Saturday, July 5, 2014
'দুর্বৃত্তদের দ্রুত গ্রেফতার করুন' -শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিএইচটির নেতারা এ দাবি জানান

>>সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কমিশনের কো-চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল-সমকাল
শনিবার বিকেলে রাঙ্গামাটিতে হামলার শিকার হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (সিএইচটি)।
এ হামলায় রাঙ্গামাটি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনু সোহেল ইমতিয়াজ ও ইলোরা দেওয়ান নামে প্রতিনিধি দলের এক সদস্য আহত হন। এ কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর বাতিল করে চট্টগ্রাম ফিরে এসে সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে।
কমিশনের কো-চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেন, 'হামলা করে কেউ আমাদের প্রতিহত করতে পারবে না। সশস্ত্র সন্ত্রাসী, জঙ্গীগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমরা যেভাবে সতর্ক থাকি, ভবিষ্যতে একইভাবে সাবধান থাকবো। কিন্তু আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাবো।'
হামলার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, সমঅধিকার আন্দোলন নামে একটি সংগঠনের নেত্রী নূরজাহান তাদের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। নূরজাহান শুরু থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্ন্তজাতিক কমিশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কথাবার্তা বলে লোকজন জড়ো করেন। পরবর্তীতে তার নেতৃত্বে হামলা শুরু হয়।
কেন, কি উদ্দেশ্যে তাদের ওপর হামলা হয়েছে?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। যারা আমাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল তারাই বিষয়টি বলতে পারবে।'
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল পর্যবেক্ষণের জন্য বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি এই তিন পার্বত্য জেলা সফরের অংশ হিসেবে কমিশনের কো-চেয়ারপার্সন সুলতানা কামাল, সদস্য স্বপন আদনান, খুশী কবীর, অ্যাডভোকেট সারা হোসেন, হানা শামস ও সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানসহ ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ৫ জুলাই থেকে ৮ জুলাই বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময় করার কথা ছিল।
এরই অংশ হিসেবে তারা শনিবার রাঙামাটি যায়। কিন্তু আগে থেকেই কমিশনের এ সফরকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয় পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য নাগরিক পরিষদসহ ছয়টি বাঙালি সংগঠন। তারা সফরকালে সড়ক ও নৌ পথ অবরোধের ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তারপরও শনিবার কমিশনের সদস্যরা রাঙামাটি পৌঁছলে তাদের গাড়িবহরে হামলা করা হয়। এরপর কমিশনের সদস্যরা পুলিশের নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম ফিরে আসে।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য নাগরিক পরিষদসহ বাঙালি সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা বান্দরবানের কে›ন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে সড়ক ও নৌপথের অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের বান্দরবান জেলা সভাপতি আবদুল কাইয়ুম অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'পার্বত্য অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরুদ্ধে উস্কানিদাতা তথাকথিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের (সিএইচটি) সদস্যদের বান্দরবান সফর বাতিল করায় আপাতত অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তাদের সফর প্রতিহত করতেই আমরা অবরোধের ডাক দিয়েছিলাম।'
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হিন্দির আধিপত্য বনাম বহু ভাষাভাষী ভারত by কুলদীপ নায়ার

উপলব্ধিটা হতে একটু দেরিই হয়ে গেল, ফলে সেটা কাউকে তেমন আশ্বস্ত করতে পারেনি। আমার মনে হয়, সরকার হাওয়া বোঝার চেষ্টা করেছে। তারা এটাকে একটা নিরীহ পদক্ষেপ মনে করেছিল, এর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ শুরু হওয়ায় সরকার তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে। কিন্তু এই পরিপত্রটি একটি ক্ষতি করে ফেলেছে। অহিন্দিভাষী জনগণের মধ্যে এটা পুরোনো ভীতির পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছে। আগামী দিনে কী ঘটবে, সেটা নিয়ে তারা ভীত হয়ে পড়েছে।
আমি নিশ্চিত, নরেন্দ্র মোদির সরকার হিন্দি জাত্যভিমানীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, তবে তিনি হয়তো কোনো তাড়না থেকে এটা করছেন না। ভারতীয় জনতা পার্টিতে বেশ কয়েকজন উদার নেতা আছেন, তাঁরা বোঝেন, হিন্দিতে যেতে হলে খানিকটা সময় নিয়েই যেতে হবে। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের সুর খুঁজতে হলে এভাবেই অগ্রসর হওয়া জরুরি। দৃশ্যত, তাঁদের তেমন কিছু বলার নেই।
৫০ বছর আগের ভারত আর আজকের ভারত এক নয়, বর্তমানে প্রতিটি ভাষাভাষী গোষ্ঠীই নিজেদের আত্মপরিচয়ের বিষয়ে ওয়াকিবহাল। রাজ্যগুলোর পুনর্গঠনের সময় যে ডামাডোল সৃষ্টি হয়েছিল, সে বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। জনগণের সংবেদনশীলতার প্রতি উদাসীন হলে ঐক্যের সুতাটাই ছিঁড়ে যেতে পারে। তাড়াহুড়ার কী আছে? জাতির একতা রক্ষা করতে কয়েক দশকের অপেক্ষা কি খুব বেশি কিছু?
১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে ও ১৯৬০-এর দশকের প্রথম ভাগে ভারতে বেশ কিছু ভাষাগত দাঙ্গা হয়েছে। সে সময়ও স্বরাষ্ট্র দপ্তর নির্দেশনা দেয়, প্রতিটি বিভাগকে ইংরেজি থেকে হিন্দিতে রূপান্তরিত হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে—সংবিধানে যেভাবে বলা আছে। দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে দাঙ্গা হয়েছে। তামিলনাড়ুতে এক ব্যক্তি নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে হিন্দি গ্রহণে আপত্তি জানায়। এমনকি ভারতীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়ার পুরোনো স্লোগান নতুন করে শোনা যায়।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু অখুশি হলেও তিনি এতে কোনো হস্তক্ষেপ করেননি। প্রতিরোধের আগুন ছড়িয়ে পড়লে জওহরলাল নেহরু সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেন, অহিন্দিভাষী জনগণ ইউনিয়ন প্রশাসনিক কার্যক্রমের একক ভাষা হিসেবে হিন্দি গ্রহণে রাজি না হলে ইংরেজি বাদ দেওয়া হবে না। এই সুনির্দিষ্ট বক্তব্য হিন্দি গোঁড়াদের একটু হতাশ করলেও ভারত খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসতে সক্ষম হয়, আর পুরো জাতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
আমি আশা করি, এই দ্বিভাষিক সংস্কৃতিতে কোনো ব্যত্যয় না ঘটিয়ে এটাকে চলতে দেওয়া হবে। কিন্তু মোদির মানুষেরা তাড়াহুড়ার মধ্যেই ছিলেন। তঁারা ইংরেজির ব্যবহার কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করতে চেয়েছেন। তার পরও তঁারা বুঝতে পেরেছেন, তাদের এই তাড়াহুড়া দেশের ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারত। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী ভারতীয় ইউনিয়নের ভাষা হচ্ছে হিন্দি, অহিন্দিভাষী রাজ্য যেমন তামিলনাড়ু এটা গ্রহণ করেছে। কিন্তু এটা শিখতে তারা সময় চায়, হিন্দিভাষী রাজ্য যেমন উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ বা রাজস্থানের লোকেরা যেভাবে ভাষাটা ব্যবহার করে, সে পর্যায়ে উন্নীত হতে তারা এ সময় চায়।
সন্দেহ নেই, মোদি হিন্দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণায় তিনি হিন্দি ব্যবহার করেছেন, এ হিন্দি আবার কিছুটা সংস্কৃত ও উত্তর ভারতঘেঁষা। নির্বাচনে জয়লাভের পেছনে এটাও একটা কারণ। কিন্তু নেহরু ১৯৬৩ সালে ওয়াদা করেছিলেন, হিন্দি ও ইংরেজি উভয়ই প্রশাসনের যোগসূত্র স্থাপনকারী ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হবে। মোদির এটা মাথায় রাখা উচিত। নেহরু এককভাবে হিন্দি ব্যবহারের জন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দেননি।
ঐতিহ্য ভাষার সঙ্গে জড়াজড়ি করে থাকে। ফলে দেশব্যাপী নেতাদের পন্থা খুঁজে বের করতে হবে, যাতে স্থানীয় ভাষাগুলো এগিয়ে যেতে পারে। সাবেক স্পিকার পুরুষোত্তম দাস ট্যানডন এরূপ এক প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু কেরালার একজন সাংসদ এটা নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করেছিলেন। তিনি স্পিকারকে সতর্ক করেছিলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে এরূপ দাবি না উঠলে এই কোটা ব্যবস্থার দ্বার খুলে দেওয়া ঠিক হবে না। অহিন্দিভাষী অঞ্চলের সদস্যরা এটা সমর্থন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত এ প্রস্তাবটি বাদ দেওয়া হয়।
সংবিধানে ২২টি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, এর প্রতিটিরই নিজস্ব লিপি রয়েছে। এটা সত্য, হিন্দির সঙ্গে ইংরেজিও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে এই ২২টি ভাষা জাতীয় মর্যাদার। ভাষা কমিশনের ওপর গঠিত সংসদীয় কমিটি এটা বিবেচনা করেছিল, যদিও এই কমিটি হিন্দিকে প্রধান ভাষা ও ইংরেজিকে অতিরিক্ত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
এত কিছু বলার কারণ হচ্ছে, নতুন কোনো সূত্রসংক্রান্ত জাতিগত ঐকমত্য না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় রাখার ব্যাপারে আমার মতামত ব্যক্ত করা। তার মানে, হিন্দির ওপর এই যে নতুন করে জোর দেওয়া হলো, সে ক্ষেত্রে যেন প্রতিটি অঞ্চলের আকাঙ্ক্ষার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন না করা হয়। এটাও নিশ্চিত করতে হবে, কোনো ভাষা বা ভাষিক গোষ্ঠী যেন বিচ্ছিন্ন না হয়। হিন্দিকে যোগাযোগের একমাত্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় মোদির এই হুকুমের কারণে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের সব এলাকার মানুষ হিন্দিতে দক্ষ হয়ে ওঠা পর্যন্ত হিন্দি জাত্যভিমানীদের অপেক্ষা করতে হবে। ইতিমধ্যে তামিলনাড়ু ছাড়া সব রাজ্যেই হিন্দি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরাও হিন্দি শেখার ওপর জোর দিয়েছেন। সিনেমার কল্যাণে এই ভাষাটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এখন দক্ষিণের একজন মানুষও হিন্দি বা হিন্দুস্তানিতে কথা বলতে পারেন। আরও কয়েক বছর পর দেখা যাবে, দেশের সব মানুষই হিন্দিতে অনর্গল কথা বলছে।
ভাষা খুবই শক্তিশালী একটা ব্যাপার। বাংলার ওপর উর্দু চাপানোর চেষ্টা হওয়ায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী পাকিস্তানে বেলুচ ভাষার প্রতি যে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে, তার ফলেই স্বায়ত্তশাসিত বেলুচিস্তানের দাবি উঠেছে।
বাস্তবে, স্থানীয় ভাষাগুলো কীভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে শাসকদের চিন্তা করা উচিত। যেমন পাঞ্জাব রাজ্যেই পাঞ্জাবি ভাষায় সেখানকার মানুষেরা ঘরবাড়িতেও কথা বলা একরকম ছেড়ে দিয়েছেন। নতুন প্রজন্ম তাদের মাতৃভাষার প্রতি উদাসীন। তারা ইংরেজি শিখতেই বেশি আগ্রহী, এতে তাদের ক্যারিয়ার উজ্জ্বল হয়, ভালোভাবে খেয়ে-পরে বাঁচা যায়।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
কুলদীপ নায়ার: ভারতের সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকারি ফাঁদে পাট খাত- কোম্পানীকরণ নয়, ব্যবস্থাপনার গলদ হটান
লোকসানের অজুহাতে এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী বন্ধ করা হয়েছিল আর এর শ্রমিক পরিবারগুলো হয়ে গিয়েছিল ছন্নছাড়া। এখনো রাষ্ট্রীয় ২৮টি পাটকল লোকসানে ধুঁকছে। লোকসান থেকে বাঁচা এবং শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) আর্থিক সহযোগিতা দরকার। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় টাকা দেবে না, যদি বিজেএমসিকে হোল্ডিং কোম্পানি করা না হয়।
পাটকল বন্ধ ও বিক্রি করার পরিণাম ভালো হয়নি। আশির দশকে বিশ্বব্যাংকের কাঠামোগত সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৬২টি পাটকলের মধ্যে ৩৩টি বিক্রি করা হয় এমন লোকদের কাছে, যাঁদের শিল্প চালানোর অভিজ্ঞতাই ছিল না।
১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা অনুসারে পাট খাত সমন্বয় ঋণ কর্মসূচি (জেএসএসি) হাতে নেওয়া হয়। শিল্প বাঁচাতে নয়, বন্ধ করতে ঋণ দেওয়া হয়। আদমজী বন্ধের বছরই (২০০২) ঘোষিত হয় জাতীয় পাটনীতি। বিপরীতে ২০০৫ সালে ঘোষিত ভারতের পাটনীতির লক্ষ্য ছিল পাটশিল্পে বাংলাদেশকে ছাপিয়ে যাওয়া। পাট খাত চাঙা করায় বিশ্বব্যাংকের ঋণও তারা পায়। ভারত সরকার পাটকল ও পাটচাষিদের প্রতি যতটাই যত্নবান, আমাদের সরকারগুলো ততটাই বিমাতাসুলভ।
পাট খাতের পতনের সব দোষ শ্রমিকের ঘাড়ে চাপানো হয়ে থাকে। পাট মন্ত্রণালয়ের এক সমীক্ষা অনুযায়ী ২০০৬ সালে লোকসান হওয়া ৪২১ কোটি টাকার মধ্যে শ্রমিক আন্দোলনের দায় মাত্র ৩০ কোটি টাকা; বাকি ৩৯১ কোটি টাকার দায় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের। ভি ভাস্কর ও মুশতাক খানের গবেষণা দেখাচ্ছে, অতিরিক্ত শ্রমিক নয়, পাটকলগুলো ভারাক্রান্ত ছিল মাথাভারী প্রশাসনের চাপে। সদ্যবিদায়ী পাটমন্ত্রীও এক সভায় বলেছেন, সমস্যাটা জুট মিলে নয়, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায়। পাটের গোড়া কৃষকের হাতে থাকলেও এর আগায়, অর্থাৎ সরকারি ব্যবস্থাপনায় পচন ধরেছে।
সুতরাং, তড়িঘড়ি করে হোল্ডিং কোম্পানি করার চেয়ে এই খাতের সার্বিক সংস্কারের পদক্ষেপই জরুরি। আর আশু পদক্ষেপ হিসেবে পাটকলগুলো চালু রাখা এবং শ্রমিকের বকেয়া শোধের ব্যবস্থা অর্থ মন্ত্রণালয়কে করতে হবে। কালোটাকা সাদা করা, ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক লুট করাকে যে অর্থমন্ত্রী ‘মামুলি’ বলেন, তিনি যেন একইভাবে পাটকল এবং এর লাখ লাখ শ্রমিক ও কোটিসংখ্যক কৃষকের স্বার্থকে মামুলি বলে উপেক্ষা না করেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিক্ষামন্ত্রী, মন্দকে মন্দ বলুন by সোহরাব হাসান
যে রিপোর্টের সঙ্গে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন জড়িত, সে রিপোর্টটি ভুল প্রমাণিত হলে সরকারের কর্তব্য হবে, কেবল ক্ষমা নয়, টিআইবির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। আর যদি রিপোর্টটি সঠিক হয় অর্থাৎ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির যেসব কর্মকর্তা এসব দুষ্কর্ম করেছেন, শিক্ষামন্ত্রী কি তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন?

এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায়ও তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে বলেছিলেন, গত পাঁচ বছর (২০০৯ থেকে ২০১৩) কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। তাহলে এবার হলো কেন? সেই মন্ত্রণালয়, সেই শিক্ষা বোর্ড, সেই বিজি প্রেস, সেই কর্মকর্তারাই তো আছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে এঁদেরই কেউ বিভীষণের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কোচিং সেন্টারগুলো জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার কি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পেরেছে? পারেনি। অনেকে বলেন, এরা শিক্ষামন্ত্রীর চেয়েও শক্তিশালী।
এ কারণেই তিনি বারবার কোচিং-বাণিজ্য বন্ধ করার হুকুম দিলেও তা প্রতিপালিত হয় না। শোনা যায়, দেশের কোচিং সেন্টারগুলো ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করছে।শিক্ষামন্ত্রী একটু কষ্ট করলেই কোচিং সেন্টারের মালিকদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের এক শ্রেণির কর্মকর্তা এবং পাঠ্যবই লিখিয়েদের অশুভ আঁতাতের বিষয়টি ধরতে পারতেন।
শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, টিআইবির রিপোর্ট অসত্য। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ও বিব্রত করতেই সংস্থাটি এই রিপোর্ট দিয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য তাঁদেরই উৎসাহিত করতে পারে, যাঁরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে সনদ ব্যবসা করছেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যেসব কর্মকর্তা সেটি চোখ কান বন্ধ রেখে অনুমোদন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেছে, টিআইবির রিপোর্টটি হাস্যকর। টিআইবির রিপোর্ট নয়, বরং সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তদারকির নামে ইউজিসি যা করেছে, তা–ই হাস্যকর। ইউজিসি এ পর্যন্ত যেসব বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তদন্ত করে বিপোর্ট দিয়েছে, সুপারিশ করেছে, তার একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। কারও বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, তাঁরা যে রিপোর্ট করেছেন, তা সত্য। রিপোর্টটি ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। যে কেউ দেখতে পারেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে তার ব্যাখ্যা দিতেও তাঁরা প্রস্তুত আছেন।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নুরুল ইসলাম নাহিদ বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমরা যখন সরকারের দায়িত্ব নিই, তখন দেশে ৫৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এগুলোর অনেকের কাজ ছিল শুধু মুনাফা করা আর সার্টিফিকেট বিক্রি করা।’ এর মাধ্যমে কিন্তু তিনি নিজেও স্বীকার করলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ব্যবসা ও সার্টিফিকেট বিক্রি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব অন্যায় আগে হয়েছে। টিআইাবি বলেছে, আগেও যেমন হতো, এখনো তেমন হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী এও বলেছেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সরকার বন্ধ করে দিয়েছে, সেসব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতের সুরক্ষা নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাহলে অনিয়ম–দুর্নীতিটা বন্ধ হলো কী করে?
সহযোগী একটি পত্রিকা বৃহস্পতিবার শিরোনাম করেছে, ‘তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়জন ভিসি’। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে, ইবাইস, প্রাইম ও দারুল ইহসান। এ নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। যত দিন মামলার নিষ্পত্তি না হচ্ছে, তত দিন সনদ ব্যবসা চলবে। এক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ট্রাস্টি বোর্ড, একাধিক ভিসি, একাধিক রেজিস্ট্রার থাকবেন। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি মুখস্থ বলে যাবে, ‘আমাদের আমলে কোথাও কোনো অনিয়ম হচ্ছে না!’
এবার দেখা যাক টিআইবির রিপোর্ট কী বলছে। রিপোর্ট বলছে, ‘টাকা দিলে মেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা পাসের সনদ। শুধু তা-ই নয়, এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন থেকে শুরু করে প্রায় সব কাজেই পদে পদে অর্থের অবৈধ লেনদেন হয়। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন অনুমোদনের জন্যই এক থেকে তিন কোটি টাকা লেনদেন হয়। সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের একাংশ এই লেনদেনে জড়িত।’
টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিক হাসান ও উপকর্মসূচি ব্যবস্থাপক নীনা শামসুন নাহার প্রণীত এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ অনুমোদনের জন্য লেনদেন হয় ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিদর্শন বাবদ ৫০ হাজার থেকে এক লাখ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ১০ থেকে ৫০ হাজার, অনুষদ অনুমোদনের জন্য ১০ থেকে ৩০ হাজার, বিভাগ অনুমোদনের জন্য ১০ থেকে ২০ হাজার, পাঠ্যক্রম অনুমোদন ও দ্রুত অনুমোদনের জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা লেনদেন হয়। ভুয়া সনদের জন্য ৫০ হাজার থেকে তিন লাখ, নিরীক্ষা করানোর জন্য ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা লেনদেন করতে হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া এবং নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য উপহার ছাড়াও নগদ অর্থের লেনদেন হয়’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
টিআইবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১২ সালের জুন থেকে ২০১৪ সালের মে পর্যন্ত সময়ে এ গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ২২ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৭৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে।তবে টিআইবির নীতি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম বলা হয়নি।
প্রতিবেদনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, ‘কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস ও পরীক্ষা না নিয়ে টাকার বিনিময়ে সনদ দিচ্ছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি তিন লাখ করে টাকার বিনিময়ে সনদ দিয়েছে। আইনে শাখা ক্যাম্পাস নিষিদ্ধ থাকলেও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪০টি পর্যন্ত শাখা ক্যাম্পাস আছে। ২৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই: প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ৭৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫২টি উপাচার্য আছে। সহ-উপাচার্য আছে ১৮টিতে ও ৩০টি কোষাধ্যক্ষ আছে। বাকিগুলোতে নেই।’
এসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তারা কারা? ২৯ দশমিক ৬ শতাংশই ব্যবসায়ী। শিক্ষাবিদ আছেন ২২ দশমিক ৫ শতাংশ ও রাজনীতিবিদ ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ব্যবসায়ীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, তখন মুনাফাই মুখ্য হয়ে ওঠে। প্রথম দিকের উদ্যোক্তা ও শেষের দিকের উদ্যোক্তাদের নাম ও পরিচয় দেখলেই অনুমান করা কঠিন হয় না যে কারা কী উদ্দেশ্যে এসব প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন? আইন অনুযায়ী কয়টি বিশ্ববিদ্যালয় চলছে? কয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাস আছে?
