Saturday, November 14, 2020

বাংলাদেশের পতিতাপল্লীর দুঃখগাঁথা

বাংলাদেশে যৌনকর্মীরা বৈষম্যের শিকার। সমাজের মূলধারা থেকে তাদেরকে আলাদা করে দেখা হয়। সমাজের চোখে যৌনকর্মীদের কোনো সম্মান থাকে না। তারা সব সময়ই সামাজিক অসম্মানের মুখোমুখি হন। সম্মানজনক ব্যক্তি হিসেবে তাদেরকে দেখা হয় না। বাংলাদেশে এই পেশাকে দেখা হয় চরিত্রহীনদের কাজ হিসেবে। পরিবার সহ সমাজের কেউই তাদেরকে গ্রহণ করতে চায় না। কারণ, তারা সমাজ ও সংসাদের জন্য লজ্জা বয়ে আনেন।

এক্ষেত্রে পতিতাবৃত্তি শব্দটাকেও ব্যবহার করা হয় অসম্মান অর্থে। যে সমাজের সদস্যরা এসব যৌনকর্মীর সেবা নেন, তারা পর্যন্ত এই পেশাকে কলঙ্কিত করেন। এদের নিয়ে খারাপ খারাপ কথা বলেন। বাংলাদেশে পতিতাবৃত্তি নিয়ে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কাঙ্খিত কোনো পেশা পতিতাবৃত্তি নয়। অনেক পতিতাই এই পেশা ছেড়ে জীবনকে বাঁচাতে চান। মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন টেরে ডেস হোমসের মতে, দরিদ্র্যতা, বঞ্চনা, জুলুম এবং নির্যাতানের শিকার হয়ে যৌনকর্মে পা বাড়ান যৌনকর্মীরা। এমনকি কিছু নারীর সামনে উজ্বল ভবিষ্যত থাকা সত্ত্বেও তার জীবন বিক্রি হয়ে যায় পতিতাবৃত্তিতে। যেসব নারী বিক্রি হয়ে যান তারা হন বন্ডেড প্রস্টিটিউট। এসব নারীর কোন স্বাধীনতা থাকে না বললেই চলে। নিজেদেরকে মুক্ত করার জন্য তাদেরকে প্রচুর অর্থ আয় করতে হয়। এরপরই তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, এই পেশা ছেড়ে যাবেন নাকি আত্মনির্ভরশীল হবেন। তবু তাদের বিগত জীবনের পচে যাওয়া অধ্যায়ের কারণে নতুন করে জীবন শুরু করা খুবই কঠিন। তাদের সঙ্গে সঙ্গে যেন কলঙ্কও ছুটতে থাকে। এ জন্য সমাজ তাদেরকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে পতিতাপল্লীতে ফিরে যান জীবন বাঁচানোর তাগিদে। তাদেরই একজন বলেছেন, যদি আমার মৃত্যুও হয় এতে, তবু আমি পরোয়া করি না। আমাকে তো অর্থ উপার্জন করতে হবে।
অনেক যৌনকর্মী গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ পিল ওরাডেক্সন সেবন করেন। এর ফলে তাদের শারীরিক গঠন আকর্ষণীয় হয়। এতে খদ্দের আকর্ষিত হয়। তারা অধিক অর্থ আয় করতে পারেন। কিন্তু এই ওষুধ দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে তাদের বিভিন্ন অঙ্গ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু পতিতাপল্লীর নারীরা এ ঝুঁকির কথা জানা সত্ত্বেও তা সেবন করেন।
বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী যৌনকর্ম। তবে ২০০০ সালে যৌনকর্মকে বৈধতা দিয়েছে হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী একজন যৌনকর্মীর ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১৮ বছর এবং নিজেই নিজেকে পতিতা হিসেবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ঘোষণা দিতে পারেন। ফলে তারা যৌনকর্মী হওয়ার পেশা নিজেরাই স্বাধীন ইচ্ছার ওপর বেছে নিতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের যৌনকর্মীরা এ পেশায় আসেন তাদের অসহায়ত্বের কারণে। তারা বেঁচে থাকার জন্য এ পেশা বেছে নেন। আদর্শগতভাবে তারা এটা বেছে নিতে চান না। তাদের কাছে এ পেশা একান্তই জীব বাঁচানোর অপরিহার্য মাধ্যম। ব্যক্তিগত সুখ বা আনন্দ পাওয়ার জন্য তারা এ পেশায় আসেন না। তাদের কাছে পতিতালয় হলো জেলখানা। সেখানে বয়সের কোনো ফারাক নেই। সবাইকে জীবন গঠনের জন্য এই পেশায় কাজ করতে হয়। বাংলাদেশের আইনে অপ্রাপ্ত বয়সী মেয়েদের যৌনকর্মে প্রলুব্ধ করা অথবা একাজে তাদেরকে বিক্রি করে দেয়া বৈধ নয়। ৩৬৪এ, ৩৬৬এ এবং ৩৭৩ ধারা অনুযায়ী এসব কাজ ফৌজদারি অবরাধ এবং এতে মৃত্যুদ-ের সম্ভাবনা আছে।
কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় পতিতালয়গুলোর অন্যতম দৌলতদিয়া পতিতালয়। সেখানে বয়স কোনো ব্যাপারই নয়। গড়ে সেখানে নতুন পতিতাদের বয়স ১৪ বছর। এর কারণ, মানবপাচার। বিশেষ করে শিশুদের পাচার করে নিয়ে যৌনকাজে বিক্রি করে দেয়া। এ জন্য অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালিকাদের অপহরণ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন পতিতালয় অথবা হোটেলে আটকে রাখা হয়। তাদের কাউকে কাউকে সৎমা অথবা প্রেমিক বিক্রি করে দেয়। অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের বাংলাদেশে যৌনকর্মে বিক্রি করে দেয় তার নিকটতম আত্মীয়রা। আবার এসব মানুষই তাদেরকে নিয়ে উপহাস করে এবং সমাজের বাইরে রাখে। এতে সমাজে যৌনকর্মীদের প্রতি যে মনোভব তার একটা হীনতা প্রকাশ পায়। যৌনকর্মীদের সম্মান দেখাতে অস্বীকৃতি করে যে সমাজ, সেই সমাজের ব্যক্তিরাই এই পেশার সার্ভিস নেয়।
ইউএনএইডসের ২০১৬ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে কমপক্ষে এক লাখ ৪০ হাজার যৌনকর্মী আছেন। তার মধ্যে প্রায় ১৬০০ নারী দৌলতদিয়ায় যৌনকর্মে লিপ্ত। তাদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে চোখ বন্ধ করে আছে। এই দৌলতদিয়ায়ই জন্ম নেয় অনেক যুবতী। তাদেরকে পরিবারের সদস্যরা যৌনকর্মী হিসেবেই বড় করে তোলে। বাকিদেরকে পাচার করে নেয়া হয় এবং তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে পতিতালয়ের মালিক ‘ম্যাডাম’। যখন অল্প বয়সীদের অপহরণ করা হয় তাদের বেশির ভাগকেই যৌন বাণিজ্যে পাচার করা হয়। এসব বিপন্ন শিশুদের সহায়তা করার পরিবর্তে লোকজন তাদেরকে দেখে লজ্জাহীন হিসেবে। আর এর মধ্য দিয়ে তাদেরকে বিপথগামী হতে অনুমোদন দেয়া হয়।
পতিতাপল্লীতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের চাহিদা বেশি। তাদের মূল্যও বেশি। কারণ তারা বেশি ইয়াং থাকে এবং কুমারী থাকে। এসব বালিকার অবমাননা সত্ত্বেও তারা কতটা খাঁটি তার মূল্যায়ন করার চেষ্টা করে তারা। অধিক যুবতী যৌনকর্মীদের কাছ থেকেই দেহসঙ্গ ভোগ করতেই পছন্দ করেন খদ্দেররা বেশি। অর্থাৎ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যৌনকর্মীদের চাহিদা কমতে থাকে। তাদের খদ্দের কমতে থাকে। এর ফলে তাদের আয়ও কমে যেতে থাকে। দৌলতদিয়া পতিতালয়ের পতিতারা ভাড়া পরিশোধ করেন। নানা রকম বিল পরিশোধ করেন। এ ছাড়া আরো কিছু খরচপাতি আছে। এসব খরচ কাটিয়ে তাদেরকে জীবনধারণ করতে হয়। সন্তানদের লালন পালন করা হয়। যখনই বয়স বেড়ে যাওয়া পতিতাদের খদ্দের কমতে থাকে, এর প্রভাব পড়ে তাদের জীবন ধারণের ওপর।
এখানে উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রয়েছে বাল্য বিয়ের সর্বোচ্চ হার। এসব বালিকার বেশির ভাগের বয়স ১৫ বছরের কম। কিন্তু পতিতাপল্লীতে নিয়োজিত এসব অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালিকার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে শিশুদের দিকে কুদৃষ্টি নিয়ে যৌনচক্রের অসাধু ব্যক্তিরা সুবিধা পাচ্ছে। তারা ১০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের প্রতি হাত বাড়ায়।
যৌনকর্মীদের কলঙ্কা তাদের সন্তানদের ওপরও প্রভাব ফেলে। যখন তাদের কেউ সন্তান সম্ভাবা হন তখন তিনি মনে করেন, তার একটি মেয়ে হলে তাকে যৌনকর্মী বানানো যাবে। এতে বাড়তি অর্থ আসবে। তাই দৌলতদিয়ায় একটি কন্যাশিশু জন্মগ্রহণ করলেই তার ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই কন্যা শিশুদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান তার পিতা। দক্ষিণ এশিয়ায় এ জন্য মেয়ে সন্তানের চাহিদা সংসারে কম। দেখা গেছে, একটি বালিকা ১২ বছর বয়সেই যৌনকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে। সমাজ তাকে অন্যভাবে দেখতে শুরু করে। এসব কথা একজন অল্প বয়সী যৌনকর্মীর ভাইয়ের ।
যৌনকর্মীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে রয়েছে বিধিনিষেধ। যৌনকর্মীদের সন্তানরা যে স্কুলে যায় সেই একই স্কুলে দৌলতদিয়া এলাকার পিতামাতারা তাদের সন্তানদের পাঠান না। ১৯৯৭ সালে সেভ দ্য চিলড্রেন একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে। দৌলতদিয়া পতিতালয়ে জন্মগ্রহণ করেছে এমন শিশুদের জন্য মুলত এই স্কুল। এই স্কুলে পড়াশোনা ও উন্নত জীবনের সুযোগ এনে দেয়। কম বয়সী মেয়ে ও ছেলেরা এখন আর যৌনজীবনে বাধ্য নয়। এই স্কুলের মাধ্যমে তাদেরকে যৌনজীবন এবং মাদক থেকে দূরে রাখা গেছে। তা সত্ত্বেও এসব ছেলেমেয়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য বন্ধ করা যায় নি। তাদেরকে নিয়ে উপহাস করা হয়। তারা মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। তাদেরকে পতিতার সন্তান এমন বাক্য শুনতে হয়। এর ফলে ওইসব শিশু মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এ জন্য সেখানে দৌলতদিয়ার অবসরপ্রাপ্ত যৌনকর্মীদের নিয়োগ দিয়েছে এই স্কুল। তারা যৌনকর্মীদের এই পেশা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দিচ্ছেন।



ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সম্পর্কে যেসব জানা জরুরি

অল্প বয়সেই টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস হতে পারে
বহুমূত্র রোগ, মধুমেহ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস।
লাস্ট আপডেট- ১৩ নভেম্বর ২০১৮: ডায়াবেটিস এমন একটি শারীরিক অবস্থা যা সারা জীবনের জন্যে বয়ে বেড়াতে হয় এবং সারা বিশ্বে এর কারণে প্রতি বছর ১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
এছাড়া যে কোন ব্যক্তিই এই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন।
শরীর যখন রক্তের সব চিনিকে (গ্লুকোজ) ভাঙতে ব্যর্থ হয়, তখনই ডায়াবেটিস হয়। এই জটিলতার কারণে মানুষের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক হতে পারে।
এছাড়াও ডায়াবেটিসের কারণে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে, নষ্ট হয়ে যেতে পারে কিডনি এবং অনেক সময় শরীরের নিম্নাঙ্গ কেটেও ফেলতে হতে পারে।
সারা বিশ্বেই এই সমস্যা বেড়ে চলেছে। বর্তমানে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪২ কোটিরও বেশি। ৩০ বছর আগের তুলনায় এই সংখ্যা এখন চার গুণ বেশি- এই হিসাব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার।
চিকিৎকরা বলছেন, ডায়াবেটিসের এতো ঝুঁকি থাকার পরেও যতো মানুষ এই রোগে আক্রান্ত তাদের অর্ধেকেরও বেশি এই রোগটি সম্পর্কে সচেতন নয়।
তবে জীবন যাপনের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম নীতি মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এখানে তার কিছু উপায় তুলে ধরা হলো।

ডায়াবেটিস কেন হয়?

আমরা যখন কোন খাবার খাই তখন আমাদের শরীর সেই খাদ্যের শর্করাকে ভেঙে চিনিতে (গ্লুকোজ) রুপান্তরিত করে। অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামের যে হরমোন নিসৃত হয়, সেটা আমাদের শরীরের কোষগুলোকে নির্দেশ দেয় চিনিকে গ্রহণ করার জন্যে। এই চিনি কাজ করে শরীরের জ্বালানী বা শক্তি হিসেবে।
শরীরে যখন ইনসুলিন তৈরি হতে না পারে অথবা এটা ঠিক মতো কাজ না করে তখনই ডায়াবেটিস হয়। এবং এর ফলে রক্তের মধ্যে চিনি জমা হতে শুরু করে।

কি কি ধরনের ডায়াবেটিস আছে?

ডায়াবেটিস বিভিন্ন ধরনের।
টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তখন রক্তের প্রবাহে গ্লুকোজ জমা হতে শুরু করে।
বিজ্ঞানীরা এখনও বের করতে পারেন নি কী কারণে এরকমটা হয়। তবে তারা বিশ্বাস করেন যে এর পেছনে জিনগত কারণ থাকতে পারে। অথবা অগ্ন্যাশয়ে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলো নষ্ট হয়ে গেলেও এমন হতে পারে।
যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের ১০ শতাংশ এই টাইপ ওয়ানে আক্রান্ত।
অন্যটি টাইপ টু ডায়াবেটিস। এই ধরনের ডায়াবেটিসে যারা আক্রান্ত তাদের অগ্ন্যাশয়ে যথেষ্ট ইনসুলিন উৎপন্ন হয় না অথবা এই হরমোনটি ঠিক মতো কাজ করে না।
সাধারণত মধ্যবয়সী বা বৃদ্ধ ব্যক্তিরা টাইপ টু ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও যাদের ওজন বেশি এবং যাদেরকে বেশিরভাগ সময় বসে বসে কাজ করতে হয় তাদেরও এই ধরনের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষ কিছু এলাকার লোকেরাও এই ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছে। তার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া।
সন্তানসম্ভবা হলে পরেও অনেক নারীর ডায়াবেটিস হতে পারে। তাদের দেহ থেকে যখন নিজের এবং সন্তানের জন্যে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন যথেষ্ট পরিমানে তৈরি হতে না পারে, তখনই তাদের ডায়াবেটিস হতে পারে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে ৬ থেকে ১৬ শতাংশ গর্ভবতী নারীর ডায়াবেটিস হতে পারে। ডায়েট, শরীর চর্চ্চা অথবা ইনসুলিন নেওয়ার মাধ্যমে তাদের শরীরে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা গেলে তাদের টাইপ টু ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

ডায়াবেটিসের উপসর্গ কী

সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে:
  • খুব তৃষ্ণা পাওয়া
  • স্বাভাবিকের চাইতেও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। বিশেষ করে রাতের বেলায়।
  • ক্লান্ত বোধ করা
  • কোন কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
  • প্রদাহজনিত রোগে বারবার আক্রান্ত হওয়া
  • দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া
  • শরীরের কোথাও কেটে গেলে সেটা শুকাতে দেরি হওয়া
চিকিৎসকরা বলছেন, টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসের লক্ষণ শৈশব থেকেই দেখা দিতে পারে এবং বয়স বাড়ার সাথে সেটা আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বয়স ৪০ বছরের বেশি হওয়ার পর থেকে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে দক্ষিণ এশিয়ার লোকজনের মধ্যে এই ঝুঁকি তৈরি হয় তাদের ২৫ বছর বয়স হওয়ার পর থেকেই।
যাদের পিতামাতা, ভাই বোনের ডায়াবেটিস আছে, অথবা যাদের অতিরিক্ত ওজন, দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশের মানুষ, আফ্রো-ক্যারিবিয়ান অথবা কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান তাদেরও এই ঝুঁকি বেশি থাকে।

ডায়াবেটিস কি প্রতিরোধ করা সম্ভব?

ডায়াবেটিস যদিও জেনেটিক এবং আপনার জীবন যাপনের স্টাইলের ওপর নির্ভরশীল তারপরেও আপনি চেষ্টা করলে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে পারেন।
সেজন্যে আপনাকে খাবার গ্রহণের বিষয়ে বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হবে এবং আপনাকে হতে হবে অত্যন্ত সক্রিয় একজন মানুষ।
প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। মৃসন শাদা আটার রুটির পরিবর্তে খেতে হবে ভুষিওয়ালা আটার রুটি। এটাই প্রথম ধাপ।
এড়িয়ে চলতে হবে হোয়াইট পাস্তা, প্যাস্ট্রি, ফিজি ড্রিংকস, চিনি জাতীয় পানীয়, মিষ্টি ইত্যাদি।
আর স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে রয়েছে শাক সব্জি, ফল, বিন্স এবং মোটা দানার খাদ্য শস্য।
স্বাস্থ্যকর তেল, বাদাম খাওয়াও ভালো। ওমেগা থ্রি তেল আছে যেসব মাছে সেগুলো বেশি খেতে হবে। যেমন সারডিন, স্যামন এবং ম্যাকেরেল।
এক বেলা পেট ভরে না খেয়ে পরিমানে অল্প অল্প করে বিরতি দিয়ে খাওয়া দরকার।
শরীর চর্চ্চা বা ব্যায়াম করার মাধ্যমে রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে রখা সম্ভব।
চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতি সপ্তাহে আড়াই ঘণ্টার মতো ব্যায়াম করা দরকার। তার মধ্যে দ্রুত হাঁটা এবং সিড়ি বেয়ে ওপরে ওঠাও রয়েছে।
ওজন কম রাখলেও চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যদি ওজন কমাতে হয় তাহলে সেটা ধীরে ধীরে করতে হবে। সপ্তাহে আধা কেজি থেকে এক কেজি পর্যন্ত।
ধূমপান পরিহার করাও জরুরী। নজর রাখতে হবে কোলস্টেরলের মাত্রার ওপর। এর মাত্রা বেশি হলে হৃদ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিসের কারণে কী ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে?

রক্তে চিনির পরিমাণ বেশি হলে রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
শরীরে যদি রক্ত ঠিক মতো প্রবাহিত হতে না পারে, যেসব জায়গায় রক্তের প্রয়োজন সেখানে যদি এই রক্ত পৌঁছাতে না পারে, তখন স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এর ফলে মানুষ দৃষ্টি শক্তি হারাতে পারে। ইনফেকশন হতে পারে পায়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অন্ধত্ব, কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদির পেছনে একটি বড় কারণ ডায়াবেটিস।

কতো মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে ১৯৮০ সালে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ কোটি। ২০১৪ সালে সেটা বেড়ে হয় ৪২ কোটিরও বেশি।
১৯৮০ সালে ১৮ বছরের বেশি বয়সী মানুষের ডায়াবেটিস হওয়ার হার ছিল ৫ শতাংশেরও কম কিন্তু ২০১৪ সালের তাদের সংখ্যা বেড়ে দা*ড়িযেছে ৮ দশকি ৫ শতাংশ।
ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশন বলছে, প্রাপ্ত বয়স্ক যেসব মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের প্রায় ৮০ শতাংশ মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশের, যেখানে খুব দ্রুত খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ঘটছে।
সংস্থাটি বলছে, ২০১৬ সালে ডায়াবেটিসের কারণে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।