Saturday, February 26, 2011

ইসলামে মাতৃভাষা চর্চার গুরুত্ব by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামে মাতৃভাষা চর্চার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মাতৃভাষা মানে মায়ের ভাষা। মানবশিশু দুনিয়াতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকে যে ভাষা শোনে এবং তাদের সঙ্গে যে ভাষায় কথা বলে তা-ই তার মাতৃভাষা। পৃথিবীতে অসংখ্য মাতৃভাষা প্রচলিত আছে। জগতের সব মানুষই কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করে। সবার ভাষা কিন্তু এক নয়। জাতিগোষ্ঠী ও মানচিত্রভেদে একেকজন একেক ভাষায় কথা বলে। পৃথিবীতে প্রায় ছয় হাজারের অধিক ভাষার অস্তিত্ব রয়েছে। বিচিত্র এসব ভাষায় বিভিন্ন জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও অঞ্চলের মানুষ কথা বলে। এ ভাষাগুলোই প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর জন্য তাদের মাতৃভাষা। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই জ্ঞানীদের জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন।’ (সূরা আর-রূম, আয়াত-২২)
আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সৎপথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের ওপর যেসব আসমানি কিতাব অবতীর্ণ হয়েছিল তার ভাষা ছিল ওই সব নবী-রাসূলের স্বজাতির মাতৃভাষা। আম্বিয়ায়ে কিরাম ও তাঁদের ওপর প্রেরিত ঐশীগ্রন্থ মাতৃভাষায় অবতীর্ণ না হলে সেটা জাতি বুঝতে পারত না। ফলে মানুষ সেই নবীর ভাষা না বোঝার দরুন বিভ্রান্তিতে নিপতিত হতো। এমনিভাবে প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষার প্রতি ইসলাম বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেছে। কারণ মাতৃভাষার সঙ্গে প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর সভ্যতা ও সংস্কৃতি জড়িত থাকে। তাই ইসলামে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য...।’ (সূরা ইবরাহীম, আয়াত-৪)
হজরত ঈসা (আ.)-এর জাতির মাতৃভাষা ছিল সুরিয়ানি, এ ভাষায় তাঁর প্রতি ইঞ্জিল অবতীর্ণ হয়। হজরত মূসা (আ.)-এর সম্প্রদায়ের ভাষা ছিল ইবরানি, এ ভাষায় তাওরাত নাজিল হয়। হজরত দাউদ (আ.)-এর গোত্রের ভাষা ছিল ইউনানি, তাই যাবুর ইউনানি বা আরামাইক ভাষায় অবতীর্ণ হয়। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের ভাষা ছিল আরবি, তাই মহাগ্রন্থ আল-কোরআন তাঁর মাতৃভাষা আরবিতে নাজিল হয়। তদানীন্তন আরবদেশে ভাষা ও সাহিত্যে কার কতটুকু দক্ষতা তা নির্ণয়ের জন্য কাব্য-প্রতিযোগিতা চলত। নবী করিম (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ ঐশীগ্রন্থের ভাষার প্রাঞ্জলতা দেখে সমকালীন কবি-সাহিত্যিকেরা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। তখন আরবদের মাতৃভাষায় অবতীর্ণ আল-কোরআনের ভাষার লালিত্য ও নৈপুণ্য দেখে দলে দলে লোকেরা ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে এসে প্রশান্তি লাভ করে।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মাতৃভাষা যেহেতু আরবি ছিল, তাই মুসলমানদের অনুসৃত ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআন শরিফকে আল্লাহ তাআলা ঐশ্বর্যমণ্ডিত করে প্রেরণ করেছেন। যাতে সহজেই বিপথগামী লোকেরা তাওহিদ বা একত্ববাদ স্বীকার করে ইসলামি জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করে। মহানবী (সা.) আরবের সম্ভ্রান্ত কুরাইশ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। আরবি ছিল তাঁর স্বজাতির ভাষা। মাতৃভাষায় তাঁর দক্ষতাও ছিল অপরিসীম। তিনি ছিলেন ভাষা ও সাহিত্যে সর্বাধিক নৈপুণ্যের অধিকারী, আরবের সবচেয়ে সুন্দর ও বিশুদ্ধভাষী। বাল্যকালেও তিনি বিশুদ্ধ মাতৃভাষায় কথা বলতেন। তাঁর বাচনভঙ্গি, মাতৃভাষায় বিশুদ্ধতা এবং উচ্চারণে সুস্পষ্টতা ছিল নবীচরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যাঁরা তাঁর কাছে বসে থাকতেন, তাঁরা তাঁর কথাগুলো শুনে মুখস্থ করতে পারতেন, লিখে নিতে পারতেন, হাদিস সেভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, অন্যরা শুনেছেন, মুখস্থ করেছেন এবং লিখেছেন। তাঁর মুখনিঃসৃত বাণী এমনভাবে উচ্চারিত হতো বা বলা হতো যাতে অন্যেরা তা লিখে নিতে পারতেন। তিনি দ্রুত বাক্য বলতেন না। তাঁর কথা বলার ধরন এমন সুস্পষ্ট ছিল যে প্রতিটি বাক্য নয়, যেন প্রতিটি অক্ষর সবাই সহজে বুঝতে পারেন। এভাবে মহানবী (সা.) তাঁর মাতৃভাষা শুদ্ধভাবে বলতেন এবং সুস্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘আমি সবচেয়ে বিশুদ্ধ আরবি ভাষাভাষী।’
ইসলামের দৃষ্টিতে মাতৃভাষা চর্চা বা বিশুদ্ধভাবে কথা বলা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনুপম সুন্নাত। যেসব গুণ মানুষের ব্যক্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে তার মধ্যে বিশুদ্ধ ভাষণ ও সুস্পষ্ট উচ্চারণ অন্যতম। শ্রোতাদের ওপর বক্তব্যের প্রভাব অনস্বীকার্য। জনগণকে মাতৃভাষায় বিশুদ্ধ ও সুন্দর উচ্চারণে বোঝানো দরকার। নেতৃত্বের একটা বিশেষ গুণ হলো সুন্দরভাবে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা। ভাষার ওপর দখল থাকলে শ্রোতার ওপর বক্তব্যের প্রভাব অনেক বেশি হয়।
দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি সর্বপ্রকার জ্ঞান-গরিমা, ইসলামি সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় অনুশাসনের ব্যাপক প্রচার, প্রসার ও পরিচিতি মাতৃভাষা চর্চার ওপর নির্ভরশীল। যে বিধিবিধান বা ধর্মীয় অনুশাসন মানবজাতিকে আল্লাহর পথে, সত্য ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে নেয় এবং জীবনকে ঐশীজ্ঞানের আলোকে আলোকিত করে, সেই বিশাল জ্ঞানভান্ডার পবিত্র কোরআন ও হাদিসসহ অন্য বহু মূল্যবান ধর্মীয় গ্রন্থ মাতৃভাষা বাংলায় অনুবাদ হওয়ায় আজ আমরা জ্ঞানের নবদিগন্তে এগিয়ে চলেছি। পরস্পরের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান করা, সৎকাজ করা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকা বা বাধা প্রদান করা, ধর্মের বিধিবিধান প্রতিপালন করা, আন্তধর্মীয় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা কেবল মাতৃভাষার মাধ্যমেই সম্ভব। ইসলামের দৃষ্টিতে, মাতৃভাষা মানবজাতির জন্য আল্লাহর দেওয়া সুমহান নিয়ামত। তাই সৃষ্টিকর্তার পরম কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বিশুদ্ধ মাতৃভাষা চর্চায় নৈপুণ্য আনয়ন ও বিশেষ দক্ষতা অর্জনে অত্যন্ত সচেষ্ট হতে হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: শিক্ষক, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়; পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

সাংহাইয়ে এক কুকুর নীতি

চীনের সাংহাই নগর কর্তৃপক্ষ এক-সন্তান নীতির মতো ‘এক কুকুর’ নীতি চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এ নীতির আওতায় একটি পরিবার একটিমাত্র কুকুর পুষতে পারবে। নগরে কুকুরের সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে নতুন এ আইনটি পাস করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র চায়না ডেইলির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী ১৫ মে থেকে আইনটি কার্যকর হবে

জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত পদ থেকে গাদ্দাফির মেয়েকে বহিষ্কার

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির মেয়ে আয়শা আল-গাদ্দাফিকে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) শুভেচ্ছাদূতের পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র মার্টিন নেসার্কি গত বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, সম্প্রতি লিবিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানোর কারণে গাদ্দাফির মেয়েকে ইউএনডিপির কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আয়শা আল-গাদ্দাফিকে এইডস ও দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতারোধে কাজ করতে ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পেশাগত জীবনে আয়শা আইনের অধ্যাপক। জানা গেছে, তিনি ইরাকের সাবেক একনায়ক সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরাকের প্রতিরক্ষা দলে বিভিন্ন ধরনের আইনি সহায়তা দেন।

বুশকে জুতা ছোড়া ইরাকি সাংবাদিক ফের গ্রেপ্তার

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে লক্ষ্য করে জুতা ছুড়ে মারা ইরাকি সাংবাদিক মুনতাজা আল জায়েদিকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে সংবাদ সম্মেলন করার চেষ্টাকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জায়েদি গতকাল বাগদাদের সুন্নি অধ্যুষিত আদামিয়া এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করার চেষ্টা চালান। এ সময় ইরাকি সেনারা তাঁকে সেখান থেকে ধরে নিয়ে যান। জায়েদি প্রথমে সেনাদের সঙ্গে যেতে রাজি না হলে কর্নেল পদমর্যাদার একজন সেনা কর্মকর্তা বলেন, তাঁকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পরোয়ানা রয়েছে তাঁদের। পরে জায়েদিকে একটি পিকআপ ট্রাকে তোলে সেনারা।

লিবিয়ার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা আল-কায়েদার

লিবিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় দেশটির নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির প্রতি নিন্দা জানিয়েছে আল-কায়েদার আফ্রিকা শাখা। একই সঙ্গে তারা লিবিয়ার সংগ্রামী জনতার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
আল-কায়েদা দ্য ইসলামিক মাগরেব (একিউআইএম) গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার জন্য গাদ্দাফি আফ্রিকার পেশাদার খুনিদের ভাড়া করছে এবং বিমানবাহিনীকে বোমাবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। দেশটির আন্দোলনকারী জনগণের প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্য বুদ্ধিজীবী, চিন্তাবিদ ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানায় একিউআইএম।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের জনগণ এবং নিরস্ত্র মুসলিম ভাইদের ওপর গাদ্দাফির এই কাপুরুষোচিত হত্যাযজ্ঞে আমরা খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমাদের ভাইয়েরা শুধু গাদ্দাফির দমন-পীড়ন এবং তাঁর একনায়কতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল।’
আলজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলেই মূলত ঘাঁটি ছিল একিউআইএমের। কিন্তু দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মুখে সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে সংগঠনের অনেক কর্মী নাইজার, মালি, আলজেরিয়া ও মৌরিতানিয়ার মরু অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গম ও মরু অঞ্চলকেই তাঁরা এখন নিজেদের অভয়াশ্রম হিসেবে ব্যবহার করছেন।
বিবৃতিতে একিউআইএম বলেছে, ‘লিবিয়ার মুসলিম ভাইদের প্রতি আমাদের আহ্বান, আপনারা লক্ষ্যে অনড় থাকুন আর ধৈর্য ধরুন। সংগ্রাম-বিপ্লব চালিয়ে যান, জালিমের পতন হবেই।’

বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা দিতে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের নির্দেশ

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ তাঁর ৩২ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা দিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বিবৃতিটি পড়ে শোনান ইয়েমেনের প্রেস অ্যাটাচে। এতে বলা হয়, সালেহ চান নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের পূর্ণ সুরক্ষা দেবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা দিয়ে যাবে।
ইয়েমেনে গত সপ্তাহ থেকে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১৫ জন নিহত হয়েছে। সালেহপন্থীদের অনেকে সানা ও অন্যান্য স্থানে সরকারবিরোধী অনেক বিক্ষোভ কর্মসূচি পণ্ড করে দিয়েছে।
গত বুধবার পার্লামেন্টের সদস্যরা জানান, বিক্ষোভকারীদের প্রতি সরকারের সহিংস আচরণের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে নয়জন এমপি পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগকারী এমপি আবদুল আজিজ জুবায়ের বলেন, ‘৮০ শতাংশ এমপি এখনো সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে জনগণের অবশ্যই অধিকার রয়েছে।’
জুবায়ের বলেন, এমপিরা প্রেসিডেন্টের কাছে ১০ দফা দাবিসংবলিত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অবিলম্বে সেনাবাহিনীর সংস্কার ও পুনর্গঠন করা।
প্রেসিডেন্ট সালেহ অবশ্য ২০১৩ সালে তাঁর ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই পদত্যাগের অঙ্গীকার করেছেন।

পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণ করছে সিরিয়া

সিরিয়া তার রাজধানী দামেস্কের কাছের একটি এলাকায় গোপনে পারমাণবিক স্থাপনা করছে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ধারণা করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জার্মান সংবাদপত্র জিটপাটেক সাইতুঙ্গ এ কথা জানিয়েছে। এদিকে ওয়াশিংটনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গত বুধবার স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ওই এলাকার কিছু ছবি প্রকাশ করেছে।
জার্মান পত্রিকাটি জানিয়েছে, রাজধানী দামেস্ক থেকে ১৫ কিলোমিটার পূর্বে একটি সামরিক এলাকার দুটি পৃথক ভবনের ছবি তারা হাতে পেয়েছে। এ ছবি দুটির সঙ্গে অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, আরব দেশটি তথাকথিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সিরিয়া ওই এলাকায় জাতিসংঘের কোনো তদন্ত দলকে ঢুকতে দিচ্ছে না।
ওয়াশিংটনের ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (আইএসআইএস) জানিয়েছে, দামেস্কের নিকটবর্তী মার্জ অ্যাজ সুলতান শহরে স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়েছে। এই স্থাপনার সঙ্গে দায়ির আলজোর যা কিনা আল-কিবার নামেও পরিচিত স্থাপনাটির যোগসূত্র থাকতে পারে। ইসরায়েল ২০০৭ সালে এই আল-কিবারে হামলা চালিয়েছিল। সেখানে একটি আণবিক বোমা তৈরির স্থাপনা ছিল। বর্তমান স্থাপনাটি থেকে আল-কিবার পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি সরবরাহে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আইএসআইএসের পাওয়া ছবিগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে, ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল-কিবারে আবারও স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ওই মার্জ অ্যাজ সুলতান শহরে সুউচ্চ ও ধাতব সব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
সিরিয়া তার বিরুদ্ধে পারমাণবিক বোমা তৈরি কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ নগরে ভূমিকম্পে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৯৮ জনে পৌঁছেছে। ২২৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে দেশটির উদ্ধারকর্মীরা জানান। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিধ্বস্ত দেশটির উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সব ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।
পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ডেভ ক্লিফ জানিয়েছেন, সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা ৯৮ জন। এখনো ২২৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জন কি বলেছেন, ‘আমরা কল্পনা করতে পারি না এমন পর্যায়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছে যায় কি না, সেই আশঙ্কা হচ্ছে। আরও দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী জন কি গত মঙ্গলবারের ভূমিকম্পকে একটি জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এতে শুধু বিমা কোম্পানিগুলোর লোকসানই হয়েছে প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি ডলার। ক্রাইস্টচার্চের মেয়র বব পার্কার বলেছেন, শহরটির পানি ও বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা ধসে গেছে। ভেঙে যাওয়া পানি সরবরাহকারী পাইপগুলো থেকে পানি উপচে পড়ছে। তিনি শহরবাসীকে ট্যাপের পানি যথাযথভাবে ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। তা না হলে রোগবালাই মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃক্ষরোপণে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন ফিলিপাইনের পরিবেশবাদীরা

বৃক্ষরোপণে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ফিলিপাইনের পরিবেশবাদীরা। নতুন করে বনায়ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় সাত হাজার মানুষ একযোগে মাত্র ১৫ মিনিটে ৬৪ হাজারের বেশি বৃক্ষরোপণ করে এই রেকর্ড গড়েন। আয়োজকেরা গতকাল এ কথা জানিয়েছেন।
গত বুধবার ফিলিপাইনের পূর্বাঞ্চলীয় কামারিনস সুর প্রদেশের একটি বৃক্ষশূন্য বনে তাঁরা এই বিপুল সংখ্যক চারা রোপণ করেন। এল ভারদি প্রকল্পের মুখপাত্র মারা জোনেইল কর্দোভা এ কথা জানান।
গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডস রেকর্ডের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, চারা রোপণ প্রক্রিয়ার সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।
কর্দোভা বলেন, আগে এই রেকর্ডটি ছিল ভারতের।

প্রতিশোধ নিয়ে গেল বায়ার্ন

মধুর প্রতিশোধই নিল বায়ার্ন মিউনিখ। পরশু সান সিরোতে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ইন্টার-বায়ার্ন ম্যাচটি ছিল একটি ফাইনালেরই ছায়া। তাতে মারিও গোমেজের শেষ মিনিটের গোলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ১-০ গোলে হারিয়েছে গত বছরের রানার্সআপ বায়ার্ন। মার্শেইয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-মার্শেই ম্যাচটি হয়েছে গোলশূন্য ড্র।
ম্যাচের আগে বায়ার্ন কোচ লুইস ফন গল গত বছরের ফাইনালে হারের জন্য কাঠগড়ায় তোলেন হোসে মরিনহোর ইন্টারের অতিরক্ষণাত্মক কৌশলকে। আর ম্যাচের পর সেই ইন্টারকেই দিয়েছেন প্রশংসার মালা। কোচ বদলেছে, মরিনহোর বদলে এসেছেন লিওনার্দো, ইন্টারও রক্ষণাত্মক খোলস ঝেড়ে ফেলেছে। ফন গল এটা দেখে নিজেই অবাক, ‘ওরা জিততে চেয়েছিল বলে আক্রমণাত্মক খেলেছে। ইন্টারের এই আক্রমণাত্মক খেলা আমাকে বিস্মিতই করেছে।’ ফন গলের চোখে ম্যাচটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, ‘ম্যাচটি খুব আকর্ষণীয় হয়েছে। ভালো একটি ম্যাচ দেখার তৃপ্তি নিয়েই সবাই বাড়ি ফিরেছে।’
ইন্টারের মাঠে আরও বড় জয়ই পেতে পারত জার্মানির দলটি। আরিয়েন রোবেনের নেতৃত্বে তারা করে গেছে একের পর এক আক্রমণ। দ্বিতীয়ার্ধে বেশি আক্রমণাত্মক ছিল তারা। প্রতিশোধের নেশায় ফুঁসতে থাকা বায়ার্নের কাছে ইন্টার মিলানকে তখন অসহায়ই লাগছিল। গোমেজরা কয়েকটি সুযোগ মিস না করলে আরও বড় জয়ই পেত বায়ার্ন।
ওদিকে অলিম্পিক মার্শেইয়ের মাঠে ম্যানইউ গোলশূন্য ড্র করায় একটু দুশ্চিন্তাতেই পড়ে গেছেন ম্যানইউ কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন, ‘এ ধরনের ফল কখনো কখনো ভয়ংকর হয়, বিশেষ করে যখন আপনি নিজেদের মাঠে গোল খেয়ে বসবেন। এটা আবার সহজও। কারণ জিতলেই আমরা পরের রাউন্ডে চলে যাব।’

সাকিব-তামিমেই চোখ পোর্টারফিল্ডের

নদীতে নেমে কুমির খুন করার চিন্তা করে কী লাভ! আয়ারল্যান্ড সে চিন্তা করছেও না। বাংলাদেশের স্পিনারদের নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও স্পিনের বিপক্ষে যেহেতু সে রকম পাল্টা অস্ত্র নেই, আইরিশরা তাকাচ্ছে সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালের দিকে।
কাল সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড নাম ধরেই বললেন বাংলাদেশের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের কথা, ‘তাদের দলে কয়েকজন খুবই বিপজ্জনক খেলোয়াড় আছে। টপ-অর্ডারে তামিম আছে, যেকোনো দলের জন্যই অনেক বড় উইকেট। শুরুতেই তাকে তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে চাই আমরা। এ ছাড়া মিডল-অর্ডারে সাকিবও খুব বিপজ্জনক।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই ঢাকায় চলে আসা আয়ারল্যান্ড দলের বাংলাদেশের জল-হাওয়া এর মধ্যেই চেনা হয়ে যাওয়ার কথা। পরশুর ঠান্ডা আবহাওয়া তো অফ স্পিনার অ্যান্ড্রু হোয়াইটের কাছে খুবই ‘হোমলি’ মনে হচ্ছিল! অবশ্য পোর্টারফিল্ড জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতিটা অনেক দিন ধরেই নিচ্ছেন তাঁরা, ‘এ রকম একটা আসরে খেলার জন্য কয়েক বছর ধরেই প্রস্তুত হচ্ছি আমরা। বিশেষ করে গত কয়েকটা মাস তো কঠোর পরিশ্রম করলাম।’ প্রস্তুতির কথাটাই আরেকটু ব্যাখ্যা করে বললেন আয়ারল্যান্ডের ক্যারিবীয় কোচ ফিল সিমন্স, ‘গত দুই বছর আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি। এর মধ্যে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বিপক্ষেই ম্যাচ আছে ১২টি।’
বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে ঘুরে ঘুরেই আসছে দুই দলের ২০০৭ বিশ্বকাপের ম্যাচটা। বাংলাদেশের স্মরণীয় বিশ্বকাপ মাটি করে দিয়েছিল ওই আয়ারল্যান্ডই। এ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং গত যুক্তরাজ্য সফরেও বাংলা-বধের তৃপ্তি পেয়েছিল তারা। তবে পোর্টারফিল্ড এবারের বিশ্বকাপটাকে দেখছেন নতুন আয়নায়, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতিটা একটু ভিন্ন। এবার নিজেদের মাঠে পরিচিত দর্শকদের সামনে খেলবে বাংলাদেশ।’ সবকিছু পরিচিত বলে এ ম্যাচে বাংলাদেশকে ফেবারিটও মানছেন আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক, সঙ্গে মনে করিয়ে দিলেন, ‘অনেক দর্শকের কারণে হয়তো তারাই (বাংলাদেশ) ফেবারিট থাকবে। তবে সেটা আবার চাপও।’
২০০৮ সালে বাংলাদেশে এসে এপ্রিলের প্রচণ্ড গরমে ভুগতে হয়েছিল আয়ারল্যান্ডকে। সে তুলনায় এবার তাপমাত্রা কিছুই না। তা ছাড়া এই তিন বছরে আয়ারল্যান্ডের অভিজ্ঞতাও বেড়েছে। সব মিলিয়ে এবারের সঙ্গে সেবারকে খুব বেশি মেলাতে চাইছেন না আইরিশ অধিনায়ক।
নিজেদের মাঠে পরিচিত দর্শকের সামনে বাংলাদেশের জন্য বড় শক্তি স্পিন বোলিং। পোর্টারফিল্ডের মাথায় আছে সেটাও, ‘সন্দেহ নেই এই বিশ্বকাপে স্পিন বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।্রবাংলাদেশ দলে ভালো ভালো স্পিনার আছে এবং আমরাও তাদের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।’ শিশির-তত্ত্বের কথা ভেবে ভারত ম্যাচে টসে জিতেও আগে বোলিং করেছিলেন সাকিব আল হাসান। কাল পোর্টারফিল্ডও বললেন, বিশ্বকাপে শিশির একটা ব্যাপার।
ভারত ম্যাচে শিশির-তত্ত্ব ছিল, এ ম্যাচেও তা উড়িয়ে দেননি পোর্টারফিল্ড। তাঁর ধারণা, আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটের আচরণও থাকবে আগের ম্যাচের মতোই। আর তাই এ ম্যাচে টসটাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে হচ্ছে না তাঁর কাছে, ‘গত ম্যাচে শেবাগ একাই বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচটা ছিনিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু এর পরও বাংলাদেশ যেভাবে ব্যাট করল, আমার মনে হয় না টস এখানে বড় কোনো ব্যাপার হবে।’
কন্ডিশন, প্রতিপক্ষ কিংবা দুই দুলের অতীত লড়াইয়ের ইতিহাস—সবকিছু মাথায় রেখেই বিশ্বকাপটা জয় দিয়ে শুরু করতে চায় আয়ারল্যান্ড। লক্ষ্য পূরণে তারা ভরসা মানছে দীর্ঘদেহী ট্রেন্ট জনস্টনের বোলিং, সঙ্গে তরুণ ব্যাটসম্যান পল স্টার্লিংয়ের ব্যাটিংকেও। তবে দলটার সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত আত্মবিশ্বাস আর বড় কিছু অর্জনের তাড়না। বিশ্বকাপটা যে আয়ারল্যান্ডের কাছে শুধু একটা টুর্নামেন্ট মাত্র নয়, বড় মঞ্চে নিজেদের চেনানোর উপলক্ষও!

শিশির-তত্ত্ব মুছে জয়ের আকাঙ্ক্ষা

কাঁধে ব্যাগ, ডান হাতের কনুইটা একটু যেন ফোলা। তার পরও ইমরুল কায়েসের মুখে স্মিত হাসি। টিম বাস থেকে নেমে তাঁর পেছন পেছন ড্রেসিংরুমের দিকে গেলেন শফিউল ইসলামও। হাতের আইসব্যাগ আর ঠোঁটের কোণে ঝোলানো শুকনো হাসিটাই বলে দিচ্ছিল খবর ভালো নয়।
একটু পর ওয়ার্মআপে নেমে গেল পুরো দল। এরপর নেট প্র্যাকটিসে...সুস্থ হয়ে ওঠায় ইমরুল সবখানেই থাকলেন। কিন্তু শফিউল কোথাও নেই! থাকার কথাও নয়। আগের দিন ক্যাচ প্র্যাকটিসের সময় পড়ে গিয়ে ডান কাঁধে চোট পাওয়া এই পেসারকে কাল বিশ্রামই দেওয়া হয়েছিল। অথচ চোট পাওয়ার পর পরশু সন্ধ্যায়ও সমস্যা গুরুতর নয় ভেবে তিনি আশাবাদী ছিলেন। ব্যথা বেড়েছে রাতে এবং সেটা এতটাই যে কাল সকালে নাকি হাত নাড়াতেই সমস্যা হচ্ছিল!
আগের রাতের অভিজ্ঞতার পর কালকের রাতটাও পর্যবেক্ষণে রাখা হলো শফিউলকে। সন্ধ্যার দিকে ব্যথা কমে গেলেও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা না-খেলাটা নির্ভর করছে ম্যাচের আগে আজ সকালের সর্বশেষ অবস্থার ওপর। তবে শফিউলের খেলার সম্ভাবনা কম বলে টিম ম্যানেজমেন্ট বিকল্প পেসার ঠিক করে রেখেছে কালই—নাজমুল হোসেন। কাল পর্যন্ত যা সিদ্ধান্ত, মাহমুদউল্লাহর জায়গা নিয়ে আজকের ম্যাচটা খেলছেন মোহাম্মদ আশরাফুলও।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য সব ব্যাপারেই রহস্য রেখে দিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দলটল কিছু ঠিক হয়নি বলে জানালেন, সব চূড়ান্ত হবে আজ সকালে। আয়ারল্যান্ড ম্যাচের আগেও দল চূড়ান্ত করায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষার একটাই কারণ—প্রতিপক্ষ হিসেবে আইরিশদের মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না বাংলাদেশ। নেবেই বা কেন? এক অর্থে এটা তো প্রতিশোধের ম্যাচও!
গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হরিষে বিষাদ উপহার দিয়েছিল আইরিশরা। হারিয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং যুক্তরাজ্য সফরেও। যে দলের বিপক্ষে নিজেদের অতীতটা এমন বিক্ষত, নিজেদের মাটিতে পেয়ে তাদের কেন ছেড়ে কথা কইবে বাংলাদেশ? সংবাদ সম্মেলনে সাকিব যতই বলুন, ‘প্রতিশোধের চিন্তা করছি না’, বিশ্বকাপের আজকের ম্যাচটা আয়ারল্যান্ডকে তিক্ততা ফিরিয়ে দেওয়ারই উপলক্ষ।
অধিনায়ক হওয়ায় সাকিব তবু সংবাদ সম্মেলনে এলেন, অন্যদের মুখ থেকে তো কাল প্রতিশোধের ‘প’ও বের করার উপায় থাকল না! বোর্ড থেকে খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে—এটা বিশ্বকাপ, যখন-তখন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা যাবে না। অনেকে তাই ফোনই ধরলেন না। অনেকে ধরলেন, কথাও বললেন, কিন্তু শর্ত জুড়ে দিলেন, ‘কোট করা যাবে না।’
এ রকম দু-একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে যেটুকু আবহ বোঝা গেল তাতে আয়ারল্যান্ড ম্যাচটা অনেকের কাছে প্রতিশোধের, অনেকের কাছে আবার আরেকটা ম্যাচ মাত্র। তবে বেশির ভাগ খেলোয়াড় আজ জিততে চান বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে যেতে আয়ারল্যান্ডকে হারানো জরুরি বলে। সংবাদ সম্মেলনে সাকিবও শুধু এই কারণেই ম্যাচটাকে গুরুত্বপূর্ণ বললেন, ‘ম্যাচটা আমাদের জিততেই হবে। না জিতলে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়া কঠিন হবে। এটা তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।’ তা ছাড়া আইরিশদের বিপক্ষে তিক্ত স্মৃতির চেয়ে সুখের অভিজ্ঞতাটাকেই বেশি মনে করতে চান, ‘২০০৮ সালে আমরা তাদের ৩-০-তে হারিয়েছি। কাজেই এ ম্যাচে আমরাই এগিয়ে আছি। তা ছাড়া আমি মনে করি না যে তারা এই কন্ডিশনে খেলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করবে।’
আয়ারল্যান্ডকে হারাতে দুটি বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক—সামর্থ্যের পুরোটা দিয়ে খেলতে হবে এবং আগের ম্যাচের ভুল শোধরাতে হবে। জোর দিয়ে বললেন বাংলাদেশের স্পিন শক্তির কথাও, ‘গতবার এসে ওরা আমাদের স্পিনে ভালো খেলতে পারেনি। ওদের জন্য এই চ্যালেঞ্জটা এবারও থাকবে। ভালো খেললে আশা করি ফলাফল আমাদের দিকেই থাকবে।’ আর আগের ম্যাচের ভুলের তালিকায় শেষ ৬-৭ ওভারের ব্যাটিংয়ের কথা আলাদা করেই বললেন অধিনায়ক, ‘প্রথম ম্যাচে যেভাবে ব্যাটিং করেছি ওটাই ধরে রাখতে হবে। তবে শেষ ৬-৭ ওভারের ব্যাটিংয়ে উন্নতি দরকার। সেটা হলে আমরা ভালোভাবেই ৩০০ রান করতে পারব।’
গত তিন-চার দিন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কোনো শিশির দেখেননি সাকিব। ভারত ম্যাচের শিশির-তত্ত্বকে আজ তাই সরিয়েই রাখছেন। গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না টসটাকেও। তবে সেটি যতটা না কন্ডিশনের কারণে, তার চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত কারণে, ‘মনে হয় না টস কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাখলেও সেটা আমাদের হাতে নেই। টস-ভাগ্য আমার খুব একটা ভালো না। এটা নিয়ে তাই ভাবি না।’
সাকিব কেন, ভাগ্যজয়ের টোটকা কারও হাতেই নেই। তবে কন্ডিশন, মাঠ, দর্শক—সবই যখন সাকিবের হাতে, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ বসন্ত উৎসব তো হতেই পারে!

২০৬ রানেই গুটিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড

প্রথম ম্যাচে কেনিয়াকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে দিলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শুরুটা মোটেই ভালোভাবে করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। স্কোর বোর্ডে মাত্র ৭০ রান জমা করতেই ফিরে গেছেন প্রথম সারির ছয়জন কিউই ব্যাটসম্যান। শেষপর্যন্ত পাচ ওভার বাকি থাকতেই নিউজিল্যান্ড গুটিয়ে গেছে ২০৬ রানে।
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অসি অধিনায়ক রিকি পন্টিং। আর সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা খুব ভালোভাবেই প্রমাণ করেছেন চার অসি পেসার। ব্রেট লি, শন টেইট, মিচেল জনসন আর শেন ওয়াটসরে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নিউজিল্যান্ড। চতুর্থ ওভারেই বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে ফিরিয়েছিলেন শন টেইট। ১২ বলে ১৬ রান করে ফিরে যান ম্যাককালাম। নবম ওভারে বল করতে এসেই আবার কিউইদের একটা বড় ধাক্কা দেন শেন ওয়াটসন। বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান মার্টিন গুপ্তিল। ১৪ তম ওভারে জেসি রাইডার ও জেমস ফ্রাঙ্কলিনকে সাজঘরমুখী করে অস্ট্রেলিয়াকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান মিচেল জনসন। পরের ওভারেই স্কট স্ট্রাইরিসকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন শন টেইট। এক ওভার পর আবার নিউজিল্যান্ডের দুঃস্বপ্নে পরিণত হন টেইট। কিউই সমর্থকদের হতাশায় ডুবিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন রস টেলর। সপ্তম উইকেটে ৪৮ রানের জুটি গড়ে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন জেমি হাউ ও নাথান ম্যাককালাম। কিন্তু দলীয় ১২১ রানের মাথায় স্টিভেন স্মিথের শিকারে পরিণত হয়ে ফিরে যান হাউ।
শেষপর্যন্ত ম্যাককালামের ৫২ ও অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরির ৪৪ রানের সুবাদে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয় ২০৬ রানে। মিচেল জনসন মাত্র ৩৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪টি উইকেট। ৩টি উইকেট পেয়েছেন শন টেইট।

ক্রেজার দিকে তাকিয়ে পন্টিং

২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্মরণীয় এক অভিষেক হয়েছিল জেসন ক্রেজার। নাগপুরে ভারতের বিপক্ষে সেই টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে এই অসি অফস্পিনার নিয়েছিলেন ১২টি উইকেট। কিন্তু তারপর কেন জানি নির্বাচকদের আর নজরে আসতে পারেননি। এবার নাথান হরিজ, জাভিয়ের ডোহার্টিদের ইনজুরি খুলে দিয়েছে তাঁর ভাগ্য। সুযোগ পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে। শুধু সুযোগ পাওয়াই নয়, এবার তিনিই হয়তো হয়ে উঠবেন অস্ট্রেলিয়া শিবিরের অন্যতম প্রধান ভরসা।
প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ২৮ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ২টি উইকেট। আজ আবার তাঁর স্মরণীয় অভিষেক ভেন্যু নাগপুরেই নামতে যাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। আজকের ম্যাচে ক্রেজা অভিষেক টেস্টের স্মৃতিটা আবার নতুন করে ঝালিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছেন পন্টিং। আর এবারের বিশ্বকাপে স্পিনাররা যেভাবে ভেল্কি দেখাচ্ছেন, তাতে ক্রেজার দিকে যে পন্টিং একটু আলাদা দৃষ্টি দেবেন, এটাই তো স্বাভাবিক।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুশীলন শুরুর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে রিকি পন্টিং বলেছেন, ‘ক্রেজা মাঠে নামার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। আজ সকালেও সে বল নিয়ে অনুশীলনে নামতে চেয়েছিল, আমরা ওকে কোনোমতে আটকেছি। এই উইকেটের কন্ডিশন তার খুব ভালোমতো জানা আছে। এটা নিশ্চিতভাবেই তাকে অনেক সাহায্য করবে। প্রতিটি ম্যাচেই সে অনেক ভালো করছে।’
নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটা নিঃসন্দেহে এবারের বিশ্বকাপের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এ ছাড়া একটা অন্য গুরুত্বও আছে এই ম্যাচটার। ঐতিহ্যবাহী চ্যাপেল-হ্যাডলি ট্রফিটা কার হাতে উঠবে, সেটাও নির্ধারিত হবে আজকের এই মুখোমুখি লড়াই দিয়েই।