Saturday, April 23, 2016

মৌসুমীর হাতে পাঁচটি সেলাই

শ্রীফলতলী থানা কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়ার পর
নাটকের শুটিংয়ে হাত কেটে গেছে অভিনয়শিল্পী মৌসুমী হামিদের। তাঁর বাঁ হাতে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রীফলতলী জমিদারবাড়িতে আজ শনিবার সকালে এই ঘটনা ঘটেছে। এখানে সুমন আনোয়ার তাঁর ‘সংকট’ নাটকের শুটিং করছেন। জানা গেছে, নাটকের দৃশ্যে রওনক হাসানের সঙ্গে মৌসুমী হামিদের মারামারির একটি দৃশ্য ছিল। তাঁরা দুজন চরিত্রের সঙ্গে অনেকটাই যুক্ত হয়ে পড়েন। মারামারির দৃশ্যটিকে বাস্তবসম্মত করেন। মারামারির একপর্যায়ে মৌসুমী হামিদের কাচের চুড়ি ভেঙে বাঁ হাতে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। কিন্তু তখনো তাঁরা শট দেওয়া অব্যাহত রাখেন। রক্তক্ষরণ হওয়ায় শট শেষে জ্ঞান হারান মৌসুমী হামিদ। তাঁকে দ্রুত স্থানীয় থানা কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
শ্রীফলতলী থানা কমপ্লেক্স হাসপাতালে মৌসুমী হামিদ, সুমন আনোয়ার ও রওনক হাসান
এই ঘটনার পর মুঠোফোনে যোগাযোগ হয় সুমন আনোয়ারের সঙ্গে। তিনি ‘সংকট’ নাটকের নাট্যকার ও পরিচালক। বলেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর মৌসুমী হামিদের জ্ঞান ফিরেছে। তাঁর হাতে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে। এখন তিনি পূর্ণ বিশ্রাম নিচ্ছেন। আজ আর তাঁকে শুটিংয়ে অংশ নিতে হবে না। সুমন আনোয়ার জানান, নাটকে রওনক হাসান ডাকাত। মৌসুমী হামিদ তাঁর স্ত্রী। অন্য কারও সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্ক আছে—এই অভিযোগে পরিবারের মধ্যে সংকট তৈরি করেন রওনক হাসান। কলহ এই পরিবারের নিত্যসঙ্গী। রওনক তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিতে চান। স্ত্রীকে মারধর করেন। আর তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের জন্য ‘সংকট’ নাটকটি তৈরি করছেন সুমন আনোয়ার।

রানা প্লাজার শ্রমিকদের তৈরি ভাস্কর্য প্রদর্শনী

গুলশানের বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘উইংস অব হোপ’
ঘুরে দেখছেন দুই দর্শনার্থী। ছবিটি গতকাল সন্ধ্যায় তোলা
কালো ধাতব ভাস্কর্যগুলো পোড়া মানুষের মতো। সেগুলোর আছে ভিন্ন ভিন্ন নাম। মানুষের অবয়বে জোড়া ভাস্কর্যগুলোর কোনোটার ভঙ্গি কখনো নৃত্যের, কখনো বন্ধুতার। দর্শনার্থীর অপেক্ষায় বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সেগুলো। দেশের প্রতিষ্ঠিত ভাস্করদের সঙ্গে এগুলো বানিয়েছেন রানা প্লাজা ধসে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসা চৌত্রিশ জন নারী। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানের এই গ্যালারিতে শুরু হয়েছে শিল্প প্রদর্শনী ‘উইংস অব হোপ’। রানা প্লাজা ধসের তিন বছর পূর্তি ও নারী দিবস উপলক্ষে দেশের নারী চিত্রশিল্পীদের সংগঠন সাঁকো, মীনা ই.ভি, আর্য চলচ্চিত্র ফাউন্ডেশন ও ফ্যাশন রেভল্যুশনকে সঙ্গে নিয়ে এ আয়োজন করেছে তিন নরডিক দেশ ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেন। চার দিনের এই চিত্রকলা ও ভাস্কর্য প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ইয়োহান ফ্রিসেল, নরওয়ের মেরেট লুনডেমো ও ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হ্যানা ফিউগল এসকেয়ার। ফজলে হাসান আবেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের সুখী দশটি দেশের একটি। কিন্তু জনসংখ্যার অর্ধেককে সঙ্গে না নিয়ে সুখী হওয়া যায় না। নারীর ওপর সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, বৈষম্য এখনো কমেনি।’ তিনি বলেন, দেশের প্রথম নারী ভাস্কর নভেরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নন্দিত। নারীরা আগে থেকেই শিল্পকলায় এগিয়ে। সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমাদের নারীরা যথেষ্ট এগিয়েছেন। তাঁরা নানা রকম চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করছেন।’ বড় একটি দুর্ঘটনা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো নারীদের অভিবাদন জানান তিনি। অনুষ্ঠানে রানা প্লাজার পোশাকশ্রমিক আসমা স্মৃতিচারণা করেন। কর্মশালার মাধ্যমে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া নারীদের খাদ্য মোড়কীকরণ, সেলাই, লেখাপড়া ও নাচ-গান শেখাচ্ছে বেসরকারি সংস্থা মীনা। এ ছাড়া ডেনমার্কের শিল্পশিক্ষক কিরস্টেন ফুগোর তত্ত্বাবধানে মোমের ভাস্কর্য তৈরি শিখেছেন তাঁরা। পরে সেগুলোকে ধাতব ভাস্কর্যে রূপ দেওয়া হয়। এগুলো বিক্রির অর্থে রানা প্লাজার দুর্গতদের সহায়তা দেওয়া হবে। প্রদর্শনীটি প্রয়াত চিত্রশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার খালিদ মাহমুদ মিঠুকে নিবেদন করা হয়েছে। আর্ট লাউঞ্জে শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় দেখানো হবে তথ্যচিত্র ট্রু কস্ট এবং পরদিন সন্ধ্যায় মিঠুর প্রামাণ্যচিত্র ডেড হ্যান্ডরাইজিং। প্রদর্শনী চলবে রোববার পর্যন্ত, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা।

সেরা সুন্দরী অ্যানিস্টোন

জেনিফার অ্যানিস্টোন
৪৭ বছর বয়সেও কী সুন্দর হলিউড অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টোন! পিপল ম্যাগাজিন এই উই আর দ্য মিলারস তারকাকে ২০১৬ সালের সেরা সুন্দরীর মর্যাদা দিয়েছে। এই ম্যাগাজিনের পরবর্তী সংখ্যার প্রচ্ছদে দেখা যাবে এই তারকাকে। সেরা সুন্দরীর তকমা পেয়ে যারপরনাই খুশি অ্যানিস্টোন। ‘এই সম্মান পেয়ে আমি অভিভূত।’ বললেন তিনি। যদিও এবারই প্রথম নয়। এর আগেও একবার এই ম্যাগাজিন তাঁকে বছরের সেরা সুন্দরী ঘোষণা করেছিল। অ্যানিস্টোনের সৌন্দর্যের রহস্য জানতে চাইলে অট্ট হেসে তিনি জবাব দেন, তাঁর ডায়েট নাকি ‘ভয়াবহ’। কারণ কর্ন ফ্লেকস আর আলুভাজা খেতে ভীষণ ভালোবাসেন এই সুন্দরী। আগের মতো আর কড়া ডায়েট অনুসরণ করছেন না আজকাল। তবে রোজ এক ঘণ্টা করে সপ্তাহে ছয় দিন শরীরচর্চা করেন। আর এ জন্যই তো এখনো একদম ফিট ২৯ এপ্রিল মুক্তি পাচ্ছে জেনিফার অ্যানিস্টোন অভিনীত কমেডি ঘরানার ছবি মাদারস ডে।

অর্ণব বলবেন নিজের কথা

অর্ণব
দেশে ও দেশের বাইরে অসংখ্য ভক্ত আছে সংগীতশিল্পী অর্ণবের। গান তো বটেই, তাঁর মুখ থেকে কথা শোনার অপেক্ষায়ও থাকেন অনেকেই। এবার সেই সুযোগটি সম্ভবত পাওয়া গেল। সংগীতশিল্পী অর্ণব হাজির হচ্ছেন আরটিভির একটি লাইভ অনুষ্ঠানে। গান নয়, কথার জাদুতে মুগ্ধ করবেন তিনি। আরটিভিতে নিয়মিত প্রচার হয় টিপস অ্যান্ড ফান–বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘লেট নাইট কফি’। আগামীকাল রাতে এই অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসছেন অর্ণব। ‘লেট নাইট কফি’ অনুষ্ঠানটি মূলত রাতজাগা দর্শকদের জন্য। এতে আগত অতিথিরা তাঁর জীবনের উত্থান-পতনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। কথা বলেন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে। অর্ণবও তাই করবেন। তাঁর কথায় জানা যাবে জীবনের অনেক অজানা কথা। চাইলে অর্ণবের ভক্তরাও টেলিফোন ও ই-মেইলের মাধ্যমে যোগ দিতে পারবেন অনুষ্ঠানে। কথা বলতে পারবেন পছন্দের সংগীতশিল্পীর সঙ্গে। ‘লেট নাইট কফি’ অনুষ্ঠানটি নিয়মিত উপস্থাপনা করেন মারিয়া নূর ও তৌসিফ। প্রযোজনা করেন সোহেল রানা। এটি প্রচারিত হবে কাল রাত ১২টা ১ মিনিটে।

চলে গেলেন জনপ্রিয় মার্কিন সংগীতশিল্পী প্রিন্স

প্রিন্স রজার্স নেলসন।
জনপ্রিয় মার্কিন সংগীতশিল্পী ও ইতিহাসের অন্যতম সফল সুরকার প্রিন্স রজার্স নেলসন মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় নিজ বাসায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। খবর বিবিসি ও গার্ডিয়ানের। এর আগে জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য প্রিন্স রজার্সের বাসা থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। ১৯৮০ সালে গানের অ্যালবাম ১৯৯৯, পার্পেল রেইন এবং সাইন ও’ দ্য টাইমস প্রকাশের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী তারকাখ্যাতি পান প্রিন্স রজার্স নেলসন। তাঁর সংগীতজীবনে ১০ কোটির বেশিসংখ্যক গানের রেকর্ড বিক্রি হয়। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন গায়ক, গানের লেখক, যন্ত্রসংগীতশিল্পী ও ব্যবস্থাপক। তিনি মোট ৩০টি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। লেটস গো ক্রেজি ও হোয়েন ডাভস ক্রাই তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় অ্যালবাম। গত সপ্তাহেও এক স্টেজে অনুষ্ঠান করার সময় প্রিন্স অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

