Showing posts with label দীন ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label দীন ইসলাম. Show all posts
Tuesday, September 24, 2019
কমিশন ভাগাভাগি: ২০ কর্মকর্তার গাঢাকা by দীন ইসলাম

জি
কে শামীম ইস্যুতে লাপাত্তা সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে ২০ কর্মকর্তা। তারা
কোথায় আছেন পরিবারের সদস্য ছাড়া কেউ জানেন না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে
এগুচ্ছেন তারা। অতীত ঘুষ এখন গলার কাঁটা হয়ে যায় কিনা এনিয়ে চিন্তায় আছেন
গণপূর্তসহ বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এসব কর্মকর্তা।
দুর্নীতি দমন কমিশন ও র্যাবসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে তারা
নিজেদের আড়াল করে রাখছেন। নিজেদের ফোন বন্ধ রেখেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে,
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী টিপু সুলতান ও রফিকুল ইসলাম
ঠিকাদার জিকে শামীমের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়েছেন। পাশাপাশি জাতীয়
গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আক্তারুজ্জামান জিকে শামীমের সব
কাজে বৈধতা দিতে কার্পন্য করতেন না। শামীম গ্রেপ্তারের পর থেকে এ তিন
কর্মকর্তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে
বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে গণপূর্ত
অধিদপ্তরের সাবেক দুই প্রকৌশলী সর্ম্পকে বিস্ময়কর তথ্য পাওয়া গেছে। তারা
বলছেন, প্রধান প্রকৌশলী পদে রফিকুল ইসলাম থাকার সময় তার প্রধান সহযোগি
ছিলেন, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাই। তাদের সিন্ডিকেটে ছিলেন
বেশ কয়েকজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী
প্রকৌশলী। রফিকুল ইসলাম সরাসরি ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করতেন।
গুরুত্বপূর্ণ জোনের দায়িত্ব পালনকারি সব নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক
প্রকৌশলী এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকেও প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের মাসোহারা
দিতে হতো রফিককে। ঠিকাদারি কাজ দিতে তিনি আগে থেকেই তিন থেকে ১০ শতাংশ
কমিশন নিতেন। এর বাইরে অন্য প্রকৌশলীরা যে কমিশন পেতেন, তাদের কমিশনেও ভাগ
বসাতেন রফিকুল ইসলাম। নিজে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব ছাড়ার আগে একদিনে
সবচেয়ে বেশি বদলির রেকর্ড করে গেছেন তিনি। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, নিজের
অবৈধ অর্থ দিয়ে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ টি বিভিন্ন আয়তনের প্লট
কিনেছেন রফিকুল ইসলাম। ৩০০ ফুট রাস্তার উপর প্লট থাকলে দাম দর না করেই কিনে
ফেলতেন তিনি। রাজউকের এক কর্মকর্তা জানান, তার দুই স্ত্রী। তাই স্ত্রী ও
সন্তানদের নামেই বেশি প্লট কিনেছেন তিনি। মাঝেমধ্যে পরিবারের সদস্যরা প্লট
কেনার জন্য রাজউকে হাজিরা দিতে আসতেন। এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান
প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে টিপু সুলতান ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
(রাজউক)- এর প্রধান প্রকৌশলী। ওই সময় রাজউকে টেন্ডারবাজির বীজ রোপন করেন
টিপু সুলতান। সন্ত্রাসী পরিবেষ্ঠিত হয়ে অফিস করতেন সাবেক এ প্রধান
প্রকৌশলী। এজন্য নিজ দপ্তরে আনসার নিয়োগ করেন তিনি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের
তিনি বলেন, নিজের নিরাপত্তার খাতিরে আনসার নিয়োগ করা প্রয়োজন। ওই সময়
বিষয়টি রাজউকের কর্মকর্তাদের মধ্যে মুখরোচক আলোচনার জন্ম দেয়। রাজউকে
টেন্ডার ভাগাভাগিতে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান
প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পান টিপু সুলতান। এ সময় জিকে শামীমের সঙ্গে তার
সখ্যতার বিষয়টি ছিল ওপেন সিক্রেট। এদিকে, জিকে শামীম গ্রেপ্তারের পর পরই
রফিকুল ইসলাম ও টিপু সুলতান গা ঢাকা দিয়েছেন। ফোন বন্ধ রয়েছে তাদের।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের বর্তমান অন্য প্রকৌশলীরা ভয়ে আছেন। অনেকে ফোন বন্ধ করে
রেখেছেন, অনেকে অপরিচিত নম্বরের ফোন ধরছেন না। এমনকি গণপূর্ত অধিদপ্তরের
ওয়েবসাইটটিও তারা বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর পেয়ে যেন
ফোন দিতে না পারেন এজন্য এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের
সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাই এবং দুই দফা জাতীয় গৃহায়ন
কর্তৃপক্ষের সদস্য (ইঞ্জিনিয়ারিং) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া এসএএম
ফজলুল কবির ঠিকাদার শামীমের অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন। এদের মধ্যে ফজলুল
কবির এখনও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে কাজ করছেন। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে
জানা গেছে, জিকে শামীম গ্রেপ্তারের পর ফজলুল কবির চুপসে গেছেন। রোববার
অফিসে কিছু সময়ের জন্য এসেই হাওয়া হয়ে যান। গতকালও অফিস করেননি এ
কর্মকর্তা। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সদস্য (প্রকৌশল)
ফজলুল কবির ২০০৩ সালে মহাজোট সরকারের আমলে বেশ সুবিধাভোগী কর্মকর্তা ছিলেন।
ওই সময় তিনি ছিলেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী মীর্জা আব্বাসের
আস্থাভাজন কর্মকর্তা। তাই জিকে শামীম ওই সময় থেকেই ফজলুল কবিরের ঘনিষ্ঠ বনে
যান। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসএএম ফজলুল কবিরের দুই দফা
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার পেছনে জিকে শামীমের হাত রয়েছে। কারন এ নিয়োগ
পেতে যত ধরনের অর্থায়ন সবই তিনি করেছেন। বিনিময়ে জিকে শামীমের সঙ্গে
মিলেমিশে ট্টপিক্যাল হোমসকে কম দামে জমি দেয়াসহ সব কিছুর প্রক্রিয়া করেন
ফজলুল কবির। ফজলুল কবিরের জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে বার বার ফোন
করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এদিকে, সুবিধাভোগী এসব কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্য
কর্মকর্তারাও গত দুই দিন অফিস করেননি। ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, পরিস্থিতি ঠান্ডা
হলেই তারা অফিস করবেন।
Thursday, August 29, 2019
রোহিঙ্গা সমাবেশ নিয়ে কক্সবাজারের ডিসি’র প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে by দীন ইসলাম

রোহিঙ্গা
মহাসমাবেশ দেশের জন্য এক ধরনের হুমকি। এ সমাবেশ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে
প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ২৫শে আগস্ট
কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশ নিয়ে স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়কে এমনটাই জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
মহাসমাবেশ নিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডিসি’র কাছে একটি প্রতিবেদন
পাঠিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশে আগমনের দুই
বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটস’
নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে রোহিঙ্গারা কুতুপালংস্থ এক্সটেনশন ক্যাম্পে
জমায়েত হয়ে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব লাভ ও নিষ্ঠুরতার বিচার নিশ্চিত করা হলে
প্রত্যাবাসনে সম্মত মর্মে বক্তব্য দেন। ওই দিন সকাল নয়টা থেকে বেলা ১২ টা
পর্যন্ত সমাবেশ চলে। ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ।
তিনি সম্প্রতি জনৈক প্রিয়া সাহার সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন
দূতাবাসের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে
সাক্ষাৎ করেন।
সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ, মো. ইলিয়াছ, মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুর রহিম প্রমুখ বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মুহিবুল্লাহ বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জায়গা এখনও নিরাপদ নয়। তাদের নিয়ে যদি ক্যাম্পে রাখা হয় তাহলে বাংলাদেশের ক্যাম্পই তাদের জন্য ভালো। তাই নাগরিকত্ব, নিরাপত্তাসহ অধিকার বাস্তবায়ন না হলে মিয়ানমারে ফিরবে না রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গা নেতারা সমাবেশে বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে নিতে হবে মিয়ানমারকে। সঙ্গে রাখাইনে ফেলে আসা ভিটেমাটিও ফিরিয়ে দিতে হবে। তাহলেই প্রত্যাবাসন সফল হবে। আমাদের সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের যদি মিয়ানমারে ফিরে যেতে হয়, এক সঙ্গে যাব, এক সঙ্গে সীমান্ত পার হবো। প্রতিবেদনে জানানো হয়, শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় (আরআরআরসি), কক্সবাজারের অধীনের ক্যাম্প ইনচার্জরা তাদের মৌখিকভাবে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করার অনুমতি দেন। এরপরও তারা গণহত্যার বিচার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি সংক্রান্ত লিফলেটসহ মিছিল নিয়ে মহাসমাবেশ করেছে। ডিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশ করার ক্ষেত্রে যেসব এনজিওদের ইন্ধন বা সহযোগিতা রয়েছে, সেসব এনজিওদের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, বেশ কয়েকটি এনজিও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নতুন পুরাতন মিলে বাংলাদেশে বসবাসকারি রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ। তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছেন। ২৫ আগস্ট বাংলাদেশে আগমনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে মহাসমাবেশ নিয়েই এখন যত আলোচনা চলছে।
সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ, মো. ইলিয়াছ, মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুর রহিম প্রমুখ বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মুহিবুল্লাহ বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জায়গা এখনও নিরাপদ নয়। তাদের নিয়ে যদি ক্যাম্পে রাখা হয় তাহলে বাংলাদেশের ক্যাম্পই তাদের জন্য ভালো। তাই নাগরিকত্ব, নিরাপত্তাসহ অধিকার বাস্তবায়ন না হলে মিয়ানমারে ফিরবে না রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গা নেতারা সমাবেশে বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে নিতে হবে মিয়ানমারকে। সঙ্গে রাখাইনে ফেলে আসা ভিটেমাটিও ফিরিয়ে দিতে হবে। তাহলেই প্রত্যাবাসন সফল হবে। আমাদের সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের যদি মিয়ানমারে ফিরে যেতে হয়, এক সঙ্গে যাব, এক সঙ্গে সীমান্ত পার হবো। প্রতিবেদনে জানানো হয়, শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় (আরআরআরসি), কক্সবাজারের অধীনের ক্যাম্প ইনচার্জরা তাদের মৌখিকভাবে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করার অনুমতি দেন। এরপরও তারা গণহত্যার বিচার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি সংক্রান্ত লিফলেটসহ মিছিল নিয়ে মহাসমাবেশ করেছে। ডিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশ করার ক্ষেত্রে যেসব এনজিওদের ইন্ধন বা সহযোগিতা রয়েছে, সেসব এনজিওদের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, বেশ কয়েকটি এনজিও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নতুন পুরাতন মিলে বাংলাদেশে বসবাসকারি রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ। তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছেন। ২৫ আগস্ট বাংলাদেশে আগমনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে মহাসমাবেশ নিয়েই এখন যত আলোচনা চলছে।
Thursday, August 15, 2019
পাসপোর্টের ফিঃ সর্বোচ্চ ১২০০০ ও সর্বনিম্ন ৩৫০০ টাকা by দীন ইসলাম

বাড়লো
পাসপোর্টের ফি। বর্তমানে জরুরি ফি ভ্যাটসহ ৩৪৫০ টাকা ও অতি জরুরি ফি
ভ্যাটসহ ৬৯০০ টাকা। তবে ভ্যাট ছাড়াই ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট)- এর
সর্বোচ্চ ফি ১২ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ফি তিন হাজার পাঁচশ’ টাকা
নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের
জন্য সর্বোচ্চ ফি ২২৫ মার্কিন ডলার এবং সর্বনিম্ন ফি ১০০ মার্কিন ডলার ধরা
হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ফি
২২৫ মার্কিন ডলার এবং সর্বনিম্ন ফি ৩০ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। সবক্ষেত্রে
ই-পাসপোর্ট ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার হবে। পৃষ্ঠা অনুযায়ী আলাদা ফি নির্ধারণ করে গত
১লা আগস্ট একটি পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা
বিভাগ। পরিপত্রে সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরি এ তিনভাবে ই-পাসপোর্টের ফি
নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি কাগজপত্র সত্যায়নের ঘর উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ি বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৯০০০ টাকা। এছাড়া বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১০৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৭০০০ টাকা, জরুরি ফি ৯০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১২০০০ টাকা। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা ই-পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১০০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১২৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২০০ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২২৫ মার্কিন ডলার ধার্য্য করা হয়েছে।
এদিকে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ৪৫ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২০০ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২২৫ মার্কিন ডলার ধার্য্য করা হয়েছে। পরিপত্রে ই-পাসপোর্টের ফর্ম পূরণের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইন এ পূরণ করা যাবে। এছাড়া পিডিএফ ফরম্যাট ডাউনলোড করে যে কোন কম্পিউটারে ফরমটি পূরণ করা যাবে। ই-পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে কোন কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া কোন ছবি সংযোজন করা এবং তা সত্যায়ন করার দরকার হবে না। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ি পূরণ করতে হবে। তবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারি যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নাই, তাঁর পিতা এবং মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনের সঙ্গে ১৮ বছরের নীচে হলে জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি), ১৮ বছর হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) এবং ১৮ বছরের বেশি হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অবশ্যই লাগবে। তবে ১৮ বছরের নিচে সব আবেদনকারীর ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এতে বলা হয়েছে, টেকনিক্যাল সনদগুলো (যেমন: ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও ড্রাইভার) আপলোড করতে হবে। এছাড়া এনওসি, জিও, প্রত্যয়নপত্র, পেনশন বই অবশ্যই আপলোড করতে হবে। ইস্যুকারি অথরিটি তাদের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে এটা আপলোড করতে হবে।
সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রয়াত্ব কর্পোরেশনের স্থায়ী কর্মচারি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারি ও তাদের নির্ভরশীল স্ত্রী বা স্বামী এবং সরকারি চাকুরীজীবিদের ১৫ বছরের কম বয়সের সন্তান সাধারণ ফি জমা দিয়ে অতি জরুরি সুবিধা পাবেন। দেশে পাসপোর্টের ফি জমা দিলে নির্ধারিত ভ্যাট এবং বিদেশে আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন কর্তৃক সারচার্জসহ নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক পাসপোর্ট পেতে আবেদনকারীদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার এন্ড ওয়েলফেয়ার উইং বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) প্রধান কার্যালয় বরাবর আবেদন করতে হবে। বৈদেশিক মিশন থেকে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা হলে স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশে যোগাযোগের ঠিকানা থাকতে হবে। অতি জরুরি পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ করে আবশ্যিকভাবে আবেদনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে। এতে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে অতি জরুরি পাসপোর্ট পেতে আবেদনের সঙ্গে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে অন্যান্য সব তথ্য ঠিক থাকলে ৭২ ঘন্টা বা তিন দিনের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। দেশের অভ্যন্তরে জরুরি পাসপোর্ট পেতে আবেদনের সঙ্গে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে অন্যান্য সব তথ্য ঠিক থাকলে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে।
দেশের অভ্যন্তরে রেগুলার পাসপোর্ট পেতে আবেদনের সঙ্গে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে অন্যান্য সব তথ্য ঠিক থাকলে ২১ কর্ম দিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে অতি জরুরি পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। জরুরি পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭২ ঘন্টার মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। রেগুলার পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে কোন অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন বা ছবি পরিবর্তনের প্রয়োজন না হলে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিতির দরকার নেই। রিইস্যুর ক্ষেত্রে যদি সংশোধনের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট ইস্যুকারি কর্তৃপক্ষের কাছে হাজির হওয়ার দরকার হতে পারে। কোন ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর পাসপোর্ট বাতিলের জন্য নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিস বা বাংলাদেশ মিশনে জমা দিতে হবে। বাতিল করা পাসপোর্ট আবেদনের ভিত্তিতে মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারদের কাছে ফেরত দেয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সহসাই ই-পাসপোর্ট চালু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই ই-পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। তখন থেকেই পরিপত্র অনুযায়ি কাজ করবে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।
পাশাপাশি কাগজপত্র সত্যায়নের ঘর উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ি বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৯০০০ টাকা। এছাড়া বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১০৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৭০০০ টাকা, জরুরি ফি ৯০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১২০০০ টাকা। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা ই-পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১০০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১২৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২০০ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২২৫ মার্কিন ডলার ধার্য্য করা হয়েছে।
এদিকে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ৪৫ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২০০ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২২৫ মার্কিন ডলার ধার্য্য করা হয়েছে। পরিপত্রে ই-পাসপোর্টের ফর্ম পূরণের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইন এ পূরণ করা যাবে। এছাড়া পিডিএফ ফরম্যাট ডাউনলোড করে যে কোন কম্পিউটারে ফরমটি পূরণ করা যাবে। ই-পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে কোন কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া কোন ছবি সংযোজন করা এবং তা সত্যায়ন করার দরকার হবে না। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ি পূরণ করতে হবে। তবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারি যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নাই, তাঁর পিতা এবং মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনের সঙ্গে ১৮ বছরের নীচে হলে জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি), ১৮ বছর হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) এবং ১৮ বছরের বেশি হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অবশ্যই লাগবে। তবে ১৮ বছরের নিচে সব আবেদনকারীর ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এতে বলা হয়েছে, টেকনিক্যাল সনদগুলো (যেমন: ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও ড্রাইভার) আপলোড করতে হবে। এছাড়া এনওসি, জিও, প্রত্যয়নপত্র, পেনশন বই অবশ্যই আপলোড করতে হবে। ইস্যুকারি অথরিটি তাদের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে এটা আপলোড করতে হবে।
সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রয়াত্ব কর্পোরেশনের স্থায়ী কর্মচারি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারি ও তাদের নির্ভরশীল স্ত্রী বা স্বামী এবং সরকারি চাকুরীজীবিদের ১৫ বছরের কম বয়সের সন্তান সাধারণ ফি জমা দিয়ে অতি জরুরি সুবিধা পাবেন। দেশে পাসপোর্টের ফি জমা দিলে নির্ধারিত ভ্যাট এবং বিদেশে আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন কর্তৃক সারচার্জসহ নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক পাসপোর্ট পেতে আবেদনকারীদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার এন্ড ওয়েলফেয়ার উইং বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) প্রধান কার্যালয় বরাবর আবেদন করতে হবে। বৈদেশিক মিশন থেকে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা হলে স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশে যোগাযোগের ঠিকানা থাকতে হবে। অতি জরুরি পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ করে আবশ্যিকভাবে আবেদনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে। এতে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে অতি জরুরি পাসপোর্ট পেতে আবেদনের সঙ্গে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে অন্যান্য সব তথ্য ঠিক থাকলে ৭২ ঘন্টা বা তিন দিনের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। দেশের অভ্যন্তরে জরুরি পাসপোর্ট পেতে আবেদনের সঙ্গে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে অন্যান্য সব তথ্য ঠিক থাকলে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে।
দেশের অভ্যন্তরে রেগুলার পাসপোর্ট পেতে আবেদনের সঙ্গে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে অন্যান্য সব তথ্য ঠিক থাকলে ২১ কর্ম দিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে অতি জরুরি পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। জরুরি পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭২ ঘন্টার মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। রেগুলার পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে কোন অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন বা ছবি পরিবর্তনের প্রয়োজন না হলে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিতির দরকার নেই। রিইস্যুর ক্ষেত্রে যদি সংশোধনের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট ইস্যুকারি কর্তৃপক্ষের কাছে হাজির হওয়ার দরকার হতে পারে। কোন ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর পাসপোর্ট বাতিলের জন্য নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিস বা বাংলাদেশ মিশনে জমা দিতে হবে। বাতিল করা পাসপোর্ট আবেদনের ভিত্তিতে মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারদের কাছে ফেরত দেয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সহসাই ই-পাসপোর্ট চালু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই ই-পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। তখন থেকেই পরিপত্র অনুযায়ি কাজ করবে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।
Sunday, July 21, 2019
মাদকের গডফাদার তালিকা থেকে নাম কাটাতে তদবির by দীন ইসলাম

