Sunday, August 11, 2019

আল-আকসায় ঈদের মুসল্লিদের ওপর ইহুদিবাদীদের হামলা

ফিলিস্তিনের অধিকৃত বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের পব্ত্রি আল-আকসা মসজিদে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করতে যাওয়া মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইলের পুলিশ।
মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলি পুলিশের হামলা
আজ রোববার সকালে ঈদের জামাত শেষ করা মুসল্লিদের ওপর আকস্মিকভাবেই স্টান গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে হামলা শুরু করে ইহুদিবাদীরা। ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলেছে, তারা বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তির চিকিৎসা দিচ্ছে। এছাড়া, বেশ কয়েকজন মুসল্লিকে আটক করেছে ইসরাইলি পুলিশ। তবে কেন এই হামলা চালানো হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
ইসরাইলি সেনা ও পুলিশ এবং অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা মাঝেমধ্যেই আল-আকসা মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায়। ১৯৬৭ সালে ইসরাইল বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করে নেয়ার পর জর্দান ও ইসরাইলের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি অনুসারে মুসলমানদের উৎসবের সময় ইহুদিরা আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু ইসরাইল প্রায় সময়ই এ চুক্তি লঙ্ঘন করে। জর্দান সরকার মুসলমানদের পক্ষে পবিত্র আল-আকসা মসজিদের দেখাশুনার দায়িত্ব পালন করে থাকে।
মুসল্লিদের ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলি পুলিশের হামলা

একজন সাহারার নির্দয় বিদায় by মিজানুর রহমান

ঘটনাটি মর্মান্তিক, হৃদয় বিদারক। সামান্য মশার অত্যাচার থেকে বাঁচতে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেছিলেন। এমনটা আগেও করেছেন। কিন্তু এবার সেটাই কাল হলো। গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, মুহুর্তেই আগুনের লেলিহান শিখার আক্রমণ। অসহ্য যন্ত্রণা, ছটফট। অ্যাপোলো থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসকদের চারদিনের চেষ্টা।
স্বজনদের অপেক্ষা, প্রার্থনা-আকুতি। কিন্তু না, সব বৃথা। তিনি আর ফিরলেন না। চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সদ্য ঢাকা ফেরৎ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা হুমায়রা আক্তার জাহান। সাহারা পুতুল নামে স্বজন ও বন্ধু মহলে পরিচিত তিনি। ফেসবুকেও ওই নামেই তার অ্যাকাউন্ট। গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাঙ্গকুল (খাদিম বাড়ি)। বয়স পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই। তিন সন্তানের জননী সাহারার ফেসবুক প্রোফাইল পিকচারে নাতনির সঙ্গে ছবি খানা এখনও জ্বলজ্বল করছে। তবে তার ওয়াল ভরে গেছে শোকাহত স্বজনদের করুণ আর্তনাদে। তার চিরশান্তি কামনা করছেন তারা।
সদা হাসি-খুশি সাহারা অন্যান্য দিনের মত ৫ই আগস্ট রাতের খাবার প্রস্তুতির জন্য রান্না ঘরে ঢুকেছিলেন। কিন্তু কে জানতো সেখানেই জীবন বিধ্বংসী ঘটনার মুখোমুখি হবেন তিনি। উপস্থিত স্বামী ব্যবসায়ী সেলিম আহমেদ এবং এ লেভেল পড়ুয়া ছেলে আহমেদ আবদুল্লাহর ভাষ্য মতে, পুরো ঘটনার স্থায়ীত্ব মিনিট খানেক। হঠাৎ রান্না ঘরে বিকট শব্দ, সঙ্গে আগুনের ঝলকানি, চিৎকার। শরীরে আগুন নিয়ে সাহারা তখন দৌড়ে ড্রয়িং রুমে। তৎক্ষণাৎ তোয়ালে নিয়ে মায়ের শরীরের আগুন নেভানোর চেষ্টা ছেলের। স্বামী পানি ঢালছেন। কিন্তু এ আগুন কি এত সহজে নিভে? পাশের বাথরুমে ঠেলে শাওয়ার ছাড়ার পর যখন আগুন নিভলো, ততক্ষণে সব শেষ!
প্রতিবেশীর সহায়তায় পাশের অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হলো চটজলদি। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর রেফার করা হলো ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে। রাতেই স্থানান্তর হলেন সেখানে।
পোড়া রোগীর চিকিৎসায় বাংলাদেশের অত্যাধুনিক ঢামেক বার্ন ইউনিটে তাকে বাঁচানোর হেন চেষ্টা নেই যা করা হয়নি। চিকিৎসকদের ভাষ্য মতে, জটিলতা ছিল অনেক। তার শরীরের ৮৪ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাছাড়া তিনি আগে থেকেই ডায়েবেটিসের রোগী। ম্যানেজ করা কঠিন। তবুও চেষ্টা করে যাওয়া। কিন্তু সে কী আর হয়!
৯ই জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শারীরিক অবস্থার চূড়ান্ত অবণতি। সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি বিদায় নিলেন। হাসপাতালের বারান্দায় তখন তার সুহৃদ-স্বজনদের ভিড়। একমাত্র মেয়ে চার্টার অ্যাকাউন্টেন্ট নাবিলা বিলাপ করছেন মায়ের জন্য। তাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টায় সবাই। কান পাতলে যে আওয়াজ আসছিল সেটি বড়ই বেদনাদায়ক। তা হল- নিউইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাসরত সাহারার বড় ছেলে আহমেদ জুননুন সদ্য বাবা হয়েছেন। তার একমাত্র কন্যাকে দেখতেই সাহারা-সেলিম দম্পতি আড়াই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে তারা ছেলে-বৌমা আর নতনিকে নিয়ে ঈদ-উল ফিতর উদযাপন করেন। বেশ ভালই ছিলেন। নিয়মিত ফেসবুকে ছবি আপডেট কমেন্ট শেয়ারে তা খানিকটা হলেও অনুমেয়। স্বজনরা বিলাপ করে বলছিলেন- নিউইয়র্কে নাতনির সঙ্গে অরেকটি ঈদ উদযাপনের অনুরোধ ছিল ছেলে এবং বৌমার। মা’কে আটকানোর জন্য তারা এ-ও বলেছিল দেশে ‘ডেঙ্গু’ হচ্ছে। কিন্তু তিনি সব আবদার- অনুরোধ অগ্রাহ্য করে দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন। দেশে থাকা মেয়ে নাবিলা এবং ছোট ছেলে আহমেদ আবদুল্লাহ’র সঙ্গে  ঈদ করতে তিনি স্বামীকে নিয়ে ৩১ শে জুলাই ঢাকা ফিরেন।
ছবিঃ ফেসবুক থেকে -মানবজমিন

ডেঙ্গু কেড়ে নিয়েছে ওদের ঈদ: ১০ দিনে ২০ হাজারের বেশি রোগী ভর্তি by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপের মধ্যেই আগামীকাল ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন অনেকে। ডেঙ্গু এ পর্যন্ত কেড়ে নিয়ে শতাধিক প্রাণ। ছুটি বাতিল করা হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের। ছুটি বাতিল করা হয়েছে সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার কর্মীদের। এমন অবস্থায় ডেঙ্গুর কারণে ঈদের খুশি নেই অনেক পরিবারে। সরকারি হিসাবে প্রায় ১০ হাজার  ডেঙ্গু রোগীর ঈদ কাটবে হাসপাতালে। চলতি মাসে গড়ে প্রতিদিন আক্রান্ত হয়ে দুই হাজারের বেশি ভর্তি হচ্ছেন।
মৃতের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্কও রয়েছে। ফলে আতঙ্কের মধ্যে মানুষের ঈদের আনন্দ কম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। বহু লোক ঈদ কাটাবে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত স্বজনের সঙ্গে। ডেঙ্গুতে যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের পরিবারে এবার কোনো ঈদের আনন্দ নেই। সবমিলে এবার লাখ লাখ লোক ভয়ংকর এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু জ্বরের কারণে তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটা মাটি হয়ে গেছে! সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮ হাজার ৮৪৪ জন। বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি। মৃতের সংখ্যা এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২৯ জন বললেও বেসরকারি হিসাবে শতাধিক। প্রতিদিনই আক্রান্তের সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।

রাজধানীতে এর প্রকোপ শুরু হলেও এখন ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে রোগী বেড়ে গেছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আক্রান্তের যে তথ্য দেয়া হয়েছে তাতে এ চিত্রই পাওয়া গেছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চলতি মাসের ১০ দিনেই ২০ হাজার ৩৮৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত জুলাই মাসে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন ১৬ হাজার ২৫৩ জন। এদিকে রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৭৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার আগের এই সংখ্যা ছিল দিন ২ হাজার ২ জন। রাজধানী ঢাকাতেই এক হাজার ৬৫ জন রোগী এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার ১১১ জন ভর্তি হয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবে ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছেন ৯০ জনের উপরে। তিন দিন কমে আবার বাড়ল ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮ হাজার ৮৪৪ জন। জুন মাসে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন এক  হাজার ৮৮৪ জন। মে মাসে ১৯৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৯ হাজার ৩৯৫ জন।

বর্তমানে  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯ হাজার ৪২০ জন। সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুতে মৃত্যুও বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। গতকালও ঢাকার বাইরে বরিশালে এক শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকেও মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় বলে সরকারি তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এপ্রিলে দুইজন, জুনে তিনজন, জুলাই মাসে ১৭ জন এবং আগস্টে ৭ জন মারা গেছে। সরকারি হিসাবে মৃতদের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে চারজন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন এবং অবশিষ্ট ২৪ জন কোন কোন হাসপাতালে মারা গেছে তা উল্লেখ করা হয়নি। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে তারা মারা গেছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এবারের ঈদে ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় দেশের মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত রয়েছেন। মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী বলেন, ডেঙ্গু ঈদ আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে।

ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ, নৈরাজ্য: সকালের ট্রেন রাতে, সড়কে দিন পার by শুভ্র দেব

রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে শুক্রবার রাত একটায় নাটোরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন কাজী আল আমিন। বাসে করে সাধারণত সেখানে যেতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাগে। কিন্তু আল আমিনের ঈদযাত্রা প্রায় ২৪ ঘণ্টার কাছে গিয়ে ঠেকেছে। শুধু আল আমিন নন, এভাবে চার ঘণ্টার রাস্তা ২০ থেকে ২৪ ঘণ্টায় পাড়ি দিয়েছেন লাখো মানুষ। শেষ মুহূর্তে ঈদযাত্রায় এমন দুর্ভোগ, আর ভাড়া-নৈরাজ্য সহ্য করতে হয়েছে লাখো মানুষকে। ট্রেনে অনেকটা নজিরবিহীন শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। সকালের ট্রেন ঘোষণা দিয়ে রাতে ছাড়া হয়। এতে দুর্ভোগে পড়ে হাজার হাজার যাত্রী।
কোন কোন ট্রেন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা দেরি করে ছেড়েছে। দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে ফেরী ঘাটেও। সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সড়ক পথে কোন যানজট নেই তবে ধীর গতি আছে। রেল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গবন্ধু সেতুতে শুক্রবার ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে।

