Tuesday, April 4, 2017

আফগানিস্তানে হাসপাতালে হামলা : ১২ সেনা কর্মকর্তা বরখাস্ত

আফগানিস্তানের বৃহত্তম সামরিক হাসপাতালে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য দুই শীর্ষ জেনারেলসহ ১২ সেনা কর্মকর্তাকে মঙ্গলবার বরখাস্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা স্পষ্টত ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। গত মাসে কাবুলে সরদার দাউদ খান হাসপাতালে চিকিৎসকের ছদ্মবেশে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়।
ওই ভয়াবহ হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া অনেক স্টাফ এএফপিকে বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে দুই ইন্টার্নসহ হাসপাতালের ভেতরের অনেক লোক রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সামরিক গোয়েন্দা প্রধান এবং হাসপাতাল সহযোগিতার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মাদ রাদমানিশ এএফপিকে বলেন, ‘হাসপাতালে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে।’ এটি ছিল সামরিক বাহিনীর বৃহত্তম হাসপাতাল।

রাশিয়ার পাতাল রেলে হামলাকারী ‘আত্মঘাতী এক মধ্য এশিয়ান’

রাশিয়াতে পাতাল রেলে বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি মধ্য এশিয়ান বংশোদ্ভূত বলে জানাচ্ছে রাশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম। এটি আত্মঘাতী হামলা হতে পারে মনে করা হচ্ছে। হামলাকারী ২৩ বছর তরুণ উগ্রপন্থী মতধারার সাথে সম্পৃক্ত ছিলো বলে জানাচ্ছে রাশিয়ার অন্যতম সংবাদ মাধ্যম ইন্টারফেক্স। এই হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে করছে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ। তবে কারা তার সাথে জড়িত থাকতে পারে সেনিয়ে রাশিয়ার সরকার খুব সতর্কভাবে মন্তব্য করছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে অবশ্য হামলাকারী সম্পর্কে কিছু তথ্য আসতে শুরু করেছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি উগ্রপন্থী ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত বলেও জানিয়েছে রাশিয়ার অন্যতম সংবাদ মাধ্যম ইন্টারফেক্স।
হামলাকারীর দেহাবশেষ সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং এক নারীও এই হামলায় জড়িত থাকতে পারে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের দুটি পাতাল রেল স্টেশনের মাঝামাঝি জায়গায় একটি ট্রেনে বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১১ জন মারা গেছে। এছাড়া আহত হয়েছে অন্তত ৪৫ জন। হামলার শিকার হওয়া দুটি স্টেশনই শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। এই ঘটনায় সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে তিন দিনের শোক পালন করা হচ্ছে। রাশিয়ার এই ঘটনায় শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। তবে এই ঘটনার ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পড়েছে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের সাধারণ মানুষজনের ওপর কারণ এমন ঘটনা সেখানে খুবই বিরল। বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে ফুল নিবেদন করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঘটনাস্থলে ফুল হাতে যাচ্ছেন শহরের হাজারো বাসিন্দা। সূত্র : বিবিসি

স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ ‘নদীতে নিক্ষেপ’ : স্বামী ৫ দিনের রিমান্ডে

ঝালকাঠির রাজাপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর নদীতে লাশ ফেলে দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বামীকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে তাকে ঝালকাঠি জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হলে সন্ধ্যায় শুনানী শেষে রিমান্ড মঞ্জুর হয়। মিজান খন্দকার (৩৪) নামের ওই ব্যক্তি পালিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার পথে ঢাকায় গ্রেফতার হন। এ ঘটনায় মিজান খন্দকারের ভগ্নীপতি মিজান হাওলাদারকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া মিজানের মা দোলোয়ারা বেগম ও মিজানের বন্ধু এনায়েত গোমস্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশী হেফাজতে নেয়া হয়েছে। নিহত সিমা আক্তার (২৪) উপজেলার খামকাটা গ্রামের মৃত আমজেদ হোসেনে মেয়ে ও পিরোজপুরের সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। মিজান খন্দকার রাজাপুর বাঁশতলা গ্রামের কাশেম খন্দকারের ছেলে। এ ঘটনায় নিহত সিমার বড়ভাই মাজেদুর ইসলাম বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে গত রোববার রাজাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামিরা হল- মিজানের ভাই সবুজ খন্দকার ও বোন শাহনাজ বেগম। গত ৩০ মার্চ গভীর রাতে রাজাপুর উপজেলার সাউথপুর গ্রামে এনায়েত গোমস্তার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হলেও এখনো লাশ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে সিমা আক্তারের সাথে সৌদি প্রবাসি মিজান খন্দকারের বিয়ে হয়। মিজানের প্রথম পক্ষের স্ত্রী থাকায় সিমা সেই বাড়িতে কখনো যায়নি। গত ২৮ মার্চ রাজাপুরে আলাদা বাসাভাড়া করা হয়েছে বলে সিমাকে তার বাবার বাড়ী পিরোজপুর থেকে রাজাপুরে নিয়ে আসেন স্বামী মিজান। এরপর ৩০ মার্চ সিমা মুঠোফোনে তার ভাই বাদশাকে জানান,
তিনি বিপদের মধ্যে রয়েছেন। পরে সিমার আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এর দুইদিন পর ১ এপ্রিল পিরোজপুর থানা পুলিশ ঢাকা মতিঝিল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে সিমার পরিবারকে জানায়, সিমাকে হত্যা করা হয়েছে এবং নিহতের স্বামী মিজানকে এনায়েতের সহযোগীতায় ঢাকা মতিঝিল থানায় আটক করা হয়েছে। রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর-রশিদ জানান, সিমাকে হত্যা করার পর স্বামী মিজান বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এনায়েতের সহযোগিতায় মতিঝিল থানা পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয় মিজান। এনায়েত গোমস্তা ও মিজান দুজনেই সৌদি প্রবাসি ও সেই সুবাদে তারা বন্ধু। হত্যার পরে লাশ ওই রাতেই এনায়েত গোমস্তার বাড়ি থেকে নিহতের স্বামী মিজানের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে সহায়তার অভিযোগে মিজান হাওলাদার নামে এক অটোরিকশা চালককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার তাদেরকে ঝালকাঠি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান ওসি। অটোরিকশাা চালক মিজান খন্দকার রাজাপুর থানা হাজতে বলেন, সিমা অসুস্থ এই কথা বলে রাত ৪টার দিকে আমাকে অটোরিকশা নিয়ে আসতে বলা হয়। সেই রাতেই অটোরিকশাযোগে সিমাকে উপজেলার সাউথপুর থেকে মিজানের বাড়ী বাঁশতলায় নিয়ে যাই। এরপর আমার আর কিছু জানা নেই। উপপরিদর্শক আবুল কালাম বলেন, ওই মামলায় ঢাকা থেকে গ্রেফতার মিজান খন্দকারকে ঝালকাঠি এনে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডে আনা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারসহ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সিমা বা তার লাশের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ, বলেন তিনি। রাজাপুর থানার পরিদর্শক শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, এঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আসাদ 'যুদ্ধাপরাধী' : মার্কিন দূত

জাতিসঙ্ঘ মনে করছে সিরিয়ার জনগণ প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না এবং তিনি নির্বাচনে দাঁড়ালেও জনগণ তা মেনে নেবে না। সোমবার জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালে এমন কথা বলেন। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আসাদ একজন ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং দীর্ঘ সময় ধরে শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ‘বাধা’। এছাড়া সিরিয়ার জনগণের জন্য তার শাসন ‘বিরক্তিকর’।
আসাদের ভবিষ্যত সিরিয়ার জনগণের ওপর নির্ভর করছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের এমন মন্তব্যের ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, টিলারসনের মন্তব্যের অর্থ এই না যে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাশার আল-আসাদ আবারো জয়লাভ করলে যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নেবে। তিনি বলেন, আমরা এটা মনে করি না যে, সিরিয়ার জনগণ আর আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। গত সপ্তাহে আঙ্কারায় বৈঠকের পর টিলারসন বলেন, প্রেসিডেন্ট আসাদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে সিরিয়ার জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার চলে যাওয়ার বিষয়ে আর জোর করবে না। উল্লেখ্য, সিরিয়ার দীর্ঘ ছয় বছরের সঙ্ঘাতের অবসানের ক্ষেত্রে আসাদের ভবিষ্যতের বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে। জেনেভায় জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনায় তেমন কোন অগ্রগ্রতি হয়নি। তবে জাতিসঙ্ঘ কূটনীতিকরা শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতির আশা একেবারে ছেড়েও দিচ্ছে না। হ্যালে বলেন, আসাদের প্রতি রাশিয়া ও ইরানের সমর্থনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন।

আগুন নিভাতে গিয়ে ৪ জনের মৃত্যু

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় সাংহাই প্রদেশে বনের আগুন নেভাতে গিয়ে অগ্নিনির্বাপক দলের চার সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন। সূত্র মতে, তাইগু এলাকার ওয়েনজিয়াজহুয়াং গ্রামে সোমবার এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে টম্ব সুইপিং ডে উপলক্ষে চেং নামের এক গ্রামবাসী তার এক আত্মীয়ের সমাধিতে কাগজের নোট পোড়াতে গেলে বনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। লোকটিকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চীনে চলতি বছর টম্ব সুইপিং ডে ৪ এপ্রিল পালিত হচ্ছে। এ দিনে সাধারণত পরিবারের মৃত সদস্যদের প্রতি ধূপ ধুনো ও কাগজের নোট পুড়িয়ে সম্মান জানানো হয়। ফলে প্রায়ই এ ধরণের অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

প্লাস্টিক ডিমের রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নকল ডিম কাণ্ডে মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বললেন, পশ্চিমবঙ্গের সব ডিম নিরাপদ। তাই ডিম খান নিশ্চিন্তে। একইসাথে প্লাস্টিক ডিমের তত্ত্ব কার্যত খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। প্লাস্টিক ডিমের রটনার পিছনে কোনো চক্রান্ত কাজ করছে কিনা, তারও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজস্ব উৎপাদনের বাইরেও, ভিন রাজ্য থেকে ডিম আমদানি করে পশ্চিমবঙ্গ।
তার বেশিরভাগটাই আসে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে। ভিন রাজ্য থেকে আসা ডিমে কোনো ভেজাল রয়েছে কিনা, রাজ্য সরকার তা খতিয়ে দেখছে। তবে এখনও পর্যন্ত যা রিপোর্ট মিলেছে, তাতে ডিমের নমুনায় কোনো গলদ পাওয়া যায়নি- জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট কথা, ডিমে ভেজাল পেলে সরকার যেমন ব্যবস্থা নেবে, গুজব ধরা পড়লেও কড়া পথে হাঁটবে প্রশাসন।

ইয়েমেনে ২০ দফা হামলা চালিয়েছে আমেরিকা

ইয়েমেনে ২০ দফা সামরিক হামলা চালানো হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ থেকে এ সব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। পাশাপাশি পেন্টাগনের বিবৃতিতে ইয়েমেনে কথিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করা হয়।
২০১৫ সালে মার্চ মাস থেকে সৌদি নেতৃত্ব পারস্য উপসাগরীয় এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশ ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য ইয়েমেনের ঠিক কোথায় কোথায় হামলা করা হয়েছে সে কথা উল্লেখ করেননি পেন্টাগনের মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিস। আল-কায়েদার বিরুদ্ধে কথিত লড়াইয়ের অংশ হিসেবে এসব হামলা করা হয়েছে কিনা তাও উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র : ওয়েবসাইট

ফেসবুকে আত্মহত্যার ‘উদ্যোগের’ ভিডিও দিয়েই ১৯তলা থেকে ঝাঁপ

ফেসবুকে প্রথমে লাইভ চ্যাট করেন, কীভাবে আত্মহত্যা করতে হবে। তারপর জানালা থেকে ঝাঁপ। এভাবেই জীবন শেষ করে দিলেন ভারতের বেঙ্গালুরুর ২৩ বছরের স্নাতকোত্তর ছাত্র অর্জুন ভরদ্বাজ। বান্দ্রা ওয়েস্টের পাঁচতারা হোটেল তাজ ল্যান্ডস এন্ডের ১৯তলায় রুম ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে হোটেলের জানালার কাচ ভেঙে নিচে লাফিয়ে পড়েন অর্জুন। বান্দ্রা পুলিশ একটি সুইসাইড নোট পেয়েছে, তাতে লেখা, হতাশার কারণে জীবন শেষ করে দিচ্ছেন তিনি। তার এই সিদ্ধান্তের জন্য কেউ দায়ী নয়। অর্জুন ভরদ্বাজ বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। মুম্বাইয়ের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়াশোনা করছিলেন। গতকাল ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ওই হোটেলে আসেন তিনি, সবরকম নথি ও পরিচয়পত্র জমা দেন। আত্মহত্যার আগে ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের যে ভিডিও রেকর্ড করেন তিনি, তাতে শেখান, ধাপে ধাপে কীভাবে আত্মহত্যা করতে হয়।
প্রথমে সুইসাইড নোট লিখতে হয়, তারপর নেশা করতে হয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি নিজেও সিগারেট ও মদের নেশা করছেন। একইসঙ্গে জানালা থেকে দেখছেন সূর্য ডোবার দৃশ্য, খাচ্ছেন বেকন পাস্তা। তারপর তিনি বলেন, নিজের ঝাঁপ দেওয়ার ভিডিও করা সম্ভব নয়, তাই তা এখানেই শেষ হচ্ছে। বন্ধুদের গুডবাই করে বন্ধ করে দেন ভিডিও। লীলাবতী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সুইসাইড নোটে বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন অর্জুন। মৃত্যুর পর বন্ধুদের মিস করবেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে, তিনি ড্রাগের নেশা করতেন কিনা।