মাদক
গডফাদারের তালিকা থেকে নাম কাটাতে তদবির করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।
যেকোনো উপায়ে নিজেদের নাম বাদ দিতে চান তারা। এজন্য বিভিন্ন মাধ্যমে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তদবির করছেন নানা মাধ্যমে। এলাকার সংসদ সদস্য,
উপজেলা চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা বা উপজেলা আওয়ামী
লীগের প্রভাবশালী নেতাকে তার তদবিরে যুক্ত করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা
গেছে, সারা দেশে মাদক বিরোধী ক্র্যাশ প্রোগ্রাম থেকে নিজেদের রক্ষা করতে
এখনও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন মাদকের গডফাদাররা।
ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে তারা বাঁচার চেষ্টা করছে।
মন্ত্রণালয় ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু অসৎ কর্মকর্তা নাম কাটানোর কথা বলে গডফাদারদের কাছ থেকে অর্থ কামাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা দৌড়ঝাঁপ করছেন সবচেয়ে বেশি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া। বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারি সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় মাদকের গডফাদার হিসেবে তার নাম রয়েছে। কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় তার নাম নেই। এ সুযোগটি কাজে লাগাতে তদবির শুরু করেছেন ইয়াহিয়া। গেল বছরের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ইয়াহিয়া সর্ম্পকে জানতে একটি চিঠি দেয়। এর ভিত্তিতে গত ২রা জুলাই একটি প্রতিবেদন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে হেড অফিসে পাঠানো হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগ কক্সবাজার জেলার মাদক তথা ইয়াবা ব্যবসায়ি ও চোরাকারবারিদের পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়দাতার তালিকা তৈরি করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আওতাধীন কক্সবাজারের তৈরি করা তালিকায় মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার নাম অর্ন্তভূক্ত ছিল না। অন্য কোন সংস্থা মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার নাম তালিকাভূক্ত করেছে কিনা ওই তথ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের কাছে নেই। মোহাম্মদ ইয়াহিয়া চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে।
মাদক ব্যবসায়ি বা পৃষ্ঠপোষকদের তালিকায় তার নাম নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২রা জুলাই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানোর পর গত ৯ই জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে চিঠি দিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ। ওই চিঠিতে মোহাম্মদ ইয়াহিয়া তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ি নন মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ তালিকা সুরক্ষা সেবা বিভাগে পাঠিয়েছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মাদকের গডফাদারদের তদবিরের বিষয়টি জানতে চাইলে সুরক্ষা সেবা বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, তদবির করে পার পাওয়ার কোন উপায় নেই। কারণ তালিকা থেকে নাম কাটানো অনেক কঠিন বিষয়। এদিকে, মাদকের গডফাদাররা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ঘুরে ফিরে অভিযান বন্ধ বা নিজেদের নাম কাটানোর তদবির চালালেও তাদের গ্রেপ্তারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এদের কারও কারও প্রতি ক্ষমতাসীন দলের নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্রয় রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ। এদিকে, অনেক মাদক গডফাদার এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জেনেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এজন্য মাদক কারবারিদের ধরতে সীমান্তে কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সংস্থার তালিকা অনুযায়ি সারা দেশে এক হাজারেরও বেশি মাদক গডফাদার রয়েছে। সম্প্রতি মাদক বিরোধী অভিযান শুরুর পর তাদের অনেকেই গা ঢাকা দেয়। সারা দেশে অনেক মাদক ব্যবসায়ী ও বিক্রেতা গ্রেপ্তার হলেও গডফাদারদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা কম। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে মাদক বিরোধী অভিযানের সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে চার শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী মারা যায়।
মন্ত্রণালয় ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু অসৎ কর্মকর্তা নাম কাটানোর কথা বলে গডফাদারদের কাছ থেকে অর্থ কামাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা দৌড়ঝাঁপ করছেন সবচেয়ে বেশি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া। বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারি সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় মাদকের গডফাদার হিসেবে তার নাম রয়েছে। কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় তার নাম নেই। এ সুযোগটি কাজে লাগাতে তদবির শুরু করেছেন ইয়াহিয়া। গেল বছরের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ইয়াহিয়া সর্ম্পকে জানতে একটি চিঠি দেয়। এর ভিত্তিতে গত ২রা জুলাই একটি প্রতিবেদন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে হেড অফিসে পাঠানো হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগ কক্সবাজার জেলার মাদক তথা ইয়াবা ব্যবসায়ি ও চোরাকারবারিদের পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়দাতার তালিকা তৈরি করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আওতাধীন কক্সবাজারের তৈরি করা তালিকায় মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার নাম অর্ন্তভূক্ত ছিল না। অন্য কোন সংস্থা মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার নাম তালিকাভূক্ত করেছে কিনা ওই তথ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের কাছে নেই। মোহাম্মদ ইয়াহিয়া চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে।
মাদক ব্যবসায়ি বা পৃষ্ঠপোষকদের তালিকায় তার নাম নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২রা জুলাই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানোর পর গত ৯ই জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে চিঠি দিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ। ওই চিঠিতে মোহাম্মদ ইয়াহিয়া তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ি নন মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ তালিকা সুরক্ষা সেবা বিভাগে পাঠিয়েছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মাদকের গডফাদারদের তদবিরের বিষয়টি জানতে চাইলে সুরক্ষা সেবা বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, তদবির করে পার পাওয়ার কোন উপায় নেই। কারণ তালিকা থেকে নাম কাটানো অনেক কঠিন বিষয়। এদিকে, মাদকের গডফাদাররা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ঘুরে ফিরে অভিযান বন্ধ বা নিজেদের নাম কাটানোর তদবির চালালেও তাদের গ্রেপ্তারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এদের কারও কারও প্রতি ক্ষমতাসীন দলের নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্রয় রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ। এদিকে, অনেক মাদক গডফাদার এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জেনেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এজন্য মাদক কারবারিদের ধরতে সীমান্তে কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সংস্থার তালিকা অনুযায়ি সারা দেশে এক হাজারেরও বেশি মাদক গডফাদার রয়েছে। সম্প্রতি মাদক বিরোধী অভিযান শুরুর পর তাদের অনেকেই গা ঢাকা দেয়। সারা দেশে অনেক মাদক ব্যবসায়ী ও বিক্রেতা গ্রেপ্তার হলেও গডফাদারদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা কম। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে মাদক বিরোধী অভিযানের সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে চার শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী মারা যায়।
Wednesday, July 10, 2019
চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলা নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা by দীন ইসলাম

ধর্ষণ
মামলার দুর্বল তদন্তে ক্ষুব্ধ পুলিশ সদর দপ্তর। আসামি পলাতক থাকায় এবং
দ্রুত গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ না নেয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিষয়ে অসন্তোষ
প্রকাশ করা হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি পলাতক
আসামিদের ৭ দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে বলা হয়। সম্প্রতি পুলিশ
সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত চাঞ্চল্যকর ১২ ধর্ষণ মামলা পর্যালোচনা সংক্রান্ত উচ্চ
পর্যায়ের সভায় এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখন
থেকে ধর্ষণ মামলায় সঠিক প্রমাণ নিশ্চিত করতে তদন্ত করবে সহকারি পুলিশ সুপার
(সার্কেল) এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে আদালতে দ্রুত চার্জশিট
দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ই
মে সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) এম খুরশীদ
হোসেনের সভাপতিত্বে চাঞ্চল্যকর নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা পর্যালোচনা করা
হয়। ওই সভায় বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর প্রকৃতির অপরাধ।
এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে তদন্তের মান উন্নত করতে হবে। এ সভায় অতিরিক্ত ডিআইজি (স্পেশাল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) আলোচনার জন্য নির্ধারিত মামলাগুলোর বিষয়বস্তু ও তদন্ত সংক্রান্ত বিষয় পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে ওই সভায় উত্থাপন করেন। এ সভায় চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য দিক নির্দেশনা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পর্যালোচনা সভার শুরুতে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার মামলা নং-১২, তারিখ-০৭/০৪/২০১৯ নিয়ে আলোচনা হয়। এ মামলার বাদী মিনুয়ারা বেগমের অভিযোগ কমিটিকে পড়ে শোনানো হয়। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, মামলার ১ নং আসামি মো. সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছে। ভিকটিমের ২২ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হয়েছে এবং ডাক্তারী পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্যের পর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুই জন আসামিকে এতদিন গ্রেপ্তার করতে না পারায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ ও এজাহারভূক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সভায় কুমিল্লার হোমনা থানার মামলা নং ৫, তারিখ- ১৫/০৪/২০১৯ এর বাদিনী আছমা আক্তার তিশার এজাহার পড়ে শোনানো হয়। এ মামলায় আসামি ওমান প্রবাসী দুলাল গ্রেপ্তার হয়েছে। অন্য আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় অসন্তোষ্টি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার মামলা নং ১৩, তারিখ- ১৫/০৪/২০১৯ এর বাদিনী মুন্নি আক্তারের এজাহার পড়ে শোনানো হয়। এ মামলায় আসামি মো. নবীরুল মেম্বার ও মো. শহিদ খান পাখিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সভায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানার মামলা নং ১১, তারিখ- ১০/০৫/২০১৯ এর বাদিনী রানী আক্তার, একই জেলার শাহরাস্তি মডেল থানার মামলা নং ১৪, তারিখ- ১১/০৫/২০১৯ এর বাদিনী ফেরদাউস বেগম, নোয়াখালীর চরজব্বার থানার মামলা নং ১, তারিখ- ১/০৪/১৯ এর বাদী মো. শাহজাহান, একই জেলার সোনাইমুড়ি থানার মামলা নং-৯ তারিখ-১১/০৪/১৯ এর বাদী মো. আব্দুল বাকী, মামলা নং-৩৪, তারিখ- ২৮/০৪/১৯ এর বাদিনী পিয়ারা বেগম, ফেনীর সোনাগাজী থানার মামলা নং ১৬, তারিখ- ১৭/৪/১৯ এর বাদিনী মোসা. নাসিমা আক্তার, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া সদর থানায় মামলা নং ৪৯, তারিখ- ১৬/৪/১৯ এর বাদিনী শারমীন আক্তার এবং একই জেলার নাসিরনগর উপজেলার মামলা নং-০৮ তারিখ-১৪/৪/১৯ এর বাদিনী মোছা. মরিয়ম বেগমের এজাহারের সারাংশ সভায় পড়ে শোনানো হয়। এসব মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের গাফিলতির প্রমাণ পায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এজন্য মামলার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে চার্জশিট দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি আলোচিত মামলাগুলো নিষ্পত্তির পর পুলিশ সদর দপ্তরের স্পেশাল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট শাখাকে জানাতে বলা হয়।
এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে তদন্তের মান উন্নত করতে হবে। এ সভায় অতিরিক্ত ডিআইজি (স্পেশাল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) আলোচনার জন্য নির্ধারিত মামলাগুলোর বিষয়বস্তু ও তদন্ত সংক্রান্ত বিষয় পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে ওই সভায় উত্থাপন করেন। এ সভায় চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য দিক নির্দেশনা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পর্যালোচনা সভার শুরুতে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার মামলা নং-১২, তারিখ-০৭/০৪/২০১৯ নিয়ে আলোচনা হয়। এ মামলার বাদী মিনুয়ারা বেগমের অভিযোগ কমিটিকে পড়ে শোনানো হয়। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, মামলার ১ নং আসামি মো. সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছে। ভিকটিমের ২২ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হয়েছে এবং ডাক্তারী পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্যের পর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুই জন আসামিকে এতদিন গ্রেপ্তার করতে না পারায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ ও এজাহারভূক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সভায় কুমিল্লার হোমনা থানার মামলা নং ৫, তারিখ- ১৫/০৪/২০১৯ এর বাদিনী আছমা আক্তার তিশার এজাহার পড়ে শোনানো হয়। এ মামলায় আসামি ওমান প্রবাসী দুলাল গ্রেপ্তার হয়েছে। অন্য আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় অসন্তোষ্টি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার মামলা নং ১৩, তারিখ- ১৫/০৪/২০১৯ এর বাদিনী মুন্নি আক্তারের এজাহার পড়ে শোনানো হয়। এ মামলায় আসামি মো. নবীরুল মেম্বার ও মো. শহিদ খান পাখিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সভায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানার মামলা নং ১১, তারিখ- ১০/০৫/২০১৯ এর বাদিনী রানী আক্তার, একই জেলার শাহরাস্তি মডেল থানার মামলা নং ১৪, তারিখ- ১১/০৫/২০১৯ এর বাদিনী ফেরদাউস বেগম, নোয়াখালীর চরজব্বার থানার মামলা নং ১, তারিখ- ১/০৪/১৯ এর বাদী মো. শাহজাহান, একই জেলার সোনাইমুড়ি থানার মামলা নং-৯ তারিখ-১১/০৪/১৯ এর বাদী মো. আব্দুল বাকী, মামলা নং-৩৪, তারিখ- ২৮/০৪/১৯ এর বাদিনী পিয়ারা বেগম, ফেনীর সোনাগাজী থানার মামলা নং ১৬, তারিখ- ১৭/৪/১৯ এর বাদিনী মোসা. নাসিমা আক্তার, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া সদর থানায় মামলা নং ৪৯, তারিখ- ১৬/৪/১৯ এর বাদিনী শারমীন আক্তার এবং একই জেলার নাসিরনগর উপজেলার মামলা নং-০৮ তারিখ-১৪/৪/১৯ এর বাদিনী মোছা. মরিয়ম বেগমের এজাহারের সারাংশ সভায় পড়ে শোনানো হয়। এসব মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের গাফিলতির প্রমাণ পায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এজন্য মামলার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে চার্জশিট দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি আলোচিত মামলাগুলো নিষ্পত্তির পর পুলিশ সদর দপ্তরের স্পেশাল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট শাখাকে জানাতে বলা হয়।
Tuesday, June 25, 2019
সুন্দরবন নিয়ে দেনদরবার by দীন ইসলাম

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বাংলাদেশের সুন্দরবনকে ঝুঁকিতে থাকা বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে ইউনেস্কো। সুন্দরবনের কোলঘেঁষে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজের কারণে সমপ্রতি প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক পরিষদ আইইউসিএনের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির কাছে এই সুপারিশ করেছে ইউনেস্কো। এ সুপারিশ প্রকাশ হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক পরিষদ আইইউসিএনের সদস্যদের ২৪ ও ২৫ শে জুন ব্রিফ করা হচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (বর্তমানে রাজউক চেয়ারম্যান) ড. সুলতান আহমেদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখন ফ্রান্স অবস্থান করছেন। কমিটি সদস্যদের সঙ্গে তারা একটি ব্রিফিং সেশনে অংশ নিচ্ছেন। বিষয়গুলো মনিটরিং করছেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির বার্ষিক সভা আগামী ৩০শে জুন থেকে ১০ই জুলাই পর্যন্ত আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ওই সভায় সুন্দরবন নিয়ে ইউনেস্কোর সুপারিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এজন্য ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির বার্ষিক সভায়ও বাংলাদেশ থেকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল থাকবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফ্রান্স থেকে উচ্চ পর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলটি ২৬ শে জুন রাতে ফিরবে। এরপর ১লা জুলাই আবার আজারবাইজানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। এদিকে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক পরিষদ দাবি করছে, রামপালের বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাস সুন্দরবনকে বিপদাপন্ন করবে। এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন গত ৭ই জুন আইইউসিএনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এরপরই সরকারের তৎপরতা শুরু হয়। এর আগে সুন্দরবনকে ১৯৯৯ সালে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ইউনেস্কো। তবে শুরু থেকেই সুন্দরবনের মাত্র ৬৫ কিলোমিটার দূরে রামপালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছিল জাতিসংঘের এ সংস্থাটি। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো ও আইইউসিএনের একটি যৌথ পর্যবেক্ষণের পর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার প্রস্তাব দিয়েছিল, বিদ্যুৎকেন্দ্র সরিয়ে অন্য কোথাও নির্মাণের। এ ছাড়া সংস্থাটি সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিল সুন্দরবনকে সম্ভাব্য পরিবেশগত বিপদ থেকে সুরক্ষা দিতে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানাতে। তবে সরকার সবসময় দাবি করে আসছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনকে বিপদাপন্ন করবে না। কিন্তু তা মানতে পারেনি ইউনেস্কো। শেষ পর্যন্ত সুন্দরবনের সুরক্ষায় সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট ইউনেস্কো লোনাপানির এ বনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করে। বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার গত বছরের ৪ঠা ডিসেম্বর ইউনেস্কোর কাছে সুন্দরবন রক্ষায় নেওয়া উদ্যোগগুলো চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন দেয়। এতে বলা হয়, সুন্দরবনের চারপাশে কোনো শিল্পকারখানার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ২০৪১ সাল পর্যন্ত একটি কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা প্রতিবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সুন্দরবনের মিষ্টি পানির প্রবাহ বাড়াতে গড়াই নদ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে বাঘ রক্ষায় একটি কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছে। ইউনেস্কোর নথিতে বলা হয়, বিশ্ব ঐতিহ্য মর্যাদাপূর্ণ সুন্দরবনের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তার কোনো মূল্যায়ন না করেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সুন্দরবনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রবাহিত পায়রা নদীর ওপর দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। এতেও সুন্দরবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ওই সভায় সুন্দরবন নিয়ে ইউনেস্কোর সুপারিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এজন্য ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির বার্ষিক সভায়ও বাংলাদেশ থেকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল থাকবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফ্রান্স থেকে উচ্চ পর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলটি ২৬ শে জুন রাতে ফিরবে। এরপর ১লা জুলাই আবার আজারবাইজানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। এদিকে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক পরিষদ দাবি করছে, রামপালের বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাস সুন্দরবনকে বিপদাপন্ন করবে। এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন গত ৭ই জুন আইইউসিএনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এরপরই সরকারের তৎপরতা শুরু হয়। এর আগে সুন্দরবনকে ১৯৯৯ সালে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ইউনেস্কো। তবে শুরু থেকেই সুন্দরবনের মাত্র ৬৫ কিলোমিটার দূরে রামপালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছিল জাতিসংঘের এ সংস্থাটি। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো ও আইইউসিএনের একটি যৌথ পর্যবেক্ষণের পর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার প্রস্তাব দিয়েছিল, বিদ্যুৎকেন্দ্র সরিয়ে অন্য কোথাও নির্মাণের। এ ছাড়া সংস্থাটি সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিল সুন্দরবনকে সম্ভাব্য পরিবেশগত বিপদ থেকে সুরক্ষা দিতে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানাতে। তবে সরকার সবসময় দাবি করে আসছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনকে বিপদাপন্ন করবে না। কিন্তু তা মানতে পারেনি ইউনেস্কো। শেষ পর্যন্ত সুন্দরবনের সুরক্ষায় সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট ইউনেস্কো লোনাপানির এ বনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করে। বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার গত বছরের ৪ঠা ডিসেম্বর ইউনেস্কোর কাছে সুন্দরবন রক্ষায় নেওয়া উদ্যোগগুলো চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন দেয়। এতে বলা হয়, সুন্দরবনের চারপাশে কোনো শিল্পকারখানার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ২০৪১ সাল পর্যন্ত একটি কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা প্রতিবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সুন্দরবনের মিষ্টি পানির প্রবাহ বাড়াতে গড়াই নদ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে বাঘ রক্ষায় একটি কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছে। ইউনেস্কোর নথিতে বলা হয়, বিশ্ব ঐতিহ্য মর্যাদাপূর্ণ সুন্দরবনের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তার কোনো মূল্যায়ন না করেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সুন্দরবনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রবাহিত পায়রা নদীর ওপর দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। এতেও সুন্দরবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।
Wednesday, June 19, 2019
বিশেষ বরাদ্দের চাল-গমের জন্য তদবিরবাজদের ভিড় by দীন ইসলাম

অর্থ
বছরের শেষ। জুন ক্লোজিং চলছে। এ কারণে ‘বিশেষ বরাদ্দ’ নিতে দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে তদবিরবাজদের রীতিমতো ভিড় লেগেছে। এ
মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সিনিয়র সচিবের দপ্তরে গতকাল দিনভর
তদবিরবাজদের আনাগোনা দেখা যায়। তদবিরবাজদের যন্ত্রণায় রীতিমতো অতিষ্ঠ
তারা। তদবিরবাজদের তালিকায় রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে পেশাজীবীরাও
রয়েছেন। পেশাজীবী কয়েকটি সংগঠন তালিকা ধরিয়ে দিয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে
জানা গেছে। এসব তদবির কিছু আমলে নিতে গিয়ে এখন দুর্যোগ মন্ত্রণালয়কে
মধ্যরাত অবধি কাজ করতে হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে গতকাল সরজমিন দেখা যায়, তদবিরকারীদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগসহ মহাজোটের শরিক অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। অনেকে আসেন নিজ এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে। অনেককে আবার নিজ আসনের সংসদ সদস্যের ডিও লেটার নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে আসতে দেখা যায়। এর বাইরে আরও অনেক তদবিরকারী রয়েছেন, যারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় দিলেও বরাবরই এরা ‘পেশাদার তদবিরবাজ’ হিসেবে পরিচিত। মন্ত্রীর এক ব্যক্তিগত কর্মকর্তার রুমে দলবদ্ধভাবে কয়েক জন পেশাজীবিকে চাল, গম বরাদ্দ নিয়ে আলাপ করতে দেখা যায়। তদবিরবাজদের ভীড় সর্ম্পকে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল মানবজমিনকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজ জেলা পর্যায়ে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। তাই তদবিরবাজদের ভীড় অনেক কমে গেছে। এখন যা দেখা যাচ্ছে এ রকম সব সময়ই থাকে। মধ্য রাত পর্যন্ত কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজনেই রাতে কাজ করতে হয়। এটা এমন কিছু নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা বা অন্য কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ চেয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আবেদন করছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বানিয়ে অনেকে মন্ত্রণালয়ে এসে ওই সব কাগজপত্র জমা দিচ্ছেন। এসব কাগজপত্রের ভিত্তিতে চাল বা গম বরাদ্দ পেতে অনেকেই আবেদন করছেন। পাশাপাশি করছেন তদবির। গতকাল তদবির করতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বরাদ্দ পেতে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। তাই বরাদ্দ পেতে তাদের কোন ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হবে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ বকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দ এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। ওই অর্থ দিয়ে এ বছর থেকে গৃহহীন মানুষের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরি করে দেবে সরকার। আগামী পাঁচ বছরে এ বরাদ্দের তিন হাজার কোটি টাকা দিয়ে দরিদ্রদের এক লাখ ২৫ হাজার নতুন ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, প্রতি ছয় মাসে টিআর খাতে ২০০ কোটি টাকা এবং কাবিটা খাতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় অর্থ বিভাগ। চলতি বছর দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষের জন্য ৬৪ জেলায় ৬৪ হাজার ঘর নির্মাণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে প্রতি জেলায় গড়ে প্রায় ১৮৭টি করে ৬৪ জেলায় ১১ হাজার ৪০৬টি নতুন ঘর নির্মাণ হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০০ বর্গফুটের প্রতিটি ঘরে থাকবে দুটি রুম, একটি করিডোর, একটি বাথরুম ও একটি রান্নাঘর। দুর্যোগসহনীয় এসব ঘর হবে টেকসই এবং প্রতিটি ঘরেই থাকবে সোলার সিস্টেম ও বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৫৮ হাজার টাকা। সিনিয়র সচিব শাহ কামাল জানান, এ বছর থেকে টিআর ও কাবিটার বরাদ্দ দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। এজন্য তদবির অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। আগামীতে মন্ত্রণালয়ের আরও কিছু কাজ কমিয়ে দেয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে গতকাল সরজমিন দেখা যায়, তদবিরকারীদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগসহ মহাজোটের শরিক অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। অনেকে আসেন নিজ এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে। অনেককে আবার নিজ আসনের সংসদ সদস্যের ডিও লেটার নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে আসতে দেখা যায়। এর বাইরে আরও অনেক তদবিরকারী রয়েছেন, যারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় দিলেও বরাবরই এরা ‘পেশাদার তদবিরবাজ’ হিসেবে পরিচিত। মন্ত্রীর এক ব্যক্তিগত কর্মকর্তার রুমে দলবদ্ধভাবে কয়েক জন পেশাজীবিকে চাল, গম বরাদ্দ নিয়ে আলাপ করতে দেখা যায়। তদবিরবাজদের ভীড় সর্ম্পকে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল মানবজমিনকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজ জেলা পর্যায়ে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। তাই তদবিরবাজদের ভীড় অনেক কমে গেছে। এখন যা দেখা যাচ্ছে এ রকম সব সময়ই থাকে। মধ্য রাত পর্যন্ত কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজনেই রাতে কাজ করতে হয়। এটা এমন কিছু নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা বা অন্য কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ চেয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আবেদন করছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বানিয়ে অনেকে মন্ত্রণালয়ে এসে ওই সব কাগজপত্র জমা দিচ্ছেন। এসব কাগজপত্রের ভিত্তিতে চাল বা গম বরাদ্দ পেতে অনেকেই আবেদন করছেন। পাশাপাশি করছেন তদবির। গতকাল তদবির করতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বরাদ্দ পেতে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। তাই বরাদ্দ পেতে তাদের কোন ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হবে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ বকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দ এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। ওই অর্থ দিয়ে এ বছর থেকে গৃহহীন মানুষের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরি করে দেবে সরকার। আগামী পাঁচ বছরে এ বরাদ্দের তিন হাজার কোটি টাকা দিয়ে দরিদ্রদের এক লাখ ২৫ হাজার নতুন ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, প্রতি ছয় মাসে টিআর খাতে ২০০ কোটি টাকা এবং কাবিটা খাতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় অর্থ বিভাগ। চলতি বছর দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষের জন্য ৬৪ জেলায় ৬৪ হাজার ঘর নির্মাণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে প্রতি জেলায় গড়ে প্রায় ১৮৭টি করে ৬৪ জেলায় ১১ হাজার ৪০৬টি নতুন ঘর নির্মাণ হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০০ বর্গফুটের প্রতিটি ঘরে থাকবে দুটি রুম, একটি করিডোর, একটি বাথরুম ও একটি রান্নাঘর। দুর্যোগসহনীয় এসব ঘর হবে টেকসই এবং প্রতিটি ঘরেই থাকবে সোলার সিস্টেম ও বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৫৮ হাজার টাকা। সিনিয়র সচিব শাহ কামাল জানান, এ বছর থেকে টিআর ও কাবিটার বরাদ্দ দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। এজন্য তদবির অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। আগামীতে মন্ত্রণালয়ের আরও কিছু কাজ কমিয়ে দেয়া হবে।
Sunday, June 16, 2019
লিজের বিমানে বছরে গচ্চা ১২০ কোটি টাকা by দীন ইসলাম

