Friday, December 10, 2010

আলোচনা- জেগে ওঠার গল্প by হাসান ফেরদৌস

কদিন ধ্যানমগ্ন গৌতম একাকী প্রার্থনায় বসেছেন। পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন একজন সাধু। অনেকক্ষণ তাকিয়ে তাকিয়ে তিনি বুদ্ধকে দেখলেন। একা চোখ বুজে কী যেন ভাবছেন তিনি, মুখজুড়ে তাঁর কী প্রশান্তি! কৌতূহলী হয়ে সেই সাধু গৌতম বুদ্ধকে প্রশ্ন করলেন, ‘মহাত্মন, আপনি কি প্রার্থনা করছেন?’ উত্তরে চোখ না খুলেই বুদ্ধ বললেন, ‘না, আমি জেগে ওঠার চেষ্টা করছি।’

মুক্তিযুদ্ধ- বিবিসি লন্ডন ১৯৭১: এখন শুনবেন বিশ্ব-সংবাদ.. by এম এ মোমেন

কাত্তরের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম ছিল বিবিসি—ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন। বিবিসির বাংলা বিভাগের একটি আবেগময় সম্পৃক্ততা থাকার কথাই। কিন্তু ওয়ার্ল্ড সার্ভিস? বিবিসিতে কী শুনেছে বিশ্ববাসী? কয়েকটি নির্বাচিত সংবাদের অনুবাদ উপস্থাপন করা হচ্ছে এখানে, এবং একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায় প্রথম দিককার সংবাদ প্রচারে ওয়ার্ল্ভ্র সার্ভিসের কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত মনোভাব; কিন্তু একটি নতুন স্বাধীন দেশের যে আবির্ভাব ঘটছে, সেই বার্তাটি পড়তে বেশি দিন লাগেনি বিবিসি ওয়ার্ল্ভ্র সার্ভিসের।

গল্পসল্প- দাহকালের কথাঃ বাঘ by মাহমুদুজ্জামান বাবু

চালক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, যাত্রীসহ মোট মানুষের সংখ্যা ২২০০। ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন বন্দর থেকে একটি প্রমোদতরী নোঙর তুলে ভেসে পড়ল আটলান্টিক মহাসাগরে। গন্তব্য আমেরিকার নিউইয়র্ক শহর। টাইটানিক নামের এই বিশাল জাহাজটি কখনোই আর নিউইয়র্কে পৌঁছায়নি। মহাসাগরে ভাসমান বরফখণ্ডগুলো কখনো কখনো ১০টি জাহাজের সমান আয়তনের হয়। তারই একটির সঙ্গে টাইটানিকের ধাক্কা লেগেছিল।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১০ by আইন ও সালিশ কেন্দ্র

০১০ সালে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল মিশ্র। একদিকে যেমন কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে, তেমনি নেতিবাচক উদাহরণও রয়েছে অনেক। ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন প্রণীত হয়েছে, জাতীয় শিক্ষানীতি অনুমোদিত হয়েছে, সংশোধিত শিশুনীতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইন অনুমোদিত হয়েছে।

যুক্তি তর্ক গল্পালোচনা- তাঁরা সমালোচিত, আমরা বিব্রত by আসিফ নজরুল

ব্বইয়ের দশকে জমজমাট আড্ডা হতো শাহবাগের মোড়ে। সেখানে গেলে দেখা যেত এক ধরনের ‘ত্রিকালদর্শী’ আড্ডাবাজেরও ভিড়। তাঁরা কেউ সাহিত্যচর্চা করেন, কেউ লিটল ম্যাগাজিনের কর্মী, কেউ বাম রাজনীতি করেন। জগৎ-সংসারের প্রতি তাঁদের কারও কারও ছিল সীমাহীন তুচ্ছতাচ্ছিল্য। মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে পাবলো পিকাসো—অনেকেই তাঁদের সমালোচনার বিষয়। সবচেয়ে বড় অবজ্ঞা তাঁদের দেশের কীর্তিমান মানুষদের নিয়ে।

স্মরণ- মুজিবকে নিয়ে সিরাজের একমাত্র লেখা by সেলিম রেজা নূর

মি নিউইয়র্কে থাকি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আর্কাইভস ঘেঁটে সিরাজুদ্দীন হোসেনের অনেক লেখা সংগ্রহ করেছি। সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর, কাশ্মীর সমস্যা, পশ্চিমবঙ্গের বাংলা বইবিষয়ক সমস্যা, ভাষা আন্দোলন, পাট সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে তাঁর স্বনামে প্রকাশিত লেখাগুলো আগ্রহোদ্দীপক। ‘অনামী’ ছদ্মনামে সিরাজুদ্দীন হোসেনের ‘মঞ্চে-নেপথ্যে’ কলামগুলোও সংগ্রহ করতে পেরেছি। অপেক্ষা করছি, একদিন সিরাজুদ্দীন হোসেনের সত্যিকার অবদান সম্পর্কে গবেষণা হবে এবং তিনি পাবেন তাঁর যোগ্য আসন।

রাজনৈতিক আলোচনা- ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্তির উদ্যোগ by এ এম এম শওকত আলী

প্রায় সব দেশেই দুই ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এক. নগরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, দুই. গ্রামাঞ্চলের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানেরই জন্ম ব্রিটিশ আমলে। এর মধ্যে আরও একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর নাম জেলা পরিষদ। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত গ্রামাঞ্চলেই কাজ করে থাকে। ব্রিটিশ আমল থেকেই জেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

মেগরাহির মুক্তির জন্য ব্রিটেনকে হুমকি দিয়েছিলেন গাদ্দাফি

স্কটল্যান্ডে কারাবন্দী অবস্থায় আবদেলবাসেত আল-মেগরাহি মারা গেলে লিবিয়া ব্রিটেনের সঙ্গে সব বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করবে। মেগরাহির মুক্তির জন্য লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি এভাবেই ব্রিটেনকে হুমকি দেন। এ হুমকির ফলে লিবিয়ায় ব্রিটিশ স্বার্থ ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে ভীত ছিল ব্রিটেন। এমন ভীতি থেকেই গত বছর মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়া হয়। মেগরাহির মুক্তির ব্যাপারে স্কটিশ কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ সহায়তা দেয় লন্ডন। গতকাল বুধবার উইকিলিকসের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান এই তথ্য প্রকাশ করে।
১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবি শহরের আকাশে বিমানে বোমা হামলা চালান লিবিয়ার নাগরিক মেগরাহি। ওই হামলায় ২৭০ জন নিহত হয়। ২০০১ সালে মেগরাহিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন স্কটল্যান্ডের একটি আদালত। তাঁকে স্কটল্যান্ডের কারাগারে রাখা হয়। গত বছর আগস্টে মানবিক কারণ দেখিয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত মেগরাহিকে মুক্তি দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় লিবিয়ায়।
উইকিলিকসের বার্তায় দেখা যায়, ত্রিপলিতে নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার ভিনসেন্ট ফেন লন্ডনে সতর্কবার্তা পাঠান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মেগরাহিকে স্কটল্যান্ডে কারবন্দী রাখলে ‘লিবিয়ায় ব্রিটিশ স্বার্থে ভয়াবহ বিপর্যয়’ নেমে আসতে পারে। এক বার্তায় দেখা যায়, মেগরাহিকে মানবিক কারণে লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে—এমন খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত ভিনসেন্ট। তিনি বলেন, মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়া না হলে ব্রিটেনের অবস্থাও সুইজারল্যান্ডের মতোই হতো। লিবিয়ার কর্মকর্তারা ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কারাগারে মেগরাহির মৃত্যু হলে লিবিয়া-ব্রিটেন সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়বে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসের এক তারবার্তায় এ তথ্য জানা যায়। এতে আরও বলা হয়, ওয়াশিংটন মেগরাহির মুক্তির বিষয়ে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করলে লিবিয়ায় মার্কিন দূতাবাস ও দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকেরা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
২০০৮ সালে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে ও পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করে সুইজারল্যান্ড। এ ঘটনায় গাদ্দাফি সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেন। গাদ্দাফি সুইস ব্যাংক থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার প্রত্যাহার করে নেন। দেশটিতে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয় লিবিয়া। একই সঙ্গে লিবিয়ার নাগরিকদের সুইজারল্যান্ড ভ্রমণে ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। গৃহপরিচারকের সঙ্গে বিবাদের অভিযোগে গাদ্দাফির ছেলে ও পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করেছিল সুইস কর্তৃপক্ষ।
গত বছর আগস্টে মেগরাহিকে লিবিয়ায় পাঠানোর সময় তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন দৃঢ়ভাবে বলেন, মেগরাহির মুক্তির প্রক্রিয়ায় ব্রিটিশ সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। ওই সময় মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়ার কঠোর বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র।

