Saturday, June 14, 2025
মোসাদ নিয়ে নানা প্রশ্ন, ইরানের হাতে কি তুরুপের তাস আছে? by মোহাম্মদ আবুল হোসেন
ইরানের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষার কোন দায়িত্বে কে এবং তারা কখন কোথায় থাকেন— তা ইসরাইলের কাছে পৌঁছে যায় বাতাসের আগে। ফলে ইরান গোয়েন্দা ব্যর্থতার শিকার। কিন্তু এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাদের ভিতরে মোসাদ ঠিক ক্যান্সারের কোষের মতো ঘাপটি মেরে এতদিন এভাবে বসে আসে, তারা পরিকল্পনা করছে, অস্ত্র জোগাড় করছে— এর সবকিছু তো চোখের আড়ালে হওয়া সম্ভব নয়। তাহলে মোসাদকে ইরানে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছে কে বা কারা? এই বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রশ্নের উত্তর হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইরানের পিছনে ইসরাইল আজ নতুন করে লাগে নি। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা- ইরাকে একটি বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ব্যবহার করে ইসরাইল কিভাবে হত্যা করেছে আইআরজিসির সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে। মনে থাকার কথা গত বছর ১৯শে মে কিভাবে আজারবাইজান সীমান্তের কাছে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রইসি ও অন্য সাতজন। এর পিছনেও ইসরাইলের হাত আছে বলে অভিযোগ আছে।
মনে থাকার কথা সিরিয়ার দামেস্কে গত বছর ১লা এপ্রিল কিভাবে আকাশপথে হামলা চালিয়ে বহুতল একটি ভবনকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে ইসরাইল। এর একটিই কারণ ছিল, ওই ভবনে ইরানের কন্স্যুলার অফিস অবস্থিত। এতে আইআরজিসির গুরুত্বপূর্ণ আটজন কর্মকর্তা ও সিরিয়ার দু’জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে ছিলেন আইআরজিসির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা জাহেদি ও অন্য দুজন কমান্ডার নিহত হন। ২০১০ সাল থেকে ইরানের বেশ কিছু পরমাণু বিষয়ক বিজ্ঞানীকে হত্যা করে ইসরাইল। ২০১৮ সালে ইসরাইলের গোয়েন্দারা রাজধানী তেহরানে ইরানের একটি সামরিক স্থাপনায় রেইড দেয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তেহরানে ইরানি একজন কমান্ডারকে হত্যা করে ইসরাইল। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ইস্ফাহানে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করে ইসরাইল। এমন উদাহরণ অসংখ্য দেয়া যায়। একই সঙ্গে গাজা, লেবানন, ইয়েমেনে একটানা বা ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। তারা হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে হত্যা করে গত ১৬ই অক্টোবর। লেবাননে হিজবুল্লাহ প্রধান ইসমাইল হানিয়ে’কে হত্যা করে। এসব উদাহরণ সমুদ্র থেকে তুলে আনা এক চামচ পানির মতো।
শুধু ইরানে নয়— গাজা, লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক সহ মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম দেশগুলোতে ইসরাইল এখন একনায়কতন্ত্র বা আধিপত্যবাদ চালাচ্ছে। এতে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই কাজ করতে গিয়ে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ পুরো অঞ্চল, শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়- সারা বিশ্বে জাল বিস্তার করে আছে। তাদের জাল কারেন্ট জালের চেয়েও শক্তিশালী। তাদেরকে এসব সুযোগ করে দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ ও সেখানে ভিন্ন মতাবলম্বী বা উগ্রপন্থি অথবা সুবিধাবাদী পক্ষগুলো। আবার ফিরে আসি ইরানে। ইরানে মোসাদের এই জাল কি সেখানকার নেতারা মোটেও আঁচ করতে পারেননি? অথবা তাদের মাথায় কি একবারও আসেনি- ইসরাইল এমন গোয়েন্দা জাল ফেলে রাখতে পারে? যদি সেটাই পারে, তাহলে ইরানের কি কোনো গোয়েন্দ সংস্থা নেই? তারা কি করেছে? তাদের সফলতা কোথায়? তবে কি ইরানের গোয়েন্দাদের মধ্যেও ঢুকে পড়েছে মোসাদ, ইসরাইল? এখন এমন অসংখ্য প্রশ্ন তোলা যায়।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো— পশ্চিমারা এতদিন যে বলে এসেছে ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আছে, যদি তা থেকে থাকে, তাহলে কোথায় রাখা হয়েছে তা। কখন ব্যবহার করবে ইরান? এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে ইরান দৃশ্যত পরাজিত। শুক্রবারের একদিনের হামলায় সেখানে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১০০। এর মধ্যে তাদের দেশের ‘মাথাগুলো’ রয়েছেন। ইসরাইলের তীব্র আক্রমণের জবাবে তারা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে প্রতিশোধ নিতে চাইছে। কিন্তু ইরানের জানা উচিত ইসরাইলের কাছে আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এই জাতীয় যুদ্ধে জয় পাওয়া যায় না। অবশ্য, এরই মধ্যে ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা আকাশেই বিকল করে দিয়েছে ওইসব ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন। সর্বশেষ খবর পর্যন্ত তেলআবিবের কাছে একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। তাতে একজন নারী মারা গেছেন। ইসরাইলের হামলার পাল্টা হামলা কি এটাই? এতদিন ধরে ইরানের নেতারা যেসব বাগাড়ম্বর বক্তব্য দিয়েছেন— হেন করেঙ্গা, তেন করেঙ্গা, তার সবটাই কি তবে ফাঁকা বুলি নাকি তাদের হাতে তুরুপের তাস আছে? যেটা খেলার শেষে ছেড়ে বাজিমাত করা হয়।
পুনশ্চ: যুদ্ধ কারো জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। যুদ্ধ মানেই প্রাণহানি, সম্পদ ধ্বংস। মানব জাতির উন্নতিকে পিছনে ঠেলে দেয়া। কেউই যুদ্ধ চায় না। পৃথিবর সব ধর্ম, মত, পথের মানুষ এক সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর ভিত্তি করে সহাবস্থান করুক। প্রত্যাশা এটাই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আদ জাতি ও ইরাম নগরী ধ্বংসের কাহিনি by মনযূরুল হক
আদ জাতির শক্তি ও গৌরব
আদ জাতি বাস করত সৌদি আরবের ইরাম নগরীতে, যা কোরআনে ‘জাতুল ইমাদ’ বা ‘স্তম্ভসমৃদ্ধ নগরী’ নামে উল্লিখিত। তারা ছিল দৈত্যাকার, অসাধারণ শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান। তারা পাহাড় কেটে ঘর তৈরি করত এবং সুন্দর স্তম্ভ দিয়ে নগরী সাজাত। কোরআনে তাদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, ‘তোমরা কি দেখোনি, কীভাবে তোমার রব আদ জাতির সঙ্গে আচরণ করেছিলেন? যারা ছিল ইরামের স্তম্ভসমৃদ্ধ নগরীর অধিবাসী, যাদের মতো শক্তিশালী আর কেউ সৃষ্ট হয়নি।’ (সুরা ফাজর: ৬-৮)
তারা এত শক্তিশালী ছিল যে হাত দিয়ে গাছ উপড়ে ফেলতে পারত। তাদের সম্পদ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা তাদের সময়ের অন্যান্য জাতির তুলনায় অনেক এগিয়ে ছিল। কিন্তু এই শক্তি ও সম্পদই তাদের অহংকারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা ভাবতে শুরু করে, তাদের শক্তির কাছে কিছুই অসম্ভব নয় এবং তারা আল্লাহর প্রয়োজন মুক্ত।
অহংকার ও পাপাচার
আদ জাতির অহংকার তাদের আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে। তারা মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয় এবং আল্লাহর একত্ব বিশ্বাস ত্যাগ করে। তারা গঠন করেছিল দস্যু দল, যারা মানুষকে লুটত, এমনকি হত্যাও করত। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা পৃথিবীতে অহংকার করত এবং বলত, ‘আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে আছে?’ তারা কি দেখেনি যে আল্লাহ, যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের চেয়ে শক্তিশালী?’ (সুরা ফুসসিলাত: ১৫)
তাদের এই অহংকার ও পাপাচার তাদের ধ্বংসের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা ভুলে যায় যে তাদের শক্তি ও সম্পদ আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত। তারা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং ভ্রান্ত পথে চলতে থাকে।
নবী হুদ (আ.)-এর দাওয়াত
আল্লাহ আদ জাতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য নবী হুদকে (আ.) প্রেরণ করেন। হুদ (আ.) তাদের আল্লাহর একত্ব বিশ্বাস ও ন্যায়ের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি তাদের স্মরণ করিয়ে দেন, তাদের শক্তি ও সমৃদ্ধি আল্লাহর নেয়ামত এবং তারা যেন অহংকার ত্যাগ করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে। কোরআনে হুদ (আ.)-এর কথা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘হে আমার জাতি! আল্লাহর ইবাদত করো, তোমাদের জন্য তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তোমরা কি ভয় করবে না?’ (সুরা হুদ: ৫০)
কিন্তু আদ জাতি হুদ (আ.)-এর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে এবং তাঁর উপহাস করে। তারা বলে, ‘তুমি কি আমাদেরকে এই বলতে এসেছ যে আমরা আমাদের দেবতাদের ইবাদত ত্যাগ করি? তুমি যা বলছ, তা সত্য হলে তা নিয়ে এসো!’ (সুরা আল-আহকাফ: ২২) তাদের এই উপহাস ও অবাধ্যতা আল্লাহর শাস্তিকে ত্বরান্বিত করে।
আল্লাহর শাস্তি ‘ঝড়’
আদ জাতির অবাধ্যতা ও অহংকারের কারণে আল্লাহ তাদের ওপর শাস্তি প্রেরণ করেন। তিনি হুদ (আ.)-কে তাঁর বিশ্বাসী অনুসারীদের নিয়ে নগরীর কাছে একটি গুহায় আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেন। কোরআনে এই গুহার অবস্থান দক্ষিণ আরব উপদ্বীপে, সম্ভবত পূর্ব ইয়েমেন বা পশ্চিম ওমানে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন ইরাম নগরীতে এক ভয়াবহ ঝড় আঘাত হানে, যা কোরআনে ‘রিহুন আকিম’ বা ‘ধ্বংসকারী ঝড়’ নামে বর্ণিত। এই ঝড় সাত দিন ও আট রাত ধরে চলে এবং আদ জাতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যখন তারা তা দেখল, তখন বলল, “এ তো এক মেঘ!” কিন্তু তা ছিল তাদের জন্য শাস্তি। আমরা তাদের ওপর এক প্রচণ্ড ঝড় প্রেরণ করলাম, যা তাদের ধ্বংস করে দিল।’ (সুরা আল-আহকাফ: ২৪-২৫) শুধু হুদ (আ.) এবং তাঁর বিশ্বাসী অনুসারীরা এই শাস্তি থেকে রক্ষা পান।
সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফর্মেশন ডটকম
![]() |
| শিল্পীর তুলিতে প্রাচীন ইরাম নগরী |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে আমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অপূর্ব সুন্দরী নারীর গল্প by আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
সেই গল্প জানতে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জ্যোতিস্বী চাকমার সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের কথা। ভারতের বৈশালী নগরের (এখনকার বিহারে নগরটি ছিল) আমবাগানে এক মেয়েশিশুর জন্ম হয়। তাকে লালন-পালন করেন সেই নগরের উদ্যানপালক। আমের বাগানে জন্ম এবং উদ্যানপালকের ঘরে লালিত-পালিত বলে শিশুটির নাম হয় আম্রপালি। আম্রপালি দেখতে যেমন সুন্দর ছিলেন, তাঁর নানা গুণও ছিল। তিনি ভালো গাইতে ও নাচতে পারতেন, বীণা বাজাতেন, পালি ভাষায় কবিতা লিখতেন। সভানর্তকী ছিলেন তিনি। রূপে-গুণে অনন্য আম্রপালি শেষজীবনে তাঁর সব ধনসম্পদ বিলিয়ে দিয়ে গৌতম বুদ্ধের শিষ্য হয়ে যান।
আম্রপালি নামকরণের পর এই জাতের আমের চারা প্রথম লাগানো হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায়। আম–গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, উত্তর ভারতের বিখ্যাত আমের জাত দোসেরির ফুলের পুরুষ পরাগ এবং দক্ষিণ ভারতের নীলমের স্ত্রী পরাগের সংকরায়ণের মাধ্যমে হয়েছে আম্রপালি।
ভারত থেকে আম্রপালি জাতের আমের চারা বাংলাদেশে আনা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (১৯৯৬-২০০১) এম এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) একজন কর্মকর্তা ভারতে গিয়ে আম্রপালির কিছু চারা নিয়ে আসেন। তিনি নিজে সেখান থেকে কয়েকটি চারা নিয়ে খামারবাড়িতে রোপণ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ১৯৯৬ সালে আম্রপালি জাতকে বারি আম-৩ নামে অবমুক্ত করে। কৃষিবিদেরা জানিয়েছেন, বিদেশি জাতের দেশি সংস্করণের এই রীতিকে বলা হয় পরিচিতি বা ইন্ট্রোডাকশন। আম্রপালি অবমুক্তের পেছনে ছিলেন কৃষিবিদ কাজী বদরুদ্দোজা।
