Monday, March 6, 2017

নড়াইলে স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ

নড়াইলের লোহাগড়ায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে  (১৪) ১০ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল অভিযুক্ত আল আমিন শেখকে (২৪) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ওই ছাত্রীকে নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চত্বর থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকেও উদ্ধার করা হয়। এক সন্তানের জনক আল আমিন লোহাগড়া উপজেলার কামঠানা গ্রামের রেজাউল শেখের ছেলে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২শে ফেব্রুয়ারি লোহাগড়া উপজেলার ঝিকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে আল আমিন। ওই ছাত্রী নড়াইল সদরের কামালপ্রতাপ এসজে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউটের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার সময় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। এরপর আল আমিন লোহাগড়ার চরআড়িয়ারা গ্রামে এক আত্মীয়র বাড়িতে আটকে রেখে স্কুলছাত্রীকে পাশবিক নির্যাতন করে। এদিকে, স্কুলছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। একপর্যায়ে শনিবার বিকালে লক্ষ্মীপাশা বাসস্ট্যান্ডে স্কুলছাত্রীর পরিচিতজন আল আমিনের সঙ্গে তাকে দেখতে পেয়ে দু’জনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে আল আমিন এবং ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুই পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বসেন। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত বিষয়টির কোনো সুরাহা না হওয়ায় আল আমিনকে পুলিশে হস্তান্তর এবং স্কুলছাত্রীকে হেফাজতে রাখা হয়। স্বজনরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে কামালপ্রতাপ এসজে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউটের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে তাদের পরিচয় হয়। এরপর মোবাইল ফোনে তাদের কথোপকথন চলতে থাকে। স্ত্রী ও সন্তানের পরিচয় গোপন রেখে আল আমিন ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখায়। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় সুযোগ বুঝে তাকে অপহরণ করে। স্কুলছাত্রী জানায়, অপহরণের পর ১০দিন আটকে রেখে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে আল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

অবিবাহিত মায়েদের সন্তানদের গণকবর মিলল আয়ার্ল্যান্ডে

গণকবরের ধুলো সরিয়ে উঠে এল আয়ার্ল্যান্ডের এক ভয়ঙ্কর অধ্যায়। এ যেন ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে বেরিয়ে পড়া এক কঙ্কাল।
অবিবাহিত মায়েদের সন্তানদের অগণিত কঙ্কাল মিলল আয়ার্ল্যান্ডের ছোট্ট শহর টুয়ামের এক গণকবরে। গত ২০১৪-তেই সে খবর জানিয়েছিলেন স্থানীয় গবেষক ক্যাথরিন করলেস। তবে সে কথায় বিশেষ নজর দিতে চায়নি আয়ার্ল্যান্ড সরকার। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার চাপে পড়ে সম্প্রতি তাতে নজর ঘোরাতে বাধ্য হয়েছে আয়ার্ল্যান্ড। একটি কমিশন গঠন করে ওই গণকবরের খননকাজও শুরু করা হয়। গত শুক্রবার কমিশন সেই কলঙ্কিত অধ্যায়ের রিপোর্ট পেশ করেছে।
পশ্চিম আয়ার্ল্যান্ডের গ্যালওয়ে কাউন্টির টুয়ামের প্রসূতি ভবনের নীচে ধামাচাপা পড়েছিল সেই গণকবর। কমিশন জানিয়েছে, ওই ভবনের বিল্ডিংয়ের নীচে সেপটিক ট্যাঙ্কের মধ্যে রয়েছে ১৭টি কুঠুরি। তাতেই মিলেছে অসংখ্য শিশুর কঙ্কাল।
নিজের গবেষণাপত্রে এমনটাই দাবি করেছিলেন ক্যাথরিন। তিনিই জানিয়েছিলেন, অবিবাহিত অন্তঃসত্ত্বারাই থাকতে আসতেন সেখানে। প্রসবের পর কিছু দিন থেকে সেখান থেকে চলে গিয়ে নতুন জীবনে পা রাখতেন। তবে প্রায় কেউই সদ্যোজাত সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে যেতেন না। কী হয়েছিল সেই সন্তানদের তা কেউ জানেন না। ক্যাথরিনের দাবি ছিল, প্রসূতি ভবনের নীচেই তাদের গণকবর দেওয়া হত। গবেষণাপত্রে তিনি জানান, স্থানীয় ছেলেপুলেরা ওই ভবনের আশপাশে খেলতে গিয়ে অসংখ্য কঙ্কাল আর হাড়গোড় দেখতে পেয়েছিল। ফাটা কংক্রিটের থেকে বেরিয়ে আসা সেই ভয়ানক দৃশ্য দেখে শিউরে উঠত তারা। ক্যাথরিনের গবেষণার কথা নিজের ব্লগে উল্লেখ করেন ওয়াশিংটন পোস্টের ব্লগার টেরেন্স ম্যাকয়। প্রায় এক শতক আগের এই ঘটনায় সাড়া পড়ে গিয়েছে দেশ-বিদেশে। বন সেকুর সিস্টার্স নামে এক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থসাহায্যেই চলত ওই প্রসূতি ভবন। তবে কি গোটা ঘটনায় জড়িত ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ? ঘটনাটা কি জানত আয়ার্ল্যান্ড সরকার? উঠছে একাধিক প্রশ্ন!
দীর্ঘ দিনের গবেষণার পর ক্যাথরিনের বিশ্বাস, ওই গণকবরে অন্তত ৭০০ থেকে ৮০০ শিশুর কঙ্কাল রয়েছে। গোটা ঘটনা ধামাচাপা দিতে কোনও রকম সৌধফলক ছাড়াই তাদের ফেলে দেওয়া হয় ওই সেপটিক ট্যাঙ্কে। এর পর তাতে আবর্জনা আর মাটিচাপা দিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমটায় গণকবরের ঘটনাটা সকলেই ভুয়ো খবর বলে উড়িয়ে দিলেও আন্তর্জাতিক স্তরে এখন তা নিয়ে সাড়া পড়েছে।
গণকবরে ১৯২৫ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত সময়কালের কঙ্কাল মিলেছে। কমিশন জানিয়েছে, ওই গণকবরে খননকাজের পর কার্বন ডেটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কঙ্কালগুলির পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। তাতে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই কঙ্কালগুলির বয়স ৩৫ সপ্তাহ ৩ বছরের মধ্যে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, টুটাম শহরের ওই প্রসূতি ভবন বন্ধ হয়ে যায় ১৯৬১-তে। রেডিওকার্বন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইঙ্গিত মিলেছে, প্রসূতি ভবনের কার্যকালের মধ্যেই ওই শিশুদের গণকবর দেওয়া হয়। গোটা ঘটনায় কমিশন সদস্যদের বিস্ময়ের ঘোর কাটছে না। ঘটনার পিছনে কার হাত রয়েছে তা-ও খুঁজে বের করতে চায় তারা। এ নিয়ে আরও তদন্ত করার কথা জানিয়েছে কমিশন।
গোটা ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে আয়ার্ল্যান্ড সরকার। আয়ার্ল্যান্ডের শিশু ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথরিন জাপোন এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা।” স্বীকার করেন, গত কয়েক বছর ধরেই এ নিয়ে দাবি উঠছিল। তিনি আরও বলেন, “এটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। এবং তা ওই প্রসূতি ভবনের সময়কালের ঘটনা। যে স্বল্প সময়ের জন্য শিশুরা ওই ভবনে বাস করেছিল তাদের সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করাটাই আসল। শিশুদের কঙ্কালগুলি যাতে যথাযত ব্যবস্থা করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে।”
কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর এ বিষয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ওই বন সেকুর সিস্টার্স কর্তৃপক্ষ। তাঁরা জানিয়েছেন, তদন্তের কাজে সাহায্যের জন্য ওই সময়কালের সমস্ত নথিপত্র কমিশনের কাছে তুলে দেওয়া হবে।
সুত্র- আনন্দবাজার

এফবিআই-প্রধানও উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্পের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) পরিচালক জেমস কমি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আড়ি পাতার অভিযোগ নাকচ করেছেন। গত শনিবার ট্রাম্প এ অভিযোগ করেন। আজ সোমবার বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, কমি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রতি ওবামার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিচার বিভাগ কমির এই নির্দেশ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। মার্কিন মিডিয়া বিভিন্ন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে,
কমি বলেছেন, ট্রাম্পের এমন অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণ মেলেনি। গত শনিবার এক টুইটে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারকালে ট্রাম্প টাওয়ারের ফোনে ওবামা আড়ি পাতেন। টেলিফোনে আড়ি পাতার বিষয়ে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা অভিযোগের জবাব দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ট্রাম্পের অভিযোগ নাকচ করেছেন তিনি। তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে রাশিয়ার যোগসাজশ নিয়ে একসঙ্গে তদন্ত করছে এফবিআই ও কংগ্রেস।

জাপানের জলসীমায় উ. কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র

জাপান সাগর অভিমুখে চারটি আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। এর মধ্য তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র জাপান-নিয়ন্ত্রিত জলসীমায় গিয়ে পড়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনেজা আবে এমনটাই বলেছেন। আবে এই ঘটনাকে উত্তর কোরিয়ার ‘নতুন দফা হুমিক’ বলে অভিহিত করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। আজ সোমবার উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করে বলে জাপানের ভাষ্য। পিয়ংইয়ংয়ের এই পদক্ষেপকে নতুন পর্যায়ের হুমকি বলে বর্ণনা করেছে জাপান। পার্লামেন্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তর কোরিয়া আজ প্রায় একই সময়ে চারটি আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসে পড়েছে। সিনজো আবে বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের সবশেষ এই পদক্ষেপে প্রতীয়মান হয়,
উত্তর কোরিয়া নতুন পর্যায়ের হুমকি সৃষ্টি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠক আহ্বান করার কথা জানিয়েছেন। জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পড়ল। গত বছরের আগস্টে প্রথমবার জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাবর একটি আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে উত্তর কোরিয়া। জাপানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সমুদ্রে জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার বারবার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ একটি গুরুতর বিষয়। নিরাপত্তার প্রশ্নে পিয়ংইয়ংয়ের এই তৎপরতা উসকানিমূলক। এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমন কর্মকাণ্ড জাপান কখনোই সহ্য করবে না।

ট্রাম্পের কাছে প্রমাণ চান সিনেটর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে তাঁর ফোনে আড়ি পাতার বিষয়ে পূর্বসূরি বারাক ওবামার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন, সে ব্যাপারে প্রমাণ চেয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর বেন সাস। ট্রাম্প গত শনিবার এক টুইটার বার্তায় অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারকালে তাঁর ফোনালাপে আড়ি পাতার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবামা। ট্রাম্পের নিজের রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর সাস বলেছেন, ওবামাকে নিয়ে প্রেসিডেন্টের ওই মন্তব্য গুরুতর। ফোনে আড়ি পাতার বিষয়টি তাঁর ব্যাখ্যা করা উচিত। তিনি কীভাবে বিষয়টি জানতে পেরেছেন, তাও স্পষ্ট করে বলা উচিত। সাসের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প গতকাল রোববার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। বারাক ওবামার মুখপাত্র কেভিন লুইস বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট কখনোই কোনো মার্কিন নাগরিকের ওপর নজরদারি বা ফোনে আড়ি পাতার নির্দেশ দেননি। ট্রাম্পের ওই টুইটের পর রক্ষণশীল বেতার উপস্থাপক মার্ক লেভিন অভিযোগ করেন, ওবামা প্রশাসন গত বছর ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ‘আড়ি পাতার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে তাতে সক্ষম হয়’।
সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মেলে, ট্রাম্পের কর্মীদের গতিবিধি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই) যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন ইন্টেলিজেন্স সারভেইল্যান্স কোর্টের (এফআইএসএ) কাছ থেকে একটি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করেছিল। তাদের সন্দেহ ছিল, ট্রাম্পের কর্মীদল রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাঝে মাঝে যোগাযোগ রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এফআইএসএর অধীনে ফোনে আড়ি পাতার অনুমোদন তখনই দেওয়া হতে পারে, যদি কোনো বিদেশি শক্তির ওপর নজরদারির প্রয়োজন পড়ে। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারকালে তাদের পক্ষে রুশ সহযোগিতার অভিযোগ নিয়ে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন বেশ চাপের মুখে রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, হয়তো পাল্টা জবাব দিতেই ট্রাম্প ওই টুইট করেন। ফ্লোরিডার বাড়িতে সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে গিয়ে ট্রাম্প টুইটারে ওই আড়ি পাতার ঘটনার সঙ্গে রিচার্ড নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির তুলনা করেন। আড়িপাতার অভিযোগ অস্বীকার সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান জেমস ক্ল্যাপার নির্বাচনের সময় বা তার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তাঁর প্রচারণা দলের কারও টেলিফোনে আড়িপাতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তাঁর জানামতে নিউইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারে আড়িপাতার ব্যাপারে আদালতের কোনো নির্দেশ ছিল না। তবে এ কথা বলার পাশাপাশি ক্ল্যাপার বলেন, তাঁর নিজের সাবেক প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে তিনি কথা বলতে পারেন না। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আড়িপাতার অভিযোগ তদন্ত করবে মার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটি। এই কমিটির চেয়ারম্যান ডেভিন নুনেস বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার গোয়েন্দাদের কারসাজির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছিল খতিয়ে দেখা হবে। এর আগে গতকাল কংগ্রেসের কাছে ট্রাম্পের অভিযোগের ব্যাপারে তদন্তের আহ্বান জানায় হোয়াইট হাউস।

ট্রাম্প–ওবামা দ্বন্দ্ব আবার সামনে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পূর্বসূরি বারাক ওবামার প্রতি গত শনিবার কথিত ‘আড়ি পাতা’ নিয়ে যে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন, তা খুব বিস্ময়কর কিছু নয়। তবে দুই নেতার মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষের গভীরতার প্রমাণ মেলে এতে। এই বিরোধ চলছিল এক দশক ধরেই। ওবামা বহু বছর ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ বিষয়ে প্রচারণা শুনেছেন। এতে দাবি করা হয়, ওবামার জন্ম সনদ জাল আর তাঁর প্রকৃত জন্মস্থান যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্য নয়, বরং কেনিয়া। এই প্রচারণার মাধ্যমে ওবামার আফ্রিকান শেকড়ের প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ আক্রমণ করা হয়। ওবামা যখন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন, ট্রাম্প তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ততটা প্রভাবশালী ছিলেন না। তবে টেলিভিশনের রিয়েলিটি শোর তারকা হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত ছিলেন। ২০১১ সালের শুরুর দিকে কনজারভেটিভ অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপিএসি) ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট কোত্থেকে এসেছেন, তা অস্পষ্ট। আসলে আরেকটু বিশদভাবে বলছি। বিদ্যালয়ের সহপাঠীরা কেউই তাঁকে দেখেনি; কেউ চেনেই না তিনি কে। অদ্ভুত।’ তবে ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় দুজনের মধ্যে একধরনের আন্তরিকতার প্রকাশ দেখা যায়। ট্রাম্প বিভিন্ন জনসভায় প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রশংসা করেন। সম্ভবত ট্রাম্প তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে নিজের লৈঙ্গিক ব্যবধানের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করতেই এমন কৌশল বেছে নেন। নির্বাচনের মাস দুয়েক আগে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন, ওবামার জন্ম পরিচয় নিয়ে কথাবার্তা বন্ধ করবেন। ওবামা ফ্লোরিডায় এক জনসভায় বলেছিলেন, ট্রাম্পের সহযোগীরা তাঁর টুইটার ব্যবহারে বাধা দিতে চাইছেন। কেউ যদি রাত তিনটা পর্যন্ত জেগে টুইট করেন, তাহলে তিনি পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।
এবারের নির্বাচনের পর ট্রাম্প ও ওবামা পরস্পরের প্রতি আন্তরিক ছিলেন, জনসমক্ষে হলেও। ওবামা চেয়েছিলেন জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা ও পররাষ্ট্র বিষয়ে তাঁর নীতিগুলো বহাল থাকুক। তিনি ট্রাম্পের বিজয়ের পর অভিনন্দন জানান। অন্যদিকে বিজয়ী ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে গিয়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেন। তবে ডিসেম্বরের শেষ দিকে তাঁদের সম্পর্কে আবার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে ‘ইরানের সঙ্গে ভয়ানক চুক্তির’ জন্য ওবামা প্রশাসনের নিন্দা করেন ট্রাম্প। এ ছাড়া ইঙ্গিত দেন, তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে নতুন করে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণ প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানাবেন। এ বিষয়ে ওবামা প্রশাসনের নীতি ছিল বিপরীত। অনলাইনে শনিবার ট্রাম্প-ওবামার দ্বন্দ্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ওই সকালেই ওবামাকে ‘খারাপ লোক’ আখ্যা দিয়েট্রাম্প আক্রমণাত্মক একটি টুইট করেন। এতে তিনি বলেন, ‘ভয়ানক ব্যাপার! এইমাত্র জানতে পারলাম ওবামা আমার কথাবার্তায় আড়ি পেতেছিলেন। আমার বিজয়ের কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প টাওয়ারে ওই কথাবার্তা হয়েছিল। তবে তিনি কিছুই পাননি।’ ট্রাম্পপন্থী সংবাদবিষয়ক রক্ষণশীল ওয়েবসাইট ব্রেইটবার্ট বৃহস্পতিবার একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। ডানপন্থী বেতার উপস্থাপক মার্ক লেভিন এতে দাবি করেন, ওবামার শাসনামলের ‘পুলিশি রাষ্ট্রের’ বিভিন্ন পদক্ষেপ তদন্ত করে দেখতে হবে। এসব নিয়েই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। হয়তো তাঁদের দ্বন্দ্বের ধরন পাল্টেছে, কিন্তু বৈরিতা কমেনি।

খরায় দুদিনে শতাধিক লোকের মৃত্যু সোমালিয়ায়

সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রী হাসান আলি খাইরে বলেছেন, দেশটিতে চলমান মারাত্মক খরায় শনিবার পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই প্রথমবারের মতো খরার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করল পূর্ব আফ্রিকার দেশটি। মানবিক সাহায্য সংগঠনগুলো আগামী দিনগুলোয় সোমালিয়ায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৩০ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।
বিশুদ্ধ পানির অভাবে আউদিনলে শহরে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আব্দুলাহি ফারমাজো এই খরাকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করেন। আফ্রিকা মহাদেশের পূর্ব এবং দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ জলবায়ু পরিস্থিতি ‘এল নিনোর’ প্রভাবে সোমালিয়ায় এ খরা চলছে। এর আগে সোমালিয়ায় ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত চলা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার লোক প্রাণ হারায়।

যে আইন উপকারে আসে না তা আইন নয়: ফখরুল

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইনের (আরপিও) রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত ধারার দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইন মানুষের উপকারের জন্য। যে আইন মানুষের উপকারে আসে না, সেটি আইন নয়। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম ওই আলোচনার আয়োজন করে। ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে বিএনপিকে নির্বাচনে নিতে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে—এমন মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, নির্বাচন বিষয় নয়, বিএনপি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নির্বাচন নয়। সরকার একই কায়দায় ছলচাতুরি করে, প্রতারণা করে গোল করতে চায়। কিন্তু তা এত সহজ নয়। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের কোথাও গণতন্ত্র নেই। জনগণকে বোকা বানানোর জন্য সরকার গণতন্ত্রের কথা বলে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বিএনপি এবার নির্বাচনে যেতে বাধ্য। নির্বাচনী আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) আইনের ৯০ এইচ (১) (ই) ধারা বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হবে। তাঁদের মত, এই ধারার কারণে বিএনপি নির্বাচনে আসতে বাধ্য হবে।
আরপিও ৯০ এইচ (১) ধারায় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি কারণে কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। এই ধারার (ই) উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হবে, যদি কোনো রাজনৈতিক দল পরপর দুটি সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়। অবশ্য নিবন্ধন বাতিলের ক্ষেত্রে কোনো দল যদি ৯০ এইচ (১) (ই) ধারা লঙ্ঘন করে, সে ক্ষেত্রে দলটির নিবন্ধন সরাসরি বাতিল হবে না। পরপর দুবার নির্বাচনে অংশ না নেওয়া দলটিকে শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেবে। কমিশনের কাছে দলটির বক্তব্য গ্রহণযোগ্য না হলেই কেবল তারা নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেবে। মির্জা ফখরুল বলেন, একদিন তারেক রহমানের কারাবন্দী দিবস পালন করে লাভ হবে না। তারেক রহমানকে দেশে নিয়ে আসতে হবে, সে জন্য আন্দোলন করতে হবে। বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, তারেক রহমান সুদূর প্রসারী চক্রান্তের শিকার। এই চক্রান্ত শুরু হয়েছিল জিয়াউর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাক রোডে খানবাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুনতাহা আক্তার (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নিজ বাড়ির ঘরের বারান্দায় জিআই তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে সে মারা যায়। মুনতাহা শহরের আল-আমিন মডেল মাদ্রাসার শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মেয়ে। সে চাঁদপুর আল-আমিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
মুনতাহার বাবা জানান, আজ সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য মুনতাহা বারান্দায় থাকা জিআই তার থেকে কাপড় নিতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরে আলম মুনতাহাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়ালি উল্যাহ অলি বলেন, রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে টিনের ঘর বিদ্যুতায়িত হয়। সেখান থেকে বারান্দার জিআই তারে বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হয়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মুনতাহার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্কুলের বই থেকে স্বনামধন্য লেখকদের লেখা বাদ, কেন বেআইনি নয়

প্রথম থেকে নবম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক থেকে স্বনামধন্য লেখকদের লেখা বাদ দিয়ে আনা পরিবর্তন কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ রুল দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ও শিক্ষাবিদ মমতাজ জাহান এ রিট আবেদন করেন। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ, সৈয়দ মামুন মাহবুব ও মোস্তাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুখলেছুর রহমান। চলতি শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন ধরনের ভুলভ্রান্তি হয়।
পাশাপাশি কয়েকটি পাঠ্যপুস্তক থেকে নামকরা কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের কিছু গল্প-কবিতা বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে আন্দোলন চলছে। অভিযোগ উঠেছে, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক একটি সংগঠন পাঠ্যবই থেকে যেসব বিষয় বাদ দেওয়ার দাবি করেছিল, এবারের পরিবর্তন তার সঙ্গে মিলে গেছে। এর মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের কোনো কোনো লেখায় সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে। এ জন্য বিভিন্ন মহল থেকে এই পরিবর্তন বাদ দিয়ে আগের মতো বই দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে।

হাজারীবাগে থাকা সব ট্যানারি বন্ধের নির্দেশ

হাজারীবাগে থাকা সব ট্যানারি অবিলম্বে বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালতে বেলার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ফিদা এম কামাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও মিনহাজুল হক চৌধুরী। শিল্পসচিবের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রইস উদ্দীন আহমদ। রিজওয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, কারখানাগুলো বন্ধ ও গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা চেয়ে আবেদনটি করা হয়।
আদালত অবিলম্বে ট্যানারিগুলো বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৬ এপ্রিল দাখিল করতে বলা হয়েছে। ১০ এপ্রিল বিষয়টি পরবর্তী আদেশের জন্য আসবে। গত ১৬ জুন হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি না সরানো পর্যন্ত পরিবেশের ক্ষতি হিসেবে ১৫৪ কারখানার মালিককে রোজ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। পরে ট্যানারি মালিকেরা আপিল বিভাগে গেলে আপিল বিভাগ দৈনিক ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ট্যানারি কারখানাগুলো হাজারীবাগের আছে, তবে জরিমানার অর্থ প্রদান করছে না। এ অবস্থায় আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। শিল্পসচিব আদালতে হাজির হয়ে জানান, দেড় শর বেশি কারখানা রয়েছে, যাদের বকেয়ার পরিমাণ ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এরপর ২ মার্চ আদালত ওই সব কারখানাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারি কোষাগারে বকেয়া জরিমানা জমা দিতে নির্দেশ দেন। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নিতে ২০০১ সালে হাইকোর্ট রায় দেন। এরপর কয়েক দফা এই সময়সীমা বাড়ানো হয়।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। আজ সোমবার সকালে ধানমন্ডিতে এক বৈঠকের পরে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ইকবাল আর্সলান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগও কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়েছেন।
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রতিবাদে ও কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে গত শনিবার থেকে কর্মবিরতিতে যান দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার এক নির্দেশে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর আত্মীয় প্রহৃত হওয়ার ঘটনায় চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের পেশাগত সনদের কার্যকারিতা ছয় মাস স্থগিত করে। এর প্রতিবাদে এই কর্মবিরতি শুরু হয়।

জাকার্তার পথে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার সকালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সেখানে তিনি ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী ২১টি দেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওআরএ গঠিত হয়েছে। তিন দিনের সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইট (বিজি-১০৮৬) সকালে জাকার্তার উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বেলা তিনটার দিকে জাকার্তার হালিম পারদনা কুসুমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, তিন বাহিনীর প্রধান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরের প্রথম দিনে জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারের (জেসিসি) প্লিনারি হলে লিডার্স ওয়েলকামিং নৈশভোজে অংশ নেবেন। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে শেখ হাসিনা জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে অ্যাসেম্বলি হল-৩-এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরে তিনি সম্মেলনের ‘অ্যাডপশন অব দ্য এজেন্ডা অ্যান্ড প্রোগ্রাম অব ওয়ার্ক’-বিষয়ক ওপেনিং অধিবেশনে যোগ দেবেন। উদ্বোধনী অধিবেশনের পর দুটি অধিবেশন হবে। একটি সম্মেলনের প্রতিবেদনগুলোর সারসংক্ষেপ অধিবেশন এবং আরেকটি ‘অ্যাডপশন অ্যান্ড সাইনিং অব আউটকাম ডকুমেন্ট অব সামিট’।
প্রধানমন্ত্রী দুটি অধিবেশনেই যোগ দেবেন। শেখ হাসিনা ‘স্ট্রেংদেনিং মেরিটাইম কো-অপারেশন ফর আ পিসফুল, স্টেবল অ্যান্ড প্রোপারাস ইন্ডিয়ান ওশান রিম’ শীর্ষক এক সাধারণ ডিবেট অধিবেশনে যোগ দেবেন। তিনি সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিন দিনের সফর শেষে আগামী বুধবার শেখ হাসিনা জাকার্তার হালিম পারদনা কুসুমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকালে রওনা হয়ে বিকেলে ঢাকা পৌঁছাবেন।  পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পররাষ্ট্রসচিব এম শহীদুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন। এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মতলুব আহমেদের নেতৃত্বে ৬০ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও এই সফরে যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া আইওআরএ সভাপতি দেশ হিসেবে রাজধানী জাকার্তায় প্রথমবারের মতো ৫ থেকে ৭ মার্চ তিন দিনব্যাপী ‘স্ট্রেনথিং মেরিটাইম কো-অপারেশন ফর আ পিসফুল, স্টেবল অ্যান্ড প্রোসপারাস ইন্ডিয়ান ওশান’ শীর্ষক সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের নিয়ে এই লিডার সামিটের আয়োজন করবে। সংগঠনটির সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, কমোরোস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, কেনিয়া, মাদাগাসকার, মালয়েশিয়া, মরিশাস, মোজাম্বিক, ওমান, সিসিলি, সিঙ্গাপুর, সোমালিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। অ্যাসোসিয়েশনের ডায়ালগ পার্টনার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি ও মিসর।

সড়কে পিকআপস্ট্যান্ড, রয়েছে মাদক সমস্যা

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা মাদককে এলাকার প্রধান সমস্যা বলেছিলেন। নির্বাচনের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু আগের অবস্থা এখনো বদলায়নি। ওয়ার্ডে মাদক সমস্যা বরং আরও ছড়িয়েছে। আগে মাদক ছিল কল্যাণপুর পোড়া বস্তিকেন্দ্রিক, এখন তা এলাকার পাড়া ও মহল্লার ভেতরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আয়তন ১ দশমিক ১৩ বর্গকিলোমিটার। দক্ষিণ পাইকপাড়া, মধ্য পাইকপাড়ার কিছু অংশ, কল্যাণপুর ও সরকারি ডি-টাইপ কোয়ার্টার এলাকা নিয়ে গঠিত এ ওয়ার্ডে লক্ষাধিক লোকের বাস। গতকাল রোববার ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, কল্যাণপুর নতুন বাজার থেকে বাঙলা কলেজ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে পিকআপ স্ট্যান্ড, রিকশা মেরামতের দোকান। সড়কের এক পাশজুড়ে সারি দিয়ে রাখা হচ্ছে পিকআপ।
মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ চলছে সড়কের ওপরই। ওয়ার্ডের অন্তত ২০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাঁদের অধিকাংশ অভিযোগ করেন, এলাকার নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে মাদকের আড্ডা বেশি হচ্ছে। মাদকের অন্যতম প্রধান উৎস কল্যাণপুর পোড়া বস্তি। এর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রায় সব সময় উপস্থিত থাকেন। তবুও বন্ধ হচ্ছে না মাদকের ব্যবসা। কল্যাণপুর পোড়া বস্তির একাধিক বাসিন্দা বলেন, আগে বস্তির ভেতরেই মাদকসেবীদের দল বেঁধে মাদক নিতে দেখা যেত। এখন আর এই চিত্র দেখা যায় না। বর্তমানে মাদক ব্যবসার পুরোটাই ভ্রাম্যমাণ। ক্রেতা ও বিক্রেতা কেউই বস্তির ভেতরে অবস্থান করেন না। কেনাবেচা শেষ হলেই বস্তি থেকে বের হয়ে যান। কল্যাণপুর নতুন বাজার এলাকায় সড়কের এক পাশে গড়ে উঠেছে পিকআপ স্ট্যান্ড আর অপর পাশে রিকশা মেরামতের দোকান। সারি দিয়ে প্রায় ২০টি পিকআপ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। বাজারের মোড়ে সড়ক দখল করে স্ট্যান্ড বানিয়ে চালানো হচ্ছে রেন্ট-এ-কার ব্যবসা। ফলে সড়কের প্রস্থ অনেকটাই কমে গেছে। স্থানীয় বাজারের একাধিক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে দু-তিনটি পিকআপ এখানে রাখা হতো। ধীরে ধীরে পিকআপের সংখ্যা বেড়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ লোকজন পিকআপ স্ট্যান্ডটি গড়ে তুলেছেন। দেখা যায়, এলাকায় অসংখ্য আবাসিক ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। এসব ভবনের নির্মাণসামগ্রী সামনের সড়কের অনেকটাজুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে।
রাতে ট্রাকে এনে রাখা ইট, বালু সড়কেই রেখে দিয়েছেন নির্মাণাধীন ভবনের মালিকেরা। ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মশার উপদ্রব কল্যাণপুর ও পাইকপাড়া এলাকার অন্যতম সমস্যা। এলাকায় খেলার মাঠ নেই। ওয়ার্ডে একটি কমিউনিটি সেন্টার হবে—এটি এলাকাবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা হলেও সেটি পূরণ হয়নি। কল্যাণপুর পোড়া বস্তিতে প্রবেশের প্রধান সড়ক দুটির বেহাল অবস্থা। দেখে বোঝার উপায় নেই শেষ কবে পিচঢালাই হয়েছিল। সড়কের দুই পাশেই গড়ে উঠেছে দোকান, নেই ফুটপাতও। বস্তির ভেতরে কয়েকটি রিকশা-ভ্যান গাড়ির গ্যারেজ আছে, চালকদের সেগুলো নিয়ে আসা-যাওয়া করতে বেগ পেতে হচ্ছে। বস্তির কমিউনিটি বেইসড অর্গানাইজেশনের (সিবিও) সাধারণ সম্পাদক হান্নান আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের বস্তি উন্নয়ন বিভাগ নামেই আছে। ২০ বছরে তাদের কোনো কাজ করতে দেখিনি। গত দুই বছরে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো উন্নয়ন বস্তিতে হয়নি। বস্তির প্রধান সড়ক পিচঢালাই করা, বস্তির পাশে সরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠা, বৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস-সংযোগসহ নাগরিক সুবিধার দাবি জানান বস্তিবাসী।

শিক্ষাসফরের বাসে ডাকাতি, মালামাল লুট

মেহেরপুর পৌর কলেজের শিক্ষাসফরে যাওয়া কয়েকটি বাসে ডাকাতি হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ বলছেন, ২০ থেকে ২২ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল ভয় দেখিয়ে চারটি বাস থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও গয়না নিয়ে গেছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গাংনী উপজেলার খলিশাকুন্ডি ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল আজিমের ভাষ্য, কলেজ থেকে গতকাল সকাল সাতটার দিকে শিক্ষাসফরে নওগাঁয় গিয়েছিল চারটি বাস। এতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। সফর শেষ করে বাড়িতে ফেরার পথে খলিশাকুন্ডি ব্রিজের কাছে ডাকাতেরা রাস্তার ওপরে গাছ ফেলে বাস থামায়। এরপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখায়। তাদের কাছ থেকে মুঠোফোন, গয়না, নগদ টাকা নিয়ে যায়। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

আহামরি কোনো পরিবর্তন আনতে পারিনি

২০১৫ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন দেওয়ান আবদুল মান্নান। তিনি গতকাল রোববার ওয়ার্ডের বিভিন্ন বিষয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। আবদুল মান্নান বলেন, ওয়ার্ডের আহামরি কোনো পরিবর্তন আনতে পেরেছি, তা বলব না। তবে এখন ওয়ার্ডের সড়কবাতি জ্বলে, সড়কে কোনো ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে না, নিয়মিত সড়ক ঝাড়ু দেওয়া হয়। তবে মশার ওষুধ অনেক দিলেও সেভাবে তা কমাতে পারিনি। কাউন্সিলর বলেন, মাঝেমধ্যেই মাদকের অভিযোগ আসে। মাদকের বিষয়ে কাউন্সিলরের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা জরুরি।
ওয়ার্ডে গাড়ি রাখার জন্য নির্ধারিত কোনো জায়গা নেই। নিরুপায় হয়ে সড়কের ওপরে কিছু পার্কিং মেনে নিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ডে কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ নেই। ভূমিকম্পের মতো একটি দুর্যোগ হলে মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সে জায়গাটুকু নেই। বস্তির সেভাবে উন্নয়নকাজ হয়নি। ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ কিছু কাজ করলেও বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সেভাবে কাজ হয়নি।

পাটুয়াটুলী গোল্ডেন টাওয়ারে বাড়তি অবৈধ দুটি তলা হচ্ছে

পুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাস্থল পাটুয়াটুলীতে পাঁচতলা ঘড়ির মার্কেট গোল্ডেন টাওয়ারে অবৈধভাবে আরও দুটি তলা নির্মিত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) অবৈধ অংশ উচ্ছেদের তারিখ ঘোষণা করেও ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজউক কালক্ষেপণ করে অবৈধ নির্মাণকারীদের ভবনের তলা বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে। গত শনিবার সরেজমিনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এলাকার ব্যবসায়ীরা বলেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকের বিশেষ অভিযানে যেখানে রাজধানীর বিভিন্ন ভবনের ছোটখাটো ত্রুটি এবং অবৈধ অংশ উচ্ছেদ করা হচ্ছে, সেখানে রাজউকেরই কিছু কর্মকর্তার প্রশ্রয়ে এ ধরনের ভবনের অবৈধ তলা গড়ে উঠছে। পাটুয়াটুলীর ৬৬ নম্বর হোল্ডিংয়ের এ ভবনটির অবৈধ তলা বাড়ানোর কাজ শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ মাস আগে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর রাজউকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। বাংলাদেশ ঘড়ি ব্যবসায়ী সমিতি ও গোল্ডেন টাওয়ার (এস আর ঘড়ি ভবন) মার্কেট কমিটি আলাদাভাবে এই অভিযোগ করে। এতে বলা হয়, নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করে ওই ভবনে অবৈধভাবে ষষ্ঠ ও সপ্তম তলা নির্মাণ করা হচ্ছে। মার্কেটটিতে এমনিতেই ধারণক্ষমতার ওপরে লোকজনের সমাগম।
ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা ওই ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকেন। এ ছাড়া পানি, বিদ্যুৎ, শৌচাগারের সমস্যা রয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। বাংলাদেশ ঘড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল বাশারসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করতে রাজউকের অথরাইজড কর্মকর্তা (অঞ্চল-৭) নূরুজ্জামান জহির বরাবর দফায় দফায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পরও কোনো কাজ না হওয়ায় তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গোল্ডেন টাওয়ারকে নির্মাণকাজ বন্ধ করে নির্মিত অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়। পরে উচ্ছেদের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল গত ১৭ জানুয়ারি। কিন্তু ওই দিন বিকেল পর্যন্ত রাজউক ঘটনাস্থলে যায়নি। নূরুজ্জামান জহির তাঁদের বলেন, পুলিশ না পাওয়ায় তাঁরা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি। পরে নতুন করে তারিখ ঘোষণা করা হবে। কিন্তু ওই দিনের পর রাজউকের পক্ষ থেকে অথরাইজড কর্মকর্তা বা অন্য কেউ ঘটনাস্থলে যাননি বা কোনো রকম খবর নেননি। ব্যবসায়ীদের দাবি, ভবনটির অবৈধ তলা ভাঙার পরিবর্তে রাজউকের সংশ্লিষ্ট লোকেরাই তা নির্মাণে মালিকপক্ষকে সুযোগ করে দিয়েছেন। গোল্ডেন টাওয়ার মার্কেট কমিটির সভাপতি আফজাল হোসেন ঢালী বলেন, ‘রাজউককে বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। রাজউক কাজ করে না, কিন্তু নির্মাণকাজ প্রতিদিন এগিয়ে যাচ্ছে।’ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে অনেকগুলো বহুতল ভবন। বেশির ভাগই ঘড়ির মার্কেট। ১৩ কাঠা আয়তনের জমিতে নির্মিত সাততলা হাজী ইলিয়াস মার্কেটের পাশে মাত্র দুই কাঠা জমির ওপর নির্মিত পাঁচতলা ভবন গোল্ডেন টাওয়ার। নিচতলা ও দ্বিতীয় তলায় ৪০টির মতো দোকান।
ওপরের তিনটি তলায় গুদাম। তার ওপরে নির্মিত অতিরিক্ত দুই তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়ে গেছে। জানা যায়, দুটি তলায় সেলামির বিনিময়ে বেশ কয়েকটি ‘ঘর’ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। যাঁরা সেলামি দিয়েছেন, তাঁরাও বিপদের মধ্যে আছেন। ঘটনাস্থলে গোল্ডেন টাওয়ারের মালিক মতিউর রহমানকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অন্য প্রান্ত থেকে জানতে চাওয়া হয়, কে কথা বলছেন? পরিচয় দিলে বলা হয়, তিনি মতিউর রহমান নন, তাঁর ভাই সাইদুর রহমান। অনুমোদন ছাড়া তাঁরা বাড়তি তলা নির্মাণ করা হচ্ছে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি কিছু জানেন না। তিনি স্বীকার করেন মুঠোফোন নম্বরটি তাঁর ভাই মতিউর রহমানের। রাজউক কালক্ষেপণ করে ভবনমালিককে অবৈধ নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছে—ব্যবসায়ীদের এই অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নূরুজ্জামান জহির উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আপনারা রিপোর্ট করতে পারেন, এটা আমার জন্য কোনো ব্যাপারই নয়।’ রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) আবদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রাজউকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কালক্ষেপণের কারণে অবৈধ তলা নির্মাণ শেষ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে কি না, তা খোঁজ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ভবনটির বিরুদ্ধেও অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান

মহানগরীতে ফিটনেসবিহীন গণপরিবহন বন্ধে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, দৈনিক বাংলা ও মতিঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ফিটনেসবিহীন দুটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি লেগুনা জব্দ করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন অপরাধে ৭৫টি মামলা ও ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়। নগরের যানজট ও যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে এ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিএ), ঢাকা জেলা প্রশাসন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সহযোগিতা করছে। ডিএসসিসি জানিয়েছে, অভিযানে ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার দায়ে ওই সাতজন গাড়িচালককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্য মতিঝিলে সফিকুল ইসলাম ও বাবুল হোসেন নামের দুই বাসচালককে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরদার। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে কামাল, জুয়েল, শুক্কুর, সুলতান, খলিল নামে আরও পাঁচ চালককে এক মাস করে কারাদণ্ড দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার (বিআরটিএ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সালাম। এ ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া, বাসের আসন নোংরা-ভাঙাচোরা থাকা এবং ভাড়ার তালিকা, রুট পারমিট, রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে ৭৫টি মামলা ও জরিমানা করা হয়। আগামী ১৪ কর্মদিবস পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান চলবে বলে জানানো হয়। তবে এই অভিযানের ফলে মতিঝিল এলাকায় গণপরিবহনের সংখ্যা অনেক কম ছিল বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। গতকাল বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিদর্শন করেন ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এ সময় তিনি যাত্রীবাহী বিভিন্ন বাসে উঠে যাত্রীদের সেবার বিষয়ে বাসচালকদের সচেতন করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, লাইসেন্সবিহীন গণপরিবহন চালক, পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের জন্য প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
এতে নাগরিকদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া যত্রতত্র যানবাহন পার্ক করায় শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। গণপরিবহনব্যবস্থায় সুষ্ঠু শৃঙ্খলা না আসা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। তিনি বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বিআরটিএর আইন অনুযায়ী ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলে গণপরিবহন চালকদের আইনের আওতায় আনা হবে। পরিবহনশ্রমিকদের পক্ষ হয়ে কেউ বাধা দিলে তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাঈদ খোকন বলেন, পরিবহনশ্রমিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় তাঁরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান। এতে প্রতিদিনই গণহারে মানুষকে প্রাণ দিতে হয়। এ ছাড়া তাঁরা যাত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারও করেন না। সিটিং সার্ভিসের ভাড়া নিয়ে লোকাল বাসের মতো চালান। এসব অনিয়ম বন্ধে সবার আগে পরিবহনমালিকদের সচেতন হতে হবে। দৈনিক বাংলা মোড়সংলগ্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদ এলাহী। বেলা সাড়ে ১১টায় দেখা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তাঁর আদালতে সিএনজিচালিত তিনটি অটোরিকশাচালককে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তৌহিদ এলাহী প্রথম আলোকে বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রুট পারমিট না থাকায় এই জরিমানা করা হয়। মতিঝিল সিটি সেন্টারের সামনে ফিটনেসবিহীন ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-২০১৬ নম্বরের একটা বাস জব্দ ও এর চালককে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন পৃথক আরেকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই আদালতে ১৬টি বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়। জরিমানা করা হয়েছে ১৯ হাজার ৯০০ টাকা। এই আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরদার বলেন, বিআরটিএ আইন অনুযায়ী বিভিন্ন দায়ে এই মামলা ও জরিমানা করা হয়। জব্দ করা গাড়িটি ট্রাফিক পুলিশের ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে আবার অভিযান শুরু হবে।

নারীর ভাসমান শ্রমবাজার

কাকডাকা ভোরে বেরিয়ে পড়েন ষাটোর্ধ্ব রহিমন। দিনমজুর হিসেবে কাজ পাওয়ার আশায় বসে থাকেন রাজধানীর আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডের এক কোনায়, ফুটপাতের ওপরে। রহিমনের মতো প্রায় ১০০ জন নারী প্রতিদিন বেরিয়ে পড়েন কাজের খোঁজে। আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ডান দিক দিয়ে কবরস্থানের দিকে একটু এগোলেই তাঁদের দেখা মিলবে। ফুটপাতের ওপরে লাইন ধরে তাঁরা বসে থাকেন। অপেক্ষা করেন কেউ ভাড়া করবেন দিনমজুরের কাজে। পুরুষ দিনমজুরদের মতোই নারী দিনমজুরদের দেখা মেলে এই ভাসমান শ্রমবাজারে। রাস্তার যে পাশে বসেন পুরুষ মজুররা, তার উল্টোদিকের ফুটপাতে নারীরা বসেন। গত শনিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ নারীই মধ্যবয়স্ক। রহিমনের স্বামী মারা গেছেন অনেক আগে। লালবাগের রসুলপুরে বাসা। কাজ করতে পারেন? প্রশ্ন শুনেই রহিমনের উল্টো প্রশ্ন, ‘খাওয়াইব কে? কামে না আইলে পেট চলব ক্যামনে?’ মাকসুদা তিন বছর ধরে এখানে বসেন। ঘরে ছোট দুটি ছেলেমেয়ে। স্বামীর খোঁজ জানেন না। কাজ পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে মাকসুদা বলেন, ভোর ছয়টার পরে তাঁরা এখানে জড়ো হতে থাকেন। অধিকাংশ নারীই কাজ পান একজন ‘সর্দারনির’ (একধরনের যোগাযোগ সমন্বয়কারী) মাধ্যমে। মাঝে মাঝে সর্দারনি এসে বলে দেন কে কোথায় যাবেন। অথবা ফোনে নির্দেশনা দেন। যিনি সর্দারনি, তিনিও একসময় মজুর ছিলেন। কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁকে ৫০ টাকা দিতে হয়। কাজের সরঞ্জাম সর্দারনিই সরবরাহ করেন। তিনি বলেন, সর্দারনি ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে গেলে সহজে কাজ মেলে না। এখানকার অধিকাংশ নারী মজুরের কাজ করেন নির্মাণশ্রমিক হিসেবে। মূলত নতুন ভবন তৈরি বা পুরোনো ভবন ভাঙার কাজ করেন। এ ছাড়া ধোয়ামোছার কাজও করতে হয়। পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি, কলাবাগান ও মিরপুর এলাকাতেই তাঁদের ডাক পড়ে বেশি। প্রয়োজনে দূরেও যান। দিনে মজুরি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। নারী মজুরেরা এভাবে ফুটপাতে বসে কাজের অপেক্ষা করেন বেলা ১০-১১টা পর্যন্ত।
কাজ না জুটলে বাড়ি ফিরে যান। শনিবার সর্দারনি আসেননি। তাঁর বদলে রেজিয়া বেগম (৫০) সবাইকে কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছেন। রেজিয়া বলেন, ‘আমি আছি ৩০ বছর। আইজ আফায় আইব না। অহন এক গুরুপ কলাবাগান পাডামু। হেরপর আবার ফোন কইরা কইব কই কই যাওন লাগব।’ রিজিয়ার স্বামী রিকশাচালক। মেয়ে কলেজে পড়ছেন। ছেলে কাজ করেন দোকানে। সংসারে একটু ভালো থাকতেই এ পেশায় আসা। বললেন, স্বামীই বলেছেন কাজ করতে। পেটের দায়েই করতে হয়। রিজিয়া বেলন, শ খানেক নারী এখানে আসেন। বেশির ভাগই কামরাঙ্গীরচরের। মোটামুটি সবাই কাজ পান। একটু দূরে পাঁচজনের একটি দল। কাছে গিয়ে জানা গেল, তাঁরা সর্দারনির অধীনে নন। অনেকেই আসেন শ্রমিক খুঁজতে। এ ছাড়া বাসাবাড়ি পরিবর্তনের সময় ধোয়ামোছার কাজেও অনেকে তাঁদের নিয়ে যান। সবার হাতেই দুপুরের খাবারের বাক্স। কাজ পেলে দুপুরের খাবার। কয়েকজন বলেন, মালিক ভালো হলে মাঝে মাঝে খাওয়ায়। কিছু বকশিশও মেলে। উল্টোপাশের ফুটপাতে পুরুষ মজুরদের অপেক্ষা। নারীদের এভাবে কাজ করাকে কীভাবে দেখেন জানতে চাইলে মো. শামছু নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘কামে হেগো চাহিদা আছে। অনেকে তো বউ লইয়াও আহে।’ কথা বলতে বলতে তিনটি দলে ১২ জন চলে গেলেন কাজে। অন্যরা অপেক্ষায়। এর মধ্যেই টিনের ছোট কৌটায় একটু চা-ও ভাগাভাগি হলো। চলল আগে-পরে পাঠানো নিয়ে মন-কষাকষি। অন্তত ১০ জন নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশই হয় বিধবা, নয়তো স্বামী ছেড়ে গেছেন। থেমে থাকেননি। হাল ধরেছেন সংসারের।

আজ ১৮ উপজেলা ও পৌরসভায় ভোট

আজ সোমবার দেশের ৭ বিভাগের ১৮টি উপজেলা ও পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। এর মধ্যে ৩টি উপজেলা পরিষদে পুরো নির্বাচন হবে। সেগুলো হলো সিলেটের ওসমানীনগর, খাগড়াছড়ির গুইমারা ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর। এ ছাড়া ১১ উপজেলায় উপনির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে বরিশালের বানারীপাড়া, গৌরনদী, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, কুমিল্লার আদর্শ সদর, পাবনার সুজানগর ও কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চেয়ারম্যান পদে। নাটোরের বড়াইগ্রাম, নীলফামারীর জলঢাকা,
সাতক্ষীরার কলারোয়া ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট হবে। ৪ পৌরসভায় উপনির্বাচন হবে। সেগুলো হচ্ছে পটুয়াখালীর গলাচিপায় মেয়র পদে এবং টাঙ্গাইলের সখীপুরের ২ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ড, রাজশাহীর আড়ানি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড ও শেরপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোট গ্রহণ হবে। নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের অধীন এর আগে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও একসঙ্গে এতগুলো স্থানে ভোট গ্রহণ এই প্রথম।

বিজিএমইএ ভবন ভাঙা এখন সময়ের ব্যাপার

আইন না মেনে গড়ে তোলা পোশাক শিল্প প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ১৬ তলা ভবন ভাঙা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সর্বোচ্চ আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদন গতকাল রোববার খারিজ হওয়ায় রাজধানীর বহুল আলোচিত এই ভবন ভাঙার বিষয়ে আইনি সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেল। বিজিএমইএ অফিস অন্যত্র স্থানান্তরে কদিন সময় লাগবে, তা জানিয়ে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে আবেদন করতে বলেছেন আদালত। ওই দিন এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার দিন ঠিক করা হয়েছে। রায়ের কয়েক ঘণ্টা পর বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে নতুন ভবন নির্মাণ করে অন্যত্র যেতে সময় প্রয়োজন। তাই আদালতের কাছে আমরা তিন বছর সময় চাইব।’ গতকাল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ রিভিউ আবেদন খারিজ করেন। রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ভবনটি ভাঙার আদেশ বলবৎ থাকছে। রপ্তানি বাণিজ্যের বিষয় সম্পৃক্ত থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ এক বছর সময় প্রার্থনা করেছে। আপিল বিভাগ বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষকে ভবনটি অন্যত্র স্থানান্তরে কদিন সময় লাগবে, তা জানিয়ে আবেদন করতে বলেছেন। শুনানিতে আদালত বলেন, আজকাল দেখছি ১০০ তলা ভবন ডিনামাইট দিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, র্যাংগস ভবন ভাঙতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
বিজিএমইএর আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী বলেন, সরকার জমি দিয়েছে, টাকা নিয়েছে, তবে রেজিস্ট্রি দলিল দেয়নি। একপর্যায়ে আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘আপনারা কবে সরাবেন দরখাস্ত দিন।’ জবাবে আইনজীবী বলেন, তিন বছর। এখান থেকে ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) দেওয়া হয়, যা ছাড়া একটি গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি সম্ভব নয়। অফুরন্ত কাজ, হঠাৎ করে বন্ধ করা হলে রপ্তানি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আদালত বলেন, ২০১১ সালে রায় হয়েছে, আদালতের রায় তো মানতে হবে। এত গুরুত্বপূর্ণ হলে গুলশান-বনানীতে দুটি বাড়িতে নিয়ে নেন। আইনজীবী বলেন, আবাসিক এলাকা। আদালত বলেন, ওখানে এম্বাসিও চলছে। বিজিএমইএর পক্ষের আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তিন বছর সময়ের কথা বললে আদালত বৃহস্পতিবার লিখিত আবেদন উপস্থাপন করতে বলেন।’
মামলার বৃত্তান্ত
২০১০ সালের ২ অক্টোবর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন ছাড়া বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ বিষয় নিয়ে একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি আদালতের দৃষ্টিতে আনেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ে ওই ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত বছরের ৮ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। এতে বলা হয়, ‘বেগুনবাড়ি খাল’ ও ‘হাতিরঝিল’ জলাভূমিতে অবস্থিত ‘বিজিএমইএ কমপ্লেক্স’ নামের ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ক্ষেত্রে ভবন ভাঙার খরচ আবেদনকারীর (বিজিএমইএ) কাছ থেকে আদায় করবে তারা। রায়ে বলা হয়, ভবন নির্মাণের জন্য জলাধার আইন, ২০০০ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয়। এখানে তা অনুপস্থিত। বিজিএমইএ জমি খুঁজে পায়নি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গত জুনের পর জমি খোঁজা শুরু করলেও এখনো তা পায়নি বিজিএমইএ।
তবে সর্বোচ্চ আদালতের রায় মেনে অন্যত্র ভবন নির্মাণ করে চলে যেতে চায় তারা। গত জুনে আপিল আবেদন খারিজ হওয়ার পর নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তেজগাঁও শিল্প এলাকা, আগারগাঁও, পূর্বাচল ও উত্তরায় খাসজমির খোঁজখবর নেন বিজিএমইএর নেতারা। পূর্ত মন্ত্রণালয়ে জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদনও করা হয়। তখন উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টরে ৯ বিঘা আয়তনের একটি খাসজমি মেলে। তবে সেই জমি বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য নির্ধারিত বলে সেটি বাদ হয়ে যায়। পরে উত্তরাতে আরেকটি ১০ বিঘা জমি দেখেন। তবে জমিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য এখনো জমি না পাওয়ার বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, ‘একখণ্ড জমি পেতে অনেকগুলো প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হয়। তাই সময় লাগছে।’ বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটি দুই বিঘা জমির ওপর। তবে নতুন ভবনের জন্য সংগঠনটি ১০ বিঘা জমি চায়। এ বিষয়ে সংগঠনের সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির বলেন, ‘কার্যালয়ের পাশাপাশি কনভেনশন সেন্টারসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ নতুন ভবন করতে চাই আমরা। তাই বড় জায়গা দরকার।’ তিনি বলেন, ‘উত্তরায় না পেলে আমরা পূর্বাচলে জমি দেখব।’ ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভবনটির উদ্বোধন করেন। রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্পে হোটেল সোনারগাঁওয়ের পাশে বিজিএমইএ ভবনে মোট এলাকা বা স্পেস ২ লাখ ৬৬ হাজার বর্গফুট। বিজিএমইএ ব্যবহার করে চারটি তলা। বাকি জায়গা দুটি ব্যাংকসহ ৪০টির মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ভবনের ফ্লোর বিক্রি করা আছে তাদের কী হবে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ নাছির বলেন, ‘আমাদের যা হবে তাদেরও একই অবস্থা হবে।’ অবশ্য বিজিএমইএর আরেক নেতা জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএর ফ্লোর কিনেছে, তারা প্রায় প্রত্যেকেই সংগঠনের সদস্য। নতুন ভবনে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হবে। কোন পদ্ধতিতে ভাঙা হবে? কোন পদ্ধতিতে বিজিএমইএ ভবন ভাঙা হবে, তা এখন পর্যন্ত অনিশ্চিত।
তবে রাজউক ভবনটি বিনাশ পদ্ধতিতেই (ডিমোলিশন কন্ট্রোল) ভাঙার পক্ষে। এ পদ্ধতিতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি বহুতল ভবন ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। তবে এটা বেশ ব্যয়বহুল। এ পদ্ধতিতে ভাঙা হলে ভবন এলাকার চারদিকে পরিবেশগত বিরূপ প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে। রাজউকের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ২০০৮ সালে র্যাংগস ভবন ভাঙা হয়েছিল ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে, মিস্ত্রিদের মাধ্যমে হাতুড়ি-শাবল দিয়ে। ভাঙার সময় দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক মারা যান। অনেক সময়ও লাগে। তাই বিজিএমইএ ভবন ভাঙার ক্ষেত্রে ওই পদ্ধতিকে কম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘ডিমোলিশন কন্ট্রোল’ পদ্ধতিতে ভাঙা হলে প্রচুর টাকা খরচ হয়, কিন্তু কাজ সম্পন্ন হয় দ্রুত। জানতে চাইলে রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) আবদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সবকিছু বিবেচনায় ‘ডিমোলিশন কন্ট্রোল’ পদ্ধতিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে তার আগে এ বিষয়ে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। ওই সদস্য আরও বলেন, ‘আদালত আমাদের যদি ভাঙার নির্দেশ দেন আমরা ভাঙব। ভাঙতে যে খরচ হবে তা হিসাব করা হবে। আদালতের রায় হলো, ভাঙার খরচটা বিজিএমইএকে বহন করতে হবে। সে মতো রাজউককে ভাঙার খরচ দিতে হবে। তারা খরচ জমা দিলে আমরা কাজ শুরু করতে পারব।’

রংপুরে শহরজুড়ে অনেক বধ্যভূমি

‘২৭ মার্চ হঠাৎ গাড়ির শব্দ। উঁকি মেরে দেখলাম আমাদের বাড়ির সামনেই পাক আর্মির গাড়ি এসে থামল। মুহূর্তেই বাড়ি ঘিরে ফেলে। দরজা ধাক্কা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে বাবাকে ধরে নিয়ে যায়। কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও বাবার খোঁজ মেলেনি। ৩ এপ্রিল দিবাগত ভোর রাতে অনেক গুলির শব্দ। আতঙ্কে বাড়িতে মা, ভাই-বোনেরা বসে কাঁদছি। সকালে জানতে পারি, শহরের দখিগঞ্জ শ্মশানে ১১ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে বাবাও নাকি আছে।’ ১৯৭১ সালে রংপুর শহরের দখিগঞ্জে গণহত্যার সময়কার স্মৃিত মনে করতে গিয়ে প্রথম আলোকে বলছিলেন অসীমা ভৌমিক। তাঁর বাবা রংপুর শহরের তাজহাট বাবুপাড়ার দীনেশ চন্দ্র ভৌমিককে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তখন রংপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন অসীমা। বর্তমানে তিনি রংপুরে নর্দার্ন মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক। পরদিন ৪ এপ্রিল দখিগঞ্জ শ্মশানে গিয়ে লাশের স্তূপে বাবার লাশ পাননি অসীমা ভৌমিক। গণহত্যার হাত থেকে ভাগ্যচক্রে বেঁেচ গিয়েছিলেন তাঁর বাবা। পরে বাবার মুখে ওই দিনের রোমহর্ষক ঘটনা শুেনছেন অসীমা। বাবার সেই অভিজ্ঞতাগুলোই গত শুক্রবার প্রথম আলোকে বলছিলেন অসীমা।
ওই দিন দীনেশ ভৌমিকসহ ১১ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। দখিগঞ্জ শ্মশানে চোখ-হাত বেঁধে তাঁদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে পাকিস্তানি বাহিনী। মুহূর্তেই সবাই মাটিতে লুটিেয় পড়েন। ১০ জন মারা যান। দীনেশ চন্দ্রের পায়ে ১১টি গুলি লেগেছিল। পাকিস্তানি সেনারা চলে গেলে ভোরের সূর্য ওঠার আগেই হামাগুড়ি দিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। সেই রাতে যাঁদের ওই বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয়েছিল, তাঁরা হলেন জররেজ আলী, মোহাম্মদ মহরম, গোপাল চন্দ্র, দুর্গাদাস অধিকারী, উত্তম কুমার অধিকারী, দুলাল মিয়া, রফিক আলী, ক্ষীতিশ হাওলাদার। বাকি দুজনের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। একাত্তরে রংপুর শহরের টাউন হলেও গণহত্যা হয়েছে। এখানে নারীদের ধরে এনে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হতো। তাঁদের লাশ হলের পেছনে কৃষি ফার্মে (বর্তমানে চিড়িয়াখানা) ফেলা হয়। সেই সঙ্গে টাউন হল চত্বরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল মানুষের কঙ্কাল। এখানকার হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন গত শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৭ ডিসেম্বর আমি টাউন হলে গিয়ে দেখতে পাই মানুষের মাথার খুলি। অনেককে সঙ্গে নিয়ে এসব খুলি সংগ্রহ করতে থাকি। ১৬৭টি মানুষের মাথার খুলি সংগ্রহ করে টাউন হলের পাশে পাবলিক লাইব্রেরি ভবনের একটি কক্ষে স্থাপিত মুক্তি সেনানী সংস্থার কার্যালয়ে রেখেছিলাম। এসব খুলি পরে সেখান থেকে চুরি হয়ে যায়।’ আকবর হোসেন আরও বলেন, ‘টাউন হলের পেছনে একটি ইঁদারা ছিল। সেখানে নারীদের লাশ ফেলতে ফেলতে পানি একেবারে ওপরে উঠে গিয়েছিল। লাশের গন্ধে সেখানে যাওয়া যেত না। হলের ভেতরে দেয়ালে নির্যাতিত এক নারী রক্ত দিয়ে তাঁদের শেষ আকুতি লিখেছিলেন—“আমরা বাঁচতে চাই”।’ তিনি বলেন, এখানে গণহত্যায় কতজন নারীকে হত্যা করা হয়েছে, সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। গণহত্যা হয়েছে কারমাইকেল কলেজ চত্বরেও।
মুকুল মোস্তাফিজের মুক্তিযুদ্ধে রংপুর বই থেকে জানা যায়, ৩০ মে মধ্যরাতে সেখানে পাকিস্তানি সেনাদের গাড়ি ঢোকে। কয়েকজন মুখোশধারী অবাঙালি গাড়ি থেকে নেমে শিক্ষক সুনীল বরণ চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ অধিকারী, চিত্তরঞ্জন রায় ও কালাচাঁদ রায়কে ধরে নিয়ে যায়। ওই রাতেই দমদমা সেতুর কাছে গুলি করে হত্যা করা হয় তাঁদের। তারপর লাশ ফেলে দেওয়া হয় ঘাঘট নদে। একই স্থানে ৭ জুন তিনটি ট্রাকে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তবে সেদিন নিহত ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধে রংপুর বই থেকে আরও জানা যায়, ১৪ মে মধ্যরাতে শহরের নিসবেতগঞ্জ এলাকার সেতুর পাশে ঘাঘট নদে ক্যান্টনমেন্টের ইপিআর বাহিনীর ৫০-৬০ জনকে চোখ-হাত বেঁধে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২৩ ও ২৫ মে এই একই এলাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজয় চন্দ্র মৈত্র (পাখিদা), শংকর লাল বণিক, পূর্ণচন্দ্র সরকার, শৈলেন দত্তসহ ৫০ জনকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ২৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত রংপুর ক্যান্টনমেন্টের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বালার খাইল এলাকায় সৈয়দপুরের চিকিৎসক জিকরুল হকসহ ৮৪ জনকে হত্যা করে হানাদার বাহিনী। ১৩ এপ্রিল ১১ জন বাঙালি ইপিআর সদস্যকে শহরের নব্দিগঞ্জে হত্যা করা হয়। ১ মে শহরের সাহেবগঞ্জের একটি খালে সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ১৯ জন বাঙালি সৈনিকের লাশ ট্রাকে করে এনে এখানে ফেলা হয়। মুক্তিযোদ্ধা সদরুল আলম দুলু গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মে শুক্রবার তিনি লাহিড়িরহাটের একটি মসজিদ থেকে জুমার নামাজ পড়ে বের হচ্ছিলেন। এমন সময় পাকিস্তািন আর্মির চারটি গাড়ি মসজিদের সামনে এসে দাঁড়ায়। প্রাণভয়ে মুসল্লিরা ছুটতে থাকেন। এ সময় ৩২ জনকে ধরে লাহিড়িরহাট পুকুর পাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁদের দাফন করার মতো কোনো মানুষও ছিল না এলাকায়। এভাবে আরও অনেককে হত্যা করে শহরের জাফরগঞ্জ সেতুর পাশে ঘাঘট নদে ফেলা হয়।

ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম ঢেলে সাজানো সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সরকারের শেয়ারের অংশ সামান্য পরিমাণ থাকায় ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানো সম্ভব নয়। জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান। এ বিষয়ে সেলিম উদ্দিনের প্রশ্ন ছিল, ইসলামী ব্যাংককে ঢেলে সাজানোর কোনো পদক্ষেপ বা কর্মসূচি সরকার গ্রহণ করেছে কি না?
এর জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের শেয়ারের অংশ সামান্য পরিমাণ থাকায় ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানো সম্ভব নয়। ইসলামী ব্যাংক বেসরকারি খাতের একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানিটির মালিক। শেয়ারহোল্ডারদের দ্বারা নির্বাচিত পরিচালকেরা তাঁদের পক্ষে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। ইসলামী ব্যাংকে সরকারের শেয়ারের পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য ১৩ শতাংশ (০.০০১৩%)। তাই ঢেলে সাজানোর জন্য সরকারের পক্ষে কোনো বিশেষ পদক্ষেপ বা কর্মসূচি নেওয়া সম্ভব নয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটার পর সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। সরকারি দলের নুরুন্নবী চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ট্রানজিট সুবিধায় কোনো দেশকে পণ্য পরিবহনের সুযোগ এখনো দেওয়া হয়নি। কোনো দেশকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া না হলেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেডের (পিআইডব্লিউটিটি) আওতায় ট্রানশিপমেন্ট সুবিধায় ভারত থেকে পণ্য পরিবাহিত হয়। আ ফ ম বাহাউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ব্যাংকের মাধ্যমে ১৬ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকার রেমিট্যান্স এসেছে। এই অঙ্ক আগের বছরের তুলনায় ২ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা কম। মুঠোফোন অপারেটর কোম্পানিগুলো থেকে সরকার গত ১৬ বছরে ২৪ হাজার ৫৯৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। নুরুন্নবী চৌধুরীর এ-সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মুঠোফোন অপারেটরদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১ হাজার ৩৬০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা রাজস্ব এসেছে গ্রামীণফোন থেকে।
সবচেয়ে কম ৪৬০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এসেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটক থেকে। এ ছাড়া রবি আজিয়াটা থেকে ৫ হাজার ২৭৩ কোটি ৭৩ লাখ, বাংলালিংক থেকে ৫ হাজার ২০৮ কোটি ৩ লাখ, এয়ারটেলের কাছ থেকে ১ হাজার ৫৯৫ কোটি ৬৯ লাখ এবং সিটিসেল থেকে ৬৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব এসেছে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মুঠোফোন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৫৮২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ধার্য করা হয়েছে। হোসনে আরা লুৎফার প্রশ্নের জবাবে তারানা হালিম জানান, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন ও সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠী এবং ৯৭ শতাংশ ভৌগোলিক এলাকায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লাখ সক্রিয় মোবাইল ফোন গ্রাহক রয়েছে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ। পার্বত্য অঞ্চল ও দ্বীপসহ দেশের যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, সেখানে অপারেটরদের টাওয়ার শেয়ার করে নেটওয়ার্ক বিস্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে তারানা হালিম জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৬ কোটি ৬৭ লাখ। আয়েন উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে মোবাইল ফোনে সর্বনিম্ন কলরেট মিনিটে ২৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ২ টাকা। পাশের দেশের তুলনায় এই রেট কম বলে বিবেচিত। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে কলরেট পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ দরকার

সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রয়োজনের সময় ধনী-দরিদ্র সবারই সেবা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন করতে হলে স্বাস্থ্য, অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সমিন্বতভাবে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচতনতা বাড়ানো দরকার। গতকাল রোববার প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ শীর্ষক গোলেটেবিল বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদেরা এসব কথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনে প্রথম আলোকে সহযোগিতা করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবিলক হেলথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠান ইউএসএআইডি। বৈঠকে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসসহ স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টাঙ্গাইলের তিনটি উপজেলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি নামে দিশারী প্রকল্প শুরু করেছে। এর আওতায় ৫০ ধরনের রোগের ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। ওই তিন উপজেলার অভিজ্ঞতার আলোকে এই কর্মসূচি দেশের অন্য জায়গায় বিস্তৃত করার পরিকল্পনা আছে। তিনি বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা স্লোগান হিসেবে শুনতে ভালো। কিন্তু এই জনবহুল দেশে বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন। অর্থ ছাড়া মানসম্পন্ন সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। সর্বজনীনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন করতে হলে স্বাস্থ্য, অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। গোলটেবিল বৈঠকের মূল বিষয়ের ওপর বক্তব্য উপস্থাপনের সময় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বাইরের কিছু বিষয় স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে চলেছে। জলবায়ুর পরিবর্তন, নগরায়ণ, অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি—এগুলো তার উদাহরণ। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকে এখন কৌশলগত খাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই খাতের অর্থনৈতিক মাত্রা আছে। স্বাস্থ্য উন্নত হলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তবে এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পক্ষে জোরালো যুক্তি দরকার। যেমন প্রবৃদ্ধি বেশি হবে, দারিদ্র্য কমবে ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন করতে হলে বিভিন্ন খাতের নীতিনির্ধারকদের এ ব্যাপারে জানা ও সহমতে পৌঁছানো দরকার। আলোচনার শুরুতে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, প্রথম আলো সাংবাদিকতার বাইরেও কিছু কাজ করে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তর্কবিতর্ক আলোচনার উদ্যোগ নেয় এবং তা সাধারণ মানুষ বা পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর সহায়তা, আরও অনেকের মিলিত চেষ্টার ফলে স্বাস্থ্য খাতের সফলতা এসেছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্বাস্থ্যকে মানবাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলমা আটা ঘোষণায় ২০০০ সালের মধ্যে ‘সকলের জন্য স্বাস্থ্য’ এমন কথা বলা হয়েছিল। তাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তবে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মানুষের সেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথম পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনা দলিলে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারণা ছিল। প্রায় তিন ঘণ্টর এই আলোচনায় একাধিক আলোচক বলেন, জাতিসংঘ গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে (এসডিজি) সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও একে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মাহমুদ হাসান বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনেরর জন্য মানসম্পন্ন ও দক্ষ জনবল দরকার। দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসক থাকলেও নার্স ও টেকনিশিয়ানের ঘাটতি আছে। যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট-এর দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের ৯৪ শতাংশ অদক্ষ। চিকিৎসক তৈরির সব প্রতিষ্ঠান মানসম্পন্ন নয়। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এম ইকবাল আর্সলান বলেন, সরকারের উচিত পেশাজীবীদের এ কাজে সম্পৃক্ত করা। সংগঠনের নেতাদের উচিত পেশাজীবীদের উদ্বুদ্ধ করা, সচেতন করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া।
কিন্তু সংগঠনগুলো উন্নয়নে কাজ না করে ট্রেড ইউনিয়নিজম করে। এই চিকিৎসক নেতা বলেন, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ কম হলে আউট অব পকেট খরচ বা রোগীর ব্যয় কমে যাবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালেয়র পরিকল্পনা শাখার জয়েন্ট চিফ এ ই মো. মহিউদ্দিন ওসমান বলেন, পরবর্তী স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাত কর্মসূচিতে অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্যাকেজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে মূলত সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে। তিনি বলেন, সুশাসন, নিরাপত্তা, সুন্দর পরিবেশ, দক্ষ জনবল—এগুলো বড় চ্যালেঞ্জ। অনুষ্ঠান সঞ্চলাক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকগুলোতে স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পায়। আলোচনায় অংশ নিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রুহুল আমিন বলেন, ওষুধ ঠিক না ভেজাল, তা জানার একটা উপায় হচ্ছে প্যাকেটের গায়ে অধিদপ্তরের নিবন্ধন নম্বর ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লেখা আছে কি না, তা দেখে নেওয়া। তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে মডেল ফার্মেসি চালু করছে। এসব ফার্মেসিতে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রি হবে না। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ মানসম্পন্ন ওষুধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমান হক বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা ভালো কাজ করলে পুরস্কৃত করতে হবে। অন্যদিকে কাজ না করলে শাস্তির বিধান রাখতে হবে।
সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনার ওপর জোর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটউটের (পিআইবি) মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর। তিনি বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারণা অনেকের কাছে পরিষ্কার নয়। প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য এ নিয়ে বই প্রকাশ করেছে পিআইবি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুসলিম চৌধুরী বলেন, ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের জন্য প্রত্যেকের নিজের মতো করে ভূমিকা রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট দ্বিগুণ করার চেষ্টা চলছে। জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবিলক হেলথের শিক্ষা বিভাগের প্রধান হোসেন ইশরাত আদিব বলেন, নীতিনির্ধারণে গবেষণা ফলাফল ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের মাত্র ২ শতাংশ রাখা হয় গবেষণায়। যে গবেষণা হচ্ছে, তা কে ব্যবহার করছে, কোথায় ব্যবহৃত হচ্ছে মানুষ জানতে পারে না। অন্যদিকে কিছু গবেষকও প্রকাশনা ও সেমিনারের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেন। বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ শাকিল আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নে দাতারা কিছু পরিবর্তন আনছে। এখন অর্থায়ন হবে কর্ম সম্পাদনের মান ও পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে।
ইউএসএআইডির স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা শাখার উপপরিচালক মিরান্দা বেকহাম বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন খাতের বহু বছরের সহযোগী ইউএসএআইডি। ইউএসএআইডির অর্থায়নের কৌশলগত পরিকল্পনা সরকারের নতুন স্বাস্থ্য খাত কর্মসূচির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদ আমরা কোথায় ব্যবহার করে ভালো ফল পেতে পারি, সেটাই বিবেচ্য হওয়া উচিত।’ আলোচনার শেষ দিকে হোসেন জিল্লুর রহমান সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে জনস্বাস্থ্য, ব্যয় হ্রাস, সামাজিক বিমা ও কমিউনিটি সম্পৃক্ততার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন এবং অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করেন। একাধিক আলোচক বিষয়গুলো নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ করেন। সমাপনী বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ৬ হাজার নতুন চিকিৎসককে নিজ জেলায় চাকরি দেওয়া হয়েছিল। ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকার আন্তরিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতিতে কাজ করছে। সরকারের এসব অর্জন গণমাধ্যমে আসা উচিত।

আসামি শহীদুলের ফাঁসি বহাল

প্রায় দুই দশক আগে গুলশানের নিজ বাড়িতে শাজনীন তাসনিম রহমানকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি শহীদুল ইসলামের (শহীদ) মৃত্যুদণ্ড বহাল আছে। মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে এই আসামির করা আবেদন (রিভিউ) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ গতকাল রোববার এ আদেশ দেন। যার মধ্য দিয়ে আইনি লড়াইয়ের ধাপ শেষ হলো। ঘটনার সময় শাজনীনদের বাড়ির গৃহভৃত্য ছিল শহীদ। আদালতে বাদীপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এ এম আমিন উদ্দিন, এ এস এম আবদুল মবিন ও সরোয়ার আহমেদ। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নিখিল কুমার সাহা, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দিলীরুজ্জামান।
১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে গুলশানে নিজ বাড়িতে খুন হন শাজনীন তাসনিম রহমান। শাজনীনের বাবা লতিফুর রহমান ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান। ঘটনার সময় শাজনীন ঢাকার স্কলাস্টিকা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। ওই ঘটনায় করা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার হয় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। ২০০৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিচারিক আদালত শাজনীনকে ধর্ষণ ও খুনের পরিকল্পনা এবং সহযোগিতার দায়ে ছয় আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেন। তাঁরা হলেন শাজনীনদের বাড়ির গৃহভৃত্য শহীদ, বাড়ির সংস্কারকাজের দায়িত্ব পালনকারী ঠিকাদার সৈয়দ সাজ্জাদ মইনুদ্দিন হাসান ও তাঁর সহকারী বাদল, বাড়ির গৃহপরিচারিকা দুই বোন এস্তেমা খাতুন (মিনু) ও পারভীন এবং কাঠমিস্ত্রি শনিরাম মণ্ডল। বিচারিক আদালতের রায়ের পর এই মামলার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য হাইকোর্টে যায়। একই সঙ্গে আসামিরাও আপিল করেন। ২০০৬ সালের ১০ জুলাই হাইকোর্ট শনিরামকে খালাস দেন। বাকি পাঁচ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রাখা হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন চার আসামি হাসান, বাদল, মিনু ও পারভীন। ফাঁসির আদেশ পাওয়া আরেক আসামি শহীদ জেল আপিল করেন। আপিল বিভাগ চার আসামির আপিল মঞ্জুর ও শহীদের জেল আপিল খারিজ করে গত ২ আগস্ট রায় দেন। আপিলের পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তা পুর্নবিবেচনা চেয়ে গত বছর আবেদন (রিভিউ) করেন শহীদ। গতকাল তা খারিজ হয়।

দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ–চালিত নৌকা

চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদীতে গতকাল রোববার ভাসানো হলো দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ-চালিত ইঞ্জিন নৌকা। বিদ্যুৎ বিভাগের টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) ও ইউএনডিপির শীর্ষ কর্মকর্তা, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সোলার-ই-টেকনোলজির প্রকৌশলী ও গণমাধ্যমকর্মীরা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া নৌকাটিতে চড়েন। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা নৌকাটি নদীতে চালানো হয়। কর্মকর্তারা নৌকাভ্রমণ শেষে এই উদ্ভাবনকে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
প্রকৌশলী আহমেদুল কবীর জানান, ইউএনডিপির অর্থায়ন ও স্রেডার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) সৌরবিদ্যুৎ-চালিত মোট পাঁচটি নৌকা (সোলার বোটিং) তৈরি করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী দুটি নৌকা সনাতন পদ্ধতি (ডিজেল ইঞ্জিনচালিত) ও সৌরবিদ্যুতের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে। বাকি তিনটি সম্পূর্ণরূপে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চালানোর উপযোগী করে তৈরি করা হবে। যে নৌকাটি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হলো, সেটিতে দুটি সুবিধাই রয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় সোলার-ই-টেকনোলজির নিজস্ব কারখানায় এগুলো তৈির করা হচ্ছে। স্রেডার পরিচালক (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) শেখ রিয়াজ আহমেদ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও সৌরবিদ্যুৎ-চালিত নৌকার সুফল বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত বলেন। তিনি বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০-এর ৭ নম্বর লক্ষ্যটি বাস্তবায়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) গঠন করা হয়েছে। শেখ রিয়াজ আহমেদ সৌরবিদ্যুৎ-চালিত নৌকা প্রসঙ্গে বলেন, ‘মোট ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫টি নৌকা তৈরি করা হচ্ছে।
যার মধ্যে ২টিকে সনাতন ও আধুনিকতার মিশেল রাখার পেছনে কারণ হচ্ছে, যদি কখনো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সৌরবিদ্যুৎ কাজ না করে, তখন ডিজেল ইঞ্জিন চালিয়ে নৌকাটিকে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ থাকবে। নৌকা চলার সময় ইঞ্জিনের শব্দ কানে লাগছে। আমরা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে শব্দ কমিয়ে আনতে বলেছি।’ ইউএনডিপির প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট আরিফ মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশের অন্যতম বাংলাদেশ। এই দেশ নদীমাতৃক হওয়ায় ডিজেল ইঞ্জিনচালিত নৌকার কারণে পরিবেশ ও নদীর পানিদূষণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যে কারণে নদীগুলো থেকে অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত নৌকায় পরিবেশ ও নদীর পানিদূষণের কোনো আশঙ্কা নেই।

কার নির্দেশে অস্ত্র দিলেন ভোলা, জানতে সাত মাস পর আবারও জিজ্ঞাসাবাদ

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানমকে খুন করতে খুনিদের পিস্তল ও গুলি সরবরাহ করেছিলেন এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা। কার নির্দেশে এবং কেন তিনি অস্ত্র ধার দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে জানতে সাত মাস পর আবারও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনের সময় বাবুল আক্তারের ‘সোর্স’ হিসেবে কাজ করতেন ভোলা। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ভোলাকে নগরের লালদীঘি এলাকার গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আনা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কামরুজ্জামান। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে ভোলাকে দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তিনি। গত বছরের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করা হয় মাহমুদাকে। মো. কামরুজ্জামান গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, দুই দফায় আট দিন রিমান্ডে নিয়ে ভোলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও মুখ খোলেননি তিনি। গত বছরের আগস্ট মাসে ভোলাকে আবারও রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হয়।
তখন দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। কিন্তু এত দিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এর মধ্য তদন্তে আরও বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো তাঁর কাছ থেকে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কাল (আজ) তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে। এদিকে মাহমুদা হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামী বাবুল আক্তার জড়িত বলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন মাহমুদার বাবা পুলিশের সাবেক পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন ও মা শাহেদা মোশাররফ। সেদিন তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর মেরাদিয়ার ভূঁইয়াপাড়ায় মাহমুদার বাবার বাসায় যান। পরদিন বাবুল আক্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে খুনি বানানো হচ্ছে। মাহমুদা হত্যার তিন সপ্তাহ পর গত বছরের ২৭ জুন এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. ওয়াসিম ও আনোয়ার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, কামরুল শিকদার ওরফে মুছার নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডে তাঁরা সাত-আটজন অংশ নেন। অস্ত্র সরবরাহ করেন ভোলা। ওই দিন রাতেই পুলিশ বাকলিয়ার রাজাখালী এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করেন। গ্রেপ্তার করা হয় ভোলা ও তাঁর সহযোগী মো. মনিরকে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় পৃথক আরেকটি মামলা করেন। অস্ত্র মামলায় মনির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তিনি বলেন, মাহমুদা হত্যার পর ভোলা তাঁকে অস্ত্র-গুলি রাখতে দেন। তদন্ত শেষে এই মামলায় গত বছরের ২৮ জুলাই ভোলা ও মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু কার নির্দেশে, কেন ভোলা মাহমুদা হত্যায় অস্ত্র সরবরাহ করেন, তা তদন্তে উঠে আসেনি।
বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। পুলিশ সূত্র জানায়, মাহমুদা হত্যার অন্যতম সন্দেহভাজন কামরুল শিকদার ওরফে মুছাকে ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় গত বছরের ৬ অক্টোবর তাঁকে ধরতে পাঁচ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেন নগর পুলিশ কমিশনার। তিনি বাবুলের সোর্স ছিলেন। তাঁকে যেহেতু পাওয়া যাচ্ছে না, ভোলাই একমাত্র ভরসা। ভোলাই বলতে পারবেন তাঁকে অস্ত্র-গুলি দিতে কে বা কারা কেন বলেছিলেন। মাহমুদা হত্যার তিন সপ্তাহ পর গত বছরের ২৪ জুন মধ্যরাতে ঢাকার বনশ্রী এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুল আক্তারকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে আবার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘বাবুলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হলো।’

যোগ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ

ভোলার মনপুরা উপজেলার মনপুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন হাওলাদারের মুক্তির দাবিতে গতকাল রোববার বেলা ১১টায় কয়েক শ মানুষ মানববন্ধন করেছেন। চেয়ারম্যানকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার দাবি করে তাঁরা ভোলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তবে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান পরিষদের নেতৃবৃন্দ এসব দাবিকে মিথ্যা ও বানোয়াট উল্লেখ করে বলেন, মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভূমিদস্যুকে বাঁচাতে এ মানববন্ধন করা হয়েছে। ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে মনপুরাবাসী গতকাল রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টা মানববন্ধন করেছেন। প্রেসক্লাব সড়কের দুই পাশে কাবিল জামে মসজিদের সামনে থেকে নতুনবাজার চত্বর পর্যন্ত মানববন্ধন করা হয়। ব্যানার ও ফেস্টুনে আলাউদ্দিন চেয়ারম্যানের মুক্তি ও ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মনপুরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক চন্দ্র দাস সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের ভাগনে উপজেলা যুবলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো. কালাম উপস্থিত ছিলেন। লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে তাঁরা বলেন, শংকর বিজয় দাস,
ননী গোপাল দাস, ভবেশ মজুমদারসহ কয়েকজন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নাম করে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছেন। তাঁরা হিন্দুদের পৈতৃক জমি ফিরিয়ে দেওয়ার নাম করে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেন। কিন্তু ফল না পেয়ে তাঁরা মনপুরা ইউপির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের সাহায্য প্রার্থনা করেন। চেয়ারম্যান হিন্দুদের সাহায্য ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসত করার আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করলে ভবেশ মজুমদার পক্ষের শত্রুতে পরিণত হন। তাঁরা ভারতীয় হাইকমিশন, কেন্দ্রীয় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার পুলিশ আলাউদ্দিন হাওলাদার ও তাঁর ভাই ফরহাদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান করেছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, আলাউদ্দিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হিন্দু পরিবার ও সরকারি ৭ হাজার একর জমি দখল ও বিক্রি, সরকারি জমিতে বাজার স্থাপন করে বিক্রি, বার্ষিক চাঁদা আদায়সহ সাধারণ জনগণের শতাধিক কোটি টাকা লোপাটের যে অভিযোগ উঠেছে, তা মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। একটি পক্ষ তাঁর জনপ্রিয়তা দেখে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা করছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভোলা জেলা শাখার সভাপতি অবিনাশ নন্দী ও মনপুরা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ভবেশ মজুমদার তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মনপুরা উপজেলার কলাতলি ও মাছগ্রাম মৌজা মনপুরা ইউনিয়নের অংশ ছিল। এ দুটি মৌজায় মোট রেকর্ড করা জমি ছিল ৪ হাজার ৫০ একর। ১৯৮০-৮২ সালে মৌজা দুটি মেঘনা নদীতে ভেঙে যায়। আবার ১৯৯০-৯২ সালে জেগে ওঠে বড় পরিসরে, যার পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার একর।
রেকর্ড করা মালিকদের দখলে আছে মাত্র ১ হাজার ৩৫০ একর। বাকি প্রায় ২০ হাজার ৬৫০ একর জমি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার ও তাঁর ভাইদের দখলে। তাঁরা চিহ্নিত ভূমিদস্যু। আলাউদ্দিন ওই জমি দেড় একরের প্লট করে বিনা দলিলে দুই লাখ এবং চারটি বাজার করে প্রতিটি ভিটা চার-পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। ওই কলাতলি চরে সরকার চারটি আশ্রয়ণ প্রকল্প করেছে। সেখানে ৫০-৬০ হাজার টাকা নিয়ে ভূমিহীনদের আশ্রয় দিয়েছেন। ইউনিয়নে অনেক মানুষ আছেন যাঁরা ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, এলজিএসপির সুবিধাভোগী। এসব জমির ক্রেতা, আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী ও ইউনিয়নের সুবিধাভোগী লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে ভোলায় এনেছেন। গতকাল রোববার প্রেসক্লাবের সামনের মানববন্ধনে অংশ নিতে বাধ্য করেছেন। তারপরও অনেক মানুষ আসেননি। বাকি মানুষগুলো আলাউদ্দিন হাওলাদার ও তাঁর ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ির এলাকার আত্মীয়স্বজন, যাঁদের অনেককেই টাকার বিনিময়ে আনা হয়েছে।

বিনা পয়সায় পড়ান সানী

নিজে অর্থকষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা করছেন। দরিদ্র পরিবারের কোনো শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হলে বিষয়টি তাঁকে পীড়িত করে। এ উপলব্ধি থেকে তিনি ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলগামী করতে নিয়েছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। গড়ে তুলেছেন ‘শিক্ষার আলো পাঠশালা’। শিশুদের স্কুলগামী করতে উদ্যোগ নেওয়া এ ব্যক্তি হলেন সানী রহমান ওরফে মিন্টু (২৭)। বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের গিলন্ড গ্রামে। তিনি মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ বর্ষে পড়েন। তাঁর বাবা মোতালেব হোসেন ঝালমুড়ি বিক্রেতা। সানীর বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। ছোট বোন সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছেন। ২০১১ সালের শুরুর দিকের কথা। মা মারা যাওয়ার পর গ্রামের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র রাজিব হোসেনের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি সানীকে খুব ভাবিয়ে তোলে। সানীসহ গিলন্ড গ্রামের পাঁচ বন্ধু মিলে ভাবতে শুরু করেন,
কীভাবে ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলগামী করা যায়। তাঁরা ঠিক করলেন, দরিদ্র এসব শিশুকে বিনা পয়সায় পড়াবেন। কিন্তু এর জন্য জায়গা দরকার। এর মধ্যেই তাঁরা গ্রামে গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের সমিতির একটি ঘরের খোঁজ পান। সপ্তাহে শুধু এক দিন তিন ঘণ্টা সমিতির সদস্যরা সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পাঁচ বন্ধু শিশুদের পাঠদানের জন্য ঘরটি ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করলেন। পরে সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে ঘরটি ব্যবহারের অনুমতিও মেলে। এরপর গ্রামের সাত-আটজন শিশুকে নিয়ে শুরু হয় পাঠদান। তবে চার বন্ধু সরে গেলে ২০১৩ সালের প্রথম দিকে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর সানী একাই এর কার্যক্রম আবার শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে সেখানে শিক্ষার্থী বাড়তে থাকে। সানী তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম দেন শিক্ষার আলো পাঠশালা। সমিতির সদস্য গিলন্ড গ্রামের শাজাহান মিয়া বলেন, সানী একটি মহৎ উদ্যোগের কথা জানান। বলেন, দরিদ্র ছেলেমেয়েদের বিনা পয়সা পড়াতে চাইছেন। তাই চাওয়ামাত্র ঘরটি ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটায় সরেজমিনে পাঠদানের দৃশ্য চোখে পড়ল। তখন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান চলছিল। পাঠশালায় তৃতীয় শ্রেণিতে এবার ১৫ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ২২ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ২৩ জন, মোট ৬০ জন শিশুকে পাঠদান করা হচ্ছে। এখানে পড়াশোনা করে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অনেকেই ভালো করেছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস সানীকে ৯০ হাজার টাকা অনুদান দেন। সেই টাকায় তরা-ঝিটকা সড়কের গিলন্ড গ্রামে জেলা পরিষদের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া ৭ শতাংশ নিচু জায়গা ভরাট করা হয়েছে। তবে অর্থসংকটে সেখানে ঘর নির্মাণ করা যাচ্ছে না। সানী রহমান বলেন, পাঠশালায় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়। সকাল ছয়টা থেকে সাতটা পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণি এবং সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে। এরপর শিশুরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী বন্যা রাজবংশীর বাবা ঝন্টু রাজবংশী বলেন, ‘মাছ ধরে বাজারে বেইচা সামান্য ট্যাহা রোজগার করি। তাতে সংসার চালানোই যায় না। প্রাইভেট পড়াইবার ট্যাহা পামু কই? তাই ম্যায়ারে (মেয়েকে) সানীর পাঠশালায় দিছি।’ পঞ্চম শ্রেণির রবিন মিয়ার বাবা আলম মিয়া ইটের ভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘ট্যাহার অভাবে কোনো মাস্টারের কাছে ছেলেরে প্রাইভেট পড়াইতে পারি না। সে স্কুলে যাওয়াও বন্ধ কইরা দিছিল। কিন্তু সানী বিনা ট্যাহায় এখন পড়াইতাছে।’ নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন ফরহাদ বলেন, এলাকার দরিদ্র ও ঝের পড়া শিশুদের জন্য সানীর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক ছানোয়ার হোসেন বলেন, দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিনা পয়সায় পড়ানো ও ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলগামী করতে সানী আলোর মশাল হাতে এগিয়ে যাচ্ছেন। সানী রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের দেওয়া টাকায় বন্দোবস্ত পাওয়া জায়গা ভরাট করা হয়েছে। কিছু আসবাবও কেনা হয়েছে। তবে সেখানে ঘর নির্মাণে আরও টাকার প্রয়োজন। জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস বলেন, ‘শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সানী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এই ভালো কাজে অর্থ সহায়তা করতে পেরে আমি আনন্দিত।’

নদে আড়াআড়ি বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আষাঢ়ীয়ার চর নদে আড়াআড়ি বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করছে স্থানীয় একদল মানুষ। সাধারণ জেলেদের নদে নামতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার সরেজমিনে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে আষাঢ়ীয়ার চর নদে দেখা যায়, মেঘনা নদীর এই শাখা নদ উপজেলার পাচানী এলাকা থেকে ছয়হিস্যা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ। স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবুল কাসেম, নোয়াব মিয়া, পাচানী গ্রামের দৌলত হোসেন, আলমগীর মিয়াসহ ১৫-২০ জন এতে জড়িত। তাঁরা এক মাস ধরে নদটির অন্তত ১৫টি স্থানে বাঁশের আড়াআড়ি বেড়া দিয়ে জাল ফেলে মাছ শিকার করছেন। স্থানীয় জেলেরা নদে মাছ ধরার কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না।
পাচানী গ্রামের জেলে আলীনুর মিয়া ও আক্কাস আলী বলেন, ‘প্রতিবছর ওই ব্যক্তিরা এই নদ দখল করে অবৈধভাবে মাছ শিকার করেন। তাঁরা প্রভাবশালী। আমরা ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাই না। এক মাস ধরে আমরা নদে মাছ ধরতে নামতে পারছি না। এ জন্য কষ্টে দিন যাপন করছি।’ জানতে চাইলে নোয়াব মিয়া, আবুল কাসেম ও দৌলত হোসেন বলেন, ‘নদটি সরকারি হলেও আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। এ কারণে আমরা নদে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করি। এতে অন্যায়ের কী আছে।’ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, উন্মুক্ত নদ ও নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার মৎস্য আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পলো বাওয়া উৎসব

আগের দিন মাইকে মাছ ধরার ঘোষণা শুনে গতকাল রোববার সাতসকালেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছে পলো দিয়ে মাছ শিকার করতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শৌখিন মাছ শিকারিদের সঙ্গে উৎসুক দর্শকদের ভিড় বাড়ে নদীর দুই পাড়ে। অনেকটা উৎসব উদ্যাপনের মতো পলো দিয়ে মাছ ধরে অন্য রকম আনন্দ উপভোগ করল তারা। এমন দৃশ্য রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মাখন রায়পাড়ার মরা পদ্মা নদীর খালে। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় নদী ও খাল-বিলের পানি কমতে শুরু করেছে। বর্ষায় উপচে পড়া পানি কমে অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় দেশীয় প্রজাতির নানা মাছ কম পানিতে গিয়ে জমেছে। পলো দিয়ে সেই মাছ ধরতে সবাই নেমেছে খালে। এভাবে মাছ ধরার আনন্দই আলাদা। গতকাল সকালে দেখা যায়, দেশীয় নানা প্রজাতির মাছের মধ্যে শোল, রুই, বোয়াল, কাতলা মাছ পলোতে আটকা পড়ছে। উৎসবে অংশ নেওয়া অনেকেই রুই-কাতলা মাছ ধরতে পেরে যেন আনন্দে আত্মহারা। আবার কেউ কেউ মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে। উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের দেবগ্রাম থেকে আসা সেন্টু প্রামাণিক বলেন, ‘শনিবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে গোয়ালন্দ বাজারে মাইকে পলো দিয়ে মাছ শিকারের কথা শুনে সাতসকালেই এসেছি একটি ধার করা পলো নিয়ে। একটি রুই ও একটি শোল মাছ ধরতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে।’ আরেক শৌখিন মাছ শিকারি মজিবর রহমান বলেন, ‘শখের বসে পলো বাইতে এসে একটি বোয়ালও পেয়েছি। মাছটি কত বড়, এটা বড় কথা নয়। উৎসবে অংশ নিয়ে একটি বোয়াল পেয়েছি, এটিই সবচেয়ে বড় আনন্দের কথা।’ উৎসুক দর্শকদের মধ্যে উপস্থিত একজন গোয়ালন্দ পৌরসভার দ্বিতীয় প্যানেল মেয়র নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মাইকে পলো দিয়ে মাছ ধরার ঘোষণা শুনে দেখতে এসেছি। তবে অনেকে বিষয়টি জানতে না পারায় গতবারের চেয়ে লোকজনের উপস্থিতি এবার কিছুটা কম।’

পাকা সড়কে মাটির স্তূপ, বৃষ্টিতে কাদায় একাকার

পাকা সড়কে ফেলা হয়েছে এঁটেল মাটি। বৃষ্টিতে সেই মাটি ভিজে সড়ক কাদায় একাকার। বেহাল সড়কে পথ চলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যাচ্ছে পথচারীরা। কাদায় গাড়ির চাকা আটকে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চালকেরা। গতকাল রোববার বৃষ্টির পর বগুড়া শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এ অবস্থা দেখা যায়। সড়ক দুটি হলো রেলস্টেশন থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত এবং আবদুল জোব্বার সড়কের জাহাজ বিল্ডিং মোড় থেকে কালীবাড়ি মোড়। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্টেশন সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, রেলস্টেশন থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত স্টেশন সড়কে কাদায় একাকার। পথচারীরা খালি পায়েও সড়কে চলাচল করতে পারছে না। চাকায় কাদা লেগে যাওয়ায় চালকেরা যাত্রী নিয়ে রিকশা টানতে পারছেন না। একই অবস্থা অটোরিকশা ও ইজিবাইকের। রিকশাচালক লজিমুদ্দন মিয়া বলেন, ‘পাকা সড়কত ইংকা করে কেউ মাটি ফালায়? গাদত মাটিত রিকশার চাকা আটকে যাচ্চে। ঠেলতে গেলে পা আটকে যাচ্চে।’ পথচারী শাহিদুল কবির বলেন, পাকা সড়কে এভাবে মাটি ফেলা কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ। কাদায় একাকার এই সড়ক দিয়ে হেঁটেও চলাচল করা যায় না। স্থানীয় চারজন ব্যবসায়ী বলেন, স্টেশন সড়কের পাশে রেলওয়ে ফল মার্কেটের পেছনে রেলওয়ে কলোনি ভরাট করে সেখানে রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট বিপণি কেন্দ্র নির্মাণ করছে।
প্রায় দেড় মাস ধরে কলোনির মাঠে মাটি ভরাট চলছে। অন্য জায়গা থেকে ট্রাকে করে মাটি এনে ফেলা হচ্ছে এখানে। আর এই মাটি আনার সময় ট্রাক থেকে মাটি পড়ে যাচ্ছে সড়কের ওপর। দেড় মাস ধরে সড়কের ওপর এঁটেল মাটির আস্তরণ পড়ছে। রেলওয়ে বগুড়ার সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সোবহান বলেন, রেলওয়ের জায়গা ভরাট করা হলেও বিপণি কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে। কল্যাণ ট্রাস্টের সংশ্লিষ্টদের মাটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। এদিকে শহরের ব্যস্ততম শহীদ আবদুল জোব্বার সড়কের জাহাজ বিল্ডিং মোড় থেকে কালীবাড়ি মোড় পর্যন্ত সড়কেরও একই দশা। স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কের জলেশ্বরীতলায় একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। এই ভবন নির্মাণে প্রায় মাস খানেক ধরে খোঁড়া মাটি ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। এ মাটি সড়কের ওপর পড়ে বেহাল অবস্থা। স্থানীয় আবুল মোনেম বলেন, জমা মাটি বৃষ্টির পানিতে কাদা হয়ে গেছে। চলাফেরা করা দায়। পৌর মেয়রের বাসার পাশে এমন দুরবস্থা হলেও পৌরসভা নীরব রয়েছে। তবে ওই রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বগুড়া পৌরসভার মেয়র এ কে এম মাহবুবর রহমান বলেন, পাকা সড়কে মাটি ফেলার বিষয়টি পৌরসভার নজরে এসেছে। দ্রুত সড়ক থেকে মাটি-কাদা অপসারণের জন্য পৌরসভার প্রকৌশল শাখা থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।