আজও প্রাসঙ্গিক বেগম রোকেয়া by মু. আবদুল জলিল মিয়া

উনিশ শতকের শেষদিকে সময়টা ছিল যুগপৎ হিন্দু ও মুসলমান নারীদের জন্য অন্ধকার যুগ। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের মেয়েদের কঠোর পর্দা মেনে চলতে হতো। বিনা প্রয়োজনে মেয়েদের বাড়ির বাইরে যাওয়া ছিল নিষিদ্ধ। তাদের লেখাপড়া করার তেমন সুযোগ ছিল না, কেবল ঘরের কাজকর্ম শেখানো হতো। তারা নিজ গৃহে বা স্থানীয় মক্তবে আরবি, ফারসি শিখত। হিন্দু নারীরাও ছিল শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। নারীশিক্ষা, নারী-অধিকারের প্রতিকূল সময়ে ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নারীজাগরণের অগ্রদূত আর এস হোসেন বা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। আর দশজন মুসলমান মেয়ের মতো বেগম রোকেয়াও মুসলিম পারিবারিক নিয়মে বেড়ে উঠছিলেন। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লেখাপড়ার প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে। বাবা জহিরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের আরবি, ফারসি, ইংরেজি, বাংলা, হিন্দি বিষয়ে সুপণ্ডিত হলেও মেয়েদের লেখাপড়ার বিষয়ে ছিলেন উদাসীন। একান্ত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিতে পারেননি রোকেয়া। বিভিন্ন বিষয়ে জানার জন্য বেগম রোকেয়ার আগ্রহ ছিল প্রবল। বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের ও বড় বোন করিমন নেছার হাতে শৈশবকালে বেগম রোকেয়ার লেখাপড়ার হাতেখড়ি। মূলত ইব্রাহিম সাবের বেগম রোকেয়াকে লেখাপড়ায় উৎসাহ, প্রেরণা ও সহযোগিতা করেন।
১৮৯৮ সালে ১৮ বছর বয়সে বেগম রোকেয়ার বিয়ে হয়। স্বামী বিহার রাজ্যের ভাগলপুরের অধিবাসী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি ছিলেন সমাজসচেতন, প্রগতিশীল ও সংস্কারমুক্ত মানুষ। তাঁর সাহচর্যে এসেই রোকেয়ার লেখাপড়ার উন্মেষ ঘটে। স্বামীর কাছ থেকে তিনি ইংরেজি ও উর্দু শিক্ষা লাভ করেন।
বেগম রোকেয়ার দাম্পত্য জীবন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র নয় বছর পর ১৩১৬ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে (৩ মে ১৯০৯) সাখাওয়াত হোসেন ইন্তেকাল করেন। স্বামীর মৃত্যু তাঁর জীবনে সাময়িক বিপর্যয় ঘটালেও অকালবৈধব্য তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। অসীম মনোবলসম্পন্ন এই নারী শোককে শক্তিতে পরিণত করে নারীশিক্ষার বিস্তার ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর স্বামীর ভাগলপুরে একটি মুসলিম বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা ছিল। ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর মাত্র পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে ভাগলপুরের তদানীন্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শাহ আবদুল মালেকের সরকারি বাসভবন ‘গোলকুঠি’তে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’-এর যাত্রা শুরু। সাখাওয়াত হোসেনের প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধসহ আরও নানা প্রতিকূলতার কারণে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। অতঃপর স্কুলটি কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়। ১৯১১ সালের ১৬ মার্চ মাত্র আটজন ছাত্রী নিয়ে ১৩ নম্বর ওয়ালীউল্লাহ লেনের ভাড়াবাড়িতে নতুন করে চালু করেন ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’। নারীশিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কথা বলে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রী সংগ্রহ করার কাজে লেগে গেলেন। মেয়েদের মা, বাবা ও অভিভাবকদের অনুরোধ জানালেন। মেয়েরা কঠোর পর্দা মেনে চলত বলে তিনি পর্দাঘেরা গাড়ির ব্যবস্থা করেন। ধীরে ধীরে ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকল। পরে ১৯১৭ সালে মধ্য ইংরেজি গার্লস স্কুল এবং ১৯৩১ সালে উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়। বর্তমানে স্কুলটি ১৭ নম্বর লর্ড সিনহা রোড, কলকাতায় অবস্থিত। মেয়েদের সার্বিক উন্নতির জন্য তিনি শিক্ষা গ্রহণকেই সর্বাগ্রে জোর দিয়েছিলেন, তাঁর স্বপ্ন ছিল নারীকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।
১৯১৯ সালে বেগম রোকেয়ার প্রচেষ্টায় স্থাপিত হয় ‘মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল’। সেখানে নারীদের সেলাই, রান্না, সন্তান প্রতিপালনসহ বিভিন্ন বিষয়ে শেখানো হতো। বেগম রোকেয়া নারীশিক্ষা প্রসারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। সমাজসেবার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নারীদের অধিকার নিয়ে মত তৈরির চেষ্টা করেছেন। মিসেস আর এস হোসেন নামে সেকালের বিখ্যাত পত্রপত্রিকায় তিনি অসংখ্য কবিতা, উপন্যাস ও নারীদের জন্য সমাজসচেতনতামূলক প্রবন্ধ রচনা করেছেন। রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে মতিচূর, অবরোধবাসিনী, পদ্মরাগ, সুলতানার স্বপ্ন। এ ছাড়া রয়েছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গ রচনা ও অনুবাদ।
১৯০২ সালে পিপাসা রচনার মধ্য দিয়ে সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন বেগম রোকেয়া। ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয় বহুল আলোচিত উপন্যাস মতিচূর-এর প্রথম খণ্ড। সাহিত্যের মান বিবেচনায় মতিচূর সত্যিই অমূল্য। মেরি করেলির মার্ডার অব ডেলিশিয়া উপন্যাস থেকে সংকলিত ডেলিশিয়া হত্যা রচনাটিতে নারীসমাজের এক করুণ চিত্র উঠে এসেছে। পদ্মরাগ একটি ভিন্ন ধরনের উপন্যাস, যা পাঠকমনকে খুব নাড়া দেয়। বেগম রোকেয়া শুধু অবরোধবাসিনীদের নির্যাতন ও তাদের ওপর পুুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিপীড়নের কথা বলেননি, তিনি নারীজাগরণের ডাক দিয়েছেন। অবরোধবাসিনী গ্রন্থে সামাজিক চিন্তা-চেতনার নতুন দিক উন্মোচন করেছেন লেখিকা। লেখিকার সাহিত্য-প্রতিভার প্রমাণ পাওয়া যায় সুলতানার স্বপ্ন (ইংরেজিতে লেখা, লেখিকা কর্তৃক বাংলায় অনূদিত) রচনায়।
বহুমাত্রিকতায় অনন্য বেগম রোকেয়া। একাধারে দার্শনিক, লেখক, সমাজসংস্কারক, নারীশিক্ষায় পথিকৃৎ, নারীমুক্তি আন্দোলনের পথপ্রদর্শক। বিশ শতকের একেবারে প্রথম দিকে আবির্ভূত বহুমুখী রোকেয়া সারা জীবন নারীমুক্তি ও অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করেছেন। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির একনিষ্ঠ সেবক বেগম রোকেয়া আজীবন কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন কিন্তু প্রগতিশীলতা ও আধুনিকতার নামে ধর্মীয় এবং সামাজিক মূল্যবোধের আদর্শ ও ঐতিহ্যকে বিসর্জন দেননি।১৯৬৩ সালে রংপুরে বেগম রোকেয়ার নামে একটি কলেজ স্থাপন করা হয় এবং ১৯৭৯ সালে এটি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী হলের নাম রোকেয়া হল করা হয়। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে রংপুরের মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার নামে ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর’ নামকরণ করে তাঁর যথার্থ মূল্যায়ন করেন। বেগম রোকেয়া আজ নেই, তাঁর আদর্শ আমাদের সামনে রয়েছে। আমরা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর অধিকার সংরক্ষণ ও মর্যাদা রক্ষায় আন্তরিক হলেই বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন ও সংগ্রাম বাস্তব রূপ পাবে।
মু. আবদুল জলিল মিয়া: উপাচার্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

যুক্তরাজ্যে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

দক্ষিণ আফ্রিকায় মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগে যুক্তরাজ্যে গত মঙ্গলবার এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার অনুরোধে ওই ব্রিটিশ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর নাম শ্রিয়েন প্রকাশ দিওয়ানি (৩১)। খুন হওয়া স্ত্রীর নাম অ্যান্নি দিওয়ানি (২৮)। গত ১৩ নভেম্বর দক্ষিণ অফ্রিকার কেপ টাউনের কাছে গুগুলেথু নামে এক স্থানে ট্যাক্সিক্যাবে করে বেড়ানোর সময় সুইডিশ স্ত্রী অ্যান্নি ও তাঁর স্বামী শ্রিয়েন অপহূত হন। পরে অ্যান্নির গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার কয়েক দিন পর শ্রিয়েন অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসেন এবং যুক্তরাজ্যে ফিরে যান।
গত মঙ্গলবার দক্ষিণ অফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ হাইকোর্ট অ্যান্নিকে হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে জোলা টোগো নামের এক ব্যক্তিকে ১৮ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। টোগোর ট্যাক্সিক্যাবে করে বেড়ানোর সময় অ্যান্নি ও শ্রিয়েন অপহূত হয়েছিলেন। টোগোর বরাত দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র জানান, শ্রিয়েন স্ত্রী অ্যান্নিকে হত্যার বিনিময়ে টোগোকে দুই হাজার ১৭৫ ডলার দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এ ঘটনায় আরও দুই ব্যক্তি জড়িত বলে জানান ওই মুখপাত্র।মুখপাত্র জানান, ওই দুই ব্যক্তিকে ফেব্রুয়ারি মাসে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে টোগো বলেন, ‘অ্যান্নি ও শ্রিয়েনকে অপহরণের ঘটনাটি ছিল সাজানো।’
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানায়, দক্ষিণ অফ্রিকার বিচার বিভাগ শ্রিয়েনকে গ্রেপ্তার করার জন্য আমাদের কাছে একটি অনুরোধ পাঠায়। এখন তাঁকে ওয়েস্ট মিনস্টার সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে।

বক্সিংয়ের হল অব ফেমে টাইসন

বক্সিং তাঁকে অনেক কিছুই দিয়েছে। তবে সেরা উপহারটা পাচ্ছেন এবার। মাইক টাইসন—বক্সিংয়ের হল অব ফেম ও জাদুঘরে স্থান পাচ্ছেন কিংবদন্তি এই বক্সার।
বিচিত্র এক জীবন টাইসনের। ব্রুকলিনের রাস্তা থেকে উঠে এসে বক্সিং দিয়ে জয় করেছেন বিশ্ব। জয় করেছেন মানুষের মন। নানা নেতিবাচক কাজ করে আবার পতন হয়েছে বক্সিংয়ের সিংহাসন থেকে, পতিত হয়েছেন মানুষের মন থেকেও।
মাত্র ২০ বছর বয়সে হেভিওয়েট বক্সিংয়ের চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। প্রায় এক দশক একচ্ছত্র রাজত্ব করা টাইসন জেমস ‘বাস্টার’ ডগলাসের কাছে শিরোপা হারান ১৯৯০ সালে। টাইসনের পতনের সেই শুরু। ১৯৯২ সালে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হন, তিন বছর জেল খেটে মুক্তি পান ১৯৯৫ সালে। ১৯৯৭ সালে রিংয়ে হলিফিল্ডের কান কামড়ে ছিঁড়ে ফেলে প্রশ্ন জাগান তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়েই।
সেখানেই শেষ নয়। ২০০২ সালে নিষিদ্ধ মাদক নেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত হন, ২০০৩ সালে ঘোষিত হন দেউলিয়া। এত কিছুর পরও টাইসনের বক্সিং-কীর্তি মুছে যাওয়ার নয়। বক্সিং যেন সেটাই মনে করিয়ে দিল তাঁকে হল অব ফেমে জায়গা দিয়ে। টাইসনও গাইলেন বক্সিংয়ের মাহাত্ম্য, ‘আমি সম্মানিত বোধ করছি। বক্সিং আমাকে অনেক কিছুই দিয়েছে।’

সাম্প্রাসের ট্রফি চুরি

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জিতেছিলেন একেকটা ট্রফি। সময় পেলেই শোকেসে রাখা ট্রফিগুলো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতেন আর ফিরে যেতেন শিরোপা জয়ের রঙিন সেই মুহূর্তগুলোয়। মুগ্ধ চোখে নিজে দেখতেন, আরও বেশি পছন্দ করতেন সন্তানদের দেখাতে।
কিন্তু সেই স্মৃতি এখন হতাশার! চুরি হয়ে গেছে সাম্প্রাসের জেতা অধিকাংশ ট্রফি! হ্যাঁ, ক্যারিয়ারজুড়ে কিংবদন্তি পিট সাম্প্রাসের জেতা ৬৪টি ট্রফির বেশির ভাগ ট্রফি এবং স্মারকই চুরি হয়ে গেছে। পশ্চিম লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি সংরক্ষণাগার থেকে চুরি যাওয়া ট্রফি-স্মারকের মধ্যে রয়েছে দুটি ডেভিস কাপ ট্রফি, এক নম্বরে থেকে বছর শেষ করার ছয়টি স্মারক ও একটি অলিম্পিক আংটি। তবে ১৪টি গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফির ১৩টি এখনো রয়েছে সাম্প্রাসের কাছেই।

ব্যাংকগুলোকে পৃথক সিএসআর বিভাগ চালু করার পরামর্শ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান সিএসআর বা সামাজিক দায়িত্ব পালন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রত্যেকটি ব্যাংকে আলাদা বিভাগ চালু করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আয়কর ছাড় পাওয়ার প্রত্যাশা না করে ব্যাংকগুলোকে সিএসআর কার্যক্রমে অর্থায়ন করার পরামর্শ দেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল বুধবার বেসরকারি সংস্থা এমআরডিআই আয়োজিত সিএসআর উপস্থাপনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এই পরামর্শ দেন।
আতিউর রহমান বলেন, করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি বা সিএসআর কার্যক্রম দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ব্যাংকগুলো সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক ও এমআরডিআই প্রকল্পের সমন্বয়কারী মোয়াজ্জেম হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মো. আমিনুর রহমান।
অনুষ্ঠানে দেশে সিএসআর কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোর অবদান নিয়ে আলোচনা করেন এবিবিএলের চেয়ারম্যান কে মাহমুদ সাত্তার। এ ছাড়া সিএসআর কার্যক্রমের ওপর একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান।
এ ছাড়া মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান, এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আমিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, সিএসআর কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় করার সুবিধা অনেক। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাংকের সুনাম বাড়ে। তা ছাড়া ওইসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের নৈতিকতা বাড়ে। তিনি আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় না পেলেও ব্যাংকগুলোকে সিএসআর কার্যক্রমে ব্যয় বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো চাইলে এমআরডিআইর নেওয়া সিএসআর কার্যক্রমেও অর্থায়ন করতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংকগুলোর সিএসআর কার্যক্রম বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নের পরামর্শ দেন। ব্যাংকগুলোর সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তিনি নীতি-সহায়তা ও নির্দেশনা প্রদানের আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. আমিনুর রহমান বলেন, সিএসআর কার্যক্রমে ব্যয়ের ওপর আয়কর ছাড় সুবিধা নিতে হলে এনবিআরের কাছে আবেদন করতে হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি। তিনি বলেন, বর্তমান নীতিমালায় ১৫টি খাতে সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আয়কর ছাড় দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে আলোচনার মাধ্যমে এ ধরনের খাতের সংখ্যা আরও বাড়ানো যেতে পারে।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা সিএসআর কার্যক্রমে ব্যয় করা অর্থ আয়কর মুক্ত রাখার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, সিএসআর কার্যক্রমে ব্যয় করা অর্থ আয়করমুক্ত হলে ব্যাংকগুলো আরও অধিক পরিমাণে সিএসআর কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে।

পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ডেনিশ সহায়তা

বাংলাদেশের নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা দিচ্ছে ডেনমার্ক। এ জন্য তারা আগামী ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তিন কোটি ৫৭ রাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা দেবে। ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন সেক্টরের (ডব্লিউএসএসএস) তৃতীয় দফা কর্মসূচির আওতায় এ অনুদান দেওয়া হবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানীয় সরকার বিভাগ। গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। ইআরডি সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনিশ রাষ্ট্রদূত সেভন্ড ওল্লিং এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না

বাংলাদেশে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে কাঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কাজের সমন্বয়হীনতা ও দুর্নীতি ইত্যাদি বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ঢাকা শেরাটন হোটেলে গতকাল বুধবার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত মাসিক মধ্যাহ্নভোজ সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশকে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়ক, রেল ও বন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক হারে বিনিয়োগ করতে হবে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক জ্যাক গ্যারিটি। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি, বোস্টন ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপিং ইকোনমিজের প্রেসিডেন্ট গুস্তাভ এফ পাপানেক, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় (যিনি প্রধানমন্ত্রীকে তথ্যপ্রযুক্তিসেবা বিষয়ে পরামর্শ দেন) এবং অ্যামচেমের সভাপতি আফতাব উল ইসলাম।
গুস্তাভ এফ পাপানেক বলেন, ‘এ দেশে বড় বিনিয়োগ নিয়ে কেউ এলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত যেতে হয়। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হন।’ তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। কেননা প্রতিদ্বন্দ্বী চীন, ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে কেউ বিনিয়োগ করে ফেললে তা সহজে সরিয়ে নিতে আগ্রহী হবেন না।
এফ পাপানেক আরও বলেন, চীন সমাজতান্ত্রিক দেশ হলেও বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করেছে। বাংলাদেশ জ্বালানি ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ নিতে পারে।
এস এ সামাদ বলেন, ‘এ দেশে বিনিয়োগ করতে এলে উদ্যোক্তাদের নানা ধরনের হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়। সে জন্য বিনিয়োগকারীদের অফিসে অফিসে ঘুরানোর সংস্কৃতি বদলাতে হবে। কেননা তাঁরা আমাদের গ্রাহক। তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারলে আমাদের চাকরি থাকা উচিত নয়।’
জেমস এফ মরিয়ার্টি বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও দুর্নীতি বাংলাদেশের বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার কাজে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার। এমন ধরনের বিনিয়োগ নীতি প্রণয়ন করা উচিত যাতে বিদেশি উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়।
সজীব ওয়াজেদ ট্রানজিট ও আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্পর্কে সজীব ওয়াজেদ বলেন, এই সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বিএনপি বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এত দিন এই অবস্থানগত সুবিধা নিতে পারেনি। সে জন্য বর্তমান সরকার ট্রানজিট ও আঞ্চলিক যোগাযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছে। এ ছাড়া আগামী ২০২১ সালের মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাংলাদেশ বিশ্বমানে পৌঁছে যাবে বলে সজীব ওয়াজেদ উল্লেখ করেন।
জ্যাক গেরেটি তাঁর মূল প্রবন্ধে বলেন, চীন, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো তিনটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মাঝে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান। এই বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নতি করতে পারে।

বুধবার দরপতনের কারণ খুঁজতে এসইসির তদন্ত কমিটি গঠন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বুধবার নজিরবিহীন দরপতনের কারণ খুঁজতে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদকে প্রধান করে আজ বৃহস্পতিবার এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—কমিশনের নির্বাহী পরিচালক এটিএম তারিকুজ্জামান, পরিচালক মাহবুব আলম ও আরেক পরিচালক তানিয়া শারমিন।
ঘটনার তদন্ত শেষে এক মাসের মধ্যে কমিশনে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এসইসি সূত্রে জানা যায়, গতকাল ডিএসইতে নজিরবিহীন দরপতনে সাধারণ সূচক প্রায় সাড়ে ৫০০ পয়েন্ট কমে যায়। এর ফলে ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা ডিএসইর সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে সূচকের কিছুটা ঊর্ধ্বগতি হলে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।
এ ঘটনা ডিএসই ও এসইসিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাবিয়ে তোলে। ফলে বিষয়টি তদন্ত করে এর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি আজ এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বাস্তবায়নেই সবাইকে মনোযোগী হতে হবে - জাতীয় শিক্ষানীতি

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জাতীয় শিক্ষানীতি অনুমোদন লাভ করেছে, এটি নিঃসন্দেহে আনন্দের সংবাদ। তবে এই আনন্দ পূর্ণ মাত্রা পেত, যদি প্রধান বিরোধী দল জাতীয় সংসদে উপস্থিত থেকে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখত। কোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সংকীর্ণ রাজনীতি বা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা সমীচীন নয়। জাতীয় শিক্ষানীতি এমন একটি বিষয়, যাতে গোটা জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকা উচিত। এবার জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটি খসড়া প্রতিবেদনটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে মতামত চেয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনাও করেছে। সেই বিবেচনায় এটিকে চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষানীতি বলা যাবে না।
এবারের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে ১৯৭৪ সালের কুদরাত-এ-খুদা কমিশনের আলোকে। সেই সময়ে এই কমিশনের প্রতিবেদনটি সর্বমহলে প্রশংসিত হলেও পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তা বাস্তবায়িত হতে পারেনি। এর আগে ও পরে যতগুলো শিক্ষানীতি বা প্রতিবেদন হয়েছে, প্রতিটির বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ তথা ছাত্রসমাজের প্রবল আপত্তি ছিল। সামরিক সরকারের আমলে প্রণীত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে একাধিকবার আন্দোলনও হয়েছে। দেশের শিক্ষানীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও বৈরিতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এবারের শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষার স্তর অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করা হয়েছে, মাদ্রাসাশিক্ষাকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো মৌলিক ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বলে আমরা মনে করি। শিক্ষানীতির ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে যে শিক্ষাকে দক্ষ জনশক্তি গড়ার প্রধান হাতিয়ার করা কিংবা অর্থনৈতিক উন্নতির সোপান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, তার সঙ্গে কেউ দ্বিমত করবেন না। তিনি বলেছেন, এমন ব্যবস্থা করা উচিত যাতে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষানীতিও বদলে না যায়। আমরাও মনে করি, কেবল শিক্ষানীতি নয়, সব জাতীয় নীতির ব্যাপারে জাতীয় মতৈক্য থাকা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল নিজস্ব নীতি ও কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাবে, জনগণ যেই দলের নীতি ও কর্মসূচি সমর্থন করবে, তারা ক্ষমতায় যাবে। কিন্তু জাতীয় শিক্ষানীতির মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম মতৈক্য থাকা প্রয়োজন। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে এসব নীতি বদলাতে পারে না। তবে যেকোনো নীতিতে সময়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সংযোজন বা বিয়োজন হতে পারে। তাই বলে নীতিটি আমূল বদলে দেওয়ার মাধ্যমে কৃতিত্ব জাহির করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। কোনো কোনো মহল থেকে এবারের শিক্ষানীতির বিরোধিতা করার চেষ্টা চলছে। এদের উদ্দেশ্য যে সৎ নয়, তা নিশ্চিত করে বলা যায়।
আশা করব, জাতীয় সংসদে শিক্ষানীতিটি অনুমোদনের পর এ নিয়ে আর কোনো বিতর্ক কাম্য নয়। আরেকটি জরুরি কথা হলো, প্রণীত শিক্ষানীতি যত ভালোই হোক না কেন, ঠিকমতো বাস্তবায়িত না হলে দেশবাসী তার সুফল পাবে না। আমাদের দেশে অনেক ভালো নীতি আছে, কিন্তু এর বাস্তবায়ন নেই। বিশেষ করে শিক্ষার মানের ক্রমাবনতি ঠেকাতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একাগ্রচিত্তে কাজ করতে হবে। কেবল শিক্ষার হার বাড়লেই হবে না, দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়তে শিক্ষার মানও বাড়াতে হবে।

আরবি শেখায় আগ্রহ বেড়েছে মার্কিন শিক্ষার্থীদের

মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বিদেশি ভাষা শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন ভাষা হয়ে উঠছে আরবি। গতকাল প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের মডার্ন ল্যাংগুয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের (এমএলএ) এক গবেষণা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদেশি ভাষার তালিকায় লাতিন ও রুশকে টপকে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে আরবি। ২০০৬ সালের তুলনায় আরবি ভাষা শেখার শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। ১৯৫৮ সাল থেকে মোট ২২ বার এই তালিকা প্রস্তুত করেছে এমএলএ।অন্য ভাষার মধ্যে কোরিয়ান ১৯ শতাংশ, চীনা ১৮ দশমিক ২ শতাংশ, আমেরিকান সংকেতলিপি ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ ও পর্তুগিজ ১১ শতাংশ হারে শেখার চাহিদা বেড়েছে। বহুল প্রচলিত ভাষাগুলোর মধ্যে স্প্যানিশ সবচেয়ে এগিয়ে আছে। ২০০৬ সালের তুলনায় বর্তমানে ৫ শতাংশ বেশি শিক্ষার্থী এই ভাষা শিখছে। আট লাখ ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী এই ভাষা শিখছে। পরের স্থানটি ফরাসি ভাষার। দুই লাখ ১৬ হাজার মার্কিন শিক্ষার্থী এই ভাষা শিখছে। এ ছাড়া জার্মান ভাষা শিখছে ৯৬ হাজার শিক্ষার্থী।

এ রাজার দুই বাড়িতে তল্লাশি

দুর্নীতির অভিযোগে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করা ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় টেলিকমমন্ত্রী এ রাজার দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)।
গতকাল বুধবার সকালে রাজার নয়াদিল্লি ও চেন্নাইয়ের বাসভবনে এই তল্লাশি চলে। একই সঙ্গে রাজার ঘনিষ্ঠ আরও চারজন বর্তমান ও সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি চলাকালে বেশ কিছু নথি জব্দ করেন সিবিআইয়ের কর্মকর্তারা।
রাজার বাসভবনে সিবিআইয়ের তল্লাশির ঘটনার পর বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোনের লাইসেন্স বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর জের ধরে এ রাজা গত ১৪ নভেম্বর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
ক্ষমতাসীন জোট ইউপিএ বিরোধী শিবির বিজেপি, সিপিএম, সিপিআইসহ ১১টি বিরোধী দল পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে গতকাল রাজার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি তদন্তের জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবি জানান।

বেনারসে বিস্ফোরণে এক শিশু নিহত সতর্কতা জারি

ভারতের উত্তর প্রদেশের বেনারস শহরে গঙ্গা নদীর একটি স্নানঘাটে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু নিহত ও সাত বিদেশিসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। এর জের ধরে গতকাল বুধবার প্রধান রাজ্যগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদীন হামলার দায় স্বীকার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শতাব্দীপ্রাচীন দশাশ্বমেধ ঘাট লাগোয়া শীতলাঘাটে মহা সন্ধ্যা-আরতি শেষ হওয়ার পরই প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সরিতা শর্মা নামের দুই বছরের একটি শিশু নিহত হয়। আহত ৩০ জনের মধ্যে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, ফ্রান্স ও জাপানের নাগরিক রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, ঘাটের সিঁড়ির নিচে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সন্ধ্যা-আরতির সময় ঘাটে প্রচণ্ড ভিড় হয়। গোয়েন্দাদের ধারণা বিপুলসংখ্যক প্রাণহানি ঘটাতেই এমন জায়গায় বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল। কিন্তু ওই সময় দর্শনার্থীরা কিছুটা দূরে থাকায় বিপর্যয় ততটা বড় মাপের হয়নি। তবে আরও হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও হায়দ্রাবাদসহ বিভিন্ন জায়গায় ‘লাল সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়ও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকে দুর্বল করার লক্ষ্যে সন্ত্রাসীরা এ ধরনের আঘাত হানছে। তবে এসব অপশক্তি সফল হবে না।
ঘটনার কিছুক্ষণ পরই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ই-মেইল বার্তা পাঠিয়ে ইন্ডিয়ান মুজাহিদীন দায় স্বীকার করে।

চিলির কারাগারে অগ্নিকাণ্ডে ৮১ বন্দীর প্রাণহানি

চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোর একটি কারাগারে গতকাল বুধবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কমপক্ষে ৮১ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটা ৩০ মিনিটে সান মিগুয়েল কারাগারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় একটি তোশকে আগুন লাগানো হয়। পরে আগুন গোটা কারাগারে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ৮১ জন বন্দী নিহত ও আরও ১৯ জন বন্দী আহত হয়েছে। আহত কয়েকজন বন্দীর অবস্থা গুরুতর।
বিবিসির এক প্রতিবেদক জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে বন্দীদের আত্মীয়-স্বজনেরা কারাগারের আশপাশে ভিড় করায় বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, ৭০০ বন্দীর ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কারাগারটিতে এক হাজার ৯০০ বন্দীকে আটক রাখা হয়েছিল।

পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন ফুজিমোরির মেয়ে

পেরুর কারাবন্দী সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে কিকো ফুজিমোরি গত মঙ্গলবার দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ের কথা ঘোষণা করেছেন। আগামী বছরের ১০ এপ্রিল মাসে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কিকো সামনের সারিতে রয়েছেন।
গত মঙ্গলবার নিজ দল ফুয়েরজা পার্টির এক সমাবেশে কিকো ফুজিমোরি বলেন, ‘এ নির্বাচনে আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে, পেরুর সব মানুষের জন্য কাজ করা। তবে গরিব লোকজন বেশি অগ্রাধিকার পাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হই, তাহলে সরকারের প্রাসাদে বসে কাজ করব না। কাজ করব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এলাকা থেকে। এ জন্য এসব এলাকা আমি সফর করছি।’
আলবার্তো ফুজিমোরির চার সন্তানের মধ্যে কিকো বড়। ২০০৬ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হন। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, বাবার নেতিবাচক ভাবমূর্তি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, দুর্নীতির দায়ে আলবার্তো ফুজিমোরি বর্তমানে কারাভোগ করছেন।

মদ মাদক নারী নিয়ে মেতে থাকেন সৌদি প্রিন্সরা

সৌদি আরবে মাদক গ্রহণ ও পাচার এবং ব্যভিচারের দায়ে প্রতিবছর অনেক লোককে কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়। অনেককে দোররা মারা হয়। অনেকের শিরশ্ছেদ হয়। অথচ খোদ রাজপরিবারের সদস্যরা হরহামেশাই মদ, মাদক ও নারী নিয়ে মেতে থাকেন। ধর্মীয় পুলিশ সেখানে নাক গলাতে পারেন না। উইকিলিকসের ফাঁস করা গোপন নথিতে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
নথিতে জেদ্দায় মার্কিন কনস্যুলেটের কূটনীতিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, কঠোর ইসলামি অনুশাসনের কিছুই রাজপরিবারে মানা হয় না। পর্দার আড়ালে প্রিন্সরা এবং সৌদি রাজবংশের সম্ভ্রান্ত নারীরা মদ্যপ ও নেশাগ্রস্ত হয়ে পার্টিতে উদ্দাম নৃত্যে মেতে ওঠেন। ওই সব পার্টিতে রাজপরিবারের সুনির্দিষ্ট সদস্যরা যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। মাঝেমধ্যে সেখানে বিদেশি অতিথিদেরও মনোরঞ্জন করা হয়। কয়েকজন মার্কিন কূটনীতিক বলেছেন, প্রিন্সরা পার্টিতে মদ পানের পাশাপাশি গাঁজা ও কোকেনের মতো মাদক গ্রহণ করেন।
এসব কার্যকলাপ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, এসব স্থানের কাছে যেতেও ধর্মীয় পুলিশের সদস্যরা সাহস পান না।
উইকিলিকসের ওই নথিতে বলা হয়েছে, সৌদি রাজবংশে ১০ হাজারের বেশি প্রিন্স রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাদশাহ আবদুল আজিজের সরাসরি বংশধর।

দক্ষিণ আমেরিকা ও আলাস্কায় দ্রুতগতিতে বরফ গলছে

দক্ষিণ আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় হিমবাহগুলো দ্রুত গলছে। এসব অঞ্চলের বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। জাতিসংঘ থেকে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মেক্সিকোর কানকুনে জলবায়ু সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিম, কানাডার দক্ষিণ-পশ্চিম এবং সুমেরু অঞ্চলের হিমবাহগুলো আগামী দশকগুলোতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অঞ্চলের হিমবাহ দেড় শ বছর আগে থেকে গলতে শুরু করেছে। তবে গত শতকের আশির দশকের পর এই গলার পরিমাণ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। ১৯৬০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকার সর্বদক্ষিণে প্যাটাগোনিয়া ও আলাস্কায় হিমবাহ গলে এ অঞ্চল দুটির বরফ স্তর যথাক্রমে ৩৫ মিটার ও ২৫ মিটার পাতলা হয়ে গেছে।
ইউএনইপি বলেছে, মূলত উষ্ণ তাপমাত্রার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ গলছে। এ ছাড়া বায়ুমণ্ডলে জমা ধোঁয়ার কারণে সূর্যের আলো থেকে সৃষ্ট তাপ পৃথিবী থেকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে না পারার কারণেও হিমবাহ গলছে। হিমবাহ গলার ফলে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। নদীতে কমছে পানির পরিমাণ। এ ছাড়া খাদ্য সরবরাহও কমে যাচ্ছে।
ইউএনইপির মেরুবিষয়ক সমন্বয়ক জন ক্র্যাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো দুরূহ হয়ে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সহযোগিতা করা দরকার।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী হিমবাহ গলার পরিমাণ বাড়লেও নরওয়ের পশ্চিমাঞ্চল ও নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডসহ অন্যান্য অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সেখানে হিমবাহের আকার বেড়েছে।
হিমবাহ গলার ফলে গত ৪০ বছরে বিশ্বের প্রায় সবখানেই বন্যার পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলে সৃষ্ট খাল থেকে সেচের মাধ্যমে পানি কমিয়েছে পেরু। একই ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে নেপাল ও ভুটান। তবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন খুবই ব্যয়সাপেক্ষ। তা ছাড়া এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রযুক্তিগতভাবেও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ গলার ফলে সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সহায়তা দেওয়ার জন্য নরওয়ে সরকার এক কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি অনুদান ঘোষণা করেছে। দেশটির পরিবেশমন্ত্রী এরিক সোলহেইম বলেন, হিমবাহ গলার ফলে ভারত, পাকিস্তান ও চীন—এই তিনটি দেশের ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে পাঁচ বছরব্যাপী এ সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণ এশিয়াই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে নরওয়ে এ পরিস্থিতির সম্পূর্ণ উল্টো দিকে অবস্থান করছে।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের মুখপাত্র মাধব কার্কি একটি বৈমানিক আলোকচিত্রের বরাত দিয়ে জানান, হিমালয়ের পূর্বাঞ্চলে বছরে পাঁচ থেকে ১৫ মিটার হিমবাহ গলছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে ৪০ শতাংশ বন্যাই এশিয়ায় হয়েছে। ১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বন্যায় এ অঞ্চলের ১০০ কোটি লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাকিস্তানে এ বছরের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে এক হাজার ৭০০ লোক মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।

ইসরায়েলকে মানাতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে ইসরায়েলকে রাজি করাতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার এ দায় স্বীকার করে বসতি নির্মাণ বন্ধের দাবি থেকেও সরে এসেছে ওয়াশিংটন। তবে তারা শান্তি-প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দুই পক্ষকে পরোক্ষ আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।
ইসরায়েলের ‘একগুঁয়েমির’ কারণে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপন বন্ধে ওয়াশিংটনের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিন। গতকাল বুধবার ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারা এই অভিযোগ করেন। ইসরায়েলের এমন অবস্থানের কোনো প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্র না জানানোয় ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন।
গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হয়। এতে এক বছরের মধ্যে ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের মধ্যে শান্তিচুক্তি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। দুই পক্ষের নেতারা তিন দফায় আলোচনা করেন। ২৬ সেপ্টেম্বর অধিকৃত ভূমিতে বসতি নির্মাণ বন্ধের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলে ইসরায়েল নতুন করে বসতি নির্মাণ শুরু করে। এখন ফিলিস্তিন আলোচনা থেকে সরে আসে। ফিলিস্তিনের দাবি, সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর আগে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের কাজ বন্ধে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াতে হবে। কিন্তু ইসরায়েল এই প্রস্তাবে রাজি নয়।
গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেন, অর্থপূর্ণ ও টেকসই আলোচনায় দুই পক্ষকে ফিরিয়ে আনতে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়া ধরে রাখার অঙ্গীকার করেন। ক্রাউলি জানান, ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি আলোচকেরা আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যাবেন। শান্তি-প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে এর মূল উদ্দেশ্য। এতে দুই পক্ষের পরোক্ষ আলোচনা হতে পারে।
ফিলিপ ক্রাউলি আরও বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাব। আমরা আশা করি, এর মাধ্যমে উভয় পক্ষকে প্রত্যক্ষ আলোচনায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’ মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে দুই পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করবে।
ফিলিস্তিনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইয়াসির আবেদ রাব্বো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সরাসরি আলোচনার ব্যাপারে অগ্রসর হওয়া অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, ওয়াশিংটন দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মাধ্যমে শান্তি-প্রক্রিয়াকে ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভয়েস অব প্যালেস্টাইন রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবেদ রাব্বো আরও বলেন, ইসরায়েলের একগুঁয়েমির কারণে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়ার কৌশল পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
ইসরায়েল বলছে, ২০ বছর ধরে শান্তি-প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। কোনো সময়ই সরাসরি আলোচনার আগে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করার কোনো শর্ত ছিল না।

টেন্ডুলকার-শেবাগরা নিজের দলেই

কিছু অনুমিত নাম যেমন আছে, তেমনই আছে বিস্ময়ও। শচীন টেন্ডুলকার, মহেন্দ্র সিং ধোনি, বীরেন্দর শেবাগ, শেন ওয়ার্ন, ক্রিস গেইলদের ধরে রেখেছে তাঁদের দল। কিন্তু গৌতম গম্ভীর, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, জ্যাক ক্যালিস বা অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসদের ধরে রাখায় আগ্রহী নয় তাঁদের দল! বিস্ময়কর হলেও কাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এটাই সত্যি।
আগের দল থেকে আগামী আইপিএলে চারজন ক্রিকেটার রেখে দিতে পারবে দলগুলো, তাঁদের এবার নিলামে তোলা হবে না। এই চারজনের মধ্যে আবার ভারতীয় থাকতে পারবেন সর্বোচ্চ তিনজন। কাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চারজন করে ধরে রাখা নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস ও রানার্সআপ মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। কাজটা বেশি কঠিন ছিল মুম্বাইয়েরই। তাদের ধরে রাখা চারজনের বাইরেও ইচ্ছে ছিল জহির খান, ডোয়াইন ব্রাভো, সৌরভ তিওয়ারি, জেপি ডুমিনিদের রাখাও। তিনজন ভারতীয় রেখেছে একমাত্র চেন্নাই। মাইক হাসি বা মুত্তিয়া মুরালিধরন নন, একমাত্র বিদেশি হিসেবে বেছে নিয়েছে তারা আলবি মরকেলকে। শেবাগকে রাখা নিশ্চিত করলেও সর্বশেষ মৌসুমের অধিনায়ক গম্ভীরের ব্যাপারে বুঝে উঠতে পারছে না দিল্লি। কলকাতা নাইট রাইডার্স রেখে দিয়েছে একমাত্র ক্রিস গেইলকে। অধিনায়ক ও কোচ শেন ওয়ার্নের পাশাপাশি রাজস্থান রয়্যালস রেখে দিয়েছে প্রথমবার তাদের শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক শেন ওয়াটসনকে। কোনো ক্রিকেটারকে ধরে রাখায় আগ্রহী নয় ডেকান চার্জার্স বা কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। মালিকানা প্রশ্নে বিসিসিআই রাজস্থান ও পাঞ্জাবকে বহিষ্কৃত করলেও আদালত স্থিতাবস্থা দেওয়ায় খেলোয়াড় নিলামে অংশ নিতে পারছে দল দুটি। তাই চতুর্থ আইপিএলে তাদের অংশ নেওয়ারও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বকাপ দেখছেন ইউসুফ পাঠান

এক ইনিংসেই যেন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন ইউসুফ পাঠান। দেখিয়ে দিলেন শুধু ২৫-৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংসই নয়, একই ভঙ্গিতে খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্যও তাঁর আছে। শর্ট বলের বিপক্ষে তাঁর সামর্থ্য নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোকেও যেন আপাতত ঝেঁটিয়ে বিদায় করলেন একেকটি পুল শটে। ৩ উইকেট নেওয়ার পর ৯৬ বলে অপরাজিত ১২৩—গত পরশু বেঙ্গালুরুতে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচের পারফরম্যান্সে হয়তো বিশ্বকাপটাও নিশ্চিত করে ফেললেন ‘বড়’ পাঠান।
বল হাতে থাবা বসিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের লোয়ার-মিডল-অর্ডারে। ফ্রাঙ্কলিন-ঝড়ে (৬৯ বলে ৯৮*) কিউইরা তবু তোলে ৩১৫। আগের দিনই অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই ম্যাচে ব্যাটিং-অর্ডারে প্রমোশন পাবেন ইউসুফ। ২০তম ওভারেই তাই উইকেটে ইউসুফ, ১০৮ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর। রোহিত শর্মার সঙ্গে ৮০ আর সৌরভ তিওয়ারির সঙ্গে মাত্র ৯৩ বলে ১৩৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে সাত বল আগেই ভারতকে জিতিয়ে ফিরলেন তিনি।
সেঞ্চুরি ও ম্যাচ জয়ের আনন্দের সঙ্গে ইউসুফের সঙ্গী ছিল নিজেকে প্রমাণ করতে পারার স্বস্তি, ‘সেঞ্চুরি পাওয়ায় তো খুশিই, এর চেয়ে বেশি খুশি দলকে ম্যাচ জেতাতে পারায়। আজ (পরশু) অনেক ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছি, বুঝতে পারছিলাম এবারই আমার সুযোগ। সেটা কাজে লাগাতে পারায় ভালো লাগছে।’
গত মাসেই রঞ্জি ট্রফিতে ১৩৮ বলে ১৯৫ করেছেন, বিজয় হাজারে ট্রফির ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছেন ৪০ বলে। দুলিপ ট্রফির ফাইনালে প্রথম ইনিংসে ৭৬ বলে ১০৮ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর ১৯০ বলে অপরাজিত ২১০ রানে দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে ৫৪০ রান তাড়া করে জিতেছিল পশ্চিমাঞ্চল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচজয়ী ইনিংস খেললেন এই প্রথম। বিশ্বকাপে সাত নম্বর কে—এই প্রশ্নের উত্তরও বোধ হয় পেয়ে গেল ভারত!

নির্বাচনী ধাঁধায় অস্ট্রেলীয় নির্বাচকেরা

সমস্যা তখনো ছিল, এখনো আছে। তবে বদলে গেছে ধরন। একসময় অস্ট্রেলীয় নির্বাচকদের সমস্যা ছিল মধুর, কাকে রেখে কাকে বাদ দেবেন? ম্যাকগ্রা-লি-গিলেস্পিদের জন্য বাইরে বসে থাকত হতো ফ্লেমিং-ক্যাসপ্রোভিচ-বিকেলদের। একজন শেন ওয়ার্নের জন্য যেমন স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের মতো লেগ স্পিনারের ক্যারিয়ার থেমে গেল ৪৪ টেস্টে। সেই দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান নির্বাচকেরা। তাঁদের যে ঠগ বাছতে গা উজাড় হওয়ার জোগাড়। বাজে পারফর্ম করার পরও অনেককে বাদ দেওয়া যাচ্ছে না। বিকল্প কোথায়?
দুজন মিলে ১ উইকেট পাওয়ার পর ব্রিসবেনের দুই পেসার বেন হিলফেনহস ও মিচেল জনসনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল অ্যাডিলেডে। তাঁদের জায়গায় সুযোগ পেয়ে রায়ান হ্যারিস ও ডগ বলিঞ্জারই বা সুবিধা করতে পারলেন কোথায়? দুজন মিলে নিয়েছেন তিন উইকেট। এমনিতে আঁটসাঁট বোলিংয়ের জন্য পরিচিত বলিঞ্জার রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি প্রায় সাড়ে চার করে। ব্রিসবেনে হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেটের পর ৫৪ ওভার বোলিং করেও আর কোনো উইকেট পাননি পিটার সিডল।
সমস্যা হলো, বিকল্প না থাকায় পার্থে এই পাঁচ পেসারের তিনজনকেই খেলাতে হবে। গত কিছুদিনে পিটার জর্জ, মিচেল স্টার্ক বা জন হাস্টিংসদের বিভিন্ন সময় দেখে পরিষ্কার হয়ে গেছে টেস্ট খেলতে এখনো অনেক দূর পাড়ি দিতে হবে তাঁদের। অ্যাডিলেডে মাত্র ২ উইকেট পেলেও সবচেয়ে বেশিবার উইকেট নেওয়ার কাছাকাছি গেছেন রায়ান হ্যারিস। মন্দের ভালো হিসেবে পার্থে তাঁর জায়গা অনেকটা নিশ্চিত, যদি না সদ্য সেরে ওঠা তাঁর হাঁটুর চোটটা আবার মাথাচাড়া দেয়। হ্যাটট্রিকের কারণেই হয়তো আরেকটা সুযোগ পাবেন সিডল, তবে বলিঞ্জারের বাদ পড়া প্রায় নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে দলে ফিরবেন সেই হিলফেনহস বা জনসনের কেউ একজন।
স্পিনে সমস্যা তো সেই শেন ওয়ার্ন বিদায় নেওয়ার পর থেকেই। বিউ ক্যাসন, জেসন ক্রেজা, ব্রাইস ম্যাকগেইন, নাথান হরিজ, স্টিভেন স্মিথের মতো অনেককে খেলানো হলেও লম্বা দৌড়ের ঘোড়া হতে পারেননি কেউই। এবার জেভিয়ার ডোহার্টিকে নিয়ে রিকি পন্টিংয়ের জুয়াও ব্যর্থ হলো চরমভাবে। দুই টেস্টে ব্যাটসম্যানদের নয়, ডোহার্টি বরং বেশি ঝামেলায় ফেলেছেন স্কোরারকে! সমালোচনায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে দল থেকে বাদ পড়া হরিজকেই আবার তাই দেখা যেতে পারে দলে। বাদ পড়ার পর অবশ্য শেফিল্ড শিল্ডে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন হরিজ। আগের ম্যাচে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং করার পর কাল সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।
সম্ভাব্য কোপের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মার্কাস নর্থও। ৩৫ টেস্ট ইনিংসের ২৫টিতেই ৩০-র কমে আউট হওয়া বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে নিয়ে ধৈর্য শেষ হয়ে যাওয়ার কথা নির্বাচকদের। পার্থে তাঁর জায়গায় টেস্ট অভিষেক হয়ে যেতে পারে আরেক বাঁহাতি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত উসমান খাজার। এত কিছুর ভিড়ে নির্বাচকদের একমাত্র স্বস্তি, সাইমন ক্যাটিচের বিকল্প খুঁজতে খুব বেশি গলদঘর্ম হতে হচ্ছে না তাঁদের। অ্যাকিলিসের চোটে সিরিজ থেকে ছিটকে পড়া ক্যাটিচের জায়গায় ফিরছেন ফিলিপ হিউজ, সর্বশেষ টেস্ট ইনিংসে যিনি করেছিলেন অপরাজিত ৮৬।

১ জানুয়ারি থেকেই বিশ্বকাপের টিকিট

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে টিকিট বিক্রি শুরু করার একটা পরিকল্পনা আগে ছিল। কিন্তু স্থানীয় আয়োজক কমিটির (এলওসি) পরে মনে হলো, এত আগে টিকিট ছাড়লে অনেক আগেই টিকিট শেষ হয়ে যেতে পারে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের হাতে তা পৌঁছাবে না। তাই গত পরশু এলওসির সভায় ঠিক হয়েছে, বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১ জানুয়ারি। টিকিট কোথায় কীভাবে বিক্রি হবে—এসবের বিস্তারিত ঠিক হবে সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই। তবে এলওসির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ৬৪টি জেলাতেই টিকিট কেনার সুযোগ পাবে মানুষ। যদিও রাজধানীর বাইরে টিকিট যাবে কম।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে হলেও বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের আয়োজক, এই বিষয়টিই দেশবাসীকে বিশ্বকাপ নিয়ে প্রচণ্ড আগ্রহী করে তোলার জন্য যথেষ্ট। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক সাফল্য। ‘টিকিট চাই, টিকিট চাই’ বলে শোরগোলই পড়ে গেছে সারা দেশে। কিন্তু আগ্রহ বিবেচনায় স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সুযোগ মানুষের সীমিত। মোট আটটি ম্যাচের আয়োজক বাংলাদেশ। ২টি কোয়ার্টার ফাইনালসহ ৬টি ম্যাচ হবে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ-ভারত উদ্বোধনী ম্যাচের পর গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ তিনটিও হবে মিরপুরে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হবে ইংল্যান্ড ও হল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের বাকি দুটি গ্রুপ ম্যাচ।
টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়িটা আরও বাড়ছে দুটি স্টেডিয়ামেরই আসনসংখ্যা কমে যাওয়ায়। মিরপুরে আসনসংখ্যা ২৮০১৪ ও চট্টগ্রামে ১৮২২৮। এর মধ্যে মিরপুর স্টেডিয়ামে তিন হাজারের বেশি টিকিট আইসিসির কর্মকর্তা, দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্পনসরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। চট্টগ্রামের কত হাজার সংরক্ষিত থাকবে, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি এলওসি।
টিকিট কম, কিন্তু বিপুল চাহিদা। কীভাবে টিকিট বিক্রি করা হবে? জানা গেছে, বিশ্বকাপে আইসিসির বাণিজ্যিক কয়েকটি অংশীদারের বিক্রয়কেন্দ্র থেকে টিকিট বিক্রি করা হবে। প্রথমত নির্বাচিত হয়েছে হিরো হোন্ডা ও রিবক। মানিগ্রাম ও ক্যাস্ট্রলও যোগ হতে পারে তালিকায়। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান মানিগ্রামের যেহেতু বাংলাদেশে নিজস্ব অফিস নেই, তাই প্রতিষ্ঠানটি যেখানে যে ব্যাংকের সঙ্গে সংযুক্ত, সেখান থেকে বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারে। তবে টিকিট বিক্রির কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পূর্বশর্ত, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থার নিশ্চয়তা। টিকিট বিক্রি ও বণ্টনের স্বত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান কায়াজুঙ্গা এলওসির সঙ্গে বসে এটি চূড়ান্ত করবে।
একটা ব্যাপারে অবশ্য এলওসি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি হবে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি পাওয়া গেলে স্থানীয় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কিছু বিক্রি হতে পারে। ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড এই চেষ্টাটা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
গ্রুপ ম্যাচের টিকিটের মূল্য সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২১ হাজার টাকা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের পূর্ব গ্যালারির টিকিটের দাম ২০০ টাকা, উত্তর ও দক্ষিণ গ্যালারি ৪০০ টাকা, ক্লাব হাউজ ৭০০, আন্তর্জাতিক গ্যালারি (দক্ষিণ) ২ হাজার, আন্তর্জাতিক হসপিটালিটি গ্যালারি ১০ হাজার এবং করপোরেট বক্স ২১ হাজার টাকা। গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডের টিকিটের দাম ৩ হাজার টাকা।
চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ২০০ টাকা, দোতলার আন্তর্জাতিক গ্যালারি ২ হাজার ও নিচতলার ‘মার্কি’ আন্তর্জাতিক গ্যালারি ১০ হাজার টাকা, গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড ৩ হাজার টাকা এবং করপোরেট বক্স ২১ হাজার টাকা। মিরপুরে অনুষ্ঠেয় দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম স্বাভাবিকভাবেই বেশি। গ্যালারি ৩০০ ও ৫০০, ক্লাব হাউজ ১ হাজার, আন্তর্জাতিক গ্যালারি ৩ হাজার, গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড ৪ হাজার, আন্তর্জাতিক হসপিটালিটি গ্যালারি ১৪ হাজার এবং করপোরেট বক্সের টিকিটের দাম ২৪ হাজার ৫০০ টাকা ধরা হয়েছে। এখন টিকিট কেনা মানে মূল টিকিটের ভাউচার হাতে পাওয়া, সেটি দেখিয়ে খেলার ৭ থেকে ১৫ দিন আগে সংগ্রহ করতে হবে মূল টিকিট। ১৭ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিটের দাম ধরা হয়েছে গ্যালারি ৫০০ টাকা, আন্তর্জাতিক গ্যালারি ৫ হাজার টাকা এবং গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড ২০ হাজার টাকা। ২৪৩৪০ আসনের বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিক্রির জন্য টিকিট ছাড়া হবে অর্ধেকেরও বেশি।
টিকিট ক্রয়সংক্রান্ত পরামর্শ ও নির্দেশনার জন্য ১০টি কল সেন্টার থাকবে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটামোদী বিপুল জনগোষ্ঠী তাকিয়ে আছে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দিকে।

বার্সার অনিঃশেষ ভাঁড়ার

আন্দ্রে ফন্টাস, ভিক্টর ভাসকেজ, থিয়াগো আলকান্ত্রা, জোনাথন, মার্ক বারত্রা...। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে এঁরা কারা? বার্সেলোনার বেঞ্চের খেলোয়াড় এঁরা সবাই। নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে গেছে, সিলগালা হয়ে গেছে গ্রুপের শীর্ষস্থানটাও; তাই লিওনেল মেসি, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাদের একটু বিশ্রাম দিতে কোচ পেপ গার্দিওলা, রুবিন কাজানের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে নামিয়ে দিয়েছিলেন বার্সার দ্বিতীয় দল।
কিন্তু প্রতিশোধের কথাটা কি ভুলে গিয়েছিলেন গার্দিওলা? কাজানকে যে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার দরকার ছিল কাতালানদের। বড় তারকাদের বিশ্রামকে বড় করে দেখায় গার্দিওলা সেটা ভুলে গিয়েও থাকতে পারেন, তবে বার্সার দ্বিতীয় দলটি ভোলেনি যে তারা মেসি-জাভি-ইনিয়েস্তাদের দিগ্বিজয়ী পতাকা নিয়ে নেমেছেন। মেসি-জাভিদের হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার কাজটা ফন্টাস-ভাসকেজরাই করলেন। গত বছর ন্যু ক্যাম্পে রুবিন কাজানের কাছে হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ নিলেন তাঁরা এবার তাদের ২-০ গোলে হারিয়ে। প্রতিশোধ নিলেন, আর বুঝিয়ে দিলেন বার্সার ‘ভাঁড়ার ঘরে আরও আছে’!
বার্সেলোনার সরবরাহ লাইনটা খুব লম্বা। আর দেখা গেল মেসি-জাভি-ইনিয়েস্তাদের নয়নজুড়ানো পাসিং ফুটবল তাঁদের ‘ছোট ভাইয়েরা’ও উপহার দিতে পারে। ম্যাচের শুরু থেকে রুবিন কাজানের ওপর ছড়িও ঘোড়াল বার্সার দ্বিতীয় দলটি। তবে প্রতিপক্ষের গোলমুখে ত্রাস সৃষ্টি করা যাকে বলে সেটা খুব একটা করতে পারেননি জোনাথন-ভাসকেজরা। তাই গোলের আনন্দে মেতে উঠতে ন্যু ক্যাম্পকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৫০ মিনিট পর্যন্ত। ৫১ মিনিটে বার্সাকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার ফন্টাস। দ্বিতীয় গোলটা বার্সা পেয়েছে বদলি হিসেবে মেসি মাঠে নামার পর। তবে এতে মেসির অবদান ছিল না, ৮৩ মিনিটে দারুণ এক বাঁকানো শটে গোলটি করেছেন ভাসকেজ।
বার্সার জয় মানেই কাজানের চ্যাম্পিয়নস লিগে নকআউট খেলার আশা শেষ, এটা জানাই ছিল। তবে বার্সেলোনাকে হারিয়েও নকআউটে খেলা হতো না কাজানের। এটি নিয়ে যাদের সঙ্গে কাজানের লড়াই ছিল, সেই কোপেনহেগেন প্যানাথিনাইকসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করে ফেলেছে নকআউট। এই প্রথম কোনো ড্যানিশ ক্লাব চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে উঠল। কোপেনহেগেন কোচ স্টেল সলবাকেন আনন্দে আত্মহারা, ‘আমি খুব খুশি। একটা ইতিহাস গড়লাম আমরা।’
সলবাকেনের ঠিক বিপরীত অবস্থা ইন্টার মিলান কোচ রাফায়েল বেনিতেজের। ভেরডার ব্রেমেনের সম্মান উদ্ধারের লড়াইয়ের কাছে উড়ে গেছে ইন্টার। সিরি ‘আ’তে একের পর এক ম্যাচ হেরে আর ড্র করে এমনিতেই চাপের মুখে ছিলেন বেনিতেজ। ব্রেমেনের কাছে ৩-০ গোলের পরাজয় তাঁর চাকরিটাকেই সংশয়ের মধ্যে ফেলে দিল। ইন্টারের হেরে যাওয়ার সুবাদে টোয়েন্টের সঙ্গে নাটকীয় ৩-৩ গোলের ড্রর পরও শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্বটা শেষ করল টটেনহাম হটস্পার।
ইংলিশ পরাশক্তি ম্যানইউ ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেও গ্রুপ শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে। ৩২ মিনিটে পাবলো হার্নান্দেজের গোলে এগিয়ে যাওয়া ভ্যালেন্সিয়াকে সমতায় টেনে নামায় ৬২ মিনিটে অ্যান্ডারসনের গোল। বেনফিকার বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে জার্মানির ক্লাব শালকেও।

সেই দুঃস্মৃতি ভুলতে চায় জিম্বাবুয়ে

দুঃখের স্মৃতি ভুলে সবাই সুখের স্মৃতিই মনে রাখতে চায়। জিম্বাবুয়ের আপৎকালীন অধিনায়ক প্রসপার উতসেয়াই বা উল্টো পথে হাঁটবেন কেন?
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে কাল দুপুরে উতসেয়া যখন মিডিয়ার সামনে দাঁড়ালেন, তাঁকে নস্টালজিক করে দেওয়ার চেষ্টা হলো। গত বছরের নভেম্বরে এই চট্টগ্রামেই মাত্র ৪৪ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। আরেকবার যখন চট্টগ্রামে খেলতে আসা উতসেয়াদের মাথায় নিশ্চয়ই কাঁটা হয়ে খোঁচাচ্ছে সেই অঘটনের স্মৃতি! উতসেয়া সেটাকে পাত্তা তো দিতে চাইলেনই না, উল্টো বাংলাদেশকেই মনে করিয়ে দিলেন সেবারের শেষ ম্যাচটার কথা, ‘এখানে এক বছর আগেও খেলে গেছি। সেবার প্রথম ম্যাচে আমরা খারাপ পারফরম্যান্স করলেও পরের ম্যাচটাতে ২২০ (২২১) রানের মতো করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছিলাম।’
২০০৯ সালের নভেম্বরে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে আসলেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল হ্যামিল্টন মাসাকাদজার দল। ব্রেন্ডন টেলরের সেঞ্চুরির সুবাদে জিম্বাবুয়ের করা ২২১ রান বাংলাদেশ টপকে ছিল মাত্র ১ ওভার আর ১ উইকেট হাতে রেখে। উতসেয়া মনে করিয়ে দিতে পারতেন ৪৪ রানে অলআউট ম্যাচের বাংলাদেশ ইনিংসের কথাও। ওই ৪৪ রান টপকাতেই যে ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল সাকিব আল হাসানের দলের!
৪৪ রানের সেই তিন নম্বর উইকেটেই হবে এবারের সিরিজের শেষ ওয়ানডে। তার আগে কালকের ম্যাচটি পাঁচ নম্বর উইকেটে। তবে চট্টগ্রামের উইকেট নিয়ে এবার বাংলাদেশ দলের মধ্যে এমনই আতঙ্ক যে, কোনো উইকেটকেই ভরসা মানতে পারছেন না। কিউরেটর জাহিদ রেজা যতই বলুন, উইকেট ‘স্পোর্টিং’, ‘২৬০-৭০ রান সম্ভব’ ‘...২৫০ রানও তাড়া করা যাবে এখানে’, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মতো প্রসপার উতসেয়ারাও এখানে ২০০-২২০ রানকেই যথেষ্ট মনে করছেন। ‘এখানকার উইকেটে ঢাকার চেয়ে বেশি স্পিন ধরবে। স্কোর বোর্ডে ২২০-এর মতো রান করতে পারলেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যাবে’—বলেছেন উতসেয়া। রে প্রাইসেরও ধারণা, ‘এই উইকেটে বল একটু নিচু হয়ে ধীরে আসে। নেটের উইকেটের সঙ্গে ম্যাচের উইকেটের বেশি পার্থক্য নেই। ২০০-২২০ রানই ভালো স্কোর এখানে।’ তবে জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি স্পিনারের বিশ্বাস, গতবারের ৪৪ রানের উইকেটের চেয়ে এবারের উইকেট ভালো, ‘আগেরবার উইকেট একটু নরম ছিল। বর্ষাকাল ছিল, বৃষ্টিও হয়েছিল। এবারের উইকেট সে রকম নয়। একটু মনে হয় ঘাসও দেখলাম।’
গতবারের দুঃস্মৃতি পিছু নিলেও উতসেয়া-প্রাইসরা এবার যেন সিরিজ জেতার জন্যই এসেছেন চট্টগ্রামে। কালকের ম্যাচটা জিতে ১২ ডিসেম্বরের শেষ ম্যাচটাকে ‘ফাইনাল’ বানিয়ে নিতে চান প্রাইস, ‘সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের এই ম্যাচে ভালো খেলতেই হবে। এ ম্যাচ জিতলে শেষ ম্যাচটা হবে ফাইনাল।’ আর এই ‘ফাইনালে’ যেতে জিম্বাবুয়ের বড় ভরসা উতসেয়া-প্রাইসের স্পিনই, উতসেয়াও বলছেন সেটাই, ‘আমাদের অন্যতম অস্ত্র স্পিন। জিম্বাবুয়ের হয়ে আগেও স্পিনাররা ভালো খেলেছে। তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা তাই অনেক। আশা করি, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচেও তারা সেটা পূরণ করবে। সবাই জানে, চতুর্থ ওয়ানডেতে জিততে পারলে শেষ ম্যাচে সিরিজ জয়েরও সুযোগ থাকবে।’
উতসেয়ার স্বপ্ন সত্যি হলে ঢাকার দর্শকদের মতো চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের দর্শকেরাও দেখতে পাবে রে প্রাইস আর ক্রিস্টোফার পোফুর আনন্দ উদ্যাপনের অদ্ভুত সেই দৃশ্য। অবশ্য ম্যাচ জেতা লাগে না, তাঁদের উইকেটে পাওয়ার উৎসবটাও যে দেখার মতো! কাল প্রাইসই জানালেন, এই উদ্যাপন কেনিয়া থেকে ‘আমদানীকৃত’, ‘ক্রিকেট খেলাটাকে সব সময়ই উপভোগ করতে চাই আমরা। এ রকম উদ্যাপন কেনিয়ান খেলোয়াড়দের প্রথম করতে দেখি। এরপর আমি আর পোফু ভাবলাম, আমরাও তো একটা কিছু চেষ্টা করে দেখতে পারি। তাতেই আমাদেরও উদ্যাপনের একটা আলাদা ভাষা হয়ে গেল।’
শেষ দুই ম্যাচে নিশ্চয়ই সে ভাষাতেই গান গাইতে চাইবে জিম্বাবুয়ে দল।