ভারতে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের উদ্যোগ

ভারতে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের গ্রেফতার করে তাদের দেশ থেকে বিতাড়নের উদ্যোগ নিচ্ছে সেদেশের সরকার। ফরেনার্স অ্যাক্টে তাদের বিতাড়ন করা হবে বলে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জানা যায়, গত ৫-৭ বছরে মিয়ানমার থেকে এসে বেআইনিভাবে ভারতে বসবাস করছে অন্তত ৪০ হাজার রোহিঙ্গা। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে তারা। এর একটা বড় সংখ্যার অবস্থান জম্মুতে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে এসব রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে, বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে ও মিয়ানমার সীমান্তে চীনা এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। সরকারি হিসাবে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শুধু জম্মুতেই রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশঙ্কা, ঠিকমত গণনা হলে এই সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১১ হাজারে দাঁড়াবে।
গোটা ভারতের প্রেক্ষিতে জম্মুতে জড়ো হওয়া এই রোহিঙ্গাদের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি বলে মনে করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিছুদিন আগে তাদের বস্তিতে তল্লাশি চালিয়ে আধার কার্ডসহ বেশ কিছু পরিচয়পত্র উদ্ধার করে পুলিশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব মেহঋষি গতকাল এ নিয়ে একটি বৈঠক ডাকেন। কীভাবে রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে বিতাড়ন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। জম্মু কাশ্মীরের মুখ্য সচিব, ডিজিপি, বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও গোয়েন্দা অফিসাররা বৈঠকে ছিলেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

নিরাপত্তা দিতে ভারত ব্যর্থ : দিল্লির সমালোচনায় আফ্রিকান রাষ্ট্রদূতেরা

আফ্রিকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে ভারত। নিরাপত্তার জন্য যে ব্যবস্থা দিল্লি নিয়েছে তা যথেষ্ট নয়। তাই নাগরিকদের হামলার আন্তর্জাতিক তদন্ত চেয়ে ভারতের ওপর চাপ বাড়ালেন ভারতে নিযুক্ত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতেরা। আফ্রিকার দেশগুলোর এই সিদ্ধান্তে নিঃসন্দেহে কূটনৈতিকভাবে বিড়ম্বনা বাড়ল দিল্লির। ভারতের অস্বস্তি বাড়িয়ে দেশগুলির পক্ষে জারি করা বিবৃতিতে এই ধরনের হামলাকে ‘‌বিদেশি ভীতি এবং জাতিবিদ্বেষের’‌ ফল বলে জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারত এই সব হামলার যথোচিত নিন্দা করেনি বলে জানানো হয়েছে। গত সপ্তাহে উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডা এলাকায় এক কিশোরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। জানা যায়, ড্রাগের কারণেই এই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই স্থানীয়দের রাগ গিয়ে পড়ে সেখানে বসবাসকারী নাইজেরীয়দের ওপর। তারাই এই কিশোরকে ড্রাগ বিক্রি করেছিল, এই অভিযোগে হামলা চালানো হয়। পাঁচ নাইজেরীয়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে কোনো প্রমাণ না পেয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। তবে বিকেলে কিশোর মৃত্যুর বিচারের দাবিতে মোমবাতি মিছিল বার করেন স্থানীয় মানুষজন। তাদের নজরে পড়ে গাড়িতে বসে থাকা নাইজেরীয় ছাত্রদের ওপর।
লাঠি নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয় লোকজন। আর একটি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কেনাকাটা করার সময় নাইজেরীয়দের ওপর হামলা করা হচ্ছে। মুহূর্তে সে ঘটনার ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিষয়টি নিয়ে সরব হয় আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তড়িঘড়ি টুইট করে জানান, বিষয়টি নিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছেন তিনি। তবে জাতিবিদ্বেষের কারণেই এই হামলা কিনা তদন্তের পরে সেই সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানান স্বরাজ। আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতেরা অতটা সময় দিলেন না। বরং এই ঘটনাকে জাতিবিদ্বেষ বলেই জানালেন। গ্রেটার নয়ডা এলাকায় কয়েক শ' আফ্রিকার ছাত্র–ছাত্রী পড়াশোনা করেন। অধিকাংশই নাইজেরীয়। নাগরিক হামলার পরই নাইজেরিয়ায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে ঘটনার নিন্দা করে আবুজা। আফ্রিকার ছাত্র–ছাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে দিল্লি। ক্লাসে বা বাজারহাটে যাওয়ার সময় তাদের পুলিশি নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কা চ্যাম্পিয়ন

ইমার্জিং এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীলঙ্কা। আজ কক্সবাজারে তারা ৫ উইকেটে পরাজিত করেছে পাকিস্তানকে। টসে জিতে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানকে ১৩৩ রানে অল আউট করেই তাদের শিরোপা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। বাকি কাজটা ব্যাটসম্যানরা সম্পন্ন করতে খুব বেশি সময় নেয়নি।
২৩.৫ ওভারেই ৫ উইকেট হারিয় জয় ছিনিয়ে নেয়। পাকিস্তান অবশ্য একপর্যায়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এত কম রানে সেটা আটকানো সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের ম্যাচ উইনার কারা?

অন্যান্য সব দলে ম্যাচ উইনার খেলোয়াড় থাকলেও বাংলাদেশে এমন কেউ আছে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে মাশরাফির উত্তর এক তামিম খেললেই তো হয়ে যায়। সবশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে জয়ের পর মাঝে সব মিলিয়ে টানা সাতটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কোনো জয় নেই টাইগারদের। এবার আবার সেই লঙ্কানদের সামনে বাংলাদেশ। আর সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে এগিয়ে থাকতে মরিয়া টাইগার অধিনায়ক। এ ক্ষেত্রে টপ অর্ডারে তামিমের দায়িত্বটা বেশি বলে মনে করেন মাশরাফি। বলেন, 'টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানদের বড় ভূমিকা থাকে।
আর তামিম যদি শুরুতে ওর খেলাটা খেলে তাহলে অন্যদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায়।' এদিকে ছাড়াও আরো অনেক খেলোয়াড় আছেন যারা একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। এমনটাই মনে করেন মাশরাফি। 'আমাদের ম্যাচ উইনার খেলোয়াড় অনেক আছে। তামিম ইকবাল তো অবশ্যই। এছাড়াও সাকিব, সাব্বির, মোস্তাফিজ, মাহমুদুল্লাহ, ‍মুশফিকুর রহিম আছে, কয়েকটা ম্যাচে সে একা হাতে জিতিয়েছে।'

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ

প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের ফলে পরের দুই ম্যাচে একাদশে পরিবর্তন আনেনি বাংলাদেশ। ওয়ানডের পর আজ টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। কেমন হতে পারে বাংলাদেশের টি-২০ একাদশ? টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, ম্যাচটির বাংলাদেশ একাদশে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। শেষ ওয়ানডেতে যে দল নিয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ, সেই একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে পারে তারা। সাত ব্যাটসম্যান ও চার বোলার নিয়েই খেলতে নামতে পারে মাশরাফিরা।
ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সাথে সৌম্য সরকার মাঠে নামবেন, তা অনেকটাই নিশ্চিত। তিন নম্বরে সাব্বির রহমান, চার নম্বরে সাকিব আল হাসান, পাঁচ নম্বরে মুশফিকুর রহিম, ছয় নম্বরে মাহমুদুল্লাহ, সাত নম্বরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত খেলতে পারেন। টেস্ট-ওয়ানডেতে নিজেকে প্রমাণ করার পর এবার টি-টোয়েন্টিতেও অভিষেক হতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজের। আর পেসার মাশরাফি মর্তুজা ও মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ খেলতে পারেন। তবে দলে চমক হিসেবে জায়গা পাওয়া তরুণ অলরাউন্ডার সাইফুদ্দিনকে নেয়া হলে অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না। সে ক্ষেত্রে হয়তো জায়গা হারাতে হতে পারেন মাহমুদুল্লাহ। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট শেষ পর্যন্ত একাদশে পরিবর্তন আনবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ : মাশরাফি মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ।

আজ টি-২০ অভিষেক হতে পারে মিরাজের

টেস্টে অভিষেক ম্যাচেই বাজিমাত করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু। অভিষেকেই দখলে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। ইংলিশদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের ওই টেস্ট সিরিজে শিকার করেন মোট ১৯ উইকেট। সিরিজ সেরাও হন ১৯ বছরের এই তরুণ তুর্কি। আর চলতি বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় মিরাজ। লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেই জায়গা পান একাদশে। একদিনের ক্রিকেটে প্রথম ম্যাচে বল হাতে ১০ ওভারে খরচ করেছেন ৪৩ রান; আর ঝুড়িতে জমা করেছেন দুটি উইকেট। এখ বাকি শুধু টি-২০ অভিষেক। সেটাই হয়ে যেতে পারে আজ।
লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টির সম্ভাব্য একাদশে আছেন এই অলরাউন্ডার। লঙ্কানদের বিপক্ষে ব্যাটিং লাইন-আপ শক্তিশালী হবে মিরাজ থাকলে। তৃতীয় ওয়ানডেতে মিরাজ হাফ সেঞ্চুরি করার পর এ কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা। তাছাড়া লঙ্কান দলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের উপস্থিতি বেশি। আর অফস্পিনার মিরাজ এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। তাকে হঠাৎ করে ওয়ানডে দলে নেয়ার উদ্দেশ্যও ছিল তা-ই। তবে মিরাজ একাদশে জায়গা না পেলে হয়তো সানজামুল ইসলামের অভিষেক হতে পারে।

ভারতীয়রা আফ্রিকানদের ঘৃণা করে!

সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লীর নাইজেরিয়ার কয়েকজন শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনায় ভারতে বসবাসরত আফ্রিকান নাগরিকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ভারতে অবস্থানরত আফ্রিকান নাগরিকদের উপর হামলা নতুন কোন বিষয় নয়। এর আগেও কয়েকবার এ ধরনের হামলা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ভারতে বসবাসরত আফ্রিকান শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের মানুষজন আফ্রিকানদের আদৌ সহ্য করতে পারি কি না। আফ্রিকান শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ভারতে অবস্থানরত আফ্রিকান দেশগুলো রাষ্ট্রদূতরা। এক বিবৃতিতে তারা সে হামলাকে 'বর্ণবাদী' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সে হামলার ঘটনায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট নিন্দা করেনি এবং দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে তারা উল্লেখ করেন। গত মাসে রাজধানী দিল্লীর কাছে আফ্রিকান শিক্ষার্থীদের উপর হামলা হয়।
বিশৃঙ্খল মানুষজন নাইজেরিয়ার পাঁচজন ছাত্রের উপর হামলা করে এবং আরেকজনকে একটি শপিং মলের ভেতরে বেধড়ক পিটিয়েছে। ঔষধের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগের ফলে ভারতীয় এক কিশোরের মৃত্যুর পর এ ঘটনা ঘটে। কারণ শিশুটির বাবা-মা অভিযোগ করে যে নাইজেরিয়ার এক ছাত্র সে ঔষধ দিয়েছিল। পুলিশ বলছে, নাইজেরিয়ার ছাত্রদের উপর হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ 'নিরপেক্ষ তদন্তের' প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু ভারতে নিযুক্ত আফ্রিকান রাষ্ট্রদূতরা বলেছেন, এটা যথেষ্ট নয় এবং তারা জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলকে বিষয়টি তদন্তের আহবান জানান। ভারতীয় সরকারের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক মহল থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করার জন্য আহবান জানিয়েছেন আফ্রিকান দূতরা। শপিং মলের ভেতরে নাইজেরিয়ার যে শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটানো হয়েছে সেটির একটি ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিলেন এক ব্যক্তি। পরে সে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সে হামলায় আহত নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাকে রড, ইট এবং ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তখন তাকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থীরা এমন অভিযোগও করেছেন যে ভারতের মানুষ 'কালোদের ঘৃণা করে"। এ বিষয়টি নিয়ে অনেক ভারতীয় অনলাইনে নিজেদের বক্তব্য প্রকাশ করেছে এবং বলছে যে এ ঘটনায় তারা লজ্জিত। কিন্তু গত কয়েক বছরে ভারতে অবস্থানরত আফ্রিকান শিক্ষার্থীদের উপর বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের জুলাই মাসে দিল্লীতে একটি অটো-রিক্সার ভাড়াকে কেন্দ্র করে বিবাদের এক পর্যায়ে কঙ্গোর এক নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সে ঘটনার কয়েকমাস আগে ব্যাঙ্গালোরে তানজানিয়ার এক নারী শিক্ষার্থীর উপর হামলা করে তার জামা ছিঁড়ে ফেলা হয়। ২০১৩ সালে গোয়ায় বসবাসরত নাইজেরিয়ার এক নাগরিককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। সূত্র : বিবিসি

'একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে এমন ক্রিকেটার দরকার'

সবশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি জিতেছে বাংলাদেশ। মাঝে সব মিলিয়ে টানা সাতটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কোনো জয় নেই টাইগারদের। র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান করছে আইসিসির সহযোগী দেশ আফগানদেরও পেছনে। টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের অবস্থা ভালো করতে হলে একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে এমন ক্রিকেটার দরকার বাংলাদেশের। এমনটাই মনে করেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। টেস্ট ও ওয়ানডেতে নিজেদের মেলে ধরতে পারলেও টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশের চিত্র ঠিক তার উল্টো। এ অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে এই ফরমেটে আররো উন্নতি করতে হবে। এ ব্যাপারে মাশরাফি বলেন, 'আমরা দিন দিন উন্নতি করছি কিন্তু যেখানে যেতে চাই, সেখানে যেতে পারিনি।
টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের আরো ভালো অবস্থানে নিতে একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে এমন কিছু ক্রিকেটার বাংলাদেশের দরকার।' গত বছর পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। তবে এরপর খেই হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। মাশরাফি বলেন, 'এশিয়া কাপে সাফল্যের পর বিশ্বকাপেও আমাদের সুযোগ ছিল। তবে বিশ্বকাপে আমরা শেষ করতে পরিনি। ভারত ম্যাচ যদি দেখেন, শেষ দিকে গিয়ে হেরে গেছি। তবে আমরা ভালো করছি।'

বাংলাদেশের সামনে সূবর্ণ সুযোগ

টেস্ট-ওয়ানডের পর আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের টি-২০ সিরিজ। সিরিজকে সামনে রেখে এখন চলছে বিভিন্ন হিসেবনিকেশ। আর তাতে ধরা দিয়েছে বাংলাদেশের দারুণ এক সম্ভাবনা। শ্রীলঙ্কাকে দুটি ম্যাচেই হারাতে পারলে, অর্থাৎ হোয়াইটওয়াশ করলে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ পয়েন্ট বাড়বে সফরকারীদের। ৭২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আইসিসি টি-২০ র‍্যাঙ্কিংয়ে এখন বাংলাদেশের অবস্থান দশম।
প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা আছে অষ্টম অবস্থানে, তাদের রেটিং ১০১। র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার মাঝখানে অবস্থান করছে আফগানিস্তান। তাদের রেটিং পয়েন্ট ৮৪। শ্রীলঙ্কাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়াবে ৭৭, অন্যদিকে ৫ পয়েন্ট কমে শ্রীলঙ্কার রেটিং পয়েন্ট হবে ৯৬। তাতে অবস্থানের পরিবর্তন না ঘটলেও সামনে থাকা আফগানিস্তানের বেশ কাছাকাছি রেটিং পয়েন্টধারী হয়ে যাবে বাংলাদেশ। ২-০ ব্যবধানে জিতলে বাংলাদেশ ৫ পয়েন্ট পেলেও একই ব্যবধানে হারলে হারাবে মাত্র ১ পয়েন্ট। দুই ম্যাচ টি-২০ সিরিজের ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ ও ৬ এপ্রিল। দুটি ম্যাচেরই ভেন্যু কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম।

বৈশাখী মেলা ঘিরে চলছে মানিকগঞ্জে ২৫ হাজার শিল্পীর প্রস্তুতি

আর কয়েকদিন পরেই বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষ। নববর্ষকে বরণ করতে আগ্রহের কোনো কমতি নেই মানিকগঞ্জের গ্রামীণ জনপদের মানুষজনের। চৈত্র সংক্রান্তি থেকে পুরো বৈশাখ মাস জুড়ে বিভিন্ন স্থানে বসবে বৈশাখী মেলা। বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে নববর্ষের বৈশাখী মেলা। আর এ মেলাকে সামনে রেখেই জেলার প্রায় ২৫ হাজার তাঁত, হস্ত ও মৃৎশিল্পী আর মিষ্টির কারিগররা পার করছেন ব্যস্ত সময়। বৈশাখী মেলার অন্যতম আকর্ষণ মাটির তৈরি খেলনাসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র। বৈশাখী মেলায় মাটির খেলনা ও তৈজসপত্র বিক্রির প্রস্তুতি নিতে চৈত্র মাসের শুরু থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ঘিওর উপজেলাসহ জেলার প্রায় ৪ সহ¯্রাধিক মৃৎশিল্পী। বাড়ির পুরুষদের কাজে সহযোগিতা করতে ঘরে বসে নেই ওইসব পল্লীর রমণীরা। বৈশাখী মেলার খেলনা তৈরির মাধ্যমে হাতেখড়ি দিচ্ছে পাল পাড়ার ভবিষ্যত প্রজন্মের শিশুরাও। সরেজমিন দেখা যায়, কর্মমুখর কুমার পাড়ায় কোথাও হচ্ছে মাটি থেকে কাদা তৈরির কাজ, কোথাও হচ্ছে নানা আকারের পাত্র তৈরি। পণ্য তৈরি শেষে শুকানো হচ্ছে তা। সবশেষে দেয়া হচ্ছে রং তুলির আঁচড়। এখানকার পণ্য নিয়ে কুমাররা বেরিয়ে পড়বেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বৈশাখী মেলায়। সেসব মেলায় নিজেদের বানানো পণ্যের পসরা সাজিয়ে বিক্রি করবেন তারা। ঘিওরের পাল পাড়ার মৃৎশিল্পী, তরণী পাল, প্রবীণ সুখেন পাল ও গৃহবধূ শিল্পী রানী পাল জানান, তারা প্রত্যেকেই মেলার জন্য মাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও তৈজসপত্র তৈরি করছেন। চাহিদার কথা চিন্তা করে পুতুল, ব্যাংক, আম, কাঁঠাল, হরিণ, ঘোড়া, হাতি, মাছ, ময়ুর, সিংহসহ হরেক রকম শিশু খেলনা, ঘর গৃহস্থালীর হাড়ি, পাতিল, ঢাকনা, ঝাজর, কলসসহ নানান তৈজসপত্র, ঘর সাজানোর জন্য ফুলদানি, টবসহ নানান জিনিসপত্র তৈরী করছেন। মির্জাপুর (তরা) এলাকার হারান পাল বলেন, নতুন প্রজন্মের সন্তানরা এখন তাদের পূর্বপুরুষদের পেশায় আসতে চাইছে না। কারণ আগের মতো এখন আর তৈজসপত্রের একচেটিয়া ব্যবসা নেই। নেই তেমন মর্যাদাও। পাল পাড়ার সন্তানরা এখন পড়াশোনা শিখে চাকুরীতে আগ্রহী।
হরেক স্বাদের মিষ্টি ছাড়া বৈশাখী মেলা কল্পনাও করতে পারে না মানিকগঞ্জের লোকজন। এছাড়াও সারাদেশেই রয়েছে মানিকগঞ্জের মিষ্টির কদর। রসগোল্ল, জিলাপী, দধি, মাসকলাই আমিরতী, রসমালাই, সন্দেশ, কালোজাম, চমচম তৈরী করতে দুধ, চিনি, গুড়, মাসকলাইসহ অন্যান্য উপকরণ ক্রয় এবং মিষ্টি তৈরী করার কাজে দম ফেলার ফুসরত নেই ঘোষপাড়ার নারী-পুরুষদের। একটি বেসরকারী সংস্থার তথ্য মতে, জেলায় এ পেশার সাথে জড়িত রয়েছে প্রায় ৬ হাজার লোক। ঘিওরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি বিক্রির প্রতিষ্ঠান নিজাম সুইটমিটের ব্যবস্থাপক জানান, আমাদের মিষ্টির চাহিদা এমনিতেই ব্যাপক। এছাড়াও পহেলা বৈশাখে অতিরিক্ত ৪০/৫০ মণ মিষ্টি বিক্রি বেশি হবে। তাই কারিগররা এখন ভীষন ব্যস্ত। জেলার ৭টি উপজেলাতেই রয়েছে কম বেশি তাঁতশিল্প। বৈশাখী শাড়ি, লুঙ্গি, বাহারী রংয়ের গামছা তৈরির কাজে মানিকগঞ্জের তাঁতশিল্পীদের ঘুম নেই চোখে। এছাড়াও মানিকগঞ্জের সিল্ক, মসলিন, থানকাপড় ও কারু কাজ সমৃদ্ধ শাড়ির কদর দেশজুড়ে। তাঁত মালিক আবদুল বাসেত মিয়া জানান, মালিক-শ্রমিক মিলে প্রায় ১০ হাজার লোক এ পেশার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।  শ্রমিক নিয়ামত মল্লিক জানান, দিনপ্রতি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা রোজগার করছেন একেকজন শ্রমিক। তবে পয়লা বৈশাখ ও ঈদ-পূজায় রোজগার বেড়ে যায়। কুটির শিল্পীরা বাঁশ-বেত সামগ্রী, রঙিন হাতপাখা, মোড়া, টেবিলম্যাট, ওয়ালম্যাট, ট্রে, ফুলদানি, ছাইদানি, শিশুদের খেলনা সামগ্রীসহ ঘর গৃহস্থালীর নানাবিধ উপকরণ তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার ২ হাজারেরও বেশি পরিবার। কাটিগ্রাম এলাকার মো: শামসুল মিয়া জানান, এবার বৈশাখী মেলায় প্রতিটি পরিবার গড়ে ৩০/৪০ হাজার টাকার সামগ্রী বিক্রি করবে।

প্রেমের টানে ব্রাজিল থেকে বালিয়াকান্দিতে

ফেসবুকে পরিচয়, অতঃপর প্রেম। ব্রাজিল থেকে ছুটে এলো প্রেমিকের বাড়ি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর বাজার। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা একনজর দেখার জন্য ভীড় জমিয়েছে ওই প্রেমিকের বাড়িতে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের জামালপুর বাজারের বলাই ঘোষের ছেলে শ্যামলী পরিবহনের ঢাকা-কোলকাতা সার্ভিসের কর্মী সঞ্জয় ঘোষের বাড়িতে ব্রাজিল থেকে একজন নারী সোমবার রাতে এসেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ দেখতে ওই বাড়িতে ভীড় জমাচ্ছে। দেখতে আসা আকরাম হোসেন জানান,
তারা ব্রাজিল থেকে একজন নারী এসেছে জেনে দেখতে এসেছেন। তার মতো অনেকেই দেখতে এসেছে। সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে উৎসুক জনতার ভীড়। সঞ্জয় ঘোষ জানান, ফেসবুকে তার সাথে ১৭ মাস আগে ব্রাজিলের মিউনেশিয়াল অ্যাসিসটেন্ট জেইসা ওলিভেরিয়া সিলভার পরিচয় ঘটে। এক পর্যায়ে সে বাংলাদেশে আসতে চায়। এজন্য সোমবার রাতে তার বাড়িতে এসেছে। সে বিয়ে করতে চাইলে সে বিয়ে করবে। তার পরিবারের সদস্যদের কোনো বাধা নেই। ব্রাজিলের নাগরিক জেইসা ওলিভেরিয়া সিলভা জানান, তিনি সঞ্জয় ঘোষের সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে এসেছেন। তিনি বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসেন।

পাবনায় টর্নেডোর আঘাতে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত : আহত অর্ধশত

পাবনার সুজানগরে টর্নেডোর আঘাতে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শক্তিশালী টর্নেডো আঘাত হানায় এই ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টির মধ্যে আকস্মিকভাবে টর্নেডো আঘাত হানে। এক মিনিটেরও কম সময় ধরে চলা এই টর্নেডোর আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপজেলার চিনাখড়া, চর গোন্দিপুর দুপপাড়া ও হাসেমপুর গ্রামের বেশিরভাগ ঘরবাড়ি। স্মরণকালের ভয়াবহ ও শক্তিশালী এই টর্নেডোর আঘাতে বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। ঘর ও গাছ চাপা পড়ে আহত হয় অর্ধশতাধিক মানুষ।
ঘটনার পর থেকে সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে পাবনা-২ আসনের এমপি খন্দকার আজিজুল হক আরজু, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন। তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় এমপির উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল, নগদ ২ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ নগদ অর্থ ও কাপড়চোপড় দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, বারবার তার দোহাই দেবেন না : প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের মধ্যে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। তাকে দোহাই দিয়ে আপনারা বারবার শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারি করার জন্য সময় নিচ্ছেন। কালক্ষেপণ করছেন। এতে আমাদের কষ্ট লাগে।’ আজ মঙ্গলবার নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরীর শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারি করতে রাষ্ট্রপক্ষে আবারো সময় চাওয়া হলে প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন। আজ গেজেট জারি করে তা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু গেজেট জারি না করে আবারো দুই সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করে সরকার। সরকারের এই সময় আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তখন প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, ‘আমরা সব সময় আপনার মুখে হাসি দেখতে পাই। কিন্তু এই মামলাটি শুনানির জন্য আসলে আপনি আদালতে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকেন।’ এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বারবার সময় আবেদন দেওয়াতে আমার মধ্যেও অপরাধবোধ কাজ করে। তিনি বলেন, বিধিমালার গেজেট জারির বিষয়ে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। আইন মন্ত্রণালয় আশা করছে এর জন্য দুই সপ্তাহের সময় প্রয়োজন।’ এরপর প্রধান বিচারপতি আগামী ৮ মের মধ্যে শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারি করে আদালতে দাখিলের জন্য দিন ধার্য করে দেন। তখন আপিল জ্যৈষ্ঠ বিচারক বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব মিয়া বলেন, ‘আপনারা দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু সামনে অবকাশ থাকায় ৮ মে পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে।
এবার অনেক সময় পেয়েছেন। গেজেট জারি করে আদালতে দাখিল করুন। আর কোন অজুহাত দেখাবেন না।’ প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, ‘আমরা আপনার হাসি মুখ দেখতে চাই। এই হাসিটা যেন মিলিয়ে না যায়।’ এর আগে গত ২৮ মার্চ শৃঙ্খলা বিধিমালা গেজেট জারি করে আপিল বিভাগে দাখিল করার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সরকার ঐদিনও গেজেট জারি করে আদালতে দাখিল করতে পারেনি। তখন সরকারের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল আদালত। কিন্তু ঐ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও আজও গেজেট দাখিল করতে পারেনি সরকার। আজ পুনরায় সময় চেয়ে আবেদন দাখিল করে সরকার। এ নিয়ে ১৫ বার সময় চাইল সরকার। সর্বশেষ গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এক আদেশে দুই সচিবকে তলব করে আপিল বিভাগ। ওই তলব আদেশে গত ১২ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হন আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব। তারা রাষ্ট্রপতির একটি প্রজ্ঞাপন আদালতে দাখিল করে বলেন, রাষ্ট্রপতি বলেছেন গেজেট জারির প্রয়োজন নেই।