প্রভাবশালী প্রিয়াঙ্কা

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতিবছরই একটি তালিকা প্রকাশ করে মার্কিন সাময়িকী টাইম। রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, অর্থনীতি, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন অঙ্গনের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির নাম উঠে আসে সেখানে। এ বছর সেই তালিকায় নাম লেখালেন বলিউডের তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। শুধু নাম নয়, এই তালিকা নিয়ে প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনের ছয়টি বিশেষ সংস্করণের একটির প্রচ্ছদেও প্রিয়াঙ্কাকে দেখা যাবে। অন্য প্রচ্ছদগুলোতে থাকবেন লিওনার্দো ডি’ক্যাপ্রিও, নিকি মিনাজ, প্রিসিলা চ্যান-মার্ক জাকারবার্গ, ক্রিস্টিন লাগার্দ ও লিন-ম্যানুয়াল মিরানডা। প্রিয়াঙ্কা গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর টুইটার পেজে টাইম সাময়িকীতে তাঁকে নিয়ে করা প্রচ্ছদটির ছবি পোস্ট করেন। সেদিনই টাইম-এর ওয়েবসাইটে প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। পি সি-কে নিয়ে লিখেছেন প্রিয়াঙ্কার প্রথম হলিউড ছবি বেওয়াচ-এর সহ-অভিনেতা ডোয়াইন জনসন, ‘দ্য রক’ নামে যাকে চেনেন অনেকে। প্রিয়াঙ্কার প্রশংসা করে এবং টাইম-এর তালিকায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অনেক কথাই সেখানে লেখেন রক।‘পাইওনিয়ারস’, ‘টাইটানস’, ‘আর্টিস্টস’, ‘লিডারস’ ও ‘আইকনস’ বিভাগে ভাগ করে বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম প্রকাশ করে থাকে টাইম সাময়িকী। প্রিয়াঙ্কা আছেন আর্টিস্টস বিভাগের শীর্ষে। তিনি ছাড়াও প্রভাবশালীদের তালিকায় আরও আছেন বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, শার্লিজ থেরন, অ্যাডেল, আলহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনাররিতু, সানিয়া মির্জা, ইদ্রিস অ্যালবা, সুন্দর পিচাইসহ বিভিন্ন অঙ্গনের নামী ও মেধাবী ব্যক্তিত্বরা।

শাহরুখের পথেই পুত্র আরিয়ান?

শাহরুখের পথেই পুত্র আরিয়ান?
শাহরুখ খানের ছেলে কি শাহরুখ খানের মতোই হবেন? নাকি হাঁটবেন তাঁর নিজস্ব পথে? এই নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবে শাহরুখের হিসাবটা সোজা। ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে বাকি দশজন মা-বাবার মতোই, আগে পড়ালেখা তারপর অন্য কিছু। এই নীতিতে বিশ্বাসী শাহরুখ। তাঁর চাওয়া স্রেফ শাহরুখের ছেলে বলে নয়, যথেষ্ট সিনেমাপ্রেমী হলে তবেই বাবার পথে হাঁটতে পারেন আরিয়ান খান। এত সব কথা বলতে হচ্ছে, কারণ আরিয়ানের টুইটারে পোস্ট করা সাম্প্রতিক একটা ছবি। আরিয়ানের উদোম গায়ের সেই ছবি দেখে কানাঘুষা শুরু হয়ে গেছে। আরিয়ানের বলিউড অভিষেক আর বুঝি দেরি নেই। আরিয়ান অবশ্য ছবিটা শুধু পোস্ট করেই চুপ। শাহরুখভক্তদের জল্পনা-কল্পনার তাই মীমাংসা হচ্ছে না এখনই।

বাউল আর শহুরে মনের সহবাস

সজীবের ‘লাটিম’ অ্যালবামের প্রচ্ছদ
‘লাটিম’ হলো বাউল আর শহুরে মনের সহবাস। দুটি সুর দুই রকম। তবে দুটি মনের মধ্যে কোথায় যেন খুব মিল রয়েছে। নিজের নতুন অ্যালবাম নিয়ে এভাবেই জানালেন সজীব। ২৬ এপ্রিল ‘সংগীত মেলা’য় অ্যালবামটির মোড়ক খোলা হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আজ ২৩ এপ্রিল শুরু হচ্ছে এই মেলা। সজীব তাঁর ‘লাটিম’ অ্যালবামের কাজ করেছেন প্রায় বছর তিনেক ধরে। একটি গান তৈরি হওয়ার পরই মিউজিক ভিডিও করেছেন। এরই মধ্যে এই অ্যালবামের আটটি গানের মিউজিক ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে ইউটিউবে। এই মিউজিক ভিডিওগুলোর শিরোনাম ‘আইস তুমি’, ‘বৃষ্টি ভালোবাসা’, ‘আজকে পাগল’, ‘সহজ গান’, ‘ফকির লালন’, ‘আমার অন্তর মাঝে’, ‘চেনা শহর’ ও ‘ভালো ভবঘুরে’। সজীব জানালেন, এই মিউজিক ভিডিওগুলো তৈরি হয়েছে ঢাকা, কলকাতা, পার্থ, টরন্টো আর মন্ট্রিয়েলে। ‘লাটিম’ অ্যালবামে গান রয়েছে ১৩টি। সজীব বললেন, ‘ইদানীং কোনো অ্যালবামে এতগুলো গান থাকে না। কিন্তু আমার অনেক গান জমে গেছে। তাই দিয়ে দিলাম।’ সজীবের গাওয়া খুব জনপ্রিয় গানগুলো হলো ‘কবে যাব পাহাড়ে’, ‘মন উচাটন’ আর ‘পালাবি পালা’। ‘লাটিম’ থেকে কোন গানগুলো জনপ্রিয় হবে? সজীব বলেন, ‘“আইস তুমি” গানটি পয়লা বৈশাখ নিয়ে। লোকসুরের এই গানের মিউজিক ভিডিও অনেকে দেখেছে। আশা করছি, “লাটিম” গানটিও শ্রোতাদের ভালো লাগবে।’ ‘লাটিম’ সজীবের চতুর্থ অ্যালবাম। তাঁর অন্য অ্যালবামগুলো হলো ‘বাড়ি কোথায় বলো’ (২০০৭), ‘মন উচাটন’ (২০০৯) আর ‘বেচেই দিলাম’ (২০১১)।

‘ইত্যাদি’ এবার আম্রকাননে

‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে গম্ভীরা গানের শিল্পীদের সঙ্গে হানিফ সংকেত
ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ ধারণ করা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে হর্টিকালচার সেন্টারের অভ্যন্তরের আম্রকাননে। ৮ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অনুষ্ঠানটির শুটিং হয়েছে এখানে। অনুষ্ঠানটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশন থেকে জানানো হয়, ইতিহাসে এই আম্রকাননের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। অনেক আন্দোলন আর সংগ্রামের সিদ্ধান্ত হয়েছে আমতলায়। এখন আমের মৌসুম। আমের রাজধানী নামে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তাই এবার ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে এই জেলাকে। অনুষ্ঠানে থাকছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আম, ফজলে রাব্বী রবিনের সর্পপ্রীতি আর খুলনার ফুলতলা উপজেলার প্রচারবিমুখ, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবায় নিবেদিত শিক্ষানুরাগী কুতুবুদ্দিন আহমেদের ওপর প্রতিবেদন। বিদেশি প্রতিবেদন করা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাশে অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাংলার নবাবদের আবাসস্থল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদে। এই প্রতিবেদনে রয়েছে নবাবদের নানা বিচিত্র ঘটনা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের লেখা গানে সুর করেছেন হানিফ সংকেত। এই গানের সঙ্গে নাচে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় শতাধিক নৃত্যশিল্পী। নৃত্য পরিচালনা করেছেন ল্যাডলি মোহন মৈত্র ও গৌরী চন্দ্র। গানের সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী। রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্য গম্ভীরা। গম্ভীরা পরিবেশন করেছেন মাহাবুবুল আলম ও ফাইজুর রহমান। নিয়মিত পর্ব মামা-ভাগনে, নানি-নাতি, চিঠিপত্র বিভাগ তো থাকছেই। রয়েছে বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে কিছু সরস অথচ তীক্ষ্ণ নাট্যাংশ। এর বিষয়গুলো হলো শহুরে বাঙালি বনাম গ্রাম্য বাঙালি, হাতের রেখা ও নেতার মর্জি, আইন ও আইনের প্রয়োগ, রোগীর কথায় অবাক ডাক্তার, উভয়-সংকট, অন্তর বনাম বাহ্যিক সৌন্দর্য, ফেসবুকের ভালো-খারাপ। এ ছাড়া অফিসের নানা অসংগতি নিয়ে তৈরি মিউজিক্যাল ড্রামায় অংশ নিয়েছেন প্রাণ রায় ও জয়রাজ। বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ প্রচারিত হবে ২৯ এপ্রিল শুক্রবার রাত আটটার বাংলা সংবাদের পর। অনুষ্ঠানটি গ্রন্থনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।

প্রিন্সের বিদায়ে রঙিন শ্রদ্ধা...

পুরো শহর হঠাৎ হয়ে উঠল রঙিন। লাল আর নীল মিলেমিশে যে রক্ত–বেগুনি রঙের সৃষ্টি করে, সেই রংটিই ছড়িয়ে পড়ল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, নিউ অরলিনস, মিনেসোটাসহ আরও অনেক রাজ্যে। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষে রঙিন হওয়া নায়াগ্রা জলপ্রপাতও কাকতালীয়ভাবে মিলে গেল সংগীত কিংবদন্তি প্রিন্সের সেই কালজয়ী গান ‘পার্পেল রেইন’–এর সঙ্গে। হ্যাঁ, প্রিন্সের জন্যই তো রঙিন হলো সব। সংগীতজগতের জনপ্রিয় এই তারকা গত বৃহস্পতিবার মারা যান। এর পরপরই তাঁকে স্মরণ করে তাঁর পার্পেল রেইন গানের সঙ্গে মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিখ্যাত স্থাপনা পার্পেল রঙে রাঙানো হয়। ৫৭ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান প্রিন্স। বৃহস্পতিবার রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর নিজের মিনেসোটার বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি। ময়নাতদন্ত শেষ হলেও তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রিন্স বেশ কিছুদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর বাড়ি থেকে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে জরুরি ফোন যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে মেডিকেল টিম সেখানে উপস্থিত হয়। কিন্তু ততক্ষণে প্রিন্স বিদায় নিয়েছেন পৃথিবী থেকে। প্রিন্সের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর ভক্তরা এসে জড়ো হতে থাকেন তাঁদের প্রিয় শিল্পীর বাড়ির সামনে। এমনকি লস অ্যাঞ্জেলেস, ব্রুকলিনসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় জড়ো হয়ে ভক্তরা অশ্রু, হাসি, নাচে ও গানে প্রিন্সকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলো বাজানো হয় বিভিন্ন স্থানে। প্রিন্সকে শ্রদ্ধা জানাতে এমটিভি ইউএসএ তাদের ওয়েবসাইট ও টুইটার পেজের লোগোর রং বদলে পার্পেল রঙের করে। গার্ডিয়ান, দ্য নিউইয়র্কার, দ্য সান, টাইমস, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইলসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় প্রিন্স উঠে আসেন তাঁর পার্পেল রং নিয়ে। মহাকাশ সংস্থা নাসাও একটি পার্পেল নেবুলা উৎসর্গ করে প্রিন্সের উদ্দেশে। ১৯৫৮ সালের ৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন প্রিন্স রজার্স নেলসন। তাঁর প্রথম অ্যালবাম ফর ইউ মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে। গ্র্যামি ও অস্কারজয়ী এই সংগীত তারকার ৩০টি অ্যালবামের এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। ২০১৫ সালে প্রিন্সের শেষ অ্যালবাম হিট রান মুক্তি পায়।

স্কুটারে সালমান!

