Wednesday, May 11, 2011

রপ্তানি আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত

পণ্য রপ্তানি আয়ে চলতি ২০১০-১১ অর্থবছর উচ্চহারে প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পণ্য রপ্তানি আয়ে ৪০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, চলতি বছরের জুলাই-এপ্রিল সময়কালে পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে এক হাজার ৮২৪ কোটি ৩২ লাখ ডলার।
আর গত ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময় রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় এক হাজার ২৯৫ কোটি ডলার। ফলে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
আবার চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পণ্য রপ্তানির কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৪৮৭ কোটি ২২ লাখ ডলার। সে হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রকৃত রপ্তানি সাড়ে ২২ শতাংশ বেড়েছে।
শুধু তাই নয়, চলতি অর্থবছরের জন্য মোট রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল এক হাজার ৮৫০ কোটি ডলার। দেখা যাচ্ছে, ১০ মাসের মোট রপ্তানিই বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে।
মাসওয়ারি হিসেবে গত এপ্রিল মাসে পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ৬১ লাখ ডলার, যা কিনা গত বছরের এপ্রিল মাসের তুলনায় সাড়ে ৪৫ শতাংশ বেশি।
বিশ্বমন্দা কেটে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিছু পণ্যের এককপ্রতি দাম বৃদ্ধি। এ ছাড়া মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান দুর্বল হওয়ায় অবদান রেখেছে।
অবশ্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার উচ্চ হওয়ার পরও পণ্য আমদানির পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে চলায় বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
খাতওয়ারি চিত্র: ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে তৈরি পোশাক ও নিট পোশাক রপ্তানির আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে সাড়ে ৩৮ ও ৪৫ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে।
তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬৯ কোটি ৮৫ লাখ ডলার আর নিট পোশাকের রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ কোটি ১৮ লাখ ডলার।
এদিকে গতকালই বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্প মালিক সমিতি (বিজিএমইএ) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক জিএসপি স্কিমের আওতায় নতুন উৎস বিধি (রুলস অব অরিজিন) গ্রহণ করায় বাংলাদেশ থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার হয়েছে।
ইপিবির পরিসংখ্যান উদ্বৃত্ত করে বিজিএমইএ বলছে, ২০১১ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়কালে জিএসপি সনদ ইস্যু আরের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে পরিমাণ বেড়েছে ২৬ শতাংশ এবং মূল্য (ভ্যালু) বেড়েছে ১১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন উৎস বিধিতে ‘দ্বি-স্তরের বদলে এক-স্তর (অর্থাৎ ফেব্রিক্স থেকে পোশাক) করায় আমদানি করা ফেব্রিক্স দিয়ে প্রস্তুত করা তৈরি পোশাক জিএসপিসুবিধা পাবে। এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে এই বিধি কার্যকর হয়েছে।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, রপ্তানিমুখী পণ্যের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পণ্য হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯৭ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থবছরের ১০ মাসে হোম টেক্সটাইল রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির হার ৪২ দশমিক ২০ শতাংশ আর মোট পরিমাণ ৯২ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে কাঁচা পাট রপ্তানি থেকে প্রায় ২৯ কোটি ডলার, পাট সুতা থেকে ৪২ কোটি ২৫ লাখ ডলার এবং পাট থলে ও ছালা থেকে ১৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার আয় হয়েছে।
আলোচ্য সময়কালে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৫১ কোটি ১২ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ৫৩ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে চামড়া রপ্তানিতে আয় হয়েছে ২৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলার আর প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ৩৬ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পাদুকা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৪ কোটি ২৬ লাখ ডলার, যা কিনা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৯ শতাংশ বেশি।

পৌনে তিন লাখ ডলারে বিক্রি হলো ডায়ানার দুটি গাউন

যুক্তরাজ্যের প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার দুটি পোশাক দুই লাখ ৭৬ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। গত রোববার বেভারলি হিলসের একটি প্রতিষ্ঠান পোশাক দুটি নিলামে তোলে।
জুলিয়েনস অকশনস্ হাউস নামের ওই নিলামকারী প্রতিষ্ঠান বলেছে, ১৯৯২ সালে ডায়ানা তাঁর তৎকালীন স্বামী প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে ভারত সফর করেন। এ সফরকে মাথায় রেখে তাঁর জন্য ভারতীয় ডিজাইনে একটি কালো গাউন বানানো হয়। ভারত সফরের সময় ডায়ানা সেটি পরেছিলেন। রোববারের নিলামে ওই গাউনটি বিক্রি হয় এক লাখ ৪৪ হাজার ডলারে।
একই সঙ্গে হালকা নীল রঙের আরেকটি গাউন বিক্রি হয় এক লাখ ৩২ হাজার ডলারে। ডায়ানা এটি পরে ১৯৮৭ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন।

থাইল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচন ৩ জুলাই

থাইল্যান্ডে আগামী ৩ জুলাই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশটির রাজা ইতিমধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে এক রাজকীয় অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছেন। গতকাল সোমবার একজন সরকারি মুখপাত্র এ তথ্য জানান।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়ার মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের শেষদিকে। একটি আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে রাজা ভূমিবলের কাছে একটি রাজকীয় অধ্যাদেশ জমা দেন। গতকাল তা অনুমোদন করে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করেন রাজা ভূমিবল। আজ মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে রাজার অধ্যাদেশ।
থাইল্যান্ডে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত হওয়ার ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে অবশ্যই নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। তা ছাড়া নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বর্তমান সরকার দায়িত্ব পালন করবে।
২০০৮ সালে আপিসিত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। বিরোধীরা অভিযোগ করেন, তিনি সেনাবাহিনীর একজন পুতুল প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রে দুটি বিমানের জরুরি অবতরণ

যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা হুমকির কারণে যাত্রীবাহী দুটি বিমান জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে। নাশকতার আশঙ্কায় বিমান দুটিকে অনির্ধারিত স্থানে নামানো হয়।
সেন্ট লুইস বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র গত রোববার জানান, শিকাগো থেকে হিউস্টনের উদ্দেশে একটি বিমান ছেড়ে যায়। মধ্য আকাশে একজন যাত্রী সন্দেহজনক ভঙ্গিতে বহির্গমন দরজার দিকে হেঁটে যান। এ সময় বিমানের কর্মীরা তাঁকে থামান এবং বিপদের আশঙ্কায় বিমানটিকে সেন্ট লুইস বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ওই যাত্রীকে নামিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে বিমানটি নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর হিউস্টনে পৌঁছায়।
একই দিন ডেট্রয়েট থেকে সান্টিয়াগো যাওয়ার সময় একটি বিমানের ডাস্টবিনে কর্মীরা একটি ‘হুমকিমূলক’ চিরকুট পান। এরপর জরুরি ভিত্তিতে বিমানটি নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কিতে অবতরণ করানো হয়।

ওসামা হত্যার প্রতিশোধ নিতে প্রিন্স হ্যারিকে হত্যা করা হবে

আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাজ্যের প্রিন্স হ্যারিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংগঠন ‘মুসলিমস এগেইনস্ট ক্রুসেডস’-এর তৈরি এক ভিডিও টেপে এ হুমকি দেওয়া হয়। গত সপ্তাহে জেহাদিদের একটি ওয়েবসাইটে তিন মিনিটের ওই ভিডিও টেপটি প্রচার করা হয়।
ভিডিও টেপে ২৬ বছর বয়স্ক প্রিন্স হ্যারিকে কথা বলতে দেখা যায়। এতে আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালীন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিলেন হ্যারি। ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত হ্যারি হেলমান্দ প্রদেশে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর হাউসহোল্ড ক্যাভালরির সঙ্গে কাজ করেন। ভিডিও ফুটেজে এক পার্টিতে নাৎসি বাহিনীর পোশাক পরা হ্যারির ছবিও দেখানো হয়। ভিডিওটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘হ্যারি দ্য নাৎসি’। ভিডিও ক্লিপটিতে সেনাদের কুচকাওয়াজ করার শব্দ শোনা যায়। এরপর হ্যারিকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। হুমকি দানকারী ব্যক্তি আরবি ভাষায় কথা বলছিলেন। পরে ভিডিওটি আকস্মিকভাবে থেমে শেষ হয়ে যায়।
তবে মুসলিমস এগেইনস্ট ক্রুসেডসের মুখপাত্র আনজেম চৌধুরী ডেইলি মিররকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভিডিও বার্তাটি তৈরির সঙ্গে সংগঠনটি জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, ‘তাঁর প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের প্রিন্স হ্যারি কিংবা ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাউকে হত্যার কোনো ইচ্ছা নেই।

এ বছর ওবামার পাকিস্তান সফরের সম্ভাবনা নেই

পাকিস্তানে এ বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা টম ডোনিলন জানান, এ মুহূর্তে ওবামার কার্যসূচিতে পাকিস্তান সফরের বিষয়টি নেই।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকে এই দুটি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। কারণ, দেশের অভ্যন্তরে লাদেনের অবস্থানের কথা সব সময় অস্বীকার করত পাকিস্তান। এই মুহূর্তে হোয়াইট হাউস পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার কোনো সম্পর্ক সৃষ্টির ব্যাপারে অনিচ্ছুক। ধারণা করা হচ্ছে, দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো সরকার থেকে কোনো রকম সাহায্য পাচ্ছে না বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করবেন না।
গত নভেম্বরে প্রথমবারের মতো ভারত সফরের আগে ওবামা হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলকে বলেছিলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে তিনি পাকিস্তান সফর করবেন। অবশ্য তখন পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বন্দী নির্যাতনের পক্ষে চেনি ও রামসফেল্ডের সাফাই

বন্দীদের ওপর ওয়াটারবোর্ডিংসহ বর্বর নির্যাতন কৌশলের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের প্রশাসনের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা। আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের অন্যতম রূপকার এই দুজন হলেন মার্কিন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড। ডিক চেনি বলেছেন, ‘ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পেতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে ওয়াটারবোর্ডিংয়ের (পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন) মতো কৌশল।’ আর রামসফেল্ড ওয়াটারবোর্ডিং আবারও চালু করার পক্ষে।
ডিক চেনি গত রোববার ‘ফক্স নিউজ সানডে’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে লাদেনের অবস্থান নিশ্চিত হতে আগের তথ্য তাঁদের সহায়তা করেছে। সন্দেহভাজন বন্দীদের নিষ্ঠুর প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের সুফল মিলেছে।’ বন্দীদের নিষ্ঠুর নির্যাতন করে জিজ্ঞাসাবাদের পন্থা আবারও চালু করা উচিত কি না জানতে চাইলে চেনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে এর সমর্থন করি।’
সিবিএস টেলিভিশনের ‘ফেইস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে রামসফেল্ড বলেন, সিআইএর সাবেক তিন পরিচালক তাঁকে জানিয়েছেন, বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াটারবোর্ডিং পন্থা অবলম্বনের ফলেই তাঁরা আল-কায়েদা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান। ওই তথ্য পরেও সুফল বয়ে এনেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, সিআইএ যে ধরনের পথ অনুসরণ করেছিল, তা কাজে দিয়েছে। সন্দেহভাজন বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদে ওই ধরনের কৌশল রদ করা ভুল হবে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলে কিউবায় মার্কিন বন্দিশালা গুয়ানতানামো বেতে বন্দীদের ওপর বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। তবে ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধের নির্দেশ দেন। তখন ওবামা বলেছিলেন, বুশের সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ের সময় বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদে যে ধরনের নির্যাতন করা হয়েছিল সেগুলো ভুল ছিল।
১ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদাপ্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর সেই পুরোনো বিতর্ক আবারও চাঙা হয়ে উঠেছে। কারণ সিআইএর দাবি, আল-কায়েদা বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই তারা লাদেনের এক ঘনিষ্ঠ বার্তাবাহক সম্পর্কে জানতে পারে। পরে ওই বার্তাবাহককে অনুসরণ করে ওই বাড়িটি শনাক্ত করা হয়।

আফগানিস্তানে বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় লাঘমান প্রদেশে একটি সরকারি ভবনের কাছে গতকাল সোমবার আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত পাঁচজন বেসামরিক লোক নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছে।
প্রদেশের মুখপাত্র ফয়জুল্লাহ পাঠান এএফপিকে জানান, কারঘেই এলাকায় জেলা সরকারি ভবনের কাছে ওই হামলা চালানো হয়। এতে হতাহত ব্যক্তিরা সবাই বেসামরিক আফগান।
এর আগে ফয়জুল্লাহ জানিয়েছিলেন, হামলায় তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর গুরুতর আহত দুই ব্যক্তি মারা যায়। এই হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি।
তবে ওই মুখপাত্র বলেন, আফগানিস্তানের শত্রুরাই এ হামলা চালিয়েছে।
ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পর তালেবান জঙ্গিরা গত এক দশক আফগানিস্তানে মোতায়েন বিদেশি সেনাদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে।
দেশটিতে অন্তত এক লাখ ৩০ হাজার বিদেশি সেনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই মার্কিন সেনা।

ন্যাটোর অবহেলায় আফ্রিকার ৬১ অভিবাসীর মৃত্যু!

