Thursday, December 8, 2016

ভুয়া দূতাবাস

জরাজীর্ণ একটি ভবন। দেয়ালের রং গোলাপি। সামনের রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা। ভেতরের দেয়ালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটা ছবি ঝুলছে। এটাই নাকি মার্কিন দূতাবাস! তবে সেখানকার কর্মীরা তুর্কি নাগরিক। তারা ইংরেজি ও ডাচ্ ভাষায় কথা বলে। তাদের সহযোগিতা করে ঘানার কয়েকজন ব্যক্তি। ঘানার রাজধানী শহর আক্রায় প্রায় এক দশক ধরে কাজ করেছে এই ভুয়া মার্কিন দূতাবাস। একদল প্রতারক সেখানে ব্যবসা খুলে বসেছিল। তারা জাল ভিসা প্রিন্ট করে বিক্রি করত। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মার্ক টোনার গত সোমবার এ খবর দিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব জাল ভিসা নিয়ে কেউ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পেরেছে বলে জানা যায়নি। আসল ভিসা ও ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখেই ভুয়া ভিসা তৈরি করত ওই প্রতারকেরা। তবে এখনকার দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জাল করা খুবই কঠিন।
তাই ওদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ভিসার জন্য লোকজন ঘানার রাজধানীতে গিয়ে ওই ভুয়া দূতাবাসে ধরনা দিত না। বরং জালিয়াত চক্রের কর্মীরাই গ্রাহকের খোঁজে পশ্চিম আফ্রিকার প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত যেত। তারপর লোকজনকে ধরে আক্রার একটি হোটেলে রেখে ভুয়া মার্কিন ভিসা দেওয়ার নাম করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ছয় হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আদায় করত। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ওই ভুয়া দূতাবাসের একটি ছবিও প্রকাশ করেছে। আক্রায় আসল মার্কিন দূতাবাসটা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। চারপাশে কড়া নিরাপত্তা। কাছাকাছি আরও কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক দপ্তর আছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ওই ভুয়া দূতাবাস চালাতে প্রতারকেরা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করত। কিন্তু কীভাবে এ রকম একটা ভুয়া দূতাবাস এত দীর্ঘদিন ধরে কাজ চালিয়ে গেল? টোনার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন পুলিশকে এই অপরাধের কথা জানাতে বিব্রতবোধ করত। কেউ তো পুলিশকে গিয়ে বলবে না যে তিনি অবৈধভাবে মার্কিন ভিসা পেয়েছেন। কারণ, এটা তো ভয়ংকর। আক্রায় নাকি নেদারল্যান্ডসেরও একটি ভুয়া দূতাবাস আছে। এ বিষয়ে ডাচ্ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড্যাফনে কেরেমানস বলেছেন, এখনো এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ৯৭

আচেহ প্রদেশের পিদি জায়া জেলার মিরুউদু শহরে
ভূমিকম্পে রাস্তায় সৃষ্ট গভীর চিড়। গতকাল সেখানে
৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে বহু হতাহত হয়। রয়টার্স
ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় ভোরে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সামরিক বাহিনী গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেন, ভূমিকম্পে প্রায় ২০০ বাড়ি ও দোকান ধ্বংস হয়ে গেছে। ১৪টি মসজিদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি করে হাসপাতাল ও স্কুলও। আচেহর অবস্থান সুমাত্রা দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে। ভূমিকম্প আঘাত হানে মূলত সেখানকার পিদি জায়া এলাকায়। এলাকাটি মুসলিমপ্রধান। ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় অনেক মুসল্লি ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পিদি জায়ার বহু বাসিন্দা উদ্বাস্তু অবস্থায় আছেন। তাঁদের বেশির ভাগই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে খাদ্য ও পানির প্রচণ্ড অভাব দেখা দিয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ সংস্থার প্রধান পুতেহ মানাফ বলেন, পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কিছু এলাকায় জেনারেটর চলছে, তবে তা সংখ্যায় নগন্য। এখন বৃষ্টি শুরু হলে অসুখ-বিসুখ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। আচেহ প্রদেশের সামরিক প্রধান তাতাং সুলাইমান গতকাল বিকেলে বলেন, উদ্ধারকাজে ১ হাজারের বেশি সেনা ও ৯০০ পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৯৭। তবে উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, এই সংখ্যা ততই বেড়ে চলেছে। ধ্বংসস্তূপ সরালেই কখনো ৫টি, কখনো ১০টি করে মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে। পিদি জায়া জেলার সোল হাসপাতালে আহত ব্যক্তিদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সেখানে অনেক রোগীকে মাঠে ঘাসের ওপর শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অনেককে পাশের জেলার হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। জেলার স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যালয়ের প্রধান সাঈদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘ভূমিকম্প হওয়ার পর থেকে প্রায় ২০০ আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তবে পরাঘাতের ভয়ে অনেকেই হাসপাতালের ভবনে ঢুকতে চাননি। এ জন্য আমরা হাসপাতালের বাইরেই তাঁদের চিকিৎসা দিচ্ছি।’ ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরুউদু শহর। সেখানকার বাসিন্দা হাসবি জায়া তাঁর দুই সন্তানকে ধ্বংসস্তূপ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তিনি বলেন, ‘এখানে সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়ি করে বের হয়েছি। পরে দেখি চারপাশের সব বাড়িঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।’ ২০০৪ সালে সাগরের তলদেশে ভূমিকম্পের পর আচেহ প্রদেশে সুনামি আঘাত হেনেছিল। সেবার শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আর পুরো অঞ্চলে মোট মারা যায় দুই লাখ ২০ হাজার মানুষ। ১৯০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত সেটিই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প। ২০০৫ সালের ২৮ মার্চ সুমাত্রায় ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নয় শতাধিক লোক মারা যায়। ২০০৬ সালে দুই দফা ভূমিকম্পে অন্তত ১২০০ লোক মারা যায়। এ ছাড়া ২০০৯ ও ২০১০ সালেও দেশটিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়। তবে গতকালের ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। কিন্তু আচেহ প্রদেশের বেশির ভাগ এলাকায় বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।

