Thursday, February 20, 2025

ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আরব নেতাদের বৈঠক কাল

গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে আরব দেশগুলো। গাজার ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সেখানকার বাসিন্দাদের বহিষ্কারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে তারা। শুক্রবার সৌদি আরবে গাজা নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন আরব নেতারা। রিয়াদের কূটনৈতিক ও সরকারি সূত্র এ বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজার ওপর আমেরিকান নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানকার বাসিন্দাদের বহিষ্কারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শুক্রবার সৌদি আরবে আরব নেতারা একত্রিত হবেন।

খবরে বলা হয়, বৈঠকে ফিলিস্তিন নিয়ে খসড়া নানা প্রস্তাব আলোচনা হতে পারে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতৃত্বে ফিলিস্তিন পুনর্গঠন তহবিল গঠন। এ ছাড়া হামাসকে পাশ কাটিয়ে একটি নতুন শাসন কাঠামো ঠিক করা। তবে বৈঠকের মূল বিষয় থাকবে গাজার বাসিন্দাদের তাদের ভূমি থেকে না সরিয়ে কীভাবে পুনর্গঠন কাজ শুরু করা যায় তা নিয়ে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিকল্পনা আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরল ঐক্যের সূত্রপাত করেছে। তারা ট্রাম্পের এই ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড কে শাসন করবে এবং পুনর্গঠনের জন্য কে অর্থ প্রদান করবেন তা নিয়ে এখনো তাদের মধ্যে মতানৈক্য হতে পারে।

সৌদি পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ উমর করিম এএফপিকে বলেন, বৃহত্তর আরব বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ফিলিস্তিনি ইস্যুর ক্ষেত্রে এই শীর্ষ সম্মেলন হবে কয়েক দশকের মধ্যে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’। গাজা উপত্যকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দখলে নেয়ার এবং সেখানে বসবাসকারী ২৪ লাখ গাজাবাসীকে প্রতিবেশী মিশর ও জর্ডানে স্থানান্তরিত করার ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছেন।

সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আরব নেতারা ‘গাজার জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিপরীতে একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা করবেন।

১১ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎকালে জর্ডানের বাদশা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেন, মিশর একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। সৌদি সূত্রটি জানিয়েছে, বাদশাহ উল্লিখিত মিসরীয় পরিকল্পনাটি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হবে।

শুক্রবারের শীর্ষ সম্মেলনে মূলত সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং জর্ডানের অংশগ্রহনের পরিকল্পনা ছিল। তবে, সম্মেলনটিতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর অন্তর্ভূক্ত ছয়টি দেশের সব ক’টিকে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের জন্য, গাজা থেকে তাদের জোর করে প্রত্যাহারের যেকোনো প্রচেষ্টাকে আরব বিশ্ব ‘নাকবা’ বা বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছে।

আরব নেতারা। ছবি : সংগৃহীত
আরব নেতারা। ছবি : সংগৃহীত



জেলেনস্কি ‘স্বৈরশাসক’, বাইডেনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার কাজটাই শুধু ভালো পেরেছেন: ট্রাম্প

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তিরস্কার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ যুদ্ধের পেছনে ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এ ক্ষেত্রে তিনি তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের সমালোচনা করেন। শুধু তিনিই (ট্রাম্প) এ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

জেলেনস্কিকে কৌতুকাভিনেতা আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেন, ভাবুন তো, একজন বিনয়ী সফল কৌতুক অভিনেতা, ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে বলেছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে জেলেনস্কি এমন যুদ্ধে খরচ করতে বলছেন, যা জেতার নয়। এ যুদ্ধ কখনো শুরু করাই উচিত ছিল না। আবার এটি এমন এক যুদ্ধ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্প ছাড়া তিনি (জেলেনস্কি) মিটমাটও করতে পারবেন না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধে ইউরোপের দেশগুলোর চেয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলার বেশি খরচ করেছে। এ যুদ্ধ থেকে ইউরোপ তাদের উশুল আদায় করে নিতে পারলেও যুক্তরাষ্ট্র কিছুই ফেরত পাবে না।

এ যুদ্ধে খরচ করায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘কেন “ঘুমন্ত” জো বাইডেন এ নিয়ে সমীকরণের পথে হাঁটেননি। আমাদের চেয়ে তো এ যুদ্ধ ইউরোপের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক শক্তিশালী অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করেন ট্রাম্প লেখেন, ‘আমাদের একটি বিশাল, সুন্দর মহাসাগর রয়েছে।’

ট্রাম্প বলেন, সর্বোপরি জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ অর্থ ইউক্রেনে পাঠিয়েছে, তার অর্ধেকও সেখানে পৌঁছায়নি।

জেলেনস্কি ইউক্রেনে তাঁর জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন বলেও মনে করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, জেলেনস্কি নির্বাচন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ভোটের জরিপে তাঁর অবস্থান খুবই নিচের দিকে। তিনি একটা কাজই ভালো পেরেছেন, তা হলো, বাইডেনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে পেরেছেন।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘যুদ্ধের অবসানে ইতিমধ্যে আমরা রাশিয়ার সঙ্গে সফল আলোচনা করেছি। আর এটা সবাই স্বীকার করে যে এ কাজটি শুধু ট্রাম্প ও ট্রাম্প প্রশাসনই করতে পারে। বাইডেন কখনো সেই চেষ্টা করেননি। ইউরোপও শান্তি আনতে ব্যর্থ হয়েছে। সম্ভবত জেলেনস্কি চান, অল্প চেষ্টায় বিপুল অঙ্কের অর্থ কামাই করতে।’

