Thursday, September 15, 2016

জঙ্গিবাদ মোকাবিলা দীর্ঘমেয়াদি বিষয়

৭ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো এক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করেছিল। আলোচনার শিরোনাম ছিল ‘জঙ্গিবাদের বিপদ ও উত্তরণের উপায়’। গোলটেবিলের প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি প্রাথমিক বক্তব্যে তুলে ধরেছেন জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সরকারের অবস্থান এবং বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা। তিনি পুরো সময় ধৈর্যসহকারে সবার মন্তব্য শুনেছেন এবং তাঁর মতামতও তুলে ধরেন। তিনি কয়েকটি নতুন ও যৌক্তিক বিষয় বিবেচনায় নেবেন বলে আশ্বাস দেন। তিনি গোলটেবিল বৈঠকের পুরো সময় বসে আমার, সুলতানা কামাল, শাহদীন মালিক, ইশফাক ইলাহী, মুনিরুজ্জামানসহ অন্যদের কথা শুনেছেন। এ ধরনের বৈঠকে মন্ত্রীরা সাধারণত অন্যদের কথা না শুনে নিজের বক্তব্য দিয়ে চলে যান। সন্দেহ নেই যে হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় কিছু করতে না পারলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কল্যাণপুর, মিরপুর আর নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে কথিত নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের মারতে সক্ষম হয়েছে। এতে জনমনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও এই তৎপরতার মাধ্যমে বাংলাদেশে জঙ্গি বিস্তার রোধ হয়েছে, তা বলার সময় এখনো আসেনি। যদিও শীর্ষস্থানীয় জঙ্গিরা সহজে ধরা দেয় না, কিন্তু জঙ্গিনেতাদের জীবিত ধরতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তামিম চৌধুরী ও মেজর (অব.) জাহিদুলের মৃত্যুর সঙ্গে বহু অজানা তথ্যের দ্বার বন্ধ হয়ে গেছে, এ কথা স্বীকার করতে হবে। কাজেই শুধু ধরা নয়, এঁদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো গেলে আইনের শাসনের জোরটি তাঁদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া যেত। আগেই বলেছি এবং আবার বলছি,
এ ধরনের ধর্মভিত্তিক মতাদর্শের সদস্যরা এ ধরনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তাঁদের অনুসারীদের আরও উদ্বুদ্ধ করেন। এ দুজনের কেউই আত্মহত্যার পথ বেছে নেননি। কারণ, তাঁরা তাঁদের মতে, ‘শহীদ’ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, যেমনটা হলি আর্টিজানের হামলাকারী তরুণেরা মন্তব্য করেছিলেন।তাঁদের মৃত্যুতে অনেক বিষয়ই হয়তো অজানা রয়ে গেছে। যার মধ্যে প্রধানত যে তথ্য আমাদের জানার ছিল তা হলো তরুণদের, বিশেষ করে এ ধরনের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের কীভাবে বা কী উপায়ে এমনভাবে ধর্মীয় উগ্রপন্থায় নিয়ে যাওয়া হয়। ধারণা করা হয়েছিল, এই উন্মাদনার কারণ হয়তো বিভিন্ন ধরনের মাদকজাতীয় দ্রব্য, যা সেবনের পর তাঁরা হলি আর্টিজানে হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু তেমনটা প্রমাণিত না হওয়ায় এ তত্ত্ব অন্তত বাংলাদেশে হালে পানি পায়নি। কীভাবে এই ধর্মীয় উগ্রবাদতত্ত্ব ব্যবহার করা হয়, তার কোনো তাত্ত্বিক ধারণা গবেষকেরা এখন পর্যন্ত করতে পারেননি। যেসব দেশে ও অঞ্চলে ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিস্তার ঘটেছে, তার কারণ অভিন্ন নয়। কাজেই বাংলাদেশের মতো মুসলিমপ্রধান দেশ, যেখানে ৯০ শতাংশ মুসলমান এবং এর ৯৯ শতাংশ সুন্নি মুসলমান, সরকারও ধর্মবান্ধব, সেখানে এই উগ্রপন্থার এত বিস্তার কেন এবং কীভাবে ঘটল, তার উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি, যাবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। আমার মনে হয়েছে, কথিত নব্য জেএমবির দুই শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বদানকারীর মৃত্যুর সঙ্গে আমরা সে তথ্য পাওয়ার সুযোগ হারিয়েছি। এখন যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
দ্বিতীয় যে বিষয়ে আমরা এখনো অন্ধকারে তা হলো এই জঙ্গিবাদের অর্থের জোগান কীভাবে, কোন পথে হয়ে থাকে? যাঁরা এ বিষয়ে প্রায়ই মন্তব্য করেন, তাঁদের এসব মন্তব্য ধারণাপ্রসূত কোনো তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে নয়। যে ধরনের জঙ্গি তৎপরতা আমাদের দেশে এ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করা গেছে, সেখানে বড় ধরনের অর্থের প্রয়োজন হয়নি। এমনকি সংগঠন চালাতেও তেমন অর্থের প্রয়োজন হয় বলে মনে হয় না। খুব অল্প খরচে যে ধরনের সন্ত্রাসী হামলা বিশ্বে ঘটে চলেছে এবং তার বিপরীতে বিভিন্ন দেশের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ক্রমবর্ধমান খরচ লক্ষণীয়। ৯/১১-এ টুইন টাওয়ারসহ অন্যান্য জায়গায় হামলায় আল-কায়েদা ৫০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করেছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তার বিপরীতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেরই খরচ হয়েছে ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খরচ হয়েছে ১৭ ট্রিলিয়ন ডলার এবং এ খরচ চলমান। এ ধরনের পরিসংখ্যান আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে পাওয়া যাবে কি না অথবা গবেষণা হবে কি না, নিশ্চিত নই। অনেকেই মন্তব্য করে থাকেন যে স্বাধীনতাবিরোধী অথবা যুদ্ধাপরাধীদের কাছ থেকে জঙ্গিদের অর্থ জোগান দেওয়া হয়। এমন মন্তব্যের সত্যতাও নিশ্চিত করা যায়নি। কারণ, অর্থায়নের যেসব খাত রয়েছে, সেখান থেকে প্রচুর অর্থ জঙ্গিদের হাতে যায়, তা একরকম বিশ্বব্যাপী প্রমাণিত। আমাদের দেশে ঈদ পার্বণে যে ধরনের ব্যাপক চাঁদাবাজি হয় রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের নামে, তা গোপন বিষয় নয়। জঙ্গিগোষ্ঠী এ ধরনের চাঁদাবাজি ও অপহরণের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন। ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ তৎপরতা ও সাফল্য দেখিয়েছে। জনগণ সোচ্চার হয়েছে, তবে এ ধরনের বজ্র আঁটুনি কত দিন বজায় রাখা যায়, তা দেখার বিষয়।
কারণ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানোর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বড় অঙ্কের অর্থ, যা সরকারকে বহন করতে হবে। যার জ্বলন্ত উদাহরণ গুলশান-বারিধারার বর্তমান অবস্থা। হলি আর্টিজানের হামলার পর নিরাপত্তা দৃশ্যমান করতে গিয়ে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেলেও ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক যে ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে তার বিবরণ হয়তো অনুমানভিত্তিক হবে। প্রয়োজন সঠিক তথ্যের। অনেক খেটে-খাওয়া মানুষের রুটিরুজি ব্যাহত হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় অতি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে বহুবিধ আঙ্গিকে জনজীবন অনিরাপদ হচ্ছে। ওই অঞ্চলের মানুষের আতঙ্ক এখনো কাটেনি। ফিরে আসেনি আগের প্রাণচাঞ্চল্য। আমরা জঙ্গিদের নেতিবাচকভাবে জিততে দিচ্ছি কি না, তা ভেবে দেখার বিষয়। আমরা বিপদে আছি। এ বিপদ সহজে দূর হওয়ার নয়। সাময়িক স্বস্তিতে থাকলেও ইতিমধ্যেই এর বিস্তারের যে চিত্র ফুটে উঠছে, তা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। ভবিষ্যতে এদের কৌশল কী হবে তা কারও জানা আছে কি না জানি না, যদিও আমাদের গোয়েন্দা বাহিনীকে আগের চেয়ে বেশি তৎপর বলে ধারণা করা হয়। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনেক বিষয়ে সংবেদনশীল হতে হবে। এ বিষয়টি আলোচিত হয়েছে ওই গোলটেবিল বৈঠকে। আমাদের দেশের আপামর মানুষ ধর্মভীরু, তবে ধর্মান্ধ নয়। কাজেই তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা সম্ভব নয়। ‘জিহাদি’ বইয়ের সংজ্ঞা কী, আজ পর্যন্ত খোলাসা করা হয়নি। অনেকেই আমাকে বলেছেন, যেকোনো ধরনের ধর্মীয় পুস্তক বহন করতেও অনেকে আতঙ্কিত হন। এ আতঙ্ক জঙ্গি দমনে সহায়ক নয়।
এসব বিতর্ক এড়াতে হলে আমাদের আরও সংবেদনশীল হতে হবে। যেকোনো ঘটনার পর এবং বিভিন্ন তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরস্পর বিপরীত বক্তব্য পাওয়া যায়, যার কারণে অনেক অভিযান নিয়ে অহেতুক মানুষের মনে সন্দেহ জন্মে। সমন্বয়হীনতা জঙ্গি দমনে সহায়ক নয়। প্রয়োজন সমন্বয় করা এবং নির্ধারিত সময় নির্ধারিত ব্যক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা দেওয়া। অনেক সরকারি কর্মকর্তাকে রাজনীতিবিদদের মতো বক্তব্য দিতে দেখা যায়, যা এই বিপদ থেকে উত্তরণে সহায়ক নয়। ভবিষ্যতে করণীয় নিয়ে সরকারের চিন্তাধারা সঠিক দিকনির্দেশনা দিলেও অনেক ক্ষেত্র রয়েছে, যেদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। গোলটেবিল বৈঠকে সুলতানা কামাল অনেক কারণের মধ্যে সুশাসনের কথা বলেছেন। শাহদীন মালিক সংবিধান প্রতিপালনের কথা বলেছেন। এসব বক্তব্য ও মন্তব্য ফুৎকার দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। সুশাসন, উদার গণতন্ত্রের অভাব এবং আইন ও সংবিধানের শাসন—এসবই জঙ্গিবিরোধী উপাদান। জনগণ সচেতন রয়েছে, সরকারেরও সদিচ্ছা প্রতিফলিত। তবে এ সমস্যার যেমন সহজ সমাধান নেই, তেমনি অতি রাজনৈতিকীকরণেও সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে না। আমাদের মনে রাখা উচিত যে আমরা একটা সুদূরপ্রসারী বিপদের মধ্যে রয়েছি, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একধরনের শ্রেণিবিন্যাস। আমরা তখন সোচ্চার হয়েছি,
যখন মধ্যবিত্তদের সন্তানেরা এই জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তার আগে গ্রামের গরিব কৃষক অথবা মজুরদের সন্তান, যাদের মাদ্রাসা শিক্ষা ছাড়া অন্য ধরনের শিক্ষা জোটে না, তাদের নিয়ে অনেকটা উদাসীন ছিলাম। এখন সে অবস্থার পরিবর্তনে আমরা সোচ্চার হয়েছি। তবে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো এই দুই প্রান্তিকের যুবকদের যেভাবে একত্র করতে পেরেছে, সে বিষয়টিও লক্ষণীয়। এই গভীর তত্ত্বও আমাদের জানা নেই। ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। যা-ই হোক, পরিশেষে প্রথম আলোকে ধন্যবাদ এমন বিষয়ে একটি কার্যকর গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করার জন্য। আরও ধন্যবাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়কে, যিনি পুরো সময়টা উপস্থিত ছিলেন। আমরা যাঁরা এখন প্রবীণ, তিন মাথাওয়ালা মানুষের মতো, চাইলে উপদেশ বা অনুরোধ করতে পারি, তা ধর্তব্যে আনা না-আনা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ব্যাপার। তবে আলোচনার মাধ্যমে পথের খোঁজ পাওয়া যায়। সমালোচনা বিরোধিতা নয়, সমালোচনা সমালোচিতের সঙ্গে সহযোগিতা করা। তবে অবশ্যই সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক। আমাদের সমাজকে এই জঙ্গিবাদের মোকাবিলা করতে হবে দীর্ঘদিনের জন্য। তাই প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার। আর সে কারণেই এ ধরনের গোলটেবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এম সাখাওয়াত হোসেন: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷
hhintlbd@yahoo.com

ভাঙলেও মচকাচ্ছে না সরকার

উপমা অনেক রকম দেওয়া যায়। সাপের ছুঁচো গেলা কিংবা চেরা বাঁশে বাঁদরের লেজ আটকে যাওয়া। ইংরেজিতে বলে ‘ক্যাচ টোয়েন্টি টু’ অবস্থা। ভারত সরকারের এই মুহূর্তের অবস্থা এই তিনটির সঙ্গেই তুলনীয়। বিশেষ করে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে সর্বসম্মতভাবে যে প্রস্তাবটি সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে, সেটি হাতে পাওয়ার পর। প্রস্তাবটি এবং সরকারের হাল বর্ণনার আগে সামান্য ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে। কাশ্মীর উপত্যকার ভূমিপুত্র হিজবুল মুজাহিদীন নেতা ২২ বছরের সুদর্শন যুবক বুরহান ওয়ানি জুলাই মাসের গোড়ার দিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন। ছেলেটি ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। সরকারের চোখে তিনি ছিলেন বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র জঙ্গি, উপত্যকার মানুষের চোখে স্বাধীনতাসংগ্রামী। বছর খানেক যাবৎ বুরহানই হয়ে উঠেছিলেন কাশ্মীর জঙ্গিদের ‘পোস্টার বয়’। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে উপত্যকায় সেই যে অশান্তি শুরু হলো, আজও তা অব্যাহত। দুই মাস ধরে কারফিউ চলছে তো চলছেই। বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজ ও সরকারি অফিস। থানাগুলোতে থরহরিকম্প অবস্থা। পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে জনতার লড়াই নিত্যদিনের ঘটনা। মাঝেমধ্যেই গজরাচ্ছে পুলিশের বন্দুক। বুলেটের জায়গা নিয়েছে পেলেট। তার ছররায় মানুষ মরছে যেমন, অন্ধও হচ্ছে তেমনই। ইতিমধ্যেই তিন শতাধিক মানুষ পেলেটের ছররায় দৃষ্টি হারিয়েছে। এখন ঠিক হয়েছে, পুলিশ আর পেলেট ছুড়বে না। হুট করে গুলিও না।
তবু পরিস্থিতি যে তিমিরে ছিল, সেখানেই রয়েছে। সাংবাদিক হিসেবে উপত্যকায় যাচ্ছি সেই ১৯৮৪ সাল থেকে, ফারুক আবদুল্লার ঘর ভেঙে তাঁর জামাইবাবু গুল মহম্মদ শাহকে দিয়ে দলে ভাঙন ধরিয়ে ইন্দিরা গান্ধী যখন রাজ্যে বিকল্প সরকার গঠন করালেন। নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় উপত্যকায় যখন প্রথম কালাশনিকভের গর্জন শোনা গেল এবং ক্রমে ক্রমে তা হয়ে গেল জলভাত, রক্তহোলি হয়ে দাঁড়াল নিত্যদিনের ঘটনা, সেই কঠিন দশকেও এই উপত্যকা কখনো টানা দুই মাস অচল থাকেনি। সাত থেকে দশ দিনের একেকটা পর্যায় গেছে, ফের কিছুদিনের জন্য স্বাভাবিক হয়েছে জনজীবন। এই প্রথম এত দীর্ঘ সময় ধরে গোটা উপত্যকা জ্বলেই চলেছে। ৩০ বছর আগে প্রশাসন যেভাবে পরিস্থিতির সামাল দিত, আইনশৃঙ্খলার দৃষ্টি নিয়ে, আজও সেভাবেই মোকাবিলার চেষ্টা করছে। সেই থোড় বড়ি খাঁড়া, খাঁড়া বড়ি থোড়। ভারতীয় সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ দিকে কাশ্মীর নিয়ে বিরোধীরা তুমুল হট্টগোল করায় প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় সভা ডাকেন। বিরোধীরা সংসদীয় দল পাঠানোর প্রস্তাব রাখে। সরকার তা খারিজ করে দেয়। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় শেষ পর্যন্ত ২৬ জনের এক সংসদীয় দল দুই দিনের সফরে যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ছিলেন সেই দলের নেতা। সর্বদলীয় সেই সফরের নির্যাস এককথায় বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া। সরকার জানিয়ে দিয়েছিল, প্রতিনিধিদল উপত্যকার বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের সঙ্গে দেখা করবে না। কিন্তু সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, সংযুক্ত জনতা দলের শরদ যাদব ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের জয়প্রকাশ নারায়ণ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেন।
নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে কট্টরপন্থী যিনি, গৃহবন্দী সেই সৈয়দ আলি শাহ গিলানি তাঁর বাড়ির ফটকই খুললেন না। আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, এই নেতাদের সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ নেই। তাঁরা ঠুঁটো জগন্নাথ। উপত্যকায় এসেছেন স্রেফ ফটো তুলতে। বাকি জেলবন্দী নেতাদের কেউ কেউ দেখা করলেও কেউই আলোচনায় আগ্রহ দেখাননি। মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও একটা চিঠি লিখে হুরিয়ত নেতাদের আলোচনায় বসার অনুরোধ জানান। বিজেপির নেতা ও সরকারের কাছে তা আবার বিশেষ বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যেহেতু মেহবুবার দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) সরকারের শরিক। কাশ্মীরে বসেই রাজনাথ সিং তাই সরকারের ভূমিকাটা খোলাসা করে দেন। বলেন, যাঁরা হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন, তাঁরা তা করেছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে, আর মেহবুবা হুরিয়ত নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাঁর দল পিডিপির সভানেত্রী হিসেবে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়। কাশ্মীরে বসেই রাজনাথ জানিয়ে দেন, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে সমাধানের সব রকম চেষ্টায় সরকার প্রস্তুত। তবে জঙ্গিদের হিংসাত্মক কাজকর্ম রেয়াত করা হবে না। দিল্লি ফিরে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের আরও এক প্রস্থ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে তাঁরা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত যে প্রস্তাব সরকারকে জমা দেন, সেটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের বিড়ম্বনা। কেননা, প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকারের উচিত উপত্যকার ভালো-মন্দের সঙ্গে যাঁদের ভাগ্য জড়িত, তাঁদের সবার সঙ্গে কথা বলা। সহজ কথায়, হুরিয়ত নেতাদের ব্রাত্য না রেখে তাঁদেরও আলোচনায় ডাকা হোক।
কারণ, তাঁদের আড়ালে রেখে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সরকারের মুশকিল এটাই। পাকিস্তান হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে কথা বলায় ক্ষুব্ধ ভারত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ভেস্তে দিয়েছিল। বন্ধ থাকা সেই আলোচনা আজও শুরুই করা যায়নি। হুরিয়ত নেতাদের কল্কে না-দেওয়ার যে নীতি নরেন্দ্র মোদির সরকার আঁকড়ে রয়েছে, শান্তি ফেরাতে তাঁদের আলোচনায় ডাকলে এটাই প্রমাণ হবে, হুরিয়ত সম্পর্কে সরকারের আগের নীতি ভুল ছিল। তাহলে কী করবে সরকার? কিল খেয়ে কিল হজম? নাকি নিজের গোঁয়ে অটল থাকা? সন্দেহ নেই, এ ঠিক সাপের ছুঁচো গেলার পরিস্থিতি। কাশ্মীর পরিস্থিতির সামাল দিতে বিজেপি যাঁদের ওপর নির্ভর করছে, তাঁদের প্রধান হলেন রাম মাধব। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের আস্থাভাজন বিজেপির এই শীর্ষ নেতা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সংবিধানের চার দেয়ালের মধ্য থেকে হাতে চাঁদ পাওয়ার অধিকার কাশ্মীরি জনতার রয়েছে। রাজনাথ সিংও সাংবিধানিক কাঠামোর কথা শুনিয়ে রেখেছেন। এর অর্থ একটাই, সংবিধান ও ভারতীয় সার্বভৌমত্বকে মেনে কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ভারত আলোচনায় প্রস্তুত। তা যদি হয়, তাহলে কী হতে পারে? ইতিহাস বলছে, ভারতভুক্তির সময় কাশ্মীর মাত্র তিনটি বিষয় ভারতের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল। প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি ও যোগাযোগ। বাকি প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে কাশ্মীরি জনগণের সঙ্গে আলোচনা ছিল বাধ্যতামূলক। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা এটাই। এটাই কাশ্মীরিদের বিশেষ অধিকার। সেই অধিকার ধীরে ধীরে তারা খুইতে থাকে। বিভিন্ন ভারতীয় আইনকানুন ও সাংবিধানিক ধারা সেই ১৯৫৩ সাল থেকে কাশ্মীরি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই অন্তর্ভুক্তি কি তাহলে অসাংবিধানিক?
ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এ নিয়ে তিন–তিনটি মামলা হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্নটির মীমাংসা হয়নি। ১৯৭৫ সালে শেখ আবদুল্লা-ইন্দিরা গান্ধীর চুক্তি আজও বলবৎ হয়নি। জম্মু ও লাদাখের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের জন্য তিন–তিনটি কমিশন গঠিত হয়েছিল। তাদের সুপারিশও আজ পর্যন্ত মানা হয়নি। এসব কারণে ভারত সম্পর্কে কাশ্মীরি জনগণের মনে ক্রমেই একটা স্বাভাবিক অনাস্থা জন্ম নিয়েছে। এই ‘ট্রাস্ট ডেফিসিট’ বা বিশ্বাসের ঘাটতি আজ এমন মারাত্মক এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখান থেকে কাশ্মীরিদের তরি বিশ্বাসের ঘাটে ফেরানো চাট্টিখানি কথা নয়। কাশ্মীরকে স্বাভাবিক করে তুলতে কাশ্মীরি জনগণকে আলোচনার টেবিলে ডাকলে যদি ৩৭০ ধারার খোয়া যাওয়া মর্যাদা ফেরানোর প্রশ্ন বড় হয়ে ওঠে, যা কিনা স্বশাসন, কী অবস্থান নেবে দিল্লি? আপাতত ভাঙলেও দিল্লি কিন্তু একটুও মচকাতে চাইছে না। কেননা, সরকারের বিভিন্ন সূত্র স্পষ্ট করেই জানাচ্ছে, কাশ্মীরের আগের অশান্তির সঙ্গে এবারেরটার তফাত বিস্তর। এই প্রথম কাশ্মীরে ‘সুফিবাদের বদলে কট্টর ওয়াহাবিবাদ প্রবর্তনের চেষ্টা চলছে’। তাদের প্রথম লক্ষ্য নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটানো। এই অপচেষ্টায় যারা জড়িত, তাদের সমূলে উৎপাটন না করে কোনো আলোচনা নয়। সূত্রগুলোর মতে, হুরিয়ত এখনো প্রাসঙ্গিক নয়। এই অনাসৃষ্টি তাদের উসকানিতে হচ্ছে না। তাই তাদের সঙ্গে এখনই কোনো কথাও নয়। সবচেয়ে বড় যে কথাটা সরকারি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, তা ঠিক হলে উপত্যকা থেকে সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা বা ‘আফস্পা’ আইন আংশিকভাবে হলেও প্রত্যাহার হচ্ছে না, বরং দক্ষিণ কাশ্মীরে সেনা উপস্থিতি আরও বাড়ানো হবে।
সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কবুল করেছেন, শুধু উন্নয়নে চিড়ে ভিজবে না। খুবই সত্যি কথা। একই রকম সত্য, সমস্যাকে আইনশৃঙ্খলার দৃষ্টিতে দেখেও স্রেফ পাকিস্তান-পাকিস্তান করে কোনো লাভ নেই। ক্ষতের একমাত্র প্রলেপ বিশ্বাসের ঘাটতি কমিয়ে আনা। সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের কাশ্মীরি জনগণ সোজাসাপ্টাই জানিয়েছেন, অটল বিহারি বাজপেয়ির আন্তরিকতায় তাঁরা ভরসা করেছিলেন, কিন্তু নরেন্দ্র মোদির আন্তরিকতার কোনো প্রমাণ এখনো তাঁরা পাননি। বরং পিডিপির সঙ্গে জোট বেঁধে এই প্রথম সরকারে আসায় উপত্যকার মানুষ অনেক বেশি সন্দিহান ও সংশয়ী। আস্থার অভাবের ফাটল তাই বেড়েই চলেছে। ডিম আগে না মুরগি আগের মতো অভ্যন্তরীণ বিতর্ক চলছেই। সরকার চাইছে আগে শান্তি ফিরুক, তারপর আলোচনা। বিরোধীরা বলছে, আলোচনায় না-বসলে শান্তির দিশা মেলা ভার। সরকারকে নতুনভাবে ভাবতেই হবে। সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে লাভ নেই। বিশ্বাসের ঘাটতি তারা মেটাতে পারবে না। তারা যাবে, গুচ্ছের ছবি তুলবে ও নেতাদের বন্ধ ফটকে মাথা কুটে ফিরে আসবে।
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি।

ব্যাংককে জিকা আক্রান্ত নতুন ২১ রোগী শনাক্ত

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে স্থানীয় পর্যায়ে সংক্রমিত ২১ জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজন গর্ভবতী নারীও রয়েছেন। থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল রোববার এ তথ্য জানায়। এর আগে ২০১২ সালে থাইল্যান্ডে প্রথম জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো জটিলতা ছাড়াই ওই নারী একটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন। থাই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যাংককের দক্ষিণে নতুন করে জিকায় সংক্রমণের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘২১ জন জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত নারী সুস্থ হওয়ার পর সন্তান জন্ম দিয়েছেন। মা ও শিশু উভয়েই এখন নিরাপদ।’
মুখপাত্র বলেন, আক্রান্ত নারীর স্বামী সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছেন। ২০১২ সালে জিকা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ব্যাংককে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। গত মাসের শেষ সপ্তাহে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সিঙ্গাপুরে জিকা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। সিঙ্গাপুরে এরপর ৩০০ জনের বেশি মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। জিকায় আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর সন্তানের মাইক্রোকেফালি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই রোগে আক্রান্ত শিশুর মাথা ও মস্তিষ্ক আকারে ছোট হয়ে থাকে। এ ছাড়া মস্তিষ্কের আরও সমস্যা হতে পারে। থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুয়ান্নাচাই ওয়াতান্নাইং চারোচাই বলেন, থাইল্যান্ডে জিকায় আক্রান্ত ৩০ জন গর্ভবতী নারীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মার্কিনদের বৈচিত্র্য মেনে নিতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘মার্কিন জাতি হিসেবে আমাদের আবার দৃঢ়তা দেখাতে হবে। জাতি হিসেবে আমাদের বৈচিত্র্য মেনে নিতে হবে। সন্ত্রাসীরা যেন দেশকে বিভক্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ১৫ বছরপূর্তিতে গতকাল রোববার অন্যতম হামলার জায়গা প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে এক স্মরণসভায় বলেন, ‘আমরা জানি বৈচিত্র্য আমাদের দুর্বলতা নয়, বরং ঐতিহ্য। এটা আমাদের শক্তির অন্যতম পরিচায়ক হিসেবে টিকে থাকবে।’ রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী ও অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের দিকে সরাসরি ইঙ্গিত না করে ওবামা বলেন, মার্কিন নাগরিকেরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত, বর্ণ এবং ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে এসেছে।
৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ১৫ বছরপূর্তিতে গতকাল এক মুহূর্ত নীরবতার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করতে নিউইয়র্কের ‘গ্রাউন্ড জিরো’ এলাকায় জড়ো হন মার্কিনরা। সেখানকার আকাশচুম্বী টুইন টাওয়ারের ওপর আল-কায়েদার জঙ্গিরা দুটি ছিনতাই করা উড়োজাহাজ চালিয়ে দিলে প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল তাঁদের নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রেখে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনে যান। তবে অসুস্থবোধ করায় আগেভাগে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন হিলারি। এদিকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেছেন, ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী উগ্রবাদের হুমকি বরং বেড়েছে।