নোবেল সংলাপে কথা হবে খাদ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে

স্টকহোমে উঠেছি আরস্ত্রাভাইকেন হোটেলে। সেখান থেকে যেতে হবে গ্যামলা স্তান—নোবেল মিউজিয়ামটা সেখানেই।
গ্যামলা স্তানে নেমে এক কিশোরীকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘নোবেল মিউজিয়ামে যাব, ওটা কি অনেক দূরে?’
‘আরে না!’ মোবাইল ফোনটা সরিয়ে রেখে বলল মেয়েটি। তারপর চোখ বন্ধ করে কিছু ভাবল। বলল, ‘এই যে সোজা রাস্তাটা ওপরে উঠে গেছে, ওটার শেষ পর্যন্ত যাবে, তারপর প্রথম লেফট, প্রথম রাইট, আবার প্রথম লেফট, প্রথম রাইট, দেখবে নোবেল মিউজিয়ামে পৌঁছে গেছ!’
দুর্বল ইংরেজিতে রসিকতা করতে ছাড়ি না, ‘তার মানে মার্চপাস্ট? লেফট-রাইট-লেফট-রাইট?’
দারুণ মজা পেল মেয়েটি। খিলখিল করে হেসে উঠল। বিদায় নিয়ে ওর বলে দেওয়া পথ ধরে এগিয়ে যেতে থাকি। গ্যামলা স্তান কথাটার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘পুরোনো শহর’। মধ্যযুগ আর রেনেসাঁ যেন মিলেমিশে আছে এখানে। নোবেল মিউজিয়াম ছাড়াও এখানে আছে রয়্যাল প্যালেস সেন্ট নিকোলাস ক্যাথিড্রাল। ছোট ছোট ইট দিয়ে তৈরি সড়ক। কেউ রাস্তায় বুট পরে হাঁটলে যে শব্দ হয়, তা ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে কানে এসে লাগে। রাস্তার দুপাশে দোকান আর দোকান। খাবার-দাবারের দোকান অনেক, আছে অ্যাক্টিকের দোকান। সরু রাস্তার দুপাশে বাড়ি। বাড়িগুলো একে অপরের গায়ে লাগানো প্রায়। চিকন গলিঘুঁজি একের পর এক চলে গেছে। তবে বলতেই হয়, দারুণ গোছানো ছিমছাম প্রতিটি রাস্তা। বাড়ির সামনে রাস্তার নাম আর বাড়ির নম্বর দেওয়া আছে। পথ ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নোবেল মিউজিয়ামে নয় শতাধিক নোবেল বিজয়ীর যে ছবিগুলো আছে, তা অন্য মিউজিয়ামগুলোর মতো দেয়ালে টাঙানো নেই। সেগুলো ঝুলছে হ্যাংগারে ঝুলে থাকা জামার মতো। একটার পর একটা দাঁড়িয়ে আছে ছবিগুলো। কিন্তু যখন একটা বোতাম টিপে দেওয়া হয়, তখন সেগুলো চলতে শুরু করে। মাথার ওপর দিয়ে একটির পর একটি ছবি যেতে থাকে। ছবিতে লেখা আছে নোবেল বিজয়ীর নাম এবং নোবেল পাওয়ার বছর। সত্যিই ভালো লাগে দেখতে। অনেকক্ষণ দাঁড়ানোর পর যখন রবীন্দ্রনাথকে দেখা যায়, কিংবা অমর্ত্য সেন বা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তখন মনটা বড় হয়ে ওঠে। অন্য দর্শনার্থীদের বলতে ইচ্ছে করে, ‘দেখো, এরা বাঙালি।’ ফিরে আসার সময় এখানে রাস্তায় কোথাও ট্রাফিক পুলিশ চোখে পড়েনি। লাল বাতি দেখার সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়ে গাড়ি, রাস্তা যতই ফাঁকা থাক। আলো পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়েই থাকে। তবে পথচারীদের নিয়ে এ কথা দৃঢ়তার সঙ্গে বলা যাবে না। ব্যস্ত রাস্তায় দেখেছি সবুজ বাতি পর্যন্ত অপেক্ষা করে সবাই।
কিন্তু ছোটখাটো রাস্তায় রাস্তার নিয়ম মানে না। সুযোগ পেলেই দৌড়ে পার হয়ে যায়।শিশু ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য এ শহর স্বর্গতুল্য। মেট্রোতে তাদের জন্য লিফটও আছে। শুধু মায়েরা নন, বাবারাও শিশুদের নিয়ে বের হয়ে পড়ছেন রাস্তায়। স্টকহোমে পাবলিক ট্রান্সপোর্টকে উৎসাহিত করা হয়। তাই মেট্রো, বাসে মানুষের যাতায়াত বেশি। বাসগুলো সব ঝকঝকে তকতকে। ৯ ডিসেম্বর স্টকহোমের সিটি কনফারেন্স সেন্টারে দিনব্যাপী যে নোবেলসংলাপ হবে, তা নিয়ে বেশ উৎসাহ আছে মানুষের। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও উপস্থিত থাকবেন। মোট ১৩০০ অতিথির সামনে খাদ্য ও খাদ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে। সকাল ১০টায় টারা গারনেটের ‘ইয়োর প্লেট, আওয়ার প্ল্যানেট’ বক্তৃতার মাধ্যমে শুরু হবে এ আয়োজন। এরপর আনগাস ডিয়াটন বলবেন ‘খাদ্য, দারিদ্র্য ও অপুষ্টি’ নিয়ে। ট্রিস্টাম স্টুয়ার্ট বলবেন আবর্জনার অর্থনীতি বিষয়ে। জোহান রকসন্ট্রম বলবেন ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর ও টেকসই খাদ্য’ নিয়ে। এরপর থাকবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কথোপকথন। এভাবেই দুটো বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান। প্রতিবছরই নোবেলসংলাপ নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকে। বিভিন্ন বছর বিভিন্ন বিষয়ে এ সংলাপ হয়। এবারের বিষয় খাদ্য বলে আলাদা একটা আগ্রহ আছে মানুষের। কিন্তু মাত্র ১৩০০ আসন বলে এর বাইরে কেউ এতে অংশ নিতে পারবেন না।

