Saturday, January 23, 2016
রায় লেখা নিয়ে বিতর্কের নতুন মাত্রা
পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, রায় লেখা একটি বিচারিক কর্ম বা জুডিশিয়াল ওয়ার্ক। কোনো বিচারক অবসরে গেলে আর বিচারক থাকেন না। তাই অবসরে রায় লেখা বৈধ নয়। পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্ট এ প্রসঙ্গে দেওয়ানি কার্যবিধি সিপিসির অর্ডার ২২ এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, সিপিসি অবসর পরবর্তী রায় প্রদানকে সমর্থন করে না। কারণ একজন বিচারক অবসরে গেলে তিনি ফাংটাস অফিসিও হয়ে যান। লাতিন আইনি পরিভাষা অনুযায়ী ফাংটাস অফিসিও মানে তিনি আর অফিসে থাকেন না। তাই অফিসে থাকার যে এখতিয়ার সেটা তিনি হারিয়ে ফেলেন।
অনেক নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক মনে করেন প্রধান বিচারপতির মন্তব্যকে কেবল ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতার পক্ষে বিপক্ষের রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার দিক থেকে দেখা সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ও বিচার বিভাগের প্রস্তাবিত সংস্কারের জন্য ক্ষতিকর। কারণ অনেক অভিজ্ঞ আইনবিদ জোর দিয়ে বলেছেন, এখন উচিত হবে প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের আলোকে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রুলসে উপযুক্ত সংশোধনী আনা। যাতে কোনো কর্মরত বিচারক অবসরে যাওয়ার আগের মাসগুলোতে বিপুল সংখ্যক মামলার রায়দানকারী হিসেবে গণ্য হতে না পারেন।
উল্লেখ্য, সাধারণভাবে অন্যান্য দেশের সুপ্রিমকোর্টের দেয়া রায়কে উপমহাদেশের সুপ্রিম কোর্টগুলো মান্য করে থাকেন। একই ধরনের পরিস্থিতিতে তারা এসব মামলার সিদ্ধান্তকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে থাকেন। আইনবিদরা বলছেন, ১৯৬৪ সালের ২৮ এপ্রিলের ওই রায় গত ৫২ বছরের ইতিহাসে কখনও উল্টে যায়নি। সুতরাং ওই মামলার রায়ের একটি পার্জুয়েজিব ভ্যালু বা বোধযোগ্য মূল্য রয়েছে।
এ ছাড়া ভারতের উচ্চ আদালতের বিচারকগণও অবসরে গিয়ে রায় লেখেন না। যদিও সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ দাবি করেছেন যে, ভারত ও ইংল্যান্ডের বিচারকরা অবসের গিয়ে রায় লিখে থাকেন।
তবে ওয়াকেবহাল মহল বলেছে, অবসরে গিয়ে রায় লেখার চেয়েও বিলম্বে রায় লেখা একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এমনকি হত্যা মামলার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় পেতে বিচারপ্রার্থীদের ৩/৪ বছরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদের আগে বছরের পর বছর পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করার বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বিএনপি জোট সরকারের আইনমন্ত্রী থাকতেই এই সমস্যার বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন। প্রকাশ্য আদালতের রায় বা আদেশ একজন বিচারক ১৫০টির বেশি মামলার রায় না লিখে অবসরে যাওয়ার এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। অবসর গ্রহণের পরে রায় প্রদানের বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সাম্প্রতিক মন্তব্য ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটে কিনা সে বিষয়ে ওয়াকেবহাল মহলে জল্পনাকল্পনা দেখা দিয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে’ বলে মন্তব্য করেছেন।
পর্যবেক্ষকরা বলেন, প্রধান বিচারপতির মন্তব্য কেন্দ্র করে গত কিছু দিন ধরে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আইনবিদরা এক আইনি বিতর্কে সামিল হয়েছেন। কিন্তু বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে বেশি দেখা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি মনে করেন অবসর গ্রহণের পরে রায় লেখা সংবিধানের পরিপন্থি। কারণ অবসরে গেলে বিচারকদের শপথ থাকে না, তারা সাধারণ নাগরিকে পরিণত হন। তাঁর এই মতামতকে লুফে নিয়েছেন বিএনপি সমর্থক জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা, কারণ তারা প্রধান বিচারপতির মতামতের ভিত্তিতে এখন নতুন করে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল মামলার রায়ের বৈধতার প্রশ্ন সামনে এনেছেন।
উলেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট ২০১০ সালে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে রায় প্রদান করেন। কিন্তু তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক তাঁর অবসরে যাওয়ার এক বছরের বেশি সময় পরে মূল রায় লিখেছিলেন। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ অনেক আইনবিদ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে বলেছেন, অবসরে গিয়ে রায় লেখা বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের একটা দীর্ঘকালীন রেওয়াজ। তাদের যুক্তি অবসরের আগেই তারা রায় দেন। কিন্তু লেখেন পরে। এ প্রসঙ্গে তারা বহুল আলোচিত মাসদার হোসেন মামলার রায়ের উল্লেখ করছেন, যা অবসরে গিয়ে লিখেছিলেন প্রয়াত প্রধান বিচারপতি মোস্তাফা কামাল।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সংবিধানে যদি লেখা থাকতো অবসরে গিয়ে কেউ রায় লিখতে পারবেন না তাহলে সেটা অসাংবিধানিক হতো। এ কারণে অসাংবিধানিক বলা যাবে না বে-আইনিও বলা যাবে না। তাই প্রধান বিচারপতির বক্তব্য আইনি বা সংবিধানের দিক থেকে ঠিক নয়।
About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোলায় শীতে ৩ জনের মৃত্যু : সাতক্ষীরায় ৫০ শিশু অসুস্থ
ভোলা সংবাদদাতা জানান, ভোলার মনপুরায় তীব্র শীতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও শীতজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪টি শিশু। শনিবার ভোরে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফয়েজ উদ্দিন মনপুরা ইউনিয়নে এদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন, সেরাজুল হক (৮৫), নুরুল হক (৭০) ও অভিনাশ নন্দি (৮৮)।
হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দ্বীপক জানান, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলাজুড়ে তীব্র শীত বইছে। শনিবার ভোরে হাজিরহাট ও মনপুরা ইউনিয়নে ৩ জন বৃদ্ধ মারা যায়।
