Wednesday, July 31, 2024
মুখে লাল কাপড় বেঁধে জাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মিছিল: হত্যাকাণ্ডকে ‘জুলাই ম্যাসাকার’ ঘোষণা
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে পুরাতন ফজিলাতুন্নেসা হল সংলগ্ন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় নিহতদের স্মরণে নবনির্মিত ছাত্র-জনতা শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে যায়। পরে সেখানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে সেখান থেকে পুনরায় মিছিল নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একই পথে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশে দেশব্যাপী কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষদের হত্যা, তাদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও আটকের ঘটনার প্রতিবাদ জানান শিক্ষকরা। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার অন্যতম সমন্বয়ক আরিফ সোহেলকে ‘মিথ্যা মামলায়’ রিমান্ড মঞ্জুর করার ঘটনার নিন্দা জানান।
কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিনে হওয়া হত্যাকে ‘জুলাই গণহত্যা’ নামে অভিহিত করেন দর্শন বিভাগের মাহমুদা আকন্দ। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের দায় রাষ্ট্র আজও স্বীকার করেনি। অন্যদিকে তারা ব্যস্ত কীভাবে এর সবকিছু ধামাচাপা দেয়া যায়। রাষ্ট্র আজ মেকি কান্না কাঁদছে। রাষ্ট্র শোক ঘোষণা করেছে অথচ এখনো শহীদের প্রকৃত সংখ্যা মানতে তাদের কষ্ট। প্রকৃত শহীদদের শনাক্ত করতে রাষ্ট্রের এখনো টনক নড়েনি। এখনো তার টনক নড়ছে না, এখনো রাষ্ট্রের মনে কোনো মায়া হচ্ছে না। আমি রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করতে চাই, যারা এই আন্দোলনকে উন্নয়নের জন্য সহিংস বলছে, তারা আসলে এই উন্নয়ন কাদের জন্য করছে? যাদের জন্য উন্নয়ন করছেন, তারাই রাস্তায় গুলি খেয়ে মরছে অথচ আপনারা নমনীয় হচ্ছেন না।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, দুঃশাসন ও স্বৈরাচারী মন-মানসিকতার দুঃশাসক যখন রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতায় থাকে, তার পরিপূর্ণ নকশা ও বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যখন তাদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নামে, তখন তাদের প্রতিরোধ করতে রাষ্ট্রের বাহিনী, নানান যন্ত্র ও তাদের মদদপুষ্ট সংগঠনগুলো হামলা করেছে। এখন আবার সরকার শিক্ষার্থীদের নির্বিচারে আটক করছে, জেলে নিয়ে নির্যাতন করছে। ৭১’র কালো রাতের যে ভয়াবহ অবস্থা ছিল, তা আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি।
ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার বলেন, আন্দোলকারী শিক্ষার্থীদের বেশকিছু স্লোগানে আমার দুঃখ হচ্ছিল কারণ কিছু স্লোগানের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারছিলাম না। মেনে নিতে পাছিলাম না ‘শেখ হাসিনা স্বৈরাচার’, ‘শেখ হাসিনা বাংলা ছাড়’ এই স্লোগান। আজ বলতেই হচ্ছে ৫২’র ভাষা আন্দোলন দেখিনি, ’৬৯ এর আন্দোলন দেখার মতো অবস্থা ছিল না। ৭১’র সামান্য বুঝেছি। আজকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় স্লোগান দেখে প্রশ্ন জেগেছে তাহলে কি ৯০’র গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে গেছে। দুঃখের সঙ্গে সেই দায় নিয়েই বলতে হচ্ছে সকল রাজনীতিবিদরা স্পষ্টভাবে একটি বার্তা বুঝে নিন সংখ্যা কোনো বিষয় নয়। যখন একটি শিশুর লাশ পড়ে যায় তখন সকল সচেতন মানুষ একত্রিত হয়ে যায়। আজকে যে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করেছেন এগুলোর সমাধান করে নিজেদের দায় স্বীকার করে শিক্ষার্থীর দাবি মেনে নিয়ে নিজেরাও বাঁচুন আমাদেরকেও বাঁচান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার সমন্বয়ক তৌহিদ সিয়াম বলেন, গত দু’দিন আগে ৬ জন সমন্বয়কারীকে ধরে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে জোরপূর্বক জিম্মি করে আন্দোলন প্রত্যাহারের বক্তব্য আদায় করা হয়। এর প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যাত হতে দেখেছি। এ আন্দোলনটি ছাত্রসমাজের আন্দোলন। সমন্বয়কারীরা ছাত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং তাদের কোনো কথা থাকলে ছাত্রদের কাছে এসে বলতে হবে। ডিবি কার্যালয়ে থেকে কোনো কথা বললে সেটি ছাত্রসমাজ গ্রহণ করবে না। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, যে রাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আন্দোলন চলাকালে শহীদদের তথা যাদের জন্য শোক ঘোষণা করেছে তাদের সংখ্যা স্পষ্ট করে বলতে পারছে না এবং যে হত্যায় রাষ্ট্র সরাসরি জড়িত সেই রাষ্ট্রের শোক ছাত্রসমাজ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। শহীদ ভাইদের হত্যার বিচার ও ৯ দফা দাবিতে মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছি। দৃড়ভাবে বলতে চাই, আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। একইসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলেনের জাবি শাখার সমন্বয়ক আরিফ সোহেলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমার কলিজার টুকরাকে কে গুলি মারলো? by হাছান গাজী
গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে এভাবেই হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন ঢাকায় গুলিতে নিহত কাদির হোসেন সোহাগের মা নাছিমা বেগম। গত ২০শে জুলাই শনিবার রাজধানীর গোপীবাগ এলাকায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সময় রাত ৮টার দিকে গুলিবিদ্ধ হয় সোহাগ (২৪)। কয়েকজন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৩টার পর তার মৃত্যু হয়। নিহত সোহাগ দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়নের সূর্যপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। সে ঢাকার গোপীবাগ এলাকায় একটি মেসে থাকতো। পরদিন রোববার সকাল ১১টার দিকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি সূর্যপুরে নিয়ে আসে। পরে দুপুরে জানাজা শেষে তাকে বাড়ির পাশে একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মা নাছিমা বেগম ছেলে সোহাগের ছবি দেখিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ২২ বছর ধরে স্বামী নেই, সোহাগের যখন তিন বছর তখন আমার স্বামী ঢাকা থেকে নিখোঁজ হয়, আর ফিরে আসেনি। সে এখনও বেঁচে আছে না মরে গেছে আমরা কেউ জানি না। তবুও আমরা ধরে নিছি তিনি আর বেঁচে নেই। স্বামী নিখোঁজের পর সংসারের হাল ধরতে সোহাগ ও দেড় বছরের সহিদুল ইসলামকে নিয়ে ঢাকায় মানুষের বাসায় বাসায় কাজ করেছি। পাঁচ বছর আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি গ্রামের বাড়িতে চলে আসি। সোহাগ লেখাপড়া বন্ধ করে সংসারের হাল ধরে। ছোট ছেলে সহিদুল মাদ্রাসায় ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। অভাব অনটনে তার লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে যায়, সে এখন এক বই বাঁধাই কোম্পানিতে কাজ করে। আমার চিকিৎসা ও সংসারের হাল ধরতে সোহাগ একটি কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিতে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করতো। গত ১০/১২ দিন আগে তার চাকরিটা চলে যায়। পরে নতুন আরেকটি কোম্পানিতে চাকরির কথা হয়। ১৫ই জুলাই বাড়িতে এসে কাগজপত্র নিয়ে নতুন কোম্পানিতে জমা দেয়। এরপর ৪/৫দিনের মধ্যে নতুন চাকরিতে যোগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোববার আমার ছেলের বুকে গুলি লাগে। আমি এখন কি নিয়ে বাঁচবো? আমার ছেলে শেষবার আমাকে ফোন করে বলেছিল, ‘মা ঢাকায় অনেক গোলাগুলি হচ্ছে, অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে’ এ কথা শুনে আমার বুক কেঁপে ওঠে, আমি বলি বাবারে তুই রুম থেকে বের হইস না, না মা আমরা সব রুমমেট এক সাথে আছি বের হইনি। তবে মা মেসে কোনো খাবার নেই, আমার কাছেও কোনো টাকা নেই, তুমি যদি পারো আমার বিকাশে ৫০০ টাকা দিও। আর তুমি ঠিকমতো ওষুধগুলো খাইও। পরে আমি আমার ছেলের নম্বরে ৫০০ টাকা পাঠাই। ওই টাকা নিয়ে সন্ধ্যায় নাস্তা আনতে বের হয়। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার কার কাছে চাইবো। কেউ কি আমার ছেলেকে ফিরায়ে দিতে পারবে বলে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন মা নাছিমা বেগম।
সোহাগের ছোট ভাই সহিদুল ইসলাম বলেন, ভাই গুলি খাওয়ার পর তার বন্ধুরা আমাকে ফোনে জানায়। আমি রাত ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই, গিয়ে দেখি ভাইয়ের বুকে ব্যান্ডেজ করা। আমাকে দেখে ভাই বলে, তুই এত রাতে এখানে কেন আসছিস। তুই মা’কে দেখে রাখিস। এই কথা বলে রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে ভাই মারা যায়। ভাই একমাত্র আমাদের সংসার চালাতো। বাবা ও ভাই হারিয়ে আমরা আজ নিঃস্ব হয়ে গেলাম।
নিহত সোহাগের চাচা এখলাছুর রহমান শানিক বলেন, ২২ বছর আগে সোহগের বাবা হারিয়ে যাওয়ার পর তার মা বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের বড় করেছেন। তার মা অসুস্থ হয়ে গেলে তার চিকিৎসার খরচ ও সংসারের হাল ধরে সোহাগ। নতুন একটি কোম্পানিতে চাকরির কথা চলছিল তার। দুই একদিনের মধ্যে সেখানে যোগ দেয়ার কথা ছিল। সেটা আর হলো না। ছোটবেলা থেকে বাবার আদর পায়নি ছেলেটা, অভাব-অনটনে বড় হইছে। ধরতে গেলে ওরা এতিম ছিল। একটা গুলি এই পরিবারটাকে একেবারে পথে বসিয়ে দিলো।
ভানী ইউপি চেয়ারম্যান হাজী জালাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ছেলেটা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। সংসারটা সেই চালাত। ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সে মারা যায়। এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমি পরিষদ থেকে তার মা’কে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেবো।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও নিগার সুলতানা বলেন, এটি একটি মর্মান্তিক মৃত্যু। তার পুরো পরিবার সম্পর্কে আমি খোঁজ-খবর রাখছি। সরকারিভাবে সোহাগের মা’কে সাহায্য- সহযোগিতা করা হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ
ডুজাররিকের বিবৃতির পর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর। এ সময় একজন সাংবাদিক তাকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিতে থাকেন। তাতে বিরক্তি প্রকাশ করেন স্টিফেন ডুজাররিক। এর আগের দিন এক ব্রিফিংয়েও ওই সাংবাদিককে ডুজাররিক তার প্রশ্নের মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছিলেন। ডুজাররিক তাকে বলেছিলেন, আমি বক্তব্য শুনতে চাই না। আপনার প্রশ্ন করুন। সোমবারও একই রকম অবস্থার অবতারণা হয়। ওই সাংবাদিককে থামিয়ে দেন তিনি। বলেন, আমি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানি। আমি আপনাকে ১০ সেকেন্ডও বক্তব্য দেয়ার জন্য দেবো না। আমি প্রশ্ন শুনতে চাই। ওই সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল- বাংলাদেশ সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সব হত্যাকাণ্ড এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ন্যায়বিচার করা হবে পক্ষপাতিত্বহীন এবং বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে। বাংলাদেশ আহ্বান…
ওই সাংবাদিকের প্রশ্ন শেষ না হতেই তাকে থামিয়ে দেন ডুজাররিক। তিনি বলেন, নো, স্যার। আমি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানি। আমি আপনাকে বক্তব্য দেয়ার জন্য ১০ সেকেন্ডও সময় দেবো না। প্রশ্ন চাই। এ সময় ওই সাংবাদিক বলেন, এসব পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
জবাবে স্টিফেন ডুজাররিক বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষণ হলো ঠিক দুই মিনিট আগে যেটা বলেছি সেটা। তাতে সব রকম সহিংস ঘটনার যথাযথ তদন্ত হতে হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং পক্ষপাতিত্বহীনভাবে। এসব সহিংসতায় জড়িতদের সবাইকে জবাবদিহিতায় আনতে হবে। এ পর্যায়ে ওই সাংবাদিক আবার জানতে চান- আমার আরও জানার আছে। সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর ঢাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের ভয়াবহ ধ্বংসলীলার বিষয় প্রকাশিত হয়েছে। এ রকম একটি ভয়াবহ ক্ষতির বিষয়ে বাংলাদেশকে কী কোনো সহায়তা দেবে জাতিসংঘ? জবাবে ডুজাররিক বলেন, সংকটের সময় যেকোনো দেশকে আমরা সবসময় সংলাপে সহায়তা করতে প্রস্তুত। বিশ্বের কোথাও প্রতিবাদ বিক্ষোভের সময় যেসব মানুষ দুঃখজনকভাবে তাদের সম্পদ হারান অথবা পরিবারের সদস্যদের হারান- তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কোনো স্কিমের সঙ্গে জাতিসংঘ জড়িত নয়। আপনাকে ধন্যবাদ।
এ পর্যায়ে অন্য এক সাংবাদিক জানতে চান- আপনি একটু আগে যে বিবৃতি দিয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ। বাংলাদেশ ইস্যুতে আমার তিনটি প্রশ্ন আছে। তা খুব দ্রুত হবে। বাংলাদেশে তরুণ নিরপরাধ জনগণের বিরুদ্ধে গুলি করে এবং তাদেরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জোরপূর্বক বিবৃতি দেয়ানোর কূটকৌশল (উইচ হান্ট) চালাচ্ছে আইনপ্রয়োগকারী এজেন্সি। এতে তাদের ভূমিকার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের পর্যবেক্ষণ কী? জবাবে স্টিফেন ডুজাররিক বলেন- মুশফিক (মুশফিকুল ফজল আনসারী) আমি পুনরাবৃত্তি করছি। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন- বাংলাদেশে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট আছে। এসব রিপোর্টে উদ্বেগ জানিয়েছেন মহাসচিব। এসব নিয়ম লঙ্ঘনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে জবাবদিহিতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন কী? মুশফিক বলেন- এই একই বাহিনী অন্য দেশগুলোতে থাকা জাতিসংঘের পতাকাতলে এসব লোকদের নিয়ে তিনি (জাতিসংঘ মহাসচিব) স্বস্তি প্রকাশ করেন? এ প্রশ্নের জবাবে স্টিফেন ডুজাররিক বলেন, এটা পরিষ্কার যে, আমরা বাংলাদেশের ওপর এবং বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের ওপর নির্ভর করি। তারা মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এবং এর সম্মানার্থে শান্তিরক্ষী মিশনগুলোতে কাজ করে চলেছেন। আপনার শেষ প্রশ্ন কী?