ট্রাম্পের শেষ কথা, ‘আমি ইউক্রেনকে ভালোবাসি। কিন্তু জেলেনস্কি একটি ভয়াবহ কাজ করেছেন। তাঁর দেশ ভেঙে পড়েছে। অযথা লাখো মানুষের প্রাণ গেছে। আর এ অবস্থা চলতে থাকবে।’

জেলেনস্কি ‘স্বৈরশাসক’, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তাঁর দেশ থাকবে না: ট্রাম্প

ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিভেদ আরও বাড়ল। এতে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যে প্রচেষ্টা চলছে, তার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে তহবিল ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছে; কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ নীতি পরিবর্তন করেছে এবং ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।

গত বছর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলনস্কির পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এ নিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘নির্বাচন ছাড়া একজন স্বৈরশাসক জেলেনস্কির দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, না হলে তাঁর আর কোনো দেশ থাকবে না।’

ইউক্রেনীয় আইনে যুদ্ধের সময়ে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই।
এর আগে গত মঙ্গলবার ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলন করে জেলেনস্কির সমালোচনা করেন। রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচে নিজের মালিকানাধীন মার-এ-লাগো রিসোর্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চলতি মাসেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা আছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, আমার এই যুদ্ধ শেষ করার ক্ষমতা আছে। আমার মনে হয়, যুদ্ধ শেষ করা–সংক্রান্ত আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। কিন্তু আমি আজ ইউক্রেনের নেতাদের বলতে শুনেছি, “আহা, আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।” ভালো কথা, আমি বলতে চাই, আপনারা সেখানে তিন বছর ছিলেন। আপনাদের এটা শেষ করা দরকার ছিল।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এএফপি ফাইল ছবি

গাজা পুনর্গঠনে কত টাকা লাগবে জানাল বিশ্বব্যাংক

প্রায় ১৫ মাসের ইসরায়েলি আগ্রাসনে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত গাজা উপত্যাকা। যুদ্ধবিরতির পর এখন এর পুনর্গঠন নিয়ে চলছে আলোচনা। আর সেই আলোচনার একটি বড় অংশ হলো- গাজা পুনর্গঠনে কত টাকা লাগবে? জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বিশ্বব্যাংক এক যৌথ প্রতিবেদনে এবার সেই অঙ্কই তুলে ধরেছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা পুনর্গঠনে ৫ হাজার কোটি (৫০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে।

‘দ্য গাজা অ্যান্ড ওয়েস্ট ব্যাংক ইন্টেরিম র‌্যাপিড ড্যামেজ অ্যান্ড নিডস অ্যাসেসমেন্ট’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাদের হিসেব মতে, গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গবেষকরা হিসাব-নিকাশ করে বলেছেন, গাজা পুনর্গঠনে এখন আগামী ১০ বছরে ৫ হাজার ৩২০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এরমধ্যে কেবল প্রথম তিন বছরেই দরকার হতে পারে প্রায় দু’হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিপুল খরচ জোগাতে বেশকিছু দাতা ও অন্যান্য আর্থিক উৎস ও বেসরকারি খাতের সম্পদ থেকে তহবিল দরকার হবে। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে গাজায় নির্মাণের জিনিসপত্র সরবরাহ ব্যবস্থাও উন্নত হতে হবে।

আইআরডিএনএ বলেছে, গাজায় ধ্বংস হয়েছে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২,৯২,০০০’রও বেশি ঘরবাড়ি। ৯৫ শতাংশ হাসপাতালই হয়ে পড়েছে অকার্যকর। স্থানীয় অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ৮৩ শতাংশ।

গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় মোট তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ, ২ হাজার ৯৯০ কোটি ডলার খরচ হবে ধসে যাওয়া ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে। আর গাজার ধ্বংস হয়ে যাওয়া আবাসিক হাউজিংগুলো নতুন করে গড়ে তুলতে খরচ হবে ১ হাজার ৫২০ কোটি ডলার।

এছাড়া, ১ হাজার ৯১০ কোটি ডলার খরচ হবে গাজার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে। যার মধ্যে আছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য ও ধসে পড়া শিল্প খাত।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের আবাসিক এবং মানবিক সমন্বয়কারী মুহান্নাদ হাদি বলেছেন, ‘সামনে বিপুল পুনরুদ্ধার এবং পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফিলিস্তিনিদের যৌথ পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে। একটি টেকসই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া গাজার দুই মিলিয়ন মানুষের আশা, মর্যাদা এবং জীবিকা পুনরুদ্ধার করতে হবে।’

ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যাকা। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যাকা। ছবি : সংগৃহীত



লড়াইয়ের মাধ্যমে মেটানো হয় বিবাদ : অভিনব উৎসব

একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছেন পূর্ণ শক্তিতে। গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে দুই হাত দিয়ে করছেন ঘুষাঘুষি। আবার কখনো টানছেন একে অপরের চুল। এভাবেই হাজার হাজার মানুষের সামনে লড়াই করছেন দুই নারী। তাদের দেখে করতালি দিচ্ছে উৎসুক জনতা। উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি দুই নারীর এমন লড়াইয়ে যেন চাঙা হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ।

খালি হাতে কিল-ঘুষির এই লড়াই এক ধরনের উৎসব। প্রতি বছরই ঘটা করে এই উৎসব পালন করা হয়। আর এই লড়াই দেখতে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। বড়দিনের ভোরবেলায় পেরুতে ঐতিহ্যবাহী এই তাকানাকুই আয়োজন করা হয়ে থাকে।

