Tuesday, May 20, 2014

বিশ্বকাপ ২০১৪, সেক্স ট্যুরিজম নিয়ে চিন্তায় ব্রাজিল

বিশ্বকাপের সুর ‘উই আর ওয়ান’। পিটবুল ও জেনিফার লোপেজের কন্ঠে ব্রাজিল বিশ্বকাপের থিম সঙে ইতিমধ্যে মজেছে ফুটবলবিশ্ব। মাঠে বল গড়াতে আর বাকি ঠিক তেইশ দিন। কিন্তু তার আগেই ব্রাজিলের কপালে চিন্তার ভাজ।

এমনিতে যথাসমযয়ে স্টেডিয়াম তৈরি না হওয়া নিয়ে বেশ চিন্তায় ফিফা। যা সংকোচে রেখেছে এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ব্রাজিলকেও। তার সাথে সাথে নতুন আরো একটা চিন্তা যোগ হয়েছে স্বাগতিকদের। আর সেটা হলো ‘সেক্স ট্যুরিজম’।

দেশে চলা বিক্ষোভ, আর্থিক সমস্যার মধ্যেও শান্তিপূর্ণ এই মেগা ইভেন্টে কঠোর নিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনার ফাঁকে, মাঝে মধ্যেই ব্রাজিল সরকারের গালে হাত পড়ছে। কীভাবে আয়ত্তে রাখবেন এই সেক্স ট্যুরিজমকে? কীভাবেই বা নিয়ন্ত্রনে রাখবেন ‘সেক্স ট্যুরিজম’-এর অকাঙ্খিত ঘটনাগুলিকে?

সেই প্রশ্নে সরকারকে বেশ পরিকল্পনা কষতে হচ্ছে। কারণ, বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিলে পা রাখতে চলেছে প্রায় ষাট লক্ষ বিদেশি নাগরিক। এই সংখ্যাই আপাতত ভাবিয়ে তুলেছে ব্রাজিল সরকারকে। কারণ দেহব্যবসায়ীদের কাছে আর্থিক উন্নয়নের চাবিকাঠিই হলো এই ষাট লাখ বিদেশি।

প্রাথমিকভাবে বিশ্বকাপের মতো যে কোনো বড় ইভেন্ট দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যর অনুঘটক রূপে কাজ করে। দেশের ভাঁড়ারে লক্ষ্মীলাভের ব্যাপারে এই ধরণের ইভেন্ট হয়ে দাঁড়ায় তুরুপের তাস৷। কিন্তু প্রদীপের নীচেই যে রয়েছে অন্ধকার। সে কথাও ভুলে যাচ্ছে না ব্রাজিল সরকার। আর অন্ধকারের প্রথম জায়গাটিই হল ‘চাইল্ড সেক্স’।

এমনিতে বহু আগেই দেহ ব্যবসাকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে ব্রাজিল। সেজন্য দেখা গেছে কখনও কখনও এই স্বীকৃতি দান নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। এমন ঘটনারও সাক্ষী হয়েছে ব্রাজিল- যেখানে কিশোরীদের অনিচ্ছা স্বত্বেও দেহ ব্যবসায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে বহু শিশু মুখোমুখি হয়েছে যৌন নিপীড়নের।

তাই বিশ্বকাপের প্রাক্কালে নতুন ছকে দেশের আইনকে সাজানোর বন্দ্যোবস্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ব্রাজিল সরকার। বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিলে আগত বিদেশিদের জন্য ‘চাইল্ড সেক্স’-এর বিরুদ্ধে নানা পোস্টার ও ক্যাম্পেইনের ব্যবস্থাও নি্চ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি।

শুধু তাই নয়, এ ব্যাপারে ট্যাক্সি ড্রাইভারদের বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। যৌনতাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের উন্মদনায় শুধুমাত্র ফুটবলই হয়ে উঠুক মূলমন্ত্র, যা প্রতিষ্ঠা করাই এখন একমাত্র লক্ষ্য সর্বাধিক বিশ্বকাপ জয়ী পেলে-নেইমারের দেশের।

পদত্যাগের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত : নীতিশ

শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। সোমবার সকালে জেডিইউ প্রধান জানিয়ে দেন, তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করার কোনো প্রশ্নই নেই। রোববার নীতিশ কুমারের ইস্তফা ঘিরে দিনভর নাটক চলে বিহার রাজনীতিতে। দলের বৈঠকে তার ইস্তফা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন জেডিইউয়ের বিধায়করা। চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কথা জানান নীতিশ। দলের বাইরেও রোববার সারাদিন ধরে চলেছে বিহার বিধানসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা অংক। আরজেডি থেকে তিন বিধায়ক ইস্তফা দিয়ে নীতিশের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, সরাসরি কিছু না বললেও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে অন্য দলের সঙ্গে জোটে যেতে রাজি আছেন জানিয়ে রাস্তা খোলা রাখছেন লালুপ্রসাদ যাদবও। সোমবার সকালে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করবেন বলে রোববারই জানিয়েছিলেন নীতিশ।
সেইমতো এদিন জেডিইউ প্রেসিডেন্ট শরদ যাদব জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিত প্রেক্ষাপটে নীতীশ কুমার তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না। জানি, এই সিদ্ধান্ত নেয়াটা কতটা কঠিন ছিল, কিন্তু এটাই চূড়ান্ত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত। এর ফলে গোটা দেশ, তার দল এবং নীতিশজীরও ভালো হবে।” এদিন বিকালে ফের বৈঠকে বসে বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা স্থির করবে জেডিইউ নেতৃত্ব। তবে নীতীশের ইচ্ছা অনুযায়ী দলিত অথবা ইবিসি সম্প্রদায় থেকেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা হবে। পাশাপাশি লালুপ্রসাদের আরজেডির সঙ্গে যে তার দল কোনোমতেই হাত মেলাবে না, তাও এদিন স্পষ্ট করেছেন শরদ যাদব। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জেডিইউর অন্দরের পরিস্থিতি এতটাও সুবিধাজনক নয় নীতীশের পক্ষে। মূলত দলের ভেতরকার বিদ্রোহ সামাল দিতেই ইস্তফার কৌশল নিয়েছেন তিনি। এবার নির্বাচনে মোদি-হাওয়ার সৌজন্যে ভয়াবহ ধাক্কা খেয়েছে জেডিইউ ২০০৯ সালে এনডিএতে থাকাকালীন বিহারের ৪০টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২০টি পেয়েছিল নীতীশের দল। বিজেপির হাত ছাড়ার পর এবার তা এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র দুইয়ে। শুক্রবার ফলাফল ঘোষণার পর নীতীশের ডাকা মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না তার ছয় মন্ত্রী। এরা প্রত্যেকেই বিজেপির হাত ছাড়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন অতীতে।

সেক্সুয়াল ডিস অর্ডার সম্পর্কে জানুন

বিভিন্ন রকমের সেক্সুয়াল ডিস অর্ডার বা যৌন সমস্যা যেমন শীঘ্র পতন (premature ejaculation) বা ঋজুতা জনিত সমস্যার (erectile dysfunction) কথা শুনেছি | কিন্তু জানেন কি এমনও যৌন সমস্যা আছে যেখানে লোকেরা ঘুমন্ত অবস্থায় যৌন ক্রিয়ায় লিপ্ত হন| আজকে সেরকমই কিছু সেক্সুয়াল ডিস অর্ডারের কথা বলবো যা অনেকেই এর আগে শোনেন নি |

১: Priapism: অনেক পুরুষই ঋজুতা জনিত সমস্যায় ভোগেন কিন্তু এইক্ষেত্রে হয় ঠিক তার উলটো | Priapism হলে চার ঘন্টা বা তার বেশি সময়ের জন্য ইরেকশন থাকে কিন্তু সেক্সুয়াল স্টিমুলেশন একেবারেই থাকে না | সাধরণত পুরুষাঙ্গে রক্ত জমার ফলে এটা হয় | এটা খুব পেইনফুল | মহিলাদের ও এই সমস্যা দেখা যায় | মহিলাদের ক্ষেত্রে এটাকে বলা হয় clitorism | বরফ দিয়ে অনেক সময় ফোলা কমে যায় | আবার অনেকসময় ইনজেকশন দিয়ে বা সার্জারির সাহায্যে এই রোগ সারানো হয় |

২) আমরা অনেকেই আছি যারা ঘুম পেলে কাজ করতে পারি না | কিন্তু Sexsomnia যা একধরনের parasomnia| অনেকটা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে হাঁটা বা ঘুমের মধ্যে অজান্তে বিছানা ভিজিয়ে ফেলার মতোই এটা হলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যৌন সম্ভোগে লিপ্ত হয় | শুনতে অসম্ভব লাগলেও এ ঘটনা অসম্ভব নয় | সুখবর হলো এই সমস্যা যাদের হয় তারা খুব সহজেই এর থেকে ছুটকারা পেতে পারেন | শুধু দরকার সঠিক সময় এই রোগ নির্নয় করা | ডাক্তারের কাছে গেলে খুব তাড়াতাড়ি সেরে যাবেন |

৩) অর্গাজম পৌছনো যার কারুর কাছে ঈশ্বর দর্শনের মতো কিন্তু কারুর কারুর ক্ষেত্রে, বিশেষত যাদের coital cephalgia আছে তাদের অর্গাজম হওয়ার ঠিক আগের মুহুর্তে প্রচন্ড মাথাব্যাথা হয় |এই মাথাব্যাথা কিন্তু সহজে ঠিক ও হয় না | এই ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া খুবই জরুরী |

৪) ফ্রেঞ্চ ওয়ার্ড frotter মানে হচ্ছে to rub বা ঘষা,কিছু লোকেদের মধ্যে frotteurism এর সমস্য দেখা যায় | এই ক্ষেত্রে নিজের পুরুষাঙ্গ অন্য কোনো লোকের গায়ে, যে এটা করতে রাজি নয় তার গায়ে ঘষার ইচ্ছা হয় | এটাও একধরনের paraphilia | বেশিরভাগ সময় দেখা যায় যে এই রোগে আক্রান্ত সে নিজের অজান্তেই এটা করে ফেলে | ভীড় বাস বা ট্রেন এই রোগীদের জন্য আদর্শ জায়গা | এই ক্ষেত্রে behavioural therapy দিয়ে রোগ সারানো হয় আবার অনেক সময় সেক্স ড্রাইভ কমানোর ওষুধ দেওয়া হয় |

৫) Exhibitionism এমন একটা যৌন রোগ যেখানে কোনো পুরুষ বা মহিলা নিজেদের গোপনাঙ্গ পাবলিকলি এক্সপোজ করতে চায় | এইক্ষেত্রে psychotherapy, group counselling-এর মাধ্যমে বা ওষুধ দিয়ে এই রোগ সারানো হয় |

‘আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়’

রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আজ কোথায় দঁাড়িয়ে? ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধুর শেষ ও চাবি-বাক্যটি ছিল: ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতাঁর সংগ্রাম’। তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতাঁ অর্জিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ৪৩ বছর আগে। বাংলাদেশের মানুষ চেয়েছিল স্বাধীনতাঁ ও মুক্তি—দুটির একটি নয়। মুক্তি বাদ দিয়ে শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতাঁ তো নয়ই। আমার বয়সী লোকদের জিজ্ঞেস করলে আবোলতাঁবোল কথা বলবে, ৪৩ বছরের কম বয়স্ক কোনো মানুষকে জিজ্ঞেস করলে জানা যাবে বাংলার মানুষ মুক্তি পেয়েছে কি না, পেলেও কতটা পেয়েছে৷ যেকোনো কারণেই হোক, একাত্তরে কোনো রকম ভূমিকা রাখার সুযোগ পাননি, বর্তমান সরকারের এমন একজন বলিষ্ঠ নেতাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
৭ মার্চের ভাষণে জোরটা ছিল কোন শব্দটির ওপর—স্বাধীনতাঁ না মুক্তির? বঙ্গবন্ধুর ভাষণটির রেকর্ড তিনি বিভিন্ন দিবসে বহুবার শুনেছেন। তাঁই বললাম, স্বাধীনতাঁ শব্দটি তিনি একবার উচ্চারণ করেছেন, কিন্তু মুক্তি শব্দটি কি তিনি মাত্র একবারই বলেছেন? মাথা চুলকে তিনি বললেন, বোধ হয় একবারই। নেতাঁকে বললাম, পাকিস্তাতাঁনি সামরিক জান্তাতাঁর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধটা হলো আশু দাবি স্বাধীনতাঁ অর্জনের জন্য, কিন্তু তাঁর নামটি কেন হলো মুক্তিযুদ্ধ। এরপর তাঁর জ্ঞাতাঁর্থে বললাম, দোকান থেকে একটি ক্যাসেট কিনে বাড়িতে গিয়ে বাজিয়ে দেখবেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সেদিন বঙ্গবন্ধু ‘মুক্তি’ শব্দটি উচ্চারণ করেছেন—খুব ভেবেচিন্তেই উচ্চারণ করেছেন—একাধিকবার। ভাষণের শেষে গিয়ে নয়, শুরুতেই তিনি বলেছেন: ‘আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বঁাচতে চায়, বাংলার মানুষ তাঁর অধিকার চায়’। ভাষণের মাঝখানে তিনি আরেকবার বলেছেন: ‘যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হচ্ছে, তত দিন খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হলো—কেউ দেবে না’। প্রকৃতপক্ষেই, তাঁর পর থেকে পাকিস্তাতাঁনি বাহিনীর আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত কেউ ট্যাক্স-খাজনা দেয়নি। যে দলের নেতৃত্বে স্বাধীনতাঁসংগ্রাম হয়েছিল, তাঁর নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সরকারই আজ রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায়। নেতাঁরা প্রতিদিন অসংখ্যবার ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁরা কি তাঁর ওই কথা তিনটি মনে রেখেছেন—বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বঁাচতে চায়, বাংলার মানুষ অধিকার চায়? বাংলার মানুষ মুক্তি যদি না পেয়ে থাকে তো না-ই পাক, যদিও চেয়েছিল মুক্তি, অন্তত স্বাভাবিক জীবনযাপন করে বঁাচতে তো চায়। বাংলার মানুষ মানবিক অধিকারটুকু তো চায়। কোনো নাগরিকের মানবিক অধিকার খর্ব করার ক্ষমতাঁ কোনো রাষ্ট্রের থাকতে পারে না। একাত্তরের রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের জন্মের মাসে বাংলার মানুষ মুক্ত ছিল না।
ছিল খঁাচায় বন্দী। তাঁর বঁাচার অধিকার ছিল না, প্রতিদিন শত্রুর হাতে জীবন দিত। মানুষ হিসেবে তাঁর কোনো রকম অধিকার ছিল না। ২০১৪ অব্দের মে মাসেও যদি সেদিনের অবস্থা হয়, তাঁর চেয়ে বড় অভিশাপ আর কী হতে পারে? একাত্তরের পয়লা মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত যে মানুষ ঢাকায় ছিল না, জিন্নাহ (বঙ্গবন্ধু) অ্যাভিনিউ, বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি—প্রভৃতি এলাকায় ঘোরাফেরা করেনি, তাঁর পক্ষে সেদিনের বাংলাদেশকে উপলব্ধি করা কঠিন। শান্তিতে বঁাচতে এবং তাঁর অধিকার রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে সেদিন প্রতিটি মানুষ প্রস্তুত ছিল। ওরা গণতাঁন্ত্রিক অধিকার দেবে না, বাংলার মানুষ তাঁর অধিকার আদায় না করে ঘরে ফিরে যাবে না। এখন চেতনার কথা বলে যঁারা প্রতিদিন টেবিলে থাপ্পড় মারেন, মানুষের গণতাঁন্ত্রিক অধিকার কী, সে সম্পর্কে তাঁদের প্রচুর ধারণা আছে বলে মনে হয় না। অদক্ষতাঁ ও অযোগ্যতাঁ ক্ষমা করা যায়—সদিচ্ছার অভাব নয়। তাঁ ছাড়া, মুখের ভাষাটা টিক্কা খানের ভাষার বাংলা তরজমার মতো হবে কেন? রাজতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রে একটি সুবিধা হলো অমাত্য ও আমলাদের দিয়েই শাসনকাজ চালানো যায়। সঙ্গে পাইক, পেয়াদা, লেঠেল, বরকন্দাজ থাকলেই হলো। গণতাঁন্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রয়োজন নেতৃত্বের। সুষ্ঠু গণতন্ত্রের জন্য সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্ব চাই। বাংলাদেশের সংবিধানেও বলা হয়েছে ‘নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানের ওপর...স্থানীয় শাসনভার’ দিতে হবে। আরও বলা হয়েছে ‘স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত...প্রতিষ্ঠানসমূহে কৃষক, শ্রমিক এবং মহিলাদিগকে যথাসম্ভব বিশেষ প্রতিনিধিত্ব’ করতে দিতে হবে।
সেটা করতে দিতে হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া সম্ভব নয়। ক্ষমতাঁসীন দল ও প্রশাসন হস্তক্ষেপ করলে মানুষ তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে না। তাঁ যে পারে না তাঁর সাক্ষী হয়ে রইল ২০১৪-এর সাধারণ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচন। ২০০৮ পর্যন্ত বাংলার মানুষ এক রকম নির্বাচনী ব্যবস্থা দেখে এসেছে এবং তাঁ মেনে নিয়েছিল। ২০১৪–তে সব ধূলিসাৎ হয়ে গেল। নির্বাচনের আগের রাতেই প্রিয় প্রার্থীর ভোটের বাক্স ভরে গেল ব্যালট পেপারে। যেখানে সম্ভব হয়নি সেখানে ভোটকেন্দ্রে বসে বসে খাতিরজমায় নির্বাচন কর্মকর্তাতাঁরাই ছাপ মারেন প্রকাশ্যে। নেতৃত্ব তৈরি হয় ধাপে ধাপে—নিচ থেকে ওপরের দিকে। উপযুক্ত গণতাঁন্ত্রিক সংস্কৃতি নেতৃত্ব তৈরি করে। বাংলাদেশে নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়াটি বন্ধ আশির দশক থেকে। আগামী চার-পঁাচ বছরের মধ্যে জাতি এক চরম নেতৃত্বহীন অবস্থায় পড়বে। ষাট ও সত্তরের দশকে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করতে করতে যঁারা নেতাঁ হয়েছেন এবং এখনো রাজনীতি করছেন, তাঁরা আজ বৃদ্ধ। শ্রেণিগত রোগ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ প্রভৃতির চিকিৎসায় তাঁদের ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, লন্ডন, আমেরিকা করতে হয়। ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করার জন্য তাঁদের অনবরত আমেরিকা যেতে হয়। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁরা শারীরিকভাবে অসমর্থ হয়ে পড়বেন। আল্লাহ না করুন, কেউ-বা—। এই জগতে কোনো স্থানই শূন্য থাকে না। অন্নদাশঙ্কর রায়ের একটি পদ্য আছে, যার প্রথম পঙ্ক্তি এ রকম: ‘মহাত্মাজি যদি মারা যান,/
আকাশ হবে না খান্ খান্/ সূর্য উঠবে।’ গান্ধীজির মতো মানুষ মারা গেলে সূর্য ওঠে ঠিকই, কিন্তু সে সূর্যের আলো ম্লান। উচ্চতাঁসম্পন্ন নেতাঁর স্থানটি অপূর্ণ থাকে না বটে, তবে তাঁ পূরণ হয় খাটোদের দ্বারা। দুটি প্রধান দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকের দিকে তাঁকালে (টিভিতে দেখা যায়) মনে হয়, বৃদ্ধাশ্রমের সদস্যরা খাওয়া-দাওয়া করে বসে বসে জীবনের সুখ-দুঃখের গল্প করছেন। তাঁদের আর দেশকে দেওয়ার কিছুই নেই। তাঁরা যে অন্যায় কাজটি করেছেন তাঁ হলো, নতুন নেতৃত্ব তৈরি হতে দেননি। সিকি শতাঁব্দী যাবৎ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হতে দেয়নি সরকারগুলো। তাঁর ফলে জনগণের সঙ্গে সম্পর্কহীন খুব বড় ব্যবসায়ী ও কালোটাকার মালিকেরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছেন। গণতাঁন্ত্রিক সংস্কৃতির পরিবর্তে রাজনীতিতে চালু হয়েছে একটি সামন্তবাদী প্রথা। উত্তরাধিকারের রাজনীতি। যেন রাজনীতিটা নেতাঁর জমিদারি। কোনো নেতাঁ মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিধবা স্ত্রী, পুত্র, কন্যা বা পুত্রবধূকে উপনির্বাচনে দঁাড় করিয়ে তাঁর স্থান পূরণ করা হয়। তাঁর ফলে জেলা-উপজেলা পর্যায়েও নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না। সেখানকার মেধাবী ও যোগ্যদের ঠেলে দূরে সরিয়ে দিয়ে সামনে এনে মঞ্চে বসিয়ে দেওয়া হয় কারও ছেলে, মেয়ে বা স্ত্রীকে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষিত নেতাঁ তৈরির পথ বন্ধ, সেখানে তৈরি হচ্ছে দুর্ধর্ষ ক্যাডার, স্থানীয় পর্যায় থেকেও নেতৃত্ব তৈরির দরোজা বন্ধ। উপযুক্ত শিক্ষা ও ভালো দীক্ষা ছাড়া সুনেতৃত্ব তৈরি হয় না। বাঙালির শিক্ষার মানের সুনাম ছিল। আজ শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের উপক্রম হয়েছে৷ অথচ দেশে মেধাবী ছেলেমেয়ের সংখ্যা লাখ লাখ।
অব্যবস্থার কারণে তাঁদের মেধা বিকশিত হতে পারছে না। শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার প্রধানতম কারণ নষ্ট রাজনীতি। মানসম্মত শিক্ষা ছাড়া রাজনীতি মানসম্মত হবে না। যোগ্য নেতাঁ তৈরি হবে না। দুর্বল শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্বল ও দুর্নীতিপরায়ণ নেতৃত্ব তৈরি হয়। দুর্বল আমলা তৈরি হয়। রাষ্ট্র চালান রাজনৈতিক নেতাঁ ও আমলারা যৌথভাবে। সেই নেতাঁ ও আমলারা যদি উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, জাতির মুক্তি তখন অসম্ভব হয়ে পড়ে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যা টেকসই গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য, তাঁ ধ্বংস হয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় অনাচার ও অব্যবস্থা থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাঁশা ও ক্ষোভের জন্ম নেয়। ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে একবার, রোজ রোজ নয়। ব্যক্তিস্বাধীনতাঁ ও গণতন্ত্র সমার্থক। নতুন চিন্তাতাঁ ও মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতাঁ না থাকলে সহিংস উপায়ে সরকার পরিবর্তনের আয়োজন হতে থাকে ভেতরে ভেতরে। নেতৃত্বহীন অবস্থায়ও আকস্মিক বিস্ফোরণে পুরোনো শাসকশ্রেণি উড়ে যায়। তাঁর ফলাফল যে সব সময় ভালো হয়, তাঁ নয়। আমরা সাম্প্রতিক সময়ে আরব বসন্তে বিধ্বস্ত দেশগুলোতে সেই অবস্থা দেখেছি। স্বৈরশাসন থেকে নৈরাজ্য হয়েছে, সরকারের পতন হয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাবে। যোগ্য নেতৃত্ব ছাড়া জনগণের মুক্তি আসে না। মধ্যযুগের শাস্ত্রশাসিত রাষ্ট্র আর একনায়ক শাসিত রাষ্ট্র দুই–ই সমান ক্ষতিকর। দুটিই মানুষের মুক্তির পথে সমান বাধা।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷

আফগানিস্তান হতে যাচ্ছে নাইজেরিয়া

সন্ত্রাসী সংগঠন বোকো হারাম
ঘটনাটা অবিশ্বাস্য। উত্তর নাইজেরিয়ার একটি বিদ্যালয় থেকে ২০০ ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গেল সন্ত্রাসী সংগঠন বোকো হারাম। তারপর তারা বিশ্বব্যাপী প্রচারিত এক ভিডিওবার্তায় হুমকি দিল, এই মেয়েদের দাস হিসেবে বিক্রি করা হবে। অবিশ্বাসটা আরও জোরদার হলো এর পরের ঘটনায়৷ রাতারাতি উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় আরও আটজন মেয়েকে অপহরণ করল এই বোকো হারাম। এই ঘটনা সবাইকে বেশ নাড়া দেয়৷ সবার মনে তা এক জঘন্য ঘৃণার ভাব সৃষ্টি করেছে, শুধু স্বাধীনতা হারানোর বিপদের কারণে নয়, এই মেয়েগুলোর পরিণতির কথা ভেবে৷ এদের নিশ্চিতভাবে জোর করে বিয়ে দেওয়া হবে বা দাস্যবৃত্তিতে বাধ্য করা হবে, শিক্ষা আর তাদের ভাগ্যে জুটবে না। এই মেয়েদের খুঁজে বের করতে নাইজেরীয় সরকারের উদ্যোগ নেই বললেই চলে। আর যঁারা প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথনের বিরুদ্ধে দলে দলে মাঠে নেমেছেন, তঁাদের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। অনেককেই সাময়িকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু এখন যেসব গল্প ছড়ানো হচ্ছে সে সম্বন্ধে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত। যেভাবে এটা করা হচ্ছে তার ধরনটা অনেক পুরোনো, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে যেটা আমরা দেখেছি। কিন্তু এখন সেটা ক্রমেই আফ্রিকায় প্রয়োগ করা হচ্ছে।
আবার সেই পুরোনো ভাঙা রেকর্ড বাজানো শুরু হয়েছে, কিছু একটা করতে হবে আর ‘আমাদের’৷ মানে আলোকিত পশ্চিমাদেরই এটা করতে হবে। মার্কিন সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার এভাবে বলেছেন: ‘এটা এমন এক সময়, যখন আমাদের সক্রিয়তা বা নিষ্ক্রিয়তার ফল শুধু সেই স্কুলবালিকা বা তাদের জন্য উদ্বিগ্ন চিত্তে অপেক্ষমাণ পরিবারের সদস্যরাই টের পাবেন না, সারা দুনিয়ায় আদম পাচারের শিকার ও পাচারকারী উভয়ই তা টের পাবেন। এখন কাজে নামার সময়।’ এই মেয়েদের খুঁজে বের করায় সহযোগিতা করার জন্য পশ্চিমাদের আহ্বান করা হয়েছে, এই অপহরণের পর নাইজেরিয়ায় ‘স্থিতাবস্থা’ও ফিরিয়ে আনতে হবে বলে কথা। ব্রিটিশ সরকার ইতিমধ্যে ‘ব্যবহারিক সাহায্য’র প্রস্তাব দিয়েছে। তবে পশ্চিমা হস্তক্ষেপ তেমন কাজে লাগেনি। বিশেষত, সমস্যা মোকবিলায় তা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। আরও খারাপ হচ্ছে, পশ্চিমা হস্তক্ষেপের কারণে বেশি হারে মৃত্যু, স্থানচ্যুতি ও নৃশংসতা ঘটেছে, মূল ঘটনার কারণেও এত হারে তা ঘটেনি। প্রায়ই এই বলে এটা জায়েজ করা হয়েছে, আলোকিত সামরিক শক্তি এমন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যেখানে নারীরা সহিংসতা ও যৌন নিগ্রহমুক্ত জীবন যাপন করতে পারেন। প্রমাণ হচ্ছে, এর বিপরীতটাই সমাজে ঘটে থাকে। আফগানিস্তান যুদ্ধের বড় যুক্তি ছিল নারীর অধিকার সুরক্ষা। শেরি ব্লেয়ার ও লরা বুশ ২০০১ সালে তাঁদের স্বামীদের অতি আগ্রহের এই যুদ্ধকে সমর্থন করেছিলেন৷ কারণ, এ যুদ্ধ নািক আফগান নারীদের মুক্ত করবে। আর আজ আফগানিস্তানে কোটি কোটি মানুষ ঘরছাড়া, যুদ্ধে মারা গেছে লাখো মানুষ। নারীদের বসবাসের জন্য আফগানিস্তান আজ দুনিয়ার সবচেয়ে বাজে জায়গা। সেখানে এখন জোরপূর্বক বিয়ে, বাল্যবিবাহ, ধর্ষণসহ নানা রকম সহিংসতা নারীদের বিরুদ্ধে অবিরাম চলছেই। আফ্রিকায় পশ্চিমা হস্তক্ষেপ এখন শিকড় গেড়ে বসেছে। তবে তা আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো নয়,
কারণ এ পন্থায় স্বার্থ হাসিল করা কঠিন হয়ে গেছে আগের যুদ্ধগুলোর কারণেই। কিন্তু বারাক ওবামার শিকারি ড্রোনগুলো পশ্চিম আকাশে চক্কর দিচ্ছে, নাইজারে ইতিমধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘঁাটি গেড়ে বসেছে। এই ঘঁাটি নাইজেরিয়ার উত্তর সীমান্ত ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। এই ঘঁাটির পাশেই মালির সীমান্ত আছে। সেখানে কিছুদিন আগে ফরাসি ও ব্রিটিশ হস্তক্ষেপ ঘটেছে। লিবিয়ার সীমান্তও এখানে আছে, ২০১১ সালে এখানে পশ্চিমারা অবিরাম বোমাবর্ষণ করে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে দেয়, ফলে তা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। আফ্রিকার জিবুতি, ইথিওপিয়া ও লোহিতসাগরের অপর পারে ইয়েমেনের আকাশেও মার্কিন ড্রোন বিমান চক্কর দেয়। আর সাম্প্রতিক সময়ে সোমালিয়াতেও পশ্চিমা বিশ্ব প্রক্সি যুদ্ধে নেমেছে।আফ্রিকায় ক্রমবর্ধমান হারে ছড়িয়ে পড়া ইসলামপন্থা যদি পশ্চিমাদের জন্য হুমকি হয়ে দঁাড়ায়, তাহলে সেটা সৃষ্টিতে পশ্চিমই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু আফ্রিকায় আরেকটি যুদ্ধও চলছে, সেটা হচ্ছে অর্থনৈতিক যুদ্ধ। এই মহাদেশটি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এর জনগণের বড় অংশই চরম দুরবস্থায় দিনাতিপাত করছে। প্রেসিডেন্ট জোনাথনের নাইজেরিয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল চুয়ে চুয়ে পড়ে জনগণ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা অনেক মানুষেরই নাগালের বাইরে। দুর্নীতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। তার পরও শেলের মতো বিদেশি ও ধনী কোম্পািনগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনী পোষা হচ্ছে। অস্ত্র কেনা হচ্ছে। এই কোম্পািনগুলো নাইজেরিয়ার সম্পদে হাত দিতে চায়, বিশেষত তেলভান্ডারে অবাধ প্রবেশাধিকার চায় তারা। সমাজে বিরাজমান এই দুর্নীতি এবং অসমতার পেছনেও পশ্চিমাদের হাত আছে। এটা সেখানকার ব্যবস্থারই অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এই ব্যবস্থায় তেল ও গ্যাসের জন্য সবাই যুদ্ধে নামতে রািজ আছে, কিন্তু দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণে কেউ যুদ্ধে নামতে চায় না। নাইজেরিয়ায় এই অপহৃত মেয়েদের করুণ আর্তির এই হচ্ছে পরিপ্রেক্ষিত। ভূমিতে বা আকাশে পশ্চিমা সেনাসংখ্যা বাড়িয়ে বা অস্ত্র আমদানি করে এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো যাবে না।
লন্ডনের গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত৷
লিন্ডসে জার্মান: ব্রিটিশ যুদ্ধবিরোধী সংগঠন ‘স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশন’-এর আহ্বায়ক৷

সোনিয়া–রাহুলেই আস্থা কংগ্রেসের

নয়াদিল্লিতে গতকাল কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে
দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সহসভাপতি ছেলে
রাহুল গান্ধী৷ নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের
কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে ওই বৈঠক হয়।
কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সহসভাপতি রাহুল গান্ধী নির্বাচনী বিপর্যয়ের দায় মাথায় নিয়ে গতকাল সোমবার ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন এবং ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা সমস্বরে তা প্রত্যাখ্যান করে তাঁদের নেতৃত্বের প্রতিই আস্থা রাখলেন। দলের ১২৯ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করার পর বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে ডাকা কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের নির্যাস মূলত এটাই। বৈঠকে কংগ্রেসের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এতে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার সোনিয়া গান্ধীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে দলের নেতা অন্যতম সাধারণ সম্পাদক অস্কার ফার্নান্দেজ বলেন, ‘পিছু হটার কোনো প্রশ্ন নেই। আমারা ঘুরে দাঁড়াব। আমরা লড়াই করে ফিরে আসব।’ পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা অমরিন্দর সিং বলেন, সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী দল থেকে পদত্যাগের প্রস্তাব করেছেন৷ তবে সেই প্রস্তাব কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি প্রত্যাখান করেছে৷ তিনি বলেন, ‘তাঁরাই আমাদের শ্রেষ্ঠ নেতৃত্ব৷’ আলোচনা ছিল, বিপর্যয়ের দায় নিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সহসভাপতি রাহুল গান্ধী ইস্তফা দিতে পারেন৷ অতীতেও সংকটে এমন ঘটেছে এবং সমস্বরে তা নাকচ হয়েছে। বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি হয়েছে।
যেমন গঠিত হয়েছিল এ কে অ্যান্টনি কমিটি। বিকেল চারটায় বৈঠক বসার সময় এই তিন সম্ভাবনার কোনটি হতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল। এর কারণও ছিল। প্রবীণ কংগ্রেসনেতা কমলনাথ বৈঠকের আগে ওয়ার্কিং কমিটির মনোনীত সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। মনোনয়নের মাধ্যমে দাক্ষিণ্য বিতরণে লাভ হবে না। কিন্তু বাস্তবে বৈঠকে আদৌ তাপ-উত্তাপ ছড়াল না। দলের সদর দপ্তরে বৈঠকের শুরুতেই সোনিয়া গান্ধী ভোট বিপর্যয়ের দায় নিয়ে বলেন, এ জন্য তিনি ইস্তফা দিতে প্রস্তুত। সোনিয়ার পাশে বসা রাহুলও ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বলেন, বিপর্যয়ের দায় কারও একার নয়। সরকারের প্রধান হিসেবে তিনিও দায়ী। এর দায় সবারই। ছত্তিশগড়ের অজিত যোগী, সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম, গোলাম নবী আজাদ, অস্কার ফার্নান্দেজ, বেণীপ্রসাদ ভার্মা—প্রায় সবাই একযোগে ইস্তফার বিরোধিতা করেন। ঠিক হয়, রাজ্যের নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে আনা হবে, যাতে রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেস তার পুরোনো গরিমা ফিরে পায়। হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে নির্বাচনের বেশি দেরি নেই। কী করে সম্মানজনক লড়াই করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়। লোকসভায় বিরোধী নেতার মর্যাদা পাওয়ার বিষয়টি স্পিকারের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। শোনা যাচ্ছে, সোনিয়া বিরোধী নেতা হতে রাজি নন। তিনি চান প্রবীণ নেতা কমলনাথকে দায়িত্ব দিতে।

সন্তানদের তমসাচ্ছন্ন ভবিষ্যৎ

শিক্ষাব্যবস্থায় নানামুখী নৈরাজ্যের সঙ্গে কয়েক বছর ধরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা থেকে শুরু করে জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি এবং বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা, এমনকি মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা এবং বিসিএস পরীক্ষাও প্রশ্ন ফাঁসের আওতামুক্ত নয়৷ সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়। গত ২৩ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের প্রশ্ন ফাঁসের সুস্পষ্ট প্রমাণ সারা দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমসমূহে পাওয়া গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে পরের দিন শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষার পর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ তুললে তা প্রমাণ করা কঠিন। তার পরও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’ তাঁর সামগ্রিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত একটি তদন্ত কমিটি গঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এই তদন্ত কমিটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলার সময় সাজেশন আকারে, মুঠোফোনে খুদে বার্তা, হাতে লেখা ও টাইপ করা কোনো কাগজ বা তথ্য কারও কাছে পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। এ ব্যবস্থা তো সেই প্রবাদের মতো, ‘চোর তুই চুরি কর আর গৃহস্থ ঘর সামলা’। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় দেখা যায় যে সঠিক তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া তো দূরের কথা, সরকারিভাবে প্রায়ই স্বীকার করাও হয় না যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে।
একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য, একটি জাতির জন্য এর চেয়ে লজ্জার আর কী থাকতে পারে? পরীক্ষার আগের সন্ধ্যায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে যখন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়, তখন পরীক্ষার্থী কিংবা তাদের অভিভাবকদের মানসিক অবস্থা কেমন হয়, তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন। আর যেসব ছাত্রছাত্রী বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করে, প্রশ্ন ফাঁসের কারণে তাদের মনে যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তার ফলে তারা সব দিক থেকে যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার দায়ভার কে নেবে? কোমলমতি এসব শিক্ষার্থীর এমন মানসিক পীড়ন ও হয়রানির দায়ভার রাষ্ট্র কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। একটি খুনের শাস্তি যদি ফাঁসি হয়, তাহলে যারা লাখ লাখ কোমলমতি ছাত্রছাত্রীর মেধা খুন করছে, তাদের কী শাস্তি হওয়া উচিত? আর রাষ্ট্র যাদের ওপর শিক্ষাব্যবস্থার দায়িত্ব দিয়েছে, তাদের ব্যর্থতার জন্যই বা তাদের কী শাস্তি হওয়া উচিত? এভাবে একটি স্বাধীন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হতে পারে না। কোনো প্রতিকারই যদি না হয়, তাহলে প্রতিটি ঘটনায় একটি লোক দেখানো তদন্ত কমিটি করে লাভ কী? সৃজনশীল পদ্ধতি কিংবা প্রতিবছর জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বৃদ্ধি করে শিক্ষার মান বাড়ানো যায় না। পাসের হার আর শিক্ষার মান এক জিনিস নয়। সব পরীক্ষার আগে এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে প্রকৃত মেধাবীরা হারিয়ে যাবে, দেশ হবে মেধাশূন্য।
কিছু অসৎ লোকের কর্মকাণ্ডে কোনো সমাজ ধ্বংস হয় না, ধ্বংস হয় বিবেকবান আর ভালো মানুষের নিষ্ক্রিয়তায়। তাই সমাজের বিবেকবান মানুষসহ জনগণ এর বিরুদ্ধে রুখে না দঁাড়ালে জাতীয় জীবনে অচিরেই মহাবিপর্যয় নেমে আসবে, তাতে সন্দেহ নেই। সরকারকেই এ বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে, কারা এভাবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের পঁায়তারা করছে। সরকার প্রায়ই বলে থাকে, শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের সঠিক দিকনির্দেশনার কারণে আকাশছেঁায়া সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দেশের সব পাবলিক পরীক্ষায় তথাকথিত ‘সাজেশনের’ নামে প্রশ্ন ফাঁসসহ যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা চলছে, তাতে সাধারণ মানুষ কি সরকারের এ দািব মেনে নেবে? প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই বলে থাকেন, ‘জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।’ কিন্তু সাম্প্রতিক সময় গুটি কয়েক স্বার্থান্বেষী মহল বা ব্যক্তি দেশের পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে কোটি কোটি ছাত্রছাত্রী তথা পুরো জাতির সঙ্গে কানামাছি ভেঁা ভেঁা খেলছে। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী এদিকে নজর দেবেন, এটিকে জাতীয় দুর্যোগ বিবেচনা করে প্রশ্ন ফাঁসের মহোৎসব বন্ধে তিনি বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবেন। প্রকাশিত সত্যের খুব বেিশ তদন্ত দরকার পড়ে না। অবিলম্বে তদন্তকাজ শেষ করে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক৷ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দয়া করে আমাদের সন্তানদের বঁাচান। হারুনর রশীদ খান: অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, পদার্থবিজ্ঞান ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়৷

স্বস্তিতে থাকবেন না মোদি

নরেন্দ্র মোদি
এবারের লোকসভা নির্বাচনে মোট ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৩৩৫টিই পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)৷ অন্যদিকে কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৪৪টি আসন৷ ফলে লোকসভায় বিল পাস বা নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকারকে কোনো জটিলতার মুখে পড়ার কথা নয়৷ কিন্তু আসলে কি তাই? লোকসভায় জোট এবং দলীয়ভাবে বিজেপি শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও স্বস্তি নেই ভাবী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির৷ তঁার জন্য মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে রাজ্যসভা৷ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে দলটি এখনো সংখ্যালঘু৷ রাজ্যসভায় বিজেপির সদস্যের সংখ্যা এতটাই কম যে সেখানে আঞ্চলিক দলগুলোর সাহায্য ছাড়া তারা চলতে পারবে না৷ অথচ মাত্র কয়েক দিন আগে নির্বাচনের মাঠে এসব দলের বিরুদ্ধেই বিজেপিকে কঠিন লড়াইয়ে নামতে হয়েছিল৷ ২৪৫ সদস্যের রাজ্যসভায় বিজেপির সদস্য রয়েছেন মাত্র ৪৬ জন৷ রাজ্যসভায় কংগ্রেস এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ৷ তাদের সদস্যের সংখ্যা ৬৮৷ মিত্র দলগুলোর সদস্যদের ধরলেও রাজ্যসভায় বিজেপি পক্ষে রয়েছে মাত্র ৬৫ জন৷ ফলে দলটি কোনো আইন পাসের উদ্যোগ নিলে আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থন লাগবেই৷ বিজেপিকে চেয়ে থাকতে হবে জয়ললিতার এআইএডিএমকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন দলের দিকেই৷
এর অর্থ হচ্ছে, রাজ্যসভায় বিজেপির এই সংখ্যালঘু অবস্থান মোদিকে বেশ ভোগাতে পারে৷ অবশ্য মোদির জন্য আশার কথা হচ্ছে, রাজ্যসভার এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের মেয়াদ ২০১৬ সালে শেষ হবে৷ তখন বেশ কিছু রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হবে৷ ওই নির্বাচনে বিজেপি ও তাদের মিত্ররা ভালো ফল করলে রাজ্যসভায় তারা একটা সুবিধাজনক অবস্থান লাভ করতে পারবে৷ রাজ্যসভায় বর্তমানে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) এমপির সংখ্যা ১০২৷ তবুও বিল পাস করতে কংগ্রেস সরকারকে বিভিন্ন সময়ে বিজেপি ও অন্যান্য দলের করুণার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে৷ তাই সামনের দিনগুলোতে রাজ্যসভায় কোনো বিল পাস করতে হলে মোদিকে আঞ্চলিক দলগুলোর দুয়ারে যেতে হবে৷ কারণ, লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণার সময় আঞ্চলিক দলগুলোর বেশির ভাগই মোদিবিরোধী মনোভাব দেখিয়েছে৷ অবশ্য রাজ্যসভায় কোনো বিল আটকে গেলে মোদির সরকার সংবিধানের ১১৮ নম্বর অনুচ্ছেদ মোতাবেক রাষ্ট্রপতিকে পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন ডাকতে বলতে পারবে৷ তখন যৌথ অধিবেশনে পার্লামেন্টের সদস্য হবে ৭৯০ (লোকসভায় দুজন মনোনীত সদস্যসহ মোট ৫৪৫ জন এবং রাজ্যসভায় ২৪৫ জন)৷ সুতরাং, যৌথ অধিবেশনের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৩৯৬ জন সদস্যের সমর্থন লাগবে৷ সে ক্ষেত্রে লোকসভায় ৩৩৫টি আসন পাওয়া এনডিএর জন্য রাজ্যসভায় মাত্র ৬১ জন সদস্যের সমর্থন থাকলেই চলবে৷ তবে একটিমাত্র ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েই যাবে৷ সেটি হলো সংবিধান সংশোধন৷ সংবিধান সংশোধনের বিলের ব্যাপারে পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন ডাকার কোনো নিয়ম নেই৷ সিএনএন-আইবিএন৷

‘রাহুলকে সরাও, প্রিয়াঙ্কাকে আনো’

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
কংগ্রেসের সহসভাপতির পদ থেকে রাহুল গান্ধীকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে ছোট একটি ব্যানার টানানো হয়েছে৷ এতে রাহুলের ছোট বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ওই পদে বসানোরও দাবি জানানো হয়৷ এলাহাবাদের কংগ্রেস দলের নেতা হাসিব আহমেদ ওই ব্যানার টানিয়েছেন। হাসিব বলেন, লোকসভা নির্বাচনে রাহুল সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেও দলের বিপর্যয়কর ফলাফল এসেছে। এখন তাঁর ছোট বোন প্রিয়াঙ্কা অবশ্যই দলে একটি বড় পদ পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। নির্বাচনে সবচেয়ে বাজে ফলাফলের জন্য দলের নেতা-কর্মীরা খুব হতাশ হয়ে পড়েছেন। হাসিব বলেন, উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস শুধু দুটি আসন পেয়েছে। একটি রাহুল গান্ধী নিজে ও আরেকটি তাঁর মা কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী।
প্রিয়াঙ্কা নির্বাচনে কোনো আসনে লড়েননি৷ তিনি শুধু তাঁর ভাই ও মায়ের পক্ষে উত্তর প্রদেশের আমেথি ও রায়বেরিলিতে প্রচারণা চালান৷ এ সময় তিনি ভারতের হবু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে দৃষ্টি কাড়েন৷ কংগ্রেস নেতা হাসিব আহমেদ ৪২ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর একজন অন্ধ ভক্ত হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তিনি দলে প্রিয়াঙ্কাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে পোস্টার লাগিয়েছিলেন। সে সময় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁকে কংগ্রেস থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল৷ প্রিয়াঙ্কা বলেন, রাহুল তাঁকে দলের জন্য কাজ করতে উৎসাহ দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি রাজনীতিতে যোগ দিতে চান না। এডিটিভি৷

প্রেসিডেন্ট কাঁদলেন

টেলিভিশনে গতকাল ভাষণের একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন–হাই। রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন–হাই ফেরিডুবির ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন৷ গতকাল সোমবার টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি ক্ষমা চান৷ ভাষণের দেওয়ার একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন৷ ভাষণে পার্ক বলেন,
ফেরিডুবির পর কোস্টগার্ড যথাযথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাতে ব্যর্থ হয়েছে৷ তাই এই বাহিনী ভেঙে দেওয়া হবে৷ গত ১৬ এপ্রিল সিউল নামের ওই ফেরিডুবির ঘটনায় প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয় যাদের বেশির ভাগই স্কুলছাত্র৷ রয়টার্স৷