মুশফিক বলেন- জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান বলেছেন, তার অফিস তাদের (বাংলাদেশের) তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত। মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো, আন্তর্জাতিক বিজ্ঞজন এবং নোবেল বিজয়ীরা পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়ে আসছেন। এর প্রেক্ষিতে মহাসচিবকে ব্যবস্থা নিতে কতোটা তথ্যপ্রমাণ প্রয়োজন হবে? এ প্রশ্নের জবাবে ডুজাররিক বলেন, ম্যান্ডেন্টের অধীনে সবসময় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত জাতিসংঘ মহাসচিব।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘রক্ত লাল’ প্রতিবাদ দেশ জুড়ে
ওদিকে আজ সারাদেশের আদালত প্রাঙ্গণে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীরা। গতকাল সকাল থেকেই ফেসবুকে লাল রঙের ডিপিতে সয়লাব হয়ে পড়ে। অনেকে নিজেদের প্রোফাইল লাল রঙের ছবিতে পরিবর্তন করেছেন। একইসঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন নানা মতও। লাল কাপড়ে মুখ বেঁধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গানের মিছিল বের করেছে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। অভিভাবকরাও নেমেছেন লাল প্ল্যাকার্ড হাতে।
প্রোফাইল পিক পরিবর্তন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুল আলম চৌধুরী লিখেছেন, এত মানুষের মৃত্যুর পরও কেন মানুষ কালোকে বেছে না নিয়ে লালকে বেছে নিলো? আপনাদের ধ্বংসযজ্ঞ, ষড়যন্ত্র, তৃতীয় শক্তি, পানি ছিটানো, গুজব রোধ, নিরাপত্তা হেফাজত এসব তত্ত্ব আর ন্যারেটিভের বিরুদ্ধে এটা যে কতো বড় শক্ত প্রতিবাদ, সেটা আপনাদের মতো বড় বড় ন্যারেটিভের জন্মদাতা ও প্রচারকের বোঝার ক্ষমতা নেই। কালো যেখানে শোকের প্রতীক, লাল সেখানে বিপ্লব আর ভালোবাসার রং। লাল শৌর্যবীর্য আর সাহসিকতার প্রতীক। শিক্ষার্থীদের এ ক্যাম্পেইনে সমর্থন দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও ফেসবুক প্রোফাইলে লাল ফ্রেম জুড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নরওয়ের অসলো ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষক মুবাশ্বার হাসান নিজের প্রোফাইল পিকচার লাল রঙে পরিবর্তন করেছেন যার মধ্যে একটি প্রতীকী ছবি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গণতন্ত্র লেখা আকৃতির একটি মানবদেহকে হামলা করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী টিপুর লাল প্রোফাইল পিকচারে লেখা, আহারে মৃত্যু!! হায়রে স্বাধীনতা!! বিবিসি’র সাংবাদিক আকবর হোসেন লাল রঙে রাঙিয়ে লিখেছেন, পাঁচ বছর পর কাভার ফটো পরিবর্তন করলাম। লাকী ইসলাম লিখেছেন, তোমাদের শোক আর অভিনয় দুটোই ভাগাড়ে মিলাক। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রীয়াজও তার প্রোফাইল পিকচার লাল রঙে পরিবর্তন করেছেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমানও তার কাভার ফটো লাল রঙে রাঙিয়েছেন। হ্যাশট্যাগ দিয়েছেন, রেড জুলাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কামরুল হাসান মামুন লেখেছেন, ফুলগুলো সব লাল হলো ক্যান? লাল রঙের প্রোফাইল পরিবর্তনের এ স্রোতে যুক্ত হয়েছেন আইমান সাদিক, মুনজেরিন শহীদের মতো সোশ্যাল ইনফুলেয়েন্সাররাও। এদিকে শিক্ষার্থীদের সমর্থন দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রাজপথে নেমেছেন। এ সময় তারা লাল রঙের কাপড়ে চোখ ও মুখ বেঁধে দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের মহাসড়কে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে প্রায় ২০০ শিক্ষক অংশ নেন। সমাবেশে শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, অধ্যাপক রায়হানা শামস ইসলাম, প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ফারুকী, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ইসমত আরা, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ। এ ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও লাল কাপড়ে মুখ বেঁধে মৌন মিছিল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় নিহতদের স্মরণে নবনির্মিত ছাত্র-জনতা শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে যায়। পরে সেখানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সেখান থেকে পুনরায় মিছিল নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একই পথে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষে হয়। সমাবেশে শিক্ষকরা দেশব্যাপী কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষদের হত্যা, তাদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও আটকের ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার অন্যতম সমন্বয়ক আরিফ সোহেলকে ‘মিথ্যা মামলায়’ রিমান্ড মঞ্জুর করার ঘটনার নিন্দা জানান। দর্শন বিভাগের প্রফেসর আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, দুঃশাসন ও স্বৈরাচারী মন-মানসিকতার দুঃশাসক যখন রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতায় থাকে, তার পরিপূর্ণ নকশা ও বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যখন তাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নামে, তখন তাদের প্রতিরোধ করতে রাষ্ট্রের বাহিনী, নানান যন্ত্র ও তাদের মদতপুষ্ট সংগঠনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের আহত করেছে। এখন আবার সরকার শিক্ষার্থীদের নির্বিচারে আটক করছে, জেলে নিয়ে নির্যাতন করছে। ৭১’র কাল রাতের যে ভয়াবহ অবস্থা ছিল, তা আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থীদের হত্যার বিচার এবং শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার-হয়রানি বন্ধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষক এতে অংশ নেন। সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে মানববন্ধন করেন তারা। সেখানে অনেকের হাতে লাল প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজ উদ্যোগে চলমান আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এই কর্মসূচি আয়োজন করেছেন। কর্মসূচিতে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি অনুষদের সব বিভাগের প্রায় ৫০ জন শিক্ষক অংশ নেন। তাদের হাতে ‘নিরস্ত্র ছাত্র হত্যার বিচার চাই’, ‘দমন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা’, ‘নিরস্ত্র ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে’, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে’ ও ‘শিক্ষার্থীদের পাশে শিক্ষক’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল।
প্রতিবাদী গানে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ-মিছিলে পুলিশের বাধা: এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ছাত্র-জনতা হত্যা, নির্যাতন, গণগ্রেপ্তার, হামলা-মামলার প্রতিবাদে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিবাদী গানের মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বিকাল ৩টার দিকে গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে অবস্থান নেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা অনেকে লাল কাপড়ে মুখ বেঁধে নেন। এ ছাড়াও লাল প্ল্যাকার্ড গ্রহণ করেন। পরে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বাহাদুর শাহ পার্কের দিকে গানের মিছিল নিতে চাইলে জিপিও মোড়েই বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে সংগঠনের নেতাকর্মীদের। তারা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন। পুলিশি বাধায় বাহাদুর শাহ পার্ক অভিমুখে যেতে না পারলেও জিপিও মোড়ের খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদী গান করেন শিল্পীরা। এতে জিপিও থেকে গোলাপশাহ মাজার অভিমুখী সড়কটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিপরীত সড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। প্রতিবাদী এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্লোগান, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন তারা। এসব প্ল্যাকার্ডে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীদের ছবিসহ স্মরণ করা হয়। এ সময় তাদের সরকারবিরোধী এবং কোটা আন্দোলনের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। প্রতিবাদী গান ও স্লোগানের ফাঁকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন উদীচীর সহ-সভাপতি জামশেদ আহমেদ তপন। আগামী শুক্রবার বিকাল ৩টায় প্রেস ক্লাব থেকে শহীদ মিনার অভিমুখে শোক মিছিল করার ঘোষণা দেন তিনি। জামশেদ আহমেদ তপন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে বাহাদুর শাহ পার্কের দিকে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশের বাধার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। সেজন্য আমরা সড়কেই অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছি। আমরা থেমে থাকবো না। যেখানেই বাধা আসবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। জোরজবরদস্তি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার সরকার এতগুলো প্রাণ কেড়ে নিলো, এই সরকারকে আমরা পতন ঘটাবোই। আমাদের লাঠি, গুলি, টিয়ারগ্যাসের মধ্যদিয়ে দমানো যাবে না। আমরা বাংলাদেশের শিল্পী সমাজ চেতনার তাগিদে, প্রাণের তাগিদে আজ এখানে কাঁদতে এসেছি। আমাদের কি কান্না করারও সুযোগ নাই? হাহাকার করার সুযোগ নেই? আজকে ঘরে ঘরে কান্না হচ্ছে। ঘরে ঘরে মানুষ ট্রমাক্রান্ত। ঘুমাতে পারছে না। সেই মানুষকে আমরা সাহস দিতে চাই। তোমাদের সন্তানরা গেছে। কিন্তু আমরা বেঁচে আছি। আমাদের সবার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই স্বৈরতন্ত্রকে আমরা উৎখাত করবো।
গণসংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, এই হত্যাকাণ্ড গণহত্যার শামিল। এরপরে শেখ হাসিনার আর ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত, ক্ষমতা থেকে অপসারণ হওয়া না পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন থামবে না। এদিন বিকাল ৫টা ২০ পর্যন্ত ২ ঘণ্টা জিপিও মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী, দেশত্মবোধক, বিদ্রোহী গান ও বিভিন্ন স্লোগান দেন শিল্পীরা। পরে একটি র্যালি করে পুরানা পল্টন মোড় দিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন। প্রতিবাদ সমাবেশে কণ্ঠশিল্পী ও মানবাধিকার কর্মী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান, কবি, লেখক ও গবেষক হাসান ফখরি, সাংস্কৃতিক কর্মী কাকলি পারভীনসহ বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নাগরিক সমাজের হুঁশিয়ারি
ড. ইফতেখারুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, ইতিহাসের ১৯৫২, ১৯৬৯, ৭১ ও স্বাধীনতা পরবর্তীতে তরুণ প্রজন্মরাই এগিয়েছিল। আজকে কোটা বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণরাই এগিয়ে এসেছে। ইতিহাসই বলে দেয়, তরুণ-শিক্ষার্থীরা হচ্ছে- অজেয় শক্তি। আমরা আশা করেছিলাম সেটি সরকার বিবেচনায় নেবে। কিন্তু তরুণদের ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্নভাবে দেখা হয়েছে। আন্দোলন ঘিরে সবকিছুর দায় সরকারকে নিতে হবে।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, আমরা ডিবি কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাদের আটক করে আনা হয়েছে, ধরে নেয়া হয়েছে, সেটা বন্ধ করা ও তাদের যদি নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া না হয়, তাহলে বাংলাদেশের নাগরিকদের পক্ষ থেকে আরও কঠোর আন্দোলনে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়বো। তিনি বলেন, আজই ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেই কর্মসূচি স্থগিত করে সভা থেকে এই আল্টিমেটাম দেয়া হলো। অনুষ্ঠানে ডিবি প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারেন, এমন ধারণা থেকে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ডিবি প্রতিনিধি যারা আছেন, আপনারা আপনাদের অফিসকে আমাদের এই বক্তব্য জানাবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমি ঘুমাতে পারি না। কালকে ফোন এসেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধরে নিয়ে গেছে ভাটারা থানা পুলিশ। অত্যাচার করা হয়েছে। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একটা জায়গায় ব্লক রেইড করা হয়েছে। কারফিউ দিয়ে হেলিকপ্টারের আলো ফেলে চারদিকে ঘিরে দেশের সাধারণ শিক্ষার্থী, তরুণ-কিশোরদের গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে গায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে কি না। তিনি বলেন, আমি ঘুমাতে পারি না, কারণ যখন আমি শহীদ মুগ্ধের গল্প পড়ি। যে ছেলেটি আন্দোলনে গিয়েছিল বিস্কুট আর পানি দেয়ার জন্য। সবাইকে বলছিল কারও পানি লাগবে কি না। এ রকম একটা ছেলেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমি ঘুমাতে পারি না, যখন দেখি টিয়ারগ্যাস বাসায় ঢুকছে সেটি বন্ধ করতে গিয়ে তখন ১১ বছরের ছেলেটিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ছয় বছরের শিশু মারা গেছে। চার বছরের শিশু বারান্দায় মারা গেছে। শিশু-কিশোরদের হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, একটা বর্ণনাও বাড়িয়ে বলছি না, ২৬৭ জন মারা গেছে। কালকে একটা দোকানে জিনিস কিনতে গিয়ে শুনছিলাম, স্যার হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, আমরা বিশ্বাস করি, কিন্তু আমরা এই সরকারকে বিশ্বাস করতে পারছি না।
ঢাবি’র এই অধ্যাপক বলেন, আজকে যখন এইরকম হত্যাকাণ্ডের ক্ষত আমাদের বুকে, তখন দেশের প্রতিটি অঞ্চলে গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে, তখন আমাদের মনে প্রশ্ন উঠছে, এই সরকার কি তরুণ-ছাত্র-যুবকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে? এটা কি কোনো অধিকৃত ভূমি, এটা কি গাজা স্ট্রিট? এটা কি কাশ্মীর? এই দেশে যাদের গায়ে পুলিশের পোশাক দেখছি, তারা কি ভিন্ন দেশি বাহিনী? এরা কি আমাদের ট্যাক্সের বিনিময়ে চলে না? এরা কি আমাদের অর্থে লালিত না, এই অস্ত্র কি আমাদের ট্যাক্সের টাকায় কেনা না?
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা নাকি আপনি বোঝেন! দুঃখিত, আমার কাছে মনে হয় স্বজন হারানোর বেদনা আপনি বোঝেন, তবে সেটি নিজেরটা। নইলে এই শত শত মানুষকে যারা হত্যা করেছে, ৭০/৮০ জন শিশু-কিশোর-ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে তাদের বিচার করা হয়নি, ধরেননি।
আসিফ নজরুল বলেন, আজকে ছয়টা শিশুর ছবি যখন বের হয়, ফেসবুকে দেয়া হয়, বর্তমান সরকারে যারা আছেন, তাদের কারও নাম নিচ্ছি না। আপনাদের বুকে তো কোনো ক্রন্দন দেখি না, কষ্ট দেখি না। সারাক্ষণ স্থাপনা স্থাপনা স্থাপনা কষ্ট। এই সব স্থাপনা তো আমাদের টাকায় করা। আমরা কষ্ট পাবো, যন্ত্রণায় ভুগবো। আপনারা তো মেট্রোরেলে চড়েন না। আপনারা তো রাস্তায় যাবার সময় মানুষকে বেআইনিভাবে আটকে রাখেন। আজকে এই ছয়টা ফুল যে ঝরে গেছে, ১৯ অপ্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ মারা গেছে, বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। একটা মাকে দেখলাম কাঁদতে কাঁদতে রাস্তায় আছড়ে পড়ছে, আমার ছেলেটা তো কোনো আন্দোলনে ছিল না। কিন্তু বাজার করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে। এই সরকার কি সমস্ত তরুণকে গ্রেপ্তার করবে?
