Showing posts with label প্রতিবাদ. Show all posts
Showing posts with label প্রতিবাদ. Show all posts

Friday, December 26, 2025

ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ ইনকিলাব মঞ্চের

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তাঁর সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও রয়েছেন।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর এই কর্মসূচি শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। বিকেল ৪টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কর্মসূচি চলছিল।

ওসমান হাদি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখ। তিনি গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন তিনি। অনেক দিন ধরে তিনি গণসংযোগ করে আসছিলেন।

১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। তাঁকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি। গত রোববার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে তাঁর জানাজা হয়। তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ-সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের পাশে দাফন করা হয়।

ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে আসছে ইনকিলাব মঞ্চ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে।

শাহবাগ মোড় অবরোধে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘আপস না বিপ্লব, বিপ্লব বিপ্লব’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘শাহবাগ না ইনসাফ, ইনসাফ ইনসাফ’, ‘এই দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন।

কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথেই থাকবেন। এই অবরোধ চলছে, এই অবরোধ চলবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা যাবেন না।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ওসমান হাদির যে লড়াই ছিল, তা চলছে। ওসমান হাদিকে সামনে রেখে এই লড়াই চলবে।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমাদের যেই লড়াই, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে টিকিয়ে রাখার, আমাদের সেই লড়াই চলবে।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-26%2F72pq8vti%2FShabagh.jpg?rect=0%2C173%2C4160%2C2773&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও রয়েছেন। ছবি: প্রথম আলো

Thursday, December 25, 2025

এটাই কি মুহাম্মদ ইউনূসের সভ্যতার নমুনা, প্রশ্ন আনু মুহাম্মদের

ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের পর জুলাই সনদ প্রণয়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ‘সভ্যতা’ আনার যে দাবি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস করেছিলেন, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার পর তাঁর সেই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘মাসের পর মাস ধরে আমরা যে নৃশংসতা দেখছি, বিশেষ করে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর দেখলাম, এটাই কি মুহাম্মদ ইউনূসের সভ্যতার নমুনা? এই প্রশ্নটা আজকে আমাদের সবাইকে করতে হবে।’

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে হামলা এবং সব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ বুধবার ঢাকায় শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন বাম সংগঠনের যৌথ সমাবেশে এ কথা বলেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদ। তিনি এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

গত ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস বলেছিলেন, ‘আমরা এক বর্বর জগতে ছিলাম। যেখানে আইনকানুন ছিল না। মানুষের ইচ্ছায় যা ইচ্ছা তা করতে পারত। এখন আমরা সভ্যতায় আসলাম।’

অধ্যাপক ইউনূসের সেই বক্তব্যের পর ‘সভ্যতা’র সংজ্ঞা নির্ধারণ নিয়ে তখনই শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী আক্রমণের পর আবার তা সামনে আনলেন তিনি। তিনি মনে করেন, এই হামলাগুলো উদ্দেশ্যহীন উচ্ছৃঙ্খল আচরণ নয়, বরং একটা মতাদর্শিক অবস্থান থেকে পরিকল্পিত সন্ত্রাস।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথমে প্রথম আলো কার্যালয়ে সন্ত্রাসী আক্রমণ হয়। ভাঙচুর, লুটপাটের পর প্রথম আলো ভবনে আগুন দেওয়া হয়। এরপর কারওয়ান বাজারে ডেইলি স্টার এবং ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনেও একই কায়দায় হামলা হয়। পরদিন তোপখানা সড়কে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

আনু মুহাম্মদ বলেন, বিভিন্ন ভবন ও প্রতিষ্ঠানে যে ভয়ংকর আক্রমণ, হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে, সেগুলো অবিশ্বাস্য ঘটনা। গত দেড় দশক ধরে স্বৈরাচারী হাসিনা আমলের অন্যায়, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠানোসহ সবকিছুর বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থেকেছেন, সেই নূরুল কবীরকে আওয়ামী লীগের দোসর বলে তাঁর ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। ছায়ানট, উদীচী, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে আক্রমণগুলো দেখলে বোঝা যায়, এটা উদ্দেশ্যহীন কতিপয় যুবকের হঠাৎ করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ নয়, এটা খুবই পরিকল্পিত একটা সন্ত্রাস-আক্রমণ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এটা আরও অবিশ্বাস্য এই কারণে যে প্রত্যেকটা ঘটনার সময় তাদের (আক্রমণকারী) সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। কিন্তু তারা যখন ধ্বংসযজ্ঞ করছে, মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে, সেই সময় সামনে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দাঁড়ানো ছিল নিষ্ক্রিয়ভাবে। সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা কী কারণে নিষ্ক্রিয় থাকল, কেন নীরব থাকল? কী কারণে, কীভাবে তারা এমন ভূমিকা পালন করল, যাতে মনে হলো যারা এই ধ্বংসযজ্ঞ বা পরিকল্পিত আক্রমণ চালাচ্ছে, তাদের পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা সহযোগিতার ভূমিকায় রাষ্ট্র নেমেছে, সরকার নেমেছে? এই ভূমিকার কারণ কী?’

সরকারের মধ্যে ‘দুই ফ্যাসিবাদ’

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীতে হামলার আগে উসকানি থাকলেও সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আনু মুহাম্মদ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, গত কয়েক মাসে ফেসবুকে যে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে, তার মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে আক্রমণ করার উসকানি দেওয়া হয়েছে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার এগুলো অজানা থাকার কথা নয়। গোয়েন্দা সংস্থা জানে যে দেশ থেকে এবং বিদেশ থেকে কিছু উসকানিদাতা উসকানি দিচ্ছে মানুষকে আক্রমণ করার জন্য, ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির এই সদস্য বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর আক্রমণ করার জন্য উসকানি দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তাঁরা শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন; আরেকটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুধু শেখ হাসিনার আমল নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন সময় শোষণ, নিপীড়ন, আধিপত্য, বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁদের একটা স্পষ্ট অবস্থান আছে এবং সেই সঙ্গে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে। মুক্তিযুদ্ধ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির ওপর আক্রমণ কারা কেন করতে পারে?

পরিকল্পিত একটা মতাদর্শিক অবস্থান থেকে এই আক্রমণগুলো করেছে দাবি করে আনু মুহাম্মদ সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকার অবশ্য সব জায়গায় নিষ্ক্রিয় নয়, কোনো কোনো জায়গায় তারা খুবই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের দেওয়াসহ বিভিন্ন গোপন ও অস্বচ্ছ চুক্তি করার ক্ষেত্রে সরকারের তাড়াহুড়া দেখা গেছে। তাদের দৃঢ়তা ও সক্রিয়তার অভাব শুধু জনগণের স্বার্থ যেখানে আছে, সেখানে। এই সরকারের মধ্যে দুটি ফ্যাসিবাদী ধারার একটা সম্মেলন ঘটেছে—ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ ও করপোরেট ফ্যাসিবাদ।

সাত দাবি

সমাবেশ থেকে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের নির্বাহী সদস্য মফিজুর রহমান। এসব দাবির মধ্যে আছে শরিফ ওসমান বিন হাদি, দীপু চন্দ্র দাস, আয়েশা আক্তারের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার; উদীচী, ছায়ানট, প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ দেশজুড়ে সংঘটিত প্রতিটি মব ও সন্ত্রাসী হামলার তদন্ত ও বিচার এবং সব সহিংসতায় উসকানিদাতাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা।

অন্য দাবিগুলো হলো মতপ্রকাশের অধিকার ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া; চরমভাবে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অপসারণ এবং তফসিলে ঘোষিত নির্ধারিত সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন।

গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের শিল্পীদের প্রতিবাদী গানে শুরু হয় এই সমাবেশ। বাউলগান পরিবেশন করেন শিল্পী দেলোয়ার হোসেন। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিনিধিরা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য, মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, কাঁটাবন ও শাহবাগ মোড় ঘুরে উদীচী কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। আজ বুধবার ঢাকার শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন বাম সংগঠনের যৌথ সমাবেশে
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। আজ বুধবার ঢাকার শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন বাম সংগঠনের যৌথ সমাবেশে। ছবি: প্রথম আলো

Wednesday, December 17, 2025

সুশীলতা করে লাভ নেই, এবার লাশ পড়লে লাশ নেব: মাহফুজ আলম

জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো আক্রমণ হলে এবার পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। একটা লাশ পড়লে আমরা কিন্তু লাশ নেব। অত সুশীলতা করে লাভ নেই। কারণ, অনেক ধৈর্য ধরা হয়েছে।’

জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আলোচনায় উঠে আসা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বদলীয় সমাবেশে বক্তব্যে এই হুঁশিয়ারি দেন মাহফুজ আলম। ইনকিলাব মঞ্চ এই সমাবেশ আয়োজন করে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবির আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা ওসমান হাদিকে গত শুক্রবার ঢাকার বিজয়নগরে গুলি চালায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই দুর্বৃত্ত। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সরকারি ব্যবস্থাপনায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। তিনি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে প্রচার চালাচ্ছিলেন।

আগামী ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বানচাল করতেই ওসমান হাদির ওপর হামলা বলে মনে করছে পুলিশ। গুলিবর্ষণকারী হিসেবে পুলিশ যাকে চিহ্নিত করেছে, সেই ফয়সল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সন্দেহভাজন আরেক হামলাকারী শেখ আলমগীর ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাদির ওপর হামলার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বৈঠকে এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তার আলোকে আজ অনুষ্ঠিত সমাবেশে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণেরা যোগ দেন।

নির্বাচনের আগে ১০ ডিসেম্বর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব ছেড়ে আসা মাহফুজ আলমকে আজই প্রথম কোনো প্রকাশ্য সভায় দেখা গেল। তিনি দেশের সামনে ‘সংকটময়’ পরিস্থিতি আসার শঙ্কা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।

মাহফুজ আলম বলেন, ‘৫ আগস্টের পর যখন মুজিববাদীদের, আওয়ামী লীগ ও ১৪–দলীয় সন্ত্রাসীদের প্রতিটি বাড়ি চুরমার করে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল, সেদিন আমরা নিজেদের সংবরণ করেছিলাম বলে আজকে তারা এই সাহস পাচ্ছে। আমরা ক্ষমা করে যদি ভুল করে থাকি, তাহলে আমরা প্রতিজ্ঞা নেব, আমরা আর ক্ষমা করব না।’

বাংলাদেশে থেকে যারা ভারত ও ভিনদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করবে, তাদেরও নিরাপদ থাকতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের ভেতরের রাজনৈতিক লড়াইকে যারা বাইরে নিয়ে গেছে, তাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই যে যদি দেশের লড়াই দেশের বাইরে যায়, তাহলে মুক্তির লড়াইও এ দেশের বাইরে যাবে। আমরা যদি নিরাপদ না থাকি, এই দেশে আমাদের শত্রুরাও নিরাপদে থাকতে পারবে না। এটা হচ্ছে বেসিক কন্ডিশন।’

গত বছর অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার সে দেশে বসে বক্তব্য–বিবৃতির দিকে ইঙ্গিত করে মাহফুজ আলম বলেন, ‘ভারত থেকে আপনারা সন্ত্রাসের উসকানি দেবেন, সন্ত্রাস চালাবেন, আমার ভাইয়ের ওপর গুলি চালাবেন—এটা আমরা বরদাশত করব না।’

জুলাইয় অভ্যুত্থানের পক্ষে জেলায় জেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, জুলাইয়ের শক্তি গঠনমূলকভাবে শক্তিশালী হলে বিভিন্ন লড়াই মোকাবিলা করা সহজ হবে।

মুজিববাদীদের গণপ্রতিরোধের ঘোষণা নাহিদের

ওসমান হাদিকে গুলি করার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লব ও বাংলাদেশকে আক্রান্ত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি সমাবেশে আগামীকাল মঙ্গলবার রাস্তায় রাস্তায় ‘প্রতিরোধযাত্রা’ করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, মিডিয়া ও আইন অঙ্গনে যারা মুজিববাদের রাজনীতি পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ চলবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারত যদি মনে করে তারা আগের মতোই বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ, নির্বাচনে কারসাজি করবে, সেই ভাবনা ভুল। ভারতের স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্বও বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তাদের সাবধান থাকতে হবে।

হাদির ওপর হামলাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলার পর সিইসির দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার থাকে না। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ চাই, কিন্তু এই অথর্ব কমিশনের অধীনে তা সম্ভব বলে মনে করছি না।

সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধী হাসিনাকে ভারত জায়গা দিয়েছে। ভারতকে বলতে চাই, হাসিনাসহ বাংলাদেশে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক খুনিকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।’

নীল দলের শিক্ষকদের বের করে দিতে হবে: হাসনাত

সমাবেশে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ভারত বাংলাদেশকে ফিলিস্তিন বানাতে চায়। ওসমান হাদির ওপর যারা আক্রমণ করেছে, তারাসহ বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের ভারত আশ্রয়–প্রশ্রয় দিচ্ছে। স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এটা চলতে থাকলে আমরাও ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দেব।

‘নীল দলের (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন) পা চাটা শিক্ষকদের ধরে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দিতে হবে’—এমন মন্তব্য করে হাসনাত বলেন, ‘নাটক-সিনেমা থেকে আওয়ামী লীগ ও মুজিবের পা চাটা দালালদের বের করতে হবে।’ তিনি বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বৈধতা উৎপাদনকারী ‘টক শোজীবীরা’ ফ্যাসিস্টদের মানবাধিকারে বিশ্বাস করেন, মজলুমদের মানবাধিকারে বিশ্বাস করে না।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সমাবেশে বলেন, ভারত যদি মনে করে হাসিনা ও ওসমান হাদির ঘাতকদের আশ্রয় দিয়ে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, তা কোনো দিন হবে না।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আপ বাংলাদেশ, লেবার পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।

মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের সঞ্চালনায় এই সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমিতি রাওয়া ক্লাবের সভাপতি কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান, খেলাফত মজলিসের নেতা আহমদ আলী কাসেমী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, আপ বাংলাদেশের সদস্যসচিব আরেফিন মোহাম্মদ, জনতার দলের মহাসচিব আজম খান, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ফাতিমা তাসনিম জুমা প্রমুখ।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-15%2Fduqdx2vx%2Finquilab-mancha-mahfuj.jpg?rect=1%2C0%2C1599%2C1066&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। আজ সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে’ ছবি: প্রথম আলো

Thursday, June 12, 2025

লস অ্যাঞ্জেলেসের বিক্ষোভ নিয়ে এ পর্যন্ত যা কিছু জানা গেছে

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে সহিংস বিক্ষোভের পর বেশকিছু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জন্ম নিলেও গত সোমবার ট্রাম্প আরও ২ হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য ও ৭০০ মেরিন সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন।

লস অ্যাঞ্জেলেসের লাতিন জনগোষ্ঠী–অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বড় সংখ্যায় অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার শুরু করলে লোকজন এর প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামেন।

শুরুতে এসব বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে হলেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা একটি প্রধান মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং চালকবিহীন কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে সোমবার সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে শুরু করে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে কেন বিক্ষোভ হচ্ছে

গত শুক্রবার ফেডারেল ইমিগ্রেশন সংস্থা (আইসিই) লস অ্যাঞ্জলেসের লাতিন জনগোষ্ঠী–অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় অভিযান শুরু করেছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিক্ষোভ শুরু হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এরপরই লস অ্যাঞ্জেলেসে ধরপাকড় বেড়ে যায়।

বিবিসির সহযোগী মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টলেক ও প্যারামাউন্ট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। প্যারামাউন্ট শহরের ৮২ শতাংশের বেশি বাসিন্দা হিসপ্যানিক।

প্যারামাউন্টের একটি হোম ডিপো শপে আইসিই অভিযান চালিয়েছে বলেও খবর পাওয়া যায়। তবে কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানান, এ তথ্য সঠিক নয়।

পরে আইসিই সিবিএসকে জানায়, গত শুক্রবার অভিবাসীদের একটি কর্মস্থলে অভিযান চালিয়ে ৪৪ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই দিন লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

লস অ্যাঞ্জেলেসের কোথায় বিক্ষোভ হচ্ছে এবং সেখানে কী ঘটছে

বিক্ষোভ মূলত লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ ছিল। কয়েক দিনের সংঘর্ষের পর পুলিশ সেখানে সমাবেশ বেআইনি ঘোষণা করে।

গত রোববার বিভিন্ন যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অশ্বারোহী বাহিনীর ওপর অগ্নিসংযোগকারী সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। দাঙ্গা মোকাবিলার বিশেষ পোশাক পরা পুলিশ কর্মকর্তারা ‘ফ্ল্যাশ-ব্যাং’ গ্রেনেড ও ‘পিপার স্প্রে’ ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। বিক্ষোভের কারণে কিছুক্ষণের জন্য ১০১ ফ্রিওয়ে (একটি প্রধান সড়ক) বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখানে লুটপাটের খবর আসে।

শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত ফেডারেল ভবনে আইসিইর অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত শনিবার সংস্থাটি হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে ভবনটি ঘেরাও করা ও হামলার অভিযোগ তুলেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্র থেকে ৩২ কিলোমিটারের মতো দক্ষিণে প্যারামাউন্ট এলাকার একটি খুচরা নির্মাণসামগ্রীর দোকান (হোম ডিপো) বিক্ষোভের বড় আরেকটি ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শনিবার সেখানে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ কাঁদা গ্যাসের শেল ও ফ্ল্যাশ গ্রেনেড ছোড়ে। রোববার সশস্ত্র ন্যাশনাল গার্ড ওই এলাকার কাছাকাছি একটি ব্যবসাকেন্দ্র পাহারা দেয়।

লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) জানায়, তারা শনিবার ২৯ জন ও রোববার ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

অন্যদিকে রোববার সান ফ্রান্সিসকোতে বিক্ষোভের জেরে প্রায় ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সোমবারও বিক্ষোভ চলেছে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ স্টান গ্রেনেড ছোড়ে। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। পরে বিক্ষোভ অনেকটা শান্ত হয়ে আসে এবং রাস্তায় মানুষের চলাচল ও সহিংস ঘটনা—উভয়ই কমে আসে।

লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের অন্যান্য এলাকায় জীবনযাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল। তবে এলএ প্রাইড প্যারেড উপলক্ষে কিছু সড়ক সপ্তাহান্তে বন্ধ রাখা হয়।

ন্যাশনাল গার্ড কী এবং কেন ট্রাম্প তাদের মোতায়েন করলেন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করার পর ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

পশ্চিম উপকূলের শহরটিতে সোমবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প আরও দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করার নির্দেশ দেন। বাড়তি সহায়তা হিসেবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনও ৭০০ মেরিন সদস্য ডেকেছে।

ন্যাশনাল গার্ড যুক্তরাষ্ট্রে একটি হাইব্রিড বাহিনীর মতো কাজ করে। এটি একযোগে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য উভয় সরকারের অধীন কাজ করে। সাধারণত সংশ্লিষ্ট রাজ্যের গভর্নরের অনুরোধে কোনো রাজ্যে এ বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়।

তবে ট্রাম্প এসব প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে বিরল ব্যবহৃত একটি ফেডারেল আইন কার্যকর করেন। তিনি যুক্তি দেখান, চলমান এ বিক্ষোভের মাধ্যমে ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে একধরনের বিদ্রোহ’ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৫ সালের পর প্রথমবারের মতো এবারই কোনো গভর্নরের অনুরোধ ছাড়া ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হলো।

এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসম ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন ব্যাস। তাঁদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশই যথেষ্ট ছিল।

নিউসম ওই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘আগুনে ঘি ঢালার শামিল’ উল্লেখ করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

সোমবার করা এ মামলায় ক্যালিফোর্নিয়া সরকার অভিযোগ করেছে, গভর্নরের আপত্তি সত্ত্বেও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। সংবিধানের দশম সংশোধনী অনুযায়ী, সংবিধানে ফেডারেল সরকারকে যেসব ক্ষমতা স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়নি, সেসব রাজ্য সরকারগুলোর জন্য সংরক্ষিত থাকে।

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা এ মোতায়েনকে ‘বাস্তবতা বিবর্জিত উসকানিমূলক সিদ্ধান্ত’ ও ‘ফেডারেল সরকারের ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এদিকে সিবিএস নিউজ/ইউগভ-এর এক জরিপ অনুযায়ী, জুনের শুরুতে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগে ৫৪ শতাংশ মার্কিন ট্রাম্পের অভিবাসননীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ৫০ শতাংশ ট্রাম্পের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

তবে অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ছিল ৪২ শতাংশের এবং মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় তাঁর নীতির প্রতি সমর্থন ছিল আরও কম; মাত্র ৩৯ শতাংশ।

অন্যান্য কোন সংস্থা জড়িত

ন্যাশনাল গার্ডের কাজ হলো কর্তব্য পালনের সময়ে ফেডারেল এজেন্সির (যেমন আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) সদস্যদের সুরক্ষা দেওয়া।

এই সেনারা নিজেরা অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযান বা সাধারণ পুলিশি কাজ পরিচালনা করেন না। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ সে দায়িত্ব পালন করে থাকে।

আইন অনুযায়ী কিছু ব্যতিক্রম (যেমন ইনসারেকশন অ্যাক্ট) ছাড়া বেসামরিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফেডারেল সেনা মোতায়েন নিষিদ্ধ।

যদিও ট্রাম্প আগে ২০২০ সালের ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের সময় এই আইন প্রয়োগের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিকতম বিক্ষোভের আগে তিনি এ ক্ষমতা ব্যবহার করেননি।

ট্রাম্পের সমর্থকেরা ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, প্রয়োজনে নিকটবর্তী ক্যাম্প পেন্ডলটনে থাকা সক্রিয় মেরিন সদস্যদের পাঠানো হবে এবং বর্তমানে তাঁরা ‘সর্বোচ্চ সতর্কতায়’ রয়েছেন।

আইসিই কাদের ফেরত পাঠাচ্ছে

সাম্প্রতিক এসব অভিযান ট্রাম্পের ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিবাসীবিরোধী অভিযানের’ পরিকল্পনার অংশ। লস অ্যাঞ্জেলেসের অধিবাসীদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে বলে জায়গাটি এমন অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

গত মে মাসের শুরুতে আইসিই জানিয়েছিল, লস অ্যাঞ্জেলেসে এক সপ্তাহব্যাপী অভিযানে ২৩৯ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। তবে গ্রেপ্তার করা অভিবাসী ও তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা ট্রাম্পের প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল।

পরের মাসে হোয়াইট হাউস আইসিইকে দিনে অন্তত তিন হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে।

তল্লাশির অন্তর্ভুক্ত এলাকার পরিসরও বাড়িয়ে প্রশাসন এখন রেস্তোরাঁ, দোকানসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে অভিযান চালাচ্ছে।

অভিবাসনবিরোধী বড় ধরনের এ অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এল সালভাদরের একটি বড় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এসব বন্দীর ভেতর অন্তত একজন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থায় ছিলেন। ট্রাম্পের অনেক পদক্ষেপ ইতিমধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। ৮ জুন ২০২৫
লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। ৮ জুন ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

ক্যালিফোর্নিয়া কেন জ্বলছে by হাসান ফেরদৌস

ঘটনা শুরু হয়েছিল বৈধ কাগজপত্রবিহীন বহিরাগত ব্যক্তিদের ধরপাকড় থেকে। গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের যে দুটি এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়, তার প্রায় ৬০ শতাংশ বহিরাগত–অধ্যুষিত। এঁদের মধ্যে বৈধ নাগরিক নন, এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফেডারেল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ‘আইস’ সেখানে বহিরাগত ব্যক্তিদের কর্মস্থলে অভিযান চালায়। আর তাতেই বিপত্তির শুরু।

পরপর তিন দিনের বিক্ষোভ ও দাঙ্গার পর অবস্থা সামাল দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর নির্দেশ দেন। নিয়মিত বাহিনীর অংশ হিসেবে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা একই সঙ্গে ফেডারেল পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ও অঙ্গরাজ্যে গভর্নরের নির্দেশে কাজ করে থাকে। কয়েক দিন আগে গার্ডদের প্রথম দলটি আইস বা ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট–বিরোধী দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছায়। ভারী অস্ত্রসজ্জিত এসব গার্ডের উপস্থিতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বদলে তা আরও উসকে দেয়। দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।

অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের একটি আইনশৃঙ্খলাজনিত ঘটনাকে কেন এভাবে একটি ফেডারেল সমস্যায় দাঁড় করানো হলো, তা নিয়ে এখন বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ন্যাশনাল গার্ডদের নিয়োগ নতুন ঘটনা নয়—গত ৬০ বছরে অবস্থা সামাল দিতে দুই ডজনের বেশি সময় তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু একবার ছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রেই হয় স্থানীয় গভর্নরের অনুরোধে, অথবা গভর্নরের অনুমতি ও সমর্থনেই তেমন নিয়োগ হয়েছে। এবার তার ব্যতিক্রম কেন?