টিআইবির রিপোর্ট সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু তাঁরা এত দিন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। আদালতের দোহাই দিয়ে যদি কেউ অন্যায়ভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চালু রাখেন, সে বিষয়টি কেন তাঁরা সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে জানাননি? টিআইবির রিপোর্ট দেখে ইউজিসি তদন্ত কমিটি করেছে।শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন পাঠিয়ে জানতে চেয়েছে, তারা সত্যি সত্যি ঘুষ দিয়েছে কি না।
শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় কি বলতে পারবেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সবকিছু তাঁর ইচ্ছে ও সম্মতিতে হয়ে থাকে? তা কিন্তু হয় না। তাঁর আগে যিনি শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, তাঁর আগে যিনি ছিলেন, তাঁদের সময়ও সেটি হয়নি। বেসরকারি ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন কাকে দেওয়া হবে, না হবে, সেটি যেমন অর্থমন্ত্রী জানেন না, তেমনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন কাকে দেওয়া হবে, না হবে, সেই বিষয়টিও শিক্ষামন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে না। ইউজিসির ওপরও নির্ভর করে না।
বাংলাদেশে সবকিছুই এক কেন্দ্র থেকে পরিচালিত হয়। আবার সেই কেন্দ্রের লিখিত-অলিখিত নানা শাখা-উপশাখা আছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পেতেই যদি মোটা অঙ্কের অর্থ (সেটি উৎকোচ, চাঁদা বা দলীয় তহবিল যে নামেই ডাকা হোক না কেন) দিতে হয়, তাহলে উদ্যোক্তারা তো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তা তুলে নিতে চাইবেনই।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন–প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিএনপির আমলের একটি ঘটনার কথা জানি। শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের আমলের শেষ দিকে ঢাকার একজন প্রভাবশালী সাংসদ ঐতিহ্যবাহী ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাস অবৈধভাবে ব্যবহার করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। ছাত্রীও ভর্তি করা হয়েছিল। ক্ষমতার পালাবদলের পর বিএনপি ক্ষমতায় এসে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন বাতিল করে দেয়। কিন্তু বছর খানেকের ব্যবধানে দেখা যায়, সেই সাংসদের স্ত্রীকে প্রধান করে আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। সেটি এখনো চালু আছে। ভিকারুননিসা নূন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ওই সাংসদ স্কুলের তহবিল থেকে যে ছয় কোটি টাকা তুলে নিয়েছিলেন তা আজও পরিশোধ করেননি। এই টাকা ব্যাংকে থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সুদে–আসলে প্রায় ২৫ কোটি টাকা পেত।
দেশে এ রকম অনেক উদাহরণ রয়েছে, পরিবারের কয়েকজন মিলে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী–সাংসদ। উদ্যোক্তাদের অনেকেই আছেন, যাঁরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ফলে একদিকে আছে দলীয়করণ ও অপরদিকে আছে দুর্নীতি।
শিক্ষামন্ত্রী এসব বিষয় অস্বীকার করেন না, করবেনও না। যতটুকু জানা যায়, নিজের ক্ষমতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি এসব অসংগতি ও দুর্নীতি দূর করার চেষ্টা করছেন। টিআইবির এই রিেপার্ট তাঁর দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগকে সফল করতে সহায়তা করতে পারে।
দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যেমন সন্ত্রাসকবলিত নয়, তেমনি সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও সনদ ব্যবসা করছে না। বেশ কটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিকমতো ক্লাস–পরীক্ষা হয়। পড়াশোনার মানের দিক থেকে নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কেও টেক্কা দিতে পারে। অনেকগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ছাত্রবিনিময় কর্মসূচি’ আছে। সেগুলো তারা তদবির করে নয়, অ্যাকাডেমিক দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়েই করেছে।
অতএব, ভালোকে ভালো বলুন, আর মন্দকে মন্দ।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabo3@dhaka.net
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ন্যাড়া, দিগম্বর ও এক আজব ফকির by ফারুক ওয়াসিফ
পৃথিবীতে এ রকম মহান কজন, যিনি তোষামুদে নয়, সমালোচনায় সাড়া দেন! আর সেই সাড়া এমনই সাড়া যে আপনার বস্ত্র অথবা চুল কোনোটাই যথাস্থানে থাকতে পারবে না। সমালোচকের মাথা ন্যাড়া অথবা দেহকে দিগম্বর করার জন্য তিনি এক ‘সেবালয়’ খুলেছেন। সেই সেবালয়ে গত ২৩ জুন স্থানীয় একটি সরকারি কলেজের শিক্ষককে দিগম্বর করে মহাসড়কে প্রদর্শন করা হয়। গত ১ জুলাই সেবালয়ে ধরে এনে ন্যাড়া করে দেওয়া হয় এক ব্যক্তিকে। এর আগে আরেকজনকে ‘ন্যাড়া’ করতে গেলে তিনি অজ্ঞান হয়ে রক্ষা পান। মাথা ন্যাড়া করা তো চলতি ফ্যাশন। হলিউডের অনেক নায়কেরই মাথায় চুল নেই, তাতে কী? যাহোক, ফকিরি ‘সেবা’ গ্রহীতার সংখ্যা তার পরও কম নয়।
পৃথিবীতে এমনও শহর আছে, যেখানে পর্যটকেরা দিগম্বর হয়ে ঘুরে বেড়ান। অনেকে বলেন, এটাই নাকি সভ্যতা। পাশ্চাত্য সভ্যতার দিকে তাকিয়ে দেখুন, উন্নতি যত লম্বা পোশাক ততই খাটো। কিন্তু সামাজিক বিবর্তনের পথে পোশাকের বালাই কমানোর মতো ধৈর্য এই ফকিরের নেই। তিনি রাতারাতি আমাদের আদিম লাজলজ্জা দূর করায় উৎসাহী। অন্যান্য এলাকার সাংসদেরাও যদি তাঁর পথ ধরেন, তাহলে অর্ধসভ্য জাতি পুরোপুরি সভ্য হয়ে যাবে।
পৃথিবীর সেরা ভাস্কর্যগুলোর অধিকাংশই উলঙ্গ। গ্রিক দেবতাদের অধিকাংশের গায়েই পোশাক থাকতে দেখা যায় না। তাঁদের দিগম্বরী মূর্তি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাদুঘরগুলোতে শোভা পায়। সাংসদ ক্যাপ্টেন মজিবুর রহমান ফকির ভেবেছেন, দেব-দেবীরা যদি দিগম্বর থাকতে পারেন, পাশ্চাত্যে যদি দিগম্বর সভা চলতে পারে, তাহলে বাংলাদেশে দিগম্বর-সংস্কৃতি থাকতে পারবে না কেন? টাঙ্গাইলের আরেক সাংসদ ও মন্ত্রী যেমন বিদ্বান, সরকারি বনের জমিতে তিনি যেমন ব্যক্তিগত পাঠাগার স্থাপন করেন, সাংসদ ফকিরও তেমনি সংস্কৃতিমান; তিনি অভিনেতাও বটে। তাঁর অভিনীত ঈদের নাটক না দেখলে জানাই হতো না, এমন উত্তরাধুনিক সেবকের মধ্যে এক শিল্পী মন গুমরে মরছে।
আওয়ামী লীগের সাংসদ হলেও তিনি অন্যদের মতো নন। তাঁর দৃষ্টি নাপিতের মতো, মোটেই মুচির মতো নয়। সামনে দিয়ে কেউ গেলে মুচি তাকান তার পায়ের জুতার দিকে। আর নাপিতের চোখ যায় মাথার দিকে। কর্মীদের মধ্যেও তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করেছেন। জায়গায় জায়গায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা এর পা ভেঙে দিচ্ছেন, ওর গোড়ালি কেটে নিচ্ছেন। তবে গৌরীপুরে তাঁরা পা না ধরে ক্ষুর চালাচ্ছেন মাথায়। সম্পূর্ণ বিনা পয়সায়! পুরাকালে লোকে চোর-ডাকাতদের ধরতে পারলে ন্যাড়া করে দিত, ন্যাংটা করে গাঁয়ের পথে পথে ঘোরাত। এটাই বাংলার প্রকৃত গ্রামীণ ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যও ফকির সাহেব ফিরিয়ে এনেছেন। তবে উল্টা করে। আগে গেরস্থ চোরের মাথা কামাত, এখন চোরেরা গেরস্থের মাথা কামায়।
তাঁর স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিপুল উন্নতি সাধিত হয়। কোটি কোটি টাকার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়। যত বড় সেবা, তত বড় ব্যবসা। সময়ের চেয়ে তিনি অনেক এগিয়ে। তিনি বিশ্বের সেরা চিকিৎসা-প্রযুক্তি আনতে পেরেছিলেন, কিন্তু সেগুলো চালানোর মতো টেকনিশিয়ান বঙ্গমুল্লুকে আর পাওয়া গেল না। তাতে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো তাঁর ওপর দারুণ খুশি। তিনি হাসপাতালকে দিয়েছেন যন্ত্রপাতি আর ক্লিনিকগুলোকে দিয়েছেন রোগীর প্রাচুর্য। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন, জেলায় জেলায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের জমিদারির সুরক্ষা দেওয়ায় তাঁর অবদান রয়েছে। তাঁর সময়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে ৪৩৬ জনের চাকরির তদবির করে দেওয়া চিঠি থেকে প্রমাণিত হয় তিনি কত জনদরদি। সেই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার শুভেচ্ছা নিবেন। আশা করি ভালো আছেন। আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় (বিভিন্ন জেলার নাম) সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ করা হবে। নিম্নবর্ণিত প্রার্থীদের নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশসহ প্রেরণ করা হলো।’
গৌরীপুরকে তিনি আবার স্বাধীন করেছেন। স্বাধীনতার মূল্য হিসেবে দয়া করে কিছু টাকা তিনি নিচ্ছেন, সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, বাংলার হারিয়ে যাওয়া জুয়া-হাউজিকে ফিরিয়ে এনেছেন। বিনিময়ে প্রতিদিন দিতে হয় ৫০ হাজার টাকা। তিন বছর ধরে চলছে এই অবস্থা। জুয়া-হাউজি ছড়িয়ে পড়েছে মেলা থেকে বাড়িতে। টাকা নেওয়া হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, সাংসদের বিশেষ বরাদ্দের উন্নয়ন প্রকল্প থেকেও। রাজা হলে তো খাজনা নেবেনই। আগেকার যুগের রাজা-বাদশাহরা শত্রু রাজ্য জয় করে রাজকন্যাকে বিয়ে করে নিতেন, কিংবা রাজকন্যার বিনিময়ে রাজ্যটিকে ছাড় দিতেন। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী নারী প্রার্থীকে তিনি প্রকাশ্য জনসভায় বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। ফকির সাহেব সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন, এটা তো সুখবর। কী রকম দিলদরিয়া মানুষ, যখন যা ইচ্ছা হয় করেন।
কিন্তু এলাকার মানুষ তাঁকে চিনল না। গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও কলেজ শিক্ষার্থীরা মিছিল করে তাঁকে কলিকালের ন্যাংটা বাবা হিসেবে দেখার আগ্রহ পোষণ করেছেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজের হাতে খাল কেটেছেন, রাষ্ট্রপতি এরশাদ নিজে কবিতা লিখে কবিদের দুঃখ-কষ্টের স্বাদ নিয়েছেন, মজিবুর রহমান ফকির নিজে দিগম্বর হয়ে তাঁর সেবালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন, এ আশায় তাই দোষ নেই।
ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন জেলায় জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক পোশাক খুলে পড়ছে। বেরিয়ে পড়ছে জনপ্রতিনিধি সেজে বসে থাকা সাংসদদের অনেকের মাফিয়া-গডফাদার-খুনি-দস্যু চেহারা। গণতন্ত্র হলো রাষ্ট্রের পোশাক, ক্ষমতার আভরণ। গত ৫ জানুয়ারির ভোটারহীন নির্বাচনের পর তাঁর মতো রাজনীতিক ও সাংসদেরা যেভাবে গণতন্ত্রকে দিগম্বর করা শুরু করেছেন, তাতে একদিন তাঁদের নিজ নিজ লজ্জাস্থানও উন্মুক্ত হয়ে যাবে। বিএনপির দৌড় সালাহ উদ্দিন হবেন তাঁদের আদর্শ। সে রকম কোনো এক শুভ দিনে হয়তো কোনো দুষ্টু বালক আঙুল তুলে বলে বসবে, ‘রাজা, পালাচ্ছ পালাও। কিন্তু তোমার কাপড় কোথায়?’