দুটি
উড়োজাহাজ লিজের নামে হাতি পুষছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শতভাগ
সিন্ডিকেটের স্বার্থ দেখে চুক্তি করায় রাষ্ট্রীয় এ সংস্থাটি বছরে গচ্চা
দিচ্ছে ১২০ কোটি টাকা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের
খামখেয়ালিপনায় এমন লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে লিজ চুক্তি
করার কারণে লাভের চেয়ে ক্ষতিই হচ্ছে বেশি। বিমান সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ
বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে দুটি উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর লিজ নেয়
বিমান। এর একটি বিমানের বহরে যুক্ত হয় ২০১৪ সালের মার্চে এবং অন্যটি একই
বছরের মে মাসে। এক বছরের কম সময় অর্থাৎ ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্লাইট
পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার
থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন।
দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয় বাকি ইঞ্জিনটিও। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আবারও ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। গত ডিসেম্বরে নষ্ট হয়ে যায় ভাড়ায় আনা ইঞ্জিনও। পরে ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়।
তবে কোন সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। সে কারণে লিজ নেয়া প্রতিষ্ঠান ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান উভয়কেই অর্থ দিতে হচ্ছে বিমানকে। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ মানবজমিনকে বলেন, ইজিপ্ট এয়ার থেকে লিজ নেয়া বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ দুটি বর্তমানে গ্রাউডেন্ড রয়েছে। এর বেশি কোন তথ্য আমার কাছে নেই। জেনে বলতে হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইজিপ্ট এয়ারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, দুটি উড়োজাহাজের জন্য প্রতিমাসে ১০ কোটি করে বছরে ১২০ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে বিমানকে। ফলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী একমাত্র উড়োজাহাজ সংস্থাটির আয়ের বড় অংশই খরচ হয়ে যাচ্ছে। লিজ চুক্তিতে বলা হয়েছে, যাত্রী পরিবহন করুক আর না করুক প্রতি মাসে উড়োজাহাজ প্রতি ৪ কোটি ৭০ লাখ ১৬ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে বিমানকে। পাঁচ বছরের আগে চুক্তি বাতিল করা যাবে না, আবার লিজের মেয়াদ শেষে উড়োজাহাজ দুটি আগের অবস্থায় ফেরত দিতে হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মিশরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে লিজে আনা দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজের কারণে বাংলাদেশ বিমানের ৩০০ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হওয়ার কারন হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দুই উড়োজাহাজ লিজ নেয়া এবং মেরামতে চরম অবহেলা ও অনিয়ম করা হয়েছে। উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার পর থেকে ইঞ্জিন বিকল হওয়া, আবার ভাড়ায় আনা, সেগুলোর মেরামত এবং উড়োজাহাজের ভাড়াসহ আনুসঙ্গিক কাজে ৩০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এদিকে ইজিপ্ট এয়ারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত উড়োজাহাজ দুটি ফেরত দেয়ার ব্যাপারে বিমানকে নির্দেশ দিয়েছেন বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ও বিমান সচিব মহিবুল হক। লিখিত নির্দেশনায় তারা বলেছেন, লীজ নেয়ার সঙ্গে বিমানের কোনও কর্মকর্তা জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর বিমানের ভাবমূর্তি উদ্ধারে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্নীতি রোধ করা হবে। বিমান সূত্রে জানা গেছে, এ দুটি উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ সহজলভ্য নয়। বর্তমানে মেরামতের জন্য উড়োজাহাজ দুটি ভিয়েতনামের বিমানবন্দরে রয়েছে। লিজ নেয়া উড়োজাহাজের বিষয়ে এক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ মানবজমিনকে বলেন, কর্তৃপক্ষ চাইলে আরও আগেই বিষয়টির সমাধান করতে পারতো।
নিজেদের স্বার্থ বিবেচনা না করে চুক্তি করায় উড়োজাহাজ দুটি বিমানের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এই বিমানগুলো ফেরত দিতে হবে। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৩টি উড়োজোহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০, চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। তবে বহরে থাকা একটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ মেরামতের জন্য গ্রাউন্ডেড রয়েছে এবং মিয়ানমারে সংঘঠিত দুর্ঘটনায় ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজটি বিকল হয়ে পড়েছে। এটি আর ব্যবহার করা সম্ভব নয় বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইয়াঙ্গুনে এ বিমান বিকল হওয়ায় অভ্যন্তরীন রুটে ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে বিমানের তরফে জানানো হয়েছে দুই এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয় বাকি ইঞ্জিনটিও। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আবারও ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। গত ডিসেম্বরে নষ্ট হয়ে যায় ভাড়ায় আনা ইঞ্জিনও। পরে ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়।
তবে কোন সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। সে কারণে লিজ নেয়া প্রতিষ্ঠান ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান উভয়কেই অর্থ দিতে হচ্ছে বিমানকে। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ মানবজমিনকে বলেন, ইজিপ্ট এয়ার থেকে লিজ নেয়া বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ দুটি বর্তমানে গ্রাউডেন্ড রয়েছে। এর বেশি কোন তথ্য আমার কাছে নেই। জেনে বলতে হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইজিপ্ট এয়ারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, দুটি উড়োজাহাজের জন্য প্রতিমাসে ১০ কোটি করে বছরে ১২০ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে বিমানকে। ফলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী একমাত্র উড়োজাহাজ সংস্থাটির আয়ের বড় অংশই খরচ হয়ে যাচ্ছে। লিজ চুক্তিতে বলা হয়েছে, যাত্রী পরিবহন করুক আর না করুক প্রতি মাসে উড়োজাহাজ প্রতি ৪ কোটি ৭০ লাখ ১৬ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে বিমানকে। পাঁচ বছরের আগে চুক্তি বাতিল করা যাবে না, আবার লিজের মেয়াদ শেষে উড়োজাহাজ দুটি আগের অবস্থায় ফেরত দিতে হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মিশরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে লিজে আনা দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজের কারণে বাংলাদেশ বিমানের ৩০০ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হওয়ার কারন হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দুই উড়োজাহাজ লিজ নেয়া এবং মেরামতে চরম অবহেলা ও অনিয়ম করা হয়েছে। উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার পর থেকে ইঞ্জিন বিকল হওয়া, আবার ভাড়ায় আনা, সেগুলোর মেরামত এবং উড়োজাহাজের ভাড়াসহ আনুসঙ্গিক কাজে ৩০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এদিকে ইজিপ্ট এয়ারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত উড়োজাহাজ দুটি ফেরত দেয়ার ব্যাপারে বিমানকে নির্দেশ দিয়েছেন বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ও বিমান সচিব মহিবুল হক। লিখিত নির্দেশনায় তারা বলেছেন, লীজ নেয়ার সঙ্গে বিমানের কোনও কর্মকর্তা জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর বিমানের ভাবমূর্তি উদ্ধারে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্নীতি রোধ করা হবে। বিমান সূত্রে জানা গেছে, এ দুটি উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ সহজলভ্য নয়। বর্তমানে মেরামতের জন্য উড়োজাহাজ দুটি ভিয়েতনামের বিমানবন্দরে রয়েছে। লিজ নেয়া উড়োজাহাজের বিষয়ে এক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ মানবজমিনকে বলেন, কর্তৃপক্ষ চাইলে আরও আগেই বিষয়টির সমাধান করতে পারতো।
নিজেদের স্বার্থ বিবেচনা না করে চুক্তি করায় উড়োজাহাজ দুটি বিমানের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এই বিমানগুলো ফেরত দিতে হবে। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৩টি উড়োজোহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০, চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। তবে বহরে থাকা একটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ মেরামতের জন্য গ্রাউন্ডেড রয়েছে এবং মিয়ানমারে সংঘঠিত দুর্ঘটনায় ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজটি বিকল হয়ে পড়েছে। এটি আর ব্যবহার করা সম্ভব নয় বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইয়াঙ্গুনে এ বিমান বিকল হওয়ায় অভ্যন্তরীন রুটে ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে বিমানের তরফে জানানো হয়েছে দুই এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
Monday, June 10, 2019
ব্যক্তিগত বাড়ির ছাদে হেলিপ্যাড by দীন ইসলাম

ব্যক্তিগত
বাড়ির ছাদে হেলিপ্যাড করার অনুমতি দেয়া হবে। তবে ভবনটি অবশ্যই হেলিপ্যাড
ব্যবহারের উপযোগী হতে হবে। এজন্য বুয়েট থেকে প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট নিতে
হবে। সার্টিফিকেট ছাড়া হেলিপ্যাড স্থাপনের অনুমতি দেয়া হবে না। এছাড়া দেশের
যে কোন খোলা জায়গায় হেলিপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এ সংক্রান্ত
নীতিমালা বানাচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। পাশাপাশি
বেসরকারি খাতে হেলিপোর্ট নির্মাণের অনুমতি দেয়া হবে। এজন্যও নীতিমালা তৈরির
কাজ চলছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে নীতিমালা
তৈরি নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ওই বৈঠকে নীতিমালার খসড়া যাচাই বাছাই করা হয়। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন্স) উইং কমান্ডার চৌধুরী এম জিয়াউল কবির মানবজমিনকে বলেন, হেলিপোর্ট নির্মাণ ও হেলিপ্যাড স্থাপনের নীতিমালা চূড়ান্ত করার জন্য প্রাথমিক বৈঠক চলছে। আরও যাচাই বাছাই শেষে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে তৃতীয় টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক স্থাপনা তৈরির জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে ফেলতে হচ্ছে সব বেসরকারি হেলিকপ্টার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্স। বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে বেসরকারি খাতে হেলিপোর্ট ও অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব দেয় বসুন্ধরা গ্রুপ। এরপর বেবিচকের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পরিদর্শন হয়। এরপরই হেলিপোর্ট নির্মাণে নীতিমালা তৈরির উপর জোর দেয় বেবিচক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় টার্মিনাল সমপ্রসারণের কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব হেলিকপ্টার সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থাপনা স্থানান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এজন্য বসুন্ধরা গ্রুপ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাঁচ নটিক্যাল মাইল পূর্ব দিকে প্রথম বেসরকারি হেলিপোর্ট ও অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপন করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পের জমির পরিমাণ ৭ লাখ ৫০ হাজার বর্গফুট।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় আগামী ২৫ বছর মেয়াদে ভবিষ্যৎ সমপ্রসারণসহ বাংলাদেশে পরিচালিত সব হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠানের স্থাপনার জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে প্রকল্পটিতে। একই সঙ্গে ফ্লাইট অপারেশন, অফিস ও বাণিজ্যিক স্পেস, এমআরও প্রতিষ্ঠান, একাডেমিক ইনস্টিটিউট ইত্যাদি থেকে শুরু করে হেলিকপ্টার সেবা প্রদানের অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে ওই হেলিপোর্ট ও অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্সে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে বেসরকারি হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ২ লাখ ১৯ হাজার ২৯৭ বর্গফুট জায়গায় তাদের হ্যাঙ্গারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাণিজ্যিকভাবে বর্তমানে আটটি কোম্পানি হেলিকপ্টার ব্যবসা করছে। এগুলো হচ্ছে শিকদার গ্রুপের আরঅ্যান্ডআর এভিয়েশন, বাংলা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস, ইমপ্রেস এভিয়েশন, বিআরবি এয়ার, মেঘনা এভিয়েশন, পারটেক্স অ্যারোটেকনোলজি, স্কয়ার এয়ার, বসুন্ধরা এয়ারওয়েজ ও সাউথ এশিয়ান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক হেলিকপ্টার রয়েছে শিকদার গ্রুপের।
তাদের বিভিন্ন মডেলের সাতটি হেলিকপ্টার রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে বেসরকারি উদ্যোগে প্রথম বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করে সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনস। ২০০৮ সাল পর্যন্ত মাত্র দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ সেবা প্রদান করত। বর্তমানে লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় আছে আরো বেশ কয়েকটি কোম্পানি। সাধারণত রাজনৈতিক কর্মকান্ড, বিত্তবানদের বরযাত্রা ও ভিআইপি যাত্রী বহনে হেলিকপ্টারের ব্যবহার বেশি হয়। এছাড়া জরুরি মিটিং, দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানো, লিফলেট বিতরণ, রোগী বহন, শুটিং, মরদেহ বহনসহ বিভিন্ন কাজেও এখন হেলিকপ্টার ব্যবহার হচ্ছে। যানজটের ঝামেলা এড়াতে ও ঢাকার বাইরে মিটিংয়ে যেতে অনেক ব্যবসায়ী এখন নিয়মিত হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন। গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা ঢাকার বাইরে গাজীপুর ও চট্টগ্রামে বিদেশী ক্রেতাদের নিয়ে কারখানা পরিদর্শনে হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করছেন। প্রতিদিনই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জেনারেল এভিয়েশন হ্যাঙ্গার থেকে যাত্রীরা হেলিকপ্টারে ওঠেন এবং এখানেই অবতরণ করেন।
ওই বৈঠকে নীতিমালার খসড়া যাচাই বাছাই করা হয়। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন্স) উইং কমান্ডার চৌধুরী এম জিয়াউল কবির মানবজমিনকে বলেন, হেলিপোর্ট নির্মাণ ও হেলিপ্যাড স্থাপনের নীতিমালা চূড়ান্ত করার জন্য প্রাথমিক বৈঠক চলছে। আরও যাচাই বাছাই শেষে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে তৃতীয় টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক স্থাপনা তৈরির জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে ফেলতে হচ্ছে সব বেসরকারি হেলিকপ্টার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্স। বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে বেসরকারি খাতে হেলিপোর্ট ও অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব দেয় বসুন্ধরা গ্রুপ। এরপর বেবিচকের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পরিদর্শন হয়। এরপরই হেলিপোর্ট নির্মাণে নীতিমালা তৈরির উপর জোর দেয় বেবিচক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় টার্মিনাল সমপ্রসারণের কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব হেলিকপ্টার সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থাপনা স্থানান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এজন্য বসুন্ধরা গ্রুপ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাঁচ নটিক্যাল মাইল পূর্ব দিকে প্রথম বেসরকারি হেলিপোর্ট ও অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপন করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পের জমির পরিমাণ ৭ লাখ ৫০ হাজার বর্গফুট।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় আগামী ২৫ বছর মেয়াদে ভবিষ্যৎ সমপ্রসারণসহ বাংলাদেশে পরিচালিত সব হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠানের স্থাপনার জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে প্রকল্পটিতে। একই সঙ্গে ফ্লাইট অপারেশন, অফিস ও বাণিজ্যিক স্পেস, এমআরও প্রতিষ্ঠান, একাডেমিক ইনস্টিটিউট ইত্যাদি থেকে শুরু করে হেলিকপ্টার সেবা প্রদানের অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে ওই হেলিপোর্ট ও অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্সে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে বেসরকারি হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ২ লাখ ১৯ হাজার ২৯৭ বর্গফুট জায়গায় তাদের হ্যাঙ্গারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাণিজ্যিকভাবে বর্তমানে আটটি কোম্পানি হেলিকপ্টার ব্যবসা করছে। এগুলো হচ্ছে শিকদার গ্রুপের আরঅ্যান্ডআর এভিয়েশন, বাংলা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস, ইমপ্রেস এভিয়েশন, বিআরবি এয়ার, মেঘনা এভিয়েশন, পারটেক্স অ্যারোটেকনোলজি, স্কয়ার এয়ার, বসুন্ধরা এয়ারওয়েজ ও সাউথ এশিয়ান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক হেলিকপ্টার রয়েছে শিকদার গ্রুপের।
তাদের বিভিন্ন মডেলের সাতটি হেলিকপ্টার রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে বেসরকারি উদ্যোগে প্রথম বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করে সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনস। ২০০৮ সাল পর্যন্ত মাত্র দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ সেবা প্রদান করত। বর্তমানে লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় আছে আরো বেশ কয়েকটি কোম্পানি। সাধারণত রাজনৈতিক কর্মকান্ড, বিত্তবানদের বরযাত্রা ও ভিআইপি যাত্রী বহনে হেলিকপ্টারের ব্যবহার বেশি হয়। এছাড়া জরুরি মিটিং, দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানো, লিফলেট বিতরণ, রোগী বহন, শুটিং, মরদেহ বহনসহ বিভিন্ন কাজেও এখন হেলিকপ্টার ব্যবহার হচ্ছে। যানজটের ঝামেলা এড়াতে ও ঢাকার বাইরে মিটিংয়ে যেতে অনেক ব্যবসায়ী এখন নিয়মিত হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন। গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা ঢাকার বাইরে গাজীপুর ও চট্টগ্রামে বিদেশী ক্রেতাদের নিয়ে কারখানা পরিদর্শনে হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করছেন। প্রতিদিনই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জেনারেল এভিয়েশন হ্যাঙ্গার থেকে যাত্রীরা হেলিকপ্টারে ওঠেন এবং এখানেই অবতরণ করেন।
Saturday, June 1, 2019
ঈদের ছুটিতে বিদেশ যাচ্ছেন ৬ লাখ বাংলাদেশি by দীন ইসলাম

ঈদের
ছুটিতে বিদেশ ভ্রমণে ছুটছেন বাংলাদেশিরা। এবার ঈদের ছুটি একটু দীর্ঘ হওয়ায়
বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহ বেড়েছে অনেকের। অবশ্য গত ১০ বছরে দেশের বাইরে ঈদ করা
মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ। এবার অন্তত ছয় লাখ বাংলাদেশী ঈদের
ছুটিতে বিদেশ ভ্রমণে যাবেন বলে ট্রাভেল এজেন্সি সূত্র জানিয়েছে। অনেক
বাংলাদেশী বিদেশে গেলেও কমেছে দেশে আসা পর্যটকের সংখ্যা। যদিও দেশের মধ্যে
ভ্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। ট্যুর অপারেটর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই
ঈদের ছুটি কাটাতে বাংলাদেশী পর্যটকরা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুর
যাচ্ছেন। বিত্তবানরা যাচ্ছেন তুরস্কসহ ইউরোপের গন্তব্যগুলোতে। তবে হঠাৎ
করেই বাংলাদেশী পর্যটকদের ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য।
মূলত ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় এ বছর ঈদের ছুটি কাটাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশী পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় গন্তব্যে পরিনত হয়েছে। খাত সংশিষ্টরা বলছেন, এ বছর ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে যেতে বাংলাদেশী পর্যটকরা বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এর একটি বড় কারণ এবার এক সঙ্গে অনেক লম্বা ছুটি পড়েছে। একই সঙ্গে দেশের পর্যটন স্থানগুলো ঘুরে দেখার পর পর্যটকদের মধ্যে নতুন জায়গা দেখার আগ্রহ বাড়ছে। মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশীদের মধ্যে দেশের বাইরে ঈদ করার প্রবণতা বেড়েছে। গত বছর ঈদের ছুটিতে শুধু থাইল্যান্ডেই বেড়াতে গিয়েছিল ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি। এ বছরও থাইল্যান্ডের পাশাপাশি পরিবারের সবাই মিলে যাবেন পাতায়া, বালির মতো দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে।
ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদের ছুটিতে বাংলাদেশিরা বরাবরের মতই নেপাল, ভূটান, ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সাধারণত মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত মিশরেও ভ্রমণের জন্য বুকিং দিয়েছেন। পাশাপাশি উচ্চবিত্তরা এ বছর তুরস্কসহ ইউরোপের দেশগুলোর ভ্রমণ প্যাকেজ বেশি নিয়েছেন। রফিকুল ইসলাম দিপু ভারতে গার্মেন্টে তৈরি কাপড়ের ব্যবসা করেন। তার ভারতীয় পার্টি এরই মধ্যে বাংলাদেশ ঘুরে গেলেও দিপুর যাওয়া হয়নি। তাই বেশি ছুটি বলে ঈদের সময়টা বেছে নিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে তার পাঁচ দিন থাকা হবে। তামান্না খান কাজ করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। ঈদ-উল আযহা তিনি দেশের বাইরে উদযাপন করেন। এবার ঈদুল ফিতরে মা বাবাকে নিয়ে যাচ্ছেন সিঙ্গাপুরে।
ভ্যালেন্সিয়া ট্রাভেলসের ভিসা বিভাগের প্রধান কামাল হোসেন জানান, এবার মানুষের দেশের বাইরে যাওয়ার হার একটু কম দেখা যাচ্ছে। দুই তিন বছর আগে ঈদের এক মাস আগে থেকে সিঙ্গাপুর, থ্যাইল্যান্ডের টিকিট সংকট দেখা যেত। এবার তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। কারণ হয়তবা মানুষের হাতে টাকা কম। ঈদকে সামনে রেখে বিদেশ থেকে অনেকই দেশে আসে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে। এবার সে পরিমাণটাও কম। এবছর তার ট্রাভেল এজেন্সি থেকে সিঙ্গাপুর, বালি, থাইল্যান্ডে মানুষ বেশি যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এর বাইরে কিছু মানুষ যাচ্ছে ইউরোপে। গত বছর যারা এশিয়ার দেশে ঘুরেছেন তাদের প্রায় ৫০ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ এবার ইউরোপ-আমেরিকা যাচ্ছেন। গ্রীষ্মকাল থাকায় এবার ইউরোপ-আমেরিকাতে বেশি মানুষ বেড়াতে যাচ্ছেন।
টোয়াবের প্রেসিডেন্ট তৌফিক উদ্দিন আহমেদ জানান, সারা বছর ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ দেশের বাইরে ভ্রমণ করে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করে ঈদের এই লম্বা ছুটিতে। দেশের কিছু কিছু এয়ারলাইন্স বিদেশি কিছু হোটেলের সঙ্গে যৌথভাবে এসময় প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করে। আমাদের দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি যায় ভারতে। গত বছর এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশ এখন প্রথম স্থানে আছে। প্রতিদিন সাড়ে ছয় হাজার মানুষ ভারতের ভিসা পায়। সেই মতে বছরে ১৫ লাখ লোক ভারত যায়। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কলকাতা যাওয়া কক্সবাজার থেকেও সুলভ। তাই দেশের বাইরে ভ্রমণের কথা এলে আমাদের ভারতের কথাই প্রথম আসে। তিনি বলেন, শুধু অবকাশ নয় এখন মানুষের হাতে টাকা আছে বলেই তারা দেশের বাইরে বেড়ানোর কথা ভাবতে পারেন। দেশের মধ্যেও প্রতিবছর ৫০ হাজার মানুষ ভ্রমণ করে। তবে বিদেশে যাওয়ার সাথে সাথে আমাদের দেশে আসা এবং দেশের মধ্যে ভ্রমণ করাকে উৎসাহিত করতে হবে।
একই কথা বলেন, ট্যুরিজম ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিডাব) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জামিউল আহমেদ। তিনি বলেন, প্রতি বছর ২৫ লাখ মানুষ দেশের বাইরে ভ্রমণ করলেও বিদেশ থেকে দেশে আসে এক লাখের কিছু বেশি। আমাদের এই দিককে গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের দর্শনীয় স্থানগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের নাইট লাইভ করতে হবে। যা নেই। একজন ট্যুরিস্ট ২৪ ঘণ্টার ১৬ ঘণ্টা বেড়ায়। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি বিভাগের অধ্যাপক রাশেদুল হাসান বলেন, কোনো একটি বিশেষ সময়কে কেন্দ্র করে ভিনদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারছে না বাংলাদেশ কথাটা সত্যি। এ বিষয়ে সরকারে দায়িত্ব হলো, নীতি করা। কিভাবে ট্যুরিজমকে আকর্ষণীয় করা যায় তা নিয়ে আরো কাজ করতে হবে।
মূলত ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় এ বছর ঈদের ছুটি কাটাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশী পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় গন্তব্যে পরিনত হয়েছে। খাত সংশিষ্টরা বলছেন, এ বছর ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে যেতে বাংলাদেশী পর্যটকরা বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এর একটি বড় কারণ এবার এক সঙ্গে অনেক লম্বা ছুটি পড়েছে। একই সঙ্গে দেশের পর্যটন স্থানগুলো ঘুরে দেখার পর পর্যটকদের মধ্যে নতুন জায়গা দেখার আগ্রহ বাড়ছে। মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশীদের মধ্যে দেশের বাইরে ঈদ করার প্রবণতা বেড়েছে। গত বছর ঈদের ছুটিতে শুধু থাইল্যান্ডেই বেড়াতে গিয়েছিল ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি। এ বছরও থাইল্যান্ডের পাশাপাশি পরিবারের সবাই মিলে যাবেন পাতায়া, বালির মতো দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে।
ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদের ছুটিতে বাংলাদেশিরা বরাবরের মতই নেপাল, ভূটান, ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সাধারণত মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত মিশরেও ভ্রমণের জন্য বুকিং দিয়েছেন। পাশাপাশি উচ্চবিত্তরা এ বছর তুরস্কসহ ইউরোপের দেশগুলোর ভ্রমণ প্যাকেজ বেশি নিয়েছেন। রফিকুল ইসলাম দিপু ভারতে গার্মেন্টে তৈরি কাপড়ের ব্যবসা করেন। তার ভারতীয় পার্টি এরই মধ্যে বাংলাদেশ ঘুরে গেলেও দিপুর যাওয়া হয়নি। তাই বেশি ছুটি বলে ঈদের সময়টা বেছে নিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে তার পাঁচ দিন থাকা হবে। তামান্না খান কাজ করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। ঈদ-উল আযহা তিনি দেশের বাইরে উদযাপন করেন। এবার ঈদুল ফিতরে মা বাবাকে নিয়ে যাচ্ছেন সিঙ্গাপুরে।
ভ্যালেন্সিয়া ট্রাভেলসের ভিসা বিভাগের প্রধান কামাল হোসেন জানান, এবার মানুষের দেশের বাইরে যাওয়ার হার একটু কম দেখা যাচ্ছে। দুই তিন বছর আগে ঈদের এক মাস আগে থেকে সিঙ্গাপুর, থ্যাইল্যান্ডের টিকিট সংকট দেখা যেত। এবার তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। কারণ হয়তবা মানুষের হাতে টাকা কম। ঈদকে সামনে রেখে বিদেশ থেকে অনেকই দেশে আসে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে। এবার সে পরিমাণটাও কম। এবছর তার ট্রাভেল এজেন্সি থেকে সিঙ্গাপুর, বালি, থাইল্যান্ডে মানুষ বেশি যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এর বাইরে কিছু মানুষ যাচ্ছে ইউরোপে। গত বছর যারা এশিয়ার দেশে ঘুরেছেন তাদের প্রায় ৫০ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ এবার ইউরোপ-আমেরিকা যাচ্ছেন। গ্রীষ্মকাল থাকায় এবার ইউরোপ-আমেরিকাতে বেশি মানুষ বেড়াতে যাচ্ছেন।
টোয়াবের প্রেসিডেন্ট তৌফিক উদ্দিন আহমেদ জানান, সারা বছর ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ দেশের বাইরে ভ্রমণ করে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করে ঈদের এই লম্বা ছুটিতে। দেশের কিছু কিছু এয়ারলাইন্স বিদেশি কিছু হোটেলের সঙ্গে যৌথভাবে এসময় প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করে। আমাদের দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি যায় ভারতে। গত বছর এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশ এখন প্রথম স্থানে আছে। প্রতিদিন সাড়ে ছয় হাজার মানুষ ভারতের ভিসা পায়। সেই মতে বছরে ১৫ লাখ লোক ভারত যায়। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কলকাতা যাওয়া কক্সবাজার থেকেও সুলভ। তাই দেশের বাইরে ভ্রমণের কথা এলে আমাদের ভারতের কথাই প্রথম আসে। তিনি বলেন, শুধু অবকাশ নয় এখন মানুষের হাতে টাকা আছে বলেই তারা দেশের বাইরে বেড়ানোর কথা ভাবতে পারেন। দেশের মধ্যেও প্রতিবছর ৫০ হাজার মানুষ ভ্রমণ করে। তবে বিদেশে যাওয়ার সাথে সাথে আমাদের দেশে আসা এবং দেশের মধ্যে ভ্রমণ করাকে উৎসাহিত করতে হবে।
একই কথা বলেন, ট্যুরিজম ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিডাব) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জামিউল আহমেদ। তিনি বলেন, প্রতি বছর ২৫ লাখ মানুষ দেশের বাইরে ভ্রমণ করলেও বিদেশ থেকে দেশে আসে এক লাখের কিছু বেশি। আমাদের এই দিককে গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের দর্শনীয় স্থানগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের নাইট লাইভ করতে হবে। যা নেই। একজন ট্যুরিস্ট ২৪ ঘণ্টার ১৬ ঘণ্টা বেড়ায়। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি বিভাগের অধ্যাপক রাশেদুল হাসান বলেন, কোনো একটি বিশেষ সময়কে কেন্দ্র করে ভিনদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারছে না বাংলাদেশ কথাটা সত্যি। এ বিষয়ে সরকারে দায়িত্ব হলো, নীতি করা। কিভাবে ট্যুরিজমকে আকর্ষণীয় করা যায় তা নিয়ে আরো কাজ করতে হবে।
Thursday, May 30, 2019
আমানত ফেরত দিতে পারছে না পিপলস লিজিং by দীন ইসলাম ও এম এম মাসুদ

হাতে
ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, টেস্ট রিপোর্ট। সঙ্গে ফিক্সড ডিপোজিটের ফটোকপি ও
একটি লাঠি। এভাবেই মতিঝিল সিটি সেন্টারের ১৭ তলায় পিপলস লিজিং অ্যান্ড
ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অফিসে হাজির হলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা
আব্দুস সামাদ। হাপাতে হাপাতে নারী রিসিপশনিস্ট এর কাছে জানতে চাইলেন,
এমডিসহ অন্য কর্মকর্তারা কেউ আছেন কিনা। না সূচক জবাব শোনার পর হতাশ আব্দুস
সামাদ কথা বলেন মানবজমিন প্রতিবেদকের সঙ্গে। তিনি জানান, সরকারি চাকুরি
শেষে জীবনের শেষ সম্বল পেনশনের ২৫ লাখ টাকা পিপলস লিজিংয়ে রেখেছিলেন।
উদ্দেশ্য মূল টাকা রেখে একটু স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করা। কিন্তু ওই আশায়
গুড়েবালি। ছয় মাস ধরে ২৫ লাখ টাকার মাসিক লাভ পাচ্ছেন না। এখন আসল টাকাও
ফেরত পাবেন কিনা সেই চিন্তায় আছেন। সরজমিনে লিজিং কোম্পানিটির রিসিপশনে তিন
ঘন্টা অপেক্ষা করে মিহন ওমর, মোহাম্মদ হোসেন, হাফিজুর রহমান ও পারভেজ
ইসলামসহ অনেক আমানতকারীকে পাওয়া যায়।
সবার মুখে একই কথা, মূল টাকা ফেরত পাবো তো। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখাতে গ্রাহকরা ভিড় করছেন। ধরনা দিয়েও টাকা পাচ্ছে না গ্রাহকরা। এমনকি কয়েক মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনও ঠিকমতো দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল তাদের কার্যালয়ে গিয়ে দায়িত্বশীল কাউকেই পাওয়া যায়নি। এদিন দুপুর আড়াইটায় মতিঝিলের প্রধান কার্যালায়ে যাত্রাবাড়ি থেকে আসেন হাফিজুর রহামান। তিনি মানবজমিনকে বলেন, এক বছর আগে তিনি পিপলস লিজিংয়ে ১০ লাখ টাকা রাখেন। গতকাল এসেছিলেন তুলতে। কিন্তু অফিসের কেউ তাকে দেখা দেননি।
দিনের পর দিন ঘুরছেন। এর শেষ কোথায় তিনি তা জানেন না। আরেক গ্রাহক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমার অফিসের বসের প্রায় এক কোটি টাকা এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। কিন্তু এখন তুলতে পারছি না। এ টাকা আদায় ছাড়া কোন পথ দেখতে পাচ্ছি না। একই দিনে নিডস এডুকেশন নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পারভেজ ইসলাম আসেন তার ফিক্স ডিপোজিটের অর্থ তুলে নিতে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমার বন্ধুর এক কোটির বেশি টাকা এই প্রতিষ্ঠনে রয়েছে। তাকেও টাকা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে ধানমন্ডির বাসিন্দা মুতাসীর উদ্দীন খান ইয়ামীন বেশি সুদের আশায় ৩০ লাখ টাকার ৬ মাস মেয়াদি আমানত (টিডিআর) রাখেন পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে।
দশ লাখ টাকা করে তিনটি হিসাবে অর্থ জমা করেন গেল বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে। বার্ষিক ১২ শতাংশ হারে সুদসহ আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে তার টাকা ফেরত দেয়ার কথা। কিন্তু পিপলস লিজিং তার আমানত ফেরত দিচ্ছে না। তার পাওনা এক লাখ ৬০ হাজার টাকার সুদসহ মোট ৩১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পিপলস লিজিংয়ের প্রধান কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করে কাজের কাজ না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে এখন ধরনা দিয়েছেন পুলিশের কাছে। টাকা আদায় করে দেয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকা মহনগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিপলস লিজিং এ প্রতিদিন ধর্ণা দেয়া এসব গ্রাহকের বাইরে অনেকেই জমানো টাকা তুলতে পারছেন না। এমনকি কয়েক মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য সিনিয়র ও জুনিয়র মিলিয়ে কয়েক শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে চলে গেছেন। প্রতিষ্ঠানটির চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মানিক লাল সমাদ্দারসহ বেশ কয়েক জন সিনিয়র কর্মকর্তা চলে গেছেন। এছাড়া অনেক কর্মকর্তা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পিপলস লিজিংয়ের প্রধান কার্যালয়সহ গুলশান, মতিঝিল ও চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চ অফিসে গ্রাহকদের সঙ্গে বচসার ঘটনা ঘটছে।
পিপলস লিজিং সূত্রে জানা গেছে, মালিক পক্ষ জালিয়াতি করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধুঁকে ধুঁকে চলছে। টাকা রেখে ফেরত না পাওয়ার তালিকায় সাবেক সচিব, পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সুপরিচিত অনেক ব্যক্তিও রয়েছেন। এদের অনেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এরপরও থেমে নেই পিপলস্? লিজিংয়ের আমানত সংগ্রহ। উচ্চসুদে আমানত সংগ্রহে নানা উপায়ে টোপ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ব্যাংকগুলো যেখানে ৬ থেকে ৭ শতাংশ সুদে মেয়াদি আমানত নিচ্ছে সেখানে পিপলস লিজিং ১২ শতাংশ সুদে আমানতের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইলে এসএমএস দিচ্ছে। এ ছাড়া ৫ বছরে দ্বিগুণসহ আকর্ষণীয় নানা স্কিম নিয়ে হাজির হচ্ছে মানুষের কাছে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে উচ্চসুদের প্রলোভন দেখিয়ে আমানত সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আমানত সংগ্রহে কারও মোবাইলে এসএমএস দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছে না এ প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
পিপলস লিজিংয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নিতে অফিসটিতে আসেন। কিন্তু কাউকে টাকা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। ব্যক্তি আমানতকারীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের গচ্ছিত অর্থ চেয়েও ফেরত পাচ্ছে না। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক এই কোম্পানিতে আমানত না রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্র্যাক ও রূপালী ব্যাংক এই কোম্পানিতে রাখা তাদের স্থায়ী আমানত তুলে নিতে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু ওই চিঠির কোন সদুত্তর পায়নি তারা। এসব বিষয়ে পিপলস লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি হুদার বক্তব্যের জন্য বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। বলা হয়, স্যার অফিসে আসেননি। তার ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন ও এসএমএস করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিন অফিসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী আহমেদ জামালকে পাওয়া যায়। তবে তিনি কারও সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিদর্শনে দেখা যায়, পিপলস লিজিং থেকে বিতরণ করা ঋণের বেশিরভাগই জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নিয়েছেন পরিচালকরা। ভুয়া কাগজ তৈরি করে প্রায় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ২০১৫ সালে ৫ পরিচালককে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে শুধু প্রতিষ্ঠানের নামে জমি কেনার কথা বলে নিজ নামে জমি রেজিস্ট্রি করার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা। জমি রেজিস্ট্রির এ জালিয়াতির মাধ্যমে সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ১১৬ কোটি টাকা, সাবেক পরিচালক খবির উদ্দিন মিয়া ১০৭ কোটি টাকা, আরেফিন সামসুল আলামিন, নার্গিস আলামিন ও হুমায়রা আলামিনের ২৯৮ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য ওই সময়ে দুদকে জানানো হয়।
সবার মুখে একই কথা, মূল টাকা ফেরত পাবো তো। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখাতে গ্রাহকরা ভিড় করছেন। ধরনা দিয়েও টাকা পাচ্ছে না গ্রাহকরা। এমনকি কয়েক মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনও ঠিকমতো দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল তাদের কার্যালয়ে গিয়ে দায়িত্বশীল কাউকেই পাওয়া যায়নি। এদিন দুপুর আড়াইটায় মতিঝিলের প্রধান কার্যালায়ে যাত্রাবাড়ি থেকে আসেন হাফিজুর রহামান। তিনি মানবজমিনকে বলেন, এক বছর আগে তিনি পিপলস লিজিংয়ে ১০ লাখ টাকা রাখেন। গতকাল এসেছিলেন তুলতে। কিন্তু অফিসের কেউ তাকে দেখা দেননি।
দিনের পর দিন ঘুরছেন। এর শেষ কোথায় তিনি তা জানেন না। আরেক গ্রাহক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমার অফিসের বসের প্রায় এক কোটি টাকা এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। কিন্তু এখন তুলতে পারছি না। এ টাকা আদায় ছাড়া কোন পথ দেখতে পাচ্ছি না। একই দিনে নিডস এডুকেশন নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পারভেজ ইসলাম আসেন তার ফিক্স ডিপোজিটের অর্থ তুলে নিতে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমার বন্ধুর এক কোটির বেশি টাকা এই প্রতিষ্ঠনে রয়েছে। তাকেও টাকা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে ধানমন্ডির বাসিন্দা মুতাসীর উদ্দীন খান ইয়ামীন বেশি সুদের আশায় ৩০ লাখ টাকার ৬ মাস মেয়াদি আমানত (টিডিআর) রাখেন পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে।
দশ লাখ টাকা করে তিনটি হিসাবে অর্থ জমা করেন গেল বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে। বার্ষিক ১২ শতাংশ হারে সুদসহ আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে তার টাকা ফেরত দেয়ার কথা। কিন্তু পিপলস লিজিং তার আমানত ফেরত দিচ্ছে না। তার পাওনা এক লাখ ৬০ হাজার টাকার সুদসহ মোট ৩১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পিপলস লিজিংয়ের প্রধান কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করে কাজের কাজ না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে এখন ধরনা দিয়েছেন পুলিশের কাছে। টাকা আদায় করে দেয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকা মহনগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিপলস লিজিং এ প্রতিদিন ধর্ণা দেয়া এসব গ্রাহকের বাইরে অনেকেই জমানো টাকা তুলতে পারছেন না। এমনকি কয়েক মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য সিনিয়র ও জুনিয়র মিলিয়ে কয়েক শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে চলে গেছেন। প্রতিষ্ঠানটির চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মানিক লাল সমাদ্দারসহ বেশ কয়েক জন সিনিয়র কর্মকর্তা চলে গেছেন। এছাড়া অনেক কর্মকর্তা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পিপলস লিজিংয়ের প্রধান কার্যালয়সহ গুলশান, মতিঝিল ও চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চ অফিসে গ্রাহকদের সঙ্গে বচসার ঘটনা ঘটছে।
পিপলস লিজিং সূত্রে জানা গেছে, মালিক পক্ষ জালিয়াতি করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধুঁকে ধুঁকে চলছে। টাকা রেখে ফেরত না পাওয়ার তালিকায় সাবেক সচিব, পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সুপরিচিত অনেক ব্যক্তিও রয়েছেন। এদের অনেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এরপরও থেমে নেই পিপলস্? লিজিংয়ের আমানত সংগ্রহ। উচ্চসুদে আমানত সংগ্রহে নানা উপায়ে টোপ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ব্যাংকগুলো যেখানে ৬ থেকে ৭ শতাংশ সুদে মেয়াদি আমানত নিচ্ছে সেখানে পিপলস লিজিং ১২ শতাংশ সুদে আমানতের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইলে এসএমএস দিচ্ছে। এ ছাড়া ৫ বছরে দ্বিগুণসহ আকর্ষণীয় নানা স্কিম নিয়ে হাজির হচ্ছে মানুষের কাছে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে উচ্চসুদের প্রলোভন দেখিয়ে আমানত সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আমানত সংগ্রহে কারও মোবাইলে এসএমএস দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছে না এ প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
পিপলস লিজিংয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নিতে অফিসটিতে আসেন। কিন্তু কাউকে টাকা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। ব্যক্তি আমানতকারীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের গচ্ছিত অর্থ চেয়েও ফেরত পাচ্ছে না। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক এই কোম্পানিতে আমানত না রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্র্যাক ও রূপালী ব্যাংক এই কোম্পানিতে রাখা তাদের স্থায়ী আমানত তুলে নিতে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু ওই চিঠির কোন সদুত্তর পায়নি তারা। এসব বিষয়ে পিপলস লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি হুদার বক্তব্যের জন্য বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। বলা হয়, স্যার অফিসে আসেননি। তার ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন ও এসএমএস করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিন অফিসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী আহমেদ জামালকে পাওয়া যায়। তবে তিনি কারও সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিদর্শনে দেখা যায়, পিপলস লিজিং থেকে বিতরণ করা ঋণের বেশিরভাগই জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নিয়েছেন পরিচালকরা। ভুয়া কাগজ তৈরি করে প্রায় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ২০১৫ সালে ৫ পরিচালককে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে শুধু প্রতিষ্ঠানের নামে জমি কেনার কথা বলে নিজ নামে জমি রেজিস্ট্রি করার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা। জমি রেজিস্ট্রির এ জালিয়াতির মাধ্যমে সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ১১৬ কোটি টাকা, সাবেক পরিচালক খবির উদ্দিন মিয়া ১০৭ কোটি টাকা, আরেফিন সামসুল আলামিন, নার্গিস আলামিন ও হুমায়রা আলামিনের ২৯৮ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য ওই সময়ে দুদকে জানানো হয়।
Wednesday, May 29, 2019
প্রবাসে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের আত্মহত্যা বাড়ছে by দীন ইসলাম

মৌসুমী
আক্তার পরিবারে সুখ ফেরাতে জর্ডানে পাড়ি জমান ২০১৭ সালে। কাজ নেন
গৃহকর্মীর। দেশে অভাবের মুখে পড়া তার পরিবারকে ভালো রাখাই ছিল তার
উদ্দেশ্য। কিন্তু দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরেছে তার লাশ। ডেথ
সার্টিফিকেটে লেখা ছিল স্ট্রোক করে মারা গেছেন মৌসুমী। পরিবার বলছে, ২০
বছরের কোনো তরুণী আত্মহত্যা করতে পারেন না। নির্যাতিত হয়ে বা অন্য যেকোন
কারণে মারা গেছেন মৌসুমী। এনিয়ে গেল বছর আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে সংবাদটি
প্রকাশ হলে বেশ হইচই হয়।
এরপর বিষয়টি আর বেশি দূর এগোয়নি। মৌসুমীর মতো অনেক তরুণীর লাশ বিদেশ থেকে দেশে আসছে। বেশির ভাগ তরুণীর লাশের সঙ্গে দেয়া কাগজে লেখা থাকে স্ট্রোক করে মারা গেছে।
কিন্তু আদতে ওই মৃত্যুর পেছনে লুকিয়ে থাকছে নানা কাহিনী। ব্র্যাকের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রবাসে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের আত্মহত্যার হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। গেল তিন বছরে ৪৪ জন নারী শ্রমিক বিদেশে আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া দূর্ঘটনায় ৫০ জন, স্ট্রোকে ১১০ জন, স্বাভাবিক মৃত্যু ৫৯ জনের এবং অন্যান্য কারনে ৩১ জন মারা গেছেন। আত্মহত্যা করা নারী শ্রমিকদের মধ্যে ২০১৬ সালে এক জন, ২০১৭ সালে ১২ জনের, ২০১৮ সালে ২৩ জনের এবং ২০১৯ সালে বর্তমান সময় পর্যন্ত আট জনের লাশ দেশে এসেছে। সব মিলিয়ে গেল তিন বছরে ২৯৪ জন নারী শ্রমিকের লাশ বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসেছে। ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজার ৭৯৩ জন নারী শ্রমিক প্রবাসে মৃত্যুবরণ করেছেন।
সমপ্রতি সরকার থেকে প্রকাশিত এক তথ্য বিবরণীতে এ সংখ্যা পাওয়া গেছে। ব্র্যাকের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ৫৭ জন, ২০১৭ সালে ১০২ জন, ২০১৮ সালে ১১২ জন এবং এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৩ জন নারী শ্রমিকের লাশ বিদেশ থেকে দেশে এসেছে। এর মধ্যে গেল তিন বছরে সৌদি আরব থেকে ১১২ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৬ জন, ওমান থেকে ৩৪ জন, লেবানন থেকে ৪২ জন ও জর্ডান থেকে ৬২ জন নারী শ্রমিকের লাশ দেশে এসেছে। এদিকে প্রবাসে কর্মরত শ্রমিকদের মৃত্যুর হার প্রতি বছরই বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ২০১৮ সালে প্রবাসী মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। যদিও এটি দেশে ফেরত আসা বৈধ শ্রমিকের মরদেহের হিসাব।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। এদের অধিকাংশেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। অভিবাসন ব্যয়ের তুলনায় কম আয়ের কারণে মানসিক চাপ ও দীর্ঘদিন স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে একাকিত্বই প্রবাসী শ্রমিকদের স্ট্রোক ও হৃদরোগের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি দৈনিক ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পরিশ্রম, অপর্যাপ্ত খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে থাকার কারণেও রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালে বিদেশ থেকে তিন হাজার ৩৩৫ ব্যক্তির লাশ দেশে আসে। এর মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই হাজার ৮৭২ জন, চট্টগ্রাম শাহ আমানতে ৪১১ জন এবং সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে ৫২টি লাশ আসে। একইভাবে ২০১৫ সালে তিন হাজার ৩০৭ জনের লাশ আসে।
এর মধ্যে শাহজালালে দুই হাজার ৮৩১, শাহ আমানতে ৪০৭ এবং ওসমানী বিমানবন্দরে ৬৯ জনের লাশ আসে। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৪৮১ জনে। এর মধ্যে শাহজালালে লাশ আসে দুই হাজার ৯৮৫ জনের। শাহ আমানতে আসে ৪২১ জন আর ওসমানী বিমানবন্দরে আসে ৭৫ হতভাগ্যের লাশ। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৩৮৭। ২০১৮ সালে মোট ৩ হাজার ৭৯৩ বাংলাদেশী কর্মীর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। অধিকাংশের ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে স্ট্রোক ও হৃদরোগ। বেশির ভাগ মরদেহই এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে সৌদি আরব থেকে। সৌদি আরবের পর বেশি মরদেহ এসেছে মালয়েশিয়া থেকে।
এরপর বিষয়টি আর বেশি দূর এগোয়নি। মৌসুমীর মতো অনেক তরুণীর লাশ বিদেশ থেকে দেশে আসছে। বেশির ভাগ তরুণীর লাশের সঙ্গে দেয়া কাগজে লেখা থাকে স্ট্রোক করে মারা গেছে।
কিন্তু আদতে ওই মৃত্যুর পেছনে লুকিয়ে থাকছে নানা কাহিনী। ব্র্যাকের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রবাসে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের আত্মহত্যার হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। গেল তিন বছরে ৪৪ জন নারী শ্রমিক বিদেশে আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া দূর্ঘটনায় ৫০ জন, স্ট্রোকে ১১০ জন, স্বাভাবিক মৃত্যু ৫৯ জনের এবং অন্যান্য কারনে ৩১ জন মারা গেছেন। আত্মহত্যা করা নারী শ্রমিকদের মধ্যে ২০১৬ সালে এক জন, ২০১৭ সালে ১২ জনের, ২০১৮ সালে ২৩ জনের এবং ২০১৯ সালে বর্তমান সময় পর্যন্ত আট জনের লাশ দেশে এসেছে। সব মিলিয়ে গেল তিন বছরে ২৯৪ জন নারী শ্রমিকের লাশ বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসেছে। ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজার ৭৯৩ জন নারী শ্রমিক প্রবাসে মৃত্যুবরণ করেছেন।
সমপ্রতি সরকার থেকে প্রকাশিত এক তথ্য বিবরণীতে এ সংখ্যা পাওয়া গেছে। ব্র্যাকের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ৫৭ জন, ২০১৭ সালে ১০২ জন, ২০১৮ সালে ১১২ জন এবং এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৩ জন নারী শ্রমিকের লাশ বিদেশ থেকে দেশে এসেছে। এর মধ্যে গেল তিন বছরে সৌদি আরব থেকে ১১২ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৬ জন, ওমান থেকে ৩৪ জন, লেবানন থেকে ৪২ জন ও জর্ডান থেকে ৬২ জন নারী শ্রমিকের লাশ দেশে এসেছে। এদিকে প্রবাসে কর্মরত শ্রমিকদের মৃত্যুর হার প্রতি বছরই বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ২০১৮ সালে প্রবাসী মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। যদিও এটি দেশে ফেরত আসা বৈধ শ্রমিকের মরদেহের হিসাব।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। এদের অধিকাংশেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। অভিবাসন ব্যয়ের তুলনায় কম আয়ের কারণে মানসিক চাপ ও দীর্ঘদিন স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে একাকিত্বই প্রবাসী শ্রমিকদের স্ট্রোক ও হৃদরোগের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি দৈনিক ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পরিশ্রম, অপর্যাপ্ত খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে থাকার কারণেও রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালে বিদেশ থেকে তিন হাজার ৩৩৫ ব্যক্তির লাশ দেশে আসে। এর মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই হাজার ৮৭২ জন, চট্টগ্রাম শাহ আমানতে ৪১১ জন এবং সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে ৫২টি লাশ আসে। একইভাবে ২০১৫ সালে তিন হাজার ৩০৭ জনের লাশ আসে।
এর মধ্যে শাহজালালে দুই হাজার ৮৩১, শাহ আমানতে ৪০৭ এবং ওসমানী বিমানবন্দরে ৬৯ জনের লাশ আসে। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৪৮১ জনে। এর মধ্যে শাহজালালে লাশ আসে দুই হাজার ৯৮৫ জনের। শাহ আমানতে আসে ৪২১ জন আর ওসমানী বিমানবন্দরে আসে ৭৫ হতভাগ্যের লাশ। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৩৮৭। ২০১৮ সালে মোট ৩ হাজার ৭৯৩ বাংলাদেশী কর্মীর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। অধিকাংশের ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে স্ট্রোক ও হৃদরোগ। বেশির ভাগ মরদেহই এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে সৌদি আরব থেকে। সৌদি আরবের পর বেশি মরদেহ এসেছে মালয়েশিয়া থেকে।
Sunday, May 26, 2019
টাইগারদের জার্সি বিক্রিতে সিন্ডিকেট by দীন ইসলাম

সিন্ডিকেটের কব্জায় এখন বাংলাদেশ জাতীয়
ক্রিকেট দলের জার্সি। সিন্ডিকেটের নির্ধারিত দাম ১১৫০ টাকা। যদিও জার্সির
মান অনুযায়ী মূল্য ৩০০ টাকার বেশি নয়। রয়্যালটি আদায়ের নামে বাংলাদেশ
ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের এমন হঠকারি সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মানুষের
পকেট কাটছে সিন্ডিকেটটি। হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। উচ্চমূল্যে এসব
জার্সি অঞ্জনস, জেন্টল পার্ক, স্পোর্টস এন্ড স্পোর্টস ও রবিন স্পোর্টস ছাড়া
কেউ তৈরি বা বিক্রি করতে পারছেন না। করতে গেলেই নানা হয়রানির মুখে পড়ছেন।
এরই মধ্যে গুলিস্তানে ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের
দোকানে দোকানে অভিযান চালানো হচ্ছে। ফলে ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রির সঙ্গে জড়িত
কয়েক হাজার ব্যবসায়ী সঙ্কটের মুখে পড়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইম্পোটার্স এসোসিয়েশন। সিন্ডিকেটের জন্য তারা দুষছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তাদের। তারা বলছেন, অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসজাশে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি চলে গেছে একটি সিন্ডিকেটের কব্জায়। যার কারণে দেশের সাধারণ মানুষকে এখন ৩০০ টাকার তৈরি করা জার্সি কিনতে হবে সিন্ডিকেটের নির্ধারিত ১১৫০ টাকায়। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে বিষয়টি সর্ম্পকে জানিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইম্পোটার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, বিশ্বকাপ এলে আমরা কিছুটা ব্যবসা করতে পারি। এজন্য আমরা মুখিয়ে থাকি। এবারই প্রথম সিন্ডিকেট করে জার্সি তৈরি ও বিক্রির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
আমাদের দোকানে দোকানে অভিযান চালিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সিন্ডিকেটমুক্ত বাংলাদেশের জার্সি চাই। আশা করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২১শে মে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯ এর বাংলাদেশের গৌরবান্বিত জার্সি চার সিন্ডিকেটের দখল থেকে মুক্ত করার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইম্পোটার্স এসোসিয়েশন। চিঠিতে বলা হয়, আপনার অকৃত্রিম ভালোবাসা, অনুপ্রেরণা এবং সহযোগিতার হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন অনেক দূর এগিয়েছে। অভাবনীয় সাফল্য এসেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। বাংলাদেশের ক্রিকেট দল এখন বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯ এর আসরে অংশ নিতে প্রস্তুত। দেশের মানুষ সব সময় প্রস্তুত লাল সবুজের পতাকা গায়ে জড়িয়ে গৌরব ভাগিদার হয়ে খেলা দেখার। কিন্তু সিন্ডিকেটের চার প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এই জার্সি তৈরি বা বিক্রি করতে পারবে না। এরই মধ্যে বিষয়টি সর্ম্পকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, এবার সাধারণ ক্রীড়ানুরাগীদের পক্ষে এত উচ্চ মূল্যে বিশ্বকাপে লাল সবুজের জার্সি জড়ানো সম্ভব হবে না। এজন্য বিষয়টি তদন্তপূর্বক বিসিবি’র অসাধু কর্মকর্তার হঠকারি সিদ্ধান্ত বাতিল এবং জার্সি তৈরি ও বিক্রয়ের সিন্ডিকেট চক্র ভেঙ্গে দেয়ার নির্দেশ দিতে অনুরোধ করা হল।
এদিকে পোশাক প্রস্তুত ও বিক্রির প্রতিষ্ঠান অঞ্জনসে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সাইজের বাংলাদেশি জার্সি তারা ১১৫০ টাকার বিক্রি করছে। বিকাশ অ্যাপস দিয়ে অঞ্জনসে শপিং করলে ২০% ক্যাশব্যাকের অফার থাকলেও জার্সি বিক্রির ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। বিকাশ অ্যাপস দিয়ে জার্সির পেমেন্ট দিতে গেলে অঞ্জনস-এর বিক্রয় কর্মীরা বলছেন, জার্সি বিক্রির টাকা ক্যাশ বা কার্ড দিয়ে দিতে পারবেন। বিকাশ অ্যাপ দিয়ে দেয়া যাবে না। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইম্পোটার্স এসোসিয়েশনের আবেদনটি তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। এটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে ব্যবস্থা নেবেন তারা। বাংলাদেশ দলের জার্সি বিক্রিতে সিন্ডিকেটের বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি মনোপলি না করে তা যেন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে তা নিশ্চিত করা উচিত। মনে রাখতে হবে সাধারণ মানুষ যত বেশি জার্সি কিনে খেলা দেখবেন তত বেশি ক্রিকেট উম্মাদনা তৈরি হবে।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইম্পোটার্স এসোসিয়েশন। সিন্ডিকেটের জন্য তারা দুষছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তাদের। তারা বলছেন, অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসজাশে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি চলে গেছে একটি সিন্ডিকেটের কব্জায়। যার কারণে দেশের সাধারণ মানুষকে এখন ৩০০ টাকার তৈরি করা জার্সি কিনতে হবে সিন্ডিকেটের নির্ধারিত ১১৫০ টাকায়। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে বিষয়টি সর্ম্পকে জানিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইম্পোটার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, বিশ্বকাপ এলে আমরা কিছুটা ব্যবসা করতে পারি। এজন্য আমরা মুখিয়ে থাকি। এবারই প্রথম সিন্ডিকেট করে জার্সি তৈরি ও বিক্রির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
আমাদের দোকানে দোকানে অভিযান চালিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সিন্ডিকেটমুক্ত বাংলাদেশের জার্সি চাই। আশা করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২১শে মে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯ এর বাংলাদেশের গৌরবান্বিত জার্সি চার সিন্ডিকেটের দখল থেকে মুক্ত করার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইম্পোটার্স এসোসিয়েশন। চিঠিতে বলা হয়, আপনার অকৃত্রিম ভালোবাসা, অনুপ্রেরণা এবং সহযোগিতার হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন অনেক দূর এগিয়েছে। অভাবনীয় সাফল্য এসেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। বাংলাদেশের ক্রিকেট দল এখন বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯ এর আসরে অংশ নিতে প্রস্তুত। দেশের মানুষ সব সময় প্রস্তুত লাল সবুজের পতাকা গায়ে জড়িয়ে গৌরব ভাগিদার হয়ে খেলা দেখার। কিন্তু সিন্ডিকেটের চার প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এই জার্সি তৈরি বা বিক্রি করতে পারবে না। এরই মধ্যে বিষয়টি সর্ম্পকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, এবার সাধারণ ক্রীড়ানুরাগীদের পক্ষে এত উচ্চ মূল্যে বিশ্বকাপে লাল সবুজের জার্সি জড়ানো সম্ভব হবে না। এজন্য বিষয়টি তদন্তপূর্বক বিসিবি’র অসাধু কর্মকর্তার হঠকারি সিদ্ধান্ত বাতিল এবং জার্সি তৈরি ও বিক্রয়ের সিন্ডিকেট চক্র ভেঙ্গে দেয়ার নির্দেশ দিতে অনুরোধ করা হল।
এদিকে পোশাক প্রস্তুত ও বিক্রির প্রতিষ্ঠান অঞ্জনসে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সাইজের বাংলাদেশি জার্সি তারা ১১৫০ টাকার বিক্রি করছে। বিকাশ অ্যাপস দিয়ে অঞ্জনসে শপিং করলে ২০% ক্যাশব্যাকের অফার থাকলেও জার্সি বিক্রির ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। বিকাশ অ্যাপস দিয়ে জার্সির পেমেন্ট দিতে গেলে অঞ্জনস-এর বিক্রয় কর্মীরা বলছেন, জার্সি বিক্রির টাকা ক্যাশ বা কার্ড দিয়ে দিতে পারবেন। বিকাশ অ্যাপ দিয়ে দেয়া যাবে না। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইম্পোটার্স এসোসিয়েশনের আবেদনটি তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। এটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে ব্যবস্থা নেবেন তারা। বাংলাদেশ দলের জার্সি বিক্রিতে সিন্ডিকেটের বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি মনোপলি না করে তা যেন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে তা নিশ্চিত করা উচিত। মনে রাখতে হবে সাধারণ মানুষ যত বেশি জার্সি কিনে খেলা দেখবেন তত বেশি ক্রিকেট উম্মাদনা তৈরি হবে।
Wednesday, May 8, 2019
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিরা মৃত্যু আতঙ্কে by দীন ইসলাম