ন্যাটো বাহিনী ও ইতালির উপকূলীয় রক্ষীদের অবহেলায় আফ্রিকার ৬১ জন নাগরিকের করুণ মৃত্যু হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে। চলমান যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে বাঁচতে এসব অভিবাসী লিবিয়া থেকে একটি বড় নৌকায় করে ইতালির দিকে যাচ্ছিলেন। ভূমধ্যসাগরে বিরূপ পরিস্থিতিতে ইতালির রক্ষী ও ন্যাটো বাহিনীর কাছে বারবার সহায়তা চেয়েও তাঁরা পাননি। এতে ক্ষুৎপিপাসায় নৌকার ৬১ জন যাত্রী সাগরেই মারা যান। গত রোববার এ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে আফ্রিকার ৭২ জন অভিবাসী নিয়ে ইঞ্জিনচালিত একটি বড় নৌকা রওনা হয়। এতে ইথিওপিয়ার ৪৭ জন, নাইজেরিয়ার সাত, ইরিত্রিয়ার সাত, ঘানার ছয় ও সুদানের পাঁচজন নাগরিক ছিলেন। এর মধ্যে ২০ জন নারী ও তিনজন শিশু ছিল। তাঁদের লক্ষ্য ছিল ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইতালির লামপেদুসা দ্বীপে পৌঁছানো। কিন্তু জ্বালানি, খাদ্য ও পানির অভাবে তাঁরা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েন।
মরতে মরতে বেঁচে যাওয়া নৌকার নয়জন যাত্রীর একজন ইথিওপিয়ার আবু কুরকে বলেন, নৌকার স্যাটেলাইট ফোন থেকে ইতালির উপকূলীয় রক্ষী ও ন্যাটোর যুদ্ধজাহাজে যোগাযোগ করে সহায়তার জন্য বারবার ধরনা দেন তাঁরা। কিন্তু তারা কেউ কান দেয়নি। এর মধ্যে খাবার ও পানি ফুরিয়ে গেলে চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়েন তাঁরা। ২৭ মার্চ নৌকার জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে এটি স্রোতের টানে দিগ্ভ্রান্ত হয়ে ভেসে যেতে থাকে। ২৯ বা ৩০ মার্চের দিকে নৌকাটি ন্যাটোর একটি বিমানবাহী রণতরীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেনাদের দৃষ্টি আকর্ষণের অনেক চেষ্টা করেও তাঁরা ব্যর্থ হন।
এভাবে সহায়তা না পেয়ে খাদ্য ও পানির অভাবে একে একে নৌকার ৬১ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। কুরকেসহ ১১ জন মরো মরো হয়ে বেঁচে থাকেন।
কুরকে বলেন, জীবন ধারণের জন্য তাঁকে পানির বদলে নিজের মূত্র পান করতে হয়েছে। খেতে হয়েছে দুই টিউব টুথপেস্ট।
১০ এপ্রিল নৌকাটি অবশেষে ডাঙায় গিয়ে ভেড়ে। তবে তা সেই লিবিয়ায়ই। যুদ্ধবিক্ষুব্ধ মিসরাতা শহরের কাছাকাছি জায়গায় পৌঁছান তাঁরা। একজন অভিবাসী মাটিতে পা রাখার পরপরই মারা যান। বাকি আটজনকে গ্রেপ্তার করে গাদ্দাফির অনুগত সেনারা। চার দিন কারাগারে আটকে রাখা হয় তাঁদের। এর মধ্যে মারা যান আরও একজন।
ছাড়া পাওয়ার পর ত্রিপোলির একটি বাড়িতে আত্মগোপন করেন নয়জন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানেই তাঁরা অবস্থান করছিলেন। সাংবাদিকদের তাঁরা বলেন, ইউরোপীয় কোনো দেশে আশ্রয়ের আশ্বাস পেলে আবারও তাঁরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে প্রস্তুত।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আজ শেষ দফা ভোট গ্রহণ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে আজ মঙ্গলবার শেষ দফা ভোট নেওয়া হবে। এর আগে পাঁচ দফায় ২৮০টি আসনের ভোট নেওয়া হয়। আজ ভোট গ্রহণ করা হবে মাওবাদী অধ্যুষিত তিন জেলার জঙ্গলমহলের ১৪টি আসনে। এর মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরে সাতটি, বাঁকুরায় তিনটি এবং পুরুলিয়ায় চারটি আসনে ভোট নেওয়া হবে। প্রার্থী রয়েছেন ৯৭ জন। এর মধ্যে নারীপ্রার্থী সাতজন। প্রার্থীদের মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩৮, বাঁকুরায় ২২ এবং পুরুলিয়ায় ৩৭ জন রয়েছেন। ভোটার রয়েছেন ২৬ লাখ ৫৭ হাজার ৪৩৪ জন। ভোট নেওয়া হবে তিন হাজার ৫৩৪টি বুথে।
ভোট গ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টায়, শেষ হবে বিকেল তিনটায়। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা বলে ভোটের সময় দুই ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে।
ভোট উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হেলিকপ্টারে করে নজরদারি চালানো হচ্ছে। নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত ৬১৪ কোম্পানির আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান। আনা হয়েছে মাইন-নিরোধক গাড়ি। রাখা হয়েছে স্যাটেলাইট ফোনও। মাওবাদীদের নাশকতা রুখতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এ অঞ্চলের সঙ্গে থাকা বিহার, ওডিশা ও ঝাড়খন্ড সীমান্ত।
আজকের নির্বাচনে জঙ্গলমহলের পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতোর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। ছত্রধর লড়ছেন ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে ‘সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক মঞ্চ’র ব্যানারে ঝুড়ি প্রতীক নিয়ে। ছত্রধরের সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটির মাধ্যমে মাওবাদীরা জঙ্গলমহলে পুলিশ ও সিপিএমের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিল।
এ ছাড়া আজ ভাগ্য নির্ধারিত হবে পশ্চিমবঙ্গের তিন মন্ত্রী ও এক সাবেক মন্ত্রীর। তাঁরা হলেন মন্ত্রী রবিলাল মৈত্র, সুশান্ত ঘোষ, দেবলীনা হেমব্রম এবং সাবেক মন্ত্রী উপেন কিসকু।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত করলেন সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে রামমন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ওই ভূমির স্বত্ব নিয়ে মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল সোমবার বিচারক আফতাব আলম ও আর এম লোধার সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
সুপ্রিম কোর্টে গতকালই ছিল মামলাটির প্রথম শুনানি। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত ভূমির ওপর স্থিতাবস্থা থাকবে বলেও নির্দেশ দেন আদালত। এতে মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই ভূমিটি ব্যবহার করতে পারবে না।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে এলাহাবাদের হাইকোর্টের রায়ে উত্তরাঞ্চলীয় শহর অযোধ্যায় ওই ভূমি তিন ভাগ করে একটি অংশ মুসলিম, আরেকটি হিন্দু ও অন্যটি স্থানীয় হিন্দু ট্রাস্টের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে হিন্দু ও মুসলিম উভয় পক্ষ থেকে একাধিক আপিলের আবেদনপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে নির্মোহি আখাড়া, অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা, জামায়েত উলামা-ই-হিন্দ ও সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড।
গতকাল মামলার রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার সময় বিচারকেরা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এলাহাবাদের হাইকোর্ট কিসের ভিত্তিতে ওই বিতর্কিত ভূমি তিন ভাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন, তা তাঁদের বোধগম্য নয়। কারণ মামলার কোনো পক্ষই ভূমিটির ভাগ চেয়ে আবেদন করেনি।
হাইকোর্টে রায়কে ‘পুরোপুরি আজব’ বলে মন্তব্য করেন বিচারক আফতাব আলম। বিচারক আর এম লোধা বলেন, যে বিষয়টি মামলায় কখনো উত্থাপিত হয়নি, সে বিষয়ের ওপর রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সুপ্রিম কোর্ট থেকে গতকাল বলা হয়, মামলায় যে তিন পক্ষ রয়েছে, তারা প্রত্যেকেই বিতর্কিত ভূমি নিজেদের বলে দাবি করেছে। কোনো পক্ষই ওই ভূমির খণ্ডিত অংশ দাবি করেনি। কাজেই হাইকোর্টের এই রায় মেনে নেওয়া যায় না। এ ব্যাপারে আরও শুনানি হবে বলে আদালত জানান। তবে পরবর্তী শুনানির তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা বলেন, ‘মামলাটি আমরা ভালোভাবে খতিয়ে দেখব। শুনানি চলাকালে হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা থাকবে।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর রামমন্দির গড়ার লক্ষ্যে উগ্রপন্থী হিন্দুরা ষোড়শ শতাব্দীর বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলে। তাদের মতে, মোগল সম্রাট বাবর ওই মসজিদটি এমন স্থানে নির্মাণ করেন, যেখানে হিন্দুধর্মের অবতার রামের জন্মস্থানকে মহিমান্বিত করতে একটি মন্দির নির্মাণের কথা ছিল। বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার জেরে ব্যাপকভাবে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই হাজারের বেশি লোক নিহত হয়।