এই উৎসবে মারামারির মাধ্যমে পুরোনো বিরোধ মীমাংসা করা হয়। শুধু বীরত্ব প্রকাশের জন্যও এই লড়াইয়ে অংশ নেন অনেকে। উন্মুক্ত একটি মাঠে দুই নারী একে অপরের বিরুদ্ধে খালি হাতে লড়াইয়ে নামেন। এটা অনেকটা কুস্তি খেলার মতো। তবে এখানে কিলঘুসি সহ প্রতিপক্ষকে সবরকম ভাবে আঘাত করা যায়।

তাকানাকুই এর উৎপত্তি পেরুর চুমবিভিলকাস প্রদেশে। কুয়েচুয়া ভাষায় তাকানাকুই অর্থ হচ্ছে একে অন্যকে আঘাত করা। উৎসব উপলক্ষ্যে কয়েকদিন ধরে চলে মদ্যপান আর নাচগান। তাকি উনকুই নামক প্রতিরোধ আন্দোলনকে সম্মান করে গাওয়া হয় ওয়েইলিয়া নামের বিশেষ ঘরানার সঙ্গীত।

সাধারণত তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না তাকানাকুই লড়াই। পুরো লড়াই পরিচালনা করেন একজন রেফারি। এই লড়াইয়ে শুধু ঘুষি ও লাথির অনুমতি রয়েছে। আর প্রতিপক্ষ মাটিতে পড়ে গেলে তাকে আঘাত করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

কীভাবে অভিনব এই উৎসবের উৎপত্তি হয়েছে তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে উৎপত্তি যেভাবেই হোক নিঃসন্দেহে বিবাদ মেটানোর অনন্য এক উপায় এটি।

তাকানাকুই উৎসবে লড়ছেন দুই নারী। ছবি : সংগৃহীত
তাকানাকুই উৎসবে লড়ছেন দুই নারী। ছবি : সংগৃহীত



কুয়েটে রাজনীতি বন্ধই থাকবে একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সংঘর্ষের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া কুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করাসহ পাঁচ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিকে, বুধবার দিনভর ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগকে দায়ী করে সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্রদল। এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে উপাচার্যের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে কুয়েটের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ৩টার পর অবশ্য শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে সরে যায়।
সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় পাঁচ সিদ্ধান্ত: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) গতকাল সিন্ডিকেটের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ও  প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা স্বাক্ষরিত সিন্ডিকেট সভার কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
কুয়েটের প্রো-ভিসি ড. শেখ শরীফুল আলম জানান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. এম এ হাসেমকে সভাপতি ও সহকারী পরিচালক (ছাত্র ও কল্যাণ) শাহ মুহম্মদ আজমত উল্লাহকে সদস্য সচিব এবং প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ আবু ইউসুফ ও প্রফেসর ড. আবু জাকির মোর্শেদকে সদস্য করে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। এ ছাড়া অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে- একা?ডে?মিক কার্যক্রম ২৮শে ফেব্রুয়া?রি পর্যন্ত স্থ?গিত, আহতদের সকল চিকিৎসা খরচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারীদের সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধাদেশ বহাল রাখা। যদি কেউ এ আদেশ অমান্য করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। এ ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বহিরাগতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সকাল থেকেই অনেক শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করেন। ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে যারা ভাড়া রয়েছেন, তাদের ভেতর ভয় এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা রয়েছেন উদ্বিগ্ন।

কুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ঘিরে মঙ্গলবার ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের অধিকাংশের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। আহতদের কুয়েটের মেডিকেল সেন্টারসহ আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে পাঁচজনকে।
এ ব্যাপারে খানজাহান আলী থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তবে থানায় মামলা হয়নি।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (নর্থ) মো. নাজমুল হাসান রাজীব বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় গতরাতে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের গেটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা: এদিকে মঙ্গলবার রাতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি পুরোপুরি নিষিদ্ধ, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তি এবং উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ছাত্র কল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবি জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। এরপর দুপর দেড়টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কুয়েট মেডিকেল সেন্টারের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা কুয়েটের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। মঙ্গলবার রাত থেকে ভিসি প্রফেসর ড. মাছুদ মেডিকেল সেন্টারে অবস্থান করছিলেন। অসুস্থ থাকার কারণে তিনি সেখানে অবস্থান করার কথা জানালেও ছাত্ররা সারা রাত তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল বলে জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।  তবে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার পর শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে সরে যান।