সালমান খান
চেক শার্ট ও হাতাকাটা সোয়েটার পরা এক লোক নীল রঙের স্কুটারে চেপে সামনে এগিয়ে আসছেন। রাস্তাঘাটে এ রকম দৃশ্য খুবই স্বাভাবিক। খবর হওয়ার মতো কোনো ঘটনাই নয় এটি। কিন্তু একি! এ দেখি ‘সাল্লু ভাইজান’। বলিউডের সুপারস্টার সালমান খানকে ভিড়ের মধ্যে স্কুটার চালাতে দেখে কে না অবাক হবেন? সম্প্রতি ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরের বিভিন্ন রাস্তায় স্কুটার চালাতে দেখা গেছে এই তারকাকে। অবশ্য শখের বশে নয়। শুটিংয়ের খাতিরেই চেপে বসতে হয়েছিল স্কুটারে। ‘সুলতান’ ছবির কিছু দৃশ্যের কাজ করতে সালমানকে একজন সাধারণ মানুষের মতোই এই কাজ করতে হয়েছে। প্রথমে অনেকে তাঁকে চিনতে না পারলেও কাছে আসামাত্রই পথচারীরা প্রিয় তারকাকে আবিষ্কার করেন। ভিড় জমতেও সময় লাগে না। সালমানকে একঝলক দেখার জন্য অনেকেই সেখানে ছুটে আসেন। এর আগে একই ছবির শুটিংয়ের জন্য সালমান খানকে দিল্লির জামে মসজিদে যেতে হয়েছিল। সেখানে তাঁর নিরাপত্তার কথা ভেবে এক হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ‘সুলতান’ মুক্তি পাবে এবার ঈদে।

৪৩ লাখ পেরিয়ে নুসরাত ফারিয়া

নুসরাত ফারিয়া
নায়িকা নুসরাত ফারিয়ার বয়স খুব বেশি না। মুক্তি পেয়েছে একটি মাত্র ছবি। কাজ করছেন ‘বাদশা’ নামের নতুন একটি ছবির। এদিকে ‘আশিকী’ ছবির জন্য তো ফারিয়া মেরিল-প্রথম আলো তারকা জরিপে সেরা নবাগত নায়িকার চূড়ান্ত মনোনয়নেও লড়ছেন। এরই মধ্যে জানা গেছে, ফারিয়া ৪৩ লাখের মাইলফলক পার করে ফেলেছেন! বিস্ময়কর মনে হলেও এটাই কিন্তু সত্যি। তবে এটা চলচ্চিত্রের সম্মানীর ক্ষেত্রে নয়, তাঁর অভিনীত একটি গান নিয়ে। চলচ্চিত্রে তাঁর শুটিং করা প্রথম গান ‘মেয়েদের মন বোঝা...’। মাত্র আট মাসের মধ্যে ইউটিউবে গানটি দেখা হয়ে গেছে ৪৩ লাখবারেরও বেশি। বিষয়টি জানতে পেরেই দারুণ উচ্ছ্বসিত ফারিয়া। প্রথম আলোকে ফারিয়া বললেন, ‘গানটি নিয়ে আমার অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। প্রথমত এটি চলচ্চিত্রে শুটিং করা আমার প্রথম গান। তাই এটি আমার কাছে অনেক বেশি স্পেশাল। সেই গানটি দিনে দিনে মানুষের এত ভালো লাগার হয়ে উঠছে, সবাই এত পছন্দ করছে—বিষয়টি জেনে আনন্দিত না হয়ে কোনো উপায় আছে কি? আমি অনেক খুশি।’ ‘আশিকী’ নুসরাত ফারিয়ার প্রথম সিনেমা। টানা ৩১ দিন স্কটল্যান্ড, লন্ডন, কার্ডিফ, ওয়েলস আর ক্রলিতে এই ছবির শুটিং করেছেন তিনি। এই ছবির জন্য তিনি টানা ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা শুটিং করেছেন বলেও জানান। একসময়ের উপস্থাপক ফারিয়া এখন পুরোদস্তুর একজন চলচ্চিত্র নায়িকা। এখন কাজ করছেন ‘বাদশা’ ছবিতে। এই ছবিতে তিনি অভিনয় করছেন ফেরদৌস আর কলকাতার জিতের সঙ্গে। সামনে শুরু করবেন ‘প্রেমী ও প্রেমী’ ছবির শুটিং। এই ছবিতে ফারিয়া অভিনয় করবেন আরিফিন শুভর বিপরীতে।

শখ যখন ‘কোকিলা’

কোকিলা নাটকের শুটিংয়ে শখ ও নিলয়
‘কোকিলা, আপনি একটু ডানে তাকান। হ্যাঁ, ঠিক আছে। এই তো। ক্যামেরা...।’ রাজধানীর ইস্কাটনের একটি শুটিংবাড়ির দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ‘কোকিলা’। তাঁর দিকে তাক করে রাখা ক্যামেরার পেছনে ছিলেন পরিচালক তারিক মুহাম্মদ হাসান। কোকিলাকে উদ্দেশ করেই কথাটা বললেন তিনি। তারপর চলল ক্যামেরা। ওপাশে ততক্ষণে কথা বলা শুরু করেছেন কোকিলারূপী আনিকা কবির শখ ও অভিনেত্রী দিবা নার্গিস। আবদুল্লাহ আল-মামুনের লেখা জনপ্রিয় মঞ্চনাটক কোকিলারা-এর ছায়া অবলম্বনে নির্মাণ করা হচ্ছে একক নাটক কোকিলা। তারই শুটিং শুরু হয়েছে গত বৃহস্পতিবার থেকে। টিভির জন্য কোকিলা নাটকটির চিত্রনাট্য লিখেছেন আবদুল্লাহ আল-মামুনের মেয়ে দিবা নার্গিস ও পরিচালক। বাবার লেখা নাটক অবলম্বনে নতুন করে চিত্রনাট্য লেখা প্রসঙ্গে দিবা নার্গিস বললেন, ‘আমার বাবা খুব আধুনিক মানুষ ছিলেন। তাঁর লেখাগুলোও তেমনই। যেকোনো সময় চাইলেই নির্মাণ করা যায়। আমরা মূল ঘটনাটা ঠিক রেখে শুধু এই সময়ের জন্য উপযোগী করেছি। আশা করছি, কারও খারাপ লাগবে না।’ কোকিলা চরিত্রে অভিনয় করা প্রসঙ্গে শখ বললেন, ‘মঞ্চে এই নাটকটি দেখা হয়নি। তাই বেশ ভয়ে আছি। চেষ্টা করছি নিজের সর্বোচ্চ অভিনয়ক্ষমতা দিয়ে কাজটি করার।’ নাটকে শখের বিপরীতে শোভন চরিত্রে অভিনয় করছেন নিলয়। পরিচালকের ভাষায় যিনি এই নাটকের ‘কোকিল’। তিনিও চেষ্টা করছেন নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করার। যে নাটকটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবদুল্লাহ আল-মামুনের নাম, তার জন্য একটু বাড়তি চেষ্টা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। নাটকটিতে আরও অভিনয় করছেন শামস সুমন ও টোকাই নাট্যদলের একজন অভিনয়শিল্পী। পরিচালক জানালেন, নাটকটি নির্মাণ করা হচ্ছে এনটিভির জন্য। খুব তাড়াতাড়ি প্রচারিত হবে কোকিলা।

রোনালদোকে জোর করে বিশ্রাম দিলেন জিদান

রোনালদোকে আজ বিশ্রামে রাখছেন জিদান
রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে আজ লা লিগার ম্যাচটায় তিনি খেলছেন না, এটা নিশ্চিত। দুই দিন আগে ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ার কারণে এ ম্যাচটা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে দেখতে হবে দর্শক হয়েই। রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ উইঙ্গার অবশ্য তারপরেও খুবই আগ্রহী ছিলেন খেলার ব্যাপারে। কিন্তু রাজি নন কোচ জিনেদিন জিদান। দলের স্বার্থেই রোনালদোকে অনেকটা জোর করে বিশ্রাম দিয়েছেন তিনি। কী সেই স্বার্থ? আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ওই ম্যাচে বরং দলের সেরা খেলোয়াড়কে আরও বেশি দরকার হবে জিদানের। ভায়েকানোর বিপক্ষে খেলিয়ে তাই চ্যাম্পিয়নস লিগে রোনালদোকে হারানোর বড় ঝুঁকি নিতে চান না জিদান। এ মৌসুমে লা লিগায় ও চ্যাম্পিয়নস লিগে দলের হয়ে খেলেছেন প্রতিটি ম্যাচ। শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে একটা ম্যাচে শেষ মুহূর্তে কিছুক্ষণের জন্য উঠে গিয়েছিলেন। দলের জন্য সব সময়ই নিজেকে উজাড় করে দিতে চান রোনালদো। সে কারণেই কিছুটা চোট থাকলেও মাঠে নামতে চেয়েছিলেন আজ। কিন্তু বড় স্বার্থের কথা ভেবেই আজ রোনালদোকে বিশ্রাম দিয়েছেন জিদান, ‘চোটটা খুব গুরুতর কিছু নয়। কিন্তু আমার সোজা কথা, আজ রোনালদো খেলবে না। ও খেলতে খুবই আগ্রহী, কিন্তু তারপরেও ওকে বাড়িতে বসেই খেলা দেখতে হবে। এটা যদি ফাইনালও হতো, আমি ওকে খেলানোর ঝুঁকি নিতাম না।’ তবে বিশ্রামের কড়া নির্দেশ দিলেও রোনালদোর দলকে সাহায্য করার মানসিকতা নিয়ে মুগ্ধ জিদান, ‘একজন কোচের জন্য এর চেয়ে বড় ব্যাপার আর কী হতে পারে! ও সব সময়ই চায় খেলতে, সতীর্থদের সাহায্য করতে। আমি ওর এই মানসিকতাকে শ্রদ্ধা করি।’ গোল ডটকম।

জামালকে নিয়েই সেমিতে চট্ট. আবাহনী

বল দখলের লড়াইয়ে শূন্যে উড়ছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর
লিওনেল(আকাশি জার্সি) ও শেখ জামালের ন্যাগি।
দুই দলের লড়াইটা শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও ছিল। ফুটবলারদের দলবদল ঘিরে মৌসুম শুরুর আগেই শেখ জামাল ধানমন্ডি ও চট্টগ্রাম আবাহনীর মধ্যে একটা তীব্র লড়াই চলে আসছে। যাতে জেতার জন্য আদালত পর্যন্ত গেছে শেখ জামাল। মাঠের বাইরের ওই লড়াইয়ের পর আপাতত স্বাধীনতা কাপের ‘যুদ্ধে’ দুই দলের কেউই কাল জেতেনি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শেখ জামালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সেমিফাইনালে উঠে গেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। ৫ ম্যাচে ৪ জয় ও ১ ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ চারে উঠল শেখ জামাল। ৫ ম্যাচে ৩ জয়, ১ ড্র ও ১ হারে ১০ পয়েন্ট পাওয়া চট্টগ্রাম আবাহনী হয়েছে রানার্সআপ। ড্র করলেই শেষ চার নিশ্চিত—এমন সমীকরণ সামনে রেখে খেলতে নেমে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে চট্টগ্রাম আবাহনী। ১৭ মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনীর গোলরক্ষক আশরাফুল রানা পেনাল্টি উপহার দেন জামালকে। বক্সের মধ্যে জামালের ফরোয়ার্ড এমেকা ডার্লিংটনের পা টেনে ধরেন তিনি! এরপরই রেফারি পেনাল্টির বাঁশি দেন, আর পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন এমেকা (১-০)। পিছিয়ে পড়া চট্টগ্রাম আবাহনীকে সমতায় ফিরিয়েছেন অ্যালিসন উদোকা। ৭৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তারিক আল জানাবির ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরলে ফিরতি বলে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন অ্যালিসন। দুই কার্ডের খাঁড়ায় পড়ে কাল খেলতে পারেননি চট্টগ্রাম আবাহনীর উইঙ্গার জাহিদ হোসেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে বেশ ভুগতে হয়েছে দলটিকে। তবে শেখ জামাল প্রথমে এগিয়ে গিয়েও আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায়। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে পেরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ জোসেফ পাভলিক, ‘আজ আমরা দেশের সেরা দলের মুখোমুখি হয়েছিলাম। ড্র করে হলেও শেষ পর্যন্ত সেমিতে উঠেছি বলেই খুশি।’
আজকের খেলা: আবাহনী-শেখ রাসেল
(বিকেল ৫–৩০ মি., বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম)।

সুয়ারেজকে পাশে পাচ্ছেন নেইমার

কঠিন সময়ে সুয়ারেজকে পাশে পাচ্ছেন নেইমার
হঠাৎ করেই যেন জাদুটা হারিয়ে ফেলেছেন। দল খারাপ খেলেছে, নিজেও কেন যেন ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না। নেইমার যেন সর্বশেষ কয়েকটা ম্যাচে নিজের ছায়া। এমনকি দেপোর্তিভোর সঙ্গে বার্সেলোনার বড় জয়ে গোল পেলেও নিজেকে সেভাবে চেনাতে পারেননি। সমালোচকদের মুখও তাই থামেনি। এবার বার্সেলোনা সতীর্থ লুইস সুয়ারেজকে পাশে পাচ্ছেন নেইমার। বার্সার হয়ে গত বেশ কিছু ম্যাচ ধরেই অনুজ্জ্বল নেইমার। দেপোর্তিভোর ম্যাচ বাদ দিলে আগের পাঁচটিতে কোনো গোল পাননি। তবে সুয়ারেজ অনুজ সতীর্থকে আগলে রাখছেন এই সময়ে, ‘যখন খারাপ সময় যায়, তখন সেই দায়িত্ব সবার। কিছুদিন ধরে শুধু একজনকেই দোষ চাপানো হচ্ছে, এটা ঠিক নয়। আমরা কেউই যন্ত্র নই, খারাপ সময় সবার আসতেই পারে। সেটির জন্য যেভাবে নেইমারকে দায়ী করা হচ্ছে, সেটা আসলেই দুঃখজনক।’ সুয়ারেজ মনে করিয়ে দিলেন, একটা সময় নেইমারের দুর্দান্ত ফর্মেই বার্সেলোনা পার পেয়ে গেছে, ‘আমরা যখন জিতছিলাম, তখন কেউই বলেনি ম্যাচটা নেই (নেইমার) জিতিয়েছে।’ সুয়ারেজ আশাবাদী, নেইমার শিগগিরই নিজেকে ফিরে পাবেন, ‘এভাবে ওর ঘাড়ে দোষ চাপানো অনুচিত। তবে সে কখনোই হাল ছেড়ে দেয় না। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে।’  নিজেকে ফিরে পাওয়ার সেই সুযোগ নেইমার কালই পাচ্ছেন। অবনমন এড়াতে লড়াই করতে থাকা স্পোর্টিং গিহনের বিপক্ষে মাঠে নামবে বার্সা। নেইমার নিশ্চয় সুযোগটা নিতে চাইবেন!

সেমিফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনী

ম্যাচের একটি মুহূর্ত
ড্র করলেই সেমিফাইনাল, এমন সমীকরণ নিয়ে আজ খেলতে নেমেছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। সে লক্ষ্যে সফল দলটি। শেখ জামালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেই সেমিতে উঠল এবারে বড় দলে পরিণত হওয়া চট্টগ্রাম আবাহনী। দুই দলের লড়াইটা শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও ছিল। ফুটবলারদের দলবদল ঘিরে মৌসুম শুরুর আগেই শেখ জামাল ধানমন্ডি ও চট্টগ্রাম আবাহনীর মধ্যে একটা লড়াই চলে আসছে। মাঠের বাইরের ওই লড়াইয়ের পর স্বাধীনতা কাপেও মুখোমুখি হলো শেখ জামাল ও চট্টগ্রাম আবাহনী। এই লড়াইয়ে অবশ্য জেতেনি কোনো দলই। ম্যাচের ১৭ মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনীর গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা পেনাল্টি উপহার দেন শেখ জামালকে। বক্সের মধ্যে আগুয়ান শেখ জামাল ফরোয়ার্ড এমেকা ডার্লিংটনের পা টেনে ধরেন আশরাফুল! এরপরই রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। গোল করে দলকে এগিয়ে নেন এমেকা (১-০)। পিছিয়ে পড়া চট্টগ্রাম আবাহনীকে সমতায় ফিরিয়েছেন অ্যালিসন উদোকা। ৭৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তারিক আল জানাবির ফ্রি কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সেই বলে মাথা ছুঁয়ে গোল করেন অ্যালিসন সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতেই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ জোসেফ পাভলিক। ম্যাচ শেষে তাঁর মুখে লেগে ছিল এক টুকরা হাসি। ৫ ম্যাচে ৪ জয় ও ১ ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ চারে উঠল শেখ জামাল। ৫ ম্যাচে ৩ জয় ও ১ ড্র ও ১ হারে ১০ পয়েন্ট পাওয়া চট্টগ্রাম আবাহনী হয়েছে রানার্স আপ।

সাবেকদের নির্বাচনী মেলা

ফুটবলের তৃতীয় বিশ্বেও বাংলাদেশ একটি বিন্দুর মতো। কিন্তু একটা জায়গায় বোধ হয় বিশ্ব রেকর্ডই গড়ে ফেলেছে এ দেশের ফুটবল। এমন কোনো ফেডারেশন সম্ভবত গোটা পৃথিবীতে নেই, যেখানে এত বিপুলসংখ্যক সাবেক খেলোয়াড় অংশ নিয়ে থাকেন ফেডারেশনের নির্বাচনে! গতবার ২১টি পদে ১৮ জন ছিলেন। এবার ২০টি পদে ৪৬ জন প্রার্থীর ২১ জনই সাবেক ফুটবলার। শতকরা হিসাবে প্রায় ৪৬ ভাগ! বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়া জ্যেষ্ঠ সহসভাপতিও একজন সাবেক ফুটবলার—সালাম মুর্শেদী। এত বিপুলসংখ্যক সাবেক ফুটবলারের প্রার্থী হওয়ার বড় কারণ, ইচ্ছে করলে যে কেউ দাঁড়াতে পারেন নির্বাচনে। তবে বিদায়ী কমিটির কর্মকর্তারা ভোটার হতে পারেন না। বাকি সাবেকদের মধ্যে এবার ভোটার মাত্র পাঁচজন। উন্মুক্ত এই নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় অনেক বড় বড় নাম। সম্মিলিত পরিষদ থেকে কাজী সালাউদ্দিন সভাপতি প্রার্থী, তাঁর সঙ্গে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী, সহসভাপতি পদে বাদল রায়। সত্যজিৎ দাস রুপু, ইলিয়াস হোসেন, আরিফ হোসেন মুন, অমিত খান শুভ্র সদস্য প্রার্থী। এই পরিষদে সদস্যপ্রার্থী বরিশালের আলমগীর খান আলো সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পেলেও তিনিও সাবেক ফুটবলার। ‘ফুটবল বাঁচাও’ আন্দোলনের পতাকাতলে সহসভাপতি প্রার্থী আশরাফউদ্দিন চুন্নু ও খুরশিদ বাবুল। সদস্য—নওশেরুজ্জামান, হাসানুজ্জামান বাবলু, আবদুল গাফফার, শেখ মোহাম্মদ আসলাম, কায়সার হামিদ, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গোলাম রব্বানী হেলাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সভাপতি পদে, সহসভাপতি তাবিথ আউয়াল ও সদস্যপদে বিজন বড়ুয়া, আমের খান, ইকবাল হোসেন, সাইফুর রহমান মনি। অথচ বিশ্ব ফুটবলের দিকে তাকালে বড় তারকাদের ফেডারেশনে সংশ্লিষ্টতা তেমন পাওয়া যাবে না। উয়েফা সভাপতি হিসেবে মিশেল প্লাতিনি ছিলেন, এখন তো তিনিও আর নেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সাবেক ফুটবলার অনেক আছেন। কিন্তু দেশটির ফেডারেশনে বড় কোনো ফুটবলার নেই। নেপালে গণেশ থাপা ছিলেন, তিনিও এখন বাদ। শ্রীলঙ্কায়ও সাবেক খেলোয়াড়েরা সেভাবে নেই। বাংলাদেশই একমাত্র ব্যতিক্রম, ফেডারেশনের নির্বাচনে যেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন সাবেক খেলোয়াড়েরা। তাঁরাই আসলে সব। শুধু নির্বাচনই করছেন না, সাবেক খেলোয়াড়েরা জিতেও আসছেন। গতবার ১৮ জনের ১০ জনই জয়ী। গত দুটি নির্বাচনে কাজী সালাউদ্দিন সভাপতি হয়েছেন, দুবারই ২১ সদস্যের কমিটির অর্ধেকই ছিলেন সাবেক ফুটবলার। পোড়-খাওয়া সংগঠকদের ঠাঁই পেছনের পাতায়। সালাউদ্দিন বলছেন, ‘বাফুফের গ্ল্যামার বেড়েছে অনেক। তাই এখানে নির্বাচিত হতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন সবাই।’ সালাম মুর্শেদীর মুখেও প্রায় একই কথা, ‘২০০৮ সালে কাজী সালাউদ্দিন নির্বাচিত হওয়ার পর ফেডারেশনে সাংগঠনিকভাবে অনেক পরিবর্তন এসেছে। সাবেকেরা তাই এখন উৎসাহিত হচ্ছে আগের চেয়েও বেশি।’ কিন্তু ভালো ফুটবলার মানে ভালো সংগঠক নন, এটা তো জানাই। তাহলে? সালাম বলছেন, ‘অবশ্যই। মাঠে ভালো খেলা মানেই দক্ষ সংগঠন হবেন না। যাঁদের সাংগঠনিক দক্ষতা আছে তাঁরাই টিকে থাকেন।’ বিষয়টি আশরাফউদ্দিন চুন্নুর চোখে ইতিবাচক, ‘ফুটবলাররা টেকনিক্যাল দিকটা ভালো বোঝে। তাদের ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে ফুটবলে উন্নয়ন হবে।’ কিন্তু বাফুফেতে দেখা যায় সাবেক খেলোয়াড়েরা নির্বাচিত হলেও কাজ করেন গুরুত্বপূর্ণ পদের দু-তিনজন। বাকিদের আসলে ভূমিকা রাখার সুযোগও নেই। তবে বাদল রায় বিষয়টাকে দেখছেন ভিন্নভাবে, ‘সবাই ভালো খেলোয়াড় ঠিক আছে, খেলা ছেড়েই দেখা গেল সবাই বাফুফেতে আসতে চায়। কিন্তু বিভিন্ন ক্লাব-সংস্থায় দায়িত্ব পালন করে ধাপে ধাপে উঠে আসা উচিত। এমনও জানি, দীর্ঘদিন খেলার সঙ্গে নেই তারাও এখন নির্বাচনে আসছেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসার প্রবণতা দেখছি না, এটাই খারাপ লাগছে।’ একই মতের অনুসারী অভিজ্ঞ সংগঠক হারুনুর রশিদও। সাবেক খেলোয়াড়েরা একজন আরেকজনকে দেখে আসছেন বলে তাঁর মনে হচ্ছে। কিন্তু অনেক সাবেকই কোনো পর্যায়ে সংগঠক হিসেবে অবদান রেখে আসেন না। যেটিতে অশনিসংকেত দেখছেন হারুন, ‘হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া এই নির্বাচনে বেশির ভাগ সাবেক ফুটবলার প্রার্থী কোথাও সাংগঠনিক কাজ করেননি। শুধু চেয়ার পাওয়ার জন্যই অনেকে আসে। এটা ফুটবলের জন্য খারাপ এবং এ কারণেই সংগঠক হারিয়ে যাচ্ছে।’

কে বলে ফুটবল ‘মরে’ গেছে এ দেশে!

বাফুফে নির্বাচন ঘিরে এখন দারুণ সরগরম বাফুফে
অফিস। নামা সমীকরণের সামনে সালাউদ্দিন
বাফুফে অফিসে যেন এখন বিয়েবাড়ির ধুম। শোরগোল, উত্তেজনা, গুঞ্জন, গুঞ্জরণও! বাফুফের নির্বাচন ঘিরে ঘটতে থাকা নানা ঘটনা দেখার অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন মাসুদ আলম সিলেট থেকে বিমানে ওঠার আগে তাঁর সঙ্গে বিশাল ব্যাগপত্তর দেখে নাকি অনেকে অবাক। জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভাই, কই যান! এত বড় লাগেজ সঙ্গে!’ মহিউদ্দিন সেলিমের সহাস্য উত্তর, ‘ঢাকায় যাচ্ছি। ১১ দিন থাকব তো। অনেক কাপড়চোপড় লাগবে। ব্যাগটা বড়ই হয়ে গেছে।’ সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রণী মুখ সেলিম স্থানীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, জেলা ফুটবল সংস্থার সভাপতিও। ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচনে ১৩৪ ভোটারের একজন এবং কাজী সালাউদ্দিনের পরিষদের সদস্য প্রার্থী। গতকাল বাফুফে ভবনে বসে নির্বাচন নিয়ে নানা কথার ফাঁকে মজা করে বলছিলেন, ‘সিলেট থেকে সাধারণত ঢাকায় সকালে এসে বিকেলে ফিরে যাই। এত দিন এভাবেই অভ্যস্ত ছিলাম। কিন্তু এবার সিলেটে বসে থাকলে চলছে না। তাই লম্বা সময়ের জন্য ঢাকায় একটানা থাকতে চলে এলাম।’ এভাবে ‘ঢাকায় চলে এলাম’ গল্প এখন অনেক জেলা সংগঠকের মুখেই। ঢাকায় ঘাঁটি গাড়ছেন নির্বাচনের উত্তাপে গা ভাসাতে। বাফুফের বারান্দায় দেখা হয়ে যাচ্ছে অন্য অনেকের সঙ্গে। সেই ভিড়ে অচেনা এক দৃশ্য। সভাপতি পদে কাজী সালাউদ্দিনের তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর অন্যতম কামরুল আশরাফ খান বাফুফে ভবনেই প্রথম এসেছেন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন! এর আগে ফুটবল অঙ্গনে তাঁকে দেখা যায়নি। নামটাও শোনা গেছে এই প্রথম। তাঁর মনোনয়নপত্র কেনার খবরে ফুটবল অঙ্গনে সবার মুখে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, ‘কামরুল আশরাফ কে? ওনাকে চেনেন?’
নরসিংদী-২ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতে আসা এই সাংসদ প্রথম দেখায় খুব একটা মনোযোগ কাড়তে পারেনি। বাফুফে ভবনে তাঁর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বোঝা গেল, ফুটবল নিয়ে কথা বলায় অভ্যস্ত নন। যেহেতু তিনি সার ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ সার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, তাই সারের প্রসঙ্গ টেনে বলছিলেন, সারা দেশে তাঁর সার ব্যবসার বড় একটা ভিত্তি আছে। ফুটবল উন্নয়নে সেটি কাজে লাগাতে পারবেন। সার দিয়ে অনুর্বর ফুটবলের যদি এবার গতি হয়! অনেকের মুখেই রসিকতার সুর।  তাঁকে সামনে নিয়ে আসা ফুটবল বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোক্তারা অবশ্য বলেন, ‘ওনাকে দিয়ে দেখেন না এক-দুই বছর। না পারলে তখন বলা যাবে। সারের উপকারিতা পাবেন তো সার ছিটালে তবেই।’  শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের সভাপতি মনজুর কাদের ভেবেছেন, ‘সালাউদ্দিন হটাও’ স্লোগান নিয়ে তিনিই মূলত নিয়ে এসেছেন কামরুল আশরাফকে। অথচ সালাউদ্দিন-কাদের অনেক দিনের বন্ধু, কয়ে কমাস ধরে সম্পর্কটা অবশ্য দা-কুমড়া। সেটারই ফল এই নির্বাচনী লড়াই। তবে এ লড়াইয়ে বন্ধু যেন শত্রু হয়েছে, নির্বাচন ঘিরে শক্র বন্ধুও হচ্ছে। সালাউদ্দিনের সঙ্গে এত দিন পুরোনো সংগঠক হারুনুর রশিদ, বাদল রায়দের সম্পর্ক ভালো ছিল না। কিন্তু নির্বাচনে তাঁরা এক হয়ে গেলেন। নির্বাচনে আসলেই শেষ কথা বলে কিছু নেই। নির্বাচনের মূল রঙ্গমঞ্চটা অবশ্য মতিঝিল বাফুফে ভবন। সাবেক খেলোয়াড়, সংগঠক ও সংবাদমাধ্যমের ত্রিমুখী প্রয়াসে ওই চত্বরটা এখন গমগম করছে। প্রধান ফটকে স্বতন্ত্র এক সহসভাপতি প্রার্থীর ছবিসহ বিশাল বিলবোর্ড। একটু ভেতরে ঢুকলেই ভবনের প্রতিটি কক্ষে একটাই আলোচনা—নির্বাচন। সালাউদ্দিনের কক্ষ ভিড়ে ঠাসা থাকে সারাক্ষণ। সাংবাদিকদের জটলা, টুকরা টুকরা ভাগ হয়ে নানা আলোচনা। যে আলোচনায় নির্বাচিত হলে কে কী করবেন, সেটা নেই। বরং আলোচনার বিষয় কে কত টাকা খরচ করবেন, টাকা না ছিটালে জিততে পারবেন না...ইত্যাদিই জায়গা পাচ্ছে বেশি। টাকার ছড়াছড়ি হয়েছে গতবার, এবারও টাকা দিয়ে ভোট কেনাবেচার কথা শোনা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে ভোটারদের নাকি পোয়াবারো। দুই পক্ষের লড়াইয়ে নির্বাচনটা উত্তাপ ছড়াচ্ছে; যা ছড়িয়ে গেছে সারা দেশের ফুটবলে। এসব দেখে মনে হয়, ইশ্, সারা বছর ফুটবল নিয়ে যদি বাফুফে ভবন এভাবে সরগরম থাকত! আফসোস হয়, বাফুফে ভবন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গিয়ে এই ‘নির্বাচনী খেলোয়াড়দের’ ৯৯ ভাগই খেলা দেখেন না, অথচ নির্বাচন নিয়ে কী আগ্রহ সবার! আশ্চর্য এক ব্যাপার। নির্বাচনী প্রোপাগান্ডায় কে বলবে কদিন আগে বাংলাদেশ জাতীয় দল ৮ গোল খেয়েছে জর্ডানের কাছে! এবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৮ ম্যাচে বাংলাদেশ রেকর্ড ৩২টি গোল হজম করেছে! নির্বাচনী উৎসাহ দেখে মনে হতে পারে, ফুটবলে উন্নতির নহর বইল বুঝি। সবার মুখেই প্রতিশ্রুতির বন্যা। সবাই অভিন্ন সুরে বলছেন, ফুটবল উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। মনে হচ্ছে, আগামীকালই ইউরোপের কোনো ফুটবল শক্তিতে রূপান্তরিত হবে বাংলাদেশ! হলে তো ভালোই!

অতীত নিয়ে পোড়ার মানুষ নন কাপালি

কাপালির ভাবনা শুধুই ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে
১১১, ১৫৪, ৭৩—সর্বশেষ তিন ম্যাচে অলক কাপালির রান। সব কটিই অবশ্য ছিল মার্চে শেষ হওয়া বিসিএলে চার দিনের ম্যাচে। কাপালির সামনে এবার একদিনের ম্যাচে ছন্দটা ধরে রাখার পরীক্ষা। সে পরীক্ষায় কতটা উতরে যান, সময়ই বলে দেবে। আজ শুরুটা প্রত্যাশিত না হলেও মাত্রই তো শুরু। গত ঢাকা লিগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে খুব একটা ভালো যায়নি কাপালির। ১৬ ম্যাচে ২২.৬৪ গড়ে করেছিলেন ৩১৭ রান। এবার ‘প্লেয়ার ড্রাফট পদ্ধতি’তে গাজী ক্রিকেটার্সে নাম তোলা কাপালি চান ঢাকা লিগ রাঙাতে, ‘গত বছর ভালো খেলতে পারিনি। ওপরের দিকে খেলতে পারিনি। সময়টা ভালো যায়নি আমার। তবে বিপিএল ও বিসিএল ভালোভাবে শেষ করেছি। এখন লিগে ভালো করার চেষ্টা করব।’ বিপিএল, বিসিএল, ঢাকা লিগ—কাপালির ক্যারিয়ার এখন ঘরোয়া ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ। বাংলাদেশ দলে খেলার স্বপ্নটা তবে হারিয়ে গেল সুদূরে? উত্তরটা তাঁর কাছেও পরিষ্কার নয়, ‘এখন বাংলাদেশ দল খুব ভালো খেলছে। ভালো লাগে ভেবে, এই দলে আমিও খেলেছি। এখনো মানুষ আমাকে চেনে বাংলাদেশ দলে খেলার জন্যই। মাঝে মাঝে খারাপ লাগে। ভাবি, খেলতে পারলে আমার জন্যই ভালো হতো। আসলে এ নিয়ে আক্ষেপ করি না। ভালো খেলতে পারলে হয়তো সুযোগ আসতেও পারে।’ বাংলাদেশ দলে এখন যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তাতে স্বপ্ন দেখার ‘সাহস’ পান না ৩২ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। বাস্তবতা মেনে নিয়েই কাল বললেন, ‘জাতীয় দলে খেলা নিয়ে আসলে চিন্তা করি না। সামনে যে ম্যাচ থাকে, শুধু সেটা নিয়েই ভাবি।’ অথচ আরও অনেকের মতো বাংলাদেশ ক্রিকেটে তিনিও এসেছিলেন বিরাট সম্ভাবনা জাগিয়ে। কাপালি মানেই চোখে ভেসে উঠবে ২০০৩ সালে পেশোয়ার টেস্টে হ্যাটট্রিক, ২০০৮ সালে এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি। অসাধারণ এসব কীর্তি হৃদয়ে দোলা দেয় তাঁকেও। তবে কি ক্যারিয়ারের বাকি দিনগুলোতেও সুখের স্মৃতি রোমন্থন করেই কাটবে কাপালির? বাংলাদেশ দলে সুযোগ পাওয়া হয়ে গেল শুধুই মরীচিকা? উত্তরগুলো কাপালিকেই খুঁজে নিতে হবে।

বিগ ব্যাশে খেলতে পারবেন গেইল

বিগ ব্যাশে গেইল।
তখন মনে হয়েছিল ক্রিস গেইল সম্ভবত বিগ ব্যাশে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসটাই খেলে ফেলেছেন। বিগ ব্যাশের সর্বশেষ মৌসুমে মেলবোর্ন রেনেগের্ডসের হয়ে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ১২ বলে হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসটা খেলে গেইলও বলে দিয়েছিলেন, ‘সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ায় আমি আমার শেষ ইনিংসটা খেলে ফেলেছি।’ কিন্তু এখন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ডের কথা শুনে মনে হচ্ছে, গেইলকে আবার বিগ ব্যাশে ডাকতে আপত্তি নেই তাঁদের। আপত্তির কথাটা কেন এসেছিল সেটা খুলে বলা যাক। বিগ ব্যাশের ওই মৌসুমেই হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যামেরার সামনে নারী সাংবাদিক ম্যাকলফলিনকে একসঙ্গে পান করার আমন্ত্রণ জানিয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছিলেন গেইল। ম্যাকলফলিনকে বলেছিলেন, ‘লজ্জা পেয়ো না, বেবি।’ ওই সময়েই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং সাবেক অনেক খেলোয়াড় গেইলের সেই মন্তব্যের সমালোচনা করেন। অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, ক্রিস রজার্সের মতো অনেকে নিন্দা জানান একজন নারীর সঙ্গে গেইলের এমন আচরণের। গেইলকে টুর্নামেন্টে আর না আনার দাবিও তোলেন কেউ কেউ। যদিও মেলবোর্ন রেনেগের্ডস আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে বহিষ্কার করেনি, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তবে ওই ঘটনাপ্রবাহের পর মনে হচ্ছিল, এটাই হতে পারে বিগ ব্যাশে গেইলের শেষ মৌসুম। টুর্নামেন্ট শেষ করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেইলের সুরটাও সে রকমই মনে হচ্ছিল। লিখেছিলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় ভক্তদের সঙ্গে আমার স্মৃতি সারা জীবন টিকে থাকবে!’ তবে এখন জেমস সাদারল্যান্ড বলছেন, ম্যাচ পাতানো কিংবা এ রকম অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকা খেলোয়াড় বাদে আর কারও ব্যাপারেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা নেই। গেইলের আবার বিগ ব্যাশে খেলা নিয়েও তাই সিএর কোনো আপত্তি করবে না বলেই জানালেন সাদারল্যান্ড, ‘গেইলের ওই ঘটনা নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার যে যা–ই ভেবে থাকুক, এই সিদ্ধান্তে আসা অন্তত ঠিক হবে না যে ও আমাদের এখানে আর খেলতে পারবে না। দুর্নীতির কোনো অভিযোগ না থাকলে আমরা কোনো খেলোয়াড়কে নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।’ সাদারল্যান্ডের সঙ্গে সুর মিলিয়ে মেলবোর্ন রেনেগের্ডসের চেয়ারম্যান জেসন ডানস্টলও বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, বিগ ব্যাশে সবারই জায়গা আছে। আর সে (গেইল) এই খেলাটায় যে রোমাঞ্চ নিয়ে আসে, সেটা তো অতুলনীয়।’ তাহলে কি গেইল সত্যিই আবার ফিরবেন বিগ ব্যাশে? ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ওয়েবসাইট।

সৌম্যর নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াই

সৌম্য ফিরে পেতে চান নিজেকে
গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ, এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ। শুরুটা একেবারে স্বপ্নের মতোই ছিল সৌম্য সরকারের। কী দুর্দান্ত সব ইনিংস খেলেছেন সাতক্ষীরার এই তরুণ! বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফটির পর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি। ভারতের বিপক্ষেও ধরে রাখলেন সেই ধারাবাহিকতা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেকে নিয়ে গেলেন অন্য উচ্চতায়—অপরাজিত ৮৮ ও ৯০ রানের দুটো ইনিংস খেলে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ে রাখলেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। কিন্তু বছর ঘুরতেই অভিষেক-লগ্নের সৌম্যর সঙ্গে আজকের সৌম্যের যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য! শুরুর সেই স্বপ্নের পথটা পেরোতে না পেরোতেই যেন সৌম্য বাস্তবতার কাটখোট্টা জমিতে দাঁড়িয়ে। দুর্দান্ত ফর্ম দিয়েই যাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল, সেই সৌম্যই আজ খুঁজে ফিরছেন নিজেকে। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগকে কি সৌম্য পারবেন তাঁর ফিরে আসার মঞ্চ বানাতে? এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের হাতে তোলা থাকলেও সৌম্যর নিজের লক্ষ্যটা তেমনই। বিপিএল, এশিয়া কাপ কিংবা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—নিজেকে চেনাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে তাঁকে। ব্যাপারটা ভেতরে-ভেতরে কষ্ট দিলেও এসব নিয়ে খুব বেশি আকাশ-পাতাল ভাবতে চান না তিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ভালো করেই এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফসোসটা ঘোচাতে চান তিনি। প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই নতুন করে প্রস্তুত হতে চান ভবিষ্যতের জন্য। আগামীকাল রোববার বিকেএসপিতে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে সৌম্য সরকারের লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। প্রথম ম্যাচ হিসেবে এটি অন্য রকম মনোযোগই পাচ্ছে সৌম্যর কাছে। ম্যাচটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে তাঁর নিজের জন্যও। ফর্মে ফেরার জন্য গত কয়েক দিনে তাঁর প্রস্তুতির একটা পরীক্ষা হয়ে যাবে এই ম্যাচে। সৌম্য কিন্তু বেশ আশাবাদী, ‘আমি নিজেকে ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ব্যাটিং নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। প্র্যাকটিস মানেই তো নিজেকে শুধরানো। সেটা করে যাচ্ছি। ব্যক্তিগত লক্ষ্য থাকছে অবশ্যই আগের চেয়ে ভালো করা।’ ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে জেতার জন্যই মাঠে নামতে চান সৌম্য। টুর্নামেন্টে এটি তাঁদের প্রথম ম্যাচ বলেই সৌম্যর কাছে জয়টা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ‘প্রথম ম্যাচটা জয় দিয়ে শুরু করতে চাই। তাহলে পরের ম্যাচগুলোও আশা করি আরও ভালো হবে।’

মুস্তাফিজ ‘মিডিয়াম ফাস্ট স্লো অফ স্পিনার লেগ কাটার বোলার’!

উইকেট সংখ্যায় বোঝা যাবে না মুস্তাফিজের জাদু!
রাজকোটে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচটা তখন অর্ধেক হয়েছে। মানে গুজরাটের ইনিংস শেষ হয়েছে মাত্র। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অফিশিয়াল টুইটার থেকে একটা টুইট করা হলো—‘মুস্তাফিজুর রহমানকে কীভাবে বর্ণনা করবেন? মিডিয়াম ফাস্ট স্লো অফ স্পিনার লেগ কাটার বোলার!’ হয়তো মজা করেই বলা কথাটা। একজন বোলারের আবার এত বৈচিত্র্য থাকে নাকি! থাকে, যদি সেই বোলারের নাম হয় মুস্তাফিজুর রহমান। সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু গতকালের ওই ম্যাচটাই দেখুন না। কখনো ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে অফ কাটার দিচ্ছেন, কখনো সুরেশ রায়নাকে দারুণ ইয়র্কার। রবীন্দ্র জাদেজাকে গুড লেংথে পরীক্ষা নিচ্ছেন, আবার আকাশদীপ নাথকে দুর্বোধ্য স্লোয়ারে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের টুইটটা তাই যতটা মজা করে লেখা, ততটা সত্যিও। মুস্তাফিজ আসলেই এতটা বৈচিত্র্যময় যে, এক বা দুই শব্দ দিয়ে তাঁর বোলিংয়ের ধরন বোঝানো যায় না। গুজরাটের বিপক্ষে কাল ৪ ওভার বল করেছেন। একটাই মাত্র চার খেয়েছেন জাদেজার কাছে, সেটাও মিস ফিল্ডিংয়ের কারণে। ১৯ রানে ১ উইকেট। ২৪ বলের মধ্যে ১০টাই ডট! আইপিএলে হায়দরাবাদের হয়ে এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ১৬ ওভার বোলিং করেছেন। বেশির ভাগ ওভারই শুরুর পাওয়ার প্লে কিংবা ডেথ ওভারে। এর মধ্যেও ৬.৬২ ইকোনোমি রেট ৫ উইকেট তাঁর। মিতব্যয়িতার বিচারে তিনি দলের সেরা বোলার তো অবশ্যই, এবার আইপিএলে কমপক্ষে ১৫ ওভার বল করেছেন, এমন বোলারদের মধ্যেও তাঁর চেয়ে ভালো ইকোনমি রেট নেই অন্য কারও। তবে সবকিছু বাদ দিয়ে তাঁর বোলিং বৈচিত্র্যেই বেশি মুগ্ধতা হায়দরাবাদের উপদেষ্টা ভিভিএস লক্ষণের। নিলামে মুস্তাফিজকে কেনার পর থেকেই তাঁকে প্রশংসায় ভাসিয়ে আসছেন সাবেক এই ভারতীয় ব্যাটসম্যান, ভাসালেন গতকাল ম্যাচের পর আরও একবার, ‘ও এত স্মার্ট বোলার! শুরুর দিকে ওর বলে তিন-চার রকমের বৈচিত্র্য, শেষের দিকে আবার তিন-চার রকমের। আর সবকিছুতে কী দারুণ নিয়ন্ত্রণ! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যার এক বছরও হয়নি, তার পরও মনে হয় কত-না অভিজ্ঞ এক বোলার!’ নিজে দারুণ ব্যাটিং করে গুজরাটকে ১০ উইকেটে হারিয়েছেন, কিন্তু ম্যাচের পর হায়দরাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারও পঞ্চমুখ মুস্তাফিজের প্রশংসায়, ‘অবিশ্বাস্য! আমি বেঙ্গালুরুতে তাঁর কিছু বল খেলেছি, ও আমার স্টাম্প উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। ও যেভাবে বলের গতিও পরিবর্তন করে সেটা একটা শিল্প। নিশ্চিতভাবেই ভবিষ্যতে সে গ্রেট বোলারদের একজন হবে।’ এখানেই শেষ নয়, ৪ উইকেট নিয়ে গতকাল ম্যাচ সেরা হয়েছেন যে ভুবনেশ্বর কুমার, তাঁর কণ্ঠেও মুস্তাফিজের প্রশস্তি, ‘ওর সঙ্গে বল করতে পারা দারুণ ব্যাপার। তার কাছ থেকে আমি স্লোয়ার শেখার চেষ্টা করছি, কিন্তু সে যেভাবে এটা করে, আর কেউ সেটা পারে না।’
এমন না হলে কি আর মুস্তাফিজ বাকিদের চেয়ে আলাদা হন!

অশান্তি ভুলতে যোগব্যায়ামে নারীরা

লিবিয়ার ‘লৌহমানব’ মুয়াম্মার গাদ্দাফির উৎখাত ও হত্যার পর পার হয়েছে বেশ কয়েক বছর। সেই থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে চলছে চরম বিশৃঙ্খলা আর সহিংসতা। ‘অশান্তি আর নিরানন্দ জীবন’ ভুলে থাকতে দেশটির নারীরা বেছে নিচ্ছেন যোগব্যায়ামের পথ। প্রতি বৃহস্পতিবার সমুদ্র তীরবর্তী বিচে আয়োজিত যোগব্যায়ামের ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন ২৫ নারী। তাদেরই একজন মাওয়াদা। বিকালের ক্লাসে যাওয়ার আগে তিনি জানান, ‘যে চাপের মধ্যে আমরা বাস করছি তা থেকে এটি আমাদের মুক্তি দিচ্ছে। আমি বাস্তবতা থেকে পালিয়ে থাকতে পারছি। এখানে আমার নিজেকে মুক্ত মনে হয়।’ পারিবারিক সূত্রে পাওয়া জিম পরিচালনা করেন আবির বেন ইয়ুশাহ। তার মাথাতেই হঠাৎ যোগব্যায়ামের ধারণাটি আসে। তিনি ভাবেন যুদ্ধ-পরবর্তী অস্থির এ সময়ে নারীদের শখ পূরণের পাশাপাশি একটা পরিবর্তন দরকার। এ ভাবনা নিয়ে তিনি অন্য নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যোগ্যব্যায়াম শুরু করার।
খবর এএফপির তিনি বলেন, জুম্বা, অ্যারাবিক, ভারতীয় নাচ ও ফিটনেস প্রোগ্রামের পর আমরা বিচে যোগব্যায়াম শুরুর সিদ্ধান্ত নেই। অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো লিবিয়াতেও নারীর পোশাক নিয়ে কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে। তবে যেসব লিবীয় নারী ইতালীয় ফ্যাশন ও সঙ্গীতের সমোঝদার তাদের কাছে যোগব্যায়াম নতুন কিছু না হলেও রক্ষণশীলদের কাছে তা অবশ্যই অভিনব কিছু। এ প্রসঙ্গে আবির বলছেন, আমি বাবা কিংবা স্বামীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। কিন্তু একইসঙ্গে ভাবছিলাম লোকজন নতুন কিছু চায় এবং বাদবাকি বিশ্বের মতো এদেশের লোকজনও পরিবর্তনের পক্ষে। রক্ষণশীল আরব বিশ্বের মতো লিবীয় নারীরাও ধর্ম ও সামাজিক নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু তাই বলে সর্বশেষ পরিবর্তনশীলতা থেকেও তার দূর থাকতে চাচ্ছে না। মাওয়াদা আরও বলেন, দিনের আলোয় বিচে যোগব্যায়াম অনুশীলন এটাই প্রমাণ করে জীবনযাপনে আমরা পরিবর্তন প্রত্যাশী।

জেদ থেকেই এমন ‘আগুনে’ জুবায়ের

যুবায়ের আজ, ষষ্ঠ উইকেট নেওয়ার পর
বৈশাখের প্রচণ্ড গরম পড়ছে। এই ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস দুপুরের রোদের তেজে ক্রিকেট খেলতে রীতিমতো হাঁসফাঁস করার কথা। কিন্তু ফতুল্লায় আজ হয়তো সূর্যের তেজকেও ছাপিয়ে গেছে অন্য এক তেজ—জুবায়ের হোসেন! আবাহনীর এই লেগ স্পিনার যে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন কলাবাগানকে। তাঁর ৩৪ রানে ৬ উইকেটে ভর করেই কলাবাগানকে ১৪০ রানে রুখে দিয়ে আবাহনী ম্যাচ জিতে গেছে ৭ উইকেটে। লেগ স্পিনের সঙ্গে তেজ শব্দটা হয়তো ওভাবে ঠিক যায় না। লেগ স্পিন তো আসলে স্পিনারের মুঠো থেকে বেরোনো মায়াবী বিভ্রম! তবু জুবায়েরের স্পিনকে আজ ‘তেজ’ বলতেই হচ্ছে। শুধু উইকেট নিয়েছেন বলে নয়, বৈশাখের খরতাপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টানা ১০ ওভার বল করেছেন বলেও নয়। আজ কলাবাগানকে যতটা না লেগ স্পিনে পুড়িয়েছেন জুবায়ের, তার চেয়েও যে বেশি পুড়িয়েছেন মনের আগুনে। ম্যাচ শেষে নিজেই বলে দিলেন, জেদ থেকেই ফতুল্লার পিচে এমন আগুন ঢেলে দিয়েছেন। অমন বিস্ফোরক লেগ স্পিনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ২০ বছর বয়সী স্পিনার বললেন ‘কিছু করে দেখানোর’ জেদটা তাঁর ছিল, ‘সব সময়ই চেষ্টা থাকে ভালো বোলিং করার। যখন থেকে খেলা শুরু করেছি তখন থেকেই নিজেকে প্রমাণ করেই আসছি। জানতামও নিজেকে সব জায়গায় প্রমাণ করা লাগবে। সত্যি কথা বলতে আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে সুযোগ খুব কম পেয়েছি। আজকে সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পেরেছি। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে এভাবেই কাজে লাগাব।’ দল জিতেছে, নিজের ৯.১ ওভারে ৩৪ রানে পেয়েছেন ৬ উইকেট—এমন পারফরম্যান্সের পরও ‘প্রমাণ’, ‘দেখিয়ে দেওয়া’ ব্যাপারগুলো কেন আসছে? কারণ ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ‘প্রতিভাবান’ স্বীকৃতির সঙ্গে একটা জিনিস বেশ ভালোভাবেই পেয়েছেন জুবায়ের—অবহেলা! জাতীয় দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহ তাঁকে বেশ পছন্দ করেন, সাকিব আল হাসানও আস্থা রাখতে বলেছিলেন জুবায়েরের ওপর, কিন্তু তবু জুবায়ের অবহেলিত। তাঁকে নিয়ে দেশের ক্রিকেটই আসলে দুই ভাগে বিভক্ত। এ কারণেই যে সুযোগ কম মেলে জুবায়ের নিজেও সেটি জানেন, ‘এটা আমি জানি আর আমার দলের যারা আছে সবাই জানে। শুধু হাথুরুসিংহ না, জাতীয় দলের যত সিনিয়র খেলোয়াড় আছেন, সবার কা​ছ থেকে আমি অনেক ভালো সাপোর্ট পাই। সবাই আমাকে ইতিবাচক কথা বলেন। আমার চেষ্টা থাকে নিজেকে প্রমাণ করার। অনেক সময় সফল হই, অনেক সময় ব্যর্থ। তবে সত্য কথা বলতে গেলে সুযোগটা আমার জন্য খুব কমই আসে।’ জাতীয় দলে শুধু টেস্ট হলেই তাঁর ডাক পড়ে। তার চেয়েও আশ্চর্যের ব্যাপার, ‘ছেলেটা লেগ স্পিন ভালোই করে, কিন্তু খরুচে’—এই অপবাদে ঘরোয়া ক্রিকেটেই তাঁর সুযোগ বলতে গেলে মেলেই না। গত বিপিএলে দল পাননি।  গতবার প্রিমিয়ার লিগেও আবাহনীর হয়ে খেলতে পেরেছিলেন মাত্র একটি ম্যাচ। এবার আরও একবার আবাহনীতে। কিন্তু নতুন কোচের অধীনে সুযোগ পেয়েই প্রথম ম্যাচেই দেখিয়ে দিলেন, একটু খরুচে হলেও তাঁর লেগ স্পিন কতটা বিষময় হতে পারে, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে ৫ উইকেট পেয়েছিলাম, শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসটা ছিল। আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যদি ম্যাচ খেলি তাহলে ভালো কিছু করব।’ টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সবদিক মিলিয়েই বেশ সফল জুবায়ের। এখন এই ফর্ম পুরো টুর্নামেন্টে টেনে নেওয়ার অপেক্ষা। সেটি যতটা না আবাহনীর, তার চেয়েও বেশি হয়তো বাংলাদেশের। একজন বিশ্বমানের ডানহাতি লেগ স্পিনারের যে বড়ই অভাব দলে!

জুবায়েরের ছয় উইকেট প্রথমদিনই দুটি সেঞ্চুরি

বড় দলের সঙ্গে বড় মাপের ক্রিকেট খেলতে না পারলে একপেশে ম্যাচ হবে, এমন আশংকা আগেরদিন করেছিলেন মাশরাফি মুর্তজা। তার আশংকাই সত্যি হল। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগের প্রথম দিন জুবায়ের হোসেনের ঘূর্ণিতে আবাহনীর কাছে সাত উইকেটে হেরেছে মাশরাফির কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। ফতুল্লায় দাপুটে জয় দিয়ে শুরু করেছে তামিম ইকবালের আবাহনী। প্রথমদিন সেঞ্চুরি করেছেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের মেহেদী হাসান (১০৩) ও প্রাইম দোলেশ্বরের ইমতিয়াজ হোসেন (১০০)। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে মেহেদীর শতকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে গাজী গ্রুপ ১০৬ রানের বড় জয় পেয়েছে। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ক্রিকেট কোচিং স্কুলের বিপক্ষে ১৭৮ রান তাড়া করতে নেমে ইমতিয়াজের শতকে আট উইকেটে জিতেছে প্রাইম দোলেশ্বর।
আবাহনী ও কলাবাগান
শুক্রবার ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি বা তার আশপাশে। আগামীকাল ম্যাচের দিন তাপমাত্রা থাকতে পারে এক ডিগ্রি কম বা বেশি। এ কন্ডিশনে ক্রিকেট খেলাই চ্যালেঞ্জিং। দেশের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ওয়ানডে লীগ হওয়ায় ঢাকা লীগে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এবার মাঠে নামার আগে আবাহনীর লেগ-স্পিনার জুবায়ের হোসেনের ওপর চাপটা ছিল বেশি। গত আসরে দলে থেকেও একাদশে সুযোগ পাননি তিনি। এবার তাকে কয়েকটা ম্যাচে একাদশে রেখে পরে বসিয়ে রাখা হবে, এমন শংকা ছিল। সেই জুবায়ের প্রথম ম্যাচে আবাহনীকে বড় জয় এনে দিলেন। ৯.১ ওভারে মাত্র ৩৪ রান দিয়ে জুবায়ের নিয়েছেন ছয় উইকেট। শুরুতেই জুবায়ের জানান দিলেন তার ওপর আস্থা রাখা যায়। অবশ্য কাল বোলিংয়ে প্রথম শুরুটা করেছিলেন তাসকিন আহমেদ কলাবাগানের সাদমান ইসলামকে শূন্যরানে ফিরিয়ে। আইসিসির বোলিং অ্যাকশনে নিষিদ্ধ তাসকিনের ওই একটাই উইকেট। জিম্বাবুয়ের হ্যামিলটন মাসাকাদজার সর্বোচ্চ ৪১ রানের পরও ৩১.১ ওভারে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয় কলাবাগান। জবাবে ফর্মে থাকা তামিম সাত রান করে রানআউট হলেও জয়ে বাধা হতে দেননি ভারতের উদয় কাউল (৪৪*) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৩৫*)। অভিষেক মিত্র ৩২ রান করেন। তিন উইকেট হারিয়ে আবাহনী ২৮.৩ ওভারে জয় তুলে নেয়।
গাজী গ্রুপ ও প্রাইম ব্যাংক
এদিকে মিরপুরে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শনী করেছেন গাজী গ্রুপ ক্রিকাটার্সের ২১ বছর বয়সী মেহেদী হাসান। প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে ঝলমলে ইনিংসে লীগের প্রথম দিন সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। রুবেল হোসেনের ইয়র্কার লেন্থের বল স্কোয়ার লেগ দিয়ে চার মেরে শতক পূর্ণ করেন মেহেদী। তার ৮৯ বলের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও পাঁচটি ছয়। পরের বলে আউট হলেও দল তখন তিনশ’ ছুঁই ছুঁই। মেহেদীর সেঞ্চুরি এবং এনামুল হক (৬৭) ও শামসুর রহমানের (৫৬) হাফ সেঞ্চুরিতে প্রথম ম্যাচে চার উইকেটে ৩০৩ রান করে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। এনামুল হক ১০১ বলে ৬৭ রানের মন্থর ইনিংস না খেললে স্কোরটা আরও বড় হতে পারত গাজী গ্রুপের। ৩০৩ তাড়া করতে নেমে সাঈদ আনোয়ার জুনিয়রের তিনটি এবং মোহাম্মদ শরীফ ও মইনুল ইসলামের দুটি করে উইকেটে ৪৬.৩ ওভারে মাত্র ১৯৭ রানে অলআউট হয় প্রাইম ব্যাংক। সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন ইয়াসির আলী। রুবেল হোসেন ৪৫ ও সাব্বির রহমান ৩১ রান করেন।
প্রাইম দোলেশ্বর ও ক্রিকেট কোচিং স্কুল
বিকেএসপিতে ক্রিকেট কোচিং স্কুল (সিসিএস) প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.২ ওভারে মাত্র ১৭৭ রানে অলআউট হয়। রাজিন সালেহর নেতৃত্বে অনূর্ধ্ব-১৯ খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দলের কেউই ফিফটি করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৩৫ করেছেন পিনাক ঘোষ। প্রাইম দোলেশ্বরের পক্ষে তিনটি করে উইকেট নেন আল-আমিন হোসেন ও রেজাউল করিম। ১৭৮ তাড়া করতে নেমে প্রাইম দোলেশ্বরের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ১০৬ রানে। রনি তালুকদার ৪৭ করে সাইফ হাসানের শিকার হলেও আরেক ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন সেঞ্চুরি (১০০) করে ফিরেছেন। ৪৫.২ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে প্রাইম দোলেশ্বর। আগামীকাল লীগের বাকি ছয় দল প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে মাঠে নামবে।

বিদ্যাময়ী মিম...

নাটক ও বিজ্ঞাপন থেকে যে কজন তারকা চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার গড়ার সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন বিদ্যা সিনহা মিম। তার মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো খুব একটা সাফল্যের মুখ না দেখলেও অভিনয় দিয়ে এরই মধ্যে চিত্রনায়িকা হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি অভিনয় করছেন ‘দাগ’ শিরোনামে নতুন একটি ছবিতে। এতে অভিনয়ের পাশাপাশি ‘ছুঁইও না ছুঁইও পুড়ে যাবে মন’ শিরোনামের একটি আইটেম গানেও কোমর দোলাতে দেখা যাবে মিমকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি আমার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের দারুণ একটি অভিজ্ঞতা।
দর্শকরা এতে নতুন এক মিমকে দেখতে পাবেন।’ অন্যদিকে অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদের পরিচালনায় ‘ভালোবাসা এমনই হয়’ নামের একটি ছবিতেও শুটিং করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সিনেমা ও নাটকের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্রেও সমান ব্যস্ততা যাচ্ছে তার। সম্প্রতি মেহেদী হাসানের পরিচালনায় নির্মিত একটি বিজ্ঞাপনের কাজ শেষ করেছেন। বিজ্ঞাপনটি চলতি মাসের শেষের দিকে প্রচারে আসবে। এদিকে মে মাসের ১১ তারিখ মিমের অভিনয় জীবনে বড় একটি অর্জন আসার অপেক্ষায় রয়েছে। ‘জোনাকির আলো’ ছবিতে দারুণ অভিনয়ের জন্য ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪’ পাচ্ছেন মিম।

আফসোস নেই তামিমের

তামিম ইকবাল
আন্তর্জাতিক ম্যাচ মানেই এখন আর বাংলাদেশের জন্য পরাজয়ের ধারাবাহিকতা নয়। বাংলাদেশ দল এখন প্রতিটা ম্যাচই খেলতে নামে জয়ের লক্ষ্যে। সেই লক্ষ্য পূরণও হচ্ছে নিয়মিত। অথচ এই সময়ে এসেই কিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে লম্বা বিরতি! গত মাসে শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দল আবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে আগস্টে। ভারতের বিপক্ষে টেস্টটা পিছিয়ে যেতে পারে বলে নিশ্চয়তা নেই সেটারও। এই দীর্ঘ বিরতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ছেদ টানতে পারে বলে শঙ্কা অনেকেরই। এমনকি তামিম ইকবালও মনে করেন, ‘এই সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলে আমাদের জন্য খুব ইতিবাচক হতো। খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন যে আত্মবিশ্বাসটা আছে, সেটা কাজে লাগত।’ তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নেই বলে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকছেন না ক্রিকেটাররা। আজ থেকে শুরু প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন সবাই। আবাহনীর অধিনায়ক তামিমের ধ্যান-জ্ঞানও এখন এই লিগই, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নেই ভেবে কষ্ট পেয়ে লাভ নেই। এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রিমিয়ার লিগ। আমি মনে করি এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘরোয়া টুর্নামেন্ট। সবার জন্যই এখানে ভালো খেলার সুযোগ আছে।’ আবাহনীর মতো সমর্থকপুষ্ট দলে খেললে সব সময়ই চাপ থাকে খেলোয়াড়দের ওপর। তামিমেরও সেটা ভালো করেই জানা। তবে এটার একটা ইতিবাচক দিকও দেখছেন জাতীয় দলের এই ওপেনার, ‘আবাহনী, মোহামেডান বা রূপগঞ্জের মতো দলের হয়ে এক শ করা আর অন্য দলের হয়ে এক শ করায় অনেক পার্থক্য আছে। এসব দলে অনেক চাপ নিয়ে খেলতে হয়। চাপ নিয়েও ভালো খেলতে পারলে সেটা প্লাস পয়েন্ট হয়ে যায়। জাতীয় দলে গিয়ে এই অভ্যাসটা কাজে লাগবে।’

‘অবহেলার’র জবাব জুবায়েরের ৬ উইকেটে

জুবায়েরের বিষে নীল হলো কলাবাগান।
সুযোগের জন্য হাপিত্যেশ করছিলেন অনেক দিন থেকেই। গত প্রিমিয়ার লিগে মাত্র এক ম্যাচ খেলিয়েছিল তাঁকে আবাহনী। বিপিএলের সর্বশেষ আসরেও থেকে গেছেন উপেক্ষিত। বাংলাদেশ জাতীয় দলের দরজাও যেন আপাতত বন্ধ তাঁর জন্য। তাঁর বোলিংয়ের ভক্ত কোচ হাথুরুসিংহে। সাকিব আল হাসানও আস্থা রাখতে বলেন এই লেগ স্পিনারের ওপরে। কিন্তু আস্থা নয়, জুবায়ের পেয়েছেন কেবল ‘অবজ্ঞা’। এবারের প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আগেই জুবায়ের হোসেন বলেছিলেন, সুযোগ পেলে নিজেকে প্রমাণ করতে চান। আবাহনীর হয়ে প্রথম ম্যাচেই কথা রাখলেন বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার। ৬ উইকেট নিয়ে বলতে গেলে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন কলাবাগান ক্রীড়াচক্রকে। মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয়েছে মাশরাফির কলাবাগান। জবাবে ৭ উইকেটের বড় জয় দিয়ে শুভসূচনা করেছে আবাহনী। অধিনায়ক তামিম রান আউটের খাঁড়ায় ৭ করে ফিরলেও উদয় কাউলের ৪৪, নাজমুল হোসেনের অপরাজিত ৩৫ ও অভিষেক মিত্রের ৩২ রানে মাত্র ২৮.৩ ওভারেই ​জিতে যায় আবাহনী। ফতুল্লায় আজ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচেই চমক দেখালেন জুবায়ের। ব্যাট করতে নেমে শূন্য রানেই প্রথম উইকেট হারিয়ে বসে কলাবাগান। ৩৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট পড়ার পুর হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও তাসামুল হক মিলে একটু হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ইনিংস সর্বোচ্চ ৪১ রান করে প্রতিরোধ করা মাসাকাদজাকে বোল্ড করেই শিকার শুরু জুবায়েরের। এর পর সাকলাইন সজীব তাসামুলকে ফিরিয়ে দিলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে কলাবাগান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলতে থাকেন জুবায়ের। এত দুর্দান্ত বল করছিলেন, অধিনায়ক তামিম ইকবাল তাঁকে এক স্পেলেই করিয়েছেন পুরো দশ ওভার। অবশ্য ১০ ওভার লাগেনি। ৯ ওভার ১ বলে ৩৪ রান দিয়ে ৬ উইকেট। মেহরাব জুনিয়রকে ক্যাচ বানিয়ে জুবায়ের এর পর নিয়েছেন দ্বিতীয় উইকেট। নিজের পরের ওভারেই বোল্ড করলেন সাইফকে, টানা তিন ওভারে নিলেন তিন উইকেট। ৯২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কলাবাগান তখন কাঁপছে। এর পর আর কেউই হাল ধরতে পারেননি। বাকি ৫ উইকেটের মধ্যে তাসামুল ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন সাকলাইন। অন্য তিনটি উইকেট নিয়েছেন জুবায়ের। তানভীর হায়দার ও আবদুর রাজ্জাককে আউট করার পর নিহাদুজ্জামানকে ফিরিয়ে দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছেন কলাবাগানের লেজ। ৩৩.১ ওভারেই কলাবাগান অলআউট হয়ে যায় ১৪০ রানে।