Showing posts with label মাহমুদুর রহমান মান্না. Show all posts
Showing posts with label মাহমুদুর রহমান মান্না. Show all posts

Friday, January 23, 2026

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মান্নাকে দেখতে গেলেন মির্জা ফখরুল

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে দেখতে গিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গত রোববার মান্নাকে দেখতে যান মির্জা ফখরুল। তিনি মান্নার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। রাত ১০টার দিকে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

মান্না বুকে ব্যথা নিয়ে গত শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরদিন শনিবার সকালে হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতিকা রহমান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, শুক্রবার রাতে মান্না হাসপাতালে আসেন। তাঁকে কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তিনি করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) আছেন। আপাতত তাঁর পরিস্থিতি স্থিতিশীল আছে।

এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মান্না।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থী হয়েছেন মান্না। তিনি বগুড়া-২ আসনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহমুদুর রহমান মান্নাকে দেখতে গিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহমুদুর রহমান মান্নাকে দেখতে গিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে

Saturday, May 10, 2025

উদ্বেগটা নিজেদের মধ্যকার বিভাজন নিয়ে by মাহমুদুর রহমান মান্না

আট মাস আগে ঘটে যাওয়া গণ-অভ্যুত্থানের জোশ এখন অনেকটা কমে গেছে। এ রকমই হয়। যখন ঘটনাগুলো ঘটে, তখন সবকিছু তাজা টকটকে ধবধবে থাকে, দগদগে থাকে। এই তো সেদিনের ঘটনা। স্মৃতির মধ্যে এখনো জীবন্ত হেঁটে বেড়ায়। যত দিন যায়, আরও ঘটনা ঘটে। আগের স্মৃতিগুলো সামনে চলে যায়। পরে যেগুলো আসে, সেগুলোই তখন জীবন্ত হেঁটে বেড়ায় চোখের সামনে। আগের গুলো ঝাপসা হয়ে যায় অথবা হারিয়ে যায়।

আগস্ট অভ্যুত্থানের বেলায় এ রকমই হয়েছে, তা আমি বলব না। অনেক বেশি রক্তঝরা ছিল এ অভ্যুত্থান। তাই স্মৃতি থেকে খুব সহজে হারিয়ে যাবে না। আর এই অভ্যুত্থানে যাঁরা রাজপথে লড়াই করেছিলেন, তাঁরা এখনো তরুণ। জুলাই-আগস্টের জানবাজি লড়াইয়ের স্মৃতিগুলো এখনো তাঁদের মস্তিষ্কে। এ–ও সত্য যে এই তরুণ মন ও মস্তিষ্কে আবেগ যত বেশি কাজ করে, বয়স হলে তা আর করে না।

ওই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া এই তরুণ ও শিক্ষার্থীরা অভ্যুত্থানের বিজয়ের পর তার নতিজা দেখে এখন বিক্ষুব্ধ। তাঁরা সময়-সময় বিভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন, যাতে মনে হচ্ছে তাঁরা সরকারের অনেক কার্যক্রমেই সন্তুষ্ট নন। রাগ করে কখনো কখনো এ রকম কথাও বলছেন, কথা অনুযায়ী কাজ না হলে তাঁরা নির্বাচন বর্জন করবেন। পাঠক আমার কথার সঙ্গে হয়তো একমত হবেন, মানুষ এখন সন্দিগ্ধ চোখে প্রশ্ন করে, ভাই কী হচ্ছে দেশে? ভোট ঠিকমতো হবে তো?

অথচ সরকার একটি যথাযথ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ১৫টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে, তারা ১৬৬টি প্রশ্ন দিয়েছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে। তাদের দেওয়া জবাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ হবে এ মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে।

তারপর আবার দ্বিতীয় পর্যায়ে আলোচনা হবে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করা যায় এবং একটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যকর করা যায়, যাতে সত্যি সত্যি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ জন্য ঐকমত্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা তাদের মধ্যকার মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে পারে। তারপরও মানুষ আশাবাদী হতে পারছে না যে তাদের চাওয়া অনুযায়ী একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে? অথচ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতিমধ্যে বলেছেন, এত চমৎকার অনুষ্ঠান হবে এবার বাংলাদেশে যে সারা বিশ্ব অবাক তাকিয়ে রইবে।

কোনো সন্দেহ নেই বর্তমান সরকার এবং তাদের নিয়োজিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংস্কার প্রশ্নে দৃশ্যত দিবারাত্রি পরিশ্রম করছে। এ জন্য তারা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ১৬৬টি প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যার ওপর দলগুলো তাদের মন্তব্য বা মতামত পেশ করছে। একেকটা দল যেভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করছে, তাতে কমপক্ষে এক শর ওপর প্রশ্নে দলগুলো ঐকমত্য প্রকাশ করেছে। কিন্তু এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি একটি মৌলিক বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে। সেটা হচ্ছে, সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে তারা মনে করছে সংসদকে এড়িয়ে গিয়ে এটা করা সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য হচ্ছে, সে বিষয়ে অল্প একটু আলোচনা করে নেওয়া ভালো হবে। ছোটখাটো দু-চারটি বিষয়ের কথা বলি। যেমন প্রধানমন্ত্রী দুবারের বেশি থাকতে পারবেন কি না, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও এর উচ্চকক্ষের গঠন, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ইত্যাদি।

আমার মতে, এগুলো নিয়ে তেমন চিন্তিত হওয়ার বিষয় নেই। এগুলো নিয়ে হয়তো আলাপ-আলোচনা করে সমাধানে আসা যাবে। কিন্তু আদর্শ বা চিন্তাগতভাবে সরাসরি বিপরীতমুখী ভাবধারার সংস্কারের কথা বলছেন কেউ কেউ। যেমন কেউ কেউ খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চান, কিংবা ইসলামিক রাষ্ট্র গঠন করতে চান; বহুত্ববাদের বিরোধিতা করেন। বিপরীত পক্ষে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন, গণতান্ত্রিক ও সেক্যুলার রাষ্ট্রের কথা বলেন। এগুলোর নিষ্পত্তি হবে কীভাবে?

এগুলো হলো বিশ্বাসের ব্যাপার এবং বিশ্বাসের জন্য মানুষ জীবন দিয়ে দিতে পারে। না, আমি এ কথা বলছি না যে পরিস্থিতির ততটা অবনতি হয়েছে। কিন্তু নারীনীতি নিয়ে আমরা ধৈর্যের অভাব দেখেছি। স্পষ্টত নারীদের অপমান করে কথা বলা হয়েছে। অথচ এই নারীরা বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। ঐকমত্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ৭ তারিখে নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে আলোচনাকালে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন মৌলিক বিষয়ে যেসব মতপার্থক্য আছে, সেগুলো নিয়েও নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতে। সে রকম আলোচনা কি হবে?

আগস্টের অভ্যুত্থানের পর এটা আশা করে গিয়েছিল যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন দেখা যাবে। এখন পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা–শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে, আমাদের আচরণে–উচ্চারণে তার প্রকাশ ঘটবে; আমরা কাউকে স্বৈরাচারের ভাষায় হুমকি দিয়ে কথা বলব না। কাউকে ভয় দেখাব না, অপমান করব না। বরং সব ব্যাপারেই আমরা ধৈর্যশীল হব। সেই যে গণতন্ত্রের অমোঘ বাণী আছে; আমি তোমার কথার সঙ্গে একমত হতে না পারি, কিন্তু তোমার কথা বলার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনে আমি জীবন দিতে রাজি আছি। এ রকম মনোভাব গড়ে উঠবে রাজনীতির অঙ্গনে।

কিন্তু সে রকম কোনো উদ্যোগ যে আজ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়েছে, তার কোনো খবর আমরা জানি না। বরং একরকম পাল্টাপাল্টি শুরু হয়েছে তা দেখছে জনগণ এবং তাতেই তাদের উদ্বেগ বাড়ছে। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি হয়েছে, নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে মানুষ মারা গেছে। কোথাও নবগঠিত এনসিপি অভিযোগ করেছে, তাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে, সভা করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং প্রশাসন একটি বিশেষ দলকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করছে।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতৃত্বের উদ্যোগে গঠিত নতুন দল এনসিপি। সংগতভাবে তাদের মধ্যেই সম্ভবত এই অভ্যুত্থান নিয়ে অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া মানুষগুলোর জন্য দরদ বেশি। অন্যদের দরদ যে কম, সেটা আমি বলছি না।

