Monday, May 20, 2019

যুদ্ধ করলে ইরান ধ্বংস হয়ে যাবে -ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

মার্কিন স্বার্থে হামলা চালালে ইরান ধ্বংস হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে রোববার এ সতর্কতা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এক টুইটে তিনি বলেছেন, যদি ইরান যুদ্ধ করতে চায়, তাহলে সেটা হবে দেশটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। ইরানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আর কখনো হুমকি দিও না। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি, অনলাইন বিবিসি। 
সাম্প্রতিক সময়ে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। পারস্য উপসাগরে এ দুটি দেশের মধ্যে যেকোনো সময় একটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে এ অঞ্চলে যুদ্ধবিমান বহনকারী জাহাজ এবং বি-৫২ বোম্বারস মোতায়েন করেছে। ইরানের ‘হুমকির’ জবাবে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি। তবে তারা সুস্পষ্ট করে বলে নি, কি সেই হুমকি। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এই বর্ণনাকে ব্যাপক সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।
কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র মিশ্র ইঙ্গিত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে যে, ইরানের মতো একটি শত্রুর মুখোমুখি হওয়া নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্ত্রীপরিষদের ভিতরে ভিন্নমত রয়েছে। ওদিকে ইরাকে তাদের কূটনৈতিক মিশন থেকে অপ্রয়োজনীয় স্টাফদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরান সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গ্রুপগুলোর হুমকির কথা উল্লেখ করে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রোববার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে গ্রিন জোন এলাকায় একটি কাতিউশা রকেট ছোড়া হয়েছে। এই এলাকায় সরকারি বিভিন্ন অফিস, যুক্তরাষ্ট্রের মিশন সহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস অবস্থিত। তবে ওই রকেট কে বা কারা ছুড়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় নি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং প্রশাসনকে সেদিকে ঠেলে দিচ্ছেন। কিন্তু প্রশাসনের অন্যরা এর বিরোধিতা করছেন। ওদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই অঞ্চলে নতুন একটি যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। বলা হয়েছে, যুদ্ধের বিরোধী তেহরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ রাজিফ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেছেন, আমরা নিশ্চিত যুদ্ধ হবে না। আমরা কেউ যুদ্ধ চাই না। অন্য কেউই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করার সাহস দেখাতে আসবে না।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বেশ কয়েকটি শক্তিধর রাষ্ট্র। কিন্তু সেই চুক্তি একতরফাভাবে প্রত্যাহার করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নতুন করে দেশটির বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করেন। ব্যাস, শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা।
ওদিকে পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং নিজেদের তেল স্থাপনায় ইয়েমেনি হুতিদের ড্রোন হামলার পর জরুরি ভিত্তিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতামুলক সংগঠন জিসিসি এবং আরব লীগের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন সৌদি আরবের বাদশা সালমান। ৩০ মে আলাদা ওই বৈঠক হওয়ার কথা পবিত্র মক্কা নগরীতে। সৌদি আরবের অভিযোগ, হুতিদের ওই হামলায় নির্দেশ দিয়েছিল ইরান। কিন্তু ইরান জোর দিয়ে সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সৌদি আরব জরুরি বৈঠক আহ্বান করে জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। তবে নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য তারা প্রস্তুত।
কয়েকদিনে পারস্য উপসাগরে বেশ কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। তার মধ্যে তেলবাহী ট্যাংকারে ‘রহস্যময় সাবোটাজ হামলা’ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া সৌদি আরবের অশোধিত পাইপলাইনে ইয়েমেনের বিদ্রোহীরা গোপন ড্রোন হামলা চালায়। এ হামলার পর বাংলাদেশ কড়া নিন্দা জানিয়েছে।
কয়েকদিন আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে যুদ্ধ চায় না। কিন্তু এখন ট্রাম্পের বক্তব্যে সেখান থেকে সরে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছিলেন, তিনি আশা করেন ইরানের সাথে কোন যুদ্ধ হবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফও বলেন, যুদ্ধের কোন সম্ভাবনা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধ লেগে যাওয়ার আশঙ্কায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সমুদ্র সীমায় (সৌদি) বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবের মধ্যে দুটো তেল ক্ষেত্রে হুতি সন্ত্রাসীদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মে জিসিসি ও আরব লীগের জরুরী বৈঠক ডাকা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেও চীন, রাশিয়া, বৃটেন এবং ফ্রান্স এখনও ইরানের সাথে করা চুক্তি ধরে রেখেছে। বিবিসির প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশ্লেষক জনাথন মার্কাস বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন চান ইরানের সাথে করা এই পরমাণু চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যাক।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তার ফলে ইরানের অর্থনীতি দিনে দিনে সঙ্কটে নিমজ্জিত হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য যেন ইরান তাদের তেল অন্য দেশের কাছে বিক্রি করতে না পারে। এছাড়া গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সবচেয়ে সুসজ্জিত বাহিনী রেভুলুশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমাদের আস্থা রাখা দরকার: জয় গোস্বামী by অরুণাভ রাহারায়



‘এখনও যদি চুপু করে থাকি, এখনও যদি ঝাপিয়ে পড়তে না পারি– আমার সমস্তশিল্প আজ থেকে গণহত্যাকারী’ নন্দীগ্রাম গণহত্যার প্রেক্ষিতে শাসক দলের বিরুদ্ধে এই ছিল জয় গোস্বামীর বিধ্বংসী প্রতিবাদ। ফেসবুক-হোয়াটসয়্যাপে ভাইরাল হওয়ার যুগ আসেনি তখনও। ছিল না হাজারো লাইক শেয়ারের মাহাত্ম্য! অথচ জয়ের কবিতার এই লাইন মুখে মুখে ঘুরত সেই সময়।
এভাবেই জয় গোস্বামী বাম শাসকের বিরুদ্ধে হাতে তুলে নিয়েছিলেন তীক্ষ্ণ কলম। সেই সময় প্রকাশিত হয় তাঁর দুটি কবিতার বই ‘শাসকের প্রতি’ এবং ‘হার্মাদ শিবির’। বই দুটি প্রকাশ করেছিল বিজল্প প্রকাশনা। কলেজ স্ট্রিটের পাতিরাম ম্যাগাজিন বিপণি থেকে বই দুটি হু হু করে বিক্রি হয়ে যেত। সংবেদনশীল কবি জয় গোস্বামী এভাবেই কঠোর বিরোধিতা করেছিলেন বাম সরকারের।
শুধু তাই নয়, কবি ছুটে গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে। কথা বলেছিলেন সেখানকার সাধারণ মানুষদের সঙ্গে। নন্দীগ্রাম গণহত্যা প্রসঙ্গে কবি জয় গোস্বামী বলেন, “নন্দীগ্রামে যে গণহত্যা হয়েছিল তাঁর পিছনে তৎকালীন সরকারের সমর্থন ছিল এবং সেখানে নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছিল। সেই ঘটনা বাংলার ইতিহাসে অত্যন্ত দুর্দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এর পর অনেক মানুষ প্রতিবাদে পথে নেমেছিল। আমাদের প্রতিবাদ সফল হয়েছিল। কারণ, পরবর্তী নির্বাচনে তৎকালীন সরকারের পতন হয়।”
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পছন্দ করতেন জয় গোস্বামীর কবিতা। নন্দীগ্রামের ঘটনার পর জয়, বুদ্ধবাবুকে নিশানা করে সংবাদপত্রে লিখেছিলেন– ‘এই মৃত নগরীর রাজা হয়ে তুমি কী করবে অয়দিপাউস?’ তার কিছুদিনের মাধ্যেই বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এলে তাঁকে নজরুল আকাদেমির সভাপতি করেন। কিন্তু বছর তিনেকের মধ্যেই জয় ফের শাসক দলের চৌহদ্দিতে হাঁপিয়ে ওঠেন। মমতার বিচার ব্যবস্থার প্রতি হয়তো-বা আস্থা হারাতে শুরু করেন! সেই সময় তাঁর কবিতার বইয়ের নামকরণ করেন ‘গরাদ, গরাদ’। বইটির কবিতাগুলি পড়লেই বোঝা যায় শাসকের প্রতি কতটা ক্ষভ জেন্মেছিল কবির মনে। তারও পরে প্রকাশিত অন্য একটি বইয়ের নাম রাখেন ‘সপাং, সপাং’ অর্থাৎ চাবুক! সে বইয়েও রয়েছে ক্ষমতার বিরুদ্ধে কবির ক্ষোভ।
পরে অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। সম্প্রতি ২৫ শে বৈশাখ উপলেক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কবি প্রণাম অনুষ্ঠানের দুজনকে পাশাপশি বসে কথা বলতে দেখা যায়। চলতি লোকসভা নির্বাচনে জয় বিজেপির সম্প্রদায়িকতার সমালোচনা করেন। কিছুদিন আগে কলকাতা প্রেসক্লাবে তৃণমূলপন্থী বিদ্বজনদের সভায় উপস্থিত ছিলেন তিনি। বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, “ধর্মে ধর্মে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে এবং পরস্পরকে অবিশ্বাস করবার বীজ বিজেপি ছড়িয়ে দিচ্ছে। কালবর্গী, গৌড়ী লঙ্কেশের মতো মানুষকে খুন হতে হয়েছে। অসমে লক্ষ লক্ষ বাঙালির নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”
তবুও সংবেদনশীল কবি আশাবাদী। জয়ের মতে, “এই অবস্থায় একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাথা তুলে দাঁড়িয়ে এই অশুভ শক্তির বিরোধিতা করছেন। আমাদের ভরসা যে, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো যোগ্য নেত্রী পেয়েছি আমাদের দেশে। এই সাম্প্রদায়িক এবং বিভেদগামী শক্তি ভয়ঙ্কর। এরা ভবিষ্যতে আমদেরও বিতারিত করতে পারে। এই অশুভ শক্তিকে আটকে দেওয়া সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমাদের আস্থা রাখা দরকার। সামনে ভোট। এই ভোটেই নির্ধারিত হবে মানুষের সুচিন্তা।”
kolkata24x7.com

২৩ বছর আগে ভুলে ভারতে ঢুকে পড়া এক বাংলাদেশী ফিরছেন

দুই দশকেরও বেশি সময় আগে মানসিক প্রতিবন্ধী এক বাংলাদেশী দুর্ঘটনাক্রমে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পৌঁছেছিলেন ভারতে। ২৩ বছর পর অবশেষে আসামের তেজপুরে বন্দী ওই ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে তার পরিবারের। ৫৫ বছর বয়সী আজবার পেয়াদা নামে ওই ব্যক্তি এখন সুস্থ। আগামী মাসেই ফিরবেন বাংলাদেশে। তেজপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্মকর্তাদের বরাতে এ খবর দিয়েছে ভারতের এনডিটিভি।
আজবার যখন হারিয়ে যান, তখন তার ছোটভাই ইকবাল পেয়াদা ছিলেন শিশু। কিন্তু ভাইয়ের খোঁজ তিনি চালিয়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে বহু বছর পর আসামের তেজপুর কারাগারে আবিষ্কার করেন বড়ভাইকে। রোববার সকালে তার সঙ্গে সাক্ষাতও হয়েছে। সাক্ষাতে দুই ভাইই ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ইকবাল পেয়াদা তার বড় ভাইকে চিকিৎসা দেওয়ায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
ইকবাল বলেন, ‘মা আমাকে বলেছিলেন যে, আমার ভাই ছিল মানসিক রোগী। ২৩ বছর ধরে নিখোঁজ। যখন আমি ছোট ছিলাম, সে কোনোভাবে ভারতে ঢুকে পড়ে। আমি আজ তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ দেখতে পেয়ে খুব খুশি। আমার সঙ্গে তার অনেকক্ষণ কথা হয়েছে।’
আজবার বলেন, ‘আমি আমার দেশের বাড়ি যেতে চাই। আমি মায়ের সঙ্গে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করছি।’
আজবার খুলনার সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। ২৩ বছর আগে তিনি যখন হারিয়ে গিয়েছিলেন, তার পিতা আবদুল করিম ও মা মোমেনা খাতুন অনেক খুঁজলেও সন্ধান পাননি।
ভুলক্রমে ভারতে ঢুকে পড়ার পর আজবার কয়েক বছর আসামে ছিলেন। এরপর আসামের ধেমাজিতে তিনি ২০১৫ সালে ধরা পড়েন। ওই বছরের নভেম্বরে তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২ বছরের সাজা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার সাজার মেয়ার শেষ হয়। এরপর দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য তেজপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। কিন্তু মানসিক সমস্যার কারণে নিজের কোনো ঠিকানাই দিতে পারছিলেন না আজবার। সেজন্য তাকে কারাগারেই রাখা হয়।
এরপর কারা কর্তৃপক্ষ তার অসুস্থতার জন্য চিকিৎসা দিতে শুরু করে। চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে আজবার সুস্থও হয়ে ওঠেন। অপরদিকে বড় ভাইয়ের সন্ধান পেয়ে ইকবাল, যিনি এখন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, তিনি যোগাযোগ করেন বাংলাদেশের সমাজকর্মী অমলেন্দু দাসের সঙ্গে। অমলেন্দু দাস যোগাযোগ করেন গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনের কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ তানভির মনসুরের সঙ্গে। বাকিটা ইতিহাস।
তেজপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার মৃন্ময় দাওকা বলেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী মাসেই কারাগার থেকে বের হতে দেওয়া হবে আজবারকে।

কৌশল নির্ধারণে কলকাতায় আসছেন চন্দ্রবাবু, বৈঠক করবেন মমতার সঙ্গে

বুথফেরত জরিপের ফল বিপক্ষে। একে ‘গসিপ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস তো বলেই দিয়েছে, ‘২৩ মের চূড়ান্ত ফলে সারপ্রাইজ’ দেবে তারা। দলের প্রধান, সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, নির্বাচন কমিশন তার সম্মান হারিয়েছে। সে যা-ই হোক। বুথফেরত জরিপের ফলে মোটেও আস্থা নেই বিরোধী দলগুলোর। তারা একে আমলে না নিয়ে উল্টো কেন্দ্রে অ-বিজেপি সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। মোটেও দমে যান নি বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতানেত্রীরা। হিসাব অনেক। যদি বুথফেরত জরিপের ফল সত্যি হয় তাহলে তো বিজেপিকে আটকানোর কোনো প্রশ্নই আসে না। আর যদি ২০০৪ সালের মতো বুথফেরত জরিপের ফল উল্টে যায় তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার কি রকম হবে, কারা আসবে ক্ষমতায়, তা নিয়ে তখন এক অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাত করতে সোমবার কলকাতা আসার কথা অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর। এ বিষয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, সোমবার অর্থাৎ আজ দুপুর ৩টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন চন্দ্রবাবু। বিকেলে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করবেন। সূত্রের খবর, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা হবে তাদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে কোন পথে এগনো হবে, সেই কৌশল নিয়েও কথা হতে পারে।
নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই কেন্দ্রে অ-বিজেপি সরকার গঠনের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে বিরোধীরা। এর আগে তৃণমূলনেত্রী মমতার ব্রিগেড সভায় একমঞ্চেই দেখা গিয়েছে চন্দ্রবাবু নাইডু, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারাস্বামী থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খড়গে, সমাজবাদী পার্টি নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের মতো দেশের হেভিওয়েট নেতাদের। নির্বাচনী চলাকালীনও দফায় দফায় দেশের একাধিক নেতা-নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন চন্দ্রবাবু নাইডু। তাকে সূত্রধরের ভূমিকায় রেখেই মহাজোটের কা-ারীদের একসুতোয় বাঁধতে উদ্যোগী হয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। চন্দ্রবাবুও গত কয়েক দিনে দেখা করেছেন এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ার থেকে শুরু করে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গে। দিল্লিতে গিয়ে কথা বলেছেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও। লক্ষেèৗতে গিয়ে দেখা করেছেন মায়াবতী ও অখিলেশ যাদবের সঙ্গে। এনডিএ সরকারকে ঠেকাতে এবং মহাজোটের স্বার্থে তিনি যে তার ‘রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী’ তেলাঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী সে বার্তাও দিয়েছেন। এ বার তার বৈঠক মমতা সঙ্গে!
তবে সমীক্ষার ফলাফল দেখার পর চন্দ্রবাবুর এই ‘উদ্যোগ’-কে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি মহারাষ্ট্রে বিজেপির শরিক দল শিবসেনা। সেনার মুখপত্র সামনা’য় দলের প্রধান উদ্ধব ঠাকরে লিখেছেন, ‘অকারণে নিজেকে কাহিল করছেন কেন চন্দ্রবাবু? আশা করি, আগামী ২৩ মে পর্যন্ত তার এই উৎসাহ বজায় থাকবে! আমাদের শুভেচ্ছা রইল।’
তবে এরই মধ্যে নিরাশার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আজ সোমবার দিল্লিতে বৈঠক হওয়ার কথা কংগ্রেসের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী ও বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান মায়াবতীর মধ্যে। কিনউ সেই বৈঠকে মায়াবর্তী যাচ্ছেন না বলে ভারতের বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে। বিএসপি নেতা সতীশচন্দ্র মিশ্র বলেন, দিল্লিতে আজ মায়াবতী কোনও অনুষ্ঠান বা মিটিংয়ের কর্মসূচি নেই। তিনি লক্ষৌতেই থাকবেন। সোনিয়া গান্ধী ছাড়াও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও দেখা করার কথা ছিল মায়াবতীর। কেন তিনি তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন না সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয় নি। তবে এটা ধরে নেয়া যায় যে, বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, বিজেপি ভূমিধস সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। যদি তাই হয়, তাহলে বিরোধীদের সব চেষ্টা জলে যাবে।

রূপপুরে হরিলুট: বিল বন্ধের নির্দেশ দুই তদন্ত কমিটি

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের আবাসন নির্মাণে হরিলুটের তথ্য প্রকাশের পর সব ধরনের স্থানীয় ঠিকাদারি বিল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে আলাদা আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনের আসবাবপত্র ও বালিশ কেনাসহ অন্যান্য কাজের অস্বাভাবিক খরচ তদন্ত করবে এ কমিটি। রূপপুর নিয়ে গতকাল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেনের স্বাক্ষর করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে আলাদা একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব প্রকার বিল বন্ধ রাখার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ডেলিগেটেড ওয়ার্ক হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর নির্মাণাধীন ছয়টি ভবনে আসবাবপত্রসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়নপূর্বক ৬টি প্যাকেজে ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্যাকেজের প্রতিটির ক্রয়মূল্য ৩০ কোটি টাকার নিম্নে প্রাক্কলন করায় অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগ দেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়ন, অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আলোচ্য কাজের বিপরীতে এখনও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এদিকে সমপ্রতি দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হওয়ায় তোলপাড় চলছে দেশজুড়ে।
একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা।
এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর সেই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ ৭৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। এরই মধ্যে নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এ প্রকল্পের সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ। এ প্রকল্পের প্রকল্প-পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, এজন্য আরও দুই লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া গাড়ি চালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, রাঁধুনি আর মালির বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। এসব তথ্য গণমাধ্যমে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে নানা আলোচনা-সালোচনা চলছে।

অদক্ষ নেতৃত্বের কারণেই র‌্যাঙ্কিংয়ে নেই ঢাবি

এশিয়ার সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম না থাকার জন্য সরকার দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় চেপে বসা দুর্বল, অযোগ্য ও অদক্ষ নেতৃত্বের কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন দুর্দশা। মঈন খান বলেন, সমপ্রতি লন্ডনভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ তাদের পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে এশিয়ার ৪১৭টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করেছে।
যেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত আমাদের সবার গর্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিতে পারেনি। এই র‌্যাঙ্কিংয়ের জরিপ করার সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠদান, গবেষণা, জ্ঞান আদান-প্রদান এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এই চারটি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এতে এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উঠে এসেছে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে যথাক্রমে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিংগাপুর এবং হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির নাম। সার্বিকভাবে চীনের ৭২টি, ভারতের ৪৯টি, তাইওয়ানের ৩২টি, পাকিস্তানের ৯টি এবং হংকংয়ের ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রয়েছে। এমনকি নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিশ্ববিদ্যালয়ও আছে তালিকায়। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই এই তালিকায়।
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে একসময় আমরা গর্ব করতাম, যে বিশ্ববিদ্যালয়কে সারা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার দর্পণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তার নাম এশিয়ার ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাতেও নেই। এটা খুবই হতাশাজনক। তিনি বলেন, বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে হাজারের মধ্যেও নেই কেন? সেটা আজ জাতির কাছে বড় প্রশ্ন। আসুন কারণগুলো একটু খতিয়ে দেখি। প্রথমত: ঢাবির পাঠদান, কোর্স কারিকুলাম বা সিলেবাস অনেক ডিপার্টমেন্টেই উন্নত বিশ্বের নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হালনাগাদ করা হয় না। দ্বিতীয়ত:  ক্লাসরুমে পাঠদানের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো থেকে ছাপা হওয়া নামী প্রকাশকের পাঠ্যবইয়ের বদলে অখ্যাত ভারতীয় বা অনুন্নত বিভিন্ন দেশের প্রকাশকের পাঠ্যবইগুলো বেছে নেয়া হয়। তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, মানসম্মত পাঠদানের জন্য অতীব জরুরি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব আজ চরম আকার ধারণ করেছে।
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে মূল্যায়ন না করে নিছক দলীয় রাজনৈতিক কর্মী অর্থ্যাৎ ছাত্রলীগের কর্মীকে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে ভোটার তৈরির চেষ্টা করা হয়। যাতে শিক্ষক রাজনীতিতে তারা প্রভাব বজায় রাখতে পারে। বিএনপির এই নেতা বলেন, দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেটসহ সমৃদ্ধ লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতির সঙ্গে জড়িত। নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি হরেক রকম রেফারেন্স বই এবং জার্নালের সম্ভার থাকতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগারগুলোতে। ইলেক্ট্রনিক লাইব্রেরিতে পরিণত হয়েছে উন্নত বিশ্বের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি। অথচ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিটি আজ পুরনো বইয়ের একটি প্রদর্শনী কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যেখানে জ্ঞানান্বেষণে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা কদাচিৎ পা ফেলে থাকেন। অথচ অনেকেই ভুলে গেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে এমন সব দুষ্প্রাপ্য বই ও পান্ডুলিপির সংগ্রহ রয়েছে যা পৃথিবীর অনেক খ্যাতনামা লাইব্রেরিতেও নেই। আজ সেগুলোর আদৌ কোন ব্যবহার আছে কিনা সন্দেহ।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান যে এত নীচে নেমে গেছে তাতে অবাক হবার কি আছে? একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি স্কুলের পাঠদান পদ্ধতি থেকে ভিন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও কেবলমাত্র পাঠ্যবই থেকে স্কুলের বাচ্চাদের যেভাবে পড়ানো হয়ে থাকে সে রকমই একমুখী লেকচারভিত্তিক পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়। মঈন খান বলেন, উন্নত বিশ্বের নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একমুখি লেকাচার দেয়া ছাড়াও ক্লাসরুমে ইন্টারএকটিভ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। গ্রুপ বা ইনডিভিজুয়াল এসাইনমেন্ট দেয়া হয়, সারপ্রাইজ কুইজ বা টেস্ট নেয়া হয়, গ্রুপ বা ইনডিভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন নেয়া হয়, মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জামের সহায়তা নিয়ে অডিও বা ভিডিও ক্লিপিংস দেখানো হয়, শিক্ষকের নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক সেক্টরে ছাত্র-ছাত্রীদের ভিজিটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিশেষ করে দেশ-বিদেশের নামী-দামী প্রফেসর ও প্রাসঙ্গিক সেক্টরের সফল পেশাজীবীদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে আনা হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এইরকম আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রচলিত হয়ে গেলেও আমাদের প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। 
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবিএম ওবায়দুল হক, সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বেসরকারি হেলিকপ্টারে ইয়াবাসহ অবৈধ পণ্য পরিবহন! by দীন ইসলাম

ইয়াবাসহ অবৈধ পণ্য পাচারের নিরাপদ পরিবহন বেসরকারি হেলিকপ্টার। বেসরকারি হেলিকপ্টারগুলোর যাত্রী এবং ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় অবৈধ পণ্য পাচারের ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, কক্সবাজার থেকে হেলিকপ্টারে করে মাদক চোরাচালানের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য দিয়েছে। যেহেতু হেলিকপ্টারের যাত্রীদের তেমন কোনো নিরাপত্তাবলয়ের মাধ্যমে যেতে হয় না এবং পণ্য পরিবহনের সময় স্ক্যানিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা নেই, তাই এত দিন ব্যাপারটি কারও নজরে আসেনি।
গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এ তথ্যটি জানার পর গত ৩রা এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে ইয়াবাসহ অবৈধ পণ্য পাচার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। ওই সভায় বেসরকারি আটটি প্রতিষ্ঠানের হেলিকপ্টারের মালিক ও তাদের প্রতিনিধি, বিমান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাদক পরিবহন প্রতিরোধে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সভায় বেসরকারি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য পরিবহন প্রতিরোধে সুপারিশমালা তৈরি করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়।
বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে মাদক পরিবহন হচ্ছে। স্ক্যানিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক মাদক ব্যবসায়ী এ সুযোগ পাচ্ছে। এ জন্য হেলিকপ্টার মালিকদের ডেকেছিলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিতে আমরা একটি কমিটি করে দিয়েছি। এক মাসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকেও মাদক পরিবহন প্রতিরোধে হেলিকপ্টার ব্যবহারে সতর্কতা জারি করতে বলা হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য প্রতিরোধে সুপারিশ দিতে উচ্চ পর্যায়ের উপকমিটির বৈঠক গত ১৭ ই এপ্রিল ও ৯ ই মে অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত বৈঠকে র‌্যাবের প্রতিনিধি জানান, বেসরকারি হেলিকপ্টারগুলোর গন্তব্য, যাত্রী হিসেবে কারা যাতায়াত করছে এবং কি ধরনের পণ্য পরিবহন করছে এসব তথ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কোন ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি হেলিকপ্টারগুলো হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে গন্তব্যে যাওয়ার আগে পথে কোথাও অবতরণ করছে কিনা বা গন্তব্য স্থান থেকে পুনরায় ঢাকায় আগমনের সময় অন্য কোথাও অবতরণ করছে কিনা এ তথ্যও পর্যালোচনার ব্যবস্থা নেই।
এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসরকারি হেলিকপ্টারে আগমনী যাত্রীদের ব্যাগেজগুলো তল্লাশীর কোন ব্যবস্থা নেই। এজন্য হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। এটি প্রতিহত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। হেলিকপ্টারে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে অনেক সময় রোগী পরিবর্তনের ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। বৈঠকে বেসরকারি হেলিকপ্টার সংস্থা মেঘনা এভিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হেলিকপ্টারে আরোহনকারি যাত্রীর তথ্য এবং ফ্লাইট রুট সংক্রান্ত তথ্য ফ্লাইট পরিচালনার আগেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দিতে হয়। যাতায়াতকালীন সময়ে হেলিকপ্টারটি তৃতীয় কোন গন্তব্যে নেমেছে কিনা তা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেই।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) প্রতিনিধি ওই সভায় কিছু প্রস্তাব দিয়ে বলেন, হেলিকপ্টারগুলো তাদের ফ্লাইট পরিচালনার আগে ফ্লাইট প্ল্যান দাখিল করে। বর্তমানে এটি ম্যানুয়ালি করা হয়ে থাকে। ফ্লাইট প্ল্যান কার্যক্রম অটোমেশন করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহজেই ফ্লাইট ও যাত্রী সংক্রান্ত তথ্য পাবেন। এছাড়া বেসরকারি হেলিকপ্টারগুলোর যাত্রাপথ মনিটরিং করতে একটি সফটওয়্যার স্থাপন করা হচ্ছে। কমিটি’র সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, হেলিকপ্টারগুলো গন্তব্যস্থল ছাড়া অন্যত্র যাতে অবতরণ করতে না পারে সেজন্য সিএএবি এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করতে পারে। আরও কিছু বিষয়ে সরজমিনে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলা হয় ওই সভায়। বিমান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, হেলিকপ্টার উড়ার ছয় ঘণ্টা আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অনুমতি নেয়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগই নেন না। তাই একটি সুপারিশ তৈরি করলে বেসরকারি হেলিকপ্টার ব্যবস্থাপনায় ভাল ফল দেবে।

ভারতের নির্বাচনে কু-কথার রাজনীতি by পরিতোষ পাল

ভারতে নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকে ছোট-বড় সব রাজনৈতিক নেতা কু-কথার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। নির্বাচনের শেষ লগ্নে এসে শুরু হয়েছে কু-কথার রাজনীতি। শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে চলছে আক্রমণ। কে কাকে কত ধরনের কু-কথা বলেছেন তা নিয়ে জনতার দরবারে হাজির হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কংগ্রেস সহ বিরোধী নেতারা। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি যেভাবে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল  গান্ধীকে আক্রমণ করতে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে নিয়ে একের পর এক আক্রমণ করে চলেছেন তাকে অনেকেই নীতিহীন কাজ বলেছেন।
সর্বশেষ মোদি বলেছেন রাজীব নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে পারিবারিক ভ্রমণে গিয়েছিলেন। অবশ্য কংগ্রেসও মোদিকে পাল্টা বলেছেন, মোদি ভারতীয়  যুদ্ধবিমানকে নিজের ট্যাক্সির মতো ব্যবহার করছেন। মাত্র ৭৪৪ রুপি ভাড়াও দিয়েছেন একটি সফরের জন্য।
এর আগেই মোদি আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত রাজীব গান্ধীকে ভ্রষ্টাচারী নম্বর ওয়ান বলেছিলেন। বিরোধী নির্বাচনে পরাজয় জেনেই মোদি এখন জনসভায় দাঁড়িয়ে অনুযোগ করছেন, তাকে কত রকমের কু-কথা বলা হয়েছে। অথচ এই মোদিই আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত একটি মানুষকে নিয়ে টানাটানি করেছেন, তাঁর স্ত্রীকে ‘বিধবা’ এবং ‘জার্সি গরু’ বলেছেন, তাঁর পুত্রকে বলেছেন ‘হাইব্রিড বাছুর’।
অথচ গত বুধবার কুরুক্ষেত্রে এক জনসভা থেকে অনুযোগ করেছেন, তাঁকে নর্দমার কীট, পাগল কুকুর, ভস্মাসুর, দাউদ ইব্রাহিম, কি না বলা হয়েছে। আমাকে যখন ওঁরা এই কথাগুলো বলেন, তখন তো কেউ কোনো শব্দ করে না। গত বুধবারই পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় এসে কংগ্রেস সভাপতি বলেছিলেন, আমরা ভালোবাসা দিয়েই ওঁকে হারাতে যাচ্ছি। আর তার জের টেনে মোদি বলেছেন, সত্যের ভূমি কুরুক্ষেত্রে যখন এসেছি, তখন শুনে নিন ওঁদের ভালোবাসার অভিধানে কী কী শব্দ আছে। আমাকে বলা হয়েছে ‘সব চেয়ে নির্বোধ প্রধানমন্ত্রী’, ‘জওয়ানদের রক্তের দালাল’।... কংগ্রেসের এক নেতা আমাকে নর্দমার কীট বলেছিলেন, একজন বলেছিলেন পাগল কুকুর, এক প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাঁদরও বলেছিলেন। মোদি অভিযোগ করেছেন, কু-কথা থেকে রেহাই পাননি তাঁর মা-ও। ওঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, আমার বাবা কে? মনে রাখবেন, এ সবই বলা হয়েছে একজন প্রধানমন্ত্রীকে।
আমাকে টুকরো টুকরো করবে বলেছে, এমন লোককেও টিকিট দিয়েছে কংগ্রেস। গত বুধবার পশ্চিমবঙ্গে এসে অমিত শাহ দাবি করেছিলেন, মোদিকে আলাদা আলাদা ৫১টি কটূক্তি করেছে কংগ্রেস। সেই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে ‘ঔরঙ্গজেব’ ও ‘জল্লাদ’। কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় নিরুপম বলেছেন, ঔরঙ্গজেব কাশীতে মন্দির ভেঙেছিলেন, জিজিয়া কর বসিয়েছিলেন। মোদি ঔরঙ্গজেবের আধুনিক অবতার। আর বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ী দেবী মোদিকে জল্লাদ বলে অভিহিত করে বলেছেন, উনি তো জল্লাদ, যিনি বিচারক আর সাংবাদিকদের হত্যা করান। এমন মানুষের মন আর আদর্শ তো ভয়ঙ্কর হবে। বিজেপি এবং জেডিইউ নেতাদের ‘নর্দমার কীট’ বলেছেন রাবড়ী। কু-কথার তালিকা থেকে দেখা গেছে, মোদিসহ বিজেপি নেতারা শেষ বেলায় এসে অনুযোগ করলেও তারা কম নজির তৈরি করেন নি। ভারতে আসা অভিবাসীদের উইপোকা বলেও অভিহিত করেছেন বিজেপি নেতারা। কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করতে গিয়ে কখনও বলা হয়েছে কংগ্রেস ঘেউঘেউ করে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মতো নিরীহ মানুষকে নৈশপ্রহরী বা দেহাতি আওরাত বলে আত্রমণ করা হয়েছে। আর রাহুল গান্ধীকে তো ভাঁড় রাজপুত্র, শাহজাদা, নামদার, পাপ্পু, হাইব্রিড বাছুর এই রকম নানা অভিধা দেয়া হয়েছে বিজেপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে। অন্যদিকে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী প্রথম থেকেই মোদির বিরুদ্ধে চৌকিদার চোর হ্যায় স্লোগান তুলেছেন। মোদি নিজেকে চৌকিদার হিসেবে হাজির করার পাল্টা হিসেবেই দুর্নীতিকে তুলে ধরতেই কংগ্রেস এই স্লোগান তুলে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছে। অবশ্য মোদিকে মৃত্যুর সওদাগর (গুজরাট দাঙ্গার জন্য), নিষ্কর্মা, গাধা, সাপ, কাঁকড়াবিছে, পুরুষত্বহীন, অশিক্ষিত, নির্বোধ প্রধানমন্ত্রী, দুর্যোধন, হিটলার, মুসোলিনি, পাগল কুকুর এমনি নানা অভিধায় ভূসিত করেছে বিরোধীরা।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো ঠাঠিয়ে গণতন্ত্রের থাপ্পড় কশানোর ইচ্ছে প্রকাশ করে জোর শোরগোল তুলেছেন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পর্বে যেভাবে সীমাহীন ভাবে পরস্পরের প্রতি আক্রমণ ও প্রতিআক্রমণ চলেছে অতীতে কোনো নির্বাচনে তা এমন সীমাহীন মাত্রা পায় নি বলে পর্যবেক্ষদের অভিমত। তবে শেষবেলায় এসে মোদিসহ বিজেপি নেতারা যেভাবে অনুযোগ করছেন প্রকাশ্য জনসভায় তার মধ্যে মেরূকরণের রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতাদের একাংশের দাবি, মোদি নিজেও চান তাঁকে কটূক্তি করা হোক। গুজরাট দাঙ্গার পরে সনিয়া গান্ধী তাঁকে ‘মওত কা সওদাগর’ বলেছিলেন। সেই মন্তব্য অস্ত্র করে ভোটে গিয়ে মেরূকরণের ব্যাপক ফায়দা তুলেছিলেন মোদি। গুজরাটের গত বিধানসভা ভোটের আগে কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আইয়ার মোদিকে ‘নীচ’ বলেছিলেন। সেখানেও সহানুভূতি কুড়িয়েছিলেন মোদি। জোর ধাক্কা খেয়েও বিধানসভা ধরে রেখেছিল বিজেপি। এবারেও নির্বাচনে শেষ পর্যায়ে এসে সেই মেরূকরণের মাধ্যমে সহানুভূতি জোগাড়ের জন্য মোদি প্রকাশ্যে কু-কথা নিয়ে সরব হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

‘বিআরআই কোনো ব্যর্থ খেলা হবে না’

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী মনে করেন, চীনের বহুমাত্রিক উদ্যোগে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বিভিন্নভাবে সহায়তা করবে। বিআরআইকে বিশ্বায়নের এশিয়া চ্যাপ্টারের ‘সবচেয়ে বড় কর্মসূচি’ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ওই উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি দেশ, বিপুল বিনিয়োগ এবং বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যাকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের ভাষায়- এটিই হচ্ছে একুশ শতাব্দীর বৃহত্তম উন্নয়ন প্রকল্প। বর্তমান সময়ে এটি (বিআরআই) শুধুমাত্র ভালো একটি উদ্যোগ-ই নয়, এটা বাংলাদেশের জন্যেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে নব প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ-চীন সিল্ক রোড ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। ফোরামের সভাপতি ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।  ড. গওহর রিজভী বিআরআই এর গুরুত্ব এবং এর সীমাবদ্ধতা বিশেষত: কূটনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও এতে বাংলাদেশের যোগদানের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এরইমধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। উন্নয়নের কাঙ্খিত লক্ষ্য নির্ধারণ করে বাংলাদেশ সরকার যেসব উদ্যোগ এবং লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে তা বাস্তবায়নে বিআরআই সহায়ক হবে বলে আমার বিশ্বাস।
বিদ্যমান আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোর সঙ্গে বিআরআইর কনফ্লিক্ট বা সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তা বা উদ্বেগের কোন কারণ নেই। বিআরআই’র সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক অন্যান্য জোট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে না। এ নিয়ে অন্য দেশের সঙ্গেও সংঘাতের কোনো আশংকা নেই। আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই এটা কোন ব্যর্থ (জিরো সাম-গেম) খেলা হবে না। এটি অবশ্যই সফলকাম (পজেটিভ সাম-গেম) হবে। বৈচিত্রময় এমন সব উদ্যোগ থেকে আমরা লাভবান হতে পারি। এ সময় আঞ্চলিক বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গও টানেন তিনি। বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান এবং নেপাল চতুর্দেশীয় বিবিআইএন কানেক্টিভিটি নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার চতুর্দেশীয় ইকোনমিক করিডোর বিসিআইএম-ইসি রয়েছে। ওই দু’টি ফোরাম বিআরআই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। এছাড়া আমরা বিমসটেকের সঙ্গে আছি।
এইসব উদ্যোগ একসঙ্গে আমাদের উন্নয়নে অবদান রাখছে। বিআরআইও নানাভাবে আমাদের উন্নয়নের জন্য একটি পারপজ-মেড প্রকল্প। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু বিআরআই এর সুযোগ সুবিধাই নেবে না, এটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও কাজ করবে। তবে উপদেষ্টা এটাও বলেন, বাংলাদেশকে অবশ্যই বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব থেকে দূরে রাখতে হবে এবং ঢাকার উচিৎ আমাদের নিজস্ব স্বার্থ নিয়ে চিন্তা করা। উপদেষ্টা তুলনামূলক আলোচনায় বলেন, এখানে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল বা ধারণা রয়েছে, যেটি ভারত প্রমোট করছে। বাংলাদেশ এই দুই প্রকল্পের (ইন্দো-প্যাসিফিক এবং বিআারআই) মধ্যে কোনো সংঘাত দেখছে না। এই দুই প্রকল্পেরই লক্ষ্যে পৌঁছানো ও উন্নয়নের জন্য নিজস্ব কারণ ও উদ্যেশ্য রয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের ভিশন ২০২১, এজেন্ডা ২০৩০ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখিত প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো একসঙ্গে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। তিনি গত ১০ বছরে ইন্দো-চায়না সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ভারত এখন চীনের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। তিনি ঢাকায় নবপ্রতিষ্ঠিত বেল্ট ফোরামের শুভ কামনা জানান। বলেন, এতে আমার কোনো রিজার্ভেশন নেই বরং যারা এটি গঠনে সাহায্য করেছেন তাদের সবাইকে অভিনন্দন।
রাষ্ট্রদূত যা বললেন- অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জু বলেন, উভয় দেশের জনগণের অধিকতর কল্যাণ নিশ্চিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ‘নবযুগ’ অর্থাৎ উত্তম ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে ঢাকা-বেইজিং একসঙ্গে কাজ করা জরুরি। তিনি বলেন, যেহেতু আগামী বছর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৫তম বার্ষিকী, তাই সহযোগিতা এবং কর্মপন্থার সংযোগ ও মানুষে-মানুষে বন্ধন আরও গভীর করার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে আমাদের একত্রে কাজ করা দরকার। রাষ্ট্রদূত নব প্রতিষ্ঠিত ফোরামের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সিল্ক রোড ফোরাম সঠিক সময়েই যাত্রা শুরু করেছে। তাদের অনেক কিছু অর্জন করার সম্ভাবনা রয়েছে। চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের কূটনীতির মূলমন্ত্র হচ্ছে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’ এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর রয়েছে কূটনৈতিক চিন্তা। উভয় নীতি দু’দেশের জন্য সমান সহযোগিতার নতুন সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশিদের শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশ ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন এবং চীনাদের স্বপ্ন জাতীয় পুনরুজ্জীবন- ব্যাপার দু’টি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং এতে অনেক অভিন্ন বৈশিষ্ট রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত নতুন ফোরাম চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ভালো গল্প তুলে ধরতে মনোযোগ দেবে এবং দু’দেশের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে গড়ে উঠবে।
সভাপতির বক্তৃতায় দিলীপ বড়ুয়া বলেন, সিল্ক রোডের ধারণাটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সর্বক্ষেত্রে দু’দেশের যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, তার নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের বাংলাদেশ ফোরাম গঠন করা হয়েছে। যেখানে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন দ্য ফিনান্সিয়্যাল এক্সপ্রেসের নির্বাহী সম্পাদক শহীদুজ্জামান খান। উল্লেখ্য, ঢাকার চীনা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল বাংলাদেশ এবং চীনের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ ছিল সবচেয়ে বড় বাজার। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বছর প্রতি ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধিতে বর্তমানে ১৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

পথে ডিউটি, পথেই ইফতার by রাফসান জানি

সন্ধ্যা নামার আগে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাস্তায় ব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তাদের লক্ষ্য, ইফতারের আগে নগরীর মানুষ যেন নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছতে এবং প্রিয়জনদের নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করতে পারেন। অথচ এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রিয়জনদের সঙ্গে ইফতার করা সম্ভব হয় না। যার কারণে পথেই ইফতার সারতে হচ্ছে তাদের, তাও আবার অল্প সময়ের মধ্যে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার প্রতিটি মোড়ে এই চিত্র দেখা যায়। নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে না পারলেও খুব একটা দুঃখ নেই এই পুলিশ সদস্যদের। তাদের ভাষ্য, বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তানের বাইরে সব পুলিশ সদস্যরাও একটি বড় পরিবার। কম সময় হলেও এই পরিবার মিলে ইফতারি করার মধ্যে আনন্দ রয়েছে।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি মোড় দেখা গেছে, ডিউটিতে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের ইফতারের জন্য আলাদা বরাদ্দ রয়েছে। সে বরাদ্দের মধ্যে থাকে খেজুর, ছোলা, মুড়ি, বেশ কয়েকটি ইফতার আইটেমসহ একটি করে পানির বোতল। তবে বরাদ্দে পাওয়া ইফতার সামগ্রীর সঙ্গে নিজেদের অর্থায়নে আরও কিছু খাবার যুক্ত করেন তারা।
সড়কে দায়িত্ব পালনের সময় ইফতার করছেন ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)
সড়কে দায়িত্ব পালনের সময় ইফতার করছেন ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)
ধানমন্ডি ২৭ নাম্বার মোড়ে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল ফয়েজ বলেন, ‘আমাদের তো রাস্তা ছেড়ে এসে অন্য সবার মতো ইফতার করার সুযোগ নেই। কিছু সময় রাস্তায় (ট্রাফিক পুলিশ) কেউ না থাকলে, পুরো এলাকায় হযবরল লেগে যাবে। ফলে বাধ্য হয়ে পথে থাকতে হয়, পথেই ইফতার করতে হয়।’
রাস্তায় দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ইফতারের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি দক্ষিণ ট্রাফিক বিভাগ ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার আকরাম হাসান। তিনি বলেন, ‘ইফতারের আগে ডিউটিতে থাকা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কাছে ইফতার পৌঁছে দেওয়া হয়। স্পটে সেগুলো একসঙ্গে করে সবাই মিলে খাওয়া হয়।’
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় সোনারগাঁও মোড়ে দেখা গেছে, মাগরিবের আজান দেওয়ার কিছু সময় আগে ইফতার সাজাচ্ছেন কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা, বাকিরা ডিউটিতে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মুড়ি, ছোলা, পেয়াজুসহ অন্যান্য খাবার মেশানো শেষে শরবত ও পানির কয়েকটি বোতল পৌঁছে দেওয়া হয় রাস্তায় যারা সিগন্যালে ডিউটি করছেন তাদের কাছে। আজান শুনে মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে রোজা ভাঙতে দেখা গেছে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের।
ইফতার করছে  ট্রাফিক পুলিশ পরিবার (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)
ইফতার করছে ট্রাফিক পুলিশ পরিবার (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)
সোনারগাঁও ট্রাফিক বক্সে ইফতারের আগে কথা হয় তেজগাঁও জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মশিউর রহমান খন্দকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিকালের ডিউটিতে একজন এডিসি, একজন সহকারী কমিশনার, একজন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, চারজন সার্জেন্ট, দুইজন এএসআই, চারজন কনস্টেবল ও অতিরিক্ত চারজন সার্জেন্ট নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্বে থাকা সবার জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। ’
রমজানের শুরু থেকে বিকাল বেলায় রাস্তায় অতিরিক্ত যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ থাকে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বশীলরা। ঘরমুখো মানুষের ফেরার পথে যানজট নিরসন করে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে যেন মানুষ বাড়ি ফিরতে পারেন সে ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।
নগরীতে চলমান মেট্রোরেলের কাজ, ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি, বিশৃঙ্খল যান চলাচল, ভারী বৃষ্টি হলে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা- এগুলো যানজট নিরসনে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বাধাগুলো অতিক্রম করে ঘরমুখো মানুষের চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক, নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম।
সড়কে দায়িত্ব পালন করার সময় ইফতার করছেন ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)
সড়কে দায়িত্ব পালন করার সময় ইফতার করছেন ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে নগরীতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। ক্রাইম পুলিশও আমাদের সঙ্গে ইন্টারসেকশনে কাজ করছে। মেট্রোরেলের কাজকে মাথায় রেখে আমরা একটু অতিরিক্ত সতর্ক আছি। যানজট সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী যেভাবে কাজ চলছে, তাতে বলা যায় ভালো। অবস্থার আরও উন্নতি হবে।’
ট্রাফিকের পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ- এই চার বিভাগের প্রতিটিতেই যানজট নিরসন ও অফিস ফেরত মানুষদের চলাচল স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন স্ব-স্ব বিভাগের প্রধানগণ। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন, যাতে এলোপাতাড়ি গাড়ি দাঁড়িয়ে জট তৈরি না হয়; বিকাল তিনটা থেকে সিনিয়র অফিসারদের মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন; প্রত্যেক থানা এলাকায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো রয়েছে, সেখানে ক্রাইম পুলিশের দায়িত্ব পালন; মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের কাজের সমন্বয়; বিকল্প রাস্তা ব্যবহার; খালি গাড়ি এনে যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা; ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করার জন্য পিএমও থেকে প্রতিটি বিভাগে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

‘যৌন হয়রানি কমিটি’ আর কতদূর! by ইব্রাহিম খলিল

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি বন্ধে ২০০৯ সালের ১৫ই মে যৌন হয়রানি কমিটির নির্দেশনা দেন উচ্চ আদালত। সেই থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে ১০টি বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু চট্টগ্রামের তেমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কর্মজীবী নারীর কর্মস্থলে দেখা মিলছে না এই কমিটির। বরং অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যৌন হয়রানি কমিটি সম্পর্কে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কথা জানে না অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এমনকি কর্মজীবী নারীরাও ওয়াকিবহাল নয়, এ সম্পর্কে। ফলে প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির শিকার হলেও মুখ বুঝে সহ্য করছেন স্কুল শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারীরা।
অবশ্যই এ বিষয়ে যারা জানেন তাদের অনেকেরই এখন প্রশ্ন-আর কতদূর গেলে দেখা মিলবে যৌন হয়রানি কমিটির। আর কত উপেক্ষিতই থাকবে যৌন হয়রানি কমিটি গঠনে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান মতে, চট্টগ্রাম জেলায় সরকারি-বেসরকারি ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ১৭৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩১টি মাদরাসা রয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাড়া মাধ্যমিক ও মাদরাসাগুলোর সিংহভাগে যৌন হয়রানি রোধে কোনো কমিটি নেই। ফলে যৌন হয়রানির শিকার হলেও শিক্ষার্থীরা কোথাও অভিযোগ করতে পারেন না।
একইভাবে চট্টগ্রাম জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের হিসেব মতে, জেলা-উপজেলায় ১১টি কর্মজীবি নারী হোস্টেলের মধ্যে একটিতেও কোনো যৌন হয়রানি কমিটি নেই। ফলে প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির শিকার হলেও কর্মজীবী নারীরা কোথাও অভিযোগ করতে পারেন না।
অথচ উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়, যতদিন পর্যন্ত জাতীয় সংসদে যৌন হয়রানি রোধে কোনো আইন প্রণয়ন করা না হয় ততদিন বাংলাদেশ সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টের দেয়া নীতিমালা মোতাবেক যৌন হয়রানি কমিটি বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে। ওই রায় ঘোষণার পর দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা।    
এ বিষয়ে চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া বলেন, চসিকের সবগুলো স্কুলে হয়তো নেই। কয়েকটাতে আছে। আসলে নির্দিষ্ট করে আমার জানা নেই। তৎক্ষণাৎ অফিস সহকারী সুভাষ চক্রবর্তীকে ডেকে পাঠালে তিনি জানান, আমাদের স্কুলগুলোতে এমন কোনো কমিটি নেই। তাছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও এমন কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। সম্ভবত ম্যাডাম (সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা) থাকা অবস্থায় এ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ঘটনার আকস্মিকতা বুঝে প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কুলগাঁও সিটি কর্পোরেশন কলেজের অধ্যক্ষকে ফোন করে যৌন হয়রানি রোধে কমিটি সমপর্কে অবগত হন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নোটিশ ই-মেইলে পাঠাতে বলেন। বিষয়টিকে সহজভাবে উপস্থাপনের জন্য তিনি আরও বলেন, আসলে এখানে একটু ঝামেলা আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নোটিশ আমাদের কাছে আসে না।
প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে চলে যায়। তারপরেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয় আমাদের নজরে এলে আমরা প্রত্যেকটি বিষয় স্কুলে জানাই এবং সে ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। অন্যদিকে স্কুল প্রধানরা বলছেন ভিন্ন কথা। কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকুমার দেবনাথ জানান, মাসখানেক আগেই আমরা পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করে থানা শিক্ষা অফিস থেকে শুরু করে সবাইকে পাঠিয়েছি। এমনকী সিটি কর্পোরেশনেও পাঠিয়েছি। রমজানের জন্য স্কুল বন্ধ তাই স্কুল চালু হলেই কাজ শুরু করা হবে। জামালখান কুসুম কুমারী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চমপা মজুমদার বলেন, এইতো চলতি মাসের ৩-৪ তারিখে আমাদের কাছে মেইল এসেছে। ৬ তারিখ থেকে তো স্কুল বন্ধ তাই ৫ তারিখেই কমিটি করে থানা মাধ্যমিকে পাঠিয়ে দিয়েছি। স্কুল খুললেই কার্যক্রম শুরু হবে।
অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা তো এসবের ব্যাপারে কিছুই জানি না। আর যদি প্রবলেমও হয় তবে কাকে জানাবো? এখন আর কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। দেখলেন না ফেনীর নুসরাতের কি হাল হলো!
প্রসঙ্গত, কর্মস্থল এবং শিক্ষাঙ্গনে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য দিকনির্দেশনা চেয়ে ২০০৮ সালের ৭ই আগস্ট হাইকোর্টে জনস্বার্থে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট সালমা আলী হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে ২০০৯ সালের ১৫ই মে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন (বর্তমানে প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। ওই রিট নিষপত্তি করে ২০০৯ সালের ১৫ই মে যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞাসহ যৌন হয়রানি রোধে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দিয়ে মামলাটির রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এই রায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ কেন্দ্র গঠন এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতিত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না করার কথাও বলা হয়। এর আগে গত ২৮শে এপ্রিল দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে কমিটি গঠন করা হয়েছে কী না তা জানতে চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। এছাড়াও রিটে দুই সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
গত বছরে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, শতকরা ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থীই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন রোধে কমিটি গঠনের কথা জানে না। আদালতের নির্দেশনার কথা জানেন না ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কিছুটা সচেতনতা দেখা গেলেও স্কুল বিশেষত মাদ্রাসা পর্যায়ের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। মাধ্যমিকের বেশিরভাগ কর্তৃপক্ষই জানে না আদালতের নির্দেশনার কথা। যদিও গত এক দশকে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই কার্যকর হয়নি এই নির্দেশনা।
আবার যেসব প্রতিষ্ঠানে কমিটি করা হয়েছে সেগুলোও অকার্যকর ও নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আছে। গত ১০ বছরে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইনও তৈরি হয়নি। আবার যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আলাদা আইন প্রণয়নের দাবিও দেড় দশকে বাস্তবায়ন হয়নি। আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষাসহ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি বাড়ছে বলে মনে করছেন অধিকাংশ অভিভাবক।