Sunday, June 14, 2015
শনাক্তই হয়নি কেউ, আতঙ্কে ক্যাম্পবাসী by নজরুল ইসলাম
![]() |
| হামলার ক্ষতচিহ্ন এখনো রয়েছে রাজধানীর কালশীতে বিহারি ক্যাম্পের ঘরের দেয়ালে l ছবি: প্রথম আলো |
অবশ্য সাংসদ ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্ তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তিনি একাধিকবার প্রথম আলোকে বলেছেন, ওই হামলায় তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল না। তাঁর কোনো লোকের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গতকাল তাঁর মুঠোফোন ও বাসার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
‘বিহারি’ হিসেবে পরিচিত আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ওই ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সঙ্গে গত বছরের ১৩ জুন গভীর রাত থেকে পাশের বাউনিয়াবাদের যুবলীগের নেতা জুয়েল রানার সমর্থক ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়৷ সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরদিন ১৪ জুন সকালে ক্যাম্পের আটটি ঘরে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে অগ্নিসংযোগ করলে ইয়াসিন আলীর পরিবারের নারী-শিশুসহ নয়জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। তাঁর এক মেয়ে ফারজানা দগ্ধ হলেও কাটা বেড়া দিয়ে সেদিন কোনোমতে সে বেরিয়ে আসে। আর পুলিশের গুলিতে নিহত হন ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. আজাদ। ইয়াসিন সেদিন বাইরে থাকায় বেঁচে গেলেও গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর পল্লবীর পূরবী সিনেমা হলের সামনে বাসের ধাক্কায় মারা যান। পরদিন তাঁর ফুফাতো ভাই মো. আলমের করা মামলার বিবরণে লেখা হয়েছে, ইয়াসিনের মৃত্যুতে ওই দুর্বৃত্তদের হাত থাকতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পের পূর্ব দিকে টিনের যে ঘরটি পুড়ে ইয়াসিনের পরিবারের নয়জন মারা গেছেন, সেখানে একতলা পাকা ঘর গড়ে তুলে মাদ্রাসা করা হয়েছে। মাদ্রাসার চারদিকের দেয়ালে টিনের ছাউনি দিয়ে কয়েকটি দোকানঘর তোলা হয়েছে। ক্যাম্পের পশ্চিমে বিহারিদের সংগঠন স্ট্রান্ড্রেড পাকিস্তানিজ জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটির (এসপিজিআরসি) দপ্তরের দেয়ালে ১০ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে একটি পোস্টার ঝুলছিল।
এসপিজিআরসির কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পের সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন বলেন, ‘মামলা করতে আদালতে যাওয়ার দুই দিন আগে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর ইয়াসিনকে বাসের ধাক্কায় মেরা ফেলা হলো। ইয়াসিনের মতো পরিণতির আশঙ্কায় এখন ক্যাম্পের অন্যরা ১০ হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন। হামলাকারী সরকারদলীয় নেতা-কর্মী ও পুলিশ। তাই পুলিশ মামলার কোনো তদন্ত করছে না। তাদের গ্রেপ্তার করা তো দূরের কথা, কাউকে শনাক্তই করতে পারেনি। আজ ১০ হত্যার বিচার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পের সামনে মানববন্ধন করবে বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দারা।’ তিনি বলেন, পুলিশ তাঁদের ওপর যে হামলা চালিয়েছে সেই কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেডের শেল, রাবার বুলেটে সংগ্রহ করে চাদরের পোঁটলা বেঁধে রেখেছেন। সেগুলো এই প্রতিবেদকে দেখিয়ে বলেন, এসব আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
ক্যাম্পবাসী ও আশপাশের লোকজন জানান, কালশী সড়কসংলগ্ন উড়ালসড়ক নির্মাণ এবং এলাকার উন্নতি ঘটায় জমির দাম অনেক বেড়ে গেছে। এখান থেকে বিহারিদের উচ্ছেদ করে বিপণিবিতান নির্মাণ করাই লক্ষ্য ছিল সাংসদের। বস্তিতে বিদ্যুৎ-সংযোগ নিয়ে সাংসদের সঙ্গে ক্যাম্পবাসীর বিরোধের বিষয়টি একটি অজুহাত মাত্র। হামলার পরদিন তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন এবং সাংসদের কুশপুত্তলিকা পোড়ান। সরকারের পক্ষ থেকে বর্বর এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের কোনো উদ্যোগও নেই।
এসপিজিআরসি কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পের প্রচার সম্পাদক খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, হামলাকারীদের ভিডিও ফুটেজ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে দেওয়া হয়েছিল। অথচ অভিযোগ ওঠা যুবলীগের নেতাকে পুলিশ আটক করল না।
নিহত আজাদের কুর্মিটোলা ক্যাম্পের ছোট্ট ছাপড়া ঘরে গেলে তাঁর মা বৃদ্ধা মা সাইদা বেগম বিলাপ করে বলেন, ‘পুত্র হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করতে গেলে আমাদেরও ইয়াসিনের মতো পরিণতি হবে। তাই বিচারের ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।’
ক্যাম্পের বাসিন্দারা ক্যাম্পের ওপর হামলার ছবি দেখান। এতে দেখা যায়, পুলিশের সামনেই একদল যুবক ক্যাম্পে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালাচ্ছে। বিহারিরা মুঠোফোনে ধারণ করা বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখান, যেগুলোতে পুলিশের সঙ্গে থেকে বস্তির দোকানে হামলা চালাতে, কোপাতে দেখা যায়।
যোগাযোগ করা হলে গতকাল এসপিজিআরসি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত খান বলেন, গত ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ১০ হত্যার বিচার দাবি ও কুর্মিটোলা ক্যাম্পবাসীর বিরুদ্ধে ছয়টি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার জেলা প্রশাসককে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
সরকারি কাজে বাধাদান, লুটপাট, ভাঙচুর ও ১০ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্যাম্পবাসীর বিরুদ্ধে হওয়া ছয়টি মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলাগুলোর তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ছয় মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। তাঁরা অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। আসামি শনাক্ত হলে ক্যাম্পবাসীর বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জুয়েল রানাসহ শতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে শত শত ব্যক্তিকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেলেও হামলাকারীর কোনো ছবি পাওয়া যায়নি।
গত ডিসেম্বরের আগে এই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধাদান, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্যাম্পবাসীর বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। শিগগিরই এসব মামলায় ক্যাম্পবাসীকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কীসের বন্ধুত্ব? প্রশ্ন খালেদা জিয়া
আজ রোববার রাতে গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ময়মনসিংহ জেলা বার ইউনিটের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। তবে এসব কথা বলার সময় তিনি একবারও ভারতের নাম উল্লেখ করেননি।
খালেদা জিয়া কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘যমুনা সেতু দিয়ে যেতে বাংলাদেশের জনগণকে টোল দিতে হয়। কিন্তু অন্য অনেক দেশ সেতু ব্যবহার করে টাকা-পয়সা দেবে না, কিছু দেবে না। হেভি হেভি গাড়ি যাবে, টোল দেবে না। এ রাস্তা কি লোড নিতে পারবে? তিনি আরও বলেন, যাতায়াতে বাধা দিচ্ছি না। কিন্তু টাকা দিয়ে যাবে।’
রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার বিরোধিতা করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, বিদ্যুৎ দরকার। কিন্তু রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হলে সুন্দরবন শেষ হয়ে যাবে। জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যাবে। তিনি অন্য কোনো জায়গায় এ বিদ্যুৎকেন্দ্র করার আহ্বান জানান।
গত ২৫ মে জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের ১৯টি বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সেদিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘দেশে এখন রাজতন্ত্র চলছে। একটা পরিবারের শাসন। সব করবে, সব পাবে। মানুষ পাক, না পাক; এই পরিবারের সব সুবিধা থাকবে।’
পুলিশের সমালোচনা করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, পুলিশ এখন সরকারের চেয়েও বড় হয়ে গেছে। তারা এখন বড় সরকার। পুলিশ বলে, তারাই সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। তাই গুম-খুন অত্যাচার করছে। কিন্তু পুলিশ র্যাব দিয়ে বেশিদিন ক্ষমতায় যায় না।
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, সরকার অন্যায়ভাবে বিএনপি-সমর্থিত নির্বাচিত মেয়রদের বরখাস্ত করছে। কিন্তু তারা এটা করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে কোর্টের রায় আমাদের পক্ষে আসার কথা। কিন্তু কোর্টও নিরপেক্ষতা রাখছে না। আমরা চাচ্ছি সুবিচার, তা পাচ্ছি না।’
সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, গত ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা ছিল। কিন্তু সিটি নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে যে, এ সরকারের অধীনে কোনো ধরনের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে তিনি বলেন, তারা তদন্ত করছে না। তদন্ত করলে চোর ধরা পড়বে।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চান হিলারি
বিবিসির এক খবরে জানা যায়, নিউ ইয়র্কের রুজভেল্ট আইল্যান্ডে কয়েক হাজার সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হিলারি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সাধারণ জনগণের উন্নতি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নতি হবে না। এই সভার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নের লড়াইয়ে নামলেন সাবেক ফার্স্টলেডি হিলারি ক্লিনটন।
হিলারির বক্তব্যের মধ্যে ঘন ঘন হর্ষধ্বনি দিয়ে সমর্থন জানান তাঁরা। ৬৭ বছর বয়সী হিলারির এটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। সভায় হিলারির সঙ্গে তাঁর মেয়ে চেলসি ও স্বামী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দেন হিলারি। এতে করে কেবলমাত্র শীর্ষ পর্যায়ে নয় যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণও কাজের সুযোগ পাবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নতির সুফল কেবল প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা ভোগ করবেন না। গণতন্ত্র কেবলমাত্র কোটিপতি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়।
জনগণের উদ্দেশে হিলারি বলেন, তাঁদের দর কষাকষির সময় এসেছে। যদি তাঁরা গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় তাহলে তাঁদের উন্নতি হবে। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।
এ পর্যন্ত হিলারি ছোট ছোট কিছু প্রচার চালিয়েছেন। গতকালই তিনি প্রথম জনসম্মুখে বড় ধরনের নির্বাচনী প্রচার করলেন। হিলারি আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে তিনি ইতিহাস রচনা করতে পারবেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিস্তার পানি বিপদ সীমার ওপর, দুর্ভোগে ১০ হাজার মানুষ
![]() |
| তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে ডিমলা উপজেলার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা পানিবন্দী হয়ে পড়েন। ১৪ জুন তোলা ছবি: -প্রথম আলো |
নীলফামারী জেলার ডালিয়ায় অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, আজ রোববার সকালে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা গতকাল সন্ধ্যায় ছিল ১০ সেন্টিমিটার। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪টি জল কপাট খুলে রাখা হয়েছে। তবে বেলা তিনটার দিকে পানি কিছুটা নেমে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে বইছিল।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এই প্রতিবেদক দুই উপজেলার অন্তত ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদেরই একজন ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান। তাঁর ভাষ্য, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ইউনিয়নের ঝাড়শিংহেরশ্বর ও পূর্বছাতনাই গ্রামের ৫০০ শ’র বেশি বাড়ি-ঘর নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত দুই হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েন।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি বাড়ায় টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি, উত্তর খড়িবাড়ি, দক্ষিণ খড়িবাড়ি, পূর্বখড়িবাড়িসহ আরও কয়েকটি গ্রামের ৭০০ শ’ বেশি বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত তিন হাজারের লোক বন্যাকবলিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিস্তায় পানি বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। উজানের ঢল নেমে আসা অব্যাহত থাকায় ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি বলেও তাঁর দাবি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এলোপাতাড়ি গুলি করে জোড়া খুন ঘটনায় সাংসদপুত্রকে রক্ষা করার চেষ্টা!
![]() |
| তোয়ালে দিয়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা বখতিয়ার আলমের। গতকাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয় থেকে তাঁকে আদালতে নেওয়ার সময় তোলা ছবি |
পুলিশ জানায়, গত ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি থেকে গুলি ছোড়েন আওয়ামী লীগের সাংসদ পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার। ওই গুলিতে অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম নিহত হন।
হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম ১৫ এপ্রিল এ ঘটনায় রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই দীপক কুমার দাস মামলাটি তদন্ত করছেন।
মামলা করার পর পুলিশ গত ৩১ মে বখতিয়ার ও তাঁর গাড়িচালক ইমরান ফকিরকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বখতিয়ারকে ৯ জুন চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গতকাল রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়।
আদালত সূত্র জানায়, পুলিশ বখতিয়ারকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। এ সময় বখতিয়ারের পক্ষে জামিন চেয়ে ও চিকিৎসার জন্য দুটি আলাদা আবেদন করেন আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ। তবে শুনানির সময় বখতিয়ারকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তাঁকে হাজতখানাতেই রাখা হয়।
আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, খুনের মামলায় গাড়িচালক ইমরান ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, বখতিয়ার এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। যে গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়েছে, সেটির মালিক তাঁর মা। ওই গাড়িটি জব্দ করার চেষ্টা চলছে।
বখতিয়ারের আইনজীবী আদালতকে বলেন, এ মামলার আসামি বখতিয়ার অসুস্থ। তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন। তিনি জামিনের বিষয়ে শুনানির জন্য সময় চাইলে আদালত ১৬ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন। আসামির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত চিকিৎসার জন্য কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মঞ্জুর হত্যায় এরশাদের আশ্চর্য জবানবন্দি -মার্কিন নথি :জিয়া ও মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড by মিজানুর রহমান খান
![]() |
| জেনারেল এরশাদ, জেনারেল মঞ্জুর |
সেনাবাহিনীর চিকিৎসক কর্নেল এ জেড তোফায়েল সাক্ষ্য দিয়েছেন, ‘মাথায় একটি গুলি লেগেই জেনারেল মঞ্জুর মারা যান; “অনেকগুলো গুলি” তাঁর শরীরে লাগেনি। “ক্ষুব্ধ মানুষ” বা তাঁর গার্ডদের সঙ্গে এঁদের বন্দুকযুদ্ধের সময় তাঁর শরীরে একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়নি।’
মঞ্জুর হত্যা মামলা দায়েরকারী ও মঞ্জুর-ভ্রাতা আইনজীবী আবুল মনসুর ২৯ মে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মৃত্যুসনদে একটি বুলেটের কথাই আছে। মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ ২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল প্রথম আলোয় লিখেছেন, ‘দাবার এই ছকে ঘোড়া (ব্রিগেডিয়ার ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল) ও হাতিরা (মেজর ও ক্যাপ্টেন) তাঁদের বড়েগুলো (সুবেদার ও নায়েক) অঙ্গুলি হেলনে চালনা করেছেন। কিন্তু আরও বড় একটি দাবার ছকে আবার এই ঘোড়া ও হাতিরা যাঁদের অঙ্গুলি হেলনে কাজ করেছেন, তাঁরা সেনাবাহিনীর “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা” (মেজর জেনারেল) এবং সিআইডির অভিযোগপত্র অনুযায়ী এরশাদ নামক একজন “লেফটেন্যান্ট জেনারেল”। এই “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ” প্রথম দিন থেকেই এক অবিশ্বাস্য গল্প ফেঁদে বসে, “ক্ষুব্ধ সৈনিকেরা” নাকি উত্তেজিত হয়ে মঞ্জুরকে হত্যা করেছেন।’
জেনারেল এরশাদ এই ‘গল্প’ তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড টি স্নাইডারকেও বলেছিলেন। এ বিষয়ে স্নাইডার ১৯৮১ সালের ২৫ জুন ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিলেন, এরশাদ তাঁদের কাছে সামরিক বাহিনীর তদন্তের ফলাফল এবং গ্রেপ্তার হওয়া জেনারেল মঞ্জুরের হত্যাকাণ্ড এবং অভ্যুত্থান পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন। তবে রাষ্ট্রদূতের এই তারবার্তায় উল্লেখ আছে যে তাঁদের কাছে এরশাদের দেওয়া এই জবানবন্দি মার্কিন সামরিক অ্যাটাশে আলাদাভাবে ওয়াশিংটনে প্রেরণ করেছিলেন। এটি আমাদের হাতে আসেনি। এটুকু আশা করা যায়, কোনো একদিন হয়তো এর হদিস মিলবে। তবে স্নাইডার তারবার্তায় এরশাদের বক্তব্যের যে অংশটুকু উল্লেখ করেছিলেন, তা নতুন করে এরশাদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ওই তারবার্তায় বলেছিলেন, ‘এরশাদ আমাদের বলেন, অভ্যুত্থানচেষ্টা সম্পর্কে সামরিক তদন্ত শেষ হয়েছে। আর তাতে জেনারেল মঞ্জুরকে সম্পূর্ণরূপে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য, জিয়া হত্যার বিচারের জন্য গঠিত তদন্ত আদালত–সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা ২৯ মে এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন যে, ‘ওই সামরিক তদন্ত প্রতিবেদনের কোনো কপি সেনা হেফাজতে নেই। সবই ধ্বংস করা হয়েছে।’
জেনারেল এরশাদ স্নাইডারকে বলেন, ‘মঞ্জুর অনেক দিন ধরেই জিয়ার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চক্রান্ত করে আসছিলেন। কিন্তু চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে তিনি ওই দিনই যে ঘটনা ঘটাবেন, সে বিষয়ে মঞ্জুর তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ৩০ মে ১৯৮১ সন্ধ্যাকালীন প্রার্থনার (বাদ মাগরিব) পরেই।’ স্নাইডারের এই বিবরণ সত্য হলে এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে এরশাদ কী করে এত নির্দিষ্টভাবে মঞ্জুরের অভ্যুত্থান পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পেরেছিলেন?
