Monday, August 19, 2013

নতুন ধারার রাজনীতি যেন জনহিতকর হয় by মোঃ মাহমুদুর রহমান

বর্তমান রাজনীতি নিয়ে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, আমাদের রাজনীতিকরাও সন্তুষ্ট নন। রাজনীতিকদের অসন্তোষের কারণে তারা বিভিন্ন সময় রাজনীতিতে পরিবর্তনের কথা বলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিগত সরকারের সময়ের দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে দিনবদলের রাজনীতির প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন। জনগণ বিশ্বাস করে বিপুল ভোটে তার দলকে বিজয়ী করেছিল ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এখন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান সরকারের দুর্নীতি, গুম, খুন ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানান প্রায়ই। বিরোধীদলীয় নেতা সম্প্রতি প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন আগামীতে ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করবেন। অতীতে প্রতিশ্র“তি কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি বলেই বর্তমান প্রতিশ্র“তিতে ভরসা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া দিনবদল আর নতুন ধারার মধ্যে শব্দ চয়নে ভিন্নতা থাকলেও মর্মার্থ অভিন্নই বলা যায়। তাই দল দুটি ভিন্ন হলেও প্রতিশ্র“তি একই ধরনের। ফলাফল কতটুকু ভিন্ন হবে তা নিয়ে চিন্তিত সাধারণ মানুষ। তবে আশার কথা হচ্ছে, সরকারি দল, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ সবাই যে যার অবস্থান থেকে বর্তমান ধারার রাজনীতির অবসান চাচ্ছেন। এই সম্মিলিত চাওয়া ব্যবধানে বর্তমান প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির পরিবর্তে একটি জনহিতকর রাজনীতি উপহার দিতে বাধ্য করবে রাজনীতিকদের। অন্যথায় নতুন শক্তির উদ্ভব হবে প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে।
সাম্প্রতিক সিটি কর্পোরেশনগুলোর নির্বাচনী ফলাফল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিপক্ষে যাওয়ায় ব্যাপকভাবে মনে করা হচ্ছে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে এবং বর্তমান বিরোধী দল বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে, যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। এ জন্য বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেশ ও জনগণের জন্য বিশেষ গুরুত্ব¡ বহন করে। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতার নতুন ধারার রাজনীতির কোনো ব্যাখ্যা তার বক্তব্যে ছিল না। পরে লন্ডনে জনাব তারেক রহমানের বক্তব্য ও মিডিয়ার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। একটি জাতীয় দৈনিকে নতুন ধারার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী সরকার হবে দলীয় নয়, জাতীয় সরকার। নির্বাচনী রাজনীতিতে সুবিধা করতে না পারা বিভিন্ন ছোট ছোট দলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিকসহ দেশের বিভিন্ন মত ও পথের বুদ্ধিজীবীদের এক্ষেত্রে কাজে লাগানো হবে। একই দিনে অপর একটি জাতীয় দৈনিকে নতুন ধারা সম্পর্কে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ ব্যাপারে তাদের অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কারণ দলীয় কোনো ফোরামে নতুন ধারা সম্পর্কে আলোচনা হয়নি। কেউ কেউ অনুমাননির্ভর কিছু বক্তব্য দিয়েছেন। এসব বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে দলীয়প্রধান ও সরকারপ্রধান একই ব্যক্তি হবেন না। আমরা ধারণা করতে পারি বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দুজন এ দুটি পদ অলংকৃত করবেন। নতুন ধারা সম্পর্কে সুস্পষ্ট দলীয় কোনো বক্তব্য না থাকায় জনমনে অনেক শংকাও রয়েছে।
বিগত বিএনপি সরকার আমলে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচি পালনে বাধা প্রদান করা হতো। তাদের কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবরুদ্ধ করে রাখা হতো। পুলিশি বেষ্টনী ভেদ করে বাইরে মিছিল-মিটিং করা প্রায় অসম্ভব ছিল। তখনকার বিরোধীদলীয় নেতার দিনবদলের কথা শুনে মানুষ ধরে নিয়েছিল ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে হয়তো এরকম অনৈতিক বাধা প্রদানের ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখতে পেলাম দলীয় অফিসের সামনে নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময় বিএনপিকে দলীয় অফিসের ভেতরে বন্দি থাকতে হয়েছে। এতেও সরকারের ক্রোধ প্রশমিত না হওয়ায় সর্বশেষ দলীয় অফিসে ঢুকে দরজা ভেঙে দাগি অপরাধীদের মতো জাতীয় নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সুবাদে দেশবাসী এ নির্লজ্জ কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতার নতুন ধারা কেমন হবে? তিনি কি এসব বাদ দিয়ে ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসবেন, না বিরোধী দল দমনের নতুন ধারা সৃষ্টি করবেন? হতে পারে তিনি অফিসের দরজা ভেঙে গ্রেফতার না করে বুলডোজার দিয়ে পুরো অফিস গুঁড়িয়ে দিয়ে নতুন ধারা সৃষ্টি করবেন!