আসিফ নজরুল বলেন, আজকে ৭০-৮০ বছরের মন্ত্রীরা, ছাত্রদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে। আমাদের তরুণ সমাজের একটা অংশকে ক্রীতদাস, আরেকটা অংশকে খুনি বানানো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াতে যারা সরাসরি জড়িত শিক্ষার্থীরা তাদের বিচার চেয়েছে। শিক্ষার্থীরা তো সরকার পতনের ডাক দেয়নি, চায়নি নতুন নির্বাচন। তাহলে মানছেন না কেন? নিজে যদি খুনি না হন তাহলে খুনিদের বিচার কেন করছেন না? সমস্যা কি? তিনি বলেন, আজকে আবু সাঈদের বুকে গুলি করে হত্যা করার পর এজহারে লেখা হয়েছে আন্দোলনকারীদের ইটপাটকেলে মারা গেছে। ফাজলামি করেন আপনারা? আমাদের কিশোর ছাত্ররা এখন সাহসের নাম। আমরাও আর অত্যাচারীর অত্যাচারকে ভয় পাই না। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। কোনো ছাড় নাই। তিনি আরও বলেন, আজকে শোক দিবস পালন করেন। জাতির সঙ্গে রসিকতা করেন? নাশকতার নামে ১০ হাজার গ্রেপ্তার করেছেন। আড়াই লাখ আসামি। হত্যা মামলায় কতোজনকে গ্রেপ্তার করেছেন? আজকে পত্রিকার ফুটেজে দেখেছি, ছাত্রলীগ, যুবলীগের হাতে অস্ত্র। ইউনিফর্ম পরা পুলিশ। সবাই চিহ্নিত। জ্বলন্ত প্রমাণ এরপরেও তো কাউকে দেখিনি গ্রেপ্তার করতে? নাশকতা কারা করেছে আমরা তো এখনো প্রমাণ পাইনি। অথচ হাজার হাজার মানুষ গ্রেপ্তার করে ফেলেছেন। যেটার প্রমাণ রয়েছে, সেটির জন্য কাউকে ধরেননি।
নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা ও মানবাধিকারকর্মী শিরিন হক বলেন, আন্দোলনে আহত সমন্বয়করা হাসপাতালে ভর্তি ছিল তাদের তুলে আনা হয়েছে। তারা কি হাসপাতালে নিরাপদ ছিল না? আপনারা কিসের নিরাপত্তা দিচ্ছেন? এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম ইন বাংলাদেশের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, গত ১৬ই জুলাই থেকে যে নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে ১০০ বছরের ইতিহাসে এই উপমহাদেশে এমন নজির নাই। ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে বলছি, হানাদার বাহিনী যেভাবে নির্মম এবং নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে, আমরা কয়েকদিন তেমন নির্যাতন দেখেছি। এমন বাংলাদেশ দেখার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে অনেক অন্যায়-অনাচার মুখ বুঝে সহ্য করেছি। এনাফ ইজ এনাফ। এই কথা বলার সময়ও অনেক আগে পার হয়ে গিয়েছে। এখন আমরা একটা ভিন্ন সময়ে চলে এসেছি। যখন দেখছি আমাদের সন্তানদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, আমাদেরই ট্যাক্সের টাকায় কেনা অস্ত্র দিয়ে। আমাদের নীরবতার সীমা অতিক্রম হয়ে গেছে। আমি অভিভাবকদের হয়ে এটুকুই বলবো। সারা বাংলাদেশে দল-মতের যত অভিভাবক আছেন, আজকে তাদের রুখে দাঁড়ানোর দিন। শুধু এই কথাটি বলার জন্য যে, এভাবে আমাদের সন্তানদের হত্যা, গ্রেপ্তার এবং নির্যাতন করা সহ্য করবো না। ওরা আমাদের ভবিষ্যৎ। আমরা যা পারিনি, তা ওরা করবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়াল আছে। সহজে কেউ প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু গেট খুলে বহিরাগতদের এনে আক্রমণ করেছে একদল। শিক্ষকরা আক্রান্ত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বাঁচাতে চেষ্টা করেছে। শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ না করার জন্য অনুরোধ করেছেন। সিন্ডিকেট তা শোনেনি। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো প্রশাসন ছিল না। তিনি বলেন, সাবেক ছাত্ররা হল দখল করে থাকে। ফলে ছয়জন থাকতে পারে এমন রুমে থাকছে নিয়মিত ২০ জন ছাত্র। অনেক বছর ধরে স্বৈরাচারী আচরণ হয়েছে। আমরা ২০১৫ সাল থেকে বলে আসছি। প্রশাসনের কাছে গিয়েছি। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। ফলে আজকের আন্দোলন শুধু কোটা বিরোধী আন্দোলন বলছে না ছাত্ররা, ছাত্ররা বলছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৈষম্য দূর করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন রাতে তুলে নেয়া হচ্ছে। যখন গুলি হয়েছে তখন কিছু করতে পারেনি। এখন তুলে নেয়া হচ্ছে, আমরা কিছু করতে পারছি না। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। হাসপাতালে গোয়েন্দারা খবর নিচ্ছে। আহতরা চিকিৎসা না নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আবু সাঈদের মামলা থেকে বোঝা যায় কতোটা মিথ্যাচার করা হচ্ছে। এই আন্দোলনকে ক্রিমিনাল অ্যাসপেক্ট থেকে বের করতে ছাত্র, শিক্ষক, নাগরিকদের পাশে থাকতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো শিক্ষার্থীদের জায়গা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজিবি, র্যাব ইত্যাদি চলে আসলো। আর শিক্ষার্থীদেরকে ৬টার মধ্যে হল ছাড়তে বলা হলো। তার আগে হঠাৎ করেই ৩টার দিকে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হলো। তিনি বলেন, আবু সাঈদ যে ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল, আমার মনে হয় সে কখনো ভাবতেই পারেনি আমার দেশের পুলিশ গুলি করবে। এরপর ছবি ও ভিডিও থাকার পরও এফআইআরে যা লেখা হলো তা আপনাদের সবারই জানা।
১১ দফা দাবি:
কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলি চালানো কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার না করে অপরাধীকে খুঁজে বেড়ানো এবং ধরিয়ে দেয়ার আহ্বানকে উপহাস হিসেবে দেখছেন বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ। তারা ১১ দফা দাবি জানিয়ে বলেছেন, প্রতিটি হতাহতের ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্ত্র ব্যবহার ও বলপ্রয়োগের ঘটনা জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত হতে হবে। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
১১ দফা দাবির মধ্যে আছে- কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশ, র?্যাব, আনসার, বিজিবি, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সরকারি মদতপুষ্ট অস্ত্রধারীদের গুলি এবং নির্মম আঘাতে নিহত সকল মৃত্যুর সঠিক, স্বচ্ছ তদন্ত হতে হবে এবং প্রকৃত দোষীর, তা সে যতই উচ্চ পদাধিকারী বা কোনো দলমতের হোক, সর্বোচ্চ আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাধীন, গ্রহণযোগ্য এবং বস্তুনিষ্ঠতার স্বার্থে প্রতিটি হতাহতের এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্রের ব্যবহার ও বল প্রয়োগের বিষয়ে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত হতে হবে। এই প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করতে হবে। ইতিমধ্যে সংগৃহীত ছবি, ভিডিও ফুটেজ এর মাধ্যমে চিহ্নিত সকল হন্তারক ও আক্রমণকারীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
জাতির ইতিহাসে সংঘটিত এমন নজিরবিহীন হতাহতের শিকার সকল নিহত, আহত নাগরিকের পূর্ণাঙ্গ তালিকা সরকারকে অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।
১৪৭ জন নয়, সকল নিহত ও আহত নাগরিকের সম্মানে জাতির সহানুভূতি, সম্মান আর শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় শোক ঘোষণা করতে হবে। এই শোক প্রকাশকে আক্রমণকারীদের গ্রেপ্তারের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া শুরু করে আন্তরিক ও অর্থবহ করতে হবে।
দায় মেনে নিয়ে প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। অঙ্গ হারানো সকল নাগরিকের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, ক্ষতিপূরণ আর পুনর্বাসনের পুরো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের চিত্র জাতির সামনে অনতিবিলম্বে তুলে ধরতে হবে।
অবিলম্বে আটককৃত সকল শিক্ষার্থীর মুক্তি দিতে হবে এবং শিক্ষার্থী গ্রেপ্তারের চলমান প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে এবং সেখানে অস্ত্রধারী ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। তথাকথিত ডিবি হেফাজত থেকে সকল সমন্বয়কারীকে মুক্তি দিতে হবে। এমন জোরপূর্বক উঠিয়ে নেয়া আর বেআইনি হেফাজতের ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত সকলকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে হবে।
সরকারকে ভয় দেখানোর সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে। গুলি করে আন্দোলন দমানোর অসুস্থ মানসিকতার অবসান এখনি করতে হবে। স্বাভাবিক ও স্বস্তির পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কারফিউ ও সেনা প্রত্যাহার করতে হবে, সাঁজোয়া যান সরিয়ে নিতে হবে, হেলিকপ্টারের পাহারা থামাতে হবে, ব্লকরেইড, গণগ্রেপ্তার, ছাত্র-অভিভাবক হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
অবাধ তথ্যপ্রবাহে আরোপিত সকল বাধা দূর করতে হবে। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পূর্ণ মাত্রায় খুলে দিতে হবে। সহিংসতা দমনের নামে বিরোধী মত দমন করা যাবে না। স্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে সহিংসতার প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Tuesday, July 30, 2024
কোটা বিক্ষোভ দমনের পর প্রান্তসীমায় বাংলাদেশ: ক্রাইসিস গ্রুপের রিপোর্ট by পিয়ের প্রকাশ
সংকট মূলত সরকারের তৈরি। এর প্রাথমিক দমন-পীড়নের নৃশংসতা এবং প্রতিবাদী ছাত্রদের সম্পর্কে শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবমাননাকর মন্তব্য শুধুমাত্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে, বিক্ষোভের আকার বাড়িয়েছে এবং ছাত্রনেতাদের তাদের দাবিগুলো প্রসারিত করতে প্ররোচিত করেছে। ১৮ই জুলাই ছাত্ররা দেশব্যাপী ‘ব্লকেড’র ডাক দিলে উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়, কয়েক ডজন তরুণকে হত্যা করে।
রক্তপাতের সেই ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফরমগুলোতে। বিক্ষোভকারীদের সংগঠিত করা থেকে বিরত রাখতে- বিশেষ করে ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে- সরকার সেই রাতে অবিলম্বে দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৭ কোটি মানুষকে অনলাইন সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। পরের দিন, বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায়, যেখানে অনেক বিক্ষুব্ধ নাগরিক ছাত্র মিছিলে যোগ দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি কঠোর কারফিউ ঘোষণা করেন, দিনে কয়েক ঘণ্টা বাদে নাগরিকদের ঘরের মধ্যে আটকে থাকতে বাধ্য করেন। তিনি দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়ে সেনাবাহিনীকে রাস্তায় নামানোয় ১৯ থেকে ২১শে জুলাই পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি লোককে হত্যা করা হয়, এবং বেশ কয়েকজন প্রতিবাদী নেতাকে অপহরণ করা হয়।
কর্তৃপক্ষও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে উঠেপড়ে লাগে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ২১শে জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা কমানোর আদেশ দেয়। সরকার একটি স্বাধীন তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং একজন মন্ত্রী দাবি করেছেন যে, সহিংসতার জন্য দায়ী প্রত্যেককে জবাবদিহি করা হবে। তবুও আইনি প্রক্রিয়া বা ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে সরকারের দমনমূলক প্রতিক্রিয়ার কঠোরতা, বিক্ষোভকে নীরব করে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ২২শে জুলাই ছাত্র নেতারা নতুন দাবি জানান। তবে তাদের বিক্ষোভে ৪৮ ঘণ্টা বিরতি ঘোষণা করা হয়, যা তারা আরও ৪৮ ঘণ্টা বাড়িয়েছেন। ঢাকার হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ মৃতদেহের সংখ্যা কমছে এবং স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে। সরকার সীমিত ইন্টারনেট সুবিধা পুনরুদ্ধার করেছে, কারফিউ ধীরে ধীরে শিথিল করা হয়েছে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম আংশিকভাবে আবার শুরু হয়েছে। রাজধানীতে ফিরে এসেছে সেই ‘ট্রাফিক জ্যাম’। তবে, অস্থিরতার ফল এখন টের পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, মাত্র কয়েক ডজন মারা গেছেন। বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্টে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৯০ থেকে ২০২ এর মধ্যে। প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে; ইন্টারনেট বন্ধের ফলে সারা দেশে অশান্তির একটি সম্পূর্ণ চিত্র সংগ্রহ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিরোধী দলগুলোকে, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীকে হিংসাত্মক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য দায়ী করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী ৩,০০০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে- যার মধ্যে কিছু ছাত্রনেতা কিন্তু প্রধানত বিএনপি ও জামায়াতের কর্মকর্তারা রয়েছেন এবং ৬০,০০০ জনেরও বেশি লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও সরকার তার দাবির সমর্থনে সামান্য প্রমাণ সরবরাহ করেছে যে বিএনপি ও জামায়াত বিক্ষোভ চালাচ্ছে। যদিও বিএনপি ছাত্রদের জনসমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং তার কিছু অনুসারী রাজপথে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল, তবে দলটি সরাসরি মিছিল আয়োজনে জড়িত ছিল না। নিহতদের মধ্যে যদি কেউ থাকে, তাহলে তারা বিএনপি, জামায়াত বা অন্যান্য বিরোধী দলের লোক বলে মনে করা হচ্ছে ।
কোটা পদ্ধতি কীভাবে আন্দোলনের সূত্রপাত করেছে?
স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা চালু করা হয়েছিল। প্রথমে সরকারি চাকরির ৮০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত নারী এবং দেশের দরিদ্র এলাকার মানুষদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। কোটার সামগ্রিক শতাংশ বছরের পর বছর ধরে বেড়েছে। প্রতিবন্ধী এবং সংখ্যালঘু মানুষদের জন্য বিশেষ বিভাগ যোগ করা হয়েছে; ২০১২ সাল থেকে কোটা ৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, ‘অনগ্রসর জেলা’ (অর্থাৎ দেশের দরিদ্র অঞ্চল) এর বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ, জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য ৫ শতাংশ এবং ১ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য। এটা প্রথম নয় যে ছাত্ররা কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, যেটিকে বাংলাদেশে অনেকেই অন্যায্য বলে মনে করেন। ২০১৮ সালে অনুরূপ- যদিও ছোট-বিক্ষোভের পরে, আওয়ামী লীগ সরকার কিছু গ্রেডের সরকারি চাকরির জন্য কোটা বাতিল করে, আপাতদৃষ্টিতে সেই বছরের নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে থাকার প্রয়াসে। মুক্তিযোদ্ধাদের বেশকিছু বংশধর পরবর্তীতে সরকারের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক দাবি করে আদালতে আপিল করেন। জুনের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে হাইকোর্ট কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল রাখে। সেই রায় প্রতিবাদের আগুনে ঘি দেয়ার মতো কাজ করে।
অনেক সরকারি সমালোচকদের জন্য, এই রায়টি সরকারের ইচ্ছার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার ওপর তার প্রভাব প্রতিফলিত করে। কোটার প্রতি প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সমর্থন তার একটি বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়। সম্প্রতি তিনি বলেন- ‘দেশের উচিত মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা’। তার পিতা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি আওয়ামী লীগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং ১৯৭৫ সালে তাকে হত্যার আগ পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন; লীগ এখনো নিজেকে জাতীয় মুক্তির দল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান, একজন সামরিক শাসক যিনি শেষ পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন, ১৯৭৮ সালে একটি কেন্দ্রবাদী শক্তি হিসেবে বিএনপি গঠন করেছিলেন। যদিও পরে এটি স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী ইসলামপন্থিদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছিলেন। হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং যারা পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্নতা প্রতিরোধ করেছিল তাদের মধ্যে যোগসূত্রকে ঘৃণার চোখে দেখে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ, যা হাসিনার পিতার দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল, এই বিভাজনগুলোকে শক্তিশালী করার একটি উপায়। মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের বংশধররাও আওয়ামী লীগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অংশ হিসেবে রয়ে গেছেন, কোটাকে রাষ্ট্রীয় আমলাতন্ত্রে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান এবং মিত্র বাড়ানোর একটি মাধ্যম করে তুলেছে।
বিক্ষোভ যখন গতি পেতে শুরু করে, তখন সরকার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগকে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বলে, সেইমতো ৭ই আগস্ট শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে এবং দেশটি কার্যত লকডাউনের অধীনে চলে যায়। যা দেখে সুপ্রিম কোর্ট শুনানি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। ২১শে জুলাইয়ে রায়ে শীর্ষ আদালত ব্যাপকভাবে কোটা ৫৬ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, যার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মীয়দের জন্য ৫ শতাংশ এবং জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী এবং নন-বাইনারি লিঙ্গের লোকদের জন্য ২ শতাংশ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণভাবে এগুলো সমস্ত গ্রেডের চাকরিতে প্রযোজ্য। অন্যদিকে, নারীদের জন্য কোটা বাতিল করা ছিল একটি আশ্চর্যজনক পদক্ষেপ, কারণ ছাত্ররা নারী ও অন্যান্য গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের জন্য এটি বজায় রাখতে চেয়েছিল।
প্রতিবাদ আন্দোলনের পেছনে অন্য কারণ আছে কি?
কোটা বিরোধী বিক্ষোভ বাংলাদেশে গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে শক্তি অর্জন করেছে। দেশের অর্থনীতি বহু বছর ধরে বর্ধনশীল ছিল- বিশেষ করে ১৯৯০ সালে সামরিক শাসনের অবসানের পর থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছে। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে সরকার মুদ্রাস্ফীতি, বিশেষ করে উচ্চ খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সংগ্রাম করছে। তবে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতি তার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল দুর্নীতি কেলেঙ্কারি প্রকাশ পেয়েছে, যা অনেক বাংলাদেশির জন্য গভীর অর্থনৈতিক যন্ত্রণার সময়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ১৪ই জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা স্বীকার করেন যে তার একজন গৃহকর্মী কয়েক মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি কীভাবে এত ধনী হয়েছিলেন তা তিনি বুঝতে পারেননি বলে দাবি করেন। কিন্তু অনেক বাংলাদেশির কাছে এটা অবাক হওয়ার কিছু নেই যে ক্ষমতার এত কাছে থাকা একজন ব্যক্তি এত সম্পদ অর্জন করতে পারে।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে অর্থ কোটা হলো সবচেয়ে বাস্তব উপাদান। অনেক বাংলাদেশি সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থাকে পচনধরা একটি সিস্টেম বলে মনে করে। শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন যে অনেক কথিত যোগ্যতাভিত্তিক পদ তাদের কাছে যায় যাদের ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। একই সময়ে গ্রাজুয়েটরাও বৃহত্তর জনসংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি মাত্রার বেকারত্বের সম্মুখীন হয়, সরকারি চাকরিতে তারা তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। ইতিমধ্যে জনমত জরিপ থেকে বোঝা যায় যে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা কোটা পদ্ধতিকে ক্রমশ অজনপ্রিয় করে তুলেছে। ২০১৩ সাল থেকে, কর্তৃপক্ষ কয়েক হাজার বিরোধী সদস্যকে বিভিন্ন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করেছে। সক্রিয় গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড একটি ক্রমবর্ধমান ঘটনা হয়ে উঠেছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকা, এই অভিজাত বাহিনীর অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়। দেশের কঠোর সেন্সরশিপ আইন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক হাজারেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করেছে, প্রধানত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য।
অধিকন্তু, হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় নির্বাচন হয়নি। ক্ষমতাসীন দল ভোটকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা সত্ত্বেও ৭৫ শতাংশ আসন জিতে নেয়- উদাহরণস্বরূপ, প্রায় ২০ শতাংশ আসন তারা হেরেছে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের’ কাছে যারা বাস্তবে ক্ষমতাসীন দলেরই সদস্য। কিন্তু ভোটদানের হার আনুষ্ঠানিকভাবে ৪২ শতাংশ দেখায় যার কারণে বাংলাদেশিরা বোকা বনেনি। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এর আগে ভোটকে সামনে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের দাবি মেনে নিতে সরকারকে চাপ দিতে গণআন্দোলন শুরু করেছিল। পুলিশ এবং ছাত্রলীগ ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি বড় সমাবেশ ভেঙে দেয় এবং অনেক বিএনপি নেতাকে জেলে পাঠানো হয়, দলটিকে ভোট বর্জন করতে প্ররোচিত করে।
কোটা বিরোধী বিক্ষোভ তাই রাজনৈতিক দৃশ্যপটকেও রূপান্তরিত করেছে, জনগণের অসন্তোষকে এমনভাবে কাজে লাগিয়েছে যেটা বিএনপি করতে পারেনি, পাশাপাশি একটি তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে এনেছে রাজনীতিতে যাকে অচল বলে মনে করা হয়েছিল। এমনকি এতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যারা ধনী পরিবার থেকে এসেছে এবং কোটা পদ্ধতির অধীনে চাকরি পাওয়ার চেয়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে বেশি আগ্রহী। প্রতিবাদী আন্দোলনে অনেক তরুণীর সম্পৃক্ততাও নজরে এসেছে।
ঢাকার এখন কী করা উচিত?
সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করতে এবং রাজপথে শান্তি ফিরিয়ে আনতে, আওয়ামী লীগ সরকারকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে দেশকে প্রান্তিক অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেয়া উচিত। সামরিক আইন প্রত্যাহার করা উচিত, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস পুনরুদ্ধার করা উচিত এবং বিক্ষোভের সময় হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পুনরায় খোলার ব্যবস্থা করতে হবে এবং গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদের মুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে নাগরিক অধিকারের প্রতি সম্মান পুনরুদ্ধার করতে এবং কোটা বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য অনুরোধ জানাতে বিদেশি অংশীদারদের এগিয়ে আসা উচিত। হাসিনা সরকারের কট্টর সমর্থক ভারতের উচিত বহুদলীয় গণতন্ত্র, সুশাসন এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি সম্মান পুনরুদ্ধার করে বাংলাদেশকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করা। আওয়ামী লীগের প্রতি নয়াদিল্লির সমর্থন দীর্ঘদিনের। কিন্তু বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাবের মধ্যে এই কৌশল ঝুঁঁকিপূর্ণ হতে পারে- বিষয়টি একদিকে যেমন বাংলাদেশের প্রতিবেশীর জন্য খারাপ তেমনি বাংলাদেশের জনগণের জন্য উপকারী নাও হতে পারে। কোটা বিরোধী বিক্ষোভের উত্থান বাংলাদেশে একদলীয় শাসন কতোটা ভঙ্গুর তা চিত্রিত করেছে। সংলাপ এবং রাজনৈতিক সংস্কারের গুরুতর প্রচেষ্টার পরিবর্তে বিক্ষোভ দমন করার জন্য কর্তৃত্ববাদী পদ্ধতি কখনই দেশে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে না।
মানবজমিন
পিয়ের প্রকাশ, এশিয়ার প্রোগ্রাম ডিরেক্টর
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুলিতে ইকরামের মগজ ছিটকে পড়ে রাস্তায় by নাজমুল হক শামীম
এভাবেই বড় ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনাটি প্রতিবেদককে জানান ছোট ভাই ইমরান হোসেন ফারুক। তিনি বলেন, মৃত্যুর ২০ মিনিট আগেও বড় ভাই ইকরাম হোসেন কাউছার বাড়িতে ফোন করেছিলেন। কবি নজরুল কলেজ সংলগ্ন লক্ষ্মীবাজার এলাকায় ভাই যে জায়গায় থাকতেন সেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় তার মোবাইলে চার্জ ছিল না। যেই ঠেলাওয়ালা ভাইকে ভাত খাইয়েছিলেন সেই ঠেলাওয়ালার ফোন থেকে বাড়িতে ফোন করেন ইকরাম। সেই ঠেলাওয়ালাই ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদটি প্রথম বাড়িতে জানান।
ইমরান আরও বলেন, ভাইয়ার ফোন কলটি ছিল বাবার সঙ্গে শেষ কথা। বাবাকে তিনি বলেছিলেন তিনি ভালো আছেন। তার জন্য দোয়া করতে। আমাকে দেখে রাখতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাড়ি ফিরে আসবেন। নিহত ইকরাম হোসেন কাউছার ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার রাজসপুর গ্রামের হাজীবাড়ির স্কুলশিক্ষক আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিন সন্তানের মধ্যে ইকরাম ছিলেন মেজো সন্তান।
ইকরামের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, সামান্য স্কুলশিক্ষক হয়ে তিনি তিন সন্তানকে পড়ালেখা করিয়ে যাচ্ছিলেন। তার বড় ছেলে ইকরাম এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। তিনি মেধাবী হওয়ায় ঢাকা কবি নজরুল কলেজ থেকে অনার্স শেষ করে মাস্টার্স পড়ছিলেন। জমি বিক্রি করে ছেলের পড়ালেখার খরচ চালাচ্ছিলেন। ছেলের স্বপ্ন ছিল মাস্টার্স শেষ করে সে বিসিএস এ অংশগ্রহণ করবে। পুলিশের গুলিতে তার স্বপ্ন অঙ্কুরে বিনষ্ট হলো। এ হত্যার দায় কে নেবে? ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে শুক্রবার রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তার মা-বাবা। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ নিয়ে এসে রাতেই নিজ এলাকায় দাফন করা হয়।
ইকরামের একমাত্র বোন জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, আমাদের পরিবার খুবই গরিব। পড়ালেখা শেষ করে ইকরাম পরিবারে হাল ধরবেন আমাদের দুঃখ ঘুচবে এমনটাই আশা করেছিলাম। এখন আমার ভাই নেই, আমাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। আমরা আশা করবো সমাজের বিত্তবানরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মেসে মেসে হানা: আদালতে স্বজনদের ভিড়
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে আদালতপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, সকাল হতে না হতেই আন্দোলনে জড়িত সন্দেহে আটককৃতদের স্বজনরা সিএমএম আদালতের সামনে ভিড় করেন। স্বজনদের অভিযোগ, এলাকার সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় বাসাবাড়ি ও মেস থেকে পুলিশ ধরে এনেছে। অনেকে দাবি করেন তাদের স্বজন কোনো আন্দোলন বা দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন।
কী অপরাধে, কোন মামলায় আটক করা হচ্ছে, সেই তথ্যও দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে করে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় মধ্যে কাটছে তাদের দিন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের রাজধানীর বিভিন্ন থানার নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা এডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী মানবজমিনকে বলেন, গতকালও পুলিশ ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের কয়েকশত নেতাকর্মীকে বাসাবাড়ি ও মেসে অভিযান চালিয়ে আটক করেছে। শুধু আটক করেই ক্ষান্ত হননি তাদেরকে বেধড়ক পেটানোও হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ আইনের পরিপন্থি। আমরা যাতে সহজে জামিনের আবেদন করতে না পারি সেজন্য নথিপত্রও প্রদান করছে না।
সিএমএম আদালতের গারদখানা থেকে পুলিশের কাঁধে ভর করে সাদ্দাম হোসেনকে নেয়া হচ্ছিল আদালতে। তিনি জানান, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাদ্দাম হোসেনকে শনিবার একটি মেস থেকে ছাত্রলীগের নেতারা ধরে এনেছে। এরপর তাকে বেধড়ক পিটুনি দেয়। পরে পুলিশে সোপর্দ করে। ওরা আমার পায়ের পাতা, হাঁটুতে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এরপর আর কিছু মনে নেই।
পল্লবী থানার একটি মামলায় ১৭ বছরের শিশু মো. নাসিম হোসেন তালুকদার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আছে বলে জানান শিশুটির আইনজীবী মাহফুজুর রহমান। তিনি মানবজমিনকে বলেন, বাসাবাড়ির সামনে থেকে পুলিশ শিশুটিকে আটক করেছে। আমরা তার জামিনের জন্য শিশু আদালতে আবেদন করেছি। আজ সোমবার ওই শিশুর জামিন আবেদনের শুনানি হবে।
সরজমিন দেখা যায়, সকালে আদালতপাড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি প্রিজন ভ্যানের মধ্যে নিজের ভাইকে খুঁজছিলেন বড় ভাই। সাতদিন আগে, বন্ধুর কাছে পাওনা টাকা চাইতে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় যান ছোট ভাই মাইন উদ্দিন। সেদিন যাত্রাবাড়ী ও সাইনবোর্ড এলাকায় চলছিল সংঘাত সহিংসতা। এরপর থেকেই তার ফোন বিচ্ছিন্ন। ভাই জাহাঙ্গীর জানান, পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর মাইন উদ্দিনের আটকের খবর জানতে পারেন তিনি। তাই ভাইকে জামিন মুক্ত করতে আদালতপাড়ায় ছুটে আসেন। বিভিন্ন থানা থেকে আটক শিক্ষার্থীদের হাত পেছনে দিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সিএমএম-এর গারদখানায় আনতে দেখা গেছে। কারও কারও মাজায় রশি বাঁধাও দেখা গেছে।
রাজধানীর আজিমপুর কলোনির বাসাবাড়ি থেকে আটক এক স্বজন ছেলের খোঁজে আদালতের সামনে আইনজীবীর সঙ্গে শলাপরামর্শ করতে দেখা যায়। তিনি জানান, শনিবার দিবাগত রাতে আজিমপুর কলোনিতে তল্লাশি করা হয়েছে। আমার ছেলের মতো আরও কয়েকজন ছেলেকে পুলিশ আটক করেছে।
শনিবার ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রানাসহ সাত জনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয় আদালত। ওই সাতজনের মধ্যে ১৭ বছরের ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজের রিমান্ড বাতিল চেয়েছিলেন তার আইনজীবী। ফাইয়াজের আইনজীবী মো. মুজাহিদুল ইসলাম শনিবার আদালতে রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন চেয়েছিলেন। ফাইয়াজকে ‘শিশু’ দাবি করে রিমান্ডে না পাঠানোর আর্জি জানিয়েছিলেন। এরপরেও শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামিন নাকচ করে ফাইয়াজকেও রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। গতকাল আদালত তার রিমান্ড স্থগিত করেছেন এবং উক্ত অভিযুক্তের বয়স নির্ধারণ বিষয়ে শুনানি ও আদেশের জন্য সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতে পাঠান। শিশু আদালত শুনানি শেষে অভিযুক্ত ফাইয়াজকে শিশু হিসেবে ঘোষণা করে তার রিমান্ড বাতিল করেন এবং তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পকে একজন যৌন হেনস্থাকারী বললেন কমালা
উইসকনসিনে ট্রাম্প ও হ্যারিস উভয়ই পেয়েছেন ৪৭ শতাংশ সমর্থন। নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা কলেজের জরিপের ফলাফলও প্রকাশ হয় গত বৃহস্পতিবার। দেশব্যাপী নিবন্ধনকৃত ভোটারদের মধ্যে চালানো এ জরিপেও দেখা যায়, ট্রাম্প হ্যারিসের চেয়ে মাত্র ২ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। যেখানে আগে বাইডেনের চেয়ে ৮ শতাংশে এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে কমালা হ্যারিসের নাম সামনে আসার পর তাকে বামপন্থি ও উন্মাদ আখ্যা দিয়েছিলেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। অতি-উদারপন্থী কমালা হ্যারিস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধ, বিশৃঙ্খলা, মারপিট এবং মৃত্যু ডেকে আনবে বলে প্রচার চালান তিনি । তার পাল্টা হিসেবে ট্রাম্পকে যৌন হেনস্থাকারী আখ্যা দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে একহাত নিলেন কমালা।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে নিহত ২৬৬ জনের তালিকা
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি-ব্রাশফায়ার ও সংঘর্ষে ২৬৬ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে। দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল সূত্র থেকে পাওয়া এ তালিকা নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র অনুসারে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি ও সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে অনেকের লাশ হাসপাতালে না নিয়ে দাফন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক পরীক্ষায় মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর এসব লাশ হাসপাতালে গ্রহণ না করে আত্মীয়দের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে, যাদের ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে বড় সংখ্যকই শিক্ষার্থী। যারা বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বাকিদের একটি অংশ বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় মানুষ, যাদের অনেকে ছাত্রদের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসে।
এর বাইরে নিহত উল্লেখযোগ্য একটি অংশ পথচারী দোকানদার অথবা নিজেদের বাড়ি বা অফিসে গুলি বা ব্রাশফায়ারে মৃত্যবরণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগের পরিচয় চিহ্নিত করা গেলেও নিহত সাধারণ অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করতে না পেরে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম বা কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।
নিহতদের দুই-তৃতীয়াংশ মারা গেছে গুলিবিদ্ধ হয়ে। কিছু মারা গেছে ব্রাশফায়ারে। বুকে বা মাথায় আঘাতে মারা গেছে বেশ কয়েকজন। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পানিতে পড়ে মারা গেছে বেশ কয়েকজন। তিনজন সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও মৃত্যুবরণ করেছেন।
নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সৃষ্ট সহিংসতায় তার কাছে ১৪৭ জনের নিহত হওয়ার খবর রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছাত্র, পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। সরকারিভাবে পাওয়া ১৪৭ জন মারা যাওয়ার তথ্যটি রোববার পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী।
ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে সোয়া দুই শ’ জনের নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ করা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর কয়েকগুণ হবে বলে উল্লেখ করেছেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও দুই শতাধিক নিহতের খবর উল্লেখ করে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর অনেক বেশি হবে জানানো হয়েছে।
কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন শুরু হয় ১ জুলাই। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে প্রায় সারা দেশে। এর পরদিন থেকে এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা, সংঘর্ষ, সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতদের তালিকা
১. মো: ফারুক (৩২), ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী, গুলিতে নিহত, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুরাদপুর, চট্টগ্রাম, ১৬ জুলাই।
২. মো: ওয়াসিম (২২), চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র, আহত হয়ে মৃত্যু, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুরাদপুর, চট্টগ্রাম, ১৬ জুলাই।
৩. ফয়সল আহমেদ (২০), ছাত্র, গুলিতে নিহত, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, মুরাদপুর, চট্টগ্রাম, ১৬ জুলাই।
৪. মো: শাহজাহান (২৫), কাপড়ের দোকানের কর্মচারী, মাথায় আঘাতে মৃত্যু, ব্রাদার নূরুন নবী, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ঢাকা, ১৬ জুলাই।
৫. সবুজ আলী (২৫), ছাত্র, ঢাকা কলেজ, মাথায় আঘাতে মৃত্যু, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা কলেজের উল্টোদিকে, ১৬ জুলাই।
৬. আবু সাঈদ (২২), ছাত্র, গুলিতে নিহত, বিআরইউর সামনে, ১৬ জুলাই।
৭. আসিফ (২৩), ছাত্র, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
৮. সাকিল, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
৯. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১০. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১১. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১২. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১৩. অজ্ঞাত, ছাত্র, গুলিতে নিহত, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১৪. অজ্ঞাত, ছাত্র, গুলিতে নিহত, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১৫. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১৬. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১৭. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১৮. ফারহান ফয়েজ রাতুল (১৭), ছাত্র, গুলিতে নিহত, সিটি হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১৯. হাসান মেহেদী, সাংবাদিক, ঢাকা টাইমস, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কাজলা, যাত্রাবাড়ী, ১৮ জুলাই।
২০. ওয়াসিম শেখ (৩০), মাথায় আঘাতে মৃত্যু, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ফিশ স্টোর, ১৮ জুলাই।
২১. নাজমুল কাজী (২০/২২), আহত হয়ে মৃত্যু, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ১৮ জুলাই।
২২. মোহাম্মদ (২০), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আজিমপুর, ১৮ জুলাই।
২৩. অজ্ঞাত (৩০), রিকশাচালক, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ১৮ জুলাই।
২৪. অজ্ঞাত, ফারাজী হাসপাতাল, রামপুরা, ১৮ জুলাই।
২৫. অজ্ঞাত, ফারাজী হাসপাতাল, রামপুরা, ১৮ জুলাই।
২৬. অজ্ঞাত (১৮), ছাত্র, গুলিতে নিহত, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, বহদ্দারহাট, ১৮ জুলাই।
২৭. অজ্ঞাত (২২), ছাত্র, গুলিতে নিহত, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, বহদ্দারহাট, ১৮ জুলাই।
২৮. আসহাবুল ইয়ামিন (২০), ছাত্র, এমআইএসটি, মিরপুর, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ, সাভার, ১৮ জুলাই।
২৯. তাহমিদ তামিম (১৫), স্কুলছাত্র, নরসিংদী, গুলিতে নিহত, ১০০ বেড হাসপাতাল, নরসিংদী, ১৮ জুলাই।
৩০. ইমন মিয়া (২২), ছাত্র, সরকারি সাটিরপাড়া স্কুল, গুলিতে নিহত, নরসিংদী সদর হাসপাতাল, নরসিংদী, ১৮ জুলাই।
৩১. দীপতো দে (২১), ছাত্র, মাদারীপুর কলেজ, লেকপাড়, মাদারীপুর, ১৮ জুলাই।
৩২. রৌদ্র সেন (২২), ছাত্র, এসইউএসটি, পুলিশ লেক এরিয়া, সুরমা গেট পয়েন্ট, ১৮ জুলাই।
৩৩. মানিক মিয়া (৪০), রিকশাচালক, গুলিতে নিহত, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পুলিশ স্টেশনের পেছনে, ১৮ জুলাই।
৩৪. সাকিল হোসেন (২২), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৮ জুলাই।
৩৫. ইমরান (২৪), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ১৮ জুলাই।
৩৬. আবদুল্লাহ (১৫), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ১৮ জুলাই।
৩৭. সাইমুন সিয়াম (২৫), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ১৮ জুলাই।
৩৮. ইসমাইল (৩৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা, ১৮ জুলাই।
৩৯. খালিদ সাইফুল্লাহ (১৮), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টার, ঢাকা, ১৮ জুলাই।
৪০. দুলাল মাতব্বর, মাইক্রোবাস ড্রাইভার, গুলিতে নিহত, মেরুল বাড্ডা, ১৮ জুলাই।
৪১. জিল্লুর রহমান (১৭), ছাত্র, ইমপিরিয়াল কলেজ, গুলিতে নিহত, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এরিয়া, ১৮ জুলাই।
৪২. রৌদ্র সেন (২০/২২), ছাত্র, লেকপাড়, আখালিয়া, ১৮ জুলাই।
৪৩. হোসেন, গুলিতে নিহত, বাঁশতলা, বাড্ডা, ১৮ জুলাই।
৪৪. মো: সাকিল হোসেন, সাংবাদিক, দৈনিক ভোরের আওয়াজ, গাছা থানা, গাজীপুর, ১৮ জুলাই।
৪৫. রাকিব হোসেন (২২), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আফতাবনগর, ১৯ জুলাই।
৪৬. গনি শেখ (৪৫), শ্রমিক, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শাহজাদপুর, ১৯ জুলাই।
৪৭. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কাজলা।
৪৮. সোহাগ (১৯), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শাহজাদপুর, ১৯ জুলাই।
৪৯. আরিফ (১৮), দোকানের কর্মচারী, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, কাজলা, ১৯ জুলাই।
৫০. সান্তু (২০), দোকানের কর্মচারী, গুলিতে নিহত, যাত্রাবাড়ী, কাজলা, ১৯ জুলাই।
৫১. রাব্বী (২৭), গুলিতে নিহত, আবু তালেব স্কুল, ১৯ জুলাই।
৫২. অদুদ (৪০), গুলিতে নিহত, চায়না বিল্ডিং, নিউমার্কেট, ১৯ জুলাই।
৫৩. পাভেল (২৫), দোকানের কর্মচারী, শাহবাগ, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পল্টন, ১৯ জুলাই।
৫৪. মোবারক (৩২), দোকানের কর্মচারী, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কদমতলী, ১৯ জুলাই।
৫৫. আকরাম খান রাব্বী (২৪), ছাত্র, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৫৬. জিহাদ (২২), ছাত্র, গুলিতে নিহত, শনিরআখড়া, ১৯ জুলাই।
৫৭. দুলাল মোহাম্মদ দোলন (৪০), ব্যাংকার, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আজিমপুর, ১৯ জুলাই।
৫৮. অজ্ঞাত (১৮), গুলিতে নিহত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাটারা, ১৯ জুলাই।
৫৯. ওমর ফারুক (২৩), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
৬০. আবদুল ওয়াদুদ, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬১. মারুফ হোসাইন (২৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬২. মেহেদী হাসান (২০), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬৩. সাইফুল ইসলাম, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬৪. অজ্ঞাত (২৫), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬৫. রবিউল ইসলাম (৩০), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬৬. ইসমাইল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬৭. কামাল মিয়া/জালাল মিয়া (৪৫), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬৮. নবীন তালুকদার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬৯. ইমন (২৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৭০. সোহেল (৩৫), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৭১. অজ্ঞাত (২২), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৭২. শাওন (২৪/২৫), ছাত্র, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চায়না বিল্ডিং, নিউমার্কেট, ১৯ জুলাই।
৭৩. পারভেজ (২৩), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৭৪. মামুন সরদার (৩৪/২৭), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৭৫. শোভন (২৫), চায়না বিল্ডিং, নিউমার্কেট, ১৯ জুলাই।
৭৬. রেদোয়ান (২২), ছাত্র, বঙ্গবন্ধু, গুলিতে নিহত, কামারপাড়া, ১৯ জুলাই।
৭৭. শরীফ (২৩), ছাত্র, বঙ্গবন্ধু, গুলিতে নিহত, কামারপাড়া, ১৯ জুলাই।
৭৮. রাইদ (২২), ছাত্র, বঙ্গবন্ধু, গুলিতে নিহত, কামারপাড়া, ১৯ জুলাই।
৭৯. রানা (১৫), গুলিতে নিহত, ১৯ জুলাই।
৮০. সোহাগ মোল্লা, পিএ, মেয়র, উত্তরা, ১৯ জুলাই।
৮১. মুনসুর (৪০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৮২. শরীফ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৮৩. রাসেল, ছাত্র, ফরাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৮৪. অজ্ঞাত, ফরাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৮৫. অজ্ঞাত, ফরাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৮৬. অজ্ঞাত, বি লাইফ এইচ, ১৯ জুলাই।
৮৭. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৮৮. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৮৯. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯০. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯১. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯২. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯৩. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯৪. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯৫. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯৬. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯৭. অজ্ঞাত, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৯৮. অজ্ঞাত, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৯৯. অজ্ঞাত, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১০০. অজ্ঞাত, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১০১. অজ্ঞাত, উত্তরা, ১৯ জুলাই।
১০২. সজ্জল হোসেন (২৮), রংপুর, ১৯ জুলাই।
১০৩. মেরাজ (৪০), রংপুর মেডিক্যাল কলেজ, ১৯ জুলাই্।
১০৪. অজ্ঞাত, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ, ১৯ জুলাই।
১০৫. মোজাম্মেল (৩২), রংপুর মেডিক্যাল কলেজ, ১৯ জুলাই।
১০৬. মোখলেসুর রহমান মিলন (২৫), রংপুর, ১৯ জুলাই।
১০৭. মউন (২৫), রংপুর, ১৯ জুলাই।
১০৮. আবদুর রশীদ (৭০), হোল্ড/রেইড, ফজলুল হক রোড, সিরাজগঞ্জ, ১৯ জুলাই।
১০৯. সিয়াম (১৬), গুলিতে নিহত, আমতলা মোড়, বগুড়া, ১৯ জুলাই।
১১০. এহসানুল হক (২২), ১৯ জুলাই।
১১১. এটিএম তোরাব (৩০), সাংবাদিক, সিলেট, ১৯ জুলাই।
১১২. অজ্ঞাত, নরসিংদী, ১৯ জুলাই।
১১৩. সাগর, (১৬), ময়মনসিংহ, ১৯ জুলাই।
১১৪. আল আমিন (২৪), ডারাজ কর্মচারী (ছাত্র), এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাভার, ১৯ জুলাই।
১১৫. শাহজালাল (২৬), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১১৬. পারভেজ (২৩), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১১৭. জুয়েল (২৫), আনসার, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, দৈনিক বাংলার মোড়, ১৯ জুলাই।
১১৮. ইফতি (১৬/১৪), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, অনাবিল হাসপাতালের সামনে, কাজলা, ১৯ জুলাই।
১১৯. অজ্ঞাত (৪১), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১২০. শাকিল (২২), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১২১. অজ্ঞাত (৩০), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১২২. রাজিব (৩০), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১২৩. আল আমিন (১৮), ছাত্র, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কামারপাড়া, উত্তরা, ১৯ জুলাই।
১২৪. নাঈমা সুলতানা (১৫), ছাত্র, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, হোম, ১৯ জুলাই।
১২৫. নুরুল ইসলাম, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১২৬. জামাল মোল্লা, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১২৭. অজ্ঞাত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১২৮. অজ্ঞাত, ক্রিসেন্ট হসপিটাল, ১৯ জুলাই।
১২৯. মো: সিয়াম (১৮), গুলিতে নিহত, ১৯ জুলাই।
১৩০. হৃদয় মীর (১৮), গুলিতে নিহত, ১৯ জুলাই।
১৩১. সুজন মিয়া (১৭), গুলিতে নিহত, ১৯ জুলাই।
১৩২. আমজাদ হোসেন (২২), গুলিতে নিহত, ১৯ জুলাই।
১৩৩. অজ্ঞাত, ১৯ জুলাই।
১৩৪. আসিফ ইকবাল (২৯), এক্স ছাত্র, মাগুরা, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
১৩৫. মোত্তাকিন বিল্লাহ (২৫), মাগুরা, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
১৩৬. রাজু, মাগুরা, ১৯ জুলাই।
১৩৭. আতিকুল ইসলাম (৩২), গুলিতে নিহত, পটুয়াখালী, মিরপুর-১০, ১৯ জুলাই।
১৩৮. অজ্ঞাত (২০), মিটফোর্ড হসপিটাল, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
১৩৯. অজ্ঞাত (৪০), মিটফোর্ড হসপিটাল, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
১৪০. রোহান (২০), ছাত্র, এইচএসসি পরীক্ষার্থী, মিটফোর্ড হসপিটাল, ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, ১৯ জুলাই।
১৪১. রাসেল, মিটফোর্ড হসপিটাল, ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, ১৯ জুলাই।
১৪২. বাঁধন (১৯), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
১৪৩. মো: জুবায়ের (৪০), কুয়েত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল, ১৯ জুলাই।
১৪৪. মো: রোমান (২৫), স্টাফ হসপিটাল, ল্যাবএইড, ১৯ জুলাই।
১৪৫, আসিকুল ইসলাম ইলিয়াস আসিক (১৫), মাদরাসা ছাত্র, গুলিতে নিহত, বনশ্রী হসপিটাল, বনশ্রী, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
১৪৬. রোমান বেপারী (৩২), ট্রাক ড্রাইভার, গুলিতে নিহত, মাদারীপুর, চরমোগোরিয়া, সার্বিক পেট্রোল পাম্প, নতুন বাস স্টেশন, ১৯ জুলাই।
১৪৭. তৌহিদ সান্নামাত (২০), মাদরাসা ছাত্র, গুলিতে নিহত, মাদারীপুর, চরমোগোরিয়া, সার্বিক পেট্রোল পাম্প, নতুন বাস স্টেশন, ১৯ জুলাই।
১৪৮. মো: ইমরান খলিফা (৩৩), বেসরকারি স্কুল শিক্ষক, গুলিতে নিহত, খিলবাড়ী টেক, শাহজাদপুর, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
১৪৯. আলমগীর শেখ (৩৫), ড্রাইভার, গুলিতে নিহত, বিটিভি সেন্টার, বিটিভি, ১৯ জুলাই।
১৫০. মনির (১৮), পেইন্টার, গুলিতে নিহত, বাঁশতলা, বাড্ডা, ১৯ জুলাই।
১৫১. হাসনাইন (২৫), ডিশলাইন কর্মচারী, গুলিতে নিহত, মোহাম্মদপুর, ১৯ জুলাই।
১৫২. সাফকাত সামির (১১), মাদরাসা ছাত্র, গুলিতে নিহত, কাফরুল, মিরপুর, ১৯ জুলাই।
১৫৩. এএসআই মোকতাদির (৪৮), ট্যুরিস্ট পুলিশ, গণপিটুনি, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া, রায়েরবাগ, যাত্রাবাড়ী, ২০ জুলাই।
১৫৪. নায়েক গিয়াসউদ্দিন (৫৮), ডিএমপি পুলিশ, গণপিটুনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ফুটওভারব্রিজের নিচে, রায়েরবাগ, ২০ জুলাই।
১৫৫. ইমাম হোসেন তাজিম (১৯), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া এবং যাত্রাবাড়ী এরিয়া, ২০ জুলাই।
১৫৬. জিসান (৩৩), পানি বিক্রেতা, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া এবং যাত্রাবাড়ী এরিয়া, ২০ জুলাই।
১৫৭. ইউনূস আলী শাওন (২৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া এবং যাত্রাবাড়ী এরিয়া, ২০ জুলাই।
১৫৮. ইউসুফ মিয়া ইলিয়াস সানোয়ার হোসেন (৩৫/৪০), চাল ব্যবসায়ী, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া এবং যাত্রাবাড়ী এরিয়া, ২০ জুলাই।
১৫৯. হাবিব সরদার (৩০/৪০), সিএনজি ড্রাইভার, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া এবং যাত্রাবাড়ী এরিয়া, ২০ জুলাই।
১৬০. কামরুল মিয়া (২৭), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মিরপুর, ২০ জুলাই।
১৬১. সোহেল (৩৫/২৩), মোবাইল দোকান কর্মচারী, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কদমতলী, ২০ জুলাই।
১৬২. আরিফ (৩৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জ, শনিরআখড়া, ২০ জুলাই।
১৬৩. অজ্ঞাত শিশু (১০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জ, ২০ জুলাই।
১৬৪. আবদুল হান্নান, (৩৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাটারা, ঢাকা, ২০ জুলাই
১৬৫. শুভ (১৬), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাটারা, ধানমন্ডি, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৬৬. আবদুল্লাহ আল আবির (২৩), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাটারা, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৬৭. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, এস সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২০ জুলাই।
১৬৮. রাকিব (১৯), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, কলতাপাড়া, গৌরীপুর উপজেলা, ২০ জুলাই।
১৬৯. জুবায়ের (২১), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, কলতাপাড়া, গৌরীপুর উপজেলা, ২০ জুলাই।
১৭০. মো: বিপ্লব (১৮), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, কলতাপাড়া, গৌরীপুর উপজেলা, ২০ জুলাই।
১৭১. সাইফুল ইসলাম (৪২), কৃষক, গুলিতে নিহত, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, আমাকান্দা ব্রিজ, ফুলপুর ময়মনসিংহ, ২০ জুলাই।
১৭২. কোরবান আলী (৬০), পোলট্রি ব্যবসায়ী, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ, সাভার, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৭৩. মেহেদী হাসান (২৪), রাজমিস্ত্রি, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ, বাজার রোড, সাভার, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৭৪. শাদ মাহমুদ খান (১৪), মাদরাসা ছাত্র, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ, সাভার, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৭৫. রনি (২৭), রিকশাচালক, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ, সাভার বাসস্ট্যান্ড, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৭৬. মো: রায়হান (১৮), গার্মেন্টশ্রমিক, গুলিতে নিহত, এস তাজউদ্দিন এএমসিএইচ, বোর্ডবাজার এরিয়া, চান্দনা চৌরাস্তা, ২০ জুলাই।
১৭৭. নুরুল আমিন (২১), ডেলি লেবার, গুলিতে নিহত, এস তাজউদ্দিন এএমসিএইচ, টেলিপাড়া এরিয়া জয়দেবপুর, বোর্ডবাজার, ২০ জুলাই।
১৭৮. টিপু সুলতান/ মো: টিপু/জহিরুল ইসলাম (২৭/৪৮) গণপিটুনি, শিবপুর হসপিটাল, কলেজ গেট, শিবপুর, নরসিংদী, ২০ জুলাই।
১৭৯. মোবারক আলী (১৩), গুলিতে নিহত, গ্রিনলাইফ হসপিটাল, পান্থপথ, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৮০. হাসান মিয়া (৪৫), ডেইলি লেবার, গুলিতে নিহত, মেহেরপাড়া, নরসিংদী, ২০ জুলাই।
১৮১. মো: মেহেদী (২০), ছাত্র, গুলিতে নিহত, নেয়ার প্রীতম টাওয়ার, শিমরাইল, সিদ্ধিরগঞ্জ, ২০ জুলাই।
১৮২. মো: হৃদয় (২৮), গুলিতে নিহত, সুগন্ধা প্রাইভেট হসপিটাল, নেয়ার প্রীতম টাওয়ার, শিমরাইল, সিদ্ধিরগঞ্জ, ২০ জুলাই।
১৮৩. মো: শাহীন/মানিক (২৩), হোটেল ম্যানেজার, গুলিতে নিহত, সুগন্ধা প্রাইভেট হসপিটাল, নেয়ার প্রীতম টাওয়ার, শিমরাইল, সিদ্ধিরগঞ্জ, ২০ জুলাই।
১৮৪. মো: সজল (২২), গুলিতে নিহত, সুগন্ধা প্রাইভেট হসপিটাল, নেয়ার প্রীতম টাওয়ার, শিমরাইল, সিদ্ধিরগঞ্জ, ২০ জুলাই।
১৮৫. মিনারুল ইসলাম (২৫), গার্মেন্টশ্রমিক, গুলিতে নিহত, ৩০০ সিট হসপিটাল, নারায়ণগঞ্জ, নেয়ার প্রীতম টাওয়ার, শিমরাইল, সিদ্ধিরগঞ্জ, ২০ জুলাই।
১৮৬. রাজিব হোসেন (৩০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কদমতলী, ২০ জুলাই।
১৮৭. মায়া ইসলাম (৬০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ইন ফ্রন্ট অব হার হাউজ, রামপুরা, ২০ জুলাই্
১৮৮. আমজাদ হোসেন (২২/১৭), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ইটাখোলা হাইওয়ে থানা, ২০ জুলাই।
১৮৯. হৃদয় মীর (১৫), ছাত্র গ্যারেজ মিস্ত্রি, গুলিতে নিহত, ইটাখোলা হাইওয়ে থানা, ২০ জুলাই।
১৯০. সুজন মিয়া (১৭), ছাত্র/ভটভটি/ লেগুনা ড্রাইভার, গুলিতে নিহত, ইটাখোলা হাইওয়ে থানা, ২০ জুলাই।
১৯১. সিয়াম আহমেদ (১৯) ছাত্র, গুলিতে নিহত, ইটাখোলা হাইওয়ে থানা, ২০ জুলাই।
১৯২. অজ্ঞাত (মধ্যবয়সী), গুলিতে নিহত, ভেলানগর নরসিংদী, ২০ জুলাই।
১৯৩. আশিক মিয়া (১৫), গুলিতে নিহত, মাধবদী, নরসিংদী, ২০ জুলাই।
১৯৪. হুমায়ুন কবীর (২৫), গুলিতে নিহত, বোর্ড বাজার এরিয়া, গাজীপুর, ২০ জুলাই।
১৯৫. তনয় দাশ/তন্ময় দাশ (২৮), গুলিতে নিহত, বোর্ড বাজার এরিয়া, গাজীপুর, ২০ জুলাই।
১৯৬. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, কলতাপাড়া, গৌরীপুর উপজেলা, ময়মনসিংহ, ২০ জুলাই।
১৯৭. অজ্ঞাত (২৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল/এএমজেডএইচ, বাড্ডা, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৯৮. কামরুল মিয়া (২৭), ফার্নিচার কর্মচারী, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল/এএমজেডএইচ, বাড্ডা, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৯৯. জাহাঙ্গীর (৪০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ২০ জুলাই।
২০০. রুবেল মিয়া (২০/৩০), গুলিতে নিহত, সুগন্ধা প্রাইভেট হসপিটাল, নেয়ার প্রীতম টাওয়ার, শিমরাইল সিদ্ধিরগঞ্জ, ২০ জুলাই।
২০১. অজ্ঞাত (২৭), গুলিতে নিহত, আজিমপুর, ঢাকা, ২০ জুলাই।
২০২. শাহরিয়ার (১৯/২৩), মাদরাসা ছাত্র, গুলিতে নিহত, শনিরআখড়া অ্যান্ড যাত্রাবাড়ী এরিয়া, ২০ জুলাই।
২০৩. অজ্ঞাত (২০), গুলিতে নিহত, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা, ২০ জুলাই।
২০৪. মো: শাকিল (২২), গার্মেন্টশ্রমিক, গুলিতে নিহত, বসিলা, মোহাম্মদপুর, ২০ জুলাই।
২০৫. অজ্ঞাত (৩০), গুলিতে নিহত, বসিলা, মোহাম্মদপুর, ২০ জুলাই।
২০৬. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল, টঙ্গী এরিয়া, গাজীপুর ২০ জুলাই।
২০৭. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল, টঙ্গী এরিয়া, গাজীপুর ২০ জুলাই।
২০৮. অজ্ঞাত, ২০ জুলাই।
২০৯. অজ্ঞাত, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রাউ, বরিশাল, ২০ জুলাই।
২১০. সেলিম মন্ডল (২৯), রাজমিস্ত্রি, ব্রাশ ফায়ারে মৃত্যু, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হসপিটাল, হাজী ইব্রাহিম শপিং কমপ্লেক্স, ২০ জুলাই।
২১১. আবদুস সালাম (২২), রাজমিস্ত্রি ব্রাশ ফায়ারে মৃত্যু, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হসপিটাল, হাজী ইব্রাহিম শপিং কমপ্লেক্স, ২০ জুলাই।
২১২. সোহেল আহমেদ (৪২/২১) রাজমিস্ত্রি ব্রাশ ফায়ারে মৃত্যু, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হসপিটাল, হাজী ইব্রাহিম শপিং কমপ্লেক্স, ২০ জুলাই।
২১৩. আদিল আল মাহমুদ, কর্মচারী, গুলিতে নিহত, নেয়ার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ২০ জুলাই।
২১৪. মো: ইমরান (১৬), টেইলার, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাইনবোর্ড, ২১ জুলাই।
২১৫. আকাশ (১৬), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চিটাগাং রোড, ২১ জুলাই।
২১৬. অজ্ঞাত (৪০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, ২১ জুলাই।
২১৭. আমিন (১৬) ওয়ার্কশপ শ্রমিক, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কদমতলী গুলবান, ২১ জুলাই।
২১৮. জসিম (৪০), চা বিক্রেতা, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২১ জুলাই।
২১৯. রাকিব বেপারী (২০), গার্মেন্ট শ্রমিক, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লা, ২১ জুলাই।
২২০. ফয়েজ (৩০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।
২২১. মো: জাকির/ মো: জাহিদ (৩২), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ঢাকা, ২১ জুলাই।
২২২. তৌফিকুল ইসলাম (৩০), ইঞ্জিনিয়ার, পেট্রোবাংলা, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাড্ডা, ঢাকা, ২১ জুলাই।
২২৩. সোহাগ (২৪), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, গোপীবাগ রেল গেইট, ২১ জুলাই।
২২৪. মো: রাব্বী/আবদুল বারী (১৭), ছাত্র, টেইলার, গুলিতে নিহত, শেখেরচর মাজার বাসস্ট্যান্ড, ২১ জুলাই।
২২৫. মো: নাহিদ মিয়া (৩০), গুলিতে নিহত, গুলিতে নিহত, শেখেরচর মাজার বাসস্ট্যান্ড, ২১ জুলাই।
২২৬. আলী হোসেন (৪৫), টেইলার, গুলিতে নিহত, গুলিতে নিহত, শেখেরচর মাজার বাসস্ট্যান্ড, ২১ জুলাই।
২২৭. অজ্ঞাত (২৫), গুলিতে নিহত, নরসিংদী সদর হসপিটাল, শেখেরচর মাজার বাসস্ট্যান্ড, ২১ জুলাই।
২২৮. হুমায়ুন আহমেদ, গুলিতে নিহত, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, গাজীপুর, ২১ জুলাই।
২২৯. প্রণয় দাস, গুলিতে নিহত, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, গাজীপুর, ২১ জুলাই।
২৩০. অজ্ঞাত (২৫), গুলিতে নিহত, ৩০০ বেড হসপিটাল নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।
২৩১. আবদুল মজিব (২৮), কভার্ড ভ্যান ড্রাইভার, আগুনে দগ্ধ, চৌদ্দগ্রাম, হাজীগঞ্জ থানা, চাঁদপুর, ২১ জুলাই।
২৩২. নবী নূর (৪১), ফিশ ট্রেডার্স গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ, সাভার, ২১ জুলাই।
২৩৩. শফিকুল ইসলাম (২৫), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, দক্ষিণ পরিবাগ, ২১ জুলাই।
২৩৪. মাসুদ পারভেজ, পুলিশ, রাজারবাগ সেন্ট্রাল পুলিশ হসপিটাল, ঢাকা, ২১ জুলাই।
২৩৫. মিলন মিয়া (৩০), ফিশ ট্রেডার্স, গুলিতে নিহত, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।
২৩৬. সুমাইয়া আকতার সুমী (২০), গুলিতে নিহত, গুলিতে নিহত, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।
২৩৭. সজীব মিয়া (১৭), গুলিতে নিহত, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।
২৩৮. আশিকুর রহমান (১৯), গুলিতে নিহত, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।
২৩৯. বাবুল (২৮), গুলিতে নিহত, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।
২৪০. মো: শরীফ, গুলিতে নিহত, সানারপার, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।
২৪১. আবদুল লতিফ (২৭), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা, ২১ জুলাই।
২৪২. ইউসুফ আলী সোহান (১৬), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া, ঢাকা, ২১ জুলাই।
২৪৩. মো: হান্নান (৩০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাড্ডা, ঢাকা, ২১ জুলাই।
২৪৪. ফারুক (৪৫/২২), গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল হাসপাতাল সাভার, ২১ জুলাই।
২৪৫. রাসেল (২০), টেম্পু হেলপার, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, দনিয়া, ঢাকা, ২২ জুলাই।
২৪৬. আজিজুল মিয়া (২২), ইমপ্লয়ী, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২২ জুলাই।
২৪৭. সান্তু (২২), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বার্ন ইনস্টিটিউট, ২২ জুলাই।
২৪৮. সৈয়দ গোলাম মোস্তফা রাজু (৩৬), ইঞ্জিনিয়ার এমঅইসটিআরআই, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বার্ন ইনস্টিটিউট, ২২ জুলাই।
২৪৯. অজ্ঞাত (৩৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বার্ন ইনস্টিটিউট, ২২ জুলাই।
২৫০. মনির হোসেন, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ২২ জুলাই।
২৫১. হৃদয় চন্দ্র তরুয়া, (২২), ছাত্র, সিইউ, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২৩ জুলাই।
২৫২. অজ্ঞাত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাভার, ২৩ জুলাই।
২৫৩. অজ্ঞাত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাভার, ২৩ জুলাই।
২৫৪. অজ্ঞাত, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২৩ জুলাই।
২৫৫. অজ্ঞাত, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২৩ জুলাই।
২৫৬. শুভ শীষ (২৪), গার্মেন্ট কর্মী, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাভার, ২৩ জুলাই।
২৫৭. অজ্ঞাত (২২), মাথায় আঘাত, ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স, উত্তরা, ২৩ জুলাই।
২৫৮. শাহরিয়ার শুভ (২৮), গুলিতে নিহত, ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স, মিরপুর-১, ২৩ জুলাই।
২৫৯. নাসির হোসেন, গুলিতে নিহত, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, রায়েরবাগ, যাত্রাবাড়ী, ২৩ জুলাই।
২৬০. রিয়া গোপ (৬), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাড়ির ছাদে গুলিবিদ্ধ, ২৪ জুলাই।
২৬১. শাহজাহান হৃদয় (২১), মাদ্রাসার ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, লেভেল ক্রসিং, এসকে টাওয়ার, মহাখালী, ২৪ জুলাই।
২৬২. সাজেদুর রহমান ওমর (২২), আইটি টেকনিশিয়ান, ডেমরা, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাইনবোর্ড এলাকা, কোনাপাড়া, ডেমরা, ২৪ জুলাই।
২৬৩. তুহিন আহমেদ (২৬), মাসন, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাভার, ২৪ জুলাই।
২৬৪. জাকির হোসেন (২৯), টেইলর, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ২৫ জুলাই।
২৬৫. জামান মিয়া (১৭), শ্রমিক, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ, ২৫ জুলাই।
২৬৬. সোহেল রানা (২০), গুলিতে নিহত, বিএসএমএমইউ, রামপুরা, ২৫ জুলাই।
মানবজমিন ডিজিটাল...
সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৫ অপরাহ্ন
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে করুণ দৃশ্য: আল জাজিরার রিপোর্ট
গত সপ্তাহের সোমবার কাজ থেকে বাসায় ফিরছিলেন অনিক। এ সময় বিক্ষোভকারী ও পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান রাস্তায়। কী ঘটছে তা বুঝে ওঠার আগেই ছররা গুলি এসে তার মুখমণ্ডলে লাগে। তিনি মাটিতে পড়ে যান। অচেতন হয়ে পড়েন। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আনা প্রায় ৫০০ রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।
হাসপাতালের রেকর্ড বলছে এর মধ্যে কমপক্ষে ২৭৮ জনের শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও ক্ষত হয়েছে। মোটরসাইকেল ওয়ার্কশপে কাজ করে ১০ বছর বয়সী মোহাম্মদ শামীম। গত শুক্রবার মিরপুরে সংঘর্ষ চলাকালে তার দুই চোখেই ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। সে কোনোদিনই পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শামীমের পিতা মোহাম্মদ ইদ্রিস সন্তানের এই পরিণতির জন্য কাঁদছেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোলাম মোস্তাফা নিশ্চিত করেন যে, এসব মানুষ আহত হয়েছেন বিক্ষোভের সময় সংঘর্ষে শটগানে ছররা গুলি ব্যবহার করার কারণে। এসব গুলি চোখে প্রবেশ করে আটকে আছে কেন্দ্রীয় অঞ্চল রেটিনায় অথবা শক্তির ফলে তা বেরিয়ে গেছে। এসব কারণে আংশিক অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে।
ধাতব ছররা গুলি শটগান, আইন প্রয়োগকারীদের ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। তারা বলেছে, এটা ব্যবহার যথার্থ নয়। তা প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকের নীতিকে লঙ্ঘন করে। বেশ কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষক অনেক ছবি ও ফুটেজ যাচাই করে বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা ১২ গজ পাম্প-অ্যাকশন শটগান ব্যবহার করেছে। তাতে এসব ধাতব ছররা গুলির কার্ট্রিজ থাকে।
এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেক্সট মেসেজে যোগাযোগের চেষ্টা করে আল জাজিরা। কিন্তু কোনো সাড়া পায়নি আল জাজিরা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদ আল জাজিরাকে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম প্রাণঘাতী অস্ত্র পুলিশ বা আধা সামরিক বাহিনী ব্যবহার করেছে কিনা তা তিনি চেক করে দেখবেন। কিস্তু যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযোগ করেছে বিক্ষোভ চলাকালে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করেছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। একই রকম উদ্বেগ জানিয়েছে আরেক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা বলেছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তাদের ওপর সরাসরি গুলি, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট এবং শটগান থেকে ছররা গুলি ছোড়া হয়েছে। চোখে আহত হয়ে যারা বেঁচে আছেন তারা ও তাদের পরিবার দাবি করেছে, বৈষম্যমূলকভাবে শক্তি প্রয়োগ করেছে পুলিশ। কোনো বিরতি না দিয়ে গুলি করেছে। দক্ষিণের বরিশালে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন রকিবুল আহসান। তিনি বিএম কলেজে পরিসংখ্যানে চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। গত মঙ্গলবার তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে রাস্তায় অবস্থান নিলে তার দুই চোখেই গুলি করা হয়েছে। তার চোখ পুরোপুরি ভালো হবে কিনা তা নিশ্চিত নন ডাক্তাররা। রকিবুল আহসান বলেন, আমরা একটি আইনগত বিষয়ে প্রতিবাদ করছিলাম।
এর জন্য আমাদের গুলি করা হলো। এখানে কোনো ন্যায়বিচার নেই। সেলসম্যান অনিকের সঙ্গে হাসপাতালের একই ওয়ার্ডে আছেন মাদারীপুরের সুমন মিয়া। তিনি একজন রাজমিস্ত্রি। তার ডানচোখে গুলি বিদ্ধ হয়েছে। আহসান বা অনিকের মতো তিনি সরকার বিরোধী প্রতিবাদে জড়িত নন। তিনি কাজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। অপারেশন সত্ত্বেও চিকিৎসকরা তার চোখটি বাঁচাতে পারেননি। তার ওই চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। তার বোন লিপি আকতার বলেন, কোনো প্রতিবাদে যুক্ত ছিল না আমার ভাই। তাকে কেন গুলি করা হলো? এর জন্য কাকে দায়ী করা হবে?
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অনলাইনে প্রথম যে জিনিসটি দেখা গিয়েছিল তা হলো ‘মৃতদের ডিজিটাল ইয়ারবুক’ by মুজিব মাশাল ও সাইফ হাসনাত
সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, তা দমন করার নামে সরকারি বাহিনী রীতিমতো হত্যাযজ্ঞ চালায়। মৃতের সংখ্যা প্রায় ২০০-এর কাছাকাছি। হাজার হাজার আহত হয়েছেন। শুধু রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালেই ২৫০ জনেরও বেশি লোকের মুখে পেলেট বা (রাবার বুলেট) গুলি করার পর চোখের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। নিহতদের অধিকাংশই যুবক, তাদের বয়স ২০। স্থবির অর্থনীতির জেরে চাকরির সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ার কারণে তারা রাজপথে একত্রিত হয়েছিল। রাষ্ট্র নেতারা চাকরির মেধাভিত্তিক বণ্টনের জন্য তাদের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি সরকারি দুর্নীতি এবং দায়মুক্তি হিসেবে তারা যা প্রত্যক্ষ করেছিল তা তাদের মনে একটু একটু করে ক্ষোভের সঞ্চার করে।
২৩ বছর বয়সী হৃদয় চন্দ্র তারুয়া ইতিহাসে ডিগ্রি শেষ করে গৃহশিক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন। তার বাবা একজন কাঠমিস্ত্রি, মা ঘর সামলান। কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পর সে মাকে সাহায্য করতো। জামাকাপড় ধুয়ে দিতো, মসলা পিষে দিতো। মাকে সান্ত্বনা দিতো এই বলে-চাকরি পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। এরপরে আর কষ্ট করতে হবে না। কিন্তু হৃদয়ের আর বাড়ি ফেরা হলো না।
নিহত তিন সাংবাদিকের একজন হাসান মেহেদি (৩৫)। তিনি তার স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে রেখে গেছেন, যাদের বয়স তিন বছরের কিছু বেশি। তার স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপি বলে ওঠেন, ‘আমার ছোট মেয়ে সবেমাত্র ‘আবু, আবু’ বলতে শিখেছে। আমার মেয়েরা কখনই জানতে পারবে না যে, তাদের বাবা আসলে কে ছিলেন।’
দমনপীড়ন শুরু হওয়ার সময় মাহমুদুল রহমান সৈকত (২০) তার দোকানটি বন্ধ রেখেছিলেন। তার বোন সাবরিনা সাবন্তী জানান, আহত ছাত্রদের সাহায্য করতে ছুটে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। দুই বোনের সঙ্গে ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার মাহমুদুল রহমান সৈকতের খুনসুটির সম্পর্ক ছিল। সাবন্তী অশ্রুসজল নয়নে বলছেন- ‘যখন তারা ভাইকে কবর দিতে নিয়ে গিয়েছিল, তখন সমস্যা হচ্ছিলো। কারণ ভাই এতটা লম্বা ছিল।’
নিহতদের পরিবারের জন্য তাদের প্রিয়জনের মৃত্যুর পরের কাজটি ছিল সব থেকে কঠিন। ফোন বন্ধ থাকার কারণে মৃতদেহ অনুসন্ধান করা, দাফন সম্পন্ন করা প্রতি পদক্ষেপে তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়। সাবন্তীর কথায়, ‘আমি জানি না, আমরা আর কখনো মন খুলে হাসতে পারবো কিনা। আমার মা সারাদিন কাঁদে। বাবা সারাদিন কাঁদে। আমরা শুধু ভাইয়ের কথাই ভাবতে থাকি।’
বিক্ষোভ, যা ক্র্যাকডাউন এবং কারফিউ’র পরে প্রশমিত হয়েছে, এই মাসের শুরুতে একটি একক দাবিতে শুরু হয়েছিল। ছাত্ররা এমন একটি ব্যবস্থার অবসান চেয়েছিল যেখানে সরকারি চাকরিতে ‘মুক্তিযোদ্ধাদের; বংশধরদের জন্য ৩০% কোটা বরাদ্দ ছিল। প্রায় ১০ দিন আগে বিক্ষোভটি বিশৃঙ্খলায় নেমে আসে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে পুরো সুসজ্জিত করে রাস্তায় নামিয়েছিলেন।
হাজার হাজার মানুষকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয় যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বন্দিদের ভিড়ে পরিপূর্ণ। এলাকায় এলাকায় টহল দিতে থাকে নিরাপত্তা বাহিনী। ঘরবাড়িতে ঢুকে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি এবং রাস্তায় লোকজনকে দাঁড় করিয়ে তাদের ফোন ঘেঁটে দেখা হয় সেখানে বিক্ষোভের কোনো ফুটেজ আছে কিনা যা অনলাইনে পোস্ট করা যেতে পারে। হাসিনার বাহিনীও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তিনজন ছাত্রনেতার একজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান তিনজন ছাত্রনেতার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিক্ষোভ চালিয়ে যাবার জন্য ছাত্রদের হুমকি দেয়া হচ্ছিলো। শুধুমাত্র তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য, আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবো।’
হাসিনা তার রাজনৈতিক বিরোধীদের সহিংসতার জন্য দায়ী করেছেন, বলেছেন যে তারা তার সরকারকে পতনের চেষ্টা করতে বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করেছিল। অন্তত তিনজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়, তার দলের একজন সদস্যকে মারধর করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়। বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা বলছেন, খুব সম্ভবত দীর্ঘদিন ধরে দমে থাকা বিরোধী দলগুলো এই মুহূর্তটি কাজে লাগাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। কিন্তু তারা এটাও বলে হাসিনার প্রতিক্রিয়া জানানোর একটি প্যাটার্ন আছে: সংঘাতকে তীব্র পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, তারপর নিজের ক্ষমতাবলে সমর্থকদের রক্ষা করা ও বিরোধীদের দোষারোপ করা।
ডিজিটাল ইয়ারবুকে ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদের মৃত্যুকে ১ নম্বরে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তার প্রতিকৃতিতে শোভা পাচ্ছে বাংলাদেশের পতাকা। সাঈদ উত্তরাঞ্চলীয় শহর রংপুরের ছাত্র ছিলেন। তার পরিবার বছরের পর বছর ধরে কিছু জমিজমা বিক্রি করে সংসার চালায়। তিনি রংপুর থেকে দূরে সরকারি চাকরি করে জীবন গড়তে চেয়েছিলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি জানতেন যে, সামনে অনেক প্রতিকূলতা রয়েছে। তার একজন চাচাতো ভাই যিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেও এখনো কোনো সরকারি চাকরি খুঁজে পাননি। তাই সাঈদ সিভিল সার্ভিসে কোটা সিস্টেম নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে তার সংকল্পের আরেকটি কারণ ছিল: হাসিনা রাজাকারদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তুলনা করার পর তার দলের যুব শাখার সদস্যরা সাঈদের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। মৃত্যুর আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে সাঈদকে বলতে শোনা যায় যে, তাকে মুখে থাপ্পড় মারা হয়েছে। তার পরিবার জানিয়েছে, হত্যার একদিন আগে এই ঘটনা ঘটে।
আরেকটি ভিডিও ১৬ই জুলাই বিকাল থেকে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার আগে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। যাতে দেখা যায় সাঈদ একটি কালো টি-শার্ট পরে আছেন এবং একটি লাঠি ধরে আছেন। তিনি তার বাহু প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছেন যখন পুলিশ অফিসাররা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সেই সময়ে ভিডিওতে একটি কণ্ঠস্বর ভেসে ওঠে ‘তাকে গুলি করা হয়েছে, তাকে গুলি করা হয়েছে’। তারপর আবার উঠে দাঁড়ান নির্ভীক সাঈদ। আবার গুলি চলতে থাকে তাকে লক্ষ্য করে। সাঈদের শরীরে বেশির ভাগ ক্ষত রাবার বুলেটের। কিন্তু তার মৃতদেহ গ্রহণকারী তার ভাই রমজান আলী বলেছেন যে, সাঈদের মাথার কাছে যে গুলিটি গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল সেটি অন্তত রাবার বুলেট ছিল না। সাঈদকে একটি হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করার পর তার বন্ধুরা তার লাশ বিক্ষোভস্থলে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তা ছিনিয়ে নিয়ে লুকিয়ে রাখে। তার ভাই রমজান আলী বলছেন যে, তিনি যখন হাসপাতালে পৌঁছান তার ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করতে তখন কয়েক ঘণ্টা ধরে খোঁজাখুঁজি ও অনুনয়-বিনয় করতে হয়েছিল। আলী কিছু কাগজপত্রে সই করে ফিরে আসার পর দেখেন সাঈদের লাশ গায়েব। তিনি আরও কয়েক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি ও অনুনয়-বিনয় করার পর পুলিশ জানায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কী ঘটছে তা তার কাছে পরিষ্কার ছিল। পুলিশ ইচ্ছা করে সময় নষ্ট করছিল।
মধ্যরাতের পর ছাত্রছাত্রীরা লাশ ফেরতের দাবিতে হাসপাতালে হামলার হুমকি দিলে কর্মকর্তারা সূর্যোদয়ের আগে সাঈদের লাশ দাফন করার জন্য তার পরিবারের ওপর চাপ দিতে থাকে। এমনকি লাশ দেয়ার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে কিনা তাও জানতে চায় পুলিশ। আলী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম মামলা করবো না। কারণ আমরা ভয় পেয়েছিলাম, তাহলে হয়তো ভাইয়ের লাশটাও আমরা পাবো না।’
(লেখক: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যুরো প্রধান। তিনি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং ভুটান সহ ভারত এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের কভারেজে সাহায্য করেন)।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Monday, July 29, 2024
বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান ঘটতে পারে: সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনার সাক্ষাৎকার by মোহাম্মদ আবুল হোসেন
তার কাছে জানতে চাওয়া হয় বর্তমানে তিনি অবসরে কেমন সময় কাটাচ্ছেন। ড্যান মোজেনা হেসে বলেন, আমি টায়ার্ড। সব সময় আমি সফর করি। তিনি বলেন, আমি ঢাকাকে মিস করি। বাংলাদেশকে মিস করি। বাংলাদেশের চমৎকার মানুষদের মিস করি। আমি সহসাই আবার বাংলাদেশে যেতে চাই। এ পর্যায়ে প্রশ্নকর্তা জানতে চান- আমি আপনার বাড়িতে একটি রিকশা দেখেছি। এটা আপনি বাংলাদেশ থেকে এনেছেন। হাসি-খুশি ড্যান মোজেনা তা নিয়ে মজা করেন। তিনি বাংলাদেশকে কতোটা ভালোবাসেন তা ফুটে ওঠে তার কথায়। তিনি বলেন, আমি বাজি ধরতে পারি, এই রিকশা আপনার বাড়িতে নেই। আমি এটা ভালোবাসি। জন্মদিনে একটি রিকশার পেইন্টিং আমার ছেলে ও মেয়ে আমাকে উপহার দিয়েছে। এটা আমাকে অনেক কিছু মনে করিয়ে দেয়। আমি প্রতিদিনই এটা দেখি।
প্রশ্নকর্তা জানতে চান, আপনি একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে ছিলেন। এ ছাড়াও আপনি বাংলাদেশ দূতাবাসে ডেপুটি অব দ্য মিশন ছিলে। কিন্তু তাকে সংশোধন করে দেন হাসি-খুশি মোজেনা। তিনি বলেন, ১৯৯৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পলিটিক্যাল কাউন্সিলর ছিলাম। আমি জন হোলসম্যান ও রাষ্ট্রদূত ম্যারিয়ান পিটার্সের সঙ্গে কাজ করেছি। এরপরই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে কোটা সংশোধন আন্দোলনের প্রসঙ্গ। মোজেনার কাছে জানতে চাওয়া হয়- গত সপ্তাহে, এমনকি এখনো আপনি জানেন কয়েক শত কোটা আন্দোলনকারী বা সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রকৃত সংখ্যা আমরা জানি না। কারফিউ দেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে সব সময়ই আপনি বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে যখন এমন অবস্থা দেখেন, তখন পুরো ঘটনা নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী? আপনার বিশ্লেষণ কী বলে? এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ড্যান মোজেনার চোখে-মুখে হতাশার ছাপ দেখা যায়। তিনি বলেন- আপনি যেমনটা অনুভব করছেন আমিও তেমনটাই অনুভব করছি। আমি বিধ্বস্ত। যা ঘটেছে এবং যা ঘটছে তাতে আমি বিপর্যস্ত। এটার শুরু জুলাইয়ে, গত সপ্তাহে যা ঘটেছে তাতে আমি ভীতসন্ত্রস্ত। আমি জানি না কতো মানুষ নিহত হয়েছেন। এটা হতে পারে ১৫০, হতে পারে ২০০, হতে পারে ৪০০- আমি জানি না। সংখ্যাটা যা-ই হোক, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। যেসব মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তারা বাংলাদেশের ভালো মানুষ। কেন তাদেরকে হত্যা করা হলো? কেন? আমি বিপর্যস্ত। আমি মনে করি প্রতিটি পরিবারকে ভয়ানক এই বেদনা স্পর্শ করেছে। এটাই আমার ইমোশনস।
তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাংলাদেশে একজন রাষ্ট্রদূত ছিলেন আপনি। এই উত্তেজনাকর অবস্থা কীভাবে সৃষ্টি হলো এবং এটা প্রশমনের কী পথ থাকতে পারে বলে মনে করেন আপনি? জবাবে ড্যান মোজেনা বলেন, আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি না। এটা ইতিহাসবিদদের কাজ। আমি পেছনের দিকে নয়, সামনের দিকটা দেখছি। আমি যেটা দেখছি, আপনি কি করছেন, যা ঘটে গেছে তা আপনি ফেরত আনতে পারবেন না। আমি ১লা জুলাই সার্স করে দেখেছি। যা ঘটেছে তা ফেরাতে পারবেন না। আসুন আমরা এখন কোথায় আছি সেটা দেখি। বাংলাদেশ এখন কী করছে? আমার মায়ের কথা বলতে পারি। আপনি তাকে দেখেননি। মা এবং সবাই আমাকে ড্যান নামেই ডাকেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন- ড্যান, তোমার জীবনে অনেক অনেক কালোমেঘ আসবে। কখনো কখনো সেই নিকষ কালোমেঘের মধ্যে তুমি ‘সিলভার লাইনিং’ দেখতে পাবে।
১লা জুলাই সেই কালোমেঘ দেখতে পেয়েছি আমি। আমার মায়ের কথা মনে হয়েছে। এই ভয়াবহতার মধ্যে কোনো ভালো কিছু থাকতে পারে। যা দেশের জন্য অধিকতর ভালো কিছু হবে। উত্তরটা হ্যাঁ হবে নাকি না হবে তাও জানি না। গত সপ্তাহে যে ভয়াবহতা দেখেছি, তা হয়তো হতে পারে বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে অচল রাজনৈতিক জ্যামকে ভাঙতে সহায়ক। আপনি জানেন আমি কি নিয়ে কথা বলছি। এর প্রেক্ষিতে আমার কি ধারণা সেটা শেয়ার করতে পারি। আমি নিশ্চিত এই ভয়াবহতা বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসবে। হতে পারে এটা একটি ব্যর্থ চর্চা। আমি এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে পারি না। প্রথমত, সর্বোপরি আজই এসব বন্ধ করুন। জাস্ট বন্ধ করুন।
এ কথা বলতে বলতে কঠিন এক হতাশা তার মুখে ফুটে ওঠে। তিনি ইংরেজিতে বলেন- টুডে ইট মাস্ট বি স্টপ। জাস্ট স্টপ। সেনাবাহিনীকে তার ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে। প্রত্যেককে তাদের জায়গায় (কাজে) ফিরতে হবে। ইন্টারনেট মুক্ত করে দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দিতে হবে। আটক রাখা ছাত্রদের ছেড়ে দিতে হবে। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, বিশ্বাসযোগ্য, নিরপেক্ষ/ক্রেডিবল/ইন্ডিপেন্ডেন্ট তদন্ত শুরু করতে হবে। তাতে পরিষ্কার করতে হবে কী ঘটেছিল এবং পরিষ্কার করতে হবে যে, কোন অপরাধের জন্য কে দায়ী। কেউ তো ওইসব মানুষকে হত্যা করেছে। আমি জানি না। আপনি রংপুরের আবু সাঈদের ঘটনা ভিডিওতে দেখেছেন। কেউ তো তাকে হত্যা করেছে। আমি মনে করি তাদেরকে জবাবদিহিতায় আনা উচিত। কংক্রিট স্টেপ আছে, যা শুধু সরকারকে নয়, সবাইকে অল্প সময়ের মধ্যে নিতে হবে। এরপর আসুন বৃহত্তর পরিসরে। আমি একজন আশাবাদী মানুষ। বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অচলাবস্থা আছে। এটাকে ভাঙতে হবে। অর্থপূর্ণ সংস্কার করতে হবে। সেটা হতে পারে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়।
গণতন্ত্রের এই ধারায় নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান ঘটতে পারে। এমনও হতে পারে পুরনো রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরাই পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। না-ও হতে পারে। আমি সেখানে একটি বহুদলীয় প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবো। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ধারায় ভারত সহায়তা করতে পারে। ভারত সীমান্তের কাছে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র ভারতের স্বার্থ রক্ষা করবে না। ফলে ভারত সহায়তা করতে পারে। হতে পারে আন্তর্জাতিক বন্ধুরা র্যাবের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সহায়তা করতে পারে পুনরেকত্রীকরণের ক্ষেত্রে। নৃশংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া যেতে পারে। এর আগে ২০২১ সালে র্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
তার কাছে আরও জানতে চাওয়া হয়, আপনি যখন রাষ্ট্রদূত ছিলেন এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আপনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ- উভয় দলকে আলোচনায় ডেকেছিলেন। কিন্তু আপনি জানেন বাংলাদেশে কোনো পার্টিই সংলাপে যায় না। কিন্তু একজন বন্ধু হিসেবে, একজন বিশেষজ্ঞ এবং একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে আপনি কি বলবেন- কীভাবে তারা একটি সংলাপ শুরু করতে পারে? এক্ষেত্রে বিরাট গ্যাপ আছে। এই গ্যাপ কমানোর উদ্যোগের মাধ্যমে কীভাবে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান হতে পারে?
ড্যান মোজেনা বলেন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এক্ষেত্রে অপশন কী হতে পারে? কীভাবে বলবেন এর অবসান হবে? আমি মনে করি মানুষ হত্যা কারও জন্য মঙ্গল নয়। ধ্বংস নয়, আপনাদেরকে দেশটা গড়তে হবে।
এ পর্যায়ে হাসান ফেরদৌস নামে একজন জানতে চান- রাষ্ট্রদূত মোজেনা আপনাকে টিভি শোতে স্বাগতম। বাংলাদেশে যে সার্ভিস দিয়েছেন তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে ভারতের সঙ্গে সমঝোতার (নিগোশিয়েট) চেষ্টা করছেন। তাই কি? আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত ভূমিকা রাখতে পারে? কি সেই ভূমিকা?
জবাবে মোজেনা বলেন, এটা কোনো গোপন কথা নয়। সবাই জানেন ২০১৪ সালের নির্বাচনকে সামনে নিয়ে নয়াদিল্লি কি চায়। আমি সবাইকে বলেছি, ভারতও সবাইকে বলেছে- একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায় ভারত। আমিও এটা বিশ্বাস করি।
এ পর্যায়ে ওই প্রশ্নকর্তা আবার জানতে চান- ভারত একটি বিদেশি রাষ্ট্র। একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র। কীভাবে একটি সার্বভৌম বাংলাদেশে ভূমিকা রাখতে পারে তারা? ২০১৪ সালে ভারত কী ভূমিকা রাখতে পারতো বলে মনে করেন?
ড্যান মোজেনা বলেন, আমি ইতিহাসের পেছনে যেতে চাই না। আপনি যেটা বলছেন আমার ধারণা তার থেকে ভিন্ন ছিল। ভারত সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে নাকি করবে না- সেটা নিয়ে নয়। তারা একটি দলকে সমর্থন করবে কিনা বিষয়টি তা নয়। আমার মতে, বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিকভাবে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আছে। তারা তাদের নেতা নির্বাচনের জন্য বদ্ধপরিকর।
প্রশ্নকর্তা জানতে চান, তার মানে আপনি মনে করেন ২০১৪ সালে এমনকি সর্বশেষ নির্বাচনে বাংলাদেশে ভূমিকা পালন করেছে ভারত? আপনার দৃষ্টিতে ভারত এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
ড্যান মোজেনা বলেন, এক্ষেত্রে তাদের ‘ফেভারিট হর্স’ আছে।
প্রশ্নকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী? আমরা দেখেছি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান হারে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত হয়েছে। সিরিয়াস অবস্থার মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রদূত পিটার হাস্ বিদায় নিয়েছেন। তিনি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে বলেছেন- এভাবে ঢাকা থেকে বিদায় নিতে হবে এটা আমি আশা করিনি। তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন আমি জানি না। তাকে কি চলে যেতে বলা হয়েছে? তিনি কি লিগ্যাসি রেখে গেছেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে?
ড্যান মোজেনা বলেন, আমি তো বাইরে থেকে কথা বলছি। আমি আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি, আমি একজন প্রাইভেট সিটিজেন। আমার বিষয় ছাড়া অন্য কারও বিষয়ে আমি কথা বলতে পারি না। যুক্তরাষ্ট্র সরকার কী করছে, কী ভাবছে ভেতরে ভেতরে সেটা আমি জানি না। পিটার হাস্কে নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। এটা তার নিজের ব্যাপার। এ বিষয়ে আপনি সরকারের কাছে জানতে চাইতে পারেন।
প্রশ্নকর্তা আবার জানতে চান- চলমান সংকটে কী পদক্ষেপ নিয়ে সহায়তা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র?
মোজেনা বলেন, আমি এই প্রশ্নটা পছন্দ করি ভীষণভাবে। আমি যখন রাষ্ট্রদূত ছিলাম, তখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেশির ভাগ মানুষ এভাবে প্রশ্নটা করেননি। এক্ষেত্রে কোনো জাদু নেই। বাংলাদেশের সমস্যাগুলোর সমাধান তাদেরকেই করতে হবে। তাদের তো এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই। ভারতের প্রয়োজন নেই। রাশিয়া বা চীন বা অন্য কারও সহায়তা প্রয়োজন নেই। আমি এটাকে সফিসটিকেটেড দেশ মনে করি। আপনার প্রশ্নের জবাবে বলি- যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে পারে এই প্রক্রিয়ায়। বাংলাদেশে অনেক ‘এলিমেন্ট’ আছে। আপনি জানেন, আমি জানি সেখানে পুনরেকত্রীকরণে আমরা সহায়তা করতে পারি। আমরা সেখানে গঠনমূলক সহায়তা করতে পারি। তা হতে পারে প্রশিক্ষণ, সমর্থন। সম্ভবত নিষেধাজ্ঞাও সহায়ক হতে পারে। ২০২১ সালে র্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আমি তো মনে করি তাতে কতোগুলো জীবন রক্ষা করা গেছে। আমার দৃষ্টিতে এতে কিছু নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষা হয়েছে। আমার শেষ কথা হলো যুক্তরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক কোনো দেশ এই সমস্যার সমাধান করতে পারে না। বাংলাদেশের কাছেই আছে এর উত্তর। আমি আশা করি- বাংলাদেশি জনগণ যেভাবে সমস্যার সমাধান চায় তাতে সহায়তা করার চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আমেরিকা দ্বিমুখী নীতি নিয়েছে এমন এক প্রশ্নের জবাবে ড্যান মোজেনা বলেন, প্রতিটি দেশেরই কূটনৈতিক মিশন আছে, দূতাবাস আছে। এখন যেখান থেকে এই সাক্ষাৎকার দিচ্ছি এখান থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস দূরে নয়। তারা একই কাজ করে। দুটি নয়, তিনটি নয়। তারা একটি কাজ করে। বাংলাদেশের স্বার্থ দেখে। যুক্তরাষ্ট্রও তাই করে। প্রতিটি দেশের সম্পর্ক আছে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রদূত কাজ করেন। সব দেশই এটা করে। এক্ষেত্রে মানবাধিকার এবং অর্থনৈতিক বিষয়টিও দেখা হয়। গণতন্ত্র দেখা হয়। নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয় দেখা হয়। আমি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শিখেছি এটাই আমার কাজ। এর ফল সুখকর নয়। ফল হ-য-ব-র-ল। বাইরে থেকে এটাকে অন্যভাবে দেখা হয়। এর মধ্যদিয়েই আমাদেরকে কাজ করতে হয় ভারসাম্য রক্ষা করে।
তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, যুক্তরাষ্ট্রে সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা চাক শুমার, অনেক কংগ্রেস সদস্য, সিনেটর ও অন্যরা বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্য অনেক দেশও। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস দ্য হিন্দুকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নতুন নির্বাচন দাবি করেছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি করেছেন। জবাবে ড্যান মোজেনা বলেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশি জনগণ যা সমর্থন করে, কথা বলতে চায়- তাতে আমি সমর্থন করি। আমি মনে করি গত প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে সংঘটিত ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে নিয়ে সব পক্ষের মধ্যে অর্থপূর্ণ সংলাপ হওয়া উচিত। বাংলাদেশে স্বচ্ছ বিষয় হতে পারে তারা একে অন্যের সঙ্গে কথা বলতে পারেন গঠনমূলক উপায়ে। তারা সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ বের করতে পারেন। বিকল্প পথ বের করতে হবে। আমার আইডিয়া আছে। কিন্তু অনেক আইডিয়া আছে এক্ষেত্রে। আপনি বলেছেন ইউনূস বলেছেন নতুন নির্বাচন। এটা ভালো আইডিয়া হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। এ বিষয়ে আমার আইডিয়া নেই। আমি এটা নিয়ে রায় দিচ্ছি না। আমি এটা জনগণের কাছে ছেড়ে দিতে চাই, যারা আলোচনার মধ্যদিয়ে এটা ঠিক করতে পারেন। তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এটা সহায়ক কিনা।
এ অঞ্চলে ভারত-চীনের ভূমিকা কী, বাংলাদেশের কূটনীতি চীন ও ভারতের সঙ্গে, এ নিয়ে কথার লড়াই আছে। এ বিষয়ে বলুন। এ বিষয়ে ড্যান মোজেনা বলেন, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, জনগণের কল্যাণ এসবই তাদের উত্তম স্বার্থের বিষয়। কখনো কখনো এই ইন্টারেস্ট নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। এ সময়ে আপনাকে ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র, চায়না, ভারত, রাশিয়া আমরা সবাই বাংলাদেশকে একটি পুরোপুরি অর্থপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দেখতে চাই। এটা যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, রাশিয়া সবার জন্যই মঙ্গলজনক।
তার কাছে নতুন প্রশ্ন করা হয়- আপনি বাংলাদেশে থাকার সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অনেকবার।
হাস্যোজ্জ্বল মোজেনা বলেন- হ্যাঁ, আমি সবার সঙ্গেই সাক্ষাৎ করেছি।
প্রশ্ন: আপনার বেস্টফ্রেন্ড কে?
ড্যান মোজেনা বলেন, আমার সময়ের ছবিগুলো দেখুন। আমার মুখে সব সময় হাসি দেখবেন। আমি বাংলাদেশের কৃষকের ধানক্ষেতে গিয়েছি। তারা আমার বেস্টফ্রেন্ড। পাবনার কৃষক। এসব মানুষই আমার বেস্টফ্রেন্ডস।
তার কাছে জানতে চাওয়া হয়- হাসিনা-খালেদার সঙ্গে আপনার সাক্ষাৎ হয়েছে। কার সঙ্গে কাজ করতে চান।
মোজেনা বলেন, আমি সবার সঙ্গেই কাজ করতে চাই।
আপনার ভালো অথবা মন্দ অভিজ্ঞতা কী?
মোজেনা বলেন, আমি অনেকবার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়েছি। তিনি আমাকে ৬৪টি জেলা ঘোরার অনুমতি দিয়েছেন। সেটা না করে তিনি আমাকে থামিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু আমি এসব সফর করতে চেয়েছি। তিনি আমাকে সহায়তা করেছেন। নিরাপত্তা দিয়েছেন। প্রতিটি জেলায় তিনি আমাকে সরকারের গেস্টহাউস ব্যবহার করতে দিয়েছেন। সব সরকারি অফিসে আমাকে যেতে দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গেও আমার খুব ভালো সম্পর্ক। তারা সবাই আমার প্রতি আন্তরিক ছিলেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
July
(27)
-
►
Jul 30
(7)
- কোটা বিক্ষোভ দমনের পর প্রান্তসীমায় বাংলাদেশ: ক্রাই...
- গুলিতে ইকরামের মগজ ছিটকে পড়ে রাস্তায় by নাজমুল হক ...
- মেসে মেসে হানা: আদালতে স্বজনদের ভিড়
- ট্রাম্পকে একজন যৌন হেনস্থাকারী বললেন কমালা
- সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে নিহত ২৬৬ জনের তালিকা
- চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে করুণ দৃশ্য: আল জাজিরার রি...
- অনলাইনে প্রথম যে জিনিসটি দেখা গিয়েছিল তা হলো ‘মৃতদ...
-
►
Jul 30
(7)
-
▼
July
(27)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...