Showing posts with label শরিফুল হাসান. Show all posts
Showing posts with label শরিফুল হাসান. Show all posts
Tuesday, January 12, 2016
সময় যাচ্ছে, খরচ ও দুর্ভোগ বাড়ছে by শরিফুল হাসান
এই
মুহূর্তে রাজধানীবাসীর সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের নাম নির্মাণাধীন
মগবাজার-মৌচাক সমন্বিত ফ্লাইওভার। ২০১৪ সালের মধ্যে এই ফ্লাইওভারের কাজ
শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হয়নি। এর পরে সময় নির্ধারণ করা হয় ২০১৫ সালের ৩১
ডিসেম্বর। এবারও কাজ শেষ হয়নি। তবে ইতিমধ্যে খরচ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। আর
দুর্ভোগ বেড়েছে ‘শত গুণ’। কবে নাগাদ এ ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হবে, তা-ও
নিশ্চত করে কেউ বলছেন না।
প্রধানমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, ঢাকা দক্ষিণের মেয়রসহ সরকারের অনেক নীতিনির্ধারক এই ফ্লাইওভারের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য তাগাদা দিয়েছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। এখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ফ্লাইওভারের দুটি অংশের কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বছরের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হওয়ার সময় বলা হচ্ছে আগামী ডিসেম্বর।
সর্বশেষ আলোচনায় এসেছে ফ্লাইওভারের নকশার ত্রুটি। তবে এর জন্য কার কী দায়, তা নিয়ে কোনো কথা হচ্ছে না। এই ফ্লাইওভারটি ঢাকার যানজট কমানোর বদলে বাড়িয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এসব সমস্যা মানতে নারাজ তদারকি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
মগবাজার-মৌচাক সমন্বিত ফ্লাইওভারটির কাজ হচ্ছে তিন ভাগে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত অংশের কাজ ৯০ শতাংশ, ইস্কাটন থেকে মৌচাক পর্যন্ত অংশের কাজ ৮৫ শতাংশ এবং রামপুরা থেকে মালিবাগ-মৌচাক হয়ে রাজারবাগ-শান্তিনগরের কাজের মাত্র ৪৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে শেষের দুই অংশের কাজ করছে তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। অভিযোগ উঠেছে, তাদের কারণেই কাজ বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।
কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি এবং ইস্কাটন থেকে মৌচাক পর্যন্ত কাজটি শেষ করার জন্য ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই তাদের কাজটি শেষ করতে হবে। তবে রামপুরা থেকে মালিবাগ-মৌচাক হয়ে রাজারবাগ-শান্তিনগরের কাজটি শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে।
প্রধানমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, ঢাকা দক্ষিণের মেয়রসহ সরকারের অনেক নীতিনির্ধারক এই ফ্লাইওভারের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য তাগাদা দিয়েছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। এখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ফ্লাইওভারের দুটি অংশের কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বছরের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হওয়ার সময় বলা হচ্ছে আগামী ডিসেম্বর।
সর্বশেষ আলোচনায় এসেছে ফ্লাইওভারের নকশার ত্রুটি। তবে এর জন্য কার কী দায়, তা নিয়ে কোনো কথা হচ্ছে না। এই ফ্লাইওভারটি ঢাকার যানজট কমানোর বদলে বাড়িয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এসব সমস্যা মানতে নারাজ তদারকি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
মগবাজার-মৌচাক সমন্বিত ফ্লাইওভারটির কাজ হচ্ছে তিন ভাগে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত অংশের কাজ ৯০ শতাংশ, ইস্কাটন থেকে মৌচাক পর্যন্ত অংশের কাজ ৮৫ শতাংশ এবং রামপুরা থেকে মালিবাগ-মৌচাক হয়ে রাজারবাগ-শান্তিনগরের কাজের মাত্র ৪৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে শেষের দুই অংশের কাজ করছে তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। অভিযোগ উঠেছে, তাদের কারণেই কাজ বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।
কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি এবং ইস্কাটন থেকে মৌচাক পর্যন্ত কাজটি শেষ করার জন্য ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই তাদের কাজটি শেষ করতে হবে। তবে রামপুরা থেকে মালিবাগ-মৌচাক হয়ে রাজারবাগ-শান্তিনগরের কাজটি শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে।
![]() |
| মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়কের মালিবাগ-রাজারবাগ-শান্তিনগর অংশের অধিকাংশ পিলারই এখনো মাটি ফুঁড়ে দাঁড়ায়নি। ছবিটি মালিবাগ মোড় থেকে তোলা |
সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি, ৯০ ভাগ কাজ শেষ:
তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় থেকে মগবাজার হয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত
অংশের (প্যাকেজ নং ডব্লিউ-০৪) কাজটি যৌথভাবে পেয়েছে সিমপ্লেক্স-নাভানা।
ফ্লাইওভারের এই অংশের দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ১১ কিলোমিটার। খরচ ২১২ কোটি টাকা।
প্রথম দফায় ২০১৪ সালে এবং পরে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা
থাকলেও হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতরাস্তার ৬৯ নম্বর পিলারের কাছে ঢালাই চলছে। সাতরাস্তা ধরে হলি ফ্যামিলি পর্যন্ত সবগুলো পিলার নির্মাণ, ঢাল বসানো হয়ে গেছে। এই কাজের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
তবে ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল আলম বলেছেন, ‘এই অংশের কাজ ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। ২৬ মার্চের আগেই এটা উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।’
ইস্কাটন থেকে মৌচাক, দুর্ভোগের শেষ নেই: ফ্লাইওভারের বাংলামোটরের ইস্কাটন থেকে মগবাজার মোড় হয়ে মৌচাক পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটারের ২০০ কোটি টাকার কাজটি যৌথভাবে পায় চীনা কোম্পানি এমসিসিসি-এসইএল-ইউডিসি। তবে উপঠিকাদার হিসেবে কাজটি করছে তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর এবং পরে গত বছরের ডিসেম্বরের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। প্রকল্প পরিচালক গতকাল জানালেন, ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলামোটর অংশের ২৪০ থেকে ২৪৪ নম্বর পর্যন্ত পিলারের ঢাল এখনো বসেনি। ২১৩ নম্বর পিলারের সামনে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এখানে ফ্লাইওভারের নিচে কাঁচাবাজার বসে গেছে। বাংলামোটরের মোটর পার্টস ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘চার বছর ধরে কাজ হচ্ছে। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ। আল্লাহই জানে কবে কাজ শেষ হবে, কবে আমরা শান্তি পাব।’
ফ্লাইওভারের মগবাজার মোড় পেরিয়ে মৌচাকের দিকে যেতে আড়ংয়ের আগে রাস্তার বেহাল দশা। এখানে গাড়ি আটকে যাচ্ছে। শীতের মধ্যেও এই রাস্তায় কাদাপানি। ২০২ থেকে ২০৭ নম্বর পিলার পর্যন্ত একই দশা। এখানে আটকে থাকা প্রাইভেট কারের চালক মতিন সরকার বলেন, ‘ইস্কাটনের স্কুল থেকে স্যারের মেয়েকে নিয়ে প্রতিদিন মৌচাক যাই। এত কষ্ট হয়, মনে হয় গাড়ি চালানো বাদ দিয়ে দিই।’ পাশ থেকে কয়েকজন রিকশাওয়ালাও এ সময় ফ্লাইওভারের কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতরাস্তার ৬৯ নম্বর পিলারের কাছে ঢালাই চলছে। সাতরাস্তা ধরে হলি ফ্যামিলি পর্যন্ত সবগুলো পিলার নির্মাণ, ঢাল বসানো হয়ে গেছে। এই কাজের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
তবে ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল আলম বলেছেন, ‘এই অংশের কাজ ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। ২৬ মার্চের আগেই এটা উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।’
ইস্কাটন থেকে মৌচাক, দুর্ভোগের শেষ নেই: ফ্লাইওভারের বাংলামোটরের ইস্কাটন থেকে মগবাজার মোড় হয়ে মৌচাক পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটারের ২০০ কোটি টাকার কাজটি যৌথভাবে পায় চীনা কোম্পানি এমসিসিসি-এসইএল-ইউডিসি। তবে উপঠিকাদার হিসেবে কাজটি করছে তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর এবং পরে গত বছরের ডিসেম্বরের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। প্রকল্প পরিচালক গতকাল জানালেন, ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলামোটর অংশের ২৪০ থেকে ২৪৪ নম্বর পর্যন্ত পিলারের ঢাল এখনো বসেনি। ২১৩ নম্বর পিলারের সামনে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এখানে ফ্লাইওভারের নিচে কাঁচাবাজার বসে গেছে। বাংলামোটরের মোটর পার্টস ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘চার বছর ধরে কাজ হচ্ছে। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ। আল্লাহই জানে কবে কাজ শেষ হবে, কবে আমরা শান্তি পাব।’
ফ্লাইওভারের মগবাজার মোড় পেরিয়ে মৌচাকের দিকে যেতে আড়ংয়ের আগে রাস্তার বেহাল দশা। এখানে গাড়ি আটকে যাচ্ছে। শীতের মধ্যেও এই রাস্তায় কাদাপানি। ২০২ থেকে ২০৭ নম্বর পিলার পর্যন্ত একই দশা। এখানে আটকে থাকা প্রাইভেট কারের চালক মতিন সরকার বলেন, ‘ইস্কাটনের স্কুল থেকে স্যারের মেয়েকে নিয়ে প্রতিদিন মৌচাক যাই। এত কষ্ট হয়, মনে হয় গাড়ি চালানো বাদ দিয়ে দিই।’ পাশ থেকে কয়েকজন রিকশাওয়ালাও এ সময় ফ্লাইওভারের কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
![]() |
| ইস্কাটন থেকে মৌচাক অংশের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছর। কিন্তু এখনো তা শেষ হয়নি। ছবিটি ইস্কাটন থেকে তোলা |
মৌচাক-রাজারবাগ-শান্তিনগর, এখনো খোঁড়াখুঁড়িই চলছে:
ফ্লাইওভারের তিনটি অংশের মধ্যে সবচেয়ে দুরবস্থা রামপুরা (আবুল হোটেল)
থেকে মালিবাগ, মৌচাক মোড় হয়ে রাজারবাগ ও শান্তিনগর পর্যন্ত অংশের। প্রায়
চার কিলোমিটার অংশের এই কাজ পেয়েছে এমসিসিসি-তমা। খরচ ৩৪৩ কোটি টাকা।
প্রকল্প পরিচালক গতকাল জানালেন, এই অংশের মাত্র ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
এলজিইডির গত বছর বার্ষিক প্রতিবেদনে এই অংশের কাজের ৩৬ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে
উল্লেখ করা আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মালিবাগ মোড়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও শান্তিনগরের অন্তত আটটি পিলার এলাকায় সবে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এ ছাড়া অধিকাংশ পিলারের রড বাঁধাই শেষ হয়নি। মৌচাক মোড়ে কাজ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘নানা সমস্যায় কাজ করা কঠিন। তাই দেরি।’ একই কথা জানালেন শান্তিনগরের সামনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান।
তবে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ মতামত জানালেন। শান্তিনগরের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, এই ফ্লাইওভারের কাজ নিয়ে এত দুর্ভোগ হচ্ছে যে নিজের বাড়ি না হলে এলাকা ছেড়ে চলে যেতাম।
অভিযোগ উঠেছে, তমার কারণে এই ফ্লাইওভারের কাজের দেরি হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। তবে প্রকল্প পরিচালক নাজমুল আলম বললেন, ‘আমরা তাদের বারবার কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দিয়ে চিঠি দিয়েছি।’ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেকও একই কথা জানালেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মালিবাগ মোড়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও শান্তিনগরের অন্তত আটটি পিলার এলাকায় সবে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এ ছাড়া অধিকাংশ পিলারের রড বাঁধাই শেষ হয়নি। মৌচাক মোড়ে কাজ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘নানা সমস্যায় কাজ করা কঠিন। তাই দেরি।’ একই কথা জানালেন শান্তিনগরের সামনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান।
তবে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ মতামত জানালেন। শান্তিনগরের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, এই ফ্লাইওভারের কাজ নিয়ে এত দুর্ভোগ হচ্ছে যে নিজের বাড়ি না হলে এলাকা ছেড়ে চলে যেতাম।
অভিযোগ উঠেছে, তমার কারণে এই ফ্লাইওভারের কাজের দেরি হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। তবে প্রকল্প পরিচালক নাজমুল আলম বললেন, ‘আমরা তাদের বারবার কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দিয়ে চিঠি দিয়েছি।’ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেকও একই কথা জানালেন।
![]() |
| সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছর। কিন্তু এখনো চলছে শেষ সময়ের কাজ। এফডিসির মোড় থেকে তোলা ছবি -সাইফুল ইসলাম |
কাজ শেষ হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড
কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান ভূঁইয়া বলেন,
‘কোথাও পাইলিং করতে গেলে দেখা যায় মাটির নিচে বিদ্যুতের লাইন, ওয়াসার
লাইন, টেলিফোনের লাইন। আমাদের যে নকশা দেওয়া হয়েছিল, তাতে এগুলো ছিল না।
বিভিন্ন বিভাগ থেকে যে নকশা নিয়েছি, তাতেও দেখা গেছে অনেক জায়গায় পরিবর্তন।
এসব মোকাবিলা করে কাজ করা কঠিন।’
যানজট কমবে না বাড়বে: বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাঁ পাশে বসে চালিত যানের কথা মাথায় রেখে করা নকশায় এই ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে ডান হাতে চালিত যানের জন্য ব্যবহার করতে হবে। ফলে অনেক সমস্যা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সড়ক যোগাযোগ নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি সমীক্ষা করে এই উড়ালসড়েকর নকশা করে। আট বছর পর ২০১৩ সালে এই নকশা ধরেই কাজ শুরু হয়। কিন্তু তত দিনে এই প্রকল্প এলাকার পাশে হাতিরঝিল গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া প্রকল্পস্থলের মাটির নিচে বিভিন্ন সেবা সংস্থার পাইপ ও তার বসে গেছে। এসব যাচাই-বাছাই না করেই কার্যাদেশ দেওয়ায় কাজ শুরুর পর বারবার নকশা পরিবর্তন করতে হয়।
জানতে চাইলে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘শহরের ভেতরে ফ্লাইওভার কখনোই সমাধান নয়। এটি যানজট কমায় না বরং বাড়ায়। ২০০৩-০৪ সালে ফ্লাইওভারের নকশা করা হয়। এই সময়ে নকশাটি অনেক বেশি আধুনিক করার সুযোগ ছিল। সেটি হয়নি। আমাদের কাছে যখন এই ফ্লাইওভারের কাঠামোগাত নকশা (স্ট্রাকচারাল ডিজাইন) নিয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়, আমরা যতটুকু সংশোধনের সুযোগ ছিল সেটি করে দিয়েছি।’
উড়ালসড়কের নির্মাণত্রুটির বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুল হক বলেন, ‘শান্তিনগর, রাজারবাগ, মগবাজারসহ প্রতিটি ওঠা-নামার জায়গায় র্যাম্প অনেক বেশি জায়গা নিয়েছে। এর ফলে উড়ালসড়কের নিচের রাস্তা দিয়ে গণপরিবহনের চলতে সমস্যা হবে। ফলে নগরবাসীর যতটুকু উপকার হতে পারত তা হবে না।’
তবে প্রকল্প পরিচাক নাজমুল আলম বলেন, ‘সবার সামনেই এই ফ্লাইওভার হয়েছে। সবাই দেখেছে। নানা কথা বলা হয়েছে। ৬০টি পিলারে ত্রুটি। এগুলো ভাঙতে হবে। এসবের কোনো ভিত্তি নেই। বাম দিক থেকে গাড়ি উঠবে, ডান দিক দিয়ে নামবে। কোনো সমস্যা হবে না।’
খরচও বাড়ছে: ২০১১ সালে একনেকে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে প্রকল্পের খরচ ছিল ৩৪৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে এ খরচ নির্ধারণ করা হয় ৭৭২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তবে এখন প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ দশমিক ৮৯ কোটি টাকা। ধরন বলছে, সময় যত যাবে, এই খরচ আরও বাড়িয়ে নেবে ঠিকাদার।
তবে প্রকল্প পরিচালক নাজমুল আলম মনে করেন, এই ফ্লাইওভারটি ‘সবচেয়ে সস্তায় হচ্ছে’।
খরচ ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘একনেকের পরের সভায় খরচের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। তবে এই ফ্লাইওভারের কাজ এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে। দ্রুত এই কাজ শেষ করতে সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২৬ মার্চের আগেই আমরা এটি উদ্বোধন করতে চাই।’
যানজট কমবে না বাড়বে: বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাঁ পাশে বসে চালিত যানের কথা মাথায় রেখে করা নকশায় এই ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে ডান হাতে চালিত যানের জন্য ব্যবহার করতে হবে। ফলে অনেক সমস্যা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সড়ক যোগাযোগ নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি সমীক্ষা করে এই উড়ালসড়েকর নকশা করে। আট বছর পর ২০১৩ সালে এই নকশা ধরেই কাজ শুরু হয়। কিন্তু তত দিনে এই প্রকল্প এলাকার পাশে হাতিরঝিল গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া প্রকল্পস্থলের মাটির নিচে বিভিন্ন সেবা সংস্থার পাইপ ও তার বসে গেছে। এসব যাচাই-বাছাই না করেই কার্যাদেশ দেওয়ায় কাজ শুরুর পর বারবার নকশা পরিবর্তন করতে হয়।
জানতে চাইলে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘শহরের ভেতরে ফ্লাইওভার কখনোই সমাধান নয়। এটি যানজট কমায় না বরং বাড়ায়। ২০০৩-০৪ সালে ফ্লাইওভারের নকশা করা হয়। এই সময়ে নকশাটি অনেক বেশি আধুনিক করার সুযোগ ছিল। সেটি হয়নি। আমাদের কাছে যখন এই ফ্লাইওভারের কাঠামোগাত নকশা (স্ট্রাকচারাল ডিজাইন) নিয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়, আমরা যতটুকু সংশোধনের সুযোগ ছিল সেটি করে দিয়েছি।’

উড়ালসড়কের নির্মাণত্রুটির বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুল হক বলেন, ‘শান্তিনগর, রাজারবাগ, মগবাজারসহ প্রতিটি ওঠা-নামার জায়গায় র্যাম্প অনেক বেশি জায়গা নিয়েছে। এর ফলে উড়ালসড়কের নিচের রাস্তা দিয়ে গণপরিবহনের চলতে সমস্যা হবে। ফলে নগরবাসীর যতটুকু উপকার হতে পারত তা হবে না।’
তবে প্রকল্প পরিচাক নাজমুল আলম বলেন, ‘সবার সামনেই এই ফ্লাইওভার হয়েছে। সবাই দেখেছে। নানা কথা বলা হয়েছে। ৬০টি পিলারে ত্রুটি। এগুলো ভাঙতে হবে। এসবের কোনো ভিত্তি নেই। বাম দিক থেকে গাড়ি উঠবে, ডান দিক দিয়ে নামবে। কোনো সমস্যা হবে না।’
খরচও বাড়ছে: ২০১১ সালে একনেকে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে প্রকল্পের খরচ ছিল ৩৪৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে এ খরচ নির্ধারণ করা হয় ৭৭২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তবে এখন প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ দশমিক ৮৯ কোটি টাকা। ধরন বলছে, সময় যত যাবে, এই খরচ আরও বাড়িয়ে নেবে ঠিকাদার।
তবে প্রকল্প পরিচালক নাজমুল আলম মনে করেন, এই ফ্লাইওভারটি ‘সবচেয়ে সস্তায় হচ্ছে’।
খরচ ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘একনেকের পরের সভায় খরচের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। তবে এই ফ্লাইওভারের কাজ এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে। দ্রুত এই কাজ শেষ করতে সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২৬ মার্চের আগেই আমরা এটি উদ্বোধন করতে চাই।’
Saturday, August 8, 2015
মালয়েশিয়ার বাজার নিয়ে গোষ্ঠীর সঙ্গে বায়রার লড়াই by শরিফুল হাসান
সরকারিভাবে (জিটুজি) জনশক্তি রপ্তানি ব্যর্থ হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে বেসরকারিভাবে আগামী তিন বছরে ১৫ লাখ কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া। কিন্তু এই লোক পাঠানোর প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের দুই পক্ষের মধ্যে ‘ঠান্ডাযুদ্ধ’ শুরু হয়েছে। দুই পক্ষেই আছেন মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী, সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী এবং প্রভাবশালীরা।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) নেতারা অভিযোগ করেছেন, ১০-১২ জনের একটি গোষ্ঠী চাইছে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে। কিন্তু সাধারণ ব্যবসায়ীরা চান, সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক।
দুই পক্ষের এই ‘লড়াইয়ে’ কর্মীদের খরচ বৃদ্ধির এবং প্রতারণার আশঙ্কা করছেন এই খাতের বিশেষজ্ঞরা। এদিকে নতুনভাবে কর্মী নেওয়ার আগে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি বৈধতা চাইছেন।
বেসরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানির প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে আজ শনিবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে কুয়ালালামপুর ছাড়বে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল। দলটির নেতৃত্ব দেবেন ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তফা বিন ইব্রাহিম। তবে দলে শ্রম বা মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কেউ নেই। প্রতিনিধিদল রোববার প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বায়রা এবং ১১ আগস্ট প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে। জানা গেছে, এই সফরে কোনো চুক্তি হবে না।
জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেকে অনেক প্রস্তাব দিচ্ছেন। তবে আমি কোনো খারাপ প্রস্তাব বা খারাপ লোককে আমার আশপাশে ভিড়তে দেব না। প্রতিনিধিদল আসছে। আমিও চাই মালয়েশিয়ার বাজার চালু হোক। তবে এমনভাবে আমরা সব করব, যাতে একজন কর্মীও যেন প্রতারিত না হয়, কম খরচে গিয়ে মালয়েশিয়ায় কাজ পায়। এ ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকেই খরচ বহন করতে হবে। আর রিক্রুটিং এজেন্সির ভূমিকা কী হবে, সেটাও আমরা নির্ধারণ করব।’
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির অন্যতম বাজার মালয়েশিয়া ২০০৯ সালে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর সরকারিভাবে কর্মী পাঠাতে দুই দেশ চুক্তি করে। এরপর মালয়েশিয়া পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ লোক নেওয়ার আশ্বাস দিলে সারা দেশে সাড়ে ১৪ লাখ লোক নাম নিবন্ধন করেন। কিন্তু মালয়েশিয়া চাহিদাপত্র না পাঠানোয় গত আড়াই বছরে মাত্র আট হাজার কর্মী গেছেন। অথচ এই সময়ে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রফেশনাল ভিসায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিয়েছে। সাগরপথে অবৈধভাবে গিয়েও অনেকে কাজ পেয়েছে। কিন্তু গত মে মাসে থাইল্যান্ডে এবং পরে মালয়েশিয়ায় গণকবর পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এই মানব পাচার নিয়ে সমালোচনা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে আবারও বাংলাদেশ থেকে বেসরকারিভাবে কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব দেয় মালয়েশিয়া। ওই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ২৩ জুন তৎকালীন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন মালয়েশিয়ায় যান। ২৪ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। পরে জাহিদি ১৫ লাখ কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দেন।
এরপরই নতুন করে লোক আনার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে নিতে দুটি পক্ষ তৎপর হয়ে ওঠে। একটির নেতৃত্বে আছেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মালয়েশীয় নাগরিক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন বিন আবদুল নূর। বায়রার অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে রয়েছে জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালসহ ১০-১২টি প্রতিষ্ঠান। এরা কয়েকবার সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করে। মালয়েশিয়ার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজমি খালিদ, শ্রম বিভাগের সাবেক পরিচালক টেংকু ওমরসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী এই পক্ষে আছেন।
বায়রা বলেছে, মোহাম্মদ আমিনের প্রতিষ্ঠান বেসটিনেট এবং মালয়েশিয়ান ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) বিরুদ্ধে এই বছর নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাভেল পারমিট দেওয়ার কাজ পাওয়ার পর মালয়েশিয়া থেকে একজন বাংলাদেশির দেশে ফিরতে চার গুণ বেশি খরচ হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণে নিতে বায়রা মালয়েশীয় নাগরিক আরেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আবু হানিফকে তাঁদের বৈদেশিক প্রতিনিধি মনোনীত করে। হানিফের সঙ্গে মালয়েশিয়ার একজন মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা আছে। হানিফের প্রতিষ্ঠান রিয়াল নেটে স্বরাষ্ট্র অধিদপ্তরের (কেডিএন) সাবেক মহাপরিচালক রাজা আজহার বিন আবদুল মানাফ ও একজন মন্ত্রীর কয়েকজন আত্মীয় পরিচালক হিসেবে আছেন। হানিফ ২৫ জুন বায়রার সভাপতি আবুল বাসার, মহাসচিব মনসুর আহমেদ কালাম ও জ্যেষ্ঠ সভাপতি আলী হায়দারকে নিয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বদল হওয়ায় কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে মোহাম্মদ আমিন পক্ষ। অন্যদিকে হামিদি মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী হওয়ায় অপর পক্ষের অবস্থান শক্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে আবু হানিফের নেতৃত্বে রিয়েল নেটের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছে। দলের সদস্যরা আজ (শনিবার) দুপুরে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে তাঁদের ওয়ার্ক ফোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেমের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করবে। এর আগে বুধবার মোহাম্মদ আমিন, ক্যাথারসিসের মালিক রুহুল আমিনসহ কয়েকজন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।
রুহুল আমিন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই কম খরচে লোকজন মালয়েশিয়া যাক। এ কারণে বেসটিনেটের এফডব্লিউসিএমএস প্রস্তাব নতুন মন্ত্রীকে বলেছি। আমরা মালয়েশিয়ার নতুন উপপ্রধানমন্ত্রীর একটি ধন্যবাদ চিঠিও তাঁকে পৌঁছে দিয়েছি। বায়রার সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু আমরা শুনেছি, বায়রা মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ৫০ হাজার লোক পাঠানোর অনুমতি চেয়েছে। তারা কীভাবে লোক পাঠানোর অনুমতি চায়?’