হস্তক্ষেপহীন সামরিক নীতি গ্রহণ করব

ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে ‘হস্তক্ষেপহীন’ সামরিক নীতি গ্রহণ করবেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাবী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ট্রাম্প গত মঙ্গলবার তাঁর সামরিক নীতিসংক্রান্ত এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, বিদেশে কোনো সংঘাতে হস্তক্ষেপের বদলে ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) পরাজিত করার ব্যাপারেই বেশি নজর দেবেন তিনি। নির্বাচনের পর ভোটার-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার নর্থ ক্যারোলাইনায় যান তিনি। সেখানে এক সমাবেশে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত ‘ম্যাড ডগ’ খ্যাত জেনারেল জেমস ম্যাট্টিসকে পরিচয় করিয়ে দেন ট্রাম্প। নর্থ ক্যারোলাইনার একটি সেনাঘাঁটিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিদেশি শাসকদের উৎখাত করার চেষ্টা বন্ধ করব। যাঁদের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্ট ধারণা নেই, তাঁদের উৎখাত-প্রচেষ্টায় জড়িয়ে যাওয়া উচিত হবে না।
বরং সন্ত্রাসবাদকে পরাজিত করা এবং আইএসকে নিশ্চিহ্ন করাই আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। আমরা সেটাই করব।’ নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প একই ভাষায় কথা বলেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। একে আবার শক্তিশালী করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধে বিনিয়োগের পরিবর্তে পুরোনো হয়ে যাওয়া সড়ক, সেতু ও বিমানবন্দর নির্মাণে সে অর্থ ব্যয় করা হবে। তবে সামরিক বাহিনীর ব্যয় কমাবেন না ট্রাম্প। বরং তা বাড়াতে চান বলে তিনি জানান। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ক্ষয়িষ্ণু সেনাবাহিনী চাই না। কেননা, আমাদের সেনাবাহিনীকে সব জায়গায় লড়াই করতে হয়। এমন জায়গায়ও আমাদের লড়তে হয়, যেখানে আমাদের যাওয়ার কথা নয়।’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আমাদের সেনাবাহিনীকে আক্রমণাত্মক ও হস্তক্ষেপের বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলব না। বরং এটি হবে প্রতিরোধের প্রতীক।’

সন্ত্রাস ঠেকাতে ‘ভুয়া প্রতিশ্রুতি’ নয়, চাই জোট: ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বৈশ্বিক সন্ত্রাস ঠেকাতে তাঁর এত দিনের গৃহীত যুদ্ধনীতির যথার্থতা সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক সন্ত্রাস দমনে সমন্বিত জোট গঠন দরকার। ‘ভুয়া প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে কিংবা ওয়াটার বোর্ডিংয়ের মতো নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া যাবে না। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দেওয়া সর্বশেষ ভাষণে ওবামা এ কথা বলেন। ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত ম্যাকডিল বিমানঘাঁটিতে মঙ্গলবার এই ভাষণ দেন তিনি।
ওবামা তাঁর উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ না করলেও স্পষ্টতই তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আরও বোমা ফেলে অথবা আরও সেনা মোতায়েন করে কিংবা বিশাল দেয়াল তুলে যুক্তরাষ্ট্রকে বাকি দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে সন্ত্রাস নির্মূল করা যাবে—এমন ভুয়া প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বরং বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সন্ত্রাসবাদের বিষয়টিকে দেখতে হবে।’ জর্জ বুশের আমলে ইরাক ও আফগানিস্তানে নিয়োজিত ১ লাখ ৮০ হাজার সেনার সংখ্যাকে ১৫ হাজারে নামিয়ে আনার নীতি যৌক্তিক বলে দাবি করেন ওবামা। ইরাক ও সিরিয়ায় চলমান মার্কিন সামরিক কার্যক্রমও সঠিকভাবে চলছে বলে দাবি করেন তিনি। ওবামা বলেন, ওই দুই দেশে আইএস এখন অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওবামা বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে গিয়ে নাগরিক অধিকার এবং মার্কিন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে কিছুতেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেওয়া যাবে না।

জয়ললিতার ‘জীবন পাল্টে দেওয়া’ সেই ঘটনা

পুরনো দিনের জয়ললিতা, ফেসবুক থেকে
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের সদ্য প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাকে নিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর দেওয়া ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে দেওয়া পোস্টটি এক দিনের মাথায় ৩০ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে। এতে জয়ললিতার জীবন বদলে দেওয়া একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে গত সোমবার মারা যান জয়ললিতা। পরদিন চেন্নাই শহরের মেরিনা বিচে তাঁকে সমাহিত করা হয়। 
শিল্পগোষ্ঠী টাটার সাবেক কর্মকর্তা ও হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের শিক্ষার্থী চারণ্য কানন মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে ১৯৮৯ সালে তামিলনাড়ু রাজ্য বিধানসভায় জয়ললিতাকে অপদস্থ করার ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘জয়ললিতার পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল এবং তাঁর চুল ধরে টানা হয়েছিল। সম্ভবত ভারতের রাজ্য বিধানসভার ইতিহাসে কোনো নারী রাজনীতিককে এমন অপদস্থ হতে হয়নি।’ চারণ্য কানন বলেছেন, এরপরও জয়ললিতা পিছু হটেননি। ছিলেন নিজ লক্ষ্যে অটল। ওই ঘটনা তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানোর ক্ষেত্রে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ওই ঘটনার পর জয়ললিতা নিজেকে আরও বেশি করে কাপড়ে আবৃত করে রাখতে শুরু করেন। স্বর্ণালংকার পরা একেবারেই ছেড়ে দেন। চলচ্চিত্রের একসময়ের যৌন আবেদনময়ী ভাবমূর্তি পেছনে ফেলে শ্রদ্ধেয় ‘আম্মা’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। পোস্টের শুরুতে বলা হয়, জয়ললিতার শুরুটাই ছিল আত্মপ্রত্যয়ী। পড়াশোনা, ভাষাগত দক্ষতা, বিদগ্ধ রসবোধ তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাঁর সাহসও ছিল দারুণ। এ সবই তাঁকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে গেছে।

টাইম ম্যাগাজিনের পারসন অব দ্য ইয়ার ট্রাম্প

টাইম ম্যাগাজিনের ২০১৬ সালের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাঠক জরিপের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার টাইম এই ঘোষণা দিয়েছে।
এ বিষয়ে এনবিসি টেলিভিশনের ‘টুডে’ শোতে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছেন, এটি তাঁর জন্য বিরাট সম্মানের বিষয়। টাইম-এর তালিকায় ট্রাম্পের পরই দ্বিতীয় অবস্থানে এসেছে হিলারি ক্লিনটনের নাম। এ ছাড়া ফেসবুকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ওই তালিকায় উঠে এসেছে।