২০০১ সালের চারদলীয় জোট তথা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ ছিল, সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণ। সেই অভিযোগকারী তৎকালীন বিরোধী দল শাসকদলে পরিণত হয়ে যা করছে তা বিশ্বাস করা কঠিন। দলীয়করণ এখন আর অনৈতিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। কোনো কোনো মন্ত্রী প্রকাশ্যে বলে দিচ্ছেন ছাত্রলীগ ছাড়া কারও চাকরি হবে না। দিনবদলের রাজনীতির ধারাবাহিকতায় পরবর্তী নতুন ধারার সরকার যদি ঘোষণা করে যে, বিএনপি ব্যতীত অন্য কারও আর কষ্ট করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের আবেদন করারই দরকার নেই, তাহলে এটাও হবে একটি নতুন ধারা!
একইভাবে বিগত বিএনপি সরকারের সময় বহুল আলোচিত ও নিন্দিত কাজ ছিল ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। দেশ-বিদেশের সব মানবাধিকার কর্মী ও আমাদের তৎকালীন বিরোধী দল সর্বদা সরব ছিল এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে। জনগণ আশা করেছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে দিনবদলের প্রতিশ্র“তির কারণে ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে। কিন্তু জনগণের আশা হতাশায় পরিণত হল। আমরা দেখলাম ক্রসফায়ার বন্ধ হওয়া দূরে থাক, এর সঙ্গে যুক্ত হল গুম আতংক। ইসিয়াস আলীর মতো জাতীয় পর্যায়ের বিরোধীদলীয় নেতাকে গুম হতে হল। সরকার নির্বিকার! দিনবদল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভয়ংকরভাবে! যা কারও কাছে কাম্য ছিল না। এখন বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা নতুন ধারার নামে আরও ভয়ংকর নতুন কিছু আবিষ্কার করতে পারেন, যা এ মুহূর্তে আমরা কল্পনা করতে পারছি না।
এভাবে বললে আরও অনেক কিছু বলা যাবে। আসলে বলতে চাচ্ছি, নতুন ধারার রাজনীতি জনহিতকর না হলে এরকম জঘন্যও হতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে যথাযথ ব্যাখ্যা চাওয়া, কারণ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দিনবদলের ব্যাখ্যা না নিয়ে জনগণ প্রতারিত হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রতারণার হাত থেকে জনগণকে রক্ষার জন্য বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া কর্মীদের উচিত বেগম জিয়ার কাছ থেকে নতুন ধারার রাজনীতির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেশের মানুষের কাছে প্রকাশ করা। নতুন ধারার রাজনীতির প্রবক্তা বিরোধীদলীয় নেতার কাছ থেকে আমরা জানতে চাই- ক্ষমতায় গেলে তিনি কি প্রতিশোধপরায়ণ হবেন? বর্তমান শাসকদল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হবেন কিনা? তাদের বিরুদ্ধে মামলার খক্ষ নেমে আসবে কিনা? সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেবেন? মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামিদের ছেড়ে দেবেন, না রায় রিভিউ করবেন? ট্রাইব্যুনাল ভেঙে দেবেন না পুনর্গঠন করবেন? না বর্তমান ট্রাইব্যুনাল তার নিজস্ব গতিতে চলবে? দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি যথারীতি চলবে, না বন্ধ করবেন? সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধ করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগদানে কী ব্যবস্থা নেবেন? ভিন্নমতের সাংবাদিকরা নির্যাতিত হবেন কিনা? জঙ্গিবাদ দমনে কী ব্যবস্থা নেবেন? প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কী ব্যবস্থা নেবেন? এভাবে আমাদের অভিজ্ঞতায় যেসব ভবিষ্যৎ নিয়ে যেসব শংকা আছে তার সবগুলোর সুনির্দিষ্ট জবাব নিতে হবে। আশা করি সত্যিকারভাবে জনহিতকর নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করার অভিপ্রায় থাকলে জনগণকে এগুলো জানাতে আপত্তি থাকার কথা নয়।
এগুলো জানালে জনগণের অবগতির সঙ্গে সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরাও জানতে পারবে। তারাও মানসিকভাবে নিজেদের তৈরি করতে পারবে নতুন ধারার রাজনীতির জন্য। দলীয় কর্মীদের প্রচলিত প্রতিহিংসাপরায়ণ সন্ত্রাসনির্ভর লুটপাটের রাজনীতির আবহ থেকে ভিন্ন উন্নত নতুন ধারার দিকে নিয়ে যেতে হলে শুধু বিরোধীদলীয় নেতা একা চিন্তা করলে হবে না, তার চিন্তার সঙ্গে দলীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে অংশীদার হতে হবে। নতুবা নতুন ধারার প্রবক্তা বেগম জিয়ার অবস্থা হবে ওই দ্রুতগামী উন্নত রেল ইঞ্জিনের মতো, যার দ্রুততার সঙ্গে পুরনো লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা বগিগুলো তাল সামলাতে না পেরে এক এক করে ছিটকে পড়বে। অবশেষে গন্তব্যে যাত্রীবাহী বগি ছাড়া শুধু ইঞ্জিনই পৌঁছবে। বিরোধীদলীয় নেতার সময়োপযোগী সুচিন্তা এভাবে ব্যর্থ হোক আমরা তা চাই না। বর্তমান নোংরা রাজনীতির কবল থেকে জনগণ মুক্তি চায়। আর এই মুক্তির জন্য সত্যিকার জনহিতকর নতুন ধারার রাজনীতি এখন সময়ের দাবি।
মোঃ মাহমুদুর রহমান : ব্যাংকার ও কলামিস্ট

