Wednesday, July 3, 2019

কাল চালু হচ্ছে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সেবা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন)। সকাল ১১টায় এই সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।  প্রাথমিকভাবে বহির্বিভাগের সেবা থেকে এই ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন  ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।
রাজধানীর চাঁনখারপুলে ৯১২ কোটি টাকা ব্যয়ে এক দশমিক ৭৬ একর জমিতে নির্মিত ১৮ তলাবিশিষ্ট এই বার্ন ইনস্টিটিউটটি গত বছরের ২৪ অক্টোবর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগামীকাল সকাল ১১টায় মন্ত্রী মহোদয় আসবেন। আমরা বহির্বিভাগে রোগী দেখা দিয়ে কাজ শুরু করবো। ধীরে ধীরে মাসখানেক পর ইনডোর, অপারেশন থিয়েটার শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, আমার সারা জীবনের স্বপ্ন এই বার্ন ইনস্টিটিউট। আমি ৫টি বেড দিয়ে শুরু করেছিলাম। বঙ্গবন্ধুর হাত দিয়েই সেই মুক্তিযুদ্ধের পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে শুরু করেছিলাম। আমি তখন একজন তরুণ। ৫টি বেডে রোগী দেখা শুরু করেছিলাম। সেটা ৫০ থেকে ১০০ হলো, এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ৫০০ হলো। আমি খুবই আশাবাদী, আমি মনে করি আমার পরবর্তী প্রজন্ম এটাকে টেনে নিয়ে যাবে, আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রীর যে আন্তরিকতা বার্ন রোগীদের প্রতি এটা সফলতার সঙ্গে আগামী প্রজন্ম এগিয়ে নিয়ে যাবে।
জানা যায়,  এখানে রোগীর চিকিৎসার জন্য রয়েছে ৫০০ শয্যা। এ ছাড়া গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ২২টি শয্যা রয়েছে। রোগীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য ২২ শয্যা বিশিষ্ট হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), ১২টি অপারেশন থিয়েটার এবং একটি অত্যাধুনিক পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড আছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসার জন্য ভবনের ছাদে হ্যালিপ্যাড সুবিধা রাখা হয়েছে। হাসপাতালের পার্কিংয়ে একসঙ্গে ১৮০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকবে। এই ইনস্টিটিউটে বার্ন ইউনিট, প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট এবং একাডেমিক উইং মিলে তিনটি ব্লক থাকছে। নির্মাণ কাজ পরিচালিত হয় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে।
২০১৫ সালের নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই ইনস্টিটিউটের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁনখারপুলে এই ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর এর নির্মাণ কাজ শুরু করে।

লিবিয়ার অভিবাসী শিবিরে হামলায় থাকতে পারেন বাংলাদেশিও

লিবিয়ার ত্রিপোলি উপকন্ঠে অভিবাসী বন্দী শিবিরে বিমান হামলায় নিহত ৪০ অভিবাসীর মধ্যে বাংলাদেশি আছেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। মঙ্গলবারের ওই হামলায় নিহতদের বেশিরভাগই আফ্রিকা অঞ্চলের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে তাতে বাংলাদেশি থাকতে পারেন- এই আশঙ্কায় ওই এলাকায় দূতাবাসের একজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঢাকায় প্রাপ্ত রিপোর্ট বলছে, ওই ঘটনায় কয়েক জন এশিয়ান রয়েছেন বলে তথ্য মিলেছে। এর আগে গত সোমবারও ওই এলাকায় বিমান হামলা হয়েছে। তাতেও হতাহতের ঘটনা রয়েছে। ত্রিপোলিতে প্রায় প্রতিদিনই সরকারপন্থী মিলিশিয়া ও দেশটির এক সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতা খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির মধ্যে লড়াই চলছে। জাতিসংঘ সমর্থিত দেশটির সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সেরাজ অভিযোগ করেন, স্বনিয়ন্ত্রিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ) অভিবাসী শিবিরে হামলা চালিয়েছে।
তবে খলিফা হাফতার নেতৃত্বাধীন ওই বাহিনী এলএনএ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, যে এলাকায় হামলাটি হয়েছে সেখানেই সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছেন তারা। পাল্টাপাল্টি এ অভিযোগের মধ্যে অভিবাসীদের প্রাণ যাচ্ছে।
ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধাবস্থায় দূতাবাসের তরফে বাংলাদেশিদের সময় সময় নোটিশ করা হচ্ছে। তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির অবনতিতে বাংলাদেশিদের সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়াও থমকে গেছে! তবে গত ক’দিনে শ’ খানেক বাংলাদেশি দেশে ফিরতে পেয়েছেন। আরও কয়েক শ’ ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, এপ্রিলের সূচনাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতিতে সেখানে অতীব জরুরি সতর্কতা (স্টেট অব এলার্ট) ঘোষণা করে সরকার। এ অবস্থায় লিবিয়ার ত্রিপোলী ও এর পার্শ্ববর্তী শহরসমূহে বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাবধানতা অবলম্বন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে নোটিশ জারি করে বাংলাদেশ দূতাবাস।
সে সময় দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতির কারণে লিবিয়ার সরকার অতীব জরুরি সতর্কতা ঘোষণা করেছে। স্ব-স্ব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের স্বার্থে এবং যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে ত্রিপোলী ও এর পার্শ্ববর্তী শহরসমূহে বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে রাস্তাঘাটে চলাফেরা সীমিত করে যথাসম্ভব সাবধানতা অবলম্বন ও সতর্কভাবে বাসায় অবস্থান করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দূতাবাস ওই সময়ই লিবিয়ায় থাকা প্রবাসীদের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের হটলাইন নাম্বার +২১৮৯১৬৯৯৪২০৭ ও +২১৮৯১০০১৩৯৬৮ যোগাযোগ করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করে। বুধবার এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, আগের সতর্কতা কেবল বলবৎই নয়, এখন এটি মানতে বাংলাদেশিদের মাঝে রীতিমত ক্যাম্পেইন চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থেই এটি করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় যুদ্ধাবস্থার মুখে ভয় ও আতঙ্কে দলে দলে দেশ ছাড়ছেন বিদেশীরা। মঙ্গলবার সকালে ২৯ বাংলাদেশীর একটি দল নিরাপদে ঢাকায় পৌছায়। তার্কিশ এয়ারে তারা ঢাকা পৌঁছান। সহিংসতা থেকে প্রাণে বাঁচতে কেবল ত্রিপোলী থেকেই প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী পালাচ্ছেন জানিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে রিপোর্ট হয়েছে। ওই অভিবাসীদের মধ্যে কেউ কেউ মানবপাচারের শিকার বা মানবপাচারকারীদের সহায়তায় ইউরোপ পাড়ি দেয়ার চেষ্টায় রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

লন্ডন হাইকোর্টে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দুবাইয়ের শাসকের

পালিয়ে লন্ডনে আত্মগোপনে থাকা স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল হুসেইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ মাকতুম। প্রিন্সেস হায়া পালিয়ে যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন ছেলে জায়েদ (৭) ও মেয়ে আল জলিলাকে (১১)। এই সন্তানদের ফেরত চেয়ে মামলা করেছেন বিন রশিদ। এ নিয়ে শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ৩০ শে জুলাই। ওদিকে এরই মধ্যে দুবাইয়ের বিলিয়নিয়ার বিন রশিদের স্ত্রী পালিয়ে দেশ ছাড়া নিয়ে সারাবিশ্বের সংবাদ মাধ্যমে নানা রকম তথ্য প্রকাশ হচ্ছে। গুরুত্ব দিয়ে এ রিপোর্ট প্রকাশ করছে মিডিয়াগুলো।
বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ বলছে, অপ্রতাশিতভাবে নিজের সন্তানদের ফেরত চেয়ে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন দুবাইয়ের শাসক। তার পলাতক স্ত্রীর বিরুদ্ধে এ জন্য তিনি লন্ডনের হাইকোর্টের আশ্রয় নিচ্ছেন।
তার এমন উদ্যোগে এটা নিশ্চিত করে যে, এ দম্পতির বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এ জন্যই হাইকোর্ট শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে। প্রিন্সেস হায়া বর্তমানে বৃটেনের কেনসিংটনে ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের একটি বাসায় অবস্থান করছেন। সেই ভবনটির ছবি ও কোন সড়কে তাও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তার হোল্ডিং নম্বর জানানো হয় নি। এটা বলা হয়েছে, বাড়িটি কেনসিংটন রাজপ্রাসাদের কাছেই।
রিপোর্টে বলা হচ্ছে, বিন রশিদ বিলিয়ানিয়ার। তিনি ঘোড়াদৌড়ে ব্যবহৃত ঘোড়ার মালিক। তার স্ত্রী প্রিন্সেস হায়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের ফ্যামিলি ডিভিশনে আইনগত লড়াই শুরু করেছেন। এ লড়াইয়ে ৬৮ বছর বয়স্ক এই শাসকের আইনজীবী দাবি করেছেন যে, প্রিন্সেস হায়ার সঙ্গে যে দুটি সন্তান রয়েছে, তাদেরকে দুবাইয়ে ফেরত পাঠাতে হবে। আদালতে এই কর্মকান্ড এটা নিশ্চিত করে যে, ৪৫ বছর বয়সী প্রিন্সেস হায়া তার স্বামীকে ফেলে গেছেন। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন দুই সন্তানকে। কিন্তু এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনে আটকে যেতে পারেন হায়া। কারণ, হেগ কনভেনশনের অধীনে বিভিন্ন দেশ এই মর্মে একমত হয়েছে যে, যদি কোনো শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয় তাহলে তাকে ফেরত পাঠানো হবে। যদি আদালত নিশ্চিত হয় যে, প্রিন্সেস হায়া তার সঙ্গে যে দুটি সন্তানকে নিয়ে গিয়েছেন তাদেরকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে, তাহলে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হতে পারে। ওই দুটি সন্তানের বয়স ৭ ও ১১ বছর। তারা আদালতে কি বলে সেটাও দেখার বিষয়।
জায়েদ ও জলিলা নামের এই দুই সন্তানকে ফেরত চেয়ে দুবাইয়ের আদালতে ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে এরই মধ্যে। সেখান থেকে মামলাটি স্থানান্তর করা হয়েছে লন্ডনে হাইকোর্টে। এখন সেই লড়াইয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে প্রিন্সেস হায়াকে। রিপোর্টে বলা হচ্ছে, নতুন জীবনের সন্ধানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পালানোর সময় সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন ৩ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড। কেনসিংটন রাজপ্রাসাদের কাছে ৮ কোটি ৫০ লাখ মূল্যে ২০১৭ সালে ভারতের বিলিয়নিয়ার লক্ষ্মী মিত্তালের কাছ থেকে একটি বাড়ি কিনেছিলেন তিনি। বাড়িটি লন্ডনের অত্যন্ত অভিজাত এলাকায়।  বাড়িটি কেনার পরই তিনি এর নবায়ন করার অনুমতি চান। সেখানে তিনি একটি পাথরের বাজপাখি বসাতে চান। এটি হলো তার মূল দেশ জর্ডানের একটি প্রতীক।
মিডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রথমে প্রিন্সেস হায়া দুবাই থেকে চলে যান জার্মানিতে। সেখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। এরপর গিয়েছেন লন্ডনে। তবে লন্ডনের গার্ডিয়ান বলছে, প্রিন্সেস হায়াও লন্ডনে আইনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ওদিকে স্ত্রীর পালিয়ে যাওয়া নিয়ে শেখ মোহাম্মদ বেশ কিছু কবিতা লিখেছেন। একটিতে তিনি লিখেছেন, আমাদের এমন একটি রোগ আছে, যার কোনো প্রতিষেধক নেই। আরেকটিতে লিখেছেন, কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে এমন কোনো হার্ব নেই যা এর প্রতিকার করতে পারে। আমি বার বার তোমার সঙ্গে সাক্ষাত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

ডালিয়ান থেকে বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী

এয়ার চায়নার একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার পর বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গীরা।
চীনের ভাইস ফরেন মিনিস্টার চিং গ্যাং বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান। একটি শিশু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয় স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার।
বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক হবে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের।
তার এই সফরে চীনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এবার চীনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য-বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশের তরফ থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানের বিষয়টিতে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এর আগে জানিয়েছিলেন।
বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা করে দিয়ায়োতাই স্টেট গেস্ট হাইজে নিয়ে যাওয়া হয়। চীনের রাজধানীতে সফরকালে তিনি সেখানেই থাকবেন।
বিকালে বেইজিংয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া একটি নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দি পিপলে চীনা বীরদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন তিনি।
বৃহস্পতিবারই চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। গ্রেট হল অব দি পিপলে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তারা।
পরে সেখানে চীনের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভোজসভায় অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। বিকালে সিসিপিআইটিতে চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেবেন।
৫ জুলাই সকালে প্রধানমন্ত্রী চীনা গবেষণা সংস্থা ‘পাঙ্গোয়াল ইনস্টিটিউশন’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এছাড়া চীনের বিভিন্ন কোম্পানির প্রধান নির্বাহীরাও শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান লি জান শুর সঙ্গেও বৈঠক হবে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টিতে শি চিন পিংয়ের পর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে তাকেই বিবেচনা হয়।
বিকালে দিয়াওইয়ুতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হবে। পরে তিনি চীনা প্রেসিডেন্টের দেওয়া ভোজসভাতেও অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে আটটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এসব প্রকল্পে মোট কত টাকা ঋণ নেওয়া হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।
চুক্তিগুলো ও সমঝোতাগুলো হল
>> ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করতে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট।
>> ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করতে গভার্নমেন্ট কনসেশনাল লোন এগ্রিমেন্ট।
>> ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করতে  প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট লোন এগ্রিমেন্ট।
>> পিজিসিবি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ গ্রিড নেটওয়ার্ক জোরদার প্রকল্পের জন্য ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট।
>> বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে অর্থনীতি ও কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি।
>> ইনভেস্টমেন্ট কোঅপারেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা নিয়ে সমঝোতা স্মারক।
>> ইয়ালু ঝাংবো ও ব্রহ্মপুত্র নদীর তথ্য বিনিময় সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক ও তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।
>> সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা স্মারক।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন।
সফর শেষে ৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার।

রাখাইনকে বাংলাদেশের সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অমূলক: মিয়ানমার

রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের প্রস্তাবকে অমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে মিয়ানমার। ১৩ জুন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়ার বাজেট বিষয়ক এক শুনানিতে এ প্রস্তাব দেন মার্কিন কংগ্রেসের এশিয়া প্রশান্ত উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ব্র্যাডলি শেরম্যান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস মিয়ানমার সরকারের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এই প্রস্তাব একটি দেশের অখণ্ডতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রতি অশ্রদ্ধা। এটি অবাস্তব ধারণার ওপর ভিত্তি করে অমূলক প্রস্তাব।
কংগ্রেসের শুনানিতে ব্র্যাডলি শেরম্যান সুদান ও দক্ষিণ সুদানের কথা তুলে ধরে বলেছিলেন, কেন মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার রক্ষায় একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে না? তিনি পরামর্শ দেন, যদি মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব নিতে না পারে তাহলে রাখাইনকে বাংলাদেশের সীমান্তে অন্তর্ভুক্ত করাই যৌক্তিক। কারণ, বাংলাদেশই নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ। জাতিগত নিধনযজ্ঞের ভয়াবহতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বড় অংশটি বাংলাদেশে পালিয়ে এলেও জাতিসংঘের হিসাবে চার লাখেরও বেশি মানুষ এখনও বার্মায় রয়ে গেছে। জাতিসংঘ দেশটিতে রোহিঙ্গাবিরোধী সামরিক অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

রিফাত হত্যা মামলার ২ নং আসামী রিফাত ফরাজী গ্রেপ্তার

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ২ নম্বর আরেক আসামী রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীররাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ  হোসেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা তিনি জানাননি। এর আগে সোমবার রাতে এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।
রিফাত ফরাজী ও এ মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সম্মেলন করে পুলিশ। আজ সকাল সাড়ে ৯টায় বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বরগুনার পুলিশ মো. মারুফ হোসেন, বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেনসহ প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি বলেন, মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ তাকে আদালতে তোলা হবে।
এ নিয়ে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৫ জন এবং সন্দেহভাজন হিসেবে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এছাড়া মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
মামলার এজাহারভুক্ত গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মামলার ২ নম্বর আসামি রিফাত ফরাজি (২৩), ৪ নম্বর আসামি চন্দন (২১), ৯ নম্বর আসামি মো. হাসান (১৯), ১১ নম্বর আসামি মো. অলিউল্লাহ অলি (২২) ও ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয় (২১)।
এছাড়া রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্ততে গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. নাজমুল হাসান (১৯), তানভীর (২২), মো. সাগর (১৯), কামরুল হাসান সাইমুন (২১) ও রাফিউল ইসলাম রাব্বি।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চন্দন ও হাসান সাত দিনের এবং সাগর, সাইমুন ও নাজমুল পাঁচদিনের রিমান্ডে রয়েছেন। আর রিফাত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার ১১ নম্বর আসামি অলি ও ফুজেট দেখে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হওয়া অভিযুক্ত তানভীর।
উল্লেখ্য, গত ২৬শে জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি  কোপাতে থাকে তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়।

লিবিয়ায় অভিবাসীদের আশ্রয়শিবিরে বিমান হামলায় নিহত কমপক্ষে ৪০

লিবিয়ায় অভিবাসীদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বা বন্দিশালায় বিমান হামলা হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮০ জন। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রযেছে। নিহতদের বেশির ভাগই আফ্রিকান অভিবাসী। বাকিরা কোন দেশের তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় নি। মঙ্গলবার রাজধানী ত্রিপোলির কাছে তাজোরা এলাকায় ওই হামলা চালানো হয়।
এ জন্য স্বঘোষিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মিকে (এলএনএ) দায়ী করেছে জাতিসংঘ সমর্থিত গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল অ্যাকর্ড (জিএনএন)। এ সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল সেরা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এতে বলা হয়, আকাশ পথে চালানো ওই হামলায় আশ্রয়শিবিরে বিস্ফোরণ হয় বিকট শব্দে। সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার জন্য অভিবাসীদের কাছে লিবিয়া হযে উঠেছে প্রাণকেন্দ্র। ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে অনেক বিদেশীকে নিয়ে লিবিয়ায় অবর্ণনীয় অবস্থায় আটকে রাখে দালালচক্র। তারপর তাদেরকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঠেলে দেয় উত্তাল সমুদ্রে। অনেক বাংলাদেশী সহ অভিবাসীরা এই দেশ থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা করে মারা গেছেন। সম্প্রতি এমন দুটি ঘটনা ঘটেছে তিউনিশিয়া উপকূলের কাছে। ২০১১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে নিহত হন লিবিয়ার দীর্ঘ সময়ের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি। তখন থেকেই এ দেশটিতে সহিংসতা ও বিভক্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
মঙ্গলবারের হামলা সম্পর্কে জরুরি সেবা বিষয়ক মুখপাত্র ওসমান আলী বলেছেন, একটি আশ্রয়স্থলে ১২০ জন অভিবাসী অবস্থান করছিলেন। সরাসরি সেখানে ওই হামলা হয়েছে। তার হিসাবে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়বে। কারণ, প্রাথমিকভাবে যাদের মারা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, এর বাইরেও থাকতে পারে মৃতদেহ। এক বিবৃতিতে জিএনএ এ হামলাকে পূর্ব পরিকল্পিত বলে আখ্যায়িত করেছে। তারা একে নৃশংস অপরাধ আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জিএনএ সরকারের বিরুদ্ধে ওই এলাকায় লড়াই করছে শক্তিধর খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন এলএনএ। মঙ্গলবার হামলার আগের দিন তারা ঘোষণা দেয় যে, ত্রিপোলির টার্গেটে তারা বিমান থেকে ভারি হামলা চালাবে। কিন্তু এর এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে ওই আশ্রয়শিবিরে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অভিবাসীদের আশ্রয়কেন্দ্রে বিমান হামলার খবরকে চরম উদ্বেগের বলে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন ডা. খালিদ বিন আত্তিয়া। তিনি বলেছেন, সর্বত্র মানুষ পড়ে ছিলেন। পুরো আশ্রয়শিবিরটি ধ্বংস হয়ে গেছে। মানুষজন আর্তচিৎকার করছিলেন। মানসিকভাবে এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তারা আর্তনাদ করছিলেন। সে এক ভয়াবহ দৃশ্য। 
ইউরোপ যাওয়ার জন্য যে হাজার হাজার অভিবাসী লিবিয়া যান তাদেরকে আটক করে সরকার পরিচালিত বন্দিশালায় রাখা হয়। এটিও ছিল তেমন একটি। স্থানটি ছিল যুদ্ধপ্রবণ এলাকায়। এসব বন্দিশিবির বা আশ্রয় শিবিরগুলোর নাজুক অবস্থার সমালোচনা করেছে মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো।

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নয়ন বন্ড নিহত

পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফ (২৫)কে কুপিয়ে হত্যার মূলহোতা ও এই মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড। গতকাল ভোর সোয়া চারটার দিকে বরগুনা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের  পুরাকাটা  ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ  হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নয়ন বন্ড পলাতক ছিলেন।
নিহত সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড বরগুনা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কলেজ রোড এলাকার মৃত মো. আবুবক্কর সিদ্দিকের ছেলে এবং রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি। এ ছাড়া আরো ১১টি মামলায় অভিযুক্ত আসামি নয়ন। রিফাত হত্যায় জড়িত আরেক ঘাতক ও নয়ন বন্ড গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাত ফরাজী এখনো পলাতক। ওদিকে নয়ন বন্ড নিহত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নি ও বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।
গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে বরগুনা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা পুরাকাটা এলাকায় অবস্থান করছে।
তারা পুরাকাটা সংলগ্ন পায়রা নদী দিয়ে ট্রলারযোগে বরগুনা সদর উপজেলা ত্যাগ করে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে বরগুনার পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিএম আশ্রাফ উল্যাহ তাহেরের নেতৃত্বে ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে পুরাকাটার ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় নয়ন বন্ড তার ৫-৭ জন সহযোগীকে নিয়ে পুলিশের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার জন্য পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দুই পক্ষের গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণকারীরা পিছু হটলে পুরাকাটা এলাকার মজিদ মিলিটারির বাড়ির পূর্বপাশে পায়রা নদীর বেড়িবাঁধের পাশে তল্লাশি চলাকালে গুলিবিদ্ধ একটি মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। এদিকে গোলাগুলির শব্দ পেয়ে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ডের বলে শনাক্ত করেন তারা। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি শর্টগানের কার্তুজের খালি খোসা ও ৩টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এর আগে গত সোমবার  সন্ধ্যায় মামলার এজাহারভুক্ত ১১ নম্বর আসামি অলি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা অভিযুক্ত তানভীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।  সোমবার বিকালে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর কাছে স্বেচ্ছায় তারা এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এছাড়া আটক নাজমুল হাসান, সাগর ও সাইমুন নামে অপর তিনজন বর্তমানে পুলিশি রিমান্ডে রয়েছেন। এদিকে মামলার ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয় আটক হওয়ার কথা শুনা গেলেও তিনি বরগুনা জেলা পুলিশের কাছে নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।
নয়ন বন্ডের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব মামলায় নয়ন বন্ডকে অভিযুক্ত করে বিভিন্ন সময় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এসব মামলার মধ্যে দুইটি মাদক মামলা, একটি অস্ত্র মামলা এবং হত্যাচেষ্টাসহ পাঁচটি মারামারির মামলা রয়েছে।
অপরদিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ও রিফাত ফরাজীর বিরুদ্ধে  সোমবার ল্যাপটপ ছিনতাইচেষ্টা এবং শারীরিকভাবে জখম ও হুমকি দেয়ার পৃথক আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। বরগুনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. নাহিদ  হোসেন এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, নয়ন বন্ডকে জীবিত গ্রেপ্তার করা গেলে তার নিজ হাতে গড়া গ্রুপ ০০৭ এর সদস্যদের সম্পর্কে সব তথ্য পাওয়া যেতো। এক্ষেত্রে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। নয়নকে যারা প্রশ্রয় দিয়েছে এবং তার গ্রুপে যারা সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
রিফাতের বাবার বক্তব্য: পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নয়ন বন্ড নিহত হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার শিকার রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ। তিনি বলেন, নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে, এতে আমার ছেলের আত্মা যদি একটু শান্তি পায়।
রিফাতের স্ত্রী মিন্নির বক্তব্য: রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানিয়েছেন রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। বরগুনা সদরের পূর্ব বুড়িরচর গ্রামে বন্দুকযুদ্ধে নয়ন বন্ড নিহত হয়েছেন বলে বাবার কাছ থেকে প্রথমে জানতে পারেন মিন্নি। নয়ন বন্ডের নিহত হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করে মিন্নি বলেন, শোকে বিধ্বস্ত আমি, ঠিক এমন একটা খবরের অপেক্ষায় ছিলাম। কারণ বিচারের জন্য আদালতে দৌড়াতে হলো না। বিচার হবে কি হবে না তা নিয়ে ছিল আতঙ্ক। নয়নের নিহতের মধ্য দিয়ে সব শঙ্কা এবং আতঙ্ক দূর হয়েছে।
মরদেহ দেখতে বরগুনায় মানুষের ঢল: আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়ন বন্ডের মরদেহ দেখতে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ঢল নেমেছে সাধারণ মানুষের। সেই ঢল সামলাতে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকেও। পরে লাইনে দাঁড় করে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষকে নয়ন বন্ডের মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেয় পুলিশ। এ সময় নয়ন বন্ডের মরদেহ দেখতে আসা সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার সংবাদ জানাজানির পরপরই বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গ ও এর আশপাশ এলাকায় অবস্থান নেয় উৎসুক সাধারণ মানুষ। পরে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাস্থল থেকে সকাল ৭টার দিকে নয়ন বন্ডের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসে পুলিশ।
আদালতে আসামি অলি ও তানভীরের জবানবন্দি: রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি অলি ও জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার তানভীর। সোমবার বিকাল তিনটার দিকে রিফাত হত্যা মামলার পাঁচ আসামিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। বিকাল ৫টার দিকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি অলি ও জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার তানভীর আদালতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী আসামিদের জবানবন্দি শেষে জেল হাজতে পাঠান। এ সময় অন্য তিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন তিনি।
স্বীকারোক্তিতে আসামি অলি আদালতকে জানায়, হত্যার আগের দিনের প্ল্যান অনুযায়ী ২৬ তারিখ সকালে রাকিবুল ইসলাম রিফাতের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা অস্ত্র নিয়ে কলেজ রোড এলাকায় রিফাত ফরাজীর কাছে পৌঁছে দেয় সে। রিফাত ফরাজী অস্ত্রের ব্যাগ একটি টিনের চালার ওপর রাখে। পরে ওই অস্ত্র নিয়ে রিফাত ফরাজী, রিফাত ও টিকটক হৃদয় নয়ন বন্ডের সঙ্গে হামলায় অংশ নেয়। রিফাত শরীফকে মারধরের সময় হত্যাকারীদের সহায়তা করে বলেও আদালতকে জানায় অলি।
অন্য আসামি তানভীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতকে জানায়, রিফাতকে হত্যার আগে বরগুনা সরকারি কলেজ মাঠে তাদের ০০৭ গ্রুপের একটি বৈঠক হয়। সেখানে রিশান ফরাজী তাকে ২৬ তারিখ কলেজ রোড এলাকায় আসতে বলে। কি জন্য আসতে হবে জানতে চায় তানভীর। পরে রিশান তাকে জানায় রিফাত শরীফকে খুন করা হবে। রিশান ফরাজীর নির্দেশনা অনুযায়ী ২৬ তারিখ ৯টার সময় কলেজ রোড এলাকায় হাজির হয় তানভীর। হামলা ও মারধরের সময় যাতে রিফাত শরীফ পালাতে না পারে এ জন্য তানভীর প্রতিটি গলিতে মানুষ রেডি করে রাখে। সবার অবস্থান নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল তার ওপর। আদালতে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া কয়েকজনের নামও জানায় তানভীর। জড়িতদের মধ্যে রয়েছে, সাব্বির আহমেদ নয়ন (নয়ন বন্ড), রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রাকিবুল ইসলাম রিফাত, রাব্বি আকন ও রায়হান। হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার জন্য অজ্ঞাত আরো অনেকে ছিল বলে জানায় তানভীর।

আদালতে ডিআইজি মিজানের এক ঘণ্টা: কারাগারে প্রেরণ

সকাল দশটা। আদালতপাড়ায় কড়া সতর্কতা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অপেক্ষায়। এমন প্রস্তুতিতে কৌতূহলী মানুষের জিজ্ঞাসা কে  আসবেন? আইনজিবীদের কেউ কেউ জিজ্ঞেস করছিলেন আসামি কে? তখন পুলিশ সদস্যরা মুচকি হেসে উত্তর দিচ্ছিলেন, ‘আসামি ডিআইজি স্যার। পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে আদালতে হাজির ডিআইজি মিজান। সাদা একটি জিপ গাড়ি থেকে তিনি নামেন। এর পরপরই নিজের পকেট  থেকে মোবাইল ফোন বের করে আইনজীবীকে ফোন দেন। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন বের করে কথা বলেন।
পরে পুলিশের বেস্টনির মধ্য দিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হয়, মহানগর  দায়রা জজ আদালতে।
বেলা পৌনে এগারোটার দিকে আদালতের কক্ষে ঢুকেন। আদালত কক্ষের ডান দিকের সারির শেষ বেঞ্চে বসেন তিনি। সেখানে বসেও তিনি এগারোটা ছয় মিনিটে ফোন বের করে কথা বলেন।  তার পেছনে ছিলেন দশজন পুলিশ সদস্য। পুলিশের এমন প্রোটোকল দেখে, আদালতের ভিতরে অনেক আইনজিবীই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, আসামিতো আসামিই তাহলে তাকে কেন এতো প্রটোকল দেয়া হবে? এতো প্রটোকল দেয়ার কি আছে? পুলিশের বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি মিজান প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা বসা ছিলেন পিছনের ওই  বেঞ্চে। এই ফাঁকে তার সঙ্গে কথা বলছিলেন পরিচিত অনেক আইনজিবী। ঠিক এগারোটা চব্বিশ মিনিটে তাকে তোলা হয় কাঠগড়ায়। এরপর শুরু হয় জামিন শুনানি।  সেখানে প্রায় ৫৪ মিনিট  দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাকে। কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর সময়টা তিনি কখনো ছিলেন হাসিমুখে, আবার কখনও নিরব।
জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, দুদকের পক্ষ  থেকে  যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মামলাটি প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। মানি লন্ডারিং, ঘুষ  দেয়া ও সম্পদ হিসাব বিবরণী বিষয়ে আসামির প্রতি অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেন, মিজানুর রহমান সম্মানিত ব্যক্তি।  দেশে বিদেশে তার অনেক প্রশংসা রয়েছে। আসামি তার সম্পদের হিসাব বিবরণী দুদকে দাখিল করেছেন। এড়াছাও তিনি বয়স্ক একজন মানুষ, শারীরিক ভাবেও অসুস্থ। তার বিরুদ্ধে  যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা জামিনযোগ্য।
তার জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি বলেন, দুদক যখন  যে এজাহারটি দায়ের করে তা শতভাগ তদন্ত করেই করে। কমিশন অভিযোগের সত্যতা  পেয়েই এ এজাহার দায়ের করেছে। আসামির চাকরি জীবনে কত টাকা আয় করতে পারবেন তা কমিশনের জানা রয়েছে। দুদকের দায়ের করা মামলার সব ক’টি ধারা জামিন অযোগ্য উল্লেখ করে তিনি তার জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে ডিআইজি মিজানুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর  আগে সোমবার হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য গেলে ডিআইজি মিজানকে পুলিশের হাতে তুলে দেন হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। গ্রেপ্তারের পর তাকে শাহবাগ থানায় নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে এই তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন ডিআইজি মিজানুর রহমান।
১৯শে জুন আদালত এক আদেশে মিজানুর রহমানের স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত ২৪শে জুন তিন  কোটি ২৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

‘বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের নিরাপদ ঠিকানা’

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিওইএফ) বার্ষিক সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে   শুরু হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনের একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন তিনি। দেশের অর্থনীতি এখন অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের নিরাপদ ঠিকানা। চীনের দালিয়ানে ৩ দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম’স অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস ২০১৯’ শীর্ষক এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধান, ব্যবসায়ী, সুধী সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং শিল্পীসহ প্রায় ১ হাজার ৮শ’রও বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। এটি ডব্লিউইএফ সামার দাভোস নামেও পরিচিত। সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘লিডারশীপ ৪.০- সাকসিডিং ইন এ নিউ এরা অব গ্লোবালাইজেশন।’ লিয়াওডং রাজ্যের দালিয়ান উত্তর পূর্ব এশিয়ার ব্যবসা এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং উত্তর চীনের হংকং হিসেবেও সুপরিচিত। চীনের প্রধানমন্ত্রী লী কেকিয়াং দালিয়ান আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে সকালে এই অ্যানুয়াল মিটিং উদ্বোধন করেন।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস সোয়াব এবং লিআনিং প্রদেশের গর্ভনর ত্যাং ইউজুন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে ডব্লিওইএফ’র বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দিয়েছেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সংস্কারের প্রতি তার দেশের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, আমরা বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নতুন যুগের ক্ষেত্র উন্মোচন করবো। লী কেকিয়াং সমৃদ্ধি এবং সংস্কার অব্যাহত রাখতে একটি সমন্বিত কৌশল প্রণয়ণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বিধি বিধান এবং আইনগুলোকে আমরা বাতিল করবো। চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উৎপানমুখী শিল্প কারখানাগুলোকে ইতিমধ্যে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। তার দেশের সেবা খাত অন্যান্য খাতের চাইতে দ্রুত বর্ধনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা তাদের জন্য সেবা খাতকে উন্মুক্ত করে দেয়ার বিষয়েও অঙ্গীকারাবদ্ধ। লী কেকিয়াং বলেন, অর্থনীতি এবং বাজার দুটোই একসঙ্গে দ্রুত বাড়ছে। কাজেই এজন্য বৈশ্বিক নীতিকে আরো উদারিকরণের এবং ব্যবসা বান্ধব করার প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের মন্থর গতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে চীনের প্রধানমন্ত্রী এই অবস্থার উত্তরণে নতুন অংশীদারিত্ব সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজন বাণিজ্য উদারিকরণ এবং সমতাভিত্তিক মুনাফা অর্জন।
সম্মেলনে বাংলাদেশী প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অটিজম এবং নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।
এদিকে সম্মেলনে যোগদানকারী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এই সম্মেলন থেকে বিশ্ব পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক অসমতা এবং প্রযুক্তিগত সংকটের বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের আহবান জানানো হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) একটি সুইজারল্যান্ডের জেনেভা ভিত্তিক সংগঠন এবং ১৯৭১ সালে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর জন্ম। এটি ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুইস ফেডারেল সরকারের আইনে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি পায়।
ডব্লিউইএফ’র লক্ষ্যে বলা হয়েছে এটি বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহকে ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং সমাজের অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং শিল্প খাতকে এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত হয়েছে।

তামিমের ক্যাচ মিস: বাংলাদেশের বিদায়, ভারত সেমিতে by ইশতিয়াক পারভেজ

শুরুতে টস হারলেন মাশরাফি। মোস্তাফিজ ছাড়া বল হাতে তেমন সুবিধা করতে পারলেন না টাইগার বোলাররা। ক্যাচ মিসের সঙ্গে ছিল মিস ফিন্ডিংও। ব্যাটিংয়ে ছিল টপ অর্ডারের ব্যর্থতা। সবকিছু মিলিয়ে এজবাস্টনের হতাশার এক দিনই পার করলো বাংলাদেশ। ৩১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭৯ রানের সময় আউট হলেন সাকিব। ৬ উকেট হারিয়ে তখন বড় ব্যবধানেই হারের শঙ্কা! কিন্তু ভারতের রক্ত ঠান্ডা করে দিলেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। প্রথমে সাব্বিরকে নিয়ে ৬৬, এরপর রুবেল হোসেনের সঙ্গে ২৯ রানের জুটি গড়লেন।
শেষ ১৪ বলে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৯ রান। অপরপ্রান্তে সাইফুদ্দিন অপরাজিত ৫১ রানে, তখনই জাসপ্রিত বুমরাহর দুই বলে রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজ বোল্ড হলে বামিংহামের এজবাস্টন স্টেডিয়ামে স্বপ্নের সমাধি ঘটে বাংলাদেশের। ২৮ রানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘন্টা বেজে যায় বাংলাদেশের, আর ভারত পাকা করেনি সেমিফাইনাল। আজ নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের। আগে সেমিফাইনালে নিশ্চিত করে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। অপর সেমিফাইনালিস্ট হতে পারে নিউজিল্যান্ড।
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ ৩’শ করে জিতেছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩২২ রান তাড়া করে জিতেছিল টাইগাররা। তাই শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষেও আশা ছিল। কিন্তু টপ অর্ডারের দায়িত্বহীন ব্যাটিং তাহতে দেয়নি। বিশেষ করে ওপেনার তামিম ইকবালের ব্যাট হাতে ব্যর্থতা আর ফিল্ডিংয়ে খামখেয়ালিপনা তাকে দাঁড় করাচ্ছে কাঠগড়ায়। গতকাল প্রায় প্রতিটি ম্যাচের মতোই আত্মবিশ্বাসী শুরু করেছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। প্রয়োজন ছিল দায়িত্ব নিয়ে দলকে এগিয়ে নেয়া। ৩৯ রানের জুটিও গড়লেন। কিন্তু বাজে এক শট হাঁকাতে গিয়ে অরক্ষিত স্টাম্প গুড়িয়ে গেল শামির বলে। ২২ রান করে দিনের হতাশা আরো বাড়িয়ে দিলেন। আশা ছিল সৌম্য সরকারকে ঘিরে। কিন্তু এদিনও ব্যর্থ টাইগারদের ভবিষ্যৎ। ৩৮ বলে ৩৩ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে জীবন দিলেন সৌম্য। দলীয় ৭৪ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের বিদায়। এরপর শুধু সাকিব আল হাসানের লড়াই। সঙ্গ দিতে এসে মুশফিকুর রহীম হতে পারলেননা দলের ভরসা। মুশফিক এদিন ২৪ রানে আউট হলেন চাহালের বলে। লিটন এসে আশা জাগালেন কিন্তু দায়িত্ব নিতে পারলেন না। পান্ডিয়ার ওভারে একটি দারুণ ছয় হাঁকালেন তিনি লং অনের উপর দিয়ে। ঠিক এক বল পরেই উচ্চবিলাসি শট। ফল ২২ রানে সাজঘরে। সেই সঙ্গে দলের হারও প্রায় নিশ্চিত করে দিলেন। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়েছেন। তবে ময়মনসিংহের আরেক তরুণ মোসাদ্দেককে তার ছাঁয়া মনে করা হচ্ছিল। তাই দলের শেষ ভরসা মনে হচ্ছিল তাকে। কিন্তু সাকিবকে সঙ্গ দিতে এসে ৩ রানেই বিদায়। এরপর হাল ছাড়লেন সহ অধিনায়কও। কত লড়বেন? ৭ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরি ও ৪ ফিফটির মালিক তিনি। ৫৪২ রান করে বিশ্বকাপের সেরা রান সংগ্রহকারীর তালিকাতে দ্বিতীয় স্থানে। গতকাল শেষ পর্যন্ত ৬৬ রান করে হাল ছাড়লেন তিনিও। দলের ১৭৬ রানের সময় সাকিবের বিদায়। কিন্তু কে জানতো এদিন সাইফুদ্দিন চমকে দিবেন সাবাইকে। প্রথমে সাব্বির রহমান রুম্মানকে নিয়ে দলের সর্বোচ্চ ৬৬ রানের জুটি। সাব্বির তার প্রমাণের ম্যাচে এসে ৩৬ রানের অবদান রেখেই দায়িত্ব শেষ করলেন। তখনো জয়ের সম্ভাবনা ছিল যদি তিনিও দায়িত্বশীল হতেন। এরপর অধিনায়ক মাশরাফি ৮ ও রুবেল হোসেন ৯ রান করে আউট হলেন। সেই সঙ্গে মিলিয়ে গেল সব স্বপ্ন। টাইগার ভক্তরা বেরিয়ে গেলেন নিরবে।
ক্রিকেটে ক্যাচ মিসকে বলা হয় খেলারই অংশ। আবার ‘ক্যাচ মিস যে ম্যাচ মিস’ এই কথাটিও সত্য। সেটা আরও বেশি প্রকট হয় যখন ক্যাচ ফসকায় এমন কোনো ব্যাটসম্যানের যে একাই সব তছনছ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। কাল এজবাস্টনে তামিম ইকবাল যার ক্যাচ ছাড়লেন, সেই রোহিত শর্মার ওয়ানডেতেই আছে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। তামিমের হাতে জীবন পাওয়া রোহিত আর ডাবল করতে পারেননি। ৯ রানে জীবন পেয়ে আউট হওয়ার আগে যোগ করেছেন আরো ৯৫ রান। তামিমের ভুল শেষ পর্যন্ত পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন মোস্তাফিজ। পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতের সংগ্রহটা আয়ত্তের মধ্যেই রাখেন বাংলাদেশের এ ‘কাটার মাস্টার’। বিনা উইকেটে ১৮০ রান করা ভারত থামে ৩১৪/৯-এ। বিশ্বকাপে এটি মোস্তাফিজুর রহমানের প্রথম পাঁচ উইকেট।

দুর্বল অর্থনীতির মূল উদ্বেগ নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ দফা প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে এবং ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী অথবা অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনীতির মূল উদ্বেগ নিরসনের লক্ষ্যে আজ পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, আমরা মাঝে মধ্যে শুধু কয়েকটি বৃহৎ অর্থনীতির সক্ষমতা অথবা তাদের প্রয়োজনের আঙ্গিকেই সবকিছু দেখি। কিন্তু টেকসই বিশ্বের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীসমূহের অথবা অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনীতিগুলোর মূল উদ্বেগ নিরসনের উপায়ও বের করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর বার্ষিক সভায় অংশ নিতে এখন চীনের দালিয়ান শহরে অবস্থান করছেন। তিনি আজ মঙ্গলবার বিকেলে ডালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ডব্লিউইএফ-এর সভায় ‘কো-অপারেশন ইন দ্য প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণকালে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার পাঁচ দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আমাকে বলছে যে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ও দুর্বল অর্থনীতিকে মাথায় রেখেই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে হবে। এগুলো হচ্ছে প্রথমত : দেশগুলোর মধ্যে পারস্পারিক শান্তি-সম্প্রীতি স্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি। দ্বিতীয়ত: টেকসই উন্নয়নের সব দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। তৃতীয়ত: দেশগুলোর পারস্পারিক স্বার্থে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। চতুর্থত: সকলের জন্য সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে সার্বিক উন্নয়ন করতে হবে। পঞ্চমত: প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয় সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন ভারতের সাথে গঙ্গা নদীর পানি বন্টন করা ছিল বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ইস্যু। তিনি বলেন, আমরা পারস্পারিক সমঝোতার ভিত্তিতে মিয়ানমার ও ভারতের সাথে আমাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত করেছি এবং এখন বাংলাদেশ ও ভারত আন্তঃসীমান্ত নৌপথ উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সব সময় বিশ্বাস করেন যে আয়তনের দিক দিয়ে ভারতের চেয়ে অনেক ছোট হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন ও যোগাযোগের মাধ্যমে এর ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা একটি নীতিভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। ভূ-রাজনীতি সবসময়ই জীবনের একটি অংশ। তবে আমাদের সতর্কতার সাথে ইস্যুগুলোকে মূল্যায়ন করে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আমরা স্বল্প সময়ের অর্জনের জন্য দীর্ঘদিনের স্বার্থকে বিসর্জন দিতে পারি না। শেখ হাসিনা বলেন, সকল দেশের মধ্যে অভিন্ন সমৃদ্ধি নিশ্চিতে এখনো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল অঞ্চল বলে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। একইভাবে বঙ্গোপসাগর একটি উদীয়মান ও সমৃদ্ধ অঞ্চল। এই অঞ্চলে ১.৫ বিলিয়ন লোকের বাস। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরের আশপাশে বসবাসকারী মানুষের উন্নয়নের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলটিকে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে।

বাংলাদেশে গ্যাসের দাম বাড়ায় আরো যেসব খাতে খরচ বাড়বে

বাংলাদেশে ১লা জুলাই থেকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, যার ফলে আবাসিক খাত থেকে শুরু করে পরিবহন, শিল্প খাতের মত অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকরা প্রভাবিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবাসিক খাতে দুই চুলার খরচ ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা আর এক চুলার খরচ ৭৫০ টাকা থেকে ৯২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গৃহস্থালি মিটারে দাম বেড়েছে প্রতি ঘনমিটারে ৯.১০ টাকা থেকে ১২.৬০ টাকা।
সিএনজি’র ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৩ টাকা করা হয়েছে, অর্থাৎ দাম বেড়েছে ৭.৫ শতাংশ।
এছাড়া বিদ্যুত ও সার উৎপাদনের জন্য, হোটেল ও রেস্তোঁরা, ক্যাটপিভ পাওয়ার, শিল্প ও চা বাগানে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তবে অপরিবর্তিত আছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম।
গড়ে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৭.৩৮ টাকা থেকে ২.৪২ টাকা বাড়িয়ে ৯.৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গড়ে দাম বেড়েছে ৩২.০৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এলএনজি’র আমদানি খরচ এবং বাংলাদেশের বাজারে গ্যাস বিক্রি থেকে আসা রাজস্ব আয়ের মধ্যে ঘাটতির পরিমাণ হবে ১৮ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা, যার মধ্যে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হওয়ার কথা ৮ হাজার ১৬০ কোটি টাকা।
এরপরও আরও ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ সরকারকে ভর্তুকী দিতে হবে এই খাতে।
মূল্যবৃদ্ধির যুক্তি সঠিক নয়
বাংলাদেশে যেই যুক্তিতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে, তা কতটা সঠিক সেবিষয়ে প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক ও অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ।
মিজ. আহমেদ বলেন, “কোনো দ্রব্যের উৎপাদন খরচ কিংবা বিতরণ খরচের ক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত কোনো প্রয়োজন হলে দ্রব্যের দাম বাড়াটা স্বাভাবিক।”
“দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি’র দাম বেড়ে যাওয়ায় এলএনজি আমদানি খরচ বেড়ে গেছে এবং তার ফলে গ্রাহক পর্যায়েও দাম বাড়াতে হচ্ছে।”
কিন্তু বাংলাদেশের গ্যাস উৎপাদনকারী এবং বিতরণকারী সংস্থাগুলো দুর্নীতিমুক্তভাবে স্বচ্ছতার সাথে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করলে দেশে গ্যাস আমদানির চাহিদা অনেক কমে যেত বলে মন্তব্য করেন মিজ. আহমেদ।
“গ্যাস উৎপাদনকারী এবং বিশেষ করে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিমুক্ত হলে, নিজেদের সিস্টেম লস কমালে এবং কার্যকরভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করলে বিপুল পরিমাণ এলএনজি আমদানি করা প্রয়োজন হয় না।”
মিজ. আহমেদ মনে করেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ এতটা অসন্তুষ্ট হতো না যদি উৎপাদন ও বিতরণে সিস্টেম লস বা দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা জবাবদিহিতার প্রয়াস থাকতো কর্তৃপক্ষের।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রাহকরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
আবাসিক খাত
গৃহস্থালির ব্যবহারে এক চুলা এবং দুই চুলা উভয় ক্ষেত্রেই মাসিক খরচ বেড়েছে ১৭৫ টাকা করে।
এর ফলে উচ্চ আয়ের মানুষের তুলনায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের দৈনন্দিন খরচের ওপর বেশি বোঝা তৈরি করবে।
পরিবহন খাত
সিএনজি’র দাম ৭.৫ শতাংশ বাড়ায় সরাসরি প্রভাবিত হবে পরিবহন খাত।
সিএনজি চালিত অটোরিকশার মত গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাসচালিত সকল গাড়ির ক্ষেত্রে যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি পাবে।
সার উৎপাদন
সার উৎপাদনের ক্ষেত্রে গ্যাসের মূল্য প্রতি ঘনমিটারে ২.৭১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪.৪৫ টাকা করা হয়েছে, দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৬৫ ভাগ।
মিজ. আহমেদ বলেন, “সরকার হয়তো কৃষককে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য করবে না, কিন্তু তাহলে সারের জন্য ভর্তুকীর পরিমাণ বেড়ে যাবে।”
সেক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে রাজস্ব ঘাটতি পূরণ করার যে কৌশল সরকার অবলম্বন করতে চাচ্ছে, আরেক খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকী দিয়ে সেই কৌশলও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন
বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৩.১৬ টাকা থেক বাড়িয়ে ৪.৪৫ টাকা করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে দাম বেড়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ।
স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করলে, এর ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দামও বাড়বে।
তবে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারনে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি হবে না।
শিল্প কারখানার পরিচালনা ব্যয়
শিল্পখাতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ বাড়িয়ে ৭.৭৬ টাকা থেকে ১০.৭০ করা হয়েছে।
এর ফলে শিল্প কারখানার পরিচালনা ব্যয় বাড়ায় সেসব কারখানার পণ্যের দাম বৃদ্ধি হতে পারে এবং প্রভাবিত করতে পারে গ্রাহকদের।
মিজ নাজনীন আহমেদ বলেন, “গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের গৃহস্থালির খরচ বা যাতায়াত খরচ তো বাড়বেই, পাশাপাশি শিল্প কারখানায় পণ্য উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় সেসব পণ্যের দাম বাড়ার ফলেও চাপ পড়তে পারে তাদের ওপর। “

সিলেটের নদে মিলল ইলিশ! by উজ্জ্বল মেহেদী

পাহাড়ি ঢলের ঘোলা পানি। নৌকা নিয়ে মাঝ নদে জাল ফেলে টানছিলেন মৎস্যজীবী বাচ্চু মিয়া। নদের গভীর থেকে হাতের কাছে জাল আসতেই অন্য রকম এক মাছের ঝিলিক। ঠিক অনুমান করতে পারছিলেন না। জাল থেকে হাতে নিয়ে দেখলেন ইলিশ।
সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলের পর সিলেটের চেঙ্গেরখালে বাচ্চু মিয়ার জালে ধরা পড়া ইলিশ-কথা ছড়িয়ে পড়েছে মৎস্যজীবী মহলে। এর আগে সিলেট অঞ্চলের বড় হাওর হাকালুকিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরার কাহিনি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। এবার নদে ইলিশ ধরা পড়ায় একই চাঞ্চল্য মৎস্যজীবী মহলেও দেখা গেছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চেঙ্গেরখালে ভাসান পানিতে মাছ ধরায় নিয়োজিত মৎস্যজীবীদের অন্যতম আকর্ষণ এখন ইলিশ। তরতাজা ইলিশ ধরা পড়ায় দামও ভালো। এক হালি ইলিশ নদীতীরে বসে চার থেকে পাঁচ শ টাকায় বিক্রি করছেন মৎস্যজীবীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম নিয়ামুল নাসের বলেছেন, ‘আগে আমাদের দেশে ইলিশের ব্যাপ্তি ছিল বেশি। অনেক জায়গায় মিলত এ মাছ। এর প্রবণতা কমে গিয়েছিল। বছর দু-এক হলো সিলেট অঞ্চলে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এটা শুভ সংবাদ।’
গত শনিবার চেঙ্গেরখাল এলাকার বাওরকান্দিতে গিয়ে মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কথা বলে ইলিশ ধরা পড়ার বিষয়ে জানা গেছে। যাঁর জালে প্রথম ইলিশ ধরা পড়েছিল, বাচ্চু মিয়া নামের এই মৎস্যজীবীর বাড়ি বাওরকান্দি গ্রামে। বাচ্চু মিয়া জানান, বছর তিনেক হলো ইলিশ ধরা পড়ছে হাওরে ও সুরমা নদীতে। চেঙ্গেরখালে এবারই প্রথম ধরা পড়েছে। গত এক সপ্তাহে তাঁর মতো অনেক মৎস্যজীবীর জালে ধরা পড়ছে ইলিশ।
বাচ্চু মিয়া বলছিলেন, পাহাড়ি ঢল নামলে নদের পানি ঘোলা হয়। আর ঘোলা পানিতে ইলিশ জালে আটকার সম্ভাবনা থাকে বেশি। এ ইলিশের ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম। মাঝেমধ্যে ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশও উঠছে। এ মৌসুমে প্রথম ইলিশ ধরা বাচ্চু বলেন, 'বাজারও চেঙ্গেরখালের ইলিশ বলে আলাদা কদর মিলছে!'
চেঙ্গেরখালের নদের আগে সুরমা নদীতে জেলের জালে ইলিশ ধরা পড়ে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে সিলেট অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাওর মৌলভীবাজারের হাকালুকিতে ধরা পড়েছিল ইলিশ।
চেঙ্গরখাল নদ সিলেট অঞ্চলে সীমান্ত নদনদী ও হাওর-বিলের সঙ্গে সংযোগের একটি অন্যতম শাখা নদ। সুরমায় মিলিত হওয়া এ নদে সারা বছরই পানি থাকে। বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানি সীমান্ত নদী হয়ে চেঙ্গেরখাল হয়ে সুরমা নদীতে গিয়ে পড়ে। সুরমা নদীতে নাব্যতা সংকট থাকায় চেঙ্গেরখালে পাহাড়ি ঢলের তোড় বেশি বলে জানিয়েছেন নদীতীরের বাসিন্দারা। এ জন্য সিলেটের হাওর কিংবা সুরমা নদীর ইলিশ চেঙ্গেরখালে পাওয়া যাচ্ছে বলে মৎস্যজীবীসহ স্থানীয়দের ধারণা।
হাওরে ইলিশ ধরা পড়ার কারণ সম্পর্কে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, হাকালুকির সঙ্গে কুশিয়ারা নদীর সংযোগ। এই কুশিয়ারা মেঘনার সঙ্গে মিলিত হওয়ায় সেখান থেকে ইলিশ হাওরে যেতে পারে। এই ধারায় হাকালুকিতে মাঝেমধ্যে ইলিশ ধরা পড়ত জেলের জালে। ২০১৬ সালের পর জুন-জুলাইয়ের দিকে ইলিশ বেশি ধরা পড়ছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ছিল বেশি। এবার হাকালুকির ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকার কুশিয়ারা নদী-সংলগ্ন এলাকা এবং হাওরের গভীর অংশে অন্যান্য বছরের তুলনায় ইলিশ কম ধরা পড়ছে।
সিলেটের চেঙ্গেরখাল নদে ইলিশ ধরা পড়ার বিষয়টি শুনেছেন বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ। আজ সোমবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'সিলেট অঞ্চলে নদনদী, হাওরে ইলিশ ধরা পড়ার বিষয়টি নিয়ে আশ্চর্য হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং জাটকা নিধন না করার সুফল এটি। দেশের বিভিন্ন নদ-নদীগুলো একে অপরের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। সে যোগসূত্রের মধ্য দিয়েই ওই নদে ইলিশ আসতে পারে।
আবুল কালাম আজাদ জানান, সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর গভীর অংশেও ইলিশ পাওয়ার তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া জাটকা নিধন বন্ধে ব্যাপক অভিযান হচ্ছে। যাতে মানুষ অনেক সচেতন হচ্ছে। ইলিশের বংশবৃদ্ধি হওয়ায় বিভিন্ন নদ-নদী পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে।

ভারসাম্যের মধ্যেই আছে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক by শিশির গুপ্ত

মার্কিন পণ্যের উপর ভারতের নতুন বাণিজ্য শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে টু্‌ইট করেছিলেন, যেটা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তেমন স্পর্শ করেনি বলে মনে হচ্ছে। সম্মেলনের ফাঁকে দুই দেশের নেতা যখন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন, সেখানে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এবং এর ফল হিসেবেই বিশ্বের বৃহত্তম দুই গণতান্ত্রিক দেশের সম্পর্কটা এখনও ভারসাম্যের মধ্যেই রয়ে গেছে।
নয়াদিল্লী ও ওয়াশিংটনের কূটনীতিকদের মতে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন কোন অগ্রগতি না হলেও, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠকের মধ্য দিয়ে বোঝা গেছে যে, দুই পক্ষই খুব ভালো করেই জানে যে, বাণিজ্য সম্পর্কিত বিভেদ মেটানো বা তৃতীয় কোন পক্ষের ব্যাপারে সমস্যা সমাধানের জন্য কোথায় ও কিভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
মোদির সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মোদি বলেছেন যে, তিনি আশা করছেন যে, ভারতের সাথে শিগগিরই একটা বাণিজ্য চুক্তি হবে।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ভারত সরকারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন যে, “লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদি যে বিশাল জনসমর্থন পেয়েছেন, সেটাকে অন্যান্য নেতারা স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিশেষভাবে সেটার উল্লেখ করেছেন। দুই দিনের এই সম্মেলনে, ২০ বিশ্ব নেতার মধ্যে ১৮ জনের সাথে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার সাথে খুবই গঠনমূলক ও ফলপ্রসু বৈঠক হয়েছে”।
তবে, সবচেয়ে বড় ইতিবাচক ফল এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক থেকে, কারণ দুই পক্ষই এখানে মোদি-ট্রাম্পের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন।
দুই পক্ষেরই বাণিজ্য বিষয়ক নীতি নির্ধারকরা একসাথে বসে পরস্পরের স্বার্থের জন্য উপযুক্ত পথ বের করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম কেনা নিয়ে যে বিভেদ তৈরি হয়েছে, ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর অজিত দোভাল এবং মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর জন বোল্টন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সেটির ব্যাপারে সুরাহা করবেন।
দোভাল এরই মধ্যে একটা টেকনিক্যাল সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন যাতে ভারতের মার্কিন প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি এস-৪০০ সিস্টেম কেনার কারণে কোনভাবেই ব্যাহত না হয়। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২৪টি হেলিকপ্টার কেনার জন্য চুক্তিও চুড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে ভারত। একই সাথে নয়াদিল্লীর জন্য সার্ফেস টু এয়ার মিসাইল প্রতিরক্ষা সিস্টেম কিনবে ভারত। সশস্ত্র ড্রোন কেনার বিষয়টি এখনও চুড়ান্ত হয়নি, কারণ এটার দাম অনেক বেশি। তাছাড়া পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের মতো ব্যাপক উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় এগুলো টিকতে পারবে কি না, সেটা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও কিছু সরঞ্জামাদি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের এবং এগুলো কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণের দায়িত্ব এখন মোদি সরকারের।
সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভারত আর যুক্তরাষ্ট্র একই অবস্থানে ছিল। দুই পক্ষই পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে দোষারোপ করে আসছে। তাদের অভিযোগ হলো রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় থেকে এই গ্রুপগুলো ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব ও আফগানিস্তানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়কেই বলেছে পারস্য উপসাগরে তাদের তৎপরতা কমিয়ে আনতে, যেখানে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে সৌদি থেকে তিনি এই আশ্বাস পেয়েছেন যে, সঙ্কট বেড়ে গেলে তারা ভারতের তেল সরবরাহের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে।

মেক্সিকো নয়, যুক্তরাষ্ট্রেই আশ্রয় চান অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী মধ্য আমেরিকার অনেক শরণার্থীকে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত মার্কিন অভিবাসন নীতিবিরোধী নেতাদের সমর্থনে এত দিন মেক্সিকোর অন্যতম সহিংসতাপ্রবণ এক শহরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন তাঁরা। অবশেষে অভিবাসীরা গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন বলে রয়টার্সের খবরে জানানো হয়।
তীরের কাছাকাছি উপুড় হয়ে পড়ে থাকা এল সালভাদরের নাগরিক অস্কার (২৫) ও তাঁর দুই বছর বয়সী মেয়ে ভ্যালেরিয়ার মরদেহের ছবি সম্প্রতি সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে। এ ঘটনার সূত্র ধরে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ অভিবাসন সমস্যা সমাধানে ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজের অনুমোদন দেয়। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে উপচে পড়া শরণার্থীদের সাহায্য করতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের সদস্যরা। এই নীতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের কাছ থেকে আবেদনের ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষারত শরণার্থীদের মেক্সিকো সীমান্তে পাঠানো হয়। একে রিমেইন ইন মেক্সিকো বা মাইগ্রেন্ট প্রোটেকশন প্রটোকলস (এমপিপি) বলা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে জানুয়ারি মাস থেকে অভিবাসন সুরক্ষামূলক এ কর্মসূচি চালু করা হয়। তবে মার্কিন ট্রাম্পবিরোধী নেতা, অধিকার রক্ষা দল এবং অন্যরা কর্মসূচিটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এমপিপির কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার শরণার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই এল সালভাদর, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাসের নাগরিক।
মেক্সিকোর সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে ‘সীমান্তে শরণার্থীর স্রোত আটকানোর ব্যবস্থা’ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, সীমান্তে অবৈধ শরণার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে মেক্সিকো ব্যবস্থা না নিলে মেক্সিকো থেকে আমদানি করা পণ্যে প্রতি মাসে ৫ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। পরে মেক্সিকো চুক্তি করে দেশজুড়ে, বিশেষত মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করতে রাজি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী মর্যাদাপ্রত্যাশীদের মেক্সিকোতে পাঠানো এবং এ-সংক্রান্ত আইনি লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সেখানেই অপেক্ষমাণ রাখার কর্মসূচিও বিস্তৃত করবে ওয়াশিংটন। এর জের ধরে এমপিপি চুক্তি ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন শহরে। শরণার্থীরা কিউবাসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন।
হন্ডুরাসের সহিংসতা থেকে বাঁচতে ছোট তিনটি শিশুসহ সালভাদরের এক যুবককে নিয়ে পালিয়েছিলেন এক তরুণ দম্পতি। সিউদাদ জুয়ারেজ হয়ে বহু কষ্টে এল পাসোতে পৌঁছান তাঁরা। তাঁদের হয়ে সীমান্তে অবস্থানরত কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানান টেক্সাসের এল পাসোর বিশপ মার্ক সেইজ। প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তারা বিশপের কথা রাখলেও পরে জানিয়ে দেন, অভিবাসন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেই অবস্থান করতে হবে পরিবারটির।
বিশপ মার্ক সেইজ অভিবাসন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হন্ডুরাসের পরিবারটি প্রায় তিন মাস ধরে সীমান্তে অপেক্ষা করছে। ৩, ৫ এবং ৯ বছর বয়সী তিনটি শিশুকে নিয়ে পরিবারটিকে সীমান্তে এভাবে ফেলে রাখার বিষয়টি ভীষণ অমানবিক।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখে গির্জার ধর্মপ্রচারক জোট। তারা বলেছে, অভিবাসন নীতির খপ্পরে পড়ে নির্মম সহিংসতা আর পাচারের সাক্ষী হচ্ছে শিশুরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন সুবিধাজনিত প্রতিবেদনে পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘নির্দয়’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ধর্মপ্রচারক জোট।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অধিকার রক্ষা করতেই হবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে মেক্সিকো তেমন বাধা দেয় না। এ নিয়ে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপোড়েনও আছে।
ট্রাম্পের অভিবাসন সুরক্ষা নীতির ত্রুটিতে মেক্সিকো সীমান্তে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শরণার্থীরা। ছবি: রয়টার্স।

দুবাইতে ৬ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না ৩০০ কর্মী, রয়েছেন বাংলাদেশিও

কয়েক মাস ধরে বেতন না পেয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য হচ্ছেন প্রায় ৩০০ বিদেশি কর্মী। তাদের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিকরা রয়েছেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এসব কর্মীর নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ভিসা নবায়নে অনীহা দেখানোয় খাবার আর স্বাস্থ্য সংকটে ভুগছেন তারা। দুবাইয়ের দার আল বার সোসাইটি নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান এসব কর্মীকে সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস।
বেতন না পাওয়া এসব কর্মী জানিয়েছেন, এক বছরেরও বেশি সময় আগে থেকে বেতন পেতে দেরি হতে শুরু করার পর থেকেই সংকট শুরু হয়। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা তিন মাস বেতন পান না, আবার কেউ কেউ বলছেন পাঁচ মাস বা তার চেয়েও বেশি দিন বেতন পান না।
তবে শেষ পর্যন্ত সোনাপুরে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গায় আশ্রয় পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। তহবিল সংকটের কারণে সাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে এখন কর্মহীন হয়ে আছেন তারা।
নিজেদের হতাশার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে ৩০ বছর বয়সী এক কর্মী বলেন, বেশ কয়েক মাস কাজ করা বন্ধ থাকায় হাতে কোনও টাকা পয়সা নেই। বাড়িতে টাকা পাঠানোর কথা বাদই দিলাম, এখন আমাদের খাওয়ার মতো খাবারই নেই। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, পাসপোর্টও নিয়োগদাতার কাছে থেকে গেছে। নিয়োগদাতা প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি দিয়েই যাচ্ছেন শিগগিরই পাওনা দিয়ে দেবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই পাইনি। কাগজপত্র না থাকায় অন্য কোথাও কাজ করতে পারছি না। আয়ের কোনও উপায় নেই, এমনকি বাড়িও ফিরে যেতে পারছি না। 
আরেক কর্মী খালিজ টাইমসকে বলেছেন, খাবার কেনার মতো টাকা না থাকায় আমরা প্রচণ্ড খারাপ পরিস্থিতিতে আছি। পথচারী ও কাছের হোটেল মালিকদের দয়ায় আমরা বেঁচে আছি। কিন্তু প্রতিদিনই তারা আমাদের খাবার দেবে না। আর ভিক্ষা করাও খুবই বিব্রতকর। আমরা এখানে সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে এসেছি। আয় করে নিজের এবং পরিবারের দেখাশোনা করার জন্য এসেছি। ভিক্ষা করতে বা অবৈধভাবে বসবাস করতে আসিনি। নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ভিসা নবায়ন না করে আমাদের এই পরিস্থিতিতে ফেলেছে।
ভারতের কনসাল জেনারেল বিপুল খালিজ টাইমসকে বলেছেন, দূতাবাসের একজন একটি দল নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। আর নিয়োগদাতা শিগগিরই এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বিপুল বলেন, নিয়োগদাতা বলেছেন তিনি ব্যবসায়িক সমস্যায় আছেন, আর সে কারণে কর্মীদের বেতন দিতে পারেননি। তারপরও দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এরইমধ্যে কয়েক জন শ্রমিকের এক মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। শিগগিরই বাকি কর্মীদের বেতন জোগাড় করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবো। আমিরাতের মানব সম্পদ বিভাগকে আমরা ঘটনাটি জানিয়ে রেখেছি।
বেতন না পাওয়া এসব কর্মীর জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে বুধবার থেকে দার আল বার সোসাইটির পক্ষ থেকে তাদের মধ্যে খাবার বিতরণ ছাড়াও মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে।
দাতব্য প্রতিষ্ঠানের খাবারের অপেক্ষায় লাইন ধরে দাঁড়ানো বেতনহীন বিদেশি কর্মীরা

ভারতে সংখ্যালঘুদের মধ্যে বেকারত্ব বেশি

ভারতে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘুদের মধ্যে। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশটিতে শহর ও গ্রামাঞ্চলের নারী-পুরুষের মধ্যে সংখ্যালঘুরাই বেশি বেকার। লোকসভায় গত বৃহস্পতিবার এ সমীক্ষা তুলে ধরেন ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি।
লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক প্রশ্নের জবাবে মুখতার আব্বাস নকভি ‘পিরিয়ডিক লেবার সোর্স সার্ভের’ বরাত দিয়ে সংখ্যালঘুদের বেকারত্বের চিত্র তুলে ধরেন। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ওই ‘২০১৭-১৮ সালের শ্রমিকদের সমীক্ষা বা’ পিরিয়ডিক লেবার সোর্স সার্ভে’ প্রতিবেদন।
এতে বলা হয়, ভারতে শহরাঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হিন্দু পুরুষ বেকার, নারীদের মধ্যে এই হার ১০ শতাংশ। অন্যদিকে, সাড়ে ৭ শতাংশ মুসলিম পুরুষ ও সাড়ে ১৪ শতাংশ মুসলিম নারী বেকার। খ্রিষ্টান পুরুষদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, নারী বেকারের হার ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ। শিখ পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ শিখ নারী বেকার।
গ্রামাঞ্চলে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হিন্দু পুরুষ ও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হিন্দু নারী বেকার। মুসলিম পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ৫ দশমিক ৭ শতাংশ মুসলিম নারী বেকার। খ্রিষ্টান পুরুষদের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং নারীদের ৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেকার। শিখ পুরুষদের বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, নারী বেকারের হার ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

আসামে অবাধে চলছে হাতি পাচার

ভারতের আসাম রাজ্য থেকে অবাধে হাতি পাচারের ঘটনা ঘটছে। ২০০৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৩২০টি হাতি অন্য রাজ্যে পাচার হয়েছে। বন্য জন্তুদের ওপর অপরাধ প্রতিরোধ শাখার (ডব্লিউসিপিইউ) সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের অজান্তেই আসাম রাজ্যের হাতি চলে যাচ্ছে অন্য রাজ্যে। ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ২৫৯টি হাতি অন্য রাজ্যে পাচার হয়েছে। আর ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পাচার হয়েছে ৬১টি হাতি। মোট ৩২০টি হাতি আসাম থেকে অন্য রাজ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিহারের শোনপুরে বসে বিখ্যাত পশুমেলা। আসাম থেকে অনেক হাতি সেই মেলায় নিয়ে গিয়ে কেরালা বা তামিলনাড়ুতে বিক্রি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন মন্দিরে হাতিকে ভক্ত আকর্ষণের কাজে ব্যবহার করা হয়। হাতিকে নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খেলাও। সে সব কারণে আসামের হাতি কিনতে আগ্রহী মন্দিরের কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া প্রত্যন্ত এলাকায় মালামাল পরিবহনের কাজেও ব্যবহার করা হয় হাতি। আসামে গরুর গাড়ির মতো হাতির গাড়িও রয়েছে।
গুজরাটে রথ টানার জন্য চারটি হাতি আসাম থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবেশপ্রেমীরা প্রতিবাদ শুরু করেন। হাতি পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে গুয়াহাটির উচ্চ আদালতে মামলাও চলছে।
ভারতীয় বন্য আইনে বন্য জন্তু পোষা ও বিক্রির ওপর রয়েছে নানা নিষেধাজ্ঞা। তবে সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুসারে, হাতির ব্যাপারে আইন অমান্যের ঘটনা ঘটছে। অথচ এ ব্যাপারে আসাম সরকার বা সরকারের বন দপ্তর নির্বিকার।

ভারতে ‘ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি’ ঘোষণার দাবি

‘ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি’ বা জলবায়ু বিষয়ক জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য ভারত সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন কমপক্ষে সাড়ে চার লাখ মানুষ। ভয়াবহ দাবদাহ ও পানির অভাবে অতীষ্ঠ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে সরকারের প্রতি দুটি আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন ওইসব মানুষ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চেইঞ্জ ডট অর্গ-এ একটি আবেদন করেছিলেন জলবায়ুু বিষয়ক সুইডিশ অধিকারকর্মী, টিনেজার গ্রেটা থানবার্গ। তিনি একজন ছাত্রী। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্ববাসীর করণীয় নিয়ে আবেদন জানিয়ে আসছেন। এ জন্য তাকে নোবেল পুরস্কারে মনোনয়ন দেয়া হয়।
তার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মে মাসে ১৬ বছর বয়সী ভারতীয় ছাত্র আমান শর্মা ওই একই ওয়েবসাইটে একটি পিটিশন জমা দেন। তাতে তিনি বলেন, প্রতি বছরই বিশ্ব অধিক থেকে অধিক গরম হয়ে উঠছে। শুষ্ক থেকে শুষ্ক হয়ে উঠছে। মানুষ পিপার্স হয়ে উঠছে। ঘটবে অধিক হারে দূষণ। শুক্রবার নাগাদ তার পিটিশনে সাড়া দিয়েছেন কমপক্ষে এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ। আমান শর্মা বলেছেন, আমি সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য এই প্রচারণা শুরু করেছি। কারণ, আমরা যদি এখনও নীরব হয়ে থাকি, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের টিকে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়বে।
দেশের পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে তার অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশে সবুজায়ন করতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য ২০১৫ সালে প্যারিসে জলবায়ু বিষয়ক যে চুক্তি হয়েছিল তা মেনে চলার দাবি তার। এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোনো সাড়া দেয় নি।
এরই মধ্যে আমান শর্মার এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন বেশ কিছু চলচ্চিত্র তারকা। তার মধ্যে রয়েছেন নাথালি কেলি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে টিভি সোপ ‘ডাইন্যাস্টি’র অভিনেত্রী। এ ছাড়া আছেন বলিউডের কিছু তারকা। আমান শর্মার পরবর্তী টার্গেট হলিউডের শক্তিধর অভিনেতা ও পরিবেশবিদ লিওনার্দো ডি’ক্যাপ্রিওর মনোযোগ আকর্ষণ করা। বুধবার ডি’ক্যাপ্রিও তার ইন্সটাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর চেন্নাইয়ের নারীদের ছবি সেটা। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় পানিশূণ্য একটি কূপ থেকে ওই নারীরা কিভাবে পানি সংগ্রহ করছেন। এটা এমন হাজার হাজার নারীর নিত্যদিনের লড়াই হয়ে উঠেছে।
এ মাসের শুরুর দিকে চেন্নাইয়ের প্রধান চারটি পানির সংরক্ষণাগার শুকিয়ে যাওয়ায় তা বিশ্বজুড়ে আলোচনায় চলে আসে। ২০১৮ সালে বাজে আবহাওয়ার কারণে সেখানে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে অধিবাসীদের মধ্যে পানি দেয়া হচ্ছে রেশনিং করে। ২০২০ সালের মধ্যে ২১টি শহরের ভূগর্ভস্থ পানি ফুরিয়ে যাবে বলে পূর্বাভাষ দেয়া হয়েছে। চেন্নাই তার মধ্যে অন্যতম। এ কথা গত বছর প্রকাশিত সরকারের থিংক ট্যাংক বলে পরিচিত নীতি আয়োগ-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় পানির ভয়াবহ সঙ্কটে ভারত। ভারতের অর্ধেক মানুষ ভয়াবহ পানিসঙ্কটের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
দেশের উত্তরে এ বছরই তীব্র দাবদাহে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৬ জন। রেকর্ড ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নয়া দিল্লিতে। ফলে মুম্বই ভিত্তিক ইন্সটাগ্রামের প্রভাবশালী এক ব্যক্তি জিতেন্দ্র শর্মাও আমান শর্মার মতো একটি পিটিশন করেছেন এ সপ্তাহে। শুক্রবার নাগাদ তাতে স্বাক্ষর করেছেন প্রায় তিন লাখ মানুষ। জিতেন্দ্র আশা করেন, সরকার জলবায়ু বিষয়ক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করবে। এটা এখন সময়ের দাবি। এমন পদক্ষেপ নিয়েছে যেসব দেশ তিনি উদাহরণ হিসেবে সেগুলোর কথা বলেছেন।

(যে ছবি কাঁদায়) এ যেন আরেক আয়লান

আবারও একটি ছবিকে কেন্দ্র করে কাঁদছে বিশ্ব মানবতা। একটি ছবি। কিন্তু তার মধ্যে সারাবিশ্বে নির্যাতিত, নিপীড়নের শিকার কোটি কোটি মানুষের আর্তনাদ ফুটে উঠেছে। বুঝিয়ে দেয় মানুষ কতটা বিপন্ন হলে জীবনকে তুচ্ছ ভাবে। একটু বাঁচার আশায় সবচেয়ে মূল্যবান জীবনকে বাজি রাখে। আয়লান কুর্দি একবার বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল যুদ্ধের ভয়াবহতা। সমুদ্রের তীরে উপুর হয়ে মৃত পড়ে থাকা ছোট্ট শিশু আয়লান কুর্দি বিশ্বনেতাদের চোখে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল সিরিয়ার শরণার্থীদের দুর্দশা।
এবার যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে রিও গ্রান্ডে নদীর তীরে যেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো।
এখানে অস্কার আলবার্তো মার্টিনেজ রমিরেজ নামের এক পিতা তার ২৩ মাস বয়সী কন্যা ভ্যালেরিকে পিঠে নিয়ে নদী পাড় হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন ওই নদী পাড়ি দেয়া সম্ভব হবে তার জন্য। কিন্তু এর খরস্রোতের বিষয় তিনি বুঝতে পারেন নি। মেয়েকে পিঠে নিয়ে সাঁতরাতে শুরু করেন রমিরেজ। তিনি পারলেন না। স্রোত তাকে পরাস্ত করলো। রমিরেজ তার কন্যাকে পিঠের সঙ্গে নিয়ে মারা গেলেন। তাদের মৃতদেহ ভেসে উঠলো রিও গ্রান্ডে নদীর তীরে। তখনো ওই ছোট্ট ভ্যালেরি তার পিতার কাঁধ জড়িয়ে ধরে ছিল। তার মাথা পিতার টি-শার্টের ভিতরে। সাংবাদিক জুলিয়া লি ডাক এই ছবি ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়ার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। সিএনএন সহ পশ্চিমা সব টেলিভিশন গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে সেই ছবি আর অভিবাসীদের নির্মমতা। সে ছবি দেখে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘরের কোণে একা একা কাঁদছেন অনেক নরম মনের মানুষ। কঠিন মনের মানুষদের মধ্যেও বড় রকমের খোঁচা দিয়েছে রমিরেজ ও ভ্যালেরির ওই ছবি।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, রিও গ্রান্ডে নদীর তীরে কর্দমাক্ত মাটির ভিতরে মুখ ডুবিয়ে দিয়ে পড়ে আছেন পিতা ও তার কন্যা। কন্যাটির মাথা তার পিতার টি-শার্টের মধ্যে লুকানো। একটি হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পিতার কাঁধের ওপর। রমিরেজ ও তার কন্যা ভ্যালেরি ডুবে মারা যাওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে সোমবার এই ছবি ধারণ করেছেন সাংবাদিক জুলিয়া। এ ছবিতে ফুটে উঠেছে কি এক অভিপ্রায় নিয়ে তিনি নদী সাঁতরে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেছিলেন। মানুষ কি ভয়াবহ যন্ত্রণা আর ঝুঁকি নিয়ে উত্তর দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছে তারই যেন এক জীবন্ত ছবি হয়ে উঠেছে এটি। এমন ঘটনা হয়তো অনেকই ঘটে। কিন্তু তা থেকে যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে।
এমন ছবি যুদ্ধ ও অসহনীয় দুর্ভোগের ফলে শরণার্থী অথবা অভিবাসী হওয়া মানুষের ভয়াবহতার বিষয়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এতে শক্তিশালী বার্তা প্রকাশ পায়। মনে আছে, সিরিয়ার আলেপ্পোর ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে রক্তাক্ত সিরিয়ান একটি শিশুকে উদ্ধারের কথা। সেই ছবি আইকনিক হয়ে আছে। অথবা একটি অভুক্ত শিশুকে ১৯৯৩ সালে গুলি করে হত্যার কথা। আয়লান কুর্দির কথা। এসব ছবির সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে রমিরেজ ও তার শিশু কন্যার ছবি। মানুষের সচেতনার পর্দা যেন ফুটো করে দিয়েছে এসব।
এল সালভাদরের পরিবার রমিরেজের। তিনি ২৫ বছর বয়সী একজন যুবক। মেয়ে ভ্যালেরি ও স্ত্রী তানিয়া ভ্যানেসা আভালোসকে নিয়ে গত সপ্তাহান্তে তিনি মেক্সিকোর মাতামোরোস শহরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছেন। তার আশা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করবেন। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত সেখানকার আন্তর্জাতিক যে সংযোগ সেতু সেটার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ খবর শুনে তারা রিও গ্রান্ডে নদীর তীর ধরে হাঁটা শুরু করেন। এক সময় মনে করেন, এ নদী পাড়ি দিতে পারবেন সাঁতরে। 
ফলে পরিবারটি রোববার বিকালে একসঙ্গে যাত্রা শুরু করেন। রমিরেজ তার মেয়েকে পিঠে নেন। তার টি-শার্টের ভিতরে মেয়েকে নিয়ে সাঁতার শুরু করেন। পিছনে সাঁতরাতে থাকেন আভালোস। তিনি ছিলেন পারিবারিক এক বন্ধুর পিঠে। ভ্যালেরিকে পিঠে নিয়ে রমিরেজকে সাঁতরে নদীর অপর পাড়ের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে দেখেন আভালোস। কিন্তু রমিরেজকে আস্তে আস্তে ক্লান্ত হয়ে পড়তে দেখেন তিনি। এ অবস্থায় আভালোস সিদ্ধান্ত নেন, তিনি আর সামনে এগুবেন না। ফিরে আসেন মেক্সিকো প্রান্তে নদীর তীরে।
আভালোস তীরে এসে পিছনে ফিরে তাকান। দেখতে পান তার স্বামী ও কন্যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রান্তে নদীর তীরের খুব কাছাকাছি। এক সময় তারা ডুবে যায়। স্রোত তাদেরকে ভাসিয়ে নিতে থাকে। সোমবার তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ। দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে ম্যানুয়েল লোপেজ অব্রাডর বলেছেন, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

শিগগিরই রোহিঙ্গা শিবিরে আসছেন মিয়ানমারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়া না হয় তাহলে ‘এলার্ম বেল’ বাজাবেন মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের দূত ক্রিস্টিন শ্রানার-বার্গেনার। সোমবার তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ধীরগতিতে এগুচ্ছে। এক্ষেত্রে যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়া না হয় তাহলে এটা হবে এলার্ম বেল বাজানোর সময়। অন্যদিকে, রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কি কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা ব্যাখ্যা করতে মিয়ানমারের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশে আসবেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাউ ডু সুয়ান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এক বৈঠকে সোমবার এসব কথা বলেছেন ক্রিস্টিন শ্রানার-বার্গেনার এবং হাউ ডু সুয়ান। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি ও এএফপি। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, শিগগিরই, হতে পারে জুলাইয়ের শেষের দিকে, কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে তার সরকার একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাবে। ওই প্রতিনিধিরা বাস্তুচ্যুত লোকজনের কাছে ব্যাখ্যা করবেন তাদের ফিরে যাওয়া ও পুনর্বাসনের জন্য কি কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
প্রায় দুই বছর আগে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নৃশংসতার শিকার হয়ে কমপক্ষে ৭ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। কিন্তু তাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির অভাব রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব, সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রÑ অনেক দেশের হতাশাজনক বক্তব্য ও প্রশ্নের বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কথা বলছিলেন ক্রিস্টিন শ্রানার-বার্গেনার। তিনি আরো বলেন, মাঠপর্যায়ে বড় ধরণের কোনো পরিবর্তন নেই। এক্ষেত্রে তিনি অনেক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে ইঙ্গিত করেন। এর মধ্যে রয়েছে, সেখানকার বেসামরিক নেতাদের চরম প্রতিকূল পরিবেশ অতিক্রমের বিষয়। এমন পরিবেশে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রভাব অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমারের সেনবাহিনী। তা ছাড়া মিয়ানমারের ভিতরে রয়েছে অসংখ্য জটিলতা। এসব জটিলতা অন্তরায় হয়ে আছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে রোহিঙ্গা সঙ্কট। তিনি মিয়ানমারের বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা ৭০ বছরের কথা উল্লেখ করেন। বলেন, সেখানে সক্রিয় রয়েছে ২১টি সশস্ত্র গ্রুপ। রয়েছে উন্নয়নের অভাব। সেখানে মাদক উৎপাদন হয়। সেখান থেকে মানব পাচার হয়।
ক্রিস্টিন শ্রানার-বার্গেনার বলেন, মিয়ানমারে বিদ্বেষপূর্ণ বৈষম্য ও সহিংসতা, বিশেষ করে রাখাইনের সহিংসতার ইতি ঘটানো রয়েছে তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে। রাখাইন রাজ্য হলো রোহিঙ্গাদের বসতি। সেখানে বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকরা পড়ে আছেন এক লাখ ২৮ হাজার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা। তাদের অনেকে সেখানে আছেন প্রায় ৭ বছর ধরে। এক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে রাখাইনের লড়াই বন্ধে আরো অনেক বেশি করার আহ্বান জানান শ্রানার। তিনি বলেন, রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে লড়াই বন্ধ করতে হবে। আরাকান আর্মি হলো একটি সুপ্রশিক্ষিত গেরিলা বাহিনী। তারা বৌদ্ধ জাতিগোষ্ঠীর একটি গ্রুপ। রাখাইনে শায়ত্তশাসন চায় তারা। শ্রানার বলেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের লড়াইয়ে ৩০ হাজার বৌদ্ধ ও মুসলিম বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, শরণার্থী সঙ্কটের একটিই সমাধান আছে। তা হলো তাদেরকে নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো। রাখাইনে এমন পরিবেশ সৃষ্টির মূল দায়িত্ব পড়ে মিয়ানমারের ওপর।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে ‘বাঙালি’ হিসেবে দীর্ঘদিন বলে দাবি করে আসছে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার। এসব রোহিঙ্গা কয়েক প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বসবাস করলেও তাদেরকে বাঙালি অভিহিত করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশী হিসেবে জাহির করে দেশটি। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের অধীনে তাদের কারো কোনো নাগরিকত্ব নেই। এর ফলে তারা হয়ে পড়েছেন রাষ্ট্রহীন। তাদের চলাফেরায় কোনো স্বাধীনতা নেই। নেই মৌলিক কোনো অধিকার। ২০১৭ সালের আগস্টে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে সেনাবাহিনী ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালানোর পর রোহিঙ্গা সঙ্কট যেন আগ্নেয়গিরির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে। এর ফলে লাভার মতো রোহিঙ্গার ¯্রােত আসতে থাকে বাংলাদেশে। সেনাবাহিনী তাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। গণহত্যা চালায়। পুড়িয়ে দেয় গ্রামের পর গ্রাম। এ জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন।
রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি পলিটিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ইলেন ফ্রেঞ্চ। তিনি বলেছেন, রাখাইনের অবস্থা উন্নয়নে খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির অব্যাহত লড়াই দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে বেসামরিক জনগণের হতাহত হওয়ার ঘটনা। তিনি আরো জানান, রোহিঙ্গাদের এখনও ফিরে যাওয়ার মতো উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয় নি বলে মনে করে জাতিসংঘ, এর সঙ্গে একমত যুক্তরাষ্ট্র। রাখাইনে সরকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে রেখেছে। এতে সংশয় হয় তাদের পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি নিয়ে। যে পরিবেশে রোহিঙ্গারা নিরাপদে বসবাস করবেন।
ওই বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, রাখাইনে ফিরে যেতে আবেদন করেছে ৩০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা। এর মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ২০০ জনকে সাবেক অধিবাসী হিসেবে যাচাই করা হয়েছে। তারা যেকোনো সময় রাখাইনে ফিরতে পারবে।

“ধৈর্য হারাচ্ছে মুসলিমরা”, মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব দিল্লির শাহী ইমাম

লিঞ্চিং নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন দিল্লির বিখ্যাত জামা মসজিদের শাহী ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারি। তাঁর অভিযোগ, দেশ জুড়ে ক্রমশ বাড়ছে মব লিঞ্চিং এর ঘটনা। আর গো রক্ষার নামে বাড়ছে মুসলিম দের হত্যার ঘটনা। ২০১৭ তে রাজস্থানের আলোয়ারের মব লিঞ্চিং এর ঘটনার কথা উল্লেখ করেন বুখারি।
পেহলু খান ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে গরু পাচারের অভিযোগে লিঞ্চিং এর শিকার হতে হয়। এই প্রসঙ্গ টেনে বুখারি বলেন, সরকার এই ধরনের ঘটনার নীরব দর্শক হয়ে উঠেছে। শাহী ইমামের অফিস থেকে প্রকাশিত একটি প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মানুষ আইন নিয়ে পরিহাস করছে আর সরকার এই ধরনের ঘটনা থামাতে কোনও চেষ্টা করছে না।”
তাঁর দাবি, সরকারের বিদ্বেষমূলক আচরনের শিকার হচ্ছেন ভারতীয় মুসলিমরা। তিনি বলেছেন, “প্রতিনিয়ত একজন মুসলিমকে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করতে হয়। তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে ও দমিয়ে রাখা হচ্ছে।” শাহী ইমাম বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আজও মুসলিমরা সুবিচার পায়নি, তাই এবার তাদের ধৈর্য হারাচ্ছে। সম্প্রতি ঝাড়খন্ডের লিঞ্চিং এর ঘটনার ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে এই একই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, “সবকা সাথ সবকা বিকাশ” এ ব্যর্থ মোদী সরকার। তিনি লিখেছিলেন, “আপনি ১২৫ কোটি ভারতবাসীকে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমান অধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে টা ঘটেনি। আর সেইজন্য ভারতবাসী চিন্তিত। তিনি রাহুল গান্ধীকে ও এরকমই একটি চিঠি লিখেছিলেন।

অন্ধকার বিমানে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে নারী যাত্রী

টিফানি অ্যাডামস এয়ার কানাডার একটি বিমানে চড়ে কিউবেক থেকে টরোন্টো যাচ্ছিলেন। যাত্রা পথে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি। হঠাৎ ঘুম ভাঙল প্রচণ্ড ঠাণ্ডায়।
ঘুম থেকে উঠে দেখেন চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আশপাশে কেউ নেই! শুরুতে খুব ঘাবড়ে গেলেন। কী ঘটেছে সেটি বুঝতে কিছুক্ষণ সময় লাগলো।
যা বুঝলেন তা হোেলা, বিমান অবতরণের পর বিমানের ক্রু ও বিমানবন্দরের কর্মীরা সকল ধরনের কার্যক্রম শেষ করে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে বিমানের ভেতরে আটকে রেখেই সবকিছু বন্ধ করে চলে গেছেন।
টিফানি বলছেন ঘুম থেকে উঠে দেখেন তখনো তার সিটবেল্ট বাধা রয়েছে।
বিমানের যাত্রা শেষ হওয়ার পর বিমান ত্যাগ করার আগে পুরো বিমানের সকল অংশ ভালো করে দেখে তবেই বিমানের কর্মীদের বের হওয়ার কথা।
টিফানি অ্যাডামস বলছেন, বিমানটি টরোন্টো পেয়ারসন বিমানবন্দরে অবতরণের পর কয়েক ঘণ্টা ঘুমন্ত অবস্থায় বিমানে ছিলেন তিনি।
সেটি রানওয়েতে পার্ক করা ছিল।
পুরো বিষয়টা ধাতস্থ হওয়ার পর প্রথমে মোবাইল ফোন হাতড়ে বের করে সেটি দিয়ে এক বান্ধবীকে জানালেন তার অবস্থার কথা।
কিন্তু কোনো রকমে কথা শেষ করতেই ফোনের চার্জ চলে গেলো।
হাতড়াতে হাতড়াতে পৌঁছালেন ককপিটে। সেখানে একটি টর্চ-লাইট খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি।
সেটি জ্বালিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ চেষ্টা করতে লাগলেন।
যাত্রীদের সুটকেস আনা নেয়া করা হয় এরকম একটি ছোট গাড়ির একজন চালক হঠাৎ সেই আলো দেখে ভয়াবহ ভড়কে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।
ততক্ষণে টিফানি অ্যাডামসের বান্ধবী ডেনা ডেল বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে সক্ষম হন।
এয়ার কানাডা এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে যে তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন।
মিজ অ্যাডামস এই ঘটনার পর থেকে প্রায়ই রাতে ভয়াবহ দু:স্বপ্ন দেখেন বলে জানিয়েছেন।
সূত্র : বিবিসি

দাবার বিচিত্র ক্লাব! by মামুনুর রশীদ

ব্যস্ত সড়ক ধরে একের পর এক ছুটে যাচ্ছে দ্রুতগামী যানবাহন। ফুটপাত ধরে হাঁটা মানুষের সংখ্যাও কম নয়। যান্ত্রিক নগরের বিবিধ শব্দে সচকিত গোটা এলাকা। এর মধ্যেই হাঁটার জায়গা বাঁচিয়ে ফুটপাতের ওপর নির্মিত একটা কংক্রিটের বেঞ্চে বসে কাঠের তৈরি সাদা–কালো বোর্ডে চাল দিচ্ছেন দুজন দাবাড়ু। তাঁদের ঘিরে আছেন কয়েকজন দর্শক। দাবাড়ুদের প্রতি চালের উত্তেজনা ছুঁয়ে যাচ্ছে দর্শকদেরও। কেউ পরবর্তী চালের জন্য খেলোয়াড়দের পরামর্শ দিচ্ছেন, কেউ পুড়ছেন ভুল চালের আক্ষেপে।
ঢাকার ফুটপাতগুলোতে কত ধরনের স্থাপনাই তো চোখে পড়ে। পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করে নির্মিত এসব অবৈধ স্থাপনা অনেকের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বলে ফুটপাতে দাবার ক্লাব! যে ক্লাবঘরের ছাউনি কিংবা কাঠামো কিছুই নেই। কেবল ফুটপাতঘেঁষা একটা বাড়ির দেয়ালে লাল হরফে লেখা কিছু অক্ষর ক্লাবটির অস্তিত্ব নির্দেশ করছে। আর কাঠামোহীন এই ক্লাব ঘিরেই প্রতিদিন সেখানে ভিড় করছেন এলাকার দাবাপ্রেমীরা।
আগারগাঁওয়ের নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের সামনে থেকে ৬০ ফুট সড়ক ধরে মিরপুর ২ নম্বরের দিকে খানিকটা এগিয়ে মিজান মসজিদ। মসজিদের কিছু আগে মির্জা পয়েন্ট মার্কেটের বিপরীত পাশে ফুটপাতের ওপরে ‘শেরেবাংলা নগর দাবা ক্লাব’–এর অবস্থান। স্থানীয় ব্যক্তি ও ক্লাব–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাত–আট বছর আগে এই জায়গায় এলাকার কিছু কিশোর–তরুণ দাবার আসর বসাত। আস্তে আস্তে এই আসর ঘিরে এলাকার সব বয়সী মানুষের ভিড় বাড়ে। পরে তাঁরা সবাই মিলে কাগজে–কলমে এটাকে ক্লাবে রূপ দেন। এখন এই ক্লাবের সদস্যসংখ্যা ৭০ জনের মতো। নিয়মিত খেলায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ক্লাবের সদস্যরা বছরে একটা–দুটো উন্মুক্ত টুর্নামেন্টের আয়োজনও করে থাকেন। সেই টুর্নামেন্টে এলাকার বাইরে আরও অনেকে অংশ নেন।
বাস্তবতা হচ্ছে ফুটপাতের এক পাশে ক্লাবের যে অপ্রশস্ত বেঞ্চটি বানানো হয়েছে, তাতে পাশাপাশি বড়জোর তিনজন একসঙ্গে বসতে পারেন। আর মাঝে দাবার বোর্ড নিয়ে দুজন খেলোয়াড় মুখোমুখি বসে গেলে অন্যদের দর্শক হওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। এর এক পাশে একটা পান–সুপারির দোকান, অন্য পাশে লন্ড্রি। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এই আসরে কথা হয় ক্লাবের সদস্য ষাটোর্ধ্ব হাশেম উদ্দীনের সঙ্গে। তিন বছর বয়সী নাতির হাত ধরে তিনি খেলা দেখছিলেন তখন। তিনি বলেন, এখানে সব বয়সের ও পেশার মানুষেরা আসেন। কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চাকরিজীবী কেউবা শিক্ষার্থী অথবা নিখাদ খেটে খাওয়া মানুষ। দাবা সবাইকে এক সুতোয় বেঁধেছে।
বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ ফারহান চৌধুরী পড়াশোনার পাশাপাশি একটা চাকরিও করেন। বিকেলে চলে আসেন দাবা খেলতে। তিনি জানালেন, এই আসরে প্রতিদিন খেলা শুরু হয় আসরের নামাজের পর থেকে। চলে রাত নয়টা–দশটা পর্যন্ত। তবে জায়গার অভাবে সবাই খেলার সুযোগ পান না।
কথা হয় ক্লাবের সভাপতি এম এ হালিম মাতুব্বরের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই ক্লাবকে কেন্দ্র করে এলাকার সব বয়সী মানুষের মধ্যে একটা আলাদা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আর দাবার প্রতি এখানকার তরুণদের আগ্রহও দারুণ।
তবে অপর্যাপ্ত জায়গার কারণে একসঙ্গে দুজনের বেশি খেলোয়াড় অংশ নিতে পারার বিষয়ে খেদ ঝরল ক্লাব সভাপতির কণ্ঠেও। বললেন, ‘ফুটপাতের এক পাশে হলেও মাঝেমধ্যে পুলিশ হয়রানি করে। পথচারী কিংবা এলাকার বাসিন্দাদের কিন্তু এ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। ক্লাবের জন্য জুতসই একটা জায়গা পেলে সবার খুব সুবিধা হয়।’
আগারগাঁওয়ে ফুটপাতে দাবার চালে মগ্ন দুই দাবারু। উপস্থিত আছেন দর্শকেরাও

রাখাইন ফ্রন্টে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে

উত্তর রাখাইনের রাথেদং, কিয়াকতাও ও মিনবায়ায় রোববার মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে।
আরাকান আর্মি জানিয়েছে, রোববার সকাল ১০টায় রাথেদং টাউনশিপের দুটি স্থানে সংঘর্ষ হয়।
আরাকান আর্মির তথ্য কর্মকর্তা খিং থু খা বলেন, কিয়াকতার মিন থার তুং গ্রামে এবং মিনবায়ার থাজি ও সু তামার গ্রামগুলোর মধ্যকার পার্বত্য এলাকায়ও প্রবল সংঘর্ষ হয়েছে।
তিনি ইরাবতীকে বলেন, চারটি স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে। এর দুটি রাথেদং এবং একটি কিয়াকতা ও মিনবায়ায়। সংঘর্ষগুলো ছিল খুবই তীব্র। মিনবায়ার সংঘর্ষটি সকালে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে।
মিনবায়া টাউনশিপের রাখাইন রাজ্যের আইন প্রণেতা ইউ হ্লা থিন আঙ ইরাবতীকে বলেন, থাজি ও সু খিন গ্রামের ভেতরে ও আশপাশের এলাকার গ্রামের লোকজন সংঘর্ষের কারণে পালিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, সোমবারও সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। আমরা কামানের গর্জন শুনতে পেয়েছি। আশপাশের গ্রামবাসীরা মিন পু গ্রামে পালিয়ে গেছে। রোববার সারা দিন সংঘর্ষ হয়েছে।
রাথেদং টাউনশিপের অধিবাসীরা নিরাপদ স্থানে পালিয়ে গেছে বলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছে।
দুই পক্ষ চিন রাজ্যের প্যালেতওয়া টাউনশিপেরও প্রচণ্ড সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বলে থু খা জানান।
তিনি দাবি করেন, রোববার যে চারটি স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে, তাতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অর্ধ শতাধিক সদস্য নিহত ও আরো বেশি সদস্য আহত হয়েছে। আর আরাকান আর্মি দুই জন সদস্য হারিয়েছে।
মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ওয়েস্টার্ন কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল উইন জাও ওও রাখাইনের তিনটি টাউনশিপে সংঘর্ষের খবর নিশ্চিত করলেও তাদের সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্য নিহত হওয়ার খবর অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, সংঘর্ষ হয়েছে, এ কথা সত্য। কিছু লোক আহতও হয়েছে। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে কোনো লাশ বা অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়নি। আরাকান আর্মির কি ষষ্ট ইন্দ্রিয় আছে? আরাকান আর্মি কোন তথ্যের বলে এ কথা বলল জানি না।
মিয়ানমার সেনাবাহিনী ৩০ জুন একতরফাভাবে দুই মাসের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। তবে রাখাইন রাজ্য এর বাইরে রয়েছে। ডিসেম্বরে চার মাসের জন্য একতরফা যুদ্ধবিরতির পর দ্বিতীয়বারের মতো তারা এ ঘোষণা দিলো।
থু খা ইরাবতীকে বলেন, এতে প্রমাণিত হচ্ছে যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন ফ্রন্টে তীব্র লড়াই করছে।
রাখাইনে ডিসেম্বর থেকে সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি প্রায় ৬০০ বার সংঘর্ষ করেছে।
দুই পক্ষ জুন মাসের পুরো সময় তীব্র সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল। সড়ক ও সাগরপথে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের সৈন্য ও অস্ত্র বাড়িয়েছে। সংঘর্ষের ফলে রাখাইন রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি লোক উদ্বাস্তু হয়েছে।
কাচির রাজ্যের লাইজায় নতুন এএ রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ চলছে, ২০১৯ সালের মার্চে তোলা ছবি

মা বন্দী : জেলগেটে দুই শিশুর অপেক্ষার ছবি ভাইরাল

জেলগেটে অপেক্ষায় দুই শিশু
যথাক্রমে ৬ ও ৮ বছরের দুটি শিশু। দুই বোন তারা। নাম হামস ও হায়া। মিসরের একটি জেলখানার গেটে অপেক্ষা করছে দুজন। গত কয়েক দিন ধরে এমন একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে আরব বিশ্বের ফেসবুক, টুইটারে। জেলখানার গ্রিল ধরে দুটি অবুঝ শিশুর করুন মুখে অপেক্ষার ছবি নাড়া দিয়েছে সবার হৃদয়কে। অসংখ্যবার শেয়ার হয়েছে ছবিটি।
মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, মিসরের শেখ জায়েদ শহরের বাসিন্দা শিশু দুটি তাদের মায়ের অপেক্ষায় জেলখানার গেটে দাড়িয়ে।মিসরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একমাত্র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসি সম্প্রতি মারা গেছেন সামরিক জান্তার হাতে আটক অবস্থায়। মুরসির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করায় গ্রেফতার করা হয় শিশু দুটির মা আয়া আলাকে। এজন্য তাকে ১৫ দিনের জেল দেয় মিসরের কর্তৃপক্ষ। মাকে ছাড়া অবুঝ দুটি শিশু থাকতে চায় না বাড়িতে। কিন্তু জেলখানায় গিয়ে মায়ের সাথে দেখা করার অনুমতিও মিলছে না।
গ্রেফতারের পর শিশু দুটির মা আয়া আলাকে ১২দিন পর্যন্ত কোর্টে হাজির করা হয়নি। গ্রেফতারের বিষয়টিও স্বীকার করেনি পুলিশ। পরে তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় স্বামীর মুক্তির বিষয়ে মিডিয়ার সাথে যোগাযোগের ‘অপরাধে’। আলার স্বামী পেশায় সাংবাদিক। ২০১৫ সালের শুরুতে তাকেও গ্রেফতার করেছিল মিসরের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তার বিরুদ্ধ গুপ্তচরবৃত্তিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছিল। সে সময় স্বামীর মুক্তির জন্য আয়া আল যে দৌড়ঝাপ করেছেন সেটিকেই অপরাধ হিসেবে দেখছে মিসরের সামরিক জান্তা।
মিসরে প্রেসিডেন্ট মুরসিকে সরিয়ে সেনা শাসক সিসির ক্ষমতা দখলের পর দেশটিতে চলছে চরম দমন-পীড়ন। রাজনৈতিক মতপ্রকাশের বিন্দুমাত্র স্বাধীনতা নেই। যে কারণে মুরসির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করার কারণেও গ্রেফতার করা হয়েছে নাগরিকদের।
আয়া আলার স্বামী আল কাবানিকে কুখ্যাত তোরা জেলখানায় বন্দী রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। সে সময় বাবার সাথে দেখা করার জন্য তার মেয়ে দুটি জেলখানার গেটে প্রায়ই দাড়িয়ে থাকতো। এ বছরের শুরুতে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।
এবার আবার মায়ের সাথে দেখা করার জন্য শিশু দুটি জেলখানার গেটে অপেক্ষা করছে। গত ১৭ জুন মোহাম্মাদ মুরসির মৃত্যুর পর মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কারাবন্দীদের সাথে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করেছে।
হামস ও হায়ার এই অপেক্ষার ছবি তাই সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছে আগের কথা। এক সময় বাবার সাথে সাক্ষাতের জন্যও তারা অপেক্ষা করতো জেলগেটে। দুই অপেক্ষার ছবি এক সাথে জুড়ে অনেকেই শেয়ার করেছন অনলাইনে।
স্বামী যখন কারাগারে ছিলেন তখন স্ত্রী আয়াও নিয়মিত জেলগেটে মেয়েদের অপেক্ষার ছবি অনলাইনে শেয়ার করে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করেছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মিসরে ৬০ হাজারের বেশি ভিন্নমতের মানুষকে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে।
দুই বোন হায়া ও হামসা। উপরে বাবার জন্য অপেক্ষা, নিচে মায়ের জন্য