সেনা নিয়োগ করা বা না–করা

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে ২২ ডিসেম্বর। নির্বাচন হবে দলীয় ভিত্তিতে। প্রধান দুটো রাজনৈতিক দল ছাড়াও আরও দলের বা নির্দলীয় প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দলীয় মনোনয়ন পেয়েই বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে সেনাবাহিনী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী এর প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে করেন। স্মরণ করা যায়, তিনিই পাঁচ বছর আগে নাগরিক সমাজের প্রার্থী হয়ে সিটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন বিপুল ভোটে। সে সময়ে তাঁরও দাবি ছিল সেনা নিয়োগের। নির্বাচন কমিশনও সরকারের কাছে চাহিদা জানিয়েছিল এ মর্মে। তবে সেনা নিয়োগ হয়নি। তখন অনেকের ধারণা ছিল সরকারি দলের মূল অংশ সমর্থিত প্রবল প্রতাপশালী একজন প্রার্থী থাকায় সেনা নিয়োগ না হলে নাগরিক সমাজের প্রার্থী সরে দাঁড়াবেন। কিন্তু তিনি বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে তা করেননি। ফলে সুফলও পেয়েছেন হাতে হাতে।
আর এবার সূচনাতেই সেনা নিয়োগের দাবিতে তাঁর বিরোধিতা একটু বেসুরো ঠেকছে। হতে পারে অতীত অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন কারও পক্ষে জনসমর্থন প্রবল হলে কোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভিন্নভাবে বিজয় ছিনিয়ে নিতে পারে না। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, নির্বাচন এলেই এমনকি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন প্রসঙ্গেও সেনা নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে। আর এ নিয়োগের দাবি জানায় সাধারণত বিরোধী দল। তবে সরকারি দলের লোকেরাও যে নির্বাচনে সেনা নিয়োগের দাবি জানান তা এবার রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা ইউনিয়ন পরিষদসমূহের নির্বাচনে দেখা গেল। তাহলে মোটামুটি ধরে নেওয়া যায়, যাঁরা রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য বা কোনো না কোনোভাবে সবল, তাঁরা সেনা নিয়োগের বিপক্ষে থাকেন। আর অন্যেরা দাবি জানাতে থাকেন এর পক্ষে। কারণও কারও অজ্ঞাত নয়। কোথাও বেসামরিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতার ঘাটতি আর কোথাও-বা তাদের ওপর ক্ষমতায় থাকা দলের প্রভাবের প্রসঙ্গ উল্লেখযোগ্য। গত দুই যুগে বেসামরিক প্রশাসনে অব্যাহত দলীয়করণের ফলে তাদের ওপর অন্য পক্ষের আস্থার ঘাটতি থাকা অস্বাভাবিক নয়। এমনকি নির্বাচন কমিশন নিজেদের বিতর্কিত করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এ ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির প্রত্যাশায় এটা চাওয়া হয়, এমনটা বলা চলে। তবে বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচন দেশব্যাপী একই দিনে হয় বলে বেসামরিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষে মানসম্পন্ন নিরাপত্তা বিধান সম্ভব নয়।
তাই ঐতিহ্যগতভাবে সে নির্বাচনে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সামরিক বাহিনী ডাকা হয়। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা সংসদের কোনো আসনের উপনির্বাচন সারা দেশে একই দিনে হয় না। এগুলোর আইনশৃঙ্খলার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বেসামরিক প্রশাসনের রয়েছে। সাধারণত তা-ই করা হয়। তবে ব্যতিক্রমও হয়েছে। চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একবার সীমিত আকারে সেনাবাহিনীকে ডাকা হয়েছিল। আবার সে সময়কালে ঢাকা মহানগরীর একটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে এবং ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে কমিশন চাওয়া সত্ত্বেও সেনা মোতায়েন করা হয়নি। প্রয়োজন ছিল কি না সে প্রশ্ন ভিন্ন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এ দাবি প্রতিপালন সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। এতে কমিশনের পাশাপাশি সংবিধান উপেক্ষিত হয়েছে। এখন মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। সামরিক বাহিনী মোতায়েন করলেই কি সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তার বিধান করা যায়? নিকট অতীতের অভিজ্ঞতা কিন্তু মিশ্র। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী দলগুলো প্রায় সমষ্টিগতভাবে তা বর্জন করে। ফলে সে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ এক মাসও টেকেনি। তেমনি ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও সামরিক বাহিনী মোতায়েন ছিল। এ ক্ষেত্রেও প্রধান বিরোধী দলসহ তাদের জোট নির্বাচন বর্জন করে। এর ফলাফল ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতো না হলেও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ থেকে গেছে। আবার এ দেশের সর্বজনপ্রশংসিত নির্বাচনগুলোর পরিচালনায়ও অংশীদার ছিল সামরিক বাহিনী। বর্তমান নির্বাচন কমিশন সূচনায় সামরিক বাহিনী ব্যতিরেকেই কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করে।
তাহলেও ধরে নিতে হবে যেখানে তাদের ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যায়, সেখানে সেনা তলবের দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নারায়ণগঞ্জ ব্রিটিশ শাসনকাল থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর এবং এখানকার বয়নশিল্পের সমৃদ্ধির জন্য প্রাচ্যের ডান্ডি নামে পরিচিত ছিল। ব্যবসা ও শিল্পের সমৃদ্ধির জন্য নগরায়ণ এখানে আগেই হয়েছে। ১৭৬৬ সাল থেকেই এটি শহর এলাকা বলে সরকারি স্বীকৃতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাদি ছিল। নারায়ণগঞ্জের সে সমৃদ্ধি ছিল ক্রমবিকাশমান। এরই ধারাবাহিকতায় সাড়ে চার বর্গমাইল এলাকায় প্রায় ২৮ হাজার লোকের সমন্বয়ে ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা। বয়নশিল্পসহ নানা শিল্পের প্রসার ঘটেছে এ জনপদ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহে। এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিলস ছিল নারায়ণগঞ্জে। সাম্প্রতিক কালে কিছু চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাসী কার্যক্রমে এ জনপদের নেতিবাচক ভাবমূর্তিও আলোচনায় এসেছে দেশব্যাপী। নারায়ণগঞ্জ শহরের কাছাকাছি এ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদমরসুলেও পৌরসভা ছিল। এ তিনটির সমন্বয়ে ২০১১ সালের ৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। এর আয়তন ৭২ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার আর জনসংখ্যা ৭ লাখের কিছু বেশি। তিনটি জোনে বিভক্ত এ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডের সংখ্যা ২৭। সুতরাং অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হলেও সিটি করপোরেশনের আয়তন ও জনসংখ্যা তেমন বেশি কিছু নয়। এর নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বেসামরিক প্রশাসনের রয়েছে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে বেসামরিক প্রশাসনের সামর্থ্য এসব নির্বাচন পরিচালনার জন্য যথেষ্ট। সফলও হয় নির্বাচন। এরশাদের শাসনকাল শেষ হওয়ার পর প্রথম বিএনপি সরকারের সময়কালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুজন ডাকসাইটে নেতা মেয়র নির্বাচিত হন। অন্যদিকে মাগুরায় সংসদের একটি উপনির্বাচনে সরকারি দলের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ দেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। আবার চারদলীয় জোট সরকারের সময়েও চট্টগ্রামে মেয়র পদে হ্যাটট্রিক করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। ঠিক তেমনি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, গাজীপুর ও কুমিল্লায় সিটি করপোরেশনসমূহের মেয়র পদে নির্বাচিত হন বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা। নারায়ণগঞ্জেও আওয়ামী লীগের তখনকার মূল স্রোতোধারার প্রার্থী হেরে যান সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে। অবশ্য তখন আইনগতভাবে নির্বাচন নির্দলীয় ছিল। তবে এসব সময়েই উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপকভাবে বিতর্কিত হয়। বিতর্কিত হয় হালের ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনও। প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশের ক্ষমতাকাঠামোয় সরকারের ভূমিকা প্রবল পরাক্রমশালী।
রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই তাদের ওপর নির্ভরশীল। কমিশনকে জনবলের জন্য সর্বতোভাবে নির্ভর করতে হয় সরকারের ওপর। এ থেকে পরিত্রাণ ঘটানোর নামে ইতিমধ্যে কমিশনের জনবল কয়েক গুণ করে ফেলা হয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কমিশন কর্মকর্তাদের দেওয়া হচ্ছে। তবে যেখানে কমিশন নিজেই বিতর্কিত আর প্রশ্নবিদ্ধ তাদের সক্ষমতা, সেখানে তাদের অধীন কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন, এমনটা আশা করা সংগত নয়। তার ওপর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় সহায়তা ছাড়া সফল নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তবে আমরা সুড়ঙ্গের অন্য প্রান্তে আলোর ক্ষীণ রশ্মিও দেখতে পাচ্ছি। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এটা ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয় বিএনপি সে নির্বাচনে অংশ নেবে। ইতিমধ্যে তারা আগামী নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে এ ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক সাড়া লক্ষণীয় হচ্ছে না। তবে আগামী নির্বাচন সফল করতে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তাতে সরকারের ভূমিকাই বেশি। নারায়ণগঞ্জেও আমরা কিছু ইতিবাচক দিক লক্ষ করছি। দুটি প্রধান দলের প্রার্থী দুজন ব্যক্তিগতভাবে সজ্জন বলে পরিচিত। সুতরাং তাঁরা পেশিশক্তি ও কালোটাকার ওপর নির্ভরশীল হতে চাইবেন না, এমনটা আশা করা যায়। আর বর্তমান কমিশন শুরুটা ভালোই করেছিল। তাদের মেয়াদকাল প্রায় শেষ। তাই শেষটাও ভালোভাবে করার একটি প্রত্যয় তাদের থাকতে পারে। কথায় আছে, শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

কেমন হবে ট্রাম্প–যুগের সম্পর্ক

বার্লিনের প্রাণকেন্দ্র জিগে সয়েলে বা বিজয়স্তম্ভসংলগ্ন রাস্তায় এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই এখানেই দুই লাখ মানুষ জমায়েত হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কথা শুনবে বলে। রাষ্ট্রনায়ক বা রাজনৈতিক কোনো নেতার বক্তব্য শুনতে এত বিপুলসংখ্যক লোকের জমায়েত শুধু বার্লিনে কেন, সারা ইউরোপেই বিরল ঘটনা। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সেটি ছিল তাঁর প্রথম ইউরোপ সফর। আট বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত নভেম্বর মাসে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষবার ইউরোপ সফর করলেন, বক্তব্য দিলেন অ্যাথেন্স ও বার্লিনে। বললেন গণতন্ত্রের মর্মকথা এবং একযোগে তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বের কথা। কিন্তু ওবামার এই নির্ভার বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে পারছেন না ইউরোপের মূলধারার রাজনীতিকেরা।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের চলে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে অতি জাতীয়তাবাদের বিজয়, পাশাপাশি দেশে–দেশে কট্টরপন্থীদের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় সংশয়ে পড়েছে ইউরোপীয় রাজনীতি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর জর্জ ডব্লিউ বুশের বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ ঘোষণায় ইউরোপের প্রায় সব দেশ আমেরিকার পাশে দাঁড়িয়েছিল। ইউরোপ-আমেরিকার মধ্যে বন্ধুত্ব এবং উভয় উভয়ের পাশে দাঁড়ানোর নীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী ৭০ বছরে অব্যাহতই ছিল। তবে গত আট বছরে আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাশের রাজনীতিতে অনেক গুণগত পরিবর্তন ঘটেছে, আতঙ্ক-আশঙ্কার দোলাচলে দুলছে দুই মহাদেশেরই মানুষ। তবে এখন যে বিষয়গুলো নিয়ে ইউরোপ তথা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমত হতে পারে তা হলো, মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে শর্তসমূহের পরিবর্তন ও ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি, বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে আসার চিন্তা এবং ন্যাটো সামরিক জোটের কর্মপরিধি ছেঁটে ফেলা, ইউরোপের মধ্যপ্রাচ্যনীতির সঙ্গে মতভেদ এবং রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান সম্পর্ক। সদ্য সমাপ্ত ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত বক্তব্যে ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। নির্বাচনের আগেই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সভাপতি মার্টিন শুলজ বলেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হলে তা শুধু ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়,
সারা বিশ্বের জন্যই সমস্যাবহুল হবে। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে সামাজিক গণতান্ত্রিক দলের সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইতালির গিয়ান্নি পিটাল্লে বলেছেন, ব্যক্তি ট্রাম্পকে আমাদের পছন্দ হোক বা না হোক, আমেরিকার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁকে এবং তাঁর সমর্থকদের আমাদের সম্মান করতেই হবে। তবে আশঙ্কা এই, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতি জাতীয়তাবাদ ইউরোপীয় সমাজব্যবস্থায় ভাইরাসের মতো কাজ না করে। তিনি আরও বলেন, ইউরোপের নানা দেশে অতি জাতীয়তাবাদী যে দলগুলো মিথ্যা জনতুষ্টিবাদ ও শরণার্থী সমস্যাকে পুঁজি করে ইতিমধ্যেই তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে, রাজনীতি দিয়ে তা মোকাবিলা করার চেষ্টা করতে হবে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেট ও কাউন্সিলের সভাপতি জ্যঁ ক্লদ ইয়ুঙ্কার ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ের পর অভিনন্দনপত্র পাঠালেও অনুযোগের সুরে বলেছেন, ‘নানা বিষয়ে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও ট্রান্স–আটলান্টিক ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রাখতে ইউক্রেন বিষয়ে এবং আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপীয় দেশগুলোতে উদারনৈতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক রাজনীতি ভালোই করছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকেরা বর্ণবাদ, জাতি-ধর্মবিদ্বেষের বিপক্ষে এবং নারী অধিকার, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, ইউরোপীয় ঐক্য ও বিশ্বায়নের মতো মৌলিক বিষয়গুলোর সঙ্গে একমত ছিলেন। ইউরোপের মূলধারার রাজনীতিকেরা ধরেই নিয়েছিলেন তাঁদের এই উদারনৈতিক পুঁজিবাদী মূল্যবোধের রাজনীতি ভবিষ্যতে সারা বিশ্বই গ্রহণ করবে। তবে বিধি বাম! আমেরিকা তো দূরে থাক এখন খোদ ইউরোপেই এই উদারনৈতিক রাজনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জার্মানির বিখ্যাত বারটেলসম্যান ফাউন্ডেশন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে কট্টরবাদীদের রাজনীতি অনেক ভোটারের কাছে কেন এত জনপ্রিয় হচ্ছে, তা বোঝার জন্য একটি জরিপ করেছে। সদ্য সমাপ্ত ‘বিশ্বায়নের সম্ভাবনা ও মূল্যবোধের দ্বন্দ্ব’ শীর্ষক এই জরিপে ৪৫ শতাংশ মানুষ বলেছে, বিশ্বায়নের কারণেই অভিবাসীদের ভিড় বাড়ছে এবং তাতে করে তারা ভীত ও উদ্বিগ্ন। তবে ৫৫ শতাংশ মানুষ বিশ্বায়ন ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে বলেছে। সমীক্ষা আরও জানিয়েছে, এই আতঙ্ক-উদ্বেগ গত দুই বছরে বেড়েছে। এ সময়েই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে শরণার্থীদের আগমন এবং প্যারিস ও ব্রাসেলসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার পর থেকে ইউরোপে কট্টরপন্থী জাতীয়তাবাদী দলগুলো জনপ্রিয় হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়কে পুঁজি করেও ইউরোপের কট্টরবাদীরা তাদের পালে আরও বাতাস লাগাতে চাইছে। এই মুহূর্তে ফ্রান্স, জার্মানি,
অস্ট্রিয়া ও হল্যান্ডে কট্টরপন্থী জাতীয়তাবাদী দলগুলো ভালো অবস্থানে রয়েছে। এদের জনপ্রিয়তার চাবিকাঠি ইসলামবিদ্বেষ এবং শরণার্থী ও অভিবাসীবিদ্বেষ। কেন শরণার্থীরা নিজভূমি ছাড়ছেন বা কেন এই যুদ্ধ, সেই ব্যাপারে কোনো মানবিক ভাবনা বোধ বা দায়ভার তাদের রাজনীতিতে অনুপস্থিত। এসব দেশকে যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ায় পাশ্চাত্যের দায়টাও যে কম নয়, সেটা তাঁরা জনগণের সামনে থেকে লুকাচ্ছেন। ট্রাম্পের বিজয় আগামী বছর অনুষ্ঠেয় ফ্রান্সের নির্বাচনে উগ্র জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট ন্যাশনাল দলের নেত্রী ম্যারি লো-পেন এবং আগামী মার্চে হল্যান্ডের পার্লামেন্ট নির্বাচনে গ্রিড ভিল্ডারের অবস্থানকে আরও শক্ত করবে। শুধু আমেরিকা নয়, ডান পন্থার জনপ্রিয়তা ঠেকাতে ইউরোপে নেতৃত্বেরও সংকটকাল চলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের চলে যাওয়া বা ফ্রান্সের ক্ষমতাসীন সামাজিক গণতান্ত্রিক দলের নেতা ওলাঁদের অর্থনীতিসহ বেকার সমস্যার সুরাহা না করা এবং উপর্যুপরি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডে ডানপন্থীদের ক্ষমতায়ন এই সংকটের প্রমাণ। তবে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এই মুহূর্তে একমাত্র ইউরোপীয় নেত্রী, যিনি শত সমালোচনার মুখেও ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থীকে জায়গা দিয়ে এবং অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটিয়ে অবস্থান ধরে রেখেছেন। এই মুহূর্তে ইউরোপীয় ঐক্য, ইউরোপীয় মূল্যবোধ এবং মানবিকতার রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের বিকল্প নেই। তবে ক্ষমতায় গিয়ে ইউরোপীয় মতাদর্শের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের ইউরোপ-আমেরিকার সম্পর্ক।
সরাফ আহমেদ: প্রথম আলোর জার্মানির প্রতিনিধি।
sharaf.ahmed@gmx.net