স্বামীর চেয়ে বেশি বয়সী স্ত্রীর সংখ্যা বাড়ছে

বামীর চেয়ে বয়স বেশি, এমন নারীর সংখ্যা গত ৪০ বছরে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বামীর চেয়ে এসব নারীর বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর বেশি।
নতুন একটি গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে, স্বামীর চেয়ে বয়স বেশি—এমন নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ২৬ শতাংশ স্বামীর বয়স স্ত্রীর চেয়ে কম। ১৯৬৩ সালে এই হার ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ।
এই ধারা এখনো চলছে। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যুক্তরাজ্যের প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটন । কেটের চেয়ে পাঁচ মাসের ছোট উইলিয়াম।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস (ওএনএস)। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, স্বামীর চেয়ে পাঁচ বছরের বড় নারীর সংখ্যা ১৯৬৩ (১ শতাংশ) সালের চেয়ে ২০০৩ (২ শতাংশ) সালে দ্বিগুণ বাড়ে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সমান বয়সী যুগলদের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। ১৯৬০-এর দশকে স্বামীর চেয়ে স্ত্রীদের গড় বয়স ছিল দুই বছর বেশি।
যুক্তরাজ্যের সুশীল সমাজবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিভিটাসের অ্যানাসটাসিয়া ডি ওয়াল বলেছেন, ‘আগে নারীদের কাছে বিয়ে মানে ছিল তুমি একজন স্ত্রী। তারা ছিল স্বামীর অধীনে। এখন তাদের কাছে বিয়ে মানে বন্ধু খুঁজে নেওয়া।’

আবার বিপাকে আফ্রিদি

মাঠের মতো মাঠের বাইরেও ‘অস্থির ব্যাটিং’ আরও একবার বিপাকে ফেলল শহীদ আফ্রিদিকে। কোচের সঙ্গে পাকিস্তানের ওয়ানডে অধিনায়কের দ্বন্দ্ব চলছে—এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল কিছুদিন ধরেই। কিন্তু ঝামেলাটা হয়েছে আফ্রিদি এসব নিয়ে খোলামেলা কথা বলে ফেলায়। স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন প্রকাশ্য বক্তব্য আচরণবিধির বরখেলাপ, পিসিবি তাই ব্যাখ্যা চেয়েছে আফ্রিদির কাছে।
দল নির্বাচনে কোচ ওয়াকার ইউনুসের হস্তক্ষেপে এর আগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক মহসিন খান। পরে জানা যায়, আফ্রিদি ও কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারও ওয়াকারের ওপর নাখোশ। এ নিয়ে দেশে ফেরার পর আফ্রিদির সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বাসও দিয়েছিলেন পিসিবি প্রধান ইজাজ বাট। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে দেশে ফিরে আফ্রিদি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সমস্যাটা এমন নয় যে সমাধান করা যাবে না। তবে আমার মনে হয়, অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ না করে সবারই নিজের কাজে মন দেওয়া উচিত।’
ঘরের খবর এভাবে সামনে আনাতেই চটেছে পিসিবি। এক বিবৃতিতে বোর্ড বলেছে, ‘টিম ম্যানেজমেন্টের দ্বন্দ্ব নিয়ে শহীদ আফ্রিদি সংবাদমাধ্যমে যা বলেছেন, সেটা পিসিবির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এটা কোড অব কনডাক্টের পরিষ্কার বরখেলাপ এবং আফ্রিদির কাছে প্রকাশ্যে এসব বলার ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে। সফর শেষে ম্যানেজারের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পিসিবি উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।’ ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব দিয়ে নেতৃত্বে আসা আফ্রিদি খোলামেলা কথা বলার জন্য কয়েকবারই বিপাকে পড়েছেন। গত বছরের শেষ দিকে প্রকাশ্যে বেশ কজন সতীর্থের সমালোচনা করার পর তো অধিনায়কত্ব যেতেই বসেছিল। বিশ্বকাপের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে পিসিবি তাঁকেই নেতৃত্বে বহাল রাখে, কিন্তু প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়। এবার কী হবে?