এ ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন খান বলেন, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৪জন শিশু মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। তবে তিনজন মারা যাবার কারণ তিনি জানাতে পারেন নি।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানায়, গত দুই দিন ধরে জেলায় সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রী সেলিসিয়াসে উঠা-নামা করছে। শীতের প্রকোপ আরো বাড়তে পারে।
সাতক্ষীরায় ৫০ শিশু অসুস্থ
মুহাঃ জিললুর রহমান, সাতক্ষীরা থেকে জানান, গত বুধবারের হঠাৎ গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির পর সাতক্ষীরায় শীত জেঁকে বসেছে। বৃষ্টির পর শুরু হয়েছে মৃদ শৈতপ্রবাহ। হালকা বাতাসে শীতের কনকনে ঠান্ডায় জন জীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। গত তিনদিনের প্রচন্ড ঠান্ডায় জেলায় নিউমনিয়া ও ডায়েরীয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব রোগে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। গত তিন দিনে ডায়েরীয়া ও নিউমনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৫০ জন শিশু সদর হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শীতের দাপট বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর পরই শহরে লোক চলাচল কমে যাচ্ছে। দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হাঁট-বাজার। হঠাৎ প্রচন্ড শীতে শ্রমজীবি মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়ে গেছে। কনকনে শীতে তারা ঠিকমত কাজ করতে পারছে না। শীতে বস্তির হত দরিদ্রদের দূর্ভোগ বেড়ে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে আজ শনিবার বিকাল পর্যন্ত ডায়েরীয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৩৩ জন শিশু। এর মধ্যে ২১ জানুয়ারী ১০ জন, ২২ জানুয়ারী ১২ জন ও গতকাল দুপুর পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১১জন শিশু। অরপদিকে ডায়েরীয়া ও নিউমনিয়া আক্রান্ত হয়ে ১৭ শিশু সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জন ডায়েরীয়ায় ও ৫ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সামছুর রহমান জানান, আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত কারনে শীত বেশী পড়লে শিশু ও বয়ষ্করা শীত জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত কারণে শিশুদের ডায়েরীয়া ও নিউমোনিয়া হতে পারে। এজন্য শীতে গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি শিশুদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসলাম প্রচারে তাবলিগ ও বিশ্ব ইজতেমা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
আর ‘ইজতেমা’ শব্দের অর্থ সমবেত করা, সভা-সমাবেশ বা সম্মেলন। ধর্মীয় কোনো কাজের জন্য বহুসংখ্যক মানুষকে একত্রিত করা, কাজের গুরুত্ব বোঝানো, কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ব্যাপকভাবে এর প্রচার, প্রসারের জন্য বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করা ইত্যাদি বিষয়কে ইসলামের পরিভাষায় ইজতেমা বলা হয়ে থাকে। নবী করিম (সা.)-এর মুখ নিঃসৃত শাশ্বত বাণী ‘তোমার কাছে যদি কোনো বাণী থাকে, তা অন্যের কাছে পৌঁছে দাও’-কে আহ্বান করে ঢাকার অদূরে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম-শহর-বন্দর থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এ মহাসম্মেলনে সমবেত হন। একই সঙ্গে বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশ থেকে আগত হাজার হাজার তাবলিগ অনুসারী ঈমানদার মুসল্লি মিলিত হন। তাঁরা কোনো রকম বৈষয়িক লাভের আশা না করে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দ্বীনের মেহনত করে ইজতেমা ময়দানকে মুসলিম মহামিলনের জন্য প্রস্তুত করে তুলেন।
ইসলাম প্রচারে তাবলিগ জামাতের মুসল্লিদের আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বানের যে নিরন্তর প্রচেষ্টা, যে গভীর আন্তরিকতা এরই এক প্রাণবন্তময় বহিঃপ্রকাশ বিশ্ব ইজতেমা। ধর্মের কাজে তাঁরা একদিকে নিজেকে পরিশুদ্ধ ও উন্নত করার জন্য, অন্যদিকে যারা উদাসীন তাদের ধর্মের প্রতি আহ্বান করতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। দুনিয়া ও আখিরাতে মানুষের আত্মিক প্রশান্তি লাভের জন্য বিশ্ব ইজতেমা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুসল্লিরা আল্লাহর দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাগলপারা ও নবীপ্রেমিক হয়ে ঘর-বাড়ি, আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে বিশ্ব ইজতেমায় সম্মিলিত হন। বিশ্ববরেণ্য আলেমসমাজ, ধর্মীয় নেতারা বিশ্ব ইজতেমায় শামিল হয়ে ইসলামের শাশ্বত বাণী বয়ান করেন এবং মানুষকে ধর্মের পথে জীবন পরিচালনার জন্য উদাত্ত কণ্ঠে আহ্বান জানান।
মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে দুনিয়ার ইতিহাসে তাবলিগ শুরু হয়। আল্লাহর একত্ববাদ প্রচারের জন্য অসংখ্য নবী ও রাসুল প্রেরণ করা হয়েছে। যেহেতু আর কোনো নবী-রাসুল দুনিয়াতে আসবেন না, তাই তাবলিগের আমলের দায়িত্ব ইসলামের সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতদের। দশম হিজরিতে আরাফাতের ময়দানে বিদায় হজের ভাষণে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, ‘আমিই সর্বশেষ নবী, বিধায় নবুওয়াত ও রিসালাতের অব্যাহত ধারার এখানেই পরিসমাপ্তি। অনাগত কালের মানুষের জন্য দ্বীনের পরিচয় বিধৃত আল কোরআন ও সুন্নাহ রেখে গেলাম। এগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তোমাদের।’ সাহাবিরা এ অনুপ্রাণিত বক্তব্য শোনার পরপরই তাবলিগ করার জন্য সারা পৃথিবীতে সফর করেন। এভাবে অনেক সাহাবায়ে কিরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন, ওলি-আউলিয়া, সুফি-দরবেশ ও হাক্কানি আলেম সমাজের কঠোর ত্যাগ-তিতিক্ষা ও বিসর্জনের জন্য তাবলিগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি; মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের নির্বাচন করা হয়েছে। তোমরা মানুষকে সত্ কাজের আদেশ করবে ও অসত্ কাজ থেকে নিষেধ করবে, আর তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১১০)
মুসলমানদের ধর্ম, ঈমান, আমল, ঐতিহ্য রক্ষা করে চলার জন্য প্রয়োজন ইসলামের অনুসারীদের জাতীয় ঐক্য এবং বিশ্ব মুসলিমের ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করা। বিধিবদ্ধ ইবাদত ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পালনের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিমের ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় ও মজবুত হয়।