স্নাইডারের কাছে এরশাদ এই দাবিও করেন, ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকেও হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। স্নাইডার এরশাদের বরাতে আরও ইঙ্গিত করেন যে অভ্যুত্থান পরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্থান কেবল চট্টগ্রাম নয়, ‘ঢাকা এবং অন্যত্রও’ ছিল।
মঞ্জুর হত্যা সম্পর্কে স্নাইডার লেখেন, ‘মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এরশাদ বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে উল্লেখ করেন যে, “চট্টগ্রাম সেনানিবাসে কোনো কমান্ড কাঠামো না থাকার ফলে একদল ক্রুদ্ধ সৈনিক (অ্যান অ্যাংগ্রি মব) তাঁকে প্রথমে মারধর এবং পরে গুলি করে হত্যা করে।”
তবে এরশাদের এই বিবরণ মার্কিন দূতাবাস মেনে নেয়নি, তার প্রমাণ ৫ জুনের আরেকটি তারবার্তা। এতে ওয়াশিংটনকে আগেই জানানো হয়েছিল, “কী প্রেক্ষাপটে মঞ্জুর খুন হলেন তা অস্পষ্ট।’ রেডিও বাংলাদেশ বলেছে, তিনি “ক্রুদ্ধ সেপাই”দের হাতে নিহত হয়েছেন। আবার ৩ জুন সরকারি প্রেসে বলা হয়েছে: “কতিপয় উত্তেজিত সশস্ত্র ব্যক্তি” এবং মঞ্জুরের দেহরক্ষীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে আহত হয়ে মঞ্জুরের মৃত্যু ঘটেছে। এই যুদ্ধ হয় মঞ্জুর ও তাঁর সহযোগীদের “ছিনিয়ে” নেওয়ার চেষ্টাকালে। তাঁর দুই সহযোগী লে. কর্নেল মতিউর রহমান ও লে. কর্নেল মেহবুবুর রহমান কথিতমতে “ঘটনাস্থলেই” নিহত হয়েছেন।’
স্নাইডার তাঁর ওই তারবার্তায় (৫ জুন, ১৯৮১) মঞ্জুরকে কেন হত্যা করা হয়েছে সে সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে জানান: ‘মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড বিরাট সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করেছে। তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে বহু ধরনের গল্প চালু আছে। অনেকেই সন্দেহ করেন যে, তাঁকে সেসব মহল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে যাঁরা শঙ্কিত ছিলেন যে মঞ্জুর যদি তাঁর অভ্যুত্থানের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেন, তাহলে তাঁদেরও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মঞ্জুর হত্যা সম্পর্কে দুই ধরনের ভাষ্য এই সংশয়কে তীব্রতা দিয়েছে।’
তবে জেনারেল এরশাদের ভাষ্য ওয়াশিংটনকে জানানোর বার্তায় এরশাদের দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে স্নাইডার মন্তব্য করেননি, কিন্তু এরশাদের ওই ভাষ্য কার্যত স্নাইডার নাকচ করেন, আর সেটা এই বিবেচনায় যে, ৫ জুন ১৯৮১ স্নাইডার তাঁর তারবার্তার মন্তব্য অংশে বলেন, ‘মঞ্জুর হত্যা সম্পর্কে সরকারের প্রচারিত ভাষ্যের বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষয় ঘটেছে।’
উল্লেখ্য, জেনারেল মঞ্জুরের ভাই আবুল মনসুর ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ একটি মামলা করেন। সে বছরের ২৭ জুন সিআইডি এ মামলার অভিযোগপত্র দেয়। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় তাঁরা হলেন জেনারেল এইচ এম এরশাদ, মেজর জেনারেল আবদুল লতিফ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামসুর রহমান শামস, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তফা কামালউদ্দীন ভূঁইয়া ও মেজর কাজী এমদাদুল হক। এই মামলা দায়েরের পরে জেনারেল মঞ্জুরের পরিবারের সদস্যরা দুবার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন। তৎকালীন আইন ও বিচারমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু দুজন প্রসিকিউটর দিয়েও সহায়তা করেছিলেন। এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও মঞ্জুর পরিবার যোগাযোগ করে। জিয়া ও মঞ্জুরের পরিবার ১৯৭২ সাল থেকে পরিচিত। জানা যায়, খালেদা জিয়াও মঞ্জুর হত্যা মামলা দায়েরে সহায়তা প্রদান করেন। যদিও পরে দেখা গেছে মওদুদ আহমদ এই মামলায় এরশাদের আইনজীবী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন।
চট্টগ্রামের তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার জিয়াউদ্দিন তাঁর বইয়ে যদিও মন্তব্য করেছেন যে ওই সময়ের ডিআইজি (পরে আইজিপি) শাহজাহান মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত। কিন্তু মো. শাহজাহান তা অস্বীকার করেছেন। এরশাদের ‘ক্রুদ্ধ সেপাই’ তত্ত্বেও তাঁর সায় নেই। তবে এটা পরিষ্কার যে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পরে মঞ্জুরকে সেনা হেফাজতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত বৈধ ছিল না।
এই বিষয়টির আইনি দিক ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষা করেছেন আইন কমিশনের সাবেক সদস্য ও ঢাকার সাবেক ডিসি মোহাম্মদ আবদুল মোবারক (বর্তমানে নির্বাচন কমিশনার)। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৯ ধারা এবং ১৯৭০ সালের মিলিটারি অফেন্ডার্স রুলস মতে, পুলিশের তরফে মঞ্জুরকে সরাসরি সেনা কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেওয়া ছিল বেআইনি। পুলিশের উচিত ছিল মঞ্জুরকে সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা। তখন তিনি তাঁকে জেলখানায় রাখতেন। এই জেল থেকে তাঁকে নিতে হলে সেনাপ্রধানের অনুমোদিত চিঠির দরকার পড়ত। সবকিছু রেকর্ডে এসে যেত। তাই মঞ্জুরের বেআইনি হস্তান্তরের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁরা মঞ্জুর হত্যায় সহায়তা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩ জুন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আওয়ামী লীগ ও জাসদের সাংসদদের উপস্থিতিতে মঞ্জুর হত্যা আলোচিত হয়েছিল। এদিন বেশ কয়েকজন সাংসদ জেনারেল মঞ্জুর হত্যার তদন্ত দাবি করে বক্তব্য দেন। মঞ্জুর হত্যাসহ সামগ্রিক ঘটনাবলি খতিয়ে দেখতে সামরিক ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত হিসেবে একটি পার্লামেন্টারি কমিশন গঠনেরও দাবি জানানো হয়। কিন্তু বিএনপি কখনো তা করেনি।
১৯৯৫ থেকে দুই ডজনবার মঞ্জুর হত্যা মামলার বিচারক বদলের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর মামলাটির গতি হঠাৎ রুদ্ধ হয়ে যায়।
লিফশুলজ লিখেছেন, জিয়াউদ্দীন চৌধুরী তাঁর নিজের বইয়ে এবং পরে আমার সঙ্গে আলোচনায় বলেছেন যে সেনাপ্রধান এরশাদ ও অন্য ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা মঞ্জুরকে ফাঁসিয়ে দিয়ে একটি মিথ্যা আখ্যান বাজারে ছড়িয়ে দেন। ১ জুন ১৯৮১ হাটহাজারী থানা থেকে নিয়ে আসার পর মঞ্জুর নাকি ‘ক্ষুব্ধ’ সৈনিকদের হাতে মারা পড়েন। মঞ্জুর যে ঘরে বন্দী ছিলেন, কীভাবে সেই কর্মকর্তা সেখানে প্রবেশ করেন, জিয়াউদ্দীন সেটি তাঁর বইয়ে দেখিয়েছেন। জিয়াউদ্দীন বলেন, ‘তিনি (ঢাকা থেকে আগত) মঞ্জুরের ঘরে প্রবেশ করেন। মঞ্জুরের দিকে পিস্তল তাক করে গুলি করেন ও এরপর বেরিয়ে যান। সবকিছু ঘটে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসারে।’
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক ৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘প্রাণনাশের হুমকির কারণে প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারিনি’ -সানডে গার্ডিয়ানকে খালেদা জিয়া
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হকার থেকে জিনের বাদশা by নুরুল আমিন ও শাহ মোস্তফা কামাল
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবাসিক হোটেলে খুন- কিনারা করতে পারে নি পুলিশ by রুদ্র মিজান
সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে রয়েছে তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল। অনেক হোটেলই কক্ষ ভাড়া দেয়ার বদলে মাদকসহ অবৈধ নানা রকম বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। সন্ত্রাসী, মাদকসেবী, মানব পাচারকারীদের আস্তানা যেন এসব হোটেল। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রায়ই ঘটছে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা। গত নয় বছরে আবাসিক হোটেলগুলো থেকে দেড় শতাধিক লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক লাশেরই কোন পরিচয় উদ্ঘাটন করতে পারে নি পুলিশ। হোটেল কর্তৃপক্ষের খাতায় যে ঠিকানা দেয়া হয় তা সঠিক থাকে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, পরিকল্পিতভাবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলেই দুর্বৃত্তরা প্রকৃত নাম-ঠিকানা গোপন করে। নিয়ম অনুসারে হোটেল বোর্ডারদের নাম-ঠিকানাসহ বিভিন্ন তথ্যসংবলিত ফরম পূরণ, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি প্রদান ও আলোকচিত্র ধারণের নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ হোটেলগুলোই এসব নিয়ম মেনে বোর্ডারদের কক্ষ ভাড়া দেয় না। ২০১০ সালের ১৬ই আগস্ট গুলশানের নিউ এয়ারপোর্ট রোডের হোটেল লর্ডস ইন থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তরুণীকে হত্যা করার অভিযোগে হিউম্যান রিসোর্স অ্যান্ড হেলথ ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর নুরুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে সিএমএম আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে পুলিশ, পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করলেও এ ঘটনার কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারে নি। এমনকি ওই তরুণীর সঠিক নাম-ঠিকানাও পাওয়া যায়নি। সূত্রে জানা গেছে, হোটেলের বোর্ডার খাতায় ওই তরুণীর নাম লেখা ছিল সীমা আক্তার। তার সঙ্গী যুবকটির নাম রফিকুল ইসলাম। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ওই হোটেলের ৫০৩ নম্বর কক্ষে উঠেছিল। ঠিকানা হিসেবে নরসিংদী উল্লেখ করা হলেও সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর থানার ঘিলারচালা গ্রামে। সূত্র মতে, নারী পাচারকারী চক্রের একজন হচ্ছে এই রফিকুল ইসলাম। প্রেমের অভিনয়, বিয়ে, চাকরিসহ নানা প্রলোভন দিয়ে কিশোরী, তরুণীদের ঢাকায় এনে দেশের বাইরে পাচার করা ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করাই হচ্ছে এ চক্রের কাজ। সীমা পরিচয় দেয়া ওই তরুণীকে সেভাবেই ঢাকায় আনা হয়েছিল। হোটেল লর্ডস ইনে তোলার পর তাকে ধর্ষণ করে রফিকুল। পরে কয়েক দালাল ও খদ্দের তাকে ধর্ষণ করে। ওই তরুণীকে পতিতা ব্যবসায় বাধ্য করানোর জন্য নানাভাবে নির্যাতন করা হয় বলে হিউম্যান রিসোর্স অ্যান্ড হেলথ ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে। উপর্যুপরি নির্যাতনের কারণে মধ্যরাতে জ্ঞান হারায় ওই তরুণী। ভোরে তাকে ওই কক্ষে ফেলে দালাল ও খদ্দেররা পালিয়ে যায়। পরে তরুণীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় হোটেলের কর্মচারী আবু তাহের ও শহীদ। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে। এ সময় শহীদ ও তাহের পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটক করে পুলিশ। ঘটনা শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নেই। এ ঘটনা থেকে হত্যাকারীদের রক্ষা করার জন্য আরও নাটকীয় ঘটনা ঘটানো হয়। ঢামেক হাসপাতালের মর্গ থেকে লাশ নিয়ে যায় বাগেরহাটের চিতলমারী থানা সদরের লাভলু নামের এক ব্যক্তি। সে ওই তরুণীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দেয়। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে তিন দিন পর রহস্যজনকভাবে লাশটি আবার গুলশান থানায় দিয়ে যায় লাভলু। কিন্তু রহস্যজনকভাবে এ ঘটনায় কাউকেই আটক করেনি পুলিশ। ওই মামলার বাদী নুরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, প্রতিটি তারিখেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন তিনি। কিন্তু গত মে মাসে একটি তারিখে হাজির না হলে মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। তার আগে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে মামলার কোন ক্লু উদ্ঘাটন করতে পারেন নি তিনি। এমনকি নিহতের সঠিক নাম-ঠিকানাও পাওয়া যায়নি।
একইভাবে ২০১২ সালে রামপুরার হোটেল মিরাজ থেকে সুমির নামের এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায়ও আদালতে মামলা করা হয়। মামলা করার পর সুমির নাম-পরিচয় পাওয়া যায়। সূত্র মতে, একই উদ্দেশ্যে তাকে ওই হোটেলে নিয়ে তোলে দুর্বৃত্তরা। পতিতাবৃত্তিতে রাজি না হলে গণধর্ষণ করা হয় তাকে। প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।
গত বছরের ৯ই নভেম্বর বড় মগবাজারের গ্রিন টাওয়ার আবাসিক হোটেল থেকে আসাদুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই বছরে শাহবাগের উত্তরবঙ্গ আবাসিক হোটেলের ২১১ নম্বর কক্ষ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার আগে ২০১৩ সালের ২৫শে নভেম্বর মহাখালীর আল-মদিনা হোটেল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার নাম মো. হেলাল উদ্দিন। একই বছরে দক্ষিণখান থানার হোটেল ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০১২ সালে মহাখালীর যমুনা হোটেল থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। একই বছরে হোটেল মতিঝিল থেকে এক তরুণের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার আগের বছর শিল্পাঞ্চল থানার হোটেল মহাখালী থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০১০ সালে ফকিরাপুলের হোটেল রাকীবের চতুর্থ তলার একটি কক্ষ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০০৯ সালে ফকিরাপুলের হোটেল জোনাকী (বর্তমানে আল-আকসা) থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার আগের বছর ওই এলাকার হোটেল আতিক থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। একই বছরে আরামবাগের হোটেল আল-ফয়সলের দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০০৭ সালে নবাবপুরের মর্ডান আবাসিক হোটেল থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০০৬ সালে ফকিরাপুলের হোটেল আল-হেলাল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছর মতিঝিলের কাজী জসিম উদ্দিন রোডের হোটেল টাওয়ারের পঞ্চম তলা থেকে এক তরুণীর বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।
এ বিষয়ে হিউম্যান রিসোর্স অ্যান্ড হেলথ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আলমগীর সেলিম জানান, হত্যাকাণ্ডগুলো নানা কারণে ঘটে। একটি অংশ নিজেদের শারীরিক চাহিদার জন্য ভুল তথ্য দিয়ে হোটেলের কক্ষ ভাড়া করে। এ ক্ষেত্রেও তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বোর্ডার পরিচিত হওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষ কোন তথ্যই লিপিবদ্ধ করে না। পরে যে কোন বিষয় নিয়ে নারী-পুরুষের দ্বন্দ্বের জের ধরে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটে। দুষ্কৃতকারীদের আরেক অংশ মিথ্যা প্রেমের অভিনয় করে, বিয়ে, চাকরি ইত্যাদির প্রলোভন দেখিয়ে হোটেলে নিয়ে যায় তরুণীদের। পরে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার জন্য নির্যাতন করা হয়। গণধর্ষণ, মারধর কোন নির্যাতন থেকেই রেহাই দেয় না দুর্বৃত্তরা। এসব কারণেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া অর্থ লুটসহ শত্রুতার জের ধরেও ঘটে হত্যাকাণ্ড। এসব হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে হত্যার পর লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এজন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের দায়ী করেন আলমগীর সেলিম। তিনি জানান, নানা তথ্যসংবলিত ফরম পূরণ, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি গ্রহণ ও আলোকচিত্র ধারণের নিয়ম থাকলেও হোটেলগুলো তা না মেনেই বোর্ডারদের কক্ষ ভাড়া দিয়ে থাকে। যে কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও সঠিক তথ্যের অভাবে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় না।
হোটেলগুলো থেকে গত কয়েক বছরে কতগুলো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে আলাদাভাবে এর কোন হিসাব পাওয়া যায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, অতীতে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও সঠিক তথ্যের অভাবে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। যে কারণে এখন কড়া নজরদারিতে রয়েছে হোটেলগুলো। আইন ভঙ্গ করলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কারখানা সংস্কারে ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ চায় বিজিএমইএ by এমএম মাসুদ
উদ্যোক্তারা বলছেন, বৈদ্যুতিক তার পরিবর্তন থেকে শুরু করে অগ্নি প্রতিরোধক ও মজবুত স্থাপত্য ব্যবস্থার জন্য বিপুল অঙ্ক ব্যয় করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। নতুন করে নিজস্ব জমিতে পরিবেশবান্ধব কারখানা গড়ে তুলতেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন।
এদিকে ক্রেতারা কারখানার ত্রুটি চিহ্নিত করলেও প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানে এগিয়ে আসছে না বলে অভিযোগ পোশাক শিল্প মালিকদের। এ বিষয়ে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি আজিম বলেন, ক্রেতাদের পক্ষ থেকে দুই-একজন পেলেও, সার্বিকভাবে কোন ঋণ বা অর্থসহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতাজোট তাদের প্রতিশ্রুতি যত দ্রুত বাস্তবায়ন করবে, ততই ভাল। কারণ এরই মধ্যে উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় কোন উৎস থেকে কম সুদে এ ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতাজোট ঋণ সুবিধার ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি শর্তও জুড়ে দিচ্ছে। সংস্কার কার্যক্রমের সরঞ্জাম কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কিনতে হবে, তা নির্দিষ্ট করে দিচ্ছে। অন্যদিকে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) একটি বিশেষ ঋণ সুবিধার ঘোষণা দিলেও কঠিন শর্তের কারণে অনেকেই তাতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, তৈরী পোশাক কারখানা কমপ্লায়েন্ট করতে স্বল্প সুদে ঋণ এখন সময়ের দাবি। কারণ আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্ট কারখানা গড়তে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। অনেক কারখানা মালিকই অর্থাভাবে এ কার্যক্রম হাতে নিতে পারছেন না। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৫৫টি কারখানার পরিদর্শন শেষ হয়েছে। অর্থাৎ আরও প্রায় ১ হাজার কারখানা পরিদর্শন বাকি রয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিমানবন্দর রেলস্টেশন- দুর্ভোগ থেকে যাত্রীদের মুক্তি নেই by সামছুর রহমান
![]() |
| বিমানবন্দর রেলস্টেশনে যাত্রীদের বসার চেয়ার ভাঙা। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের l ছবি: প্রথম আলো |
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, বিমানবন্দর গোলচত্বর থেকে স্টেশনের সামনের প্রায় ২০০ গজ সড়ক ভাঙাচোরা, এবড়োখেবড়ো। সড়কে জমে থাকা হাঁটু পরিমাণ পানি না মাড়িয়ে স্টেশন চত্বরে ঢোকার উপায় নেই। কয়েকজন যাত্রী বেশ কসরত করে লোহার গ্রিলের ওপর দিয়ে স্টেশন চত্বরে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন পার হলেই জমে থাকা পানিতে ঢেউ উঠছে। তা দেখে এক পথচারীর সরস মন্তব্য, ‘পদ্মা সেতু তো আগে এখানে দরকার!’
পরিবার নিয়ে রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন খালেদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাসা উত্তরায় বলে বাধ্য হয়ে এই স্টেশন ব্যবহার করি। না হলে পরিবার নিয়ে এখানে আসতাম না।’
দেখা গেল, স্টেশনের সামনের সড়ক দিয়ে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যাওয়ার সময় পানি ঢুকে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে সড়কের মাঝে থেমে আছে। আর সড়কের ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে গাড়ি মেরামতের দোকান, খাবারের দোকান, বিভিন্ন রুটে চলা বাসের টিকিট কাউন্টার।
স্টেশন চত্বরের আঙিনায় কয়েক জায়গায় ময়লা স্তূপ করে রাখা। ময়লার পাশে লোকজন প্রকাশ্যে মূত্র ত্যাগ করছে। ময়লা ও বৃষ্টির পানি মিলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্টেশনের ভেতরেও ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের শেষ মাথায় ময়লার স্তূপ। স্টেশনের সামনের দিকের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় নোংরা পানি জমে আছে।
মূল স্টেশনে প্রবেশের ফটকের সামনে দীর্ঘ সারি। প্রবেশমুখ প্রায় বন্ধ। কারণ, স্টেশনের বাইরেই জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাউন্টার। যাত্রীরা টিকিট কেনার জন্য এমনভাবে দাঁড়িয়েছেন, অন্য যাত্রীদের স্টেশনে ঢুকতে-বেরোতে কষ্ট করতে হচ্ছে।
রেলস্টেশনের ভেতরে শৌচাগারে জায়গা ফাঁকা নেই বলে সারিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন সাত-আটজন। তাঁদের মধ্যে একজন নারীও আছেন। কারণ নারীদের জন্য পৃথক কোনো শৌচাগার নেই। চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেসের এক নারী যাত্রী শৌচাগারে যেতে এভাবে পুরুষদের সঙ্গে সারিতে দাঁড়াতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। তিনি বলেন, ‘এ দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি লজ্জিত।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনের যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করছিলেন তিনজন চেকার। তাঁদের একজন টিকিটবিহীন দুই যাত্রীকে টেনে নিয়ে গেলেন টিসি কার্যালয়ের সামনে। কিছুক্ষণ কথা বলে চেকারের হাতে টাকা গুঁজে দিয়ে চলে গেলেন দুই যাত্রী। কোনো রসিদ ছাড়া এভাবে টাকা নিলেন কেন, জানতে চাইলে তিনি উদ্ধত হয়ে ওঠেন। নাম জানতে চাইলে বলেন, ‘নাম দিয়ে কী হবে? টাকা দিছে, নিছি।’
এক প্ল্যাটফর্ম থেকে আরেকটিতে যাওয়ার জন্য পদচারী সেতু থাকলেও সীমিতসংখ্যক যাত্রীকেই তা ব্যবহার করতে দেখা যায়। সবাই ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনের ওপর দিয়েই পার হচ্ছে। পদচারী সেতুতে ওঠার পথেই বিপত্তি। পদচারী সেতুর সিঁড়িতে পরে আছে মনুষ্য বর্জ্য। কোনো যাত্রী তা পা দিয়ে মাড়ানোয় ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ।
স্টেশনের এ অবস্থা নিয়ে কথা বলতে স্টেশনমাস্টার হরি গোপাল সেনের কক্ষে গেলে তিনি প্রথমে বলেন, ‘এখন কোনো কথা নেই। আপনি পরে আসেন।’ পরে কখন জানতে চাইলে তিনি কোনো সময় উল্লেখ করেননি। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর খোঁজ করলে তাঁকে আর কক্ষে পাওয়া যায়নি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১৫ বছরেই নতুন গ্রহ আবিষ্কার
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হিলারির সাক্ষাৎ ফি ২৭০০ ডলার!
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানব পাচার- নৌপথে মর্মন্তুদ অভিবাসন ও দাসপ্রথা by জহির আহমেদ
![]() |
| অজানা গন্তব্যের খোঁজে সাগরে ভাসছে মানুষ |
বাংলাদেশের নাগরিকদের ব্যাংকক, ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জীবিকার সন্ধানে যে বিপৎসংকুল পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে এবং গহিন অরণ্যে তাদের গণকবরের যে নিরন্তর সন্ধান মিলছে, তা আমাদের হতবিহ্বল করে, অভিসম্পাত দেয়। আফ্রিকার দাসদের করুণ মৃত্যুর যে বয়ান ইতিহাসের কাছ থেকে আমরা পাই, বাংলাদেশের অভিবাসীদের সাম্প্রতিক ঘটনা সে কথা আর একবার মনে করিয়ে দেয়।
২০০৬ সালে আফ্রিকার অভিবাসন-সংক্রান্ত গবেষণায় অংশ নিতে আমি ঘানায় তিন সপ্তাহের জন্য যাই। অন্য সতীর্থদের সঙ্গে আমিও আলমিনা ক্যাসেলে যাই। এটা হচ্ছে আফ্রিকার সবচেয়ে পুরোনো এবং বৃহদাকার দাসের কেন্দ্র। গাইডের বয়ান, খোদাই করা লিখিত বার্তা আর মনোজগতে আফ্রিকার উপনিবেশবাদের যে প্রবল বঞ্চনার কথা আমি পরিচিত ছিলাম, তার চাক্ষুষ প্রমাণ আমাকে মানুষ হিসেবে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল। এই ক্যাসলটি বর্তমানে একটা জাদুঘর। গাইডের বয়ানে আলমিনার স্থানীয় ইতিহাস এবং দুই শ বছরের ট্রান্স-আটলান্টিক দাস ব্যবসার যে মর্মন্তুদ ইতিহাস ছিল, সেটি কিঞ্চিৎ হলেও অনুধাবন করা যায়।
ক্যাসলের ভেতরে শুরুতেই কতগুলো সেল/প্রকোষ্ঠ পাশাপাশি অবস্থিত। প্রথম সেলগুলোতে সাদা চামড়ার সৈনিকের কথা লেখা রয়েছে। তারা যদি নারী দাসদের ধর্ষণ করত, তাহলে শাস্তিস্বরূপ তাদের কিছু সময়ের জন্য এই সেলগুলোতে রাখা হতো। পরের সেলগুলোতে স্থান হতো বিদ্রোহী দাসদের, যাদের মৃত্যু পরোয়ানার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। কিছু সেলে নারী দাসদের শিকল পরিয়ে উপুড় করে রাখা হতো। তাদের রক্তস্রাব, মূত্র ও মলের মধ্যেই থাকতে হতো। এই সেলগুলোর পরেই একটা বারান্দা রয়েছে, যেখানে কমান্ডিং অফিসার দাঁড়িয়ে থাকত। তির্যক দৃষ্টি রাখত কোন নারী দাসকে সে শয্যাসঙ্গিনী করবে, কাকে ধর্ষণ করবে, তা এখান থেকে সে সিদ্ধান্ত নিত। এই সাদা চামড়ার অফিসাররা প্রথমে ছিল পর্তুগিজ এবং পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ।
এরপর দোতলায় রয়েছে অনেকগুলো কক্ষ, যেখানে কমান্ডিং অফিসার বিশাল একটি রুমে থাকত। রয়েছে দুটি রান্নাঘর। গাইড জানিয়েছে যে বিজিত পর্তুগিজদের রান্নাঘর বিজয়ী ইংরেজরা ব্যবহার করতে চায়নি। এ কারণে যে পর্তুগিজরা হয়তো শত্রুতাবশে রান্নাঘরে বিষ রেখে যেতে পারে এবং তাদের মৃত্যু হতে পারে। দোতলার পশ্চিম প্রান্তের ঠিক নিচতলায়, যেখানে বিদ্রোহী দাসদের পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সেলের মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়। যে সেলটির সামনে লেখা আছে ‘ডোর অব নো রিটার্ন’। খোদাই করা বার্তা থেকে আমি উদ্ধার করলাম যে ওই সেলে অপর প্রান্তটি ঠিক মেঝে বরাবর একটি খোলা ছোট সুড়ঙ্গ রয়েছে, যেখানে দাসদের প্রস্তুত রাখা হতো। কারণ, ওপাশে জাহাজের পাটাতন তার জন্য অপেক্ষা করছে। ঠিক এভাবেই দাসদের জাহাজে করে সমুদ্রপথে ইউরোপে পাচার করত।
দুই...
বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশিদের নৌকায় তুলে নেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে তারা নৌপথে মালয়েশিয়ার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এজেন্টদের কথা অনুযায়ী তারা সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে মালয়েশিয়ার ভূখণ্ডে পৌঁছাতে চেয়েছিল। ঠিকমতো খাবার পাচ্ছিল না যারা, তারা নৌকার মধ্যে অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকে যায়। গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, ১২৩ বাংলাদেশির সন্ধান মিলেছে ওই গহিন অরণ্যে। আর একের পর এক গণকবরের সন্ধান মিলছে। থাইল্যান্ডের পুলিশের সূত্রে জানা যায়, পাচারের উদ্দেশ্যে এসব মানুষকে জঙ্গলে নিয়ে আটকে রাখা হয়। তারপর তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। বেশির ভাগেরই মৃত্যু ঘটে। তাদের স্থান হয় অগভীর গণকবরে।
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় থেকেও জানা যায় যে আচেহ প্রদেশের উত্তরে সমুদ্রের মাঝ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৬৯ জন অভিবাসীকে। জেলেরা জানিয়েছে যে আচেহর উত্তরে সমুদ্রের মধ্যে একটি নৌকায় আটকে রয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। পুলিশ এসব অভিবাসীকে উদ্ধার করে; যাদের সবাই বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা এবং যার অর্ধেকই শিশু ও নারী। এই মানব পাচারের এজেন্টরা প্রথমে মিয়ানমার থেকে থাইল্যান্ডের দক্ষিণে পৌঁছায়। সেখানে তাদের আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। যারা মুক্তিপণ দিতে পারে না, তাদের অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে মৃত্যু। একইভাবে থাইল্যান্ড থেকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয় মানুষকে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে। তারা ছুটতে থাকে প্রবল ঝুঁকি নিয়ে। পাচারের সময়ে মানুষকে গাদাগাদি করে নৌকায় কিংবা জঙ্গলে রাখা হয় এবং তাদের বিক্রি করা হয়। আলমিনা থেকে যেভাবে জাহাজে করে দাসদের নিয়ে যাওয়া হতো ইউরোপে, একইভাবে নৌকায় বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন ভূখণ্ডে যেভাবে পাচার করা হচ্ছে, তা আমাদের আতঙ্কিত করে তোলে।
তিন...
পোপের মর্মবাণী দিয়ে আমি শুরু করেছিলাম যে, অভিবাসন মানুষের মৌলিক অধিকার, সেটি বড় প্রশ্নবোধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলমিনায় ‘ডোর অব নো রিটার্ন’ সম্পর্কে যে বিষাদময় বর্ণনা আমরা ওপরে লক্ষ করি, সেটি রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য। স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, শ্রম ও প্রবাসী—এই চারটি মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে ব্যয়বহুল মিশনের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও নাগরিকের মর্মান্তিক অন্তর্যাত্রা আমাদের কি আলোড়িত করে না? আলমিনার শেষ সেলে যেখানে দাসদের আর পেছনে ফেরার সুযোগ থাকত না, তাদের চলে যেতে হতো জাহাজে করে পণ্য হিসেবে। দরজায় খোদাই করা উক্তিটি তাৎপর্যপূর্ণ মনে হতে পারে: ‘আমাদের পূর্বসূরিদের উদ্দেশে, যারা মৃত্যুকে বরণ করেছ; তোমরা শান্তিতে ঘুমাও, এখানে মানবতা আর কখনোই পরাজিত হবে না; এখানে অন্যায় মানবতার বিরুদ্ধে আর দাঁড়াবে না, আমরা চিরদিন তোমাদের স্মরণ করব।’
ওপরের বচনগুলো পড়তে পড়তে চোখে জল চলে আসে। আমি গেটের বাইরে চলে আসি। মাটিতে স্থাপিত একটি বড় দিগ্দর্শনযন্ত্র সচল থাকতে লক্ষ করি। লেখা আছে: ‘বিজ্ঞানের আলোকময়তা এই দিগ্দর্শনযন্ত্র’। বিজ্ঞানকে সাধুবাদ জানাই, কিন্তু এই বিজ্ঞানের আবিষ্কার যে কত মর্মস্পর্শী এবং শোষণের যন্ত্র, সেটি ঘানাসহ আফ্রিকার দাসদের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। বাংলাদেশিদের নৌপথে অভিবাসনের দিগ্দর্শন কে ঠিক করবে? অকূল সাগরে নিগৃহীত ভাসমান এই পরিচিতিহীন অভিবাসীদের দায়ভার কে নেবে? মানব পাচারকারী, রাষ্ট্র, সরকার, জাতিসংঘ কিংবা মুনাফালোভী গোষ্ঠী? আলমিনা ক্যাসলের দৃশ্যমান কম্পাস পর্তুগিজ আর ইংরেজ বেনিয়াদের দিকনির্দেশক আর মানব পাচারকারীদের দিকনির্দেশক হচ্ছে রাষ্ট্র ও তার উচ্ছিষ্টভোগীদের নয়া ঔপনিবেশিক মুনাফা, যার অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে অভিবাসীদের শবযাত্রা।
ড. জহির আহমেদ: অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
zahmed69@hotmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কালসী হত্যাকাণ্ডের ১ বছর- গ্রেপ্তার হয়নি একজনও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে by আল-আমিন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সন্তানকে আইসিইউতে রেখে বারে যান এমপিপুত্র রনি
গত ১৩ই এপ্রিল রাত পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে একটি কালো প্রাডো গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের এমপি পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি। তার গুলিতে দৈনিক জনকণ্ঠের অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৫ই এপ্রিল রাতে অজ্ঞাতদের আসামি করে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্থানান্তর করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রথমে রনির গাড়িচালক ইমরান ফকির ও পরে রনিকে গ্রেপ্তার করে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গতকাল ৪ দিনের রিমান্ড শেষে রনিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার কাছ থেকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়ার চেষ্টা করা হলেও সে তা দেয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রনি মাদকাসক্ত হলেও ধূর্ত প্রকৃতির। এ কারণে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়নি। তবে এতে কোন সমস্যা হবে না। পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় সবকিছু স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল ও গুলির সঙ্গে নিহত দুই জনের শরীর থেকে উদ্ধার করা গুলির ব্যালাস্টিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। রনির ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িটি জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, বস্তুগত আরও অনেক প্রমাণ রয়েছে। রনির পার পাওয়ার কোন উপায় নেই।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ২০১০ সালে রনি তার নামে একটি পিস্তলের লাইসেন্সের আবেদন করেন। মা আওয়ামী লীগ নেতা বলে তদবির করে সহজেই পিস্তলের লাইসেন্স পেয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে ২১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে তার কাছ থেকে যে গুলির খাপ উদ্ধার করা হয়েছে তাতে ৩০ রাউন্ড গুলি ধরতো। ইস্কাটনের ঘটনায় তিনি ৪ থেকে ৫ রাউন্ড গুলি করেছিলেন। বাকি গুলি কী কাজে ব্যবহৃত হয়েছে তা অবশ্য তিনি এড়িয়ে গেছেন। গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে তার পিস্তলের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশসহ জেলা প্রশাসকের কাছে তাকে বরাদ্দ দেয়া গুলির বিষয়টি জানতে চিঠি দেয়া হয়েছে।
রনিকে জিজ্ঞাসাবাদকারী এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার দিন রনি তার তিন বন্ধুকে নিয়ে বাংলামোটরের একটি বারে মদ্যপান করে। পরে বাংলামোটর থেকে মগবাজারে এক বন্ধুকে নামিয়ে দেয়ার জন্য যায়। ফ্লাইওভারের কাজের জন্য একপাশের রাস্তা বন্ধ থাকায় বামের লেনে জট লেগে যায়। সেসময় কয়েকটি বালুর ট্রাকও রাস্তায় ছিল। রাস্তায় এই যানজটের কারণে বিরক্ত হয়ে গাড়ি থেকেই এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে রনি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তা ফাঁকা হলে সে মগবাজার চলে যায়। পরে আবার একই রাস্তায় ফিরে যায়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনাটি অনুসন্ধান করতে গিয়ে তারা জনকণ্ঠ ভবনের লাগানো সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেন। সেই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় কালো একটি প্রাডো গাড়ি বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানায়, কালো গাড়ি থেকে গুলি করা হয়েছিল। পরে গাড়ির সূত্র ধরেই গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক দীপক কুমার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রনিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে আদালত সূত্র জানায়, রনিকে গতকাল আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে জামিন ও চিকিৎসার পৃথক দুটি আবেদন করা হয়। রনির পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ। মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর আগামী ১৬ই জুন শুনানির দিন ধার্য করে রনিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জেল বিধি অনুযায়ী তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উড়ালসড়কের চেয়ে বেশি জরুরি জলাবদ্ধতা নিরসন -চট্টগ্রামে বেলার গণশুনানিতে সুশীল সমাজ
‘চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এক গণশুনানিতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও প্রকৌশলীদের বক্তব্যে এসব মতামত উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) গতকাল শনিবার সকালে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
চট্টগ্রাম নগরের লর্ডস ইন হোটেলের সম্মেলনকক্ষে এই গণশুনানি হয়। এতে নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সাধারণ মানুষও জলাবদ্ধতা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। অনেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে মেয়রকে পরামর্শও দেন।
অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, সিটি করপোরেশনের ক্ষমতা ও এখতিয়ার দিয়ে জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন করা সম্ভব নয়। করপোরেশনের প্রধান তিনটি কাজ হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা, রাস্তাঘাট মেরামত ও নগর আলোকিত করা। যন্ত্রপাতিসহ নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে হয়।
গণশুনানি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের নির্বাহী সদস্য দেলোয়ার হোসেন মজুমদার। বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মুহাম্মদ সিকান্দর খান, স্থপতি জেরিনা হোসাইন, প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া, অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন, অধ্যাপক শফিক হায়দার চৌধুরী, কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার, মনোয়ারা বেগম প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১২টি করণীয় বিষয় উল্লেখ করেন দেলোয়ার হোসেন মজুমদার। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা-খাল খননের পাশপাশি সেখানে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। জোয়ারের পানি ঠেকাতে স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে। পুকুর ভরাট বন্ধ করার পাশাপাশি পাহাড় কাটা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে একেক বিশেষজ্ঞ একেক ধরনের পরামর্শ দেন। নগরে ৩৩টি খাল রয়েছে। অনেকগুলোর অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। চট্টগ্রামের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সমালোচনা করে মেয়র বলেন, গণমাধ্যম শুধু নেতিবাচক বিষয় তুলে আনে। সমালোচনা করে। ভালো কাজকে গুরুত্ব দেয় না। তিনি বলেন, যিনি যত বড় প্রভাবশালী, তিনি তত বেশি আইন অমান্য করেন। বিলবোর্ড উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি বলেন, দলীয় অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও করপোরেশনের লোকজন বিলবোর্ড ব্যবসায় জড়িত। কিন্তু কাউকে ছাড় না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। জনগণকেও সচেতন হতে হবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, কোনো মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হয় না। মাস্টারকার্ডের আলোকে নতুন করে কার্যকর পরিকল্পনা করা যায় কি না, ভেবে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
অধ্যাপক মুহাম্মদ সিকান্দর খান বলেন, অনেকেই নালায় ময়লা ফেলে। জলাবদ্ধতা নিরসনে অন্য কাজের পাশাপাশি মানুষকেও সচেতন হতে হবে।
স্থপতি জেরিনা হোসাইন বলেন, উড়ালসড়কের চেয়ে বেশি জরুরি ছিল জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা। সেটি না হওয়ায় এখন জ্যৈষ্ঠ মাসের বৃষ্টিতেও মানুষের বাসাবাড়িতে পানি ওঠে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া।
শুনানিতে অধ্যাপক সিকান্দর খান, স্থপতি জেরিনা হোসাইন ও প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের সমালোচনা করেন। এসব উড়ালসড়ক জনস্বার্থে কার্যকর হচ্ছে না বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলার বাজেট বক্তৃতার বৃত্তান্ত by সৈয়দ আবুল মকসুদ
পূর্ব বাংলার পলিমাটি অতি উর্বর। কৃষকেরা পরিশ্রমী। পূর্ব বাংলার ধান-পাট বিক্রি করা টাকায় হিন্দু ও মুসলমান জমিদার-ব্যবসায়ীরা কলকাতায় প্রকাণ্ড সব বাড়ি বানিয়েছেন। গড়ে তুলেছেন কলকাতা মহানগর। বাংলার জনগণের অধিকাংশই কৃষক ও কৃষিশ্রমিক। তাঁদের শরীরের ওপরটা উদোম এবং কোমর থেকে নিচের দিকে নেংটি। তাঁরা ভেবেছিলেন, ইংরেজরা চলে গেলে, দেশটা স্বশাসিত হলে, তাঁদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু বাংলার মাটি উর্বর হলেও বাঙালির আড়াই ইঞ্চি কপালটা বড়ই অনুর্বর। বারবার সে হোঁচট খায় এবং তার কপাল ভাঙে। নানা বিপর্যয় সত্ত্বেও এ দেশের মানুষের অনেক উন্নতি হয়েছে। এতটাই উন্নতি হয়েছে, যা ১৯৪৮-এ বা ১৯৭২-এ অনেকে ভাবতেও পারেননি।
অতি সুরম্য ভবনে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাসহ প্রায় সব সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও গিয়েছিলেন বাজেট বক্তৃতা শুনতে। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর আমন্ত্রণে আমিও দর্শক গ্যালারিতে বসে অর্থমন্ত্রীর বাজেট উপস্থাপনা উপভোগ করেছি। ওখানে বসে সেদিন মনে পড়ে স্বাধীনতার পর ’৭২-এ অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের বাজেট ঘোষণার স্মৃতি।
১৯৭৩-এ ছিল নির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট। এখনকার তুলনায় সংক্ষিপ্ত বাজেট বক্তৃতার পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ক্যানটিনে ঢুকলেন। আমরা সবাই তাঁদের পিছে পিছে। বঙ্গবন্ধু হাস্যরস করছিলেন। তিনি ফয়েজ আহমদ ও বার্তা সংস্থা এনার গোলাম রসুল মল্লিককে দেখিয়ে অর্থমন্ত্রীকে বললেন, ‘তাজউদ্দীন, তুমি যত ভালো বাজেটই দাও না কেন, ওরা মন্দ বলবেই। যদি কিছু প্রশংসা চাও তো ওদের বেশি বেশি বিরিয়ানি-টিরিয়ানি খাওয়াও।’ চা-নাশতা খাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু সব সাংবাদিকের সঙ্গেই হাস্যরস করলেন। ছোট ঘর। সাংসদদের ও সংবাদমাধ্যমের লোকজনের মধ্যে একটি অন্তরঙ্গ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।
আমরা সবকিছুর মহিমা খুইয়েছি। অবশ্য যেখানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধই মূল্যহীন, সেখানে অন্যান্য বিষয় কী গুরুত্ব বহন করবে! একটি আধুনিক রাষ্ট্রে বাজেট অধিবেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেখানে জনপ্রতিনিধিদের কণ্ঠে বাজেট বিতর্কে জাতির আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ পায়। একটি প্রশ্নে আমার বালুকণা পরিমাণ সন্দেহ নেই। তা হলো বর্তমান মহাজোট সরকার যেসব উন্নয়নমূলক ভালো কাজ করেছে, ২০৪১ সালে যাঁরা দেশ শাসন করবেন, তাঁরা তা স্বীকার করবেন না। তার কারণ হলো সাধারণ বাঙালি অতটা না হলেও বিদ্বান বাঙালিরা কারও কোনো কাজের স্বীকৃতি দেন না।
যমুনা সেতু নির্মাণের কৃতিত্ব বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ তিন দলের নেতারাই ষোলো আনা নেওয়ার জন্য কামড়াকামড়ি করেছেন, তা আমরা দেখেছি। কারণ, সবাই একাত্তরের ওপাশে যাওয়াকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেছেন। যমুনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব কে কোন জনসভায় প্রথম উচ্চারণ করেন, সে প্রসঙ্গে আমি যাব না। কারণ, তা খবরের কাগজে লেখা আছে। ষাটের দশকের মধ্যভাগে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বাজেট অধিবেশনে যমুনা সেতু নির্মাণের প্রশ্নে আলোচনা হয়। আবদুল আলিম ‘যমুনা নদীর ওপর ফুলছড়ি ঘাট ও উত্তরবঙ্গের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনকারী সেতু নির্মাণের একটি প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি নিয়ে ‘সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা...তুমুল বিতর্ক’ করেন।
বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সদস্যরাও ছিলেন।
‘প্রস্তাবে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে প্রদেশের বাকি অংশের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে সরকারের প্রতি উক্ত সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। প্রস্তাবটি গ্রহণ করে প্রাদেশিক সড়ক ও পরিবহন দপ্তরের মন্ত্রী সুলতান আহমদ পরিষদকে জানান যে কেন্দ্রীয় সরকার এই সেতু নির্মাণের ব্যাপারে সব রকম সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে এটি একটি বিরাট প্রকল্প এবং এতে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে অনুমান করা যাচ্ছে।’ আড়াই শ কোটি টাকায় প্রমত্ত যমুনার ওপর সেতু! অকল্পনীয়। এখন তো অনেক যুবনেতার একটি মাত্র অ্যাকাউন্টেই আড়াই শ কোটি টাকা আছে।
সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী সেদিন জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সরকার জাপান, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ ‘কতিপয় বিদেশি রাষ্ট্রের’ সঙ্গে ‘এই পরিকল্পনায় সহায়তার জন্য রিপোর্ট প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা প্রদানের জন্য অনুরোধ’ করেছে। ১৫ জুন ১৯৬৭, অর্থমন্ত্রী এম এন হুদা পরিষদে জানান, যমুনা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সরকার কাজ দ্রুত শেষ করতে আগ্রহী। পরিকল্পনাটি তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। পরদিন সড়ক নির্মাণ দপ্তরের পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি (পদটি এখন নেই) আলতাফ হোসেন পরিষদকে জানান, যমুনা সেতু প্রকল্পে জাপান ও রাশিয়াকে যুক্ত করা হয়েছে।
একদিন পদ্মা নদীর ওপর দিয়ে যখন গাড়ি ও রেলগাড়ি চলবে, সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী মুহিত ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কথা ভুলে গেলে হবে অকৃতজ্ঞতা। এখন যমুনা সেতুর দুই পাশে যখন সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায়, তখন নিহত ব্যক্তিদের আত্মা আবদুল আলিম, সুলতান আহমদ, ড. এম এন হুদাকে শুধু নয়, আইয়ুব খানকেও অভিশাপ দেয়।
লুই কানের নকশা করা ভবনে বসে বাজেট বক্তৃতা উপভোগের সময় আমার মনে এল, এ দেশের প্রথম বাজেট কবে কোন ঘরে ঘোষিত হয়েছিল। এবং স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বাজেটই-বা কোন কক্ষে ঘোষিত হয়। সেই ঘর দুটির সঙ্গে এই অধিবেশনকক্ষের পার্থক্য কতটা?
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর চির-অবহেলিত পূর্ব বাংলা প্রদেশে কোনো পরিষদ ভবন ছিল না। এমনকি প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকাতে কোনো বড় হলঘরও ছিল না। প্রথম প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন বসত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সেই হলঘরে, যেটি ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর ধসে পড়ে। নিহত হন বহু ছাত্র। ওই ঘরেই দেশের প্রথম বাজেট অধিবেশন বসে মার্চ ১৯৪৮-এ। মাওলানা ভাসানী ছিলেন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের টিকিটে টাঙ্গাইল থেকে নির্বাচিত সদস্য। সরকারি দলের হলেও তিনি বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন। সেদিন তিনি দুটি ঐতিহাসিক কাজ করেছিলেন, যা বাংলাদেশের পরবর্তী ২৩ বছরের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রিত করেছে। বাজেট পরিবেশিত হয়েছিল ইংরেজিতে। মাওলানা রেগে যান। তিনি দাবি করেন, পরিষদে সব আলোচনা বাংলায় করতে হবে। ১৭ মার্চ আলোচনাকালে ভাসানী বলেন: ‘এটা বাংলা ভাষাভাষীদের দেশ, এই অ্যাসেমব্লির যিনি সদর (স্পিকার), তিনিও নিশ্চয়ই বাংলাতেই বলবেন।’ প্রত্যুত্তরে স্পিকার বলেন, ‘যিনি যে ভাষা জানেন, তিনি সেই ভাষায় বলবেন।’ মাওলানা বলেন, ‘তা হবে না, আপনি রুলিং দেন বাংলায় বলতে।’ ১৯ মার্চ বক্তৃতায় ভাসানী বলেন, ‘...আমরা কি সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের গোলাম? ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের গোলামি করি নাই, ন্যায়সংগত অধিকারের জন্য চিরকাল লড়াই করেছি, আজও করব। আমরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে পাট উৎপাদন করব আর...ট্যাক্স নিয়ে যাবে সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট। এই সব ট্যাক্স শতকরা ৭৫ ভাগ প্রদেশের জন্য রেখে বাকি অংশ সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টকে দেওয়া হোক।’ সেদিনই ছিল ভাসানীর জীবনের শেষ সংসদে যোগদান। চক্রান্ত করে সরকার তাঁর সদস্যপদ বাতিল করে।
১৯৪৯ সালে দ্বিতীয় বাজেটও জগন্নাথ হলেই ঘোষিত হয়। সেখানে একটি বিষেয় তুমুল বিতর্ক হয়। তা হলো নোয়াখালীতে গান্ধী ক্যাম্পের কার্যক্রম ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা। মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন বাজেট পেশ করেছিলেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন। পুলিশের খাতে ২ কোটি ৯৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ চাইলে বিরোধী কংগ্রেস দলের সদস্যরা আপত্তি করেন। তাঁদের মধ্যে মণীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য, গোবিন্দলাল, ভোলানাথ বিশ্বাস, অমূল্য অধিকারী, হারাণচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ বলেন, যে পুলিশ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তাদের জন্য এত টাকা কেন?
বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত সরকারের বাজেট ১৯৭৩-এ ঘোষিত হয় পুরোনো সংসদকক্ষে, এখন যা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বাজেট ও বাজেট নিয়ে আলোচনায় দেশবাসীর অনেক কিছু শেখার থাকে, ব্লেডের দাম বাড়ল কি না, তা নিয়ে হাহাকার বাজেট আলোচনা নয়।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মান নিম্নগামী। উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েরা কিছু ফটোকপি মুখস্থ করে সার্টিফিকেট পাচ্ছে। জীবন গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে যুবসমাজকে শিখতে হবে জীবন থেকে। আজ যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৫, তারাই ১৫ বছর পরে দেশ চালাবে।
কেউ এমপি হবে, কেউ পদস্থ আমলা, কেউ বিচারক, কেউ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ। তারা কী শিখছে? অর্থমন্ত্রীদের বাজেট ঘোষণা ও তার প্রতিক্রিয়া ৪৩ বছর যাবৎ যা হচ্ছে, তাতে যুবসমাজের শেখার কিছু নেই। যা শিখছে তা ফালতু কথা বলা।
আমি শতভাগ নিশ্চিত, বিএনপি নেতারা বাজেট না পড়েই দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাষায় সমালোচনা করছেন। অথচ তাঁদের দলেও বহু ভালো অর্থনীতিবিদ আছেন। বাম দলের নেতারা অগ্রাধিকার দেন বাজেটের চেয়ে বিপ্লবকে। জাতির চৈতন্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ডিসকোর্সের অবকাশ কম। একটি জাতিকে চারদিক থেকে প্রথার মধ্যে বন্দী করে ফেলা হয়েছে। সৃষ্টিশীলতা নেই। যুক্তিশীলতা নেই। যাদের মধ্যে তা আছে, তা বিকাশের পথ রুদ্ধ করে ফেলা হচ্ছে। বাজেটের অঙ্কটা কত বড়, তাতেই সবাই মুগ্ধ। বেশি টাকার চেয়ে প্রয়োজন বেশি মানুষের কল্যাণ ও কর্মসংস্থান। জাতির উজ্জ্বল ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা। তা নিয়ে বিতর্ক–বাজে কথা নয়।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
June
(974)
-
▼
Jun 14
(24)
- শনাক্তই হয়নি কেউ, আতঙ্কে ক্যাম্পবাসী by নজরুল ইসলাম
- স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কীসের বন্ধুত্ব? প্রশ্ন খালেদ...
- সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চান হিলারি
- তিস্তার পানি বিপদ সীমার ওপর, দুর্ভোগে ১০ হাজার মানুষ
- এলোপাতাড়ি গুলি করে জোড়া খুন ঘটনায় সাংসদপুত্রকে ...
- মঞ্জুর হত্যায় এরশাদের আশ্চর্য জবানবন্দি -মার্কিন ...
- ‘প্রাণনাশের হুমকির কারণে প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক...
- হকার থেকে জিনের বাদশা by নুরুল আমিন ও শাহ মোস্তফা ...
- আবাসিক হোটেলে খুন- কিনারা করতে পারে নি পুলিশ by রু...
- কারখানা সংস্কারে ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ চায় বিজিএম...
- বিমানবন্দর রেলস্টেশন- দুর্ভোগ থেকে যাত্রীদের মুক্...
- ১৫ বছরেই নতুন গ্রহ আবিষ্কার
- হিলারির সাক্ষাৎ ফি ২৭০০ ডলার!
- মানব পাচার- নৌপথে মর্মন্তুদ অভিবাসন ও দাসপ্রথা by ...
- কালসী হত্যাকাণ্ডের ১ বছর- গ্রেপ্তার হয়নি একজনও মূল...
- সন্তানকে আইসিইউতে রেখে বারে যান এমপিপুত্র রনি
- উড়ালসড়কের চেয়ে বেশি জরুরি জলাবদ্ধতা নিরসন -চট্ট...
- বাংলার বাজেট বক্তৃতার বৃত্তান্ত by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- বিএসএমএমইউতে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট by সিরাজুস সা...
- বাজেট ২০১৫–১৬: ধারাবাহিকতা আছে, বৈষম্য কমানোর নির...
- রাজধানীতে গণধর্ষণের শিকার নারী পুলিশ
- দ্বিজেন শর্মা: আমাদের মানববৃক্ষ by মফিদুল হক
- নিজ থেকে জোট ছাড়বে না জামায়াত by আহমেদ জামাল
- রাজস্ব আদায়ে ন্যূনতম শর্ত পূরণে ব্যর্থ বাংলাদেশ -ম...
-
▼
Jun 14
(24)
-
▼
June
(974)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...