এক পয়েন্ট দূরে বার্সা

হাতে আরও তিন ম্যাচ। আর তা থেকে দরকার মাত্র একটি পয়েন্ট। কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ বাকি তিন ম্যাচের যেকোনো একটিতে জয়বঞ্চিত হলেও চলবে। চাইলে বার্সেলোনা শিরোপা উৎসবটা শুরু করে দিতে পারে। কিন্তু বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলা উচ্ছ্বাসে ভাসছেন না।
আগের দিন সেভিয়াকে হারিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে আনলেও পরশু বার্সেলোনা নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী এসপানিওলকে ২-০ গোলে হারিয়ে ব্যবধান আবার ৮-এ নিয়ে গেছে। এই জয়ে শিরোপার খুব কাছে বার্সেলোনা, কিন্তু গার্দিওলা নিরাবেগ।
আনুষ্ঠানিকতার জন্যই উচ্ছ্বাসটা জমিয়ে রাখছেন তিনি, ‘প্রথমবারের মতো লিগ শিরোপাটা খুব কাছাকাছি। এটা এখন আমাদের ওপর নির্ভর করছে। আমাদের অবশ্যই লেভান্তের বিপক্ষে (আমাদের পরের ম্যাচ) ফল পেতে হবে।’ লেভান্তের বিপক্ষে ম্যাচটি আগামীকালই।
আগের রাতে রিয়াল মাদ্রিদ সেভিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে ৬-২ গোলে। একই শহরের দল হলেও এসপানিওলের বিপক্ষে বার্সেলোনারও বড় জয়ই পাওয়া উচিত ছিল। স্কোরলাইন হয়তো দুর্দান্ত নয়, তবে ম্যাচে বার্সেলোনার প্রাধান্য ছিল সুস্পষ্ট। ২৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কর্নার কিক থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে। হতাশা একটাই, গোল পাননি লিওনেল মেসি।
সেভিয়ার বিপক্ষে রিয়ালের জয় বার্সেলোনা শিবিরকে একটু চাপে ফেলেছিল। সেই চাপ সরাতে পেরে বার্সেলোনায় স্বস্তি। ইনিয়েস্তাই যেমন বলেছেন, ‘আমরা জানতাম, আমাদের ব্যর্থ হওয়া যাবে না। শিরোপা নিশ্চিত করতে এখন আমাদের শুধুই একটি পয়েন্ট প্রয়োজন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিরোপা জিততে হবে।’
কোচ গার্দিওলা খেলোয়াড়দের একটু সতর্কও করেছেন, ‘আমরা এখনো কিছুই জিতিনি, তবে খুব কাছাকাছি। একমাত্র ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদই ট্রফি জিতেছে (কোপা ডেল রে)।’
এই জয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৩৫ ম্যাচে ৯১, রিয়ালের ৮৩। বাকি তিন ম্যাচে জিততে পারলে লিগ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ১০০ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়বে বার্সেলোনা। গত মৌসুমে সর্বোচ্চ ৯৯ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জয়ের বর্তমান রেকর্ডটিও তাদের।

কলকাতাকে টপকে দুইয়ে চেন্নাই

জয়পুরের সোয়াই মানসিং স্টেডিয়ামের সঙ্গে অন্য রকম সম্পর্কই বলা যায় মহেন্দ্র সিং ধোনির। এই স্টেডিয়ামেই রয়েছে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৮৩। ছয় বছর আগের সেই স্মৃতি মনে করেই কিনা কাল আইপিএলে খেললেন হাত খুলে। মাত্র ১৯ বলে (৩ চার, ৩ ছক্কায়) অপরাজিত ৪১। সেই সঙ্গে মাইক হাসির ৪৬, মুরালি বিজয়ের ৫৩ ও সুরেশ রায়নার ৪৩ মিলিয়ে চেন্নাই সুপার কিংসের স্কোরটা দাঁড়াল ১৯৬/৩। এবারের আইপিএলের দলীয় সর্বোচ্চের দিক দিয়ে এটি চতুর্থ।
ম্যাচটির ফল লেখা হয়ে গিয়েছিল তখনই! দেখার বিষয় ছিল রাজস্থান কতদূর যেতে পারে। এই বিশাল রানের পেছনে ছুটতে গিয়ে তারা অলআউট ১৩৩-এ। চেন্নাই জিতল ৬৩ রানে। রাজস্থানের অজিঙ্কা রাহানে একাই যা লড়লেন, ৩৬ বলে করেন সর্বোচ্চ ৫২। এই জয়ে ১১ ম্যাচে সমান ১৪ পয়েন্ট নিয়েও নেট রানরেটে কলকাতাকে টপকে দুইয়ে উঠে এল চেন্নাই।
শেবাগের আইপিএল শেষ
কাঁধের যে অবস্থা ছিল, আইপিএলে খেলার সিদ্ধান্তটাই ছিল বড় একটা ঝুঁকি। কিন্তু একই সঙ্গে দলের অধিনায়ক ও অন্যতম ব্যাটিং ভরসা ঝুঁকিটা নিয়েছিলেন বীরেন্দর শেবাগ। লাভ খুব বেশি হয়নি। সর্বোচ্চ রানের ‘কমলা টুপি’ তাঁর মাথায়। তবে দলের অবস্থা করুণ, তাঁর কাঁধেরও। এখনই অস্ত্রোপচার না করালেই নয়। শেবাগের জন্য তাই এবারের আইপিএল শেষ। যত দ্রুত সম্ভব লন্ডন গিয়ে অস্ত্রোপচারটা সেরে ফেলতে চান দিল্লি ডেয়ারডেভিলস অধিনায়ক। এ সপ্তাহের শেষ নাগাদই হতে পারে অস্ত্রোপচার। দিল্লির অধিনায়ক এখন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার জেমস হোপস।

চলছে জোকোভিচের স্বপ্নযাত্রা

আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরণে আরও এক ধাপ এগোলেন নোভাক জোকোভিচ। এক নম্বর হওয়ার দৌড়ে রাফায়েল নাদালের সঙ্গে দূরত্ব আরেকটু কমালেন টানা ৩৪টি ম্যাচ জেতা সার্বিয়ান। রোববার মাদ্রিদ মাস্টার্সের ফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় নাদালকে সরাসরি (৭-৫, ৬-৪ গেমে) হারিয়েছেন জোকোভিচ।
ক্লে কোর্টে প্রায় দুই বছর এবং টানা ৩৭টি জয়ের পর হারের স্বাদ পেলেন নাদাল। তাঁর সর্বশেষ পরাজয়টি ২০০৯ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে রবিন সোদারলিংয়ের কাছে। গত মার্চ ও এপ্রিলে ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও মায়ামিতে নাদালকে হারালেও ক্লে কোর্টে এই প্রথম শিরোপা জিতলেন জোকোভিচ। ক্লে কোর্টে এর আগের ৯টি ম্যাচেই জিতেছিলেন নাদাল।
র্যাঙ্কিংয়ে ১৮০৫ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও এ বছর যেভাবে এগোচ্ছেন জোকোভিচ, তা নাদালের জন্য তো হুমকিই। এ বছর টানা ৩টি মাস্টার্স জেতা বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড় পয়েন্টের ব্যবধান কমাতে হাতে পাচ্ছেন গতকাল থেকেই শুরু হয়ে যাওয়া রোম মাস্টার্স। এরপর আছে ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডন।
তবে জোকোভিচ জানিয়েছেন, তাঁর মাথার মধ্যে শুধু এক নম্বর হওয়ার ব্যাপারটাই ঘুরছে না, ‘আমি যদি জিততে থাকি, আমি এর কাছাকাছি পৌঁছে যাব, কিন্তু যেহেতু আমি মাত্রই ক্লে কোর্ট মৌসুম শুরু করলাম তাই চেষ্টা করছি এটা নিয়ে চিন্তা না করতে।’
এক নম্বর হতে হলে কী করতে হবে সেটা ভালোই জানা এ বছর ছয়টি শিরোপা জেতা জোকোভিচের, ‘দুটি ক্লে টুর্নামেন্ট (বেলগ্রেড ও মাদ্রিদ) জিতে শুরু করাটা অবশ্যই নিখুঁত সূচনা। সামনের টুর্নামেন্টগুলোতেই আমি মনোযোগ দিচ্ছি। আমি জানি, এক নম্বর হতে চাইলে আমাকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে হবে। রাফা এবং অন্য খেলোয়াড়েরাও ঠিক ওটাই করবে।’
নিজের শহরে ১৫ হাজার সমর্থকের সামনে পরাজিত নাদাল জোকোভিচের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়ে বলেছেন, ‘অবশ্যই আমি আমার সেরা খেলাটা খেলিনি। আমি খারাপ খেলিনি, স্বাভাবিকই খেলেছি। কিন্তু এটা জোকোভিচের বিপক্ষে যথেষ্ট ছিল না।’
এর আগে মহিলা এককের ফাইনালে চেক প্রজাতন্ত্রের পেত্রা ভাইতোভা ৭-৬ (৭/৩), ৬-৪ গেমে বেলারুশের ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কোকে হারিয়ে জিতেছেন ক্যারিয়ারে চতুর্থ শিরোপা। গত উইম্বলডনের সেমিফাইনাল খেলা ভাইতোভা চলে এসেছেন র্যাঙ্কিংয়ের দশে।

তিন অধিনায়কের ভাবনা ‘আধুনিক’: ট্রট

এ এক নতুন ধারণাই। একটি ক্রিকেট দলে তিন ফরম্যাটের জন্য তিনজন আলাদা অধিনায়ক-আগে কখনো কেউ দেখেনি। এই নতুন বিপ্লবের জন্মদাতা ইংল্যান্ড। দেশটিতে এই ব্যাপারটি নিয়ে চলছে আলোচনার ঝড়। কিছুদিন আগেই কেভিন পিটারসেন জানিয়েছেন, তিনি আলাদা তিন অধিনায়কের অধীনে খেলার জন্য নাকি মুখিয়ে রয়েছেন। তাঁর কাছে পুরো ব্যাপারটিই দারুণ উদ্দীপনাদায়ক মনে হচ্ছে। ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের অধিনায়ক থাকছেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। তবে ওয়ানডেতে অ্যালিস্টার কুক ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন স্টুয়ার্ট ব্রড।
গত এক বছর ধরেই ফর্মের তুঙ্গে থাকা ইংলিশ ব্যাটসম্যান জোনাথন ট্রট জানিয়েছেন, ইংলিশ দলের তিন অধিনায়কের ধারণা ‘আধুনিক চিন্তা’।
তিনি আরো বলেছেন, ‘ক্রিকেট বিশ্বে এতদিন দুই অধিনায়কের ধারণা ছিল। তবে তিন অধিনায়কের এই নতুন চিন্তা সত্যিই সামনে এগিয়ে চলার একটি ব্যাপার। অচিরেই ক্রিকেট বিশ্বে এই ধারণাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।’
ট্রট ইংল্যান্ডের তিন অধিনায়কেরই ক্রিকেটীয় প্রেক্ষাপটের প্রশংসা করে বলেন, ‘ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবে এই তিনজনের প্রতিভা ও মনন নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ নেই।
বিশ্বকাপের ব্যর্থতা বাদ দিলে ইংলিশ ক্রিকেটের নতুন দিনেরই সূচনা হয়েছে বলে মনে করেন জোনাথন ট্রট। তিনি বলেন, ‘অ্যাশেজ বিজয়ের পর ইংল্যান্ড দলকে নিয়ে প্রত্যাশার জন্ম হয়েছে। সকলেই এখন আমাদের জয়ী দেখতে চায়। ব্যাপারটি আসলেই উপভোগ্য।’

আইসিসির বৈঠকে রেফারেল পদ্ধতিই মূল এজেন্ডা

ক্রিকেটে রেফারেল পদ্ধতিটা বোধ হয় সব ফরম্যাটের জন্যই বাধ্যতামূলক হয়ে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার লর্ডসে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির ক্রিকেট কমিটি এমন একটি এজেন্ডা নিয়েই বৈঠকে বসছে।
গত মাসে সমাপ্ত বিশ্বকাপ ক্রিকেটে রেফারেল পদ্ধতি ভালোভাবেই প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে এখনো সব ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ম্যাচে রেফারেল পদ্ধতির বাধ্যতামূলক প্রয়োগ শুরু হয়নি। দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোর মধ্যে গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজে এ পদ্ধতির প্রয়োগ দেখা গিয়েছিল।
রেফারেল নিয়ে বিশ্বকাপে কিন্তু কম জল ঘোলা হয়নি। সিদ্ধান্তগুলো পক্ষে না গেলেই এটা বিতর্ক স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সবচেয়ে বড় বিতর্কটি ছিল ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যকার টাই হওয়া গ্রুপ ম্যাচটিতে যখন ইয়ান বেলের আউটটি তৃতীয় আম্পায়ার রিভিউতে বাতিল করে দেন। আইসিসি এর একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছিল সে সময়। তারা বলেছিল ইয়ান বেল বেঁচে গেছেন। কারণ, তিনি স্ট্যাম্পের চেয়ে দুই দশমিক পাঁচ মিটার এগিয়ে ছিলেন। বর্তমান প্রযুক্তি নাকি এ দূরত্বের সিদ্ধান্তগুলো নির্ভুলভাবে দিতে অপারগ।
রেফারেল পদ্ধতি ছাড়াও ওয়ানডে ক্রিকেট নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা-ভাবনা শুরু করতে চাচ্ছে আইসিসি। অনেকেই ওয়ানডে ক্রিকেটকে বাড়াবাড়ি রকমের একগুঁয়ে লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছে। ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের মুখে ওয়ানডে ক্রিকেটকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শও নাকি দিচ্ছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা। অস্ট্রেলীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের আদলে ৫০ ওভারের ম্যাচকে দুই ইনিংসে বিভক্ত করার একটি পরামর্শও রয়েছে। এর পাশাপাশি পরামর্শ রয়েছে বোলারদের সর্বোচ্চ ১০ ওভারের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেওয়ার।
টেস্ট ম্যাচকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবনা-চিন্তার সময় এসেছে বলে মনে করে আইসিসি। অনেক আগে থেকেই দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচের কথা বলে আসছে তারা। এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্তও নাকি আজ শুরু হতে যাওয়া সভায় আসতে পারে।
দিন-রাতের টেস্টের মুখে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে বলের রং। রাতের বেলা লাল বলে খেলা সম্ভব নয়, এটা মেনে নিয়েই বিভিন্ন রঙের বল দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। লাল বল বাদ দিলে সাদা বল নিয়েও নাকি অনেকের আপত্তি রয়েছে। আজকের সভায় এ নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।