তবে বায়রার সভাপতি আবুল বাসার বলেন, ‘আমরা মালয়েশিয়ার বাজার খুলতে এত দিন চেষ্টা করছি। আমরা দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আমরা চাই, সবাই ব্যবসা করবে। কিন্তু আমিনরা সিন্ডিকেট করে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন। আমরা তা হতে দেব না। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীও বলেছেন, কোনো সিন্ডিকেট হবে না।’
অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন কারাম এশিয়ার আঞ্চলিক সমন্বয়ক হারুন আল রশিদ বলেন, ‘এর আগে যতবার মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়েছে, ততবারই দুই দেশের একটি চক্র দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। এবারও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাঠে নেমেছেন। লোক আনার কাজ শ্রম ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হলেও স্বরাষ্ট্রের আগ্রহই বেশি। বাংলাদেশের এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত।’
এদিকে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন কর্মী আনার আগে অবৈধ শ্রমিকদের ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ায় অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি এখন চরম আতঙ্কে আছেন। কুয়ালালামপুরে নোয়াখালীর গোলাম রাব্বানী, চাঁদপুরের শাহজালাল, নরসিংদীর জাহাঙ্গীর আলম ও মুন্সিগঞ্জের শহীদ হোসেনসহ আরও অনেকে জানান, মালয়েশিয়ার যদি সত্যিই কর্মী লাগে, তাহলে নতুন কর্মী আনার বাণিজ্য না করে চার লাখ অবৈধকে বৈধ করুক।
তবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘এ মুহূর্তে চাইলেও অবৈধদের বৈধ করার নতুন প্রস্তাব বাংলাদেশ দিতে পারে না। তবে একবারেই সব লোককে ফেরত পাঠানো হবে না। নতুনরা আসবেন, অবৈধরা ফেরত যাবেন।’ নতুন কর্মী আনার প্রক্রিয়া কী হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, লোকজন যেন প্রতারিত না হন।’
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) নেতারা অভিযোগ করেছেন, ১০-১২ জনের একটি গোষ্ঠী চাইছে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে। কিন্তু সাধারণ ব্যবসায়ীরা চান, সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক।
দুই পক্ষের এই ‘লড়াইয়ে’ কর্মীদের খরচ বৃদ্ধির এবং প্রতারণার আশঙ্কা করছেন এই খাতের বিশেষজ্ঞরা। এদিকে নতুনভাবে কর্মী নেওয়ার আগে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি বৈধতা চাইছেন।
বেসরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানির প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে আজ শনিবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে কুয়ালালামপুর ছাড়বে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল। দলটির নেতৃত্ব দেবেন ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তফা বিন ইব্রাহিম। তবে দলে শ্রম বা মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কেউ নেই। প্রতিনিধিদল রোববার প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বায়রা এবং ১১ আগস্ট প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে। জানা গেছে, এই সফরে কোনো চুক্তি হবে না।
জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেকে অনেক প্রস্তাব দিচ্ছেন। তবে আমি কোনো খারাপ প্রস্তাব বা খারাপ লোককে আমার আশপাশে ভিড়তে দেব না। প্রতিনিধিদল আসছে। আমিও চাই মালয়েশিয়ার বাজার চালু হোক। তবে এমনভাবে আমরা সব করব, যাতে একজন কর্মীও যেন প্রতারিত না হয়, কম খরচে গিয়ে মালয়েশিয়ায় কাজ পায়। এ ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকেই খরচ বহন করতে হবে। আর রিক্রুটিং এজেন্সির ভূমিকা কী হবে, সেটাও আমরা নির্ধারণ করব।’
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির অন্যতম বাজার মালয়েশিয়া ২০০৯ সালে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর সরকারিভাবে কর্মী পাঠাতে দুই দেশ চুক্তি করে। এরপর মালয়েশিয়া পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ লোক নেওয়ার আশ্বাস দিলে সারা দেশে সাড়ে ১৪ লাখ লোক নাম নিবন্ধন করেন। কিন্তু মালয়েশিয়া চাহিদাপত্র না পাঠানোয় গত আড়াই বছরে মাত্র আট হাজার কর্মী গেছেন। অথচ এই সময়ে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রফেশনাল ভিসায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিয়েছে। সাগরপথে অবৈধভাবে গিয়েও অনেকে কাজ পেয়েছে। কিন্তু গত মে মাসে থাইল্যান্ডে এবং পরে মালয়েশিয়ায় গণকবর পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এই মানব পাচার নিয়ে সমালোচনা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে আবারও বাংলাদেশ থেকে বেসরকারিভাবে কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব দেয় মালয়েশিয়া। ওই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ২৩ জুন তৎকালীন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন মালয়েশিয়ায় যান। ২৪ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। পরে জাহিদি ১৫ লাখ কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দেন।
এরপরই নতুন করে লোক আনার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে নিতে দুটি পক্ষ তৎপর হয়ে ওঠে। একটির নেতৃত্বে আছেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মালয়েশীয় নাগরিক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন বিন আবদুল নূর। বায়রার অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে রয়েছে জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালসহ ১০-১২টি প্রতিষ্ঠান। এরা কয়েকবার সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করে। মালয়েশিয়ার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজমি খালিদ, শ্রম বিভাগের সাবেক পরিচালক টেংকু ওমরসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী এই পক্ষে আছেন।
বায়রা বলেছে, মোহাম্মদ আমিনের প্রতিষ্ঠান বেসটিনেট এবং মালয়েশিয়ান ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) বিরুদ্ধে এই বছর নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাভেল পারমিট দেওয়ার কাজ পাওয়ার পর মালয়েশিয়া থেকে একজন বাংলাদেশির দেশে ফিরতে চার গুণ বেশি খরচ হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণে নিতে বায়রা মালয়েশীয় নাগরিক আরেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আবু হানিফকে তাঁদের বৈদেশিক প্রতিনিধি মনোনীত করে। হানিফের সঙ্গে মালয়েশিয়ার একজন মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা আছে। হানিফের প্রতিষ্ঠান রিয়াল নেটে স্বরাষ্ট্র অধিদপ্তরের (কেডিএন) সাবেক মহাপরিচালক রাজা আজহার বিন আবদুল মানাফ ও একজন মন্ত্রীর কয়েকজন আত্মীয় পরিচালক হিসেবে আছেন। হানিফ ২৫ জুন বায়রার সভাপতি আবুল বাসার, মহাসচিব মনসুর আহমেদ কালাম ও জ্যেষ্ঠ সভাপতি আলী হায়দারকে নিয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বদল হওয়ায় কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে মোহাম্মদ আমিন পক্ষ। অন্যদিকে হামিদি মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী হওয়ায় অপর পক্ষের অবস্থান শক্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে আবু হানিফের নেতৃত্বে রিয়েল নেটের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছে। দলের সদস্যরা আজ (শনিবার) দুপুরে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে তাঁদের ওয়ার্ক ফোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেমের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করবে। এর আগে বুধবার মোহাম্মদ আমিন, ক্যাথারসিসের মালিক রুহুল আমিনসহ কয়েকজন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।
রুহুল আমিন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই কম খরচে লোকজন মালয়েশিয়া যাক। এ কারণে বেসটিনেটের এফডব্লিউসিএমএস প্রস্তাব নতুন মন্ত্রীকে বলেছি। আমরা মালয়েশিয়ার নতুন উপপ্রধানমন্ত্রীর একটি ধন্যবাদ চিঠিও তাঁকে পৌঁছে দিয়েছি। বায়রার সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু আমরা শুনেছি, বায়রা মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ৫০ হাজার লোক পাঠানোর অনুমতি চেয়েছে। তারা কীভাবে লোক পাঠানোর অনুমতি চায়?’
তবে বায়রার সভাপতি আবুল বাসার বলেন, ‘আমরা মালয়েশিয়ার বাজার খুলতে এত দিন চেষ্টা করছি। আমরা দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আমরা চাই, সবাই ব্যবসা করবে। কিন্তু আমিনরা সিন্ডিকেট করে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন। আমরা তা হতে দেব না। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীও বলেছেন, কোনো সিন্ডিকেট হবে না।’
অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন কারাম এশিয়ার আঞ্চলিক সমন্বয়ক হারুন আল রশিদ বলেন, ‘এর আগে যতবার মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়েছে, ততবারই দুই দেশের একটি চক্র দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। এবারও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাঠে নেমেছেন। লোক আনার কাজ শ্রম ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হলেও স্বরাষ্ট্রের আগ্রহই বেশি। বাংলাদেশের এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত।’
এদিকে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন কর্মী আনার আগে অবৈধ শ্রমিকদের ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ায় অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি এখন চরম আতঙ্কে আছেন। কুয়ালালামপুরে নোয়াখালীর গোলাম রাব্বানী, চাঁদপুরের শাহজালাল, নরসিংদীর জাহাঙ্গীর আলম ও মুন্সিগঞ্জের শহীদ হোসেনসহ আরও অনেকে জানান, মালয়েশিয়ার যদি সত্যিই কর্মী লাগে, তাহলে নতুন কর্মী আনার বাণিজ্য না করে চার লাখ অবৈধকে বৈধ করুক।
তবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘এ মুহূর্তে চাইলেও অবৈধদের বৈধ করার নতুন প্রস্তাব বাংলাদেশ দিতে পারে না। তবে একবারেই সব লোককে ফেরত পাঠানো হবে না। নতুনরা আসবেন, অবৈধরা ফেরত যাবেন।’ নতুন কর্মী আনার প্রক্রিয়া কী হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, লোকজন যেন প্রতারিত না হন।’
Thursday, August 6, 2015
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও উপাচার্য বহাল by শরিফুল হাসান
নিয়োগ-বাণিজ্য, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিসহ
বিভিন্ন অভিযোগের প্রমাণ মিললেও বহাল তবিয়তে আছেন রাজধানীর শেরেবাংলা
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শাদাত উল্লা। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি
কমিশন (ইউজিসি) তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত করে চার মাস আগেই
ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল।
ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিঘ্নিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত সেই ব্যবস্থা নেয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতার হস্তক্ষেপের কারণে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ।
জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন পেয়েছে। এটি মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা পর্যালোচনা করছে। এরপর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
গত বছরের শেষে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও ইউজিসিতে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ ডিসেম্বর ইউজিসির সদস্য মোহাম্মদ মোহাব্বত খানকে আহ্বায়ক এবং অতিরিক্ত পরিচালক ফেরদৌস জামানকে সদস্যসচিব করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ৪৬ জনের সঙ্গে কথা বলেন। সাতজন শিক্ষক প্রতিনিধিদলও কমিশনে গিয়ে বক্তব্য দেন। কমিটি ১২ এপ্রিল শিক্ষা সচিবের কাছে তাদের প্রতিবেদন দেয়।
কমিটির দুজন সদস্য প্রথম আলোকে জানান, প্রতিবেদন দেওয়ার পর যা করার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ই করবে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ ছিল অতিরিক্ত নিয়োগ। গত বছর প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা যায়, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৩০টি পদের অনুমোদন নিয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ৭৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইউজিসির প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে।
এতে বলা হয়, ইউজিসি ১০ জন শিক্ষক, চারজন কর্মকর্তা ও ১৬ জন কর্মচারীসহ মোট ৩০টি পদে নিয়োগের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। কিন্তু উপাচার্য ১০ জন শিক্ষকের জায়গায় ২৯ জন শিক্ষক, চারজন কর্মকর্তার জায়গায় ২৪ জন এবং ১৬ জন কর্মচারীর স্থলে ২২ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগ পাওয়া শাখা কর্মকর্তাদের মধ্যে ১১ জনই ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতা। এ ছাড়া ছাত্রলীগের দুজন নেতার স্ত্রীও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
উপাচার্যের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগেরও তদন্ত করেছে ইউজিসি। এতে বলা হয়, বিভিন্ন সময় পয়লা বৈশাখ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহাসহ বিভিন্ন উপলক্ষে তিনি অতিরিক্ত হিসেবে ১৭ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যায়ভাবে তুলে খরচ করেছেন।
উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে আত্মীয়স্বজনকে অবৈধভাবে নিয়োগেরও প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে উপাচার্য তাঁর শ্যালক চৌধুরী এম সাইফুলকে নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হওয়ার মতো যোগ্যতা তাঁর ছিল না। এ ছাড়া বেআইনিভাবে সাইফুল ইসলামের স্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য, যাঁর বয়স চল্লিশের ওপরে। ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য তাঁর এক ভাতিজিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন নীতিমালা অনুযায়ী উপাচার্য সার্বক্ষণিক একটি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু তিনি নিয়মের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত দুটো গাড়ি ব্যবহার করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এগ্রিবিজনেস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে প্রথম হওয়া প্রার্থী থাকলেও ফজলুল হককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি মাত্র স্নাতক শেষ করলেও পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়নি। কেবল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সনদ দেখিয়ে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, উপাচার্যের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, আত্মীয়স্বজনকে চাকরি দেওয়াসহ সুনির্দিষ্ট ছয়টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আর ৬৫ বছর বয়স অতিক্রম করায় তিনি স্বাভাবিকভাবেই অবসরে গেছেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাবতীয় পাওনা তুলে নিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ইউজিসির সুপারিশে বলা হয়, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ায় সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ছাড়া উপাচার্যের বিভিন্ন খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দুই ভাগে বিভক্ত। ফলে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক-কর্মচারী থাকায় অতিরিক্ত নিয়োগ স্থগিত রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে বিভিন্ন দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে যে অর্থ নিয়েছেন, সেই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে ফিরিয়ে দিতে পারেন।
ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিঘ্নিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত সেই ব্যবস্থা নেয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতার হস্তক্ষেপের কারণে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ।
জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন পেয়েছে। এটি মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা পর্যালোচনা করছে। এরপর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
গত বছরের শেষে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও ইউজিসিতে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ ডিসেম্বর ইউজিসির সদস্য মোহাম্মদ মোহাব্বত খানকে আহ্বায়ক এবং অতিরিক্ত পরিচালক ফেরদৌস জামানকে সদস্যসচিব করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ৪৬ জনের সঙ্গে কথা বলেন। সাতজন শিক্ষক প্রতিনিধিদলও কমিশনে গিয়ে বক্তব্য দেন। কমিটি ১২ এপ্রিল শিক্ষা সচিবের কাছে তাদের প্রতিবেদন দেয়।
কমিটির দুজন সদস্য প্রথম আলোকে জানান, প্রতিবেদন দেওয়ার পর যা করার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ই করবে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ ছিল অতিরিক্ত নিয়োগ। গত বছর প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা যায়, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৩০টি পদের অনুমোদন নিয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ৭৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইউজিসির প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে।
এতে বলা হয়, ইউজিসি ১০ জন শিক্ষক, চারজন কর্মকর্তা ও ১৬ জন কর্মচারীসহ মোট ৩০টি পদে নিয়োগের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। কিন্তু উপাচার্য ১০ জন শিক্ষকের জায়গায় ২৯ জন শিক্ষক, চারজন কর্মকর্তার জায়গায় ২৪ জন এবং ১৬ জন কর্মচারীর স্থলে ২২ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগ পাওয়া শাখা কর্মকর্তাদের মধ্যে ১১ জনই ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতা। এ ছাড়া ছাত্রলীগের দুজন নেতার স্ত্রীও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
উপাচার্যের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগেরও তদন্ত করেছে ইউজিসি। এতে বলা হয়, বিভিন্ন সময় পয়লা বৈশাখ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহাসহ বিভিন্ন উপলক্ষে তিনি অতিরিক্ত হিসেবে ১৭ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যায়ভাবে তুলে খরচ করেছেন।
উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে আত্মীয়স্বজনকে অবৈধভাবে নিয়োগেরও প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে উপাচার্য তাঁর শ্যালক চৌধুরী এম সাইফুলকে নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হওয়ার মতো যোগ্যতা তাঁর ছিল না। এ ছাড়া বেআইনিভাবে সাইফুল ইসলামের স্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য, যাঁর বয়স চল্লিশের ওপরে। ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য তাঁর এক ভাতিজিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন নীতিমালা অনুযায়ী উপাচার্য সার্বক্ষণিক একটি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু তিনি নিয়মের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত দুটো গাড়ি ব্যবহার করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এগ্রিবিজনেস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে প্রথম হওয়া প্রার্থী থাকলেও ফজলুল হককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি মাত্র স্নাতক শেষ করলেও পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়নি। কেবল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সনদ দেখিয়ে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, উপাচার্যের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, আত্মীয়স্বজনকে চাকরি দেওয়াসহ সুনির্দিষ্ট ছয়টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আর ৬৫ বছর বয়স অতিক্রম করায় তিনি স্বাভাবিকভাবেই অবসরে গেছেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাবতীয় পাওনা তুলে নিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ইউজিসির সুপারিশে বলা হয়, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ায় সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ছাড়া উপাচার্যের বিভিন্ন খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দুই ভাগে বিভক্ত। ফলে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক-কর্মচারী থাকায় অতিরিক্ত নিয়োগ স্থগিত রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে বিভিন্ন দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে যে অর্থ নিয়েছেন, সেই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে ফিরিয়ে দিতে পারেন।
Friday, July 31, 2015
মালয়েশীয় গ্রামে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের কবরের সারিঃ নাম–পরিচয় নেই আছে কেবল নম্বর by শরিফুল হাসান
বৃষ্টিতে
ভেজা মাটি। সারি সারি কবর। প্রতিটি কবরের ওপর একটি করে ফলক। ফলকগুলোতে
কোনো নাম-পরিচয় নেই, খোদাই করা আছে কেবল একেকটি নম্বর। মালয়েশিয়ার
থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী কেদাহ রাজ্যের পকোকাসেনা জেলার কামপাং তুলাং
গ্রামের রাবার বাগানের পাশে রয়েছে এসব কবর। প্রায় ৫০ বছর আগে পরিত্যক্ত এই
কবরস্থানে ১০৬ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে। নতুন এই
কবরগুলো মানব পাচারের শিকার বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের। তাদের
নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। কখনো হবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে কামপাং তুলাং গ্রামের দূরত্ব ৪৩৫ কিলোমিটার। মালয়েশিয়ার ডেইলি মেইল পত্রিকার উত্তরাঞ্চলের বিশেষ প্রতিনিধি অরুলদাশকে সঙ্গে নিয়ে কয়েক দিন আগে গ্রামটিতে গিয়ে দেখা যায় কবরগুলো, কথা হয় স্থানীয় লোকদের সঙ্গে।
গত ১ মে থাইল্যান্ডের সংখলা প্রদেশের গভীর জঙ্গলে প্রথম গণকবর আবিষ্কৃত হয়। মালয়েশিয়ায়ও এমন গণকবর থাকার অভিযোগ উঠলে কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করে। তবে সাংবাদিক অরুলদাশের একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২৪ মে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ অনেক কবর পাওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর থাইল্যান্ড সীমান্ত-সংলগ্ন পারলিস রাজ্যের ওয়াংকিলিয়া থেকে ১০৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আশপাশে বড় কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায় কেদাহ রাজ্যের সুলতানিয়া বাহিয়া হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর মরদেহগুলো কামপাং তুলাং গ্রামে দাফন করা হয়।
গ্রামটির রাবার বাগানের পাশের ওই কবরস্থানে গিয়ে মাটি দেখেই বোঝা গেল কবরগুলো নতুন। চারপাশে পড়ে ছিল পুলিশের ‘পুলিশ লাইন, ডোন্ট ক্রস’ লেখা প্লাস্টিকের ফিতা। নতুন কবরগুলোর ফলকে স্টিলের পাতে নম্বর দেওয়া। এই নম্বরই পরিচয় না পাওয়া মানুষগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করার সূত্র। তবে কোন মরদেহ কার—এ প্রশ্নের জবাব কখনো মিলবে কি না, সেটি জানা নেই কারও।
কবরস্থানের কাছে আছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর কবরস্থানের পাশে মাঠের শেষ প্রান্তে একটি ছোট্ট নামাজঘর। সেখানে ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন স্থানীয় ৩০ থেকে ৩৫ জন। বাংলাদেশি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অরুলদাশের মাধ্যমে কথা হয় তাঁদের সঙ্গে। এঁদের একজন বয়সে প্রবীণ জোহারি দেশা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিত্যক্ত এই কবরস্থানে সর্বশেষ ৫০ বছর আগে কারও লাশ দাফন করা হয়েছিল। পরে গাছপালা গজায়। বর্তমানে এটি ওয়াক্ফ সম্পত্তি। সপ্তাহ তিনেক আগে শুনলাম, সীমান্তের কবরগুলো থেকে উদ্ধার করা অনেক লাশ এখানে দাফন করা হবে, যারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মুসলমান। তাই গ্রামের কেউ আপত্তি করেনি। জানাজার সময় পুলিশ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ অনেক গ্রামবাসী এসেছিল।’
