Friday, November 20, 2009

ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনায় যুক্তরাষ্ট্র -দখল করা ভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ পরিকল্পনা

পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সাম্প্রতিক ইসরায়েলি প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস ও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েল পরিকল্পিত এই আবাসন পরিকল্পনা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনাকে ব্যাহত করবে। ইসরায়েলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এই আবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ এই প্রতিক্রিয়া জানায়।
ইসরায়েলের পরিকল্পনা ও নির্মাণ মন্ত্রণালয় পূর্ব জেরুজালেমের ‘গিলো’ নামের এই ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়। গিলো নামের এই ইহুদি বসতিটি ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইসরায়েলের দখলকৃত ভূমিতে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময় এটিকে জেরুজালেম পৌর এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।
ইসরায়েলের এই ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে ইসরায়েলের উচিত অন্য বিষয়গুলোকে ভালোভাবে বিবেচনায় আনা। দখলকৃত ভূমিতে কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, কোনো পক্ষেরই এমন কিছু করা উচিত হবে না, যা আলোচনার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে। গত সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনারও সমালোচনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি বারাক ওবামার একজন বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে ইসরায়েলকে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার অনুরোধ করে। কিন্তু ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েল জানিয়ে দিয়েছে, জেরুজালেম তাদের ও এটিই তাদের রাজধানী।
এদিকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের একজন মুখপাত্র এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, শত অনুরোধ উপেক্ষা করে ইসরায়েলের এই ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাই প্রমাণ করে, ইসরায়েল কখনোই এই অঞ্চলে শান্তি চায় না।

যুক্তরাষ্ট্রকে স্পর্শকাতর পরমাণু তথ্য দিয়েছিলেন মোশাররফ -বিজ্ঞানী কাদির খানের অভিযোগ

পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী ড. আবদুল কাদির খান বলেছেন, পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কিত স্পর্শকাতর বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি তাঁর কাছে আছে এবং চাইলে তিনি আদালতের সামনে এসব তথ্য উপস্থাপন করতে পারবেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর একটি প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করে পাকিস্তানের পরমাণু বোমার জনক কাদির খান এ কথা বলেন।
ড. আবদুল কাদির খান দাবি করেন, ক্ষমতায় থাকাকালে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জাফরুল্লাহ খান জামালি এ সংক্রান্ত আদেশে সই করতে রাজি না হওয়ায় সেটা তখন সম্ভব হয়নি।
কাদির খান বলেন, ওই আদেশে সই করার জন্য প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী জামালি। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যদের আস্থা অর্জনের পর তিনি ওই আদেশে সই করতে অস্বীকৃতি জানান। মোশাররফ তাঁর হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার উদ্দেশে একটি সি-১৩০ বিমানও প্রস্তুত করে রেখেছিলেন।
পারভেজ মোশাররফকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাঁড় হিসেবে বর্ণনা করে এই পরমাণু বিজ্ঞানী বলেন, এখন সময় এসেছে, পরমাণু কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য হস্তান্তর সম্পর্কে অবশ্যই জনগণকে অবহিত করতে হবে। এ ব্যাপারে তদন্ত ও মোশাররফের বিচার করতে হবে। তিনি বলেন, এটা এখন সবাই জানে, ইসরায়েল ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সাবেক এই জেনারেলের গভীর সখ্য ছিল।
কাদির খান বলেন, খোদাই জানেন, ওই দেশগুলোর কাছে কী পরিমাণ গোপন তথ্য হস্তান্তর করেছিলেন মোশাররফ। তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রেসিডেন্ট মোশাররফের মেয়াদকালে তাঁকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, চীন পাকিস্তানকে দুটি পরমাণু বোমা বানানোর মতো ইউরেনিয়াম সরবরাহ করেছিল—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সবার আগে কাদির খানই প্রকাশ করেছিলেন।
পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের মজুদ: ভারতের চেয়ে পাকিস্তানের কাছে বেশি পরমাণু অস্ত্র মজুদ রয়েছে। চীনসহ এই দুটি প্রতিবেশী দেশ নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ এবং নতুন নতুন জায়গায় অস্ত্র মোতায়েন করে চলেছে। দুই মার্কিন পরমাণু বিশেষজ্ঞ সম্প্রতি এ কথা বলেছেন।
রবার্ট এস নরিস ও হান্স এম ক্রিস্টেনসেন ‘নিউক্লিয়ার নোটবুক: ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেপ্লয়মেন্ট অব নিউক্লিয়ার উইপনস-২০০৯’ শীর্ষক এক নিবন্ধে বলেন, পাকিস্তানের কাছে আনুমানিক ৭০ থেকে ৯০টি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের কাছে রয়েছে ৬০ থেকে ৮০টি। ‘বুলেটিন অব দি অ্যাটমিক সায়েন্স’-এর সর্বশেষ সংখ্যায় নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে।
নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, বেইজিং, ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লি সংখ্যাগত ও গুণগতভাবে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে চলেছে এবং আরও নতুন নতুন জায়গায় এসব অস্ত্র মোতায়েন করছে।

অনুশীলনে ফিরেছেন রোনালদো

বুট পায়ে মাঠে নেমেছেন, করেছেন হালকা স্ট্রেচিং। অ্যাঙ্কেলে চোট পাওয়ার প্রায় এক মাস পর গত সোমবার এভাবেই শুরু হয় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ফেরার প্রস্তুতি। রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ উইঙ্গার পুরো মাত্রার অনুশীলনে ফিরবেন আগামীকাল। পরের দিনই স্প্যানিশ লিগে রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে ম্যাচ রিয়ালের।
রিয়াল কর্তৃপক্ষ তাঁর অনুশীলনে ফেরার কথাই জানিয়েছে। শনিবারের ম্যাচে খেলবেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২৫ নভেম্বর এফসি জুরিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ খেলার জন্যই প্রস্তুত হবেন রোনালদো। ওই ম্যাচের চার দিন পরই স্প্যানিশ লিগে রিয়ালের বড় পরীক্ষা, বার্সেলোনার সঙ্গে ‘এল ক্লাসিকো’।
ক্লাবের চিকিত্সা বিভাগ ও তাঁর ডাচ চিকিত্সক নিকোলাস ফন ডিকের কথা অনুযায়ী, দলের অনুশীলনে ফেরার তারিখটা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।

কাউন্টির নাম উস্টারশায়ার

প্রায় দেড় শ বছর বয়স উস্টারশায়ারের। অনেক পুরোনো হলেও সাফল্যের পাল্লা ততটা ভারী নয়। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে ৫ বার। ক্লাবটির সুবর্ণ সময় এসেছিল দুটি অধ্যায়ে। প্রথমবার ষাটের দশকে, ১৯৬৪ আর ১৯৬৫ সালে জিতেছিল টানা দুটো কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ। পরপর দুই বছর শিরোপা এসেছিল ১৯৮৮ আর ১৯৮৯ সালেও। পাঁচ শিরোপার অন্যটি আসে ১৯৭৪ সালে। এর পর থেকেই সাফল্য-খরা। সর্বশেষ বড় কোনো শিরোপা জয় ১৯৯৪ সালে, সেটিও ওয়ানডে টুর্নামেন্টে।
সাফল্য যা-ই হোক, ক্লাবটিতে পদধূলি পড়েছে ক্রিকেটের অনেক বড় বড় তারকার। গ্রায়েম হিককে বলা হয় উস্টারশায়ারের ঘরের ছেলে। ১৯৮৪ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত খেলেছেন। ক্লাবটির হয়ে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে রান করেছেন ৩০ হাজারেরও বেশি। ইমরান খান, কপিল দেব, ইয়ান বোথাম, গ্লেন ম্যাকগ্রা, শোয়েব আখতার, চামিন্ডা ভাস, জহির খান, ক্রিস গেইলের মতো বর্তমান-সাবেক তারকারাও খেলেছেন ক্লাবটিতে।

এসে গেছেন ম্যাকডারমট-তনয়

অনেক কিছুতে মিল। শুধু ডিসেম্বরের জায়গায় নভেম্বর আর টেস্টের জায়গায় প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট। ১৯৮৪ সালে মেলবোর্ন টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল ক্রেইগ ম্যাকডারমটের। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া সেই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চারদিনের ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হবে ম্যাকডারমট-তনয় অ্যালিস্টারের। পার্থক্য অবশ্য আছে আরেক জায়গায়—ক্রেইগ ছিলেন ডান-হাতি ফাস্ট বোলার। অ্যালিস্টারও আগুন ঝরাতেই পছন্দ করেন, তবে সেটা বাঁ হাতে।
অভিষেকের দিনই নজর কেড়েছিলেন ক্রেইগ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিডল অর্ডারে মোক্ষম আঘাত হেনে। ১ রানের ভেতর তুলে নিয়েছিলেন রিচি রিচার্ডসন, ল্যারি গোমেজ আর জেফ ডুজনকে। প্রথম টেস্টে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট।
১৮ বছর বয়সী অ্যালিস্টারও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে নজর কাড়তে পারেন কি না সেটি শিগগিরই বোঝা যাবে। তবে কথাবার্তায় বেশ পরিণতই মনে হলো এই কুইন্সল্যান্ডারকে, ‘বোলিং করার জায়গাটা একই আছে। অফ স্টাম্পের ওপরেই বল করে যেতে হবে। ফুল লেংথে ক্রিস গেইলকে বল করা যাবে না। তাহলে ও আপনাকে মাথার ওপর দিয়ে সীমানাছাড়া করবে। আশা করি, আমার হাতে নতুন বলই তুলে দেওয়া হবে।’
৭১ টেস্টে ২৯১ উইকেট তুলে নেওয়া ক্রেইগের ছেলে বাবার সুনাম রাখবেন কি না সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকেই বাবাকে ছাড়িয়ে যাবেন অ্যালিস্টার। ১৮ বছর ১৬৪ দিন বয়সে অভিষেক হচ্ছে তাঁর, ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডে অভিষেকের সময় ক্রেইগের বয়স ছিল ৭৫ দিন বেশি!

কলাবাগানের টানা ষষ্ঠ জয়

একই দিনে ক্রিকেটের তিন রূপ দেখল প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ। ফতুল্লা স্টেডিয়ামে বিকেএসপির বিপক্ষে ১৭৫ রানে জিতে জয়ের ধারা ধরে রেখেছে কলাবাগান। এ ম্যাচে কলাবাগানের ইনিংসটাই যেখানে ২৭৬ রানের, সেখানে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুই ইনিংস মিলিয়ে রান হলো ১৫১! লো স্কোরিং ম্যাচে ওল্ড ডিওএইচএসের ৭৪ রান টপকাতে ভিক্টোরিয়াকে হারাতে হলো ৭ উইকেট। আর বিকেএসপিতে? সকালের বৃষ্টিতে মাঠ ভেজা থাকায় সিসিএস-খেলাঘরের ম্যাচই হয়নি। আজ শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা এই ম্যাচ।
আরিফুল এক রানের জন্য ফিফটি মিস করলেও গোলাম মাবুদ (৬৬) আর জাহিদের (৬০) ফিফটিতে বড় সংগ্রহ গড়েছিল কলাবাগান। ৪০ রানে ২ উইকেট পড়ার পর মাবুদ-রকিবুলের (৩৪) তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৭৪ রান। জবাবে ৩১.৪ ওভারে ১০১ রানে অলআউট বিকেএসপি। কলাবাগানের বোলিং সাফল্যটা সবার সম্মিলিত। শাহাদাত ৩০ রানে নিয়েছেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট। প্রথম ম্যাচে হারার পর টানা ষষ্ঠ জয় এটি কলাবাগানের, বিকেএসপির পঞ্চম পরাজয়।
মিরপুরে ভিক্টোরিয়া-ওল্ড ডিওএইচএসের ম্যাচ হয়েছে নতুন উইকেটে। তবে ভিক্টোরিয়ার অধিনায়ক মোহাম্মদ শরীফ জানিয়েছেন, উইকেট সমস্যা ছিল না। বোলারদের ভালো বোলিংয়েই দু দলের এই ব্যাটিং ব্যর্থতা। ওল্ড ডিওএইচএসের ৭৪ রানের ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৪ রান তাইবুরের। জবাবে ১১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল ভিক্টোরিয়াও। এরপর জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে তারা হারিয়েছে আরও ৩ উইকেট। লিগে ভিক্টোরিয়ার এটি তৃতীয় জয়, ওল্ড ডিওএইচএসের চতুর্থ পরাজয়।
আগামীকালের খেলা পেছাল: সিসিডিএম চেয়ারম্যান জি এস হাসান জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ের কারণে রাজধানীর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় আগামীকালের ম্যাচের জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রিমিয়ার লিগে তাই কাল কোনো ম্যাচ হবে না।

আবাহনীতে আসছেন পাকিস্তানের রাজ্জাক

ম্যাচপ্রতি সাত হাজার ডলার করে চান অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। অস্ট্রেলিয়ান এই অলরাউন্ডারের পেছনে এত টাকা খরচ করতে চাইল না আবাহনী। প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা শেষ পর্যন্ত আনছে পাকিস্তানের অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাককে। আবাহনী কর্মকর্তা জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, আজ সন্ধ্যায়ই রাজ্জাকের ঢাকায় এসে পৌঁছার কথা।
রাজ্জাককে আনলেও আবাহনী ভারতের রেশমী রঞ্জন পারিদাকেও ধরে রাখবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ঢাকার দলগুলোর মধ্যে রাজ্জাকের সঙ্গে প্রথমে কথা বলেছিল গাজী ট্যাংক। ই-মেইলে লিখিত চুক্তিও হয়েছিল দু পক্ষে। কিন্তু ভারতের হেমাং বাদানি আর বাসন্ত সারাভানামের পর পাকিস্তানের মিসবাহ-উল-হককেও সই করিয়ে নেওয়ায় রাজ্জাক চাইলেও আর গাজী ট্যাংকে খেলতে পারবেন না। প্রিমিয়ার লিগে একটা দল সর্বোচ্চ তিনজন বিদেশি খেলোয়াড়ের নামই নিবন্ধন করতে পারে।
ওদিকে বিমানের বিপক্ষে সোমবারের ম্যাচেই মোহামেডানে খেলার কথা ছিল আরেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার রানা নাভেদ-উল হাসানের। এরপর শোনা গেল, নাভেদ আসবেন মঙ্গলবার অর্থাত্ গতকাল। কিন্তু রানা নাভেদ কালও এলেন না। বরং জানা গেল, আপাতত ঢাকায় আসছেন না পাকিস্তানের এই বোলিং অলরাউন্ডার।
৭ ম্যাচে ১১৫ রান ও ১০ উইকেট—যে আশায় ঘরোয়া ক্রিকেটে বিদেশি ক্রিকেটার আনা, ফারভিজ মাহারুফ হয়তো মোহামেডানের সে আশা এখনো পূরণ করতে পারেননি। তার পরও ঢাকার কন্ডিশনের সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছেন বলে ঈদের আগের ম্যাচগুলো পর্যন্ত তাঁকে রেখে দিচ্ছে মোহামেডান। তবে সুপার লিগে ফারভিজের পরিবর্তে রানা নাভেদকে মোহামেডানে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানা গেছে একটি সূত্রে।

কাকার বর্ষসেরা মেসি

বাসায় ট্রফি রাখার শোকেসটার আকার এবার বাড়াতেই হচ্ছে লিওনেল মেসিকে। দু হাত ভরে পুরস্কার পাচ্ছেন। পূর্বাভাস আছে আরও বেশ কয়েকটি পুরস্কার জেতার। এত ট্রফি তিনি রাখবেন কোথায়!
এরই মধ্যে গত মৌসুমে স্প্যানিশ লিগের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন। জিতেছেন স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার আলফ্রেডো ডি স্টেফানো ট্রফি। মার্কা আর লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত-এর যৌথভাবে দেওয়া ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার, উয়েফা ক্লাব ফুটবলার অব দ্য ইয়ার, স্পেনের ডন ব্যালন ম্যাগাজিনের ‘প্রেমিও ডন ব্যালন’ পুরস্কার... এরপর সদ্যই জিতলেন ওনজে ডি’অর।
ফরাসি ফুটবল সাময়িকী ওনজে মুন্ডিয়াল-এর পাঠকের ভোটে দেওয়া এই পুরস্কার এর আগে জিতেছিলেন মিশেল প্লাতিনি, ডিয়েগো ম্যারাডোনা, মার্কো ফন বাস্তেন, রোমারিও, রোনালদো, জিনেদিন জিদানের মতো তারকারা। গতবার জিতেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
মেসির পুরস্কারের ফর্দটা এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার দুটোর নাম এখনো বাকি। ইউরোপের বর্ষসেরা ব্যালন ডি’অর আর ফিফা বর্ষসেরার দুটো পুরস্কারই মেসির হাতেই উঠবে—এর বিপক্ষে বাজি ধরার লোক খুব কমই। ২০০৭ সালে এই দুটি পুরস্কারজয়ী ব্রাজিলিয়ান তারকা কাকাও যেমন বলছেন, এবার ফিফা বর্ষসেরা মেসিই হবেন, ‘গত বছর বার্সেলোনার হয়ে সবকিছু জিতেছে মেসি। পুরস্কারটা জিততে ক্লাব আর জাতীয় দলের হয়ে একটা ভালো বছর কাটানো জরুরি।’
একবার জিতেছেন বলে যে আর ফিফা বর্ষসেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন না, এমন নয়। বরং এবারেরটা মেসির হাতে ছেড়ে দিয়ে কাকা তাকিয়ে আছেন ২০১০ সালের দিকে, ‘পরের বছর ফিফা বর্ষসেরা নির্বাচন করা হবে বিশ্বকাপে কে ভালো খেলেছে সেটি দিয়ে। আমার আপাতত লক্ষ্য ব্রাজিলকে চ্যাম্পিয়ন করা। এরপর আমি ব্যক্তিগত পুরস্কার নিয়ে ভাবব।

আবার আসছেন তাহির জামান

আগামী ৫-১২ ডিসেম্বর ঢাকায় হকি কোচদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ কোচ থাকবেন পাকিস্তান হকি দলের সাবেক অধিনায়ক তাহির জামান। ঢাকায় অনেক দিন ঘরোয়া হকি খেলা তাহির এর আগে বাংলাদেশ হকি দলের সঙ্গে কাজ করে গেছেন উপদেষ্টা কোচ হিসেবে।
কাল হকি ফেডারেশনের ওয়ার্কিং কমিটির সভা শেষে তাহিরের আসার খরবটা জানানো হয়েছে। কর্তারা সরাসরি না বললেও এই সভায় ঠিক হয়েছে, জার্মান ফেরত জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পুলের গ্যাঁড়াকলে ফেলা হবে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে ২১ নভেম্বর লিগ কমিটির সভায়। এ ছাড়া এসএ গেমসের প্রস্তুতি হিসেবে জাতীয় দলকে আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে খেলতে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে এদিন। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সময়সূচি অবশ্য ঠিক হয়নি।

জিতেছে ব্রাজিল

আরব সফর থেকে শতভাগ সাফল্য নিয়েই দেশে ফিরছে ব্রাজিল। ইংল্যান্ডকে হারানোর পর দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক ওমানকে কাল ২-০ গোলে হারাল কার্লোস দুঙ্গার দল। মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলটি করেছেন নিলমার। ৬১ মিনিটে পাওয়া দ্বিতীয় গোলটি অবশ্য ছিল আত্মঘাতী।

ফুটবল ম্যাচ নাকি যুদ্ধ

আনমনা হয়ে সুদানের আল মেরিখ স্টেডিয়াম এলাকায় ঢুকে পড়লে হঠাত্ আঁতকে উঠতে পারেন। মনে হতে পারে, স্টেডিয়ামে না ঢুকে পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে পড়েছেন ভুল করে। স্টেডিয়ামজুড়ে যে থাকবে পুলিশ আর পুলিশ। এত পুলিশ মোতায়েনের কারণ একটাই—আজ সুদানের এই স্টেডিয়ামে আলজেরিয়া-মিসর প্লে-অফ। নিরাপত্তার এই মহাযজ্ঞ দেখে কেউ বলে উঠতেই পারেন, ‘ফুটবল ম্যাচ, নাকি যুদ্ধ!’ তাহলে তাঁকে দোষ দেওয়াও যাবে না।
এই ম্যাচকে ঘিরে এমন যুদ্ধের আবহ ছড়িয়ে পড়ার কারণ গত শনিবার মিসরের কায়রোতে দুই দলের শেষ গ্রুপ ম্যাচটির আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাওয়ার পথে একদল মিসরীয় সমর্থক ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা করেছিল আলজেরিয়া দলের ওপর। এতে পাঁচজন খেলোয়াড়ও আহত হয়েছিলেন। এরপর ম্যাচটিতে আলজেরিয়া ০-২ গোলে হেরে গেলে মিসরে খেলা দেখতে যাওয়া আলজেরীয়রা ভাঙচুর করে মিসরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। এর জের আজও থাকবে বলেই আশঙ্কা।
ম্যাচটিতে আলজেরিয়া ০-২ গোলে হারায় দুই দলের পয়েন্ট এবং গোল-ব্যবধান সমান হয়ে গেছে। তাই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে হচ্ছে এই প্লে-অফ। সুদানের বিশ্বকাপ-আশা সেই কবেই তো শেষ। তবে এই ম্যাচের কারণে সুদানের লোকেরা আবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের উত্তেজনায় কাঁপছে।
কোনো অঘটন এড়াতে নিয়ে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। ৪১ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে ৩৫ হাজারের বেশি দর্শক ঢুকতে দেওয়া হবে না। আলজেরিয়া আর মিসর থেকে আসা লোকদের অনেকেই তাই স্টেডিয়ামের বাইরে বড় পর্দায় খেলা দেখবেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে থাকবে বাড়তি পুলিশ। স্টেডিয়াম আর বাইরে সব মিলিয়ে এই ম্যাচের জন্য প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ থাকবে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্বে।

মাহেলার ব্যাটে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা

তিলকরত্নে দিলশানের ১১২, সামারাবীরার ৭০ রানের পর মাহেলা জয়াবর্ধনের ২০৪ ও প্রসন্ন জয়াবর্ধনের ৮৪ রান আহমেদাবাদ টেস্টে চালকের আসনে বসিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। ষষ্ঠ উইকেটে তাঁরা তোলেন ২১৬ রান। ৩৭৫ রানে ম্যাথুস আউট হওয়ার পর থেকে এই দুজন শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে নিয়ে যান ছয় শ রানের কাছাকাছি। তৃতীয় দিন শেষে তাদের সংগ্রহ পাঁচ উইকেটে ৫৯১ রান। ভারতের চেয়ে ১৬৫ রানের এগিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার হাতে এখনো রয়েছে পাঁচ-পাঁচটি উইকেট। এটি মাহেলার ২৭তম সেঞ্চুরি। ওয়েবসাইট।
ভারতের হয়ে দুই পেস বোলার জহির ও ইশান্ত নেন দুটি করে উইকেট।
আহমেদাবাদ টেস্টকে সেঞ্চুরির টেস্ট ম্যাচও বলা যায়। দুই ভারতীয়র পর দুই শ্রীলঙ্কানও সেঞ্চুরি করেছেন। আর একজন অপরাজিত ৮৪ রানে। তাঁরটা হয়ে গেলে সেঞ্চুরির সংখ্যা দাঁড়াবে পাঁচে।
এর আগে ভারত প্রথম ইনিংসে রাহুল দ্রাবিড়ের ১৭৭, অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ১১০ ও যুবরাজের সিংয়ের ৬৮ রানে তোলে ৪২৬ রান। এই টেস্টেই রাহুল দ্রাবিড় বিশ্বের পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। টেন্ডুলকারের পর ১১ হাজার রানের ক্লাবে তিনি দ্বিতীয় ভারতীয়। তাঁর সামনে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বোর্ডার ও রিকি পন্টিং, ভারতের শচীন টেন্ডুলকার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রায়ান লারা। ক্যারিয়ারের ১৩৫তম টেস্টে এটি অর্জন করেন রাহুল।

দুর্নীতির ধারণাসূচক -অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে হলে by ইফতেখারুজ্জামান

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) কর্তৃক ১৭ নভেম্বর প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণাসূচক ২০০৯ করাপশন পারসেপশন ইন্ডেক্স বা সিপিআই অনুযায়ী বাংলাদেশ এই সূচকে অন্তর্ভুক্ত মোট ১৮০টি দেশের মধ্যে মাত্র নয়টি দেশের মধ্যে অন্যতম, যারা গতবারের তুলনায় এ বছর সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ সূচকের ০-১০-এর স্কেলে ২ দশমিক ৪ স্কোর পেয়ে তালিকার নিম্নক্রম অনুযায়ী ত্রয়োদশ স্থান পেয়েছে, যা ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৩৯তম। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দশম ও ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৪৭তম এবং স্কোর ছিল ২ দশমিক ১। এক বছরের ব্যবধানে শূন্য দশমিক ৩ পয়েন্টের অগ্রগতিকে সূচক প্রণয়নকারীদের পক্ষ থেকে ইতিবাচকভাবে লক্ষণীয় বলা হয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি আর যে দেশগুলোতে অনুরূপ অগ্রগতি হয়েছে সেগুলো হলো বেলারুশ, গুয়াতেমালা, লিথুয়ানিয়া, মলদোভা, মন্টেনিগ্রো, পোল্যান্ড, সিরিয়া ও টোঙ্গা।
বাংলাদেশের সঙ্গে সমান স্কোর অর্থাত্ ২ দশমিক ৪ পয়েন্ট পেয়ে একই অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান, বেলারুশ ও ফিলিপাইন। উল্লেখ্য, শুধু ভারত ব্যতীত দক্ষিণ এশিয়ার বাকি ছয়টি দেশেই ২০০৮ সালের তুলনায় এবারের স্কোর ও অবস্থান উভয় মাপকাঠিতেই নিম্নগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ভারতের বেলায় স্কোর গত বছরের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশের তুলনায় ভারত, মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার স্কোর এখনো বেশি, যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪, ২ দশমিক ৫, ৫ দশমিক শূন্য ও ৩ দশমিক ১।
বিগত দুই বছরের মতো এ বছরের তালিকায় সর্বনিম্ন স্কোর পেয়েছে সোমালিয়া। নিম্নক্রম অনুসারে দ্বিতীয় স্থানে আফগানিস্তান, তৃতীয় মিয়ানমার এবং চতুর্থ স্থানে যৌথভাবে ইরাক ও সুদান। বস্তুত তালিকার নিম্নতম স্থানগুলোতে কোনো পরিবর্তন হয়নি, যেমনটি হয়নি সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া দেশগুলোর বেলায়। ৯ দশমিক ৪ স্কোর পেয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে গতবারের মতো নিউজিল্যান্ড, দ্বিতীয় ৯ দশমিক ৩ পেয়ে ডেনমার্ক ও ৯ দশমিক ২ পেয়ে যৌথভাবে ঊর্ধ্বক্রম অনুসারে সুইডেনের সঙ্গে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর, যারা সূচকটি প্রণয়নের প্রায় শুরু থেকেই একমাত্র এশীয় দেশ হিসেব পৃথিবীর সবচেয়ে কম দুর্নীতিতে প্রভাবিত দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।
স্মরণ করা যেতে পারে, বাংলাদেশ ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তালিকার সর্বনিম্নে অবস্থানের পর ২০০৬-এ তৃতীয়, ২০০৭-এ সপ্তম ও ২০০৮-এ দশম অবস্থানে ছিল। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের স্কোর দুইয়ের অধিকে উন্নীত হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে এবারের অর্জন অবশ্যই সুসংবাদ, যদিও সূচক অনুযায়ী ০-১০ স্কেলে ৩ বা তার কম স্কোর পাওয়া দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এখনো দুর্নীতির প্রভাব ব্যাপক ও গভীর হিসেবেই বিবেচিত। তাই এবারের এই অগ্রগতি একদিকে যেমন আমাদের উত্সাহিত করে, তেমনি এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে কি না এবং সে ক্ষেত্রে কী করণীয়, তাও গভীরভাবে ভাবতে হবে।
এবারের সূচকটি ২০০৮ ও ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। সূচকে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক (২০০৭-০৮) ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক এবং আইনগত সংস্কারের ফলে সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তা ছাড়া ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের অঙ্গীকার এবং বিগত সরকারের বেশ কিছু সংস্কার পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার প্রভাবও এ সূচকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হয়েছে। সূচকে বাংলাদেশের এই অগ্রগতি স্থায়ী হওয়া না-হওয়া এবং আরও অগ্রগতি হবে কি না, তা নির্ভর করছে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।
কমপক্ষে ডজন-খানেক সুস্পষ্ট নীতিমালার উল্লেখ পাওয়া যায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকারে, যার বাস্তবায়ন বাংলাদেশে দুর্নীতিকে কার্যকর ও স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট। সরকার গঠনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়সহ সার্বিকভাবে প্রতিশ্রুতিগুলো মোটামুটি ধারাবাহিকভাবে পুনর্ব্যক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে রচিত হয়েছে প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার আশঙ্কা। দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠনের পরিণতিতে কমিশন যদি তার স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়, তা হবে ভবিষ্যত্ সূচকের নিম্নমুখী গতির সঞ্চালক। দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ সহায়ক স্থানীয় সরকারের বাস্তব ক্ষমতায়নে ব্যর্থতা একই পরিণতি বয়ে আনবে।
তথ্য অধিকার আইনের মতো দুর্নীতি প্রতিরোধে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টিকারী আইনটি সংসদে অনুমোদনের মাধ্যমে সরকার জনগণের প্রতি অঙ্গীকার পূরণের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে। তথ্য অধিকার আইনের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানোর লক্ষে নবগঠিত তথ্য অধিকার কমিশনকে স্বাধীন ও সক্রিয়তার সঙ্গে কার্যক্রম শুরু করার পরিবেশ সৃষ্টি করা যেমন অপরিহার্য, তেমনি গোপনীয়তার সংস্কৃতি থেকে উন্মত্ততার সংস্কৃতিতে উত্তরণে প্রয়োজন আবশ্যক সুনির্দিষ্ট কৌশল প্রণয়ন।
সম্প্রতি গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা তাঁদের সমর্থনপুষ্ট ব্যক্তিরা যেভাবে স্থানীয় পর্যায়ে টেন্ডারবাজি, নদী-বনাঞ্চল-ভূমি দখল, টোলবাজিসহ আইনের শাসন-পরিপন্থী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন, তাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে অপরিহার্য প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ক্রমান্বয়ে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হওয়ার আশঙ্কা বেড়েই চলেছে।
অন্যদিকে সরকারি ক্রয় খাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সম্প্রতি প্রবর্তিত নীতিমালার সংস্কার কোনো অবস্থায়ই সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধক পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে না।
দুর্নীতিকে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দুর্নীতি, তা যে পর্যায়েই ঘটুক না কেন, কারও প্রতি কোনো প্রকার ভয় বা করুণা না করে, সব ধরনের দলীয় বা রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্ব থেকে তার বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্নীতির অভিযোগ ও তার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
দুর্নীতির বিচার হতে হবে, তবে তা যেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়ায় হয়, আইনের সুষ্ঠু ও কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে হয়। বিশেষ করে আইন প্রয়োগে আদালতকে কোনো অবস্থায়ই প্রভাবিত না করা দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত। দুর্নীতিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে তখনই সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে, যখন বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ সম্ভব হবে। অন্যদিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা তখনই সুফল আনবে, যখন এই বিভাগে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা, পেশাগত উত্কর্ষতা ও সততার সঙ্গে কার্য পরিচালনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
জাতীয় সংসদকে কার্যকর করা যেকোনো সংসদীয় গণতন্ত্রে দুর্নীতিবিরোধী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সৃষ্টির জন্য অপরিহার্য। নবম সংসদ দুর্নীতি ও কালো টাকার প্রভাবের বিরুদ্ধে এবং এই অপশক্তিকে পরাজিত করার পক্ষে জাতীয় রায়কে কার্যকর করার লক্ষে শুভ সূচনা করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদীয় কমিটিগুলো গঠিত হয়েছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে। বেশ কিছু কমিটি তুলনামূলকভাবে সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় হাত দিয়েছে। এই সূচনার ধারাবাহিকতায়, বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় হিসাব রক্ষা কমিটি ও মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলো যাতে কার্যকরভাবে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে, তার দায়িত্ব চূড়ান্ত বিবেচনায় নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপরই ন্যস্ত। সাবেক স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপের দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত ও তার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণে সংসদ যে রকম উত্সাহ দেখিয়েছে, একই ধরনের উদ্যোগ থাকতে হবে পরবর্তী সময়ে দল-মতনির্বিশেষে সব দুর্নীতির তদন্তের ক্ষেত্রে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে জনপ্রশাসন তথা সরকারি কর্মকর্তারা। পৃথিবীর যেসব দেশে সাফল্যের সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে, সেসব দেশে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, যোগ্যতাসম্পন্ন প্রশাসনকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ইত্যাদি ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব দূর করা অপরিহার্য। সরকার পরিবর্তনের পর এ ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ যদি যথার্থ হয়ে থাকে, তবে উত্সাহিত হওয়ার খুব বেশি সুযোগ নেই। অন্যদিকে জনপ্রশাসনে বেতন-ভাতার যথার্থতা ও পর্যাপ্ততা নিশ্চিত না করে প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রত্যাশা করাও অমূলক। যেসব কারণে প্রশাসনে দুর্নীতি হয়, তার অন্যতম হচ্ছে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার বাস্তব বর্জিত চিত্র। বেতন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি খাতের বেতন কাঠামোর কিছুটা পরিবর্তন সূচিত হয়েছে, এটা আশাব্যঞ্জক। তবে শুধু বেতন বৃদ্ধি করে প্রশাসনে স্বচ্ছতার প্রণোদনা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে, এটা ভাবা অমূলক। সরকারি খাতের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে, বিভাগে ও মন্ত্রণালয়ে প্রতিষ্ঠা করতে হবে নির্ভেজাল প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নযোগ্য নৈতিক আচরণবিধি, যার স্খলন ঘটলে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রকার প্রণোদনার সমন্বয়ে কেবল প্রশাসনে কার্যকর পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।
দুর্নীতি প্রতিরোধে বেসরকারি খাতের ভূমিকাও অপরিসীম। সরকারি খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ কখনোই সম্ভব হবে না, যদি বেসরকারি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব না হয়। এ ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি ও বহুজাতিকসহ বেসরকারি খাতে কর্মরত সব প্রতিষ্ঠানেই সততা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠিত করা অপরিহার্য।
দুর্নীতি প্রতিরোধে একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে যেকোনো দেশের গণমাধ্যম, যার সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ অব্যাহত রাখতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে অন্যতম পূর্বশর্ত তথ্যপ্রবাহের অবাধ স্বাধীনতা। তথ্যর স্বাধীনতা একদিকে যেমন গণমাধ্যমের জন্য অপরিহার্য, অন্যদিকে অবাধ তথ্যপ্রবাহই নিশ্চিত করতে পারে স্বচ্ছতা ও গঠনমূলক সমালোচনা উত্সাহিত করার মাধ্যমে জবাবদিহির সংস্কৃতি, যার ব্যতিরেকে কোনো প্রকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানই পূর্ণতা লাভ করতে পারে না।
বাংলাদেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা বিবেচনায় মেনে নিতেই হবে, এর কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান স্বল্প মেয়াদে বা শুধু ক্ষেত্রবিশেষের ওপর নির্ভর করে অর্জন করা অসম্ভব। প্রয়োজন সুচিন্তিত ও বহুমুখী কৌশল এবং তার বাস্তবায়নে সদিচ্ছার সুনির্দিষ্ট দৃষ্টান্ত। এর অভাবে দুর্নীতির ধারণাসূচকে এবারের অর্জিত অগ্রগতি অব্যাহত রাখা যেমন অসম্ভব হবে, তেমনি গগনচুম্বী প্রত্যাশা নিয়ে যারা দুর্নীতি প্রতিরোধের পক্ষে রায় দিয়েছেন, একইভাবে তাঁরা আবার শিগগিরই নিরাশ হবেন। তবে সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব এটি চাইবেন না, জনগণ এ প্রত্যাশাই করে।
ইফতেখারুজ্জামান: নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

বরেন্দ্র অঞ্চল -প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে সুরক্ষা চাই by মো. জামাত খান

মানুষ প্রকৃতির ওপর দীর্ঘদিন ধরেই অত্যাচার করে আসছে। প্রকৃতি মাঝেমধ্যে তার ভাষায় এই অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু মানুষ এ প্রতিবাদ আমলে নেয়নি। এখন প্রকৃতি তার অমোঘ নিয়মে অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে ধেয়ে আসছে। উন্নত দেশগুলোর শিল্পোন্নয়নের ফলে যেভাবে কার্বন নিঃসরণ হয়েছে, তাতে আজ পৃথিবী হুমকির মুখে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে বাংলাদেশের মতো সমুদ্র উপকূলীয় দেশগুলো। কার্বন ডাই-অক্সাইড ধারণ করতে পারে যে বন বৃক্ষরাজি, আমরা সেই বনের বৃক্ষ নিধন করে চলেছি প্রতিনিয়ত। অন্যদিকে প্রাকৃতিক জলাশয় খাল, বিল, হাওরের পানি নিষ্কাশন করে শষ্য উত্পাদন মাঠে পরিণত করেছে। ভূ-গর্ভস্থ পানি গভীর নলকূপ দিয়ে টেনে তুলে আনা হচ্ছে। ভূ-মাটির ওপরের পানি ধারণ করে রাখতে দেওয়া হচ্ছে না, অন্যদিকে মাটির নিচেও পানিশূন্যতার সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে বনাঞ্চলের অভাবে ভূ-উপরস্থ পানির অভাব, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পৃথিবীকে আরও গরম হতে সাহায্য করছে। ফলে বাতাসে কার্বনের পরিমাণ বাড়ছে। বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্ছে। আবহাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতিকর পরিবর্তন হচ্ছে।
জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব পড়তে আরম্ভ করেছে বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি স্টকহোমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এর প্রভাবে বাংলাদেশের দুই কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দিন বদলের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশের কৃষি এবং কৃষকের দিকে সদয় দৃষ্টি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এবং দলমতনির্বিশেষে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ভূ-উপরস্থ পানি দিয়ে সেচব্যবস্থা গড়ে তুলতে বলেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন ভূ-উপরস্থ পানি সংরক্ষণ করার জন্য মাটি খনন করে ছোট-বড় জলাশয় সৃষ্টি করতে।
পৃথিবীর খাদ্য পরিস্থিতির বিবেচনায় দেশের মানুষের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় খাদ্য উত্পাদন বাড়াতে হবে। খাদ্য উত্পাদনের জন্য যেমন জমির সর্বোত্তম ব্যবহার প্রয়োজন, তেমনি ফসল উত্পাদনের জন্য যথাসময়ে বীজ, সেচ, সার সরবরাহ আবশ্যক। গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করা যাচ্ছে, এখনো এ অঞ্চলে গভীর নলকূপের পানি দিয়ে সেচব্যবস্থা করা হয়। বরেন্দ্র অঞ্চলে ১২ হাজার গভীরে নলকূপের সাহায্যে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে সেচব্যবস্থা সচল রেখেছে। ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে এ অঞ্চলে পানির স্তর প্রতিবছর নিচে নেমে যাচ্ছে।
রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে দেশের অন্য অংশের চেয়ে বৃষ্টিপাত অনেক কম। বরেন্দ্র অঞ্চলের সমভূমির উচ্চতা ১২ মিটার হলেও বরেন্দ্র অঞ্চলের উঁচু এলাকার উচ্চতা ৪৫ মিটার পর্যন্ত রয়েছে। তাই বরেন্দ্র অঞ্চল বন্যামুক্ত। বৃষ্টি কম এবং বন্যামুক্ত অঞ্চল হওয়ার কারণে গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণ হচ্ছে না। এ জন্য বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর লাগাতারভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে জমি শুষ্ক হচ্ছে, হ্যান্ড টিউবওয়েলে এমনকি তারা পাম্পেও পানি ওঠে না, কুয়া শুকিয়ে গেছে, পুকুরে খরা মৌসুমে পানি থাকে না। সেচকাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির অধিক ব্যবহারের কারণে ভূমির ওপরের স্তর লৌহ ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা দূষিত হচ্ছে। ফলে জমির উর্বরা শক্তি কমে যাচ্ছে। রাসায়নিক সারের ব্যবহার বাড়ছে। কৃষকের ব্যয় বাড়ছে। আর সবচেয়ে ক্ষতি করছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। বরেন্দ্র অঞ্চলে গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে।
পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য, ঊষর বরেন্দ্র অঞ্চলের উষ্ণতা স্বাভাবিক করার জন্য, কৃষকের কাছে স্বল্প মূল্যে এবং সার্বক্ষণিক সেচের পানি সরবরাহ করার জন্য, বরেন্দ্র অঞ্চলের জমি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থমুক্ত রাখার জন্য, কৃষি উত্পাদন ব্যয় কৃষকের সীমার মধ্যে রাখার জন্য, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য, বন্যামুক্ত বরেন্দ্র অঞ্চলে তিনটি ফসল উত্পাদনের নিশ্চয়তা নিয়ে পাউবো জাপানের জাইকার সহায়তায় পদ্মা নদীর পানি দিয়ে সেচসুবিধা দেওয়ার জন্য ‘উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পের’ প্রস্তাবনা ১৯৮৮ সালে গ্রহণ করে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ৭৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমি চাষাবাদ হবে ভূ-উপরস্থ পদ্মার পানির সেচ দিয়ে। ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির উত্তোলন কমবে। ভূ-গর্ভস্থ পানির আধারে পুনর্ভরণে সহায়ক হবে। ফলে পরিবেশে ভারসাম্য ফিরে আসবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এ অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে জনসভা, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক করে আসছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণ চায়, পদ্মার পানি দিয়ে সেচব্যবস্থা গড়ে উঠুক।
রাজশাহীতে পাউবো ২০০৮ সালের ১৮ মে দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ‘উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প’ বিষয় নিয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে আয়োজক ও বক্তাদের কথায় রাজশাহীবাসীর আশা জেগেছিল, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। কিন্তু এখনো বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। জানা যায়, কোনো সাহায্য সংস্থা পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি এই সেচ প্রকল্পটি নিয়ে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্র করছে, প্রকল্পটি যেন বাস্তবায়িত না হয়।
জলবায়ু-সংকট মোকাবিলা, মরু প্রক্রিয়াধীন, বন্যামুক্ত ঊষর বরেন্দ্র অঞ্চল গভীর নলকূপের অভিশাপমুক্ত করে পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য ‘উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আবেদন রইল। আশা করি, এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি বিশেষ করে রাজশাহী সিটি মেয়র এবং এ অঞ্চলের সংসদ সদস্যরা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন।
মো. জামাত খান: আহ্বায়ক, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

আইনের জয়কে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত -বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি

অবশেষে ৩৪ বছর ঝুলে থাকার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে আজ। উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পাওয়া পাঁচ আসামির আপিলের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাকি সাত আসামির একজন মৃত এবং ছয়জন পলাতক থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বিয়োগান্ত রাজনৈতিক হত্যার উপযুক্ত বিহিতের মাধ্যমে শোকের ভার ও জাতীয় দায় মিটবে বলে আশা করা যায়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এই রায় সব মহলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে এবং একটি কলঙ্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটাবে, এটাই প্রত্যাশিত।
দীর্ঘ ও কণ্টকিত পথ পেরিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারের উপসংহার টানছেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দিয়ে খুনিদের বিচারের পথ বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই কালো আইনের রাহুগ্রাস থেকে সংবিধান ও দেশ মুক্ত হলেও রাজনৈতিক বাধায় আইনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়েছিল। যত দিন গেছে, হত্যাকারীদের বিচার ও শাস্তির অপরিহার্যতা জাতীয় দাবি হয়ে উঠেছে। হত্যা অপরাধ, রাজনৈতিক হত্যা আরও বড় অপরাধ এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা ও স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে খুনিচক্র নিঃসন্দেহে চরম বর্বরতার পরিচয় দিয়েছে। এর বিচার ছাড়া আইনের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং রাজনীতির কলঙ্কমোচন সম্ভব হতো না। এই জাতীয় কর্তব্য পালনের ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এর মূল্যায়নেরও কোনো সুযোগ নেই।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দেবেন, দেশবাসী অবশ্যই তা মেনে নেবে।’ দায়িত্বশীল একটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান এটাই হওয়া উচিত। অবশ্য পরে তিনি ভিন্ন ধরনের মন্তব্যও করেছেন। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রশ্নে রাজনীতির বিষবাষ্প যাতে কাউকে আচ্ছন্ন না করে, সেটাই হবে এই মুহূর্তের প্রত্যাশা। এই বিষয়টি দেশের সব রাজনৈতিক শক্তিকে বিবেচনায় নিতে হবে।
১৯৯৮ সালে নিম্ন আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রথম রায়ে ২০ আসামির ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়। ২০০১ সালে উচ্চ আদালতের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ নিশ্চিতকরণ বেঞ্চ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট আবার ক্ষমতায় এলে বিচারকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলাটি আবার সচল হয় এবং ২০০৭ সালের ৭ আগস্ট মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত পাঁচ আসামির আপিলের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পাঁচজনেরই লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। কিন্তু বিচারকের অভাবে শুনানির প্রক্রিয়া আবার আটকে যায়। এ বছরের ৫ অক্টোবর শুনানির জন্য হাইকোর্টের বেঞ্চ গঠিত হয়। বেঞ্চ টানা ২৯ দিনের শুনানির পর ১২ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন ১৯ নভেম্বর।
পঁচাত্তরের ঘাতকচক্র দীর্ঘ তিন দশক যে পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে, তাতে বোঝা যায়, তাদের হাত অনেক দূর প্রসারিত। সংগত কারণেই এ রায় ঘোষণা নিয়ে সরকার সতর্কাবস্থায় রয়েছে। জননিরাপত্তার প্রশ্নটি দায়িত্বের সঙ্গে নজরে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা দলীয় নেতা-কর্মীদের সংযত ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করব, আইন জয়ী হবে এবং রাজনৈতিক মহলসহ দেশের সকল মহল এ ঘটনাকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করবে।