Sunday, March 5, 2017

নেপালে গর্ভপাতের পরিমাণ বেশি কেনো

অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণের ঘটনা বিশ্বের প্রায় সর্বত্রই ঘটে তবে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিয়ের আগে গর্ভধারণ নিয়ে সাধারণত নারীকেই পড়তে হয় আরও অনাকাঙ্খিত জটিলতায়।
কারণ সমাজ এমনকি নিজের পরিবারের সদস্যরাও এটি মেনে নিতে চাননা। সে কারণেই অনেকে আশ্রয় নেন গর্ভপাতের।
কিন্তু তার খুব কমই অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা হয়ে থাকে। বরং অনেক ক্ষেত্রেই অবৈধ ক্লিনিকে অল্প বিদ্যার লোকজনের হাতে গর্ভপাত হয় যা কখনো কখনো মৃত্যুর কারণও হয়।
এ ধরনের ঘটনা যেসব দেশে বেশি ঘটে থাকে তার একটি নেপাল।
বিবিসির সংবাদদাতার কাছে একজন নিজের শ্যালিকার মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, "সে গর্ভপাত করায় এমন একটি অবৈধ ক্লিনিকে গিয়েছিলো। তারা সেখানে তাকে কিছু ঔষধ দিয়েছিলো। সেই ঔষধ সেবনের পরপরই প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হতে শুরু করলো। পরিস্থিতির অবনতি দেখে আমরা দ্রুতই তাকে হাসপাতালে নিয়েছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ তাকে নিয়ে গেলো মৃত্যুর হীম শিতল দরজায়"।
তবে এই ব্যক্তি সামাজিক নিগ্রহের ভয়ে নিজের নাম পরিচয় দেয়া কিংবা ক্যামেরার সামনে চেহারা দেখাতেও রাজী হলেননা তিনি।নানা সমীক্ষায় উঠে আসা হিসেব অনুযায়ী নেপালে মোট গর্ভধারনের মধ্যে ৫০ শতাংশই অপ্রত্যাশিত আর সে কারনে গর্ভপাতের সংখ্যাও অনেক বেশি।
আবার নিরাপদ গর্ভপাতের ব্যবস্থাও সেখানে অপ্রতুল আর সেকারণেই দেশটিতে নিরাপদ গর্ভপাতে সহায়তায় কাজ করছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা। কিন্তু এসব সংস্থাগুলোই এখন তাদের অর্থের বড় অংশ হারানোর পথে।
কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি আদেশে সাক্ষর করেছেন যাতে করে যুক্তরাষ্ট্র গর্ভপাতে সহায়তাকারী সংস্থাগুলোকে কোন অর্থ সাহায্য দিতে পারবেনা। এমনকি গর্ভপাত একটি বিকল্প এটি তারা কোন নারীকে বলতেও পারবেনা।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ম্যারি স্টোপসের কর্মকর্তা সোফি হোডার বলছেন, "বাস্তবতা হলো অর্থ সাহায্য কমিয়ে দেয়ায় যেসব নারীরা পরিবার পরিকল্পনার সুযোগ পাচ্ছিলোনা তাদের জীবনের কোন পর্যায়ে হয়তো গর্ভপাতের প্রয়োজন হতে পারে"।
নেপালে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ব্যবহৃত হচ্ছিলো পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি গুলোতে, যেগুলো নানা আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা পরিচালনা করছে। কিন্তু এ সেবাও এখন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মিস হোডারের মতে, "আমাদের ধারণা ৮০ হাজারের মতো নারী এ কারনে গর্ভপাতের সহায়তা নেবে যদিও এ জন্য তারা কেউই দায়ি নয়। যথাযথ স্বাস্থ্য সহায়তা না পাওয়া কারনেই তারা অনিরাপদ সহায়তা গ্রহণ করছে"।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এমন নীতি আখ্যা পেয়েছে গর্ভপাত বিরোধী হিসেবেই।
নেপালের মতো দেশগলোর জন্য মিস্টার ট্রাম্পের গর্ভপাত বিরোধী নীতি আসলে ঝুকিতেই ফেলতে পারে নেপালের মতো দরিদ্র দেশের বহু নারীর জীবন।
কারণ অর্থের অভাবে সাহায্য সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্যসম্মত ও ঝুঁকি মুক্ত গর্ভপাতের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেলে, তাদের দ্বারস্থ হতে হবে অনিরাপদ ও ঝুকিপূর্ণ অবৈধ ক্লিনিকগুলোর কাছেই।
সব মিলিয়ে আরও অনিরাপদ হবে গর্ভপাত।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে গ্রীক মূর্তি না সরালে দুর্বার আন্দোলন: বাবুনগরী

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রীক দেবীর মূর্তি অবিলম্বে সরিয়ে কুরআনের প্রতীক বসানোর আহবান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী।
তিনি শুক্রবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে খেদমতে কুরআন পরিষদের উদ্যোগে শহরের ভানুগাছ সড়কে রেলওয়ে মাঠে আয়োজিত দুইদিন ব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় অধিবেশনে একথা বলেন। দুইদিন ব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মহাসম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুস সালাম চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল নতুন বাজার জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা জামাল উদ্দিন, শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শায়খ আব্দুল হামিদ, মাওলানা শায়খ সৈয়দ মুজাদ্দিদ আলী, আলহাজ এসএম ইয়াহইয়া, আলহাজ্ব ডা. কামাল হোসাইন চৌধুরী।
জুনাইদ বাবুনগরী বলেন-‘ন্যায় বিচারের প্রতীক পবিত্র কুরআন, গ্রীক দেবীর মূর্তি নয়। সুপ্রিম কোর্টের মূর্তি অবিলম্বে সরিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে মিল হয় এমন ভাস্কর্য (কুরআনের প্রতীক) অনতিবিলম্বে বসাতে হবে। নতুবা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদসহ সব জায়গায় একমাত্র আল্লাহর আইনই চলবে।
‘পর্দা, হিজাব, বোরকাধারী এবং পাঞ্জাবি টুপিধারীদের যারা জঙ্গী বলে মূলত: তারাই জঙ্গী। ইসলাম রক্ষার একমাত্র দুর্গ হল কওমি মাদরাসা। কওমি মাদরাসা জঙ্গী প্রজনন কেন্দ্র নয় বরং ইলম চর্চা ও দ্বীন প্রচারের বলিষ্ট কেন্দ্র। জঙ্গী-সন্ত্রাস মাদরাসায় তৈরি হয় না। এসব কওমি মাদরাসায় খাঁটি আলেম ও সুনাগরিক তৈরি হয়। তিনি বলেন, ‘জালিম সরকার ছিল ফেরাউন,নমরুদ। তারা এক সময় ধ্বংস হয়েছে। এখনো যারা জুলম নির্যাতন করবে তারাও একদিন ধ্বংস হবে। কবরে ও হাশরে কোন দল বা নেতার পরিচয় কাজে আসবে না। ক্ষমতার বাহাদুরি কেবল মাটির উপরেই। কাজেই জুলুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে, ইসলাম জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে’।
শ্রীমঙ্গল খেদমতে কুরআন পরিষদের সভাপতি হাফেজ আব্দুল্লাহ চৌধুরী জুমনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গফুর কবিরের পরিচালনায় দু’দিনের এ মহাসম্মেলনে আরও তাফসির পেশ করেন আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, আল্লামা হাফেজ জুবায়ের আহমদ আনসারী, মুফতি মুজিবুর, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা ইসমাঈল বিন ইব্রাহিম, মাওলানা মুফতি ইউসুফ বিন সিরাজ, মাওলানা নুরে আলম হামিদী, মাওলানা নজমুদ্দিন কাশেমী, মাওলানা তাফহিমুল হক, মাওলানা নুরুল মুত্তাকিন প্রমুখ।

‘আল্লাহ’র কী লীলা, যেখাতে ভর্তি হতে পারলাম না সেখানে চ্যান্সেলর হয়ে আসছি’ -প্রেসিডেন্ট

বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ তম সমাবর্তন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবদুল হামিদ ছিলেন গ্রাজুয়েটদের প্রেরণার কেন্দ্রস্থল। প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের সততার সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। তাগিদ দিয়েছেন ছাত্র সংসদ সক্রিয় করার।
লিখিত বক্তব্য চলাকালে ডিগ্রিপ্রাপ্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি লিখিত বক্তব্যের বাইরে কিছু বলতে চাই। নিজের কাছেই অবাক লাগে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। আমি ম্যাট্রিক থার্ড ডিভিশন। আইএ পাশ করছি এক সাবজেক্ট... লজিকে রেফার্ড।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আসলাম ভর্তি হওয়ার জন্য...তখন ভর্তি তো দূরের কথা, ভর্তির ফরমটাও আমাকে দেয়নি। বন্ধু-বান্ধব অনেকে ভর্তি হইলো, ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে তখন আমি যুক্ত। ভর্তি যখন হইতে পারলাম না, তখন দয়ালগুরুর কৃপায় গুরুদয়াল কলেজে (কিশোরগঞ্জে) ভর্তির সুযোগ পেয়ে গেলাম। তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশগ্রহণ করতাম। প্রায়ই ঢাকা আসতে হত। বিভিন্ন হলে থাকতাম। এমন কোনো হল নাই তখনকার সময়ে যেখানে ঢুকি নাই। অবশ্য রোকেয়া হলে ঢুকি নাই। তবে রোকেয়া হলের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিলাম।বন্ধু-বান্ধব যারা পড়তো তারা কনভোকেশন ক্যাপ-গাউন পরত। আমাদের কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। তবে সমাবর্তনে আমাদের ডাকা হত না। যারা অনার্স-মাস্টার্সে ছিল, তাদের ডাকা হতো। কনভোকেশনে ক্যাপ-গাউন পরার খায়েস ছিল। কিন্তু আল্লাহর কী লীলা খেলা বুঝলাম না, যেই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হইতে পারলাম না, সেইখানে আমি চ্যান্সেলার হইয়া আসছি। বাংলাদেশে যতগুলি পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সবগুলির আমি চ্যান্সেলর। প্রায়ই সমাবর্তনে যেতে হয়। দেড়-দুই ঘণ্টা ক্যাপ-গাউন পরে থাকতে হয়। আর এর মধ্যে বাতাসই ঢুকতে পারে না। গরম যখন থাকে তখন অবস্থা কাহিল। তার বক্তব্যে অনুষ্ঠানস্থলে একটু পরে পরে হাসির রোল পড়ে।
পরে নিজের ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান সময়ের রাজনীতির হালচাল নিয়েও কথা বলেন প্রেসিডেন্ট। বলেন, আমি ছাত্র রাজনীতি করছি। মহকুমার ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলাম। কলেজের ভিপি-জিএস ছিলাম। তখন ছাত্রদের সাথে আমরা এমনভাবে চলছি..ভালোভাবে চলছি যাতে তারা আমাকে ভোট দেয়। ...যারা ভর্তি হতে আসতো তাদের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে, তাদের ফরমও ফিলাপ করে দিতাম। এখন কী হইছে বুঝি না...।
কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিও-এর প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক অমিত চাকমা সমাবর্তন বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সাইটেশন পাঠ ও ভাষণ প্রদান করেন। প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: কামাল উদ্দীনসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, বিশ^বিদ্যালয়ের সিনেট-সিন্ডিকেট  সদস্য ও একাডেমিক পরিষদের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। সমাবর্তনে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন ওন্টারিও-এর প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক অমিত চাকমাকে ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ ডিগ্রি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১জন গবেষককে পিএইচডি, ৪৩জনকে এমফিল, ৮০জনকে স্বর্ণপদক এবং ১৭ হাজার ৮শ’ ৭৫জন গ্র্যাজুয়েটকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনগণ অনুষদভুক্ত বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ডিগ্রিপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েটদের নাম উপস্থাপন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো: এনামউজ্জামান সমাবর্তন অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

‘যুক্তরাজ্য সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়’ -খালেদা-অলোক বৈঠক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক মন্ত্রী অলক শর্মা। বিকেল ৪টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাজ্য সব সময় বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলার পাশাপাশি, বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের যে বাণিজ্য সম্পর্ক, শিক্ষার ক্ষেত্রে কীভাবে কাঠামোগত উন্নয়ন করা যায় সে বিষয়ে কথা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক আরো উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের বাণিজ্য-অর্থনীতিসহ অন্যান্য বিষয়গুলোতে যুক্তরাজ্যের অবদান দেখতে চাই। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের কার্যকর ভূমিকা ধরে রাখতে বলেছি। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যের ভিসা-সংক্রান্ত অসুবিধার বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আনা হয়েছে। এখন যুক্তরাজ্যের ভিসা সরাসরি ঢাকা থেকে করা যায় না, ভারতের দিল্লি থেকে করতে হয়। এতে আমাদের শিক্ষার্থীসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য যারা যাওয়া-আসা করেন তাদের অনেক অসুবিধায় পড়তে হয়। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কমানোর জন্যও আমরা আলাপ করেছি। তারা এ ব্যাপারে গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন।

'তখন ১২ বছর, আমার শরীরটা নিলাম হয়ে গেল'

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন নানা খবরের মাঝে উঠে আসে নানা নাম। আজও এমন একটি খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরব যেটি শিশু পাচার, যৌন উত্‍‌পীড়ন, বিকৃতকাম ও পৈশাচিক অত্যাচারের জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ। আবার একই সঙ্গে এই খবর ঘুরে দাঁড়ানোর অসম লড়াইয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নানা খবরের মাঝে অজ্ঞাত পরিচয় এই তরুণীর জীবনকাহিনি আপনাদের চোখ এড়িয়ে গেলে একবার পড়ে দেখুন। আপনার সব ইন্দ্রিয়কে জাগিয়ে তুলবে এই ঘটনা। কলকাতার জনপ্রিয় পত্রিকা এই সময়ের প্রতিবেদনে সেই তরুণীর জীবনকাহিনি উঠে এসেছে বিস্তারিত।
চলতি মাসের ১১ তারিখ Quora-য় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তরুণী তার জীবনের যে মর্মান্তিক গাথা বর্ণনা করেছেন, তা পড়লে শিউড়ে উঠতে হয়। কী লিখেছেন ওই তরুণী, দেখে নেওয়া যাক হুবহু তার বয়ান ....
'আমি ১২ বছর বয়সে অপহৃত হই। ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত করতে হয় বেশ্যাবৃত্তি।
সবে আমার ১২ বছরের জন্মদিন গিয়েছে। সেটাই ছিল আমার জীবনের শেষ বার্থ ডে পার্টি। বাড়ির কাছের এক পার্ক থেকে আমাকে অপহরণ করা হয়।
যখন সম্বিত ফিরল, তখন মনে হল একটা ট্রাকের মধ্যে রয়েছি। আমার চোখ, মুখ, হাত-পা বাঁধা। চলন্ত গাড়ির শক্ত দেওয়ালে আছাড় খাচ্ছিল আমার শরীরটা।
যখন জ্ঞান ফিরল, চোখ খুলে দেখি আমি একটা নোংরা ঘরের মধ্যে আছি। কয়েকজন মহিলা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দিচ্ছেন। সাহায্য চেয়ে চিত্‍‌কার করতেই ওঁরা আমার মুখে বালিশ চাপা দিল। গায়ের জোরে স্তব্ধ করল আমার গলার স্বর। পরে বুঝতে পারি। প্রভূর হাতে যাতে আমায় মারধর খেতে না হয়, সেজন্যই তাঁরা আমার মুখে বালিশ চেপে ধরত। আমার ভালোর জন্যই।
আমি ছিলাম একেবারে কচি। তাই আমাকে একটা ডিলাক্স রুমে রাখা হয়েছিল। এক বিশাল বাংলোর শেখের কাছে বিক্রি করা হল আমার ভার্জিনিটি। বেশ কিছুদিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে তার লালসার শিকার হলাম। আমার থেকে সবকিছু নিংড়ে নেওয়া যখন শেষ, তখন শুরু হল শেখের সহযোগী, বন্ধুবান্ধবদের অত্যাচার। তাও চলল বেশ কিছুদিন।
ওই ডিলাক্স রুমটার বিছানায় আমি অনন্তকাল পড়ে থাকতাম। লোকেরা আসত। যা প্রাণে চায় আমার সঙ্গে করত। আমার ঘুম আসত না। কখনও মানসিক যন্ত্রণায়। কখনও শারীরিক কষ্টে। একেক সময় তো আচমকা ঘুম ভেঙে যেত। দেখতাম, কোনও একজন ততক্ষণে আমার ভেতরে ঢুকে পড়েছে।
কখনও কখনও ডাক্তার আসত। আমার হাইমেন মেরামত করতে। আমার পরিষ্কার মনে আছে। ডাক্তার আসার অর্থই হল, আমাকে ফের ভার্জিন হিসেবে বিক্রি করা হবে অন্য কোনও শেখের বাংলোয়।
এত কিছুর পরও আমার মধ্যে মানবতা বেঁচেছিল শুধুমাত্র কয়েকজন মহিলাদের জন্য। যাঁরা রোজ আমার কাছে আসত। আমায় স্নান করিয়ে দিত। খাইয়ে দিত। আমাকে দেখে ওরাও খুব কষ্ট পেত। কখনও কখনও ওরা কেঁদেও ফেলত। এতেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম, আমার সঙ্গে যেটা হচ্ছে সেটা অন্যায়। বুঝতে পেরেছিলাম, আমি কোনও জন্তু নই। আমার যন্ত্রণটা যথার্থই। আর ওরা সেটা বুঝতে পারত।
একদিন অন্য একটি ঘরে আমার ঘুম ভাঙল। দেখেই খুব কাঁদলাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ কেঁদেছি...আগের ঘরটার সঙ্গেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলাম। এখানে ওই মহিলারাও নেই, যাদের কোমল স্পর্শে বুঝতে পারতাম যে আমি বেঁচে আছি। নতুন ঘর, নতুন প্রভূ। কীভাবে জামাকাপড় পড়তে হবে, মেক-আপ করতে হবে - এসব আমাকে শেখানো শুরু হল। আমি কেমন পরিষেবা দেব, তা হাতে-কলমে শিখিয়ে দিলেন প্রভূরা। তাঁদের উপরই চলতে থাকল আমার যৌন ক্ষমতার প্রশিক্ষণ-পরীক্ষা। সেখানে আর শেখরা আসত না। তাদের জায়গায় আসত ফর্মাল শার্ট আর প্যান্ট পরা পুরুষরা।
আমার নিজেকে রোবট বলে মনে হত। কোনও অনুভূতিই হত না। এমনকী আমি কখনও প্রতিবাদ করা বা এসব থামানোরও কোনও চেষ্টা চালাতাম না। শুধু নির্দেশ পালন করে যেতাম।
একদন এক খাকি শাড়ি পরা মহিলা আমার জ্ঞান ফেরালেন। তিনি আমাকে বারবার ঝাঁকাচ্ছিলেন। আমার নাম জিজ্ঞেস করছিলেন। ঠিক কী হয়েছে, আমি কিছু বুঝতে পারছিলাম না। আমাকে কী নামে ডাকা হত, সেটাও মনে করতে পারলাম না। কাঁদতে শুরু করলাম। আর সেই অপহরণের পর থেকে এই প্রথমবার কোনও মহিলা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। তিনিই জানালেন, আমাকে তাঁরা বাঁচাবেন।
আরও কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে আমাকে ভ্যানে করে থানায় নিয়ে যাওয়া হল। বুঝতে পারলাম, মুম্বইতে আছি। পরে জানতে পারলাম, ৫ বছর আগে আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল। প্রথমের দিকে কয়েক বছর আমাকে রাখা হয়েছিল হায়দরাবাদে।
আমাকে একটি হোমে রাখা হল। মনোবিদের সঙ্গে কথা বললাম। পড়াশোনা করলাম, পরীক্ষা দিলাম। একটু একটু করে শিখলাম, কীভাবে আমার সেই ডিলাক্স রুমের বাইরে অন্য কোথাও ঘুমোতে হয়। বেশকিছুদিন কোনও অযাচক ব্যক্তির শরীরী সঙ্গ না পেয়ে বেশ অস্বস্তিও হচ্ছিল। নতুন, অস্বস্তিকর অথচ স্বাভাবিক সম্মানের জীবনের পাঠ নিলাম। জানতে পারলাম বহুবার অসুরক্ষিতভাবে আমার গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে। তাই আমি আর কোনওদিন মা হতে পারব না। এক ক্লায়েন্ট আমার হাতের কব্জি মুচড়ে ভেঙে দিয়েছিল। তারপর বছরের পর বছর তার কোনও চিকিত্‍‌সা হয়নি। তাই এখনও তা পুরোপুরি সারেনি।
ডাক্তারদের সহযোগিতায় বাড়ির ঠিকানা মনে পড়ল। পুলিশ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্য নিয়ে বাবা-মার সঙ্গে যখন যোগাযোগের চেষ্টা করল, তখন জানা গেল, আমি হারিয়ে যাওয়ার পর মা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার পরপরই আত্মহত্যা করেন আমার বাবা।
এনজিও-টি আমার জন্য একটি স্পনসর জোগার করে দিল। তাদেরই জন্য আমি এখন দিল্লিতে। কম্পিউটার ও বিদেশি ভাষার একটি কোর্স করলাম। এখন আমি একটি কম্পিউটার সেন্টারে শিক্ষকতা করি। আরও দুটি মেয়ের সঙ্গে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে আছি।
আমার বয়ফ্রেন্ড হয়েছে। আমার অতীত জানার পরও ও আমায় খুব শ্রদ্ধা করে। আমি এখনও ভালো করে ঘুমোতে পারি না। ঘুমের মধ্যে মনে হয়, ওখানেই ফিরে গিয়েছি, আর আচমকা জেগে উঠি। একেক সময় ভয় পেয়ে মাঝরাতেই ওকে ফোন করি। ও সবসময় সযত্নে আমায় শান্ত করে। আমি নিরাপদেই আছি, এটা বোঝানোর চেষ্টা করে। ও পঞ্জাবি। ও রোম্যান্টিক গান গেয়ে, নেচে আমায় হাসানোর চেষ্টা করে। সুস্বাদু খাবার রান্না করে খাওয়ায়। আমায় লং ড্রাইভে নিয়ে যায়। আমার শরীর খুব দুর্বল। তাই আমায় ওর সঙ্গে জিমে যেতে বলে। ও একেবারেই একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। তাই আমার অতীত সম্পর্কে পরিবার বা বন্ধুবান্ধবকে কিছু জানাতে পারেনি। ওর সমস্যাটা আমি বুঝতে পারি। কিন্তু সবার সামনে মিথ্যে বলতে খুব খারাপ লাগে।
এই প্রমিস ডে-তে ও আমাকে প্রোপোজ করেছে। আমি হ্যাঁ বলিনি। আমি ওর যোগ্য নই। ও আমার তুলনায় অনেক বেশি ভালো দেখতে, অনেক বেশি শিক্ষিত ও ভদ্র। আমি এতটাই ভেঙে পড়া, নোংরা ও অযোগ্য একটা মেয়ে যে কারও স্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আমার নেই।
ও অপেক্ষা করবে বলেছে। আমাকে এই সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত হতে সময় দিয়েছে। বলেছে, কোনও তাড়া নেই। ও বলেছে, আমরা সন্তান দত্তক নেব। আমার অতীত নিয়ে ওর কোনও মাথাব্যাথা নেই। তবে, আমি ওকে বোঝাতে চেষ্টা করছি। আমার থেকে অনেক ভালো মেয়ে ও পাবে। আমার এই অতীতের বোঝা ওর কাঁধে চাপিয়ে ওর জীবন আর স্বপ্নগুলোকে নষ্ট করতে চাই না।
আমার জীবনের সবচেয়ে গভীর, সবচেয়ে গোপন সত্যিগুলো আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম। সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।'

তুর্কি সীমান্তের কাছে ‘সিরীয়’ বিমান বিধ্বস্ত

তুরস্কের সীমান্তের কাছে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটি সিরিয়ার বলে ধারণা করা হচ্ছে। তুরস্কের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আজ রোববার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। সিরিয়ার একটি সামরিক সূত্র বলছ, তুর্কি সীমান্তের কাছে সিরীয় বিমানবাহিনী তাদের একটি যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়েছে।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বেনালি ইলদিরিম বলেছেন, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের পাইলটের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তিনি প্যারাস্যুট দিয়ে জরুরি অবতরণ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সিরিয়ার সরকারবিরোধী একটি ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর দাবি, বিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। সরকারবিরোধীরা এ কাজ করেছে। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিমানটি হাতায় প্রদেশের একটি শহরের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ স্পষ্ট নয়।

দুর্ভিক্ষে সোমালিয়ায় ১১০ জনের মৃত্যু

সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে প্রচণ্ড খরার কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে গত দুদিনে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। রয়টার্সের খবরে জানা যায়, দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী খায়ের গতকাল শনিবার বলেছেন, সেখানে খাদ্যঘাটতি অনেক বেশি। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) গত ফেব্রুয়ারি মাসে বলেছে, সোমালিয়ায় খরার কারণে এ বছর ২ লাখ ৭০ হাজার শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী খায়েরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলছে, গবাদিপশু ও পশুর লালন-পালনকারীদের জন্য এটি কঠিন সময়।
দুর্ভিক্ষ ও ডায়রিয়ায় অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে। গত দুদিনে দুর্ভিক্ষ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১১০ জন মারা গেছে।দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা কমিটির বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সোমালীয় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। মরতে বসা সোমালীয়দের পাশে দাঁড়াতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০১১ সালে দুর্ভিক্ষে সোমালিয়ায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। দারিদ্র্যের পাশাপাশি সে দেশে নিরাপত্তা-সমস্যাও রয়েছে। দেশটির রাজধানী মোগাদিসু এবং অন্য এলাকাগুলোয় আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট আল শাবাব জঙ্গি দল প্রায়ই হামলা করে।

ডেমোক্র্যাটদের পাল্টা আক্রমণ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কথিত রুশ সম্পৃক্ততা নিয়ে সমালোচনা করায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর ব্যাপক ক্ষুব্ধ। এবার উল্টো ডেমোক্র্যাট নেতাদের বিরুদ্ধে রুশ সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তদন্তের হুমকি দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার নিজের পছন্দের যোগাযোগমাধ্যম টুইটার ব্যবহার করে ডেমোক্র্যাট নেতাদের ওপর পাল্টা আঘাত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের একটি ছবি প্রকাশ করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘পুতিন ও রাশিয়ার সঙ্গে চাক শুমারের সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত শুরু করা উচিত। পুরোই ভণ্ডামি!’
২০০৩ সালে পুতিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ওই ছবি তোলা হয়। পরে আরেকটি টুইটার বার্তায় সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ও রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট নেতা ন্যান্সি পেলোসির ছবি প্রকাশ করে তা নিয়েও তদন্ত শুরুর হুমকি দেন ট্রাম্প। তবে শুমার বলেছেন, ‘২০০৩ সালে পুতিনের সঙ্গে আমার বৈঠক হয়েছিল গণমাধ্যমের সামনে এবং জনসমক্ষে। দায়িত্বের অংশ হিসেবে ওই বৈঠক হয়।’
ফোনে আড়ি পাতেন ওবামা: ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার টুইটার বার্তায় দাবি করেছেন, নির্বাচনের আগে গত অক্টোবরে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে তাঁর ফোনে আড়ি পাতার ব্যবস্থা করেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। টুইট করে ট্রাম্প বলেন, ‘ভয়াবহ! মাত্রই জানলাম ওবামা নির্বাচনের আগে ট্রাম্প টাওয়ারে আড়ি পাতার ব্যবস্থা করেছিলেন ওবামা। কিছুই পাওয়া যায়নি!’ তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার মুখপাত্র কেভিন লুইস এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা বা হোয়াইট হাউসের কোনো কর্মকর্তা কখনোই কোনো মার্কিন নাগরিকের ফোনে আড়ি পাতার নির্দেশ দেননি।
আমার ঘটনা আলাদা: পেন্স
এদিকে সরকারি কাজে নিজের ব্যক্তিগত ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। গেল নির্বাচনের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সরকারি কাজে ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহারের অনিয়মের সঙ্গে তাঁর বিষয়টির কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি। পেন্স দাবি করেন, ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর হিসেবে তিনি ই-মেইল ব্যবহারের বিষয়ে রাজ্যের আইন পুরোপুরি মেনে চলতেন। কোনো অনিয়ম করেননি।

কে এই কিসলিয়াক?

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখন আলোচিত চরিত্র রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াক। তাঁর সঙ্গে ‘বিধিবহির্ভূত’ যোগাযোগের কারণে বরখাস্ত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন। এবার কিসলিয়াকের সঙ্গে বৈঠকের কথা গোপন করার অভিযোগেই চাপে পড়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস। ২০০৮ সাল থেকে ওয়াশিংটনে রুশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত সের্গেই কিসলিয়াক। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এটাই তাঁর প্রথম দায়িত্ব পালন নয়। স্নায়ুযুদ্ধের সময় ১৯৮১ সালে তিনি কূটনীতিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। প্রথমে জাতিসংঘে তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে ছিলেন। পরে ওয়াশিংটনে মস্কো দূতাবাসে নিযুক্ত হন। ১৯৮৯ সালে মস্কো ফিরে গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। পরে বেলজিয়ামে রাষ্ট্রদূত হন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব নেওয়ার আগে রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও চালাক-চতুর হিসেবে পরিচিত কূটনীতিক কিসলিয়াক। খুব একটা জনসমক্ষে আসেন না।
কথা বলেন মেপে। মার্কিন নির্বাচন নিয়ে রুশ গণমাধ্যমের আগ্রহ প্রসঙ্গে তাঁকে একবার প্রশ্ন করা হলে হেসে জবাব দেন, ‘এটা খুব মজার।’ রাশিয়ার সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন আর বিয়ারলি বলেন, ‘তিনি (কিসলিয়াক) বরাবরই পর্দার আড়াল থেকে কাজ করতে পছন্দ করেন। তিনি রাজনীতিবিদ নন, পুরোদস্তুর কূটনীতিবিদ।’ সাবেক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি নিকোলাস বার্ন বলেন, কিসলিয়াকের মানসিকতায় সোভিয়েত আমলের প্রভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে তাঁর মনোভাব আক্রমণাত্মক। মার্কিন টিভি চ্যানেল সিএনএন একটি বেনামি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলেছে, মার্কিন গোয়েন্দাদের অভিমত, কিসলিয়াক নিজে একজন উচ্চপর্যায়ের গুপ্তচর। এর পাশাপাশি তিনি গুপ্তচর নিয়োগও করেন। মস্কো অবশ্য সিএনএনের প্রতিবেদনে বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছে, এটি ডাহা মিথ্যা কথা। এমএসএনবিসি টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে ক্লিনটন প্রশাসনের অধীনে সিআইয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জন ম্যাকললিন কিসলিয়াক সম্পর্কে বলেন, ‘আমার মনে হয় না তিনি আক্ষরিক অর্থেই গুপ্তচর। বরং বরাবর তাঁকে একজন দুঁদে কূটনীতিক বলেই মনে হয়েছে আমার। তবে তিনি অত্যন্ত চতুর।’ অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসের মতেও কিসলিয়াক অনেকটা সোভিয়েত ধাঁচের কূটনীতিবিদ।

পারমাণবিক অস্ত্রে রাশিয়ার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে

বিশ্বের নয়টি দেশের কাছে মোট ১৪ হাজার ৯০০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এর ৯৩ শতাংশই রয়েছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে রাশিয়ার এ ধরনের অস্ত্রের সংখ্যা বেশি। ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের বরাত দিয়ে এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে মোট ১৪ হাজার ৯০০টি পারমাণবিক অস্ত্রের মধ্যে রাশিয়ার হাত রয়েছে সাত হাজার অস্ত্র। আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে ছয় হাজার ৮০০টি। এ ছাড়া ফ্রান্সের কাছে রয়েছে ৩০০টি, চীনের কাছে ২৬০, যুক্তরাজ্যের ২১৫, পাকিস্তানের ১২০, ভারতের ১২০, ইসরায়েলের ৮০ ও উত্তর কোরিয়ার কাছে আছে ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র বিরতিকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করা দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র,
রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। ইসরায়েল তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রকাশিত তথ্যের চেয়েও অনেক বেশি বলে ধারণা রয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিউ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নয়টি দেশের কাছে মোট ১৫ হাজার ৩৯৫টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে বলা হয়েছিল, ওই নয়টি দেশে ১৫ হাজার ৮৫০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে। ১৯৪৯ সালে রাশিয়া এই অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়। পারমাণবিক শক্তিধর দেশে পরিণত হওয়া সর্বশেষ দেশ হলো উত্তর কোরিয়া। দেশটি ২০০৬ সালে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে।

মমতার নাম গিনেস বুকে ওঠা উচিত!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিপিএমের শীর্ষ নেত্রী বৃন্দা কারাত বলেছেন, অপরাধীদের প্রতিপালন করে যেভাবে তাদের রাজনীতিতে যুক্ত করা হয়েছে, তা এক রেকর্ডের শামিল। এই সুবাদে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ওঠা উচিত। গতকাল শনিবার হুগলির শ্রীরামপুরের গান্ধী ময়দানে আয়োজিত এক সমাবেশে এই মন্তব্য করেন সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাত। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির হুগলি জেলা কমিটি আয়োজিত ওই সমাবেশে বৃন্দা কারাত অভিযোগ করে বলেন, তৃণমূলের ছাতার তলায় থেকে দুর্বৃত্তরা চাঁদাবাজি, নারীদের সম্মানহানির মতো ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। এতে গোটা বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট হচ্ছে।
মানুষ প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছে। রাজ্যে নারীদের ওপর অত্যাচার, ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু অপরাধীদের শাস্তির হার কমছে। গুন্ডাদের আশকারা দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নাম গিনেস বুকে ওঠা উচিত। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বর্ধমানের আসানসোলে পশ্চিমবঙ্গের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের অর্থনীতিকে যেভাবে দাঁড় করিয়েছেন, তাতে তাঁর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত।

বারানসি সরগরম

ভারতের উত্তর প্রদেশ বিধানসভার শেষ পর্বের ভোটে ঝড় তুলতে বারানসি হয়ে গেছে রাজনৈতিক ‘হেভিওয়েটদের’ ঠিকানা। রাজ্যের পূর্বপ্রান্তের এই প্রাচীন হিন্দুতীর্থে ঘাঁটি গেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু বিনা যুদ্ধে সূচ্যগ্র মেদিনী না দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বিজেপির তিন প্রতিদ্বন্দ্বী গতকাল শনিবার এই শহরে একই সঙ্গে হাজির। ফলে দিনভর রাজনৈতিক উত্তাপে তেতে থাকল প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্র। উত্তর প্রদেশে সাত দফার ভোটের শেষ দফা ৮ মার্চ। সেদিন বারানসিসহ ৭ জেলার ৪০টি আসনে ভোট। তার আগে গতকাল ষষ্ঠ দফার ভোট গ্রহণ হলো ৭ জেলার ৪৯ আসনে। গতকাল মোদি বারানসিতে ঘাঁটি গাড়েন টানা তিন দিনের জন্য। সঙ্গে ১২ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। একই দিনে হাজির রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং যাদব ও তাঁর জোটসঙ্গী কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধী এবং বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতী। সকালেই শহরে আসেন মোদি।
বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের সদরে মদন মোহন মালব্যের মূর্তিতে মালা দিয়ে বেলা ১১টায় শুরু হয় তাঁর রোড শো। দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার জনসমুদ্র পেরোনোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে যান প্রার্থনা জানাতে। রোড শো শেষ করেন কালভৈরব মন্দিরে প্রার্থনা করে। তারপর চলে যান জৌনপুরের জনসভায়। সেখানে মোদি বলেন, পাঁচ পর্যায়ের ভোটেই জনতা বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাইয়ে দিয়েছে। বাকি দুই পর্যায়ে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে হবে, যাতে উন্নয়নের স্বার্থে একটা স্থিতিশীল সরকার বিজেপি রাজ্যবাসীকে উপহার দিতে পারে। মোদির রোড শো শেষ হলেই শুরু হয় অখিলেশ-রাহুলের যৌথ রোড শো। কিছু সময় পর অখিলেশের সাংসদ স্ত্রী ডিম্পলও তাতে যোগ দেন। এখানেও জনসমুদ্র। ফলে শহরের জনজীবন প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়। রোড শোয়ের মধ্যে রাহুল-অখিলেশও কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে পুজো দেন। মায়াবতী অবশ্য রোড শো না করে জনসভায় ভাষণ দেন। সেখানে মোদির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘উনি গঙ্গার মলিনতা দূর করবেন বলেছিলেন। করেননি। মা গঙ্গাই এবার তাঁকে শাস্তি দেবেন। মায়াবতীর দাবি, বিজেপি ও জোট দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের জন্য লড়ছে। সরকার হবে বহুজন সমাজের। বারানসির পাঁচটি আসন প্রধানমন্ত্রীর কাছে সম্মানের ব্যাপার। এই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত তিনটি বিধানসভা আসন বিজেপির কাছ থেকে এবার ছিনিয়ে নিতে সমাজবাদী-কংগ্রেস জোট লড়ছে। পাঁচ বছর আগে এই তিন কেন্দ্রে এই দুই দলের প্রাপ্ত ভোট ছিল বিজেপির তুলনায় বেশি।

মণিপুরে ভোট গ্রহণ

কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত ভারতের মণিপুর বিধানসভার প্রথম দফায় গতকাল শনিবার ৮২ শতাংশ ভোট পড়েছে। মূল লড়াই ক্ষমতাসীন কংগ্রেস বনাম বিজেপির। তবে অন্যান্য আঞ্চলিক ও জাতীয় দলও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। গতকাল ৬০টি আসনের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রের বুথে লম্বা লাইন চোখে পড়ে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাবে দিনের শেষে ভোট পড়ার হার ৮২ শতাংশ। কোথাও বড় ধরনের গোলমালের খবর পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি না নিয়ে বিজ্ঞাপন ছাপানোর দায়ে আটটি সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

ভাঙতে হবে বিজিএমইএ ভবন

বিজিএমইএ ভবন অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) করা আবেদন খারিজ হয়েছে। ফলে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে হবে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ আজ রোববার এই রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে তা খারিজ করেন। বিজিএমইএ অন্যত্র সরাতে কত দিন সময় লাগবে, তা জানিয়ে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে একটি আবেদন দিতে বলেছেন আদালত। ওই দিন আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের পূর্ব পাশে অবস্থিত পোশাকশিল্প প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ১৬ তলা ভবনটি অবিলম্বে সংগঠনের নিজ খরচায় ভেঙে ফেলতে রায় দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় গত বছরের ৮ নভেম্বর প্রকাশিত হয়। ৮ ডিসেম্বর রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন বিজিএমইএর সভাপতি। সূত্র জানায়, এই আবেদনে আপিলের রায় স্থগিতের পাশাপাশি অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য তিন বছরের সময় চাওয়া হয়।
এর আগে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ে ওই ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। এই লিভ টু আপিল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘বেগুনবাড়ি খাল’ ও ‘হাতিরঝিল’ জলাভূমিতে অবস্থিত ‘বিজিএমইএ কমপ্লেক্স’ নামের ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ক্ষেত্রে ভবন ভাঙার খরচা আবেদনকারীর (বিজিএমইএ) কাছ থেকে আদায় করবে তারা। এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ। এই রিভিউ আবেদন আজ খারিজ হলো।

আ.লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

নোয়াখালী সদর উপজেলার আণ্ডারচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাশেমকে (৫০) তাঁর বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড হয়। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান জানান, আবুল হাশেম ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

টৈটংয়ের খুদে ফুটবলারদের সংবর্ধনা দিল পেকুয়াবাসী

নানা বয়সী হাজারো মানুষের স্লোগানে মুখর কক্সবাজারের পেকুয়া সদর উপজেলার চৌমুহনী চত্বর। আশপাশের বাড়ির ছাদ, দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে মানুষ আর মানুষ। সকাল নয়টা থেকে অপেক্ষা করছে সবাই। তখন সকাল ১০টা ২০ মিনিট। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে, গাড়ির বহর চৌমুহনী চত্বরের দিকে আসছে। সঙ্গে সঙ্গে মানুষের বাঁধভাঙা উল্লাস। এ আনন্দ, এ উচ্ছ্বাস বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে ফুটবলারদের জন্য। গতকাল শনিবার সকাল থেকে এই খুদে ফুটবলারদের স্বাগত জানাতে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী থেকে পেকুয়া উপজেলার চৌমুহনী চত্বর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তার দুই ধারে ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে ছিল ফুল, চোখে-মুখে আনন্দ। তাদের সঙ্গে ছিল এলাকার মানুষও। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছিল তোরণ। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার কামরাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় পেকুয়ার টৈটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। টৈটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফুটবল দল গতকাল সকালে ঢাকা থেকে পেকুয়ায় ফিরে আসে। তাদের সংবর্ধনা দিতে পেকুয়া চৌমুহনী চত্বরে তৈরি করা হয় মঞ্চ। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
শুরুতে বক্তব্য দেন টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, খুদে ফুটবলাররা শুধু পেকুয়া বা কক্সবাজার নয়, পুরো চট্টগ্রামবাসীকে গর্বিত করেছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গিয়াস উদ্দিন, উম্মে কুলসুম, জি এম আবুল কাশেম, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফা হায়দার, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হানিফ চৌধুরী, টৈটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ, সোনাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহসিন, পেকুয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি এম দিদারুল করিম, আওয়ামী লীগের নেতা জাকিরুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য এস এম শাহাদাত হোসেন, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, শ্রমিক লীগের নেতা নুরুল আবছার, পেকুয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন, পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এম কফিল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরান জাদিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংবর্ধনা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ হানিফ। পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ বলেন, ‘এ অর্জন শুধু তোমাদের নয়, পুরো পেকুয়াবাসীর। তোমরা আমাদের গর্বিত করেছ।’ চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, ‘তোমাদের স্যালুট।’ জয়ী দলের অধিনায়ক মিনার উদ্দিন বলে, ‘এ জয় এসেছে আমার এলাকার মা-বোন, মুরব্বিদের দোয়ায়।’

আদেল হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

এসএসসি পরীক্ষার্থী আহমেদ ওয়াসিউন নুরের (আদেল) হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে চট্টগ্রাম নগরের ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন হত্যা মামলার বাদী ও আদেলের মামা নজরুল ইসলাম, চিটাগং আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইউসুফ আলী, শিক্ষক মোহাম্মদ শিবলী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি আমিনুল হক প্রমুখ। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম নগর শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার রাজাখালী মাস্টার কলোনি এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয় আদেল। হামলায় তার বাবা বদিউল আলম আহত হন। আদেল নগরের জামালখান এলাকার চিটাগং আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। তার আর তিনটি পরীক্ষা বাকি ছিল। মানববন্ধনে আদেল মামা নজরুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীরা একটি বাচ্চা ছেলের শরীরে ২৬ বার ছুরিকাঘাত করেছে। নৃশংসতা কোন পর্যায়ে গেলে এটি সম্ভব! নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো মূল আসামিরা ধরা পড়েনি।
হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এতে পরিবারের সদস্যরা কিছুটা হলেও শান্তি পাবেন। চট্টগ্রাম আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইউসুফ আলী বলেন, সন্ত্রাসীরা মেধাবী, নম্র ও ভদ্র একটি ছেলেকে হত্যা করেছে। তার মতো ছেলেকে যারা হত্যা করতে পারে তারা মানুষ নয়, জানোয়ার। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ঘাতকদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে আদেলের সহপাঠীরা ২৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করে। ওই দিনই ৪ মার্চ মানববন্ধন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা চালানো হয়। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে নগরের হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, হাজেরা-তজু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কলেজিয়েট স্কুল, সরকারি মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, পুলিশ লাইন ইনস্টিটিউশন, চিটাগং আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ নগরের ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শ শিক্ষার্থী মানববন্ধনে অংশ নেয়।

প্রকৌশলীসহ ১০ জন নিহত

ফরিদপুরের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গতকাল শনিবার বাস ও তিন চাকার মাহেন্দ্রর মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন শ্রমিক এবং কুষ্টিয়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। এর আগের দিন রাতে গোপালগঞ্জে পিকআপ ও ট্রাকের সংঘর্ষে একজন প্রকৌশলীসহ দুজন নিহত ও তিনজন আহত হন। এ ছাড়া শুক্রবার রাত থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ জেলায় সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্যসহ চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে গত ২৩ দিনে বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ২৩৩ জন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বরাত দিয়ে ঢাকার বাইরে থেকে প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: ফরিদপুর সদরের কানাইপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গতকাল সকালে একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী মাহেন্দ্রর সংঘর্ষে দুজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে মাহেন্দ্রটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই এ দুজন নিহত হন। আহত মাহেন্দ্রচালকসহ চারজনকে ফরিদপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফরিদপুরের সালথার মো. হাসান খাঁ (৩২) ও ঝিনাইদহের মহেশপুরের লিটন শেখ (৩০)। কাজের খোঁজে মাহন্দ্রেযাগে ফরিদপুরে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন শ্রমিকেরা। বাসচালক পালিয়েছেন। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের রিশাতলা এলাকায় শুক্রবার রাতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পিকআপ ও ট্রাকের সংঘর্ষে এক প্রকৌশলীসহ দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। নিহত প্রকৌশলী ইসমাইল মীর (৩৮) রেললাইন সম্প্রসারণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপে কর্মরত ছিলেন। নিহত অপর ব্যক্তিও একই গ্রুপের পিকআপচালক মামুন বিশ্বাস (২৬)। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের গোয়ালগ্রামে গতকাল সকালে ইজিবাইকের সঙ্গে সংঘর্ষে হিটু (২৫) নামের একজন মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। তিনি গোয়ালগ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে।
দুপুরে বাইসাইকেলে কুমারখালী যাওয়ার পথে মোড়াগাছা ক্লাব মোড়ে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হন সানোয়ার (৬০) নামের একজন কলা ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়ি খোকসা উপজেলায়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলাতদিয়াড় এলাকায় গতকাল বিকেলে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ইটবাহী ট্রলির সংঘর্ষে ইউপি সদস্য অহিদুল ইসলাম (৪৫) নিহত হয়েছেন। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী নামক স্থানে শুক্রবার রাতে সিরাজগঞ্জ-কাজীপুর সড়কে দুটি অটোরিকশার সংঘর্ষে শাহাদত হোসেন (৩০) নামে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। বগুড়ার শেরপুরের কৃষ্ণপুর এলাকায় গতকাল সকালে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম নগরের পশ্চিম মাদারবাড়ী পানির ট্যাংক এলাকায় গতকাল সকালে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মো. রফিক (৫০) নামের একজন রিকশাচালক নিহত হয়েছেন। পুলিশ কাভার্ড ভ্যানসহ চালককে আটক করেছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকায় গতকাল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পিকনিকের বাস ও একটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় দুটি যানই খাদে পড়ে যায়। আহত ব্যক্তিরা সবাই বাসযাত্রী। তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাসটি কক্সবাজার থেকে সিলেটে যাচ্ছিল।

মাদক জীবনকে অসুন্দর করে

এক বাবা এসেছেন চট্টগ্রাম থেকে। তাঁর সন্তান আইনজীবী। কিন্তু সন্ধ্যার পর মাদক নেয়। পরদিন দুপুর পর্যন্ত ঘুমায়। আচার-আচরণ বদলে গেছে। পরিবারের প্রতি ভালোবাসা কমে গেছে। সন্তানের এই অবস্থার কারণে তাঁরাও এখন কষ্টে আছেন। এ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার পরামর্শ চান তিনি। তাঁকে যথাসাধ্য পরামর্শ দিলেন চিকিৎসক। শুধু চট্টগ্রামের এই বাবা নন, আরও অনেকে এসেছিলেন মাদকাসক্ত হওয়া থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ নিতে। কেউ কেউ আবার নিজেরাই মাদকাসক্ত থেকে মুক্ত হয়ে অন্যদের পরামর্শ দিলেন। চিকিৎসকেরা বললেন, মাদক জীবনকে অসুন্দর করে। তাই মাদককে পরিত্যাগ করে জীবনকে আরও সুন্দর করতে হবে। এভাবে প্রশ্ন ও পরামর্শ দেওয়ার মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলনের পরামর্শ সহায়তার ৮০তম আসর।
রাজধানীর ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় সভা। প্রথমে একান্তে পরামর্শ, পরে সবাইকে একসঙ্গে করে প্রশ্ন গ্রহণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহিত কামাল বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে বলেন, কেউ মাদকাসক্ত হলে স্বীকার করতে চাইবে না, মিথ্যা বলবে। তাই বদনাম না করে অস্বীকারের বৃত্ত থেকে বের করে আনাই হবে প্রথম ধাপ। ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আহমেদ হেলাল বলেন, মাদক জীবনকে অসুন্দর করে। মানুষ এমনিতেই অনেক সুন্দর। তাই মাদকের মতো অপ্রয়োজনীয় জিনিসকে পরিত্যাগ করতে হবে। প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম পরামর্শ দেওয়ার জন্য চিকিৎসক এবং পরামর্শ নিতে আসা ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান। প্রথম আলো ট্রাস্টের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ফেরদৌস ফয়সালের সঞ্চালনায় পরামর্শ সভায় আরও বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সিফাত ই সাইদ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মেখলা সরকার, গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জোবায়ের মিয়া, মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনকেন্দ্র আপনের নির্বাহী পরিচালক ব্রাদার রোনাল্ড ড্রাহোজাল। একই স্থানে আগামী ৪ এপ্রিল বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত হবে পরামর্শের ৮১তম আসর।

এবার নিজের ঘোড়া নিয়ে মাঠে নামবে তাসমিনা

সেই বালিকা ঘোড়সওয়ার তাসমিনাকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে একটি ঘোড়া কিনে দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার চকসুবল গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে ঘোড়াটি তাকে হস্তান্তর করা হয়। পছন্দের ঘোড়া পেয়ে তাসমিনা ভীষণ খুশি। এবার সে নিজের ঘোড়া নিয়েই মাঠে নামবে। ছোটবেলা থেকেই তাসমিনার ঘোড়া ছোটানোর নেশা। প্রতিযোগিতায় খেলার মতো নিজের কোনো ঘোড়া ছিল না। তবু নেশার কারণে যেখানেই ঘোড়দৌড়ের আয়োজন হয়, তাসমিনা বাবার সঙ্গে সেখানেই যায়। অন্যের ঘোড়া জিতিয়ে দেয়। পুরস্কার যা পায়, ঘোড়ার মালিককে দিয়ে দিতে হয়। মেয়ের নেশার কারণে বাবা চুপ থাকতে পারেন না। কোথাও প্রতিযোগিতার কথা শুনলেই মেয়েকে নিয়ে ছোটেন। ২০১৫ সালের ১৭ জুন প্রথম আলোর অধুনা পাতায় ‘এক দুঃখিনী ঘোড়সওয়ারের গল্প’ শিরোনামে তাসমিনার ঘোড়দৌড়ে জেতার গল্পটি ছাপা হয়। ওই বছরের ২০ নভেম্বর ঢাকার এক ব্যবসায়ী তাসমিনাকে একটি ঘোড়া কিনে দেন। কিন্তু ঘোড়াটি চোখে দেখতে পেত না। সেই ঘোড়াটি তার কোনো কাজে আসেনি। পরে অল্প দামে বাবা ওবায়দুর রহমান ঘোড়াটি বেচে দেন। নিভৃত গ্রামের এই বালিকা ঘোড়সওয়ারকে নিয়ে গত বছর প্রথম আলোর পক্ষ থেকে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করা হয়। প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেন তানহা জাফরীন।
গত ৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে এটি প্রথম প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি এ পর্যন্ত প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে ১৩ লাখ বারের বেশি দেখা হয়েছে। আর ইউটিউবে দেখেছে প্রায় ৬৩ হাজার মানুষ। ওবায়দুর রহমান বলেন, যে ঘোড়াটি তাঁর মেয়ের পছন্দ হয়, তার মালিক সেটি বিক্রি করতে চান না। আবার বেচার জন্য অনুরোধ করলে তিনি অবাস্তব একটা দাম চেয়ে বসেন। এ জন্য ঘোড়া কিনতে দেরি হয়ে যায়। অবশেষে স্থানীয় ঘোড়া ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে ময়মনসিংহের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘোড়াটি কেনা হয়। পরিবহন খরচসহ ২ লাখ টাকার মধ্যেই ঘোড়াটি পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ঘোড়াটি মেয়ের মনের মতো হয়েছে। ঘোড়াটির বয়স খুবই কম। এটা এক নম্বরের ঘোড়া। ঘোড়াটি যেমন লম্বা-চওড়া, তেমনি তেজি। দৌড়াবে ভালো। তিনি খুশি হয়ে বলেন, সব ঘোড়ারই একটা নাম থাকে। তিনি এই ঘোড়ার নাম রেখে দেবেন ‘প্রথম আলো’। অনুভূতির কথা জানতে চাইলে তাসমিনা বলে, ‘এখন থেকে হামি নিজের ঘোড়া দিয়েই খেলমু।’ তাসমিনাকে ঘোড়াটি বুঝিয়ে দেন প্রথম আলোর রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ। উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর বিক্রয় নির্বাহী আক্তারুজ্জামান সরকার, রাজশাহী বন্ধুসভার সদস্য ফারুক হোসেন ও তথাপি আজাদ, তাসমিনার বাবা ওবায়দুর রহমান, ধামইরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মালেক প্রমুখ।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের ভাস্কর্য সরাতে ওলামা লীগের আলটিমেটাম

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বসানো একটি ভাস্কর্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণ না করলে হাইকোর্ট ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে আওয়ামী ওলামা লীগ। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এমন ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ বাতিল করার দাবিও করে সংগঠনটি। সংগঠনটির সভাপতি মুহাম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী মানববন্ধনে বলেন, ‘মূর্তি যেই বসাক না কেন, এর দায়ভার পুরোটাই সরকারের ওপর বর্তায়। এটি অপসারণের জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। ১৫ দিনের মধ্যে এই মূর্তি অপসারণ না করলে হাইকোর্ট ঘেরাও করা হবে।’
ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়নের চরম শিখরে রয়েছে, তখন দেশকে অস্থিতিশীল করতে প্রধান বিচারপতি এটা করেছেন। যারা শাপলা চত্বর করেছিল, তারা আবার শাপলা চত্বর করার হুমকি দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্টের সামনের এই মূর্তির কারণে জাতীয় ঈদগাহে কোনো নামাজ হবে না। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।’

জাতীয় ‘উন্নয়ন’, বনাম ‘গুম খুনের প্রতিবাদ’!

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটার অংশ পড়েছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায়। নির্বাচনী প্রচার তাই মহাসড়কলাগোয়া হাট–বাজারগুলোতে বেশি। গত কয়েক দিন উপজেলার কেন্দ্রস্থলের গোয়ালাবাজার, তাজপুর, কদমতলা, দয়ামীরবাজার-জমজমাট—এই চারটি হাট সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচারে ছিল মুখরিত। প্রায় এক সপ্তাহ এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আতাউর রহমানের প্রচারে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একইভাবে প্রচার চলছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আক্তারুজ্জামান চৌধুরীর পক্ষে। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার এ নির্বাচনী কৌশলের বিপরীতে বিএনপি শুরুতে নির্বাচনী প্রচারণায় ‘নিখোঁজ’ নেতা এম ইলিয়াস আলীর ‘গুম’ হওয়ার প্রতিবাদ জানানোর বিষয়টি এনেছে। ইলিয়াস আলী এ আসনের সাবেক সাংসদ ছিলেন। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে তিনি নিখোঁজ। ওসমানীনগরে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার শুরুর দিকে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর একটানা চার দিন প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। তাঁর প্রচারণায় ছিল ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে হবে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মো. আতাউর রহমান ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান চৌধুরীর মধ্য থেকে অগ্রগামী একজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপির ময়নুল হক চৌধুরীর সঙ্গে।
চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টির মো. শিব্বির আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির শুরুর দিকে ‘গুম’ নিয়ে প্রচারণায় এখন যুক্ত হয়েছে ‘খুন’। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাবাজারে দুই হত্যার ঘটনাও প্রচার অনুষ্ঠানগুলোতে আনা হয়েছে। বলা হচ্ছে ‘গুম ও খুনের প্রতিবাদ’ জানাতেই বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিতে। গতকাল বিকেলে তাজপুর এলাকায় সর্বশেষ নির্বাচনী প্রচারে গুম-খুনের প্রতিবাদ জানাতে বিএনপির প্রার্থী ময়নুল হক চৌধুরীকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জেলা নেতারা। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির আলী আহমদ গতকাল বলেন, ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় এ রকম প্রচারণা স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলছে। এর মধ্যে বাংলাবাজারে ক্ষমতাসীন দলের দুই প্রার্থীর পক্ষে জোড়া খুনের ঘটনাটিও যুক্ত হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উন্নয়ন তো স্বাভাবিক একটি ধারা। যেহেতু রাজনৈতিক প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে, তাই রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়ে বিএনপি অগ্রসর হচ্ছে। সুষ্ঠু ভোট হলে অবশ্যই বিএনপির প্রার্থী জয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে গুম ও খুনের প্রতিবাদ জানানো হবে। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার প্রচারণায় ভোটাররা আকৃষ্ট হচ্ছেন দাবি করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ওসমানীনগর একটি নতুন উপজেলা। প্রথম নির্বাচন হচ্ছে, তাই সাধারণ ভোটাররা উন্নয়নমুখী। এ বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রচার চালানো হচ্ছে।

রওশনের সঙ্গে অলোক শর্মার বৈঠক

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক মন্ত্রী অলোক শর্মা। আজ শনিবার রওশনের বাসভবনে এই বৈঠক হয় বলে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রওশন বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যের ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যাটি মন্ত্রীর নজরে আনেন এবং ভিসা-প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ করেন। তিনি এ বিষয়ে যথাযথ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রওশন বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু ও উন্নয়নের অংশীদার। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাংলাদেশে সবচেয়ে সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি পোশাকশিল্প এবং এ শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত তৈরি পোশাকশিল্প কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় সাংসদ ফখরুল ইমাম, বিরোধীদলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদার দাবিতে দোকান ভাঙচুর, ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্কের মোড়ে শনিবার সকালে চাঁদা না পেয়ে একটি কনফেকশনারিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যার পর থেকে এলাকাবাসী-ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও সাধারণ ছাত্রদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এদিকে ওই হামলায় রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক সূত্র জানায়, শনিবার সকাল আটটার দিকে পার্কের মোড় এলাকায় লিফা ফার্স্ট ফুড অ্যান্ড কনফেকশনারি খোলার পর ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দোকানের পক্ষ থেকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলা চালিয়ে দোকানের ফ্রিজসহ খাবারের কাচের আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে সকাল নয়টার দিকে সেখানকার ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা অবরোধ তুলে নিলে বেলা ১১টা থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে ব্যবসায়ীদের অবরোধের প্রতিবাদে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ফটকের বাইরে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি চায়ের দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। থেমে থেমে চলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এতে যুগান্তর পত্রিকার ফটো সাংবাদিক উদয় চন্দ্র বর্মণসহ পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনগণ রংপুর-কুড়িগ্রাম সড়ক অবরোধ করায় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের সঙ্গে ঢাকাসহ দূরপাল্লার সকল ধরনের যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। পার্কের মোড় দোকান মালিক সমিতির আহ্বায়ক এ কে এম মাসুদ রানা জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ প্রশাসন পার্কের মোড়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়ায় সকালের অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস থেকে ছাত্ররা মিছিল বের করলে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা এক জোট হলে ধাওয়া-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। লিফা ফার্স্ট ফুড অ্যান্ড-কনফেকশনারির মালিক মাজেদুল ইসলাম লাবলু অভিযোগ করেন, সকাল আটটায় ১০-১২ জন ছাত্র এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। দোকানের দুটি ফ্রিজ, শোকেসসহ প্রায় অনেক টাকার মালপত্র ক্ষতি হয় বলে দাবি করেন তিনি। ছাত্রলীগ রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান দিনভর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সকালে দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাচ্ছে একটি পক্ষ।
তবে এই পক্ষটি কারা তা তিনি জানাননি। এ ঘটনারই জের ধরে সন্ধ্যার পর পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম জাহিদুল ইসলাম জানান, সকালের ঘটনায় খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনা হলেও সন্ধ্যার পর আবারও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। সেখানকার পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত: সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্কের মোড়ে কনফেকশনারিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এরপর ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়। এদিকে এই ঘটনা তদন্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা হলেন: চন্দ্র শেখর মণ্ডল, শেখ জসিম উদ্দিন ও ইয়াজ আল রিয়াদ।