‘কালেমা, নামাজ, ইল্ম ও জিকর, ইকরামুল মুসলেমিন (মানুষের উপকার), ইখলাছ-ই-নিয়ত এবং দাওয়াতে তাবলিগ’-এ ছয়টি উসুল বা মূলনীতি সামনে রেখে তাবলিগ জামাত বিশ্ব ইজতেমায় প্রতি ওয়াক্ত নামাজে ঈমান ও আমলের সমন্বয়ে তাদের দাওয়াতি কাজ করে যাচ্ছে। তাঁরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে ধর্মের দাওয়াত নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে সারা বছর ঘুরে বেড়ান। এ চলমান প্রক্রিয়া শুধু বাংলাদেশে নয়—আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ প্রায় প্রতিটি দেশেই তাবলিগ দাওয়াতের এ কাজ হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতার মাধ্যমেই সারা বিশ্বে ইসলাম ব্যাপকভাবে বিস্তার হতে চলেছে।
বিশ্ব ইজতেমার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশ-বিদেশের ঈমানদার ত্যাগী আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে দ্বীনের বয়ান শুনে ঈমান-আমলের দাওয়াত সারা বিশ্বে পৌঁছে দেওয়া। শুধু ধর্মীয় বয়ান শোনা বা বিশ্ববাসীর শান্তি ও হেদায়েতের জন্য আখেরি মোনাজাতে প্রচুর লোকের অংশগ্রহণ বিশ্ব ইজতেমার উদ্দেশ্য নয়, বরং যাতে বেশি জামাত বের হয় এর দিকনির্দেশনা এখানে প্রদান করা হয়। যেন প্রতিটি জামাত নির্ধারিত এলাকার প্রতি মসজিদে দুই-তিন দিন করে থেকে তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, ঈমান ও আমলের দাওয়াত দেয়।
পৃথিবী সৃষ্টির আদি থেকে অদ্যাবধি সবচেয়ে ব্যাপক ও গতিশীল ইসলামি আন্দোলনের একটি প্রধান ধারা ইসলামের দাওয়াত ও তাবলিগ—যা ধর্ম প্রচারের আলোকে গড়া মানবতার আত্মশুদ্ধির আন্তর্জাতিক দাওয়াতি সংস্থা, যার কর্মীরা কাফেলা বেঁধে আল্লাহর প্রেমে মসজিদ থেকে মসজিদে সফর করেন, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে যান, লোকের বাড়িতে গিয়ে সবিনয়ে আল্লাহর পথে আহ্বান করেন, জামাতে নামাজ আদায়ের কথা বলেন, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও ধর্মীয় আদর্শ শিক্ষার কথা বলেন। এমন অনেক মুসলমান আছেন, যাঁরা তাবলিগ জামাতের মাধ্যমে সত্যিকারের পরহেজগারি অর্জন করেছেন এবং ধর্মীয় বিষয়াদি সম্পর্কে শিক্ষিত ও সচেতন হয়েছেন। বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে লাখ লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে ‘আমিন’ ধ্বনিতে বিশ্বশান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার মাধ্যমে অপূর্ব মহড়া ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিএনপির কালো দিবস -সোহরাব হাসান
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির সাফল্য আশাতীত। তারা চার-চার বার সরকার গঠন করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু করে আবার তার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ শুধু ক্ষমতাচ্যুত হয়নি, দলটিও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। অন্যদিকে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পরও ১০ মাস বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। পরে এরশাদ যাঁদের নিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ এখন বিএনপিতে আছেন।
বিএনপির এত সাফল্য-কৃতিত্ব সত্ত্বেও একটি অপূর্ণতা ছিল—তা হলো, তাদের কোনো কালো বা কৃষ্ণ দিবস নেই। ছিল না। আওয়ামী লীগের কালো দিবস বেশুমার। ১৫ আগস্ট। ৩ নভেম্বর। ৭ নভেম্বরও আওয়ামী লীগের জন্য কালো দিবস। অন্যদিকে বিএনপি এসব কালো দিবসের আলো নিয়েছে শুধু। সুবিধা আদায় করেছে।
আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি নিজেকে আপসহীন দাবি করলেও, তাতে আওয়ামী লীগ ও বাম দলগুলোর নেতা-কর্মীরাই বেশি জীবন দিয়েছেন। ময়েজউদ্দীন আহমদ ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। তাজুল ইসলাম ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা। সেলিম, দেলোয়ার, বসুনিয়া ছাত্রলীগের কর্মী। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন নামের যে তরুণ বুকে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান এঁটে জীবন দিয়েছিলেন, তিনিও ছিলেন যুবলীগের কর্মী। অতএব, এসব দিবসের মালিকও বিএনপি নয়।
খালেদা জিয়ার পয়লা জমানাটি মোটামুটি চলে গেলেও দ্বিতীয় মেয়াদে এসে তারা একটার পর একটা কালো দিবস সৃষ্টি করতে থাকে এবং প্রতিটির লক্ষ্য ছিল, আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী সংগঠনগুলো। ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা, ২৭ জানুয়ারি শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা, ২৭ ফেব্রুয়ারি হুমায়ুন আজাদ হত্যাচেষ্টা, ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী বোমা হামলা, ৭ নভেম্বর শ্রমিকনেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা ইত্যাদি। এসব কৃষ্ণ দিবসেও বিএনপির হক নেই। বরং কোনো কোনো সন্ত্রাসী ঘটনায় তাদের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ বেরিয়ে আসছে।
কৃষ্ণ দিবসবিহীন বিএনপি এত বড় বঞ্চনা ও বৈষম্য মেনে নেয় কীভাবে? অতএব, তাদেরও একটি কৃষ্ণ দিবস থাকা জরুরি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কল্যাণে তারা সেটি পেয়েও গেল। ১১ জানুয়ারি সাড়ম্বরে বিএনপি কালো দিবস পালনও করল। নেতারা বিচার দাবি করলেন এক-এগারোর কুশীলবদের। কিন্তু কেন এবং কাদের জন্য ১১ জানুয়ারির অঘটন ঘটল, সে সম্পর্কে বিএনপি নেতারা টুঁ-শব্দটি করলেন না। ১১ জানুয়ারির কুশীলবদের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযোগ কী? তত্ত্বাবধায়ক সরকার অন্যায়ভাবে দুই বছর ক্ষমতায় ছিল। সংবিধান তাদের মেয়াদ তিন মাস নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। জরুরি আইন জারি করে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল। বিএনপি নেতাদের কাছে জানতে চাই, ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করে তাঁরা কার স্বার্থ রক্ষা করেছিলেন? মরহুম জিয়াউর রহমান কোন সংবিধানবলে ক্ষমতায় এসেছিলেন? তাঁর মেয়াদ কত দিন নির্দিষ্ট ছিল? কোন আইনবলে তিনি সেনাপ্রধানের পদে বহাল থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছিলেন?
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সব কাজ ভালো ছিল, আমরা তা বলি না। তাদের দুই নেত্রীবিয়োগ কৌশল জনগণ মেনে নেয়নি। দুর্নীতি দমনের নামে লোকজনকে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালানোর ঘটনাও নিন্দনীয়। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার জনগণকে দেওয়া একটি কথা তো অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। বিলম্বে হলেও তারা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নিয়েছে। এ রকম স্বেচ্ছায় ও সানন্দে ক্ষমতা ত্যাগের নজির অন্তত রাজনীতিকদের মধ্যে নেই। বিএনপির নেতারা কষ্ট করে ইতিহাস না ঘাঁটলেও অনুগ্রহ করে জনগণের মনের ভাষাটি পড়ে দেখতে পারেন। তাঁরা যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সবকিছু নাকচ করে দিচ্ছেন, তখন নিরপেক্ষ জরিপে দেখা যায়, ৬৫ শতাংশ মানুষ তাঁদের (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) কাজ সঠিক ছিল বলে মত দিয়েছেন।
কালো দিবস সব সময় কালো নয়। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো যদি ভুল স্বীকার করে আত্মশুদ্ধির চেষ্টা চালায়, তাহলে জনগণকে বারবার দুর্ভোগ আর দুঃশাসনের শিকার হতে হয় না। আর যদি তারা একের পর এক ভুল করতে থাকে এবং সবকিছুতে মহা ষড়যন্ত্র খোঁজে, তাহলে একই বৃত্তে আমাদের রাজনীতি ঘুরপাক খাবে এবং এক-এগারোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে। বিএনপি সম্ভবত দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিয়েছে।
সোহরাব হাসান: সাংবাদিক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পোড়া বস্তিতে উচ্ছেদের আগুন?
বস্তিবাসীর অভিযোগ, বস্তি উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই আগুন লাগানো হয়েছে। এ জন্য তাঁরা স্থানীয় সাংসদ আসলামুল হকের লোকজনকে দায়ী করেছেন। তবে সাংসদ আসলামুল তা অস্বীকার করেছেন।
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জায়গায় গড়ে ওঠা এই বস্তি উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার পুলিশের সঙ্গে বস্তিবাসীর কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে দুপুরে হাইকোর্ট ওই বস্তি উচ্ছেদ কার্যক্রমে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দিলে আংশিক উচ্ছেদ করে ফিরে যান ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও পুলিশ। এই ইনস্টিটিউট গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থা।
বস্তিবাসীরা বলেছেন, বস্তির ৮ নম্বর অংশের একটি টিনের ঘর থেকে গতকাল সকাল পৌনে ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আশপাশের ঘর ও দোকানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে বস্তিবাসীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ফায়ার সার্ভিসকেও খবর দেওয়া হয়। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের মিরপুর স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট এলেও বস্তিতে ঢোকার মুখে বাধা পায়। মাথায় লাল কাপড় বাঁধা একদল তরুণ গাড়ি দুটিকে ঢুকতে বাধা দেন। পরে বেলা ১১টার দিকে গাড়ি দুটি ঢুকে আগুন নেভায়। কিন্তু এরই মধ্যে বস্তির ২১টি ঘর ও ৯টি দোকান পুড়ে যায়। আগুন লাগার পরপরই বাসিন্দাদের অনেকে ঘরে ঢুকে মালামাল বের করে আনেন।
বস্তির কমিউনিটি বেসড অর্গানাইজেশনের (সিবিও) সাধারণ সম্পাদক মো. হান্নান আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, বস্তি উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়ে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ এই আগুন লাগিয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ।
আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি ঘরের বাসিন্দা মো. ইউসুফ বলেন, বস্তিতে ঢোকার মুখে মাথায় লাল কাপড় বাঁধা কিছু তরুণ বাধা না দিলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আরও আগে আসতে পারত। এতে ক্ষয়ক্ষতি কম হতো।
ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় বাধা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের মিরপুর স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল আরেফিন। তবে কারা বাধা দিয়েছেন, তা জানাতে পারেননি তিনি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর ও দোকানের টিন কুঁকড়ে আছে। বেড়ার বাঁশের কিছু পোড়া অংশ পড়ে আছে। পোড়া জিনিসপত্র থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কেউ কেউ পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে অক্ষত জিনিস খুঁজছিলেন। কেউ কেউ মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে আহাজারি করছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, আগুন লাগিয়ে তাঁদের থাকার ঘর কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া মালামাল খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। অনেকে সেগুলোর পাশে বসে আছেন। তাঁদেরই একজন জ্যোৎস্না বেগম, কোলে তাঁর শিশুসন্তান।
বস্তিবাসীর অভিযোগ, উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়ে আগুন লাগানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বস্তিতে ঢুকতে বাধা দেয় একদল তরুণ।
পুড়ে যাওয়া একটি ঘরে থাকতেন হাজেরা বিবি। বাসাবাড়ির ময়লা টানার কাজ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘কোর্ট মানা করছে, তাই ভাঙল না। ভাবছিলাম, মাথা গোঁজার ঠাঁই রক্ষা পাইছে। কিন্তু আগুনে সব শ্যাষ।’
বস্তির বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পুলিশ ও হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদ আসলামুল হকের লোকজন বৃহস্পতিবার উচ্ছেদে অংশ নিয়েছিলেন। ওই লোকজনই বস্তিতে আগুন দিয়েছেন।
এই অভিযোগ অস্বীকার করে সাংসদ আসলামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বস্তির জায়গা একটি সরকারি সংস্থার। তারা উচ্ছেদ করছে। এখানে আমার তো কোনো সম্পর্ক নেই। অনেকে অনেক কিছু বলতে পারে, বললেই হবে না। বস্তির লোকজন যে অভিযোগ করেছে, তা ভিত্তিহীন।’
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষ বলেছে, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ভূঁইয়া মাহাবুব হাসান প্রথম আলোকে বলেন, সকাল ১০টার দিকে তাঁরা আগুন লাগার খবর পান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলে যেতে কেউ বাধা দিয়েছে কি না, পুলিশের তা জানা নেই। যদি কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে লাগিয়ে থাকে, তাদের ধরা হবে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং দুই বস্তিবাসী এই মামলার বাদী এবং গত বৃহস্পতিবার ড. কামাল হোসেন ও সারা হোসেন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা আইনজীবী আবু ওবায়দুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ থেকে বলা যায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারের লোকজন মিলে বস্তিবাসীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড গড়েছেন। আদালত স্থগিতাদেশ দেওয়ার বিষয়টি আইনজীবীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক অবহিত করতে বলেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নির্দেশ দিলেও পাঁচটা পর্যন্ত উচ্ছেদ চলে। আবার শুক্রবার রহস্যজনক আগুনের পর ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এর আগে বস্তিবাসীদের থানায় তুলে নেওয়া, মুচলেকা আদায় এবং স্থানীয় সাংসদের ভূমিকা, পুলিশের নিষ্ক্রিয় অবস্থান—সবকিছু মিলে সহজে বোঝা যায় সেখানে কী ঘটছে। ওই আইনজীবী আরও বলেন, সুকৌশলে আদালতের নির্দেশ অবমাননা হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ- সরকারের অনুমোদন লাগবে ফি নির্ধারণে by মোশতাক আহমেদ
জানা গেছে, সরকার টিউশন ফি নির্ধারণে পূর্বানুমোদন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদে (বোর্ড অব ট্রাস্টিজ) সরকারের প্রতিনিধি রাখাসহ নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ আবার সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি একটি উপকমিটি এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। জানতে চাইলে ইউজিসির চেয়ারম্যান বলেন, আইনে যেসব অসংগতি আছে সেগুলো দূর করার চেষ্টা চলছে।
২০১০ সালে আইনটি তৈরির সময় মন্ত্রণালয় টিউশন ফি নির্ধারণে সরকারের অনুমোদন নেওয়ার বিষয়টি যুক্ত করে এবং মন্ত্রিসভা বিষয়টি অনুমোদন দেয়। কিন্তু উদ্যোক্তাদের দাবির মুখে সংসদীয় কমিটি এ বিষয়টি মূল আইন থেকে বাদ দেয়। এখন তা আবার সংযোজনের প্রস্তাব উঠেছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ২০১০ সালের আইন অনুযায়ী বর্তমানে সিন্ডিকেটে সরকারের প্রতিনিধি আছেন। এখন ট্রাস্টি বোর্ডে সরকারের প্রতিনিধি দেওয়া হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিচিতি আর থাকবে না। তিনি বলেন, টিউশন ফি নির্ধারণ করে দেওয়াটা ঠিক হবে না। তবে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে নীতিমালা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। তারা এ জন্য কমিটি করেছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
দেশে এখন নতুন ৩৭টিসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯১টি। নতুনগুলো প্রতিষ্ঠার সাত বছর হয়নি। আর শর্ত ভঙ্গের কারণে বন্ধ করে দেওয়া পুন্ড্র ও কুইন্স ইউনিভার্সিটি আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সম্প্রতি আবারও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া কয়েক দিন আগে সরকার আরও ছয়টি নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি দিয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।
অভিযোগ আছে, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী না পাওয়ার আশঙ্কায় ঢাকা শহরের বাইরে যাচ্ছে না। তা ছাড়া, সংখ্যা বেশি হওয়ায় এবং মান বজায় রাখতে না পারায় বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে আছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সহসভাপতি আবুল কাসেম হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, ‘শর্ত না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক অবৈধ শাখা থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।’ তিনি বলেন, সরকারের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মান দেখভাল করা, নিয়ন্ত্রণ করা নয়।
আরও সময় পেল: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য ৪৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে চতুর্থ দফায় আরও এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে, যা শুরু এ-সংক্রান্ত চিঠি সই হওয়ার দিন ১৪ জানুয়ারি থেকে। এই সময়ের মধ্যে যেতে না পারলে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়াসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ায় সেগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্র বলেছে, নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা এখন ১১টি, আংশিক ধরলে তা ১৭। ২০১০ সালে নতুন করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। প্রথমে ২০১২ সালের মধ্যে, দ্বিতীয়বার ২০১৩ সালের মধ্যে এবং তৃতীয়বার দুই বছর বাড়িয়ে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।
তবে একাধিক উদ্যোক্তা বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকার কোনো সহায়তা দেয় না। তাদের আয় ও ব্যয়ের পর মুনাফা থাকলে তা দিয়ে নিজস্ব ক্যাম্পাসের জমি কেনা ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সংগতি নেই।
জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাসে গেছে। বেশ কয়েকটি যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। তবে যেগুলো শর্ত মানবে না, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অবসরে যাওয়ার পর রায় লিখতে দেব না -প্রধান বিচারপতি
![]() |
| মৌলভীবাজারে বৃহস্পতিবার আইনজীবীদের নৈশভোজে বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা l ছবি: প্রথম আলো |
গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় মৌলভীবাজার শহরের পৌর জনমিলন কেন্দ্রে জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এক বার্ষিক নৈশভোজ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আবদুল মোছাব্বির এতে সভাপতিত্ব করেন।
সভায় প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘এখন আমাদের গণতন্ত্র আসছে। সংবিধান চলছে। এখন আমরা আইনে চলব। আমরা কি আবার মার্শাল ল পিরিয়ডের মতো চলব? অবশ্যই না। আইনের শাসন বলতে, আইন যে রকম; আইনকে সমুন্নত রাখতে হবে। কোনোমতেই আইন ও সংবিধান পরিপন্থী কোনো কাজ প্রধান বিচারপতি হিসেবে আমি করতে দেব না।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা ও দায়রা জজ মো. সফিকুল ইসলাম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোতাহির আলী, জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান, প্রধান বিচারিক হাকিম এ কিউ এম নাছির উদ্দিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রবীণ আইনজীবী শান্তিপদ ঘোষ, মুজিবুর রহমান ও বিশ্বজিৎ ঘোষ।
অবসরে যাওয়ার পর বিচারকদের রায় লেখা প্রসঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিচারব্যবস্থার উদাহরণ টেনে সভায় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও এটা কল্পনা করা যায় না। আমরা এমন এক আজব দেশে আছি। আমরা বিচারকেরা তিন বছর, চার বছর; এখন পাঁচ বছর, সাত বছর উচ্চ আদালতের বিচারক। ছুটি হলে বিদেশ চলে যান। লন্ডন, আমেরিকা সরকারি খরচে চলে যান। রায় লেখেন না। তিন বছর, চার বছর আগের রায় তাঁরা লিখতেও পারেন না। এখন বলছেন পঞ্চম সংশোধনী, অষ্টম সংশোধনী বাতিল হয়ে যাবে।’
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, কিছু বিচারক আগে ভুল করেছেন। তাঁরা জানতেন না বা জেনেও প্রধান বিচারপতি চাপিয়ে দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি নিজেও রায় লিখতে পারেননি। আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রধান বিচারপতিদের, বিচারপতি যাঁরা রয়েছেন তাঁদের কাছে আবেদন করব। আপনারা যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে সাধারণ নাগরিকেরা কী করবেন। আইন ভঙ্গ করবেন না। পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ সম্পূর্ণ সংশোধনী। কারণ, এটা ডিক্লেয়ার হয়ে গেছে। এটা কোর্টের সিদ্ধান্ত।’
আইন পেশা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আইনজীবীর পেশা যে মহান পেশা ছিল, সেটাকে আমরা পলিটিক্যাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা আরম্ভ করেছি। আইন পেশাটা কি পলিটিক্যাল প্ল্যাটফর্ম হওয়া উচিত ছিল? এটা যতই দেখি ততই আমাকে পীড়া দেয়। আমরা কোথায় চলে যাচ্ছি। আমরা যদি পলিটিকস করতে চাই, পলিটিকসের জায়গা তো আছে। এই মহান পেশা তো পলিটিকস করার জন্য না।’
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ১০ রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে শেখ হাসিনা একজন: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ১০ রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন। তাঁকে মডেল সিঙ্গাপুর এবং মডেল মালয়েশিয়া তৈরির রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এ স্বীকৃতিও আমাদের জন্য গর্বের।’
মদন মোহন কলেজের ৭৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়। গতকাল দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় হুইপ শাহাব উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাটোয়ারি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রাণঘাতী বায়ুদূষণ- পরিবেশ অধিদপ্তরকে আরও তৎপর হতে হবে
কিন্তু উদ্বেগজনক বাস্তবতা হচ্ছে, রাজধানী ঢাকাসহ এ দেশে আটটি শহরের বায়ু অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। এসব শহরের কয়েক কোটি মানুষ নিজেদের অজান্তে প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। বায়ুদূষণের কারণে ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) বা শ্বাসপ্রণালির স্থায়ী রোগে কত মানুষ ভুগছে, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। বিশ্বজুড়ে মানুষের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ এই রোগ; ২০১২ সালে এই রোগে বিশ্বের যে পাঁচটি দেশে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ মারা গেছে, বাংলাদেশ তার একটি। হাঁপানির পেছনেও বায়ুদূষণ ব্যাপকভাবে দায়ী।
সমস্যা গুরুতর—এটা অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে। এ ব্যাপারে গণসচেতনতা প্রাথমিক প্রয়োজন। তারপর যেসব কারণে বায়ুদূষণ ঘটছে, সেগুলো দূর বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এই কাজটা সরকারের। কতকগুলো ক্ষেত্রে বায়ুদূষণ সহজেই এড়ানো বা ব্যাপক মাত্রায় কমিয়ে আনা সম্ভব। যেমন রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়িসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সময় ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণের জন্য পানি ছিটানো, ধূলি-নিয়ন্ত্রক আচ্ছাদন ব্যবহার করা। ইস্পাত কারখানা, রি-রোলিং মিল, সিমেন্ট কারখানাসহ এ ধরনের অন্যান্য কলকারখানায় বস্তুকণা নিয়ন্ত্রণমূলক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা। পুরোনো, জরাজীর্ণ ইঞ্জিনবিশিষ্ট যানবাহন ব্যাপক মাত্রায় বায়ুদূষণ ঘটায়—এগুলো যেন রাস্তাঘাটে চলতে না পারে, তা শতভাগ নিশ্চিত করা।
এসব করা হলে বায়ুদূষণের মাত্রা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য কার্যকর সরকারি তৎপরতা প্রয়োজন। পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে, কিন্তু নির্দেশনাগুলো মানা হয় না। ফিটনেসহীন যানবাহন চলাচল আইনত নিষিদ্ধ, কিন্তু বাস্তবে রাস্তাঘাটে এগুলোর সংখ্যা প্রচুর।
তাই সংশ্লিষ্ট সব সরকারি কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকভাবে তৎপর হতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘শারীরিক সম্পর্কের আগে পুলিশকে জানাতে হবে’
সেখানে সেই নারীর নাম, বয়স এবং ঠিকানাও জানাতে হবে। না হলে তাকে পাঁচবছরের জন্য কারাগারে যেতে হবে।
আইনগত কারণে ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হলেও, ২০১৫ সালে তিনি সেই অভিযোগ থেকে মুক্তি পান। কারণ তিনি আদালতে প্রমাণ করতে পেরেছেন যে, ওই নারীর সম্মতিতেই তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল।
কিন্তু এ ধরণের অপরাধ প্রতিরোধে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে জারি করা একটি আইনের মাধ্যমে তার উপর এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।
আইনে বলা হয়েছে, শারীরিক সম্পর্ক করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এমন নারীর নাম, ঠিকানা, ও জন্মতারিখসহ অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে জানাতে হবে।
এছাড়া তার ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নিজের বাসা বা মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করতে হলেও আগেভাগে তা পুলিশকে জানাতে হবে।
যৌন অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে বা জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা আছে, এমন যে কারো উপর পুলিশের অনুরোধে ব্রিটেনের ম্যাজিস্ট্রেটরা এই আইন প্রয়োগ করতে পারেন।
সুত্রঃ বিবিসি
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘স্বল্প বসন, উন্মুক্ত উরু যৌনতার অংশ নয়’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণতন্ত্র এখানে তামাশা
বলিউডের করণ মুখ খুলেছেন জয়পুর সাহিত্য উৎসবে আর রামচন্দ্র কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধেছেন মুম্বইয়ে।
জয়পুরে করণ বলেছেন, ‘‘আমরা এমন একটা দেশে থাকি, যেখানে নিজের মনের কথা বললে মানুষের জেল হতে পারে। আর অসহিষ্ণুতা নিয়ে কথা বলে সরকারের সঙ্গে লড়াইয়ে যেতে চাই না আমি।’’ রামচন্দ্র তো আরও তীক্ষ্ণ ভাবে বলেছেন, এ দেশে মনন-চর্চায় মোদী সরকারের চেয়ে বেশি বিরোধিতা সম্ভবত আর কেউ করেনি। বর্তমান সরকারকে সবচেয়ে ‘অ্যান্টি-ইন্টেলেকচুয়াল’ সরকার বলে দাবি করেন তিনি।
গত বছরের শেষ দিকে অসহিষ্ণুতা নিয়ে মুখ খুলেই কেন্দ্রীয় সরকারের রোষের মুখে পড়েছিলেন শাহরুখ ও আমির খান। শাহরুখ এক সময় ‘দেশে চরম অসহিষ্ণুতা বিরাজ করছে’ জাতীয় মন্তব্য করেও শেষমেশ পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন। আমিরকেও তাঁর মন্তব্যের জন্য কৈফিয়ৎ দিতে হয়েছে। বিজেপির একাধিক নেতা-মন্ত্রী বলিউডের এই দুই তারকাকে দেশদ্রোহী তকমা দিতেও পিছপা হননি। এই প্রেক্ষাপটে জয়পুর সাহিত্য উৎসবে আজ লেখিকা শোভা দে এবং পুনম সাক্সেনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন করণ। আলোচনার ফাঁকে উঠে এসেছিল অসহিষ্ণুতার প্রসঙ্গ।
সোজাসাপ্টা ভাষায় করণ জানিয়ে দেন, এ দেশে বাক্স্বাধীনতার কোনও জায়গা নেই। বলেছেন, ‘‘আমার ভাবতে অবাক লাগে, আমরা কি গণতান্ত্রিক? বাক্স্বাধীনতা কোথায় এখানে? আমার তো মনে হয়, গণতন্ত্র একটা তামাশা।’’
গত বছর একটি টিভি শো-য়ে অশালীন মন্তব্য করার জেরে করণ-সহ বলিউডের এক ঝাঁক তারকার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। করণ এ দিন বলেছেন, ‘‘নিজেকে সব সময় বেঁধে রাখতে হয়। যা-ই করি না কেন, একটা করে এফআইআর দায়ের হয়। এই যে এই মঞ্চে এত কিছু বলছি। জানি না বাড়ি ফিরে কী অপেক্ষা করছে আমার জন্য।’’ করণ জানান, অসহিষ্ণুতা প্রসঙ্গে মুখ খুলে শাহরুখ-আমিরের মতো তাঁর বন্ধু-সহকর্মীদের যে ভাবে হেনস্থা হতে হয়েছে, সেই রাস্তা তিনি মাড়াতে চান না।
রামচন্দ্র গুহর বক্তব্যও ছিল অনেকটা একই সুরে। তিনি বলেছেন, ‘‘নিজেদের মত প্রকাশ করার জন্যই নরেন্দ্র দাভোলকর, গোবিন্দ পানসারে আর কালবুর্গীর মতো ব্যক্তিত্বকে খুন হতে হয়েছে দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের হাতে।’’ তবে তাঁর বক্তব্য, শুধু বিজেপি নয়, কংগ্রেসও চাইলে এই খুনগুলো আটকাতে পারত। মনে করিয়েছেন, এই একই প্রবণতা বশবর্তী হয়ে এক সময় সলমন রুশদির ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ নিষিদ্ধ করেছিলেন রাজীব গাঁধী।
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতায় নতুন মাত্রা by আলী রীয়াজ
এখন বলা হচ্ছে যে অভিযুক্তরা আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ও ইরাক-সিরিয়ায় সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতাদর্শের সমর্থক এবং তাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে এবং অন্যত্র জঙ্গি তৎপরতার। সিঙ্গাপুর সরকার যে এই গোষ্ঠীকে দীর্ঘ নজরদারির মধ্যে রাখা এবং তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে, সেটা বোঝা যায় যখন আমরা দেখি দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং এই বিষয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। এসব বিবেচনায় নিলে উদ্বেগের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে আটককৃতরা জঙ্গিসংশ্লিষ্টতায় যুক্ত আছে কি না, সেই বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ও আইএস উভয়ই যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি, এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু এই দুই সংগঠনের মধ্যে আদর্শিক কিছু বিষয়ে পার্থক্য রয়েছে এবং তারা পরস্পরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত। ফলে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষের এই অভিযোগ সংশয়ের সৃষ্টি করে যে তাঁরা একই সঙ্গে দুই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বা সমর্থক কি না। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ধরনের সংগঠনের আদর্শের মূল সুর দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে পারে বলে আমরা ধরে নিতে পারি। অভিযুক্ত হওয়াই কোনো ব্যক্তিকে দোষী বলার জন্য যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত হবে, তাঁরা নির্দোষ হলে সেটাও আমরা জানতে পারব। কিন্তু সিঙ্গাপুরের প্রাথমিক তদন্তের ওপর আস্থা রাখলে আমাদের এটা মেনে নিতে হবে যে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতার ক্ষেত্রে আরও একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে, তা হলো বিদেশে অবস্থান করে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশে জঙ্গি তৎপরতা চালানোর ষড়যন্ত্রের চেষ্টা বা এই মর্মে অভিযোগ ওঠা। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষের যে বক্তব্যটি আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তা হলো, সিঙ্গাপুর তাদের লক্ষ্যস্থল ছিল না। অর্থাৎ তারা সিঙ্গাপুরে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করেনি, বাংলাদেশ তাদের লক্ষ্য।
প্রবাসীরা তাঁর নিজ দেশের সশস্ত্র সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন, সেটি মোটেই নতুন ঘটনা নয়। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন দেশে সেটা লক্ষ করা গেছে। র্যান্ড করপোরেশনের গবেষক ব্রুস হফম্যান এক গবেষণায় দেখিয়েছিলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী সংগঠন আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি (আইআরএ) যখন ব্রিটেনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে আইরিশ বংশোদ্ভূতদের মধ্যে আইআরএর প্রতি সমর্থন ছিল অভাবনীয়। আয়ারল্যান্ডে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী যেসব অস্ত্র আটক করেছিল, তার ৭০ শতাংশের বেশি এসেছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আইরিশ বংশোদ্ভূত মার্কিনরাই এই অস্ত্রের জোগানদার ছিল। শ্রীলঙ্কার যুদ্ধে তামিলদের পক্ষে প্রবাসী তামিলরাই সবচেয়ে বেশি অর্থ জুগিয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু এগুলো হচ্ছে দেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পক্ষে প্রবাসী নাগরিকদের সমর্থনের প্রমাণ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আমরা সেটা দেখতে পেয়েছি। এসব ক্ষেত্রে যেটা স্পষ্ট তা হলো প্রবাসীরা যে দেশে থাকেন, তার ভেতরে ক্ষতি সাধন করেন না বা তার সঙ্গে যুক্ত হন না, উপরন্তু তাঁরা চান যে স্থানীয়রা তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল হোক। তাঁদের আদর্শের বিষয় জাতীয়। কিন্তু গত কয়েক দশকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিস্তার লাভের পর আমরা দেখতে পাই যে পশ্চিমা দেশে বসবাসরত অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেউ কেউ বা ক্ষুদ্র কোনো কোনো গোষ্ঠী ওই দেশেরই ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করে থাকে।
প্রবাসী অভিবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এই প্রবণতা ছিল ক্ষীণ, কিন্তু তা একেবারে অনুপস্থিত ছিল না। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা প্রবাসে সন্ত্রাসী তৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন। যেমন ২০০২ সালে ব্রিটেনের বার্মিংহামের আদালত ২৭ বছর বয়স্ক মইনুল আবেদিনকে সন্ত্রাসী তৎপরতার ষড়যন্ত্রের দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন। ২০০৫ সালের নভেম্বরে আটক ২৯ বছর বয়সী নূরুর রহমানকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করেন যে তিনি একটি ট্রান্স-আটলান্টিক বিমান ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১১ সালে ব্রিটিশ এয়ারলাইনসে কর্মরত আইটি বিশেষজ্ঞ রাজিব করিমকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সাহায্য করার অভিযোগে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১০ সালে ২১ বছর বয়সী রোশেনারা চৌধুরী সাবেক সরকারের মন্ত্রী স্টিফেন টিমসকে হত্যার চেষ্টা করার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৯ সালে এহসানুল করিম সাদিক ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, কেননা তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়ায় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরির চেষ্টা করছিলেন এবং তার মাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা তাঁর ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। রেজোয়ানুল আহসান নাফিসের কথা অনেকেরই জানা আছে। নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক উড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে আটক হন এবং দোষ স্বীকারের পর তাঁকে ৩০ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। প্রবাসে বাংলাদেশি বা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের সংখ্যার তুলনায় এসব ঘটনা খুব কম, কিন্তু আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী তৎপরতায় যুক্ত হওয়ার এটি একটি ধরন।
দ্বিতীয় ধরনটি হচ্ছে সশরীরে সংঘাতময় দেশে উপস্থিত হয়ে যুদ্ধ করা। ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশিদের একটি গোষ্ঠী আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তার পরিণতি হিসেবেই বাংলাদেশে পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলাম বা হুজির উত্থান। আল-কায়েদার উত্থানের পর আমরা প্রত্যক্ষভাবে আল-কায়েদায় যোগদানের কথা শুনলেও তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাইনি। কিন্তু আইএসের উত্থানের পর আমরা বাংলাদেশের ভেতরে থেকে এবং প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশি বা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে আইএসে যোগদানের ঘটনার খবর পেয়েছি। যেমন, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আশিকুর রহমান নামে ২১ বছর বয়সী একজন তরুণ বাংলাদেশ থেকে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় আইএসে যোগ দিতে গেছেন বলে জানা গেছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গত বছরের মে মাসে মাইরুন ফারহান নামে একজন তরুণী তুরস্কে আটক হন, যিনি আইএসে যোগ দিতে সিরিয়া যাচ্ছিলেন। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। ২০১৩ সালে ব্রিটেন থেকে যে গোষ্ঠীটি সিরিয়া গিয়েছিল যুদ্ধ করতে, তাদের মধ্যে ছিল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইফতেখার জামান, তিনি পরে আইএসে যোগ দিয়ে সিরিয়ায় যুদ্ধে মারা যান।
তা ছাড়া, ‘ব্রিটানি ব্রিগেড বাংলাদেশি ব্যাড বয়েজ’ বলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাঁচজনের একটি দল ব্রিটেন থেকে সিরিয়ায় গিয়ে যুদ্ধ করে এবং এদের মধ্যে একমাত্র আসাদুজ্জামান ছাড়া কেউই বেঁচে নেই, আসাদুজ্জামান ব্রিটেনে ফিরে এলে তাঁকে আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার জানামতে কানাডা থেকে চারজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ তাবিরুল হাসিব, আবদুল মালিক, নূর ও আদিব ২০১৪ সালে আইএসে যোগ দিয়েছেন। অনেকের স্মরণে থাকবে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রিটেনের সংবাদপত্রে ঝড় উঠেছিল যে তিনজন কিশোরী আইএসে যোগ দিতে ব্রিটেন ছেড়েছে। তাদের মধ্যে দুজন শামীমা বেগম (১৫) ও খাদিজা সুলতানা (১৬) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। আমরা এ-ও জানি যে ব্রিটেনের লুটনে বসবাসকারী ১২ সদস্যের এক বাংলাদেশি পরিবার বাংলাদেশ হয়ে সিরিয়ায় পাড়ি জমায়। সম্প্রতি আমরা এ-ও জানতে পারি যে সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আইএসের নেতাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন বাংলাদেশি সাইফুল হক সুজন। তিনিই কেবল আইএসে যুক্ত হয়েছিলেন তা নয়, তিনি বাবা, ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও একই মতবাদে উদ্বুদ্ধ করেছেন বলে খবর বেরোচ্ছে। বাংলাদেশে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অর্থ পাচারে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে।
যদিও দ্বিতীয় ধরনের সঙ্গে দেশের ও পরিবারের সংশ্লিষ্টতা আমরা দেখতে পাই, সেখানেও উদ্দেশ্য হচ্ছে সংঘাতময় দেশে গিয়ে যুক্ত হওয়া বা আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী তৎপরতায় যুক্ত থাকা। বাংলাদেশে ‘সশস্ত্র জিহাদ’ পরিচালনা করা নয়। কিন্তু এখন সিঙ্গাপুরে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আমরা অবগত হই যে তাঁদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে জিহাদ পরিচালনা বা তাকে সমর্থন করা। বাংলাদেশে গত কিছুদিন যাবৎ এ বিষয়ে বিতর্ক হচ্ছে দেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী, বিশেষ করে আইএস সাংগঠনিকভাবে উপস্থিত আছে কি না। সরকার অতীতে আইএসের উপস্থিতি রয়েছে এমন কথা বললেও এখন তার অবস্থান বদলেছে। গত বছরে সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনায় জঙ্গিদের কর্মকাণ্ডের ধরনে পরিবর্তন লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এখন সিঙ্গাপুরে আটকদের তৎপরতার ধরনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে জঙ্গি এবং জঙ্গি সংগঠন বিষয়ে পুরোনো অবস্থান ও অস্বীকৃতির সংস্কৃতি দুই-ই পুনর্বিবেচনা দাবি করে।
আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
-
▼
2016
(3416)
-
▼
January
(576)
-
▼
Jan 23
(12)
- রায় লেখা নিয়ে বিতর্কের নতুন মাত্রা
- ভোলায় শীতে ৩ জনের মৃত্যু : সাতক্ষীরায় ৫০ শিশু অসুস্থ
- ইসলাম প্রচারে তাবলিগ ও বিশ্ব ইজতেমা by মুহাম্মদ আব...
- বিএনপির কালো দিবস -সোহরাব হাসান
- পোড়া বস্তিতে উচ্ছেদের আগুন?
- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ- সরকা...
- অবসরে যাওয়ার পর রায় লিখতে দেব না -প্রধান বিচারপতি
- প্রাণঘাতী বায়ুদূষণ- পরিবেশ অধিদপ্তরকে আরও তৎপর হতে...
- ‘শারীরিক সম্পর্কের আগে পুলিশকে জানাতে হবে’
- ‘স্বল্প বসন, উন্মুক্ত উরু যৌনতার অংশ নয়’
- গণতন্ত্র এখানে তামাশা
- বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতায় নতুন মাত্রা by আলী রীয়াজ
-
▼
Jan 23
(12)
-
▼
January
(576)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