সেই প্রশ্ন তুলে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসাম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর যুক্তি—যে আইনের ভিত্তিতে ন্যাশনাল গার্ডদের ট্রাম্প প্রেরণ করেছেন, তা শুধু বহিরাগত ‘আক্রমণ’ বা বড় ধরনের ‘বিদ্রোহ’ ঠেকাতে করা হয়ে থাকে। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ায় কোনো বিদেশি আক্রমণ ঘটেনি, কোনো বিদ্রোহ হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা ক্যালিফোর্নিয়ার নিজের রয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিষয়টিকে রাজনীতিকরণের উদ্দেশ্যেই এমন অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ন্যাশনাল গার্ডের তিনি সেনাধ্যক্ষ, অথচ এ বিষয়ে তাঁর সম্মতি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন ট্রাম্প দেখেননি।

ট্রাম্প ও নিউসামের মধ্যে বিরোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন নয়। নিউসামকে যে তিনি পছন্দ করেন না, সেটাও কোনো গোপন ব্যাপার নয়। তাঁকে অযোগ্য ও ব্যর্থ অতি বাম রাজনীতিক হিসেবে হরহামেশাই বিদ্রূপ করে থাকেন ট্রাম্প। তিনি নিউসামের নতুন নাম দিয়েছেন নিউস্কাম (স্কাম শব্দের এক অর্থ জঘন্য বা আবর্জনা)। আইসের অভিযানের সময় গোলযোগ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে অযোগ্য ও অপদার্থ প্রমাণের এমন একটি সুযোগ তিনি সম্ভবত হাতছাড়া করতে চাননি।

নিউসামের পক্ষ নিয়ে ডেমোক্রেট দলীয় গভর্নররা এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে ন্যাশনাল গার্ডের অধিনায়ক হচ্ছেন সে রাজ্যের গভর্নর। অথচ সেই অধিনায়কের সম্মতি ছাড়াই ন্যাশনাল গার্ড নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত অকার্যকর ও ভয়াবহ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য সব সমালোচনা শুধু অগ্রাহ্য করেছেন তা–ই নয়, প্রয়োজন হলে নিউসামকে গ্রেপ্তারের পক্ষে মত দিয়েছেন। উত্তাপ কমানোর বদলে তার প্রশাসন আরও দুই হাজার গার্ডকে গোলযোগ দমনে পাঠাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। কয়েক হাজার নৌ সেনাকেও সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

‘দেশ বাঁচাও’ যুক্তিতে ন্যাশনাল গার্ড ও নিয়মিত সেনাসদস্যদের নিয়োগ করা হলেও ট্রাম্প যে একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা অনুসরণ করছেন, তাতে সন্দেহ নেই। তাঁর অন্যতম উপদেষ্টা স্টিভেন মিলার বলেছেন, তাঁরা ‘সভ্যতা বাঁচানোর’ লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছেন। অথচ ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের অনুসারীরা কংগ্রেস ভবন আক্রমণ করে মার্কিন গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি হুমকি দিয়েছিল, তা ঠেকাতে শত অনুরোধ সত্ত্বেও কোনো ন্যাশনাল গার্ড তিনি পাঠাননি।

ট্রাম্প অনেক দিন থেকেই বলে আসছেন ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ডেমোক্রাটদের নিয়ন্ত্রিত রাজ্য ও শহরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেমন নিউইয়র্ক সিটি সম্বন্ধে তিনি বলেছিলেন, এটি অপরাধ ও দুষ্কর্মে ভরা এক অবিশ্বাস্য ‘নরকের গর্ত’ (তাঁর কথায় ‘হেল হোল’)। শিকাগো, বাল্টিমোর বা ফিলাডেলফিয়াসহ যেকোনো ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহর ও রাজ্যকেও তিনি এই ভাষায় আক্রমণ করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের আইসবিরোধী দাঙ্গার উদাহরণ তুলে ট্রাম্প এখন তাদের ওপর একহাত নেওয়ার ভালো সুযোগ পেয়েছেন।

এ কথা ভাবার কারণ রয়েছে, একই রকম প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ ঠেকাতে ট্রাম্প অন্য অনেক শহরেও সৈন্য পাঠাতে পারেন। যে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি সৈন্য প্রেরণের নির্দেশ দেন, তাতে কোথাও ক্যালিফোর্নিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেখানেই অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ হবে, এমনকি তা যদি শান্তিপূর্ণও হয়, তা প্রতিরোধে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানো হবে। অর্থাৎ ট্রাম্প ভাবছেন আইনবিরোধী বিক্ষোভ দেশের অন্যত্রও হবে। তাদের দমনেও ফেডারেল সৈন্য ব্যবহার করা হবে—এমন আগাম হুঁশিয়ারি তিনি এই নির্বাহী আদেশে দিয়ে রাখলেন।

কয়েক দিনের বিক্ষোভ ও দাঙ্গায় লস অ্যাঞ্জেলেসের শহরতলির কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হাতবোমা থেকে কিছু লোক আহত হয়েছেন। কিন্তু কেউ নিহত হননি। এ ধরনের বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহরে মোটেই নতুন কোনো ঘটনা নয়। নতুন যা হলো, এ ঘটনাকে একটি যুদ্ধক্ষেত্রে রূপান্তরের চেষ্টা। সে কথা উল্লেখ করে নিউইয়র্ক টাইমস এক সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করেছে, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বদলে ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য বেপরোয়া শক্তির প্রদর্শনী।

আরও কঠোর ভাষায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ব্রেনন সেন্টার ফর জাস্টিস। মানবাধিকারভিত্তিক এই সংস্থার অন্যতম পরিচালক এলিজাবেথ গয়তিন স্থানীয় গভর্নরের সম্মতি ছাড়া সৈন্য প্রেরণের সিদ্ধান্তকে অভূতপূর্ব ও আইনবহির্ভূত বলেছেন। যে আইনের ব্যবহার করে ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে শুধু ‘শেষ ব্যবস্থা’ হিসেবে সৈন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই কথা বলেছেন নাগরিক অধিকার সংস্থা এসিএলইউ। এই সংস্থার পরিচালক হিনা শামসি বলেছেন, বেসামরিক পরিস্থিতিতে সামরিক শক্তি ব্যবহার না করার যে নীতি এত দিন আমরা মেনে এসেছি, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এর ফলে শুধু যে স্থানীয় নাগরিকেরা বিপদের মুখে পড়বে তা নয়, সৈন্যরাও বিপদে পড়তে পারে। কারণ, তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে পড়বে।

যেভাবে ও যে ভাষায় হোয়াইট হাউস থেকে এই অভিযানের পক্ষে কথা বলেছেন, তাতে মনে হয় ব্যাপারটায় তারা মহাখুশি। অবৈধ অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে তিনি আপসহীন ও কঠোর, নির্বাচনের আগে থেকেই ট্রাম্প বলে আসছেন। এখন হাতে–কলমে সে কথার এক প্রমাণ দিলেন। ঠিক এই মুহূর্তে কেন, তারও একটা ব্যাখ্যা রয়েছে। বাণিজ্যযুদ্ধ, বাজেট প্রশ্নে বিতর্ক ও অব্যাহত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে এখন তাঁর প্রয়োজন ছিল দেশের মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে ফেরানো। ক্ষমতা গ্রহণের চার মাস হতে না হতেই তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। তবে যে একটি বিষয়ে তিনি এখনো আমেরিকানদের, বিশেষ করে তাঁর রিপাবলিকান সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয়, তা হলো অবৈধ অভিবাসন প্রশ্নে তাঁর অব্যাহত কঠোর অবস্থান। মনে হয়, নিজের নড়বড়ে জনপ্রিয়তাকে জোড়া লাগাতে তিনি সেই অভিবাসন প্রশ্নটিকেই ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তাতে কাজও দিয়েছে। সিবিএস নিউজ পরিচালিত এক জনমত জরিপ অনুসারে, দেশের ৫৪ শতাংশ মানুষ অভিবাসন প্রশ্নে তাঁর এই কঠোর অবস্থানে খুশি। খুশি নন, এমন মানুষের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ।

এক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা অ্যানা শহরে
এক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা অ্যানা শহরে। ছবি: এএফপি

Saturday, March 22, 2025

আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে আসতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে আসতে হবে

আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতিতে আসতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। গতকাল বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সামনে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত ফিলিস্তিনে গণহত্যা-বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত নেতারা শেখ হাসিনার সরকারের ওপরও তীব্র আক্রমণ করেন এবং বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হলে দেশের মানুষ তা বরদাস্ত করবে না। তারা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতার ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে হবে।

সরজমিন দেখা যায়, বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রবেশের সময় ব্যাগ নিয়ে আসা মুসল্লিদের ব্যাগ তল্লাশি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় সেনাবাহিনী, সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশ ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যদেরও ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় মুসল্লিরা ইসরাইল-বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন। মিছিলকারীরা ইসরাইলকে নিষিদ্ধ এবং নেতানিয়াহু’র বিচার দাবি করেন।

এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধে আমরা জাতিসংঘের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানাচ্ছি। এই যুদ্ধের দাবানল সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এর জন্য দায়ী হবে জাতিসংঘ। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের দেশ থেকে মুজাহিদের দল গঠন করার উদ্যোগ নিন। তিনি বলেন, ভারতে মুসলমানদের রক্ত দিয়ে হলি খেলবার পাঁয়তারা হচ্ছে। ভারত এবং ইসরাইলের যৌথ প্রযোজনায় মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। আওরঙ্গজেব সমাধি ভাঙার চক্রান্ত করা হচ্ছে। যদি ভাঙা হয় আমরা এ কার্যক্রমকে গাজওয়াতুল হিন্দের প্রতিধ্বনি হিসেবে বিবেচনা করবো। প্রয়োজনে বাংলার মুসলমানরা আওরঙ্গজেব অভিমুখে লংমার্চ করবে।  

পাসপোর্টে এক্সেপ্ট ইসরাইল লেখা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা ভারতের প্রেসক্রিপশনে পাসপোর্ট থেকে এক্সেপ্ট ইসরাইল লেখা তুলে দিয়েছে। আমরা বর্তমান সরকারের প্রতি পাসপোর্টে এক্সেপ্ট ইসরাইল লেখা বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি। পিলখানা, শাপলা চত্ব্বর ও জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি এ দেশের মানুষ বরদাস্ত করবে না। মামুনুল হক বলেন, মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পূর্ব ধারণা ছিল, সরকার পতন হলে লাখ লাখ আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা করা হবে কিন্তু তা হয়নি। এর সুযোগ নিয়ে তারা পুনর্গঠিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসতে হলে আমাদের লাশের ওপর দিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্র হেফাজত ইসলাম রুখে দেবে।
সমাবেশে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফযলুর করিম কাসেমী বলেন, ফিলিস্তিনি মুসলমানদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে তাতে বাংলাদেশের মুসলমানদের রক্তে দাগ লেগেছে। জাতিসংঘ মুসলমানদের স্বার্থে অন্ধ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে ইসরাইলি পণ্য বর্জন এবং প্রবেশ বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, গণহত্যাকারী নেতানিয়াহুকে ফাঁসি দিতে হবে। ইসরাইলের অস্তিত্ব পৃথিবীতে রাখতে দেয়া যাবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রতি তিনি বলেন, আপনার সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ক খুব ভালো। আপনি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছেন, সেজন্য ধন্যবাদ জানাই। ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের সকল কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। ইসরাইল এবং ভারত মুসলিম নিধনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তিনি বলেন, শাপলা চত্ব্বর, বিডিআর ও জুলাই বিপ্লবের গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। একই সমাবেশে হেফাজত ইসলামের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাজনীতি করতে দেয়া হবে না।

mzamin

Monday, March 10, 2025

ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল দেশ

নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিক্ষোভ হয়েছে সারা দেশে। প্রতিবাদ বিক্ষোভ, লাঠি মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এসব কর্মসূচি থেকে ধর্ষণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভকারীরা বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন উৎখাত করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছেন। অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়।

সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লাঠিমিছিল হয়েছে। ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফরমের ব্যানারে বেলা পৌনে তিনটার দিকে টিএসসি’র রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বাঁশের ছোট ছোট লাঠি হাতে রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু করে ভিসি চত্বর, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, শাহবাগ মোড় ঘুরে মিছিলটি আবার রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মিছিলে ‘জান, মালের নিরাপত্তা দে নইলে গদি ছেড়ে দে’, ‘খুন, ধর্ষণ, নিপীড়ন রুখে দাঁড়াও জনগণ’, ‘অবিলম্বে ধর্ষকদের বিচার করো করতে হবে’, ‘ধর্ষকরা ধর্ষণ করে প্রশাসন কী করে?’, ‘ বেগম রোকেয়া শিখিয়ে গেছে লড়াই করে বাঁচতে হবে,’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়া হয়। এর বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠনসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ ধর্ষণ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সারা দেশব্যাপী ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করায় সরকারও এ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে। ধর্ষণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, নির্যাতন, নিপীড়নের অভিযোগের জন্য টোল ফ্রি হটলাইন চালু করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।  

একের পর এক ঘটনা: শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে স্বামীর সঙ্গে রাগ করে চাঁদপুর থেকে লঞ্চে ঢাকার সদরঘাটে আসেন এক নারী। পরে তিনি থাকার জন্য বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় খুঁজছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পোস্তগোলা এলাকায় অজ্ঞাত চার যুবক তাকে আশ্রয়ের কথা বলে নয়াবাড়ী এলাকার নির্জন জায়গায় নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন টের পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’জনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। বাকি দুইজন পালিয়ে যায়। ওই নারী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। রোজার মধ্যে বাড়তি ক্লাসের কথা বলে পঞ্চম শ্রেণির এক নারী শিক্ষার্থীকে স্কুলে ডেকে নিয়ে যান ওই স্কুলের শিক্ষক মানিক। দুপুরে তিনি অন্য শিক্ষার্থীদের চলে যেতে বলেন। সবাই চলে গেলে শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। পরে মানিক নিজের মোটরসাইকেলে করে ছাত্রীকে বাড়ির পাশে রেখে যান। বাড়িতে গিয়ে মেয়ে কান্নাকাটি করে পরিবারকে বিষয়টি জানায়। স্কুলে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পরেই সে বাড়ি চলে আসে। তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে। শুধু পঞ্চম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী ও বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা ওই গৃহবধূই নন। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের সঙ্গে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে অহরহ। এ ছাড়া দেশজুড়ে নারীর প্রতি সহিংসতা পাশবিকতা আচমকা বেড়েছে। এখনো সিএমএইচের লাইফ সাপোর্টে বাঁচা-মরার লড়াই করছে মাগুরার ৮ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। বোনের বাসায় বেড়াতে এসে পাশবিকতার নির্যাতন হয়েছে শিশুটি।

সাম্প্রতিক সময় ছাড়াও অন্যান্য বছরগুলোতেও বিভিন্ন সময় আলোচনায় ছিল ধর্ষণকাণ্ড। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সারা দেশে ৬ হাজার ২৭২ জন নারী ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সারা দেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৯ জন। এরমধ্যে একক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮ জন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ১৩ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩ জনকে এবং আত্মহত্যা করেছেন ১ জন। এসব ঘটনায় ২৯টি মামলা হয়েছে থানায়। আসকের তথ্য মতে ২০২৪ সালে সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪০১ জন। এরমধ্যে একক ধর্ষণ ২৯৬ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১০৫ জন। ৩৪ জন ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন। থানায় মামলা হয়েছে ৩৩৪টি। ২০২৩ সালে ৫৭৪ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ৪৩৬ জন ধর্ষণ ও ১৩৮ জনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৩৩ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। ৪৩৩টি ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ২০২২ সালে ৯৩৬ জনকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৭০৬ জনকে ধর্ষণ ও ২২৭ জনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। ৪৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ৬৫৯টি ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ২০২১ সালে সারা দেশে ১ হাজার ৩২১ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ১ হাজার ৬৬ জনকে ধর্ষণ ও ১৪১ জনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ৯১৬টি ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ২০২০ সালে ১ হাজার ৬২৭ জন নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১ হাজার ৩০২ জনকে ধর্ষণ ও ৩১৭ জনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ৫৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ১ হাজার ১৪০টি ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ২০১৯ সালে ১ হাজার ৪১৩ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ১ হাজার ৬৬ জন ধর্ষণ ও ৩২৭ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৭৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ৯৯৯টি ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে ২০১৯ সালে সারা দেশে ২১ হাজার ৭৬৪ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ২০২০ সালে সেটি আরও বেড়ে ২২ হাজার ৫১৭ জন ভুক্তভোগী মামলা করেন। এভাবেই ২০২১ সালে ২২ হাজার ১৩৬ জন। ২০২২ সালে ২১ হাজার ৭৬৬ জন। ২০২৩ সালে ১৮ হাজার ৯৪১ জন। ২০২৪ সালে ১৭ হাজার ৫৭১ জন মামলা করেন। এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১ হাজার ৪৪০ জন মামলা করেছেন। সমাজ ও অপরাধ বিজ্ঞানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, নারী ও শিশুদের  ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বলছে তাদের সুরক্ষার জন্য আইন করা হয়েছে, বিভিন্ন সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুরক্ষার জন্য কি কি আছে সেদিক দিয়ে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে আছে। নারীদের সুরক্ষার জন্য সবই আছে। কিন্তু সেটি ঠিকমতো কাজ করছে না। শাস্তিভিত্তিক বিচারব্যবস্থায় যদি বিচার না হয় দ্রুত সময়ের মধ্যে তাহলে ভুক্তভোগীর সংখ্যা বাড়বেই। মোটাদাগে পুরুষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আইন কাজ করে না। তাই পুরুষরা কেন আইন মানবেন? যখনই আইন কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে না সেই আইন কেউ মানবে না। তিনি বলেন, নারী ও শিশুকে সুরক্ষিত রাখার জন্য রাষ্ট্র যে প্রাথমিকভাবে আইন, অন্যান্য সেবা ও নিরাপত্তা কাঠামো যে তৈরি করলো সেটি বাস্তবায়নের মধ্যে তাদের সুরক্ষিত রাখাই প্রধান দায়িত্ব।

দিন-রাত মাঠে বিক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষার্থীরা: মাগুরায় নৃশংস ধর্ষণের শিকার শিশুসহ সম্প্রতি সংগঠিত সকল ধর্ষণের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা শনিবার রাতে বাইরে বেরিয়ে আসেন। একাত্মতা ঘোষণা করে শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন।  এ সময় তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকদের ঠাঁই নাই’, ‘তুমি কে আমি কে, আছিয়া আছিয়া’, একটা একটা ধর্ষক ধর, ধরে ধরে কবর দে’, ধর্ষকদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’- ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনান্য হল থেকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসলে মুহূর্তেই লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে টিএসসি এলাকা। এ সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী স্লোগানে প্রকম্পিত হয় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য। রাত ২টার দিকে একই স্থানে ‘ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ’-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাবি মুখপাত্র রাফিয়া রেহনুমা হৃদি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা এই আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেন এবং দুই দফা দাবিসহ ধর্ষকদের আদালতে উপস্থাপন করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। এই দুই দফা হলো ১. অনতিবিলম্বে ধর্ষণবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে সকল ধর্ষণের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ২. আছিয়ার হত্যাচেষ্টাকারী এবং ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে এবং যতদিন পর্যন্ত  দাবি বাস্তবায়ন না হচ্ছে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ তাদের কর্মসূচি বহাল রাখবে বলেও জানানো হয়। গতকাল সকালেও একাধিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের খণ্ড খণ্ড মিছিল করতে দেখা গেছে। একইসঙ্গে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করেছে একাধিক বিভাগের একাধিক ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। প্রায় ২০টিরও অধিক   বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচ ধর্ষকদের বিচার না হওয়া অবধি তাদের ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এসব বিভাগের মধ্যে আছে ইংরেজি, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র অধ্যয়ন, দর্শন, প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগ, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সংগীত, আইআর, ভূগোল এবং পরিবেশ, ইতিহাস, বাংলা ও বিজ্ঞান অনুষদের কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। সহিংসতার ঘটনায় ছাত্রসংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অব্যাহতভাবে ধর্ষণের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সারা দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বার্তা প্রেরক করে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এমনটা জানানো হয়। দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদলের এই কর্মসূচি পালিত হয়।

উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি এস এম ফরহাদ ও সেক্রেটারি মহিউদ্দীন খান দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা ছিলেন সম্মুখ সারির যোদ্ধা। তথাপি ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশে এখনো নারীরা প্রতিনিয়ত নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিবছর নারী দিবস আসলে নারী নিরাপত্তা নিয়ে অনেক আলোচনা শুনলেও কার্যত সমাজে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করে নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তাই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে প্রথম নারী দিবসের মূল লক্ষ্যই হোক নারীদের অধিকার নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ সমাজ গঠন। নারী নির্যাতনসহ সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই আমরা সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন এবং নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, ফ্যাসিবাদী প্রশাসনিক কাঠামো ভাঙতে না পেরে আমাদের রাষ্ট্র নারীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। বয়স, পেশা, ধর্ম নির্বিশেষে নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে, তাদের হত্যা করা হচ্ছে। নারীরা নিজের ঘরে নিরাপদ না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ না, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নারীর প্রতি ঘটা সহিংসতাকারীদের শনাক্ত করতে প্রায়ই ব্যর্থ হয়, আটক করলেও জামিনে ছেড়ে দেয়া হয়। আইন মোতাবেক সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড লিখিত থাকলেও তা কার্যকর করা হয় না। আমরা মনে করছি কাঠামোগতভাবে এই রাষ্ট্র ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম না, আমরা মনে করি আইনগত দুর্বলতা বাংলাদেশে ধর্ষক তৈরি করে। আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি ধর্ষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নারীবিদ্বেষী আগ্রাসী মব, বিচারহীনতার বিরুদ্ধে। এমতাবস্তায়, আইনের যথাযথ প্রয়োগ করে ধর্ষকদের শ্রেণি, বয়স, পেশা, ক্ষমতা নির্বিশেষে দ্রুততম সময়ে শনাক্তকরণ  করতে হবে, আটক করতে হবে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাবেশ করেছে ঢাবি শিক্ষকদের একাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের আয়োজনে এই সমাবেশ হয়। এতে ঢাবি’র বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। কাছাকাছি সময়ে রাজু ভাস্কর্যে মিছিল করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ সমাবেশে ঢামেকের অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, যারা ধর্ষণ করে এবং যারা এদের মদত দেয় তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এর আগে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ধর্ষণের সেঞ্চুরি করা হয়েছে। ধর্ষককে রাজনৈতিক দল এবং নির্বাহী ক্ষমতা যারা ছিল তারা তাকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে। ভোট না দেয়া কারণে উলঙ্গ করে ভিডিও বানিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে। এমনটা আর হতে দেয়া যাবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি  শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল উদ্বেগ জানিয়েছে। সাদা দল বলেছে, এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দেশবাসীর ন্যায় আমরাও গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। মাগুরার আট বছরের মেয়ে শিশুর ধর্ষক ও ধর্ষণের সহযোগিতাকারীদের অপরাধ এক ও অভিন্ন। এদের সর্বোচ্চ শান্তি নিশ্চিত করতে হবে। এরকম ধর্ষক নামের নিকৃষ্টদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিভাগগুলোর মিছিলে যোগ দিয়েছেন শিক্ষকরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ, সারা দেশে নারীদের ওপর ধর্ষণের নামে যে নারকীয় নির্যাতন চলছে তার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