নতুন পাখি পেল বাংলাদেশ

নতুন পাখি পেল বাংলাদেশ। পাখিটির নাম সাইক্সের-রাতচরা। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও চার ব্রিটিশ পাখি বিশেষজ্ঞ দল গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজশাহীর পদ্মার চরে পাখিটি আবিষ্কার করেন। পাখি বিশেষজ্ঞদের হিসাবমতে, বাংলাদেশ এমনকি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও এর আগে কেউ এই পাখি দেখেননি। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে জানা গেল, বিশ্বে এই বিশেষ পাখির বিচরণ এলাকা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সম্প্রতি এই এলাকায় সারা পৃথিবীতে বিপন্ন ও বিরল কয়েক জাতের পাখির সন্ধান মিলেছে। পাখিটির গায়ে মেটে ও হালকা খয়েরি রঙের মিশ্রণ রয়েছে। ডানা ও লেজের কিছু কিছু জায়গায় স্পষ্ট সাদা রঙের পালক আছে। এই পাখিরা ২১ থেকে ২৩ সেন্টিমিটার দীর্ঘ হয়ে থাকে। প্রকৃতির সঙ্গে এরা এমনভাবে মিশে থাকে যে প্রায় চোখে পড়ে না। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব এবং আইইউসিএন-বাংলাদেশের সহযোগিতায় ব্রিটিশ পাখি বিশেষজ্ঞ বিল জোনস, ম্যাট প্রায়ার, স্টিফেন স্যামওয়াথ ও ডিন রিয়া, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সহসভাপতি তারেক অণু ও স্থানীয় পাখিপ্রেমী শাহরিয়ার সবুজ গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজশাহী চরে আসেন। ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞ দলটি গবেষণার জন্য এই চরে বসবাসকারী বিরল পাখি ধলালেজ শিলাফিদ্দার ডিএনএ সংগ্রহ করতে এসেছিলেন। এই দলের সদস্যরা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের জালে একটি অচেনা পাখি চলে আসে। পাখিটি যে সাইক্সের-রাতচরা হতে পারে, এটা তাঁরা চিন্তাও করেননি। তারপর তাঁরা গবেষণার নিয়ম অনুযায়ী জালে পাওয়া পাখিটির পায়ে রিং পরানোর জন্য মাপজোখের সময় দেখেন যে পাখিটির আকৃতি বেশ ছোট। তখন তাদের পাখিটিকে সাইক্সের-রাতচরা বলে সন্দেহ হয়। সমস্ত বায়োমেট্রিক তথ্য এবং তার ডানা, লেজ, গলা ইত্যাদি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ছবি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তারপর রাতচরাটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় তার আপন ভুবনে। তারেক অণু বলেন, চারজন ব্রিটিশ পাখি বিশেষজ্ঞ সেখানে উপস্থিত থাকার পরেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পাখি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাখিটির শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ছবি তুলে পাঠানো হয়। ছবি দেখে তাঁদের সঙ্গে বাইরের বিশেষজ্ঞরাও একমত হন যে রাজশাহীতে পাওয়া এই পাখি সাইক্সের-রাতচরা।
নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁরা সম্প্রতি ঘোষণা দেন যে বাংলাদেশের রাজশাহীর চরে সাইক্সের-রাতচরা পাওয়া গেছে অর্থাৎ বাংলাদেশ একটি নতুন পাখি পেল। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই নিশাচর পাখি ভারত, ইরান ও পাকিস্তানের মরুপ্রধান এলাকায় বিচরণ এবং প্রজনন করে শীতকালে মধ্য ও উত্তর ভারতে পরিযায়ন করে। সেই এলাকা থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের পদ্মার চরে তাদের দেখা পাওয়ার ঘটনা পাখিবিজ্ঞানের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বলেন, সারা পৃথিবীর পাখি গবেষকদের জন্য এটা নতুন তথ্য। এই পাখিরা সাধারণত বালুবেষ্টিত এলাকার রাতের পোকা খেয়ে বেঁচে থাকে। তিনি বলেন, রাজশাহীর চরে এই পাখি দেখা গেছে বলে এটা মনে করা ঠিক হবে না যে, মরু এলাকার পাখি এসেছে মানে রাজশাহীতে মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চরের প্রকৃতি এমনিতেই অনেকটা মরুভূমির কাছাকাছি। ম্যাট প্রায়ার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৮০ হাজারের বেশি পাখিকে রিং পরিয়েছেন। তাঁর অভিমত হচ্ছে, এটি একটি প্রাপ্তবয়স্ক সাইক্সের-রাতচরা এবং যেহেতু তাকে একটি দলে দেখা গেছে, ধারণা করা যেতে পারে যে এটি কোনো পথভ্রষ্ট পাখিদের দল নয়। গবেষণা করলে হয়তো রাজশাহীর চরে এই দলের আরও দেখা পাওয়া যেতে পারে। এর দৈর্ঘ্য ২১ সেন্টিমিটার।

কিছু মন্ত্রীর কারণে সরকারের অর্জন ম্লান হয়ে যাচ্ছে

কয়েকজন ব্যক্তি ও কিছু মন্ত্রীর কারণে সরকারের অর্জন ম্লান হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। গতকাল শনিবার রাতে চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্জন কয়েকজন ব্যক্তি ও কিছু মন্ত্রীর আচার-আচরণ ও বক্তব্যের কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। দুঃখ হয়, মন্ত্রী হয়ে আমাকে এটা বলতে হচ্ছে।’ সম্প্রতি সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে জনভোগান্তির বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি দ্বারা আমরা বিপর্যস্ত হই না। যতটা না এদের কারণে হই। বিএনপিকে ভয় পাই না। ভয় পাই এই সমস্ত লোককে। চিন্তা করে কথা বলতে হবে। আরেকজন কথা নেই বার্তা নেই জনগণকে জিন্মি করে ধর্মঘট চালিয়ে গেল। জনগণকে জিন্মি করে আমরা কাজ করতে পারি না। প্রতিবাদের অনেক ভাষা আছে।’ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার নতুন কমিটির অভিষেক উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শাহআলম বীর উত্তম মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, ‘নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে হবে। জনগণকে জিন্মি করে তাঁর মন গলানো যাবে না। যে মানুষকে ঠকায়, সে ডাক্তার নামের কলঙ্ক। ডাক্তার হয়ে যখন রোগীর স্বজনের গায়ে হাত তোলেন, রোগীর মেয়ের গায়ে হাত তোলেন, এটা মানা যায় না।’ মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য কিছু ভুয়া চিকিৎসক আছে। মানুষও বোঝে না। বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি মুজিবুল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাংসদ জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি এম ইকবাল আর্সলান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন, স্বাচিপ চট্টগ্রামের সদস্যসচিব মোহাম্মদ শরীফ ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. আলাউদ্দিন মজুমদার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ফয়সল ইকবাল চৌধুরী।

আরও একজন গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাংবাদিক আবদুল হাকিম হত্যা মামলায় তুফান মিয়া (২৩) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শাহজাদপুর পৌরশহরের চুনিয়াখালী পাড়া মহল্লা থেকে গত শুক্রবার রাতে আটকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, ২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময়কার ভিডিও ফুটেজ দেখে তুফানকে শনাক্ত করা হয়। এরপর বাড়ি থেকে তাঁেক গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দৈনিক সমকাল-এর শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরের দিন বগুড়া থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় হাকিমের স্ত্রী নুরুন নাহার বাদী হয়ে পৌর মেয়র হালিমুল হককে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। তাঁদের মধ্যে এ নিয়ে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

ডাকসু নির্বাচন না হলে নেতৃত্বে শূন্যতা সৃষ্টি হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচন ইজ আ মাস্ট। নির্বাচন না হলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে শূন্যতার সৃষ্টি হবে।’ শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গতকাল শনিবার রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। হাজারো শিক্ষার্থীর মিলনমেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ আড্ডার মঞ্চায়ন করতে তাঁরা হাজির হন কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। এক সপ্তাহ ধরেই এ নিয়ে ক্যাম্পাসে উৎসাহ, উদ্দীপনা ছড়াচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ছিল টুপি-গাউন ক্যামেরার ছড়াছড়ি। রাষ্ট্রপতি ছাত্ররাজনীতিতে নিয়মিত ছাত্রদের অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ৫০ বছর বয়সে নেতৃত্ব দিলে যাঁদের বয়স ২০-২২ বা ২৫ বছর, তাঁদের সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট কীভাবে হবে? লিখিত বক্তব্যে আচার্য বলেন, ছাত্ররাজনীতির বর্তমান হালচাল দেখে মনে হয়, এখানে আদর্শের চেয়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থের প্রাধান্য বেশি। গণতন্ত্রের ভিতকে মজবুত করতে হলে দেশে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। আর সেই নেতৃত্ব তৈরি হবে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই। তিনি বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে অছাত্ররাই ছাত্ররাজনীতির নেতৃত্ব দেয়, নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে ছাত্ররাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা, সমর্থন ও সম্মান ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। এটি দেশ ও জাতির জন্য শুভ নয়।’
গতকাল স্নাতকদের আনন্দকে দ্বিগুণ করে তোলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের প্রাণবন্ত বক্তৃতা। লিখিত বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি নিজের জীবনের কথা বলতে শুরু করেন, ‘আমার নিজের কাছেই অবাক লাগে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। ’৬১ সালে ম্যাট্রিক পাস করেছি, থার্ড ডিভিশন। ইন্টার পাস করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসলাম কিন্তু ভর্তি তো দূরের কথা, ভর্তির ফরমটাও আমাকে দেওয়া হয় নাই। বন্ধুবান্ধব অনেকে ভর্তি হলো, আমি ভর্তি হলাম গুরুদয়াল কলেজে।’ রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পুরো সময়জুড়ে হাসির রোল ওঠে সমাবর্তনস্থলে। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। তবে সমাবর্তনে আমাদের ডাকা হতো না। যারা অনার্স-মাস্টার্সে ছিল, তাদের ডাকা হতো। কনভোকেশনে ক্যাপ-গাউন পরার খায়েশ ছিল। কিন্তু আল্লাহর কী লীলাখেলা, বুঝলাম না, যেই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হইতে পারলাম না, সেইখানে আমি চ্যান্সেলর হইয়া আসছি। বাংলাদেশে যতগুলি পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সবগুলির আমি চ্যান্সেলর।’ রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘আমার নিজেরও ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি। কিন্তু সেই সময়ের রাজনীতি আর আজকের ছাত্ররাজনীতির তফাত অনেক। ষাটের দশকে আমরা যারা ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলাম, তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল দেশ ও জাতির কল্যাণ। দেশের মানুষকে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত করতে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থের কোনো স্থান ছিল না। সাধারণ মানুষ ছাত্রদের সম্মানের চোখে দেখত।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিজের কথা কী বলব, ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েই বিয়ে করে ফেলেছি। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রসংগঠনের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির বয়স ৪৫-৫০ বছর। আমি একটু আর্লি করসি। তবে ২৫-২৬ বছর যদি বিয়ের বয়স ধরা হয়, তবে তো তার ৫০ বছর বয়সে এক সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কথা। বাপ-বেটা মিলে ইউনিভার্সিটিতে থাকার কথা।
বাপ নেতা আর ছেলে ছাত্র। এটা হতে পারে না।’ এবারের সমাবর্তন বক্তা ছিলেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিওর উপাচার্য অমিত চাকমা। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম প্রেসিডেন্ট। একজন রাসায়নিক প্রকৌশলী হিসেবে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করেছেন। সমাবর্তনে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি দেওয়া হয়। অমিত চাকমা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি। আমার কর্মজীবনে সফলতার কারণ, আমি মেধাবী না হলেও মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করেছি।’ তিনি বলেন, সর্বস্তরে সফল নেতাদের তিনটি বৈশিষ্ট্য ছিল। এগুলো হলো—যোগ্যতা, কর্মনিষ্ঠা ও চারিত্রিক গুণ। সমাবর্তনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অমিত চাকমা বলেন, এটা শিক্ষাযাত্রার সমাপ্তি নয়। একটি মাইলফলক মাত্র। শিক্ষার আলো দিয়ে অজ্ঞানতার অন্ধকার মুছে ফেলতে হবে। প্যারাস্যুট যেভাবে খুলতে হয়, মনের দরজা সেভাবে খুলে দিতে হবে। নিজের ক্ষমতাকে সৎ কাজে ব্যবহার করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সমাবর্তন পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু সার্টিফিকেট অর্জন বা পরীক্ষায় ভালো ফল করে দেশের কল্যাণ সাধন করা সম্ভব নয়। এ জন্য ভালো মানুষ হতে হবে।’ সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় মনোরম সাজে। বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও ভবন ছাত্রছাত্রীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে। অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মেডিকেল-ডেন্টাল থেকে অনেক শিক্ষার্থী সমাবর্তনে অংশ নেন। সন্ধ্যাকালীন কোর্স করা শিক্ষার্থীরাও দিনটিতে সবার সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠেন। সমাবর্তনে সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানের সঞ্চালনায় এ সময় সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দীনসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট-সিন্ডিকেট সদস্য এবং একাডেমিক পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা অনুষদভুক্ত বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ডিগ্রিপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েটদের নাম উপস্থাপন করেন। মোট ১৭ হাজার ৮৭৫ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৮০ জনকে স্বর্ণপদক, ৬১ জনকে পিএইচডি ও ৪৩ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেওয়া হয়।

উল্লাসে মাতলেন শিক্ষার্থীরা

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান গতকাল শনিবার উদ্যাপন করা হয়েছে। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদচারণে কলেজ প্রাঙ্গণ মিলনমেলায় পরিণত হয়। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শোভাযাত্রাটি মানিকগঞ্জ-সিঙ্গাইর সড়কের বেতিলা মোড় হয়ে পুনরায় কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। বেলা ১১টার দিকে কলেজের মাঠে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় পরিচালক আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমান, বেতিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পৃষ্ঠপোষক লে. কর্নেল (অব.) আবদুল খালেক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল আউয়াল, জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুদেব সাহা, স্থানীয় বেতিলা-মিতরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাসির হোসেন প্রমুখ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সেজেছিল নতুন সাজে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর টি-শার্ট ও ক্যাপে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন। সাবেক সহপাঠীকে পেয়ে কেউ কেউ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কেউ কেউ উল্লাসে মেতে ওঠেন। আলোচনা পর্ব শেষে বিকেলে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, আবৃত্তি ও কৌতুক পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, যোগ্য নাগরিক হতে হলে লেখাপড়ার বিকল্প নেই। এ জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে পরিপূর্ণ মানুষ হতে হবে। একজন সুশিক্ষিত নাগরিক কেবল নিজের নয়, পরিবার এমনকি সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। সর্বনাশা মাদক সবকিছু ধ্বংস করে দেয়। তিনি বলেন, শিক্ষা অর্জন ও চাকরিক্ষেত্রে নারীরা এখন বেশ ভালো অবস্থানে। সম্প্রতি সাত হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫৫ শতাংশই নারী।

৩০০ মোটরসাইকেল ও ৭৫টি গাড়ি নিয়ে মহড়া

আগামী সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ৩০০ মোটরসাইকেল ও ৭৫টি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গতকাল শনিবার ঝিকরগাছা উপজেলা সদরে মহড়া দিয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দীন। এ কর্মসূচি ঠেকাতে বর্তমান সাংসদ মনিরুল ইসলামের অনুসারীরা গতকাল সকালে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আগে থেকেই মহড়া দিয়ে মাঠ দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাল্টাপাল্টি মহড়ায় গত শক্রবার রাত থেকে ঝিকরগাছা সদরে দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও র্যা ব সদস্যরা সকাল থেকেই ঝিকরগাছা সদরে অবস্থান নিয়েছিলেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর বিমানবন্দর থেকে নাসির উদ্দীন মোটরসাইকেল ও গাড়ির বহর নিয়ে ঝিকরগাছা সদরে ঢোকেন। এ সময় সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। গাড়ির ছাদ খুলে হাতমাইকে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি এই এলাকার সন্তান। এখান থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। সরকারি দায়িত্বে থাকার কারণে এত দিন আপনাদের কাছে আসতে পারিনি। এখন থেকে আমাকে আপনাদের মাঝে পাবেন। আমি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে চাই।’ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকের কর্মসূচি বানচাল করতে বর্তমান সাংসদ মনিরুল ইসলামের লোকজন সকাল থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে আমার লোকজনের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সন্ত্রাসের মোকাবিলা করব।’
মাসখানেক আগে নাসির উদ্দীন আরেকবার ঝিকরগাছায় মহড়া দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি নিয়ে তিনি এর আগে কখনো ঝিকরগাছায় আসেননি। নাসির উদ্দীন নিজেকে ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য দাবি করেন। গতকালের মহড়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে নাসির উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঝিকরগাছার লোকজন আমার সঙ্গে রয়েছে। যে কারণে ৩০০টি মোটরসাইকেল ও ৭৫টি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে করে এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। তারা এখানে আর সন্ত্রাসীদের দেখতে চায় না।’ জানতে চাইলে সাংসদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তিনি (নাসির উদ্দীন) আওয়ামী লীগের কেউ নন।’ স্থানীয় রাজনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগ দুই অংশে বিভক্ত। একাংশের নেতৃত্ব দেন সাংসদ মনিরুল, অপর অংশ নাসির উদ্দীনকে সমর্থন করছে। উপজেলা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামসহ কমিটির বড় অংশ মেজর জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বর্তমানে সভা-সমাবেশ করছে। অপরদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাহমুদসহ অপর অংশ সাংসদ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে আছে।

নির্বাচনে যেতে চায় বিএনপি

কার অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে, এ নিয়ে প্রধান দুই দলের অবস্থান পরস্পরবিরোধী। আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন হবে। অন্যদিকে বিএনপি আগের নমনীয় অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে এখন বলছে, দলীয় সরকারের অধীনে দলটি নির্বাচনে যাবে না। তবে আওয়ামী লীগ মনে করে, বিএনপি যত গরম কথাই বলুক না কেন, বিএনপি এবার নির্বাচন বর্জন করবে না। এ কারণেই তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের কথা ভেবে বর্তমান সাংসদদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলে দলীয় কোন্দল কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি প্রকাশ্যে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বললেও ভেতরে-ভেতরে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক কাজ করছে। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ক্ষমতাবলয়ের বাইরের রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা শুরু করেছে। সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত দলের বাইরে থাকা নেতাদের আবার দলে ফিরিয়ে আনার প্রয়াসও চলছে। দুই দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ যেমন ২০১৪ সালের মতো একটি একতরফা নির্বাচন করতে চায় না, তেমনি বিএনপিও নির্বাচন বর্জনের কথা ভাবছে না।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এই ব্যাপারে অনড় অবস্থানেই আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই বিষয়ে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো সমঝোতায় যাবে না সরকারি দল। উল্টো বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার মাধ্যমে দলটিকে চাপে রেখে নির্বাচনে নিয়ে আসতে চায়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানায়, যেকোনো পরিস্থিতিতে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে—এটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে দলে বিভক্তি এড়াতে ছোটখাটো অপরাধে তৃণমূলের কাউকে দল থেকে বহিষ্কার না করা এবং কমিটি বিলুপ্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এ-সংক্রান্ত চিঠি সব সাংগঠনিক জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। অবশ্য আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি আছে। এর মধ্যে রাজনীতিতে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। পরিস্থিতি দাবি করলে বিএনপিকে কিছু মন্ত্রণালয় ছেড়ে দেওয়ার মতো সমঝোতা হতেও পারে। সবকিছু নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগের অবস্থান আগে যা ছিল, এখনো তা-ই আছে। তারা সংবিধানের বাইরে যাবে না। তিনি বলেন, সংবিধানে বলা আছে, একটি নির্বাচনকালীন সরকার হবে।
গত নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা বিএনপিকে কয়েকটি মন্ত্রণালয় দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। আগামীতেও শেখ হাসিনা চাইলে এমন প্রস্তাব দিতে পারেন। ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর থেকেই বিএনপি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল। এ দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচন বর্জন করে দলটি। সে সময় বিএনপি আন্দোলন নিয়েই ছিল, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রকাশ্য কোনো তৎপরতা ছিল না। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে পুরো দাবি আদায় করা সম্ভব নয় বলে বিএনপির শুভানুধ্যায়ীরা মনে করেন। তাঁরা চান, সরকার কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রস্তুত করুক। অবশ্য বিএনপি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কথা বললেও এখনো পর্যন্ত রূপরেখা চূড়ান্ত করেনি। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের মনোভাব দেখেই এগোতে চায় বিএনপি। বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের সূত্রগুলো জানায়, দলের কার্যক্রমকে এখন মোটা দাগে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তা হলো দল গোছানো, আন্দোলন কৌশল নির্ধারণ ও নির্বাচনী প্রস্তুতি। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, সরকার এখনো আগের অবস্থানে অনড়। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবি তারা সহজে মেনে নেবে না। দাবি আদায়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে রাজপথের আন্দোলনেই যেতে হবে। এ জন্য পর্যায়ক্রমে আন্দোলনে যাওয়ার চিন্তাও করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও এগিয়ে রাখতে চায় বিএনপি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জনগণের প্রত্যাশামতো নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়নি। এরপরের ইস্যু নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার। সরকার আলোচনার মাধ্যমে এই দাবি না মানলে বিএনপির আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এক আলোচনা সভায় মওদুদ আহমদ বলেছিলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আলাপ-আলোচনা, সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট নিরসন করতে চায়। তা সম্ভব না হলে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না। ভবিষ্যতে একদলীয় কোনো নির্বাচন বাংলাদেশের মাটিতে আর হবে না। সে ধরনের পরিকল্পনা কারও থাকলে তাঁরা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন আছেন। গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বিএনপির আন্দোলনও চলবে, নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলবে। বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, দলের জাতীয় কাউন্সিলের দিন বক্তৃতায় খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ শিরোনামে যে রূপকল্পের কথা বলেছিলেন, তার ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচনের জন্য একটি ইশতেহার তৈরির কাজ চলছে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাই একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মতো দলে একধরনের প্রস্তুতি সব সময়ই থাকে। বিএনপিতে প্রার্থী বাছাইয়ের এক ধরনের প্রাথমিক কাজ করা আছে। বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, গত মাসে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং দল গোছানোর নির্দেশনা দেন। এরপর থেকে জেলা কমিটি পুনর্গঠনের কাজও আবার গতি পায়। গত সপ্তাহে দুটি জেলায় সম্মেলন হয়েছে। জানতে চাইলে বিএনপির জেলা কমিটি পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৩টি জেলায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি ও নির্বাচন—এ দুটি বিষয় সামনে রেখে বিএনপি পুনর্গঠনের কাজ করছে। বিএনপি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। সে নির্বাচন যখনই হোক বিএনপি অংশ নেবে,
সে জন্য নির্বাচনের প্রস্তুতিও রাখতে হচ্ছে। বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, নির্বাচন সহায়ক সরকারের চেয়েও দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলাই বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইতিমধ্যে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। তবে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ মনে করেন, দুর্নীতির মামলায় সাজা হলেও খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন। এদিকে কূটনৈতিক মহলও আগামী নির্বাচন যাতে সব দলের অংশগ্রহণে হয়, সে ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। ইতিমধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে গতকাল ব্রিটিশ মন্ত্রী অলোক শর্মার সঙ্গে বৈঠকেও নির্বাচনের বিষয়টি এসেছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নও উভয় দলের কাছে একই বার্তা দিয়েছে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার দাবি

অবিলম্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার দাবিতে যশোরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। যশোর প্রেসক্লাবের সামনে মুজিব সড়কে গতকাল শনিবার এ কর্মসূচি পালন করা হয়। যশোর অন্ধ সংস্থা, প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি ও প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদ এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত কর্মসূচি চলে। এতে প্রায় ৭০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অংশ নেন। কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদের পরিচালক রফিক জামান, সদস্য ইফতেখার মাহমুদ, যশোর অন্ধ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোক্তার আলী,
প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক ইদ্রিস আলী, অভয়নগর সবুজ সংঘের সভাপতি আলিম মোল্যা, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি রুস্তম আলী প্রমুখ। রফিক জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি। এতে প্রতিবন্ধীরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অবিলম্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।

এক দশকে বিদেশে নারীর কর্মসংস্থান বেড়েছে ১০ গুণ

বিদেশে কর্মসংস্থানে বাংলাদেশের নারীদের সংখ্যা গত এক দশকে ১০ গুণ বেড়েছে। আর দুই দশক ধরলে এই বৃদ্ধি ৬০ গুণ। তবে এখনো ঢাকা বিভাগের মেয়েরাই বিদেশে বেশি যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে উত্তরাঞ্চল একদমই পিছিয়ে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এক দশক আগে ২০০৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৮ হাজার নারী বিদেশে কাজ করতে গিয়েছিলেন। আর ২০১৬ সালে সেই সংখ্যা ১০ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজারে। এই বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে গেছেন ২০ হাজার নারী। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নারীরা মূলত লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও জর্ডানে কাজ করতে যাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি যাচ্ছেন ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, হবিগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ থেকে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা নারীদের বিদেশে কর্মসংস্থানকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেছেন, নারীরা যদি বিদেশে যাওয়ার আগে যথাযথ প্রশিক্ষণ নেন, সচেতন হন এবং সরকার যদি যথাযথভাবে নজরদারি করে, তবেই ঝুঁকিগুলো এড়ানো সম্ভব। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সাল থেকে বিদেশে নারীদের কর্মসংস্থান শুরু হয়। ওই বছর মাত্র ২ হাজার ১৮৯ নারী বিদেশে গিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৪ জন। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা প্রথমবারের মতো বছরে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। গত বছর সবচেয়ে বেশি নারী কর্মী গেছেন সৌদি আরবে। এই সংখ্যা ৬৮ হাজার ২৮৬। অবশ্য সৌদি আরবেই নারী নিপীড়নের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া জর্ডানে গেছেন ২২ হাজার ৬৮৯ জন। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ লাখ ৯৩ হাজার ১১১ জন নারী বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে ৩১ শতাংশই গেছেন জর্ডানে। এ ছাড়া আরব আমিরাতে ২৬ শতাংশ, সৌদি আরবে ১৫ শতাংশ, জর্ডানে ৯ শতাংশ, কুয়েতে ৪ শতাংশ এবং ওমানে ৩ শতাংশ নারী গেছেন। এর মধ্যে জর্ডান ও লেবাননে পোশাক কারখানায় অনেক নারী কাজ করলেও বাকি দেশগুলোতে এখনো গৃহকর্মী হিসেবেই কাজ করতে যাচ্ছেন।
ফলে তাঁরা ঝুঁকিতে থাকেন সবচেয়ে বেশি। নির্যাতনের কারণে গত আড়াই বছরে সৌদি আরব থেকে হাজারখানেক নারী ফেরত এসেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ধর্ষণ ও নিপীড়নেরও অভিযোগ করেছেন। আবার বিপরীত চিত্রও কম নয়। লেবাননের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন রিজিয়া বেগম। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটা পোশাক কারখানায় কাজ করি। দেশে টাকা পাঠাচ্ছি। শুধু আমি নই, এখানে পোশাক কারখানায় কাজ করছেন এমন অনেক মেয়েই ভালো আছেন।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মহিলা অভিবাসী শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের (বমসা) পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নারী কর্মীদের বিদেশে যাওয়াকে আমরা খুবই ইতিবাচকভাবে দেখি। একজন পুরুষ প্রবাসী কর্মী অনেক সময় কিছু টাকা বিদেশে খরচ করে কিছু টাকা দেশে পাঠান। বিপরীতে একজন নারী প্রবাসী কর্মী তাঁর আয়ের পুরোটাই দেশে পাঠিয়ে দেন। তবে সংসার, সন্তান বা পরিজন ছেড়ে নারীরা এই যে বিদেশে থাকছেন, তাঁরা যখন নিপীড়নের শিকার হন, তখন বিষয়টি খুবই অমানবিক।’ বিএমইটির মহাপরিচালক সেলিম রেজা প্রথম আলোকে বলেন, এখন আর নারীদের বিদেশে যেতে কোনো খরচ হচ্ছে না। নিয়োগকর্তারাই টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। ফলে নারীরা বেশি বিদেশে যাচ্ছেন। এখন নারী কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। ফলে সমস্যাও কমে আসছে।

লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ টেলিটক

২০০৫ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের বাজারে যাত্রা শুরু করেছিল সরকারি মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটক। সে সময় টেলিটকের একটি সিম কেনার জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন ও অপেক্ষার ছবিও অনেকের মনে আছে। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে পথচলা শুরু করা টেলিটক গত এক যুগে গ্রাহকের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে সরকারি নিরীক্ষা বলছে, গত এক যুগে টেলিটক তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। টেলিটকের ব্যর্থ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় ডাক, টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক (পিটিএসটি) নিরীক্ষা অধিদপ্তর বলছে, সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই বাংলাদেশের মুঠোফোন যোগাযোগ বাজারে অপারেটরটি প্রবেশ করে। এটি অপারেটরটির ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠার এক যুগ পরও লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করতে না পারা এবং সর্বনিম্ন মানের গ্রাহক সন্তুষ্টির কারণে টেলিটক ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে টেলিটকের কার্যক্রম নিয়ে পিটিএসটির নিরীক্ষা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, টেলিটক সরকারি কর্মচারীদের দিয়ে সর্বোচ্চ সরকারি সুবিধা নিয়ে এত দিন পরিচালিত হয়ে এসেছে। কিন্তু বাজারে প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকার জন্য যে সক্ষমতা দরকার, সেটি অর্জনেই এটি ব্যর্থ হয়েছে।
এ অবস্থায় যত বিনিয়োগই করা হোক না কেন, টেলিটকের অবস্থার পরিবর্তন হবে না। ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে শুরু করে গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এ নিরীক্ষা চালায় পিটিএসটি। নিরীক্ষায় বেশ কিছু বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়। এর মধ্যে প্রথমেই ছিল সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই বাজারে টেলিটকের প্রবেশ। এ বিষয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, যেকোনো ব্যবসা সফল করার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পথনকশা বা রোডম্যাপ থাকতে হয়। নির্দিষ্ট ফলাফল অর্জনের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন, যা এক বছরের স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা দিয়ে বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু গত ১০ বছরে এমন কোনো পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেনি টেলিটক। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির বিষয়ে নিরীক্ষা আপত্তিতে আরও বলা হয়েছে, তিন বছর চেষ্টা করেও ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে না পারা ছিল একটি বড় ধরনের ব্যর্থতা। পরিকল্পনা প্রণয়নে চারটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আবেদন করলেও এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পিটিএসটির নিরীক্ষা আপত্তিতে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৯৪ কোটি টাকার মূল্য সংযোজন কর আদায় করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি এই সরকারি কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির বাইরে থেকে আসা জনবলের পেছনে ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা খরচ করেছে সংস্থাটি। দরপত্র না ডেকে বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারে আরও ৮ কোটি টাকা খরচ করেছে তারা। গ্রাহক সন্তুষ্টির বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রা শুরুর পর থেকে টেলিটক এ বিষয়ে কোনো জরিপ করেনি। এটি ছাড়া গ্রাহকদের প্রকৃত সন্তুষ্টির মাত্রা পরিমাপ ও সেবার মান বাড়াতে করণীয় পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। টেলিটকের গ্রাহক সন্তুষ্টি পরিমাপে পিটিএসটির নিরীক্ষা দল ১০টি জেলায় নিজেই একটি সমীক্ষা চালায়। এর মধ্যে ছয়টি বিভাগীয় শহর, দুটি পার্বত্য জেলা ও অন্য দুটি জেলা শহর থেকে মোট ১ হাজার ১৪৯ জন ব্যক্তির মতামত নেওয়া হয়। মতামত প্রদানকারীদের মধ্যে টেলিটকের ব্যবহারকারী ছিলেন ৪৩৬ জন আর ৭১৩ জন অন্য অপারেটরের গ্রাহক। নেটওয়ার্কের মান ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে টেলিটক ব্যবহারকারীদের কাছে করা প্রশ্নে ৭০ শতাংশ গ্রাহক তাঁদের অসন্তুষ্টির কথা জানান। বাকি ২২ শতাংশ তুলনামূলক সন্তুষ্টির কথা জানান। ৮ শতাংশ উত্তর েদননি। এ ছাড়া সেবাপ্রাপ্তির খরচ, গুণগত মান, সেবাকেন্দ্রের সুবিধা, কর্মীদের সহজলভ্যতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা-সংক্রান্ত মোট ১৪টি বিষয়ে টেলিটক ব্যবহারকারীরা তাঁদের মতামত দেন।
এসব বিষয়ের প্রতিটিতেই বেশির ভাগ ব্যবহারকারী অসন্তুষ্ট বলে মতামত দিয়েছেন। অন্য অপারেটরের সেবা ব্যবহারকারী ৭১৩ জন মতামত প্রদানকারী টেলিটক ব্যবহার না করার পেছনে নেটওয়ার্ক সমস্যাকে দায়ী করেন। ৫৫ শতাংশ গ্রাহক এটিকে এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ ছাড়া অন্য অপারেটরে কল করতে উচ্চ কলরেট, বিজ্ঞাপনের অভাব, অপারেটর পরিবর্তনের ঝামেলার মতো বিষয়ে মতামত দিয়েছেন অন্য অপারেটরের ব্যবহারকারীরা। পিটিএসটি এসব নিরীক্ষা আপত্তির বিষয়ে জানিয়ে গত বছর দুই দফায় টেলিটককে চিঠি দেয়। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো উত্তর দেয়নি টেলিটক। টেলিযোগাযোগ-বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার জ্যেষ্ঠ গবেষক আবু সাইদ খান বলেন, টেলিটককে শুরু থেকেই একটি আমলানির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা হয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান চালানোর যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ডাক ও টেলিযোগাযোগসচিবকেই এই ব্যর্থতার প্রধান দায় নিতে হবে। একে সরকার যদি সত্যিই চলতে দিতে চায়, তাহলে একে এর প্রতিযোগী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মতোই বাজার সক্ষমতা ও পেশাদারি অর্জন করতে হবে। জানতে চাইলে টেলিটকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগসচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ছুটিতে ছিলাম, এখনো ছুটিতে আছি। এ বিষয়ে কাগজপত্র না দেখে কিছু বলতে পারব না।’ সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি টেলিটকের কর্মকাণ্ড নিয়ে বেসরকারি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এসিএনএবিআইএনের অনুসন্ধানে আরও বেশি দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে মোট ৩৩টি বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়। এর মধ্যে একটি হলো আর্থিক ও হিসাবরক্ষণের নির্দিষ্ট যেসব নীতিমালা রয়েছে, তার কোনোটাই প্রতিষ্ঠানটি অনুসরণ করেনি।