‘ফিরে এসো ওয়ার্ন

অ্যাশেজে নিজেদের শেষ দুই ইনিংসে ইংল্যান্ড করেছে ১১৩৭ রান। অস্ট্রেলীয় বোলাররা নিয়েছেন মাত্র ৬টি উইকেট! এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় কতটা ভোতা হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং। বোলিংয়ের দুই দুর্দশা চলতে থাকলে অ্যাডিলেডে হেরে পিছিয়ে পড়া অস্ট্রেলিয়া যে খুইয়ে ফেলবে সিরিজটাই। এটা কি সহজে মেনে নেওয়া যায়! অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকেরা শরণাপন্ন হয়েছেন ‘স্পিন কিং’ শেন ওয়ার্নের দুয়ারে। তাঁর কাছে রাখা হয়েছে অবসর ভেঙে অ্যাশেজের বাকি ম্যাচগুলোয় খেলার আকুল আবেদন।
এটা অবশ্য ওয়ার্নের অবসর নেওয়ার পর থেকেই ঘটছে। ক্রিকেটে যখনই খারাপ করে অস্ট্রেলিয়া, তখনই রব ওঠে ফিরিয়ে আনা হোক ওয়ার্নকে। তবে এবার আবেদনের মাত্রাটা ভিন্ন। স্থানীয় ক্রিকেট লিখিয়েরা তো দাবি তুলেছেনই। ওয়ার্নকে ফিরিয়ে আনার জন্য চলছে অভিনব প্রচারণাও। ব্রিসবেনের ক্রিকেট সমর্থক রস হেউড ব্রিংব্যাকওয়ার্ন ডট কম নামে একটা ওয়েবসাইট খুলে বসেছেন। ‘অ্যাশেজ ফিরে পেতে আমাদের প্রয়োজন ওয়ার্নকে’—এমন প্রচারণার পাশাপাশি ‘ত্রাণ তহবিল’ নামে একটা তহবিলও গঠন করেছে। ওয়ার্নকে আবার জাতীয় দলে দেখতে আগ্রহীদের কাছ থেকে ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ওই তহবিলে জমা পড়েছে তিন হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার।
ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘অ্যাশেজ ফিরে পাওয়ার জন্য আবার ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ মাথায় চড়াতে ওয়ার্নকে রাজি করাতে আমরা ত্রাণ তহবিলের টাকা দেব ওয়ার্নকে। ওয়ার্ন তা না নিলে যাঁরা তহবিলে টাকা দিয়েছেন, তা তাঁদের ফেরত দেওয়া হবে।’
অস্ট্রেলিয়ার টেলিগ্রাফ-এর এক অনলাইন জরিপেও উত্তরদাতাদের ৭০ শতাংশ মনে করেন, জাতীয় দলে ওয়ার্নকে ফিরিয়ে আনা উচিত।
ক্রিকেট বোদ্ধারাও বলছেন অস্ট্রেলিয়া দলে সত্যিই ওয়ার্নকে দরকার। যেমনটা লিখেছেন সিডনি মর্নিং হেরাল্ড-এর কলাম লেখক পিটার ফিটজসিমন্স, ‘হ্যাঁ, ইংল্যান্ড ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের পর প্রথম বিস্ময়কর জয় পেতে চলেছে। এবং এটি আমাদের দোষেই। আমাদের একটা কিছু করতে হবে। কিন্তু সাড়াটা দেবে কে? শেন ওয়ার্ন থাকতে আমাদের কি প্রেতাত্মার শরণাপন্ন হতে হবে?’
সমর্থকদের আকুল আবেদনে কি সাড়া দেবেন না ওয়ার্ন? কৌশলে উত্তরটা এড়িয়ে গেছেন চার বছর আগে ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ৪১ বছর বয়সী ওয়ার্ন। ‘অস্ট্রেলিয়ায় লেখালেখি হচ্ছে কিছুটা। লোকজন আমাকে ফিরে আসার জন্য বলছেও। আমি যা বলতে পারি তা হলো এসব কথা শুনতে ভালোই লাগে’—এক ইংলিশ দৈনিকে লিখেছেন ওয়ার্ন। তবে সুপারিশ করেছেন উদীয়মান বাঁহাতি স্পিনার মাইকেল বিয়ারকে দলে নেওয়ার জন্য।

শেষ ষোলতে আর্সেনাল

পার্টিজান বেলগ্রেডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলতে পৌঁছে গেছে আর্সেনাল। তবে আর্সেন ওয়েঙ্গার বাহিনীর নক আউট পর্বে যাত্রা খুব একটা সহজ ছিল না। বরং পার্টিজান ব্রেলগ্রেডকেই উজ্জীবিত পারফরম্যান্সের জন্য বেশির ভাগ নম্বর দিতে হচ্ছে। আর্সেন ওয়েঙ্গারের কোচিংয়ে পরপর একাদশবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। তবে ওয়েঙ্গার মনে করেন, দলের পারফরম্যান্সে উন্নতির অনেক জায়গা রয়ে গেছে। কারণ, দ্বিতীয় পর্বে আর্সেনালের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবগুলো। ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় পর্বের খেলা।
সার্বিয়ান ক্লাব পার্টিজান বেলগ্রেডের বিপক্ষে প্লে মেকার সেস ফ্যাব্রিগাসকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল। খেলার ৩০ মিনিটে ডাচ তারকা রবিন ফন পার্সি পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে দেন আর্সেনালকে। তবে এই পেনাল্টির জন্য নিজেদের দুর্ভাগা মনে করতেই পারে সার্বিয়ার ক্লাবটি। তবে ৫২ মিনিটেই পার্টিজান বেলগ্রেড খেলায় সমতা ফিরিয়ে নিয়ে আসে। পরের ২০ মিনিট আর্সেনাল সমর্থকদের জন্য ছিল উত্কণ্ঠার মুহূর্ত। কারণ, পার্টিজানের বিপক্ষে পরাজয় কিংবা ড্র আর্সেনালকে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। ৭২ মিনিটের সময় থিও ওয়ালকট চমত্কারভাবে ভলি শটে গোল করে আর্সেনালকে আবার এগিয়ে দেন। ৭৬ মিনিটের সময় আর্সেনাল সমর্থকদের সব উত্কণ্ঠার অবসান ঘটান সামির নাসরি। তাঁর গোল আর্সেনালের দ্বিতীয় পর্ব যাত্রা নিশ্চিত করে।
ম্যাচ শেষে কোচ ওয়েঙ্গার বলেন, ‘পার্টিজানের বিপক্ষে আজ রাতের খেলাটি দেখে আর্সেনাল সম্পর্কে ধারণা করা ঠিক নয়। বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্নের বিপক্ষে আমরা সম্পূর্ণ অন্য ধরনের ফুটবল খেলব।’ তবে বুধবার রাতে আর্সেনালের খেলায় যে তিনি খুশি নন, তা চেপে রাখেননি এই ফরাসি কোচ। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় পর্বে যেতে পারছি, এ মুহূর্তে এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির কারণ। তবে এ খেলা দ্বিতীয় পর্বে আমাদের পারফরম্যান্সের আরও উন্নতি ঘটাতে হবে।

প্রত্নতত্ত্ব- মহাস্থানগড়ের ধ্বংস-পরিস্থিতিঃ পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের কারণে মহাস্থানগড়ে মাজার উন্নয়নের নামে পরিচালিত প্রত্নতাত্তি্বক নিদর্শনাদি ধ্বংসের অপতৎপরতা আপাতত বন্ধ রয়েছে। এই খবরটি পেয়ে আমরা সাময়িক স্বস্তি বোধ করছি। রিট পিটিশন দাখিলকারী হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের আইনজীবীদের, বগুড়ার সংগঠক বন্ধু ও সহকর্র্মীদের, মিডিয়া-কর্মীদের আর উচ্চ আদালতকে আমরা মোবারকবাদ জানাচ্ছি।

রাজনৈতিক আলোচনা- ওয়ান-ইলেভেনের চেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ আসছে! by শুভ রহমান

বাংলাদেশ সব সময় 'হটবেড অব ইনট্রিগ্স্'। ষড়যন্ত্রের লীলাভূমি। এখানে রাজনীতি নিস্তরঙ্গ থাকবে, এটা দুরাশা মাত্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদিও ১২ দিনের সফল বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দেশের রাজনীতিতে কোনো সমস্যা না থাকারই ধারণা দিয়েছেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই আশাবাদী মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তবু বর্তমানে চারপাশের অবস্থা আমাদের এতটা আশ্বস্ত ও আত্মতুষ্ট হতে দেয় কি না, সচেতন দেশবাসী তা নিয়ে প্রশ্ন করছেন।

মুক্তিযুদ্ধ- ডিসেম্বরঃ গৌরব ও গর্বের মাস by এমাজউদ্দীন আহমদ

ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। আমাদের গৌরবের এবং গর্বের মাস। একটি গর্বিত জাতি হিসেবে সগর্বে মাথা উঁচু করার স্পর্ধা আমরা অর্জন করি এ মাসেই। সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং আত্মদানের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রতিষ্ঠার সরল রাজপথে আমরা প্রবেশ করেছি ডিসেম্বরেই। তাই জাতির কাছে ডিসেম্বর হয়ে উঠেছে বিজয়ের মাস। এ মাসকে আমরা পেয়েছি আমাদের বিকশিত সত্তার উজ্জ্বল প্রতীক রূপে, আমাদের জাতীয় অর্জনের শ্রেষ্ঠতম স্মারক হিসেবে।

আলোচনা- উইকিলিকস বনাম যুক্তরাষ্ট্র by ফরহাদ মাহমুদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নামক দেশটি বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষমতাধর। বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ওয়ারশ জোটের পতনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট এখন দুনিয়ার একচ্ছত্র অধিপতি। এই একচ্ছত্র আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে এবং তাকে আরো শক্তিশালী করতে এ হেন কাজ নেই, যা তারা করতে দ্বিধাবোধ করে। ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র আছে এই অজুহাতে ইরাক আক্রমণ করতে তারা কুণ্ঠিত হয়নি। 'সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের' নামে ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তানে এখনো তালিবানদের সঙ্গে যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

খবর, কালের কণ্ঠের- দুর্নীতি বেড়েছে দুনিয়াজুড়ে

বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির প্রবণতা বেড়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, তিন বছর আগের তুলনায় আজকের পৃথিবী অনেক বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত। বার্লিনভিত্তিক সংস্থাটির দাবি, গত বছর বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন কাজ সারতে ঘুষ দিয়েছেন। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার এ জরিপ প্রকাশ করে টিআই। গত ১ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৬টি দেশ ও অঞ্চলের ৯১ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর জরিপটি চালানো হয়।

আলোচনা- উইকিলিকসঃ বাঘের ঘরে ঘোগ by শাকিল ফারুক

ড়াই লাখ গোপন নথি ফাঁস_তাও পৃথিবীর সবচেয়ে পরাক্রমশীল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের! বাদ পড়েনি পৃথিবীর অন্যান্য দেশও। এটা যে শুধু কূটনৈতিক বিশ্বে ব্যাপক ঝড় তুলেছে তাই নয়, সাংবাদিকতার চলমান ধারাকেও দিয়েছে প্রচণ্ড ধাক্কা। আজকের স্পটলাইটজুড়ে তাই থাকছে উইকিলিকস 'জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে হত্যা করা উচিত। এজন্য ওবামা প্রশাসনের খুনি ভাড়া করা।'_কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা টম ফ্ল্যানাগান।

আইন কানুন- আইন অপূর্ণাঙ্গঃ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার কঠিন by আশরাফ-উল-আলম

মানবাধিকার সংরক্ষণ ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু এই আইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্তের শাস্তির ব্যবস্থা নেই। নেই কোনো মানবাধিকার আদালত স্থাপনের কথা। এ কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন যাঁরা, তাঁদের বিচার পাওয়া এ দেশে সহজলভ্য নয়। এ রকম মন্তব্য করে মানবাধিকার আইন বিশেষজ্ঞরা আরো বলেছেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক অভিযোগ রয়েছে খোদ সরকারের বিরুদ্ধেই। বর্তমানে প্রচলিত আইনে মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা মানছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শিল্প-অর্থনীতি- ১০০ কোটি ডলারে ঋণঃ ভারতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত by রাহীদ এজাজ

রাষ্ট্রীয় ঋণের আওতায় ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে পাওয়া ১০০ কোটি ডলারের পণ্য ও সেবা ভারতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিনতে হবে। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ পণ্য সরাসরি ভারতের কাছ থেকে কিনতে হবে, আর অবশিষ্ট ১৫ শতাংশ কিনতে হবে ভারতীয় ঠিকাদারের পরামর্শে। এ ছাড়া ঋণ চুক্তির আওতায় যেসব প্রকল্পে অর্থায়ন হবে, তাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে।

খবর, কালের কণ্ঠের- নরসিংদীতে ট্রেন দুর্ঘটনাঃ চালকের ভুল নাশকতারও গন্ধ!

ট্টলা এক্সপ্রেসের চালকের ভুলেই বুধবার নরসিংদী রেলস্টেশনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে রেলওয়ের তদন্ত কর্মকর্তারা গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান। তাঁরা বলেছেন, এর পেছনে কোনো নাশকতা ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক হিসাবে এ দুর্ঘটনায় রেলওয়ের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা।

খবর, প্রথম আলোর- ‘যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা উইকিলিকস সমর্থকদের

সাইবার ‘যুদ্ধ’ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে উইকিলিকসের সমর্থকেরা। গতকাল বৃহস্পতিবার কম্পিউটার হ্যাকারদের গোষ্ঠী ‘অ্যানোনিমাস’ -এর এক সদস্য জানান, আন্দোলন শেষ হয়ে যায়নি। হ্যাকারদের এই আন্দোলনের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘অপারেশন পে ব্যাক’। উইকিলিকস ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে এমন একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে আক্রমণ করেছে হ্যাকাররা। এগুলো উইকিলিকসকে সেবা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

প্রকৃতি- কানকুনঃ মুমূর্ষু পৃথিবীর নিষ্ঠুর মানুষ by লুৎফর রহমান রনো

মুনাফা লাভের লোলুপ শিখায় পুড়ছে পৃথিবী_পুড়ছেই। বাতাসে কার্বনের পরিমাণ বেড়ে চলছে আজও বিপজ্জনক মাত্রায়। দেশের ভৌগোলিক সীমানাচিহ্ন কিংবা কোনো ধরনের বেড়ার বৃত্তে কোনো দেশকে নিরাপদ রাখার উপায় নেই। শিল্পোন্নত দেশগুলো যদি তাদের বেপরোয়া মুনাফা অর্জনের মাত্রা কমিয়ে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ সহনীয় সীমায় না আনে, তাহলে বিপদ বাড়তে থাকবে।

স্মরণ- নারীর হার-নারীর জিত, বেগম রোকেয়া প্রাসঙ্গিক by নাসিম আখতার হোসাইন

বাংলাদেশে নারী শিক্ষাকে নারী উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করা হয়। আর নারী শিক্ষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বেগম রোকেয়ার নাম। নারী শিক্ষার পথিকৃৎ বলে বিবেচিত হলেও বেগম রোকেয়া ছিলেন নারী অধিকারের প্রবক্তা। নারী মুক্তির লক্ষ্যে তিনি জোর দিয়েছেন শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও নারী-পুরুষ সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর। তাঁর প্রধান পরিচয় 'মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে'। বর্তমানের নারীবাদ অথবা নারী চেতনার মূল বিষয়ও তাই। বেগম রোকেয়ার সঙ্গে আরো নিবিড় পরিচয় ঘটে নারীর অন্তর্গত শক্তির উদ্ঘাটক হিসেবে।

সাক্ষাৎকার- সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে দুর্নীতির বীজ লুক্কায়িত _____কালের কণ্ঠের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সপ্তম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেঙ্েিকার মেরিডায় ২০০৩ সালের ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ১২৯টি দেশ অংশ নেয়। সম্মেলনের প্রথম দিন ৯ ডিসেম্বর ৮৭টি দেশ দুর্নীতিবিরোধী সনদে স্বাক্ষর করে। স্বাক্ষরদানের দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে এবং দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০০৪ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ দিবসটি পালন করে আসছে।

স্মরণ- বরুণ রায়—কিংবদন্তিতুল্য এক ব্যক্তিত্ব by অজয় রায়

রুণদা, বরুণ রায়ের সঙ্গে সামনাসামনি দেখা হওয়ার আগেই তাঁর কথা শুনেছিলাম কৃষক বন্ধু করুণাসিন্ধু রায়ের তীক্ষ-ধী ছেলে সুরমা ভ্যালি ছাত্র ফেডারেশনের অন্যতম উদীয়মান নেতা হিসেবে। ১৯৪৮ সালের মার্চ কি এপ্রিলে ময়মনসিংহে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ফেডারেশনের প্রথম সম্মেলনে তিনি উপস্থিত থাকলেও তখন আলাপ হওয়ার সুযোগ ছিল না। সরকারি দমননীতির কারণে সুস্থির সম্মেলন সেদিন সম্ভব হয়নি। তারপর তো এ দেশে কমিউনিস্টদের আবাসন নির্দিষ্ট হয়েছিল কারাগারে।

মুক্তিযুদ্ধ- মুক্তির গান by তারেক মাসুদ

লিয়ার লেভিন নিউজরিল ফটোগ্রাফার ছিলেন না, ছিলেন ক্যামেরার কবি। অন্যান্য সাংবাদিকের মতো যুদ্ধবিগ্রহের ছবি তুলতে তিনি আসেননি, এসেছিলেন মুক্তির সংগ্রামের মহাকাব্যের ছন্দকে তাঁর ক্যামেরায় ধারণ করতে। তাই ফটোসাংবাদিকের ক্যামেরা যেখানে থেমে গেছে, ঠিক সেখান থেকে শুরু হয়েছে লিয়ারের ক্যামেরা। আর তার ফলেই আমরা মুক্তির গান-এ তৈরি করতে পেরেছি কিছু সিনেমাটিক ও মানবিক মুহূর্ত। এ রকম দু-একটি সিকোয়েন্স নেপথ্য-নির্মাণের গল্প পাঠকের গোচরে আনতে চাই। বৃষ্টি-কাদার মধ্যে একদল মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখসমরে এগিয়ে চলেছে।

আলোচনা- এক-এগারোর জুজুটাকে হিমাগারে পাঠান by আব্দুল কাইয়ুম

তৃতীয় কোনো শক্তি নাকি আবার ক্ষমতায় আসতে পারে। কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এ রকম আশঙ্কা করেছেন। এক কথায় এক-এগারো বা ওয়ান-ইলেভেন নাকি আসছে। কেউ কেউ বলছেন, ওয়ান-ইলেভেন না, টু-ইলেভেন হবে! অর্থাৎ ডিগ্রিটা চড়ে যাবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন, সরল পুনরাবৃত্তি হবে না, এবার আরও ভয়ংকর কিছু হবে। মনে হয় তিনি বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।

আলোচনা- জব্দকৃত অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে জাগরণ সৃষ্টি করুন by এম জেড হোসেন আরজু

সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী বিশ শতকের প্রতিনিধি দার্শনিক বারট্রান্ড রাসেলের (১৮৭২-১৯৭০) চিন্তাধারা গত সেনা-সম্পৃক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাইভেট সেক্টর হতে বেআইনি কৌশলে অর্থ জব্দকরণ ঘটনার প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক মনে করি। তিনি লিখেছেন ইতিহাসের এটাই শিক্ষা যে ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নিতে চায় না।

গল্পসল্প- সংসদীয় গণতন্ত্রের গল্পসল্প by মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী

শিরোনামটি পড়ামাত্র এই প্রশ্নটি উঠতেই পারে, আমি কাদের সঙ্গে গল্পসল্প করার জন্য এই লেখাটি শুরু করেছি। উত্তরটি হচ্ছে, যাঁরা ভোটার আমার মতো, তাঁদের সঙ্গে, অর্থাৎ যাঁরা জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনে অংশ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করেন না, তাঁদের সঙ্গে। কিন্তু আজকের গল্পসল্পের আসরে তাঁদের নিমন্ত্রণ না থাকলেও সংসদীয় গণতন্ত্র মেনে নিলে এবং সেটা না মানার কোনো উপায় না থাকায় (কারণ সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থার চেয়ে ভালো কোনো ব্যবস্থার নকশা এখন পর্যন্ত উদ্ভাবন করা যায়নি) আমাদের আসরে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যরা আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছেনই। সংসদ সদস্য বা জনপ্রতিনিধি এবং ডেলিগেট বা প্রতিনিধি একই সংজ্ঞার অন্তর্গত নন। ধরা যাক, একটি জাতীয় কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।