সরজমিন গতকাল সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পশ্চিমাঞ্চল রেলপথের সবকটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে ট্রেন ছেড়ে গেছে। এর আগে শুক্রবার খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ট্রেন সাড়ে নয় ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি করে ছেড়েছে। এমনকি ওই দিন ছেড়ে যাওয়া কোন ট্রেনই গতকাল বেলা ১২টা পর্যন্ত এসে ঢাকা পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে কমলাপুর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া খুলনাগামী একটি ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে সবকটি ট্রেন বিলম্বে ছেড়ে গেছে। তাই গন্তব্য পৌঁছে ফের ছেড়ে আসতে এসব ট্রেনের সময় লাগছে।

কমলাপুর রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহীগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ছয়টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি আনুমানিক আড়াইটা নাগাদ ছেড়ে যাওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। খুলনাগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬ টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময়। কিন্তু ট্রেনটি ছাড়ার সম্ভ্যাব্য সময় ধরা হয় ১টা ৩০ মিনিটে। চিলাহাটগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল আটটায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলে ৯ ঘন্টা বিলম্বে ৪টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যাবে বলে সময় নির্ধারণ করা হয়। রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টার পরিবর্তে ১২ ঘন্টা বিলম্বে রাত ৯টায় ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাব্য সময় ধরা হয়। লালমনিরহাটগামী লালমনি-ঈদ স্পেশাল-৫ ট্রেনটি সর্বোচ্চ ১৩ ঘণ্টা বিলম্বে রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে যাবে বলে আশা করছেন রেল কর্তৃপক্ষ। অথচ ট্রেনটি ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল ৯টা ১৫ মিনিটে। এভাবে পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিটি ট্রেনই বিলম্বে ছেড়ে গেছে। আবার এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অনেক ট্রেনের সময়ই নির্ধারণ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

রংপুর এক্সপ্রেসে রংপুরগামী যাত্রী আলী আহমেদ বলেন, ট্রেনে উঠতে ঠেলাঠেলি হবে দেখে সকাল ৭টায় স্টেশন এসেছি। এখন বাজে দুপুর ২টা। কিন্তু ট্রেনে উঠাতো দুরের কথা ট্রেনই এখন পর্যন্ত এসে পৌঁছায়নি। কখন আসবে তার সঠিক সময় জানি না। একই ট্রেনের যাত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মৃত্তিকা বলেন, কত সময় অপেক্ষা করা যায়। প্রচণ্ড গরম, তার ওপর আবার এত ঘণ্টা অপেক্ষা। ট্রেন আসলেও আশা করতে পারি ট্রেন ছেড়ে যাবে। কিন্তু এখনও ট্রেন আসেনি। চিলাহাটীগামী নীল সাগর ট্রেনের যাত্রী শিহাব সরকার বলেন, ৬ ঘণ্টা ধরে প্ল্যাটফর্মেই অবস্থান করছি। গরমের মধ্যে বসতে বসতে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। কখন ট্রেন আসবে কে জানে। বাড়ি ফেরার সব মজা ট্রেনের জন্য ম্লাণ হয়ে যাচ্ছে।

তবে স্টেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন, শুধুমাত্র পশ্চিমাঞ্চল রেলপথ ছাড়া অন্য পথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, ঢাকা থেকে গতকাল ৫৬টি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলে কোনো ট্রেনই সময়মত ছেড়ে যেতে পারেনি। কারণ শুক্রবার বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় এবং ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় এমন সমস্যা হচ্ছে। ঈদের আগে আর শিডিউল ঠিক হবেনা বলেও জানিয়েছেন আমিনুল হক।

এদিকে সড়পথে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করেছে। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইলের সড়কে দীর্ঘ যানজট ও ধীরগতির কারণে উত্তর,পশ্চিম ও দক্ষিণবঙ্গের বাসের শিডিউলে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে। শুক্রবার রাতে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বাস ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে গেছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত এসব বাস গন্তব্য পৌঁছাতে পারেনি। আর ফের ঢাকা এসে যাত্রী নিয়ে যাবার কোন খবরই নাই। গতকাল শ্যামলী, হানিফ, এসআর, আলহামলা, আগমণী, দেশ, সালমাসহ আরও বেশ কয়েকটি বাসের কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে এসব কাউন্টারে বসে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।

কল্যাণপুরের শ্যামলী বাস কাউন্টারে নাফিসা আক্তার নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, শুনেছি রাতে যে বাসগুলো ছেড়ে গেছে সেগুলো এখনও পৌঁছায়নি। ওই বাসগুলো ফেরৎ এলে আমাদের যাবার সৌভাগ্য হবে। তিনি বলেন, বড়দের জন্য কোনো সমস্যা নাই। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। হানিফ কাউন্টারে রাশেদ মাহমুদ বলেন, প্রতিবারই এমন হয়। এবারের ঈদে একটু বেশিই হচ্ছে ভোগান্তি। জানিনা কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলোক কিভাবে মূল্যায়ণ করবে। শুক্রবার থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বঙ্গবন্ধু সেতুর টাঙ্গাইল অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই সেতু থেকে ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর গাড়িগুলো উত্তরবঙ্গের দিকে যেতে বেগ পেতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খানা-খন্দ আর বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমে সিরাজগঞ্জ এলাকায় গাড়ির চাপ বেশি থাকায় এ জট তৈরি হয়েছে। তবে অন্যান্য সড়কের তুলনায় ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তেমন কোনো যানজট নেই। শুক্রবার ভুলতা ফ্লাইওভার খোলে দেয়ার পর থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চাপ কমে যায়। এদিকে শিমুলিয়া-কাঁঠালিয়া ফেরি ঘাটে যানবাহনের চাপ বাড়ায় সেখানেও যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫০০/৬০০ যানবাহন সেখানে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন, গত কয়েকদিন বৈরি আবহাওয়া ছিল। তাই যাত্রীদের আনাগোনা কম ছিল। আবহাওয়া কিছুটা ভাল ও ঈদ কাছাকাছি চলে আসাতে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। যাত্রীবাহী ও ঘরমুখো মানুষের অতিরিক্ত চাপ মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে। এই ঘাটে ছোট-বড় যানবাহনের চাপ প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে। তাই ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। শুক্রবার রাতের আটকা পড়া বাসগুলো শনিবার দুপুরে গিয়ে ফেরির দেখা পেয়েছে।

ঈদ যাত্রায় নৈরাজ্য চলছে: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
সড়কপথে অব্যবস্থাপনায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে ঈদে ঘরমুখী মানুষদের। ফিটনেসবিহীন ট্রাকে পশু বহন, ফিটনেসবিহীন বাসে যাত্রী পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। রেলপথে টিকিট কালোবাজারি, ছাদে যাত্রী ও শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে ঘরমুখী যাত্রীরা। নৌপথে চলছে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। ফেরিঘাটগুলোয় বসে থাকতে হচ্ছে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা। আর আকাশপথে ৪ থেকে ৫ গুণ বাড়তি দামে টিকিট কিনতে হচ্ছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ঈদযাত্রা নিয়ে এসব অভিযোগ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘হয়রানিমুক্ত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করুন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তার কারণে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন থেমে থেমে চলছে। পথে পথে পশুবাহী ট্রাক থামিয়ে পুলিশ ও বিভিন্ন সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি চলছে। এসব চাঁদাবাজিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে কৃত্রিম যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ-রুটে ফেরিতে পার হতে ৮ থেকে ১২ ঘন্টা লেগে যাচ্ছে। দুর্ভোগ মাথায় করে প্রতিটি লঞ্চে ধারণক্ষমতার প্রায় তিন থেকে চার গুণ অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সব পথে ভাড়া ডাকাতি চলছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে সীমিত পরিসরে সড়ক, নৌ ও রেলপথে মনিটরিং টিমের কার্যক্রম থাকলেও আকাশপথে ভাড়াসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম নেই। ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলসহ ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী প্রতিটি রুটে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ ভাড়া বেশি আদায় করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে ভোলা, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা রুটে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ ভাড়া নেয়া হচ্ছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, এই ঈদে ঢাকা থেকে ১ কোটি ৫ লাখ যাত্রী অন্য জেলায় যাতায়াত করবে। আর দেশব্যাপী এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাতায়াত করবে আরও ৩ কোটি ৫০ লাখ যাত্রী। এবারের ঈদযাত্রার ১২ দিনে ৪ কোটি ৫৫ লাখ যাত্রী ২৭ কোটি যাত্রাবহরের সঙ্গে থাকবে।

আফগানিস্তানে শান্তি, ঐক্য প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ভূমিকা by সোহাইল খান

আগস্ট মাস পাকিস্তানের জন্য বিশেষ উৎসবমুখর সময়। ৭২ বছর আগে এই মাসেই উপনিবেশ জোয়াল ছিন্ন করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল পাকিস্তান।

এই ৭২ বছরের সফরে ছিল নানা চড়াই-উৎড়াই। দেশ অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল এবং সফলভাবে তা সামাল দিয়েছে।

পাকিস্তান দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এই অঞ্চল ছিল ভূরাজনৈতিক ফল্ট লাইনে।

আবার পাকিস্তান তার সীমান্তে ভৌগলিক চাপে রয়েছে। শুরু থেকে ভারতের সাথে এবং এখন আফগানিস্তানের সাথেও।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ভৌগোলিক নৈকট্য, জাতিগত সম্পর্ক, ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা, ভাষাগত মিল। দুই দেশের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব বন্ধন কয়েক শ’ বছরের।

দুই দেশের শক্তিশালী অভিন্ন অতীত থাকায় তারা পারস্পরিক সমন্বয় সাধন ও অভিন্ন ধারায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে যেতে পারে। এ কারণেই আফগানিস্তানের শান্তি প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে পাকিস্তান।

আফগানিস্তান ভূবেষ্টিত দেশ। তারা অভ্যন্তরীণ ও বাইরের চাপের মুখে আছে গত দুই শ’ বছর ধরে। তবে গত ৫ দশক ধরে তারা আছে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়।

আফগানিস্তানের ঘটনাবলী থেকে প্রতিবেশী পাকিস্তান সুরক্ষিত নয়। এ কারণে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ আফগানিস্তান সবসময়ই পাকিস্তানের অস্তিত্বের স্বার্থের বিষয়।

১৯৮০-এর দশকে সোভিয়েত আগ্রাসনের সময় আফগানিস্তান থেকে প্রায় ৩০ লাখ উদ্বাস্তু পাকিস্তানে পালিয়ে এসেছিল।

পাকিস্তান এসব আফগান উদ্বাস্তুকে আগ্রহভরে ও উদারভাবে সহায়তা করেছিল।

তারপর ৯/১১-এর পর আফগানিস্তানে আরেক দফা সহিংসতার মুখে পড়ে। এরপর থেকে শান্তি আর স্থিতিতাবস্থা দেখা যায়নি দেশটিতে।

তবে পাকিস্তান সবসময়ই দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়াস চালিয়ে গেছে।

বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ শান্তি আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারা তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে ব্যবধান দূর করার চেষ্টা করছে।

সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এই কাজে পাকিস্তানের ভূমিকা স্বীকার করে নিচ্ছে। আফগান পক্ষগুলোর মধ্যে বিভক্তি দূর করতে পাকিস্তান নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

পাকিস্তান অবিচলভাবে বিশ্বাস করে যে আফগান নেতৃত্বে ও আফগান মালিকানাতেই শান্তি ও ঐক্য প্রক্রিয়া সাধিত হতে হবে। পাকিস্তানের ভূমিকা অনেকটাই মধ্যস্ততাকারীর। সব পক্ষের মধ্যে পাকিস্তানের যে প্রভাব আছে, দেশটি তাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার আঞ্চলিক শান্তির জন্যও আফগানিস্তানে শান্তি প্রয়োজন। বিশ্বায়ন ও আঞ্চলিকতাবাদের এই সময়ে কোনো দেশের শান্তি ওই দেশের নিজস্ব বিষয় আর নেই। তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে আঞ্চলিক শান্তিতে বিশ্বাস করে। কারণ শান্তিই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আনতে পারে। আর এ কারণেই দেশটি অর্থপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে কাশ্মির বিরোধের অবসান চাচ্ছে। ভারতের সাথে শান্তি ও স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় এটিই সবচেয়ে বড় একক বাধা।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে মধ্যস্ততার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনের মতো কাশ্মিরও মারাত্মক মানবাধিকার সঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে।

আফগানিস্তানের জনগণ শান্তি কামনা করছে এবং পাকিস্তানের জনগণ তাদের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠায় একই রকম আগ্রহী।

>>>লেখক: দক্ষিণ আফ্রিকায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত

ছোট হয়ে যাচ্ছে চাঁদ!

পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ ছোট হয়ে আসছে বলে দাবি করলেন বিজ্ঞানীরা। নাসার লুনার রিকনেসা অরবিটার থেকে পাওয়া ছবি দেখে বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে চাঁদ।
১২ হাজারেরও বেশি ছবি পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা জানান, ক্রমেই চাঁদের গায়ে বলিরেখা বাড়ছে। ভূমিকম্পও হচ্ছে অনেক। উত্তর মেরুর কাছে লুনার বেসিন মারে ফ্রেগরিসে ফাটল দেখা গেছে।
পৃথিবীর মতো টেকটোনিক প্লেট নেই চাঁদের। ফলে সাড়ে ৪০০ কোটি বছর আগে সৃষ্টির পর থেকেই ক্রমাগত তাপ হারাচ্ছে চাঁদ। আর মূলত ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার কারণেই সংকুচিত হতে শুরু করেছে এই উপগ্রহ।
চাঁদের পৃষ্ঠ ভঙ্গুর হওয়ায় যে স্থানেই টান পড়েছে, সেই স্থানই ভেঙে গিয়েছে। এভাবেই ভাঙতে ভাঙতে আগের তুলনায় আকারে চাঁদ অনেকটাই ছোট হয়ে গিয়েছে বলে দাবি জোতির্বিদদের। তারা বলছেন, বিগত কয়েক হাজার বছরে চাঁদ অন্তত ১৫০ ফিট ছোট হয়ে গেছে।
সম্প্রতি এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ন্যাচার জিওসায়েন্স সাময়িকীতে। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে প্রথমবার চাঁদে ভূকম্পন টের পান অ্যাপোলোর নভোচারীরা। তারা জানান, চাঁদের কেন্দ্র থেকেই কম্পন বেশি, ভূপৃষ্ঠে তুলনামূলকভাবে কম।
গবেষণার সহ-লেখক ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিকোলাস স্কেমার বলেন, ‘এখনও চাঁদের খুঁতগুলো থেকে গেছে। পৃথিবী ছাড়া আর কোথাও আপনি টেকটোনিক পাবেন না। চাঁদে এই খুঁতের কারণেই ভূমিকম্প হচ্ছে।’

দিনে ১১০ ধর্ষণ, যা করলেন সিংহ মা

নকুবঙ্গা কাম্পি দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিচিত হয়ে উঠেছেন একজন 'লায়ন মামা' অর্থাৎ 'সিংহ মা' হিসেবে। তার মেয়ের তিন ধর্ষণকারীর একজনকে হত্যা এবং বাকি দু'জনকে মেরে আহত করার পর লোকজন তাকে এভাবেই ডাকতে শুরু করে।
এই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছিল কিন্তু জনগণের প্রতিবাদের কারণে তার বিচার বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
এর ফলে এখন তিনি তার মেয়ের সেরে ওঠার ব্যাপারে তাকে সাহায্য করার সময় পেয়েছেন।
নকুবঙ্গা কাম্পি কাছে যখন ফোনটা হলো তখন মধ্যরাত। ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি।
রাতে বেজে উঠল ফোন
ফোনের ওপাশে তার মেয়ে সিফোকাজি। নকুবঙ্গার কাছ থেকে ৫০০ মিটার দূরে। সিফোকাজি তার মাকে জানালেন যে তিনজন পুরুষ তাকে ধর্ষণ করেছে এবং তাদেরকে তারা সবাই বেশ ভালো মতোই চেনে।
খবরটা শুনে নকুবঙ্গা প্রথমেই তার মেয়েকে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে বললেন। কিন্তু ওপাশ থেকে তিনি কোন সাড়া পেলেন না।
মা নকুবঙ্গা জানতেন পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেইপ প্রদেশের প্রত্যন্ত এই গ্রামটিতে পৌঁছাতে তাদের অনেক সময় লাগবে।
সিফোকাজি ভেবেছিলেন এরকম একটা সময়ে সাহায্যের জন্যে হয়তো তার মা-ই একমাত্র আছেন, যিনি এগিয়ে যেতে পারেন।
"আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু আমি যেতে বাধ্য হলাম কারণ সে তো আমারই মেয়ে," বলেন মা নকুবঙ্গা।
"আমি ভাবছিলাম যখন আমি পৌঁছাব তখন হয়তো দেখবো সে মরে পড়ে আছে। কারণ সে তো ধর্ষণকারীদের চিনতো"
"ওই লোকগুলো যেহেতু তাকে চেনে, সে কারণে ওরা নিশ্চয়ই আমার মেযেকে মেরে ফেলতো - যাতে সে ধর্ষণের ব্যাপারে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে না পারে।"
সিফোকাজি কয়েকজন বন্ধুর সাথে দেখা করতে ওই গ্রামেরই আরেকটি বাড়িতে গিয়েছিলেন।
তিনি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তার বন্ধুরা তাকে একা রেখে বাড়ির বাইরে চলে যায়। রাত দেড়টার দিকে আশেপাশের আরেকটি বাড়ি থেকে তিনজন মাতাল পুরুষ এসে তাকে আক্রমণ করে।
ছুরি নিয়ে বের হয়ে গেলেন মা
নকুবঙ্গা যে বাড়িতে থাকেন তাতে বেডরুম ছাড়াও আছে আরো দুটো ঘর। ঘুম থেকে ওঠে তিনি কিচেনে গিয়ে সেখান থেকে একটি ছুরি হাতে নিলেন।
"ছুরিটা আমি নিয়েছিলাম আমার নিজের জন্য। রাতের অন্ধকারে যখন রাস্তা দিয়ে ওই বাড়িতে হেঁটে যাবো, ভেবেছিলাম ওটা আমার জন্যে নিরাপদ হবে না। খুব অন্ধকার ছিল বাইরে। মোবাইল থেকে টর্চের আলো জ্বালিয়ে পথ দেখে দেখে আমাকে যেতে হয়েছিল।"
মা নকুবঙ্গা যখন ওই বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছালেন তখন তিনি মেয়ের চিৎকার শুনতে পেলেন।
বাড়িটির বেডরুমে ঢোকার পর মোবাইল ফোনের টর্চের আলোতে তিনি দেখলেন সেই ভয়াবহ দৃশ্য - তার মেয়েকে ধর্ষণ করা হচ্ছে।
"খুব ভয় পেয়ে যাই। কোন রকমে দরজার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। জিজ্ঞেস করলাম তারা ওখানে কী করছে। আমাকে দেখে তারা আমার উপর আক্রমণ চালাতে ছুটে এলো। ঠিক ওই মুহূর্তে আমার নিজেকে বাঁচানোর কথা মনে হয়েছিল।"
তার পর কী কী হয়েছিল নকুবঙ্গা সে বিষয়ে আর বিস্তারিত বলতে চাইলেন না।
মায়ের চোখের সামনে
এই মামলার বিচারের সময় বিচারক আদালতে বলেছিলেন, "নকুবঙ্গার সাক্ষ্য থেকে বোঝা যায় যে তিনি কতোটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। কারণ তিনি দেখতে পেলেন যে তার মেয়েকে তার চোখের সামনে ধর্ষণ করা হচ্ছে।"
"তিনি বলেছেন যে তিনজন পুরুষের একজন তার মেয়েকে ধর্ষণ করছিল, আর দু'জন প্যান্ট খোলা অবস্থায় পাশেই দাঁড়িয়েছিল। তারা অপেক্ষা করছিল তাদের পালা কখন আবার আসবে।"
বিচারক এম্বুলেলো জলওয়ানা বলেন, "তিনি যে খুব ক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন সেটা বোঝা যায়।"
এটা পরিষ্কার যে ওই পুরুষরা যখন নকুবঙ্গাকে আক্রমণ করে তখন তিনিও তার ছুরি দিয়ে পাল্টা আঘাত করেছিলেন। যখন তারা পালাতে উদ্যত হয় তখন তিনি ছুরি মারেন।
তাদের একজন জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ধর্ষণকারীদের দু'জন গুরুতর আহত হয় এবং অন্যজন মারা যায়।
ওই লোকগুলো কতোটা আহত হয়েছিল নকুবঙ্গা সেটা দেখার জন্য ওই বাড়িতে আর অবস্থান করেননি। বরং তার মেয়েকে নিয়ে চলে যান কাছেই এক বন্ধুর বাড়িতে।
পুলিশ এসে নকুবঙ্গাকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেল। তাকে নিয়ে যাওয়া হলো স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশনে। সেখানে একটি সেলে তাকে বন্দী করে রাখা হলো।
"আমি শুধু আমার মেয়ের কথা ভাবছিলাম," বলেন তিনি, "তার কোন খবর ছিল না আমার কাছে। এটা এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা।"
মেয়ে হাসপাতালে
মেয়ে সিফোকাজিকে ততক্ষণে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। সেখানে শুয়ে শুয়ে ভাবছিলেন মায়ের যেন কী অবস্থা! আর খুনের কারণে মাকে কতো বছর জেলে কাটাতে হবে - সেটা ভেবে তিনি অস্থির হয়ে পড়েছিলেন।
"তাকে যদি কারাগারে যেতে হয়ে, তার হয়ে আমি জেল খাটতে রাজি আছি," বলেন সিফোকাজি।
মেয়ে সিফোকাজি এখন ওই রাতে তার ওপর চালানো হামলার খুব সামান্যই স্মরণ করতে পারেন। কিন্তু তিনি মনে করতে পারেন যে দুদিন পর তার মা হাসপাতালে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন। জামিনে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল মেয়ের সাথে দেখা করার জন্যে।
এর পর থেকেই তারা দু'জনে একে অপরকে মানসিকভাবে সাহায্য দিয়ে আসছেন। "আমাকে কোন কাউন্সেলিং দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমার মা আমাকে সহযোগিতা করছেন। আমি সেরে উঠছি," বলেন সিফোকাজি।
মা নকুবঙ্গা চান আগের মতোই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে। সেজন্যে চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
"আমি তো এখনও একজন মা এবং সে একজন কন্যা," বলেন তিনি। তারা এখন একসাথে হাসেন, কাঁদেন। সুখ দুঃখের গল্প শেয়ার করেন। মজাও করেন তারা। বলেন, সিফোকাজি বিয়ে করতে পারছে না কারণ বিয়ে হয়ে গেলে মা নকুবঙ্গাকে দেখার আর কেউ থাকবে না।
নকুবঙ্গার আইনজীবী বুলে টনিস বলেন, ঘটনার এক সপ্তাহ পর তিনি যখন তাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, মনে হয়েছিল তারা জীবনের হাল ছেড়ে দিয়েছেন।
"তাদের দারিদ্র এতোটাই প্রকট যে তারা ভাবছিল একজন জেলখানায় চলে গেলে আরেকজনের তখন কী হবে। তার পাশে তো দাঁড়ানোর কেউ থাকবে না। বিচার ব্যবস্থা তাদের জন্যে - যাদের কাছে অর্থ আছে।"
তিনি যখন মা ও মেয়ের সাথে কথা বলছিলেন তখন তারা ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না। তার মনে হলো ওই ঘটনা যেন তাদের মুখের কথাও কেড়ে নিয়েছে।
দিনে ১১০টি ধর্ষণ
দক্ষিণ আফ্রিকাতে প্রচুর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বলা হয় যে দিনে গড়ে ১১০টির মতো ধর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং এই পরিস্থিতিকে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা দেশের জন্য জাতীয় সঙ্কট বলে উল্লেখ করেছিলেন।
ইস্টার্ন কেইপ প্রদেশে, যেখানে সিফোকাজিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, দেশটির অন্যতম দরিদ্র এলাকা, বেকারত্বের হার ৪৫ শতাংশ।
অন্য যে কোন জায়গার চেয়ে এই প্রদেশে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটে বেশি। নকুবঙ্গা এবং সিফোকাজি যে গ্রামে থাকেন, সেই গ্রামেই ২০১৭/১৮ সালে ৭৪টি ধর্ষণের ঘটনা পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা হয়েছে।
যে গ্রামে মাত্র ৫ হাজারেরও কম মানুষের বসবাস - সেখানে এই সংখ্যা খুবই বেশি।
আলোড়ন তুললো এই খবর
কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় এতো সব ধর্ষণের খবরের মধ্যে সিফোকাজি ও নকুবঙ্গার ঘটনা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। ধর্ষিতা মেয়েকে বাঁচাতে মায়ের এই গল্প উঠে এলো সংবাদ মাধ্যমে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লো খুব দ্রুত।
মা ও মেয়ের পরিচয় গোপন রাখতে গিয়ে একটি পত্রিকা মায়ের নাম দিল 'লায়ন মামা' অর্থাৎ 'সিংহী মা।' খবরটি পাশে একটি ছবি ছাপা হলো যাতে একটি সিংহী তার শাবককে আগলে রেখেছে।
এই নামটি খুবই আলোড়ন সৃষ্টি করলো।
মা নকুবঙ্গা বলেন, "প্রথমে এটা আমার পছন্দ হয়নি। কারণ আমি কিছু বুঝতে পারিনি। কিন্তু পরে যখন বুঝলাম যে আমাকে একজন বীর হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে তখন খারাপ লাগেনি। একটা সিংহ তার বাচ্চাকে তো রক্ষা করবেই।"
নকুবঙ্গার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করলো দক্ষিণ আফ্রিকার লোকজন। তার আইনি লড়াই-এ সহযোগিতা করতে তারা অর্থ সংগ্রহেও নেমে পড়ে।
তার পর থেকে ধীরে ধীরে তার প্রতি জনগণের সমর্থন বাড়তেই লাগলো। মানসিকভাবেও তিনি কিছুটা শক্তি পেতে শুরু করলেন।
ঘটনার এক মাস পর তিনি উপস্থিত হলেন স্থানীয় একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। "আদালতে যাওয়ার ব্যাপারে আমি ভয়ে ছিলাম। সকালে ঘুম থেকে আমি প্রার্থনা করলাম।"
তিনি যখন আদালতে গিয়ে হাজির হলেন - দেখলেন, সেখানে তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আরো বহু শুভাকাঙ্ক্ষী ইতোমধ্যেই সেখানে জড়ো হয়েছেন।
"সারা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেই লোকজন এসেছিল। আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। তারা আমাকে খুব জোরালো সমর্থন দিয়েছিল। দিয়েছিল আশাও।"
তুলে নেয়া হলো মামলা
তখন তাকে খুব দ্রুত আদালতের সামনে হাজির করা হলো এবং বলা হলো যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
"আমি শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম। খুব খুশি হয়েছিলাম তখন। তখন বুঝলাম যে কোনটা ভুল আর কোনটা ঠিক বিচার ব্যবস্থা সেটা নির্ধারণ করতে পারে। তারা ঠিকই বুঝতে পেরেছিল যে কারো জীবন কেড়ে নেওয়া আমার লক্ষ্য ছিল না।"
তার আইনজীবী বলেন, "মামলা তুলে নেওয়ার পর মা তার মেয়েকে ডাকলেন। সেদিনই প্রথম আমি তার মেয়েকে হাসতে দেখলাম। সেদিন সে বলেছিল যে ধর্ষণকারীদেরকে সে জেলখানায় দেখতে চায়।"
এজন্যে তাদেরকে আরো এক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে বেঁচে থাকা দুজন ধর্ষণকারীকে ৩০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সিফোকাজির বয়স এখন ২৭। ধর্ষণকারীদের বিচার ও সাজা হওয়ার কারণে তিনি খুশি। "কিছুটা নিরাপদও বোধ করি আমি। তবে ওদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়া উচিৎ ছিল।"
এর পরে মামলাটি যখন পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেল তখন তিনি নাম প্রকাশ করতে এগিয়ে এলেন যাতে ধর্ষণের শিকার অন্যান্যরাও তার ঘটনা থেকে উৎসাহিত হয়।
"আমি বলবো যে এরকম একটা ঘটনার পরেও জীবন আছে। এর পরেও আপনি সমাজে ফিরে যেতে পারেন। পারেন খুব স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যেতে।"
মা নকুবঙ্গাও আশা করেন যে তার মেয়ের ধর্ষণকারীরা এই ঘটনা থেকে শিক্ষণীয় কিছু একটা পাবে।
"তাদের সাজা যখন শেষ হয়ে যাবে, আমি আশা করছি, তারা নিজেদের বদলে নতুন মানুষ হিসেবে সমাজে ফিরে যাবে। মানুষের কাছে তারা হয়ে থাকবে জীবন্ত উদাহরণ।"
সূত্র : বিবিসি

