Thursday, May 4, 2017

বিদেশে পাসের হার ৯৪.২৮ শতাংশ

এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিদেশ কেন্দ্রে পাসের হার ৯৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। আজ বৃহস্পতিবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন। ফলের পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। বিদেশের আটটি কেন্দ্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে। বিদেশের এসব কেন্দ্র থেকে মোট ৪৩৭ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪১২ জন পাস করেছে।
এসব কেন্দ্রে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১২ জন। এর মধ্যে ৩৭ জনই জেদ্দার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী। বিদেশের আটটি কেন্দ্র হলো- সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, রিয়াদের বাংলাদেশ অ্যাম্বেসি স্কুল, ত্রিপোলির বাংলাদেশ কমিউনিটি স্কুল, কাতারের দোহায় বাংলাদেশ মাসহুর-উল-হক মেমোরিয়াল হাই স্কুল, আবুধাবীর শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল, বাহরাইনের মানামার বাংলাদেশ স্কুল, রাস আল খায়মার বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল এবং ওমানের বাংলাদেশ স্কুল শাহাম। সূত্র : বাসস

চীনে ধূলিঝড়, বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল

চীনের উত্তরাঞ্চল ও বেইজিং প্রচণ্ড ধূলিঝড়ে ঢেকে গেছে। এতে কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং শিশু ও বয়স্কদের বাড়ির ভেতরে থাকার আহবান জানানো হয়েছে। ধূলিঝড়ের কারণে রাজধানীর ভবনগুলো ধূসর আবরণে ঢেকে গেছে এবং ঘরের বাইরে বের হওয়া লোকজনকে মাস্ক পরে নাক-মুখ ঢেকে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।
বেইজিং ক্যাপিটাল এয়ারপোর্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়, এশিয়া ও রাশিয়ার আন্তর্জাতিক রুটের ছয়টিসহ কমপক্ষে ২৭ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চীনের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা বাতাসের কারণে বসন্তে প্রায়ই এ ধরনের ঝড় হয়ে থাকে। কেননা, এ বাতাস গোবি মরুভূমি থেকে নগরীর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ধূলিঝড়ের কারণে সকালের দিকে রাজধানী বেইজিংয়ে এক কিলোমিটারের কম দূরত্বেও কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।

পরমাণু মিসাইল নিক্ষেপ ভারতের

ভারত-পাকিস্তান অশান্তির মাঝেই ফের একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা করল ভারত। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা ২২ মিনিটে এই অগ্নি-২ মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণ করে ভারত। ওড়িশার উপকূলে এপিজে আব্দুল কালাম আজাদ আইল্যান্ড থেকে ছোঁড়া হয় ওই মিসাইল। এই পরমাণু অস্ত্রের রেঞ্জ ২০০০ কিলোমিটার।
এটি আকারে ২০ মিটার লম্বা, ওজন ১৭ টন। ১০০০ কেজি ওজনের গোলা-বারুদ নিয়ে ২০০০ কিলোমিটার গিয়ে আঘাত করতে পারে এটি। এই মিসাইল তৈরি করেছে ডিআরডিও। এর আগে পরীক্ষা করা হয়েছে অগ্নি-২। অগ্নি-৩-এ রয়েছে মোবাইল লঞ্চ ক্যাপাবিলিটি। মাল্টি স্টেজিং, স্টেট অফ আর্ট কন্ট্রোল, ফ্লাইট ট্রায়াল সবটাতেই সফল হয়েছে অগ্নি-৩।

উ. কোরিয়ার তেজস্ক্রিয় বোমা জাপানকে ঝলসে দিবে

পিয়ংইয়ং টোকিওর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, কোরিয় উপদ্বীপে পরমাণু যুদ্ধ শুরু হলে তেজস্ক্রিয় মেঘমণ্ডলীতে প্রথমেই ঝলসে যাবে জাপান। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত দৈনিক রোডং সিনমুন এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। এতে বলা হয়েছে, জাপানে মার্কিন কয়েকটি ঘাঁটি রয়েছে এবং কোরিয় উপদ্বীপে পরমাণু যুদ্ধ শুরু হলে অন্য যে কোনো দেশের আগে তেজস্ক্রিয় মেঘমণ্ডলীতে প্রথমেই যে দেশ ঝলসে যাবে সেটি হলো জাপান।
এতে আরো বলা হয়েছে, নিজ স্বার্থ সম্পর্কে যদি সত্যিই সচেতন হয় তবে শান্তিপূর্ণ ভাবে উত্তেজনা নিরসনের চেষ্টা করা উচিত জাপানের। এ ছাড়া, জাপানকে অতীতের পরমাণু বোমা হামলার অভিজ্ঞতার কথাও এতে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, পরমাণু বোমার অভিজ্ঞতা বিশ্বে একমাত্র জাপানেরই আছে। পরমাণু বোমার অভিজ্ঞতার কতটা ভয়াবহ তা অন্যের চেয়ে জাপান বেশ ভালো করেই জানে বলে দৈনিকটি উল্লেখ করেছে। সূত্র : ওয়েবসাইট

বানান ভুল করায় বিয়েই ভেঙে দিলেন কনে!

গণিতে বরের দখল না থাকায় কনের বিয়ে ভাঙার কথা আগেই শোনা গেছে। মেনু পছন্দ না হওয়াতেও বিয়ে ভেঙে গিয়েছে সম্প্রতি। আর এ বার বানান ভুল লিখে ‘বিপদে’ পড়লেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরি এলাকার এক যুবক। হবু বরের বানানের এরকম টালমাটাল অবস্থা দেখে পাকা কথার দিনই বিয়েতে না করে দিলেন কনে। পাকা দেখার জন্য কথামতো মৈনপুরি জেলার কুরায়ালি এলাকার নুমায়িশ ময়দানে হাজির হয়ে গিয়েছিল পাত্র এবং কন্যাপক্ষ। মেয়ের বাড়ি কুরায়ালি। ছেলে ফারাক্কাবাদের। একে অপরের মধ্যে কথা শুরু হতেই হবু স্ত্রীর হাতে একটা ডায়েরি ধরিয়ে দেয় পাত্র। হিন্দিতে একের পর এক বানান লিখতে বলেন তাকে। সব বানানই এক্কেবারে সঠিক লিখে ফেলে মেয়েটি।
এরপরই শুরু হয় হবু বরের পরীক্ষা। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ছেলেটিকে হিন্দিতে 'সাম্প্রদায়িক' এবং 'দৃষ্টিকোণ' এই বানানগুলো লিখতে বলেন পাত্রী। খাতা ‘চেক’ করার সময় ধরা পড়ে একের পর এক ভুল। ওই বানাগুলো তো বটেই, নিজের ঠিকানার বানানটিও ভুল লেখেন পাত্র। উচ্চ মাধ্যমিক পাস পাত্রের এই হাল দেখে তখনই বিয়েতে না করে দেন ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়া মেয়েটি। দুই পরিবারের লোকজনের হাজার অনুরোধেও মানভঞ্জন হয়নি মেয়ের।

হেলিকপ্টার তৈরিতে রুশ-ভারত যৌথ যাত্রা

রাশিয়া ও ভারতের উদ্যোগে কেএ-২২৬টি নামের হেলিকপ্টার তৈরির জন্য একটি যৌথ কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়েছে। বুধবার রাশিয়ায় ভারতীয় দূতাবাস তাদের ওয়েবসাইটে একথা জানিয়েছে। মিনিস্ট্রি অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অব দি গভর্মেন্ট অব ইন্ডিয়া ২০১৭ সালের ২ মে ইন্ডিয়া-রাশিয়া হেলিকপ্টার্স লিমিটেড কোম্পানি উদ্বোধন করে।
হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক লিমিটেড অব ইন্ডিয়া এবং রাশিয়ান হেলিকপ্টার্স অ্যান্ড রোসোবোরোনেক্সপোর্ট যৌথভাবে হেলিকপ্টার তৈরি করবে। এক্ষেত্রে রাশিয়ার সহযোগিতায় ভারতে কেএ-২২৬টি নামের হেলিকপ্টার তৈরি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে রাশিয়া ও ভারত হেলিকপ্টার তৈরির ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করে। এরপর যৌথভাবে হেলিকপ্টার উৎপাদনের জন্য গত অক্টোবর মাসে চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্যামডেচ টেকো হান সেন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অবসাদজনিত ক্লান্তির কারণে তিনি সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান। তিনি ফেইসবুকে লিখেন, ‘প্রচণ্ড ক্লান্তির কারণে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমি দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাই ও চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হই।’ ৬৪ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ৩ মে বিকেল থেকে তিনি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৭ মে রোববার তিনি দেশে ফিরবেন। তিনি আরো জানান,
তিনি সশস্ত্র বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাত বাতিল করেছেন। এছাড়াও এ সময়ে তিনি ফ্রান্স, ভারত ও জাপানের অতিথিদের সাথে বৈঠক বাতিল করেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ তার সুস্থতা কামনা করে পোস্ট দিয়েছে।

সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ওপর তুর্কি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা!

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের প্রধান উপদেষ্টা ইলনোর সেভিক বলেছেন, কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে তৎপর মার্কিন সেনাদের ‘দুর্ঘটনাবশত’ তুর্কি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। উত্তরাঞ্চলীয় সিরিয়ার পরিস্থিতির ওপর মন্তব্য করতে যেয়ে এ কথা বলেন তিনি। তুরস্কের মিডিয়া ব্যক্তিত্ব একরান তানের সঙ্গে তুর্কি একটি স্থানীয় বেতারে আলাপের সময় এ কথা বলেন তিনি।
উত্তরাঞ্চলীয় সিরিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে কথা বলতে যেয়ে এ আশংকা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ওই এলাকায় মার্কিন সাঁজোয়া গাড়ি রয়েছে। তুর্কি সেনারা যদি আরো এগিয়ে যায় তবে দুর্ঘটনাবশত কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হয়ত মার্কিন সাঁজোয়া গাড়িতে আঘাত করতে পারে। তার এ কথা শুনে হতবাক হয়ে যান তান এবং বলেন, ওই এলাকার পরিস্থিতি সত্যিই খুব জটিল তবে আপনি বোধহয় একটু কঠোর মন্তব্য করেছেন। এতেও নিজ কথা ফিরিয়ে নেননি সেভিক। উল্টো তিনি বলেন, সত্যিই যদি এ রকম কিছু ঘটে তবে কী করার আছে।! সূত্র : ওয়েবসাইট

ফিলিস্তিনি শিশুর উপর গাড়ি তুলে দিলো এক ইসরাইলি

অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনি শিশুকে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চাপা দিয়েছে এক ইসরাইলি। অবৈধ বসতি স্থাপনকারী পশ্চিম তীরের আল-খলিল শহরের আট বছরের লাইথ ইউসুফ শাহাতাত এ ঘটনার শিকার হয়। বুধবার এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশু শাহাতাত তার স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় একজন ইসরাইলি শিশুটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চাপা দেয়।
মারাত্মকভাবে আহত শাহাতাতকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে তার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অংশে ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চাপা দেয়ার বহু ঘটনা ঘটছে। এ জাতীয় ঘটনায় অনেক ফিলিস্তিনি শিশু মারা গেলেও তার কোনো তদন্ত বা বিচার করে না ইসরাইলের কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন বিমান বাহিনী পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম মিনিটম্যান-৩ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম’য়ের পরীক্ষা করেছে। সাত দিনের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয় দফা একই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হলো। একই ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়া তৈরির চেষ্টা করছে এবং এ নিয়ে আমেরিকার সাথে টানাপড়েন যখন তুঙ্গে তখন দ্বিতীয় দফা এ পরীক্ষা চালানো হলো। ক্যালিফোর্নিয়ার ভেন্ডেনবার্গ বিমানঘাঁটি থেকে এটি ছোঁড়া হয়। লস আঞ্জেলেসের ১৩০ উত্তরপশ্চিমে এ ঘাঁটি অবস্থিত।  ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু ছিল আটলান্টিক মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপের ওয়াজালেইন অ্যাটল। এটি ভেন্ডেনবার্গ বিমানঘাঁটি থেকে সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটার বা ৪,২০০ মাইল দূরে অবস্থিত।
এক সপ্তাহ আগে যে পরীক্ষা করা হয়েছিল এটি তারই মতো ছিল। পেন্টাগন দাবি করেছে, কয়েক মাস আগেই এ পরীক্ষার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পেন্টাগনের অস্ত্রভাণ্ডারে সাড়ে চারশ’ মিনিটিম্যান ক্ষেপণাস্ত্র আছে। মার্কিন বিমান বাহিনী বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা, প্রস্তুতি এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানার সক্ষমতা যাচাইয়ে এ ধরণের পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। পরমাণু সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য নিয়মিত এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে হয়। এদিকে, গত সপ্তাহে পরীক্ষা চালানোর পর প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়ে ওয়াশিংটন। পিয়ংইয়ংয়ের সাথে যখন টানাপড়েন  চলছে তখন এ রকম পরীক্ষাকে ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী নীতি হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, একদিকে ওয়াশিংটন নিজের পরীক্ষাকে ন্যায়সঙ্গত এবং উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষাকে হুমকি হিসেবে প্রমাণ করতে চাচ্ছে।

‘তীব্র গরমে প্রাণ জুড়ায় লেবুর শরবত’

তীব্র দাবদাহে হাসফাঁস জনজীবন। কোথাও যেন শান্তি নেই। মাথার ওপর গণগণে সূর্য, কর্ম ব্যস্ত দিন আর কাজের চাপ। স্বস্তির নিঃশ্বাস পেতেও যেন বেশ বেগ পেতে হচ্ছে মানুষকে। তাই গরমে একটু স্বস্তির খোঁজে সাধারণ মানুষের আস্থা লেবুর শরবতে। তাই এই শরবতকে ঘিরে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। বেলা ১২টা। চট্টগ্রাম শহরের নিউ মার্কেট এলাকার বেশকিছু শরবতের দোকানে তখন দেখা গেলো বেশ ভিড়। এ সময় ক্লান্ত শরীরে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে লেবুর শরবত পান করছিলেন রিক্সাচালক মিরাজ। বললেন, ‘এই গরমে রিক্সা চালাতে গিয়ে একেবারে ক্লান্ত হয়ে গেছি। এই শরবতটা পান করলে স্বস্তি আসে, ক্লান্তি চলে যায়।’ একই অবস্থা দেখা গেছে, নগরীর আন্দরকিল্লা, চেরাগী পাহাড়, টাইগারপাস, দেওয়ানহাট, কোতয়ালী মোড়ে। সাধারণ মানুষ ক্লান্তি দুর করতে রাস্তার পাশের লেবুর শরবত পান করছেন। শুধু প্রাপ্ত বয়স্করাই নয়, স্কুল পড়ুয়া শিশু-কিশোররাও ভক্ত এ সব শরবতের। আর ক্রেতা আকর্ষণে নানা পদের উপকরণ ব্যবহার করছেন শরবত বিক্রেতারা। কথা হয় চেরাগী পাহাড় মোড়ে শরবত ব্যবসায়ী মোঃ সেলিমের সাথে। তার বাড়ি সিলেটের হবিগঞ্জে। ১৯ বছর ধরে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করছে। গরমকালে লেবুর শরবত বিক্রি করে থাকেন তিনি। ৫ সন্তান সহ ৭ সদস্যের সংসার তার। প্রতিদিন প্রায় ২০০-২৫০ গ্লাস শরবত বিক্রি কওে থাকেন তিনি। যা বিক্রি হয় তা দিয়ে ভালোই সংসার চলে যাচ্ছে। গরমকাল ছাড়া অন্যসময় বিভিন্ন ধরনের ভ্রাম্যমান ব্যবসা করেন তিনি। আন্দরকিল্লা মোড়ে কথা হয় আরেক শরবত ব্যবসায়ী রাইহানের সাথে। তার বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরী এলাকায়। সে সাত বছর ধরে গরমকালে বিভিন্ন আইটেমের শরবত বিক্রি করেন। তার মধ্যে রয়েছ লেবুর শরবত, বেলের শরবত, তোকমার শরবত। প্রতি গ্লাস ১০ টাকা করে ভালোই বিক্রি করছেন তিনি।
বছরের অন্য সময় ফুচকা-চটপটি বিক্রি করেন রাইহান। এ ধরণের পানীয় দেহের জন্য কতটা উপকারী তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা লাল সংকেতই দিয়েছেন। এই পানীয় আদৌ কী পানের উপযোগী? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই কথা হলো মাতৃকা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ডা. জামশেদ আলমের সাথে। তিনি বললেন, ‘রাস্তার ধারে কিংবা ফুটপাতে যেসব শরবত বা জুস বিক্রি হচ্ছে সেগুলো বেশিরভাগই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ক্লান্তি দুর করতে যারা এসব পান করেন তাদের হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’তে আক্রন্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’ এদিকে শরবতের পরিবর্তে অনেকেই আবার বেছে নিচ্ছেন ডাবের পানি, শশা, তরমুজ অথবা আনারসের মত রসালো ফল। ফল খাচ্ছেন কেনো, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যাংক কর্মকর্তা জসীম আহম্মদ বলেন, ‘আমার জানা মতে ডাবের পানি পান করা নিরাপদ। এটা শরীরের জন্য নিরাপদ। আর এটা পান করলে শরীরে এনার্জি বৃদ্ধি পায়।’ শরবতের পরিবর্তে ফল- এ ব্যাপারে ডা. জামশেদ বলেন, ‘ডাবের পানি পান করা খারাপ না। এতে অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে এখানেও সাবধান থাকতে হবে। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় ডাবের পানিতে ‘লোরা জিপাম’ মিশিয়ে অনেকেই ক্রেতাদের অজ্ঞান করে সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। এ জন্য সাবধান থাকতে হবে।’ ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের পানি বিশুদ্ধ। আর লেবু, খেজুর, মালটা বা চেরি ফলের শরবত পান করা শরীরের জন্য ভালো। শরবত ব্যবসায়ী বেলায়েত বলেন, ‘যা গরম পড়েছে এতে করে শরবতের বিক্রয় বেশ ভালো হচ্ছে। যত দিন গরম আছে ব্যবসা ভালো হবে, আশা করা যায়।’

রংপুরে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী অরেঞ্জ পিস্তলসহ গ্রেফতার

র‌্যাব-১৩ অভিযান চালিয়ে  রংপুর মহানগরীর আলমনগর এলাকা থেকে অরেঞ্জ নামের একজন তালিকাভ’ক্ত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। এসময় তার কাছ থেকে গুলিসহ একটি পিস্তলও উদ্ধার করে র‌্যাব। র‌্যাব ১৩- সূত্র জানায়, র‌্যাব-১৩ এর একটি দল বুধবার মধ্যরাতে রংপুর মহানগরীর ২৭নং ওয়ার্ডের পোস্ট অফিস মুসলিম পাড়ার আলমনগর টাউন সাব-পোস্ট অফিসের দক্ষিণ পার্শ্বে পাঁকা রাস্তার ওপর অভিযান চালিয়ে আপস ওরফে অরেঞ্জ (২২)কে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে ১ টি সিলভার রংয়ের লোহার তৈরী ট্রিগার,
হেমার ও গ্রিপ যুক্ত সচল বিদেশী পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি ও ১ টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে। অরেঞ্জ মুসলিম পাড়ার কুরবান আলীর পুত্র। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান,  অরেঞ্জের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিয়োগ আছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক বিভিন্ন ধরনের অপরাধের মামলা চলমান।

কালকিনিতে ব্যবসায়ীর চোখ উপড়ে ফেলার ঘটনায় আটক ৩

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মাদারীপুরের কালকিনিতে মোঃ কবির মৃধা (৪২) নামের এক পান ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর দু’চোখ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ খবর পেয়ে উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের আউলীয়ার চর থেকে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তিনি খুনেরচর গ্রামের নুরু মৃধার ছেলে। তাকে আহত অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে অবস্থার অবনতি হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিন জনকে আটক করেছেন। বুধবার রাত ১০ টায় এ ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও এলাকা সুত্রে জানাগেছে, বুধবার রাতে ব্যবসায়িক কাজে বাঁশগাড়ি থেকে রাজধানীর ঢাকায় যাচ্ছিলেন ওই পান ব্যবসায়ী কবির মৃধা। লঞ্চের জন্য শখিপুর এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এ সময় সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে দু’চোখ উপড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। খবর পেয়ে শরিয়তপুরের গোসাইরহাট,
বরিশালের মুলাদী ও মাদারীপুরের কালকিনি থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পরে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার সকালে ৩ জনকে আটক করেছে কালকিনি থানা পুলিশ। তবে, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে পূর্ব শক্রতার জেরে এই ঘটনা হতে পারে বলে ধারনা পুলিশের। কালকিনি থানা পুলিশ মোঃ সাইদুল বিশ্বাসÑ(২৮), জাহাঙ্গীর আকন-(৪১) ও সেলিম হাওলাদার নামের তিনজনকে আটক করেছেন। আহত কবির মৃধা বলেন, বাঁশগাড়ির ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আমার দু’চোখ উৎপাটন করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন এ ঘটনার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকায় তার অনেক শত্রু রয়েছে। তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে আমার ধারনা। এ বিষয় আমি জড়িত নই। এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃপা সিন্দু বালা বলেন, রাতের আধারে দূর্বৃত্তরা কবির মৃধার চোখ উৎপাটন করেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে নিজ ঘর থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কাঙ্গালিয়া পাড়া গ্রামে নিজ ঘর থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে রাজিবপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, রাজিবপুর উপজেলার কাঙ্গালিয়া পাড়া গ্রামের নাজমা বেগম (৩৬) স্বামীর বাড়িতে না থেকে প্রথম স্বামীর মেয়ে জোসনা খাতুন(১৩)কে নিয়ে নিজ বাড়ীতে থাকতো। বুধবার রাতে খাবার খাওয়ার পর একই ঘরে মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে অনেক ডাকাডাকির পরও ঘুম থেকে না উঠায় তার ছেলে ও পাশ্ববর্তী লোকজনের সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
এলাকাবাসী জানায় নাজমা বেগমের সাথে প্রথম স্বামীর ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর বদরপুর গ্রামের রকিপের সাথে বিয়ে হয় তার। রকিপের দুই স্ত্রী থাকায় নাজমা বেগম প্রথম পক্ষের মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতো। এলাকাবাসীর ধারনা তাদের কেউ হত্যা করে রেখে যেতে পারে। এব্যাপারে রাজিবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ প্রিথিশ কুমার সরকার জানান, মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এখনও কোন কারন জানা যায়নি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটে গণ-ডাকাতি

যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানে গণ ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ডাকাত দল যাত্রী ও চালকদের অস্্েরর মুখে জিম্মি ও মারপিট করে বিভিন্ন বাস, ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান থেকে নগদ টাকাসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয় বলে জানা গেছে। মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারনে সংঘ বদ্ধ ডাকাত দল যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক ও পিকআপ ব্যানে হানা দিয়ে এই গণ ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যার আছিমতলা, জামুর্কি, নাটিয়াপাড়া, মির্জাপুর বাইপাস, বাওয়ার কুমারজানি, শুভুল্যা, ধেরুয়া ও হাটুভাঙ্গা এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতির সময় যাত্রী, চালক, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন এক ডাকাতকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তার নাম মো. আনোয়ার হোসেন(৩০) বলে জানা গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার কয়েকজন বাস ও ট্রাক চালক অভিযোগ করেন, গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশের নজরদারী কম থাকায় সংঘ বদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরা কয়েকটি মোটর সাইকেল নিয়ে নাটিয়াপাড়া থেকে হাটুভাঙ্গা পর্যন্ত এই গণ ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে।ডাকাতরা বাস, ট্রাক ও পিকআপব্যানে হানা দিয়ে টচালক ও যাত্রীদের মারপিট করে টাকা ও মালামাল লুটে নেয় বলে জানা গেছে। ডাকাত দলের সদস্যরা মির্জাপুর বাইপাস ও কুমারজানি এলাকায় ট্রাক ও পিকআপ ব্যানে হানা দিলে চালকরা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে ছুটে এসে এক ডাকাতকে ধরে গণ পিটুনি দেয়।পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। তার নাম আনোয়ার হোসেন বলে পুলিশকে জানিয়েছে। তাদের গ্রুপে ৩০-৪০ জন ডাকাত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঢাকা-মানিকগঞ্জ রোড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রোড, ঢাকা-সিলেট রোড ও ঢাকা- চট্রগ্রাম রোডে যানবাহনে ডাকাতি করে আসছে বলে আটককৃত আনোয়ার পুলিশকে জানিয়েছে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ডিউটি অফিসার মো. আতাউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আনোয়ার নামে এক ডাকাতকে আটক করা হয়েছে । পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশ। কোন টাকা ও মালামাল উদ্ধার হয়নি । থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

নতুন ধারার সরকার করতে চায় বিএনপি

ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার রাজনীতি ও সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলটির সেই পরিকল্পনা কোন পথে অর্জিত হবে, শিগগিরই তার বিস্তারিত জনসমক্ষে তুলে ধরবেন বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া। গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়নকে মূল পথ ধরে ‘ভিশন-২০৩০’ শিরোনামে রচিত বিএনপির নির্বাচন-পূর্ব প্রাথমিক এই ‘ইশতেহার’ আগামী ১০ মে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ‘ভিশন-২০৩০’ নিয়ে দেড় বছর ধরে কাজ করছে বিএনপি। গত বছরের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে প্রথমবারের মতো দলের এই ভিশন সামনে আনেন বেগম খালেদা জিয়া। সেটি তখন ছিল অনেকটাই খসড়া পর্যায়ে। কয়েক মাস ধরে এ নিয়ে দলটির সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ভিশন-২০৩০’ প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছে। তারা এ সময়ে দলের প্রধানের মতামত নিয়েছেন, একই সাথে বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করেছেন। জানা গেছে, ক্ষমতায় গেলে দলের পরিকল্পনাসংবলিত ‘ভিশন-২০৩০’ এখন চূড়ান্তপর্যায়ে। জানা গেছে, ‘ভিশন-২০৩০’ কে পাথেয় ধরেই আগামী নির্বাচনের মূল ইশতেহার তৈরি করবে বিএনপি। দলের সিনিয়র এক নেতা বলেছেন, ভিশন ২০৩০ বিএনপির একটি অঙ্গীকারনামা। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে তারা কী করবে, তা শুধু দেশের জনগণই নয়, বাংলাদেশের বন্ধু দেশ ও বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনীতিকরাও জানতে চান। সেই পরিকল্পনা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরতেই ‘ভিশন-২০৩০’ প্রকাশ করবে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেছেন, বিএনপি যদি আগামীতে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় যায়, তাহলে কিভাবে সরকার পরিচালিত হবে, পাশাপাশি সুশাসন কিভাবে নিশ্চিত করা হবে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন কোন পথে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, ভিশন-২০৩০ তার একটি রূপকল্প। শিগগিরই এটি প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি যদি পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে ‘ভিশন-২০৩০’-এর সাথে নির্বাচনী ইশতেহারেরও সামঞ্জস্য থাকবে। জানা গেছে, নতুন ধারার রাজনীতি প্রবর্তন, সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, জাতীয় সংসদকে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট করা, গণভোট চালু, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনাসহ নানা বিষয় থাকছে ভিশন-২০৩০-তে।
বিএনপি নতুন ধারার রাজনীতি ও সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ জন্য নতুন এক সামাজিক সমঝোতা বা চুক্তিতে উপনীত হতে উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা দেবেন খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে, এই উপলব্ধি থেকে এর অবসানকল্পে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনার কথা বলবে বিএনপি। রাষ্ট্রের এককেন্দ্রিক চরিত্র অুণœ রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সম্প্রদায়, প্রান্তিক গোষ্ঠী ও পেশার জ্ঞানীগুণী ও মেধাবীদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে জনগণের সম্মতি গ্রহণের পন্থা ‘রেফারেন্ডাম’ বা ‘গণভোট’ ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃপ্রবর্তন করার বিষয়টিও থাকছে পরিকল্পনায়। সমৃদ্ধ সমাজগঠনে মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা পূরণে বাংলাদেশের সব ধর্মবিশ্বাসের মানুষ, পাহাড় ও সমতলসহ সব অঞ্চলের মানুষ এবং প্রতিটি নৃগোষ্ঠীর মানুষের চিন্তাচেতনা ও আশা-আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে একটি জনকল্যাণমূলক, সহিষ্ণু, শান্তিকামী ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার কথা বলা হবে এতে। ক্ষমতায় গেলে সুনীতি, সুশাসন ও সু-সরকারের সমন্বয় ঘটাতে চায় বিএনপি। গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সুশাসনের জন্য নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, আইন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মতো সাংবিধানিক ও আধাসাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণমুক্ত করার কথা বলা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং মাথাপিছু আয় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ‘ডাবল ডিজিটে’ উন্নীত করার সৃজনশীল ও বুদ্ধিদীপ্ত উদ্যোগ নেয়া হবে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করে সততা, দক্ষতা, মেধা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম ও বিচার ক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন, পুলিশসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হবে। সব কালাকানুন বাতিল করা হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং আটকাবস্থায় দৈহিক-মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে। আটকাবস্থায় মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার জন্য তদন্তের ব্যবস্থা থাকবে। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের যোগ্যতা ও পদ্ধতিসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করবে বিএনপি। দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি আইন ও পদ্ধতিগত সংস্কার এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ন্যায়পালের পদ ও কার্যালয় সক্রিয় করবে দলটি। ভবিষ্যতে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে কঠোরতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে একযোগে কাজ করবে দলটি। বিএনপি মনে করে, সন্ত্রাসবাদ সব রাষ্ট্রের জন্যই হুমকির কারণ। এ কারণে বিএনপি বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে কোনো রকম সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা বরদাশত করবে না। বাংলাদেশের মাটি থেকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতাও মেনে নেবে না। ‘শুধু ধনীদের জন্য শিক্ষা নয়’, দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত, মেয়েদের জন্য স্নাতক এবং ছেলেদের জন্য দশম শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, মেয়েদের শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে। সুষম, নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে যথোপযুক্ত প্রণোদনার মাধ্যমে গোটা কৃষি খাতকে পুনর্বিন্যাস করা হবে। কৃষকদের জন্য শস্যবীমা চালু, অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা হবে। জাতীয় স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়াতে কানেকটিভিটি স্থাপন, সম্প্রসারণ ও জোরদার করতে বলিষ্ঠ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়া, কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অন্য কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সমস্যা সৃষ্টি না করা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সোহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলা হবে। এ ছাড়া পরিবেশদূষণ রোধ, জলবায়ু পরিবর্তন, দেশের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত জ্বালানির সর্বোত্তম ব্যবহার, আবাসন খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরণ, ওয়াক্ফ সম্পত্তির পরিচালনা ও ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দেবোত্তর সম্পত্তিগুলো হিন্দুশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী পরিচালনার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করাসহ নতুন এক সামাজিক সমঝোতা বা চুক্তিতে উপনীত হতে বিএনপি উদ্যোগ নেয়ার অঙ্গীকার থাকবে ‘ভিশন ২০৩০’-এ।

গণতন্ত্র রায় নেতাকর্মীদের সাহসিকতার সাথে এগিয়ে যেতে হবে : খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, গণতন্ত্র রায় সুশৃঙ্খল হয়ে এবং সাহসিকতার সাথে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। গত রাতে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দেিণর নবগঠিত কমিটির নেতাদের দেয়া ফুলেল শুভেচ্ছার জবাবে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী, যুবক ও তরুণদের প্রতি এ আহ্বান জানান বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দণি বিএনপির সভাপতি হাবীব-উন-নবী খান সোহেল, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী,
স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সহসভাপতি সাদরাজ জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, দেিণর সভাপতি এস এম জিলানী, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক গাজী মো: রেজোয়ান হোসেন রিয়াজ, দেিণর সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ : নিহত ৩৫

ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় গোলেস্তান প্রদেশের একটি কয়লা খনিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে ৩৫ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো প্রায় অর্ধশত শ্রমিক। খনির একটি গ্যাস পাইপ লাইন ছিদ্র হয়ে গ্যাস বেরিয়ে আসার কারণে বিস্ফোরণটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রদেশের জরুরি বিভাগের প্রধান সাদেক-আলী মোকাদ্দাম জানিয়েছেন, ‘আজাদশাহর’ শহরের কাছে অবস্থিত খনিটি থেকে ২১ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ১৪ শ্রমিক ভেতরে আটকা পড়ে আছেন বলে তিনি জানান। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সনিউজ জানিয়েছে, আটকে পড়া ওই ১৪ হতভাগ্য শ্রমিকেরও মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ দুর্ঘটনায় ৩৫ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গোলেস্তান প্রদেশের জরুরি বিভাগের উপ প্রধান হামিদরেজা মোন্তাজেরি বলেছেন, বিস্ফোরণের পর দুর্গত শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য খনিতে প্রবেশকারী ২৫ উদ্ধারকর্মী গ্যাসে আক্রান্ত হলে তাদেরকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। গোলেস্তান প্রদেশের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেইন আহমাদি জানিয়েছেন, গ্যাস বিস্ফোরণের ফলে খনিটিতে প্রবেশের টানেল ধসে পড়েছে।
ফলে ধসে পড়া অংশের ভেতরে উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য একটি বিকল্প টানেল খোড়া হচ্ছে। এ ছাড়া, বাইরে অংশে থাকা হতাহতদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ইরানের কেন্দ্রীয় জরুরি বিভাগের প্রধান পির-হোসেইন কোলিভান্দ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় আহত ৩০ জনকে প্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া, অন্তত ১২ শ্রমিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ ইরানের বিভিন্ন খনি থেকে ২০১৬ সালে ১৬ লাখ ৮০ হাজার টন কয়লা উত্তোলন করা হয়। রফতানি করার পরিবর্তে এসব কয়লার বেশিরভাগই দেশের স্টিল তৈরির কারখানাগুলোতে ব্যবহৃত হয়।

সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৮০ দশমিক ২৬ শতাংশ

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৮০ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬৬৩ শিক্ষার্থী। ছেলে ১ হাজার ৪শ ২৭ ও মেয়ে ১ হাজার ২শত ৩৬ জন। মোট পাস ৭৫ হাজার ৩৭৪ জন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান শিক্ষাবোর্ড সচিব মোস্তফা কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, এবার সিলেট শিক্ষাবোর্ড থেকে পরীক্ষা দেয় ৯৩ হাজার ৯১৫ জন শিক্ষার্থী। মোট পাস করে ৭৫ হাজার ৩৭৪ জন। ফেল করে ১৮ হাজার ৫৪১ জন।

বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ২৪ শতাংশ

এসএসসিতে বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২শ ২৪ জন শিক্ষার্থী। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৯৩ হাজার ৬শ ৭৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪৭ হাজার ৩৬১ জন এবং ছাত্রী ৪৬ হাজার ৩১৫ জন। পাস করেছে ৭২ হাজার ৩৫৮ জন; পাসে ছাত্র ৩৫ হাজার ৩৯১ জন আর ছাত্রী ৩৬ হাজার ৯৬৭ জন। এবারও এ শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা পাস ও জিপিএর হারে এগিয়ে।

এসএসসির ফল যেভাবে জানবেন

আজ বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক স্কুল সাটিফিকেট (এসএসসি) এবং সমমানের পরীক্ষা ২০১৭’র ফল প্রকাশ করা হবে। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। তাত্ত্বিক বা লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২ মার্চ। ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ মার্চ শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ মার্চ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফল তুলে দেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নেতৃত্বে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানগন এ সময় উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাতক্ষীরা ও শেরপুর জেলার জেলা পরিষদ কার্যালয়ে একটি করে সরকারি মাধ্যমিক স্কুল (বালক), একটি বেসরকারি (বালিকা) বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা ও একটি কারিগরি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করবেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করবেন। বেলা ১টায় শিক্ষা বোর্ডগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে ফলাফলের কপি উন্মুক্ত করা হবে। একই সময় শিক্ষা বোর্ডগুলো তাদের অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফলাফল কপি স্ব স্ব ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হবে। মোবাইল ফোনের সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোও এসএমএস’র মাধ্যমে ফল জানাতে পারবেন এর পরপরই। এসএসসি ও সমমানের ফল জানতে যেকোনো মোবাইলের মেসেজ অপসনে গিয়ে এসএসসি লিখে বোর্ডের প্রথম তিনটি অক্ষর টাইপ করে রোল নাম্বার ও সন লিখে ১৬২২২ তে পাঠাতে হবে। ফিরতি মেসেজেই ফল জানা যাবে।
উদাহরণ স্বরুপ massage option- SSC<DHA> <Roll no> <2017> লিখে ১৬২২২ নম্বরে send করুন। এর জন্য চার্জ প্রযোজ্য হবে ২.৪৪ টাকা। এছাড়া শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট http://www.educationboardresults.gov.bd থেকেও পরীক্ষার্থীরা ফল জানতে পারবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ফল ডাউনলোড করতে হবে। বোর্ড থেকে ফলাফলের কোনো মুদ্রিত কপি সরবারহ করা হবে না। তবে বিশেষ প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতর থেকে ফলাফলের মুদ্রিতকপি সংগ্রহ করা যাবে বলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি সূত্রে জানা গেছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আজ নয়া দিগন্তকে বলেন, আগের নিয়মেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন। এর মধ্যে আট বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৯০০ জন, মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে দুই লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ ও এসএসসি ভোকেশনালে (কারিগরি) এক লাখ চার হাজার ২১২ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
ফল পুনঃনিরীক্ষা আবেদন ৫ মে থেকে
প্রকাশিতব্য ফলে কোনো পরীক্ষার্থী সংক্ষুদ্ধ হলে ফলাফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করতে পারবে। এজন্য টেলিটক থেকে আগামী ৫ থেকে ১১ মে পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে বলে আজ নয়া দিগন্তকে জানিয়েছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার। ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে RSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) দেয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে RSC লিখে স্পেস দিয়ে YES লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য ১২৫ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যে সব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে, সেসব বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ২৫০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।

সংবিধান অনুযায়ীই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : তথ্যমন্ত্রী

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার-সম্পর্কিত বিএনপির প্রস্তাব সমগ্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে 'জিম্মি করার' একটি চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। ‘সহায়ক সরকারের অধীন ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন এক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে হাসানুল হক ইনু আরো বলেন, ‘নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সাংবিধানিকভাবেই বাতিল হয়ে গেছে। বিএনপি যতই হুমকি দিক, সংবিধান অনুযায়ীই যথাসময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ আইসিটি আইনে ৫৭ ধারা সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ আইন চূড়ান্ত করার সময় ৫৭ ধারাটাও সমন্বয় করা হবে। এ সময় জেলা জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান, পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহিদ হাসান, জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন, যুগ্ম সম্পাদক জিল্লুর রহমানসহ দলীয় নেতা-কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলা চরনওদা পাড়া, আবুরি মাঠপাড়া এবং নওদা আজমপুর গ্রামে নতুন বিদ্যুত সংযোগের উদ্বোধন করেন। বিকেল ৩টায় মিরপুর হাজরাহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে মা ও অভিভাবক সমাবেশ এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে মন্ত্রীর যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। সূত্র : বাসস

ইতালি পাঠানোর নামে বিয়ানীবাজারের অর্ধশত পরিবারকে পথে নামিয়েছে দালাল চক্র

ইতালিতে পাঠানোর নাম করে সংঘবদ্ধ দালাল চক্র সিলেটের বিয়ানীবাজারের প্রায় অর্ধশত পরিবারকে পথে নামিয়েছেন। অনেকে সন্তান হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। ঢাকা থেকে লিবিয়া এরপর ইতালি পৌছানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা কয়েক’জন আদম পাচারকারী দীর্ঘ দিন থেকে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক মাসে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে সাগরে ট্রলার ডুবিতে বিয়ানীবাজারের বেশ কয়েকজন তরুণের প্রাণ হানির ঘটনা ঘটেছে। উঠতি বয়সি যুবক ও কলেজ পড়ুয়া তরুণদের টার্গেট করেই তারা তাদেরকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রলোভন দেখানোর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের দেখানো হয় নানা লোভ লালসা। মোটা অংকের টাকার চুক্তির মাধ্যমে প্রথমে লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর শুরু হয় এসব যুবক ও তরুনদের উপর অমানুষিক নির্যাতন। তাদেরকে কৌশলে অপহরণ করিয়ে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মোটা অংকের টাকা। ভূক্তভোগি অনেক পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানিয়েছেন, দালাল চক্র প্রথমে তাদেরকে অল্প দিনের মধ্যে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠিয়ে দেয়ার জন্য নানা ভাবে প্রলোভন দেখায়। স্বপ্নের দেশে পৌছতে পারলেই সন্তানের জীবনে সুখ শান্তি আসবে এমন আশায় পরিবারের সদস্যরা দালালদের সাথে চুক্তি করেন। দালালরা তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার পর প্রথমে লিবিয়া নিয়ে যায়। তারা অভিযোগ করেছেন, লিবিয়া নেয়ার পর যাত্রীদের উপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন।
সু কৌশলে মাফিয়া দিয়ে অপহরণ করিয়ে এ খবর দেশে পৌছায় দালাল চক্র। পরবর্তীতে নির্যাতনের নানা কাহিনী সাজিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মোটা অংকের টাকা। বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিয়ানীবাজারের চিহ্নিত আদম ব্যবসায়ী আলম, সুমন তরুনদের লিবিয়া হয়ে ইতালী পাঠানোর মূল দায়িত্বে থাকেন। আর অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা আদায়ের কাজে ব্যবহার করা হয় আলমের নিকট আত্মীয় সাইফুরকে। আলম ও সুমন এর বাড়ী মুড়িয়া ইউনিয়নের ছোটদেশ এলাকায় হলেও সে বর্তমানে সিলেট শহরে বসাবাস করছে। আর সাইফুরের বাড়ী একই ইউনিয়নের ঘুঙ্গাদিয়ায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে সাইফুর বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের প্রায় কোটি টাকা আদায় করে একটি কুরিয়ার সার্ভিস ও বিকাশের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়েছে। সাইফুর এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানিয়েছেন, আলম ও সুমনের টাকা তিনি উত্তোলন করে কুরিয়ার সার্ভিস ও বিকাশের মাধ্যমে তাদের দেয়া ঠিকানা মতো পাঠিয়ে থাকেন। তিনি জানান, মুক্তিপণের টাকাগুলো সংশ্লিষ্টদের হাতে না পৌছলে আটককৃতরা ছাড়া পান না। লিবিয়া থেকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আলম ও সুমনের সহযোগিরা বর্তমানে অর্ধ শাতাধিকেরও বেশি যুবককে লিবিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে প্রেরণের জন্য সেখানকার একটি স্থানে জড়ো করেছে। তাদেরকে দু’এক দিনের মধ্যেই ইতালি পৌছে দেয়ার কথা বলে চুক্তির চেয়ে বেশি টাকাও প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে আদায় করছে। অসহায় মানুষজন সন্তানের জীবনের চেয়ে টাকার মূল্য বেশি নয় ; তা ভেবে ধার দেনা করে দালাল চক্রের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। এদিকে সম্প্রতি লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে সাগরে ট্রলার ডুবিতে বিয়ানীবাজারের বেশ কয়েকজন তরুণের প্রাণ হানির ঘটনা ঘটেছে। সূত্রটি জানায়, এসব তরুণ ও যুবক আলম ও সুমন চক্রের সাথে চুক্তির মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার জন্য রওয়ানা দেন।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস ৮০.৩৫ % : পাসের হার ও জিপিএ ৫ কমেছে

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ১০ শিক্ষা বোর্ডে গড়ে পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৫। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন স্তরে ( এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) একলাখ ৪ হাজার। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ২১ ভাগ, মাদ্রাসায় ৭৬ দশমিক ২০ ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৭৮ দশমিক ৬৯ ভাগ। তবে পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ ৫—দুটোই কমেছে। এবার ১০টি শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। গতবার এই হার ছিল ৮৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। অর্থাৎ, এবার পাসের হার ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলের অনুলিপি তুলে দেন। এ সময় শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ফল প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন,
গতবারের চেয়ে এ বছর পাসের হার কম। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার বেশি। ফলাফলে আরো বলা হয়েছে, এ বছর মোট পাস করেছে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ জন। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ চার হাজার ৭৬১ জন। ফলাফলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাশের হার কম। তিনি বলেন, গত তিন বছর ধরে পরীক্ষার খাতা মুল্যায়নের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় এবার সঠিকভাবে খাতা মু্ল্যায়ন হয়েছে। ১২ শতাংশ খাতা পুনঃমূল্যায়নের প্রেক্ষিতে এবার পাশের হার কমেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এতে শংকিত হবার কিছু নেই। কারণ খাতা সঠিকবাবে মূলায়ন হয়েছে। কাউকে বেশী আর কাউকে কম নাম্বার দেবার কোন সুযোগ নেই। দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষামন্ত্রী সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করবেন।
যেভাবে জানা যাবে ফল
শিক্ষার্থীরা মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠিয়ে তাদের ফল জানতে পারবে। ইংরেজিতে বড় হাতের অক্ষরে SSC লেখার পর বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর, তারপর রোল নম্বর ও বছর লিখে যেকোনো মোবাইল থেকে ১৬২২২ পাঠিয়ে দিলে ফল জানা যাবে। এ জন্য দুই টাকা ৪৪ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে।
ওয়েবসাইটেও (http://www.ntvbd.com/result/ssc-result-2017) পাবেন এসএসসির ফল।

কুমিল্লা বোর্ডে সর্বনিম্ন পাশের হার

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০১৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার(এসএসসি) ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এ বছর পাশের হার শতকরা ৫৯ দশমিক ০৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪শ ৫০ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও পাসের হার, জিপিএ-৫ ও শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। ২০১৩ সালের পাশের হার ৯০ দশমিক ৪১ ভাগ,২০১৪ সালের পাশের হার ৮৯ দশমিক ৯২ ভাগ, ২০১৫ সালের পাশের হার ৮৪ দশমিক ২২ ভাগ,২০১৬ সালের পাশের হার ৮৪ ভাগ। গত ৫ বছরে এই বছরের পাশের হার সর্বনিম্ন।গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬হাজার ৯শত ৫৪ জন।শত ভাগ পাশ করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১৪টি।
কুমিল্লা বোর্ড কর্তৃক প্রাপ্ত ফলাফল বিবরণী সূত্রে জানা যায়, এ বছর বোর্ডের ৬ জেলার ১ লাখ ৮২ হাজার ৯শত ৭৯জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ১ লাখ ০৮ হাজার ১শত ১১ জন। বালক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৩ হাজার ১ শত জন। উত্তীর্ণ হয় ৪৯ হাজার ৪শ ৫৬ জন। পাশের হার ৫৯ দশমিক ৫১ ভাগ। বালকদের মধ্যে জিপিএ- ৫ প্রাপ্তের সংখ্যা ২হাজার ২শত ৯৭ জন। বালিকা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ৮ শত ৭৯ জন । উত্তীর্ণ হয় ৫৮ হাজার ৫শ ৫৫ জন। পাশের হার ৫৮ দশমিক ৬৩ ভাগ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তের সংখ্যা ২ হাজার ১শত ৫৩ জন।

সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে সব শিশুর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চায় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, তার সরকার একটি দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে প্রতিটি শিশুরই শিক্ষায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, ‘একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করাটা জরুরি। আধুনিক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কোনো দেশই এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে পারবে না।’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে একথা বলেন। শেখ হাসিনা পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের নতুন পদ্ধতি সংযুক্ত করায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান। নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র তৃতীয় পরীক্ষক দ্বারা পরীক্ষা করানো হচ্ছে।
পরীক্ষার উত্তরপত্র যাচাইয়ের এই নতুন সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সময়োচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে পাশের হার কিছুটা কমে গেলেও পরীক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ে এটি যথার্থ কার্যকরী হবে। কৃতকার্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী। কাজেই তারা তাদের পড়াশোনায় একটু মানোযোগী হলেই আর ফেল করবে না। প্রধানমন্ত্রী এ সময় এবছর এসএসসি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের মাধ্যমে পরীক্ষা শেষের ৬০ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশে সমর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং শিক্ষাবোর্ডগুলোকেও ধন্যবাদ জানান। শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে তার সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের প্রথম দিনই সরকারের উদ্যোগে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ এবং প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নানারকম বৃত্তি প্রদানের ফলে অভিভাবকদের এক্ষেত্রের বোঝাটা অনেকাংশেই লাঘব হয়েছে। সরকার প্রধান বলেন, তার সরকার হাওড়, দুর্গম চর এলাকা, পার্বত্য অঞ্চল এবং দ্বীপাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আবাসিক স্কুল করে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আটটি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এ বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (এসএসসি) এবং সমমানের মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষার আজকের প্রকাশিত ফলে সার্বিক পাশের হার ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ বছর ১৭,৮১,৯৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার্থীয় অংশ গ্রহণ করে। যার মধ্যে ১৪,৩১,৭২২ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনুষ্ঠানে সকল শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট এই ফলাফল হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার ভাষণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের সরকার প্রদেয় শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগসমূহকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় সঠিক মনোযোগ প্রদানের আহবান জানান। তিনি বলেন, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে নানারকম উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি-উপবৃত্তিসহ বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদানের জন্য সরকার ট্রাস্ট ফান্ডও গঠন করেছে। তিনি এ সময় বিদ্যালয়গুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম তৈরি করে শিক্ষার্থীদের আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদানে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কেও তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাতক্ষীরা এবং শেরপুর জেলার ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। সূত্র : বাসস

বিনামূলে গরিব কৃষকের ধান কেটে দিল ইবি শিক্ষার্থীরা

একজন অসহায় কৃষকের জমির পাকা ধান কেটে দিয়ে আলোড়ণ কৃষ্টি করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঝাঁক কর্মঠ তরুণ শিক্ষার্থীরা। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পয়লা মে তে শিক্ষার্থীরা মো: খলিল মুন্সি নামের এক গরিব কৃষকের ধান বিনামূল্যে কেটে দিয়েছে। এনিয়ে এলাকায় এবং ক্যাম্পাসে ব্যপক আলোড়ণ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ধান কাটার ছবিটি ভাইড়াল হয়েগেছে। এমন মহৎ উদ্দ্যোগ কে বাহবা জানিয়ে অনেকইে বিভিন্ন উৎসাহমূলক মন্তব্য করেছেন। তাদের এ কাজে গর্ববোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুণ-উর-রশিদ আসকারী। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসকে একটু ব্যাতিক্রমভাবে পালন করার উদ্যোগ নেয়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা গ্রামের কোন কৃষকের ধান কেটে দিয়ে তার পাশে দারানোর চিন্তা করে। তারা ক্যাম্পাস পার্শবর্তী ঝিনাইদহ জেলার অন্তর্গত আনন্দনগড় গ্রামের মোঃ খলিল মুন্সির সাথে যোগাযোগ করে এবং মুন্সির এক বিঘা জমির ধান কেটে দেবে বলে জানায়। তাদের সাহাযের কথা শুনে অনন্দিত হয় কৃষক খলিল। ইবি শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান জীবন, ইকরামুল হক তে¦াহা, মোশারফ আলী, মারুফ বিল্লাহ, আবু ওবায়দা যায়েদ, মহিব্বুর রহমান. ফারুক হোসাইন, আব্দুল ওয়াদুদ, দেলওডার হোসাইন, আতিক হাসান, আমিনুল ইসলাম, সুলাইমান হোসেন, মুহসিন কবির, নূরে আলম এবং মাহমুদুল হাসান ধান কাটায় অংশ নেয়। তারা সকাল আটটা থেকে দুপুর এক টা পর্যন্ত ধান কাটে। সল্প সময়ে তার কৃষকের এক বিঘা ধান কেটে দেয়। যা লেবার দিয়ে কাটতে হলে ওই কৃষকের প্রায় দুই হাজার টাকা ব্যায় হত। শিক্ষার্থীদের ধান কাটার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে পাঠকেরা মন্তব্যে মেতেওঠে। প্রকাশিত ছবিতে ওমর আলি নামে একজন পাঠক মন্তব্য করেন, ‘এরা আসলে কার আদর্শে আদর্শীত সৈনিক?
মনে হয় মানবতার দূত মুহাম্মাদ (সঃ) এর সৈনিক। নইলে কত আদর্শীদ নেতার সেনারা মঞ্চ কাঁপিয়েছে অগ্নিঝড়া বৃক্তৃতায়। কিন্তু তাদের হাতেই শ্রমিকরা আজ শোষীত। প্রবাদে আছে,‘উপরে ফিটফাট ভেতরে সদর ঘাট।’ তাই সকল সেনারা যদি আজ রাসুলের আদর্শের কাছে আত্মসমর্পণ করতো তবে, শ্রমিক দিবস নামে কনো দিবস পৃথিবীতে খুঁহে পাওয়া যেত না। রাফসান হামিদী নামে একজন পাঠক মন্তব্য করেন, ‘ এমন একটি মহৎ কাজের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। মানবতার সেবাই আমাদের আসল লক্ষ্য।’ কৃষক খলিল মুন্সি শিক্ষার্থীদের উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, ‘আমি কাউকে বলিনি। তারা নিজ থেকেই আমার এই উপকার করেছে। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যেন এই সন্তান গুলোকে অনেক বড় পর্যায়ে নিয়ে যায়।’ প্রোভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের মানবতাবাদী এ উদ্যোগে আমরা গর্বিত। শ্রমিক মালিকে ভাই-ভাই সম্পর্কই হোক আমাদের অঙ্গিকার। তারা শুধু একজন খলিলের পাশে দাড়ায়নি বরং তারা সমস্ত খেটে খাওয়া শ্রমিক, অসহায় কৃষক, গরিব মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। দেশের মানুষ এদের অনুসরণ করতে পারে।’ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন ব্যাতক্রিম ধর্মী কাজের প্রশংসা করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। তিনি বলেন, ‘তাদের সেবামূলক ও মানবতাবাদি এ উদ্দ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। আমি আমার সন্তানদের এমন সহৎ কাজে অত্যন্ত আনন্দিত। এটি একটি অনুসরণ যোগ্য দৃষ্টান্তও বটে।’

ব্রেক্সিট নিয়ে বিরল বাকযুদ্ধ

যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের (ব্রেক্সিট) সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে নেয়নি সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও জোটের বেশির ভাগ দেশের নেতারা। ব্রিটেন আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ত্যাগের আবেদন জানানোর পর সংস্থাটির নেতারা ব্রিটেনকে কঠিন শিক্ষা দেয়ার ব্রত নিয়েছেন বলেই মনে হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগেই দুপক্ষের মধ্যে রীতিমতো বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ও ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ জাঙ্কারের মধ্যে নৈশভোজ-পূর্ব বৈঠকে তাদের মধ্যে বিপর্যয়কর আলোচনা হয় বলে গণমাধ্যমগুলো তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে। এতে দেখা যায়, বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ দুই ইস্যুতে তেরেসা ও জাঙ্কার দুই মেরুতে অবস্থান নেন। এর একটি হল ব্রেক্সিট ত্যাগের জন্য ইইউকে ব্রিটেনের দেয়া ক্ষতিপূরণ- যার পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ইউরো বা তারও বেশি হতে পারে এবং অন্যটি হল ব্রিটেনে কর্মরত ইউরোপের অন্যান্য দেশের নাগরিকদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা। বৈঠকে জাঙ্কার তেরেসাকে বলেন, ব্রেক্সিট ব্রিটেনের জন্য কোনো সফলতা হবে না। বৈঠক শেষে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেলকে ফোন করে জাঙ্কার বলেন, তেরেসার সঙ্গে আলোচনা করে তার মনে হয়েছে ব্রেক্সিট আলোচনা ‘দশ গুণ সংশয়ের’ মধ্যে পড়েছে আর তেরেসা ভিন্ন জগতে বাস করছেন। এরপর দু’পক্ষ আরও বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। সিএনএন বলছে, ব্রেক্সিট নিয়ে ইইউ কর্মকর্তারা ‘নোংরা লড়াই’ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
আর ডাউনিং স্ট্রিট যে ভাষায় জবাব দিয়ে চলেছে তাতে ব্রেক্সিট আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েই শংকা তৈরি হয়েছে। ২৭ দেশের পক্ষে ব্রেক্সিট আলোচনায় নেতৃত্ব দেবে ইউরোপিয়ান কমিশন। তেরেসা মে জাঙ্কারের সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি ‘আমাকে একজন নিষ্ঠুর কঠিন নারী’ হিসেবে দেখতে পাবেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচনের প্রচারে একজন সহকর্মী আমাকে নিষ্ঠুর কঠিন নারী’ আখ্যা দিয়েছিলেন। সে সময় আমি বলেছিলাম, ‘আমাকে এরূপে পরবর্তীকালে যিনি দেখতে পাবেন তিনি হলেন জঁ ক্লদ জাঙ্কার।’ তেরেসা বলেন, আসন্ন আলোচনা কঠিন হবে। তিনি সেই আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়ার আশা প্রকাশ করেন। তবে গার্ডিয়ান বলছে, ব্রেক্সিট আলোচনা হবে ১৫ মাস ধরে। প্রতি মাসে এক সপ্তাহব্যাপী এ আলোচনায় কোনো প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। ইইউ ছাড়তে গুনতে হবে ১০০ বিলিয়ন ইউরো : ইইউ ত্যাগের জন্য যুক্তরাজ্যকে ১০০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা- বাংলাদেশের প্রায় তিনটি জাতীয় বাজেটের সমান অর্থ) গুনতে হতে পারে। দি ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, ফ্রান্স ও জার্মানি সর্বশেষ ব্রিটেনের কাছে যে অর্থ দাবি করেছে সেটা হিসাব করে এই সংখ্যা নির্ধারণ করেছে বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি খাতে ভর্তুকি এবং ইইউর প্রশাসনিক ফি। এর মানে হচ্ছে ইইউ ত্যাগ করার পরও ব্রিটেনকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে যেতে হবে। ইইউ সূত্র বিবিসিকে বলেছে, ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সবচেয়ে বড় লড়াইটা হবে ক্ষতিপূরণ নিয়ে। তবে এখনই সেই অঙ্কটা প্রকাশ করছে না সংস্থাটি। তবে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস বলেছেন, তারা এই ক্ষতিপূরণ দেবেন না।
ইউনিয়ন ত্যাগের জন্য যুক্তরাজ্যের কাছে এই পরিমাণ অর্থ দাবি করার প্রস্তুতি নিয়েছে ইইউ এমন খবর প্রকাশের পর বুধবার এ কথা জানান ডেভিস। ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল আইটিভিকে ডেভিস বলেন, ‘আমরা ১০০ বিলিয়ন দিচ্ছি না। ইইউ যা চায় আমরা সেটাই দিয়ে দিচ্ছি না। আমরা সেটাই দেব যা আইনগতভাবে আমাদের দেয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের যা করার আছে তা হল অধিকার ও বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।’ এ সময় তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের জন্য ইইউর করা কোনো বিল ব্রিটিশ সরকার দেখেনি। ডেভিস বলেন, এটা আলোচনার বিষয়। তারা যেটা মনে করছে সেটাই চাচ্ছে আর আমরা যেটা চাচ্ছি সেটাই বলব। তবে আমরা এটা সঠিকভাবে করব। অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব।’ অনেক কনজারভেটিভ এমপি যুক্তি দেখাচ্ছে যে, অতীতে ইইউর জন্য ব্রিটেন যে অবদান রেখেছে সেটা বিবেচনায় নিলে সংস্থাটি ব্রিটেনের কাছে কোনো অর্থ দাবি করতে পারে না। হাউস অব লর্ডসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনগতভাবে একটি পয়সাও ইইউকে দিতে ব্রিটেন বাধ্য নয়।

বিমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

উড়ন্ত বিমান দেখতে গিয়ে ধানবোঝাই ট্রলির নিচে চাপা পড়ে পাঁচ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কোহিত গ্রামের আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওই শিশুর নাম সালমান। সে ওই গ্রামের মোস্তফার ছেলে। তাড়াশ থানার এসআই আনন্দ কুমার জানান, সকালে গ্রামের উপর দিয়ে একটি বিমান উড়ে যাওয়ার সময় শিশু সালমান আকাশের দিকে তাকিয়ে দৌড়ে বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হয়। এ সময় শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ধানবোঝাই একটি ট্রলি শিশুটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চালককে আটক ও ট্রলিটি জব্দ করা হয়েছে।

ট্রাকের পেছনে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ২

গাজীপুরের শ্রীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সঙ্গে দ্রুতগামী পিকআপের ধাক্কায় মালিক ও চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর চারটায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুর পৌরসভার আসপাডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে গাজীপুর থেকে শ্রীপুরগামী পিকআপ আসপাডা এলাকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়।
এসময় পিকআপ চালক দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলাহাট গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে আল-আমিন (২৪) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। পিকআপ মালিক শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে আমিনুল ইসলাম (২৮) গাজীপুর সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেরুজালেমকে ধ্বংস করছে ইজরায়েল: ইউনেস্কো

ইজরায়েলের বিরুদ্ধে জেরুজালেমের স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইউনেস্কোর নির্বাহী পরিষদে অনুমোদন পাওয়া এক প্রস্তাবে এ অভিযোগ করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয় ইহুদী রাষ্ট্রটি জেরুজালেমের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে। ওই প্রস্তাবে দেশটির বিপক্ষে অনৈতিকভাবে জেরুজালেম ও গাজা অধিগ্রহণ করে রাখার কথাও বলা হয়। খবর আলজাজিরার।
প্রস্তাব বিষয়ে ইউনেস্কোর মুখপাত্র রনি আমেলান জানিয়েছেন, নির্বাহী বোর্ডে পাস হওয়া প্রস্তাবটি শুক্রবারের প্লেনারি সভায় যাবে আলোচনার জন্য। এদিকে ইউনেস্কোর নির্বাহী বোর্ডে পাস হওয়া প্রস্তাবকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের জয়’ বলে উল্লেখ করেছেন ফিলিস্তিনি নেতারা। এর বিপরীতে ইজরায়েল বিষয়টিকে ‘ইউনেস্কোর অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক’ কর্মকাণ্ড বলে আখ্যায়িত করেছে। ইউনিস্কোর নির্বাহী সভায় আলজেরিয়া, মিসর, লেবানন, মরক্কো, ওমান, কাতার এবং সুদান সম্মিলিতভাবে প্রস্তাবটি তুলে ধরে। পরে ২২টি দেশের সমর্থনে প্রস্তাবটি পাস হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি এবং বোর্ডের অপর সাত সদস্য দেশ ওই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ২০১১ সালে ফিলিস্তিনকে সদস্যপদ দেয় ইউনেস্কো। এ কারণে জাতিসংঘের এ সংস্থাটিকে অনুদান দেয়া বন্ধ করে দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

শিগগিরই নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দেবে বিএনপি

বিএনপির পক্ষ থেকে আগামী সপ্তাহে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। মোয়াজ্জম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আগামী সপ্তাহে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেন। সেই রূপরেখা বাস্তবায়ন না হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা সংশয় রয়েছে। তিনি বলেন, ৭০ সালের নির্বাচন ছাড়া কোনো নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়নি। ষড়যন্ত্রমূলক ও কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়েছে। আবারও কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেয়া আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতাশা ও অস্থিরতা রয়েছে আওয়ামী লীগে। দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেছেন ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারালে পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।’ আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ‘প্রধানমন্ত্রী না থাকলেও আমি আপনাদের পাশে থাকবো।’ তাদের দু'জনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে তারা হতাশা ও অস্থিরতায় ভুগছে।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দিন থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়েছিল। তারা বাড়ি ছিল না। এমনকি দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল হাজার হাজার নেতা-কর্মী। তাদের কৃতকর্মের কারণে তারা সেদিন পালিয়েছিল। প্রতিনিধি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমেলেন্দু কুমার দাস, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল হুদা, ইঞ্জনিয়ার টিএস আইয়ুব, আবুল হোসেন আজাদ, ফারাজি মতিয়ার রহমান, ফিরোজা বুলবুল কলি, সাবিরা ইসলাম মুন্নী প্রমুখ। এছাড়া প্রতিনিধি সভায় জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন।

ব্যবসায়ীর চোখ উপড়ে ফেলার ঘটনায় আটক ৩

মাদারীপুরের কালকিনিতে মোঃ কবির মৃধা (৪২) নামের এক পান ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর দু’চোখ উপড়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আটক করে কালকিনি থানা পুলিশ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে পূর্ব শক্রতার জেরে এই ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। আটককৃতরা হলেন- মোঃ সাইদুল বিশ্বাস (২৮), জাহাঙ্গীর আকন-(৪১) ও সেলিম হাওলাদার। এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃপা সিন্দু বালা বলেন, রাতের আধারে দূর্বৃত্তরা কবির মৃধার চোখ উপড়ে ফেলেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এরআগে বুধবার বিকালে কালকিনির খাসেরহাট বন্দর থেকে পানের চালান নিয়ে ঢাকাগামী লঞ্চে ওঠেন কবির মৃধা। লঞ্চটি সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর লঞ্চঘাটে থামলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সুমন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে। পরিবারের লোকজন পুলিশকে অবহিত করলে বরিশালের মুলাদী ও শরীয়তপুরের গোসাইরহাট এবং মাদারীপুরের কালকিনি থানা পুলিশ তাকে উদ্ধারে অভিযান চালায়। কালকিনির বাঁশগাড়ি সংলগ্ন শরীয়তপুরের গজারিয়া গ্রামের মাঠে বসে চোখ উত্তোলন করে হত্যা চেষ্টার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে কালকিনি হাসপাতালে ও পরে রাত ১২টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

নির্ভার এরশাদ

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি দল আওয়ামী লীগ যখন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত, হামলা-মামলার ধকল সামলাতে বিএনপি এখনও কিছুটা তটস্থ, তখন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টি। নানা সমীকরণের যোগফলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভোটের রাজনীতি এবং সরকার গঠনে এখন আরও বড় ফ্যাক্টর। সোজাসাপ্টা বলতে গেলে, বিদ্যমান অবস্থায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠনে এরশাদই অবতীর্ণ হবেন মূল ক্রীড়নকের ভূমিকায়। বড় দুই দলের যাকে তিনি সমর্থন দেবেন, সেই দলের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম হবে। অর্থাৎ এরশাদের সঙ্গে ক্ষমতার ভাগাভাগি ছাড়া আওয়ামী লীগ-বিএনপির কেউ সরকার গঠনে অগ্রসর হতে পারবে না। এমনকি নানা কারণে ভবিষ্যতে একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে এমনটি মনে করেন।
এরকম বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে তারা বলছেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়া নিয়ে বড় দুটি দলের মধ্যে কমবেশি সংশয় থাকলেও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে সেরকম কোনো শঙ্কা নেই। তাদের মতে, এরশাদ যতদিন আছেন ততদিন তার দল সরকারের অংশীদার থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, যাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নব্বইয়ে সব দল এক হয়েছিল, মাত্র ২৬ বছরের মাথায় সেই এরশাদকেই এখন ক্ষমতায় যাওয়ার প্রধান সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে বড় দলগুলো উন্মুখ। এভাবে ইতিহাসের পাতায় নতুন করে জায়গা নিয়েছে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির বিশেষ কারিশমা ও রাজনৈতিক সাফল্য। এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. তারেক শামসুর রেহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘কারও পছন্দ হোক বা না হোক, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টিই এখন প্রধান ফ্যাক্টর। ক্ষমতার রাজনীতিতে এটাই বাস্তবতা। এ বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘বড় দুই দল ভালোভাবেই জানে ক্ষমতায় আসতে হলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সমর্থন লাগবে। তাকে ক্ষমতার ভাগ দিতে হবে। আওয়ামী লীগ দুইবার ক্ষমতায় এসেছে জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে। এ কারণে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতার ভাগও দিতে হয়েছে তাদের। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা আপাতত এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘কত দিন বেঁচে থাকব জানি না। হয়তো এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। তাই এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় নেয়াটাই হচ্ছে আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’ সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট আছে। বিএনপির নেতৃত্বে আছে ২০ দলীয় জোট। শুধু জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে কোনো জোট নেই। তাই আমরাও আলাদা একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে শিগগির এ জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটবে।’ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনেই আমরা প্রার্থী দেব।’ তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে এককভাবে আর রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টিই হবে আগামী দিনের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট।’ সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিএনপি এখন কাগুজে বাঘ। তারা বিবৃতিসর্বস্ব একটি রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। কোথাও এই দলের অস্তিত্ব নেই। এখন দেশের মানুষের কাছে একমাত্র আস্থার জায়গা জাতীয় পার্টি।’ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্য স্থির করেছি এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়ে এগোচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামী নির্বাচনে কমপক্ষে ১৫১টি আসনে জয়ী হওয়া। সে অনুযায়ী দল গোছানোর কাজ চলছে। প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে।
অনেকেই জাতীয় পার্টির হয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এরই মধ্যে অনেকে দলে যোগ দিয়েছেন। আরও অনেকে যোগদানের অপেক্ষায় আছেন। যারা বিভিন্ন সময় জাতীয় পার্টি ছেড়ে গেছেন, তারাও তাদের ভুল বুঝতে পেরে ফিরে আসতে চাচ্ছেন। কারণ সবাই বুঝে গেছেন, একমাত্র জাতীয় পার্টির সামনেই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি নির্ভার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা রাডার ক্রয় সংক্রান্ত মামলায় গত ১৯ এপ্রিল বেকসুর খালাস পেয়েছেন তিনি। শারীরিকভাবেও এখন পুরোপুরি সুস্থ সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। দল গোছানোর কাজে প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো জেলা সফরে যাচ্ছেন। সর্বশেষ ১০ এপ্রিল নরসিংদী জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন করে এসেছেন তিনি। মাঝে কিছুদিন নিজের নির্বাচনী এলাকা রংপুরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটান। এরপর ২৩ থেকে ২৭ এপ্রিল টানা পাঁচ দিনের জন্য পশ্চিবঙ্গের দিনহাটায় অবস্থিত নিজের পৈতৃক ভিটা ঘুরে আসেন তিনি। মে’র পুরোটা সময় ব্যস্ত থাকবেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একাধিক জেলায় সফরে যাওয়া ছাড়াও ঢাকায় জেলা নেতাদের নিয়ে বসবেন। আগামী জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন মাঠ নেতাদের কাছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা আপাতত এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য, আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেয়া। সে অনুযায়ী প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। পাশাপাশি দল গোছানোর কাজও পুরোদমে এগোচ্ছে।’ জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘একা কতদূর যাওয়া যায়, তা আমরা বোঝার চেষ্টা করছি। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে তখন কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
এ নিয়ে এখনই মন্তব্য করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি এ মুহূর্তে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে জাতীয় পার্টি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই বর্তমান বাস্তবতায় এ দলকে কারও উপেক্ষা করা খুবই কঠিন।’ জাতীয় পার্টির একাধিক শীর্ষনেতার মতে, আগামীতে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার ধারণা, আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক দলই সরকার গঠন করুক না কেন, শেষ ট্রাম্প কার্ডটি থাকবে এরশাদের হাতে। তার সমর্থন ছাড়া কোনো দলই সরকার গঠন করতে পারবে না। এরশাদ যে দল বা জোটকে সমর্থন দেবেন, সব নেগেটিভ ও ফ্লোয়েটিং ভোট সেদিকে ছুটবে। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মতে, সেদিক থেকে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। বাংলাদেশে অতীতে ভোটের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বেশিরভাগ ফ্লোয়েটিং কিংবা নেগেটিভ ভোট চলে যায় রুলিংপার্টির বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় যদি কোনো কারণে বিএনপি জাতীয় পার্টির সমর্থন পেয়ে যায়, তাহলে সরকার গঠনের পথ আরও সুগম হবে। আওয়ামী লীগ পেলেও সরকার গঠন করতে পারবে। আর ক্ষমতায় যেতে হলে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতার ভাগ দিতে হবে। যেমন এখন আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন জাতীয় পার্টির তিন মন্ত্রী। দরকষাকষির শক্তি বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে জাপার ভাগে এমপি এবং মন্ত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি ছাড়াও এরশাদের রাষ্ট্রপতি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু হবে না। অর্থাৎ আওয়ামী ও বিএনপির মতো তাদের মধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে কোনো টেনশন নেই।
বরং বলা যায়, ক্ষমতায় যাওয়ার আগাম টিকিট এখন তাদের পার্টি চেয়ারম্যানের হাতে। প্রসঙ্গত, দীর্ঘ একুশ বছরের মাথায় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে হয় জাতীয় পার্টির সঙ্গে মহাজোট করে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনও বৈধতা পায় জাতীয় পার্টির কারণে। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠন করে বিএনপি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০০৮ সাল থেকেই জাতীয় পার্টির পালে হাওয়া বইতে শুরু করে। ওই বছর আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট গঠন এবং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি জাতীয় পার্টিকে। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় ক্ষমতার ভাগাভাগির রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি আরও একধাপ এগিয়ে যায়। এ অবস্থায় আগামীতেও ক্ষমতার প্রাপ্য ভাগ নিয়ে অনেকটাই চাপমুক্ত দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ প্রসঙ্গে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন তিনিই হবেন ক্ষমতার রাজনীতির নিয়ামক শক্তি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে দলই আগামীতে ক্ষমতায় যাক না কেন, জাতীয় পার্টির সমর্থন লাগবে। জাতীয় পার্টির সমর্থন ছাড়া কোনো দলই ভবিষ্যতে সরকার গঠন করতে পারবে না। এ বিষয়টি দিবালোকের মতো স্পষ্ট।’

সাভারে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি

সাভারে একটি যাত্রীবাহী বাসে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা বাসের সকল যাত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত পা বেঁধে কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এসময় নারী যাত্রীদের লাঞ্ছিত করেছে তারা। বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের ব্যাংকটাউন এলাকায় রাজশাহীর চাঁপাই থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা রজনীগন্ধা পরিবহনে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাস যাত্রীরা জানায়, রাজশাহী চাঁপাই থেকে প্রায় ৩০ থেকে চল্লিশজন বাসযাত্রী ঢাকার গাবতলী আসার জন্য রাতে রওয়ানা দেয়। বাসটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের ব্যাংকটাউন এলাকায় পৌঁছালে বাসে যাত্রীবেশে থাকা ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে সকল যাত্রীকে সিটের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোনসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। যাত্রীরা আরো জানায়, ডাকাতরা এসময় ওই বাসের অন্তত ১০ জন যাত্রীকে পিটিয়ে আহত করেছে। তারা ওই বাসে থাকা তিনজন নারীকে যাত্রীকে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করেন বাস যাত্রীরা। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে গত রাতে সাভারের মিঠনগ্রামে তিনটি বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ওই তিনটি বাড়ি থেকে ডাকাতরা নগদ টাকা ও গরু নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সাভার মডেল থানার এসআই সুজন বলেন, গাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ: পাসের হার ৮০.৩৫ শতাংশ

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এ বছর ১০টি শিক্ষাবোর্ডে মাধ্যমিকে সম্মিলিত পাসের হার ৮০.৩৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ৪ হাজার ৭৬১জন। তবে ছেলেদের চেয়ে পরীক্ষায় মেয়েদের পাসের হার ৮.৮৫ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এসময় বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মাথায় দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলো। বেলা ১টা থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অনলাইন এবং এসএমএসে ফল জানতে পারবে। এবার সারা দেশে ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন পরীক্ষার্থী ছিল। ২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শুরু হয়ে ২ মার্চ শেষ হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ মার্চ শুরু হয়ে ১১ মার্চ পর্যন্ত চলে। গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৮৮ দশমিক ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১ জন। এ বছর এই পরীক্ষায় সম্মিলিত পাশের হার কমেছে ৮.০৪ শতাংশ। মোট পাশ করেছে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ জন। ৮টি বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার পাসের হার ৮১.২১ শতাংশ। পাসের হার কমেছে ৭.৪৯ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯৭ হাজার ৯৬৪জন।
মাদ্রাসা বোর্ডে দাখিলে পাসের হার ৭৬.২০ শতাংশ। পাসের হার কমেছে ১২.০২ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১২ হাজার ২৯৫ জন। কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে এ বছর পাসের হার ৭৮.৬৯ শতাংশ। সাধারণ বোর্ডের অধীনে এসএসসি, মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল www.educationboardresults.gov.bd-এ ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এ ওয়েবসাইট থেকে ফল ডাউনলোডও করা যাবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও ফল নিতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো। এসএমএস করেও ফল জানা যাবে। এসএসসির ফল পেতে SSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল পাওয়া যাবে। (উদাহরণ : SSS DHA 123456 2017)। দাখিলের ফল জানতে DAKHILলিখে MAD লিখতে হবে। আর কারিগরির ক্ষেত্রে SSC লিখে TEC লিখতে হবে। এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

রাজসাক্ষী হতে চায় জঙ্গি আশফাক

রাজসাক্ষী হতে চায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার-আল-ইসলামের (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এবিটি) আইটি শাখার প্রধান আশফাক-উর-রহমান ওরফে অয়ন ওরফে আরিফ ওরফে অনিক। পাঁচ দিনের রিমান্ডের প্রথম দিন সে এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি সে জঙ্গি কার্মকাণ্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র বলে, ‘স্যার আমি ভুল করেছি। আমাকে মারধর করবেন না। আমার কাছে যা জানতে চান সবই বলব। আমার জানা মতে, কোনো কিছুই গোপন করব না। আমাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দিন। এখনও পড়ালেখা শেষ করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং পলাতক জঙ্গি নেতা মেজর জিয়ার প্ররোচনায় ভুল পথে এসেছি। যখন বুঝতে পেরেছি, তখন সময় ছিল না। তাই গ্রেফতার এড়াতে পড়াশোনা বাদ দিয়ে সিলেট থেকে ঢাকা এসে আত্মগোপন করেছি।’ এরপর আশফাক তার সংগঠনের বর্তমান অবস্থা, কর্মী সংগ্রহের পদ্ধতি, প্রশিক্ষণ, ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রভৃতি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে থাকে। সিটিটিসির জিজ্ঞাসাবাদে আশফাক তার ১১ ঘনিষ্ঠ সহযোগীর নাম বলেছে। এরা হল- সালমান, সাদমান, ইব্রাহিম, নাহিদ, ইউনুস, ওসমান, আকিব, ফারুক, আবদুর রহমান ও আবদুল আজিজ। আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর নাম (শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র) সিটিটিসি যুগান্তরকে জানালেও তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে নামটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সিটিটিসি সূত্র জানায়, আশফাকের সঙ্গে আরও কারা জঙ্গিবাদে জড়িত তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। প্রথম দিনেই যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তা সত্য হলে এবিটির নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেয়া সম্ভব। আশফাক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গ্রেফতারের ভয়ে লেখাপড়া বাদ দিয়ে ৫ মাস আগে সে সিলেট থেকে পালিয়ে ঢাকায় আসে। নর্দ্দার একটি বাসায় অবস্থান করে গোপনে কর্মী সংগ্রহ এবং সংগঠনের শক্তি বাড়াতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল সে। আশফাক জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে মেজর জিয়ার সঙ্গে উত্তরায় বৈঠক করে সে। পরে দুই দফায় তার কাছ থেকে ট্রেনিং নেয়। ট্রেনিং শেষে সে সিলেটে চলে যায়। সিলেটে গিয়ে মেজর জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে থাকে। সে নিজে কখনও মেজর জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারত না। মেজর জিয়াই তার সঙ্গে যোগাযোগ করত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যোগাযোগ মাধ্যম ছিল ইন্টারনেট। কয়েক মাস ধরে মেজর জিয়া তার সঙ্গে যোগাযোগ করছে না। জানতে চাইলে সিটিটিসির উপকমিশনার (ডিসি) মহিবুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, রিমান্ডের প্রথম দিনে আশফাককে মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা সেলিম ওরফে হাদীসহ ৭ জনের ছবি দেখানো হয়েছে। বেশির ভাগের নাম ছদ্ম হওয়ায় তাদের সে চিনতে পারেনি। তবে ছবি দেখে ২-৩ জনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্য মিলিয়ে দেখার পাশাপাশি তার কাছ থেকে আরও তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে মহিবুল ইসলাম খান বলেন, কর্মী সংগ্রহের জন্য এ মুহূর্তে এবিটি অনলাইন প্রচারণাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মী সংগ্রহের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পর বড় ধরনের হামলার টার্গেট রয়েছে এবিটির। ডিসি মহিবুল ইসলাম খান বলেন, মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি মাইনুল ইসলাম মুসা, বাশারুজ্জামান, হাতকাটা মাসুম, সাগর এবং ছোট মিজানসহ অন্যদের সঙ্গে আশফাকের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা বের করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে অপারেশন চালানোর মতো সক্ষমতা এবিটির নেই। মেজর জিয়ার কাছ থেকে গত ২-৩ মাসে কোনো ধরনের নির্দেশনা পায়নি আশফাক। মেজর জিয়ার সঙ্গে কর্মীরা নিজ উদ্যোগে যোগাযোগ করতেও পারে না।’ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে রাজধানীর ভাটারা থানার নর্দ্দা এলাকা থেকে আশফাক-উর-রহমান ওরফে অয়ন ওরফে আরিফ ওরফে অনিককে গ্রেফতার করা হয়। পরে ভাটারা থানায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় সিটিটিসির পরিদর্শক এসএম শাহরিয়ার হাসানকে। মঙ্গলবার বিকালে আশফাককে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানায় সিটিটিসি। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রণব কুমার হুই তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দেন। বুধবার রিমান্ডের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। জানতে চাইলে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসএম শাহরিয়ার হাসান যুগান্তরকে বলেন, রিমান্ডে আশফাক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলা সম্ভব হচ্ছে না।

যেভাবে জানা যাবে এসএসসির ফলাফল

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এসময় বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ভাবে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেয়া হবে। বেলা ১টা থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অনলাইন এবং এসএমএসে ফল জানতে পারবে। এবার সারা দেশে ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন পরীক্ষার্থী ছিল।
২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শুরু হয়ে ২ মার্চ শেষ হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ মার্চ শুরু হয়ে ১১ মার্চ পর্যন্ত চলে। আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এসএসসি, মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল www.educationboardresults.gov.bd-এ ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এ ওয়েবসাইট থেকে ফল ডাউনলোডও করা যাবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও ফল নিতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো। এসএমএস করেও ফল জানা যাবে। এসএসসির ফল পেতে SSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল পাওয়া যাবে। (উদাহরণ : SSS DHA 123456 2017)। দাখিলের ফল জানতে DAKHILলিখে MAD লিখতে হবে। আর কারিগরির ক্ষেত্রে SSC লিখে TEC লিখতে হবে। এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

অতি উৎসাহীরা বিচার বিভাগের ক্ষতি করছে: প্রধান বিচারপতি



প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘কিছু মিডিয়া তাদের কাটতির জন্য আমার বক্তব্য একটু অন্যভাবে উপস্থাপন করে থাকে। আবার কেউ কেউ খুব সুন্দরভাবেও উপস্থাপন করে। আসলে রাষ্ট্র বা সরকারের সঙ্গে বিচার বিভাগের কোনো বিরোধ নেই। আমি চাই আইনের শাসন। কারণ দেশের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য আইনের শাসন অপরিহার্য।’ বুধবার দুপুরে জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দিতেই আইনজীবী ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আগে ফুল কোর্টের সিদ্ধান্তগুলো নিয়মমতো বাস্তবায়ন হতো, এখন সেগুলো হয় না। কারণ প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝানো হয়। প্রধানমন্ত্রী বিচারবিভাগের জন্য যথেষ্ট আন্তরিক। কিন্তু কিছু মানুষ তাকে ভুল বুঝাচ্ছেন। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘যে কোনো সরকারের সময়ে অতি উৎসাহী কিছু নেতাকর্মী এবং প্রজাতন্ত্রের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকেন; যাদের বাড়াবাড়ির কারণে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও আইনের শাসন বাধাগ্রস্ত হয়। সরকারও পড়ে বিব্রতকর অবস্থায়। এরা সরকার প্রধানকে ভুল রিপোর্ট দিয়ে বিচার বিভাগের ক্ষতি করছে। আর এ কারণে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না। এতে জনগণ ও রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলার ক্ষতি হচ্ছে। আমি এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। কারণ এতে তারা বিব্রত বোধ করবেন।’ তিনি বলেন, আমি সরকার বা মন্ত্রীর সঙ্গে বাহাস করতে চাই না। দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এ অবস্থা থেকে আমাদের সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ সময় তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার নিজের হাতে তুলে না নিতে আইনজীবীদের পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হয় তাহলে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে না। জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পিপি অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, জিপি অ্যাডভোকেট মোমিন আহমেদ চৌধুরী, জয়পুরহাট বারের সিনিয়র আইনজীবী খাজা জহুরুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহিনুর আলম চৌধুরী শাহীন প্রমুখ। অন্য বক্তারা জয়পুরহাটে ৫ বিচারকের পদ খালি থাকার কথা তুলে ধরে বলেন, এতে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। এ কারণেই দেড় সহস্রাধিক মামলা ঝুলে আছে। অনুষ্ঠানের আগে প্রধান বিচারপতি জয়পুরহাটের জেলা জজ আদালত ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পরিদর্শন করেন এবং বিকালে জয়পুরহাট সার্কিট হাউসে জুডিশিয়াল কনফারেন্সে যোগ দেন।

পান ব্যবসায়ীকে দু’চোখ উপড়ে হত্যাচেষ্টা

মাদারীপুরের কালকিনিতে সুমন বাহিনীর সদস্যরা এক পান ব্যবসায়ীর দু’চোখ উপড়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই ব্যবসায়ীকে কালকিনির সীমান্তবর্তী শরীয়তপুর জেলার গজারিয়া গ্রাম থেকে পুলিশ উদ্ধার করে কালকিনি হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই পান ব্যবসায়ী কবির মৃধার বাড়ি উপজেলার বাঁশগাড়িতে। ব্যবসায়ীর স্বজনরা জানায়, বিকালে কালকিনির খাসেরহাট বন্দর থেকে পানের চালান নিয়ে ঢাকাগামী লঞ্চে ওঠেন কবির মৃধা। লঞ্চটি সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর লঞ্চঘাটে থামলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সুমন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে।
পরিবারের লোকজন পুলিশকে অবহিত করলে বরিশালের মুলাদী ও শরীয়তপুরের গোসাইরহাট এবং মাদারীপুরের কালকিনি থানা পুলিশ তাকে উদ্ধারে অভিযান চালায়। কালকিনির বাঁশগাড়ি সংলগ্ন শরীয়তপুরের গজারিয়া গ্রামের মাঠে বসে চোখ উত্তোলন করে হত্যা চেষ্টার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে কালকিনি হাসপাতালে ও পরে রাত ১২টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব সাংবাদিকদের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ কবির মৃধাকে উদ্ধার করে কালকিনি হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা না গেলেও অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে যৌন নির্যাতনের শিকার এক কিশোর

কক্সবাজার জেলার টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের এক কিশোরকে গত বছরের ২৭ মার্চ টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠান সেখানকার একটি আদালত। ওই দিন তাকে ডরমিটরির চারতলার ৪ নম্বর কক্ষে থাকতে দেয়া হয়। এর তিন দিনের মাথায় ৩০ মার্চ গভীর রাতে ওই কক্ষে থাকা অপর চারজন মিলে ওই কিশোরকে নির্যাতন করে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি মাসুক তাকে বলাৎকার করে। এর আগে একই উন্নয়ন কেন্দ্রের শিশুরা খাবার না পেয়ে শরীর ব্লেট দিয়ে চিরে প্রতিবাদ জানানোর অভিযোগ তুলেছিল। কিন্তু পরে তদন্তে দেখা যায়, তারা মাদক না পেয়ে ওই ঘটনা ঘটায়। শুধু ওই কিশোরকে বলাৎকার করার ঘটনায় নয়, কিশোর-কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রের কিছু কিশোর-কিশোরী ভয়ানক সব অপরাধে জড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যশোর কেন্দ্রে আটক কিশোররাও মাঝে মধ্যেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এর পেছনে শিশু-কিশোরদের মনোজগতে আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব এবং অপরাধের ধরন বদলানোকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। টেকনাফের ওই কিশোরের মা গত বছর সুপ্রিম কোর্টের অভিযোগ বক্সে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। ওই অভিযোগে বলা হয়, কক্সবাজারের দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আটক ওই কিশোরকে গাজীপুর শিশু কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ৩০ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে আমার ছেলে ফোনে ভীষণ কান্না করে বলে আমাকে প্রতি রাতে কারাগারে নিয়োজিত লোকেরা জোর করে বলাৎকার ও যৌন নির্যাতন করে। আমার পায়ুপথ থেকে ভীষণ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমি বর্তমানে হাসপাতালে। আমি যে কোনো মুহূর্তে মরে যেতে পারি। আমাকে বাঁচাও। অভিযোগপত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজের কাছে তদন্তের জন্য পাঠান। পরে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুল হাই এ ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ম্যাজিস্ট্রেট তার প্রতিবেদনে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোরের বর্ণনায় তার মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের অনেকাংশে মিল পাই। জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোর জানায়, ২৭ মার্চ টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের ডরমিটরির চারতলার ৪ নম্বর কক্ষে থাকতে দেয়া হয়। ওই দিন বিকালে ওই কক্ষে অবস্থানরত কিশোর ইমরান, রাকিব হোসেন, সুমন ও ইকবাল তাকে প্রচুর মারধর করে। পরে ওই কক্ষে থাকা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি কিশোরগঞ্জের মাসুক ৩০ মার্চ গভীর রাতে সেখানে থাকা সোহেল নামের অপর এক কিশোরের সহায়তায় শরণার্থী ক্যাম্পের ওই কিশোরকে বলাৎকার করে এবং এ ঘটনা অন্য কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয়। এরপর ওই কিশোর এ ঘটনা কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে জানালে কর্তৃপক্ষ তাকে ডরমিটরি ভবন থেকে অন্য ভবনে নিরাপদ হেফাজতে রাখে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খোঁজ নিয়ে জানা যায় অভিযুক্ত মাসুকের অপর সঙ্গী সোহেলের জামিন হওয়ায় সে কেন্দ্র থেকে চলে যায়। আর মাসুককে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের ওই কিশোরের আনা অভিযোগের কথা স্বীকার করে। এ ছাড়া চারজন মারধর করে বলে স্বীকার করে সে।
এ ক্ষেত্রে ওই কিশোরের অভিযোগ, মাসুক ও অপর চারজনের দোষ স্বীকারের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন তদন্তকারী ওই ম্যাজিস্ট্রেট। তবে ওই কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে কোনোরূপ নির্যাতন করেনি বলে তদন্তে উঠে আসে। পরে এ তদন্ত প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ সমাজসেবা অধিদফতরকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, জেলা জজের তদন্তে যেসব ছেলের ব্যাপারে বলেছিল, আমরা সঙ্গে সঙ্গে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। পরে ছেলেগুলো জামিন পেয়ে চলে গেছে। কিশোররা সংশোধনাগারে এসেও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিলে তিনি বলেন, স্বাভাবিক ছেলেগুলো তো এখানে আসে না। ধরেই নিতে হয়, তারা এমনই করবে। তার পরও যতটা সংশোধন করা যায়। তিনি দাবি করেন, ‘বর্তমানে সংশোধনের হার অনেক ভালো। প্রথমবারেই ৯৫ ভাগ কিশোরই ভালো হয়ে যায়।’

নিখোঁজ সেই তিন ছাত্রীর একজন উদ্ধার

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ তিন ছাত্রীর একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বরিশালের রুপাতলী কালিজিরার বস্তি এলাকার সামনের সড়কে নিখোঁজ বৃষ্টি মিস্ত্রিকে খুঁজে পায় তার পরিবারের সদস্যরা। তিন ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রাইভেট পড়তে গিয়ে তিন স্কুলছাত্রী দুদিন ধরে নিখোঁজ। তারা হলো- উপজেলার কুন্দিহার গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক মিজানুর রহমানের মেয়ে ও চাখার ওয়াজেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার (১২), কুন্দিহার গ্রামের অটোরিকশা চালক হেলাল খানের মেয়ে বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী স্বর্ণা আক্তার (১৩) ও একই এলাকার অমল মিস্ত্রীর মেয়ে ও একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বৃষ্টি মিস্ত্রী আঁখি (১৩)।
এর মধ্যে বৃষ্টিকে তার দাদু ভাই রমেশ মিস্ত্রি ও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য রাতে রুপাতলী কালিজিরার বস্তির সামনের সড়কে দেখতে পান। বৃষ্টিসহ নিখোঁজ ছাত্রীরা এসময় মাহিন্দ্র অটোতে করে অন্য কোথাও যাচ্ছিল। এসময় দাদু রমেশ মিস্ত্রির ডাকে বৃষ্টি আর অটোতে চড়েনি। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের রুকাইয়া নামের বানারীপাড়ার স্থানীয় এক মেয়ে ও তার প্রেমিক অন্যত্র নিয়ে যায় বলে জানায় বৃষ্টি। এদিকে অন্য দুই শিক্ষার্থীর খোঁজ চলছে বলে জানিয়েছেন বানারীপাড়া থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বৃষ্টিকে সঙ্গে নিয়ে অপর দুই শিক্ষার্থী এবং তাদের অপহরণকারী রুকাইয়া ও তার প্রেমিকের খোঁজে অভিযান চলছে।

আমি নিজেও পদত্যাগ করব : এরশাদ

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এর আগে তিনি সরাসরি এ ইস্যুতে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। বুধবার বনানী কার্যালয়ে যুগান্তরকে এ কথা বলেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা না বিরোধী দল, না সরকারি দল। মানুষের মধ্যে আমাদের দলের ভূমিকা নিয়ে হাজারও প্রশ্ন কাজ করে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে আমাদের উচিত মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসা।’ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘শুধু আমি নই, বাকিরাও মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবে।’ এদিকে জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিত্ব না ছাড়লে দল থেকে বহিষ্কার হতে পারেন জাতীয় পার্টির এক মন্ত্রী এবং দুই প্রতিমন্ত্রী। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সভায় এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও মন্ত্রীদের পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এ সময় দলের সংসদ সদস্যরাও এরশাদ এবং রওশন এরশাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার জন্য মন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান। যদিও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এখনই পদত্যাগের সময় হয়নি বলে মন্তব্য করেন। দলের আরেক সংসদ সদস্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পদত্যাগ করলে জাতীয় পার্টি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ এ সময় জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘পার্টি চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি তা মেনে নেব।’  প্রসঙ্গত, বর্তমানে জাতীয় পার্টি সংসদের বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে।
একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির তিনজন মন্ত্রী রয়েছেন। এ নিয়ে সাড়ে তিন বছর ধরে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে দলটিকে। মঙ্গলবার রাতে সংসদ ভাবনে বিরোধীদলীয় নেতার কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ নিজেই এ আলোচনার সূত্রপাত করেন। সূত্র জানায়, বৈঠকে রওশন এরশাদ উপস্থিত তিন মন্ত্রীর উদ্দেশে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘তোমরা মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করো। তোমাদের জন্য বাইরে মুখ দেখানো যায় না। মানুষ আমাদের নিয়ে সমালোচনা করে। মন্ত্রিপরিষদে থাকায় জাতীয় পার্টির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তোমরা দ্রুত পদত্যাগ করবা, নইলে দল থেকে বাদ দেয়া হবে।’ রওশন এরশাদের এ বক্তব্যের পর পরই দলের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আপনারা মন্ত্রিপরিষদে থেকে দলের কোনো লাভ হয়নি। আপনারা দ্রুত পদত্যাগ করেন।’ তিনি এ সময় আরও বলেন, ‘চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জামায়াতের দুই মন্ত্রী ছিলেন। তারা জামায়াতকে সারা দেশে সাংগঠনিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করেছেন। কিন্তু আপনারা তিনজন মন্ত্রী থাকার পরও দলের কোনো লাভ হয়নি, বরং ক্ষতি হয়েছে। আপনাদের কারণে দলের এবং নেতাকর্মীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আপনারা যদি দ্রুত পদত্যাগ না করেন, তাহলে আগামী নির্বাচনে আমাদের কড়া মাশুল দিতে হবে।’ এ সময় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নীরব ছিলেন। তখন দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এরশাদকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি (এরশাদ) কী বলেন?
এ বিষয়ে আপনার মতামতই চূড়ান্ত। জাতীয় পার্টি করলে আপনার আদেশ মানতে সবাই বাধ্য। আমরা আপনার মতামত জানতে চাই।’ জবাবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘আমি তো আগেই ওদের বলেছি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে। আমিও সবার সঙ্গে পদত্যাগ করব। মন্ত্রিসভায় থাকার কারণে আমাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমি চাই, সবাই এখনই পদত্যাগ করুক। আমরা যদি সত্যিকারের বিরোধী দল হতে পারি, তাহলে আগামী নির্বাচনে আমাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’ রওশন এরশাদ এ সময় এরশাদের বক্তব্য সমর্থন করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যুগান্তরকে আরও বলেন, ‘আমাদের কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা নিতে হবে। এজন্যই আমি বারবার মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলছি। প্রয়োজনে আমিও সবার সঙ্গে পদত্যাগ করব।’ তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে এলে জাতীয় পার্টিই লাভবান হবে। বিএনপি রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে। এ অবস্থায় জাতীয় পার্টিই পারে বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে। আর এজন্য মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’

গণতন্ত্র রক্ষায় সাহসের সঙ্গে কাজ করতে বললেন খালেদা

গণতন্ত্র রক্ষায় নেতাকর্মীদের সুশৃংখল এবং দৃঢ় সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার রাতে চেয়ারপাসনের গুলশান কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নব গঠিত কমিটির (আংশিক) নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি'র যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবীব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী,
নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সিনিয়র সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সহ সভাপতি সাদরাজ জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানী, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. রেজোয়ান হোসেন রিয়াজ ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম প্রমুখ।