Sunday, December 30, 2018

ব্যালট বাক্স ভর্তি, লম্বা নকল লাইন, নিহত-১৩

ধানের শীষের এজেন্ট নেই। কোথাও আগেই ব্যালট বাক্স ভর্তি। ভোট দিতে যাওয়া যেন অপরাধ। রীতিমতো অবরুদ্ধ পরিস্থিতি। কেন্দ্রের বাইরে লম্বা নকল লাইন। জাল ভোটতো মামুলি ব্যাপার। ভোট শুরুর প্রথম সাড়ে চার ঘন্টায় দেশের বিভিন্নস্থানে এমন চিত্রই দেখা গেছে। আর রাত থেকে ভোট কেন্দ্রিক সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা ভোটবর্জন শুরু করেছেন।
বিবিসি বাংলার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের লালখান বাজারের একটি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে বিবিসি সংবাদদাতা অধিকাংশ ব্যালট বাক্স পূর্ণ দেখতে পান। এ বিষয়ে ঐ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ওদিকে, যশোর-৪ আসনে রাতেই ভোট শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এলাকার ভোটাররা। তাদেরকে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। শত শত ভোটার কেন্দ্র থেকে ফিরে গেছেন। এ আসনের কোন কেন্দ্রেই বিএনপির এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি।
প্রথম আলো’র এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, লক্ষীপুর-২ আসনের দক্ষিণ গাইয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, বাইরে নারী ও পুরুষের লম্বা লাইন থাকলেও কাউকে ভোট দিতে ভেতরে যেতে দেখা যাচ্ছে না। ভোটর না ঢুকলেও ভেতরে সিল মারা হচ্ছে। আজ রোববার লক্ষীপুরের এই কেন্দ্রে আধা ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করেও ভোটারকে ভেতরে ভোট দিতে যেতে দেখা যায়নি। দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও কোন নারী ভোটার নেই। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কোনো নারীকে ভোট দিতে আসতে দেখা যায়নি। রাস্তা থেকে নারীদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আয়েশা আক্তার নামের এক নারী ভোট দিতে আসছিলেন। তাকে রাস্তায় আটকে দেয় আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা। তিনি খুবই ক্ষিপ্ত হন, তিনি গালমন্দ করে উত্তেজিত হয়ে চলে যান।   
এদিকে, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এবং রফিকুল ইসলাম ভোট কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট দেখতে না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
কুমিল্লা থেকে মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার জানিয়েছেন, কুমিল্লা-১০ আসনের এক ভোটারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সকালে নাঙ্গলকোট  উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের মুরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। বাচ্চু মিয়া (৫০) নামে এক ভোটার ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় কেন্দ্রের ৫০০ গজ দূরে ছাত্রলীগের লোকজন তাকে জিজ্ঞেস করেন, কই যান? জবাবে তিনি বলেন, ভোট দিতে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতারা বলেন, ভোট হয়ে গেছে, আপনি চলে যান। তখন বাচ্চু বলেন, আমি আমার ভোট দিয়েই যাবো। তখন ছাত্রলীগ নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাচ্চুকে হকিস্টিক দিয়ে মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে ফেলে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বাচ্চু ওই এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে। নাঙ্গলকোট থানার ওসি নজরুল ইসলাম, তার নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে জেলার চান্দিনায় বেলাশ্বর সরকারি বিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে বিএনপি কর্মী মুজিবুর রহমান নিহত হন। সকাল সাড়ে ১০টায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা আরও দুই বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
কুমিল্লা-১১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও ফরিদপুর-২ আসনের শামা ওবায়েদ এরই মধ্যে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

‘অগণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশ’ নিয়ে উদ্বেগ আনফ্রেলসহ ১৬ সংগঠনের

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) সহ ১৬টি মানবাধিকার ও পর্যবেক্ষক সংগঠন। গতকাল যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনী পরিবেশে ৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশের ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে শুরু থেকেই সুশীল সমাজ, বিরোধী দল ও মিডিয়ার ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এতে বাংলাদেশের ক্ষয়ে আসা গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আর চাপ সৃষ্টি হয়েছে আসন্ন নির্বাচনের বিশুদ্ধতার ওপরও। শনিবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে ওই বিবৃতি প্রকাশ করেছে আনফ্রেল। এতে স্বাক্ষর করেছে ১৬টি অধিকার ও পর্যবেক্ষক সংগঠন। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আনফ্রেলের পর্যবেক্ষক আসার কথা ছিল।
কিন্তু ভিসা বিলম্বিত করার কারণে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়। তারপরও তারা বাংলাদেশের নির্বাচনের ওপর দৃষ্টি রাখছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সত্যিকার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতা ও ভীতির কোনো স্থান থাকতে পারে না। মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করা হয় ১০ই ডিসেম্বর। ওই সময় থেকে বিরোধী দলের গাড়িবহরে কমপক্ষে ৩০টি হামলা হয়েছে। ১৫৯টি সংসদীয় আসনে ২০৭টি সহিংসতা ঘটেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কমপক্ষে ৪৩ জন প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। মারাত্মক আহত হয়েছেন তাদের ১৩ জন প্রার্থী। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিরোধী দলের ১৭ প্রার্থীকে। অন্যদিকে, ২৩টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন। উপরন্তু, রিপোর্টিং পিরিয়ডে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৫ জন। আহত হয়েছেন ২৬৮২ জন। এ ছাড়াও বিরোধীদলীয় সদস্যদের প্রহার, দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি আগুন দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া, নারী প্রার্থীদের ওপর হামলা, বিরোধী দলের নির্বাচনী সমাবেশে বাধা দেয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য একটিই। তাহলো ভোটারদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে খাটো করা।
বিরোধী দলগুলোর মতে, নভেম্বরের শুরুর দিকে জাতীয় নির্বাচন ঘোষণার পর পুলিশ তাদের ২১ হাজার নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। ২০১৮ সালের শুরু থেকে ক্ষমতাসীন দলের বিরোধীদের বিরুদ্ধে কল্পিত মামলার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে বলে বলছে বেশ কিছু মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ। এর মধ্যে বিরোধীদলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন নেতারাও রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। তার বিরুদ্ধে মানহানির ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে এমন মামলা বলে দেয় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। এমন এক নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সারা দেশ। এ অবস্থায় গণতান্ত্রিক নীতির বিরুদ্ধে হচ্ছে এ নির্বাচন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, শুধু প্রতিযোগিতামূলক ও পদ্ধতি মানা দিয়েই একটি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা সংজ্ঞায়িত করা হয় না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বাচনী পরিবেশের গুণগত মান। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষিতে নিজেদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ নাগরিক সমাজের সংগঠন ও মিডিয়া বিধিনিষেধের মুখে পড়ছে।
২০১৮ সালের নভেম্বরে সাংবাদিকদের ওপর ৭২টি হামলা হয়েছে। ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৯ জনকে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংক্রান্ত ইস্যুতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। বাংলাদেশ সরকার নিরপেক্ষ ও সমলোচকদের কণ্ঠের বিরুদ্ধে কতটা প্রতিকূল তার একটি উদাহরণ ফটোসাংবাদিক ও অধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার। স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ মিডিয়ার সঙ্গে নাগরিক সমাজের কর্মকাণ্ড মিলে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মেরুদণ্ড তৈরি হয়। এসব স্বাধীনতা খর্ব করা হলো এমন একটি সরকারের পরিচায়ক যা, জনগণের বিবেচনা ও জবাবদিহিতার ধার ধারে না। এতে বিশেষত, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষতি করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রথম সারির মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক সংগঠন হলো অধিকার। রাষ্ট্র বিরোধী, সরকার বিরোধী ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে তারা মর্যাদাহানির মুখে পড়ে। নির্বাচন মনিটরিং ও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক মোতায়েনের ক্ষেত্রে অধিকার’কে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো সংগঠনটির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণকারী পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা এতে দ্রুত নেমে গেছে। এটা ওই বিধিনিষেধেরই প্রতিফলন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৯শে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহ দেখিয়েছেন ৩৮ হাজার ৮৩৮ জন পর্যবেক্ষক। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এর মধ্য থেকে মাত্র ২৬ হাজারকে অনুমোদন দেয়া হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পেছনে রেখে এটা হবে দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষক ছিলেন ৮ হাজার ৮৭৮ জন এবং বিদেশি পর্যবেক্ষক ছিলেন মাত্র চারজন।
পক্ষান্তরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক ছিলেন প্রায় একলাখ ৫৯ হাজার। ২০০১ সালে এ সংখ্যা ছিল দুইলাখ ১৮ হাজার। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক এত কমে যাওয়া একটি অভিন্ন ইঙ্গিত দেয় যে, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে, প্রতিবন্ধকতার উপস্থিতিতে এবং নাগরিক সমাজের নির্বাচিত অংশকে এক্রিডিটেশন দেয়ার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াকে অনুৎসাহিত করা হচ্ছে।
আইন প্রয়োগকারী বাহিনী দ্বারা সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করা, আইনকে হাতিয়ার বানিয়ে ফেলা, বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় এজেন্সিগুলোর ব্যবহার, নাগরিক সমাজের বিরুদ্ধে প্রতিকূলতা ও মিডিয়াকে ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যকর একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে জনগণের মুক্ত বাসনাকে অবজ্ঞা করা হয় এবং তা গণতান্ত্রিক নির্বাচনী নীতির বাইরে। 
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দেশে নিয়ন্ত্রক এমন অবস্থায়, আমরা আসন্ন নির্বাচনের বিশুদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আমাদের সংশয় প্রকাশ করছি, এ নির্বাচনকে যেকোনো যুক্তিতেই সুষ্ঠু ও অবাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস, গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব ডমেস্টিক ইলেকশন মনিটরস, ইন্টান্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, সেন্টার ফর মনিটরিং ইলেকশন ভায়োলেন্স-শ্রীলঙ্কা, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনস নেটওয়ার্ক-পাকিস্তান, কোমিতে ইন্ডেপেন্ডেনে পেমানতাউ পেমিলু-ইন্দোনেশিয়া, মালাভি ইলেকটোরাল সাপোর্ট নেটওয়ার্ক-মালাবি, মারুয়াহ-সিঙ্গাপুর, ন্যাশনাল সিটিজিন্সে মুভমেন্ট ফর ফ্রি ইলেকশন-ফিলিপাইনস, পিপলস এলায়েন্স ফর ক্রেডিবল ইলেকশনস-মিয়ানমার, পিপলস একশন ফর ফ্রি অ্যান্ড ফেযার ইলেকশনস-শ্রীলঙ্কা, পেরকুমপুলান উনতুট পেমিলু ডান ডেমোক্রাসি-ইন্দোনেশিয়া, ট্রান্সপারেন্সি মালদ্বীপ-মালদ্বীপ, জিম্বাবুয়ে ইলেকশন সাপোর্ট নেটওয়াক-জিম্বাবুয়ে ও কমিটি ফর ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনস ইন কম্বোডিয়া।

পঞ্চাশ ভাগ জালভোট নাকি বাক্সে ভরে দেয়া হবে: ড. কামাল

ভোটারদের সকাল সকাল ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে ঐক্যফ্রন্ট। সরকার যদি দুই নম্বরি না করে তাহলে ঐক্যফ্রন্টই বিজয়ী হবে। নির্বাচন পরিস্থিতি তুলে ধরতে গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা। সংবাদ সম্মেলনে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা যারা প্রথম ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছো তোমরাও সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যাবে। ভয় পাবে না, ভোটকেন্দ্রে গেলে দুর্বৃত্তরাই পালিয়ে যাবে। জনগণের শক্তির সঙ্গে তারা পারবে না। মনে রাখবে, যদি তুমি ভয় পাও তবেই তুমি শেষ, যদি তুমি ঘুরে দাঁড়াও, তবে তুমিই বাংলাদেশ।
নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দায়িত্বরত সব কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে ড. কামাল বলেন, আপনার ওপর যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা সততার সঙ্গে পালন করবেন। এটা করলে আপনাদের সম্মান বাড়বে। ভোটারের মুখের হাসির ওপরই নির্ভর করছে আপনার দায়িত্ব পালনে সফলতা ও তৃপ্তি। আপনি যদি কারও অধিকার হরণ করেন, তাহলে মনে রাখবেন অন্য কেউ আপনার মা, বাবা, স্ত্রী, সন্তানের অধিকার হরণ করছে। এটা করলে জনগণ, ইতিহাস ও আইন আপনাদের ক্ষমা করবে না। তিনি বলেন, আপনারা কোনো দলের নয়, জনগণের সেবক।
জনগণ দেশের মালিক, দেশের মালিকদের তাদের ভোটের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করবেন না। কোনো অন্যায় নির্দেশ মানবেন না। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার, ভিডিপি, কোস্টগার্ডসহ সবার প্রতি অনুরোধ রেখে কামাল হোসেন বলেন, আপনারা অতীতের মতো গৌরবময় ভূমিকা পালন করুন। বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষায় আপনাদের ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে। সে প্রশংসার ফলে সারা বিশ্বে আপনাদের সুযোগ বেড়েছে। কোনো অবস্থাতেই তা যাতে ব্যাহত না হয়, সে ব্যাপারে আপনারা সতর্ক থাকবেন। প্রবাসীদের উদ্দেশ্য ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য যারা ভোট দিতে পারবেন না আপনারা আপনাদের স্বজনদের ফোন করে ভোট দিতে যেতে বলুন। তারা যদি ভোট দিতে পারেন সে আনন্দের অংশীদার আপনিও হবেন।
সারা দেশে ব্যাপক ধরপাকড় হামলা মামলার অভিযোগের পরও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, আমাদের প্রত্যাশা, আমরা অবশ্যই আশা করি, আমরা জিতবো, সবাই এখন পরিবর্তন পরিবর্তন করে চিৎকার করছে। নির্বাচনে আমরাই জিতবো যদি কোনও দুই নম্বরি না হয়। বিএনপি’র অফিস রেখে ডিআরইউতে কেন সংবাদ সম্মেলন করলেন, আপনাদের (ঐক্যফ্রন্ট) মধ্যে ঐক্যের ঘাটতি আছে কি না- এমন প্রশ্নে ড. কামাল হোসেন বলেন, এ হল নেয়াটা কোনোভাবে প্রমাণ করে না যে, আমাদের মধ্যে ঐক্য নেই। আমাদের অফিসে গতকাল আগুন লাগার কারণে বড় হল না পেয়ে এখানে এসেছি। আমাদের মধ্যে ঐক্য আরও সুসংহত হয়েছে। এজেন্টদের বের করে দেয়া, হামলা গ্রেপ্তারের মতো ঘটনা আজও (নির্বাচনের দিন) হয়, তবে কি নির্বাচন থেকে সরে যাবেন? -এমন প্রশ্নে কামাল হোসেন বলেন, আমরা সরে যাওয়ার জন্য নির্বাচনে আসিনি। এর আগে বহুবার বলেছি, শেষ পর্যন্ত আমরা নির্বাচনে থাকবো। আমরা আশা করি জনগণ সকল অপশক্তিকে রুখে দিবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐক্যফন্টের ভোট বর্জন করতে পারে- বিষয়টি নিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কামাল হোসেন বলেন, কোনোভাবেই নির্বাচন থেকে সরে যাবো না। বহুবার বলেছি।
আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবো। নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো দ্বিধা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো দ্বিধা নেই। নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) তো আমাদের নেত্রী না। উনি কি বললেন না বললেন সেটা আমাদের বিষয় না। নজরুল ইসলাম খান বলেন, হামলা-মামলার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, যদি হয় এর কোনো উত্তর দিতে চাই না। আমরা আশা করি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্র যাবে এবং ভোট ডাকাতদের প্রতিরোধ করবে।
এ সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মানুষ যখন ভয় পায় তখন বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সরকার ভয় পেয়েছে। যে কারণে তারা বিরোধীদলের ওপর হামলা-নির্যাতন করছে, গুণ্ডামি করছে।
এ সময় বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, তফসিল ঘোষণার পর সারা দেশে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের ১১৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ৯৫৭টি নতুন মামলা হয়েছে। প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের ওপর ২৮৯৬টি হামলা হয়েছে এতে আহত হয়েছে ১৩ হাজার ২৫২ জন, নিহত হয়েছেন ৯ জন। ২৮শে ডিসেম্বর প্রচারণা বন্ধ হওয়ার পরও সারা দেশে গ্রেপ্তার হয়েছে ১০২৭ জন শুধু ২৮ তারিখ নতুন করে মামলা হয়েছে ৫৯টি, নিহত হয়েছে ১ জন। ঐক্যফ্রন্টের মোট ১৭ জন প্রার্থী কারাগার থেকে নির্বাচন করছেন। এরমধ্যে তফসিল ঘোষণা এবং নির্বাচন কমিশনের বৈধতা পাওয়ার পর ৭ জন প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের বৈধতা পাওয়ার পর ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এরমধ্যে শেষ সময়ে এসে তিনজন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে।
আর ঐক্যফ্রন্ট চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার পর ৩ জন প্রার্থীকে বদল করে অন্য প্রার্থী দিয়েছেন হাইকোর্ট। নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা নানাভাবে খবর পাই সিটি করপোরেশন, উপজেলা,  পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকার যা করেছে জাতীয় নির্বাচনেও সরকার সে রকম কিছু করার পরিকল্পনা করেছে। ভোটের আগে ভোটের বাক্স ভর্তি করা এবং জাল ভোট দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে সরকার। জনগণ ও নেতাকর্মীদের কাছে আহ্বান জানাই, আপনারা সজাগ ও সচেতন থাকবেন। যে কোনো ধরনের মন্দ পরিকল্পনা প্রতিহত করবেন।  কেউ যেন আগেই বাক্স ভরতে না পারে। জাল ভোট দিতে না পারে। ফলাফল বদলে দিতে না পারে। মানুষ পরিবর্তন চায়, আমরাও পরিবর্তন চাই।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি ও ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী মোস্তফা মহসিন মন্টু, বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৫০ ভাগ জাল ভোট নাকি বাক্সে ভরে দেয়া হবে
কূটনৈতিক রিপোর্টার জানান, ভোটের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। গতকাল বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। ড. কামাল বলেন, নির্বাচনে সরকারি দলের তরফে যেভাবে ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরি করা হয়েছে স্বাধীন দেশে এটি অতীতে কখনই হয়নি। তার পরও মানুষ ভোট দিতে চায়। তারা পরিবর্তন চায়। দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে দাবি করে তিনি বলেন এক পারসেন্ট লোক পরিবর্তন চায় না। তারা কেন চায় না সেটা সবার জানান। তারা অন্যায়ভাবে সুবিধাভোগী। এরা সব সেক্টরেই রয়েছে। প্রশাসনেও এরা আছে। প্রশাসনের ওই সব সুবিধাভোগীদের দিয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রার্থী, সমর্থক-ভোটারদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে অভিযোগ করে বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন- যারা বিদেশ থেকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য এসেছেন আপনারা ঘুরেন, দেখেন মানুষ কতটা উন্মুখ হয়ে আছে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য।
ভোটের দিনে তারা কতটা মুক্তভাবে ভোট দিতে পারছে সেটাও নিশ্চয় আপনারা দেখবেন। সেই চিত্রটাই তুলে ধরুন। এত বাধার পরও মানুষ ভোট দিতে যাবে- এ নিয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, সরকারি দল যেভাবে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করেছে, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে তা সত্যিই হতাশাজনক এবং পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত। ড. কামাল বলেন, প্রচারণাকালে অর্ধেকের বেশি আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর মিছিল-সভা সমাবেশ এমনকি বাড়ি ঘরে হামলা করেছে আওয়ামী লীগ ও সমর্থকরা। অনেক হামলায় পুলিশও জড়িত ছিল। প্রচারণা চালাতে গিয়ে ঐক্যফ্রন্টের ৪৯ জন প্রার্থী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন অনেকে। যার মধ্যে সিরাজগঞ্জে একজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। ড. কামাল বলেন, বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর কেবল হামলাই হয়নি, পুলিশ দিয়ে হাজার হাজার সমর্থক-ভোটারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেকে বাড়িঘর ছাড়া।
আক্রমণ, পুলিশ কেস এবং গ্রেপ্তারের ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ৮ই নভেম্বর থেকে ২৫শে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী ১৫৭৪ পুলিশ কেস দেয়া হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ওই সব মামলায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৬শ জনকে। কিন্তু এত কিছুর পরও তারা ভোটের মাঠে আছেন, ফল নিয়ে কতটা আশাবাদী এমন প্রশ্নের জবাবে বিরোধী ওই নেতা বলেন, আমি আশাবাদী। আমি এটাও আশা করবো, নির্বাচন কমিশন, সরকারি দল এবং প্রশাসনের কাছে তারা মানুষকে ভোট দেয়ার সুযোগ করে দেবেন। কিন্তু সেখানে যদি তা না নয়, তখন তারা কী করবেন? এমন প্রশ্নে ড. কামাল বলেন, ‘যদি এটি হয়, ‘যদি ওটি হয়’ এমন প্রশ্নে আসলে কোনো উত্তর দেয়া কঠিন।
কিন্তু তার পরও বলবো আমরা জানি এদেশের মানুষের শিকড়ে গণতন্ত্র। মানুষ ভোট দিতে পারলেই হয়। পাকিস্তানিরা তা কাড়তে পারেনি। এরশাদ জামানাও তা কেড়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। এরশাদ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন। এক বৃটিশ মন্ত্রীকে তিনি তা-ই বলেছিলেন ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু তিনি ১৫ সপ্তাহ থাকতে পারননি। ৬ই ডিসেম্বর তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। ড. কামাল বলেন, আমাদের কাছে নানা রকম খবর আসছে। এমন নির্দেশনাও নাকি দেয়া হয়েছে ভোট যাই হোক ৫০ ভাগ ফেক ব্যালট বা জাল ভোট বক্সে ভরা দেয়া হবে। ফলও পরিবর্তন করা হতে পারে। আমরা জনরায়ের শেষ সময় পর্যন্ত দেখবো। এখানে অনেক কিছু করার আছে। সংবিধানেও এর নির্দেশনা আছে। আমরা ভোটের চিত্র দেখে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেবো। 
উল্লেখ্য, অর্ধশতাধিক বিদেশি সাংবাদিক এখন ঢাকায় নির্বাচন কাভার করছেন। তার মধ্যে অনেকে ঢাকার বাইরেও চলে গেছেন। বিদেশি গণমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য মতে, এবার  বিবিসি, ক্যাবল নিউজ ইন্টারন্যাশনাল, ডয়েচে ভেলে, এনএইচকে, ইউমোরি সিমবান, এএফপি, এপি, নিউজ এজেন্সি, আল জাজিরা, জার্মান টিভি, টিভি টুডে নেটওয়ার্ক, নিউ ইয়র্ক টাইমস, লে মন্ডে, দি ইকোনোমিস্ট, জি-নিউজ, কিয়োডো নিউজ, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু, ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (যুক্তরাষ্ট্র), স্ট্যাটেজিক নিউজ, ফ্রন্টলাইন, দি উইকসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিনিধিরা নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট কভার করতে ঢাকায় এসেছেন। অনেকে প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধিও রয়েছেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ছিলেন।