তৃণমূলে দুর্নীতির বিস্তার by ড. কর্নেল অলি আহমদ (অব.) বীরবিক্রম

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বহুমাত্রিক উন্নয়নের জন্য টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচিকে খুবই কার্যকর ব্যবস্থা বলে মনে করা হলেও তা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের শেষ নেই। দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ তদারক ব্যবস্থা জোরদার করে টেস্ট রিলিফ ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামবাংলার আর্থ-সামাজিক কাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে বদলানো সম্ভব। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের প্রকল্প বিশেষ ভূমিকা রাখছে। তবে উদ্দেশ্য যত মহৎ হোক না কেন, দুর্নীতির কারণে যে কোনো জনকল্যাণকর প্রকল্প ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য। টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের মূল লক্ষ্য- গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন ও সংস্কার। সেই সঙ্গে গ্রামের অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেয়া হচ্ছে; তাই দুর্নীতিপরায়ণ মহল তা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত। এর কারণ এ ধরনের বেশির ভাগ প্রকল্পে দুর্বল তদারক ব্যবস্থা। প্রকল্পে তদারক ব্যবস্থা যত অসংগঠিত ও দুর্বল সেখানে দুর্নীতিও তত বেশি হবে, এটাই যেন বাংলাদেশের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টিআর, জিআর, কাবিখা সাধারণত সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। এগুলো তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সড়ক নির্মাণের জন্য বিতরণ করে থাকেন। বিতরণ থেকে শুরু করে কার্য সম্পাদন হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এমপি, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, পিআইও, ইউপি চেয়ারম্যান, প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বলতে পারি, কোনো প্রকল্পেই ৫০ থেকে ৬০ ভাগের অধিক কাজ হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ ভাগও কাজ হয় না। ফলে গ্রাম পর্যায়ে এ প্রকল্পগুলো দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়। পরবর্তী পর্যায়ে প্রকল্পের দুর্নীতিবাজরা অনেকে বড় বড় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। যেসব ব্যক্তি আল্লাহ এবং তার রাসূলে বিশ্বাস করে না, কোরআন এবং হাদিসে বিশ্বাস করে না, ধর্ম গ্রন্থের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস নেই, ওই সব ব্যক্তি কখনও হারাম রোজগার থেকে বিরত থাকে না। বিভিন্ন জানা ও অজানা কারণে বর্তমানে বাংলাদেশে সামাজিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আমরা জনগণকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছি। এসব প্রকল্পের বিক্রয়লব্ধ টাকা ন্যূনতম চার থেকে পাঁচ স্তরে ভাগাভাগি হয়, ফলে প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সারাদেশে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পে হরিলুটের খবর প্রায় প্রতিদিন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। কাজের নামগন্ধ পর্যন্ত নেই, প্রতিষ্ঠানেরও অস্তিত্ব নেই অথচ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে কাবিখা-টিআরের শত শত টন চাল-গম এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। বছরজুড়ে এসব প্রকল্পে লাগামহীনভাবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট হচ্ছে। কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্প চালু হয়েছে গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে। বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য কাবিখা ও টিআর প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্পে ‘হরিলুট’ হলে সারাদেশের উন্নয়নের কী অবস্থা হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।
