও জানালেন, ‘ওদের যেভাবে বলেছি, সেভাবেই চেষ্টা করেছে। উন্নতি হয়েছে খেলায়। এখন ভাবনায় ভারতের ম্যাচ।’ আগামীকাল গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত।
বড় ব্যবধানের টানা হারে বিপর্যস্ত ভুটানের কোচ হিরোয়াকি মাতসুয়ামা বললেন, ‘নতুন দল। অভিজ্ঞতা নেই। তাই এমন হার।’
বাংলাদেশ: সাবিনা আক্তার, তৃষ্ণা, ফারহানা, খালেদা (সুইনু চিং), সুরভি, সুইনু (রুপালী), মাইনু, নুবাই (বীথি), জাহানারা, সাবিনা খাতুন, অম্রা।

ভারত ৭: ০ শ্রীলঙ্কা
ভুটানের পর কাল শ্রীলঙ্কা বিধ্বস্ত হলো ভারতের কাছে। ‘এ’ গ্রুপে কাল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারত ৭-০ গোলে হারাল শ্রীলঙ্কাকে। টানা দুই জয়ে উঠে গেল সেমিফাইনালে।
আগের ম্যাচের হ্যাটট্রিক-নায়িকা সাসমিতা কালও করেছেন হ্যাটট্রিক। তাবাবি দুটি, সুপ্রিয়া ও পিঙ্কি করেছেন ১টি করে গোল।
আজকের খেলা: পাকিস্তান-আফগানিস্তান, (২-৩০ মি., কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়াম)

মুক্তিযুদ্ধ- বাংলাদেশ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন by ইত্তেফাকের সম্পাদকীয়

খন বিজয়ের মাস চলছে। ১৯৭১-এর পর থেকে ডিসেম্বর বাংলাদেশের মানুষের কাছে আসে মিশ্র অনুভূতির রেশ ছড়াতে। এ অনুভূতি যুগপৎ আনন্দের ও মহা বেদনার। ১৯৭১-সেতো খুব বেশী দূরের কথা নয়। বছরের হিসেবে মাত্র ৩৯ বছর যা কিনা একটি জাতির বয়সের কাছে নস্যি! আমাদের সেই পাঁচ/ছয় দশক পূর্বের বিক্ষিপ্ত ঘটনা প্রবাহের দিকে দৃষ্টিক্ষেপ করলে কতই না স্মৃতি ভেসে ওঠে মনের পর্দায়!

শিল্প-অর্থনীতি- ক্ষুদ্রঋণ ও বাংলাদেশের দারিদ্র্য by ড. তারেক শামসুর রেহমান

ড. ইউনূস বিতর্কিত হলেন। ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক প্রসিদ্ধি পেয়েছিলেন। পেয়েছিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার। তিনি দারিদ্র্যকে মিউজিয়ামে পাঠাতে চেয়েছেন। তিনি যখন অত্যন্ত জোর ও গর্বের সঙ্গে বলেন, 'বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর দরিদ্র মানুষ বাস করবে না', তখন আমরা আশ্বস্ত হই। তাঁর ক্ষুদ্রঋণের ধারণা নিয়ে বিদেশে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ হচ্ছে, গবেষণা হচ্ছে। এমনকি আমাদের দেশেও বিষয়টি একাডেমিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

শিল্প-অর্থনীতি- শেয়ারবাজারে লঙ্কাকাণ্ড by সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ

ডিসেম্বর ডিএসইতে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেল। শেয়ার ব্যবসা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ডিএসইর সাধারণ সূচক ৫৪৬ পয়েন্টে নেমে যায়। বলাবাহুল্য, প্রায় সব কম্পানির শেয়ারের দামই পড়তে থাকে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এরপর রাস্তা অবরোধ, মিছিল, গাড়ি ভাঙচুর_এসব ঘটনা ঘটে। এসইসি ভবনের সামনে গিয়েও বিক্ষোভ দেখানো হয়। বলাবাহুল্য, ডিএসইর সামনেও অনুরূপ বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে। এসইসির দুটি সার্কুলার জারিকে কেন্দ্র করে এই পতন হয় বলে জানা গেছে।