ইন্ট্রোডাকশন পদ্ধতি হলো বিদেশি কোনো উন্নত জাতের গাছ নিয়ে এসে এ দেশে কয়েক বছর পর্যবেক্ষণ ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করা হয়। আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারলে সেটি আমের জাত হিসেবে অবমুক্ত করা হয়। বাংলাদেশে আম্রপালির ক্ষেত্রে তা–ই করা হয়েছে।
বারির ফল বিভাগের ‘আমের জাত ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি’–বিষয়ক প্রকাশনা ২০২১-এ এ অঞ্চলের আমের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আম পৃথিবীর প্রাচীনতম ফলগুলোর একটি। প্রায় চার হাজার বছর আগে থেকে এই উপমহাদেশে আমের চাষ হয়। এশিয়ার দেশগুলোতেও ফল হিসেবে আমের গ্রহণযোগ্যতা আছে।
এখন থেকে আড়াই হাজার আগে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা ভারতের মালয় থেকে পূর্ব এশিয়ায় আমের চাষাবাদ ছড়িয়ে দেন। চীনের পর্যটক হিউয়েন সাং প্রথম পর্যটক হিসেবে ৬৩২ থেকে ৬৪৫ সালের মধ্যে চীন তথা দূরপ্রাচ্যে আমের পরিচিত তুলে ধরেন। এ ছাড়া আরব বণিক ও পর্তুগিজ ব্যবসায়ীরা আম ছড়িয়ে দেন বিশ্বের নানা জায়গায়।
বাংলাদেশের আনাচকানাচে এখন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্রায় ৮০০ জাতের আম। আমের উন্নত ও উচ্চফলনশীল নতুন জাত উদ্ভাবনে চলে গবেষণা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জমির উদ্দিন জানিয়েছেন, বারি এখন পর্যন্ত আমের ৩টি হাইব্রিড জাতসহ মোট ১৮টি জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ১৪টি চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম গবেষণা থেকে, বাকি চারটি রাজশাহীসহ অন্যান্য ফল গবেষণাকেন্দ্র থেকে হয়েছে।
![]() |
| আম্রপালি আম। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘শুরু হয়ে গেছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’
এদিকে ইরানে ইসরায়েলের এমন ভয়াবহ হামলার মধ্য দিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ‘শুরু হয়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন এক রুশ জেনারেল। ৫১ বছর বয়সী আপতি আলাদিনোভ নামের ওই মেজর জেনারেল রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বেশ প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিররের খবরে জানানো হয়, ইসরায়েলের এমন বিধ্বংসী হামলার পর ওই সেনা কর্মকর্তা ১০ লাখ নতুন সেনা নিয়োগ দিতে ক্রেমলিনকে আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ‘সামরিক-রাজনৈতিক’ বিভাগের উপপ্রধান হিসেবে নিয়োজিত আলাদিনোভ বলেছেন, ‘নতুন মোড় নেওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধ ইতোমধ্যে একটি গতি পেয়েছে।’
আমাদের সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়া উচিত উল্লেখ করে এক টেলিগ্রাম পোস্টে তিনি বলেন, ‘অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ আগেভাগে প্রস্তুত করতে হবে। তবে বাস্তবে তা হওয়া উচিত ১০ লাখ।’
‘যুদ্ধ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এটি নতুন মোড় নিয়েছে এবং নতুন গতি পেয়েছে। তাই নতুন সেনা নিয়োগ দিয়ে তাদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।’
ইসরায়েলসহ পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘যেভাবে তারা অন্যদের সঙ্গে খেলছে, এখন ইরানের সঙ্গে খেলছে, একইভাবে যেন আমাদের সঙ্গে এমনকিছু করার সাহস না পায়, সেজন্যও নতুন সেনা প্রস্তুত করতে হবে।’
এরইমধ্যে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে, সেগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে কাজ করছে।
ইসরায়েলের জনগণকে সুরক্ষিত জায়গায় যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এর মধ্যে ইসরায়েলের তেল আবিব শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
আলজাজিরা জানায়, ইরানের হামলায় তেল আবিবে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বেজে উঠেছে।
তেল আবিব ও জেরুজালেমে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে।
এদিকে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে জবাব দেওয়া শুরু হয়েছে। ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে কয়েকশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানে হামলার পর নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শুক্রবার ভোরে ঘটা এই হামলায় এরইমধ্যে সৌদি আরব, তুর্কিসহ বিশ্বের অনেক দেশ তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
জানা গেছে, ইরানে পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর অংশ হিসেবে অনেক দিন ধরেই পরিকল্পনা করছিল ইসরায়েল। এর অংশ হিসেবে তারা সেখানে একটা ড্রোন ঘাঁটি স্থাপন ও নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থা ও কম্যান্ডো পাচার করেছে।
ইসরায়েলের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা টাইমস অফ ইসরায়েলকে বলেন, মোসাদ এজেন্টরা তেহরানে সেই ঘাঁটি স্থাপন করেছিলেন। তারপর রাতারাতিতে সেই ঘাঁটি ব্যবহার করেই ভূমিতে স্থাপন করা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলিতে আঘাত হানে। এর ফলেই ইরান তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা চালাতে সক্ষম হয়নি এবং তাদের বিমানপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই ধ্বংস হয়ে যায়।
ইরানে ইসরায়েলির হামলায় অন্তত ৭৮ জন নিহত ও ৩২৯ জন আহত হয়েছে। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড পরিচালিত নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ে, বাস্তবে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
![]() |
| ইরানে ইসরায়েলের হামলার একটি চিত্র। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান-ইসরাইল সংঘাত, উত্তেজনা
অন্যদিকে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নয়। তাদের এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিবিসি। চলছে বিতর্কও। উত্তেজনা দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যেও। ইরানে হামলায় সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে মুসলিম দেশগুলোর মোড়ল বলে পরিচিত সৌদি আরব। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন শত্রুর সম্পর্ক থাকার পর সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে সৌদি আরব। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হয়েছে। ইসরাইল হত্যা করেছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান হোসেইন সালামিকে। নিহত হয়েছেন শীর্ষ দুই পরমাণু বিজ্ঞানী মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি ও ফারেইদুন আব্বাসি। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স কমান্ডার আমির আলি হাজিজাদেহকে হত্যা করেছে তারা। ভূগর্ভস্থ সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া হত্যা করেছে কমপক্ষে ৬ জন পরমাণু বিষয়ক বিজ্ঞানীকে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো ক্ষণে ক্ষণে এসব সংখ্যা বৃদ্ধির খবর দিচ্ছে। এ ঘটনায় ইরানে শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ইসরাইল এত বড় হামলা চালিয়ে ইরানের এত বড় ক্ষতি করায় তাদের গোয়েন্দা সক্ষমতা, সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কী ইরানের এসব বাহিনীর ভেতরেই ঘাপটি মেরে বসে আছে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ? তাদেরকে কি বিদেশি অন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থা সহযোগিতা করছে বা করেছে? হামলায় ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান হোসেইন সালামি সহ সেনাপ্রধান, ৬ জন পরমাণু বিষয়ক শীর্ষ স্থানীয় বিজ্ঞানী নিহত হওয়ার ফলে সারা বিশ্বে প্রশ্ন উঠেছে ইরানের যুদ্ধ প্রস্তুতির সক্ষমতা নিয়ে, তাদের গোয়েন্দা সক্ষমতা নিয়ে। সর্বোপরি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে। ইসরাইল কার্যত যে হামলা করেছে, তার কাছে ইরান যেন আত্মসমর্পণ করেছে বলেই মনে হয়। তা নাহলে কেন একসঙ্গে শীর্ষ সব কর্মকর্তা নিহত হবেন! কীভাবে তাদের অবস্থান ইসরাইল নিশ্চিত করেছে? হামলার সময় তারা কোথায় ছিলেন? তাদের অবস্থান সম্পর্কে কে ইসরাইলকে তথ্য দিয়েছে? এমন অসংখ্য জিজ্ঞাসা এখন জনে জনে।
এর জবাবে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, আইআরজিসি’র বিমান বাহিনীর শীর্ষ নেতাদের নির্মূল করা হয়েছে। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আইআরজিসি’র বিমান বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররা একটি আন্ডারগ্রাউন্ড সেন্টারে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছিলেন। সেখানে সমবেত হন তারা। এ সময়েই ইসরাইল সেখানে হামলা চালায়। তার এ তথ্য এটাই বলে দেয় যে, ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের বিস্তার জালের মতো কতো গভীরে। নিশ্চয়ই ওই বৈঠক সম্পর্কে ইসরাইলের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। যদি তা-ই হবে, তাহলে এই তথ্য তাদেরকে কে দিয়েছে? স্বাভাবিক সমীকরণ বলে দেয়- ইরানের ওইসব নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যেই লুকিয়ে আছে মোসাদের এজেন্ট। শীর্ষ কর্মকর্তারা কোথায় আন্ডারগ্রাউন্ডে মিটিং করছেন, সেই তথ্য সাধারণ কোনো সেনাসদস্য বা কর্মকর্তার জানার কথা নয়। শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ থাকার কথা। বিশেষ করে একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়ে দেয়- যেকোনো সময় ইরানে হামলা চালাবে ইসরাইল। এরপরও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি ইরান। এর অর্থ কি দাঁড়ায়? তাদের খুব গভীরেই মোসাদের উপস্থিতি আছে? ইসরাইলের আরেক রিপোর্ট শিরদাঁড়া আরও হিম করে দেয়। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের ভেতরেই আছে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের গোপন ‘এক্সপ্লোসিভ ড্রোন’ ঘাঁটি। ইসরাইল যখন ইরানে হামলা চালায়, তখন সেখান থেকে যোগ দেয় ওই ঘাঁটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। এই সর্বনাশ ইরানের। তারা কোনোভাবেই কী এই ঘাঁটি সম্পর্কে জানে না? তাহলে কি গোয়েন্দাগিরি করলো তারা? এতদিন বলা হয়েছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে বা করার দ্বারপ্রান্তে। হামলায় এত শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করার পর সেই কথিত পারমাণবিক অস্ত্র কোথায় গেল? নাকি এর মধ্যদিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিমদের দমিয়ে রাখা হচ্ছে? জবাবে ইরান কঠোর হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই রিপোর্ট গত রাতে লেখা পর্যন্ত ইসরাইলে বড় কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়নি ইরান। তবে রাতের আঁধার গাঢ় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নেয় তা বলা কঠিন। এরই মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসসহ বিশ্বের বহু নেতা উভয় পক্ষকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিহত শীর্ষ কর্মকর্তা যারা
