Sunday, September 15, 2019
সৌদি আরবে তেল শোধনাগারের ওপর ড্রোন হামলা কিসের ইঙ্গিত
![]() |
| সৌদি তেল স্থাপনার ওপর ড্রোন হামলা হয়েছে |
ড্রোন হামলা
হুতি কারা?
![]() |
| সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট নিয়মিত ইয়েমেনে হুতিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছিনতাইয়ের ফাঁদ যখন শিশু by পিয়াস সরকার

রাস্তার ডিভাইডারে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা। রোকন নোমানকে কোলে নিয়েই দুজনের পাশে দাঁড়িয়ে যায়। এরপর কৌশলে ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতর থেকে বের করে নেয় পার্স। ঘটনাটি দেখেন জয়নুল আবেদীন নামে আরেকজন পথচারী। তবে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না ব্যাগ থেকে কিছু বের করে নিয়েছে কিনা। তিনি দ্রুত দুই নারীর কাছে গিয়ে ব্যাগের সব ঠিক আছে কিনা নিশ্চিত হতে বলেন। তখন তারা দেখেন একজনের পার্স নেই। আবার দ্রুত রাস্তা পার হন জয়নুল। দেখা যায়, বাচ্চা কোলে নিয়েই রোকন রিকশায় বসে আছে। যানজট থাকায় সহজেই ধরে ফেলেন জয়নুল। চুরি যাওয়া পার্সে ছিলো ২টি মোবাইল ও প্রায় ৭ হাজার টাকা।
এরপর রোশানলে পড়ে শৈশবে ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়া রোকন। হাতে নাতে ধরা পড়ে পিটুনির শিকার হয় সে। তবে কোলের শিশুর কারণে অনেকেই থামিয়ে দিচ্ছিলেন তাদের। মহিলা তার পার্স নিয়ে চলে যান। রোকন বারবার একই কথা বলে সকাল থেকে না খেয়ে থাকার কারণেই ছিনতাই করতে বাধ্য হয়েছে। কান্না করতে করতে সরল স্বীকারোক্তি রোকনের। এরই মাঝে প্রশ্ন ছোঁড়েন সবাই। কোলে থাকা শিশুটি কার?
রোকন জানায়, ওই শিশুটি তার বোনের ছেলে। কিন্তু চেহারা ও পোশাকের সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। রোকনের কাছে বোনের মোবাইলফোন নম্বর চাইলে সে বলে মুখস্ত নেই। অন্য কারো নম্বর চাইলেও দিতে পারে না। তখনই সন্দেহ আরো বেড়ে যায়। উৎসুকদের ধারণা, রোকন শিশুটি চুরি করেছে। অবশ্য অন্য কেউ কোলে নিলেই কেঁদে উঠছিলো নোমান। কিন্তু রোকনের কোলে গেলেই থেমে যাচ্ছে কান্না।
এবার আর দেরি না করে খবর দেয়া হয় পুলিশে। ঠিক তখনই চিত্র পাল্টে যায়। রোকনকে বাঁচানোর চেষ্টায় উঠেপড়ে লাগে দুই ব্যক্তি। তাদের ভাষ্য, রোকন ওই দুজনের পরিচিত। বাচ্চা তার বোনেরই। তবে কেউ দিতে পারছিলো না বাচ্চার মা বা বাবার মোবাইল নম্বর। মোহাম্মদপুর থানার উপ পরিদর্শক সানাউল হক ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় হুট করেই রোকনকে বাঁচাতে চাওয়া দুই ব্যক্তি ও রিকশা চালক সেখান থেকে সটকে পড়ে।
পুলিশ আসার সঙ্গে সঙ্গে রোকন সেই একই উত্তর দেয়। সে জানায় নোমান তার ভাগ্নে। এতক্ষণ বারবার প্রশ্ন করলেও বাড়ির ঠিকানা বলছিল না সে। শুধু বলছিল জেনেভা ক্যাম্পে থাকে। উপ পরিদর্শক সানাউল হক রোকনকে নিয়ে নোমানের বাড়িতে যান। সেখানে পাওয়া যায় নোমানের মাকে। তার নাম জোসনা বেগম। শিশুটি দীর্ঘ সময় পর পায় তার নিরাপদ স্থান মায়ের কোল। এই সময় প্রায় শতাধিক ক্যাম্পের লোকের ভিড় জমে যায়। জোসনা কোনোভাবেই শিশুটির সঙ্গে তার ছবি তুলতে দেননি। একবার ছবি তোলার চেষ্টা করতেই রীতিমতো ক্ষেপে যান।
কিন্তু শিশুটিকে নিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা শুনেও স্বাভাবিক লাগে সেই নারীকে। ভাবটা এমনই ছিল যেন, তিনি জানতেন। তার একমাত্র কোলের শিশুটিকে নিয়ে ভাই ছিনতাইয়ে নেমেছে। গতকালও জেনেভা ক্যাম্পে সরজমিন ঘুরে আসল ঘটনার তথ্য মিলে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই রোকন শৈশব থেকে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। কয়েকবার চুরি করে ধরাও খায়। একেক সময় একেক কৌশল অবলম্বন করে সে। ভাগ্নে নোমান জন্ম নেয়ার পর তাকে কোলে নিয়ে ছিনতাইয়ের অভিনব কৌশল গ্রহণ করে।
জেনেভা ক্যাম্প বাসিন্দাদের একজন বলেন, কয়েকদিন আগে এক নারীর ব্যাগ চুরি করার সময় ধরা পড়ে। তখন সে দাবি করে, না খেয়ে আছে দুজন। ভাগ্নের দুধ কেনার টাকা নেই। এভাবে ছলছাতুরির আশ্রয় নিয়ে সেই নারীর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা আদায় করে নেয় রোকন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বাসিন্দা আরো বলেন, কোলে বাচ্চা থাকায় অনেকেরই সন্দেহ হয় না। আর ধরা খেলেও বাচ্চাকে নিয়ে মিথ্যা বলে সহানুভূতি পায়।
আসলেই কী অভাবের তাড়নায় দিন কাটছে তাদের? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, রোকনের বোন জামাই মাংসের দোকানে কাজ করেন। আর্থিক অবস্থা খুব ভালো না হলেও না খেয়ে থাকতে হয় না। এটি মূলত অর্থ উপার্জনের একটি উৎস।
আরো জানা যায়, ছিনতাইয়ের সময় তার সঙ্গে থাকে আরো ২ থেকে ৩ জন। রোকন ছিনতাই করার পরপরই তা আরেকজনের হাতে দিয়ে দেয়। আর রিকশা কিংবা সিএনজি চালিত অটোরিকশার মাধ্যমে দ্রুত সটকে পড়ে ঘটনাস্থল থেকে। এছাড়া বিপদ থেকে রক্ষা করাও তাদের কাজ।
ছিনতাই করা মোবাইল কিংবা দামি জিনিস নিয়ে দ্রুত ঢুকে পড়ে ক্যাম্পে। নিরাপদ স্থানে আসার আগেই খুলে ফেলে সিমকার্ড। এরপর বেশ কিছুদিন লুকিয়ে রাখার পর সেই মোবাইল ফোন বিক্রি হয় পুরাতন মোবাইলের দোকানে। শিশু নিয়ে ছিনতাইয়ের বিষয়টি একেবারে নতুন একটি কৌশল। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ক্যাম্পে অনেক উপায়ে ছিনতাই বা মাদকের কারবার চললেও ছিনতাইয়ের এই ‘ট্রেন্ড’ একেবারেই নতুন। এমন ৪ থেকে ৫টি শিশু রয়েছে যাদের নিয়ে বিভিন্ন সময় ছিনতাই মিশনে নামে বড়দের একটি সক্রিয় গ্রুপ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সৌদি আরবে বইতে শুরু করেছে পরিবর্তনের হাওয়া by অনিম আরাফাত

বৃটিশ গণমাধ্যম মেট্রো ওই নারীকে বিদ্রোহী হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, দেশটিতে এখন অনেক নারীই প্রচলিত প্রথা ভেঙে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। তারা বলছেন, আমি কী পরবো না পরবো সেটি চাপিয়ে দেয়ার অধিকার অন্য কারো নেই। তারা এখন দেশটির ধর্মীয় কট্টরপন্থিদের দ্বারা হুমকির শিকার হচ্ছেন কিন্তু এটি এখন সপষ্ট যে, ধীরে ধীরে হলেও সৌদি আরবে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এর জন্য দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানেরও বেশ অবদান রয়েছে।
গত বছর সিবিএসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবে পোশাক নিয়ে প্রচলিত আইন শিথিল করবেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, এই ধরনের বাধ্যবাধকতা ইসলামে নেই। তবে এ নিয়ে দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আইন পাশ হয়নি। তবুও এখন সেখানে অনেককেই দেখা যাচ্ছে যারা তাদের আবায়া বাসায় ফেলে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ আবার বোরকার আধুনিক সংস্করণ পরতে শুরু করেছেন। অন্ধকার কালো রঙ ছেড়ে কেউ রঙিন আবায়া পরছেন।
৩৩ বছর বয়সী মাশায়েল আল-জালুদও আবায়া ছেড়ে সাধারণ পোশাকেই যাতায়াত শুরু করেছেন। কিন্তু সমপ্রতি রাজধানী রিয়াদের একটি শপিং মলে তার আবায়াহীন কিছু ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায় উঁচু জুতা, সমপূর্ণ খোলা চুল ও পাশ্চাত্য ধাঁচের দৃষ্টিনন্দন পোশাকে দোকানে দোকানে ঘুরছেন তিনি। তাকে দেখে আশেপাশের সবাই মনে করেছিলেন তিনি হয়তো বড় কোনো তারকা হবেন। কিন্তু বাস্তবে জানা যায়, তিনি আসলে একজন সাধারণ সৌদি নারী। রিয়াদেই একটি প্রতিষ্ঠানে মানবসমপদ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন।
গত জুলাইতে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন টুইটারে। এতে তিনি জানান, সৌদি আরবে পোশাক নিয়ে কোনো সপষ্ট আইন নেই। আমি হয়তো ঝুঁকিতে আছি। ধর্মীয় কট্টরপন্থিরা আমাকে হুমকি দিচ্ছে কারণ আমি আবায়া পরছি না। কিন্তু এটি কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। কারণ তা হলে সৌদি নারীরা দেশের বাইরে গেলে আবায়া ছুড়ে ফেলতো না।
তবে শুধু মাশায়েলই নয় এখন অনেক সৌদি নারীই আবায়া ছাড়া বাইরে বেরুতে শুরু করেছেন। এরমধ্যে একজন হচ্ছেন মানাহেল আল-ওতাইবি। ২৫ বছর বয়স্ক এই যুবতী বলেন, গত ৪ মাস ধরে আমি রিয়াদে কোনো ধরনের আবায়া ছাড়াই আছি। আমি আমার মতো করে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই। আমাকে কেউ এমন কিছুতে জোর করতে পারে না যেটা আমি চাই না।
সৌদি আরব যে অঞ্চলে অবস্থিত সেখানে কয়েক হাজার বছর থেকেই আবায়ার প্রচলন ছিল। কিন্তু এটি বাধ্যতামূলক হয় মাত্র কয়েক দশক পূর্বে। সেখানে যারা অমুসলিম রয়েছেন তাদের জন্যও এটি বাধ্যতামূলক। দেশটির ধর্মীয় পুলিশ এই পোশাকের বিধান নিয়ে অনেককেই হেনস্থা করে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবায়া না পরা নারীদের রাস্তাঘাটে ব্যাপক উত্ত্যক্তের শিকার হতে হয়। তবে দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দেশের এমন অবস্থায় নাড়া দিতে চাচ্ছেন। কট্টরপন্থাকে ঝেড়ে ফেলে উদার রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য সৌদি আরবের অনেক বিষয়কেই সংস্কার করেছেন তিনি। দেশটিতে তিনি সিনেমা নিয়ে এসেছেন, একইসঙ্গে নির্মাণ করছেন সিনেমা হলও। নারী-পুরুষের জন্য একইসঙ্গে কনসার্টের আয়োজন করছেন এবং নারীদের অধিকতর স্বাধীনতা অনুমোদন করেছেন। দেশটিতে এখন বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীদের কনসার্ট হচ্ছে।
তারপরেও এখনো সেখানে জীবন নারীদের জন্য সহজ নয়। যারা প্রচলিত প্রথাকে চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেছেন তাদেরকে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সামনে পড়তে হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সৌদি নারীরা প্রতিবাদও জানাতে শুরু করেছেন। দেশটির নারীরা দিন দিন নিজেদের অধিকার ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নে সচেষ্ট হয়ে উঠছেন। ফলে সেখানে থাকা পুরুষ অভিভাবকত্ব আইনও কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিথিল হতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে সৌদি আরবে বইতে শুরু করেছে পরিবর্তনের হাওয়া।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরা by হাসনাত আবদুল হাই

বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে কতজন ফিরে যাবে স্বদেশে, স্বগৃহে তা ভবিষ্যতই বলতে পারে। কিন্তু এখন কিন্তু অনুমান করে বলা যায় কোন পরিস্থিতিতে তারা শরণার্থী শিবির ত্যাগ করে প্রত্যাবর্তন করতে পারে। শরণার্থী হয়ে মিয়ানমার সীমান্ত পার হয়ে আগেও দলে দলে রোহিঙ্গা নর-নারী ও শিশুরা এসেছে। কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় বলতে গেলে তাদের স্থায়ী শরণার্থী শিবির গড়ে উঠেছে নব্বইয়ের দশকে থেকে। কিন্তু ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে সুনামির মতো একসঙ্গে যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী নাফ নদী পার হয়ে টেকনাফে এসে পৌঁছায় তাদের সংখ্যা এর আগে আসা শরণার্থী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ছাপিয়ে যায় রাতারাতি। সেখানে আগে বিভিন্ন সময়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় সাড়ে ৭ লাখ। আর কোনো দেশে একসঙ্গে এই বিপুল সংখ্যায় শরণার্থী উপস্থিত হয়নি। বাইরের বিশ্ব অবাক হয়ে দেখেছে কীভাবে ঘন বসতিপূর্ণ বাংলাদেশ সরকার মানবিক বিবেচনায় এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। নিজ দেশের মানুষ অনেক কষ্টে থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর তার উদার দৃষ্টিতে সহানুভূতিশীল হয়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে ইতস্তত করেনি, এর জন্য অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক কোনো খাদ্যাভাব ও মহামারি ঘটতে না দিয়ে দুই বছরের ওপর নতুন ও পুরাতন শরণার্থী প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর থাকা-খাওয়া এবং চিকিত্সার ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ শরণার্থী ব্যবস্থাপনার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা মিয়ানমার সরকারের বর্বরোচিত এবং অমানবিক আচরণের শিকার রোহিঙ্গাদের ওপর নজিরবিহীন নিপীড়নে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন যে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জেনোসাইড সংঘটিত করেছে সে দেশের সেনা-সমর্থিত সরকার। তিনি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রধান হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগে রোহিঙ্গাদের দেশ ত্যাগের নীতিকে এথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত নির্মূলকরণ নীতি বলে অভিহিত করে এর তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা করেছে। মিয়ানমারের সেনা-সমর্থিত অগণতান্ত্রিক সরকার দীর্ঘকাল এইসব সমালোচনা ও নিন্দা উপেক্ষা করে বলে এসেছে যে এসব তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু যখন একটি দেশের ১০ লাখের ওপর নাগরিক প্রাণভয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেয় তখন তার অভ্যন্তরীণ বিষয় হয়ে থাকে না। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্মূল নীতি আন্তর্জাতিক সব মহলে ও সংস্থার গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে এবং হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ এর সংস্থা ইতোমধ্যে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ দিয়ে ব্যবস্থা ও গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও মিয়ানমার সামরিক গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ব্যবস্থা নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচার আদালত থেকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতার অধিকার লঙ্ঘনের অপরাধ সংঘটনের জন্য মামলা দায়েরের প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই সব আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বিরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখে মিয়ানমার সরকার বাধ্য হয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু তাদের এই আগ্রহের সঙ্গে সরেজমিনে গৃহীত পদক্ষেপের কতটুকু মিল রয়েছে। তা এখনো বিষদভাবে জানা যায়নি। কেননা রাখাইনের প্রদেশে বাইরের কেউ এখনো প্রবেশ করতে পারে না। রাখাইনদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের ক্রেকডাউনের পর সে অঞ্চলের সঙ্গে বাইরের টেলিযোগাযোগ এবং যাতায়াত ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়নি। ফলে ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পূর্ব-ইউরোপে যে আয়রন কার্ডেন বা লৌহ যবনিকা ছিল তার মতো রাখাইন প্রদেশেও বহিরাগতদের জন্য দুর্ভেদ্য, দুর্গম এলাকা হয়ে গিয়েছে যার পরিবর্তন হয়নি আজ পর্যন্ত।
সম্প্রতি মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছিল। তাদের এই প্রস্তুত কোন ধরনের, সে সম্বন্ধে বিশদ কিছু তথ্য তারা দেয়নি। তবে সম্প্রতি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যেসব ছবি পাওয়া গিয়াছে তা থেকে দেখা যায়, রোহিঙ্গারা যেসব গ্রামে বাস করত সেগুলো গুঁড়িয়ে মাটির সঙ্গে সমান করে দেওয়া হয়েছে। এ থেকে মনে হয় তাদেরকে নিজ গ্রামে না নিয়ে ক্যাম্পে রাখা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা বলা হলেও এই সব ক্যাম্পে যে স্থায়ী হয়ে যাবে সে আশঙ্কা রয়েছে রোহিঙ্গাদের। ২০০৫ সালে জাতিগত দাঙ্গার পর মিয়ানমারে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বছরের পর বছর ক্যাম্পে বন্দির মতো বাস করছে। সেখানকার জীবন নািস জার্মানির কনসেন ক্যাম্পের চেয়ে কম নয়। তফাত শুধু এই যে, সে ক্যাম্প হত্যার জন্য গ্যাস চেম্বার নেই। কিন্তু প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহের অভাবে ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের তিলে তিলে মৃত্যুর ব্যবস্থা বেশ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ গ্রহণ করেছে। শরণার্থী হয়ে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে তারা মিয়ানমার সরকার পরিচালিত মৃত্যু শিবির এই ক্যাম্প সম্পর্কে অবহিত। জেনেশুনে তারা ঐ ধরনের ক্যাম্পে যাবে না, এটা অনেকটা নিশ্চিত। তারা নিজ গ্রামে প্রত্যার্বতন করে পুরোনো জীবনের হাল আবার ধরতে চায়। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের সিটিজেনশিপ বা নাগরিকত্বের প্রশ্ন। তারা পুরোনো নাগরিক হয়ে অন্যান্য নাগরিকের মতো অধিকার ভোগে নিরাপত্তা পেতে চায়। এখন পর্যন্ত মিয়ানমার দ্ব্যর্থহীনভাবে এই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রী পর্যায়ে তাদের যে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে এসেছিল তারা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের বিদেশি বসবাসকারী হিসাবে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। এই অমর্যাদাকর এবং অনিশ্চিয়তাপূর্ণ পরিচিতি নিয়ে কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন করবে বলে মনে হয় না। এটা জেনেও মিয়ানমার সরকার নাগরিত্ব সম্পর্কে এ কথা বলেছে তার অর্থ কি, এই যে তারা প্রকৃত পক্ষে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে খুব আগ্রহী নয়। রোহিঙ্গাদের জন্য নাগরিকত্বের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা তারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়, বহিরাগত। এই যুক্তিতেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, পুলিশ, মিলিশিয়া এবং উগ্র বৌদ্ধ নেতারা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চরম নিষ্ঠুরতা দেখিয়ে হত্যা করেছে এবং তাদেরকে নিজ বাসস্থান থেকে বিতাড়িত করেছে। পূর্ণ নাগরিকের অধিকার না পেয়ে প্রত্যাবর্তন করলে তারা শুধু নিকৃষ্ট শ্রেণির অধিবাসী হয়ে থাকবে না, ভবিষ্যতেও নিপীড়ন ও নিষ্ঠুরতার শিকার হবে। এই আশঙ্কা রোহিঙ্গাদের দূর করা না হলে তারা আগ্রহ নিয়ে দেশে ফিরে যাবে না। এ কথা বলা যায়।
গত বছর নভেম্বর মাসে রোহিঙ্গাদেরও প্রত্যাবর্তনের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারকে দ্বিপাক্ষিক সম্মতির ভিত্তিতে একটা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। সে সময় কোনো রোহিঙ্গা ফিরে যেতে চায়নি। এই কারণে যে, তাদের নাগরিকত্ব বিষয়টা নিষ্পত্তি করা হয়নি বলে। ২০১৮ সালের জুন মাসে মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘের ইউএসডিপি এবং শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয়। যার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা সরেজমিনে দেখার এবং পুনর্বাসনের অনুকূল কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা এখনো উপসংহারে আসতে পারেনি যে, রাখাইনে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে এবং সেখানে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ব্যবস্থার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিবারকে ইন্টারভিউ করে জেনে নেওয়া হবে তারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যেতে ইচ্ছুক কি না। এখানে যে সমঝোতা হয়েছে তাহলো এই যে, জোর করে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফেরত পাঠানো হবে না।
গত বছরের নভেম্বর মাসে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার সরকারের কাছে ৫০ হাজার শরণার্থীর নাম পাঠালেও তারা বর্তমানে মাত্র ৩ হাজার ৭৫০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছিল। এভাবে মিয়ানমার যদি বাংলাদেশের দেয়া শরণার্থীর তালিকা কাটছাঁট করে নিজেদের পছন্দমতো ক্ষুদ্র সংখ্যায় রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চায় তাহলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুধু বিলম্বিত হবে না, তাদের সবার ফিরে যাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়াবে। সে যা-ই হোক, যেসব শরণার্থীকে ফেরত দেওয়া হবে তাদের তালিকা জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক প্রতিনিধিকে দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী তারা শরণার্থীদের মত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। সংস্থা প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে, স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে ইচ্ছুক এমন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনে তারা সমর্থন জানাবে। এই পর্যন্ত কোনো শরণার্থী পরিবার স্বেচ্ছায় যেতে রাজি বলে মত প্রকাশ করেনি। তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের মাধ্যমে নিজ গ্রামে পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা না দিলে তারা যে ফিরে যেতে উত্সাহী হবে না তা তাদের কথায় প্রমাণ পাওয়া যায়।
শুধু নাগরিকত্ব আর নিজ গ্রামে ফেরত যাওয়ার নিশ্চয়তা নয়, প্রত্যাবর্তনের পর তাদের নিরাপত্তার বিষয়েও রোহিঙ্গারা নিশ্চিত হতে চায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একসময় রাখাইন অঞ্চলে সেফটি জোন বা নিরাপদ এলাকা ঘোষণা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেখানে নিরাপত্তা বিধানের জন্য অন্তত কিছুকাল জাতিসংঘের শান্তিবাহিনী থাকা প্রয়োজন। নিরাপত্তা বিধানের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক সংস্থা, মিডিয়া এবং সাহায্যকারী এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিদের রাখাইনে অবাধে যাতায়াত নিশ্চিতকরণ নিরাপত্তা বিধানের অংশ হিসেবে দেখাতে হবে। এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সরকার নাগরিকত্ব, নিজ গ্রামে প্রত্যাবর্তনসহ নিরাপত্তা বিধানের বিষয়ে নীরব। এমতাবস্থায় রোহিঙ্গাদের অধিকাংশ রাখাইনে প্রত্যাবর্তনে খুব আগ্রহ না দেখালে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
>>>লেখক :কথাশিল্পী ও সাবেক সচিব
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে ভারতীয় নেতাদের আক্রমণাত্মক অবস্থান, নতুন উত্তেজনা

তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান যদি তার নিজের ভালো চায়, তাহলে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকে আমাদের হাতে তুলে দেয়া উচিত। পাকিস্তানের স্বার্থের জন্যই এটা করা উচিত ইমরান খানের। মন্ত্রী রামদাস আথাওয়েল বলেছেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ভেতরকার জনগণ আর পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতে চান না। তারা চান ভারতের সঙ্গে যোগ দিতে। এমন সব রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। ৭০ বছর ধরে আমাদের কাশ্মীরের এক-তৃতীয়াংশ দখলে নিয়েছে পাকিস্তান। এটা একটা মারাত্মক বিষয়।
কিন্তু এটি পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল নিয়ে ভারতীয় নেতাদের প্রথম বক্তব্য নয়। এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান ভিকে সিংও ভারতের উদ্দেশ্য সমপর্কে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ইমরান খানের ওই জ্বালাময়ী বক্তৃতার একদিন আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের ‘বিশেষ কৌশল’ রয়েছে।
এর আগে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের এক বিবৃতিতে জানান, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিষয়ে ‘অ্যাকশন’ নিতে সব সময়ই প্রস্তুত ভারতের সেনাবাহিনী। তারা এখন শুধু কেন্দ্রীয় নির্দেশের অপেক্ষায় আছে। এ বিষয়ে সাবেক সেনাপ্রধান ভিকে সিংকে প্রশ্ন করা হয়। তাতেই তিনি মোদি সরকারের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি শুধু বলেন, একটি ‘স্ট্র্যাটেজি’ বা কৌশল নেয়া হয়েছে। কিন্তু কি সেই কৌশল তা এখনই জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের কাছে কঠোর এক বার্তা পাঠিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন্দ্রকে। যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী। এমন সব বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের নির্দেশনা মতো কাজ করবে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই সেনাবাহিনী সব সময় প্রস্তুত। জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে জেনারেল বিপিন রাওয়াত বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে অবশ্যই সহায়তা করতে হবে জনগণকে। তিনি আরো বলেন, কাশ্মীরি জনগণ বহু বছর ধরে সন্ত্রাসের ক্ষত বহন করে বেড়াচ্ছেন। তাই সেখানে শান্তি ও উন্নয়নের জন্য সরকারকে একটি সুযোগ দেয়া উচিত।
স্বাভাবিকভাবেই ভারতের এধরনের আগ্রাসী পরিকল্পনাকে ভালোভাবে নেয় নি পাকিস্তান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাশ্মীরের নিজেদের অধিকৃত অংশ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন ইমরান খান। প্রথম থেকেই ভারতীয় নেতাদের বক্তব্য ও পদক্ষেপগুলোতে এর ইঙ্গিত ছিল। সেটি বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় ইমরান খানের মতো চৌকস ব্যক্তির। তাই তিনি উঠে পড়ে লেগেছেন কাশ্মীরে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। বিশ্বব্যাপী সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন তিনি। একইসঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর সমর্থন পেতে ব্যবহার করছেন ধর্মীয় আবেগেরও।
নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতীয় সেনাদের গুলিতে নিহত পাকিস্তানি সেনা
এদিকে কাশ্মীর নিয়ে নানা উত্তেজনার মধ্যেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে আবারো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতীয় সেনারা গুলি চালিয়ে এক পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে। শনিবার সকালে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এ নিয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
খবরে বলা হয়, বিনা উস্কানিতে হাজিপীর সেক্টরে গুলি চালায় ভারতীয় সেনারা। এতে নারোওয়ালের অধিবাসী হাবিলদার নাসির হোসেন (৩৩) নিহত হয়েছেন। তিনি ১৬ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ৫ই আগস্ট নয়াদিল্লি জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার পর অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রধর এ দুটি দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগে ওই একই সেক্টরে ভারতীয় সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ভাওয়ালনগরের অধিবাসী সিপাহি গোলাম রসুল। এসব ঘটনায় নিন্দা জানাতে বেশ কয়েকবার পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতের কূটনীতিকদের তলব করা হয় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টার চালানো দুঃসাহসী তরুণী by ওয়াসিদ রাজা
![]() |
| লুয়ানা তোরেস |
![]() |
| লুয়ানা তোরেস |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্প পয়েন্টে বৃটিশ রাজনীতি by লুক ম্যাকগি

এর অর্থ হচ্ছে, আদালত মনে করে চুক্তির মধ্য দিয়ে হোক বা চুক্তিহীন হোক আগামী ৩১শে অক্টোবরই ব্রেক্সিট সমপাদনের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত করে দিতে চেয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। আগামী মঙ্গলবার লন্ডনের সর্বোচ্চ আদালতে এ মামলার শুনানি হবে। সেখানে থাকা ৯ বিচারপতির মধ্যে বেশিরভাগ যদি স্কটিশ রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেন তাহলে এটি হতে যাচ্ছে এখন পর্যন্ত বরিস জনসনের জন্য সবথেকে বড় পরাজয়।
এ ছাড়া আদালতে আরেকটি পরাজয়ের পথে আছে জনসন সরকার। বৃটেনের সবথেকে ছোটো অংশ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের কাছে ব্রেক্সিট কোনো খেলা না। বৃটেনের চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট বিখ্যাত গুড ফ্রাইডে শান্তিচুক্তির লঙ্ঘন কিনা এ প্রশ্নে বৃহসপতিবার নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের একটি আদালত রায় দিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার এটি আবারো আদালতে উঠতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে সেদিনই এই মামলা মিটে যাবে। বৃটেনের অংশ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র আয়ারল্যান্ডের পাশেই। ফলে চুক্তিবিহীনভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এলে বৃটেনের এই অংশের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের সীমান্তে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তবে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হলে তা গুড ফ্রাইডে শান্তি চুক্তির লঙ্ঘন হবে এমন দাবি মানতে নারাজ বৃটিশ সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, উভয় রাষ্ট্র এই সীমান্তে যেকোনো ধরনের সংঘর্ষ এড়িয়ে চলবে। তবে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পর আইনগতভাবে এটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে সেটি এখনো সপষ্ট নয়। এখন আগামী মঙ্গলবার দুই আদালতে যে রায় দেয়া হবে তার একটি বা দুটিই সরকারের বিরুদ্ধে যেতে পারে। কিন্তু রায় যা-ই হোক না কেন, জনসন সরকারের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক চাপ রয়েছে তা ক্রমাগত বাড়তে থাকবে বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে সত্যিকারের রায় নির্ধারণ করবে জনগণের আদালত। এটি এখন অনেকটাই সপষ্ট যে বৃটেন একটি সাধারণ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। বেশির ভাগই মনে করেন একমাত্র একটি নির্বাচনই পারে ব্রেক্সিটকে বিলম্বিত করতে। আমরা জানি যে, জনসন সরকারের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা এমন একটি টিকিট ব্যবহার করতে চান যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামেপর খেলার ধরন থেকে খুব বেশি আলাদা না। শেষ পর্যন্ত যদি ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে আইনগতভাবেই বরিস জনসনকে চাপ দেয়া হয় তাহলে তিনি বলবেন, আমি ব্রেক্সিটের জন্য সবকিছু চেষ্টা করেছি কিন্তু অন্য রাজনীতিবিদরা আমাকে তা করতে দেয়নি। আইনজীবী, প্রশাসন এবং বিচারপতিরা আমাকে থামিয়ে দিয়েছে। কথাগুলো পরিচিত লাগছে না?
স্কটল্যান্ডের আদালতে পার্লামেন্ট স্থগিতাদেশকে বেআইনি ঘোষণা করার পর জনসন সরকারের এক মন্ত্রী জাতীয় টেলিভিশনে বলেন, বিচারকদের পক্ষপাতমূলক রায় নিয়ে দেশের অনেক মানুষ এখন প্রশ্ন করতে শুরু করেছে। আমি না দেশের অনেক মানুষই এখন বলছে বিচারকরা পক্ষপাতদুষ্ট। পরোক্ষভাবে বিতর্কিত ইস্যুগুলোতে কথা বলার এমন ধরনকে ডনাল্ড ট্রামেপর সমর্থকরা অবশ্যই বুঝতে পারবে।
পরদিন বৃটেনের কিছু সংবাদপত্র আরো একধাপ এগিয়ে গিয়ে বিচারকদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি দুর্বল বলে আখ্যায়িত করলো। ২০১৬ সালে যখন বিচারকরা একটি গণভোটের জন্য রায় দিয়েছিলেন তখনো এই সংবাদপত্র বিচারকদের জনগণের শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। বর্তমানে বৃটেনের রাজনীতি যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে তা অনেকটা হওয়ারই কথা ছিল। ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোটের ৩ বছর পরও ইইউ থেকে বৃটেনের বেরিয়ে যেতে ব্যর্থতা দেশটির বিষাক্ত রাজনৈতিক তর্ককে আরো বিভক্ত করে দিয়েছে। কিছু কিছু ব্রেক্সিটপন্থি তাই ব্রেক্সিট নিয়ে এত বেশি উৎসাহী হয়ে উঠছেন যে, একটি চুক্তির ভিত্তিতে ইইউ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তারা অপেক্ষা করতে পারছেন না। আবার অন্যরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্রেক্সিট বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে।
বরিস জনসনকে এখনি বৃটেনের ডনাল্ড ট্রামপ আখ্যা দেয়া ঠিক হবে না। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি সবসময়ই ডানপন্থি পপুলিস্টদের থেকে উদার আন্তর্জাতিকতাবাদী রাজনীতির কাছাকাছি ছিলেন। তবুও তার বিরোধীরা তাকে ট্রামেপর সূত্র ধরে যে আক্রমণ করছেন তা তাদের জন্য কার্যকরী। বরিস জনসনকে ট্রাম্পের সঙ্গে যেভাবে তুলনা করা হচ্ছে তা হয়ত সত্যি না। কিন্তু ব্রেক্সিট নিয়ে বিতর্ক এখন এতই বিষাক্ত হয়ে উঠেছে যে এই পরিস্থিতিকে ট্রামেপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করাই যায়। এভাবে দেখলে, বৃটেন এখন একটি ট্রামপময় সময় পার করছে।
(সিএনএন থেকে অনূদিত)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে ঢুকে মসজিদ নির্মাণে বিএসএফের বাধা

পরে একটি বড় আকারের টিনশেড মসজিদ নির্মাণ হয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় মসজিদ ও মাজারটি জিরো পয়েন্টে পড়ে যায়। কেরামতিয়া হুজুরের মাজার ও মোগল আমলের মসজিদকে কেন্দ্র করে প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ নানা নিয়তে নামাজ পড়তে যান সেখানে।
মসজিদটি পুণঃনির্মাণের কাজ শুরু হলে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের অজুহাতে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেয় বিএসএফ। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের উচ্চ পর্যায়ে মসজিদের নকশা অনুমোদন হওয়ার পর ওই বছরের ২৯শে এপ্রিল দোতলা মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কোটি টাকা ব্যয়ে এ মসজিদ নির্মাণের কাজ এখনো চলছে। কয়েকদিন ধরে মসজিদের দোতলায় জানালায় গ্লাস লাগালো হচ্ছে। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে আকস্মিকভাবে বিএসএফ ওই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।
মসজিদে নামাজ পড়তে আসা আসাদুল ইসলাম জানান, জন্মের পর থেকেই দেখছি কেরামতিয়া হুজুরের মাজার ও মসজিদকে ঘিরে এখানে প্রতি শুক্রবার হাজার হাজার নারী-পুরুষ আলাদা আলাদাভাবে নামাজে সমাবেত হন। কিন্তু দুই দেশের রাষ্ট্র পর্যায়ে নকশা অনুমোদন হওয়ার পরও শুক্রবার দেখলাম, ভারতীয় বিএসএফ বাংলাদেশে প্রবেশ করে নির্মাণ কাজে বাধা দিচ্ছে। ফলে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় আমাদের নামাজ পড়তে সমস্যা হচ্ছে।
মসজিদ কমিটির সম্পাদক আলিমুদ্দিন জানান, দুই দেশের মধ্যে নকশা অনুমোদন হওয়ার পর আমরা মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করি। কিন্তু প্রায় সময় বিএসএফ নানা অজুহাতে নির্মাণ কাজে বাধা দেয়। জানালায় রঙিন গ্লাস লাগাতে বাধা দিলে আমরা সাদা গ্লাস লাগাতে শুরু করি। কিন্তু শুক্রবার সেই গ্লাস লাগাতেও বাধা দেয়া হয়।
৬১ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির বড়খাতা কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইব্রাহিম মোল্লা জানান, ভারতীয় বিএসএফ মসজিদের নির্মাণ কাজে বাধা দিলেও নির্মাণ কাজ বন্ধ নেই। বিএসএফ আমাদের সঙ্গে নিয়ে মসজিদের নির্মাণ কাজ ঘুরে দেখেছেন। এখন নির্মাণ কাজ চলছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনাও হচ্ছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শোভন-রাব্বানী আউট: ছাত্রলীগের নতুন দায়িত্বে জয়-লেখক

ওবায়দুল কাদের জানান, দলের সব পর্যায়ের সম্মেলন দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২০ ও ২১শে ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ ও ১২ই মে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াই ছাত্রলীগের দুই দিনব্যাপী ২৯তম জাতীয় সম্মেলন শেষে ৩১শে জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দায়িত্ব পাওয়ার দীর্ঘ দিন পরও সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে ব্যর্থ হন তারা। সর্বশেষ কমিটি ঘোষণা করা হলেও এতে বিবাহিত, মাদকের সঙ্গে জড়িত, শৃঙ্খলা বিরোধী অনেককে দায়িত্ব দেয়ায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। পদ বঞ্চিত পক্ষ নতুন কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে চিহ্নিতদের কমিটি থেকে বাদ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসতে থাকে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকেও তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক রিপোর্ট দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। এসব রিপোর্টের সত্যতা পেয়েই প্রধানমন্ত্রী তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। ৮ই সেপ্টেম্বরের বৈঠকে তিনি নিজেই ছাত্রলীগের প্রসঙ্গটি সামনে আনেন। এরপর কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে এ বিষয়ে কথা বলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল উপস্থিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে শোভন-রাব্বানীর উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয় বৈঠকে।
এছাড়া দুই নেতার দুপুরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস, নেতাকর্মীদের ফোন না ধরা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন দাবি করার প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে। জাবির হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন দাবির বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি ফারজানা ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করেন। এদিকে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে অর্থ লেনদেনের বিষয়টিও নতুন করে সামনে আসে। এ অবস্থায় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নিয়ে চিন্তিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। করণীয় নিয়ে নিজেরা আলোচনা করলেও সিদ্ধান্তের জন্য তাকিয়ে ছিলেন দলীয় সভানেত্রীর দিকে। গতকাল দলের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসায় নেতাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীরাও খুশি। তারা প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তৃণমূল আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
এদিকে কার্য নির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নিয়মিত সম্মেলনের মাধ্যমে দলকে গতিশীল রাখতে হবে। নেতাকর্মীদের দেশ ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্থা বেড়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই আস্থা ধরে রাখতে আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সচেতন থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা বিরোধী দলে থাকলেও দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে দেশে যে দল সংগ্রাম করে, ত্যাগ স্বীকার করে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে, যাদের আন্দোলনের সংগ্রামের ফলে স্বাধীনতা, সেই দল ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। আর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে যারা ক্ষমতায় আসে তারা নিজেদের ক্ষমতা নিশ্চিত করে নিজেদের ভাগ্য গড়ার কাজে ব্যস্ত থাকে। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিতে, দেশ ও জাতির কল্যাণে সব সময়ই সংগঠনটি নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে গত এক দশকে বাংলাদেশ যা অর্জন করেছে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে। এখন বাংলাদেশ নিয়ে সারাবিশ্বের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে। এগিয়ে যাওয়ার পথে নানা বাধা আসে বলে মন্তব্য করে সরকার প্রধান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো রয়েছেই, মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগও রয়েছে। দেশে জঙ্গিবাদ, অগ্নিসন্ত্রাস করার অপচেষ্টা হয়েছিল, সরকার তা কঠোর হাতে দমন করেছে। আগামীতেও এই মনোভাব অব্যাহত থাকবে। একইভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সফলতা ও পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এর সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ তাদের ভাগ্য পরিবর্তন এবং দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে এবং জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। সে লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় আওয়ামী লীগ একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা বিরোধী দল বা সরকারে থাকুক, আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা কী হবে, দেশের মানুষের জন্য কী করবো, দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য কী করবো, সে বিষয়ে সেই পরিকল্পনা সবসময় আগে থেকে নিয়ে থাকে এবং যখনই সরকারে আসে তখন তা বাস্তবায়ন করে।
আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে দলীয় সভাপতি আরও বলেন, শুধু নিজে কী পেলাম, সেটা না ভেবে দেশ ও জাতিকে কী দিতে পারলাম, সেটাই বড় কথা। সবাই যার যার জায়গা থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে দ্রুতই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারবো, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে পারবো।
জাবির ঘটনায় কপাল পুড়লো শোভন-রাব্বানীর: জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন দাবি করার ঘটনায়ই মুলত কপাল পড়েছে শোভন-রাব্বানীর। তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও এ কমিশন দাবির ঘটনাটি বেশি আলোচিত হয়। বিষয়টি বিশ^বিদ্যালয় ভিসি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ শুরুর আগেই সমঝোতা হিসেবে ছাত্রলীগ নেতাদের দুই কোটি টাকা দেয়ার অভিযোগ উঠে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশের পর এর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে শুরু হয় আন্দোলন। তখনও জানা ছিল না ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারির চাঁদা নিয়ে দেনদরবারের বিষয়টি। অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কোণঠাসা অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম এই তথ্য প্রকাশ করে নতুন আলোচনার জন্ম দেন। তিনি দাবি করেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উন্নয়ন কাজে ‘পার্সেন্টেজ’ দাবি করে তার সঙ্গে দেন-দরবার করে ব্যর্থ হন। তিনি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকা অবস্থায়ও ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। অধ্যাপক ফারজানা ছাত্রলীগ নেতাদের ‘পার্সেন্টেজ’ দাবির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও অবহিত করেছেন। এরপরই ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের গণভবনে প্রবেশের স্থায়ী পাস বাতিল করা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে দফায় দফায় চেষ্টা করেও দুই নেতা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতে ব্যর্থ হন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লেখেন তারা। ওই চিঠিতে জাবি ভিসির বিরুদ্ধে তারা গুরুতর অভিযোগ করেন। ভিসির স্বামী ও পুত্র অর্থ লেনদেনে জড়িত বলেও দাবি করা হয় চিঠিতে। ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর খোলা চিঠিতে অভিযোগ তুলার পর ভিসি ফারজানা হক গণমাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পে ‘পার্সেন্টেজ’ দাবির বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেছেন ছাত্রলীগকে কোনো টাকা দেননি তিনি। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করতে তিনি বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে অনুরোধ করবেন। তদন্তেই সবকিছু পরিষ্কার হবে।
জাবির অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে শাখা ছাত্রলীগকে ভিসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ২ কোটি টাকা দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশের পর উত্তাল হয়ে উঠে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তিনদফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠকে ২ দফা নিয়ে সমঝোতা হলেও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত দাবি করেন তারা। কিন্তু এরই মধ্যে ভিসি গণমাধ্যমকে বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তার বান্ধবীকে দিয়ে চাঁদার জন্য ফোন দিতেন। শোভন-রাব্বানী আমার বাসায় এসেও চাঁদা দাবি করেছে। এখনকার দিনে ১-২ % এর আলাপ কোথাও নেই। ৪%-৬%-এর নিচে কাজ হয় না। দেশে যে সমস্ত কাজ হচ্ছে ছাত্রলীগ শেয়ার পাচ্ছে। এটা আমাদের অনুমতি আছে। আমি বলেছি এত টাকা চলে গেলে ভবন হবে কীভাবে। আমি তোমাদের কোনো টাকা দিতে পারব না। এর আগে আমি হাসপাতালে থাকাকালে গিয়ে আমার কাছে ২-৩ টি টেন্ডার শিডিউল দাবি করেছেন।’ ভিসির এ বক্তব্যের বিপরীতে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ভিসি ম্যাডাম ঈদের আগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন ভিসির স্বামী ও সন্তান কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। এই কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে তারা শাখা ছাত্রলীগকে ব্যবহার করছেন। গোলাম রাব্বানী গণমাধ্যমকে আরো বলেন, জাবি ছাত্রলীগ আমাদের জানিয়েছেন ভিসি ম্যাডাম তাদের টাকা দিয়েছেন। পরে আমি আর শোভন দেখা করে বলি, আপনি শাখা ছাত্রলীগকে টাকা দিয়েছেন তাহলে আমাদের ন্যায্য পাওনা কই? আমাদের ঈদ বোনাস কই?
