Tuesday, February 11, 2025
ভারত থেকে রকেট লঞ্চার কিনতে চায় ফ্রান্স
আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা জানান, তিন মাস আগে ফ্রান্সের এক প্রতিনিধি দলের সামনে প্রদর্শিত হয় ঘরোয়াভাবে তৈরি ‘পিনাকা’ রকেট সিস্টেম। যার পাল্লা ৯০ কিলোমিটার (৫৬ মাইল)। ওই সময় পিনাকা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে ফ্রান্সের ওই প্রতিনিধি দল। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার মহাপরিচালক উম্মালানেনি রাজা বাবু বলেন, পিনাকার জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলমান রেখেছে ফ্রান্স। যদিও এখনো পর্যন্ত চুক্তি হয়নি, তবে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিতে সোমবার ফ্রান্সে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসার কথা ওই দুই নেতার। যদিও রকেট উৎক্ষেপকের বিষয়ে সেখানে আলোচনা হবে কি না তা স্পষ্ট নয়। অবশ্য কোনো মন্তব্য করেনি ভারতে অবস্থিত ফ্রান্সের দূতাবাস। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার পর ফ্রান্স ছিলো ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অস্ত্র সরবরাহকারী।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধবিরতির শর্ত মানছে না ইসরাইল, জিম্মি মুক্তি স্থগিতের ঘোষণা হামাসের
এতে বলা হয়, ইসরাইলে কারাবন্দি ফিলিস্তিনিদের বিনিময়ে আগামী শনিবার আরও তিন জিম্মির মুক্তি দেয়ার কথা রয়েছে। যা স্থগিত করার কথা জানালো হামাস।
ইসরাইলকে গাজার উত্তরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাবর্তনে বিলম্ব, মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো এবং সম্মত মানবিক সহায়তা প্রদানে ব্যর্থতার অভিযোগ করেছে হামাস। তাদের দাবি এর মাধ্যমে স্পষ্টত ইসরাইল যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করছে।
এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। জিম্মি মুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
এদিকে ইসরাইলের প্রধান মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি মনে করেন গাজায় আটক ‘সকল’ জিম্মিকে আগামী শনিবারের মধ্যে মুক্তি না দিলে যুদ্ধবিরতি বাতিল করা উচিত। শনিবার দুপুর ১২টার মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি দেয়ার কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি বলবো শনিবার ১২টার মধ্যে তাদের (জিম্মি) ফেরত দেয়া উচিত... সবাইকে, অল্প অল্প করে নয়। দুই, এক, তিন, চার করে নয়। এই দাবি একান্তই ট্রাম্পের নিজের বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ইসরাইল চাইলে এই প্রস্তাব অমান্য করতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ৭৩ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে আসে হামাস। এছাড়া এক দশক আগে আরও তিন জনকে জিম্মি করা হয়েছে, যারা এখনও গাজায় আটক রয়েছেন। যদি সকল জিম্মি মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা না হয় তাহলে গাজায় ‘জাহান্নামের’ ক্রোধ নেমে আসবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে কি গাজায় ইসরাইলের প্রতিশোধ নেয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন- আপনি জানতে পারবেন এবং তারাও জানতে পারবে। হামাস বুঝতে পারবে আমি কী বলতে চাইছি।
এদিকে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পর ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যদের সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। বলেন, গাজার যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতি জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনোভাবেই ৭ অক্টোবরের পুনরাবৃত্তি সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন কাৎজ। তবে ইসরাইল যদি যুদ্ধবিরতির বাধ্যবাধকতা পালন করে তাহলে শনিবার জিম্মি বিনিময়ের দরজা খোলা থাকবে।
ফিলিস্তিনিদের গাজায় ফিরতে ট্রাম্পের বাধা
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা কয়েক দিন ধরেই বলছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তার গাজা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার অধীনে ফিলিস্তিনিদের উপত্যকাটিতে ফেরার কোনো অধিকার থাকবে না।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা
ট্রাম্পের দাবি, গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ তিনি নিজেই নেবেন এবং গাজার বাইরে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের জন্য ছয়টি বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। তবে এসব নতুন বাসস্থান কোথায় হবে এবং কীভাবে গড়ে তোলা হবে—সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি।
সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ফিলিস্তিনিরা গাজায় ফিরে যেতে পারবে না। কারণ, তাদের আরও ভালো থাকার জায়গা দেওয়া হবে। আমি তাদের জন্য একটি স্থায়ী আবাসন গড়ে তোলার কথা বলছি, যা তাদের জন্য বেশি উপযুক্ত হবে। এখন যদি তারা গাজায় ফিরে যায়, তবে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং গাজা বর্তমানে বসবাসের উপযোগী নয়।
গাজার ভবিষ্যৎ ‘রিয়েল এস্টেট প্রকল্প’!
ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, গাজা উপত্যকার ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনির জন্য তিনি উন্নত ও নিরাপদ এলাকা গড়ে তুলবেন। গাজা থেকে কিছুটা দূরে এসব আবাসন তৈরি করা হবে এবং এটি হবে নিরাপদ ও আধুনিক।
অপরদিকে গাজা উপত্যকা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতের জন্য গাজা উপত্যকাকে একটি রিয়েল এস্টেট প্রকল্প (আবসন খাত) হিসেবে দেখুন। সমুদ্রের পাশে একটি হবে অনন্য এক সুন্দর এলাকা। ছুটি কাটাতে এটি একটি সুন্দর জায়গা হবে এবং আবাসনখাত নির্মাণে বেশি অর্থও খরচ হবে না।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া : আরব দেশগুলোর প্রত্যাখ্যান
ট্রাম্প প্রথমবার গাজার এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন চলতি মাসের ৪ ফেব্রুয়ারি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে।
সেখানে তিনি গাজার ফিলিস্তিনিদের মিসর ও জর্ডানে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেন। তবে ট্রাম্পের এই প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে মিসর ও জর্ডান উভয় দেশই প্রত্যাখ্যান করেছে। এরইমধ্যে আরব দেশগুলোও ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে সরিয়ে নেওয়ার এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা ফিলিস্তিন সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে। কারণ, ফিলিস্তিনিরা নিজেদের মাতৃভূমি থেকে সরতে রাজি নয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ‘ফেরার অধিকার’-কে ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে ‘সম্পূর্ণ অবাস্তব’ ও ‘সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর কৌশল’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার মাধ্যমে গাজা সংকট আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য কী এবং এটি কতটা বাস্তবসম্মত—সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
তবে ফিলিস্তিনি জনগণের নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকারকে অস্বীকার করার এই বক্তব্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোম শহরের বুকে আস্ত এক দেশ ভ্যাটিকান সিটি by ফাহমিদা আক্তার
ইতালির রোম শহরের ভেতরে ছোট একটি দেশ ভ্যাটিকান সিটি। নামের সঙ্গে সিটি থাকলেও এটি বিশ্বের একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ এবং রোমান ক্যাথলিক গির্জার সদর দপ্তর। ক্ষুদ্র এ দেশটির প্রায় চারপাশটাই পাথরের দেয়ালে ঘেরা। দেয়ালগুলোর ভেতর আছে সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা নামের বিশাল এক গির্জা, ভ্যাটিকান প্যালেস এবং আরও কিছু ভবন। ভ্যাটিকান প্যালেসের ভেতরে পোপের ভবন, জাদুঘর, একটি গ্রন্থাগার এবং সিস্টিন চ্যাপেল ভবনের অবস্থান।
ইতালির তাইবার নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ভ্যাটিকান একসময় জলাভূমি ছিল। আজার ভাতিকানাস নামে পরিচিত অঞ্চলটি রোমান সাম্রাজ্যের শুরুর দিকের বছরগুলোতে প্রশাসনিক অঞ্চলে পরিণত হয়, সেখানে বিলাসবহুল স্থাপনা গড়ে ওঠে।
সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা গির্জার শুরু যেভাবে
৬৪ খ্রিষ্টাব্দে রোমের বেশির ভাগ অংশ আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর ভ্যাটিকান হিল নামের পাহাড়ের পাদদেশে খ্রিষ্ট ধর্মপ্রচারক সেন্ট পিটারসহ আরও কয়েকজন খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন সম্রাট নিরো। সেখানেই তাঁদের সমাধি হয়। ৩১৩ সালে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন রোমান সম্রাট প্রথম কনস্টানটাইন। এরপর ৩২৪ সালে তিনি সেন্ট পিটারের সমাধির ওপর একটি গির্জা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। দ্রুতই জায়গাটি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছে জনপ্রিয় তীর্থস্থান হয়ে ওঠে। সেখানে বাণিজ্যিক এলাকাও গড়ে ওঠে।
৭৫০ শতকের পর ইতালির মধ্যাঞ্চলের বেশির ভাগই পোপদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এসব জায়গা পপাল স্টেটস বা পোপের রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। ৮৪৬ সালে আরবদের হামলায় সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা গির্জাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তৎকালীন পোপ চতুর্থ লিও পবিত্র এ গির্জাকে সুরক্ষিত রাখতে এটি এবং আশপাশের স্থাপনাগুলো ঘিরে দেয়াল নির্মাণের আদেশ দেন। ৮৫২ সালে ৩৯ ফুট দীর্ঘ দেয়াল নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ১৬৪০ শতকে পোপ তৃতীয় উরবানের সময়ে দেয়ালগুলো ক্রমাগত বিস্তৃত করা হয়।
শুরুতে পোপেরা নিকটবর্তী লেটেরান প্যালেসে থাকতেন। তবে ষষ্ঠ শতকের শুরুর দিকে পোপ সিমাকুস সেন্ট পিটার্সের পাশে একটি বাসভবন গড়ে তোলেন। কয়েক শ বছর পর পোপ তৃতীয় ইউজিন এবং পোপ তৃতীয় ইনোসেন্ত এটিকে বিস্তৃত করেন। ১২৭৭ সালে এ অবকাঠামোটির সঙ্গে ক্যাস্টেল সান্ট অ্যাঞ্জেলোকে সংযুক্ত করতে আধা মাইল দৈর্ঘ্যের একটি পথ তৈরি করা হয়। তবে ১৩০৯ সালে পোপের প্রশাসনিক কেন্দ্রকে ফ্রান্সে সরিয়ে নেওয়ার পর এসব ভবন পরিত্যক্ত হয়ে যায়। পরবর্তী অর্ধশতক ধরে শহরটি দৈন্যের মধ্যে ছিল।
১৩৭৭ সালে পোপের শাসনব্যবস্থা ফ্রান্স থেকে আবারও রোমে ফিরিয়ে আনা হয়। তখন ধর্ম যাজকেরা দেয়ালঘেরা ভ্যাটিকান সিটিতে দ্যুতি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তৎপর হন। ১৪৫০ সালে পোপ নিকোলাস ভি চিরকা অ্যাপোস্টলিক প্যালেসের নির্মাণকাজ শুরু করেন। অবশেষে তার উত্তরসূরিদের জন্য স্থায়ী বাড়ি নির্মাণ হয়। তাঁর সংগ্রহে থাকা বইগুলো দিয়ে গড়ে তোলা হয় ভ্যাটিকান লাইব্রেরি। ১৪৭০-এর দশকে বিখ্যাত উপাসনালয় সিস্টিন চ্যাপেলের কাজ শুরু করেন চতুর্থ সিক্সতুস।
১৫০৩ সালে পোপ হিসেবে দ্বিতীয় জুলিয়াস দায়িত্ব নেওয়ার পর শহরটিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়। তিনি সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার ১২০০ বছরের পুরোনো ভবনটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তিনি ইতালীয় স্থপতি দোনাতো ব্রামান্তেকে এটি নির্মাণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তবে ১৫১৩ সালে জুলিয়াসের মৃত্যু এবং পরের বছর ব্রামান্তের মৃত্যুর পর এই প্রকল্প চালিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে অচলাবস্থা তৈরি হয়। অবশেষে ১৫৪৭ সালে ইতালীয় ভাস্কর মিকেলাঞ্জেলো সে অচলাবস্থার অবসান ঘটান এবং ব্রামেন্তোর মূল নকশা অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেন। ১৫৯০ সালে এর আকর্ষণীয় গম্বুজের কাজ শেষ হয়। আর বিশাল অবকাঠামোটির চূড়ান্ত কাজ শেষ হয় ১৬২৬ সালে। ৫ দশমিক ৭ একর জায়গাজুড়ে তৈরি করা গির্জাটি ৪৫২ ফুট লম্বা। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জার মর্যাদা ধরে রেখেছিল।
আর ভ্যাটিকান জাদুঘর গড়ে তোলা হয় দ্বিতীয় জুলিয়াসের সংগ্রহে থাকা ভাস্কর্য দিয়ে। পরে অন্য পোপেরা ওই জাদুঘরের সংগ্রহ বাড়াতে থাকেন।
স্বাধীনতার স্বীকৃতি
১৮৭০ সালে ইতালীয় সরকার ভ্যাটিকান সিটির দেয়ালের বাইরের সব ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। গির্জা কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে পরবর্তী প্রায় ৬০ বছর ধরে বিরোধ চলেছে। শেষ পর্যন্ত ১৯২৯ সালে দুই পক্ষের মধ্যে ল্যাটেরান প্যাক্টস নামের চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় ভ্যাটিকান সিটিকে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। শুধু তা–ই নয়, পপাল রাজ্যগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গির্জাকে ৯ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
বাসিন্দা কারা
পোপসহ গির্জা সরকারের শত শত সদস্য ভ্যাটিকান সিটিতে থাকেন ও কাজ করেন। পোপের সুরক্ষায় নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনী সুইস গার্ডের বেশ কিছু সদস্যও তাঁদের পরিবার নিয়ে সেখানে থাকেন। ভ্যাটিকান সিটিতে প্রায় তিন হাজার মানুষ কাজ করেন। এ কর্মীদের বেশির ভাগই রোমে থাকেন। বেশির ভাগ মানুষ ইতালীয় ভাষায় কথা বলেন। তবে সরকারি কাগজপত্র এবং গির্জার কিছু অনুষ্ঠানে লাতিন ভাষা ব্যবহার করা হয়।
ভ্যাটিকান সিটির অর্থনীতি অন্য দেশের অর্থনীতি থেকে আলাদা। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার রোমান ক্যাথলিকরা তাঁদের স্থানীয় গির্জাগুলোতে অনুদান দেন। ভ্যাটিকান সিটি সেখান থেকে কিছু অর্থ পায়। বই, স্ট্যাম্প, কয়েন এবং স্যুভেনিরও বিক্রি করে ভ্যাটিকান। জাদুঘর পরিদর্শনে আসা পর্যটকদের মাধ্যমেও আয় করে থাকে ভ্যাটিকান।
বর্তমানে জর্জ মারিও বেরগোগলিও পোপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পোপ ফ্রান্সিস নামেও পরিচিত। অসুস্থতার কারণে পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট পদত্যাগ করার পর ২০১৩ সালের মার্চে কার্ডিনালরা ফ্রান্সিসকে পোপ নির্বাচিত করেন। আর্জেন্টিনার বংশোদ্ভূত ফ্রান্সিস লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হওয়া প্রথম কোনো পোপ। ওই সময় তাঁর বয়স ছিল ৭৬ বছর।
ক্যাথলিক গির্জার প্রায় ১২০ কোটি অনুসারীর কাছে ভ্যাটিকান সিটি একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। ১০৯ একর জায়গা নিয়ে দেশটি গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন দূরবর্তী এলাকায় ভ্যাটিকানের মালিকানাধীন আরও ১৬০ একর জায়গা আছে। ভ্যাটিকান সিটির নিজস্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থা, টেলিফোন ব্যবস্থা, ডাকঘর, ফার্মেসি, সংবাদপত্র, রেডিও এবং টিভি স্টেশন আছে। ২০২৩ সালের এক হিসাব অনুসারে সেখানকার বাসিন্দার সংখ্যা ৭৫০ জনের কিছু বেশি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, ব্রিটানিকা, হিস্ট্রি ডট কম
![]() |
| ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ার। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তবু যেতে দিতে হয় by জেসমিন নাহার

একমাত্র মেয়ে বিলু, নিজের ছেলেমেয়ে, স্বামী-সংসার সামলে মায়ের দেখাশোনাও করে যান্ত্রিক গতিতে। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সেবাযত্ন, ওষুধ-ডাক্তার সব দায়িত্বই করার আপ্রাণ চেষ্টা।
মায়ের বাড়ি থেকে দুই লেন পরই তার বাড়ি। আবাসিক এলাকা যদিও। রাস্তায় বেরোলে সর্বক্ষণই মানুষের যাতায়াত। এতটুকু রাস্তার জন্য গাড়ি বের করা বড় ঝক্কি। দিনের মধ্যে চার-পাঁচবার আসা-যাওয়া, সেটাও কম ঝক্কির নয়। তাই মেয়ে দুটোকেও দু-একবার পাঠায়। নাতনীদ্বয়ও নানু-অন্তপ্রাণ। একমাত্র ছেলে ফ্যামিলিসমেত বিদেশে সেটেল্ড। বললেই তো আর হুটহাট আসা যায় না। আর এলেও ক’দিন থেকে ফের ছুটতে হয় কাজের জায়গায়।
আজ সকাল থেকেই বমি বমি ভাব। বিলু জোর করে মুখে কিছু দেয়ার চেষ্টা করতেই বমি হয়ে গেল। বিলু নিজ হাতে সব সাফসুতোর করে বিছানায় শুইয়ে নিজের বাসায় গিয়ে ছোট মেয়েকে পাঠিয়ে দিলো নানুর কাছে। আর কড়া করে বলে দিলো ঘোড়ার ডিম ফেসবুক-টেসবুক নিয়ে বসে থাকবি না। নানুর দিকে খেয়াল রাখবি। আমি বাসায় রান্না করে রেখে আসব আর তোর নানুদের জন্য নিয়ে আসব।
আহ মা, এসব তো জানি। সময় নষ্ট না করে যা করার তাড়াতাড়ি করো তো গিয়ে।
ঘণ্টাখানেক পর বিলুর মেয়েটা ফোন দিয়ে বলে, মা তাড়াতাড়ি এসো। নানু কেমন করছে।
হাতের কাজ ফেলে ছুটতে ছুটতে এসে বিলু দেখে মায়ের গলার ভেতর থেকে গড়গড় আওয়াজ বেরোচ্ছে। চোখের তারা ভেতরে গিয়ে সাদা অংশটুকু বের হয়ে আছে। বিলুর হাত-পায়ে কম্পনের সৃষ্টি হয়। হায় আল্লাহ, এ কোন বিপদ এলো? বিলুর বাবা ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। কাছে-পিঠের যে কয়েকজন এলো, এসে কেউ বলছে- মারা গেছে, কেউ বলছে- মারা যাচ্ছে। কেউ বলছে- ডাক্তার আনো, কেউ বলছে- এনে বোধহয় লাভ নেই। তার থেকে হুজুর এনে তাওবা পড়িয়ে দেন, যদি সময় পাওয়া যায়।
এই এলোমেলো অবস্থায় বিলুর মাথায় কোনো কাজ করে না। শুধু বুক ফেটে কান্না আসে। দুই চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে। তবুও মনে শক্তি সঞ্চয় করে ফোন দিতে উদ্যোগ নেয় মামাদের। মায়ের ভাই মামা, এরাই তো বড় কাছের; এদেরই তো সর্বাগ্রে খবর জানানো উচিত। কিন্তু মোবাইল কই? খুঁজতে খুঁজতে পাওয়া গেল নিজের হাতের মাঝেই। বিপদে বোধহয় এ রকম দিশেহারাই হয় মানুষ। কিন্তু নাম্বার এনে ডায়াল করতে গিয়ে অস্থিরতা আরো বাড়ে। শেষ পর্যন্ত পারল ছোট মামার নাম্বারে ফোন দিয়ে হড়বড়িয়ে বলতে, মামা মায়ের অবস্থা খুব খারাপ। বোধহয় মারা যাচ্ছে। কী করব? আপনারা তাড়াতাড়ি আসেন।
বিলুর ছোট মামা কোমল মনের মানুষ। তিনি ছিলেন এক মিলাদ মাহফিলে। একে তো লোকসমাগমের আওয়াজ, দ্বিতীয়ত ভাগ্নির ভীত কণ্ঠস্বর। তিনি শুনতে পেলেন মামা, মা মারা গেছে। বোধহয় যাচ্ছে এটা শুনতেই পেলেন না। আর পেলেই কী, যাচ্ছে মানে যেতে আর কতক্ষণ?
তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেজো বোন। বড় বোনটি বছর দশেক আগেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পরপারে চলে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে ভেসে উঠল মেজো বোনের স্নেহ, মমতা, ভালোবাসার কথা। বড় হয়েও ছোট ভাইদের কথার ওপরে একটা কথাও বলেনি। বিপদ-আপদে সাহস আর শক্ত খুঁটি হয়ে পাশে রয়েছে। সে কিনা আমাদের নিঃস্ব করে চলে গেল? আর ভাবতে পারলেন না বিলুর ছোট মামা। বুকে হাত চাপা দিয়ে বসে পড়লেন। তিনি হার্টের রোগী। পাশে বসা লোকেরা কী হলো কী হলো বলে অস্থির হয়ে উঠল। ক্ষীণস্বরে অতি কষ্টে তিনি বললেন, আমার মেজো বোন নাকি মারা গেছে। সবাই জানত বোন অসুস্থ, কিন্তু মারা যাওয়ার মতো এতটা যে অসুস্থ, এটা কেউ জানেনি। কাছের ক’জন বিলুর ছোট মামা খান সাহেবকে বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে গেল।
এ খবর ঘরের সবাই শুনে বিলাপ শুরু করে দিলো। যার যেই অবস্থা, সেই অবস্থায়ই রওনা হলো।
বড় মামা, ছোট মামা, ছোট খালা সবার ফ্যামিলির লোকজন একই সাথে রওনা হলো যার যার গাড়ি নিয়ে।
গাড়ি চলছে বিলি কেটেকুটে। ড্রাইভার পাকা হাতের কাজ খেলিয়ে সামনে এগোনোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে, অথচ গাড়ির যাত্রীদের মনে হচ্ছে গাড়ি জায়গায়ই দাঁড়িয়ে আছে। ছোট মামার মেয়ে দুটো ফুপির জন্য কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। যেখানেই জ্যাম পড়ছে, সেখানেই বলছে চলো আমরা গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে যাই।
সবাই পৌঁছে বিলুদের সাথে কিছুক্ষণ কেঁদে নিলো। বিলু বলল, যে অবস্থা এতক্ষণ চলেই যেত, শুধু আপনাদের জন্যই বোধহয় শিরাটুকু চলছে, তাওবা পড়ানো হয়ে গেছে, দোয়া-দরুদ পড়ছে অনেকে।
কিন্তু মামারা পৌঁছে বললেন, শিরা যখন ক্ষীণ হলেও চলছে, তো ডাক্তারের কাছে নিয়ে চলো।
বিলুর বাবা কেঁদে বলেন, নিয়ে আর কী হবে, নিতে নিতে যদি...।
দৃঢ়তার সাথে ছোট মামা বলেন, যা হওয়ার হবে; ডাক্তারের কাছে আগে নিই। প্রয়োজনে ফিরিয়ে আনব সমস্যা কী?
শুরু হলো দৌড়ঝাঁপ। অ্যাম্বুলেন্সের দেরি আর সহ্য করল না। ছোট মামা নিজের গাড়ির পেছন সিটে শুইয়ে যাত্রা শুরু করলেন।
প্রাইভেট একটি হাসপাতালে নিলে ডাক্তাররা সব দেখেশুনে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন- সম্ভব না, অনেক দেরিতে এনেছেন। করুণস্বরে সবার রিকোয়েস্ট, একটি বার ট্রাই তো করেন। যা হওয়ার হোক, মনে শান্ত্বনা তো পাবো।
স্যরি : কিছুক্ষণের মধ্যেই কিছু একটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, যদি আপনাদের ইচ্ছে হয় অন্যত্র দেখাতে পারেন। মনে হয় না আশানুরূপ সংবাদ পাবেন।
ডাক্তারেরা অতি বিনীত নম্র ও ভদ্র ভাষায় কথাগুলো বোঝাতে চেষ্টা করলেন। মামারা হাল ছাড়েন না, নিয়ে যান অন্য হাসপাতালে। ওখানেও ডাক্তারদের আশাহীন কথা। তারপরও বলে রোগীর অবস্থা যদিও ক্রিটিক্যাল তবুও ট্রাই করে দেখি। যদি কিছু হয়ে যায় আপনারা আবার জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর-টাঙচুর করবেন না তো?
না, না আমরা সব জেনে বুঝেই এসেছি। এখন ভাগ্যের ব্যাপার, আর আল্লাহ যদি সহায় থাকেন।
শুরু হলো চিকিৎসা। ডাক্তারেরা প্রথমেই পেলেন ব্লাড প্রেসার ফল্ট করেছে প্রচণ্ডভাবে। হাইপো-গ্লাইসেমিয়ার ভয়ঙ্কর অবস্থা। এ দুটোর চিকিৎসা পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে রোগী নড়েচড়ে উঠল। বাকি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতে লাগল। এতটুকুতেই সবাই যেন প্রাণ ফিরে পেল।
আগে থেকে কিছু কিছু রোগ থাকলেও ওষুধপথ্য ঠিকঠাক নেয়নি। অবহেলা করেছে প্রচণ্ড রকমের। যার পরিণাম এ পর্যন্ত নিয়ে ছাড়ল।
বাকি ইনভেস্টিগেশনের পরে জানা গেল দুটো কিডনিরই বেহাল দশা। শ্বাসকষ্টও চেপে ধরেছে, তার ওপরে ব্রেন স্ট্রোকও হয়ে গেল। আর দু’বার হার্ট অ্যাটাক তো আগেই হয়ে গিয়েছিল।
হাসপাতালের ওষুধের কড়া গন্ধ, স্যালাইনের সুই ফোটানো সে বুঝতে পারে যখন, তখন তার মাথার ভেতর কিলবিল করে নানা স্মৃতি। দেখতে পায় তার অতীত।
নদীর কিনারে ফোটা আকন্দ ফুল যেন নদীর রূপের শোভা বাড়িয়ে তুলেছে। ঝাঁকে ঝাঁকে কচুরিপানায় বেগুনি রঙের থোকা থোকা কচুরি ফুল, ওরা যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ওই তো সেই নদী, নদীর পাড়ে আমার দুই বছরের মেয়ে বিলুকে নিয়ে বসে আছি। দুষ্ট মেয়েটা বড় দৌড়ঝাঁপ করছে। যদি পানিতে পড়ে যায়? এ দিকে আয়, আয় বলছি বলে কোলে টেনে নেয়ার চেষ্টা করে। তার হাত নাড়া মুখে ভোঁ ভোঁ উচ্চারণে পাশে বসা বিলু বলে, মা কিছু বলছেন? কিছু প্রয়োজন?
মা আবার ঘোরের মাঝে হারিয়ে যায়।
সম্পূর্ণ রিভাইব করার আগেই জোরাজুরি করে বাড়িতে চলে এলো। না এনে উপায় ছিল না। ডাক্তার-নার্সদের বকাবকি করে গোষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়ল।
কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে যেতেই মৃত মানুষের নতুন জীবন পাওয়া দেখতে আসা মানুষের ঢল এবং তাদের কথাবার্তা শুনে আছিয়া বেগম অবাক চোখে ভাবে, সত্যিই তাহলে চলে গিয়েছিলাম? বিলুর বড় মামা বলেন, আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত তোমাকে সময় দিয়েছেন, এখন মন ভরে ইবাদত-বন্দেগি করে নাও। শুকর আদায় করো।
যদিও বেঁচে আছে, আগের মতো সুস্থ জীবন তো নেই। কখন কী করে, কখন কী বলে, নিজেই জানে না। এই তো সেদিন সবার অলক্ষ্যে মাথার চুলগুলো কাঁচি দিয়ে কেটেছেঁটে যাচ্ছেতাই অবস্থা করে ফেলেছে।
তাই দেখে বিলু বলে, মা কী করেছেন? কেউ দেখলে বলবে মুরগি চুরি করে ধরা পড়েছেন।
শুনে অবাক চোখে চেয়ে চেয়ে ভাবে, কী বলছে মেয়েটা, ওর মাথাটাথা খারাপ হয়নি তো?
ডাক্তার বলেন, ভাগ্য ভালো আপনাদের, তাই শুধু চুল কেটেছে। এ রকম প্যাসেন্টরা এর থেকেও মারাত্মক কিছু করে ফেলতে পারে। অনেক সময় এরা নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে দিতে পারে, এমনকি পরের গলায়ও। এটা এক ধরনের হ্যালুসিনেশন।
এর পর থেকে সবার নজরদারিতেই থাকে সর্বক্ষণ।
যৌবনের সতেজ তারুণ্যের কথাগুলো বড় বেশি মনে পড়ে। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সেগুলোই বলে যান, বিলু, টিনের চালে মুষলধারে শব্দ করে বৃষ্টি হচ্ছে না রে? চাদর গায়ে ঘুমাতে ইচ্ছে করছে। দে তো গায়ে চাদর টেনে, একটু ঘুমাব।
বিলু হেসে বলে, বিল্ডিং বাড়িতে টিনের চালের শব্দ! গরমে ঘেমে-নেয়ে উঠলাম। মাথার ওপর ফ্যান চলছে ননস্টপ, রাতে এসি ছাড়া চলে না আর আপনি বলছেন চাদর দেবো?
হ্যাঁ রে, বর্ষার ব্যাঙের ডাক শুনতে পাচ্ছিস না?
না মা পাচ্ছি না।
ও ও ও ব্যাঙরা এখন ডাকে না, না? ডাকবে কী করে? ওরা তো সব কার্টনে বসে প্লেনে চড়ে বিদেশে চলে যায়। যেগুলো যেতে না পারে, সেগুলো যায় চায়নিজ রেস্টুরেন্টে। তাই বোধহয় ওদের ডাক শোনা যায় না।
বিলু দেখেছিস, পাতা ভরা শিউলী গাছটায় কেমন শিউলী ফুটেছে।
যা তো কোচর ভরে তুলে নিয়ে আয়, মালা গাঁথব।
বিলু চুপ করে শুনে আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে মায়ের দিকে তাকিয়ে ভাবে, মেদযুক্ত ভরভরান্ত শরীরটা মেদমুক্ত হয়েছে, যদিও বড় মায়া হয় শরীরের দিকে চেয়ে। শরীর বলে মনেই হয় না। মনে হয় চুপসে যাওয়া একটা বেলুন মাত্র।
ভালো গৃহিণী ছিলেন মা, রান্নার হাত ছিল প্রচণ্ড রকমের ভালো। বাড়ার হাত ছিল তার চেয়েও ভালো। যে একবার খেয়েছে ভোলেনি সে কখনো। যেমন তেমন বাজারে মন ওঠেনি। ভালো জিনিসটা যে কিভাবে চিনতেন, আমি অবাক হয়ে ভাবতাম। এখনো তো তাই ঘোরের মধ্যে বলেন, বিলু ফ্রিজে ২০টা মুরগি কেটে, ধুয়ে পরিষ্কার করে রেখেছি, একদম ডেকি মুরগি ভালো করে রাঁধবি।
চ্যাপা শুঁটকি এনেছি বেছে বেছে, বড় বড়, ঘ্রাণ অনেক। ভালো করে ধুয়ে ভর্তা বানাবি। কাঁচা মরিচেরটা, শুকনা মরিচেরটাও।
এই বিলু দেখ, কচুর লতিগুলো তোর বাবা খুব সুন্দর এনেছে। চিকন, সবুজ লকলক করছে। কুটে বেছে দেই। ইলিশ দিয়ে রান্না করবি তেলতেলে করে।
অতীতের দুঃখ, ক্ষোভ, ব্যর্থতার স্মৃতি বড় বিধ্বস্ত করে তোলে মাঝে মধ্যেই। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে আর গৃহকর্ম করে জীবন কাটিয়ে দিলাম। কী রেখে গেলাম পৃথিবীতে। মানব জনম বৃথাই গেল বুঝি। আবার যদি জীবনটাকে প্রথম থেকে সাজাতে পারতাম, তবে যে ভুলগুলো এ জীবনে হয়ে গেছে, সেগুলোকে শুদ্ধ করে ফেলতাম। কিন্তু সে তো হওয়ার নয়।
স্নেহের সুরে বিলু বলে, মা সবাই কি সব কিছু করতে পারে? মানুষ চলে যায়, থাকে তার কর্ম। মানুষকে ভালোবেসেছেন, অভাবীদের দান করেছেন, অভুক্তকে খাইয়েছেন, এমনকি চোর বা কাউকে আঘাত করতে দেখলে আগলে দাঁড়িয়ে রক্ষা করেছেন- এই বা কম কিসে? ফ্যালফ্যাল করে মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে থাকেন আছিয়া বেগম।
দিনকে দিন শরীর খারাপের দিকেই যেতে লাগল। পা দু’খানা পাথরের মতো ভারী। পেটে পানি থইথই, সুন্দর মুখখানায় পানিতে টইটম্বুর, নড়াচড়ার ক্ষমতা নেই। ওষুধপথ্য সামনে দেয়া, বাথরুমে নেয়া, গোসল করানো, কাপড় চেঞ্জ করা, চুলে শ্যাম্পু করে তেল দিয়ে কাঁটা দিয়ে বেঁধে দেয়া, হাত-পায়ের নখ কাটা, মশারি টানিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয়া- সবই করছেন তার ৪৫ বছরের বিবাহিত জীবনের স্বামী। তার পরও যত মেজাজ, যত রুক্ষতা সবই পড়ে তার ওপরে, মাঝে মধ্যে ইচ্ছেমতো বকাঝকা, অভিমান বিলুর ওপরও ঝাড়েন। ওরা জানে, ডাক্তার বলেছেন, এ পেসেন্ট এরকমটাই করবে। তিনি জেনেবুঝে করেন না। আপনাদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবেন যত দিন বেঁচে থাকেন।
এ বেলায় শরীর ভালো থাকে তো ও বেলায় খারাপ। ডাক্তার বলেছেন, এভাবেই থাকবে যত দিন ওপরওয়ালা হায়াত দিয়েছেন। আজ সকাল থেকে শরীর প্রচণ্ড খারাপ। আছিয়া বেগম স্বামীর হাতখানা ধরে বলেন, কখন কী হয়ে যায় ঠিক তো নেই। কিছু কথা বলে যাই। জীবন বড় ছোট। মনে হয় এই তো সেদিনের কথা। আসলে জীবন থেকে এতগুলো বছর কোন দিক দিয়ে চলে গেল, টেরও পেলাম না। জন্ম মানেই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া। এটাই চিরসত্য, এটাই মানতে হবে। জীবনে একসাথে চলার পথে সবারই কোনো-না-কোনোভাবে ভুল হয়ে যায়। মনে রেখো না, ক্ষমা করে দিও আমায়।
ছলছল চোখে বিলুর বাবা বলেন, আমাকেও ক্ষমা করে দিও তুমি। মৃদু হেসে আছিয়া বেগম বলেন, না করে উপায় আছে? যা করেছ আমার জন্য। হেলায়-ফেলায় জীবনটাকে পার করেছি। অসুখ-বিসুখ গায়ে মাখিনি। আজ বেলা শেষে এসে জীবনের জন্য বড় মায়া হয়। বড় বাঁচতে সাধ হয়। মনে মনে ভাবি, ঘুম থেকে উঠে যদি দেখি জীবনটা আগের মতো হয়ে গেছে। শরীরের রোগব্যাধি নিষ্কৃতি দিয়েছে। কিন্তু হায়, এ কখনো হওয়ার নয়। তোমার এত আদর, ভালোবাসা, মায়া-মমতায় বড় ভয় হয়। ও জিনিস থাকলে পৃথিবী ছেড়ে যেতে বড় কষ্ট হয়। মনটা ব্যথায় টনটন করে ওঠে। ডুকরে কেঁদে ওঠে বিলুর বাবা বলেন, এমন করে বলো না। নিঃস্ব মনে হয় নিজেকে, আমাকে একা করে কোথায় যাবে তুমি? বেঁচে থাকো দীর্ঘ দিন, এটাই আমার মনপ্রাণের বড় চাওয়া। ঠোঁটে হাসি চোখে কান্না নিয়ে আছিয়া বেগম বলেন, কবি কী বলেছেন শোনোনি?
যেতে নাহি দিবো হায়
তবু যেতে দিতে হয়।
তবু চলে যায়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একদিকে যুদ্ধবিরতি অন্যদিকে যুদ্ধ
ট্রাম্প গাজা দখল করে নেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন সে বিষয়ে কথা বলেছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন। তারা বলেছে, গাজা উপত্যকা কিনে নেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানার জন্য অপেক্ষা করছে তারা। ট্রাম্পের দাবির পর বিভিন্ন দেশ থেকে কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে রোববারও ট্রাম্প গাজাকে কিনে নিয়ে এর মালিক হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দমিত্রি পেসকভ বলেছেন, আমরা যে ক্ষতিকর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছি সে সম্পর্কে আরও বিস্তারিত পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। আমরা কমপক্ষে ১২ লাখ ফিলিস্তিনির বিষয়ে কথা বলছি। তারা গাজায় বসবাস করেন। সম্ভবত এটাই সবচেয়ে বড় ইস্যু। তিনি ট্রাম্পের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এসব মানুষই মধ্যপ্রাচ্য সমস্যার সমাধানের জন্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের রেজ্যুলুশন অনুসরণ করা হবে। প্রশ্ন হচ্ছে সেখানেই। তবে এখনো বিস্তারিত বলা হয়নি। এ জন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। ওদিকে গতকাল দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। এই বিচার শুরু হয়েছে ২০২০ সালে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তিনটি ক্রিমিনাল মামলা আছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নিজের দোষ স্বীকার করেননি। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারাকে নিয়ে একটি নিউজভিত্তিক ওয়েবসাইটে ইতিবাচক রিপোর্ট করার জন্য বেজেক টেলিকম ইসরাইলকে প্রায় ৫০ কোটি ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন। এই মামলায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও আস্থা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে যে, ইসরাইলি নাগরিক ও হলিউড প্রযোজক আরনন মিলিচ্যান ও অস্ট্রেলিয়ার বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী জেমস প্যাকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী অন্যায়ভাবে দুই লাখ ১০ হাজার ডলার নিয়েছিলেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও আস্থা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইসরাইলের ইয়েদিওথ আহরোনথ পত্রিকার মালিক আরনোন মোজেসের সঙ্গে নেতানিয়াহু একটি চুক্তি করেছিলেন। সেখানেও প্রতিদ্বন্দ্বী পত্রিকাগুলোকে দমিয়ে রেখে আরনোন মোজেকের পত্রিকাকে বেশি সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করেন। বিনিময়ে নেতানিয়াহুকে বেশি কাভারেজ দিতে হবে। এ জন্য তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও আস্থা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্র-চীন নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ
উল্লেখ্য, ২০শে জানুয়ারি ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডা, মেক্সিকো এবং চীনের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ করেন। প্রথম দু’টি দেশের বিরুদ্ধে শতকরা ২৫ ভাগ এবং চীনের ক্ষেত্রে তা শতকরা ১০ ভাগ। কিন্তু মেক্সিকো এবং কানাডা থেকে তীব্র প্রতিবাদ এবং সমঝোতার পর এ দু’টি দেশের শুল্ক আপাতত স্থগিত রেখেছেন ট্রাম্প। কিন্তু চীনের ওপর শুল্ক বহাল আছে। কানাডা ও মেক্সিকোর বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের ঘোষণা এবং পরে তা স্থগিত করার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রে সব রকম স্টিল এবং অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে শতকরা ২৫ ভাগ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এখানে উল্লেখ্য, প্রথম দফায় ক্ষমতার সময়ে একই রকম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি সে সময়ও স্টিল আমদানিকে শতকরা ২৫ ভাগ এবং অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে শতকরা ১০ ভাগ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। কিন্তু পরে কানাডা, মেক্সিকো এবং ব্রাজিলের মতো বেশ কিছু বাণিজ্যিক অংশীদারদেরকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেন। তিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিরুদ্ধেও শুল্ক আরোপ করেছিলেন। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত এর সমাধান মেলেনি। তবে এবার ট্রাম্পের শুল্ক মুক্তির সুবিধা কোনো দেশ পাবে কিনা, তা রোববার পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেয়া তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে। তবে আমদানি করা গাড়িতে শুল্কের বিষয়টি এখনো তার টেবিলে আছে। ট্রাম্প বার বার অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি শুল্ক আরোপ করে। গত সপ্তাহে তিনি বলেছেন, ইউরোপিয়ান পণ্যের ওপর সহসাই শুল্ক আরোপ করা হবে।
ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সর্বশেষ ঘোষণা কার্যকর হওয়ার পর বেইজিং অভিযোগ করেছে। তারা বলেছে, সিনথেটিক অপিয়ড ফেন্টালাইন বাণিজ্য নিয়ে ওয়াশিংটন ভুয়া এবং মিথ্যা অভিযোগ করছে। এ বিষয়ে তারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অভিযোগ দিয়েছে। তাতে চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আমদানিতে যে শুল্ক আরোপ করেছে তা বৈষম্যমূলক এবং সংরক্ষণবাদ। এর মধ্যদিয়ে তারা বাণিজ্যিক নিয়ম ভঙ্গ করছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা চীনকে সতর্ক করছেন। তারা বলছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যে প্যানেল আছে তারা সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম হবেন না। ফলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা থেকে চীনের পক্ষে রায় পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। এমন অবস্থায় কয়েকদিনের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলার কথা ডনাল্ড ট্রাম্পের। তবে ট্রাম্প বলেছেন, এই আলোচনার জন্য তিনি তাড়াহুড়ো করবেন না। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের চায়না ব্যবসা ও অর্থনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ স্কট কেনেডি বলেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের চেয়ে চীন অনেক বেশি প্রস্তুত। যদিও তাদের অর্থনীতি পর্যায়ক্রমিকভাবে নিম্নমুখী হয়েছে একটু। কিন্তু তাদের প্রযুক্তি সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তারা ব্যবসাকে বহুমুখী করেছে। বিনিয়োগ করেছে অনেক জায়গায়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ডেভিল হান্ট’ নিয়ে যেসব প্রশ্ন জারি আছে
তারা বলছেন, অভিযানের নাম নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ সন্দেহভাজন হিসেবে কাউকে ধরা হলেও সে ‘ডেভিল’ বা শয়তান আখ্যা পাচ্ছে। অপরাধী ধরা হলে আইনেই তার বিচারের ব্যবস্থা আছে। ‘ডেভিল’ বা শয়তানের বিচারের কথাতো কোনো আইনে উল্লেখ নেই। সরকারের পক্ষ থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ঘোষণার পর থেকেই এ নিয়ে নানা আলোচনা। বিশেষ করে অভিযানের নাম নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। অভিযানের প্রথম দুইদিনে দেখা গেছে নিয়মিত এবং সাধারণ আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারকৃতরা কী ডেভিলের সংজ্ঞায় পড়বেন?
বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক এ বিষয়ে বলেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নাম দিয়ে অভিযান চালানো মোটেও যৌক্তিক নয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কে দোষী আর কে নির্দোষ তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার তো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের না। এটি তো আদালতে নির্ধারিত হবে। এভাবে ডেভিল বা শয়তান বলে কারও অভিযান চালানো আইনের শাসনের পরিপন্থি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নাম যাই হোক এই অভিযান নিয়ে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এর আগে অপারেশন ক্লিনহার্ট নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রার শুরু থেকেই বড় রকমের ঝুঁকি হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। যে কারণেই সরকারকে হয়তো এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। তবে এর মধ্যদিয়ে কোনো অবস্থাতেই যেন মানবাধিকার লঙ্ঘন না ঘটে সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। যাদের আটক করা হয়েছে, কোন মানদণ্ডে আটক করা হয়েছে তা প্রকাশ এবং তাদের জন্য ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করতে হবে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এ বিষয়ে বলেন, ডেভিল তো অনেক বড় বিষয়। ফৌজদারি মামলার যারা আসামি তারা এই ডেভিলের সংজ্ঞায় পড়ে কিনা এই প্রশ্নতো উঠবেই। এ ছাড়া ডেভিলের বিচারের জন্য কোনো আইন আছে কিনা? যাদের ডেভিল বলে তারা মনে করছে তাদের প্রায় সবাই তো দেশ ছেড়ে চলে গেছে। যাদের এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হলো তারা সবাই ডেভিল কিনা এটাও একটা প্রশ্ন। তিনি বলেন, মানুষ প্রশ্ন করতেই পারে যে তারা বুঝে এই ডেভিল শব্দ ব্যবহার করেছে কিনা, নাকি এর পেছনে গোপন কোনো এজেন্ডা আছে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, অভিযানের নামে যে ডেভিল যুক্ত করা হয়েছে এই ডেভিলের সংজ্ঞা কি? তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযানের বিষয়ে এমন নানা প্রশ্ন অতীতে যেমনটা ছিল এখনো জারি আছে। বিশেষ করে মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি। কোনো ব্যক্তির বিনা বিচারে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, অতীতের সরকারের মতোই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটা আমরা মনে করি না। তাই তাদের যেকোনো পদক্ষেপ চিন্তা করেই নিতে হবে। এই অভিযানে যাতে কারও মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয় তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহাকাশে যেভাবে আছেন সুনিতা
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি ভার্চ্যুয়াল প্রশ্নোত্তর পর্বের সময়, সুনিতা উইলিয়ামসকে মাইক্রোগ্রাভিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি এটিকে সাঁতার বা উড়ার মতো অনুভূতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে স্বীকার করেছেন যে মহাকাশে দীর্ঘ সময় থাকার জেরে শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। উইলিয়ামস বলেন, ‘আমি এখানে অনেকদিন ধরেই আছি। এখন আমি মনে করার চেষ্টা করছি কীভাবে হাঁটতে হয়। মহাকাশে আপনি হাঁটতে পারবেন না। বসতে পারবেন না। শুতে পারবেন না। চোখ বন্ধ করে শুধু ভেসে থাকতে পারবেন। আমি ঠিক সেটাই করছি।’
নিজের বার্তায় সুনিতা জানালেন, মহাকাশে এতদিন থাকতে পেরে তাদের মন্দ লাগছে না। নিজেদের সেখানে বন্দি বলে তারা মনে করছেন না। এখানে তাদের জন্য খাবার, পানি সবই রয়েছে। এটিকে তারা নিজেদের বাড়ি বলেই মনে করছেন। যদি খুব মন খারাপ লাগে তাহলে স্পেস স্টেশনের বাইরে তারা একটু ঘুরে আসছেন। সেখানেও তাদের স্বাধীনতা রয়েছে।
মহাকাশে নিজের স্পেসওয়াক করে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছেন সুনিতা উইলিয়ামস। মহাকাশযানটির মেরামতির কাজ করতে গিয়ে সুনিতা নিজের অষ্টম স্পেসওয়াক করে ফেলেছেন। সেখানে তার সহযোগী ছিলেন নিক হগ। মহাকাশে স্পেসওয়াক করার সময় তার অভিজ্ঞতার কথা সকলের মধ্যে শেয়ার করেছেন সুনিতা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। সুনিতা এবং বুচ দু’জনেই মহাকাশে একে অপরের বিকল্প হিসেবে রয়েছেন। বোয়িং স্টারলাইনারই তাদের নতুন বাড়ি। তাদেরকে ফিরিয়ে আনার কাজ দ্রুত করছে নাসা। তবে যতদিন না তারা নিজেদের ঘরে ফিরছে, ততদিন সেটাই তাদের ঠিকানা।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
February
(308)
-
▼
Feb 11
(8)
- ভারত থেকে রকেট লঞ্চার কিনতে চায় ফ্রান্স
- যুদ্ধবিরতির শর্ত মানছে না ইসরাইল, জিম্মি মুক্তি স্...
- রোম শহরের বুকে আস্ত এক দেশ ভ্যাটিকান সিটি by ফাহমি...
- তবু যেতে দিতে হয় by জেসমিন নাহার
- একদিকে যুদ্ধবিরতি অন্যদিকে যুদ্ধ
- যুক্তরাষ্ট্র-চীন নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ
- ‘ডেভিল হান্ট’ নিয়ে যেসব প্রশ্ন জারি আছে
- মহাকাশে যেভাবে আছেন সুনিতা
-
▼
Feb 11
(8)
-
▼
February
(308)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
