Tuesday, February 5, 2019

স্ট্রেচারে করে এলেন হাইকোর্টে by শাহনেওয়াজ বাবলু

উৎসুক জনতার ভিড় ঠেলে দেখা গেল এক ব্যক্তি শুয়ে আছেন। দুই হাত ও দুই পায়ে ব্যান্ডেজ। বাম পায়ের তিনটি আঙুল কাটা। কিছুদিন   আগে জোড়া লেগেছে দেখলে বোঝা যায়। এমনই এক দৃশ্য দেখা গেল হাইকোর্টের এ্যানেক্স ভবনের সামনের খোলা জায়গায়। নাশকতার মামলায় আগাম জামিনের জন্য এসেছিলেন কৃষক তছিরউদ্দিন মণ্ডল। বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার ওমেদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি।
আর্থিক সংকটের কারণে একটি বাসের পাশাপাশি দুটি সিট ভাড়া নিয়ে শুয়ে ঢাকায় আসেন। একইভাবে ফিরেও গেছেন। হাইকোর্টে উচ্চ আদালতে তছিরউদ্দিন মণ্ডলসহ শৈলকূপার ২৩৬ জনের চার সপ্তাহের আগাম জামিন হয়েছে গতকাল। বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ১৩টি পৃথক জামিন আবেদনে তাদের এ আগাম জামিন দেন। এ সময়ের পরে তাদের ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় তছিরকে গাবতলী টার্মিনাল থেকে এম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা হয় উচ্চ আদালতে। স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয় এ্যানেক্স ভবনের দো’তলায়। গত বছরের ১৫ই ডিসেম্বর ঝিনাইদহের শৈলকূপা থানায় ৭০ জনকে আসামি করে একটি গায়েবি মামলা দেয়া হয়। এই মামলার আসামি তছিরউদ্দিন মণ্ডলও।
তছিরউদ্দিনসহ অন্য জামিন আবেদনকারীদের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, মামলাগুলো গায়েবি। সরকারদলীয় লোকজনই এদের মেরেছে, নির্যাতন করেছে ও কুপিয়েছে। আবার তারাই মামলা করেছে। হাইকোর্ট ১৩টি পৃথক আবেদনে ২৩৬ জনকে আগাম জামিন দিয়েছে। 
তছিরউদ্দিন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মামলার পর থেকে রয়েছেন বাড়ির বাইরে। থাকছেন এক আত্মীয়ের বাসায়। তার দুই সন্তান। বড় ছেলে কলেজে পড়ে। ছোট ছেলের বয়স দুই বছর। অভাবের সংসার। টাকার অভাবে নিজের সামান্য জমিটুকুও বন্ধক দিয়েছেন। এগুলো দিয়ে টেনে টুনে চলছে সংসার। অর্থের অভাবে ছেলের পড়ালেখাও বন্ধের উপক্রম। স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না তছিরউদ্দিন।
গতকাল এ্যানেক্স ভবনের দো’তলায় তছির মানবজমিনকে বলেন, আমি দিন আনি দিন খাই। আমি কোনো রাজনীতিও করি না। নির্বাচনের পরে উমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান সাব্দার হোসেন মোল্লা গ্রুপের লোকজন আমাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে নাশকতার মামলায় আমাকে আসামিও করেছে। তিনি জানান, কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় তিনি ১৩ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করলেও গত দেড় মাসে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আমি চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে পারছি না। খুব অসহায় জীবন যাপন করছি।
জানা যায়, নির্বাচনের দুইদিন পর তছিরউদ্দিনের নিজ গ্রাম কৃষ্ণপুরে মারামারি হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন তিনি। তার এক পা ও এক হাতের হাড় অনেকটাই ভেঙে গেছে। গত একমাস ধরে বিছানায় শুয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনার পর স্থানীয় হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তছিরউদ্দিন।
একাদশ জাতীয় নির্বাচন চলাকালীন সময় শৈলকূপা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলায় ৩১১ জনকে আসামি করা হয়। রোববার রাত ১০টায় ঝিনাইদহ থেকে উচ্চ আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। সকাল ৭টায় নামেন গাবতলী বাস স্ট্যান্ডে। সকালের নাস্তা শেষে বাসে করে উচ্চ আদালতে আসেন সবাই। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অনেকেই রাজি হন নি। আবার কেউ কথা বললেও নিজের নাম জানান নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের মধ্যে একজন বলেন, মামলার কারণে দেড় মাস বাড়ির বাইরে। নাম বললে তো আর বাড়ি যাইতে পারুম না। এমনেই বাড়ি ছাড়া, পরিবার ছাড়া। আমার নামে কেন মামলা দিছে সেটাই জানি না। জীবনে কোনোদিন কোর্টের বারান্দায় আসা লাগেনি। ৫৫ বছরের তোফাজ্জল পেশায় কৃষক। তাকেও একই নাশকতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় বিএলকে বাজারে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দেয়ার কথিত ঘটনা ঘটে রাত আড়াইটায়। তখন তোফাজ্জল ছিলেন ঘটনাস্থল থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে তার কদমতলা গ্রামের বাড়িতে।
নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একজন বলেন, নির্বাচনের সময় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। সবাই যখন মামলার বিষয়ে আমাকে বললো। আমি কারো কথা বিশ্বাস করি নাই। কারণ আমি একজন কৃষক। সারাদিন আমি থাকি মাঠে ঘাটে। আমি তো আর রাজনীতি করি না। তাই ভাবছি আমার নামে মামলা হবে কেন। পরে পুরো বিষয় জানার পর দেড় মাস ধরে বাড়ির বাইরে রয়েছি। কিভাবে যে দিন কাটাচ্ছি একমাত্র আল্লাহই জানে। আমার দুটি সন্তান। তারা স্কুলে পড়ে। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে তাদের লেখাপড়া এখন বন্ধ হওয়ার পথে। আমার বউ অন্যের বাড়িতে কাজ করে এখন সংসার চালাচ্ছে।
মামলার বিষয়ে শৈলকূপা থানার পরিদর্শক আইয়ুবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে-পড়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। সবগুলোরই তদন্ত চলছে। ঘটনার সময় না থেকেও এই মামলায় অনেকে আসামি হয়েছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তথ্য প্রমাণের উপরে সবার নামে মামলা হয়েছে। আর মামলার তো তদন্ত চলছে। যদি এর মধ্যে কেউ নির্দোষ হয় তাকে তাকে অবশ্যই বাদ দেয়া হবে।

অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় নির্মম নির্যাতন

অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় রাহেলা বেগম (১৯) নামে এক গৃহকর্মীকে বাসায় আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। দাঁত তুলে ফেলা হয়েছে, রড় দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে, এসিডে ঝলছে দেয়া হয়েছে শরীর। পরে ঝলসানো স্থানে পচন ধরলে ফেলে দেয়া হয়েছে ব্রিজের নিচে। নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
নির্যাতনের শিকার রাহেলা বেগমের গ্রামের বাড়ি হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের চরনঙ্গলিয়া এলাকায়। খবর পেয়ে পুলিশ এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. সাহাব উদ্দিন, মিজানুর রহমান সুমন, আলেয়া বেগম ও রীনা আক্তার নামে চারজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রাহেলা বেগমের পরিবার জানায়, তাদের প্রতিবেশি রিনা আক্তার প্রায় চার মাস আগে রাহেনাকে বাসায় কাজ দেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী নিয়ে যান। এরপর রিনা তার পরিচিত আলেয়া বেগম নামে এক নারীর বাসায় তাকে কাজে দেন।
প্রথম মাস আলেয়ার বাসা ছিল মাইজদী নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। সেখান  থেকে তিন মাস আগে বাসা পরিবর্তন করে শহরের বালুরমাঠ-সংলগ্ন মাইজদী হাউজিং এস্টেটে একটি নতুন বাসা ভাড়া নেন। ভালোভাবেই ওই বাসায় কাজ করেছিলেন রাহেনা বেগম। কিন্তু মাস খানেক আগে গৃহকর্তী তাকে বাসায় অসামাজিক কাজ করার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হলে তার ওপর অসমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।
নির্যাতনের শিকার রাহেলা জানান, তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে পুরো শরীরে আঘাত করা হয়। মুখের ভেতর ওপরের পাটির বেশ কয়েকটি দাঁত তুলে ফেলা হয়। তারপরও তিনি অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় গত প্রায় ৮-১০ দিন আগে রাতের বেলায় তার শরীরে এসিড ঢেলে দেয়া হয়। এতে তার বুক, পেট, পিটসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। পরে ঝলসে যাওয়া শরীরের অংশে পচন ধরলে তাকে বাসযোগে চট্টগ্রাম নিয়ে কালুরঘাট এলাকার একটি ব্রিজের নিচে ফেলে আসা হয়।
রাহেলার ভাই জাকের হোসেন জানান, কয়েকদিন আগে তার বোন একবার ফোন করে জানিয়েছিল তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। পরে আর তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তিনি ঘটনরা সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, যেহেতু মেয়েটির গায়ে ক্ষত রয়েছে এবং তার গায়ে এসিড দেয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে, সেজন্য তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে ঢাকা  মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সুধারাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে রাতেই তিনি হাসপাতালে রাহেলাকে দেখতে যান। এ পর্যন্ত এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।

গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে হাত ধরাধরি করে চলতে হয়: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক, স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশে সংবাদ মাধ্যমের অনুপস্থিতির কথা ভাবাই যায় না। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র কাঠামোয় গণতন্ত্র ও সংবাদ মাধ্যম পরস্পর হাত ধরাধরি করে চলতে হয়।  সঙ্গত কারণেই সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে মূল্যায়ণ করা হয়।’
মঙ্গলবার বিকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে ‘আইনে তারুণ্য’ নামক সংকলন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। আইন, আদালত ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) সদস্য ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকমের সুপ্রিম কোর্ট প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ডালিম ‘আইনে তারুণ্য’ বইয়ের লেখক।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী (বার) সমিতি সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দার, রাইজিংবিডি ডটকমের প্রকাশক এস এম জাহিদ হাসান, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি সাঈদ আহমেদ খান, রাজনৈতিক দল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ‘আইনে তারুণ্য’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু ও সদস্য সচিব সুপ্রিম কোর্ট বারের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক কাজী মো. জয়নুল আবেদীন, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক দুই সভাপতি-দৈনিক কালের কন্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি এম বদি-উজ-জামান ও ডেইলি স্টারের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আশুতোষ সরকার প্রমুখ।
প্রধান বিচারপতি বলেন, মানুষের জানার অধিকার এবং গণমাধ্যমের তথ্য জানানোর গভীর দায়বদ্ধতার প্রশ্নে সামাজিক অঙ্গীকার নিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সমাজের অসঙ্গতি দূরীকরণে এবং সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকতা তথা গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তিনি আরও বলেন, একজন আদর্শ মানুষের সাধারণ গুণ ও যোগ্যতার পাশাপাশি একজন আদর্শ সাংবাদিকের দরকার বিশেষ মাত্রার আরো কিছু প্রজ্ঞা, দক্ষতা ও গুণাবলী। একজন দক্ষ সাংবাদিক একটি সংবাদ ঘটনার বয়ানকারি এবং একজন দক্ষ যোগাযোগকারী।
সমাজ সভ্যতার অগ্রগতিতে, জাতীয় জীবনের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে, মানবতা ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং মানবাধিকার সুরক্ষার শাণিত চেতনা একজন আদর্শ সাংবাদিকদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, আইন-আদালত, আইন শৃঙ্খলা, মানবাধিকার এবং আইনি সেবা সংক্রান্ত তথ্য আইনে সাংবাদিকতার মাধ্যমে উঠে আসে। সাংবাদিকরা সাধারণ জনগণ তথা বিচারপ্রার্থী জনগণের আশা-আকাঙ্খা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করার গুরুদায়িত্ব পালন করে। ফলে আইনাঙ্গনের সঙ্গে সাংবাদিকতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিষ্ট। অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকতার মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে বিদ্যমান সমস্যা এবং সমাধানের পথ দেখিয়ে প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে-এটাই সবার প্রত্যাশা।
আইনে তারুণ্য বই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনে তারুণ্য নামক সংকলনে উদীয়মান তরুণ আইনজীবীদের জীবনের ছোট ছোট গল্প এবং আইন পেশায় তাদের বিচরণের বাস্তব গল্পগুলো সাবলীল ভাষায় ফুটে উঠেছে। অনেক তরুণ আইনজীবী অনেক কষ্ট সংগ্রাম করে সফলতার বর্তমান ধাপে উপনীত হয়েছেন। তাদের প্রতি রইল আমার আন্তরিক অভিনন্দন। তাদের এই বাস্তব গল্পগুলো নবীন আইনজীবীদের জন্য প্রেরণার উৎস এবং সঠিক পথের নির্দেশক হবে বলে আমি মনে করি। তরুণ আইনজীবীদের স্বপ্ন এবং প্রেরণা অসহায় বিচারপ্রার্থীদের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় ভূমিকা রাখবে।’

অসম প্রেম: বয়সকে হার মানিয়েছেন তারা

দুই বছরের প্রেম ভালবাসার পর ২০১৭ সালে বিলাসবহুল এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন স্কটল্যান্ডের ব্যবসায়ী, ধনাঢ্য, মিডিয়া মুঘল ডানকান বানাতিন (৭০) ও উজবেকিস্তানের সুন্দরী নিগোরা হোয়াইটহর্ন (৩৮)। তাদের বয়সের ব্যবধান ৩২ বছরের। তাতে কি প্রেমের এক নতুন নজির স্থাপন করেছেন তারা। সম্প্রতি বারবাডোজে অবকাশ যাপনে গিয়ে বিকিনি পরা স্ত্রী নিগোরার প্রতি যে ভালবাসা প্রদর্শন করেছেন ডানকান তা যেকোন যুবককেই ঈর্ষায় ফেলে দেবে। আবার স্বামীর প্রতি একই সমান ভালবাসা প্রদর্শন করেছেন নিগোরা। ডানকান ওয়াকার বানাতিন স্কটল্যান্ডের উদ্যোক্তা, সমাজহিতৈষী ও লেখক। তার রয়েছে বহু মাত্রিক ব্যবসা। রয়েছে
অনেক হোটেল, হেলথ ক্লাব, স্পা, মিডিয়া, টেলিভিশন ও প্রপার্টি। বিবিসির ড্রাগনস ডেন কর্মসূচিতে তাকে উপস্থিত করার জন্য তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। ডানকান ও নিগোরের প্রেম ভালবাসা নিয়ে অনেকে নাক সিটকান। স্ত্রী তার চেয়ে ৩২ বছরের ছোট হওয়ার কারণে অনেকে মনে করেন দাম্পত্য জীবনে সুখী নন নিগোরা। কিন্তু গত রোববার তাদের মুখে যেন ছাই ছুড়ে মারলেন এই দম্পতি।
ওইদিন ক্যারিবিয় অঞ্চলের দ্বীপে তাদেরকে যে অবস্থায় দেখা গেছে তা অভাবনীয়। দু’জনকেই দেখা গেছে সুইমস্যুটে বা সাঁতারের পোশাকে। সামান্য বিকিনি পরে যখন তার স্ত্রী নিগোর সমুদ্রের পানিতে পা ভিজাচ্ছিলেন, তখন হাস্যোজ্বল ডানকান যেন অবাক চোখে তাকে দেখছিলেন। শুধু একটি হাফ প্যান্ট পরা ডানকান যুবতী স্ত্রীর আমন্ত্রণে এগিয়ে গিয়ে সমুদ্রের পানিতে পা ভিজান। স্ত্রীকে ডান হাত বাড়িয়ে দিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেন। তাদেরকে কিছু বলতে শোনা যায়। আচ্ছা কি বলেছিলেন এ সময় তারা!
কখনো তাদেরকে দেখা গেছে সমুদ্রে জেট স্কিতে চড়ে উত্তাল ঢেউয়ের দোলায় দুলছেন। চোখে তাদের সানগ্লাস। শরীরে লাইফ জ্যাকেট। ঢেউয়ের তালে তালে যখন তাদের জেটস্কি দুলছিল তখন দক্ষ হাতে তা সামাল দেন ডানকান। টগবগে যুবতী স্ত্রীকে যেন দেখিয়ে দেন, তিনি অতোটা কাঁচা নন। বয়স হয়েছে ঠিকই। তবে অনেক যুবককে পরাজিত করতে পারেন তিনি।
পরের দিন আরেকটি বিকিনিতে দেখা যায় নিগোরাকে। এ বিকিনিকে বৃটিশ মিডিয়া সেনসেশনাল বলে আখ্যায়িত করেছে। কারণ, এ বিকিনিতে নিগোরকে দেখাচ্ছিল অদ্ভুত সুন্দরী। তার শরীর ফুটে উঠেছিল এতে। তিনি হয়ে উঠেছিলেন সুন্দরীদের সুন্দরী। তিনি দুই পিসের বিকিনি পরে স্বামীকে যেন অভিভূত করছিলেন। প্রকাশ ঘটাচ্ছিলেন শরীরের অমূল্যবান সম্পদের। এক সন্তানের মা নিগোর এদিন চোখে ব্যবহার করেছিলেন ল্যাশ, আইভ্রুতে ব্যবহার করেছিলে
ন প্রসাধনী। সব মিলে তিনি হয়ে উঠেছিলেন গ্লামারাস।
ডানকান বানাতিনের তৃতীয় স্ত্রী নিগোর। এর আগে প্রথম স্ত্রী গাইলের ঔরসে রয়েছে তার চারটি সন্তান। দ্বিতীয় স্ত্রী জোয়ানার ঔরসে আছে দুটি সন্তান। তারপর তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন নিগোরার সঙ্গে। সেই বিয়ের পর থেকেই তিনি নিগোরার সঙ্গে সন্তান নেয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। গত বছর ‘দিস মর্নিং’ নামের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন নিগোরা। তিনি তখন বলেছিলেন, অবশ্যই আমরা একসঙ্গে সন্তান নিতে চাই। আমরা আমাদের ভবিষ্যত পরিবার কেমন হবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করবো। আমি তো কমপক্ষে দুটি ছেলে সন্তান নিতে চাই।
ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডানকান। জবাবে তিনি বলেন, আমি তো আবার পিতা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকতে পারছি না।
কেন ডানকানের সঙ্গে সন্তান নিতে চান নিগোর তারও ব্যাখ্যা করেছেন নিগোর। তিনি বলেছেন, ডানকান একজন অতি চমৎকার পিতা। আমার মেয়ের সঙ্গে তিনি যেভাবে পিতার আচরণ করেন তাতে আমি গর্বিত। তিনি তো আমার মেয়ের কাছে সৎপিতা নন, যেন তিনিই ওকে জন্ম দিয়েছেন।

যেভাবে প্রতিষ্ঠা আজকের ঢামেক হাসপাতাল

পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রাদেশিক সরকারের দপ্তর ছিল ভবনটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানে স্থাপন করা হয়   আমেরিকান আর্ম ফোর্সেস হাসপাতাল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ভবনটি খালি হওয়ার পর শুরু হয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম। যা আজকের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দেশের চিকিৎসা সেবার সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৬ সালের ১০ই জুলাই এর যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে এই হাসপাতালের শয্যা ছিল ৫০০।
১৯৭৩ সালে হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ৫০-এ উন্নীত করা হয়।
১৯৭৫ সালে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ৫০ থেকে ৮০০তে নামিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ৭০০তে উন্নীত করলেও সে অনুপাতে অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়নি। ২০১৭ সালের ১৭ই নভেম্বর ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২ উদ্বোধন করা হয়। এই হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা এখন ২৩০০। ঢাকা মেডিকেল কলেজ কেবলই একটি চিকিৎসা বিদ্যাপীঠ নয়। এদেশের গৌরবময় ইতিহাসেরও একটি অংশ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু তরে ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জাগ্রত ছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ। একটি মাত্র ভবন নিয়ে পথচলা শুরু করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। বর্তমানে প্রায় ২৫ একর জমিতে হাসপাতাল, কলেজ ভবন, অডিটোরিয়াম, পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র, ছাত্রছাত্রী হোস্টেল রয়েছে। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটটি রূপ পেয়েছে শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। বলা হচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ন ইউনিট এটি।
শুরুতে হাসপাতাল ভবনেই প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস হলেও ১৯৫৫ সালে একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য বর্তমান কলেজ ভবনটি নির্মাণ করা হয়। বেসিক বিষয়গুলোর জন্য স্থান বরাদ্দের পাশাপাশি আরো কিছু স্থাপনা রয়েছে। ১৯৮৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের একটি ওয়ার্ডে ছয়টি বেড নিয়ে বার্ন বিভাগের যাত্রা শুরু করেন দেশের প্রথম প্লাস্টিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। পরে অধ্যাপক সামন্ত লালের চেষ্টায় ২০০৩ সালে সেটি ৫০ বেডের পূর্ণাঙ্গ ইউনিট হিসাবে কাজ শুরু করে। ২০১০ সালের ৩রা জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৭ জনের মৃত্যুর পর বার্ন ইউনিটের সক্ষমতা আরো বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এই ইউনিটের বেড বাড়িয়ে প্রথমে ১০০ ও পরে ৩০০ করা হয়। এরপর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূতি ঘিরে বিএনপির আন্দোলনের মধ্যে দেশজুড়ে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ অনেক রোগী এই বার্ন ইউনিট থেকেই চিকিৎসা নেন।
ওই সময় পুরনো টিভি হাসপাতালকে মহাখালীর বক্ষব্যাধি  হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করে ওই জমিতে ৫০০ শয্যার একটি ইন্সটিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়। ২০১৫ সালের ২৪শে নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। এর আগে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মানের একটি বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট স্থাপনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারা দেশের কয়েক লাখ পোড়া রোগীকে সেবা দিতে দেড় হাজার বিশেষজ্ঞ সার্জন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০১৬ সালের ৬ই মার্চ এই ইন্সটিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। ২০১৮ সালের ২৪শে অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার নামে অত্যাধুনিক এই ইনস্টিটিউটটির উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজে মোট ৩৪টি বিভাগ রয়েছে। রোগী ভর্তি হন এমন ওয়ার্ড আছে ৭১টি। চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা কর্মচারীসহ হাসপাতালে প্রায় সাড়ে তিন হাজার লোকবল রয়েছে।

শেষ বয়সে পিতা-মাতার আশ্রয়স্থল কেন বৃদ্ধাশ্রমে? by নাজমুল হোসেন

পৃথিবীতে মা-বাবা এমন এক আশ্রয় সংস্থা যার তুলনা পৃথিবীর কোনো বাটখারায় পরিমাপ করা যায় না। যায় না সেই পরম স্নেহের ওজন দেয়া কোনো ওয়েট মেশিনে। সুতরাং এই মা এবং বাবা শেষ বয়সে কেন বৃদ্ধাশ্রমে থাকবে প্রশ্নটি সচেতন প্রতিটি সন্তানের বিবেকের কাছে রইল। মা-বাবা না থাকলে আমরা পৃথিবীর আলোই দেখতে পেতাম না। যে মা পরম স্নেহে শত অবর্ণনীয় কষ্ট, আঘাত, যন্ত্রণা সহ্য করে দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করলো আবার জন্মের পর থেকে লালন-পালন করা, পড়ালেখা শেখানো, সন্তানদের হাসিখুশি রাখতে কত ত্যাগ স্বীকার করলো সেই বাবা-মায়েদেরই বৃদ্ধ বয়সে থাকতে হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। মানবতার প্রতি এ এক চরম উপহাস। দু’দশক আগেও দেশে বৃদ্ধাশ্রম তেমন একটা ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কিন্তু কেন এই বৃদ্ধাশ্রমে? এই প্রশ্নের উত্তর বড়ই করুণ। ছোটবেলায় যে বাবা-মা ছিল সব সময় নিরাপদ আশ্রয়স্থল, আজ সেই বাবা-মাকেই ঝামেলা মনে হচ্ছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার, তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর বা দেখভাল করার এতটুকু সময় আজ আমাদের নেই। শুধু তাই নয় অনেকেই আবার পিতা-মাতার ওপরে হাত উঠানোর মত ঘৃণ্য, নিন্দনীয় ও ইসলামবহির্ভূত কাজও করে থাকেন। অনেক পরিবারের বউ হয়ত শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের বাবা-মায়ের মতো করে মন থেকে মেনে নিতে পারে না। আবার অনেকেই এমন স্ত্রীর পিতা-মাতার ওপরে আনীত বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরোধী হয়ে যায়। ফলে তাদের স্থান হয় বৃদ্ধাশ্রমে। এটা কোনো সমাধান নয়। দেখা যায়, এক সময় যারা নামিদামি বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, চাকরিজীবী ছিলেন তাদের অনেকেই আজ নিজ সন্তানদের অবহেলা, অযত্ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে বৃদ্ধাশ্রমের স্থায়ী বাসিন্দা হতে বাধ্য হচ্ছেন। সবকিছু থাকতেও সন্তানহারা এতিম হয়ে জীবন যাপন করছেন। এমন দুঃখী পিতা-মাতাদের বুকভরা কষ্ট থেকে সন্তানকে লেখা চিঠি প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় ছাপা হয়। যা পড়ে চোখের পানি সংবরণ করা যায় না। আমরা যারা তাদেরকে অবহেলা ও বোঝা মনে করে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছি, তারা কি একবার ভেবেছি আমাদেরকেও একদিন বৃদ্ধ হতে হবে। খুব বেশি দূরে নয় আমাদেরকেও নিজ সন্তানের অনুরূপ আচরণের শিকার হয়ে শেষ বয়সে এই বৃদ্ধাশ্রমেই বাকি জীবন কাটাতে হতে পারে। সত্যিই বিবেকের কাছে আজ আমরা পরাজিত আর বড়ই অকৃতজ্ঞ। আজ আমরা চাকরি করে, ব্যবসা করে বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছি, সুনাম কুড়াচ্ছি। তারপর বিয়ে করে নতুন সংসার নিয়ে আলাদাভাবে থাকছি। অন্যদিকে বৃদ্ধ পিতা-মাতা কি খাচ্ছে, কি পরছে, কোন কোন জটিল ও কঠিন রোগে ভোগছে সেদিকে বিন্দুমাত্র কোনো খেয়াল নেই। সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসার একটি গল্প বলছি- কোনো এক অসহায় মা তার সন্তানকে নিয়ে শহরে থাকতেন। ছেলের বুঝ জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দেখে আসছে একটা চোখ না থাকাতে মাকে কুৎসিত দেখায়। মা একদিন স্কুলের পাশ দিয়ে কোথাও যাওয়ার সময় ছেলেকে দেখতে গেলেন। এই কুৎসিত দেখানোর কারণে সহপাঠীরা হাসাহাসি করবে এই লজ্জার ভয়ে ছেলে সেদিন দেখা করেনি। মা কিছু না বলে ফিরে এলেন। ছেলে এক সময় বড় হয়ে চাকরি পেলো। বিয়ে করে মায়ের আর কোন খোঁজ-খবর না রেখে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। কয়েক বছর পর ছেলে তার স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের পুনর্মিলনী দাওয়াত পেয়ে আসলো। এই ফাঁকে মাকে দেখতে গেলে জানতে পারে যে ভাড়া বাসায় মা থাকতেন সেখানে এখন অন্য কেউ থাকে। পাশের বাড়ির মায়ের বয়সী এক মহিলা তাকে একটা চিঠি দিয়ে বললেন, তোমার মা মারা যাওয়ার আগে তোমাকে এটা দিতে বলে গেছেন। চিঠিতে লেখা ছিল- “বাবা! আমি জানি আমার একটা চোখ না থাকাতে কুৎসিত দেখানোর কারণে অন্যদের মতো তুমিও আমাকে পছন্দ করতে না। আমার চোখ না থাকার কারণটা জানতে পারলে তুমি নিশ্চয় আমাকে আর ঘৃণা করতে না। তুমি ছোট থাকা অবস্থায় তোমার আব্বু, আমি আর তুমি সহ একদিন এক গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হই। সেদিন তোমার আব্বু মারা যান, আমি গুরুতর আহত হই আর তোমার একটি চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। অপারেশন করিয়ে আমি আমার একটি চোখ তোমাকে দিয়ে দিই। এই ঘটনা আর কেউ জানে না এবং আমি কাউকে বলিনি। মায়ের ভালোবাসার ইতিহাসে এমন হাজারও নজির রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের সামাজিক আর সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় ওল্ড হোমগুলো অপরিহার্য হলেও আমাদের মাটির আঙিনায় তা শুধু বেমানানই নয় এর নৈতিকতার দিকটিও বিবেচনা করা দরকার। বৃদ্ধাশ্রমে যেন কখনোই না হয় দায়িত্ব এড়ানোর হাতিয়ার। দিনের পর দিন একান্নবর্তী পরিবারগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। দেখা যায়, বাবা-মায়ের সেবা-যত্ন বা ভরণ-পোষণকে কেন্দ্র করে শুরু হচ্ছে দাম্পত্য কলহ আর এর পরিণতিতে তাদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত মানুষগুলোকে দেখে মনে হয় তারা আনন্দেই আছেন। কিন্তু তাদের মনের বেদনাগুলো ঠিকই প্রকাশ পায়। তারা নিজের পরিবারের সান্নিধ্য কামনা করেন, ছেলে, ছেলের বউ ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে থাকতে চান। শত মান-অভিমান থাকা সত্ত্বেও অপমান, অযত্ন, অবহেলা করা নাড়িছেঁড়া সন্তানটিকে যে মা কখনোই ভুলতে পারেন না। কিন্তু সেই নিষ্ঠুর সন্তানটি কি মাকে একবার মনে করে! ঈদ কিংবা অন্যান্য বিশেষ দিনেও যখন পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের খোঁজ নেয়া হয় না তখন এমন আনন্দের দিনেও নীরব চোখের জলেই তারা সান্ত্বনা খোঁজেন। তবে যারা তাদের নিজ অর্থায়নে, নিজ উদ্যোগে এই সব অসহায় বৃদ্ধ মানুষগুলোর জন্য বৃদ্ধাশ্রম খুলে তাদের ভরণ-পোষণ, চিত্ত বিনোদন এমনকি চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে নিজের বাবা-মায়ের মতই সেবা-যত্ন দিয়ে লালন-পালন করার ব্যবস্থা করেছেন তারা সবার কাছে প্রশংসার দাবিদার। আমাদের দেশে এ পদ্ধতিটি স্বীকৃত কোনো পদ্ধতি বা স্বাভাবিক কোনো বিষয় হয়ে উঠার আগেই এ নিয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পাল্টাতে হবে মানসিক পরিবর্তন তবেই সুখী ও সমৃদ্ধ পরিবার তৈরি করতে পারবো। পারবো শ্রদ্ধা-সম্মানের সুষম বণ্টন করতে। মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সামাজিক অনুশাসন, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসার, নৈতিক মূল্যবোধ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব। শেষ বয়সে প্রতিটি বৃদ্ধ মানুষের ঠাঁই যেন হয় পরিবারে এবং আরাম-আয়েশে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে সরকারকেও আইনের মাধ্যমে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাতে করে একটা সময় আর কাউকে বৃদ্ধাশ্রমে শেষ বয়সে যেতে হবে না।
ই-মেইল: naymulhussen@yahoo.com

দৌলতপুরে দৈনিক পুড়ছে ৩০ হাজার মণ জ্বালানি কাঠ, হুমকির মুখে পরিবেশ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধ স্থায়ী বা অস্থায়ী চিমনির ইটভাটাগুলোতে অবাধে চলছে জ্বালানি হিসেবে কাঠপোড়ানোর মহোৎসব। সরকারি ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন না মেনে উপজেলার প্রায় ৩০টি ইটভাটায় দেদার পোড়ানো হচ্ছে কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি কাঠ বা কাঠের গুঁড়ি। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার মণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এর ফলে উজাড় হচ্ছে সবুজ বৃক্ষ। উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকাধীন বনাঞ্চল থেকে গাছ কিনে এসব অসাধু ভাটা মালিকরা জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার করছে। আর এসব ইটভাটাগুলো থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় দূষিত হয়ে পড়ছে চারপাশের পরিবেশ। এতে একদিকে যেমন উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল অপরদিকে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে হুমকির মুখে। দৌলতপুর উপজেলার হাসপাতাল রোডের সরকারি শেখ ফজিলাতুনেছা মুজিব মহিলা কলেজ সংলগ্ন স্থানে গড়ে ওঠা ৪টি ইটভাটাসহ কল্যাণপুর, ডাংমড়কা, মানিকদিয়াড়, সাদীপুর, রিফায়েতপুর, চকদৌলতপুর, ঝাউদিয়া, সংগ্রামপুর, বড়গাংদিয়া, বোয়ালিয়া, স্বরূপপুর ও প্রাগপুর এলাকার সব ইটভাটায় হাজার হাজার মণ গাছের গুঁড়ির স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
শুধু তাই নয়, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় ছোট-বড় ৯টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার চুল্লিগুলোতে ১২০ ফুট উঁচু স্থায়ী চিমনির পরিবর্তে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ ফুট উচু ড্রাম চিমনি ব্যবহার করে পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের সবুজ বৃক্ষ। দৌলতপুর উপজেলার সদরে স্বরূপপুর, মানিকদিয়াড় ও সাদীপুর এলাকার ইটভাটাসহ সব ইটভাটাতে অবাঁধে কাঠ পোড়ানো হলেও প্রশাসন রয়েছে নীরব। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন লতিবমোড়ে প্রতিদিন প্রকাশ্যেই ট্রাকভর্তি জ্বালানি কাঠ ওজন দেয়া হচ্ছে। আর এসব নিষিদ্ধ ইটভাটায় ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে সেই মাটি দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে ইট। প্রতিটি ভাটায় এক রাউন্ড ইট পোড়াতে সময় লাগে ১২-১৫ দিন। সে হিসেবে একটি মৌসুমে প্রায় ১০ থেকে ১২ রাউন্ড ইট পোড়ানো সম্ভব। এক রাউন্ড ইট পোড়াতে ১০ থেকে ১২ হাজার মণ জ্বালানি কাঠের প্রয়োজন হয়। সে অনুযায়ী প্রতিটি ইটভাটায় এক মৌসুমে এক লাখ মণ জ্বালানি হিসেবে সবুজ বৃক্ষ বা কাঠ পোড়ানো হলে ৩০টি ভাটায় ৩০ লাখ মণেরও বেশি প্রয়োজন। এছাড়াও ইটভাটাগুলো সরকারি নিয়ম নীতি না মেনে যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো উর্বর ফসলি জমি ও জনবসতি এলাকায় গড়ে উঠায় ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় শিশুদের শ্বাসকষ্ট ও স্বাস্থ্যহানি ঘটছে, পরিবেশ হচ্ছে বিপর্যস্ত। সেই সঙ্গে আবাদি জমি ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জমির উর্বরাশক্তি হারাচ্ছে। তবে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বেশ কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জ্বালানি কাঠ পোড়ানোর দায়ে অর্থদণ্ড ও ভাটা মালিকদের সতর্ক করলেও ভাটা মালিকরা তা না মেনে অবাধ পূর্বের ধারাবাহিকতায় কাঠ পুড়িয়ে যাচ্ছে। তাই বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের নজরে নেয়া প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। একই সঙ্গে পরিবেশ ও আবাদি জমি রক্ষায় এসব অবৈধ স্থায়ী বা অস্থায়ী চিমনির ভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে সচেতন মহলের দাবি।

আয়না নিয়ে যত অদ্ভুত ধারণা -বিবিসি বাংলা

আয়না নিয়ে রূপকথার কি আর শেষ আছে! আরশিতে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দেখার কাহিনী তো সবারই জানা। হারানো বা গোপন স্থানে থাকা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর অবস্থানও নাকি নিখুঁতভাবে বলে দিতে পারে জাদুর দর্পণ।
কোথাও এ বস্তু সৌভাগ্যের প্রতীক, কোথাও তা আবার বয়ে আনে দুর্ভাগ্য। আয়না নিয়ে পৃথিবীর দেশে-দেশে গল্প-গাঁথা ও রহস্যের যেন আদি-অন্ত নেই।
সেরকম কিছু কাহিনী আজ এখানে তুলে ধরা হলো বিবিসি বাংলার পাঠকদের জন্য।
ভবিষ্যতের আভাস
প্রাচীন গ্রীসে ডাইনিরা আয়না ব্যবহার করতো। খ্রিষ্টের জন্মরে প্রায় তিনশ বছর আগের সেসব প্রাচীন গাঁথায় বলা আছে, ডাইনিরা নিজেদের দৈবাদেশ ও বাণীগুলো লিখে রাখতো আয়নার মাধ্যমে।
প্রাচীন রোমেও আয়নার প্রচলন ছিল। সেখানে ধর্মগুরুরা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বর্ণনা করার জন্যে দর্পণ ব্যাবহার করতেন।
অন্য ভুবনের সংযোগ সাঁকো
বর্তমানে আয়না তৈরিতে এলুমিনিয়ামের গুঁড়ো ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রাচীন মিসরীয়রা ব্যবহার কতো তাম্র চূর্ণ।
তামার সাথে দেবী 'হাথোর' এর সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করতো মিসরীয়রা।
হাথোর ছিলেন সৌন্দর্য, প্রেম, কাম, সমৃদ্ধি ও জাদুর দেবী।
প্রাচীন অ্যাজটেকরা আয়না বানানোতে ব্যাবহার করতো অবসেডিয়ান যা মূলত কাচের মতন দেখতে একজাতীয় কালো আগ্নেয়শিলা।
অ্যাজটেকরা বিশ্বাস করতো তারা দেবতা 'তেজকেটলিপোকা'র সাথে সম্পৃক্ত।
রাত্রি, সময় ও বংশ পরিক্রমায় পাওয়া স্মৃতির দেবতা ছিলেন এই তেজকাটলিপোকা।
স্বর্গলোক থেকে এই মাটির পৃথিবীতে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে শক্তিধর এই দেবতা আয়নাকে তার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন।
সুদূরের মিত্ররা
প্রাচীন চীনে চাঁদের স্বর্গীয় শক্তি ধরে রাখার জন্য আয়না ব্যবহারের চল ছিল।
কথিত আছে, চীনের এক সম্রাট জাদুকরী এক আয়না বসিয়েই নিজের সাফল্য পেয়েছিলেন।
আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগে, ২৫ খ্রিষ্টাব্দে চীনের সম্রাট কিন শি হুয়াং দাবী করেছিলেন আয়নার দিকে তাকানো মানুষের মুখে তাকিয়ে তিনি তাদের আসল চিন্তা-ভাবনা ও মনের খবর পড়তে পারতেন।
রুপকথার কথক
জার্মানদের স্নো হোয়াইট রূপকথায় কথা বলা এক আয়নার কথা আছে। সেই আয়না সবসময় সত্য কথা বলতো।
জার্মানির বাভারিয়া অঞ্চলের লোর এলাকার জনগণ একসময় বিশ্বাস করতো যে, আয়না সর্বদা সত্য কথা বলে।
ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক!
আয়না নিয়ে বহু কুসংস্কার রয়েছে।
আয়না ভেঙে ফেললে সাত বছরের জন্য দু:খের দিন শুরু হয় বলেও মনে করতো অনেকে।
প্রাচীন রোমানরা মনে করতো মানুষের সাতটা করে জন্ম থাকে। আর কেউ যদি কোনো জন্মে একটা আয়না ভেঙে ফেলে তবে আয়নার ভাঙা টুকরোগুলোর ভেতরে সেই ব্যক্তির আত্মা আটকা পড়ে যায়। আবার পুনর্জন্ম না হওয়া পর্যন্ত সেই ব্যক্তির মুক্তি ঘটে না বলেই মনে করতো রোমানরা।
তবে, ভাঙা কাচের সকল টুকরো জড়ো করে যদি মাটির নিচে পুঁতে ফেলা যেতো বা খরস্রোতা নদীর বুকে ফেলে দেয়া যেতো তবে আর দুর্ভাগ্য থাকতো না বলেও মনে করা হতো।
তবে, আয়না ভেঙে ফেলাকে পাকিস্তানে দুর্ভাগ্য নয় বরং সৌভাগ্য বা ইতিবাচক ঘটনার ইঙ্গিত বলেই মনে করা হয়। অর্থাৎ আয়না ভেঙে গেলে কোনো একটা অশুভ শক্তি গৃহ ছেড়ে যাচ্ছে বা শুভ কিছুর সূচনা ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হয়।
আর অভিনেতারা তো আয়না নিয়ে রীতিমতো কুসংস্কারে আক্রান্ত।
কোনো অভিনেতা যদি আয়নার সামনে নিজে সাজ-পোশাক পড়তে থাকে আর তার ঘাড়ের উপর দিয়ে যদি অন্য কেউ উঁকি দিয়ে দেখে তবে সেটিকে একটা খারাপ কিছু বা মন্দ ভাগ্যের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।
তাছাড়া মঞ্চের উপর আয়না রাখার ক্ষেত্রেও নাট্যকর্মীদের একটা প্রবল অনীহা রয়েছে। একে তো বস্তুটা ভঙ্গুর। তার উপরে সেটি আবার বাতির সমস্ত আলো প্রতিফলন করে।
পর্দা টেনে দেওয়ার প্রথা
সেই ভিক্টোরিয়ান যুগের ব্রিটেনে বিশ্বাস করা হতো যে, মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্য শুরু হবার সময় সেই বাড়িতে থাকা সকল আয়না পর্দা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
কারণ তখন মনে করা হতো যে, পর্দা দিয়ে আয়নাগুলো সব ঢেকে না দিলে মৃত ব্যক্তির আত্মাটা কোনো আয়নার ভেতরে ঢুকে আটকা পড়ে যেতে পারে।
প্রেতসাধনার উপাদান
আয়না নিয়ে 'ব্লাডি মেরি' নামের একটি খেলার কথা পুরোনো ডাকিনীবিদ্যা বিষয়ক লেখায় পাওয়া যায়।
কখনো খেলেছেন এই খেলা? এটি খুবই ভয়-ধরানো। বুকের পাটা না থাকলে এই খেলার নামটাও নেয়া ঠিক না।
কোনো এক গভীর অন্ধকার রাতে, হাতে একটা মোমবাতি নিয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে আপনি তিনবার বলবেন 'ব্লাডি মেরি।' নির্দিষ্ট কিছু আচারও পালন করবেন। তারপর চোখ বন্ধ করবেন।
যখন চোখ খুলবেন তখন বুঝবেন যে ঠিক আপনার পেছনেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন ব্লাডি মেরি।
মনের এই ট্রিকটা বা ট্রিকের ধাক্কাটা নিতে পারলে, ব্লাডি মেরিকে দেখে চিৎকার দিয়ে আপনি হয়তো ওখানেই অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
তীক্ষ্ম স্মৃতি
প্রাচীন কিছু সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হতো যে, আয়নার মধ্যে মানুষের আত্মা বা মানুষের ভেতরের প্রকৃত সত্ত্বার ছায়া পড়ে।
এ ধারণাটি হয়তো এই বিশ্বাস থেকে এসেছে যে, ভ্যাম্পায়ার বা মানুষরূপী রাক্ষসদের আত্মা নেই। আর তাই তাদের কোনো ছায়া পড়ে না।
অতএব, আপনি যখন আজকে আবার আয়নার নিজের দিকে তাকাবেন একটু ভালো করে খেয়াল করে দেখবেন তো, সেখানে কার ছায়া পড়েছে? যাকে দেখা যাচ্ছে, সে সত্যিকারের আপনিই তো?

প্রাণহীন মৌলভীবাজারের হাওর, নদী ও গাঙ জলগড়ায় না তারপরও জলাধার বা জলাশয় by ইমাদ উদ দীন

কাগজে কলমে আছে বাস্তবে নেই। আর যেগুলো আছে তাও এখন মরে যাচ্ছে। এমন মহাসংকটে কোনোরকম বেঁচে থাকা জেলার নদী, খাল, হাওর, জলাশয় ও গাঙ। চিরচেনা দৃশ্যে এখন অনেকটাই পরিবর্তন। নানা সমস্যা ও সংকটে এখন তা ধ্বংসের দোরগোড়ায়। তার অন্যতম কারণ নাব্যহ্রাস। দীর্ঘদিন সংস্কারহীনতায় এখন বেহাল। জেলার এসব মিঠা পানির উৎসের অধিকাংশের অস্তিত্ব প্রায় বিলীনের পথে।
ভরাট হচ্ছে জেলার নদী, খাল, হাওর ও গাঙ। কিন্তু নেই কোনো সংস্কারের উদ্যোগ। বছরের পর বছর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় ঐতিহ্য আর অস্তিত্ব টানাপড়নে। এখন শুধু মানচিত্রেই এসব নদী, গাঙ, ছড়া, খাল, জলাশয় ও হাওর। কিন্তু বাস্তব দৃশ্যে তার মিল নেই। কাগজে কলমের এই মিঠা পানির জলাধারগুলো এখন অনেকটাই বিরান ভূমি। অযত্ন আর অবহেলায় ভরাট হয়ে এখন শ্রেণি পরিবর্তন হয়েছে জল গড়ানো বা জল ধরে রাখার এই উৎসসমূহের। স্থানীয়দের ক্ষোভ বা অভিযোগ ওই সকল স্থান দিয়ে এখন আর জল গড়ায় না। তারপরও কাগজে কলমের পরিচয় জলাধার বা জলাশয়। এমন অবস্থা এখন এজেলার খরস্রোতা ঐতিহ্যবাহী নদী, খাল, গাঙ, জলাশয় ও হাওরগুলোর। মানবসৃষ্ট নানা সমস্যা ও সংকটে যেগুলো যুদ্ধ করে মৃত্যুপথ যাত্রী হয়ে এখন কোনরকম ঠিকে আছে। নাব্যহ্রাসে জৌলুস হারিয়ে এখন নিজেদের পরিচিতিটাও সংকটাপন্ন। তাই স্রোতস্বী এই নদী, গাঙ, খাল ও হাওর নিয়ে শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে বিস্তর ফারাক হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এখন ধারণ ক্ষমতা না থাকাতে বর্ষা মৌসুমে সৃষ্টি হচ্ছে বন্যা ও দীর্ঘ জলাবদ্ধতা। আর শুষ্ক মৌসুমে মরুভূমি। স্থানীয় মিঠা পানির এসকল উৎসগুলোর এমন বেহালে বিরুপ প্রভাব পড়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ, জলজপ্রাণি ও উদ্ভিদের উপর। খাদ্য ও বাসস্থান নিয়ে তারাও জীবন মৃত্যুর চরম ঝুঁকিতে। স্থানীয়দের শঙ্কা এমন দুর্দশা চলমান থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই তা বিলীন হবে। তারা জানালেন প্রতি বছরই পলি জমে ভরাট হচ্ছে নদী, খাল, গাঙ, জলাশয়, জলাধার ও হাওরগুলো। আর এই সুযোগে চলে দখল উৎসব। যে যার মত প্রভাব খাটিয়ে চালাচ্ছেন দখল দ্বারিত্ব। এ কারণে ধীরে ধীরে পাল্টে যাচ্ছে চিরচেনা দৃশ্যপট। ভরাট হওয়া অংশে গড়ে ওঠছে ঘরবাড়ি কিংবা ক্ষেতের ভূমি। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে যেমন বন্যা হয়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ জলাবদ্ধতা। তেমনি শুষ্ক মৌসুমেও পানির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ। জেলার অন্যতম নদী মনু, ধলাই, ফানাই, সোনাই ও জুড়ী এখন মুমূর্ষু অবস্থায়। অন্যদিকে মরে যাওয়া শাখা নদী বরাক, বিলাস, লাংলী, গোপলা ও আন ফানাই নদীর অস্তিত্বই বোঝার উপায় থাকে না শুষ্ক মৌসুমে। নাব্যহ্রাসের কারণে বর্ষা মৌসুমে পানির ধারণক্ষমতা না থাকায় নদী, গাঙ ও হাওরগুলোর দু’তীর ভেঙ্গে প্লাবিত হয় আশপাশের গ্রাম। পানিতে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতি হয় ঘরবাড়ি ও চাষাবাদের। উল্টো চিত্র শুষ্ক মৌসুমে। নদী, গাঙ ও হাওরের বিলগুলোতে পানি না থাকায় চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েন কৃষিজীবী লোকজন। নদী ও হাওর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মনু নদীর বিভিন্ন স্থানেই শুষ্ক মৌসুমে চর জেগে উঠে। কুলাউড়ায় ফানাই, কমলগঞ্জে ধলাই, জুড়ী উপজেলা জুড়ী ও সোনাই নদীর একই অবস্থা। জানা গেল মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের পাশে কুশিয়ারা নদীর একটি শাখা বরাক নাম ধারণ করে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। শীতকালে বরাক একেবারে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট দিয়ে প্রবাহিত লাংলী নদী হেতিমগঞ্জ নামক স্থানে বিলাস নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। পাহাড়ের মধ্য দিয়ে বয়ে আসা এ নদীর রূপরেখা খালে পরিণত হয়েছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগাবলা ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গোপলা নদী তার ঐতিহ্য হারিয়েছে শুধুমাত্র পলির কারণে ভরাট হয়ে। কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ের বাসিন্দারা জানান ফানাই ও আন ফানান একসময় খরস্রোতা থাকলেও এখন নানা কারণে ভরাট হয়ে যাওয়াতে নেই সেই জৌলুস। সিন্দুরখান এলাকার বাসিন্দারা জানান লাংলী নদীর বিভিন্ন অংশ বালুমহাল হিসেবে ইজারা দেওয়া হয়। স্থানীয়দের কাছে লাংলী নদী নয় এখন তা কালেঙ্গিছড়া হিসেবে পরিচিত। শীতকালে এসকল নদীর বুকে চাষাবাদ হয় শাকসবজি, চরানো হয় গরু, মহিষ ও ছাগল। অন্যদিকে মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা নদীর অংশের তলদেশ পলি জমে ভরাট হওয়ায় দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকি ও কাউয়াদীঘি সমান্তরাল। হাওর দু’টিও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আর ফসলহানি হাওর দু’টি নিত্যসঙ্গী। একই অবস্থা হাইল হাওরেরও। তাই মৌসুমে আউশ, আমন, বোরো ও সবজি চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকের চাষাবাদের রক্ষায় কাউয়া দীঘি হাওরে প্রায় শত কোটি টাকার মনু প্রকল্পে সেচ সুবিধার জন্য উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পাম্প বসালেও তা গোড়াতে গলদ থাকায় কাজে আসছেনা। দুর্ভোগগ্রস্তদের দাবি প্রকল্প পরিকল্পনায় উজানের পাহাড়ি ঢলের পানি ধারনের চিন্তা না করে ওই প্রকল্পের বাস্তবায়নে এই দুর্দশা। বর্ষা মৌসুমে কুলাউড়ার ভাটেরা ও উজান এলাকার ১৮টি স্থান দিয়ে কাউয়া দীঘিতে পানি প্রবেশ করায় এই সেচ পাম্প সেচ দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারে না। আর দীর্ঘ সংস্কারহীনতায় পানির ক্যানেলগুলোও কাজে আসায় উপকৃত হচ্ছেন না কৃষকরা। তাই নতুন করে অনুরূপ আরেকটি পাম্প হাওজের দাবি স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের। অন্যদিকে পলি জমে কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে হাওরের সংযোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। এই নদীগুলোর সঙ্গে হাওর, গাঙ, ছড়া ও খালগুলোর সংযোগ নাব্যহ্রাসের কারণে বিলুপ্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন। স্থানীয় কৃষিজীবীরা জানান দীর্ঘদিন থেকে ভরাট হওয়া নদী, খাল, গাঙ, জলাশয়, জলাধার ও হাওরগুলোর পুনঃখনন না হওয়াতে বর্ষা কিংবা শুষ্ক মৌসুমে আগের মতো তারা চাষাবাদ করতে পারছেন না। শীতকালে আগে কৃষকরা সেচ সুবিধা পেয়েছিল। তখন কৃষিক্ষেত্রে এসেছিল অভাবনীয় সাফল্য। এই নদীগুলো দিয়ে একসময় বড় লঞ্চ, নৌকা চলাচল করত। দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়-বাণিজ্য ছিল এই নৌপথকে ঘিরে। অথচ এখন শুষ্ক মৌসুমে মানুষ পায়ে হেঁটে এই নদীগুলো পার হয়। এরই সাথে বড় সড়কগুলোর পাশে থাকা দেশীয় প্রজাতীর মাছের নিরাপদ অভয়াশ্রম এই জলাশয় গুলোও এখন নেই বললেই চলে। জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়ক আ. স. ম ছালেহ সুহেল মানবজমিনকে বলেন দেশীয় প্রজাতির মাছসহ জলজপ্রাণি,উদ্ভিদ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভরাট হওয়া এজেলার স্থানীয় খাল, জলাশয়, বিল, নদী, গাঙ ও হাওরগুলো পরিকল্পিত ভাবে দ্রুত খননের  প্রয়োজন। এগুলো পুনখনন হলে তখন অবৈধ দখলও থাকবে না। বন্যা ও খরা থেকে জলজপ্রাণী, উদ্ভিদ, পরিবেশ,প্রতিবেশ ও দুর্লভ প্রজাতির নানা জীববৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে।