Showing posts with label একরামুল হক. Show all posts
Showing posts with label একরামুল হক. Show all posts
Thursday, March 7, 2019
পুলিশ-পরিবহন মালিক পরস্পর দোষারোপ by একরামুল হক ও আবদুর রাজ্জাক

সাড়ে
তিন বছর আগেই ঢাকা–চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম–কক্সবাজারসহ দেশের ২২টি মহাসড়কে
সিএনজিচালিত তিন চাকার যানবাহন, অটোরিকশা, অটোটেম্পো ও অযান্ত্রিক যানবাহন
চলাচল নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু মহাসড়কে
অটোরিকশাসহ নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল করছে। এতে কখনো কখনো মহাসড়কে যানজটের
সৃষ্টি হচ্ছে। ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।
দুর্ঘটনা এড়ানো এবং বড় গাড়ির চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ২০১৫ সালের ১ আগস্ট থেকে দেশের ২২ মহাসড়কে অটোরিকশাসহ ধীরগতির গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।
পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মহাসড়কে অটোরিকশাসহ ধীরগতির গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কিছু পরিবহন সংগঠন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। তাঁদের কারণেই শক্ত অবস্থানে যেতে পারছে না হাইওয়ে পুলিশ। তবে পরিবহন মালিক সংগঠন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ ‘টোকেন–বাণিজ্য’ করতে ছোট গাড়ি চালাচ্ছে।
সরেজমিন চিত্র
গত শনিবার চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ার কেরানীহাট থেকে কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক পর্যন্ত শত শত অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। প্রায় প্রতিটি বাজারে যাত্রী ওঠানামা করছিল অটোরিকশাগুলো। কেরানীহাট থেকে মইজ্জারটেক পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৪৪ কিলোমিটার। এই পথে অন্তত ডজনখানেক হাটবাজার রয়েছে। এই হাট থেকে ওই হাটে যেতে স্থানীয় লোকজন অটোরিকশায় ভ্রমণ করছিলেন। কিন্তু হাইওয়ে কিংবা জেলা ট্রাফিক পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।
স্থানীয় চালক ও যাত্রীরা জানায়, সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলোতে মহাসড়কে নিষিদ্ধ অটোরিকশা চলাচল বেড়ে যায়। কারণ, তখন কর্মজীবী লোকজন গ্রামমুখী হন।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে গাড়ি চালানোর কারণ জানতে চাইলে গত সোমবার দুপুরে পটিয়া থানার মোড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নুরুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে চালানোর জন্য গাড়িটি কেনা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এতে হাজার হাজার চালকের মতো তিনিও সমস্যায় পড়েন।
নুরুল ইসলাম আরও বলেন, গ্রামের সড়কগুলোতে শত শত অটোরিকশা চলছে। কিন্তু যাত্রীর সংখ্যা কম থাকায় তাঁরা মহাসড়কে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। নইলে প্রতিযোগিতার বাজারে মালিকের দৈনিক জমাও তাঁরা দিতে পারবেন না।
একই দিন চন্দনাইশে কথা হয় অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ বোরহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে কম দূরত্বের গন্তব্যে যাত্রীরা বাস পায় না। এ জন্য তারা অটোরিকশা বেছে নেয়। মহাসড়কে অটোরিকশা চালালে যাত্রী পাওয়া যায়।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারণ জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিএনজি থ্রি হুইলার মালিক পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দিন বলেন, গ্রামের রাস্তায় অটোরিকশা চালিয়ে সন্তোষজনক আয় সম্ভব নয় বলে অনেকে মহাসড়কে চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। এ জন্য কেউ কেউ পুলিশের সঙ্গে গোপন চুক্তি করেছেন। নইলে শত শত গাড়ি মহাসড়কে চলবে কেন?
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে এই মহাসড়কটি চার লেনের হওয়ায় উল্টো পথে অটোরিকশা বেশি চলাচল করে।
হাইওয়ে পুলিশের বক্তব্য মানতে চায় না পরিবহন মালিক সমিতি
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছোট গাড়ি চলাচলের কারণ জানতে চাইলে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মহাসড়কে বড় গাড়ির অভাবে স্থানীয় যাত্রীরা ছোট গাড়ি বেছে নিয়েছে। তবে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়েছে। যদিও দু–চারটি চুরি করে উল্টো পথে চলছে। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ছোট গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করতে পুলিশ উদ্যোগ নিয়েছে।
মহাসড়কে বড় গাড়ি তথা বাসের স্বল্পতার কারণ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, কিছু পরিবহন সমিতি এবং স্থানীয় প্রতিনিধি রাস্তায় বড় গাড়ি নামাতে বাধা দেন। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আনা হয়েছে। মহাসড়কে বাসের কোনো বিকল্প নেই।
হাইওয়ে পুলিশ সুপারের বক্তব্য মানতে রাজি নন চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম।। তিনি বলেন, অবৈধ গাড়ির টোকেন–বাণিজ্য বন্ধ হলে পুলিশের আয় কমে যাবে। এ জন্য মহাসড়কে ছোট গাড়ি চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না।
মঞ্জুরুল আলম আরও বলেন, কোন মহাসড়কে যাত্রীর সংখ্যা কত তা জরিপ করে বড় গাড়ি নামানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পুলিশের টোকেন–বাণিজ্য বন্ধ না হলে সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।
দুর্ঘটনা এড়ানো এবং বড় গাড়ির চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ২০১৫ সালের ১ আগস্ট থেকে দেশের ২২ মহাসড়কে অটোরিকশাসহ ধীরগতির গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।
পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মহাসড়কে অটোরিকশাসহ ধীরগতির গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কিছু পরিবহন সংগঠন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। তাঁদের কারণেই শক্ত অবস্থানে যেতে পারছে না হাইওয়ে পুলিশ। তবে পরিবহন মালিক সংগঠন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ ‘টোকেন–বাণিজ্য’ করতে ছোট গাড়ি চালাচ্ছে।
সরেজমিন চিত্র
গত শনিবার চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ার কেরানীহাট থেকে কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক পর্যন্ত শত শত অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। প্রায় প্রতিটি বাজারে যাত্রী ওঠানামা করছিল অটোরিকশাগুলো। কেরানীহাট থেকে মইজ্জারটেক পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৪৪ কিলোমিটার। এই পথে অন্তত ডজনখানেক হাটবাজার রয়েছে। এই হাট থেকে ওই হাটে যেতে স্থানীয় লোকজন অটোরিকশায় ভ্রমণ করছিলেন। কিন্তু হাইওয়ে কিংবা জেলা ট্রাফিক পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।
স্থানীয় চালক ও যাত্রীরা জানায়, সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলোতে মহাসড়কে নিষিদ্ধ অটোরিকশা চলাচল বেড়ে যায়। কারণ, তখন কর্মজীবী লোকজন গ্রামমুখী হন।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে গাড়ি চালানোর কারণ জানতে চাইলে গত সোমবার দুপুরে পটিয়া থানার মোড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নুরুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে চালানোর জন্য গাড়িটি কেনা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এতে হাজার হাজার চালকের মতো তিনিও সমস্যায় পড়েন।
নুরুল ইসলাম আরও বলেন, গ্রামের সড়কগুলোতে শত শত অটোরিকশা চলছে। কিন্তু যাত্রীর সংখ্যা কম থাকায় তাঁরা মহাসড়কে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। নইলে প্রতিযোগিতার বাজারে মালিকের দৈনিক জমাও তাঁরা দিতে পারবেন না।
একই দিন চন্দনাইশে কথা হয় অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ বোরহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে কম দূরত্বের গন্তব্যে যাত্রীরা বাস পায় না। এ জন্য তারা অটোরিকশা বেছে নেয়। মহাসড়কে অটোরিকশা চালালে যাত্রী পাওয়া যায়।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারণ জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিএনজি থ্রি হুইলার মালিক পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দিন বলেন, গ্রামের রাস্তায় অটোরিকশা চালিয়ে সন্তোষজনক আয় সম্ভব নয় বলে অনেকে মহাসড়কে চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। এ জন্য কেউ কেউ পুলিশের সঙ্গে গোপন চুক্তি করেছেন। নইলে শত শত গাড়ি মহাসড়কে চলবে কেন?
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে এই মহাসড়কটি চার লেনের হওয়ায় উল্টো পথে অটোরিকশা বেশি চলাচল করে।
হাইওয়ে পুলিশের বক্তব্য মানতে চায় না পরিবহন মালিক সমিতি
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছোট গাড়ি চলাচলের কারণ জানতে চাইলে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মহাসড়কে বড় গাড়ির অভাবে স্থানীয় যাত্রীরা ছোট গাড়ি বেছে নিয়েছে। তবে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়েছে। যদিও দু–চারটি চুরি করে উল্টো পথে চলছে। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ছোট গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করতে পুলিশ উদ্যোগ নিয়েছে।
মহাসড়কে বড় গাড়ি তথা বাসের স্বল্পতার কারণ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, কিছু পরিবহন সমিতি এবং স্থানীয় প্রতিনিধি রাস্তায় বড় গাড়ি নামাতে বাধা দেন। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আনা হয়েছে। মহাসড়কে বাসের কোনো বিকল্প নেই।
হাইওয়ে পুলিশ সুপারের বক্তব্য মানতে রাজি নন চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম।। তিনি বলেন, অবৈধ গাড়ির টোকেন–বাণিজ্য বন্ধ হলে পুলিশের আয় কমে যাবে। এ জন্য মহাসড়কে ছোট গাড়ি চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না।
মঞ্জুরুল আলম আরও বলেন, কোন মহাসড়কে যাত্রীর সংখ্যা কত তা জরিপ করে বড় গাড়ি নামানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পুলিশের টোকেন–বাণিজ্য বন্ধ না হলে সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।
Sunday, July 26, 2015
৬৬ সংবর্ধনার পর দায়িত্ব নিচ্ছেন মেয়র নাছির by একরামুল হক
২৯
এপ্রিল। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরের দিন। আওয়ামী লীগের
কেন্দ্রীয় এক নেতা একটি অতিকায় হাতি নিয়ে আসেন চট্টগ্রাম শহরে। সেই হাতি
শুঁড় তুলে অভিনন্দন জানায় নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে। রাজকীয়
সংবর্ধনার সেই শুরু।
প্রথম আলোর হিসাব অনুযায়ী গত ৮৮ দিনে কমপক্ষে ৬৬টি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়েছে মেয়র নাছিরের জন্য। সংবর্ধনার অর্ধশতক পেরিয়ে আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিচ্ছেন তিনি।
মেয়রের জন্য একের পর এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আফছারুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসলে আমজনতার আগ্রহ উপেক্ষা করা যায় না। আগের মেয়র যা করতে পারেননি নতুন মেয়র সেই প্রত্যাশা পূরণ করবেন বলেই আমজনতার প্রত্যাশা।’
মেয়র হিসেবে আ জ ম নাছির শপথ নেন গত ৬ মে। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে দায়িত্ব পেতে তাঁকে এত দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ হবে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত। ২০১০ সালের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর জয়ী মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রথম সভা হয় ওই বছরের ২৬ জুলাই। যার মেয়াদ গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে।
দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগে আ জ ম নাছিরের একের পর এক সংবর্ধনা গ্রহণ নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি রয়েছে। তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া না–দেওয়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডাও কম হয়নি।
আওয়ামী লীগের নেতারাও বলছেন, এর আগে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা বিশিষ্ট নাগরিকের জন্য এত বেশি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নজির নেই। দলীয় সংবর্ধনার বাইরে ব্যবসায়ী সংগঠন, আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, স্থানীয় ক্লাব, মহল্লা কমিটি, হকার্স সমিতি, সাংসদ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, ঠিকাদার সমিতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
নাম না প্রকাশের শর্তে চট্টগ্রামের একজন শিক্ষাবিদ বলেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য চট্টগ্রামে মাত্র দুটি সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এর একটি নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অন্যটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদালয় ক্যাম্পাসে। ড. ইউনূস চট্টগ্রামের সন্তান।
সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যাপক সিকান্দার খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাঁরা মেয়রকে সংবর্ধনা দিচ্ছেন, সেটা কেন দিচ্ছেন তা কেবল তাঁরাই জানেন। আর যিনি নিচ্ছেন তাঁকেও বুঝে নিতে হবে কেন তিনি নিচ্ছেন। নিশ্চয়ই এখানে প্রত্যাশা-প্রাপ্তির কিছু বিষয় থাকতে পারে। তবে এত বেশি সংবর্ধনার আয়োজন রাজনীতিতে নতুন মাত্রা সৃষ্টি হয়েছে।’
মেয়রের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, মে এবং জুন মাসে প্রায় প্রতিদিনই সংবর্ধনা সভা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো দিন সর্বোচ্চ তিনটি সংবর্ধনা সভাতেও যোগ দিয়েছেন মেয়র।
বিপুল সংবর্ধনা নেওয়ার বিষয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, রাজনীতি ছাড়াও ক্রীড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। আগের মেয়ররা রাজনীতির বাইরে এত বেশি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সে কারণে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো তাঁকে সংবর্ধনা দিতেই পারে। কারণ তাঁর কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি।
প্রথা ভেঙে মেয়রকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির দেওয়া সংবর্ধনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গত ১৫ জুন আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে মেয়রের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে আইনজীবীদের একাংশ বিক্ষোভ করেন।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে জানান, সমিতি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে কখনো সংবর্ধনা দেয়নি। এমনকি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মোহাম্মদ মনজুর আলম এবং স্বাধীনতার আগে-পরে কোনো মন্ত্রীকেও সংবর্ধনা দেয়নি। তবে মন্ত্রী-মেয়রের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করতেন। এবার রেওয়াজ ভেঙে আ জ ম নাছিরকে সংবর্ধনা দেওয়ায় আইনজীবীরা ক্ষুব্ধ।
প্রথম আলোর হিসাব অনুযায়ী গত ৮৮ দিনে কমপক্ষে ৬৬টি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়েছে মেয়র নাছিরের জন্য। সংবর্ধনার অর্ধশতক পেরিয়ে আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিচ্ছেন তিনি।
মেয়রের জন্য একের পর এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আফছারুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসলে আমজনতার আগ্রহ উপেক্ষা করা যায় না। আগের মেয়র যা করতে পারেননি নতুন মেয়র সেই প্রত্যাশা পূরণ করবেন বলেই আমজনতার প্রত্যাশা।’
মেয়র হিসেবে আ জ ম নাছির শপথ নেন গত ৬ মে। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে দায়িত্ব পেতে তাঁকে এত দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ হবে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত। ২০১০ সালের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর জয়ী মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রথম সভা হয় ওই বছরের ২৬ জুলাই। যার মেয়াদ গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে।
দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগে আ জ ম নাছিরের একের পর এক সংবর্ধনা গ্রহণ নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি রয়েছে। তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া না–দেওয়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডাও কম হয়নি।
আওয়ামী লীগের নেতারাও বলছেন, এর আগে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা বিশিষ্ট নাগরিকের জন্য এত বেশি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নজির নেই। দলীয় সংবর্ধনার বাইরে ব্যবসায়ী সংগঠন, আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, স্থানীয় ক্লাব, মহল্লা কমিটি, হকার্স সমিতি, সাংসদ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, ঠিকাদার সমিতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
নাম না প্রকাশের শর্তে চট্টগ্রামের একজন শিক্ষাবিদ বলেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য চট্টগ্রামে মাত্র দুটি সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এর একটি নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অন্যটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদালয় ক্যাম্পাসে। ড. ইউনূস চট্টগ্রামের সন্তান।
সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যাপক সিকান্দার খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাঁরা মেয়রকে সংবর্ধনা দিচ্ছেন, সেটা কেন দিচ্ছেন তা কেবল তাঁরাই জানেন। আর যিনি নিচ্ছেন তাঁকেও বুঝে নিতে হবে কেন তিনি নিচ্ছেন। নিশ্চয়ই এখানে প্রত্যাশা-প্রাপ্তির কিছু বিষয় থাকতে পারে। তবে এত বেশি সংবর্ধনার আয়োজন রাজনীতিতে নতুন মাত্রা সৃষ্টি হয়েছে।’
মেয়রের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, মে এবং জুন মাসে প্রায় প্রতিদিনই সংবর্ধনা সভা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো দিন সর্বোচ্চ তিনটি সংবর্ধনা সভাতেও যোগ দিয়েছেন মেয়র।
বিপুল সংবর্ধনা নেওয়ার বিষয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, রাজনীতি ছাড়াও ক্রীড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। আগের মেয়ররা রাজনীতির বাইরে এত বেশি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সে কারণে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো তাঁকে সংবর্ধনা দিতেই পারে। কারণ তাঁর কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি।
প্রথা ভেঙে মেয়রকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির দেওয়া সংবর্ধনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গত ১৫ জুন আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে মেয়রের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে আইনজীবীদের একাংশ বিক্ষোভ করেন।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে জানান, সমিতি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে কখনো সংবর্ধনা দেয়নি। এমনকি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মোহাম্মদ মনজুর আলম এবং স্বাধীনতার আগে-পরে কোনো মন্ত্রীকেও সংবর্ধনা দেয়নি। তবে মন্ত্রী-মেয়রের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করতেন। এবার রেওয়াজ ভেঙে আ জ ম নাছিরকে সংবর্ধনা দেওয়ায় আইনজীবীরা ক্ষুব্ধ।
Sunday, June 28, 2015
চট্টগ্রাম-দোহাজারী পথে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৭ রেলসেতু by একরামুল হক
![]() |
| চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের বোয়ালখালীর হারগেজি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ১৯ জুন ভেঙে পড়ে। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল সেতুটি l প্রথম আলো |
চট্টগ্রাম-দোহাজারী
রেলপথে হারগেজি খালের ভেঙে পড়া সেতুর মতো আরও ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু
রয়েছে। এসব সেতুর কোনো কোনোটি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ
অবস্থায় রয়েছে। রেলওয়ের প্রকৌশলীরা দাবি করছেন, এসব সেতুর নির্মাণ ও
সংস্কারের জন্য চার বছর আগে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া
হলেও তারা চুক্তি মানেনি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে প্রতিষ্ঠানটি চলে
যাওয়ায় এই পথে এখন ট্রেন চলাচলই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ১৯ জুন
চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের বোয়ালখালী এলাকায় হারগেজি খালের সেতু ভেঙে
পানিতে পড়ে যায় তেলবাহী ট্রেনের তিনটি ওয়াগন। সেতুটি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে
ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের জন্য
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এই সেতুসহ ৩৭টি
সেতুর নির্মাণ বা সংস্কার কোনোটাই করেনি বলে জানান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের
মহাব্যবস্থাপক মো. মোজাম্মেল হক।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রায় ৭০ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল হারগেজি খালে পড়ে যায়। কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এই খালে জোয়ার-ভাটার প্রভাব থাকায় তেল নদীতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে কর্ণফুলী নদী হয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতেও ছড়িয়ে পড়ে ফার্নেস অয়েল। পানিদূষণের পাশাপাশি ওই এলাকার পরিবেশের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছড়িয়ে পড়া এই তেল।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সাড়ে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের ছোট-বড় ৬০টি সেতু নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ২০১১ সালের ১১ মে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনটি-আরপি জয়েন্টভেঞ্চারকে ১৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের চুক্তি অনুযায়ী, তিন বছরের মধ্যে সব কটি সেতুর সংস্কারকাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু দুই বছর ১০ মাসে মাত্র ২৩টি সেতুর সংস্কারকাজ শেষ করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। তখনো বাকি ৩৭টি সেতুর কাজ শুরুই করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এনটি-আরপি জয়েন্টভেঞ্চার তিন বছরের মধ্যে ৬০টি সেতুর নির্মাণ ও সংস্কার শেষ করবে বলে চুক্তি করেছিল। তিন বছরে তারা কেবল এক-তৃতীয়াংশ কাজ করেছে। বড় সেতুগুলোর ধারে-কাছেও যায়নি। যে কারণে ১৯ জুন বোয়ালখালী হারগেজি খালের ওপর সেতুটি ভেঙে গেছে।’
পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জানান, কাজ শেষ না করে উল্টো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করে। আইনি জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো ঠিক করা যায়নি। ইতিমধ্যে স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হয়েছে। শিগগিরই সেতু সংস্কারে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, এনটি-আরপি জয়েন্টভেঞ্চার ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ছোট আকারের ২৩টি সেতুর সংস্কারকাজ শেষ করে। ওই সময়ের মধ্যে আরও ৩৭টি সেতুর কাজ শুরুই করা হয়নি। অথচ চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে বাকি ছিল মাত্র প্রায় সোয়া দুই মাস। এ কারণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ গত বছরের ২১ এপ্রিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে বহিষ্কার করে এবং জামানতের ৫ শতাংশ (৭০ লাখ টাকা) কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত বছরের মে মাসে হাইকোর্টে রিট করে। টাকা কেটে রাখার রেলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেন।
চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও কাজ কেন করা হয়নি জানতে গত বুধবার ফোনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মতিঝিল কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। এক ব্যক্তি নিজেকে মোহাম্মদ জাহিদ পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী শরীফ হুমায়ুন কবির বলেন, রেলওয়ে থেকে তাঁর মক্কেল পূর্ণ সহযোগিতা পায়নি। এ ছাড়া রেলওয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করে ৭০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। হাইকোর্ট রেলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। তবে তার মেয়াদ আর বাড়াননি। ফলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে রেলওয়ের কোনো সমস্যা নেই।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রায় ৭০ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল হারগেজি খালে পড়ে যায়। কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এই খালে জোয়ার-ভাটার প্রভাব থাকায় তেল নদীতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে কর্ণফুলী নদী হয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতেও ছড়িয়ে পড়ে ফার্নেস অয়েল। পানিদূষণের পাশাপাশি ওই এলাকার পরিবেশের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছড়িয়ে পড়া এই তেল।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সাড়ে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের ছোট-বড় ৬০টি সেতু নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ২০১১ সালের ১১ মে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনটি-আরপি জয়েন্টভেঞ্চারকে ১৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের চুক্তি অনুযায়ী, তিন বছরের মধ্যে সব কটি সেতুর সংস্কারকাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু দুই বছর ১০ মাসে মাত্র ২৩টি সেতুর সংস্কারকাজ শেষ করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। তখনো বাকি ৩৭টি সেতুর কাজ শুরুই করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এনটি-আরপি জয়েন্টভেঞ্চার তিন বছরের মধ্যে ৬০টি সেতুর নির্মাণ ও সংস্কার শেষ করবে বলে চুক্তি করেছিল। তিন বছরে তারা কেবল এক-তৃতীয়াংশ কাজ করেছে। বড় সেতুগুলোর ধারে-কাছেও যায়নি। যে কারণে ১৯ জুন বোয়ালখালী হারগেজি খালের ওপর সেতুটি ভেঙে গেছে।’
পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জানান, কাজ শেষ না করে উল্টো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করে। আইনি জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো ঠিক করা যায়নি। ইতিমধ্যে স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হয়েছে। শিগগিরই সেতু সংস্কারে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, এনটি-আরপি জয়েন্টভেঞ্চার ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ছোট আকারের ২৩টি সেতুর সংস্কারকাজ শেষ করে। ওই সময়ের মধ্যে আরও ৩৭টি সেতুর কাজ শুরুই করা হয়নি। অথচ চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে বাকি ছিল মাত্র প্রায় সোয়া দুই মাস। এ কারণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ গত বছরের ২১ এপ্রিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে বহিষ্কার করে এবং জামানতের ৫ শতাংশ (৭০ লাখ টাকা) কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত বছরের মে মাসে হাইকোর্টে রিট করে। টাকা কেটে রাখার রেলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেন।
চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও কাজ কেন করা হয়নি জানতে গত বুধবার ফোনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মতিঝিল কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। এক ব্যক্তি নিজেকে মোহাম্মদ জাহিদ পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী শরীফ হুমায়ুন কবির বলেন, রেলওয়ে থেকে তাঁর মক্কেল পূর্ণ সহযোগিতা পায়নি। এ ছাড়া রেলওয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করে ৭০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। হাইকোর্ট রেলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। তবে তার মেয়াদ আর বাড়াননি। ফলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে রেলওয়ের কোনো সমস্যা নেই।
Thursday, April 30, 2015
এত ভোট দেখে আশ্চর্য হয়েছি -প্রথম আলোকে মনজুর আলম by রাহীদ এজাজ ও একরামুল হক
ভোট
গ্রহণ শুরু হওয়ার সোয়া তিন ঘণ্টা পরই সিটি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর
ঘোষণা দেন চট্টগ্রামে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর
আলম। শুধু ভোট নয়, রাজনীতিকেও বিদায় জানান চট্টগ্রামের সদ্য বিদায়ী এই
মেয়র। কিন্তু গত মঙ্গলবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলে দেখা যায়
তিনি পেয়েছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৮৩৭ ভোট। ভোটের এই ফলে মনজুর আলম নিজেও অবাক।
নির্বাচনের দিন অনেকটা আকস্মিকভাবে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও এই সিদ্ধান্তটা হুট করে নেওয়া নয় বলেও প্রথম আলোকে জানান মনজুর আলম। সাবেক এই মেয়রের ভাষায়, তাঁর বয়স বেড়েছে, তাই রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়াকেই তাঁর কাছে ভালো মনে হয়েছে। অবনতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশও তাঁকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তাই মেয়র নির্বাচিত হলেও রাজনীতি ছাড়তেনই—এটা জোর দিয়ে বলেছেন তিনি।
গতকাল বুধবার দুপুরে নগরের সিটি গেট এলাকার বাসায় প্রথম আলোর সঙ্গে নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে একান্তে কথা বলেন মনজুর আলম। ৩০ মিনিটের আলাপচারিতায় বেশ কিছু প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিলেও কয়েকটি প্রশ্ন উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।
মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর মনজুর আলম এতটাই বিমর্ষ ছিলেন যে ওই দিন আপনজন ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলেননি। কাল দুপুরে তাঁর বাসায় গিয়ে অবশ্য আগের দিনের মনজুরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাসায় দিনভর নেতা-কর্মীর সঙ্গে বেশ খোশমেজাজেই আলাপ করেছেন।
সকাল আটটায় ভোট শুরু হওয়ার পর সোয়া ১১টায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পরও তিন লাখ ভোট পেলেন। নির্বাচন থেকে না সরলে জিততেন িক না, এ প্রশ্নের জবাবে মনজুর আলম দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাঁর প্রতি মানুষের সাড়া দেখে জয় সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত ছিলেন। কিন্তু ভোট শুরু হতে না-হতেই বিভিন্ন কেন্দ্রে তাঁর পোলিং এজেন্টদের প্রবেশ করতে না দেওয়া, কোনো কোনো কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, এজেন্ট নিয়ে আপত্তি, হামলা ও কেন্দ্র দখলের খবর পাচ্ছিলেন।
মনজুর আলম বলেন, ‘চারদিক থেকে একের পর এক বিশৃঙ্খলার খবর শুনে ভেঙে পড়ি। আমি একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ। আমার জন্য লোকজন বিপদে পড়ুক এটা চাইনি। যেখানে সুষ্ঠু পরিবেশ নেই সেখানে জেতার সুযোগ কোথায়! তবে আজ যখন এত ভোট দেখছি, এতে আশ্চর্য হয়েছি। অবাক হয়েছি এত মানুষের সমর্থন দেখে।’
মনজুর আলম জানান, ৭১৯টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ৪০০ পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছিল। তবে প্রতিটি কেন্দ্র ও বুথ পরিদর্শনের মতো অবস্থা তাঁর দলের ছিল না। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরপাকড়ে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে ভোটের ফল দেখে নেতা-কর্মীরাই শুধু নন, অনেক সাধারণ ভোটারও আফসোস করেছেন বলে তিনি জানান।
মনজুর আলম বলেন, ‘অনেকে আমার সিদ্ধান্তটাকে ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রয়োজনে তাঁরা আরও কিছু সময় অপেক্ষার কথা বলেন। আপনি যে প্রশ্ন করেছেন—তিন ঘণ্টা, পাঁচ ঘণ্টা সে হিসেবে দুই পক্ষের ভোটের ব্যবধানে বলা যায়, ভোটে থাকলে আমি অবশ্যই ইনশা আল্লাহ জিততে পারতাম।’
মানুষের কথায় এখন কী মনে হচ্ছে সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে মনজুর আলম বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ দেখে আমি ভোটে থাকতে চাইনি। আমার কারণে একজন কর্মী, সাধারণ একজন মানুষ কেন কষ্ট করবে?’
সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটা নিজের নাকি দল থেকে চাপিয়ে দেওয়া, এ প্রশ্নের উত্তরে মনজুর আলম বলেন, ‘ওপর থেকে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। আমার দেওয়ানহাটের দপ্তরে বসে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সঙ্গে প্রথম এ নিয়ে কথা বলি। পরে নগর বিএনপি সভাপতি আমীর খসরুর সঙ্গেও এ নিয়ে কথা হয়। পরে সবাই মিলে একমত হয়ে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করি।’
নির্বাচন থেকে সরলেও রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া কি আবেগ, হতাশা না কি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—উত্তরে মনজুর আলম জানান, আবেগ নয়, এর সঙ্গে বয়সও তাঁর বিবেচনায় ছিল। তিনি জানান, সমাজসেবা থেকেই রাজনীতিতে এসেছেন। তাঁর বাবাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সাবেক এই মেয়রের বয়সের ৬৩ বছর। এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে মনজুর আলমকে প্রশ্ন করা হয়, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাইছি না। তবে দেশের জন্য রাজনীতি প্রয়োজন। রাজনীতি ছাড়া দেশ চলতে পারে না। রাজনীতির কারণেই দেশ পেয়েছি। দেশ যত দিন থাকবে রাজনীতি তত দিন থাকবে। তবে সুস্থ রাজনীতির প্রয়োজন। আদর্শিক ও সুস্থ রাজনীতির একটু অভাব আছে। সবাই সুস্থ রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে মানুষের আগ্রহ বাড়বে।’
রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে কর্মীদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিলেন কি না, এমন প্রশ্নে মনজুর আলম জানান, দলের সঙ্গে তিনি থাকলেও সক্রিয়ভাবে বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে ছিলেন না। তাঁর সরে যাওয়াটা কাউকে বিপদে ফেলবে বলেও তিনি মনে করেন না।
নির্বাচনের দিন অনেকটা আকস্মিকভাবে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও এই সিদ্ধান্তটা হুট করে নেওয়া নয় বলেও প্রথম আলোকে জানান মনজুর আলম। সাবেক এই মেয়রের ভাষায়, তাঁর বয়স বেড়েছে, তাই রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়াকেই তাঁর কাছে ভালো মনে হয়েছে। অবনতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশও তাঁকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তাই মেয়র নির্বাচিত হলেও রাজনীতি ছাড়তেনই—এটা জোর দিয়ে বলেছেন তিনি।
গতকাল বুধবার দুপুরে নগরের সিটি গেট এলাকার বাসায় প্রথম আলোর সঙ্গে নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে একান্তে কথা বলেন মনজুর আলম। ৩০ মিনিটের আলাপচারিতায় বেশ কিছু প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিলেও কয়েকটি প্রশ্ন উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।
মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর মনজুর আলম এতটাই বিমর্ষ ছিলেন যে ওই দিন আপনজন ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলেননি। কাল দুপুরে তাঁর বাসায় গিয়ে অবশ্য আগের দিনের মনজুরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাসায় দিনভর নেতা-কর্মীর সঙ্গে বেশ খোশমেজাজেই আলাপ করেছেন।
সকাল আটটায় ভোট শুরু হওয়ার পর সোয়া ১১টায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পরও তিন লাখ ভোট পেলেন। নির্বাচন থেকে না সরলে জিততেন িক না, এ প্রশ্নের জবাবে মনজুর আলম দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাঁর প্রতি মানুষের সাড়া দেখে জয় সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত ছিলেন। কিন্তু ভোট শুরু হতে না-হতেই বিভিন্ন কেন্দ্রে তাঁর পোলিং এজেন্টদের প্রবেশ করতে না দেওয়া, কোনো কোনো কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, এজেন্ট নিয়ে আপত্তি, হামলা ও কেন্দ্র দখলের খবর পাচ্ছিলেন।
মনজুর আলম বলেন, ‘চারদিক থেকে একের পর এক বিশৃঙ্খলার খবর শুনে ভেঙে পড়ি। আমি একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ। আমার জন্য লোকজন বিপদে পড়ুক এটা চাইনি। যেখানে সুষ্ঠু পরিবেশ নেই সেখানে জেতার সুযোগ কোথায়! তবে আজ যখন এত ভোট দেখছি, এতে আশ্চর্য হয়েছি। অবাক হয়েছি এত মানুষের সমর্থন দেখে।’
মনজুর আলম জানান, ৭১৯টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ৪০০ পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছিল। তবে প্রতিটি কেন্দ্র ও বুথ পরিদর্শনের মতো অবস্থা তাঁর দলের ছিল না। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরপাকড়ে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে ভোটের ফল দেখে নেতা-কর্মীরাই শুধু নন, অনেক সাধারণ ভোটারও আফসোস করেছেন বলে তিনি জানান।
মনজুর আলম বলেন, ‘অনেকে আমার সিদ্ধান্তটাকে ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রয়োজনে তাঁরা আরও কিছু সময় অপেক্ষার কথা বলেন। আপনি যে প্রশ্ন করেছেন—তিন ঘণ্টা, পাঁচ ঘণ্টা সে হিসেবে দুই পক্ষের ভোটের ব্যবধানে বলা যায়, ভোটে থাকলে আমি অবশ্যই ইনশা আল্লাহ জিততে পারতাম।’
মানুষের কথায় এখন কী মনে হচ্ছে সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে মনজুর আলম বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ দেখে আমি ভোটে থাকতে চাইনি। আমার কারণে একজন কর্মী, সাধারণ একজন মানুষ কেন কষ্ট করবে?’
সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটা নিজের নাকি দল থেকে চাপিয়ে দেওয়া, এ প্রশ্নের উত্তরে মনজুর আলম বলেন, ‘ওপর থেকে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। আমার দেওয়ানহাটের দপ্তরে বসে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সঙ্গে প্রথম এ নিয়ে কথা বলি। পরে নগর বিএনপি সভাপতি আমীর খসরুর সঙ্গেও এ নিয়ে কথা হয়। পরে সবাই মিলে একমত হয়ে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করি।’
নির্বাচন থেকে সরলেও রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া কি আবেগ, হতাশা না কি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—উত্তরে মনজুর আলম জানান, আবেগ নয়, এর সঙ্গে বয়সও তাঁর বিবেচনায় ছিল। তিনি জানান, সমাজসেবা থেকেই রাজনীতিতে এসেছেন। তাঁর বাবাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সাবেক এই মেয়রের বয়সের ৬৩ বছর। এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে মনজুর আলমকে প্রশ্ন করা হয়, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাইছি না। তবে দেশের জন্য রাজনীতি প্রয়োজন। রাজনীতি ছাড়া দেশ চলতে পারে না। রাজনীতির কারণেই দেশ পেয়েছি। দেশ যত দিন থাকবে রাজনীতি তত দিন থাকবে। তবে সুস্থ রাজনীতির প্রয়োজন। আদর্শিক ও সুস্থ রাজনীতির একটু অভাব আছে। সবাই সুস্থ রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে মানুষের আগ্রহ বাড়বে।’
রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে কর্মীদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিলেন কি না, এমন প্রশ্নে মনজুর আলম জানান, দলের সঙ্গে তিনি থাকলেও সক্রিয়ভাবে বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে ছিলেন না। তাঁর সরে যাওয়াটা কাউকে বিপদে ফেলবে বলেও তিনি মনে করেন না।
Saturday, April 25, 2015
মনে করি না আমি ব্যর্থ: মনজুর আলম by সোহরাব হাসান ও একরামুল হক
সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে ২০-দলীয় জোট-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আ জ ম নাছির উদ্দিন প্রথম আলোর মুখোমুখি হন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান ও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক একরামুল হক
প্রথম আলো: আপনি পাঁচ বছর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। অনেকে বলেন, আপনি ব্যর্থ হয়েছেন। তার পরও কেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন?
মনজুর আলম: আমি মনে করি না মেয়র হিসেবে আমি ব্যর্থ হয়েছি। আমি নির্বাচনের সময়ই বলেছিলাম, যেসব এলাকা অনুন্নত, সেই সব এলাকার উন্নয়নকাজ আগে করব। আমি পাঁচ বছর কাজ করেছি। গত পাঁচ বছরে আমি ১০-১২ দিনের বেশি ছুটি নিইনি। প্রতিদিনই কাজ করেছি। ৫৭টি সাধারণ সভা করেছি। ২০টি স্থায়ী কমিটি ছিল। সব উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমি সংসদীয় রীতিতে সিটি করপোরেশন পরিচালনার চেষ্টা করেছি। এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।
প্রথম আলো: মেয়র নির্বাচনে আপনি বিএনপি তথা ২০-দলীয় জোটের সমর্থন পেয়েছেন। কিন্তু মানুষ আপনাকে মহিউদ্দিনের সমর্থক হিসেবেই জানে। এটা কি রাজনৈতিক দ্বিচারিতা নয়?
মনজুর আলম: এটা মোটেই রাজনৈতিক দ্বিচারিতা নয়। বরং আমি বিষয়টিকে দেখি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক মহলের মানুষ যদি আমাকে পছন্দ করেন, সেটি আমার জয়কে আরও সহজ করে দেবে। আপনি একজন সাবেক মেয়রের কথা বললেন। আরেকজন সাবেক মেয়র মীর নাছিরউদ্দিন আজ সারা দিন আমার সঙ্গে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। এর আগের মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীও আমার প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন।
প্রথম আলো: আপনার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের কথা বলে ভোট নিলেও এ ব্যাপারে কোনো কাজ করেননি।
মনজুর আলম: অভিযোগটি সত্য নয়। আমি জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করেছি বলেই আগে যেখানে বৃষ্টি হলে চার-পাঁচ দিন জলাবদ্ধতা থাকত, এখন সেটি থাকে কয়েক ঘণ্টা। গত বছরের ১৪ জুন প্রথম আলোতেই ছাপা হয়েছে কয়েক ঘণ্টা জলাবদ্ধতা থাকার কথা। চাক্তাই খাল খনন, শহরের নর্দমাগুলো প্রশস্ত ও পরিষ্কার করার কারণেই এই অগ্রগতি হয়েছে। ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি দূর করা যাবে আশা করি।
প্রথম আলো: আরেকটি অভিযোগ, আপনার সময়ে চট্টগ্রাম অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত হয়েছে। চারদিকে নোংরা আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। এর কারণ কী?
মনজুর আলম: মনে রাখতে হবে, নগরে জনসংখ্যা অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজেট ও লোকবল বাড়ানো হয়নি। সীমিত লোকবল ও সরঞ্জাম নিয়ে এখন আমরা দিনে দুবার আবর্জনা সরাই। ডাস্টবিন থেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ১০০ কনটেইনার কেনা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের গাড়িগুলো ছিল ৩০ বছরের পুরোনো। আমি ৬৩টি ডাম্প ট্রাক ও ১২টি কনটেইনার মুভার কিনেছি।
প্রথম আলো: বিএনপির নগর কমিটির সম্পাদক ডা. শাহাদত হোসেনও প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দল তাঁকে সমর্থন দেয়নি। এ কারণে তিনি ও তাঁর সমর্থকেরা আপনার পক্ষে কাজ করা থেকে বিরত আছেন।
মনজুর আলম: আমি মনে করি না তাঁরা বিরত আছেন। ডা. শাহাদত হোসেনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি মামলার জামিন নিতে এখন ঢাকায় আছেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা হয়েছে, যে কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রচারে নামতে পারছেন না। কিন্তু তাঁর কর্মীরা সবাই আমার সঙ্গে কাজ করছেন। তা ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে ছয়টি নির্বাচনী এলাকার জন্য ছয়জন কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সাংসদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলো: আপনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সখ্য থাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা আপনার নির্বাচনী প্রচারে নামছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন।
মনজুর আলম: কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। আমাকে প্রার্থী করা হয়েছে ২০-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে। চট্টগ্রামে ২০-দলীয় জোটের সব নেতা-কর্মীই আমার পক্ষে কাজ করছেন। ৪১টি সাধারণ কাউন্সিলর পদের মধ্যে জামায়াতকে ১০টি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে সমস্যা থাকতে পারে। বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন দলের ভেতরেও। এটিকে ২০-দলীয় জোটের সমস্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
প্রথম আলো: আপনি বিএনপি-সমর্থিত মেয়র ছিলেন। সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালনকালে আপনি কি আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে কোনো বাধার সম্মুখীন হয়েছেন? কোনো অসহযোগিতা?
মনজুর আলম: অসহযোগিতা পাইনি। সরকার কোনো প্রকল্পে বাধা দেয়নি, তবে দীর্ঘসূত্রতা হয়েছে। আমার সময়ে সিটি করপোরেশন ৯০০ কোটি টাকার কাজ করেছে। এর মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা এসেছে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে, বাকি ৪০০ কোটি টাকা সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় থেকে। আগের তিন মেয়াদে সিটি করপোরেশন মাত্র ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। তাহলে কী করে বলা যায়, আমি ব্যর্থ হয়েছি? সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ কাউন্সিলর ছিলেন আওয়ামী লীগের। বিএনপি, জামায়াত ও বাসদেরও কাউন্সিলর ছিলেন। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। সিটি করপোরেশন ছিল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও নির্দলীয়। এটাও আমার সফলতা বলতে পারেন।
প্রথম আলো: সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে মনে করেন?
মনজুর আলম: নির্বাচন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছে। আমরা তাদের কথায় আস্থা রেখেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এখন কমিশনেরই দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচনের বাধাগুলো অপসারণ করা।
প্রথম আলো: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আপনার বিরুদ্ধেও নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিয়েছে।
মনজুর আলম: আমার বিরুদ্ধে মোটর শোভাযাত্রা করার যে অভিযোগ কমিশন এনেছে, সেটি কিন্তু মোটেই ইচ্ছাকৃত ছিল না। আমি ও কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী নির্ধারিতসংখ্যক সমর্থককে নিয়ে প্রচারে বের হই। কিন্তু আমাদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় অনেকেই যোগ দেন, যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মোটরসাইকেল নিয়ে আসেন। তাই এটিকে কোনোভাবেই মোটর শোভাযাত্রা বলা যায় না। নির্বাচন কমিশনের শোকজের জবাবে আমরা সে কথাই বলেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দুটি ওয়ার্ডে আমার কর্মীরা ব্যানার-পোস্টার লাগাতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। কোথাও কোথাও আমার ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের লক্ষণ নয়। তার পরও আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রাখতে চাই। আশা করব, প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থী আচরণবিধি মেনে চলবেন এবং মানুষ নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
প্রথম আলো: আপনি যে দলের বা জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন, সেই দল ও জোট কয়েক দিন আগেও সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনে ছিল। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পেট্রলবোমায় বহু মানুষ মারা গেছে। অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিরোধী জোট নতুন করে আন্দোলন শুরু করলে আপনার ভূমিকা কী হবে?
মনজুর আলম: তখন পরিস্থিতি বুঝে করণীয় ঠিক করব। জনপ্রতিনিধিত্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। আর আন্দোলন হলো একটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, উন্নয়ন ব্যাহত হয় এমন কিছু কারও করা উচিত নয়। যে-ই করুক না কেন, বোমা মেরে মানুষ হত্যা আন্দোলন নয়। আবার রাজনৈতিক সমস্যা থাকলে সরকারকেও তা সমাধানে এগিয়ে আসতে হয়। গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে সহনশীল হতে হবে।
প্রথম আলো: আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আ জ ম নাছির সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাই।
মনজুর আলম: একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল-সমর্থিত একজন প্রার্থী তাঁর প্রতিটি কথা ও আচরণে অধিকতর রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবেন, এটাই প্রত্যাশিত।
প্রথম আলো: আপনি পাঁচ বছর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। অনেকে বলেন, আপনি ব্যর্থ হয়েছেন। তার পরও কেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন?
মনজুর আলম: আমি মনে করি না মেয়র হিসেবে আমি ব্যর্থ হয়েছি। আমি নির্বাচনের সময়ই বলেছিলাম, যেসব এলাকা অনুন্নত, সেই সব এলাকার উন্নয়নকাজ আগে করব। আমি পাঁচ বছর কাজ করেছি। গত পাঁচ বছরে আমি ১০-১২ দিনের বেশি ছুটি নিইনি। প্রতিদিনই কাজ করেছি। ৫৭টি সাধারণ সভা করেছি। ২০টি স্থায়ী কমিটি ছিল। সব উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমি সংসদীয় রীতিতে সিটি করপোরেশন পরিচালনার চেষ্টা করেছি। এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।
প্রথম আলো: মেয়র নির্বাচনে আপনি বিএনপি তথা ২০-দলীয় জোটের সমর্থন পেয়েছেন। কিন্তু মানুষ আপনাকে মহিউদ্দিনের সমর্থক হিসেবেই জানে। এটা কি রাজনৈতিক দ্বিচারিতা নয়?
মনজুর আলম: এটা মোটেই রাজনৈতিক দ্বিচারিতা নয়। বরং আমি বিষয়টিকে দেখি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক মহলের মানুষ যদি আমাকে পছন্দ করেন, সেটি আমার জয়কে আরও সহজ করে দেবে। আপনি একজন সাবেক মেয়রের কথা বললেন। আরেকজন সাবেক মেয়র মীর নাছিরউদ্দিন আজ সারা দিন আমার সঙ্গে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। এর আগের মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীও আমার প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন।
প্রথম আলো: আপনার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের কথা বলে ভোট নিলেও এ ব্যাপারে কোনো কাজ করেননি।
মনজুর আলম: অভিযোগটি সত্য নয়। আমি জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করেছি বলেই আগে যেখানে বৃষ্টি হলে চার-পাঁচ দিন জলাবদ্ধতা থাকত, এখন সেটি থাকে কয়েক ঘণ্টা। গত বছরের ১৪ জুন প্রথম আলোতেই ছাপা হয়েছে কয়েক ঘণ্টা জলাবদ্ধতা থাকার কথা। চাক্তাই খাল খনন, শহরের নর্দমাগুলো প্রশস্ত ও পরিষ্কার করার কারণেই এই অগ্রগতি হয়েছে। ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি দূর করা যাবে আশা করি।
প্রথম আলো: আরেকটি অভিযোগ, আপনার সময়ে চট্টগ্রাম অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত হয়েছে। চারদিকে নোংরা আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। এর কারণ কী?
মনজুর আলম: মনে রাখতে হবে, নগরে জনসংখ্যা অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজেট ও লোকবল বাড়ানো হয়নি। সীমিত লোকবল ও সরঞ্জাম নিয়ে এখন আমরা দিনে দুবার আবর্জনা সরাই। ডাস্টবিন থেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ১০০ কনটেইনার কেনা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের গাড়িগুলো ছিল ৩০ বছরের পুরোনো। আমি ৬৩টি ডাম্প ট্রাক ও ১২টি কনটেইনার মুভার কিনেছি।
প্রথম আলো: বিএনপির নগর কমিটির সম্পাদক ডা. শাহাদত হোসেনও প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দল তাঁকে সমর্থন দেয়নি। এ কারণে তিনি ও তাঁর সমর্থকেরা আপনার পক্ষে কাজ করা থেকে বিরত আছেন।
মনজুর আলম: আমি মনে করি না তাঁরা বিরত আছেন। ডা. শাহাদত হোসেনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি মামলার জামিন নিতে এখন ঢাকায় আছেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা হয়েছে, যে কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রচারে নামতে পারছেন না। কিন্তু তাঁর কর্মীরা সবাই আমার সঙ্গে কাজ করছেন। তা ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে ছয়টি নির্বাচনী এলাকার জন্য ছয়জন কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সাংসদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলো: আপনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সখ্য থাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা আপনার নির্বাচনী প্রচারে নামছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন।
মনজুর আলম: কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। আমাকে প্রার্থী করা হয়েছে ২০-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে। চট্টগ্রামে ২০-দলীয় জোটের সব নেতা-কর্মীই আমার পক্ষে কাজ করছেন। ৪১টি সাধারণ কাউন্সিলর পদের মধ্যে জামায়াতকে ১০টি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে সমস্যা থাকতে পারে। বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন দলের ভেতরেও। এটিকে ২০-দলীয় জোটের সমস্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
প্রথম আলো: আপনি বিএনপি-সমর্থিত মেয়র ছিলেন। সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালনকালে আপনি কি আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে কোনো বাধার সম্মুখীন হয়েছেন? কোনো অসহযোগিতা?
মনজুর আলম: অসহযোগিতা পাইনি। সরকার কোনো প্রকল্পে বাধা দেয়নি, তবে দীর্ঘসূত্রতা হয়েছে। আমার সময়ে সিটি করপোরেশন ৯০০ কোটি টাকার কাজ করেছে। এর মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা এসেছে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে, বাকি ৪০০ কোটি টাকা সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় থেকে। আগের তিন মেয়াদে সিটি করপোরেশন মাত্র ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। তাহলে কী করে বলা যায়, আমি ব্যর্থ হয়েছি? সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ কাউন্সিলর ছিলেন আওয়ামী লীগের। বিএনপি, জামায়াত ও বাসদেরও কাউন্সিলর ছিলেন। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। সিটি করপোরেশন ছিল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও নির্দলীয়। এটাও আমার সফলতা বলতে পারেন।
প্রথম আলো: সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে মনে করেন?
মনজুর আলম: নির্বাচন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছে। আমরা তাদের কথায় আস্থা রেখেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এখন কমিশনেরই দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচনের বাধাগুলো অপসারণ করা।
প্রথম আলো: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আপনার বিরুদ্ধেও নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিয়েছে।
মনজুর আলম: আমার বিরুদ্ধে মোটর শোভাযাত্রা করার যে অভিযোগ কমিশন এনেছে, সেটি কিন্তু মোটেই ইচ্ছাকৃত ছিল না। আমি ও কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী নির্ধারিতসংখ্যক সমর্থককে নিয়ে প্রচারে বের হই। কিন্তু আমাদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় অনেকেই যোগ দেন, যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মোটরসাইকেল নিয়ে আসেন। তাই এটিকে কোনোভাবেই মোটর শোভাযাত্রা বলা যায় না। নির্বাচন কমিশনের শোকজের জবাবে আমরা সে কথাই বলেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দুটি ওয়ার্ডে আমার কর্মীরা ব্যানার-পোস্টার লাগাতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। কোথাও কোথাও আমার ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের লক্ষণ নয়। তার পরও আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রাখতে চাই। আশা করব, প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থী আচরণবিধি মেনে চলবেন এবং মানুষ নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
প্রথম আলো: আপনি যে দলের বা জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন, সেই দল ও জোট কয়েক দিন আগেও সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনে ছিল। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পেট্রলবোমায় বহু মানুষ মারা গেছে। অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিরোধী জোট নতুন করে আন্দোলন শুরু করলে আপনার ভূমিকা কী হবে?
মনজুর আলম: তখন পরিস্থিতি বুঝে করণীয় ঠিক করব। জনপ্রতিনিধিত্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। আর আন্দোলন হলো একটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, উন্নয়ন ব্যাহত হয় এমন কিছু কারও করা উচিত নয়। যে-ই করুক না কেন, বোমা মেরে মানুষ হত্যা আন্দোলন নয়। আবার রাজনৈতিক সমস্যা থাকলে সরকারকেও তা সমাধানে এগিয়ে আসতে হয়। গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে সহনশীল হতে হবে।
প্রথম আলো: আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আ জ ম নাছির সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাই।
মনজুর আলম: একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল-সমর্থিত একজন প্রার্থী তাঁর প্রতিটি কথা ও আচরণে অধিকতর রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবেন, এটাই প্রত্যাশিত।
ঘায়েল করতেই মামলা -আ জ ম নাছির উদ্দিন by সোহরাব হাসান ও একরামুল হক
Saturday, April 25, 2015
Anonymous
একরামুল হক,
চট্টগ্রাম,
নির্বাচন,
প্রথম আলো,
সাক্ষাৎকার,
সোহরাব হাসান
সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে ২০-দলীয় জোট-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আ জ ম নাছির উদ্দিন প্রথম আলোর মুখোমুখি হন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান ও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক একরামুল হক
প্রথম
আলো: আপনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও নগরের নেতৃত্বে এসেছেন
অনেক পর। এর আগে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন
করেছেন। সেই তুলনায় সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব অনেক বড়।
আ জ ম নাছির উদ্দিন: দায়িত্ব পালন করতে করতে অভিজ্ঞতা বাড়ে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্ব হলো নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করা। প্রতিটি ইভেন্টে খেলোয়াড় তৈরি করা ও তাঁদের মান বৃদ্ধি করা। এটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। গত তিন বছর চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে ২৪টি ইভেন্ট আয়োজন করেছি। উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করেছি।
প্রথম আলো: আপনি বলেছেন সদ্য বিদায়ী মেয়র সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। আপনি সফল হবেন, তার নিশ্চয়তা কী?
নাছির উদ্দিন: সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রথম দরকার সদিচ্ছা। সদ্য বিদায়ী মেয়র পাঁচ বছরে অফিস করেছেন মাত্র দুই মাস। উনি চট্টগ্রামে থেকেও অফিস করেননি। মেয়রের যদি অফিস করায় অনীহা থাকে, তাহলে সেই মেয়র দিয়ে কীভাবে নাগরিক সেবা নিশ্চিত হবে? আজকে সিটি করপোরেশন এলাকায় বিনোদনের সুযোগ নেই। ছেলেমেয়েরা কোথাও যেতে পারছে না। তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। বিনোদনের জন্য সিটি করপোরেশনের স্বাধীনতা পার্ক আছে, কিন্তু সঠিক ব্যবহার নেই। পুরোনো সার্কিট হাউস ও আগ্রাবাদ শিশুপার্কেরও একই অবস্থা। আগ্রাবাদ শিশুপার্ক তো এখন ক্রাইম জোনে পরিণত হয়েছে।
প্রথম আলো: আপনি যে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার কথা বলছেন, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক সেবাসংস্থা সিটি করপোরেশনের অধীনে নয়।
নাছির উদ্দিন: অন্যদের কথা পরে ভাবা যাবে। আগে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব দায়িত্ব তো নিশ্চিত করতে হবে। একসময় চট্টগ্রাম মহানগর প্রাচ্যের রানি হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল। কিন্তু পাঁচ বছরে এটা কোন জায়গায় গেছে? ডাস্টবিন, রাস্তাঘাট—সবকিছুর শোচনীয় হাল।
প্রথম আলো: চট্টগ্রামকে মেগাসিটি করার কথা বলেছেন। কীভাবে করবেন?
নাছির উদ্দিন: আমি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে আছি। অভিজাত এই সংস্থায় বিপুল ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। সেখানে ২০-৩০ বছরের জটিল সমস্যার সমাধান করেছি। এটা উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়।
প্রথম আলো: সম্প্রতি এই সংস্থার নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে?
নাছির উদ্দিন: একটি ভালো সংস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই এটা করা হয়েছে। কেউ নিজের ব্যর্থতাকে আড়াল করতে এটি করেছেন। গতবার আমরা (প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী) একই প্যানেল থেকে নির্বাচন করেছি। আমার ভাবমূর্তির কারণেই তাঁরা বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারে ভোট গণনা পর্যন্ত সবাই উপস্থিত ছিলেন। তাহলে কারচুপি হলো কীভাবে? নির্বাচনে যে হারবে, সেই বলবে ঠিক হয়নি। জিতলে ঠিক আছে। এটা ঠিক নয়।
প্রথম আলো: যে দলের সমর্থন নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন, সেই দলের নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আপনি। সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীও নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তিনি সমর্থন পাননি। এখন পুরো কমিটি কি আপনার সঙ্গে আছে বলে মনে করেন?
নাছির উদ্দিন: অবশ্যই আমার সঙ্গে আছে। শতভাগ আছে। দলে কোনো মান-অভিমান নেই। বিভক্তি নেই। তবে একেকজনের সক্ষমতা একেক রকম। অনেক নামীদামি খেলোয়াড় শূন্য রানে আউট হচ্ছেন। তাহলে কী আমরা বলব, তিনি ইচ্ছা করেই খারাপ করেছেন?
প্রথম আলো: নামীদামি খেলোয়াড় আউট হচ্ছেন বলেই আপনি নেতৃত্বে এসেছেন, আপনার প্রার্থিতা নিশ্চিত হয়েছে?
নাছির উদ্দিন: না, না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগর আওয়ামী লীগের কমিটি করার ক্ষেত্রে অনেক সময় দিয়েছেন। অনেক কিছু যাচাই-বাছাই করেছেন। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
প্রথম আলো: আপনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন। কিন্তু ছাত্রলীগের মধ্যে মহিউদ্দিন ও নাছির গ্রুপের দ্বন্দ্বের কথা সবাই জানেন।
নাছির উদ্দিন: এখানে তথ্যের ঘাটতি আছে। আমার কোনো গ্রুপ নেই। একটা পত্রিকা লিখেছে, আগে ছিল দুটি গ্রুপ। এরপর লিখেছে, চার গ্রুপে বিভক্ত। তবে আমি বলব, যারা গ্রপিং আবিষ্কার করতে চায়, তারা হতাশ হবে। নগর আওয়ামী লীগ গতিশীল সংগঠন হবে।
প্রথম আলো: আপনি একসময় চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। এখন সেই কলেজটি ছাত্রশিবিরের নিয়ন্ত্রণে।
নাছির উদ্দিন: আমি বলব, এটার জন্য অনেকেই দায়ী। এখন যদি কিছু করতে চাই, বলবে ছাত্রলীগ সন্ত্রাস করছে। প্রথম আলো সবার আগে বলবে। অথচ শিবির যে সন্ত্রাস করছে, পত্রিকায় তা লেখা হচ্ছে না। আমার বিশ্বাস, সেখানে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী শিবিরের রাজনীতি অপছন্দ করে। প্রগতিশীল রাজনীতির উত্থান হোক, নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা হোক, তারা চায়। এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কলেজ কর্তৃপক্ষের। মিডিয়ারও। শিবিরের কাউকে বের করে দিলে সেটা মিডিয়ায় আসছে। ছাত্রলীগের কর্মীকে বের করে দিলে সেটা আসছে না।
প্রথম আলো: আপনি মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়ন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা দেখছি না। কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ব্যর্থতার কথা বলছেন।
নাছির উদ্দিন: শুধু পরিকল্পনা করলে হবে না। বাস্তবতার নিরিখে কাজ করতে হবে। ৪১টি ওয়ার্ডের বেহাল অবস্থার কথা মিডিয়ায় এসেছে। মূল শহরের বাইরে দুর্গম এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। আট-দশ দিন আগে বৃষ্টি হলেও অনেক এলাকায় এখনো পানি রয়ে গেছে। আমার প্রথম অগ্রাধিকার হবে জলাবদ্ধতার নিরসন। সরকারের সহযোগিতা নিয়ে এর স্থায়ী সমাধান করতে হবে। সদ্য বিদায়ী মেয়র বলেছেন, সরকারের সহযোগিতা পাননি। শতভাগ মিথ্যাচার। আমার দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হবে চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত করা। তৃতীয় হলো শিক্ষার বিস্তার। এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বস্তি এলাকার ছেলেমেয়েরাও পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে গত পাঁচ বছর শিক্ষার মান কমেছে। নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে ওঠেনি।
প্রথম আলো: সিটি করপোরেশন এলাকায় করপোরেশনকে পাশ কাটিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ওভারব্রিজসহ বেশ কিছু উন্নয়নকাজ করেছে। আপনি মেয়র হলে অন্য সংস্থার মাধ্যমে এসব করতে দেবেন কি না।
নাছির উদ্দিন: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের দায়িত্ব নিজ হাত তুলে নিয়েছেন। এটাকে রক্ষা করতে হবে। বিদায়ী মেয়র চার বছরে কোনো প্রকল্প দেননি। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু চট্টগ্রামবাসীর প্রতি অঙ্গীকার করেছেন, সে জন্য বিকল্প হিসেবে চউক দিয়ে উন্নয়নকাজ করানো হয়েছে।
প্রথম আলো: চট্টগ্রামের প্রতি সরকারের আচরণে কি আপনি সন্তুষ্ট, যেখানে বাণিজ্যিক রাজধানী কেবল মৌখিক ঘোষণায় সীমাবদ্ধ?
নাছির উদ্দিন: এটা দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। আমি সন্তুষ্ট। উন্নয়নকাজগুলো কোনো না কোনো বিভাগের মাধ্যমে করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের বড় ভূমিকা আছে। আমি নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।
প্রথম আলো: আপনার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা আপনার দলের লোকেরাই করেছেন।
নাছির উদ্দিন: একটি মামলা হয়েছিল বিএনপির আমলে। যেহেতু আমি ভালো সংগঠক, সেহেতু আমাকে ঘায়েল করতেই এটা করা হয়েছে। আরেকটি মামলা ২২-২৩ বছর স্থগিত ছিল। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ওখানেও একই অভিযোগ। কিন্তু আমার কোনো মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়নি। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে একটি বাতিল হয়ে গেছে। আরেকটি বিচারাধীন। এটিও ছিল ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক।
আ জ ম নাছির উদ্দিন: দায়িত্ব পালন করতে করতে অভিজ্ঞতা বাড়ে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্ব হলো নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করা। প্রতিটি ইভেন্টে খেলোয়াড় তৈরি করা ও তাঁদের মান বৃদ্ধি করা। এটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। গত তিন বছর চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে ২৪টি ইভেন্ট আয়োজন করেছি। উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করেছি।
প্রথম আলো: আপনি বলেছেন সদ্য বিদায়ী মেয়র সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। আপনি সফল হবেন, তার নিশ্চয়তা কী?
নাছির উদ্দিন: সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রথম দরকার সদিচ্ছা। সদ্য বিদায়ী মেয়র পাঁচ বছরে অফিস করেছেন মাত্র দুই মাস। উনি চট্টগ্রামে থেকেও অফিস করেননি। মেয়রের যদি অফিস করায় অনীহা থাকে, তাহলে সেই মেয়র দিয়ে কীভাবে নাগরিক সেবা নিশ্চিত হবে? আজকে সিটি করপোরেশন এলাকায় বিনোদনের সুযোগ নেই। ছেলেমেয়েরা কোথাও যেতে পারছে না। তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। বিনোদনের জন্য সিটি করপোরেশনের স্বাধীনতা পার্ক আছে, কিন্তু সঠিক ব্যবহার নেই। পুরোনো সার্কিট হাউস ও আগ্রাবাদ শিশুপার্কেরও একই অবস্থা। আগ্রাবাদ শিশুপার্ক তো এখন ক্রাইম জোনে পরিণত হয়েছে।
প্রথম আলো: আপনি যে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার কথা বলছেন, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক সেবাসংস্থা সিটি করপোরেশনের অধীনে নয়।
নাছির উদ্দিন: অন্যদের কথা পরে ভাবা যাবে। আগে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব দায়িত্ব তো নিশ্চিত করতে হবে। একসময় চট্টগ্রাম মহানগর প্রাচ্যের রানি হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল। কিন্তু পাঁচ বছরে এটা কোন জায়গায় গেছে? ডাস্টবিন, রাস্তাঘাট—সবকিছুর শোচনীয় হাল।
প্রথম আলো: চট্টগ্রামকে মেগাসিটি করার কথা বলেছেন। কীভাবে করবেন?
নাছির উদ্দিন: আমি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে আছি। অভিজাত এই সংস্থায় বিপুল ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। সেখানে ২০-৩০ বছরের জটিল সমস্যার সমাধান করেছি। এটা উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়।
প্রথম আলো: সম্প্রতি এই সংস্থার নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে?
নাছির উদ্দিন: একটি ভালো সংস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই এটা করা হয়েছে। কেউ নিজের ব্যর্থতাকে আড়াল করতে এটি করেছেন। গতবার আমরা (প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী) একই প্যানেল থেকে নির্বাচন করেছি। আমার ভাবমূর্তির কারণেই তাঁরা বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারে ভোট গণনা পর্যন্ত সবাই উপস্থিত ছিলেন। তাহলে কারচুপি হলো কীভাবে? নির্বাচনে যে হারবে, সেই বলবে ঠিক হয়নি। জিতলে ঠিক আছে। এটা ঠিক নয়।
প্রথম আলো: যে দলের সমর্থন নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন, সেই দলের নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আপনি। সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীও নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তিনি সমর্থন পাননি। এখন পুরো কমিটি কি আপনার সঙ্গে আছে বলে মনে করেন?
নাছির উদ্দিন: অবশ্যই আমার সঙ্গে আছে। শতভাগ আছে। দলে কোনো মান-অভিমান নেই। বিভক্তি নেই। তবে একেকজনের সক্ষমতা একেক রকম। অনেক নামীদামি খেলোয়াড় শূন্য রানে আউট হচ্ছেন। তাহলে কী আমরা বলব, তিনি ইচ্ছা করেই খারাপ করেছেন?
প্রথম আলো: নামীদামি খেলোয়াড় আউট হচ্ছেন বলেই আপনি নেতৃত্বে এসেছেন, আপনার প্রার্থিতা নিশ্চিত হয়েছে?
নাছির উদ্দিন: না, না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগর আওয়ামী লীগের কমিটি করার ক্ষেত্রে অনেক সময় দিয়েছেন। অনেক কিছু যাচাই-বাছাই করেছেন। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
প্রথম আলো: আপনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন। কিন্তু ছাত্রলীগের মধ্যে মহিউদ্দিন ও নাছির গ্রুপের দ্বন্দ্বের কথা সবাই জানেন।
নাছির উদ্দিন: এখানে তথ্যের ঘাটতি আছে। আমার কোনো গ্রুপ নেই। একটা পত্রিকা লিখেছে, আগে ছিল দুটি গ্রুপ। এরপর লিখেছে, চার গ্রুপে বিভক্ত। তবে আমি বলব, যারা গ্রপিং আবিষ্কার করতে চায়, তারা হতাশ হবে। নগর আওয়ামী লীগ গতিশীল সংগঠন হবে।
প্রথম আলো: আপনি একসময় চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। এখন সেই কলেজটি ছাত্রশিবিরের নিয়ন্ত্রণে।
নাছির উদ্দিন: আমি বলব, এটার জন্য অনেকেই দায়ী। এখন যদি কিছু করতে চাই, বলবে ছাত্রলীগ সন্ত্রাস করছে। প্রথম আলো সবার আগে বলবে। অথচ শিবির যে সন্ত্রাস করছে, পত্রিকায় তা লেখা হচ্ছে না। আমার বিশ্বাস, সেখানে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী শিবিরের রাজনীতি অপছন্দ করে। প্রগতিশীল রাজনীতির উত্থান হোক, নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা হোক, তারা চায়। এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কলেজ কর্তৃপক্ষের। মিডিয়ারও। শিবিরের কাউকে বের করে দিলে সেটা মিডিয়ায় আসছে। ছাত্রলীগের কর্মীকে বের করে দিলে সেটা আসছে না।
প্রথম আলো: আপনি মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়ন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা দেখছি না। কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ব্যর্থতার কথা বলছেন।
নাছির উদ্দিন: শুধু পরিকল্পনা করলে হবে না। বাস্তবতার নিরিখে কাজ করতে হবে। ৪১টি ওয়ার্ডের বেহাল অবস্থার কথা মিডিয়ায় এসেছে। মূল শহরের বাইরে দুর্গম এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। আট-দশ দিন আগে বৃষ্টি হলেও অনেক এলাকায় এখনো পানি রয়ে গেছে। আমার প্রথম অগ্রাধিকার হবে জলাবদ্ধতার নিরসন। সরকারের সহযোগিতা নিয়ে এর স্থায়ী সমাধান করতে হবে। সদ্য বিদায়ী মেয়র বলেছেন, সরকারের সহযোগিতা পাননি। শতভাগ মিথ্যাচার। আমার দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হবে চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত করা। তৃতীয় হলো শিক্ষার বিস্তার। এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বস্তি এলাকার ছেলেমেয়েরাও পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে গত পাঁচ বছর শিক্ষার মান কমেছে। নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে ওঠেনি।
প্রথম আলো: সিটি করপোরেশন এলাকায় করপোরেশনকে পাশ কাটিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ওভারব্রিজসহ বেশ কিছু উন্নয়নকাজ করেছে। আপনি মেয়র হলে অন্য সংস্থার মাধ্যমে এসব করতে দেবেন কি না।
নাছির উদ্দিন: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের দায়িত্ব নিজ হাত তুলে নিয়েছেন। এটাকে রক্ষা করতে হবে। বিদায়ী মেয়র চার বছরে কোনো প্রকল্প দেননি। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু চট্টগ্রামবাসীর প্রতি অঙ্গীকার করেছেন, সে জন্য বিকল্প হিসেবে চউক দিয়ে উন্নয়নকাজ করানো হয়েছে।
প্রথম আলো: চট্টগ্রামের প্রতি সরকারের আচরণে কি আপনি সন্তুষ্ট, যেখানে বাণিজ্যিক রাজধানী কেবল মৌখিক ঘোষণায় সীমাবদ্ধ?
নাছির উদ্দিন: এটা দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। আমি সন্তুষ্ট। উন্নয়নকাজগুলো কোনো না কোনো বিভাগের মাধ্যমে করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের বড় ভূমিকা আছে। আমি নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।
প্রথম আলো: আপনার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা আপনার দলের লোকেরাই করেছেন।
নাছির উদ্দিন: একটি মামলা হয়েছিল বিএনপির আমলে। যেহেতু আমি ভালো সংগঠক, সেহেতু আমাকে ঘায়েল করতেই এটা করা হয়েছে। আরেকটি মামলা ২২-২৩ বছর স্থগিত ছিল। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ওখানেও একই অভিযোগ। কিন্তু আমার কোনো মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়নি। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে একটি বাতিল হয়ে গেছে। আরেকটি বিচারাধীন। এটিও ছিল ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক।
Thursday, April 2, 2015
যেকোনো প্রকারে সিটি নির্বাচনে জিততে হবে: মন্ত্রী মোশাররফ by একরামুল হক
আওয়ামী
লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নেতা-কর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানিয়ে
চট্টগ্রামে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন
বলেছেন, ‘তিনটি সিটি করপোরেশনে অবশ্যই যেকোনো প্রকারে হোক আমাদের জিততে
হবে।’
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জিইসি মোড় এলাকার একটি হোটেলে সিটি নির্বাচনে দলের নির্বাচনী কৌশল ঠিক করা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ছয়জন সাংসদসহ নগর আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকে মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না।
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কিন্তু বিগত কয়েকটি সিটি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি। এখন তিনটি সিটি করপোরেশনে আমাদের অবশ্যই যেকোনো প্রকারে হোক জিততে হবে। জিততে হবে এ জন্য যে, ১৫০ জন পেট্রলবোমায় নিহত হয়েছে। যদি পরাজিত হই তাহলে পেট্রলবোমার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।...এই রাজনীতি কেউ পছন্দ করছে না। তিন সিটি করপোরেশনে আমাদের জিততে হবে...।’
বৈঠকে দুই প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ও সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাংসদ এম এ লতিফ, মাঈন উদ্দীন খান বাদল, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সাংসদ নুরুল ইসলাম বিএসসিসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেন।
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত তিন মেয়র প্রার্থীকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযাগে গত সোমবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, সরকারের কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী নির্বাচনপূর্ব সময়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
গতকালের সভায় মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সব ভোটারের কাছে যেতে হবে। অনেকে বলেন, এরা আমাদের রিজার্ভ ভোট, ওখানে না গেলেও চলবে। কিন্তু প্রত্যেকের কাছে যেতে হবে। প্রত্যেকের কাছে গেলে তাঁরা ভোট কনফার্ম (নিশ্চিত) করবেন। প্রত্যেকে মনে করবেন যে, নিজেই প্রার্থী। আমাকে জয়যুক্ত হতে হবে।’ মন্ত্রীর বক্তব্যের রেকর্ড প্রথম আলোর কাছে রয়েছে।
বৈঠকে দেওয়া বক্তব্য আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না, তা জানতে মুঠোফোনে মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা যায়নি।
বৈঠকের পর ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিটি নির্বাচন নিয়ে দলীয়ভাবে বসেছি। নির্বাচনের কৌশল নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। বৈঠকে একাধিকবার নির্বাচিত অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা ছিলেন। তাঁরা অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন।’
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে বৈঠকের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখিত। কিছু বলার নেই।’ সাবেক সাংসদ নুরুল ইসলাম কোনো কথা না বলে গাড়িতে উঠে যান।
নির্বাচনী ওই বৈঠকে মন্ত্রীদের অংশ নেওয়া ও বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, বৈঠকটি রুদ্ধদ্বার হওয়ায় এর মাধ্যমে সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে, তা বলা যায় না। তবে মন্ত্রীরা কোনো সিদ্ধান্ত দিলে ও তার বাস্তবায়ন করতে হলে এটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করে। তা ছাড়া, যেকোনো প্রকারে জিততে চাওয়া সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। এই বক্তব্য প্রশাসনকেও প্রভাবিত করতে পারে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাসদের সাংসদ মাঈন উদ্দীন খান বাদল, আওয়ামী লীগের সাংসদ এম এ লতিফ, শামসুল হক চৌধুরী, দিদারুল আলম, মাহফুজুর রহমান মিতা, আশেক উল্লাহ, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, কোষাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেমউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তরের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, তিন শতাধিক নেতা-কর্মী।
বৈঠকের বিষয়ে চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন বলেন, কী বৈঠক করেছেন, কাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন, আদৌ বৈঠক করেছেন কি না, সে ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জিইসি মোড় এলাকার একটি হোটেলে সিটি নির্বাচনে দলের নির্বাচনী কৌশল ঠিক করা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ছয়জন সাংসদসহ নগর আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকে মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না।
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কিন্তু বিগত কয়েকটি সিটি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি। এখন তিনটি সিটি করপোরেশনে আমাদের অবশ্যই যেকোনো প্রকারে হোক জিততে হবে। জিততে হবে এ জন্য যে, ১৫০ জন পেট্রলবোমায় নিহত হয়েছে। যদি পরাজিত হই তাহলে পেট্রলবোমার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।...এই রাজনীতি কেউ পছন্দ করছে না। তিন সিটি করপোরেশনে আমাদের জিততে হবে...।’
বৈঠকে দুই প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ও সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাংসদ এম এ লতিফ, মাঈন উদ্দীন খান বাদল, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সাংসদ নুরুল ইসলাম বিএসসিসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেন।
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত তিন মেয়র প্রার্থীকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযাগে গত সোমবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, সরকারের কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী নির্বাচনপূর্ব সময়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
গতকালের সভায় মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সব ভোটারের কাছে যেতে হবে। অনেকে বলেন, এরা আমাদের রিজার্ভ ভোট, ওখানে না গেলেও চলবে। কিন্তু প্রত্যেকের কাছে যেতে হবে। প্রত্যেকের কাছে গেলে তাঁরা ভোট কনফার্ম (নিশ্চিত) করবেন। প্রত্যেকে মনে করবেন যে, নিজেই প্রার্থী। আমাকে জয়যুক্ত হতে হবে।’ মন্ত্রীর বক্তব্যের রেকর্ড প্রথম আলোর কাছে রয়েছে।
বৈঠকে দেওয়া বক্তব্য আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না, তা জানতে মুঠোফোনে মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা যায়নি।
বৈঠকের পর ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিটি নির্বাচন নিয়ে দলীয়ভাবে বসেছি। নির্বাচনের কৌশল নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। বৈঠকে একাধিকবার নির্বাচিত অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা ছিলেন। তাঁরা অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন।’
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে বৈঠকের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখিত। কিছু বলার নেই।’ সাবেক সাংসদ নুরুল ইসলাম কোনো কথা না বলে গাড়িতে উঠে যান।
নির্বাচনী ওই বৈঠকে মন্ত্রীদের অংশ নেওয়া ও বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, বৈঠকটি রুদ্ধদ্বার হওয়ায় এর মাধ্যমে সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে, তা বলা যায় না। তবে মন্ত্রীরা কোনো সিদ্ধান্ত দিলে ও তার বাস্তবায়ন করতে হলে এটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করে। তা ছাড়া, যেকোনো প্রকারে জিততে চাওয়া সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। এই বক্তব্য প্রশাসনকেও প্রভাবিত করতে পারে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাসদের সাংসদ মাঈন উদ্দীন খান বাদল, আওয়ামী লীগের সাংসদ এম এ লতিফ, শামসুল হক চৌধুরী, দিদারুল আলম, মাহফুজুর রহমান মিতা, আশেক উল্লাহ, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, কোষাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেমউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তরের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, তিন শতাধিক নেতা-কর্মী।
বৈঠকের বিষয়ে চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন বলেন, কী বৈঠক করেছেন, কাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন, আদৌ বৈঠক করেছেন কি না, সে ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Friday, February 13, 2015
চট্টগ্রাম বিভাগ- দূরপাল্লার বাস কম, নগরে যানজট by একরামুল হক
(কিছু বাস চললেও তাতে যাত্রী ছিল কম। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরের। জিইসি মোড় এলাকার ছবিটি গতকাল বেলা তিনটায় তোলা l প্রথম আলো) টানা