ছাত্রদল দায়ী করলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শিবিরকে: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের গুপ্ত কর্মী এবং ক্যাম্পাসে রয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মীদের দায়ী করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। সেইসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সারা দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে শুধুমাত্র ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ রাজনীতি করতে পারবে, আর অন্য কোনো সংগঠন করতে পারবে না- এটা তো হতে পারে না’। কুয়েটে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার দুপুরে ছাত্রদল খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলনের মধ্যদিয়ে নতুন একটি বাংলাদেশে আমরা পদার্পন করেছি। সেই বাংলাদেশে যদি আমরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বলি ছাত্র রাজনীতি থাকবে না। বিগত জুলাই-আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন না আনলে রাজনীতি করাটা কঠিন হবে। ছাত্রদল শুরু থেকেই ইতিবাচক রাজনীতি করে আসছে। সংকটটা তখনই প্রকট হবে, যদি আপনি জুলাই-আগস্টের স্পিরিটের সঙ্গে না যান। ছাত্রদল সবসময় জুলাই-আগস্টের স্পিরিটকে ধারণ করে প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি করতে চায়। আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ চাই। যেখানে সব দলের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। ছাত্রলীগের মতো একটি দলই রাজনীতি করবে বাকিদের যদি রাজনীতি করতে না দেন তাহলে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, সেই শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম বলেন, কুয়েটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। তারা রাজনৈতিক দল গঠন করে আগামীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা কুয়েটে নিজেদের কার্যক্রম চালু রেখে কোন মুখে দাবি করে যে তারা এখানে ছাত্র রাজনীতি চালু করতে দেবে না। কুয়েটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্যাডে হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং আরিফ সোহেল স্বাক্ষরিত ৭৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি প্রকাশিত হয়েছে। সেই কমিটি স্পষ্ট প্রকাশ পায় যে সেখানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু আছে।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- ছাত্রদলের ছেলেরা হেঁটে যাচ্ছে, অপরদিকে ওরা মিছিল নিয়ে আসছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ওমর ফারুক দেখিয়ে দিচ্ছে ছাত্রদলের ছেলেরা যাচ্ছে এবং তার উস্কানিতে ছাত্রদলের ছেলেদের তারা ধরেছে এবং পরবর্তী প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ছাত্রলীগের মতো যারা আচরণ করবে, তাদের পরিণতিও ছাত্রলীগের মতো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া বলেন, মঙ্গলবার বিকালে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)- এ একটি চরম অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা। আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এখানে সরজমিন তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে এসেছি। আমরা আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং এসব ন্যক্কারজনক হামলাতে ও এসবের উস্কানিতে জড়িত যেই হোক না কেন, সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক তাদের সকলকে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অনলাইনে ও অফলাইনে নিরন্তর অপপ্রচারের মাধ্যমে সত্য ঘটনাকে চাপা দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নামে যে মিথ্যা অপবাদ চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, তার জবাবে বাস্তব প্রেক্ষাপটে আমাদের সংগঠনের নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করা অতি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও আমরা এখানে তদন্তের দায়ভার নিয়ে এসেছি এবং মোটাদাগে একটি প্রতিবেদন আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে জমা দেবো, কিন্তু তারপরেও প্রশাসন কর্তৃক আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত এসব ঘটনার পুরো সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ৩৬, ৩৭ ও ৩৮ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (ওঈঈচজ)-এর ধারা নং ১৯, ২১ ও ২২ অনুসারে রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হয়ে বাকস্বাধীনতার চর্চা ও সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করা সকল শিক্ষার্থীর স্বীকৃত অধিকার। তা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতার কারণে বর্তমানে ফ্যাসিবাদ ও দখলদারিত্বের চর্চা যখন অসম্ভব, তখন সেই ফ্যাসিবাদ ও দখলদারিত্বের সংস্কৃতির ধারক-বাহক গুপ্ত ও নিষিদ্ধ সংগঠন শিবির ও ছাত্রলীগ সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত ও অবৈধ উপায়ে ক্যাম্পাসসমূহে সাধারণ শিক্ষার্থীর বেশ ধরে গণতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি করে ক্যাম্পাসসমূহে নিজেদের অঘোষিত দখলদারিত্ব জারি রাখার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাবিবুল বাশার, সাফি ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহেদ হাসান, হাসানুর রহমান, শাহাদাত হোসেন, সোহেল রানা, নুরুজ্জামান চন্দন, কুয়েট শিক্ষার্থী রাহুল জাবেদ, ইফান ফয়সাল, শেখ জিলানী ও মাসুম।

mzamin

এ মাসেই পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে জানালেন ট্রাম্প

এ মাসেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচে অবস্থিত নিজের মালিকানাধীন মার-এ-লাগো রিসোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সৌদি আরবে ওয়াশিংটন এবং মস্কোর যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে; সেখানে আমন্ত্রণ না পেয়ে ইউক্রেন যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তা উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, রিয়াদে ওয়াশিংটন ও মস্কোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের কার্যকরী সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরপরই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প। যদিও এর আগে রিয়াদে অনুষ্ঠিত দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, পুতিন এবং ট্রাম্পের বৈঠকের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রিয়াদে দুই দেশের যে বৈঠক হয়েছে সেখানে ইউক্রেনকে আমন্ত্রণ না জানানোয় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিন্তু তার এই উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। বলেছেন, রাশিয়ার হামলা এড়াতে তিন বছর আগেই মস্কোর সঙ্গে একটি চুক্তি করতে পারতো কিয়েভ। জেলেনস্কিকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন- আজ আমি শুনছি, ওহ আমরা আমন্ত্রিত হইনি। ভালো, আপনি তো তিন বছর ধরেই সেখানে আছেন, আপনার বিষয়টা (যুদ্ধ) শেষ করা প্রয়োজন ছিল। কখনই সেটা (যুদ্ধ) চালিয়ে যাওয়া উচিত হয়নি। আপনি এ বিষয়ে চুক্তি করতে পারতেন।

ওদিকে আল জাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়; যেকোনো শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া ইউক্রেনে নির্বাচনের ডাক দিলে তার প্রশাসন সমর্থন করবে কিনা। জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনে জেলেনস্কির প্রতি মাত্র ৪ শতাংশ মানুষের সমর্থন আছে। তবে নিজের এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, সামরিক আইনের আওতায় ইউক্রেনের নির্বাচনগুলো স্থগিত করা হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে কিয়েভ ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজি একটি জনমত জরিপ চালিয়েছিল। ওই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫২ শতাংশ বলেছে, তারা

জেলেনস্কিকে ভরসা করেন, যা ওই বছরের ফেব্রুয়ারির জরিপের চেয়ে ১২ শতাংশ কম।
ইউক্রেন ইস্যুতে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনেরও কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। বলেছেন, বাইডেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইউক্রেনকে অস্ত্র নিশ্চিত করেছিলেন। আমি মনে করি আমার এই যুদ্ধ থামানোর ক্ষমতা রয়েছে যোগ করেন ট্রাম্প।
mzamin

ভারতকে ২১ মিলিয়ন ডলারের অনুদান বন্ধ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ট্রাম্প

ভারতের জন্য ২১ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক সাহায্য বন্ধ করেছে আমেরিকা। অভিযোগ, ভারতে ভোটের হার বাড়াতেই ওই টাকা দিয়ে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন আমেরিকার ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ (উঙএঊ) জানিয়েছে, এবার বন্ধ হচ্ছে ভারতের জন্য ২১ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক সাহায্য! এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে এবার মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। জানালেন, ভারতের প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের করদাতাদের ২১ মিলিয়ন ডলার কেন আমরা ভারতকে দেবো?

বিশ্বের নানা প্রান্তে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে ৪৮৬ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছিল জো বাইডেন প্রশাসন। তার মধ্যে ভারতের জন্য বরাদ্দ ছিল ২১ মিলিয়ন ডলার। তবে ডনাল্ড  ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই ‘অপব্যয়’ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় কাটছাঁট করা হয়েছে বিশ্বের নানা ক্ষেত্রে মার্কিন অনুদানে। ভারতের অনুদান বন্ধ প্রসঙ্গে এবার ট্রাম্প বললেন- ‘কেন আমরা ভারতকে ২১ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছি? তাদের অনেক বেশি টাকা আছে। তারা (ভারত) তো আমাদের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে একটি। আমরা খুব কমই সেখানে যেতে পারি। কারণ তাদের শুল্ক অনেক বেশি। ভারত এবং তাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার জন্য ভোটারদের উৎসাহ দিতে আমরা ২১ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেব কেন?” যদিও ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি এখন বাতিল হওয়া তহবিলকে ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ‘বহিরাগত হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে। এক বিবৃতিতে  বিজেপি’র জাতীয় মুখপাত্র অমিত মালব্য বলেছেন-‘ভোটারদের ভোটদানের জন্য ২১ মিলিয়ন ডলার? এটা অবশ্যই ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বহিরাগত হস্তক্ষেপ। এতে কে লাভবান হবে? নিশ্চিতভাবে ক্ষমতাসীন দল নয়!” তিনি আরও একধাপ এগিয়ে এই উদ্যোগকে বিদেশি সংস্থাগুলোর  ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘পরিকল্পিত অনুপ্রবেশ’ বলে অভিহিত করেছেন। কেবল ভারত নয়, বাংলাদেশ-নেপালের মতো আরও নানা দেশের অনুদানও বন্ধ করে দিয়েছে মাস্কের দপ্তর ‘ডজ’। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে  শক্তিশালী করার জন্য ২৯ মিলিয়ন ডলার এবং নেপালে ফিস্কাল ফেডেরালিজম এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ-এর জন্য ৩৯ মিলিয়ন ডলার অনুদান আসতো আমেরিকা থেকে। মাস্কের দপ্তর জানিয়েছে, বিদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যেসব কার্যকলাপ নিয়ে ‘প্রশ্ন’ রয়েছে, মার্কিন করদাতাদের টাকায় চলা সেসব কাজ বন্ধ করতে হবে।  
সূত্র: এনডিটিভি

mzamin

অভ্যুত্থানের চক্রান্তে অভিযুক্ত প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারো

এবার অভ্যুত্থান চক্রান্তের অভিযোগে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারোকে অভিযুক্ত করেছেন দেশটির প্রধান প্রসিকিউটর। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তিনি অভ্যুত্থানের চক্রান্ত করেন বলে দাবি করা হয়েছে। বলসোনারোর বিরুদ্ধে তার উত্তরসূরী প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দে সিলভাকে নির্বাচনে জয় লাভের পর কার্যালয়ে যোগদানে বাধা দেয়ার অভিযোগে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে লুলা’কে বিষ খাওয়ানো এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক আলেকজান্দ্রে ডি মরাইস’কে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলসোনারো। তিনি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার বলে মন্তব্য করেছেন। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট এবার প্রসিকিউটরদের অভিযোগ বিবেচনা করবে। যদি অভিযোগ গৃহীত হয় তাহলে বলসোনারো ছাড়া আরো ৩৩জন বিচারের সম্মুখীন হবেন। ২০২২ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে ব্যালট পেপারের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্রাজিলের গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাকে ৮ বছর দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। উল্লেখ্য, সামান্য ভোটের ব্যবধানে ওই নির্বাচনে জয়লাভ করেন লুলা। যদিও বলসোনারো কখনোই জনসম্মুখে তার পরাজয় স্বীকার করেননি। লুলা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাড়ি জমান বলসোনারো। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ই জানুয়ারি তার সমর্থকরা রাজধানী ব্রাসিলাতে সরকারি ভবনে তাণ্ডব চালায়। ভবনের কিছু অংশে লুটপাট চালায়। ওই ঘটনায় পুলিশ ১৫০০ জন দাঙ্গাকারীকে আটক করে। তিন মাস আগে ফেডারেল পুলিশ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। ওই রিপোর্টে বলসোনারোকে অভ্যুত্থানে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেন তারা। তিনি সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে ওই প্রস্তাব তুলে ধরেন বলে দাবি করা হয় ওই রিপোর্টে। তার বিরুদ্ধে আনা অন্যতম অভিযোগ হলো বলসোনারো ও তার ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ওয়াল্টার ব্রাগা নেটো ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন’ পরিচালনা করেন। ওই অভ্যুত্থান চক্রান্তে তিনি লুলা’কে বিষ প্রয়োগ ও অ্যাটর্নি-জেনারেল আলেকজান্দ্রে ডি মরাইস’কে গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এছাড়া বেসামরিক ও সামরিক সদস্যদের সঙ্গে মিলে তিনি ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল যাতে পূর্ণাঙ্গতা না পায় সেই অপচেষ্টা চালান।

ব্রাজিলের মিডিয়া রিপোর্ট থেকে জানা যায়, আদালত এ বছরের শেষে ওই বিচারের বিষয়ে অগ্রসর হবে। সরকার দলীয় সমর্থকেরা অবশ্য বলসানোরোর বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি উদযাপন করছেন এবং বলছেন, সাবেক ওই প্রেসিডেন্টের জন্য কারাগারই উপযুক্ত জায়গা। তবে বিরোধী দলীয়রা বলছেন, তিনি নিরপেক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে সেটিই এখন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে কয়েক বছর দায়িত্ব পালন থেকে নিষিদ্ধ করা হলেও বলসোনারো এখনও ব্রাজিলে শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন। তিনি অবশ্য ওই বিচারকে তার এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

mzamin

একাধিক বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন শ্রাবন্তী

একাধিক বিয়ে এবং সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় কটাক্ষের শিকার হয়েছেন ওপার বাংলার অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার ব্যক্তিগত জীবন এবং ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি। দিয়েছেন তার একাধিক বিয়ে নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, প্রত্যেকের জীবনে সুখী হওয়া, নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার রয়েছে। আমি কোনো কিছুতেই অন্যদের পছন্দের বাইরে যেতে চাই না। মানুষ কেন তিন-চারটি বিয়ে নিয়ে কথা বলবে, এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি আরও বলেন, প্রেম নিয়ে আমি কখনো লুকোই না, তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে তাড়াহুড়ো করি না। জীবন উপভোগ করতে চাই। সমাজের চোখ রাঙানি বা সমালোচনায় আমার কিছু আসে যায় না। আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নেবো। এতদিনের ক্যারিয়ারে একাধিক বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা মন্তব্য ও আলোচনা উঠলেও শ্রাবন্তী নিজের মতো জীবন কাটানোর জন্য দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি যা করি তাতে আমি সুখী। অন্যদের কথায় আমি কখনোই আমার জীবন বদলাবো না। আমার মতামত পরিষ্কার, আমার জীবন আমি উপভোগ করবো।
mzamin

২০১৮ সালের নির্বাচন: কারচুপির নীলনকশার মাস্টারমাইন্ড যারা by জুলকারনাইন সায়ের ও শরিফ রুবেল

পৃথিবীর ইতিহাসে কলঙ্কিত এক ভোট। নজিরবিহীন এক নির্বাচন। নীশিরাতের ভোট হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে দেশ-বিদেশে। ২০১৮ সালে হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এমন চিত্র দেখে হতবাক সবাই। মধ্যরাতে অর্ধেক ভোট শেষ। তারপরও দিনের বেলায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই, কেন্দ্রে ভোটারদের ওপর হামলা, শত শত জালভোট, প্রার্থীদের তুলে নেয়া, ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা  দেয়া, প্রকাশ্যে ব্যালটে শত শত সিল মারা, হত্যা, মারধর, জবরদখল এমন কিছু নেই- যা এ নির্বাচনে ঘটেনি। এ নির্বাচনে স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি কথায় বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। শেখ হাসিনা বলেছিলেন-আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। একবার আমাকে বিশ্বাস করে দেখুন। নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে কেমন সুন্দর হয় তা দেখতে পাবেন। বিরোধী দলগুলো তার কথা বিশ্বাস করেছিলেন। আর সেই বিশ্বাসের ফল পেয়েছিলেন শূন্য হাতে। নির্বাচনের পরদিন শেখ হাসিনা বুক ফুলিয়ে বলেছিলেন দেশবাসী আওয়ামী লীগের ওপর বিশ্বাস রেখেছে।

কিন্তু সর্বত্র নানা প্রশ্ন তখন ঘুরে বেরিয়েছে। এমন অকল্পনীয় নির্বাচনের মাস্টারমাইন্ড কারা? কারাই বা এমন নীলনকশা এঁকেছিলেন? কোন ক্ষমতার বলে আওয়ামী লীগ এমন একটি একতরফা ভোট করতে পেরেছে। এই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কারা নেতৃত্ব দিয়েছিল? অনুসন্ধানে এর বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। কারা ওই ভোট কারচুপিতে জড়িত ছিলেন এবং পরিকল্পনা করেছেন তাদের সকলের নাম-পদবিসহ এখন বেরিয়ে এসেছে। ওই নির্বাচনে সকল দলকে ডেকে এনে আগের রাতে শতাধিক আসনের ভোট কেটে নিয়ে যায় আওয়ামী লীগ। সকাল হওয়ার আগেই দলটির বিজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। সূত্র বলছে, ৩০শে ডিসেম্বর ভোট কারচুপির পরিকল্পনা সাজিয়েছেন রাষ্ট্রীয় দু’টি গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা। এই প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মাস্টারপ্ল্যানে ক্রীড়নকের ভূমিকা পালন করেন দু’টি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা। আর মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করেন সংস্থা দু’টির বিভাগ, মহানগর ও জেলা পর্যায়ে কর্মরত পরিচালক, যুগ্ম পরিচালক, উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালকরা। এতে বিপুল পরিমাণ টাকা লগ্নি করে আওয়ামী লীগ সরকার। নির্বাচনী মাঠে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয় সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের পেছনে। সেই সময় অনেকে ব্রিফকেসভর্তি টাকা পেয়েছে- এমন তথ্যও উঠে এসেছে। মূলত কৌশলে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে ডেকে এনে ধোঁকা দেয়া হয়। যা পুরোটাই ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

বিএফআইইউ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে দেশের বিভিন্ন জেলায় যারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন, তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা সহ আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ইউনিটের সহযোগিতায় ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর অনুসন্ধান শুরু করেছে। ওই সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও জেলা ডিটাচমেন্টের দায়িত্বে যে সকল কর্মকর্তা ছিলেন তাদেরকেও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হচ্ছে। এই কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, নির্বাচনের অন্তত ৩ দিন আগে থেকে সরকারি রেড ফোন ব্যবহার না করার শর্তে আওয়ামী লীগের অনুসারী ওই দু’টি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নির্দেশনা প্রদান ও তথ্যের আদান-প্রদান করা হয়। ওই বাহিনীর ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের আওয়ামী ভক্ত বিশেষ কিছু সামরিক কর্মকর্তাকে অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্ব দেয়া হয়। অতীতে ছাত্রলীগ করেছে এমন কিছু কর্মকর্তাকে প্রতিটি জেলার ডিসি-এসপিদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়া হয়।
সূত্র বলছে, নির্বাচনের সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই জেলায় দায়িত্বে থাকা পেশাদার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। সেখানে জুনিয়র আওয়ামী লীগের অনুগত ও ছাত্রলীগের পোর্টফলিওধারী সহকারী পরিচালক, উপ-পরিচালকদের দিয়ে নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া নির্বাচনের সপ্তাহ খানেক আগে থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন জেলা কর্মকর্তাকে ওই জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে ওএসডি করে রাখা হয়। নির্বাচন শেষে তাদের পুনরায় আবার স্ব-স্ব কার্যালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। এমনকি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা সকল কর্মকর্তাদের নির্বাচনের পর প্রাইজ পোস্টিং, আর্থিক সুবিধা প্রদান, বিদেশে পোস্টিং, বিদেশ ট্যুরসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেয় সরকার। কারচুপির নির্বাচনে জড়িত অতি উৎসাহী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।
কারচুপির নির্বাচনে জড়িত যারা: ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচন প্রভাবিত করা কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদবির একজন পরিচালক ও একজন যুগ্ম পরিচালক। বিভাগের শেরপুর জেলায় উপ- পরিচালক অপু কুমার ভৌমিক, জামালপুর  জেলায় উপ-পরিচালক ইফতেখারুল আলম ও রাইয়ান রাজ্জাক। নেত্রকোনা জেলায় উপ- পরিচালক রুবেল আলম ও এরফান হোসেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে দায়িত্বে ছিলেন পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন, অতিরিক্ত পরিচালক জামাল উদ্দিন, যুগ্ম পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন। মানিকগঞ্জ জেলায় পরিচালক ওয়াসিম, নরসিংদী জেলায় পরিচালক রেজাউল করিম, নারায়ণগঞ্জ জেলায় পরিচালক তৌহিদ, মুন্সীগঞ্জ জেলায় পরিচালক আব্দুল বাতেন, কিশোরগঞ্জ জেলায় যুগ্ম পরিচালক নুসরাত জাহান, টাঙ্গাইল জেলায় যুগ্ম পরিচালক সমিরন হালদার, গাজীপুর জেলায় যুগ্ম পরিচালক পারভেজ মাহমুদ। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর এলাকায় ১৭টি আসনে নির্বাচনী গোপন বৈঠক, টাকা বিতরণ ও ভোট কারচুপির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদবির একজন পরিচালক (প্রশাসন), একটি সংস্থার ঢাকা সিটি ইন্টারনাল অপারেশনের প্রধান কর্নেল পদবির একজন, পরিচালক শাহিন সিদ্দিকী ও যুগ্ম পরিচালক আরিফ।

সূত্র বলছে, নির্বাচনের পরের দিন মেজর জেনারেল পদবির একজন মহাপরিচালক,  ডিডি শাহিন সিদ্দিকী ও জেডি আরিফকে দুই ব্রিফকেসভর্তি টাকা দিয়েছিলেন। রাজশাহী বিভাগের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। নওগাঁ জেলার ফোকাল পয়েন্ট ছিলেন যুগ্ম পরিচালক সমিরন হালদার ও পরিচালক অলি উর রহমান। তারা দু’জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জয়পুরহাট জেলার দায়িত্ব এবং ফোকাল পয়েন্ট ছিলেন একটি গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক মাহফুজুর রহমান। এ ছাড়া সহকারী পরিচালক ফরিদুল আলম চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পাবনা জেলায় পরিচালক মোস্তফা কামাল ও যুগ্ম পরিচালক মো. আবব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী জেলায় পরিচালক আজিজুর রহমান। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন অতিরিক্ত পরিচালক শহীদুল ইসলাম, বগুড়া জেলায় পরিচালক মোজাহারুল ইসলাম মামুন, সিরাজগঞ্জ জেলায় যুগ্ম পরিচালক জি এম আলিম উদ্দিন, পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান, নাটোর জেলায় পরিচালক মো. ইকবাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পরিচালক আসাদুল হক পারভেজ। ওই নির্বাচনে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলায়  দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন শাহিনুর রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী হাওলাদার, যুগ্ম পরিচালক বদরুল আহমেদ, উপ-পরিচালক নির্ঝর আলম সামা। এ ছাড়া নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- নুরুল আবসার, অতিরিক্ত পরিচালক মো. জহির উদ্দিন শামীম। চট্টগ্রাম জেলায় যুগ্ম পরিচালক জাহিদুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী ও আশিকুর রহমান। কুমিল্লা জেলায় যুগ্ম পরিচালক মুজিবুর রহমান, চাঁদপুর জেলায় উপ-পরিচালক আরমান, লক্ষ্মীপুর জেলায় উপ-পরিচালক মানিকচন্দ্র দে, নোয়াখালী জেলায় যুগ্ম পরিচালক ফারুক আহমেদ, ফেনী জেলায়  যুগ্ম পরিচালক মতিউল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় উপ-পরিচালক আবু রায়হান। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন, যুগ্ম পরিচালক মো. মাসুদ আলম, বরিশাল জেলায় যুগ্ম পরিচালক খন্দকার মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক মোর্শেদ আলম, উপ-পরিচালক শফিক আহমেদ, যুগ্ম পরিচালক শরিফুল ইসলাম। পিরোজপুর জেলায় উপ-পরিচালক মাহমুদুল হাসান, ইয়াছিন সোহাইল, বরগুনা জেলায় যুগ্ম পরিচালক নুরুজ্জামান সিদ্দিকী, উপ-পরিচালক জাহিদুর রহমান, ভোলা জেলায় যুগ্ম পরিচালক আবু জাফর সিদ্দিক টিটু, উপ-পরিচালক মশিউর রহমান, ঝালকাঠি জেলায় যুগ্ম পরিচালক আব্দুল কাদের। সিলেট বিভাগে নির্বাচনী গোপন বৈঠক, টাকা বিতরণ ও ডিসি-এসপিদের সঙ্গে গোপন আঁতাতে যারা কাজ করেছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- সিলেট জেলায় যুগ্ম পরিচালক নজরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নাজমুল হক তমাল, সুনামগঞ্জ জেলায় উপ-পরিচালক তরিকুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলায় উপ-পরিচালক রাসেল জমাদার, ফাহমি, হবিগঞ্জ জেলায় যুগ্ম পরিচালক ননী গোপাল দাস। সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার একজন এবং  অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর হোসেন ও বদরুল হাসান। এ ছাড়া ফরিদপুর বিভাগে নির্বাচনী গোপন বৈঠক, টাকা বিতরণ ও ডিসি-এসপিদের সঙ্গে গোপন আঁতাতে যারা কাজ করেছিলেন তাদের মধ্যে ফরিদপুর জেলায় পরিচালক তৈয়বুল মাওলা, রাজবাড়ী জেলায় যুগ্ম পরিচালক শরিফুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ জেলায় যুগ্ম পরিচালক নোমান। শরীয়তপুর জেলায় পরিচালক সুমন বিশ্বাস ও মিজানুর রহমান, মাদারীপুর জেলায় সাইফুল ইসলাম লিটন। সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন কর্নেল পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা  এবং অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা শুভ। খুলনা বিভাগে নির্বাচনী গোপন বৈঠক, টাকা বিতরণ, ডিসি-এসপিদের সঙ্গে গোপন আঁতাতে যারা কাজ করেছিলেন তাদের মধ্যে খুলনা জেলায় উপ-পরিচালক এস কে সাইলক হোসেন, যুগ্ম পরিচালক রাসেল রানা, এস এম আরিফুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলায় পরিচালক মোজাম্মেল হক, যশোর জেলায় যুগ্ম পরিচালক গাজী নাছির মাহমুদ, নড়াইল জেলায় যুগ্ম পরিচালক কবির আহমেদ ও মিজানুর রহমান, মাগুরা জেলায় জি এম জামিল সিদ্দিক, যুগ্ম পরিচালক শরিফুল ইসলাম, ঝিনাইদহ জেলায় যুগ্ম পরিচালক আনিসুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক অমিত বড়ুয়া, চুয়াডাঙ্গা জেলায় সহকারী পরিচালক এবিএম লুৎফুল কবীর, মেহেরপুর জেলায় মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, কুষ্টিয়া জেলায় যুগ্ম পরিচালক আলমাস হোসেন, বাগেরহাট জেলায় পরিচালক বিশ্বজিৎ। সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা শুভ ও খুলনা ডিভিশন ইনচার্জ অতিরিক্ত পরিচালক জালাল উদ্দিন বিশ্বাস। রংপুর বিভাগে নির্বাচনী গোপন বৈঠক, টাকা বিতরণ ও ডিসি-এসপিদের সঙ্গে গোপন আঁতাতে যারা কাজ করেছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন একটি সংস্থার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পরিচালক মো. আশরাফুল কবীর, রংপুর জেলায় যুগ্ম পরিচালক মো. ফিরোজ কবীর মাহমুদ, উপ-পরিচালক  মো. ইকবাল হোসেন, তানভীর হোসেন, সহকারী পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিন ভূঞা, কুড়িগ্রাম জেলায় যুগ্ম পরিচালক শাহ সূফী নূর নবী সরকার, সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমান, লালমনিরহাট জেলায় সহকারী পরিচালক এটিএম কামাল হোসেন, রেফায়েত উল্লাহ, আসিফ মনোয়ার, গাইবান্ধা জেলায় উপ-পরিচালক মো. ফরহাদ হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলায় সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, পঞ্চগড় জেলায় সহকারী পরিচালক মো. তায়জুল ইসলাম, নীলফামারী জেলায় উপ-পরিচালক মো. খালিদ হাসান, দিনাজপুর জেলায় যুগ্ম পরিচালক শেখ গোলাম মোস্তফা।

mzamin