এখানে কবর দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জোহারি দেশা, মহিউদ্দিন জুশো, আবু রায়হান, আহমেদ শাহাবুদ্দিন, গালাউদ্দিন, শামসুদ্দিনসহ উপস্থিত সবাই বললেন, আশপাশে আর কোথাও এত বড় জায়গা না পাওয়ায় এখানে গাছপালা কেটে জায়গা পরিষ্কার করে কবর দেওয়া হয়। বেওয়ারিশ লাশ পেলে এখানে দাফন করা হবে।
ময়নাতদন্ত হলেও হতভাগ্য এই ১০৬ জনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে কেদাহ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মুকরিজ তুন মাহাথির সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, নির্যাতন ও দিনের পর দিন না খেতে পেয়েই এই মানুষগুলো মারা গেছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
মৃত্যুর কারণ শুনেছেন কি না—এ প্রশ্নে ওই গ্রামের বর্ষীয়ান বাহরাম জাফর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শুনেছি, এই মানুষগুলোকে নির্যাতন করা হয়েছিল। অনেকে না খেয়ে মারা গেছে। এটা চরম বর্বরতা। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা উচিত।’ শেখ মো. জহির নামের একজন বললেন, ‘মিয়ানমার তো রোহিঙ্গাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। কিন্তু বাংলাদেশের যারা আছে, তাদের পরিচয় উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কী উদ্যোগ নিচ্ছে, জানতে চাইলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাদের দাফন করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছে কি না, সেটি জানার সুযোগ নেই। কারণ, এদের কারও পরিচয় জানা নেই। তবে প্রত্যেকের মরদেহের ডিএনএ নমুনা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। কোনো পরিবার যদি কখনো দাবি করে, এখানে তাদের স্বজন আছে, তবে ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হবে। তা মরদেহের ডিএনএর সঙ্গে মিললে হয়তো পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
যেভাবে কবর আবিষ্কার: সাংবাদিক অরুলদাশ বলেন, গত মার্চে তিনি গণকবরের সন্ধানে প্রথম ওয়াংকিলিয়ায় গিয়েছিলেন, কিন্তু তখন কিছু খুঁজে পাননি। থাইল্যান্ডে গণকবর পাওয়ার পর তিনি নিশ্চিত হন, মালয়েশিয়ায়ও একই ধরনের কবর ও নির্যাতন ক্যাম্প আছে। থাইল্যান্ডের পুলিশপ্রধান ৯ মে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগও করেন। কিন্তু মালয়েশিয়া তা অস্বীকার করে। একদিন দুজন লোক তাঁর কাছে এসে পাহাড়ের ওপর গণকবর থাকার কথা জানান। তিনি তখন স্থানীয় দুজন লোকের সহায়তায় পাদংবাসার থাইল্যান্ড সীমান্তে আবার খোঁজ করেন। এরপর তিনি অনেক বন্দিশিবির আবিষ্কার করেন। পরে তিনি ধারাবাহিকভাবে এ নিয়ে প্রতিবেদন করলে মালয়েশিয়ার পুলিশ ও সেনাবাহিনী আবার অভিযান শুরু করে। ২৪ মে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবর ও বন্দিশিবিরের কথা জানান।
ওয়াংকিলিয়া থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী মালয়েশিয়ার সর্বশেষ গ্রাম। ওয়াংকিলিয়ার যে পাহাড় দিয়ে মরদেহগুলো নামানো হয়েছে, সেটি দেখিয়ে অরুলদাশ বলেন, ‘সাগরপথে থাইল্যান্ডে আনার পর পাহাড়ের এই ক্যাম্পগুলোতে রাখা হতো মানুষদের। পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে এলেই মালয়েশিয়া। যারা মুক্তিপণ দিত, তাদের মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেওয়া হতো। কেউ কেউ অবশ্য এই নির্যাতন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়া সীমান্তে চলে আসতে পেরেছে।’
ওয়াংকিলিয়া পাহাড়ি ছোট্ট গ্রাম। ২৫০ জনেরও কম মানুষের বসবাস। ওয়াংকিলিয়ার পাহাড়ের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা মানুষ প্রায় সময়ই গ্রামের মসজিদে আশ্রয় নিত বলে জানান গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আদনান ও জুনায়েদ। আদনান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই-আড়াই বছর ধরে আমরা এই দৃশ্য দেখছি। পালিয়ে আসা লোকজনের শরীরে থাকে আঘাতের চিহ্ন। আমরা তাদের চিকিৎসা দিতাম, খাবার দিতাম। গত ঈদের দিন আমরা পাঁচজন বাংলাদেশিকে পেয়েছিলাম।’
ওয়াংকিলিয়া গ্রাম থেকে কামপাং তুলাং গ্রামের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। অরুলদাশ প্রতিবেদন না করলে হয়তো এসব কবর আবিষ্কৃত হতো না। কামপাং তুলাং গ্রামে দাফন হওয়া এসব মানুষের স্বজনেরা হয়তো এখনো জানে না, তারা পরিচয়হীন হয়ে এখানে আছে। আর কবরগুলো সাক্ষী হয়ে আছে একবিংশ শতাব্দীর দাসপ্রথা ও চরম বর্বরতার।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে কামপাং তুলাং গ্রামের দূরত্ব ৪৩৫ কিলোমিটার। মালয়েশিয়ার ডেইলি মেইল পত্রিকার উত্তরাঞ্চলের বিশেষ প্রতিনিধি অরুলদাশকে সঙ্গে নিয়ে কয়েক দিন আগে গ্রামটিতে গিয়ে দেখা যায় কবরগুলো, কথা হয় স্থানীয় লোকদের সঙ্গে।
গত ১ মে থাইল্যান্ডের সংখলা প্রদেশের গভীর জঙ্গলে প্রথম গণকবর আবিষ্কৃত হয়। মালয়েশিয়ায়ও এমন গণকবর থাকার অভিযোগ উঠলে কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করে। তবে সাংবাদিক অরুলদাশের একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২৪ মে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ অনেক কবর পাওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর থাইল্যান্ড সীমান্ত-সংলগ্ন পারলিস রাজ্যের ওয়াংকিলিয়া থেকে ১০৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আশপাশে বড় কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায় কেদাহ রাজ্যের সুলতানিয়া বাহিয়া হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর মরদেহগুলো কামপাং তুলাং গ্রামে দাফন করা হয়।
গ্রামটির রাবার বাগানের পাশের ওই কবরস্থানে গিয়ে মাটি দেখেই বোঝা গেল কবরগুলো নতুন। চারপাশে পড়ে ছিল পুলিশের ‘পুলিশ লাইন, ডোন্ট ক্রস’ লেখা প্লাস্টিকের ফিতা। নতুন কবরগুলোর ফলকে স্টিলের পাতে নম্বর দেওয়া। এই নম্বরই পরিচয় না পাওয়া মানুষগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করার সূত্র। তবে কোন মরদেহ কার—এ প্রশ্নের জবাব কখনো মিলবে কি না, সেটি জানা নেই কারও।
কবরস্থানের কাছে আছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর কবরস্থানের পাশে মাঠের শেষ প্রান্তে একটি ছোট্ট নামাজঘর। সেখানে ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন স্থানীয় ৩০ থেকে ৩৫ জন। বাংলাদেশি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অরুলদাশের মাধ্যমে কথা হয় তাঁদের সঙ্গে। এঁদের একজন বয়সে প্রবীণ জোহারি দেশা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিত্যক্ত এই কবরস্থানে সর্বশেষ ৫০ বছর আগে কারও লাশ দাফন করা হয়েছিল। পরে গাছপালা গজায়। বর্তমানে এটি ওয়াক্ফ সম্পত্তি। সপ্তাহ তিনেক আগে শুনলাম, সীমান্তের কবরগুলো থেকে উদ্ধার করা অনেক লাশ এখানে দাফন করা হবে, যারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মুসলমান। তাই গ্রামের কেউ আপত্তি করেনি। জানাজার সময় পুলিশ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ অনেক গ্রামবাসী এসেছিল।’
এখানে কবর দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জোহারি দেশা, মহিউদ্দিন জুশো, আবু রায়হান, আহমেদ শাহাবুদ্দিন, গালাউদ্দিন, শামসুদ্দিনসহ উপস্থিত সবাই বললেন, আশপাশে আর কোথাও এত বড় জায়গা না পাওয়ায় এখানে গাছপালা কেটে জায়গা পরিষ্কার করে কবর দেওয়া হয়। বেওয়ারিশ লাশ পেলে এখানে দাফন করা হবে।
ময়নাতদন্ত হলেও হতভাগ্য এই ১০৬ জনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে কেদাহ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মুকরিজ তুন মাহাথির সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, নির্যাতন ও দিনের পর দিন না খেতে পেয়েই এই মানুষগুলো মারা গেছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
মৃত্যুর কারণ শুনেছেন কি না—এ প্রশ্নে ওই গ্রামের বর্ষীয়ান বাহরাম জাফর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শুনেছি, এই মানুষগুলোকে নির্যাতন করা হয়েছিল। অনেকে না খেয়ে মারা গেছে। এটা চরম বর্বরতা। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা উচিত।’ শেখ মো. জহির নামের একজন বললেন, ‘মিয়ানমার তো রোহিঙ্গাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। কিন্তু বাংলাদেশের যারা আছে, তাদের পরিচয় উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কী উদ্যোগ নিচ্ছে, জানতে চাইলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাদের দাফন করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছে কি না, সেটি জানার সুযোগ নেই। কারণ, এদের কারও পরিচয় জানা নেই। তবে প্রত্যেকের মরদেহের ডিএনএ নমুনা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। কোনো পরিবার যদি কখনো দাবি করে, এখানে তাদের স্বজন আছে, তবে ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হবে। তা মরদেহের ডিএনএর সঙ্গে মিললে হয়তো পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
যেভাবে কবর আবিষ্কার: সাংবাদিক অরুলদাশ বলেন, গত মার্চে তিনি গণকবরের সন্ধানে প্রথম ওয়াংকিলিয়ায় গিয়েছিলেন, কিন্তু তখন কিছু খুঁজে পাননি। থাইল্যান্ডে গণকবর পাওয়ার পর তিনি নিশ্চিত হন, মালয়েশিয়ায়ও একই ধরনের কবর ও নির্যাতন ক্যাম্প আছে। থাইল্যান্ডের পুলিশপ্রধান ৯ মে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগও করেন। কিন্তু মালয়েশিয়া তা অস্বীকার করে। একদিন দুজন লোক তাঁর কাছে এসে পাহাড়ের ওপর গণকবর থাকার কথা জানান। তিনি তখন স্থানীয় দুজন লোকের সহায়তায় পাদংবাসার থাইল্যান্ড সীমান্তে আবার খোঁজ করেন। এরপর তিনি অনেক বন্দিশিবির আবিষ্কার করেন। পরে তিনি ধারাবাহিকভাবে এ নিয়ে প্রতিবেদন করলে মালয়েশিয়ার পুলিশ ও সেনাবাহিনী আবার অভিযান শুরু করে। ২৪ মে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবর ও বন্দিশিবিরের কথা জানান।
ওয়াংকিলিয়া থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী মালয়েশিয়ার সর্বশেষ গ্রাম। ওয়াংকিলিয়ার যে পাহাড় দিয়ে মরদেহগুলো নামানো হয়েছে, সেটি দেখিয়ে অরুলদাশ বলেন, ‘সাগরপথে থাইল্যান্ডে আনার পর পাহাড়ের এই ক্যাম্পগুলোতে রাখা হতো মানুষদের। পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে এলেই মালয়েশিয়া। যারা মুক্তিপণ দিত, তাদের মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেওয়া হতো। কেউ কেউ অবশ্য এই নির্যাতন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়া সীমান্তে চলে আসতে পেরেছে।’
ওয়াংকিলিয়া পাহাড়ি ছোট্ট গ্রাম। ২৫০ জনেরও কম মানুষের বসবাস। ওয়াংকিলিয়ার পাহাড়ের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা মানুষ প্রায় সময়ই গ্রামের মসজিদে আশ্রয় নিত বলে জানান গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আদনান ও জুনায়েদ। আদনান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই-আড়াই বছর ধরে আমরা এই দৃশ্য দেখছি। পালিয়ে আসা লোকজনের শরীরে থাকে আঘাতের চিহ্ন। আমরা তাদের চিকিৎসা দিতাম, খাবার দিতাম। গত ঈদের দিন আমরা পাঁচজন বাংলাদেশিকে পেয়েছিলাম।’
ওয়াংকিলিয়া গ্রাম থেকে কামপাং তুলাং গ্রামের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। অরুলদাশ প্রতিবেদন না করলে হয়তো এসব কবর আবিষ্কৃত হতো না। কামপাং তুলাং গ্রামে দাফন হওয়া এসব মানুষের স্বজনেরা হয়তো এখনো জানে না, তারা পরিচয়হীন হয়ে এখানে আছে। আর কবরগুলো সাক্ষী হয়ে আছে একবিংশ শতাব্দীর দাসপ্রথা ও চরম বর্বরতার।
Monday, July 27, 2015
মালয়েশিয়ায় সংকটে বাংলাদেশি ছাত্ররা by শরিফুল হাসান
‘আন্তর্জাতিক
মানের পড়াশোনা। পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি। নিজের খরচ চালিয়ে বাড়িতে
টাকা পাঠানোর সুযোগ।’—পত্রিকা বা অন্য কোনো মাধ্যমে এমন বিজ্ঞাপন দেখে
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় এসে পড়াশোনা-আয়ের কথা ভেবে থাকলে এখনই সাবধান
হোন। কারণ, এমন বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে মালয়েশিয়া এসে এখন ভয়াবহ সংকটে
আছেন বাংলাদেশি ছাত্ররা। কাজ না পাওয়ায় পড়াশোনাও হচ্ছে না।
গত দুই সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় এমন শতাধিক ছাত্রের সঙ্গে দেখা হয়েছে। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন হোটেল ও সুপারশপে এখন যত বাংলাদেশি কর্মীর দেখা মিলছে, তাঁদের একটা বড় অংশ বাংলাদেশি ছাত্র। নিজেদের কষ্টের কথা বলার পাশাপাশি দালালদের প্রলোভনে পড়ে মালয়েশিয়া না আসার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনও এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে বলেছে।
মালয়েশিয়ায় পড়ার পাশাপাশি কাজ করতে এসে কত ছাত্র প্রতারিত হয়েছেন, তার সঠিক তথ্য বাংলাদেশ হাইকমিশনে নেই। তবে অনেকের মতে, এই সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে এক লাখ। এঁদের অনেকেই পড়তে এসে অবৈধ শ্রমিক হয়ে গেছেন। কারণ, দালালেরা এখানে আনলেও নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্টে ভিসার স্টিকার লাগায়নি। আবার দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করেও কলেজের ফি পরিশোধ করতে পারছেন না অনেক ছাত্র। ফলে অবৈধ হয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হতে হচ্ছে। আবার অনেকে মালয়েশিয়ায় আসার খরচ তুলতে গিয়ে পুরোপুরি শ্রমিক হয়ে গেছেন। অনেকে নিজেরাই দালাল হয়ে দেশ থেকে ছাত্র আনার ব্যবসায় নেমেছেন।
কুয়ালালামপুরের কেন্দ্রীয় বাসস্টেশনের কাছে মালয়েশিয়ার চেইন সুপারশপ মাইডিনের একটি বিশাল শাখা আছে। সেখানে দেখা গেল, বিক্রেতা হিসেবে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের প্রায় সবাই বাংলাদেশি তরুণ। তাঁরা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কলেজের ছাত্র। তাঁদের মধ্যে ঢাকার মিরপুরের মাহবুবুর রহমান দুই বছর আগে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ করে এসেছেন টিএমসি কলেজে পড়তে।
মাহবুব বলেন, সপ্তাহে দুই দিন কলেজে যান। বাকিটা সময় কাজ করেন। কিন্তু এরপরও বছর শেষে কলেজে সাড়ে ছয় হাজার রিঙ্গিত (প্রায় দেড় লাখ টাকা) দিতে অনেক কষ্ট হয়। সেই টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অনেকে অবৈধ হয়ে যাচ্ছেন। তিনি অনুরোধ জানান, দালালদের কথায় প্রলোভনে পড়ে বাংলাদেশ থেকে আর কেউ যেন পড়তে না আসে।
মাইডিনের ওই সুপারশপের ইনচার্জ রকিবুল ইসলাম। নয় বছর ধরে আছেন এখানে। তিনি বললেন, এই শাখায় ২৬০ থেকে ২৭০ জন বাংলাদেশি ছাত্র খণ্ডকালীন চাকরি করেন। ঘণ্টায় পারিশ্রমিক পাঁচ রিঙ্গিত (এক রিঙ্গিতে বাংলাদেশি ২০ টাকা)। আট ঘণ্টা কাজ করেন। কিন্তু এই আয়ে তাঁরা কিছুই করতে পারেন না। ফলে লেখাপড়াও হয় না। কাজেই এই ভুল যেন আর কেউ না করে। বাংলাদেশ সরকারেরও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সেলানগরের একটি রিসোর্টে কাজ করেন বাংলাদেশি ছাত্র মোহাম্মদ ফাহাদ। বাড়ি ময়মনসিংহে। তিনি বলেন, দালালদের কথায় পটে গিয়ে এসে দেখেন বাস্তবতা ভিন্ন।
বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ছাত্র বললেন, ছাত্র ভর্তি ও প্রতারণার দিক থেকে টিএমসি, লিংকন ও ভিক্টোরিয়া কলেজ সবচেয়ে এগিয়ে। এই তিন প্রতিষ্ঠানে সব মিলে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি ছাত্র আছেন। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ফরেন একাডেমি, কোয়েস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, মেলভার্ন কলেজ, লাইফ কলেজ, এডাম কলেজসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানেও আছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। কিছু ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও আছেন। নামসর্বস্ব কলেজেও আছেন।
মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিরা বললেন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনা বন্ধ হওয়ার পর এভাবে ছাত্র আসা বেড়েছে। গত তিন বছরে এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। জমজমাট ব্যবসার কারণে দুই দেশের দালালেরা এক হয়ে মালয়েশিয়ার অলিতে-গলিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। আর ঢাকার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন স্থানে আকর্ষণীয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এমন কয়েক শ ছাত্রকে কর্মস্থল থেকে আটক করেছে।
মালয়েশিয়ার মালয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বললেন, মালয়েশিয়ায় যাঁরা সত্যিকারভাবে পড়তে আসবেন তাঁরা একটু খোঁজখবর করলেই স্বচ্ছ ধারণা পাবেন। এখানে কোনো স্তরেই ছাত্রদের বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ নেই।
মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্র হিসেবে কেউ মালয়েশিয়ায় আসতে চাইলে তাকে এসে শুধু লেখাপড়া নিয়েই থাকতে হবে। এখানে তার আয়ের সুযোগ নেই। শ্রমিক হিসেবে এলে শুধু শ্রমিক। কেউ যেন ছাত্র হিসেবে এসে শ্রমিক না হয়ে যায়। সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার অনুরোধ করছি।’
গত দুই সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় এমন শতাধিক ছাত্রের সঙ্গে দেখা হয়েছে। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন হোটেল ও সুপারশপে এখন যত বাংলাদেশি কর্মীর দেখা মিলছে, তাঁদের একটা বড় অংশ বাংলাদেশি ছাত্র। নিজেদের কষ্টের কথা বলার পাশাপাশি দালালদের প্রলোভনে পড়ে মালয়েশিয়া না আসার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনও এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে বলেছে।
মালয়েশিয়ায় পড়ার পাশাপাশি কাজ করতে এসে কত ছাত্র প্রতারিত হয়েছেন, তার সঠিক তথ্য বাংলাদেশ হাইকমিশনে নেই। তবে অনেকের মতে, এই সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে এক লাখ। এঁদের অনেকেই পড়তে এসে অবৈধ শ্রমিক হয়ে গেছেন। কারণ, দালালেরা এখানে আনলেও নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্টে ভিসার স্টিকার লাগায়নি। আবার দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করেও কলেজের ফি পরিশোধ করতে পারছেন না অনেক ছাত্র। ফলে অবৈধ হয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হতে হচ্ছে। আবার অনেকে মালয়েশিয়ায় আসার খরচ তুলতে গিয়ে পুরোপুরি শ্রমিক হয়ে গেছেন। অনেকে নিজেরাই দালাল হয়ে দেশ থেকে ছাত্র আনার ব্যবসায় নেমেছেন।
কুয়ালালামপুরের কেন্দ্রীয় বাসস্টেশনের কাছে মালয়েশিয়ার চেইন সুপারশপ মাইডিনের একটি বিশাল শাখা আছে। সেখানে দেখা গেল, বিক্রেতা হিসেবে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের প্রায় সবাই বাংলাদেশি তরুণ। তাঁরা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কলেজের ছাত্র। তাঁদের মধ্যে ঢাকার মিরপুরের মাহবুবুর রহমান দুই বছর আগে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ করে এসেছেন টিএমসি কলেজে পড়তে।
মাহবুব বলেন, সপ্তাহে দুই দিন কলেজে যান। বাকিটা সময় কাজ করেন। কিন্তু এরপরও বছর শেষে কলেজে সাড়ে ছয় হাজার রিঙ্গিত (প্রায় দেড় লাখ টাকা) দিতে অনেক কষ্ট হয়। সেই টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অনেকে অবৈধ হয়ে যাচ্ছেন। তিনি অনুরোধ জানান, দালালদের কথায় প্রলোভনে পড়ে বাংলাদেশ থেকে আর কেউ যেন পড়তে না আসে।
মাইডিনের ওই সুপারশপের ইনচার্জ রকিবুল ইসলাম। নয় বছর ধরে আছেন এখানে। তিনি বললেন, এই শাখায় ২৬০ থেকে ২৭০ জন বাংলাদেশি ছাত্র খণ্ডকালীন চাকরি করেন। ঘণ্টায় পারিশ্রমিক পাঁচ রিঙ্গিত (এক রিঙ্গিতে বাংলাদেশি ২০ টাকা)। আট ঘণ্টা কাজ করেন। কিন্তু এই আয়ে তাঁরা কিছুই করতে পারেন না। ফলে লেখাপড়াও হয় না। কাজেই এই ভুল যেন আর কেউ না করে। বাংলাদেশ সরকারেরও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সেলানগরের একটি রিসোর্টে কাজ করেন বাংলাদেশি ছাত্র মোহাম্মদ ফাহাদ। বাড়ি ময়মনসিংহে। তিনি বলেন, দালালদের কথায় পটে গিয়ে এসে দেখেন বাস্তবতা ভিন্ন।
বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ছাত্র বললেন, ছাত্র ভর্তি ও প্রতারণার দিক থেকে টিএমসি, লিংকন ও ভিক্টোরিয়া কলেজ সবচেয়ে এগিয়ে। এই তিন প্রতিষ্ঠানে সব মিলে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি ছাত্র আছেন। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ফরেন একাডেমি, কোয়েস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, মেলভার্ন কলেজ, লাইফ কলেজ, এডাম কলেজসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানেও আছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। কিছু ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও আছেন। নামসর্বস্ব কলেজেও আছেন।
মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিরা বললেন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনা বন্ধ হওয়ার পর এভাবে ছাত্র আসা বেড়েছে। গত তিন বছরে এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। জমজমাট ব্যবসার কারণে দুই দেশের দালালেরা এক হয়ে মালয়েশিয়ার অলিতে-গলিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। আর ঢাকার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন স্থানে আকর্ষণীয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এমন কয়েক শ ছাত্রকে কর্মস্থল থেকে আটক করেছে।
মালয়েশিয়ার মালয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বললেন, মালয়েশিয়ায় যাঁরা সত্যিকারভাবে পড়তে আসবেন তাঁরা একটু খোঁজখবর করলেই স্বচ্ছ ধারণা পাবেন। এখানে কোনো স্তরেই ছাত্রদের বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ নেই।
মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্র হিসেবে কেউ মালয়েশিয়ায় আসতে চাইলে তাকে এসে শুধু লেখাপড়া নিয়েই থাকতে হবে। এখানে তার আয়ের সুযোগ নেই। শ্রমিক হিসেবে এলে শুধু শ্রমিক। কেউ যেন ছাত্র হিসেবে এসে শ্রমিক না হয়ে যায়। সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার অনুরোধ করছি।’
Friday, July 17, 2015
দেশের স্মৃতিচারণায় প্রবাসে ঈদ উদ্যাপন by শরিফুল হাসান
নতুন
পোশাকে মসজিদ পুত্রজায়ার দিকে আসছে মানুষ। সবাই যে মালয়েশিয়ার নাগরিক,
তা-ও নয়। ইন্দোনেশিয়া, ভারতসহ নানান দেশের নানান জাতের মানুষ আছেন সেই দলে।
আছেন অনেক বাংলাদেশিও। বিদেশে থাকলেও তাঁদের মন পড়ে রয়েছে বাংলাদেশে। এই
প্রবাসীরা জানান, তাঁদের কাছে ঈদ মানে বিদেশে বসে দেশের স্মৃতিচারণা।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেকে দেশের মতো মালয়েশিয়াও আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ঈদের সময় রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন ভবনে যেমন অনেক সাজসজ্জা দেখা যায়, এই দেশের রাস্তাঘাট দেখে তা বোঝার উপায় নেই। এখানে সব কিছুই স্বাভাবিক।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেকে দেশের মতো মালয়েশিয়াও আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ঈদের সময় রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন ভবনে যেমন অনেক সাজসজ্জা দেখা যায়, এই দেশের রাস্তাঘাট দেখে তা বোঝার উপায় নেই। এখানে সব কিছুই স্বাভাবিক।
![]() |
| মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে এসেছেন মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী নানা দেশের মানুষ। ছবি: প্রথম আলো |
সকালে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী
পুত্রজায়া মসজিদের সামনে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো মানুষের ভিড়। প্রায় সবাই
এসেছেন গাড়ি নিয়ে। গাড়ি থেকে নেমে সবাই হাঁটছেন মসজিদের দিকে। বেশিরভাগ
মানুষের পরনে উজ্জ্বল রঙের পোশাক। অনেকে আবার ঐতিহ্যের ধারক পোশাকে এসেছেন।
পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীও আসছেন এই মসজিদে। বাবা-মায়ের সঙ্গে বড়দের পাশাপাশি অনেক ছোট্ শিশুও এসেছে। কেউ বাবা-মায়ের হাত ধরে রেখেছে, আবার কেউবা কোলে চড়ে বসেছে।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় নামাজ শুরু হলো। নামাজ শেষে কোলাকুলি। অনেকে ছবি তুলতে ব্যস্ত। সেলফি তোলার লোকেরও অভাব নেই। অনেক বাংলাদেশিকেও সেই দলে দেখা গেল। এঁদেরই একজন যশোরের মামুন হোসেন। তিনি বলেন, পাঁচ বছর ধরে মালয়েশিয়া আছেন। পাঁচ বছর ধরেই ঈদ এখানে কাটছে। ঈদের দিন সারাটা দিন তিনি বাংলাদেশে পালন করে আসা ঈদের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁকে সমর্থন জানালেন, রাজা হোসেন ও শফিকুল ইসলাম। তিনজন একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে এসেছেন।
ঝিনাইদহের আবির আহমেদ বলেন, ২২ দিন আগে তিনি মালয়েশিয়া এসেছেন। ঈদের দিনটায় দেশের কথা খুব বেশি মনে পড়ছে।
দুই ভাই মামুন মিয়া ও রাজিব মিয়া বলেন, বিদেশে ঈদ করতে ভালো লাগে না। কিন্তু কিছুই করার নেই। দেশে ঈদ করতে যাওয়ার যে খরচ, তা তাঁদের নেই। কাজেই ঈদে বিদেশেই কাটাতে হয়।
পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীও আসছেন এই মসজিদে। বাবা-মায়ের সঙ্গে বড়দের পাশাপাশি অনেক ছোট্ শিশুও এসেছে। কেউ বাবা-মায়ের হাত ধরে রেখেছে, আবার কেউবা কোলে চড়ে বসেছে।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় নামাজ শুরু হলো। নামাজ শেষে কোলাকুলি। অনেকে ছবি তুলতে ব্যস্ত। সেলফি তোলার লোকেরও অভাব নেই। অনেক বাংলাদেশিকেও সেই দলে দেখা গেল। এঁদেরই একজন যশোরের মামুন হোসেন। তিনি বলেন, পাঁচ বছর ধরে মালয়েশিয়া আছেন। পাঁচ বছর ধরেই ঈদ এখানে কাটছে। ঈদের দিন সারাটা দিন তিনি বাংলাদেশে পালন করে আসা ঈদের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁকে সমর্থন জানালেন, রাজা হোসেন ও শফিকুল ইসলাম। তিনজন একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে এসেছেন।
ঝিনাইদহের আবির আহমেদ বলেন, ২২ দিন আগে তিনি মালয়েশিয়া এসেছেন। ঈদের দিনটায় দেশের কথা খুব বেশি মনে পড়ছে।
দুই ভাই মামুন মিয়া ও রাজিব মিয়া বলেন, বিদেশে ঈদ করতে ভালো লাগে না। কিন্তু কিছুই করার নেই। দেশে ঈদ করতে যাওয়ার যে খরচ, তা তাঁদের নেই। কাজেই ঈদে বিদেশেই কাটাতে হয়।
![]() |
| মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করে কোলাকুলি করছেন বাংলাদেশিরা। ছবি: প্রথম আলো |
সাধারণ শ্রমিক হিসেবে যাঁরা মালয়েশিয়ায়
কাজ করেন, তাঁদের বেশির ভাগেরই এই দশা। তাঁরা সাত-আট বছর পর একবার দেশে
ফিরতে পারেন। বাকি সময় বিদেশেই কাটে। আর যাঁরা অবৈধ বাংলাদেশি, তাঁরা তো
দেশে ফেরার কথা ভাবতেই পারেন না।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলেন, পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশের নতুন এই মসজিদে অনেক বাংলাদেশিই শখ করে নামাজ আদায় করতে আসেন। এ ছাড়া মারদেকার কাছে জাতীয় মসজিদেও অনেক বাংলাদেশি নামাজ আদায় করেন। মারদেকা মাঠে অবশ্য ‘সালামত হরি রায়া’ লেখাটি চোখে পড়ল। মালয়েশিয়ায় রায়া মানে ঈদ।
মারদেকার পাশেই কোতারিয়া যা মালয়েশিয়ার বাঙালি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার দোকানপাট ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই বাংলাদেশিদের নিয়ন্ত্রণে। গত বছর এখানকার রাস্তায় ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি পাওয়ায় বাংলাদেশিরা এখানেই জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। তবে এবার সেই অনুমতি মেলেনি। কাজেই বিভিন্নজন বিভিন্ন জায়গায় নামাজ আদায় করতে গেছেন।
কোতারিয়ার বাঙালি রেস্তোরাঁগুলোতে ঈদ উপলক্ষে নানা ধরনের খাবার পাওয়া যাবে বলে জানান এগুলোর মালিক। অবশ্য অনেক বাংলাদেশিই জানিয়েছেন, যেহেতু ঈদ উপলক্ষে ছুটি আছে, কাজেই তাঁরা আজ নিজেরাই ভালো-মন্দ রান্না করে খাবেন। অনেকে জানালেন, তাঁরা ঘুমিয়েই ঈদের দিন কাটিয়ে দেবেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলেন, পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশের নতুন এই মসজিদে অনেক বাংলাদেশিই শখ করে নামাজ আদায় করতে আসেন। এ ছাড়া মারদেকার কাছে জাতীয় মসজিদেও অনেক বাংলাদেশি নামাজ আদায় করেন। মারদেকা মাঠে অবশ্য ‘সালামত হরি রায়া’ লেখাটি চোখে পড়ল। মালয়েশিয়ায় রায়া মানে ঈদ।
মারদেকার পাশেই কোতারিয়া যা মালয়েশিয়ার বাঙালি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার দোকানপাট ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই বাংলাদেশিদের নিয়ন্ত্রণে। গত বছর এখানকার রাস্তায় ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি পাওয়ায় বাংলাদেশিরা এখানেই জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। তবে এবার সেই অনুমতি মেলেনি। কাজেই বিভিন্নজন বিভিন্ন জায়গায় নামাজ আদায় করতে গেছেন।
কোতারিয়ার বাঙালি রেস্তোরাঁগুলোতে ঈদ উপলক্ষে নানা ধরনের খাবার পাওয়া যাবে বলে জানান এগুলোর মালিক। অবশ্য অনেক বাংলাদেশিই জানিয়েছেন, যেহেতু ঈদ উপলক্ষে ছুটি আছে, কাজেই তাঁরা আজ নিজেরাই ভালো-মন্দ রান্না করে খাবেন। অনেকে জানালেন, তাঁরা ঘুমিয়েই ঈদের দিন কাটিয়ে দেবেন।
![]() |
| ঈদের নামাজ আদায় করে পুত্রজায়া মসজিদের আশপাশে ঘুরছেন পর্যটকেরা। ছবি: প্রথম আলো |
কুয়ালালামপুরের প্রবাসী বাংলাদেশিরা যখন
ঈদ উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন রাওয়াংয়ের একটি আসবাবপত্র কারখানার
বাংলাদেশিদের দিন কাটছে খোলা আকাশের নিচে। ফরিদপুরের রেজাউল করিম বললেন, টি
কে ফার্নিচার কোম্পানিতে ৬০ থেকে ৭০ জন বাংলাদেশি চাকরি করেন। গতকাল
বৃহস্পতিবার ইফতারের পর কারখানায় আগুন লেগে শ্রমিকদের থাকার ঘরগুলো পুড়ে
গেছে। রাত থেকে তাঁরা বাইরে আছেন। ঈদের চেয়ে এখন তাঁদের বড় দুশ্চিন্তা
ভবিষ্যৎ নিয়ে।
মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শ্রম কাউন্সেলর সায়েদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদেশে বসে কারওই ঈদ করতে ভালো লাগে না। এ কারণে অনেকেই ঈদের সময় দেশে চলে যান। তবে একটা বড় অংশই বিদেশে ঈদ কাটান।’ প্রবাসী সব বাংলাদেশি মিলেমিশে সানন্দে এই দিনটি উদ্যাপন করবেন বলে তিনি আশা করছেন।
মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শ্রম কাউন্সেলর সায়েদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদেশে বসে কারওই ঈদ করতে ভালো লাগে না। এ কারণে অনেকেই ঈদের সময় দেশে চলে যান। তবে একটা বড় অংশই বিদেশে ঈদ কাটান।’ প্রবাসী সব বাংলাদেশি মিলেমিশে সানন্দে এই দিনটি উদ্যাপন করবেন বলে তিনি আশা করছেন।
‘কেউ যেন এভাবে মৃত্যুর দিকে ঝাঁপ না দেয়’ by শরিফুল হাসান
‘আর
কোনো দিন কেউ যেন এভাবে মৃত্যুর দিকে ঝাঁপ না দেয়।’ ধরা গলায়
মাদারীপুরের মোহাম্মদ আতিয়ারের এই কথাগুলো শোনাল আর্তির মতো।
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে ঢোকার আগমুহূর্তে কথা হয়
তাঁর সঙ্গে। তাঁর হাতে হাতকড়া ও শিকল।
সাগরপথে মানব পাচারের শিকার আতিয়ার। বন্দিদশা থেকে ফিরছেন নিজ দেশ বাংলাদেশে। তাঁর মতো ভাগ্যবিড়ম্বিত আরও ৯৩ জন একই সঙ্গে ফিরছেন দেশে। সারিতে দাঁড়ানো সবার হাতেই আতিয়ারের মতো হাতকড়া, শিকল। সবার পরনে একই রঙের গেঞ্জি। অনেকের শরীরে নির্যাতনের ও চেহারায় আতঙ্কের ছাপ।
বিশাল ও ঝকঝকে বিমানবন্দরের সঙ্গে বেমানান এই দৃশ্য দেখা যায় গতকাল বৃহস্পতিবার। খুব কাছ থেকে মৃত্যুকে দেখে আসা এই বাংলাদেশিরা বললেন, হাতকড়া ও শিকল লাগানো হয়েছে গত বুধবার রাত ১০টায় ক্যাম্প থেকে বের করার সময়। এরপর টানা ১১ ঘণ্টার বাসযাত্রা ও বিমানবন্দরে পাঁচ ঘণ্টার অপেক্ষা।
অবশেষে দেশের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগমুহূর্তে খুলল হাতকড়া ও শিকল। বন্দিদশা থেকে মুক্তি মিলল ৯৪ জন বাংলাদেশির। সাগরে ট্রলারে দালালদের নির্যাতন, সহযাত্রীর মৃত্যু, অনিশ্চিত সাগরযাত্রা, উদ্ধারের পর ক্যাম্পে বন্দিত্ব, হাতকড়া—সব পেছনে ফেলে তাঁরা পা রাখলেন নতুন জীবনে।
স্থানীয় সময় গতকাল বেলা সাড়ে তিনটায় তাঁদের বিমানটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকার সময় সন্ধ্যা ছয়টার আগে তাঁরা দেশে ফেরেন। তাঁদের ৩৬ ঘণ্টা আগে আরও ৯৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তাঁরাও সাগরপথে মানব পাচারের শিকার হয়েছিলেন।
গতকাল ইমিগ্রেশনে ঢোকার আগে মোহাম্মদ আতিয়ার করুণ কণ্ঠে বললেন, ‘সাগরে ট্রলারে থাকার সময় পানি না পেয়ে প্রস্রাব খাওয়া, চোখের সামনে না খেয়ে একের পর এক সহযাত্রীর মৃত্যু, দালালদের ভয়াবহ নির্যাতন—এসব দেখে জীবনের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহ নতুন জীবন দিয়েছে। আর কোনো দিন কেউ যেন এভাবে মৃত্যুর দিকে ঝাঁপ না দেয়। তবে সরকারের কাছে অনুরোধ, যারা এভাবে মানুষকে জোর করে, প্রলোভন দেখিয়ে নরকে পাঠাচ্ছে, তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।’
বিমানবন্দরে আলাপকালে দায়ী দালালদের চিহ্নিত করে ধরার উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ জানান আতিয়ারসহ কয়েকজন। বিমানবন্দরে ঘণ্টা দুয়েক কথা হয় তাঁদের সঙ্গে। মঙ্গলবার রাতে যে ৯৪ জনকে দেশে পাঠানো হয়, তাঁদের হাতের হাতকড়া খুলে ফেলা হয়েছিল কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে বাস থেকে নামানোর সময়। গতকাল হাতকড়ার সঙ্গে যোগ হলো শিকল, খোলা হলো বিমানে তোলার আগে।
শিকল ও হাতকড়া লাগানোর কারণ জানতে চাইলে বিমানবন্দরে থাকা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশের উপসহকারী পরিচালক জোসামি মাস্তান যা বললেন তার মানে দাঁড়ায়, ‘আপনাদের দেশের লোককে বলেন এভাবে যেন আর মালয়েশিয়ায় না আসে।’
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের তো হাতকড়া পরানোর কথা নয়। বিষয়টি তিনি দেখবেন।
গতকাল বাস থেকে নামানোর পর ৯৪ জনকে হাতকড়া-শিকল লাগানো অবস্থায় বিমানবন্দরের ফুটপাতে বসিয়ে রাখা হলো প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। ক্লান্ত¯অনেকে ফুটপাতেই শুয়ে পড়েন। অনেকের হাত ফুলে লাল হয়ে গিয়েছিল। তাঁরা বারবার জানতে চাইছিলেন, কখন এগুলো খোলা হবে।
এই বাংলাদেশিদের শিকল ও হাতকড়া পরিয়ে রাখার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা মালয়েশিয়ার বেসরকারি সংস্থা তেনাগানিতা। বিকল্প নোবেলজয়ী এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এজেল ফার্নান্দেজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই বাংলাদেশিরা কোনো অপরাধী নয়। তারা মানব পাচারের শিকার। তাদের শিকল ও হাতকড়া পরানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমরা সরকারকে বলব, এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে। তাদের সঙ্গে যেন মানবিক আচরণ করা হয়।’
গতকাল দেশে ফেরা ৯৪ জনের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ জন ছিল শিশু-কিশোর। এদের একজন নরসিংদীর মোহাম্মদ রবিন (১৪) বলল, এলাকার দালাল মোস্তফা তাকে জোর করে ট্রলারে তুলেছিল। কক্সবাজারের উখিয়ার মহিউদ্দিন (১৪) বলল, সেখানকার দালাল আজিজ তাকে বলেছিল মাত্র চার দিনেই মালয়েশিয়া যাওয়া যাবে। কিন্তু তিন মাস সাগরে ভেসে বন্দী থেকেও তার মালয়েশিয়া আসা হয়নি। শেষ পর্যন্ত¯যখন বেঁচে মালয়েশিয়ার উপকূলে ওঠে, তখন তাকে ক্যাম্পে নিয়ে রাখা হয়।
এই ৯৪ জনকে গত ১১ মে লংকাবি উপকূল থেকে আটক করে বেল্লাতি ক্যাম্পে রেখেছিল পুলিশ। এর আগের ৯৪ জনকেও বেল্লাতি ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল।
কক্সবাজারের রামুর সাইফুল ইসলাম (১৫) বলল, তারা পাঁচ ভাই। কাজেই দালাল আবুবকর তাকে বিনা পয়সার মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বললে রাজি হয়। কিন্তু সাগরে নিয়ে নির্যাতন করে তার পরিবারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা আদায় করে। এখন তার পরিবার সর্বস্বান্ত।
চোখেমুখে রাজ্যের ক্লান্তি মাখানো এই কিশোরেরা বলল, বুধবার রাত ১০টায় ক্যাম্প থেকে বাসে তোলার আগে তাদের প্রত্যেককে লোহার পাইপ দিয়ে তিনটি করে বাড়ি দিয়েছে পুলিশ। এরপর সবার হাতে হাতকড়া লাগানো হয়। প্রতি ছয়জনকে আবার শিকলে বাঁধা হয়েছে। একজনকে বাথরুমে যেতে হলে ছয়জনকেই সঙ্গে যেতে হয়েছে।
নরসিংদীর সাইদুল (১৯) নিজের পিঠে নির্যাতনের চিহ্ন দেখালেন। সেদিকে বেশি তাকিয়ে থাকা দায়। সাইদুল বললেন, ট্রলারে ওঠার পর দালালেরা টাকার জন্য এই নির্যাতন করেছে। ফলে সেখানে ঘা হয়ে পচন ধরে গিয়েছিল। তবে এখন দেশে ফিরে সব কষ্ট ভুলে যাবেন।
এই বাংলাদেশিরা জানান, মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে ও জোর করে প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁদের মালয়েশিয়াগামী দুটি ট্রলারে ওঠানো হয়েছিল। তাঁদের মতো মানুষভর্তি আরও ১৮টি ট্রলার ছিল। কিন্তু তাঁদের দুটি ট্রলারই কেবল উপকূলে ভিড়তে পেরেছে। বাকি ১৮টি কোথায় গেছে, তা তাঁরা জানেন না।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র বলেছে, গতকাল ফেরা ৯৪ জনসহ সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৩৫৭ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। আজ শুক্রবার ফিরবেন আরও ৩৭ জন। এ ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে আরও প্রায় ২৫০ জন।
এর আগে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তবে কারও কাছ থেকেই দালালদের নাম জানার চেষ্টা হয়নি বলে তাঁদের কয়েকজন জানান।
গতকাল মালয়েশিয়া থেকে যাঁরা ফিরলেন তাঁদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা ৫০ জন দালালের নাম বললেন, যারা তাদের ট্রলারে তুলেছিল। ওই ৫০ জন হলো: বান্দরবানের নুর আলম, আবদুর রহমান, কক্সবাজারের শহিদ আলম, আনিস, বাদশা, শুক্কুর, সুরুজ আলী, বাচ্চু, রামুর আবুবকর, ফরিদ, পেকুয়ার হোসেন, টেকনাফের আবদুল আমিন, আজিজ, সিদ্দিক, মোহাম্মদ রিদওয়ান, চকরিয়ার হাবিব, ঝিনাইদহের রাজ্জাক, সুনামগঞ্জের কাপ্তান, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের হানিফ, নরসিংদীর মোস্তফা, আলমগীর, শফিক, সিরাজুল, আলমগীর, সাইদুর, চুয়াডাঙ্গার বকুল, সিরাজগঞ্জের পাষান আকন্দ, জিন্নাত আলী, ঝন্টু, ফরিদপুরের নগরকান্দার চান মিয়া, জামান, যশোরের রুবেল, মাদারীপুরের সোহেল ও মিজান।
কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব মুশাররাত জেবিন বলেন, সাগরপথে নির্যাতন, মুক্তিপণ আর মৃত্যুর যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া জরুরি। এ জন্য দালালদের চিহ্নিত করে বিচার করা দরকার।
সাগরপথে মানব পাচারের শিকার আতিয়ার। বন্দিদশা থেকে ফিরছেন নিজ দেশ বাংলাদেশে। তাঁর মতো ভাগ্যবিড়ম্বিত আরও ৯৩ জন একই সঙ্গে ফিরছেন দেশে। সারিতে দাঁড়ানো সবার হাতেই আতিয়ারের মতো হাতকড়া, শিকল। সবার পরনে একই রঙের গেঞ্জি। অনেকের শরীরে নির্যাতনের ও চেহারায় আতঙ্কের ছাপ।
বিশাল ও ঝকঝকে বিমানবন্দরের সঙ্গে বেমানান এই দৃশ্য দেখা যায় গতকাল বৃহস্পতিবার। খুব কাছ থেকে মৃত্যুকে দেখে আসা এই বাংলাদেশিরা বললেন, হাতকড়া ও শিকল লাগানো হয়েছে গত বুধবার রাত ১০টায় ক্যাম্প থেকে বের করার সময়। এরপর টানা ১১ ঘণ্টার বাসযাত্রা ও বিমানবন্দরে পাঁচ ঘণ্টার অপেক্ষা।
অবশেষে দেশের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগমুহূর্তে খুলল হাতকড়া ও শিকল। বন্দিদশা থেকে মুক্তি মিলল ৯৪ জন বাংলাদেশির। সাগরে ট্রলারে দালালদের নির্যাতন, সহযাত্রীর মৃত্যু, অনিশ্চিত সাগরযাত্রা, উদ্ধারের পর ক্যাম্পে বন্দিত্ব, হাতকড়া—সব পেছনে ফেলে তাঁরা পা রাখলেন নতুন জীবনে।
স্থানীয় সময় গতকাল বেলা সাড়ে তিনটায় তাঁদের বিমানটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকার সময় সন্ধ্যা ছয়টার আগে তাঁরা দেশে ফেরেন। তাঁদের ৩৬ ঘণ্টা আগে আরও ৯৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তাঁরাও সাগরপথে মানব পাচারের শিকার হয়েছিলেন।
গতকাল ইমিগ্রেশনে ঢোকার আগে মোহাম্মদ আতিয়ার করুণ কণ্ঠে বললেন, ‘সাগরে ট্রলারে থাকার সময় পানি না পেয়ে প্রস্রাব খাওয়া, চোখের সামনে না খেয়ে একের পর এক সহযাত্রীর মৃত্যু, দালালদের ভয়াবহ নির্যাতন—এসব দেখে জীবনের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহ নতুন জীবন দিয়েছে। আর কোনো দিন কেউ যেন এভাবে মৃত্যুর দিকে ঝাঁপ না দেয়। তবে সরকারের কাছে অনুরোধ, যারা এভাবে মানুষকে জোর করে, প্রলোভন দেখিয়ে নরকে পাঠাচ্ছে, তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।’
বিমানবন্দরে আলাপকালে দায়ী দালালদের চিহ্নিত করে ধরার উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ জানান আতিয়ারসহ কয়েকজন। বিমানবন্দরে ঘণ্টা দুয়েক কথা হয় তাঁদের সঙ্গে। মঙ্গলবার রাতে যে ৯৪ জনকে দেশে পাঠানো হয়, তাঁদের হাতের হাতকড়া খুলে ফেলা হয়েছিল কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে বাস থেকে নামানোর সময়। গতকাল হাতকড়ার সঙ্গে যোগ হলো শিকল, খোলা হলো বিমানে তোলার আগে।
শিকল ও হাতকড়া লাগানোর কারণ জানতে চাইলে বিমানবন্দরে থাকা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশের উপসহকারী পরিচালক জোসামি মাস্তান যা বললেন তার মানে দাঁড়ায়, ‘আপনাদের দেশের লোককে বলেন এভাবে যেন আর মালয়েশিয়ায় না আসে।’
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের তো হাতকড়া পরানোর কথা নয়। বিষয়টি তিনি দেখবেন।
গতকাল বাস থেকে নামানোর পর ৯৪ জনকে হাতকড়া-শিকল লাগানো অবস্থায় বিমানবন্দরের ফুটপাতে বসিয়ে রাখা হলো প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। ক্লান্ত¯অনেকে ফুটপাতেই শুয়ে পড়েন। অনেকের হাত ফুলে লাল হয়ে গিয়েছিল। তাঁরা বারবার জানতে চাইছিলেন, কখন এগুলো খোলা হবে।
এই বাংলাদেশিদের শিকল ও হাতকড়া পরিয়ে রাখার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা মালয়েশিয়ার বেসরকারি সংস্থা তেনাগানিতা। বিকল্প নোবেলজয়ী এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এজেল ফার্নান্দেজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই বাংলাদেশিরা কোনো অপরাধী নয়। তারা মানব পাচারের শিকার। তাদের শিকল ও হাতকড়া পরানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমরা সরকারকে বলব, এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে। তাদের সঙ্গে যেন মানবিক আচরণ করা হয়।’
গতকাল দেশে ফেরা ৯৪ জনের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ জন ছিল শিশু-কিশোর। এদের একজন নরসিংদীর মোহাম্মদ রবিন (১৪) বলল, এলাকার দালাল মোস্তফা তাকে জোর করে ট্রলারে তুলেছিল। কক্সবাজারের উখিয়ার মহিউদ্দিন (১৪) বলল, সেখানকার দালাল আজিজ তাকে বলেছিল মাত্র চার দিনেই মালয়েশিয়া যাওয়া যাবে। কিন্তু তিন মাস সাগরে ভেসে বন্দী থেকেও তার মালয়েশিয়া আসা হয়নি। শেষ পর্যন্ত¯যখন বেঁচে মালয়েশিয়ার উপকূলে ওঠে, তখন তাকে ক্যাম্পে নিয়ে রাখা হয়।
এই ৯৪ জনকে গত ১১ মে লংকাবি উপকূল থেকে আটক করে বেল্লাতি ক্যাম্পে রেখেছিল পুলিশ। এর আগের ৯৪ জনকেও বেল্লাতি ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল।
কক্সবাজারের রামুর সাইফুল ইসলাম (১৫) বলল, তারা পাঁচ ভাই। কাজেই দালাল আবুবকর তাকে বিনা পয়সার মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বললে রাজি হয়। কিন্তু সাগরে নিয়ে নির্যাতন করে তার পরিবারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা আদায় করে। এখন তার পরিবার সর্বস্বান্ত।
চোখেমুখে রাজ্যের ক্লান্তি মাখানো এই কিশোরেরা বলল, বুধবার রাত ১০টায় ক্যাম্প থেকে বাসে তোলার আগে তাদের প্রত্যেককে লোহার পাইপ দিয়ে তিনটি করে বাড়ি দিয়েছে পুলিশ। এরপর সবার হাতে হাতকড়া লাগানো হয়। প্রতি ছয়জনকে আবার শিকলে বাঁধা হয়েছে। একজনকে বাথরুমে যেতে হলে ছয়জনকেই সঙ্গে যেতে হয়েছে।
নরসিংদীর সাইদুল (১৯) নিজের পিঠে নির্যাতনের চিহ্ন দেখালেন। সেদিকে বেশি তাকিয়ে থাকা দায়। সাইদুল বললেন, ট্রলারে ওঠার পর দালালেরা টাকার জন্য এই নির্যাতন করেছে। ফলে সেখানে ঘা হয়ে পচন ধরে গিয়েছিল। তবে এখন দেশে ফিরে সব কষ্ট ভুলে যাবেন।
এই বাংলাদেশিরা জানান, মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে ও জোর করে প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁদের মালয়েশিয়াগামী দুটি ট্রলারে ওঠানো হয়েছিল। তাঁদের মতো মানুষভর্তি আরও ১৮টি ট্রলার ছিল। কিন্তু তাঁদের দুটি ট্রলারই কেবল উপকূলে ভিড়তে পেরেছে। বাকি ১৮টি কোথায় গেছে, তা তাঁরা জানেন না।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র বলেছে, গতকাল ফেরা ৯৪ জনসহ সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৩৫৭ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। আজ শুক্রবার ফিরবেন আরও ৩৭ জন। এ ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে আরও প্রায় ২৫০ জন।
এর আগে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তবে কারও কাছ থেকেই দালালদের নাম জানার চেষ্টা হয়নি বলে তাঁদের কয়েকজন জানান।
গতকাল মালয়েশিয়া থেকে যাঁরা ফিরলেন তাঁদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা ৫০ জন দালালের নাম বললেন, যারা তাদের ট্রলারে তুলেছিল। ওই ৫০ জন হলো: বান্দরবানের নুর আলম, আবদুর রহমান, কক্সবাজারের শহিদ আলম, আনিস, বাদশা, শুক্কুর, সুরুজ আলী, বাচ্চু, রামুর আবুবকর, ফরিদ, পেকুয়ার হোসেন, টেকনাফের আবদুল আমিন, আজিজ, সিদ্দিক, মোহাম্মদ রিদওয়ান, চকরিয়ার হাবিব, ঝিনাইদহের রাজ্জাক, সুনামগঞ্জের কাপ্তান, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের হানিফ, নরসিংদীর মোস্তফা, আলমগীর, শফিক, সিরাজুল, আলমগীর, সাইদুর, চুয়াডাঙ্গার বকুল, সিরাজগঞ্জের পাষান আকন্দ, জিন্নাত আলী, ঝন্টু, ফরিদপুরের নগরকান্দার চান মিয়া, জামান, যশোরের রুবেল, মাদারীপুরের সোহেল ও মিজান।
কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব মুশাররাত জেবিন বলেন, সাগরপথে নির্যাতন, মুক্তিপণ আর মৃত্যুর যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া জরুরি। এ জন্য দালালদের চিহ্নিত করে বিচার করা দরকার।
Monday, July 13, 2015
পেশাদার ভিসায় অদক্ষ শ্রমিক মালয়েশিয়া যাচ্ছেন by শরিফুল হাসান
মালয়েশিয়ার সেলানগরের বিশাল এক বিপণিবিতান মাইনস। গত শুক্রবার সকালে এই বিপণিবিতানে গিয়ে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চেহারা দেখে তাঁকে বাংলাদেশি মনে হলো। আলাপে তিনি বললেন, তাঁর নাম মুহাম্মদ মোফাজ্জল। বাড়ি ময়মনসিংহে। সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে দক্ষ পেশাদার ভিসায় এসেছেন। এখন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।
মোফাজ্জল অভিযোগ করলেন, তাঁকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আনা হয়েছে। এখন বুঝছেন, তিনি প্রতারিত হয়েছেন। তাঁর মতো আরও অনেকে দক্ষ পেশাদার ভিসায় এসে সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। অনেকে আবার যে কোম্পানির ভিসায় এসেছেন, সেখানে কাজ করতে না পেরে অবৈধ হয়ে পড়ছেন। কারণ, দক্ষ ভিসায় আনা হলেও তাঁরা সাধারণ শ্রমিক বা অদক্ষ শ্রমিক।
মালয়েশিয়ায় গত দুই দিনে তমিজউদ্দিন গাজী, সাইদুর রহমান, মিরাজুল ইসলামসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা সবাই এমন ভিসায় এসেছেন।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র বলেছে, চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা কোনো বিষয়ের বিশেষজ্ঞরাই সাধারণত দক্ষÿ ভিসায় মালয়েশিয়ায় চাকরি করতে আসেন, এর নাম ডিপি-১০ ভিসা। এখন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে পরিচ্ছন্ন বিশেষজ্ঞ, নির্মাণশ্রমিককে নির্মাণ বিশেষজ্ঞ বানিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের আনা হচ্ছে।
সাধারণ শ্রমিকেরা এই ভিসায় কেন আসছেন—জানতে চাইলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, সাধারণ শ্রমিক আসার জন্য দূতাবাসের সত্যায়ন লাগলেও ডিপি-১০ বা প্রফেশনাল ভিসার ক্ষেত্রে হাইকমিশন কিংবা মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি লাগে না। সরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হওয়ার পর সাধারণ শ্রমিক আসা যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন দালাল ও কিছু জনশক্তি রপ্তানিকারক এই ব্যবসা শুরু করেন। মালয়েশিয়ার কিছু নিয়োগকর্তাও এর সঙ্গে জড়িত। তাঁরা এখানকার শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে এটা করেন। এ ক্ষেত্রে ভিসা হয়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দরে ঘুষ দিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা চলে আসেন।
তবে সাগরপথে মানব পাচার নিয়ে ব্যাপক আলোচনার পর জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ÿব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র ছাড়া কাউকে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এভাবে চলে এসেছেন।
অবশ্য ডিপি-১০ ভিসায় কত বাংলাদেশি এসেছেন, সেই পরিসংখ্যান নেই বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে। তবে এই সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ হাজারের কম নয় বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়াপ্রবাসীরা।
প্রবাসী শ্রমিকেরা বলেছেন, তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে সাধারণ শ্রমিকদের এই ভিসায় আনা হলেও তাঁরা এখানে এসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। অনেকে আবার এমন কাজও পাচ্ছেন না। অনেকে এই ভিসায় কাজ করতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হচ্ছেন।
এমন ভিসায় আসা বাংলাদেশিদের একজন নজরুল ইসলাম। বাড়ি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে। প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে ডিপি-১০ ভিসায় চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি মালয়েশিয়া এসে জহুর বারুতে নির্মাণশ্রমিকের কাজ শুরু করেন। কিন্তু মালিক তাঁর কাজের অনুমতি বা পারমিট লাগাননি। গত ২২ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক মাসের কারাদণ্ড হয় তাঁর।
নজরুলের এক আত্মীয় গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, নজরুলকে দেশে পাঠানোর জন্য বর্তমানে একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম শাখার একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। শ্রমিকের অভাবে অনেক কোম্পানির কাজ বন্ধ আছে। কিন্তু সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জি টু জি) কর্মী না আসায় দালালেরা লোক আনতে এই প্রক্রিয়া বেছে নিয়েছেন। তবে ডিপি-১০ বা দক্ষ ভিসায় যাঁরা আসছেন তাঁরা একেবারেই অদক্ষ। অনেকের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতাও নেই। ফলে মালয়েশিয়ায় এসে তাঁরা প্রতারিত হচ্ছেন। যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করার কথা সেখানে কাজ করতে না পেরে পালিয়ে যাচ্ছেন অন্য জায়গায়। ফলে তাঁরা অবৈধ হয়ে পড়ছেন। এসব কারণে অবৈধ বাংলাদেশির সংখ্যা বাড়ছেই। বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি মালয়েশিয়াকে জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
সমস্যার সমাধান যে হয়নি তা বাংলাদেশে থাকতেই জানা ছিল। ৭ জুলাই ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে মালয়েশিয়ায় আসার সময় একই বিমানে ছিলেন মাগুরার মাহবুবুর রহমান। একটি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন ডিপি-১০ ভিসায়। খরচ হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কী কাজ করবেন—জানতে চাইলে মাহবুব বলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। মাহবুবের সঙ্গেই ছিলেন শামসুল আলম। তিনিও একই ভিসায় যাচ্ছেন। কিন্তু কোনো কাজ জানেন না। জমিজমা বিক্রি করে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। দুজনেই বললেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন মালয়েশিয়ায় কাজ করে তাঁরা ভাগ্য ফেরাতে পারবেন।
তবে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) মুসাররাত জেবিন বলেন, এভাবে আসা লোকজন কেবল যে প্রতারিতই হচ্ছেন তা-ই নয়, বরং অবৈধও হয়ে পড়ছেন। তবে এই অবৈধদের সংখ্যা কত তা তিনি জানাতে পারেননি।
এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিশেষজ্ঞদেরই ডিপি-১০ ভিসায় আসার কথা। সেখানে যদি সাধারণ শ্রমিক চলে আসে তাহলে সমস্যা। এতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। বাংলাদেশিদের কাছে অনুরোধ, কে কেন কী কাজে আসছেন সেটা যেন জেনে আসেন।’
মোফাজ্জল অভিযোগ করলেন, তাঁকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আনা হয়েছে। এখন বুঝছেন, তিনি প্রতারিত হয়েছেন। তাঁর মতো আরও অনেকে দক্ষ পেশাদার ভিসায় এসে সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। অনেকে আবার যে কোম্পানির ভিসায় এসেছেন, সেখানে কাজ করতে না পেরে অবৈধ হয়ে পড়ছেন। কারণ, দক্ষ ভিসায় আনা হলেও তাঁরা সাধারণ শ্রমিক বা অদক্ষ শ্রমিক।
মালয়েশিয়ায় গত দুই দিনে তমিজউদ্দিন গাজী, সাইদুর রহমান, মিরাজুল ইসলামসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা সবাই এমন ভিসায় এসেছেন।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র বলেছে, চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা কোনো বিষয়ের বিশেষজ্ঞরাই সাধারণত দক্ষÿ ভিসায় মালয়েশিয়ায় চাকরি করতে আসেন, এর নাম ডিপি-১০ ভিসা। এখন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে পরিচ্ছন্ন বিশেষজ্ঞ, নির্মাণশ্রমিককে নির্মাণ বিশেষজ্ঞ বানিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের আনা হচ্ছে।
সাধারণ শ্রমিকেরা এই ভিসায় কেন আসছেন—জানতে চাইলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, সাধারণ শ্রমিক আসার জন্য দূতাবাসের সত্যায়ন লাগলেও ডিপি-১০ বা প্রফেশনাল ভিসার ক্ষেত্রে হাইকমিশন কিংবা মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি লাগে না। সরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হওয়ার পর সাধারণ শ্রমিক আসা যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন দালাল ও কিছু জনশক্তি রপ্তানিকারক এই ব্যবসা শুরু করেন। মালয়েশিয়ার কিছু নিয়োগকর্তাও এর সঙ্গে জড়িত। তাঁরা এখানকার শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে এটা করেন। এ ক্ষেত্রে ভিসা হয়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দরে ঘুষ দিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা চলে আসেন।
তবে সাগরপথে মানব পাচার নিয়ে ব্যাপক আলোচনার পর জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ÿব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র ছাড়া কাউকে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এভাবে চলে এসেছেন।
অবশ্য ডিপি-১০ ভিসায় কত বাংলাদেশি এসেছেন, সেই পরিসংখ্যান নেই বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে। তবে এই সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ হাজারের কম নয় বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়াপ্রবাসীরা।
প্রবাসী শ্রমিকেরা বলেছেন, তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে সাধারণ শ্রমিকদের এই ভিসায় আনা হলেও তাঁরা এখানে এসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। অনেকে আবার এমন কাজও পাচ্ছেন না। অনেকে এই ভিসায় কাজ করতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হচ্ছেন।
এমন ভিসায় আসা বাংলাদেশিদের একজন নজরুল ইসলাম। বাড়ি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে। প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে ডিপি-১০ ভিসায় চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি মালয়েশিয়া এসে জহুর বারুতে নির্মাণশ্রমিকের কাজ শুরু করেন। কিন্তু মালিক তাঁর কাজের অনুমতি বা পারমিট লাগাননি। গত ২২ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক মাসের কারাদণ্ড হয় তাঁর।
নজরুলের এক আত্মীয় গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, নজরুলকে দেশে পাঠানোর জন্য বর্তমানে একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম শাখার একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। শ্রমিকের অভাবে অনেক কোম্পানির কাজ বন্ধ আছে। কিন্তু সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জি টু জি) কর্মী না আসায় দালালেরা লোক আনতে এই প্রক্রিয়া বেছে নিয়েছেন। তবে ডিপি-১০ বা দক্ষ ভিসায় যাঁরা আসছেন তাঁরা একেবারেই অদক্ষ। অনেকের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতাও নেই। ফলে মালয়েশিয়ায় এসে তাঁরা প্রতারিত হচ্ছেন। যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করার কথা সেখানে কাজ করতে না পেরে পালিয়ে যাচ্ছেন অন্য জায়গায়। ফলে তাঁরা অবৈধ হয়ে পড়ছেন। এসব কারণে অবৈধ বাংলাদেশির সংখ্যা বাড়ছেই। বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি মালয়েশিয়াকে জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
সমস্যার সমাধান যে হয়নি তা বাংলাদেশে থাকতেই জানা ছিল। ৭ জুলাই ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে মালয়েশিয়ায় আসার সময় একই বিমানে ছিলেন মাগুরার মাহবুবুর রহমান। একটি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন ডিপি-১০ ভিসায়। খরচ হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কী কাজ করবেন—জানতে চাইলে মাহবুব বলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। মাহবুবের সঙ্গেই ছিলেন শামসুল আলম। তিনিও একই ভিসায় যাচ্ছেন। কিন্তু কোনো কাজ জানেন না। জমিজমা বিক্রি করে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। দুজনেই বললেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন মালয়েশিয়ায় কাজ করে তাঁরা ভাগ্য ফেরাতে পারবেন।
তবে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) মুসাররাত জেবিন বলেন, এভাবে আসা লোকজন কেবল যে প্রতারিতই হচ্ছেন তা-ই নয়, বরং অবৈধও হয়ে পড়ছেন। তবে এই অবৈধদের সংখ্যা কত তা তিনি জানাতে পারেননি।
এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিশেষজ্ঞদেরই ডিপি-১০ ভিসায় আসার কথা। সেখানে যদি সাধারণ শ্রমিক চলে আসে তাহলে সমস্যা। এতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। বাংলাদেশিদের কাছে অনুরোধ, কে কেন কী কাজে আসছেন সেটা যেন জেনে আসেন।’
Tuesday, June 30, 2015
ইয়াবা ও মানব পাচার- এখন পারিবারিক ব্যবসা by শরিফুল হাসান
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যাওয়ার পথে বিজিবির প্রতিটি চেকপোস্টে একটি বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। সেখানে লেখা, ‘আপনার অবৈধ মাদক ব্যবসা ও অর্থ উপার্জন আপনার সন্তানকেও ওই পথে যেতে উৎসাহ জোগাবে।’ তবে ওই বিজ্ঞাপনের মর্মবাণী উপেক্ষিত টেকনাফে। ইয়াবা ও মানব পাচার যেন এখানে পারিবারিক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফে বাবা-ছেলে, ভাই-ভাই, চাচা-ভাতিজাসহ কাছের এবং দূরের আত্মীয়স্বজন একসঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন ইয়াবা চোরাচালান ও মানব পাচারে। এমনও পরিবার আছে, যেখানে চার থেকে ছয়জন সদস্যও এসব অপরাধে জড়িয়ে আছেন।
গত বছরের শেষে সমুদ্রপথে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ২৩০ জন শীর্ষস্থানীয় পাচারকারী ও ২৬ জন হুন্ডি ব্যবসায়ীর একটি তালিকা করে পুলিশ। এর আগে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের একটি তালিকা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ওই দুই তালিকা ধরে টেকনাফে অনুসন্ধান করে অন্তত ৯০টি পরিবার খুঁজে পাওয়া গেছে, যেসব পরিবারের দুজন থেকে ছয়জন সদস্য জড়িয়ে আছেন অপরাধে। তবে ইয়াবা ও মানব পাচারবিরোধী অভিযান শুরুর পর তাঁদের অনেকেই এখন এলাকায় নেই। অনেকে মুঠোফোন নম্বরও বদলে ফেলেছেন। তবে ১০টি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে প্রথম আলো। অনেকে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। আবার অনেকেই এই তালিকাকে ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেন।
টেকনাফের স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, পরিবারের লোকজন ব্যবসা করলে যেমন গোপনীয়তা থাকে, তেমনি দ্রুত আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটে বলে একজনের দেখাদেখি আরেকজন জড়িয়ে পড়ে।
টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মুজাহিদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘যথাযথ শিক্ষার অভাবেই এখানকার অনেক পরিবারের বাবা-ছেলে, ভাইসহ আত্মীয়স্বজন ইয়াবা ও মানব পাচারের মতো অপরাধে জড়িত। এটি বন্ধ করতে প্রতিটি এলাকায় মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চালিয়েছি। যেখানে গিয়েছি সেখানেই মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে আমরা যাইনি।’
বাবা-ছেলে একসঙ্গে: ইয়াবা ও মানব পাচারের তালিকায় পারিবারিক সদস্যদের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে আছেন সাংসদ আবদুর রহমান বদির আত্মীয়স্বজন। তাঁর ২৬ জন আত্মীয়ের নাম ওই তালিকায় আছে।
এরপরে সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে আছেন টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানব পাচারকারীদের তালিকায় যেমন তাঁর নাম আছে, তেমনি লেঙ্গুরবিলের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় তাঁর নাম ১ নম্বরে। এ ছাড়া তাঁর ছেলে মোস্তাক আহমেদ, দিদার হোসেন, মো. শাহজাহান, ভাই নজরুল ইসলাম, ভাতিজা রুবেল ও সোহেলও আছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায়। জানতে চাইলে জাফর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘তালিকায় যে আমাদের নাম আছে, সেটা জানা নেই। আর থাকলেও এটা ষড়যন্ত্রমূলক। আমি জনপ্রিয় নেতা। এসব কারণেই হয়তো ষড়যন্ত্র করে এটা করা হয়েছে।’
তিন ছেলেকে নিয়ে বাবা নিজেই ইয়াবা ব্যবসা করছেন—এমন পরিবারের মধ্যে তালিকায় আরও নাম আছে টেকনাফের হাতিয়ারগুনার হামিদ হোসেন, পানছড়ি পাড়ার আলী আহমেদ ওরফে আলুগোলা এবং পূর্ব লেদা এলাকার মো. আলমের। নাজিরপাড়ার মো. ইসলাম ও তাঁর দুই ছেলের নাম আছে ইয়াবা ব্যবসার তালিকায়। এসব পরিবারের সদস্যরা অবশ্য এই তালিকা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।
এক ছেলেসহ ইয়াবা ব্যবসার তালিকায় যাঁদের নাম আছে, তাঁদের মধ্যে কাইয়ুকপাড়ার জাহেদ হোসেন ওরফে জাকু গত বছর বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন।
ভাইয়ে ভাইয়ে ব্যবসা: ভাইয়ে ভাইয়ে মিলে ইয়াবা ও মানব পাচারের ঘটনা টেকনাফে সবচেয়ে বেশি। এঁদের মধ্যে শাহপরীর দ্বীপের মো. ইউনুছ একজন। তাঁর ভাই ধলু হোসেন ওরফে ধলু ডাকাত পাচারের শীর্ষ হোতাদের একজন। মানব পাচার নিয়ে সারা দেশে আলোচনার ঝড় ওঠার পর গত ৮ মে ধলু বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। ধলুর ছেলে বেলালও আছেন মানব পাচারে।
টেকনাফে মানব পাচার ও ইয়াবা ব্যবসার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের তালিকায় আছেন ডেইলপাড়ার তিন ভাই নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আমিন ও আবদুল আমিন।
ইয়াবা ব্যবসার মূল সাত হোতার একজন নুরুল হুদা। তাঁর তিন ভাই-ই ইয়াবা ব্যবসায়ী। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ হোসেন এবং তাঁর তিন ভাই জামাল হোসেন, নুরুল আলম ও জাহিদ হোসেনও তালিকায় আছেন।
এ ছাড়া নাইটংপাড়ার শাহ আলম ও তাঁর চার ভাই, মণ্ডলপাড়ার খায়ের হোসেনসহ ছয় ভাই, নাজিরপাড়ার চান মিয়াসহ তিন ভাই, জামাল হোসেনসহ তিন ভাইও আছেন ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায়। চৌধুরীপাড়া, নয়াপাড়া, খানকারপাড়া, হাবিবপাড়া, দিনপাড়া, রঙ্গিখালী, জালিয়াপাড়া ও নাজিরপাড়ায় একটি করে আটটি পরিবার আছে, যাদের তিনজন করে মোট ২৪ ভাই ইয়াবা ব্যবসায়ী।
আরেক মানব পাচারকারী ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে অন্তত ১২টি মামলা আছে। তাঁর ভাই হেলালউদ্দিন ও খালাতো ভাই মো. ফয়সাল আবার হুন্ডি ব্যবসায়ী। এ দুজন ইয়াবা ব্যবসার তালিকায়ও আছেন।
চাচা-ভাতিজা, মামা-ভাগনে, স্বামী-স্ত্রী: টেকনাফ পৌরসভার কুলালপাড়ার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় ১ নম্বরে আছে জাহাঙ্গীর আলমের নাম। তাঁর বড় ভাই ইউসুফ কমিশনার ও দুই ভাতিজা, পানছড়ির আলী আহমেদ ও তাঁর দুই ভাতিজা, উত্তরপাড়া এলাকায় সৈয়দ আলম ও তাঁর ভাগনে শওকত আলমও আছেন ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায়। এ ছাড়া নাইটংপাড়ার ১১ নম্বরে টেকনাফ পৌরসভার কমিশনার মো. ইউনুছ ও তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিনের নাম আছে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে।
উখিয়ার মানব পাচারের তালিকায় নুরুল কবির ও তাঁর স্ত্রী রেবি আক্তার আলোচিত নাম। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ প্রথম আলোকে জানান, কয়েকবার পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও তাঁরা এখন পলাতক।
সাবেক সাংসদ ও টেকনাফের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘টেকনাফে আগে ইয়াবাও ছিল না, মানব পাচারও না। গত ছয়-সাত বছরে এগুলো এসেছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে পরিণতি ভালো হবে না।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফে বাবা-ছেলে, ভাই-ভাই, চাচা-ভাতিজাসহ কাছের এবং দূরের আত্মীয়স্বজন একসঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন ইয়াবা চোরাচালান ও মানব পাচারে। এমনও পরিবার আছে, যেখানে চার থেকে ছয়জন সদস্যও এসব অপরাধে জড়িয়ে আছেন।
গত বছরের শেষে সমুদ্রপথে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ২৩০ জন শীর্ষস্থানীয় পাচারকারী ও ২৬ জন হুন্ডি ব্যবসায়ীর একটি তালিকা করে পুলিশ। এর আগে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের একটি তালিকা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ওই দুই তালিকা ধরে টেকনাফে অনুসন্ধান করে অন্তত ৯০টি পরিবার খুঁজে পাওয়া গেছে, যেসব পরিবারের দুজন থেকে ছয়জন সদস্য জড়িয়ে আছেন অপরাধে। তবে ইয়াবা ও মানব পাচারবিরোধী অভিযান শুরুর পর তাঁদের অনেকেই এখন এলাকায় নেই। অনেকে মুঠোফোন নম্বরও বদলে ফেলেছেন। তবে ১০টি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে প্রথম আলো। অনেকে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। আবার অনেকেই এই তালিকাকে ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেন।
টেকনাফের স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, পরিবারের লোকজন ব্যবসা করলে যেমন গোপনীয়তা থাকে, তেমনি দ্রুত আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটে বলে একজনের দেখাদেখি আরেকজন জড়িয়ে পড়ে।
টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মুজাহিদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘যথাযথ শিক্ষার অভাবেই এখানকার অনেক পরিবারের বাবা-ছেলে, ভাইসহ আত্মীয়স্বজন ইয়াবা ও মানব পাচারের মতো অপরাধে জড়িত। এটি বন্ধ করতে প্রতিটি এলাকায় মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চালিয়েছি। যেখানে গিয়েছি সেখানেই মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে আমরা যাইনি।’
বাবা-ছেলে একসঙ্গে: ইয়াবা ও মানব পাচারের তালিকায় পারিবারিক সদস্যদের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে আছেন সাংসদ আবদুর রহমান বদির আত্মীয়স্বজন। তাঁর ২৬ জন আত্মীয়ের নাম ওই তালিকায় আছে।
এরপরে সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে আছেন টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানব পাচারকারীদের তালিকায় যেমন তাঁর নাম আছে, তেমনি লেঙ্গুরবিলের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় তাঁর নাম ১ নম্বরে। এ ছাড়া তাঁর ছেলে মোস্তাক আহমেদ, দিদার হোসেন, মো. শাহজাহান, ভাই নজরুল ইসলাম, ভাতিজা রুবেল ও সোহেলও আছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায়। জানতে চাইলে জাফর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘তালিকায় যে আমাদের নাম আছে, সেটা জানা নেই। আর থাকলেও এটা ষড়যন্ত্রমূলক। আমি জনপ্রিয় নেতা। এসব কারণেই হয়তো ষড়যন্ত্র করে এটা করা হয়েছে।’
তিন ছেলেকে নিয়ে বাবা নিজেই ইয়াবা ব্যবসা করছেন—এমন পরিবারের মধ্যে তালিকায় আরও নাম আছে টেকনাফের হাতিয়ারগুনার হামিদ হোসেন, পানছড়ি পাড়ার আলী আহমেদ ওরফে আলুগোলা এবং পূর্ব লেদা এলাকার মো. আলমের। নাজিরপাড়ার মো. ইসলাম ও তাঁর দুই ছেলের নাম আছে ইয়াবা ব্যবসার তালিকায়। এসব পরিবারের সদস্যরা অবশ্য এই তালিকা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।
এক ছেলেসহ ইয়াবা ব্যবসার তালিকায় যাঁদের নাম আছে, তাঁদের মধ্যে কাইয়ুকপাড়ার জাহেদ হোসেন ওরফে জাকু গত বছর বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন।
ভাইয়ে ভাইয়ে ব্যবসা: ভাইয়ে ভাইয়ে মিলে ইয়াবা ও মানব পাচারের ঘটনা টেকনাফে সবচেয়ে বেশি। এঁদের মধ্যে শাহপরীর দ্বীপের মো. ইউনুছ একজন। তাঁর ভাই ধলু হোসেন ওরফে ধলু ডাকাত পাচারের শীর্ষ হোতাদের একজন। মানব পাচার নিয়ে সারা দেশে আলোচনার ঝড় ওঠার পর গত ৮ মে ধলু বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। ধলুর ছেলে বেলালও আছেন মানব পাচারে।
টেকনাফে মানব পাচার ও ইয়াবা ব্যবসার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের তালিকায় আছেন ডেইলপাড়ার তিন ভাই নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আমিন ও আবদুল আমিন।
ইয়াবা ব্যবসার মূল সাত হোতার একজন নুরুল হুদা। তাঁর তিন ভাই-ই ইয়াবা ব্যবসায়ী। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ হোসেন এবং তাঁর তিন ভাই জামাল হোসেন, নুরুল আলম ও জাহিদ হোসেনও তালিকায় আছেন।
এ ছাড়া নাইটংপাড়ার শাহ আলম ও তাঁর চার ভাই, মণ্ডলপাড়ার খায়ের হোসেনসহ ছয় ভাই, নাজিরপাড়ার চান মিয়াসহ তিন ভাই, জামাল হোসেনসহ তিন ভাইও আছেন ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায়। চৌধুরীপাড়া, নয়াপাড়া, খানকারপাড়া, হাবিবপাড়া, দিনপাড়া, রঙ্গিখালী, জালিয়াপাড়া ও নাজিরপাড়ায় একটি করে আটটি পরিবার আছে, যাদের তিনজন করে মোট ২৪ ভাই ইয়াবা ব্যবসায়ী।
আরেক মানব পাচারকারী ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে অন্তত ১২টি মামলা আছে। তাঁর ভাই হেলালউদ্দিন ও খালাতো ভাই মো. ফয়সাল আবার হুন্ডি ব্যবসায়ী। এ দুজন ইয়াবা ব্যবসার তালিকায়ও আছেন।
চাচা-ভাতিজা, মামা-ভাগনে, স্বামী-স্ত্রী: টেকনাফ পৌরসভার কুলালপাড়ার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় ১ নম্বরে আছে জাহাঙ্গীর আলমের নাম। তাঁর বড় ভাই ইউসুফ কমিশনার ও দুই ভাতিজা, পানছড়ির আলী আহমেদ ও তাঁর দুই ভাতিজা, উত্তরপাড়া এলাকায় সৈয়দ আলম ও তাঁর ভাগনে শওকত আলমও আছেন ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায়। এ ছাড়া নাইটংপাড়ার ১১ নম্বরে টেকনাফ পৌরসভার কমিশনার মো. ইউনুছ ও তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিনের নাম আছে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে।
উখিয়ার মানব পাচারের তালিকায় নুরুল কবির ও তাঁর স্ত্রী রেবি আক্তার আলোচিত নাম। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ প্রথম আলোকে জানান, কয়েকবার পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও তাঁরা এখন পলাতক।
সাবেক সাংসদ ও টেকনাফের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘টেকনাফে আগে ইয়াবাও ছিল না, মানব পাচারও না। গত ছয়-সাত বছরে এগুলো এসেছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে পরিণতি ভালো হবে না।’
Sunday, June 28, 2015
যে ট্রলারে মানব পাচার, সে ট্রলারেই ইয়াবা বহন by শরিফুল হাসান ও গিয়াসউদ্দিন
কক্সবাজার থেকে যেসব ট্রলারে মানব পাচার
হয়, সেগুলোই মিয়ানমার থেকে ইয়াবা নিয়ে ফেরে। ইয়াবা চোরাচালানিদের বড় অংশই
এখন মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। মানব পাচার ও ইয়াবার চোরাচালানের দুই তালিকায়ও
একই ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। আর এ দুই কাজের কেন্দ্র হিসেবে মিয়ানমার
সীমান্তবর্তী ‘সীতা পাহাড়ে’র কথা ওঠে এসেছে বারবার।
কক্সবাজার পুলিশ, বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হিসেব অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে এ বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ১ লাখ ৪৪ হাজার লোক সাগরপথে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছে। আর পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ড চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত নদীপথে পাচারের সময় ৩২ লাখ ৪৫ হাজার ৪০১ পিচ ইয়ারা জব্দ করেছে। যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৯৭ কোটি টাকা।
টেকনাফ থেকে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু জার আল জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘একসময়ে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানব পাচার হতো। পরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপকূলেও ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকা থেকে লোক তুলে ট্রলারে করে প্রথমে সীতা পাহাড়ের কাছে নেওয়া হয়। এর পর বড় জাহাজে করে তাদের গন্তব্যে পাঠানো হয়। একই স্থানে মিয়ানমার থেকে আস ইয়াবা বাংলাদেশি ট্রলারে করে দেশে আনা হয়। আমরা বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায়ই এমন অনেক ট্রলার ও মাঝিদের আটক করেছি’।
আবু জার আল জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, মানব পাচার ও ইয়াবা চোরাচালান দুই অপরাধে একই ট্রলার ব্যবহার হয়। কাজেই ট্রলারের নিবন্ধন ও জেলেদের পরিচয়পত্র দেওয়া দরকার। পাশাপাশি মাছ ধরা কিংবা অন্য কাজে যেসব নৌকা সাগরে যায় সেগুলো নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গা থেকে ছাড়া উচিত। কক্সবাজার র্যাব-৭ এর অধিনায়ক মহিউদ্দিনও প্রথম আলোকে বলেন, মানব পাচার ও ইয়াবা পাচার কাজে অনেক সময়ই একই ট্রলার ব্যবহার হয়।
একই কথা বলেন কোস্টগার্ড চট্টগ্রামের পূর্ব জোনের কমান্ডার লে. কমান্ডার দুরুল হুদা। তিনিও বলেন, ‘যেসব ট্রলারে করে এই ইয়াবা আসছে কিংবা মানবপাচার হচ্ছে সেগুলোর কোনো নিবন্ধন নেই। ফলে ট্রলারগুলো দুই অপরাধেই ব্যবহৃত হচ্ছে’।
মানব পাচার ও ইয়াবার চোরাচালানের দুই তালিকায় একই নাম: ২০১৩ সালের শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের একটি তালিকা করে। এর পর পুলিশও গত বছরের শেষে ২৩০ জন মানব পাচারকারীর একটি তালিকা করে। দুই তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একসময় ইয়াবা ব্যবসা করতেন এমন ৬০ থেকে ৭০ জনের নাম মানব পাচারকারী তালিকাতেও রয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ডেইলপাড়ার বাসিন্দা তিন ভাই নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আমিন ও আবদুল আমিনের নাম মানবপাচারের ক্ষেত্রে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের নামের তালিকায় দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে। আবার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায়ও তাদের নাম রয়েছে।
মানব পাচারকারীর তালিকার ৫ নম্বরে থাকা মো. সেলিম ওরফে লম্বা সেলিমের নাম ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায়ও রয়েছে। এ ছাড়া দুই তালিকায়ই নাম রয়েছে এমন ব্যক্তিরা হলেন, টেকনাফের কাটাবুনিয়ার শওকত হোসেন, সিদ্দিক ওরফে বাগুইন্না, এজাহার মিয়া, সাকের, মো. হোসেন লুলা, ওসমান, কচুবুনিয়ার মৌলভী বশীর ওরফে ডাইল্লা, নজির আহমেদ ওরফে নজির ডাকাত, আবদুল হামিদ, মো. ইসলাম ওরফে বাগু, মো, সাকের, ভুট্টো, মৌলভী জিয়াউল হক, সাবরাংয়ের আলীর ডেইলের আক্তার কামাল, তাঁর ভাই সাহেদ কামাল, মুন্ডারডেলের সাকের মাঝি, নুরু মাঝি, জহিরুদ্দিন ওরফে কানা জহির, সাবরাংয়ের হারিয়াখালী এলাকার আবুল কালাম, মৌলভী কলিমুল্লাহ, শাহ পরীর দ্বীপের আবদুস শুক্কুর, মো. ইউনুছ, মো. ইসমাইল, ফিরোজ আহমেদ, দেলোয়ার, শাহাব মিয়া, শরিফ হোসেন, শরিফ হোসেন বুলু, নূর হাকিম মাঝি, বেলালউদ্দিন, নূর হোসেন, নুরুল আলম, মো. হোসেন, শামসুল আলম, সাব্বির আহমেদ, হেলাল উদ্দিন ও মো. কামাল।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইয়াবা ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। তাদের অনেকে দুই অপরাধের সঙ্গেই জড়িত। এমনকি এই দুই কাজে ব্যবহৃত ট্রলার ও শ্রমিকেরাও এক। এদের অনেকেই আবার বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গা।’
সাবেক সাংসদ ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি সব সময় বলে এসেছি মানব পাচার ও ইয়াবার চক্র একই সূত্রে গাঁথা। এসবের পেছনের মূল হোতারা দুই ব্যবসা থেকেই মাসোহারা পান। এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারলে ইয়াবা ও মানব পাচার দুটোই বন্ধ করা সম্ভব’।
মানব পাচার ও ইয়াবা পাচারের কেন্দ্র সীতা পাহাড়: গত কিছুদিনে বেশ কিছু ঘটনায় মানব পাচার ও ইয়াবা পাচারের কেন্দ্রস্থল হিসেবে বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ‘সীতা পাহাড়ে’র নাম ওঠে এসেছে।
কক্সবাজারের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, থাইল্যান্ড ও চীন সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা তৈরি হয়। নৌপথে সেগুলোকে বাংলাদেশে আনা হয়। নাম প্রকাশ না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েকজন সদস্য বলেন, একসময় মিয়ানমারের মংডু শহর থেকে বিভিন্ন উপায়ে টেকনাফে ইয়াবা পাঠানো হতো। কিন্তু বেশ কয়েকটি ইয়াবার চালান আটক হওয়ার কারণে এখন আকিয়াব থেকে নৌপথে মিয়ানমার সীমানার কাছের সীতা পাহাড় এলাকায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে বাংলাদেশের ছোট ছোট নৌকায় করে ইয়াবা দেশের ভেতরে আনা হয়।
গত ২১ মে মিয়ানমার সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী ২৮৪ জনের একটি ট্রলারকে আটক করে। বাংলাদেশ যাচাই করে তাঁদের ১৫০ জনকে ফেরত আনে। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান ইমাম ও ফাহাদ মিয়াসহ আরও কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, দালালেরা চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী ও কক্সবাজারের মহেশখালীসহ বিভিন্ন উপকূল থেকে ট্রলারে লোক তুলে। এর পর মিয়ানমার সীমান্তের কাছের সীতা পাহাড় এলাকা থেকে তাদের বড় ট্রলারে তোলা হয়।
এর আগে গত ১২ মে সীতা পাহাড়ের কাছে একটি ট্রলার থেকে ১১৬ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। ওই ট্রলারের যাত্রী গাজীপুরের কালিগঞ্জের আরিফ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, প্রথমে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন ঘাট থেকে লোক তোলা হয়। এর পর সীতা পাহাড়ের কাছে একটি বড় ট্রলারে আরও অনেক লোক তোলা হয়। ওইখানে তিনি আরও ১৪টি ট্রলার দেখেছেন।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্র বলছে, টেকনাফ একসময় মালয়েশিয়ার ঘাঁট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোক এনে টেকনাফের বাহারছড়া, লেঙ্গুরবিল, মহেশখালীয়াপাড়া, মুন্ডারডেইল, হাদুরছড়া, কাটাবুনিয়া, কচুবুনিয়া, শাহ পরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারে করে সীতা পাহাড়ের কাছে নেওয়া হতো। সেখান থেকে বড় ট্রলারে করে তাঁদের থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্য পাঠানো হতো।
কিন্তু টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করা হলে চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট, পটিয়া, বাঁশখালী, গহিরা, লোহাগড়া, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও, কক্সবাজার, ইনানী, উখিয়াসহ আরও অনেক এলাকা দিয়ে লোক পাঠানো শুরু হয়। নৌকায় করে এসব এলাকা থেকে লোক নিয়ে বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিনের অদূরের সীতা পাহাড়ের কাছে পাঠানো হতো। এরপর সেখান থেকে বড় ট্রলারে করা থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হতো।
কক্সবাজার পুলিশ, বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হিসেব অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে এ বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ১ লাখ ৪৪ হাজার লোক সাগরপথে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছে। আর পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ড চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত নদীপথে পাচারের সময় ৩২ লাখ ৪৫ হাজার ৪০১ পিচ ইয়ারা জব্দ করেছে। যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৯৭ কোটি টাকা।
টেকনাফ থেকে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু জার আল জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘একসময়ে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানব পাচার হতো। পরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপকূলেও ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকা থেকে লোক তুলে ট্রলারে করে প্রথমে সীতা পাহাড়ের কাছে নেওয়া হয়। এর পর বড় জাহাজে করে তাদের গন্তব্যে পাঠানো হয়। একই স্থানে মিয়ানমার থেকে আস ইয়াবা বাংলাদেশি ট্রলারে করে দেশে আনা হয়। আমরা বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায়ই এমন অনেক ট্রলার ও মাঝিদের আটক করেছি’।
আবু জার আল জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, মানব পাচার ও ইয়াবা চোরাচালান দুই অপরাধে একই ট্রলার ব্যবহার হয়। কাজেই ট্রলারের নিবন্ধন ও জেলেদের পরিচয়পত্র দেওয়া দরকার। পাশাপাশি মাছ ধরা কিংবা অন্য কাজে যেসব নৌকা সাগরে যায় সেগুলো নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গা থেকে ছাড়া উচিত। কক্সবাজার র্যাব-৭ এর অধিনায়ক মহিউদ্দিনও প্রথম আলোকে বলেন, মানব পাচার ও ইয়াবা পাচার কাজে অনেক সময়ই একই ট্রলার ব্যবহার হয়।
একই কথা বলেন কোস্টগার্ড চট্টগ্রামের পূর্ব জোনের কমান্ডার লে. কমান্ডার দুরুল হুদা। তিনিও বলেন, ‘যেসব ট্রলারে করে এই ইয়াবা আসছে কিংবা মানবপাচার হচ্ছে সেগুলোর কোনো নিবন্ধন নেই। ফলে ট্রলারগুলো দুই অপরাধেই ব্যবহৃত হচ্ছে’।
মানব পাচার ও ইয়াবার চোরাচালানের দুই তালিকায় একই নাম: ২০১৩ সালের শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের একটি তালিকা করে। এর পর পুলিশও গত বছরের শেষে ২৩০ জন মানব পাচারকারীর একটি তালিকা করে। দুই তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একসময় ইয়াবা ব্যবসা করতেন এমন ৬০ থেকে ৭০ জনের নাম মানব পাচারকারী তালিকাতেও রয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ডেইলপাড়ার বাসিন্দা তিন ভাই নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আমিন ও আবদুল আমিনের নাম মানবপাচারের ক্ষেত্রে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের নামের তালিকায় দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে। আবার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায়ও তাদের নাম রয়েছে।
মানব পাচারকারীর তালিকার ৫ নম্বরে থাকা মো. সেলিম ওরফে লম্বা সেলিমের নাম ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায়ও রয়েছে। এ ছাড়া দুই তালিকায়ই নাম রয়েছে এমন ব্যক্তিরা হলেন, টেকনাফের কাটাবুনিয়ার শওকত হোসেন, সিদ্দিক ওরফে বাগুইন্না, এজাহার মিয়া, সাকের, মো. হোসেন লুলা, ওসমান, কচুবুনিয়ার মৌলভী বশীর ওরফে ডাইল্লা, নজির আহমেদ ওরফে নজির ডাকাত, আবদুল হামিদ, মো. ইসলাম ওরফে বাগু, মো, সাকের, ভুট্টো, মৌলভী জিয়াউল হক, সাবরাংয়ের আলীর ডেইলের আক্তার কামাল, তাঁর ভাই সাহেদ কামাল, মুন্ডারডেলের সাকের মাঝি, নুরু মাঝি, জহিরুদ্দিন ওরফে কানা জহির, সাবরাংয়ের হারিয়াখালী এলাকার আবুল কালাম, মৌলভী কলিমুল্লাহ, শাহ পরীর দ্বীপের আবদুস শুক্কুর, মো. ইউনুছ, মো. ইসমাইল, ফিরোজ আহমেদ, দেলোয়ার, শাহাব মিয়া, শরিফ হোসেন, শরিফ হোসেন বুলু, নূর হাকিম মাঝি, বেলালউদ্দিন, নূর হোসেন, নুরুল আলম, মো. হোসেন, শামসুল আলম, সাব্বির আহমেদ, হেলাল উদ্দিন ও মো. কামাল।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইয়াবা ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। তাদের অনেকে দুই অপরাধের সঙ্গেই জড়িত। এমনকি এই দুই কাজে ব্যবহৃত ট্রলার ও শ্রমিকেরাও এক। এদের অনেকেই আবার বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গা।’
সাবেক সাংসদ ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি সব সময় বলে এসেছি মানব পাচার ও ইয়াবার চক্র একই সূত্রে গাঁথা। এসবের পেছনের মূল হোতারা দুই ব্যবসা থেকেই মাসোহারা পান। এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারলে ইয়াবা ও মানব পাচার দুটোই বন্ধ করা সম্ভব’।
মানব পাচার ও ইয়াবা পাচারের কেন্দ্র সীতা পাহাড়: গত কিছুদিনে বেশ কিছু ঘটনায় মানব পাচার ও ইয়াবা পাচারের কেন্দ্রস্থল হিসেবে বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ‘সীতা পাহাড়ে’র নাম ওঠে এসেছে।
কক্সবাজারের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, থাইল্যান্ড ও চীন সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা তৈরি হয়। নৌপথে সেগুলোকে বাংলাদেশে আনা হয়। নাম প্রকাশ না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েকজন সদস্য বলেন, একসময় মিয়ানমারের মংডু শহর থেকে বিভিন্ন উপায়ে টেকনাফে ইয়াবা পাঠানো হতো। কিন্তু বেশ কয়েকটি ইয়াবার চালান আটক হওয়ার কারণে এখন আকিয়াব থেকে নৌপথে মিয়ানমার সীমানার কাছের সীতা পাহাড় এলাকায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে বাংলাদেশের ছোট ছোট নৌকায় করে ইয়াবা দেশের ভেতরে আনা হয়।
গত ২১ মে মিয়ানমার সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী ২৮৪ জনের একটি ট্রলারকে আটক করে। বাংলাদেশ যাচাই করে তাঁদের ১৫০ জনকে ফেরত আনে। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান ইমাম ও ফাহাদ মিয়াসহ আরও কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, দালালেরা চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী ও কক্সবাজারের মহেশখালীসহ বিভিন্ন উপকূল থেকে ট্রলারে লোক তুলে। এর পর মিয়ানমার সীমান্তের কাছের সীতা পাহাড় এলাকা থেকে তাদের বড় ট্রলারে তোলা হয়।
এর আগে গত ১২ মে সীতা পাহাড়ের কাছে একটি ট্রলার থেকে ১১৬ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। ওই ট্রলারের যাত্রী গাজীপুরের কালিগঞ্জের আরিফ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, প্রথমে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন ঘাট থেকে লোক তোলা হয়। এর পর সীতা পাহাড়ের কাছে একটি বড় ট্রলারে আরও অনেক লোক তোলা হয়। ওইখানে তিনি আরও ১৪টি ট্রলার দেখেছেন।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্র বলছে, টেকনাফ একসময় মালয়েশিয়ার ঘাঁট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোক এনে টেকনাফের বাহারছড়া, লেঙ্গুরবিল, মহেশখালীয়াপাড়া, মুন্ডারডেইল, হাদুরছড়া, কাটাবুনিয়া, কচুবুনিয়া, শাহ পরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারে করে সীতা পাহাড়ের কাছে নেওয়া হতো। সেখান থেকে বড় ট্রলারে করে তাঁদের থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্য পাঠানো হতো।
কিন্তু টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করা হলে চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট, পটিয়া, বাঁশখালী, গহিরা, লোহাগড়া, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও, কক্সবাজার, ইনানী, উখিয়াসহ আরও অনেক এলাকা দিয়ে লোক পাঠানো শুরু হয়। নৌকায় করে এসব এলাকা থেকে লোক নিয়ে বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিনের অদূরের সীতা পাহাড়ের কাছে পাঠানো হতো। এরপর সেখান থেকে বড় ট্রলারে করা থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হতো।
Sunday, May 31, 2015
মানব পাচার- মালয়েশিয়ার বৈধ পথ সীমিত, অবৈধ অবারিত by শরিফুল হাসান
Sunday, May 31, 2015
Anonymous
Lead,
আন্তর্জাতিক,
প্রথম আলো,
মালয়েশিয়া,
শরিফুল হাসান,
স্পেশাল প্রতিবেদন
![]() |
| ১৪ মে আন্দামান সাগরে ভাসমান নৌকায় অন্যদের সঙ্গে দুই বাংলাদেশি সাইদুল ও আবু বকর। উদ্ধারের পর ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের আশ্রয়শিবিরে গত বৃহস্পতিবার ওই দুজন l ছবি: এএফপি |
বাংলাদেশ
থেকে বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে যাওয়ার সুযোগ একেবারেই সীমিত।
সাড়ে ১৪ লাখ লোক নিবন্ধন করেও যেতে পারছেন না। কিন্তু অবৈধভাবে যাওয়ার
সুযোগ অবারিত। যাওয়ার আগে টাকা লাগে না, আবার কোনো রকমে পৌঁছালেই কাজ
মিলছে—দালালদের এমন প্রলোভনে পা দিচ্ছে সহজ-সরল মানুষ।
বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে শ্রমিক নিতে (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট —জিটুজি) তিন বছর আগে চুক্তি করলেও কর্মী নিয়োগে সেভাবে চাহিদাপত্র পাঠাচ্ছে না মালয়েশিয়া। তবে সমুদ্রপথে কিংবা ছাত্র-পর্যটক সেজে অবৈধভাবে যাঁরা দেশটিতে পৌঁছাচ্ছেন, তাঁরা কাজও পেয়ে যাচ্ছেন। এ জন্য সেখানে যেমন দালাল চক্র গড়ে উঠেছে, তেমনি বাংলাদেশ থেকেও অবৈধভাবে লোক পাঠানোর কাজটি করছে মানব পাচারকারীরা।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর চুক্তি হওয়ার পর মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য সাড়ে ১৪ লাখ লোক নিবন্ধন করেন। কিন্তু গত তিন বছরে মাত্র সাড়ে সাত হাজার কর্মী নিয়েছে দেশটি। বাংলাদেশও এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি। অথচ একই সময়ে সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন দেড় লাখ লোক। ছাত্র ও পর্যটক সেজে গেছেন আরও অন্তত এক লাখ। এ অবৈধ যাত্রা ঠেকাতেও পারেনি বাংলাদেশ।
জনশক্তি রপ্তানিকারক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথ সংকুচিত হওয়ার কারণেই অবৈধভাবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ নিচ্ছে দালালেরা। সরকার এই দাবি না মানলেও জিটুজি চুক্তি করেও কাঙ্ক্ষিত চাহিদাপত্র না পাঠানোর কারণে হতাশ।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ার আগ্রহের কারণেই সরকারিভাবে লোক পাঠানোর চুক্তি হয়েছিল। দেশটি যত লোকের চাহিদা দেবে, আমরা তত লোক দিতে পারব। কিন্তু তারা কাঙ্ক্ষিত চাহিদাপত্র পাঠাচ্ছে না। আমরা তো আর এ নিয়ে মারামারি করতে পারি না। তাদের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করে এ বিষয়ে কথা বলেছি। সামনের বৈঠকে আবারও এ নিয়ে কথা হবে।’
দালালদের মাধ্যমেই অবৈধভাবে মানুষ মালয়েশিয়া গিয়ে কাজ পাচ্ছে বলে স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, সবার উচিত দালালদের বিরুদ্ধে কথা বলা।
মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে গত মাসে ঢাকায় পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই দেশে একদিকে যেমন অবৈধ বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি কোম্পানিগুলো অবৈধ শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোয় বৈধ শ্রমিকের চাহিদা কমে যাচ্ছে।
জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা বলছেন, জিটুজি প্রক্রিয়ায় কর্মী নিতে মালয়েশিয়ার একটি কোম্পানিকে প্রথমে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দিতে হয়। এরপর একেকজন কর্মীর জন্য ২৫-২৬ হাজার টাকা লেভি বা কর দিতে হয়। এ প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ। এসব কারণে অনেক নিয়োগকর্তাই এ প্রক্রিয়ায় যেতে চান না। আর এ সুযোগটাই নেয় দালাল চক্র।
মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এবং বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারক রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় অনেক ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান আছে। তারা এত টাকা লেভি দিয়ে জিটুজি প্রক্রিয়ায় লোক আনতে চায় না। এর বদলে তারা অবৈধভাবে আসা লোকদের কম বেতনে কাজ দেয়। আর দালালেরাও অবৈধভাবে আসা লোকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ দেয়। বেতনের একটা অংশও দালালেরা রেখে দেয়। এ পুরো চেইন ভাঙতে হলে বাংলাদেশ থেকে জিটুজির পাশাপাশি বেসরকারিভাবে লোক পাঠানো শুরু করতে হবে। সেটি হলে বাংলাদেশ থেকে বছরে কয়েক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে মালয়েশিয়ায়। তাঁরা প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানান।
টাইম সাময়িকী ও যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকার একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের চিংড়ি ও সি ফুড শিল্পে কর্মরত সাড়ে ছয় লাখ শ্রমিকের মধ্যে তিন লাখই ক্রীতদাস হিসেবে কাজ করছেন। এঁদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি, যাঁদের সাগরপথে মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে এখানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আবার যাঁরা মালয়েশিয়ায় যেতে পারছেন, তাঁরাও খুব সস্তায় শ্রম দিচ্ছেন। মালয়েশিয়ায় অবৈধ সংখ্যা কত, তা বাংলাদেশ হাইকমিশনও জানে না।
অভিবাসনবিষয়ক এশিয়ার বেসরকারি সংস্থাগুলোর জোট কারাম এশিয়া। এর সদর দপ্তর মালয়েশিয়ায়। প্রতিষ্ঠানটির সমন্বয়ক হারুন আল রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে লোক পাঠানো, এখানে এনে তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ দেওয়া—এ পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক হাজার দালাল জড়িত। এদের মধ্যে বাংলাদেশি যেমন আছে, তেমনি মালয়েশিয়ার লোকজনও আছে। এ যেন এক দাসপ্রথা। তাঁরা মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন বলে জানান।
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির অন্যতম বাজার মালয়েশিয়া। ২০০৭ সালে ২ লাখ ৭৩ হাজার ২০১ জন এবং ২০০৮ সালে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৬২ জন লোক মালয়েশিয়া গেছেন। ২০০৯ সালে দেশটি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর জনশক্তি রপ্তানিকারকদের বাদ দিয়ে সরকারিভাবে দেশটিতে কর্মী পাঠাতে জিটুজি চুক্তি করা হয়। ওই চুক্তি করার পর দেশটি বলেছিল, প্রথম দফায় তারা ৫০ হাজার লোক নেবে। আর প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, বছরে অন্তত এক লাখ লোক মালয়েশিয়া যাবে। পাঁচ বছরে যাবে পাঁচ লাখ। ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর মন্ত্রী জানান, বনায়ন খাতে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। কিন্তু গত আড়াই বছরেও ১০ হাজার কর্মী নেয়নি দেশটি।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের যৌথ কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন সময় মালয়েশিয়াকে চাহিদাপত্র বাড়ানোর কথা বলা হলেও তারা শুধু আশ্বাসই দিয়েছে। গত বছরের আগস্টে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়ত জায়েমের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে আসে। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, মালয়েশিয়া সব খাতে কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এক বছর হতে চললেও খাতগুলো উন্মুক্ত হয়নি। এ ছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালয়েশিয়া সফর করেন। এর আগে-পরে বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সারওয়াক প্রদেশে ১২ হাজার লোক নেবে মালয়েশিয়া। এরপর জানুয়ারি মাসে পাঁচ হাজার ও ফেব্রুয়ারি মাসে তিন হাজার লোকের তথ্য পাঠানো হলেও কোনো সাড়া দেয়নি দেশটি।
মালয়েশিয়া সরকার জিটুজির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর চাহিদাপত্র না দিলেও গত মাসেই সারওয়াকের একটি কোম্পানি বেসরকারিভাবে ২০৬ জন লোক নিতে চেয়েছিল। কিন্তু ঢাকা থেকে আবার সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তাই মনে করছেন, জিটুজির পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি চালু করা দরকার। প্রাথমিকভাবে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ভিসা পেয়েছেন এমন লোকদের যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনাও হয়েছে। এর সূত্র ধরে আবার মালয়েশিয়ার বাজার জনশক্তি রপ্তানিকারকদের কাছে যাচ্ছে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
তবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন সেটি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়া যখন জিটুজির বাইরে লোক চাইবে, তখনই লোক দেওয়া হবে। তার আগে নয়। কাজেই বেসরকারিভাবে লোক পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে শ্রমিক নিতে (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট —জিটুজি) তিন বছর আগে চুক্তি করলেও কর্মী নিয়োগে সেভাবে চাহিদাপত্র পাঠাচ্ছে না মালয়েশিয়া। তবে সমুদ্রপথে কিংবা ছাত্র-পর্যটক সেজে অবৈধভাবে যাঁরা দেশটিতে পৌঁছাচ্ছেন, তাঁরা কাজও পেয়ে যাচ্ছেন। এ জন্য সেখানে যেমন দালাল চক্র গড়ে উঠেছে, তেমনি বাংলাদেশ থেকেও অবৈধভাবে লোক পাঠানোর কাজটি করছে মানব পাচারকারীরা।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর চুক্তি হওয়ার পর মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য সাড়ে ১৪ লাখ লোক নিবন্ধন করেন। কিন্তু গত তিন বছরে মাত্র সাড়ে সাত হাজার কর্মী নিয়েছে দেশটি। বাংলাদেশও এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি। অথচ একই সময়ে সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন দেড় লাখ লোক। ছাত্র ও পর্যটক সেজে গেছেন আরও অন্তত এক লাখ। এ অবৈধ যাত্রা ঠেকাতেও পারেনি বাংলাদেশ।
জনশক্তি রপ্তানিকারক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথ সংকুচিত হওয়ার কারণেই অবৈধভাবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ নিচ্ছে দালালেরা। সরকার এই দাবি না মানলেও জিটুজি চুক্তি করেও কাঙ্ক্ষিত চাহিদাপত্র না পাঠানোর কারণে হতাশ।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ার আগ্রহের কারণেই সরকারিভাবে লোক পাঠানোর চুক্তি হয়েছিল। দেশটি যত লোকের চাহিদা দেবে, আমরা তত লোক দিতে পারব। কিন্তু তারা কাঙ্ক্ষিত চাহিদাপত্র পাঠাচ্ছে না। আমরা তো আর এ নিয়ে মারামারি করতে পারি না। তাদের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করে এ বিষয়ে কথা বলেছি। সামনের বৈঠকে আবারও এ নিয়ে কথা হবে।’
দালালদের মাধ্যমেই অবৈধভাবে মানুষ মালয়েশিয়া গিয়ে কাজ পাচ্ছে বলে স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, সবার উচিত দালালদের বিরুদ্ধে কথা বলা।
মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে গত মাসে ঢাকায় পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই দেশে একদিকে যেমন অবৈধ বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি কোম্পানিগুলো অবৈধ শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোয় বৈধ শ্রমিকের চাহিদা কমে যাচ্ছে।
জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা বলছেন, জিটুজি প্রক্রিয়ায় কর্মী নিতে মালয়েশিয়ার একটি কোম্পানিকে প্রথমে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দিতে হয়। এরপর একেকজন কর্মীর জন্য ২৫-২৬ হাজার টাকা লেভি বা কর দিতে হয়। এ প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ। এসব কারণে অনেক নিয়োগকর্তাই এ প্রক্রিয়ায় যেতে চান না। আর এ সুযোগটাই নেয় দালাল চক্র।
মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এবং বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারক রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় অনেক ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান আছে। তারা এত টাকা লেভি দিয়ে জিটুজি প্রক্রিয়ায় লোক আনতে চায় না। এর বদলে তারা অবৈধভাবে আসা লোকদের কম বেতনে কাজ দেয়। আর দালালেরাও অবৈধভাবে আসা লোকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ দেয়। বেতনের একটা অংশও দালালেরা রেখে দেয়। এ পুরো চেইন ভাঙতে হলে বাংলাদেশ থেকে জিটুজির পাশাপাশি বেসরকারিভাবে লোক পাঠানো শুরু করতে হবে। সেটি হলে বাংলাদেশ থেকে বছরে কয়েক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে মালয়েশিয়ায়। তাঁরা প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানান।
টাইম সাময়িকী ও যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকার একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের চিংড়ি ও সি ফুড শিল্পে কর্মরত সাড়ে ছয় লাখ শ্রমিকের মধ্যে তিন লাখই ক্রীতদাস হিসেবে কাজ করছেন। এঁদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি, যাঁদের সাগরপথে মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে এখানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আবার যাঁরা মালয়েশিয়ায় যেতে পারছেন, তাঁরাও খুব সস্তায় শ্রম দিচ্ছেন। মালয়েশিয়ায় অবৈধ সংখ্যা কত, তা বাংলাদেশ হাইকমিশনও জানে না।
অভিবাসনবিষয়ক এশিয়ার বেসরকারি সংস্থাগুলোর জোট কারাম এশিয়া। এর সদর দপ্তর মালয়েশিয়ায়। প্রতিষ্ঠানটির সমন্বয়ক হারুন আল রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে লোক পাঠানো, এখানে এনে তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ দেওয়া—এ পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক হাজার দালাল জড়িত। এদের মধ্যে বাংলাদেশি যেমন আছে, তেমনি মালয়েশিয়ার লোকজনও আছে। এ যেন এক দাসপ্রথা। তাঁরা মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন বলে জানান।
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির অন্যতম বাজার মালয়েশিয়া। ২০০৭ সালে ২ লাখ ৭৩ হাজার ২০১ জন এবং ২০০৮ সালে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৬২ জন লোক মালয়েশিয়া গেছেন। ২০০৯ সালে দেশটি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর জনশক্তি রপ্তানিকারকদের বাদ দিয়ে সরকারিভাবে দেশটিতে কর্মী পাঠাতে জিটুজি চুক্তি করা হয়। ওই চুক্তি করার পর দেশটি বলেছিল, প্রথম দফায় তারা ৫০ হাজার লোক নেবে। আর প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, বছরে অন্তত এক লাখ লোক মালয়েশিয়া যাবে। পাঁচ বছরে যাবে পাঁচ লাখ। ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর মন্ত্রী জানান, বনায়ন খাতে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। কিন্তু গত আড়াই বছরেও ১০ হাজার কর্মী নেয়নি দেশটি।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের যৌথ কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন সময় মালয়েশিয়াকে চাহিদাপত্র বাড়ানোর কথা বলা হলেও তারা শুধু আশ্বাসই দিয়েছে। গত বছরের আগস্টে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়ত জায়েমের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে আসে। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, মালয়েশিয়া সব খাতে কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এক বছর হতে চললেও খাতগুলো উন্মুক্ত হয়নি। এ ছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালয়েশিয়া সফর করেন। এর আগে-পরে বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সারওয়াক প্রদেশে ১২ হাজার লোক নেবে মালয়েশিয়া। এরপর জানুয়ারি মাসে পাঁচ হাজার ও ফেব্রুয়ারি মাসে তিন হাজার লোকের তথ্য পাঠানো হলেও কোনো সাড়া দেয়নি দেশটি।
মালয়েশিয়া সরকার জিটুজির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর চাহিদাপত্র না দিলেও গত মাসেই সারওয়াকের একটি কোম্পানি বেসরকারিভাবে ২০৬ জন লোক নিতে চেয়েছিল। কিন্তু ঢাকা থেকে আবার সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তাই মনে করছেন, জিটুজির পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি চালু করা দরকার। প্রাথমিকভাবে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ভিসা পেয়েছেন এমন লোকদের যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনাও হয়েছে। এর সূত্র ধরে আবার মালয়েশিয়ার বাজার জনশক্তি রপ্তানিকারকদের কাছে যাচ্ছে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
তবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন সেটি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়া যখন জিটুজির বাইরে লোক চাইবে, তখনই লোক দেওয়া হবে। তার আগে নয়। কাজেই বেসরকারিভাবে লোক পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
Thursday, May 21, 2015
কেউ ব্যর্থতার দায় নিচ্ছে না- প্রবাসীকল্যাণ ও পররাষ্ট্র দায় চাপাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর by রোজিনা ইসলাম ও শরিফুল হাসান
![]() |
| উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম |
সমুদ্রপথে
মানব পাচারের কোনো দায় নিতে রাজি নয় পররাষ্ট্র কিংবা প্রবাসীকল্যাণ ও
বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এই দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন,
বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে পাচার
বন্ধের কাজটি করার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রের। কিন্তু তারা কাজটি করতে ব্যর্থ
হয়েছে।
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে ২০১২ সালে যে আইন করা হয়েছে, তার অধীনে তিনটি বিধিমালা করার কথা। কিন্তু তিন বছরেও সেটি করতে পারেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আইনে পাচারকারীদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হলেও এখন পর্যন্ত কারও শাস্তি হয়নি। বিভিন্ন সময়ে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাচারকারীদের তালিকা করলেও তারা থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সামগ্রিকভাবে পাচার বন্ধে সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরই নেতৃত্ব দেওয়ার কথা। কিন্তু তারা সেই কাজটিও করতে পারেনি। এমনকি মাঠ প্রশাসন ও দূতাবাস থেকে গত কয়েক বছরে সমুদ্রপথে পাচারের বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি; বরং বেশির ভাগ কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে ব্যস্ত ছিলেন বিদেশ সফরে।
তারপরেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে মানব পাচার প্রতিরোধে তাদের সাফল্যের প্রতিবেদন দিয়ে আসছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। কিন্তু এখন থাইল্যান্ডে গণকবর আবিষ্কার এবং হাজার হাজার বাংলাদেশি আটক হওয়ার পর মন্ত্রণালয় বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে, পাচার বন্ধে গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটিতে পররাষ্ট্র, প্রবাসী, আইন মন্ত্রণালয়সহ র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড—সবার প্রতিনিধি আছেন। কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে এ কমিটি ঠিকমতো কাজ করে না। এ ছাড়া, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পাচার প্রতিরোধে কমিটি থাকার কথা থাকলেও সেগুলো কার্যকর করতে পারেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আবার জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় সমুদ্রপথে পাচারের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে এখন তারা পদক্ষেপ নেবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে মানব পাচার। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা হলেও বাংলাদেশে গত দুই সপ্তাহে কয়েকটি বৈঠক এবং কয়েকজন পাচারকারীকে ক্রসফায়ারে দেওয়া ছাড়া বড় কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তবে সর্বশেষ গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মানব পাচার বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাচার বন্ধের কাজটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। এ জন্য আমরা প্রতিনিয়তই পাচারকারীদের আটক করছি। র্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে একটি কথা আমি বারবারই বলতে চাই যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কারণেই সমুদ্রপথে মানব পাচার সমস্যা বেড়েছে। আমরা এখন এর সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের কাহিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করে জনসচেতনতা বাড়াতে বলেছি।’
আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা শুধু বৈধ অভিবাসন করি। অবৈধ অভিবাসন নিয়ে যেহেতু আমরা যুক্ত নই, কাজেই আমাদের সেখানে যুক্ত হওয়া ঠিক হবে না। এটি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। তবে এ বিষয়ে এই দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা করব।’
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সমুদ্রপথে মানব পাচার যে বাড়ছে, সেটি বিভিন্ন সময়ে থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়। কিন্তু তারা ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আর এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি দল থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া উপকূলে রয়েছে। আটক বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছে এই মন্ত্রণালয়।
তবে দায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়েরও আছে। কেননা, অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়া বন্ধে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ৭ ধারায় বলা আছে, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বন্দর বা স্থান দিয়েই বহির্গমন করতে হবে।’ আর আইনের ৩৪ ধারায় বলা আছে, ‘কোনো ব্যক্তি বা রিক্রুটিং এজেন্ট অন্য কোনো ব্যক্তিকে বহির্গমনের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বহির্গমনের ব্যবস্থা করলে বা সহায়তা করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং এ জন্য তিনি অনধিক দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আইনটির ব্যাখ্যা করে বলেন, এই আইন অনুযায়ী সরকার শুধু বাংলাদেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বহির্গমনের স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছে। কাজেই কেউ যদি সমুদ্রপথে লোক পাঠায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই আইনের অধীনে একটি মামলাও করেনি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানব পাচার আর বিদেশে চাকরি নিয়ে বৈধভাবে যাওয়া—দুটো দুই জিনিস। আমরা শুধু বৈধভাবে যারা যায়, তাদের বিষয়টি দেখভাল করি। পাচারের বিষয়টি দেখার কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত কয়েক বছরে পাচার বন্ধে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল প্রথম আলোকে জানানো হয়, কক্সবাজার জেলা পুলিশ পাঁচ মাসে ৬৬ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার এবং ৩৫৮ জনকে পাচারকারীদের হাত থেকে রক্ষা করেছে। অন্যদিকে কোস্টগার্ডের বিরাট সাফল্য হচ্ছে, ৭ হাজার ৩৯২টি অভিযান পরিচালনা করে ২২৩ জনকে আটক। আর বিজিবি গত চার মাসে ৮২৩ জনকে পাচারকারীর হাত থেকে উদ্ধার করেছে।
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে ২০১২ সালে যে আইন করা হয়েছে, তার অধীনে তিনটি বিধিমালা করার কথা। কিন্তু তিন বছরেও সেটি করতে পারেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আইনে পাচারকারীদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হলেও এখন পর্যন্ত কারও শাস্তি হয়নি। বিভিন্ন সময়ে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাচারকারীদের তালিকা করলেও তারা থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সামগ্রিকভাবে পাচার বন্ধে সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরই নেতৃত্ব দেওয়ার কথা। কিন্তু তারা সেই কাজটিও করতে পারেনি। এমনকি মাঠ প্রশাসন ও দূতাবাস থেকে গত কয়েক বছরে সমুদ্রপথে পাচারের বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি; বরং বেশির ভাগ কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে ব্যস্ত ছিলেন বিদেশ সফরে।
তারপরেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে মানব পাচার প্রতিরোধে তাদের সাফল্যের প্রতিবেদন দিয়ে আসছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। কিন্তু এখন থাইল্যান্ডে গণকবর আবিষ্কার এবং হাজার হাজার বাংলাদেশি আটক হওয়ার পর মন্ত্রণালয় বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে, পাচার বন্ধে গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটিতে পররাষ্ট্র, প্রবাসী, আইন মন্ত্রণালয়সহ র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড—সবার প্রতিনিধি আছেন। কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে এ কমিটি ঠিকমতো কাজ করে না। এ ছাড়া, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পাচার প্রতিরোধে কমিটি থাকার কথা থাকলেও সেগুলো কার্যকর করতে পারেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আবার জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় সমুদ্রপথে পাচারের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে এখন তারা পদক্ষেপ নেবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে মানব পাচার। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা হলেও বাংলাদেশে গত দুই সপ্তাহে কয়েকটি বৈঠক এবং কয়েকজন পাচারকারীকে ক্রসফায়ারে দেওয়া ছাড়া বড় কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তবে সর্বশেষ গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মানব পাচার বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাচার বন্ধের কাজটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। এ জন্য আমরা প্রতিনিয়তই পাচারকারীদের আটক করছি। র্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে একটি কথা আমি বারবারই বলতে চাই যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কারণেই সমুদ্রপথে মানব পাচার সমস্যা বেড়েছে। আমরা এখন এর সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের কাহিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করে জনসচেতনতা বাড়াতে বলেছি।’
আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা শুধু বৈধ অভিবাসন করি। অবৈধ অভিবাসন নিয়ে যেহেতু আমরা যুক্ত নই, কাজেই আমাদের সেখানে যুক্ত হওয়া ঠিক হবে না। এটি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। তবে এ বিষয়ে এই দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা করব।’
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সমুদ্রপথে মানব পাচার যে বাড়ছে, সেটি বিভিন্ন সময়ে থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়। কিন্তু তারা ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আর এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি দল থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া উপকূলে রয়েছে। আটক বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছে এই মন্ত্রণালয়।
তবে দায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়েরও আছে। কেননা, অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়া বন্ধে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ৭ ধারায় বলা আছে, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বন্দর বা স্থান দিয়েই বহির্গমন করতে হবে।’ আর আইনের ৩৪ ধারায় বলা আছে, ‘কোনো ব্যক্তি বা রিক্রুটিং এজেন্ট অন্য কোনো ব্যক্তিকে বহির্গমনের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বহির্গমনের ব্যবস্থা করলে বা সহায়তা করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং এ জন্য তিনি অনধিক দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আইনটির ব্যাখ্যা করে বলেন, এই আইন অনুযায়ী সরকার শুধু বাংলাদেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বহির্গমনের স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছে। কাজেই কেউ যদি সমুদ্রপথে লোক পাঠায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই আইনের অধীনে একটি মামলাও করেনি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানব পাচার আর বিদেশে চাকরি নিয়ে বৈধভাবে যাওয়া—দুটো দুই জিনিস। আমরা শুধু বৈধভাবে যারা যায়, তাদের বিষয়টি দেখভাল করি। পাচারের বিষয়টি দেখার কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত কয়েক বছরে পাচার বন্ধে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল প্রথম আলোকে জানানো হয়, কক্সবাজার জেলা পুলিশ পাঁচ মাসে ৬৬ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার এবং ৩৫৮ জনকে পাচারকারীদের হাত থেকে রক্ষা করেছে। অন্যদিকে কোস্টগার্ডের বিরাট সাফল্য হচ্ছে, ৭ হাজার ৩৯২টি অভিযান পরিচালনা করে ২২৩ জনকে আটক। আর বিজিবি গত চার মাসে ৮২৩ জনকে পাচারকারীর হাত থেকে উদ্ধার করেছে।
Sunday, May 10, 2015
গাছের ডাল ভাঙায় এমন শাস্তি! by শরিফুল হাসান
![]() |
| ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিমু আক্তার । ছবি: শরিফুল হাসান |
বিছানায়
যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে মেয়েটি। দুই পা ভেঙে গেছে। গোড়ালি থেকে ওপর
পর্যন্ত প্লাস্টার করা। নাকের ভেতর নল লাগানো। মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে
রক্ত জমে আছে। একটু পর পর পানি পানি বলে কাতরাচ্ছে। আজ রোববার সকাল ১০টার
দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে এই দৃশ্য দেখা গেল।
না, কোনো দুর্ঘটনায় আহত হয়নি শিমু আক্তার নামের মেয়েটি। বাড়িওয়ালির নির্যাতনের শিকার হয়ে সে এখন হাসপাতালে বলে দাবি করেছে শিমু। সে অভিযোগ করে বাড়ির মেহেদিগাছের পাতা ছিঁড়তে গিয়ে ফুলগাছের একটি ডাল ভেঙে ফেলায় তাকে বাড়িওয়ালি পিটিয়ে তিনতলা থেকে নিচে ফেলে দিয়েছে।
ঘটনাস্থল ভাসানটেকের ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের শহীদ বদিউজ্জামান সড়কের এ/পি ২৭৯/২/ক নম্বর বাড়ি। বাড়িটি অবসরপ্রাপ্ত একজন সেনা কর্মকর্তার। তাঁর স্ত্রী আয়েশা বেগমের বিরুদ্ধেই মেয়েটিকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজধানীর ভাসানটেক থানায় একটি মামলা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনার পর থেকে বাড়িওয়ালি পলাতক।
মামলার সূত্র এবং মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেয়েটির বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জের কয়রনা গ্রামে। ছোটবেলায় মা হারায় সে। বাবা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। এর পর প্রতিবেশী মিজানুর রহমান তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। ছোটবেলা থেকে তাঁর বাড়িতেই কাজ করছে শিমু। বছর দুয়েক আগে মিজানুর রহমান ভাষানটেকের ওই সেনা কর্মকর্তার বাসায় ভাড়া থাকা শুরু করেন।
শিমু কাঁদতে কাঁদতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যে বাসায় কাজ করতাম সেই বাসার গৃহকর্ত্রী আমাকে মোটামুটি আদর করত। কিন্তু ওই বাড়ির মালিকের স্ত্রী (আয়েশা আক্তার) কারণে-অকারণে আমাকে বকত। শনিবার দুপুরের আগে বাড়ির উঠান থেকে আমি কয়েকটা মেহেদি পাতা আনতে গেলে টবের একটি ফুলগাছের ডাল ভেঙে যায়। সেটা দেখে বাড়ির মালিকের স্ত্রী আমাকে বাড়ির গ্যারেজে নিয়ে মারধর করে। এর পর রাতে আমাকে আবার ডেকে পাঠায়। আমাকে ছাদে নিয়ে গিয়ে বলে তোর সঙ্গে কথা আছে। এর পর আমাকে আবারও মারতে থাকে। আমি তখন তাকে খামচি দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাকে জোর করে মারতে মারতে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।’
মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার কয়েক দিন আগেই আমার স্ত্রী বাড়িতে যায়। আমি অফিস করে এসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। যখন ঘটনা ঘটে, তখন আমার মা বাসায় ছিল। হঠাৎ করে বাড়িওয়ালি শিমুকে ডেকে পাঠায়। তখন আমার মা বলে, যদি ডেকে থাকে তাহলে শুনে আয় কেন ডাকে। এর কিছুক্ষণ পরেই বাড়ির দারোয়ানসহ সবার চিৎকার শুনে নিচে গিয়ে দেখি শিমু পড়ে আছে। আমরা অজ্ঞান অবস্থায় তাকে কচুক্ষেতের হাইটেক হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার ডাক্তাররা অবস্থা গুরুতর বলে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলেন। এর পর আমরা রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।’
মেয়েটি বর্তমানে ২০৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। সেখানকার চিকিৎসক আশরাফউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়েটির শরীরের অবস্থা দেখেই বোঝা যাচ্ছে তাকে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তার দুই পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেছে। মেরুদণ্ডের একটি হাড় সরে গেছে। পেটের ভেতর রক্ত জমে আছে। এমন অবস্থায় চাইলেও অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। আমরা মেয়েটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’
ঘটনার পর থেকেই আয়েশা বেগম বাড়িতে নেই। তাঁর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ওই বাড়িতে থাকি না। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। ঘটনাস্থলে গেলেই আপনারা সব জানতে পারবেন। এ বিষয়ে আমার কোনো কথা নেই।’
ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এ বি এম আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। আমরা মামলার তদন্ত করছি। আইন অনুযায়ী আমরা সবকিছু করব।’
না, কোনো দুর্ঘটনায় আহত হয়নি শিমু আক্তার নামের মেয়েটি। বাড়িওয়ালির নির্যাতনের শিকার হয়ে সে এখন হাসপাতালে বলে দাবি করেছে শিমু। সে অভিযোগ করে বাড়ির মেহেদিগাছের পাতা ছিঁড়তে গিয়ে ফুলগাছের একটি ডাল ভেঙে ফেলায় তাকে বাড়িওয়ালি পিটিয়ে তিনতলা থেকে নিচে ফেলে দিয়েছে।
ঘটনাস্থল ভাসানটেকের ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের শহীদ বদিউজ্জামান সড়কের এ/পি ২৭৯/২/ক নম্বর বাড়ি। বাড়িটি অবসরপ্রাপ্ত একজন সেনা কর্মকর্তার। তাঁর স্ত্রী আয়েশা বেগমের বিরুদ্ধেই মেয়েটিকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজধানীর ভাসানটেক থানায় একটি মামলা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনার পর থেকে বাড়িওয়ালি পলাতক।
মামলার সূত্র এবং মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেয়েটির বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জের কয়রনা গ্রামে। ছোটবেলায় মা হারায় সে। বাবা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। এর পর প্রতিবেশী মিজানুর রহমান তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। ছোটবেলা থেকে তাঁর বাড়িতেই কাজ করছে শিমু। বছর দুয়েক আগে মিজানুর রহমান ভাষানটেকের ওই সেনা কর্মকর্তার বাসায় ভাড়া থাকা শুরু করেন।
শিমু কাঁদতে কাঁদতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যে বাসায় কাজ করতাম সেই বাসার গৃহকর্ত্রী আমাকে মোটামুটি আদর করত। কিন্তু ওই বাড়ির মালিকের স্ত্রী (আয়েশা আক্তার) কারণে-অকারণে আমাকে বকত। শনিবার দুপুরের আগে বাড়ির উঠান থেকে আমি কয়েকটা মেহেদি পাতা আনতে গেলে টবের একটি ফুলগাছের ডাল ভেঙে যায়। সেটা দেখে বাড়ির মালিকের স্ত্রী আমাকে বাড়ির গ্যারেজে নিয়ে মারধর করে। এর পর রাতে আমাকে আবার ডেকে পাঠায়। আমাকে ছাদে নিয়ে গিয়ে বলে তোর সঙ্গে কথা আছে। এর পর আমাকে আবারও মারতে থাকে। আমি তখন তাকে খামচি দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাকে জোর করে মারতে মারতে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।’
মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার কয়েক দিন আগেই আমার স্ত্রী বাড়িতে যায়। আমি অফিস করে এসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। যখন ঘটনা ঘটে, তখন আমার মা বাসায় ছিল। হঠাৎ করে বাড়িওয়ালি শিমুকে ডেকে পাঠায়। তখন আমার মা বলে, যদি ডেকে থাকে তাহলে শুনে আয় কেন ডাকে। এর কিছুক্ষণ পরেই বাড়ির দারোয়ানসহ সবার চিৎকার শুনে নিচে গিয়ে দেখি শিমু পড়ে আছে। আমরা অজ্ঞান অবস্থায় তাকে কচুক্ষেতের হাইটেক হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার ডাক্তাররা অবস্থা গুরুতর বলে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলেন। এর পর আমরা রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।’
মেয়েটি বর্তমানে ২০৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। সেখানকার চিকিৎসক আশরাফউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়েটির শরীরের অবস্থা দেখেই বোঝা যাচ্ছে তাকে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তার দুই পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেছে। মেরুদণ্ডের একটি হাড় সরে গেছে। পেটের ভেতর রক্ত জমে আছে। এমন অবস্থায় চাইলেও অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। আমরা মেয়েটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’
ঘটনার পর থেকেই আয়েশা বেগম বাড়িতে নেই। তাঁর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ওই বাড়িতে থাকি না। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। ঘটনাস্থলে গেলেই আপনারা সব জানতে পারবেন। এ বিষয়ে আমার কোনো কথা নেই।’
ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এ বি এম আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। আমরা মামলার তদন্ত করছি। আইন অনুযায়ী আমরা সবকিছু করব।’
Tuesday, April 28, 2015
কেন্দ্র দখল করে সিল মারার উৎসব by শরিফুল হাসান
![]() |
| ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন একের পর এক ব্যালটে সিল মেরেছেন। ছবি: শরিফুল হাসান |
ঢাকা
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মাসুম আল জাকী।
দুপুরে তিনি আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রে গেলেন ভোট দিতে। কিন্তু তাঁকে জানানো
হলো, কোনো ব্যালট নেই। ভোট দিতে পারবেন না। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সহায়তা
চাইলেন তিনি। কিন্তু প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুরোধের পরেও তাঁকে দেওয়ার মতো
কোনো খালি ব্যালট ছিল না।
এই কেন্দ্রের একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন লোকজন একের পর এক ব্যালটে সিল মারছে।
কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকেই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা এখানকার ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে সিল মেরেছেন। দুপুরের পর তাঁরা আর কোনো ব্যালটই খালি রাখেননি। ফলে অনেককেই ভোট না দিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।
এই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা একজন বৃদ্ধ নারী পোলিং কর্মকর্তা কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শুরু হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর কিছু ছেলে এল। তারা সব ব্যালট জোর করে নিয়ে গেল। এরপর তারা ইলিশ প্রতীকের পক্ষে সিল মেরে যেতে থাকল। তবে ব্যালটের মুড়ির অংশেও ভোটের সিল থাকতে হয়। সেগুলোতে তারা সিল মারতে পারেনি। পরে তারা আমাদের বাধ্য করে সিল মারতে।’
বিকেল পৌনে চারটার দিকে ওই কেন্দ্রে থাকা মাসুদ রানা নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখা গেল ব্যালটে সিল মারতে। ওই দৃশ্য ভিডিও করতে গেলে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষের এক নেতা সামনে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর নাম শহিদুল ইসলাম। তিনি বললেন, ‘ভাই কী ছবি তুলছেন দেখি।’ তাঁকে এই প্রতিবেদক বলেন, ‘না ভাই ছবি তো তুলতে পারিনি।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘মান-সম্মান ডুবাইয়েন না।’
ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, সকালের পর আওয়ামী লীগের লোকজন এই কেন্দ্র দখল করে নেয়। এরপর আর কারো কিছু করার ছিল না। তাঁরা বলেন, তাঁরা রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, র্যাবের এক মেজর, পুলিশ-সবার সাহায্য চেয়েছেন। কিন্তু কেউ কোনো সাহায্য করতে পারেনি।
এই কেন্দ্রের একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন লোকজন একের পর এক ব্যালটে সিল মারছে।
কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকেই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা এখানকার ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে সিল মেরেছেন। দুপুরের পর তাঁরা আর কোনো ব্যালটই খালি রাখেননি। ফলে অনেককেই ভোট না দিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।
এই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা একজন বৃদ্ধ নারী পোলিং কর্মকর্তা কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শুরু হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর কিছু ছেলে এল। তারা সব ব্যালট জোর করে নিয়ে গেল। এরপর তারা ইলিশ প্রতীকের পক্ষে সিল মেরে যেতে থাকল। তবে ব্যালটের মুড়ির অংশেও ভোটের সিল থাকতে হয়। সেগুলোতে তারা সিল মারতে পারেনি। পরে তারা আমাদের বাধ্য করে সিল মারতে।’
বিকেল পৌনে চারটার দিকে ওই কেন্দ্রে থাকা মাসুদ রানা নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখা গেল ব্যালটে সিল মারতে। ওই দৃশ্য ভিডিও করতে গেলে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষের এক নেতা সামনে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর নাম শহিদুল ইসলাম। তিনি বললেন, ‘ভাই কী ছবি তুলছেন দেখি।’ তাঁকে এই প্রতিবেদক বলেন, ‘না ভাই ছবি তো তুলতে পারিনি।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘মান-সম্মান ডুবাইয়েন না।’
ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, সকালের পর আওয়ামী লীগের লোকজন এই কেন্দ্র দখল করে নেয়। এরপর আর কারো কিছু করার ছিল না। তাঁরা বলেন, তাঁরা রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, র্যাবের এক মেজর, পুলিশ-সবার সাহায্য চেয়েছেন। কিন্তু কেউ কোনো সাহায্য করতে পারেনি।
চারটার পরও সিল মারার মহোৎসব by টিপু সুলতান ও জাহাঙ্গীর শাহ
ঢাকা
উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আজ মঙ্গলবার সকাল
আটটায় ভোট নেওয়া শুরু হয়, চলে টানা বিকেল চারটা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে
কেন্দ্র দখল করে সরকার-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিতে দেখা গেছে।
কিন্তু বিকেল চারটায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরও ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন
নির্বাচনের একটি কেন্দ্রদখল করে ব্যালটে সিল মারতে দেখা গেছে।
উত্তরার নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে বিকেল চারটা ২৫ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন বুথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ব্যালটে সিল মারতে দেখা গেছে।
এ সময় ভোটকেন্দ্রের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক ক্যামেরায় এ দৃশ্য ধারণ করতে গেলে তাঁকে জোরপূর্বক বুথ থেকে বের করে দেন সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা।
বিকেল চারটায় ভোট গ্রহণ শেষে কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বুথে সরকার দলীয় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ব্যালটের বই নিয়ে একের পর এক পাতায় এক নাগাড়ে সিল মেরে তা বাক্সে ভরছিলেন। আরেক গ্রুপ ব্যালট বইয়ের মুড়ির অংশে টিপসই দিচ্ছিল। নেতা গোছের কয়েকজন পাইকারি হারে ব্যালটে সিল মারা ঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা তদারকি করছিলেন।
এমনটা চলে বিকেল চারটা ২৫ মিনিট পর্যন্ত। এরপর প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে সিলমারা ব্যালট বাক্সগুলো নেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপস্থিত ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তারা কিছু বলতে রাজি হননি।
ভোট শেষ হওয়ার আগে থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান নেন।
উল্লেখ্য, নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নারী-পুরুষের জন্য মোট চারটি ভোট কেন্দ্র। এসব ভোটকেন্দ্রে মোট বুথ সংখ্যা ২৮। দিনভর এ কেন্দ্রে সরকার-দল সমর্থিত প্রার্থীরা ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ছিল না।
উত্তরার নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে বিকেল চারটা ২৫ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন বুথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ব্যালটে সিল মারতে দেখা গেছে।
এ সময় ভোটকেন্দ্রের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক ক্যামেরায় এ দৃশ্য ধারণ করতে গেলে তাঁকে জোরপূর্বক বুথ থেকে বের করে দেন সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা।
বিকেল চারটায় ভোট গ্রহণ শেষে কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বুথে সরকার দলীয় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ব্যালটের বই নিয়ে একের পর এক পাতায় এক নাগাড়ে সিল মেরে তা বাক্সে ভরছিলেন। আরেক গ্রুপ ব্যালট বইয়ের মুড়ির অংশে টিপসই দিচ্ছিল। নেতা গোছের কয়েকজন পাইকারি হারে ব্যালটে সিল মারা ঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা তদারকি করছিলেন।
এমনটা চলে বিকেল চারটা ২৫ মিনিট পর্যন্ত। এরপর প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে সিলমারা ব্যালট বাক্সগুলো নেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপস্থিত ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তারা কিছু বলতে রাজি হননি।
ভোট শেষ হওয়ার আগে থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান নেন।
উল্লেখ্য, নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নারী-পুরুষের জন্য মোট চারটি ভোট কেন্দ্র। এসব ভোটকেন্দ্রে মোট বুথ সংখ্যা ২৮। দিনভর এ কেন্দ্রে সরকার-দল সমর্থিত প্রার্থীরা ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ছিল না।
Subscribe to:
Posts (Atom)
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2388)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
বিনোদন
শেষের পাতা
ক্রিকেট খেলা
মধ্যপ্রাচ্য
যুক্তরাষ্ট্র
দেশে দেশে
নির্বাচন
স্পেশাল প্রতিবেদন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আমার দেশ
আইন আদালত ও বিচার
ইসরায়েল
ফুটবল খেলা
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ফিলিস্তিন
Lead
রাজধানী
আন্দোলন
অপরাধ
এক্সক্লুসিভ
ইরান
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
কালবেলা
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
চট্টগ্রাম
বিশাল বাংলা
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
হত্যা
নতুন বার্তা
ধর্ম
মুসলিম
যুক্তরাজ্য
স্মরণ
গল্প
রাশিয়া
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
জাতিসংঘ
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সাক্ষাৎকার
মুক্তিযুদ্ধ
ইউরোপ
সৌদি আরব
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ইতিহাস
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
জামায়াতে ইসলামী
সোহরাব হাসান
অমানবিক
পশ্চিমবঙ্গ
আলোকিত চট্টগ্রাম
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
জাতীয় সংসদ
নারী ধর্ষণ
আনন্দ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
আফ্রিকা
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
মাদক
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
সংখ্যালঘু
যৌন আবেদনময়ী
তুরস্ক
প্রবাস
ছুটির দিনে
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
আফগানিস্তান
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
বইপত্র
অন্য আলো
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ছবি
প্রতারণা
ইউক্রেন
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
তরুণ প্রজন্ম
ব্যবসা বাণিজ্য
দুর্ঘটনা
অপহরণ
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
স্বাস্থ্য
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
Exclusive
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
হিন্দু
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
ইয়েমেন
রুদ্র মিজান
খুলনা
মানবকণ্ঠ
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
নেপাল
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
জ্যোতির্বিজ্ঞান
সড়ক দুর্ঘটনা
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
শিল্প ও সাহিত্য
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
কক্সবাজার
এ এম এম শওকত আলী
ঢাকা
বন্ধুসভা
মিয়ানমার
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
ফ্রান্স
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
গবেষণা
মিসর
জীবনযাপন
বাংলাদেশ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
শোক
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
কিশোরগঞ্জ
লেবানন
আবদুল মান্নান
কুমিল্লা
জাপান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
শিল্প
মুক্তমত
মাহমুদুর রহমান
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
পার্বত্য চট্টগ্রাম
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
সীমান্ত সন্ত্রাস
ইরাক
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
যশোর
HotTopic
চিকিৎসা
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
তথ্য প্রযুক্তি
কলকাতা
মেহেদী হাসান
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
বরগুনা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আনু মুহাম্মদ
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
ব্রাজিল
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মসজিদ
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
বরিশাল
আতাউর রহমান
আসাম
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
রোকনুজ্জামান পিয়াস
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
ফেনী
রণজিৎ বিশ্বাস
অরুণ কর্মকার
উত্তর কোরিয়া
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
জলবায়ু ও পরিবেশ
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
কালি ও কলম
তুহিন ওয়াদুদ
ইন্দোনেশিয়া
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
অপরাজিতা
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
রাজীব আহমেদ
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
জনস্বাস্থ্য
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
নিবন্ধ
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
কুষ্টিয়া
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
জাতীয় নাগরিক পার্টি
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
উচ্চশিক্ষা
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
চারু শিল্প
দিল্লি
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
কাতার
বিজ্ঞান
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
প্রযুক্তি
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
আদিবাসী
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
কালের খেয়া
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
কানাডা
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
ঝড় ও দুর্যোগ
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
শিশির মোড়ল
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আরব আমিরাত বা দুবাই
আলম শাইন
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
হুমায়ূন আহমেদ
আবুল হাসনাত
আল আমিন
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
লাতিন আমেরিকা
হারুন হাবীব
অমিত বসু
ওমর ফারুক
জার্মানি
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
সুদান
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
কাজী হাফিজ
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
ব্যবসা
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
আবু সালেহ আকন
ইসলাম
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
দক্ষিণ কোরিয়া
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
লিবিয়া
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
আসজাদুল কিবরিয়া
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
উইঘুর মুসলিম
এম শাহজাহান
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
জোহরান মামদানি
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মহাকাশচারী
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
Fantastic
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
ইতালি
নিয়ন আলোয়
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
গ্রিনল্যান্ড
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
ইহুদি
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
কিশোর আলো
ডিডাব্লিউ
নরসিংদী
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জলবায়ু পরিবর্তন
ঝালকাঠি
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
যৌন অপরাধ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
চুয়াডাঙ্গা
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
গণমাধ্যম
ধর্মঘট
স্পেন
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
খ্রিষ্টধর্ম
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
গদ্যকার্টুন
পিরোজপুর
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
জন্মদিন
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
তিউনিসিয়া
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
প্রবাসী শ্রমিক
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
শিশুমৃত্যু
সুশাসনের জন্য নাগরিক
সোমালিয়া
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
কুয়েত
চট্টগ্রাম বন্দর
চিঠিপত্র
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দুর্যোগ
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মরক্কো
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
হংকং
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
ওমান
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চুক্তি
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বন্য প্রাণী
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সমাজ
সামাজ
সুজন সুপান্থ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
জঙ্গি
জর্দান
জাদুঘর
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
নরওয়ে
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শেরপুর
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সিঙ্গাপুর
সুইডেন
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
অ্যান্টার্কটিকা
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পানিসম্পদ
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
রাজবাড়ী
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পুলিশ
পেরু
পোল্যান্ড
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আব্বাস আরাগচি
আলজেরিয়া
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইলহান ওমর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রিস
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাত্রদল
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নীহারুল ইসলাম
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বাহরাইন
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলগেরিয়া
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রকিব হাসান
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট













