Monday, September 30, 2019

নতুন ঘরে সেই ‘মা’

অবশেষে গোয়ালঘর থেকে নতুন ঘরে ঠাঁই পেলেন ৯০ বছরের বৃদ্ধা সমলা খাতুন। মানবিক এক পুলিশ কর্মকর্তার উদ্যোগে পেলেন এক নিরাপদ আশ্রয়। হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলীর উদ্যোগ আর তত্ত্বাবধানে সমলা খাতুনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে পরিপাটি একটি ঘর। শনিবার বিকালে সেই ঘরে আনুষ্ঠানিকভাবে উঠেন সমলা খাতুন। চার ছেলে ও চার মেয়ের জননী সমলা খাতুন হোসেনপুর উপজেলার সাহেদল গ্রামের নবী হোসেনের স্ত্রী। তার চার মেয়েই স্বামীর সংসারে। স্বামী নবী হোসেন আরেক স্ত্রী গ্রহণ করায় খোঁজ নিতেন না সমলা খাতুনের। তার নামে থাকা দুই শতক জায়গাও লিখে দিয়েছেন ছোট দুই ছেলে হেলাল উদ্দিন ও নিজাম উদ্দিনের নামে।
এরপর থেকে ছেলেরাও আর তার কোন খোঁজ নিত না। স্বামী-সন্তান থেকেও যেন কেউ ছিল না সমলা খাতুনের। অগত্যা পরিত্যক্ত মালামালের মতো তারও ঠাঁই হয় বাড়ির গোয়ালঘরে। গোয়াল ঘরের এক কোণে মাথা গুজে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছিল সমলা খাতুনের।
গত ১৪ই সেপ্টেম্বর একটি অভিযোগের সূত্র ধরে বিষয়টি জানতে পারেন হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলী। অভিযোগ দেখে হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলী সেই মাকে দেখতে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও অফিসার ফোর্সসহ ওইদিন বিকালেই ছুটে যান উপজেলার সাহেদল গ্রামে। তিনি স্থানীয় দুই ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে সমলা খাতুনকে ছোট ছেলে নিজাম উদ্দিনের ঘরে তুলে দেন। সমলা খাতুনের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন দ্বিতীয় ছেলে ইমান উদ্দিনের ব্যবসায়ী ছেলে ওমর ফারুক। এছাড়া চার ছেলে গিয়াস উদ্দিন, ইমান উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন ও নিজাম উদ্দিন দশ দিনের মধ্যে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেয়ার লিখিত অঙ্গীকার করেন। কিন্তু ছেলেদের নতুন ঘর নির্মাণ করা নিয়ে সংশয় থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলী নিজেই পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেন এই দুখিনী মায়ের থাকার জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেয়ার। বিষয়টি জানতে পেরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার)। বৃদ্ধা সমলা খাতুনের জন্য নতুন ঘর নির্মাণে তিনি দেন আর্থিক সহায়তা। হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলী এবং ওসি শেখ মো. মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়াও সহযোগিতার হাত বাড়ান জেলা পরিষদ সদস্য মাসুদ আলম। সবমিলিয়ে ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সমলা খাতুনের জন্য নির্মাণ করা হয় একটি সুন্দর-পরিপাটি ঘর। শনিবার বিকালে সেই ঘর আনুষ্ঠানিকভাবে সমলা খাতুনকে হস্তান্তর করতে সাহেদল গ্রামে যান হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলী এবং ওসি শেখ মো. মোস্তাফিজুর রহমান। সেখানে জেলা পরিষদ সদস্য মাসুদ আলম ও পৌর মেয়র আব্দুল কাইয়ুম খোকনসহ সমলা খাতুনকে নিয়ে তারা ফিতা কেটে ঘরটির উদ্বোধন করেন। পরে সেই ঘরে তুলে দেয়া হয় সমলা খাতুনকে। নতুন ঘরে সমলা খাতুনকে তুলে দেয়ার পর তাকে মিষ্টিমুখ করান হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলী। শতবর্ষী স্বামী নবী হোসেন আর চার ছেলের চোখে তখন আনন্দাশ্রু। অভিভূত সমলা খাতুন নিজেও। জীবন সায়াহ্ণে এসে নিজের ঘরে মাথা রেখে মরতে পারবেন, এই ভেবে এক অন্যরকম আভা ঠিকরে পড়ছিল তার চোখে-মুখে।
হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলী বলেন, সমলা বিবি’র মতো একজন অসহায় মায়ের মুখে হাসি ফিরেছে এটিই আমাদের পরম পাওয়া। পুলিশের পক্ষ থেকে এই মায়ের জন্য নতুন ঘর তৈরি করে দিতে পেরে আমরা ভীষণ আনন্দিত। ছেলেরাও তাদের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত। এখন তারাও তাদের সাধ্যমতো তাদের মা-র পাশে থাকবে বলে অঙ্গীকার করেছেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে গত ১৬ই সেপ্টেম্বর দৈনিক মানবজমিন এ সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত এই সংবাদের মাধ্যমে বৃদ্ধা সমলা খাতুনের চরম অসহায়ত্বের কথা জেনে ওইদিন দুপুরেই তার বাড়িতে ছুটে যান হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ মহি উদ্দিন। ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা সমলা খাতুনের হাতে ইউএনও শেখ মহি উদ্দিন সেদিন তুলে দেন বয়স্ক ভাতার বই ও কিছু নগদ অর্থ। এরপর গত ২৩শে সেপ্টেম্বর সমলা বিবি’র খোঁজখবর নিতে আবারও উপজেলার সাহেদল গ্রামে যান হোসেনপুরের ইউএনও শেখ মহি উদ্দিন। এ সময় ইউএনও শেখ মহি উদ্দিন সাথে নিয়ে যান তার গরবিনী মা তাহেরা খাতুনকে। মা-ছেলে মিলে নেন সমলা খাতুনের ভাল-মন্দের খোঁজখবর। বয়সের ভারে ন্যূজ সমলা খাতুনের চলাফেরার জন্য ইউএনও’র উদ্যোগে তখন দেয়া হয় একটি হুইল চেয়ার।

দরিদ্রদের জন্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠার আহবান: -জাতিসংঘে প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস

সামাজিক ব্যবসা ভিত্তিক দরিদ্রদের জন্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘শূন্য আর্থিক বহির্ভূক্তি’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেল জয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূস। ২৭শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘আধুনিক দাসত্ব ও মানব পাচারের উপর গঠিত আর্থিক খাত কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহবান জানান। জাতিসংঘ কার্যালয়ে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সময়ে এর চেয়ারপার্সন মিস ফিয়োনা রেনল্ড্স ছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কমিশনের আহ্বায়ক, সহ-আহ্বায়ক ও কমিশনারগণ। কমিশনের অন্যতম সহ-আহ্বায়ক প্রফেসর ইউনূস বলেন, পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক আর্থিক সেবা থেকে বঞ্চিত থাকার কারণ কোনো বাজার ব্যর্থতা নয়, এটা পরিস্কারভাবে অর্থনীতির কাঠামোগত ব্যর্থতা। বিদ্যমান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিম্ন আয়ের নারী-পুরুষদের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছানোর উপযোগী করে তৈরী করা হয়নি। এই ঘাটতি পূরণ করতে বিশেষ করে সামাজিক ব্যবসার নীতির ভিত্তিতে দরিদ্রদের জন্য আলাদা ব্যাংক সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

ড. ইউনূস বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের কাছে পৌঁছাতে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি গড়ে তুললেও ক্ষুদ্রঋণ এখনো আর্থিক খাতে একটি পাদটিকা হয়ে রয়েছে। এটাকে মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শুধু আর্থিক অন্তর্ভূক্তি যথেষ্ঠ নয়, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘শূন্য আর্থিক বহির্ভূক্তি’ নিশ্চিত করা।
মূলধনের অভাবে গ্রামাঞ্চলের মানুষের ভেতরকার সহজাত উদ্যোক্তা শক্তি উন্মোচিত হতে পারে না। এতে তারা সহজেই মানব পাচার ও বঞ্চনার শিকার হয়ে পড়ে। এই প্রতিবেদনে শোষণমুক্ত, উপযুক্ত ও নিরাপদ অর্থায়ন আধুনিক দাসত্ব ও মানব পাচার থেকে দরিদ্র মানুষকে অনেকটাই দুরে রাখতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়।

প্রফেসর ইউনূস বলেন যে, ‘আমাদেরকে এখনই কাজে নেমে পড়তে হবে। আর্থিক দিক থেকে এখনই জরুরিভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সকল প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন ও শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। নিয়ন্ত্রক ও আইন প্রণেতাদেরকে সামাজিক ব্যবসা যে সকল নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে সেগুলোর দরজা উন্মুক্ত করে দিতে হবে। আর্থিক খাতের নেতৃবৃন্দকে শুধু আধুনিক দাসত্ব ও মানব পাচারের প্রান্তিক পর্যায়ের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করলে চলবে না, তাঁদেরকে আর্থিক বহির্ভূক্তিসহ এসকল সমস্যার মূল কারণগুলো দূর করতে তাঁদের ব্যবসায়ের মডেল গুলোও পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

উল্লেখ্য, আধুনিক দাসত্ব ও মানব পাচার অবসানের লক্ষ্যে আর্থিক খাতকে বৈশ্বিক প্রচেষ্টার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গঠিত হয় কমিশনটি। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহের ৮.৭ নং লক্ষ্যমাত্রাটি অর্জন করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে আধুনিক দাসত্ব ও মানব পাচারের অবসান করা প্রয়োজন। বর্তমানে প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষ আধুনিক দাসত্ব ও মানব পাচারের শিকার হয়ে থাকে।
কমিশনের চেয়ারপার্সন ছিলেন জাতিসংঘ-সহায়তাপুষ্ট প্রিন্সিপল্স ফর রেস্পননিবল ইনভেস্টমেন্ট এর প্রধান নির্বাহী মিস ফিয়োনা রেনল্ড্স।

মানবপাচারই ‘ধান্ধা’ বিশ্বনাথের পিংকির by ওয়েছ খছরু

ভাই পারভেজ লিবিয়ায়। ওখান থেকে দিতো নির্দেশনা। দেশে বোন পিংকি। ভাইয়ের কাছ থেকে সব নির্দেশনা নিয়ে মানবপাচারের ধান্ধা শুরু করে। সিলেটের বিশ্বনাথের নিজ বাড়িতে বসেই গোটা সিলেট অঞ্চলে মানবপাচারের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। নিজেও খুবই চালাক। নিজেই ছুটে যেতেন পার্টির বাড়িতে। মনভুলানো কথা বলে ফাঁদে ফেলতেন মানুষকে।
তার কথায় বিগলিত হয়ে বিশ্বনাথসহ সিলেট অঞ্চলের অনেক যুবকই ইতালির পথে অজানার উদ্দেশ্য পাড়ি জমায়। শেষে লাশ হয়ে ফিরেন অনেকেই। গত মে মাসে ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডির পর আর রক্ষা হয়নি বিশ্বনাথের পিংকির। মানবপাচারের ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি হয় সে। বিষয়টি বুঝতে পেরে পিতা রফিককে নিয়ে বাড়ি থেকে পালায় পিংকি। প্রায় দুই মাস আগে ফিরে সিলেটে। আদালত থেকে নেয় জামিনও। এরপর সে বিশ্বনাথের কাটালীপাড়া গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করছিলো। সেই পিংকিকে গত রোববার রাতে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আর গ্রেপ্তারের পর তাকে ঢাকার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডির ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করছে সিআইডি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নেয়া হয়েছে বলে জানায় সূত্র। পিংকির পুরো নাম পিংকি অনন্যা প্রিয়া। বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বৈরাগীবাজার কাঠালীপাড়া গ্রামে। পিতা রফিকুল ইসলাম রফিক। পিংকির পুরো পরিবারই জড়িত মানবপাচারে। আর বিষয়টি তদারকি করে লিবিয়ায় থাকা ভাই পারভেজ আহমদ। কয়েক বছর আগে রফিক তার সন্তানদের নিয়ে বিশ্বনাথের পুরান বাজারের ভাড়া বাসায় থাকতো। ওই সময় পিংকির বিয়ে হয়েছিলো। পরবর্তীতে স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার কারণে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। এরপর থেকে পিংকি পিতার পরিবারেই বসবাস করছে। পিংকি ও তার পরিবারের প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, কয়েক বছর ধরেই পিংকির পিতা রফিক আহমদ রফিক এলাকার লোকজনের মাধ্যমে কথা বলে তাদের সন্তানকে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিতে থাকে। এবং কম টাকায় ইতালি যাওয়ার পথ দেখায় সে। তার এই পরামর্শে কয়েকজন যুবক লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। এরপর রফিকের মাধ্যমে পরবর্তী কথাবার্তা বলার জন্য পাঠায় মেয়ে পিংকির কাছে। বিশ্বনাথের গ্রামের বাড়িতে বসেই পিংকি কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক ইতালি যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে। এর মধ্যে ছিল বিশ্বনাথের নওধার মাঝপাড়া গ্রামের রেদওয়ানুল ইসলাম খোকন। ১১ই মে ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডির ঘটনায় খোকন সাগরে মারা গেছে। এ ঘটনায় খোকনের ভাই রেজাউল ইসলাম রাজু বাদী হয়ে সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তিনি পিংকিকে আসামি করেছেন। এ ছাড়া মামলায় পিংকির পিতা রফিকুল ইসলাম রফিক, সিলেটের রাজা ম্যানশনের ট্র্যাভেলস ব্যবসায়ী এনামুল হক, আব্দুর রাজ্জাক ও পিংকির লিবিয়া থাকা ভাই পারভেজকে আসামি করা হয়। এ মামলা দায়েরের আগেই এলাকা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলো। প্রায় দুই মাস আগে সিলেটে ফিরে পিংকি। জামিন নিয়ে বিশ্বনাথে ফিরে। গতকাল র‌্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে রোববার সন্ধ্যায় অভিযানে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানাধীন দক্ষিণ কাটালীপাড়া থেকে বানিয়াচং থানার মানবপাচার প্রতিরোধ, দমন আইনে দায়ের করা আসামি ও পাচারকারী নারী আসামি পিংকিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাকে ঢাকায় সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। পিংকির বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়েরকারী রেজাউল ইসলাম রাজু গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, পিংকি আপাদমস্তক একজন মানবপাচারকারী। পিংকিদের এলাকায়ই তার বাড়ি। পিংকির কথায় উৎসাহিত হয়ে ভাই খোকনকে ইতালি পাঠাতে রাজি হন। কিন্তু তার ভাই সাগরে মারা যায়। এতে পিংকির পরিবারকে প্রায় ৮ লাখ টাকা তারা দেন। তিনি জানান, পিংকির পিতা মাদকাসক্ত। এ কারণে মানবপাচারের পুরো বিষয়টি দেখভাল করতো পিংকি নিজেই। সে নিজেও ছুটে যেতো পার্টির বাড়ি। সব টাকা পয়সা পিংকি তার নিজের অ্যাকাউন্টে নিতো। এতে করে তারা অনেকের কাছ থেকে টাকা লুটে নিয়েছে। বিশ্বনাথের অগ্রণী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে পিংকির অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তিনি বলেন, সিলেটের ট্র্যাভেলস ব্যবসায়ী এনামুল হকের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকায় ওই মামলায় এনাম ও রাজ্জাককে আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু আমরা নই, পিংকি ও তার পরিবারের কাছে অনেক মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বানিয়াচংয়ের সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলার আসামি পিংকি। কিশোরগঞ্জের বুলবুল নামের এক যুবকের মাধ্যমে সোহেলের পরিচয় হয়েছিলো পিংকির সঙ্গে। এরপর পিংকি তাদের তিনজনকে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর নামে প্রথমে ১৬ লাখ এবং পরে আরো ১০ লাখ টাকা নেয়। সোহেল রানা নিজেই ছিলেন ইতালির যাত্রী। ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডির ঘটনায় তিনি বেঁচে গিয়ে বাড়ি ফিরেন। আর ফিরে এসেই পিংকির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এখনো পলাতক পিংকির পিতা রফিক আহমদ রফিক। সে কোথায় আছে কেউ জানে না। তবে পিংকির কাছ থেকে রফিকের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

তিনি একজন ইউপি চেয়ারম্যান by মিজানুর রহমান

হাইস্কুলের গণ্ডি পার হতে পারেননি। বখে যাওয়ায় অতিষ্ঠ শিক্ষক-বাবা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। অর্থকষ্টে দিন কেটেছে, বাসের হেলপারি করেছেন, আরো কত কি! কিন্তু মাত্র কয়েক বছরে আজ তার দিন এমনই পাল্টে গেছে যে, কোটি টাকাও তার কাছে তুচ্ছ। দামি গাড়ি হাঁকান তো বটেই, মডেল বদলান বছরান্তে। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বিদেশ যান। অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ির সাজ-সজ্জার কাজ সদ্য শেষ করেছেন। সাভার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা সোহেল রানার ব্যক্তিগত বিলাসী জীবন আর অর্থের পাহাড় নিয়ে কৌতূহলী ঢাকার উপকণ্ঠের শিল্প নগরীর মানুষজন। নির্বাচন স্থগিত হওয়াসহ নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালে চেয়ারম্যান হওয়া সোহেল হজ-ওমরাহ করেছেন কয়েক বার। হাজী মো. সোহেল রানা নামেই এখন তিনি ব্যানার-ফেস্টুনে প্রচার চালাতে পছন্দ করেন।
তার চাঁদাবাজি, গ্যাংবাজিতে অতিষ্ঠদের ভাষ্য মতে, অবৈধ অর্থে রানার উত্থান রূপকথাকেও হার মানিয়েছে। ভুক্তভোগীদের অনেকে এখন মুখ খুলছেন। কেউবা পরবর্তী ঝামেলার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দালিলিক প্রমাণ, থানায় থাকা রেকর্ড এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা বিস্তর তথ্যে এটা নিশ্চিত যে, ক্ষমতাসীন দলের সাইনবোর্ড ব্যবহারে রাজধানীসহ দেশব্যাপী যে নব্য লুটেরা গ্রুপ অবৈধভাবে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা-স্বর্ণালংকার এবং বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছে সোহেল রানা তাদের দলভুক্ত। সাভারের কলমা, সিএন্ডবি এলাকার ঝুট ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রক তিনি। ওই এলাকায় চাঁদাবাজি আর জমি নিয়ে ছলচাতুরীতে তিনি সিদ্ধহস্ত। আর নারী? সেটি তার হাতের খেলনা। যাকে ইচ্ছা কাছে টানেন, ছুড়ে মারতেও ইতস্ততবোধ করেন না। তবে ঝামেলা যে হয়নি তা কিন্তু নয়। এ পর্যন্ত ৪টি বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। যাদের দু’জনকে ছেড়ে (ডিভোর্স) দিয়েছেন। চতুর্থজনকে ঘরেই তুলেননি। তবে সালিশে সন্তানের দায় নিতে বাধ্য হয়েছেন। স্ত্রীকে কিছু অর্থকড়িও দিয়েছেন-দিচ্ছেন। বর্তমানে তৃতীয় স্ত্রী নিয়ে বেশ সুখে-শান্তিতে আছেন তিনি- বলছেন তার ঘনিষ্ঠজন ও পরিবারের সদস্যরা। তাদের দেয়া তথ্য মতে, ‘প্লে বয়’ সোহেলের বর্তমান স্ত্রী তারই বেয়াইন (বোনের ননদ)। স্বামী ছিলেন বিদেশ বিভূঁইয়ে। আত্মীয়তার সুবাদে তার জীবনে সোহেলের প্রবেশ। প্রেম গভীর থেকে গভীরতর হলে এক সন্তানকে নিয়ে প্রথম স্বামীকে ছেড়ে বন্ধু সোহেলের সংসারে চলে আসেন। অবশ্য তিনি স্থানীয় মাতব্বরের মেয়ে হওয়ায় স্ত্রীর মর্যাদা আদায় করেছেন বেশ সহজে। আর তার সংসারের হালও ধরেছেন বেশ শক্তভাবে। পরিচিত মহলে ওই নারীর প্রশংসাও শোনা যায়।
বর্তমানে ভারতে থাকা সোহেল রানার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নিতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে পরিচয় পেয়ে ‘ব্যস্ত আছি’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে অন্য নাম্বার থেকে দফায় দফায় চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনটি ধরেননি।
জনশ্রুতি আছে সোহেল ‘ব্যবসা’ এবং ‘অবস্থা’ বুঝে নেতা বদলান। বিএনপি জমানায় যখন প্রথম ঝুট ব্যবসায় নামেন তখন দলটির স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে চলতেন। পরবর্তীতে তার আত্মীয় মুরাদ জং সাভারের এমপি হলে তার নাম ভাঙ্গিয়ে কাজ চালাতেন। এক সময় মুরাদ জংয়ের ‘ব্যবসা দেখছেন’ বলেও প্রচার করতেন। জং-য়ের আমল শেষ হলে স্থানীয় এমপি এনামুর রহমানের কাছে ভিড়েন। এবার এনামুর রহমান ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে তাকে নিয়ে এলাকায় বেশক’টি প্রোগ্রাম করে ঘনিষ্ঠতা প্রচারের চেষ্টা করেন। ওই এলাকা থেকে এমপি মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান তুহিনের সঙ্গেও সখ্য রয়েছে পরবর্তী রাজনীতির জন্য। তবে স্থানীয়দের কাছে এটি রহস্য যে, সোহেল আসলে কার লোক? দলে তার পদ-পদবি-ই-বা কি? স্থানীয় কোনো নেতা এটা স্পষ্ট করতে পারেননি। সোহেলের ঘনিষ্ঠ মহলে প্রচার আছে ঢাকার ক্যাসিনোতেও তার অনিয়মিত যাতায়াত ছিল। এটা নিশ্চিত করা যায়নি। যুবলীগের এক নেতার হাত ধরে এই জগতে তার প্রবেশ।
সোহেল সাভার সদরে নিজ সাম্রাজ্য ধরে রাখতে কখন যে কাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন তা নিয়ে ভয়ে থাকেন স্থানীয় এমপি-মন্ত্রী এবং নেতারা। এক নেতা মানবজমিনকে বলেন, ফেসবুকে নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রচার চালাতে তিনি বেতন দিয়ে কর্মচারী রেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে আছে তার ধন দৌলত আর গ্যাংবাজির নানা চিহ্ন। তিনি যে কত সম্পদের মালিক? সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারই এক কর্মচারী। ফেসবুকে দেয়া নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে হেলান নিয়ে পত্রিকা পড়া অবস্থার একটি ছবিতে ওই কর্মচারী লিখেছেন- স্যার আপনি এত ধনী?
অনুসন্ধান বলছে, সোহেল এখন অনেক পয়সাওয়ালা। কী নেই তার! টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার বাড়ি, দামি গাড়ি (বর্তমানে ব্যবহার করছেন ল্যান্ড ক্রুজার, প্রাডো, টিএক্স টয়োটা) সবই আছে তার। কিন্তু তার ইনকাম ট্যাক্সের ফাইলটি এখনো ততটা সমৃদ্ধ নয়। কারণ তার ‘মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামের বৈধ যে প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেটার আয় তেমন একটা নয়। এলাকাবাসী জানিয়েছেন- এটি নামসর্বস্ব। সোহেল এবং তার ভাই নাসির উদ্দিনের কু-নজর পড়েছে কলমা এবং সিএন্ডবি এলাকার একজন জমির মালিকও তাদের ‘বখরা’ না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভূমি হস্তান্তর করতে পারেননি। গত ৬-৭ বছর ধরে এভাবেই চলছে। ’১৬ সালে সোহেল চেয়ারম্যান হওয়ার পর তার দখলধারীর কৌশল পাল্টেছে। জমি দখল করেন বড় ভাই, স্বত্ব দাবি করে সাইনবোর্ডও টানান তিনি। চেয়ারম্যান হিসাবে সালিশ করেন সোহেল। মধ্যস্থতায় দখল ছাড়তে একটি আপসনামা হয়। ধার্য্য করা অর্থ চেকে বা ক্যাশে পরিশোধ হলে জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়। কেবল জমিই নয়, ওই এলাকায় স্কুল-কলেজ চালাতেও তাকে ভাগ দিতে হয়। না হয় সোহেল ক্যাডারদের আঘাত-অত্যাচার চলতে থাকে অবিরত! ইতালিতে স্থায়ীভাবে বসবাসরত কলমার মীর ফ্যামিলির সন্তান মো. আবদুল হান্নান যেমনটি বলছিলেন। ২০১১ সালে বিয়ে করতে দেশে এসেছিলেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করে বের হওয়া ক’জন যুবক তার এলাকায় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল করতে উদ্যোগী হন। হান্নান ছিলেন সহ-উদ্যোক্তা। সোহেল কিছুতেই এটি হতে দেবেন না। হুমকি-ধামকি, আর নানা অন্যায় আবদার। রাজি না হওয়ায় একদিন হামলা করে বসে তার সহযোগী ক্যাডাররা। সেলিম নামের এক ক্যাডারের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে আবদুল হান্নানের বৃদ্ধ মা চোখে আঘাত পান। আজও সেই চোখ ভালো হয়নি। শনিবার টেলিফোনে রোমে থাকা হান্নান মানবজমিনকে বলছিলেন- কলমার স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে একসময় নিয়মিত ঝামেলা হতো সোহেলের। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে তার প্রতিপত্তি এতটাই বেড়েছে যে, এখন তার গোষ্ঠীর লোকজনও তাকে সমীহ করে চলেন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে ওই এলাকায় সোহেলের কথাই শেষ কথা। বাইরের লোকজন তো তার কাছে রীতিমতো জিম্মি। কলমায় যে ক’টা কারখানা আছে তার ঝুটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। ওই এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টস, উইন্টার ড্রেস, হট ড্রেস লিমিটেডসহ অনেক কারখানা রয়েছে জানিয়ে হান্নান বলেন, ওই সব কারখানার জমি কেনা থেকে শুরু করে দখল বুঝিয়ে দেয়া, কারখানা প্রতিষ্ঠা এবং ব্যবসা পরিচালনায় সোহেল চেয়ারম্যানকে হয় ‘ব্যবসা’ না হয় ‘বখরা’ দিতে হয়। অনুসন্ধানে অতি সম্প্রতি দুই কোটি টাকার একটি এবং ৫০ লাখ টাকার অপরটি- তার মোট দুটি কমিশন আদায়ের তথ্য মিলেছে। যার দালিলিক প্রমাণও হাতে পেয়েছে মানবজমিন।
রেকর্ড বলছে, বহুবার সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। রানাপ্লাজা ধসের পর দুনিয়া জুড়ে কুখ্যাতি পাওয়া রানার নামের সঙ্গে সোহেল রানার নামের মিল থাকায় তার ছবি (ভুলবশত) ছাপা হয়েছিল একটি প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দৈনিকে। ২০১৭ সালের ২৭শে জানুয়ারি দেশের প্রতিষ্ঠিত আরেকটি ইংরেজি দৈনিকে তিনি খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন সড়ক ও জনপথের কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই সাভার এলাকার মহাসড়কের পাশে থাকা গাছ কেটে নিয়ে। সেই সময়ে তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি হয়েছিল।
সোহেলের গ্যাংবাজিসহ যত অপকর্ম: ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বরে সাভারের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম সোহেলের। বাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আতাউল্লাহ মাস্টার নামে তার খ্যাতি ইউনিয়নজুড়ে। তার ৩ ছেলের মধ্যে সবার ছোট সোহেল। অতি আদরের ছেলেটির আচরণে বিব্রত শিক্ষক বাবা বাধ্য হয়ে বাড়ি ছাড়তে হুকুম দেন। স্বজন-শুভানুধ্যায়ীদের হস্তক্ষেপে অবশ্য শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কাছাকাছি সময়ে সিএন্ডবি এলাকায় ঘটে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। এতে নিহত হন আতাউল্লাহ মাস্টারের দ্বিতীয় ছেলে অর্থাৎ সোহেলের মেজ ভাই। ওই ঘটনার পর থেকে মুষড়ে পড়েন তিনি, নব্বই ছুঁইছুঁই ওই ব্যক্তিত্ব এখনো আছেন সেভাবেই। এলাকার লোকজন জানান, যে সিএন্ডবি এলাকায় ভাই হারিয়েছেন সোহেল এখন সেই এলাকার সমস্ত যানবাহনের নিয়ন্ত্রক তিনি। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ে তার বেতনধারী কর্মচারী রয়েছে। ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে সোহেল হেন কৌশল নেই যা গ্রহণ করেন না। ২০১৪ সালের ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে রাসেল নামে একজনকে তিনি গুলি করেছিলেন।
সে আজীবন পঙ্গুত্ববরণ করেছে। ওই ঘটনায় রাসেলের বড় ভাই আমিনুল সাভার মডেল থানায় মামলা করেছিলেন। অন্তত ৬ জন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী দিয়েছেন। ওই মামলায় সোহেল গ্রেপ্তার হয়েছিল। থানায় থাকার রেকর্ড মতে, ওই ঘটনায় তার ৭ জন সহযোগীর নামে মামলা হয়েছিল। তার দু’জন ঘনিষ্ঠ সহযোগী (দুই সেলিম)সহ তাকে আটক করেছিল পুলিশ। অন্যরা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিল। যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছিল। তারা হলেন- সোহেলের বড় ভাই, মো. নাছির উদ্দিন, রফিকুল ইসলামের ছেলে শহীদুল ইসলাম। তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মনির হোসেন, তফিজ উদ্দিন শিকদারের ছেলে মো. সিহাব, মৃত রাহাব (রায়হান) আলীর ছেলে সেলিম আহমেদ, পিয়ার আলীর ছেলে মো. সেলিম ওরফে জামাই সেলিম এবং বাচ্চু মিয়ার ছেলে ফরহাদ হোসেন। এরা সবাই কলমা এলাকার বাসিন্দা। সোহেলের সহযোগী ক্যাডার গ্রুপে দিনে দিনে নতুন নাম সংযোজিত হচ্ছে। গ্রুপের কলেবরও বাড়ছে। বাড়ছে ধান্ধাও। বর্তমানে তার জমি থেকে চাঁদাবাজিতে যে সহযোগীরা সক্রিয় তারা হলেন- রকমান আলীর ছেলে কামাল, খলিল উল্লাহ’র ছেলে মোহন, কিয়াম উদ্দিন কেবলার ছেলে সিরাজ, শাহাব উদ্দিনের ছেলে এবং জ্যোতিষী মোস্তফার ভাই সাহাব উদ্দিন, মৃত আবদুল গফুরের ছেলে জালাল উদ্দিন রুমি, আবু মিয়ার নাতি বাবু, মফিজুদ্দিনের ছেলে শুকুর আলী, সোহাগ, হাশেম প্রমুখ। কামাল, মনির দু’জন আগে বিএনপির সমর্থনকারী হলেও এখন তারা সোহেলের পঞ্চপাণ্ডব দলের গুরুত্বপূর্ণ। ওই দলের অপর ৩ জন হলেন- তার ভাই নাসির, জামাই সেলিম এবং শহীদুল ইসলাম। অভিযোগ আছে ওই এলাকায় সেলিম মণ্ডল নামে একজন ঝুট ব্যবসা করতো। তাকে নানাভাবে পঙ্গু করে এখন সেটি সোহেলের কব্জায়। থানা-পুলিশ আর আদালতের বারান্দাই এখন সেলিম মণ্ডলের ঠিকানা।
বৈশাখী আসরে চেয়ারম্যানের ভাইয়ের জুয়ার বোর্ড, অতঃপর পুলিশি অভিযান: অভিযোগ আছে গত ১৪ই এপ্রিল নববর্ষ উদ্‌যাপনে দক্ষিণ কলমায় বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। সপ্তাহব্যাপী আয়োজন ছিল এটি। কিন্তু চেয়ারম্যান সোহেলের ভাই নাসির উদ্দিনের জুয়ার বোর্ড বসানোর কারণে পুলিশ তৃতীয় দিনেই সেখানে অভিযান চালায় এবং মেলা ভণ্ডুল করে দেয়। স্থানীয় মেম্বার এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সাভার সার্কেলের এসপি জানান, ওই এলাকায় বিভিন্ন ঘটনাই আসে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।

দুর্নীতি বিরোধিী অভিযানের দায়িত্ব পুলিশকে বাদ দিয়ে কেন র‍্যাবের কাঁধে by কাদির কল্লোল

বাংলাদেশে পুলিশকে বাদ দিয়ে বিশেষ বাহিনী র‍্যাবকে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্যসহ দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের একক দায়িত্ব দেয়ার বিষয় নিয়ে এখন বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিভ্রান্তি এড়াতে অভিযানের পুরো দায়িত্ব র‍্যাবকে দেয়া হয়েছে।
তবে এতদিন ধরে অবৈধভাবে ক্যাসিনো বাণিজ্য চলার পেছনে পুলিশ প্রশাসনের কারও যোগসাজশ ছিল কিনা, এমন প্রশ্ন উঠছিল গত কয়েকদিন ধরে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দল এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর কিছু নেতা কর্মীর দুর্নীতিসহ নানা অপরাধে জড়ানোর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযান চালানোর কথা বলেছিলেন সিনিয়র নেতাদের সাথে বৈঠকে।
এরপর প্রথমে র‍্যাব ঢাকায় চারটি নামকরা ক্লাবে অভিযান চালিয়ে অবৈধ জুয়ার আসর বা ক্যাসিনো বাণিজ্য বন্ধ করেছিল গত ১৮ই সেপ্টেম্বর। দু'দিন পর পুলিশও অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্লাবে অভিযান শুরু করেছিল।
তারপর থেকে পুলিশ এবং র‍্যাব একের পরে এক অভিযান চালিয়ে আসছিল।
তবে এখন পুলিশকে বাদ দিয়ে র‍্যাবকে এককভাবে এই অভিযানের দায়িত্ব দেয়া হলো।
অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্যের গল্প একের পর এক যখন বেরিয়ে আসছে, তখন এনিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বড় প্রশ্ন হিসেবে এসেছে, এতদিন ধরে অবৈধভাবে ক্যাসিনো বাণিজ্য চলেছে কিভাবে?
পুলিশ র‍্যাব এবং সরকারসহ সংশ্লিষ্ট এর দায় নিতে রাজি নয়।
কিন্তু সরকারের অর্থমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী বা প্রশাসনের নজরের বাইরে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্য চলেছে কিভাবে ? সেই প্রেক্ষাপটে অভিযানের দায়িত্ব থেকে পুলিশ বাদ পড়লো।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম বলছিলেন, একই কাজ বিভিন্ন বাহিনী করলে ভাল ফল আসবে না, এই যুক্তিতে র‍্যাবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
"একই কাজ একটা বাহিনী করা ভাল। একটা কাজ যদি পাঁচজনকে ভাগ করে দেয়া হয়, পাঁচজন পাঁচটা ফলাফল দেখাবে। একারণে র‍্যাবকে দায়িত্ব দিয়েছে।"
কিন্তু প্রশাসনের নজরের বাইরে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্য চলছিল কিভাবে-এমন প্রশ্ন যে উঠেছে, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকার পুলিম কমিশনার বলেছেন, "শুধু পুলিশের কথা বলেনি যে, পুলিশের চোখের সামনে এসব চলছিল। র‍্যাবতো এই এলাকার বাইরে ছিল না। সবার চোখের সামনেই চলছিল। তো র‍্যাবকে দায়িত্ব দিয়েছে, তারা দায়িত্ব পালন করছে। আমাদের বলা হয়েছে, একাসাথে এককাজ একাধিক বাহিনী করলে সমস্যা হতে পারে। সুতরাং তারাই করবে।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের প্রশ্নে এটুকুই বলেছেন যে, র‍্যাব এই অভিযান শুরু করেছে, সেকারণে তাদেরকেই এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণারয়ের কর্মকর্তারা যুক্তি দিয়েছেন , বিভ্রান্তি এড়াতে র‍্যাবকে অভিযানের একক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
তবে ঢাকায় পুলিশ ষ্টেশন থেকে অল্প দূরত্বেই বিভিন্ন জায়গায় ক্লাবগুলোতে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্য ধরা পড়েছে। ফলে এসব চলার পেছনে পুলিশ প্রশাসনের দিকেই আঙুল তোলা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।
ঢাকার পুলিশ কমিশনার অবশ্য বলেছেন যে, পুলিশের কেউ জড়িত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
র‍্যাব পুলিশেরই একটা বিশেষ বাহিনী। সাধারণ পুলিশ থেকেই উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা র‍্যাবের প্রধানের দায়িত্ব পান। র‍্যাবে অন্যান্য পদে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্যে যেখানে বড় অংকের অর্থে বিষয় ছিলো, ফলে এটি আগে কারোই নজরে আসেনি, এই যুক্তি খাটে না বলে তারা মনে করেন।
দুর্নীতি বিরোধী বেসরকারি সংস্থা টিআইবি'র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাসিনো বাণিজ্য চলার দায় পুলিশ বা র‍্যাব কেউই এড়াতে পারে না।
"যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সেটার জন্য যদি আমরা মনে করি যে পুলিশ এখানে সেভাবে কাজ করেনি, তাদের অবহেলা যদি আমরা ধরতে চাই, তাহলে কারও অজান্তে না হওয়ার প্রতিফলন র‍্যাবের ওপরও পড়তে পারে। এটা নিয়ে আমরা প্রশ্ন করতে পারি যে, এখানে সরকারের কৌশলগত কোন কারণ আছে কিনা?"
র‍্যাবের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বলছিলেন, কোন একটি বাহিনীকে দিয়ে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করানো হলে তাতে সমন্বয়ের অভাব থাকে না। এটাকে তিনি সরকারের একটা কৌশল বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশে রেনিটিডিন বিক্রি নিষিদ্ধ

ক্যান্সারের উপাদান আছে এমন তথ্য আসার পর দেশের বাজারে রেনিটিডিন ওষুধের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান  গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ শিল্প সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে রেনিটিডিন ওষুধের কাঁচামাল আমদানি উৎপাদন ও বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের ৩১টি ওষুধ কোম্পানি ভারতের ফারাক্কা নামক একটি কোম্পানি থেকে রেনিটিডিন ট্যাবলেটের কাঁচামাল আমদানি করে। এছাড়া ডক্টর রেড্ডি নামক আরেকটি কোম্পানির কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্ল্যাকলিস্টে তালিকাভুক্ত থাকলেও সেখান থেকে এখনো আমদানি করা হয়নি। জনস্বার্থ বিবেচনায় এ দুটি কোম্পানি থেকে রেনিটিডিনের কাঁচামাল আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া ওই কোম্পানি থেকে আমদানিকৃত কাঁচামাল দিয়ে নতুন করে কোনো রেনিটিডিন উৎপাদন করা যাবে না। শুধু তাই নয়, বাজার থেকে কোম্পানিগুলো স্ব-উদ্যোগে রেনিটিডিন ট্যাবলেট প্রত্যাহার করে নেবে।
এ ব্যাপারে জাতীয় দৈনিকে সোমবার গণবিজ্ঞপ্তি জারি হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির নেতারা জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে স্বপ্রণোদিতভাবে বাজার থেকে রেনিটিডিন প্রত্যাহার, নতুন করে কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদন না করার ব্যাপারে সর্বসম্মত হন। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, বৈঠকে জিএসকে কোম্পানির প্রতিনিধিও ছিল। তারাও বাজার থেকে রেনিটিডিন তুলে নেবে। তিনি বলেন, রেনিটিডিন কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক। কোম্পানিগুলো বাজার থেকে রেনিটিডিন নমুনা সংগ্রহ করে নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে ক্ষতিকর কিছু আছে কিনা তা দেখে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে অবহিত করবে। এছাড়া অধিদপ্তর নিজস্ব উদ্যোগে রেনিটিডিন ট্যাবলেটের গুণগত মান পরীক্ষা করবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী ব্রিটিশ সংস্থা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসায় একসময় বহুল সেবনকৃত রেনিটিডিন ট্যাবলেটে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানের উপস্থিতির কারণে বিশ্ববাজার থেকে ওষুধটি তুলে নেয়ার ঘোষণার কারণে বাংলাদেশও  এই ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ করলো। গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসায় একসময় মুড়ি-মুড়কির মতো চলতো রেনিটিডিন ট্যাবলেট। বিভিন্ন খ্যাতনামাসহ ছোটবড় সব ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এ ট্যাবলেট উৎপাদন করত। রেনিটিড ও রেনিডিন ইত্যাদি নামে এখনো দেশের বাজারে ওষুধটি চলছে। প্রতি পিস ট্যাবলেটের খুচরা মূল্য তিন টাকা। ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সমপ্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী ব্রিটিশ সংস্থা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসায় একসময় বহুল সেবনকৃত রেনিটিডিন ট্যাবলেটে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানের উপস্থিতির কারণে বিশ্ববাজার থেকে ওষুধটি তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতের বাজার থেকেও রেনিটিডিন গ্রুপের ‘জ্যানটেক’ নামের এই ট্যাবলেট প্রত্যাহারের বিষয়ে নিশ্চিত করেছে কোম্পানিটি।

বাজারে রোবট কুকুর 'স্পট': কী করতে পারে

চতুষ্পদ রোবট- স্পট
যুক্তরাষ্ট্রে রোবট নির্মাণকারী একটি কোম্পানির তৈরি জনপ্রিয় একটি 'কৃত্রিম কুকুর' ব্যবহারের জন্যে ভাড়া দেওয়া শুরু হয়েছে।
এর আগে এই কুকুর বানানোর খবর সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছিল। ইউটিউবেও তার একটি ভিডিও দেখেছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।
কৃত্রিম এই কুকুরটির নাম: স্পট
বোস্টন ডাইনামিক্স কোম্পানি বলছে, কুকুরের মতো দেখতে চার-পায়ের এই রোবটটিকে এখন একটি গাড়ির চাইতেও কম মূল্যে লিজ বা ভাড়া নেওয়া যাবে।
কোম্পানিটি বলছে, নির্মাণ কাজ, তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে এবং জননিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে এই রোবটটিকে ব্যবহার করা সম্ভব।
একজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, মূল্য বেশি হওয়ারে কারণে অনেকেই হয়তো এটি ব্যবহার করতে আগ্রহী হবে না।
তবে কোম্পানিটি বলছে, কৃত্রিম এই কুকুরটির দাম কতো হবে সেটা নির্ভর করছে এর চাহিদার উপর।
যুক্তরাজ্যে শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক ও রোবটিক্স বিশেষজ্ঞ নোয়েল শার্কি বলছেন, "চতুষ্পদ রোবটের একটি দারুণ উদাহরণ হতে পারে এই স্পট, বিশেষ করে এর সাথে হাত যুক্ত করার পর। এখন এটিকে আরো একটু বেশি ব্যবহারযোগ্য বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু দাম অনুযায়ী এটাকে কি আর ততোটা ব্যবহারযোগ্য বলে মনে হবে?"
"তবে এই রোবটটিকে যদি নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা যায় তাহলে হয়তো এটি ব্যয়সাপেক্ষ হবে।" তিনি বলেন, "এই রোবটটি এমন জায়গায় পৌঁছাতে পারে যেখানে মানুষের পক্ষে যাওয়া কঠিন। নির্মাণ শ্রমিকদের পাশাপাশি এটিও ইটের মতো নানা নির্মাণ-সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি বহন করতে পারে।"
তবে তিনি এও বলেছেন, বোস্টন ডায়নামিক্সের জন্যে এটি একটি বড় পরীক্ষা। এখন সাধারণ ভোক্তাদের জন্যে এটিকে আরো সস্তায় তৈরি করা যায় কীনা সেটা নিয়ে হয়তো প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।
এখন কেউ যদি স্পটকে ব্যবহার করতে আগ্রহী হয় তাহলে তাকে বোস্টন ডায়নামিক্সের ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে।
কোম্পানিটি বলছে, পরীক্ষামূলক-ভাবে তারা এখনও পর্যন্ত ১০০টি স্পট তৈরি করেছে। এখন তারা এটিকে গণহারে উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে।
বোস্টন ডায়নামিক্সের প্রধান নির্বাহী মার্ক রাইবার্ট বলছেন, "আমাদের জন্যে এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা।
এর আগে এই কোম্পানি একটি অনুষ্ঠানে দেখিয়েছিল সেটি কিভাবে একটি পার্সেল এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু সেটি ঠিক পরিকল্পনা অনুসারেই কাজ করেনি।
কিন্তু পরে স্পটের যে ভিডিও ছাড়া হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে স্পট হেঁটে যাচ্ছে, সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠছে, এবং দরজা খুলে ঢুকছে ঘরের ভেতরে।
এটি আরো যা করতে সক্ষম:
  • বহন করতে পারে ১৪কেজি ওজন
  • পড়ে গেলে আবার উঠে দাঁড়াতে পারে
  • এটি কাজ করতে পারে -২০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়
তবে অনেকেই বলছেন, স্টপকে যদি নির্মাণ খাতে কাজে লাগানো হয় তাহলে তাকে এর চেয়েও বেশি ওজন বহন করার ব্যাপারে সক্ষম হতে হবে।
এই স্পট তৈরির ব্যাপারে কোম্পানির আসল গবেষণাটির পেছনে অর্থের যোগান দিয়েছিল সামরিক বাহিনী।
প্রথম দিকের ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল যুদ্ধক্ষেত্রেও কিভাবে রোবট কাজ করতে পারে। কিন্তু পরে বোস্টন ডায়নামিক্স এই ধারণা থেকে সরে এসেছে।

রোহিঙ্গা সংকট: জাতিসংঘে মিয়ানমারের মন্ত্রী বলেছেন, নতুন শর্ত আরোপ করলে প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হবে

প্রত্যাবাসন কর্মসূচী বাস্তবায়ন রুখতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ধ্বংসাত্মক আন্দোলনসহ যেসব বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে সে সম্পর্কে মিয়ানমার অবগত রয়েছে উল্লেখ করে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের কার্যালয়ের ইউনিয়ন মন্ত্রী চিয়াও তিন্ত সোয়ে বলেছেন, এই সমস্যাগুলো সমাধান করা দরকার।
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে মিয়ানমারের তরফে দেয়া ভাষণে তিনি একথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র সময় শনিবার এবং বাংলাদেশ সময় রবিবার ভোরের দিকে মি. সোয়ে এ ভাষণ দেন।
নির্বিঘ্ন এবং সফল প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে প্রকৃত রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও উদ্যোগের পাশাপাশি এ বিষয়ে সই করা চুক্তির শর্তও কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, "রাখাইন প্রদেশে সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও চলাফেরার স্বাধীনতা এবং সামগ্রিকভাবে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফিরে যায়নি"।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে রোহিঙ্গা বিষয়ে কথা বলেন মিয়ানমারের ইউনিয়ন মন্ত্রী কিয়াও তিন্ত সুয়ে
কিন্তু মি. সোয়ে বলছেন, মিয়ানমার বাংলাদেশের সাথে যে প্রত্যাবাসন চুক্তি সই করেছে সেই চুক্তি অনুযায়ীই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে আগ্রহী দেশটির সরকার।
এই চুক্তির যথাযথ প্রয়োগই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের একমাত্র উপায় বলেও চিহ্নিত করেন তিনি। আর তাই দ্বিপক্ষীয় চুক্তি কঠোরভাবে মেনে চলতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয় ওই ভাষণে।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন কোন শর্ত বা উপাদান অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হলে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মি. সোয়ে বলেন, "মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করার ক্রমাগত আহ্বান রয়েছে। মিয়ানমারের ভেতরে সেফ জোন বা নিরাপদ অঞ্চল তৈরির চাপ রয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন নিশ্চয়তা দেয়া যাবে না এবং এটি বাস্তবসম্মতও নয়।"
ভাষণে তিনি আহ্বান জানান, কক্সবাজারের শিবির থেকে মিয়ানমারে ফিরতে আগ্রহী ৪০০ হিন্দুসহ অন্যান্যদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে।
ওদিকে এর ঠিক এক দিন আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার ও তাদের নাগরিকদের মধ্যকার সমস্যার বোঝা বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তিনি আহ্বান রাখেন যেন তারা এই সংকটের বিষয়টি উপলব্ধি করে।
শেখ হাসিনা বলেন, "এই সমস্যা এখন আর বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না।"
"সকল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিষয়টি এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি এই এলাকার পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাও ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে"।
এছাড়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে চারটি সুপারিশ তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যাবাসনে যোগ্যদেরকে পরিচয়পত্র বা আইডেন্টিটি কার্ড দেয়া হবে এবং মিয়ানমারের নাগরিকত্বের আইন অনুযায়ী যোগ্যদেরকে নাগরিকত্ব কার্ড দেয়া হবে।
বাকিরা ন্যাশনাল ভেরিকেশন কার্ড বা এনবিসি'র আওতাভুক্ত হবে।
মি. সোয়ে বলেন, এই কার্ড জাতিসংঘের অনুমোদিত অভিবাসীদের জন্য দেয়া গ্রিন কার্ডের মতো হবে।
২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।
এ পর্যন্ত জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার রাজি হলেও কার্যত দুই দফায় প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিয়েও একজন রোহিঙ্গাকেও স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।
মূলত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ওই দুই দফায় স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরতে চায়নি কোন রোহিঙ্গা। সেই সাথে নাগরিকত্ব দেয়ার দাবিও ছিলো তাদের।
২০১৭ সালে সামরিক অভিযানের জেরে সাত লাখের রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।
জাতিসংঘ একে জাতিগত নির্মূল কর্মকাণ্ডের 'টেক্সটবুক' উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে নিজেদের বাহিনীর হাতে বড় মাত্রায় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নাকচ করেছে মিয়ানমার।
মিয়ানমার, মূলত বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশ, সেনাবাহিনীর হাতে জাতিগত দমন এবং গণহত্যার অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে। তবে এখন তারা বলছে যে, তারা কিছু পরিমাণ শরণার্থী ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত।
কিন্তু গত মাসে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের দ্বিতীয় চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমারের অনুমোদিত ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গার মধ্যে কেউই ফিরতে না চাইলে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
তারা অভিযোগ তোলে যে, ২০১৭ সালে সংঘটিত নিপীড়নের জন্য কোন জবাবদিহিতা নেই এবং নিজেদের চলাফেরায় স্বাধীনতা ও নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়েও কোন নিশ্চয়তা নেই।
জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সৌদি বিরোধী অভিযানের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে হুথিরা

ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলন সমর্থিত সামরিক বাহিনী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যে বিশাল সামরিক অভিযান চালিয়েছে তার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। ৭২ ঘণ্টার ওই অভিযানে সৌদি আরবের বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা এবং কয়েক হাজার সেনা সদস্য আটক হয়েছে।
রোববার বিকেলে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানকে ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয়’ বলে অভিহিত করেন। 
২০১৫ সালের ২৬ মার্চ দারিদ্র্যপীড়িত ইয়েমেনের বিরুদ্ধে বর্বর সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর সৌদি সেনাদের ওপর এটি ছিল ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ও হুথিদের সবচেয়ে বড় অভিযান।
ইয়েমেনে সামরিক বাহিনী যে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে তাতে সৌদি আরবের কোন এলাকায় তারা অভিযান চালিয়েছে তার যেমন বর্ণনা রয়েছে তেমনি ইয়েমেনি যোদ্ধারা সৌদি অবস্থানে যে সমস্ত গোলাবর্ষণ করছে তার দৃশ্য রয়েছে।
ভিডিওতে সৌদি সেনা এবং তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের পালিয়ে যেতে দেখা যায়। পাশাপাশি বহুসংখ্যক সামরিক যান ধ্বংস হয়ে পড়ে আছে রাস্তার আশেপাশে- তাও দেখা যাচ্ছে।
এছাড়া বহু মৃতদেহ যেখানে সেখানে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আটক সৌদি সমর্থিত অনেক গেরিলা জানিয়েছে, তারা লোভে পড়ে অর্থের বিনিময়ে সৌদি আরবের পক্ষে ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে।
নাজরান অভিযানের সামান্য অংশ প্রকাশ করা হয়েছে: ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী
ইয়েমেনের রাজনৈতিক নেতারা সৌদি আরবের নাজরানে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক বিশাল বিজয়কে আলে সৌদ সরকারের ভয়াবহ পরাজয় হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এই পরাজয় রিয়াদ সরকারের পতন ত্বরান্বিত করবে।
সম্প্রতি ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলন সমর্থিত সেনাবাহিনী সৌদি আরবের নাজরান এলাকায় এক অভিযান চালিয়ে আগ্রাসী বাহিনীর তিনটি ব্রিগেড সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং কয়েক হাজার সৌদি সেনাকে আটক করে ইয়েমেনের ভেতরে নিয়ে গেছে।ওই বিশাল বিজয়ের কথা উল্লেখ করে আনসারুল্লাহ আন্দোলনের মুখপাত্র মোহাম্মাদ আব্দুসসালাম বলেছেন, সৌদি সেনা কর্মকর্তারা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের সেনাবাহিনীকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী দেইফুল্লাহ আশ-শামি এ সম্পর্কে বলেছেন, আমাদের সেনা মুখপাত্র যতটুকু বলতে ও দেখাতে পেরেছেন তা ছিল এই অভিযানের ক্ষুদ্রতম একটি অংশ। ‘নাসরুম মিনাল্লাহ’ নামের এ অভিযান ১০০টি ক্যামেরা দিয়ে রেকর্ড করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ অভিযানের আরো বহু অংশ রয়েছে যা ভবিষ্যতে প্রকাশ করা হবে।
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী দেইফুল্লাহ আশ-শামি
ইয়েমেনের উপ তথ্যমন্ত্রী হোসেইন বাসালিম বলেছেন, নাজরান অভিযান সৌদি অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে এবং রিয়াদ এ অভিযানের কথা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবে।
ইয়েমেনের সেনা মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তারা তাদের দেশের ওপর আগ্রাসন পরিচালনাকারী সৌদি সেনাদের বিরুদ্ধে ‘নাসরুম মিনাল্লাহ’ নামের এক বিশাল অভিযান চালিয়েছেন। সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় চালানো ওই অভিযানে শত শত সৌদি সেনা হতাহত এবং তাদের কয়েক হাজার সেনা বন্দি হয়েছে। গতকাল (রোববার) ইয়াহিয়া সারি আরেকটি সংবাদ সম্মেলন ডেকে সৌদি সেনাদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং তাদের হাজার হাজার সেনার আটক হওয়ার ছবি ও ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করেন।
ইয়েমেনের সেনা মুখপাত্র বলেন, তাদের অভিযানে সৌদি আরবের তিনটি ব্রিগেড সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং তারা গনিমতের মাল হিসেবে শত শত সমরাস্ত্র, ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান হস্তগত করেছেন।
আনসারুল্লাহ আন্দোলনের মুখপাত্র মোহাম্মাদ আব্দুসসালাম

অবরুদ্ধ কাশ্মিরে ভোগান্তিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা

বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর অবরুদ্ধ কাশ্মিরে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেখানকার নাগরিকরা। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীরা। আন্দোলন, আতঙ্ক ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে চিকিৎসা নিতে বেগ পেতে হচ্ছে তাদেরকে। সেখানে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় হাসপাতালে পৌঁছাতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। আয়ের উৎসগুলো বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক সংকটে আছে কাশ্মিরিরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিকিৎসকরা সেখানকার হবু মায়েদের দুরাবস্থার কথাও স্বীকার করেছেন। তবে চিকিৎসাজনিত সমস্যার কথা স্বীকার করতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।

৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। কারফিউ জারির ৩৯ দিন পর প্রত্যাহার করা হলেও সেখানে ফিরেনি স্বাভাবিকতা। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধারার নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে পড়ছেন। এমনই এক নারী মুবিনা বানু।

সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া তার ভাইপোকে কাশ্মিরের প্রধান মাতৃসদন হাসপাতাল লালাদেদের একজন শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখিয়েছেন মুবিনা। এক সপ্তাহ আগে ছোট ভাই আর অন্তঃসত্ত্বা বোনকে নিয়ে সীমান্তবর্তী কুপওয়ার জেলা থেকে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে মুবিনা ওই হাসপাতালে গেছেন। সাধারণ মানুষের কাছে লালাদেদ নামে পরিচিত, বিখ্যাত এক হিন্দু মরমি কবির নামে এই হাসপাতালটির নামকরণ করা হয়েছে।

এখানে আসতে তাদেরকে অনেক সেনা ব্যারিকেড, চেক পোস্ট, পাথর নিক্ষেপকারী ক্রুদ্ধ জনতাকে পাশ কাটিয়ে মুবিনার ক্যাবটি তিন ঘণ্টায় প্রায় ১১০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছে। তার বোন রফিকা বানু সন্তান প্রসবের শেষ পর্যায়ে ছিলেন। তার পরিচর্যায় থাকা গ্রামের চিকিৎসকেরা তাদেরকে চরমভাবে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।

প্রসবের তারিখ ছিল ৩০ আগস্ট। রফিকাকে ২৯ আগস্ট তার জেলার প্রাইমারি হেলথ সেন্টারে ভর্তি হতে বলা হলো। মুবিনা বলেন, কিন্তু ৫ আগস্ট যেমন ঘটেছে, তেমন করেই যেন নাটকীয়ভাবে সব কিছু ঘটতে শুরু করল। আমাদের গ্রামের পিএইসিতে তেমন স্টাফ ছিল না। রফিকার জটিলতা বেড়ে গেল ২৫ আগস্ট। আমরা আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইনি। এ কারণে শ্রীনগরে ছুটে এসেছি।

এক দিন পর তার বোন একটি ছেলে জন্ম দেন। অবশ্য চিকিৎসকেরা যখন দেখতে পেলেন যে শিশুটি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছে না, তখন পুরো পরিবার শঙ্কায় পড়ে গেল। শিশুটির ইনকিউবেটর প্রয়োজন। চিকিৎসক যত্ন দিয়ে শিশুটির হৃদকম্প পর্যবেক্ষণ করলেন, মুবিনাকে বললেন যে কয়েক দিন শিশুটিকে ইনকিউবেটরে রাখতে হবে। মুবিনা যেন বোবা বনে গেলন। তার কাছে টাকা নেই, অন্য কোথাও থেকে সংগ্রহ করার উপায়ও নেই।

তিনি বিলাপের সুরে বললেন, আমরা এখানে কিভাবে থাকব। আমাদের জমানো টাকাও তো শেষ হয়ে গেছে। এখানে কাউকে তো চিনিও না, যার কাছ থেকে সংগ্রহ করব।

মুবিনা তার বাড়ি ত্যাগ করার দিন থেকে তার পরিবার জানে না সে বা রফিকা বা অন্যরা কেমন আছে। তিনি বলেন, রফিকার স্বামী জানে না,  সে এখন একটি ছেলে শিশুর বাবা। গত সপ্তাহে আমরা হাসপাতালে এসেছি, আমাদের টাকা শেষ হয়ে গেছে। পরিবারের কাছ থেকে সহায়তা চাইবো, তেমন কোনো ব্যবস্থাও নেই, ফোনও বন্ধ। প্রতিটি কাশ্মিরির জন্য এখন সত্যিই কঠিন সময়।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও বর্তমান অনিশ্চিত পরিবেশে কাশ্মিরের একমাত্র মাতৃসদন হাসপাতালে অবস্থান করছে উদ্বিগ্ন, চিন্তিত ও শঙ্কিত লোকজন। প্রতিটি রোগী ও তাদের স্বজনেরা হাসপাতালের করিডোর বা অপারেশন থিয়েটারের বাইরে ভাগ্যে কী আছে, তারই অপেক্ষা করছে।

মোহাম্মদ ইউনুস হাসপাতালের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছেন তার স্ত্রীর রুটিন চেক-আপ করে চিকিৎসকের কক্ষ থেকে ফিরে আসার জন্য। তার প্রসবের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর। বিদ্রোহীদের উত্তপ্ত ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত পুলওয়ামা এলাকা থেকে তিনি এসেছেন। তিনি এখন জটিলতা এড়াতে একটি ভাড়া বাসায় থাকার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। জানি না কাল কী হবে। শুনেছি, অনেক আসন্ন মা হাসপাতালেও আসতে পারছেন না।

গত তিন দিন ধরে তাসলিমা আখতার একাকি আছেন হাসপাতালে। গত সপ্তাহে তিনি একটি মেয়ে শিশুর জন্ম দিয়েছেন। এক দিন পর শিশুটিকে তিন মাইল দূরে শিশুদের একটি হাসপাতালে তাকে স্থানান্তরিত করা হয়। এখন এই শিশুটির অবস্থা জানার জন্য তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন। এই ভাইবোন সাহায্যের জন্য স্বজনদেরও ডাকতে পারছেন না। আখতার বলেন, আমাদের কপালে এই লেখা ছিল। কোনো অভিযোগ নেই আমার। আল্লাহই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।

হাসপাতালের সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তার নানা শঙ্কায় পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার ১৫ বছরের চিকিৎসা ক্যারিয়ারে তিনি কখনো হবু মায়েদের এমন দুরাবস্থায় দেখেননি। তিনি বলেন, এখানে আসা লোকজনের হাতে টাকা নেই, স্বজনদের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়ার কোনো ব্যবস্থাও নেই। চিকিৎসা কর্মীরাও নানা কঠিন অবস্থা অতিবাহিত করছেন।

তবে সরকারি মুখপাত্র রোহিত কানসাল ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কাশ্মিরের বিভিন্ন হাসপাতালে,  সিজারিয়ান ও নরম্যাল, দুই হাজার সন্তান প্রসব ঘটনা ঘটেছে। রোগীদের পর্যাপ্ত পরিচর্যা করা হচ্ছে। হবু মায়েদের কঠিন সময়ের কথাও তিনি অস্বীকার করেন। তার মতে, কাশ্মিরের সহিংসতা ব্যাপকভাবে কমে এসেছে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

সূত্র : সাউথ এশিয়ান মনিটর।

কাশ্মিরে নিখোঁজ ১৩ হাজার শিশু-কিশোর!

ভারতের এক প্রগতিশীল নারী সংগঠনের সদস্যরা দাবি করেছেন, কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর সেখানে ১৩ হাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। সম্প্রতি কাশ্মিরের গ্রামগুলোত পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েছিলেন দেশটির সমাজকর্মী ও বামপন্থী আন্দোলনের নেত্রী অ্যানি রাজা নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, কাশ্মিরের অধিকাংশ বাড়িতে ছোট ছোট ছেলে নিখোঁজ রয়েছে। এদের ধরে নিয়ে গিয়েছে ভারতীয় বাহিনী।
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এই পদক্ষেপকে ঘিরে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। সেখানকার অধিবাসীদের ওপর চলাচলে রয়েছে বিধিনিষেধ। গ্রেফতার করা হয়েছে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে। তাদের বেশিরভাগকে এ রাজ্যের বাইরে কারাগারে ও সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় বন্দি রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক যুবক ও কিশোর রয়েছে।
ভারতের যোজনা কমিশনের সাবেক সদস্য ও সাবেক আমলা সাঈদা হামিদ ছোট থেকেই তিনি কাশ্মিরে বড় হয়েছেন। কাশ্মিরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কাশ্মিরের পরিস্থিতি বোঝাতে গেলে বলতে হয়, এই উপত্যকার পরিস্থিতি এখন বড় বেশি শান্ত, বড় বেশি অবসাদগ্রস্ত। সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনগণের সঙ্গে কথা বলার পরে আমরা প্রাথমিকভাবে যে হিসেবে পেয়েছি তাতে দেখা যাচ্ছে, ৩৭০ ধারা বিলোপের পর উপত্যকা থেকে নিখোঁজ হয়েছে প্রায় তেরো হাজার নাবালক।’
অ্যানি রাজা অভিযোগ করেন, ‘যে গ্রামগুলোয় আমরা গিয়েছিলাম, সেখানকার অধিকাংশ বাড়িতে ছোট ছোট ছেলে নিখোঁজ। এদের ধরে নিয়ে গিয়েছে সেনাবাহিনী ও আধা সেনা সদস্যরা। তাদের অভিভাবকরা খোঁজ নিতে গেলে তাদের বলা হচ্ছে, তিন রাজ্যের জেলে গিয়ে খোঁজ নিতে। সেখানে গেলে দেখা যাচ্ছে, জেলের বাইরের দেওয়ালে একটি তালিকা আটকানো রয়েছে, যেখানে নাম রয়েছে কাশ্মিরি অধিবাসীদের। এভাবে অগণিত কাশ্মিরি ছোট ছোট ছেলে জেলের মধ্যে রয়েছে।’
অ্যানি রাজা ও সাঈদা হামিদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি, ৩৭০ ধারা বিলোপের এই সিদ্ধান্ত কাশ্মিরের অধিবাসীদের একজোট করেছে, যাবতীয় ছোটখাটো বিভেদকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। আট থেকে আশি সবাই এখন ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কথা বলছে। প্রত্যেকেরই অভিমত হলো, সরকার তাদের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিয়েছে।
আইনজীবী পুনম কৌশিকের দাবি,  ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে কাশ্মিরের সর্বত্র রাত ৮টার মধ্যে সব বাড়ির আলো নিভিয়ে দিতে হয়। তা না হলে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর রোষানলে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় জনগণকে।
পুনম আরও দাবি করেন, ‘আমরা জম্মু-কাশ্মির বার অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে গিয়ে তালা ঝুলতে দেখেছি। স্থানীয় আইনজীবীরা আমাদের জানিয়েছেন, আদালতে কোনো কাজ হচ্ছে না। কার্যত পুরো বিচারব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে। দেশের সংবিধানের কোনো অস্তিত্ব নেই এই উপত্যকায়। মারাত্মক ভয়, গ্লানি আর অসম্মানকে সঙ্গী করে বাঁচার জন্য রোজ লড়াই করতে হচ্ছে।’

নারীর ফাঁদ, খদ্দের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীও

ভারতের মধ্যপ্রদেশে নারীদের দিয়ে ফাঁদ পাতা বা হানিট্রাপের ভয়াবহ সব তথ্য বেরিয়ে আসছে। বলা হচ্ছে, ভিআইপিদের শয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য করা হয়েছে কমপক্ষে ২৪ জন কলেজপড়ুয়া ছাত্রীকে। এ ছাড়া কমপক্ষে ৪০ জন কলগার্ল নিয়ে গড়ে উঠেছিল এক যৌনতার ফাঁদ। তার খদ্দেরের তালিকায় রয়েছেন মধ্যপ্রদেশের সাবেক একজন মুখ্যমন্ত্রী, আটজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ফাঁদের মূলহোতা শ্বেতা জৈন জিজ্ঞাসাবাদে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের (এসআইটি) কাছে স্বীকার করেছেন এসব। তার দেয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এই ফাঁদে পা দিয়েছিলেন ১২ জন শীর্ষস্থানীয় আমলা ও রাজ্যের সাবেক আটজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের মনোরঞ্জনে মধ্যবিত্ত পরিবারের ওইসব ছাত্রীকে ব্যবহার করতেন চক্রের হোতারা। তাদেরকে ব্যবহার করে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ ও মধ্যপ্রদেশ সরকারের শক্তিধরদের কাত করে ফেলা হতো। এর উদ্দেশ্য ছিল সরকারি বিভিন্ন লোভনীয় ক্রয় সংক্রান্ত কাজ বাগিয়ে নেয়া। এসব কাজে শত শত কোটি রুপির ব্যবসা হতো। এজন্য টার্গেট করা হতো ভিআইপিদের। এর মধ্যে বেশির ভাগ কাজের চুক্তি পেতো শ্বেতা জৈনের কোম্পানি। কমিশন ভিত্তিতে এসব কাজ করতেন তার সহযোগী আরতি দয়াল। বুধবার অভিযান চালিয়ে এই চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এতে বলা হয়, ক্রয় সংক্রান্ত কাজ বাগিয়ে নেয়া ছাড়াও ভারতের প্রশাসনিক বিভাগের এবং পুলিশ বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের পোস্টিং দেয়ার ক্ষেত্রে তারা প্রভাব বিস্তার করতেন। তাদের পোস্টিং বা বদলি করার মতো ক্ষমতা ছিল তাদের। ইন্দোরে এসআইটির জিজ্ঞাসাবাদে শ্বেতা জৈন বলেছেন, আমলাদের ফাঁদে ফেলতে তিনি অনেক কলেজছাত্রীকে প্রলুব্ধ করতেন। আমলাদের সঙ্গে ওইসব কলেজছাত্রীকে বিছানা পর্যন্ত যেতে বলতেন। তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। এসব আমলা ওইসব কলেজছাত্রীর পিতার বয়সী।

একটি ঘটনায় শ্বেতা জৈনের সঙ্গে কলেজছাত্রী মনিকা যাদবের সাক্ষাতের বিষয় আমলে নেয় এসআইটি। মনিকার সঙ্গে কথা হয় এসআইটি টিমের। এ সময় মনিকা জানিয়ে দেন, তিনি একটি অভিজাত কলেজে ভর্তির জন্য চেষ্টা করছিলেন। তখনই তিনি শ্বেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় শ্বেতা তাকে জানিয়ে দেন যে, মধ্যপ্রদেশ সরকারে শীর্ষ স্থানের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক আছে। তাকে আশ্বস্ত করতে একদিন মনিকাকে ভূপালে সচিবালয়ে নিয়ে যান শ্বেতা। সেখানে ভারতীয় প্রশাসনিক পর্যায়ের তিনজন সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেন। এক পর্যায়ে ইন্দোর ও ভূপালে যাওয়া-আসার জন্য মনিকাকে একটি অডি গাড়ি দেন শ্বেতা।

এসআইটির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, প্রথম দিকে শ্বেতার কথা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন মনিকা। ফেরত চলে গিয়েছিলেন নরসিংহগড়ে তার পিতামাতার কাছে। কিন্তু তাকে এত সহজে ছেড়ে দেয়ার মানুষ নন শ্বেতা। তিনি এক্ষেত্রে ব্যবহার করেন আরতি দয়ালকে। তাকে পাঠিয়ে দেন মনিকার বাড়িতে। সেখানে মনিকার পিতা হিরালালকে আরতি বোঝান যে, তিনি যদি মেয়ে মনিকাকে ভূপালে পাঠান তাহলে তার পড়ার সব খরচ বহন করবে তার এনজিও। ওদিকে হিরালালের আর্থিক অবস্থাও তেমন ভালো ছিল না। তাই পরে তিনি তার ১৮ বছর বয়সী মেয়ে মনিকাকে আরতির সঙ্গে ভূপালে পাঠিয়ে দেন। এসআইটিকে দেয়া বিবৃতিতে মনিকা বলেছেন, একদিন আরতি তাকে একটি এমএমএস দেখান। তাতে শ্বেতাকে দেখা যায় একজন আমলার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত। তা দেখিয়ে মনিকাকে আরতি বলেন, ওপরে উঠতে হলে এমন সব জিনিসই করতে হয়।

এসআইটির তদন্তে দেখা গেছে, এনজিও’র নাম করে এবং সেখানে চাকরি দেয়ার নাম করে আরতি ও শ্বেতা মধ্যবিত্তের মেয়েদের প্রলুব্ধ করতেন। তাদেরকে চাকরির নামে নিজেদের করায়ত্ত করতেন। এরপর তাদের ব্রেনওয়াশ করা হতো। পরিচয় করিয়ে দেয়া হতো অন্ধকার জগতের ফাঁদের সঙ্গে। মনিকা তার বিবৃতিতে বলেছেন, এ বছর ৩০শে আগস্ট আরতি এবং তার একজন সহযোগী একটি বিলাসবহুল গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যান ইন্দোরে। সেখানে তারা অবস্থান করেন একটি অভিজাত হোটেলে। পরের দিন সন্ধ্যায় তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় সরকারি একজন প্রকৌশলী হরভজন সিং (৬০)-এর সঙ্গে।

পুরো রাত ওই প্রকৌশলীর সঙ্গে কাটাতে হয় মনিকাকে। সেখানে মনিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন হরভজন সিং। এ সময়কার ভিডিও দৃশ্য ধারণ করেন আরতি। পরে ওই ভিডিও ক্লিপ ব্যবহার করে হরভজন সিংয়ের কাছে ৩ কোটি রুপি দাবি করেন শ্বেতা। অন্যদিকে মনিকাকে হুমকি দেয়া হয়। বলা হয় যদি তিনি তার পিতামাতাকে এর কোনোকিছু জানান, তাহলে ওই ভিডিও প্রকাশ করে দেয়া হবে ওয়েবসাইটে। এসআইটির মূল সদস্য রুচি বর্ধন সিং বলেছেন, শ্বেতা ও আরতি এমন মেয়েদের আধুনিক যুগের অন্ধকার অধ্যায়ে ঠেলে দিতেন। প্রথমে তাদেরকে গ্লামার ও পাঁচ তারকার বিলাসী সংস্কৃতির স্বপ্ন দেখানো হতো। পরে যৌনতার ফাঁদে রাজনীতিক ও আমলাদের ফেলার বিনিময়ে তাদেরকে ভালো অঙ্কের অর্থ দেয়া হতো। কলেজপড়ুয়া মেয়েদেরকেই শুধু এ পথে নামানো হয় নি। শ্বেতা কমপক্ষে ৪০ জন কলগার্লকে তার ব্যবসায় ব্যবহার করতেন। তার খদ্দেরের ধরন ভিন্ন রকম। এর মধ্যে মধ্যপ্রদেশের সাবেক একজন মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন।

হৃদরোগের ভয়াবহ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ

বাংলাদেশে হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে তিনজনের হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে। আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তরুণরাও। খাদ্যাভ্যাস ও সচেতনতার অভাবসহ নানা কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণায় জানা যায়, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ মারা যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে; যা মানুষের মৃত্যুহারের ৩১ শতাংশ। ইউরোপীয়দের তুলনায় পাঁচ থেকে সাত বছর আগেই দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কিডনি রোগ দেখা দেয়।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৮ সালের তথ্যমতে, ৩৫ বছর কিংবা এর বেশি বয়সীর মধ্যে প্রতি তিনজনের একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত; এর অর্ধেকই এ সম্পর্কে সচেতন নয়। ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বে ১৫০ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হবে। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় এর ক্ষতিকর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এ অঞ্চলে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪০ জনই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে শতকরা ৬৭ ভাগ মৃত্যু হয় অসংক্রামক রোগে। এরমধ্যে শীর্ষে রয়েছে হৃদরোগ, ৩০ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী। বাংলাদেশে গত ২০ বছরে হৃদরোগীর সংখ্যা বেড়েছে ২০ গুণ। কিছুদিন আগ পর্যন্ত দেশে বয়স্কদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা ছিল বেশি কিন্তু গত কয়েক বছরে তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের প্রবণতা বাড়ছে। আবার আক্রান্তদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, দেশে বায়ুদূষণ-পানিদূষণ, খাদ্যে ভেজাল, অনিয়ন্ত্রিত-অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, বেকারত্ব, আলস্য সর্বোপরি দৈনন্দিন জীবনযাপনের মানসিক চাপ হৃদরোগের অন্যতম কারণ। এজন্য নিয়মিত হাঁটাচলা, ব্যায়াম, খাদ্যে লবণ ও লাল মাংস বর্জন, পরিমিত আহার, ধূমপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসবে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ বার্ষিক হেলথ বুলেটিনে বলা হয়েছে, রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রতিবছরই হৃদরোগ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৬ সালের হিসেবে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির বহির্বিভাগে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৩৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ৬৪ হাজার ৯০৬ জন ভর্তি হয়েছেন। আর ২০১৫ সালে বহির্বিভাগে ২ লাখ ২২ হাজার ১৮৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ৬৩ হাজার ৩৯০ জন ভর্তি হয়েছেন।

দেশে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, সে তুলনায় বিশেষায়িত হাসপাতাল ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অনেকটাই কম। এজন্য স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশে সরকারিভাবে স্বাস্থ্য সেবার ব্যয় খুব কম। জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ হওয়া বাঞ্ছনীয়।

বন্যায় ত্রাণ কার্যক্রমে ছিল ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি: -টিআইবি’র গবেষণা

এবারের বন্যায় ত্রাণ কার্যক্রমে ছিল ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়ম। এমনটাই উঠে এসেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায়। গতকাল রাজধানীর সংস্থাটির কার্যালয়ে ‘বন্যা-২০১৯ মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং ত্রাণকার্যক্রমে শুদ্ধাচার পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণাটি উপস্থাপন করেন মো. নেওয়াজুল মাওলা, মো. মাহফুজুল হক, অমিত সরকার, এসএম জুয়েল ও মো. জাকির হোসেন খান।
গবেষণায় উঠে আসে, এবারের বন্যায় ক্ষতির সম্মুখীন হয় ২৮ জেলা। ১০৮ জনের প্রাণহানির পাশাপাশি পানিবন্দি ছিল ৪০ লাখ মানুষ। পরিবার সম্পূর্ণ ক্ষতির মুখে পড়ে ৯৮৬৮৮ ও আংশিক ১৩৬০১০২টি পরিবার। মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমি ৪৫৯৬৬ হেক্টর ও আংশিক ৯৪১৮৩ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ শতাংশ ফসলি জমিতে পড়েছে বালুর আস্তরণ।
ফলে প্রায় ৩ বছর তারা ফসলহানির মুখে পড়বেন।
গবেষণায় উঠে আসে, ত্রাণ বিতরণ হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। স্বজনপ্রীতি, কম দেয়া এবং পাশাপাশি একই পরিবারকে একাধিক বার ত্রাণ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি এসব অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করলে ত্রাণ থেকে বঞ্চিত ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। ত্রাণ পাওয়াদের ৭৩ শতাংশ বলেছেন তারা পরিমাণে কম দিয়েছেন। আর সাহায্য পাওয়া খাবারের মাঝে ছিল না শিশুখাদ্য। ছিল না গো-খাদ্যের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। এ ছাড়া গবাদি পশুকে ২ থেকে ৩ দিন পানিতে দাঁড় করিয়ে রেখে পরে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
বন্যার ২৪ ঘণ্টা আগে সতর্কবার্তা দেবার দাবি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। তবে জরিপে অংশ নেয়া ৯১ শতাংশ পাননি বলে জানান। গবেষণার আওতাও থাকা ১০ উপজেলার ৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত ও ১২৭৭ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যাকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় বাজেট, লোকবল ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বন্যা আক্রান্ত অন্যান্য স্থানে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসা, পানি, স্যানিটেশন, নারী-শিশু-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা লক্ষ্য করা যায়নি।
টিআইবি’র তথ্য মতে, চলতি বছরের বন্যায় দেশের ২৮ উপজেলার মানুষের তারা দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে। এবারের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ১৯৮৮ সালের ক্ষয়ক্ষতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। আর বন্যার্তরা সহযোগিতা পেয়েছেন খুবই নগণ্য। এক একটি পরিবার ৪ টাকা করেও সাহায্য পেয়েছে। গড়ে বাড়িপ্রতি মিলেছে ২০ টাকা থেকে ৭৭২ টাকা।
বন্যাপরবর্তী এই গবেষণায় আরো বলা হয়, রাজনৈতিক বিবেচনা ছিল ত্রাণ বিতরণের প্রধা। এ ছাড়াও ছিল স্বজনপ্রীতি। এমনকি মন্ত্রীর বন্যা এলাকা পরিদর্শনের টাকা এসেছে ত্রাণের অর্থ থেকে। আর চেয়ারম্যানরা পরিবহন ব্যয় মেটানোর অজুহাতে বিক্রি করেছেন ত্রাণ।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বন্যায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো (এনজিও) তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনি। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নাতীত। আর ছিল বরাদ্দ কম থাকা ও যা বরাদ্দ পেয়েছে তাও সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়নি।
এতে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, টিআইবি’র উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, দুর্নীতিবাজ ও অসৎ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় শনিবার বিকালে ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে তার সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, যদি কেউ অসৎ পথে  অর্থ উপার্জন করে, এই অনিয়ম, উচ্ছৃঙ্খলতা বা অসৎ উপায় ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। সে যে-ই হোক না কেন, আমার দলের হলেও তাকে ছাড় দেয়া হবে না। শেখ হাসিনা বলেন, সমাজে অসৎ পথে অর্থ উপার্জনের হার বেড়ে গেলে যেসব ব্যক্তি বা তাদের সন্তানরা সৎ পথে জীবন নির্বাহ করতে চান, তাদের জন্য সেটা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৎভাবে চলতে গেলে একজনকে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলতে হয়।
আর অসৎ উপায়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে এই ব্র্যান্ড, ওই ব্র্যান্ড, এটা-সেটা, হইচই, খুব দেখানো যায়। ফলাফলটা এই দাঁড়ায়, একজন অসৎ মানুষের দৌরাত্ম্যে যারা সৎ জীবন যাপন করতে চান, তাদের জীবনযাত্রাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। শেখ হাসিনা বলেন, সৎ মানুষের ছেলেমেয়েদের মনে সহসাই একটা প্রশ্ন আসতে পারে যে কেন তাদের পরিবার বিলাসবহুল জীবন যাপন করতে পারে না। বাস্তবিকভাবেই এই চিন্তা লোকজনকে অসৎ পথে ঠেলে দেয়। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার উন্নয়নের জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ আরও বেশি উন্নত হতে পারত, যদি প্রকল্পের প্রতিটি টাকা যথাযথভাবে ব্যয় করা হতো। এখন আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কোথায় ফাঁকফোকর রয়েছে, কারা এই কাজগুলো করছে এবং কীভাবে করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটা জিনিস আমি দেখতে বলে দিয়েছি, সেটা হলো কার আয়-উপার্জন কত? কীভাবে জীবন যাপন করে? সেগুলো আমাদের বের করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, তাহলে আমরা সমাজ থেকে এই ব্যাধি, একটা অসম প্রতিযোগিতার হাত থেকে আমাদের সমাজকে রক্ষা করতে পারব। আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারব। দুর্নীতির পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মাদক একটা পরিবার ধ্বংস করে, একটা দেশ ধ্বংস করে। এর সঙ্গে কারা আছে, সেটাও আমরা খুঁজে বের করব। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের আরও উন্নয়নের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। বলেন, আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছি, আপনারা সেখানেও বিনিয়োগ করতে পারেন। উল্লেখ্য, এবার ব্যতিক্রমী আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কের গণসংবর্ধনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও মঞ্চে দলের কোন নেতা ছিলেন না। প্রধানমন্ত্রী এবং তার পাশে একটি চেয়ার ছিল। ওই চেয়ারে কে বসছেন তা নিয়ে আগ্রহ ছিল সবার। শেষ পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনকে বসান প্রধানমন্ত্রী। তবে মঞ্চে একজনই বক্তা ছিলেন, তিনি হলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের কর্মসূচির বিস্তারিত জানান অভ্যাগত সুধীদের। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বক্তৃতারও আমন্ত্রণ জানান।

চিকিৎসায় অবহেলা: যেভাবে অভিযোগ করবেন by শাহনাজ পারভীন

বাংলাদেশে প্রায়শই চিকিৎসকের অবহেলা আর সে নিয়ে রোগীর আত্মীয়দের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাদানুবাদ বা ভাঙচুরের খবর শোনা যায়।
রোগীদের জন্য সুরক্ষা বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক দিবস আজ।
বাংলাদেশে রোগীদের সুরক্ষায় খুব বেশি না হলেও অল্প কিছু ব্যবস্থা রয়েছে।
চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা অনেকেই জানেন না।
জানলেও সেই সংস্থার উপর আস্থা রাখতে পারেন না অনেকেই।

অভিযোগ নিয়ে কোথায় যাবেন?

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বা বিএমডিসি একটি সরকারি সংস্থা। এখানে যারা কর্মরত রয়েছেন তারা সবাই চিকিৎসক।
সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডাঃ মোহাম্মদ আরমান হোসেন বলছেন কিভাবে বিএমডিসিতে চিকিৎসকের বা স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের অবহেলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করা যায়।
* যে হাসপাতাল বা চিকিৎসক সম্পর্কে অভিযোগ, সেখানে যে সেবা নিয়েছেন তার সকল কাগজপত্র, চিকিৎসক, প্রতিষ্ঠানের নাম, চিকিৎসার তারিখ, সময় সহ সে কেন মনে করছে অবহেলা হয়েছে তার একটি ব্যাখ্যা সহ বিএমডিসির রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগকারীর সই ও ঠিকানা সহ লিখিত অভিযোগ করতে হবে।
* এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে সেই অভিযোগের কপি পাঠানো হবে। তাকে কাউন্সিলের কাছে জবাব দিতে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হবে।
* সেই বক্তব্য পাওয়ার পর বিএমডিসি অভিযোগকারীকে সেটি জানাবে।
* তার সেই বক্তব্যে আপত্তি থাকলে তিনি সেটি গ্রহণ না করার অধিকার রাখেন।
* অভিযোগ তখন একটি শৃঙ্খলা কমিটির কাছে যাবে । কমিটি যদি মনে করে এই ঘটনার তদন্ত করা প্রয়োজন তাহলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তারা দরকারে হাসপাতালে যাবে এবং প্রতিবেদন জমা দেবে।
কিন্তু বাস্তবতা হল এই সংস্থা সম্পর্কে জানেন না প্রায় কেউই। হাসপাতালগুলো থেকে সেই বিষয়ে জানানো হয় না।
তাই সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রায়শই তার ক্ষোভ হাসপাতাল বা ক্লিনিকেই প্রকাশ করে ফেলেন। যার ফল হল প্রায়শই ভাঙচুর বা চিকিৎসককে মারধোর।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হল বিএমডিসির রাজধানী ঢাকায় কার্যালয় মাত্র একটি।
আর সেখানে কেউ অভিযোগ নিয়ে গেলেও তাতে অনেক সময় লেগে যায় বা পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তৈরি হয়।

কন্যাসন্তান হারানো এক বাবা যেভাবে এখনো লড়ছেন

গত বছরের জুলাই মাসে চিকিৎসকদের অবহেলায় চট্টগ্রামে আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যা শিশু মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে বেশ বিতর্ক হয়েছিলো।
সেখানকার সিনিয়র সাংবাদিক রুবেল খান তার কন্যাসন্তান রাইফাকে হারিয়েছিলেন।
রুবেল খান বলছেন, "গলায় ব্যথা আর ঠাণ্ডার সমস্যা নিয়ে রাইফাকে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু পরদিন রাতেই সে মারা যায়।"
তিনি বলছেন চিকিৎসকরা তাকে একটি অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার পর থেকেই মেয়েটি দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে।
চিকিৎসকদের সেটি জানানোর পরও তারা সেটি দেয়া অব্যাহত রাখেন।
পরদিন রাতের এক পর্যায়ে তাকে একটি সাপোজিটর দেয়া হলে তার খিঁচুনি ওঠে। সেসময় কোন চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সাংবাদিক হওয়ায় হয়ত তিনি দ্রুতই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছিলেন।
বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিএমডিসিকে তদন্তের আদেশ দেয়।
রুবেল খান বলছেন তিনি কোন সমাধান পাননি।
তিনি বলছেন, "বিএমডিসি থেকে কয়েকজন চট্টগ্রামে এসে আমাকে সেই হাসপাতালে ডেকে পাঠান। আমার জন্য সেখানে আবার ফিরে যাওয়া খুব আবেগের বিষয় ছিল। এটা তো কোন সালিশি নয়। আমি তাদের বাসায় আসতে বললে তারা আমাকে একটা রেস্টুরেন্টে আসতে বলে। আমি এমন একটা বিষয়ে কথা বলতে রেস্টুরেন্টের মতো জায়গায় যেতে রাজি হইনি।"
মি. খান বলছেন, "ফলে তারা চট্টগ্রামে এসেও আমার সাথে কথা না বলেই ঢাকা ফিরে যান এবং প্রতিবেদনে লেখেন যে বাবার সাথে কথা বলা যায়নি। আমার বক্তব্য না নিয়েই তারা একপেশে প্রতিবেদন দিয়েছেন।"
রুবেল খান এখন সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।
আদালত বিএমডিসিকে বিষয়টি নতুন করে তদন্তের আদেশ দিয়েছে।

বিএমডিসিতে অভিযোগ নিয়ে যান না অনেকে

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে মান-নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন শামীম আরা নীপা।
সিলেটে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন ২০১৫ সালে। এরপর তার দুটি হাতেই অস্ত্রোপচারের দরকার হয়।
শুরুতে সিলেটে একটি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এরপর ঢাকার একটি হাসপাতালে চলে আসেন।
তিনি বলছেন, "একটা মারাত্মক অবহেলার শিকার হয়েছি আমি। আমার ডায়াবেটিস আছে। আমার দুই হাতে ব্যান্ডেজ। আমি দুর্ঘটনার রোগী। এই অবস্থায় আমাকে নার্সরা ইনসুলিন নিতে বা অন্য কিছু লাগলে তাদের ওখানে ডেকে পাঠাতো। অনেকদূর হেঁটে আমাকে সেগুলো নিয়ে আসতে হতো। তার প্রতিবাদ করলে আমাকে বলা হয়েছে আপনি এত কথা বলেন কেন?"
শামীম আরা নীপা বলছেন, সেসময় কোথাও অভিযোগ করা যায় কিনা সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
তিনি অবশ্য বলছেন, অভিযোগ করলে তাতে কোন বিচার হবে বলে তার আস্থাও নেই।
তিনি মনে করেন, "যেহেতু ওটা ডাক্তারদের প্রতিষ্ঠান। তারা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে তদন্ত করবে বলে আমি মনে করি না।"

আস্থা আনতে যা করা হচ্ছে

বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডাঃ মোহাম্মদ আরমান হোসেন বলছেন, "যে কথাটা বলেছেন তিনি সেটি যে একেবারে অযৌক্তিক তা নয়। আমরা চেষ্টা করছি তদন্ত কমিটিতে চিকিৎসক ছাড়াও অন্য কোন পেশার কাউকে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা যায় কিনা।"
ঢাকার বাইরেও কীভাবে অভিযোগ করা যায় সে নিয়েও তারা ভাবছেন তারা কী করতে পারেন।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন

বাংলাদেশে ২০১৬ সালে "রোগী এবং স্বাস্থ্যসেবা দানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন" নামে একটি আইন প্রস্তাব করে সরকার।
কিন্তু এই আইনটি এখনো পাশ হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন," এটির খসড়া মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছিলো। মন্ত্রিসভা কিছু প্রশ্ন পাঠায়। সেগুলো সংযুক্ত করে আবারো মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে।"
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে চিকিৎসকদের আপত্তির কারণেই তা এখনো পাশ করা সম্ভব হয়নি।
আইনটির খসড়া প্রকাশিত হয় যখন, সেই সময় থেকেই এর সমালোচনা শুরু হয়েছে এই নিয়ে যে এতে রোগী নয় বরং চিকিৎসকদের সুরক্ষার দিকে বেশি নজর দেয়া হয়েছে।
ভুল চিকিৎসার অভিযোগে রোগীর আত্মীয়দের সাথে চিকিৎসকদের নানা সময়ে যে বিবাদ, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে সেই বিষয়টি নজর পেয়েছে বেশি।

কী আছে প্রস্তাবিত আইনে

বিশেষ করে দুটি বিষয় নিয়ে আপত্তি উঠেছে।
আর তা হল চিকিৎসকের ভুলের অভিযোগ উঠলে চিকিৎসক বা অন্য সেবা-দানকারীদের সাথে সাথে গ্রেপ্তার করা যাবে না।
অন্যদিকে কোনও ব্যক্তি স্বাস্থ্য সেবা-দানকারীদের প্রতি সহিংস আচরণ করলে এবং প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করলে তা জামিন অযোগ্য অপরাধ হবে বলে গণ্য হবে। আর এ কারণেই অনেকে মনে করছেন চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা নিয়ে আইনটিতে বেশি মনোযোগ দেয়া হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা হল এই সম্পর্কে অনেকেই জানেন না

যেভাবে কোটিপতি নবীদুল

নবীদুল ইসলাম (৩৬)। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান। অল্প সময়ের ব্যবধানে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি, প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান তিনি। সম্প্রতি সরজমিনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কিশোর বয়সেই নিষিদ্ধ চরমপন্থি দলের সঙ্গে দরিদ্র নবীদুলের সখ্য গড়ে ওঠে। ১৯৯৮ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অন্ধকার জগৎ ছেড়ে তার বাহিনীর সঙ্গে নবীদুলও আলোর পথে চলে আসেন। ৩ বছরের ব্যবধানে ২০০১ সালে সয়দাবাদ ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন খুন হন। নবীদুল ওই মামলায় প্রধান আসামিদের তালিকায় থাকলেও সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে সকল আসামি পরে মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।
২০০৪ সালে বিএনপি সমর্থক নবীদুল আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এরপর তিনি ইউপির ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হন। এরপর অভাবের কারণে ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে থাকেন তিনি। ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি অভি এন্টারপ্রাইজ বাসে হেলপারিও করেছেন। এ অবস্থায় দলের ভেতরেও তিনি ধীরে ধীরে নিজের প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। ২০১০ সালে মূলিবাড়িতে বেগম খালেদা জিয়ার জনসভাস্থলে ট্রেন পোড়ানোর ঘটনার পর নবীদুলের ভাগ্য খুলতে থাকে। আলোচিত এ ঘটনাকে পুঁজি করে তিনি মামলা থেকে বাঁচতে এবং মামলায় ফাঁসাতে বিএনপি সমর্থিত কারিগর ও প্রামাণিক সম্প্রদায়ের তালিকা করে বিশাল অর্থ-বাণিজ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ অবস্থায় বিশাল বাহিনী গঠন করে ধীরে ধীরে তিনি পুরো এলাকা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক নিয়ন্ত্রণ, সেখানকার পুরাতন সরঞ্জাম ক্রয়-বিক্রয় হতো তার মাধ্যমেই। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বমোহনপুর চর থেকে অবৈধভাবে বালু কেটে ট্রাকে করে বিক্রির কমিশন পেতেন। এছাড়াও পঞ্চসোনা ও গাছাবাড়ির বালুমহালও চলতো তার ইশারায়। বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের জায়গায় মহাসড়কের মুলবাড়ির এলাকায় তার নেতৃত্বে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয় ট্রাক লোড-আনলোড পয়েন্ট। যেখানে অর্ধশতাধিক ট্রাক প্রতিদিন মালামাল লোড-আনলোড করে এবং ২ শতাধিক শ্রমিক এ কাজে জড়িত। এছাড়াও এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা তার ছত্রছায়ায় ব্যবসা করে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। ২০১৫ সালে সদর থানা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খুন হন। এ মামলা থেকে বাঁচাতে বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের কাছে থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে নবীদুলের বিরুদ্ধে।
একই বছরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পান তিনি। এ অবস্থায় ২০১৬ সালে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন নবীদুল। ২০১৮ সালে দলের সম্মেলনে আবারও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন তিনি।
এসব পদ-পদবি ও প্রভাব খাটিয়ে নবীদুল ইতিমধ্যেই ২০টির মতো ট্রাক কিনেছিলেন, বর্তমানে ১২-১৩টি আছে। প্রায় ৪০ লাখ টাকায় কেনা মাইক্রোবাসে চলাচল করেন। মহাসড়কের পাশে মুলিবাড়ী এলাকায় ক্রয়কৃত সাড়ে ৪ শতক জায়গায় নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল ৫তলা ভবন। যা বর্তমানে ছাত্রাবাস হিসাবে ভাড়া দেয়া হয়েছে। পৈতৃক ভিটায় রয়েছে ২তলা বিশিষ্ট আরেকটি ভবন। সেখানে দুই স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তার বসবাস। সম্প্রতি হজব্রত পালন করেছেন। তার আগে অন্তত ৫ হাজার লোককে দাওয়াত করে মজলিশ দিয়েছিলেন নবীদুল।
বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ের দক্ষিণ অংশে ২২ একর জায়গায় সম্প্রতি গড়ে উঠছে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্প। সেখানে মাটি ভরাট ও জায়গা প্রস্তুতের ৫ কোটি টাকার কাজেও তার ভাগ রয়েছে।
সরজমিনে গেলে ট্রাক লোড-আনলোড পয়েন্টে দায়িত্বরত আবদুস সালাম জানান, এলাকায় যাই হোক চেয়ারম্যানতো জানেই। লোড-আনলোড পয়েন্ট চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণেই আছে। আগে এখান থেকে আয়-রোজগার ভালো হলেও বর্তমানে কিছুটা ভাটা পড়েছে।
নবীদুলের পৈতৃক বাড়ির পাশের প্রতিবেশী মুদি দোকানদার মামুন অভিযোগ করে বলেন, আমার কিছু জায়গা দখল করে নবীদুল ২ তলা বাড়ি ও বাড়ির গেট নির্মাণ করেছেন। তার প্রভাবের কারণে এ বিষয়ে কিছুই করতে পারছি না। সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করার পর নবীদুল তার দোকানটি বন্ধ করেছে দিয়েছেন।
চেয়ারম্যানের ইচ্ছাই চলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক সদস্য পরিষদের আসেন না। এমন অভিযোগ করেছেন ১নং ওয়ার্ডের সদস্য হাজী সেলিম। তিনি বলেন, পরিষদের সকল বরাদ্দ চেয়ারম্যানের ইচ্ছায় ভাগ-বণ্টন হয়। প্রকল্পগুলো সদস্যদের মধ্যে কিছুটা বণ্টন হলেও রাজস্ব খাতের এক ভাগ আয়ের টাকা এককভাবে তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন। এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় থানার ওসি সৈয়দ শহিদ আলম জানান, লোড-আনলোড পয়েন্টের ট্রাকগুলো সেতুর পারাপারের জন্য মহাসড়কে ওঠার সময় রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। মাঝেমধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা। এখানকার ধুলোবালির কারণে মহাসড়কে চলাচলকৃত যানবাহনগুলোকেও নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জায়গাটি সেতু কর্তৃপক্ষের হওয়ায় আমরা সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারছি না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা মোবাইলে জানান, মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ট্রাক লোড-আনলোড পয়েন্টগুলো উচ্ছেদের জন্য অনেক আগেই জেলা প্রশাসকের অফিসে পত্র দেয়া হয়েছে। তারাই উচ্ছেদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
ইউপি চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলাম বলেন, অনেক আগে থেকেই আমার দুধেল গরুর খামার আছে। এক সময় হোটেল ব্যবসা করেছি। সে কারণে আমার কিছু টাকা-পয়সা হয়েছে। যে মাইক্রোবাসটি ব্যবহার করি সেটি বড় ভাইয়ের। পৈতৃক ভিটার ২ তলা বাড়ি মায়ের জমানো টাকায় নির্মিত। ৫ তলা ভবনটি আমার নিজস্ব। যমুনা নদীর বালুমহালে আমার কিছু অংশ আছে। মহাসড়কের পাশে অনেক আগে থেকে ২টি লোড-আনলোড পয়েন্ট রয়েছে। যার একটি আমার নিয়ন্ত্রণে চলে। বর্তমানে সেতুর গোলচত্বর থেকে নলকা পর্যন্ত অনেকেই পয়েন্ট গড়ে তুলেছেন। নিজের মালিকানায় ১২টি ট্রাক থাকলেও ৪টির কথা স্বীকার করেন তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজস্ব খাতের এক ভাগ আয়ের টাকা ইউএনও স্যারের মাধ্যমে মিটিং করেই প্রকল্প তৈরি করা হয়। ওই টাকায় আমি কোনো কাঁচা কাজ করি না, শুধু পাকা বা দৃশ্যমান কাজ করি।

কাশ্মীর ইস্যু: ইমরান খানের বক্তব্যের প্রতি মালয়েশিয়া ও চীনের সমর্থন

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া ও চীন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ শনিবার বলেছেন, জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস হওয়ার পরও কাশ্মীরে আগ্রাসন চালানো হয়েছে এবং দখল করা হয়েছে। অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে কাশ্মীর ইস্যুকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘে দেয়া প্রথম ভাষণে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত শুক্রবার কাশ্মীর ইস্যু তুলে বলেন, বিশ্বকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ১২০ কোটি মানুষের বাজারকে তারা প্রাধান্য দেবে, নাকি ন্যায় বিচার ও মানবতাকে প্রাধান্য দেবে।

এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ কাশ্মীর, ফিলিস্তিন, মিয়ানমারসহ বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় মুসলমানদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তিনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান তবে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কাশ্মীরে আগ্রাসন চালানো হয়েছে এবং দখল করে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর পেছনে যতই কারণ দেখানো হোক না কেন এটি ভুল সিদ্ধান্ত। মাহাথির মোহাম্মাদ সতর্ক করে বলেন, জাতিসংঘকে উপেক্ষা করার অর্থ হবে জাতিসংঘ ও আইনের শাসনকে অসম্মান করা।

এদিকে, শুক্রবার জাতিসংঘ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই কাশ্মীর ইস্যু তুলে ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে চীন যেকোনো একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা করে কারণ এতে পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল হবে।
মাহাথির মোহাম্মাদ (বামে) এবং ওয়াং ই

ইসলামী ব্যাংকের তহবিল থেকে নিয়ম ভেঙে টাকা নিচ্ছে ৭ ব্যাংক by এম এম মাসুদ

বর্তমানে বেশ কয়েকটি ব্যাংক আমানত পাচ্ছে না। নগদ টাকার তীব্র সংকট। ফলে গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড থেকে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ টাকা ধার করেছে ৭টি ব্যাংক ও ২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আমানতকারীদের না জানিয়ে আন্তঃব্যাংক এই ঋণ দেয়ায় ব্যাংকিং রীতি ভঙ্গ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ইসলামী ব্যাংকের আমানতে অবনতি ঘটতে পারে বলে মনে করেন ব্যাংকাররা। সামপ্রতিক সময়ে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও বেপরোয়াভাবে ঋণ বিতরণ করায় এমন কাযক্রম চলছে বলে মনে করেন তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকগুলোর টাকার লেনদেনে সংকট দেখা দিলে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার অর্থাৎ কলমানি মার্কেট থেকে তারা স্বল্পসময়ের জন্য ধার করে থাকে। কিন্তু এটা নিয়মের মধ্যে থেকে করতে হবে। টাকার সংকটে থাকায় ওই ব্যাংকগুলো এখন ঋণ করে চলছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআরআর (নগদ জমা) ও এসএলআর (বিধিবদ্ধ সঞ্চিতির হার) জমা রাখতে পারছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক থেকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ২ বারে ঋণ নিয়েছে ১৫৭৫ কোটি টাকা। ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড ৩ বারে ঋণ নিয়েছে ২২১০ কোটি টাকা। এই ব্যাংকটির ঋণ নিতে পারতো সর্বোচ্চ (লিমিটি ছিল) ১৬৫০ কোটি টাকা। কিন্তু নিয়েছে ২২১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৬৫০ কোটি টাকা বেশি নিয়েছে ইউনিয়ন ব্যাংক। স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ঋণ নিয়েছে ১১৫০ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড নিয়েছেন ৭৫০ কোটি টাকা। প্রিমিয়ার ব্যাংক লি. নিয়েছে ১৮০ কোটি টাকা। যমুনা ব্যাংক লি. নিয়েছে ২০০ কোটি টাকা ও এবি ব্যাংক লি. ধার নিয়েছে ২০ কোটি টাকা। এসব ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ঋণ নিয়েছে ৮৪ কোটি ৫ লাখ টাকা। হজ্ব ফাইনান্স কোম্পানি ধার নিয়েছে ৫০ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ৭ই ফেব্রুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের ২৭২তম বোর্ড সভায় অন্য ব্যাংককে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়ার জন্য অনুমোদন পাশ করা হয়। তবে বলা হয়, কোনভাবেই ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিক্রম করবে না। কিন্তু ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ৪২৯ কোটি ৫ লাখ টাকা বেশি ঋণ দেয়া হয় ওই ৯টি প্রতিষ্ঠানকে। আর এই অতিরিক্ত টাকাও দেয়া হয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে। যা নিয়ম-রীতির ভঙ্গ বলে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে ২০১৯ সালের ছয় মাসের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৯টিই মুনাফা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে ইসলামী ব্যাংক। জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ৩২৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির মুনাফা হয়েছিল ৩০২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস শেষে সম্পদের দিক থেকে সবার ওপরে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৯৩৬ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে ব্যাংকটির সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৭৯৫ কোটি ৯৩ লাখ ৩ হাজার টাকা। ছয় মাসে ব্যাংকটির সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৬ হাজার ১৪০ কোটি ৭০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, বোর্ডে ঋণের দেয়ার পরিমাণ অনুমোদন হওয়ার পর তা আমানতকারীদের জানাতে হয়। কিন্তু এ বিষয়ে কাউকে জানানো হয়নি। এমকি বার্ষিক সাধারণ সভায়ও জাননো হয়নি। শুধুমাত্র বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রয়েছে। যেটা আমানতকারীদের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণার সামিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মাহবুব উল আলমের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর আমানতের ১৯ শতাংশ (সিআরআর ও এসএলআর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাধ্যতামূলক জমা রাখতে হয়। কিন্তু ব্যাংক নগদ জমা (সিআরআর) রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে ধার করে চলতে হচ্ছে।
ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, গত কয়েক মাস ধরে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের সংকট রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাস শেষে ব্যাংক খাতে মোট উদ্বৃত্ত তারল্য কমে ৬০ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৭৬ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৮৬ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৬ সাল শেষে ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৯ লাখ কোটি টাকা। এদিকে তারল্য কমায় বাড়ছে সুদহার। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে কলমানির সুদহারও গত ৪ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। গত ২২শে আগস্ট থেকে কলমানির রেট সর্বোচ্চ ৫.৫০ শতাংশে রয়েছে। যা গত ৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালের অক্টোবরে কলমানির রেট ৫ শতাংশ উপরে ছিল।

অগ্রণী ব্যাংকের সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, অনেকেই আগ্রাসী ব্যাংকিং করছে। অর্থাৎ সামর্থের চেয়ে বেশি ঋণ দিয়ে ফেলেছে। হাতে নগদ কোনো ক্যাশ রাখেনি। অনেক ব্যাংকে ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার ওপরে চলে গেছে। ফলে টাকার সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মানলে এই সমস্যায় পড়তে হতো না বলে মনে করেন তিনি।

থাইল্যান্ডের রাজার কনসোর্ট বা সঙ্গীর যে 'ক্যানডিড' ছবিগুলো প্রকাশের পর ওয়েবসাইট ক্র্যাশ করেছিলো

থাইল্যান্ডের রাজার নতুন অভিষিক্ত রাজকীয় সঙ্গী বা কনসোর্টের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করার পর এত বেশী মানুষ ছবিগুলো দেখতে শুরু করে যে ওয়েবসাইটিই ক্র্যাশ করে।
সিনিয়াত ওংভাজিরাপাকদীকে এখানে দেখা যাচ্ছে যুদ্ধবিমান চালাতে
'ক্যানডিড' বা অপ্রস্তুত অবস্থায় তোলা ছবিগুলোতে রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের এই ৩৪ বছর বয়সী রাজকীয় সঙ্গী সিনিনাত ওংভাজিরাপাকদীকে দেখা গেছে যুদ্ধবিমান চালাতে, সামরিক কুচকাওয়াজে এবং যুদ্ধের পোশাক পরা অবস্থায়।
সিনিয়াত ওংভাজিরাপাকদী, সাবেক রাজার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে
কনসর্ট একটা উপাধি সেটা রাজা তার স্ত্রী বা সঙ্গীকে দিয়ে থাকেন। ৬৭ বছর বয়সের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন সিনিয়াতকে জুলাই মাসে এই উপাধি দেন। এর দুই মাস আগে তিনি রানী সুথিদা কে বিয়ে করেন। সুথিদা রাজার চতুর্থ স্ত্রী।
রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন এবং সিনিয়াত ওংভাজিরাপাকদী
সিনিনাত একজন মেজর জেনারেল, তিনি এক শতাব্দীর মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যাকে 'রয়্যাল নোবেল কনসর্ট' উপাধি দেয়া হয়েছে। রয়টার্স নিউজ এজেন্সি বলছে যে ওয়েবসাইটে এই ছবি গুলো প্রকাশ করা হয়েছে সেটি দর্শকের চাপে কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
সিনিনাতকে দেখা যাচ্ছে ফায়ারিং রেঞ্জে একটি অস্ত্র তাক করে ধরতে
তার জীবনবৃত্তান্ত প্রকাশ করা হয়েছে ছবির পাশাপাশি। থাইল্যান্ডের প্যালেসের বরাত দিয়ে এক বিবৃত্তিতে বলা হয়েছে, রাজা আদেশ দিয়েছেন সিনিয়াতের একটা রাজকীয় জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করতে।
তিনি একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট, নার্স এবং দেহরক্ষী।
রাজার (বামে) সিনিনাত ওংভাজিরাপাকদি (মাঝে)
৪১ বছরের রানী সুথিদা একজন সাবেক বিমানবালা এবং রাজার দেহরক্ষী ইউনিটের উপ-প্রধান ছিলেন।
তিনি রাজার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ছিলেন এবং বহু বছর ধরে তাকে রাজার সাথে প্রকাশ্যে দেখা গেছে।
রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন তার পিতা ২০১৬ সালে মারা যাওয়ার পর সিংহাসনে বসেন।
রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন সিনিয়াতকে জুলাই মাসে এই উপাধি দেন