কিন্তু এটাও সত্য, বয়স ও অভিজ্ঞতার কারণেই বয়স্করা দরদ বুকের মধ্যে চেপে রাখতে পারেন। এমনকি মাঝেমধ্যে কথায়ও সংযত থাকতে পারেন। হয়তো তরুণেরা ততখানি পারেন না। কিন্তু বিষয়টা যখন রাজনীতি, তখন তা প্রেম-ভালোবাসার আবেগ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। যে পৈশাচিকতা, নিষ্ঠুরতা, নৃশংসতা দিয়ে পরাজিত স্বৈরাচার ক্ষমতা টিকে রাখতে পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করেছিল, আজ বিজয়ের পর সেই রক্তের প্রতিশোধ চাই। এটাই সংগত, ন্যায্য। এই চাওয়ার মধ্যে কোনো দোষ নেই। কিন্তু এই না হলে দেশে নির্বাচন হবে না, গণতন্ত্র আসবে না—এই চাওয়ার মধ্যে ভুল আছে। এনসিপি এ রকম করেই বলেছে এবং কোনো কোনো দল তাদেরকে এই বক্তব্যে সমর্থন করেছে। মনে হচ্ছে নির্দিষ্ট চিন্তার ভিত্তিতে একটা ঐক্য প্রচেষ্টা চলছে।

৫ তারিখে প্রেসক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট বাংলাদেশের (ডিকাব) এক অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার পক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তিনি এ–ও বলেন, নির্বাচন কবে হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ জন্য কাউকে চাপ দেবে না।

সে তো ভালো কথা। কিন্তু একটু পর্যাপ্ত সময় মানে কী? মিলার কি একটু সেই ভাষায় কথা বললেন না, যাঁরা বিলম্বে নির্বাচন চান?

কিন্তু আমার উদ্বেগ সেটা নিয়ে নয়। আমার উদ্বেগ নিজেদের মধ্যে যে বিভাজন দেখা যাচ্ছে, সেটা নিয়ে। অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, তিনি কোনো সংস্কার চাপিয়ে দেবেন না। যতখানি পর্যন্ত ঐকমত্য হবে, ততখানি পর্যন্ত সংস্কার করবেন এবং তারই ভিত্তিতে নির্বাচন হবে। কিন্তু এখন তো নির্বাচনের সময় নিয়েই সরাসরি মতপার্থক্য হচ্ছে। কী করবেন মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সরকার? আলী রীয়াজ বলেছেন, মৌলিক বিষয়ে মতপার্থক্য দূর করার জন্য কথা বলুন নিজেদের মধ্যে। তাতেও যদি ঐকমত্য না হয়?

* মাহমুদুর রহমান মান্না নাগরিক ঐক্যের সভাপতি
[মতামত লেখকের নিজস্ব]

উদ্বেগটা নিজেদের মধ্যকার বিভাজন নিয়ে

Saturday, February 1, 2025

ড. ইউনূস তো সুযোগ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন না: -মাহমুদুর রহমান মান্না

ছাত্রদের রাজনৈতিক দল গঠন করতে সুযোগ করে দেয়ার ক্ষমতা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাখেন না বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস সুযোগ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন যদি তিনি ক্ষমতাকে অপব্যবহার করেন। তাছাড়া কী সুযোগ করে দেবেন বলেও প্রশ্ন রাখেন মান্না। তিনি বলেন, প্রটোকল দেবেন, তাদের পুলিশ প্রটেকশন দেবেন, তাদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেবেন? কি সুযোগ দেবেন? রাজনীতি করলে বেরিয়ে আসবেন। জনগণ যাদের সমর্থন দেবে, তারা ক্ষমতায় যাবেন এবং তাদের মতো করে দেশ গড়বেন। কেউ তো বাধা দেয়নি। সবাই স্বাগত জানিয়েছে।

‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘ছাত্ররা দল গঠন করবে’- এ লক্ষ্যে তারা দেশ জুড়ে লোকজনকে সংগঠিত করছে’- এ প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না মানবজমিনকে বলেন, আমি এটা স্বাগত জানাবো। যেকোনো একটি দলকে সমর্থনও করতে পারি, কিন্তু তিনি ক্ষমতাকে ব্যবহার করে করতে পারেন কিনা? যে ছাত্ররা রাজনৈতিক দল করার কথা বলছেন, প্রকারান্তরে এরা তো ক্ষমতা ব্যবহার করছেন। আমি দাবি করেছিলাম যে, আপনারা যদি দল করেন তাহলে ছেড়ে দেন, ক্ষমতায় থাকবেন না। যেহেতু আপনারা রাজনীতি শুরু করেছেন, কথাবার্তা বলছেন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দেখলাম এক উপদেষ্টা বলেছেন, এটা অনেক ভাববার বিষয়। যদি ভাববার বিষয় হয় তাহলে কথাবার্তাগুলোও ভেবে বলেন। প্রধান উপদেষ্টা, উনি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি। ‘তিনি সরাসরি বলছেন, ছাত্ররা এত বড় অভ্যুত্থান করলো, তাদের তো পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি থাকতেই পারে।’ এটা শুধু তাদের আকাঙ্ক্ষা হবে কেন? সবার আকাঙ্ক্ষা আছে। তারপরও তাদের বিশেষ আকাঙ্ক্ষা আছে। এখন তারা সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে এটা করতে যাচ্ছেন। উনি সেটা সমর্থন করছেন। তার মানে এটা রাজনীতি সমর্থন করলেন তো?

মান্না আরও বলেন, ছাত্ররা মিলেই দল করবে, ছাত্রদের তো একটাই গ্রুপ না। আরও অনেক ছাত্র সংগঠন আছে। তাদের দল যদি তারা গড়ে তুলতে চায়? তাদেরকেও তিনি সুযোগ দেবেন? এটা বলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহা একটা ভুল কাজ করেছেন, আমি মনে করি। উনি ক্ষমতায় থেকে, ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে থেকে, এটা বলতে পারেন না- আমি তাদের সুযোগ করে দিতে চাই। তাহলে তো ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতায় যারা আছেন তাদের সুযোগ করে দেবেন। এটা ঠিক হয় নাই। আমি মনে করি, তাদের যদি  ভেতরে ভেতরে থাকে যে কিংস পার্টি করে তারা দেশ বদলাবেন, ওই ভাবে দেশ বদলাবে না।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, গণতান্ত্রিক সৌধ নির্মাণের অনেক পথ আছে। যেটার সবচেয়ে বেশি সুযোগ ড. ইউনূসের আছে। সেটা রাজনৈতিকভাবে। একটা সুস্থ রাজনীতি গড়ে ওঠার মাধ্যমেই তা হতে পারে এবং একটা গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর সেটা নির্ভর করে। সেটা না করে এগুলো করলে গণতন্ত্র ধ্বংস করবে এবং দেশের অগ্রগতিও ধ্বংস করবে।

mzamin

Sunday, November 17, 2024

ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার নয়

জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া কোনো ধরনের সংস্কার অন্তর্বর্তী সরকার চাপিয়ে দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, এই সরকার যে সংস্কার করেছেন, সবই এলোমেলো মনে হয়েছে। সংস্কারের ১০টা কমিশন যে রিপোর্ট দেবে, তা এক-একজন এক এক রকমভাবে দেখে রিপোর্ট দেবে, তা এক হলে তবেই তো সংস্কার করবেন। সংবিধানের ওপরে যতগুলো প্রস্তাব আসবে সবগুলো সন্নিবেশ করে প্রবাসীসহ সকলের সহমতের পরে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। আইবি টিভি, নিউ ইয়র্ক সময় এবং কালার্স যৌথভাবে বৈঠকটির আয়োজন করে। বক্তারা জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে প্রবাস থেকে সমর্থন দেয়া দুবাইয়ের জেলে বন্দিদের মুক্ত করে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট আহ্বান জানান।
মান্না বলেন, বাংলাদেশ যতদিন আছে প্রতিদিনই এর সংস্কার করা দরকার। যেকোনো একটা বস্তুকে প্রতিদিন সংস্কার করবেন, প্রতিদিনই সেটা আরও উন্নত হবে। আমরা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই সংস্কার করার কথা ভাবছি। তাহলে বর্তমান সময়ের সংস্কার করার মেন্ডেট কতোদিন হতে পারে এটা ভাবা দরকার।

অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ওরা বলছে সংস্কার সম্পন্ন করে তারপর নির্বাচন, তাহলে কি সবার জন্য অন্ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার পরে কি হবে? এটা তো হতে পারে না। আামাদের লড়াইটা হয়েছে গণতন্ত্রের জন্য, নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয় তার জন্য। আমরা একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই, যে নির্বাচনের ফলাফলের ওপরে দাঁড়িয়ে আমরা এমন একটা বাংলাদেশ গড়তে পারবো, যারা প্রবাসীদের প্রতি সম্পূর্ণ সহযোগিতামূলক দেশ গঠন করতে পারি।

পুলিশ বাহিনী, গণপ্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের করণীয় সম্পর্কে মান্না বলেন, একটা পুলিশ বাহিনী ও গণপ্রশাসন লাগবে, যেটা এই ভোটকে সহযোগিতা করবে। নির্বাচন কমিশন লাগবে, যেটা এই ভোটে নিরপেক্ষভাবে তার দায়িত্ব পালন করবে। একেবারে ডাউন টু দ্য গ্রাউন্ড, যেখানে ভোট হয় সেই সেন্টার পর্যন্ত যারা যারা দায়িত্বে আছেন সবার সংস্কার লাগবে।
অন্তর্বর্তী সরকারকে নির্বাচনের ব্যাপারে পুনর্ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়ে মান্না আরও বলেন, অনেকে দলগতভাবে আমার সঙ্গে একমত পোষণ নাও করতে পারেন, তবে প্রথম এই নির্বাচনের ব্যাপারে পুনর্ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা একটা খারাপ পরিস্থিতিতে আছি, এমন পরিস্থিতিতে যারা দেশকে পরিচালনা করছেন, তারা কতোদূর সামনে নিয়ে যেতে পারছেন- এটা একটা বিতর্কিত বিষয়। তিনি বলেন, এই ভোটের আগে সমস্ত বিষয়ে সংস্কার করা যাবে না। ভোটের পরে সংস্কারের দায়িত্ব থাকবে, নতুন বাংলাদেশ গড়বার দায়িত্ব থাকবে। এবং সেটা যদি সম্পন্ন করতে চান তাহলে আপনাকে ভোটের মাধ্যমে এমন কোনো সরকার গঠন করতে হবে যিনি এই সংস্কার করবেন এবং জনগণের কল্যাণের জন্য সমস্ত নিবেদন রাখবেন।

তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলনে যারা মারা গেছেন সরকার তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে পারেনি। যারা আহত হয়েছেন তারা শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার টাকার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। সরকারের নিকট দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এদেরকে যথাযথ সম্মান দেয়া হোক। বাংলাদেশে আসার পরে তাদের জীবন যেন সচ্ছলভাবে চলতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হোক। সিন্ডিকেট ভেঙে এত টাকা দিয়ে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়ে যারা যেতে চান, তাদের জায়গায় নিজের জীবন যেন সুন্দর করতে পারেন সেটা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা বলেন, বিদেশে বন্দি ৩৫৭ জনের বিষয়টি অবিলম্বে সরকারের নজরে আনতে হবে, নজরে যদি থেকে থাকে তাহলে সেটি সরকারকে মনিটর করতে হবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, প্রবাসীদের মুক্তির ব্যাপারে কেন এত দেরি হচ্ছে? অথবা আদৌ কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিনা? অন্যদিকে সরকারি অর্থ পাচারকারীদের তথ্য আলোচনায় আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠায়। আরেকটি গ্রুপ বিদেশে অর্থ নিয়ে যায়। এখানে এক নম্বরে যার নামটা আসা দরকার, সেটি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম। জয় ওয়াশিংটনে কিছু করে না, কখনই কিছু করতো না।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজপুত্ররা যেমন জীবনযাপন করে, সজীব ওয়াজেদ জয় তেমন জীবনযাপন করে। তার কোনো পেশা নাই, তথাকথিত কম্পিউটার বিজ্ঞানী। হিসাব করে দেখেন কতো টাকা তিনি বাংলাদেশ থেকে নিয়ে গেছেন। এক স্যাটেলাইটের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে, যেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার উপরে খরচ হয় নাই। এমন আরও কতো আছে! তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার কোনো পেশা নাই। লন্ডনে তিনি বিশাল বাড়িতে থাকেন। তারা কীভাবে টাকা দেশের বাইরে নিয়ে গেছে? এটা আমরা এত বছর আলোচনা করতে পারিনি। আলোচনাগুলো সামনে আনা দরকার।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নিকট আহ্বান জানিয়ে গোলাম মোর্তোজা বলেন, সৌদি আরব, দুবাই অথবা মালয়েশিয়া হোক- ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ করে যাওয়ার একটা লুটপাট-জালিয়াতির যে ধারাটা তৈরি হয়েছে, এই ধারাটা বন্ধ করে দিতে হবে। এবং যখন-যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারাই এই ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, সাংবাদিক সোহরাব হাসান, সাংবাদিক মাসুদ কামাল, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. সায়ন্ত সাখাওয়াত, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রমুখ।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এখন পতিত সরকারের দোসররা ভারতের সহযোগিতায় সে লড়াইয়ের সফলতা নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডনাল্ড ট্রাম্পের ছবি নিয়ে কর্মীদের ছবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হোসেন বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকারের ব্যবস্থা করার ওপরে গুরুত্ব দিতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো নেতা যদি ঢাকায় থেকে কোনো জেলার প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, তাহলে অন্য কোনো দেশে থেকে কেন দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীদের প্রতি মানবিক দৃষ্টি দিলে দেশ আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।

সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, জুলাই-আগস্টে প্রবাসীদের ভূমিকা অনেক বেশি ছিল। হাসিনা সরকারের সময় রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করে দিয়ে তারা খুব ভালো কাজ করেছে। কনক, সারোয়ার, ইলিয়াস, পিনাকীরা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিল। এটাই সফলতা।

mzamin

Friday, October 11, 2024

ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে: মান্না

সবার সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট আইনজীবী, রাজনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী নাগরিক ঐক্যে যোগদান উপলক্ষে’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যোগদান অনুষ্ঠানে বরিশাল, যশোর, পটুয়াখালীর বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা এবং কামরাঙ্গীরচরসহ ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠক দলটিতে যোগ দিয়েছেন। যোগদান করা নতুন নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে দলে স্বাগত জানান মাহমুদুর রহমান মান্না।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, সবার সঙ্গে কথা বলেই সংস্কার প্রস্তাবগুলো করতে হবে। আর সবার সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কার হবে। কমিশনের প্রধান নিজের মতো নিজে প্রস্তাব দিবেন, তা হবে না। সংস্কারে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না তা নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সংস্কার প্রশ্নে যৌক্তিক সময় দিতে হবে। যে সময়টা লাগবে তা দিতে হবে। আমরা কী জানতাম এত বড় একটা অভ্যুত্থান হবে? আমরা জানতাম, দেড় মাস পুলিশ থাকবে না? পুলিশ সংস্কার ছাড়া কীভাবে নির্বাচন করবেন? নির্বাচন কমিশন সংস্কার মানে কী? পুরো নির্বাচন ব্যবস্থারই সংস্কার। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সময় দিতে হবে। তবে নির্বাচন আয়োজন ও সংস্কারের জন্য এই সরকারকে যৌক্তিক সময়ের বেশি নেবেন না। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধান উপদেষ্টা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন দিয়ে চলে যাবেন। অন্যদের মতো ক্ষমতা আঁকড়ে রাখবেন না।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হলে দেশও ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণ পরিবর্তন আশা করলেও কাক্সিক্ষত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। গায়ের জোরে গুন্ডামি করে রাজনীতি হয় না, এটাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা। জনগণের রায়ের সঙ্গে যদি না যান, তাহলে কোনও আপস নয়। চাঁদাবাজি, দখলবাজি যারা শুরু করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেই হবে। বানানো মামলা দেয়া শুরু হয়ে গেছে, এগুলো বন্ধ করতে হবে।

মান্না বলেন, এখনো জিনিসপত্রের দাম কমেনি। সিন্ডিকেট কী এখনো আছে? সমন্বয়করাও সরকারকে দ্রব্যমূল্য নিয়ে প্রশ্ন করছে। এখনও কেন দাম কমছে না?
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জিল্লুর আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

mzamin

Monday, September 23, 2024

হাসপাতালে ভর্তি মান্না

বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। গত শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। রোববার সন্ধ্যায় দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার জানান, মাহমুদুর রহমান মান্না হার্ট অ্যাটাক করেছেন। তার হার্টে একটি রিং বসানো হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়েছে। ওদিকে রিং বসানোর ৭২ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত মাহমুদুর রহমান মান্না শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শোয়েব মুহাম্মদ। তৎকালীন সরকারের আমলে ২০১৫ সালে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে প্রথমে গুম করে, পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সে সময় তিনি সাজানো মামলায় দুই বছর কারাভোগ করেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক করলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই সময় তার হার্টে একাধিক ব্লক ধরা পড়ে। দলটির অভিযোগ, তখন শেখ হাসিনা সরকার তাকে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে হাসপাতাল থেকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। কারামুক্ত হওয়ার পরও তার পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়। এ কারণে তিনি বিদেশে উন্নত চিকিৎসাও নিতে পারেননি।
mzamin

Friday, September 13, 2024

সংবিধানের যে ধারাগুলো স্বৈরাচার হওয়ার সুযোগ দেয় তা বাতিল করতে হবে: মান্না

নারায়ণগঞ্জে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আমরা বর্তমান সরকারকে নির্বাচন ও সংস্কারের জন্য কোনো সময় বেঁধে দিতে চাই না। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে একটা রোডম্যাপ পাওয়া গেছে। সংবিধানের যে ধারা বা অনুচ্ছেদগুলো একটি সরকারকে স্বৈরাচার হওয়ার সুযোগ দেয় তা বাতিল করতে হবে। গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মান্না বলেন, প্রথম পর্যায়ে যে লড়াইটা হয়েছে, দীর্ঘ ১৫ বছর যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলেছে সেটায় আমরা বিজয়ী হয়েছি। পরে, সময়ের প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী একটি সরকার গঠিত হয়েছে। আন্দোলনের মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা হলো একটি নতুন বাংলাদেশ চাই। বর্তমানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, অর্থনীতিতেও গতি ফিরে আসছে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আছে, তবে তারা চুপ। তাদেরকে আরও বেগবান হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ ছিল স্বৈরাচারের আখড়া। পটপরিবর্তনের পর এটা এখন খুবই স্পষ্ট যে, আমাদের প্রথম পর্যায়ে বিজয় হয়ে গেছে। স্বৈরাচার যেটা চেপে বসেছিল, সেটা যে যেতে পারে এবং এত তাড়াতাড়ি সেটা বিশ্বাসও করতে পারি নাই। ৪ তারিখেও আমাকে অনেকে ফোন করে বলেছিল, ভাই এটা কী পারবেন? এটা কী হবে? ৫ তারিখেই স্বৈরাচারের পতন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জীবনবাজি রেখে এত বড় ঘটনা শিক্ষার্থীরা করলো যা কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারেনি। রাজনৈতিক দলগুলো লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটিয়েছে আবার যখন পুলিশ বলেছে, তারা তখন চলে গেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা করেনি। তারা বুক পেতে দিয়েছে। পুলিশ গুলি করেছে একজন প্রাণ হারিয়েছে আরেকজন দাঁড়িয়ে গেছে। নতুন কিছু দেখতে হলে দৃষ্টির পরিবর্তন করতে হবে। এখন পলিটিক্স মাসলম্যান দিয়ে চলবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা করছে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এবারের আন্দোলনের সঙ্গে অতীতের আন্দোলনের মিল নেই। এখানে কোনো নেতৃত্ব নেই, কোনো স্ট্রাকচারই নেই। এটা কালচারাল ফাইট। এটা না বুঝলে সমস্যা হবে। এই পরিবর্তন আমাদের বুঝতে হবে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করবো। কিন্তু সরকার ভুল করলে সমালোচনাও যেন করতে পারি, সেই পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।  নারায়ণগঞ্জ জেলা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ইকবাল কবিরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, ঢাকা উত্তরের সভাপতি খসরু, নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

mzamin

Sunday, September 8, 2024

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য দুরভিসন্ধিমূলক -মান্না

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং উস্কানিমূলক বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। একইসঙ্গে ভারতের এই অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়। কিন্তু তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন, ইসরাইল-হামাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বলেছেন। যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি নেই। বরং বাংলাদেশ অতি সমপ্রতি দেশের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটিয়ে গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে স্বস্তিতে আছে। রাজনাথ সিংয়ের রাশিয়া, ইউক্রেন, ইসরাইল ও হামাসের সঙ্গে সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা দুরভিসন্ধিমূলক।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের কাছ থেকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করি। এমন কোনো মন্তব্য ভারতের কাছ থেকে আসা উচিত নয়, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে মান্না বলেন, আমরা অন্য সব রাষ্ট্রের মতো প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। কিন্তু এই বন্ধুত্বে হতে হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে এবং দুইদেশের জনগণের প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে। অন্যথায় শেখ হাসিনার শাসন পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে এবং ভারতের মনে রাখা উচিত সেই সক্ষমতা আমাদের আছে।

mzamin

Friday, August 2, 2024

সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজে গেছে: মাহমুদুর রহমান মান্না

সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নতুন সমন্বয়কারী ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। পাশাপাশি মঞ্চের পক্ষ থেকে সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কোটা বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে থাকারও ঘোষণা দেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যেভাবে লড়াই করছে শিক্ষার্থীরা, যেভাবে লড়াই করছেন শিক্ষকরা, গুণীজন, মুরুব্বিরা, আইনজীবীরা, সাংবাদিকরা, সবাই যে রকম করে নেমেছেন তাতে এই সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজেছে। আমরা আগেই বলেছি, এই পরিস্থিতি ওরা (সরকার) গায়ের জোরে মোকাবিলা করতে পারবে না। বাংলাদেশের টোটাল ফোর্স নামানো হয়েছে মুভমেন্ট যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে। থামাতে তো পারেনি। সরকার সবরকম নির্যাতন করবার পরেও এই আন্দোলন বন্ধ করতে পারেনি। এই আন্দোলন বাড়ছে, আন্দোলন আরও বাড়বে। গণতন্ত্র মঞ্চ তার সঙ্গে শুরু থেকে ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত এই সরকারের পরাজয় না হয়।

তিনি বলেন, আমরা ?শুরু থেকে বলেছি, তোমরা অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছো, নির্বাচন করছো না। অতএব নির্বাচন না করে ক্ষমতায় থাকতে গেলে আরও বল প্রয়োগেই তোমাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে। একদম চূড়ান্ত নিষ্ঠুরতা-হত্যাকারীর জায়গায় পৌঁছাবার আগেই ক্ষমতা থেকে চলে যাও। আমাদের আজকে একই আবেদন, এখনো হয়তো সময় আছে, আমি বলছি- এখনো হয়তো সময় আছে পদত্যাগ করো। তারপরে দেশ কীভাবে চলবে- সেটা এদেশের জনগণ বুঝবে। তোমরা জনগণের দুশমনে পরিণত হয়েছো, তোমরা জনগণের জন্য কিছু করতে পারবে না। বোধ-বুদ্ধি যদি এখনো থাকে তাহলে জনগণের কথা শুনে, দেয়ালের কথা শুনে পদত্যাগ করেন। যত তাড়াতাড়ি পদত্যাগ করবেন ততই ভালো।

মান্না বলেন, এই আন্দোলন কেবলমাত্র কোটার আন্দোলন নয়, এটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলন এখন সরাসরি এসব হত্যার বিচার চায়, ওই সমস্ত মন্ত্রী যারা গুলির নির্দেশ দিয়েছেন, উস্কে দিয়েছেন ছাত্রলীগকে, তাদের পদত্যাগ চায় দল থেকে এবং সরকার থেকে। খোদ প্রধানমন্ত্রী সমস্ত হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে যাতে জনগণের কাছে ক্ষমা চান- সেজন্য তারা (শিক্ষার্থীরা) দাবি করেছে। এগুলো মানতে হবে। খারাপ লাগে শুনতে। এতবড় নেত্রী, বাপরে বাপ। বাঘে গরুতে একসঙ্গে পানি খায়, তিনি এ রকম করবেন। কিন্তু ইতিহাস এমন তার চাইতে বড় বড় মানুষের এই কাজগুলো করতে হয়েছে। আমি বলবো, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেন। যেভাবে রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতন করছেন, এই নির্যাতন বন্ধ করেন। অবিলম্বে তাদেরকে মুক্তি দেন। এটা যদি না করেন তাহলে শেষ পর্যন্ত কী হবে সেটাও আপনারা দেখবেন।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, গত কয়েকদিনের ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনের ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকারকে তারা একভাবে বিদায় দিয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার আমরা বলেছি, এক সরকারের ভাগ্য এখন একটা চিকন সুতার উপরে ঝুলছে।

সরকার টিকে আছে কেবলমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরে, তারা যদি কেবলমাত্র রাষ্ট্র বা প্রজাতন্ত্রের বাহিনী হিসেবে তারা যদি পেশাদারি নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন এই সরকারের একদিন বা এক মুহূর্তের জন্য আর ক্ষমতায় থাকার কোনো সুযোগ বাস্তবে কোনো অবকাশ নেই।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আজকে বাংলাদেশে এ রকম একটি হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরে এই লাশের কারবালায় দাঁড়িয়ে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো অধিকার নেই, এই কথা এখন বাংলার ঘরে ঘরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। দেখেছেন তাদের (সরকার) রাষ্ট্রীয় শোক প্রত্যাখ্যান করে সারা দেশের মানুষ লাল কাপড়ে, লাল ফিতায়, ফেসবুক লাল প্রতীকে ভরে দিয়েছে। এই যে গণঅনাস্থা, এটা জনগণের এই সরকারের প্রতি চূড়ান্ত অনাস্থা জানিয়েছে। এই অবস্থা আর চলতে পারে না। আমরা সরকারকে বলি, এটা একটা রাজনৈতিক সংকট। রাজনৈতিক সংকটের রাজনৈতিক সমাধান করতে হবে। সমাধান হচ্ছে পদত্যাগ করুন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। রাজনৈতিকভাবে আলাপ-আলোচনা করে সেটা ঠিক করতে পারবো এবং দেশে গণতান্ত্রিক সরকার একমাত্র ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, এদেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবেই।
সংবাদ সম্মেলনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হাসনাত কাইয়ুম ও জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বক্তব্য রাখেন।

Friday, June 7, 2019

‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষ দাঁড়িয়ে যায়’ মাহমুদুর রহমান মান্না by আব্দুল আলীম

স্বৈরাচার, গণতন্ত্রহীনতা বা রাজনৈতিক দুরবস্থার জন্য হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, যুগে যুগে সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ, মানুষের শক্তি, সমাজের শক্তি দাঁড়িয়ে যায়। এবারও তারা দাঁড়িয়ে যাবে। মাবনবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি কথা বলেন, সমকালীন রাজনীতি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত এমপিদের সংসদে যোগ দেয়া, ঐক্যফ্রন্টের বর্তমান ও ভবিষ্যৎসহ তার ছোট বেলার ঈদ ও বর্তমান ঈদ নিয়ে।
মানবজমিন: অনেকদিন হল ঐক্যফ্রন্টের তেমন কোনো কর্মসূচি নেই। রমজান মাসে সব দল নিজ উদ্যোগে ইফতার আয়োজন করলেও ঐক্যফ্রন্টের কিছু ছিল না। আসলে কোন পথে ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতি?
মান্না: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ইফতার পার্টির একটা প্রোগ্রাম নেয়া হয়েছিল।
কিন্তু সেটা আলোচনার বাইরে চলে গেছে। আমরা আলোচনা করেছি কিন্তু সেটাকে কেউ কিছু মনে করেনি। দিনগুলোও পার হয়ে গেছে। সাড়ে ৪ মাস আগ থেকে এই যে নিরবচ্ছিন্ন নিরবতা, বসে থাকা, এর কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নেই। এর একটাই ব্যাখ্যা হতে পারে যে, আমরা এই সময়টাকে রেস্পন্স করতে পারছি না। অথবা করছি না। আমাদের ঐক্যফ্রন্টে যারা আছেন তারা যে ভাবনাগুলো ভাবেন, সেই ভাবনাগুলোর মধ্যে খুব একটা সমন্বয় নেই। ফলে কেউ হয়তো মনে করছেন ৩০ তারিখ যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আর খুব বেশি কিছু করা যাবে না। সুতরাং কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। দেখতে হবে। কেউ হয়তো মনে করছেন যেটুকুই সুযোগ পাওয়া যায় সংসদের মধ্যে সেটা গ্রহণ করার চেষ্টা করতে হবে। আর অধিকাংশের চিন্তার মধ্যে আছে আন্দোলন ছাড়া এখানে কিছু করা যাবেনা। কিন্তু সেই আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে আমরা মাঠে আসতে পারিনি। এ বিষয়ে কোনো আলোচনাও আমাদের মধ্যে হয়নি। এই জন্য এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। বিষয়গুলো স্থিত অবস্থায় আছে। ঈদের পরে যদি এটা ভাঙে কোনো করাণে। তখন দেখতে হবে কি হয়।
মানবজমিন: ঈদের পরে বিএনপির পক্ষ থেকে বৃহত্তর জোট করার কথা গণমাধ্যমে আসছে। এবিষয়ে আপনার কিছু জানা আছে কিনা?
মান্না: জোটের বাইরে তো এখন কেউ নেই। বাম গণতান্ত্রিক জোট বা ইসলামী আন্দোলনসহ যারা আছে তাদের নিয়ে বৃহত্তর জোট করতে পারে। তবে আমার সঙ্গে বা আমার দলের সঙ্গে এ ব্যাপারে কারো কোনো আলোচনা হয়নি এখনো।
মানবজমিন: সরকার বিরোধী আন্দোলন কি আগামী ৫ বছর আগের মতোই চলবে? নাকি নতুন কোন খবর আছেÑ
মান্না: ৫ বছর সরকার ক্ষমতায় থাকবে কিনা সেটা বলতে পারিনা। ৫ বছরের মাত্র ৫ মাস গেছে। এখনো অনেক সময় বাকি। কিন্তু এই মুহুর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে খুব নড়াচড়া নেই।
মানবজমিন: গণফোরাম ও বিএনপির নির্বাচিতদের শপথের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টে সুস্পষ্ট কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা?
মান্না: না। শুধু সুস্পষ্ট আলোচনাই না। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনাই হয়নি।
মানবজমিন: আলোচনা না হওয়া নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে কোনো ক্ষোভ আছে কিনা?
মান্না: এটা ক্ষোভের ব্যাপার তো না। এই দুটো দলের প্রতিনিধিদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নিয়েছেন। তারা অন্য কারো সঙ্গে আলোচনা করে তো সিদ্ধান্ত নেননি। মনে করেন-জোটের সিদ্ধান্ত ছিল নির্বাচন মানিনা। সংসদ মানিনা। এখান থেকে তাদের সিদ্ধান্ত আলাদা হয়ে গেল তো। এই ফিলিংসটা আছে। এই শপথের ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণ হলো এই দুটো দল নিজেদের মতো চলবে। এখানে প্রকাশ্যে বিরোধ দেখা দেয়ার বিষয় না। প্রশ্ন হল বিরোধ দেখা দেয়ার ইস্যু আছে কিনা। সেই ইস্যু তো আছে। যে রকম বিএনপির নেতারা সংসদে যোগ দিলেন। তাতে তাদের দলের মধ্য থেকেই কথা বলছেন। আমরা কি বলব? এখানে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবে হলো দল। সেই দলই যদি দুই রকম তিন রকম কথা বলে তখন এটার উত্তর আমরা কি দেব? ফলে আমরা অপেক্ষা করছি বিএনপি আলাদা আলাদা না বলে সবাই মিলে একটা কিছু বলুক। সেটা তারা কতদিনে বলবে তা জানিনা। আগে তাদের নিজেদের ঘর সামলাবেন। তার পর তারা কথা বলবেন। এখন যদি প্রশ্ন করেন তাদের ঐক্য নিয়ে, তাহলে তাদের নিজেদেরই যখন ঐক্য থাকবে না। তখন জবাব দেবে কিভাবে?
মানবজমিন: সাম্প্রতিক সময়ে এ কে খন্দকারের ক্ষমা চাওয়া নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। এতো বছর পর এমন হল কেন আপনার দৃষ্টিতে?
মান্না: এই ব্যাপারে উনার এখন বলার প্রয়োজন পড়ল কেন? অনেকগুলো বছর চলে গেছে। তিনি মন্ত্রী ছিলেন, সেটা নিয়ে কম্প্রমাইজ করেননি। কিন্তু এখন হঠাৎ বললেন কেন? এবিষয়ে আমি কিছু জানিনা। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।
মানবজমিন: সার্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কি বলবেন?
মান্না: ইতিহাসের এক ধরনের পাক চক্রের মধ্যে, এক ধরনের হতাশা চক্রের মধ্যে এখন সমগ্র জাতি নিমজ্জিত হয়েছে। কিন্তু তারা সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। পৃথিবীতে ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাতন্ত্র নতুন কিছু না। অনেকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেছে। তারপরও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে। স্বৈরতন্ত্র বলেন, গণতন্ত্রহীনতা বলেন, ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়া বলেন। এগুলো টিকবে না। আমি মনে করি এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করা দরকার। এই ঐক্যবদ্ধতা ফিরে আসবে। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আশার কথা হল অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ, মানুষের শক্তি, সমাজের শক্তি দাঁড়িয়ে যায়, যাবে।
মানবজমিন: আগেরকার দিনে আপনারা যেমন ঈদ কাটাতেন সেই তুলনায় আপনার দৃষ্টিতে এখনকার ঈদ কেমন?
মান্না: ছোট বেলা তো ছোট বেলাই। এমনকি যৌবন কালটাও আলাদা। তখন জীবনটাই দেখার মতো। উপভোগ করার মতো। সব জায়গায় আনন্দে ভেসে বেড়ায়। কিন্তু যখন বয়স হয়ে গেল তখন এই আনন্দগুলো অবান্তর মনে হয় না। মূল্যহীন মনে হয় না। কিন্তু ছোট বেলার মতো করে রেসúন্স করা যায় না।

Wednesday, July 18, 2018

রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে মান্নার ক্যাম্পেইন শুরু

রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সচেতন করে তুলতে প্রচারণা শুরু করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট স্টেট কোরাপশন’ শীর্ষক এক সংবাদ  সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন। বলেন, রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বাংলাদেশকে শেষ করে ফেলছে। দুর্নীতির মাধ্যমে সমাজের মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কাছে চলে যাওয়া টাকা শেষ পর্যন্ত দেশে না থেকে পাচার হয়ে যায়। এখন প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়।
যেগুলো আর কখনো ফিরে আসে না। গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির তথ্য মতে ২০০৫ থেকে ২০১৪ এই দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে কমপক্ষে ৬ লাখ কোটি টাকা। যার মধ্যে ২০১৪ সালে হয়েছিল ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের নিরিখে ২০১৪ সালকে ভিত্তি ধরে এটা যৌক্তিকভাবে অনুমান করাই যায় পাচারের অঙ্ক এখন বছরে কমপক্ষে ১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, মানুষকে দুর্নীতির বিষয়ে সচেতন করতে তাদের যথেষ্ট তথ্য দিতে হবে।
এর মাধ্যমে মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে। মানুষের এই জানাশোনা, সচেতনতা তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রণোদনা যোগাবে। মান্না বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই। তাই ক্যাম্পেইন এর জন্য যতগুলো মাধ্যমে সম্ভব আমরা প্রচারণা চালিয়ে যেতে চাই। আমাদের এই লড়াইয়ে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানাব। কারণ, এই সমস্যা আমাদের সকলের। আমরা একটি ফেসবুক পেজ খুলেছি।
সেখানে রাষ্ট্রীয় ও অন্যান্য দুর্নীতির তথ্য দেব। আশা করি সকলে নিজের জায়গা থেকে দুর্নীতির তথ্য আমাদের পেজে দিয়ে সহযোগিতা করবেন। তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে খুব সহজেই দুর্নীতির তথ্যগুলো পৌঁছে যাবে। মান্না বলেন, বাংলাদেশের দুর্নীতি এতটাই সর্বগ্রাসী যে শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেই না, ছড়িয়ে পড়েছে বেসরকারি সেক্টরেও।
এখন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার নিচে সরকারি একটি পিওনের চাকরিও পাওয়া যায় না। বেসরকারি বিভিন্ন ধরনের সেবা পেতেও ঘুষ দেয়া লাগে। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে দুর্নীতি হয় না। দেশের বেশির ভাগ মানুষ প্রান্তিক দুর্নীতির সরাসরি ভুক্তভোগী বলে তারা শুধু সেটা সম্পর্কেই কম-বেশি ধারণা রাখে। দুর্নীতি এ দেশে কতটা বীভৎস পর্যায়ে চলে গেছে সেটা তারা অনেকেই জানে না।
তারা এটা বোঝেও না। এই রাষ্ট্রের কাছ থেকে শিক্ষা-স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তাখাতসহ অন্যান্যখাতে তাদের যা যা প্রাপ্য সেসব তারা সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণেই পায় না বলে আমরা বিশ্বাস করি। মান্না বলেন, জিডিপি এবং মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে ক্ষমতাসীন সরকার দাবি করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশে অনেক অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান আমাদের ভিন্ন গল্প বলে। মেগা প্রকল্প ছাড়াই দেশে এখন প্রতি বছর দুর্নীতি হয় কমপক্ষে ৭৫ হাজার কোটি টাকা।
১০ হাজার কোটি টাকা বাজেটের পদ্মা সেতুর বাজেট এখন ৪০ হাজার কোটি টাকা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার ভূপেন হাজারিকা সেতুর নির্মাণ ব্যয় যেখানে ১১৫০ কোটি টাকা সেখানে ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় এখনই ৪০ হাজার কোটি টাকা। শেষ হতে হতে কত হাজার কোটি টাকায় পৌঁছবে সেটা দেখার বিষয়। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে প্রতি কিলোমিটার রেললাইনের খরচ ১২ থেকে ৩০ কোটি টাকা। সেখানে ঢাকা-পায়রা বন্দর রেললাইনের খরচ হচ্ছে কিলোমিটার প্রতি ২৫০ কোটি টাকা।
সেতু, রেললাইন, সড়ক, ফ্লাইওভার সব কিছুতে ব্যয় বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় ৪/৫ গুণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ, জনতা ব্যাংক (এননটেক্স গ্রুপ), সোনালী ব্যাংক (হলমার্ক), বেসিক ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সোয়া এক লাখ কোটি টাকা। তিনি বলেন, আজকের পত্রপত্রিকা খুললে দেখবেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ৯৬৩ কেজি স্বর্ণের চাকতি রাখা হয়েছিল সেগুলো ভুতুড়েভাবে মিশ্র ধাতু হয়ে গেছে।
তার মানে রাখা হলো সোনা তা হয়ে গেল তামা- বিষয়টা অনেকটা এমন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এ ভয়ংকর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে দুর্নীতি হচ্ছে না। এমনকি পৃথিবীর কোনো দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরি ও ভল্টে রাখা সোনা গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা পাওয়া যায় না।  সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের  ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার, কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার ও মমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

Sunday, February 22, 2015

পারলে থামান না হলে নামেন... by মাহমুদুর রহমান মান্না

সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকের একটি জনপ্রিয় পোস্টিং এটি। অবশ্য সম্পূর্ণ পোস্টিং নয়। এর পরেও কথা আছে। সেটি হলো- আর পারলে নামান, না হলে থামেন। মানুষ যে কতখানি বিরক্ত হয়েছে তার একটি প্রমাণ এ পোস্টিং। এ লেখা যেদিন ছাপা হবে সেদিন অবরোধের ৪৪তম দিন চলছে। সোজা কথা। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এসএসসি ঝুলে গেছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। এ পর্যন্ত সহিংসতায় মারা গেছে প্রায় ৯০ জন লোক। অবশ্য গত কয়েক দিনে পেট্রলবোমা হামলা হলেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। দেশব্যাপী সহিংসতার বিরুদ্ধে যে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছে তা এক্ষেত্রে অবদান রেখেছে বলে মনে হয়। কিন্তু মানুষের ভয় যায়নি। এই চার-পাঁচ দিন কি বিচ্ছিন্ন আর বাকি দিনগুলো থেকে? নাকি সত্যি সত্যি বোমা হামলায় মৃত্যুর ঘটনা কমেছে? এ জন্যই এখনো বাসে যেতে মানুষ ভয় পায়। বাসের জানালা, দরজা খুললে যাত্রীরা হৈহৈ করে ওঠেন। কিন্তু সে আর কতদিন? শীতের সময় সব বন্ধ করে হয়তো চলা গেছে, কিন্তু গরমে তো তা পারা যাবে না। সবচেয়ে বড় কথা জীবন হাতে করে মানুষ কি চলতে পারে? যে কোনোভাবে এ অবস্থার অবসান চায় মানুষ। আর সে জন্যই ফেসবুকের এই পোস্টিং।
প্রশ্ন হচ্ছে পারা অথবা না পারা নিয়ে। সরকার কি পারবে এই হরতাল, অবরোধ এবং সহিংসতা বন্ধ করতে? অথবা বিরোধী দলগুলো কি পারবে এই সরকারকে ফেলে দিতে? যদি না পারে তবে ওই ব্যক্তি বলছেন- হয় নামান না হয় থামেন। আমি মনে করি ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মনোভাবও এখন এরকমই।
একটা খুবই খারাপ প্রবণতা সরকারের মধ্যে লক্ষ করছি আমি। সামগ্রিক পরিস্থিতি যে আমাদের রাজনৈতিক সর্বগ্রাসী দুর্বৃত্তায়নের প্রকাশ, বর্তমান পরিস্থিতি যে একটি রাজনৈতিক সংকটের বাস্তব চিত্র এটা তারা যে কোনো প্রকারে অস্বীকার করতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকার এবং সরকারি জোটের দায়িত্বশীল কর্তা ও নেতারা বলছেন এটা কেবল সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ। ভুলে যাচ্ছেন যে সন্ত্রাসবাদও রাজনীতির একটি বিকৃত ধারা। তর্ক করে লাভ হচ্ছে না, এ ব্যাপারে এমনকি কোনো কথা শুনতেও রাজি নন তারা। যারা ঠিক কর্তা বা নেতা নন, সরকারের মুখপাত্র বা ভক্ত দেখাতে চাইছেন, তারা এমনকি এ কথা বলছেন যে, বিনা বিচারে হত্যা তত বড় অপরাধ নয়। তার চেয়ে বড় অপরাধ আগুন দিয়ে হত্যা। বাস্তবতা, বিনা বিচারে হত্যার কথা তারা আমলেই নিতে চান না। এই অজুহাতে যে, আগুনে পুড়ে মানুষ মরছে। অতি সম্প্রতি প্যারিসে এক সন্ত্রাসীকে হত্যা করার ব্যাপারে সেখানকার কর্তৃপক্ষ এবং জনগণ যে দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে হঠাৎ করেই তার প্রশংসায় তারা পঞ্চমুখ হয়ে উঠেছে। অবাক করা ব্যাপার নয়? দুটোই মৃত্যু। একটি যন্ত্রণার মৃত্যু, আরেকটি যন্ত্রণা পাওয়ার আগেই মৃত্যু এবং এই যে বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড তার পরিমাণ নেহায়েত কম নয়। পত্রিকার খবর অনুযায়ী বিনা বিচারে এক রাতে হত্যার সংখ্যা ১৯। আহত প্রচুর। পেট্রলবোমা দিয়ে হত্যা করার বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই সমগ্র সমাজের রুখে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু তার মানে কোনোভাবেই এই নয় যে, বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড নীরবে দেখে যেতে হবে।
যে কোনো হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধেই দাঁড়ানো উচিত আমাদের। এটা মানবতার দাবি। এ জন্যই এখানে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির তথা দলবাজির কোনো সুযোগ নেই। 'হিন্দু না ওরা মুসলিম ওই জিজ্ঞাসে কোনজন...।' সরকার বলছে পেট্রলবোমা সব বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের কাজ। বিএনপি বিবৃতি জানিয়ে বলছে, তারা এ ধরনের কাজ করছে না। তারা পাল্টা অভিযোগ করছে এ কাজ সরকারের। মানুষ বিরক্ত হচ্ছে। মৃত্যুর মিছিলেও এ কোন গান!
কোনো তর্কের মধ্যে যাচ্ছি না। আমাদের দেশে আন্দোলনে সহিংসতা নতুন নয় (পেট্রলবোমার সঙ্গে তুলনা করছি না)। এবং সে সহিংসতায় পরস্পরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর প্রবণতাও পুরনো। তবুও যেহেতু আন্দোলনের ছায়া ধরে এবারের এই নৃশংস বোমা হামলা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সরকারি দায়িত্বের মধ্যে অবশ্যই পড়ে। সরকার কীভাবে সে ব্যবস্থা নেবে সেটা তারই দায়িত্ব। আমি মনে করি কেবল প্রশাসনিক কঠোরতা দিয়ে সেটা দমন করা যাবে না। অবরোধের ৪৪ দিন পরে এসে যদিও এ কথা বলার কোনো মানে হয় না; কিন্তু তারপরেও সরকার বলছে তারা সেটা পারবে। সরকারকে বিশ্বাস করছি না। বিশ্বাস করার কোনো কারণ তো নেই। কিন্তু তারপরেও বেঘোরে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে চাই, তাই ওই ফেসবুকের পোস্টিংয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলছি : পারলে থামান। না পারলে নেমে যেতে বলছি না আমি। রাজনীতিতে, রাষ্ট্র পরিচালনায় এ রকম বিধ্বংসী জেদ অনুমোদনযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতি সব সময় সমঝোতার কথা বলে। নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, Democracy is a rule by consensus. একভাবে বলা হয় গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন। কিন্তু তার মানে কখনোই এই নয় যে, তা সংখ্যালঘিষ্ঠকে উপেক্ষা করে চলে। আর এই সরকার তা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার নয়। This is a government by default. তাদের জেদ করা তো একেবারেই সাজে না। এটা এমন একটা দলের সরকার সম্পর্কে বলছি যাদের অতীত ইতিহাসে অনেক সংগ্রামের পালক। তারা এরকম 'ডু আর ডাই' পরিস্থিতিতে যাবে কেন? সে জন্যই সংলাপের কথা বলি। কারণ সংলাপ সব ধরনের বিকল্প পথ উন্মুক্ত রাখে। অথচ আমাদের সরকার সব বিকল্প পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সংলাপের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়েছেন তারা। যারা সংলাপের কথা বলেছেন তাদেরকে যা তা ভাষায় সমালোচনা করেছেন তারা। বিশিষ্ট আইনজীবী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল বলেছেন, এক সময় যেভাবে সংস্কার শব্দটিকে ঘৃণীত বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, এখন সংলাপকে, সংলাপের উদ্যোগকে সেভাবেই আক্রমণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা সংলাপের কথা বলছেন তারা প্রকারান্তরে সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংলাপের প্রস্তাবকারী নাগরিক সমাজকে এক-এগারোর কুশীলব বলেছেন আর সংসদে বলেছেন, ড. কামাল এবং মাহমুদুর রহমান মান্না ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। সেটা কোনো দিন বাস্তবায়ন হবে না।
হাসব না কাঁদব বুঝতে পারি না। যাকে পছন্দ করি না, অপরিচিত বা অর্ধপরিচিত কেউ এরকম কথা বলতেন তাহলে হাসতাম। কিন্তু বলেছেন শেখ হাসিনা যিনি সরাসরি আমার নেতা ছিলেন। সমালোচনা সত্ত্বেও এখনো তাকে অসম্মান করি না। ড. কামালের অনুভূতি বলতে পারব না, কিন্তু নিজেকে ছোটবোধ করেছি আমি। রাজনীতি করছি, ক্ষমতার আশা থাকবে না তা কি হয়? কিন্তু যে কোনো প্রকারে ক্ষমতার স্বাদ পাওয়াই যদি কথা হতো তাহলে তা আওয়ামী লীগে থেকে যাওয়াই ভালো ছিল। আমার চেয়ে বড় 'সংস্কারবাদীরা' দলেই রয়ে গেছেন না? ক্ষুদকুঁড়া পাচ্ছেন না?
আমি আন্তরিকভাবেই সংস্কার চাই। সংস্কার ছাড়া সমাজ, রাজনীতি, স্থবির গতিহীন। সে কথা তখনো বলেছি, এখনো বলছি। একইভাবে বর্তমান সময়ে সংলাপ ছাড়া এই জটিল আবর্ত থেকে বেরিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। এ আমার বিশ্বাস এবং সেই বিশ্বাস থেকে বলছি।
আন্দোলনকারী বিরোধী দল এখন এরকম জায়গায় পৌঁছেছে যে তারা বলছে, তাদের আর পিছু হটার সুযোগ নেই। তার মানে কি দাঁড়াল? পাঠকবৃন্দ, উভয় পক্ষের কথা খেয়াল করে দেখুন। বিএনপিসহ ২০ দল বলছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এই সরকারের পতনের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এতে ছাড় দেওয়া যাবে না। আর সরকার বলছে এটা কোনো আন্দোলন নয়। এদের ব্যাপারে কোনো রকম কনসেশন নয়। কঠোরতম পন্থায় এদের নির্মূল করা হবে। এই কঠোরতম পন্থা আমরা দেখছি। এ পর্যন্ত ক্রসফায়ারেই মারা গেছে সরকারি হিসাব মতে অন্তত ১৯ জন। বিরোধী দল বলছে তার দ্বিগুণ।
আমি মনে করি এই প্রক্রিয়ায় সরকার বিরোধীদের নির্মূল করতে পারবে না। একইভাবে আমি এও মনে করি আন্দোলনের নামে যা চলছে তাতে সরকার পড়বে না। ফলে সংঘর্ষ দীর্ঘতর হবে। পেট্রলবোমা হয়তো থাকবে না, কিন্তু দেশ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে না। তখন আরেকটি এক-এগারোর পরিস্থিতি দৃশ্যমান হবে। যা এখনই খানিকটা দেখা যাচ্ছে। এ জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি সমাধানের কথা বলছি আমি। এ জন্য সংলাপের বিকল্প নেই।
দুই. কথা বলুন এবং বলতে দিন; গত ১৪ তারিখ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংহতি প্রকাশ করতে নেতৃবৃন্দ ও হাজার হাজার মানুষ এসেছিলেন, আমি তাদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকেও ধন্যবাদ দিচ্ছি। তারা শেষ পর্যন্ত সেখানে মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন বলে। যদিও সেজন্য আমাকে কোর্টের বারান্দা দিয়ে হাঁটতে হয়েছিল।
সবাই কথা বলুন। সমাজের গভীর গভীর অসুখ এখন। এখন কথা বলা দরকার। সরকার একা কেবল অস্ত্র ও প্রশাসনের ভাষায় কথা বলবেন তাতে কাজ হবে না। বিরোধী দল ঘরে থেকে অডিও-ভিডিও বার্তায় হরতাল ডেকে ঘরে বসে থাকবেন তাতেও কাজ হবে না। মানুষকে অংশগ্রহণ করতে হবে।
২৩ তারিখ বেলা ৩টায় প্রেসক্লাবের সামনে আসুন। সমবেত কণ্ঠে আওয়াজ তুলি 'শান্তি চাই, সন্ত্রাস চাই না'। 'গণতন্ত্র চাই, স্বেচ্ছাচার চাই না'। আশা করি সরকার এবং পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা বাদ সাধবেন না।
লেখক : রাজনীতিক, আহ্বায়ক নাগরিক ঐক্য।
ই-মেইল : mrmanna.bd@gmail.com

Wednesday, July 17, 2013

সুই বলে চালুনিরে... by মাহমুদুর রহমান মান্না

১৫ জুন সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী ও খুলনা সিটি করপোরেশন ও ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতির চালচিত্রই পাল্টে দিয়েছে। রাজনীতি, শক্তি-সাম্যের হিসাব-নিকাশও গেছে বদলে।

Wednesday, February 6, 2013

রাজনীতির ভাষা by মাহমুদুর রহমান মান্না

রাজনীতির কি আলাদা কোনো ভাষা হতে পারে? অনেকেই হয়তো অবাক হবেন; আমরা তো বাংলায় (অথবা জাতিগতভাবে আলাদা ভাষায়) কথা বলছি। ভাষা তো একটাই।

Wednesday, January 23, 2013

কথা ও বাস্তবতার মধ্যে কোনো মিল নেই by মাহমুদুর রহমান মান্না

৬ জানুয়ারি বর্তমান সরকারের চার বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ১১ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। হিসাবমতো নির্বাচনের বাকি আর এক বছর। সেই বিবেচনা প্রধানমন্ত্রীর ২৯ মিনিটের বক্তৃতায় সব ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়েছে।

Sunday, January 20, 2013

এই পশুবৃত্তি নিরসনে সোচ্চার হতে হবে by মাহমুদুর রহমান মান্না

বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের হার অন্যান্য দেশের তুলনায় এমনিতে অনেক বেশি। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করা যাচ্ছে না। ইদানীং তা যেন লাগামহীন হয়ে পড়ছে। সরকারের প্রচার মাধ্যমে নানাবিধ খাতে উন্নয়নের সূচক যেভাবে দেখানো হচ্ছে, এমনকি নারীর ক্ষমতায়ন সম্পর্কেও পাঁচ মুখে বলা হচ্ছে।

Monday, January 7, 2013

বল্গাহীন উক্তি জাতিকে নেতিবাচক সংস্কৃতির দীক্ষা দিচ্ছে by মাহমুদুর রহমান মান্না

গড়াতে গড়াতে দিন ২০১৩ সালকে ছুঁয়েছে। এটা এমন এক সময়, যখন সালতামামি হয়, আর তারই আলোকে দৃষ্টি মেলে দিতে হয় সামনের দিকে। আজকাল প্রায়ই শোনা যায়, বাংলাদেশ এক অপার সম্ভাবনার দেশ।

Monday, December 24, 2012

শিক্ষকদের রাজনীতি by মাহমুদুর রহমান মান্না

১৯৯০ সালে এরশাদের পতন হয়। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। বিএনপি ক্ষমতায় আসার অল্প কয়েক মাসের মধ্যে ছাত্রদল নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন। এ সময় ছাত্রদলের একটা বাড়তি সুবিধা ছিল।

Monday, December 10, 2012

টিআইয়ের প্রতিবেদন, দুর্নীতি ও অন্যান্য by মাহমুদুর রহমান মান্না

গত কিছু দিনের পত্রপত্রিকার খবর পড়ে নিশ্চিত করে বলা যায় যে পদ্মা সেতু আবার আটকে গেছে। পদ্মা সেতু এ দেশের সাধারণ মানুষের কাছে একটি স্বপ্নের সেতু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর দেশের ভূখণ্ডকে উত্তর-দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করেছে যে নদী, এর তীরবর্তী বা দুই পারের জনগোষ্ঠীর কাছে সেতুটি স্বপ্নের চেয়ে অধিক কিছু।

Wednesday, November 28, 2012

'এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়' by মাহমুদুর রহমান মান্না

আজ কিছু লিখতে বসে বারবার মনে পড়ছে শামসুর রাহমানের কবিতার সেই লাইনটি- 'এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়।' আজকের শোকের কোনো ভাষা নেই। বলা যায়, বাকরুদ্ধ। তবু আমরা যারা বেঁচে আছি, আমাদের বলতে হবে। বাঁচতে হবে।