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম শুক্রবার নিশ্চিত করেছে, ইসরাইলের হামলায় ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান হোসেইন সালামি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে নিহত হয়েছেন দেশটির শীর্ষ ৬ জন পরমাণু বিষয়ক বিজ্ঞানী। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দু’জন হলেন- মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি ও ফারেইদুন আব্বাসী। মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি ছিলেন ইসলামী আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট। ফারেইদুন আব্বাসী ইরানের পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নিহত তিন পরমাণু বিজ্ঞানী আবদুল হামিদ মিনোচেহর, আহমেদ রেজা জোলফাঘারি এবং আমির হোসেন ফেঘি রাজধানী তেহরানে অবস্থিত শহীদ বেহেশতি ইউনিভার্সিটির শিক্ষাবিদ। নিহত ষষ্ঠ বিজ্ঞানীর সুস্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়নি। খবরে বলা হয়, হামলাটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হয়। এই হামলায় সালামির মৃত্যু দেশটির সামরিক নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, সালামি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম মুখ্য স্থপতি। তিনি ২০১৯ সাল থেকে আইআরজিসি’র শীর্ষপদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী অবস্থান গ্রহণের জন্য পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ইরানে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শীর্ষ নেতারা। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, শত্রুদের এই অপরাধের জবাব দেয়া হবে কঠোরভাবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সালামির মতো একজন শীর্ষ জেনারেলের মৃত্যু ইরানের প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে। এর ফলে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরুর আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। ইতিমধ্যে ইসরাইল নিজ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আহমেদাবাদ ট্র্যাজেডি: বিমান বিধ্বস্ত হওয়া নিয়ে উঠে আসছে যে সব প্রশ্ন, নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৪
তবে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের মিনিট খানেকের মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ বিমানটি কীভাবে ভেঙে পড়লো তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজিসিএ) মনে করছেন, পাখির ধাক্কায় হয়তো দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। অথচ এর আগে আরও উচ্চতা থেকে পাখির ধাক্কায় জখম বিমানকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা গেলেও এবার তা হয়নি। বিমানের পাইলট এটিসিতে বিপদ বার্তা পাঠিয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কী উড্ডয়নের সময় কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বিমান চালনায় দক্ষরা জানিয়েছেন, উড্ডয়নের পর পরই ল্যান্ডিং গিয়ার বন্ধ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এক্ষেত্রে তা খোলা ছিল কেন সেই প্রশ্ন
উঠেছে। তাছাড়া উড়ানে যে সময়ে গতিবেগ ১৯০-২০০ নট থাকার কথা সেখানে ১৭৪ নট ছিল কেন? তখন কি পাইলট বিমানকে উপরের দিকে তুলছিলেন নাকি নিচে নামানোর চেষ্টা করছিলেন। এমন প্রশ্নও উঠেছে, বিমানটি কি প্রয়োজনের তুলনায় কম দৌড়ে আকাশে উঠেছিল।
দুই ইঞ্জিনের বোয়িংয়ের একটি ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আরেকটি ইঞ্জিনের মাধ্যমে বিমানটির উড়ে থাকার কথা। তাহলে কি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি যখন আকাশে উঠেছিল তখন দুটি ইঞ্জিনেই বিদ্যুৎ সংযোগ চলে গিয়েছিল? ২০০৯ সালে নিউ ইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই মার্কিন বিমানের দু’টি ইঞ্জিনই বিদ্যুৎ হারিয়ে ফেলে। সেই সময় বিমানটি আরও উচ্চতায় উঠেছিল এবং পানিতে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছিল এবং সমস্ত যাত্রী বেঁচে গিয়েছিল। এক্ষেত্রে অবশ্য বোয়িং বিমানটি মাত্র ৬২৫ ফুট উচ্চতায় ছিল।
কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিমান নিরাপত্তা বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ফিলিপ বাউম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন, ‘সম্ভবত মনে হচ্ছে’ সিস্টেম বা একাধিক সিস্টেমের ব্যর্থতার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
গরম আবহাওয়ায় প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি, যাত্রী এবং পণ্যসম্ভারের ভারী বোঝা নিয়ে উড়ে যাওয়া সবচেয়ে পাইলটের কাছে চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, উচ্চ প্রশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ পাইলটরা কি এমন অবস্থায় বিমানের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে এবং পদক্ষেপ নিতে পারতেন?
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, বিমানটিতে ১.২৫ লাখ লিটার জ্বালানি ছিল। পুড়েছিল সেই জ্বালানি। ফলে অত্যধিক তাপমাত্রার কারণেই যাত্রীদের বাঁচানো যায়নি।
আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৪
গুজরাটের আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৪ জনে। এর আগে বৃহস্পতিবার আহমেদাবাদ পুলিশ জানায়, কমপক্ষে ২৪০ জন নিহত হয়েছেন। যা পরর্বতীতে বেড়ে ২৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে। বিমানে থাকা ২৪২ যাত্রীর মধ্যে ২৪১ জনই নিহত হয়েছেন। আকস্মিকভাবে বেঁচে গেছেন একজন। বিমানটি চিকিৎসকদের একটি হোস্টলের উপর আছড়ে পড়ে। এতে সেখানে ৫০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত ওই বৃটিশ নাগরিকের নাম রমেশ বিশ্বকুমার। তিনি বিমানের ১১-এ আসনে ছিলেন। রমেশ বলেছেন, এক মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল। উড্ডয়নের ৩০ সেকেন্ডে পরই একটা বিকট শব্দ হয় এবং এর পরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানান রমেশ।
এদিকে গুজরাটের স্বাস্থ্য সচিব ধনঞ্জয় দিভেদি বলেছেন, নিহতদের শনাক্তের জন্য তাদের আত্মীয়দের ডিএনএ নমুনা দিতে বলা হয়েছে। বিমানটি যে ভবনে আছড়ে পড়েছিল সেই ভবনের চারপাশে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। লেজের অংশ ভবনের উপর আটকে থাকতে দেখা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিমানটি একটি আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পরই বড় আগুনের কুণ্ডলি আকাশের দিকে উড়তে দেখা যায়। বিমানটিতে ২১৭ জন প্রাপ্ত বয়স্ক ছিলেন। এ ছাড়া ১১ জন শিশু ও দু’টি নবজাতক ছিল। ভারতীয় ছিলেন ১৬৯ জন। বৃটিশ নাগরিক ছিলেন ৫৩ জন। সাতজন পর্তুগিজ ও একজন কানাডার নাগরিকও ছিলেন। বিমানটি ছিল বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। যা বিশ্বের অন্যতম আধুনিক বিমান। এর আগে বোয়িংয়ের এই মডেলের বিমান কখনো বিধ্বস্ত হয়নি। বৃহস্পতিবার লন্ডনের উদ্দেশ্য যাত্রা করা আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিমানটি লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। এদিকে আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনাকে ভয়াবহ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বলেছেন, ভারত একটি বৃহৎ এবং শক্তিধর দেশ। আমি নিশ্চিত তারা এই পরিস্থিতি সামলে নেবে। যেকোনো প্রয়োজনে আমরা তাদের পাশে আছি। ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার মধ্যে এটি একটি। ট্রাম্প আরও বলেছেন, বেশির ভাগ যাত্রীই হয়তো মারা গেছেন।
স্ত্রীর শেষ ইচ্ছা পূরণ করে লন্ডনে দুই শিশু সন্তানের কাছে ফেরা হলো না
আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় প্রিয়জনকে হারিয়েছেন এমন প্রতিটি পরিবারের এক-একটি কাহিনী সকলের চোখে পানি এনে দিচ্ছে। আমদাবাদের বিমান দুর্ঘটনায় লন্ডন প্রবাসী অর্জুন ভাই পাটোলিয়ার মৃত্যু হয়েছে। অর্জুনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এখন লন্ডনে থাকা দুই শিশু সন্তান নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে। লন্ডনে প্রয়াত স্ত্রী'র অস্থি বিসর্জন দিতে তিনি গুজরাটে এসেছিলেন। গুজরাটের আমরেলির বাসিন্দা অর্জুন ভাই পাটোলিয়া তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানের সঙ্গে লন্ডনে থাকতেন। তার স্ত্রী ভারতীবেন পাটোলিয়া গত ২৬ মে লন্ডনে প্রয়াত হন। স্ত্রী'র শেষ ইচ্ছা রাখতে চিতা-ভস্ম নিয়ে আমরেলি জেলার তার নিজ গ্রামের পুকুরে বিসর্জন দিতে এসেছিলেন অর্জুন। কিন্তু অর্জুনের আর লন্ডনে মেয়েদের কাছে ফেরা হল না। স্ত্রীর চিতাভস্ম বিসর্জন দেওয়ার পর অর্জুন এয়ার ইন্ডিয়ার অভিশপ্ত বিমানে চেপে লন্ডনে ফিরছিলেন। ওড়ার কিছু সময়ের মধ্যেই বিমান দুর্ঘটনায় অর্জুন ভাই পাটোলিয়ারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। অর্জুন ভাই পাটোলিয়ারের দুটি ছোট মেয়ে রয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের বয়স ৮ বছর এবং অন্যজনের বয়স ৪ বছর। তারা অনাথ হয়ে পড়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভয়ে কাঁপছে ইসরাইল,আশ্রয় খুঁজছে বাংকারে, হাসপাতালে রোগীদের ছুটি, রক্তদানের আহ্বান ও একটি শিয়ালের গল্প by মোহাম্মদ আবুল হোসেন
এদিকে জরুরি রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছে ইসরাইলি জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো। হাসপাতালে বাড়তি চাপ সামাল দিতে অনেক রোগীকে ছুটি দিয়ে ঘরে পাঠানো হচ্ছে। পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও চরম উত্তেজনাপূর্ণ। ইসরাইলি সেনাবাহিনী সব ফিলিস্তিনি শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন জারি করেছে। সেখানে প্রবেশ বা বের হওয়ার সব রাস্তায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা এখন ‘পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতি’তে রয়েছে। সারা দেশের সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে এবং যে কোনো মুহূর্তে ইরান থেকে আসা পাল্টা হামলার জবাব দিতে তৈরি রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
বিভিন্ন শহরে মানুষ স্বজনদের নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন, কেউবা ঘরের নিচে বাংকারে অবস্থান করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আতঙ্কিত শিশুদের ছবি, এবং জরুরি বাজার পরিস্থিতির ভিডিও প্রকাশ করছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইতিমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
ইসরাইল ও পশ্চিমা বিশ্ব জানে ইসরাইলি নৃশংসতার বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে মধ্যপ্রাচ্যে দাঁড়িয়ে আছে একটিই দেশ- ইরান। বিভিন্ন সময়ে তারা ইসরাইলি নৃশংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের যত মাথাব্যথা। একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আইএইএ’র নির্দেশনার অধীনে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানো এবং যদি তারা মনে করে, তবে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়ার অধিকার রাখে। অবশ্য ইরান বার বার বলে আসছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উপায়ে ব্যবহারের জন্য। তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। এক্ষেত্রে ইরানের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ। তাদেরকে প্রতি মুহূর্তে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে।
রেভ্যুলুশনারি গার্ডের সাবেক প্রধান কাশেম সোলাইমানি হত্যা সহ এবারের হামলায় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান হোসেইন সালামি, দু’জন পরমাণু বিজ্ঞানী মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি ও ফারেইনদুন আব্বাসি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মোহাম্মদ মাহদি ছিলেন ইসলামী আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট। আব্বাসি ছিলেন ইরানের পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক প্রধান। ইসরাইল দাবি করেছে, নিহত হয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি। তারা হামলা চালিয়েছে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা সহ বেশির ভাগ পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক স্থাপনায়। যেসব স্থানে এবং যাদের বিরুদ্ধে হামলা করলে একটি জাতি, একটি দেশ ধ্বংস হয়ে যায়- ইসরাইল সেটাই করেছে। এরফলে ইরানের সামনে এখন কোনো বিকল্প খোলা নেই।
তাদেরকে এখন প্রকাশ্যে হামলার পাল্টা হামলা চালাতে হচ্ছে। উপরন্তু ইসরাইলের ‘যুদ্ধাপরাধী’ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন- ইসরাইলকে এর জন্য কঠোর মূল্য দিতে হবে। শয়তানের চক্রের বিরুদ্ধে তারা মাথা নত করবেন না। যখন এই লেখা লিখছি, তখন খবর আসে ইসরাইলের উদ্দেশে ইরান কমপক্ষে ১০০ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। এসব ড্রোনকে আকাশেই নিষ্ক্রিয় করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেসের (আইডিএফ) সেনা প্রধান মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন। এটা হতে পারে ইরানের যুদ্ধ কৌশল।
আকাশপথে ড্রোন হামলা চালিয়ে তারা ইসরাইলকে ব্যস্ত রাখতে পারে। এ ঘটনার অন্যপাশে তখন তারা হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ জোরালো করতে পারে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ করা হয় এবং সেই তেল মধ্যপ্রাচ্যের। যদি ইরান এই প্রণালীকে বন্ধ করে দিতে পারে তাহলেই অনেকটা সফল হবে তারা। ইরানে হামলার খবরে এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো খবর দিচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের এই হামলা একদিনের প্রস্তুতিতে হয়নি। টাইমস অব ইসরাইল বলছে, বছরের পর বছর এই প্রস্তুতি নিয়েছে ইসরাইল। এ সময়ে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিমদের ঐক্যের বিষয়ের দিকে নজর রেখেছে। তারা দেখেছে সেখানে মুসলিমদের মধ্যে একতা নেই। তারা দেশে দেশে বিভক্ত। একদেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশ শুধুই দর্শক হয়ে বসে থেকেছে। তারা ভেবেছে, আমাদের তো কিছু হয়নি। এমনি করে মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ বৃদ্ধি হয়েছে। এ কারণেই চারদিকে মুসলিম বেষ্টিত ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে, জাতিসংঘকে হেয় করে, মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর চোখের ভিতর ধুলো ঢুকিয়ে দিয়ে গাজার মাটিকে তামা বানিয়ে ফেলার সাহস দেখাচ্ছে। গাজার নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’য় মেতে উঠার সাহস দেখাচ্ছে। যখন তারা দেখেছে চারপাশের মুসলিমরা নীরব। তারা শুধু অত্যাধুনিক হোটেল বা রিসোর্টে আলো ঝলমল এসি কক্ষে বসে কথিত আলোচনায় ব্যস্ত। তারা এটা করছে শুধু গা বাঁচানোর জন্য।
এসব দেখে দেখে ইসরাইল সাহস পেয়েছে। তাদেরকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেট- কোনো ভেদাভেদ নেই। তারা ইহুদি স্বার্থে এক। তারা উভয় পক্ষই ইসরাইলকে আস্কারা দিয়েছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র দিয়েছে। যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে ভূমধ্যসাগরে। আর মুসলিমরা? তারা তখন হয়তো বুঁদ আরাম আয়েশে। তাদের এই ব্যর্থতা গাজা, লেবানন, ইয়েমেন বা ইরানের অস্তিত্বকে হুমকি ফেলেছে। শুধু তাই নয়, এখন বিশ্ব নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- ইরান-ইসরাইল যদি এই যুদ্ধ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য রক্ষা পাবে না। তখন ওই অঞ্চলের প্রতিটি দেশ আক্রান্ত হবে।
বিষয়টি দাঁড়াবে এমন যে— ধরুন একটি শিয়াল শীতের সময় মাটির চুলার পাশে আগুন পোহানোর জন্য শুয়ে আছে। উষ্ণতা পেয়ে এক সময় আরামে ঘুমিয়ে পড়েছে সে। কিন্তু তার লেজ সেই ঘুমের মধ্যেই নাড়া খেয়ে চুলার আগুনের কাছে চলে গেছে। অমনি ধপ করে তাতে আগুন লেগে গেছে। সেই আগুন ক্রমশ অগ্রসর হয়ে যখন শিয়ালের শরীরকে স্পর্শ করেছে, পুরো শরীরে ছেয়ে গেছে— তখন সে উপায় না পেয়ে পাগলের মতো দৌড়াতে শুরু করেছে। তার আরাম পরিণত হয়েছে দোযখের আযাবে।
মুসলিমদের যদি এরপরও হুঁশ না হয়, তাহলে তাদের দশাও একই রকম হতে পারে।
.webp)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানে ইসরায়েলের হামলা: ট্রাম্প কি পাগল হয়ে গেছেন by মার্কো কার্নেলস
গত রাতে ইরানে ইসরায়েলের হামলার জন্য ট্রাম্প যে সবুজ সংকেত দিয়েছেন, তা আবারও এই সত্যকে প্রমাণ করে।
তবুও ট্রাম্পকে নিয়ে এমন ভাবনাগুলোর স্বচ্ছ বিবেচনার দাবি রাখে। যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ওপর সামরিক শিল্পখাতের নেতিবাচক প্রভাবের সমালোচনা, যা দেশটিকে অবিরাম যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং এর কোষাগার খালি করে দিয়েছে।
বিশ্বায়নের ফলে দেশের বাইরে থেকে অর্থাৎ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট উৎপাদন খাত নিয়েও ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। এই নীতি সাম্প্রতিক দশকগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে শিল্পায়নমুক্ত করেছে, দেশটিকে বিদেশি শ্রমের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল করে তুলেছিল।
এর পাশাপাশি আছে ট্রাম্পের সেই ‘মরণপণ লড়াই’, যেটা তিনি ‘ডিপ স্টেট’-এর বিরুদ্ধে চালিয়ে যাচ্ছেন। যে ডিপ স্টেট প্রতিনিধিত্ব করছে মূলত ডেমোক্রেটিক পার্টির ক্রমবর্ধমান একটি অভিজাত গোষ্ঠী ও বড় বড় করপোরেট লবিগুলো, যারা বিশ্বকে ঠেলে দিচ্ছে এমন এক উদারপন্থী অর্থনৈতিক মডেলের দিকে, যেটি আদতে টেকসই নয়।
কিন্তু ট্রাম্পের প্রবৃত্তি অনেক সময় তাঁকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করলেও তিনি এতটাই বোকা যে সেসব বাস্তবায়ন করতে গিয়ে উল্টোপাল্টা করে ফেলেন।
সমস্যার মূলে রয়েছে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি, উদাসীনতা ও মানুষের প্রতি সহানুভূতির অভাব। বিশেষ করে তিনি এমন নীতি গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করেন যা আমেরিকার ভেতরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই সবচেয়ে গরিব মানুষগুলোর জন্য বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসে। উদাহরণস্বরূপ ইউএসএআইডিকে অচল করে দেওয়া, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর বিশাল প্রভাব ফেলছে, অথচ এতে যে অর্থ সাশ্রয় হয়েছে তা সামরিক খাতে নষ্ট হওয়া বাজেটের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।
এখন পর্যন্ত, ট্রাম্পের কাছ থেকে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত বিষয় হচ্ছে, তিনি বন্ধু ও শত্রু উভয়কেই বিভ্রান্ত করে ফেলছেন।
অসংগতির শেষ নেই
ট্রাম্পের অসংগতি গুনে শেষ করা যাবে না। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অসংগতি হলো, নিজেকে ‘শান্তির প্রতিনিধি’ হিসেবে উপস্থাপন করে ক্ষমতায় ফিরে এলেন, তারপর প্রতিরক্ষা বাজেটে রেকর্ড ১ ট্রিলিয়ন ডলার খরচের প্রতিশ্রুতি দিলেন।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিকে বোঝা কার্যত অসম্ভব। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ট্রাম্প ও বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের নাটকীয় দ্বন্দ্ব, যা মার্কিন ইতিহাসের সংকটময় পরিস্থিতির এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া কঠিন করে তুলছে। চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পপকর্ন হাতে বিষয়গুলো উপভোগ করছেন, এমন কল্পনাও অবান্তর নয়।
এখন প্রশ্ন হলো—যে প্রেসিডেন্ট একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ নিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, আর অন্যদিকে বিপুল প্রতিরক্ষা বাজেটর প্রতিশ্রুতি দেন, করপোরেট কর কাটছাঁট (যা সামাজিক খাতে বাজেট কমিয়ে এনে সম্ভব) এবং অন্য খরচসহ মোট ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ বাড়ান, তাঁকে কীভাবে বিশ্বাস করবে বিশ্ব?
রেটিং সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের রেটিং নামিয়ে দিচ্ছে, আর ট্রেজারি বন্ডগুলো আগের মতো আর আকর্ষণীয় থাকছে না। অর্থাৎ, যে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী সফট পাওয়ার হিসেবে ধরা হয়, সেখানে ফাটল ধরেছে। জেপি মরগান চেজ-এর সিইও সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি মূল্যস্ফীতি বাড়াবে এবং মন্দার সম্ভাবনা জোরালো করছে।
পররাষ্ট্রনীতির বোকামি
পররাষ্ট্রনীতিতে এসেও ট্রাম্পের হঠকারিতা একেবারে স্পষ্ট। ইউক্রেনের ইস্যুতে তিনি একদিকে দাবি করেন, তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তিচুক্তি করাতে পারবেন, আবার পরক্ষণেই বলেন, তিনি হয়তো দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করা ছেড়ে দেবেন। এমনকি তিনি রাশিয়াকে পরোক্ষভাবে হুমকি দেন শান্তিচুক্তির জন্য। আবার তার কয়েক দিন পরেই ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে ডজনখানেক ড্রোন হামলা চালায়, যে হামলার লক্ষ্য ছিল পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম একটি রুশ বিমানঘাঁটি। যে হামলা পশ্চিমা গোয়েন্দা সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়।
গাজা যুদ্ধ নিয়েও ট্রাম্প কোনো যুদ্ধবিরতি আনতে ব্যর্থ হন। তাঁর বিশেষ দূত গাজার সশস্ত্র বাহিনী হামাসকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে। তার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে কিছু বন্দী বিনিময়ের কথা বলা হয়েছে, তবে স্থায়ীভাবে শান্তি স্থাপনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। এটি অনেকটা জানুয়ারিতে হওয়া সেই চুক্তির মতো, যা পরে ইসরায়েল নিজের ইচ্ছেমতো লঙ্ঘন করেছিল নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ধরে রাখার উন্মত্ততায়।
ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা নিয়েও ট্রাম্প যদি মনে করেন, তিনি তেহরানকে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ হওয়া থেকে বিরত রাখার চুক্তিতে রাজি করাতে পারবেন, তাহলে তিনি স্বপ্ন দেখছেন। ইরান এত বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা সহ্য করেছে তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক অধিকার বজায় রাখার জন্য, শুধুমাত্র ট্রাম্পের কাছে সেটি বিকিয়ে দিতে নয়—যিনি একসময় ইরানের অন্যতম সামরিক নেতা জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প হয়তো ভাবছেন, ইরানে ইসরায়েলের হামলা সহজতর করে দিয়ে তিনি চুক্তিতে সুবিধা পাবেন, কিন্তু এটি মারাত্মক ভুল প্রমাণিত হতে পারে। ইতিমধ্যে ইরান এই সপ্তাহে হতে যাওয়া আলোচনা বাতিল করেছে।
* মার্কো কার্নেলস ইতালির সাবেক কূটনীতিক। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় ইতালি সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।
- মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ: রাফসান গালিব
![]() |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লন্ডনে ইউনূস-তারেকের আলোচনায় বিএনপিরই কি জিত by সোহরাব হাসান
বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল চলতি বছরের ডিসেম্বের মধ্যে নির্বাচন করার দাবি জানিয়ে আসছিল। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বশেষ বৈঠকেও দু–একটি ছাড়া সবাই ডিসেম্বর–জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছিল।
কিন্তু ঈদুল আজহার আগে প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বললেন, এপ্রিলের প্রথমার্ধের যেকোনো দিন নির্বাচন হবে।
নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে উপদেষ্টাদের মধ্যেও বিভক্তি ছিল বলে জানা যায়। এক পক্ষ চাইছিল ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করাই শ্রেয় হবে। অন্য পক্ষের অভিমত ছিল, রাজনৈতিক দলের দাবি যা–ই হোক না কেন, এপ্রিলের আগে নির্বাচন করা ঠিক হবে না। সে সময়ে প্রধান উপদেষ্টা দ্বিতীয় পক্ষের কথা মেনে নিলেন।
কিন্তু সেই ঘোষণা সমস্যার সমাধান না করে আরও জটিল করে তুলল। বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে ডিসেম্বর–এপ্রিলের দ্বৈরথ চলতে থাকে। এ অবস্থায় সরকার একটি সম্মানজনক আপসরফা চেয়েছিল, যার প্রতিফলন ঘটল লন্ডন বৈঠকে।
প্রশ্ন হচ্ছে, এপ্রিলের ঘোষণায় যারা সম্মতি জানিয়েছিল, তারা কি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে একমত হবেন কী না?
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার কাছে আগামী বছরের রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তাব করেন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও মনে করেন, ওই সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভালো হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন যে তিনি আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে।’
বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার আগ্রহেই এই বৈঠক হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। খালেদা জিয়া বলেছেন, তারেক রহমানই এখন দল চালাচ্ছেন, রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বললেই ভালো হয়।
বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকার—উভয়ের শুভানুধ্যায়ীরাও চেয়েছিলেন বৈঠকটি হোক। বৈঠকের আগের দিন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিক, তিনি যেকোনো সময় বাংলাদেশে আসতে পারেন। গত ১০ মাসে তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে কোনো উপদেস্টা প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
সবচেয়ে ভালো হতো যদি লন্ডন বৈঠক ছাড়াই জট খোলা যেত। কিন্তু সেটা যায়নি। বাংলাদেশে স্বাভাবিক ও সহজ পথে কিছু হয় না। অনেকেই প্রশ্ন করবেন, যে সিদ্ধান্তের জন্য সরকারপ্রধানকে লন্ডন যেতে হলো, সেই সিদ্ধান্ত ঢাকায় নেওয়া গেল না কেন? যৌক্তিক প্রশ্ন।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা দুইটা) বৈঠকটি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটা) বৈঠক শেষ হয়। বৈঠক শেষে তারেক রহমান ডরচেস্টার হোটেল ত্যাগ করেন।
বৈঠকের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টাই কথা শুরু করলেন আবহাওয়ার সুসংবাদ দিয়ে। তিনি বললেন, ‘আজ আবহাওয়াটা খুব ভালো।’ তারেক রহমান তাঁকে সমর্থন করলেন।
তাঁদের কথোপকথন ছিল অনেকটা এ রকম:
ইউনূস: খুব ভালো লাগছে।
তারেক: আমারও ভীষণ ভালো লাগছে। আই ফিল অনার্ড।
ইউনূস: আসেন। চলুন বসি।
তারেক: আপনার শরীর কেমন? ভালো আছেন?
ইউনূস: এই যাচ্ছে। টেনে টেনে যাচ্ছে।
তারেক: আম্মা সালাম জানিয়েছেন আপনাকে।
ইউনূস: অসংখ্য ধন্যবাদ। ওয়ালাইকুমুস সালাম। ওনাকেও আমার সালাম দেবেন।
নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে মতৈক্যের বিষয়টিই সরকার তথা প্রধান উপদেষ্টার বড় সাফল্য বলে মনে করি।
তবে এ ধরনের বৈঠক হয় সাধারণত দুটি পক্ষের মধ্যে। এখানে তো অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো পক্ষ হওয়ার কথা ছিল না। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সব দল ও সংগঠনের সম্মতি ও সমর্থন নিয়েই মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছিল। কিন্তু তারা সব সময় নিরপেক্ষ থাকতে পেরেছে বলে মনে হয় না। অনেক ক্ষেত্রে চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাহলে এবারও কি বিএনপির চাপের কাছে সরকার নতিস্বীকার করল কি না সেই প্রশ্নও উঠবে।
সরকারের তিনটি অঙ্গীকার ছিল। সংস্কার, জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের হত্যার বিচার ও নির্বাচন। সরকারের গঠন করা সংস্কার কমিশনগুলো ইতিমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আর সব কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব বা সুপারিশ বাস্তবায়নের সঙ্গে সংবিধান বা নির্বাচনেরও সম্পর্ক নেই। সরকার নির্বাহী আদেশে অনেক সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারে। কিন্তু দু–একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সরকার কোনোটিতে হাত দেয়নি।
বিচারপ্রক্রিয়াও এগিয়ে চলেছে বলে সরকারের উপদেষ্টারা জানিয়েছেন। এই বিচার নিয়েও কেউ আপত্তি করেননি। তবে বিচারটি কবে শেষ হবে, সেটা নির্ভর করে আদালতের ওপর। এখানে সরকার বলে দিতে পারে না, অমুক তারিখে অমুক মামলার কাজ শেষ করতে হবে।
তৃতীয়টি হলো নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রে উত্তরণের কোনো বিকল্প উপায় আছে বলে আমাদের জানা নেই। নির্বাচন দুই মাস পর হলে সব সংস্কার বা বিচারকাজ শেষ হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু এপ্রিলে নির্বাচন করার সমস্যাগুলো প্রায় সব দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সরকারপ্রধান ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যৌথ বিবৃতির পর নির্বাচনের দিণক্ষণসংক্রান্ত সমস্যা হয়তো কেটে যাবে। কিন্তু নির্বাচনের পরিবেশটি তৈরি করা সহজ হবে না। সাম্প্রতিককালে দেখা গেছে, কোথাও সংঘাত সংঘর্ষ হলে সেনা সদস্যদেরই হস্তক্ষেপ করতে হয়।
বৃহস্পতিবার যে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় পাতাবুনিয়া বটতলা বাজারে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হককে অবরুদ্ধ হন, তাঁকে উদ্ধার করতে আসেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বকুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া এলাকায় আয়োজিত এক স্মরণসভায় অংশ নিয়ে ফেরার পথে অবরুদ্ধ হন নুরুল হক। এ সময় পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনের অনুসারীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর পথ রোধ করেন, দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা হাসান মামুন প্রথম আলোকে বলেন, নুরুল হক নূর এলাকায় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। কেউ উসকানিমূলক বক্তব্য দিলেই তাঁকে মারধর কিংবা অবরুদ্ধ করতে হবে, এটা কোন আইনে লেখা আছে। তাঁরা কেন আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন?
বিএনপি বেশ কয়েকটি আসনে মিত্র দলের নেতাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য স্থানীয় নেতাদের কাছে চিঠি দিয়েছিল। অন্যান্য আসনেও কমবেশি একই রকম সমস্যা আছে।
নির্বাচনের দিনতারিখ ঠিক হওয়ার পর বল পুরোপুরি রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে চলে যাবে। তখনো যদি তারা জবরদস্তি পরিহার করতে না পারে, তাহলে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন দূরের কথা, মোটামুটি সুষ্ঠু নির্বাচন করাও দুরূহ হবে।
* সোহরাব হাসান প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক। শুক্রবার লন্ডনে। ছবি: প্রেস উইংয়ের কাছ থেকে পাওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভাইয়ের ‘প্রতারণায়’ নিঃস্ব প্রবাসফেরত তমিজ
কিন্তু দেশে ফিরে দেখেন স্ত্রী, সন্তান, পৈতৃক ভিটেমাটি, জমিজমা, কোনো কিছুই আর তার নেই। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, তমিজ উদ্দিনের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে আপন ছোট ভাই আলাউদ্দিন দখল করে নিয়েছেন পৈতৃক সব সম্পত্তি। আর স্ত্রী-সন্তানরাও অন্যত্র চলে গিয়েছেন। শেষ বয়সে সব হারিয়ে এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই। এখানে সেখানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সর্বশেষ এক বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি জানেন না সম্পত্তি আদৌ ফিরে পাবেন কি না? এ জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তমিজ উদ্দিন বলেন, এক ভারতীয় নাগরিক হত্যার ঘটনায় কুয়েত পুলিশ আমাকে জেলে নিয়ে যায়। কিন্তু আমি হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। পরে তারা আমাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। আমি ভেঙে পড়িনি, আপিল করেছি। পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। খালাসের জন্য কয়েক দফা আবেদন করি, অবশেষে ২৫ বছর সাজা ভোগ করার পর মুক্তি পাই।
তিনি বলেন, ভেবেছিলাম দেশে ফিরে অন্তত একটা ছায়া পাব। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করব। কিন্তু এসে দেখি, নিজের ভিটেতেই আমি অনাহূত। স্ত্রী-সন্তান মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমায়। আমার আপন ভাই সব সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে। আমি সরকারের কাছে প্রতিকার দাবি করছি।
তমিজ উদ্দিনের ভাই জহির উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও আলাউদ্দিন কোনো প্রকার মীমাংসায় রাজি হননি। উল্টো প্রবাসী তমিজ উদ্দিনকে হুমকি-ধমকিও দেওয়া হচ্ছে। এর আগে তমিজ উদ্দিনকে মাদক মামলায় জড়িয়ে দিয়েছিল। পরে আদালত তাকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আলাউদ্দিন বলেন, আমি কারও সম্পত্তি দখল করিনি। পৈতৃক সম্পত্তি যতটুকু পেয়েছি, ততটুকই ভোগদখল করছি। তার (তমিজ উদ্দিন) সম্পত্তি কোথায় আছে, কার দখলে আছে জানি না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশেম বাহাদুর কালবেলাকে বলেন, এমন অনেক প্রবাসী আছেন, যারা বছরের পর বছর কষ্ট করে দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠালেও দেশে ফিরে ভিটেমাটি খুঁজে পান না। সরকারের কাছে আবেদন, প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ান। নইলে একের পর এক তমিজ উদ্দিনরা নিঃস্ব হয়ে যাবে।
জানতে চাইলে দাগনভুঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স ম আজহারুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
![]() |
| ভুক্তভোগী প্রবাসফেরত তমিজ উদ্দিন। ছবি : কালবেলা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বর্তমান সংকটে হবস, রবীন্দ্রনাথ ও অমর্ত্য সেন যেখানে প্রাসঙ্গিক by আহমেদ জাভেদ
বতর্মানে জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর দেশ, যা রাশিয়া ও জাপানকেও ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের মতো সীমিত ভৌগোলিক পরিসরে এত বিচিত্র ও বহুধাবিভক্ত একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল। সুতরাং অতিমাত্রার জনঘনত্ব এখানকার জটিলতার একটি দিক। আর অন্যদিকটি নিয়ে কথা বলেছেন আমাদের কিংবদন্তি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক এ এফ সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নবীন হলেও তার সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি সহস্র বছর পুরোনো। আর তা ছাড়া এ অঞ্চলের রয়েছে পরিবেশ, জলবায়ু ও ভূমির বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যার সঙ্গে বাংলা ভাষার শক্তি মিলেমিশে এক স্বতন্ত্র আত্মপরিচয় দিয়েছে।
এই লেখায় আমি তিনটি দিক থেকে বাংলাদেশের রাজনীতির ওপর আলোকপাত করব: প্রথমত, রাজনৈতিক দর্শনের অনুবীক্ষণ; দ্বিতীয়ত, নৈতিকতা ও ন্যায্যতা-চিন্তার বিকাশপথ এবং তৃতীয়ত, চলমান সমস্যার উত্তরণে সম্ভাব্য করণীয় সম্পর্কে আলোচনার মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি টানব।
রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি: হবস ও সামাজিক চুক্তি
সপ্তদশ শতকের দার্শনিক থমাস হবস তাঁর লেভিয়াথান গ্রন্থে প্রথমবারের মতো ‘সামাজিক চুক্তি’র ধারণা প্রস্তাব করেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষে-মানুষে নিরবিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও গৃহযুদ্ধ প্রতিরোধ করে সমাজকে সুরক্ষিত করা। প্রত্যেকে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধরত’, এই বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে একটি সামাজিক চুক্তির ধারণার কার্যকর প্রয়োগ কীভাবে সমাধান দিতে পারে, তা তিনি দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘কমন পাওয়ার’ বা ‘সার্বভৌম ক্ষমতা’র অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘যেখানে প্রত্যেক মানুষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত, সেখানে এ-ও অনিবার্য যে অন্যায় বলে কিছু থাকতে পারে না। ন্যায়-অন্যায় কিংবা সঠিক-ভুলের যে ধারণা, তা সেখানে অস্তিত্বহীন। কারণ, যেখানে কোনো কমন পাওয়ার নেই, সেখানে আইনও নেই; আর যেখানে আইনই নেই, সেখানে অন্যায়ের কথাও অনুপস্থিত।’ (লেভিয়াথান, অধ্যায়-১৩,১৬৫১)
মানুষ স্বেচ্ছায় নিজের কিছু অধিকার রাষ্ট্রের হাতে সমর্পণ করে, যাতে সমাজে শান্তি, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাসহ বণ্টনমূলক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
সমাজের সদস্যরা স্বেচ্ছায় নিজের ক্ষমতার একটি অংশ ছাড় দিয়ে সম্মিলিতভাবে এই কমন পাওয়ার বা সার্বভৌম ক্ষমতা রাষ্ট্রকে অর্পণ করে। রাষ্ট্র এই ক্ষমতা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করে সমাজকে পরস্পর হানাহানির সমূহ বিপদ থেকে সুরক্ষা দেয় একটি সামাজিক চুক্তিতে উপনীত হয়ে। রাষ্ট্র তার সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে কতগুলো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানের দরকার পড়ে, কারণ, মানুষ সাধারণত কোনো কাজে নিজের স্বার্থ সর্বোচ্চ আদায় করতে চান, যা তাঁকে বিশৃঙ্খলা বা মব সন্ত্রাস সৃষ্টির দিকে নিয়ে যায়। আর তাই নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দুই বা ততোধিক পক্ষের ভেতর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক সময়ে সম্ভবত স্কুলই সামাজিক চুক্তির আঁতুড়ঘর হিসেবে কাজ করে। আরও বড় হয়ে সেই শিক্ষার্থী যখন কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন, তখন তাঁর সামনে আরও বৃহত্তর পরিধির সমাজের সঙ্গে এই চুক্তির নবায়ন ঘটে ও তাঁর বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হয়।
সিভিল ওয়ার বা গৃহযুদ্ধ থেকে সমাজকে বাঁচাতে হবসের এই ধারণার প্রেক্ষাপট হলেও বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোর প্রকাশিত সংবাদ দেশে যে ‘বিশৃঙ্খলা’ ও ‘ছায়াযুদ্ধে’র কথা বলছে, তার সঙ্গে এর মিল-অমিল দুটিই আছে। বর্তমান বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তাহীনতার বোধ ক্রমবর্ধমান, ‘দলীয় মব সন্ত্রাস’ কিংবা অরাজকতার খবর যখন নিত্যসঙ্গী, তখন হবসের এই তত্ত্ব নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা, উপদেষ্টাদের বিতর্ক ও তাদের টেবিলে ‘সমন্বয়ক’দের তদবিরের উঁচু ফাইল, আদালতের গুণমানের ক্রমাবনতি এবং সেনা-অবস্থান ইত্যাদি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সামাজিক চুক্তি কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অসাড় হয়ে পড়েছে সমাজে নাগরিকদের সমদর্শিতারূপে গণ্য করার দৃষ্টিভঙ্গিটির।
কেন এই অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে, তার কারণটি অনুধাবন করা খুব কঠিন নয়। কারণ, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া দরকার, তা এই সামাজিক চুক্তি প্রতিষ্ঠার একটি দিক মাত্র। গণতন্ত্রের এই পুরোনো ও আনুষ্ঠানিক দিকটি যেখানে নির্বাচন ও ব্যালটকেই গুরুত্ব দেয়। কিন্তু যাঁরা পৃথিবীব্যাপী গণতন্ত্রের বিকাশমান ধারাটি অনুসরণ করেন, তাঁরা এর অন্যদিকটি আলাপ–আলোচনাভিত্তিক শাসনের ব্যাপকতর দৃষ্টিভঙ্গিটি, এ দেশে যে নেই সেটি জেনে থাকবেন। অগ্রসর পাঠক উপলব্ধি করবেন যে এক মাথা, এক ভোটের দাবি হিসেবে গণতন্ত্রকে এখন আর গণ্য করা হয় না, বরং দেখা হয় তার চেয়ে ব্যাপক প্রশস্ত আকারে।
স্যামুয়েল হান্টিংটনের মতে, গণতন্ত্রের সারবস্তু হলো অবাধ, মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যা এর অপরিহার্য অঙ্গ। হান্টিংটন-উত্তর সময়ে অনেক পরিবর্তন হলেও এখনো অনেকে গণতন্ত্রকে, সাংগঠনিক রূপের বাইরে অর্থাৎ ব্যালটের আরেক নাম গণতন্ত্র হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত, এর বাইরে ভাবতে রাজি নন। গুরুত্ব বিবেচনায় ভোট কম কিছু নয় বরং প্রকাশ্য আলাপ-আলোচনা ও যুক্তিপ্রয়োগকে কার্যকর করতে গেলেও ভোটের প্রয়োজন আছে। কিন্তু এটি প্রয়োজনীয় শর্ত মাত্র, কিছুতেই তা এর ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। আর তা ছাড়া ভোটের কার্যকারিতা তখনই থাকে, যখন নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যের অধিকার, জীবনরক্ষাকারী প্রাথমিক দ্রব্যের সমঅধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে।
ন্যায্যতা চর্চার অন্য ধারা রবীন্দ্রনাথ ও অমর্ত্য সেন
রবীন্দ্রনাথের চিন্তায় দেশের বুকের ওপর যে দুর্দশার পাহাড় চেপে বসে আছে, তার প্রধান ভিত্তিই হলো শিক্ষার অভাব। (ইজভেস্তিয়া, ১৯৩০)। আমাদের জীবনের বহুবিধ সমস্যাকে একটি মাত্র বিন্দুতে আনার কারণে কেউ হয়তো তাঁকে অতিসরলীকরণের দোষে দুষ্ট বলতে পারেন, তবে রবীন্দ্রনাথের বিচারটি যে গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন, সে বিষয়ে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়। তাঁর বিদ্যালয়ের ছাত্র অমর্ত্য সেন এই নতুন সময়ের প্রেক্ষাপটে এই চিন্তাকে মূল সূত্র ধরে সক্ষমতার দৃষ্টিভঙ্গির নতুন তত্ত্বায়ণ করেছেন। সামাজিক প্রগতির ক্ষেত্রে ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার ভূমিকার কথা রবীন্দ্রনাথ বহু বছর আগে বলে গেলেও বর্তমানে বিশ্ব ব্যাংক ও জাতিসংঘের মতো অন্যান্য উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানও উন্নয়ন-চিন্তায় শিক্ষার ভূমিকাকে স্বীকার করে নিয়েছেন। অর্থনৈতিক সুযোগ ও কর্মসংস্থানে শিক্ষাগত সক্ষমতা ও দক্ষতা কী ভীষণভাবে নির্ভরশীল, তা আজকাল আর আমাদের বোঝানোর দরকার পড়ে না। অমর্ত্য সেনের মতে, শিক্ষা মানুষকে কতগুলো মৌলিক স্বাধীকার দেয়, যার মধ্যে রয়েছে পৃথিবীকে বোঝা, একটি ওয়াকিবহাল জীবন যাপন করা, অন্যদের সঙ্গে ভাববিনিময় এবং সাধারণভাবে আমাদের চারপাশের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অবহিত থাকার ক্ষমতা। কারণ, আধুনিক সমাজ লিখিত ভাববিনিময়ের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। (ভারত: উন্নয়ন ও বঞ্চনা, দ্রেজ ও সেন)
অমর্ত্য সেনের ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ বা সক্ষমতার দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে বলা যায়, বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে জীবনটাকে যাপন করতে চায়, সেভাবে সে যাপন করতে পারছে কি না, সেটিই বর্তমানে তাদের স্বাধীনতার বা সক্ষমতার প্রশ্ন। তিনি ন্যায্যতাকে বুঝেছেন সক্ষমতার দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে। আর এই দৃষ্টিভঙ্গির দুটি দিক হলো সক্ষমতার বা স্বাধীনতার দিক এবং অন্যটি হলো শিক্ষা ও দক্ষতার দিক। সেনের এই দর্শনকে কেন্দ্রে রেখে আমাদের গণতন্ত্রকে কীভাবে প্রকাশ্য যুক্তি প্রয়োগের ভিত্তিতে ‘আলোচনাভিত্তিক শাসনে’ রূপান্তরিত করা যায়, সেটিই এখানে মুখ্য হওয়া উচিত। কারণ, এই নবতর ধারণা আমাদের জ্ঞানভিত্তিকে সমৃদ্ধ করে ও পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা কমাতে সাহায্য করে। আমাদের সংকটটি কিন্তু শুধু স্থিতিশীলতার নয়, বরং সমাজে নয়েজ বা কোলাহল কমিয়ে কীভাবে উচ্চতর সমাজ নির্মাণ করা যাবে, সেটিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত।
এই কাজ করতে হলে রবীন্দ্রনাথ ও অমর্ত্য সেনের মিলিত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে ক্রমবর্ধমান ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন সংবেদনশীল মানবিক বোধের প্রয়োগ ও আলাপ-আলোচনাভিত্তিক গণতন্ত্রের গতিশীল অভিযাত্রা। রবীন্দ্রনাথের আত্মানুসন্ধানমূলক দর্শন ও ‘বিচ্ছিন্নতা-বিরুদ্ধ’ চর্চা আমাদের শেখায়, কীভাবে ব্যক্তি তার সীমিত পরিধির খোলস থেকে ক্রমে সমাজ-সত্তার সঙ্গে এবং সমাজ-দেহ থেকে বিশ্ব মানবতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি সহনশীল ন্যায্যতা-চর্চার সংস্কৃতি গড়ে তোলা যায়। আমাদের সমাজে যেখানে প্রতিনিয়ত উঁচু উঁচু সাংস্কৃতিক-দেয়াল নির্মিত হচ্ছে, সেখানে রবীন্দ্রনাথের সংবেদনশীল আত্মশক্তি এই বিভাজনের বিপরীতে সংযোগ নির্মাণের ভিত্তি তৈরি করে। অন্যদিকে, অমর্ত্য সেনের মতে, ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার অর্থ কোনো নিখুঁত প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক কাঠামো নির্মাণ নয়, বরং যেসব অন্যায় যা আমাদের একেবারে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। সবার আগে সেগুলো দূর করার পথ খোঁজা জরুরি। এই তুলনামূলক-বিচার আমাদের দেশে আজ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। আমরা অন্তত দৃশ্যমান ও প্রকট অনিয়ম ও বৈষম্য রোধে কার্যকর বিকল্প গ্রহণ করতে পারি।
চলমান সমস্যা উত্তরণে সম্ভাব্য করণীয়
চিন্তাশীল মানুষের লেখা পড়লে খুব বড় মাপের গঠনমূলক অভিজ্ঞতা হয়, তা সে যত পুরোনোই হোক না কেন। মে মাসের শেষের ১০ দিনের দৈনিক পত্রিকাগুলোতে যেসব খবর বেরিয়েছে, তাতে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পরস্পরের প্রতি ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাস স্পষ্ট। এখানে সমাজের চাওয়া আর রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থের ভেতর দূরত্ব রয়েছে। ফলে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এটি অনেকটা হবসীয় সময়ের ‘সকলের সঙ্গে সকলের স্বার্থ-সংঘাতে’র ফলে সৃষ্ট অস্থিরতাকেই যেন অনুসরণ করছে। অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভেতর ক্ষমতার ভারসাম্যের ক্ষেত্রে কিছুটা সাফল্য পেলেও তা এখন আর তার পক্ষে ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না সমদর্শি দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগের অভাবে। আবার কখনো সমদৃষ্টিতে দেখা হলে বড়রা তা গ্রহণ করতে পারছেন না বোধের অভাবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আকর্ষণ ছিল তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড ও তরতাজা আইডিয়াগুলো। সময় যত গড়িয়েছে, সেগুলোতে কিছুটা ধুলা পড়েছে ও ম্লান হয়ে গেছে জনসম্পৃক্ততার অভাবে। অন্যদিকে, বিবদমান সব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষগুলোর ঐক্যের জায়গা নষ্ট হয়ে সেই জায়গায় পুরোনো পেশিশক্তি–ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় পরস্পর লিপ্ত হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে অধ্যাপক সেনের কথা ধার করে বলা যায়, দলগুলোর ক্ষেত্রে লক্ষণীয়, যে বিষয়টি তারা সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারছেন না, সেটিকে নস্যাৎ করে দেওয়ার প্রবণতা বেশ স্পষ্ট। আমাদের রাজনৈতিক দলের ভেতর লেখাপড়ার চর্চা ও পাঠচক্রের অনুশীলন শূন্যের কোঠায় নেমেছে, যা তাদের কর্মীদের আচরণে স্পষ্ট। শিক্ষার যে কি প্রচণ্ড-রূপান্তর ক্ষমতা রয়েছে, সেটি বোধ হয় আমদের রাজনৈতিক দলগুলো প্রায় জানেই না!
নইলে বিগত ৫৪ বছরেও আমাদের কোনো রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে শিক্ষার গুণমান বৃদ্ধির দাবি দূরে থাক, সাধারণভাবে শিক্ষার কথাটি কোনো জায়গা পেল না কেন? যদিও আমরা জানি, উচ্চতর সমাজ বিনির্মাণে একমাত্র শিক্ষাই পারে এ দেশের মানুষের সক্ষমতার বিকাশ ঘটিয়ে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে। পরিশেষে বলতে হয়, হবস থেকে আমরা শিখেছি কেন আমাদের আইন মানা জরুরি। রবীন্দ্রনাথ আমাদের মনে করাচ্ছেন, ন্যায়ের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি শুধু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই হয় না, দরকার রূপান্তরিত মানুষের যার অন্তর্জগৎ হবে সুন্দর। আর অমর্ত্য সেন মনে করিয়ে দিচ্ছেন, প্রতিষ্ঠানের প্রায়োগিক মূল্য সত্ত্বেও, আমাদের ধাপে ধাপে নৈতিক উন্নয়নেও মনোযোগী হতে হবে, কারণ, ন্যায্যতার মূল বাহক প্রতিষ্ঠান নয়, মানুষ।
* আহমেদ জাভেদ। প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশন। তিনি বর্তমানে সিটি ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
![]() |
| থমাস হবস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অমর্ত্য সেন। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইউক্রেনে ১০ লাখ সেনা হারিয়ে রাশিয়া এখন কী করবে by জেনিফার ম্যাথার্স
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কারণ হলো দেশটির ‘মাংস কুচানো যন্ত্রের’ যুদ্ধকৌশল। এটা এমন একটা যুদ্ধকৌশল, যেখানে কাতারের পর কাতার সৈন্যকে শত্রুপক্ষের গোলার মুখে পাঠানো হয়, যাতে অনেক সৈন্য প্রাণ হারালেও অন্তত কয়েকজন শত্রুব্যূহ ভেঙে এগিয়ে যেতে পারেন।
ভ্লাদিমির পুতিনের এই কৌশল রুশ বাহিনীকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জনে সহায়তা করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটা বেদনাদায়ক ও ধীরগতির অগ্রগতি। প্রতি বর্গকিলোমিটার দখলের জন্য রাশিয়ার গড়ে ৫৩ জন সেনা হতাহত হয়েছেন।
ব্যাপক হারে সেনা হারানোর কারণে রাশিয়া এখন ইউক্রেনে তাদের যুদ্ধকৌশলে পরিবর্তন এনেছে। এখন রুশ বাহিনী ছোট ছোট সেনা ইউনিট ব্যবহার করছে। এর কারণ হলো, যুদ্ধে অনেক জুনিয়র কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। যদিও সৈন্যদের মধ্য থেকে নতুন অফিসার নিয়োগ দিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত শূন্যস্থান পূরণ করা হচ্ছে। কিন্তু নতুন কর্মকর্তাদের বড় আকারের সেনাদল পরিচালনার মতো যথেষ্ট প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা নেই।
ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে নতুন সেনা নিয়োগের ক্ষেত্রেও আরও চাপ বেড়েছে। নতুন করে সেনা নিয়োগের ব্যাপারে পুতিন অনাগ্রহী হওয়ায় জনবলসংকট মেটাতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে নানা ‘সৃজনশীল’ উপায় বের করতে হচ্ছে।
আহত সেনাদের পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। রুশ সেনারা অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই তাদের জোর করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় ড্রোন অপারেটররা এমন ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে—ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটছেন—এমন রুশ সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করছেন।
রাশিয়ার সামরিক নিয়োগকর্তারা জনবলসংকট মেটাতে কারাগারগুলোয় যাচ্ছেন। সাধারণ ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বন্দীদের যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। ইউক্রেনের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা জানাচ্ছে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই পদ্ধতিতে আনুমানিক ১ লাখ ৮০ হাজার সৈন্য নিয়োগ করেছে। ২০২২ সালের গ্রীষ্মকালে এই পদ্ধতির সূচনা করেছিল ভাগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিন।
এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সাবেক বন্দীদের মধ্যে কিছু নারীও রয়েছেন। তবে ঠিক কতজন নারী বন্দীকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেই পরিসংখ্যান জানা যাচ্ছে না। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সামরিক বাহিনীতে নারীদের সক্রিয়ভাবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে। তার কারণ হলো, এটি ক্রেমলিনের প্রচারিত বার্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, সেই বার্তায় ক্রেমলিন বলেছিল, সেনাবাহিনীতে কাজ করা পুরুষদের কাজ এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ পুরুষদের তাঁদের পুরুষত্ব প্রদর্শনের সুযোগ এনে দিয়ছে।
রাশিয়াকে এখন ক্রমেই সেনাবাহিনীর জনবলসংকট মেটাতে মিত্রদেশ উত্তর কোরিয়া ও চীনের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এ বছরের শুরুর দিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, অন্তত ১৫৫ জন চীনা সেনা রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনে লড়াই করছেন। উত্তর কোরিয়া যেসব সেনা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজারজন হতাহত হয়েছেন।
তবে সেনাসংকট মোকাবিলায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো বেসামরিক নাগরিকদের সামরিক বাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় বেতন ও সুবিধা দেওয়া। প্রতি মাসে এভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের মাসে কমপক্ষে ২ লাখ রুবল (২ হাজারের বেশি মার্কিন ডলার) বেতন দেওয়া হয়। যুদ্ধরত সেনারা এখন রাশিয়ার শীর্ষ আয়কারী ১০ শতাংশের মধ্যে স্থান পেয়েছেন।
উচ্চ বেতনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী বা ‘চুক্তিভিত্তিক’ নিয়োগপ্রাপ্ত সেনা পরিবারগুলোকে নানা সুযোগ–সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নিম্ন সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ দেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধে যাঁরা নিহত হচ্ছেন কিংবা স্থায়ীভাবে পঙ্গু হচ্ছেন, তাঁদের উদার হস্তে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। কিছু অঞ্চলে, সমাজকল্যাণ বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি অংশই বরাদ্দ করা হচ্ছে, সেনা ও তাঁদের পরিবারদের জন্য।
অর্থের এই প্রবাহ অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাশিয়ার কিছু অঞ্চলের মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে। এই আর্থিক উন্নতি ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযানের’ প্রতি জনসমর্থন আরও জোরালো করেছে।
কিন্তু কোনো অঞ্চল থেকে এতসংখ্যক পুরুষের অন্যখানে চলে যাওয়া (তাঁদের অনেকেই কোনো দিন আর ফিরে আসবে না) অনেক ছোট সম্প্রদায়ের জনমিতিক বিন্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়ে দিয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর বড় অংশই এখন নারী, ছোট শিশু ও বয়স্করা।
যুদ্ধক্ষেত্রে যেসব সৈনিক শারীরিক বা মানসিকভাবে স্থায়ী ক্ষত নিয়ে গ্রামে বা ছোট শহরে ফিরে আসছেন, তাঁরা প্রতিবন্ধী ভাতা পাবেন। কিন্তু রাশিয়ার যে বেহাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহায়তা পেতে তাঁদের সংগ্রাম করতে হতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধে যোদ্ধাদের মধ্যে একটি শ্রেণি সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন, তাঁরা হলেন সাবেক বন্দীদের মধ্যে যাঁরা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে বেঁচে ফিরেছেন। কিন্তু কারাগার থেকে সেনা নিয়োগের ফলাফল হলো—যখন সহিংস অপরাধীরা যুদ্ধ শেষে পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে ফিরে আসেন, তখন তাঁদের অনেকেই নতুন অপরাধে লিপ্ত হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক কারাবন্দী সৈনিকেরা এ পর্যন্ত প্রায় ২০০টি হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। এসব হত্যাকাণ্ড নিহত সেনাদের পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
যদিও রাশিয়ার জনসংখ্যা অনেক বড়, কিন্তু তাদের মানবসম্পদ অসীম নয়। ২০২২ সালে ইউক্রেন আগ্রাসন শুরুর আগ থেকেই মানবসম্পদের দিক থেকে চাপে রয়েছে রাশিয়া। এই আগ্রাসনের কারণে দেশটির মানবসম্পদ ক্ষতির মুখে পড়েছে। আরও বেশিসংখ্যক সেনার প্রয়োজনীয়তা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। রাশিয়া আগে থেকেই একটি জনমিতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সমাজে সন্তান ধারণে সক্ষম জনগণের অনুপাত এমনিতে কম।
এই যুদ্ধ যে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করবে, সেটা হলো রাশিয়ার জনসংখ্যা হ্রাস পাবে। যদিও রাশিয়ার সরকার এখন নারীদের বেশি বেশি সন্তান নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে। কিন্তু ‘মাদার হিরোইন’ পুরস্কার পুনঃপ্রবর্তনের পর যেসব নারী দশ বা তার বেশি সন্তান জন্ম দিয়ে ও লালনপালন করে সেই সম্মান অর্জন করতে চান, তাঁরাও পুরুষ সঙ্গী খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়তে পারেন।
* জেনিফার ম্যাথার্স, ওয়েলসের অ্যাবারিস্টউইথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক
- এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
| ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত রুশ সেনাদের শেষকৃত্য। ছবি : রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রমজানের আগে নির্বাচনের প্রস্তাব তারেক রহমানের, প্রধান উপদেষ্টা বললেন, প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে করা যেতে পারে, বৈঠকে দু’পক্ষই সন্তুষ্ট
গতকাল লন্ডন সময় সকাল নয়টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা দুইটা) স্থানীয় ডোরচেস্টার হোটেলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের প্রায় পুরোটাই ছিল দুই নেতার একান্ত আলোচনা। শুরুতে কুশল বিনিময়ের সময় দুইপক্ষের কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৈঠক স্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দরজায় এসে তাকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর হাসিমুখে তারা দুইজন কুশলবিনিময় করেন। তারেক রহমান দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে সালাম পৌঁছে দেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টাও বেগম খালেদা জিয়ার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে উপহার হিসেবে কলম এবং দু’টি বই তুলে দেন। শুভেচ্ছাবিনিময়ের পর দুই নেতা একান্তে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে দুইপক্ষের যৌথ বিবৃতি পড়ে শোনানো হয়। এই বিবৃতিতে রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজনে তারেক রহমানের প্রস্তাব এবং প্রধান উপদেষ্টার সম্মতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
একান্ত বৈঠকের আগে তারেক রহমানের সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আলোচনায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না। দেশের প্রয়োজনে তাকে আরও কাজ করতে হবে।
গতকাল হওয়া ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যকার বৈঠকটিতে দৃষ্টি ছিল পুরো দেশের। বৈঠকটি ইতিবাচকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে উভয়পক্ষ। সাধারণ মানুষও বৈঠকটি নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী বছরের রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রস্তাব করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে এই সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন লন্ডনে সফররত প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যমূলক পরিবেশে তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার কাছে আগামী বছরের রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তাব করেন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও মনে করেন, ওই সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভালো হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন যে, তিনি আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার এই অবস্থানকে স্বাগত জানান এবং দলের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রধান উপদেষ্টাও তারেক রহমানকে ফলপ্রসূ আলোচনার জন্য ধন্যবাদ জানান।
যৌথ বিবৃতি পড়ে শোনার পর সাংবাদিকদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জুলাই সনদ নিয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে অলরেডি আলোচনা চলছে দেশে। এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে অলরেডি সিদ্ধান্ত আছে যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে তা হোক। সংস্কার নিয়েও একই জবাব আমাকে দিতে হবে।
তিনি বলেন, ঐকমত্য যেখানে হবে, স্বাভাবিকভাবে ঐকমত্যের পরিপ্রেক্ষিতে যে সিদ্ধান্ত হবে, স্বাক্ষরিত তো হবেই, না হওয়ার কোনো কারণ তো নেই।
সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, নির্বাচনের একটি সঠিক তারিখ নির্ধারণে আসলে সমস্যাটা কোথায়? এ প্রশ্নের উত্তর দেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এর কোনো সমস্যাই নেই। আমরা কোনো সমস্যা দেখছি না, কেউ দেখলে পরে এটা ভুল দেখছেন। নির্বাচন সম্পর্কে আজকে যৌথ বিবৃতিতে আমরা বলে দিয়েছি দুই পক্ষই এবং আমরা আশা করবো, নির্বাচন কমিশন শিগগিরই একটা তারিখ ঘোষণা করবে।
বৈঠকে কি শুধু নির্বাচন নিয়েই কথা হয়েছে, নাকি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও অন্যান্য বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে বিএনপি নেতা আমীর খসরু বলেন, ‘সব বিষয়ে আলোচনা তো হবে, স্বাভাবিক। আমরা তো নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছি। সবাই আমরা চাই, দেশ গড়ার যে প্রত্যয় আমরা নিয়েছি, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই কাজটা করবো। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় নিয়ে আমরা সবাই ঐকমত্যে এসেছি, শুধু নির্বাচনের আগে নয়, নির্বাচনের পরও সেটা আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে আলোচনার কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমরা মনে করি না। তারেক রহমান সাহেব যখনই ইচ্ছা দেশে ফিরে যেতে পারবেন। সুতরাং এটার সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন, সময়মতো।
নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা? এমন এক প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, এ ব্যাপারে এখানে আলোচনার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। এ প্রশ্নে নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, এটা তাদেরকে (এনসিপি) জিজ্ঞেস করুন। প্রত্যেকটি দলের নিজস্ব মতামত আছে। তবে আমরা সবাইকে নিয়ে নির্বাচনটা করতে চাচ্ছি।
আরেকজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে এপ্রিলে ঘোষিত যে নির্বাচনের রূপরেখা, সেখান থেকে সরকার কিছুটা সরে আসতে চাচ্ছে বা আসবে? এর উত্তরে নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, যৌথ ঘোষণায় এই বিষয়টি সুস্পষ্টই বলা আছে। আপনারা শুনেছেন। যদি সব কাজ সময়মতো আমরা করতে পারি এবং বিচার ও সংস্কারের ব্যাপারে পর্যাপ্ত অগ্রগতি হয়, তাহলে নিশ্চয়ই সেটা করা যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে শেষ প্রশ্ন ছিল, ‘আপনারা কি সন্তুষ্ট?’ এ প্রশ্নের উত্তরে একইসঙ্গে খলিলুর রহমান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট।’ আমীর খসরু বলেন, আমরা তো বলছি নির্বাচনের আগে নয়, নির্বাচনের পরও নতুন বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ওদিকে বৈঠক ঘিরে প্রধান উপদেষ্টার আবাসস্থল হোটেল ডোরচেস্টারের সামনে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। তাদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন দেখা গেছে। তারেক রহমান হোটেলে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বের হয়ে যাওয়ার সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারেক রহমান হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শুধুই নির্বাচন নাকি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন? by মহসীন আহমেদ
কিন্তু যেনতেন একটা নির্বাচন করলে কি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে?আবার একটা যেনতেন নির্বাচন করা হলে তা ‘জুলাই ২০২৪’ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। ১৯৯০ সালের তিন জোটের রূপরেখা ভেঙে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছিল পতিত সরকার। তারপর যে নির্বাচন করেছে, তা শেষ পর্যন্ত তাদের নির্লজ্জভাবে বিদায় নিতে বাধ্য করেছে।
এখন প্রশ্ন হলো, বর্তমানে কি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের অনুকূল পরিস্থিতি আদৌ আছে? জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে ৪৫ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রহরার ব্যবস্থা করতে রাষ্ট্র সক্ষম কি না? গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে মানসিক অবস্থা, তাতে নির্বাচনের মতো একটি মহাযজ্ঞ সামাল দেওয়া তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তার মানে কি নির্বাচন হবে না? অবশ্যই হতে হবে; বরং একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও পুলিশ বাহিনীর বর্তমান সক্ষমতা বিবেচনায় না এনে নির্বাচন আয়োজন হবে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাতে জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যাবে। আর তা হলে সাধারণ জনগণের ভোটদান থেকে বিরত থাকার আশঙ্কা থেকে যাবে। এ অবস্থা কারোই কাম্য হতে পারে না। সে পরিস্থিতি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেই সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে কোনো ব্যতিক্রম হলে এর দায়ভার কে নেবে? তা নিতে হবে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকেই। জনগণও এ পরিস্থিতি মনে রাখবে এবং সময়-সুযোগ এলে জবাবও দেবে। ১৯৯০ সালে সামরিক সরকার এরশাদের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে ‘গণতন্ত্র’ উত্তরণের কালপর্ব হিসেবে ধরা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ কোনো সরকারের অধীন ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
একটি গণজাগরণের পর যে নির্বাচন, তার ফলাফল অনেক সময় চমকপ্রদ হতে পারে, যেমন ১৯৯১ সালের নির্বাচন। সেই সময় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, বিএনপি বড়জোর ১০টি আসন পেতে পারে। কিন্তু ফলাফল হলো, বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করল। এর পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল।
আশির দশকে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী, তাঁর নেতৃত্ব ছিল আপসহীন ও বলিষ্ঠ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসগুলোয় ছাত্রদলের তখন ছিল হিরোইক ইমেজ। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা ইত্যাদি জনমনে একটি স্থায়ী প্রভাব তত দিনে দৃঢ় হয়েছে।
১৯৭২-৭৫ সময়ে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা ও অরাজকতা মানুষ ভোলেনি। নির্বাচনে তা প্রভাব রেখেছিল। আবার উল্টো দিকে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব পর্যায়ে অবাস্তব ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস তাদের মধ্যে শৈথিল্য এনেছিল। আর সক্রিয় কর্মীর উপস্থিতি মানেই যে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা না-ও হতে পারে।
১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগের দিনও কেউ কল্পনা করেননি যে শেখ হাসিনা ঢাকা-১০ (রমনা-তেজগাঁও) আসনে মেজর মান্নানের কাছে এবং ঢাকা-৭ (কোতোয়ালি-সূত্রাপুর) আসনে সাদেক হোসেন খোকার কাছে পরাজিত হবেন। কিন্তু জনগণ তাঁদের নীরব রায় দিয়েছেন। আপাতদৃষ্টে দৃশ্যমান অধিকতর আওয়ামী লীগের সমর্থক থাকার পরও হয়েছে নীরব ভোটবিপ্লব।
২০০১ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশে কোনো নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন হয়নি। ভোটাররাও তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। ২০০১ সালে যাঁদের বয়স ছিল ১৮ বছর, তাঁদের বয়স আজ ৪৩ বছর। ২০২৫ সালে কনিষ্ঠ ভোটারদের জন্মবর্ষ ছিল ২০০৭ সাল। এর মানে হচ্ছে ১৮ থেকে ৪৩ (জন্মবছর বয়স পর্যন্ত) যাঁদের বয়স, তাঁরা প্রথমবারের মতো একটি অবাধ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন।
১৯৮৩ থেকে ২০০৭ সাল, এই সময়ে যাঁরা জন্মেছেন, তাঁদের ভোট সরল সমীকরণে বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ভাগাভাগি করলে তা তাত্ত্বিকভাবে ঠিক হবে, কিন্তু বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন হতে পারে।
১৮ থেকে ৪৩ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা ৬৪ শতাংশের বেশি। সুষ্ঠু ভোট হলে এই ৬৪ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি ও তুলনামূলক বেশি হবে। ৪৩ বছরের বেশি বয়স্ক ভোটারের সংখ্যা মাত্র ৩৫ শতাংশ। তাঁরা অনেকটা স্থায়ী মতাদর্শের মানুষ। কিন্তু নির্বাচনে কারা জিতে আসবেন, তা নির্ভর করবে ১৮ থেকে ৪৩ বছর বয়সী ভোটারদের ওপর। এসব ভোটার আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের চিত্র সরাসরি দেখেছেন। অধিকন্তু আওয়ামী লীগের দলীয় রেজিস্ট্রেশন স্থগিত। তার মানে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অনেকটাই অনিশ্চিত।
একই সঙ্গে বিএনপির জন্যও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে বিএনপি রাজনীতির মাঠে কার্যকরভাবে সক্রিয় থাকতে পারেনি। শিক্ষাঙ্গনের ক্যাম্পাসে ছাত্রদল অনুপস্থিতি রয়েছে অনেক দিন ধরে। দলের চেয়ারপারসনের দীর্ঘ কারাবাস থেকে দল তাঁকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ভাইস চেয়ারম্যান বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে দেশের বাইরে ছিলেন, এখনো দেশে ফেরেননি। তৃণমূল পর্যায়ে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও নিজেদের মধ্যে হানাহানি এখনো সামলানো যায়নি। দেশজুড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগ এখন ব্যাপক আলোচিত।
জনমনে এ ধারণা প্রবল যে বিএনপি আওয়ামী লীগের ব্যাপারে নমনীয়। আর একই নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকার সম্ভাবনা আছে, যা একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ ভালোভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে সামনের নির্বাচন মানেই বিএনপির জয়, বিষয়টি এত সরল না-ও হতে পারে।
তবে সবচেয়ে বড় কথা, নির্বাচনের আগেই যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারলে নির্বাচনের পর আবার সেই পারস্পরিক দোষারোপ তথা সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ চলতেই থাকবে।
* মহসীন আহমেদ লেখক
- mohsin_0511@yahoo.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাইলট আটকের দাবি ইরানের, নাকচ ইসরাইলের: বিপ্লবী গার্ডস প্রধান সালামি ও ২ পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত, ইরানে শোক, ইসরাইলে জরুরি অবস্থা
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে, ইসরাইলের হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান হোসেইন সালামি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে নিহত হয়েছেন দেশটির শীর্ষ দুই পরমাণু বিজ্ঞানী মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি ও ফারেইদুন আব্বাসি। মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি ছিলেন ইসলামি আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট। ফারেইদুন আব্বাসি ইরানের পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হামলাটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হয় । এই হামলায় সালামির মৃত্যু দেশটির সামরিক নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, সালামি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম মুখ্য স্থপতি। তিনি ২০১৯ সাল থেকে আইআরজিসির শীর্ষপদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী অবস্থান গ্রহণের জন্য পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ইরানে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শীর্ষ নেতারা। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, শত্রুদের এই অপরাধের জবাব দেওয়া হবে কঠিনভাবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সালামির মতো একজন শীর্ষ জেনারেলের মৃত্যু ইরানের প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে। এর ফলে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরুর আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। ইতিমধ্যে ইসরাইল নিজ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায়।
কে এই হোসেন সালামি?
সূত্র: বিবিসি
![]() |
| ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের রেভুল্যুশনারি গার্ডের প্রধান হোসেন সালামি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
-
▼
2025
(3280)
-
▼
June
(301)
-
▼
Jun 14
(15)
- মোসাদ নিয়ে নানা প্রশ্ন, ইরানের হাতে কি তুরুপের তাস...
- আদ জাতি ও ইরাম নগরী ধ্বংসের কাহিনি by মনযূরুল হক
- যে আমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অপূর্ব সুন্দরী নারীর গল্প ...
- ‘শুরু হয়ে গেছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’
- ইরান-ইসরাইল সংঘাত, উত্তেজনা
- আহমেদাবাদ ট্র্যাজেডি: বিমান বিধ্বস্ত হওয়া নিয়ে উঠে...
- ভয়ে কাঁপছে ইসরাইল,আশ্রয় খুঁজছে বাংকারে, হাসপাতালে ...
- ইরানে ইসরায়েলের হামলা: ট্রাম্প কি পাগল হয়ে গেছেন b...
- লন্ডনে ইউনূস-তারেকের আলোচনায় বিএনপিরই কি জিত by সো...
- ভাইয়ের ‘প্রতারণায়’ নিঃস্ব প্রবাসফেরত তমিজ
- বর্তমান সংকটে হবস, রবীন্দ্রনাথ ও অমর্ত্য সেন যেখান...
- ইউক্রেনে ১০ লাখ সেনা হারিয়ে রাশিয়া এখন কী করবে by ...
- রমজানের আগে নির্বাচনের প্রস্তাব তারেক রহমানের, প্র...
- শুধুই নির্বাচন নাকি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন? by...
- পাইলট আটকের দাবি ইরানের, নাকচ ইসরাইলের: বিপ্লবী গা...
-
▼
Jun 14
(15)
-
▼
June
(301)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