আজ শেষ হচ্ছে লাঙ্গলবন্দের অষ্টমী স্নানোৎসব

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নারায়ণগঞ্জের বন্দরের লাঙ্গলবন্দে গতকাল সোমবার থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী অষ্টমী স্নানোৎসব। পাপ মোচনের আশায় পুণ্যার্থীরা আদি ব্রহ্মপুত্র নদে স্নানে অংশ নিচ্ছেন। স্নানের সময় ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা , হরিতকি, ডাব, আম পাতা ইত্যাদি পিতৃকুলের উদ্দেশ্যে নদের জলে তর্পণ করছেন তারা। সোমবার স্নানের লগ্ন শুরু হয় বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটে। লগ্ন শুরুর পরপরই স্নানার্থীদের ঢল নামে ব্রহ্মপুত্র নদে। ১৩টি স্নানঘাটে দল বেঁধে, সপরিবারে কেউবা এককভাবে ধর্মীয় রীতি-রেওয়াজ অনুযায়ী স্নানে অংশ নিচ্ছেন তারা। তীর্থকেন্দ্র এবং স্নানঘাটগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভীড়। বিশেষ করে রাজঘাট ও গান্ধীঘাটে ¯œানার্থীদের সমাগম ছিল চোখের পড়ার মতো। দুই বছর আগে রাজঘাটের কাছে ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ার গুজবে হুড়োহুড়িতে ১০ জনের প্রাণহানী ঘটে। ঘটনাটি স্নানার্থীদের স্মরণ থাকলেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো ভয় বা আতঙ্ক নেই বলে জানান তীর্থযাত্রীরা। এবার সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে চলছে স্নানোৎসব। পাশ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল থেকেও প্রচুর দর্শনার্থী লাঙ্গলবন্দ স্নানে অংশ নিয়েছেন বলে স্নান উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিমধ্যেই লাখ লাখ পুণ্যার্থীর আগমন ঘটেছে। তাদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে লাঙ্গলবন্দ। কুমিল্লার দেবীদ্বার থেকে আসা তীর্থযাত্রী গীতারানী (৫৫) জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করলে পাপ মোচন হয়, ব্রহ্মার কৃপা লাভ করা যায়। তাই তিনি প্রতিবছর স্নানোৎসবে অংশ নেন। এবার তিনি একা আসেননি। নদীপথে ট্রলার নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে স্বপরিবারে লাঙ্গলবন্দে এসেছেন। সোমবার শুরু হওয়া এই পুণ্যস্নান শেষ হবে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৩২ মিনিটে।
অষ্টমীস্নানকে কেন্দ্র করে নেয়া হয়েছে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী হাবিব জানান, নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে তীর্থস্থান লাঙ্গলবন্দ। পুলিশ, র‌্যাব ও আনসারের দেড় সহস্রাধিক সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার ও নিরাপত্তা চেকপোস্ট। এছাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে তীর্থস্থানের ৩ কিলোমিটার এলাকা। লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম, সাধু নাগ মহাশয় আশ্রম, ১নং ঢাকেশ্বরী টিন লাইন ও বনগুন মিলন সংঘ, নিপসম, সেবা সংঘ, হিন্দু কল্যাণ পরিষদসহ অর্ধশত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান দর্শনাথীদের খাবার সরবরাহ ও অন্যান্য সেবা প্রদান করছে। বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে দেয়া হচ্ছে পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা। অষ্টমী স্নান উপলক্ষে লাঙ্গলবন্দে দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসেছে লোকজ মেলা। এ দিকে স্নানোৎসব উপলক্ষে লাঙ্গলবন্দে সোমবার আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে লাঙ্গলবন্দ পুণ্যস্নান উদযাপন পরিষদ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। উদযাপন পরিষদের আহবায়ক সরোজ কুমার সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবলী, বাবু পংকজ দেবনাথ, জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া, পুলিশ সুপার মঈনুল হক, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা,বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী হাবিব, বন্দর থানার ওসি আবুল কালাম প্রমুখ।

ধামরাইয়ে স্নানোৎসব ও ৫ দিনব্যাপী মেলা শুরু

আজ মঙ্গলবার থেকে ধামরাইয়ে চৌহাট বংশী নদীতে পাপ মোচনের লক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদারের বৃহৎ স্নানোৎসব ও ৫ দিনব্যাপী মেলা শুরু হয়েছে। স্নানোৎসবের নেতা মরণ চন্দ্র দে জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও মেলা ও স্নানোৎসবে ধামরাই, মিজাপুর, নাগরপুর ও সাটুরিয়া উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সমাগম ঘটবে।

কালবৈশাখী ঝড়ে বন্দরে ব্যাপক ক্ষতি

গতকাল সোমবার রাতে অকস্মাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের কয়েকটি এলাকা। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের। উপড়ে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। ঝড়ে উড়ে গেছে অর্ধশত কাঁচা ঘর। উপড়ে গেছে শতাধিক বড় বড় গাছ। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উত্তর লক্ষণখোলা এলাকার বিল্লাল মিয়ার একটি টিনের ঘর, কলাগাছিয়ার আলআমিনের ফার্নিচার দোকানঘর,
দাসেরগাওয়ের রবিন মিয়ার একটি একচালা ঘর, ফনকুলের আক্কাস মিয়ার ঘরসহ অর্ধশত কাঁচা ঘর পড়ে গেছে। অকস্মাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে তীর্থস্থান লাঙ্গলবন্দে পুণ্যার্থীদের জন্য অস্থায়ীভাবে নির্মিত আশ্রয় শিবিরগুলো। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে তীর্থস্থানে আসা স্নানার্থীদের। ঝড়ে উড়ে গেছে সেখানের লোকজ মেলার শতাধিক স্টল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত ১১টা বন্দরের সর্বত্র বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

তিন মেয়রের সাক্ষাৎকার

সিলেটের মানুষকে বরখাস্ত করা হয়েছে : আরিফ
মো: আফতাব উদ্দিন সিলেট ব্যুরো
দায়িত্ব নেয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে মেয়র পদ থেকে আবারো বহিষ্কার করার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এ শুধু আমাকেই বরখাস্ত করা নয়, এ হচ্ছে সিলেটের মানুষকে বরখাস্ত করা। আমি সিলেটের মানুষের মেয়র ছিলাম, আছিও।’ তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা কোনো মামলার আসামি হলে তাদের বরখাস্ত করা হয় না। কিন্তু স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা মামলায় জামিনে থাকলেও বরখাস্ত করা হয়। একই দেশে দুই আইন কেনো- এমন প্রশ্ন তার। তিনি বলেন, বহিষ্কার করা হলেও আমি মেয়র। জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেয়র। মন্ত্রণালয় আমার দফতর কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু জনগণের ভোট তো কেড়ে নিতে পারবে না। তাই আমি এখন দফতরবিহীন মেয়র। আরিফুল হক চৌধুরীকে মেয়র পদ থেকে বহিষ্কার করা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি এখন ঢাকায় অবস্থান করছি। আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি মুঠোফোনে নয়া দিগন্তকে বলেন, গত রোববার উচ্চ আদালতের নির্দেশে আমি আমার কর্মস্থল সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করতে যাই এবং যথারীতি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর করি। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের ঘণ্টা দু-এক পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একটি ফ্যাক্স আসে। এই ফ্যাক্স পাওয়ার পর দেখি আবারো আমাকে মেয়র পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আরিফুল হক মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো। একই সঙ্গে জনগণের কাছেও আমি বিচার দিলাম। জনগণ ভোটের মাধ্যমে এই অবিচারের জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন আরিফ। বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে যদি এভাবে কথায় কথায় মামলার আসামি করা হয়, বরখাস্ত করা হয়, জনগণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয় তবে সেটা মোটেই মঙ্গলজনক নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের কাজ করার সুযোগ না দিলে তা রাষ্ট্রের জন্য অশনিসঙ্কেত। এ প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম মোহাম্মদ কাফীও মুঠোফোনে ঢাকা থেকে নয়া দিগন্তকে বলেন, যে আইনে আরিফুল হক চৌধুরীকে বরখাস্ত করা হয়েছে, সে আইনের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে একটি রিট করেছি। সেটি এখনো নিষ্পন্ন হয়নি। এ অবস্থায় তাকে কিভাবে আবার বরখাস্ত করা হলো তা বুঝতে পারছি না। আমরা এ ব্যাপারে আবার আদালতের শরণাপন্ন হবো।
এর আগে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে নাম আসার পর ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এক আদেশে সিসিক মেয়র আরিফকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। উল্লেখ্য সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে বোমা হামলার মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে বলে গত রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জানানো হয়। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা এ বিষয়ক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা ৪/২০০৯-এর সম্পূরক অভিযোগপত্র গত ২২ মার্চ আদালতে গৃহীত হয়েছে। সেহেতু সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে স্থানীয় সরকার বিভাগ আইন ২০০৯-এর ১২ উপধারা প্রদত্ত মতাবলে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’
সর্বোচ্চ আদালতের অবমাননা করেছে সরকার : বুলবুল
মুহা: আবদুল আউয়াল রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে গত রোববার সরকার ফের সাময়িক বরখাস্ত করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে এই সাসপেন্ড করা আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়ে কিনা বা কী প্রক্রিয়ায় তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে সে সম্পর্কে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন তিনি। মেয়র বুলবুল বলেন, সরকার আমাকে ফের সাময়িক বরখাস্ত করে চরম অন্যায় ও সর্বোচ্চ আদালতের অবমাননা করেছে। এটি সরকারি ষড়যন্ত্র এবং এই ষড়যন্ত্রের সাথে রাসিকের ঊর্ধ্বতন তিনজন কর্মকর্তা ও ছয়জন কাউন্সিলর জড়িত রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ব্যাপারে আদালতে রিট করাসহ আদালত অবমাননার মামলা করবেন বলেও জানান মেয়র। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বর্তমানে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকেলে নিজ বাসভবনে দৈনিক নয়া দিগন্তের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এসব কথা বলেন। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নয়া দিগন্তের রাজশাহী ব্যুরো রিপোর্টার মুহা: আবদুল আউয়াল। সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো-  নয়া দিগন্ত : আপনাকে মেয়রের পদ থেকে ফের সাসপেন্ড করেছে সরকার, এ ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া কী? মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল : আমাকে মেয়রের পদ থেকে ফের সাময়িক বরখাস্ত করে সরকার চরম অন্যায় করেছে। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে সরকার সর্বোচ্চ আদালতের চরম অবমাননা করেছে। তিনি বলেন, ‘যে কারণ দেখিয়ে আমাকে ফের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়েছে, সেই একই কারণ দেখিয়ে এর আগে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের আদেশে আমি দায়িত্ব ফিরে পেয়েছি। উচ্চ আদালতের ওই আদেশে সাময়িক বরখাস্তের বিধানটি অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই আমাকে আবারো সাময়িক বরখাস্তের আদেশ সরকারের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই আমি মনে করি, আমাকে আবারো সাসপেন্ড করে সরকার সর্বোচ্চ আদালতের চরম অবমাননা করেছে।’ মেয়র বুলবুল আরো বলেন, সরকার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে সাসপেন্ড করেছে। আর সরকারের এই ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমের সাথে রাসিকের তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ছয়জন কাউন্সিলর জড়িত রয়েছেন। তারা সরকারি এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করেছেন। নয়া দিগন্ত : এ পরিস্থিতিতে আপনার পরবর্তী করণীয় বা পরিকল্পনা কী?
মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল : এ পরিস্থিতিতে আমি আদালতে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাশাপাশি আদালত অবমাননার মামলা করা হবে। আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) আদালতে এই মামলা করা হবে। এ ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হবে। তিনি বলেন, এর আগে আমি আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছি। তাই আদালতের শরণাপন্ন হলে আবারো আমি ন্যায়বিচার পাবো বলে আশা করছি। নয়া দিগন্ত : ফের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ সঠিক নয় কেন?
মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল : আমাকে ফের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ সঠিক তো নয়ই, বরং তা সরকারের ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসামূলক। এটি অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ। তিনি বলেন, আমাকে সাময়িক বরখাস্তের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশ অবৈধ বলে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। গত ৫ মার্চ দেয়া আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে মেয়রের দায়িত্বগ্রহণে আর কোনো বাধা নেই। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রাষ্ট্রপরে আবেদন খারিজ করে এই আদেশ দেন।
নয়া দিগন্ত : আদালত রায়ে কী বলেছেন?
মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল : যে কারণ দেখিয়ে এবং যে বিধান বলে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল তা সর্বোচ্চ আদালত অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, আপিল বিভাগের ওই রায়ে সাময়িক বরখাস্তের বিধান- ধারা ১২ এর উপধারা (১) অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আপিল বিভাগের ওই আদেশে বলা হয়, মামলায় অভিযোগপত্র দিলেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা যায় না। যেহেতু এটি ইলেকটেড পোস্ট (নির্বাচিত পদ), তাই মামলায় অভিযোগপত্র দিলেই একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা যায় না। সুতরাং আমাকে সাময়িক বরখাস্তের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশ অবৈধ। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীমের ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র’ পদে দায়িত্ব গ্রহণও বৈধতা হারায়।
নয়া দিগন্ত : আপনাকে ধন্যবাদ।
মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল : আপনাকেও ধন্যবাদ।
জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যই বারবার বহিষ্কার : গউছ
এম এ মজিদ হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জ পৌরসভার সাময়িক বরখাস্ত মেয়র জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ জি কে গউছ সরকারকে তামাশা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন ‘জনগণ একজনকে নির্বাচিত করে আর সরকার সেই নির্বাচিত প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করে। হয় সরকারকে এ ধরনের খেলা বন্ধ করতে হবে নতুবা এই সরকারের অধীনে আর যাতে কোনো নির্বাচন না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, নির্বাচন দিলে ভিন্ন মতের নেতারা নির্বাচিত হতেই পারেন। তাদেরকে সহ্য করার মতা সরকারের থাকতে হবে। সহ্য করতে না পারলে কেন নির্বাচন দেয়া হয়। হবিগঞ্জ পৌরমেয়র হিসেবে চতুর্থ দফা বহিষ্কারের পর নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে জি কে গউছ এসব কথা বলেন। ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে হবিগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন জি কে গউছ। ২০০৭ সালে দীর্ঘমেয়াদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জি কে গউছকে গ্রেফতার করা হয়। হবিগঞ্জ, কুমিল্লা ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কাটে তার সাড়ে ১৯ মাস। ওই সময় জি কে গউছকে সাময়িক বহিষ্কার করে পৌর কাউন্সিলর কল্পনা বালা পালকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে নিজের পদ ফিরে পান জি কে গউছ। পরে আওয়ামী লীগের আমলে ২০১২ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। এর পরই তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়া হতে থাকে। এ ছাড়া এক যুগেরও পুরনো সব মামলায় তাকে আসামি করা হয়। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জে সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলায় ২০১৪ সালে তৃতীয় দফা সম্পূরক চার্জশিটে জি কে গউছকে আসামি করা হয়। ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে জি কে গউছকে মেয়র পদ থেকে বহিষ্কার করে সরকার। ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপি ঘরানার কাউন্সিলর পেয়ারা বেগম। পরে পেয়ারা বেগম আওয়ামী লীগে যোগ দেন। জি কে গউছকে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট কারাগারে থাকতে হয় দুই বছর সাত দিন। কারাগারে থাকা অবস্থায়ই পৌরসভার নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন জি কে গউছ। প্যারোলে মুক্তি পেয়ে শপথ গ্রহণের পর আবারো তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে সরকার। এবার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হন আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিলর দিলীপ দাস। ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েও নিজের পদ ফিরে পেতে তাকে বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়। হাইকোর্ট থেকে জি কে গউছের বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করা হলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সেই আদেশ গ্রহণে কালপেণ শুরু করে। পরে হাইকোর্টে আরেকটি পিটিশনের মাধ্যমে সেই বাধা দূর হয়। অবশেষে গত ২৩ মার্চ মেয়র জি কে গউছ হবিগঞ্জ পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর দিনের বেশির ভাগ অংশ তিনি কাটিয়েছেন পৌর এলাকার আনাচেকানাচে। চষে বেরিয়েছেন এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্ত। জলাবদ্ধতা দূরীকরণ,
ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারকরণ, পৌর এলাকায় লাইটিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে শুরু করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যাকুল পৌরমেয়র আলহাজ জি কে গউছ মাত্র ১১ দিনের মাথায় গত ২ এপ্রিল পেলেন নিজের বহিষ্কারাদেশ। সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সুনামগঞ্জের জনসভায় হামলা হয় ১২ বছর আগে। সেই মামলায় কারান্তরীণ জি কে গউছকে গ্রেফতার দেখানো হয় অনেক আগেই। ওই মামলায় জামিনও পান তিনি। সেই মামলায়ই এবার বহিষ্কার করা হলো জি কে গউছকে। এত সবের পর হাস্যোজ্জ্বল জি কে গউছ বলেন, আমি কোনো কিছুতেই ভড়কে যাই না। মতাসীন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি আমার সাথে রাজনীতিতে না পেরে প্রতিহিংসার পথ বেছে নেবে এটাই স্বাভাবিক। আমি ব্যক্তি ও সরকারের প্রতিহিংসার শিকার। আমাকে ধ্বংস করতে এমন কোনো পন্থা নেই যা সরকার করেনি। দুই মেয়াদে প্রায় চার বছর জেলে রাখা হয়েছে, জেলের ভেতরে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, বিনা চিকিৎসায় রাখা হয়েছে, কারাগারে ভাতের সাথে বালি মিশ্রিত করে দেয়া হয়েছে, কিন্তু আমাকে ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। এভাবে আমাকে ধ্বংস করাও সম্ভব নয়। যারা মনে করে বারবার বহিষ্কার করে আমাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া হবে, আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেয়া হবে তারা আসলে দিবা স্বপ্ন দেখছে। আমি নির্বাচনের মানুষ, জনগণ আমার শক্তি, চারবার নয় এক শ’বার বহিষ্কার করা হলেও আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যাবে না। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলেও জানান জি কে গউছ।

সালাউদ্দিন কাদেরের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুলের জামিন

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় ফাঁসের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামকে এক বছরের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন ও মিজানুর রহমান। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়ের খসড়া ফাঁসের অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর সেগুন বাগিচায় পাইওনিয়ার রোডের চেম্বার থেকে আইনজীবী ফখরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আটক রয়েছেন।

রাকিব হত্যামামলায় ২ আসামির সাজা কমলো

খুলনার বহুল আলোচিত শিশু রাকিব হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্যারেজ মালিক মো: শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টু খানের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো: জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের নিষ্পত্তি করে এই রায় ঘোষণা করেন। দেশের ইতিহাসে বিচারিক আদালতে স্বল্প সময়ে বিচার নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১০ জানুয়ারি হাইকোর্টে শিশু রাকিব হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে গত ২৯ মার্চ রায়ের এ দিন ধার্য করেন উচ্চ আদালত। ১১ কার্যদিবসের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম ও বিলকিস ফাতেমা।
আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী গোলাম মো: চৌধুরী আলাল। ২০১৫ সালের ০৩ আগস্ট বিকেলে খুলনার টুটপাড়ায় শরীফ মোটরস নামে এক মোটরসাইকেলের গ্যারেজে নির্যাতন করে রাকিবকে হত্যা করা হয়। পরের দিন রাকিবের বাবা মো: নুরুল আলম বাদী হয়ে গ্যারেজ মালিক শরীফ, শরীফের সহযোগী মিন্টু খান ও মা বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় খুব অল্প সময়ে বিচারকাজ শেষে ওই বছরের ০৮ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত। রায়ে মো: শরীফ ও মিন্টু খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিউটি বেগমকে খালাস দেন আদালত। এ রায় ঘোষণার দ্বিতীয় দিনে নিম্ন আদালতের রায়ের নথিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাইকোর্টে পৌঁছে। পরে জেল আপিল করেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি।

জাতির নাক কেটে কোনো বন্ধুত্ব চাই না : আ স ম রব

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, জাতির নাক কেটে অস্থিত্ব বিলীন করে দিয়ে ভারতের সাথে কোনো বন্ধুত্ব চাই না। যেখানে স্বার্ভভৌমত্ব জড়িত সেখানে অন্ধকারে রেখে ভারতের সাথে কোনো চুক্তি জনগণ মানবে না। আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ৩য় তলাস্থ হল রুমে জেএসডি’র উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনে রব একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা চুক্তির প্রসঙ্গে এ সংবাদ সম্মেলনে রব আরো বলেন, ভারতের সাথে এতো সর্ম্পক থাকার পরও কেন প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রয়োজন হল, তা জনগণ জানতে চায়। তিনি বলেন, এত বড় স্পর্শকাতর বিষয়ে দলীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিরোধী দলকে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে পাশে রাখতে হবে। এতে সরকারের লাভ হয়, জোর পায়। রব ভারতের সাথে চুক্তির ব্যপারে জাতিকে অবহিত করার পরামর্শ দেন সরকারকে। তিনি বলেন, এব্যাপারে জনগণের মতামত নিতে হবে। এখানে জবাবদিহিতার প্রশ্ন আছে। এখানে জনগণের আত্মমর্যাদা জড়িত। প্রয়োজনে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।
রব বলেন, আমরা এখন ১৯৭০ সালের পর্যায়ে নাই। বাংলাদেশের অবস্থান এখন দুর্বল না। তিনি বলেন, ভারত বন্ধু হলে চুক্তি করতে এত চাপ দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে কেন? ভারত সফরে ২৯টি সমঝোতা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তিস্তা চুক্তি যে হচ্ছে না তা সরকার নিশ্চিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বন্দর , করিডর দিয়েছে অথচ আমাদের জীবন-মরণ সমস্যা তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন করে সরকারের কাছে জানতে চান, কেন তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না? এটা নিয়ে জনগণ উদ্বিগ্ন। উত্তরবঙ্গের মানুষ চিন্তিত। দু-দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ শলাপরামর্শ হলে উভয়ের স্বার্থ দেখার ব্যাপার আছে। বন্ধুত্ব একতরফা হতে পারে না। সংবাদ সম্মেলনে জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশে আরো সময় পেল সরকার

বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে সরকারকে আগামী ৮ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময় আবেদন করলে তা মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ বলেন, এরপর আর কোনো অজুহাত দেখাবেন না।
এর আগে গত ২৮ মার্চ গেজেট প্রকাশে আজকের দিন পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। গত ১৪ মার্চ বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করতে আজকের দিন পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন আদালত। এর আগেও গেজেট প্রকাশে কয়েক দফা সময় নেয় সরকার। গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১১ বারের মতো সময় নিলেও বিচারকদের জন্য শৃঙ্খলাবিধির গেজেট জারি করা হয়নি। নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে ১২ ডিসেম্বর তলবও করেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।

বরখাস্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রাসিক মেয়র বুলবুলের রিট

উচ্চ আদালতের নির্দেশে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে বরখাস্ত হওয়া রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বরখাস্তের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন। আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার পক্ষে আইনজীবী আমিনুল হক হেলাল এই রিট দায়ের করেন। আজ দুপুরে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো: আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। গত ১ এপ্রিল মেয়র বুলবুলকে বরখাস্ত করেছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ২০ দলীয় জোটের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময়ে নাশকতার চার মামলায় পুলিশ বুলবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০১৫ সালের ৭ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
স্থানীয় সরকার বিভাগের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন বুলবুল। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছর ২৮মে বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেই রুলের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের আদেশ অবৈধ বলে রায় দেন। প্রথমবার সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর গত সোমবার উচ্চ আদালতের নির্দেশে আরিফুল নগর ভবনে যান। মেয়রের চেয়ারে বসতে না বসতেই তিনি ফের সাময়িকভাবে বরখাস্ত হন।

মদ্যপ পাইলটকে ৮ মাসের কারাদণ্ড

অতিরিক্ত মদপান করে বিমানের ককপিটে উঠায় এক পাইলটকে আট মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সোমবার কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি আদালত এ আদেশ দেন। খবর বিবিসির। একই সঙ্গে তার বিমান চালানোর ওপর এক বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা কারাবাসের মেয়াদ শেষ হলে কার্যকর হবে। পাইলট মিরোস্লাভ গ্রোনিচ (৩৭) সানউইং নামে একটি বিমান সংস্থায় কর্মরত। আদালতে দেয়া বিবৃতিতে ওই বিমানের সহকারী পাইলট জানান, মদ্যপ অবস্থায় ককপিটে ঢোকার পর পাইলট পরে বিমান থেকে চলে গেছেন।
তখন আরেকজন পাইলট বিমানটিকে মেক্সিকোর কানকুনে নিয়ে যান। বিমানটিতে ১১০ জন যাত্রী ছিলেন। পরে পাইলটের হোটেল রুমে ভদকার একটি খালি বোতল এবং তার শরীরে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে তিন গুণ বেশি অ্যালকোহলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। অতিরিক্ত মদ্যপান করে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার বিষয়টি স্বীকার করেন পাইলট। পরে আদালত তাকে এই সাজা দেন। মিরোস্লাভকে ইংরেজি নতুন বছরের শুরুতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পাইলটকে সাজার বিষয়ে বিমানসংস্থা সানউইং এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

মিসরের স্বৈরশাসক সিসির পক্ষে রয়েছি: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র সফররত মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির সঙ্গে সোমবার সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কঠোর সমালোচনার মুখে থাকা মিসরের এই ক্ষমতাধর নেতাকে ওয়াশিংটনে স্বাগত জানান ট্রাম্প। ওভাল অফিসে বেলা সাড়ে ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টা) দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন ট্রাম্প ও সিসি। বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সবাইকে বলতে চাই, আমরা মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসির পক্ষে রয়েছি। মিসরের কঠিন এ সময়ে চমৎকার কাজ করছেন তিনি।’ খবর এএফপির। প্রায় এক যুগ পর মার্কিন কোনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সিসি।
তার কাছে এ সাক্ষাৎ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছ থেকে কখনোই তিনি আমন্ত্রণ পাননি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর বিশ্বনেতাদের মধ্যে ট্রাম্পকে প্রথম অভিনন্দন জানান সিসি। বৈঠকের পর মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন দুই নেতা। গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প যখন পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন, তখন তাদের দেখা হয়েছিল। তখন ট্রাম্প সিসিকে ‘চমৎকার মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এবার তার স্বৈরশাসনকে ‘চমৎকার’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

রাকিব হত্যা: সাজা কমে ২ আসামির যাবজ্জীবন

মলদ্বার দিয়ে পেটে বাতাস ঢুকিয়ে খুলনার আলোচিত শিশু রাকিব হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের দু'জনকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। এর আগে ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর শিশু রাকিব (১২) হত্যার দায়ে আসামি মো. শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিলরুবা সুলতানা। রায় ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মধ্যে ওই বছরের ১০ নভেম্বর এই মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এরপর চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি রাকিব হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। গত ২৯ মার্চ এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষ হয়। ওই দিনই রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ঠিক করেন হাইকোর্ট। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম।
আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী গোলাম মো. চৌধুরী আলাল। খুলনার বিচারিক আদালত রায়ে মামলায় অভিযুক্ত অপর আসামি শরীফের মা বিউটি বেগমকে খালাস দেন আদালত। হাইকোর্টের রায়ে আজ তা বহাল রইলো। এদিকে আসামিদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু রাকিবের পরিবার। তারা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান। ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট বিকালে খুলনার টুটপাড়ায় শরীফ মোটরস নামে এক মোটরসাইকেলের গ্যারেজে পেটে বাতাস ঢুকিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে শিশু রাকিবকে হত্যা করা হয়। পরদিন রাকিবের বাবা মো. নুরুল আলম বাদী হয়ে শরীফ, শরীফের সহযোগী মিন্টু খান ও মা বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে মামলা হওয়ার ৯৬ দিন পর বিচারিক আদালত আসামি মো. শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টুকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন। আর শরীফের মা বিউটি বেগমকে খালাস দেন।

রাশিয়ায় হামলাকারী এশীয় তরুণ

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পাতালরেলে বিস্ফোরণে ১১ জন নিহতের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি মধ্য এশিয়ান বংশোদ্ভূত। রাশিয়ান বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স ও তাসের বরাতে এ খবর দিয়েছে বিবিসি। পুলিশের ধারণা, এটি আত্মঘাতী হামলা। আর সন্দেহভাজন হামলাকারী ২৩ বছরের তরুণ উগ্রপন্থী ইসলামী মতধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এই হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে করছে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ।
তবে কারা তার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে তা নিয়ে সরকার খুব সতর্কভাবে মন্তব্য করছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে অবশ্য হামলাকারী সম্পর্কে কিছু তথ্য আসতে শুরু করেছে। হামলাকারীর দেহাবশেষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং একজন নারীও এই হামলায় জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের দুটো পাতাল রেলস্টেশনের মাঝামাঝি জায়গায় সোমবার একটি ট্রেনে বিস্ফোরণে আহত হয় অন্তত ৪৫ জন। হামলার শিকার হওয়া দুটো স্টেশনই শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। এই ঘটনায় সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে তিন দিনের শোক পালন করা হচ্ছে। রাশিয়ার এই ঘটনায় শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। তবে এই ঘটনার ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পড়েছে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের সাধারণ মানুষজনের ওপর। কারণ এমন ঘটনা সেখানে খুবই বিরল। বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে ফুল নিবেদন করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

নির্বাচনে রাশিয়া নাক গলিয়েছে : হ্যালি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সন্দেহাতীতভাবেই রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। রোববার এবিসি নিউজ চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সুনিশ্চিতভাবেই আমি মনে করি রাশিয়া নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। এ নিয়ে কোনো প্রশ্নের অবকাশ নেই।’ খবর ইন্ডিপেন্ডেন্টের। মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বারবারই বলে আসছেন, নির্বাচন নিয়ে তিনি বা তার টিমের কোনো সদস্যের রাশিয়া কানেকশন ছিল না। অবশ্য কিছুদিন আগে ট্রাম্প স্বীকার করে নিয়েছেন, রাশিয়ার অপারেটিভরা যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির (ডিএনসি) ইমেইল হ্যাক করার নেপথ্যে থাকতে পারে।
তবে তাতে নির্বাচনের ফলের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে বলে তিনি মনে করেন না। ট্রাম্পের নিয়োগ দেয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে নিকি হ্যালিই প্রথম নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের প্রকাশ্য স্বীকৃতি দিলেন। তিনি অবশ্য বলেছেন, ‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে ট্রাম্প তাকে কোনো ধরনের বাধা দেননি।’ নিকি হ্যালি বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাশিয়া নিশ্চিতভাবেই জড়িত ছিল। এটা নিয়ে প্রশ্নের সুযোগ নেই।’ মার্কিন এই দূত আরও বলেন, ‘কোনো দেশ আমাদের নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকুক এটা আমরা কখনই চাই না।’ নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সার্ভার হ্যাক হয়। তখন থেকেই নির্বাচনে সম্ভাব্য রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ করে আসছিলেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। তখন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা রাশিয়া-ট্রাম্প যোগসাজশের এ আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের ধারণা, নির্বাচনে রাশিয়ার হ্যাকাররা হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে ট্রাম্পকে জয়ী করতে ভূমিকা রেখেছে। গত ডিসেম্বরে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে হিলারির জয়ের সম্ভাবনা হ্রাস করা এবং ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলার জন্য এক অভিযানে নেমেছিল রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের সারাংশ নিয়ে ওই মূল্যায়নটি প্রস্তুত করে সিআইএ। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও কংগ্রেসের ইন্টেলিজেন্স কমিটিসহ কয়েকটি সংস্থা তদন্ত চালাচ্ছে। রাশিয়া শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে; আর ট্রাম্প একে ‘মিথ্যা গল্প’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

ইসলামের নিন্দুক হিরসির অস্ট্রেলিয়া সফর বাতিল

নেদারল্যান্ডসের সাবেক এমপি এবং ইসলামের শীর্ষ সমালোচক আয়ান হিরসি আলি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর বাতিল করেছেন। নিরাপত্তা শঙ্কায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত ডাচ-আমেরিকান এ লেখকের সোমবার অস্ট্রেলিয়ায় একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘হিরো অব হেরেসি’তে (প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে বিশ্বাসী বীর) যোগ দেয়ার কথা ছিল। খবর বিবিসির।
কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কাসহ বেশ কিছু কারণ দেখিয়ে সফরটি বাতিল করেছেন তিনি। এর আগেও কয়েকবার হত্যার হুমকি পেয়েছেন হিরসি। অস্ট্রেলিয়ার ওই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, অকল্যান্ড ও সিডনিতে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংস্থা থিংক ইনকর্পোরেশন এক বিবৃতিতে জানায়, ‘খুব তাড়াতাড়ি অস্ট্রেলিয়ায় তার ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।’ ১৯৯২ সাল থেকে নেদারল্যান্ডসে বসবাস করছেন হিরসি। ২০০৩ সালে তিনি দেশটির এমপি নির্বাচিত হন।

চেচনিয়ায় অভিযানে শতাধিক সমকামী গ্রেফতার

রাশিয়ার চেচনিয়ায় কর্তৃপক্ষ সমকামী পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে শতাধিক লোককে। এ সময় তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় রুশ সংবাদপত্র নোভায়া গেজেটা এবং মানবাধিকার কর্মীরা। গ্রেফতারদের মধ্যে স্থানীয় বিশিষ্ট টিভি ব্যক্তিত্ব এবং ধর্মীয় নেতারাও রয়েছেন। তবে চেচনিয়ার নেতা রমজান কাদিরভের মুখপাত্র আলভী কারিমভ এ খবর অস্বীকার করে বলেছেন, এটা নির্জলা মিথ্যাচার এবং ভুল তথ্য। চেচনিয়ায় কোনো সমকামী নেই। যাদের অস্তিত্বই নেই তাদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের প্রশ্নই উঠতে পারে না। তিনি বলেন, চেচনিয়ায় এ ধরনের লোক থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছুই করার দরকার হতো না।
কারণ তাদের স্বজনরাই তাদের পাকড়াও করে এমন জায়গায় পাঠিয়ে দেবে যেখান থেকে আর ফেরার কোনো পথ নেই। চেচনিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এ খবরকে এপ্রিল ফুল কৌতুক বলে মন্তব্য করেন। তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের রাশিয়া প্রকল্পের পরিচালক একাতেরিনা সকিরিয়ানস্কাইয়া ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানকে বলেন যে, গত দশ দিন ধরে তিনি এ ধরনের খবর পাচ্ছেন। চেচেন রাজধানী গ্রোজনি এবং এর আশপাশে এমনটা ঘটছে বলে তিনি জানান।

ভারতে ইভিএমে শুধু মোদির দলের প্রতীক!

ভারতের ভোটযন্ত্র ইলেকট্রুনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। দেশটির মধ্যপ্রদেশের নির্বাচনের আগে ইভিএম পরীক্ষায় দেখা গেছে, যন্ত্রটি ব্যবহার করলে শুধু ক্ষমতাসীন দলের প্রতীকই বের হয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলকে জিতিয়ে দিতে কোনো যান্ত্রিক কারচুপি করা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। খবর বিবিসির। মধ্যপ্রদেশে আগামী সপ্তাহেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু রাজ্যটিতে ভোট অনুষ্ঠানের আগে ইলেকট্রুনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পরীক্ষা করার সময় কর্মকর্তারা দেখতে পান, যন্ত্রটিতে যে কোনো বোতাম চাপলেই শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্বাচনী প্রতীক আঁকা স্লিপ বের হয়ে আসছে। কর্মকর্তাদের ইভিএম পরীক্ষা করার এ ভিডিওটি গত সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দু’জন কর্মকর্তাকে বদলিও করা হয়েছে। দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য দিল্লি থেকে বেশ কয়েক কর্মকর্তাকে পাঠানো হবে। কমিশনের এক মুখপাত্র জানান, ইভিএম-এ এমন অদ্ভুত ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। এছাড়াও দু’জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের দুটো প্রতিনিধি দলও পাঠানো হচ্ছে মধ্যপ্রদেশে।
৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের শুরু থেকে নির্বাচনের ফল ঘোষণা পর্যন্ত এ দল দুটো মধ্যপ্রদেশেই থাকবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভারতের বিন্দে প্রদেশে ইভিএম পরীক্ষার সময়ই গণ্ডগোল ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ওই প্রদেশের নির্বাচনী কাজে দায়িত্বরত কমিশনের এক কর্মকর্তা ও এক সিনিয়র পুলিশ অফিসারকে অন্য জায়গায় বদলি করে দেয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানায়নি। গত মাসেই ভারতের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল দেশটির নির্বাচনে ব্যবহৃত ইলেকট্রুনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তোলে। প্রায় দুই দশক আগে ভারতের নির্বাচনে প্রথম ইভিএম ব্যবহার করা হলেও এখন কয়েকটি রাজনৈতিক দল অভিযোগ করছে ইভিএম-এ ভোট জালিয়াতির সুযোগ রয়েছে। মধ্যপ্রদেশে ইভিএম-এ এমন গণ্ডগোল ধরা পড়ার পর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল বলেন, তিনি শুরু থেকেই ইলেকট্রুনিক ভোটিং মেশিনের বিরোধী। যখন পুরো বিশ্ব নির্বাচনে ব্যালট পেপার ব্যবহার করছে, তাহলে আমরা কেন এটা ব্যবহার করব? সদ্য সমাপ্ত উত্তরপ্রদেশের ভোটে ইভিএম-এ ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনেন বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী। তারপরে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং দিল্লির কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেনও অভিযোগ করেন যে ইভিএম-এ কারচুপি করা সম্ভব। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন বরাবরই বলে আসছে, ভোটযন্ত্রে কারচুপি করা সম্ভব নয়। আর দেশের সব ভোটে ইভিএম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

ভগবান কৃষ্ণকে ‘ইভটিজার’ বলে বিপাকে আইনজীবী

উত্তরপ্রদেশে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ক্ষমতা নেয়ার পর বখাটেদের শায়েস্তা করতে যে রোমিও স্কোয়াড নামানো হয়েছে তার সমালোচনা করে এক টুইট করেন শীর্ষ আইনজীবী এবং রাজনীতিক প্রশান্ত ভূষণ। ওই টুইটে তিনি লেখেন, রোমিও তো শুধু একজন নারীকে ভালবাসত, কিন্তু (ভগবান) কৃষ্ণ তো লেজেন্ডারি ইভটিজার অর্থাৎ কিংবদন্তির নারী উত্ত্যক্তকারী ছিলেন। বিবিসি জানায়, রোববার তার এই টুইটের সঙ্গে সঙ্গেই কট্টর হিন্দুদের কাছ থেকে সমালোচনা আর গালিগালাজের মুখে পড়েন প্রশান্ত। এরপর সোমবার দিল্লি বিজেপির মুখপাত্র তাজিন্দর পাল বাগ্গা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন যে মি ভূষণ ভগবান কৃষ্ণের অপমান করেছেন এবং হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।
পুলিশ অভিযোগ নিয়েছে, কিন্তু এখনও এফআইআর করেনি। চাপের মুখে প্রশান্ত ভূষণ এখন বলার চেষ্টা করছেন হিন্দু ধর্ম বা কৃষ্ণকে অপমান করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। তিনি শুধু বলার চেষ্টা করেছেন যে, উত্তরপ্রদেশে যে যুক্তিতে রোমিও স্কোয়াড নামানো হয়েছে, সেই বিচারে কৃষ্ণকেও উত্ত্যক্তকারী মনে হতে পারে। টুইটারে তিনি লিখেছেন, তিনি নিজে ধর্মীয় আচার পালন না করলেও তার মা করেন এবং ছেলেবেলা থেকে তিনি ভগবান কৃষ্ণের গল্পগাথা শুনে বড় হয়েছেন। টুইটারে কৃষ্ণের একটি বাঁধানো ছবি পোস্ট করে প্রশান্ত লিখেছেন এই ছবি তাদের বাড়ির দেয়ালে টাঙানো রয়েছে। উত্তরপ্রদেশে বখাটে দমনের যুক্তিতে পুলিশের রোমিও স্কোয়াড নিয়ে তরুণ ও যুবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মেয়েদের স্কুল-কলেজের সামনে, রাস্তার মোড়ে, বাজার-ঘাটে সন্দেহবশত তরুণ যুবকদের ধরে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রেমিকা বা বান্ধবীর সামনেই অনেক তরুণকে কান ধরে ওঠবোস করানোর ঘটনাও ঘটেছে।

ছাদে হত্যা করে স্কুলমাঠে রাখল ছাত্রের লাশ

যশোরের বেনাপোলে পারভেজ (১৪) নামে এক ছাত্রকে স্কুলের ছাদে হত্যা শেষে লাশ মাঠে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে পোর্ট থানার পুলিশ বাহাদুরপুর সোনামুখী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। পারভেজ ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ও পোর্ট থানার  কাগজপুকুর গ্রামের তাইজেল হোসেনের ছেলে। নিহতের মা পারভিন বেগম জানান, পারভেজের বাবা বিদেশে থাকেন। স্কুল শেষে সোমবার বাড়িতে ফিরে সে বাইসাইকেল নিয়ে আবার বেরিয়ে যায়।
এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি জানান, খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে স্কুলমাঠে গিয়ে দেখি ছেলেকে কারা যেন খুন করে ফেলে রেখে গেছে। বাহাদুরপুর সোনামুখী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি জুলফিকার আলী জানান, স্কুলে নৈশপ্রহরী থাকেন। রাতে তিনি কিছু সময়ের জন্য বাড়িতে গিয়েছিলেন। এরই ফাঁকে পারভেজকে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ওসি অপূর্ব হাসান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্কুলের ছাদ থেকে পারভেজকে হত্যার বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ হত্যাকারী শনাক্তে চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

চকরিয়ায় বাস উল্টে নিহত ২

কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে ঘটনাস্থলে দু'জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৬ জন। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চকরিয়া বানিয়ার ছড়া স্টেশনের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ও আহতরা সবাই নির্মাণ শ্রমিক। নিহতরা হলেন- মো. কায়সার (২৮) ও নবী হোসেন (৪৫)। তাদের বাড়ি পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নে। নিহত কায়সার শেখের বিল্লা গোনা মিয়া পাড়া গ্রামের নাসিরউদ্দিনের ছেলে। আর নবী হোসেন উত্তর মেহেরনামা গ্রামের মঞ্জুর আলমের ছেলে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে চকরিয়ার বানিছড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে।
আহতদের চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। বানিছড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৭টায় পেকুয়া থেকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও যাওয়ার পথে চকরিয়া বানিয়ার ছড়া স্টেশনের পাশে নির্মাণ শ্রমিকবাহী একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে দু'জন নিহত হন।

স্বৈরতন্ত্র বাংলাদেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে

বাংলাদেশের শাসক দল আওয়ামী লীগের অবস্থা এখন দাঁড়িয়েছে যা ইচ্ছে তাই করার মতো। কারণ এদের এই যাচ্ছেতাই কাজকর্মের বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধ নেই। সুবিধাবাদের সে াতে গা ছেড়ে দেয়া শিক্ষিত মধ্যবিত্তেরা নিজেদের আখের গোছানোর চিন্তায় নীরব থাকাই শ্রেয় মনে করে চোখের সামনে ঘটতে থাকা অন্যায়, অবিচার, হামলা ইত্যাদির প্রতি চোখ বুজেই থাকে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এসবের বিরুদ্ধে কোনো উপযুক্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ নেই, কারণ তারা অসংগঠিত। অবশ্য অসংগঠিত থাকলে যে কোনো সময়েই কোনো প্রতিরোধ জনগণের দ্বারা হয় না, এমন নয়। কিন্তু সেটা ঘটতে পারে কোনো বিশেষ ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে, যার হিসাব আগে থেকে করা যায় না। ক্ষমতায় থেকে যাচ্ছেতাই করার মতো শাসনব্যবস্থাকেই রাজনৈতিকভাবে বলা হয় স্বৈরতন্ত্র। বাংলাদেশে এখন স্বৈরতন্ত্রই চলছে। এর সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হল, রাজশাহী ও সিলেটের দুই মেয়রকে এবং সেই সঙ্গে হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়রকে বরখাস্ত করা। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সিটি কর্পোরেশন আইন করেছিল। তার ১২-এর উপধারা (১) অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হলে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে।
কিন্তু সিলেট ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দুই মেয়র দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর উচ্চ আদালতের রায়ে ২ এপ্রিল আবার কাজে যোগদান করার পরমুহূর্তেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশে তাদের আবার বরখাস্ত করা হয়েছে (প্রথম আলো, ০৩.০৪.১৭)। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেখা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন নির্বাচনে তারা অদৃষ্টপূর্ব কারচুপি করে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জয়লাভ করছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। বিরোধী পক্ষ কোনো আসনে জয়লাভ করলেও তারা বিজয়ী প্রার্থীদের চেয়ারে বসতে দিচ্ছে না। রাজশাহী, সিলেট, গাজীপুর, হবিগঞ্জসহ প্রায় সর্বত্রই এটা দেখা যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশের যথেচ্ছ ব্যবহার করে সমগ্র প্রশাসন ক্ষেত্রে এখন এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকার একদিকে জাতীয় সংসদকে রাবার স্ট্যাম্প সংস্থা হিসেবে ব্যবহার করছে এবং অন্যদিকে আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে নিজেদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করছে! সরকারের এই শাসননীতি ও আচরণের সব থেকে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে এই যে, এর দ্বারা যে উচ্ছৃঙ্খলতা হয় সেটা দেশজুড়ে, সমাজের সর্বস্তরে উচ্ছৃঙ্খলতার বিস্তার ঘটায়। সরকার যেখানে নিজে কোনো প্রতিবন্ধকতা গ্রাহ্য না করে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপের পরোয়া না করে অপরাধের শাস্তির বিষয়টিকে শিকেয় তুলে যা ইচ্ছে তাই করছে, সেখানে অন্যসব কার্যক্ষেত্রে মানুষ যে আইনের শাসন মেনে চলবে এবং সামাজিক ও আইনের শৃৃংখলার বশবর্তী হয়ে চলবে এ চিন্তা অবাস্তব। বাংলাদেশেও এ ধরনের কোনো অবাস্তব অবস্থা নেই। যেখানে সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে দেশে আইনশৃংখলা রক্ষা করা, জনগণকে আইনশৃংখলা মেনে চলতে উৎসাহিত ও বাধ্য করা, সেখানে সরকারের নিজের এই আচরণ এখন এমন এক সংকটের জন্ম দিয়েছে যা থেকে উদ্ধার পাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। উপরন্তু পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, অপ্রতিহতভাবে এর অবনতিই ঘটতে থাকবে।
১৯৭২ সাল থেকে দেশের জনগণের সম্পদ একের পর এক শাসক দলের লোকদের দ্বারা বেপরোয়াভাবে লুটপাট হতে থাকা এবং এই লুটপাটের প্রয়োজনে খুন-খারাবি চালিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে এখন বাংলাদেশে নৈতিকতার এমন অবক্ষয় হয়েছে যে চুরি, দুর্নীতি, লুটপাট, ভূমিদস্যুতা, খুন-খারাবি যারা করে তাদেরকে ঘৃণা এবং কোনো প্রকার সম্মানের অনুপযুক্ত আর মনে করা হয় না। উপরন্তু এই চোর, দুর্নীতিবাজ ও হত্যাকারীরা সমাজে এখন উচ্চ আসনে বসে থাকে সম্মানিত ও গণ্যমান্য লোক হিসেবে। লোকে তাদের সমীহ করে চলে। এই অসৎ, দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীরা অহরহ সততা, দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ইত্যাদি কথার খই ফোটাতে থাকলেও তার বিশেষ কোনো প্রতিবাদ শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের পক্ষ থেকে তো নয়ই, কোনো পক্ষ থেকেই হয় না। সংবাদ মাধ্যমেও তাদের কথাই গুরুত্বসহকারে প্রচার করা হয়। যেখানে সরকারই এ ধরনের লোকদের পৃষ্ঠপোষক, যেখানে সরকারি লোকরা নিজেরাই নানা অপরাধের নায়ক, সেখানে এর অন্যথা হবে এমন প্রত্যাশা সম্পূর্ণ অবাস্তব। এক হিসেবে বলা চলে, ১৯৭২ সাল থেকে শাসক শ্রেণীর লোকেরা নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজ করে এবং এর সঙ্গে জড়িত থেকে যে ‘ঐতিহ্য’ সৃষ্টি করেছে তার ফলে বাংলাদেশ এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে এক নৈরাজ্যের দেশ। দেশের শাসক শ্রেণীর সংস্কৃতি সাধারণভাবে যেমন সমাজের সংস্কৃতিতে আধিপত্য বিস্তার করে, তেমনি শাসক শ্রেণীর আচরণও সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানুষের আচরণের ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। শুধু তাই নয়, বলা চলে আধিপত্য বিস্তার করে থাকে। এটাই যে এখন সমাজের বাস্তব অবস্থা এর প্রমাণের জন্য বেশি কাঠখড় পোড়ানোর প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায় চোখ রাখলেই এর ভূরিভূরি প্রমাণ পাওয়া যায়।
কেউ যদি সংবাদপত্রে বিভিন্ন ধরনের ক্রাইমের রিপোর্ট লাল কালি দিয়ে দাগ দেন, তাহলে দেখবেন পাতার পর পাতা একেবারে লাল হয়ে আছে! গত কয়েক বছর ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের লোকদের নিজেদের দুর্নীতি এবং সরকারের যা ইচ্ছে তাই কাজকর্মের রিপোর্টের দিকে তাকালে দেখা যাবে, দেশে সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ-মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে, তাদের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে, তারা যেখানেই সভা-সমাবেশ-মিছিল করে সরকারবিরোধী কোনো কর্মসূচি পালন করছে, সেখানেই তাদের ওপর পুলিশ ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এর ফলে স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের স্বাধীনতা বলতে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। সরকারের যা ইচ্ছে তাই করে যাওয়ার মতো স্বাধীন শক্তি জনগণের স্বাধীনতার ওপর খক্ষাঘাত করে তার অস্তিত্ব বিলোপ করেছে। এমনকি জনগণের যে ভোটের অধিকারের কথা তারা বলে, সেটা পর্যন্ত তারা হরণ করেছে জালিয়াতি ও পুলিশি নির্যাতনের মাধ্যমে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জাতীয় সংসদে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অর্থাৎ জনগণের ভোট ছাড়া নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতাসীন সরকারকে আবার ক্ষমতায় বসানোর জন্য যে ব্যবস্থা করেছিলেন, তার চেয়ে গণতন্ত্রবিধ্বংসী ব্যাপার আর কী হতে পারে? এভাবে গণতন্ত্র ধ্বংস করে যে নির্বাচনের মহড়া দেয়া হয়েছিল, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশকে সর্বতোভাবে ব্যবহার করে, তার থেকেই প্রমাণিত হয় যে বাংলাদেশে নির্বাচনের কোনো কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা আর নেই।
কাজেই বাংলাদেশে চুরি-দুর্নীতি আজ শুধু অর্থসম্পদ লুটপাটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, সরকার গঠন পর্যন্ত এখন এই একই প্রক্রিয়ায় হচ্ছে। সর্বশেষে বলা দরকার, বাংলাদেশে চুরি, দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাস ১৯৭২ সাল থেকে অপ্রতিহতভাবে চলে আসার পর অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, এ নিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ, মারামারি, খুন-খারাবি সরকার শুধু বিরোধী দলসমূহের লোকদের সঙ্গেই করছে না, তারা এখন নিজেদের মধ্যেও এ কাজ করছে। কাজেই নির্বাচন ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের লোকরা তাদের দলীয় শৃংখলা ও নির্দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে, পরস্পরের সঙ্গে দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ, খুন-খারাবিতে লিপ্ত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং তাদের অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের পারস্পরিক হত্যার সংবাদ এখন প্রতিদিনের সংবাদপত্রের পাতায় দেখা যায়। এটা শুধু শাসক দল আওয়ামী লীগের জন্যই বিপজ্জনক নয়, সারা দেশের জন্যও বিপজ্জনক। কারণ এর মাধ্যমে বোঝা যায় দেশে সরকারের শাসন, সে শাসন যত প্রতিক্রিয়াশীলই হোক, বাংলাদেশে এখন কার্যত বিলুপ্ত হওয়ার পথে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ইত্যাদির কথা বলে যারা প্রতিদিন নিজেদের মুখে ফেনা তুলছে, দেশকে তারা আজ যে পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়েছে তার চূড়ান্ত পরিণাম থেকে দীর্ঘদিন তারা রক্ষা পাবে এটা মনে করার কারণ নেই। ইতিহাসের কিছু নিয়মকানুন আছে, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয়, এমনটি ভাবা ঠিক নয়।
০৩.০৪.২০১৭
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আদৌ হবে কি?

সম্প্রতি মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ডাকসু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় না। ছাত্র রাজনীতি অনেক আগে থেকেই এর ঔজ্জ্বল্য হারিয়েছে। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকায় বিভিন্ন দলীয় ছাত্রসংগঠন এখন ক্যাম্পাস দাবড়ে বেড়াচ্ছে। প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুযায়ী সরকারদলীয় ছাত্রদেরই এখন প্রতাপশালী রাজত্ব। এসব দলীয় ছাত্র প্রকৃতপক্ষে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করে না। ছাত্রকল্যাণমূলক কোনো কর্মসূচি থাকে না এসব দলীয় ছাত্রের রাজনীতিতে। বরঞ্চ ছাত্রনেতাদের খুশি রেখে হলে সিট পেতে হয়। ক্লাস পরীক্ষার ক্ষতি করে বলপূর্বক মিছিলে যেতে বাধ্য করা হয় ছাত্রদের। চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসের কলঙ্কতিলক এদের কপালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দলীয় উপাচার্য ও প্রশাসনের কাছ থেকে এরা প্রশ্রয় পেয়ে আরও প্রকাণ্ড হয়ে ওঠে। আমাদের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা এক জোড়া শব্দ আবিষ্কার করেছেন। তা হচ্ছে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’। অনেক বেফাঁস কথাই তারা বলেন।
কোনো বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তারা তা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, এসব রাজনৈতিক বক্তব্য, তাই অত সিরিয়াস হওয়ার দরকার নেই। অর্থাৎ ঘোষণা দিয়েই তারা অসত্য বলেন; কিন্তু কেন বলেন আমরা বুঝতে পারি না। একসময় এ দেশে শিক্ষার হার কম ছিল। মানুষের মধ্যে দারিদ্র্যও ছিল বেশি। চিন্তায়-আচরণে পিছিয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা ছিল উল্লেখ করার মতো। রাজনৈতিক সচেতনতাও সবার ছিল না। তখন এদের ওপর আছর করতে চাইতেন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা। সে কারণে সুযোগমতো ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ দিতেন। প্রতারিত মানুষের মন বিগলিত হতো। এখন সময় পাল্টেছে। ডিজিটাল যুগের মানুষ অনেক কিছুই স্বচ্ছ চোখে দেখতে পায়। পথের পাশে চায়ের দোকানে দাঁড়ালে সাধারণ অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত রিকশাওয়ালাও চলমান রাজনীতির চমৎকার বিশ্লেষণ করেন। কাজেই তাদের সামনে রাজনৈতিক বক্তৃতা দেয়ার পুরনো অভ্যাস ছাড়া উচিত। মানুষ এসব এখন নিন্দার চোখে দেখে। অনেকে বলেন, দলীয় কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা রাখতে এসব আবোল-তাবোল বলতে হয়, কিন্তু বোঝেন না এরাও এখন ডিজিটাল যুগের মানুষ। ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় বসলে চলমান ছাত্র রাজনীতির কথা এসে যায়। ছাত্র রাজনীতি তার উজ্জ্বল অতীত কবর দিয়ে অন্ধকার বলয়ে নিজেকে ছুড়ে দিয়েছে। সব দলের শাসন যুগেই তাদের ছাত্রসংগঠনের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ ছাত্র রাজনীতি বন্ধের কথা তুলত। আর তখনই রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে অভ্যস্ত নেতারা রে রে করে তেড়ে আসতেন। বলতেন, এ বড় অন্যায় দাবি। ছাত্ররা রাজনীতি না করলে দেশ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাণ্ডারি পাবে কোথায়!
আমাদের মনে হয় এ কথাগুলোও রাজনৈতিক বক্তব্য। বিজ্ঞ রাজনীতিকরা ভালো করেই জানেন ছাত্র রাজনীতি বন্ধের কথা কেউ বলছে না- বলছে বর্তমান ধারার ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে। যে ছাত্রনেতারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করে না, তাদের দাপট বন্ধের কথা বলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি যাদের দায়-দায়িত্ব থাকে না, ছাত্রকল্যাণমূলক কোনো কাজে যাদের দেখা যায় না, যারা শুধু আসুরিক দাপটে চলে, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নির্দেশ দিতে পছন্দ করে, সন্ত্রাস ও অপকীর্তির সঙ্গে অনেকেই যুক্ত থাকে- এদের হাত থেকে ক্যাম্পাসকে মুক্ত রাখার কথা বলা হয়। এরা যে সবার প্রতিনিধিত্ব করে না, তা তাদের দলীয় স্লোগানেই স্পষ্ট বোঝা যায়। এদের নিয়ে বড় আশা করার সুযোগ কোথায়! ভবিষ্যৎ রাজনীতিক হওয়ার মতো কোনো প্রশিক্ষণ ও চর্চায় এরা থাকে না। বাস্তবতার কারণেই বলতে হয়, এ ধারার রাজনীতি চর্চাকারীরা ভবিষ্যৎ রাজনীতির কাণ্ডারি হলে বরঞ্চ মহাবিপদ। আমরা অতীতেও দেখেছি এখনও দেখছি, উজ্জ্বল মেধাবী ছাত্রনেতা যারা এখনও রাজনীতির হাল ধরে আছেন, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। সাধারণ ছাত্রদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন দলীয় লেজুড় ছিলেন না। যে কারণে এ ছাত্রনেতারা ভাষা আন্দোলনে রক্ত দিয়েছেন, শিক্ষা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে পেরেছেন। স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সামনে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকে বেগবান করেছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রনেতৃত্ব না দাঁড়ানোয় এখনকার দলীয় তকমাধারী ছাত্রনেতারা শুধু গুরুদের লাঠিয়ালই হচ্ছে। ছাত্র স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবির আন্দোলনে নিজেদের সংশ্লিষ্ট না রেখে সরকারি দলের ছাত্ররা সরকার ও প্রশাসনকে রক্ষার জন্য ছাত্রদের প্রতিপক্ষ হয়ে আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখে। সুতরাং ক্যাম্পাসে সুস্থতা ফিরিয়ে আনার জন্য নির্বাচিত ছাত্র সংসদ ছাড়া বিকল্প নেই।
এসব বাস্তবতা সামনে রেখে বহুবার দাবি তোলা হয়েছে; কিন্তু কোনো সরকারই ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আগ্রহ দেখায়নি। সব নেতাই জানেন সরকারি দলের ছাত্রনেতা-কর্মীদের যে ইমেজ তাতে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসাটা কঠিন হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়ে জিতে আসার সম্ভাবনা খুব কম। সুতরাং গণতন্ত্র গোল্লায় যাক- বিজয় নিশ্চিত না হলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নয়। কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয় তো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, এখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সরকারের মতামত লাগবে কেন? উপাচার্য আর তার প্রশাসনই তো যথেষ্ট। সাধারণ অর্থে হয়তো কথাটি ঠিক; কিন্তু এ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা প্রশাসন কি স্বাধীন? এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপাচার্য হওয়ার বড় যোগ্যতা দলীয় রাজনীতির পরীক্ষিত শিক্ষক নেতা হওয়া। ফলে তেমন উপাচার্যদের পক্ষে সবুজ সংকেত ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব নয়। আমার ধারণা, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ছাত্রদের মধ্যে এসে নিজের বিবেক থেকেই ডাকসু নির্বাচনের কথা বলেছেন। আমি জানি না সরকারের চাওয়াটাকে হিসেবে নিয়ে তিনি কথাটি বলেছিলেন কিনা। তবে একজন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর যখন কোনো কথা বলেন, তা নির্দেশের মতোই মনে হওয়া উচিত। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কর্তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে ক্ষীণকণ্ঠে এক-আধটু শব্দ শুনেছিলাম মাত্র। তারপর সব থিতিয়ে গেছে। অর্থাৎ চাওয়াটি আসতে হবে সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে। আমার মনে হয় না এ শক্তিমানরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন করে গণতান্ত্রিক আবহাওয়া ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করবেন। কারণ গণতন্ত্র নয়, দলীয় অবস্থান শক্ত রাখাটাই তাদের কাম্য। এ পথ যে কত বন্ধুর আমি ২০১৩ সালের অভিজ্ঞতা দিয়ে বলতে পারি। তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। তিনি খুব শান্তিতে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয় সমাজের নানা স্খলনের একটি হচ্ছে এর বৈশ্বিক রূপ নষ্ট হয়ে যাওয়া। রাজনীতিকরণ সম্পন্ন হওয়ায় স্বার্থপর ও কূপমণ্ডূক হয়ে পড়েছে বেশি। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন এসে এখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন, অনেকেরই তা ভালো লাগেনি। তাছাড়া এতে রাজনীতি করা শিক্ষক নেতারা গুরুত্বহীন হয়ে পড়বেন তা তো হতে পারে না। এসব ঘোলাটে অবস্থার মধ্যেও তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে হাত দিয়েছিলেন। একদিন উপাচার্য মহোদয় আমার সঙ্গে পরামর্শ করলেন। ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ার ট্রেন্ডটা পাল্টাতে চান। চান জাকসু নির্বাচন করার ব্যবস্থা নিতে। যেহেতু জাকসু নির্বাচন আয়োজন করার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, তাই তিনি তো উদ্যোগ নিতেই পারেন। তিনি অনুরোধ করলেন আমি যাতে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। যুক্তি একটাই- আমি যেহেতু শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই, তাই সবার কাছে আমার একটি গ্রহণযোগ্যতা থাকবে। এ দায়িত্ব আমি গ্রহণ করলাম। আসলে ইচ্ছে ছিল নির্বাচন না হওয়ার এ বদ্ধ অর্গলটা ভেঙে ফেলার। আমরা সিডিউল ঘোষণা করলাম। মনোনয়নপত্র জমা হল, বাছাইও শেষ হল। চ্যালেঞ্জ কম ছিল না। ছাত্রদল ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারছে না। ছাত্রলীগেরও নানা রকম ফেঁকড়া আছে। চাপ রয়েছে দলীয় শিক্ষকদেরও। বৈঠক করে একটি সুরাহার পথে নিয়ে এসেছিলাম। বাম সংগঠনগুলো, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা এবং সাংবাদিক ছাত্ররা দীর্ঘ অনভ্যাসের কারণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে অহেতুক অস্বস্তি প্রকাশ করতে থাকে। ওদের আস্থায় ফিরিয়ে আনতেও কিছু মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। আমরা চেয়েছিলাম কোনো জায়গা থেকে তাপ-চাপ আসার আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করে ফেলতে।
আমাদের বিশ্বাস ছিল জাকসু নির্বাচন করে ফেলতে পারলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষগুলোর পক্ষেও নির্বাচন করা সহজ হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত আমাদের সব আশা ও শ্রম বিফলে গেল। জানলাম ঊর্ধ্বতন মহল অখুশি হয়েছে। তাদের সিগন্যাল ছাড়া জাকসু নির্বাচনের আয়োজন কেন! শেষ পর্যন্ত কূলে ভেড়ার আগে আমাদের নির্বাচনী তরী ডুবে গেল। এ শিক্ষার পর বুঝলাম, ক্ষমতাধর নীতিনির্ধারকরা না চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে পারবে না। সুতরাং আমরা এখনও নীতিনির্ধারণ করতে পারলাম না বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোতে ছাত্র সংসদ করে দিয়ে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করব, নাকি দলীয় রাজনীতির লাঠিয়ালদের হাতে তুলে দেব ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। আমাদের দেশের ক্ষমতাপ্রিয় রাজনৈতিক দলের পরিচালকরা চান যার যার মতো করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে। দেখে মনে হয় ক্ষমতায় যাওয়া বা টিকে থাকার একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বিশ্ববিদ্যালয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা হোক বা না হোক, সুস্থ রাজনীতি চর্চার পরিবেশ তৈরি হোক বা না হোক, দলীয় অঙ্ক না মেলা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হতে পারবে না! এ বাস্তবতায় সবুজ সংকেত থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আগ্রহ বাস্তবায়নের দিকে যাবে, নয়তো সব ধীরে ধীরে থিতিয়ে পড়বে। কিন্তু রাজনীতি চর্চা না করা আমাদের মতো বোকাসোকা মানুষরা বুঝতে পারি না ক্যাম্পাসকে অন্ধকারে ঠেলে ফেলার দায় থেকে ইতিহাস তাদের রেহাই দেবে কিনা। অথবা দীর্ঘদিনের বন্ধ দরজা খুলে দেয়ার কৃতিত্ব আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ে দলের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে। আমরা মনে করি, বর্তমানে রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের যে শক্ত অবস্থান, এ সুযোগটি শাসক দল নিতে পারে অনায়াসে।
এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahnaway7b@gmail.com