অবরোধ ও হরতালের কারণে চট্টগ্রাম সদরের সঙ্গে বিভিন্ন জেলার যাত্রীবাহী
বাস চলাচল আগের চেয়ে কমে গেছে। তবে নগরের ভেতর যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।
অনেক স্থানে যানজট হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সদরের সঙ্গে ১০টি জেলার সড়ক যোগাযোগ আছে। লক্ষ্মীপুরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল রয়েছে। পেট্রলবোমা হামলার কারণে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তাই প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ যাত্রীরা যাতায়াত কমিয়ে দিয়েছে বলে পরিবহনমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন।
তবে চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম নগরের সঙ্গে লক্ষ্মীপুরসহ ১০ জেলার সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক আছে। তবে যাত্রী কমে যাওয়ায় বাস চলাচল কমেছে।
জানা গেছে, অবরোধ কর্মসূচির আগে রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামে ৩০-৩২টি বাস যাত্রী পরিবহন করত। গত ৫ জানুয়ারির পর চার-পাঁচটি বাসে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। একইভাবে খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামে দিনের বেলায় প্রতি ৪০ মিনিটে একটি বাস যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা হতো। এখন দিনে সাকল্যে চার থেকে পাঁচটি বাসে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগও প্রায় একই অবস্থায় রয়েছে। যাত্রীর অভাবে সেখানেও চার থেকে পাঁচটির বেশি বাস চলাচল করছে না।
পরিবহনমালিক ও শ্রমিক সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিপর্যস্ত। যাত্রী পাওয়া সাপেক্ষে বিলাসবহুল বাস গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করছে। তবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস চলাচল খুব কম।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শাহ আমানত সেতুর ওপর দিয়ে দিনে-রাতে প্রায় তিন হাজার গাড়ি চলাচল কমেছে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতুর টোল আদায় করে জিএসআই-এসইএল টমা-জেভি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক জহির উদ্দিন বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার গাড়ি পারাপার হতো। এখন ১০ হাজারে নেমে এসেছে। তবে দূরপাল্লার বাস চলাচল অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে।’
এদিকে গতকাল নগরের ইিপজেড মোড়, আগ্রাবাদ, জিইসি মোড়, কর্নেল হাট, বহদ্দরহাটসহ বেশ কয়েকটি স্থান ঘুরে যান চলাচল স্বাভাবিক দেখা গেছে। এসব স্থানে ক্ষণে ক্ষণে যানজটও হয়েছে।
বিভিন্ন টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের সঙ্গে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি। যাত্রীর অভাবে এসব জেলার সঙ্গে বাস চলাচল এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে বলে পরিবহনমালিক ও শ্রমিক গ্রুপ জানিয়েছে। নগরের কদমতলী, অলংকার মোড়, বড়পুল থেকে বৃহত্তর নোয়াখালী ও বৃহত্তর কুমিল্লার ২৮টি সড়কপথে যাত্রী পরিবহন করা হয়। স্বাভাবিক সময়ে ৮০০ থেকে ৮৫০টি বাস যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে গন্তব্যে রওনা হতো।
চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব মঞ্জুরুল আলম বলেন, যাত্রীর অভাবে বাস চলাচল কমে গেছে। এখন ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ বাস যাত্রী বোঝাই করে গন্তব্যে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সদরের সঙ্গে ১০টি জেলার সড়ক যোগাযোগ আছে। লক্ষ্মীপুরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল রয়েছে। পেট্রলবোমা হামলার কারণে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তাই প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ যাত্রীরা যাতায়াত কমিয়ে দিয়েছে বলে পরিবহনমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন।
তবে চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম নগরের সঙ্গে লক্ষ্মীপুরসহ ১০ জেলার সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক আছে। তবে যাত্রী কমে যাওয়ায় বাস চলাচল কমেছে।
জানা গেছে, অবরোধ কর্মসূচির আগে রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামে ৩০-৩২টি বাস যাত্রী পরিবহন করত। গত ৫ জানুয়ারির পর চার-পাঁচটি বাসে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। একইভাবে খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামে দিনের বেলায় প্রতি ৪০ মিনিটে একটি বাস যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা হতো। এখন দিনে সাকল্যে চার থেকে পাঁচটি বাসে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগও প্রায় একই অবস্থায় রয়েছে। যাত্রীর অভাবে সেখানেও চার থেকে পাঁচটির বেশি বাস চলাচল করছে না।
পরিবহনমালিক ও শ্রমিক সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিপর্যস্ত। যাত্রী পাওয়া সাপেক্ষে বিলাসবহুল বাস গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করছে। তবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস চলাচল খুব কম।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শাহ আমানত সেতুর ওপর দিয়ে দিনে-রাতে প্রায় তিন হাজার গাড়ি চলাচল কমেছে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতুর টোল আদায় করে জিএসআই-এসইএল টমা-জেভি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক জহির উদ্দিন বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার গাড়ি পারাপার হতো। এখন ১০ হাজারে নেমে এসেছে। তবে দূরপাল্লার বাস চলাচল অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে।’
এদিকে গতকাল নগরের ইিপজেড মোড়, আগ্রাবাদ, জিইসি মোড়, কর্নেল হাট, বহদ্দরহাটসহ বেশ কয়েকটি স্থান ঘুরে যান চলাচল স্বাভাবিক দেখা গেছে। এসব স্থানে ক্ষণে ক্ষণে যানজটও হয়েছে।
বিভিন্ন টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের সঙ্গে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি। যাত্রীর অভাবে এসব জেলার সঙ্গে বাস চলাচল এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে বলে পরিবহনমালিক ও শ্রমিক গ্রুপ জানিয়েছে। নগরের কদমতলী, অলংকার মোড়, বড়পুল থেকে বৃহত্তর নোয়াখালী ও বৃহত্তর কুমিল্লার ২৮টি সড়কপথে যাত্রী পরিবহন করা হয়। স্বাভাবিক সময়ে ৮০০ থেকে ৮৫০টি বাস যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে গন্তব্যে রওনা হতো।
চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব মঞ্জুরুল আলম বলেন, যাত্রীর অভাবে বাস চলাচল কমে গেছে। এখন ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ বাস যাত্রী বোঝাই করে গন্তব্যে যাচ্ছে।
Tuesday, December 16, 2014
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দ্বন্দ্বে- নির্মাণকাজে ভাগ বসায় ছাত্রলীগ by একরামুল হক ও তাসনীম হাসান

চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৫২ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলছে। সীমানাপ্রাচীর
নির্মাণে আরও ১০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়াও প্রায় শেষের পথে।
ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাবেক দুই সাধারণ সম্পাদকের কড়া ‘নজর’
রয়েছে এসব উন্নয়নকাজে। দরপত্র আর ঠিকাদারি কাজ থেকে প্রভাব খাটিয়ে
অনৈতিক সুবিধা নিতেই বারবার বিরোধে জড়াচ্ছে দুই নেতার অনুসারী দুটি পক্ষ। চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের নেতা-কর্মী, পুলিশ ও
ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে যে পক্ষ একচেটিয়া প্রভাব
খাটাতে পারে, তারাই সব সুবিধা ভোগ করে। এ নিয়েই একের পর এক সংঘর্ষে
জড়াচ্ছে দুই পক্ষ। সর্বশেষ গত রোববার গুলি করে হত্যা করা হয়েছে
ছাত্রলীগের কর্মী তাপস সরকারকে।
ছাত্রলীগের একটি সূত্র বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাবেক দুই সাধারণ সম্পাদকের স্বার্থের দ্বন্দ্বে সংগঠনের বিরোধ মিটছে না। তাঁরা ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন (চাঁদা) আদায় করছেন। ঠিকাদারি কাজের সাব-কন্ট্রাক্ট (ঠিকাকাজ, তবে জোর করে) ভাগিয়ে নিচ্ছেন।
আর তাঁদের হয়ে সাধারণ কর্মীরা বুঝে না-বুঝে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন। একের পর এক সংঘর্ষের কারণে গত জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, এই সরকারের আমলে শতাধিক কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হয়েছে। কোটি কোটি টাকার কাজ চলমান আছে। প্রাচীর নির্মাণের জন্য আগামী মাসে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। এসব কাজে অনেকের স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। স্বার্থসংশ্লিষ্টতার কারণে দ্বন্দ্ব-বিবাদ যে হচ্ছে না, তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে কলা ভবন এবং ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল নির্মাণের কাজ চলছে। এর আগে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবন, ছয় কোটি টাকায় জিমনেসিয়াম (ব্যায়ামাগার) ও ১৩ কোটি টাকায় শেখ হাসিনা ছাত্রী হল নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এসব কাজ শুরু হয়ে। আগামী মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য আরও ১০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।
জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক উন্নয়নকাজ হচ্ছে। সেখানে চাঁদাবাজি বা কমিশন খাওয়ার ধান্দা যদি হয়, সেটা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। আমাদের সহযোগিতা চাইলে পুলিশ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।’
ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের বিবদমান দুটি পক্ষের একটি হচ্ছে সিএফসি (চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার) ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির হায়দার বাবুল। ভিএক্স (ভার্সিটি এক্সপ্রেস) নামে পরিচিত অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আলম।
ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, মঞ্জুরুল-এরশাদের বাড়ি ক্যাম্পাস থেকে দুই কিলোমিটার দূরে মদনহাটে। আর নাসির হায়দারের বাড়ি ক্যাম্পাস থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে ইসলামিয়া হাট এলাকায়। গত ৫ মে ক্যাম্পাসে ভিএক্স পক্ষের নেতা-কর্মীরা লাঞ্ছিত করেন নাসির হায়দারকে।
এ বিষয়ে সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ পক্ষের নেতা ও বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন মামুন বলেন, ‘আমরা দেড় বছর ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলাম। ক্যাম্পাসে কোটি কোটি টাকার কাজ কারা করেছে, কী কাজ করেছে, তা-ও জানি না। সিনিয়ররা কী করেছেন, তা-ও আমরা বলতে পারি না।’
ভিএক্স পক্ষের নেতা ও ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির দপ্তর সম্পাদক জালাল আহমেদ বলেন, ‘সিনিয়র ভাইয়েরা কী করেন, তা আমরা জানি না। এসব টেন্ডার-ফেন্ডারের সঙ্গে আমরা জড়িত না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান দুটি নির্মাণ প্রকল্পের একটির ঠিকাদার নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, কাজ শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা দরপত্র থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন দাবি করেন তাঁর কাছে। কমিশন না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, শেষ পর্যন্ত মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করতে হয়। এ জন্য নাসির হায়দার বাবুলকে দায়ী করেন ওই ঠিকাদার। নাসির হায়দার বাবুল ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তবে নাসির হায়দার বাবুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা দেড় বছর ক্যাম্পাসের বাইরে ছিল। আমাদের কোনো ছেলে ঠিকাদার থেকে চাঁদা বা কমিশন দাবি করেনি। মঞ্জুরুল আলম ভাই ও এরশাদ হোসেনের ছেলেরা দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করেন। আগামী মাসে আরও ১০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। সেই কাজের কমিশনও তাঁরা পকেটে ভরতে চান। তাই আমাদের ছেলেকে খুন করে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে।’
নাসির হায়দার বলেন, তাপস সরকারের খুনিরা চাঁদবাজ-সন্ত্রাসী। তারা ক্যাম্পাসের দরপত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য হত্যাকাণ্ডের মতো এই অপরাধ করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে এরশাদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে তিনি মুঠোফোন বন্ধ করে দেন।
মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘শহরে আমার ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। ক্যাম্পাসের ঠিকাদারদের কাছ থেকে আমি কেন চাঁদা বা কমিশন নেব?’ তিনি বলেন, ছাত্রলীগের বিবদমান দুটি পক্ষই তাঁর স্নেহভাজন। সবাইকে মাস খানেক আগে তাঁর বাড়িতে দাওয়াত করেছিলেন। কেবল নাসির হায়দার বাবুল আসেননি।
ছাত্রলীগের একটি সূত্র বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাবেক দুই সাধারণ সম্পাদকের স্বার্থের দ্বন্দ্বে সংগঠনের বিরোধ মিটছে না। তাঁরা ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন (চাঁদা) আদায় করছেন। ঠিকাদারি কাজের সাব-কন্ট্রাক্ট (ঠিকাকাজ, তবে জোর করে) ভাগিয়ে নিচ্ছেন।
আর তাঁদের হয়ে সাধারণ কর্মীরা বুঝে না-বুঝে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন। একের পর এক সংঘর্ষের কারণে গত জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, এই সরকারের আমলে শতাধিক কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হয়েছে। কোটি কোটি টাকার কাজ চলমান আছে। প্রাচীর নির্মাণের জন্য আগামী মাসে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। এসব কাজে অনেকের স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। স্বার্থসংশ্লিষ্টতার কারণে দ্বন্দ্ব-বিবাদ যে হচ্ছে না, তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে কলা ভবন এবং ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল নির্মাণের কাজ চলছে। এর আগে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবন, ছয় কোটি টাকায় জিমনেসিয়াম (ব্যায়ামাগার) ও ১৩ কোটি টাকায় শেখ হাসিনা ছাত্রী হল নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এসব কাজ শুরু হয়ে। আগামী মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য আরও ১০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।
জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক উন্নয়নকাজ হচ্ছে। সেখানে চাঁদাবাজি বা কমিশন খাওয়ার ধান্দা যদি হয়, সেটা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। আমাদের সহযোগিতা চাইলে পুলিশ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।’
ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের বিবদমান দুটি পক্ষের একটি হচ্ছে সিএফসি (চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার) ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির হায়দার বাবুল। ভিএক্স (ভার্সিটি এক্সপ্রেস) নামে পরিচিত অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আলম।
ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, মঞ্জুরুল-এরশাদের বাড়ি ক্যাম্পাস থেকে দুই কিলোমিটার দূরে মদনহাটে। আর নাসির হায়দারের বাড়ি ক্যাম্পাস থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে ইসলামিয়া হাট এলাকায়। গত ৫ মে ক্যাম্পাসে ভিএক্স পক্ষের নেতা-কর্মীরা লাঞ্ছিত করেন নাসির হায়দারকে।
এ বিষয়ে সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ পক্ষের নেতা ও বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন মামুন বলেন, ‘আমরা দেড় বছর ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলাম। ক্যাম্পাসে কোটি কোটি টাকার কাজ কারা করেছে, কী কাজ করেছে, তা-ও জানি না। সিনিয়ররা কী করেছেন, তা-ও আমরা বলতে পারি না।’
ভিএক্স পক্ষের নেতা ও ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির দপ্তর সম্পাদক জালাল আহমেদ বলেন, ‘সিনিয়র ভাইয়েরা কী করেন, তা আমরা জানি না। এসব টেন্ডার-ফেন্ডারের সঙ্গে আমরা জড়িত না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান দুটি নির্মাণ প্রকল্পের একটির ঠিকাদার নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, কাজ শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা দরপত্র থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন দাবি করেন তাঁর কাছে। কমিশন না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, শেষ পর্যন্ত মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করতে হয়। এ জন্য নাসির হায়দার বাবুলকে দায়ী করেন ওই ঠিকাদার। নাসির হায়দার বাবুল ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তবে নাসির হায়দার বাবুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা দেড় বছর ক্যাম্পাসের বাইরে ছিল। আমাদের কোনো ছেলে ঠিকাদার থেকে চাঁদা বা কমিশন দাবি করেনি। মঞ্জুরুল আলম ভাই ও এরশাদ হোসেনের ছেলেরা দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করেন। আগামী মাসে আরও ১০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। সেই কাজের কমিশনও তাঁরা পকেটে ভরতে চান। তাই আমাদের ছেলেকে খুন করে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে।’
নাসির হায়দার বলেন, তাপস সরকারের খুনিরা চাঁদবাজ-সন্ত্রাসী। তারা ক্যাম্পাসের দরপত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য হত্যাকাণ্ডের মতো এই অপরাধ করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে এরশাদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে তিনি মুঠোফোন বন্ধ করে দেন।
মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘শহরে আমার ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। ক্যাম্পাসের ঠিকাদারদের কাছ থেকে আমি কেন চাঁদা বা কমিশন নেব?’ তিনি বলেন, ছাত্রলীগের বিবদমান দুটি পক্ষই তাঁর স্নেহভাজন। সবাইকে মাস খানেক আগে তাঁর বাড়িতে দাওয়াত করেছিলেন। কেবল নাসির হায়দার বাবুল আসেননি।
Wednesday, June 26, 2013
চট্টগ্রামে দরপত্রের নিয়ন্ত্রক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ by একরামুল হক ও প্রণব বল
চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল, বিদ্যুৎ
উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উন্নয়নকাজের বেশির ভাগ
দরপত্রই নিয়ন্ত্রণ করছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। এদের অনেকে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
Sunday, February 3, 2013
নতুন কৌশলে জামায়াত-শিবির by একরামুল হক
দলবদ্ধভাবে নয়, একজন-দুজন করে বিভিন্ন উপজেলা থেকে চট্টগ্রাম নগরের নির্দিষ্ট এলাকায় জড়ো হন তাঁরা। এরপর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে মুঠোফোনের মাধ্যমে বার্তা পেয়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট মোড় বা রাস্তায় গিয়ে ঝটিকা মিছিল শুরু করেন। দ্রুতগতির মিছিল থেকে চালান ভাঙচুর।
Thursday, January 31, 2013
বহদ্দারহাট উড়ালসড়ক- পারিসা বাদ, বাকি কাজ হবে সেনা তত্ত্বাবধানে by একরামুল হক
চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট জংশনে উড়াল সড়কের বাকি কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে করা হবে। এ জন্য সেনাবাহিনীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে শিগগির বৈঠক হবে। সিডিএ সূত্র এ কথা জানিয়েছে।
Thursday, January 10, 2013
নগর আওয়ামী লীগ- বিরোধ মেটাতে তৎপর নেতারা by একরামুল হক
সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধ মেটাতে তৎপর হয়ে উঠেছেন নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। ইতিমধ্যে নগর কমিটির সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে দূরত্ব অনেকটা কমিয়ে এনেছেন সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি ও যুগ্ম সম্পাদক আফছারুল আমীন।
Thursday, January 3, 2013
চার বড় প্রকল্পে হাত দিচ্ছে চউক by একরামুল হক
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) নগরের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ করতে তিনটি দুটি রাস্তা তৈরি ও একটি সম্প্রসারণের কাজে হাত দিতে যাচ্ছে। এ ছাড়া মুরাদপুর থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত উড়ালসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
Thursday, December 27, 2012
রেলওয়ের ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকার কাজে বেশি জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়- নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ‘ঘুপচি বিজ্ঞাপন’! by একরামুল হক
নথিপত্রে উল্লেখ আছে, দরপত্র আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এমনকি পত্রিকায় ‘প্রকাশিত’ বিজ্ঞাপনের কাটিংও রাখা আছে নথিপত্রের সঙ্গে। কিন্তু বাস্তবে এসব বিজ্ঞাপন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি।
Thursday, December 20, 2012
যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে আরও কর্মসূচি আসছে সিপিবি ও বাসদের- ৬ বছর পর মাঠে বাম দল by একরামুল হক
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত শেষ করা এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে দেশের প্রধান দুটি বাম দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
Wednesday, December 19, 2012
ভবন নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিতে ইউরোপ-আমেরিকা সফর! by একরামুল হক
চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে সিডিএ স্কয়ার নামে ২০, ২২ ও ২৫ তলার তিনটি আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। বহুতল এই ভবন নির্মাণের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালি যাচ্ছেন আট কর্মকর্তা।
ভবন নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিতে ইউরোপ-আমেরিকা সফর! by একরামুল হক
চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে সিডিএ স্কয়ার নামে ২০, ২২ ও ২৫ তলার তিনটি আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। বহুতল এই ভবন নির্মাণের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালি যাচ্ছেন আট কর্মকর্তা।
Friday, December 7, 2012
‘অদক্ষ’ ঠিকাদার পছন্দ প্রকল্প পরিচালকদের! by একরামুল হক
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের কাজের মান ও গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ঠিকাদারদের যোগ্যতা এবং তাঁদের কাজ পাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
Thursday, December 6, 2012
‘অদক্ষ’ ঠিকাদার পছন্দ প্রকল্প পরিচালকদের! by একরামুল হক
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের কাজের মান ও গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ঠিকাদারদের যোগ্যতা এবং তাঁদের কাজ পাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় বেশির ভাগ প্রকল্প এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
Subscribe to:
Posts (Atom)
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2002)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
বিনোদন
শেষের পাতা
ক্রিকেট খেলা
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
দেশে দেশে
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ইসরায়েল
ফুটবল খেলা
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ফিলিস্তিন
Lead
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
ইরান
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
কালবেলা
চট্টগ্রাম
বিশাল বাংলা
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
মুসলিম
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
জাতিসংঘ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সাক্ষাৎকার
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
ইউরোপ
খেলা ধুলা
সৌদি আরব
ছাত্রলীগ
ইতিহাস
প্রতিবেদন
জামায়াতে ইসলামী
সোহরাব হাসান
অমানবিক
পশ্চিমবঙ্গ
আলোকিত চট্টগ্রাম
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
জাতীয় সংসদ
নারী ধর্ষণ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
আফ্রিকা
মাদক
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
সংখ্যালঘু
প্রবাস
ছুটির দিনে
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
সৈয়দ আবুল মকসুদ
তুরস্ক
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
আফগানিস্তান
গোল্লাছুট
বইপত্র
অন্য আলো
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
ইউক্রেন
দুর্ঘটনা
অপহরণ
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
স্বাস্থ্য
ফূটবল খেলা
হিন্দু
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
নেপাল
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
জ্যোতির্বিজ্ঞান
সড়ক দুর্ঘটনা
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
শিল্প ও সাহিত্য
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
কক্সবাজার
এ এম এম শওকত আলী
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
Exclusive
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
গবেষণা
বাংলাদেশ
মিসর
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
শোক
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
সংস্কৃতি
ইয়েমেন
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
জীবনযাপন
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
লেবানন
আবদুল মান্নান
জাপান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
কুমিল্লা
শিল্প
মুক্তমত
মাহমুদুর রহমান
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
পার্বত্য চট্টগ্রাম
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
যশোর
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
চিকিৎসা
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা
মেহেদী হাসান
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
তথ্য প্রযুক্তি
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
ব্রাজিল
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
মসজিদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
রোকনুজ্জামান পিয়াস
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
উত্তর কোরিয়া
একরামুল হক
জলবায়ু ও পরিবেশ
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
তুহিন ওয়াদুদ
কালি ও কলম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
কুষ্টিয়া
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
জনস্বাস্থ্য
জাতীয় নাগরিক পার্টি
ঝিলিমিলি
নিবন্ধ
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
উচ্চশিক্ষা
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
প্রযুক্তি
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কাতার
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
ঝড় ও দুর্যোগ
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
শিশির মোড়ল
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
হুমায়ূন আহমেদ
আবুল হাসনাত
আল আমিন
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
হারুন হাবীব
অমিত বসু
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জার্মানি
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
লাতিন আমেরিকা
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
আরব আমিরাত বা দুবাই
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
ব্যবসা
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
দক্ষিণ কোরিয়া
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
লিবিয়া
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
ইসলাম
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
আসজাদুল কিবরিয়া
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
Fantastic
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
মহাকাশচারী
জোহরান মামদানি
নিয়ন আলোয়
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
ইতালি
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
নরসিংদী
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জলবায়ু পরিবর্তন
ঝালকাঠি
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
যৌন অপরাধ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
কিশোর আলো
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
ইহুদি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
চুয়াডাঙ্গা
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
ধর্মঘট
স্পেন
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গণমাধ্যম
গদ্যকার্টুন
পিরোজপুর
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
প্রবাসী শ্রমিক
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
সোমালিয়া
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
চিঠিপত্র
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
হংকং
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কুয়েত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চুক্তি
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সমাজ
সামাজ
সুজন সুপান্থ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
ওমান
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শেরপুর
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সিঙ্গাপুর
সুইডেন
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
রাজবাড়ী
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
পোল্যান্ড
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আলজেরিয়া
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রিস
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নীহারুল ইসলাম
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রকিব হাসান
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট






