Showing posts with label নির্বাচিত. Show all posts
Showing posts with label নির্বাচিত. Show all posts

Sunday, February 3, 2019

সংসদে যাচ্ছি, সুস্থ হলেই শপথ নেবো -মানবজমিনকে সুলতান মনসুর

মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি একাদশ সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। সুস্থ হলেই শপথ নিতে যাবেন। তবে এ বিষয়ে কারও সঙ্গে তিনি সাংঘর্ষিক অবস্থানে নেই জানিয়ে ডাকসুর সাবেক এ ভিপি মানবজমিনকে বলেন, স্রেফ এলাকার   ভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দাবির মুখে তিনি সংসদে যাচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকার জনগণ এবং দেশের মানুষের পক্ষে তিনি সংসদে কথা বলবেন।
গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত দিলেও কেন সংসদে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ আমাকে বিজয়ী করেছে। বলতে গেলে একটা যুদ্ধের মাধ্যমে তারা আমার বিজয় নিশ্চিত করেছে। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন তাদের দাবি আমি যেন সংসদে গিয়ে তাদের কথা বলি। এলাকার দল-মত নির্বিশেষে সবার এই দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এছাড়া আমার সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। গণফোরাম ও ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না- এ ধরনের কোনো জটিলতা নেই। জটিলতা হবে না। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বা সমঝোতা করেছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি এমপি হিসেবে শপথ নিচ্ছি। এ ধরনের প্রশ্ন বা আলোচনা আসবে কেন?
সংসদে কেমন ভূমিকা থাকবে এ প্রশ্নে সুলতান মনসুর বলেন, আমি এলাকার মানুষের পক্ষে কথা বলতে যাচ্ছি। তাদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। পাশাপাশি দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলবো। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে যতটুকু ভূমিকা রাখা যায় তা রাখার চেষ্টা করবো।
উল্লেখ্য, একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৮ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুলতান মনসুর ও মোকাব্বের খান গণফোরাম থেকে নির্বাচন করেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বের খান দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য প্রতীকে নির্বাচন করলেও সুলতান মনসুর নির্বাচন করেন ধানের শীষ প্রতীকে। গণফোরাম বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দলের নির্বাচিতদের শপথ না নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত রয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকেও বিজয়ীদের শপথ না নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

Saturday, September 24, 2011

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন

গত বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবির সঙ্গে কেউ দ্বিমত করবে না। এ ক্ষেত্রে যে প্রশ্নটি জরুরি তা হলো, দুটি বিষয়ই আইনশৃঙ্খলার জন্য সার্বক্ষণিক হুমকি। কেবল নির্বাচনের আগে নয়, সব সময়ই অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
দ্বিতীয় কথা, নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজটি কে করবে? পুলিশ প্রশাসন এত দিন কী করেছে? সরিষায় ভূত থাকার যে আপ্তবাক্যটি প্রচলিত, সেটি নারায়ণগঞ্জের জন্য একটু বেশি মাত্রায় প্রযোজ্য বললে অত্যুক্তি হবে না। স্থানীয় আওয়ামী লীগের গৃহবিবাদের নানা কেচ্ছাকাহিনি সম্পর্কে দেশবাসী অবগত আছে। বৃহস্পতিবার নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে অনতিবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসন ঢেলে সাজানো।
আমরা যদি নারায়ণগঞ্জের শান্তির জন্য ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করতে সচেষ্ট হই, তাহলে দেখা যাবে যে এর মূলে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। অধুনা বিলুপ্ত পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সেলিনা হায়াত আইভী কদিন আগে টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ডিসি ওসমান পরিবারের ভ্রাতৃত্রয়ের কথায় ওঠেন-বসেন।’ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে তিনি সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি নবগঠিত করপোরেশনভুক্ত তিন থানার ওসির বদলি চেয়েছেন। এর আগে ক্ষমতাসীন দলীয় সাংসদ সারাহ হোসেন কবরী জেলা ডিসির উপস্থিতিতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অনাস্থাও জ্ঞাপন করেছেন। ওই আলোচিত ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দলীয় বিবেচনায় পার পেয়ে যান। এটি দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশ সুপার বুধবারের সভায় বলেছেন, ‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরা পুলিশের নজরদারিতে আছে। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় তৈরি করা হবে নিরাপত্তাবলয়।’ এই উক্তি দৃশ্যত পরিহাসমূলক। কারণ পুলিশ সুপারের কাছে যদি সন্ত্রাসীদের তালিকাই থেকে থাকে, তিনি এত দিন তাদের গ্রেপ্তার করেননি কেন?
আমরা মনে করি, নারায়ণগঞ্জের আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে—প্রশাসনসংশ্লিষ্ট এমন কর্মকর্তাদের বদলি করা জরুরি। ৩০ অক্টোবরের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রশাসনকে পক্ষপাতমুক্ত থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন কীভাবে এবং কত দ্রুত সেটা করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Sunday, April 24, 2011

জেলা পরিষদের গাড়ি

সংবিধানে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার সংস্থার কথা বলা হলেও স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও কোনো পর্যায়ে তা বাস্তবায়িত না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। ক্ষমতাসীনেরা বরাবর স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করার চেয়ে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারে সচেষ্ট হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, দিনবদলের কথা বলে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকারের আমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু তার কোনো লক্ষণ নেই। দীর্ঘদিন পর বহুল আলোচিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হলেও চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের ঠুঁটো জগন্নাথ করে রাখা হয়েছে। যদিও তাঁদের দামি গাড়ি ও আলিশান অফিস দেওয়া হয়েছে। এখন আবার প্রস্তাবিত জেলা পরিষদ এবং গাড়ি ও অফিসের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া জেলা পরিষদের নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রশাসক নিয়োগসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। কোনো স্থানীয় সরকার সংস্থায় এ ধরনের প্রশাসক নিয়োগ গণতন্ত্র ও সংবিধানের পরিপন্থী। সংবিধানে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার সংস্থার কথা বলা হয়েছে। আর জেলা পরিষদ গঠনের আগেই প্রশাসক/চেয়ারম্যানদের জন্য গাড়ি কেনাও যুক্তিযুক্ত নয়।
সরকারের কাছে স্থানীয় সরকারের সংজ্ঞা কী? তারা কি মনে করে, গাড়ি, অফিস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুযোগ-সুবিধা দিলেই স্থানীয় সরকার জোরদার হবে? না হলে জেলা পরিষদ গঠনের আগেই এর চেয়ারম্যানের অফিস সাজানো এবং তাঁদের গাড়ির জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে কেন? অজুহাত হিসেবে দেখানো হয়েছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরও অনেক উপজেলা চেয়ারম্যান গাড়ি পাননি। তাঁরা তো দায়িত্ব ও ক্ষমতাও বুঝে পাননি। সেসব নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। মনে হচ্ছে, সরকার জেলা-উপজেলা পরিষদের গাড়ি কেনার ব্যাপারে যতটা উদ্গ্রীব, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে ততটাই অনাগ্রহী।
জেলা পরিষদ সক্রিয় হোক, এর কার্যক্রম বাড়ুক—সেটি সবার প্রত্যাশা। তবে সেই জেলা পরিষদ হতে হবে নির্বাচিত। মনোনীত বা নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তার দ্বারা স্থানীয় সরকার সংস্থা পরিচালিত হতে পারে না। যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করেন না, সেখানে অনির্বাচিত ব্যক্তিরা কী করবেন, তা সহজেই অনুমান করা যায়। সরকারকে আগে মনস্থির করতে হবে, স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলো সক্রিয় ও কার্যকর হোক, তা তারা চায় কি না? চাইলে সংস্থাগুলোর আইন ও কার্যবিধিও সেভাবে তৈরি করতে হবে। জনগণের করের পয়সায় এ ধরনের নামকাওয়াস্তে স্থানীয় সরকার সংস্থা কাম্য নয়। অতীতে অনির্বাচিত ও সামরিক সরকার স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলোকে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিপুল ভোটে ক্ষমতায় আসা মহাজোট সরকারও যদি সেই সামরিক স্বৈরাচারের পথে হাঁটে, তা হবে দুর্ভাগ্যজনক। অতএব, নির্বাচনের মাধ্যমেই জেলা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে, অন্য কোনো উপায়ে নয়। ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ারও কোনো মানে নেই।