mzamin

Wednesday, October 16, 2019

অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবাদের নামে নগ্নতা

শরণার্থীদের অধিকার হোক, পশুর পশম ব্যবহারের বিরোধিতায় হোক বা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর পদক্ষেপ নেয়ার দাবিতে হোক-  এমন কোনো একটা ইস্যুতেই অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয় নগ্ন প্রতিবাদ। পোশাক খুলে নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী রাজপথে করেন নগ্ন র‌্যালি। এই সপ্তাহান্তেও তারা এমন র‌্যালি করেছেন। সরকার যাতে জলবায়ু পরিবর্তন এড়াতে বৃহত্তর পদক্ষেপ নেয়, এমন দাবিতে তারা দ্রুত রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। এমন প্রতিবাদ এখন সংক্রমিত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ‘এক্সটিংশন রিবেলিয়ন’ নামের একটি সংগঠনের কর্মীরা মেলবোর্নের কেন্দ্রীয় এলাকা থেকে এমন নগ্ন র‌্যালি শুরু করেন। একই দাবিতে র‌্যালি হয় লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, বার্লিন ও আরো কয়েক ডজন শহরে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় যে র‌্যালি হয়েছে তা ছিল নগ্ন।
যুবতীরা তাদের শরীরের উপরের অংশ একেবারে অনাবৃত করে তার ওপর সামান্য অংশে পেইন্ট ব্যবহার করেছেন। পরনে ছিল বিকিনি। আর পুরুষদের তো কথাই নেই। উদোম গা। পরনে শুধু একটি অন্তর্বাস। এই যা!
এ ছাড়া পশুর অধিকার রক্ষার নামেও বিক্ষোভ র‌্যালি হয় নগ্ন। পোশাক পরে প্রতিবাদ র‌্যালি করার পরিবর্তে এমন অধিকারকর্মীরাও একই রকম নগ্ন র‌্যালি করেন। এমন প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত ‘পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব এনিম্যালস’ (পেটা) ও পশু অধিকার বিষয়ক অন্যান্য গ্রুপ। এ ছাড়া ষাঁড়ের লড়াই এবং প্যাম্পলোনা ষাঁড়ের দৌড় আয়োজন নিয়েও নগ্ন র‌্যালি হয়। পেটা বলে, তারা এমন র‌্যালির আয়োজন করে যাতে মানুষের মধ্যে চিন্তা করার শক্তি আসে। তারা চিন্তা করতে পারে যে, তাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ শরীর দিয়ে এমন সব ইভেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
এ ছাড়া শরণার্থী ইস্যুতেও নগ্ন র‌্যালি হয়। এ বছরের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের টিনেজ রাহাফ মোহাম্মদ আলকুনুন সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি ওই সময়ে সৌদি আরবে তার নিজের পরিবারের কাছ থেকে পালিয়ে প্রথমে অবস্থান নেন থাইল্যান্ডে। সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়াগামী বিমানে আরোহন করেন। কিন্তু ১৯ বছর বয়সী এই টিনেজারকে কর্তৃপক্ষ থামিয়ে দেয় সৌদি আরবে তার প্রভাবশালী পিতার অনুরোধে। ফলে রাহাফ নিজেকে হোটেলের মধ্যে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। বিশ্ব নেতাদের কাছে তিনি সেখান থেকে টুইটার ব্যবহার করে আশ্রয়ের আবেদন জানান। শেষ পর্যন্ত তাকে আশ্রয় দেয় কানাডা। তার আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে সারাবিশ্ব থেকে তার প্রতি সমর্থন আসতে থাকে। এর মধ্যে সিডনিতে তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে হয় নগ্ন প্রতিবাদ।
প্রতিবাদ হয় বৈশ্বিকীকরণ, মাল্টিন্যাশনাল করপোরেশন ও আয়ে বৈষম্যের প্রতিবাদে। এসব ইস্যুতে অস্টেলিয়ানরা নগ্ন প্রতিবাদ করেন। ২০০০ সালে সিডনিতে অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠক। এর বাইরে ওই সময় নগ্ন প্রতিবাদ হয়। ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত হয় এশিয়া-প্যাসিফিক কোঅপারেশনের সামিট। এর বাইরেও তখন নগ্ন প্রতিবাদ হয়েছে।
সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, পরিবেশ ও শরীরের ইতিবাচক দিকে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বার্ষিক ভিত্তিতে নগ্ন সাইকেল রাইড আয়োজন করে ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ন্যাকেড বাইক রাইড’।

Tuesday, October 15, 2019

একজন মিজানুর রহমান by জিয়া চৌধুরী

প্রতিবাদের আরেক নাম মিজানুর রহমান। সুপেয় পানির দাবিতে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে তার অভিনব প্রতিবাদ নজর কেড়েছে সবার। গোটা দেশে এখন তিনি প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি। তবে তার এ প্রতিবাদ নতুন নয়। এক দশক ধরে জুরাইনের মানুষের সুখ-দুখে নানা অধিকার আদায়ে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি।  কখনো কখনো পরিবারসহ হাজির হয়েছেন মিছিলে-সমাবেশে।
তাই মিজানুর রহমান জুরাইনবাসীর কাছে এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। শুধু জুরাইনের সুখ-দুঃখ নয়, বাংলাদেশের নানা সংকট, আন্দোলন-সংগ্রামে হাজির থাকেন মিজান। নিজে একা নন, প্রতিবাদের আওয়াজ তোলেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে।
মিছিল, মানববন্ধন কিংবা লংমার্চের মতো নানা আয়োজনে স্ত্রী-কন্যাদের নিয়ে মানুষের কথা বলে যাচ্ছেন জুরাইনের মিজানুর রহমান। সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন, কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও সরব ছিলেন পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই মিজান। সুন্দরবন বাঁচাতে ২০১৭ সালে এক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে বুক পেতে দেন পুলিশের জল কামানের সামনে। সেবার পুলিশের লাঠিচার্জেরও শিকার হন তিনি। মাটিতে লুটিয়ে পড়া সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে দেশে-বিদেশে। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘মঙ্গাবে’ নামে পরিবেশবাদী সংগঠন ফলাও করে প্রচার করে মিজানুরের অদম্য কীর্তিগাঁথা।
মঙ্গাবে’র সংবাদের পর সুইডেনের বিখ্যাত ম্যাগাজিন ‘রিপাবলিক’ তাকে জলবায়ু গেরিলা যোদ্ধা উপাধি দেয়। মিজানুর রহমানের ছবি ও পরিবেশ নিয়ে তার লড়াইয়ের গল্প ছাপা হয় বিশেষ নিবন্ধ আকারে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে মিজানুর যেন জুরাইনেরই ছেলে, সেখানকার মানুষের সংকট-সম্ভাবনার সঙ্গী, আরেক ভরসার নাম। কয়েক বছর ধরে সেখানে বইমেলা আয়োজন, জলাবদ্ধতা নিরসন, রক্তদান কর্মসূচি কিংবা যে কোন বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাড়না তার। সবশেষ গত ২৩ শে এপ্রিল নিজের এলাকার পানি সমস্যা নিয়ে রাজধানীর ওয়াসা ভবনে প্রতীকী শরবত পান করানোর উদ্যোক্তাও এই মিজান। স্ত্রী শামীমা হাশেম খুকি ও তিন বছরের কন্যা মৃন্ময়ী হাসিনাকে সঙ্গে নিয়ে সেদিন ওয়াসা ভবনে যান তিনি।
সঙ্গে ছিলেন জুরাইনের আরো দুই বাসিন্দা। গতকাল সকালে জুরাইন এলাকায় কথা হয় তার সঙ্গে। সেখানকার কমিশনার রোডের মা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার নামের একটি দোকান থেকে শুরু হয় আলাপ। নিজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ে ফিরে যান মিজানুর। ৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার ঠিক আগে আরো নিচু ছিল জুরাইন জনপদ। মূলত বুড়িগঙ্গা তীরের ফসলের জমি ভরাট করে গড়ে তোলা হয় আবাসন। জুরাইনের মানুষজনের কপালে তখন চিন্তার ভাঁজ। দেশজুড়ে বন্যা শুরু হয়েছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ পেরিয়ে পানি ঢুকে পড়লে সব বানের জলে ভেসে যাবে।
সে সময় প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু বানানোর কাজ শুরু হচ্ছিল। বন্যার পানি রুখতে সেতুর জন্য রাখা বালু থেকে বস্তা ভরে বাঁধটিকে আরো উঁচু করা হয়। মিজানুর রহমানের স্বেচ্ছাসেবী কাজের শুরু ৮৮’র বন্যার সময় থেকে। ছোট-বড় অনেকের সঙ্গে এলাকায় বস্তা জোগাড় করা, বালু ভরা, বস্তাভর্তি ঠেলাগাড়ি ঠেলে বাঁধের কাছে নিয়ে যাওয়া। এটাই ছিল মিজানুর রহমানের জীবনের প্রথম স্বেচ্ছাসেবী কাজ, যে পথে এখনো হাঁটছেন। এক যুগ আগের আরেক স্মৃতিতে ফিরে যান তিনি। রাতের বেলা বাড়ির সামনের সড়কে বন্ধুদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ চলছিল তার। এমন সময় ‘ছিনতাইকারী, ছিনতাইকারী, ভাই বাঁচান, বাঁচান’ বলে চিৎকার শুনতে পান। পূর্ব জুরাইন এলাকার আশরাফ মাস্টারের স্কুলের গলির দিকে দৌড়াতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাউকে খুঁজে পেলেন না। এরপর রাস্তায় ছোপ ছোপ রক্তের দাগ ধরে সামনে এগোন।
একটি বাসার সামনে গিয়ে দেখেন ছিনতাইয়ের শিকার একটি ছেলে কাতরাচ্ছে। ছেলেটার হাত থেকে রক্ত ঝরছে তখনো। মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা তিন হাজার টাকা খোয়া গেছে। টাকার অভাবে হাসপাতালে না গিয়ে তিনি বাসায় চলে আসেন ছেলেটিকে নিয়ে। পরে এক বন্ধুকে সঙ্গে করে আহত ছেলেটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ধার করে ওষুধ আর চিকিৎসার জন্য দুই হাজার টাকা পরিশোধ করেন মিজানুর রহমান। এরপর জুরাইনের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার কথা ছড়িয়ে পড়ে গোটা জুরাইনে। তাইতো জুরাইনবাসীর কাছে ‘মিজান ভাই’ যেন এক ভরসার নাম।
মহল্লায় পানি নেই, তাঁর ডাক পড়ে। পাড়ায় ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে প্রাণ যায়, মিজান ভাইয়ের কাছে চলো। কারো আত্মীয়ের জন্য রক্ত মিলছে না? কিংবা মধ্যরাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে, হাসপাতালে নিতে হবে। ভয় কী। মিজান ভাই আছে না? এলাকায় মাদকবিরোধী আন্দোলনে মিজানুরের অবদানও কম নয়। এ কারণে হামলা-মামলারও শিকার হতে হয়েছিল তাকে। জুরাইনের পানি সমস্যা নিয়েও সোচ্চার মিজানুর রহমান ও তার পরিবার। তিনি বলেন, শুধু আমার বাড়ির পানির সমস্যার জন্য এসব করছি না। জুরাইনের প্রতিটি মানুষের সুপেয় পানি পাবার অধিকার আছে।
আমাদেরকে কেন সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে আমি শুধু বার বার সেই প্রশ্নটি করার চেষ্টা করেছি। আলাপের এক ফাঁকে ২০১২ সালের একটি ভিডিও ফুটেজ দেখান তিনি। পানির সমস্যা নিরসনে সেবার নিজের দুই জমজ কন্যা প্রাপ্যতা ও পূর্ণতাকে নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ান মিজানুর। ওই বছর সাড়ে তিন হাজার মানুষের গণসাক্ষর ও পানির নমুনা ওয়াসাকে দিলেও এত বছরে কোন উদ্যোগ না নেয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন। নিজের পরিবার কখনো এমন কাণ্ডে বাধা দেয় না?  হেসে ফেলেন তিনি। বলেন, আন্দোলনে-প্রতিবাদে পরিবারই আমার অনুপ্রেরণা। স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে মানুষের কথা বলার চেষ্টা করি। এ লড়াই আমার একার না, আমার পরিবারেরও। আমার কন্যাদেরও আমি এমন শিক্ষাই দিয়েছি।
এবার শোনা যাক এলাকাবাসীর কথা- গাজী আলমগীর কামাল নামে একজন বলেন,  ওয়াসার এমডি তাকে পাগল বলেছেন। আমিও বলছি, জুরাইনের সুখে-দুখে আমরা সব সময় এই পাগল মিজান ভাইকেই চাই। যে পাগল মানুষের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার থাকে। তার মতো আরো অনেক পাগল দরকার আমাদের। একটি প্রকাশনা সংস্থায় কর্মরত সাগর ইসলাম বলেন, মিজান ভাইয়ের চাওয়া খুব কম। তিনি শুধু অধিকারগুলো ঠিকঠাক বুঝে নিতে চান। এখানেই যত আপত্তি। এসব করতে গিয়ে নিজের জন্য কিছু করতে পারেননি। বাবা আব্দুস সামাদের নামে থাকা বাড়ির ভাড়া থেকে সংসার চালান। স্ত্রী শামীমা হাশেম খুকি গৃহিনী।
ঘর-সংসার সামলিয়ে স্বামীর সঙ্গেও মানুষের কাতারে দাঁড়ান। সাগর ইসলাম আরো জানান, গাড়িচালক থেকে শুরু করে নানা ধরনের কাজ করেছেন মিজান ভাই। কিন্তু তার নীতির গোঁড়ামির কারণে কোথাও স্থায়ী হতে পারেননি। ২০১০ সালের দিকে মোবাইল রিচার্জের ব্যবসাও শুরু করেন। সেসময় রিচার্জ করার জন্য প্রতি অঙ্কের বিনিময়ে অতিরিক্ত এক টাকা করে নিতেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু মিজান ভাই কখনো তা নেননি। উল্টো অন্য ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়েন। মুঠোফোন কোম্পানির এক ডিলার তার দেড় লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেলে সে ব্যবসায়ও ইতি টানেন মিজানুর রহমান। মিজানুর রহমানের জন্ম বেড়ে ওঠা রাজধানীর পূর্ব জুরাইনে। সাত ভাই- বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। উচ্চ মাধ্যমিকের পর ইচ্ছা ছিল চারুকলায় পড়বেন। কিন্তু আর্থিক অনটনে তা আর সম্ভব হয়নি। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে চলচ্চিত্র নিয়েও কোর্স করেছিলেন।
সেটাও বেশি দূর এগোয়নি। এখন বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। চুল-দাঁড়িতে পাক ধরেছে। এই বয়সেও তরুণদের নিয়ে বইমেলা, রক্তদান কর্মসূচি, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নানা সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন পরিবেশ রক্ষার নানা আন্দোলন-সংগ্রামে। এর মধ্যে ৫০ বারের বেশি সময় রক্ত দিয়েছেন। অন্যদেরও উৎসাহিত করছেন রক্তদানে। রক্ত দিতে গিয়ে কখনো কখনো নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে রোগির ভাড়াটাও দিয়ে এসেছেন। এসবেই আনন্দ খুঁজে পান মিজানুর রহমান। জুরাইনবাসীর প্রিয় ‘মিজান ভাই’ হয়ে থাকতে চান আজীবন। আর সবার জন্য রেখে যেতে চান এক মানবিক পৃথিবী। সুন্দর পৃথিবী।

Wednesday, August 21, 2019

কাশ্মীর: স্কুল খুলেছে কিন্তু শিক্ষার্থীরা কোথায়?

ভারত শাসিত কাশ্মীরে বেশ কিছু স্কুল সোমবার খুলে দেয়া হয়েছে, কিন্তু শ্রেণী কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের দেখা যায়নি একেবারেই।
কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল নিয়ে প্রায় দু সপ্তাহ ধরে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার কিছু স্কুল খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে যেসব স্কুল খুলে দেয়া হয়েছে এগুলো মূলত সরকারি স্কুল এবং বেসরকারি স্কুলগুলো বন্ধই আছে।
যেসব স্কুল খুলেছে তাতে সোমবার ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরে এখনো অবরুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করছে।
কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, সবচেয়ে বড় শহর শ্রীনগরে দুশোর মতো স্কুল খুলে দিয়েছে তারা।
কিন্তু সাংবাদিকরা অনেক স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাননি।
শূন্য শ্রেণীকক্ষ
অভিভাবকরা বলছেন, নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
ব্যাপক নিরাপত্তা আয়োজন সত্ত্বেও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে সেখানে বিক্ষোভ হচ্ছে এবং প্রায়ই তা সহিংস রূপ নিচ্ছে।
কাশ্মীর একটি বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড যার দুটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত ও পাকিস্তান।
ভারত শাসিত অংশ জম্মু ও কাশ্মীর এতদিন বিশেষ মর্যাদা পেলেও সম্প্রতি তাকে দু ভাগ করে রাজ্যের মর্যাদায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
অংশ দুটিই এখন সরাসরি দিল্লীর শাসনে রয়েছে।
সন্তানদের বাড়িতেই রাখতে চাইছেন অভিভাবকরা
তিন দশক ধরে এই কাশ্মীরে চলছে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা, যাতে নিহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
বিশেষ মর্যাদা বাতিলকে কেন্দ্র করে মূলত কাশ্মীরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী ধরে এবং সব ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি টেলিফোন লাইন কিছুটা চালু হলেও বিক্ষোভ বেড়ে যাওয়ার পটভূমিতে মোবাইল ফোন সেবা ও ইন্টারনেট এখনো বন্ধ আছে।
বিবিসি সংবাদদাতারা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে দেয়ার পরিবর্তে বাসায় রাখতেই স্বস্তি পাচ্ছেন, বিশেষ করে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু না হওয়া পর্যন্ত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন স্কুল শিক্ষককে উদ্ধৃত করেছে, যিনি বলেছেন - এ ধরণের 'অনিশ্চিত অবস্থায়' তারা শিক্ষার্থীদের স্কুলে আশা করেন না।
শুধুমাত্র সরকারি স্কুল খুলে দেয়া হয়েছে
তিনি আরও বলেন যে, অনেক স্কুল এখনো বন্ধ বা শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী খুবই কম এসেছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বোঝার চেষ্টা করছেন যে কত সংখ্যক শিক্ষার্থী স্কুলে এসেছে।
তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে খবর সংগ্রহ করাও কঠিন।
যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিনিয়তই কাশ্মীর নিয়ে তার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেই চলেছেন।
তার মতে, এটা দরকার ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে।
কিন্তু কাশ্মীরের জনগণ ও নেতাদের মতে, এটা বিশ্বাসঘাতকতা এবং এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের সাথে কোন আলোচনাই হয়নি।
বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা থেকেই বন্দী আছেন সেখানকার সুপরিচিত রাজনৈতিক নেতারা।
কর্মকর্তারা বলছেন তারা বোঝার চেষ্টা করছেন যে কত সংখ্যক শিক্ষার্থী স্কুলে এসেছে

Tuesday, August 6, 2019

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদের বিরুদ্ধে কলকাতায় প্রতিবাদ by অমর সাহা

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতায় প্রতিবাদী বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। রাজনীতিসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল অঙ্গনের নেতারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের পর গতকাল সোমবার বিকেলে কলকাতা প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে কলকাতার ভাষা ও চেতনা সমিতি। সমাবেশে বিক্ষোভও দেখানো হয়।
জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ সুবিধা দেওয়াসংক্রান্ত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা গতকাল বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরকে আলাদা করা হয়।
কলকাতা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্য, ভাষা ও চেতনা সমিতির সম্পাদক ইমানুল হক, হকার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শক্তিমান ঘোষ প্রমুখ কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান।
বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে বিজেপি সরকার ভারতের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।
অধ্যাপক ইমানুল হক বলেন, এভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা যায় না। এটা বিজেপি সরকারের সংবিধানের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা।
৩৭০ ধারা বাতিলের প্রতিবাদ করেছে সিপিএম ও কংগ্রেস। গতকাল বিকেলে সিপিএম ধর্মতলা থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিলে যোগ দেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, পলিটব্যুরো সদস্য সাবেক সাংসদ মহম্মদ সেলিম প্রমুখ।
ভাষা ও চেতনা সমিতির বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
এদিন দিল্লিতেও বামফ্রন্ট প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিলে ছিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, প্রকাশ কারাত, বৃন্দা কারাত, হান্নান মোল্লা, ডি রাজা প্রমুখ।
কলকাতায় ফরোয়ার্ড ব্লকও প্রতিবাদ মিছিল করেছে। প্রতিবাদ মিছিল বের করে এসইউসিআই ও সিপিআই এমএল-লিবারেশন।
বামেরা ঘোষণা দিয়েছে, ৭ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তারা রাজ্যব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করবে। দাবি তুলবে ভারতের অখণ্ডতা রক্ষার।
গতকাল কলকাতার মহাজাতি সদনে কমরেড মুজাফফর আহমেদের (কাকাবাবু) ১৩১তম জন্মদিনে আয়োজিত সমাবেশের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায় জম্মু ও কাশ্মীর। সেখানে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘কাশ্মীরে যা করল বিজেপি সরকার, যেকোনো দিন বাংলাকে ভেঙে দিতে তাদের কত সময় লাগবে?’
সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘গণতন্ত্র, সংবিধান ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে রক্ষা করতে আমাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এটা সংবিধান ও গণতন্ত্রের ওপর হামলা। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বেআইনি। রাজনৈতিক স্বার্থে বিজেপি এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সংসদে নতুন বিল আনতে গেলে দুদিন আগে সবার কাছে বিলের প্রতিলিপি দিতে হয়। কিন্তু এই সরকার সেটা দেয়নি। এতে বিজেপি সরকার কাশ্মীর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।’
সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু মোদি সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তে কাশ্মীর আরও অশান্ত হলো।’
কলকাতায় সিপিএমের প্রতিবাদ মিছিল। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেছেন, ‘এই ঘটনা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর ভয়ংকর আক্রমণ। এর কারণে দেশের ঐক্য ও নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়বে।’
কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সোমেন মিত্র বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করে মোদি সরকার নির্বাচিত রাজ্য সরকারগুলোর ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘সাংবিধানিক ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের অখণ্ডতার ওপরে মোদি সরকার কি আঘাত হানতে চলেছে?’
কাশ্মীর প্রসঙ্গে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, তাঁরা এখন এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না।
সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণার পর গতকাল বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার হাজরায় বিজেপি বিজয় সমাবেশ করে। সেখানে বিজেপির কর্মী–সমর্থকেরা আবির মেখে আনন্দ-উৎসব করে। মিষ্টি বিতরণ করে। বিজয় মিছিল হয় দুর্গাপুর, পুরুলিয়া, শিলিগুড়ি, হাওড়াসহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে।

Tuesday, May 21, 2019

ঢাকায় বালিশ প্রতিবাদ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্নীতি নিয়ে বালিশ হাতে করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ নামের একটি সংগঠন। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটির উদ্যোগে এক প্রতিবাদী মানববন্ধন ও বালিশ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে আরো কয়েকটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সংগঠনটির সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অন্তরালে লুটপাটের মহোৎসব চলছে। তারই জঘন্য উদাহরণ রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্নীতি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন মহা দুর্নীতি কেউ করেছে কিনা সন্দেহ। আমি নতুন প্রজন্মের একজন রাজনীতিক কর্মী হিসেবে যখন দেখি মেগা প্রজেক্টে মহা লুটপাটের উৎসব চলছে তখন আমি হতাশ হই। তিনি বলেন, ইতিহাস যদি লক্ষ্য করি- ১৯৭১ সালে বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার থাকবে, ভোটের অধিকার থাকবে, গণতন্ত্র থাকবে, হবে একটি সুন্দর বাংলাদেশ। কিন্তু সব কিছুই আজ বনবাসে গিয়েছে। মানুষ কথা বলতে পারছে না, ভোট দিতে পারছে না।
এই সুযোগে মহালুটপাটে মেতে উঠেছে সরকার। মানুষের ঘৃনা তাদের চোখে পড়ে না। তিনি বলেন, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যখন দেখি বুয়ার বেতন, গাড়ী চালকের বেতন, প্রকল্প পরিচালকের বেতন, সর্বশেষ বালিশের দাম ও তোলার মজুরী আকাশচুম্বি, তখন জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত হই। তিনি বলেন, যখন দেখি কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ধানক্ষেতে আগুন দেয়, বিশ্বজিতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার পর বিচার হয় না, যখন ফেলানির লাশ কাটা তারে ঝুলে থাকে। বিচার কার কাছে চাইবো কূল পাই না। বাংলাদেশ গণঐক্য সভাপতি আরমান হোসেন পলাশ বলেন, দেশে দুর্নীতির সঙ্গে বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষকের মধ্যে আজ হাহাকার। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে হরিলুট তা ইতিহাসের সেরা। দুর্নীতির কালো মেঘ বাংলাদেশকে ঘিরে ফেলেছে। এই মহামারির বিরুদ্ধে এক সঙ্গে সবাইকে সোচ্চার ও প্রতিবাদী হতে হবে। বাংলাদেশ গণঐক্য সভাপতি আরমান হোসেন পলাশের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস ফেডারেশনের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার, জাতীয় বিপ্লবী পার্টির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, গণঐক্যের প্রচার সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বালিশ বিক্ষোভে অংশ নেয়া কর্মীদের হাতে থাকা প্লাকার্ডে লেখা ছিল- ‘কে দেখবে এই দুর্নীতি? কে থামাবে এই মহামারি?’, ‘কৃষক পায়না ফসলের দাম, চারিদিকে লুটপাটের জয়গান।’সহ বিভিন্ন ধরণের শ্লোগান।
এর আগে পাবনায় নির্মাণাধীন রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকায় আসবাবপত্র কেনাকাটা এবং সেগুলোর বহন খরচ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। একটি দৈনিক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়- পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটগুলোর জন্য ১,৩২০টি বালিশ কেনা হয়েছে। যার প্রতিটির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ছয় হাজার টাকা। একই সঙ্গে প্রতিটি বালিশ নিচ থেকে উপরে বহন করার খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। তবে এই দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব ধরণের পাওনা বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Sunday, April 28, 2019

এখন সব মরে গেছে, কোনো প্রতিবাদ নেই -এম হাফিজ উদ্দিন খান

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও দেশের সুশাসনের দিকে ইঙ্গিত করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেছেন, ‘দুঃখজনক, এর কোনো প্রতিবাদ নেই। আমরা কেউ মাঠে নামি নাই। বাঙালিরা এত প্রতিবাদী ছিল। বায়ান্ন, উনসত্তর, একাত্তরে কত প্রতিবাদ করেছে এই বাঙালি। এখন সব মরে গেছে কেন, বুঝতে পারলাম না।’
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক গোলটেবিল বৈঠকে হাফিজ উদ্দিন খান এসব কথা বলেন। দি ঢাকা ফোরাম নামের একটি সংগঠন ‘গণতন্ত্র ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক এই বৈঠকের আয়োজন করে।
বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, শুধু নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র হয় না। তবে গণতন্ত্রের শুরুটা হয় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে উন্নয়ন সুবিধা সবাই পাচ্ছে না। বাংলাদেশে এখন উন্নয়নের যে স্লোগান চলছে, ষাটের দশকে পাকিস্তান আমলেও তা ছিল। কিন্তু সে উন্নয়ন সবাইকে আকৃষ্ট করতে পারেনি।
বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে এসেছে উল্লেখ করে সাবেক এই গভর্নর বলেন, এই খাতে ঋণ প্রবাহ কমে ১২ শতাংশ নেমে এসেছে। অথচ কয়েক বছর আগেও এটি ১৬ শতাংশ ছিল। বড় বড় বিনিয়োগ করতে গিয়ে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অবহেলা করা হচ্ছে। তারা যথেষ্ট ব্যাংক ঋণ পায় না বললেই চলে। বড় বড় ঋণ পুঁজিপতিদের দখলে।
শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ৯০-এর দশকে শেয়ারবাজারে যে কেলেঙ্কারি ঘটেছিল সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। রাষ্ট্র ও সরকার সেই শিক্ষা নেয়নি বলেই ২০১০ সালে কেলেঙ্কারি হয়। তার ধারাবাহিকতা এখনো আছে। কারা, কীভাবে এর সঙ্গে জড়িত, তা সরকার জানে। অথচ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গণতন্ত্র সংকুচিত হলে পুঁজির অসম বিকাশ ঘটে। আর এই কারণেই এ সরকারের নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীরা। কারণ, পুঁজিই এখন ক্ষমতার উৎস, জনগণ নয়। এতে জনগণের স্বার্থ সেই অর্থে গুরুত্ব পায় না। যার ফলে জবাবদিহি নেই, সুশাসনও নেই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বর্তমান উন্নয়নের ধরনে জবাবদিহির অভাব ও স্বচ্ছতার অভাব আছে। সড়ক, রেলপথে বড় বড় প্রকল্প হচ্ছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। এর কারণ, যারা নীতিনির্ধারক তারাই এসব প্রকল্পের পেছনে আছেন। এসব প্রকল্প ব্যয়ের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী, দোষী, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার তৎপর। কিন্তু জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার অতটা তৎপর নয়।
জনগণ প্রশাসনের কাছে অসহায় বলে মন্তব্য করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। সব অন্যায় অবিচারের কাছে আমরা ১৭ কোটি লোক অসহায় হয়ে আছি। দেশে সরকার থাকবে আর সুশাসন থাকবে না, এটা হতে পারে না। আমি আশ্চর্য হয়ে যাই এ রকম বিনা ভোটের একটা সরকার, লজ্জাও পায় না। ভোটাধিকার না থাকলে নাগরিকত্বও থাকে না।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এই সরকার ডাকাত সরকার। ৩০ ডিসেম্বর ডাকাতি করে ভোট নিয়েছে। আবার বলছে, উন্নয়ন হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। যে জিডিপিতে সমতা নেই তাকে উন্নয়ন বলা যাবে না। এটা লুটেরাদের উন্নয়ন।’
বৈঠকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Thursday, April 25, 2019

একটি অভিনব প্রতিবাদ

টেলিফোনে অভিযোগ করা হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষের সাক্ষর সংগ্রহ করে আবেদন জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সমস্যার কোন সুরাহা মিলেনি। অভিযোগকারীদের দাবি উল্টো অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঠাট্টা মশকরা করা হয়েছে। তাই এক অভিনব প্রতিবাদের কৌশল বেছে নেন ঢাকা ওয়াসার কয়েকজন গ্রাহক। পাইপ লাইনে আসা পানি বোতল বা জগে করে নিয়ে এসেছিলেন ঢাকা ওয়াসার কাওরান বাজারের প্রধান কার্যালয়ে। আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন এই পানি দিয়ে শরবত তৈরি করে তা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানকে খাওয়াবেন। তাই পানির সঙ্গে লেবু-চিনিও এনেছিলেন প্রতিবাদকারীরা।
তবে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেও এমডির দেখা পাননি তারা।
প্রতিবাদকারীদের অবস্থানের সময় নিজের কার্যালয়ে আসেননি তাকসিম এ খান। প্রতিবাদকারীদের দাবি অতীতে বহুবার ওয়াসার পানির মান নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। কেউ কর্ণপাত করেনি। উল্টো সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে ওয়াসার এমডি দাবি করেছেন ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। যা একেবারেই হাস্যকর। আর যদি এ পানি সুপেয়ই হয়ে থাকে তাহলে তা পান করতেতো কোন সমস্যা নেই। এ কারণে পাইপের পানিই তারা নিয়ে এসেছেন এমডিকে শরবত বানিয়ে খাওয়ানোর জন্য। কার্যালয়ে না আসলেও টেলিফোনে ওয়াসা এমডি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, অন্যের তৈরি শরবত তিনি খাবেন না। কার পানি খাবেন আর কারটা খাবেন না এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সম্প্রতি ওয়াসার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে। ওই রিপোর্টে ওয়াসার পানির মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। মান খারাপ হওয়ায় পানি ফুটিয়ে পান উপযোগী করতে বছরে অন্তত ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাস অপচয় হয় বলে টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ রিপোর্টের প্রতিক্রিয়া জানাতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসার এমডি দাবি করেন তাদের সরবরাহ করা পানি শতভাগ সুপেয়। যদিও একই সংবাদ সম্মেলনে তাকসিম এ খান জানান, তিনি নিজেই তিন ধরনের পানি পান করেন। তার বাসায়ই পানি বিশুদ্ধ করতে ফুটানো হয়। ২৮শে মার্চ নিজ কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে ওয়াসা এমডি নিজেই গ্রাহকদের পরামর্শ দিয়েছিলেন ১০ মিনিট ফুটিয়ে পানি পান করতে।
টিআইবির রিপোর্ট প্রকাশের পর ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় এমন দাবির তীব্র সমালোচনা শুরু হয় চারপাশে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ট্রল করেন অনেকে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের এ দাবির বিরুদ্ধেই অভিনব প্রতিবাদে প্রধান কার্যালয়ে এসেছিলেন জুরাইন ও রামপুরা এলাকার কয়েকজন গ্রাহক।
সকাল ১১টা। ওয়াসা ভবনের প্রবেশপথে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে চার জন। তাতে লেখা ‘আর কতকাল কালা পানি খাওয়াবেন?’, ‘দূষিত পানির দায় নিতে হবে?’, ‘পানি দাও ময়লা না’। তাদের সঙ্গে জগ-বোতলে ওয়াসার পানি ও শরবত বানানোর সামগ্রী। প্রতিবাদকারীদের ওপর চোখ রাখতে ওয়াসা ভবনের প্রবেশপথে জনা বিশেক নিরাপত্তাকর্মী। ওয়াসা কর্মী ও সাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি না থাকলেও প্রতিবাদকারীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেন নিরাপত্তা কর্মীরা। তারা ভেতরে প্রবেশ করে এমডির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা কর্মীরা জানান ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার কার্যালয়ে নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদকারীরা প্রবেশ পথে বসে পড়েন। তারা নিরাপত্তা কর্মী ও উপস্থিত গণমাধ্যমকে জানান এমডির সাক্ষাৎ না পেলে তারা এখান থেকে সরবেন না। এক পর্যায়ে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় পরিচালক (টেকনিক্যাল) এ কে এম সহিদ উদ্দিন এর কক্ষে।
প্রতিবাদকারীরা ওয়াসা পরিচালককে জানালেন তাদের সরবরাহ করা পাইপ লাইনের পানি এবং শরবত তৈরির উপকরণ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন এমডিকে শরবত তৈরি করে খাওয়ানোর জন্য। যেহেতু তিনি নেই তাই তাদের তৈরি শরবত পরিচালককে পরখ করতে হবে। যেহেতু ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় তাই তা পানে আপত্তি থাকার কথা না। কিন্তু পরিচালক আর রাজি হলেন না শরবত খেতে। উল্টো প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে বিতন্ডায় জড়ান তিনি। এক পর্যায়ে বলেন, শরবত তিনি খাবেন। সঙ্গে ওয়াসার এমডি ও অন্য কর্মকর্তারাও সেই শরবত খাবেন। তবে এখনই না। ওয়াসার পাইপ লাইন পুরো সংস্কারের পর পানি শতভাগ নিরাপদ হলে।
ওয়াসার পানিতে সমস্যা আছে এটা মানতেও নারাজ সহিদ উদ্দিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ। সুপেয়। ওয়াসার পানি পানে কোন ব্যক্তি ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হলে এর দায়ভার কে নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর দায়ভার ওয়াসা বহন করতে প্রস্তুত। পরক্ষণেই তিনি বলেন, ওয়াসা’র পানি বিশুদ্ধ। তবে বিভিন্ন স্থানে অসাধু লোকজন যখন অবৈধভাবে লাইন নিয়ে থাকেন ফলে যুক্ত হয় দূষিত পানি। তার কথার পিঠেই প্রশ্ন-এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব কাদের? তখন তিনি বলেন, আমাদের। তবে আমরা সবসময় তা করে উঠতে পারি না।
জুরাইনের পানি সমস্যার বিষয়ে অভিযোগ জানানোর পরেও কেন ব্যবস্থা নেয়া হলো না? এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, যথাযথভাবে আপনারা অভিযোগ দায়ের করেননি। তখন পাল্টা কাগজ উপস্থাপন করায় সৃষ্টি হয় হট্টগোল। বাকবিতন্ডা। গণমাধ্যমকর্মীদের হস্তক্ষেপে কিছুটা নীরব হয় পরিবেশ। সহিদ উদ্দিন সংগ্রহ করেন তাদের তাদের ঠিকানা এবং অতিদ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেন। তখন ভিন্নধর্মী এই আন্দোলনকারীরা বলেন, যেহেতু সমস্যা সমাধানের বিষয় আছে। সেহেতু এমডি’র বক্তব্য ভুল ছিলো। তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে।
শরবত খাওয়ানোর অভিনব প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন জুরাইন নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান ও গণমাধ্যমকর্মী মনিরুল ইসলাম।
মিজানুর রহমান এসেছিলেন স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে। তার মেয়ে সন্তানটি মায়ের কোলে চড়ে আসে। মিজানুরের সঙ্গে তার এক পারিবারিক বন্ধুও ছিলেন। একটি পরিস্কার জগে করে তিনি নিয়ে এসেছিলেন ওয়াসার পানি। সঙ্গে এনেছিলেন লেবু ও চিনি। মিজানুর রহমান বলেন, জুরাইন এলাকায় ৩০/৪০ বছরের পুরনো পাইপে পানি সরবরাহ করা হয়। এই পানি বাধ্য হয়ে বিভিন্ন কাজে তারা ব্যবহার করেন। তবে তা পান করা যায় না। তিনি জগে করে যে পানি নিয়ে আসেন তা সবাইকে দেখিয়ে বলেন, এটি মাঝারি মানের পানি। এরচেয়েও খারাপ পানি আসে এলাকায়। আমরা ওয়াসাকে জানিয়েছি একাধিক বার। আবেদন করেছি। তারা কিছু করেনি। উল্টো তারা আমাদের দুর্ভোগ নিয়ে তামাশা করেছে। তাই ওয়াসার এমডির সেই শতভাগ সুপেয় পানি নিয়ে এসেছি। তিনি বলেন, দুষিত পানির জন্য আমরা কেন বিল দেবো। যতোদিন পানি সুপেয় না হবে ততোদিন আমরা বিল দেব না।
রামপুরা এলাকা থেকে এসেছিলেন মনিরুল ইসলাম। তিনি একটি বোতলে করে পানি নিয়ে এসেছিলেন। তিনি ওই বোতল দেখিয়ে বলেন, চকচক করলেই সোনা হয় না। এই বোতলের পানি দেখলে পরিস্কার সুপেয় পানিই মনে হবে। কিন্তু নাকে গন্ধ নিলে কেউ এ পানি মুখে নিতে যাবে না। এমন পানিই এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এই পানির কারণে অনেকের মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। গায়ে সমস্যা হচ্ছে। দীর্ঘ দিন অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় ওয়াসা এমডির বক্তব্য এক ধরনের তামাশা।

Saturday, January 5, 2019

ভোটের রাতে ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৭, ঢাকায় প্রতিবাদ নোয়াখালীতে বাম জোটের নেতারা

সুবর্ণচরে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনার মূল নির্দেশদাতাসহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- শীর্ষ সন্ত্রাসী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন, মামলার প্রধান আসামি সোহেল, বাদশা আলম, স্বপন ও বেচু। চরজব্বার থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, চরজব্বার থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে জসিম উদ্দিনকে   গ্রেপ্তার করে। তবে সে এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তার গ্রামের বাড়ি একই ইউনিয়নের মধ্য চরবাগ্যায়। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ৫ জনের মধ্যে প্রথম তিনজনের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। বাকি দু’জনের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়ার কাগজপত্র আজ আদালতে জমা দেয়া হবে।
এদিকে ঘটনার মূল নির্দেশদাতা স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক জানান, রুহুল আমিনকে দল থেকে বহিষ্কারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভোটের রাতে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়। যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। চট্টগ্রাম থেকে জসিমসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরজন হলো হাসান আলী বুলু (৪৫)। সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘প্রধান সহযোগী’ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। আর জসিম উদ্দিন (৩০) সুবর্ণচরের চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের মোতাহের হোসেনের ছেলে। জসিম পেশায় একজন কলা বিক্রেতা। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ বলেন, মামলার এজাহারে বুলু বা জসিমের নাম ছিল না।
তবে পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পায়। দুজনের মধ্যে জসিমকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের নাজিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে চরজব্বার থানা পুলিশের একটি দল। পরে চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং থানার পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হাসান আলী বুলুকে। গত ৩০শে ডিসেম্বর ভোটের রাতে সুবর্ণচরের মধ্যবাগ্যা গ্রামে ওই ধর্ষণের ঘটনার পর এ পর্যন্ত মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, চারজন ইটভাটা শ্রমিক। মামলার অপর আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে চরজব্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল জানিয়েছেন। ধর্ষণের শিকার ওই চল্লিশোর্ধ নারীর অভিযোগ, ভোটের সময় নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়েছিল।
এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘সাঙ্গোপাঙ্গরা’ বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ বলেন, ‘হাসান আলী বুলু ওই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। ভোটকেন্দ্রে তার সঙ্গেই ওই নারীর ঝামেলা হয়েছিল। পরে সে দশ হাজার টাকায় কয়েকজন ইটভাটা শ্রমিককে ভাড়া করে।’ চরজব্বার থানায় ওই নারীর স্বামীর দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা তার বসতঘর ভাঙচুর করে ঘরে ঢুকে বাদীকে পিটিয়ে আহত করে এবং সন্তানসহ তাকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। মামলার এজাহারে মোট নয়জনকে আসামি করা হলেও সেখানে চরজুবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার রুহুল আমিনের নাম না থাকায় বুধবার রাতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুকের কাছে হতাশা প্রকাশ করেন ওই নারী। এরপর সেই রাতেই জেলা সদরের একটি হাঁস-মুরগির খামার থেকে রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা রুহুল আমিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন। নির্যাতনের শিকার ওই নারী এখন নোয়াখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ডাক্তারি পরীক্ষায় তাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে জানিয়ে ইতিমধ্যে প্রতিবেদন দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। এদিকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলীতে গণধর্ষণের শিকার সেই নারীর (৪০) খোঁজখবর নিতে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের (বোয়াফ) একটি তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে বোয়াফের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়ের নেতৃত্বে তদন্ত টিমের সদস্যরা চরজুবলী গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিতা ওই নারীর মুখে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন তদন্ত টিমের সদস্যরা। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় মহিলা সংস্থার পরিচালনা কমিটির সদস্য ইরাদিয়া জামান।
বোয়াফের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় জানান, তারা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করতে এসেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি বিস্তারিত জেনে ঢাকায় একটি প্রেস কনফারেন্স আমাদের সুপারিশ সরকারকে অবহিত করবো। এ সময় তার সঙ্গে থাকা জাতীয় মহিলা সংস্থার পরিচালনা কমিটির সদস্য ইরাদিয়া জামান জানান, তারা ভিকটিম নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তার দেয়া তথ্য মতে ঘটনার সময় থাকা অনেক আসামি এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। তারা বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করে কীভাবে নির্যাতিতা নারীসহ তার পরিবারকে আইনগত সহযোগিতা দেয়া যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
তিনি আশা করেন অপরাধীদের কঠিন শাস্তি হবে। অপরদিকে, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার নারীর সঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাক্ষাতে ঘটনায় মূল ইন্ধনকারীর নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্তিসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। গতকাল দুপুর ১টায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নোয়াখালী সদর হাসপাতালে গণধর্ষণের শিকার নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরিদর্শন দলে ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় সদস্য শুভ্রাংশ চক্রবর্তী, বাসদের কেন্দ্রীয় সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের পলিটব্যুরোর সদস্য অধ্যাপক আবদুর সাত্তার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আকবর খান, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, বাসদ (মাহবুব) এর কেন্দ্রীয় নেতা মহিন উদ্দিন লিটন ও জোটভুক্ত জেলা নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়কালে নেতৃবৃন্দ ঘটনায় জড়িত মূল ইন্ধনদাতাদের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করতে পুলিশের গড়িমসির তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে ইন্ধনদাতাদের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা, জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানান। আজ শনিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গণধর্ষণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। সকালে তারা সুবর্ণচর যাবেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান। এ সফরে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও সাবেক ডাকসুর ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সভাপতি ও স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক আ.স.ম আবদুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান থাকবেন।
গণধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি
সুবর্ণচরে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদ ও ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। গতকাল বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য ও জাতীয় জাদুঘরের সামনে দুটি পৃথক মানববন্ধনে এমন দাবি জানানো হয়। জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ‘যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থী জোট’ নামের একটি সংগঠন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামালসহ বেশ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।
এ সময় ‘ধর্ষণমুক্ত বাংলাদেশ চাই, কথায় নয় কাজে’ ‘ধর্ষক তুমি মানুষ নও’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকায় নোয়াখালীর সুবর্ণচরের গণধর্ষণের প্রতিবাদে অবস্থান নেয় ‘স্ট্যান্ড অ্যাগনেইস্ট রেইপ: হোক প্রতিবাদ’ ব্যানারের একটি সংগঠন। ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবার আগে ধর্ষণের বিচার করুন’ ‘রাষ্ট্র তুমি অন্ধ বলে, ধর্ষক আজো মুক্ত চলে’ ‘কাউকে তো দাঁড়াতে হবে’ এরকম লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। দুটি মানববন্ধনেই সুবর্ণচরের গণধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়।

Friday, October 12, 2018

এ মিসিং ভয়েস: ওয়াশিংটন পোস্টের অন্যরকম প্রতিবাদ

এ এক অন্যরকম প্রতিবাদ। কলামের শিরোনাম দেয়া আছে। তবে কোনো লেখা  নেই। এভাবেই সৌদি সাংবাদিক, কলামনিস্ট জামাল খাসোগির নিখোঁজ হওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বিখ্যাত মার্কিন সাংবাদপত্র ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’। শুক্রবার পত্রিকাটির সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় একটি শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘এ মিসিং ভয়েস’। এর উপরে ব্যবহার করা হয়েছে ফোনে আলাপরত খাসোগির ছবি। আর শিরোনামের নিচে খাসোগির নাম। এরপর ওই পৃষ্ঠায় দু’টি কলাম একেবারে ফাঁকা রাখা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি আরবের কনসুলেটে নিজের কাজে গিয়ে নিখোঁজ হন খাসোগি।
তারপর থেকে বিষয়টি নিয়ে সারাবিশ্বে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তুরস্কের কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন জামাল খাসোগিকে হত্যা করে মৃতদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে কনসুলেট থেকে। তবে এ অভিযোগ একেবারেই অস্বীকার করেছে সৌদি আরব। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পম্পেও।
গত বছর ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হলে সৌদি আরব সরকারের কড়া সমালোচক জামাল খাসোগি চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে বসবাস করতে থাকেন। তুরস্কের এক যুবতীকে বিয়ের কথা ছিল তার। সে জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ তুলতে তিনি ইস্তাম্বুলে যান সৌদি আরবের কনসুলেটে। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ। কেউই বলতে পারছেন না তিনি কোথায়? শুক্রবার ওয়াশিংটন পোস্টের গ্লোবাল অপিনিয়ন পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে শুধু কয়েকটি শব্দ। তাতে জামাল খাসোগিকে সৌদি আরবের সাংবাদিক, লেখক ও ওয়াশিংটন পোস্টের কলামনিস্ট হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। সম্পাদকীয় পাতার নিচের দিকে এ কথা লিখে বলা হয়েছে, উপরে যে ফাঁকা জায়গাটি দেখা যাচ্ছে সেখানে খাসোগির লেখা থাকা উচিত ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বিকালে তিনি ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনসুলেটে প্রবেশের পর থেকে তার কোনো কথা আর শোনা যায় নি। ওদিকে, সাংবাদিক জামাল খাসোগি নিখোঁজের আগে সৌদি কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, সৌদি আরবের এমন দাবি প্রমাণের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। ওয়াশিংটনও সৌদি আরবকে এ বিষয়ে তদন্তে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছে।
বুদাপেস্টে একটি সম্মেলন শেষে এরদোগান জানান, আমাদের যত দ্রুত সম্ভব এই তদন্তের একটি ফলাফলে আসতে হবে। খাসোগি কনসুলেট থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, শুধু এ কথা বলে তারা নিজদেরকে সুরক্ষিত রাখতে পারে না। এরদোগান নিজেও ঘটনার তদন্তকাজ পর্যবেক্ষণ করছেন জানিয়ে বলেন, তুরস্কের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রমাণাদি নেই। এদিকে সৌদি কনসুলেটের একটি সূত্র খাসোগিকে হত্যা করা বা তাকে অপহরণ করার অভিযোগ পুরোপুরিই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের ভাই এবং সৌদি রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রকে একই দাবি করে জানিয়েছেন, তদন্তকাজে সহায়তা করার জন্য তুরস্কের অনুমতিতে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে একটি নিরাপত্তা দল তুরস্কে পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, এটা নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন। আশা করি, এটা খুব তাড়াতাড়িই সমাধান হয়ে যাবে। এখন এ বিষয়ে কেউ কিছু জানে না। তবে কিছু অপ্রীতিকর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যা আমি একদমই পছন্দ করছি না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে রিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। খাসোগির নিখোঁজ তদন্তে সৌদি আরবের সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে করে তদন্ত প্রতিবেদনটি স্বচ্ছ হয়।

Thursday, October 11, 2018

ঢাবিতে শিক্ষকদের প্রতিবাদী মিছিল

মানুষের মত প্রকাশের সুযোগ না দিয়ে শুধু শুধু উন্নয়নের ঢাক-ঢোল পিটিয়ে কোনো লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষকদের এক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলামের নামে হয়রানিমূলক মামলা, গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ ও রিমান্ডের প্রতিবাদে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তারা ক্যাম্পাসে একটি মৌন মিছিল করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল করিম, সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, বাংলা বিভাগের মুহম্মদ আজম, অর্থনীতি বিভাগের রুশাদ ফরিদী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার আবদুর রাজ্জাক খান, কাজলী শেহরীন ইসলাম, মার্জিয়া রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দিন প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক। এ সময় শিক্ষকরা মাইদুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সকল শিক্ষকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে তাদের নিঃশর্তে মুক্তি দেয়ার দাবি করেন।
একই সঙ্গে শিক্ষক মাইদুলকে সম্মানের সঙ্গে চাকরিতে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন বলেন, কথা বলতে পারাটা আমাদের অধিকার, আমরা এই অধিকার অর্জন করেছি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। অধ্যাপক ফাহমিদুল হক উচ্চ আদালতকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, নিম্ন আদালত মাইদুল হককে রিমান্ডে পাঠালেও উচ্চ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। আমরা  এই বিষয়ে ১৭ই অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা করবো। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সমালোচনা করে চবি শিক্ষক জি. এস. হাবিব বলেন, চবি শিক্ষক সমিতি ব্যক্তি স্বার্থে কাজ করছে। একজন শিক্ষক কারাগারে আছে, এটা খুবই লজ্জার বিষয়। মাইদুল ছিলেন সত্যের পক্ষে, তাই আমরা তার সঙ্গে আছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে। এখন সময় এসেছে মুখ খোলার। সমালোচনা থেকে ভালোটুকু নিয়ে, খারাপটা বর্জন করতে হবে।
হাইকোর্টে জামিন পেলেন মাইদুল
ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন  পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম। কারাগারে থাকা মাইদুল ইসলাম আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করলে গতকাল শুনানি নিয়ে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের এ আদেশ দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে মাইদুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ। আদেশের পর আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট মাইদুল ইসলামকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে। এর আগে গত  সোমবার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল্লাহ কায়সার মাইদুল ইসলামকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে গত ২৩শে জুলাই মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাটহাজারি থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইফতেখারুল ইসলাম। গত ৬ই আগস্ট হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পান মাইদুল ইসলাম। হাইকোর্টের দেয়া আট সপ্তাহের জামিন শেষে গত ২৪শে সেপ্টেম্বর  চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি নিয়ে আদালত আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ২৫শে সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাইদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে।