Tuesday, January 28, 2014

এ কেমন গণতন্ত্র? by বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম

৫ই জানুয়ারি গণতন্ত্রের জানাজা হয়েছে। সারা পৃথিবী অমন নির্বাচন কখনও দেখেনি। ভোটার নেই, প্রার্থী নেই, অর্ধেকের বেশি আসনে এমনিই জয়ী- এমন ন্যক্কারজনক ঘটনাকে বর্তমান শাসক দল যেভাবে হেলাফেলা করছে তাতে মনে হয় সরকার যেন সমুদ্র জয়ের মতো বিশ্ব জয় করে  ফেলেছে।
এ দেশের মানুষ কখনও অন্যায় মাথা পেতে নেয় না। ঘোর কেটে গেলে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর অবকাশ পেলে সরকারের এসব ভানুমতির খেল হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। কেউ যদি তার ব্যর্থতা বুঝতে না চায় তাহলে কার কি করার থাকে? ৩০০ আসনের ১৫৩টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, বাকিগুলোতেও নিজেরা নিজেরাই ভাগাভাগি। সর্বদলীয় ভাগাভাগির নির্বাচন, ভাগাভাগির সংসদ, ভাগাভাগির মন্ত্রিসভা এবং বিরোধী দল। এমন ব্যর্থ সংসদ আর হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলতে পারতেন তার সংসদে বিরোধী দল নেই। কিন্তু না। জাতীয় পার্টির কিছু সরকারে, কিছু বিরোধী দলে। বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ। যে লাউ, সে-ই কদু। আগে ছিলেন সংসদ নেতা বেগম খালেদা জিয়া, বিরোধী নেতা শেখ হাসিনা। তারপর সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, বিরোধী দলে বেগম খালেদা জিয়া। সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। এবার সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ। গতবার শেষের দিকে শিরিন শারমিন চৌধুরী স্পিকার ছিলেন। ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছাড়া সাধারণত স্পিকার হন না। এবার মহিলা সদস্য না হওয়ায় শিরিন শারমিন চৌধুরীর স্পিকার হওয়ায় অসুবিধা আছে। তবে আওয়ামী লীগ নেত্রী সব করতে পারেন। শিরিন শারমিনের দক্ষতা নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন নেই। আমার প্রশ্ন, সমান নারী-পুরুষের দেশে পুরুষের স্থান কোথায়? এসবের পরও কিন্তু সাধারণ নারীরা বড় বেশি বঞ্চিত। তা ছাড়া পরোক্ষ নির্বাচিত স্পিকার পৃথিবীর কোথাও তেমন মর্যাদা পায় না। স্পিকারের পদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, অভিভাবকের পদ। তাই তার বয়স, গ্রহণযোগ্যতা, মেধা ও মননের দিকে অবশ্যই দৃষ্টি রাখা দরকার।
স্বৈরাচার পতনের পর একটা গণতান্ত্রিক রূপ নেয়ায় দেশবাসী বেশ ভালই ছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ঘাড়ে সরাসরি যতক্ষণ জাতীয় পার্টি ও জামায়াত না ছিল ততক্ষণ মোটামুটি একটা গণতান্ত্রিক চরিত্র ছিল। কিন্তু এখন আর সেসবের কোন বালাই নেই। যুদ্ধাপরাধী বিএনপির গলার মালা, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বরমালা। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কপাল! নির্বাচনের আগে বারবার বলেছেন এমন নির্বাচনে গেলে দেশবাসী থুতু দেবে। মনোনয়নপত্র জমা দিয়েই প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। কোন আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আবার কোন আসনে জামানত হারিয়েছেন। দুনিয়ায় এমনও হয় যে, একটায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী, অন্যটায় জামানত হারায়? এটাও কি মেনে নিতে হবে? একজন নারীর পুরুষ হওয়া এমন অবাস্তবতা মেনে নিলেও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বৃহত্তর রংপুরে জামানত হারিয়েছেন- এটা মেনে নেয়া খুব একটা সহজ নয়। এরশাদের আগে এ অঞ্চলে কোন স্বৈরশাসক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনীতি করতে পারেননি। এরশাদ ভালভাবেই করেছেন। তিনবার একাধিক আসনে জয়ী হয়েছেন যা আর কেউ হননি। সেই ভদ্রলোক যে একটি আসনে এবার জামানত খোয়ালেন, একটু লজ্জাও পেলেন না, নাকি সব লজ্জা চুলায় গেছে? তিনি তো নির্বাচন করতে চাননি, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চেয়েছেন, তাহলে এ প্রতারণা কেন? শপথ কেন? দূত হওয়ায় গর্বের কি? তার স্ত্রী গৃহপালিত বিরোধী দলের নেতা, তিনি গৃহপালিত দূত। বর্তমানে তার যে ভাবমূর্তি তাতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে দেশের ভাবমূর্তি মন্দ ছাড়া ভাল কিছু করতে পারবেন বলে মনে হয় না। বুঝতে পারছি না আগামী দিনে কপালে কি আছে! আগে ছিল মহাজোট, এখন ভোটহীন সরকার। এটা জোট না আওয়ামী লীগ কিছু বোঝা যাচ্ছে না। তবে নির্বাচনের আগে সংবিধানের অজুহাত দিয়েছেন, এখন বলছেন ৫ বছরের জন্যই তারা নির্বাচিত। ভাল কথা, ৫ কেন, ২৫ বছর থাকলেই বা দোষ কি? ২০৪১ সাল পর্যন্ত তো নানা কথা বলছেন। তবে সমস্যা হলো মানুষ ভাবে এক, আল্লাহতায়ালা করেন আরেক। আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর। যখন মারে কেউ আর সোজা হতে পারে না। সংবিধান থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে যত সব অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল তার শেষ পরিণতি ৫ তারিখের নির্বাচন। সেই নির্বাচনে যে সহিংসতা ঘটেছে বাংলাদেশে আর কখনও তেমন হয়নি। হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের হাজার বছরের সহাবস্থান। সেটাকে ধ্বংস করার একটা চেষ্টা এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। হাজার বছর আমরা একত্র বাস করেছি। আর্য-অনার্য-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান একসঙ্গে বাস করতে আমাদের কোন অসুবিধা হয়নি। মুসলমান বাদশাহর হিন্দু সেনাপতি, মন্ত্রী। হিন্দু রাজার মুসলমান সেনাপতি মন্ত্রী কোন অসুবিধা হয়নি। ভাই ভাই হিসেবে আমরা পাশাপাশি বাস করেছি। ’৪৭-এ ইংরেজ ভারত ত্যাগের সময় আমাদের অসামপ্রদায়িক সমাজ ভেঙে সামপ্রদায়িকতার বীজ বুনে যায়। যাতে আমরা মাঝেমধ্যেই আক্রান্ত হই। কখনও স্তিমিত আবার কখনও আগ্নেয়গিরির মতো সামপ্রদায়িক লাভা উদগীরণ শুরু হয়।
অতি সমপ্রতি নির্বাচন নিয়ে সে রকম দাঙ্গা-হাঙ্গামার বহিঃপ্রকাশ দিনাজপুরের কর্নাই, ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়া, যশোরের অভয়নগর এলাকায়। দাঙ্গা-হাঙ্গামার কথা পত্রপত্রিকায় ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হয়। তাই গত ২২শে জানুয়ারি দিনাজপুরের কর্নাই এবং ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়া, গোপালপুরের দেওনিয়া বাজার গিয়েছিলাম। দিনাজপুরের কর্নাইয়ে এবং ঠাকুরগাঁওয়ের দেওনিয়া বাজারের ঘটনা প্রায় একই। দিনাজপুর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের পথে হাজী দানেশ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পাড় হয়ে পশ্চিমে কয়েক কিলোমিটার গেলেই কর্নাই প্রাথমিক বিদ্যালয়- সেখানেই ভোটকেন্দ্র। কর্নাই ভোটকেন্দ্রের পাশে ৪০-৫০ গজও হবে না কয়েকটি দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। দোকানের পিছে খুবই দরিদ্র কয়েক ঘর সাহা শুঁড়ি সমপ্রদায়ের বাস। সেখানে একটি মাটির ঘরের চাল পুড়েছে, ঘরের একমাত্র দরজা-জানালা অক্ষত। ৪০-৪৫ ফুট লম্বা মাটির ঘর মাঝামাঝি দেয়াল দিয়ে ৩-৪টি রুম করা হয়েছে। লম্বা ১০-১২ ফুট, পাশ ৮ ফুট। চারদিকে দেয়াল ঠিক আছে শুধু উপরের চাল পুড়েছে। কি করে যে দরজা-জানালা চারপাশের সব কিছু ঠিকঠাক রেখে ওভাবে পুড়লো বারবার দেখেও বুঝতে পারলাম না। পোড়া ঘরে ঢুকতেই ঘরের মালিক সন্তোষ চন্দ্র সাহা বললো, মালিরা চাপিরা এই কাজ করেছে। প্রথম বুঝতে পারিনি মালি, চাপি কি। পরে বুঝলাম মালদার থেকে যারা এসেছে তারা মালি, আর চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে যারা এসেছে তারা চাপি। আমাদের কাছে কিছু শীতবস্ত্র ছিল যা ডা. জাহিদ এবং প্রিয় নুরুল ফজল বুলবুল এক্সিম ব্যাংকের পক্ষ থেকে দিয়েছিল। কষ্ট হলেও প্রায় ১৫ হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। ছিন্নমূল মানুষের কাড়াকাড়ির জন্য সেগুলো ভালভাবে দিতে পারিনি। কিন্তু যা পেরেছি তাতেই আনন্দে মনটা ভরে গেছে। সেখান থেকে গিয়েছিলাম কাঞ্চন নদীর পাড়ে মহাদেবপুর। যেখানে মালি আর চাপিরা থাকে। কর্নাইতে হিন্দু, মহাদেবপুরে মুসলমানের বাস। যাওয়ার সময় কেউ কেউ বলছিল সেখানে যাবেন না। আমি যখন যাই তখন আসরের সময় ছিল। মহাদেবপুরে ৩টা মসজিদ- সাহাপাড়া, বকরীপাড়া আর কাঞ্চন নদীর ধার জামে মসজিদ। মসজিদ ভাঙচুর করা হয়েছে, ইটপাটকেল পড়ে আছে। ঘটনার ১৮ দিন পরও মহাদেবপুরের অনেক বাড়ির দরজা-জানালা, চুলা ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙা পড়ে থাকতে দেখেছি। নামাজ পড়েছি মসজিদের সামনে বারান্দায় ঝাড়ু দিয়ে। ইটপাটকেল তখনও ছড়ানো-ছিটানো ছিল। ১৮ দিন আজান হয়নি। শতকরা ৯০ জন মুসলমানের দেশে মহাদেবপুর গ্রামে একটি পুরুষও নেই, এমনকি নামাজ পড়ার ইমাম, আজান দেয়ার মুয়াজ্জিন নেই। ৪০-৪৫ বছরের শহর বানু, স্বামী বেলাল হোসেন, ইসমত আরাসহ ১০-১২ জন বারবার পায়ে পড়তে চেষ্টা করছিল। ছোট-বড় যেই হোক কেউ পায়ে পড়তে নিলে এখন আর ভাল লাগে না, বুক কেঁপে ওঠে। অনেক বলে কয়ে অনুনয় বিনয় করে তাদের থামানো হয়েছিল। গ্রামে একটা পুরুষ নেই। খুব অবাক হয়েছি, যৌথবাহিনীর সঙ্গে গিয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িঘর ভেঙেছে, ছোটখাটো লুটতরাজ করেছে সেসবের বিচারের কথা না বলে শুধু কান্নাকাটি করেছে ‘শান্তি চাই আর শান্তি চাই, স্বামী-সন্তান নিয়ে নিরাপদে থাকতে চাই’। মহাদেবপুর কাঞ্চন নদীর পাড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় আলুর চাষ। পুরুষ নেই, কেউ আলু তুলতে পারছে না। আর ক’দিন গেলেই পচে যাবে। দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও ডিসি, এসপিদের চিঠি দিয়েছি শান্তিপ্রিয় মানুষদের যেন হয়রানি না করা হয়। আর কিছু না হোক কয়েক শ’ হেক্টর জমির আলু তুলে যেন বাজারে সরবরাহ করা হয়। আর যদি নেয়াহেতই তা না পারেন তাহলে নিজেরাই গিয়ে মহাদেবপুরবাসীর ক্ষেতের আলু তুলে নেন। জানি না আমার কথা শুনবেন কিনা। শোনা না শোনা তাদের ব্যাপার। আমার কাজ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া।
কর্নাই ও মহাদেবপুরের ঘটনায় আমি কোন সামপ্রদায়িকতা দেখিনি। ঘটনাটি সম্পূর্ণই রাজনৈতিক। আরও অবাক হয়েছি, ভোটকেন্দ্রের ৪০-৫০ গজের মধ্যে বেলা ১টায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত থাকতে আগুন দেয়া হলো কি করে? আরও মজার ব্যাপার, সেনাবাহিনীর ভ্রাম্যমাণ টিম কর্নাইয়ের এ ঘটনার সময় শামীম, পিতা লুৎফর রহমান, আরেকজন কামরুল ওরফে কামু, পিতা বাটু মিয়াকে হাতেনাতে ধরে দু’জনকে থানায় সোপর্দ করেছিল। যাদের গভীর রাতে দিনাজপুরের বর্তমান হুইপ আমাদের নেতা রহিম ভাইয়ের ছেলে ইকবালুর রহিম ছাড়িয়ে এনেছে। তাই এ ব্যাপারে আর কি বলি? শত বছর যারা পাশাপাশি বাস করছে, কর্নাইয়ের যে ক’টি দোকানপাট পুড়েছে, একটা হিন্দুর দোকান পাশের দু’টি মুসলমানের। ২২-২৩টা দোকানের মধ্যে মুসলমানদের ১৫-১৬টা। কোন দিন ওই এলাকায় সামপ্রদায়িক অশান্তি হয়নি। কিন্তু এখন হিন্দু মুসলমান ভাগ হয়ে গেছে। অথচ উভয় সমপ্রদায়ই খুব গরিব। ফেরার পথে মাগরিবের নামাজের সময় পার হয়ে যাচ্ছিল। তাই হাজী দানেশ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ওয়াজেদ মিয়া হলের পাশে রাস্তায় নামাজ আদায় করেছি। সেখানেই শুনলাম ছাত্রলীগ, যুবলীগ চাঁদাবাজদের কারণে ঠিকাদাররা ৩-৪ মাস ড. ওয়াজেদ মিয়া হলের কাজ করতে পারেনি। কথাটা শুনে আসমান থেকে পড়েছিলাম। ভাল করে খোঁজখবর নিয়ে জানলাম ঘটনা সত্য। অবাক হয়ে গেলাম, দেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বামীর নামে একটি হলের নির্মাণকাজ তারই দলের চাঁদাবাজদের জন্য যদি ৩-৪ মাস বন্ধ থাকে তাহলে অন্যদের উপায় কি? দেশের আইনশৃঙ্খলা কত উন্নত! ভাবতে ভাবতে ঠাকুরগাঁওয়ের পথে চলেছিলাম। কখন গভীর রাত হয়ে গিয়েছিল বুঝতে পারিনি।

এ কেমন গণতন্ত্র? by বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম

৫ই জানুয়ারি গণতন্ত্রের জানাজা হয়েছে। সারা পৃথিবী অমন নির্বাচন কখনও দেখেনি। ভোটার নেই, প্রার্থী নেই, অর্ধেকের বেশি আসনে এমনিই জয়ী- এমন ন্যক্কারজনক ঘটনাকে বর্তমান শাসক দল যেভাবে হেলাফেলা করছে তাতে মনে হয় সরকার যেন সমুদ্র জয়ের মতো বিশ্ব জয় করে  ফেলেছে।

‘সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স ছিল ১২ বছর’

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দায়ের করা আপিলের শুনানিতে যুক্তিতর্ক উপস্থান শুরু করেছেন তার আইনজীবী।
প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির বেঞ্চে মঙ্গলবার এ যুক্তিতর্ক শুরু হয়। এসময় সাঈদীর আইনজীবীর এস এম শাহজাহান বলেন, ম্যাট্রিক পরীক্ষার সনদ অনুযায়ী প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী মাহবুব আলম হাওলাদার ১৯৫৯ সালের ২০শে মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তাহলে একাত্তরের মে মাসে তার বয়স ছিলো ১২ বছর দুই মাস। এত কম বয়সী একজন বালকের সাক্ষ্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। এছাড়া দ্বিতীয় সাক্ষী রুহুল আমিন নবিন ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না। পরে বুধবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে তার বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ প্রমানিত হয় বলে বলা হয়। এরমধ্যে দু’টি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পরপরই সারাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম এ সহিংসতায় একশ’ এর বেশি মানুষ প্রাণ হারান।

‘সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স ছিল ১২ বছর’

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দায়ের করা আপিলের শুনানিতে যুক্তিতর্ক উপস্থান শুরু করেছেন তার আইনজীবী।

আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, নৈতিক আছে -ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাব

বাংলাদেশের নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাব অনুসরণের আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। তবে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাম্প্রতিক প্রস্তাবটি মেনে চলার নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা গতকাল রোববার প্রথম আলোর কাছে এমন অভিমত দেন।
১৬ জানুয়ারি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে চলমান সংকট নিরসনে সব বৈধ রাজনৈতিক দল সম্মত হলে আগাম নির্বাচনসহ সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। ওই প্রস্তাবে জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে স্পষ্টত দূরত্ব বজায় রাখতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গতকাল এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপের সময় একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত প্রস্তাব অনুসরণে একধরনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য এটি প্রযোজ্য হবে না। তবে নির্বাচনসহ সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় এটি অনুসরণে একধরনের নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অন্য একজন কর্মকর্তা মনে করেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ করে দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ফলে সরকার ও বিরোধী দল দুই পক্ষকেই নিজেদের অবস্থানে ছাড় দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এ প্রস্তাব অনুসরণে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কতটা কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে—এ ব্যাপারে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট ইউরোপীয় ইউনিয়ন খোঁজ রাখবে।
জানতে চাইলে সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবীর বলেন, বাংলাদেশ নৈতিকভাবে ভালো কাজ করার মধ্য দিয়ে ভাবমূর্তি তৈরি করে আসছে। চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের গৃহীত প্রস্তাবের ফলে সামগ্রিক ভাবমূর্তির ক্ষতি হলো।
এদিকে সরকারি কর্মকর্তারা মনে করেন, চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সহিংসতার ব্যাপারে এই প্রথমবারের মতো খুব স্পষ্ট করেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। কারণ, পার্লামেন্টের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সহিংসতার উসকানিদাতা জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের একাংশকে অব্যাহতভাবে সহযোগিতা করছে বিএনপি। এমন এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে স্পষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। পাশাপাশি যেসব রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, খুব স্পষ্ট করেই বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ফলে সহিংসতার পথ ছাড়ার পাশাপাশি দেশের প্রধান ইসলামি দলের কাছ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে দৃশ্যত ইউরোপের একধরনের চাপের মুখে পড়েছে বিএনপি।
তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাব নিয়ে সরকারের আত্মতুষ্টি থাকলেও নির্বাচনের আগে ও পরের পরিস্থিতি নিয়ে ইইউভুক্ত ২৯ দেশের পার্লামেন্ট সরকারের ব্যাপারে তাদের নেতিবাচক পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনসহ অনুকূল পরিবেশ না থাকায় নির্বাচনী পর্যবেক্ষক না পাঠানো ও নির্বাচনে কম ভোটারের উপস্থিতির কথা ইউরোপীয় পার্লামেন্ট উল্লেখ করেছে। তাদের নেতিবাচক অবস্থান তুলে ধরেছে। পাশাপাশি বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে হামলা-নির্যাতন বন্ধের পাশাপাশি নিপীড়নমূলক মামলায় আটক সব বিরোধী নেতা-কর্মীর মুক্তি এবং নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতায় নিহতের ঘটনায় যুক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ সবার বিরুদ্ধে দ্রুত, স্বচ্ছ ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছর বাংলাদেশ নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে চারটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ ও ২১ নভেম্বরের প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এ ছাড়া গত বছরের ১৭ জানুয়ারি ও ২৩ মের গৃহীত অন্য দুটি প্রস্তাবের বিষয়বস্তু ছিল কর্মপরিবেশের নিরাপত্তাসহ তৈরি পোশাকশিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি।

হাজার বছরের বিখ্যাত: ভুবন ভোলানো ৭ নারী

হাজার বছর ধরে তারা বিখ্যাত। কোটি মানুষের মনে তারা ঠাঁই পেয়েছেন। নির্মাণ করেছেন নতুন ইতিহাস। যার যার অবস্থানে থেকে তারা পৃথিবীর মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন। ঝড় তুলেছেন প্রেমিক মনে।
সে আবেদন যুগের পর যুগ টিকে আছে। এর মধ্য দিয়ে তারা লাভ করেছেন অমরত্ব। তাদের কেউ রাজনীতিক, কেউ গোয়েন্দা, সেক্স সিম্বল, কেউ বা সাংস্কৃতিক আইকন। এমন সাত আবেদনময়ীকে বাছাই করেছে হাফিংটন পোস্ট। তাতে বলা হয়েছে ওই সাত আবেদনময়ী হলেন ক্লিওপেট্রা, ক্যাথেরিন দ্য গ্রেট, ভায়োলেট গর্ডন-উডহাউজ, মাতাহারি, ওয়ালিস সিম্পসন, আনাইস নিন ও মেরিলিন মনরো।

ক্লিওপেট্রা: এক সময় জুলিয়াস সিজার ও মার্ক অ্যান্থনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সম্রাট। তাদের মনকে জয় করেছিলেন ক্লিওপেট্রা। জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে তিনি যেভাবে সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন তার জন্য ক্লিওপেট্রাকে বেশি স্মরণ করা হয়। জুলিয়াস সিজারের ব্যক্তিগত চেম্বারে তিনি গোপনে ঢুকেছিলেন একটি কার্পেটের ভিতর নিজেকে লুকিয়ে। তারপর সেই কার্পেট থেকে সিজারের সামনে নিজের অবগুণ্ঠন খুলে দেন। তাদের জানাশোনা হয়।
মেরিলিন মনরো: বিশ শতাব্দীর সবচেয়ে জনপ্রিয় আবেদনময়ী মেরিলিন মনরো। তিনি মার্কিন তারকা অভিনেত্রী। তার রূপে মুগ্ধ হয়ে প্রেমে পড়েছেন বিশ্বের বাঘা বাঘা রাজনীতিকও। তার রূপের কাছে বশ্যতা স্বীকার করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি। তাদের প্রেমকাহিনী নিয়ে সারা বিশ্ব তোলপাড় হয়েছে। বলা হয়, প্রেমের ক্ষেত্রে এটি সর্বাধিক আলোচিত কাহিনী। ১৯৬২ সালে কেনেডির জন্মদিনে ‘হ্যাপি বার্থডে’ গানটি শুনিয়ে কেবল কণ্ঠের জাদুতেই তাকে জয় করে নিয়েছিলেন মনরো। সংক্ষিপ্ত সময়ের হলেও কিংবদন্তি এই তারকা অভিনেত্রী ও কেনেডির প্রেম ছিল অত্যন্ত গাঢ়। অ্যাথলে থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ, লেখক, বিজ্ঞাপননির্মাতাসহ নানা গুণী ব্যক্তিকেই বশ করেছিলেন তীব্র যৌন আবেদনময়ী মনরো। সেই সময়েই খোলামেলা পোশাক থেকে শুরু করে নানা ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে সব সময়ই আলোচনায় ছিলেন এবং অকপট যৌনতার প্রতীক হিসেবে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি। 
ক্যাথারিন দ্য গ্রেট: রাশিয়ার শাসন ক্ষমতায় এসেছিলেন এমন নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ও আবেদনময়ী হিসেবে পরিচিত রুশ সম্রাজ্ঞী ‘ক্যাথরিন দ্য গ্রেট’। জীবনের নানা পর্যায়ে বহু পুরুষের সঙ্গে তার প্রণয়-কাহিনী বিখ্যাত হয়ে আছে। ক্যাথারিন খুবই আবেগী ও প্রচণ্ড রোমান্টিক ছিলেন। এই সম্রাজ্ঞী ঠিক ততদিনই কোন পুরুষকে সঙ্গ দান করতেন, যতদিন তারা তাকে তৃপ্ত করতে পারতো। তার বিরাগভাজন হয়ে পড়লেই ওই প্রেমিককে বিতাড়িত করতেন। অবশ্য প্রণয়ের পুরস্কার হিসেবে ভূ-সম্পত্তি বা পদবি দিয়ে সম্মানেই বিদায় করা হতো ওই পুরুষদের।
ভায়োলেট গর্ডন-উডহাউস: আভিজাত্য ও সৌন্দর্যে পরিপাটি ভায়োলেট গর্ডন-উডহাউজ। তিনি ইংরেজ নারী। পিয়ানোর মতো বাদ্যযন্ত্র ‘হার্পসিকর্ড’ বাজাতেন তিনি। ভারতীয় পুরাণের পঞ্চপাণ্ডবের কাহিনীর মতো না হলেও ভায়োলেট তার চার স্বামীকে নিয়ে এক সংসার গড়েছিলেন তার কেবল একজন স্বামীই আইনত বৈধ হলেও একই ছাদের তলায় চার পুরুষকেই সুখী রাখতে পেরেছিলেন ভায়োলেট। কেবল একবারই নাকি ক্রিকেট খেলা নিয়ে ওই পঞ্চ নর-নারীর মধ্যে বিতর্ক হয়েছিল!
মাতা হারি: মাতাহারি উন্মাতাল ডাচ্‌ নর্তকী। নাচের মধ্যে পুরুষকে শিকার করার মতো একটি প্রবণতা থাকায় ১৯০০-এর দশকের শুরুতে তিনি প্যারিসকে যেন মাত করে দেন। এ জন্য তার ওপর নজর পড়ে অনেক পুরুষের। ফলে তারা তাকে রক্ষিতা হিসেবে ব্যবহার করে। এভাবে অনেক পুরুষের কাছে তিনি ব্যবহৃত হয়েছেন। এসব পুরুষের সফরসঙ্গী হয়ে ঘুরেছেন সারা ইউরোপে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি তার দৈহিক গোপন আকর্ষণকে কাজে লাগান। শুরু করেন গুপ্তচরবৃত্তি। তার কোড নাম ছিল এইচ-২১। কিন্তু জার্মানি ও ফ্রান্স উভয় পক্ষের কাজ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ফরাসিদের হাতে তিনি ধরা পড়েন। তাকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।
ওয়ালিস সিম্পসন: যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত সমাজের সুন্দরী ওয়ালিস সিম্পসন পর পর তিন পুরুষকে বিয়ে করেন। এক রাজাকে সিংহাসন থেকে নামিয়ে এনেছিলেন। ১৯৩০ সালের দিকে যখন ইংল্যান্ডের যুবরাজ অষ্টম এডওয়ার্ডের সঙ্গে তার দেখা হয়, ততদিনেই নিজের দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন করেছিলেন সিম্পসন। দুই বছরের মাথায় তাদের প্রেম তুঙ্গে ওঠে। ১৯৩৬ সালের জানুয়ারিতে এই যুবরাজ সিংহাসনে আসীন হন। কিন্তু তা কেবল ছেড়ে আসার জন্যই। রাজা হয়ে দু’বার তালাক নেয়া এক আমেরিকান নারীকে বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। নিজেকে সিম্পসনের প্রেমে সমর্পণ করে ওই বছরই ভাই যুবরাজ ষষ্ঠ জর্জের কাছে সিংহাসন ছেড়ে দেন তিনি। উইন্ডসরের ডিউক ও ডাচ্‌েস হিসেবে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিয়েছিলেন তারা।
আনাইস নিন: স্প্যানিশ-কিউবান পিতা আর ফরাসি-ডেনিশ মায়ের সন্তান আনাইস নিন জন্মেছিলেন প্যারিসে। আটলান্টিকের ওপারে পাড়ি জমিয়ে একজন আমেরিকান লেখিকা হিসেবে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন এই সুন্দরী। বিখ্যাত লেখক হেনরি মিলারের সঙ্গে বোহেমিয়ান জীবনের অনেকটা সময় প্যারিসে কাটিয়েছেন তিনি। হাগ গুইলার ও রুপার্ট পোল নামে দুই পুরুষকে বিয়েও করেছিলেন আনাইস নিন। কিন্তু বোহেমিয়ান ও বহুগামী জীবনে অভ্যস্ত আনাইস দুই স্বামীর কারও ঘরেই বেশি দিন স্থির থাকতে পারেন নি। নিজের প্রেমিককুলকে নিয়ে নিউ ইয়র্ক থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘুরে ফিরে লুকোচুরি খেলতে হয়েছে তাকে।

হাজার বছরের বিখ্যাত: ভুবন ভোলানো ৭ নারী

হাজার বছর ধরে তারা বিখ্যাত। কোটি মানুষের মনে তারা ঠাঁই পেয়েছেন। নির্মাণ করেছেন নতুন ইতিহাস। যার যার অবস্থানে থেকে তারা পৃথিবীর মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন। ঝড় তুলেছেন প্রেমিক মনে।

ঢাকায় ভিনদেশীদের অপরাধ জাল by নুরুজ্জামান লাবু

তারা ভিনদেশী নাগরিক। ঢাকায় অস্থায়ী আবাস। ব্যবসা বা ভ্রমণের কথা বলে আসা অনেক বিদেশী নাগরিক রাজধানী জুড়ে গড়ে তুলেছে অপরাধের জাল। প্রতারণা আর আইন ভঙ্গ করে অর্থ উপার্জনই তাদের টার্গেট।
কেউ তৈরি করছেন জাল মুদ্রা। স্বর্ণ চোরাচালান, আদম পাচার, মাদক ব্যবসা, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, জঙ্গি কার্যক্রমসহ নানা রকম অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে তারা। দেশের অভ্যন্তরে ভিনদেশীরা কি করছে এসব বিষয়ে কার্যকর কোন নজরদারি না থাকায় সহজেই অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে তারা। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতায় এই অপরাধী চক্রের কেউ কেউ ধরা পড়লেও চক্রের বড় অংশটিই থেকে যাচ্ছে অধরা। গ্রেপ্তার হলেও মামলার দুর্বলতার কারণে ও আইনি ফাঁকফোকর গলে জেল থেকে সহজেই জামিনে বেরিয়ে আসে কেউ কেউ। জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবি’র যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, মাঝে মধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিনদেশী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কিন্তু গ্রেপ্তারের পরপরই তারা ইংরেজি ভাষায় কথা বলা বন্ধ করে দেয়। ভাষাগত সমস্যার কারণে অপরাধ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় তথ্য উদ্ধার করা যায় না। তিনি বলেন, ভিনদেশী নাগরিকদের গ্রেপ্তারের পর তাদের নিজ নিজ দেশের দূতাবাসকে জানাতে হয়। এছাড়া, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। তবে ঢাকায় ভিনদেশী অপরাধীদের ওপর নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি চলে। গত কয়েক বছরে শতাধিক ভিনদেশী অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর উত্তরা ও কূটনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় ভিনদেশী অপরাধীরা আস্তানা গেড়ে থাকে। বেশির ভাগই ঢাকায় প্রবেশ করে পর্যটক ভিসায়। কোন দেশ থেকে সরাসরি ভিসা সংগ্রহ করে আবার কোন কোন দেশের নাগরিকরা অন অ্যারাইভাল ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বিদেশী ট্যুরিস্টদের সবসময় স্বাগত জানাতে বিদেশী নাগরিকদের সহজেই ভিসা দিয়ে দেয়া হয়। এই সুযোগে অপরাধী চক্র দেশে ঢুকে আস্তানা গেড়ে বসে। সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকা এমনিতেই অপরাধপ্রবণ ও ঘনবসতি এলাকা হওয়ায় ভিনদেশী অপরাধীরা সহজেই অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারে। তবে বেশির ভাগ অপরাধীরই এ দেশীয় এজেন্ট রয়েছে। দেশীয় এজেন্টরাই তাদের মূলত অপরাধ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে থাকে। ভিনদেশীদের অপরাধ কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান করা ডিবি’র একজন কর্মকর্তা জানান, নির্দিষ্ট কিছু অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে ভিনদেশী অপরাধীরা। এর মধ্যে রয়েছে মুদ্রাপাচার ও জাল মুদ্রা তৈরি, আদম পাচার, জঙ্গি কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসা। বিশেষ করে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এসব কাজের সঙ্গে বেশি জড়িত। এসব দেশের মধ্যে ক্যামেরুন, নাইজেরিয়া, ঘানা, কঙ্গো, লিবিয়া, উগান্ডা, সুদান, আলজিরিয়া, তাঞ্জানিয়া উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার ছাড়াও আফগানিস্তান, ইরাক, শ্রীলঙ্কার নাগরিকরাও এ দেশে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। ডিবি’র ওই কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তানের নাগরিকরা সাধারণত জঙ্গি ও মুদ্রা পাচার এবং জাল মুদ্রা তৈরির সঙ্গে জড়িত। পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে যোগাযোগ থাকায় ব্যবসার আড়ালে তারা ঢাকায় আসে। পরে দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে তারা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া, ভারতের নাগরিকরা বেশির ভাগই স্বর্ণ চোরাচালানসহ বিভিন্ন চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা আন্তর্জাতিক জাল ডলার তৈরি চক্র ও মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া, অন্যান্য দেশের নাগরিকরা আদম পাচার করে বলে তিনি জানান। ওই কর্মকর্তা বলেন, কোন ভিনদেশী অপরাধীকে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসও আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকে। এছাড়া, অনেকেই দেশে ঢুকেই তাদের পাসপোর্ট ফেলে দেয়। ফলে তাদের নিজ নিজ দেশে পুশব্যাকও করা যায় না। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, পোশাক শিল্প, বায়িং হাউস, আইটি ও টেলিকম সেক্টর, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, রেস্টুরেন্ট এবং এনজিওসহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানের ঢাল ব্যবহার করে তারা অপরাধ কর্মকাণ্ড করে থাকে। অনেকেই গার্মেন্ট শিল্পের ক্রেতা সেজেও বিভিন্ন গার্মেন্ট মালিকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

সূত্র জানায়, ভিনদেশী অপরাধীরা এদেশে প্রবেশের আগেই প্রথমে তারা দেশীয় এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকে। দেশে প্রবেশ করে প্রথমে তারা নামীদামি আবাসিক হোটেলগুলোতে অবস্থান নেয়। পরে দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে গুলশান, বনানী, বারিধারা কিংবা উত্তরা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। এসব এলাকায় এমনিতেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত বিদেশী নাগরিকরা থাকেন বলে কেউ তাদের সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে না। এছাড়া, ভিনদেশীদের সবাই সমীহ করে চলে বলে এই সুযোগ কাজে লাগায় তারা। দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে তারা প্রতারণা ও আদম পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া, দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাত করে মুদ্রা ও মাদক পাচার করে থাকে। শাহজালাল বিমানবন্দরকে তারা চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে।
র‌্যাবের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে দেশে এসে দেশীয় জঙ্গিদের সংগঠিত করে থাকে। তবে বর্তমানে জঙ্গিদের কার্যক্রম কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট অপরাধ চক্রের সদস্যরা ঢাকাকে নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে। গত মাসে তারা উত্তরা এলাকা থেকে এমন একটি চক্রকে শনাক্ত করেছেন যারা দীর্ঘ দেড় বছর ধরে উত্তরায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা করে আসছিল। ওই চক্রটির ভিওআইপি ব্যবসার পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান জানান, ভিনদেশীদের অপরাধ কর্মকাণ্ড ঠেকাতে র‌্যাব সবসময় কড়া গোয়েন্দা নজরদারি করে থাকে। ঢাকায় বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অনুসন্ধান চলছে। তিনি জানান, গত কয়েক বছরে র‌্যাব বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে ৯১ জন বিদেশী নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে গত বছরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৩ জনকে। গ্রেপ্তারকৃতদের বেশির ভাগই জঙ্গি, মাদক ও জাল মুদ্রা তৈরি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি জানান।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ট্যুরিস্ট ও অন্যান্য কাজের সঙ্গে যুক্ত বিদেশী নাগরিককে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হলেও বাংলাদেশে ভিনদেশীদের ওপর কার্যকর কোন নজরদারি নেই। ফলে ট্যুরিস্ট ভিসায় ভিনদেশী নাগরিকরা দেশে ঢুকে সহজেই নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও মাসের পর মাস দেশেই অবস্থান করছে। এমনকি ভিনদেশী অপরাধীরা জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। বিদেশী পর্যটক কিংবা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে দেশে আসা নাগরিকদের নজরদারি করে থাকে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। তাদের এক কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় বিদেশী নাগরিকদের যথাযথ নজরদারি করা যায় না।

ঢাকায় ভিনদেশীদের অপরাধ জাল by নুরুজ্জামান লাবু

তারা ভিনদেশী নাগরিক। ঢাকায় অস্থায়ী আবাস। ব্যবসা বা ভ্রমণের কথা বলে আসা অনেক বিদেশী নাগরিক রাজধানী জুড়ে গড়ে তুলেছে অপরাধের জাল। প্রতারণা আর আইন ভঙ্গ করে অর্থ উপার্জনই তাদের টার্গেট।

হিটলারের মৃত্যু হয় ১৯৮৪ সালে ব্রাজিলে?

অ্যাডলফ হিটলার
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে ১৯৪৫ সালে বার্লিনের একটি বাঙ্কারে গুলি করে আত্মহত্যা করেছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এমনই জেনে আসছে বিশ্ববাসী। কিন্তু নতুন একটি বইয়ে তাঁকে নিয়ে চমকে যাওয়ার মতো তথ্য দেওয়া হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, হিটলার তাঁর আস্তানা থেকে পালিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন। ১৯৮৪ সালে বলিভিয়া সীমান্তবর্তী ব্রাজিলের ছোট্ট একটি শহরে তাঁর মৃত্যু হয়। একটি ছবির সাহায্যে বিষয়টি প্রমাণের চেষ্টা করেন বইটির লেখক। তিনি বলেন, হিটলার প্রথমে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায় পালিয়ে যান। সেখান থেকে প্যারাগুয়ে হয়ে ব্রাজিলে থিতু হন। হিটলার ইন ব্রাজিল-হিজ লাইফ অ্যান্ড হিজ ডেথ নামের বইটির লেখক সিমোনি রিনি গুয়েরিরো।
লেখক বলেন, ব্রাজিলের মাতো গ্রসো প্রদেশের ছোট্ট শহর নোসা সেনহোরা দু লিভরামমেনতোয় মাটির নিচে লুকানো গুপ্তধনের অবস্থানের একটি মানচিত্র হিটলারকে দিয়েছিলেন তাঁরই ভ্যাটিকান মিত্ররা। সেই গুপ্তধনের খোঁজে সেখানে আবাস গড়েন নাৎসি নেতা। লেখক দাবি করেন, প্রাদেশিক রাজধানী কুইয়াবা থেকে ৩০ মাইল দূরে ওই ছোট্ট শহরে হিটলার ‘অ্যাডলফ লিপজিগ’ ছদ্মনামে বসবাস করেন। সেখানে ৯৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। সিমোনি নিজেও কুইয়াবার বাসিন্দা। হিটলারের এক আত্মীয় বর্তমানে ইসরায়েলে আছেন। সিমোনি এখন সেই আত্মীয়ের ডিএনএ পরীক্ষার পরিকল্পনা করছেন। দ্য নেশন।

যুক্তরাষ্ট্র আমাকে হত্যা করতে চায়

এডওয়ার্ড স্নোডেন
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএর সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন বলেছেন, ‘নজরদারির তথ্য ফাঁস করায় মার্কিন সরকার আমাকে হত্যা করতে চায়।’ বাজফিড নামের একটি ওয়েবসাইটের খবরের বরাত দিয়ে স্নোডেন জার্মানির এআরডি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, মার্কিন সরকারের কর্মকর্তারা তাঁকে মৃত দেখতে চান। এনএসএ ‘শিল্প গুপ্তচরবৃত্তি’র সঙ্গে জড়িত বলেও তিনি অভিযোগ করে স্নোডেন বলেন, বিভিন্ন মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জার্মানির যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ওপরে নজরদারি করে এনএসএ। এর আগে স্নোডেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের মুঠোফোনে এনএসএর আড়ি পাতার তথ্য দেন। এ নিয়ে জার্মান-মার্কিন সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গত সপ্তাকে জার্মানির জেডিএফ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের ফোনে আড়ি পাতার কাজটি ভুল ছিল। এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটবে না। শিল্পক্ষেত্রে গোয়েন্দাগিরির ব্যাপারে স্নোডেনের নতুন অভিযোগ মার্কিন-জার্মান সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে কঠিন করে তুলতে পারে। জার্মানির প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান সিমেন্সের প্রতি ইঙ্গিত করে স্নোডেন বলেন, যদি এনএসএ বুঝতে পারে, সিমেন্সের কাছে তথ্য আছে, যা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য না হলেও জাতীয় স্বার্থের জন্য উপকারী, তবে তারা ওই তথ্যের পেছনে ছুটবে। বিবিসি।

তরুণীদের গোপন কক্ষে আটকে ধর্ষণ করতেন গাদ্দাফি!

মুয়াম্মার গাদ্দাফি
লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির মৃত্যুর দুই বছর পর তাঁর নানা কুকীর্তির খবর বেরিয়ে আসছে। তরুণীদের গোপন কক্ষে আটকে রেখে তাদের যৌনদাসীর মতো ব্যবহার করতেন তিনি। বিবিসির এক প্রামাণ্যচিত্রে পিলে চমকানো এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রামাণ্যচিত্রটিতে গাদ্দাফির ব্যবহূত একটি গোপন কক্ষ দেখানো হয়েছে। ওই কক্ষে তরুণীদের আটকে রাখা হতো। গাদ্দাফি তাদের নিয়মিত ধর্ষণ করতেন। তরুণীদের তিনি জোর করে পর্নো সিনেমা দেখতে বাধ্য করতেন। দুই শয্যার চেয়ে একটু বড় ওই কক্ষ।
এর লাগোয়া আরেকটি কক্ষে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল। তরুণীরা যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত কি না, সেখানে তা পরীক্ষা করা হতো। পরে ইতিবাচক ফল পেলে সেই তরুণীদের পাঠানো হতো গাদ্দাফির প্রমোদকক্ষে। গাদ্দাফির নির্যাতনের শিকার তরুণীদের মধ্যে কেউ কখনো কৌশলে পালাতে সক্ষম হলেও পরিবারের সদস্যরা তাকে পরিত্যাগ করত। আর যারা পালাতে পারত না, তাদের অনেককেই বরণ করতে হতো নির্মম মৃত্যু। গাদ্দাফির গোপন বিশ্ব নামের প্রামাণ্যচিত্রটি আগামী শুক্রবার বিবিসি-ফোর রাতে সম্প্রচার করবে। এটি নির্মাণ করতে নির্মাতাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। বিবিসি।

ভারত সফরে ত্রিয়াবেলার

ভ্যালেরি ত্রিয়াবেলা
সদ্য সাবেক ফরাসি ফার্স্ট লেডি ভ্যালেরি ত্রিয়াবেলার একটি দাতব্য সংস্থার কার্যক্রম পরিদর্শনে ভারত সফরে রয়েছেন। তিনি গতকাল মুম্বাইয়ে নিউট্রিশন রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় অপুষ্টির শিকার শিশুদের সম্পূরক খাদ্য হিসেবে তৈরি বিশেষ ধরনের খাবারের স্বাদ নেন তিনি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানার প্রতিক্রিয়ায় ত্রিয়াবেলার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ‘খুব ভালো’ আছেন  এএফপি

বর্ণিল তোরণ আর সোনার নৌকা

সোনার নৌকা রাজসিক রাজনীতির নমুনা
অতীতে ভূরি ভূরি হয়েছে। সমালোচনা যতই হোক, থেমে থাকেনি। তবে আশা করা হয়েছিল, এবার অন্তত এসব কিছু পরিহার করা হবে। কেননা, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি স্বাভাবিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়নি, এটা সবার জানা। জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণ কী পরিমাণ ছিল, তা দেশ কিংবা বিদেশেও অনেকের জানা। তাই নির্বাচনের পর সরকার গঠনে কিছুটা ইতিবাচক দিক নজরে এল। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ কতিপয় নেতা সরকারে যোগ দিলেন। বাদ পড়লেন বিতর্কিত কিছু ব্যক্তি। এতে ধারণা করা হয়, সরকার নির্বাচনের ঘাটতিটি আপাতত সুশাসনের মাধ্যমে পূরণের চেষ্টা করবে। অবশ্য উল্লেখ করা আবশ্যক যে সুশাসন গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রতিকল্প নয়; বরং পরিপূরক। যে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত, তা উপেক্ষা করার নয়। প্রথমটি যমুনার অপর পারের এক জেলার। একজন সাংসদ মন্ত্রী হয়ে আসছেন নিজ এলাকায়। এক শ মাইক্রোবাস আর তিন হাজার মোটরসাইকেলের বহর তাঁকে স্বাগত জানায়। স্বাগত জানায় প্রায় দেড় শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা। তীব্র ঠান্ডায় তারা তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল। বন্ধ করে দেওয়া হয় সেদিনের পাঠক্রম। অপর ঘটনাটিও একই জেলার। একজন সাংসদকে সংবর্ধনার খবর। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ নিয়ে ঢাকা থেকে ফিরলেন। খবরে প্রকাশ, নিজ এলাকার কাছাকাছি আসতেই শতাধিক গাড়ি আর সহস্রাধিক মোটরসাইকেলের বহর যুক্ত হয় তাঁর গাড়ির সামনে-পেছনে। রাস্তার দুই পাশে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকেরা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন আর রঙিন বেলুন হাতে নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। নির্মিত হয়েছে শতাধিক তোরণ।
হরতাল-অবরোধে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা গোল্লায় যেতে বসেছে। সেখানে এক দিনের জন্য হলেও মন্ত্রী-সাংসদকে স্বাগত জানাতে ছাত্র-শিক্ষকেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবেন কেন? এভাবে স্বাগত না জানানোর জন্য সরকারের নির্দেশও রয়েছে। তা সত্ত্বেও এমনটা ঘটে চলছে। পরবর্তী ঘটনাটি ব্রহ্মপুত্রতীরের একটি জেলা শহরের। সেই শহরের একজন নেতা মন্ত্রী হয়ে জেলা সদর সফরে আসছেন। জানা যায়, শহরেই নির্মিত হয়েছে গোটা ত্রিশেক তোরণ। তার বেশ কয়েকটি বর্ণিল ও ব্যয়বহুল। তদুপরি আগমনপথে অন্যান্য স্থানেও এ ধরনের সংবর্ধনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ মন্ত্রিত্ব পেলে তাঁকে সংবর্ধনা জানানোর রেওয়াজ রয়েছে। তবে তাতে এরূপ রাজসিক আয়োজন করার আবশ্যকতা আছে কি? সরকারের টাকায় না হলেও যারা এগুলো করছে, তারা বিনিয়োগের সহস্র গুণ কড়ায়-গন্ডায় উশুল করে নেবে। সেটা নেবে মন্ত্রী-সাংসদদের আশীর্বাদধন্য হয়ে। অপর খবরটি হচ্ছে, দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি উপজেলায় একজন সাংসদকে সংবর্ধনায় উপহার দেওয়া হয়েছে সোনার নৌকা। সমালোচনা হলে আয়োজকেরা বলেন, নৌকাটি রুপার। সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়েছে মাত্র। হতেও পারে। তবে রাজসিক মানসিকতার প্রমাণ কিন্তু এতেই মেলে। ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন। তবে ইদানীং প্রতিদিনই ঘটে চলছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। অনেক মন্ত্রী-সাংসদ এ ধরনের সংবর্ধনা নেন। আর তা আয়োজন করতে কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ নেমে পড়েন চাঁদা তোলায়। কেউ বা ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে শুরুতে নিজেই দেন কিছু অর্থ। তদুপরি একেবারে হাতের মুঠোয় থাকা ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যবহার করেন বিবেচনাহীনভাবে।
এ ধরনের রাজসিক চমকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সাংসদ তৃপ্ত হতে পারেন। তবে তাঁদের জনপ্রিয়তার ব্যারোমিটার নিম্নমুখী হওয়ারই কথা। কেননা, আমাদের মতো দেশে সাধারণ মানুষের কোনো ভাষা নেই। তবে তারা সব বোঝে। আর সুযোগ পেলেই ব্যালটের মাধ্যমে এই রাজসিক বিলাসিতার বিরুদ্ধে মতামত দেয়। অতীতে তা-ই দিয়েছে। উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক হবে যে চারদলীয় জোট সরকারের সময়েও একই ধরনের রাজসিক সংবর্ধনা মানুষ দেখেছে। জেনেছে একজন সাংসদের সোনার মুকুট উপহার নেওয়ার কাহিনি। সময়ে ব্যালটে এর মীমাংসা করেছে তারা। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক। ২০০৯-এর সূচনায় যে ধরনের জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠিত হয়েছিল, ২০১৪-তে তা কিন্তু হয়নি। এই সরকারের সাংবিধানিক ও আইনি বৈধতা থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় অসম্পূর্ণতার ভার বহন করতে হবে। আর তা দেশে ও বিদেশে সমান তালে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট, ব্রিটিশ হাউস অব কমন্স আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্ট—সবাই আমাদের গেল নির্বাচনটি নিয়ে ব্যক্ত করেছে হতাশা। আশঙ্কা করছে গণতান্ত্রিক পথ থেকে আমাদের বিচ্যুতির। ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সহিংসতা ও অস্থিরতার বিষয়ে। আশা প্রকাশ করেছে, রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পর্কে সমঝোতার। এই দুটি মহাদেশ আমাদের রপ্তানির প্রধান বাজার। আমাদের উন্নয়নের অংশীদার বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ আর এডিবির ওপরও তাদের রয়েছে প্রভূত প্রভাব।
সুতরাং বাংলাদেশকে নিজ স্বার্থেই এসব মতামত বিবেচনায় নিতে হবে। অন্যদিকে, জাতীয় বাস্তবতার বিষয়টিও উপেক্ষা করার নয়। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশে আপাতত একটি স্বস্তির পরিবেশ বইছে। তবে একে স্থায়ী ও নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যৌক্তিক হবে না। এটা সবাই জানেন ও বোঝেন যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটকে নির্বাচনে আনতে সরকার তেমন কোনো জোরদার উদ্যোগ নেয়নি। তেমনি তারাও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রাসী প্রচেষ্টা গ্রহণ করেনি। ফলে ভোটারের উপস্থিতি খুব কম হলেও নির্বাচনটি হয়ে গেছে। তবে এটাকে জনসমর্থিত বলার সুযোগ নেই। উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে সুশাসন জনগণের অধিকার। আর সেই অধিকার নিকট অতীতে আমরা ভোগ করতে পারিনি। চারদলীয় জোট সরকারের শাসনে হতাশ হয়ে ২০০৮-এর শেষে মহাজোটকে মহাবিজয় দিয়েছিল দেশবাসী। কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য থাকলেও তারা সুশাসন দিতে পারেনি জাতিকে। দলীয়করণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারহীনতা, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ইত্যাদি মিলিয়ে তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ প্রায় কাছাকাছি। নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে সমঝোতার অভাব গেল নির্বাচনটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাই এই নির্বাচনে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে, এটা জোর দিয়ে বলার সুযোগ নেই। অন্যদিকে যারা নির্বাচন বর্জন করে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছিল,
তাদের পক্ষে জনমত সৃষ্টি হয়েছে—এমন ভাবারও কোনো কারণ নেই। বিশেষ করে তাদের লাগাতার সহিংস কর্মসূচি সরকারের বিরুদ্ধে দাবি করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে এটাকে জনগণের বিরুদ্ধে বলেই মনে করলে দোষ দেওয়া যাবে না। তাই জনগণ অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলেও তাদেরই সমর্থন দেবে, এমনটা জোর দিয়ে বলা যায় না। এ ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের সুযোগ রয়েছে তাদের নিকট অতীতের কালিমা দূর করে আবার জনগণের মুখোমুখি হওয়ার। সরকারের গঠনকাঠামো কিছু ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে অনেকটা সেই প্রত্যাশারই ইঙ্গিত দেয়। এমনকি সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী নয়াদিল্লি সফরকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই। তাঁর ভাষায়, ‘ভোট নয়। আমাদের মাথায় এখন সুশাসনের চিন্তা। হিংসা থামানোর চিন্তা।’ এ চিন্তা বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে দলমত-নির্বিশেষে যেকোনো হিংসাত্মক কর্মসূচির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে তা করতে গিয়ে একের পর এক মামলার আসামিকে এখানে-সেখানে নিহত অবস্থায় উদ্ধার হলে হিংসার রাজনীতি আবারও জোরদার হতে পারে। পাশাপাশি বাদ দিতে হবে বিরোধী দলের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিঘ্ন সৃষ্টি। বিবেচনায় রাখা দরকার, প্রকৃতপক্ষে প্রধান বিরোধী দল সংসদে নেই। তবে মাঠে আছে। আর তার কলেবর উপেক্ষা করার নয়। সংসদের বিরোধী দলটি সরকারের রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য কতটা সহায়ক হবে, এটা বোধগম্য হচ্ছে না। যা-ই হোক, প্রধান বিরোধী দলের অস্তিত্বকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।
বলা হয়তো যায়, মন্ত্রী-সাংসদেরা কেউ কেউ জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা নিলেই সুশাসনের ঘাটতি হতে পারে না। বক্তব্যটি সমর্থনযোগ্য নয়। কেননা, এর ব্যয় জনগণই কোনো না কোনোভাবে মেটাবে। তদুপরি স্কুল-কলেজ বন্ধ করে ছাত্র-শিক্ষকদের এতে অংশ নিতে উৎসাহ দেওয়া সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। আবার জানা যায়, ইতিমধ্যে সাংসদদের কেউ কেউ খবরদারি শুরু করেছেন স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থার ওপর। এগুলো অনুচিত, অযাচিত আর সুশাসনের প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। একজন সাংসদ তো একটি সিটি করপোরেশনের ময়লা নিষ্কাশন স্থানটি বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো বিকল্প পরামর্শ তিনি দেননি। তাঁর বিরুদ্ধে কতিপয় পরিবহন কোম্পানির অভিযোগ ছিল চাঁদাবাজির। এখন তাদের বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজির মামলা হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে হলেও এ ধরনের ঘটনা সুশাসনের অন্তরায়। আর সরকারের সদিচ্ছার পরিপন্থী। যাঁরা এগুলো করছেন, তাঁরা তাঁদের নির্বাচনে নৈতিক ভিত্তিটা কি তলিয়ে দেখেছেন? দেখলে এমন হওয়ার কথা ছিল না। তাঁরা না দেখলেও কিন্তু দেশ-বিদেশের অনেকেই তা দেখছেন। আর সবাইকে দীর্ঘকাল অব্যাহতভাবে উপেক্ষা করা যাবে না।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে এক মানুষ

শাহ এ এম এস কিবরিয়া
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার মৃত্যুর পর নয়টি বছর পূর্ণ হলো। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ বৈদ্যেরবাজারে এক জনসভায় ভাষণদানকালে তাঁকে হত্যা করে ঘাতকেরা। বিএনপি-জামায়াত সরকার তখন ক্ষমতায়। তারা কিবরিয়া হত্যার বিচার করেনি। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকারের বিগত আমলেও কিবরিয়া হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়া দুঃখজনক। কিবরিয়া কেবল একজন সফল অর্থমন্ত্রীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তাঁর অনন্য অবদান দেশের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। কিন্তু তিনি যে দলের জন্য জীবন দিলেন, সেই আওয়ামী লীগ কি তাঁকে মনে রেখেছে? দল বা নেতা-নেত্রীরা ভুলে গেলেও বাংলাদেশের মানুষ এই ব্যতিক্রমী ও প্রজ্ঞাবান রাজনীতিককে ভুলবে না। ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে।
সে সময় সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। দুই ক্ষেত্রেই শাহ এ এম এস কিবরিয়া সফল হয়েছিলেন। দেশের অর্থনীতিকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন তিনি। তাঁর সময়েই বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করে। এর আগে কম্পিউটারের দাম ছিল সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। মোবাইল ফোনের ব্যবহার ছিল উচ্চ ও ধনিক শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিবরিয়াই কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করেন। তিনি ভাবতেন, এই দরকারি জিনিস দুটি সুলভে সাধারণ মানুষকে দিতে পারলে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আমি ছিলাম তাঁর অনুজ। তাই অনেক সময়ই দেশের রাজনীতি, মানুষ, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করতাম। একবার তাঁকে প্রশ্ন করেছিলাম, ব্রিটেনের মতো দেশ যদি বৃদ্ধ, বিধবা, বিকলাঙ্গ রোগীদের বছরের পর বছর ভাতা দিতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ সরকার তা করছে না কেন? জবাবে তিনি বললেন, ‘আমরা গরিব দেশের মানুষ, এতটা মূলধন এখনো গড়ে তুলতে পারিনি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যারা নিতান্তই অসহায় তাদের জন্য রাষ্ট্রেরও কর্তব্য আছে। আর সে কারণেই বৃদ্ধ, বিধবা ও দুস্থ ভাতা চালু করেছি।’ প্রথম দিকে এই ভাতার পরিমাণ কম থাকলেও উত্তরোত্তর বেড়েছে এবং পরবর্তী সব সরকারই কিবরিয়ার এই নীতি চালু রেখেছে। তাঁর আরেকটি বড় সাফল্য আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। শহরে গরিব ও বেকারদের চাপ কমাতে তিনি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করেছিলেন। গ্রামে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন।
অর্থমন্ত্রী হিসেবে কিবরিয়ার আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভৈরব সেতু। রাজধানী ঢাকা শহরের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের জন্য এটি খুবই জরুরি ছিল। তাঁর পূর্বসূরি সাইফুর রহমান অনেক চেষ্টা-তদবির করেও এই সেতুর প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে পারেননি। কিবরিয়া প্যারিসে গিয়ে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন অর্থ প্রদানকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেনদরবার করে এর অর্থ জোগাড় করেন। আওয়ামী লীগ আমলে সেতুর অধিকাংশ কাজ হলেও শেষ হয় চারদলীয় জোট আমলে এবং তাঁরা জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি উদ্বোধন করেন। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো যে সেই অনুষ্ঠানে কিবরিয়াকে দাওয়াত পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এটাই বাংলাদেশের সংকীর্ণ রাজনীতি। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আমার সুযোগ হয়েছিল কিবরিয়াকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করার। এ প্রসঙ্গে তিনি দাদা শাহ ফোরকান আলীর একটি ঘটনা বলেছিলেন। ১৯৪৬ সাল। তিনি রাতে গদিঘরে ঘুমাতেন। এর খুব কাছে গান-বাজনা করতেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। দাদা পরহেজগার ব্যক্তি, সারা রাত নামাজ পড়তেন ও কোরআন তেলাওয়াত করতেন। একদিন হিন্দুদের কীর্তন শুরু হলে হাজার খানেক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দাদার কাছে হাজির হন। তাঁরা তাঁর কাছে জানতে চান, এই গান-বাজনার জন্য তিনি নিশ্চয়ই নামাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না। তাঁর অনুমতি পেলে তাঁরা আখড়া উড়িয়ে দেবেন। জবাবে দাদা বললেন, ‘কেন? আমি যখন নামাজে দাঁড়াই, আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকি, তখন তো কিছুই শুনি না। ওরা তো যুগ যুগ ধরে গান-বাজনা করে আসছে, এতে আমার মোটেই অসুবিধা হচ্ছে না।’ তাঁর এই দৃঢ় মনোভাব দেখে সবাই চলে যায়।
কিবরিয়া বলতেন, এ দেশে হিন্দু-মুসলমান শত শত বছর একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। কোনো সমস্যা হয়নি, এখন কেন হবে? তিনি এ জন্য সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকেই দায়ী করতেন। কিবরিয়া শৈশব থেকে যে অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা পেয়েছেন আজীবন সেটিই লালন করেছেন। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন। আরেকটি ঘটনা। সবেমাত্র দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিবরিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পয়লা মস্কো সফর। আবদুস সামাদ আজাদ তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশকে কীভাবে এই পরাশক্তির কাছে তুলে ধরা হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা। শেষ পর্যন্ত কিবরিয়ার প্রাজ্ঞ ভূমিকায় সবাই খুশি হলেন। ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিবরিয়া এসকাপের সেক্রেটারি পদে যোগ দেন। বাংলাদেশ সরকার তাদের পছন্দসই এক ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করলেও জাতিসংঘের মহাসচিব কুট ওয়াল্ডহাম কিবরিয়াকেই বেছে নেন। কিবরিয়া ছিলেন একজন বড় মনের সমাজসেবক ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তিনি দেশের স্বার্থকে সবার ওপর দেখতেন। সংকীর্ণতা তাঁকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। রাজনীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়াকে তিনি মনে-প্রাণে ঘৃণা করতেন। আজ যদি কিবরিয়া বেঁচে থাকতেন, তাহলে সাহস, ধৈর্য ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশের এই কঠিন সংকটময় মুহূর্তে সঠিক নির্দেশনা দিতে পারতেন।
শাহ মোহাম্মদ ইমাম মেহদী: লন্ডন প্রবাসী আইনজীবী।

ভাড়াটিয়া ঘাতকরাই খুন করে সোহানকে by ওয়েছ খছরু

ভাড়াটিয়া খুনিরাই কুয়ারপাড়ের ভিআইপি রুটে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে কলেজ ছাত্র সোহান ইসলামকে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একই এলাকার পিচ্চি শাকিল, টাইগার জামাল, আমির,
টিপু ও গুলজারের ছোটভাই রিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে খুন করে। আর এই খুনের খবর জানতো লামাবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মনির। আগে থেকেই তার হাতে গুলজার ও কামাল পক্ষের লোকজন মোটা অঙ্কের টাকা তুলে দিয়েছিল এবং সুর চিৎকার শুনলেও পুলিশ যেন নীরব থাকে সে ব্যাপারে বলেও দেয়া হয়েছিল। গতকাল নিহত কলেজ ছাত্র সোহান ইসলামের পরিবারের একাধিক সদস্য এসব কথা বলছিলেন আর বিলাপ করছিলেন। এ ঘটনার পর নির্বাক হয়ে গেছে খুনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের বোন নুশরাত জাহান স্বর্ণা। সোহানের বোন স্বর্ণা সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের অগ্রগামী সরকারি কিন্ডার স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। শনিবার বিকাল ৩টায় স্বর্ণাকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে বাসায় ফিরছিল সোহান। কুয়ারপাড় পয়েন্টে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে পিচ্ছি শাকিল, টিপু, আমির, টাইগার জামাল ও রিপন সোহানের মোটরসাইকেল থামায়। এ সময় তারা সোহানের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে মারধর করতে থাকে। এ দৃশ্য দেখে শিশু স্বর্ণা পার্শ্ববর্তী পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে এক পুলিশ সদস্যের পায়ে ধরে ভাইকে বাঁচানোর আকুতি জানায়। এ সময় এক পুলিশ সদস্য তাকে লাথি দিয়ে ফেলে দেয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন। এই ফাঁকে খুনিরা নির্বিঘ্নে এলোপাতাড়ি কোপায় সোহানের শরীর। তার উরু ও পায়ে বেশ কয়েকবার আঘাত করা হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় সোহানের। ঘটনার নেপথ্যে কাহিনীও তুচ্ছ। শুক্রবার বিকালে সোহানের সঙ্গে একই এলাকার কামালের কথাকাটাকাটি পরে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় কামাল আহত হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর কামাল ও তার পক্ষের লোকজন বলে বেড়াতো তারা বদলা নেবে। নিহতের পরিবার জানান, তারা সোহানকে হত্যা করে এর বদলা নিয়েছে।

ভাড়াটিয়া ঘাতকরাই খুন করে সোহানকে by ওয়েছ খছরু

ভাড়াটিয়া খুনিরাই কুয়ারপাড়ের ভিআইপি রুটে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে কলেজ ছাত্র সোহান ইসলামকে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একই এলাকার পিচ্চি শাকিল, টাইগার জামাল, আমির,

নয়া গণতন্ত্র এবং... by অমিত রহমান

নয়া এক গণতন্ত্র আমরা পেয়েছি বিতর্কিত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর। বিশ্বের কোথাও এ ধরনের গণতন্ত্র এ মুহূর্তে চালু নেই। পশ্চিমা গণতন্ত্রের জন্মদাতারা বেঁচে থাকলে হয়তো তারা বড্ড বেশি লজ্জা পেতেন।
কারণ, প্রচলিত ধারার গণতন্ত্রের সংজ্ঞার সঙ্গে বাংলাদেশী গণতন্ত্রের কোন মিল নেই। অদ্ভুত কিসিমের এই গণতন্ত্রে কোন ভোটের প্রয়োজন হয় না। সংসদেরও দরকার হয় না বিরোধী দলের। বিরোধী নেত্রী আছেন। আছেন তার দলের মন্ত্রীরা। দলের প্রধান সরকারের বিশেষ দূতও। সরকার আর বিরোধীদলকে আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। বলা হচ্ছে, জটিল এক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা এটা অর্জন করেছি। পশ্চিমা গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অবিচল আনুগত্য আর নেই। কারণ, আমরা নিজেরা নয়া এক মডেল তৈরি করেছি। এখন সংবিধান সংশোধন করে নিলেই সব মামলা চুকে যায়। বুদ্ধিজীবীরা সমানেই টিভির টকশোতে নয়া সব তত্ত্ব হাজির করছেন। বলছেন এটাই গণতন্ত্র। কে ভোট দিতে গেল আর না গেল তা দেখার সুযোগ বা সময় কোথায়? ভোটের বাক্স ছিল। দাওয়াতও দেয়া হয়েছিল ভোটারদের। নিরাপত্তাও ছিল। কেউ যায়নি তাতে কি?

শাসন কায়েম হয়ে গেছে। বিদেশ থেকে স্বীকৃতিও এসে গেছে। তাই আসুন আমরা সবাই যোগ দেই গার্ডেন উৎসবে। যদিও সবার জন্য দরজা খোলা নয় এই উৎসবে। যারা সহযাত্রী তারাই যোগ দেবেন বা দিয়েছেন। আগে ব্যতিক্রম থাকতেন যারা তারাও কোরাসে যোগ দিয়েছেন। খানাপিনায় অংশ নিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছেন। বলেছেন, বাড়তি মজা দেখছি। আগে আমাদেরকে কেন দূরে ঠেলে রাখা হতো? এটাই তো ভাল। সবাই মিলেমিশে এক পতাকাতলে যোগ দিলে দেশে শান্তি আসবে। ভিন্নমতের কি প্রয়োজন? ওরা তো গাড়ি পোড়ায়, রাস্তা অবরোধ করে। কথায় কথায় হরতাল ডাকে। জ্বালাও পোড়াও ছাড়া ওদের যেন আর কোন কাজ নেই। একদা আমজনতার আওয়াজ অন্য স্রোতে বেশি ছিল। এখন ঠিক হয়ে যাবে। আমরা ওদেরকে ঘুম পাড়িয়ে রাখার ওষুধ পেয়ে গেছি। দেখছেন না জেলায় জেলায় থানায় থানায় কিভাবে নতুন শব্দে ঘুম ভাঙে। কেউ জাগে, কেউ চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে যায়।
নয়া মডেল দরকার। জয়তু সরকার প্রধান। তিনি নয়া মডেল দিয়েছেন। আসাদরা গাদ্দাফিরা কোন মডেল দিতে পারেনি। তারা বন্দুকের জোরে ক্ষমতা টিকেছিলেন বা আছেন। এখানে তো সংসদ বহাল। বিরোধীদলও থাকছে। একটু অন্যরকম আর কি! সরকার আর বিরোধীদল একযোগে কাজ করবে। বিরোধী মতের কি প্রয়োজন? অযথা বাড়তি টেনশন। কথার যুদ্ধ। জনগণকে উসকে দিয়ে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা। বাংলাদেশী নতুন মডেলে এর কোন জায়গা নেই। ধীরে ধীরে এই জঞ্জাল সাফ করতে হবে। বিরোধী মতের আপাতত কোন দরকার নেই। ভবিষ্যতে দেখা যাবে। পশ্চিমা দুনিয়ার কয়েকজন চেঁচামেচি করবে। পরে ঠিক হয়ে যাবে। আর ওরা কি চায়? ব্যবসা, সুযোগ সুবিধা। সবই তারা পাবে। দেখলেন না চীন কিভাবে রাতারাতি পাল্টে গেল। আরও বড় শক্তি? অপেক্ষা করুন। দেখবেন সেটাও ম্যানেজ হয়ে গেছে। বিরোধীরা যে কেন ভোটে এলো না, তা আমি বুঝতে পারি না। তারা এলেই অনেক কিছু পেতো। আমি তো সবাইকেই দিয়েছি।
গোলমালটা হচ্ছে ইউরোপীয় একটি শক্তিকে নিয়ে। তারা ওয়েস্টমিনস্টার ধারণার অন্য ব্যাখ্যা মানতে চায় না। তাই তারা আপত্তি করেছে। সংসদে প্রস্তাবও পাস করেছে। আপাতত বৈরী। পরশু সকালে দেখবেন বিলকুল ঠিক। বিরোধীরাও চুপ হয়ে যাবে। সামনে কত যে খেলা অপেক্ষা করছে। উপজেলা যাক না- দেখবেন হিসাব মেলাতে পারছে না। রাজনীতি চার দেয়ালের মধ্যেই বন্দি হয়ে যাবে। মিডিয়া তো কাবু হয়েই গেছে। আমাদের কিছু করতে হয়নি। নিজেরাই ম্যানেজ হয়ে গেছে। নতুন আইন করতে যাচ্ছি তাতে ওয়েব দুনিয়াও ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। ক’জনের সাহস আছে আইন অমান্য করে বিপ্লবে যোগ দেয়ার? তার মানে কি? মানে খুবই সোজা। এক নেতা, এক দেশ, স্লোগানটি একসময় শুনতে ভাল লাগতো। মাঝখানে অরুচি ছিল। এখন নয়া মোড়কে মোড়ানো হচ্ছে। ভাল লাগতেও পারে। না লাগলে চলে যান অন্য দেশে। কার কি আপত্তি। কেউ আপত্তি জানাবে না। নিরাপত্তার জন্য, সুশাসনের জন্য প্রজারা নানা সময় নানা কিছু করেছেন। এই ভূখণ্ডেও তা-ই দেখা গেছে। প্রজারা রাজাকে বসান। আবার হটিয়েও দেন। রাজতন্ত্র আর গণতন্ত্রের মিল খুঁজতে গিয়ে অযথা বাড়তি চিন্তা করছেন কেন? সময় শেষ হয়ে যায়নি। অপেক্ষা করুন, দেখুন। নয়া কিছুর জন্য কষ্ট করতে হয়। রূপকথার গল্প শেষে সব সময় বলা হয়, এরপর তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো। এটা রূপকথা কিনা তা নিয়ে আপনি বিতর্ক করতে পারেন। আমি অন্তত করছি না।

বুঝি না, আইসিসির কাজ কী?

ক্রিকেটে বৈষম্যের আশঙ্কায় শাহবাগে প্রতিবাদ
মানুষের শান্তির জন্য যত দরকার কঠোর হব
প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার অভয়নগরের মালোপাড়া পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, হত্যা-খুনখারাবি সরকার বরদাশত করবে না। মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যত কঠোর হওয়া প্রয়োজন, আমরা হব। এ ব্যাপারে মন্তব্য করে মো. আল-আমিন লিখেছেন: সরকারকে বলতে চাই, অপরাধীদের কঠোর হাতে দমন করুন, কিন্তু মানবাধিকার রক্ষা করে চলুন, বিচার বিভাগ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত রাখুন। ভালো ভালো কাজ করে দেশের মানুষের চিত্ত জয়ের চেষ্টা করুন। বিএনপিকে বলব, যুদ্ধাপরাধী-স্বাধীনতাবিরোধীদের বর্জন করুন। অহিংস আন্দোলন করুন। আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির চেষ্টা করুন। আমরা সামনের দিনগুলোয় শান্তি চাই।
আবদুল মজিদ কাজী: অবশ্যই কঠোর হবেন। তবে নিজ দলের সন্ত্রাসীদের রেহাই দিলে সন্ত্রাস বন্ধ হবে না। দলের যারা সন্ত্রাসমূলক অপরাধে লিপ্ত, তারা হিতাকাঙ্ক্ষী নয়, বরং পরম শত্রু। তাই অন্যদের চেয়ে এদের কঠোর শাস্তি দেবেন। তা ছাড়া স্বাধীনতাবিরোধী দলকে (জামায়াত-শিবির) শক্ত হাতে দমন করতে হবে। তারা শুধু ১৯৭১ সালে নয়, আজও দেশ ও জনগণের চরম শত্রু। তাদের নৃশংসতা অনুসারে তাদের শাস্তি কম হচ্ছে। তারা যেভাবে বদ্ধভূমিতে লাখ লাখ লোককে মেরে লাশ ফেলে রেখেছিল, দেশবাসী আজও তাদের সঙ্গে সেই আচরণ করেনি, তারা সৌভাগ্যবান। মুকাদ্দিম সারোয়ার: আচ্ছা, আমরা এই সহিংসতার জন্য নির্দিষ্ট একটি দলকে দোষারোপ করে যাচ্ছি, তদন্ত তো হয়নি। কিসের ভিত্তিতে মেনে নেব? যে-ই করুক না কেন, কঠোর সাজা দিতে হবে। কিন্তু আদৌ কি সত্যিকারের আসামিরা ধরা পড়বে?
অতি দ্রুত সংলাপ ও নির্বাচন চান খালেদা
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অবিলম্বে সংলাপে বসতে আবারও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ ব্যাপারে বিপুল লিখেছেন: আমি ভোট দিতে পারিনি আপনাদের পেট্রলবোমাবাজদের জন্য। তার পরও এই সরকারকে সমর্থন করি সাহসী ভূমিকায় দেশ রক্ষা করার জন্য। শাহিদুল ইসলাম: বড় দুই দল মিলে যদি নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারে, সেটাই হবে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় পাওয়া। জাহিদ: আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। ওসমান শেখ: শুধু নির্বাচন চাইলেই হবে না অংশগ্রহণের নিশ্চয়তাও দিতে হবে।
টেস্টই খেলতে পারবে না বাংলাদেশ!
‘তিন জমিদার’ ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া বিশ্ব ক্রিকেট শাসনের প্রস্তাব দিয়েছে, তা যদি আগামী আইসিসি বৈঠকে পাস হয়, তবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে আর টেস্ট খেলতে পারবে না। এই প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এর বিরোধিতা করে বাংলাদেশে কয়েকটি স্থানে হাজারো তরুণ-তরুণী মানববন্ধন করছেন। প্রস্তাবের সমালোচনা করে পাঠক রাজু লিখেছেন, আমি অবাক হচ্ছি!! ফুটবলে কী রকম চিন্তা আর ক্রিকেটে কী রকম!! যেখানে ফুটবলকে জনপ্রিয় করার জন্য ফিফা কত চেষ্টা করছে, সেখানে আইসিসি উল্টো। আপনারা হয়তো দেখেছেন, কিছুদিন আগে কনফেডারেশনস কাপে তাহিতি ও স্পেনের মধ্যকার খেলা। র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর আর ১১৮ নম্বর দলের মধ্যে খেলা। এগুলো সম্ভব হয়েছে শুধু ফিফার পেশাদারি মনোভাবের কারণে, র‌্যাঙ্কিংয়ের জোরে নয়। আর আইসিসি পেশাদারি মনোভাব থেকে সরে উল্টো জমিদারি মনোভাব নিয়ে আসে। মো. ইকবাল হোসেইন: বুঝি না, আইসিসির কাজ কী? এরা কি ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করতে চায়, নাকি সেই আঁতুড়ঘরে ফিরিয়ে নিতে চায়? যদি এ আইন কার্যকর হয় তাহলে আমরা মোড়লদের খেলা দেখব না। এ দেশের মিডিয়াকে অনুরোধ, ওই মোড়লদের কোনো খবর যেন প্রচার না করে।
সোহেল: বাকি সাত টেস্টখেলুড়ে দেশ এককাট্টা থাকলে ভোটাভুটিতে হালে পানি পাবে না প্রস্তাব। সাত দেশ এককাট্টা না থাকার কোনো কারণ তো নেই। সুতরাং, এই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। জে আই সোহেল: আজব সব চিন্তাভাবনা! বাকি সাতটি দেশের এই প্রস্তাবে ভেটো দেওয়া উচিত। তা না পারলে তাদের টেস্ট ক্রিকেট থেকে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যাওয়া উচিত। তাহলে দেখা যাক আইসিসির বাহাদুরি মানে তিন জমিদার কার সঙ্গে গিয়ে বাহাদুরি করে!! এম এ মান্নান: এ তিনটি দেশকে আলাদা করে দিয়ে বাকি দেশগুলো নিয়ে আলাদা একটা জোট করা দরকার। এই দেশগুলোকে বয়কট করে বাকিরা এএফটিপি অনুসরণ করে চলবে। নতুন এই জোটের অফিস হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। আর ওই তিন দেশের জোটের নাম হবে ‘থ্রি জোকারস’। কারণ তিন দেশ মিলে তো আইসিসি হবে না, সব দেশ যেখানে থাকবে, সেটাই হবে আইসিসি। কাজী মহিবুল ইসলাম: যে দেশের মানুষ তিন দিন লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটে খেলা দেখার জন্য, সেই দেশ ক্রিকেটই খেলতে পারবে না!!! এবার কিন্তু আর রাস্তায় লোকের অভাব হবে না...ভাইসব, সবাই রেডি হন আইসিসির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হবে, এটা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।
খরচই কেবল বাড়ে, সেতু আর হয় না
২০০৭ সালে প্রকল্প অনুমোদনের পর থেকে সময় পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে পদ্মা সেতুর নির্মাণব্যয়। কিন্তু এর কাজ এগোয় না। এ ব্যাপারে পাঠক এস এম রুহুল কবির হাওলাদার লিখেছেন: একটা ইট পাঁচ বছর ধরে গাড়ল না আর করবে সেতু। যে অবস্থা, ১০ বছরের আগে সম্ভব নয়। আবদুল্লাহ আল মামুন: দিন শেষ হয়ে আসে, তবু রাস্তা আর শেষ হয় না। হেলাল: সরকার বর্তমান যে অবস্থায় আছে, তা যদি ধরে রাখতে পারে তা হলে ইনশা আল্লাহ অবশ্যই পদ্মা সেতু হবে। আমরা নতুন সরকারকে একেবারেই দুর্নীতিমুক্ত দেখতে চাই। আশা করি, আওয়ামী লীগ তার হারানো রাজনৈতিক গৌরব ফিরে পাবে। জাহিদুল আমিন: আফসোস, কোনো কিছুই তারা শেষ করতে পারে না। এখানে তারা মার খেয়ে যায়। যদি উন্নয়নের ধারা বজায় রাখত, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের কাজ অব্যাহত রাখত, তবে এ ধরনের কিছু কাজের ক্রেডিট বিএনপিও নিতে পারত। কিন্তু আওয়ামী লীগের ফেলে আসা কোনো কাজই বিএনপি শেষ করেনি, আর তাই নামখানাও নেই কোনো উন্নয়নের খাতায়। জনগণ দেখে না কে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করল, জনগণ দেখে কে কাজ শেষ করে উদ্বোধন করল। এটাই নিয়ম।

নয়া গণতন্ত্র এবং... by অমিত রহমান

নয়া এক গণতন্ত্র আমরা পেয়েছি বিতর্কিত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর। বিশ্বের কোথাও এ ধরনের গণতন্ত্র এ মুহূর্তে চালু নেই। পশ্চিমা গণতন্ত্রের জন্মদাতারা বেঁচে থাকলে হয়তো তারা বড্ড বেশি লজ্জা পেতেন।

হতাশার অন্ধকারে দুই ভাই by মনির হায়দার

তিনি এখনও দলের চেয়ারম্যান। আছেন সংসদেও। দৃশ্যত নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই বিজয়ী করে আনা হয় তাকে। তাই বলা হয়েছিল, তিনি শপথ নেবেন না। কিন্তু দেখা গেলো, শপথ নিয়েছেন।
যদিও স্পিকারের সামনে তিনি হাজির হয়েছিলেন মলিন চেহারায়। নতুন সরকার গঠনের পর তাকে করা হলো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। দেয়া হলো মন্ত্রীর মর্যাদা। তিনি  জানালেন, আমি খুশি হয়েছি। তবে যেহেতু দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলাম, তাই মন্ত্রীর মর্যাদা আমার জন্য বেমানান। অতএব, এ দায়িত্ব আমি নিচ্ছি না। কিন্তু এখানেও দৃশ্যত তার ইচ্ছার পরাজয়। হঠাৎ দেখা গেল, গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আদালতে গেলেন তিনি। তাই সর্বত্র প্রশ্ন জাগলো তার পদমর্যাদা নিয়ে। তারপর নিজেই জানালেন, মন্ত্রীর মর্যাদায় বিশেষ দূতের পদটি তিনি গ্রহণ করেছেন।

এভাবেই একের পর এক অসহায় আত্মসমর্পণ চলছে একদার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী স্বৈরশাসকের। এমনকি নিজ ঘরেই এখন নিদারুণভাবে পরবাসী তিনি। দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পদে পদে যেমন তার ইচ্ছার পরাজয় ঘটছে, তেমনি ন্যূনতম গুরুত্ব নেই অর্ধশতাব্দীকালের জীবন সঙ্গিনীর কাছেও। সব মিলিয়ে পড়ন্ত বেলায় ভাগ্য বিপর্যয়ের চূড়ান্ত ধাপে তিনি। নিজের দুর্ভাগ্যের সূতোয় বেঁধে নিয়েছেন আপন ভাইকেও। সে কারণে দুই ভাইয়ের এখন দুঃখের কোন সীমা নেই।
ওয়াকিবহালরা জানান, বিরোধী দলের বর্জনের মুখে একতরফা নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে কোন চালাকি ছিল না। দুই ভাই মিলেই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করেন। যত চাপই আসুক, নির্বাচনের বাইরে থাকবে তাদের দল। অথচ ছোট ভাই বরাবরই ছিলেন এখনকার ক্ষমতাসীনদের কাছের মানুষ। নিজের দলকে এই পক্ষে রাখতে সব সময়ই বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। এ জন্য দলের বড় অংশের কাছে অনেক নিন্দিতও হয়েছেন তিনি। তবুও ওদিকেই টেনেছেন সব সময়। কিন্তু পাঁচ বছরের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা তার মধুর নয়। বরং নানা রকম তিক্ততায় পূর্ণ ছিল। আর সে কারণেই চিন্তায় পরিবর্তন। স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তনটা পছন্দ হয়নি পুরনো বন্ধুদের। সুতরাং শুরু হয় নতুন গেম প্ল্যানের বাস্তবায়ন পর্ব।
মেধাবী ছোট ভাইয়ের সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ওপর বিশেষ আস্থা ছিল বড় ভাইয়ের। আর সে কারণেই নিজের উত্তরসূরি হিসেবে ক্রমশ দৃশ্যপটে টানছিলেন তাকে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আগের মন্ত্রিসভায় সুযোগ করে দেন তাকে। এ নিয়ে দলের কয়েক নেতা পুড়ছিল হিংসায়। টানা পাঁচ বছর ধরে তারা জ্বলতে থাকেন বিরামহীন ঈর্ষার আগুনে। তাতে নতুন করে ঘি পড়ে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে। তারা দু’জনই চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হন সাবেক ফার্স্ট লেডির কাছে। বিশেষ আন্তরিকতার সঙ্গে জানালেন, ম্যাডাম আমরা তো চাই স্যারের পর আপনিই হবেন দলের প্রধান। কিন্তু ঘটনা চলে যাচ্ছে অন্যদিকে। স্যার ঠিক করে ফেলেছেন তার উত্তরসূরি। নিজের ভাইকেই তিনি বসাবেন ওখানে। তারপর যা ঘটলো, তা হার মানায় বাংলা চলচ্চিত্রের কাহিনীকেও। রীতিমতো জ্বলে উঠলেন সাবেক ফার্স্ট লেডি। বললেন, এটা কিছুতেই হতে দেয়া যায় না। কৌশল ঠিক করার নির্দেশ দিলেন ওই দুই নেতাকে। কৌশল আগেই ঠিক করা ছিল। কেবল সেটা জানালেন ম্যাডামকে। তিনি তো এক কথায়ই রাজি। তারপর শুরু হলো বাস্তবায়নের পর্ব। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে সকল প্রার্থীকে নির্দেশ দিলেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে। তাতে সাড়া দেন বেশির ভাগ প্রার্থী। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন করেন নেতা এবং তার ছোট ভাই। কিন্তু এবার গোল বাধায় স্বয়ং নির্বাচন কমিশন। নানা ছুঁতায় গ্রহণ করা হয়নি বেশ কয়েকটি মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন। নেতা ও তার ভাইয়ের আবেদনও অগ্রাহ্য করা হয়। সুতরাং ইচ্ছার বাইরেই তারা রয়ে যান নির্বাচনে। এভাবে নতুন এক নজির সৃষ্টি করে নির্বাচন কমিশন।
এরই মধ্যে ঘটলো অন্য ঘটনা। রাতের আঁধারে হঠাৎ করেই নেতাকে নিয়ে যাওয়া হলো হাসপাতালে। কাছের লোকজন কিংবা ভাইবোন কেউই জানলো না তার অসুস্থতার কথা। জানলো কেবল রাষ্ট্র। আর তাই সবকিছু হলো শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায়। নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা নাটকীয়তার পুরোটা সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। অবশ্য এটা ছিল তার পুরনো ঠিকানা। সে কারণে সাধারণ নেতাকর্মীদের দেখা-সাক্ষাতের কোন সুযোগ ছিল না। এই সুযোগে তার নামে আসতে শুরু করলো নানা কিসিমের বক্তব্য। এক উপদেষ্টা সংবাদ ব্রিফিং করে জানালেন, নেতা স্বেচ্ছায় হাসপাতালে যাননি। তাকে সেখানে আটক রাখা হয়েছে। নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি অটল আছেন। একই কথা জানালেন নেতার ছোট ভাইও। বললেন, আমরা নির্বাচনে নেই। আমাদেরকে জোর করে নির্বাচনে রাখার চেষ্টা চলছে। এসব কথার বিপরীতে কিছুটা রাখঢাকের কৌশল গ্রহণ করে সাবেক ফার্স্টলেডির পক্ষ। মিডিয়াকে আড়ালে রেখেই নির্বাচনের সব রকম প্রস্তুতি চলে এই পক্ষে। এভাবেই চলে আসে নির্বাচনের দিন। নজিরবিহীন বর্জনের মধ্যে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয় ভোট। সেই ভোটে জিতে যান ফার্স্ট লেডির অনুসারীরা প্রায় সকলে। কৌশলগত কারণে জিতিয়ে আনা হয় নেতাকেও। শুধু পরিকল্পনামাফিক হারিয়ে দেয়া হয় সাবেক ফার্স্ট লেডির দেবরকে। তবে হেরে গিয়েও তিনি জিতে যান অন্যভাবে। সেদিনের নির্বাচনে সারা দেশে মোট ৪৩টি কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। এর মধ্যে ২৭টি কেন্দ্র ছিল তার নির্বাচনী এলাকায়। কিন্তু এই জেতায় কোন ফল নেই। ষড়যন্ত্রের পুরো অংশ যখন বুঝতে পারেন, ততক্ষণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বসলেন দুই ভাই। নতুন কিছু কৌশলও ঠিক করলেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। পাওয়ার পলিটিকসের ঝানু প্লেয়ার হিসেবে পরিচিত এই নেতা কঠিন প্রতিশোধের শিকার হলেন অর্ধশতাব্দীরও অধিককালের সঙ্গিনীর কাছ থেকে। দলের ভেতরে-বাইরে তার কোন কথাই এখন আর হালে পানি পাচ্ছে না। সংরক্ষিত আসনে এমপি পদে নিজের পছন্দের কাউকেই জায়গা দিতে পারেননি তিনি। এমনকি ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যকেন্দ্রে থাকা আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকেও নয়। অগত্যা ভীতি-হতাশার অন্ধকারেই নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে বাঁচতে চাইছেন মামলার জালে বন্দি এই রাজনীতিক। আর সবকিছু থেকে নিজেকে আড়ালে রাখতে আপাতত দেশের বাইরে গেছেন তার ছোট ভাই।

হতাশার অন্ধকারে দুই ভাই by মনির হায়দার

তিনি এখনও দলের চেয়ারম্যান। আছেন সংসদেও। দৃশ্যত নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই বিজয়ী করে আনা হয় তাকে। তাই বলা হয়েছিল, তিনি শপথ নেবেন না। কিন্তু দেখা গেলো, শপথ নিয়েছেন।

রাজনীতি- ‘অল্প’ নয়, আরও গণতন্ত্র by এ কে এম জাকারিয়া

নির্বাচন না হওয়ার চেয়ে কম অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনও ভালো—এ ধারণা বোস্টন গ্লোব-এর নিয়মিত কলাম লেখক ও মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক টম কিনের। একেবারেই মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সিনেটের আগাম বিশেষ নির্বাচনে ভোটারদের কম অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেছেন এক কলামে।
লিখেছেন, একেবারে গণতন্ত্র না পাওয়ার চেয়ে অল্প একটু গণতন্ত্র পাওয়াও ভালো। বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পক্ষে এটা একটা ভালো যুক্তি হতে পারে! নির্বাচন না হওয়ার চেয়ে তো অন্তত একটি নির্বাচন হয়েছে, গণতন্ত্র রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু আমরা কি এখন ‘অল্প’ গণতন্ত্র নিয়েই খুশি থাকার অবস্থায় আছি, নাকি আমাদের চাওয়াটা বেড়েছে? ২০০৮ সালে সব পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগ গত মেয়াদের পাঁচ বছর পুরো করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হবে বা এর মধ্য দিয়ে যে নতুন সরকার এসেছে তাদের কাছ থেকে তো আরও গণতন্ত্রই স্বাভাবিক চাওয়া! গণতন্ত্রের পথে এগোনো মানে ‘অল্প’ গণতন্ত্র নয়, আরও গণতন্ত্র, বেশি গণতন্ত্র।

কেনের মত হচ্ছে, একটি মন্দ নির্বাচনের বিকল্প নির্বাচন না-হওয়া হতে পারে না। সে দিক থেকে দেখলে নির্বাচন না-হওয়ার চেয়ে ৫ জানুয়ারি অন্তত একটি ‘মন্দ’ নির্বাচন হয়েছে। মানে মন্দের মধ্যে ভালো। কিন্তু এ ধরনের ‘বিতর্কিত’ বা ‘একতরফা’ মন্দ নির্বাচন সব সময়ই আগাম নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি করে। নব্বইয়ের পর এ ধরনের একটি মন্দ নির্বাচনের নজির ছিল ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সরকার হয়েছিল, তা টিকে ছিল দুই মাসের কম।
ইতিহাসের কখনো হুবহু পুনরাবৃত্তি হয় না। এবারের ৫ জানুয়ারির মন্দ নির্বাচনের পর এই নির্বাচন বর্জন ও প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল যে দল ও জোটটি, তার নেতা বেগম খালেদা জিয়াও কার্যত এই সরকারকে ‘পুনরায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের জন্য এর চেয়ে বেশি সময় দিয়ে ফেলেছেন। ‘অতি দ্রুত সংলাপে বসে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অতি দ্রুত নির্বাচন’ দেওয়ার যে আহ্বান তিনি ২০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে জানিয়েছেন, তাতেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সরকার যদি আজই সংলাপ শুরু করে এবং ‘পুনরায় একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়, তার পরও মাস ছয়েক সময় লেগে যাওয়ার কথা। ২০১৪ সালের মন্দ নির্বাচন যে সরকার উপহার দিয়েছে তা যে ’৯৬-এর মন্দ নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা সরকারের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
এবারের মন্দ নির্বাচনের আরও একটি দিক হচ্ছে, এই নির্বাচনের পর দেশে এখন একটি স্বস্তির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ’৯৬-এর মন্দ নির্বাচনের পর পরিস্থিতি ছিল পুরো উল্টো। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সবগুলো প্রধান বিরোধী দলের হরতাল ও আন্দোলনের কর্মসূচিতে তখন দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০১৪ সালের ‘বিতর্কিত’ ও ‘একতরফা’ নির্বাচনের পর আমরা দেখলাম বেগম খালেদা জিয়া পতন না-হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ‘অবৈধ সরকারের’ বিরুদ্ধে ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। দেশে আপাতত হরতাল বা অবরোধের মতো কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। নির্বাচন বর্জন বা প্রতিরোধে সহিংস ও নাশকতার কৌশল নিয়ে পুরো ব্যর্থ দলটির নেতা খালেদা জিয়ার সামনে অবশ্য এখন ‘শান্তিপূর্ণ’ কর্মসূচি না দেওয়ার কোনো বিকল্প আছে বলেও মনে হয় না।
তবে নির্বাচন-পরবর্তী এই যে স্বস্তির পরিস্থিতি, এটা নিয়ে নতুন সরকারের স্বস্তি বা আত্মতৃপ্তির কোনো সুযোগ নেই। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার নিয়ে দেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেছিল জামায়াত-শিবির ও হেফাজত, তার সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধ ও নাশকতার কর্মসূচি যুক্ত হওয়ায় দেশবাসী এক দমবন্ধ অবস্থার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। যেভাবেই হোক, এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাইছিল জনগণ। একটি মন্দ নির্বাচন হলেও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সেই পরিস্থিতি থেকে দেশবাসীকে মুক্তি দিয়েছে। জনগণের মধ্যে স্বস্তির ভাবটি সে কারণেই।
কিন্তু এ ধরনের স্বস্তির পরিস্থিতি অনির্দিষ্ট সময় বা বর্তমান সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদ পর্যন্ত বজায় থাকবে—এমন আশা নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছু নয়। ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে এক-এগারোর সরকারে স্বস্তি খুঁজে পেয়েছিল জনগণ। সেই স্বস্তি যে বেশি দিন থাকেনি, তা নিশ্চয়ই আমরা ভুলে যাইনি। সেনাসমর্থিত সেই সরকারের ভুল ও বাড়তি নানা পদক্ষেপ জনগণ মেনে নেয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ টের পেয়েছিল এক-এগারোর সরকার। সবকিছু থেকে সরে এসে সেই সরকারকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকেই পুরো মনোযোগ দিতে হয়েছিল এবং তা অনুষ্ঠান করে মানে মানে সরে যেতে হয়েছিল।
তবে আবারও বলি, ইতিহাসের কখনো হুবহু পুনরাবৃত্তি হয় না আর বর্তমান সরকার এক-এগারোর সরকারের মতো অনির্বাচিত সরকারও নয়, একটি মন্দ নির্বাচনের মাধ্যমে হলেও নির্বাচিত সরকার। কিন্তু বর্তমান স্বস্তির পরিস্থিতি যে বেশি দিন থাকবে না, সেটা অনুমান করা যায়। আর দল হিসেবে বিএনপি বর্তমানে যে কোণঠাসা অবস্থায় আছে, সেই পরিস্থিতির আদৌ কোনো পরিবর্তন হবে না—এমন ভাবাটাও বোকামি হবে। বিএনপি নিশ্চয়ই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ৯৭টি উপজেলায় যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেখানে বিএনপি জোরেশোরেই নামছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলকে সক্রিয় করার চেষ্টা করবে বিএনপি, এই নির্বাচনের ফলাফলও একটি বড় প্রভাব ফেলবে সামনের দিনগুলোর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে। ৫ জানুয়ারির মন্দ নির্বাচন তাই যেকোনো সময়ে আগাম নির্বাচনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
আমরা মানি বা না মানি নির্বাচন বা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিষয়টি এখন আর কোনো অর্থেই ‘অভ্যন্তরীণ’ ব্যাপার নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মুখে যতই ‘দেশটি ও দেশটির জনগণের নিজস্ব ব্যাপার’ ধরনের শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করুক, বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। যদি সেটাই হতো, তবে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এত দৌড়ঝাঁপের কোনো ব্যাপার ছিল না। আর আওয়ামী লীগও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বা এখন ভাবমূর্তি উদ্ধারে এত তত্পর হতো না অথবা ঘরে বসে কর্মসূচি ডেকে বিএনপি নির্বাচনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকত না।
বিশ্বের যেকোনো দেশের নির্বাচনেরই এখন একটি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা লাগে। জিম্বাবুয়ে, তাজিকিস্তান বা ঘানা, টোগো বা মালির মতো দেশগুলো অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এসব গ্রহণযোগ্যতার ধার না ধেরেই টিকে আছে। কিন্তু এসব দেশ আন্তর্জাতিক মহলে আর যা-ই হোক, ‘গণতান্ত্রিক দেশ’ হিসেবে খুব একটা বিবেচিত হয় না। বাংলাদেশ কি এই দেশগুলোর কাতারে নাম লেখাতে চায়? এই দেশগুলোর নামের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হোক সেটাই কি আমাদের চাওয়া?
৫ জানুয়ারির মন্দ নির্বাচন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়টি সবাই এড়িয়ে গেছে। নির্বাচনের পর বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ ও সংস্থাগুলো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রসঙ্গটি ছিল ঠিকই, কিন্তু নির্বাচন নিয়ে অসন্তুষ্টির বিষয়টিও ছিল পরিষ্কার। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দ্রুত সমঝোতায় আসা, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়, এমন একটি নির্বাচনের দ্রুত ব্যবস্থা করা—এটাই ছিল প্রতিক্রিয়াগুলোর মূল সুর। মানে ৫ জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে, তার বদলে একটি অংশগ্রহণমূলক ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাওয়া।
৫ জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে তা বাংলাদেশের একটি বাস্তবতা। নির্বাচন না হওয়ার চেয়ে হয়তো মন্দ নির্বাচন ভালো। আবার মন্দ নির্বাচন আগাম নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি করে এবং সেটি একটি ভালো নির্বাচনের সম্ভাবনাকেই সামনে নিয়ে আসে। অল্প গণতন্ত্র নয়, আমাদের চাওয়া বেশি গণতন্ত্র। মন্দ নির্বাচন নয়, আমাদের চাওয়া ভালো নির্বাচন। আগামী নির্বাচন যখনই হোক, সেটি হতে হবে আরও গণতন্ত্রের নির্বাচন!
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com