আপনার শিশু বেশি ঘামে?

অনেক বাবা-মা বলে থাকেন, তাঁদের শিশু মাত্রাতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক রকমের ঘামে। এমনকি শীতের দিনেও বাচ্চারা অনেক ঘামে। সব সময় এই ঘামকে কোনো রোগবালাই ভাবা ঠিক নয়। জ্বর ছাড়া কোনো শিশুর বেশি ঘাম হলে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। অনেক শিশুর ‘মাথা ঘামে বেশি’, এর কারণও অজানা, কিন্তু রিকেটস্ (ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত অসুখ) ও জন্মগত হৃদ্যন্ত্রের ত্রুটির শিশুতে এটা সুনির্দিষ্ট লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত। হাতের পাতা ঘেমে জবজবে হওয়া স্বাভাবিক শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের এমনিতেই হতে পারে। থাইরোটক্সিকোসিস (থাইরয়েড হরমোনের আধিক্যজনিত অসুখে) শিশু বেশি ঘামে।
এ ছাড়া কিছু রোগ, যেমন রিলেই সিনড্রোম, ফেয়েক্রোমোসাইটোমাতে শিশু ঘামে বেশি। তবে এতে অন্যান্য লক্ষণও থাকে। শিশু যদি অ্যানিমিয়া, ব্যথা বা মূর্ছা যাওয়া সমস্যায় ভোগে, তবে অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। ঘর্মাক্ত শিশুর ফিট ব্যামো, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া, জ্বর আছে কি না লক্ষ করতে হবে। বেশ কিছু ওষুধ শিশুকে অতিরিক্ত ঘামায়। যেমন এমফিটামিন, পেথিডিন, থাইরোক্সিনের অতি মাত্রা প্রভৃতি। এ ক্ষেত্রে মা যদি কোনো রূপ ওষুধে আসক্ত থাকেন, তবে স্তনপানরত শিশু তার ফলাফল বহন করতে পারে। শিশু অতিরিক্ত ঘামলে ভেজা কাপড়ে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। তাই ঘামে ভেজা কাপড়চোপড় বারবার পাল্টে দিন। অনেক সময় হালকা শীতেও শিশুরা যখন ঘামছে, তখন বেশি কাপড়চোপড়ে বা গরম কাপড়ে জড়িয়ে রাখার দরকার নেই। খোলা আলো বাতাস আসতে দিন। অনেক সময় ঘাম থেকে ত্বকে র্যা শ হতে পারে। তার চিকিৎসা নিন।
বিভাগীয় প্রধান, শিশুরোগ বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