Tuesday, August 23, 2011

মাহে রমজানে শ্রমজীবীদের প্রতি সদাচরণ by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

খেটে খাওয়া পরিশ্রমী মানুষ এবং বিভিন্ন ধরনের শ্রমিকের পক্ষে রোজা রেখে পরিপূর্ণভাবে কাজকর্ম সম্পাদন করা যে কত কঠিন, তা মালিকপক্ষের তিলে তিলে অনুভব করার সময় মাহে রমজান। যেসব শ্রমিক দৈহিক পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রুজি-রোজগার করে, তাদের জন্য রোজা অবস্থায় দায়িত্ব-কর্তব্য পালনের বিষয়টি মালিকপক্ষকে উপলব্ধি করা দরকার। রোজা রেখে তারা অধিক কষ্টসাধ্য কাজ করলে বেশি ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়বে। তাই কঠিন ও সাধ্যাতীত কাজের বোঝা চাপিয়ে যাতে তাদের অধিক কষ্ট দেওয়া না হয়, সেদিকটি অবশ্যই মানবিক বিবেচনায় রাখতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এই মাসে (রমজানে) যাঁরা দাস-দাসীদের প্রতি সদয় ব্যবহার করেন, অর্থাৎ তাদের কাজের বোঝা হালকা করেন, আল্লাহ তাঁদের দয়াপরবশ হয়ে ক্ষমা করে দেন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করেন।’
ইসলাম ধনী-গরিব, মনিব-চাকর, মালিক-শ্রমিকের কোনো পার্থক্য করে না। ইসলাম আদল-ইনসাফ ও ন্যায়নীতির ধর্ম। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘হে লোক সকল! আল্লাহ তোমাদের ভাইদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। অতএব, যার অধীনে কোনো ভাই থাকে, তাকে তা-ই খাওয়াবে যা সে নিজে খায়, তাকে তা-ই পরাবে যা সে নিজে পরে এবং তাকে সাধ্যের অধিক কাজ চাপিয়ে দেবে না। অগত্যা তাকে দিয়ে যদি কোনো কষ্টের কাজ করাতে হয়, তাহলে তাকে সাহায্য করবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
সাহাবায়ে কিরাম নিজেদের জীবনে নবীজির এ আদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করেছেন এবং অন্যকেও পালনে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কিন্তু বাস্তবে ঘাম ঝরানো শ্রমিকের প্রতি মালিকশ্রেণীকে সামান্যতম সহানুভূতি প্রদর্শন করতে দেখা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে যেন রমজান মাসে তাদের আরও রুদ্রমূর্তি হয়ে আবির্ভূত হতে দেখা যায়। রোজাদার শ্রমিকদের কাছ থেকে অন্য সময়ের মতোই কড়ায়-গন্ডায় শ্রম আদায় করার জন্য কঠোরতা দেখালে, রোজা রাখার কারণে তপ্ত দুপুরে প্রচণ্ড খরতাপে যখন সে হাঁপিয়ে ওঠে এবং দায়িত্ব পালনে ত্রুটি হয়, তখন তার প্রতি চাপ প্রয়োগ ও দুর্ব্যবহার করলে নাজাতের দিনগুলোতে মালিকপক্ষের ক্ষমা নয়, বরং কঠোর শাস্তিই নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে, শ্রমিক যদি রোজা রাখা সত্ত্বেও সাধ্যমতো কর্তব্য পালনে সচেষ্ট হয়, তাহলে সে সাধারণ কেউ রোজা রেখে যে সওয়াব পাবে, তার দ্বিগুণ সওয়াব পাবে। কারণ অধীন কর্মচারী, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া লোকদের পুরস্কারের কথা নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘তিন ধরনের লোকের জন্য (প্রতিটি নেক কাজের) দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। তন্মধ্যে এক ব্যক্তি হচ্ছে ওই দাস, যে আল্লাহর হক ও মনিবের হক উভয় আদায় করে।’ এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা কাজ করে, তাদের জন্য কতই না চমৎকার প্রতিদান।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৬)
গৃহভৃত্য ও পরিচারিকারাও যে আল্লাহর বান্দা, রমজান মাসে যেন লোকেরা সেসব কথা ভুলে যায়। ফলে তাদের খাটুনির মাত্রা বেড়ে যায়। অথচ নবী করিম (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমরা মাহে রমজানে দাস-দাসীর কাজকর্ম শিথিল করে দাও। তারা যেন রমজান মাসের ইবাদত যথাযথভাবে করতে পারে।’
কোনো ক্রীতদাসের অসুস্থতার খবর শুনলে নবীজি ছুটে যেতেন এবং তার সেবা-শুশ্রূষা করতেন। একবার এক ধনী লোকের জনৈক গোলাম অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাকে দেখার কেউ ছিল না। মনিব ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর প্রকৃতির। গোলামটি একটি অন্ধকার কুঠুরিতে শুয়ে কাতরাচ্ছিল। দয়াল নবীজি ওই বাড়ির কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় অসুস্থ গোলামের কাতরানির আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে তার মাথায় হাত বুলাতে থাকেন। এতে সে আরাম বোধ করতে লাগল। রাতে সে নবীজিকে চিনতে পারল না। জিজ্ঞেস করল, তার মনিব তাকে সেবার জন্য পাঠিয়েছেন কি না। নবীজি বললেন, ‘তিনি স্বেচ্ছায়ই এসেছেন।’ পরদিন সকালে ওই ক্রীতদাস যখন দেখল, নবীজি তার সেবা করছেন, তখন সে বিস্ময়ে কেঁদে উঠল। ভাবতে লাগল, মানুষের জন্য মানুষের এত দয়া, এত ভালোবাসা? আমি একজন গোলাম, অথচ দোজাহানের বাদশাহ হয়েও নবীজি আমার সেবা করছেন? এ-ই ছিল মহানবী (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ।
প্রকৃত রোজাদার মুমিন ব্যক্তি সদা আল্লাহর প্রতি দায়িত্বশীল এবং মানুষের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ থাকেন। মানুষের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থাকাই ঈমানদারের দায়িত্ব। তাঁর ঘরে যেসব কাজের লোক রয়েছে, তাদের প্রতিও তাঁর অধিকার রয়েছে। দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবনে তাদের এ ন্যায্য অধিকার আদায় করতে হবে। কোনো রোজাদার ব্যক্তি এ ব্যাপারে শৈথিল্য দেখাতে পারেন না। মালিকশ্রেণীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অফিস-আদালতের মতো শ্রমিকের কর্মঘণ্টা কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে সরকার তাদের জন্য সামান্য ভাতার ব্যবস্থাও করতে পারে। পারিশ্রমিক ও ভাতা মিলিয়ে যেন তাদের রুটি-রুজির যথাযথ ব্যবস্থা হয়। যে রোজাদার ব্যক্তি তার অধীন কাজের লোকদের প্রতি সদ্ব্যবহার দেখাবে, আল্লাহ তার প্রতি অসীম দয়ার হাত প্রসারিত করবেন এবং তাকে বেহেশত দান করবেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকবে, আল্লাহ তার ওপর রহমতের ডানা প্রসারিত করবেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। ১. দুর্বলের সঙ্গে নম্র ব্যবহার, ২. পিতা-মাতার সঙ্গে মমতাজড়ানো কোমল ব্যবহার এবং ৩. দাস-দাসীর প্রতি সদাচরণ।’ (তিরমিজি)
সাধারণত কাজের লোকদের মানুষ খুব কমই ক্ষমা করে থাকে। নিজের ছেলেমেয়ের হাত দিয়ে মূল্যবান জিনিসটি খোয়া গেলে টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করে না, আর ওই গৃহস্থালি শিশুশ্রমিক বা কাজের ছেলেমেয়ের হাত দিয়ে সামান্য কিছু নষ্ট হলেই অমনি শুরু হয় বেদম প্রহার বা নির্যাতন। অসুখের কারণে কাজ না করতে পারলে তাদের বকুনিও শুনতে হয়। কাজের লোক বলে তাদের কামনা-বাসনা নেই, বিশ্রামের প্রয়োজন নেই, রোগব্যাধি নেই—এমন ধারণা ইসলামসম্মত নয়। সুতরাং সর্বাবস্থায় কঠোরতা পরিহার করে রোজাদারদের আচার-ব্যবহারে ইসলামের সদাচরণ, ক্ষমা, উদারতা ও কোমলতার মহৎ গুণাবলির বহিঃপ্রকাশ একান্ত বাঞ্ছনীয়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

আওয়ামী লীগ ডুবলে আমরা সবাই ডুবব’ by মইনুল ইসলাম

বাংলাদেশের জনজীবনে মুদ্রাস্ফীতির তাণ্ডবের চেয়েও শ্রাবণ মাসের অন্তিমলগ্নে এবং ভাদ্রের শুরুতে প্রধান বিপর্যয়কারী সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশব্যাপী সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার ভগ্নদশা। প্রতিবছর বর্ষাকালে রাস্তাঘাট-জনপথগুলো ভাঙনের শিকার হলেও মেরামত ও চলনসই সংস্কারের পাল্টা-প্রয়াস জোরদার করে সড়ক যোগাযোগকে মোটামুটি চলনসই রাখাটাই ছিল এ দেশের ঐতিহ্য। তার বিপরীতে এবারই মন্ত্রীপ্রবরের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে সড়ক মেরামতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ার অজুহাতের কথা। সরকারের অভ্যন্তরীণ রশি টানাটানির খবর ফাঁস করে দিয়ে যোগাযোগমন্ত্রী যতই আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলুন না কেন, তাঁর মন্ত্রণালয় দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অযোগ্যতায় রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছে। এবার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় যে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তা নজিরবিহীন। প্রশ্ন উঠেছে, একজন অযোগ্য মন্ত্রীর জন্য পুরো সরকারকে জনগণের বিরাগভাজন হতে দিচ্ছেন কেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে বাস চলাচল কয়েক দিন বন্ধ ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম-বারইয়ারহাট অংশ, মিয়াবাজার-চৌদ্দগ্রাম অংশ এবং কাঁচপুর-যাত্রাবাড়ী অংশ ভেঙেচুরে মরণফাঁদে রূপান্তরিত হয়েছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন: যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে যোগ্য হাতে সমর্পণ করুন।
সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার মহাবিপর্যয়ে যে বিষয়টি কিছুটা ধামাচাপা পড়েছে, তা আরও বেশি বিপজ্জনক—মানে, আমি মুদ্রাস্ফীতি ও বাজার নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের তেলেসমাতির কথা বলছি। বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান মুদ্রাস্ফীতি সমস্যার সমাধানে ‘কম খাওয়ার’ প্রেসক্রিপশন দিয়ে জাতির হাসির খোরাক হয়ে গেছেন। এমনকি বিজ্ঞ অর্থমন্ত্রী মহোদয় পর্যন্ত সপ্তাহে এক দিন বাজারে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নানা মহল থেকে বিদ্রূপের ‘পাটকেল’ হজম করছেন। কিন্তু বাজারের যে বিপুল চাহিদার বিস্ফোরণ, তা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে, এ দেশের ফরমাল অর্থনীতির পাশাপাশি যে বিশাল ‘সমান্তরাল অর্থনীতি’ বা ‘কালো অর্থনীতি’ দ্রুত বর্ধনশীল, তার আয়তন ও ব্যাপ্তি সঠিকভাবে প্রাক্কলন যেহেতু দুরূহ, তাই চাহিদা ও জোগানের ফারাকটা মাঝেমধ্যেই জনগণকে মূল্যস্ফীতির পাগলা ঘোড়ার দাবড়ানির মুখে ঠেলেদেয়; বিশেষত, আমদানি-বাণিজ্যে প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে যেহেতু ‘যোগসাজশমূলক অলিগোপলি’ এবং ‘গোপন কার্টেল’ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। ওপরের কেতাবি বাজারব্যবস্থাগুলোই ‘বাজার সিন্ডিকেট’ নামে অভিহিত হচ্ছে টেলিভিশনের টকশো ও পত্রপত্রিকার কলামে। সাধারণ মানুষও সিন্ডিকেটের কারসাজিকে দোষারোপ করছে বারবার। আমদানি স্তর থেকে শুরু করে ফাইনাল প্রসেসিং, পাইকারি ব্যবসা ও খুচরা ব্যবসার স্তর পর্যন্ত সিন্ডিকেট-পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। শুধু ডিও প্রথা বাতিল করে এ সমস্যার সমাধান হবে না।
নিচের কয়েকটি উদাহরণের মাধ্যমে বাজার কারসাজির বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:
১. ভোজ্যতেল আমদানির সিংহভাগ জুড়ে থাকে পাম অয়েল, দ্বিতীয় স্থানে থাকে সয়াবিন তেল। সয়াবিন তেলের আন্তর্জাতিক দাম পাম অয়েলের চেয়ে বেশি। তাই অপরিশোধিত আমদানিকৃত পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলকে পরিশোধন পর্যায়ে রিফাইনারিগুলো বিভিন্ন অনুপাতে একসঙ্গে মিশিয়ে বোতলজাত করে পরিশোধিত সয়াবিন তেলের ‘ফ্যাক্টরি দামে’ মিলগেট থেকে বাজারজাত করে। বহুল আলোচিত ডিও প্রথার মাধ্যমে কয়েক হাত ঘুরে পাইকারি বাজারে এই মিলগুলোর সরবরাহকৃত তেল আসত, তাই এ পর্যায়ে তেলের দাম কারসাজির শিকার হতো বলে জনমনে ধারণাটা জেঁকে বসেছে। সরকারও ডিও প্রথা বাতিল করে ডিলার বা পরিবেশক নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজছে। কিন্তু ভোজ্যতেলের তেলেসমাতি তো রিফাইনারি বা ‘অয়েল মিল’ পর্যায় থেকেই শুরু—ওই সমস্যার সমাধান শুধু পরিবেশক নিয়োগপ্রথায় পাওয়া যাবে না। অয়েল রিফাইনারিগুলোতে অপরিশোধিত তেল আমদানিপর্যায় থেকে পরিশোধন, বোতলজাতকরণ ও মিলের গেট পর্যায়ে বাজারজাতকরণ—সব মিলিয়ে প্রকৃত ‘অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজন’ ২০ শতাংশেও হয়তো হবে না। তাই এ ধনের শিল্পায়নকে ‘মেকি শিল্পায়ন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এর মানে হলো, অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট শিল্পের মতো এগুলোও প্রকৃত প্রস্তাবে উৎপাদনশীল শিল্পায়ন নয়, আমদানিনির্ভর অপচয়মূলক পুঁজি-বিনিয়োগ, যেখানে আমদানি-বাণিজ্যে মুনাফা আহরণই এর মুখ্য উদ্দেশ্য থাকে। ম্যানুফ্যাকচারিং এ ক্ষেত্রে গৌণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে ম্যানিপুলেট করে আমদানিকৃত পণ্যের বাজার দামের একটা বিপুল অংশ দখল করার দুরভিসন্ধিই এ ক্ষেত্রে ‘প্রকৃতপক্ষে বণিক, কিন্তু নামে শিল্পপতি’—এসব পুঁজিপতির প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে অর্থনৈতিক তত্ত্বগুলোতে। তাত্ত্বিকভাবে এদের মুৎসুদ্দি পুঁজিপতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অর্থনীতিবিদ প্রয়াত পল বারান। যেহেতু এ ধরনের ১০-১২ জন ভোজ্যতেল ‘আমদানিকারক-মিলমালিকদের’ হাতে ভোজ্যতেল ‘আমদানি-পরিশোধন-বোতলজাতকরণ-বাজারজাতকরণ’ প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে,সেহেতু ভোজ্যতেলের শতভাগ নিয়ন্ত্রণও এদের হাতে চলে গেছে। এরাই এ বাজারের বহুল আলোচিত ‘সিন্ডিকেট’; অর্থনীতির পরিভাষায় যোগসাজশমূলক অলিগোপলি। গোপন যোগসাজশ প্রায়ই গোপন কার্টেলে পরিণত হয়ে যায়—এটাও তাত্ত্বিকভাবে প্রমাণিত। মন্ত্রীর হুমকি-ধমকি বা টেলিভিশন-ক্যামেরার উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি এ ধরনের যোগসাজশমূলক অলিগোপলিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না। এটা শুধু ‘লোক দেখানো নাটক’ কিংবা জনগণের হাসির খোরাক হবে। পুঁজিবাদের বিশ্ব মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারব, ১৮৯০ সাল থেকে শুরু করে গত ১২০ বছরে ধাপে ধাপে বাজার শাসন বা বাজার-নিয়ন্ত্রণ আইনগুলো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা যোগসাজশমূলক অলিগোপলি, কার্টেল ও বাজারের একচেটিয়া ক্ষমতাকে বাগে নিয়ে এসেছে। নিচের আইনগুলো এ ক্ষেত্রে একেকটি মাইলফলক:
ক. ১৮৯০ সালে গৃহীত শেরম্যান অ্যান্টি-ট্রাস্ট অ্যাক্ট;
খ. ১৯১৪ সালে গৃহীত ক্লেটন অ্যাক্ট;
গ. ১৯১৪ সালে প্রথম গৃহীত এবং ১৯৩৮, ১৯৭৩ ও ১৯৭৮ সালে সংশোধিত ফেডারেল ট্রেড কমিশন অ্যাক্টসমূহ;
ঘ. ১৯৩৬ সালের রবিনসন-প্যাটম্যান অ্যাক্ট এবং
ঙ. ১৯৬৩ সালের ক্রেতা সংরক্ষণ অ্যাক্ট;
শেরম্যান অ্যাক্টে গোপন যোগসাজশকে অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ সাব্যস্ত করা হয়েছে। ক্লেটন অ্যাক্টে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের কোন কোন তৎপরতাকে বাজার প্রতিযোগিতার জন্য ক্ষতিকর আখ্যায়িত করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ সাব্যস্ত করা হয়েছে, তার তালিকা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ক্লেটন অ্যাক্টে ‘লুণ্ঠনমূলক দাম নির্ধারণের’ সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করে সেগুলোকে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। রবিনসন-প্যাটম্যান অ্যাক্টে একই ধরনের বা প্রায় একই মানের পণ্যের জন্য বেশি দাম ধরে মুনাফাবাজি করাকে অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফেডারেল ট্রেড কমিশন আইন ও এর পরবর্তী সংশোধনীগুলোয় অন্যায্য ব্যবসার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯৬৩ সালের বিখ্যাত ক্রেতা সংরক্ষণ আইন ক্রেতাসাধারণকে বিক্রেতাদের নানা প্রতারণা থেকে সুরক্ষা প্রদানের একটা ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আইনগুলোর প্রয়োজনীয় ধারা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে এ দেশে কি ‘বাজার শাসন আইন’ বা ‘বাজার প্রতিযোগিতা আইন’ প্রণয়ন করা যায় না? খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বাজারের মুনাফাখোর একচেটিয়া বণিকদের কবল থেকে ক্রেতাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে, তা কি আমাদের সরকারের কর্তাব্যক্তি বা কর্মকর্তারা শিক্ষণীয় মনে করেন না? মুদ্রাবাজারের নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমাদের প্রয়াস রয়েছে। পুঁজিবাজারকে লুটেরা-ফাটকাবাজদের কবল থেকে বাঁচাতে এসইসির ক্ষমতাবৃদ্ধির প্রয়াস চলেছে। কিন্তু পণ্যবাজার এবং বিশেষত আমদানিকৃত পণ্যের ‘বাজার শাসনব্যবস্থা’ কোথায়? প্রস্তাবিত ‘ফেয়ার কম্পিটিশন অ্যাক্ট’-এর খসড়া তো ২০১০ সালের জানুয়ারিতেই প্রস্তুত হয়ে গেছে বলে পত্রিকায় খবর বেরিয়েছিল। ওই খসড়াটি কার ডেস্কে ঘুমাচ্ছে? ওটাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখার জন্য ব্যবসায়ীরা কত টাকা নজরানা দিয়েছেন? এই বিল সংসদে উত্থাপিত হয় না কেন?
২. এক নম্বর আইটেমে ভোজ্যতেল নিয়ে যে বিশ্লেষণ উপস্থাপিত হয়েছে, তার প্রায় পুরোটাই প্রযোজ্য হবে চিনির বাজারের তেলেসমাতি ব্যাখ্যায়। চিনি আমদানিতেও গেঁড়ে বসেছে অপরিশোধিত চিনি পরিশোধন ও প্যাকেটজাত করার মিলগুলো। একই প্রক্রিয়ায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজন; একই প্রক্রিয়ায় ১০-১২ জন আমদানিকারক-মিলমালিকদের কাছে চিনি ‘আমদানি-পরিশোধন-প্যাকেটজাতকরণ-বাজারজাতকরণ’ জিম্মি হয়ে গেছে। তারাই ‘সিন্ডিকেট’ বা চিনি-মাফিয়া। আবার চিনি ও ভোজ্যতেল সিন্ডিকেটে কয়েকজন অভিন্ন খেলোয়াড় রয়েছেন—মানে, এই দুই বাজারে একই ব্যবসায়ী খেলছেন!
৩. নজির হিসেবে ভোজ্যতেল ও চিনির বাজারকে উল্লেখ করা হলেও প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আমদানি করা পণ্যে গুটিকয়েক বড় ব্যবসায়ীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ স্থাপিত হয়ে গেছে গত তিন দশকের ‘মুক্তবাজার অর্থনীতির’ রাজত্বকালে। আমদানি উদারকরণ, প্রাইভেট মালিকানায় ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রসার এবং রাজনীতি ও রাষ্ট্রের ওপর এসব মুৎসুদ্দি পুঁজিপতিগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ স্থাপন এ দেশের বাজারকে একচেটিয়া ক্ষমতা ও ম্যানিপুলেশনের ‘স্বর্গরাজ্যে’ পরিণত করেছে। তাই ‘ফেয়ার কম্পিটিশন অ্যাক্ট’-এর খসড়া বিলটি অবিলম্বে সংসদে উপস্থাপন করে আইনে পরিণত করা যেমন জরুরি, তেমনি ব্যাংকিং ব্যবস্থাকেও বাজার শাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রস্তাবিত ‘ফেয়ার কম্পিটিশন অ্যাক্ট’-এ নিবন্ধে উল্লিখিত মার্কিন আইনগুলোর বিভিন্ন দিক কতটা ধারণ করছে, তা জানি না। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট ও ট্যারিফ কমিশন জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে গবেষণা চালানোর প্রয়াস নিতে পারে। ওই প্রস্তাবিত আইনে আমদানি করা পণ্যের মজুদ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন থাকতে হবে; একটি ইমপোর্ট প্রাইজিং কমিশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের দামের সঙ্গে সর্বোচ্চ মার্জিন কত যোগ করা যাবে, তা সুনির্দিষ্ট করতে হবে; আমদানি করা পণ্যের সরবরাহ, গুদাম পরিস্থিতি ও বাজারজাতকরণ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে; বিভিন্ন অপরাধের জন্য জেল-জরিমানা, বাণিজ্য লাইসেন্স স্থগিতকরণ ও বাতিলকরণ, ব্যাংকঋণ ও এলসির অযোগ্যতা এবং প্রয়োজনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন পূর্ণ বিচারিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। মুক্তবাজার অর্থনীতি মানে বাজার-নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠা নয়। বাজার শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতেই হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চারটি মূলনীতির মধ্যে ‘সমাজতন্ত্র’ ফিরে এসেছে। তা সত্ত্বেও বাজারব্যবস্থাকে প্রতিযোগিতামূলক করার বিকল্প নেই। কিন্তু বাজার শাসনব্যবস্থা দুর্বল হলে যে অত্যন্ত সবল অর্থনীতিও বিপর্যয়ের চক্রে নিপতিত হয়, তার প্রমাণ এখন পশ্চিমা পুঁজিবাদী বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ। রাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে শক্তিধর রেগুলেটরের ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের পণ্যের বাজারকে কতিপয় পুঁজি-লুটেরা ব্যবসায়ীর মৃগয়ার ক্ষেত্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। মানুষ বড্ড কষ্ট পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের একজনভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনুন। দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য মন্ত্রীদের অচিরেই বিদায় করুন। দলীয় নেতা-কর্মীদের দুর্নীতি ও দখলবাজি রোধ করুন। এখনো সময় আছে। আওয়ামী লীগ ডুবলে আমরা সবাই ডুবব। তাই দেশটা আবারও বিএনপি-জামায়াতচক্রের খপ্পরে পড়ার আগেই সাবধানবাণী উচ্চারণ করছি।
ড. মইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা: আন্না হাজারে

ভারতের নয়াদিল্লিতে অনশনরত সমাজকর্মী আন্না হাজারের পক্ষ থেকে গতকাল রোববার বলা হয়েছে, তাঁরা এখনো সরকারের সঙ্গে সংলাপের জন্য তৈরি। তবে এ জন্য এখনো সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব আসেনি।
দাবি নমনীয় করতে আন্নার নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন-কারীদের ওপর চাপ বাড়ছে।
গতকাল অনশনস্থল নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে সমর্থকদের উদ্দেশে আন্না হাজারে বলেন, ‘আমরা সংলাপের দরজা বন্ধ করিনি। দরজা খোলা রয়েছে। কেবল সংলাপের মাধ্যমেই এ বিষয়ে সমাধান হতে পারে।’
আন্না হাজারের সহযোগীরাও বলেন, তাঁরা সংলাপের জন্য প্রস্তুত। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।
আন্নার ঘনিষ্ঠ সহযোগী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘কোথায়, কার সঙ্গে কী আলোচনা করব আমরা?’ তিনি আরও বলেন, গতকাল সকালে ‘ইন্ডিয়া এগেইনস্ট করাপশন’-এর কোর কমিটির বৈঠকে পাঁচটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও বিচারপতিদেরও দুর্নীতি তদন্তের আওতায় এনে লোকপাল বিল কঠোরতর করার দাবিতে আন্না হাজারে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকার তাঁকে ১৫ দিন অনশনের অনুমতি দিয়েছে।
গত শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছিলেন, মতবিনিময়ের অনেক সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর গতকাল আন্নার পক্ষ থেকে এ বক্তব্য দেওয়া হলো।
কঠোর লোকপাল বিল পাসের জন্য সরকারকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন আন্না হাজারে। কিন্তু সংসদীয় কমিটি এ জন্য সর্বস্তরের মানুষের মতামতের জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়ায় ৩০ আগস্টের মধ্যে আইনটি চূড়ান্ত করার কোনো সুযোগ নেই।
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, আন্নার লোকজনের বোঝা উচিত, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় সময় প্রয়োজন। তবে গত শনিবার খসড়া আইনের ওপর সংলাপ ও আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে মনমোহন সরকারি প্রত্যাখ্যানের ধারা ভেঙে দেন। অবশ্য তিনি বলেন, বিল পাসে আন্না হাজারের দেওয়া সময়সীমা মেনে নেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না।
দৃশ্যত, এর জবাবেই গতকাল আন্না হাজারের সহযোগী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও প্রশান্ত ভূষণ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিল পাসে আন্নার সময়সীমা কোনো হুমকি নয়।
এদিকে দাবি নমনীয় করার জন্য আন্না হাজারে ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। লোকপাল বিল পাসের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার সমালোচনা করেছেন অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, আন্না হাজারের লোকজন নির্বাচিত সংসদকে নির্দেশনা দিচ্ছেন।

শ্রমিক থেকে খ্যাতির চূড়ায়

দক্ষিণ কোরিয়ার একজন সাধারণ শ্রমিক থেকে আন্তর্জাতিক সংগীততারকায় পরিণত হওয়া সুং-বং চয় দ্বিতীয় স্থান নিয়েই বিদায় নিলেন ‘কোরিয়াস গট ট্যালেন্ট’ অনুষ্ঠান থেকে।
মাসব্যাপী চলা ওই অনুষ্ঠানটির ফাইনালে প্রথম হন ১৭ বছর বয়সী নারী নৃত্যশিল্পী জু মিন-জেয়ং। অনুষ্ঠানে শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য, বাদ্যযন্ত্র ও জাদু প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চূড়ান্ত অনুষ্ঠানটি কেব্ল টিভি ও ইউটিউবে প্রচারিত হয়।
এর আগে ২২ বছর বয়সী শিল্পী চয়ের গান দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয় এবং বিশ্বব্যাপী লাখো শ্রোতাকে মুগ্ধ করে। তাঁকে কোরিয়ার ‘সুসান বয়েল’ বলে ডাকা হয়। দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পর চয় বলেন, ‘যাঁরা আমাকে এ অবস্থানে আসতে সহায়তা করেছেন, আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।’
চয়ের হার না মানা জীবনের গল্প অনেককেই প্রভাবিত করেছে। তিন বছর বয়সে চয়কে একটি এতিমখানায় রাখা হয়। দুই বছর পরই তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর তিনি একটি প্রাদেশিক শহরের রাস্তায় বসবাস ও ফেরিওয়ালার কাজ শুরু করেন। এরপর ওই শহরের এক নারীর সহায়তায় তিনি একটি নৈশবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানকার শিক্ষকেরা চয়ের সংগীতপ্রতিভার সন্ধান পান।

রুটির টুকরা ও লবণ দিয়ে কিমকে সংবর্ধনা

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে গতকাল রোববার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। পরে সেখানে তিনি একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
কিম জং ইল গত শনিবার থেকে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য ও সাইবেরিয়া অঞ্চলে সপ্তাহব্যাপী সফর শুরু করেন। বিচ্ছিন্ন এবং ক্ষুধাপীড়িত দেশ উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের এটি একটি দুর্লভ সফর।
গতকাল সকালে কিম একটি সাঁজোয়া ট্রেনে চড়ে আমুর অঞ্চলের বুয়েরা স্টেশনে পৌঁছান। সেখানে লাল জামা পরিহিত তরুণীরা রাশিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী তাঁকে এক টুকরা রুটি ও লবণ খেতে দেন। সেখানে উপস্থিত এএফপির সাংবাদিক জানান, ৬৯ বছর বয়সী কিমকে খুবই ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। ট্রেন থেকে নামার জন্য তিনি অপরের সাহায্য নেন। সংক্ষিপ্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে কিম তাঁর সঙ্গে নিয়ে আসা মার্সিডিজ গাড়িতে চড়ে কাছাকাছি বুরেসকায়া জলবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে যান।
গোপনীয়তায় মোড়ানো এ সফরে কিমের জন্য কঠোর নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আফগান পার্লামেন্টের নয়জনের সদস্যপদ বাতিল

নির্বাচনে জালিয়াতি নিয়ে বিতর্কের জের ধরে আফগানিস্তানের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন (আইইসি) গতকাল রোববার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নয়জনের সদস্যপদ বাতিল করেছে। খবর এএফপির।
প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই আইইসিকে এদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। আইইসির এ সিদ্ধান্তের পর বিতর্ক এখানেই শেষ হবে কি না, সেটি স্পষ্ট নয়। নির্বাচনে জালিয়াতির বিষয় নিয়ে সম্প্রতি কাবুলের রাস্তায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।
আইইসির চেয়ারম্যান ফাজিল আহমেদ মানাবি বলেন, এই নয়জনকে তাঁদের আসন ছাড়তে হবে। আট প্রদেশ থেকে আগের জয়ী নয় ব্যক্তি পুনর্বহাল হবেন।
নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে আইনপ্রণেতাদের পার্লামেন্ট থেকে বরখাস্ত করা হবে কি না এবং হলেও কতজনকে করা হবে—এ নিয়ে গত জানুয়ারি মাসে শপথগ্রহণের পর থেকে পার্লামেন্টে কার্যত অচলাবস্থা দেখা দিয়েছিল।
গত জুনে মাসে কারজাই-সমর্থিত বিশেষ নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল ৬২ জন আইনপ্রণেতাকে বরখাস্ত করার আদেশ দেয়। এ সংখ্যা লয়া জিরগা হিসেবে পরিচিত দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ২৪৯ আসনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। কিন্তু কারজাই তা অগ্রাহ্য করে চলতি মাসে একটি অধ্যাদেশ জারি করে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব আইইসির কাছে হস্তান্তর করে।

পশ্চিমবঙ্গে ভয়াবহ বন্যা ৪৭ জনের মৃত্যু ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ লাখ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বন্যার পরিস্থিতি বর্তমানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজ্যের ১৯টি জেলার মধ্যে ১৫টি জেলাই বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যায় ইতিমধ্যে ১৮ নারীসহ ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন নদনদীর পানি প্রতিদিনই বাড়ছে। বর্তমানে বেশির ভাগ নদীর পানিই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ডুবে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ফসলের খেত। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও সেতু।
রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি জেলার ২৫১টি ব্লক বা ইউনিয়ন এবং ৭৯টি পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে। এতে ২৯ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য বিভিন্ন জেলায় চালু করা ৪১৩টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছে ৬৭ হাজার ৭৪৫ জন।

যুক্তরাষ্ট্র ঋণখেলাপি হবে না

চীন সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গতকাল রোববার বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ঋণখেলাপি হবে না। খবর এএফপির।
যুক্তরাষ্ট্রের সংকটজনক আর্থিক অবস্থার ওপর চীনের আস্থা বাড়াতে পাঁচ দিনের সফরে গিয়ে জো বাইডেন এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রকে সবচেয়ে বেশি ঋণ দেয় চীন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর চীনে জো বাইডেনের এটাই প্রথম সরকারি সফর। তিনি দেশটির নেতাদের আশ্বস্ত করেন, চীনের বিশাল বিনিয়োগ এখনো যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ।
সফরের শেষ দিনে গতকাল দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর চেংডুর সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক শ শিক্ষার্থীর সামনে বক্তৃতা করেন জো বাইডেন।
কমিউনিস্ট রাষ্ট্র চীন আবার নতুন করে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোয় জো বাইডেন সরকার ও জনগণের মধ্যে অবাধ তথ্যপ্রবাহের ব্যবস্থা চালুর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানান।
ইতিহাসে প্রথমবারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঝুঁকিহীন ঋণ করার সক্ষমতার মাত্রা কমলেও জো বাইডেন গতকাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো একক দেশ হিসেবে বিনিয়োগের সবচেয়ে ভালো স্থান। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই খেলাপি হবে না, কখনোই না।
জনগণের সামনে চীনের প্রেসিডেন্ট ওয়েন জিয়াবাও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জি জিংপিং জো বাইডেনের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেন।

ইসরায়েলের দুঃখ প্রকাশ মিসরে বিক্ষোভ অব্যাহত

ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় মিসরের পাঁচজন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে মিসরের হাজার হাজার মানুষ। কায়রোতে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো জড়ো হয়ে ওই বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে অবিলম্বে মিসর থেকে বহিষ্কারের দাবি জানায়।
ইসরায়েল-মিসর সীমান্তে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ধাওয়া করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার মিসরীয় পুলিশের পাঁচ সদস্যকে হত্যা করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। ওই জঙ্গিরা ইসরায়েলে রকেট ছুড়ে আটজনকে হত্যা করেছিল। বদলা নিতে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় অন্তত ১৫ জনকে হত্যা করে।
ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ফিলিস্তিনি জঙ্গিরা বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত ২০টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে।
সর্বশেষ সহিংসতার ঘটনায় গত শনিবার ইসরায়েলের বিরশেবা শহরে একজন নিহত ও অন্তত চারজন আহত হয়েছে। সিনাই উপত্যকায় পুলিশ কর্মকর্তাদের মৃত্যুতে শনিবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক।
পশ্চিম তীরে হামাসের ১২০ সদস্য গ্রেপ্তার: ইসরায়েলি সেনারা পশ্চিম তীর থেকে গতকাল হামাসের ১২০ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি সূত্র।

দুই মার্কিনের কারাদণ্ডের খবর নিশ্চিত করলেন ইরানের কৌঁসুলি

ইরানে দুই মার্কিন পরিব্রাজককে আট বছর করে কারাদণ্ড দেওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন তেহরানে একজন কৌঁসুলি।
গতকাল রোববার সরকারি কৌঁসুলি আব্বাস জাফারি দোলাতাবাদি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মার্কিন নাগরিক শেন বয়্যার ও জশ ফ্যাটালকে আট বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন বিপ্লবী আদালত। তিনি আরও বলেন, ২০ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।
গত শনিবার বিচার বিভাগের সূত্রকে উদ্ধৃত করে সরকারি টেলিভিশনে বলা হয়, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও গোয়েন্দাগিরির অভিযোগে ওই দুই মার্কিন নাগরিককে আট বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আব্বাস জাফারি বলেন, সারাহ শোর্ডের মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ২০০৯ সালের ৩১ জুলাই বাগদত্তা বয়্যারের সঙ্গে মার্কিন নাগরিক সারাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তাঁদের সঙ্গে ফ্যাটালকেও গ্রেপ্তার করা হয়। সারাহকে পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইরানে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ওই দুই মার্কিন নাগরিককে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে গোয়েন্দাগিরির দায়ে তাঁদের আরও পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে কোন দিন এ রায় দেওয়া হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
ওই তিন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে তেহরানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন।

ত্রিপোলিতে ঢুকে পড়েছে বিদ্রোহীরা গাদ্দাফি বাহিনীর সঙ্গে তুমুল লড়াই

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে ঢুকে পড়েছে বিদ্রোহীরা। গত শনিবার রাতে তারা সাগরপথে ত্রিপোলির পশ্চিমে প্রবেশ করে। এরপর রাতভর মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের তুমুল লড়াই হয়েছে। এরপর ১০০ গাড়ির একটি বহর নিয়ে বিদ্রোহীদের আরেকটি দল ত্রিপোলিতে প্রবেশ করে।
গতকাল রোববার ভোরে বিদ্রোহীরা ত্রিপোলি থেকে ১৬ মাইল পশ্চিমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দখল করে নেয়। খামিস ব্রিগেড নামে ওই ঘাঁটি থেকে তারা বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র নিজেদের দখলে নিয়েছে। সামরিক ঘাঁটিটি গাদ্দাফির ছেলে খামিস পরিচালনা করতেন। বিদ্রোহীরা তাজুরা নামে একটি শহরতলিও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
বিদ্রোহীদের দাবি, গাদ্দাফির পতন ঘনিয়ে এসেছে। তবে বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘ইঁদুর’ উল্লেখ করে তাদের প্রতিহত করার জন্য গাদ্দাফি লিবিয়ার জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
ত্রিপোলির বাসিন্দা ও সাংবাদিকেরা জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে বিদ্রোহীদের সঙ্গে গাদ্দাফি বাহিনীর তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়। গোলাগুলির মধ্যেই ঘটতে থাকে একের পর এক বিস্ফোরণ। এভাবে প্রায় সারা রাত সংঘর্ষ চলে। গতকাল সকালেও ত্রিপোলিতে বড় বড় চারটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। বিকেলে ত্রিপোলির কেন্দ্রস্থলে একটি হোটেলের কাছে গাদ্দাফি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের ব্যাপক গুলিবিনিময় হয়েছে। এ সময় হোটেলটিতে বেশ কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিক অবস্থান করছিলেন।
বিদ্রোহীদের প্রধান মুস্তাফা আবদেল জলিল বলেন, ‘গাদ্দাফির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, শিগগির গাদ্দাফির পতন হবে। কেননা, আরও কয়েক হাজার বিদ্রোহী ত্রিপোলির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এদের প্রতিহত করা গাদ্দাফি বাহিনীর জন্য কঠিন হবে।’
গাদ্দাফিকে ত্যাগ করতে তাঁর নিজের সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সদ্য সরকারপক্ষ ছেড়ে আসা সাবেক দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি আবদেস সালাম জালালৌদ। তিনি গত শনিবার লিবিয়া থেকে পালিয়ে তিউনিসিয়া হয়ে ইতালি চলে গেছেন।
গতকাল আল-জাজিরা নিউজ চ্যানেলে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জালালৌদ বলেন, গাদ্দাফির গলার ফাঁস ধীরে ধীরে এঁটে আসছে। তিনি ত্রিপোলিতে থেকে গেলে সেখান থেকে রক্ষা পাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হবে। কারণ, ত্রিপোলির চারদিক এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে।
এদিকে গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় গাদ্দাফি বলেন, ‘বিদ্রোহ-অভ্যুত্থানের নামে এই মশকরা আমাদের অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যতক্ষণ আমার দেহে প্রাণ আছে ততক্ষণ আমি ত্রিপোলিতেই থাকব এবং বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনে জনগণের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করব। কখনোই আত্মসমর্পণ করব না।’ তিনি তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘দখল করা শহরগুলোকে মুক্ত করতে আপনারা রাস্তায় নেমে পড়ুন। আপনারা যদি লড়াই না করেন তাহলে ত্রিপোলি পুড়ে যাবে। আপনারা যারা হাতে অস্ত্র তুলে নিতে ভয় পান, তারা মা ও বোনদের হাতে অস্ত্র তুলে দিন।’
গাদ্দাফি অভিযোগ করেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি লিবিয়ার তেলসম্পদ দখল করতে এসব দালালকে কাজে লাগাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে জেতার জন্য সারকোজি ভোটারদের দেখাতে চান, তাঁদের জন্য তিনি লিবিয়ার তেলসম্পদ কবজা করেছেন।
লিবিয়ার এই নেতা বলেন, ‘কিন্তু লিবিয়ার মানুষ ফ্রান্সকে এ সুযোগ কখনো দেবে না বা তারা দেশকে বিশ্বাসঘাতকদের হাতে তুলে দেবে না। লিবিয়ার তরুণেরা আমাকে তাঁদের বাবার মতো শ্রদ্ধা করে।

নাৎসিদের পক্ষে কাজ করেছিলেন শ্যানেল

ফ্যাশন-দুনিয়ার সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর অন্যতম কোকো শ্যানেলের নামের ওপর শক্ত হয়ে বসতে যাচ্ছে এক কালিমার দাগ: সত্যিই হয়তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের নাৎসি বাহিনীর পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করেছেন তিনি।
নাৎসি জার্মানি অধিকৃত ফ্রান্সে গ্যাব্রিয়েল ‘কোকো’ শ্যানেলের কার্যকলাপ নিয়ে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন ছিল। নতুন একটি গ্রন্থে সরাসরি বলা হয়েছে নাৎসি বাহিনীর পক্ষে কাজ করেছেন এ ফ্যাশন আইকন।
সদ্য প্রকাশিত স্লিপিং উইথ দ্য এনিমি নামের নতুন বইয়ে ঐতিহাসিক হ্যাল ভন বলেছেন, ‘শ্যানেল ছিলেন চরম সুবিধাবাদী-প্রকৃতির। নাৎসিরা ক্ষমতায় ছিল। আর তিনি ক্ষমতাবানদের প্রতিই আকৃষ্ট হন।’ ঐতিহাসিক ভন এতে বলেন, ফ্যাশন ছাড়া কিছুই বুঝতেন না শ্যানেল। হিটলার, রাজনীতি, নাৎসিবাদ —এসব নিয়ে তাঁর কিছু আসত-যেত না।’
১৯৪০ সালে জার্মানি ফ্রান্স দখলের পরও শ্যানেল থেকে যান স্বদেশে। বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে শ্যানেলের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে কানাঘুষা চলতে থাকে।
যুদ্ধের সময় শ্যানেল তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলেও রহস্যজনকভাবে অধিকৃত ফ্রান্সের অভিজাত হোটেল রিটেজ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তখন জার্মান নন এমন খুব কমসংখ্যক ব্যক্তিরই সে সুযোগ ছিল। এর মাধ্যমে তিনি নাৎসি মহারথীদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে ৪৪ বছর বয়সী জার্মান কর্মকর্তা ব্যারন হ্যান্স গুয়েন্থার ভন ডিংকলাজের সঙ্গে সম্পর্কই শ্যানেলের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ। লেখক ভনের মতে, ওই কর্মকর্তা ছিলেন জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা আবওয়ের সদস্য। এই ডিংকলাজ শ্যানেলকে হোটেল রিটেজ প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি দখলদারদের সঙ্গে শ্যানেলের রমরমা ব্যবসার সুযোগ করে দেন। বিনিময়ে আবওয়েরের কর্মী হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন শ্যানেল।
যুদ্ধ শেষে শ্যানেল সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে যান। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বিচার থেকে রেহাই পান। অন্যদের মতে রাজপরিবারের সদস্য হওয়ায় তাঁর বিচার হয়নি। শ্যানেল ১৯৫৪ সালে প্যারিসে ফিরে এসে পুরোনো ব্যবসা শুরু করেন। ৮৭ বছর বয়সে ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে মৃত্যু হয় তাঁর।
ডাচেস অব উইন্ডসর, প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিপত্নী জ্যাকুলিন কেনেডি থেকে শুরু করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজিপত্নী কার্লা ব্রুনি সারকোজি—সবাই পরিধান করেছেন শ্যানেলের প্রতিষ্ঠানের নকশার পোশাক। ‘ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানি’জ চলচ্চিত্রে অড্রে হেপবার্নের পরা সুবিখ্যাত কালো পোশাকটিও শ্যানেলের করা। বিশ্বখ্যাত সুগন্ধি ‘শ্যানেল নাম্বার ফাইভ’ তাঁর হাউসের প্রথম পারফিউম।

দলে ফিরলেন মালিক

আবার জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্নটা দ্রুতই পূরণ হলো শোয়েব মালিকের। রিজার্ভ তালিকা থেকে জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য পাকিস্তানের মূল দলেই ঢুকে পড়লেন সাবেক অধিনায়ক। অবৈধ আয়ের জন্য যে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল পিসিবির নৈতিক কমিটি, তা থেকে মুক্ত হওয়ার পরই মালিকের দলে ফেরার পথ সুগম হয়ে যায়। নির্বাচক কমিটিও অতি দ্রুত ৩২টি টেস্ট আর ১৯২টি ওয়ানডে খেলা এই অলরাউন্ডারকে অন্তর্ভুক্ত করল দলে।
বিতর্ক পেছনে ফেলে দলে ফেরাটা ভাগ্যেরই ব্যাপার। তবে নিজের নয়, মালিক এর কৃতিত্ব দিচ্ছেন স্ত্রী সানিয়া মির্জাকে। বলছেন, পিসিবির ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষার কঠিন সময়টায় স্ত্রী সানিয়া তাঁকে মানসিক সমর্থন দিয়েছেন, ‘উত্থান-পতন জীবনেরই অংশ। আমার স্ত্রী সানিয়া আমাকে প্রচুর সাহায্য করেছে। সে ১০-১২ বছর ধরে আন্তর্জাতিক টেনিস খেলছে। তাঁর টেনিস ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনের অভিজ্ঞতা থেকেই আমাকে পরামর্শ দিয়েছে, যা ছিল খুবই মূল্যবান। সে অসাধারণ এক জীবনসঙ্গী।’

চেলসির জয়ে বোয়াসেরও জয়

প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে ৭টি ম্যাচ খেলেছে চেলসি। সাতটিতেই জয়। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের শুরুটা হয়েছে ড্র দিয়ে। এই নিয়ে যখন হতাশা ওড়াউড়ি করতে শুরু করেছে, তখনই জয়। দ্বিতীয় ম্যাচেই। পরশু ওয়েস্টব্রমের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে চেলসি।
তবে বিস্ময়করভাবে নিজেদের মাঠে ওয়েস্টব্রমের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। ৪ মিনিটে গোল করেন লং। শুধু এই গোলই পুরো প্রথমার্ধেই চেলসির সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করে ওয়েস্টব্রম। দ্বিতীয়ার্ধে যেন অহংবোধটা জেগে ওঠে চেলসির। শুরু থেকেই চেলসির ফরোয়ার্ডরা হামলে পড়েন ওয়েস্টব্রমের রক্ষণে। ৫৩ মিনিটে গোলও পেয়ে যান নিকোলাস আনেলকা। ‘সুপার সাব’ ফ্লোরেন্ত মালুদা ৮৩ মিনিটে করেন জয়সূচক গোল। ম্যাচ শেষে চেলসির নতুন কোচ ভিলাস-বোয়াস শিরোপা পুনরুদ্ধারের জন্য চাইলেন সবার সমর্থন, ‘ভালো একটা মৌসুমের জন্য আমাদের সমর্থন প্রয়োজন, প্রয়োজন ভালো পরিবেশের। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’
রবার্তো মানচিনির ম্যানচেস্টার সিটি কাল ৩-২ গোলে বোল্টনকে হারিয়ে পেয়েছে লিগে টানা দ্বিতীয় জয়। সিটির হয়ে গোল করেছেন ডেভিড সিলভা, গ্যারেথ ব্যারি ও এডিন জেকো।

ভারতকে চোখ রাঙাচ্ছে পরাজয়

রবীন্দ্রসংগীতের ভালো হিন্দি সংস্করণ পাওয়া যায় ইদানীং। ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’—কবিগুরুর এই অমর সৃষ্টি হয়তো মনে ধরে থাকবে রাহুল দ্রাবিড়ের। চলতি ইংল্যান্ড সফরে ভারতের ‘বিশ্বসেরা’ ব্যাটিংকে যে বলতে গেলে একাই টেনে নিলেন ‘দ্য ওয়াল!’
ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় ইনিংস শুরু করতে পারেননি গৌতম গম্ভীর। যথারীতি নিজের পজিশন ছেড়ে ওপেনিংয়ে নেমেছেন দ্রাবিড়। আগের দিন ঝড়ের মুখে লড়াই করে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছিলেন। কাল লোয়ার-অর্ডারদের নিয়ে টেনে নিয়ে গেছেন ভারতের ইনিংস। তাঁর অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে ভারত সিরিজে প্রথম দেখল তিন শ রান। ফলোঅন অবশ্য বাঁচাতে পারেননি, তবে তাঁর দায় নেই। সতীর্থরা যে সঙ্গই দিতে পারলেন না তাঁকে!
তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে ‘ক্যারিয়িং দ্য ব্যাট থ্রু আউট দ্য ইনিংস’-এর কীর্তি গড়েছেন। কাজ শেষ হয়নি তাতেও। ফলোঅনে পড়া দলকে বাঁচাতে ১০ মিনিট পরই দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে পড়েছেন ব্যাট হাতে। এবার তৃতীয় আম্পায়ার স্টিভ ডেভিসের সংশয়পূর্ণ সিদ্ধান্তে শেষ হয়েছে ইংল্যান্ডে তাঁর সম্ভাব্য শেষ টেস্ট ইনিংস। সোয়ান ও অ্যান্ডারসনের অসাধারণ দুটি ডেলিভারি ফিরিয়েছে থিতু হয়ে যাওয়া শেবাগ ও লক্ষ্মণকে। তবে টিকে আছেন শচীন টেন্ডুলকার, শততম সেঞ্চরির আশা নিয়ে দিন শুরু করবেন, ভারতও তাকিয়ে থাকবে তাঁর দিকে। ইনিংস পরাজয় এড়াতেই প্রয়োজন ১৬২ রান, হাতে ৭ উইকেট।
কাল সকালে মহেন্দ্র সিং ধোনি ফিরে যাওয়ার পর দ্রাবিড়কে সঙ্গ দিয়েছেন অমিত মিশ্র। বোলিং-ব্যর্থতা কিছুটা ভুলিয়ে দিতেই যেন হঠাৎ ব্যাটসম্যান হয়ে গেলেন মিশ্র। দুজনের জুটিতে ভারত পেয়ে যায় সিরিজের সেরা ব্যাটিং সেশন। ৮৭ রানের জুটিটা শেষ অবশ্য হয় লাঞ্চের পরপরই। নয়ে নামা গম্ভীর রান না পেলেও বেশ কিছুক্ষণ সঙ্গ দিয়েছেন দ্রাবিড়কে। এলোপাতাড়ি ব্যাট চালিয়ে ২৫ রান তুলে দলের রানকে ৩০০ পর্যন্ত নিয়ে যেতে সহায়তা করেন আরপি সিং। ৩ বলের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে শেষ হয় ভারতের ইনিংস। ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং উইকেটেও দুর্দান্ত বোলিং করেছেন ইংলিশ বোলাররা। যে উইকেটে মাথা কুটে মরেছেন ভারতীয় বোলাররা, সেখানেই প্রাণের সঞ্চার করেছেন অ্যান্ডারসন-সোয়ানরা।
দ্রাবিড় ক্যারিয়ারের ৩৫তম সেঞ্চুরি পেয়েছেন ১৬৮ বলে। মোট সেঞ্চুরিতে পেছনে ফেলেছেন সুনীল গাভাস্কার ও ব্রায়ান লারাকে। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের চরম ব্যর্থতার সিরিজে এটি ছিল তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজেও তিনটি সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন দ্রাবিড়। সেবার সিরিজ ড্র করতে পেরেছিল ভারত। এবার তো হেরে বসে আছে আগেই। টেন্ডুলকার-রায়নাদের অসাধারণ কিছুই এখন ভারতকে বাঁচাতে পারে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা থেকে। ওয়েবসাইট।

ডনের পর
ইংল্যান্ডের মাটিতে এক সিরিজে ৩ সেঞ্চুরি এই নিয়ে দুবার করলেন দ্রাবিড়। এই কীর্তি আর আছে শুধু স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের!