Thursday, March 18, 2010

বাজার সিন্ডিকেট অথবা হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ by সোহরাব হাসান

গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ১৩ মাস বয়সী সরকারের সাফল্য ও কৃতিত্ব বর্ণনা করেছেন—এটা স্বাভাবিক। একই সঙ্গে তিনি বিগত চারদলীয় জোট সরকারের নানা অপকর্ম ও দুর্নীতির খতিয়ান দিয়েছেন, তাতেও আপত্তির কিছু নেই। বাংলাদেশে যেকোনো সরকার পাঁচ বছর মেয়াদ পার করার পর তারা এমন সব ‘কীর্তি’ রেখে যায়, পরবর্তী পাঁচ-দশ বছর যার বিবরণ দিয়ে শেষ করা যায় না। সেদিক থেকেও প্রধানমন্ত্রী অন্যায় কিছু করেননি।
কিন্তু সেদিনের ভাষণে তিনি অন্তত একটি ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের ব্যর্থতার কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সেই লুটের টাকা ছড়িয়ে কৃত্রিমভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছে। তারা সিন্ডিকেট করেই জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছে।... আসলে মানুষ যে কষ্ট পাবে সে চিন্তা বিএনপির মাথায় নেই। তারা শুধু আওয়ামী লীগকে খাটো করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।’ (যুগান্তর, ১২ মার্চ ২০১০)। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে যে সত্যটি বেরিয়ে আসে তা হলো সরকার শেখ হাসিনা চালালেও বাজার চালাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট। অর্থাত্ বাজারের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে কত টাকায় চাল খাওয়াত তা নিয়ে মানুষ মাথা ঘামাচ্ছে না। কেননা তারা ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগের ভাষায়, ‘জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’
অতএব বাজারে যদি কোনো সিন্ডিকেট থেকে থাকে (মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী সিন্ডিকেটের কথা স্বীকার করেছেন) তাহলে সরকারের দায়িত্ব সেই সিন্ডিকেটে কারা আছেন, তাঁরা কীভাবে বাজারে কারসাজি করছেন, কারা তাঁদের মদদ দিচ্ছেন, তা সবিস্তারে প্রকাশ করা। যাতে জনগণ গণশত্রুদের চিহ্নিত করতে পারে। গয়রহ অভিযোগ করে লাভ নেই।
বিএনপির আমলে যখন দফায় দফায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছিল, তখনো তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাজার সিন্ডিকেট, বিরোধী দল ও সংবাদপত্রের ওপর দায় চাপাচ্ছিলেন। শেখ হাসিনা এখনো সংবাদপত্রকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি। বাজার অস্থিতিশীল করতে নেপথ্যে যাঁরাই কলকাঠি নাড়াক না কেন, প্রকাশ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ীরাই। আমরা যত দূর জানি, তাঁরা বরাবর ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেন, নিজেদের স্বার্থ আদায়ের জন্য মন্ত্রী-সাংসদদের মোটা অঙ্কের চাঁদা দেন। আবার কারসাজি করে তার চেয়েও বেশি মুনাফা হাতিয়ে নেন। ব্যবসায়ী শ্রেণীর একটাই আদর্শ তা হলো মুনাফা। মুনাফা ছাড়া তাঁরা কিছুই বোঝেন না। কয়েক বছর আগে টিআইবির এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অষ্টম জাতীয় সংসদে নির্বাচিতদের ৭০ শতাংশ ব্যবসায়ী। বর্তমান সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা আরও বেশি এবং তাঁদের সিংহভাগই যে সরকারি দলের তাতে সন্দেহ নেই। অতএব, বিরোধী দল ব্যবসায়ীদের হাত করে জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছে এই যুক্তি ধোপে টেকে না। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিপদ হলো, এতে প্রকৃতই যাঁরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাঁরা ভাবতে পারেন কারসাজিটা যখন সরকার ধরতে পারছে না তখন ভোক্তাদের গলা কাটতে কোনো অসুবিধা নেই।
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতারা ক্ষমতায় থাকতে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। এ পর্যন্ত না হয় মেনে নিলাম। কিন্তু সেই পাচার করা অর্থ কীভাবে তাঁরা বাজার সিন্ডিকেটে ব্যবহার করছেন? সরকার কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছে না? প্রধানমন্ত্রী বা বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে এসব বিষয়ে কি সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে? থাকলে তাঁরা জনসমক্ষে প্রকাশ করেন না কেন? বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কী পরিমাণ দুর্নীতি-অপচয় হয়েছে, তা দেশের মানুষ জানে। সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে জনগণ তাঁকে স্বাগতই জানাবে। কিন্তু তাঁরা এখনো দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন, ব্যবসায়ীরা তাঁদের কথায় উঠবস করছেন সেটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।
পূর্বসূরিদের সঙ্গে তুলনা করলে মহাজোট সরকার গত ১৩ মাসে বেশ কিছু ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। তারা মন্দা অর্থনীতিকে চাঙা করার উদ্যোগ নিয়েছে, কৃষি উত্পাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে, গ্যাস ও বিদ্যুৎউত্পাদন বাড়াতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে বাস্তবায়ন শুরুর ক্ষেত্রে কার্যকর কিছুই লক্ষণীয় নয়। অন্যদিকে এই খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ইউরোপ-আমেরিকায় যে রোড শো করেছে তা কার্যত অর্থহীন। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে লন্ডন, নিউইয়র্ক যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। সরকার গরিব মানুষের কল্যাণে কিছু কর্মসূচি নিয়েছে, যা প্রশংসনীয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগও চলছে। এসব ইতিবাচক কিছু দিক রয়েছে। কিন্তু তিনটি ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতার পাল্লা ভারী। ১. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ২. আইনশৃঙ্খলার অবনতি, ৩. দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরতে না পারা।
প্রায় প্রতিদিনই পত্রিকায় ছাত্রলীগ সংবাদ শিরোনাম হয়ে আসছে। ভালো কাজ করে নয়, খারাপ কাজ করে। তারা শিক্ষককে লাঞ্ছিত করছে, অন্যায় আবদারের কাছে নতিস্বীকার না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের বলি হয়েছে ঢাবির মেধাবী ছাত্র আবুবকর। যশোরে তারা গোলাগুলি করে সম্মেলন পণ্ড করেছে। সেখানে প্রতিপক্ষ গ্রুপের হাতে জীবন দিয়েছেন ছাত্রলীগেরই এক কর্মী। প্রধানমন্ত্রী যদি প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের ধরতে চান, তাহলে প্রথম অভিযানটি চালাতে হবে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধেই। ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের নেত্রীদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে তার সিকি ভাগ সত্য হলেও লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে। দেখা যাচ্ছে, যেখানে ছাত্রলীগ সেখানেই গোলযোগ, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, ভর্তিবাণিজ্য।
এ কথার অর্থ এই নয় যে বিরোধী দলের কেউ ষড়যন্ত্র করলে, অপরাধ করলে সরকার তাদের ছেড়ে দেবে। অবশ্যই না। আইন সবার প্রতি সমানভাবে চলতে হবে। মানুষ যখন বুঝবে, সরকার দলমত-নির্বিশেষে সব অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তখন সরকারের প্রতি তাদের আস্থা বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী বাজার সিন্ডিকেট খুঁজছেন। এঁরা নিশ্চয়ই বিদেশের কেউ নন, দেশেরই নাগরিক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেখেছি, বিদেশে ভোজ্যতেল, আটা, ডাল ও পেঁয়াজের দাম না বাড়তেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিতেন। কিন্তু বিদেশের বাজারে দাম কমলে তাঁরা কমাতেন না। যুক্তি দেখিয়েছেন, আগেই এলসি খোলা হয়েছিল। গত রোজার সময়ও চিনি ও ভোজ্যতেল নিয়ে একই তেলেসমাতি কাণ্ড করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে অতি মুনাফাখোরদের জেলে পাঠানোরও হুমকি দিয়েছিলেন। কোনো কাজ হয়নি। কী করে হবে? শর্ষের মধ্যেই তো ভূত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী যখন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সব দায় বিরোধী দলের ওপর চাপাচ্ছেন তখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কী ঘটছে সে খবর কি তিনি রাখেন? খুচরা বাজারে ডাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়, অথচ টিসিবি কিনছে ১০০ টাকায়। আর সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রীর আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠানকে। মন্ত্রী বলেছেন, আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান ডাল সরবরাহ করলে অসুবিধা কোথায়? অসুবিধা হতো না যদি সরকারের কোষাগার থেকে দুই কোটি টাকা বাড়তি খরচ না হতো।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির আমলে দেশ দুর্নীতিতে ছেয়ে গিয়েছিল। তাতে নিশ্চয় সত্যতা রয়েছে। কিন্তু তিনি কি এখন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম বলতে পারবেন, আগে দুর্নীতি হতো, এখন হয় না। দুর্নীতি বিষয়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাই বা কী বলেন? দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান (হাসান মশহুদ চৌধুরীকে বাদ দিয়ে যাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী) রোববার এক সেমিনারে বলেছেন, দেশের নির্বাচন-প্রক্রিয়াই দুর্নীতি দমনের সবচেয়ে বড় বাধা। নির্বাচনে বিপুল অর্থ খরচ করতে হয়। টাকা ছাড়া নির্বাচনে জয়লাভ অসম্ভব। দুর্নীতি অথবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত করে এ টাকা সংগ্রহ করেন রাজনীতিবিদেরা। আর এভাবেই রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মুনাফা ভাগাভাগির যোগসাজশ তৈরি হয় (প্রথম আলো, ১৫ মার্চ, ২০১০)। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও শিল্পপতি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেছেন, দেশের শেয়ারবাজারে এখন যা ঘটছে, তা আর্থিক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে প্রতি কনটেইনারের পরিবহন খরচ ৬০০ ডলারে নেমে এসেছিল। কিন্তু এখন তা এক হাজার ২০০ ডলারে উঠেছে। কারা শেয়ারবাজারকে অস্থিতিশীল করছেন? কারা এক বছরের ব্যবধানে পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ করেছেন তাও খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের।
প্রধানমন্ত্রী কি বলতে চান ক্ষমতাসীন দলের কেউ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত নন। সবাই বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক। সাংসদদের তালিকা কিন্তু সে কথা বলে না। দুর্ভাগ্যজনক যে এই কথিত ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে, সরকার তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে না। কেউ রাজনৈতিক দলের তহবিলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিলে অধিক মুনাফা করে তা তুলে নেবেই। আমরা এও দেখেছি, বিএনপির আমলে যেসব ব্যবসায়ী ক্ষমতাসীন শীর্ষ ব্যক্তিদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন ছিলেন, আওয়ামী লীগের আমলেও তাঁরা মন্ত্রী-নেতাদের আস্থাভাজন হয়ে উঠছেন। তাহলে বিরোধী দলের মধ্যে ষড়যন্ত্র খুঁজে লাভ কী?
১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে যাঁরা সক্রিয় ছিলেন, তাঁরা নিশ্চয়ই হাত গুটিয়ে বসে নেই। তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক সাফল্য সত্ত্বেও শেয়ারবাজার সিন্ডিকেটের কাছে নতিস্বীকার ছিল একটি বড় ব্যর্থতা। সেই সিন্ডিকেট আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অতএব প্রধানমন্ত্রী, অদৃশ্য শক্তির সঙ্গে যুদ্ধ না করে দৃশ্যমান ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে দেশ উপকৃত হবে, জনগণও নিরাপদ থাকবে।
সোহরাব হাসান: কবি ও সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

জৈন্তাপুর সীমান্তের ঘটনা

সিলেটের জৈন্তাপুরের ডিবির হাওর সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকদের অনুপ্রবেশ এবং বিএসএফের দফায় দফায় গুলিবর্ষণ ছিল উসকানিমূলক ও নিন্দনীয়। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা কখনো কাম্য নয়। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ডিবির হাওরে ১২৮৩ থেকে ১২৮৫ সীমান্ত পিলারের ভেতর ১০-১২ জন ভারতীয় নাগরিক মাছ ধরতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। বিডিআর ও বাংলাদেশি নাগরিকেরা তাদের বাধা দিলে বিএসএফ গুলি ছোড়ে। এতে ১৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হন। নয়াদিল্লিতে বিডিআর-বিএসএফ বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্তে গোলাগুলি চালানো হবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার তিন দিনের মাথায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটল। তাহলে এসব বৈঠক-প্রতিশ্রুতিরই বা কী অর্থ?
সীমান্তে বিএসএফের সদস্যরা চোরাচালান, অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে না পারলেও দেখা যাচ্ছে, তাদের গুলিতে নিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিকেরা প্রাণ হারাচ্ছেন। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আড়াই মাসে বিএসএফের হাতে ১৯ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। গত রোববার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য দিয়েছেন। তুচ্ছ মাছ ধরার ঘটনা নিয়ে গোয়াইনঘাট সীমান্তের পদুয়ায় গুলিবর্ষণের পাশাপাশি বিএসএফের পরিখা খনন এবং ভারী অস্ত্রশস্ত্র মজুদ করাও দুঃখজনক। এ ধরনের আচরণ সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার পরিবর্তে উসকানির পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সোমবার তামাবিল চেকপোস্টে বিডিআর ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা-বৈঠকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার যথাযথ বাস্তবায়নই সবাই দেখতে চাইবে। সীমান্তে শান্তি রক্ষায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদেরই সচেষ্ট থাকতে হবে। অচিহ্নিত সীমান্ত এলাকার সীমানাও যত দ্রুত সম্ভব নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় এ নিয়ে বিরোধ ও সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েই যাবে।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সদিচ্ছার অভাব আছে, এমন অভিযোগ করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুমোদন করা হলেও ভারতীয় লোকসভায় তা এখনো অনুমোদিত হয়নি। সে দেশের জনৈক নাগরিকের দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় তা আটকে আছে, যে কারণে বাংলাদেশ বেরুবাড়ী হস্তান্তর করলেও আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম ছিটমহলে যাতায়াতের জন্য তিন বিঘা করিডরের স্থায়ী ব্যবস্থা সম্ভব হয়নি।
জৈন্তাপুর সীমান্তের বিরোধপূর্ণ ভূমির বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে সমাধানের কথা বলা হয়েছে। অতীতের মতো এটিও যেন নিছক কথার কথা না হয়। যখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তখন সীমান্তে উত্তেজনা জিইয়ে রাখা কাদের স্বার্থ রক্ষা করবে সে বিষয়ও নয়াদিল্লিকে ভাবতে হবে। কোনো পক্ষের উসকানিতে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি হোক, তা কাঙ্ক্ষিত নয়। যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

লুলার সঙ্গে সাক্ষাতে অস্বীকৃতি ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ইসরায়েল সফররত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্য সফরের শুরুতে সোমবার ইসরায়েল পৌঁছেন লুলা।
ইসরায়েল ও ব্রাজিলের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এভিগদোর লিবারম্যান প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গে সাক্ষাত্ ও পার্লামেন্টে তাঁর বক্তৃতায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ইসরায়েলের একটি ইহুদি উপাসনালয়ে যাওয়ার প্রস্তাব নাকচ করায় দেশটির কিছু মানুষ লুলার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে।
ইসরায়েল সফরকে একটি ‘শান্তির মিশন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন লুলা। প্রেসিডেন্ট লুলা এমন সময় ইসরায়েল সফরে গেলেন, যখন পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদিদের জন্য বসতি নির্মাণের ঘোষণার কারণে মার্কিন-ইসরায়েলের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে।

পাকিস্তানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১০ জঙ্গি নিহত

মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানে কমপক্ষে ১০ জঙ্গি নিহত হয়েছে। আফগানিস্তানের সীমান্ত-সংলগ্ন পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানের একটি গ্রামে চালকবিহীন একটি মার্কিন জঙ্গি বিমান থেকে ওই হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপির।
কর্মকর্তারা জানান, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের প্রধান শহর মিরান শাহের ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত দাত্তাখেল গ্রামের কাছে একটি জঙ্গি আস্তানায় মার্কিন বিমান থেকে পরপর তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে কমপক্ষে ১০ জঙ্গি নিহত ও সাতজন আহত হয়। নিহত জঙ্গিদের পরিচয় জানা যায়নি। হামলায় কোনো জঙ্গি নেতা প্রাণ হারিয়েছেন কি না, সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।
উপজাতি-অধ্যুষিত ওয়াজিরিস্তানকে আল-কায়েদা ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্প্রতি আফগানিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় সিআইএর সাত কর্মী নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ওয়াজিরিস্তানে আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর ওপর হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইরাকে মালিকির জোটের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের সম্ভাবনা

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকির নেতৃত্বাধীন জোট স্টেট অব ল অ্যালায়েন্স সে দেশের পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। ইরাকের সর্বাধিক আসনসমৃদ্ধ প্রদেশ বাগদাদের অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করায় তাদের সামনে এ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এএফপি।
ইরাকে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত মালিকির দল সাতটি প্রদেশে জয়লাভ করেছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবির দল ইরাকিয়া ব্লক শিয়াপন্থী অপর একটি দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে পাঁচটি প্রদেশে জয়লাভ করেছে।
মালিকির একজন মুখপাত্র দুদিন আগেই জানিয়েছেন, তাঁরা সরকার গঠনের জন্য ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনা শুরু করতে ইতিমধ্যে একটি কমিটি করেছেন। অপরদিকে আইয়াদ আলাবির জোটও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে জোট বাঁধার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আপাতদৃষ্টে স্টেট অব ল অ্যালায়েন্স সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা বাকি এক-তৃতীয়াংশ আসনে যদি বিরোধীরা ভালো করে তাহলে তাদের পক্ষেও জোট সরকার গঠন করা অসম্ভব হবে না।
ইরাকে মোট ১৮টি প্রদেশ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টির পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ১৪টি প্রদেশের মধ্যে সাতটিতে মালিকির স্টেট অব ল অ্যালায়েন্স এবং পাঁচটিতে আইয়াদ আলাবির ইরাকিয়া ব্লক ও ইরাকি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের জোট যৌথভাবে জয়লাভ করেছে।

আফগান যুদ্ধ নিয়ে ওবামা-কারজাই আলোচনা

আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গতকাল মঙ্গলবার আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত সোমবার কারজাইয়ের সঙ্গে এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী ভিডিও কনফারেন্সে স্থিতিশীল আফগানিস্তান গড়ে তোলার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ওবামা।
আফগানিস্তানে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো দেশগুলোর এক লাখ ২১ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে। আগামী আগস্ট মাস নাগাদ এ সংখ্যা দেড় লাখে উন্নীত হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, চরমপন্থী নয় এমন তালেবান বিদ্রোহীদের জন্য কীভাবে অস্ত্র সমর্পণ কর্মসূচি চালু করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন কারজাই ও ওবামা। এ জন্য কর্মসংস্থান ও নগদ অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে কারজাই সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে সেগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

জেরুজালেমে পুলিশের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক সংঘর্ষ

অধিকৃত এলাকায় নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের ঘোষণায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। প্রতিবাদে পূর্ব জেরুজালেম ও এর আশপাশের এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে শত শত ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ করেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেরুজালেমে তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এর মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংকট বাড়লেও ইসরায়েল জেরুজালেম ও এর আশপাশে ইহুদি বসতি স্থাপন বন্ধ করবে না। বসতি বন্ধে ওয়াশিংটনের আহ্বানও তিনি নাকচ করে দেন। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ইহুদি বসতি নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ না হলে তিনি শান্তি আলোচনায় ফিরছেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিক্ষোভকারীরা সুয়াফাত শরণার্থী শিবির থেকে পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। তারা রাস্তায় টায়ারও পোড়ায়। ওই সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবারের গুলি এবং স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। দুই পক্ষের সংঘর্ষের একপর্যায়ে সেখানে সেনাসদস্যরা প্রবেশ করলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
একই দিন কালানদিয়া, ওয়াদি আল-জাউজ, আল-ঈসাইয়েআহ, রাস আল-আমাউদ এবং আল-আকসা মসজিদ এলাকায় ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভ করে।
ইসরায়েলি সরকার গত সপ্তাহে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সফরের সময় ঘোষণা দেয়, পশ্চিম তীরে আরও এক হাজার ইহুদি বসতি স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে সেখানে সিনাগগও নির্মিত হবে। ওই ঘোষণায় ফিলিস্তিনিরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিষয়টি ইসরায়েল-মার্কিন সম্পর্ককেও খারাপের দিকে নিয়ে যায়। ইসরায়েলি পত্রিকাগুলো বলেছে, গত তিন দশকের মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ সম্পর্ক যাচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, জো বাইডেনের সফরের সময় এভাবে বসতি স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া রীতিমতো অপমানের। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে টেলিফোন করে যুক্তরাষ্ট্রের হতাশার কথাও জানিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক দূত জর্জ মিশেল তাঁর পরিকল্পিত মধ্যপ্রাচ্য সফর স্থগিত করেছেন। গত সোমবার থেকেই তাঁর সফর শুরু করার কথা ছিল।

ঘূর্ণিঝড়ের পর ফিজিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে ঘূর্ণিঝড় ‘থমাস’ আঘাত হানার পর গতকাল মঙ্গলবার দেশটির সরকার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। পশ্চিমাঞ্চলের ভিতি লেভু ছাড়া সব এলাকায় আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত সান্ধ্য আইনের সময় বাড়িয়েছে সরকার। গত সোমবার ওই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ে এখন পর্যন্ত নিহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে অন্তত ১৭ হাজার লোককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। খবর বিবিসি ও জি নিউজের।
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় থমাসের আঘাতে ফিজির পূর্বাঞ্চলের লাউ দ্বীপপুঞ্জ ও দ্বিতীয় বড় দ্বীপ ভানুয়া লেভুতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি দ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগ-ব্যবস্থা। জলোচ্ছ্বাসের পানিতে ডুবে গেছে উপকূলের অনেক নিচু এলাকা। আকস্মিক বন্যার পানিতে কিছু ঘর ভেঙে ভেসে গেছে। কয়েকটি এলাকায় জলোচ্ছ্বাসে সমুদ্রের পানি সাত মিটার (২৩ ফুট) পর্যন্ত উঁচুতে ওঠে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রচণ্ড বাতাসে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পর পুরো দেশের বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে সরকারি কাজ। ঘূর্ণিঝড়ে অনেক ছোট দ্বীপ ও ভেনুয়া দ্বীপের অনেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ-ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখনো ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র পাওয়া যায়নি। এখনো ভানুয়া লেভুর অনেক জায়গায় বিদ্যুৎসরবরাহ বন্ধ আছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানকার পানি ও পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থা। ঘূর্ণিঝড়ের পর গতকালও দেশটির উপকূলে ঘণ্টায় গড়ে ১৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়।
ঘূর্ণিঝড়ের পর ফিজিতে স্থানীয় বিমান ও নৌচলাচল স্থগিত করা হলেও গতকাল ভিতি লেভুর পশ্চিমে নাদির প্রধান বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল আবার শুরু হয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনা দপ্তরের পরিচালক পাজিলিয়াই দোবুই বলেন, ‘আমার মতে, ঘূর্ণিঝড়ে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এটা খুবই কম।’ দোবুই বলেন, অন্য ঘূর্ণিঝড়ের অভিজ্ঞতা আছে এমন ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এবারের ঘূর্ণিঝড়টি তাঁদের কাছে সবচেয়ে দীর্ঘ ও শক্তিশালী এবং ব্যাপক ধ্বংসাত্মক।
ঘূর্ণিঝড়ে শুধু এক নারীর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভানুয়া লেভু দ্বীপের পাশে সমুদ্রের পানিতে ডুবে ওই নারী মারা যান।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যসহ সেনা পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র অ্যান্থনি ব্ল্যাক বলেন, ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে আজ বুধবার জরিপ করা হবে।

চিলিতে আবারও ভূমিকম্প

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে আবারও এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ছয় দশমিক সাত। গতকাল সোমবার রাতে কনসেপসিওন শহর থেকে ৪৫ মাইল উত্তর-পশ্চিমে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। প্রশান্ত মহাসাগরের ৩৪ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উত্পত্তিস্থল ছিল।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চিলিতে আট দশমিক আট মাত্রার ভূমিকম্পের পরপরই সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়। ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৫০০ লোক নিহত হয়। পাশাপাশি ভবন, বাড়ি ও কলকারখানার ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ হাজার কোটি ডলার।

হন্ডুরাসে এক বেতার সাংবাদিক নিহত

হন্ডুরাসের উপকূলীয় শহর টোকোয়াতে রোববার রাতে বন্দুকধারীদের গুলিতে এক বেতার সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে চলতি মাসে তিনজন সাংবাদিক নিহত হলেন। কর্মকর্তারা গত সোমবার এ কথা জানান।
নিরাপত্তা অফিসের মুখপাত্র লিওনেল সসিদা জানান, ৩৪ বছর বয়স্ক বেতার প্রতিবেদক নাহাম প্যালাসিয়স আরতেগা রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় দুটি গাড়ি তাঁর পথ রোধ করে। এরপর বন্দুকধারীরা তাঁর ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে।

অপহূত ব্রিটিশ শিশু সাহিল মুক্তি পেয়েছে

পাকিস্তানে অপহূত পাঁচ বছর বয়সী ব্রিটিশ শিশু সাহিল সাঈদকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সে এখন নিরাপদে আছে। ইসলামাবাদে ব্রিটিশ হাইকমিশন এ কথা জানিয়েছে।
গত ৩ মার্চ ছুটি কাটাতে বাবার সঙ্গে পাকিস্তানে বেড়াতে গিয়েছিল সাহিল। ইসলামাবাদের ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে ঝিলাম শহরে অবস্থিত নানির বাড়ি থেকে ৪ মার্চ তাকে অপহরণ করে সশস্ত্র ডাকাতেরা। তার আত্মীয়রা জানিয়েছেন, ডাকাতেরা শিশু সাহিলের মুক্তিপণ বাবদ এক লাখ ২০ হাজার ডলার দাবি করেছিল।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঝিলাম থেকে ২০ মাইল দূরে গুজরাট জেলার কাছে দিঙ্গা শহরে একটি স্কুলের কাছ থেকে সাহিলকে উদ্ধার করা হয়।
ওল্ডহ্যামে তার পরিবারের এক মুখপাত্র জানান, সাহিলের সঙ্গে তার মা আকিলা নাক্কাস ইতিমধ্যে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
সাহিলের মুক্তির খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ইসলামাবাদে এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যাডাম থম্পসন বলেছেন, এটি একটি দারুণ খবর। তাঁর পরিবার যে কঠিন সময় পার করছিল, এই খবরের মধ্য দিয়ে তা অবসান হলো। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ায় আমি তাঁদের প্রশংসা করছি। এ ছাড়া সাহিলকে সুস্থ শরীরে ফিরিয়ে আনায় ঝিলামের পুলিশকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই।’ ব্রিটিশ হাইকমিশনার এর বেশি কিছু জানাননি।
বিবিসির সংবাদদাতা আলীম মকবুল জানিয়েছেন, সাহিলের জন্য কোনো মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। এ ব্যাপারে পাঞ্জাবের আইনমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ জানান, মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে। তবে তা ব্রিটেনে নয়, অন্য কোনো দেশে।

রামোস হোর্তা বললেন -পূর্ব তিমুরের কাছে ইন্দোনেশিয়ার দুঃখ প্রকাশ করা উচিত

পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস হোর্তা বলেছেন, পূর্ব তিমুরের কাছে ইন্দোনেশিয়ার দুঃখ প্রকাশ করা উচিত। এরই মধ্যে প্রতিবেশী এই দুই দেশের সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হলেও এটা প্রয়োজন। গতকাল মঙ্গলবার জাপান সফরে যাওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন। এএফপি।
প্রেসিডেন্ট রামোস হোর্তা বলেন, পূর্ব তিমুরের জনগণের ২৪ বছরের দুর্দশার জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের অবশ্যই দুঃখ প্রকাশ করা উচিত।
পূর্ব তিমুর ২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এর আগে ১৯৭৫-১৯৯১ সাল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া পূর্ব তিমুর দখল করে রাখে। এ সময়ে দুই লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।
২০০৮ সালে পূর্ব তিমুর ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে একটি কমিশন গঠন করে। এ কমিশন পূর্ব তিমুরে ইন্দোনেশিয়ার দখলদারির সময় সেনাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার না করার কথা বলে। ইন্দোনেশিয়ার দখলদারির সময় প্রেসিডেন্ট রামোস হোর্তাও তাঁর তিন ভাইকে হারিয়েছেন। তা সত্ত্বেও তিনি ইন্দোনেশিয়ার সেনাদের বিচারে আন্তর্জাতিক আদালত গঠনের বিরোধিতা করেন।
রামোস হোর্তা জাপান সফরের সময় সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ইয়োকিও হাতোইয়ামার সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ভারতে মহাকাশ কেন্দ্রের সামনে বন্দুকযুদ্ধ

ভারতের একটি মহাকাশ কেন্দ্রের বাইরে গতকাল মঙ্গলবার সকালে দুই বন্দুকধারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর বাইরে বয়ালালু এলাকায় ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের (ইসরো) বাইরে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনার সঙ্গে জঙ্গিদের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এত আগে বলা কঠিন।
ইসরোর মুখপাত্র এস সতীশ জানান, দুজন লোককে ইসরোর সামনে সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। পুলিশ তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা গুলি ছোড়া শুরু করে। এরপর ওই দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরোর ভবনটি জঙ্গিদের হামলার লক্ষ্য। আর এ কারণে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বেঙ্গালুরুর পুলিশের পরিদর্শক কমল পান্থ বলেন, ‘এটি একটি স্পর্শকাতর ব্যাপার। আমরা সব দিক থেকে ঘটনাটি পরীক্ষা করে দেখছি।’
ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব গোপাল পিল্লাই বলেন, ‘দেশে বেড়ে ওঠা জঙ্গিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, যাদের সঙ্গে পাকিস্তানের জঙ্গিদের যোগাযোগ রয়েছে।

রূপালী ব্যাংকে আগামী বছরই কম্পিউটারায়ন সম্পন্ন হবে

রূপালী ব্যাংকে আগামী বছরের মধ্যে কম্পিউটারায়ন সম্পন্ন হবে।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহমদ আল কবির গোপালগঞ্জে ব্যাংকের বৃহত্তর ফরিদপুরের শাখা ব্যবস্থাপকদের দেওয়া এক সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
স্থানীয় একটি মোটেলে অনুষ্ঠিত এ সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জগলুল করিম, ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক মো. মহিউদ্দিন ভূঁইয়া, ফরিদপুর প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক অশোক সিংহ বক্তব্য দেন।
আহমদ আল কবির বলেন, ব্যাংকের প্রতিটি শাখাকে লাভজনক করতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সমঝোতার পথও খোলা রাখতে হবে। এক জায়গায় আটকে থাকলে চলবে না, এগিয়ে যেতে হবে।
এ জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করা হবে এবং মাথাভারী লোকবল রাখা হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাজারে নতুন এয়ার কন্ডিশনার নিয়ে এল প্যানাসনিক

প্যানাসনিক এয়ার কন্ডিশনারের ডিলার সম্মেলন সম্প্রতি ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে প্যানাসনিকের তিনটি নতুন মডেলের বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এয়ার কন্ডিশনারের বিপণন কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করা হয়। মডেলগুলো হচ্ছে এনভিও-আই টু, এনভিও-পি টু এবং স্ট্যান্ডার্ড। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে র্যাক ও বির্যাকসহ ফ্লোর স্ট্যান্ডের বিভিন্ন বাণিজ্যিক মডেল উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এম কে ইলেকট্রনিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনিসুর রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেত খান, মহাব্যবস্থাপক নিকোলাস চুয়া ও ঊর্ধ্বতন বিক্রয় নির্বাহী জেফ সের।

ভারতকে জিম্বাবুয়ের আমন্ত্রণ

২০০৫ সালে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফর করেছিল ভারত। প্রায় পাঁচ বছর পর জিম্বাবুয়ে সফরে যাচ্ছে তারা। ২৮ মে থেকে শুরু তিন জাতি ওয়ানডে সিরিজ খেলবে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। টুর্নামেন্টের আরেক অতিথি শ্রীলঙ্কা। প্রতিটি দল একে অন্যের বিপক্ষে দুটি করে ম্যাচ খেলবে। এরপর সেরা দুই দল মুখোমুখি হবে ৯ জুনের ফাইনালে। ওয়ানডের পর ভারতের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টিও খেলবে জিম্বাবুয়ে।

এবার হার কলকাতার

দুই ম্যাচ জিতে উড়তে থাকা কলকাতা নাইট রাইডার্সকে কাল থামাল চেন্নাই সুপার কিংস। ইডেন গার্ডেনে ৫৫ রানে হারল কলকাতা। অধিনায়ক ধোনির ৩৩ বলে অপরাজিত ৬৬ আর সুব্রামানিয়াম বাদ্রিনাথের ৩৩ বলে অপরাজিত ৪৩ রানে ৩ উইকেটে ১৬৪ রান তোলে চেন্নাই। দ্বিতীয় বলেই ব্র্যাড হজকে হারিয়ে বাজে শুরু করা কলকাতা অলআউট হয় ১০৯ রানে। সর্বোচ্চ ২২ রান করেন ঋদ্ধিমান সাহা। ২০ বলে ১১ রানের শ্লথ ইনিংস খেলে আউট হয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলী। ৮৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলা কলকাতা এক শ পেরোয় দশে ব্যাট করতে নামা মুরালি কার্তিকের ২১ রানের সৌজন্যে। মাত্র ১২ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন জাস্টিন কেম্প। ৯ রানে ২ উইকেট বালাজির।
কাল কলকাতা দলে যোগ দিয়েছেন শেন বন্ড। ৪ ওভারে ৩৩ রান—আইপিএলে অভিষেকটা মোটেও ভালো হয়নি তাঁর। ওদিকে আইপিএল শেষ হয়ে গেছে গ্রায়েম স্মিথের। মাঝের আঙুলে চিড় ধরেছে রাজস্থান রয়্যালসের এই ওপেনারের। টানা দুই ম্যাচ হেরে শুরু করা প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নদের জন্য এটি বড় ধাক্কা।
ধাক্কা কাল খেয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবও। শাহরুখের সঙ্গে সঙ্গে হেরেছে প্রীতি জিনতার দলও। কাল পাঞ্জাবকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে বেঙ্গালুরু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। দুই ওপেনার রবি বোপারা (৭৭) ও মনবিন্দর বিসলার (৭৫) ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৩ উইকেটে ২০৩ রান তুলেও পাঞ্জাব ম্যাচটি জিততে পারেনি। ২১ বলে রবিন উথাপ্পার ৫১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস এবং ৫৫ বলে জ্যাক ক্যালিসের অপরাজিত ৮৯ রান ৭ বল বাকি থাকতেই জয় এনে দিয়েছে বেঙ্গালুরুকে।

সাকিবকে চারে ঠেলে তিনে সোয়ান

টেস্ট অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে এক-দুই নম্বর জায়গাটি অনেক দিন ধরেই জ্যাক ক্যালিস আর ড্যানিয়েল ভেট্টোরির দখলে। গত নিউজিল্যান্ড সফরের পর তিনে উঠে এসেছিলেন সাকিব আল হাসান। কাল তাঁকে চারে ঠেলে দিয়ে তিনে উঠে এলেন গ্রায়েম সোয়ান। টেস্ট বোলারদের র্যাঙ্কিংয়েও সোয়ানের বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার পুরস্কার হিসেবে পাঁচ থেকে দুই ধাপ ওপরে উঠে এসেছেন এই অফ স্পিনার।
গত অ্যাশেজের শেষ দুই টেস্ট থেকে নিজেকে অলরাউন্ডার হিসেবে মেলে ধরা শুরু। টানা চার ইনিংসে তিনটি ফিফটিও ছিল তাঁর! সেটিও নয় নম্বরে ব্যাট করে! চট্টগ্রাম টেস্টে যে একমাত্র ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন, তাতেও ২৫ বলে ৩২ রান। গত সাত টেস্টে ৩১.৪৫ গড়ে রান করার পাশাপাশি ৩৯ উইকেটই অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে সাকিবের ওপরে তুলে আনল তাঁকে।
চট্টগ্রাম টেস্টে সেঞ্চুরি করে ১২ ধাপ এগিয়ে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের ৬০ নম্বরে জুনায়েদ সিদ্দিক। দুই ইনিংসে ফিফটি করা মুশফিকুরও ১২ ধাপ এগিয়ে চলে এসেছেন ৩৪-এ।