Sunday, April 27, 2025

সিন্ধুতে হয় পানি, না হয় ভারতীয়দের রক্ত ​​বইবে : বিলাওয়াল ভুট্টো

কাশ্মীর হামলার জেরে সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। এ নিয়ে চরম উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় সরকার দলীয় নেতারা পাকিস্তানকে এক ফোঁটাও সিন্ধু নদীর পানি না দেওয়ার হুংকার ছাড়ছেন। এর প্রতিবাদে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। তিনি বলেছেন, ‘সিন্ধুতে হয় পানি, না হয় ভারতীয়দের রক্ত ​​বইবে।’

সিন্ধু নদী ডাকাতির চেষ্টা করছে ভারত—এমন মন্তব্য করে বিলাওয়াল বলেন, সিন্ধু সভ্যতার প্রকৃত উত্তরাধিকারীরা পাকিস্তানে বাস করেন। সিন্ধু সভ্যতার বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে পাকিস্তান কখনই নদীর ওপর তার দাবি ত্যাগ করবে না।

নয়াদিল্লি যখন ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে এবং ইসলামাবাদের দোরগোড়ায় যুদ্ধের ঢোল বাজাচ্ছে তখন শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) পাকিস্তান পিপলস পার্টি ওই সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ থেকে ভারতকে কঠোর বার্তা এবং দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।

পহেলগাম হামলার পর সিন্ধু পানিচুক্তি থেকে ভারত একতরফা সরে আসার প্রতিক্রিয়ায় ভুট্টোর বংশধর বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সভ্যতার উত্তরাধিকার লাভের জন্য চিৎকার করলেও প্রকৃত রক্ষকরা পাকিস্তানের মাটিতেই আছেন। সিন্ধু আমাদের এবং এটি আমাদেরই থাকবে।

ভারতকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘হয় জল, না হয় তোমাদের রক্ত ​​এই নদীতেই প্রবাহিত হবে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সিন্ধু সভ্যতার উত্তরাধিকারী হওয়ার দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে বিলাওয়াল পাল্টা বলেন, ‘তিনি (মোদি) বলছেন যে- তারা হাজার হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার উত্তরাধিকারী। কিন্তু সেই সভ্যতা লারকানার মহেঞ্জোদারোতে অবস্থিত। আমরাই এর প্রকৃত রক্ষক এবং আমরা এটিকে রক্ষা করব।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের জনগণ বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেউই মোদির যুদ্ধবাজ মনোভাব বা পাকিস্তান থেকে সিন্ধু নদীর পানি সরিয়ে নেওয়ার কোনো প্রচেষ্টা সহ্য করবে না।

বিলাওয়াল বলেন, ‘মোদি সিন্ধু এবং সিন্ধু নদীর জনগণের মধ্যে যুগ যুগ ধরে চলা বন্ধন ছিন্ন করতে পারবেন না। ভারত সরকার পাকিস্তানের পানির ওপর চোখ রেখেছে। এ পরিস্থিতিতে সিন্ধুর পানি রক্ষা এবং সুরক্ষার জন্য চারটি প্রদেশের ঐক্য প্রয়োজন। আমরা বিশ্বকে একটি বার্তা পাঠাব। তা হলো, সিন্ধু নদী ডাকাতি মেনে নেওয়া হবে না।’ 

ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে নিজেদের অবস্থান জানাল চীন

কাশ্মীর ইস্যুতে উত্তপ্ত হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যকার এ উত্তেজনায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত জিয়াং জাইডং। এসময় নিজের অবস্থান জানিয়েছে চীন।

শনিবার (২৬ এপ্রিল) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসলামাবাদে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইশাক দারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জিয়াং জাইডং। বৈঠকে উভয়পক্ষ পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে সর্বকালীন কৌশলগত অংশীদারত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় করেন ।​

বৈঠকে ইশাক দার ভারতের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক পদক্ষেপ, যেমন ইন্দাস পানি চুক্তি স্থগিতকরণ এবং পাকিস্তানে পানিপ্রবাহ বন্ধের হুমকি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, পানিপ্রবাহ বন্ধ করা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য এবং এটিকে যুদ্ধের কার্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।​

চীনা রাষ্ট্রদূত পাকিস্তানের অবস্থান মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহযোগিতা ও কূটনৈতিক পরামর্শের আশ্বাস দেন। তিনি ভারতের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং পাকিস্তানকে কূটনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন ।​

এর আগে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, ‘সিন্ধুতে হয় পানি, না হয় ভারতীয়দের রক্ত​ বইবে।’ সিন্ধু নদী ডাকাতির চেষ্টা করছে ভারত—এমন মন্তব্য করে বিলাওয়াল বলেন, সিন্ধু সভ্যতার প্রকৃত উত্তরাধিকারীরা পাকিস্তানে বাস করেন। সিন্ধু সভ্যতার বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে পাকিস্তান কখনই নদীর ওপর তার দাবি ত্যাগ করবে না।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সিন্ধু সভ্যতার উত্তরাধিকারী হওয়ার দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে বিলাওয়াল পাল্টা বলেন, ‘তিনি (মোদি) বলছেন- তারা হাজার হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতার উত্তরাধিকারী। কিন্তু সেই সভ্যতা লারকানার মহেঞ্জোদারোতে অবস্থিত। আমরাই এর প্রকৃত রক্ষক এবং আমরা এটিকে রক্ষা করব।’ 

সমাবেশে পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। ছবি : সংগৃহীত
সমাবেশে পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। ছবি : সংগৃহীত

নিজের পিঠ বাঁচাতে কীভাবে ‘মডেল’ হয়ে উঠল ইরান by পাপলু রহমান

ইরান অনেক বছর ধরেই পশ্চিমা দেশগুলোর বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি নিজেদের সামরিক শক্তিকে একেবারে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। নতুন ধরনের যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা অস্ত্র—এসব মিলিয়ে ইরান এখন মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। ইরানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অস্ত্র, সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিশ্লেষণ নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

ইরানের নতুন হাতিয়ার

ইরানের স্থলবাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিয়োমারস হেইদারি সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জানান, ইরানের কাছে এমন কিছু অস্ত্র আছে যেগুলো এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এসব অস্ত্রকে ‘অতিগোপন’ বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব অস্ত্র দেখতে সাধারণ অস্ত্রের মতো হলেও এতে যুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি। এর ফলে এসব অস্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিন্তা করতে পারে, লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে, এমনকি সিদ্ধান্তও নিতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর থেকে ইরানের সেনাবাহিনী একেবারে বদলে গেছে। আগের দিনের ধীর, সাদামাটা বাহিনী এখন আধুনিক ও দ্রুতগতির বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। সেনারা এখন যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় পৌঁছাতে পারে, দ্রুত হামলা চালাতে পারে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ করতে পারে।

গোয়েন্দা প্রযুক্তিতে ইরানের উন্নতি

বর্তমানে ইরানের সেনাবাহিনী পুরো দেশজুড়ে নজরদারি চালাতে পারে। তাদের কাছে আছে উন্নত ক্যামেরা, ড্রোন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি। সীমান্ত এলাকাগুলোতে মোতায়েন করা আছে ১০টি সামরিক ইউনিট, যারা একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা করছে, অন্যদিকে শত্রুর গতিবিধি নজরে রাখছে। এই সব ইউনিটের কাজ শুধু যুদ্ধ করা নয়, বরং যুদ্ধের আগেই বিপদ চিহ্নিত করা, কৌশল তৈরি করা এবং প্রস্তুত থাকা। যদিও এর মানে এই নয় যে ইরান এখন পুরোপুরি নিরাপদ, তবে তারা এখন যে কোনো হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে প্রস্তুত।

সামরিক মহড়া ও প্রস্তুতির বার্তা

গত পারস্য বর্ষপঞ্জির শেষ কয়েক মাসে ইরান পূর্ব, পশ্চিম ও উপকূলীয় এলাকায় তিনটি বড় সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এই মহড়াগুলোর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। এ মহড়া শুধু দেশীয় জনগণের কাছে বার্তা নয়, বরং বাইরের শক্তিগুলোকেও বোঝানো হয়েছে—ইরান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

সাইবার যুদ্ধ: ইরানের নতুন যুদ্ধক্ষেত্র

বর্তমান সময়ে যুদ্ধ শুধু মাটিতে বা আকাশে হয় না, হয় ইন্টারনেটেও। এটাকে বলে সাইবার যুদ্ধ। এখানে হ্যাকিং, তথ্য চুরি, নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া ইত্যাদি কাজ করা হয়। হেইদারি জানান, ইরান এখন আলাদা সাইবার ইউনিট তৈরি করেছে। এই ইউনিট অনেক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং শত্রুর ডিজিটাল সিস্টেমে আঘাত হানতে সক্ষম।

এ ইউনিট শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং আক্রমণ চালানোর সক্ষমতাও রাখে। ইরান চাইলে প্রতিপক্ষের সামরিক কম্পিউটার সিস্টেম, যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ডেটা হ্যাক করতে পারে।

নতুন যুদ্ধজাহাজ: ‘শহীদ বাঘি’ প্রকল্প

ইরান এখন একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ তৈরি করেছে, যার নাম ‘শহীদ বাঘি’। এটি শুধু একটি জাহাজ নয়—এটি হলো একটি ভ্রাম্যমাণ নৌঘাঁটি। এই জাহাজ থেকে ড্রোন উড়ানো যাবে, ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যাবে এবং এটি সমুদ্রের ওপর চলমান ঘাঁটির মতো কাজ করবে। জাহাজটিতে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার থাকবে এবং ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকারী ভেসেল বহন করতে পারবে। আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রধান আলী রেজা তাংসেরি বলেন, এই জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো যুদ্ধজাহাজের চেয়েও উন্নত।

তিনি আরও বলেন, আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার সাহস করত। এখন আর করে না। যদি কখনও করে, তাহলে ইরান সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টা জবাব দেবে।

পারস্য উপসাগরে শক্তির ভারসাম্য বদলাচ্ছে


পারস্য উপসাগর হলো পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এখান দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়। বহু বছর ধরে এখানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী একচেটিয়া আধিপত্য করে আসছে। কিন্তু এখন ইরান বলছে—এই দিন শেষ। ইরান এখন নিজের সামরিক শক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে যে, তারা শুধু নিজেদের রক্ষা করতে পারে না, বরং আক্রমণও চালাতে পারে। তাদের লক্ষ্য, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আধিপত্য ভাঙা।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও কৌশলগত বার্তা


ইরানের সামরিক ঘোষণা কেবল দেশীয় জনগণকে আশ্বস্ত করার জন্য নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কৌশলগত বার্তা পাঠাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, ইসরায়েলসহ অন্য প্রতিবেশী ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলো এ বার্তায় নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে যেখানে তারা সংঘাত চাইছে না, তবে যদি সংঘাত হয়, তাহলে তারা পিছিয়ে থাকবে না।

‘ইরানের সেনাবাহিনী অনুকরণীয়’

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী এখন একটি শক্তিশালী, উন্নত এবং আত্মনির্ভর বাহিনী। তিনি বলেন, অন্য দেশগুলো এখন ইরানের সেনাবাহিনীকে অনুসরণ করতে পারে। এর মানে ইরান শুধু নিজের জন্য শক্তি তৈরি করছে না, বরং এটি এক মডেল হয়ে উঠছে বিশ্বের জন্য।

আইআরজিসি ও স্থলবাহিনীর একত্রীকরণ

ইরানের স্থলবাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এখন একসঙ্গে কাজ করছে। তারা আকাশ, স্থল এবং সমুদ্রপথে একে অপরকে সহযোগিতা করছে। এতে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। আগের চেয়ে এখন ইরান অনেক বেশি সমন্বিত ও কার্যকর একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে।

যুদ্ধ কি এবার পারস্য উপসাগরে?

ইরান তার নতুন এআইচালিত অস্ত্র, সাইবার ইউনিট ও আধুনিক যুদ্ধজাহাজ দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে যে, তারা শুধু প্রতিরক্ষা নয়—প্রয়োজনে আক্রমণ চালাতে সক্ষম। এর ফলে পারস্য উপসাগরে যে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আধিপত্য ছিল, সেটি এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশ্ব রাজনীতি বর্তমানে খুবই অস্থির সময় পার করছে। এর মধ্যে ইরানের এমন সামরিক ঘোষণা শুধু একটি দেশ নয়, পুরো অঞ্চল এবং বিশ্বের জন্যই নতুন বার্তা বয়ে আনছে। তেহরান আজ এমন একটি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে তারা শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে চায়। বোঝাতে চায়, এখন আর একতরফা আধিপত্যের দিন নেই। 

পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আধিপত্য ভাঙতে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে ইরান। ছবি : সংগৃহীত
পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আধিপত্য ভাঙতে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে ইরান। ছবি : সংগৃহীত

পারমাণবিক অস্ত্রে কে এগিয়ে, পাকিস্তান নাকি ভারত?

ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুক হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হয়েছেন। এরপর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে। দুই দেশের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধের পর যুদ্ধ বাধার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হওয়ার পর একাধিকবার যুদ্ধেও জড়িয়েছে ভারত-পাকিস্তান। ফলে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে উভয় দেশ উল্লেখ করার মতো সামরিক শক্তিও বজায় রেখে চলেছে।

দুই দেশের মধ্যে যখনই সংঘাত-উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তখন সামরিকভাবেও উভয়ের সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এই সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে বিশ্লেষণমূলক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়াভিত্তিক ‘ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া’।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া তাদের ওয়েবসাইটে ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার সূচক (জিএফপি) ২০২৫’ প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারত বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ এবং পাকিস্তান বিশ্বে ১২তম।

সামরিক-বেসামরিক জনশক্তি

জনসংখ্যার দিক দিকে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয়। দেশটিতে ১৪০ কোটি মানুষের বসবাস। সক্রিয় সেনা ১৪ লাখ ৬০ হাজার (বিশ্বে দ্বিতীয়)। রিজার্ভ সেনা ১১ লাখ ৬০ হাজার (বিশ্বে সপ্তম)। আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য ২৫ লাখ ৩০ হাজার (বিশ্বে দ্বিতীয়)। মোট সামরিক (সক্রিয় ও রিজার্ভ সেনা এবং আধা সামরিক বাহিনী) জনবল ৫১ লাখ।

প্রতিরক্ষা বাজেট

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের বাজেট ৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। যা জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ। এ ব্যয় পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

পাকিস্তানের বাজেট ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার (অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শীর্ষ দেশের তালিকায় নেই)। এই ব্যয় জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট পাকিস্তানের ৬ থেকে ৮ গুণ। তবে বাজেট-সংকটে পাকিস্তান ভুগলেও চীনের সহায়তা নিয়ে এটিকে সামাল দিচ্ছে তারা। পাকিস্তানের সামরিক ব্যয়ের বড় অংশ ব্যয় হয় বৃহৎ সেনাবাহিনী ও পারমাণবিক অস্ত্রের সুরক্ষায়।

বিমানবাহিনী

ভারতের মোট বিমান ২ হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান ৫১৩ থেকে ৬০৬টি। আধুনিক বিমানের মধ্যে রয়েছে এসইউ–৩০এমকেআই, রাফায়েল, তেজস। তাদের রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এস-৪০০। হেলিকপ্টার আছে অ্যাপাচি ও চিনুক। আরও আছে চারটি ‘এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (এইডব্লিউঅ্যান্ডসি)’ ব্যবস্থা।

অন্যদিকে পাকিস্তানের মোট বিমান ১ হাজার ৩৯৯ থেকে ১ হাজার ৪৩৪টি। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান ৩২৮ থেকে ৩৮৭টি। আধুনিক বিমানের মধ্যে রয়েছে এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন, জেএফ-১৭ থান্ডার, মিরেজ থ্রি/ফাইভ। আছে ভারতের চেয়ে বেশি যুদ্ধে ব্যবহার উপযোগী হেলিকপ্টার (এএইচ-১এফ কোবরাসহ)। এইডব্লিউঅ্যান্ডসি আছে সাতটি, যা ভারতের চেয়ে বেশি।

নৌবাহিনী

ভারতের জাহাজ রয়েছে ২৯৪টি। বিমানবাহী রণতরি আছে ২টি। সাবমেরিন ১৮টি (পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন আইএনএস আরিহান্টসহ)। ডেস্ট্রয়ার ১৩টি। ফ্রিগেট ১৪টি। প্যাট্রোল নৌযান ১০৬টি। যুদ্ধে ব্যবহারের উপযোগী বিমান ৭৫টি (নৌবাহিনীর)। নৌবাহিনী সদস্যসংখ্যা ৬৭ হাজার ৭০০।

পাকিস্তানের জাহাজ ১২১টি। সাবমেরিন ৮টি। ফ্রিগেট ৯টি। প্যাট্রোল নৌযান ১৭টি। এ বাহিনীর যুদ্ধবিমান ৮টি। নৌবাহিনী সদস্যসংখ্যা ২৩ হাজার ৮০০।

সাঁজোয়া যান

ভারতের ট্যাঙ্ক ৪ হাজার ৬১৪টি। সাঁজোয়া যান ১ লাখ ৫১ হাজার ২৪৮টি। কামান ৯ হাজার ৭১৯টি। বিশেষ বাহিনীর মধ্যে আছে প্যারা এসএফ, ঘাতক ফোর্স, এমএআরসিওএস।

পাকিস্তানের ট্যাংক ৩ হাজার ৭৪২টি। সাঁজোয়া যান ৫০ হাজার (আনুমানিক)। কামান ৪ হাজার ৪৭২টি (৩৭৫ স্বয়ংক্রিয় হাউইটজারসহ)। বিশেষ বাহিনীর মধ্যে আছে স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ (এসএসজি), এসএসজি নৌ ও স্পেশাল সার্ভিস উইং। এগুলো আকারে তুলনামূলক ছোট হলেও সমীহ করার মতো।

পারমাণবিক সক্ষমতা

ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০টি। অন্যদিকে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ১৪০ থেকে ১৫০। ফলে পারমাণবিক দিক থেকে পাকিস্তানের সক্ষমতা ভারতের চেয়ে বেশি।

কৌশলগত জোট ও জটিল মূল্যায়ন

ভারতের কৌশলগত জোটে রয়েছে ইসরায়েল, রাশিয়া ও ফ্রান্স। অন্যদিকে পাকিস্তানের রয়েছে চীনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক। আছে সীমিত পরিসরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও।
ছবি : সংগৃহীত

কাশ্মীর হামলাকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলায় গ্রেপ্তার বিধায়ক

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলার নেপথ্যে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করে গ্রেপ্তার হয়েছেন আসাম রাজ্যের একজন বিধায়ক।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্য থেকে বিরোধী দল অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) বিধায়ক আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলওয়ামা হামলা (২০১৯) এবং সদ্য ঘটে যাওয়া পেহেলগাম হামলাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যে আমিনুল ইসলাম এসব অভিযোগ তোলেন।

তার ওই ভিডিও ভাইরাল হলে আসাম পুলিশ তদন্তে নামে এবং বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে সে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসাম পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানানো হয়, ধিং আসনের বিধায়ক আমিনুল ইসলামের মন্তব্যে জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা ছড়াতে পারে- এমন আশঙ্কায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী হামলার পরে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাকিস্তানকে রক্ষার চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিধায়ক আমিনুল ইসলামের বক্তব্য পাকিস্তানপন্থি মনোভাব প্রকাশ করে, তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া বিধায়ক আমিনুল ইসলামের দল এআইইউডিএফের প্রধান মাওলানা বদরউদ্দিন আজমল বলেছেন, আমিনুলের মন্তব্য দলের বক্তব্য নয়। তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। যারা সন্ত্রাস ছড়ায় তারা ইসলাম ও মুসলমানদের অপমান করে। আমরা সরকারের পাশে আছি এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একত্রিত।

এছাড়া ভারতের নাগরিক সায়ক ঘোষ চৌধুরীও সামাজিক মাধ্যমে নিজের পোস্টে দাবি করেন, কাশ্মীর হামলার পেছনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের হাত থাকতে পারে। তিনি লেখেন, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির পরও কিভাবে জঙ্গিরা প্রবেশ করে হামলা চালাতে পারে, তা প্রশ্নবিদ্ধ।

সায়ক ঘোষের মন্তব্যের পাশাপাশি আরও অনেক ভারতীয় নাগরিকও হামলার ঘটনাকে পরিকল্পিত এবং সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকে দাবি করেছেন, ভারতের ভেতরেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংঘর্ষ উসকে দেওয়া হতে পারে।

প্রসঙ্গত, কাশ্মীর অঞ্চল নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় দেশই পুরো কাশ্মীরকে নিজেদের অংশ দাবি করে, তবে তা তারা আংশিকভাবে শাসন করে আসছে।

জম্মু-কাশ্মীরের ‘বৈসরান’ এলাকাটিকে স্থানীয়রা ভালোবেসে বলেন ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’। এলাকাটি পেহেলগাম থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার ওপরে অবস্থিত একটি মনোরম উপত্যকা। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে এই এলাকা ভরে ওঠে দেশি-বিদেশি পর্যটকে।

কাশ্মীর হামলা নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর বিধায়ক আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি : সংগৃহীত
কাশ্মীর হামলা নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর বিধায়ক আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি : সংগৃহীত



কাশ্মীর হামলা নিয়ে মুখ খুললেন শহীদ আফ্রিদি

কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা এবং তৎপরবর্তী ভারতের আচরণ নিয়ে মুখ খুলেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। এ ঘটনায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত উত্থাপিত অপরিপক্ব ও অপ্রমাণিত অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

শনিবার (২৬ এপ্রিল) জিওটিভি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের অবৈধভাবে অধিকৃত কাশ্মীরের পহেলগামে হামলায় মানুষের প্রাণহানির জন্য আফ্রিদি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সে সঙ্গে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী হামলারও নিন্দা করেন সাবেক এ তারকা খেলোয়াড়।

পর্যটক নিহতদের ঘটনায় সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আফ্রিদির কণ্ঠে ছিল ভারতের প্রতি তীব্র ক্ষোভ। কোনো প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে দোষারোপ করায় নয়াদিল্লির সমালোচনা করে এই কাজটিকে দুর্ভাগ্যজনক এবং অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেন তিনি।

তিনি বলেন, ভারত এই ঘটনার জন্য খুব তাড়াতাড়ি পাকিস্তানকে দায়ী করে ফেলেছে। ফলে অধিকৃত অঞ্চলে প্রাণহানির ঘটনা ভিন্ন মোড় নিয়েছে।

আফ্রিদি দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীকে কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন। বলেন, আমাদের সমস্যাগুলোর একমাত্র সমাধান হলো সংলাপ; সংঘাতে কোনো লাভ নেই।

রাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে খেলাধুলাকে আলাদা রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন সাবেক অধিনায়ক। ক্রিকেটকে ভূরাজনৈতিক বিরোধে টেনে না নিতে উভয় দেশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রাজীব শুক্লা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— ভারতের সরকার যেমন বলবে, তারা তাই মেনে চলবে এবং এই ঘটনার পরে পাকিস্তানের সঙ্গে আর কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে না ভারত।

২০১২-১৩ মৌসুমে পাকিস্তানের ভারতে সফরের পর আর কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয়নি দুই দেশের মধ্যে। সর্বশেষ ভারত পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল ২০০৮ সালে। শুধু আইসিসি ইভেন্টে দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হয়। যেমন ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তান এসেছিল ভারতে খেলতে। তবে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য ভারত পাকিস্তান সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং সেই ম্যাচসহ ফাইনাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় দুবাইয়ে।

স্পোর্টস টককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজীব শুক্লা বলেন, ‘আমরা এই হামলার শিকার নিরীহ জনগণদের পাশে আছি এবং এটিকে তীব্রভাবে নিন্দা জানাই। সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেটাই করব। আমরা ইতোমধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলি না এবং আগামীতেও খেলব না। তবে আইসিসি ইভেন্টে খেলতে হয় কারণ সেটি আইসিসির আওতাধীন।’ 

শহীদ আফ্রিদি। ছবি : সংগৃহীত
শহীদ আফ্রিদি। ছবি : সংগৃহীত

কত সেনা হারাল ইসরায়েল

গত এক বছরে সেনা সদস্যদের প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, গত বছরে দেশটির অন্তত ৩১৬ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদেনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণায়ল জানিয়েছে, গত এক বছরে সামরিক দায়িত্ব পালনকালে ইসরায়েলের ৩১৬ জন সেনা নিহত হয়েছেন। গাজা, লেবানন ও পশ্চিম তীরে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এসব সেনা প্রাণ হারান। এ ছাড়া এ সময়ে আঘাতের কারণে পঙ্গুত্ব বরণ করে আরও ৬১ সাবেক সেনা নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে ১৮৬০ সাল থেকে ইসরায়েলের কতজন সেনা নিহত হয়েছেন তার পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৮৬০ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল বা ইসরায়েলের পূর্ববর্তী ইহুদি প্রতিরক্ষা গোষ্ঠীর মোট ২৫ হাজার ৪১৭ সদস্য তাদের দেশের জন্য প্রাণ হারিয়েছেন।

বার্ষিক এ প্রতিবেদনটিতে শুধু সেনাবাহিনী নয়, বরং পুলিশ, শিন বেত (গোয়েন্দা সংস্থা), এবং অন্যান্য বেসামরিক নিরাপত্তা কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব সেনারা কর্তব্যরত অবস্থায়, দুর্ঘটনাজনিত, অসুস্থতা বা আত্মহত্যার মাধ্যমে প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে নিহতদের মধ্যে ৮০৭ জন আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) সেনা, ৩৯ জন স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ৬৯ জন পুলিশ সদস্য এবং ১০ জন শিন বেত এজেন্ট রয়েছেন। এ নিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা ৯২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এটি ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধের পর থেকে কোনো এক বছরে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনা।

এতে আরও বলা হয়েছে, গত এক বছরের হামলায় আরও ৭৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ১৮৫১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হামলায় নিহতদের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ২২৯ জন হয়েছে।

ইসরায়েলের জাতীয় বীমা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধে ৯৩৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৭৮ জন ৭ অক্টোবরের হামলায় নিহত হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন শিশু এবং ৭৬ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। 

আহত এক সেনাকে তুলে নিচ্ছে ইসরায়েলের হেলিকপ্টার। ছবি : সংগৃহীত
আহত এক সেনাকে তুলে নিচ্ছে ইসরায়েলের হেলিকপ্টার। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বন্দরে বিস্ফোরণ : নেপথ্যে কি ইসরায়েল?

ইরানের দক্ষিণ উপকূলে হরমুজগান প্রদেশের বান্দার আব্বাস শহরের কাছে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম বাণিজ্যিক বন্দর, শাহিদ রাজাইয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত ও প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন (এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত)।

প্রাথমিক তদন্ত বলছে, বন্দরের জেটি এলাকায় সংরক্ষিত রাসায়নিক এবং দাহ্য পদার্থের কন্টেইনারে অগ্নিকাণ্ডের পর এ বিস্ফোরণ ঘটে।

ইরানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার আহ্বান জানালেও ঘটনাটির সময়কাল এবং বিস্ফোরণের প্রকৃতি ভিন্ন ধরনের প্রশ্ন উসকে দিয়েছে।

বিস্ফোরণের মুহূর্তে ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা চলছিল। তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়পক্ষই আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা বলেছিল। ঠিক তখনই শাহিদ রাজাইয়ে বন্দরে এই বিস্ফোরণ নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দেয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা না হয়ে পরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিতও দিতে পারে। কারণ, বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, বিস্ফোরিত কন্টেইনারগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য সংরক্ষিত জ্বালানি ছিল।

অতীতে ইসরায়েল গোপন অভিযান চালিয়ে ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনার ক্ষতি সাধন করেছে। ফলে ইসরায়েলকে সন্দেহের তালিকা থেকে সরিয়ে রাখা কঠিন।

যদিও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, তারা এই বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত নয়, তবুও বিশ্লেষকরা সতর্কতার সঙ্গে ইসরায়েলের অস্বীকৃতি গ্রহণ করছেন। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন ইসরায়েল প্রকাশ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে।

ইসরায়েল মনে করে, ইরান যদি কোনো রকম চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করে, তবে তা ইসরায়েল ও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সমঝোতাই গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিস্ফোরণের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্ঘটনার সব সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যার মধ্যে অন্তর্ঘাতের প্রশ্নও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিস্ফোরণ যদি উদ্দেশ্যমূলক হয়ে থাকে, তবে তা শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আর যদি এটি নিছক দুর্ঘটনাই হয়ে থাকে, তবুও এর সময়কাল এবং ফলাফল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতেই পারে।

পরিস্থিতি যেদিকেই গড়াক না কেন, শাহিদ রাজাইয়ে বন্দরের বিস্ফোরণ মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক নাটকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে চলেছে।

সূত্র : বিবিসি, এমএসএন, টাইমস অব ইসরায়েল

বিস্ফোরণের মুহূর্তে ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা চলছিল। ছবি : সংগৃহীত
বিস্ফোরণের মুহূর্তে ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা চলছিল। ছবি : সংগৃহীত



ভারত-পাকিস্তান নিজেরাই নিজেদের বিষয়গুলো মিটিয়ে ফেলবে: ট্রাম্প

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে এ সমস্যা নিয়ে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে। নিজেরাই বিষয়গুলো মিটিয়ে ফেলবে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের বহনকারী উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি ভারত ও পাকিস্তান—দুই দেশের নেতাদেরই চেনেন। দেশ দুটির সীমান্ত অঞ্চলে যে ঐতিহাসিক সংঘাত চলে আসছে।

তবে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন কি না, এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি ট্রাম্প।

ট্রাম্পের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় উত্তেজনা রয়েছে। তবে এমন উত্তেজনা আগে থেকেই ছিল। তিনি বলেন, দেশ দুটি কোনো না কোনোভাবে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলবে।

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বৈসারণ উপত্যকায় মঙ্গলবার বিকেলে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। এর পেছনে পাকিস্তান কলকাঠি নেড়েছে বলে দাবি নয়াদিল্লির। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ।

এদিকে পেহেলগামে হামলার পর পাকিস্তানের নাগরিকদের ভিসা বাতিল ও সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতসহ পাঁচটি পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। ১৯৬০ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খানের মধ্যে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তি স্থগিত নিয়ে ভারতের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে পাকিস্তান।

ভারতের পদক্ষেপের পাল্টা হিসেবে দেশটির নাগরিকদের ভিসা বাতিল, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্থগিত, আকাশসীমা বন্ধসহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান। এ ছাড়া কাশ্মীরের সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখায় বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাতে দুই দেশের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

পুতিন একটা মহাযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন? by সের্গেই মাইদুকভ

ইস্টার সানডের আগের দিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খ্রিষ্টানদের ছুটির দিন উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। অন্যবারের মতো এবারও তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমের খবর জানাচ্ছে, রাশিয়া ডোন হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছিল। যথারীতি ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিকদেরও লক্ষ্যবস্তু করেছে তারা।

পুরোটা সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অব্যাহতভাবে বলে আসছেন যে শান্তি অর্জিত হবে। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও যখন বলছেন যে অগ্রগতি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতার পথ থেকে সরে আসতে পারে। তারপরও ট্রাম্প আশাবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছেন যে চুক্তি সম্ভব।

ইস্টার সানডেতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘আশা করা যায়, রাশিয়া ও ইউক্রেন এ সপ্তাহেই চুক্তিতে পৌঁছাবে।’

এক সপ্তাহ আগে রাশিয়া ইউক্রেনের সামি শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা চালায়। ২ শিশুসহ ৩৪ জন নিহত হন, আহত হন আরও কয়েক ডজন। এমন রক্তাক্ত হামলাও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রভাবিত করতে পারেনি। তিনি এটাকে ভুল বলে বর্ণনা করেছেন।

দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পর এটা এখন স্পষ্ট যে ইউক্রেনে ট্রাম্প নাটকীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁকে এখন অনুধাবন করতেই হবে যে সাহসী প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ কিন্তু বাস্তবায়ন করা কঠিন। তিনি ২৪ ঘণ্টায় যুদ্ধ শেষ করতে পারেননি, ১০০ দিনেও সেটা পারবে না।

ট্রাম্পের নেতৃত্বে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতা করার তাড়নাটা ফিকে হয়ে গেছে এবং এখানে তাদের কৌশলটাও অপরিষ্কার। একজন প্রেসিডেন্ট যিনি নিজেকে ‘চুক্তি প্রণেতা’বলে গর্ব প্রকাশ করতেন, তাঁকে এখন সিদ্ধান্তহীন বলে মনে হচ্ছে।

এটা যদি চলতে থাকে তাহলে ট্রাম্প দুই ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। এক. মধ্যস্ততাকারী হিসেবে, দুই. মিত্র হিসেবে। তাঁর বর্তমান ভূমিকা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করছে না, রাশিয়াকেও আগ্রাসন চালাতে উৎসাহিত করছে।

এখন পর্যন্ত পুতিনের অবস্থানের কোনো বদল হয়নি। তিনি ক্রিমিয়া ও ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চল রুশ সেনাবাহিনী আংশিক দখলে নিয়েছে, তার স্বীকৃতি দাবি করেছেন। কিয়েভের জন্য ন্যাটোর সদস্যপদ নয় ও ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর আকার ছোট করা। তিনি ইউক্রেনে সরকার পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে নির্বাচন দেওয়ার দাবিও তিনি জানিয়েছেন।

পুতিন বুঝতে পারছেন যে তিনি শক্তিশালী অবস্থান থেকে দর-কষাকষি করছেন এবং সে কারণেই কোনো ধরনের সমঝোতা করতে অস্বীকার করছেন তিনি। ট্রাম্পের কাছে এখন এমন কিছু নেই যে এখানে তিনি সুবিধা করতে পারেন। এ কারণেই তাঁর কৌশল হলো ইউক্রেনকে চাপ দিয়ে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করানো। ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তাসংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন করে তিনি পুরো বিষয়টিকে আরও খারাপ করে তুলেছেন।

প্রথমে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন ইউক্রেনকে আর অস্ত্র, গোলাবারুদ ও গোয়েন্দা তথ্য দেবেন না। পরে অবশ্য তিনি তাঁর অবস্থান কিছুটা পাল্টান। পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে অনুমোদন দেওয়া সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু নতুন কোনো প্যাকেজ অনুমোদন দেবেন না বলে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন।

এর মানে হচ্ছে, খুব শিগগির ইউক্রেনের গোলাবারুদের মজুত ফুরিয়ে আসবে। রাশিয়া এটা ভালো করেই জানে, সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দর–কষাকষির সুযোগে দেশটি সময়ক্ষেপণ করছে।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী যখন তাদের গুরুত্বপূর্ণ রসদ ফুরিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় দিন পার করছে, তখন রাশিয়া নতুন করে তাদের সেনাবাহিনীতে বিপুলসংখ্যক সেনা নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাশিয়া তাদের সেনাবাহিনীতে ১ লাখ ৬০ হাজার নতুন সেনা নিয়োগ দিচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে তারা যুদ্ধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে তীব্র করবে। ইউক্রেনের কমান্ডাররা সতর্ক করেছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কয়েকটি ফ্রন্টে বড় ধরনের আক্রমণ করবে রাশিয়া।

পুতিনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের স্ব-আরোপিত ‘শান্তি-প্রতিষ্ঠার’ উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে নিজের সুবিধায় কাজে লাগানো। পুতিনের কৌশল হলো, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ভান্ডার নিঃশেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে টেনে নিয়ে যাওয়া, যাতে রাশিয়ার সেনাবাহিনী প্রতিরোধহীন অবস্থায় ইউক্রেনের অনেকটা ভেতরে অগ্রসর হতে পারে এবং কিয়েভকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করতে পারে।

ইউক্রেনের জন্য পরাজয় কোনো বিকল্প নয়। এই দেশ এখনো দাঁড়িয়ে আছে এবং ভবিষ্যতে লড়াই চালিয়ে যাবে, তার কারণ হলো, এর স্বাধীনতা ও মুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমনকি ট্রাম্প যদি একটা ‘খারাপ চুক্তি’ মেনে নেওয়ার জন্য ইউক্রেনের ওপর আরও চাপ দেন, তারপরও ইউক্রেনের কোনো নেতা এ ধরনের চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না। কারণ, এর মানে হলো রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস হওয়া।

সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের দেশগুলোর সামনে কিয়েভের পূর্ণাঙ্গ মিত্র না হওয়ার বিকল্প নেই। ইউরোপীয়রা জানে, রাশিয়া ইউক্রেনেই থামবে না। এটা তাদের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি। কেননা, ক্রেমলিন এরই মধ্যে রাশিয়ার জনগণকে এই বলে প্রস্তুত করছে যে ন্যাটোর দেশগুলোর সঙ্গে একটা ‘মহাযুদ্ধ’ দরকার।

এই হুমকির মুখে ইউরোপীয় দেশগুলো পুনরায় সশস্ত্র হতে চাইছে এবং এর জন্য তাদের সময়ের প্রয়োজন। এর মানে হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা থাকুক আর না–ই থাকুক, ইউক্রেনের স্বাধীনতা যুদ্ধ বছরের পর বছর ধরে চলবে।

* সের্গেই মাইদুকভ একজন ইউক্রেনীয় লেখক। তিনি ‘লাইফ অন দ্য রান: ওয়ান ফ্যামিলি’স সার্চ ফর পিস ইন ওয়্যার-টর্ন ইউক্রেন’ বইয়ের লেখক।

- আলজাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

ভ্লাদিমির পুতিন
ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্স

রয়টার্সের এক্সপ্লেইনার: সিন্ধু পানি চুক্তি কী, ভারত কি এটি বাতিল করতে পারে

কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ভারত। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক কমানোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ভারত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত বুধবার নয়াদিল্লি সিদ্ধান্তটি নেওয়ার আগ পর্যন্ত এ দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ এবং কূটনৈতিক সম্পর্কে নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও চুক্তিটি টিকে ছিল।

সিন্ধু পানি চুক্তি কী

ভারতের উজান থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকায় প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ব্যবহার নিয়ে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের।

সিন্ধু পানি চুক্তি অনুসরণ করেই এসব নদীর পানি ব্যবহার করা হয়। ১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় এ চুক্তি হয় এবং ভারত ও পাকিস্তান তাতে স্বাক্ষর করে।

চুক্তিটির মাধ্যমে সিন্ধু ও এর উপনদীগুলোর পানিকে দুই দেশের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয় এবং পানিবণ্টনের নিয়ম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সিন্ধু অববাহিকার পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি নদী ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রুর পানি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয় ভারতকে। আর পাকিস্তানকে পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি নদ-নদী সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাবের অধিকাংশ পানি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

চুক্তিটি কোনো দেশ একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার বিধান নেই। বরং এতে সুস্পষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

পানি নিয়ে যে উদ্বেগ কাজ করছে

পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী এ দুই দেশ বহু বছর ধরে ভারতীয় ভূখণ্ডে সিন্ধু ও এর উপনদীগুলোর ওপর বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বিরোধ ও বিতর্কে জড়িয়েছে।

জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সেচের জন্য পাকিস্তান এই নদীব্যবস্থার পানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটি বলছে, ভারত উজানে বাঁধ নির্মাণ করে অন্যায়ভাবে পানি সরিয়ে নিচ্ছে। তবে ভারত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ভারতীয় বাঁধগুলো নদীর পানির প্রবাহ কমিয়ে দেবে বলে উদ্বিগ্ন পাকিস্তান। দেশটির সেচনির্ভর কৃষির ৮০ শতাংশ পানি জোগায় এসব নদী। দেশটি সাম্প্রতিক দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং পরে একটি সালিশি আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে। দেশটি বলেছে, সিন্ধু চুক্তির আওতায় কিশানগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ বৈধ। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে এমন বিলম্ব এড়াতে চুক্তি সংশোধনের দাবিও তুলেছে ভারত।

চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তে কী পরিবর্তন আসতে পারে

চুক্তি স্থগিত করা হলেও পাকিস্তানে পানি প্রবাহে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, পানি সংরক্ষণের যথেষ্ট সক্ষমতা নেই ভারতের।

তবে ভারতের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের কৃষিব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, চুক্তি স্থগিতের ফলে ভারত ব্যারাজ বা বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার তথ্য বা বন্যাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাগাভাগি না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা আরও জানান, শুষ্ক মৌসুমে ভারতের ন্যূনতম পানি ছাড়ার বাধ্যবাধকতাও আর থাকছে না।

ভারতের এ সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া কী

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দপ্তর থেকে গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তিটি একটি বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায়। এটি একতরফাভাবে স্থগিত করার কোনো বিধান নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের প্রাপ্য পানি আটকে দেওয়া বা অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা এবং ভাটি অঞ্চলের অধিকার হরণ করাকে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে বিবেচনা করা হবে এবং পূর্ণ শক্তি দিয়ে এর জবাব দেওয়া হবে।

ভারতের নদীগুলো উজানে আর পাকিস্তানের নদীগুলো ভাটিতে অবস্থিত।

পাকিস্তান কৃষি গবেষণার হেড অব প্রোডাক্ট ঘশারিব শাওকত সিন্ধু চুক্তিকে দেশের কৃষি খাতের মেরুদণ্ড বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি (ভারতের চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত) আমাদের কৃষির ভবিষ্যৎকে টালমাটাল করে তুলবে। পানির প্রবাহ অনিয়মিত হয়ে গেলে গোটা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে—বিশেষত যেসব ফসল সেচের ওপর নির্ভরশীল যেমন গম, চাল এবং আখ।’

ঘশারিব শাওকত আরও বলেন, ‘ফসলের ফলন কমে যেতে পারে। খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে। খাদ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। আর ক্ষুদ্র কৃষক, যারা স্বল্প মুনাফায় কাজ করেন, তারাই সবচেয়ে বেশি ভুগবেন।’

পাকিস্তানের জাতীয় কৃষক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খালিদ হুসেইন বাট ভারতের এ পদক্ষেপকে আক্রমণাত্মক হিসেবে অভিহিত করেছেন। লাহোর থেকে তিনি বলেন, ‘এটি আসলেই যুদ্ধের শামিল। আমরা ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানির সংকটে আছি। এ বছর বৃষ্টি কম। তুষারও কম গলেছে। ফলে পানির স্তর গত বছরের তুলনায় ২০-২৫ শতাংশ কম।’

চেনাব নদীর ওপর ভারতের নির্মিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘বাগলিহার হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার প্রজেক্ট’–এর একটি দৃশ্য। কাশ্মীরের পেহেলগামে গত মঙ্গলবার বন্দুকধারীদের হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু আন্তর্জাতিক পানি চুক্তি একতরফা স্থগিত করেছে ভারত
চেনাব নদীর ওপর ভারতের নির্মিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘বাগলিহার হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার প্রজেক্ট’–এর একটি দৃশ্য। কাশ্মীরের পেহেলগামে গত মঙ্গলবার বন্দুকধারীদের হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু আন্তর্জাতিক পানি চুক্তি একতরফা স্থগিত করেছে ভারত। ছবি: এএনআই

কীভাবে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল আওয়ামী লীগ, যা বললেন আনু মুহাম্মদ

আওয়ামী লীগের শাসনামলে কীভাবে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল, সে বিষয়ে একটি ভাষ্য সামনে এনেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা ফ্যাসিবাদী শাসনের আদর্শিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে—সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে আসা এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেছেন, ‘সত্যটা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে যে ফ্যাসিবাদ হয়েছে, সেটা ধর্মনিরপেক্ষতার মধ্য দিয়ে হয়নি, ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে প্রতারণা করার কারণে হয়েছে।’

আনু মুহাম্মদের মতে, ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণার সঙ্গে প্রতারণা করে, ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে, ধর্মীয় নিপীড়নকে নানাভাবে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, মুক্তিযুদ্ধকে অপব্যবহার করে এবং জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল আওয়ামী লীগ।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাস: ভূমিকা ও সংস্কার প্রস্তাব’ শিরোনামে পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এতে সভাপ্রধানের বক্তব্য দেন আনু মুহাম্মদ। সভায় জননিরাপত্তা, সংবিধান, শিক্ষা, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি, শ্রমিক, কৃষকের সংকটসহ ১৩টি বিষয়ে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির অন্য সদস্যরা।

সংবিধানের মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে বহুত্ববাদ অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশের কঠোর সমালোচনা করে সভায় আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিলে বহুত্ববাদ কী করে হয়? কারণ, ধর্মনিরপেক্ষতা মানেই হচ্ছে যে রাষ্ট্র সব ধর্মের ব্যাপারে নিরপেক্ষ থাকবে। কোনো ধর্মের ব্যাপারে পক্ষপাত থাকলে বহুত্ববাদ কী করে হবে?’

ধর্মনিরপেক্ষতা ফ্যাসিবাদী শাসনের ভিত্তি কায়েম করেছে—এ ধরনের বিপজ্জনক কথা কী করে সংবিধান সংস্কার কমিশন থেকে আসতে পারে, তা বুঝতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, সত্যটা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে যে ফ্যাসিবাদ হয়েছে, সেটা ধর্মনিরপেক্ষতার মধ্য দিয়ে হয়নি, ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে প্রতারণা করার কারণে হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রতারণা করে, ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে, ধর্মীয় নিপীড়নকে নানাভাবে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, মুক্তিযুদ্ধকে অপব্যবহার করে এবং জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল আওয়ামী লীগ।

সংবিধানের মূলনীতি থেকে সমাজতন্ত্র বাদ দেওয়া-সংক্রান্ত প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেন আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, সংস্কার কমিশন যেভাবে বলছে সমাজতন্ত্র হচ্ছে গণতন্ত্রবিরোধী ব্যবস্থা, তারা তো নিশ্চয়ই জানে যে পুঁজিবাদের যেমন অনেক রকম মডেল আছে, সমাজতন্ত্রেরও বিভিন্ন ধরন আছে।...তার চেয়ে পরিষ্কার করে বলুক সমাজতন্ত্র বাদ দিয়ে পুঁজিবাদ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা সংবিধানের সংস্কার করার কথা বলে এই মাধ্যম যদি আপনারা গ্রহণ করেন, তাহলে বৈষম্যহীনতার দিকে যাওয়ার পরিবর্তে বৈষম্য বৃদ্ধির দিকে যাওয়ার অর্থনৈতিক ভিত্তিটা তৈরি করছেন। সেটা তাহলে কোথায় সংস্কার, কোথায় পরিবর্তন?’

নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, উত্তরাধিকার প্রশ্ন কিংবা নারীর অধিকার প্রশ্ন এলেই বাংলাদেশের বৈষম্যবাদী রাজনীতি বা মতাদর্শ যারা ধারণ করে, ধর্মের নামে হোক, জাতির নামে হোক, তাদের মধ্যে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়। কারণ, ধর্ম পালন করুক বা না করুক, নারী প্রশ্ন এলেই ধর্মের অজুহাত দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। আবার সেটা নিয়ে একটা উন্মাদনা ও সহিংসতা তৈরি করার চেষ্টা চলে। কিছু লোক ধর্মের নাম করে হত্যার কথা বলছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কোনো ব্যবস্থা নেই।

সংস্কার বিষয়ে সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের কিছু কিছু কাজ আছে, যেগুলো বর্তমান সরকারই করে ফেলতে পারে। কিন্তু সংস্কার আগে না নির্বাচন আগে—এই অপ্রয়োজনীয় একটা বিতর্কের কথা শোনা যাচ্ছে। কিছু কিছু সংস্কার এই অন্তর্বর্তী সরকারই করতে পারে, আবার কিছু কিছু সংস্কার আছে যেগুলো করার জন্য নির্বাচিত সরকার দরকার। অন্তর্বর্তী সরকারই যেগুলো করতে পারে, সেগুলো করতে বাধা কোথায়, সেটা বোঝা যাচ্ছে না।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘সম্পর্কের’ বিষয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বসুন্ধরা গোষ্ঠীর সঙ্গে খাতির করে তো কোনো পরিবর্তন আসবে না। একদিকে পাইকারি মামলা হচ্ছে, বহু নিরপরাধ ও নিরীহ লোক হামলা-মামলায় আতঙ্কিত আর অন্যদিকে বসুন্ধরার মতো প্রভাবশালী লোকেরা আপনাদের সঙ্গে বৈঠক করে, তাদের নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে—এই বৈপরীত্য চলবে না। এগুলোর অবসান এবং পরিবর্তন আমাদের দাবি, করতে হবে।’

মূলত ‘দীর্ঘকালীন স্থায়ী সরকারের’ কথা বলতে গিয়ে আনু মুহাম্মদ বসুন্ধরা গ্রুপের প্রসঙ্গ টানেন। সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এডিবি বা বহুজাতিক কোম্পানি—এই তিন গোষ্ঠীকে স্থায়ী সরকারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরা যদি একই রকম ক্ষমতাবান থাকে, একই রকম সক্রিয় থাকে এবং একইভাবে তাদের নীতিমালায় যদি দেশ চলতে থাকে, তাহলে কোনো ধরনের পরিবর্তন হবে না।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আনু মুহাম্মদ বলেন, বিগত সরকারের সময় বোঝা যেত আদালতের রায় কী হবে। এখনো বোঝা যায় যে রায় কী হবে। তাহলে পরিবর্তনটা কী হলো? কে জামিন পাবে, কে খালাস পাবে, কে আটক থাকবে, কার জামিন হবে না, এগুলো তো পরিষ্কার বোঝাই যাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাইরের জানা-অজানা বিভিন্ন ধরনের গোষ্ঠীর প্রভাবে যদি আদালত চলে, তাহলে এই সরকার যে সংস্কার বা পরিবর্তন করতে আগ্রহী, তার প্রকাশটা কোথায়?

মডেল মেঘনা আলমের গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রসঙ্গে এই অধ্যাপক বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগই থাকুক, এমনকি যুদ্ধাপরাধীও যদি হয়, তার ঘরবাড়ি, ঘরের জানালা, দরজা ভেঙে, কোনো রকম কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও তাকে উঠিয়ে নিয়ে আসবে, এটা কারও ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য নয়।’

মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এই চুক্তির ব্যাপারে তো মানুষের জানতে হবে। খালি সরকার, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী কিংবা যে প্রবাসী লোকজন এখন দেশের স্বার্থে বিদেশের আরাম-আয়েশ ছেড়ে বাংলাদেশে কাজ করতে এসেছেন, তাঁরা বললেই তো হবে না। আমাদের তো পরিষ্কার জানতে হবে যে আসলে ঘটনাটা কী হচ্ছে। আমাদের স্বার্থ আছে কি না, সেটা জানতে হবে।’

মার্কিন কোম্পানি থেকে এলএনজি আমদানির সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, দরকার হচ্ছে এলএনজি আমদানির নীতিমালা থেকেই বের হয়ে আসা। গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়ানোর কাজটা এই সরকারকে করতে হবে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে আমাদের শতভাগ মালিকানায় গ্যাস সম্পদটা পুরোপুরি আমরা যাতে ব্যবহার করতে পারি, সেই উদ্যোগগুলো নিতে হবে। আট মাসে এটার ব্যাপারে কি কোনো উদ্যোগ নেওয়া যেত না? আট মাসে কি নীতিমালার মধ্যে কিছু পরিবর্তন আনা যেত না?’

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত এই সভায় সংবিধান ও বিচার বিভাগ নিয়ে কথা বলেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। ‘কৃষি ও কৃষকের সংকট’ নিয়ে বক্তব্য দেন লেখক-গবেষক মাহা মির্জা।

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে বক্তব্য দেন চিকিৎসক মো. হারুন-অর-রশিদ। শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফা ও গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছায়েদুল হক। শিল্প ও শ্রমিকের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন শ্রমিকনেতা সত্যজিৎ বিশ্বাস। দ্রব্যমূল্য ও অর্থনীতি নিয়ে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রনেতা বাকি বিল্লাহ। হরিজন জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কথা বলেন সীমা দত্ত। পাহাড় ও সমতলের জাতিগোষ্ঠীর বিষয়ে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হেমা চাকমা। নারী ও লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী বিষয়ে বক্তব্য দেন ফেরদৌস আরা রুমী। সভার সঞ্চালক ছিলেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি দিলীপ রায়।

‘অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাস: ভূমিকা ও সংস্কার প্রস্তাব’ শিরোনামে পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ঢাকা, ২৬ এপ্রিল
‘অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাস: ভূমিকা ও সংস্কার প্রস্তাব’ শিরোনামে পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ঢাকা, ২৬ এপ্রিল। ছবি: প্রথম আলো

পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকে ‘অগ্রগতি’, আবার আলোচনায় ঐকমত্য

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দেশটির সঙ্গে তৃতীয় দফায় বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছে দুই দেশই। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহে আবারও আলোচনায় বসার বিষয়ে একমত হয়েছে তারা।

শনিবার এ বৈঠকের নেতৃত্ব দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ। বৈঠকের পর পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনা ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ হয়েছে। আর আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আগামী বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন মতপার্থক্য কীভাবে আরও কমানো যায়, তা যাচাই–বাছাই করে দেখবেন তাঁরা।

এর আগে গত দুই সপ্তাহে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় মাসকাট ও ইতালির রাজধানী রোমে। আগামী সপ্তাহের বৈঠক ইউরোপে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। তবে শনিবারের আলোচনায় আরও অগ্রগতি হয়েছে।

২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু প্রকল্পসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে অংশ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করার বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। নিজের প্রথম মেয়াদে ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানুয়ারিতে আবার ক্ষমতায় বসার পর এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছেন তিনি।

আলোচনায় যে অগ্রগতি হচ্ছে, তার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প নিজেও। প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের (ইরান) সঙ্গে অনেক আলোচনা করেছি। আর আমি মনে করি, আমরা একটি চুক্তিতে একমত হতে যাচ্ছি। অন্য যেকোনো বিকল্পের চেয়ে আমি চুক্তি করতে বেশি পছন্দ করব।’

বন্দরে বিস্ফোরণে নিহত ৫

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাত শতাধিক। জরুরি সেবা বিভাগের বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার দেশটির দক্ষিণ উপকূলে হরমুজগান প্রদেশের শহীদ রাজাই বন্দরে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

কীভাবে এ বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে বন্দরের কাস্টমস কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাসায়নিক ও বিপজ্জনক বিভিন্ন পদার্থ রাখার গুদামে আগুন লাগার পর এ বিস্ফোরণ হয়।

পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতে ওমানের রাজধানী মাসকাট যান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর উড়োজাহাজ থেকে নামার ছবি শনিবার ছাপা হয় সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমের প্রথম পাতায়
পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতে ওমানের রাজধানী মাসকাট যান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর উড়োজাহাজ থেকে নামার ছবি শনিবার ছাপা হয় সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমের প্রথম পাতায়। ছবি: রয়টার্স

কুমিল্লায় ‘কিশোর গ্যাং’: ‘অবস্থান জানান দিতে’ মহড়া, নাগরিকদের উদ্বেগ by আবদুর রহমান

কুমিল্লা নগরে কিছুদিন চুপচাপ থাকার পর বেপরোয়া হয়ে ফিরেছে ‘কিশোর গ্যাং’। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা নগরে দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দেয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এতে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গতকাল বেলা তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত নগরের কান্দিরপাড় এলাকার রানীর দিঘির পাড়, তালপুকুরপাড় ও আদালতপাড়া এলাকায় তিনটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মহড়া দেয়। জানা গেছে, নিজেদের অবস্থান জানান দিতে তারা এভাবে মহড়া দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৫ সালের দিকে কুমিল্লা নগরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। নগরে ‘রতন’, ‘ঈগল’, ‘র‍্যাক্স’, ‘এক্স’, ‘এলআরএন’, ‘সিবিক’, ‘মডার্ন’, ‘রকস্টার’, ‘ডিস্কো বয়েজ’, ‘বস’সহ কমপক্ষে ২০টি কিশোর গ্যাং আছে। এসব গ্যাং নিজেদের আধিপত্য দেখাতে প্রকাশ্যে সহিংসতায় জড়াচ্ছে। ২০১৭ সালের পর কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ৮ বছরে অন্তত ১২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মাদক কারবার, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধে জড়াচ্ছে এসব গ্যাং।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২২ এপ্রিল সকালে নগরের ধর্মসাগর পাড়ের রানীর কুঠি এলাকায় নাফিজ অময় (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের সদস্যরা।

এ ঘটনায় নাফিজ অময় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির রতন, তাঁর প্রধান সহযোগী সাইফুলসহ তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা সবাই রতন গ্রুপের সদস্য। ঘটনার পর রতন গ্রুপের সদস্যরা গা ঢাকা দেওয়ায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

নাফিজের এক বন্ধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, রতন গ্রুপ নগরের কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তাদের গ্রুপে সদস্যও বেশি। বিগত সময়ে অন্য গ্রুপগুলো রতন গ্রুপের কারণে সক্রিয় হতে পারেনি। নাফিজ অময়ের মামলায় বর্তমানে রতন ও সাইফুল পলাতক থাকার সুযোগে শুক্রবার নগরের তিন এলাকায় তিনটি গ্রুপ মহড়া দিয়েছে।

নগরের অন্তত ৫টি কিশোর গ্যাং গ্রুপের সঙ্গে জানাশোনা আছে এমন একজন ব্যক্তি (তিনি আগে একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতা পর্যায়ের ছিলেন, বর্তমানে সরে এসেছেন) নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। তিনি বলেন, রতন গ্রুপের মূল নাম হলো ‘র স্কোয়াড’। শুক্রবার যারা তিন এলাকায় মহড়া দিয়েছে, এদের মধ্যে একটি গ্রুপ হলো ‘সিবিকে’; আরেকটি হলো ‘ঈগল গ্রুপ’। তৃতীয় গ্রুপটির তেমন কোনো নাম নেই। রতন গ্রুপ বর্তমানে চাপে থাকায় বাকি গ্রুপগুলো নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।

কিশোর গ্যাংগুলোকে কারা পেছন থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি আরও বলেন, কোনো না কোনো পাওয়ার পার্টির লোক পেছন থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। যদিও তাঁদের নাম কখনো সামনে আসে না। আগে আওয়ামী লীগের লোকজন এদের নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এখন বিএনপির কোনো কোনো নেতা এদের পেছন থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কুমিল্লা নগরে কিশোর গ্যাংয়ের নামে বর্তমানে যে সন্ত্রাস দেখা যাচ্ছে, এগুলো আওয়ামী লীগের সৃষ্টি। বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে বিএনপির কেউ জড়িত রয়েছেন বলে আমার কাছে তথ্য নেই। তবে যদি এমন কোনো তথ্য–প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি বিকেলে নগরের ভিক্টোরিয়া কলেজ-সংলগ্ন রানীর দিঘির পাড়ে অস্ত্রের মহড়া দেয় কিশোর গ্যাংয়ের অর্ধশতাধিক সদস্য। এ সময় ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটানো হয়। ওই ঘটনার পর কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ৯ জানুয়ারি ভোরে নগরের টাউন হল মাঠে দেশি অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৪ জানুয়ারি নগরের ঝাউতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের একজনকে গ্রেপ্তার করে জেলা ডিবি পুলিশ। এরপর ২৫ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২৬ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্যসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, শুক্রবার যারা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে, তাদের বেশির ভাগই পথশিশু, কিশোর ও তরুণ। যখনই নগরের কিশোর গ্যাং মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সেটি বন্ধ হয়েছে। শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসী তৎপরতা নির্মূলে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।’

গতকালের সশস্ত্র মহড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সভাপতি অধ্যাপক লিখিল চন্দ্র রায়। আজ প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা ভেবেছিলাম, একটি স্বস্তিদায়ক সময় পার করব; কিন্তু সময়টা পার করতে হচ্ছে উদ্বেগের মধ্য দিয়ে। গতকালের ঘটনাটি আমি ফেসবুকে দেখে খুবই উদ্বিগ্ন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করা উচিত এবং যাঁরাই এসব কিশোর গ্যাংকে পেছন থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাঁদের সামনে আনা উচিত। পাশাপাশি কিশোর ও তরুণের প্রতি অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।’ 

কুমিল্লা নগরে গতকাল শুক্রবার বিকেলে কিশোর গ্যাংয়ের মহড়া
কুমিল্লা নগরে গতকাল শুক্রবার বিকেলে কিশোর গ্যাংয়ের মহড়া। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

পেহেলগাম হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার টিআরএফের, আগের দাবির জন্য দায়ী করল ভারতীয় গোয়েন্দাদের

কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলার কিছু সময় পর এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল অখ্যাত সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)। কিন্তু গতকাল শুক্রবার কাশ্মীরের বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে এবং আগের দাবির জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করেছে।

গোষ্ঠীটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বলেছে, টিআরএফকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়ানোর বিষয়টি মিথ্যা এবং কাশ্মীরি প্রতিরোধ আন্দোলনকে কলঙ্কিত করতে সাজানো একটি প্রচারের অংশ।

গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, ‘পেহেলগামে হামলার কিছুক্ষণ পর আমাদের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে সংক্ষিপ্ত এবং অনুমোদনহীন একটি বার্তা পোস্ট করা হয়েছিল। অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর আমাদের কাছে এ কথা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে সমন্বিত সাইবার অনুপ্রবেশের ফলে এমনটি ঘটেছে, যা ভারতের ডিজিটাল যুদ্ধ কৌশলের একটি পরিচিত পদ্ধতি।’

গত মঙ্গলবার দুপুরে পেহেলগামের বৈসারানে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন।

সরকারি সূত্রগুলো দ্য হিন্দুকে জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে কারও কারও অবস্থা গুরুতর। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যদিও এখনো পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা পর্যটকদের হত্যার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ভারত। সেসব ব্যবস্থার অন্যতম হচ্ছে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করা। গতকাল পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা মানুষদের দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে পাঞ্জাবের অমৃতসরের আটারি-ওয়াঘা স্থলপথ দিয়ে মোট ১৯১ জন পাকিস্তানি নাগরিক দেশে ফিরে গেছেন। এ নিয়ে ঘটনার পর থেকে মোট ২৮৭ পাকিস্তানি দেশে ফিরে গেছেন।

কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর সেখানে সতর্ক অবস্থানে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা
কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর সেখানে সতর্ক অবস্থানে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: রয়টার্স

ইসরাইলের সাহায্য বন্ধের ফলে গাজার সমস্ত মজুদ খাদ্য শেষ হয়ে আসছে: জাতিসংঘ

ইসরাইল সাত সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে গাজায় সমস্ত সাহায্য পাঠানোর পথ  বন্ধ করে দিয়েছে। যার জেরে ধাক্কা খেয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। গাজার সমস্ত মজুদ খাদ্য শেষ হয়ে গেছে বলে জানাচ্ছে সংস্থাটি। ১৮ মাসের যুদ্ধের পর, গাজার পরিস্থিতি "সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ" বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক কার্যালয়। এর  ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার প্রধান ইসরাইলের সাহায্য বন্ধের এই পদক্ষেপকে "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে  অনাহার সৃষ্টির কৌশল  বলে অভিহিত করেছেন। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে খাদ্য সহায়তার অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী ডব্লিউএফপি (World Food Programme) জানিয়েছে যে তারা শুক্রবার  গাজা উপত্যকায় তাদের অবশিষ্ট যে খাদ্য মজুদ ছিল তা পৌঁছে দিয়েছে।

আগামী দিনগুলোতে  খাবার সম্পূর্ণরূপে ফুরিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা  করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা UNRWA-এর প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি বলেছেন যে এই সংকট "মানবসৃষ্ট"। তিনি এক্সে  লিখেছেন- 'ইসরাইল সরকার গাজায় খাদ্য এবং অন্যান্য মৌলিক জিনিসপত্রের প্রবেশ বন্ধ করে দিচ্ছে। প্রায় দুই মাস ধরে অবরোধ চলছে। সরবরাহ আনার আহ্বানে সাড়া দেওয়া হচ্ছে না।' বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে চিকিৎসা সরবরাহের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একইরকম ।হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতি  নিয়ে অচলাবস্থার সময় সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার পর, ইসরাইল ১৮ মার্চ গাজায় আবার বোমাবর্ষণ শুরু করে।  এরপর স্থল আক্রমণ শুরু করে। গাজার নাগরিক প্রতিরক্ষা উদ্ধার সংস্থার একজন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আল-মুগাইর বলেছেন, শুক্রবার ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪০ জনে পৌঁছেছে। সেদিন সন্ধ্যায়, ইসরাইলি সেনাবাহিনী আরেকটি পরিকল্পিত হামলার আগে জেইতুন এবং উত্তরাঞ্চলের কাছাকাছি দুটি এলাকার ফিলিস্তিনিদের  সরে যেতে বলে।

 দাবি করে যে ''তারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের  প্রতিক্রিয়ায়  শক্তি প্রয়োগ করছে"। গাজার বাসিন্দারা বলছেন যে তারা কেবল বোমাবর্ষণ নয়, খাদ্যের অভাবের কারণেও মৃত্যুর সম্মুখীন। WFP ছাড়াও, বিভিন্ন সাহায্যকারী  সংস্থা এবং পশ্চিমা সরকারগুলোও  উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গাজা সিটির বাসিন্দা তাসনিম আবু মাতার বলছেন - ' আমরা আক্ষরিক অর্থেই ক্ষুধায় মারা যাচ্ছি। WFP জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে, গাজার মানুষের জন্য গরম খাবারের রান্নাঘরই ( hot meal kitchen) খাদ্য সহায়তার একমাত্র ধারাবাহিক উৎস। দৈনিক খাদ্য চাহিদার মাত্র ২৫ শতাংশ জনসংখ্যার কাছে পৌঁছানো সত্ত্বেও, এটি মানুষের কাছে লাইফলাইনের মতো।   সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে ১,১৬,০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি খাদ্য সহায়তা - যা চার মাস পর্যন্ত ১০ লক্ষ মানুষকে খাওয়ানোর জন্য যথেষ্ট। এটি  আপাতত ত্রাণ করিডোরে মজুত  রাখা হয়েছে যা  সীমান্ত পুনরায় খোলার সাথে সাথে গাজায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব  হবে। ডব্লিউএফপির সতর্কবার্তার পর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস  বলেন যে গাজায় চিকিৎসা সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে  এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার  ১৬টি  ট্রাক প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছে। এই  অবরোধ অবশ্যই তুলতে  হবে। মানুষের জীবন এর উপর নির্ভর করছে।

WFP আরও জানিয়েছে যে, গাজায় তাদের সমর্থিত ২৫টি বেকারি ৩১ মার্চ তারা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল কারণ  গাজা উপত্যকার দীর্ঘতম অবরোধের  সময় গমের আটা এবং রান্নার তেল শেষ হয়ে গিয়েছিল। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে তার দেশ সাহায্য বন্ধ করেছে হামাসকে চাপে রাখতে। এর আগে, জার্মানি, ফ্রান্স এবং বৃটেন "অসহনীয়" অবরোধের অবসানের আহ্বান জানিয়েছে এবং  ক্ষুধা, মহামারী  এবং মৃত্যুর তীব্র ঝুঁকি  সম্পর্কে সতর্ক করেছে। যুদ্ধের কৌশল  হিসেবে মানুষকে অনাহারে রাখার অপরাধে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। নেতানিয়াহু অভিযোগগুলোকে  "অযৌক্তিক এবং মিথ্যা" বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে হামাস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় কমপক্ষে ২,০৬২ জন নিহত হয়েছে। অঞ্চলটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে যুদ্ধে মোট মৃতের সংখ্যা ৫১,৪৩৯ জনে পৌঁছেছে। যার বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

mzamin
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জরুরি সতর্কতা দিয়েছে।  তারা বলেছে, গাজার এখন খাদ্যের প্রয়োজন। কারণ লাখ লাখ মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। আল জাজিরার সংবাদদাতা বলছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষ ইসরাইলি বোমা হামলার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ত্রাণ সরবরাহের উপর ইসরাইলি অবরোধের কারণে তাদের সন্তানরা অনাহারে থাকছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৮ মাস আগে গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ৫১,০৬৫ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,১৬,৫০৫ জন আহত হয়েছেন। ওদিকে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস মৃতের সংখ্যা ৬১,৭০০-এরও বেশি বলে জানিয়েছে। কারণ, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষকে মৃত বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।



খাদ্যের উপর ইসরাইলি অবরোধের নিন্দা কানাডার প্রধানমন্ত্রীর

গাজায় খাদ্য সরবরাহের উপর ইসরাইলি অবরোধের কারণে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মজুদ খাবার শেষ হয়ে গেছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইসরাইলের প্রতি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)কে কাজ করার অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খাদ্যকে ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। কার্নি এক্সে লিখেছেন, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যে ইসরাইলি সরকারের অবরোধের কারণে গাজায় তাদের খাদ্য মজুদ শেষ হয়ে গেছে- খাদ্যকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হামাসের অপরাধের পরিণতি ভোগ করতে হবে কেন তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন।

কার্নি বলেন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে অবশ্যই তার জীবন রক্ষাকারী কাজ পুনরায় শুরু করার অনুমতি দিতে হবে। আমরা আমাদের মিত্রদের সাথে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং সব জিম্মির অবিলম্বে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ চালিয়ে যাব। উল্লেখ্য, ডব্লিউএফপি শুক্রবার জানিয়েছে, তারা গাজার রান্নাঘরে তাদের অবশিষ্ট সরবরাহ পৌঁছে দিয়েছে। আগামী দিনে খাবারের অভাব দেখা দেবে বলে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

mzamin

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন: মামলা করে বিপাকে শিপু

রবিউস সানী শিপু। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মেধাবী শিক্ষার্থী। ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। সাভারের আশুলিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কয়েক দফা চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেন। এরপর শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন তিনি। মামলা করার একমাসের মাথায় তিনি ফের হামলার শিকার হন। নাড়ি ভুড়ি বের হয়ে যায় তার। এ যাত্রায়ও বেঁচে যান শিপু। এ ঘটনায় ১৪ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।  মামলার অন্যতম আসামিরা হলেন- ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান হিরু, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবু তাহের, আশুলিয়া থানা আওয়ামী হকার্স লীগের সদস্য জহিরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান, আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আলীম, আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মো. শান্ত ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. রহিম।

স্বৈরাচার সরকারের পতনের জন্য মরণপণ লড়াই করে ভাগ্যক্রমে দু’বার বেঁচে যাওয়া শিপু এখন মহাবিপাকে। তার বাঁচাই যেন এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত আসামিরা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকটি জিডিও করেছেন তিনি। অভিযোগ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এখনো আসামিরা হুমকি দিচ্ছে তাকে। ভয় আর আতঙ্কে সময় কাটছে শিপুর পরিবারের। এখানেই শেষ নয়। গত ২২শে এপ্রিল ৯জন আসামি আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করতে চাইলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবেদনটি টেইক ব্যাক চান।  এজলাসের ভিতরেই আসামি পক্ষে শুনানি করতে আসা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি এমএ কালাম খান শিপুর আইনজীবী মো. শাহীন মণ্ডলকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেছেন। পরে তারা আত্মসমর্পণ করা আসামিদের নিয়ে যান। আবেদন টেইক ব্যাক ও আত্মসমর্পণ করা আসামিদের নিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে কি না?- এ বিষয়ে জানতে কথা হয় সাবেক জেলা ও দায়রা জজ ড. শাহজাহান সাজুর সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, নিম্ন্ন আদালতে আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদনের পর শুনানি শেষে বিচারক হয় আসামিদের জামিন দেবেন, না হয় কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেবেন। এক্ষেত্রে জামিন আবেদন টেইক ব্যাক নেয়ার সুযোগ নেই।    

বাদীর আইনজীবী শাহীন মণ্ডলের তথ্যমতে, আসামি পক্ষে শুনানি করেছেন ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি এমএ কালাম খান। শুধু তাই নয় এজলাসেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন।  বিচারক জামিন না দেয়ায় আত্মসমর্পণ করা ৯  আসামিকে আইনবহির্ভূতভাবে আদালতের কাস্টডি থেকে নিয়ে যায়। আদালতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় আরও শঙ্কা ও ভয়ে দিন কাটছে শিপুর পরিবারের।  

এ বিষয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আশুলিয়া থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মো. খায়ের মানবজমিনকে বলেন, গত ২২শে এপ্রিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিপু নামের এক যুবককে মারধরের মামলায় ৭/৮ জন আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। জামিন আবেদনের পক্ষে মাইনুদ্দিন নামে একজন আইনজীবী ও একজন এপিপি শুনানি করেন। কিন্তু বিচারক জামিন দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে আবেদনটি তারা টেইক ব্যাক নেন এবং আসামিদেরকেও নিয়ে যায়। এসব অভিযোগের ব্যাপারে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এমএ কালাম খান মানবজমিনকে বলেন, এসব আসামিরা বিএনপি’র লোক। আসামিরা দীর্ঘদিন বিএনপি করতো। তারা হাসিনা সরকারের করা মামলারও আসামি। আমি সে সময় বিএনপি’র বিরুদ্ধে হওয়া হাসিনা সরকারের সময় তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মিথ্যা মামলাগুলোর আইনজীবী। তাদেরকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমি তাদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়েছি। আসামিপক্ষের আইনজীবীও সে সময় উপস্থিত ছিল। তিনি আরও বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশীটে আনা অপরাধগুলো জামিনযোগ্য। টেইক ব্যাক করে পিটিশন ও আসামি ফিরিয়ে নেয়া বেআইনি কিছু নয়। এমন নজির হাইকোর্ট সহ নিম্ন আদালতে রয়েছে। তবে শিপুর আইনজীবী শাহীন মণ্ডলকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মাইনুদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, গত ২২শে এপ্রিল আশুলিয়া থানার মামলায় ৯ আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। জামিন আবেদনের পক্ষে আমি এবং ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট এমএ কালাম খান শুনানিতে অংশ নেই। আদালত আমাদের জামিন আবেদন নাকচ করলে পিটিশনটি টেইক ব্যাক করে ফিরিয়ে নিয়েছি। কিন্তু ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আত্মসমর্পণ করে আদালতে জামিন আবেদন নাকচ হলে, পিটিশন টেইক ব্যাক করার বিধান আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আদালতে সচরাচর হয়ে থাকে। এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয় না।

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এসব আসামিদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি’র নেতাকর্মী বলে পরিচয় তুলে ধরেন। অথচ তদন্তে উঠে এসেছে তাদের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার তথ্য। ১. মো. মেহেদী হাসান হিরু (৪৭) ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ২. মো. আবু তাহের, আওয়ামী লীগ নেতা। ৩. জহিরুল ইসলাম, আশুলিয়া থানা আওয়ামী হকার্স লীগের সদস্য। ৪. হাবিবুর রহমান, আশুলিয়া থানা আওয়ামী হকার্স লীগের সদস্য। ৫. আব্দুল আলীম, আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক। ৬. মো. শান্ত, আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক। ৭. মো. রহিম, আওয়ামী লীগ নেতা। এসব আসামিরা বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামি হয়ে মামলার বাদী ও তার পরিবারকে ক্রমাগত হুমকি, মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ ও অব্যাহতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগে থানায় জিডি রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

আদালত সূত্র জানায়, আসামিদের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট মো. মাইনুদ্দিন ও  ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট এমএ কালাম খান। তিনি আওয়ামীপন্থি এসব আসামিদেরকে বিএনপি’র কর্মী বলে উল্লেখ করে আসামিদের জামিন চান। বিচারক তার আবেদনে সাড়া না দিলে আসামিপক্ষ জামিন আবেদনটি টেইক ব্যাক চান। বাদীর আইনজীবী জানান, তিনি নথি টেইক ব্যাক নেয়ার বিরোধিতা করে আদালতকে বলেন, আইনানুযায়ী আসামি আত্মসমর্পণ করলে বিচারক হয় তাকে জামিন দেবেন, না হয় আসামিদের কারাগারে পাঠাবেন। ভুক্তভোগী শিপুর আইনজীবীর অভিযোগ, একপর্যায়ে এজলাসেই এপিপি কালাম খান তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন। এ নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ সময় হট্টগোল চলে এজলাস কক্ষে। পরে এপিপি আবেদন টেইক ব্যাক চেয়ে আত্মসমর্পণ করা আসামিদেরকে আদালতের কাস্টডি থেকে নিয়ে যান। আদালতে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় শঙ্কা আর ভয়ে দিন কাটছে শিপু ও শিপুর পরিবারের। মামলা করে শিপু ও তার পরিবার যেন এখন বিপাকে। আসামিরা প্রতিনিয়ত তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এবার এই হুমকির অভিযোগ এলো স্বয়ং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। আশুলিয়া থানাধীন মসজিদের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেয়। তখন বেলা ১১টা। হঠাৎ পুলিশ ছাত্রদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। স্নাইপারের গুলি শিপুর পেটে বিদ্ধ হয়। অঝোরে ঝরতে থাকে রক্ত। এই অবস্থাতেও শিপু সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এবার পুলিশ তার পায়ে গুলি করে। তাৎক্ষণিক শিপু লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় শিপুকে নিয়ে যাওয়া হয় আশুলিয়ার দু’টি ক্লিনিকে। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে চিকিৎসা না দিয়ে গেট আটকে দেয়। শিপুকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে কয়েক দফা চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে সাভারের বাসায় ফেরেন শিপু। এ ঘটনায় গত ১১ই সেপ্টেম্বর ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় মামলা করা হয়। কিন্তু এ মামলাই এখন তার জন্য কাল হয়ে উঠেছে।

শিপুর আইনজীবী এডভোকেট মো. শাহীন মণ্ডল মানবজমিনকে বলেন, গত ২২শে এপ্রিল এই মামলার চার্জশীট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। চার্জশীটে আসামিরা যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল সেটা উঠে এসেছে। আগামী ২৭শে এপ্রিল মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এরই মধ্যে চার্জশীটে যে সকল আসামিদের বিরুদ্ধে ঘটনার সম্পৃক্ততা পেয়েছেন ও যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া হয়েছে, সে সকল আসামিরা গত ২২শে এপ্রিল আত্মসমর্পণ করে কোর্টে জামিন আবেদন করেন। জামিন আবেদনে তারা নিজেদেরকে আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপি’র নেতাকর্মী দাবি করেন। ওই দলের পদ-পদবিসহ প্যাডে স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি আদালতকে দেখান। আমরা তাকে ওই কপিটি আদালতে দাখিল করতে বলি কিন্তু তিনি অদৃশ্য কারণে তা দাখিল করেন না। অথচ আসামিদের আওয়ামী সংশ্লিষ্ট মিছিলের ভিডিও, অডিও, ছবি সহ নানা প্রমাণ দাখিল করেছি। এমনকি চার্জশীটেও এই অভিযোগগুলোর কথা উঠে এসেছে।

শাহীন মণ্ডল আরও বলেন, যখন আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করা হয়, তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে হট্টগোল শুরু করে। এই জামিন শুনানিতে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাডিশনাল পিপি এম এ কালাম খান অংশ নেন। তিনি একপর্যায়ে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ইকবাল হোসেন স্যারকে ডেকে এজলাসে আনেন। পিপি স্যার পেছনে বসে নির্দেশনা দেন আসামিপক্ষের আইনজীবীদের। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন- আরেক অ্যাডিশনাল পিপি নাজিম উদ্দিন। ভুক্তভোগীর আইনজীবী অভিযোগ করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আসামিপক্ষের হয়ে শুনানি করেছেন। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু আমার আবেদনে কোর্ট সন্তুষ্ট হয়ে জামিন আবেদন অপরাগতা প্রকাশ করলে এসব আইনজীবীরা আদালতকে বলেন আমরা আত্মসমর্পণ করবো না। আমরা আমাদের আবেদন টেইক ব্যাক করবো। এই বলে বেআইনিভাবে কোর্ট থেকে পিটিশন ফেরত নিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের নিয়ে বের হয়ে চলে যান। এমনকি অ্যাডিশনাল পিপি কালাম খান আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি কোর্টে ভুল পিটিশন সাবমিট করেছেন। আমরা বিএনপি’র লোক। আমরা আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২২শে এপ্রিল যেসব আসামিরা জামিন না পেয়ে আদালত থেকে চলে যান, সেসব আসামিরা বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা মামলারও এজহারনামীয় আসামি। ২০১৫ সালে রাজধানীর বাংলামোটরে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে একদল লোক হামলা চালায়। এ ঘটনায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মী মো. ফজলুল করিম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেহেদী হাসান হিরু আশুলিয়া থানার কুখ্যাত সন্ত্রাসী। সাভার আশুলিয়া সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে অনেকগুলো মামলা রয়েছে। ২০১২ সালের ৩রা অক্টোবর আসমা নামে এক গার্মেন্টস কর্মীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে লাকড়ির দোকানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে আসামি জহিরের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া একই বছরের ১৪ই জুলাই সুমী আক্তার নামে আরেক নারীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেছে। এ ছাড়া, জহির, তাহের, হাবিবুর, আলীম ও তার ভাই সামাদের বিরুদ্ধে বলপূর্বক অপহরণ করে অন্যায়ভাবে চাঁদা দাবি ও সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৩ সালে আব্দুল হাকিম নামে এক ভুক্তভোগী মামলা করেন। মামলার সাক্ষী হওয়ায় লালু মিয়া নামে এক ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীকে গত ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে রাতের বেলা মাইক্রোবাসযোগে পথরোধ করে কুপিয়ে জখম করে। পায়ে ও হাতে গুলি করে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে আসামি জহির, তাহের, হাবিবুর, আলীম, তার ভাই সামাদের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন মামলার নথি থেকে জানা যায়, এরা সবাই ডজন খানেক মামলার আসামি। আসামি মেহেদী হাসান হিরু, লিমা আক্তার ও তার দুই দেবর জহির ও তাহের, হাবিবুর, আলীম, তার ভাই সামাদ, শান্ত, মেহেদী, মো. জিন্নাহ, মো. রহিম, নাসির, মো. মাসুদ হাসান, নাজমুল, দীপু অস্ত্রধারী সদস্য ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এরা নারী ব্যবসা সহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। আশুলিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীর রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি সহ নানা অভিযোগে দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে এসব আসামিদের বিরুদ্ধে। এসব সন্ত্রাসীদের কারণে ‘স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়নের’ ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণ বিভিন্ন সময় নির্যাতিত হয়ে আসছে। সাভার আশুলিয়া থানায় এদের বিরুদ্ধে ১৯টিরও বেশি মামলা রয়েছে। ক্যাবল টিভি ও ইন্টারনেট ব্যবসার আড়ালে এলাকায় মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

mzamin

ভারত পাকিস্তান বাকযুদ্ধ

বাকযুদ্ধ চরমে। ভারতের নেতারা পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানকে দায়ী করে হুঙ্কার দিচ্ছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নেতাদের ওপর চাপ বাড়ছে। তেমনি হুঙ্কার দিচ্ছেন পাকিস্তানি নেতারাও। তারপর সামরিক উত্তেজনা তো আছেই। পাকিস্তানের ভিতরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর দাবি উঠেছে ভারতের বিভিন্ন মহল থেকে। তবে সরকার কোনপথে হঁাঁটবে- তা এখনো নিশ্চিত নয়। ওদিকে সিন্ধু নদের পানিচুক্তি স্থগিত করায় চটেছেন পাকিস্তানি নেতারা। পাকিস্তান পিপল্‌স পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সিন্ধু নদে হয়তো পানি প্রবাহিত হবে, না হয় তাদের রক্ত প্রবাহিত হবে। সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনির পুনর্বার বলেছেন, আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত পাকিস্তান। নিজেদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে পাকিস্তানের জনগণ ঐক্যবদ্ধ। যেকোনো বহির্শক্তির হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম পাকিস্তান। তবে শান্তির পক্ষে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান শান্তির পক্ষে। তাই বলে একে দুর্বলতা ভাবা যাবে না। মঙ্গলবার কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় কমপক্ষে ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়। এমন অবস্থায় বিশ্বনেতারা উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। ভারত ওই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করছে। কোনো তথ্যপ্রমাণ বা অনুসন্ধান ছাড়া এভাবে দায়ী করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান।

নিউ ইয়র্ক টাইমসকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ  পেহেলগাম হামলার আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছেন। আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের দিয়ে যেকোনো তদন্তে সহযোগিতায় পাকিস্তান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। ওদিকে পাকিস্তান-ভারত উত্তেজনার সমাধান চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু কাশ্মীরে সন্দেহজনকভাবে বেশ কিছু ব্যক্তির বাড়ি উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। পেহেলগাম পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া অতিরঞ্জিত করছে বলে অভিযোগ করেছেন পাঞ্জাবের তথ্যমন্ত্রী আজমা বুখারী। তিনি বলেন, হামলার পর প্রকৃত কোনো তদন্ত হয়নি। হামলার ১০ মিনিটের মধ্যে একটি এফআইআর করা হয়েছে। তাতে ‘ফরেন মাস্টার’ এবং ‘ক্রস বর্ডার’ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে। বুখারী বলেন, যুদ্ধ শুধু অস্ত্র আর সেনাবাহিনী দিয়েই হয় না। যুদ্ধ হয় শহীদি উদ্দীপনা এবং বিশ্বাসের অনুপ্রেরণা দিয়ে। আমরা আর যুদ্ধ চাই না। পরিস্থিতিকে কেউ ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করুক- তা চাই না। কড়া বক্তব্য দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনির। তিনি বলেছেন, দেশের স্থিতিস্থাপকতা ও শক্তি নিহিত আছে এর ইতিহাস ও আত্মত্যাগের মধ্যে। পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে দেয়া বক্তব্যে তিনি দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ ভাগের বিষয়ে কথা বলেন। বলেন, এর ভিত্তিতেই মুসলিম ও হিন্দুদের আলাদা করা হয়েছে। এটাই পাকিস্তানের পরিচয় ও অস্তিত্ব। পাকিস্তানের পূর্ব- পুরুষরা দেশ সৃষ্টিতে যে অসীম আত্মত্যাগ করেছেন তাও তুলে ধরেন তিনি। ইতিহাসকে বিকৃত করার জন্য ভারতীয় মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের মতে, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে আরও ৫টি বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। পুলওয়ামায় এহসান আহমেদ শেখ, আহসান উল হক এবং হারিস আহমেদের বাড়ি, কুলগামে জাকির আহমেদ গানাইয়ের বাড়ি এবং শোপিয়ানে শাহিদ আহমেদ কুতাই-এর বাড়ি বিস্ফোরক ব্যবহার করে ধ্বংস করে দিয়েছে তারা। এর আগের দিন পুলওয়ামা এবং জম্মু-কাশ্মীরের ইসলামাবাদে আসিফ শেখ এবং আদিল থোকারের পূর্ব-পূরুষের বাড়িও উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, যেকোনো নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ তদন্তে অংশ নিতে প্রস্তুত পাকিস্তান। তিনি আরও বলেন, আমি অবশ্যই বলবো পানি হলো পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ। আমাদের ২৪ কোটি মানুষের জন্য এটা হলো- লাইফলাইন।  যেকোনো মূল্যে এবং সার্বিক পরিস্থিতিতে এই পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পাকিস্তান বৈশ্বিক শান্তি এবং ঐক্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পাকিস্তান। পাকিস্তান শান্তির পক্ষে। এর অর্থ এই নয় যে, পাকিস্তান দুর্বল।

পাকিস্তান কখনো তার আত্মমর্যাদার সঙ্গে আপস করবে না।  তিনি ২০১৯ সালে পাকিস্তানে ভারতের বিমান হামলা এবং তার জবাবে পাকিস্তানের প্রতিশোধ নেয়ার কথা তুলে ধরেন। বলেন, তার দেশ এরই মধ্যে সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন মিসঅ্যাডভেঞ্চার চালালে একই রকম প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেন শেহবাজ শরীফ। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সিন্ধু নদের পানিচুক্তির অধীনে পাকিস্তানের পাওনা পানি বন্ধ করলে বা গতিপথ পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে ভারতকে সতর্ক করেন। শেহবাজ শরীফ বলেন, এক্ষেত্রে যেকোনো হস্তক্ষেপ পূর্ণশক্তির সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে। এই ফ্রন্টে পাকিস্তানের দৃঢ়তা সম্পর্কে কারও কোনো বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়।  পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানকে জড়িয়ে ভারতের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন শেহবাজ শরীফ। তিনি বলেন, বিশ্বাসযোগ্য কোনো তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। শেহবাজ শরীফ বলেন, ভারত থেকে এ রকম দোষারোপের ধারা বন্ধ হতে হবে।

ওদিকে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, পেহেলগাম হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের অন্যতম আদিল আহমেদ থোকার। তিনি ২০১৮ সালে পাকিস্তান গিয়েছিলেন এবং তিন থেকে চারজন সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে ৬ বছর পর দেশে ফিরেছেন। আদিল আহমেদ থোকার জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার বিজবেহারায় অবস্থিত গুরের গ্রামের অধিবাসী। পেহেলগাম হামলায় মূল কারিগরদের অন্যতম হিসেবে তাকে মনে করছে ভারত।

ভারত-পাকিস্তান সেনাদের মধ্যে আবারো গুলিবিনিময়
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের দামামার মধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখায় আগের রাতের মতো গত রাতেও দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়েছে। অবশ্য এর জন্য বিনা উস্কানিতে পাকিস্তানি সেনারা গুলি চালিয়েছে বলে দাবি করেছে অনলাইন এনডিটিভি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ও শুক্রবার দিবাগত রাতের মধ্যে এটি দ্বিতীয় ঘটনা। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে ভারতীয় ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পৃথককারী কার্যত সীমানা নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে একাধিক পোস্ট থেকে গুলি চালানোর খবর দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতীয় সেনারা পাকিস্তানি গুলিবর্ষণের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গুলি বিনিময়ে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিবৃতিতে বলা হয়-২০২৫ সালের ২৫-২৬শে এপ্রিল রাতে কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা জুড়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একাধিক পোস্ট বিনা উস্কানিতে ছোট আকারে গুলি চালায়। ভারতীয় সেনারা ছোট অস্ত্র দিয়ে যথাযথ জবাব দেয়। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগের রাতেও গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। সামরিক সূত্রের খবর অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ রেখা জুড়ে সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ভারতের অভ্যন্তরে আহ্বান জোরালো হয়েছে। এরইমধ্যে পাকিস্তানি সেনারা ভারতীয় সেনাদের সতর্কতা পরীক্ষা করার চেষ্টা করছে। পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারতের গৃহীত একাধিক পদক্ষেপের পর এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে দাবি ভারতের। মঙ্গলবারের হত্যাকাণ্ডে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত বৈসারন তৃণভূমিতে ছুটি কাটাতে যাওয়া কমপক্ষে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিককে পাঁচ সন্ত্রাসী গুলি করে হত্যা করে। পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-এ-তৈয়বা (এলইটি)-এর সঙ্গে যুক্ত রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ‘পাকিস্তানের অব্যাহত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ’ উল্লেখ করে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে ভারত। দিল্লি থেকে এক কড়া বার্তায় পানিমন্ত্রী সিআর পাতিল হুমকি দিয়েছেন- সিন্ধু নদীর ‘এক ফোঁটাও’ পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হবে না।
প্রতিটি সন্ত্রাসীকে শাস্তি দেয়ার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন- ভারতীয় সেনারা পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তাদের তাড়া করবে। সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত এবং ষড়যন্ত্রকারীদের এমন শাস্তি দেয়া হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারে না। ভারত ও পাকিস্তান পাল্টাপাল্টিভাবে তাদের কূটনৈতিক কর্মীদের প্রত্যাহার করেছে এবং একে অপরের নাগরিকদের জন্য ভিসা পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। দর্শনার্থীদের এখন তাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত সময়সীমা রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত সীমান্ত ভ্রমণ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। ভারতের সঙ্গে সকল দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্থগিত করেছে ইসলামাবাদ। এরমধ্যে সিমলা চুক্তিও রয়েছে। ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

যুদ্ধ নয়, যুদ্ধের ভান ধরতে পারে ভারত: ভারতীয় বিশ্লেষক
শুক্রবার ভারতের করপোরেট টিভি চ্যানেলগুলোতে যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছে। বিজেপি’র কণ্ঠের প্রতিধ্বনি স্পন্দিত হচ্ছে তাতে। কিন্তু অনলাইন পোর্টালগুলোতেও শান্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানের অনলাইন ডন এ খবর দিয়ে লিখেছে, শুক্রবার একজন অভিজ্ঞ ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক পহেলগাঁও ট্র্যাজেডি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কেন কোনো উত্তপ্ত যুদ্ধ হতে পারে না তার যুক্তিসঙ্গত কারণ তুলে ধরেছেন। তবে রাজনৈতিক ফায়দা লাভের জন্য যুদ্ধ করার ভান করা হবে। নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উভয়পক্ষ থেকে আবারো গোলাগুলি শুরু হতে পারে। এতে সীমান্তবর্তী স্থানীয় কৃষকদের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক শান্তির দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তিসঙ্গত এমন সব কথা যারা বলেছেন তার মধ্যে অন্যতম ভারতীয় সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং  প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক প্রবীণ সাহনি। যুদ্ধ হতে পারে না- এ বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য তিনি বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে  প্রধান হলো চীন। সাওনি বলেন, ২০১৯ সালের আগস্টে ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের মর্যাদা বিতর্কিতভাবে পরিবর্তন পাকিস্তানের চেয়ে চীনকে বেশি বিরক্ত করেছে। ২০২০ সালের এপ্রিলে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে গালওয়ান সহিংসতা ছিল এরই একটি অংশ। চীন সীমান্তে অনেক বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে- উল্লেখ করে সাওনি বলেন, ভারতের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সরিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে যুদ্ধের ঢাক খুব শিগগিরই বন্ধ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন একজন ভারতীয় নেতা, যিনি যুদ্ধের ভান করায় বিশ্বাস করেন। কারণ এটি তার রাজনীতির সঙ্গে খাপ খায়। ডন আরও লিখেছে, নিউজ পোর্টালগুলো উল্লেখ করেছে, মোদি বৃহস্পতিবার বিহারে একটি নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তিনি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেননি- যেখানে সরকার প্রথমবারের মতো গোয়েন্দা ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সব সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি সৌরভ গাঙ্গুলীর

পেহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সব সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত। তার মতে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সৌরভ গাঙ্গুলী বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে ১০০ শতাংশ সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত। কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এটা কোনো রসিকতা নয়।’ তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর এমন ঘটনা ঘটবে। এটা কোনো মজার বিষয় নয়। সন্ত্রাসবাদ সহ্য করা যায় না।’ পেহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডও কঠোর মনোভাব দেখিয়েছে। এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। আইসিসি ইভেন্টে ভারত ও পাকিস্তানের দল একই গ্রুপে যাতে না থাকে সেজন্য ভারতীয় বোর্ড চিঠি লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। সৌরভ সেই সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছেন। আগামী কয়েক মাসে ভারত ও পাকিস্তান এশিয়া কাপ, মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপ, আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপসহ অনেক বড় টুর্নামেন্টে একে অপরের মুখোমুখি হবে।

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের
পেহেলগাঁওয়ে মঙ্গলবার সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে। এমন সময়ে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এক্ষেত্রে তারা কবি সাদি সিরাজির লেখা ‘বনি আদম’ কবিতা উদ্ধৃত করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, ইরান এ অঞ্চলের কয়েক শতাব্দীর সভ্যতার বন্ধনের কথা উল্লেখ করে এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীর পারসি ভাষার ওই কবিতা উদ্ধৃত করেছে। তেহরান বলেছে, তারা এ অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনে প্রস্তুত। শুক্রবার ভারত ও পাকিস্তানকে ভ্রাতৃপ্রতিম প্রতিবেশী আখ্যায়িত করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, ইরানের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান। তারা কয়েক শতাব্দীর পুরনো সংস্কৃতি ও সভ্যতার সম্পর্ক উপভোগ করছে। অন্য প্রতিবেশীদের মতো আমরা তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করি। এই কঠিন সময়ে ইসলামাবাদ এবং নয়াদিল্লিকে তাদের উত্তম বোঝাপড়ার জন্য সরকারি উদ্যোগ গ্রহণে প্রস্তুত তেহরান। তিনি ‘বনি আদম’ কবিতার যে অংশকে উদ্ধৃত করেছেন তাতে বলা হয়েছে, মানবজাতি পুরোটা একটি সামগ্রিক অংশ। একটির আত্মা যদি বেদনা ভোগ করে, তাহলে অন্যদের অস্বস্তি কাজ করবে। উল্লেখ্য, ‘বনি আদম’ শব্দের অর্থ হলো আদমের সন্তানরা। এই কবিতা ২০০৯ সালে ইরানের জনগণকে নতুন বছরের বার্তা দিতে এর আগে ব্যবহার করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওদিকে, ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাবের পাশাপাশি সৌদি আরবও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে আলাদা ফোনে কথা বলেছেন। পরে জয়শঙ্কর এক বিবৃতিতে বলেন, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। তাতে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা এবং তার আন্তঃসীমান্ত যোগসূত্রের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

mzamin

ইলন মাস্ক মার্কিন সরকারে কতো খরচ কমালেন!

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ব্যয় কমানোর জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডজ)। এর দায়িত্বে আছেন বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক। তিনি দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা সপ্তাহে গড়ে ১০০০ কোটি ডলারেরও বেশি সাশ্রয় করেছে। ট্রাম্প ২৩শে এপ্রিল ইলন মাস্কের মাধ্যমে খরচ কমানোর অভিযান সম্পর্কে বলেন, আমরা প্রায় ২০,০০০ কোটি ডলারের কথা বলছি এবং দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কথা বলছি। ডজের ওয়েবসাইট বলছে, তারা পূর্ববর্তী প্রশাসনের করা বিভিন্ন চুক্তি, অনুদান এবং লিজ বাতিল করার পাশাপাশি জালিয়াতি মোকাবিলা এবং সরকারি কর্মী সংখ্যা হ্রাস করার ওপর মনোযোগ দিচ্ছে। এসব নিয়ে বিবিসি যাচাই করেছে তাদের সবচেয়ে বড় সঞ্চয়, পরিসংখ্যান। কথা বলেছে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে। এরপর বিবিসি বলেছে, আমাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে কিছু বিশাল সংখ্যার পেছনে ডজ’কে সমর্থন করার জন্য প্রমাণের অভাব রয়েছে। অক্টোবরে ইলন মাস্ক ফেডারেল সরকারের বাজেট থেকে ‘কমপক্ষে ২ ট্রিলিয়ন ডলার’ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এই লক্ষ্যমাত্রা অর্ধেক করে দেন। ১০ই এপ্রিল ২০২৬ সালের পরবর্তী আর্থিক বছরের শেষ নাগাদ ‘জালিয়াতি এবং অপচয় কমানোর’ মাধ্যমে ১৫০০০ কোটি ডলার সাশ্রয়ের কথা বলেন। গত অর্থবছরে মার্কিন ফেডারেল বাজেট ছিল ৬.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ডজ তার ওয়েবসাইটে আনুমানিক সঞ্চয়ের মোট হিসাব প্রকাশ করেন। ২০শে এপ্রিল শেষবার সাইটটি আপডেট করা হয়েছে। তখন এই সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল ১৬,০০০ কোটি ডলার। বিবিসি লিখেছে, মার্কিন গণমাধ্যম কিছু হিসাবরক্ষণ ত্রুটিও তুলে ধরেছে। এর মধ্যে ডজ ভুল করে দাবি করেছে, একটি অভিবাসন চুক্তি বাতিল করে ৮০০ কোটি ডলার সাশ্রয় করা হয়েছে। ডজ বলেছে, তারা ‘সহজ এবং স্বচ্ছভাবে’ সমস্ত রসিদ আপলোড করার জন্য কাজ করছে এবং ২০শে এপ্রিল পর্যন্ত তারা ‘মোট সঞ্চয়ের শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ’ রসিদ পোস্ট করেছে।

সবচেয়ে বড় সঞ্চয়ের পেছনে প্রমাণ কী?
বিবিসি ভেরিফাই ডজ ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত চারটি বৃহত্তম সঞ্চয় পরীক্ষা করেছে, যার রসিদ সংযুক্ত ছিল। দাবি করা হয়েছে যে, এগুলোর পরিমাণ ৮.৩ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু প্রাপ্ত প্রমাণ পরীক্ষা করার পর এবং ফেডারেল চুক্তির সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার পর এই সংখ্যাটি অতিরঞ্জিত বলে মনে হচ্ছে। তিনটি সাশ্রয়ের জন্য ডজ ফেডারেল প্রকিউরমেন্ট ডেটা সিস্টেম (এফপিডিএস)-এর নথিগুলোর সঙ্গে লিঙ্ক করে। এটি একটি ডাটাবেজ, যা মার্কিন সরকারের প্রদত্ত চুক্তি রেকর্ড করে। নথিগুলোতে একটি চুক্তির শুরু এবং শেষ তারিখ, সরকার সর্বোচ্চ কতো টাকা ব্যয় করতে সম্মত হয়েছে এবং এর কতো টাকা ব্যয় করা হয়েছে- তা দেখানো হয়েছে। এফপিডিএস ডাটাবেজ তৈরিতে সাহায্যকারী ফেডারেল চুক্তি বিশেষজ্ঞ ডেভিড ড্রাবকিন বলেন, তালিকাভুক্ত সর্বোচ্চ সংখ্যাটি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। তিনি বলেন, চুক্তি সম্পন্ন হওয়া এবং চুক্তির কার্যক্রম রেকর্ড করার কিছু সময় পর্যন্ত এফপিডিএস প্রদত্ত মূল্য প্রতিফলিত করে না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যখন কোনো ভ্যাকসিনের গবেষণা এবং তার ডেভেলপমেন্টের কথা আসে, তখন কেউই আসলে জানে না যে এর জন্য কতো খরচ হবে। তাই যখন কোনো মূল্য নির্ধারণ করা হয়, তখন এটি একটি নির্দিষ্ট মূল্য নয় বরং একটি ঊর্ধ্বসীমা। তাই যদি ডজ সর্বোচ্চ সংখ্যা গণনা করে, তাহলে তা দেশের বার্ষিক ব্যয় থেকে সরাসরি সঞ্চয়ের পরিবর্তে কয়েক বছরের জন্য প্রক্ষেপিত ব্যয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

ডজের বৃহত্তম তালিকাভুক্ত ব্যক্তিগত সঞ্চয় হলো ২.৯ বিলিয়ন ডলার। এটি টেক্সাসে ৩,০০০ পর্যন্ত সঙ্গীহীন অভিবাসী শিশুর থাকার জন্য একটি সুবিধার জন্য চুক্তি বাতিলের মাধ্যমে এসেছে। ওই চুক্তিটি শুরু হয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে ২০২৩ সালে। বিবিসি লিখেছে, মনে হচ্ছে ডজ ২০২৮ সাল পর্যন্ত ‘মোট চুক্তি মূল্য’ নিয়েছে- তালিকাভুক্ত শেষ তারিখ এবং এখন পর্যন্ত ব্যয় করা পরিমাণ বিয়োগ করে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের অঙ্কটি পেয়েছে। কিন্তু চুক্তিটি প্রতি বছর পর্যালোচনা করা হতো। এই চুক্তির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র বলেছে, প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করে কতোজন শিশুকে ওই সুবিধার অধীনে রাখা হয়েছিল এবং তাদের প্রয়োজনীয় পরিষেবার ওপর।

mzamin

গুজরাটে ১ হাজার বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

ভারতের গুজরাট রাজ্যে এক হাজারের বেশি তথাকথিত অবৈধ বাংলাদেশিকে আটক করার দাবি করেছে সেখানকার পুলিশ। আহমেদাবাদ ও সুরাটে গুজরাট পুলিশ, স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)-এর  যৌথ অভিযানে এদের আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। আটক ব্যক্তিদের কারও কাছেই বৈধ কোনো নথিপত্র নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজ্যটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি শনিবার জানিয়েছেন, আহমেদাবাদ ও সুরাটে চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে নারী ও শিশুসহ এক হাজারেরও বেশি অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে। আহমেদাবাদে কমপক্ষে ৮৯০ জন এবং সুরাটে ১৩৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে, যাকে মন্ত্রী গুজরাট পুলিশের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অভিযান বলে অভিহিত করেছেন।

সাংঘভি গুজরাটে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় তাদের  গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মন্ত্রী অভিযোগ করেন, আটককৃতরা গুজরাটে আসার আগে ভারতের বিভিন্ন স্থানে থাকার জন্য পশ্চিমবঙ্গ  থেকে জাল নথি সংগ্রহ করেছিল। গুজরাট পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধভাবে এই তথাকথিত বাংলাদেশি নাগরিকরা ভারতে এসেছিলেন। গুজরাটে তারা নানা ধরনের কাজকর্ম করছিলেন। তবে কারও কাছেই বৈধ কোনো নথিপত্র ছিল না। তাই সকলকে আটক করা হয়েছে। শিগগিরই তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে মন্ত্রী জানিয়েছেন, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের অনেকেই মাদক পাচার, মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা চারজন কথিত বাংলাদেশির মধ্যে দু’জন একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের স্লিপার  সেলে কাজ করেছিল। এই বাংলাদেশিদের অতীত ইতিহাস এবং গুজরাটে তাদের কার্যকলাপের তদন্ত করা হবে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আহমেদাবাদে অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান শুরু হয় শনিবার ভোররাত ৩টায়। ডিসিপি অজিত রজিয়ানকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, চান্দোলা এলাকা  থেকে ৪০০ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এই দফায় প্রথম গুজরাটের আহমেদাবাদে শুক্রবার এই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। প্রথম কয়েক ঘণ্টাতেই একশ’র  বেশি বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও অনুপ্রবেশকারীর খবর  পেয়েছে পুলিশ। সুরাটেও অভিযান শুরু হয়েছে শুক্রবার রাতে। শনিবারও অভিযান জারি ছিল। রাজ্যটির অন্যান্য জায়গায়ও ধরপাকড় চলছিল। জানা যাচ্ছে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে অনুপ্রবেশকারী সংক্রান্ত দু’টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। তখনই ১২৭ জনকে  গ্রেপ্তার করা হয়। তার মধ্যে ৭৭ জনকে বাংলাদেশ পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গুজরাট তো বটেই, দিল্লিতেও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আটক এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে মানুষ পাচারের বড় চক্রগুলিকে ধরার চেষ্টা করছে ভারতের পুলিশ।

mzamin

৫৭৯ জনকে দেয়া হবে অস্ত্র: গুলির ক্ষমতা পাচ্ছে নারকটিস by শুভ্র দেব

অভিযানে গিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় অপ্রীতিকর অবস্থায় পড়েন। মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় কর্মকর্তারা আহত হওয়ার ঘটনা অহরহ। মাদক ব্যবসায়ীদের আগ্নেয়াস্ত্রের দাপটে অনেক সময় অভিযান শেষ না করেই ফিরতে হয় কর্মকর্তাদের। এতে করে পার পেয়ে যেতেন মাদক  ব্যবসায়ীরা। কর্মকর্তাদের হাতছাড়া হতো মাদকের চালান।  তাই দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি ছিল অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় সেটি আর হয়নি। যদিও তারা দাবি অব্যাহত রেখেছিলেন। অবশেষে পেশাগত কাজে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি পেলেন ডিএনসি কর্মকর্তারা। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা এখন থেকে ৯ এমএম আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল ব্যবহার করবেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় অস্ত্র সংগ্রহ ও ব্যবহারের নীতিমালা অনুমোদন করে গেজেট প্রকাশ করেছে। গত ২১শে এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অস্ত্র সংগ্রহ ও ব্যবহারের সংশোধিত নীতিমালা অনুমোদন করে গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের মাদক-১ শাখার নীতিমালায় বলা হয়েছে, অধিদপ্তরের মোট জনবল ৩ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে ৫৭৯ জন অস্ত্র ব্যবহার করবেন। অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক থেকে সাব-ইন্সপেক্টর পর্যন্ত ৫৭৯ জন কর্মকর্তাকে অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে উপ-পরিচালক ৯০ জন, সহকারী পরিচালক ৯৩ জন, পরিদর্শক ১৮৬ জন ও ২১০ জন উপ-পরিদর্শক অস্ত্র পাবেন। তারা ৯ এমএম আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল বহন করবেন। এই অস্ত্র তুলনামূলক কম দামের হলেও কিছুটা আধুনিক। পুলিশ, আনসার, বিজিবি বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য, ন্যূনতম ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্দেশ্য সাধনের দিকে দৃষ্টি রেখে প্রস্তাব করা হয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে- একমাত্র সর্বশেষ পন্থা হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যাবে। তবে আদেশ প্রদানকারীকে অধিদপ্তর বা নির্বাহী তদন্তে গুলি করার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে। গুলি করার আদেশ দেয়ার আগে লাঠিপেটা ও অস্ত্রের বাট দিয়ে আঘাত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা যাবে না। যতো দূর সম্ভব ন্যূনতম বলপ্রয়োগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। তাতে কাজ না হলে দু-একটি গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে। কোনোভাবেই প্রথমে দু’টি ফাঁকা ও সরাসরি একটির বেশি গুলি চালানো যাবে না। সুরক্ষিত অস্ত্রাগার না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র সংরক্ষণ করতে হবে জেলা প্রশাসকের ট্রেজারি রুম অথবা জেলা পুলিশ লাইন্স বা সংশ্লিষ্ট থানার অস্ত্রাগারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করতে হবে। অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য প্রধান কার্যালয়সহ অধিদপ্তরের নিজস্ব সকল অফিস ভবনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করে নিজস্ব আরমারি বা অস্ত্রাগার নির্মাণ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণের বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বা বিজিবি বা আনসার বা পুলিশ বিভাগের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ একাডেমিতে অধিদপ্তরের অগ্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পরে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্য থেকে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। গুলি করার প্রয়োজন হলে প্রথমে কারও দিকে তাক না করে আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে হবে। পাশাপাশি হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দিতে হবে। প্রথমে ন্যূনতম বল প্রয়োগ করে লাঠিচার্জ ও অস্ত্রের বাট দিয়ে আঘাতের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক থেকে দু’টি গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এর বেশি গুলি করা যাবে না। ফাঁকা গুলির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে একজন মাদক কারবারির কোমরের নিচে, হাঁটু অথবা পায়ে একটি গুলি করা যাবে। যেকোনো একজনের দিকে তাক করার সময় খেয়াল রাখতে হবে বর্ষিত গুলি যেন কোনোক্রমেই পেছনে অন্য কাউকে আঘাত না করে।

ঘনবসতি অথবা আবাসিক এলাকায় অথবা সমবেত উচ্ছৃৃঙ্খল জনতার ওপর গুলিবর্ষণের সময় খেয়াল রাখতে হবে নিরপরাধ জনগণ যেন আঘাত না পায়। গুলি করার পর গুলির খোসা অবশ্যই সংগ্রহের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় বা ভয় পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলি না করে। প্রতিটি ক্ষেত্রে গুলির আদেশ প্রদানকারী ব্যক্তি গুলিবর্ষণের আদেশ দেয়ার যৌক্তিকতা পরবর্তীতে যুক্তিযুক্তভাবে উপস্থাপনের জন্য দায়ী থাকবেন। গুলির ঘটনা ঘটলে তা তাৎক্ষণিকভাবে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বা মেট্রো বা জেলা বা বিভাগীয় গোয়েন্দা বা বিশেষ জোন কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা মহাপরিচালককে অবহিত করবেন। অভিযানকারী দলের দলনেতা যতো শিগগির সম্ভব মৃত দেহগুলোকে পুলিশ না আসা পর্যন্ত পাহারা দেয়ার ব্যবস্থা করবেন এবং আহতদের হাসপাতালে প্রেরণ করবেন। তিনি গুলির খোসা সংগ্রহ করে ইস্যুকৃত রাউন্ড সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন। প্রতি ক্ষেত্রেই গুলিবর্ষণের পর যথা শিগগির সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার বা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে হবে। তবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা, আসামি গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার, আত্মরক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি- অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ, স্থাপনা, যানবাহন উদ্ধার, উদ্ধারকৃত আলামত, আসামি, জব্দকৃত আলামত, সম্পদ রক্ষা করার আইনানুগ অধিকার রক্ষার্থে শক্তি প্রয়োগ তথা অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা যাবে। তবে যেকোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা যাবে না এবং ঘটনার পর যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্যভাবে বল প্রয়োগ বা গুলিবর্ষণের প্রমাণ দেখাতে হবে।  

ডিএনসি কর্মকর্তারা বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ মাদক ব্যবসায়ীরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। অভিযানে গেলে তারা কর্মকর্তার উপরে হামলা ও গুলি করে। তাই অভিযান পরিচালনা করতে হলে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিতে হয়। অনেক সময় জরুরি অবস্থায় সময়ের কারণে অন্যান্য বাহিনীর সহযোগিতা পাওয়া যায় না। এ সময় ঝুঁকি নিয়ে নিরস্ত্র অবস্থায় ডিএনসি কর্মকর্তাদের অভিযান চালাতে হয়। তাই এসব দিক বিবেচনা করে কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল- অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি। ২০০৮ সাল থেকে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি চাইলেও নানা জটিলতা ও বিভিন্ন পক্ষের আপত্তিতে বিষয়টি ঝুলে যায়। এই সময়ে নিরস্ত্র অধিদপ্তরের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনাকালে অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি ৭৮টি পিস্তল, ৭টি শর্টগান, ২৭টি ম্যাগাজিন, ১৭টি রিভলবার, একটি এয়ারগান, ১ হাজার ১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার ও জব্দ করে। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে বিগত ১০ বছরে অভিযান পরিচালনাকালে অধিদপ্তরের ১২৫ জন সদস্য গুরুতর আহত হন। দু’জন প্রাণও হারান।

নাটোর জেলার উপ-পরিচালক মেহেদী হাসান মানবজমিনকে বলেন, মাদকের অভিযান পরিচালনা অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয়। এখন সঙ্গে অস্ত্র থাকায় আমাদের মনোবল অনেক বেড়ে যাবে। ঝুঁকিপূর্ণ হলেও পিছপা হতে হবে না। এতে করে অধিদপ্তরের কাজে আরও বেশি গতি আসবে। উদ্ধারও বাড়বে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, সার্বিকভাবে সকল কাজকর্মে আমাদের মনোবল বৃদ্ধি পাবে। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি কিন্তু নিরস্ত্র থাকার কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখতে হতো। মাদক ব্যবসায়ীরা মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকতো। কারণ তারা ভাবতো আমাদের কাছে অস্ত্র নাই। আমরা আর কী করতে পারবো। এখন তারাও মনে করবে কর্মকর্তাদের হাতে অস্ত্র থাকবে। আমরা আক্রমণ করলে তারাও নিজেদের আত্মরক্ষার্থে আক্রমণ করতে পারবে।

mzamin