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভ্যন্তরীণ সমস্যা সবই অভ্যন্তরীণ নয় by মইনুল হোসেন

আমরা তো স্বায়ত্তশাসনের জন্য পাকিস্তান আমলে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। আমাদের মুক্তিসংগ্রামকালে অভ্যন্তরীণ নীতি কী হবে এবং সেই সঙ্গে কারও প্রতি বিদ্বেষ নয় বরং সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের বিদেশনীতি সম্পর্কে আমরা বিশ্ববাসীকে পরিষ্কারভাবে অবহিত করেছিলাম। আমাদের সংগ্রাম রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক। অতীতে আমাদের নেতারা অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় যুক্তিসহকারে ও দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্ববাসীকে অবহিত করেছেন যে গণতান্ত্রিক আদর্শ ও মূল্যবোধই হবে আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের মূল ভিত্তিও ছিল গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা।
বর্তমানে সমস্যাসংকুল অবস্থা ও মিথ্যার বেসাতি থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যব্যবস্থা গ্রহণে আমরা এমনই অযোগ্য, অসহায় ও বিবেক-বিবেচনাহীন হয়ে পড়েছি যে, তা চিন্তা করে হতাশাগ্রস্ত না হয়ে পারি না। কে কোথা থেকে আমদানি করল যে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য গণতন্ত্র অচল?
স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ভারতের ভূমিকার কথা চিন্তা করে এ দেশের গণতান্ত্রিক সমস্যার ব্যাপারে ভারত যে নির্দেশক ও অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেনি, তা বলা ঠিক হবে না। আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপ নিয়ে বিদেশের পত্রপত্রিকায়ও কম লেখালেখি হয়নি। কংগ্রেস সরকার ছিল বিশেষভাবে শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র। বাংলাদেশে কোনো কিছু ঘটলে তা নিয়ে সরাসরি ভারতের মন্ত্রীবিশেষের কাছে সাহায্য পেতে কোনো অসুবিধা হয়নি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠ মিত্রতা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য উপকারে আসত, যদি জনগণকে এই মিত্রতার অংশীদার করা হতো। কিন্তু কংগ্রেস সরকার এমন ভাব দেখাল যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে তার অবদান ছিল, তাই আমাদের ওপর বিশেষ কর্তৃত্ব খাটানোর অধিকার কংগ্রেস সরকারের আছে। আমাদের দুর্বল নেতৃত্ব ভারতের অনুগত থাকাটাকেই সুবিধাজনক মনে করেছেন।
কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, দুই সরকারের মধ্যে এই বিশেষ ধরনের সম্পর্ক থাকার পরও গণতন্ত্র রক্ষার সমস্যা আমাদের রাজনীতি ও সরকার পরিচালনায় সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দেয়। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনকে রাজনৈতিকভাবে নড়বড়ে করে দিয়েছে। গণতন্ত্র ভিন্ন যে স্বাধীনতা, তা কাদের স্বাধীনতা? সেই প্রশ্নের উত্তরই আমাদের খুঁজতে বাধ্য করা হচ্ছে।
এ দেশের সমস্যা এ দেশের জনগণকেই সমাধান করতে হবে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের এই বক্তব্যের তাৎপর্য আমরা বুঝি এবং অনুধাবন করি। তিনি পরিষ্কারভাবে আরও বলেছেন যে ভারত সরকার বৈষম্যমূলকভাবে কোনো ব্যক্তি বা দলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়; বরং তারা জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কে বিশ্বাসী। কিন্তু সেই সঙ্গে বর্তমান ভারত সরকারকেও উপলব্ধি করতে হবে যে বাংলাদেশে বিরাজমান সব সমস্যাই বাংলাদেশের জনগণের তৈরি নয়। এক্ষনে আমাদের জরুরি কর্তব্য হলো কিছুসংখ্যক লোকের জন্য কিছুসংখ্যক লোক দ্বারা স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা। সমস্যা হলো, বর্তমানে রাজনীতি রাজনৈতিক নেতাদের হাতে নেই। ফলে রাজনৈতিক ইস্যু সমাধানকল্পে সমঝোতার রাজনৈতিক প্রস্তাবও নেই। কোনো অর্থবহ আলোচনার জন্য সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ আশা করা দুরাশা মাত্র। অপর দিকে বিরোধী দল টেকনোক্র্যাট দ্বারা পরিচালিত কিংবা পরিবেষ্টিত। এক্ষনে উভয় পক্ষ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের লড়াইয়ে ব্যস্ত।
বহুদিনের ‘শুধু নির্বাচনই গণতন্ত্র’ এখন তা ‘নির্বাচনবিহীন গণতন্ত্রের’ পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। এখন জনগণের শক্তি সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি নয়; বরং কিছু লোকের সমষ্টিগত দুর্নীতিই ক্ষমতার উৎস।
বর্তমানে বাংলাদেশে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত একটা সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এককথায়, এখন দেশের সরকার যদি দম্ভের সঙ্গে নির্বাচিত বলে নিজেরাই নিজেদের বৈধতা দাবি করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত না হয়েও কোনো সরকারকে বৈধতার জন্য নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না। এরূপ অশুভ দৃষ্টান্ত সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়।
জনগণের ভোটের মোকাবিলায় সাহস না দেখিয়ে আওয়ামী লীগ এটাই সবার কাছে প্রমাণ করল যে তাদের অনুসৃত কোনো নীতিই তাদের জনপ্রিয়তা অর্জনে সহায়ক হয়নি। দলবিশেষকে জনবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যায়িত করে নেতা-কর্মীদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হলো। এখন তো দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগকেই এ ব্যাপারে এ দেশের জনগণ আস্থায় নেয়নি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগণ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে এবার অনেক ভোট দিয়েছে। ধর্মীয় জঙ্গিবাদের অভিযোগও সরকার জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করতে পারেনি। স্বাধীনতার শত্রুদের ব্যাপারে কত ভয়ভীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। সে ব্যাপারেও জনগণ সরকারকে আস্থায় নিতে পারেনি। তারা যেন এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তারাই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিয়েছেন এবং স্বাধীনতার ইতিহাসও তাঁরাই বেশি জানেন। কোনো দেশের স্বাধীনতার ব্যাপারে কারও ভিন্নমত থাকলেই তাকে স্বাধীনতার শত্রু বলা যায় না। স্বাধীনতাপ্রাপ্তির পর কার কী আচরণ, তার মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে যে কে বা কারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু। আওয়ামী লীগ নেতাদের বোঝা উচিত, তাঁদের যেসব বিজ্ঞ বুদ্ধিদাতা পরামর্শ দিচ্ছেন, তাঁরা জনসমর্থনের আওয়ামী লীগকে জনভীতির আওয়ামী লীগে রূপান্তরিত করছেন। জনভীতির কারণে জনবিচ্ছিন্ন একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রে জড়িত না হয়ে আওয়ামী লীগকে জনমানুষের দল হিসেবে টিকে থাকার কথা ভাবাই হবে ঐতিহ্যবাহী দলটির সঠিক দায়িত্ববোধের পরিচয়।
ভারত সরকারের সাহায্য-সমর্থনপুষ্ট বর্তমান গণতান্ত্রিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে হলে কেবল ভারত নয়, আমাদের অপরাপর বন্ধুরাষ্ট্রের সাহায্যের প্রয়োজন। দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হবে, যেখানে ব্যক্তি অপেক্ষা প্রতিষ্ঠান অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। যদি সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বৈধতা না থাকে, সে ক্ষেত্রে জনগণের পক্ষে নিজেদের সমস্যা নিজেরা সমাধান করা সম্ভব নয়। কারণ, সরকার তো জনসমর্থনের সরকার নয়। সরকার জনগণের না হলে শান্তি বা সমঝোতা আসতে পারে না। যদি সমঝোতা ও শান্তির পথে সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে হয়, তাহলে কেবল ভারত নয়; আমাদের অন্যান্য বন্ধুরাষ্ট্রের সাহায্য একান্তভাবে প্রয়োজন। সরকারেরও বুঝতে হবে, কেবল আস্ফালন এবং লম্বা কথামালার দ্বারা জনগণের বৈধতা অর্জন সম্ভব নয়। জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের ওপরই ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে এ দেশের সম্পর্ক দৃঢ় হতে পারে।
গণতান্ত্রিক চিন্তা-ভাবনাহীন একটি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পরিণতি মুসলিম লীগের মতো হোক, এটা কাম্য হতে পারে না। মুসলিম লীগও পাকিস্তানের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দাবি করত। কিন্তু তাদের দখলদারি মানসিকতার জন্য জনগণ তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দাপটে পাকিস্তানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে ভারতের কুকুর বলতেও তাদের বাধেনি। সেই শহীদ সোহরাওয়ার্দীই আওয়ামী লীগকে শিখিয়ে গিয়েছিলেন যে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের কথাই শেষ কথা।
আমরা দেশে বিরাজমান সমস্যার শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পন্থায় সমাধানের ওপর সবিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। তথাকথিত সমাধানের নামে মিথ্যা সমাধান কাম্য নয়। যারা রাজনৈতিক সমাধানের চিন্তা বাদ দিয়ে কেবল ক্ষমতার জন্য ব্যস্ত এবং ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত, তাঁরা জানেন না যে তাঁরা নিজেদের অজান্তে অতল গহ্বরে তলিয়ে যাওয়ার পথে অগ্রসর হচ্ছেন।
মইনুল হোসেন: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লিওনেল মেসির এই কাজটি ভাল হয়নি > এই কাজটি ভাল হয়েছে...
খেলা শুরুর আগে একটি শিশুর বাড়িয়ে দেয়া হাত প্রত্যাখ্যান করেছেন মেসি! ছোট্ট শিশুটিকে ওভাবে উপেক্ষা করা কি তার মতো ভদ্র খেলোয়াড়ের সাজে!!
তবে পাঠক, এতোটুকু পড়ার পর দয়া করে মেসির প্রতি বিরক্ত হবেন না। এটা মজা করে বলা! শিশুটি আসলে এতোই ছোট যে তাকে মেসির দৃষ্টিগোচরই হয়নি। নিচের দিকে তাকালে নিশ্চয় চোখে পড়তো। যাইহোক, বেচারা শিশু! ওর কপালটাই খারাপ। ভাগ্য ভালো হলে দ্বিতীয়বার কোথাও দেখা হবে, হাত মেলানোরও সুযোগ হতে পারে। অবশ্য পরে তিনি ওই শিশুকে নিজ কক্ষে ডেকে নেন। মেসি মেসির মতোই কাজ করেছেন!!!
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবারো আনুষ্কায় মজেছেন রণবীর

জয়া আক্তারের ‘দিল ধারাকনে দো’ চলচ্চিত্রটির শ্যুটিংয়ে অংশ নেয়ার জন্যে রণবীর-আনুষ্কা দুজনেই বর্তমানে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থান করছেন। এই চলচ্চিত্রটিতে রণবীরে বিপরীতে রয়েছেন আনুষ্কা। এছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে আরো অভিনয় করছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, ফারহান আক্তার, অনিল কাপুর, রাহুল বোস প্রমুখ।
এদিকে ‘দিল ধারাকনে দো’ চলচ্চিত্রটির শ্যুটিং শুরু সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন মাধ্যমে খবর বের হয় যে, রণবীর-আনুষ্কার মধ্যে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে পুরনো প্রেমিকার সঙ্গে একান্তে কিছুটা সময় কাটাচ্ছেন বলিউডের এই সুইট বয়।
তবে দেখার বিষয় হলো রণবীর-আনুষ্কার লুকোচুরি গল্পটা কতদিন চলে। নাকি শ্যুটিং শেষে আবারো নিজ গন্তব্যে ফিরে যাবেন দুজনে, তা জানার জন্যে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাঁদছে ব্রাজিল- নেইমার ছাড়া পারবে কি?

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেইমারের জন্য সমব্যথী ম্যারাডোনা-মেসিরাও

ভেনেজুয়েলার একটি টিভিকে ম্যারাডোনা বলেছেন, ‘এটা ভয়াবহ একটা ব্যাপার। কেবল ব্রাজিলের জন্যই নয়, গোটা ফুটবল দুনিয়ার জন্যই এটা উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বকাপ হচ্ছে নেইমারের দেশের মাটিতে। গোটা দেশের অনেক প্রত্যাশা ছিল তাঁর ওপর।’
লিওনেল মেসি তাঁর বার্সা সতীর্থের ব্যাপার দারুণ উদ্বিগ্ন। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘আশা করছি তুমি খুব দ্রুতই সেরে উঠবে বন্ধু।’ ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে আছে বার্সেলোনার জার্সি গায়ে নেইমারের সঙ্গে তোলা তাঁর একটি ছবি।
ব্রাজিলের সেমির প্রতিপক্ষ জার্মানি। প্রতিদ্বন্দ্বীর সবচেয়ে বড় ভরসা ওই ম্যাচে খেলবেন না, মেসুত ওজিলের তাতে ‘খুশি’ই হওয়ার কথা। কিন্তু নেইমারের জন্য উদ্বেগই প্রকাশ করেছেন ওজিল। জার্মান তারকা টুইটারে লিখেছেন, ‘নেইমারের জন্য খুব খারাপ লাগছে। আশ করছি সে খুব দ্রুতই সেরে উঠবে।’
ব্রাজিলিয়ান তারকা পাতো লিখেছেন, ‘ছোট ভাই তোমার অনেক শক্তি। আমরা সবাই তোমার সঙ্গে আছি।’ ’৮৬-এর বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট বিজয়ী ইংলিশ কিংবদন্তি লিনেকার টুইট করেছেন, ‘নেইমারের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়া ব্রাজিলের জন্য বিরাট ধাক্কা।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুজরাটের মোদি আর দিল্লির মোদি এক নয় by মাহফুজ মিশু
সুষমার ঢাকা সফরকে তাই বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। সুষমার সফর কাগজে-কলমে ছিল তিনদিনের। বাস্তবিক অর্থে তিনি সময় পেয়েছেন দেড় দিনেরও কম। কিন্তু এ পুরোটা সময় সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করেছেন পরিপক্ব এই রাজনীতিবিদ। জানাই ছিল, শুভেচ্ছা সফর এটি। মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো দিল্লি সফরের আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিতে তার এ সফর। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক তো আছেই। এসবের বাইরে খুব বেশি কিছু করার অঙ্গীকার যেমন ছিল না ভারত সরকারের, তেমনি কোনো চুক্তি বা সমঝোতা যে হচ্ছে না, তাও জানা ছিল বাংলাদেশের।
তারপরও প্রত্যাশা ছিল, তিস্তার পানিবণ্টন, স্থলসীমা চুক্তি কিংবা সীমান্ত উত্তেজনার মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। জানা যাবে, বোঝা যাবে বিজেপি সরকারের মনোভাব। মনে রাখা ভালো, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে প্রধানমন্ত্রী ডক্টর মনমোহন সিং এবং নয়াদিল্লির অনেক আশ্বাসের পরও তিস্তার পানিবণ্টন ও স্থলসীমা নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নয়াদিল্লি বারবার জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আপত্তির কারণে তিস্তা চুক্তি সই করা সম্ভব হয়নি। আর সে সময় লোকসভায় ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় স্থলসীমা চুক্তি নিয়েও জটিলতা মেটেনি। এখন একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বিজেপি। কাজেই কোনো বিল বা প্রস্তাব সংসদে পাস করাতে অন্য কারও ওপর নির্ভরশীল নয় নরেন্দ্র মোদির সরকার। আবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে সম্পর্ক দিনকে দিন ভালো হচ্ছে ক্ষমতাসীন বিজেপির। যেমন ঢাকা আসার আগের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ যে মমতা ব্যানার্জীকে ফোন করেছেন, তাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মমতা জানিয়েছেন, এ সৌজন্যটুকু গেল কংগ্রেস সরকার তার সঙ্গে দেখায়নি। মমতা ব্যানার্জী স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমস্যা জিইয়ে রাখার পক্ষে নন তিনি। এসব ঘটনা নিশ্চয়ই এই ইঙ্গিত দেয় যে, তিস্তার পানিবণ্টন আর স্থলসীমা চুক্তি নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির টানাপোড়েন কেটে যাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে নিশ্চয়ই ভারতের এই মনোভাব স্পষ্ট করেছেন সুষমা স্বরাজ। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত বক্তৃতায় সুষমা স্পষ্ট করে তিনটি ইস্যুর কথা বলেছেন। তিস্তার পানিবণ্টন, স্থলসীমা চুক্তি সই আর নিরাপদ সীমান্ত। এসব বিষয়ে সমাধান চায় তার সরকার। যদিও কবে নাগাদ এসব চুক্তি হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা মেলেনি। অবশ্য একই অনুষ্ঠানে নিজ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার উদাহরণ টেনে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণে তার দেশের সহযোগিতার মনোভাবও স্পস্ট করেছেন সুষমা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে যে সম্মান আর আন্তরিকতা পেয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তা তাকে মনে রাখতে হবে অনেকদিন। নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে যে পত্রটি লিখেছেন, সেটি দুই পাতার। কাজেই এটিকে নেহায়েত ‘কূটনৈতিক চিঠি’ ভাবার সুযোগ নেই। সেই চিঠিতে শেখ হাসিনা সরকারের প্রশংসার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন মোদি। খুব শিগগিরই হয়তো শীর্ষ দুই নেতার বৈঠক হতে পারে। যৌক্তিকভাবে আশা করা যেতে পারে, অচিরেই দৃশ্যমান হবে ভারত সরকারের ইতিবাচক মনোভাব, সই হবে আলোচিত দুই চুক্তি। বিএনপিবিহীন পাঁচ জানুয়ারি নির্বাচনের পর গঠিত সরকার নিয়ে পশ্চিমাদের মনোভাব জানা। এ সরকারকে অবৈধ আখ্যা দেয়া বিএনপিও সেই নির্বাচন নিয়ে সোচ্চার বিদেশীদের দরবারে। দ্রুত নতুন ও সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চায় দলটি। নির্বাচনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও সে রকম অবস্থানই নিয়েছিল। যদিও পরে আর এ নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামায়নি পশ্চিমারা। এরকম বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান ও চীন সফর এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শুরুতে খানিকটা অনিশ্চয়তা থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রায় আধাঘণ্টার বৈঠক হয় সুষমা স্বরাজের। হোটেল লবিতে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা নিয়ে খানিকটা বিতর্ক হলেও ভারতের মনোভাব ভালোভাবেই জেনেছেন বেগম জিয়া। দেশে বর্তমানে গণতন্ত্র নেই- এরকম মনোভাব ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বিএনপি। আর বিশেষ কোনো দল বা ব্যক্তি নয়, ভারত বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেয় বলে বিএনপিকে জানিয়েছেন সুষমা স্বরাজ। এর বাইরে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে গিয়ে দেখা করেছেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতাও স্পষ্ট করেছেন, পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন কিংবা বর্তমান সরকার প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে। এসব কথার সত্যতা মেলে বিমানবন্দরে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবর উদ্দিনের ব্রিফিংয়ে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকে, তাহলে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক অটুট থাকবে কি-না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পর্ক আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। অভ্যন্তরীণ কোনো ঝামেলা থাকলে সেটি সমাধানের দায়িত্ব এ দেশের মানুষের।
প্রশ্ন উঠতে পারে, এ সফরের অর্জন কী? পালাটানা থেকে আরও ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, ঢাকা-গৌহাটি বাস সার্ভিস, চারটি নতুন সীমান্ত হাট, শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ কিংবা ১৩ বছরের নিচের ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বাংলাদেশীদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল ভিসা, যৌথ নদী কমিশন ও পরামর্শক গ্র“পের বৈঠক নিয়মিত করার ব্যাপারে ঐকমত্য ছাড়াও আরও অর্জন কিন্তু আছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি- দু’দলের নেতারাই বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে, এ দেশের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায় নরেন্দ্র মোদির সরকারও। একই সঙ্গে তার সরকারের মনোভাবও বোঝা গেছে বলে দাবি তাদের। প্রশ্ন উঠেছিল, নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিদেশনীতি কি ভারতীয় আমলারা ঠিক করবে নাকি রাজনীতিকরা? বাংলাদেশ সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিশাল আর বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারের পররাষ্ট্র নীতির নির্ধারক রাজনীতিকরাই। তাই যদি হয়, তবে সেটি নিঃসন্দেহে ভালো বাংলাদেশের জন্যও। কারণ গঙ্গার পানি চুক্তি, ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস চালুর মতো দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর নিরসন কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়েই হয়েছে। আর একটা কথা মনে রাখা দরকার। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর রাইসিনা হিলের বাসিন্দা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এক করে দেখলে হবে না। মাথায় রাখতে হবে, নরেন্দ্র মোদি কেবল ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েই থাকতে চান না, কৌশলগত কারণেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী আর ক্ষমতাধর রাজনীতিক হওয়ার দৌড়েও প্রথম হতে চান। এত কিছু পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি নিশ্চয়ই নিতে চাইবেন না নরেন্দ্র মোদি। আর তারই শুভ সূচনা করে গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সামনের পাঁচটি বছর তাই নতুন মাত্রা পাবে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক- এমন প্রত্যাশা করা যেতেই পারে।
মাহফুজ মিশু : সংবাদকর্মী
mishubdf@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায় by ফরহাদ মজহার
এগুলো নতুন কথা নয়। তিনি ঠিক এভাবে বলেছেন, সেই দাবি আমি করব না। সেদিন তার বক্তব্যটি ছিল চমৎকার, সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের উৎকণ্ঠার জায়গা তার কথায় যেমন ধরা পড়েছিল, একই সঙ্গে তিনি এই পরিস্থিতিতে বিএনপির কর্তব্য সম্পর্কে খুবই গঠনমূলক কিছু প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিএনপির নেতৃবৃন্দ সেই সভায় হাজির ছিলেন। সেই পরামর্শ তাদের কেমন লেগেছিল জানি না, কিন্তু তিনি কেন বিএনপি বিলীন হয়ে যাবে বলেছেন, তাতে অনেকেই উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। অথচ জাফর উল্লাহ্ চৌধুরীর বক্তৃতাই ছিল একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিএনপিকে সতর্ক করা, বিএনপির অতীতের সফলতা-ব্যর্থতার খতিয়ান মনে রেখে বাংলাদেশে একটি সহনশীল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া কিভাবে জারি রাখা যায়, তিনি সেই দিকে নজর রেখেই কথা বলছিলেন।
তার একটি পরামর্শ মনে আছে। বলেছিলেন, সুপ্রিমকোর্টে বিএনপির আইনজীবীরা আছেন। তারা দুর্বল নন। তারা তো নিদেনপক্ষে প্রধান বিচারপতির কাছে এই প্রার্থনা জানাতে পারেন যে, গত নির্বাচনে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে, নাগরিকদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অতএব প্রধান বিচারপতির উচিত স্বপ্রণোদিত হয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটা ব্যাখ্যা চাওয়া। এটি প্রধান বিচারপতি শুনবেন সেটা আশা করা যায় না। কিন্তু জাফর ভাইয়ের যুক্তি ছিল বিএনপি রাস্তায় দাঁড়াতে পারছে না। তার বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চলছে। তাহলে তাকে এমন কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে নেতারা বসে নেই। আইনি কাঠামোর মতো যা করা সম্ভব সেটা নেতারা করছেন। নিদেনপক্ষে এই তৎপরতাটুকু জারি রাখা জরুরি। অর্থাৎ কোনোভাবেই আন্দোলনে বিরতি দেয়া ঠিক হবে না। সেটা হবে আত্মঘাতী। কিন্তু জাফর ভাই বিএনপি বিলীন হয়ে যেতে পারে কেন বলেছেন, তাতেই সেদিন বিএনপির কয়েকজন নেতা রুষ্ট হয়ে গিয়েছিলেন। বিএনপি যদি বিলীন হয় তো দলটির সমালোচনায় নেতাদের রুষ্ট হওয়ার এটাও একটি কারণ। যারা এখনও মনে করে, বিএনপি বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশের জনগণকে সাময়িক হলেও মুক্তি দিতে পারবে, তাদের পরামর্শ না শোনা।
যে কোনো দলই বিলীন হয়ে যেতে পারে। চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়। ঐতিহাসিক বাস্তবতা যদি বিচার করি তাহলে আওয়ামী লীগেরই বরং বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রবল। কিন্তু আওয়ামী লীগ দাঁড়িয়ে গেছে প্রথমত মতাদর্শিক লড়াইকে গুরুত্ব দেয়ার কারণে। বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের লালন-পালন করার প্রতি আওয়ামী লীগের নিষ্ঠার তুলনায় বিএনপি কিছুই না। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ব্যাপারটা আসলে কী সেটা বিএনপি তার নিজের কর্মীদেরও বোঝাতে পারেনি। নেতাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা এর ব্যাখ্যা করে বলতে পারবেন কি-না সন্দেহ। আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে যে চারটি স্তম্ভ খাড়া করেছে সেটা সব সময়ই তাদের খুঁটির মতো কাজ করেছে। ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র। এই আদর্শের বিপরীতে বিএনপির আরও অগ্রসর আদর্শ নিয়ে দাঁড়ানো ছিল জরুরি। বাকশালি আমলকে এ দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করার মধ্য দিয়ে মূলত আওয়ামী লীগের মতাদর্শকেই জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদীরা এর বিপরীতে কোনো মতাদর্শ খাড়া করতে পারেনি। ফলে এই দলটির রাজনীতির সারবস্তু হয়ে উঠেছিল আওয়ামী লীগ এবং দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরোধিতা। এটা দিয়ে বেশিদূর যাওয়া যায় না। বিএনপি গিয়েছিল, কারণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি তাদের পক্ষ ছিল। আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রবাদী অর্থনীতির বিপরীতে বিএনপি অবাধ বাজার ব্যবস্থার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা নির্বিশেষে বাংলাদেশের সবাই নাগরিক, তার মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি হিসেবে বাঙালি জাতি একটি মাত্র জাতি। বাংলাদেশের আরও ক্ষুদ্র জাতিসত্তা রয়েছে। জিয়াউর রহমান এই দৃষ্টিভঙ্গিতে রাষ্ট্রের পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিকতা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও আত্মপরিচয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয়তা আলাদা- এ সত্যটা ধরতে পেরেছিলেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রচিন্তার জন্য তা ছিল অগ্র পদক্ষেপ। কিন্তু তিনি নিজে এর গণতান্ত্রিক তাৎপর্য কতটুকু বুঝেছিলেন বলা মুশকিল। জাতি অর্থে বাঙালি ও রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশী হওয়ার মধ্যে কোনো স্ববিরোধিতা নাই- এটা বিএনপির রাজনীতিতে কখনোই স্পষ্ট ছিল না, এখনও নাই। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে দুটিই হতে পারে এবং এই ধারণাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ কিংবা জাতীয় পরিচয় থেকে বাংলাদেশী কথাটা আলাদা করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কেন জরুরি, এটা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জনগণকে বোঝাতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিরোধিতা করার একটা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। যা একসময় ব্যাকফায়ার করেছে। কারণ বাঙালি জাতিসত্তাকে যারা একই সঙ্গে তাদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পরিচয় গণ্য করে, তারা ভেবেছে এটা বাঙালি হিসেবে তাদের জাতিসত্তা ও আত্মপরিচয়ের ওপর আঘাত। আশির দশকের পর থেকে তারা জাতীয়তাবাদী চেতনার জায়গা থেকে সংগঠিত হতে পেরেছে। একেই তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হিসেবে দাবি করতে শুরু করে এবং বিএনপির রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রমাণ করতে ধীরে ধীরে তারা সক্ষম হয়ে ওঠে। বুদ্ধিবৃত্তিক বা মতাদর্শিকভাবে একে মোকাবেলা করার কোনো শক্তি বিএনপির ছিল না। এখনও নাই।
জাতি পরিচয় ও নাগরিক পরিচয় যদি বাঙালির ক্ষেত্রে আলাদা হয়, তাহলে সেটা অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বেলাতেও সত্য। কিন্তু বোঝাবুঝির ক্ষেত্রে বিএনপির অস্পষ্টতার জায়গা সহজে ধরা পড়ে অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিসত্তার প্রতি বিএনপির রাজনীতিতে। বিএনপি একে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সমস্যা ও সংকট হিসেবে না দেখে সংখ্যালঘু জাতিসত্তার বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জাতির স্বার্থ রক্ষার দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখেছে। পক্ষাবলম্বন করেছে বাঙালিদের প্রতি। শেখ মুজিব তাদের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষগুলোকে বাঙালি হয়ে যেতে বলেছেন, জিয়াউর রহমান ও বিএনপি তাদের বাংলাদেশী হতে বলেছেন- এটাই পার্থক্য, কিন্তু তাদের জাতিসত্তার স্বীকৃতি ও সম্পত্তিতে তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার মেনে নেননি। ফল হয়েছে সশস্ত্র যুদ্ধ। বলাবাহুল্য, এ ক্ষেত্রে ভারতের যতই হাত থাকুক, সংখ্যালঘু জাতিসত্তা নিপীড়তই হয়েছে। বিএনপি শেখ মুজিবুর রহমানের সাম্প্রদায়িক ও জাতীয়তাবাদী বর্ণবাদকেই চর্চা করেছে। সেটা করেছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের নামে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, নতুন মতাদর্শ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতি পরিগঠনের যে সম্ভাবনা ছিল, বিএনপি তা অংকুরেই নষ্ট করেছে। এর পর জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামী দলের সঙ্গে তার আঁতাতে বিএনপি নিজেকে জামায়াত ঘেঁষা দল হিসেবে ক্রমে ক্রমে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এর কারণ হচ্ছে, একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা সম্পর্কে বিএনপির নিজের কোনো মূল্যায়ন নেই, জামায়াতে ইসলামীও এই ভূমিকার কারণে বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনীতির গণতান্ত্রিক বা উদারনৈতিক বিকাশ কিভাবে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় তাকে গুরুত্ব দেয়নি। আজও দেয় না। ইসলামপন্থীদের জন্য এটা এক বিরাট বোঝা।
জামায়াতে ইসলামী রাজনীতিতে যতই দৃশ্যমান হয়েছে, সমান তালে ও তার চেয়েও অধিক মাত্রায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে সংঘবদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের জন্য জামায়াতে ইসলামী নামে জামায়াত নেতৃবৃন্দের রাজনীতি অব্যাহত রাখাই বিশেষভাবে দায়ী। জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বিএনপির অভ্যন্তরীণ অন্তর্দ্বন্দ্ব^ও শুরু হয়। এখনও জারি আছে। অবস্থা অনুযায়ী তা প্রকটও হয়।
এরপরও বিএনপি জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি বিনিয়োগ করে চলছিল, খালেদা জিয়া রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আপসহীন নেত্রী হিসেবে যে ভাবমূর্তি গড়ে তোলেন, সেটাও বিএনপির কাজে লাগে। কিন্তু বিএনপি জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অভিযোগের জবাব দিতে ব্যর্থ হয়। তাদের অভিযোগ হচ্ছে, বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে। কারণ জিয়াউর রহমান সৈনিক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাঘটনের ফলাফলেই জিয়াউর রহমানের উত্থান। তিনি টিকে গিয়েছেন কারণ সাতই নভেম্বরে সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানে তিনি এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ ও সাধারণ সৈনিকদের মৈত্রীর প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। জিয়াউর রহমান নিজেও তার এই ঐতিহাসিক তাৎপর্য বোঝেননি। যদি বুঝতেন তাহলে তিনি ক্ষমতায় গিয়ে বাহাত্তরের সংবিধান মেনে নিতেন না। ফেলে দিয়ে নতুন সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করতেন।
দুটি কারণে তার উচিত নতুন সাংবিধানিক সভা ডাকা ও নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করা। প্রথম কারণ হচ্ছে, বাহাত্তরের সংবিধান আওয়ামী লীগের দলীয় মতাদর্শের ভিত্তিতে রচিত। এতে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার কোনো প্রতিফলন নাই। কারণ এই সংবিধান প্রণয়নের জন্য কোনো সংবিধান প্রণয়নী সভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। পাকিস্তানের সংবিধানের অধীনে যারা পাকিস্তানের সংবিধান রচনার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল, তারাই ডক্টর কামাল হোসেন লিখিত ও ডক্টর আনিসুজ্জামান অনূদিত রচনাকে সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করে। এখনও বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান ডক্টর কামাল হোসেন লিখেছেন। যদি তাই হয়, তাহলে ব্যক্তির রচনা কিভাবে জনগণের ইচ্ছা ও সংকল্পের অভিপ্রায় হয়? কিন্তু বাংলাদেশে এটা সম্ভব হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এই সংবিধান স্বাধীনতার ঘোষণার মূল যে তিন নীতি তার ভিত্তিতে প্রণীত হয়নি। সেটা আওয়ামী লীগের চার স্তম্ভ নয়। বরং সেই ঘোষণা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ইনসাফ। জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা হয়েও বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল করে নতুন সাংবিধানিক প্রক্রিয়া গ্রহণ করেননি। তিনি বলতে পারতেন, স্বাধীনতার ঘোষণার ভিত্তিতেই তিনি ও বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে নিয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ রক্ত দিয়েছে। এর ভিত্তিতে নতুন সংবিধান বা গঠনতন্ত্র প্রণীত হবে। সেটা তিনি করেননি। এটা ছিল তার চরম অনভিজ্ঞতা ও অদূরদর্শিতার পরিচয়। তার মূল্য তিনি দিয়েছেন।
এই মূল্যায়ন তাহলে অমূলক নয় যে তিনি সামরিক বাহিনী থেকে এসেছেন বলে সংবিধান স্থগিত রেখে সামরিক শাসন জারি করে শাসন করেছেন। সামরিক শাসনের অধিক কিছু ভাবতে পারেননি। ততটুকুই তিনি সংবিধান সংশোধন করেছেন, যতটুকু তার সামরিক শাসনকে বৈধ করার কাজে দরকার বোধ করেছেন। সামরিক শাসক হিসেবে বাহাত্তরের সংবিধান মেনে নিয়ে তিনি বাহাত্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকেই মেনে নিয়েছেন। সাম্প্রতিককালে তার আমলের সংবিধান সংশোধন আদালত অবৈধ বলেছে। একেই আমি বলছি অদূরদর্শিতার জন্য মূল্য পরিশোধ। আদালতের রায় তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
বিএনপির দুর্বলতা বোঝার জন্য আমি সাম্প্রতিক রাজনীতির ওপর জোর দিতে চাই না। ফলে গোড়ার কয়েকটি বিষয় নিয়ে বললাম। কারণ গোড়ায় না গেলে বিএনপির পক্ষে কোনো উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্ম দেয়া অসম্ভব। নিজের ইতিহাস পর্যালোচনা করেই বিএনপিকে দাঁড়াতে হবে। যদি সেই পর্যালোচনার সামর্থ্য তার থাকে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে নির্বাচনপন্থী উদার রাজনীতি আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের পক্ষে এখন বলাবলি শুরু হয়েছে, গণতন্ত্র দিয়ে কী করব, দরকার ভালো শাসনব্যবস্থা। অন্যদিকে যেসব দেশে ইসলাম সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্ম, সেসব দেশে জনগণ উদার রাজনীতির ওপর কতদিন ভরসা করে থাকবে, সেটাই সন্দেহ। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার অনেক দেশে সাম্প্রতিককালে যা ঘটছে, বাংলাদেশের জনগণের ওপর তার প্রভাব পড়ছে। বলাবাহুল্য, ইরাকের সাম্প্রতিক ঘটনা এ দেশের জনগণের চিন্তা-চেতনায় গভীর প্রভাব ফেলবে। ফেলতে বাধ্য।
আমরা দুনিয়াতে কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করি না। পরিবর্তন ঘটতে কতক্ষণ? হাওয়া বদলায়।
চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়!
৪ জুলাই ২০১৪। ২০ আষাঢ় ১৪২১। শ্যামলী।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুশাসন তথা ত্বরান্বিত বিচার by আলী ইদরিস
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হারলে লিওনেল মেসিকে দোষ দেবেন না -দিয়েগো ম্যারাডোনা

ম্যারাডোনার মন্তব্যের পর ল্যাটিন আমেরিকার খবরের কাগজে হইচই শুরু হয়ে যায়। খবর পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা শিবিরে। ব্রাসিলিয়া যাওয়ার আগে মেসিরা রুদ্ধদ্বার অনুশীলন করেন। সেখানে বার্সেলোনা তারকাকে পাওয়া গেল হাল্কা মেজাজে। প্রস্তুত বেলজিয়ামও। পরিসংখ্যান বলছে, বেলজিয়াম গোলকিপার থিবো কুর্তোয়া ও লিওনেল মেসির টক্কর হয়েছে স্প্যানিশ লীগে। কুর্তোয়া স্পেনের অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে খেলেন। মেসি বার্সেলোনাতে। ফলে লা-লীগা, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, সুপার কাপ মিলিয়ে গত মৌসুমে সাতবার দেখা হয়েছে। একবারও কুর্তোয়াকে বোকা বানিয়ে বল জালে ঠেলতে পারেননি মেসি।
উপরের পরিসংখ্যান পড়ার পর আর্জেন্টিনা ভক্তরা চমকে উঠতে পারেন। বিশ্বসেরা গোলকিপারদের মধ্যে কুর্তোয়া অন্যতম। সাবেক ডাচ গোলকিপার ভ্যান ডার সার বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস আগে কুর্তোয়াকে লম্বা চওড়া সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। সেই কুর্তোয়া আবার ইএসপিএনে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘মেসির বিরুদ্ধে বহু ম্যাচ খেলেছি। বড় ফুটবলার সন্দেহ নেই। কিন্তু মাঠে আমি একবারও ভয় পাইনি। আমার বিরুদ্ধে মেসি গোল করতে পারেনি। মেসির পায়ে বল গেলেই আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সতর্ক হয়ে জেগে ওঠে।’

আজকের ম্যাচ নিয়েও কুর্তোয়া অকুতোভয়। বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনার রক্ষণ নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করেছি। আমাদের ফরোয়ার্ডরা ওদের হারাতে পারবে বলে মনে হয়।’ যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচের পরেই বেলজিয়াম কোচ মার্ক উইলমটস বলেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে খেলার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।’ কোচের কথার প্রতিধ্বনি কুর্তোয়ার মুখে। ফলে সেখানে মেসি একা কী করবেন। এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন ম্যারাডোনা। বলেছেন, ‘ওর ঘাড়ে অনেক বেশি, এত চাপ দেয়া ঠিক নয়। কেউ নেই ওর পাশে। একটা ফাইনাল পাস কেউ ঠিকভাবে দিতে পারে না।’ টিমের রক্ষণ সংগঠন নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন আর্জেন্টিনার সাবেক কোচ। তিনি এখন ভেনিজুয়েলাতে কোচিং করাতে চলেছেন।

একটাই ভালো লক্ষণ টিমের সবই মেসির পাশে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্র্যাকটিসের পর পাবলো জাবালেতা স্বীকার করে নিয়েছেন, ‘গোটা টিম মেসিনির্ভর। আমরা সেই মেসিকে সাহায্য করছি। সব সময় ঠিক মতো সাহায্য করতে পারছি তা বলব না। তবে এটুকু বলছি বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে আমাদের অন্য চেহারায় দেখতে পাবেন। কারণ আমাদের টিমে মেসি আছে। ওর জন্য সবাই নিজেদের উজাড় করে দেব।’ খুশির খবর, চোট সারিয়ে আগুয়েরো প্র্যাকটিসে ফিরে এসেছেন। ওয়েবসাইট।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্রাজিলের তারকা খেলোয়ার নেইমারের ২০১৪ বিশ্বকাপ শেষ!

>>কলম্বিয়ার জুয়ান জুনিগার হাঁটুর গুতোয় মেরুদণ্ডে আঘাতের পর নেইমার
কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে দাপুটে ২-১ দাপুটে জয়ে জার্মানির বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে এই ম্যাচ থেকে দুশ্চিন্তার খোরাক ভক্তদের কপালে ভাঁজ ফেলে দেয়। শেষ ১০ মিনিটের মাথায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ার মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপটিই শেষ হয়ে গেল নেইমারের। সেই সঙ্গে কলম্বিয়ার গোলরক্ষক দাভিদ ওসপিনাকে অহেতুক ফাউল করে টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখা থিয়াগো সিলভাও তো খেলতে পারবেন না সেমিফাইনাল।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মীরের মানুষের মন জয় করতে চাই: মোদি
![]() |
| নরেন্দ্র মোদি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রহস্যমানব সিসির অধীনে অনিশ্চয়তায় মিসর
![]() |
| আবদেল ফাত্তাহ আল–সিসি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বেকায়দায় তাপস পাল, সাংসদপদ খারিজের দাবি
![]() |
| তাপস পাল |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গীতিনাট্যে ক্লিনটন যেমন
![]() |
| বিল ক্লিনটন |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কোথায়, কেমন দামে পাবেন নির্মাণ সামগ্রী

ইট ও বালি
নির্মাণের শুরুতেই ইট ও বালির প্রয়োজন হয়। আরসিসি পিলার ও ছাদের ঢালাই সহ যে কোন ধরনের ঢালাই কাজে কংক্রিট তৈরি করতে হয়। কংক্রিটের অন্যতম উপাদান পিকেট বা ইটের খোয়া। আর গাঁথুনীতে প্রয়োজন হয় আস্ত ইট। এই পিকেট ও ইটের দাম হাজার প্রতি ৬,০০০ -৬,৫০০ টাকা। ঢাকার গাবতলী, আশুলিয়া ও সাভার এবং নারায়ণগঞ্জের পাগলা ও মুন্সিখোলায় রয়েছে ইটের ভাটা।
ঢালাইয়ের কংক্রিট, গাঁথুনী, আস্তরণ তৈরির অন্যতম উপকরণ বালি, বালির প্রকারভেদের সাথে এর প্রাপ্তিস্থানেরও পার্থক্য রয়েছে। ময়মনসিংহের মোটাবালি ১ ট্রাকের দাম ট্রাক ভাড়াসহ ৭,৫০০-৯,০০০ টাকা। ১ ট্রাকে ৫০০ ফিট বালি ধরে। সিলেটের লাল বালি (সিলেকন বালি) ২০০ ফিটের ট্রাক ভাড়াসহ দাম ৫,৫০০-৮,০০০ টাকা। আস্তরণ বা গাঁথুনীর বালি পাওয়া যায় কাঁচপুর ও পাগলায়। ট্রাক ভাড়াসহ ২০০ ফিট কাঁচপুরের বালি ২,৫০০-৩,৫০০ টাকা এবং পাগলার বালি ১,৫০০-৩,০০০ টাকা। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের মুন্সিখোলায় ভিটি বালি ট্রাক ভাড়াসহ ২০০ ফিটের দাম ১,২০০-১,৮০০ টাকা এবং গাবতলীর ড্রেজার বালি ১,৮০০-২,৫০০ টাকা।
রড/স্টীল
যেকোন ধরনের ঢালাইয়ের কাজে রড/স্টীল অন্যতম প্রধান একটা উপকরণ। সাইজ ও গ্রেডের উপর নির্ভর করে রডের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বাজারে বিএসআরএম, আরএসআরএম, হাজী স্টীল, আনোয়ার স্টীল, বসুন্ধরা স্টীলসহ বিভিন্ন কোম্পানি ৪০ গ্রেড, ৬০ গ্রেড, ৭০ গ্রেড এবং নন গ্রেডের রডও পাওয়া যায়। রডের সাইজ ৮ মিলি, ১০ মিলি, ১২ মিলি, ১৬ মিলি, ২০ মিলি এবং ২৪ মিলি –এর হয়। সাইজ যত ছোট হয় দাম তত বেশি এবং বড় হলে দাম কম হয়। সাধারণত ৪০ গ্রেড থেকে ৭০ গ্রেডের প্রতি টন রডের মুল্য ৫৮,০০০ টাকা থেকে ৭০,০০০ টাকা। ঢাকার নয়াবাজার, ইংলিশ রোড, দয়াগঞ্জ, কুড়িল বিশ্ব রোড এবং নারায়ণগঞ্জের পাগলায় রডের আড়ৎ/বড় বাজার রয়েছে।
সিমেন্ট
গাঁথুনী, আস্তরণ ও ঢালাইয়ের কাজ দৃঢ় বন্ধনের ব্যবস্থা করে সিমেন্ট। পাইলিং/আন্ডারগ্রাউন্ডে ব্যবহৃত সিমেন্টে ক্লিংকারের পরিমাণ ৮০ শতাংশেরও বেশি হতে হয়। এছাড়া ঢালাইয়ে ক্লিংকারের পরিমাণ ৬৫ শতাংশের বেশী এবং গাঁথুনী/আস্তরণে ৫০ শতাংশের বেশি ক্লিংকার থাকতে হয়। কোম্পানি ভেদে এর দাম প্রতি ব্যাগ ৩৫০-৪২০ টাকা হয়ে থাকে। বাজারে শাহ সিমেন্ট, কনফিডেন্ট সিমেন্ট, স্ক্যান সিমেন্ট, এলিফ্যান্ট সিমেন্ট, টাইগার সিমেন্ট, সেভেন রিংস সিমেন্ট, মদিনা সিমেন্ট, সেভেন হর্স সিমেন্ট পাওয়া যায়। প্রতি ব্যাগে ৫০ কেজি সিমেন্ট থাকে। নারায়ণগঞ্জের মুন্সীখোলা ও পাগলায় সিমেন্টর বড় বাজার আছে। এছাড়া কোম্পানির ডিলারদের নিকট থেকেও পাইকারি দামে সিমেন্ট পাওয়া যায়।
টাইলস
আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমানে বাড়ির মেঝে/ফ্লোর, বাথরুমের ফ্লোর ও দেয়াল এবং কিচেনের ফ্লোর ও দেয়ালে টাইলস ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশীয় ও চায়নার তৈরি টাইলস মার্কেটে পাওয়া যায়। দেশীয় কোম্পানির মধ্যে রয়েছে মীর সিরামিকস, আরএকে সিরামিক, সান ফ্লাওয়ার সিরামিক, মধুমতি সিরামিক ও ফুওয়াং সিরামিকের টাইলস পাওয়া যায়। যাত্রাবাড়ি, বাংলামোটর, মহাখালি, উত্তরা, ও বাড্ডাতে টাইলসের বিশাল বাজার রয়েছে। ৪”/৪”, ৬”/৬”, ৮”/৮”, ৮”/১০”, ১০”/১০” , সাইজের টাইলস কিচেন/বাথরুমের দেওয়ালে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ১২”/১২”, ১২”/১৬”, ১২”/১৮”, ১৮”/১৮”, ৩০”/৩০” এবং ২´/২´ সাইজের টাইলস ফ্লোর/মেঝেতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাধারণ বিদেশী টাইলস প্রত্যেত বর্গফুটের দাম ৭০ টাকা – ১৮০ টাকা এবং দেশি টাইলসের দাম ২৫ টাকা – ১২০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন, প্রাকৃতিক দৃশ্য, আরবী লেখা সহকারে প্রত্যেক বর্গফুট বিদেশি টাইলস ২৫০-৫৫০ টাকা এবং দেশি টাইলস ১৫০ টাকা – ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়।
কাঠের বা প্লাস্টিকের দরজা
বাসা এবং ঘরের নিরাপত্তার জন্য দরজার গুরুত্ব অপরিসীম। ঢাকার কুতুবখালি, নয়াবাজার, পান্থপথ, রোকেয়া সরনি, বাড্ডা ও কুড়িল বিশ্বরোডে পাইকারি দরে দরজা পাওয়া যায়। এসব এলাকার দোকানে প্রাপ্ত দরজার পাল্লার দাম ৫,০০০-৮,০০০ টাকা এবং চৌকাঠ/ফ্রেমের দাম ২,০০০-৪,০০০ টাকা। খোলা বাজার ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন আলিবাবা ডোর, নাভানা ফার্নিচার, অটবি ফার্নিচার, আকতার ফার্নিশার্স ও ব্রাদার্স ফার্নিশার্স বিভিন্ন ডিজাইনের মানসম্পন্ন ও টেকসই দরজা বিক্রয় করে থাকে। এসব কোম্পানীর তৈরী চৌকাঠ/ফ্রেমের দাম ৩,০০০-১২,০০০ টাকা এবং দরজার পাল্লার দাম ৬,৫০০ – ৩০,০০০ টাকা হয়ে থাকে। এসব দরজাতে গর্জন, শিল কড়ই, আকাশ মনি, টিক চাম্বল ও সেগুন কাঠ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া ষ্টেডিয়াম মার্কেটে মালয়েশিয়ান কাঠের দরজা পাওয়া যায়। এর পাল্লার দাম ৬,০০০-৮,০০০ এবং চৌকাঠ/ফ্রেমের দাম ২,৫০০ টাকা পরে।
পানিতে কাঠের দরজা নষ্ট হওয়ার বেশ কয়েক বছর থেকে বাথরুমে প্লাস্টিকের দরজার ব্যবহার বেড়েছে। বংশালের পুকুর পাড়ে, পান্থপথ, মিরপুরের রোকেয়া সরনিতে চৌকাঠ/ফ্রেম এবং পাল্লার সমন্বয়ে প্লাস্টিকের দাম পড়ে ২,৫০০ – ৪,০০০ টাকা।
জানালা
ঢাকাতে কাঠের জানালার প্রচলন এখন নেই বললেই চলে। সেই স্থান দখল করে নিয়েছে থাই এ্যালুমিনিয়াম ও গ্লাস। যা এখন থাই গ্লাস নামে পরিচিত। বাজারে বিভিন্ন রংয়ের গ্লাস পাওয়া যায়। ৫ মিমি ও ৮ মিমি মাপের গ্লাস প্রত্যেক বর্গফুট ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হয়। মিটফোর্ডের বাবুবাজারে গ্লাসের আড়ৎ/বাজার রয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন সাইজের থাই এ্যালুমিনিয়াম বাজারে পাওয়া যায়।
স্যানিটারী ফিটিংস
নবাবপুরের আলুবাজারে স্যানিটারী ফিটিংসের বিশাল মোকাম রয়েছে। এখানে বেসিন ৬৫০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা এবং কমোড ৩,০০০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এছাড়া বাংলামোটর, বাড্ডা ও মিরপুরে স্যানিটারী ফিটিংস পাওয়া যায়।
পাইপ
বাজারে প্লাষ্টিকের পিভিসি পাইপ এবং লোহার তৈরি জিআই পাইপ পাওয়া যায়। এসবের সাইজ ১”/২” থেকে ১২” পর্যন্ত হয়ে থাকে। ইলেকট্রিক ওয়ারিং-এ সাধারণ মানের প্লাষ্টিকের পিভিসি পাইপ ব্যবহার করা হয়।১/২”সাইজের প্রত্যেক ফিট পিভিসি পাইপের দাম ৮-১০ টাকা। পানি ও পয়:নিষ্কাশনের লাইনের ১”/২” সাইজের প্রত্যেক ফিট প্লাষ্টিক পিভিসি পাইপের দাম ২৫-৩০ টাকা।বাজারে আরএফএল,, গাজী, আনোয়ার, ন্যাশনাল পলিমার –এর পিভিস পাইপ পাওয়া যায়। এছাড়া লোহার তৈরী ১”/২” জিআই পাইপের দাম প্রত্যেক ফিট ৩০-৫০ টাকা। নবাবপুরের আলুবাজারে পাইপের বিশাল পাইকারি মোকাম রয়েছে।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
July
(592)
-
▼
Jul 05
(21)
- 'দুর্বৃত্তদের দ্রুত গ্রেফতার করুন' -শনিবার সন্ধ্যা...
- হিন্দির আধিপত্য বনাম বহু ভাষাভাষী ভারত by কুলদীপ ন...
- সরকারি ফাঁদে পাট খাত- কোম্পানীকরণ নয়, ব্যবস্থাপনা...
- শিক্ষামন্ত্রী, মন্দকে মন্দ বলুন by সোহরাব হাসান
- ন্যাড়া, দিগম্বর ও এক আজব ফকির by ফারুক ওয়াসিফ
- অভ্যন্তরীণ সমস্যা সবই অভ্যন্তরীণ নয় by মইনুল হোসেন
- লিওনেল মেসির এই কাজটি ভাল হয়নি > এই কাজটি ভাল হয়েছ...
- আবারো আনুষ্কায় মজেছেন রণবীর
- কাঁদছে ব্রাজিল- নেইমার ছাড়া পারবে কি?
- নেইমারের জন্য সমব্যথী ম্যারাডোনা-মেসিরাও
- গুজরাটের মোদি আর দিল্লির মোদি এক নয় by মাহফুজ মিশু
- চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায় by ফরহাদ মজহার
- সুশাসন তথা ত্বরান্বিত বিচার by আলী ইদরিস
- হারলে লিওনেল মেসিকে দোষ দেবেন না -দিয়েগো ম্যারাডোনা
- ব্রাজিলের তারকা খেলোয়ার নেইমারের ২০১৪ বিশ্বকাপ শেষ!
- কাশ্মীরের মানুষের মন জয় করতে চাই: মোদি
- রহস্যমানব সিসির অধীনে অনিশ্চয়তায় মিসর
- বেকায়দায় তাপস পাল, সাংসদপদ খারিজের দাবি
- গীতিনাট্যে ক্লিনটন যেমন
- যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ...
- কোথায়, কেমন দামে পাবেন নির্মাণ সামগ্রী
-
▼
Jul 05
(21)
-
▼
July
(592)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



