Tuesday, September 20, 2011

বিক্ষোভের মুখে সূচক বাড়ল পুঁজিবাজারে

বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভের মুখে আজ সোমবার দিন শেষে দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। এর ফলে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক বেড়েছে। তবে দুই বাজারেই আজ সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ৪০.৭৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫৮৪১.২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে আজ সূচক কমার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সূচক ৯০ পয়েন্ট কমে যায়। এ সময় বিনিয়োগকারীরা ডিএসইর সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর পর থেকে নাটকীয়ভাবে সূচকের তীর ঊর্ধ্বমুখী হয়। আর বেলা দুইটার দিকে সূচক ৮৬ পয়েন্ট বেড়েছিল।
ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮০টিরই আজ দাম বেড়েছে, কমেছে ৬৪টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৩৭৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ২৬ কোটি টাকা কম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৬৫১৩.৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে হাতবদল হওয়া ১৭৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৮টিরই দাম বেড়েছে, কমেছে ৫৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৫৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে পাঁচ কোটি টাকা বেশি।

চার ফিফটিতে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা

প্রায় ভুলে যাওয়া একটা স্বাদ শ্রীলঙ্কা পেয়েছে। আরেকটাও কী পাবে?
এ বছর ছয়টি টেস্ট খেলেও যেটির দেখা নেই, টানা সাত টেস্টে যা পায়নি, কাল সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সেটাই পেয়েছে শ্রীলঙ্কা—লিড! তৃতীয় দিন শেষে ১১২ রানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা, হাতে চার উইকেট। গত ১০ টেস্টে দেখা না পাওয়া জয়ের স্বাদও কি পাবে?
সিরিজে নিজেদের সেরা ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পর সেই আশা করতেই পারে শ্রীলঙ্কা। আগের দিন ফিফটি পেয়েছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা, কাল হলো আরও তিনটি ফিফটি। প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তৃতীয় দিনের উইকেট এমনিতেই ব্যাটিংয়ের জন্য সেরা, অস্ট্রেলিয়ানদের বোলিংয়েও ছিল না ধার। সারা দিনে উইকেট পড়ল মাত্র চারটি।
তবে কালকের দিনটাই আবার ড্রয়ের সম্ভাবনাও জাগাচ্ছে। নির্বিষ বোলিংয়ে উইকেট না পেলেও রানের গতিতে লাগাম ভালোই পরাতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া। আড়াইয়ের সামান্য বেশি শ্রীলঙ্কার রানরেট, লিডটা তাই আরও বড় হতে পারেনি। আজ চতুর্থ দিনে শ্রীলঙ্কা যত সময় ব্যাট করবে, অস্ট্রেলিয়ার ড্র করার সম্ভাবনা ততই বাড়বে।
দিনের শুরুটা কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ৩১ রান নিয়ে দিন শুরু করা জয়াবর্ধনে ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন দ্রুতই। কিন্তু ক্যারিয়ারে অযুতবারের মতো অনেক বাইরের এক বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ধরা পড়েন উইকেটের পেছনে। শততম টেস্টে সেঞ্চুরি হাতছানি দিচ্ছিল বলেই কিনা, একটু যেন বেশিই সতর্ক ছিলেন সাঙ্গাকারা। কিন্তু প্রথম শ্রীলঙ্কান হিসেবে দারুণ এই কীর্তি আর গড়া হলো না। দ্বিতীয় নতুন বল হাতে পেয়ে প্রথম ওভারেই সাঙ্গাকারাকে ফিরিয়েছেন পিটার সিডল।
অস্ট্রেলিয়া নিশ্চয়ই তখন লিড পাওয়ার আশাও করছিল। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি ছিটিয়ে দিল দিলশান-ম্যাথুসের রেকর্ড জুটি। দুজনের ১২১ রানের জুটি পঞ্চম উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ। দুই বছর পর মিডল অর্ডারে ফিরে রানেও ফিরেছেন দিলশান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর প্রথম ইনিংসেই সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন (২০০৪ সালে গলে), আবার পঞ্চাশ পেরুলেন ১৩ ইনিংস পর। ষষ্ঠ উইকেটে ম্যাথুস আর প্রসন্ন জয়াবর্ধনের ৮৩ রানের জুটি দলকে এনে দেয় লিড। ছোট্ট ক্যারিয়ারে দুবার নব্বইয়ে কাটা পড়া ম্যাথুসকে হাতছানি দিচ্ছে সেঞ্চুরি। মাত্র ১৫ রান দূরে সেই মোক্ষধাম।

বার্সেলোনা আর মেসির গোল উৎ সব

এক লিওনেল মেসিরই তিনটা শট বারে নয়তো পোস্টে লেগে ফিরে এসেছে। ওসাসুনার গোলরক্ষক আন্দ্রেস ফার্নান্দেজ পাঁচ-ছয়টা দুর্দান্ত সেভ করেছেন। সাধারণত গোলপোস্ট আর গোলরক্ষক এমন দেয়াল গড়ে তুললে ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ কোচের কণ্ঠে হতাশা ঝরে। কিন্তু পরশু বার্সেলোনা সেই সুযোগটা কোচ পেপ গার্দিওলাকে দেয়নি। এতগুলো গোল মিস করেও যে ওসাসুনাকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা!
তিনবার বল পোস্টে লাগিয়েও হ্যাটট্রিক করেছেন লিওনেল মেসি। দুটো গোল করিয়েছেন জাভি ও ফ্যাব্রিগাসকে দিয়ে। ডেভিড ভিয়ার জোড়া গোলের পাশাপাশি ওসাসুনাকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের লজ্জায় ডুবিয়েছে একটি আত্মঘাতী গোল।
আগের দুই ম্যাচে এগিয়ে থেকেও ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ার হতাশা সঙ্গী ছিল বার্সেলোনার। বার্সার রক্ষণভাগে ফাঁকফোকর খুঁজে পেয়েছিলেন সমালোচকেরা। সেই কারণেই কি না কে জানে, খোদ রিয়াল মাদ্রিদ যে সাহসটা পায় না, সাহস পায়নি এসি মিলানও; সেটাই দেখাতে গিয়েছিল ওসাসুনা। দাঁতে দাঁত কামড়ে কোথায় রক্ষণাত্মক খেলে একটা পয়েন্ট অন্তত কুড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে তা না, উল্টো আক্রমণাত্মক হতে গেল। আর বার্সাকে তাদের মতো করে খেলতে দিলে যে কী হয় সেটা শুরু থেকেই বুঝিয়ে গেলেন মেসিরা।
প্রথম গোলটা পেতে একদমই অপেক্ষা করতে হয়নি। পঞ্চম মিনিটেই গোল এনে দিয়েছেন মেসি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে করেছেন নিজের দ্বিতীয় গোলটি। মেসির মাঝখানে ফ্যাব্রিগাস, ভিয়া আর রোভারসিওর আত্মঘাতী গোলে প্রথমার্ধেই ৫-০। ৫৭ মিনিটে জাভি, ৭৬ মিনিটে ভিয়া আর ৭৯ মিনিটে মেসির হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা গোল বিশাল জয় এনে দেয় চ্যাম্পিয়নদের।
মনে হলো, আগের দুই ম্যাচের জ্বালা মেটাতেই যেন মাঠে নেমেছিল বার্সা। এমন খবরও শোনা গিয়েছিল, এগিয়ে থেকেও ওই দুই ম্যাচে ড্র করায় গার্দিওলা নাকি বকেছিলেন শিষ্যদের। এদিন অবশ্য ম্যাচ শেষে কোচ জানালেন, ‘আমি মোটেও রাগ করিনি। কেউ কেউ বলছে আমি রেগে গিয়েছিলাম, কিন্তু আসলে সে রকম কিছু হয়নি। আসলে মিডিয়ার একটা অংশ আছে যারা চায় বার্সেলোনা খারাপ করুক। একইভাবে আরেকটা অংশ আছে যারা চায় রিয়াল মাদ্রিদ খারাপ করুক। ওরাই এসব ছড়ায়। আমি রাগ করিনি, কারণ আমার খেলোয়াড়েরা আমাকে সেই সুযোগই দেয় না।’ এএফপি, রয়টার্স।
আগামী বুধবারই ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে বড় ম্যাচ আছে বার্সার। এই ম্যাচের আগে এমন জয় বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দেবে তাদের। ওদিকে ইতালিয়ান লিগে পরশুই একটা বড় ম্যাচ হয়ে গেছে। যদিও ইন্টার মিলান আর রোমার সেই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে। বাজেভাবে মৌসুম শুরু করা দুই দলই সান্ত্বনার একটি পয়েন্ট পেয়েছে। এবং দুই দলের কোচই এক এক পয়েন্টে সন্তুষ্ট।
বাজেভাবে মৌসুম শুরু করেছে আর্সেনালও। ইংল্যান্ডের এই দলটি পরশু নিজেদের জালে দুটো আত্মঘাতী গোল করে হেরেছে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের বিপক্ষে। লিগে পাঁচ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট কুড়িয়ে নিয়েছে আর্সেনাল। কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার পরশু ম্যাচের আগপর্যন্তও দলের পক্ষে সাফাই গাইছিলেন। এদিন ম্যাচ শেষে প্রচণ্ড হতাশ ছিলেন ফরাসি ভদ্রলোকও। এই পাঁচ ম্যাচে যে এরই মধ্যে ১৪টা গোলও হজম করেছে তাঁর দল। এটাই প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে আর্সেনালের সবচেয়ে বাজে শুরু। প্রথম পাঁচ ম্যাচে ১৪ কিংবা এর বেশি গোল খাওয়া দলও আছে মাত্র দুটি।

চীনে কারখানার দূষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ভাঙচুর

চীনে একটি সৌর প্যানেল তৈরি কারখানার ব্যর্জের দূষনের প্রতিবাদে এলাকার শত শত বাসিন্দা বিক্ষোভ করেছে। দক্ষিণ চীনের ঝিঝিয়াং প্রদেশে জিঙ্কো সোলার নামের ওই কারখানায় তারা ব্যাপক ভাঙচুরও চালিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলেছে, কারখানাটি থেকে সৃষ্ট দূষণের কারণে মানবদেহে ক্যানসার ছড়াচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গতকাল রোববার এ খবর জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী গত বৃহস্পতিবার ঝিঝিয়াং প্রদেশের হেইনিং শহরে জড়ো হয়। তারা পার্শ্ববর্তী একটি নদীতে বিপুল পরিমাণে মাছ মরে যাওয়ার ব্যাখ্যা দাবি করে।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে, কারখানাটির দূষণের কারণে হেইনিং শহরের কাছে হংজিয়াও গ্রামের কমপক্ষে ৩১ জন বাসিন্দা ক্যানসার রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত।
সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা গত বৃহস্পতিবার জিঙ্কো সোলার কারখানাটির ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে কয়েকটি দাপ্তরিক কক্ষ ও গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। পরে সেখানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

লন্ডনে ম্যাগনাকার্টা সনদের প্রদর্শনী শুরু

লন্ডনের গিল্ডহল আর্ট গ্যালারিতে গতকাল রোববার বিখ্যাত ম্যাগনাকার্টা সনদের প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ গণতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিলগুলোর একটি স্বচক্ষে দেখার বিরল সুযোগ পেল।
‘ওপেন হাউস লন্ডন উইকএন্ড’ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক দি সিটি অব লন্ডন করপোরেশনের ১২৯৭ সালের ম্যাগনাকার্টা সনদের আসল সংস্করণটি প্রদর্শিত হচ্ছে।
ঐতিহাসিক এ সনদটি মূলত অজনপ্রিয় রাজা জন এবং তাঁর বিদ্রোহী ব্যারনদের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি। ওই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাজা জন কিছু বিষয়ে স্বাধীনতা দেওয়া ছাড়া এটাও স্বীকার করে নেন, শাসকসহ কোনো মানুষই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, শাসকের ইচ্ছাই সবকিছু নয়। গিল্ডহল আর্ট গ্যালারির রোমান অ্যাম্ফিথিয়েটারে আয়োজিত ওই প্রদর্শনীতে রাখা উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজা প্রথম অ্যাডওয়ার্ডের সিলমোহর এবং শহরে ঘোষণার আদেশসংবলিত লন্ডনের শেরিফকে পাঠানো রাজার আসল আদেশপত্রটি।
ম্যাগনাকার্টা সনদটি রাজা জন ১২১৫ সালের ১৫ জুন স্বাক্ষর করেন। পরে ১২২৫ সালে সেটি পাস হয়। আর ১২৯৭ সালে তা ইংল্যান্ডের আইনে পরিণত হয়।
শতাব্দীর পর শতাব্দীজুড়ে ম্যাগনাকার্টা সনদ বিশ্বব্যাপী জনগণের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা এবং শাসকদের ক্ষমতার সীমা নির্দেশের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবিধান ও বিধিবদ্ধ আইন প্রণয়নের মানদণ্ডও এটি।
লন্ডনের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও গ্রন্থাগারবিষয়ক চেয়ারম্যান জন স্কট বলেন, ‘দি সিটি অব লন্ডনের ম্যাগনাকার্টা সনদটি আমাদের পূর্বপুরুষেরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করে আসছিলেন। এখন সেটি গিল্ডহল আর্ট গ্যালারিতে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি নিশ্চিত যে এই প্রদর্শনী খুবই জনপ্রিয় হবে।

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে সমর্থন দেবে ভারত

জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের জন্য ফিলিস্তিনকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় ভারত তার সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরবে। গত শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্রসচিব রঞ্জন মাথাই এ কথা জানান।
রঞ্জন মাথাই বলেন, জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য ফিলিস্তিনের আবেদনে ভারত সমর্থন করবে। এ ছাড়া ১৯৮৮ সালের নভেম্বরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভারত ছিল অন্যতম।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ঘোষণার পর ভারতের পক্ষ থেকে সমর্থনের বিষয়টি জানানো হলো। মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ‘জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের জন্য আগামী সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদে আবেদন করা হবে। আর এ দাবি আমাদের বৈধ অধিকার।’ অবশ্য ওয়াশিংটন বলেছে, ফিলিস্তিনের এ পদক্ষেপ ‘হিতে বিপরীত ফল’ বয়ে আনতে পারে।
জাতিসংঘের পূর্ণ সমর্থন পেতে নিরাপত্তা পরিষদ এবং সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন লাগবে। শুরু থেকেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। গত জুন মাসে মার্কিন সিনেটে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবও পাস হয়। প্রস্তাবটিতে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভেটো দেওয়ার কথা বলা হয়।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সুজান রাইস বলেন, ফিলিস্তিনের সদস্যপদ নিয়ে ভোটাভুটি হলে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘকে দেওয়া অর্থের সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর জাতিসংঘকে ৫০ কোটি ডলার দিয়ে থাকে।
মাথাই আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং জাতিসংঘে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করা, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পুনর্গঠন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা সমাধানে সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের বিষয়টি তুলে ধরবেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক ব্রাজিলে

ব্রাজিলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আগামীকাল মঙ্গলবার রিও ডি জেনিরোতে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত বুধবার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দেশটির পর্যটনমন্ত্রী পেদ্রো নোভাইসের পদত্যাগের ঘটনায় দুর্নীতিবিরোধী চলমান আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে।
ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ব্যবহারের মাধ্যমে ডাকা রিও ডি জেনিরোর বিক্ষোভে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ সরকারকে নাড়া দেওয়া কেলেঙ্কারির বিষয়গুলোও তুলে ধরা হবে। ৭ সেপ্টেম্বর ব্রাজিলের স্বাধীনতা দিবসের দিন ব্রাসিলিয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন বিক্ষোভে ৩০ হাজার মানুষ জড়ো হয়।
দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতা ক্রিস্টিয়ান মাজা বলেন, সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে রিও ডি জেনিরোর বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানোর পর ইতিমধ্যে ৩০ হাজার মানুষ তাতে অংশ নেওয়ার সম্মতি জানিয়েছে।
লাখ লাখ ডলার অর্থ আত্মসাতের খবর ফাঁস হওয়ার পর পেদ্রো নোভাইসকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।

কেমোথেরাপি নিতে কিউবায় গেলেন হুগো চাভেজ

ক্যানসারের চিকিৎ সায় চতুর্থ দফা কেমোথেরাপি নিতে গত শনিবার রাতে কিউবায় গেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খুব সম্ভবত এটা হবে তাঁর শেষ দফা কেমোথেরাপি।
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সঙ্গে বৈঠকের পর কিউবার উদ্দেশে যাত্রা করেন হুগো চাভেজ। গতকাল রোববার তাঁর কেমোথেরাপি শুরু হওয়ার কথা। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় চাভেজ দেশে ফিরে আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২০ জুন কিউবার রাজধানী হাভানার একটি হাসপাতালে চাভেজের শরীর থেকে ক্যানসারের কোষবাহী টিউমার অপসারণ করা হয়।
হুগো চাভেজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘সম্পূর্ণ নিরাময়ের’ আগে এটা হবে তাঁর শেষ দফা কেমোথেরাপি।
চাভেজ প্রথম দুই দফার কেমোথেরাপি নেন হাভানায়। ২ সেপ্টেম্বর ভেনেজুয়েলার একটি সামরিক হাসপাতালে তিনি তৃতীয় দফায় কেমোথেরাপি নেন।

হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের সম্পৃক্ততা রয়েছে

পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্যামেরন মান্টার বলেছেন, পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তালেবানের সহযোগী জঙ্গিগোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততার প্রমাণ তাঁদের হাতে আছে। পাশাপাশি গত সপ্তাহে কাবুলে চালানো আত্মঘাতী হামলার জন্যও ওই গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন তিনি।
গত শনিবার পাকিস্তানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সম্প্রচার মাধ্যম রেডিও পাকিস্তানকে দেওয়া সাক্ষাৎ কারে ক্যামেরন মান্টার এসব অভিযোগের কথা বলেন। মান্টার বলেন, গত সপ্তাহে কাবুলে হামলার ঘটনা হাক্কানি নেটওয়ার্কের কাজ। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সরকার ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
কাবুলে হামলার পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেট্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পারে। প্যানেট্টার এ হুঁশিয়ারির পরিপ্রেক্ষিতে মান্টার ওই মন্তব্য করেন। গত সপ্তাহে কাবুলে মার্কিন দূতাবাস ও ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) সদর দপ্তরে তালেবান জঙ্গিরা রকেট হামলা চালায়। ২০ ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর ওই হামলায় ১৫ জনের প্রাণহানি হয়।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরে গোষ্ঠীটির পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশও করেছে।
তবে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের দুই সহযোগী দেশের ভঙ্গুর সম্পর্কে আরও চিড় ধরাতে পারে। গত মে মাসে পাকিস্তানের ইসলামাবাদের কাছে অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে মার্কিন কমান্ডোরা অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে। এ ঘটনার জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কে অবনতি ঘটে।
অবশ্য সস্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে অতীতের দিনগুলো ‘কঠিন’ ছিল স্বীকার করে মান্টার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জোরদার যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আগামী নভেম্বরে মিসরে পার্লামেন্ট নির্বাচন

আগামী ২১ নভেম্বর মিসরে পার্লামেন্ট নির্বাচন শুরু হবে। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পতন ঘটে। এরপর এই প্রথম দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
মিসরের নির্বাচন কমিশনার আবদেল মুইজ ইব্রাহিমের বরাত দিয়ে আল আহরাম পত্রিকা জানিয়েছে, তিন পর্যায়ে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দ্য পিপলস অ্যাসেম্বলির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২১ নভেম্বর ভোট শুরু হবে এবং শেষ হবে ২০১২ সালের ৩ জানুয়ারি। এ ছাড়া পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সুরা কাউন্সিলের নির্বাচন শুরু হবে আগামী বছরের ২২ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ৪ মার্চ।
ক্ষমতাসীন সামরিক বাহিনী এখনো নির্বাচনের তারিখ নিশ্চিত করেনি। হোসনি মোবারকের পতনের পর সামরিক বাহিনী ক্ষমতা নেয়। সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারে সামরিক বাহিনী।
২০১০ সালে মিসরে সর্বশেষ পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। মোবারকের পতনের পর আদালত দলটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।
ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো অসংগঠিত থাকার কারণে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো ইসলামি দলগুলো নির্বাচনে ভালো ফলাফল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি নামের দল গঠন করেছে মুসলিম ব্রাদারহুড।

মামলার বাদীর আইনজীবীদের ঘুষ দেন নরেন্দ্র মোদি!

২০০২ সালে ভারতের গুজরাট রাজ্যে দাঙ্গার ঘটনায় একটি মামলার বাদীর আইনজীবীদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার ওই মামলার বাদী সমাজকর্মী ও নৃত্যশিল্পী মল্লিকা সারাবাই এই অভিযোগ করেন।
২০০২ সালে গোধরায় ট্রেনে আগুন লেগে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। দাঙ্গায় মুখ্যমন্ত্রী মোদিসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘সহযোগিতার’ অভিযোগ এনে জনস্বার্থে মামলা করেন মল্লিকা সারাবাই।
গতকাল মল্লিকা অভিযোগ করেন, ‘ওই সময় মুখ্যমন্ত্রী মোদি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান আর বি শ্রীকুমার ও তাঁর ডেপুটি সঞ্জীব ভাটকে ডেকে পাঠান। মুখ্যমন্ত্রী ওই দুই কর্মকর্তাকে আমার আইনজীবীদের ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে বলেন। ঘুষ দিয়ে ওই মামলার শুনানি প্রভাবিত করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।’
দাঙ্গার ঘটনা তদন্তে গঠিত নানাবতী কমিশনে দেওয়া গোয়েন্দা কর্মকর্তা শ্রীকুমারের নথির একটি কপিও সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করেন মল্লিকা। তিনি দাবি করেন, আরেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সঞ্জীব ভাট গত মে মাসে নানাবতী কমিশনে হাজির হয়ে ঘুষের বিষয়টি স্বীকার করেন। ভাট তদন্ত কমিশনকে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মোদি আইনজীবীদের ঘুষ দেওয়ার জন্য তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মল্লিকা বলেন, এরপর তিনি নিজে তদন্ত কমিশনে গিয়ে এ বিষয়ে শ্রীকুমার ও সঞ্জীব ভাটের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চান। কমিশন তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে তিনি কমিশনে দেওয়া শ্রীকুমারের বক্তব্য লিখিতভাবে দেওয়া উচিত বলে কমিশনের কাছে চিঠি লিখেন। কমিশন তা মঞ্জুর করে। মল্লিকা জানান, তিনি কমিশনের পক্ষে লিখিত বিবৃতির জন্য শ্রীকুমারের কাছে চিঠি লিখেছেন। শ্রীকুমার আগামী শুক্রবার এই বিবৃতি দিতে চেয়েছেন।

মিয়ানমারে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, তিনি তাঁর দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন। তবে জনগণ এখনো প্রকৃত স্বাধীনতা থেকে অনেক দূরে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আরব বিশ্বের মতো গণ-অভ্যুত্থান মিয়ানমারের সমস্যার সমাধান আনবে না।
ইয়াঙ্গুনে নিজের দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) কার্যালয়ে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎ কারে এসব কথা বলেন সু চি।
শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী সু চি বলেন, ‘আমি এমনটা ভাবি না যে আমরা সবাই সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হতে পেরেছি। এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে আমি মনে করি, কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় বলি, আমি খুব সতর্ক, আশবাদী মানুষ। আমার বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন। কিন্তু তিনি কীভাবে এটা করতে সমর্থ হবেন তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।’
সামরিক জান্তা প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে মিয়ানমার শাসন করছে। গত মার্চে নামমাত্র বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ওই সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর আগে নতুন নির্বাচনী আইনের মারপ্যাঁচে ফেলে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয় সু চির দল এনএলডিকে।
মিয়ানমারের নতুন সরকার ইদানীং সু চি ও তাঁর দলের নেতাদের সঙ্গে ইতিবাচক আচরণ করছে। গত মাসে রাজধানী নেপিডোয় প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সরকারি বাসভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন সু চি। শুধু তাই নয়, মিয়ানমারের স্বাধীনতার নায়ক সু চির বাবা জেনারেল অং সানের ছবির পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর (সু চি) সঙ্গে ছবি তোলেন প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন। কিছুদিন আগেও খুব কম মানুষই এমন দৃশ্য কল্পনা করতে পারতেন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সু চির ওই বৈঠকের বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে বৈঠকের পর সু চি বলেন, একসঙ্গে কাজ করার মতো বেশ কিছু বিষয়ে একমত হয়েছেন তাঁরা।
সামরিক জান্তার নিপীড়নের মুখেও শান্তির পক্ষে অবিচল নীতির কারণে ভারতের স্বাধীনতার নায়ক মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করা হয় সু চিকে। এএফপিকে সু চি বলেন, মিয়ানমারে লিবিয়ার মতো সরকারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান তিনি চান না। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের ধারণা পরিবর্তন হতে হবে। মিয়ানমারের সমস্যা বুঝতে হবে। এ ছাড়া প্রকৃত পরিবর্তন আসবে না। তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃত বিপ্লবের জন্য অনেক সময় প্রয়োজন হয়। আমরা যে ধরনের পরিবর্তন চাই, তার জন্যও সময় লাগবে। কিন্তু এই পরিবর্তনগুলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং আলোচনার ভিত্তিতে করতে চাই।’ শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী এই নেত্রী বলেন, আরব বিশ্বের মতো গণ-অভ্যুত্থানে মিয়ানমারে সমস্যার সমাধান হবে না।
মিয়ানমারে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২০১৫ সালে। ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সু চি বলেন, এটা বলার মতো সময় এখনো আসেনি। তবে মিয়ানমারের জনগণ যদি চায় সু চি তাদের নেতৃত্ব দিক, তাহলে তিনি রাজি আছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সু চি সরকারের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখলেও কিছু বিষয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কার বা রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাই পরিবর্তনের ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছার বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।