কাবিখা ও টিআর প্রকল্পের পেছনে প্রতিবছর যে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়, তা দিয়ে দেশের অনেক বড় ধরনের উন্নয়ন করা সম্ভব। অথচ এ ধরনের প্রকল্পে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের ঘটনা অবাধেই ঘটতে দেখা যায়। প্রতি অর্থবছর এই প্রকল্পে অর্থাৎ কাবিখা ও টিআর-এর পেছনে সরকারের ব্যয় হয় ১২ হাজার কোটি টাকার উপরে। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে, যেখানে টাকার অভাবে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয় না, সেখানে এত বিশাল অংকের টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কোনো ঘটনাই মেনে নেয়া যায় না। দলীয় প্রভাবশালীদের প্রভাবে ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের যোগসাজশে কোথাও ভুয়া প্রকল্প, কোথাও প্রকল্পের কাজ শেষ না করা, আবার অনেক ক্ষেত্রে ৩০-৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করে পুরো বিলই তুলে নেয়া হয়েছে, এমন খবরও আমরা জানতে পেরেছি গণমাধ্যমের কল্যাণে।
কাবিখা ও টিআর প্রকল্পে অনিয়ম, অব্যবস্থা, ঘুষ-দুর্নীতি ও হরিলুটের খবর বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকদের দফতরে অনেক অভিযোগও জমা পড়েছে। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে আইনানুগ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, এর প্রমাণ অনিয়ম-দুর্নীতি অব্যাহত থাকার মধ্যেই রয়েছে। কাবিখা-টিআর প্রকল্প সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের স্বার্থের প্রকল্প হিসেবে এখন পরিচিতি লাভ করেছে। গ্রামীণ উন্নয়নে এসব প্রকল্প নেয়া হলেও তা থাকছে শুধু কাগজেকলমেই। প্রকল্পগুলো সার্বক্ষণিক তদারকিতে কেউ না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী-ক্যাডাররা এগুলোর যথেচ্ছ ব্যবহার করছে। সামাজিক নিরাপত্তার নামে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে আসলে নেতাকর্মী-ক্যাডারদেরই পোষা হচ্ছে। আর অনিয়ম, অব্যবস্থা, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং লুটপাটের কারণে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়ন না হয়ে বরং উন্নয়নই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রায়ই দেখা যায়, কোনো প্রকল্পে চাল বা গম বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলায় একটি সিন্ডিকেট গঠিত হয় এবং এসব জিনিস তাদের কাছে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। টেন্ডার ছাড়া গম-চাল বিক্রি করলে প্রকৃত মূল্যও পাওয়া যায় না। জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই টনপ্রতি দুই হাজার টাকা নিজেদের জন্য রাখেন, যা থাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে। একটি প্রকল্প পাস করতে হলে পদে পদে ঘুষ দিতে হয়। যেমন ইউএনও, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা, পিআইও, অডিট অফিসারকে ঘুষের টাকা দিতে দিতে অর্ধেক টাকাই শেষ হয়ে যায়। যা অবশিষ্ট থাকে তা দিয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয় না। তাই কাজ হয় সীমিত। যদি সম্পূর্ণ টাকার কাজ হতো তাহলে বাংলাদেশ এত অনুন্নত থাকত না।
কোনো জেলায় গম বা চাল দিয়ে সরাসরি প্রকল্পের কাজ হয় না। নগদ টাকা দিয়েই কাজ হয়। দুর্নীতি বন্ধের জন্য সরকারের করণীয় হচ্ছে বরাদ্দকৃত গম ও চাল জেলা পর্যায়ে প্রকাশ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থগুলো আনুপাতিক হারে উপজেলা-পৌরসভাগুলোকে বরাদ্দ প্রদান করা। এতে দুর্নীতি অনেক অংশে হ্রাস পাবে। দুর্নীতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা না গেলেও অন্তত দুর্নীতির প্রধান পথগুলো বন্ধ করা সম্ভব হবে। অবশিষ্ট ধাপগুলো কীভাবে কমানো যায় তারও একটি নীতিমালা থাকা উচিত। আমার মতে, সরাসরি টেন্ডারের মাধ্যমে কাজগুলো করলে এবং যথাযথভাবে তদারকি করলে অবস্থার উন্নতি হবে। এই বোধ সরকারের টনক নড়াতে না পারলে তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতি কখনও বন্ধ হবে না। চরিত্র গঠন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাবে। সামাজিক অবক্ষয় ও দুর্নীতি রোধের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বনিু পর্যায় পর্যন্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
ড. কর্নেল অলি আহমদ (অব.) বীরবিক্রম : সংসদ সদস্য ও চেয়ারম্যান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি

নয়া জামায়াতের আওয়াজ by সাজেদুল হক ও জাকারিয়া পলাশ

বিপর্যস্ত জামায়াত। আক্রমণের পর আক্রমণে ছিন্নভিন্ন। নির্বাচনী রাজনীতিতে নিষিদ্ধ। কিন্তু এরপর কি? মঞ্চে হেফাজতে ইসলামের আবির্ভাব। আবার ফ্ল্যাশআউট।

ঐশীর বেপরোয়া জীবনে সঙ্গী ১ ডজন বয়ফ্রেন্ড by নূরুজ্জামান

বেপরোয়া জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত প্রেম ও মাদক সেবনে বাধা পেয়েই নিজের পিতা-মাতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে ঐশী রহমান।

ঐশীর সুইসাইডাল নোট

উচ্চাকাঙক্ষী ঐশী জীবনকে উপভোগ করতে গিয়ে নেশার জগতে হারিয়েছিল। আনন্দ খুঁজতে গিয়ে জড়িয়েছিল অনৈতিক সম্পর্কের অচ্ছেদ্য জালে।

না নড়িলে কি হবে?

দেশি পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন সতিক্যর অর্থেই সুখবর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সে খবর জাতিকে জানালেন তা স্পষ্ট নয়।

‘আন্দোলনের বাতাসে চুল উড়ে যাবে’

‘সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বো না’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, বাতাস এলে সব চুল উড়ে যাবে।

দাও ফিরে সে অরণ্য লও হে নগর by জাহিদ নেওয়াজ খান

প্রেমের পরীক্ষায় প্রেমিকা চেয়েছিলো প্রেমিকের মায়ের হৃদযন্ত্র। ছেলে এসে মাকে বলার পর সন্তানের সুখময় মুখটির কথা ভেবে মা এক কথাতেই রাজি।

সহিংসতা সহ্য করা হবে না: আল-সিসি

মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসির সমর্থনে গতকাল অস্ট্রেলিয়ার
সিডনিতে বিক্ষোভ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা প্রতীকী
কফিন বহন করেন ছবি: এএফপি
মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকদের উদ্দেশ করে সেনাপ্রধান জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, মিসরে ‘সবার জন্য সুযোগ রয়েছে’। মুরসি-সমর্থকদের প্রতি ‘গণতন্ত্রের পথ পুনর্নির্মাণ’ ও ‘রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত’ হতে সহায়তার আহ্বান জানান তিনি। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সহিংসতার মুখে সেনাবাহিনী নীরব থাকবে না। গতকাল রোববার সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন মিসরের এই মুহূর্তের ভাগ্যনিয়ন্তা। বুধবার কায়রোর দুটি বিক্ষোভস্থল থেকে রক্তক্ষয়ী অভিযানের মাধ্যমে মুরসি-সমর্থকদের উচ্ছেদ করার পর থেকে এটাই সেনাপ্রধানের প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। গত চার দিনে মিসরে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে সাত শর বেশি। আর গতকাল কায়রোর একটি কারাগার থেকে পালানোর চেষ্টাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৩৬ জন মুরসি-সমর্থক নিহত হন। মিসরের সেনাবাহিনীর ফেসবুক পাতায় আল-সিসিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘আমরা দেশের ধ্বংস, জ্বালাও-পোড়াও এবং নাগরিকদের ভীতসন্ত্রস্ত করা নীরবে বসে থেকে দেখব না।’ তবে আল-সিসির কণ্ঠে এদিন দৃশ্যত কিছুটা আপসের সুরও শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘সংকট শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য আমরা অনেক সুযোগ দিয়েছি। আমরা তাদের সংঘাতে লিপ্ত হয়ে দেশকে ধ্বংস করার বদলে “গণতন্ত্রের পথ পুনর্নির্মাণ” ও “রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত” হওয়ার আহ্বান জানাই।...মিসরে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। মিসরীয়দের প্রতি ফোঁটা রক্তের মূল্য সম্পর্কে আমরা সচেতন।’
এদিকে গতকাল রোববার সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করতে অন্তর্বর্তী সরকার বৈঠকে বসে। এতে নানা বিষয়ের পাশাপাশি ব্রাদারহুডকে আইনগতভাবে বিলুপ্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী হাজেম বেবলাউয়ির শনিবারের প্রস্তাবটি আলোচিত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। শনিবারই প্রেসিডেন্টের দপ্তর এর সত্যতা নাকচ করে দিয়েছিল। মন্ত্রিসভার গতকালের বৈঠকের পর তথ্যমন্ত্রী দরিয়া শরাফ আল-দীন বলেন, সরকার প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। তবে একই সঙ্গে ‘সন্ত্রাসবাদ’কে কঠোরভাবে দমন করবে বলেও অভিমত দিয়েছে। এদিকে গতকাল নতুন বিক্ষোভের ডাক দেন মুরসির অনমনীয় সমর্থকেরা। তাঁদের জোট কায়রোর বিভিন্ন স্থান থেকে গতকাল সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতমুখী মিছিলের ডাক দেয়।  সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার হুমকি ইইউর: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা হারম্যান ভ্যান রমপুই ও হোসে ম্যানুয়েল বারোসো হুমকি দিয়েছেন, মিসরে সহিংসতা না থামলে দেশটির সেনাবাহিনী ও অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ইইউর সম্পর্ক জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। নিন্দা অব্যাহত: মিসরে রক্তপাতের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রাতে জার্মানি ও কাতার দেশটিতে ‘বর্বর সহিংস’ ঘটনার নিন্দা জানায়। জাতিসংঘের মহাসচিব সবাইকে ‘সর্বোচ্চ সংযত’ আচরণ করার আহ্বান জানান। ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগের’ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে লন্ডন। এএফপি ও বিবিসি।

সিন্ধুরক্ষক থেকে আরেকটি লাশ উদ্ধার

আইএনএস সিন্ধুরক্ষক
রয়টার্সের ফাইল ছবি
ভারতীয় নৌবাহিনীর দুর্ঘটনাকবলিত ডুবোজাহাজ আইএনএস সিন্ধুরক্ষকে অভিযান চালিয়ে গত শনিবার আরও একটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে সেখান থেকে মোট ছয়টি লাশ উদ্ধার করা হলো। নৌবাহিনীর ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। তাঁরা একটি তৃতীয় স্থান দিয়ে নিমজ্জিত ডুবোজাহাজটির ভেতরে ঢুকে নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই নাবিকদের সবাই মারা গেছেন। শনিবার রাতে ডুবুরিরা ষষ্ঠ নাবিকের দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। তবে প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁকে চেনা যাচ্ছে না। ডিএনএ পরীক্ষা ও পোস্টমর্টেমের জন্য লাশটি জে জে হসপিটালে পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরণের সময় ডুবোজাহাজটি ডেটোনেটর ও টর্পেডোতে ভর্তি ছিল। তাই জাহাজে থাকা নাবিকদের বাঁচার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডুবোজাহাজের আশপাশের পানি এখনো উত্তপ্ত বলে ডুবুরিরা জানিয়েছেন। নৌবাহিনীর উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি নরওয়ে ও সিঙ্গাপুরের দুটি উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান সিন্ধুরক্ষক বিস্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণেরও চেষ্টা করছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা শনিবার ভারতীয় নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে বহুজাতিক কোম্পানি লারসেন অ্যান্ড টুবরোও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেন, ‘ডুবোজাহাজটি উদ্ধারের সামর্থ্য ভারতীয় নৌবাহিনীর নেই। খুবই কম প্রতিষ্ঠানের এ সামর্থ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পর আমরা টেন্ডার ডাকব। উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করতে কত সময় লাগতে পারে, তা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।’ বস্তুত ডুবে যাওয়া সিন্ধুরক্ষককে উদ্ধারের অভিযান সময়সাপেক্ষই হবে। বেশ ভারী ধরনের সরঞ্জাম ছাড়া আড়াই হাজার টন ওজনের আইএনএস সিন্ধুরক্ষককে সাগরতল থেকে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। গত মঙ্গলবার মুম্বাই ডকইয়ার্ডে ভিড়ে থাকা আইএনএস সিন্ধুরক্ষকে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আগুন ধরে গিয়ে জাহাজটির বেশির ভাগ ডুবে যায়। এতে জাহাজটিতে থাকা দুই কর্মকর্তাসহ ১৮ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে নৌবাহিনী প্রধান ডি কে যোশী জানিয়েছেন। অন্য কয়েকজন সাগরে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিলেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

‘স্লোগানমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি’র প্রতিশ্রুতি দিলেন রুহানি

হাসান রুহানি
‘স্লোগানমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। দেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। রুহানি বলেন, তাঁর নির্বাচিত হওয়ার একটি কারণ ছিল পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনা। তবে তিনি এ-ও বলেন, এর অর্থ এই নয় যে ইরান তার মূলনীতি পরিত্যাগ করছে। নতুন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন, তিনি তাঁর পূর্বসূরি মাহমুদ আহমাদিনেজাদের পথে হাঁটবেন না। তাঁর মতো আড়ম্বরপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করবেন না। বার্তা সংস্থা আইএসএনএর উদ্ধৃতি অনুযায়ী রুহানি বলেন, ‘একই স্লোগানের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে পররাষ্ট্রনীতি চালানো যায় না। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারদের দেওয়া বার্তাগুলোর একটি হচ্ছে, তাঁরা ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন চান। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা আমাদের মূলনীতিগুলোকে পরিত্যাগ করছি।’ রুহানি বলেন, আমাদের পরিবর্তনের মানে হচ্ছে পদ্ধতিতে পরিবর্তন। আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থকে শক্তভাবে রক্ষা করতে যাচ্ছি। তবে সেটা করতে হবে যথোপযুক্ত, নির্ভুল ও যৌক্তিকভাবে। পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো ভুল করলে জনগণকে ভীষণভাবে মূল্য দিতে হবে। রুহানি ৪ আগস্ট ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেন। তিনি তাঁর মন্ত্রিসভার জন্য যে ১৮ জনের নাম প্রস্তাব করেন, তার মধ্যে তিনজন বাদে সবাইকে গত বৃহস্পতিবার অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। শনিবারের অনুষ্ঠানে দেশটির নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ জাভেদ জাফরি। এদিকে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার (এইওআই) বিদায়ী প্রধান ফেরেইদুন আব্বাসী-দাভানি জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম-সমৃদ্ধ করার জন্য দেশটির প্রায় ১৮ হাজার সেন্ট্রিফিউজ রয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার সেন্ট্রিফিউজ সক্রিয়। তিনি শনিবার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী আকবর সালেহির কাছে এইওআই-প্রধানের দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। বর্তমানে সক্রিয় সেন্ট্রিফিউজগুলো পুরোনো আইআর-১ ধরনের। বাকি আট হাজার সেন্ট্রিফিউজের মধ্যে সাত হাজার স্থাপন করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং এক হাজার সেন্ট্রিফিউজ অত্যাধুনিক আইআর-২এম ধরনের। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেশটির সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলে আসছে। পশ্চিমা শক্তিগুলোর সন্দেহ, ইরানের কর্মসূচির আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা। আলোচনা শুরুর আহ্বান ইইউর: ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করতে দেশটির নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাফরির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন। অ্যাস্টন শনিবার ফোনে জাফরির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন তাঁর একজন মুখপাত্র। বিবিসি ও এএফপি।

ডায়ানা নিহত হওয়ার পেছনে ব্রিটিশ সেনাসদস্যের হাত?

প্রিন্সেস ডায়ানা
প্রিন্সেস ডায়ানা নিহত হওয়ার পেছনে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর একজন সদস্যের হাত রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ পুলিশ গত শনিবার জানিয়েছে, তারা তথ্যটি খতিয়ে দেখছে। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ডায়ানা, তাঁর প্রেমিক মিসরীয় ধনকুবের দোদি ফায়েদ ও গাড়িচালক হেনরি পল। যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (পিএ) সামরিক বাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, বাহিনীর সাবেক একজন সদস্য তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলোচনার সময় ডায়ানার নিহত হওয়ার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন। ওই স্বজনেরাই এখন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। পিএ ও স্কাই নিউজ টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, রাজকীয় সামরিক পুলিশ নতুন এই তথ্য মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে জানিয়েছে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, ডায়ানার নিহত হওয়া প্রসঙ্গে নতুন তথ্যটি মেট্রোপলিটন পুলিশ সার্ভিস পেয়েছে।  এইতথ্যের প্রাসঙ্গিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খতিয়ে দেখার কাজে বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটা পুনঃ তদন্ত নয়। অপারেশন প্যাজেটের (ওই দুর্ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা জানতে পুলিশের তদন্ত) আওতায়ও তা হবে না। ব্রিটিশ রাজপরিবারের একজন মুখপাত্র জানান, ডায়ানা নিহত হওয়ার বিষয়ে নতুন যে তথ্য বেরিয়েছে, তা নিয়ে উইলিয়াম, হ্যারি বা প্রিন্স চার্লসের কার্যালয় থেকে কোনো মন্তব্য করা হবে না। ১৯৮১ সালে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিয়ে হয় ডায়ানার। আনুষ্ঠানিকভাবে চার্লস-ডায়ানার বিচ্ছেদ ঘটে ১৯৯৬ সালে। তাঁদের প্রথম সন্তান প্রিন্স উইলিয়াম ব্রিটিশ সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী। এএফপি ও বিবিসি।

আরও হামলার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান

বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর সীমান্তে ভারতের অগ্রবর্তী সেনা ফাঁড়িগুলোতে পাকিস্তান আরও হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে গতকাল রোববার দাবি করেছে ভারত। দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিমের (ব্যাট) ওই হামলার পরিকল্পনা নিয়ে তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় কিছুদিন ধরে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার মধ্যে এ দাবি করা হলো। দুই চিরবৈরী প্রতিবেশী পরস্পরের প্রতি কাশ্মীর সীমান্তে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে। ভারতের ১২০ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার এ সেনগুপ্ত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পুঞ্চ সেক্টরের ভিমভার গালি এলাকায় গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাটের আরও হামলার পরিকল্পনা-সংক্রান্ত তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। 
তারা এখন পর্যন্ত এই এলাকায় কিছু করতে পারেনি। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, তারা কিছু করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’ ভারতীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাট পাকিস্তানের বিশেষ বাহিনীর সদস্য ও ‘সন্ত্রাসীদের’ নিয়ে গঠিত একটি দল। কাশ্মীর সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের ক্রমবর্ধমান ঘটনা এবং এতে ভারতের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার সেনগুপ্ত ওই কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি ব্যাটের যেকোনো হামলার জবাব দিতে ভারতীয় বাহিনী প্রস্তুত। ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা বলেছেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে পাকিস্তানি সেনারা ৭০ বার অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই লঙ্ঘনের ঘটনা ৮৫ শতাংশ বেশি। পিটিআই ও ডন।

শ্বেতপত্র প্রকাশের ঘোষণা দিলেন ইমরান খান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান বলেছেন, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের ‘কারচুপি’ নিয়ে তাঁর দল আগামী বুধবার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে। গত শনিবার পিটিআইয়ের এক নেতার বাসায় সংবাদ সম্মেলনে ইমরান খান এ ঘোষণা দেন। পিটিআইয়ের প্রধান বলেন, ‘ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে গত ১১ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল কীভাবে চুরি করা হয়েছে, তার বিস্তারিত ও তথ্যভিত্তিক শ্বেতপত্র আমাদের দল তৈরি করেছে। বুধবার তা প্রকাশ করা হবে।’ এ ছাড়া ২২ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ৪২টি আসনের উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্র-গুলোর বাইরে ও ভেতরে সেনা মোতায়েনেরও দাবি জানিয়েছেন ইমরান খান।
সংবাদ সম্মেলনটি হট্টগোলের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। ডন।:n:
থাইল্যান্ডে প্রায় ১০ লাখ ইয়াবা বড়ি আটক:h:
থাইল্যান্ডের পুলিশ প্রায় নয় লাখ ৮০ হাজার পিস অবৈধ মেথাঅ্যামফেটামিন বড়ি আটক করেছে। প্রায় ৬০ লাখ ডলার দামের ‘ইয়াবা’ নামে পরিচিত এ বড়ি দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে সম্ভবত রাজধানী ব্যাংককে নেওয়া হচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সামরিক কর্মকর্তারা চিয়াং রাই প্রদেশে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মাদকবাহী ট্রাকটি আটকান। প্যাকেটে ভরা ইয়াবা বড়িগুলো এর ছাদে লুকানো ছিল। প্রাদেশিক পুলিশের ওপর প্রধান ভিরাট সুমানাফান বলেন, ‘এটা একটা বিরাট চালান, আরেকটি বড় চালান। এতে প্রায় ১০ লাখ বড়ি ছিল।’ তিনি বলেন, রাজধানী ব্যাংককে একেকটি বড়ির দাম হবে ২০০ বাথ বা ছয় ডলার। মাদক পাচারে জড়িত সন্দেহে তিনজন পুরুষ ও একজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই চিয়াং মাই প্রদেশের বাসিন্দা। এ প্রদেশটি কুখ্যাত স্বর্ণ ত্রিভুজের (গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল) অংশ। তিন প্রতিবেশী থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও লাওসের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর মিলনস্থল স্বর্ণ ত্রিভুজ হিসেবে পরিচিত। এটি বহু দিন ধরে মাদক পাচারের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের আফিম ব্যবসার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে এতে যোগ হয়েছে ইয়াবা বড়ি। জাতিসংঘের হিসাবে এ অঞ্চলে প্রতিবছর ১৪০ কোটি ইয়াবা বড়ি উৎপাদিত হয়। এর বেশির ভাগ তৈরি হয় মিয়ানমারের শান রাজ্যের জঙ্গলে গোপন ভ্রাম্যমাণ কারখানায়। এএফপি।