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভিসি ফারজানা ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আমি তাদের কোনো ধরনের টাকা দেইনি। এসব তারা ক্ষুব্ধতা ও হতাশা থেকে গল্প বানাচ্ছে। আমি তাদেরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম। এ বিষয়ে আমি তদন্ত করতে বলবো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে, মাননীয় আচার্যকে। আমি যাব তাদের কাছে। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই।’
ভিসির পদত্যাগ দাবি: এদিকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভিসিকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘অর্থলোলুপ’ আখ্যায়িত করে ভিসির স্বপদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই বলে পদত্যাগ দাবি করেছেন জাবি’র বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। ভিসিবিরোধী বলে পরিচিত আওয়ামীপন্থি এই শিক্ষক সংগঠন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অনৈতিক আর্থিক লেনদেনে ভিসি ও তার পরিবারের জড়িত থাকার বিষয়টি দিবালোকের মতো পরিষ্কার। এই ঘটনায় ভিসি কেবল নিজেকেই কলঙ্কিত করেননি, সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-মর্যাদাকেও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। এ ছাড়া ভিসি ও তার পরিবার দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ভিসি তদানীন্তন সময় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে রুচিবহির্ভূত ও কা-জ্ঞানহীন মন্তব্য করেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
‘জগন্নাথের নতুন ক্যাম্পাসে বালু ভরাটে টাকা চেয়েছিলেন রাব্বানী’
জবি ছাত্রলীগের কমিটি টিকিয়ে রাখতে মাসোহারা (মাস প্রতি টাকা) ও কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমিতে নতুন ক্যাম্পাসের জায়গা উন্নয়নে ঠিকাদার পাঠিয়ে ঘনফুট প্রতি বালু ভরাটের জন্য টাকা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ তুলেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল।
যদিও রাব্বানী এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, অদৃশ্য সিন্ডিকেটের পরামর্শে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন এই অভিযোগ করা হয়েছে। গত ৩রা ফেব্রুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সম্পাদক শেখ রাসেলের সমর্থকদের সংঘর্ষের পর ওই দিনই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ১৯শে ফেব্রুয়ারি বিলুপ্ত করা হয় ওই কমিটি। গত শুক্রবার শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ওই কমিটি টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে তার কাছে মাসভিত্তিক টাকা চেয়েছিলেন রাব্বানী। কেরানীগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নতুন ক্যাম্পাসের জায়গা উন্নয়নের বালু ভরাটের কাজের জন্য ঠিকাদার পাঠিয়েছিলেন রাব্বানী এবং প্রতি ঘনফুট হিসেবে টাকা দাবি করেছিলেন। রাসেল বলেন, সংঘর্ষের পর সভাপতি তরিকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে কমিটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে রাব্বানীকে অনুরোধ করেছিলেন।
তখন রাব্বানী বলছিলেন, এর আগে সোহাগ ভাই-নাজমুল ভাই ছিল, তাদের বিভিন্নভাবে সুবিধা দিতো জবি ছাত্রলীগের শরীফ-সিরাজ (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সম্পাদক) কমিটি। তোরা তো আমাকে কিছু দিস না। তোরা মাসে কত দিতে পারবি বল, তাহলে দেখি কমিটি ঠিক করা যায় কীভাবে। ওই শর্তে রাজি হননি বলে তাদের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন রাসেল। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম রাব্বানী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মারামারিতে ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছিল। এই ঘটনায় তিন সাংবাদিকও আহত হয়েছিল। এ ছাড়া জগন্নাথ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নানা অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে প্রথমে আমরা কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত করি। পরে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে কমিটি বিলুপ্ত করি। রাব্বানী বলেন, জগন্নাথের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কমিটি বাঁচানোর বিষয়ে কথা বলার প্রশ্নই উঠে না। অনেক তদবির করে কমিটি টিকিয়ে না রাখতে পেরে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. ইউনূসের প্রতিকৃতি স্থাপনের প্রস্তুতি

আরলিংটনে অবস্থিত টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার অধ্যাপক হাক্যাবি পুরু প্রলেপের ম্যুরাল ও বৃহদাকার প্রতিকৃতি তৈরির জন্য প্রসিদ্ধ। পৃথিবীর বিভিন্ন বিখ্যাত জাদুঘর যেমন সান ফ্রান্সিসকো মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট, হুইটনি মিউজিয়াম অব আমেরিকান আর্ট, বোস্টনের মিউজিয়াম অব ফাইন আর্টস, মিনিয়াপলিস ইনস্টিটিউট অব আর্ট, আর্ট ইনস্টিটিউট অব শিকাগো এবং ডিউক ইউনিভার্সিটিতে অবস্থিত ন্যাশের মিউজিয়াম অব আর্ট-এ তার বিভিন্ন শিল্পকর্ম সংরক্ষিত রয়েছে। অধ্যাপক হাক্যাবি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রফেসর ইউনূসের এই “ট্রেইলব্লেজার পোর্ট্রেট” ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন কার্কল্যান্ড হলে প্রদর্শিত হবে। ভ্যান্ডারবিল্ট ট্রেইলব্লেজার সিরিজ অর্থাৎ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে পথিকৃত ভ্যান্ডারবিল্ট কমিউনিটির যে সব সদস্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সার্বিকভাবে সমাজে তাদের অবদানের জন্য বিখ্যাত তাদেরকে স্মরণীয় করার উদ্যোগ হিসেবে এই প্রতিকৃতিসমূহ স্থাপন করা হবে।
এই পর্বের প্রতিকৃতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পাঁচ জনকে বাছাই করেছে। উল্লেখ্য যে, প্রফেসর ইউনূস ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে সর্বপ্রথম ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুইশ্ড অ্যালামনাস পুরস্কার এবং ২০০৭ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মাননা “নিকল্স-চ্যান্সেলর মেডেল”-এ ভূষিত হন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন ছাত্রদের আস্থা হারাচ্ছে ছাত্র রাজনীতি? by পারমিতা হিম

আন্দোলনের সুতিকাগার
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মীর সঙ্কট সমাধানে ট্রাম্পের প্রতি সিনেটরদের চিঠি

ওই চিঠিতে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তারা লিখেছেন, আপনার প্রতি আমাদের অনুরোধ- ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি আপনি আহ্বান জানান কাশ্মীরে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি চালু করতে, অচলাবস্থা ও কারফিউ তুলে নিতে এবং আটক কাশ্মীরিদের মুক্তি দিতে। তারা চিঠিতে লিখেছেন, কাশ্মীর পরিস্থিতিতে আমরা এই চিঠির মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। কাশ্মীরের এ পরিস্থিতি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে চিঠিতে আরো বলা হয়, কাশ্মীরের মর্যাদা বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সব পক্ষকে সহায়তা করা আপনার লক্ষ্য। আমরা আপনার এ লক্ষ্যকে সমর্থন করি। কিন্তু (কাশ্মীরে) এখন যে মানবিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে তা বন্ধে অবিলম্বে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ওদিকে আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র কাছে একটি চিঠি লিখেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেসওম্যান প্রমিলা জয়াপাল। কাশ্মীরে সব রকম যোগাযোগ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ভারতীয় অবরোধ তুলে নিতে, আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে ভারতের প্রতি চাপ সৃষ্টির জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন পম্পেওর প্রতি।
ওদিকে ট্রাম্পকে যে চারজন সিনেটর প্রথম চিঠি লিখেছেন তাতে স্বাক্ষরকারী একজন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম হলেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা। অন্যজন করাচিতে জন্ম নেয়া সিনেটর ভ্যান হোলেন। এর আগে গত ২২ শে জুলাই কাশ্মীর ইস্যু ও ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অন্যান্য ইস্যুতে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই কথা তাকে আবারো স্মরণ করিয়ে দেন এসব সিনেটর। তারা এ কথা স্মরণ করিয়ে লিখেছেন, আপনি জুলাইয়ে সহায়তার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেকথা অনুযায়ী আমরা বিশ্বাস করি ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এ নিয়ে যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতা কাশ্মীরের সব মানুষের স্বস্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এই মানবিক সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে যুক্তরাষ্ট্রের। আমরা আপনাকে আহ্বান করছি যত দ্রুত সম্ভব সেই ভূমিকা পালন করুন।
গত ২২ শে জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সঙ্কট সমাধানে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দেন। পাকিস্তান এ প্রস্তাবে সমর্থন দিলেও, প্রত্যাখ্যান করে ভারত। এর কয়েকদিন পরেই ৫ই আগস্ট তারা কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে। কাশ্মীরে ভারত মোতায়েন করে হাজার হাজার সেনা সদস্য। জারি করে কারফিউ। বন্ধ করে দেয় সব রকম যোগাযোগ। এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সিনেটররা। তারা চিঠিতে লিখেছেন, সব কিছু এভাবে বন্ধ করে দেয়ায় স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাবলিক সেফটি অ্যাক্টের অধীনে কাশ্মীরে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪০০০ মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়টি উল্লেখ করে মার্কিন এসব রাজনীতিক ওই আইনটি সম্পর্কে বলেছেন, এটা একটি বিতর্কিত আইন। এ আইনের অধীনে যেকাউকে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই দু’বছর পর্যন্ত জেলে আটকে রাখতে পারে কর্তৃপক্ষ। এসব আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় রাজনীতিক, নেতাকর্মী, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থী। কাশ্মীরের নির্যাতিত জনগণকে স্বস্তি দেয়ার জন্য নিজের প্রভাবকে ব্যবহার করতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেছেন, প্রতিটি দিন পাড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাশ্মীরি জনগণের অবস্থা আরো জটিল হয়ে উঠছে। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভিতরে যেসব সন্ত্রাসী বা জঙ্গি গোষ্ঠী আছে তাদেরকে সমর্থন ও নিরাপদ আশ্রয় দেয়া অবশ্যই পাকিস্তানকে বন্ধ করতে হবে। কাশ্মীর উত্তেজনা অস্থিতিশীলতার দিকে যায় এমন পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মীর সীমান্ত পার হতে আমার ডাকের অপেক্ষায় থাকুন: ইমরান খান
গত শুক্রবার আজাদ কাশ্মীরের খুরশিদ হাসান খুরশিদ স্টেডিয়ামে এক সমাবেশে দেয়া বক্তৃতায় ইমরান খান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আপনাদের অনেকেই নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে প্রবেশ করতে চান কিন্তু আমি আপনাদের বলব আপনারা অপেক্ষা করুন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আমি সারা বিশ্বের মানুষকে কাশ্মীরের জনগণের দুঃখ-দুর্দশা এবং নির্যাতনের ঘটনা জানাবো। এরপর প্রয়োজনে আপনারা সীমান্ত পেরিয়ে আপনাদের ভাইদের পাশে দাঁড়াবেন।”
সমাবেশে ইমরান খান নিজেকে ‘কাশ্মীরের রাষ্ট্রদূত’ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, তিনি আন্তর্জাতিক সমস্ত ফোরামে কাশ্মীর পরিস্থিতি এবং সেখানকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, কাশ্মীর একটি মানবাধিকারের ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে নারী-পুরুষ আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই ভারতের দখলদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হচ্ছেন।
| আজাদ কাশ্মীরের জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান |
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে ইমরান খান বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে যদি বিশ্ববাসী চুপ থাকে তাহলে তার নেতিবাচক প্রভাব সারা বিশ্বের উপর পড়বে। গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীরিদের নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের যে অধিকার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবে দেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ইমরান খান বলেন, কাশ্মীরের জনগণ যদি নিজেদের স্বাধীনতা বেছে নেয়, অথবা ভারতের সঙ্গে থাকতে চায় কিংবা পাকিস্তানে যোগ দিতে চাই- ইসলামাবাদ কাশ্মীরের জনগণের যে কোনো সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানাবে।
সমাবেশে আজাদ কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী রাজা ফারুক, পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি, কাশ্মীর বিষয়ক মন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারভেজ খাট্টাক ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফেরদাউস আশিক আওয়ান উপস্থিত ছিলেন।
![]() |
| নির্যাতনের শিকার কাশ্মীরের জনগণ (ফাইল ফটো) |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওমা গো, সান ডিয়াগো! by রিম সাবরিনা জাহান সরকার
![]() |
| নোঙর ফেলে ভাসছে পালতোলা শৌখিন কতগুলো নৌকা |
তেমনি একদিন সকাল। খিটখিটে মেজাজে ল্যাবে ঢুকেছি। দুনিয়াদারি চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কে জানত এমন একটা খবর অপেক্ষা করছে আজকে। ‘ও মাগো’ বলে গালে হাত দিয়ে ধপ করে চেয়ারে বসে পড়লাম। কিছুটা নাটুকে হয়ে গেল বোধ হয়। কিন্তু হাজার চেষ্টাতেও অকৃত্রিম প্রতিক্রিয়াটা লুকানো গেল না। তুর্কি সুপারভাইজার ডক্টর ইলদ্রিম কিছু একটা উত্তর শোনার অপেক্ষায় চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছেন। বাংলা ওমা গো তিনি বুঝতে পারেননি। ভেবেছেন খুশিতে খাবি খেয়ে হেঁচকি তুলেছি।
কাহিনি হচ্ছে গিয়ে, আমার হেঁজিপেঁজি রদ্দি মার্কা কাজটা কীভাবে কীভাবে যেন আমেরিকান থোরাসিক সোসাইটির কনফারেন্সের ‘বেস্ট অ্যাবস্ট্রাক্ট’ বিভাগে প্রথম হয়েছে। বিশাল বড় পরিসরের কনফারেন্সটা এ বছর পড়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগোতে। সব শুনে আনন্দে ফড়িং নাচ দেওয়ার বদলে কেমন দুঃখ দুঃখ লাগছে। কারণ, এমন দারুণ সুযোগ পেয়েও হারাব। প্রথম কথা, মাত্র চার সপ্তাহের ভেতর জার্মানি থেকে আমেরিকার ভিসা পাব কি না, কঠিন সন্দেহ আছে। দুই নম্বর হলো, খরচে কুলাবে না। ট্যাঁকের পয়সা ফেলে পাগলেও কনফারেন্সে যায় না। বাকি থাকে তুর্কি বদান্যতা। কিন্তু সেও বলে দিয়েছে হাতে টাকা নেই। রিসার্চ গ্রান্টের খরা চলছে। এদিকে প্রাইজ মানিতেও চিড়া ভিজবে না। প্লেনের টিকিট হবে টেনেটুনে। কিন্তু হোটেল আর হবে না। হোটেলের অভাবে রাতে ফুটপাতে চিৎ–কাত হয়ে কাটিয়ে দিতে হলে মসিবত।
কথাগুলো আহমেদ সাহেবকে রাতে খাবার টেবিলে পিনপিনিয়ে বলে সান্ত্বনা আদায়ের চেষ্টা চালালাম। বছরখানেক হলো এই ভদ্রলোকের ঘাড়ে সিন্দাবাদের ভূত হয়ে চেপে বসেছি। বিনিময়ে তাঁর পদবিটা নিজের নামের সঙ্গে জুড়ে নেবার সৌজন্যতাটুকুও করিনি। বরং বারো হাত চওড়া সরকারি নামটাই বহাল রেখেছি। তো সিন্দাবাদের ভূত দিন কয়েকের জন্য বিদায় হওয়ার সূক্ষ্ম সম্ভাবনা দেখে সান্ত্বনার বদলে বিরাট উৎসাহ দিয়ে বুদ্ধি বাতলে দেওয়া হলো যেন রিসার্চ সেন্টারের লুকানো চুরানো কোনো ফান্ড আছে কি না, তার খোঁজ নিই। আহমেদ সাহেবের ভূত তাড়ানোর দোয়া কবুল হলো কিনা জানি না, কিন্তু জোড়াতালি দিয়ে ব্যবস্থা একটা হয়েই গেল। ভিসাও বাকি থাকল না। এক ভোরে আলো ফোটার আগেই চাম বাদুড়ের মতো ডানা ঝটপটিয়ে উড়াল দিলাম আটলান্টিক নামের বড় পুকুরটার ওপারে।
একা বোকা যাচ্ছি। সঙ্গী সাথি শূন্য। যাওয়া একেবারে শেষ মুহূর্তে ঠিক হওয়ায় এই দশা। ল্যাবের অন্য কলিগদের বন্দোবস্ত মাসখানেক আগেই করা ছিল। তাদের ফ্লাইট, হোটেল সব আলাদা ব্যবস্থা। একদিন আগেই তারা হল্লা করে দল বেঁধে রওনা দিয়েছে। গিয়ে একটু ধাতস্থ হতে পারবে। আর আমি পৌঁছানোর পরদিনই পড়িমরি করে ছুটব কনফারেন্সে যোগ দিতে। জেটল্যাগ হলেও কিছু করার নেই।
![]() |
| নোঙর ফেলে ভাসছে পালতোলা শৌখিন কতগুলো নৌকা |
উবু হয়ে পোস্টার গুছিয়ে নিয়েছি, ভদ্রলোক সহাস্যে বললেন, ‘আরে তুমি দেখছি ইঁদুরের ডাক্তার।’ মৃদু প্রতিবাদ করতে গেলাম, ‘কোন দুঃখে ইঁদুরের ডাক্তার হতে যাব? আমি বায়োলজির ছাত্র। ইঁদুর আমার গবেষণার মডেল মাত্র।’ লাভ হলো না, তবে পার পেয়ে গেলাম এই দফায়। ইঁদুরের ডাক্তারের তকমা গলায় ঝুলিয়ে দৌড় দিলাম পরের প্লেনটা ধরতে। পোস্টার খাপের গলাটা এবার দুই হাতে ক্যাঁক করে চেপে ধরেছি। বেচারার দম বলে কিছু থাকলে যেকোনো সময়ে ঠুস করে বেরিয়ে যেতে পারে।
-----------দুই----------
দুই কদম হাঁটতেই দেখি মোটাসোটা এক ভদ্রলোক চেহারায় রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে একটা থাম্বা থাবড়ে ক্রমাগত আওড়ে যাচ্ছেন, ‘ট্রানজিটের যাত্রী বাঁয়ে যাবে, ট্রানজিট বাঁয়ে...’। ধরনধারণ পুরোপুরি গাবতলীর বাস কন্ডাক্টরের মতো। ট্রানজিট বাঁয়ে না বলে ‘আয়া পড়েন, সিট খালি, ডাইরেক্ট গুলিস্তান...আয়া পড়েন...’ বললেই বেশি মানাত। যা হোক, বাস, থুক্কু প্লেন কন্ডাক্টরের কথা মেনে শখানেক লোকের সঙ্গে পা মিলিয়ে বাঁয়েই ছুটলাম।
ঝামেলা ঝামেলা লাগছে। প্রথম ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেওয়া স্যুটকেস খুঁজে নিয়ে পরের বিমানে চেক ইন করতে হবে। ল্যাও ঠেলা। এত দৌড়াদৌড়ি কচ্ছপগতির আমার সঙ্গে যায় না। অন্য সময়ে যাত্রাপথে কেউ না কেউ সঙ্গে থাকে। আমি শুধু নিশ্চিন্তে ঝিমাতে ঝিমাতে পিছু পিছু যাই। সেখানে আজকে নিজের বুঝ বুঝে নিয়ে হুঁশিয়ার হয়ে চলতে হচ্ছে। আবার এত প্যারার ভেতরেও চোখ ভেঙে ঘুম আসছে। বেশি টেনশনে কাজ করলে খালি ঘুম পায়। জীবনের যাবতীয় পরীক্ষার ভোরে বন্ধুরা যখন আখেরি চোখ বোলানো বুলাত, আমি তখন প্রচুর টেনশনের কারণে নাক ডেকে বালিশ আঁকড়ে সিন্ধুঘোটকের মতো ঘুমাতাম। আজকেও তেমনি একটা ঘুম দিয়ে টেনশন-ফেনশন বাইপাস করে দিতে ইচ্ছা করছে।
ঘুমটা আমি দিয়েই ফেললাম। তবে পরের প্লেনটা ধরার পর। বরফ কুঁচি দেওয়া এক গ্লাস টমেটোর জুস আর এক মুঠ বাদাম চিবিয়ে ইকোনমির সিটে যত দূর সম্ভব হাত-পা ছড়িয়ে, গা এলিয়ে টপ করে ঘুমিয়ে গেলাম।
এক ঘুমে একঘেয়ে উড়ালপথ পাড়ি দিয়ে সান ডিয়াগো বিমানবন্দরে পৌঁছে গেলাম। বিকেলের নরম রোদ মুখে এসে পড়েছে। অপেক্ষাটা তাই খারাপ লাগছে না। দাঁড়িয়ে আছি ইউনিভার্সিটির বন্ধু মাহদির জন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন চালু হওয়া জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে আমাদের ব্যাচে মাত্র তেরোজন ছিলাম। সেই থেকে সবাই হরিহর আত্মা। মাহদি বিভাগের তুখোড় ছাত্র। পিএইচডি করে ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত স্ক্রিপ্স রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। পেপারের সংখ্যা তখনই কয়েক ডজন। সব হাই ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর। আমার ধারণা বছরখানেকের ভেতর সে ‘বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর অভাবনীয় আবিষ্কার’ ধরনের শিরোনাম হবে পত্রিকার পাতায়। সঙ্গে বুদ্ধিদীপ্ত এক তরুণের ছবি। তখন পরিচিত মহলে আমি সেই খবর ভাঙিয়ে ভাব নেব, ‘আরে আমার ক্লাসমেট তো। কার্জন হলের কত চা-শিঙাড়া খেয়েছি একসঙ্গে...’ ইত্যাদি ইত্যাদি।
![]() |
| মোটেলের পাশে রাস্তার ওপাশ ঘেঁষেই বন্দর |
প্যাঁচার মতো ঘাড় ঘুরিয়ে নতুন দেশের নতুন শহরটাকে দেখছি। প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ের সৈকত শহর সান ডিয়াগো। ঝকঝকে চওড়া রাস্তার দুই ধারে সারি সারি পামগাছ মাপা দূরত্বে দাঁড়িয়ে। আকাশে নীলের মাঝে সাদা মেঘ কাশফুল হয়ে ভাসছে। একেবারে তুলির আঁচড়ে আঁকা ছবি। দেখেশুনে পলক আর পড়ে না আমার। বিস্ময় ভেঙে মাহদি জানাল, পুরো শহরটা নিখুঁত নকশার ফসল। গাছপালাও বাইরে থেকে এনে লাগিয়ে বড় করা। কিছু আনা হয়েছে সীমান্তের মেক্সিকো থেকে। সঙ্গে এ–ও বলল, হলিউডের আস্তানা লস অ্যাঞ্জেলস শহর নাকি মাত্র দুই শ কিলোমিটারেরও কম দূরে এখান থেকে। চাইলে ঘুরে আসতে পারি এক ফাঁকে। মনে মনে ভাবলাম, আগে তো কনফারেন্সের পাট চুকাই। গলার কাঁটা নেমে গেলে ঘোরাঘুরি পরে দেখা যাবে নে।
হোটেলের নাম ভারিক্কি গোছের। ডেজ ইন হারাবার ভিউ। তবে চেহারা দেখে দমে গেলাম। টান বারান্দা দেওয়া সাদামাটা তিনটা তলা। হোটেলের বদলে মোটেল ভাব প্রকট। মাহদি সযত্নে স্যুটকেস তুলে দিয়ে বাসায় নাকি ল্যাবে ফেরত গেল। আর বলে গেল ঘণ্টাখানেক বাদে আবার এসে ডিনারে নিয়ে যাবে। চুটিয়ে আড্ডা দেওয়া যাবে বহুদিন পর।
মোটেলবেশী হোটেলের ঘর যথেষ্ট সাজানো গোছানো। বাইরের রূপের উল্টোটা। আর পুরো হোটেল ভর্তি কনফারেন্সের লোকজন। বেশির ভাগই জার্মানি থেকে এসেছেন। কী কাকতাল! কিন্তু মিউনিখের কাউকে চোখে পড়ল না। তাতে কিছু যায় আসে না। ল্যাবের কলিগ আর সুপারভাইজারকে জানিয়ে দিলাম, বহাল তবিয়তে পৌঁছে গেছি; কালকে দেখা হচ্ছে।
রাতে লেবানিজ এক রেস্তোরাঁয় রাতের খানাপিনা সেই মাপের হলো। মোরগ-পোলাওজাতীয় খাবারটার দেড় প্লেট নামিয়ে দিয়েছি। গল্প-আড্ডার চেয়ে আধা লিটারের কোকের বোতলে সুড়ুৎ সুড়ুৎ টানই বেশি পড়েছে। চুর চুর লাগছে এখন। হোটেলে নামিয়ে দিয়ে মাহদি সেদিনের মতো বিদায় নিল। আর বলে গেল, যেকোনো সমস্যায় ফোন দিতে যেন দুবার না ভাবি।
হাতে কয়েকটা ইনস্ট্যান্ট নুডলসের প্যাকেট আর টুকিটাকি নিয়ে ওপরে উঠলাম। মাঝপথে ওয়ালমার্টে থামা হয়েছিল। হোটেল রুমের ইলেকট্রিক কেটলিটা দেখে মনে হয়েছিল, কালকে সারা দিন জ্ঞান কপচানো শেষে ঘরে ফিরে খিদে পেলে চটজলদি নুডলস করে নেওয়া যাবে। প্রবাসে এসে একটা বড় অংশ কেটেছে এই ইনস্ট্যান্ট নুডলসের ওপর ভরসা করে। আর এখন তো প্রবাসের ভেতর প্রবাস। জার্মানি থেকে আমেরিকা। সফদার ডাক্তার তো আর নই যে ‘খিদে পেলে পানি খায় চিবিয়ে’ হয়ে বসে থাকব। তার চেয়ে চিবোলাম না হয় আরও খানকতক ইনস্ট্যান্ট নুডলস।
![]() |
| প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ের সৈকত শহর সান ডিয়াগো |
বেশি আগড়ুম বাগড়ুম ভাবার সময় পেলাম না। সকালে সান ডিয়াগো কনভেনশন সেন্টার খুঁজে বের করে হাজির হতে হবে। সমান্তরালে চলতে থাকা অনেকগুলো সেশনের কোন কোনটা শুনলে আখেরে কাজে দেবে তার একটা লিস্ট বানিয়ে ফেলা দরকার। তাহলে হয়তো পরের দিন নিজের কাজের ওপর বকবক করতে সুবিধা হবে। কইয়ের তেলে কই ভাজার বুদ্ধি আর কী। খালি মগটায় মনের ভুলে আরেকবার চুমুক দিয়ে ঘরে ঢুকলাম।
ল্যাপটপ বের করতে গিয়ে দেখি স্যুটকেসের তালা দারুণ মুনশিয়ানার সঙ্গে ভাঙা। ভেতরে এক টুকরো নোট পাওয়া গেল। তাতে লেখা, ‘নিরাপত্তার খাতিরে তালা ভাঙতে হয়েছে বলে দুঃখিত। তবে মূল্যবান কিছু খোয়া গেলে আমরা কিন্তু দায়ী নই।’ বাহ! খোঁড়া যুক্তির বাহার দেখে রাগ লাগার বদলে হাসি পাচ্ছে। আবার দুঃখও লাগছে। ল্যাপটপটা নিরাপত্তার অজুহাতে রেখে দিলে বেশ হতো। পাঁচ কেজি ওজনের শিল-পাটার পাটা আকৃতির এই যন্ত্রটা কাজের খাতিরে সবখানে বয়ে বেড়াতে হয়। হারিয়ে গেলে পলকা দেখে একটা কিনব ভেবে রেখেছি। কিন্তু বদখত জিনিসটা তো হারাচ্ছে না! হতাশ হয়ে দ্রুত লিস্টিফিস্টি বানিয়ে বাতি নিভিয়ে দিলাম সে রাতের মতো।
------------তিন----------
মাথার ভেতর একজন ইবনে বতুতা বগলে জুতা নিয়ে ঘাপটি মেরে থাকে। সুযোগ পেলেই সে জুতা ফটফটিয়ে বেরিয়ে আসে। আজকেও তাই হয়েছে। হাতের মুঠোয় গুগল ম্যাপ নামের মানচিত্রের বাপ থাকতেও লোকজনকে ঠিকানা জিজ্ঞেস করে করে হেলেদুলে হাঁটছি। অচেনা দেশে নিজেকে বোহেমিয়ান ভাবতে ভালো লাগে। সকালের মিষ্টি রোদ, ভেসে থাকা নৌকার ভিড়, নতুন শহরের পথঘাট, দালানকোঠার নকশা, মানুষজন-সব দেখতে দেখতে বিশ মিনিটের হাঁটা পথ আধা ঘণ্টা লাগিয়ে পৌঁছালাম জায়গামতো।
![]() |
| লেখিকা: ড. রিম সাবরিনা জাহান সরকার |
টম আর গেরিট হাতের ইশারায় কিছু একটা বলার চেষ্টা করছেন। সুপারভাইজারকে পাশ কাটিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে গেলাম। আমাদের ল্যাবের দুই পোস্টডক। গেরিট চোস্ত জার্মান, ধারালো চেহারা। জার্মান স্বভাব মোতাবেক সারাক্ষণ খঁচে থাকে। টম আইরিশম্যান, গোলগাল ভালোমানুষ। তবে ব্রিটিশ বললে খেপে যান। তাই তাকে আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে ব্রিটিশ ব্রিটিশ বলে খ্যাপাই। কাছে এগোতেই খবর দিলেন, সেভেন সিটার একটা পাওয়া গেছে। অমুক দিন সকাল সকাল বেরিয়ে পড়া যাবে। সময়মতো যেন পার্কিংয়ে অপেক্ষা করি।
এই বুদ্ধি আগেই আঁটা। শেষের একটা দিন কনফারেন্সে ক্লিনিক্যাল আলোচনাই বেশি চলবে। আমাদের মতো মৌলিক গবেষণার লোকের জন্য তেমন একটা জরুরি না। সেদিন আমরা ফাঁকি দেব। সারা দিনের জন্য গাড়িভাড়া নেওয়া হয়েছে। আরেক ল্যাবের দু-একজনকে জুটিয়ে সদলবলে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ব। সুপারভাইজার যাবেন না জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি যাবেন মেক্সিকোর সীমান্তের দিকে, যেখানে ব্র্যান্ডের জিনিস পানির দামে পাওয়া যায়। শুনে খুশিই হলাম। নেতা গোছের কেউ থাকলে স্বাধীনতা খর্ব হয়। ভেড়ার পাল বানিয়ে হ্যাঁট হ্যাঁট করে যে দাবড়ানিটা সে সারাক্ষণ দেয় আমাদের, সেটার হাত থেকেও বাঁচা যাবে।
![]() |
| সান ডিয়াগোর নৈসর্গিক দৃশ্য |
সারা বেলা কনফারেন্সের পর রাতে আশপাশের রেস্তোরাঁয় হানা দিয়ে পেটচুক্তি খেয়ে সময় কেটে যাচ্ছিল একরকম। এক–আধ দিন মাহদি এসে আবার সেই লেবানিজ রেস্তোরাঁয় নিয়ে গিয়েছিল। নাম যার সুলতান। একদিন সেখানে চোখে পড়ল, এক ধারের দেয়ালে প্রায় সব দেশের খুচরা টাকার নোট ফ্রেম বন্দী হয়ে ঝুলছে। বাংলাদেশের দুই টাকার নোটও আছে দেখলাম। দোয়েল পাখিটা পরিচিত ভঙ্গিতে উঁকি দিচ্ছে। তার একটু বাদেই একদল দেশি ভাই জাতীয় পোশাক চেক লুঙ্গি বিপজ্জনক উচ্চতায় তুলে গটগট করে ঢুকল। নোয়াখালীর ভাষায় চলা আড্ডা দেখে বোঝা গেল তারা নিয়মিত কাস্টমার। ‘এটাই আমেরিকার মজা, বুঝলা?’ চওড়া হাসিতে মাহদি দুই মহাদেশের উদারতার ফারাক ইঙ্গিত করল। দেশি ভাই আর তাদের লুঙ্গির বদৌলতে সম্পূর্ণ ঘরোয়া আমেজে সারলাম সেদিনের ডিনার। মনে হলো, লেবাননি রেস্তোরাঁ সুলতানে না, বসে আছি ‘ইয়ান তুন খাই যান’ জাতীয় দেশি কোনো ভাতের হোটেলে।
------------চার----------
এরই মধ্যে একদিন কনফারেন্সের ইচিং–বিচিংয়ের ফাঁকে কয়েকজন মিলে লাঞ্চে বেরিয়েছি। কাছেই রালফস নামের বড়সড় একটা সুপারমার্কেট আছে। স্যান্ডউইচ কিনে চিবোতে চিবোতে ফেরত যাচ্ছি। হঠাৎ চোখে পড়ল, ফুটপাতে এক উষ্কখুষ্ক লোক কম্বল–টম্বল বিছিয়ে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। তার কোলে হেলান দেওয়া কাগজের সাইনবোর্ডটায় লেখা, ‘আমাকে রালফস থেকে চিকেন উইংস কিনে দিয়ে যাও’। গেরিটকে ইশারা করে বললাম, ‘বস তো দেখছি সেই রকম’। খঁচে থাকা গেরিট গাঁক গাঁক করতে করতে বললেন, ‘কেন, অসুবিধা কী? যা খেতে চায়, পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে।’ একটু দম নিয়ে যোগ করল, ‘আর ওর জায়গায় তুমি হলে তো ঠিকই লিখে রাখতে, আমাকে বাসমতী চালের একথালা ভাত দিয়ে যাও। নইলে চিকেন উইংসগুলো দিয়ে তাড়া করব’। বলেই মুখ টিপে মশকরার হাসি হাসলেন ল্যাবের বাজখাঁই মেজাজের পোস্টডক গেরিট। গালে বিশাল এক কামড় স্যান্ডউইচ থাকায় ঠা ঠা করে হাসতে পারছে না। হায়, আলুখেকো জার্মান এই বাঙালকে ভাতের খোঁটা দেয়!
![]() |
| সান ডিয়াগোর নৈসর্গিক দৃশ্য |
তারপর এক সকালে বহু অপেক্ষার সেই দিন চলে এল। ঠিক হলো উদ্দেশ্যবিহীন ঘুরেফিরে তারপর সোজা চলে যাব সাগরপাড়ে। বেশ খানিকটা দূরে নাকি দারুণ একটা সৈকত আছে। ভাড়া করা বিশাল গাড়িটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম সবাই। গাড়ির কাচে নাক ঠেকিয়ে দেখি বাইরেটা। দক্ষিণ এশীয় আন্টিরা বেজায় রঙিন সালোয়ার–কামিজের সঙ্গে ধবধবে সাদা কিংবা কটকটে গোলাপি কেডস পরে অলিগলি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। শহরঘেঁষা সাগরপাড়ে অলস সিল মাছ বড় পাথরের গায়ে পেট ভাসিয়ে রোদ পোহাচ্ছে। কী অদ্ভুতই না দেখাচ্ছে দৃশ্যগুলো।
![]() |
| সান ডিয়াগোর নৈসর্গিক দৃশ্য |
ছবিটা প্রায় তুলে ফেলেছি, আর দুম করে গেরিট ফ্রেমে ঢুকে পড়ল। তা–ও আবার আদুল আদুল খালি গায়ে। শর্টস বাদে বাকি সব তিনি ঢেউয়ের ডগায় রেখে এসেছেন আল্লাহর ওয়াস্তে। যেকোনো মুহূর্তে সেগুলো জলের পেটে চলে যেতে পারে। সেদিকে থোড়াই কেয়ার করে বললেন, সাগরপাড় থেকে তিনি স্লো মোশনে দৌড়ে আসবেন আর আমি যেন পটাপট কটা ফটো খিঁচে দিই। অনিচ্ছাভরে আড়মোড়া ভেঙে আলসেমির বিশাল কুমির হাই তুলে বললাম, ‘এটা তো টমকে বললেই পারতে। আমাকে জ্বালানো কেন?’ কিন্তু টমের দিকে তাকাতেই দেখা গেল তার প্রাগৈতিহাসিক দুই বাই তিন ইঞ্চি ফিচার ফোনটা হাতে নিয়ে তিনি অপরাধী হাসি হাসছেন। এই দিয়ে আর যাই হোক ছবি খেঁচা যাবে না। অগত্যা, আরামের কেৎরে বসা বাদ দিয়ে হাতের ফোনটায় টোকার পর টোকা মেরে গেলাম। পার্টনারকে পাঠানোর জন্য তোলা ছবিগুলো কেমন হয়েছে দেখার আর ফুরসত মিলল না গেরিট মিয়ার। উল্টো দিকে রামদৌড় লাগিয়েছেন ততক্ষণে। পাগলাটে একটা ঢেউ বেসামাল ধেয়ে আসছে। সমুদ্দুরে জামাকাপড় হাতিয়ে নিলে তাকে আদুল গায়েই হোটেলে ফিরতে হবে। কারও কাছে জ্যাকেট নেই। সান ডিয়াগোর আবহাওয়া আজকে খারাপ রকমের ভালো।
--------------পাঁচ------------
সৈকত থেকে শুরু হওয়া কাঠের ছোট্ট সেতুটা একটুখানি এগিয়েই শেষ হয়ে গেছে। সেতুর মাঝপথে দাঁড়ালে মনে হয় নীল সাগরের একেবারে গহিনে দাঁড়িয়ে আছি। দুপুর হয়ে গেছে দেখে টুকটাক হাবিজাবি খেয়ে নিচ্ছি কেউ কেউ। কারও হাতে এই ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, নয় তো আইসক্রিম। দূরে পাহাড়ের গা ঘেঁষে ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাক খেয়ে উড়তে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কিসের ধোঁয়া?’ টমের কাছ থেকে উত্তর এল, ‘খবর–টবর পড়া ছেড়ে দিয়েছ মনে হয়? এটা হলো ক্যালিফোর্নিয়ার কুখ্যাত দাবানল। এ বছরেরটা শুরু হলো মাত্র’। ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম, দু-একটা হেলিকপ্টারের আনাগোনা। আগুন নেভানোর চেষ্টা আর কী। আগুন দেখে বেখাপ্পাভাবে বলে ফেললাম, ‘আচ্ছা, আজকে ওদিকে বনবাদাড় পুড়ছে আর আমরা কপকপিয়ে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাচ্ছি। কেমন যেন রোম পোড়ে, নিরো বাঁশি বাজায় টাইপ হয়ে যাচ্ছে না ব্যাপারটা?’ অনেকগুলো আলু ভাজা একবারে মুখে পুরে দলের বাকিরা রে রে করে উঠলেন, ‘দেখো, ফটকা লোক নিরোর প্যাঁ পোঁর সঙ্গে আমাদের কপকপ মেলাবে না খবরদার। আর আগুন আমরা লাগাইনি। সুতরাং তোমার মন কেমনের গুষ্টি কিলাই’। গুষ্টি কিলানোর হুমকিতে চুপ মেরে গেলাম।
![]() |
| সান ডিয়াগোর নৈসর্গিক দৃশ্য |
ফেরার পথে সাগরের তাজা হাওয়ায় লাগা খিদের গতি করার জন্য গাড়ি থামাতে হলো। শুধু বেচারা টম কিছুই না খেয়ে হাত গুটিয়ে উদাস বসে থাকলেন। ছোটবেলায় বাদাম দেওয়া কী যেন খেয়ে অ্যানাফাইলাক্টিক শকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স-হাসপাতাল করতে হয়েছিল। সেই থেকে খাবার নিয়ে তার নখড়ার শেষ নেই। একবার চটপটি বানিয়ে ল্যাবে নিয়ে গিয়েছিলাম। অবশ্যই ঝালশূন্য। বিচিত্র নতুন খাবারটা সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে খেলেন। আর টম এসে প্রবল বেগে টেবিলের চারপাশে ঘুরপাক খেতে খেতে বললেন, ‘বাহ্ বাহ্, স্যাভরি স্ন্যাকস! ওয়াও, ওয়াও, লুকিং স্ক্রামশাস’। কিন্তু তাকে বাটি-চামচ ছুঁতে দেখা গেল না। এই হলো আমাদের আইরিশম্যান টম। এখানে আসা অবধি সাবওয়ে নামের রেস্তোরাঁ ছাড়া কোথাও তাকে খেতে দেখা যায়নি। তাদের খাবারে নাকি বাদামের ব্যাপার নেই।
দেখতে দেখতে সান ডিয়াগোর সূর্যের দিনগুলো ফুরিয়ে এল। আজকে ফেরার দিন। ফ্লাইট ভোররাত চারটায়। মাহদি দায়িত্ববান বন্ধুর মতো দিয়ে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু পারল না। তার বদলে ট্যাক্সির ব্যবস্থা করে দিল সন্ধ্যায় এসে দেখা করতে এসে। সেই রাতেই তাকে অতি জরুরি একটা এক্সপেরিমেন্ট চালাতে হবে তার ল্যাবে। ক্ষ্যাপা বিজ্ঞানী বলে কথা।
![]() |
| সান ডিয়াগোর নৈসর্গিক দৃশ্য |
![]() |
| সান ডিয়াগোর নৈসর্গিক দৃশ্য |
মাথা নেড়ে আপন মনে হেসে বাড়ির পথ ধরলাম।
![]() |
| ড. রিম সাবরিনা জাহান সরকার |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
September
(820)
-
▼
Sep 15
(22)
- সৌদি আরবে তেল শোধনাগারের ওপর ড্রোন হামলা কিসের ইঙ্গিত
- ছিনতাইয়ের ফাঁদ যখন শিশু by পিয়াস সরকার
- সৌদি আরবে বইতে শুরু করেছে পরিবর্তনের হাওয়া by অনিম...
- রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরা by হাসনাত আবদুল হাই
- পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে ভারতীয় নেতাদের আক্রমণাত্মক...
- দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টার চালানো দুঃসাহসী তরুণী by ...
- ট্রাম্প পয়েন্টে বৃটিশ রাজনীতি by লুক ম্যাকগি
- বাংলাদেশে ঢুকে মসজিদ নির্মাণে বিএসএফের বাধা
- শোভন-রাব্বানী আউট: ছাত্রলীগের নতুন দায়িত্বে জয়-লেখক
- যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. ইউ...
- কেন ছাত্রদের আস্থা হারাচ্ছে ছাত্র রাজনীতি? by পারম...
- কাশ্মীর সঙ্কট সমাধানে ট্রাম্পের প্রতি সিনেটরদের চিঠি
- কাশ্মীর সীমান্ত পার হতে আমার ডাকের অপেক্ষায় থাকুন...
- ওমা গো, সান ডিয়াগো! by রিম সাবরিনা জাহান সরকার
- যৌবনে টানাটানি, বার্ধক্যে অচ্ছুৎ, পাকিস্তানি হিজড়া...
- ভারতের যে গ্রামে মৃতদের সঙ্গে বসবাস
- পাটচাষীদের স্বপ্ন- হারানো দিন আবার ফিরে আসবে
- বান্ধবীর সঙ্গে রাত্রীযাপন!
- ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন: মর্গ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ...
- বড় ধরনের পানি সংকটে ভারত by আশীষ বিশ্বাস
- খাদ্য নিরাপত্তা নেই আফ্রিকার ৩ কোটি মানুষের
- ড্রোনের বহুমুখী ব্যবহার by মুরাদ আল কোরাইশী
-
▼
Sep 15
(22)
-
▼
September
(820)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
