দক্ষিণ
আফ্রিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের আতঙ্ক বিরাজ
করছে। বাংলাদেশিদের জন্য দেশটি ক্রমেই আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বাড়ছে
মৃত্যুর ঘটনা। প্রতিদিনই হত্যা, অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা ঘটনায়
বাংলাদেশিদের জন্য দেশটি ‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশিরা আছেন
মৃত্যু আতঙ্কে। গেল বছর দেশটিতে অন্তত ১৫০ বাংলাদেশি খুন হয়েছেন। প্রতি
সপ্তাহে গড়ে প্রায় তিনজন করে হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন। যদিও দেশটিতে
পৃথিবীর সব দেশের মানুষ ব্যবসা বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে নিরাপদ বোধ করে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, যাঁরা খুন হচ্ছেন, তাঁদের বেশির ভাগই দোকানমালিক ও ব্যবসায়ী।
ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হামলার পরই এসব খুনের ঘটনা ঘটছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা চরম উদ্বেগের মধ্যে আছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব হত্যাকান্ডের সঠিক কারণ জানা না গেলেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতিসহ নানা ঘটনার শিকার হয়ে দেশটির কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম ভাগ্যবরণ করছেন বাংলাদেশিরা। যার বড় একটি অংশ ২০ থেকে ৩০ বছরের তরুণ। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিবছর গড়ে ২০০ বাংলাদেশি হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন। গত বছর হত্যাকান্ডের পাশাপাশি গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হয়েছেন ৫৬ বাংলাদেশি। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১৮টি। দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৫৩৩টি। প্রবাসী বাংলাদেশি সূত্রে জানা গেছে, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগে গত ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর বিদেশিদের দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় জোহানেসবার্গ সংলগ্ন সোয়েটো এলাকার কৃষ্ণাঙ্গরা। এ ঘটনায় বাংলাদেশিসহ অন্তত এক হাজার ৫০০ বিদেশির দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনা চলাকালে চার কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হলে ‘সেভ অ্যান্ড ক্লিন সাউথ আফ্রিকা’ নামে একটি সংগঠন সব বিদেশিদের দোকান থেকে বের করে দেয়ার আলটিমেটাম দেয়। এরপর থেকে বিদেশি নাগরিক খুনের ঘটনা বেড়ে গেছে।
গেল বছরের শেষ তিন মাসে কমপক্ষে ২৬ বাংলাদেশি খুন হন। জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কমপক্ষে ২৭ জন বাংলাদেশি খুন হন। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসেই চার জন যুবক খুন হন। ফেব্রুয়ারিতে খুন হন পাঁচ জন। এর মধ্যে ২রা ফেব্রুয়ারি রাতে জোহানেসবার্গের সোয়েটো লোকেশনের এলডেরাডো পার্কের একটি দোকানে নাজমুল হুদা বিপ্লব (২৫) নামে এক প্রবাসীকে গুলি করে হত্যা করে কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা। সর্বশেষ গত শনিবার চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে আবদুর রহমান ওরফে সায়মন (২০) খুন হন। ওই দিন রাত ৮টার দিকে সায়মনের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবার জানতে পারে। সায়মনের স্বজনরা জানান, দেড় বছর আগে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় করে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য সাউথ আফ্রিকাতে কাজের সন্ধানে যায় সায়মন।
সাউথ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের ফ্রিডম পার্ক এলাকায় তার খালুর দোকানে কাজ করতো সায়মন। গত সোমবার সে দোকানে বেশ কয়েকজন নিগ্রো সন্ত্রাসী ডাকাতির উদ্দেশ্যে হানা দেয়। এ সময় তাদের বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা গুলি করে দোকান লুট করে পালিয়ে যায়। মারাত্মক আহত অবস্থায় সায়মনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সয়মন সবার বড়। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম সায়মনের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। সায়মনের লাশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তার পরিবার দাবি জানান। জনশক্তি রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, বৈধভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার সুযোগ খুব কম। কিন্তু একশ্রেণির দালাল ছয়-সাত লাখ টাকা নিয়ে মোজাম্বিক, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, লাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় লোক পাঠায়। এভাবে যাঁরা দক্ষিণ আফ্রিকায় যান, তাঁদের বেশির ভাগেরই বাড়ি নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও মুন্সীগঞ্জে। তাঁদের বেশির ভাগ দোকান চালান। কিন্তু তাঁরা বৈধ নন। ফলে তাঁদের ব্যাংক হিসাব নেই। এ কারণে নিজেদের কাছেই তাঁরা নগদ টাকা রাখেন। আর ওই টাকা ছিনিয়ে নিতেই এসব হামলা হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশ হাইকমিশন বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের কাছে এসব ঘটনার প্রতিকার ও ন্যায়বিচার চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি খুনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে চট্টগ্রামের বাসিন্দা আমিন খান বলেন, এখানে জীবন হারানোর শঙ্কা নিয়ে চলতে হয়। অন্য দেশের কেউ মারা গেলে সে দেশের লোকজন ও এম্বাসি মামলা করে, কিন্তু বাংলাদেশিদের বেলায় কেউ আসে না। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অভিযোগ, হত্যাকান্ডের শিকারের পর পুলিশের পক্ষে একটি ইউডি মামলা ছাড়া ভুক্তভোগীর পক্ষে কোনো মামলা হয় না। তাই খুনের ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্তও হয় না। তাই কি কারণে এ হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছে তা পুলিশী তদন্তের বাইরে থেকে যায়।
অপরদিকে অন্য কোনো দেশের নাগরিক সেখানে হত্যাকান্ডের শিকার হলে ওই দেশের কমিউনিটি নেতারা সংশ্লিষ্ট থানায় অজ্ঞাত আসামীর নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার চুড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত ওই মামলার তদারকি করে যান। এমন কি ওই দেশের অ্যাম্বাসী পর্যন্ত মামলার তদারকির জন্য নিজস্ব আইনজীবি নিয়োগ করে। বাংলাদেশি প্রবাসীদের বেলায় ঘটে উল্টো ঘটনা। যে কোন এলাকায় কোন বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকান্ডের শিকার হলে স্থানীয় বাংলাদেশিরা চাঁদা তুলে লাশটা কোনরকমে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কমিউনিটির কোনো নেতা একটি লাশের তদারকি করতে বা কমিউনিটি বাদী হয়ে মামলা করে না। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রম চুক্তি নেই। যারা হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন তাদের প্রায় সবাই ভ্রমণ ভিসা বা চোরাইপথে গিয়ে সেখানে থেকে যাচ্ছেন। ফলে কেউ নিহত হলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকছে না।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, যাঁরা খুন হচ্ছেন, তাঁদের বেশির ভাগই দোকানমালিক ও ব্যবসায়ী।
ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হামলার পরই এসব খুনের ঘটনা ঘটছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা চরম উদ্বেগের মধ্যে আছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব হত্যাকান্ডের সঠিক কারণ জানা না গেলেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতিসহ নানা ঘটনার শিকার হয়ে দেশটির কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম ভাগ্যবরণ করছেন বাংলাদেশিরা। যার বড় একটি অংশ ২০ থেকে ৩০ বছরের তরুণ। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিবছর গড়ে ২০০ বাংলাদেশি হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন। গত বছর হত্যাকান্ডের পাশাপাশি গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হয়েছেন ৫৬ বাংলাদেশি। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১৮টি। দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৫৩৩টি। প্রবাসী বাংলাদেশি সূত্রে জানা গেছে, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগে গত ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর বিদেশিদের দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় জোহানেসবার্গ সংলগ্ন সোয়েটো এলাকার কৃষ্ণাঙ্গরা। এ ঘটনায় বাংলাদেশিসহ অন্তত এক হাজার ৫০০ বিদেশির দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনা চলাকালে চার কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হলে ‘সেভ অ্যান্ড ক্লিন সাউথ আফ্রিকা’ নামে একটি সংগঠন সব বিদেশিদের দোকান থেকে বের করে দেয়ার আলটিমেটাম দেয়। এরপর থেকে বিদেশি নাগরিক খুনের ঘটনা বেড়ে গেছে।
গেল বছরের শেষ তিন মাসে কমপক্ষে ২৬ বাংলাদেশি খুন হন। জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কমপক্ষে ২৭ জন বাংলাদেশি খুন হন। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসেই চার জন যুবক খুন হন। ফেব্রুয়ারিতে খুন হন পাঁচ জন। এর মধ্যে ২রা ফেব্রুয়ারি রাতে জোহানেসবার্গের সোয়েটো লোকেশনের এলডেরাডো পার্কের একটি দোকানে নাজমুল হুদা বিপ্লব (২৫) নামে এক প্রবাসীকে গুলি করে হত্যা করে কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা। সর্বশেষ গত শনিবার চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে আবদুর রহমান ওরফে সায়মন (২০) খুন হন। ওই দিন রাত ৮টার দিকে সায়মনের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবার জানতে পারে। সায়মনের স্বজনরা জানান, দেড় বছর আগে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় করে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য সাউথ আফ্রিকাতে কাজের সন্ধানে যায় সায়মন।
সাউথ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের ফ্রিডম পার্ক এলাকায় তার খালুর দোকানে কাজ করতো সায়মন। গত সোমবার সে দোকানে বেশ কয়েকজন নিগ্রো সন্ত্রাসী ডাকাতির উদ্দেশ্যে হানা দেয়। এ সময় তাদের বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা গুলি করে দোকান লুট করে পালিয়ে যায়। মারাত্মক আহত অবস্থায় সায়মনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সয়মন সবার বড়। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম সায়মনের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। সায়মনের লাশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তার পরিবার দাবি জানান। জনশক্তি রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, বৈধভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার সুযোগ খুব কম। কিন্তু একশ্রেণির দালাল ছয়-সাত লাখ টাকা নিয়ে মোজাম্বিক, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, লাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় লোক পাঠায়। এভাবে যাঁরা দক্ষিণ আফ্রিকায় যান, তাঁদের বেশির ভাগেরই বাড়ি নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও মুন্সীগঞ্জে। তাঁদের বেশির ভাগ দোকান চালান। কিন্তু তাঁরা বৈধ নন। ফলে তাঁদের ব্যাংক হিসাব নেই। এ কারণে নিজেদের কাছেই তাঁরা নগদ টাকা রাখেন। আর ওই টাকা ছিনিয়ে নিতেই এসব হামলা হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশ হাইকমিশন বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের কাছে এসব ঘটনার প্রতিকার ও ন্যায়বিচার চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি খুনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে চট্টগ্রামের বাসিন্দা আমিন খান বলেন, এখানে জীবন হারানোর শঙ্কা নিয়ে চলতে হয়। অন্য দেশের কেউ মারা গেলে সে দেশের লোকজন ও এম্বাসি মামলা করে, কিন্তু বাংলাদেশিদের বেলায় কেউ আসে না। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অভিযোগ, হত্যাকান্ডের শিকারের পর পুলিশের পক্ষে একটি ইউডি মামলা ছাড়া ভুক্তভোগীর পক্ষে কোনো মামলা হয় না। তাই খুনের ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্তও হয় না। তাই কি কারণে এ হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছে তা পুলিশী তদন্তের বাইরে থেকে যায়।
অপরদিকে অন্য কোনো দেশের নাগরিক সেখানে হত্যাকান্ডের শিকার হলে ওই দেশের কমিউনিটি নেতারা সংশ্লিষ্ট থানায় অজ্ঞাত আসামীর নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার চুড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত ওই মামলার তদারকি করে যান। এমন কি ওই দেশের অ্যাম্বাসী পর্যন্ত মামলার তদারকির জন্য নিজস্ব আইনজীবি নিয়োগ করে। বাংলাদেশি প্রবাসীদের বেলায় ঘটে উল্টো ঘটনা। যে কোন এলাকায় কোন বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকান্ডের শিকার হলে স্থানীয় বাংলাদেশিরা চাঁদা তুলে লাশটা কোনরকমে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কমিউনিটির কোনো নেতা একটি লাশের তদারকি করতে বা কমিউনিটি বাদী হয়ে মামলা করে না। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রম চুক্তি নেই। যারা হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন তাদের প্রায় সবাই ভ্রমণ ভিসা বা চোরাইপথে গিয়ে সেখানে থেকে যাচ্ছেন। ফলে কেউ নিহত হলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকছে না।
Tuesday, April 30, 2019
বিল নেই কাজ বন্ধ by দীন ইসলাম

টাকা
নেই তাই বিল পাচ্ছেন না ঠিকাদাররা। তিন-চার বছর আগে কাজ শেষ করেও বিল
পাচ্ছেন না কেউ কেউ। এভাবে ঠিকাদারদের পাওনার পাহাড় জমা হচ্ছে। বিল না
পাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে গেছে কোনো কোনো প্রকল্পে। সরকারের দপ্তর, অধিদপ্তর ও
পরিদপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কাজ করেও দিনের পর দিন
ঘুরছেন ঠিকাদাররা। সরকারের দপ্তরগুলোর তহবিলে অর্থ না থাকায় দেন-দরবার করেও
কোনো কাজ হচ্ছে না। কাজ করে বিল না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন
মধ্যম শ্রেণির ঠিকাদাররা। পুঁজি কম থাকায় তারা একটি কাজের বিল তুলে আরেকটি
কাজে হাত দেয়ার প্রস্তুতি নেন।
পুঁজি আটকে যাওয়ায় সেই সুযোগও তাদের বন্ধ হয়ে গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর , গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদাররা এমন সমস্যায় পড়েছেন। সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোতে অর্থ ছাড় বেশি হওয়ার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের মাত্র ২০ থেকে ৪০ ভাগ ছাড় করা হয়েছে। তাই ঠিকাদারদের মোটা অঙ্কের বিল আটকে গেছে। বিল না পাওয়ায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও রাজউক বলছে, প্রকল্প প্রস্তাব রিভাইস হওয়ার কারণে বিল দেয়া যাচ্ছে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিল না পেয়ে প্রায় দুই শতাধিক ঠিকাদার কষ্টে আছেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, বিল নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ডিএসসিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঠিকাদারদের বচসা হচ্ছে। মূলত ডিএসসিসির আয় কমে যাওয়ার কারণেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) ভাগ হওয়ার পর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রাজস্ব আদায়ে ধস নামে। কারণ, ৭৫ শতাংশ রাজস্বই পাওয়া যেত বর্তমানে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে। ভাগ হওয়ার পর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যে রাজস্ব আদায় হয়, তা দিয়ে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়ার কাজ চলে। উন্নয়নকাজ করা কঠিন হয়ে যায়। দুই বছর আগেও কর্মচারীদের সঞ্চিত প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা থেকে বেতন দেয়ার নজির রয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যেও ফান্ডে টাকা নেই। তবুও প্রশাসকরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন যখন চালাতেন তখন প্রায় পাঁচশ’ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করেন। এর মধ্যে সাবেক সচিব ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক জিল্লার রহমানের আমলে ২৫০ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। এছাড়া প্রশাসক নজরুল ইসলামের সময় ১১২ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, প্রশাসকদের সময় দরকার না হলেও টেন্ডার আহ্বান করে কর্মকর্তারা ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন খেয়ে বসে আছেন। এখন বিল পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিসিসি ভাগ হওয়ার পর মূলত ডিএনসিসি’র লাভ হয়েছে। উন্নয়ন খাতে তাদের বাজেট দিন দিন বাড়ছে। বিপরীতে ঠিকাদারদের বকেয়া পরিমাণ খুব বেশি নয়। রাজস্ব আয় বেশি থাকায় ডিএনসিসি’র কর্মকর্তারা উন্নয়ন কাজ বেশি করতে পারছেন। দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদারদের পাওনার পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ দুই সিটি কর্পোরেশনে আগের মেয়াদে বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা দায়িত্ব পালনের কারণে খুব বেশি উন্নয়ন কাজ করা যায়নি। যেসব উন্নয়ন কাজ করা গেছে ওই সব কাজের বিল এখনও বকেয়া পড়ে আছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদারদের পাওনা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের বাইরে সরকারি অর্থায়নে যেসব কাজ হয় ওই সব কাজের বিল পেতে গেলে ঠিকাদারদের বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদাররা বেশ কষ্টের মধ্যে আছেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টের পর যেসব ঠিকাদার কাজ করেছেন তারা এখনও বিল পাননি। আগামী বাজেটের দিকে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে। বাজেট অনুমোদনের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে যে অর্থ ছাড় হবে তা থেকেই দেন দরবার করে বিল নিতে হবে। এরপর নতুন করে কোন কাজ করলে তা বাকি পড়ে থাকবে। গণপূর্ত ঠিকাদার সমিতির একজন নেতা মানবজমিনকে বলেন, বাবার আমল থেকে ঠিকাদারি করি তাই গণপূর্ত অধিদপ্তরকে আকড়ে ধরে আছি। কাজ করলে বিল পাই না। বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। কিভাবে চলি বলেন। পরিবার নিয়ে টেকা দায় হয়ে গেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, মেরামত কাজের বাজেট সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ছাড় হয়। তখন রীতিমতো কামড়াকামড়ি চলে। নিজেদের মতো তদবির করে বিল নিয়ে যান তারা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বিভাগে নির্মাণ ও মেরামত খাতে গেল অর্থ বছরের চেয়ে কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে মেগা প্রকল্পে বেশি বরাদ্দ দিতে হবে। তাই এ অর্থ বছরে বরাদ্দ কম ছাড় হবে।
পুঁজি আটকে যাওয়ায় সেই সুযোগও তাদের বন্ধ হয়ে গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর , গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদাররা এমন সমস্যায় পড়েছেন। সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোতে অর্থ ছাড় বেশি হওয়ার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের মাত্র ২০ থেকে ৪০ ভাগ ছাড় করা হয়েছে। তাই ঠিকাদারদের মোটা অঙ্কের বিল আটকে গেছে। বিল না পাওয়ায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও রাজউক বলছে, প্রকল্প প্রস্তাব রিভাইস হওয়ার কারণে বিল দেয়া যাচ্ছে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিল না পেয়ে প্রায় দুই শতাধিক ঠিকাদার কষ্টে আছেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, বিল নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ডিএসসিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঠিকাদারদের বচসা হচ্ছে। মূলত ডিএসসিসির আয় কমে যাওয়ার কারণেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) ভাগ হওয়ার পর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রাজস্ব আদায়ে ধস নামে। কারণ, ৭৫ শতাংশ রাজস্বই পাওয়া যেত বর্তমানে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে। ভাগ হওয়ার পর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যে রাজস্ব আদায় হয়, তা দিয়ে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়ার কাজ চলে। উন্নয়নকাজ করা কঠিন হয়ে যায়। দুই বছর আগেও কর্মচারীদের সঞ্চিত প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা থেকে বেতন দেয়ার নজির রয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যেও ফান্ডে টাকা নেই। তবুও প্রশাসকরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন যখন চালাতেন তখন প্রায় পাঁচশ’ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করেন। এর মধ্যে সাবেক সচিব ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক জিল্লার রহমানের আমলে ২৫০ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। এছাড়া প্রশাসক নজরুল ইসলামের সময় ১১২ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, প্রশাসকদের সময় দরকার না হলেও টেন্ডার আহ্বান করে কর্মকর্তারা ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন খেয়ে বসে আছেন। এখন বিল পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিসিসি ভাগ হওয়ার পর মূলত ডিএনসিসি’র লাভ হয়েছে। উন্নয়ন খাতে তাদের বাজেট দিন দিন বাড়ছে। বিপরীতে ঠিকাদারদের বকেয়া পরিমাণ খুব বেশি নয়। রাজস্ব আয় বেশি থাকায় ডিএনসিসি’র কর্মকর্তারা উন্নয়ন কাজ বেশি করতে পারছেন। দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদারদের পাওনার পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ দুই সিটি কর্পোরেশনে আগের মেয়াদে বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা দায়িত্ব পালনের কারণে খুব বেশি উন্নয়ন কাজ করা যায়নি। যেসব উন্নয়ন কাজ করা গেছে ওই সব কাজের বিল এখনও বকেয়া পড়ে আছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদারদের পাওনা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের বাইরে সরকারি অর্থায়নে যেসব কাজ হয় ওই সব কাজের বিল পেতে গেলে ঠিকাদারদের বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদাররা বেশ কষ্টের মধ্যে আছেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টের পর যেসব ঠিকাদার কাজ করেছেন তারা এখনও বিল পাননি। আগামী বাজেটের দিকে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে। বাজেট অনুমোদনের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে যে অর্থ ছাড় হবে তা থেকেই দেন দরবার করে বিল নিতে হবে। এরপর নতুন করে কোন কাজ করলে তা বাকি পড়ে থাকবে। গণপূর্ত ঠিকাদার সমিতির একজন নেতা মানবজমিনকে বলেন, বাবার আমল থেকে ঠিকাদারি করি তাই গণপূর্ত অধিদপ্তরকে আকড়ে ধরে আছি। কাজ করলে বিল পাই না। বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। কিভাবে চলি বলেন। পরিবার নিয়ে টেকা দায় হয়ে গেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, মেরামত কাজের বাজেট সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ছাড় হয়। তখন রীতিমতো কামড়াকামড়ি চলে। নিজেদের মতো তদবির করে বিল নিয়ে যান তারা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বিভাগে নির্মাণ ও মেরামত খাতে গেল অর্থ বছরের চেয়ে কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে মেগা প্রকল্পে বেশি বরাদ্দ দিতে হবে। তাই এ অর্থ বছরে বরাদ্দ কম ছাড় হবে।
মন্ত্রণালয়ের সামারি লিখছেন কারা, নানা প্রশ্ন by দীন ইসলাম

সরকারের
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ের সামারি (সার
সংক্ষেপ) লিখছেন কারা? এমন প্রশ্ন এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়,
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তাদের। তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এখন সামারি লিখতে চান
না। মেধা শুন্যতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা
দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের এ কাজে নিয়োজিত করছেন। এর
বাইরে সাবেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সামারি তৈরির জন্য ডেকে আনা হচ্ছে।
‘বাইরের’ লোক দিয়ে সামারি তৈরির কারণে এগুলো থাকছে ভুলে ভরা। সংশ্লিষ্ট
সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভা, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও
অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিসহ বিভিন্ন মন্ত্রিসভা কমিটি’র
বৈঠকে মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলো তাদের এজেন্ডার উপস্থাপন করে থাকে। এসব
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা তাদের এজেন্ডা সার সংক্ষেপ
পড়ে শোনান।
এসব সামারি বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দেয়া হয়। সামারিতে ভুল থাকায় অনেক সময় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্রয় সংক্রান্ত প্রস্তাবের সার সংক্ষেপ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীন দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরগুলো তৈরি করে দিচ্ছে। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপিত সার সংক্ষেপেও মন্ত্রণালয় হাত না দেয়ার নজির রয়েছে। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অধিকাংশই দাপ্তরিক কাজের চেয়ে নিজের পদ-পদবি ঠিক রাখতে ব্যস্ত। রুলস অব বিজনেসসহ সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার। এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো সার-সংক্ষেপগুলোতে প্রায়ই নানা ভুলভ্রান্তি ধরা পড়ছে। সূত্রে জানা গেছে, কোনো কোনো সচিবের দক্ষতা ও উপস্থাপিত সারসংক্ষেপ দেখে কখনও কখনও খোদ প্রধানমন্ত্রীই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনে দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তার সংকটের কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন মনোভাবের কথা জানিয়ে সচিবদের সতর্ক করে এর আগেও একাধিক বার চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তবে এ পর্যন্ত তেমন কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো সারসংক্ষেপে ব্যাপক ভুল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করার পাশাপাশি নির্ভুলভাবে সারসংক্ষেপ পাঠানোর তাগিদ দেয়া হয়। ১৪ই ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) দেওয়ান ড. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থা থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। কিছু সারসংক্ষেপ ক্রটিপূর্ণ হওয়ায় তা নিষ্পত্তিতে অনাকাঙ্খিত বিলম্ব হয়। এ অবস্থায় সার-সংক্ষেপ প্রস্তুতকালে এ সংক্রান্ত সচিবালয়ের গাইডলাইন অনুসরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এর আগে ২০১৩ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই সময়ের সিনিয়র সচিব (বর্তমানে ইতালীতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত) আবদুস সোবহান সিকদার কর্মকর্তাদের সাতটি বিষয়ে সতর্ক থেকে সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়ে অফিস আদেশ জারি করেছিলেন। ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল বেশিরভাগ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্তসহ সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক মতামত থাকে না। প্রস্তাবের ফরোয়ার্ডিংয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সংযুক্ত থাকে না। প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামোর হালনাগাদ কপি পাঠানো হয় না। পদ সৃষ্টি, সংরক্ষণ ও স্থায়ীকরণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্রে উল্লিখিত শর্তাদি যথারীতি প্রতিপালন করা হয় না। এমনকি প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি ও সাংগঠনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠান প্রধান ও প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সচিব বা সিনিয়র সচিবের স্বাক্ষর থাকে না। এছাড়া ২০১২ সালের ১১ই নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের এক সারসংক্ষেপ নিয়ে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এজন্য সারসংক্ষেপ তৈরিতে আরও সতর্কতা এবং পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে নথি পাঠানোর অনুরোধ করে একটি আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি, প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপে ভুল-ভ্রান্তি থাকায় তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানোর ঘটনা অহরহই ঘটছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে চলেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিজেরা সামারি তৈরি না করার কারণে একই ভুল বার বার থেকে যাচ্ছে। কারণ যারা সামারি তৈরি করছে তারা বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন না। এজন্য একই ভুল থেকে যাচ্ছে।
এসব সামারি বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দেয়া হয়। সামারিতে ভুল থাকায় অনেক সময় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্রয় সংক্রান্ত প্রস্তাবের সার সংক্ষেপ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীন দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরগুলো তৈরি করে দিচ্ছে। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপিত সার সংক্ষেপেও মন্ত্রণালয় হাত না দেয়ার নজির রয়েছে। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অধিকাংশই দাপ্তরিক কাজের চেয়ে নিজের পদ-পদবি ঠিক রাখতে ব্যস্ত। রুলস অব বিজনেসসহ সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার। এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো সার-সংক্ষেপগুলোতে প্রায়ই নানা ভুলভ্রান্তি ধরা পড়ছে। সূত্রে জানা গেছে, কোনো কোনো সচিবের দক্ষতা ও উপস্থাপিত সারসংক্ষেপ দেখে কখনও কখনও খোদ প্রধানমন্ত্রীই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনে দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তার সংকটের কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন মনোভাবের কথা জানিয়ে সচিবদের সতর্ক করে এর আগেও একাধিক বার চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তবে এ পর্যন্ত তেমন কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো সারসংক্ষেপে ব্যাপক ভুল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করার পাশাপাশি নির্ভুলভাবে সারসংক্ষেপ পাঠানোর তাগিদ দেয়া হয়। ১৪ই ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) দেওয়ান ড. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থা থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। কিছু সারসংক্ষেপ ক্রটিপূর্ণ হওয়ায় তা নিষ্পত্তিতে অনাকাঙ্খিত বিলম্ব হয়। এ অবস্থায় সার-সংক্ষেপ প্রস্তুতকালে এ সংক্রান্ত সচিবালয়ের গাইডলাইন অনুসরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এর আগে ২০১৩ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই সময়ের সিনিয়র সচিব (বর্তমানে ইতালীতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত) আবদুস সোবহান সিকদার কর্মকর্তাদের সাতটি বিষয়ে সতর্ক থেকে সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়ে অফিস আদেশ জারি করেছিলেন। ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল বেশিরভাগ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্তসহ সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক মতামত থাকে না। প্রস্তাবের ফরোয়ার্ডিংয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সংযুক্ত থাকে না। প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামোর হালনাগাদ কপি পাঠানো হয় না। পদ সৃষ্টি, সংরক্ষণ ও স্থায়ীকরণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্রে উল্লিখিত শর্তাদি যথারীতি প্রতিপালন করা হয় না। এমনকি প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি ও সাংগঠনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠান প্রধান ও প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সচিব বা সিনিয়র সচিবের স্বাক্ষর থাকে না। এছাড়া ২০১২ সালের ১১ই নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের এক সারসংক্ষেপ নিয়ে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এজন্য সারসংক্ষেপ তৈরিতে আরও সতর্কতা এবং পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে নথি পাঠানোর অনুরোধ করে একটি আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি, প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপে ভুল-ভ্রান্তি থাকায় তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানোর ঘটনা অহরহই ঘটছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে চলেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিজেরা সামারি তৈরি না করার কারণে একই ভুল বার বার থেকে যাচ্ছে। কারণ যারা সামারি তৈরি করছে তারা বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন না। এজন্য একই ভুল থেকে যাচ্ছে।
Friday, April 26, 2019
বিদেশ ফেরত তরুণদের ওপর নজরদারি: ৪৫ জনের তালিকা by দীন ইসলাম

ভিনদেশি
পাসপোর্টধারি বিদেশ ফেরত বাংলাদেশিদের নজরদারীতে আনতে নির্দেশনা দেয়া
হয়েছে। এরই মধ্যে এ নির্দেশনা দেশের সব বিমানবন্দর, স্থলবন্দরগুলোতে পৌঁছে
দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ থেকে নিখোঁজ হওয়া ৪৫ জনের
তালিকা বন্দরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। সূত্রমতে, সরকারের তরফ থেকে এসব
নির্দেশনা পৌঁছার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষগুলো এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট ও শোলাকিয়া
ঈদগাহে হামলায় বিদেশে পড়ুয়া বাংলাদেশের তরুণদের জড়িত থাকার ঘটনা প্রকাশ
হওয়ার পর থেকেই বিমানবন্দরগুলোতে বাংলাদেশি ছাত্র ও তরুণদের উপর নজরদারি
বাড়ানো হয়।
কারণ সরকারের সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে খবর রয়েছে, ইংরেজি মাধ্যমে পড়া এবং এরপর উচ্চ শিক্ষার্থে বাংলাদেশের তরুণরা কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে পড়তে যাওয়ার পর সে দেশের নাগরিকত্ব পান। এরপর তাদের মধ্যে কেউ কেউ জঙ্গিবাদমূলক নানা কাজে জড়িয়ে পড়ে। তখন উন্নত দেশের পাসপোর্ট নিয়ে মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন তারা পোর্ট এন্ট্রি ভিসা নিয়ে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে পড়তে গিয়ে ভিনদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ফিরছেন এমন ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তাই ভিনদেশি পাসপোর্টে তরুণদের পোর্ট এন্ট্রি ভিসা দেয়ার সময় কর্মকর্তারা তার আদ্যোপান্ত যাচাই বাছাই করছেন। এরপর সন্তুষ্ট হলে তবেই ওই সব তরুণদের পোর্ট এন্ট্রি ভিসা দিচ্ছেন। তুরস্কসহ মধ্য প্রাচ্যের কয়েকটি দেশের বিমানবন্দর দিয়ে যেসব বাংলাদেশি তরুণরা যাতায়াত করছেন তাদের উপর নজরদারি করা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে তুরস্কগামীদের ওপর বাড়তি গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া যারা তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে আসছেন তাদের ওপরও গোয়েন্দারা নজর রাখছেন। ‘বাংলাদেশি জিহাদি গ্রুপ’ নামে একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম দেখার পরই এ নির্দেশনা দেয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক বাংলাদেশি তরুণ আফগানিস্তান, পাকিস্তানে গিয়ে উগ্রপন্থিদের হয়ে যুদ্ধ করেছেন।
এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার দেশে ফেরত আসেন। অনেকে বিদেশে গিয়ে ধরা পড়েন। কেউ সেখানে নিহত হন। যারা ফিরেছেন তাদেরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যারা এখনও ফেরেননি তাদের সংখ্যা ৪৫ জন। বাড়িতে না ফেরা তরুণদের তালিকা তৈরি করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও র্যাব। এরই মধ্যে কাউন্টার টেরোরিজম তাদের তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠিয়ে দিয়েছে। গত রোববার শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় এ পর্যন্ত ৩৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ হামলায় শ্রীলঙ্কার স্থানীয়রা অংশ নেয় যাদের কেউ কেউ উচ্চ শিক্ষিত এবং বিদেশে পড়াশোনা করেছে। ওই ঘটনার পর বাংলাদেশের গোয়েন্দারা নজরদারি তৎপরতা আরও বাড়িয়েছেন। সার্বিক বিষয়ে সতর্ক থাকতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
কারণ সরকারের সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে খবর রয়েছে, ইংরেজি মাধ্যমে পড়া এবং এরপর উচ্চ শিক্ষার্থে বাংলাদেশের তরুণরা কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে পড়তে যাওয়ার পর সে দেশের নাগরিকত্ব পান। এরপর তাদের মধ্যে কেউ কেউ জঙ্গিবাদমূলক নানা কাজে জড়িয়ে পড়ে। তখন উন্নত দেশের পাসপোর্ট নিয়ে মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন তারা পোর্ট এন্ট্রি ভিসা নিয়ে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে পড়তে গিয়ে ভিনদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ফিরছেন এমন ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তাই ভিনদেশি পাসপোর্টে তরুণদের পোর্ট এন্ট্রি ভিসা দেয়ার সময় কর্মকর্তারা তার আদ্যোপান্ত যাচাই বাছাই করছেন। এরপর সন্তুষ্ট হলে তবেই ওই সব তরুণদের পোর্ট এন্ট্রি ভিসা দিচ্ছেন। তুরস্কসহ মধ্য প্রাচ্যের কয়েকটি দেশের বিমানবন্দর দিয়ে যেসব বাংলাদেশি তরুণরা যাতায়াত করছেন তাদের উপর নজরদারি করা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে তুরস্কগামীদের ওপর বাড়তি গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া যারা তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে আসছেন তাদের ওপরও গোয়েন্দারা নজর রাখছেন। ‘বাংলাদেশি জিহাদি গ্রুপ’ নামে একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম দেখার পরই এ নির্দেশনা দেয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক বাংলাদেশি তরুণ আফগানিস্তান, পাকিস্তানে গিয়ে উগ্রপন্থিদের হয়ে যুদ্ধ করেছেন।
এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার দেশে ফেরত আসেন। অনেকে বিদেশে গিয়ে ধরা পড়েন। কেউ সেখানে নিহত হন। যারা ফিরেছেন তাদেরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যারা এখনও ফেরেননি তাদের সংখ্যা ৪৫ জন। বাড়িতে না ফেরা তরুণদের তালিকা তৈরি করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও র্যাব। এরই মধ্যে কাউন্টার টেরোরিজম তাদের তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠিয়ে দিয়েছে। গত রোববার শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় এ পর্যন্ত ৩৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ হামলায় শ্রীলঙ্কার স্থানীয়রা অংশ নেয় যাদের কেউ কেউ উচ্চ শিক্ষিত এবং বিদেশে পড়াশোনা করেছে। ওই ঘটনার পর বাংলাদেশের গোয়েন্দারা নজরদারি তৎপরতা আরও বাড়িয়েছেন। সার্বিক বিষয়ে সতর্ক থাকতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
Thursday, April 18, 2019
এপিএসের লেখা প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীর সই নিয়ম নেই তবুও... by দীন ইসলাম

নিজের
সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. আতিকুর রহমানের লেখা প্রাথমিক বিদ্যালয়
পরিদর্শন প্রতিবেদনে সই করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির
হোসেন। শুধু তাই নয়, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রতিমন্ত্রীর এপিএস প্রাথমিক
বিদ্যালয় পরিদর্শন করে চলেছেন। অনুপস্থিত শিক্ষকদের নিয়ে নানা মন্তব্য
লিখছেন। এনিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা
ক্ষুব্ধ। প্রতিমন্ত্রী ও এপিএসের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন যাচাই করে দেখা যায়,
দুটি প্রতিবেদনই একজন ব্যক্তির হাতের লেখা। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া
তথ্যে জানা গেছে, গত ৯ই মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির
হোসেন নাখালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনে গিয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতে এপিএসকে ডাকেন প্রতিমন্ত্রী। তার নির্দেশনা অনুযায়ি প্রতিমন্ত্রী’র নাম ও পদবী উল্লেখ করে এপিএস লেখেন, ০৯/০৩/২০১৯ হঠাৎ বিদ্যালয় পরির্দশন করে দেখতে পেলাম রিতা রানী সরকার, সহকারি শিক্ষিকা ২০১৭ সাল থেকে অদ্য পর্যন্ত অনুপস্থিত।
হাজিরা খাতায় দেখা যায় তিনি মুন্সিগঞ্জে ডেপুটেশনে আছেন। কিন্তু কোন কাগজপত্র অফিসিয়ালি নেই।
রিতা রানী সরকার মুন্সিগঞ্জের ডিপিইও-এর স্ত্রী। ডিপিইও-এর স্ত্রী হিসেবে সে খুব ক্ষমতাধর তাই তিনি স্বামীর সঙ্গে ঘুরে বেড়ান। ঘটনা ফাঁস হওয়ায় ডিপিইও মুন্সিগঞ্জ তাপস কুমার অধিকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপ-পরিচালক (ডিডি)- কে দিয়ে ব্যাকডেটে একটি আদেশ করিয়েছেন। জেলা চেঞ্জ-এ ডিডি’র ডেপুটেশন দেয়ার ক্ষমতা নেই। তাই ডিপিইও ঢাকা জরুরি ভিত্তিতে রিতাকে সাসপেন্ড করুন এবং টিইও +এটিইওকে শোকজ করুন।’ প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর প্রতিবেদন লেখার পর তাতে এপিএস নিজেই সিল মারেন। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে এপিএস আতিকুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে প্রতিবেদনটি আমি লিখে দিয়েছি। সেখানেই প্রতিমন্ত্রী সই করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ি রিতাকে এরই মধ্যে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে টিইও ও এটিইওকে শোকজ করা হয়েছে। এখন তারা শোকজের জবাব দেননি। এদিকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সহকারি একান্ত সচিব (এপিএস)-দের সরকারি অফিস পরিদর্শনের নিয়ম নেই। এ নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে ১৩ই মার্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এপিএস মো. আতিকুর রহমান। এরপর বিদ্যালয়ের পরিদর্শন বইতে নিজের নাম ও পদবী উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশিত হয়ে ১৩/৩/১৯ ইং দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বিজি প্রেস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে দেখতে পাই, অত্র বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা হাফসা তামান্না চৈতি গত ০১/১০/২০১৮ ইং থেকে অদ্য ১৩/৩/২০১৯ ইং পর্যন্ত স্কুলে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত রয়েছেন।
তেজগাঁও থানা শিক্ষা অফিসার মইনুল হোসেন সাহেবের মাধ্যমে জানতে পারলাম শিক্ষিকতা তামান্না চৈতি এখন পর্যন্ত সাসপেন্ড হয় নাই। তাই এ বিষয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে ফোনে আমি বিষয়টি অবহিত করলে তিনি আমাকে পরির্দশন খাতায় বিষয়টি লিপিবদ্ধ করে তামান্না চৈতিকে সাসপেন্ড করে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ডিপিইও ঢাকাকে অনুরোধ করতে বলেন। বিধায় আমি ডিপিইও ঢাকাকে অনুরোধ করছি জরুরি ভিত্তিতে তামান্না চৈতিকে সাসপেন্ড করে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিন এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরকে অবহিত করুন। এদিকে বিদ্যালয়টি’র হাজিরা খাতায় হাফসা তামান্না চৈতির ঘরে এপিএস লিখেছেন, বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত, ফাঁকিবাজ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাফসা তামান্না চৈতি এরই মধ্যে চাকুরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে ডিপিইও’র কাছে চিঠি দিয়েছেন। এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে এপিএস আতিকুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে বিদ্যালয়টি আমি পরির্দশনে যাই। আমি পরিদর্শন প্রতিবেদনেও সেই কথাটি উল্লেখ করি।
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপিএসদের মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কাজের তদারকিতে কোন ভূমিকা থাকবে না। তারা মন্ত্রীসভার সদস্যদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করবেন। এর আগে একান্ত সচিব (পিএস)রা মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের পক্ষে নোট লিখতেন। এজন্য ২০০৩ সালের ৩ রা সেপ্টেম্বর একটি আদেশ জারি করে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. সা’দত হুসাইন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, কতিপয় মন্ত্রণালয়ের নথিতে সচিবের নোটের উপর মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের একান্ত সচিবরা নোট লিখেন; সচিবকে নির্দেশ দেন। এটা সচিবালয়ের রীতি-পদ্ধতির পরিপন্থি। এই আচরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলার সংহারক। এই ধরনের গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর একান্ত সচিবদের অনুরোধ করা হল। কোন একান্ত সচিব এই ধরনের নোট লিখলে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর নজরে আনবেন এবং একান্ত সচিবকে নথিতে নোট না লেখার জন্য উপদেশ দেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের এমন নির্দেশনার কথা জানা নেই মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্যদের পিএস-এপিএসদের।
পরিদর্শনে গিয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতে এপিএসকে ডাকেন প্রতিমন্ত্রী। তার নির্দেশনা অনুযায়ি প্রতিমন্ত্রী’র নাম ও পদবী উল্লেখ করে এপিএস লেখেন, ০৯/০৩/২০১৯ হঠাৎ বিদ্যালয় পরির্দশন করে দেখতে পেলাম রিতা রানী সরকার, সহকারি শিক্ষিকা ২০১৭ সাল থেকে অদ্য পর্যন্ত অনুপস্থিত।
হাজিরা খাতায় দেখা যায় তিনি মুন্সিগঞ্জে ডেপুটেশনে আছেন। কিন্তু কোন কাগজপত্র অফিসিয়ালি নেই।
রিতা রানী সরকার মুন্সিগঞ্জের ডিপিইও-এর স্ত্রী। ডিপিইও-এর স্ত্রী হিসেবে সে খুব ক্ষমতাধর তাই তিনি স্বামীর সঙ্গে ঘুরে বেড়ান। ঘটনা ফাঁস হওয়ায় ডিপিইও মুন্সিগঞ্জ তাপস কুমার অধিকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপ-পরিচালক (ডিডি)- কে দিয়ে ব্যাকডেটে একটি আদেশ করিয়েছেন। জেলা চেঞ্জ-এ ডিডি’র ডেপুটেশন দেয়ার ক্ষমতা নেই। তাই ডিপিইও ঢাকা জরুরি ভিত্তিতে রিতাকে সাসপেন্ড করুন এবং টিইও +এটিইওকে শোকজ করুন।’ প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর প্রতিবেদন লেখার পর তাতে এপিএস নিজেই সিল মারেন। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে এপিএস আতিকুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে প্রতিবেদনটি আমি লিখে দিয়েছি। সেখানেই প্রতিমন্ত্রী সই করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ি রিতাকে এরই মধ্যে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে টিইও ও এটিইওকে শোকজ করা হয়েছে। এখন তারা শোকজের জবাব দেননি। এদিকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সহকারি একান্ত সচিব (এপিএস)-দের সরকারি অফিস পরিদর্শনের নিয়ম নেই। এ নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে ১৩ই মার্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এপিএস মো. আতিকুর রহমান। এরপর বিদ্যালয়ের পরিদর্শন বইতে নিজের নাম ও পদবী উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশিত হয়ে ১৩/৩/১৯ ইং দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বিজি প্রেস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে দেখতে পাই, অত্র বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা হাফসা তামান্না চৈতি গত ০১/১০/২০১৮ ইং থেকে অদ্য ১৩/৩/২০১৯ ইং পর্যন্ত স্কুলে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত রয়েছেন।
তেজগাঁও থানা শিক্ষা অফিসার মইনুল হোসেন সাহেবের মাধ্যমে জানতে পারলাম শিক্ষিকতা তামান্না চৈতি এখন পর্যন্ত সাসপেন্ড হয় নাই। তাই এ বিষয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে ফোনে আমি বিষয়টি অবহিত করলে তিনি আমাকে পরির্দশন খাতায় বিষয়টি লিপিবদ্ধ করে তামান্না চৈতিকে সাসপেন্ড করে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ডিপিইও ঢাকাকে অনুরোধ করতে বলেন। বিধায় আমি ডিপিইও ঢাকাকে অনুরোধ করছি জরুরি ভিত্তিতে তামান্না চৈতিকে সাসপেন্ড করে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিন এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরকে অবহিত করুন। এদিকে বিদ্যালয়টি’র হাজিরা খাতায় হাফসা তামান্না চৈতির ঘরে এপিএস লিখেছেন, বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত, ফাঁকিবাজ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাফসা তামান্না চৈতি এরই মধ্যে চাকুরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে ডিপিইও’র কাছে চিঠি দিয়েছেন। এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে এপিএস আতিকুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে বিদ্যালয়টি আমি পরির্দশনে যাই। আমি পরিদর্শন প্রতিবেদনেও সেই কথাটি উল্লেখ করি।
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপিএসদের মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কাজের তদারকিতে কোন ভূমিকা থাকবে না। তারা মন্ত্রীসভার সদস্যদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করবেন। এর আগে একান্ত সচিব (পিএস)রা মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের পক্ষে নোট লিখতেন। এজন্য ২০০৩ সালের ৩ রা সেপ্টেম্বর একটি আদেশ জারি করে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. সা’দত হুসাইন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, কতিপয় মন্ত্রণালয়ের নথিতে সচিবের নোটের উপর মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের একান্ত সচিবরা নোট লিখেন; সচিবকে নির্দেশ দেন। এটা সচিবালয়ের রীতি-পদ্ধতির পরিপন্থি। এই আচরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলার সংহারক। এই ধরনের গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর একান্ত সচিবদের অনুরোধ করা হল। কোন একান্ত সচিব এই ধরনের নোট লিখলে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর নজরে আনবেন এবং একান্ত সচিবকে নথিতে নোট না লেখার জন্য উপদেশ দেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের এমন নির্দেশনার কথা জানা নেই মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্যদের পিএস-এপিএসদের।
Thursday, April 11, 2019
পাসপোর্ট পেতে প্রবাসীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, চরম দুর্ভোগ by দীন ইসলাম

পাসপোর্ট পেতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। যা অনাকাঙ্খিত।
এদিকে মাহমুদ হাসানের মতো এমন শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও পাসপোর্ট পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও পাসপোর্ট মিলছে না। আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসে খোঁজ নিতে গেলে মুখস্ত বলে দেয়া হয় আপনার রিপোর্টটি এখনও আমাদের হাতে আসেনি। তখন এসবি’র কাছ থেকে নেয়া তদন্ত রিপোর্টের প্রিন্ট কপি দেখালে চুপসে যান পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তড়িঘড়ি করে তদন্ত রিপোর্ট পাসপোর্ট আবেদনের সঙ্গে রাখা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, ইতালির রোম ও মিলান, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন মিশনে জমা পড়া আবেদন মাসের পর মাস পড়ে থাকছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের আত্মীয়-স্বজনরা ঢাকার পাসপোর্ট অফিসে তদবির না করলে জট যেন খুলছে না। পাসপোর্ট পেতে দেরি হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে এরই মধ্যে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এসব চিঠিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট পেতে নানা ঝক্কি ঝামেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি পাসপোর্ট পেতে দেরি হওয়ার কারণে বিদেশি শ্রম বাজারে কি ধরনের সমস্যার মুখে বাংলাদেশিরা পড়ছেন তাও উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সময় মতো পাসপোর্ট না পেয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা দূতাবাস কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। এজন্য অনেকটা বাধ্য হয়ে গত ১লা এপ্রিল রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটি চিঠি দিয়েছে। দূতাবাসের প্রথম সচিব কাজী নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে রিয়াদ মিশনে স্বল্প সময়ে পাসপোর্ট সরবরাহের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানানো হয়। এতে জানানো হয়, এ বছরের মার্চ থেকে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে রিয়াদ মিশনে অনিয়মিতভাবে পাসপোর্ট সরবরাহ করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ১০ হাজার ৫১২টি পাসপোর্টের আবেদনের বিপরীতে গেল মার্চ মাসে মাত্র পাঁচ হাজার ১৪০ টি পাসপোর্ট সরবরাহ করা হয়েছে। এটি চাহিদার ৫০ শতাংশেরও কম। এমআরপি অনলাইন সিস্টেম পরীক্ষান্তে দেখা যায়, প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগের অনেক আবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তরে প্রিন্টের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।
আবেদনের অনেক দিন পরেও পাসপোর্ট না পেয়ে অনেক প্রবাসী দূতাবাসে এসে অসৌজন্যমূলক আচরন করছেন। দূতাবাসের চিঠিতে জানানো হয়, মেয়াদ উত্তীর্ণ পাসপোর্ট ইকামা নবায়নে গৃহিত না হওয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে চাকুরিরত হাজার হাজার প্রবাসি পাসপোর্টের অভাবে চাকুরি হারানোর ঝুঁকিতে আছে। এছাড়া ঠিক সময়ে ইকামা নবায়ন করতে না পারায় প্রবাসীদের জরিমানা দিতে হচ্ছে। তাই জনস্বার্থে স্বল্প সময়ে রিয়াদ দূতাবাসে পাসপোর্ট সরবরাহের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এদিকে ইতালির রোম ও মিলানে গেল বছরের জুনে পাসপোর্টের আবেদন জমা দেন শিশু বায়েজিদ মিয়া ও তানহা রহমান এর অভিভাবক। এরপর থেকে নিজেদের পাসপোর্টের জন্য নয় মাস ঘুরেছেন।
গেল মাসের শেষ দিকে আকাঙ্খিত পাসপোর্ট পেয়েছেন তারা। তারা জানান, পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার পর কী কারণে এতো দিন লাগলো তা কেউ বলতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগের এক পর্যায়ে পাসপোর্ট ইতালিতে পাঠানো হয়। এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট দেরিতে পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে চিঠি পাচ্ছে সুরক্ষা সেবা বিভাগ।
Friday, April 5, 2019
বহুতল ভবনে পদে পদে জালিয়াতি by দীন ইসলাম

বহুতল
ভবনের নকশা যাচাই করতে গিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)- এর
কর্মকর্তাদের চোখ কপালে। অনুমোদিত নকশার সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে ভবনের
কোনো মিল পাচ্ছে না রাজউকের টিমগুলো। ৯৯ ভাগ ভবনেই নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে
ডেভিয়েশন করা হয়েছে। বেশির ভাগ হাইরাইজ ভবনে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা রাখা
হয়নি। ৯৯ ভাগ ভবনই অকুপেন্সি সার্টিফিকেট (ভবন ব্যবহারের সনদ) দেখাতে
পারেনি। গুলশান, বনানী, মহাখালী ও মতিঝিলের হাইরাইজ ভবনগুলোর নকশা দেখতে
গিয়ে এমন অবস্থা দেখছেন রাজউকের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ছিল রাজউকের উঁচু ভবন পরিদর্শনের তৃতীয় দিন। রাজউকের আটটি অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে গঠিত ২৪টি দল এই পরিদর্শনের কাজ করছে।
দলগুলো নকশানুযায়ী ভবনের বিভিন্ন তথ্য নথিভুক্ত করছে। কোনো কোনো অঞ্চলে পরিদর্শন চলছে সন্ধ্যা পর্যন্ত। নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মিত হয়েছে কিনা এবং অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিকভাবে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে রাজউকের টিমগুলো। পরিদর্শনের সময় বেশিরভাগ ভবনে রাজউক অনুমোদিত নকশার গরমিল এবং অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থায় দুর্বলতা খুঁজে পাচ্ছেন পরিদর্শনকারীরা। গুলশান ও বনানী এলাকার ভবনগুলো নির্মাণে সবচেয়ে বেশি ডেভিয়েশন করা হয়েছে। এছাড়া এসব ভবন রক্ষণাবেক্ষণে নানা ক্রটি লক্ষ্য করা গেছে। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, আমি এখনও হাইরাইজ ভবনগুলোর অবস্থা সর্ম্পকে জানি না। ১৫ দিন পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন টিমগুলো রিপোর্ট করলে বাস্তব চিত্র জানতে পারবো।
এর আগে বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর হাইরাইজ ভবন পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ১৫ দিনের মধ্যে রাজউকের আওতাধীন এলাকায় ১০ তলার ওপরের ভবনগুলোর পরিদর্শনকাজ শেষ করতে বলা হয়। জোন-৫ সূত্রে জানা গেছে, গতকালও তারা ধানমন্ডি এলাকার বহুতল ভবন পরিদর্শন করেছেন। এ পর্যন্ত ৩০ টি ভবন পরিদর্শন করেন তারা। এ সময় তারা ভবনগুলোর ক্রটি’র তথ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি কোন ভবনে কি ব্যত্যয় ঘটেছে তা ছক আকারে লিপিবদ্ধ করেন। জোন-৫ এর একজন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, আপাতত আমরা ভবনের ক্রটিগুলো চিহ্নিত করছি। ক্রুটি পাওয়া ভবনগুলোর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে এ বিষয়ে পরবর্তীতে রাজউক সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য ভবনগুলোতে আমরা নির্দেশনা দিয়ে আসছি।
তবে বড় সমস্যাগুলোর জন্য রাজউক কি ব্যবস্থা নেবে তা পরে ঠিক করবেন নীতি নির্ধারকরা। ধানমন্ডির বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে ব্যাংক, রেঁস্তোরা ও ইনস্যুরেন্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বেশ কয়েকটি ভবনে রেস্টুরেন্ট ছাড়া কিছু নেই। এসব রেস্টুরেন্টে সিলিন্ডার ব্যবহার হচ্ছে। অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থাও ঠিকভাবে রাখা হয়নি। বিভিন্ন ভবনে পার্কিংয়ের জায়গায় জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। অনেক পার্কিংয়ে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা আছে। এছাড়া বিভিন্ন অব্যবহৃত কাঁচের পণ্য, চেয়ার ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখা হয়েছে। জোন-৩-এ গতকাল তিনটি দলে ভাগ হয়ে নারায়ণগঞ্জের বিবি রোড, নিতাইগঞ্জ, চাষাঢ়া, ফতুল্লা কালীবাড়ি এলাকায় বিভিন্ন ভবনের তথ্য সংগ্রহ করে। রাজউক অনুমোদিত নকশা মিলিয়ে বেসমেন্ট পার্কিং হিসেবে ব্যবহার করা, র্যাম্পের খারাপ অবস্থা, অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা না রাখাসহ বেশ কিছু ভবনের ব্যত্যয় পায় রাজউক। এদিকে জোন-২ গত তিন দিনে ২৯ টি হাইরাইজ ভবনের তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে তিনটি নির্মানাধীন বহুতল ভবন রয়েছে।
৯৮ সালে অনুমোদিত নকশায় গরমিল দেখতে পেয়েছে এসব টিম। জোন-২/১ এর অথরাইজ অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, হাইরাইজ ভবনের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করছি আমরা। এগুলো একসঙ্গে করার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমাদের টিমগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে আলোচিত এফআর টাওয়ারের পাশের ভবনগুলোর নকশা অনুমোদন নিয়ে নানা ঘাপলা রয়েছে। গতকাল বনানীতে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ডা. এইচবিএম ইকবাল- এর মালিকানাধীন ইকবাল সেন্টার পরিদর্শন করে রাজউকের টিম।
তারা দেখতে পায় ইকবাল সেন্টারটি ২৩ তলা। রাজউকের অনুমোদিত নকশায় ভবনটি ১৮ তলা পর্যন্ত নির্মাণের বৈধতা রয়েছে। কিন্তু নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে আরো অতিরিক্ত ৫তলা বানানো হয়। গতকাল রাজউকের টিম সরজমিনে দেখতে পায়, রাজউক ১৮তলার নকশা অনুমোদন দিয়েছে। তারা নকশার নির্দেশনা মানেনি। অতিরিক্ত ৫ তলার জন্য ২০১৫ সালে রাজউক বরাবর অনুমোদনের জন্য একটি আবেদন করা হয়। যেটি বাতিল করে দেয় রাজউক। পরে তারা নিয়ম বহির্ভূতভাবেই ভবনটির এসব তলা পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া ভবনটিতে রয়েছে একটি মাত্র সিঁড়ি। অগ্নি-নিরাপত্তা সিঁড়ি তৈরি করা হয়নি। নেই ভবনের সামনে পিছনে ফুটপাথের জন্য খালি রাখার নির্দিষ্ট জায়গা। রাজউকের এ টিমটি ভবন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দ্রুত অপসারণ করতে বলেছে।
বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই রাজউক নড়েচরে বসে। আটটি জোনের অধীনে ২৪ টিম রাজধানীর ১০তলার উপরের বহুতল ভবন পরিদর্শনে নামে। এফআর টাওয়ারের পার্শ্ববর্তী ভবনগুলো পরিদর্শন করে রাজউকের অঞ্চল-৪ এর অধীনে একটি টিম। টিমটির নেতৃত্বে রয়েছেন অঞ্চল-৪ এর পরিচালক মামুন মিয়া। তার নেতৃত্বেই গতকাল এফআর টাওয়ারের পাশের আউয়াল সেন্টার থেকে পরিদর্শন শুরু করে। এ ভবনটিতে মঙ্গলবারও রাজউকের টিমটি পরিদর্শনে যায়। তখন তারা ভবনের নকশা দেখাতে ব্যর্থ হয়। গতকালও তারা নকশা দেখাতে পারেনি। এ ভবনটির উচ্চতা ২৩ তলা। যা রাজউকের অনুমোদন বহির্ভূত। পরিদর্শন শেষ হলেই রাজউক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বলে জানায়।
এরপাশের ভবন ডেলটা ডালিয়া। উচ্চতা ১৬ তলা। উপরের কয়েকটি তলা আবাসিকের অনুমতি নিয়ে সেখানেও পরিচালনা করছে বাণিজ্যিক। নেই কোনো অগ্নি নিরাপত্তা সিঁড়ি। নকশায় ভবনের নিচের তলা খোলা থাকার কথা থাকলেও তা নেই। ভবনের সামনে রয়েছে ব্যাংকের বুথ। যেটি নকশায় নেই।
পাশের ব্লু ওশেন ভবন। বহুতল এ ভবনটির উচ্চতা ২১ তলা। ভবনের সামনে ফুটপাথ থেকে খালি রাখার জায়গা থাকার কথা থাকলেও তা নেই। নকশার সম্পূর্ণ ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিঁড়ির স্থানে লিফট আর লিফটের স্থানে তৈরি করা হয়েছে সিঁড়ি। ভবনটিতে অগ্নিনির্গমন সিড়িও নেই। এছাড়া ভবনটির ২০ ও ২১ তলায় আবাসিক অনুমোদন থাকলেও ওই তলা গুলোও বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা হচ্ছে। যদিও রাজউক বলছে বনানী-গুলশান এলাকায় ১৮/১৯ তলার উপরে বহুতল ভবনের অনুমোদন নেই।
রাজউকের টিমটি বনানী সুপার মার্কেট সংলগ্ন সুইট ড্রিমস ভবন পরিদর্শন করে। এ ভবনটিতে পরিচালনা করা হচ্ছে সুইট ড্রিমস হোটেল। রাজউক ভবনটির ১৬ তলার নকশার অনুমোদন দেয়।
কিন্তু ভবনটি তৈরি করা হয়েছে ১৮ তলা। ভবনটির চূড়ার দুই তলা তৈরি করা হয়েছে কাঠ ও টিন দিয়ে। ভবনের ছাদে উঠার সিঁড়ির জন্য প্রশস্থ জায়গা নেই। এছাড়া ভবনে রয়েছে একটি মাত্র সিঁড়ি। নকশায় অগ্নিনির্গমন পথ নেই। প্রথম তলা খোলা জায়গা থাকার কথা থাকলেও সেটা রাখা হয়নি, ভবনের সামনে রয়েছে দু’টি ব্যাংকের বুথ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ছিল রাজউকের উঁচু ভবন পরিদর্শনের তৃতীয় দিন। রাজউকের আটটি অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে গঠিত ২৪টি দল এই পরিদর্শনের কাজ করছে।
দলগুলো নকশানুযায়ী ভবনের বিভিন্ন তথ্য নথিভুক্ত করছে। কোনো কোনো অঞ্চলে পরিদর্শন চলছে সন্ধ্যা পর্যন্ত। নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মিত হয়েছে কিনা এবং অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিকভাবে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে রাজউকের টিমগুলো। পরিদর্শনের সময় বেশিরভাগ ভবনে রাজউক অনুমোদিত নকশার গরমিল এবং অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থায় দুর্বলতা খুঁজে পাচ্ছেন পরিদর্শনকারীরা। গুলশান ও বনানী এলাকার ভবনগুলো নির্মাণে সবচেয়ে বেশি ডেভিয়েশন করা হয়েছে। এছাড়া এসব ভবন রক্ষণাবেক্ষণে নানা ক্রটি লক্ষ্য করা গেছে। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, আমি এখনও হাইরাইজ ভবনগুলোর অবস্থা সর্ম্পকে জানি না। ১৫ দিন পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন টিমগুলো রিপোর্ট করলে বাস্তব চিত্র জানতে পারবো।
এর আগে বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর হাইরাইজ ভবন পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ১৫ দিনের মধ্যে রাজউকের আওতাধীন এলাকায় ১০ তলার ওপরের ভবনগুলোর পরিদর্শনকাজ শেষ করতে বলা হয়। জোন-৫ সূত্রে জানা গেছে, গতকালও তারা ধানমন্ডি এলাকার বহুতল ভবন পরিদর্শন করেছেন। এ পর্যন্ত ৩০ টি ভবন পরিদর্শন করেন তারা। এ সময় তারা ভবনগুলোর ক্রটি’র তথ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি কোন ভবনে কি ব্যত্যয় ঘটেছে তা ছক আকারে লিপিবদ্ধ করেন। জোন-৫ এর একজন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, আপাতত আমরা ভবনের ক্রটিগুলো চিহ্নিত করছি। ক্রুটি পাওয়া ভবনগুলোর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে এ বিষয়ে পরবর্তীতে রাজউক সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য ভবনগুলোতে আমরা নির্দেশনা দিয়ে আসছি।
তবে বড় সমস্যাগুলোর জন্য রাজউক কি ব্যবস্থা নেবে তা পরে ঠিক করবেন নীতি নির্ধারকরা। ধানমন্ডির বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে ব্যাংক, রেঁস্তোরা ও ইনস্যুরেন্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বেশ কয়েকটি ভবনে রেস্টুরেন্ট ছাড়া কিছু নেই। এসব রেস্টুরেন্টে সিলিন্ডার ব্যবহার হচ্ছে। অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থাও ঠিকভাবে রাখা হয়নি। বিভিন্ন ভবনে পার্কিংয়ের জায়গায় জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। অনেক পার্কিংয়ে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা আছে। এছাড়া বিভিন্ন অব্যবহৃত কাঁচের পণ্য, চেয়ার ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখা হয়েছে। জোন-৩-এ গতকাল তিনটি দলে ভাগ হয়ে নারায়ণগঞ্জের বিবি রোড, নিতাইগঞ্জ, চাষাঢ়া, ফতুল্লা কালীবাড়ি এলাকায় বিভিন্ন ভবনের তথ্য সংগ্রহ করে। রাজউক অনুমোদিত নকশা মিলিয়ে বেসমেন্ট পার্কিং হিসেবে ব্যবহার করা, র্যাম্পের খারাপ অবস্থা, অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা না রাখাসহ বেশ কিছু ভবনের ব্যত্যয় পায় রাজউক। এদিকে জোন-২ গত তিন দিনে ২৯ টি হাইরাইজ ভবনের তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে তিনটি নির্মানাধীন বহুতল ভবন রয়েছে।
৯৮ সালে অনুমোদিত নকশায় গরমিল দেখতে পেয়েছে এসব টিম। জোন-২/১ এর অথরাইজ অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, হাইরাইজ ভবনের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করছি আমরা। এগুলো একসঙ্গে করার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমাদের টিমগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে আলোচিত এফআর টাওয়ারের পাশের ভবনগুলোর নকশা অনুমোদন নিয়ে নানা ঘাপলা রয়েছে। গতকাল বনানীতে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ডা. এইচবিএম ইকবাল- এর মালিকানাধীন ইকবাল সেন্টার পরিদর্শন করে রাজউকের টিম।
তারা দেখতে পায় ইকবাল সেন্টারটি ২৩ তলা। রাজউকের অনুমোদিত নকশায় ভবনটি ১৮ তলা পর্যন্ত নির্মাণের বৈধতা রয়েছে। কিন্তু নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে আরো অতিরিক্ত ৫তলা বানানো হয়। গতকাল রাজউকের টিম সরজমিনে দেখতে পায়, রাজউক ১৮তলার নকশা অনুমোদন দিয়েছে। তারা নকশার নির্দেশনা মানেনি। অতিরিক্ত ৫ তলার জন্য ২০১৫ সালে রাজউক বরাবর অনুমোদনের জন্য একটি আবেদন করা হয়। যেটি বাতিল করে দেয় রাজউক। পরে তারা নিয়ম বহির্ভূতভাবেই ভবনটির এসব তলা পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া ভবনটিতে রয়েছে একটি মাত্র সিঁড়ি। অগ্নি-নিরাপত্তা সিঁড়ি তৈরি করা হয়নি। নেই ভবনের সামনে পিছনে ফুটপাথের জন্য খালি রাখার নির্দিষ্ট জায়গা। রাজউকের এ টিমটি ভবন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দ্রুত অপসারণ করতে বলেছে।
বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই রাজউক নড়েচরে বসে। আটটি জোনের অধীনে ২৪ টিম রাজধানীর ১০তলার উপরের বহুতল ভবন পরিদর্শনে নামে। এফআর টাওয়ারের পার্শ্ববর্তী ভবনগুলো পরিদর্শন করে রাজউকের অঞ্চল-৪ এর অধীনে একটি টিম। টিমটির নেতৃত্বে রয়েছেন অঞ্চল-৪ এর পরিচালক মামুন মিয়া। তার নেতৃত্বেই গতকাল এফআর টাওয়ারের পাশের আউয়াল সেন্টার থেকে পরিদর্শন শুরু করে। এ ভবনটিতে মঙ্গলবারও রাজউকের টিমটি পরিদর্শনে যায়। তখন তারা ভবনের নকশা দেখাতে ব্যর্থ হয়। গতকালও তারা নকশা দেখাতে পারেনি। এ ভবনটির উচ্চতা ২৩ তলা। যা রাজউকের অনুমোদন বহির্ভূত। পরিদর্শন শেষ হলেই রাজউক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বলে জানায়।
এরপাশের ভবন ডেলটা ডালিয়া। উচ্চতা ১৬ তলা। উপরের কয়েকটি তলা আবাসিকের অনুমতি নিয়ে সেখানেও পরিচালনা করছে বাণিজ্যিক। নেই কোনো অগ্নি নিরাপত্তা সিঁড়ি। নকশায় ভবনের নিচের তলা খোলা থাকার কথা থাকলেও তা নেই। ভবনের সামনে রয়েছে ব্যাংকের বুথ। যেটি নকশায় নেই।
পাশের ব্লু ওশেন ভবন। বহুতল এ ভবনটির উচ্চতা ২১ তলা। ভবনের সামনে ফুটপাথ থেকে খালি রাখার জায়গা থাকার কথা থাকলেও তা নেই। নকশার সম্পূর্ণ ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিঁড়ির স্থানে লিফট আর লিফটের স্থানে তৈরি করা হয়েছে সিঁড়ি। ভবনটিতে অগ্নিনির্গমন সিড়িও নেই। এছাড়া ভবনটির ২০ ও ২১ তলায় আবাসিক অনুমোদন থাকলেও ওই তলা গুলোও বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা হচ্ছে। যদিও রাজউক বলছে বনানী-গুলশান এলাকায় ১৮/১৯ তলার উপরে বহুতল ভবনের অনুমোদন নেই।
রাজউকের টিমটি বনানী সুপার মার্কেট সংলগ্ন সুইট ড্রিমস ভবন পরিদর্শন করে। এ ভবনটিতে পরিচালনা করা হচ্ছে সুইট ড্রিমস হোটেল। রাজউক ভবনটির ১৬ তলার নকশার অনুমোদন দেয়।
কিন্তু ভবনটি তৈরি করা হয়েছে ১৮ তলা। ভবনটির চূড়ার দুই তলা তৈরি করা হয়েছে কাঠ ও টিন দিয়ে। ভবনের ছাদে উঠার সিঁড়ির জন্য প্রশস্থ জায়গা নেই। এছাড়া ভবনে রয়েছে একটি মাত্র সিঁড়ি। নকশায় অগ্নিনির্গমন পথ নেই। প্রথম তলা খোলা জায়গা থাকার কথা থাকলেও সেটা রাখা হয়নি, ভবনের সামনে রয়েছে দু’টি ব্যাংকের বুথ।
Subscribe to:
Posts (Atom)
BNM Special
BNM Archive
- ▼ 2026 (1524)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ফুটবল খেলা
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
মুসলিম
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সংখ্যালঘু
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
তুরস্ক
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
লেবানন
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
যশোর
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
Exclusive
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
লাতিন আমেরিকা
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
জোহরান মামদানি
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
ইহুদি
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
স্পেন
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট