Thursday, June 1, 2017

১৪ বসর বয়সী এই মেয়েটি বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা কিশোরী

মেয়েটির নাম এলিসানি সিলভা। বয়স মাত্র ১৪ , কিন্তু ঊচ্চতা ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি।হ্যাঁ, ১৪ বসর বয়সী এই মেয়েটি বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা কিশোরী। কিন্তু তার প্রেমিকের ঊচ্চতা মাত্র ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি।
সিল্ভা খুব দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তাই তার অস্বাভাবিক এই বেড়ে উঠা থামাতে তার পরিবার কোন চিকিৎসা করাতে পারেন নি। কিন্তু সিল্ভা তার এই ঊচ্চতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়েছে। সে ব্রাজিলের একটি প্রতিষ্ঠানের মডেল হিসাবে কাজ করছে।

পশ্চিমবঙ্গের সব স্কুলে বাংলা পড়াতেই হবে

পশ্চিমবঙ্গের সব স্কুলে এক থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা পড়াতেই হবে। তিনটে ভাষার মধ্যে বাংলা হবে আবশ্যিক। ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে পড়ালেও বাংলা পড়তেই হবে। বুধবার টাউন হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগামী বছর থেকেই এই নীতি চালু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে অনেক ইংরেজি মাধ্যম বেসরকারি স্কুলেই বাংলা পড়ানো হয় না বা কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এদিন বৈঠকের শুরুতেই রাজ্যের ত্রিভাষা নীতি চালুর বিষয়টি উত্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমরা স্কুলগুলিতে তিনটি ভাষা পড়া আবশ্যিক করার নীতি নিয়েছি। ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও প্রাদেশিক ভাষা বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানোর আইন রয়েছে। জোর করে কিছু চাপাতে চাই না। কে কী নিয়ে পড়বে সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু বাংলায় থাকবে অথচ বাংলা শিখবে না, এটা কী করে হয় ?  নিজের মাতৃভাষা, স্থানীয় ভাষা বলতে, লিখতে পারবে না, এটা হতে পারে না। আমরা বলছি তিনটে ভাষার মধ্যে একটা বাংলা থাকুক। প্রথম ভাষা হিসেবে ইংরেজি নিলে, দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে হিন্দি, নেপালি, অলচিকি, গুরুমুখী, উর্দু নিতে পারবে। কিন্তু আরেকটি ভাষা হিসেবে বাংলা দশম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা পড়তেই হবে। তবে এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাকে ভাষা হিসেবে দশম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলে পড়ান। আইসিএসই বা সিবিএসইবোর্ডের পরীক্ষার দরকার নেই। স্কুল পরীক্ষা নিক। তিনি বলেছেন, ছেলেমেয়েরা যত ভাষা জানবে ততই ভাল। কিছুদিন আগেই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি জানিয়েছিলেন, ইংরেজি মাধ্যমসহ রাজ্যের সব স্কুলেই এবার থেকে বাংলা পড়তেই হবে। রাজ্য বিধানসভায় আইন তৈরি করে সরকারের এই নীতি কার্যকর করা হবে।

ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শিশুরা by তামান্না মোমিন খান

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশের শিশুরা। ঘরে-বাইরে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তারা। হত্যা, নির্যাতন, এমনকি ধর্ষণের শিকারও হচ্ছে শিশুরা। সেইভ দ্য চিলড্রেন-এর ‘শেষ পর্যায়ের শৈশব’-এর বৈশ্বিক প্রতিবেদন ২০১৭ অনুযায়ী  সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, অপ্রাপ্ত বয়সে মা হওয়া, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং অপুষ্টি ও শিশু মৃত্যুহারের দিক দিয়ে  বিশ্বের ১৭২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৪। শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করে আরেক সংগঠন শিশু অধিকার ফোরামের ২০১৬ সালের শিশু পরিস্থিতি নিয়ে বার্ষিক  প্রতিবেদন অনুযায়ী,  ৩ হাজার ৫ শ’ ৮৯ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে ওই বছর। যাদের মধ্যে এক হাজার ৪শ’ ৪১ শিশু অপমৃত্যুর শিকার এবং ৬৮৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার। গত বছর গড়ে মাসে ২০টির অধিক শিশু হত্যা এবং ৩০টিরও  বেশি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং  শিশুর প্রতি রাষ্ট্র আরো দায়িত্বশীল না হলে শিশু সহিংসতা রোধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলেন, এদেশের শিশুরা শারীরিক এবং মানসিক উভয় ক্ষেত্রেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আবার শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুরাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। রাজন, রাকিবকে নির্যাতন করে হত্যা গোটা দেশে আলোড়ন তুলেছে। কিন্তু এসব হত্যাকারীর শাস্তি এখনো কার্যকর হয়নি। শিশু নির্যাতনের শাস্তি দ্রুত কার্যকর করতে পারলে নির্যাতন কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান এমরানুল হক চৌধুরী বলেন, শিশু মৃত্যুহার, অপুষ্টি এসব বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নতি করলেও শিশুর সুরক্ষা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।
শিশুরা অনেক ক্ষেত্রে পরিবারেও নিরাপদ নয়।   দেখা যাচ্ছে মা শিশুকে মেরে ফেলছে। আবার নিকট আত্মীয় দ্বারাও শিশু হত্যার প্রবণতা বেড়েছে। শিশু যৌন নির্যাতনের সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। এতে  করে আমরা শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ দিতে পারছি না। এর কারণ হচ্ছে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। কারণ একটি মেয়ে শিশুকে আমরা শিশু হিসেবে দেখছি না। দেখছি মেয়ে হিসেবে। একারণে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। আবার শিশু নির্যাতনের শাস্তি যথাযথভাবে না হওয়ায় শিশু নির্যাতন কমছে না। একজন শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হলেও সে বিচার পায় না। দেখা যায় যে, গৃহকর্ত্রী টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপোষ করে ফেলে। তাই শিশুদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন শিশু অধিকার আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন বলে মনে করেন এমরানুল হক চৌধুরী।

মুড়ির গ্রাম by রাজিউর রহমান রুমী

মুড়ি বিক্রি করে সুখের মুখ দেখেছে পাবনার ৫ গ্রামের নারী-পুরুষ। তারা এখন স্বাবলম্বী। গ্রামগুলোতে নেই পারিবারিক বিরোধ বা কোনো হানাহানি বিবাদ। সবাই কর্ম ব্যস্ত, কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের এই ব্যস্ততা। তবে রোজার মাস এলেই ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও সাধনায় মুড়ি তৈরি এ অঞ্চলে শিল্পের রূপ নিয়েছে। পাবনার ‘মুড়ি গ্রাম’ নামে পরিচিত এ গ্রামগুলো হলো, পাবনা শহর থেকে প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের মাহমুদপুর, শ্যামপুর, বিলকোলা, গোপীনাথপুর, ভবানীপুর ও রাঘবপুর। কয়েক যুগ ধরে বংশপরম্পরায় এসব গ্রামের মানুষদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন মুড়ি তৈরি ও বিপণন। এ গ্রামের হাতে তৈরি কেমিক্যাল মুক্ত মুড়ির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। সারা বছর ধরে মুড়ি তৈরি হয়। তবে রমজান মাস এলেই তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
রমজান মাসে ইফতার সামগ্রীর অন্যতম হচ্ছে মুড়ি। কেমিক্যালে প্রস্তুত মুড়ির ভিড়ে আসল মুড়ির স্বাদ পাওয়াই এখন কঠিন। সেখানে মুড়ির আসল স্বাদ পেতে পাবনার ‘মুড়ি গ্রামের’ হাতে ভাজা মুড়ি তুলনাহীন। হাতে তৈরি এ মুড়ি ভাজতে বর্তমানে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন মুড়ি গ্রামের নারী-পুরুষ। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের এই ব্যস্ততা। কয়েক পুরুষ ধরেই মুড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ। তাদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও সাধনায় মুড়ি তৈরি এ অঞ্চলে শিল্পের রূপ নিয়েছে।
পাবনা শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামকে মানুষ চেনে মুড়ি গ্রাম হিসাবে। মুক্তিযুদ্ধের আগে এই গ্রামে প্রথম মুড়ি তৈরি শুরু করেন এই গ্রামের বাসিন্দা হাসান আলী। সেই থেকে শুরু। একপর্যায় মুড়ি তৈরির কাজ মাহমুদপুরের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী শ্যামপুর, বিলকোলা, গোপীনাথপুর, ভবানীপুর, রাঘবপুরসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে। এখনও সবাই বাপ-দাদার পেশা হিসেবে মুড়ি উৎপাদনকে ধরে রেখেছেন।
মাহমুদপুর ও শ্যামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই চলছে মুড়ি তৈরির কাজ। শ্যামপুর গ্রামের আলী হোসেন জানান, শৈশব থেকেই তিনি মুড়ি তৈরি ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত। তিনি আরো জানান, গ্রামের পুরুষরা হাট থেকে ধান কেনা, ধান ভাঙানো এবং উৎপাদিত মুড়ি বাজারে বিক্রি আর বাড়ির নারীরা ধান সেদ্ধ, শুকানো, মুড়ি তৈরিসহ নানা কাজে নিয়োজিত থাকেন।
মাহমুদপুর গ্রামে মুড়ি তৈরি কাজে নিয়োজিত হাছিনা বেগম ও সুফিয়া খাতুন জানান, মূলত স্বর্ণা, বিআর ১১, বিআর ২৯, এবং আউশ ধান থেকে তারা মুড়ি তৈরি করেন। এর মধ্যে আউশ ধানের মুড়ির স্বাদ ভালো হওয়ায় বাজারে তার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আমরা মুড়ি ভাজতে কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করি না।
মাহমুদপুর গ্রামে মৃত হাসান আলীর ছেলে আহম্মদ আলী জানান, বাপ-দাদার পেশা হিসেবে মুড়ি উৎপাদনকে ধরে রেখেছি। লাভ তো হয়ই, সব চেয়ে বড় কথা, আমাদের গ্রামগুলোতে কোনো বিবাদ নাই, আমাদের সময়ও নাই, আমরা সারা দিন ব্যস্ত থাকি। এক মণ ধান থেকে ২২ থেকে ২৪ কেজি মুড়ি তৈরি হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে এক মণ ধানের মুড়ি বিক্রি করে হাতে লাভ থাকে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এব্যাপারে পাবনা বিসিকের শিল্পনগরীর উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জে.এন পাল বলেন, মাহমুদপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মুড়ি তৈরির বিষয়টি আমাদের জানা। তারা কেমিক্যালমুক্ত মুড়ি তৈরি করেন এটা খুবই ভাল। এ সমস্ত কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করার পরিকল্পনা আমাদের আছে। তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সহজ শর্তে কিছু ঋণসহ অন্যান্য সুবিধা পেতে পারবেন।

আজ থেকে কার্যকর

আজ পহেলা জুন থেকে দ্বিতীয় ধাপে গ্যাসের বাড়তি দাম কার্যকর হচ্ছে। ফলে এখন থেকে দুই চুলা ৯৫০ টাকা এবং এক চুলার জন্য ৯০০ টাকা বিল পরিশোধ করতে হবে। সিএনজিতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম দিতে হবে ৪০ টাকা। এ ছাড়া বাণিজ্যিকে প্রতি ঘনমিটারের দাম ১৭.০৪ টাকা। ক্যাপটিভ পাওয়ারে প্রতি ঘনমিটার ৯.৬২ টাকা, বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের দাম ৩.১৬ টাকা, চা-বাগানে গ্যাসের দাম ৭.৪২ টাকা, সার কারখানায় ২.৭১ টাকা এবং শিল্পে ৭.৭৬ টাকা। এ ছাড়া গৃহস্থালি কাজে মিটার ব্যবহারকারীদের দাম দিতে হবে ১১.২০ টাকা। দ্বিতীয় দফায় মূল্য বৃদ্ধির আদেশ কার্যকর হওয়ায় বছরে সরকারের অতিরিক্ত আয় হবে ৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ভোক্তা পর্যায়ে দুই দফায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছিল। দুই ধাপে তারা ৮ খাতে গড়ে ২২.০৭ শতাংশ দাম বাড়ায়। প্রথম দফার দাম কার্যকর হলেও আদালতের রায়ে আটকে যায় দ্বিতীয় দফার (১ জুন) দাম। কিন্তু পহেলা জুন থেকে দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ মঙ্গলবার স্থগিত করে দিয়েছেন চেম্বার আদালত। ফলে মামলার আইনজীবীরা এবং বিইআরসি বলছে, এ অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের দাম বাড়াতে আর কোনো বাধা নেই। তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আজ থেকেই তারা দ্বিতীয় দফায় বাড়তি গ্যাসের দাম কার্যকর করবেন। বিইআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এ দাম কার্যকর করবেন বলে জানান। জানা গেছে, প্রথম ধাপের মূল্য বৃদ্ধির ফলে গত ১ মার্চ থেকে আবাসিক খাতে দুই চুলার জন্য ৮০০ এবং এক চুলার জন্য ৭৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে ৩ মাসের মাথায় আজ থেকে দাম আরও বাড়ল। ফলে এখন থেকে দুই চুলার জন্য ৯৫০ এবং এক চুলার জন্য ৯০০ টাকা দিতে হবে। অথচ মার্চের আগে এক চুলার জন্য ৬০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৬৫০ টাকা দিতে হয়েছিল। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে এক লাফে গ্যাসের দাম বাড়ল ৩০০-৩৫০ টাকা। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, ক্যাপটিভ পাওয়ার, সার, শিল্প, চা-বাগান, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও গৃহস্থালিতে মিটার ব্যবহারকারীদের জন্যও একই হারে দাম বাড়ে। বাণিজ্যিকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের জন্য ১১.৩৬ টাকা থেকে বেড়ে মার্চে হয়েছিল ১৪.২০ টাকা, আজ থেকে হচ্ছে ১৭.০৪ টাকা। সিএনজির দাম ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে মার্চে হয়েছিল প্রতি ঘনমিটারে ৩৮ টাকা। আজ থেকে হচ্ছে ৪০ টাকা। ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১ মার্চ থেকে প্রতি ঘনমিটারে দাম বেড়েছিল ৮.৯৮। আজ থেকে ৯.৬২ টাকা। বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের দাম মার্চ থেকে বেড়ে হয়েছিল ২.৯৯ টাকা আর আজ থেকে ৩.১৬ টাকা। চা-বাগানে গ্যাসের দাম মার্চ থেকে বেড়ে হয়েছিল ৬.৯৩ টাকা আর ১ জুন থেকে হচ্ছে ৭.৪২ টাকা।
সার কারখানায় মার্চে বেড়ে হয়েছিল ২.৬৪ টাকা এবং জুন থেকে হচ্ছে ২.৭১ টাকা। শিল্পে গ্যাসের দাম মার্চে বেড়ে হয়েছিল ৭.২৪ টাকা আর জুনে হচ্ছে ৭.৭৬ টাকা। এ ছাড়া গৃহস্থালি কাজে মিটার ব্যবহারকারীদের দাম বেড়ে মার্চে হয়েছিল ৯.১০ টাকা, ১ জুন থেকে হচ্ছে ১১.২০ টাকা। জানা গেছে, দ্বিতীয় দফায় মূল্য বৃদ্ধির আদেশ কার্যকর হওয়ায় বছরে সরকারের অতিরিক্ত আয়ের ৮১ শতাংশ অর্থ যাবে সরকারি কোষাগারে। বাকি ১৯ শতাংশ অর্থ যাবে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্যাস কোম্পানির কোষাগারে। অন্যান্য কোম্পানির আয় দিয়ে সরকারের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করার পরও সরকার ৩ মাসের ব্যবধানে গ্যাসের দাম পরপর দুই দফায় বৃদ্ধির অযৌক্তিক আদেশ চাপিয়ে দেয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপরও। বেড়ে যাবে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য। শিল্পোদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্যাসভিত্তিক শিল্পে গ্যাসের দর বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা থাকা উচিত। এটি নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা নেয়া সহজ হয়। শিল্পে ব্যবহার করা গ্যাসের দাম ৮.৩৬ থেকে বেড়ে ৯.৬২ টাকা হওয়ায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়বে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হবে। তাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ অর্থাৎ ক্যাপটিভ পাওয়ারের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু দাম বৃদ্ধির কারণে অনেকের জন্য সুতা কিংবা বস্ত্র উৎপাদন লাভজনক হবে না বরং লোকসান গুনতে হবে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, গ্যাসচালিত ক্যাপটিভ জেনারেটর দিয়ে স্পিনিং মিলে উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়ে ৪ টাকা ২০ পয়সা। মূল্য বৃদ্ধির ফলে এখন দাম পড়বে সাড়ে ৯ টাকার বেশি। এতে প্রতি কেজি সুতার দাম ৪০-৫০ সেন্ট বেড়ে যাবে। সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন দুই চুলার বিল ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা আর এক চুলার বিল ৪০০ টাকা থেকে বড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছিল। বিইআরসির আইন অনুযায়ী কোনো সংস্থা এক বছরের মধ্যে মাত্র একবার দাম বাড়ানোর আবেদন করতে পারবে। গ্যাসের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, এভাবে দফায় দফায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বড় ধরনের অন্যায় ও অনিয়ম। তিনি বলেন, গণশুনানিতে খোদ বিইআরসির টেকনিক্যাল কমিটি কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর প্রস্তাবনাকে অযৌক্তিক বলে মত দিয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেয়া হয়নি। দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়লে ফের গণপরিবহনের ভাড়া বাড়বে। এখন রমজান মাস। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে এ মাসেও একই হারে বাড়বে নিত্যপণ্যের দাম। শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। গ্যাসের নতুন মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে একটি রিট করেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আজ থেকে দ্বিতীয় ধাপে কার্যকর হতে যাওয়া গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন। গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের এ আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। আবেদনটি আগামী ৫ জুন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এর ফলে বিইআরসির সিদ্ধান্ত অনুসারে আজ থেকে দ্বিতীয় দফার বর্ধিত মূল্য কার্যকর হতে বাধা নেই বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

জেআইটির কাছে ডকুমেন্ট জমা দিচ্ছেন নওয়াজপুত্র

তৃতীয়বারের মতো জয়েন্ট ইনভেস্টিগেঠমন টিমের ( জেআইটি ) সামনে হাজির হচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ছেলে হোসেন নওয়াজ। জেদ্দা ও দুবাইয়ে কারখানা খোলা ও লন্ডনে এপার্টমেন্ট কেনার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ আছে তার বিপরীতে তিনি আজ বৃহস্পতিবার ডকুমেন্ট হাজির করবেন এ টিমের কাছে। উল্লেখ্য, ২৮ শে মে থেকে এর আগে তিনি দুবার এ টিমের সামনে হাজির হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। এতে বলা হয়, গত ৩০ শে মে জেআইটির সামনে হাজির হয়েছিলেন হোসেন নওয়াজ। সেদিন তাকে ৫ ঘণ্টারও বেশি প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা হয়। সেদিনই টিমের ৬ সদস্য তাকে লন্ডনের পার্ক লেনে ৪টি ফ্লাট কেনার বিষয়ে আইনী কাগজপত্র জমা দিতে নির্দেশ দেয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সৌদি আরবে আল আজিজিয়া স্টিল মিলস, সংযুক্ত আরব আমিরাতে গালফ স্টিল মিলস প্রতিষ্ঠা, বিক্রির বিষয়ে তথ্য জমা দেবেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্য ও কাতারে অন্য যেসব স্টিল কারখানায় ও রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগ করেছেন তার সব ডকুমেন্ট হাজির করবেন আদালতে। এ সময় কাতারের যুবরাজ শেখ হামাদ বিন জসিম বিন জাবের আল থানির লেকা একটি চিঠিও হোসেন নওয়াজ ওই টিমের হাতে তুলে দেনে। ওই চিঠিতে কাতারের যুবরাজ বর্ণনা করেছেন, ১৯৮০ এর দশকে হোসেন নওয়াজের দাদা কাতারের আল ঘানি পরিবারের ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন ১ কোটি ২০ লাখ দিরহাম। তা দিয়ে তিনি যুক্তরাজেচ্য পার্ক লেনে চারটি ফ্লাট কিনেছেন।

গর্ভের সন্তান নষ্টের রায়ের পর তরুণীর আত্মহত্যা

সালিশ বৈঠকে গর্ভের সন্তান নষ্ট ও ৪০ হাজার টাকায় বিয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত দেয়ায় অপমান-ক্ষোভে আত্মহত্যা করলেন ফেনীর ছাগলনাইয়ার তরুণী ময়না আক্তার ফেন্সি (১৮)। এ ঘটনায় ময়নার মা বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সাত আট মাস ধরে পাশের বাড়ির একাধিক মামলার আসামি হানিফের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ময়নার। গর্ভবতী হয়ে পড়লে তারা দু’জনে ফেনীর বদলগাজী এলাকার কাজী অফিসে গিয়ে গত ২২ মে গোপনে বিয়ে করে। বিয়ের কথা জানাজানি হলে হানিফ পিছু হটে এবং ময়নার সঙ্গে বিয়ে অস্বীকার করে বসে। শুরু হয় স্থানীয়দের মেয়েকে দোষারোপের পালা। তাকে দুশ্চরিত্রা হিসেবে আখ্যায়িত করে। এর সঙ্গে সুর মেলাতে থাকে আবদুল বারেকের ছেলে ও ময়নার স্বামী বোমা হানিফও। শেষ পর্যন্ত ময়নার মা মনোয়ারা বেগম মাহামায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাজান মিনুর দ্বারস্থ হয়। গত মঙ্গলবার রাতে মিনু দল বল নিয়ে ময়নার দাদুর বাড়িতে গিয়ে সালিশ বৈঠক বসান। বৈঠকে উল্টো ময়নাকে দায়ী করে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য মেয়ের পরিবারকে শাসানো হয়। কিন্তু ময়নার পরিবার বিয়ের সামাজিক স্বীকৃতির দাবি জানালেও কেউ তাতে সায় দেয়নি। এতে ক্ষোভে অপমান সইতে না পেরে মঙ্গলবার গভীর রাতে ময়না ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। কথা হয় মায়নার মা মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে জানান, বিপদে পড়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাজান মিনুর কাছে ছুটে যাই। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ মিনু, মাটিয়াগোদা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক মীর কাইয়ুম, মিজি আলম, কাইয়ুম মেম্বার, আবদুল, সিরাজসহ গ্রামের কয়েকজন মাতব্বর ময়নার দাদুর বাড়িতে বৈঠক বসান। কিন্তু তারা আমাদের কোনো কথা শোনেনি। শুরুতেই তারা সাদা কাগজে আমার সই নেন। কাবিন ফেরত দিয়ে ৪০ হাজার টাকা ছেলের কাছ থেকে বুঝে নেয়ার রায় দেন। আমি তাদের বলেছি, ‘আমরা গরিব মানুষ। ইজ্জতটুকু আমাদের সম্বল। আপনারা আমাদের ইজ্জতের দাম দিন। আমার মেয়ে ক’মাস পর সন্তানের মা হবে। আপনারা দয়া করে আমার মেয়েকে হানিফের বউ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তারা আমার কথা আমলেই নেননি। তিনি বলেন, ‘রাত ১টার দিকে সালিশ বৈঠক শেষ হয়। সিদ্ধান্ত শুনে ময়না আমার গলা ধরে ভীষণ কান্না করে। এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম থেকে উঠে দেখি আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ময়না ঝুলে আছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এএসপি সার্কেল আবদুল মালেক মিয়া, ওসি আবু জাফর মোহাম্মদ ছালেহ্, ওসি (তদন্ত) আবুল খায়ের শেখ, এস আই আনোয়ার হোসেন এবং এসআই মাহবুব আলম সরকার। পরে মায়নার মা বাদী হয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সাহাজান মিনুসহ ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় বোমা হানিফসহ সালিশে উপস্থিত সবাইকে আসামি করা হয়েছে। তবে বুধবার বিকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ জানায়, বোমা হানিফ চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ওসি আবু জাফর মোহাম্মদ ছালেহ্ জানান, আত্মহত্যায় প্ররোচনার জন্য ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আমরা নাম বলতে চাই না। নাম বললেই তারা পালিয়ে যাবে। স্থানীয় মাটিয়াগোদা গ্রামের ইউপি সদস্য জমির উদ্দিন বাবু বলেন, সালিশ বৈঠকে অংশ নেয়া ব্যক্তিরা নিজেদের সমাজের মোড়ল দাবি করেন। তাদের রায় ময়না মেনে নিতে পারেননি। তারা বোমা হানিফের পক্ষ নিয়ে একতরফা রায় দিয়েছে। রাগে-ক্ষোভে-অপমানে মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। সালিশের সিদ্ধান্তের কারণে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। ’ ইউপি চেয়ারম্যান গরিব শাহ হোসেন বাদশা বলেন, যা শুনেছি দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে এভাবে সালিশে অন্যায়ভাবে রায় দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হল। বোমা হানিফ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার পক্ষ নিয়ে এলাকার সালিশদাররা কীজন্য এ অপকর্ম করল তা আমার বোধগম্য নয়।’ মহামায়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সাহাজান মিনু বলেন, আমরা ফেন্সির মায়ের অনুরোধে রাতে তাদের বাড়িতে যাই। বিয়ের কাবিন হাতে পাওয়ার পর সামাজিকভাবে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে বলে আমরা ওই বাড়ি থেকে চলে আসি। রাতে মেয়ে কি আত্মহত্যা করল, নাকি মেরে ফেলা হল তাকে, কিছু বুঝতে পারছি না। এলাকার কোন্দলের কারণে প্রতিপক্ষ ফাঁসাতে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিয়ে বিচ্ছেদের রায়ে দেয়ার প্রশ্নই আসে না।’

জলবায়ু চুক্তি কার্যকরে নেতৃত্ব দেবে ইইউ-চীন

জলবায়ু চুক্তি কার্যকরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব আর থাকছে না। শনিবার জি-সেভেন এর বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে প্যারিস চুক্তি কার্যকরের বিষয়ে জোটভুক্ত ছয়টি দেশ একমত হলেও, তাদের সঙ্গে ঐক্য জানাতে অস্বীকার করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এতদিনকার নেতৃত্ব আর কার্যকর থাকছে না। এই ইস্যুতে এখন নেতৃত্ব দেবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। শুক্রবার ব্রাসেলস সম্মেলনে চীন ও ইইউ এ নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। খবর বিবিসির। প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির উপর জোড় দেয়া হয়েছে ওই বিবৃতিতে। ধারণা করা হচ্ছে, চীন এবং ইইউ এর এই অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা চাপের মধ্যে ফেলবে। বলা হচ্ছে, বছর খানেক ধরেই চীন এবং ইইউ জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্লিন এনার্জি নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছে একটি যৌথ বিবৃতি দেবার বিষয়ে কাজ করছিল। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হবার আগেই, জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনার ব্যাপারে অবস্থান ছিল ট্রাম্পের। সেই ধারাবাহিকতায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে থাকা না থাকার বিষয়ে তিনি শিগগিরিই ঘোষণা দেবেন।

মুখমণ্ডলবিহীন মাছ!

অস্ট্রেলিয়ার গভীর সমুদ্রে বিজ্ঞানীরা মুখমণ্ডলবিহীন মাছ খুঁজে পেয়েছেন। মাছটির দৃশ্যমান কোনো নাক, মুখ কিংবা চোখ নেই। সমুদ্রের চার কিলোমিটার গভীরে এ মাছের বাস। যে এলাকায় এ মাছ পাওয়া গেছে, সমুদ্রের ওই এলাকাটি এতদিন অনাবিষ্কৃত ছিল। এএফপি। গবেষকরা জানাচ্ছেন, মাছটির দৈর্ঘ্য মাত্র অর্ধমিটার। এ মাছটির স্বাভাবিক কোনো চেহারা নেই। মাথার অঞ্চল নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের নয়। মাছটির মুখ আছে; কিন্তু তা নিচের দিকে। এজন্য সহজে শনাক্ত করা যায় না। তাসমানিয়া ও কোরাল সমুদ্রের মধ্যবর্তী অঞ্চলে গভীর তলদেশে মাছটির অবস্থান, জানতে পেরেছেন গবেষকরা। মিউজিয়াম ভিক্টোরিয়ার প্রধান বিজ্ঞানী টিম ও’হারা জানিয়েছেন, মাছটির কোনো দৃশ্যমান মুখমণ্ডল নেই। মাছটির চোখ, নাক থাকলেও হঠাৎ দেখা যায় না। মুখ শরীরের আড়ালে। অস্ট্রেলিয়ান সমুদ্রে এ মাছটি খুবই বিরল। টিম ও’হারার সহকর্মী ডাই ব্রে জানিয়েছেন, আমাদের ক্যামেরায় এমন একটি মাছ ধরা পড়েছে, যা খুবই বিরল। মাছটির চোখ থাকলেও তা দেখা যায় না।

বিচারাধীন থাকাবস্থায় কারাবাস রায়ে দেয়া দন্ড থেকে বিয়োগ হবে

আসামীর মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় তার কারাবাস যে কোন প্রকার কারাদন্ডে মোট দন্ডের সময়কাল হতে বিয়োগ হবে। সুপ্রিমকোর্টের জারিকৃত এক সার্কুলারে এ কথা বলা হয়।
সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিষ্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত এ সার্কুলার সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, “দ্যা কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৯৯৮ এর ৩৫এ ধারা অনুযায়ি শাস্তি কেবলমাত্র মৃত্যুদন্ড এরূপ ব্যাতীত অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে সশ্রম বা বিনাশ্রম যে কোন প্রকারের কারাদন্ড প্রদানক্রমে প্রচারিত রায় বা আদেশে আসামীর মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় আসামী কর্তৃক কারা হেফাজতে থাকা/অবস্থানরত সময়কাল তার মোট দন্ডের সময়কাল হতে বিয়োগ (ডিডাক্ট) হবে।”
এতে আরো বলা হয়, ঘোষিত দন্ড থেকে কারা হেফাজতে থাকার সময়কাল যদি অধিক হয় তখন আসামী দন্ড ভোগ করেছে বলে গন্য হবে, অন্য কোন অপরাধে কারাগারে আটক রাখার প্রয়োজন না হলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। এরূপ ক্ষেত্রে আসামীকে যদি কারাদন্ডের অতিরিক্ত অর্থদন্ড প্রদান করা হয় তাহলে আসামীর অর্থদন্ড মওকুপ হয়েছে মর্মে গন্য হবে।
সার্কুলারে বলা হয়, আসামীর মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় আসামী কর্তৃক কারা হেফাজতে থাকা/অবস্থানরত সময়কাল তার মোট দন্ডের সময়কাল হতে বিয়োগ (ডিটাক্ট) বিষয়টি অনুসরণে সংশ্লিষ্ট অনেকে বিরত থাকছে, যা আইনগত বিধি বিধানের লংঘন।
বিয়টি যথাযতভাবে প্রতিপালনে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি এ সার্কুলার জারি করা হয়েছে বলে সুপ্রিমকোর্ট বাসস’কে জানায়।
সূত্র : বাসস

বিমান ছাড়ার প্রাক্কালে দরজা খুলে লাফ

যাত্রী হেনস্থায় বার বার খবরের শিরোনামে এসেছে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের নাম। কখনও যাত্রীকে মারতে মারতে রক্তাক্ত অবস্থায় টেনেহিঁচড়ে বিমান থেকে নামান, কখনও বা শিশুসহ মহিলাকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে এই বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে। এবার ঘটল উল্টো ঘটনা। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের এক বিমানকর্মীকে আঁচড়ে-কামড়ে, জোর করে বিমান থেকে ঝাঁপ মেরে একেবারে হুলুস্থুল কাণ্ড বাধালেন এক যাত্রী। খবর এপির। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে এসেছে। বছর বাইশের ওই অভিযুক্ত যাত্রীর নাম টুন লন সেইন।
তিনি উঠেছিলেন আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে। ওই বিমান সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বিমান যখন ওড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিক তখনই টুন নিজের আসন থেকে আচমকাই লাফ দিয়ে উঠে পড়ে বিমানের মূল দরজা খোলার চেষ্টা করতে শুরু করেন। তার কাণ্ডকারখানা দেখে এক বিমানকর্মী ও দুই যাত্রী তাকে বাধা দিতে গেলে টুন ওই বিমানকর্মীকে কামড়ানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। আচমকা ওই হামলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না কেউই। যতক্ষণে তারা হামলার ধাক্কা সামলে উঠেছেন, তার আগেই দরজা খুলে বিমান থেকে লাফিয়ে পড়েন টুন।

সাত মাস কোথায় ছিলেন ডা: ইকবাল?

ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকা থেকে প্রায় সাত মাস আগে ‘অপহৃত হওয়া’ ডা: মুহাম্মদ ইকবাল মাহমুদ গতরাতে লক্ষীপুরে তার বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তবে এই সাত মাস তিনি কোথায় ছিলেন কিংবা কারা আগে গাড়িতে তুলে নিয়েছিলো সেটি এখনো পরিস্কার নয়।
মি: ইকবালের বাবা একে এম নুরুল আলম বিবিসিকে বলেছেন সন্তানকে ফিরে পেয়েছেন এতেই তারা আনন্দিত।
‘ছেলে ইকবাল ফিরে এসেছে আল্লাহর অশেষ রহমতে। আমার ছেলেকে ফিরে পাইছি। এটাই আমার চরম আনন্দ। শুকরিয়া জানাই সবাইকে।’
কিন্তু কোথায় ছিলেন ডা: ইকবাল? এ সম্পর্কে পরিবারকে কিছু জানিয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মিস্টার আলম বলেন, ইকবাল বলছে যে কে বা কারা তারা তুলে নিছে সে কিছুই জানে না।
‘চোখ বাঁধা অবস্থায় নিয়ে যায়। ফেলে রাখার সময়ও চোখ বাঁধা ছিল। যারা তুলে নিছে তারা খারাপ ব্যবহার করে নাই, কিন্তু কোথায় ছিল কার কাছে ছিল সে কিছুই জানে না।’
বিস্তারিত কিছু না জানা গেলেও স্থানীয় লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইকবালকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ঢাকা-রায়পুর সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া হয়।
এরপর একটি অটোরিকশায় করে তিনি বাসায় ফেরেন - এমনটাই ডা: ইকবালের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
মিস্টার ইকবালকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঢাকা থেকে তুলে নেয়ার পর বিভিন্ন সময় তার পিতা মিস্টার আলম তার পুত্রকে খুঁজে বের করার জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বেশ কয়েক দফায় আবেদন করেছিলেন।
পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ডা: মোহাম্মদ ইকবাল ২৮তম বিসিএস পাস করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে কাজ শুরু করেন। সেখান থেকে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে বদলি হন।
গত বছরের ১০ই অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই মাসের প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকায় আসেন।
পরে বাড়ি গিয়ে আবার ১৫ই অক্টোবর ঢাকায় ফিরেন। সেদিনই তিনি ‘অপহৃত’ হন।
এর পর ঘটনাস্থলের কাছে একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ফুটেজে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় যেখানে দেখা যায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির লক্ষ্মীপুর-ঢাকা রুটের রয়েল কোচ নামে একটি বাস থেকে নামার পর মি: ইকবালকে কয়েকজন মিলে একটি মাইক্রোবাসে তুলছেন।
মাইক্রোবাসটি যখন তাকে নিয়ে ওই স্থান ত্যাগ করছিলো তার পেছেনে পুলিশের একটি পিকআপও চলে যেতে দেখা যায়।
সূত্র: বিবিসি

আইসিবিএম ধ্বংসের সফল পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রথমবারের মতো সফলভাবে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবারের এ পরীক্ষায় একটি ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ইন্টারসেপ্টর ছুড়ে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করেছে পেন্টাগন। প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ থেকে আলাস্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমা লক্ষ্য করে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ বিমানঘাঁটি থেকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ইন্টারসেপ্টর ছুড়ে কৃত্রিম ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ধ্বংস করে দেয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির মিসাইল ডিফেন্স এজেন্সি (এমডিএ) বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষাকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্স ও বিবিসির। পেন্টাগন জানিয়েছে, এ পরীক্ষাটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফসল। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে এ পরীক্ষাটি করা হল। চলতি বছর উত্তর কোরিয়া এ পর্যন্ত নয়টি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটি নবম ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা করল। এ পরীক্ষাটিকে ‘ক্রিটিক্যাল মাইলস্টোন’ বলে অভিহিত করেছেন এমডিএ’র পরিচালক ভাইস এডমিরাল জিম সাইরিং।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মাতৃভূমি প্রতিরক্ষার জন্য এ ব্যবস্থা অতি গুরুত্বপূর্ণ। আর এ পরীক্ষা দেখিয়েছে, বাস্তব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের একটি কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে।’ তবে এ পরীক্ষাকে পেন্টাগন সফল বলে দাবি করলেও অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ কার্যকর অবস্থায় পেতে এখনও আরও অনেকটা পথ যেতে হবে দেশটিকে। সেন্টার ফর আর্মস কন্ট্রোল অ্যান্ড নন-প্রলিফারেশনের জ্যেষ্ঠ সদস্য ফিলিপ ই কয়েল বলেন, ‘পরীক্ষাটি একই সঙ্গে দুটো সফলতা এনেছে। এটা তাৎপর্যপূর্ণ। তবে শেষ পাঁচটা পরীক্ষার মধ্যে শুধু দুটি ঠিকমতো কাজ করেছে। সেদিক থেকে এর কার্যকারিতার হার মাত্র ৪০ শতাংশ।’ এর আগে গত তিন সপ্তাহে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া। সোমবার সকালে ছোড়া দেশটির সর্বশেষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ১২০ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে ৪৫০ কিলোমিটার উড়ে গিয়ে জাপানের উপকূলে অবতরণ করে। উত্তর কোরিয়া দাবি করে আসছে, তাদের কাছে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ধারণা করা হয়, তাদের কাছে এমন দুটি ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে। গত বছর তারা ওই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে পিয়ংইয়ং দাবি করে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ভিনসন স্ট্রাইক গ্রুপকে কোরিয়া উপদ্বীপে পাঠানোর ঘোষণার পর থেকেই কোরিয়া উপদ্বীপে কার্যত যুদ্ধাবস্থা জারি রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এক যৌথ সামরিক মহড়া চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবার উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার দিন থেকে কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া নতুন করে সামরিক মহড়া শুরু করেছে।

খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থন ৮ জুন

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষের সমর্থনের জন্য ৮ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে এ দিন ধার্য করেন। এদিন খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষের সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। তবে খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত না হয়ে তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও জিয়া উদ্দিন জিয়ার মাধ্যমে সময়ের আবেদন দাখিল করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক। পরে ২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশীদ। মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন আদালত।

যাত্রাবাড়ীতে মুরাদনগর মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার খুন

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে অবশেষে দুর্বৃত্তদের হাতে প্রাণ হারালেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম। বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার বাসা থেকে কুমিল্লার মুরাদনগরে আসার পথে যাত্রাবাড়ী এলাকার ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের অদূরে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। খবর পেয়ে ওই ডেপুটি কমান্ডারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানা যায়, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন যাবত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে আসছিলেন। তিনি মুরাদনগর উপজেলার বেশ কিছু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, সচিবালয়সহ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। টাকার বিনিময়ে মুরাদনগরে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদেরকে আসল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেছিলেন ডেপুটি কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম। গত ১৯ মে শুক্রবার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউপির মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি ওই ইউনিয়নের বেশ কিছু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে জোরালো ভুমিকা রাখায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলুল কাদেরের সামনেই তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে তিনি ৩ ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাসহ তাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে গত ২২ মে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নিহত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে দিদারুল আলম রিপন জানান, গত ১৯ মে তার বাবার উপর পরিকল্পিতভাবে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছিল। তার বাবা দীর্ঘদিন যাবত ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম ও প্রতিবাদ করে আসছিল। তিনি জানান, সে বেশ কিছুদিন যাবত মোবাইল ফোনে তার বাবাকে হত্যার হুমকি প্রদান করে আসছিল দুর্বৃত্তরা। আজ তার বাবাকে হত্যার পর সঙ্গে থাকা টাকা পয়সা না নিলেও হাতে থাকা ব্যাগটি নিয়ে গেছে। ওই ব্যাগটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন বেশ কিছু তথ্য ও কাগজপত্রসহ ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কিছু আমলনামা ছিল। মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাশেদা আক্তার জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলুল কাদের ছুটিতে আছেন। তাই আগামী শনিবার দিন মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কার্যক্রমের দিন ধার্য করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিছুর রহমান জানান, আজ বৃহস্পতিবার ভোরে জাহাঙ্গীর আলম মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কার্যক্রমে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে কুমিল্লার মুরাদনগরের উদ্দেশ্যে ঢাকার বাসা থেকে রওয়ানা হলে যাত্রাবাড়ীর ঢলপুর এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। তিনি বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

রাজধানীতে ১০ অস্ত্র-গুলিসহ আটক ১

রাজধানীর দারুসসালাম এলাকা থেকে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমান গুলিসহ আলাউদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, আটক আলাউদ্দিনের কাছ থেকে ৯টি পিস্তল, ১টি স্যুটারগানসহ বিপুল পরিমান গুলি জব্ধ করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আলাউদ্দিন একজন পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় এবং দারুসসালাম এলাকার কোন স্থান থেকে তাকে আটক করা হয়েছে তা জানানো হয়নি।

মন্ত্রী-মিনিস্টার হল মিছা কথা বলার জন্য: পরিবেশমন্ত্রী

মন্ত্রীদেরও যে অসত্য কথা বলতে হয় তা স্বীকার করেছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। সচিবালয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আই অ্যাম প্রাউড, আমি যখনই যে মন্ত্রণালয়ে ছিলাম, আই হ্যাভ বিন অ্যাবল টু ওয়ার্ক উইথ এ ভেরি ব্রিলিয়ান্ট পিপল। মন্ত্রী-মিনিস্টার একজন থাকে বাবা, শুইনা রাইখো।’ কথা বলতে বলতে মন্ত্রীর চোখ পড়ে সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে চোখ বোলাতে থাকা একজন সাংবাদিকের ওপর। তাকে উদ্দেশ করে মঞ্জু বলেন, ‘ওই কাগজ পড় ক্যান তুমি? আমার কথা শোনো, ওইটা তো মিছা কথা সব।’ এরপর হেসে ওঠেন পরিবেশমন্ত্রী। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে বলেন, ‘মন্ত্রী-মিনিস্টার হল তোমাদের কাছে মিছা কথা বলার জন্য।’ আমলাদের প্রশংসা করে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, শুধু বাংলাদেশ না, পৃথিবীর সব দেশই চালায় আমলারা। যত ব্রিলিয়ান্ট লোক আসবে, জ্ঞানী লোক আসবে, গুণী লোক আসবে এবং তাদের চাকরি-বাকরির নিশ্চয়তা দেয়া হবে, মান-সম্মান দেয়া হবে,
সেই দেশ তত বেশি উন্নত হবে। তিনি বলেন, ‘এখানে (মন্ত্রণালয়ে) দু’জন অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি আছেন, একজনকে তো আমি সমীহ করে কথাবার্তা বলি। কারণ আমরা তো পত্রিকার লোক, বেয়াদব। আমাদের চাইতে নলেজেবল লোক পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে নাই, এটা আমাদের পজিশন। কিন্তু এ মন্ত্রণালয়ের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি মহসিন সাহেবকে আমি সমীহ করে কথা বলি, আমার যেন কেন মনে হয় উনি আমার চেয়ে বেশি জানেন। যদিও আমি মনে করি উনি জানেন না, কিন্তু মনে হয় বেশি জানেন।’ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে পরিচয়পর্বে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ইসতিয়াক আহমদেরও বেশ প্রশংসা করেন মন্ত্রী। কিছু দিন আগে সুন্দরবনে আগুন লাগার প্রসঙ্গে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘সুন্দরবনের ঘাসে আগুন লাগছে। আমরা কি লিখেছি- সুন্দরবনের গাছে আগুন লেগেছে।’ বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য মন্তব্য করে মঞ্জু বলেন, ‘এটা আমি চামচাগিরি করার জন্য বলতেছি না, দালালি করার জন্যও বলতেছি না। আমার জীবনে দালালি করার প্রয়োজন আছে বলেও মনে করি না। আই হ্যাভ বিন গিভেন গড মোর দ্যান আই ডিজার্ভ।’
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট চূড়ান্ত হচ্ছে আজ

বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার দুই শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন চূড়ান্ত হচ্ছে আজ। ইতিমধ্যেই প্রতিবেদন তৈরি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করতে আজ বেলা ১১টায় বৈঠকে বসছে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। ধর্ষণের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ড. সোহেল মাহমুদ যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তবে ধর্ষণের শিকার দুই শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টে কি পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। বন্ধু সাদনান সাকিফের প্ররোচনায় ২৮ মার্চ বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া দুই তরুণী। ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পর ২ মে রাজধানীর বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগ করেন তারা। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে দুই তরুণী বলেন, আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম আবদুল হালিম) ঘটনার রাতে তাদের দু’জনকে সারা রাত হোটেলটির দুটি কক্ষে আটকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করে। সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তারা।
ঘটনার দীর্ঘদিন পর অভিযোগের কারণ হিসেবে তারা (দুই তরুণী) সামাজিকভাবে হেয় হবেন ভেবে এতদিন ঘটনাটি গোপন রেখেছিলেন বলে উল্লেখ করেন। তারা থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে আরও বলেন, ‘সেদিন ধারণকৃত সেই ভিডিও ধর্ষকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশসহ তাদের খুন ও গুম করার হুমকি দিচ্ছে বিধায় তারা থানায় অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছেন।’ ওই ঘটনায় সাফাত আহমেদের আরেক বন্ধু সাদনান সাকিফ ছাড়াও সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদকেও দায়ী করা হয়। এদিকে এ ঘটনা মিডিয়ায় প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলায় বনানী থানা পুলিশ ৪ দিনের মাথায় ৬ মে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। আর ৭ মে অভিযোগকারী দুই তরুণীকে পুলিশ ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। দুই শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন একই বিভাগের ডা. কবির হোসেন, ডা. মমতাজ আরা, ডা. নিলুফা ইয়াসমিন ও ডা. কবিতা সাহা। ওই সময় ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ দুই তরুণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ওই সময় বলেছিলেন, ‘ঘটনাটি অনেকদিন আগের হওয়ায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া কঠিন হবে।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ধর্ষণের পর সাধারণত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যায়।’ তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ সে সময় বলেছিলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ১৫-২০ দিন সময় লাগবে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মেডিকেল বোর্ড পর্যালোচনা করে মতামত দেবেন। আর ওই মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’ এদিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াও আলোচিত ওই ধর্ষণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পরিদর্শক ইসমত আরা এমি ঘটনার রাতে দুই তরুণীর পরা সালোয়ার-কামিজ জব্দ করেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে ১০ মে জব্দকৃত সালোয়ার-কামিজ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠিয়ে দেন। জব্দকৃত ওই আলামতের ফরেনসিক রিপোর্ট এখনও মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষের হাতে আসেনি। এদিকে বুধবার আলোচিত ওই ধর্ষণ মামলার তদন্ত তদারকিতে গঠিত কমিটির প্রধান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বুধবার যুগান্তরকে বলেছেন, ইতিমধ্যেই ধর্ষণের ঘটনায় সব আসামি গ্রেফতার হয়েছে এবং আদালত তাদের স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেছেন। ওই কর্মকর্তার ভাষায়, ‘ঘটনাটি প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট এভিডেন্স আমাদের হাতে রয়েছে, তাই স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টে কি বলা হচ্ছে সে বিষয়ে তদন্ত কর্তৃপক্ষের তেমন আগ্রহ নেই।’ ধর্ষণ মামলার পর ১১ মে সিলেট থেকে গ্রেফতার হন প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফ। এর ৪ দিন পর ১৫ মে রাজধানীর নবাবপুর ও গুলশান-১ থেকে র‌্যাব এবং পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেফতার হন মামলার অপর দুই আসামি সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল এবং বডিগার্ড রহমত ওরফে আবুল কালাম আজাদ। সর্বশেষ গ্রেফতার হন আলোচিত এ ধর্ষণ মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম আবদুল হালিম)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ (আবদুল হালিম, গাড়িচালক বিল্লাল ও বডিগার্ড রহমত ওরফে আবুল কালাম আজাদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের আরেক বন্ধু সাদমান সাকিফকে এ মামলায় প্রধান সাক্ষী করা হতে পারে বলে ইতিমধ্যেই তদন্ত কর্তৃপক্ষ আভাস দিয়েছে।

‘ইসলামিক ট্যুরিজম’র আওতায় ওমরা

‘ইসলামিক ট্যুরিজম’ শিরোনামে পর্যটন শিল্প প্রসারের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি সরকার। এতে পবিত্র ওমরাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সৌদি সরকারের এমন উদ্যোগের সঙ্গে অনেকটাই একমত বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। এটি দেশে কার্যকর হলে ওমরা পালন করতে ইসলামিক ট্যুরিজমের আওতায় যেতে হবে। এরই অংশ হিসেবে ইসলামিক ট্যুরিজম পরিচালনা করতে ওমরা লাইসেন্স চেয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি)। সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল জলিল বুধবার নিজ দফতরে যুগান্তরকে বলেন, সৌদি সরকার ইসলামিক ট্যুরিজমের নামে বিশ্বব্যাপী পর্যটন শিল্পের প্রসারের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে পবিত্র ওমরা পালনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ওমরা পালনের জন্য এই ট্যুরিজমের আওতায় লোকজন সৌদি আরব যাচ্ছেন। বাংলাদেশকেও তারা এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আহ্বান জানিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইসলামিক ট্যুরিজম পরিচালনা করতে ওমরা লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছে বিপিসি। বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তবে এর সঙ্গে হজের কোনো সম্পর্ক নেই। সম্প্রতি সৌদি আরব সফরের কথা উল্লেখ করে ধর্ম সচিব আবদুল জলিল আরও বলেন, এবারের সৌদি আরব সফরের সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ আমাদের ওমরা পালনের সুযোগ দিয়েছে সরকারিভাবেই। ওমরা পালনকারী সবাই ছিল ইসলামিক ট্যুরিজমের প্যাকেজে। এমনকি বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশই সৌদির এ কনসেপ্টের সঙ্গে একমত। এটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ থেকে সরকারি-বেসরকারি দু’ভাবেই ওমরা পালন করা যাবে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ইসলামিক ট্যুরিজমের অংশ হিসেবে বিপিসি ওমরা প্যাকেজ প্রবর্তন করতে যাচ্ছে। ওমরা লাইসেন্স সংগ্রহে সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিপিসি। একই সঙ্গে ওমরা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছেও আবেদন জানিয়েছে তারা। এ ব্যাপারে মন্তব্য নিতে বুধবার বিপিসির চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান খান কবিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এরপর তার মোবাইল ফোন নম্বরে এ প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে এসএমএস পাঠানো হলেও রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি উত্তর দেননি। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে বিপিসি প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেশের পর্যটন স্থাপনাগুলো রক্ষণাবেক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ও অন্যান্য সুবিধাদি গড়ে তোলা এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এ প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ। অভ্যন্তরীণ পর্যটন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসার অনুমতিও বিপিসির রয়েছে। মানি এক্সচেঞ্জ কেন্দ্র, ক্যাসিনো, ডিউটি ফ্রি শপ পরিচালনার এখতিয়ার বিপিসির রয়েছে। দেশজুড়ে বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন হোটেল, মোটেল, কটেজ, রেস্তোরাঁ, পিকনিক স্পট, রেন্ট এ কার ও ভ্রমণ ইউনিট দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সেবা দিয়ে আসছে।

নরসিংদীতে বজ্রপাতে নারীসহ ২ জনের মৃত্যু

নরসিংদীর রায়পুরায় বজ্রপাতে এক নারীসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- মুসাপুর ইউনিয়নের আতকাপড়া গ্রামের লাল মিয়ার স্ত্রী রেখা বেগম (৪৫) ও একই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে আঃ ছালাম (৪০)। বৃহস্পতিবার ভোরে ওই গ্রামের একটি ধানী জমি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাতে প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাতের সময় পাশের বাড়ির দেবর সম্পর্কিত আঃ ছালামকে সঙ্গে নিয়ে গৃহবধূ রেখা বেগম হাওরে পানির সেলু পাম্প পাহারত স্বামী লাল মিয়াকে আনতে বের হন। এরপর আর তারা বাড়ি ফেরেননি। রাতে তাদের অনেক খোঁজাখুজিও করা হয়। পরে ভোরে রেখা বেগম ও ছালামের মরদেহ ধান খেতে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। এলাকাবাসী জানায়, ঝড়ের মধ্যে আকস্মিক বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

দুমকিতে যুবককে গলাকেটে হত্যা



পটুয়াখালীর দুমকিতে ফোরকান মোল্লা (৩০) নামে এক যুবককে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাতে উপজেলার পশ্চিম আঙ্গারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফোরকান ওই গ্রামের বারেক মোল্লার ছেলে। দুমকী থানার ওসি দিবাকর চন্দ্র দাস জানান, রাতে লেবুখালি বটতলা বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফিরছিলেন ফোরকান। পথে ওই এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে গলকেটে হত্যা করে লাশ ইটভাটার বালুর মাঠে ফেলে রেখে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

ঝালকাঠির ১৭ রুটে দ্বিতীয় দিনেও বাস ধর্মঘট

শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে ও ম্যাজিক গাড়ি বন্ধের দাবিতে ঝালকাঠির অভ্যন্তরীণ ১৭টি রুটে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট চলছে। এর আগে বুধবার বিকাল ৩টা থেকে আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে এ ধর্মঘট শুরু হয়। রমজানের মধ্যে আকস্মিক এ ধর্মঘটে যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জানান, ঝালকাঠির আঞ্চলিক মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কে সম্প্রতি ম্যাজিকগাড়ি চলাচল করছে। এ বাহনের চালকরা বিভিন্ন সময় বাস শ্রমিকদের মারধর করেছে। তারা জানান, ম্যাজিক গাড়ির চালকদের বেপরোয়া সড়কে দাপটের কারণে প্রায়ই বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। জানা গেছে, বুধবার দুপুরে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে কলেজমোড়-বানাড়ীপাড়া রুটে চলাচলকারি ম্যাজিক গাড়ির চালক ও হেলপারদের সঙ্গে শ্রমিকদের বাকবিতন্ডা হয়।
এক পর্যায়ে বাস শ্রমিক আবুল কালামকে মারধর করে ম্যাজিকচালকরা। আহত অবস্থায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বুধবার দুপুরে বাসটাস্ট্যান্ডে তাদের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঝালকাঠি থেকে বরিশাল, খুলনা, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ অভ্যন্তরীণ ১৭টি রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপরই বিকাল ৩টা থেকে ঝালকাঠির অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে বাস ধর্মঘটের কারণে ওই সব রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেকে গন্তব্যে যেতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অনেককে আবার অনেকটা পথ পায়ে হেটে-বিভিন্ন ছোট বাহনে করে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। ঝালকাঠি আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর চৌধুরী বলেন, বাস শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় আমরা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। এ ঘটনার বিচার করতে হবে এবং ম্যাজিক গাড়ি বন্ধ করা না হলে বাস ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব বলেন, ধর্মঘটের খবর শুনে আমরা বাসস্ট্যান্ড এলাকা পরিদর্শন করেছি। বাস শ্রমিক এবং ম্যাজিক গাড়ির শ্রমিকদের দুটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করার পরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালীগঞ্জে ট্রাকচাপায় সাইকেল আরোহী নিহত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় বালুবাহী একটি ট্রাকের চাপায় রাজ্জাক হোসেন (৫০) নামে এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খয়েরতলা এলাকার কোল্ড স্টোরেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাজ্জাকের উপজেলার নরেন্দ্রপুরের বাসিন্দা। তিনি কালীগঞ্জ খয়েরতলা গ্রামের ইউনিভার্সাল পোল্ট্রি হ্যাচারিতে নাইটগার্ডের চাকরি করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্জাক হোসেন বাইসাইকেলে করে কালীগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি খয়েরতলা কোল্ডা স্টোরেজের সামনে পৌঁছলে পেছন দিক থেকে বালুবাহী একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। কালীগঞ্জ থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।

'অপহৃত' ডা. ইকবাল বাসায় ফিরেছেন

ঢাকা থেকে 'অপহৃত' লক্ষ্মীপুরের ডা. ইকবাল মাহমুদকে সাড়ে সাত মাস পর চোখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। বুধবার দিবাগত রাতে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের নতুন গো-হাটা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ ব্যাপারে উদ্ধার হওয়া ডা. ইকবালের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাকে ফিরে পেয়ে পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা আনন্দিত। গত বছরের ১৪ অক্টোবর ভোররাতে ঢাকার সাইন্স ল্যাবরেটরির এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। সেখানের একটি সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া চিত্রে দেখা যায়, রয়েল কোচ নামে একটি বাস সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ে ধানমন্ডি ১ নম্বর রোডের কাছে এসে থামে। ইকবাল মাহমুদ ওই বাস থেকে নেমে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাত-আটজন তাকে ঘিরে ধরে। এরপর মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এসময় মাইক্রোবাসের পেছনে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানকে যেতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় পরদিন রাতে ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ডা. ইকবালের বাবা। ডা. ইকবাল মাহমুদ লক্ষ্মীপুর শহরের হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা একেএম নুরুল আলমের ছেলে। তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা। বিসিএস পাস করে ডা. ইকবাল মাহমুদ প্রথমে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে কাজ করেন। এরপর সেখান থেকে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়। গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া রয়েলকোচ বাসে করে ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনেসথেসিয়ার উপর প্রশিক্ষণের জন্য ডা. ইকবাল মাহমুদ ঢাকায় আসেন। ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার সাইন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় বাস থেকে নামলে ওই স্থানে থাকা একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তাকে অজ্ঞাত লোকজন তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের সাত মাস পর অবশেষে বুধবার রাতে চোখ বাঁধা অব্স্থায় ফেলে রেখে গেলে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি লক্ষ্মীপুরের বাসায় ফেরেন। 

কক্সবাজারে এখনো নিখোঁজ দেড় শতাধিক জেলে

কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় মোরার তাণ্ডবে ১১টি মাছ ধরার ট্রলারসহ দেড় শতাধিক জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। বোট মালিক সমিতি এবং কোস্টগার্ড নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। বুধবার রাতে কুতুবদিয়ার পশ্চিম সাগর থেকে নৌবাহিনী এবং ফিশিং বোটের লোকজন ২৫ জেলেকে উদ্ধার করেছে। তবে নিখোঁজের বিষয়ে কোনো তথ্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেই বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজি আব্দুর রহমান। সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ঘূর্ণিঝড় মোরার তাণ্ডবে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১১টি মাছ ধরার ট্রলার নিখোঁজ রয়েছে। এসব ট্রলারে অন্তত দেড় শাতাধিক জেলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বোট মালিক সমিতি। তবে বুধবার রাতে কুতুবদিয়ার পশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর (জাহাজ খাদেম) সদস্যরা ২০ জেলেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে। এসময় আরো পাঁচ জেলেকে ফিশিং বোটের লোকজন উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ বোটগুলোর মধ্যে মহেশখালীর আব্দুর শুক্কুর কমিশনারের মালিকানাধীন এফবি ওয়ালিদ নামে ২টি এবং এফবি সায়েদ নামে ১টি, খোরশেদের মালিকানাধীন এফবি মিতালি, মহেশখালীর পুটিবিলা এলাকার বাঁশি মাঝির ১টি। এছাড়া সদর উপজেলার খুরুশকূল মামুন পাড়ার লুলাইয়া বহদ্দারের ২টি বড়শি বোট নিখোঁজ রয়েছে। কুতুবদিয়া উপজেলায় ৪টি বোট নিখোঁজ রয়েছে। তবে এসব ট্রলারের মালিকানা নিশ্চিত করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন। আব্দুর শুক্কুর নামে একজন বোট মালিক জানান, ঘূর্ণিঝড় শুরুর ৩দিন আগে তার মালিকানাধীন ৩টি নৌকা নিয়ে ৬১ জন মাঝিমাল্লা সাগরে মাছ ধরতে যায়। এখনো তাদের কোনো খোঁজ খবর নেই। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান ও উদ্ধারের জন্য স্ব-উদ্যোগে সাগরে একটি ট্রলার পাঠানোর কথা জানিয়েছে তিনি।
এদিকে বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির এক সভায় জানানো হয়- এ পর্যন্ত তাদের সমিতিভুক্ত ৪টি নৌকা নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া সমিতির বাইরে ২টি বড়শি বোটও নিখোঁজ রয়েছে। এ ব্যাপারে সমিতির তত্ত্বাবধায়নে বোট মালিক পক্ষ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হবে বলে জানিয়েছেন বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, আমাদের সমিতিভূক্ত যেসব নৌকা রয়েছে সেখানে ৪টি নৌকা নিখোঁজের খবর আমরা জানতে পেরেছি। তবে এখনো নিহতের কোনো খবরা-খবর আমাদের কাছে নেই। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কোস্টগার্ড কক্সবাজার স্টেশনের কন্টিজেন্ট কমান্ডার নয়ন বড়ুয়া বলেন, আমাদের কাছে নিখোঁজের কোনো তথ্য নেই। তবে শতভাগ নিশ্চিত হতে চট্টগ্রাম থেকে ২টি নৌবাহিনীর জাহাজ কক্সবাজারের উপকূলে টহলে আসবে। ভাসমান নৌকা কিংবা জেলে উদ্ধারের জন্য কাজ করবে তারা। কুতুবদিয়া উপজেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে কুতুবদিয়ার পশ্চিম সাগর থেকে নৌবাহিনীর সদস্যরা ২০ জন জেলে এবং ফিশিং বোটের সদস্যরা পাঁচজন জেলেকে উদ্ধার করছে। এদের মধ্যে ২০ জন কুতুবদিয়ার অন্য পাঁচজন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাসিন্দা বলে জানানো হয়। কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন চৌধুরী বলেন, বুধবার রাতে কুতুবদিয়ার পশ্চিম সাগর থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং ফিশিং বোট লোকজন ২৫ মাঝিমাল্লাকে উদ্ধার করে। তারমধ্যে দুইজন বাঁশখালী এলাকার এবং বাকি ২৩ জন কুতুবদিয়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় জেলেদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কুতুবদিয়া উপজেলার ৪টি নৌকা নিখোঁজ রয়েছে। কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজি আব্দুর রহমান বলেন, যতজন জেলে নিখোঁজ ছিল তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এখন আর কোনো নিখোঁজের তথ্য আমাদের কাছে নেই। তারপরও আমরা খবর পেলে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাব।

টঙ্গীতে দোকান কর্মচারী খুন, আটক ২

গাজীপুরের টঙ্গীতে তমাল (১২) নামে টাইলসের দোকানের এক কর্মচারী খুন হয়েছে। বুধবার রাতে টঙ্গীর খাঁপাড়া রোড মোল্লাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোকান মালিকসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত তমাল শেরপুরের সদর উপজেলার তিরশা গ্রামের মৃত সোহরাব আলীর ছেলে। নিহতের ভাই আপন বাবু জানান, স্থানীয় বাদশা মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে তমাল টঙ্গীর খাঁপাড়া উত্তর আউচপাড়া এলাকার আহসান উল্লাহর টাইলসের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত। প্রতিদিন রাত ১০টা-১১টার মধ্যে সে বাসায় ফিরতো। কিন্তু বুধবার রাত ১১টার দিকেও বাসায় না ফিরলে তার মোবাইল ফোন করা হয়। কিন্তু সে ফোন রিসিভ করছিল না। এরপর রাত সোয়া ১১টার দিকে তমালের বন্ধু নাজমুল ও দোকান মালিক আহসান উল্লাহ খবর দেয় স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লার নির্মাণাধীণ ভবনের এক কোণায় তমাল অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে রাতেই তমালের মা হুজুরা বেগম বাদী হয়ে আহসান উল্লাহকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে দোকান মালিক মো. আহসান উল্লাহ (৩২) ও তমালের বন্ধু নাজমুল আলম (১৪) আটক করেছে পুলিশ। আটক আহসান সাংবাদিকদের জানান, রাত ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করে দুইজন যার যার মত চলে যাই। রাত সোয়া ১১টার দিকে আমার বন্ধু আবু ববকর ফোন করে জানান, দোকান কর্মচারী তমাল ওই ভবনের নিচে পড়ে আছে। খবরটি তার স্বজনদের জানিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। এছাড়া আমি আর কিছু জানি না। টঙ্গী থানা এসআই মো. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, নিহত তমালের মাথায় জখমের চিহ্ন রয়েছে। তার লাশ টঙ্গী হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এখনো মামলা এন্ট্রি হয়নি তবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে টঙ্গী মডেল থানার ওসি মো. ফিরোজ তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য বজায় রেখে কাজ করুন

সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে- তাহলেই দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। বুধবার সকালে দোহারের রাইপাড়া পালামগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দুস্থ নারী-পুরুষের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণকালে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাতীয় পার্টির অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এসব কথা বলেন। তিনি দিনভর দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী, কুসুমহাটী রাইপাড়া, সুতারপাড়া, নারিশা, মুকসুদুর, মাহমুদপুর, বিলাসপুর ইউনিয়ন ও দোহার পৌরসভা এলাকায় নিজ অর্থায়নে প্রায় ১০ হাজার শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেন। এ সময় সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম বলেন, দোহারের মানুষ নদীভাঙনে অনেক দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি রক্ষায় অরঙ্গাবাদ থেকে বাহ্রাঘাট পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে মৈনট থেকে নারিশা পর্যন্ত নদীশাসনের কাজ শুরু হবে। তাই আপনাদের যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দৃঢ় মনোবল নিয়ে কাজ করতে হবে। আমি আপনাদের যে কোনো বিপদ-আপদে সার্বক্ষণিক পাশে ছিলাম, ইনশাআল্লাহ আগামীতেও থাকব।
দোহারে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের কল্যাণে এলাকার উন্নয়নে আমি কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের সমর্থন ও ভালোবাসা পেলে উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। পবিত্র রমজান শেষে খুশির ঈদ সবার জীবনে আনন্দ বয়ে আনুক এ প্রত্যাশা করি। এ সময় বিলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা, মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, মুকশেদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমএ হান্নান, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক মো. সুরুজ আলম, কমরেড আ. বারেক, ঢাকা জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, দোহার উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ, সদস্য সচিব আবদুল আলিম, জাতীয় পার্টির নেতা ইয়াকুব মাদবর, হায়দার বেপারী, আফজাল শিকদার, হাজী মনির হোসেন, বশির আহমেদ, ডা. আ. হাকিম, শহিদুল ইসলাম, জানে আলম মেম্বার, গিয়াস উদ্দিন, বাবুল হোসেন, জসিম উদ্দিন পান্নু, ফরিদ হোসেন, রাজিব খান, জুবায়ের হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঝুঁকি নিয়ে উচ্চাভিলাষী বাজেট

জনগণকে তুষ্ট করতে ব্যাপক উন্নয়ন দরকার। আর এ উন্নয়ন সফল করতে প্রয়োজন বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আয়। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, ‘চাপাচাপি যা করার এ বাজেটেই করা যাবে। এর পরের বাজেটে থাকবে নির্বাচনী হাওয়া।’ জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারের জন্য এটি হচ্ছে শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রীর ‘চাপাচাপির’ ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য মেলাতে অর্থমন্ত্রীকে নতুন বছরে কঠোর হতেই হবে। বাড়তি রাজস্ব আয়ের জন্য বিদ্যমান করের আওতা সম্প্রসারণসহ নতুন নতুন খাত থেকে কর আদায় বাড়াতে হবে। এজন্য অর্থমন্ত্রীর সামনে একটাই পথ- বিতর্কিত নতুন ভ্যাট আইন ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা। এটি অর্থমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এ আইনটি বাস্তবায়ন হলে জনগণের ওপর করের বোঝা ব্যাপক বাড়বে। দ্রব্যমূল্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকবে। এছাড়া সবচেয়ে বড় যে প্রভাব, তা পড়বে স্থানীয় উৎপাদনমুখী শিল্পের ওপর। আমদানি পণ্যের কাছে দেশীয় পণ্য মার খাবে। সব মিলিয়ে এসব আশঙ্কা আর ঝুঁকি মাথায় নিয়েই উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রণয়ন করেছেন অর্থমন্ত্রী। আজ দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী এক বাজেট পেশ করতে যচ্ছেন অর্থমন্ত্রী, যা চলতি বাজেটের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। দুপুর দেড়টায় অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত এ বাজেট উপস্থাপন করবেন।
এটি হবে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের একাধারে ৯ বার বাজেট উপস্থাপন। এছাড়া বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের চতুর্থ এবং অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ১১তম বাজেট। এতে অর্থ সংস্থানের জন্য সম্প্রসারণমূলক কর পরিধি ও নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নসহ রাজস্ব আদায় বাড়াতে থাকছে নানামুখী পদক্ষেপ। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রস্তাবিত এ বাজেটের সম্ভাব্য আকার হচ্ছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। এতে মোট রাজস্ব আয়ের সম্ভাব্য লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে কর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ হচ্ছে ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে এনবিআর থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ২০ কোটি টাকা। এ ছাড়া কর ব্যতীত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ২৭ হাজার কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের কর রাজস্ব ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা এবং নন এনবিআর করের লক্ষ্য ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কর ব্যতীত প্রাপ্য হচ্ছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের ঘোষণা থাকছে বাজেটে। পাশাপাশি ভ্যাট অব্যাহতির বিদ্যমান সীমা ৩০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা এবং টার্নওভারের সীমা ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে দেড় কোটি টাকা করা হচ্ছে। এছাড়া টার্নওভার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করা হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের জন্য থাকছে বিশেষ বরাদ্দ। অর্থমন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের সর্বনিন্ম আয়কর সীমার পরিমাণ বাড়ছে। বিদ্যমান আড়াই লাখ টাকা থেকে পৌনে ৩ লাখ টাকা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে শেয়ারবাজারের জন্য কিছুটা কমলেও সার্বিকভাবে কর্পোরেট ট্যাক্স হারে পরিবর্তন হচ্ছে না। এ ছাড়া নতুন ভ্যাট আইন সংশোধন করে সম্পূরক শুল্কহারে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যদিও নতুন ভ্যাট আইনে ১৭০টি আমদানি পণ্য ছাড়া ১ হাজার ১৯২ পণ্য থেকে সম্পূরক শুল্ক বিলুপ্তের বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজস্ব কাঠামো নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। এ অবস্থায় প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ শতাধিক পণ্যে সম্পূরক শুল্কহারে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব থাকছে। অপরদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে অনুন্নয়ন ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা, যা জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ১১ দশমিক ১ শতাংশ।
এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা খাতে ৫২ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা, ভর্তুকি খাতে ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, ঋণের সুদ পরিশোধে ৪২ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা এবং সরবরাহ ও সেবায় ব্যয় হবে ২৫ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয় ২ লাখ ৬ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় বাড়বে ৪০ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। তবে ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দের মধ্যে খাদ্য খাতে ৪ হাজার কোটি টাকা ও অন্যান্য খাতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, প্রণোদনা বাবদ কৃষি খাতে ৯ হাজার কোটি টাকা, রফতানিতে ৪ হাজার কোটি টাকা ও পাটজাত দ্রব্যে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অনুকূলে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে। এ ছাড়া আগামী বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলাতে বড় অঙ্কের ঘাটতি থাকছে। এ ঘাটতির সম্ভাব্য পরিমাণ হচ্ছে ১ লাখ ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ব্যাংক থেকে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ নেয়ার সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৫৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। আর অনুদান পাওয়া যাবে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও কঠিন মনে হয়েছে নতুন ভ্যাট আইন। আগামী বাজেটে ১৫ শতাংশ থাকছে ভ্যাটের হার। এবার মানবসম্পদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
দেশে কিছু অবহেলিত অঞ্চলকে বাজেটে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়বে। সংখ্যালগুদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এর পরে হবে (২০১৮-১৯) নির্বাচনী বাজেট। সেখানে নতুন কিছু থাকবে না। যা কিছু হবে এ বাজেটে। পরবর্তী বাজেটে করের হার বাড়ানোর চিন্তা কম থাকবে। আমার দৃষ্টিতে এটি হবে আমার দেয়া সবচেয়ে ভালো বাজেট। আগামী বাজেটে টাকার অঙ্কে জিডিপির আকার ঠিক করা হয়েছে ২২ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। এতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ। পণ্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ থাকবে- এমন পূর্বাভাস দিয়েই ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার চেষ্টা থাকছে বাজেটে। এ ছাড়া আগামী বছর অগ্রাধিকার পাচ্ছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক, রেলপথ, কৃষি, পল্লী উন্নয়ন, কর্মসৃজন, বন্দরের সার্বিক ভৌতকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি সেবায় তথ্যপ্রযুক্তি বাড়ানো, জলবায়ু মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন, প্রবাস আয় বৃদ্ধি ও নতুন নতুন রফতানির বাজার সৃষ্টি। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ সুবিধার ঘোষণা আসছে। প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাকে দেয়া হবে বছরে দুটি উৎস বোনাস। আর্থিক দিক থেকে প্রতিটি বোনাসের পরিমাণ হবে এক মাসের মুক্তিযোদ্ধা ভাতার সমান (১০ হাজার টাকা)। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা ভাতার আওতায় নতুন করে আরও ২০ হাজার জনকে আনা হচ্ছে। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সম্ভাব্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১০০ কোটি টাকা।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫৬ লাখ গরিব মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে ৫২ লাখ ২৮ হাজার মানুষ এ সুবিধা পাচ্ছেন। এ কর্মসূচির ৯টি খাতে সম্ভাব্য বরাদ্দ থাকছে ৭ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। সূত্রমতে, ১ হাজার ৫০০ সিসির স্ল্যাব ভেঙে ১ হাজার সিসির নতুন স্ল্যাব করা হচ্ছে। এই গাড়ির ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক থাকছে। আগে এসব গাড়ি আমদানিতে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দিতে হতো। এ ছাড়া ২ হাজার ১ সিসি থেকে ২ হাজার ৭৫০ সিসি পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক ২০০ থেকে ২৫০ শতাংশ বাড়ছে। গণপরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসে সম্পূরক শুল্ক ৪৫ থেকে ৩০ হচ্ছে। দুই স্ট্রোকবিশিষ্ট অটোরিকশা, থ্রি হুইলারের ইঞ্জিন, চার স্টোক অটোরিকশা, থ্রি হুইলারের ইঞ্জিনের ওপর শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের খুচরা মূল্য ও সম্পূরক শুল্কহার বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিভিন্ন মানের সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানো হয়েছে। এতে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়বে। নিন্মমানের সিগারেটের মূল্যস্তর ২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেশীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে ২৭ টাকা এবং বিদেশি কোম্পানির জন্যে ৩৫ টাকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ ৫০ শতাংশ থেকে যথাক্রমে ৫২ ও ৫৫ শতাংশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসি অনুযায়ী মোটরগাড়ি, মাইক্রোবাস, তৈরি ও বিযুক্ত মোটরসাইকেলসহ নতুন ও ব্যবহৃত যানবাহনে নতুন ভ্যাট আইনে শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এনার্জি ড্রিংক, কোমল পানীয়, ফলের রস,
তামাকযুক্ত সিগারেট, জর্দা, গুল, সিগারেট পেপার, বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী, সিরামিক সামগ্রীসহ ৩১টি এইচএসকোডযুক্ত পণ্যে সরবরাহ পর্যায়ে বিভিন্ন হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থাকছে। পাশাপাশি হোটেল ও রেস্তোরাঁ, টেলিফোন, সিমকার্ড (রিপ্লেসমেন্টসহ) সরবরাহকারী, বিদেশি শিল্পীদের বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক, স্যাটেলাইট চ্যানেল ডিস্ট্রিবিউটরসহ বিভিন্ন সেবা খাতেও সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংক হিসাব এবং বিমানের টিকিটে যথাক্রমে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা এবং ১ হাজার ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক নির্ধারিত আছে। এনবিআরের নতুন প্রস্তাবে ৫ কোটি ১ টাকা থেকে তদূর্ধ্ব পরিমাণের ব্যাংক ডিপোজিটের বিপরীতে ৩০ হাজার টাকা এবং আন্তর্জাতিক বিমান টিকিটের বিপরীতে ৩ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক বসানো হচ্ছে। সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরে ভ্যাট, স্থানীয় পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক, আবগারি শুল্ক এবং টার্নওভার কর আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৬৬ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাত থেকে আয় ধরা হচ্ছে ৮৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের তুলনায় ৩৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এর ব্যাপক পরিবর্তন এবং সংশোধন করার ঘোষণা দেয়া হবে বাজেটে। জানা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারও ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করা হবে। অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে www.mof.gov.bd বাজেটের সব তথ্যাদি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবেন।

টিসিবির পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইন

রমজান উপলক্ষে সরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান টিসিবির ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সাধারণ বাজার থেকে কম দামে পণ্য পেতে রাজধানীর ক্রেতারা বেশ ভিড় করছেন। পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন অনেক সক্ষম ক্রেতাও। উদ্দেশ্য খাদ্যপণ্য কিনতে অধিক ব্যয় কমানো। তাই নিন্মবিত্ত, দরিদ্র, দিনমজুর কিংবা ভাসমান ক্রেতারা সবাই বেপরোয়া হয়ে উঠছেন কম দামে সরবরাহ করা টিসিবির পণ্য কিনতে। সরেজমিন রাজধানীর প্রেস ক্লাব, সচিবালয় গেট, মতিঝিল বক চত্বর, মতিঝিল শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, পলাশী বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বুধবার এসব স্থানে স্বল্পমূল্যের পণ্য নিতে এসেছেন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের নিন্মআয়ের মানুষ। তবে সহজেই এই ভর্তুকি মূল্যের পণ্য পাওয়া যায় না। এ জন্য অনেক ঘাম ঝরিয়ে দাঁড়াতে হয় দীর্ঘ লাইনে। একসময় নিজের সিরিয়াল এলেও দেখা গেছে, ডাল আছে, তেল নেই। আবার লম্বা লাইনের সারি শেষ হওয়ার আগেই বিক্রি শেষ হয়ে গেছে টিসিবির দৈনিক সরবরাহকৃত পণ্য। একই খবর পাওয়া গেছে শাহজাহানপুর, বাসাবো, রামপুরা, আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া বাজার, মিরপুর-১-এর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, মোহাম্মদপুর টাউন হল ও ঝিগাতলা কাঁচাবাজারসহ রাজধানীতে টিসিবির কার্যক্রম পরিচালনা করা ৩৩টি স্থানেও। জানা গেছে, রমজান উপলক্ষে সারা দেশে ১৮৫টি ট্রাকের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৩টি, চট্টগ্রামে ১০টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৫টি করে এবং জেলা শহরে ২টি করে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টিসিবির খোলা ট্রাক থেকে পণ্য নিতে আসা আশা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, এখানে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়া যায়। এজন্য সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় হয়েছে। সিরিয়ালে আমার পালা এলে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে ২ কেজি ছোলা, ২ কেজি চিনি কিনতে পেরেছি।
তবে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মসুর ডাল কিনতে পারিনি। আমার পালা আসার আগেই তা শেষ হয়ে গেছে। মতিঝিল বক চত্বরে টিসিবির খোলা ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে আসা কামাল মিয়া বলেন, এখানে কম মূল্যে পণ্য কিনতে এসেছি। তবে অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য কিনতে পারিনি। শুনেছি কালকেও তারা এখানেই বসবে। তাই কাল আগেভাগেই এসে লাইনে দাঁড়াব। কারণ এখান থেকে পণ্য নিলে বাজার থেকে অনেক কম দামে পাওয়া যাবে। তবে মতিঝিল শাপলা চত্বরে টিসিবির পণ্য কিনতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. সজিব যুগান্তরকে বলেন, টিসিবির পণ্যে মনে হচ্ছে আগের তুলনায় মান ভালো হয়েছে। বিশেষ করে তেল ও ডাল খুবই মানসম্মত। আবার দামও কম। তাই সুযোগ পেয়ে স্বল্পমূল্যের পণ্য কিনলাম এখানে এসে। আর আমার মতো অনেকেই টিসিবির পণ্য কিনে নিচ্ছে। মতিঝিল বক চত্বর এলাকায় টিসিবি ডিলার নূর মোহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, প্রতিদিন টিসিবি থেকে ৩০০ লিটার সয়াবিন তেল, ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি মসুরের ডাল, ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি ছোলা, ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি চিনি ও ৩০ থেকে ৪০ কেজি খেজুর সরবরাহ করা হয়। তিনি দাবি করেন, এ পরিমাণ পণ্য ভোক্তার চাহিদার তুলনায় খুবই কম। দুই ঘণ্টা থাকলেই বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এ কারণে অনেককে খালি হাতে ফিরতে হয়। এদিকে টিসিবি চিনি (দেশি) প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৮০ টাকা, সয়াবিন তেল বোতল প্রতি লিটার ৮৫ টাকা, ছোলা প্রতি কেজি ৭০ টাকা ও খেজুর প্রতি কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর টিসিবির ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে একজন ক্রেতা ৫ কেজি ছোলা, ৫ লিটার তেল, ৩ কেজি ডাল, ৪ কেজি চিনি ও ১ কেজি খেজুর কিনতে পারবেন।

ঈদ ব্যস্ততা কালুহাটির জুতা কারখানায়

ঈদ সামনে রেখে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার কালুহাটির জুতা কারখানাগুলোতে চলছে চরম ব্যস্ততা। কথা বলার ফুরসত পাচ্ছে না এখানকার কারিগরসহ মালিকরা। ঈদকেন্দ্রিক উত্তরাঞ্চলের জুতা-স্যান্ডেলের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পণ্য তৈরি করছেন তারা। সম্প্রতি কালুহাটি গ্রামে গিয়ে বেশ কয়েকটি কারখানা ঘুরে দেখা গেল এমনই চিত্র। স্থানীয়রা জানান, বছরের অন্যান্য সময়ে বেশ কিছু কারখানা বন্ধ থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে প্রতিটি কারখানা এখন কর্মচঞ্চল। দিন-রাত সমান তালে চলছে তাদের কার্যক্রম। অন্য বছর কালুহাটির জুতা-স্যান্ডেলের ব্যবসা আশানুরূপ না হলেও এ বছর ব্যাপক চাহিদার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কালুহাটি গ্রামে ৩৭টি জুতা-স্যান্ডেল কারখানা রয়েছে। এখানকার তৈরি পণ্য উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ জেলাতে যাচ্ছে। এতে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানালেন কারখানার মালিকরা। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী জুতা-স্যান্ডেল ডেলিভারি দিতে পারছেন না কারখানা মালিকরা। ফলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কারখানা মালিকরা। স্থানীয় জুতা-স্যান্ডেল কারখানা মালিকদের নিয়ে গঠিত কমিটির সভাপতি আবদুুল মান্নান যুগান্তরকে জানান, কালুহাটি গ্রামে গড়ে ওঠা ৩৭টি কারখানায় তৈরিকৃত জুতা-স্যান্ডেলের সুনাম রয়েছে দেশজুড়েই। তবে বেশির ভাগ জুতা-স্যান্ডেল যাচ্ছে, উত্তরাঞ্চলের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, নওগা, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশের প্রায় জেলাতেইতিনি জানান, এই গ্রামে প্রায় ৪০ বছর ধরে জুতা-স্যান্ডেল তৈরি হয়ে এলেও সরকারিভাবে ইতিপূর্বেও কেউ কখনও এগিয়ে আসেনি। তবে ২০১৪ সাল থেকে চারঘাট-বাঘার সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এই গ্রামের শিল্পের ওপর দৃষ্টি দিয়েছেন।
এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে ইতিমধ্যে স্বল্প সুদে ঢাকা ব্যাংক থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন কারখানা মালিকদের। ঋণের সেই টাকা হাতে পাওয়ায় কারখানা মালিকরা এ বছর রেকর্ড পরিমাণ পণ্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে কালুহাটি গ্রামে যে পরিমাণ জুতা-স্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে মন্ত্রীর সহযোগিতার কারণে। মান্নান বলেন, আগে কয়েকটি কোয়ালিটির পণ্য তৈরি হলেও বর্তমানে ছেলে ও মেয়েদের আধুনিক ডিজাইনের জুতা-স্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন নামি-দামি কোম্পানির স্যান্ডেলের তুলনায় কালুহাটি গ্রামে তৈরিকৃত জুতার মান কোনো অংশেই কম নয়। ভালো মান ও ডিজাইনের জুতা-স্যান্ডেল তৈরির কারণে বিভিন্ন মোকাম থেকেও অর্ডার আসছে ব্যাপকভাবে। এখানকার উদ্যোক্তাদের আশা ঢাকার মার্কেটে কালুহাটির জুতা-স্যান্ডেল প্রবেশ করাতে পারলে এই এলাকার পণ্যের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। মুঞ্জিল সুজ কারখানার মালিক মুঞ্জুর রহমান জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর জুতা-স্যান্ডেলের চাহিদা যেমন বেড়েছে তেমনি সংশ্লিষ্ট উপকরণের দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। তিনি জানান, প্রতি পিস সোলের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, পেস্টিং আঠা অন্য বছরের চেয়ে এ বছর বেড়েছে গ্যালনপ্রতি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। এভাবে প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়েছে।

ডাক্তার বনাম রোগীর স্বজন

রোগী শোনে না ডাক্তারের কথা, সন্তান শোনে না পিতামাতার কথা, কর্মী শোনে না রাজনৈতিক নেতার কথা, ছাত্র শোনে না শিক্ষকের কথা, কর্মচারী শোনে না কর্মকর্তার কথা, ঠিকাদার শোনে না ইঞ্জিনিয়ারের কথা। এই যে স্বেচ্ছাচারিতা, এটা মনে হয় সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিদ্যমান। একজন চিকিৎসক হিসেবে এটা বহুদিন ধরে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। গত ১৮ মে সেন্ট্রাল হাসপাতালে যে সহিংস ঘটনাটি ঘটে গেল, সেটার অন্তর্নিহিত রহস্য কী তা উদ্ঘঘাটন হওয়ার আগেই একটি ধ্বংসলীলা ঘটে গেল। সম্পদের ধ্বংস সেটা হয়তো পূরণ করা যাবে। ব্যক্তিত্বের অপমান মুখ বুজে সহ্য করা গেলেও চরিত্রের যে ধ্বংস বা কালিমা এটা কি উদ্ধার করা যাবে? সেদিন বাংলাদেশের এক নম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষার্থী যে ঘটনাটি ঘটাল, সেটা কখনও সমাজের কাছে কাঙ্খিত নয়। সেখানে অধ্যাপক মতিউর রহমান স্যারের মতো বিজ্ঞজন শিক্ষক, সারা দেশে এক নামে পরিচিত চিকিৎসক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ এবং ওই হাসপাতালের পরিচালনা কর্তৃপক্ষসহ আমার সন্তানতুল্য কিছু সদ্য পাস করা চিকিৎসকের ওপর যে অবমাননাকর, ন্যক্কারজনক আঘাত হানা হল, এটা কোনোক্রমেই আশা করা যায় না। রাস্তার গুণ্ডা-পাণ্ডা,
বখাটে ও মাদকাসক্তদের হাতে এ রকম ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের হাতে এ ঘটনা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। চিকিৎসক সম্বন্ধে ফরাসি লেখক, ইতিহাসবিদ ও দার্শনিক ভলটেয়ারের একটা উক্তি আছে- ‘Men who are occupied in the restoration of health to other men, by the joint exertion of skill and humanity, are above all the great of the earth. They even partake of divinity, since to preserve and renwe is almost as noble as to create. তাছাড়াও পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যেখানে ডাক্তারদের সম্মানের চোখে দেখা হয় না। যদিও এর মধ্যে ডাক্তারদের সম্মান আমার চোখে সবচেয়ে বেশি ছিল তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পশ্চিম জার্মানিতে, যা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে নেই। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নে ডাক্তারদের অবস্থান ছিল ঈশ্বরের নিচে, যিশুর ওপরে। কোনো রোগী হাসপাতাল থেকে ভালো হয়ে যাওয়ার পথে চিকিৎসক বা টিমকেই শুধু ধন্যবাদ দিতেন না, যাওয়ার সময় ওই সমাজের রীতি অনুযায়ী তিনটি ফুল এবং আনুষঙ্গিক কিছু উপহার অবশ্যই দিয়ে বিদায় নিতেন। একজন বিদেশি হিসেবে, একজন সহকারী চিকিৎসক হিসেবে আমিও কিছু পেতাম। যদি কোনো রোগী মারা যেতেন, তাহলে রোগীর আত্মীয়-স্বজন শুধু চিকিৎসার জন্য কতবার এসে যে চিকিৎসক দলটিকে ধন্যবাদ দিতেন তা ভাষায় বলার নয়। বাংলাদেশে ডাক্তারদের ভেতরকার রাজনীতি চিকিৎসক সমাজের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। অধ্যাপক এমএ কাশেম স্যারের বিএমএ এবং অধ্যাপিকা ফিরোজা বেগমের বিএমএ এখন আর নেই। এখন আছে দলীয় বিএমএ। এজন্য ডাক্তারদের প্রথম বিভাজন যিনি এনেছিলেন উঅই গঠন করে, তাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষমা করবে কিনা জানি না।
১৯৭০ সালের পর চিকিৎসাবিদ্যার ছাত্র হিসেবে আমি দেখেছি- তখন ডাক্তাররা পেশাজীবী ছিলেন, রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিতে আচ্ছন্ন ছিলেন না, তাদের ন্যায্য দাবির কাছে সরকারই মাথানত করতে বাধ্য হতো। এই কিছুদিন আগে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ডাক্তারদের ধর্মঘটের কাছে সরকার এবং জনগণ পরাজয় মেনে নিয়েছে। তাই বলে কথায় কথায় ডাক্তাররা ধর্মঘট করবেন সে কথা আমি বলছি না। তবে এ মুহূর্তে গ্রামগঞ্জে, শহরে-উপশহরে যেভাবে ডাক্তারদের লাঞ্ছনা করা হচ্ছে, তা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। ডাক্তারদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন অবশ্যই ডাক্তারদের পেশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে হলেও রোগীর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু লেবাসধারী অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। ডাক্তাররা যদি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত সব রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে ভালো করতে পারতেন, তাহলে হয়তো মানুষ চিকিৎসকদের ফেরেশতা বা দেবতাদের ওপরে এবং স্রষ্টার নিচেই স্থান দিতেন; কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো সম্মান আমরা আশা করি না। কারণ সেখানে অন্য চারটি মৌলিক অধিকারের মতো চিকিৎসা ছিল সরকারের দায়িত্ব এবং চিকিৎসকরা ছিলেন নন প্র্যাকটিসিং। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা যেটুকু চাই সেটা হল, আমাদের একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে দিতে হবে। আমাদের সবার মনে রাখতে হবে, বর্তমান নবীন চিকিৎসকরা কিন্তু আমাদের মতো সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মায়নি। আমরা যে রকম ডাক্তারি পাস করার পরই In-service Trainee নামে একটি সরকারি চাকরিতে যোগদান করি, পঞ্চম গ্রেডের বেতনে, অতঃপর ইন্টার্নশিপ শেষ হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি পেয়ে যাই, তারপর নিজেরা নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ি- বর্তমান অবস্থাটা সেরকম নয়। আমরা কখনও বেকার ছিলাম না। জনগণ ও সরকারের ভেবে দেখা উচিত, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ হাজার ডাক্তার তৈরি হচ্ছে। সরকার কোনো অবস্থাতেই এত ডাক্তারের চাকরি দিতে পারে না, দেয়া সম্ভবও নয় এবং দেয়ার কোনো সুযোগও নেই। আমাদের পরিকল্পিত অর্থনীতির মতো বাংলাদেশে চাহিদার তুলনায় কী সংখ্যক ডাক্তার দরকার তা নির্ণয় করতে হবে। প্রতি বছর কতজন অবসরে যাবে, কতজনকে নতুন করে চাকরি দেয়া যাবে- ঠিক সেই সংখ্যক ডাক্তারই তৈরি করা উচিত। এখন আমরা যা করছি সেটা হল প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। বাংলাদেশি ডাক্তারদের বাজার কিন্তু বহির্বিশ্বের কোথাও নেই। তাছাড়া আমাদের এই ডাক্তাররা যে দেশে বসে ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়ান অথবা ব্রিটিশ কোয়ালিফাইং টেস্ট দিয়ে দেশের বাইরে যাবেন সে সুযোগও কিন্তু বিদ্যমান নেই।
সরকারের উচিত সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া। এই নতুন পাস করা ডাক্তাররা পেটের দায়ে মা-বাবার কাছ থেকে টাকা এনে চলতে পারবেন না বলেই দু’-তিনটি ক্লিনিকে চাকরি করে মানবেতর জীবনযাপন করেন। তাদের কারও বেতনই সরকারি ডাক্তারদের প্রাপ্ত বেতনের অর্ধেকের সমান নয়। সেই ডাক্তারদের আবার বিসিএস, পোস্ট গ্রাজুয়েট পরীক্ষা দেয়ার চিন্তা থাকে। সব মিলিয়ে এমন একটি পরিস্থিতিতে তারা জনগণের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, যা পৃথিবীর কোনো দেশে কল্পনা করা যায় না। বলছিলাম প্রফেসর এবিএম আবদুল্লাহর কথা। আমি তখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রফেসর এবিএম আবদুল্লাহ বারবার নির্বাচিত একজন ডিন অর্থাৎ শিক্ষকদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা যেমন রোগীদের মধ্যেও ঠিক তেমনি। তারপরও ডা. আবদুল্লাহ কোনো দিন অফিসে যদি বিলম্বে আসতেন তার জন্য হয়তো আমি উপাচার্য হিসেবে কিছু বলতাম না, কারণ সবাই তাকে পেতে চাইত। এবং রাজধানীর সবচেয়ে জটিল রোগীরাই ডা. আবদুল্লাহর অধীনে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। আমরা চেষ্টা করেছি ডা. এবিএম আবদুল্লাহর মেধা ও চিকিৎসার সুফল যেন সবাই পায়। এ কথাও সত্য, ডা. আবদুল্লাহ যদি কোনো দিন সকালে একটু দেরিতে অফিসে আসতেন, তাহলে আড়াইটায় চলে যেতেন না। হাসপাতালের সব রোগী দেখে বিকাল চারটার পর হাসপাতাল ত্যাগ করতেন, অর্থাৎ নিয়মানুবর্তী, সুশৃঙ্খল ডাক্তারদের একজন ডা. আবদুল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের যে ছাত্রীটিকে নিয়ে দুর্ঘটনা ঘটল, সেই ছাত্রীটি যখন সেন্ট্রাল হাসপাতালে এলো তখন তার রক্ত পরীক্ষায় যে ব্লাড পিকচার, যা লিউকেমিয়ার ক্যাটাগরিতে পড়ে, সেটা পাওয়া গেল। তার জ্বর ছিল, সে ডিহাইড্রেটেড ছিল এবং প্রায় ঝযড়পশ-এ ছিল। তাকে চিকিৎসা দেয়ার আগেই তার যখন শারীরিক অবনতি হচ্ছিল, তখন সেটাকে যে কোনো চিকিৎসকের ডেঙ্গু বা হেমোরিজিক Shock মনে হতে পারে। তাকে যখন আইসিইউতে নেয়া হল, সেখানে ইনটিউবেশন করার আগেই সে মারা গেল।
অর্থাৎ আইসিইউ কেয়ার বা চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগেই সে মারা যায়। যেহেতু চিকিৎসাই শুরু হয়নি, তাহলে চিকিৎসকের ভুল কোথায় হল? এ ক্ষেত্রে মেয়েটিকে হাসপাতালে দেরি করে আনার জন্য তার পরিবার, সহপাঠী বা সহকর্মীদের কি কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না? মেয়েটি এমন অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিল যে, তার রোগের ইতিহাসও সঠিকভাবে রোগী নিজে বা অন্য কেউ দিতে পারছিল না। সব কিছু মিলে একজন চিকিৎসককে দোষারোপ করা হল। তার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কর্তৃক মামলা করা হল। সবই সম্ভব হয়েছে; কিন্তু এতে নির্দোষ চিকিৎসক বা প্রফেসর আবদুল্লাহর যে সম্মানহানি হল সেটা কি ফিরিয়ে আনা যাবে? দৈবক্রমে হয়তো তিনি ওই মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, কিন্তু থাকলে তার মাথায়ও যদি এরকম একটি আঘাত হানা হতো এবং তার অকাল মৃত্যু ঘটত, তাহলে এর দায়ভার নিত কে? বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ছয় বছর উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছি। তখনও দেখেছি দু’-চারটি অপ্রীতিকর ঘটনা যা বহির্বিভাগে ঘটেছে সেগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্ররা নয়, ছাত্র নামধারী গুটিকয়েক অসৎ ব্যক্তি জড়িত ছিল। তারাও ওইখানে দেখাতে আসতেন। কোনো নিয়ম মানতেন না। নিয়ম না মেনে তাদের আগে দেখতে হবে। এবং দেখতে গিয়ে যদি কখনও বচসা হতো, পিয়ন বা ডাক্তার যদি বলতেন নিয়ম মেনে আসেন, তাহলেই হাতাহাতি-মারামারি হতো। একথা বলে আমি কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রের ওপর দোষারোপ করছি না। গুটিকয়েক ছাত্রের জন্য এ কলঙ্কটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘাড়ে পড়ছে। ওই সময় সব সমস্যার সমাধান আমাদের প্রিয় ছাত্রনেতা বদিউজ্জামান সোহাগ একাই সামাল দিতেন। শুধু তাকে জানালেই হতো। প্রক্টর বলেছেন (পত্রিকায় দেখেছি), তিনি ছাত্রদের শান্ত করার জন্য মামলা করেছেন। প্রক্টর যদি অভিভাবকই হন, তার স্নেহ ও শিক্ষা যদি ছাত্ররা গ্রহণ করে থাকে, তাহলে তিনি মামলা ছাড়াও তাদের শান্ত রাখতে পারতেন। কোর্ট বিল্ডিংয়ে জামিন নিতে গিয়ে ডা. এবিএম আবদুল্লাহ যেভাবে সিঁড়িতে বসে ছিলেন, এটি দেখে প্রক্টর সাহেব লজ্জিত হয়েছেন কি? আমরা চিকিৎসক সমাজ কিন্তু লজ্জিত ও অসহায় বোধ করছি।
আজকে যদি ছাত্র সংসদ বা সত্যিকার ছাত্র নেতৃত্ব থাকত, তাহলে এটা ছাত্ররাই সামাল দিতে পারতেন, প্রক্টরের প্রয়োজন হতো না।সাম্প্রতিককালে ডাক্তারদের ওপর রোগী বা তার আত্মীয়-স্বজনদের ক্ষোভের কারণেই অনেক ক্ষেত্রে কোনো জটিল রোগের চিকিৎসা কোনো ডাক্তার দিতে সমর্থ হলেও তা না দিয়ে নামিদামি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। কারণ নিগৃহীত হওয়ার ভয়। এতে করে ক্ষতি শুধু রোগীদের হচ্ছে না, চিকিৎসকও তার দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এবং তাদের সম্মানটুকু তারা ধরে রাখতে পারছেন না। এভাবে চললে ভবিষ্যতে জটিল রোগীদের মৃত্যু হবে কোনো হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নয়, অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে কোনো মহাসড়কের ওপরে। আমরা জানি, কিছুদিন আগেও ভারতে এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটত। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে চিকিৎসকের ওপর বাংলাদেশের মতোই আচরণ হতো, হাসপাতাল ভাংচুর হতো। কয়েকদিন আগেই বিরোলার এএমআরআই হাসপাতালটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল শুধু একজন রোগীকে কেন্দ্র করে। ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টের একটি রায় ছিল, রোগীর মৃত্যুর জন্য তার আত্মীয়-স্বজনদের কোনো ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে অভিযোগ দায়েরের পর আইনের খাতায় যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত না হন, তাহলে তার ওপর অত্যাচার করলে অত্যাচারীর শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং সেই শাস্তির মাত্রা বোধহয় ছিল পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। কিছুদিন আগে মহারাষ্ট্রের ডাক্তাররা ৫ দিন ধর্মঘট করে রোগী ও সরকারকে বাধ্য করেছিলেন এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে। আমাদের দুর্ভাগ্য, বাংলাদেশ মেডিকেল কাউন্সিল এখনও একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারেনি। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন তারা বিএমডিসির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন এবং বিএমডিসির কাউন্সিল মেম্বার হন ওই ক্ষমতাসীন দলের এমপি, চিকিৎসক, আইনজ্ঞ, সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশাজীবী। বিএমডিসি শুধু রেজিস্ট্রেশন নয়, কোর্স কারিকুলাম নয়, এমনকি ডাক্তারদের অন্যায়ের জন্য শাস্তি দেয়ার অধিকার রাখে। তাই যে কোনো ধরনের ভুল চিকিৎসার জন্য ভুক্তভোগী রোগী বা তার স্বজনরা বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলে অভিযোগ করতে পারেন, এটা যৌক্তিক ও আইনসম্মত। বাংলাদেশে এমন নজিরও আছে যে,
ভুল চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে আজীবনের জন্য। এটাও সত্য, ডাক্তারদেরও ভেবে দেখা উচিত এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা অহরহ কেন ঘটছে। কেনইবা জনগণের অসন্তোষের কারণে এত দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটছে। এখানে চিকিৎসাদাতা ও গ্রহীতা এ দু’য়ের মধ্যে মানসিক একটা পার্থক্য রয়েছে। তেমনি প্রাপ্তির আকাক্সক্ষা অসম্ভব উঁচু ধরনের থাকছে। প্রাপ্তি যখন আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় একটু কম হয়ে যায়, তখন এই অশান্তির সৃষ্টি হয়। রোগীর আত্মীয়-স্বজনদেরও জানতে হবে কোন অবস্থায় তারা রোগীটিকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। তারাই বা কেন রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার মতো অবস্থায় আনতে পারেন না। সেরিব্রো ভাসকুলার অ্যাকসিডেন্ট অথবা ব্রেইন টিউমারের মতো অনেক অসুখ আছে যেগুলো নিরাময়যোগ্য নয় অথচ এসব রোগীকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে এসে ডাক্তারদের অপারেশন করতে বলা হয়, যার কোনো অর্থ হয় না। কিন্তু রোগী মারা গেলে রোগীর আত্মীয়-স্বজন কিংবা অভিভাবকরা অসম্ভব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এই ক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ দুটো। একটি হল, তারা নিকটাত্মীয়কে হারিয়েছেন। তারা ভুলে যান তারাই বাধ্য করেছিলেন চিকিৎসককে অপারেশন করার জন্য। দ্বিতীয়টি হল, ভাংচুর করলে হয়তো হাসপাতালের বিল দেয়া লাগবে না। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসককেও ভাবতে হবে তিনি কোন অবস্থায় কার গায়ে ছুরি ধরবেন। চিকিৎসক দেবদূত নন; কিন্তু অনেক দিন ধরেই সমাজে এটা প্রচলিত ছিল, রোগীরা এসে ডাক্তারকে বলতেন, উপরে আল্লাহ নিচে আপনি। কখনও বলতে শুনিনি যে উপরে আল্লাহ মাঝে লক্ষ্মী, সরস্বতী, দুর্গা আর নিচে আপনি। অর্থাৎ সরাসরি আল্লাহর পরেই ডাক্তারদের স্থান দিয়ে দেন। আমরা চিকিৎসকরাও কি সেই স্থানটিকে রক্ষা করতে পেরেছি? তবে কথায় কথায় যদি সিনিয়র ডাক্তারদের লাঞ্ছিত করা হয়, এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা দেখেছি উপজেলা-জেলা পর্যায়ে, এখন খোদ রাজধানীতেও এই অত্যাচার হচ্ছে। এবং এ ঘটনাগুলোর পেছনে যে অন্তর্নিহিত কারণ বা অন্য কোনো ঘটনা থাকে, সেটা কিন্তু কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। যখনই কোনো ঘটনা ঘটেছে, ঘটনার পর মীমাংসা হয়েছে অপ্রত্যাশিতভাবে। সরকারের উচিত সুর্নিদিষ্ট আইন প্রণয়ন করা- যে আইনের মাধ্যমে চিকিৎসক, সন্ত্রাসী, ভাংচুরকারী বা রোগীর আত্মীয়-স্বজন যেই হোক না কেন, যিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন তিনি যথোপযুক্ত সাজা পাবেন। অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত : সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ফেসবুক, নীল খাম ও আইনস্টাইনের বেহালা

মাঝে মাঝে কিছু ‘আজাইরা কাজ’ করি আমি। যেমন, সেদিন রিকশায় উঠেই চালককে বললাম, খিলগাঁও পোস্ট অফিসে চলো। পোস্টাফিসের কথা উঠতেই রাঙা মামার (বড় মামার গা আমার মা ও তার অন্যান্য ভাই-বোনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে অস্বাভাবিক দুধে-আলতার রঙ ধারণ করেছিল বলে তাকে আমরা রাঙা মামা ডাকতাম) কথা মনে পড়ে। জমিজমা দেখভাল করতেন বলে লেখাপড়া খুব একটা করতে পারেননি তিনি। পোস্টমাস্টার হয়েছিলেন এবং শুরু থেকে রিটায়ারমেন্টের আগ পর্যন্ত তার পোস্টিং ছিল লালমনিরহাট জেলার ভোটমারী পোস্টাফিসে, আমার নানাবাড়ি থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে। রবীন্দ্রনাথের ‘পোস্টমাস্টার’ গল্পের নায়কের মতো কখনও দূরাঞ্চলে পোস্টিং হয়নি বলে সেবা-শুশ্রূষার জন্য তার রতনের মতো বালিকার প্রয়োজন পড়েনি। তো সেই পাকিস্তান আমলে স্কুলের ছুটিতে নানাবাড়ি গেলেই রাঙা মামার পকেট থেকে দু’-এক টাকা খসাতে তার পোস্টাফিসে যেতেই হতো। সেখানে দেখতাম কীভাবে কাটা হচ্ছে সদ্য ট্রেন থেকে নামানো ডাকের ব্যাগ, পোস্টম্যান আলাদা করছেন এলাকাভিত্তিক চিঠি, স্ট্যাম্পিং করছেন সেগুলোর ওপর, আর মানি-অর্ডারের ফরমগুলো থেকে হিসাব করছেন প্রাপকদের টাকার অংক। পোস্টমাস্টারই অফিসটির বড়কর্তা। রাঙা মামা কী কী যেন লিখতেন আর ছোট্ট একটা ফাঁক দিয়ে গ্রামবাসী টাকা ঢুকিয়ে তার হাত থেকে নিতেন খাম, ডাকটিকিট, মানি-অর্ডার ফরম। টু-থ্রিতে পড়তাম যখন, পোস্টাফিসে যাওয়া হয়নি তখনও, চিঠিগুলো ঢাকা থেকে কীভাবে ভোটমারী আসে বুঝতাম না। একদিন রাঙা মামাকে জিজ্ঞেস করায় বলেছিলেন- ফেরেশতারা নিয়ে আসেন। এই শুনে একদিন ছোট্ট একটা চিঠি লিখে রাঙা মামার বিছানার নিচে রেখে ফেরেশতাদের উদ্দেশে বলেছিলাম, চিঠিটা নানির বিছানার নিচে পৌঁছে দিন তো। ঘণ্টাখানেক পর সেখানে সেটা না পেয়ে খুব হতাশ হয়েছিলাম। ক্লায়েন্টশূন্য খিলগাঁও পোস্টাফিসে পৌঁছেই আমি ৩০০ টাকা দিয়ে কটকটা হলুদ রঙের একশ’টি ডাকবিভাগের খাম কিনি। কর্মটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত একটি আন্দোলনের অংশ। প্রথমেই আমি একটি ছোট্ট চিঠি- ‘আমি ভালো আছি’- লিখে একটা খামে ভরে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক বান্ধবীর ঠিকানা লেখার পর খামটি পোস্টাফিস-সংলগ্ন ডাকবাক্সে ফেলি, অতঃপর বাকি খামগুলো অফিসে নিয়ে এসে রাখি ড্রয়ারে। ডিপার্টমেন্টের কলিগদের দিয়ে শুরু হয় আন্দোলনের পরের পর্ব। সবার হাতে একটি করে খাম ধরিয়ে দিয়ে বলি- প্রিয়জনদের মধ্য থেকে বেছে যে কোনো একজনকে একটা চিঠি লিখবেন প্লিজ। সিদ্ধান্ত হয়, এরপর যারাই দেখা করতে আসবেন, প্রত্যেককেই দেয়া হবে একটি খাম। এই লেখাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, তাই প্রথমেই বলে রাখছি আমি কিন্তু টেকনোলজির বিরুদ্ধবাদী কেউ নই। বরং আমার ধীশক্তি যদি ভালো হতো, এইসব ছাইপাশ না লিখে নব নব টেকনোলজি উদ্ভাবনেরই চেষ্টা নিতাম। জীবন যতই জটিল হচ্ছে, প্রকৃতি যতই বিরূপ হয়ে পড়ছে, যতই বাড়ছে মানুষ- টেকনোলজির অভাব ততই অনুভূত হচ্ছে। যেমন, কুড়ি বছর আগেও মোবাইল ফোন অপরিহার্য কোনো ভোগ্যপণ্য ছিল না,
বাসাবো থেকে মিরপুর গিয়ে বন্ধুকে পেলাম না তো কী হয়েছে, কুড়ি আর কুড়ি চল্লিশ মিনিট নষ্ট হতো বড়জোর। এখন নষ্ট হবে কমপক্ষে চার ঘণ্টা, অবরুদ্ধ গতির বিরক্তি তো আছেই। মোবাইল তাই এখন অপরিহার্য একটি যন্ত্র, এর কল্যাণে আগেই জেনে নিচ্ছি যার কাছে যাব তাকে পাব কিনা। অথবা যন্ত্রটির মাধ্যমেই সেরে নিচ্ছি প্রয়োজনীয় কথা। টেকনোলজির এমন অসংখ্য অপরিহার্যতার কথা বলা যায়, সেগুলো না বলে এটুকু বলাই যথেষ্ট যে, এই পৃথিবীর উৎপাদিকা শক্তি ও ধারণক্ষমতা এখন যেমন আছে, সবসময়ই যেহেতু তেমন থাকবে না, সেহেতু সেই ঘাটতি পূরণের জন্য টেকনোলজি মানবজাতির এক অনিবার্য জীবনাদর্শ। আমরা আসলে কথা বলব এখন টেকনোলজির ব্যবহার নিয়ে। না, ‘রবীন্দ্র সমগ্র’-এর মতো ‘টেকনোলজি সমগ্র’-এর ব্যবহার আমাদের প্রতিপাদ্য নয়। এই ক্ষুদ্র পরিসরে সেটা সম্ভবও নয়। টেকনোলজির ব্যবহার সম্পর্কে আইনস্টাইনের মতো সারগর্ভ কথা আর কেউ বলেননি। বলেছিলেন- Technology without liberal arts may turn an explosive- মননশীল শিল্প ছাড়া প্রযুক্তি বিস্ফোরক হয়ে পড়তে পারে। সে কারণেই সম্ভবত, আপেক্ষিকতাবাদের তত্ত্ব এবং E = mc2-এর মতো ফর্মুলা বের হয়েছিল যার মাথা থেকে, তার হাতে ধরা থাকত একটি বেহালা। সেই বেহালার সুরের একটি অর্থ হয়তো এমন যে, আনবিক শক্তির প্রচণ্ডতা তো বুঝলে, সেটার দরকারও ছিল, তবে তা প্রয়োগ করার আগে মনটাকে শিল্পসম্মত করে তোলো। যা হোক, আমরা কথা বলব হাজারো টেকনোলজির একটি- তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে; সেটাও আবার সমগ্রতায় নয়, শুধুই ফেসবুক। আবার বলে রাখি, ফেসবুকের ব্যবহার নয়, এর বর্তমান ধারার ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব আমরা। তুলনা করার সুযোগ নেই যার, তার বঞ্চনাবোধও থাকে না।
যেমন, বয়স্ক আমরা যখন জ্যামে পড়ি, তখন বিরক্ত হই, কখনও আবার সেই বিরক্তি চরমে ওঠে। কিন্তু খেয়াল করে দেখেছি এখনকার তরুণ-তরুণীরা জ্যামে পড়লে ‘শিট’, ‘রাবিশ’ ইত্যাদি বলা দূরের কথা, খুব একটা ভাবান্তরও হয় না তাদের। কারণ এই যে, জ্যামহীন ঢাকার শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতা নেই তাদের আর তাই তুলনা করতে পারে না বলে জ্যামের ঢাকাকেই স্বাভাবিক মনে করে। ঠিক তেমন খামে ভরা চিঠি, সেটা যদি আবার হয় নীল খাম, ডাকপিয়নের হাত থেকে পাওয়ার যে কী আনন্দ, সেই যুগটা তারা দেখেনি বলে স্মার্টফোন অথবা ল্যাপটপের কমিউনিকেশনটাই তাদের কাছে মোক্ষম। সেটা না হয় ঠিক আছে, চিঠি দিয়ে তো আর প্রতিদিন যোগাযোগ করা যায় না। কিন্তু ফেসবুকের এ কেমন ব্যবহার যে, এইট-নাইনে পড়া ছেলে-মেয়ে তার রুমের দরজা বন্ধ করে প্রহরের পর প্রহর মগ্ন থাকবে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে, এমনকি ডাইনিং টেবিলেও বাবা-মার সঙ্গে কথা বলার মানসিকতা থাকবে না, বার্ট্রান্ড রাসেলের চেয়েও বড় দার্শনিক সেজে কী যেন ভাববে? এটা কেমন ফেসবুক যে, সেটা থেকে তাকে আলাদা করতে চাইলে সে আত্মহত্যার হুমকি দেবে? Habit is the second nature- সে কারণেই কি ফেসবুক চালানো এমন অভ্যাস হয়েছে যে, ব্যবহারকারীর দ্বিতীয় সত্তা হয়ে পড়েছে তা, আর সেটাকে আঘাত করা মানে জীবন বিপন্ন হয়ে পড়া? হবে হয়তো, কারণ এমন ইউজারও পাওয়া গেছে, ফোনে চার্জ নেই অথচ সে এমন মগ্ন যে, খেয়াল করছে না, তাকিয়েই থেকেছে স্ক্রিনে আর বৃথাই দেখতে চেয়েছে ক’টা লাইক পড়েছে তার স্ট্যাটাসে। পাঠকরা জানেন কি, রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে ফেসবুক-আসক্ত রোগীর সংখ্যা ইতিমধ্যেই অনেক। সেখানে এমন রোগীও রয়েছে, যাকে ভারতেশ্বরী হোমস থেকে ফেসবুক-আসক্তির কারণে বহিষ্কার করার পর সে ভর্তি হয়েছিল শাহীন স্কুলে। স্কুল বদলেছে, আসক্তি বদলায়নি। সেই ভবিষ্যদ্বাণীই ফলে যায়, যদি ভবিষ্যৎবক্তা বিষয়টিকে যোগ্যতার সঙ্গে স্কয়ারলি দেখতে পারেন। ফেসবুকের mass use বা গণব্যবহার শুরু হওয়ার বেশিদিন হয়নি, তাই বর্তমান ধারার ব্যবহার আলটিমেটলি মানবসমাজের কতটা ক্ষতি করবে, তার পরিমাপ করার সময় এখনও হয়নি। তবে বর্তমান ধারাটি অব্যাহত থাকলে একটা সময় যে আমাদের এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে, কে বলবে মিছা কথা! চোখের মাইওয়াপিয়া (হ্রস্বদৃষ্টি) ও নিউরোলজিক্যাল সমস্যাসহ কী কী সংকটে পড়তে যাচ্ছে আজকের ফেসবুক জেনারেশন, সেসব ফিজিওলজিক্যাল ব্যাপার-স্যাপার ডাক্তাররাই বলবেন, আমরা শুধু মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক ড্যামেজগুলোর কথাই সংক্ষেপে বলে যাব। অবশ্য এই মুহূর্তে যেসব ভাবনা স্ট্রাইক করছে, সেগুলোই শুধু। আবারও বলছি, আমরা কিন্তু ফেসবুকের বিরোধিতা করছি না, এর বর্তমান ধারার ব্যবহার নিয়ে কথা।
ক. ফেসবুক আমাদের মুড কন্ট্রোল করছে। প্রতিবারই যখন লগইন করছি, মনজুড়ে থাকছে রেড নোটিফেকশনের প্রত্যাশা। ভালো কথা, লাইক যদি বেশি পেলাম, নিউরোট্রান্সমিটার ডোপামিনের নিঃসরণ বেড়ে গেল, মুডটা হ্যাপি হয়ে গেল। কিন্তু যদি না দেখছি লাইক অথবা দেখলেও আগের লাইকের চেয়ে সংখ্যায় কম, তখন? মুহূর্তেই ডিপ্রেশন। এই যে মুডের ফ্লাকচুয়েশন, এর কি কোনোই প্রভাব নেই মনস্তত্ত্বে? অথবা যদি বলি, এত তুচ্ছ কারণে লাইফ হ্যাপি কিংবা আনহ্যাপি হতে পারে?
খ. ফেসবুক ক্রমাগতভাবে মানুষকে তার রিয়াল লাইফ থেকে আইসোলেট করে একটা ভার্চুয়াল জগতে নিয়ে যাচ্ছে। সে তার পারিপার্শ্বিক জগতকে পর্যবেক্ষণ করতে পারছে না, ভার্চুয়াল জগতেই তার বিচরণ। এমন একটা সময় হয়তো আসবে, তার বাস্তব জীবন বলে কিছু থাকবে না।
গ. তরুণ প্রজন্মকে নার্সিসিস্ট অর্থাৎ আত্মপ্রেমিক বানিয়ে তুলছে ফেসবুক। প্রতি মুহূর্তে সে কী করছে, কী পরছে, কী খাচ্ছে- ছবি তুলে শেয়ার দিচ্ছে আর ভাবছে তাতে প্রত্যাশার বেশি পড়বে লাইক। তার এই নার্সিসিজম যত বাড়বে, অন্যের প্রতি সহানুভূতি ততই কমতে থাকবে।
ঘ. ফেসবুকের ইউজার মাইন্ডফুল থাকছে শুধুই তার স্মার্টফোন অথবা ল্যাপটপে, বাকি সবকিছুতেই সে আনমাইন্ডফুল। অথচ জীবনের সবকিছুই, এমনকি খাওয়া-দাওয়াটাও করতে হয় প্রেজেন্স অফ মাইন্ডে।
ঙ. বলা হচ্ছে, ফেসবুক হচ্ছে সোশ্যাল কমিউনিকেশন মিডিয়া। কিন্তু এই কমিউনিকেশনের সোশ্যাল ইমপ্লিকেশনটা কী? রামপাল ইস্যু ধরা যাক। লাইক পড়েছে লাখে লাখে, মাঠে জমায়েত হয়েছে কত? কয়েকশ’। মানে কী? মানে ফেসবুকের মাধ্যমে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন যিনি, তিনি মনে করেছেন এক মহাদায়িত্ব পালন করা হয়েছে। অতিরিক্ত কিছু করার দরকার নেই। অর্থাৎ যোগাযোগটা সলিড নয়, বায়বীয়। মাঠ বা রাস্তাটা হল রিয়াল লাইফ, সেখানে নামবেন কেন তিনি, তিনি যে ভার্চুয়াল জগতের বাসিন্দা। ফেসবুকের যোগাযোগটাকে আমি বলি, পরস্পর পিঠ চুলকাচুলকি। ইংরেজিত বলে end justifies means- মানুষে মানুষে সম্পর্ক, রাজনীতিসহ সব কিছুর পরিণতিই বলে দেয় পদ্ধতি বা উপায়টা ঠিক ছিল কিনা। ফেসবুকের কোন্ যোগাযোগের ইতিবাচক ফল দেখেছি আমরা? তাহরির স্কয়ার? সে তো লস্ট গেম!
চ. টেক্সটের মাধ্যমে যে যোগাযোগ, সেটা টোটাল কমিউনিকেশনের মাত্র ৭ শতাংশ, ভয়েস কলের ক্ষেত্রে সেটা ৪৫ শতাংশ, কেবল মুখোমুখি সাক্ষাতেই একজনকে পুরোপুরি বুঝে ওঠা সম্ভব। ফলে ফেসবুকের যোগাযোগ অনেক বিভ্রান্তি তৈরি করছে, সৃষ্টি করছে ভুল বোঝাবুঝি, আর এতে বিপদগ্রস্তও হচ্ছে অনেকে। ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’- এই টেক্সট সৎ না ফেক- বডি ল্যাংগুয়েজ ও মোড অফ এক্সপ্রেশন ছাড়া বুঝব কীভাবে?
ছ. ফেসবুক তরুণ-তরুণীকে ঝুঁকিপ্রবণও করে তুলছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই ঘটাচ্ছে বড় ধরনের বিপদ। কিছুদিন আগে ভারতে একটি চলন্ত ট্রেনের কত সামনে থেকে সেলফি তুলে পোস্ট করা যায়, সেই চেষ্টায় ট্রেনটিতে কাটা পড়ে মরেছে এক তরুণ। দ্যাখো আমি কত বড় অ্যাডভেঞ্চারাস- এই অর্থহীন বীরপুঙ্গব তৈরি করে চলেছে ফেসবুক।
জ. স্ট্রং পার্সোনালিটি না থাকলে ফেসবুক কি হীন মানসিকতাও (inferiority complex) জন্ম দেয় না? ও সোনারগাঁয়ে খাচ্ছে, দামি গাড়ির ছবি দেখাচ্ছে, নায়াগ্রা ফল্সের সামনে দাঁড়িয়ে আছে- আমি পারছি না। এই কমপ্লেক্সের সঙ্গে পরশ্রীকাতরতাও কি মিশে থাকতে পারে না?
ঝ. ফেসবুক কি বাজার অর্থনীতির এক মাস্টারপ্ল্যান? এই অর্থে যে, মানুষকে আইসোলেট করে ফেলো, তাহলে সে বেশি বেশি কনজিউম করবে। তাই তো! একা অথবা বিষণ্ণ হয়ে পড়লে শপিংয়ে যাওয়ার ইচ্ছা জাগে, বারে গিয়ে মদ খেতে হয়।
ঞ. ফেসবুক জীবনের শৃঙ্খলা ভেঙে দিয়েছে। তরুণ-তরুণীর ঘুমানোর সময় এখন অনির্ধারিত, কতক্ষণ ঘুমাবে সে তারও ঠিক নেই, নিউ মার্কেট বা বেইলি রোড থেকে মনের মতো একটা বই কিনে পড়ার যে আনন্দ, সেটা সে জানে না; প্রেম করে, কিন্তু কীভাবে সেটা করতে হয় সেই শিল্প জানে না; মুখোমুখি বসে না, পাশাপাশি বসে কিছুক্ষণ, এরপর দু’জনেরই হাত চলে যায় স্ক্রিনে। পাশে বসা মানব বা মানবীর চেয়ে হাতের যন্ত্রটিই তার আপন বেশি। আসলে সে নিজেই স্টেরিওটাইপ একটা যন্ত্রবিশেষ।
ট. ফেসবুক কি তরুণ প্রজন্মের ক্রিয়েটিভিটিও নষ্ট করছে না? কানেক্টেড ফ্রেন্ডদের নিরর্থক ইনফরমেশনে ঠাসা তার মাথা। ইনফরমেশনের প্রতি ঝোঁক যার, সে সৃজনশীল হবে কীভাবে? আইটি সেক্টরের মুঘলরা মানুষের মগজ ধোলাইয়ে একটা বড় সাফল্য পেয়েছে। Knowledge is power-এর পরিবর্তে তারা মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে Information is power. জ্ঞান, নব উদ্ভাবন- এসব এখন অতি মামুলি বিষয়। কোন্ বন্ধু আজ কোন্ রেস্টুরেন্টে খেলো, কোন্ বাসে কক্সবাজার গেল- এসব ইনফরমেশন জানলেই চলে এখন। ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে পড়েছে আমাদের তরুণ প্রজন্ম। গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডের জন্য বরাদ্দ থাকে সময়, ওদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেড়ে নিচ্ছে সময় রাস্তার জ্যাম, ফেসবুকে যাচ্ছে প্রহরের পর প্রহর। বাকি যেটুকু থাকে, সে তো ঘুমের। কাজটা করে সে কখন? স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ইত্যাদির প্রকৃত অর্থ কী, আমি এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। তবে এটুকু বুঝি, মনে যা-ই থাক, প্রকাশ্যে ধর্মদ্রোহিতা কিংবা দেশদ্রোহিতা কোনোভাবেই স্বাধীনতা নয়। শিশুর স্কুলবিমুখতাও যেমন। এ ধরনের স্বাধীনতা অ্যালাও করা যায় না। ফেসবুক ব্যবহারের বর্তমান যে রীতি, সেটাকেও কিশোর-তরুণ-যুবার স্বাধীনতা মেনে নিই কী করে? পাল্টাতেই হবে এই রীতি।
পুনশ্চঃ ‘আমি ভালো আছি’- এই ছোট্ট চিঠিটা বান্ধবীকে পোস্ট করার সময় একটা ঘটনা মনে পড়েছিল। পাঠকের সঙ্গে শেয়ার করি। পোস্টাল ডিপার্টমেন্ট গ্রাহকদের একটা সুবিধা দিয়ে থাকে। কারও কাছে যদি টাকা না থাকে এবং তিনি জরুরিভিত্তিতে কাউকে চিঠি লিখতে চান, তাহলে ডাকটিকিট ছাড়াই, অর্থাৎ বিনা খরচায় চিঠি পাঠাতে পারেন তিনি। এটাকে বলে বিয়ারিং চিঠি, অর্থাৎ প্রাপককে দ্বিগুণ চার্জ দিয়ে চিঠিটি খালাস করতে হবে। তো দুই বন্ধু, খুব বিখ্যাত ছিলেন তারা, নাম মনে নেই, ধরা যাক তাদের নাম টম ও ডিক- থাকতেন ইউরোপের দুই আলাদা শহরে। টম একবার আমার মতো ‘আমি ভালো আছি’- এই তিনটি শব্দ লিখে ডিককে একটি বিয়ারিং চিঠি পাঠাল, উদ্দেশ্য খামোখাই তার কিছু টাকা নষ্ট করা। কয়েকদিন পর টমের নামে এলো একটি বড়, ভারি পার্সেল; সেটাও বিয়ারিং। তিনি পার্সেলটিকে একটা দামি গিফট ভেবে মহা উৎসাহে দ্বিগুণ চার্জ দিয়ে ডেলিভারি নিলেন। খুলে দেখলেন, সেটা একটি পাথরখণ্ড, পাঠিয়েছে ডিক, সঙ্গে একটি চিঠি, সেখানে লেখা রয়েছে- তুমি ভালো আছো জেনে এই পাথরটি আমার বুকের উপর দিয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছিল। তবে এত বড় প্রতিশোধের পর টম দমবার পাত্র নয়। তিনি লিখলেন, এবার আর বিয়ারিং নয়- তুমি পাথরখণ্ডটি এমনভাবে ভেঙেছ যে, সেটা একটা শিল্পের আকার ধারণ করেছে। ওটাকে আমি শোপিস করে রেখেছি!
লেখক : সাংবাদিক