Saturday, March 16, 2019
‘ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে ছাত্রদের মাঝ থেকেই’

বিকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ডাকসুর নেতাদের সঙ্গে এ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠান মঞ্চে ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। অনুষ্ঠানে ডাকসুর জিএস ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীও উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসুর নির্বাচিত নেতাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাহস থাকা ভালো, তবে আন্দোলনে সুযোগসন্ধানীরা থাকে, তাদের ব্যাপারেও সজাগ থাকতে হবে ছাত্রনেতাদের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব খুঁজি।
আর ছাত্রজীবন থেকেই তা গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য স্কুল পর্যায়ে ক্যাবিনেট চালু হয়েছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আগে রাজনীতির পরিবেশ এতো সুষ্ঠু ছিল না, এখন সুন্দর পরিবেশ ফিরে এসেছে। নেতৃত্ব তুলে আনতে এই ডাকসু নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটা আন্দোলনের নামে ভিসির বাড়িতে আগুন দেয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। সেসময় ছাত্রী হলগুলোতে অস্থিতিশীলতার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে রাতে ঘুমোতে পারিনি। যখন জেনেছি ছাত্রীরা নিরাপদে হলে ফিরে গেছে, তখন বিশ্রামে গিয়েছি।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকালে ডাকসু নির্বাচনের সময় সংঘাতের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন এটা স্বস্তির যে গত ১০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রক্তে ভাসল নিউজিল্যান্ডের শহর

নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে বন্দুকধারীর হামলার বর্ণনা এভাবেই দিলেন সেখানকার বাসিন্দা নুর তাভিস। ওই মসজিদ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের লিনউড মসজিদে হামলা হয় কয়েক মিনিটের ব্যবধানে।
দুই মসজিদে এ হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৯ জন, আহত ৪৮। নিহত তিনজন বাংলাদেশি। এ ছাড়া চার বাংলাদেশি আহত এবং একজন নিখোঁজ আছেন। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা। আল নুর মসজিদের পাশে ক্রাইস্টচার্চ ওভাল মাঠে অনুশীলন এবং সংবাদ সম্মেলন শেষে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য বেরিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা।
আল নুর মসজিদে হামলা হয় স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৪০ মিনিটের দিকে। এর পাঁচ–ছয় মিনিট পর হামলা হয় লিনউড মসজিদে। গুগল ম্যাপের তথ্য অনুসারে, সড়কপথে এ দুই মসজিদের দূরত্ব প্রায় সাত কিলোমিটার।
বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৪৯ জনের মধ্যে আল নুর মসজিদে প্রাণ গেছে ৪১ জনের। সাতজন নিহত হয়েছেন লিনউড মসজিদে। পরে হাসপাতালে মারা যান একজন। হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। দুই মসজিদে একই বন্দুকধারী হামলা চালিয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আল নুর মসজিদে হামলাকারী ব্যক্তির সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার একপর্যায়ে তিনি একটি গাড়ির পেছন থেকে আগ্নেয়াস্ত্র পরিবর্তন ও ব্যাগে থাকা ম্যাগাজিন নিচ্ছেন। তবে লিনউড মসজিদের ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, সেখানে কালো মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরা এক বন্দুকধারী হামলা চালান। তাঁর পরনে ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট।
ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনায় ব্রেনটন টারান্ট (২৮) নামের এক যুবক এবং এক নারীসহ চারজন আটক হয়েছেন। কয়েকটি বিস্ফোরক ধ্বংস করেছে নিউজিল্যান্ডের পুলিশ। পরে অবশ্য একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ব্রেনটনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিউজিল্যান্ডে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির সব মসজিদের দরজা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সব মসজিদের সামনে সশস্ত্র পাহারাও বসানো হয়েছে।
হামলার কিছু আগে এইটচ্যান নামে একটি ওয়েবসাইটে অজ্ঞাত এক ব্যবহারকারী একটি পোস্ট দেন। তিনি এতে লেখেন, পোস্টের লেখক ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ ওপর হামলা চালাতে যাচ্ছেন। হামলার সময় সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওর শুরুতে তিনি অভিবাসীদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দেন। একই সঙ্গে একটি ইশতেহারও প্রকাশ করেন। ইশতেহারে তিনি দাবি করেন, তিনি ২০১১ সালে নরওয়েতে হামলা চালিয়ে ৭৭ জনকে হত্যা করা অ্যান্ডার্স ব্রেহরিং ব্রেইভিকের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। হামলার আগে টুইটারে পোস্ট করা এক ইশতেহারে তিনি এ দাবি করেন। ২০১১ সালের ২২ জুলাই অসলোয় ভ্যানবোমা বিস্ফোরণ এবং এরপর উটোয়া দ্বীপে লেবার পার্টির যুবদলের সভায় গুলি চালান তিনি। ব্রেইভিক দাবি করেছিলেন, বহুত্ববাদ অবলম্বনকারীদের ওপর তিনি ওই হামলা চালিয়েছিলেন।
আল–জাজিরা জানায়, আল নুর মসজিদে হামলার ভিডিওতে দেখা যায়, হামলা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে এক মুসল্লি বন্দুকধারীকে ‘হ্যালো ব্রাদার’ বলে সম্বোধন করেন। এর পরপরই বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের সংবাদপত্র ‘নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড’-এর অনলাইন সংস্করণের এক খবরে বলা হয়, লিনউড মসজিদে হামলায় বেঁচে যাওয়া সৈয়দ মাজহারুদ্দিন নামের একজন বলেছেন, হামলাকারী গুলি শুরু করলে মসজিদের ভেতর থেকে এক তরুণ এগিয়ে গিয়ে ওই হামলাকারীকে ঘুষি মারেন এবং বন্দুক কেড়ে নেন। এরপর বন্দুকধারী পালিয়ে যান।
গুলির ঘটনার পর হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালে ভিড় করেন। গত রাতটা তাঁদের কেটেছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে।
সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, হামলাকারী ব্রেনটন অস্ট্রেলিয়ার বংশোদ্ভূত। তিনি চরমপন্থী, ডানপন্থী ও একজন সহিংস সন্ত্রাসী।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন ভারতীয় রয়েছেন। এ ছাড়া এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন দেশটির ৯ জন নাগরিক। নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় আফগানিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকও রয়েছেন।
নিউজিল্যান্ডের কালোতম দিন
ক্রাইস্টচার্চের এ হামলার ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহডার্ন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের দেশ বৈচিত্র্য, মহানুভবতা, সহানুভূতির ধারক এবং যাঁরাই আমাদের মূল্যবোধে বিশ্বাসী, তাঁদের আশ্রয়স্থল বলেই আমরা এ হামলার শিকার হয়েছি।’ তিনি হামলার দিনটিকে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে কালোতম দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার
ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় শহরগুলোয় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিশেষ করে মসজিদ প্রাঙ্গণগুলোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এদিকে যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, পোপ ফ্রান্সিসসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং ধর্মীয় নেতারা এ হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন।
নিউজিল্যান্ডে গুলির ঘটনা বিরলই বলা চলে। ১৯৯২ সালে দেশটিতে ‘বন্দুক আইন’ আগের তুলনায় কঠোর করা হয়। এর দুই বছর আগে সাউথ আইল্যান্ডের আরামোয়ানা শহরে মানসিক বিকারগ্রস্ত এক ব্যক্তির গুলিতে ১৩ জন নিহত হন। এরপরও দেশটির বন্দুক আইন যথেষ্ট শিথিল রয়েছে। নিউজিল্যান্ডে ১৬ বছরের বেশি বয়সী যে কেউ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের নিবন্ধন পেতে পারে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্রাইস্টচার্চ যেন ভুতুড়ে নগরী by উৎপল শুভ্র

সেই শুক্রবার রাতেই ক্রাইস্টচার্চ যেন ভুতুড়ে এক নগরী! বার–পাব খোলা থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না। রাস্তাঘাটও প্রায় জনশূন্য। এর সঙ্গে টিপটিপ বৃষ্টি মিলে অদ্ভুত একটা বিষণ্নতা নামিয়ে এনেছে চারপাশে। এই শহর যেন আর আগের সেই শহর নেই। আসলেই নেই। আর কোনো দিন আগের মতো হবেও না। ভয়াল এক শুক্রবার চিরদিনের মতো বদলে দিয়েছে ক্রাইস্টচার্চকে। আসলে তো পুরো নিউজিল্যান্ডকেই।
হিংসাকবলিত পৃথিবীতে এই একটা দেশই হয়তো বাকি ছিল, যেখানে এত দিন সেই অর্থে সন্ত্রাসের কালো ছায়া পড়েনি। শান্তির এক দেশ। যে দেশে নিশ্চিন্তে রাতবিরাতে যেখানে–সেখানে ঘুরে বেড়ানো যায়। বিমানবন্দরে চেকইন করার পরও যতবার ইচ্ছা বাইরে বেরিয়ে আবার ভেতরে ঢোকা যায়। যেখানে গুলি নেই, বোমা নেই। হায়, এর সবই এখন অতীতকাল দিয়ে লিখতে হবে। ‘যায়’–এর বদলে ‘যেত’, ‘নেই’–এর জায়গায় ‘ছিল না’।
সন্ত্রাসের ছোঁয়া থেকে দেশটাকে বাঁচিয়ে এমনই রাখতে অস্ট্রেলিয়ার প্রচণ্ড চাপ উপেক্ষা করেও কখনো কোনো সামরিক জোটে যোগ দেয়নি নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার পরিণতি দেখে আরও বেশি করে খুঁজে পেয়েছে সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা। আর এক অস্ট্রেলিয়ানই কিনা রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়ে বদলে দিল এই দেশটাকে!
রাগ–ক্ষোভের হয়তো সময়মতো উদ্গিরণ ঘটবে, কিন্তু ভয়াল এই শুক্রবারে যতজন নিউজিল্যান্ডারের সঙ্গে কথা হলো, সবার একটাই অনুভূতি—অবিশ্বাস্য! আমাদের দেশে এমন কিছু কীভাবে হয়! নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বর্ষীয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক, রেডিও স্পোর্টের ব্রায়ান ওয়াডল বারবার মাথা নাড়ছেন আর বলছেন, ‘এটাও কি সম্ভব! আমাদের দেশে এমন কিছু আগে কখনো হয়নি।’
কাল দুপুরে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল মাঠে যত মানুষ ছিল, সবাই একটা রুমে একরকম বন্দী। যেটির পোশাকি নাম ‘লক্ড ডাউন’। পুরো ক্রাইস্টচার্চই কাল বেলা দুইটার পর থেকে খণ্ড খণ্ড ‘লকড্ ডাউন’–এর সমষ্টি। যে যেখানে ছিল, সেখানেই থাকতে হবে। শহর নিরাপদ মনে হলেই কেবল অনুমতি মিলবে বাইরে বেরোনোর। হ্যাগলি ওভালে ‘হ্যাডলি প্যাভিলিয়ন’ নামে বিশাল হলরুমটাতে বাংলাদেশের সাতজন সাংবাদিক ছাড়া বাকি সবাই নিউজিল্যান্ডের। কেউ মোবাইলে সর্বশেষ অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন। কারও চোখ টেলিভিশনে। দেখছেন আর তাঁদের চোখেমুখে ফুটে উঠছে অবিশ্বাস আর চিরদিনের জন্য চেনা ক্রাইস্টচার্চকে হারিয়ে ফেলার বেদনা। স্কাই স্পোর্টসের ফ্লোর ম্যানেজার তারিনা স্টিফেনস, দেখে মনে হলো বয়স ত্রিশের একটু এদিক–ওদিকই হবে। একটু পরপর এসে হাতের মোবাইলে এটা–ওটা দেখাচ্ছিলেন। মসজিদে ঢুকে হত্যাযজ্ঞ চালানো অস্ট্রেলিয়ান সন্ত্রাসীর ভিডিওটাও তাঁর সৌজন্যেই প্রথম দেখা। দেখাতে দেখাতে বললেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। বারবার মনে হচ্ছে, কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। আমাদের দেশে এমন কিছু হতে পারে না।’
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি গিয়েছিলাম বলে বারবার জানতে চাইলেন, কী দেখেছি সেখানে। দেখেছি রক্তাক্ত মৃতদেহ, সারা শরীরে রক্ত নিয়ে হেঁটে আসতে থাকা তরুণ, সাইরেন বাজিয়ে ছুটে চলা একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স, সাবমেশিনগান হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ...। থামিয়ে দিয়ে তারিনা স্টিফেনস বললেন, ‘আমিও টিভিতে দেখলাম, বাচ্চা বাচ্চা ছেলেগুলো সাবমেশিনগান হাতে দাঁড়িয়ে আছে। ওরা তো এটা ব্যবহার করতে পারবে কি না আমার সন্দেহ হয়। কখনো ব্যবহার করেছে নাকি! আমাদের দেশে পুলিশের কাছে তো এমনিতে কোনো অস্ত্রই থাকে না। থাকে শুধু ছোট্ট একটা লাঠি।’
‘লকড্ ডাউন’ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের টিম হোটেল নভোটেলে পৌঁছে দিচ্ছিলেন কেটলিন গডফ্রে নামের এক তরুণী। একটা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিতে চাকরি করেন। যে কোম্পানির ওপর দায়িত্ব ছিল হ্যাগলি ওভাল সাজানোর। গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎই আবেগপ্রবণ হয়ে বলতে শুরু করলেন, ‘এই শহরেই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। এখানে আমি কখনো একমুহূর্তের জন্যও অনিরাপদ বোধ করিনি। আর এখানেই কিনা...’। কথাটা শেষ করার আগেই তাঁর দুই চোখে জলের ধারা।
‘এখানে’ মানে শুধু ক্রাইস্টচার্চে নয়, পুরো নিউজিল্যান্ডেই তো এত দিন কেউ কখনো অনিরাপদ বোধ করেনি। নামাজ পড়তে যাওয়া বাংলাদেশ দলের বাসের সামনে–পেছনে পুলিশের গাড়ি দূরে থাক, বাসে যে একজন নিরাপত্তা কর্মীও ছিল না—এটি বাংলাদেশের বিবেচনায় অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু নিউজিল্যান্ডে এটাই তো স্বাভাবিক। যেখানে টিম হোটেলেও বাড়তি কোনো নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়নি কখনো। ক্রিকেটাররা রাতের বেলায়ও যেখানে ইচ্ছা যেতে পেরেছেন। কখনো দু–তিনজন মিলে। কখনোবা একাই। বাকি বিশ্বের সঙ্গে ব্যতিক্রম হয়ে এ দেশের আকাশ–বাতাস ছড়িয়ে দিত শান্তির বারতা। সেই বাতাসে এখন লাশের গন্ধ।
পরপর দুই বছরে দুটি বড় ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে আবার আগের রূপে ফেরার লড়াই–ই শেষ হয়নি ক্রাইস্টচার্চের। ভাঙা ক্যাথেড্রাল, পরিত্যক্ত ভবন এখনো মনে করিয়ে দেয় সেই দুঃস্বপ্ন। সেসব হয়তো আবারও আগের রূপে ফিরে আসবে কোনো একদিন। কিন্তু ভয়াল এই শুক্রবারের পর ক্রাইস্টচার্চ আর কখনো আগের মতো হবে না। নিউজিল্যান্ডও না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পূর্ব লন্ডনে মসজিদের বাইরে একজনের ওপর হামলা

এতে বলা হয়েছে, ওই হামলাকারীরা দ্রুত একটি নীল গাড়িতে চড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ওই সময় কয়েকজন মুসল্লি তাদের অনুসরণ করার চেষ্টা করেন। লন্ডনের মেট্রোপলিটান পুলিশের এক মুখপাত্র বলেছেন, পুলিশ পৌঁছার আগেই সন্দেহভাজনরা তাদের গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। এরপর শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর একটার দিকে সেখানে অন্য পুলিশ অফিসারদের ডেকে নেয়া হয়। হামলাকারীদের ব্যবহৃত গাড়িটি সনাক্ত করার জন্য তদন্ত চলছে। হামলাকারীরা সবাই শ্বেতাঙ্গ। ধারণা করা হচ্ছে তারা সবাই ২০-এর কোটায় পা রেখেছে।
ওদিকে হামলার পর আহত ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসকে কল করা হয়। বন্ধুরা তাকে নিয়ে যান পূর্ব লন্ডনের একটি হাসপাতালে। সেখানকার এক মুখপাত্র বলেছেন, আহত ব্যক্তির মাথায় আঘাত গুরুত্বর নয়। তিনি আরো বলেছেন, আহত ওই ব্যক্তি হাসপাতালের একজন স্টাফের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেছেন। কোনো চিকিৎসা না নিয়েই তিনি হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। হামলার উদ্দেশ্য বের করার জন্য কাজ করছেন পুলিশ অফিসাররা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় নি।
ওদিকে নিউজিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় কমপক্ষে ৪৯ নিহত হওয়ার পর শুক্রবার বৃটেনে মসজিদে নিরাপত্তা টহল বাড়ানো হয়েছে। দেশজুড়ে মুসলিমরা যাতে শুক্রবারের নামাজে অংশ নিতে পারেন সে জন্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। সন্ত্রাসী বিরোধী জাতীয় পুলিশিংয়ের নিল বাসু বলেছেন, মসজিদের, বিশেষ করে শুক্রবারে নামাজের দিকে আমাদের সুনির্দিষ্ট দৃষ্টি রয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বিচার গুলি, সর্বত্র পড়ে আছে লাশ

তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারি না কেন এসব মানুষের ওপর এভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নাইন নিউজ।
এতে আরো বলা হয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ১টা ৪০ মিনেটে আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় কয়েকজন হামলাকারী। নূর মসজিদের পাশেই বসবাস করেন লেন পেনেহা। তিনি বলেছেন, আমি দেখেছি কালো পোশাক পরা একজন ব্যক্তি ওই মসজিদ ভবনে প্রবেশ করছে। তারপরই শুনি গুলির শব্দ। এ সময় লোকজন এলোপাতাড়ি দৌড়াচ্ছিল। একপর্যায়ে ওই অস্ত্রধারী মসজিদ থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যায়। পালানোর পথে তার আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটি ফেলে যায়। তারপর পালিয়ে যায়।
এরপরই মসজিদে প্রবেশ করেন পেনেহা। তিনি চেষ্টা করেন সেখানে হতাহতদের সহায়তা করতে। সে সময়কার দৃশ্যই তিনি বর্ণনা করছিলেন। তিনি বলেন, ৫ জন মুসল্লিকে উদ্ধার করে তিনি তার বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজন সামান্য আহত হয়েছেন।
পেনেহা বলেন, এই মসজিদের পাশেই প্রায় ৫ বছর ধরে বসবাস করি আমি। এখানকার মানুষগুলো খুবই ভালো। তারা বন্ধুপ্রতীম। কিন্তু কেন তাদের ওপর এভাবে হামলা হলো আমি বুঝতে পারি না।
তিনি বলেন, অস্ত্রধারী ব্যক্তি একজন ককেশিয়ান। তার মাথায় ছিল একটি হেলমেট। তার উপরে ছিল একটি ডিভাইস। তাকে দেখতে সেনাদের মতো মনে হচ্ছিল।
ওই মসজিদের আরেকজন মুসল্লি মোহন ইব্রাহিম ঘটনার সময় মসজিদের ভেতরে ছিলেন। তিনি বলেছেন, তখন মসজিদের ভেতরে প্রায় ৪শ’ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। এ সময়ই অকস্মাৎ বৃষ্টির মতো গুলি শুরু হয়। গুলির ঘটনা ঘটেছে পাশের রুমে। ফলে আমি হামলাকারীকে দেখতে পাই নি। অকস্মাৎ আমরা গুলির শব্দ পাই। এ সময় জীবন বাঁচাতে এলোমেলো দৌড়াদৌড়ি করতে থাকেন মুসল্লিরা। এখনো আমার আতঙ্ক কাটে নি। তিনি নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, প্রচুর মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। রাস্তার মাঝখানে আমি একটি বালিকার মৃতদেহ দেখতে পেয়েছি।
মোহন ইব্রাহিম নিজের জীবন বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও তার বন্ধুদের জীবন নিয়ে তিনি সন্দিহান। তিনি বলেন, এখনো তাদের অনেকে মসজিদের ভেতরে আছেন। তাদেরকে আমরা ডেকেছি। কিন্তু তাদের কোনো সাড়া পাই নি।
নিউজিল্যান্ডের স্টাফ অনলাইনকে এক ব্যক্তি বলেছেন, তিনি বহু গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তারপরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমি কমপক্ষে ২০ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি।
টিভি এনজেডকে আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, স্থানীয় সময় বিকাল ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে গুলির শব্দ শুনেছেন। তার ভাষায়, আমি গুলির বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছি। তারপর দ্বিতীয়বার আবার। ফলে আমি দৌড়ানো শুরু করি। এ সময় মসজিদের মেঝেতে বসেছিলেন বহু মুসল্লি। আমি তার ভেতর দিয়ে দৌড়ানো শুরু করি এবং মসজিদের পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে আসি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অন্ধকার জগতের নায়িকা মিমি by শুভ্র দেব

দুর্গম এলাকায় থেকে তার এই স্বপ্ন পূরণ হবে না সেটা ভালোই বুঝতেন। তাইতো স্বপ্ন পূরণে দ্বীপ ছেড়ে ২০১৫ সালে আসেন রাজধানী ঢাকায়। একটি বেসরকারি টিভিতে প্রডিউসারের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিছুদিন যাবার পর যুক্ত হন নাইট ক্লাবে। বিভিন্ন নাইট পার্টিতে নাচতেন হতেন শয্যাসঙ্গীও। স্বপ্নপূরণে ঢাকা এসে মিমি বড় কোনো মডেল অভিনেত্রী হতে না পারলেও হয়েছেন কলগার্ল। আর এখন মিমি মাফিয়া গার্ল হিসেবেই পরিচিত।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে শ্রীলঙ্কায় ৩০৪ কেজি হেরোইন ও ৫ কেজি কোকেনসহ তিন বাংলাদেশি আটকের পর আফসানা মিমির বিষয়টি আলোচনায় আসে। ঢাকা থেকে টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা ওই তিন বাংলাদেশিকে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর মাদক সংশ্লিষ্টতায় আফসানা মিমির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। পরে ২৮শে জানুয়ারি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিমানবন্দর এলাকার কাউলা থেকে আফসানা মিমিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসা করেন। এমনকি সোমবার শ্রীলঙ্কা থেকে আসা পুলিশ নারকোটিকস ব্যুরো ও স্পেশাল টাস্কফোর্সের এসপি মাঞ্জুলা সেনারেথ ও ইন্সপেক্টর রোহান কুমারা মিমিকে মাদক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার গাছুয়া গ্রামের মো. আশরাফ উল্লাহ ও পারভিন আক্তারের বড় মেয়ে আফসানা মিমি। সৌদি আরব ফেরত অসুস্থ বাবা তার স্ত্রী দুই মেয়ে ও এক ছেলের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। নিয়মিত খাবার জুটত না তাদের। তাই ছোট মেয়েকে নানীর বাড়িতে দিয়ে আশরাফ স্ত্রী ও বড় মেয়ে আফসানা মিমি এবং কোলের ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রামের মধ্য হালিশহরে আসেন। সেখানে তার স্ত্রী পারভিন আক্তার একটি পোশাক কারখানায় ও তিনি নিজে রং মিস্ত্রির কাজ করতেন। দু’জনের আয় দিয়ে কোন রকম চলে যেত দিন। তখন সুদর্শনা মিমিকে বিয়ে দেন এক পোশাক শ্রমিকের কাছে। বেশি দিন টেকেনি সেই সংসার। মেয়ের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের খারাপ আচরণে সেখানে থেকে মেয়েকে নিয়ে আসেন আশরাফ উল্লাহ। কিছুদিন পর মিমির সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠে আরেক যুবকের। কয়েক মাস তাদের মধ্যে বেশ ভালোই যোগাযোগ ছিল। পরে ওই যুবকের হাত ধরেই মিমি চলে আসে ঢাকায়।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ২০১৫ সালে ঢাকায় এসে মিমি বৈশাখী টেলিভিশনে চাকরি শুরু করে। পরবর্তীতে সে নাচ গান ও অভিনয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। সেই সুবাদেই পরিচয় হয় মিশা ওরফে মিশা সওদাগর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। মিশা মিডিয়াতে মিউজিক ভিডিও তৈরি করতেন। গ্ল্যামার্স গার্ল মিমিকে দেখেই তিনি পছন্দ করে ফেলেন। তখন তিনি মিমিকে বলেন তার ক্যামেরা লুকিং ভালো, কাজ দিলে করবে কিনা। এভাবেই মিমির সঙ্গে মিশার সম্পর্ক বাড়তে থাকে।
কয়েক মাস পর একটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার সুযোগ হয়। পরবর্তীতে মিশা মিমিকে দুবাই যাবার প্রস্তাব করে। দুবাই গিয়ে কি কাজ করবে এমন প্রশ্নে মিশা তাকে জানায় সেখানকার ফাজিয়া ডান্স ক্লাবে আসা অতিথিদের সঙ্গে গল্প, ডান্স এমনকি মোবাইল নম্বর আদানপ্রদান করা। যখন তারা কল করবে তখন তাদের সময় দিতে হবে। তার আরো কয়েক মাস পরে মিমির ভিসা টিকিট ব্যবস্থা করে দেয় মিশা। ২০১৭ সালের ২২শে জুন মিশার সঙ্গেই সে দুবাই যায়। দুবাই এয়ারপোর্টে তাদের দুজনকে ১০-১২ জনের একটি টিম রিসিভ করে গাড়িতে উঠিয়ে পাসপোর্ট কেড়ে নেয়া হয় মিমির। বিমানবন্দর থেকে তাকে নিয়ে বন্দি করা হয় অপরিচিত এক গোপন আস্তানায়। যেখানে তার মতো আরো অনেক যুবতী বন্দি ছিল। খাবারের সময় শুধু তাকে খাবার দেয়া হতো। কারো সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো উপায় ছিল না। কয়েক দিন পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ফাজিয়া ডান্স ক্লাবে। সেখানে তাকে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। মিমি তখন অনেক ব্যক্তির সঙ্গে তার মোবাইল নম্বর আদান প্রদান করে। ধীরে ধীরে সে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে অবৈধ মেলামেশা শুরু করে। পরবর্তীতে এক প্রবাসীর সহযোগিতায় সে ঢাকায় ফিরে আসে।
যেভাবে কলগার্ল আফসানা মিমি: স্বপ্নপূরণে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পর পরই বদলে যেতে থাকে মিমির জীবন। টিভিতে কাজ করার সূত্রে পরিচয় হয় বিভিন্ন জগতের মানুষের সঙ্গে। পোশাকে, ফ্যাশনে নিজেকে আরো বেশি আধুনিক করে তুলে। মিশা সওদাগর, রুহুল আমিন সায়মনসহ আরো অনেকের সঙ্গে তার সখ্য বাড়তে থাকতে। ওই সময় থেকে সে ফুয়াং নাইট ক্লাবসহ আরো অনেক ক্লাবে ডিজে করতো। আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য নিজেকে সেভাবেই গড়ে তুলে মিমি। ডিজে পার্টির সঙ্গে সেখানকার পরিচিত-অপরিচিত অনেকের সঙ্গে রাত যাপনও করেছে। কিন্তু দুবাই থেকে আসার পর পুরোপুরি দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। দুবাই ফাজিয়া ডান্স ক্লাবে সে অনেক পুরুষের সঙ্গে রাত কাটিয়েছে। বিনিময়ে তেমন কোনো টাকা-পয়সা তার ভাগ্যে জোটেনি। সব টাকা নিয়ে যেত দালালরা। তবে সেখান থেকে পালিয়ে দেশে আসার পর তার আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। আশ্রয় নেয় দুসম্পর্কের এক খালার বাসায়। ওই বাসায় থেকেই সে পূর্বপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফের জড়িয়ে পড়ে দেহ ব্যবসায়। ফুয়াং নাইট ক্লাব ছাড়াও বিভিন্ন হোটেলের খদ্দেরের মোবাইল কলে সে চলে যেত তাদের কাছে। ধীরে ধীরে তার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হতে থাকে। এ সময় তার বাবাকে টাকা-পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করতো।
কলগার্ল থেকে মাফিয়া চক্রে: ফুয়াং নাইট ক্লাবে তার সঙ্গে পরিচয় হয় আরিফ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির। এই আরিফের সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল পোশাক ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসা করা চয়েজ রহমানের। মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই চয়েজ রহমানকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আরিফ উদ্দিন, শেখ আহমেদ সুমন, শ্রীলঙ্কায় আটক সূর্যমনি, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন ও দেওয়ান রফিউল ইসলাম ছাড়াও চায়নায় আটক আরো দুই বাংলাদেশি নারীও চয়েজ রহমানের সঙ্গে কাজ করতেন। আরিফ উদ্দিনই চয়েজ রহমানের সঙ্গে আফসানা মিমির পরিচয় করিয়ে দেয়। পরে একটি পোশাক কারখানায় মিমির চাকরি হয়। চয়েজ রহমানের নেতৃত্বে ওই সময় দেশে বিদেশে মাদকের বড় একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। পরে আরিফ উদ্দিন ও শেখ মোহাম্মদ সুমনের সঙ্গে চয়েজ রহমানের দ্বন্দ্বের জন্য তারা পরবর্তীতে আলাদা ব্যবসা করেন। আলাদা ব্যবসায় আরিফ উদ্দিন আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে আঁতাত করে ভয়ঙ্কর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। তাদের মূল উদ্দেশ্যে ছিল সুন্দরী নারী দিয়ে মাদক বহন করানো। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কমবয়সী সুন্দরী নারীদের তারা টার্গেট করতো। বিভিন্ন লোভনীয় কথা বলে কৌশলে যুক্ত করতো তাদের দলে। পরে তাদের দিয়ে বিভিন্ন দেশে মাদক বহন করাত।
একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে আরিফের সঙ্গে মিমির সম্পর্ক গভীর হয়। তখন আরিফই তাকে মালেয়শিয়া যাওয়ার প্রস্তাব করে। ২০১৭ সালের ২৯শে আগস্ট সে প্রথম মালেয়শিয়া যায়। তার সঙ্গে ভ্রমণসঙ্গী হিসেবে ছিলেন আরিফ উদ্দিন। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে তাদের রেহানা নামের এক নারী রিসিভ করেন। এই নারীকে আরিফ তার বড় বোন বলে পরিচয় করিয়ে দেয়। আর মিমি তার গার্লফ্রেন্ড বলে রেহেনার কাছে পরিচয় দেয়। পরে তারা কুয়ালালামপুরে একটি হোটেলে কয়েকদিন অবস্থান করে। ৩-৪ দিন পরে তারা তিনজন শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। শ্রীলঙ্কা যাওয়ার সময় রেহেনা আফসানা মিমির ব্যাগে কয়েকটি প্যাকেট রাখে। মিমি গোয়েন্দাদের বলেছে, সে জানত না ওই প্যাকেটে কি আছে। গুঁড়োদুধ বলে তার ব্যাগে ওই প্যাকেটগুলো রাখেন রেহেনা। পরে জানতে পারেন ওই প্যাকেটগুলোতে হেরোইন ছিল। শ্রীলঙ্কায় পৌঁছার পর আরিফ উদ্দিন মিমিকে ২০ হাজার টাকায় দেয়। টাকা পেয়ে ২০১৭ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর মিমি শ্রীলঙ্কা থেকে আবার ঢাকায় ফিরে আসে।
এদিকে মিমির পাসপোর্ট (বিএন০৬২৭৩৪০) পর্যালোচনা করে তদন্ত কর্মকর্তারা জেনেছেন, মিমি প্রথমবার ২০১৭ সালের ২২শে জুন দুবাই গিয়ে ২৭শে জুলাই ফিরে আসে। পরে ২৯শে আগস্ট মালেয়শিয়া গিয়ে ফিরে আসে ১২ই সেপ্টেম্বর। তৃতীয়বার ২০১৮ সালের ১২ই জুন ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কা গিয়ে ফিরে আসে ১৫ই জুন। সর্বশেষ গত বছরের ১৯শে নভেম্বর ফের শ্রীলঙ্কা গিয়ে ফিরে আসে ৩রা ডিসেম্বর। একটি পাসপোর্ট থেকে তার বিদেশ ভ্রমণের এই তথ্য পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে তার নামে আরো একাধিক পাসপোর্ট থাকতে পারে। এসব পাসপোর্ট ব্যবহার করে সে শ্রীলঙ্কা, মালেয়শিয়াসহ আরো অনেক দেশে যাতায়াত করেছে। ২০১৮ সালে মিমি শ্রীলঙ্কায় গেলে আরিফ তাকে সূর্যমণির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। ওই সময় সে ২৫দিন শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করে এবং সূর্যমণির নির্দেশে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করেছে। সূত্র বলছে, সূর্যমনিসহ গ্রেপ্তার আরো দুই বাংলাদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদে আফসানা মিমির সম্পৃক্ততার কথা বের হয়ে আসে। ৩১শে ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার মাউন্ট লাভিয়ানার টেম্পলার্স রোডের আবাসিক এলাকার যে বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৭২ কেজি হেরোইন ও ৫ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয়েছিল সে বাসাটি আফসানা মিমির তথ্য দিয়েই ভাড়া নেয়া হয়েছিল। এই বাসা ছাড়াও আরো কয়েকটি বাসা আফসানা মিমির তথ্য দিয়ে ভাড়া করেছিল মাফিয়ারা।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, শ্রীলঙ্কান জেলে বন্দি বাংলাদেশি ওই তিন জনকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের কাছ থেকে অনেক তথ্যও পাওয়া গেছে। তারা মূলত বাহক হিসেবে কাজ করতো। বাংলাদেশ থেকে এসব মাদক পাচার করা হতো না। তারা বলেছে, আফগানিস্তান থেকে করাচি বন্দর হয়ে চালান যেত কলম্বো। আটক বাংলাদেশিরা শুধু বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে চালান পৌঁছে দেয়ার কাজ করতো। তিনি বলেন, তদন্তে বড় ধরনের একটি চক্রের তথ্য মিলেছে। আমরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের বড় একটি চক্রে আফসানা মিমি জড়িত রয়েছে। তাকে এই চক্রে জড়িত করেছে আরিফ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। ধারণা করা হচ্ছে এই আরিফ উদ্দিন ও তার সহযোগী শেখ মোহাম্মদ সুমনই এই চক্রের মূল হোতা।
আফসানা মিমির বাবা আশরাফ উল্লাহকে এলাকায় সবাই নুরুল আফসার নামেই চিনে। গতকাল তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমার মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। ৫ বছর আগে তাকে আমি একবার বিয়ে দিয়েছিলাম। সে কখন কার মাধ্যমে ঢাকা চলে যায় তা আমি জানি না। ঢাকা চলে যাওয়ার পর কয়েক মাস তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল না। যখন তার সঙ্গে যোগাযোগ হয় তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সে ঢাকায় কি করে।
তখন আমাকে বলেছিল টিভিতে চাকরি করে। তার কথা আমার বিশ্বাস না হওয়ায় আমি সরাসরি ওই টিভিতে গিয়ে খোঁজ নিই। তখন সেখানকার অনেকের কাছ থেকে জেনে নিশ্চিত হই তার চাকরির বিষয়ে। তবে পত্রিকা ও টেলিভিশনে যখন তার গ্রেপ্তারের খবর শুনতে পাই তখন বিশ্বাস করতে পারিনি আমার মেয়ে এ ধরনের কাজ করবে। তিনি আরো বলেন, গত বছর জাহিদ হাসান নামের এক ছেলের সঙ্গে মিমির বিয়ে হয়েছে। জাহিদের বাবার ঢাকার নতুন বাজারে একটি বাড়ি আছে। সে বাড়িটি ভাড়া দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা মহাখালীর ওয়ারল্যাস গেটের একটি বাসায় থাকেন।
সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মানবজমিনকে বলেন, ওই মেয়েকে আমি কখনও দেখিনি। ঘটনার পর বিষয়টি যখন আলোচনায় আসে তখন খোঁজখবর নিয়েছি। সে এলাকায় নাটক সিনেমায় অভিনয় করতো। এক দেড় বছর আগে সর্বশেষ গ্রামের বাড়িতে এসেছিল বলে জানতে পেরেছি।
মিমির গ্রামের বাড়ি গাছুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম সোহেল মানবজমিনকে বলেন, মিমির পরিবার খুবই নিরীহ। গত বছরের দিকে সে একটি ছেলেকে নিয়ে গাছুয়ায় এসেছিল।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কোনো ভবিষ্যত নেই -রয়টার্সকে রাজিয়া সুলতানা

রাজিয়া সুলতানা বলেন, মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে আশার অভাব রয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংস নির্যাতনের ফলে তারা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
রাজিয়া সুলতানা বলেন, এই আশ্রয় শিবিরে যত বেশি সময় শরণার্থীরা থাকবেন ততই পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকবে।
ওই সাক্ষাতকারে তিনি আরো বলেন, হ্যাঁ, এ কথা সত্য যে, শরণার্থীরা খাবার পাচ্ছে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। এটা তো একটি চিড়িয়াখানার মতো, যেখানে মানুষগুলো শুধু খাবার পাচ্ছে এবং বড় হচ্ছে। তাদের কোনো শিক্ষা নেই। নেই কোনো ভবিষ্যত।
উল্লেখ্য, রাজিয়া সুলতানা নিজেও একজন রোহিঙ্গা। তার জন্ম মিয়ানমারে। তবে তিনি বেড়ে উঠেছেন বাংলাদেশে। ২০১৬ সালে একই রকম সহিংসতায় অনেক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। তার মধ্যে মিয়ানমারে ধর্ষণের শিকার হওয়া কয়েক শত নারীর সাক্ষাতকার নেন তিনি। এরপর প্রতিষ্ঠা করেন রোহিঙ্গা ওমেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। ২০১৭ সালে যেসব নারী বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে এসেছেন তাদেরকে কাউন্সেলিং বা পরামর্শ দেয়া হয় এখান থেকে। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ে গৃহ নির্যাতন ও বাল্যবিবাহের মতো সমস্যা মোকাবিলার জন্য এ সংগঠনে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীদের।
এ বিষয়ে রাজিয়া সুলতানা বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের একটু সুযোগ ও একটু নিরাপত্তা দিন। তারা আপনাকে বিস্মিত করবেন। যখন আমি কাজ শুরু করেছিলাম তখন এই কর্মসূচির আওতায় খুব করে হলেও পাঁচজন মেয়েকে আশ্বস্ত করে আনতে পেরেছিলাম। এখন আমাদের আছেন ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবী। তারা বিস্ময়কর সব কাজ করছেন। আশ্রয় শিবিরে বাল্য বিবাহ, গৃহনির্যাতন ও পাচারের ঝুঁকির বিষয়ে তারা আমাকে অবহিত করেন।
ওদিকে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ করেছেন। তারা বলেছেন, মিয়ানমারে গণহত্যার উদ্দেশ্যে ধর্ষণ চালানো হয়েছে নৃশংসতার সময়ে। ফলে ২০১৭ সালে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা তাদের বাড়িঘর, দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তবে মিয়ানমার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে। তারা বলছে, সন্ত্রাসী হুমকির প্রেক্ষিতে তারা আইনসম্মতভাবে রাখাইনে অভিযান পরিচালনা করেছে এবং শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে চায়। কিন্তু জাতিসংঘ বলছে, শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও সৃষ্টি করা হয় নি।
আর রোহিঙ্গারা চাইছেন তাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা। কারণ, তারা রাষ্ট্রহীন। তাদের ভোটাধিকার নেই। নেই অন্যান্য অধিকারও।
এ অবস্থায় রাজিয়া সুলতানা বলেছেন, আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাশায় ঘাতটি দেখা দিয়েছে এবং এর ফলে পাচারের ঝুঁকি বেড়ে গেছে এরই মধ্যে। এ সমস্যার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে তিনি বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশের রেকর্ডে দেখা যায়, শুধু এ বছরই পাচার চেষ্টার সময় শতাধিক রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজিয়া বলেন, পাচারের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিষয়ে কথা বলতে ভয় পান শিবিরে আশ্রয়গ্রহণকারীরা। কারণ, এ তথ্য প্রকাশ করলে তাদেরকে হত্যা করা হতে পারে। তাই তাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। এই সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি উন্নত জীবনের আকাঙ্খা রয়েছে। তাই পাচার বন্ধ করা একটি কঠিন বিষয়।
রাজিয়া আরো বলেন, তার প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ হবে ক্যাম্পের যুব সমাজকে তাদের রোহিঙ্গা পরিচয় ফিরে পাওয়ার বিষয়ে সহায়তা করা। এটি একটি বিতর্কিত ইস্যু। কারণ, রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করতে অস্বীকৃতি জানায় মিয়ানমার।
তিনি বলেন, একজন রোহিঙ্গা হিসেবে আমাকে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ স্বীকৃতি পাওয়ার পর এটি এখন আমার কাছে একটি বড় ইস্যু। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাশার বিষয়টি উপেক্ষিত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পর্নো ছবির রাজধানী হয়ে উঠছে স্পেন

যখন শুটিং শেষ হয় তখন তারা প্রশংসা করেন। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ।
বৃটেনে অবশ্য ‘লাভ আইল্যান্ড’ নামে একটি টিভি শো পরিচালিত হয়, যেখানে যৌনতাই প্রাধান্য পায়। অবাধে সেখানে মেলামেশার সুযোগ দেয়া হয় নারী-পুরুষদের। আর তা নিয়ে বৃটিশ মিডিয়ায় পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা সচিত্র প্রতিবেদন। এ ছাড়া তো অনলাইনে আছেই পর্নো ছবি। তবে বিবিসি ৩-এর জন্য ‘পর্ন লেইড বেয়ার’ শীর্ষক একটি ডকুমেন্টারি বানাতে স্পেনে সফর করেছেন বৃটেনের ৬ তরুণের একটি দল। তারা চেয়েছেন স্পেনের সেক্স ইন্ডাস্ট্রি কিভাবে বিকশিত হচ্ছে তা তুলে ধরতে। কিন্তু তা করতে গিয়ে তারা শুনতে পেয়েছেন মানব পাচার, জোরপূর্বক মাদক সেবন ও সহিংসতার কাহিনী। তারা প্রত্যক্ষ করেছেন একজন রাশিয়ান যুবতীকে। তিনি শুটিংয়ের সেটে ২০ জন পুরুষের সঙ্গে শয্যাসঙ্গী হতে অপেক্ষায় ছিলেন।
বৃটিশ এই তরুণ দলে ছিলেন ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক নীলম টেলর (২৪), রায়ান স্কারবরো (২৮), শিক্ষার্থী আনা এডামস (২৩) এবং গ্রুপের সবচেয়ে কম বয়সী ক্যামেরন ডালি (২১)। তারা যখন স্পেনের একটি সমুদ্র সৈকত পরিদর্শনে যান সেখানে তাদের থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে দেখতে পান পর্নো ছবির শুটিং হচ্ছে। অভিনেত্রী, অভিনেতাকে পাঠ বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। এরপর তারা কোনোদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে মেতে উঠছেন পর্নো ছবির শুটিংয়ে। এ বিষয়ে নীলম বলেছেন, এর আগে আমরা কেউই পর্নো ছবির শুটিংয়ে যাই নি। কিন্তু যে দৃশ্য দেখেছি তাতে আমরা অতলে হারিয়ে গিয়েছি। আমাদেরকে দেখতে হয়েছে ওই পর্নো ছবির নায়ক, নায়িকাদের। তারা সমুদ্র সৈকতে মেতে উঠছেন অবাধ যৌনাচারে। আর আমাদেরকে তা দেখতে হয়েছে। এটা আমাদের কাছে বড় এক হতাশার বিষয় ছিল।
পর্নো ছবির এক পরিচালক রব ডিজেল বলেছেন, তিনি নিজের দেশ সুইডেন থেকে স্পেনে গিয়েছেন। কারণ, সেখানকার নিয়মনীতি উদার। তিনি পর্নো ছবির যে ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন গত বছর তা ভিজিট করেছেন ৭৬০ কোটি দর্শক। এতে তার আয় হয়েছে ৬৯ লাখ পাউন্ড। তার মতে, স্পেন হলো বহু শত কোটি পাউন্ডের পর্নো ছবির ইন্ডাস্ট্রি। এখানে পর্নো তারকাকে দেখা হয় শিল্পী হিসেবে। এটাকে এখানে পেশা বা কর্মসংস্থান হিসেবে দেখা হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিনি সর্বকালের শীর্ষ ধনী

২০১৫ সালে সম্পত্তিবিষয়ক সাময়িকী মানি ডট কম-এ জ্যাকব ডেভিডসন এক নিবন্ধে লেখেন, মানুষ যতটা ভাবতে পারে, তার চেয়েও বেশি ধনী ছিলেন মানসা মুসা। ২০১২ সালে মার্কিন ওয়েবসাইট সেলিব্রিটি নেট ওয়ার্থের হিসাবে আজকের বাজারে আনুমানিক ৪০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের মালিক ছিলেন মুসা। তবে অর্থনৈতিক ইতিহাসবেত্তারা বলেছেন, মুসার সম্পদ কোনো সংখ্যায় প্রকাশ করা অসম্ভব।
মুসার জন্ম ১২৮০ খ্রিষ্টাব্দে। বড় ভাই আবু-বকরের পর মুসা মালির রাজা হন ১৩১২ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর শাসনামলে মালি সাম্রাজ্যের শান-শওকত ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। তৎকালীন রাজধানী তিম্বুকতুসহ ২৪টি নগর যুক্ত করে মালি সাম্রাজ্য। আটলান্টিক মহাসাগর থেকে আধুনিক কালের নাইজার, বিসাউ, গিনি ও আইভরি কোস্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল মুসার সাম্রাজ্য।
মুসার অধিকাংশ সম্পদের উৎস সোনা ও লবণ। ব্রিটিশ মিউজিয়ামের তথ্যমতে, মুসার শাসনামলে প্রাচীন বিশ্বের সোনার প্রায় অর্ধেকই মালি সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। এর সবেরই মালিক ছিলেন রাজা স্বয়ং।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১৮ বছর ধরে আদালতে ঘুরছেন শতবর্ষী রাবেয়া খাতুন by তোফায়েল হোছাইন

তিনি আরও বলেন, ‘১৮ বছর আগে আমার নামে মিথ্যা অস্ত্র মামলা দেওয়া হয়। আমি কোনও অস্ত্র দেখিই নাই। এই মামলা এতদিন ধরে ভোগ করতেছি। আদালত আমাকে খালাস দেয় না। কোনও শাস্তিও বা অন্যকিচ্ছুও দেয় না। আমার ১০৪ বছর বয়স। আমি অনেক দূর থেকে আসি। আমি আর পারি না। আমি মামলা থেকে খালাস চাই।’
বুধবার (১৩ মার্চ) ঢাকা মহানগর ১ম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দিতে আসেন রাবেয়া খাতুন। ওই আদালতে তার মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজের আক্ষেপের কথা শোনান তিনি।
জানা যায়, ২০০২ সালে ২ জুন তেজগাঁও থানার মামলায় গ্রেফতার হন রাবেয়া খাতুন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ১৯ (ক) অবৈধভাবে অস্ত্র ও গুলি নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে সংশ্লিষ্ট থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে রাবেয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর আদালত রাবেয়া খাতুনকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান। ছয় মাস কারাগারে থাকার পর জামিন পান রাবেয়া খাতুন। পরে রাবেয়া খাতুনসহ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ মামলাটির বিচার শুরু হয়।
রাবেয়া খাতুনের আইনজীবী মেহেদী হাছান পলাশ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একজন নিরীহ বয়স্ক মহিলা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মামলা মোকাবেলা করছেন। কিন্তু ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য প্রতিটি তারিখে আদালতে হাজিরা দেন। তবু মামলা শেষ হচ্ছে-না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলাটি দীর্ঘ ১৭ বছর বিচার চললেও রাষ্ট্রপক্ষ তা শেষ করার আশানুরূপ কোনও উদ্বেগ নিচ্ছে না। পূর্বের বিচারক মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ধার্য করেন। কিন্তু পরবর্তীতে অন্য আরেক বিচারক আত্মপক্ষ সমর্থন থেকে উত্তল করে আবারও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। তাছাড়া গত পাঁচ বছর পর থেকে আর কোনও সাক্ষী সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালতে আসেনি।’
এদিকে সংশ্লিষ্ট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার দুলাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আছে। তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনও হয়নি। আর তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষীটা হলো মামলা প্রমাণ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য ১৩ মার্চ মামলাটির ধার্য তারিখে সাক্ষীর জন্য তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি জামিন অযোগ্য ধারায় ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়। আগামী ২৪ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য আছে। আশা করি আগামী ধার্য তারিখে সাক্ষীগ্রহণ সমাপ্ত হলে মামলা প্রসিকিউশন থেকে প্রমাণ করতে পারবো।’
মামলার এজহারে বলা হয়, ‘আসামি রাবেয়া খাতুনকে তেজগাঁও থানা এলাকার ৩/ক গার্ডেন রোড, কাজীপাড়া আব্দুল জাহিদের ঘরের দক্ষিণ পাশ থেকে পালানোর সময় একটি চটের ব্যাগসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। রাবেয়ার সঙ্গে আরও দুইজন আসামি জুলহাস ও মাসুদের সমপৃক্ততা ছিল।’
২০০২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল আজিজ তদন্ত শেষে ১২ জনকে সাক্ষী করে রাবেয়াসহ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।অপর এক আসামি মাসুদের বিরুদ্ধে সঠিক নাম-ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশ করেন। বর্তমানে জুলহাস পলাতক রয়েছেন। মামলাটিতে এ পর্যন্ত ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ৬ জন সাক্ষী আদালত উপস্থাপন করেছেন।
২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আসামি রাবেয়া খাতুনের আইনজীবী সাক্ষী সমাপ্ত করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আবেদন করেন। তৎকালীন বিচারক রুহুল আমীন আবেদন মঞ্জুর করে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেন। অতঃপর গত ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর আরেক বিচারক এসে মামালটি আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের থেকে উত্তল করে আবারও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন।
মামলায় ৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০০৭ সালে তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।এরপর আবার ২০১৪ সালের আরও তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১১ মের পর থেকে আর কোনও সাক্ষী আদালতে আসে নাই। আগামী ২৪ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খাদেমের বীরত্বে বেঁচে গেল অর্ধশতাধিক মুসল্লির প্রাণ

সিনেমার দৃশ্য মনে হলেও নিউজিল্যান্ডের লিনউড মসজিদে গতকাল ঠিক এমনটিই ঘটেছে।
অসাধারণ বীরত্ব দেখানো ওই যুবক মসজিদের দেখভাল করেন। বাংলাদেশে এরা খাদেম বলে পরিচিত। গতকাল ওই খাদেমের বীরত্বেই মসজিদের অর্ধশতাধিক মুসল্লি প্রাণে বেঁচে গেছেন। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে খাদেমের সাহসিকতার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ মাজহারউদ্দিন জানান, তিনি ও মসজিদের খাদেম বন্ধু। বন্দুক হামলার সময় তারা দু’জনেই মসজিদে ছিলেন। তিনি বলেন, হঠাৎ খুব কাছেই গুলির শব্দ শুনতে পান তিনি। আন্দাজ করেন যে, বন্দুকধারী তার একেবারেই নিকটে। এতে সবাই আতঙ্কিত হয়ে চিল্লাচিল্লি শুরু করেন। সৈয়দ মাজহারুদ্দিন বলেন, আত্মরক্ষার জন্য আমি আশ্রয় খুঁজতে থাকি। তখন মসজিদের সদর দরজা দিয়ে বন্দুকধারী ভেতরে প্রবেশ করে।
ছোট মসজিদটিতে এ সময় ৬০-৭০ জন মুসল্লি ছিলেন। দরজার পাশেই বয়স্ক ব্যক্তিরা নামাজ পড়ছিলেন। এসব ব্যক্তিদের দিয়ে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে বন্দুকধারী। ঢালাওভাবে গুলি চালাতে থাকে তাদের ওপর। তার গায়ে ছিল ‘প্রটেকটিভ গিয়ার’ (আত্মরক্ষা করার মতো পোশাক বা সরঞ্জাম)। তখন হঠাৎ এক যুবক সুযোগ বুঝে বন্দুকধারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তার বন্দুক ছিনিয়ে নেয়। এই যুবক মসজিদটির দেখভাল করে থাকেন অর্থাৎ খাদেম। পরে বন্দুক হাতে খাদেম ওই হামলাকারীকে তাড়া করতে থাকেন। বন্দুক হাতে পেলেও এর ট্রিগার খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। হামলাকারীকে পেছন দিক থেকে ধাওয়া করলেও সে বাইরে অপেক্ষারতদের সঙ্গে গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায়।
মসজিদের ভেতরে বন্দুকধারীর হামলায় মাজহারুদ্দিনের আরো কয়েকজন বন্ধু গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলে তার এক বন্ধু মারা যান, আরেক বন্ধুর তীব্র রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। মাজহারুদ্দিন বলেন, আমি দৌড়ে বের হই। পরে পুলিশ আসে। তারা আমাকে আর মসজিদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। ফলে রক্তক্ষরণ হওয়া বন্ধুর জীবন বাঁচাতে পারিনি। অ্যাম্বুলেন্স আসতে আরো আধাঘণ্টার বেশি সময় লাগে। ততক্ষণে তার প্রাণ হয়তো শেষ হয়ে গেছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মৃতদেহ থেকে কিডনি প্রতিস্থাপনে জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা by তাসকিনা ইয়াসমিন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ১১ ভাগ মানুষ কিডনি রোগে মারা যান। আর অস্ট্রেলিয়ায় এই রোগে মৃত্যুর হার শতকরা ১৬ ভাগ, আইসল্যান্ডে ১০ ভাগ এবং বাংলাদেশে ১৬ ভাগ। একটি গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ডা.রফিকুল ইসলাম জানান,দেশে প্রতিবছর কিডনি রোগে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ মারা যান। এছাড়া, বর্তমানে দেশে কিডনি রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন মোট ১৭০ জন নেফ্রোলজিস্ট। রোগীদের ডায়ালায়সিস করার জন্য ১৩০টি সেন্টার রয়েছে। এসব সেন্টারে ১২০০ ডায়ালায়সিস মেশিনে মোট ২৫ হাজার রোগী ডায়ালায়সিস করিয়ে থাকেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বছরে একজন রোগীর কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করাতে দুই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হয়। মাত্র ১০ ভাগ রোগী এই ব্যয় বহন করতে পারেন। বেশির ভাগ রোগীর পক্ষে এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয় না। ফলে তাদের অনিবার্য পরিণতি হয় মৃত্যু।
প্রফেসর ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারও কিডনি ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বিকল না হলে সাধারণত রোগ ধরা পড়ে না। তাই আমরা এটিকে বলি সাইলেন্স কিলার।’ তিনি বলেন, ‘কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে হলে এর প্রতিরোধই হচ্ছে উত্তম উপায়। বিশ্বজুড়ে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (সিকেডি)-এ ৮৫০ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এরমধ্যে দুই দশমিক চার মিলিয়ন রোগী প্রতিবছর মারা যাচ্ছেন।’
সব দেশে সব বয়সী মানুষের মধ্যে এই রোগে আক্রান্তের হার ১০ ভাগ। এছাড়া, বিশ্বে প্রতি পাঁচ জন পুরুষের মধ্যে একজন এবং প্রতি চার জন নারীর মধ্যে একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আগামী ১০ বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে ৩১ দশমিক সাত ভাগ মানুষ কিডনি রোগে মারা যাবেন বলে সতর্ক বার্তা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা ।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। অতিরিক্ত মোটা, অকারণে বমির ভাব— এ ধরনের লক্ষণগুলো কিডনি বিকল হওয়ার কারণ হতে পারে। কোনও সাধারণ চিকিৎসক যদি মনে করেন যে, রোগীর কিডনিতে সমস্যা আছে, তাহলে রোগীকে দ্রুত কিডনি বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করা উচিত। কারণ, কিডনি রোগ হলে রোগীর উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ পর্যন্ত দেশে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ৭০ ভাগ ডোনার হলেন মায়েরা। মা তার সন্তানকে কিডনি দিয়েছেন। এছাড়া, বাবা দিয়েছেন ১২ ভাগ, বোন ৮ ভাগ, অন্যরা ১০ ভাগ এবং একজন মাত্র স্বামী তার স্ত্রীকে কিডনি দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে কিডনির রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা খুব বেশি। এ কারণে কিডনির চাহিদাও বেশি। তাই, মৃতদেহ (ক্যাডাভার) থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারলে তা সবার জন্য ভালো হবে।’
কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, ‘এদেশের গণমাধ্যম বা স্বেচ্ছাসেবি কোনও সামাজিক সংগঠন ক্যাডাভার থেকে কিডনি প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে সচেতনতা তৈরির কাজটি করতে পারে। আমরা চিকিৎসকরা যদি এটি নিয়ে কাজ করি, তাহলে মানুষজন অন্য চোখে দেখবে। তারা ধারণা করবে— এতে আমাদের কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য আছে।’
ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ডা. এম ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আইনের কারণে এখনও এ বিষয়টি নিয়ে কাজ হচ্ছে না। তবে এটি হলে রোগীর জন্য এবং আমাদের চিকিৎসকদের সবার জন্যই ভালো হয়। পাশের দেশ ভারতের কোনও কোনও এলাকায় মরদেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ করে তা রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হলে এটি শুরু করা সম্ভব।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে লোকসভা নির্বাচনের টুকিটাকি

এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে মাঠে আছে কংগ্রেস ও বেশ কিছু আঞ্চলিক দল।
গুরুত্বপূর্ণ উত্তর প্রদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে জোট গড়ছে দুটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক দল। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন হবে ২৭২ আসন।
অবিশ্বাস্য রকম বিশাল আয়োজন
প্রায় ৯০ কোটি ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন এবং এজন্য ভোট কেন্দ্র থাকবে দশ লাখেরও বেশি। ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়া মিলে মোট যে পরিমাণ মানুষ তার চেয়ে বেশি ভারতে নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ৬৬% ভোটার ভোট দিয়েছিলো এবং ৪৬৪টি দলের ৮ হাজার ২৫০ প্রার্থী সে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলো।
দীর্ঘ সময়
এবার ভোট হবে ১১, ১৮, ২৩ ও ২৯ এপ্রিল এবং ৬, ১২ ও ১৯শে মে। কিছু রাজ্যে ভোট হয় কয়েক ধাপে। ভারতের প্রথম নির্বাচন হয়েছিলো ১৯৫১-৫২ সালে এবং সেটি শেষ করতে সময় লেগেছিলো তিন মাস। ১৯৬২ থেকে ৮৯ সালের মধ্যকার নির্বাচনগুলোতে সময় লেগেছিলো ৪-১০ দিন। সবচেয়ে কম চারদিন সময় লেগেছিলো ১৯৮০ সালের নির্বাচনে।
প্রচুর অর্থ ব্যয়
ভারতীয় একটি সংস্থার হিসেবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে দল ও প্রার্থীরা ব্যয় করেছিলো প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। ভারতের নির্বাচনের অংশ নেয়া দলগুলোকে তাদের আয়ের উৎস প্রকাশ করতে হয়। গত বছর মোদী সরকার নির্বাচনী বন্ড ছাড়ে, যা ব্যবসায়ী ও অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রেখে চাঁদা দেয়ার সুযোগ করে দেয়। দাতারা ইতোমধ্যেই ১৫০ মিলিয়ন ডলার এই বন্ডের মাধ্যমে দিয়েছে এবং খবর অনুযায়ী এর সিংহভাগই গেছে বিজেপির কাছে।
নারীর হাতে সুযোগ থাকবে?
২০১৪ সালের নির্বাচনে নারী ও পুরুষের ভোটারের ব্যবধান ছিলো খুব কম। নারীদের ভোট দেয়ার হার ছিলো ৬৫.৩%। আর পুরুষের ছিলো ৬৭.১%। দলগুলোও নারীদের গুরুত্ব দেয়া শুরু করেছে। তাদের জন্য থাকছে নানা প্রতিশ্রুতি- শিক্ষা লোন, ফ্রি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার, মেয়েদের জন্য সাইকেল: এমন অনেক কিছু।
নরেন্দ্র মোদী
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বেই বিজেপি ২৮২টি আসনে জিতে নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছিলো। সেটিই ছিলো প্রথমবারের মতো বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া। এ বিশাল জয়ের কৃতিত্ব যায় মোদীর ঘরে এবং তিনি চিত্রিত হন পরিশ্রমী নেতা হিসেবে। অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা নিয়ে অসুবিধায় থাকলেও নরেন্দ্র মোদীই এখন বিজেপির প্রধান ভোট সংগ্রাহক। তার সাথে রয়েছে দলের মধ্যে তার বিশ্বস্ত একটি অংশ যেমন অমিত শাহ। বিরোধী পক্ষেরও তাই টার্গেট মি. মোদী।
ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন দলের আশা
১৩৩ বছরের পুরনো কংগ্রেস কি ফিরে আসতে পারবে ক্ষমতায়? এটিই এখন বড় প্রশ্ন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে শোচনীয় হার মানতে হয়েছিলো তাদের। মাত্র ৪৪টি আসন পেয়েছিলো তারা। পরের চার বছরে অনেক রাজ্য নির্বাচনেও হেরেছে তারা। তবে গত ডিসেম্বর থেকে দলটি শক্তি পুনরুদ্ধারের দিকে যেতে পারছে বলে মনে হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে জয় পেয়েছে। তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেছে।
অর্থনীতিই মূল বিষয়
মোদী সরকারের সময়ে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি কিছুটা গতি হারিয়েছে। শস্যের দাম পড়ে যাওয়ার ঘটনা কৃষকদের ভীষণ ক্ষুব্ধ করেছে। ২০১৬ সালের নোট নিষিদ্ধের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর সার্ভিস ট্যাক্স ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। ভাটা এসেছে রপ্তানি আয়েও। তাই বেড়েছে বেকারত্ব। কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ঋণের দায়ে ডুবতে বসেছে। অথচ ভারতের জিডিপি অন্তত ৭ শতাংশ হারে বাড়া প্রয়োজন। নরেন্দ্র মোদী বলেছেন অর্থনীতিতে সংস্কারের কাজ চলছে। যদিও নির্বাচনেই প্রমাণ হবে যে সেটি করার সময় তিনি আর পাবেন কি-না।
দলগুলো লুফে নিবে জনপ্রিয় ইস্যুগুলো
নরেন্দ্র মোদীর সরকার সরাসরি কৃষকদের ঋণ বা ঋণ মওকুপ সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পিছিয়ে পড়াদের জন্য চাকুরীতে কোটার কথাও বলছেন তিনি। রাহুল গান্ধী তার দল জিতলে গরীবদের একটি ন্যুনতম আয়ের নিশ্চয়তা দিচ্ছেন।
জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গ
সমালোচকদের মতে মোদীর হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ভারতকে বিভক্ত করেছে। যদিও তার সমর্থকরা এতে বেজায় খুশি। ভারতের ১৭ কোটি মুসলিম, অনেকে মনে করেন , যে তারা অদৃশ্য সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। বিজেপির কোনো মুসলিম এমপি নেই। তবে ২০১৪ সালে সাতজন মুসলিমকে প্রার্থী করেছিলো তারা যদিও তারা সবাই পরাজিত হয়েছেন।
পাকিস্তান ইস্যু
পাকিস্তানে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা নরেন্দ্র মোদীকে একটি শক্তিশালী ইমেজ দিয়েছে। হামলা করে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে হামলা হলে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে কোন দ্বিধা করবেন না তিনি। এটা পরিষ্কার যে জাতীয় নিরাপত্তাকেই মোদী নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান বিষয় বানিয়েছেন। যদিও এটি কতটা কাজ করবে তা পরিষ্কার নয়। উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশ জাতীয় রাজনীতিতেও বেশ প্রভাবশালী। এখান থেকে ৮০ জন যাবেন ভারতের পার্লামেন্টে। আবার ভারতে সামাজিকভাবে সবচেয়ে বিভক্ত রাজ্যও এটি। ২০১৪ সালে বিজেপি ৭১ আসনে জিতেছিলো। তবে এ রাজ্যে এবার এক হয়েছে দু’ প্রতিদ্বন্দ্বী মায়াবতী ও অখিলেশ যাদব। তারা ৫০টির বেশি আসন পাওয়ার আশা করছেন যার মাধ্যমে দিল্লী জয়ের পথ বাধাগ্রস্ত হবে বিজেপির জন্য। যদিও মোদী সমর্থকরা আশা করছেন শেষ পর্যন্ত মোদী এ জোটকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হবেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মঙ্গলগ্রহে প্রথম পা রাখবেন একজন নারী

এতে অংশ নেবেন শুধু নারীরা।
এ সময়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যান ম্যাক্লেইন এবং ক্রিস্টিনা কোচ মহাশূন্যে ভাসবেন। তুলার মতো তারা সাত ঘন্টা ধরে মহাকাশে হেঁটে বেড়াবেন। তাই ব্রাইডেনস্টিন বলেছেন, এ দিনগুলো হবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, ম্যাক্লেইন ও কোচ দু’জনেই ২০১৩ সালের জ্যোতির্বিদদের শ্রেণিভুক্ত। ওই সময় যে পরিমাণ জ্যোতির্বিদ নাসায় যোগ দিয়েছেন তার মধ্যে অর্ধেকই নারী। এ যাবতকাল যত আবেদন জমা পড়েছে নাসায় তার মধ্যে ওই সময়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদন জমা হয়, যার সংখ্যা কমপক্ষে ৬১০০। সাম্প্রতিক ফ্লাইট ডিরেক্টর ক্লাসেরও শতকরা ৫০ ভাগ নারী।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অন্ধকারে বাঁচে না গণতন্ত্র by রফিকুজজামান রুমান

কিন্তু গণতন্ত্রের পাটাতন যে গণমাধ্যম, সেও যদি উন্নয়নের ‘বলী’ হয়, তখন সমাজে রাষ্ট্রে অন্ধকার নেমে আসে। সেই অন্ধকারে পথ হারায় সবাই। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় গণতন্ত্র নিজেই। গণতন্ত্র অন্ধকারে বাঁচে না।
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট বছর দুয়েক আগে এমন একটি স্লোগানই নির্ধারণ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দৈনিকটির ১৪০ বছরের ইতিহাসে কোনো অফিসিয়াল স্লোগান ছিল না। ২০১৬ সালে পত্রিকাটির মালিকানার পরিবর্তন হলে নতুন স্লোগানটি সংযুক্ত করা হয়। স্লোগানটি হলো “অন্ধকারে মরে যায় গণতন্ত্র (Democracy dies in darkness)।” এটি এমন সময়ে করা হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র তার ৪৫তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেছে নিয়েছে। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে এবং ক্ষমতায় আসার পর থেকেও নানা কৌতুহল উদ্দীপক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো গণমাধ্যমের সমালোচনা। সংবাদ মাধ্যমের সমালোচনায় মুখর ট্রাম্প কোনো রাখঢাক না রেখেই যা খুশি তাই বলে যাচ্ছেন। সাংবাদিকরা ‘অসৎ’, ‘এরা আমেরিকার জনগণের শত্রু’ সহ আরো নানা তীর্যক মন্তব্য করেছেন।
অনেকেই মনে করেছিলেন দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকাটি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করেই তাদের নতুন স্লোগান প্রণয়ন করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো- এক বছর আগেই একটি সাক্ষাৎকারে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এর নতুন মালিক, যিনি আমাজনডটকম এরও প্রতিষ্ঠাতা, জেফারি বেজোস স্লোগানের কথাগুলো বলেছিলেন। ২০১৬ সালের ১৮ মে এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন পোস্ট এরই নির্বাহী সম্পাদক মার্টিন ব্যারন। সেখানে কথা প্রসঙ্গে বেজোস বলেছিলেন, “আমি মনে করি আমাদের অনেকেরই বিশ্বাস যে, অন্ধকারে মরে যায় গণতন্ত্র । তাই (গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য) কিছু প্রতিষ্ঠানকে (যেমন: গণমাধ্যম) আলো ছড়ানোর দায়িত্ব নিতে হয়।” ধারণা করা হয়, জেফারি বেজোস এর এই কথা থেকেই ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের নতুন স্লোগানটি নিয়ে নেয়- অন্ধকারে মরে যায় গণতন্ত্র
(Democracy dies in darkness)। যদিও বেজোস স্বীকার করেন, তিনি “অন্ধকারে মরে যায় গণতন্ত্র”- এটি তার নিজের কথা নয়। কথাটি শুনেছেন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক, বিখ্যাত অনুসন্ধানী প্রতিবেদক বব উডওয়ার্ডের কাছ থেকে। উডওয়ার্ড তার সর্বশেষ বই দ্য লাস্ট অব দ্য প্রেসিডেন্টস মেন নিয়ে ২০১৫ সালে একটি প্রেজেনটেশন দেওয়ার সময় কথাটি বলেছিলেন যেখানে বেজোস উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু ১৯৭২ সালে ‘ওয়াটেরগেট স্ক্যান্ডাল’ রিপোর্ট করে আমেরিকার ৩৭তম প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে পদত্যাগে বাধ্য করা উডওয়ার্ড জানান, Democracy dies in darkness ঠিক তার নিজের উক্তি নয়। এটি তিনি বেশ কয়েক বছর আগে একটি বিচারিক মতামতে শুনেছিলেন, যেখানে আমেরিকার সংবিধানের প্রথম সংশোধনী নিয়ে মতামত দেওয়া হয়। যদিও উডওয়ার্ড ঐ বিচারপতির নাম মনে করতে পারেননি। উডওয়ার্ড আরো জানান, “এটা (‘অন্ধকারে মরে যায় গণতন্ত্র’ কথাটি) অনেক আগের ব্যাপার। এটা প্রেসিডেন্ট ট্র্যাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে না। এটার মূল উদ্দেশ্য হলো এটা বলা যে, সরকারের গোপনীয় আচরণ বিপদজনক।” পরবর্তীতে বিচারপতির নাম জানা যায়। তিনি হলেন ডেমোন জে কেইথ। তিনি ‘ওয়ারেন্ট ছাড়া কারো কথা রেকর্ড করা যাবে না’ মর্মে একটি রুল দিতে গিয়ে ঐ কথাটি বলেছিলেন।
যা-ই হোক, শেষ পর্যন্ত দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এই কথাটিই নিজেদের স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই স্লোগানটি ব্যবহার করা হচ্ছে। অবশ্য স্লোগানটি নির্বাচন করার প্রক্রিয়া সহজ ছিল না। ওয়াশিংটন পোস্ট এর একটি বিশেষজ্ঞ দল সম্ভাব্য আরো পাঁচশত স্লোগান নিয়ে কাজ করে। শেষ বিচারে টিকে যায় এই স্লোগানটিই- “অন্ধকারে মরে যায় গণতন্ত্র।” আগেই বলা হয়েছে, ১৪০ বছরের ইতিহাসে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কোনো অফিসিয়াল স্লোগান ছিল না। বিভিন্ন সময় তারা কিছু বাণিজ্যিক স্লোগান দিলেও পুরো পত্রিকার জন্য অফিসিয়াল স্লোগান এই প্রথম।
ওয়াশিংটন পোস্ট যখন নতুন স্লোগান দিয়ে চারিদিকে হইচই ফেলে দিয়েছে, বসে থাকেনি তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নিউ ইয়র্ক টাইমসও। তাদের অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে “দ্য ট্রুথ” নামে একটি বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। বলা হয়, “সত্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। সত্য জানা কঠিন। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সত্য জানা এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” এখান থেকেই নিউ ইয়র্ক টাইমস এর নতুন স্লোগান নির্ধারিত হয়- “আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সত্য জানা এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ (The truth is more important nwo than ever)।”
ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস এর এই স্লোগান কাকতালীয়ভাবে হলেও এমন সময়ে আলোড়ন তুললো যখন ডোনাল্ড ট্র্যাম্প ক্ষমতায় এবং আমেরিকার গণতন্ত্র ও ভবিষ্যত নিয়ে অনেকেই নানামুখী বিতর্কে লিপ্ত। আমেরিকার প্রথম সারির পত্রিকাগুলো ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট না করার জন্য প্রকাশ্য প্রচারণা চালিয়েছিল। ওয়াশিংটন পোস্ট তো ২০ জন প্রতিবেদকই নিয়োজিত করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যাবতীয় তথ্য উদঘাটন করার জন্য। পোস্ট এর সহযোগী সম্পাদক বব উডওয়ার্ড প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “(ট্রাম্প সম্পর্কে) অনেক কিছুই জানা বাকি আছে। আমরা ২০ জন প্রতিবেদক নিয়োগ করেছি ট্রাম্পের জীবনের প্রতিটি বিষয়ের তথ্য অনুসন্ধানের জন্য। এমনকি আমরা এ বিষয়ে একটি বই বের করারও পরিকল্পনা করছি।”
এতো কিছুর পরেও ট্র্যাম্পের বিজয় ঠেকানো যায়নি। ভূমিধ্বস বিজয় নিয়ে তিনি ক্ষমতায় বসেন। কিন্তু থেমে নেই গণমাধ্যম। ট্রাম্প যেমন গণমাধ্যমকে ধুয়ে দিচ্ছেন, গণমাধ্যমও তেমনি ট্রাম্পের ব্যাপারে অসহনশীল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে চলমান সম্পর্ক (নাকি বৈরিতা) কি তাহলে নতুন কোনো বার্তা দিচ্ছে? হঠাৎ করে প্রভাবশালী দুটি পত্রিকার ‘গণতন্ত্র’ ও ‘সত্য’ নিয়ে এমন উঠে পড়ার পেছনের কারণ কী? আমেরিকার গণতন্ত্র কি আসলেই হুমকির মুখে পড়েছে? সেক্ষেত্রে জনগণ বেছে নিবে কোনটিকে, সরকার নাকি গণমাধ্যম? অবশ্য আমেরিকার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসন বহু আগেই বলে গেছেন, “Were it left to me to decide whether we should have a government without newspapers, or newspapers without a government, I should not hesitate a moment to prefer the later.” সংবাদপত্রহীন সরকারের চেয়ে সরকারহীন সংবাদপত্র ভালো।
আমেরিকার এই অবস্থাকে ভূমিকা হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে পর্যালোচনা করাই এই লেখার মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে “অন্ধকারে মরে যায় গণতন্ত্র”- এই স্লোগানের মর্মার্থ বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চায় বেশ জুঁতসইভাবে খাপ খেয়ে যায় বলে এই আলোচনা এখানে ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক।
বলা ভুল হবে না যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র শুরু থেকেই ক্ষমতামুখী শুধু নয়; ক্ষমতা-সর্বস্ব। যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে হবে এবং যে কোনো কিছুর বিনিময়ে ক্ষমতায় থাকতে হবে- এই ক্ষমতাকেন্দ্রিক চক্র থেকে আমাদের গণতন্ত্র বের হতে পারেনি। এখানকার রাজনীতিও সীমাহীন ক্ষমতার প্রতীক। দু:খজনক হলো- এই ক্ষমতার নাটাই থাকে গুটিকয়েক মানুষের হাতে।
বাকিরা শুধুই ক্ষমতাচর্চার নীরব দর্শক। তাদের বসবাস অন্ধকারে। অধিকাংশ মানুষকে ‘অন্ধকারে’ রাখতে পারলেই ক্ষমতা চর্চার পথ সুগম হয়। অন্ধকার মানে তথ্যহীনতা, অন্ধকার মানে অধিকারহীনতা, অন্ধকার মানে প্রশ্নহীন সমাজ। একটি প্রশ্নহীন ‘মেনে নেওয়া’ সমাজ সৃষ্টি করা গেলে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার পথ প্রশস্ত হয়। জনগণের সামনে নেমে আসে অন্ধকার। শেক্সপিয়ার বলেছিলেন, “ক্ষমতা একবার সীমাহীন হলে কিছুই ঠিকমতো চলে না।” ‘কিছুই ঠিক মতো না চলার’ নামই অন্ধকার। এই অন্ধকারে ক্ষমতা শক্তিশালী হয় বটে; কিন্তু গণতন্ত্র মরে যায়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যামুয়েল হানটিংটন বলেছেন, “Power remains strong when it remains in the dark. Exposed to sunlight, it begins to evaporate.” জনগণকে অজ্ঞতায় অন্ধকারে রাখার ‘সামর্থ্যরে’ সমান্তরাল হলো ক্ষমতায় সীমা পরিসীমা। জনগণ যতো বেশি অন্ধকারে, ক্ষমতা ততো শক্তিশালী।
নোয়াম চমস্কি তার এক লেখায় বলেছেন, এক গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষের সে দেশের ‘পলিসি মেকিং’ এ কোনো ভূমিকা নেই (নিউ এজ, আগস্ট ২০, ২০১৩)। বাংলাদেশে নি:সন্দেহে এই হার অনেক বেশি। অর্থাৎ এখানকার অধিকাংশ মানুষ অন্ধকারে। অন্ধকারে বাঁচে না গণতন্ত্র।
বাংলাদেশের জনগণকে অন্ধকারে রাখার উদাহরণ অনেক। বিদেশি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তির পরে চুক্তি হয়। জনগণ সেই চুক্তির অন্তর্নিহিত ‘দেনা-পাওনার’ সামন্যই জানতে পারে। সুন্দরবনের রামপালে গড়ে ওঠে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতো বিরোধীতার পরেও রামপাল থেকে সড়ে না আসার কারণ সম্পর্কে জনগণ অন্ধকারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরির ঘটনার মূলে কে বা কারা আজো জানা যায়নি। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি নিয়ে অনেক চাপের মুখে তদন্ত করা হলেও কালোবৈশাখী ঝড়ের অন্ধকারের মতোই তার প্রতিবেদন হারিয়ে গেছে কোনো এক অন্ধকারে। আজও তা প্রকাশ করা হয়নি। নারায়ণগঞ্জের রাব্বিকে কারা হত্যা করেছে আজও ধোঁয়াশা। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের পর এতোগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও অন্ধকারের চোরাবালিতে হারিয়ে গেছে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য। তাদের ছোট্ট ছেলে মেঘ বড় হয়ে উঠছে বাব-মা’কে খুন করার কারণ না-জানার অন্ধকারকে সঙ্গী করেই। ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে কমপক্ষে ২৬৮টি গুমের ঘটনা ঘটেছে যেখানে ১৮৭ জন মানুষের এমনকি মৃতদেহও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কী হলো, কেন হলো- কোনো উত্তর নেই। অন্ধকারেই কাঁটছে স্বজনদের সময়।
এই বাংলাদেশে তাহলে গণমাধ্যমের ভূমিকা কী? এখানে গণমাধ্যম কি সত্যিকারের ‘ওয়াচডগ’ হতে পেরেছে? গণতন্ত্রের উপর অন্ধকার নেমে এলে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণমাধ্যম আলো ছড়ানোর দায়িত্ব নিতে পারছে? সেটি যে ঠিকমতো পারছে না তার প্রমাণ মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান (১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬)। সুতরাং গণমাধ্যমকেও একপেশে দোষ দিলে চলবে না। গণমাধ্যম এবং তাতে কর্মরত সংবাদকর্মীরা এই সমাজ, এই সংস্কৃতি এবং এই রাজনীতির বৃত্তের বাইরের নন। সবকিছুকে বাদ দিয়ে, হুমায়ুন আজাদের ভাষায় ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে’ গেলে, শুধু গণমাধ্যমকেই ‘ধোয়া তুলসি পাতা’ ভেবে প্রত্যাশার পাহাড় রচনা করা অযৌক্তিক বিবেচিত হতে পারে। তবুও গণমাধ্যমকে অন্ধকার দূরীকরণে ভূমিকা রেখে যেতে হবে।
গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের পারস্পারিক সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতার জায়গাটি চাপমুক্ত রাখতে হবে রাষ্ট্রের অস্তিত্বের স্বার্থেই। গণতন্ত্রে ‘অংশগ্রহণ’ না-করতে পারা মানুষজন ইতিমধ্যেই গণমাধ্যম-বিমুখ হতে শুরু করেছে। গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম বাদ দিলে যা থাকে, তার নাম অন্ধকার। অন্ধকারই কি আমাদের নিয়তি?
লেখক: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কলাম লেখক
ই-মেইল: rafique.ruman@gmail.com
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দগ্ধ নারীদের ৯০ ভাগই রান্নার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন by তাসকিনা ইয়াসমিন

শুধু রোকেয়াই নয়, সারা দেশে প্রতিদিনই কোনও না কোনও নারী রান্না করতে গিয়ে অসাবধানতার কারণে চুলার আগুনে দগ্ধ হন। চিকিৎসকরা বলছেন, এত বেশি নারী চুলার আগুনে দগ্ধ হয়ে আসেন, যা ভাবা যায় না। খুবই দুঃখজনক। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ অবস্থার পরিবর্তনে সবার সচেতনতা দরকার।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালে ২০৯০ ব্যক্তি সাধারণ চুলা বা গ্যাসের চুলার আগুনে দগ্ধ হয়ে ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে কেবল ডিসেম্বর মাসেই দগ্ধ হয়েছেন ৬৫৫ জন। দগ্ধদের মধ্যে ৯০ ভাগই নারী ও শিশু।
আগুনে দগ্ধ রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেটা পেশায় ইলেট্রিশিয়ান। কাজ বাদ দিয়ে সে এখন আমার সঙ্গে হাসপাতালে। কী যে হবে বুঝতে পারছি না।’ দুর্ঘটনাটি কিভাবে ঘটলো জানতে চাইলে রোকেয়া বলেন, ‘কিভাবে যে চুলার ওপরে পড়ে গেলাম, মনে পড়ছে না। হাত আর বুকের ওপরের অংশ পুরোটাই পুড়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের বউ নাইওরে গেছে। বাড়িতে একাই আছিলাম। এরপর কিভাবে কী হঘটলো নিজেও জানি না। কবে অপারেশন হবে. কবে আমি বাড়ি যাবো, সেই চিন্তায় আছি।’
শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এখানে আউটডোরে নারী ও শিশু রোগীদের সংখ্যা খুব বেশি। আবার এদের মধ্যে রান্নার সময় চুলার আগুনে পুড়ে যাওয়াদের সংখ্যাই বেশি।’
ডা. সেন বলেন, ‘আমরা একবিংশ যুগে আছি। এখনও গ্রামে-গঞ্জে মানুষ কুপি জ্বালিয়ে সেঁক দেয়। সেখান থেকেও আগুন লাগে। এটাতো একটা মধ্যযুগীয় কালচার। অথচ এখন চাইলেই হট-ওয়াটার ব্যাগ পাওয়া যায়।’
তিনি বলেন, ‘ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে না পারলে, যতই আমরা ১২ তলা ১৪ তলা হাসপাতাল বানাই না কেন, কোনও লাভ হবে না। মানুষ যেন আর আগুনে দগ্ধ না হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সবাই মিলে সচেতনতার কাজ করতে হবে।’
ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সাবেক অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ খন্দকার বলেন, ‘আগুনে পোড়া যেসব রোগী আমাদের কাছে আসেন, তার মধ্যে ৩০ ভাগ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, পাঁচ ভাগ রোগী অবজারভেশনে রেখে পরে ছেড়ে দিই। আর কিছু রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। রান্না করতে গিয়ে দগ্ধ হন— নারী রোগীদের মধ্যে এদের সংখ্যাই বেশি।’
তিনি বলেন, ‘নারী রোগীদের মধ্যে সহিংসতার শিকার হয়ে আগুনে দগ্ধ হন একভাগ। বাকিরা দুর্ঘটনার শিকার। আবার কেউ কেউ আত্মহত্যা করার লক্ষ্যেও শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। তবে এসংখ্যা খুবই কম। মাঝে-মধ্যে হঠাৎ করে এরকম দু-একটা ঘটনা পাওয়া যায়।’
ডা. সাজ্জাদ খন্দকার বলেন, ‘নারীদের আগুনে পোড়ার ঘটনা ৯০ ভাগ ঘটছে রান্নার চুলা থেকে। আবার ৯০ ভাগই ঘটে অসাবধানতা থেকে। দ্বিতীয়ত, শহরের বাসাবাড়িতে রান্নাঘরগুলো খুবই ছোট। এত ছোট যে, একদিকে দাঁড়ালে অন্যদিকে ঘোরা যায় না। গ্রামে-গঞ্জে অবশ্য ফ্লোর কুকিং, মাটিতে চুলা থাকে। এটাও সমস্যা। বসতে হয়, আবার উঠতে হয়। দেখা যায়, ১২-১৩ হাত লম্বা শাড়ি আর লম্বা ওড়না, এটাও আগুন লাগার বড় ফ্যাক্টর। ওড়না পেছন দিকে ঝুলতে থাকে, তখন আগুন লেগে যায়। শাড়ির আঁচলে আগুন লেগে ঝুলতে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা— রান্নাঘর ছোট হওয়ার কারণে মসলা রাখার জন্য ওয়াল কেবিনেট লাগানো হয়। একদিকে চুলা অন্যদিকে ওয়াল কেবিনেট। দেখা গেলো, চুলায় রান্না চলছে, ওই অবস্থায় নারীরা পেছন ঘুরে কেবিনেট থেকে কিছু নামাতে গেলেন। তার ওড়না বা আঁচল গিয়ে পড়লো চুলার ওপরে। তখনই কাপড়ে আগুন ধরে যায়। আমাদের দেশে কিচেন ড্রেস বলে কিছু নেই। নন ফ্লেমাবল কিচেন ড্রেস দরকার। গ্যাস, লিকেজ সিলিন্ডার ব্লাস্ট— এগুলো হচ্ছে অসাবধানতার বাইরের কারণ। রান্না চড়িয়ে দিয়ে সন্তান কাঁদছে তাকে দেখতে বেডরুমে গেলেন। এদিকে, ডাল-চাল পুড়ে আগুন ধরে যায়।’
ডা. খন্দকার আরও বলেন, ‘অনেক বাড়িতে চুলার গ্যাসের লো- প্রেসার থাকে। আগুন চোখে দেখা যায় না। অনেকে মনে করেন হয়তো গ্যাস বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সুইচ বন্ধ করেন না। একটা সময় পরে গ্যাসের চাপ বাড়ে। এরপর গ্যাস এসেছে কিনা তা চেক করার জন্য আগুন জ্বালাতে গিয়ে অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হন। গ্যাসের চাপ ওঠানামা করায় অনেকে আবার চুলা বন্ধ করতে ভুলে যান। আর এ কারণে অনেক বেশি ক্ষতি হয়।’
রান্না করতে গিয়ে আগুনে পোড়া সব নারী কি চিকিৎসার সুযোগ পান? জানতে চাইলে ডা. সামন্তলাল সেন বলেন, ‘আগুনে পোড়া রোগীর চিকিৎসা দীর্ঘ মেয়াদের। ফলে দেখা যায়, হয়তো রোগীর চিকিৎসা শুরু করা হলো। একটু ভালো হলেই চলে যান। পরে আর আসেন না। অর্থাৎ, ফলোআপ হয় না। কারণ, এসব নারীরা তাদের স্বামী বা অভিভাবকদের ওপরে নির্ভরশীল। তারা বিষয়টি কম গুরুত্ব দেন। একারণে বলবো, সব নারী চিকিৎসা পান না, বেশিরভাগই চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘শেবাগ স্যার, ভেজা প্যান্ট এখন...’ by মেহেদী হাসান

না, ‘নজফগড়ের নবাব’ কোথাও পালিয়ে যাননি। শেবাগ আছেন বহাল তবিয়তেই। প্রশ্নটি আসলে রসিকতার ছলে ঘুরপাক খাচ্ছে টুইটারে। শেবাগ নিশ্চয়ই তা দেখছেন। নিশ্চয়ই একটু অনুশোচনাও হচ্ছে। হয়তো ভাবছেন, কী ভেবে যে ওই বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছিলাম!
গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বিরাট কোহলির দল। একেবারে তৃপ্তির ঢেকুর তোলা আতিথ্য পাওয়া বলতে যা বোঝায় আর কি। এরপর এল অস্ট্রেলিয়াকে ভারতের আতিথ্য দেওয়ার পালা। অতিথিদের ভালোভাবে ‘সৎকার’ করতে একটি বিজ্ঞাপন বানিয়েছিল ভারতের টিভি চ্যানেল স্টার স্পোর্টস। যা দেখলে যে কোনো অস্ট্রেলিয়ানেরই বুঝে ফেলার কথা, ভারতে ঠিক কী ধরনের আতিথ্য অপেক্ষা করছে তাঁদের দলের জন্য।
বিজ্ঞাপনটি টিভিতে না দেখে থাকলে হয়তো আর কপালে নেই। কারণ কাল অস্ট্রেলিয়ার কাছে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে ভারত। স্টার স্পোর্টস দেখার অভিজ্ঞতা থাকলে ব্যাপারটা বুঝে ফেলার কথা। ভারত সিরিজ হেরেছে আর স্টার স্পোর্টস ওই বিজ্ঞাপন সম্প্রচার করবে, পাগল নাকি! যেখানে নাকি ভারতের জয় ছাড়া প্রায় আর কোনো ম্যাচ-ই দেখানো হয় না। সে যাকগে, সেই বিজ্ঞাপনের মূল কুশীলব ছিলেন শেবাগ আর একগাদা দুগ্ধপোষ্য শিশু, আর বিষয়বস্তু—শিশুদের মূত্র!
বিজ্ঞাপনের শুরুতেই দেখা গেছে দুগ্ধপোষ্য শিশুর দল অস্ট্রেলিয়ার জার্সি পরে একটি ড্রেসিংরুমে ঢুকছে। সে সঙ্গে শেবাগের কণ্ঠে আদুরে ডাক, ‘ওলে ওলে ওলে। দেখ কে এসেছে এখানে? অস্ট্রেলিয়ার পুরো বাহিনী চলে এসেছে। ওলে ওলে ওলে।’এ কথা বলেই শিশুদের কোলে নেওয়ার জন্য এগিয়ে গেলেন শেবাগ। নিজেদের নিয়ে মশগুল শিশুদের দেখিয়ে শেবাগের ধারাবর্ণনা তখন চলছিল, ‘আমরা যখন অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলাম, তখন ওরা জিজ্ঞেস করেছিল বেবি সিটিং করবে? আমরা বলেছিলাম, সবাই চলে আস, অবশ্যই করব।’
শেবাগের এ কথার গভীরে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজে ঋষভ পন্তের সঙ্গে টিম পেইনের স্লেজিং চালাচালি। মেলবোর্ন টেস্টে পেইন তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুমি বেবি সিট করতে পার? আমি বউকে নিয়ে একদিন সিনেমা দেখে আসব, তুমি একটু বাচ্চাদের দেখে রাখবে।’ বিজ্ঞাপনের ওই পর্যন্ত দেখার পর মনে হবে অস্ট্রেলিয়া দলের সবাইকে বাচ্চাকাচ্চাসহ ভারত ঘুরে যাওয়ার অনুরোধ। কিন্তু ভুল ভাঙবে তারপরই। বিজ্ঞাপনে শিশু বলতে অস্ট্রেলিয়া দলকেই বোঝানো হয়েছে সেটি বুঝতে অপেক্ষা করতে হবে শেষ পর্যন্ত। যখন দেখা গেল কোলে বসা শিশুর কারণে প্যান্ট ভিজে গেছে শেবাগের। তখনই শেবাগের মুখে স্বগতোক্তি, ‘শুধু একটাই চিন্তা ওরা আমাদের একাগ্রতা দেখে আবার মূত্র ত্যাগ না করে।’
ভারতকে তাঁদের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর ওয়ানডে সিরিজও জিতল অস্ট্রেলিয়া। সেটিও প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর শেষ তিন ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে! এরপরই টুইটারে প্রশ্ন উঠেছে—একাগ্রতাটা আসলে কারা দেখাল, আর মূত্র ত্যাগটা কারা করল?
শেবাগ কাল এই প্রশ্নের জবাব পাওয়ার পর নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, মজায় মাথা ধরে! ভারতের এই সাবেক ওপেনারকে টুইটারে পরামর্শ দিয়েছেন ভারতেরই এক ক্রিকেটপ্রেমী, ‘স্যার, বাচ্চারা তো আপনার বাচ্চা-কাচ্চা দেখাশোনার পরিকল্পনা জলে ভিজিয়ে দিল। ভেজা প্যান্ট এখন খুলে ফেলুন। আমরা সিরিজ হেরে গেছি।’
স্টার স্পোর্টসেই সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে এই সিরিজ হার। কিন্তু চ্যানেলটির কী সুমতি ফিরবে? না, বিজ্ঞাপনের নীতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠছে না। সেই সুযোগও নেই। বিপণনের এই যুগে ভোক্তারা যা পছন্দ করবেন সেটা-ই সহি। সুমতির কথা উঠছে অন্য কারণে। বেশির ভাগ সময়েই দেখা গেছে, ভারতকে অকুণ্ঠ সমর্থন আর প্রতিপক্ষকে ব্যঙ্গ করে তাঁদের বানানো বিজ্ঞাপন শেষ পর্যন্ত বুমেরাং!
‘মওকা মওকা’ তো মনে আছে? ২০১৫ বিশ্বকাপে স্টার স্পোর্টসের এই ধারাবাহিক পর্বের বিজ্ঞাপন তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বেশ কিছু দলকে ব্যঙ্গ করে বানানো এই বিজ্ঞাপন পরে ভারতের জন্য-ই বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিরাট কোহলিদের হারের পর। নানা প্রান্তের ক্রিকেটপ্রেমীদের হাজারো ফোনকলে ‘মওকা মওকা’ গান শোনার যন্ত্রণা পোহাতে হয়েছে বিসিসিআইকে।
২০১২ সালে ইংল্যান্ড দলের ভারত সফর নিয়েও বিজ্ঞাপন বানিয়েছিল স্টার স্পোর্টস। ‘আঙরেজো কি পুঙ্গি’—মনে পড়ে? ‘পুঙ্গি’ অর্থ বীণ—যা সাপের খেলা দেখানোর সময় সাপুড়েরা বাজিয়ে থাকেন। ওই বিজ্ঞাপনের শুরুতে এক সাপুড়েকে বীণ বাজাতে দেখা যায়। এরপর ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বলা হয়, সাপুড়ে তো ইংরেজদের ‘পুঙ্গি’ বাজিয়ে দিল। কিন্তু ভারতীয় দল কি ইংরেজদের ‘পুঙ্গি’ বাজাতে পারবে? পারেনি। এক অর্থে বলা যায়, ভারতের বাদ্যযন্ত্র ভারতকেই বাজিয়ে শুনিয়েছিল ইংল্যান্ড দল, টেস্ট সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে।
চার বছর আগের সেই বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে ‘#ওন্টগিভইটব্যাক’ ক্যাম্পেইনও করেছে স্টার স্পোর্টস। ভারত যেহেতু সেবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, তাই ‘শিরোপা ফেরত দেব না’—এই স্লোগান পুঁজি করে বিজ্ঞাপনও ছেড়েছিল টিভি চ্যানেলটি। ফল মিলেছে হাতেনাতে। দল ফাইনালেই উঠতে পারল না।
কিন্তু বিপণনের এই বিশ্বে এসব কোনো শিক্ষণীয় বিষয় না। খেলাধুলায় তো নয়-ই। মাঠের বাইরে গোটা বিষয়টাই বাণিজ্য। দল কেমন করল, সমর্থকেরা কীভাবে নিলেন, প্রতিপক্ষ দলের সম্মানহানি হলো কি না—এসব এখন স্রেফ কথার চালিয়াতি। হোক না স্বস্তা, জনপ্রিয়তা আর পয়সা খাঁটিয়ে লাভের টাকা তুলে নেওয়াই মুখ্য। আর তাই সামনের দিনগুলোতেও ভারতের সিরিজে হয়তো এমন আরও বিজ্ঞাপন চোখে পড়বে। দুয়ারে তো বিশ্বকাপ। এবার কী তাহলে—‘উইউইলউইনইটব্যাক’?
পরিণতি জানা আছে তো!
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
March
(458)
-
▼
Mar 16
(17)
- ‘ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে ছাত্রদের মাঝ থেকেই’
- রক্তে ভাসল নিউজিল্যান্ডের শহর
- ক্রাইস্টচার্চ যেন ভুতুড়ে নগরী by উৎপল শুভ্র
- পূর্ব লন্ডনে মসজিদের বাইরে একজনের ওপর হামলা
- নির্বিচার গুলি, সর্বত্র পড়ে আছে লাশ
- অন্ধকার জগতের নায়িকা মিমি by শুভ্র দেব
- রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কোনো ভবিষ্যত নেই -রয়টার্সকে র...
- পর্নো ছবির রাজধানী হয়ে উঠছে স্পেন
- তিনি সর্বকালের শীর্ষ ধনী
- ১৮ বছর ধরে আদালতে ঘুরছেন শতবর্ষী রাবেয়া খাতুন by ত...
- খাদেমের বীরত্বে বেঁচে গেল অর্ধশতাধিক মুসল্লির প্রাণ
- মৃতদেহ থেকে কিডনি প্রতিস্থাপনে জোর দিচ্ছেন চিকিৎসক...
- ভারতে লোকসভা নির্বাচনের টুকিটাকি
- মঙ্গলগ্রহে প্রথম পা রাখবেন একজন নারী
- অন্ধকারে বাঁচে না গণতন্ত্র by রফিকুজজামান রুমান
- দগ্ধ নারীদের ৯০ ভাগই রান্নার সময় দুর্ঘটনার শিকার হ...
- ‘শেবাগ স্যার, ভেজা প্যান্ট এখন...’ by মেহেদী হাসান
-
▼
Mar 16
(17)
-
▼
March
(458)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...