Tuesday, June 21, 2016

অল্প বয়সে যৌন সম্পর্ক করলে যে সমস্যা দেখা দেয়!

বর্তমানে নতুন প্রজম্মের ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন কারণে যৌন সম্পর্কে  জড়ান ৷ তাই যৌনতা নিয়েও তারা কৌতূহলি৷ সম্প্রতি কম বয়সে যৌন সম্পর্ক নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়৷ এই গবেষণা থেকে উঠে এসেছে নতুন কিছু তথ্য৷‘সেক্স’ শব্দটা শুনলেই কম বেশি সকলের মনেই একটা অদ্ভূত অনুভূতি জাগে৷
তবে কম বয়সি ছেলে-মেয়েরা এতে আকৃষ্ট হতে পারে৷ যদি এদের উচিত শিক্ষা না দেওয়া হয় তবে এদের মধ্যে বিপথে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে৷ বেশির লোকেই জানেন না যে, ভারত সেই দেশগুলির মধ্যে একটি যেখানে নাবালিকা গর্ভবতীর সংখ্যা সবথেকে বেশি৷ আর এটা জেনেও আশ্চর্য হওয়ার কথা নয় যে সেখানে বেশির ভাগই মেয়েই বিবাহিত৷
গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, বাবা-মায়ের যখন জানতে পারেন যে তার নাবালক সন্তান সহবাসে লিপ্ত তখন তারা হয় তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন নয়ত সব জেনে বুঝেও চুপ করে থাকেন৷ কেবল মাত্র এক তৃতীয়াংশ বাবা-মা তাদের সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের শিক্ষিত করে তোলেন৷
বেশিরভাগ লোকই তাদের সন্তানদের সামনে নিজের স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা ব্যক্ত করতে অস্বস্তি বোধ করেন৷ মা-বাবা ও সন্তানদের মধ্যে যৌনতা নিয়ে খুব সীমিত আলোচনা হতেই দেখা যায়৷ বোধহয় এই কারণের জন্যেই কৈশোরের একটি বড় সংখ্যা দোটানায় জীবন কাটায় ও যখন বাবা-মা তাদের যৌন জীবন সম্পর্কে জানতে পারেন তখন ঠিক কি করা উচির তা বুঝতে পারেন না৷
সামাজিক সম্পর্ক না থাকার জন্য ও মা-বাবার থেকে তারা যৌনতা সম্পর্কে কোন তথ্য জানতে না পেরেই ইন্টারনেটের সাহায্য নেয়৷ অভিভাবকরা বুঝতেই পারেননা তাদের সন্তান ইন্টারনেটে কি দেখছে৷ এর ফলে দেখা যায় বেশির ভাগই নাবালকরা অশ্লীল সাইট দেখা শুরু করে৷ এই ধরণের সাইটে যৌনতাকে আরও বেশি আকর্ষক করার জন্য তাকে অনেক বেশি রং চড়ানো হয়৷
এতে অন্তরঙ্গতার বদলে বাসনা ও তৃপ্তির উপর বেশি জোর দেওয়া হয়৷ ফলে বেশির ভাগ বাচ্চাই এগুলি থেকেই যৌনতার বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করে৷ এই কারণে আমরা প্রায়শই বাচ্চাদের সেক্স সংক্রান্ত খবর জানতে পারি৷
ভারতে বিয়েকে পবিত্র সম্পর্কে বলে মনে করা হয়৷ কিন্তু বড় শহরগুলির যুবসমাজ বিবাহকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়না৷ বেঙ্গালুরু সেই শহরগুলির মধ্যে একটি যেখানে বেশিরভাগ যুবকই জানিয়েছেন যে তারা অর্থের বিনিময়ে যৌনতা কিনেছেন৷
প্রায় ২০ শতাংশের মতামত বার বার একজনের সঙ্গে সহবাসের ফলে সম্পর্কে একঘেয়েমি আসতে পারে৷ তেমনই হায়দরাবাদ ও মুম্বইয়ের যুব সমাজ মনে করে বিয়ের পরেও পরকীয়া সম্পর্ক রাখার মধ্যে খারাপ কিছুই নেই৷
মনোবিজ্ঞানিকরা মনে করেন এই ধরণের ব্যবহার যুব সমাজকে আরও বেশি স্বচ্ছল করে তুলছে৷ একজন মধ্যবয়স্ক ভারতীয় যৌনতা নিয়ে এখনও অনেক বেশি আতঙ্কিত ও সতর্ক থাকেন কিন্তু ভারতের যুব সমাজকে এই বিষয়েও আরও অনেক জ্ঞান অর্জন করতে হবে৷
আদতে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ একটি সাধারণ ব্যপার কিন্তু এই বিষয়টি তখনই গম্ভীর হয়ে ওঠে যখন একজন কিশোরী অল্প বয়সেই সমস্ত কিছু জানতে ও হাতের নাগালে পেতে চায়৷ কম বয়সে একজন শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপণের জন্য পরিপূর্ণ হয়না৷ এই সময়ে সন্তানকে বোঝানোর দায়িত্ব গোটাটাই অভিভাবকদের উপরেই থাকে৷
ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণা করে জানিয়েছেন ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সেই বেশির ভাগ কিশোর ইন্টারনেটে অশ্লীল তথ্য দেখতে শুরু করে৷ এবিসি’র একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ভারতীয় মনোবৈজ্ঞানিক রাজ সিথার্থন ও তার স্ত্রী গৌমতি সিথার্থন প্রায় ৮০০ জনের উপর একটি পরীক্ষা করেছেন৷ এই গবেষণা অনুযায়ী ইন্টারনেটে যারা অশ্লীল সাইট দেখেন তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ পুরুষ৷
আধুনিক জীবনশৈলীর কারণে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে যৌন রোগ ও এই বিষয়ে সচেতনাতা বাড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপের উপর জোর দিতে হবে৷ সত্যি কথা হল এদেশে এই বিষয়ে এখনও যথেষ্ট সচেতনতার অভাব৷ দেশে যারা অ্যাডাল্ট এডুকেশন নিয়ে থাকেন তাদের মধ্যে মাত্র এক তৃতীয়াংশ যুবক এইচআইভি সংক্রমণের ব্যাপারে জানেন৷ একটি গবেষণায় এমনও পাওয়া গেছে যে, এক তৃতীয়াংশ শিক্ষকদের এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে তাদের নিজেদেরও আরও অধ্যয়ন করতে হবে৷
সংযুক্ত জনসংখ্যা কোষের পক্ষ থেকে একটি গবেষণায় যে তথ্য সামনে উঠে এসেছে তা হল, অ্যাডাল্ট স্কুলেগুলিতে মাত্র ৩১ শতাংশ ও সাধারণ স্কুলের মাত্র ২০ শতাংশ ছাত্ররা এইচআইভি ও এইডসের সম্পর্কে জানে৷
ভারত বা এশিয়ার অন্য দেশগুলিতও কম বয়সী ছেলেমেয়েরা শারীরিক সম্বন্ধে আবদ্ধ হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা জানিয়েছেন এতে কৈশর অবস্থায় মানসিক বিকাশ বাধা পেতে পারে৷
তারা জানাচ্ছেন যে এই বয়সে শরীরিক গঠন পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ার যৌন সম্পর্কের ফলে শরীরেও ব্যপক প্রভাব পড়তে পারে৷ এমনও জানা গিয়েছে যে, কম বয়সে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ফলে মানসিক অবসাদ আসতে পারে৷ এছাড়াও এতে মস্তিষ্কের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে৷

জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করছে

ক্রসফায়ারের কারণে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন আইন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এসব ঘটনায় অপরাধের বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে। এ ব্যাপারে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন মানবজমিনকে বলেছেন, মনে হচ্ছে রাষ্ট্রের আইন ও সংবিধান কোনভাবেই কাজ করছে না। একজন মানুষকে রিমান্ডে নেয়া হলো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। রিমান্ড মানে তো আদালতের কাস্টডি। সে তো বিচারাধীন। সেখান থেকে তাকে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য নেয়া হলো আর ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে মেরে ফেলা হলো। এটা অবিশ্বাস্য। বিশিষ্ট এই নাগরিক বলেন, আরেকটি বড় ব্যাপার হলো, যারা ক্রসফায়ারে নিহত হচ্ছে তাদেরকে ধরতে কত কষ্ট করতে হয়েছে। জনগণ তাদেরকে হাতেনাতে ধরে দিলো। আর সেই লোকটা মারা গেল! এটা জনমনে সংশয় সৃষ্টি করছে। এবং অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, এর মাধ্যমে মূলত বিচার প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে। বরাবরই নাগরিক সমাজ সমালোচনা করে আসছিলেন এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের। কিন্তু, তাতে কোন কাজ হয়নি। বরং, ক্রসফায়ারের হার বেড়ে যাচ্ছে। গত ১৩ দিনে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে অন্তত ১৭ জন। ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত বলেন, আদালত এই হত্যাকাণ্ডের জবাব চাইতে পারে। জবাব না চাইলে, এই অবস্থা চলতেই থাকবে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, ‘আমার তো মনে হয় দেশে কারও কোন সন্দেহ নাই যে, পুলিশ তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে মেরে ফেলছে। বাংলাদেশে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আইনজীবী বা পরিচিত কারও উপস্থিতির বিধান রয়েছে। কিন্তু, সেই নিয়মটি মোটেও মানা হচ্ছে না। ড. শাহদীন মালিক বলেন, ২০০৪-০৫ সালে হয়তো  কেউ কেউ ক্রসফায়ারের কিস্‌সা বিশ্বাস করতো, এখন কেউ এটা বিশ্বাস করে না। বিষয়টি নিয়ে একটি সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। বলেন, তদন্ত না হলে এ ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে। ফলে পুলিশের আসল অপরাধীকে ধরার যোগ্যতা কমে যাবে।’ তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন ছিল, কী ধরনের তদন্ত হওয়া উচিত? তিনি বলেন, একজন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ কোন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা, একজন আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট চার-পাঁচ জন সদস্যের সমন্বয়ে একটি কমিটির অধীনে তদন্ত হওয়া দরকার। ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলো মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়। এ ঘটনাগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত হওয়া দরকার। এর পাশাপাশি সার্বিক ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সমস্যা নিয়েও একটি কমিশন হওয়া জরুরি বলে তিনি মত দেন। তিনি বলেন, আমাদের বিচার ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। পুলিশ ব্যর্থ হচ্ছে। আমাদের দেশে যত মামলা হয়, তার অন্তত ৯০% মামলায় আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, ওই সব অপরাধে ভুক্তভোগীর ক্ষতি হয়েছে। কেউ না কেউ তো অপরাধ করেছে। অথচ তাদের বিচারের আওতায় আনা যাচ্ছে না। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার ক্ষেত্রে তো খালাস পাচ্ছে ৯৮%। এসব বিষয় নিয়েও গুরুত্বসহকারে তদন্ত হওয়া দরকার।