Thursday, May 17, 2018

কাশ্মিরে রমজান মাসে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত: ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কাশ্মিরে রমজান মাসে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।
মেহবুবা মুফতি ওই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করে বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলপক্ষকে ওই পদক্ষেপের জন্য ইতিবাচক সাড়া দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত ঘোষণার পরে মেহবুবা মুফতি বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে রমজান মাসে সংঘর্ষ বিরতিকে স্বাগত জানাচ্ছি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাজনাথ সিংকে ওই ইস্যুতে ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি ওইসব দল ও তাদের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞ যারা সর্বদলীয় বৈঠকে অংশ নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সংঘর্ষ বিরতির দাবি করেছিলেন। এরফলে গত তিনদশক ধরে অনিশ্চিয়তা, সহিংসতার মুখে পড়া রাজ্যবাসীকে ওই সিদ্ধান্ত অনেক সাহায্য করবে।'
জম্মু-কাশ্মিরের বিরোধী দলনেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, সন্ত্রাসীরা যদি এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া না দেয় তাহলে বুঝতে হবে তারা জনগণের শত্রু।
নামায আদায় করছেন কাশ্মিরের নারীরা
সিপিএম বিধায়ক মুহাম্মদ ইউসুফ তারিগামি ওই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আগামী ১৯ মে প্রধানমন্ত্রী কাশ্মির সফর করবেন, আমরা আশা করছি তিনি অর্থপূর্ণ সংলাপ প্রক্রিয়ার জন্য একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র এই মাসের জন্য নয়, আমরা আশা করব সহিংসতা চিরতরে শেষ হবে এবং এটি অর্থপূর্ণ সংলাপ প্রক্রিয়া শুরু করতে সাহায্য করবে।
কেন্দ্রীয় সরকার গতকাল (বুধবার) নিরাপত্তা বাহিনী রমজান মাসে কোনো অভিযান চালাবে না বলে জানিয়েছে। নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ওই পদক্ষেপ শান্তিপ্রিয় মুসলিমদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রমজান পালন করার জন্য সাহায্য করবে। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর অধিকার আছে যদি আক্রমণ হয় অথবা নিরীহ মানুষজনের নিরাপত্তা সঙ্কট দেখা দেয় তাহলে তারা পাল্টা পদক্ষেপ করবে।
মুসলিম ভাই-বোনদের নির্বিঘ্নে রমজান পালনে সাহায্য করতে ওই পদক্ষেপে সমস্ত শান্তিপ্রিয় মানুষই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন বলে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আশাপ্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, গেরিলা সংগঠন লস্কর-ই তাইয়্যেবার পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের ওই পদক্ষেপকে ‘নাটক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদি- ওমর আবদুল্লাহ-মেহবুবা মুফতি

লেবাননে ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা কেমন আছেন

লেবাননে বুর্জ আল বারাজনেহর একটি শরণার্থী শিবির। সেখানে একেকটা বাড়ির মাথায় উড়ছে ফিলিস্তিনি পতাকা। সরু সরু রাস্তা। উপরে মাকড়সার জালের মতো পেচানো বিদ্যুতের তার।
স্পিকারে খুব জোরে জাতীয়তাবাদী গান বাজিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল একটি গাড়ি।
এই শরণার্থী শিবিরে বসবাস করা খুব একটা সুখকর নয়। বেঁচে থাকার অর্থ রোজগারের জন্যে কোন কাজ নেই। বসবাসের পরিবেশও খুব খারাপ। এই ক্যাম্পে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিরা নাকবা দিবসে কথা বলছিলো পেছনে ফেলে আসা তাদের বাড়িঘর সম্পর্কে।
একজন শরণার্থী বললেন, "আমাদের জন্যে এই নাকবা খুব খারাপ একটি দিন। নিজেদের দেশ ও ভূমির কথা আমাদের মনে পড়ে। এরকম একটা খারাপ পরিবেশে আমরা কেন বসবাস করছি?"
আরেকজন নারী শরণার্থী বলেন, "আমার বয়স ১৫। লেবাননেই আমার জন্ম। এখানেই আমি বড় হয়েছি। কিন্তু আমার দাদা দাদী নানা নানী তারা সবাই তাদের ফেলে আসা জীবনের কথা বলেন। আমার বাবা মাও সেসব দেখেননি। কিন্তু তারপরেও তারা ফিলিস্তিনে ফিরে যেতে চান। আমিও চাই ফিরে যেতে।"
এটিকে ক্যাম্প বলা হলেও এখানে কোন তাবু নেই, নেই অস্থায়ী বাড়িঘরের কোন কাঠামো। কিন্তু তারপরেও এটিকে ক্যাম্প বলা হয় কেন? কারণ ফিলিস্তিনিরা মনে করেন লেবাননের এই জায়গাটি তাদের অস্থায়ী ঠিকানা। তারা স্বপ্ন দেখেন ৭০ বছর আগে তারা যেখান থেকে পালিয়ে এসেছেন, কিম্বা তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেখানে তারা একদিন ফিরে যাবেন।নিজের ভূমি থেকে দূরে থাকা খুব কঠিন। সেখানে আমরা যেতেও পারি না। আল্লাহ চাইলে আমি আমার নিজের দেশে মরতে চাই। আমি চাই সেখানেই আমার কবর হোক। আমার বিশ্বাস একদিন আমরা ফিরে যাবো এবং সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে," বললেন একজন।
লেবাননের এরকম বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করেন প্রায় পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী । তাদের বেশিরভাগই ১৯৪৮ সালের ইসরায়েল-আরব যুদ্ধের সময় নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন, কিম্বা তাদেরকে সেখান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ৭০ বছর আগের ১৫ই মে, ফিলিস্তিনিরা যেদিনটিকে পালন করে নাকবা দিবস হিসেবে। শরণার্থীরা বহু বহু বছর ধরে লেবাননে বসবাস করলেও তাদের জীবন যাপন অনেক সীমিত। বঞ্চিত অনেক অধিকার থেকেও।
এরা যে শুধু ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের কারণে শরণার্থী হয়েছেন তা নয়। লেবাননেও একটি জাতিগোষ্ঠীর সাথে তাদের যুদ্ধ চলছে। দেশটিতে এতোরকমের গোষ্ঠী আছে যে কখন কোন গ্রুপ কার সাথে যুদ্ধ করছে সেটা বুঝতে পারাও খুব কঠিন।
লেবাননের জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন সবসময়ই বিস্ফোরকের মতো। বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে লেবাননের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। তাদের অনেক কাজের ওপরে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
নির্ধারিত ক্যাম্পের বাইরে আর কোথাও তাদের বসবাসের অনুমতি নেই। তারা জায়গা জমি কিম্বা বাড়িঘরও কিনতে পারে না। জানা আল মাওয়া এই ক্যাম্পেরই একজন শিক্ষক। তিনি বলছেন, "ফিলিস্তিনি ছেলেমেয়েরা ছেঁড়া ও ময়লা জামা কাপড় পরে। তারা যখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায় তাদেরকে দেখা হয় বিদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে।"
"এখানে ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা মনে করে তারা যদি লেবানিজ সমাজের সাথে মেলামেশা করেন তাহলে তারা হয়তো তাদের ফিলিস্তিনি পরিচয় হারিয়ে ফেলবেন," বলেন তিনি।
লেবাননের একজন এমপি নাদিম জামায়েল মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের সমান অধিকার দিতে তার দেশ এখনও প্রস্তুত নয়।
" ফিলিস্তিনিরা এখানে আছেন শরণার্থী হিসেবে। তাদের নাগরিকত্ব বা অন্যান্য অধিকার দেওয়া সম্ভব নয়। সেরকম কিছু হলে, লেবাননের বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে যে সম্প্রীতি আছে, সেটা নষ্ট হবে। সেটা করতে দেওয়া যাবে না।"
সুত্রঃ বিবিসি

আশ্রয় শিবিরে প্রতিদিন ৬০ রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম -ইউনিসেফের তথ্য

বাংলাদেশে আশ্রয় শিবিরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ টি রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন। ফেলিজ সলোমনের লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নৃশংসতা চালিয়েছে ৯ মাস আগে। পরে তা অব্যাহত থাকে। এতে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তারা ঠাঁই নিয়েছে গাদাগাদি করে গড়ে ওঠা আশ্রয় শিবিরে। এগুলো অস্থায়ী আশ্রয় শিবির। কিন্তু তার মধ্যেই গড়ে প্রতিদিন জন্ম হচ্ছে প্রায় ৬০ টি শিশুর। বুধবার ইউনিসেফ বলেছে, গত বছর আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে কমপক্ষে ১৬০০০ শিশু জন্ম নিয়েছে। বাংলাদেশে ইউনিসেফের একজন প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেইগবেদার বলেছেন, নিজ দেশ থেকে দূরে ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে প্রতিদিন জীবনের প্রথম নিঃশ্বাস নিচ্ছে প্রায় ৬০ টি শিশু। তারা জন্ম নিচ্ছে সেইসব মায়ের গর্ভে যারা বাস্তুচ্যুত, সহিংসতার শিকার, আতঙ্কগ্রস্ত ও ধর্ষণের শিকার। সুষ্ঠুভাবে জীবনের সূত্রপাত ঘটার যে পরিবেশ এসব আশ্রয় শিবিরে সে পরিবেশ অনেক দূরে। টাইম ম্যাগাজিনের ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর মিয়ানমারের আরসা কট্টরপন্থিদের হামলার জবাবে সেনাবাহিনী প্রতিশোধমুলক ব্যবস্থা নেয়। এ সময় ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, গুলি করে হত্যা সহ নৃশংসতা ঘটাতে থাকে তারা। এতে বাধ্য হয়ে প্রায় ৬ লাখ ৯৩ হাজার রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ৫ হাজার। তাদের অনেকে আগের সহিংসতায় পালিয়ে এসেছেন। মিয়ানমারে বসবাসকারী রোহিঙ্গার মোট সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ লাখ। তাদের তারা সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী বিশ্বে। তাদের নেই কোনো নাগরিকত্ব। তাদেরকে মিয়ানমার দেখে থাকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে। তারা দাবি করে এরা বাংলাদেশ থেকে গিয়ে মিয়ানমারে বসতি গড়েছে। আগস্টে সেনাবাহিনীর নৃশংসতা শুরুর পর তাদের ভিতর থেকে প্রায় ৭ লাখ চলে আসে বাংলাদেশে। ব্যাপক বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, অগ্নিসংযোগ, গণধর্ষণ, যৌন সহিংসতার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। জাতিসংঘ, মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো এর নিন্দা জানিয়েছে। প্রামাণ্য হিসেবে এসব ঘটনা সামনে তুলে এনেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও বার্তা সংস্থা। এর মধ্যে রয়েছে হিউম্যান রাইটস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, রয়টার্স সহ অনেকে। সম্প্রতি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করা হবে কিনা এ জন্য তদন্তের অনুমতি চাওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে। এ জন্য হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও ফোরটিফাই রাইটস এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানিয়েছে। ইউনিসেফ বলেছে, যৌন সহিংসতার শিকার যেসব নারী ও বালিকা বেঁচে আছেন তারা সবচেয়ে বিপন্ন ও একপেশে অবস্থায় আছেন কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরগুলোতে। তাদের রয়েছে মানসিক ক্ষত। নির্যাতিত এসব নারী বা বালিকার অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পাচ্ছেন না। গত সেপ্টেম্বর থেকে এ খানে জন্ম নেয়া প্রতি ৫টি শিশুর মধ্যে একটির জন্ম হয়েছে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হয় এমন স্থানে। ইউনিসেফ বলছে, ১৬০০০ শিশুর মধ্যে মাত্র ৩০০০ শিশুর জন্ম হয়েছে এসব স্থানে। নতুন জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের পরামর্শ দিয়েছে ইউনিসেফ। যেসব নারীর চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রায় ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করেছে তারা। বেইগবেডার বলেন, নতুন জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশু, যারা ধর্ষণের কারণে জন্ম নিচ্ছে তাদের প্রকৃত সংখ্যা জানা অসম্ভব ব্যাপার। তবে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে, যেসব মা সন্তান জন্ম দিতে যাচ্ছেন এবং প্রতিটি শিশু জন্ম নেয়ার পর যেন সহায়তা ও সেবা পায়।

আ. লীগ গণমাধ্যমের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পায়নি: শেখ হাসিনা

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সরকারের পদক্ষেপে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার কাছে পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সরকারের অর্জনগুলো তুলে ধরে দেশের মর্যাদা বাড়াতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তৃণমূল থেকে শুরু সব পর্যায়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে জানিয়ে, ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশের পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষ নাগরিক সুবিধা ভোগ করবে সরকার এমন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ কাজে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ আইন নিয়ে সাংবাদিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সরকার তাদের অসুবিধা হয় এমন কিছু করবে না।
আওয়ামী লীগ গণমাধ্যমের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পায়নি দাবি করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের উন্নয়নে তার সরকার অনেক কাজ করেছে কিন্তু উল্টো বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা বেশি হয়েছে। এ সময়, বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলের অত্যাচার নিয়ে তেমন লেখালেখি হয় না বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময়, পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, কত কথাই তো তারা বলে। নিজেদের মাথায় ঘিলু-টিলু কম থাকলে কত কথাই তো তারা বলতে পারে। সাবমেরিন নিয়েও অনেক কথা শুনতে হয়েছে। যারা স্যাটেলাইট সম্পর্কে কিছুই বোঝে না, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের কী উন্নয়ন হবে- এমন প্রশ্নও রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

ছদ্মবেশে ১৮ বছর

কখনো সাধুবাবা, কখনো দরবেশ ছদ্মবেশে থাকতেন রফিকুল ইসলাম। ছদ্মবেশের আড়ালে তিনি একজন অস্ত্রমামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি। দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি এ ভাবে নিজেকে আড়ালে রাখলেও বুধবার রাতে তিনি ধরা পড়েন পুলিশের হাতে। তার পুরো নাম রফিকুল ইসলাম (৪০)। পানছড়ি থানা পুলিশ বুধবার রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ উল্টাছড়ির গায়েবি মাজার থেকে আটক করে। সে স্থানীয় মুসলিমনগর গ্রামের মো: মনির হোসেনের ছেলে।
পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মিজানুর রহমান জানান, রফিকুল ১৯৯৭ সালে খাগড়াছড়ি সদর থানার অস্ত্র আইনের ১৯ (চ) ধারার মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী। দীর্ঘ ১৮ বছর রফিকুল ইসলাম আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ছদ্মবেশে দরবেশ, সাধুবাবা সেজে দেশের বিভিন্ন মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়াত। কিছুদিন ধরে সে উল্টাছড়ি গায়েবি মাজারে আশ্রয় নেয়।

আরবদের হটিয়ে যেভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল

ইহুদি, মুসলমান এবং খ্রিস্টানদের জন্য পবিত্র জেরুজালেম
ফিলিস্তিনের গাজা থেকে দুই মাইল উত্তরে কিবুটস এলাকা। এখানে ১৯৩০'র দশকে পোল্যান্ড থেকে আসা ইহুদীরা কৃষি খামার গড়ে তুলেছিল।
ইহুদিদের পাশেই ছিল ফিলিস্তিনী আরবদের বসবাস। সেখানে আরবদের কৃষি খামার ছিল। তারা কয়েক শতাব্দী ধরে সেখানে বসবাস করছিল।
সে সময় মুসলমান এবং ইহুদীদের মধ্যে সম্পর্ক মোটামুটি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল।
কিন্তু ১৯৩০'র দশকে ফিলিস্তিনীরা বুঝতে পারলো যে তারা ধীরে-ধীরে জমি হারাচ্ছে। ইহুদিরা দলে-দলে সেখানে আসে এবং জমি ক্রয় করতে থাকে।
ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় সাত লাখের মতো ফিলিস্তিনী বাস্তু-চ্যুত হয়েছে। তারা ভেবেছিল দ্রুত সমস্যার সমাধান হলে তারা বাড়ি ফিরে আসতে পারবে।
কিন্তু ইসরায়েল তাদের আর কখনোই বাড়িতে ফিরতে দেয়নি।
ইসরায়েলের সাবেক প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজ বছর দশেক আগে বিবিসি'র সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ফিলিস্তিনদের কেন এই দশা হলো সেজন্য তাদের নিজেদেরই প্রশ্ন করা উচিত।
মি: পেরেজ বলেন, "অধিকাংশ জমি ফিলিস্তিনদের হাতেই থাকতো। তাদের একটি আলাদা রাষ্ট্র হতো। কিন্তু তারা সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে। ১৯৪৭ সালে তারা ভুল করেছে। আমরা কোন ভুল করিনি। তাদের ভুলের জন্য আমরা কেন ক্ষমা চাইবো?"
১৮৯৭ সাল থেকেই ইহুদিরা চেয়েছিলেন নিজেদের জন্য আলাদা একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে।
১৯১৭ সালে থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ভূমি ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে তুরস্কের সেনাদের হাত থেকে জেরুজালেম দখল করে ব্রিটেন।
তখন ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে ফিলিস্তিনের মাটিতে ইহুদিদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য সহায়তা করবে।
ব্রিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড আর্থার জেমস বেলফোর বিষয়টি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন ইহুদি আন্দোলনের নেতা ব্যারন রটসচাইল্ডকে।
তৎকালীন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সে চিঠি 'বেলফোর ডিক্লারেশন' হিসেবে পরিচিত।
ইহুদীদের কাছে ব্রিটেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ফিলিস্তিনের জমিতে তাদের জন্য একটি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ করে দিবে।
যদিও রোমান সময় থেকে ইহুদিদের ছোট্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী সে জায়গায় বসবাস করতো।
ইউরোপে ইহুদীদের প্রতি যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সেটি তাদের একটি নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের ভাবনাকে আরো তরান্বিত করেছে।
১৯৩৩ সালের পর থেকে জার্মানির শাসক হিটলার ইহুদিদের প্রতি কঠোর হতে শুরু করেন।
ইতোমধ্যে জাহাজে করে হাজার হাজার ইহুদি অভিবাসী ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে আসতে থাকে।
তখন ফিলিস্তিনী আরবরা বুঝতে পারে যে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।
ফিলিস্তিনী আরবরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিদ্রোহ করে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল ব্রিটিশ সৈন্য এবং ইহুদি নাগরিকরা।
কিন্তু আরবদের সে বিদ্রোহ কঠোর হাতে দমন করেছে ব্রিটিশ সৈন্যরা।
ফিলিস্তিনদের উপর ব্রিটিশ সৈন্যরা এতো কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল যে আরব সমাজে ভাঙন তৈরি হয়েছিল।
ইহুদীরা তাদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনে বদ্ধপরিকর ছিল। ব্রিটেনের সহায়তায় সে অনুযায়ী তারা কাজ এগিয়ে নিচ্ছিল।
১৯৩০'র দশকের শেষের দিকে ব্রিটেন চেয়েছিল হিটলারের নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অবস্থান জোরালো করতে।
সেজন্য আরব এবং ইহুদী- দু'পক্ষকেই হাতে রাখতে চেয়েছে ব্রিটেন।
১৯৩৯ সালের মাঝামাঝি ব্রিটেনের সরকার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে যেখানে বলা হয়েছিল পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য পঁচাত্তর হাজার ইহুদি অভিবাসী আসবে ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে। অর্থাৎ সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছিল।
ব্রিটেনের এ ধরনের পরিকল্পনাকে ভালোভাবে নেয়নি ইহুদিরা। তারা একই সাথে ব্রিটেন এবং হিটলারের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিকল্পনা করে।
তখন ৩২ হাজার ইহুদি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। সেখান থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে ইহুদি সৈন্যরা ব্রিটেন এবং আরবদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের বাহিনীর দ্বারা লাখ-লাখ ইহুদি হত্যাকাণ্ডের পর নতুন আরেক বাস্তবতা তৈরি হয়।
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর যেসব ইহুদি বেঁচে ছিলেন তাদের জন্য জন্য কী করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
তখন ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে ইহুদীদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা আরো জোরালো হয়।
আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ইসরায়েল রাষ্ট্রের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন।
মি: ট্রুম্যান চেয়েছিলেন হিটলারের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এক লক্ষ ইহুদিকে অতি দ্রুত ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে জায়গা দেয়া হোক।
কিন্তু ব্রিটেন বুঝতে পারছিল যে এতো বিপুল সংখ্যক ইহুদিদের ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে নিয়ে গেলে সেখানে গৃহযুদ্ধ হবে।
এ সময় ইহুদিদের সশস্ত্র দলগুলো ব্রিটিশ সৈন্যদের উপর ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানো শুরু করে।
তখন ইউরোপ থেকে ফিলিস্তিনের উদ্দেশ্যে জাহাজে বোঝাই হয়ে আসা হাজার-হাজার ইহুদিদের বাধা দেয় ব্রিটিশ বাহিনী। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি।
ইহুদি সশস্ত্র দলগুলো ব্রিটিশ বাহিনীর উপর তাদের আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিস্থিতির তৈরি করা যাতে ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের জন্য ব্রিটেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়। তখন সমাধানের জন্য ব্রিটেনের উপর চাপ বাড়তে থাকে।
এরপর বাধ্য হয়ে ব্রিটেন বিষয়টিকে জাতিসংঘে নিয়ে যায়।
১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে দু'টি রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ। একটি ইহুদিদের জন্য এবং অন্যটি আরবদের জন্য।
ইহুদিরা মোট ভূখণ্ডের ১০ শতাংশের মালিক হলেও তাদের দেয়া হয় মোট জমির অর্ধেক। কিন্তু আরবদের জনসংখ্যা এবং জমির মালিকানা ছিল আরবদের দ্বিগুণ।
স্বভাবতই আরবরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। তারা জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়।
কিন্তু ফিলিস্তিনীদের ভূখণ্ডে তখন ইহুদিরা বিজয় উল্লাস শুরু করে। অবশেষে ইহুদিরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ড পেল। কিন্তু আরবরা অনুধাবন করেছিল যে কূটনীতি দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না।
জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্তের পর আরব এবং ইহুদিদের মধ্যে দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। তখন ফিলিস্তিনী ভূখণ্ড ছেড়ে যাবার জন্য ব্রিটিশ সৈন্যরা দিন গণনা করছিল।
তখন ইহুদিদের সশস্ত্র দলগুলো প্রকাশ্যে আসা শুরু করে। তাদের গোপন অস্ত্র কারখানাও ছিল।
কিন্তু ইহুদিদের সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল তাদের বিচক্ষণ নেতৃত্ব।
এর বিপরীতে আরবদের কোন নেতৃত্ব ছিলনা। ইহুদীরা বুঝতে পেরেছিল যে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পর আরবরা তাদের ছেড়ে কথা বলবে না। সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য আগে থেকেই তৈরি ছিল ইহুদিরা।
সবার দৃষ্টি ছিল জেরুজালেম শহরের দিকে। মুসলমান, ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের জন্য পবিত্র এ জায়গা।
জাতিসংঘ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল সেখানে জেরুজালেম আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ছিল।
কিন্তু আরব কিংবা ইহুদি- কোন পক্ষই সেটি মেনে নেয়নি। ফলে জেরুজালেম শহরের নিয়ন্ত্রণের জন্য দু'পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।
জেরুজালেমে বসবাসরত ইহুদীদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল আরবরা। অন্য জায়গার সাথে জেরুজালেমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ইহুদীরা আরবদের উপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।
অনেক বিশ্লেষক বলেন, তখন ইহুদীরা আরবদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেছিল।
যেহেতু আরবদের মধ্যে কোন সমন্বয় ছিল না সেজন্য ইহুদিরা একের পর এক কৌশলগত জায়গা দখল করে নেয়।
তখন ফিলিস্তিনের একজন নেতা আল-হুসেইনি সিরিয়া গিয়েছিলেন অস্ত্র সহায়তার জন্য।
কিন্তু সিরিয়া সরকার ফিলিস্তিনদের সে সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সেখান থেকে ফিরে এসে আল হুসেইনি আবারো যুদ্ধে নামেন। এর কয়েকদিন পরেই তিনি নিহত হন।
ইহুদিরা যখন তাদের আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ বহু ফিলিস্তিনী আরব তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ইহুদি সশস্ত্র গ্রুপগুলোর নৃশংসতা আরবদের মনে ভয় ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনী সশস্ত্র দলগুলো ইহুদিদের উপর কয়েকটি আক্রমণ চালায়।
কিন্তু ইহুদিদের ক্রমাগত এবং জোরালো হামলার মুখে ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে ফিলিস্তিনীরা। তারা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ এবং অন্য আরব দেশগুলোর সরকার তাদের নিজ দেশের ভেতরে চাপে পড়ে যায়।
সেসব দেশের জনগণ চেয়েছিল, যাতে ফিলিস্তিনদের সহায়তায় তারা এগিয়ে যায়।
১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ফিলিস্তিন ছেড়ে চলে যায় ব্রিটেন। একই দিন তৎকালীন ইহুদি নেতারা ঘোষণা করেন যে সেদিন রাতেই ইহুদি রাষ্ট্রের জন্ম হবে।
ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্মের এক ঘন্টার মধ্যেই আরবরা আক্রমণ শুরু করে। একসাথে পাঁচটি আরব দেশ ইসরায়েলকে আক্রমণ করে।
যেসব দেশ একযোগে ইসরায়েলকে আক্রমণ করেছিল তারা হচ্ছে - মিশর, ইরাক, লেবানন, জর্ডান এবং সিরিয়া। তাদের সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ত্রিশ হাজারের মতো।
অন্যদিকে ইসরায়েলের সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫ হাজার।
কিন্তু আরব দেশগুলোর মধ্যে কোন সমন্বয় ছিলনা। তাছাড়া আরব নেতৃত্ব একে অপরকে বিশ্বাস করতো না।
জেরুজালেম দখলের জন্য আরব এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলছে তীব্র লড়াই।
ইহুদিরা ভাবছিল জেরুজালেম ছাড়া ইহুদি রাষ্ট্রের কোন অর্থ নেই। অন্যদিকে মুসলমানদের জন্যও জেরুজালেম পবিত্র জায়গা।
তীব্র লড়াইয়ের এক পর্যায়ে ইসরায়েলি বাহিনী পিছু হটতে থাকে। তাদের অস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে যায়।
সম্ভাব্য পরাজয় আঁচ করতে পেরে ইহুদিরা নিজেদের শক্তি সঞ্চয়ের জন্য সময় নেয়।
আর কিছুদূর অগ্রসর হলেই মিশরীয় বাহিনী তেল আবিবের দিকে অগ্রসর হতে পারতো। তখন জাতিসংঘের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
যুদ্ধবিরতির সময় দু'পক্ষই শক্তি সঞ্চয় করে। কিন্তু ইসরায়েল বেশি সুবিধা পেয়েছিল। তখন চেকোস্লোভাকিয়ার কাছ থেকে আধুনিক অস্ত্রের চালান আসে ইসরায়েলের হাতে।
যুদ্ধ বিরতী শেষ হলে নতুন করে আরবদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরায়েলি বাহিনী। একর পর এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নেয় ইহুদিরা।
তেল আবিব এবং জেরুজালেমের উপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়।
জাতিসংঘের মাধ্যমে আরেকটি যুদ্ধ বিরতির মাধ্যমে সে সংঘাত থামে। ইসরায়েলী বাহিনী বুঝতে পরে তারা স্বাধীনতা লাভ করছে ঠিকই কিন্তু লড়াই এখনো থামেনি।
১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাস থেকে ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ছয় হাজার ইহুদি নিহত হয়েছিল।
ইহুদিরা মনে করে তারা যদি সে যুদ্ধে পরাজিত হতো তাহলে আরবরা তাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতো।
ইসরায়েলিরা মনে করেন ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ সেভাবে দু'টি দেশের স্বীকৃতি দিয়েছিল, সেটি যদি ফিলিস্তিনীরা মেনে নিতো তাহলে ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েল নামের দুটি দেশ এখন পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতো।
আরব দেশগুলোর মধ্যে পারষ্পরিক আস্থা না থাকার কারণেই ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে তারা পরাজিত হয়েছে এবং ইসরায়েল দেশটির জন্ম হয়ে সেটি স্থায়ী হতে পেরেছে। অনেক ঐতিহাসিক বিষয়টিকে এভাবেই দেখেন।
১৯৪৮ সালের পর থেকে সামরিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে ইসরায়েল। তারা সুপার পাওয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়।

প্রিয়জনের জন্য কান্না

ইসরাইলিদের গুলিতে প্রিয়জনদের হারিয়ে শোকাহত গাজা। আকাশে বাতাসে যেন এখনও আর্তনাদের শব্দ শোনা যায়। প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন এ যাবত অসংখ্য ফিলিস্তিনি। তাদেরই একজন ১৮ বছর বয়সী বিলাল আল আশ্রাম। তার মা নিমা আবদেল কাদের এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না তার ছেলে নেই। বিলাল তার হাই স্কুল পড়াশোনার শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মঙ্গলবার গাজা উপত্যকায় প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকালে তার মাথায় গুলি করে ইসরাইলি সেনারা। সন্তানের মুখ মনে করে মা নিসমা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। কখনো তাকিয়ে থাকছেন দূরে। আর গন্ড গড়িয়ে পড়ছে তার অশ্রু। বিলাল ছিলেন তার প্রথম সন্তান। তাই তাকে তিনি তার জীবনের সব কিছু মনে করতেন। নিসমা বলেন, সে ছিল আমার কাছে সারা পৃথিবীর সমান। সে ছিল আমার সাপোর্ট সিস্টেম। নিসমার আট সন্তানের মধ্যে বিলাল সবার বড়। গত ৬ বছর ধরে তার পিতা অবস্থান করছেন জর্ডানে। তার অনুপস্থিতিতে পুরো পরিবারকে একত্রে ধরে রেখেছিলেন বিলাল। নিসমা বলেন, গাজার ওই প্রতিবাদে যেতে বারণ করেছিলেন বিলালকে। কিন্তু বিলাল তার কথা শোনে নি। গত ৩০ শে মার্চ থেকে গাজায় বিক্ষোভ প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। ৭০ বছর আগে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় জোর করে উৎখাত করা হয়েছিল যেসব বাড়িঘর ও গ্রামবাসীকে সেই সব ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা তাদের পুরনো অধিকার আদায়ের জন্য এ বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এই জাতি নিধন চালায় ১৯৪৮ সালে। একে নাকবা বা ভয়াবহ বিপর্যয় বলে আখ্যায়িত করা হয়। এ দিনটিকে প্রতি বছরই পালন করা হয়। ১৯৪৮ সালে বাড়িঘর থেকে জোর করে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করা হয়। তাদের বেশির ভাগই পরিণত হন আভ্যন্তরীণ শরণার্থীতে। গাজা উপত্যকায় যেসব ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন তার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগই এসব জনগোষ্ঠীর উত্তরসুরি। তারা সেখানে বসবাস করছেন এক দশক ধরে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে অবরোধের অধীনে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অনুমোতি ছাড়া তারা গাজা উপত্যকা ত্যাগ করতে পারেন না। রাফা সীমান্ত যখন উন্মুক্ত থাকে দু’চার দিনের জন্য শুধু তখনই তরা মিশরে যেতে পারেন। এটাই তাদের সামনে একটিমাত্র সুযোগ। ৩০ শে মার্চ থেকে এ বিক্ষোভে ইসরাইলি সেনারা হত্যা করেছে কমপক্ষে ১১১ ফিলিস্তিনিকে। এর মধ্যে রয়েছে আট মাস বয়সী একটি শিশুকন্যা। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২০০০ মানুষ। ১৯৪৮ সালে নাকবা বা বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা পরিবারের মধ্যে নিহত বিলালের পরিবারও রয়েছে। তাই নিহত হওয়ার আগের দিন তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। এতে তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণে বীর সেব শহরের দিকে যাচ্ছেন তিনি। সেখানে বিক্ষোভে অংশ নেবেন। এই বীর সেব শহরে তার পূর্ব পুরুষদের বসবাস ছিল। এ বিষয়ে তার মা নিসমা বলেন, তাকে নিয়ে আমি খুব ভয়ে ছিলাম। বিক্ষোভে অংশ নিতে সে খুবই উৎফুল্ল ছিল। বিক্ষোভ এক পর্যায়ে ১৫ই মে শান্ত হয়ে আসে। এতে আমি স্বস্তি পাই। মনে হয়, তার বুঝি কিছুই হবে না। কিন্তু বিলালকে হত্যা করা হয়েছে এ কথা আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারি না।

জাতিসংঘে যে প্রশ্নে ব্যর্থতা দেখালো বাংলাদেশ

চেপে ধরা মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগের জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। ১৪ই মে জাতিসংঘের ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিই (ইউপিআর)-এ বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা এমন ব্যর্থতার পরিচয় দেন। আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। জেনেভা থেকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইউপিআরে প্রতিনিধিত্ব করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সরকার যেসব ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে তিনি শুধু সেগুলোকে সেখানে জোর গলায় তুলে ধরেন। কিন্তু জোরপূর্বক গুম, গোপন ও খেয়ালখুশি মতো আটক রাখা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সভা সমাবেশ করার স্বাধীনতার ওপর দমন পীড়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে তা তিনি এড়িয়ে গেছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, অন্য দেশগুলো থেকে যেসব সুপারিশ দেয়া হয়েছে মানবাধিকার রক্ষায় তা পূর্ণাঙ্গভাবে বিবেচনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশÑ এটা প্রদর্শন বা প্রমাণ করা উচিত তাদের। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদ- মেনে চলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি হওয়া উচিত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেন, বাংলাদেশে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী জোরপূর্বক গুম, হত্যা, নির্যাতন, খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তারের মতো গুরুতর যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে শুরু করা উচিত। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে যে অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হচ্ছে তা বন্ধ করা উচিত বাংলাদেশের। এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বেশির ভাগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ব্রাড এডামস আরো বলেছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউকে নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত বাংলাদেশ সরকারের। নিজেদেরকে নিজেদেরই অভিনন্দিত করার জন্য এটা ব্যবহার করা উচিত নয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো লিখেছে, এই পরিষদের সদস্য দেশের মধ্যে অনেকেই স্বেচ্ছায় নির্যাতিত কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য সীমান্ত খুলে দেয়া ও তাদেরকে সহায়তা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেছে। ক্রমবর্ধমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কিভাবে মোকাবিলা বা দেখাশোনা করা হচ্ছে তা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রেখেছেন বাংলাদেশি প্রতিনিধি। কিন্তু যখন অনেক দেশ বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, জোরপূর্বক গুম, মানবাধিকারের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বেগ নিয়ে প্রশ্ন ও সুপারিশ উত্থাপন করে, তখন বাংলাদেশি ওই প্রতিনিধি ছিলেন নীরব এবং এসব প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন। বিভিন্ন দেশ এসব নিয়ে যেসব সুপারিশ করেছে তা বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে না কি প্রত্যাখ্যান করেছে তা কিছু দিনের মধ্যেই জানা যাবে না। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, বাংলাদেশে মানবাধিকার নিয়ে অনেক বছর ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অন্যান্য মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ। এ ছাড়া আরো অনেক বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ শুনানিতে যথেষ্টভাব সাড়া দেয়নি সে বিষয়ে। এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেয়া যাক। এর আগে ২০১৩ সালে ্ইউপিআরের অধিবেশন হয়। তখন সব রকম মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিশেষ করে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের হাতে যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তার পূর্ণাঙ্গ ও পক্ষপাতহীন তদন্ত ও বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু তখন থেকেই তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি অবজ্ঞা ও প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের সহিংসতা। যারা নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে তাদের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় আস্থা বা স্বচ্ছতা নেই বললেই চলে। বিরোধী অনেক রাজনীতিককে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে অথবা অভিযোগ ছাড়াই গোপনে আটকে রাখা হয়েছে, এমন অনেক ঘটনা প্রামাণ্য আকারে তুলে ধরেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বহু নেতাকর্মীকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে। তাদের অনেকেই এখনো নিখোঁজ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, ২০১৬ সালের আগস্টে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা তুলে নিয়ে যায় জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতার ছেলেদের। তারা কোথায় আছে অথবা তাদের অবস্থা কি এ বিষয়ে আর জানা যায়নি। সাবেক একজন কূটনীতিক মারুফ জামান ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ঢাকায় হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের ১লা জুলাই সন্ত্রাসী হামলা হয়। তারপর থেকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক হাসনাত করিম। সমালোচনাকারী মিডিয়া ও বেসরকারি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে হামলা নিয়ে ইউপিআরে প্রশ্ন তোলা হয়। তাতেও বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল উপযুক্ত জবাব দেননি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অধীনে অনেক মানুষকে জেল ও অভিযোগ গঠন করা হয়েছে অথবা অব্যাহত আছে। এ ধারায় মুক্ত মত প্রকাশকে ব্যাপকভাবে টার্গেট করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৬ সালের এই আইনকে বেসরকারি গ্রুপগুলোতে বিদেশি অর্থায়নকে নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো লিখেছে, ৫৭ ধারার অধীনে নাগরিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করতে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার বলছে, তারা ৫৭ ধারাকে খসড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রিভাইজ করবে। কিন্তু এরও অনেক ধারা আন্তর্জাতিক মানদ- থেকে অনেকটাই দূরে। মুক্ত মত প্রকাশকে টার্গেট করতে সরকার রাষ্ট্রদ্রোহ ও অন্যান্য ফৌজদারী আইনের ব্যবহার করছে। ইউপিআরের শুনানিতে শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়েও যথেষ্ট তথ্য দেয়া হয়নি। যদিও শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু বেশির ভাগই রয়ে গেছে বাকির খাতায়। ইউনিয়ন নেতারা বা যারা ইউনিয়নে যোগ দিতে চাইছেন তাদেরকে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। অথবা কারখানা মালিক ও ম্যানেজারদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। বাল্য বা শিশুদের বিয়ে বন্ধ করার ক্ষেত্রে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকার একটি আইন অনুমোদন করে। তাতে একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়। বলা হয়, বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেয়া যাবে। তবে, বিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয়নি। জাতীয় ভিত্তিতে বাল্যবিয়ে বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি বা পরিকল্পনা ছিল তা তিন বছর আগের কথা। ব্রাড এডামস বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অধিকারের জন্য বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু যখন নিজ দেশের নাগরিকদের প্রসঙ্গ আসে তখন তাদের ক্ষেত্রেও একই নীতি গ্রহণ করা উচিত। বছরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন। তাই গণতান্ত্রিক জায়গা (ডেমোক্রেটিক স্পেস) করে দেয়া আবশ্যক সরকারের, যেখানে বিতর্ক চলতে পারে। ভিন্ন মতাবলম্বীরা কথা বলতে পারেন।

মেগানের উপর কি ঘনিয়েছে প্রিন্সেস ডায়ানার ছায়া?

প্রিন্স হ্যারির বাগদত্তা মেগান মার্কেল।
বিয়ের বাদ্য বাজছে। আর তিন দিন পরই আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ রাজবধূ হতে যাচ্ছেন মেগান মর্কেল। কিন্তু এরইমধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বাতাসে। নতুন বউ মেগানের উপরে কি পড়তে যাচ্ছে তার শাশুড়ি প্রিন্সেস ডায়ানার ছায়া?
গণমাধ্যমের চাপ: মেগান যখন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু
গণমাধ্যমকে সামাল দেবার ক্ষেত্রে মেগানের রয়েছে দারুণ নৈপুণ্য। ঠিক প্রিন্সেস ডায়ানার মতো।
মার্কিন এই অভিনেত্রী নিজেও একজন সুদক্ষ ‘কমিউনিকেটর’।
ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের সামনে মেগান সবসময় সপ্রতিভ। একইরকমভাবে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তিনি দুর্দান্ত।
অভিনেত্রী হিসেবে চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকে অভিনয় করে মেগান খ্যাতি পেয়েছেন।
এছাড়া সাক্ষাতকার, ভ্রমণ, বক্তৃতা ও ভক্তবৃন্দের সাথে বিভিন্ন আশরে যোগ দিয়েছেন।
ফলে, গণমাধ্যমকে সামলানোর তরিকা মেগান হয়তো বেশ ভালোই রপ্ত করেছেন।
কিন্তু এখন তো তিনি হতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ রাজবধূ!
রাজবধূ হিসেবে এখন থেকে দিনে-রাতে অষ্টপ্রহর তাকে ঘিরে থাকবে পাপারাজ্জির চোখ।
ব্রিটিশ রাজবধূ হতে যাচ্ছেন মেগান মার্কেল।
গুঞ্জন উঠেছে, এতো তীব্র চাপ মেগান সামলাতে পারবেন তো?
কারণ অভিনেত্রী হলেও হলিউড মাতানো কোনো মহাতারকা তো আর মেগান ছিলেন না।
তাই, চাইলেই এমনকি যে কোনো একটা সাধারণ রেস্তোরাঁয় বসেও দিব্যি সেরে নিতে পেরেছেন দুপুর বা রাতের খাবার। সেসময় হয়তো তাকে খুব খেয়ালও করেনি মানুষজন।
কিন্তু এখন! এ এক কল্পনাতীত ব্যাপার!
মেগানের নিকটাত্মীয়রা খুঁজছে পাপারাজ্জির চোখ!
মেগানের দিকে সারাক্ষণ তাক করা কারো না কারো ক্যামেরার ল্যান্স।
আর তাকে অনুসরণ করার অংশ হিসেবেই মেগানের নিকটাত্মীয়দের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বৈকি!
তার মা এমনকি দরজা খুলে বাড়ির বাইরে বের হতে গেলেও দেখছেন বেজে উঠছে ক্যামেরার শাটার।
এমনকি মেগানে গাঁটের খবর বের করতে তার পুরনো প্রেমিককে টাকা দিয়ে হাত করার চেষ্টা পর্যন্ত করেছে শিকারির দল।
মেগান হয়তো প্রিন্সেস ডায়ানার মতোই খুবই দৃঢ়চেতা, স্বাধীন আর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বধারী।
তাই, এই অবস্থায়ও তিনি মিডিয়ার চাপ সইতে পেরেছেন। কিন্তু তার আত্মীয়দের বেলায় কী হবে?
তারা যে এতো চাপ সামলাতে পারবেন না ইতোমধ্যেই অবশ্য সেই লক্ষণ মিলেছে।
মেগানের পরিবারের সদস্যদেরকে অনুক্ষণ ক্যামেরা হাতে অনুসরণ করার মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে ইতোমধ্যেই একবার উষ্মাও প্রকাশ করেছেন স্বয়ং প্রিন্স হ্যারি।
ছোট ছেলে হ্যারির সঙ্গে প্রিন্সেস ডায়না।
মেগানের উপর যখন ঘনিয়েছে ডায়ানার ছায়া
আজ থেকে দুই দশকেরও বেশি সময় আগে ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবেতে প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই বলেছিলেন, তার যুগে তার বোনই ছিলেন সবচে তাড়া খাওয়া মানুষ।
কারণ সবাই তার বোনের পিছু ছুটেছেন।
আর মাত্র দু’দিন পর রাজবধূ হতে যাওয়া মেগানের ভাগ্যও যেন ডায়ানার দিকেই যাচ্ছে।
ডায়ানার মতোই মেগান ও তার পরিবারও এখন শুনছে শিকারির পদধ্বনি।
সূত্র: বিবিসি

মঙ্গোলিয়ান মডেল হত্যার বিচার হবে নতুন করে- আনোয়ার

মালয়েশিয়ায় কার নির্দেশে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হত্যা করেছিলেন মঙ্গোলিয়ান এক মডেলকে! কে হতে পারেন তিনি! তিনি কি সদ্য ক্ষমতা হারানো প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক! নাকি তার কোনো ঘনিষ্ঠজন! সদ্য জেলমুক্ত মালয়েশিয়ার সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের এক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এমন সব প্রশ্ন ঘুরছে জনমনে। তিনি বলেছেন, মঙ্গোলিয়ান ওই মডেল হত্যায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে মালয়েশিয়ায় ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর শুরু হবে নতুন বিচার। এ খবর দিয়েছে মালয়েশিয়ার স্টার অনলাইন। এতে বলা হয়, মঙ্গোলিয়ান মডেল আলতানতুয়া শারিবু’কে ২০০৬ সালে হত্যা করা হয়। মালয়েশিয়ার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা সিরুল আজহার উমর ওই হত্যাকা- ঘটান। তিনি দাবি করেছেন একজন ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ওই হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাকে। এই ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ কে প্রশ্নটা সেখানেই। ক্ষমতা হারানোর পর নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলার কথা বলা হচ্ছে। তার দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ জন্য সংশয়টা তাকে ঘিরেই বেশি। বৃহস্পতিবার আনোয়ার ইব্রাহিম ওই মডেল হত্যা নিয়ে কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ার পত্রিকা দ্য অস্ট্রেলিয়ানের সঙ্গে। স্টার অনলাইন লিখেছে, ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সিরুল আজহার উমর এখন রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা হেফাজতে। নতুন করে বিচার শুরু করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন আনোয়ার। উল্লেখ্য, নিহত মঙ্গোলিয়ান মডেল আলতানতুয়া ছিলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদুল রাজাক বাগিন্ডার প্রেমিকা। ২০০২ সালে ফরাসি সাবমেরিন কেনার সব আয়োজন আবদুল রাজাকই করেছেন বলে অভিযোগ আছে। সাবেক নাজিব রাজাক সরকারের বিরুদ্ধে তখনকার বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন। তাদের দাবি, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মূল হোতাকে এই হত্যাকা- থেকে লুকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল আজিলাহ হাদরি ও সিরুলকে। তারা দু’জনেই মালয়েশিয়ার তখনকার একজন শীর্ষ স্থানীয় মন্ত্রীর নিরাপত্তা দানকারী এলিট বাহিনীর সদস্য। কে ওই মডেলকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তা এর আগে প্রকাশ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন সিরুল। বুধবার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে সে বিষয়টিকেই সামনে নিয়ে এলেন সংস্কারপন্থি রাজনীতিক আনোয়ার ইব্রাহিম। একদিন পরেই তিনি বললেন, ওই মামলার বিচার নতুন করে করা হবে। এ জন্য সিরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি দাবি করেন, ওই মডেল হত্যার মূল বিচার ও তখনকার বিচারকরা রায় দেয়ার ক্ষেত্রে সমঝোতার আশ্রয় নিয়েছিলেন। আনোয়ার বলেন, নতুন করে অভিযোগ গঠনই হবে এ মামলার সবচেয়ে উত্তম উপায়। এ জন্য পূর্ণাঙ্গ শুনানি হতে হবে। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আটক করা হয় সিরুলকে। তারপর থেকেই তিনি সেখানকার জেলে আছেন। তবে এ বিষয়টি কখনোই সরকারিভাবে নিশ্চিত করে নি ক্যানবেরা। গত সপ্তাহে দ্য গার্ডিয়ান রিপোর্ট করেছে। তাতে বলা হয়েছে সিরুলের সুরক্ষা ভিসা বিষয়ক শুনানি শুরু হবে কয়েক মাসের মধ্যে। তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা ও তাদের মধ্যস্থতাকারীদের নিয়মিতভাবে সিরুলের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে ক্যানবেরা। এর মধ্যে রয়েছেন নাজিব রাজাকের দল ইউনাইটেড মালয়েস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন দলের যুব শাখার একজন নেতা। ওই নেতা সিরুলকে যে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন তাহলো- ‘কোনো কিছুতে মুখ খুলতে পারবেন না’। মঙ্গোলিয়ান ওই মডেল হত্যার স্ক্যান্ডাল সেখানে ভীষণ স্পর্শকাতর। এ নিয়ে অনেক বছর নানা সন্দেহ, সংশয় ছড়িয়ে পড়ে। বলাবলি হয়, সাবমেরিন কেনা নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে তা নিয়ে মুখ বন্ধ করে দিতেই মডেল আলতানতুয়াকে হত্যা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বিস্ময়র নির্বাচনে ড. মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে ৬১ বছর পর ক্ষমতাসীন দলকে উৎখাত করে পাকাতান হারাপান জোট। এ জোটের অন্যতম প্রধান নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমও। মাহাথির ক্ষমতা থেকে এক বা দুই বছরের মধ্যে সরে যাবেন। ক্ষমতা দিয়ে যাবেন তার হাতে। ফলে আনোয়ার ইব্রাহিম মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছে এ কথা হলফ করে বলা যায়।

পর্নো ভিডিও দেখতে গিয়ে নিজের পুরুষাঙ্গই কেটে ফেললেন যুবক!

অতিরিক্ত পর্নো আসক্তি বিপদ ডেকে আনতে পারে। একথা বিশেষজ্ঞরা বলেই থাকেন। তবে বাস্তবে টের পেলেন থাইল্যান্ডের ৩০ বছরের যুবক। পর্নো ভিডিও দেখতে গিয়ে উত্তেজনার বশে এমন কান্ড ঘটালেন, রাতবিরেতে পুলিশ-বদ্যি ডাকতে হল। শেষমেশ ঠাঁই হল হাসপাতালের বিছানায়। কলকাতা থেকে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিদিনে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছেÑ ঘটনাটি ঘটেছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের খেট নং চক জেলায়। তিরিশ বছরের ওই যুবকের নাম জানাতে চায়নি স্থানীয় পুলিশ। তবে পুলিশ সূত্রেই জানা গেছে, জেলার এক আবাসনে চারতলার ফ্ল্যাটে থাকেন ওই যুবক। মঙ্গলবার রাতে নিজের ফ্ল্যাটে বসেই পর্নোগ্রাফি দেখছিলেন তিনি। কোনও এক বন্ধুর থেকে সংগ্রহ করেছিলেন ওই বিকৃত যৌনতার ভিডিওটি। তা দেখতে দেখতেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন যুবক। ভিডিও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রান্নাঘর থেকে ছুরি এনে পুরুষাঙ্গে ঘষতে থাকেন। তা করতে গিয়েই কেটে যায় পুরুষাঙ্গ। পুরো বিছানা রক্তে ভেসে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আপৎকালীন নম্বরে ফোন করেন যুবক। ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। খবর দেওয়া হয় কাছের হাসপাতালে। এসে পৌঁছায় অ্যাম্বুল্যান্স। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় যুবককে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে কোনওভাবেই সহযোগিতা করছিলেন না তিনি। কীভাবে এমন কাণ্ড ঘটল, কিছুতেই সে বিষয়ে কিছু জানাতে চাইছিলেন না। পরে বিপদ বুঝে সত্যিটা বলেন। স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে।

ইরানের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য এলাকা গড়ে তুলতে চায় ইউরেশিয়ান জোট

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য এলাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন ইউরেশিয়ান অর্থনৈতিক জোট বা ইইইউ একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি এ জোট আজ (বৃহস্পতিবার) ইরানের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি করেছে। কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় এ চুক্তি সই হয়। কাজাখ সূত্রগুলোর খবরটি নিশ্চিত করেছে। এ জোটের সদস্য হচ্ছে রাশিয়া, আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান ও কিরগিজিস্তান।
ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে মার্কিন সরকার বেরিয়ে যাওয়ার পর তেহরানের ওপর যখন ওয়াশিংটন আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল করছে তখন ইইইউ’র সঙ্গে ইরানের এ চুক্তি হলো। ২০১৫ সালে ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পরমাণু সমঝোতা সই হয় এবং তারপর তেহরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকা বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানিকে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করার বিষয়ে হুঁশিয়ার করেছে। এ অবস্থায় ইরান এখন পরমাণু সমঝোতায় টিকে থাকা বাকি পাঁচটি দেশের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছে। ইরান বলছে, পরমাণু সমঝোতা যদি তেহরানের স্বার্থকে সুরক্ষা না দেয় তাহলে তারাও সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাবে।

ভোটে জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে- এমন ভোট হওয়া প্রয়োজন যাতে দেশের মানুষের ইচ্ছা-আকাঙ্খার সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটে। ঢাকা সফররত মার্কিন দাতব্য সংস্থা ইউএসএআইডি’র প্রশাসক মার্ক গ্রিন সকালে এক গোলটেবিল বৈঠকে এ তাগিদ দেন। আমেরিকান ক্লাবে আয়োজিত ওই বৈঠকে সাংবাদিকরাও আমন্ত্রিত ছিলেন। বৈঠকে মার্কিন প্রশাসক বলেন- বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের যথার্থ বা কার্যকর বন্ধু। এ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে পারস্পরিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে। এখানে আমরা একে অন্যের সঙ্গে খোলাখুলি এবং সততার সঙ্গে কথা বলছি। মার্ক গ্রিন বলেনÑ অভিজ্ঞতা বলছে, দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ও সফল অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্রিয়াশীল গণতান্ত্রিক সুশাসন অপূরণীয় উপাদান। বাংলাদেশে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান আটক অভিযান (অনগোয়িং অ্যারেস্ট), বিচারবহির্ভূতভাবে হয়রানী এবং সাংবাদিকদের গ্রেফতারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন- এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সত্যিকারের সব বন্ধুরা উদ্বিগ্ন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলেন। জানান, এ সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে মিলে কাজ করছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এ সংকট আরও ঘনিভূত হওয়ার আশংকা ব্যক্ত করে তিনি এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বেশী মনোনিবেশ করার ওপর জোর দেন। গত ১৩ই মে মার্ক বাংলাদেশে আসেন। তিনি এরইমধ্যে সরজমিনে রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখে এসেছেন। ক্যাম্প এলাকায় গিয়ে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত ৪৪ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণাও দিয়েছেন। ওদিকে বুধবার বিকালে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠকেও বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখার আকাঙ্খা ব্যাক্ত করেন মার্কিন প্রশাসক। সেখানে ইএসএআইডির কর্মী জুলহাস মান্নান হত্যার বিচারের অগ্রগতিও জানতে চান বলে দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

খান কম, অনুশীলন করুন বেশি, বই পড়ুন বেশি: মাহাথির

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে কিংবদন্তি পুরুষ  ও আধুনিক মালয়েশিয়ার রুপকার ড. মাহাথির বিন মোহাম্মদ একজন চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব। তিনি বিভিন্ন সময় নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। যা থেকে তার দূরদৃষ্টি, দৃষ্টিভঙ্গী ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা ফুটে উঠে। তিনি বলেছেন-
১. আমরা সংবিধান সমুন্নত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই। আইনের শাসনমতে দেশ চালাতে চাই।
২. আমরা বিশ্বাস করি, এয়ানএমডিবির বেশির ভাগ অর্থ ফেরত আনতে পারব।
৩. জনগণকে নির্যাতন করার জন্য তৈরি করা কোনো আইন রাখা হবে না।
৪. আমাদের ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করতে হবে। পেছনের আবর্জনা ঘাঁটার সময় আমাদের হাতে নেই।
৫. আমি কোনো প্রতিশোধ নিতে চাই না।
৬. প্রত্যেকের নিজ পরিবার একটি নিরাপদ জায়গা - যা আমাদের এই জটিল সমাজে স্থিরতা আনে।
৭. ইসলাম ধর্ম আমাদের জীবনের অংশ। একে পরিত্যাগ করার কোন কারণ নেই। সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হলে ধর্ম কখনো অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বাধা হতে পারে না। ইসলামের শিক্ষা সমসাময়িক সময়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে নিতে হবে। ইসলাম শুধু মাত্র সপ্তম শতাব্দীর ধর্ম নয়। ইসলাম অবশ্যই সর্বকালের ধর্ম।
৮. চিকিৎসা বিদ্যায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকের জন্য রাজনীতি একটি ভালো পেশা। একজন ডাক্তার রোগীকে পর্যবেক্ষণ করেন, স্বাস্থ্যগত ইতিহাস রেকর্ড করেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন, ল্যাব পরীক্ষা করেন এবং চূড়ান্তভাবে রোগ নির্ণয় করেন। এ প্রক্রিয়াটি রাজনীতির মতই।
৯. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক গুণ্ডা। তাকে ঠেকাতে অবশ্যই আমাদের সব ক্ষমতা ব্যবহার করতে হবে।
১০. খান কম, অনুশীলন করুন বেশি, বই পড়ুন বেশি।
মাহাথির মোহাম্মদের ১৪টি বিরল রেকর্ড
ইতিহাস সৃষ্টি করে মালয়েশিয়ার ক্ষমতায় ফিরলেন ড. মাহাথির বিন মোহাম্মদ। নির্বাচন কমিশন পাকাতান হারাপানকে বিজয়ী ঘোষণার পরই দেশটির রাজা সুলতান মোহাম্মদ জোটের প্রধান মাহাথির মোহাম্মদকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মাহাথির মোহাম্মদের ১৪টি বিরল রেকর্ড হচ্ছে-
এক. ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ ৬১ বছরে এবারই প্রথম ক্ষমতার পালাবদল হলো মালয়েশিয়ায়, যা প্রত্যক্ষ করলো মালয়েশিয়ার জনগণ।
দুই. ৯২ বছরের বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক হতে চলেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রধানমন্ত্রী।
তিন. ১৯৮১ সাল থেকে ২২ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে ২০০৩ সালে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়েন। ১৫ বছর পর আবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরল রেকর্ড।
চার. বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এক সময় ছিলেন মাহাথির মোহাম্মদেরই শিষ্য। শিষ্যের দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে অবসর জীবন থেকে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
পাঁচ. ক্ষমতাসীন দলকে পরাজিত করে বিরোধী দল থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া মাহাথিরের চমক।
ছয়. নিজের দল বোরিসান অ্যালায়েন্স ত্যাগ করে আলাদা দল গঠন করে বিরোধীদের নিয়ে জোট গঠন করে নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড।
সাত. সরকারি চাকুরিজীবী থেকে নিজেই একটি প্রাইভেট ক্লিনিক খুলেন। চিকিৎসক হিসেবে জনপ্রিয়তা ও গণ সম্পৃক্ততা থেকেেই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমন রেকর্ড দেখা যায় না।
আট. দেশের সকল মুসলিমদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন তিনি।
নয়. মালয়েশিয়ানদের শিক্ষার ৯৫ শতাংশ খরচ সরকার বহনের নীতি চালু করেন মাহাথির।
দশ. ১৯৯২ সালে নিজ দেশের সবাইকে কর্মসংস্থান দিয়েছেন। একজনও বেকার ছিল না। আরো ৮ লক্ষ বিদেশী শ্রমিক নিয়োগ দেয় মালয়েশিয়া।
এগার. সরকারি কর্মীরা যেন ঠিক সময়ে অফিসে আসেন তার জন্য প্রথমবারের মতো চালু করেন ফ্লো-চার্ট।
বার. তিনি কর্মীদের যা করতে বলেছেন তা নিজে করেও দেখিয়েছেন। অবাস্তব বলেননি বা কাল্পনিক নির্দেশনা দেননি।
তের. টাইম ম্যাগাজিন একবার তার অফিসে আসার সময় রেকর্ড করেছিল। পরপর পাঁচ দিন তার অফিসে প্রবেশের সময় ছিল সকাল ৭:৫৭, ৭:৫৬, ৭:৫৭, ৭:৫৯, ৭:৫৭
চৌদ্দ. পাল্টে যায় মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্র। নির্বাচিত হয়েই আনোয়ার ইব্রাহীমের জুন মাসে মুক্তির কথা বলে তিনি প্রতিশ্রুতি পূরণের নজির সৃষ্টি করেন।

কারাগার থেকে ক্ষমতার মসনদে এসেছিলেন যারা

নেলসন ম্যান্ডেলা, জওহরলাল নেহেরু, আনোয়ার ইব্রাহিম ও মিশেল ব্যাচলেট
মালয়েশিয়ার সুলতানের কাছ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা লাভের পর গতকাল সকালেই মুক্তি পান দেশটির সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। নিঃশর্ত ক্ষমার মাধ্যমে মুক্তিলাভ তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথকে আরো পোক্ত করেছে সন্দেহ নেই। গত শতাব্দীতেও ঠিক একইভাবে কারান্তরীণ থাকা অবস্থাতেই ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিখ্যাত অনেক নেতা।
আনোয়ারকে আজ থেকে ২০ বছর আগে ১৯৯৮ সালে তকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বিভিন্ন অভিযোগে প্রথমবার কারাগারে পাঠান। ছয় বছর পর ২০০৪ সালে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সব অভিযোগ থেকে তাকে মুক্তি দিলে তিনি মুক্তি পান। এরপর ২০১৫ সালে সদ্যসাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক আবারো আনোয়ার ইব্রাহিমকে কারাগারে পাঠান।
৯২ বছর বয়স্ক মাহাথির অবসর ভেঙে আবারো রাজনীতিতে ফিরেছেন এবং মালয়েশিয়ায় গত সপ্তাহের ঐতিহাসিক ব্যালট বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর মাহাথির দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে বলেছেন, আগামী এক বা দুই বছর পর আনোয়ারের হাতে প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দিয়ে তিনি অবসরে যাবেন।
সারা বিশ্বে অতীতে আরো পাঁচজন নেতা কারগারে বন্দী বা নির্বাসনে থাকা অবস্থাতেই ক্ষমতা গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছান। কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দেয়ায় ১৯৬২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়। তার আগে ১৯৬১ সালে দেয়া এক ভাষণে ম্যান্ডেলা বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো শক্তিই নিপীড়িত মানুষের স্বাধীনতা আদায়ের সংগ্রামকে দমাতে পারে না।’
কারাদণ্ড দেয়ার পর ম্যান্ডেলাকে কুখ্যাত রবেন দ্বীপের কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী ২৭ বছর তিনি এই কারাগারেই বন্দী থাকেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের বন্দী জীবন ম্যান্ডেলাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্য বিরোধী সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতায় পরিণত করে। দেশটির সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ সরকারকে উৎখাত ও ম্যান্ডেলার মুক্তির দাবিতে সারা বিশ্বেই মিছিল সমাবেশের মাধ্যমে জনমত গড়ে ওঠে। পরে ১৯৯০ সালে তিনি মুক্তি পান। এর চার বছর পর সব দল, মত ও বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম নির্বাচনে ৭৫ বছর বয়সে নেলসন ম্যান্ডেলা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
মিয়ানমারের স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান নেতা জেনারেল অং সান। তার মেয়ে অং সান সু চি তার বাবার অনুসৃত রাজনীতির পথে না হেঁটে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড শহরে শান্ত পারিবারিক জীবনই বেছে নিয়েছিলেন; কিন্তু ১৯৮৮ সালে তার মৃত্যুপথযাত্রী মাকে দেখতে ইয়াঙ্গুনে ফিরে আসেন। ঠিক একই সময়ে দেশটিতে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দাবিতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলন ব্যর্থ হলেও তা সু চি’কে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে এনে দেয়। এরপর তাকে গৃহবন্দী করে মিয়ানমারের সামরিক সরকার। ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ২১ বছরের মধ্যে ১৫ বছরই তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। দেশটিতে ২০১৫ সালের নির্বাচনে সু চির দল বিশাল জয়লাভ করে ও তাকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসে; কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে যে ইমেজ সারা বিশ্বে তিনি গড়ে তুলেছিলেন তা তিনি ধরে রাখতে পারেননি। দেশটিতে তার দল ক্ষমতাসীন থাকা ও তিনি নিজে ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করার পরও সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালায় এবং তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে। জাতিসঙ্ঘ এই গণহত্যাকে জাতিগত নিধন বলে আখ্যায়িত করেছে। সারা বিশ্বে এই ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও সু চি ছিলেন একেবারেই নির্বিকার। ইতোমধ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের খ্যাতনামা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সু চি’কে দেয়া তাদের বিভিন্ন উপাধি ও পুরস্কার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এমনকি সু চির নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ারও দাবি উঠেছে। এটা স্পষ্ট যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার কারণে অং সান সু চি সারা বিশ্বেই নিন্দিত হয়েছেন ও তার পূর্বের অর্জিত ইতিবাচক ইমেজ হারিয়ে ফেলেছেন।
১৯২১ সালে প্রিন্স অব ওয়েলস ব্রিটিশ শাসিত ভারত সফরে আসেন। তখন ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে অবস্থান করছে। প্রিন্স অব ওয়েলসের এই সফর বয়কট করতে ব্রিটিশবিরোধী নেতা জওহরলাল নেহেরু সবার প্রতি আহ্বান জানালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তাকে কারাবন্দী করার এই আদেশকে ‘সবচেয়ে বড় বিনোদন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন নেহেরু নিজেই। আইন অমান্য করে আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিভিন্ন সময় নেহেরু সর্বমোট প্রায় এক দশক কারান্তরীণ থাকেন। পরে ১৯৪৭ সালে তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তার দল ও তার পরিবারের উত্তরসূরিরা এখনো পর্যন্ত দেশটির রাজনীতিতে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী।
ভ্যাকলাভ হ্যাভেল ছিলেন একজন ভিন্নমতাবিলম্বী নাট্যকার। যুবক বয়সে তিনি অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। ১৯৬৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়ায় ব্যর্থ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাথে কিছুটা জড়িত ছিলেন হ্যাভেল। তার এই সামান্য সংশ্লিষ্টতাই পরে তাকে জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পুরোদমে সক্রিয় হতে চালিত করে। আন্দোলনে সক্রিয় থাকার অভিযোগে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়। ১৯৮৯ সালে রেশম বিপ্লবের মাধ্যমে কমিউনিস্ট শাসনের ইতি ঘটিয়ে তিনি দেশটির ক্ষমতায় আসেন।
সাবেক সরকারি কর্মকর্তা বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন চিলির প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচলেট। পরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় ব্যাচলেটকে আটক করা হয় এবং গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে সাজা হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো হয়। অস্ট্রেলিয়া ও পূর্ব জার্মানিতে পাঁচ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ১৯৭৯ সালে নিজ দেশ চিলিতে গণতন্ত্র ফেরাতে ফিরে আসেন। ২০০৬ সালে তিনি চিলির প্রথম নারী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
২০১৪-২০১৮ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করার পর বর্তমানে তিনি ‘জাতিসঙ্ঘের লিঙ্গ সমতা ও নারী ক্ষমতায়ন’ বিষয়ক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।

খালেদা জিয়ার জামিন বহাল: ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ by হাবিবুর রহমান

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সাথে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সরকারের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। আপিল বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
একই সাথে রায়ে নিন্ম আদালতের সাজা বাতিল চেয়ে বেগম খালেদা জিয়ার দায়ের করা আপিল আবেদন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সামনে এক ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, হাইকোর্টের দেয়া জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখায় নি¤œ আদালতে অন্যান্য মামলায় জামিন পেতে আর বাধা হবে না। আইনি পথে খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে আমাদের মধ্যে ফিরে আসবেন।
আরো ছয় মামলায় জামিন নিতে হবে : আইনজীবীরা জানান, কুমিল্লা, নড়াইল ও ঢাকায় থাকা আরো ছয়টি মামলায় জামিন নেয়ার পরই বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। এ ছয়টি মামলার মধ্যে কুমিল্লায় তিনটি, ঢাকায় দু’টি ও নড়াইলে একটি মামলা রয়েছে। বিশেষ মতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে কুমিল্লায় তিনটি মামলা করা হয়। আর ঢাকার দু’টি এবং নড়াইলের মামলা হচ্ছে মানহানির। এসব মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, সব মিলিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। তবে ওই ছয় মামলা ছাড়া অন্য মামলায় তিনি জামিনে আছেন।
এ দিকে বেলা সাড়ে ১১টায় খালেদার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আপিল বিভাগে উপস্থিত হয়ে বলেন, খালেদার জামিন আবেদন দাখিলের জন্য আপিল বিভাগের সংপ্তি আদেশের প্রয়োজন। তাই ঘোষিত রায়ের সংপ্তি আদেশ চাচ্ছি। তখন আদালত বলেন, সংপ্তি নয়, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি দেয়া হবে।
এ জে মোহাম্মদ আলীর আবেদনের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে বলেন, রায় ঘোষণার পর সংপ্তি আদেশের কপি দেয়ার নজির নেই।
এরপর মোহাম্মদ আলী বলেন, রায়ের পর এক মুহূর্তও কাউকে আটকে রাখা হলে, তা হবে বেআইনি আটক। এ জন্য সংপ্তি আদেশ চাচ্ছি। এ সময় আদালত বলেন, আপনি যা বলেছেন, তা আমাদের রুলসে নেই।
তখন মোহাম্মদ আলী বলেন, কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতা অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আদালত বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায় পাবেন। আপনার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলো।
রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কিছুটা বাধা আছে। তিনি এই মুহূর্তে মুক্তি পাবেন না। কারণ, অন্যান্য মামলায় তাকে আসামি দেখানো হয়েছে। মওদুদ আহমদ বলেন, নি¤œ আদালতের কতগুলো মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে আসামি দেখানো হয়েছে। এ মামলাগুলোতে তার জামিন নিতে হবে। এই জামিন নিতে যতটুকু সময় লাগে, সে সময়টুকু পর্যন্ত অপো করতে হবে। চেষ্টা করব দ্রুত করার।
তিনি অভিযোগ করেন খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত করতে সরকার নানা কৌশলে চেষ্টা করছে, করবে। তিনি বলেন, আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখায় নি¤œ আদালতে বিএনপির চেয়ারপারসনের জামিন পেতে খুব বেশি অসুবিধা হবে না। তিনি বলেন, আমরা শিগগির চেষ্টা করব মামলাগুলোতে জামিন নিতে। আমাদের এটি আইনিভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেই জামিন পাওয়ার পর খালেদা জিয়া আমাদের মধ্যে ফিরে আসবেন। শিগগির ফিরে আসবেন।
খালেদার জিয়ার মামলায় কি মধু আছে : খন্দকার মাহবুব
মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেলের মন্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, হাইকোর্ট বিভাগে প্রায় এক লাখ মামলা দীর্ঘ দিন থেকে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মামলা রয়েছে ২০০ এর ওপরে। তা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়ার মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চায় সরকার। এ থেকে মনে হয়, বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা সরকারের মনবাসনা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া এই মামলাটিতে এমন কি মধু আছে যে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চায় সরকার।
গতকাল বুধবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখে আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের নিজ কক্ষে নয়া দিগন্তকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার মাহবুব হোসেন এ সব কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, সরকার তো সব সময় বাধা দেয়। এখন তার বিরুদ্ধে অন্য যেসব মামলা আছে সেগুলোতে দ্রুত হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়ার চেষ্টা করব। আইনি প্রক্রিয়ায় সব বাধা দূর করা হবে। অন্য দিকে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নি¤œ আদালতের সাজা বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের আদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরাও চাই দ্রুত শুনানি হোক। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় নি¤œ আদালত সাজা দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আপিলে সুপ্রিম কোর্টে আমরা বিচার পাবো। তিনি বলেন, নি¤œ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ টাকা আত্মসাৎ তো হয়নি, বরং তিন গুণ টাকা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে জমা আছে। সে হিসেবে টাকা আত্মসাৎ না হলে দুদক আইনে মামলাই হয় না। এ ক্ষেত্রে আমরা উচ্চ আদালতে বিচার পাবো।
এখানে আর বিচারকে বিলম্বিত করতে পারবেন না : অ্যাটর্নি জেনারেল
রায় ঘোষণার পর নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিল আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এখন আপিল শুনানির জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া নি¤œ আদালতে এই মামলার বিচার ৯ বছর ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে এখানে আর বিচার তিনি বিলম্বিত করতে পারবেন না বলে আশা করা যায়।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কয়টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে, কয়টি মামলায় জামিন নিতে হবে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ তথ্য দিতে পারবেন। অন্য দিকে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, আমরা হাইকোর্ট বিভাগে এ মামলার আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত আছি। তিনি বলেন, আপিল বিভাগের এ রায় পাওয়ার পর আমরা হাইকোর্ট বিভাগে যাব। সেখানে বলব, সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে। আমরা আপিল শুনানি করতে প্রস্তুত আছি।
আদালতে গতকাল খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেনÑ মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, আমিনুল হক, আবদুর রেজাক খান, জয়নুল আবেদীন, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, নিতাই রায় চৌধুরী, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বদরুদ্দোজা বাদল, কায়সার কামাল, নওশাদ জমির, রাগীব রউফ চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সগীর হোসেন লিওন, জাকির হোসেন ভূঁইয়া, মো: আলী, মির্জা আল মাহমুদ, সালমা সুলতানা সোমা প্রমুখ।
এর আগে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে গত ৯ মে আপিল বিভাগ রায়ের জন্য ১৫ মে দিন নির্ধারণ করেন।
তবে ওই দিন রায় ঘোষণার আগে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দাঁড়িয়ে বলেন, আমি গত দিনে সব সাবমিশন করতে পারিনি। আমাকে আবার কিছু সাবমিশন করতে হবে। আদালত তাকে অনুমতি দিয়ে শুনানি গ্রহণ করেন এবং ১৬ মে রায়ের নতুন তারিখ ধার্য করেন।
গত ১৯ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সাথে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপকে আপিলের অনুমতি দেন আদালত।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন সেখানেই আছেন। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর চারজনকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নি¤œ আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করা হয়। আপিলের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২২ ফেব্রুয়ারি তা শুনানির জন্য গ্রহণ করে নি¤œ আদালতের দেওয়া অর্থদণ্ড আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেন।
এরপর গত ১২ মার্চ চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন।
এরপর গত ১৪ মার্চ দুদক ও সরকার জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল আবেদন করলে সর্বোচ্চ আদালত জামিন স্থগিত করে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেন। ১৯ মার্চ দুদক ও রাষ্ট্রপকে আপিলের অনুমতি দিয়ে ৮ মে শুনানির দিন ঠিক করে দেন আপিল বিভাগ। ওই আপিল শুনানি শেষে গতকাল জামিন বহাল রেখে সরকার ও দুদকের আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।
খালেদা জিয়ার জামিননামা দাখিল
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে জামিননামা দাখিল করেছেন তার আইনজীবীরা।
গতকাল দুপুরে এ জামিননামা দাখিল করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার। এ বিষয়ে মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, জামিননামা সিএমএম আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এখন সেখান থেকে তা কারাগারে যাবে। এছাড়া আপিল বিভাগের রায়ের কপি প্রকাশ হওয়ার পর তা কারাগারে যাবে। এ বিষয়ে বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুর করলে তখন আমরা জামিননামা দাখিল করেছি। এখন আপিল বিভাগের রায় প্রকাশ হলে তা সরাসরি কারাগারে যাবে এবং বেগম খালেদা জিয়া জামিন পাবেন।
জাতীয় পতাকা অবমাননা ও জন্মদিন পালনের মামলার জামিনের বিষয়ে আদেশ আজ : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননা এবং ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় জামিন আবেদনের শুনানির বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার আদেশের দিন ধার্য রয়েছে। রাজধানীর বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত আদালতে পৃথক দু’জন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খুরশীদ আলম ও আহসান হাবীব গত ২৫ এপ্রিল দুই মামলায় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যুসহ জামিন শুনানির এ দিন ধার্য করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানান, আজ বেলা ১১টায় ওই দুই মামলায় জামিনের বিষয়ে আদেশের কথা রয়েছে।

হার্ট ফেলিউরে ভোগা রোগীদের চিকিৎসার খরচ মেটাতেই নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে পরিবার: প্রয়োজন ছাড়া রোগীকে রিং নয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রায় ৩০ শতাংশ হার্ট ফেলিউর-এর রোগী। বিশ্বে হার্ট ফেলিউর একটি বার্নিং ইস্যু। হার্ট ফেলিউরে ভোগা রোগীদের পরিবারের লোকজনের দুর্দশার সীমা থাকে না। তারা চিকিৎসার খরচ মেটাতেই নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। ইউরোপ আমেরিকাতেও হার্ট ফেলিউর-এর স্থায়ী সমাধান বা চিকিৎসা নেই। তাই এ রোগ প্রতিরোধের দিকেই অধিক মনোযোগী হতে হবে। হৃদরোগের সূত্রপাত বন্ধের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশে একজন রোগীর খরচ তার নিজের পকেটের ও পরিবারের লোকজনের পকেট থেকেই খরচ করতে হয়, সেটা সকলকে বুঝতে হবে। নতুন করে যাতে কেউ হার্ট ফেলিউরে আক্রান্ত না হয় সেক্ষেত্রে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।  গতকাল বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী এই তথ্য জানিয়েছেন।
কার্ডিওলজি বিভাগের ক্লাসরুমে ডিভিশন অফ হার্ট ফেলিউর, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজি-এর উদ্যোগে হার্ট ফেলিউর অ্যাওয়ারনেস ডে ২০১৮ উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্বব্যাপী পালিত এ দিবসটির অংশ হিসেবে এই আয়োজন। ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী আরো বলেন, আর সবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো বেশি পানি খাওয়া বা পান করা ক্ষতিকর, পানি খেতে বা পান করতে হবে পরিমাপ মতো। বেশি পানি খেলে বা পান করলে ওষুধ ও চিকিৎসকের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায় এটাই হলো বাস্তবতা ও সত্য। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর। রোগ প্রতিরোধেই অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। হৃদযন্ত্র শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। একে সুস্থ রাখতে হবে। হৃদরোগীদের সুবিধার্থে এবং এ সংক্রান্ত চিকিৎসা ও গবেষণার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কার্ডিয়াক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্বে ২৩ মিলিয়ন লোক হার্ট ফেলিউর সমস্যায় ভুগছেন। বছরে ১০৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। জনসচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া হার্ট ফেলিউর প্রতিরোধ করা সম্ভব না। ধূপমান ও তামাক সেবন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সকল রোগের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন সেক্ষেত্রে আলাদাভাবে বাজেটের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ডিভিশন অফ হার্ট ফেলিউর, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজি-এর ডিভিশন প্রধান অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক বলেন, হৃদরোগের (হাইপারটেনশন, রক্তনালী, হার্টের ভাল্ব-এর সমস্যা ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে) চিকিৎসা না হওয়া, ডায়াবেটিস, তীব্র রক্তশূন্যতা, কিডনি, থাইরয়েড ও লিভারের সমস্যা, শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা, কোনো কারণে শরীরে তীব্র সংক্রমণ দেখা দেয়া, জন্মগত হৃদযন্ত্রের সমস্যা ইত্যাদি কারণসহ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা রোগীদের হার্ট ফেলিউর হয়ে থাকে। হার্ট ফেলিউর প্রতিরোধে উচ্চ রক্তচাপের যথাযথ ওষুধ নির্বাচন করে চিকিৎসা করাতে হবে। হৃদরোগের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। যেসব রোগীর রিং লাগানোর প্রয়োজন নেই, সেসব রোগীকে যেন রিং লাগানো না হয়। কারণ এতে রোগীর উপকারের চাইতে আরো বেশি ক্ষতি হতে পারে। হৃদরোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহ- রোগসমূহের (ডায়াবেটিস) চিকিৎসাও করতে হবে। লাইফ স্টাইল বা জীবনযাপন পদ্ধতিও পরিবর্তন করতে হবে যেমন- ধূমমান ও তামাক সেবন বন্ধ করতে হবে। শর্করা জাতীয় খাবার ভাত, চিনি, গুড় (মিঠা), বিস্কিট কম খেতে হবে। পাতে লবণ কম খেতে হবে। ব্যায়ামের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। বেশি নয়, পরিমিত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। হার্ট ফেলিউর রোগীদের শরীরের এলবোমিনের মাত্রা ঠিক রাখতে ডিমের সাদা অংশ ও মাছ খেতে হবে। এছাড়া নিয়ম অনুসারে নিউমোনিয়া ও ফ্লু ভ্যাকসিন নিতে হবে।

আর কত জনকে এভাবে প্রাণ দিতে হবে?

ইসরাইলের তেল আবিব থেকে ফিলিস্তিনের পবিত্র নগরী জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর এবং যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারী নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর গণহত্যার নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। পাল্টা পদপে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কয়েকটি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।
সোমবার ইসরাইলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল। এই পদেেপর প্রতিবাদে বিােভ করেন ফিলিস্তিনিরা। আর তাদের ওপর নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায় ইসরাইলি সৈন্যরা। বিােভের সময় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ৫৮ জন নিহত ও আহত হয়েছেন আড়াই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। ওই দিন আহত আরও দুইজন মারা যান গতকাল।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। দূতাবাস স্থাপনকে কেন্দ্র করে সোমবার আরও জোরালো হয় ভূমি দিবসের চলমান বিােভ কর্মসূচি। ট্রাম্পের আগের সব মার্কিন প্রেসিডেন্টসহ বিশ্বের প্রায় সবদেশ জেরুসালেমে ইসরাইলি দূতাবাস চালু করা থেকে বিরত থেকেছেন। তারা চাইতেন আগে জেরুসালেমের অবস্থান চূড়ান্ত হোক ফিলিস্তিন-ইসরাইল আলোচনার মধ্য দিয়ে। পূর্ব জেরুসালেমকে নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে চায় ফিলিস্তিনিরা। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে শহরটিকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেন।
১৯৪৮ সালের ১৪ মে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরাইল রাষ্ট্র। ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ অবৈধ বসতি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ছয় ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। পরের বছর থেকে ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পরবর্তী ছয় সপ্তাহকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন ফিলিস্তিনিরা।
ভূমি দিবসের কর্মসূচির শেষ দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা ‘নাকবা’ বা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। গ্রেট রিটার্ন মার্চ খ্যাত এবারের কর্মসূচিতে সোমবারের আগ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৪ ফিলিস্তিনি। জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে সোমবার সীমান্ত এলাকার ওই বিােভে অংশ নেন লাখো মুক্তিকামী ফিলিস্তিনি। এদিন নিহত ৫৮ ও পরের দিন মারা যাওয়া আরও দুই ফিলিস্তিনিকে নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। বিােভে হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে সাম্প্রতিক ইতিহাসের এ ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সঙ্ঘটিত হয়। জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর ও গাজায় ইসরাইলি বর্বরতার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা।
নিন্দা ও পাল্টা পদপে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের দূতাবাস থাকা ৮৬ দেশের দূতদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৩৩টি দেশ উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।
কায়রোভিত্তিক ২২টি আরব দেশের জোট আরব লিগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে সংস্থাটি জেরুসালেমে ইসরাইলের চলমান দখলদারিত্বের বিরোধিতারও আহ্বান জানায়। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনকে আরব ও মুসলিম বিশ্বের অনুভূতিতে ভয়ঙ্কর আঘাত বলে উল্লেখ করেছে।
জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনার জাইদ রাদ আল হুসেইন ফিলিস্তিনিদের ল্য করে ইসরাইলের তাজা গুলিবর্ষণ তাৎণিকভাবে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস গাজায় বহু মানুষের নিহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মিসরের বিশ্ববিখ্যাত উচ্চতর ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-আজহারের প থেকে শান্তিপূর্ণভাবে এই সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনের দিনকে লজ্জার দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
টুইটারে এই পদেেপর ােভ জানিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি। দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিরা যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। তাই এটা অর্থহীন। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ইসরাইলকে একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, গাজায় ইসরাইল যা করছে তা গণহত্যা।
মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডেকেছে কুয়েত। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দূতাবাস স্থানান্তরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসঙ্ঘের বেশ কয়েকটি প্রস্তাব লঙ্ঘিত হয়েছে বলে জানিয়েছে। গাজায় ফিলিস্তিনি হত্যার নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জার্মানি।
গাজা-ইসরাইল সীমান্তে ফিলিস্তিনি বিােভকারীদের ওপর ইসরাইলের প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নিন্দা করে একটি বিবৃতি দিয়েছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইসরাইল শান্তিপূর্ণ বিােভকারীদের ওপর শক্তি প্রয়োগ করেছে।’

খুলনায় ২৮ কেন্দ্রে অবৈধভাবে ব্যালটে সিল: ইডব্লিউজি

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৮টি ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)। তবে এসব ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনার ব্যাপকতা বেশি না হওয়াতে ভোটের ফলাফল পরিবর্তনে কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে দাবি করেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক এ সংস্থাটি। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইডব্লিউজির পক্ষ থেকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংস্থাটির পরিচালক আব্দুল আলীম বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংসতা এবং নির্বাচনী অনিয়মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও বেশ কিছু কেন্দ্রে নির্বাচনী ফলাফল পরিবর্তনের জন্য সহিংসতা ও নির্বাচনী অনিয়ম করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন ওইসব ঘটনার ব্যাপকতা বেশি না হওয়াতে তা ভোটের ফলাফল পরিবর্তনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। নির্বাচনের ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে  দৈবচয়নের ভিত্তিতে ইডব্লিউজি ১৪৫টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষক দল ৩২ শতাংশ কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা দেখতে পেয়েছে। এর মধ্যে অবৈধভাবে ব্যালট পেপারে সিল মারা, ভোট কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে সংঘটিত সামান্য সহিংসতা, ভোটকেন্দ্রে অনুমোদিত মানুষের উপস্থিতি এবং ভোটারকে ভোট প্রদানে বাধার মতো ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে ১৬টি সহিংসতা ও ২৮টি কেন্দ্রে অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারা হয়। এছাড়া ভোটারদের ভোট প্রদানে বাধার ঘটনা ১৮টি; ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে প্রার্থীদের সুবিধা প্রদানের যানবাহনের ব্যবস্থার ১৭টি ঘটনা; অনিয়মে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার; ১০টি ভোটকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা এবং পরে সাতটিতে ভোটগ্রহণ; পর্যবেক্ষকদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়ার চারটি ঘটনা; ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার ১০টি ঘটনা এবং বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থানের চারটি ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ইডব্লিউজির পরিচালক মো. আব্দুল আলীম। তবে এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্ধারিত সময়ে ভোট গণনা শুরু, ভোট গণনার সময় পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ নিশ্চিত করা, গণনার আগে সকল ব্যালট বাক্সে নিরাপত্তা সিল লাগানো ছিল বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের সময় সকল ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট এবং ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে বিএনপি মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের দেখা যায়। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কেমন ছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল আলীম বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ২১ জনের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিল। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তবে যেসব ঘটনায় প্রার্থীদের পক্ষ অবলম্বন করেছে সেগুলোর মাত্রা ছিল ছোট। নির্বাচন একেবারে শান্তিপূর্ণ বা একেবারে বিশৃঙ্খল বলার সুযোগ নেই। সংবাদ সম্মেলনে ইডব্লিউজির আরেক পরিচালক ও জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ- জানিপপ-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের বেশকিছু ঘটনা আমরা হাজির করেছি, এসব ঘটনা তুলে ধরার অর্থ হচ্ছে ভবিষ্যতে নির্বাচনে যাতে এ ধরনের কোনো ছোট বা বড় কোনো অনিয়মের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে বা অনিয়ম ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তাতে মনে হয়েছে তাদের শপথ তারা ভঙ্গ করেনি। সেসব কেন্দ্রে জাল ভোট হয়েছে সেগুলো তারা আমলে নিয়েছে এবং কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে ইডব্লিউজির অংশীদার সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের কো-অর্ডিনেটর আ হ ম ফয়সাল, আরেকটি অংশীদার সংগঠনের প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান জমাদার উপস্থিত ছিলেন।

রোজা এলেই সক্রিয় সিন্ডিকেট

রমজান এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। অন্যদিকে পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়েও শঙ্কায় থাকেন ক্রেতারা। এ মাসটি সামনে রেখে বিশেষ করে ছয়টি পণ্য টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠে ভোগ্যপণ্যের এই চক্রটি। এ ছাড়া বৃষ্টি ও বিভিন্ন মহলের চাঁদাবাজির কারণে পিয়াজ-চিনিসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজানের আগেই অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে- সরকারের এমন হুঁশিয়ারির মুখে ব্যবসায়ীরা আগেই ধাপে ধাপে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
রমজানকে সামনে রেখে একচেটিয়া ব্যবসা করতে ছোলা, চিনি, পিয়াজ, ডাল, খেজুর ও ভোজ্য তেল পর্যাপ্ত পরিমাণ আমদানি করেছে ব্যবসায়ীরা। এরপর এসব পণ্য গুদামজাত করে বাজার অস্থির করছে এই সিন্ডিকেট। ইতিমধ্যেই রাজধানীর বাজারে রোজার আঁচ লেগেছে। সব পণ্যের দাম প্রায় ঊর্ধ্বমুখী।
ওদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এবার রমজানে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। চিনি, খেজুর, ডালসহ ভোগ্যপণ্য যা যা চাহিদা, তার চেয়ে বেশি মজুদ রয়েছে। সেবার মনোভাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার পরামর্শ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হতে হবে। এদিকে রমজানকে সামনে রেখে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পিয়াজ আমদানি বেড়েছে। আমদানির সঙ্গে বেড়ে চলেছে পণ্যটির দামও। আমদানি পর্যায়ে যে দাম নেয়া হচ্ছে, রাজধানীতে এসে তা হয়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ।
জানা গেছে, হিলি স্থলবন্দরে আমদানি পিয়াজ প্রকারভেদে এখন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২০ থেকে ২৪ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ১৬ থেকে ২০ টাকা। সে হিসেবে আমদানি মূল্য বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা। আমদানিকারকরা বলছেন, সমপ্রতি বর্ষার কারণে ভারতের পিয়াজের বাজারে কিছুটা দাম বেড়েছে।
কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছেন এবার মজুদ পর্যাপ্ত আছে। দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তাহলে হঠাৎ করে চিনি, পিয়াজের দাম কেন বাড়ছে। এর মূল কারণ সিন্ডিকেট। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারকে অস্থির করছে। এদিকে প্রতি বছর রমজানের আগে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের চেয়ে ভোক্তারাই বেশি দায়ী বলে মনে করেন বিক্রেতা ও বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, রমজানে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পণ্য কেনায় বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়। যার সুযোগ নেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। তাই ক্যাব সভাপতি বলছেন, রমজানে পণ্য কেনার ব্যাপারে ক্রেতাদের আরো সহনশীল হওয়া জরুরি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পিয়াজ বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি পিয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। আর আমদানি করা পিয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। এদিকে টিসিবি’র তথ্য মতে, পিয়াজের দাম কমেছে। সংস্থাটির তথ্য মতে, দেশি পিয়াজ প্রতিকেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। এদিকে গত কিছুদিন আগে বাড়া চিনির এখনও বাড়তিতেই আছে। ৫ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়। অথচ সারা বছর চিনি বিক্রি হয়েছে ৫২-৫৫ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শবেবরাত ও রোজা সামনে রেখে এসব জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। টিসিবি হিসাবে বর্তমানে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে চিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তথ্যমতে, রমজানে ভোজ্য তেলের চাহিদা থাকে ২.৫ লাখ টন, চিনি ৩ লাখ টন, ছোলা ৮০ হাজার টন, খেজুর ১৮ হাজার টন এবং পিয়াজ ৪ লাখ টন। এর বিপরীতে প্রতিটি পণ্যই কয়েকগুণ বেশি ইতিমধ্যে আমদানি করে মজুদ করা হয়েছে।
অন্যদিকে গতবারের চেয়ে এবার মসুর ডালের দাম ২১.৪৩ শতাংশ, ছোলা ১৪.২৯ শতাংশ, রসুন (আমদানি) ৪৫.৫ শতাংশ, রসুন (দেশি) ৩৯ শতাংশ, চিনির দাম ১৬ শতাংশ কমেছে। তবে পিয়াজের দাম যেভাবে বেড়েছিল তার থেকে এখন সহনীয় পর্যায়ে আছে। পিয়াজের যে চাহিদা দেশীয় উৎপাদন থেকে তা পূরণ হয় না। তাই ভারত থেকে পিয়াজ আনতে হয়। এতে সময় বেশি লাগলে পিয়াজ পচে যায়, নষ্ট হয়। বিশ্ববাজারে চিনির দাম কমে যাওয়ায় রমজানে এবার এর দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই বলে মনে করে মন্ত্রণালয়।
ঢাকার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ হাজী মোহাম্মদ আলী ভুট্টো বলেন, রোজায় কারসাজি না হলে ভোজ্য তেল ও চিনির দাম বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে রোজা এলেই মিল মালিকরা মিলগুলো সংস্কারের নামে চিনি সরবরাহ বন্ধ করে দেন। প্রতিবছর তাই হয়ে আসছে। সংস্কারের নামে যাতে মিলগুলো বন্ধ রাখা না হয় সে ব্যাপারে সরকারি পর্যায়ে মনিটরিং করা প্রয়োজন। প্রতিবছর মিল সংস্কারের নামে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানো হয়। আর এর খেসারত দিতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের।

সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করুন -পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পদক বিতরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী তাদের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা দেখতে চাই, আমাদের জনগণ পুলিশের কাছ থেকে যথাযথ সেবা পাচ্ছে এবং এ ল্েয আমরা একটি চৌকস, পেশাদার ও জনবান্ধব পুলিশ সার্ভিস গড়ে তোলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শেখ হাসিনা গতকাল সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমিতে ৩৫তম বিসিএস ব্যাচের শিানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষ বিপদের সময় পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আসে। তাই সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে আপনারা মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রশিণ সমাপনী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী অ্যাকাডেমির অতিথি ভবন অরুনিমায় পৌঁছলে তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। পরে প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মহাপুলিশ পরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী এবং অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল মো: নাজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশী কূটনিতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
১ জন নারীসহ ১২৩ জন এএসপি এ কোর্স উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্যে মাহবুল হাসান ‘বেস্ট প্রবিশনার’, আসমা আক্তার সোনিয়া ‘বেস্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ ও সালমান ফার্সি ‘বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। শিানবিস এএসপি সাইফুল ইসলাম রানা কুচকাওয়াজ কমান্ডার ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী নতুন কর্মেেত্র নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করার আহবান জানান। তিনি বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে আপনাদের অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে উন্নয়নকে টেকসই করতে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, বাংলাদেশে আপনারা সততা ও নিষ্ঠার সাথে প্রশিণলব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ‘রূপকল্প-২০২১’ এবং ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরন দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নিত্যনতুন অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের আরো তৎপর বিশেষ করে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরো দ হওয়ার আহবান জানান। তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের প্রত্যেক পদেেপর ল্য হচ্ছে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে দেশর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা। পুলিশের আধুনিকায়নে ৫০ হাজার জনবল সৃজনের সিদ্ধান্তের প্রোপটে ইতোমধ্যে ৪৬ হাজার পদ সৃজন করা হয়েছে। রংপুর আরআরএফ, ময়মনসিংহ রেঞ্জ, নারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ১২ আর্মড পুলিশে ব্যাটলিয়ন গঠনসহ নতুন নতুন থানা, ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। গাজীপুর ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট এবং জঙ্গি ও সন্ত্রাস নির্মূলে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট যেমনÑ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌপুলিশ এবং দু’টি স্পেশাল সিকিউরিট অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ডিবি পুলিশ হেল্প লাইন ও অনলাইন পুলিশ কিয়ারেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমির উন্নয়নে তার সরকারের গৃহীত পদেেপর উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অ্যাকাডেমিকে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার অবকাঠামো ও অ্যাকাডেমিক উন্নয়নে আরো পদপে নেবে।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে আপনাদের অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনারা দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত থাকবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, মাদকের করাল গ্রাসে আমাদের তরুণ সমাজ আজ বিপদাপন্ন। এই ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে বাঁচাতে হবে। মাদক সেবনকারী, বিক্রেতা, উৎপাদক, সরবরাহকারী সবার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে পুলিশের নবীন কর্মকর্তারা সততা ও নিষ্ঠার সাথে প্রশিণলব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ‘রূপকল্প-২০২১’ এবং ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।