কারাগারে খালেদা জিয়ার দেড় বছর by আবদুর রহিম

বছর পেরিয়ে গেছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বন্দিজীবন। ৮ আগস্ট পূর্ণ হলো দেড় বছর। দিন-ক্ষণে ৫৪৪ দিন! এরই মধ্যে বদলে গেছে তার জীবনধারা। রাত জাগার পুরনো অভ্যাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় কক্ষের বাতি রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যেই নিভে যেত। এরপর আদালতের নির্দেশে চিকিৎসা নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও ঠিক সময়মতো তাকে ঘুমিয়ে যেতে হচ্ছে।

অতীতে রাজনীতিতে মুক্ত সময়ে নানা কাজে ব্যস্ত থাকলেও এখন বন্দি অবস্থায় কারারক্ষীদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে আর গৃহপরিচারিকা ফাতেমার সঙ্গে খুনসুঁটিতে কাটছে দিবা-নিশি।

তবে হাসপাতালে অধিকাংশ সময় চুপচাপই থাকেন খালেদা জিয়া। সময় কাটে ইবাদত-বন্দেগি আর বই ও পত্রিকা পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবারই প্রথম কারাজীবন নয় খালেদা জিয়ার। এর আগে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পর তিনি মোট চারবার গ্রেপ্তার হন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তিনি গ্রেপ্তার হন।

তবে তখন তাকে বেশি দিন আটক থাকতে হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ৩৭২ দিন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্থাপিত বিশেষ সাব জেলে এক বছরেরও বেশি সময় ছিলেন তিনি।

সর্বশেষ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতের রায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারে ঢুকেন খালেদা জিয়া। ওই দিন থেকে পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে শুরু হয় তার কারাজীবন।

এরপর অসুস্থকার কারণে আদালতের নির্দেশে এখন রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার বিরুদ্ধে ৩৫ মামলার মধ্যে একটিতে জামিন হলে, অন্য মামলা সামনে আসছে। এভাবেই চলছে জামিনের সংগ্রাম।

সর্বশেষ গত সপ্তাহে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও খালেদার জামিন আবেদন সরাসরি নাকচ হয়ে যায়। দলে জামিনের আশা সৃষ্টি হলেও তাও ফের বন্ধ হয়ে যায়।

তার দেখাশোনার জন্য প্রথম দিন থেকে স্বেচ্ছায় কারাগারে রয়েছেন গৃহপরিচারিকা ফাতেমা। এ নিয়ে শুরু থেকেই ছিলো বিতর্কও।

পরে খালেদা জিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত খালেদা জিয়াকে দেখাশোনার জন্য ফাতেমাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন।

সূত্র জানায়, কারাগারে খালেদা জিয়া শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট, চোখ ও হাঁটুর সমস্যায় ভুগছেন। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিসের কারণে তার চোখের সমস্যা হচ্ছে।

গত বছরের ৫ জুন কারাগারে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। এমন অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করাতে সরকারের কাছে একাধিকবার দাবিও জানায় বিএনপি। কিন্তু সে দাবি পূরণ হয়নি।

অন্যদিকে, ধীরে ধীরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবার ও দলের নেতাদের দেখা পাওয়ার অনুমতি কমে আসে। বিএনপির অভিযোগ, বন্দিদের আইনসম্মত অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি।

৫ সেপ্টেম্বর কারাগারের ভেতরে অস্থায়ী আদালতে হাজিরা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আপনাদের যত দিন ইচ্ছা, যত ইচ্ছা সাজা দেন। আমি বারবার আদালতে আসতে পারব না। আমি অসুস্থ। আমি পা নাড়াতে পারি না। ডাক্তার আমাকে বিশ্রামে থাকতে বলেছেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দেখভাল করা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস কখনো ১৮ থেকে ২০ এর নিচে নামেনি। তিনি হাঁটতে পারেন না। খেতে পারেন না। এখন তার ডায়াবেটিস ২০-এর নিচে নামছেই না। তিনি পা সোজা করতে পারছেন না। হাঁটতে তো পারেনই না।

হুইল চেয়ার ছাড়া তিনি চলতেই পারেন না। তাকে হুইল চেয়ারে করেই ওয়াস রুমে, শাওয়ার নিতে অথবা বিছানায় নিতে হয়। অথচ সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সরকারের লোকেরা বলে বেড়াচ্ছে, আমরা তার (খালেদা জিয়া) স্বাস্থ্য নিয়ে প্রতিদিন বলে বেড়াচ্ছি। তার স্বাস্থ্য নিয়ে তার পরিবার, আমরা, দেশবাসী সবাই চরম উদ্বিগ্ন।

ডা. জাহিদ আরো বলেন, তার এখন বয়স ৭৫। এই বয়সে তার যে শারীরিক অবস্থা, তা একজন চিকিৎসক হিসেবে আমাদের কাছে খুব ঝুঁকিপূর্ণ।

যেকোনো সময় অঘটন ঘটে যেতে পারে। পরিণতি মারাত্মক রূপ নিতে পারে। আমরা চিকিৎসক হিসেবে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মারাত্মক উদ্বিগ্ন।

শক্তিশালী আন্দোলন ছাড়া শুধু আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে শিগগিরই খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার কোনো আশা দেখছেন না বিএনপির সিনিয়র নেতা ও খালেদার আইনজীবীরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপি এবং এর নেতাকর্মীদের পুনরুজ্জীবিত করতে খালেদা জিয়াকে মুক্তির একক ইস্যুতে আন্দোলনের দিকে দলটির মনোনিবেশ করা উচিত।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হবেন এবং এ দেশের মানুষ তাকে বের করবে, সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই বের করবে। আমরা বারবার এ সংকটে পড়েছি, বিপদে পড়েছি।

খায় দায় জব্বর মোটা হয় মনসুর by মাসুদা ভাট্টি

মাসুদা ভাট্টি: লেখক, সাংবাদিক
পদ্মা পার হয়ে যাদের ওপাড়ে যেতে হয় তাদের কাছে ফেরিঘাট এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। যদিও ফেরিঘাট নিয়ে অনেক গল্প-উপন্যাস লেখা হয়েছে, কিন্তু পারাপারকারী যাত্রীদের কাছে এই অভিজ্ঞতা এতটাই চরম ও ভয়ংকর যে, প্রত্যেকেই স্বপ্ন দেখেন, একদিন এই ভয়াবহতা থাকবে না, মাত্র ১০/১৫ মিনিটে গাড়িতে বসেই পদ্মা পার হওয়া যাবে।

এই ঘাটে প্রায়শই সাধারণ যাত্রীকে অপেক্ষায় থাকতে হয় ফেরীর, যদিও ফেরী ঘাটেই ভিড়ে রয়েছে দেখা যায় কিন্তু সমস্যা কী? কোনো একজন ক্ষমতাবান আসবেন, তার জন্য অপেক্ষা করছেন ফেরি-মহাশয়। এই সময় ফেরি-কর্তৃপক্ষ কোথায় যেন গায়েব হয়ে যান। আবার ঈদে-চান্দে যখন মানুষ বাড়ি ফেরে তখন এই ঘাটে যে বিশাল যানজট তৈরি হয় তার মধ্যেও দেখা যায় কারো কারো গাড়ি হুশ করে বেরিয়ে গিয়ে সোজা ফেরিতে উঠে যায়, এসব গাড়ি থেকে নেমে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিআইপি কেবিনে বসে চা-পানি খান তারা, ততক্ষণে বাইরে মারধর চলছে, কে আগে উঠবে, কীভাবে উঠবে।

মজার ব্যাপার হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, এই যারা ফেরী থামিয়ে রেখে কিংবা লাইনে না দাঁড়িয়ে ফেরীতে ওঠেন তাদের বেশিরভাগই সরকারী কর্মকর্তা, সেনা কর্মকর্তা এবং এমপি মহোদয়। মন্ত্রীদের জন্য ফেরী এমনিতেই নির্দিষ্ট থাকে আর আজকাল তো মন্ত্রীদের অনেকে হেলিকপ্টারে করে যাওয়া-আসা করেন।

যে সরকারী কর্মকর্তার জন্য ফেরীর অপেক্ষা করার কারণে এক আহত কিশোরের প্রাণ গেলো তাকে আসলে কোনো শাস্তির আওতায় আনা যাবে না, কারণ সরকারী কাজেই হয়ত তাকে ঢাকায় দ্রুত আসতে হবে এই মর্মে বয়ান দিয়ে তিনি বেঁচে যাবেন।

রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে সামান্য অসুবিধে হয় কারণ তাদের ভোটের সময় হলেও জনগণের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হয়, ফলে তারা একেবারে ভয়হীন নন জনগণকে কষ্ট দেয়ার ক্ষেত্রে।

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, “খায় দায় জব্বর মোটা হয় মনসুর” -- এদেশের অবস্থাও অনেকটা তাই, প্রশাসনের কাছে রাষ্ট্রকে এত বেশি মূল্যে রাষ্ট্রটি ইজারা দেওয়া হয়েছে যে, এখন তার সবটুকু দায় শোধ করতে হচ্ছে জনগণকে। কখনও কখনও সে দায় জীবন দিয়েই শোধ করতে হয়।

>>>মাসুদা ভাট্টি: লেখক, সাংবাদিক।
>>লেখাটি ফেসবুক থেকে নেয়া, এর মতামত ও ভাষা লেখকের নিজস্ব।

পৃথিবীর ইতিহাসে এবারের জুলাই সবচেয়ে উত্তপ্ত

চলতি বছরের জুলাই তাপমাত্রা রেকর্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে উত্তপ্ত মাস ছিল। ইউরোপের একটি জলবায়ু সংস্থা সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা রেকর্ডের ক্ষেত্রে এই বছরের জুলাই মাস অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা ‘দ্য কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’ হিসাব করে দেখেছে এবারের জুলাই মাসের তাপমাত্র ১৯৮১ থেকে ২০১০ গড় তাপমাত্রা থেকে ১ দশমিক ০১ ডিগ্রি বেশি ছিল। ইন্টার গভর্নমেন্ট প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইসিসি) জানিয়েছে, এই তাপমাত্রা শিল্পায়নের আগের যুগের থেকে ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এর আগে ২০১৬ সালের জুলাই বিশ্বব্যাপী উষ্ণতম মাস ছিল। তবে ২০১৬ সালের জুলাই মাসের তুলনায় এবার তাপমাত্রা বেড়েছে ০ দশমিক ০৭ ডিগ্রি।

বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন, পৃথিবী তার ইতিহাসের উষ্ণতম বছরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রাপ্ত সকল উপাত্ত এই নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে, এই সময়কাল পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম পাঁচ বছর হতে চলেছে। উল্লেখ্য, প্রায় ১০০ বছর আগে থেকে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা শুরু হয়।

ওয়ার্ল্ড মেট্রোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের সেক্রেটারি জেনারেল পেততেরি তালাস বলেছেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাপমাত্রার ডজনখানেক রেকর্ডের কারণে এ বছরের জুলাই মাস জলবায়ুর ইতিহাস নতুন করে লিখেছে। এটা কোনো বিজ্ঞান বিষয়ক কল্পকাহিনী নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এখন বাস্তবতা। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে এটি ভবিষ্যতে আরও খারাপ হবে।’

দ্য কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস মাসওয়ারি তাপমাত্রা রেকর্ডের হিসাব আগাম প্রকাশ করে। একই সঙ্গে এই সংস্থা অন্য প্রতিষ্ঠানের থেকে একটু ভিন্নভাবে উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি হিসাবের সঙ্গে কোপার্নিকাসের হিসাবের তেমন গরমিল থাকে না।

ভূতাপ সংক্রান্ত উপাত্ত বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান বার্কলি আর্থের জলবায়ু বিজ্ঞানী জিক হাউসফাদার বলেন, ‘প্রতি বছর উষ্ণতার নতুন রেকর্ড তৈরি হোক, সেটি আমরা চাই না। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, যা হচ্ছে তা স্পষ্টতই জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত।’

এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘আমরা সব সময় উষ্ণ গ্রীষ্মের মধ্যে বসবাস করেছি। কিন্তু তরুণ বয়সের দেখা গ্রীষ্ম এটা নয়।’

তাপমাত্রার এই বৃদ্ধি এরই মধ্যে গ্রিনল্যান্ডে জমে থাকা বরফ গলানোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শুধু জুলাইয়ে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ১৯৭ বিলিয়ন টন পানি যুক্ত হয়েছে। এই পরিমাণ পানির কারণে সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে ০ দশমিক ৫ মিলিমিটার (০ দশমিক ০২ ইঞ্চি)।
চলতি বছরের জুলাইয়ের তাপমাত্রা ১৯৮১ থেকে ২০১০ সালের গড় তাপমাত্রা থেকে ১.০১ ডিগ্রি বেশি ছিল। ছবি: এএফপি

কাশ্মীরের বিরুদ্ধে ‘সাংবিধানিক সন্ত্রাস’

সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা একটি আইনগত হাতিয়ার। জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর তার ১৮৩তম অধিবেশনে ২১৭তম প্রস্তাব হিসেবে এটিকে স্বীকৃতি দেয়। এতে বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ, বিশ্বাস- সবকিছুর ঊর্ধ্বে মৌলিক অধিকারগুলো সুরক্ষার নীতিমালা রয়েছে। এটি মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত হতে সহায়তা করে।

ইউডিএইচআর নীতিমালার আলোকেই সব দেশ তাদের সংবিধান প্রণয়ন করতে হয়। এমনকি এর একটি অনুচ্ছেদ বা ধারা থেকেও কোনো সমাজকে বঞ্চিত করা যাবে না। জাতিসংঘ তার বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়ন করা নিশ্চিত করবে।

কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন অংশে মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘনের কারণে এটি সত্যিকারের সার্বজনীন আইনে পরিণত হতে পারেনি। যেসব অঞ্চলে এই মূলনীতির ব্যাপক লঙ্ঘন হচ্ছে তার একটি হলো কাশ্মীর। কয়েক দিন আগে ভারত দেশটির সংবিধানে থাকা অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫ক বাতিল করে যা করেছে, সেটকে সাংবিধানিক সন্ত্রাস হিসেবে অভিহিত করা যায়। কাজটি ইউডিএইচআর নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

আমরা অনেক অঞ্চলেই মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘনের ঘটনা দেখি। বিশেষ করে সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরে গণহত্যা, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, মানসিক অত্যাচার হচ্ছে ভয়াবহ মাত্রায়। জাতিসংঘও এসব অঞ্চলে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সেভাবে কাজ করছে না।

অবিচ্ছেদ্য অধিকার

ইউডিএইচআরের মতে, কিছু অধিকার প্রতিটি মানুষের জন্য। এগুলো হলো প্রাথমিক অধিকার। কোনোভাবেই বা কোনো কারণেই এসব অধিকার কেড়ে নেয়া যায় না।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইউডিএইচআরের অনুচ্ছেদ ১-এ বলা হয়েছে, প্রতিটি মানুষ স্বাধীন ও সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তারা যুক্তি ও সচেতনতার অধিকারী। তাদের ভ্রাতৃত্ববোধের চেতনায় একে অপরের সাথে আচরণ করতে হবে। কিন্তু আমরা কাশ্মীর, ফিলিস্তিন ও পৃথিবীর অন্যান্য অংশে ইউডিএইচআরের এই অনুচ্ছেদের ভয়াবহ লঙ্ঘন দেখতে পাই। ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতের বাতিল করাটা ইউডিএইচআরের ১ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। উল্লেখ্য, এই অনুচ্ছেদের বলে জম্মু ও কাশ্মীরের লোকজন নিজেদের জন্য আইন প্রণয়ন করতে পারত। উল্লেখ্য এখানকার ৯৪ ভাগের বেশি নাগরিক মুসলিম।

অধিকন্তু, ইউডিএইচআর অনুচ্ছেদ ২-এ কোনো বৈষম্য ছাড়াই যথাযথ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, ধর্ম, রাজনৈতিক বা অন্যান্য কারণে কারো স্বাধীনতা বা অন্যান্য অধিকার খর্ব না করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরে সেটিই ঘটে চলেছে। কয়েক দশক ধরে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের লোকজনকে এসব মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে।

ভারত সরকার অনুচ্ছেদ ৩৫ক বাতিল করে কেবল সার্বজনীন মানবাধিকারই লঙ্ঘন করেনি সেইসাথে কাশ্মীরীদের আলাদা থাকার পরিচিতিও কেড়ে নিয়েছে। এটাকে বলা যায় মানুষের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সন্ত্রাস।

সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার তৃতীয় অনুচ্ছেদে জীবনে স্বাধীনতা, নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কয়েক দশক ধরে তা নেই। ভারতীয় সৈন্যরা এই ধারা লঙ্ঘন করে চলেছে।

আরো ভয়াবহ বিষয় হলো, দীর্ঘ দিন ধরে লঙ্ঘন হওয়া সত্ত্বেও জাতিসংঘ ও শীর্ষ শক্তিগুলো এসব ব্যাপারে নীরব থাকছে। তারা এসব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

মনে রাখতে হবে, জাতিপুঞ্জ ভেঙে পড়েছিল এর নীতিমালা লঙ্ঘনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে। এখন জাতিসংঘও একই পথে হাঁটলে তার পরিণতিও একই হতে পারে। ফলে জাতিসংঘ ও শীর্ষস্থানীয় বিশ্বশক্তিগুলোর উচিত হবে মানবতাকে রক্ষার জন্য সব পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।

জাতিসংঘ পুলিশ ও শান্তিরক্ষা মিশন পাঠানো উচিত ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ইউডিএইচআর বাস্তবায়নের জন্য। জাতিসংঘ যদি ভারতীয় মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে কেবল নিন্দা জ্ঞাপনের বিবৃতি ছাড়া আর কিছু না করে, তবে এ ধরনের ব্যর্থতার কারণে জাতিসংঘ নিজেই হুমকির মুখে পড়বে। সে যদি মানুষের অধিকার রক্ষা করতে না পারে, তবে জাতিপুঞ্জের অবস্থাই হবে তার। ফলে জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের অবশ্যই ভারতের সাংবিধানিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যাতে কাশ্মীরীরা তাদের মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারে।

>>>আলী চ্যাঙ্গেজি সান্ধু

প্রেমাদাসার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার প্রচেষ্টা বানচাল করতে তৎপর বিক্রমাসিঙ্ঘে

সাজিৎ প্রেমাদাসা
শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রামাসিঙ্গে হালে একজন অজনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। এর বহুবিধ কারণও রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তিনি অজনপ্রিয় হওয়ার কারণ হলো ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) থেকে তার আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার খায়েশ, যদিও কোন রাখঢাক না করেই তিনি স্বীকার করেন যে এতে হেরে যাবেন। তার দলের মধ্যেই তাকে প্রার্থী করার প্রবল বিরোধিতা রয়েছে।

বিক্রমাসিঙ্ঘের একগুঁয়েমি দলে আতংক তৈরি করেছে। তার নেতৃত্বে ইউএনপি ২০১৮ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হেরে যায়। এতে জয়ী হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসার নবগঠিত দল শ্রীলংকা পদুজানানা পেরামুনা (এসএলপিপি)।

দলের বেশিরভাগ লোক ইউএনপি’র উপনেতা সাজিৎ প্রেমাদাসাকে প্রার্থী করতে চান। আর বিক্রমাসিঙ্ঘে চান তাদের ওই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করতে। দেশের বিভিন্নস্থানে ক্যাম্প খুলে ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন প্রেমাদাসা।

পশ্চিমাপন্থী ও নব্য উদার ইউএনপি’র মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন নেতার একজন প্রেমাদাসা জনগণের নেতা হিসেবে পরিচিত। ইংরেজিভাষী ও পশ্চিমা উন্নয়ন মডেলের সমর্থক নেতারা দলকে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রেমাদাসাকেই একমাত্র আশা হিসেবে দেখছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট রানাসিঙ্ঘে প্রেমাদাসার পুত্র সাজিৎ প্রেমাদাসা। রানাসিঙ্ঘে সমাজের একেবারে তলা থেকে উঠে আসা নেতা হিসেবে পরিচিত। যদিও সংখ্যাগুরু সিনহলা জনগণের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসার ভাই গোটাভায়া রাজাপাকসাকে প্রেমাদাসা মোকাবেলা করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। গোটাভায়া প্রতিরক্ষা সচিব থাকাকালে দেশ এলটিটিই’র বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়েছিলো।

গোটাভায়া এসএলপিপি’র প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক গোটাভায়া যদি প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার আগেই বিদেশী নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে না পারেন তাহলে এসএলপিপি’র জনপ্রিয়তা কমতে পারে। সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী অনুযায়ী কোন দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এমন কি তারা কোন সরকারি চাকরিও করতে পারবেন না।

কেউ কেউ মনে করেন প্রেমাদাসা বেশ ভালোভাবে গোটাভায়াকে মোকাবেলা করতে পারবেন। কারণ তিনি সংখ্যালঘুদের সমর্থন পাবেন। মুসলিম দলগুলো এখন তাকে সমর্থন করছে। ভারতীয় বংশোদ্ভুত দুটি তামিল দলের একটি রয়েছে তার সঙ্গে। কিন্তু গোটাভায়া খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সমর্থন পাবেন। কারণ তারা মনে করেন ইউএনপি সরকার মুসলিম চরমপন্থীদের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। ২১ এপ্রিল হামলার আগে এ ব্যাপারে সতর্ক বার্তাগুলো বিক্রামাসিঙ্ঘের নেতৃত্বাধিন সরকার আমলে নেয়নি। আর হামলার পর এখন ক্ষতিগ্রস্ত খ্রিস্টানদের পুনর্বাসন করার কথা সরকার ভুলে গেছে। বোমা হামলার পেছনে আসল অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করার ব্যাপারেও তাদের সত্যিকারের কোন তৎপরতা নেই। শুধু পরস্পরকে দোষারুপ ও ঝগড়া করে সময় পার করা হচ্ছে।

এদিকে ডেমক্রেটিক ন্যাশনাল ফ্রন্ট (ডিএনএফ) নামে ইউএনপি-পন্থী দলগুলোর জোটকে শেষ চেষ্টা হিসেবে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন বিক্রমাসিঙ্ঘে। তিনি এমনভাবে ডিএনএফ’কে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন যেন ইউএনপি এর অধস্তন কোন দল। উদ্দেশ্য হলো ডিএনএফ যেন তাকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করে। এতে প্রেমাদাসাকে প্রার্থী করার ইউএনপি’র প্রচেষ্টা নস্যাৎ করা যাবে।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই অপচেষ্টাকে ইউএনপি’র সদস্যরা ভালোভাবে নিচ্ছেন না। তারা বলছেন যে, বড় দল থেকেই ডিএনএফের প্রার্থী হতে হবে। এতে ইউএনপি’র প্রার্থী হিসেবে প্রেমাদাসা প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

ফলে ডিএনএফের সংবিধান তৈরির প্রচেষ্টা শুধু জোটের সদর দফতর শ্রীকোঠাতেই আটকে যায়নি, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রি তথা ইউনপি’র সদর দফতরেও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সংবিধান প্রশ্নে কোন সমঝোতা হয়নি।

ডিএনএফের দলগুলো হলো: ইউএনপি, শ্রীলংকা মুসলিম কংগ্রেস (এসএলএমসি), অল সিলন মাক্কাল কংগ্রেস (এসিএমসি), তামিল পিপলস এলায়েন্স (টিপিএ), ঝাটিকা হেলা উরুমায়া (জেএইচইউ) এবং ইউনাইটেড লেফট ফ্রন্ট (ইউএলএফ)। শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টির (এসএলএফপি) কিছু ইচ্ছুক সদস্যকেও এই জোটে ভেড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে।

এসএলএফপির নেতা প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা এখনো প্রার্থী হওয়ার আশা ছড়েননি। তিনি এসএলএফপি ও এসএলপিপি’র যৌথ প্রার্থী হতে আগ্রহী। দুটি দলের মধ্যে আলোচনা এখনো চলছে।

এদিকে, গৃহায়ণ মন্ত্রী হিসেবেই তৎপরতা জোরদার করেছেন সাজিৎ। এটা নিশ্চিত ফল বয়ে আনবে। গত শনিবার তিনি বাত্তিকালোয়া জেলায় গান্ধী নগর মডেল গ্রাম উদ্বোধন করেন। তার মন্ত্রণালয়েল মডেল গ্রাম কর্মসূচির আওতায় ভারতীয় সহায়তা এই গ্রাম তৈরি করা হয়।

এছাড়া নিজেদেরকে ‘সাজিৎ ফর এ নিউ শ্রীলংকা’ হিসেবে পরিচয়দানকারী একদল পেশাজীবী প্রেমাদাসার নেতৃত্বে ইউএনপি-কে চাঙ্গা করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

এই আন্দোলনের প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. মাহিম মেন্ডিস বলেন ইউএনপি-কে জনগণ ও দলের সদস্য উভয়ের কথা শুনতে হবে। তারা প্রেমাদাসাকে নেতা হিসেবে চায়। প্রেমাদাসাকে সমর্থনকারী এই আন্দোলনের নেতারা বলছেন যে, ১৯৯৩ সালে প্রেসিডেন্ট প্রেমাদাসার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ইউএনপি’র নেতৃত্বে কোন পরিবর্তন আসেনি।

ইস্টার হামলার শূণ্যতার পর আবার পর্যটক বাড়ছে শ্রীলংকায়

ইস্টার সানডের সন্ত্রাসী হামলার পর শ্রীলংকা যে সঙ্কটের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল, পর্যটনের ক্ষেত্রে সেই সমস্যাটা তারা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছে। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা এবং ২১ এপ্রিলের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে দেয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পর্যটন সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকার পর্যটক আকর্ষণে নীতিমালা গ্রহণ করেছে এবং জুলাই মাসে পর্যটকের সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে।

জুনের তুলনায় জুলাই মাসে পর্যটকের সংখ্যা ৮৩% বেড়েছে। যদিও গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১০২,০০০ কম, তবে হোটেল মালিক এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা আত্মবিশ্বাস জানিয়েছেন যে, এই ঘাটতি শিগগিরই কাটিয়ে উঠতে পারবেন তারা।

পানগার হলিডেজ প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজারেন্দ্রান রাজেন্দ্রান বলেছেন, “এপ্রিলে বিস্ফোরণের পর ৪২% মানুষ সফর বাতিল করেছিল কিন্তু জুনে বাতিল করেছিল মাত্র ৭% এবং জুলাইতে কেউ বাতিল করেনি। আগস্টেও কেউ সফর বাতিল করেনি। আমাদের বাজার মূলত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো, তবে দক্ষিণ এশিয়াতেও আমাদের বাজার রয়েছে। হামলার পর এশিয়ান পর্যটন বাজারে সামান্যই প্রভাব পড়েছে”। দেশের আরও বহু পর্যটন ব্যবসায়ী একই কথা বলেছেন।

শ্রীলংকা ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট অথরিটির (এসএলটিডিএ) তথ্য মতে জুলাই মাসে পর্যটক এসেছে ১১৫,৭০১ জন, যেটা জুনের চেয়ে ৮৩% বেশি। জুনে পর্যটক এসেছিল ৬৩,০৭২ জন, আর মে মাসে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৩৭,৮০২ জন। এর আগে ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডেতে কলম্বোর সবচেয়ে বিখ্যাত তিনটি পাঁচতারা হোটেল এ তিনটি চার্চে সন্ত্রাসী হামলা হয় এবং হামলায় প্রায় আড়াইশ মানুষ নিহত হয়, যাদের মধ্যে ৫০ জন বিদেশী পর্যটক রয়েছে।

পর্যটন কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে যে, বিগত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যটনের বাজার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে এবং পুরো শ্রীলংকা জুড়ে হোটেলগুলোতে লোকসমাগম বাড়তে শুরু করেছে। এসএলডিটিএ ডিরেক্টর জেনারেল উপালি রত্নায়েকের মতে পর্যটন শিল্প অক্টোবর থেকে সন্তোষজনক মওসুম দেখতে পাবে। শ্রীলংকা গত বছর ২.৩৩ মিলিয়ন পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছিল এবং ৪.৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশী মুদ্রা আয় করেছিল। লোনলি প্ল্যানেট গত বছর শ্রীলংকাকে ২০১৯ সালে পর্যটনের জন্য এক নাম্বার গন্তব্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। আশা করা হচ্ছে, শ্রীলংকা তার সেই অবস্থানকে ধরে রাখতে পারবে।

ইস্টার সানডের সন্ত্রাসী হামলার পরও লোনলি প্ল্যানেট জুলাই মাসে বলেছে যে, শ্রীলংকা এখনও সফরের জন্য শীর্ষ গন্তব্য রয়েছে। এসএলটিডিএ বলেছে, বছরের শেষ নাগাদ তারা ১.৯ থেকে ২ মিলিয়ন পর্যটন পাবে বলে আশা করছে।

এদিকে, পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে শ্রীলংকা সরকার। এর মধ্যে বিশ্বের কাছে নিজেদের উন্মুক্ত করার জন্য পর্যটক আকর্ষণের উদ্দেশ্যে ছয় মাসের জন্য ভিসা-অন-অ্যারাইভাল প্রকল্প চালু করেছে সরকার।

পর্যটন মন্ত্রী জন আমারাতুঙ্গা গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিঙ্গের উপস্থিতিতে শিল্প উদ্যোক্তা এবং কূটনীতিকদের নিয়ে আয়োজিত এক ফোরামে তিনি এ ঘোষণা দেন।

যে ৪৯টি দেশের নাগরিকরা ফ্রি ভিসা অন অ্যারাইভাল পাবে, সে দেশগুলো হলো: অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, কানাডা, কম্বোডিয়া, চীন, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, আইসল্যান্ড, ইসরাইল, ইটালি, জাপান, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, মালটা, নেদারল্যান্ডস, নিউ জিল্যান্ড, নরওয়ে, ফিলিপাইন্স, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্লোভাক রিপাবলিক, শ্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, ইউকে এবং ইউএসএ।

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ছয় মাস পরে ফ্রি ভিসার সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করা হবে যে, এটা উপকারী কি না। পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ইস্টার সানডের হামলার পরের তিন মাসে ১.৫ বিলিয়ন রুপির ক্ষতি হয়েছে সরকারের। সকল পর্যটককে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশানের (ইটিএ) জন্য এই বিভাগের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে আবেদন করতে বলা হয়েছে, যাতে বিমানবন্দরে তাদের দেরি না হয়, অন্যদিকে বিমানবন্দরেও অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা চালু করা হয়েছে। এদিকে, সিনামেন হোটেল এবং রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ পর্যটনের জন্য ‘ব্রিং অ্যা ফ্রেন্ড হোম’ কর্মসূচি শুরু করেছে। কাকতালীয়ভাবে গত সপ্তাহে ৩০ জুলাই বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবসে এই ব্রিং অ্য ফ্রেন্ড হোম প্রচারণা শুরু করা হয়।

এই প্রচারণার প্রধান উদ্দেশ্য হলো পর্যটকদের বন্ধুদেরকে শ্রীলংকা সফরে উদ্বুদ্ধ করা এবং পর্যটকদের মাধ্যমে কিছু বক্তব্য নিয়ে আসা এবং সেগুলো প্রচার করা যে এই দেশটি সফরের জন্য নিরাপদ। এই প্রচারণাটি পুরো পর্যটন পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সিনামেনের অবদান, যেখানে স্থানীয় অন্যান্য শিল্পগুলোও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। সৃজনশীল এই প্রচারণার মাধ্যমে শুধু শ্রীলংকাতে বসবাসরতদের নয়, বরং প্রবাসে অবস্থানরত লংকানদেরকেও তুলে ধরা হচ্ছে, যাতে তারা তাদের বিদেশী বন্ধুদের আগামী মাসগুলোতে শ্রীলংকা সফর করতে উৎসাহিত করে।

প্রচারণা কর্মকর্তাদের মতে, সাবেক মিস শ্রীলংকা এবং বর্তমান হলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ সিনামেনের ‘ব্রিং অ্য ফ্রেন্ড হোম’ প্রচারণার অধীনে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে শ্রীলংকা সফর করবেন। সে অনুযায়ী এই প্রচারণার শুরুতে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বলিউডের ১৫ জন বন্ধুকে নিয়ে তিনি শ্রীলংকায় তার জন্মদিন উদযাপন করবেন।

বিক্রমাসিঙ্গে ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছেন যে শ্রীলংকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসছে, এবং সরকার দেশের পর্যটন শিল্প পুনরুদ্ধারের জন্য পুরোপুরি সচেষ্ট।

বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা এখন শক্তিশালী। দেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি এবং শ্রীলংকাকে আমরা নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে চাই”।

শীর্ষ নিরাপত্তা প্রশাসকদের সাথে তাল মিলিয়ে লঙ্কান প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, এপ্রিলে আইসিস স্টাইলে হামলার সাথে জড়িত সবাই এখন কারাগারে। তিনি আরও বলেন যে, স্থানীয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি ধসিয়ে দেয়া হয়েছে এবং আত্মঘাতী হামলায় যারা সহায়তা করেছিল তাদেরকে বর্তমানে প্রিভেনশান অব টেররিজম অ্যাক্টের (পিটিএ) অধীনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পর্যটনকে উৎসাহিত করার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসায় সরকার সন্তুষ্ট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, ক্যান্ডি পেরাহেরা, ফিস্ট অব আওয়ার লেডি অব মাধু, হিন্দু ভেল যাত্রাসহ সমস্ত প্রধান ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলো হবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে। শ্রীলংকার সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব ক্যান্ডি পেরাহেরা প্রতি বছর আগস্টে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটে।

এবার সিনেমায় আসছেন ফাটাকেষ্ট মিঠুনের মেয়ে

‘আমি খবর দেখি না, খবর পড়ি না, খবর তৈরি করি’ কিংবা ‘মারবো এখানে লাশ পড়বে শশ্মানে’ সংলাপগুলো শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে শক্তিমান এক অভিনেতার মুখ। যিনি প্রায় চল্লিশ বছর ধরে মাতিয়ে রেখেছিলেন সিনেমায় অভিনয় করে।
হিন্দি থেকে বাংলা, সবখানেই তিনি ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। তবে নায়ক মিঠুন চক্রবর্তীর সাফল্যের যতো ইতিহাস তার অধিকাংশই লেখা আছে বলিউডে। শ্রীদেবীর সঙ্গে তার জুটি ছিল অনবদ্য।
এরপর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি কলকাতার সিনেমায় মনোযোগ দেন। সেখানেও তিনি উপহার দিয়েছেন ‘ফাটাকেষ্ট’, ‘তুফান’, ‘অভিমন্যু’, ‘গুরু’সহ অসংখ্য সুপারহিট চলচ্চিত্র।
তার পথ ধরে সিনেমায় এসেছিলেন পুত্র মিমো। তেমন সুবিধা করতে পারেননি। এবার শোনা যাচ্ছে মিঠুনের কন্যা দিশানি নাম লেখাচ্ছেন চলচ্চিত্রে। তার শুরুটা হবে হিন্দি ছবি দিয়ে।
স্টারডমের বিরাট সাম্রাজ্য বলিউডে একের পর এক স্টারকিডের অভিষেক হচ্ছে। এবার সেই পথেই পা বাড়াতে চলেছেন মিঠুন চক্রবর্তীর সুন্দরী মেয়ে দিশানি।
সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক ফিল্ম একাডেমি থেকে অভিনয় শিক্ষাও শেষ করেছেন দিশানি। ফ্যাশন সেন্সেও পিছিয়ে নেই তিনি। তার সাজগোজ দেখে অনেকেই তাকে আগামী দিনের ফ্যাশনিস্তাই বলছেন।
ইনস্টাগ্রামে ইতোমধ্যেই তারকা হয়ে উঠেছেন দিশানি। তার ছবি দেখে অনেকেরই মত, বলিউডে সেনসেশন হতে পারেন মিঠুনকন্যা। এখন শুধু তার অভিষেকের অপেক্ষা।

২৪৫ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুর অলৌকিক বেঁচে থাকা

২০১৯ এপ্রিলের ছবি, তখন শিশুটির বয়স চার মাস
গত ডিসেম্বরের ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ডিয়েগোর একটি হাসপাতালে অকাল জন্ম হয় এক শিশুর। মায়ের স্বাভাবিক গর্ভাবস্থা ৪০ সপ্তাহ হলেও মাত্র ২৩ সপ্তাহ ৩ দিনের মাথায় জন্ম হয় শিশুটির। সে সময় তার ওজন ছিল মাত্র ২৪৫ গ্রাম। এতো কম ওজনের শিশুকে প্রাণে বাঁচানোর আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন চিকিৎসকরাও। তবে শেষ পর্যন্ত অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে সে।  অন্তর্ভুক্ত হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্র শিশুর তালিকায়। নার্সরা ভালোবেসে তার নাম রাখেন সেইবি। এরইমধ্যে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে। এখন তার ওজন ৫ পাউন্ড (২ কেজি)। স্বাস্থ্যবান নবজাতক হিসেবেই বাড়িতে ফিরেছে সে। গত ২৯ মে ২০১৯ বুধবার এক ভিডিও’র মাধ্যমে অপরাজেয় এ শিশুর গল্প প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুদ্রতম শিশুর নিবন্ধন তালিকা (টাইনিয়েস্ট বেবি রেজিস্ট্রি) অনুযায়ী, সেইবি হলো বিশ্বের ক্ষুদ্রতম আকৃতির নবজাতক। শার্প ম্যারি বির্চ হসপিটাল ফর উম্যান অ্যান্ড নিউ বর্নস-এর প্রকাশ করা ভিডিওতে সেখানকার চিকিৎসক, নার্স ও সেইবির পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। চিকিৎসকরা তার বাবাকে বলেছিল, এক ঘণ্টার বেশি শিশুটি হয়তো বাঁচবে না। ‘তবে এক ঘণ্টার সে সময় ধীরে ধীরে দুই ঘণ্টা, একদিন, তারপর এক সপ্তাহে গড়ালো।’ বলেন শিশুটির মা।
শিশুটির পরিবার তাদের গল্পটি প্রকাশের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুমতি দিলেও নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার ইচ্ছা জানিয়েছে তারা। হাসপাতালের সেবিকারা শিশুটিকে যে নামে (সেইবি) ডাকতো সে নামই প্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছে পরিবার। ওই ভিডিওতে শিশুটির মা জানান, সন্তান জন্মের দিনটি তার জীবনের সবচেয়ে আতঙ্কজনক দিন। তিনি জানান, শরীর খারাপ লাগছিলো দেখে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিলো। বলা হয়েছিলো, তার প্রিঅ্যাকলেম্পসিয়া হয়েছে। অবস্থা গুরুতর। রক্তচাপ অনেক বেড়ে গেছে। দ্রুত বাচ্চাটিকে ডেলিভারি করা প্রয়োজন।
শিশুটির মা বলেন, ‘আমি তাদেরকে বলে যাচ্ছিলাম ও বাঁচবে না। মাত্র ২৩ সপ্তাহেই ওর জন্ম হয়েছে।’ তবে শিশুটি বেঁচে গেছে। হাসপাতালের শিশু নিবিড় যত্ন কেন্দ্রে ধীরে ধীরে ওজন বেড়েছে তার।
আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুরোগবিষয়ক চিকিৎসক এডওয়ার্ড বেল মার্কিন বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, নিবন্ধন অনুযায়ী সেইবি সবচেয়ে কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশু যে প্রাণে বেঁচে গেছে। তবে বিশ্বে তার চেয়েও ক্ষুদ্রতম শিশুর জন্মের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। কারণ, তারা শুধু কম ওজনের নিবন্ধিত শিশুদের ভিত্তিতেই কথা বলছেন। নিবন্ধিত হয়নি এমন শিশুও থাকতে পারে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১৫ সালে জার্মানিতে জন্ম নেওয়া যে শিশুটি ক্ষুদ্রতম শিশুর আখ্যা পেয়েছিল, সেইবির ওজন তার চেয়েও ৭ গ্রাম কম।
সেইবির বিছানায় লেখা, ‘ক্ষুদ্র তবে শক্তিশালী’। হাসপাতালের ভিডিওতে নার্স এমা উইস্ট বলেন, ‘ও এতোটাই ছোট ছিল যে ওকে ঠিকমতো দেখাও যেতো না।’
মায়ের ২৮ সপ্তাহের কম গর্ভাবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশুটি নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। এ ধরনের নবজাতকরা দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তিসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগে থাকে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিষয়ক সংস্থা দ্য মার্চ অব ডিমেস-এর কর্মী মাইকেল ক্লিং বলেন, অনেকে প্রথম বছরটিতেই টিকতে পারে না। এ পর্যন্ত সেইবি তার আশঙ্কাজনক অবস্থাগুলো কাটিয়ে ফেলেছে। ‘নিশ্চিতভাবেই ওর প্রাণে বেঁচে যাওয়াটা অলৌকিক ঘটনা।’ বলেন, কিম নোরবি নামের আরেক নার্স।

এবার এশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার বলেছেন, এশিয়া মহাদেশে মধ্যম-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পক্ষে তার সমর্থন রয়েছে। আমেরিকা শীতল যুদ্ধের সময় মস্কোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত আইএনএফ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একদিন পর এ অর্থপূর্ণ বক্তব্য দিলেন এসপার।
তিনি এক সাক্ষাৎকারে এ বক্তব্য দিলেও একথা স্পষ্ট করেননি যে, মার্কিন সরকার এখনই এশিয়ায় এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে কিনা। সিডনি সফরে যাওয়ার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বিমানে আরোহনকারী সাংবাদিকরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি এশিয়ায় এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবেন কিনা। জবাবে মার্ক এসপার বলেন, হ্যা তিনি তা করতে চান।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে অনেক বেশি সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু তিনি কয়েক মাসের মধ্যে এ কাজ করতে চান বলে এশিয়ায় মোতায়েনের জন্য মধ্যম-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই উপযোগী।
এর আগে গত শুক্রবার আমেরিকা আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ট্রিটি বা আইএনএফ চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যায়। ওয়াশিংটন ওই চুক্তি ভঙ্গের জন্য মস্কোকে দায়ী করলেও রাশিয়া বারবার সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে মধ্যে যে স্নায়ুযুদ্ধ বাঁধে সেটার সমাপ্তি টানতে অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালে ঐতিহাসিক আইএনএফ চুক্তি হয়েছিল। চুক্তিতে ইউরোপে পরমাণু অস্ত্রবাহী ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা থেকে বিরত থাকতে সম্মত হয়েছিল দু’পক্ষ। কিন্তু চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাওয়ার পর এখন গণবিধ্বংসী অস্ত্র প্রতিযোগিতা আবার ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার

ইরানের ১টি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত, আরও ২টির কাজ চলছে

ইরানের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র বা আইএসআরসি বলেছে, ইরান একটি কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণের কাজ শেষ করেছে এবং দুইটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান আইএসআরসি'র গবেষণা এবং প্রযুক্তি বিষয়ক উপপ্রধান হাদি রেজাই।
ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা যে শাপে বর হয়ে উঠেছে সে কথাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, অন্যান্য দেশ নিজেদের প্রয়োজনীয় মহাকাশ প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি কিনতে পারে। কিন্তু চলমান মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের পক্ষে তা করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
এ নিষেধাজ্ঞাকে ইরানের জন্য বিরক্তিকর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ সীমাবদ্ধতার কারণে ইরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রসর হতে পেরেছে এবং নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে।
তিনি আরও জানান, আইএসআরসির গবেষকরা ইরানের অন্যান্য বিজ্ঞানী ও গবেষণা সংস্থার সহায়তায় একটি কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরির কাজ পুরোপুরি শেষ করেছে। এটি এখন মহাকাশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে আরেকটি টেলিযোগাযোগ এবং অন্য একটি কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ইরানের শীর্ষ স্থানীয় বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রগুলোর অন্যতম হলো মহাকাশ প্রযুক্তি এবং মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সাফল্যকে দেশটির অন্যান্য প্রযুক্তি খাতে প্রয়োগ করা হয় বলেও জানান তিনি।
ইরান ২০০৯ সালে প্রথম উমিদ বা আশা নামের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছিল।  ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল উমিদ। এ ছাড়া প্রাণীবাহী মহাকাশযান ইরান প্রথম পাঠিয়েছিল ২০১০ সালে। এ মহাকাশযান পাঠানোর জন্য কাভোশগার(অভিযাত্রী)-৩ নামের রকেট ব্যবহার করা হয়েছিল।
এ ছাড়া, ২০১৫ সালে ফজর বা উষা নামে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠায় ইরান। এটি উঁচুমানের ছবি ধারণ করতে এবং তা পৃথিবীর উপগ্রহ কেন্দ্র পাঠাতে পারে।
ফজর বা উষা

জমজমাট পশুর হাট, পছন্দের গরু কিনতে গাবতলীতে by আবদুস সালাম ও সোয়েল রানা

নগরবাসীর একাংশ ঈদুল আজহার আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে ঢাকা ছাড়া শুরু করেছে। আরেক অংশ পছন্দের কোরবানির পশু কিনতে ঘুরছে হাটে হাটে। আশা করা হচ্ছে আজ শুক্রবার থেকে পশুর বেচা–কেনা জমে উঠবে। রাজধানীর অন্যতম বড় ও ঐতিহাসিক কোরবানির পশুর হাটটি বসে গাবতলীতে। এই হাটে এসেছে নানা জাতের গরু। গরুর গালভরা সব নাম—ডন, বেল্টু, লালটু, বিগ বস, রাজা বাহাদুর, রাজ বাহাদুর, রাজাবাবু, পাগলু, কালু, লালু, যুবরাজ...। একেকটি গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৪০ লাখ টাকা। ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার গরুর দাম চড়া। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, গরু বিক্রি হচ্ছে না। ছবিগুলো ৮ ও ৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের।
রাজাবাবুর (সাদা–কালো) আর বীর বাহাদুর উভয়েরই দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। রাজাবাবুর (সাদা–কালো) আর বীর বাহাদুর উভয়েরই দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে গরুর নামসংবলিত ব্যানার টানানো হয়েছে।ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে গরুর নামসংবলিত ব্যানার টানানো হয়েছে।দূর–দূরান্ত থেকে ব্যাপারীরা গরু নিয়ে এই হাটে এসেছেন।দূর–দূরান্ত থেকে ব্যাপারীরা গরু নিয়ে এই হাটে এসেছেন।মাঝারি আকারের গরুর সারি।মাঝারি আকারের গরুর সারি।গরুটির নাম কালা তুফান। ১২ লাখ টাকা দাম হাঁকা হচ্ছে।গরুটির নাম কালা তুফান। ১২ লাখ টাকা দাম হাঁকা হচ্ছে।হাটে গরু সাজানোর সরঞ্জাম বিক্রি করেন নজরুল ইসলাম।হাটে গরু সাজানোর সরঞ্জাম বিক্রি করেন নজরুল ইসলাম।গরুর সঙ্গে সেলফি তুলছে একদল শিশু।গরুর সঙ্গে সেলফি তুলছে একদল শিশু।
জমজমাট পশুর হাট by সোয়েল রানা
কোরবানির পশুর হাটে বেচাকেনা জমে উঠতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন হাটে বিক্রির জন্য গরু আনা হচ্ছে। বগুড়ার অন্যতম প্রসিদ্ধ মহাস্থান হাটের কিছু ছবি:
হাটে বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে নেওয়া হচ্ছেহাটে বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে নেওয়া হচ্ছেহাটে গিয়ে মেজাজ বিগড়ে গেছে এক গরুরহাটে গিয়ে মেজাজ বিগড়ে গেছে এক গরুরহাটের গরুর ছবি তুলে নিচ্ছেন ক্রেতাহাটের গরুর ছবি তুলে নিচ্ছেন ক্রেতাহাটে বিক্রির জন্য গরু আনা হচ্ছেহাটে বিক্রির জন্য গরু আনা হচ্ছেগরমে অতিষ্ঠ গরুর মাথায় পানি দিচ্ছেন এক বিক্রেতাগরমে অতিষ্ঠ গরুর মাথায় পানি দিচ্ছেন এক বিক্রেতাহাটে গরুগুলোকে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাজানো হয়েছেহাটে গরুগুলোকে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাজানো হয়েছেরাহাত খান নামের এক খামারি দুটি উলবারি জাতের গরু বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। প্রতিটি গরুর ওজন প্রায় ৮০০ কেজি। দুটি গরুর দাম হেঁকেছেন ১২ লাখ টাকারাহাত খান নামের এক খামারি দুটি উলবারি জাতের গরু বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। প্রতিটি গরুর ওজন প্রায় ৮০০ কেজি। দুটি গরুর দাম হেঁকেছেন ১২ লাখ টাকাহাটে নানা জাতের গরুহাটে নানা জাতের গরুহাট থেকে কিনে নেওয়া হচ্ছেহাট থেকে কিনে নেওয়া হচ্ছে